PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ
বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ
PrepBank · পাতা ৯৪ / ১২৬ · ৯,৩০১–৯,৪০০ / ১২,৬০৫
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 149. Police to prevent cognizable offences:
- Every police-officer may interpose for the purpose of preventing, and shall, to the best of his ability, prevent, the commission of any cognizable offence.
ব্যাখ্যা
(১) কোন আদালতে আমল অযোগ্য অপরাধের কোন অভিযোগ করা হলে এবং আসামী সাজাপ্রাপ্ত হলে আদালত উক্ত সাজা ব্যতীতও ফরিয়াদীকে নিম্নে বর্ণিত অর্থ দানের জন্য আসামীকে আদেশ দিতে পারবেন-
(ক) নালিশের দরখাস্তে অথবা ফরিয়াদীর জবানবন্দীর জন্য প্রদত্ত ফি (যদি থাকে ) এবং
(খ) ফরিয়াদী কর্তৃক তার সাক্ষী কিংবা আসামীর উপর পরোয়ানা জারীর জন্য প্রদত্ত ফি এবং আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, উক্ত অর্থ পরিশোধ না করিলে অনধিক ত্রিশ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবে।
(২) রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন আপীল আদালত বা হইকোর্ট বিভাগও এই ধারার অধীন আদেশ দিতে পারবেন ।
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারা মতে ৫টি উপায়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায়।
যেমন-
১। সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৮-১০);
২। যা করতে বাধ্য তা করতে আদেশ করা (ধারা ১২-৩০ ও ৫৫);
৩। যা করতে বাধ্য নয় তা করতে আদেশ করা (ধারা ৫২-৫৭);
৪। ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদানের মাধ্যমে (ধারা ৪২);
৫। রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে (ধারা ৪৪)।
ব্যাখ্যা
(i) চূড়ান্ত প্রতিবেদন/ফাইনাল রিপোর্ট এবং
(ii) অভিযোগপত্র (চার্জশীট)।
♦চূড়ান্ত প্রতিবেদন (Final Report): তদন্তে আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে প্রমান পাওয়া না গেলে আসামীকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন জমা দেন তাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা Final Report বলে। সুতরাং যখন ম্যাজিস্ট্রেট ফাইনাল রিপোট গ্রহণ করে তখন আসামি অব্যাহতি পায়।
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৮৩-এ বলা হয়েছে যে, ৯ বছরের বেশি কিন্তু ১২ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না, যদি প্রমাণিত হয় যে কাজ করার সময় শিশুটি "তাহার কার্যের প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্বতা লাভ করে নাই"।
- অর্থাৎ, এই ধারার মূল ভিত্তি হলো বুদ্ধির পরিপক্বতার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি — শিশুটি তার কাজের আইনগত ও ব্যবহারিক পরিণতি বুঝতে পেরেছে কিনা।
⇒ দণ্ডবিধির ৮৩ ধারার বিধান নয় বৎসরের অধিক কিন্তু বার বৎসরের কম বয়সের অপরিণত বুদ্ধিসম্পন্ন শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ:- নয় বৎসর অপেক্ষা বেশি কিন্তু বার বৎসর অপেক্ষা কম বয়সের এমন কোন শিশুর কোন কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যে শিশু সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় উহার প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা লাভ করে নাই।
--------
⇒ The Penal Code,1860, Section 83. Act of a child above nine and under twelve of immature understanding:
Nothing is an offence which is done by a child above nine years of age and under twelve, who has not attained sufficient maturity of understanding to judge of the nature and consequences of his conduct on that occasion.
ব্যাখ্যা
১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারামতে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কথিত বা পঠিত হওয়ার জন্য কথা বা চিহ্ন বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তির সাহায্যে সেই ব্যক্তি-সম্পর্কিত কোনো নিন্দাবাদ প্রণয়ন বা প্রকাশ করেন, তবে সেটি মানহানি হয়েছে বলে পরিগণিত হবে। উদ্দিষ্ট ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে জেনে বা সুনাম নষ্ট হতে পারে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, যদিও কেউ নিন্দাবাদ প্রণয়ন ও প্রকাশ করেন তাহলেও সেটি মানহানি বলে গণ্য হবে।
মানহানির শাস্তি-
দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির মানহানি করে, তবে ওই ব্যক্তি দুই বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদে বিনা শ্রম কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।’
তাছাড়া ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’-এর ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহলে ওই ব্যক্তির এমন কর্মকাণ্ড হবে একটি অপরাধ। এর জন্য তিনি অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ আইনে মানহানির মামলায় কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়নি।
• দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় কোন কাজগুলো মানহানি হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এই ধারায় ১০টি ব্যতিক্রমের কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ এই ব্যতিক্রমগুলো আইন অনুযায়ী মানহানি বলে গণ্য হবে না:
১. জনগণের কল্যাণে কারও প্রতি সত্য দোষারোপ করলে;
২. সরকারি কর্মচারীর সরকারি আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করলে;
৩. সরকারি বিষয়-সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে কোনো ব্যক্তির আচরণ নিয়ে মতপ্রকাশ করলে;
৪. আদালতের কার্যবিবরণী প্রতিবেদন প্রকাশ করা মানহানির অন্তর্ভুক্ত হবে না;
৫. যেকোনো জনসমস্যা সম্পর্কে ও কোনো ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা;
৬. আদালতে সিদ্ধান্তকৃত মামলার দোষ, গুণ বা সাক্ষীদের সম্পর্কে বা অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ সম্পর্কে অভিমত দেওয়া;
৭. গণ-অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানাদি সম্পর্কে কোনো মতামত দেওয়া;
৮. কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে সৎ বিশ্বাসে কারও সম্পর্কে অভিযোগ করা হলে সেটিও মানহানি হবে না। যেমন: পুলিশের কাছে কারও ব্যাপারে সৎ বিশ্বাসে অভিযোগ দেওয়া;
৯. কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার বা অন্য কারও স্বার্থ রক্ষার্থে দোষারোপ করা;
১০. জনকল্যাণের স্বার্থে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কারও সম্পর্কে কিছু বলা হলে।
ব্যাখ্যা
কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অবৈধভাবে বন্দি রাখে, তাতে এইরূপ একটি উদ্দেশ্য সূচিত হয় যে, বন্দি ব্যক্তিকে আটক করে রাখার ব্যাপারটি বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বা কোন সরকারি কর্মচারীর গোচরীভূত হবে না, অথবা যে স্থানে অনুরূপ বন্দি করে রাখা হয়েছে সে স্থানটি উপযুক্তরূপ কোন ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারী দ্বারা জ্ঞাত বা আবিষ্কৃত হবে না, তবে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ অবৈধভাবে বন্দি করে রাখার জন্য অপর যে দণ্ডে দণ্ডিত হবে, তদতিরিক্ত আরও দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
-------------------------------
⇒ The Penal Code,1860. Section-345: Wrongful confinement of person for whose liberation writ has been issued:
-Whoever keeps any person in wrongful confinement, knowing that a writ for the liberation of that person has been duly issued, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years in addition to any term of imprisonment to which he may be liable under any other section of this Chapter.
ব্যাখ্যা
এক্ষেত্রে ১ আদেশের ৮ বাদী অনুযায়ী নিজ খরচে
১) ব্যক্তিগত জারির মাধ্যমে বা
২) গণ-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকলকে নোটিশ প্রদান করবেন।
ব্যাখ্যা
⇒সরকারের অনুমতি ব্যতীত বিদেশী শাসনকর্তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করা যায় না।
⇒দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৭ ধারা অনুযায়ী কোন বিদেশী শাসনকর্তা মোকদ্দমা দায়ের করতে চাইলে বা তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করতে হলে ঐ বিদেশী রাষ্ট্রের নামে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়। তবে উক্ত শাসন কর্তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা তার কোন প্রতিনিধি বা অন্য কারো বিরুদ্ধেও দায়ের করা যায়।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৬ক ধারার বিধান: কূটনৈতিক প্রতিনিধির বিরূদ্ধে মোকদ্দমা (Suit against diplomatic agent)- কোন রাষ্ট্রের কুটনৈতিক প্রতিনিধি বলতে বাংলাদেশে অবস্থানরত সংশ্লিষ্ট মিশনের প্রধান এবং ঐ মিশনের কূটনৈতিক পদ মর্যাদার অধিকারী কর্মচারীদের কোন সদস্যকেও বোঝাবে।
⇒ কোন কূটনৈতিক প্রতিনিধি তার কূটনৈতিক ক্ষমতাবলে কূটনৈতিক কার্যাবলীর অংশ হিসেবে কোন কিছু করলে সেজন্য ঐ কূটনৈতিক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আদালতে কোন মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক প্রতিনিধি ব্যক্তিগত যোগ্যতায় কোন কিছু করলে তার বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে মোকদ্দমা করা যাবে-
ⅰ) ব্যক্তিগত যোগ্যতায় বাংলাদেশে অবস্থিত কোন স্থাবর সম্পত্তির অধিকারী হলে;
ii) বেসরকারি ব্যক্তির মত (private person) কোন উত্তরাধিকারের নিবন্ধক, অছি, ওয়ারিশ বা উইলগ্রহীতা হলে এবং প্রেরণকারী রাষ্ট্রের পক্ষে না হলে;
iii) কূটনৈতিক কার্যাবলির বাহিরে ব্যক্তি যোগ্যতায় বাংলাদেশে কোন বৃত্তিমূলক বা বানিজ্যিক কর্ম-তৎপরতা প্রয়োগ করলে।
ব্যাখ্যা
কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে সে নারী যাতে শুনতে পায় এমন কোন কথা বলে বা শব্দ করে অথবা সে নারী যাতে দেখতে পায় এমন ভাবে কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে অথবা অনুরূপ নারীর গোপনীয়তা অনধিকার লঙ্ঘন করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
Section 509- Word, gesture or act intended to insult the modesty of a woman:
Whoever, intending to insult the modesty of any woman, utters any word, makes any sound or gesture, or exhibits any object, intending that such word or sound shall be heard, or that such gesture or object shall be seen, by such woman, or intrudes upon the privacy of such woman, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.
ব্যাখ্যা
♦অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ১০ বিধির অধীন আদালত রায় ঘোষণার আদেশ [An order pronouncing judgment] দিতে পারে- কোন পক্ষ ৯ বিধির অধীন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে।
♦দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ১০ বিধির বিধান হল; লিখিত জবাব আদালত কর্তৃক দাখিলের জন্য বলা হলে তা দাখিল করতে ব্যর্থ হলে পদ্ধতিঃ কোন পক্ষের থেকে লিখিত জবাব তলব করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দাখিল করতে ব্যর্থ হলে আদালত তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে বা মোকদ্দমা সম্পর্কে অন্য কোন উপযুক্ত আদেশ দিতে পারে।
ব্যাখ্যা
-----------------------------
⇒Section 405: Criminal breach of trust:
-Whoever, being in any manner entrusted with property, or with any dominion over property, dishonestly misappropriates or converts to his own use that property, or dishonestly uses or disposes of that property in violation of any direction of law prescribing the mode in which such trust is to be discharged, or of any legal contract, express or implied, which he has made touching the discharge of such trust, or wilfully suffers any other person so to do, commits "criminal breach of trust".
ব্যাখ্যা
বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য (deferred dower) একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ কাল
তামাদি- ৩ বছর
সময় গণনা শুরু- মৃত্যু অথবা তালাক দ্বারা যখন বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
ব্যাখ্যা
ব্যতিক্রম :- যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশতঃ উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।
⇒ উদাহরণঃ
যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয়। ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।
--------
Wrongful restraint:
Section 339. Whoever voluntarily obstructs any person so as to prevent that person from proceeding in any direction in which that person has a right to proceed, is said wrongfully to restrain that person.
Exception. The obstruction of a private way over land or water which a person in good faith believes himself to have a lawful right to obstruct, is not an offence within the meaning of this section.
Illustration
A obstructs a path along which Z has a right to pass, A not believing in good faith that he has a right to stop the path. Z is thereby prevented from passing. A wrongfully restrains Z.
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court.
• দেওয়ানি আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা-
আদালতের সহজাত ক্ষমতা বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) ন্যায় বিচারের স্বার্থে দেওয়ানী আদালতের একটি অলিখিত ক্ষমতা যা প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়। কোন বিচারপ্রার্থী ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত না হওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতকে একটি বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। যেক্ষেত্রে আইনের কোন সুস্পষ্ট বিধান নেই বা আইনের কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নেই সেক্ষেত্রে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কল্পে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন। একেই বলা হয় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বা সহজাত ক্ষমতা।
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারামতে, দেওয়ানি আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮(১) অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত— উভয়েই কোনো মামলায় পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নির্ধারিত জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন।
অর্থাৎ, হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) অথবা দায়রা আদালত (Court of Session) উভয়ই পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নির্ধারিত জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮: জামিনে মঞ্জুর করার বা জামিনের পরিমাণ হ্রাসের ক্ষমতা:
- (১) এই অধ্যায়ের অধীনে সম্পাদিত প্রতিটি মুচলেকায় (bond) টাকার পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অতিরিক্ত হবে না; এবং হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত, যে কোনো মামলায়, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আপিল থাকুক বা না থাকুক, নির্দেশ দিতে পারেন যে, যে কোনো ব্যক্তিকে জামিনে মঞ্জুর করা হোক, অথবা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রয়োজনীয় জামিনের পরিমাণ হ্রাস করা হোক।
- (২) কোনো আদালত, অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার সময়, তার পলাতক হওয়া রোধ করতে বা তার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে যুক্তিসঙ্গত এবং ন্যায্য শর্ত আরোপ করতে পারেন।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section- 498.Power to direct admission to bail or reduction of bail:
(1) The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.
(2) Any Court, while releasing the accused on bail, may impose reasonable and fair conditions to prevent his abscondence or to ensure his good behaviour.
ব্যাখ্যা
-কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রূপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 376. Punishment for rape:-
-Whoever commits rape shall be punished with imprisonment for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine, unless the woman raped is his own wife and is not under twelve years of age, in which case he shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
ব্যাখ্যা
♦ তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত দলিল সংশ্লিষ্ট আইনে যেইরূপ নির্দেশিত আছে মোটামুটিভাবে সেই আকারে প্রণীত এবং সেই পদ্ধতিতে সম্পাদিত বলিয়া বুঝিতে দিতে হইবে।
♦ আদালত ইহাও সিদ্ধান্ত করিবেন যে, যে অফিসার উক্ত দলিলে স্বাক্ষর বা প্রত্যায়ন করিয়াছেন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হইয়াছে, সেই অফিসার তাহার সহিকৃত কাগজে যে পদাধিকার দাবি করিয়াছেন, তৎকালে তিনি সেই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
♦The Evidence Act, 1872, Section 79 Presumption as to genuineness of certified copies: The Court shall presume every document purporting to be a certificate, certified copy or other document, which is by law declared to be admissible as evidence of any particular fact and which purports to be duly certified by any officer of the Government to be genuine: Provided that such document is substantially in the form and purports to be executed in the manner directed by law in that behalf.
♦ The Court shall also presume that any officer by whom any such document purports to be signed or certified, held, when he signed it, the official character which he claims in such paper.
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার বিধান: হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা-
(১) হাইকোর্ট ডিভিশন যখনই সঠিক মনে করেন, তখন এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে-
(ক) ইহার ফৌজদারি আপিল এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে উপস্থিত করা হোক;
(খ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে সরকারি বা বেসরকারি হেফাজতে বেআইনি অযৌক্তিকভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হোক;
(গ) আদালতের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোন বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি নিয়ে উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থিত কোন জেলে আটক কোন বন্দিকে আদালতে হাজির করা হোক,
(ঘ) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের বিবেচনাধীন কোন বিষয় বিচারের জন্য বা সাক্ষী দিবার জন্য উক্তরূপে আটক কোন বন্দিকে যথাক্রমে উক্ত কোর্ট মার্শাল বা কমিশনার বরাবর হাজির করা হোক,
(ঙ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন বন্দিকে বিচারের উদ্দেশ্যে এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে অপসারণ করা হোক; এবং
(২) মামলার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে এই ধারার অধীন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবেন।
(৩) এই ধারার কোন বিধানই বর্তমান কার্যকর কোন নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়
-----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section- 491.Power to issue directions of the nature of a habeas corpus:
(1) The High Court Division may, whenever it thinks fit, direct:-
(a) that a person within the limits of its appellate criminal jurisdiction be brought up before the Court to be dealt with according to law;
(b) that a person illegally or improperly detained in public or private custody with such limits be set at liberty;
(c) that a prisoner detained in any jail situate within such limits be brought before the Court to be there examined as a witness in any matter pending or to be inquired into in such Court;
(d) that a prisoner detained as aforesaid be brought before a Court-martial or any Commissioners for trial or to be examined touching any matter pending before such Court-martial or Commissioners respectively;
(e) that a prisoner within such limits be removed from one custody to another for the purpose of trial ; and
(2) The Supreme Court may, from time to time, frame rules to regulate the procedure in cases under this section.
(3) Nothing in this section applies to persons detained under any law for the time being in force providing for preventive detention.
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১২নং আদেশ অনুযায়ী স্বীকারোক্তি তিন (৩) প্রকার-
১। মোকদ্দমা স্বীকারের নোটিশ [বিধি-১];
২। দলিল স্বীকার নোটিশ [বিধি-২];
৩। ঘটনা স্বীকারের জন্য নোটিশ [বিধি ৪]।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১২ বিধি ২ (Order 12 Rule 2) অনুসারে, মোকদ্দমার এক পক্ষ অপর পক্ষকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে কোনো দলিলের সত্যতা স্বীকার করার জন্য আহ্বান করতে পারে। এই নোটিশ জারির পর অপর পক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত দলিলটি স্বীকার বা অস্বীকার করতে হবে।
⇒ আদেশ ১২ বিধি ২: দলিল স্বীকারের নোটিশ:
মোকদ্দমার যেকোনো পক্ষ অন্য পক্ষকে নোটিশ প্রদান করতে পারে, যাতে বলা হয় যে, তারা পনেরো দিনের মধ্যে কোনো দলিল স্বীকার করবে, তবে উপযুক্ত ব্যতিক্রম ছাড়া। যদি অন্য পক্ষ তা স্বীকার করতে বা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বা অবহেলা করে, তবে দলিল প্রমাণের খরচ সেই পক্ষকে বহন করতে হবে, যেহেতু তারা স্বীকার করতে বা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে আদালত যদি অন্যভাবে নির্দেশ না দেয়।
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-12 Rule-2: Notice to admit documents:
Either party may call upon the other party to admit, within fifteen days from the date of service of notice, any document, saving all just exceptions; and in case of refusal or neglect to admit, after such notice, the costs of proving any such document shall be paid by the party so neglecting or refusing, whatever the result of the suit may be, unless the Court otherwise directs; and no costs of proving any document shall be allowed unless such notice is given, except where the omission to give the notice is, in the opinion of the Court, a saving of expense.
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের Res Gestae সাক্ষ্য আদালতে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি এমন বক্তব্য বা আচরণ যা—
- ঘটনার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত
- ঘটনার সময় বা অব্যবহিত পূর্বে/পরে সংঘটিত হয়
- স্বতঃস্ফূর্ত, প্রাকৃতিক ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, যাতে মিথ্যার সম্ভাবনা কম থাকে
- বিচারক বা আদালতের কাছে এটি ঘটনার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট বুঝতে সহায়তা করে
তাই, এই ধরনের সাক্ষ্যকে ঘটনার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয় — ফলে আদালত তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেয়।
⇒ Res Gestae শব্দটি লাতিন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ — "ঘটনার অংশ"।
⇒ সাক্ষ্য আইনে (বিশেষ করে ৬ থেকে ৯ ও ১৪ ধারায়) Res Gestae সাক্ষ্য সেই ধরনের তথ্য বা বক্তব্যকে বোঝায়, যা কোনো অপরাধ বা ঘটনার সময় বা অব্যবহিত পূর্বে বা পরে এমনভাবে বলা বা করা হয়েছে যে, তা ঘটনার স্বাভাবিক, আকস্মিক ও অপরিকল্পিত অংশ হয়ে পড়ে।
- এই বক্তব্য বা আচরণগুলো এমন সময় ঘটে, যখন ঘটনার কারণে মানসিক উত্তেজনা বা অবস্থা এতটাই প্রবল থাকে যে, ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলার মতো অবকাশ পায় না।
-এর ফলে, আদালত ধরে নেয় — এই ধরণের বক্তব্যে মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, তাই তা গ্রহণযোগ্য।
ব্যাখ্যা
১) যেক্ষেত্রে টাকা প্রদায় করার দাবীতে পেশকৃত মোকদ্দমায় বাদির নিকট হতে তার প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করত বাদীর দাবী পরিশোধ করতে চায়, উক্ত প্রাপ্য টাকার পরিমাণ যদি আদালতের এখতিয়ারের বাইরে না হয় এবং বাদির মোকদ্দমার ন্যায় বিবাদির দাবীর ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ একই বৈশিষ্ট্যে পড়ে, তাহলে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির তারিখেই বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে তার পরে নয়, বিবাদি তার পাওনা টাকার বিবরণ সম্বলিত একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করতে পারবে।
২) পারস্পরিক দাবী শোধের তাৎপর্যঃ আদালতকে মূল দাবী ও পারস্পরিক দাবী সমন্বয় সঙ্গে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা দিতে ক্ষমতা প্রদান করতে পারে এমন ধরণের পাল্টা মোকদ্দমার আরজির ন্যায় লিখিত বর্ণনার একই প্রকার ক্রিয়া হবেঃ কিন্তু ডিক্রির টাকার উপর ডিক্রির অধীনে এদের খরচা বাবদ কোন উকিলের দাবী থাকলে তা এতদ্বারা প্রভাবিত হবে না।
৩) পারস্পরিক দাবী সমন্বয়ের দাবীতে বিবাদির লিখিত বর্ণনা সম্পর্কিত নিয়মাবলীসমূহ প্রদত্ত বিবৃতির উত্তর দানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
ব্যাখ্যা
এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন ইনকোয়ারী, বিচার বা অন্য কোন প্রক্রিয়ায় বর্তমান কার্যকর অন্য কোন আইনে বর্ণিত পদ্ধতি ছাড়া নিম্নোক্তভাবে পূর্ববর্তী দণ্ড বা খালাস প্রমাণ করা যাবে-
(ক) যে আদালত উক্ত দণ্ড বা খালাস দিয়েছিলেন সেই আদালতের নথিপত্র যে অফিসারের হেফাজতে থাকে সেই অফিসারের স্বহস্তের স্বাক্ষর কর্তৃক সত্যায়িত উক্ত দণ্ডাদেশ বা আদেশের উদ্ধৃতি কর্তৃক, কিংবা
(খ) দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে যে কারাগারে সাজা বা তার অংশ বিশেষ দেয়া হয়েছিল সেই কারাগারের ভারপ্রাপ্ত অফিসারের স্বাক্ষরিত সার্টিফিকেট কর্তৃক কিংবা যে আটকের পরোয়ানা অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হয়েছিল তা পেশ করে;
উপরোক্ত দুটি ক্ষেত্রে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দণ্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তি যে একই, সে সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করতে হবে।
Section 511- Previous conviction or acquittal how proved
In any inquiry, trial or other proceeding under this Code, a previous conviction or acquittal may be proved, in addition to any other mode provided by any law for the time being in force-
(a) by an extract certified under the hand of the officer having the custody of the records of the Court in which such conviction or acquittal was had to be a copy of the sentence or order; or
(b) in case of a conviction, either by a certificate signed by the officer in charge of the jail in which the punishment or any part thereof was inflicted, or by production of the warrant of commitment under which the punishment was suffered; together with, in each of such cases, evidence as to the identity of the accused person with the person so convicted or
ব্যাখ্যা
- এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আদালতে মিথ্যা দাবী করে এবং এটি জানে যে তার দাবী মিথ্যা, অথবা কোনো ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা দাবী করে, তাহলে তাকে এই দণ্ডের আওতায় আনা হবে।
অতএব, সঠিক উত্তর হবে: গ) ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
-----------
⇒The Penal Code, 1860-Section-209. Dishonestly making false claim in Court:
- Whoever fraudulently or dishonestly, or with intent to injure or annoy any person, makes in a Court of Justice any claim which he knows to be false, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, and shall also be liable to fine.
ব্যাখ্যা
- সাক্ষ্য আইনের ধারা ১২৬ অনুযায়ী, আইনজীবী তার পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে, মক্কেলের সঙ্গে করা যে কোনো যোগাযোগ বা পরামর্শ গোপন রাখবেন। এই ধারা আইনজীবীকে তার মক্কেলের তথ্য বা পরামর্শ প্রকাশ না করার বাধ্যবাধকতা দেয়, যতক্ষণ না মক্কেল নিজে সেই তথ্য প্রকাশ করতে সম্মতি দেন। তবে এই বিধান কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কার্যকর নয়, যেমন যখন কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করা হয় বা কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশাগত যোগাযোগ:
কোন আইনজীবী তার ক্লায়েন্টের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া কখনোই নিম্নলিখিত তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন না:
(১) তার ক্লায়েন্টের পক্ষ থেকে বা তার ক্লায়েন্টের পক্ষে তার কর্মজীবনের উদ্দেশ্যে তাকে প্রদান করা কোন যোগাযোগ, অথবা
(২) কোন দলিলের বিষয়বস্তু বা অবস্থা, যা তিনি তার পেশাগত কর্মজীবনের চলাকালে জানেন, অথবা
(৩) তার ক্লায়েন্টকে প্রদত্ত কোন পরামর্শ, যা তিনি তার পেশাগত কর্মজীবনে প্রদান করেছেন।
এটি বিধানাবদ্ধ যে, এই ধারা কোন কিছু প্রকাশের থেকে রক্ষা করবে না–
(১) এমন কোন যোগাযোগ যা অবৈধ উদ্দেশ্য সাধনে করা হয়েছে;
(২) কোন ঘটনা যা কোন আইনজীবী তার কর্মজীবনের চলাকালে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং যা তার ক্লায়েন্টের পক্ষ থেকে কোন ধরনের প্রতারণা বা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।
এটি অসংগঠিত যে, ওই আইনজীবীর দৃষ্টি আকর্ষণ ওই ঘটনা সম্পর্কে তার ক্লায়েন্টের পক্ষ থেকে হয়েছে কিনা।
ব্যাখ্যা: এই ধারা অনুযায়ী, যে বাধ্যবাধকতা জানানো হয়েছে তা কর্মজীবনের সমাপ্তির পরেও অব্যাহত থাকবে।
--------------
⇒ The Evidence Act, 1872 section-126. Professional communications:
No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment:
Provided that nothing in this section shall protect from disclosure–
(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose:
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment.
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client.
Explanation.– The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.
ব্যাখ্যা
সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিস্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ এই বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে। এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।
Order 1 Rule 8: One person may sue or defend on behalf of all in same interest-
1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Cour sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plantiffs expense, notice of the institution of the suit to all such personal either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct
2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.
ব্যাখ্যা
ক) যদি মোকদ্দমা চলাকালে সে বিরক্তিকর বা অসঙ্গত আচরণে দোষী হয়; বা
খ) যদি প্রতীয়মান হয় যে, তার এরূপ আর্থিক সংস্থান রয়েছে যাতে তার নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা পরিচালনা করা উচিত নয়; বা
গ) যদি সে মোকদ্দমার অধীনে বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকে যাতে অন্য কোন ব্যক্তি উক্ত বিষয়বস্তুতে একটি স্বার্থ অর্জন করেছে।
---------------
⇒ CPC Order-33 Rule-9. Dispaupering:
The Court may, on the application of the defendant, or of the Government pleader, of which seven days' clear notice in writing has been given to the plaintiff, order the plaintiff to be dispaupered−
(a) if he is guilty of vexatious or improper conduct in the course of the suit;
(b) if it appears that his means are such that he ought not to continue to sue as a pauper; or
(c) if he has entered into any agreement with reference to the subject-matter of the suit under which any other person has obtained an interest in such subject-matter.
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার অধীন মানহানির [defamation] শাস্তি হল যে কোন বর্ণনার ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
⇒ পেনাল কোড-এর ৪৯৯ ধারায় মানহানি বা defamation এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং সেখানে মোট ১০ টি ব্যতিক্রম সাপেক্ষে এই অপরাধ সংঘটনের কথা বলা আছে।
⇒ ৪৯৯ ধারায় ১০টি ব্যতিক্রম নিচে দেয়া হল-
১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা ।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না ।
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির ১০ টি ব্যতিক্রম (Exception) রয়েছে অর্থাৎ এই ১০ টি ক্ষেত্রে কোন মানহানিকর উক্তি বা তথ্য প্রকাশ করা হলেও মানহানির অপরাধ হবেনা।
⇒ শাস্তি: ধারা ৫০০ অনুযায়ী, মানহানি অপরাধের শাস্তি- ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৭৪ অনুসারে, সরকারী দলিল (Public Document) বলতে সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলগুলোকে বোঝায়, যেমন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনালের নথিপত্র, বিচার বা শাসন বিভাগের লিখিত রেকর্ড। এর মধ্যে আদালতের রায় অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি সরকারী রেকর্ডে রক্ষিত হয়। অন্যান্য অপশনগুলো (বিক্রয় চুক্তি, ব্যক্তিগত চিঠি, কবিতা বা উইল) ধারা ৭৫-এর অধীনে বেসরকারী দলিল।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ থেকে ৭৮ ধারায় সরকারী দলিল সংক্রান্ত বিধানসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের দলিলগুলোকে সাক্ষ্য আইন মতে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. সরকারী দলিল (Public Document); এবং
২. বেসরকারী/ব্যক্তিগত দলিল (Private Document)।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা-৭৪: সরকারী দলিল (Public Document)- সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা-৭৫: বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.
ব্যাখ্যা
♦ ১৮২ ধারা অনুযায়ী অপরাধের স্থান নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা দেখা দিলে বা একাধিক আদালতের অধিক্ষেত্রে অপরাধটি সংঘটিত হলে যেকোন একটি আদালতে বিচার করা যাবে।
♦ ১৮৫ ধারা অনুযায়ী অপরাধের স্থান নিয়ে কোন অনিশ্চয়তার ক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন দেখা দিলে হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ব্যাখ্যা
→ প্রথম বিভাগ (First Division): অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
বিষয়: মামলা (Suit) দায়েরের তামাদি মেয়াদ।
→ দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division): অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
বিষয়: আপীল (Appeal) দায়েরের তামাদি মেয়াদ।
→ তৃতীয় বিভাগ (Third Division): অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।
বিষয়: দরখাস্ত (Applications) দায়েরের তামাদি মেয়াদ।
অর্থাৎ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের দ্বিতীয় বিভাগে (Second Division) আপীল দায়েরের (Limitation for filing appeals) তামাদি মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই বিভাগটি ১৫০ থেকে ১৫৭ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এতে বিভিন্ন ধরনের আপীলের জন্য তামাদি মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
- কেননা মোবাইল সেটটি পাওয়ার পর A এর দায়িত্ব ছিল প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। কিন্তু মোবাইল সেটের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা না করেই A উক্ত মোবাইল সেট বিক্রি করে দেওয়ায় অপরাধমূলক সম্পত্তি আত্মসাৎ এর অপরাধ করেছে।
ব্যাখ্যা
• বাদীর প্লিডিংস হলো আরজি এবং বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব। বাদীর আরজি বা বিবাদীর লিখিত জবাব একত্রে প্লিডিংস নামে পরিচিত। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে। লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাদি (Material Facts) যার উপর ভিত্তি করে আবেদনকারী বা দরখাস্তকারী তার দাবী উত্থাপন করে বা আত্মপক্ষ সমর্থন করে, সে সব তথ্য প্লিডিংসে (আরজি বা লিখিত জবাবে) উল্লেখ করতে হবে।
• প্লিডিংস সংশোধন (Amendment of pleadings)-
দেওয়ানি কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১৭নং বিধিতে প্লিডিংস সংশোধন করার বিধান রয়েছে। ১৭ নং বিধিমতে মোকদ্দমার প্রকৃতি নির্ধারণ ও ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিলেও আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে প্লিডিংস সংশোধন করতে পারে।
প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয় বিচারিক আদালতে। তবে বিচার শুরু হওয়ার পর প্লিডিংস সংশোধনীর আবেদন করা যায়। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন সত্ত্বেও বিচার শুরুর আগে আবেদন না করার কারণ দেখিয়ে, আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে।
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৪৬ বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের জবাব দিতে পারবেন এবং উহার ২ কপি শুনানীর সময়ের কমপক্ষে ৭ দিন পূর্বে বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর দাখিল করবেন। সচিব শুনানীর কমপক্ষে দুই দিন পূর্বে তা অভিযোগকারী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে সরবরাহ করবেন।
--------------------------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council Rules, 1972. Rule- 46: The advocate concerned shall be entitled to file a reply to the allegations against him whether or not he has already filed a reply before the Bar Council. He shall deliver such reply along with two copies to the Secretary at least seven days before the date of hearing fixed by the Tribunal and the Secretary shall deliver the copies to the Attorney General and the complainant at least two days before such hearing.
ব্যাখ্যা
-এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
-যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) 'ক', 'খ' কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং 'খ' সেখান থেকে বালি বা নুড়িপাথর খনন বা উত্তোলন না করবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ থেকে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'ক' মামলা দায়ের করতে পারে।
(জ) উকিল হিসাবে 'ক' এর নিয়োজিত থাকার সময় তার মক্কেল 'খ' এর কতিপয় দলিল তার হস্তগত হয়। 'ক' উক্ত দলিল সমূহ সাধারণ্যে প্রকাশ অথবা তার বিষয়বস্তু একজন আগন্তুকের নিকট প্রকাশ করে দেবার হুমকি প্রদান করে। 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা তে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
(ঝ) 'ক', 'খ' এর মেডিকেল অ্যাডভাইজার। 'ক' টাকা দাবি করল যা 'খ' প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশ করল। 'ক' তারপর রোগী হিসাবে 'খ' যে সমস্ত তথ্য তার নিকট প্রকাশ করেছে তা সাধারণ্যে প্রকাশ করার হুমকি প্রদান করল। এটি 'ক' এর কর্তব্যের বিপরীত এবং 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
ব্যাখ্যা
♦ আইনগত অক্ষমতা/বৈধ অপারগতা (Legal Disability)- নাবালকত্ব, পাগল বা উম্মাদ অবস্থা অথবা নিবুদ্ধিতার কারণে মামলা দায়ের করতে অসমর্থ হওয়াকে আইনগত অক্ষমতা বা বৈধ অপারগতা (legal disability) বলে। কোন মামলা বা প্রসিডিংস দায়ের করার অধিকারী ব্যক্তি অথবা ডিক্রিজারির দরখাস্ত পেশ করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যদি উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত পেশ করার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ যেদিন হতে গণনা শুরু হবে সেদিন নাবালক, পাগল বা উম্মাদ থাকেন তাহলে তিনি তার নাবালকত্ব, পাগলামি বা উম্মত্ততা শেষ হওয়ার পর ঐ একই মেয়াদের মধ্যে উক্ত মামলা, প্রসিডিংস বা দরখাস্ত দায়ের বা পেশ করতে পারবেন।
♦ মামলা করার কারণ সৃষ্টির সময় (cause of action) মামলা করার অধিকারী ব্যক্তি আইনগতভাবে মামলা করতে অপারগ হলে উক্ত ব্যক্তির তামাদির মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৬-৯ ধারা কার্যকর হবে। কোন ব্যক্তি যতদিন নাবালক, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধ/নির্বোধ থাকে ততদিন তার তামাদির মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। নাবালকত্ব, উম্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হওয়ার পর থেকে তার মামলা দায়েরের সময় গণনা অর্থাৎ তামাদির মেয়াদ শুরু হবে। অন্যভাবে বলা যায়, আইনগত সক্ষমতা অর্জন না করা পর্যন্ত তামাদি সময়সীমা গণনা করা হয় না অর্থাৎ কোন ব্যক্তি আইনগতভবে সক্ষম হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী মামলা করতে পারবে।
♦ তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধ থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপরাগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধতার অবসান হবে।
♦ আইনগত অক্ষমতার বিধানসমূহ কেবলমাত্র বাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়, বিবাদীর অক্ষমতার ক্ষেত্রে নয়।
♦ কেবলমাত্র মূল মামলা ও ডিক্রি জারির দরখাস্তের ক্ষেত্রেই আইনগত অক্ষমতা প্রযোজ্য হয়- অন্য কোন ক্ষেত্রে নয়।
ব্যাখ্যা
• বাদীর প্লিডিংস হলো আরজি এবং বিবাদীর প্লিডিংস হলো লিখিত জবাব। বাদীর আরজি বা বিবাদীর লিখিত জবাব একত্রে প্লিডিংস নামে পরিচিত। আরজি হলো যে লিখিত দলিল দাখিলের মাধ্যমে বাদী প্রতিকার চেয়ে দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করে। এখানে বাদী তার দাবী এবং দাবীর সমর্থনে ঘটনা উল্লেখ করে। লিখিত জবাব হলো বিবাদী সাধারণত বাদীর দাবী অস্বীকার করে লিখিত যে দলিল পেশ করে।
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৬নং আদেশের ১৭নং বিধিতে প্লিডিংস সংশোধন করার বিধান রয়েছে। ১৭ নং বিধিমতে মোকদ্দমার প্রকৃতি নির্ধারণ ও ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিলেও আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে প্লিডিংস সংশোধন করতে পারে। উল্লেখ্য যে, প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয় বিচারিক আদালতে। তবে বিচার শুরু হওয়ার পর প্লিডিংস সংশোধনীর আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন সত্ত্বেও বিচার শুরুর আগে আবেদন না করার কারণ দেখিয়ে, আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে।
• বিচারকার্য আরম্ভ হওয়ার পর যদি সংশোধনের আবেদন করা হয় এবং আদালত এই মত পোষণ করেন যে, বিচারকার্য পরিচালনাকে বিলম্ব করার নিমিত্তে ইহা করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত আপত্তিকারীকে যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন তদ্রুপ ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ পরিশোধ করতে আদেশ দিবেন।
[if an application for amendment is made after the trial has commenced and the Court is of opinion that the application is made to delay the proceedings, the Court shall make an order for the payment to the objector such cost by way of compensation as if thinks fit."]
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ৩৩০–এ বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি (যেমন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য) স্বীকারোক্তি আদায় বা সম্পত্তি প্রত্যর্পণ করানোর উদ্দেশ্যে কাউকে নির্যাতন করে এবং তাতে সাধারণ আঘাত হয়, তবে এটি একটি অপরাধ। এই অপরাধের শাস্তি হলো সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম), এবং এর পাশাপাশি অর্থদণ্ডও হতে পারে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: ক) ধারা ৩৩০।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারার বিধান: ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় বা সম্পত্তি প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য করার জন্যে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত প্রদান করা:
-যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণ সম্পর্কে সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, সে স্বীকারোক্তি বা তথ্য আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে ব্যক্তিকে বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, সে স্বীকারোক্তি বা তথ্য আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে ব্যক্তিকে বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি বা জামানত প্রত্যর্পণ করতে বা প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করে দিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, অথবা কোন দাবী পূরণে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা যে তথ্য দানের ফলে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত পুনরুদ্ধার হতে পারে সে তথ্যদানে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে, তবে উক্ত আঘাতকারী সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
উদাহরণ:
(অ) ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা। সে চ-কে কোন অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য করার জন্য পীড়ন করে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।
(আ) ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা। কোন জায়গায় অপহৃত দ্রব্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে সে তথ্যদানে বাধ্য করার জন্য সে চ-কে পীড়ন করে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।
-----------------------
⇒ The Penal Code,1860: Section 330- Voluntarily causing hurt to extort confession, or to compel restoration of property:
Whoever voluntarily causes hurt, for the purpose of extorting from the sufferer or any person interested in the sufferer, any confession or any information which may lead to the detection of an offence or misconduct, or for the purpose of constraining the sufferer or any person interested in the sufferer to restore or to cause the restoration of any property or valuable security or to satisfy any claim or demand, or to give information which may lead to the restoration of any property or valuable security, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
Illustrations:
(a) A, a police-officer, tortures Z in order to induce Z to confess that he committed a crime. A is guilty of an offence under this section.
(a) A, a police-officer, tortures B to induce him to point out where certain stolen property is deposited. A is guilty of an offence under this section.
(b) A, a revenue officer, tortures Z in order to compel him to pay certain arrears of revenue due from Z. A is guilty of an offence under this section.
(c) A, a zamindar, tortures a raiyat in order to compel him to pay his rent. A is guilty of an offence under this section.
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি আইনটি ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই হতে কার্যকর আছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ধারা ৫৬৫ টি এবং মোট তফসিল ছিল ৫টি, যার মধ্যে ১ টি বাতিল করা হয়েছে। যার ফলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্তমানে বলবৎ আছে ৪ টি তফসিল।
- ফৌজদারি কার্যবিধি সর্বশেষ সংশোধন হয় ২০১২ সালে।
⇒ Section-11-[(2A) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Chief Judicial Magistrate, Additional Chief Judicial Magistrate and other Judicial Magistrates shall hold its sitting.]
- Sub-section (2A) was inserted after the sub-section (2) by section 2 of the Code of Criminal Procedure, (Amendment) Act, 2012 (Act No. XXXVII of 2012).
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির (Code of Criminal Procedure, 1898) সেকশন ১১ এর একটি সংশোধনী। এখানে একটি নতুন উপ-ধারা (২ক) যোগ করা হয়েছে।
এই সংশোধনীর মূল বক্তব্য হলো:
- সরকার সরকারি গেজেটে সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে নির্দেশ দিতে পারবে যে:
প্রধান জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত , অতিরিক্ত প্রধান জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত , অন্যান্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের আদালত কোন স্থান বা স্থানসমূহে তাদের বসার আয়োজন করবে।
অর্থাৎ এই সংশোধনীর মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, তারা বিভিন্ন ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো কোথায় বসবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারবে। এই নির্দেশনা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে।
উল্লেখ্য,
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি মূলত একটি পদ্ধতিগত আইন যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Adjective law বা Procedural law, সিভিল বা দেওয়ানী মামলায় যেমন দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসরণ করে মামলা মোকদ্দমার প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়, তেমনি সকল প্রকার ক্রিমিনাল মামলাতেও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হয়, যদি না আইনে ভিন্ন কিছু বলা থাকে।
⇒ ফৌজদারি আদালতের গঠন এবং ক্ষমতা থেকে শুরু করে, অভিযোগ দায়ের, আসামী গ্রেফতার, তদন্ত, মামলা আমলে নেওয়া, অভিযোগ গঠন, অব্যাহতি, সাক্ষ্য গ্রহণ, রায়, খালাস, মুক্তি, রায়ের বিরুদ্ধে আপীল ইত্যাদি সংক্রান্ত সকল বিষয় ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
♦নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়। যথা-
i) মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ২ বছরের অধিক মেয়াদের কারাদন্ড যোগ্য অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ অর্থাৎ ২ বছর বা এর কম মেয়াদের কারাদন্ড যোগ্য অপরাধের বিচার।
ii) দন্ডবিধির ২৬৪, ২৬৫, ২৬৬ ধারামতে ওজন ও পরিমান সম্পর্কিত অপরাধ, ৩২৩ ধারামতে আঘাত, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের চুরি, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের সম্পত্তি অসৎভাবে আত্মসাৎ, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের চোরাইমাল গ্রহণ, গোপন ও হস্তান্তর;
iii) দন্ডবিধির ২৭৭,২৭৯,২৮৫, ২৮৯, ২৯০-২৯৪, ৩৩৪, ৩৩৬, ৩৪১,৩৫২ ধারার অপরাধ ।
iv) ক্ষতি (Mischief), দন্ডবিধির ৪৪৭ ধারামতে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, ৪৪১, ৪৫৩, ৪৫৪, ৪৫৬ ও ৪৫৭ ধারামতে কৃত অপরাধ, অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন, ৫০৯ ও ৫১০ ধারামতে ইভটিজিং বা মাতলামি;
v) পূর্বে বর্ণিত অপরাধ সমূহে সহায়তা ও অপরাধসমূহ করার চেষ্টা (abetment and attempt to commit the foregoing offences); এবং
vi) ১৮৭১ সালের গবাদি পশুর অনধিকার প্রবেশ আইনের ২০ ধারার অধীন অপরাধের সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়।
♦এছাড়াও মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর অধীনে সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়। মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমান আদালত সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে বিচার পরিচালনা করে থাকে।
♦অর্থাৎ যেগুলো জরিমানাযোগ্য, জরিমানাসহ বা ব্যতীত অনধিক ১ মাস মেয়াদের কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার করতে পারেন।
ব্যাখ্যা
"সাক্ষীদের ওজন (বিশ্বাসযোগ্যতা) বিবেচ্য, সংখ্যা নয়।" অর্থাৎ, সাক্ষীদের সংখ্যা নয়, বরং তাদের সাক্ষ্যের গুণমানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই নীতিটি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৩৪-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। (Testes ponderautur, non numerator)- এই প্রবচনটির ইংরেজী প্রতিশব্দ হল- 'witnesses are weighed, not numbered'.- বিচারকালে সাক্ষীর সাক্ষ্যকে ওজন করতে হয়, সাক্ষীর সংখ্যা নির্ধারণ করতে হয় না। যে ঘটনা সম্পর্কে যতজন মানুষ জ্ঞান রাখেন, ততজনই সাক্ষী হওয়া উচিত। সাক্ষীর সংখ্যা কৃত্রিম মানদন্ডে হওয়া উচিৎ নয়। বিচারকালে আদালত সাক্ষীর গুণাগুণ বিচার করেন, সংখ্যা নয়। অর্থাৎ, আদালতে শুধুমাত্র অনেকগুলো সাক্ষীকে উপস্থিত করলেই চলবে না, বরং প্রত্যেক সাক্ষীর সাক্ষ্যের গুরুত্ব, যথার্থতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকেই গুরুত্ব দিতে হবে। একজন সত্যবাদী এবং বিশ্বস্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য অনেক সাক্ষীর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সাক্ষ্য আইনের ১৩৪ ধারা অনুযায়ী-
কোন মামলা প্রমাণের জন্য সাক্ষীর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়; অর্থাৎ একটি মামলার কোন বিষয় প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সাক্ষীর প্রয়োজন নাই। শুধুমাত্র একজন সাক্ষী দ্বারাও মামলা নি:সন্দেহে প্রমাণ করা যায়। এক্ষেত্রে মামলার ধরন অপ্রাসঙ্গিক।
ব্যাখ্যা
রায়ের পূর্বে ক্রোক দ্বারা মোকদ্দমায় পক্ষ নয় এরূপ ব্যক্তিদের ক্রোকের পূর্বে বিদ্যমান স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে না, বা ডিক্রির অধিকারী কোন ব্যক্তির বিবাদীর বিরুদ্ধে উক্ত ডিক্রি জারিতে ক্রোকের অধীন সম্পত্তি বিক্রয়ে আবেদন করতে বারিত করবে না।
Order 38 Rule 10: Attachment before judgment not to affect rights of strangers not bar decree-holder from applying for sale:
Attachment before judgment shall not affect the rights, existing prior to the attachment, of persons not parties to the suit, nor bar any person holding a decree against the defendant from applying for the sale of the property under attachment in execution of such decree.
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৩ ধারার বিধান:
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোনো পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল মাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ২৬৫ ঝ(৩) মোতাবেক আসামী যদি কোন সাক্ষীকে হাজির হতে বা কোন দলিল বা অন্য কিছু উপস্থিত করতে বাধ্য করার জন্য পরোয়ানা দেয়ার আবেদন করে, আদালত যদি লিপিবদ্ধ কারণে এরূপ মনে না করেন যে, বিরক্তি বা বিলম্ব ঘটার বা ন্যায় বিচার ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই উক্ত আবেদন করা হয়েছে বিধায় আবেদন অগ্রাহ্য করা উচিত, তাহলে এরূপ পরোয়ানা ইস্যু করবেন।
ব্যাখ্যা
- কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে; খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
--------------
Section-416. Cheating by personation:
A person is said to "cheat by personation" if he cheats by pretending to be some other person, or by knowingly substituting one person for another, or representing that he or any other person is a person other than he or such other person really is.
Explanation.-The offence is committed whether the individual personated is a real or imaginary person.
Illustrations
(a) A cheats by pretending to be a certain rich banker of the same name. A cheats by personation.
(b) A cheats by pretending to be B, a person who is deceased. A cheats by personation.
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ ধারায় খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান আলোচনা করা হয়েছে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়-১- হাইকোর্ট বিভাগে ২- দায়রা জজের নিকট।
- খালাস আদেশটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দিলে দায়রা জজের নিকট এবং দায়রা আদালত দিলে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে।
- খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে- ১. পাবলিক প্রসিকিউটর ২. অভিযোগকারী
৪১৭ (১) ধারায় পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ৪১৭ (২) ধারায় অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।
- পাবলিক প্রসিকিউটর যেকোনো মামলায় (G.R এবং C.R উভয় মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকরতে পারে।
- অভিযোগকারী শুধুমাত্র নালিশী মামলায় (C.R মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭(৩) ধারা অনুসারে, খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৭ ধারা অনুচ্ছেদ অনুসারে পাবলিক প্রসিকিউটর খালাসের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 417- Appeal in case of acquittal:
(1) Subject to the provisions of sub-section (4), the Government may, in any case, direct the Public Prosecutor to present an appeal-
(a) to the High Court Division from an original or appellate Order of acquittal passed by any Court of Session;
(b) to the Court of Session from an original or appellate Order of acquittal passed by any Magistrate.
(2) Notwithstanding anything contained in section 418, if such an order is passed in any case instituted upon complaint, and if the order involves an error of law occasioning failure of justice, the complainant may present an appeal-
(a) to the High Court Division from an original order of acquittal passed by any Court of Session;
(b) to the Court of Session from an original order of acquittal passed by any Magistrate.
(3) No appeal by the complaint from an order of acquittal shall be entertained by the High Court Division or a Court of Session] after the expiry of sixty days from the date of the order of acquittal.
(4) If, in any case, the admission of an appeal from an order of acquittal is refused, no appeal from that order of acquittal shall lie under sub-section (1).
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭- অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন:
যে ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে, বা যে ব্যক্তি হুমকি প্রদানের জন্য যার নাম বা অবস্থান গোপন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাকে দুই বছরের পর্যন্ত যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়া, এই অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী ধারায় প্রদত্ত শাস্তিও তাকে প্রদান করা হবে।
Criminal intimidation by an anonymous communication:
Whoever commits the offence of criminal intimidation by an anonymous communication, or having taken precaution to conceal the name or abode of the person from whom the threat comes, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, in addition to the punishment provided for the offence by the last preceding section.
ব্যাখ্যা
♦ অর্থাৎ অভ্যাসগতভাবে চোরাইমাল বেচাকেনার শাস্তি (Habitually dealing in stolen property)- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বৎসর কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড। সর্বোচ্চ শাস্তি_যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধি দুই ভাগ:
- ১. ধারা (Sections): মোট ১৫৮টি ধারা।
- ২. তফসিল (Schedules)।
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এ মোট পাঁচটি তফসিল থাকলেও, বর্তমানে মাত্র তিনটি তফসিল কার্যকর রয়েছে, কারণ দ্বিতীয় ও চতুর্থ তফসিল বাতিল করা হয়েছে।
- বর্তমানে বলবৎ থাকা তফসিলগুলো হলো: প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম তফসিল।
- প্রথম তফসিলে মোট ৫১টি আদেশ ছিল, তবে ৫১ নম্বর আদেশটি বাতিল করা হয়েছে।
তফসিলসমূহ:
১. প্রথম তফসিল: আদেশ ও বিধিসমূহ (৫১টি আদেশ)।
২. দ্বিতীয় তফসিল: বাতিল।
৩. তৃতীয় তফসিল: কালেক্টরের মাধ্যমে ডিক্রি জারি।
৪. চতুর্থ তফসিল: সংশোধিত আইনসমূহ।
৫. পঞ্চম তফসিল: বাতিল।
ব্যাখ্যা
(১) যে সমস্ত দলিল-
(ক) কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং
(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের যে কোন স্থানের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
---------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার বিধান বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল।
⇒ কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.
⇒ আদালতের রায় ৭৪(১) ধারার বিধান মতে পাবলিক ডকুমেন্টস। কারণ রায় বিচার বিভাগীয় কাজের অংশ।
ব্যাখ্যা
আদালত অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির জন্য কোন মহিলাকে দেওয়ানি জেলে গ্রেফতার বা আটক রাখার কোন আদেশ প্রদান করবেন না।
Section 56- Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money:
Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of a woman in execution of a decree for the payment of money.
ব্যাখ্যা
• সংক্ষিপ্ত বিচার (Summary Trial)-
গতানুগতিক ফৌজদারি বিচার পদ্ধতি অনুসরণ না করে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে যে বিচার করা হয়, তাকে সংক্ষিপ্ত বিচার বা Summary Trial বলে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬০ থেকে ২৬৫ ধারায় সংক্ষিপ্ত বিচার বা Summary Trial সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ২৬০ ধারা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করতে পারেন-
i) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট,
ii) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সম্পন্ন অন্য যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত বিচার করতে পারেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬১ ধারা অনুযায়ী,
সরকারের দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে ২য় বা ৩য় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার করতে পারেন।
ব্যাখ্যা
যদি কোনো চুক্তির বিষয়বস্তুর একটি অংশ কার্যকর হওয়ার সময় বিদ্যমান না থাকে বা বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে চুক্তির সম্পূর্ণ বিষয় বাতিল বা অবৈধ হয়ে যায় না। বরং চুক্তির যে অংশটি এখনও কার্যকর আছে (unaffected portion of the contract remains) বা যে অংশের অস্তিত্ব এখনও অবশিষ্ট রয়েছে, তা বৈধ থাকে এবং সেই অংশের চুক্তিটি কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য হয়।
Section 13- Contract of which the subject has partially ceased to exist:
Notwithstanding anything contained in section 56 of the Contract Act, a contract is not wholly impossible of performance because a portion of its subject-matter, existing at its date, has ceased to exist at the time of the performance.
[চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।]
Illustrations:
(a) A contracts to sell a house to B for a lakh of taka. The day after the contract is made the house is destroyed by a cyclone. B may be compelled to perform his part of the contract by paying the purchase-money.
(ক) 'ক', 'খ'-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে 'খ'-কে চুক্তিতে তার অংশের কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যেতে পারে।
(b) In consideration of a sum of money payable by B, A contracts to grant an annuity to B for B's life. The day after the contract has been made, B is thrown from his horse and killed. B's representative may be compelled to pay the purchase-money.
(খ) 'ক', 'খ'-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন 'খ' ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে মারা গেল। এখন 'খ'-এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ২৭ক ধারা অনুযায়ী, যদি লিজের চুক্তিটি লিখিতভাবে সম্পাদিত হয় এবং পক্ষদ্বয়ের (বা তাদের প্রতিনিধির) দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে তা নিবন্ধনযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নিবন্ধন না থাকলেও আদালতে সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের মামলা করা যেতে পারে, যদি চুক্তির আংশিক বাস্তবায়ন ঘটে থাকে (যেমন দখল হস্তান্তর বা চুক্তি অনুযায়ী কিছু কার্য সম্পাদন)।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ক ধারা বিধান স্থাবর সম্পত্তির লিজের চুক্তির অংশবিশেষের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান:
এই অধ্যায়ের বিধানাবলির অধীনে, যদি স্থাবর সম্পত্তি লিজ দেয়ার একটি চুক্তি লিখিতভাবে পক্ষদ্বয় বা তাদের প্রতিনিধির স্বাক্ষরিত হয়, তবে যদিও চুক্তিটি নিবন্ধিত হওয়ার প্রয়োজন আছে কিন্তু নিবন্ধিত না হয়, তবুও আদেশ দ্বারা বাস্তবায়নের জন্য একপক্ষ অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে যদি, -
(ক) যদি লিজদাতা বাস্তবায়নের দাবি করে, তিনি চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে সম্পত্তির দখল লিজ গ্রহীতাকে হস্তান্তর করেছেন; এবং
(খ) যদি লিজগ্রহীতা বাস্তবায়নের দাবি করে, তিনি চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে সম্পত্তির দখল নিয়েছেন, অথবা ইতোমধ্যে দখলে থেকে চুক্তির আংশিক বাস্তবায়নে দখল বজায় রেখেছেন এবং চুক্তির পরিপূরকে কোনও কাজ করেছেন।
তবে এই ধারার কিছুই এমন হস্তান্তরিতের অধিকারে প্রভাব ফেলবে না যে প্রতিফলস্বরূপ হস্তান্তর গ্রহণ করে এবং যার চুক্তি বা তার আংশিক বাস্তবায়নের কোনও সংবাদ নেই।
এই ধারা ১লা এপ্রিল, ১৯৩০ এর পরে সম্পাদিত ভাড়ার চুক্তিগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
-------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 27A- Specific performance in case of part performance of contract to lease:
Subject to the provisions of this Chapter, where a contract to lease immoveable property is made in writing signed by the parties thereto or on their behalf, either party may, notwithstanding that the contract, though required to be registered, has not been registered, sue the other for specific performance of the contract if,-
(a) where specific performance is claimed by the lessor, he has delivered possession of the property to the lessee in part performance of the contract; and
(b) where specific performance is claimed by the lessee, he has, in part performance of the contract, taken possession of the property, or, being already in possession, continues in possession in part performance of the contract, and has done some act in furtherance of the contract:
Provided that nothing in this section shall affect the rights of a transferee for consideration who has no notice of the contract or of the part performance thereof.
This section applies to contracts to lease executed after the first day of April, 1930.
ব্যাখ্যা
কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অসম্পাদিত অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।
১৪ ধারার বিধান:
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
Section 14: Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
যেমন-
(১) স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না এমন শর্তে স্বীকারোক্তি দিলে।এবং
(২) স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না এই মর্মে কোন চুক্তি থাকলে।
ব্যাখ্যা
উদাহরণ:
- একজন ব্যক্তি ১৫ বছর বয়সে একটি সম্পত্তির অধিকার লাভ করে এবং ১৮ বছর বয়সে সাবালক হয়। তখন থেকেই তার তামাদির সময় গণনা শুরু হয়। যদি সে ২০ বছর বয়সে মানসিক ভারসাম্য হারায়, তবুও তার তামাদির সময় থেমে যাবে না। কারণ ধারা ৯ অনুসারে “একবার শুরু হলে তা আর বন্ধ হয় না।”
অর্থাৎ ধারা ৯-এ উল্লেখ আছে, তামাদির মেয়াদ একবার শুরু হয়ে গেলে, পরবর্তীকালের কোনো বৈধ অপারগতা (যেমন উন্মাদতা, জড়বুদ্ধিতা) তার গতি থামাতে পারে না।
সুতরাং, উত্তর ঘ) ধারা ৯ সঠিক।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮–এর ধারা ৯ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি মামলা করার অধিকার লাভের সময় আইনগতভাবে সক্ষম থাকে, এবং তামাদি মেয়াদ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে যায়, তাহলে পরে সে ব্যক্তি আইনগত অক্ষম হলেও — তামাদি মেয়াদ চলতে থাকবে, অর্থাৎ স্থগিত হবে না।
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 9: Continuous running of time:
- Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
- অর্থাৎ একবার তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হলে, পরবর্তীতে যদি কোনো আইনগত অক্ষমতা (যেমন: নাবালকত্ব, উন্মাদ অবস্থা ইত্যাদি) তৈরি হয়, তবুও সময় গণনা বন্ধ হবে না।
ব্যাখ্যা
“... there shall be no appeal by a convicted person in cases in which a Court of Session or Chief Judicial Magistrate or Metropolitan Magistrate or other Magistrate of the first class passes a sentence of fine not exceeding fifty Taka only.”
অর্থাৎ, যদি কোনও দায়রা আদালত বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট (যেমন চীফ জুডিশিয়াল বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) ৫০ টাকা বা তার কম জরিমানা করে, তবে সেই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আপীল করতে পারবেন না।
- এটি মামলার পরিমাণ ও গুরুত্ব অনুসারে আপীলযোগ্যতার সীমা নির্ধারণ করে দেয়, যাতে ছোটখাটো মামলায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ না হয়।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 413. No appeal in petty cases:
- Notwithstanding anything hereinbefore contained, there shall be no appeal by a convicted person in cases in which a Court of Session passes a sentence of imprisonment not exceeding one month only, or in which a Court of Session or Chief Judicial Magistrate or Metropolitan Magistrate or other Magistrate of the first class passes a sentence of fine not exceeding fifty Taka only.
Explanation- There is no appeal from a sentence of imprisonment passed by such Court or Magistrate in default of payment of fine when no substantive sentence of imprisonment has also been passed.
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩০৯ অনুসারে, আত্মহত্যা করার চেষ্টা (Attempt to commit suicide) শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শাস্তি: ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়।
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা- আত্মহত্যা করার চেষ্টা:
কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে এবং অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কার্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
⇒The Penal Code, 1860-Section Section 309- Attempt to commit suicide:
Whoever attempts to commit suicide and does any act towards the commission of such offence, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
i) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির;
ii) বেআইনী বা অযৌক্তিকভাবে সরকারি বা বেসরকারী হেফাজতে আটক ব্যক্তির মুক্তি;
iii) জেলখানা বা কারাগারে আটক কোন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দেয়ার জন্য আদালতে হাজির করা;
iv) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের নিকট বিচার বা সাক্ষাৎ দেয়ার জন্য হাজির;
v) এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে বিচারের জন্য কোন বন্দিকে স্থানান্তর।
ব্যাখ্যা
⇒ যদি রিভিউ আবেদন নামঞ্জুর হয় তাহলে বাদী উক্ত না-মঞ্জুরের বিরুদ্ধে রিভিশন করবে ১১৫ ধারা অনুযায়ী।
⇒ উলেখ যে, রিভিউ মঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপীল করবে কেননা এটি একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
⇒ কিন্তু রিভিউ না-মঞ্জুরের বিরুদ্ধে রিভিশন করতে হয়। কারন এটি আপীল অযোগ্য আদেশ।
⇒ পরবর্তীতে ‘ক’ রিভিশন করতে পারবে।
ব্যাখ্যা
Where any immovable property has been sold in Execution of a decree, the decree - holder, or any person entitled to share in a rateable distribution of assets, or whose interests are affected by the sale, may apply to the court to set aside the sale on the ground of a material irregularity or fraud in publishing or conducting it.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৯০- অনিয়মতা কিংবা প্রতারণার কারণে নিলাম বিক্রয় রদের আবেদন:
যেক্ষেত্রে কোন স্থাবর সম্পত্তি ডিক্রিজারিতে নিলাম বিক্রয় হয়েছে, সেক্ষেত্রে ডিক্রিদার কিংবা সম্পত্তির বণ্টনে আনুপাতিক অংশের অধিকারী কোন ব্যক্তি অথবা উক্ত নিলাম বিক্রয়ের ফলে যার স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় ঐ ব্যক্তি নিলাম বিক্রয় রদের জন্য সেটা প্রচার বা পরিচালনার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম বা প্রতারণার অজুহাতে আদালতে আবেদন করতে পারে-
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ অনিয়ম বা তঞ্চকতার কারণে কোন নিলাম বিক্রয় রদ হবে না, যদি না প্রমাণিত তথ্যসমূহের উপর আদালত এ মর্মে পরিতুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী উক্ত অনিয়মতা বা তঞ্চকতার অজুহাতে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
১) আরজি/জবাবের মাধ্যমে স্বীকারোক্তী [বিধি-১];
২) দলিল স্বীকারের নোটিশ [বিধি-২];
৩) ঘটনা স্বীকার করতে নোটিশ [বিধি ৪]
⇒ আদেশ ১২ বিধি ২ অনুযায়ী দলিল স্বীকারের জন্য নোটিশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে দলিল স্বীকার করার জন্য আহবান করা যায়।
⇒ আদেশ-১২, বিধি-৪: ঘটনার সত্যতা স্বীকারের জন্য নোটিশ-
⇒ মোকদ্দমার কোন পক্ষ অপর পক্ষকে কোন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেওয়ার জন্য মোকদ্দমা শুনানীর তারিখ থেকে ৯ দিন পূর্বে নোটিশ প্রদান করবে এবং নোটিশ প্রদানের ৬ দিনের মধ্যে বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষকে নোটিশের জবাব দিতে হবে।
অর্থাৎ বিধি ৪ অনুযায়ী শুনানীর ৯ দিন পূর্বে ঘটনার স্বীকারের নোটিশ দিবেন।
-----------------------------
⇒CPC Order-12 Rule-1: Notice of admission of case:
Any party to a suit may give notice, by his pleading, or otherwise in writing, that he admits the truth of the whole or any part of the case of any other party.
⇒CPC Order-12 Rule-2:Notice to admit documents:
Either party may call upon the other party to admit, within fifteen days from the date of service of notice, any document, saving all just exceptions; and in case of refusal or neglect to admit, after such notice, the costs of proving any such document shall be paid by the party so neglecting or refusing, whatever the result of the suit may be, unless the Court otherwise directs; and no costs of proving any document shall be allowed unless such notice is given, except where the omission to give the notice is, in the opinion of the Court, a saving of expense.
⇒CPC Order-12 Rule-4: Notice to admit facts:
Any party may, by notice in writing, at any time not later than nine days before the day fixed for the hearing, call on any other party to admit, for the purposes of the suit only, any specific fact or facts mentioned in such notice. And in case of refusal or neglect to admit the same within six days after service of such notice, or within such further time as may be allowed by the Court, the costs of proving such fact or facts shall be paid by the party so neglecting or refusing, whatever the result of the suit may be, unless the Court otherwise directs: Provided that any admission made in pursuance of such notice is to be deemed to be made only for the purposes of the particular suit, and not as an admission to be used against the party on any other occasion or in favour of any person other than the party giving the notice: Provided also that the Court may at any time allow any party to amend or withdraw any admission so made on such terms as may be just.
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫নং আদেশের ১নং বিধিমতে-
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন প্রতীয়মান হয় যে, পক্ষগণের মধ্যে আইন সংক্রান্ত কিংবা ঘটনা সংক্রান্ত কোন বিচার্য বিষয় নেই আদালত তখনই রায় ঘোষণা করতে পারে।
[Where at the first hearing of a suit it appears that the parties are not at issue on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment.]
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪ এর বিধি-১ অনুযায়ী “প্রত্যেক দেওয়ানি মোকদ্দমা শুরু হবে plaint (আরজি) দাখিলের মাধ্যমে।”
- এখানে "plaint" বলতে বোঝায় লিখিত অভিযোগপত্র বা আরজি, যা আদালতে দাখিল করে মামলার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
- অতএব, মৌখিক অভিযোগ, সাক্ষ্যের জবানবন্দি বা সাধারণ আবেদন দ্বারা নয়, দেওয়ানি মামলা শুরু করতে হয় লিখিত আরজি (plaint) দাখিল করে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪, বিধি-১ অনুযায়ী, প্রতিটি দেওয়ানি মোকদ্দমা শুরু করার জন্য আদালতে একটি লিখিত আরজি (প্লেন্ট) দাখিল করতে হয়। এটি মৌখিক অভিযোগ বা সাধারণ আবেদনের মাধ্যমে করা যায় না। বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, "Every suit shall be instituted by presenting a plaint to the Court..."
আরজির সাথে বিবাদী সংখ্যা অনুযায়ী অতিরিক্ত কপি এবং সমন জারির জন্য প্রি-পেইড রেজিস্টার্ড ডাক কভার জমা দিতে হয়।
আদেশ-৪, বিধি-১(১খ) অনুসারে, সমন জারির ফি আরজি দাখিলের সময় পরিশোধ করতে হয়।
আদালত সিভিল স্যুট রেজিস্টারে মোকদ্দমার বিবরণ নথিভুক্ত করে (বিধি-২)।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order- IV INSTITUTION OF SUITS:
1.1 Every suit shall be instituted by presenting a plaint to the Court or such officer as it appoints in this behalf a plaint together with as many true copies of the plaint as there are defendants for service of summons upon such defendants. Suit to be commenced by plaint.
(1a) The Court fees chargeable for service of summons shall be paid in the case of suits when the plaint is filed, and in the case of all other proceedings when process is applied for.
(1b) A plaintiff shall file, along with the plaint, for each defendant a copy of the summons along with a pre-paid registered acknowledgment due cover with complete and correct address of the defendant written on it.
(2) Every plaint shall comply with the rules contained in Orders VI and VII, so far as they are applicable.
2. The Court shall cause the particulars of every suit to be entered in a book to be kept for the purpose and called the register of civil suits. Such entries shall be numbered in every year according to the order in which the plaints are admitted. Register of suits
ব্যাখ্যা
⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।
⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার ব্যাখ্যা-৩ মতে মাতৃগর্ভস্থ কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো খুন বা নিন্দনীয় নরহত্যা কোনটাই হবে না। তবে মাতৃগর্ভস্থ শিশুটি সম্পূর্ণরূপে জন্মগ্রহণ না করেও শিশুটির দেহের কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হলে তা নিন্দনীয় নরহত্যা বলে বিবেচিত হবে।
ব্যাখ্যা
১. কোন সম্পত্তি সনাক্ত করতে সক্ষম হয় বা,
২. কোন ব্যক্তি যেমন আসামীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারার বিধান: প্রাসঙ্গিক ঘটনার ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ঘটনা (Facts necessary to explain or introduce relevant facts):
যে সমস্ত বিষয় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ইঙ্গিতবহ অনুমানকে সমর্থন বা অপ্রমাণ করে, অথবা বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়কে ব্যাখ্যা করে বা পরিচয় করায়, অথবা কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রাসঙ্গিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে, অথবা বিচার্য প্রাসঙ্গিক বিষয়টি ঘটার সময় ও স্থান নির্দেশ করে, অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় ঘটনাকারী ব্যক্তির সম্পর্কে আলোকপাত করে, সেই সময় বিষয়ের যতখানি সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রয়োজন ততখানি প্রাসঙ্গিক।
⇒ প্রাসঙ্গিক ঘটনা ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করার জন্য যে সকল ঘটনা আবশ্যক সেগুলো প্রাসঙ্গিক। এ মূল ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বা ঐ ঘটনা, তার স্থান, কাল ব্যাখ্যা করতে পারে এমন ঘটনাকে ৯ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
Where any person having a right to institute a suit or make an application has, by means of fraud, been kept from the knowledge of such right or of the title on which it is founded, or where any document necessary to establish such right has been fraudulently concealed from him, the time limited for instituting a suit or making an application-
(a) against the person guilty of the fraud or accessory thereto, or
(b) against any person claiming through him otherwise than in good faith and for a valuable consideration,
shall be computed from the time when the fraud first became known to the person injuriously affected thereby, or, in the case of the concealed document, when he first had the means of producing it or compelling its production.
• ধারা ১৮- মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে প্রতারণার ফলাফল:
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি একটি মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী, কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয়ে বা যে স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত তা জানতে দেয়া হয় নাই অথবা উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে দলির প্রয়োজন তা প্রতারণা করে গােপন রাখা হয়েছে, সেই সকল ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বাদী যেদিন-
১। সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে সেদিন থেকে, অথবা
২। যেদিন গােপন রাখা দলিল উত্থাপন করতে পারবে, অথবা
৩। অপর পক্ষের কাছে থাকা দলিলটি যেদিন হাজির করতে বাধ্য করতে পারবে।
ব্যাখ্যা
"আইনজীবী হলো এমন কোনো ব্যক্তি যিনি আদালতে অন্য কাউকে প্রতিনিধিত্ব করার এবং সেই ব্যক্তির পক্ষে বক্তব্য রাখার অধিকারী।"
Section 2(15)-
"pleader" means any person entitled to appear and plead for another in Court.
ব্যাখ্যা
কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটকে তার আদালতের কার্যকালীন আচরণ সম্পর্কে বা তিনি বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আদালতে যা জেনেছেন তার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার জন্য বাধ্য করা যাবে না, যদি না তিনি যে আদালতের অধীনস্থ, সেই আদালত বিশেষ আদেশ প্রদান করে।
তবে, তিনি যখন বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তার সামনে যা ঘটেছে, সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে।
উদাহরণসমূহ:
(ক) A, একটি মামলায় অভিযোগ করে যে, B ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে একটি জবানবন্দি ভুলভাবে নিয়েছেন। এই অবস্থায়, B-কে প্রশ্ন করা যাবে না, যদি না কোনো উচ্চতর আদালত বিশেষভাবে আদেশ দেয়।
(খ) A-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে B ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে। A কী বলেছিল, তা জানার জন্য B-কে জিজ্ঞাসা করা যাবে না উচ্চ আদালতের বিশেষ আদেশ ছাড়া।
(গ) A অভিযুক্ত যে, সে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় B নামে এক সেশন জজের সামনে এক পুলিশ অফিসারকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এই ক্ষেত্রে B সাক্ষ্য দিতে পারবেন, কারণ ঘটনাটি তার সামনে ঘটেছে।
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order XVI, Rule 17-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: Application of rules 10 to 13: "The provisions of rules 10 to 13 shall, so far as they are applicable, be deemed to apply to any person who having attended in compliance with a summons departs, without lawful excuse, in contravention of rule 16."
- Rules 10 থেকে 13-এর বিধানাবলী, যতদূর applicable, সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে গণ্য হবে, যে তলব মোতাবেক উপস্থিত হওয়ার পর বেআইনিভাবে Rule 16-এর লঙ্ঘন করে প্রস্থান করে।
- অর্থাৎ যে সাক্ষী সমন মেনে আদালতে এসেছে, কিন্তু Rule 16 ভঙ্গ করে (অর্থাৎ আদালতের অনুমতি ছাড়া বা বেআইনিভাবে) চলে গেলে তার বিরুদ্ধে Rule 10 থেকে Rule 13 পর্যন্ত যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আছে (প্রক্লামেশন, ওয়ারেন্ট, সম্পত্তি অ্যাটাচমেন্ট, জরিমানা ইত্যাদি)—সেগুলোই প্রযোজ্য হবে।
- সুতরাং, Order XVI, Rule 17 অনুসারে সাক্ষীর বেআইনিভাবে প্রস্থানের ক্ষেত্রে Rules 10-13-এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।
ব্যাখ্যা
----------------------------
♦ Commutation of sentence of death
Section 54. In every case in which sentence of death shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for any other punishment provided by this Code.
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এর বিধান হলো- আদেশের বিরুদ্ধে আপিল। আদেশ ৪৩ এ মোট ২৫টি আপিলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) এর তালিকা রয়েছে।
⇒ আদেশ ৪৩ এবং দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ১০৪ উভয়ই আপীলযোগ্য আদেশগুলোর বর্ণনা দিয়েছে।
⇒ আদেশ ৪৩: আদেশ ৪৩ মোট ২৫টি আপীলযোগ্য আদেশের তালিকা উল্লেখ করেছে যেগুলোর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা যায়। যেমন - অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা, স্থগিতাদেশ, মামলা বাতিল করা, জামিন প্রত্যাখ্যান ইত্যাদি।
⇒ ধারা ১০৪: অন্যদিকে দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ১০৪ আপীলযোগ্য আদেশগুলোর সামগ্রিক বর্ণনা দিয়েছে। এই ধারা বলছে যে, যদি কোনো আদালত এমন কোনো আদেশ প্রদান করে যা চূড়ান্ত না হয়ে একটি বিষয়ের বিরাট অংশ নিষ্পত্তি করে দেয়, তাহলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যেতে পারে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এবং ধারা ১০৪ একে অপরকে পরিপূরক করে। আদেশ ৪৩ তে ২৫টি আপিলযোগ্য আদেশের তালিকা রয়েছে, যেমন অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা, স্থগিতাদেশ, মামলা বাতিল, জামিন প্রত্যাখ্যান ইত্যাদি। অন্যদিকে, ধারা ১০৪ আপিলযোগ্য আদেশের সামগ্রিক বর্ণনা দেয় এবং বলে যে, যদি কোনো আদেশ চূড়ান্ত না হলেও মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিষ্পত্তি করে, তাহলে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যেতে পারে। অর্থাৎ, আদেশ ৪৩ নির্দিষ্ট আদেশগুলোর তালিকা দেয়, আর ধারা ১০৪ আপিলযোগ্য আদেশের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে।
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
"the Court may... direct any document... to be impounded and kept in the custody of an officer of the Court."
অর্থাৎ, দলিলটি পুলিশ, বাদী বা বিবাদীর কাছে নয়, বরং আদালতের নিজস্ব অফিসারের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এটি দলিলের সুরক্ষা ও অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১৩, বিধি ৮ অনুযায়ী, আদালত যদি কোনো দলিল বা বই আটক করার নির্দেশ দেয়, তবে সেই দলিল বা বই আদালতের অফিসারের হেফাজতে রাখা হবে। আদালত এ বিষয়ে সময় ও শর্ত নির্ধারণ করতে পারে, এবং যদি কোনো দলিল বা বই আদালতে উপস্থাপিত হয় এবং তা আটক করার প্রয়োজন হয়, তবে তা আদালতের অফিসারের হেফাজতে রাখা হবে।
ব্যাখ্যা
- দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়।
- কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।
- দস্যুতাকে সহজ কথায় রাহাজানি বলে আখ্যায়িত করা হয়।
ব্যাখ্যা
-ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারামতে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা আসামী মানসিকভাবে অসুস্থ বা উন্মাদ(পাগল) হলে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে অপরাগ হলে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করবেন। যথা-
⇒ ম্যাজিস্ট্রেট আসামীর মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি অনুসন্ধান করবেন এবং মানসিকভাবে অসুস্থ আসামীকে জেলার সিভিল সার্জন বা সরকার নির্দেশিত মেডিকেল অফিসার দ্বারা পরীক্ষা করবেন।
⇒ ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষী হিসেবে উক্ত সিভিল সার্জন বা মেডিকেল অফিসারের জবানবন্দী গ্রহণ করবেন এবং
⇒ ম্যাজিস্ট্রেট মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন।
------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 464- Procedure in case of accused being lunatic:
(1) When a Magistrate holding an inquiry or a trial has reason to believe that the accused is of unsound mind and consequently incapable of making his defense, the Magistrate shall inquire into the fact of such unsoundness, and shall cause such person to be examined by the Civil Surgeon of the district or such other medical officer as the Government directs, and thereupon shall examine such Surgeon or other officer as a witness, and shall reduce the examination to writing.
(1A) Pending such examination and inquiry the Magistrate may deal with the accused in accordance with the provisions of section 466.
(2) If such Magistrate is of opinion that the accused is of unsound mind and consequently incapable of making his defence, he shall record a finding to that effect and shall postpone further proceedings in the case.
ব্যাখ্যা
> অপরাধের নাম;
> অপরাধের নির্দিষ্ট নাম না থাকলে,উক্ত অপরাধের সংজ্ঞা সুস্পষ্টভাবে প্রদান করতে হবে;
> উক্ত অপরাধ যে আইনে এবং যে ধারার আওতায় পড়ে তা উল্লেখ করতে হবে;
> অভিযােগ গঠন হলে ধরে নেয়া হবে অপরাধটি সংঘটিত করার সকল উপাদান বিদ্যমান বা শর্ত পূরণ হয়েছে;
> অভিযােগ ইংরেজি বা আদালতের ভাষায় লিখতে হয়;
>পরবর্তী অপরাধের শাস্তি বৃদ্ধি বা ভিন্নধরনের শাস্তি প্রদানের দরকার হলে,অভিযােগে বা চার্জে পূর্ববর্তী দন্ডের ঘটনা,তারিখ ও স্থান উল্লেখ করতে হবে;
> চার্জে আদালত শাস্তিদানের পূর্বে যে কোন সময় পূর্ববর্তী দন্ডের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আদেশ দিতে পারেন।
Section 221:
(1) Charge to state offence-
Every charge under this Code shall state the offence with which the accused is charged.
(2 )Specific name of offence sufficient description-
If the law which creates the offence gives it any specific name, the offence may be described in the charge by that name only.
(3) How stated where offence has no specific name-
If the law which creates the offence does not give it any specific name, so much of the definition of the offence must be stated as to give the accused notice of the matter with which he is charged.
(4) The law and section of the law against which the offence is said to have been committed shall be mentioned in the charge.
(5) What implied in charge-
The fact that the charge is made is equivalent to a statement that every legal condition required by law to constitute the offence charged was fulfilled in the particular case.
(6) Language of charge-
The charge shall be written either in English or in the language of the Court.
(7) Previous conviction when to be set out-
If the accused having been previously convicted of any offence is liable, by reason of such previous conviction, to enhanced punishment, or to punishment of a different kind, for a subsequent offence, and it is intended to prove such previous conviction for the purpose of affecting the punishment which the Court may think fit to award for the subsequent offence, the fact, date and place of the previous conviction shall be stated in the charge. If such statement has been omitted, the Court may add it at any time before sentence is passed.
ব্যাখ্যা
⇒ বার কাউন্সিল আদেশের ৬৬ নং বিধিমতে অ্যাডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্তির পর ছয় মাসের মধ্যে প্রত্যেককে একটি বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হতে হবে।
⇒ নতুন তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট (enrolled advocate) ৬ মাসের মধ্যে বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য না হলে তালিকাভুক্তির ছয় মাস পর আপনা-আপনি তার তালিকাভুক্তিকরণ সনদ বাতিল হয়ে যাবে।
-------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Rules, 1972. Rule-66:
(1) No person shall practise as an Advocate unless he is a member of a Bar Association of the place at which he ordinarily practises, which Association has been recognized under the rules next following.
(2) The certificate of enrolment of a person who has not become a member of a Bar Association within six months of his enrolment shall stand automatically suspended.
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭২(২) এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: কোনো ফৌজদারি আদালত তদন্ত বা বিচারাধীন মামলার পুলিশ ডায়রি তলব করতে পারবেন এবং এইরূপ ডায়রি মামলার সাক্ষ্য হিসেবে নয়, বরং এইরূপ তদন্ত বা বিচারে সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।
- সুতরাং, পুলিশ ডায়রি সরাসরি সাক্ষ্য বা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না, বরং তা আদালতের তদন্ত বা বিচারকার্যকে সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করা হয়, যেমন—তদন্তের ধারাবাহিকতা বোঝা, সময়রেখা নির্ণয় করা, বা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করার সময় অসামঞ্জস্যতা চিহ্নিত করা।
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি আইন, ১৮৯৮, ১৭২ ধারা: তদন্ত কার্যক্রমের ডায়েরি
(১) এই অধ্যায়ের অধীনে তদন্তকারী প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিদিনের তদন্ত কার্যক্রম একটি ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করিবেন, যেখানে তথ্য প্রাপ্তির সময়, তদন্ত শুরু ও শেষ করার সময়, পরিদর্শিত স্থানসমূহ এবং তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া পরিস্থিতি বা ঘটনার বিবরণ উল্লেখ থাকিবে।
(২) যেকোনো ফৌজদারী আদালত তদন্তাধীন বা বিচারাধীন কোনো মামলার পুলিশ ডায়েরি তলব করিতে পারেন এবং উক্ত ডায়েরিসমূহ মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার না করিয়া, বরং তদন্ত বা বিচারে সহায়তার জন্য ব্যবহার করিতে পারেন। আসামী বা তাহার প্রতিনিধিগণ এই ডায়েরি তলব করার অধিকারী হইবেন না, বা শুধুমাত্র আদালত কর্তৃক ডায়েরিগুলি উল্লেখিত হওয়ার কারণে সেগুলি দেখারও অধিকারী হইবেন না; কিন্তু, যদি ডায়েরি প্রস্তুতকারী পুলিশ কর্মকর্তা তাহার স্মৃতি সতেজ করার জন্য সেগুলি ব্যবহার করেন অথবা আদালত যদি উক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে জেরা করার উদ্দেশ্যে সেগুলি ব্যবহার করেন, তবে ক্ষেত্রমত সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৬১ ধারা বা ১৪৫ ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898,Section 172: Diary of proceedings in investigation-
(1) Every police-officers making an investigation under this Chapter shall day by day enter his proceedings in the investigation in a diary setting forth the time at which the information reached him, the time at which he began and closed his investigation, the place or places visited by him, and a statement of the circumstances ascertained through his investigation.
(2) Any Criminal Court may send for the police-diaries of a case under inquiry or trial in such Court and may use such diaries, not as evidence in the case, but to aid it in such inquiry or trial. Neither the accused nor his agents shall be entitled to call for such diaries, not shall he or they be entitled to see them merely because they are referred to by the Court; but, if they are used by the police-officer who made them, to refresh his memory or if the Court uses them for the purpose of contradicting such police-officer, the provisions of the Evidence Act, 1872, section 161 or section 145, as the case may be, shall apply.
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৮১ অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া ও সদিচ্ছায় যদি কেউ বৃহত্তর ক্ষতি এড়াতে কোনো কাজ করে, তবে সেই কাজ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলেও অপরাধ নয়।
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ধারা ৮১: ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও অপর ক্ষতি প্রতিরোধে ও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ব্যতীত কাজ করলে তা অপরাধ নয়:
যদি কোনো কাজ এমন জেনে-বুঝেই করা হয় যে, তাতে ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও সেই কাজটি কারো প্রতি ক্ষতি সাধনের অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ব্যতীত এবং সদাশয়ভাবে (good faith) করা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সম্পত্তির প্রতি অন্য একটি ক্ষতি প্রতিরোধ বা পরিহারের উদ্দেশ্যে, তাহলে তা মাত্ৰ এই কারণে অপরাধ বলে গণ্য হবে না যে, সেটি ক্ষতির সম্ভাবনা রাখে।
ব্যাখ্যা: এই ধরনের ক্ষেত্রে, যেই ক্ষতি প্রতিরোধ বা পরিহার করা হচ্ছিল, সেটি কতটা প্রকৃত ও তাৎক্ষণিক ছিল, এবং সেই কারণে ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাজটি করা যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য ছিল কি না, তা বাস্তব প্রশ্ন (question of fact) হিসেবে বিবেচিত হবে।
------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 81: Act likely to cause harm, but done without criminal intent and to prevent other harm:
Nothing is an offence merely by reason of its being done with the knowledge that it is likely to cause harm, if it be done without any criminal intention to cause harm, and in good faith for the purpose of preventing or avoiding other harm to person or property.
Explanation:-It is a question of fact in such a case whether the harm to be prevented or avoided was of such a nature and so imminent as to justify or excuse the risk of doing the act with the knowledge that it was likely to cause harm.
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৬ ধারানুযায়ী, দায়রা আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগে পেশ করলে হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মৃত্যুদণ্ড-
⇒ বহাল রাখতে পারেন, বা
⇒ বাতিল করতে পারেন,বা
⇒ অন্য কোন দন্ড দিতে পারেন,বা
⇒ খালাস দিতে পারেন।
তবে, শর্ত এই যে আসামি আপিল করলে আপিলের রায় না হওয়া পর্যন্ত,অথবা আপিল না করলে আপিলের জন্য নির্ধারিত সময় পার না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্ট শাস্তির অনুমোদনের আদেশ প্রদান করবে না।
ব্যাখ্যা
The decree shall be drawn up within seven days from the date of pronouncement of the judgment.
আদেশ ২০ বিধি ৫ক: ডিক্রি প্রণয়নের সময়:
রায় ঘোষণার তারিখ হতে সাত দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রণয়ন করতে হবে।
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদালত ৩টি কারণে তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন। যথা-
i) কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু আদালতে হাজির করা হবে না বলে বিশ্বাস করলে;
ⅱ) উক্তরূপ দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা না থাকলে; এবং
iii) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্যে আদালত তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারামতে জারিকৃত তল্লাশী পরোয়ানা বাতিলের জন্য দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যায়।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারার বিধান:
(১) যখন কোন আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তির উপর ৯৪ ধারার অধীন কোন সমন অথবা আদেশ অথবা ৯৫ ধারার (১) উপ- ধারার অধীন কোন সমন জারী করা হয়েছে বা হতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিকুইজশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করবে না।
অথবা যখন এরূপ দলিল বা বস্তু কোন ব্যক্তির দখলে আছে বলে আদালতের জানা নাই।
অথবা যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশী বা পরিদর্শন দ্বারা এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিং এর উদ্দেশ্য সাধিত হবে:
তখন ইহা তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারবে, এবং যে ব্যক্তির উপর এই পরোয়ানা নির্দেশিত হবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশী বা পরিদর্শন করতে পারবেন।
(২) এই ধারায় বিধৃত কোন কিছু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ক্ষেত্রবিশেষে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অপর কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষ নিরাপদ রক্ষণে স্থিত কোন দলিল, পার্সেল বা অন্য কোন বস্তু সম্বন্ধে তল্লাশী করার পরোয়ানা মঞ্জুর করবার কর্তৃত্ব দিবেন না।
------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 96: When search-warrant may be issued:
(1) Where any Court has reason to believe that a person to whom a summons or order under section 94 or a requisition under section 95, sub-section (1), has been or might be addressed, will not or would not produce the document or thing as required by such summons or requisition,
or where such document or thing is not known to the Court to be in the possession of any person,
or where the Court considers that the purposes of any inquiry, trial or other proceeding under this Code will be served by a general search or inspection,
it may issue a search-warrant; and the person to whom such warrant is directed, may search or inspect in accordance therewith and the provisions hereinafter contained.
(2) Nothing herein contained shall authorize any Magistrate other than a District Magistrate, Chief Judicial Magistrate, as the case may be or Chief Metropolitan Magistrate to grant a warrant to search for a document, parcel or other thing in the custody of the Postal or Telegraph authorities.
ব্যাখ্যা
- কোন অস্থাবর সম্পত্তি মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হয়ে থাকলে অথবা রায় ঘোষণার পূর্বেই উক্ত মোকদ্দমায় ক্রোক করা হয়ে থাকলে, যা দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়শীল, অথবা যা অন্য কোন ন্যায় সঙ্গত এবং যথেষ্ট কারণে অবিলম্বে বিক্রয় করার প্রয়োজন হয়, তা আদালত মোকদ্দমার যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে নিলামে বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারেন।
⇒ আদেশ ৩৯ অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত শুনানীর আগে শুনানীকাল পর্যন্ত বা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত যে আদেশ দেওয়া হয় তাঁকে ad interim injunction order বা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ বলা হয়।
⇒ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত শুনানীর পর দরখাস্তের গুণাগুণ বিবেচনায় নিয়ে আদেশ দিতে হয়, অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে দরখাস্তের গুণাগুণ যাচাইয়ের দরকার পড়ে না, বরং পরিস্থিতি খুবই জরুরি হলে এই আদেশ দেওয়া যায়।
তাই উল্লিখিত প্রশ্নে 'দ্রুত এবং স্বাভাবিক ক্ষয়শীল' অপশনটি অধিক গ্রহণযোগ্য।
--------------------
CPC Order-39 Rule-6. Power to order interim sale:
- The Court may, on the application of any party to a suit, order the sale, by any person named in such order, and in such manner and on such terms as it thinks fit, of any movable property, being the subject-matter of such suit, or attached before judgment in such suit, which is subject to speedy and natural decay, or which for any other just and sufficient cause it may be desirable to have sold at once.
ব্যাখ্যা
(১) যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কোনো অপরাধের বিষয়ে বিচারাধীন হয়ে মনে করেন যে মামলাটি চালানোর জন্য যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে এবং দ্বিতীয় তফসিলের চতুর্থ কলামের মতে এটি এমন একটি মামলা যেখানে প্রথমে সমন জারি করা উচিত, তাহলে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করবেন। যদি মামলাটি এমন হয় যেখানে প্রথমেই ওয়ারেন্ট জারি করা প্রয়োজন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট ওয়ারেন্ট জারি করতে পারেন অথবা প্রয়োজনে সমন জারি করে অভিযুক্তকে নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিতে পারেন। যদি তার নিজস্ব এখতিয়ার না থাকে, তবে তিনি অন্য কোনো যোগ্য ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানোর জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।
(১ক) উপ-ধারা (১)-এর অধীনে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমন বা ওয়ারেন্ট জারি করা যাবে না, যতক্ষণ না অভিযোগকারী পক্ষ সাক্ষীদের তালিকা দাখিল করে।
(খ) কোনো লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত মামলায়, উপ-ধারা (১)-এর অধীনে জারি করা প্রতিটি সমন বা ওয়ারেন্টের সাথে অভিযোগের একটি অনুলিপি সংযুক্ত থাকবে।
(২) এই ধারার কোনো কিছুই দণ্ডবিধির ৯০ ধারার বিধানকে প্রভাবিত করবে না।
(৩) যদি কোনো প্রচলিত আইনে প্রক্রিয়া ফি বা অন্যান্য ফি প্রদান করতে হয়, তবে ফি প্রদান না করা পর্যন্ত কোনো প্রক্রিয়া জারি করা হবে না। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি প্রদান করা না হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগটি খারিজ করতে পারেন।
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৩- ৪০ থেকে ৪২ ধারায় উল্লিখিত নয় এমন রায়, আদেশ বা ডিক্রির প্রাসঙ্গিকতা:
যে রায় (judgment), আদেশ (order) বা ডিক্রি (decree) ধারা ৪০, ৪১ ও ৪২–এ বর্ণিত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়, সেগুলো সাধারণভাবে অপ্রাসঙ্গিক (irrelevant)- যদি না সেই রায়, আদেশ বা ডিক্রির অস্তিত্ব (existence) নিজেই কোনো মূল বিষয় (fact in issue) হয়, অথবা এই আইন (সাক্ষ্য আইন)-এর অন্য কোনো ধারায় প্রাসঙ্গিক হিসেবে ঘোষিত হয়।
উদাহরণসমূহ (Illustrations):
(a) A ও B আলাদাভাবে C-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে। A মামলায় জয়ী হয়, কিন্তু সেটি B-এর মামলায় অপ্রাসঙ্গিক,
কারণ দুটি মামলা আলাদা পক্ষের মধ্যে। রায় প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ এটি অন্য মামলার জন্য binding নয়।
(b) A, B-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে সে C-এর (A-এর স্ত্রী) সঙ্গে ব্যভিচার করেছে। B-কে ব্যভিচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে C-কে বিগ্যামির অভিযোগে বিচার করা হলে, সে বলে — “আমি কখনও A-এর স্ত্রী ছিলাম না।” B-এর দণ্ডপ্রাপ্তি এখানে C-এর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক নয়। পূর্বের রায় অন্য অভিযুক্তের জন্য binding নয়।
(c) A, B-এর বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ আনে। B দোষী সাব্যস্ত হয়। পরে A, C-এর বিরুদ্ধে গরু উদ্ধারের মামলা করে (C সেই গরু B-এর কাছ থেকে কিনেছিল)। এক্ষেত্রে B-এর দণ্ডপ্রাপ্তি A ও C-এর মধ্যে মামলায় অপ্রাসঙ্গিক।
(d) A জমির দখল পাওয়ার জন্য B-এর বিরুদ্ধে ডিক্রি পায়। C (B-এর ছেলে) রাগ করে A-কে হত্যা করে। এখানে ডিক্রির অস্তিত্ব প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি হত্যার উদ্দেশ্য (motive) দেখায়।
(e) A চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বলা হয়েছে যে সে পূর্বে চুরির দণ্ড পেয়েছে। তাহলে পূর্বের দণ্ডাদেশ এখন fact in issue, তাই প্রাসঙ্গিক।
(f) A, B-কে হত্যা করেছে। আগে B, A-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিল এবং তাতে A দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিল। এ তথ্য ধারা ৮ অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি হত্যার উদ্দেশ্য (motive) ব্যাখ্যা করে।
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় দেওয়ানী কার্যবিধির দোবারা দোষ [Res judicata) এবং ফৌজদারী কার্যবিধির দোবারা সাজা (double jeopardy) নীতির প্রতিফলন হয়েছে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১ ধারার দোবারা দোষ [Res judicata) অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে সমাপ্ত মামলা পুনরায় একই বিষয়ে এবং একই পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আদালতে শুরু করা যাবে না। যদি কোন ব্যক্তি এমন মামলা দায়ের করে তাহলে আদালত মামলাটি খারিজ করে দিবে। আবার ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০৩ ধারার দোবারা সাজা বা double jeopardy নীতি অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুইবার বিচারের সম্মুখীন করা যাবে না।
আপনি যদি দেওয়ানী কার্যবিধির দোবারা দোষ [Res judicata] এবং ফৌজদারী কার্যবিধির দোবারা সাজা [double jeopardy] নীতি অনুযায়ী কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা খারিজ করাতে চান তাহলে আদালতকে দেখতে হবে উক্ত মামলার উপর পূর্ববর্তী কোন রায় আছে কিনা। অর্থাৎ একই বিষয়ের উপর দ্বিতীয় মোকদ্দমা খারিজ করতে পূর্ববর্তী মোকাদ্দমার রায় কে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে আদালতে দাখিল করতে হবে এবং এই কারণে ৪০ ধারায় পূর্ববর্তী মামলার রায়কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারা দেওয়ানী এবং ফৌজদারী উভয় মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ব্যাখ্যা
বিচার ত্বরান্বিত ও বিলম্ব দূর করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির ৯নং আদেশের ১৩ক বিধি অনুযায়ী বিবাদী একতরফা ডিক্রির বিরূদ্ধে সরাসরি রদের আবেদন করতে পারবে। সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদের জন্য বিবাদীকে নিম্নলিখিত ২টি শর্ত পূরণ করতে হবে-
i) ৩০ দিনের মধ্যে সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ বা বাতিলের আবেদন করতে হবে; এবং
ii) অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদান করতে হবে।
ব্যাখ্যা
⇒ The Specific Relief Act, 1877-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, আদালত যখন একটি লিখিত চুক্তির সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি পক্ষসমূহের অভিপ্রায় বিবেচনা করবেন।
- আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে, চুক্তির সকল পক্ষ একটি সুবিচারপূর্ণ ও ন্যায্য চুক্তি করতে চেয়েছিলেন।
- "Presumption as to intent of parties" বলতে বোঝানো হয়েছে, সংশোধনের জন্য সকল পক্ষের সদিচ্ছা ও চুক্তির ন্যায্যতা থাকা প্রয়োজন।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারার বিধান: পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
-লিখিত চুক্তি সংশোধন করবার উদ্দেশ্যে আদালত অবশ্যই নিশ্চিত হবেন যে, চুক্তির সকল পক্ষের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষম ও সুবিচারমূলক চুক্তি সম্পাদন করা।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 Section:-32. Presumption as to intent of parties:
-For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.
ব্যাখ্যা
(i) এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল;
(ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখিয়েছিল;
(iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করেছিল; এবং
(iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।
ব্যাখ্যা
♦অন্যদিকে, অধ্যায় ০২ এর বিধি ৫ অনুসারে, একজন আইনজীবী কোন উইল কিংবা ঋণের জন্য বন্ধককৃত কিংবা বিচারিক রায়ে নিলামকৃত সম্পত্তি নিজ নামে কিংবা বেনামে ক্রয় কিংবা পারিশ্রমিকের পরিবর্তে উক্ত সমুদয় সম্পত্তি কিংবা আংশিক সম্পত্তি গ্রহন করতে পারবেনা, যদি তিনি উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার কোন পক্ষের আইনজীবী হিসাবে মামলা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে থাকে।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হলো: ঘ) মামলা ফৌজদারি আদালতে প্রেরণ।
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-১০৭: আপিল আদালতের ক্ষমতা:
১) যে সকল শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ বিধি দ্বারা হতে পারে, তৎসাপেক্ষে আদালতের নিম্নলিখিত ক্ষমতাবলী থাকবে-
ক) কোন মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার;
খ) কোন মোকদ্দমা পুনর্বিচারে প্রেরণ করার;
গ) বিচার্য বিষয় গঠন এবং সেগুলো বিচারার্থে প্রেরণ করার;
ঘ) অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ বা অনুরূপ সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য তলব করতে ক্ষমতা।
২) এই আইনে কোন মৌলিক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের উপর তথাকার মোকদ্দমার ব্যাপারে যেরূপ ক্ষমতা প্রদত্ত এবং কর্তব্য আরোপিত হয়ে থাকে, উল্লেখিত শর্তসাপেক্ষে আপিল আদালতের উপরও এরূপ ক্ষমতা এবং প্রায় একইরূপ কর্তব্য বর্তাবে।
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৪৯৪: মামলা প্রত্যাহারের ফল:
পাবলিক প্রসিকিউটর রায় ঘোষণার পূর্বে আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলা সাধারণভাবে বা যে সকল অপরাধে তার বিচার হচ্ছে, তার যেকোন এক বা একাধিক অপরাধ প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং উক্ত প্রত্যাহারের দরুন-
(ক) অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে তা করা হলে উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দান করতে হবে; এবং
(খ) অভিযোগ প্রণয়নের পর তা করা হলে বা এই বিধির অধীন কোন অভিযোগ প্রণয়ন প্রয়োজন না হলে, উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে খালাস দিতে হবে।