বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন১২,৬০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ৭৬ / ১২৬ · ৭,৫০১৭,৬০০ / ১২,৬০৫

৭,৫০১.
‘বলপ্রয়োগ’ (Force) এর সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া হয়েছে?
  1. 348
  2. 349
  3. 350
  4. 351
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩৫০ (Section 350)–তে ‘বলপ্রয়োগ’ (Force) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে কাউকে বলপ্রয়োগ বলতে বোঝায় – কারো শরীরের গতির পরিবর্তন ঘটানো, থামিয়ে দেওয়া বা চলাচলের জন্য বল প্রয়োগ করা।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারার বিধান: বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়: 
তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে-
প্রথমত:- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত:- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
তৃতীয়ত:- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে। 
------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 349. Force:
A person is said to use force to another if he causes motion, change of motion, or cessation of motion to that other, or if he causes to any substance such motion, or change of motion, or cessation of motion as brings that substance into contact with any part of that other's body, or with anything which that other is wearing or carrying, or with anything so situated that such contact affects that other's sense of feeling:
Provided that the person causing the motion, or change of motion, or cessation of motion, causes that motion, change of motion, or cessation of motion in one of the three ways hereinafter described: 
Firstly. By his own bodily power. 
Secondly. By disposing any substance in such a manner that the motion or change or cessation of motion takes place without any further act on his part, or on the part of any other person. 
Thirdly. By inducing any animal to move, to change its motion, or to cease to move.
৭,৫০২.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী কতটি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যায়?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
→ দণ্ডবিধি ৯৭ ধারা অনুযায়ী ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার শরীর ও সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়।
-৯৭ দ্বারা অনুযায়ী ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যায় দুটি ক্ষেত্রে-
(i) অন্যের আক্রমণ হতে নিজের বা অন্যের দেহ রক্ষা করতে।
(ii) নিজের বা অন্যের সম্পত্তি রক্ষা করতে।
--------------
- The Penal Code, 1860, Section 97: Right of private defence of the body and of property:
Every person has a right, subject to the restrictions contained in section 99, to defend 
Firstly.-His own body, and the body of any other person against any offence affecting the human body; 
Secondly.-The property, whether moveable or immovable, of himself or of any other person, against any act which is an offence falling under the definition of theft, robbery, mischief or criminal trespass, or which is an attempt to commit theft, robbery, mischief or criminal trespass.
৭,৫০৩.
সাক্ষ্য আইনের ১১৬ ধারায়,  _________ ক্ষেত্রে Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধার প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১১৬ ধারায়, দুইটি ক্ষেত্রে Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধার প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ক্ষেত্র ২টি নিম্নরূপ:

১। ভাড়াটিয়া এবং মালিকের মধ্যে Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধা:
একজন বাড়িওয়ালা (landlord) ভাড়ার বিনিময়ে একজন ভাড়াটিয়া (tenant)’কে তার দোকানে ভাড়া প্রদান করলে, ভাড়াটিয়া পরবর্তীতে উক্ত সম্পর্ক অস্বীকার করতে পারবে না।

২। অনুমতি প্রাপক (licensee) এবং অনুমতি দাতা (licensor)’র মধ্যে Estoppel (এস্টপেল) বা স্বকার্যজনিত বাধা:
অনুমতি নিয়ে কেউ দখল ফেলে পরবর্তীতে সেই অনুমতির বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না। যদি কেউ অনুমতি নিয়ে কোন রাস্তাও ব্যবহার করে, পরবর্তীতে সেটিকে সরকারী বা অধিকার বলে দাবী করতে পারবে না, কেননা অনুমতি নিয়ে পরে সেটি অস্বীকার করলে সাক্ষ্য আইনে ১১৬ ধারার Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধার নীতিতে বাধা প্রাপ্ত হবে।

এই ধারার অধীন Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধার নীতি শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন- বাড়ি, জমি ইত্যাদির ভাড়াটিয়াকে মালিকের মালিকানা স্বত্ব অস্বীকার করা হতে বাধা প্রদান করা হয়েছে। কেননা, বাড়ির মালিকের সাথে ভাড়াটিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি থাকে এবং অনুমতি প্রদানকারীর সাথেও অনুমতি দাতার একটি চুক্তি থাকে।
৭,৫০৪.
কমিশনের মাধ্যমে কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য যথাযথ ভাবে গৃহীত হওয়ার পর উক্ত কমিশন কার নিকট ফেরত দিতে হবে?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. দায়রা আদালত
  3. তদন্তকারী কর্মকর্তা
  4. যে আদালত কর্তৃক কমিশন প্রদত্ত হয়েছিল
ব্যাখ্যা
ধারা ৫০৭- কমিশন ফেরত প্রদান:
 
(১) ধারা-৫০৩ বা ৫০৬ এর অধীন প্রদত্ত কোন কমিশন যথাযথভাবে সম্পাদিত হবার পর উক্ত কমিশন অনুসারে গৃহিত সাক্ষীর সাক্ষ্যসহ কমিশনটি যে আদালত হতে প্রদত্ত হয়েছিল, সেই আদালতে ফেরত দিতে হবে এবং কমিশন ইহার বিবরণী এবং সাক্ষ্য সকল যুক্তিসংগত সময়ে পক্ষসমূহের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং সকল সংগত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে যে কোন পক্ষের মামলায় সাক্ষ্যে পড়া যাবে এবং তা নথির অংশ হবে।
 
(২) এভাবে গৃহীত সাক্ষ্য সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা-৩৩ এ নির্ধারিত শর্তাবলী পূরণ করলে তা মামলার কোন পরবর্তী পর্যায়ে অন্য কোন আদালতেরও সাক্ষ্যে গৃহীত হতে পারে।
 
Section 507- Return of commission:
(1) After any commission issued under section 503 or section 506 has been duly executed, it shall be returned, together with the deposition of the witness examined thereunder, to the Court out of which it issued; and the commission, the return thereto and the deposition shall be open at all reasonable times to inspection of the parties, and may, subject to all just exceptions, be read in evidence in the case by either party, and shall form part of the record. 
 
(2) Any deposition so taken, if it satisfies the conditions prescribed by section 33 of the Evidence Act, 1872, may also be received in evidence at any subsequent stage of the case before another Court.
৭,৫০৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(২) অনুযায়ী, যদি কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে খালাসের আদেশ প্রদান করা হয় এবং সেই আদেশে আইনগত ভুল থাকে, তাহলে কোন পক্ষ আপিল করতে পারবে?
  1. আসামীর পক্ষ
  2. অভিযোগকারী
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. কোনো পক্ষই পারবে না
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭(২) (Section 417(2)) অনুযায়ী, যদি কোনো আদালত খালাসের আদেশ দেয় এবং সেই আদেশে আইনগত ভুল থাকে, তবে অভিযোগকারী আপিল করতে পারবেন।
এটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য যখন খালাসের আদেশ অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়া হয় এবং সেই আদেশে কোনো আইনগত ভুল রয়েছে, ফলে অভিযোগকারী (যিনি মামলাটি দায়ের করেছেন) আইনগত ভুলের কারণে আপিল করার অধিকারী হন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ ধারায় খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান আলোচনা করা হয়েছে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়-১- হাইকোর্ট বিভাগে ২- দায়রা জজের নিকট।
খালাস আদেশটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দিলে দায়রা জজের নিকট এবং দায়রা আদালত দিলে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে-
১. পাবলিক প্রসিকিউটর
২. অভিযোগকারী
৪১৭ (১) ধারায় পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ৪১৭ (২) ধারায় অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।
- পাবলিক প্রসিকিউটর যেকোনো মামলায় (G.R এবং C.R উভয় মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকরতে পারে।
- অভিযোগকারী শুধুমাত্র নালিশী মামলায় (C.R মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭(৩) ধারা অনুসারে, খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৭ ধারা অনুচ্ছেদ অনুসারে পাবলিক প্রসিকিউটর খালাসের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 417- Appeal in case of acquittal:
(1) Subject to the provisions of sub-section (4), the Government may, in any case, direct the Public Prosecutor to present an appeal-
(a) to the High Court Division from an original or appellate Order of acquittal passed by any Court of Session;
(b) to the Court of Session from an original or appellate Order of acquittal passed by any Magistrate.
(2) Notwithstanding anything contained in section 418, if such an order is passed in any case instituted upon complaint, and if the order involves an error of law occasioning failure of justice, the complainant may present an appeal-
(a) to the High Court Division from an original order of acquittal passed by any Court of Session;
(b) to the Court of Session from an original order of acquittal passed by any Magistrate.
(3) No appeal by the complaint from an order of acquittal shall be entertained by the High Court Division or a Court of Session] after the expiry of sixty days from the date of the order of acquittal.
(4) If, in any case, the admission of an appeal from an order of acquittal is refused, no appeal from that order of acquittal shall lie under sub-section (1).
৭,৫০৬.
কোন আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটন সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় প্রদত্ত লিখিত এজাহার স্বাক্ষর করবে
  1. ম্যাজিস্ট্রেট
  2. অভিযুক্ত আসামী
  3. সংবাদ দাতা
  4. নালিশকারী
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারার বিধান আমলযোগ্য মামলার সংবাদঃ আমলযোগ্য অপরাধ সম্বন্ধীয় কোনও সংবাদ যদি কোন পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তকে মৌখিকভাবে দেয়া হলে তিনি বা তাঁর নির্দেশানুসারে অন্য কেউ তা লিপিবদ্ধ করবেন, এবং সংবাদ জ্ঞাপনকারীকে তা পড়ে শুনাবেন, এবং এরূপ প্রতিটি সংবাদ, তা লিখিতভাবে প্রদত্ত হোক বা পরে লিপিবদ্ধ করা হোক, সংবাদ জ্ঞাপনকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে, এবং উহার সারাংশ ঐরূপ অফিসার কর্তৃক সরকার কর্তৃক এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট নিদর্শে রক্ষিত বহিতে লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে।

 ♦154. Information in cognizable cases: Every information relating to the commission of a cognizable offence if given orally to an officer in charge of a police-station, shall be reduced to writing by him or under his direction, and be read over to the informant; and every such information, whether given in writing or reduced to writing as aforesaid, shall be signed by the person giving it and the substance thereof shall be entered in a book to be kept by such officer in such form as the Government may prescribe in this behalf.
৭,৫০৭.
নাবালক বাদী হলে প্রত্যেক দেওয়ানি মোকদ্দমা কার দ্বারা দায়ের করতে হবে?
  1. সরকার
  2. পুলিশ
  3. আসন্ন বন্ধু
  4. সরকারি আইনজীবী
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৩২, বিধি ১: আসন্ন বন্ধু দ্বারা নাবালককে মোকদ্দমা করতে হয়:
নাবালক বাদী হলে প্রত্যেকটি মোকদ্দমা তার 'আসন্ন বন্ধু' দ্বারা দায়ের করতে হবে।

Rule-1: Minor to sue by next friend:
Every suit by a minor shall be instituted in his name by a person who in such suit shall be called the next friend of the minor.
৭,৫০৮.
মহানগর এলাকার বে-আইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগের আদেশ দিতে পারেন কে?
  1. Police Commissioner
  2. Executive Magistrate
  3. Chief Judicial Magistrate
  4. Chief Metropolitan Magistrate
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১২৯ ধারায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিধান আছে। ১২৯ ধারা মতে অন্য কোনভাবে বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা না গেলে মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার এবং মেট্রোপলিটন এলাকার বাহিরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার নির্দেশ দিতে পারেন।
♦ তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগ করতে না পারলে পরিস্থিতি সাপেক্ষে সেনাবাহিনীর কোন কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে গ্রেফতার ও আটক করতেপারেন।
♦বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আসা প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমিশন প্রাপ্ত বা নন কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ অনুসারে কাজ করবেন।
৭,৫০৯.
একটি বাড়িতে ৬ জন মিলে ডাকাতি করতে যায়। ডাকাতির সময় তাদের একজন গৃহস্বামীকে মারধর করে হত্যা করে। এই ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কী দণ্ড দেওয়া যেতে পারে?
  1. প্রত্যেকেরই মৃত্যুদণ্ড হতে পারে
  2. কেবল হত্যাকারী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে
  3. বাকি সদস্যদের শুধু অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) প্রত্যেকেরই মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার বিধান- খুনসহকারে ডাকাতি:
যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

⇒ ধারা ৩৯৬ বলছে:
যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি সম্মিলিতভাবে ডাকাতি করে এবং সেই সময়ে তাদের মধ্যেকার কেউ খুন করে, তবে সবাই সমানভাবে দায়ী হবে। সুতরাং, শুধু হত্যাকারী নয়, বাকিরাও ডাকাতি ও খুনের ঘটনার জন্য সমানভাবে দণ্ডনীয়, কারণ তারা সংঘবদ্ধভাবে অপরাধে অংশগ্রহণ করেছে।
৭,৫১০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারার অনুযায়ী আপিল আদালত কখন আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করতে পারেন?
  1. আপিলকারীকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে
  2. আপিলকারীর জরিমানা পরিশোধের পর
  3. আপিলকারীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করার পর
  4. আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়ার পর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারা অনুযায়ী, আপিল আদালত আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করতে পারেন, তবে শর্ত থাকে যে, আপিলকারী বা তার আইনজীবীকে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।
মূল বিষয়বস্তু:
- আপিল আদালত যখন ধারা ৪১৯ বা ৪২০ এর অধীনে দাখিল করা আপিল পর্যালোচনা করেন, তখন যদি দেখেন যে আপিলে হস্তক্ষেপ করার মতো পর্যাপ্ত কারণ নেই, তিনি সংক্ষিপ্তভাবে আপিল খারিজ করতে পারেন।
- তবে, ধারা ৪১৯ অনুযায়ী দাখিল করা আপিলের ক্ষেত্রে, আপিলকারী বা তার আইনজীবীকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে আপিল খারিজ করা যাবে না।
- আদালত চাইলে মামলার নথি তলব করতে পারেন, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।

⇒ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারা অনুযায়ী, আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করতে হলে আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতে হবে। তাই সঠিক উত্তর: ঘ) আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়ার পর।
৭,৫১১.
বিচার্য বিষয় ও প্রাসঙ্গিক বিষয় হওয়া সত্ত্বেও কোনটি প্রমাণ করার দরকার নাই?
  1. স্বীকৃত বিষয়
  2. যে বিষয়ে আদালত judicial notice নিতে পারেন
  3. বাংলাদেশের আইন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ The Evidence Act 1872 এর ৫৬, ৫৭ ও ৫৮ ধারায় বলা হয়েছে যে সকল বিষয়ে পক্ষগণ স্বীকৃতি দেয়, এবংযে বিষয় আদালত বিচারিক নজরে নিতে পারেন সেই বিষয় আদালতে প্রমাণ করার আবশ্যকতা নাই। বাংলাদেশের আইনের বিষয়ে আদালত নিজেই বিচারিক নজিরে নিতে পারবেন।
৭,৫১২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার ক্ষমতা নীচের কোনটি?
  1. Power to issue order
  2. Power to issue curfew
  3. Power to issue emergency
  4. Power to issue 144
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শান্তিভঙ্গ রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করতে পারেন। এই ধারার শিরোনামে এই ক্ষমতা কে power to issue order হিসেবে লেখা হয়েছে।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা বিধান (১) যে সকল ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা এই ধারার অধীন কাজ করার জন্য সরকার বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের (তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট নহেন) মতে, এই ধারার অধীন অগ্রসর হবার মত যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং আশু বা দ্রুত প্রতিকার বাঞ্ছনীয়, সেই সকল ক্ষেত্রে এরূপ ম্যাজিষ্ট্রেট লিখিত আদেশে ঘটনার মূল বিষয় বস্তু বর্ণনা করে এবং ইহা ১৩৪ ধারায় বর্ণিত পদ্ধতিতে জারী করে যে কোন ব্যক্তিকে কোন নির্দিষ্ট কাজ করা হতে বিরত থাকার অথবা কোন নির্দিষ্ট সম্পত্তি তার দখলে কিংবা তার ব্যবস্থাধীনে নিবার নির্দেশ দিতে পারবেন, যদি উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট বিবেচনা করেন যে, তার নির্দেশে আইন সংগতভাবে নিযুক্ত কোন ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতি, অথবা বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির ঝুঁকি, অথবা মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার প্রতি বিশদ অথবা জনশান্তির বিরক্তি বা দাঙ্গা বা মারামারি নিরোধের সম্ভাবনা আছে কিংবা নিরোধে সহায়তা করবে।

-------------------------
♦ Power to issue order
Sesction 144.(1) In cases where, in the opinion of a District Magistrate, or any other Executive Magistrate specially empowered by the Government or the District Magistrate to act under this section, there is sufficient ground for proceeding under this section and immediate prevention or speedy remedy is desirable, 
such Magistrate may, by a written order stating the material facts of the case and served in manner provided by section 134, direct any person to abstain from a certain act or to take certain order with certain property in his possession or under his management, if such Magistrate considers that such direction is likely to prevent, or tends to prevent, obstruction, annoyance or injury, or risk or obstruction, annoyance or injury, to any person lawfully employed, or danger to human life, health or safety, or a disturbance of the public tranquillity, or a riot, or an affray.
৭,৫১৩.
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলবতযোগ্য নয় যেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গের দরুণ ক্ষতিপূরণ _______।
  1. যথেষ্ট নয়
  2. নির্ণয় করা যায় না
  3. পাওয়া সম্ভব নয়
  4. যথেষ্ট হয়
ব্যাখ্যা
 ♦ ধারা-২১: কোন চুক্তিসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না (Contracts not specifically enforceable )- চুক্তির প্রকৃতি অনুসারে কিছু কিছু চুক্তির সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদন করার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়ে থাকেন এবং কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করে না। যে যে ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আবেদন নামঞ্জুর করতে পারে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কারণ এগুলি সুনির্দিষ্টভাবে কার্য সম্পাদনের যোগ্য নয়।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-

১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে 
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে 
৩) চুক্তির শর্তাবলী নির্ণয় করা না গেলে 
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য হলে 
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানী কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি
৭) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে  অথবা
৮) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে ।
৭,৫১৪.
প্লিডিংস সত্যাখ্যান বা সত্যতা প্রতিপাদন [Verification of Pleadings] হবে-
  1. প্লিডিংস এর উপরে বাম পাশে
  2. প্লিডিংস এর নিচে
  3. প্লিডিংস এর উপরে ডান পাশে
  4. প্লিডিংস এর অপর পৃষ্ঠায়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ নং আদেশের ১ নং বিধিতে প্লিডিংসের সংজ্ঞা রয়েছে। প্লিডিংস (Pleadings) বলতে আরজি অথবা লিখিত জবাবকে বোঝায়। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে।

• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৫ তে প্লিডিংস সত্যাখ্যান [Verification of Pleadings] নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে-

সত্যাখ্যান হলো মামলার পক্ষসমূহ যেমন আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী আরজি বা লিখিত জবাবে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা তার জানা বলে স্বীকার করা। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে অথবা আদালত সই হলে, অন্য কোন ব্যক্তি যে মোকদ্দমার বিষয় সম্পর্কে জানে, সে আরজি বা লিখিত জনাবে সত্যাখ্যান করতে পারে।
যে ব্যক্তি সত্যাখ্যান করছে সে সত্যতা প্রতিপাদন অংশে স্বাক্ষর করবে এবং যে দিন এবং স্থানে সত্যাখ্যান স্বাক্ষর করা হয়েছিল তা উল্লেখ করবে।

Order 6 Rule 15: Verification of pleadings-
1) Save as otherwise provided by any law for the time being in force, every pleading shall be verified at the foot by the party or by one of the parties pleading or by some other person proved to the satisfaction of the Court to be acquainted with the facts of the case.

2) The person verifying shall specify, by reference to the numbered paragraphs of the pleading, what he verifies of his own knowledge and what he verifies upon information received and believed to be true.

3) The verification shall be signed by the person making it and shall state the date on which and the place at which it was signed.
৭,৫১৫.
সহকারী জজের কোনো ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যাবে-
  1. জেলা জজ আদালতে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. দায়রা আদালতে
  4. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
- রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে।
-দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
- ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।
- দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে -জেলা জজ আদালতে। 

- অর্থাৎ ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে। জেলা জজ আদালত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল শুনানীর এখতিয়ার রাখে না।
সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ ও যুগ্ম জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন জেলা জজের আদালতে দাখিল করতে হয়, তবে এই সকল আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে।
৭,৫১৬.
এক গ্রামে ৮/১০ জন লোক জমায়েত হয়েছিল এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল যে, তারা একজন ব্যক্তিকে তার জমি থেকে বেদখল করবে এবং সেই জমি নিজেরা দখল করবে। এই সমাবেশটি দণ্ডবিধির কত ধারার অধীন বেআইনি সমাবেশ হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ১৫১ ধারা
  2. ১৪৮ ধারা
  3. ১৪১ ধারা
  4. ১৫৩ ধারা
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনি সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোনো সমাবেশ করলে তাকে 'বেআইনি সমাবেশ বা Unlawful Assembly' বলে।

দণ্ডবিধির ১৪১ ধারামতে, ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সৃষ্ট সমাবেশে নিম্নলিখিত ৫টি সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object থাকলে তা বেআইনি সমাবেশ বলে গণ্য হবে। যথা-
i) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান;
ii) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা;
iii) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন;
iv) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত;
v) কোনো ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।

অর্থাৎ এই সমাবেশটি উল্লেখিত উদ্দেশ্যের কারনে দণ্ডবিধির ১৪১ ধারার অধীন বেআইনি সমাবেশ হিসেবে গণ্য হবে।

Section 141: Unlawful assembly:

An assembly of five or more persons is designated an "unlawful assembly," if the common object of the persons composing that assembly is:
First- To overawe by criminal force, or show of criminal force, Government or Legislature, or any public servant in the exercise of the lawful power of such public servant; or
Second- To resist the execution of any law, or of any legal process; or
Third- To commit any mischief or criminal trespass, or other offence; or
Fourth- By means of criminal force, or show of criminal force, to any person to take or obtain possession of any property, or to deprive any person of the enjoyment of a right of way, or of the use of water or other incorporeal right of which he is in possession or enjoyment, or to enforce any right or supposed right; or
Fifth- By means of criminal force, or show of criminal force, to compel any person to do what he is not legally bound to do, or to omit to do what he is legally entitled to do.

Explanation- An assembly which was not unlawful when it assembled, may subsequently become an unlawful assembly.
৭,৫১৭.
“আপীল হচ্ছে মূল মোকদ্দমার ধারাবাহিকতা”- এই বিধানটি The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন ধারার ব্যাখ্যায় অনুমিত?
  1. ৯৬;
  2. ৯৭;
  3. ১০৬;
  4. ১০৭
ব্যাখ্যা
♦ধারা ১০৭(২) অনুযায়ী ‘দেওয়ানি আদালতে দায়েরকৃত কোন মোকদ্দমার বিষয়ে বিচারিক আদালতের একই ক্ষমতা থাকবে এবং বিচারিক আদালতের যেরুপ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তদরুপ দায়িত্বের প্রায় কাছাকাছি দায়িত্ব আপীল আদালত প্রতিপালন করবে’। সুতরাং আপীল করা হয়েছে এমন রায় রা ডিক্রি চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়না এবং সম্পূর্ণ মোকদ্দমাটি বিচারাধীন মর্মে গণ্য হবে। তাই বলা যায়, “আপীল হচ্ছে মূল মোকদ্দমার ধারাবাহিকতা”।
৭,৫১৮.
মোকদ্দমার কোন পক্ষ অপর পক্ষকে কোন ঘটনার সত্যতা স্বীকারের জন্য, মোকদ্দমা শুনানীর তারিখ থেকে কত দিন পূর্বে নোটিশ প্রদান করতে হবে?
  1. ৯ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ১০ দিন
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১২ নং আদেশ অনুযায়ী স্বীকারোক্তি তিন (৩) প্রকার-

১/ মামলা স্বীকারের নোটিশ [বিধি-১]
২/ দলিল স্বীকার নোটিশ  [বিধি-২]
৩/ ঘটনা স্বীকারের জন্য নোটিশ [বিধি ৪]

• আদেশ-১২, বিধি-৪: ঘটনার সত্যতা স্বীকারের জন্য নোটিশ-

মোকদ্দমার কোন পক্ষ অপর পক্ষকে কোন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেওয়ার জন্য মোকদ্দমা শুনানীর তারিখ থেকে ৯ দিন পূর্বে নোটিশ প্রদান করবে এবং নোটিশ প্রদানের ৬ দিনের মধ্যে বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষকে নোটিশের জবাব দিতে হবে।
৭,৫১৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৮ ধারায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তার অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে মামলা তুলে নেয়ার অধিকার দিতে পারে-
  1. হাইকোর্ট সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে
  2. সরকার হাইকোর্ট এর অনুমোদন সাপেক্ষে
  3. দায়রা আদালত হাইকোর্ট এর অনুমোদন সাপেক্ষে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
ধারা ৫২৮- দায়রা জজ সহকারী দায়রা জজের কাছে থেকে মোকদ্দমা তুলে নিতে পারবেন

(১) দায়রা জজ তার অধঃস্তন সহকারী দায়রা জজের কাছ থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাকে যে মামলা দিয়েছেন তা তলব করতে পারবেন।

(১ক) দায়রা জজ কোন অতিরিক্ত দায়রা জজকে যে মামলা বা আপীল দিয়েছিলেন উক্ত অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট যেকোন সময় উক্ত মামলার বিচার বা আপীলের শুনানী আরম্ভের পূর্বে তিনি তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন।

(১খ) যেক্ষেত্রে দায়রা জজ উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন মামলা তুলিয়ে নেন বা ফেরত নেন কিংবা উপ-ধারা (১এ) এর অধীন কোন মামলা বা আপীল ফেরত নেন, সেক্ষেত্রে তিনি নিজের আদালতে উক্ত মামলার বিচার করতে বা নিজে উক্ত আপীল শ্রবণ করতে পারবেন, কিংবা এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে উহা বিচার বা শুনানীর জন্য অন্য কোন আদালতে দিতে পারবেন।

(২) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাঁকে যে মামলা দিয়েছিলেন, তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন, এবং নিজে এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন, বা এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচারের যোগ্যতা সম্পন্ন অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর তা ইনকোয়ারী বা বিচারের জন্য প্রেরণ করতে পারবেন।

(৩) সরকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে হাইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এ মর্মে ক্ষমতা দিতে পারবেন যে, তিনি যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শ্রেণীর মামলা বা কোন বিশেষ শ্রেণীর মামলা তার অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে নিতে পারবেন।

(৪) কোন ম্যাজিট্রেট ধারা-১৯২ এর উপধারা (২) এর অধীন কোন মামলা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়েছেন উক্ত মামলা তিনি ফিরিয়ে নিতে এবং নিজে উহার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন।

(৫) কোন ম্যাজিস্ট্রেট এই ধারার অধীন কোন আদেশ দেবার সময় তার এরূপ আদেশ প্রদানের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।
৭,৫২০.
নিম্নলিখিত কে সমন জারিকারক হতে পারে?
  1. আদালতের নির্ধারিত অফিসার
  2. কোন সরকারি কর্মচারী
  3. পুলিশ অফিসার
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮(১) ধারামতে প্রত্যেকটি সমন প্রতিলিপিসহ লিখিত হতে হবে এবং আদালতের প্রিজাইডিং অফিসার বা সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃক নির্দেশিত অপর কোন অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এবং সীলমোহরকৃত হবে।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮(২) ধারা অনুযায়ী সমন জারি করতে পারেন  i) পুলিশ অফিসার, ii) আদালতের নির্ধারিত অফিসার, অথবা iii) অপর কোন সরকারি কর্মচারী সমন জারি করবে।
৭,৫২১.
যে ঘটনা বিশেষভাবে কারও অবগতির মধ্যে থাকে তা প্রমাণের দায়িত্ব তার উপর ন্যাস্ত এই বিধানটি কত ধারার?
  1. সাক্ষ্য আইনের ১০৬ ধারা
  2. সাক্ষ্য আইনের ১০৮ ধারা
  3. সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারা
  4. সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ১০৬ ধারা অনুযায়ী যে ঘটনা বিশেষভাবে কারও অবগতির মধ্যে থাকে তা প্রমাণের দায়িত্ব: কোন ঘটনা যখন বিশেষভাবে কোন ব্যক্তির অবগতির মধ্যে থাকে তখন সেই বিষয় প্রমাণ করার দায়িত্ব তার উপর ন্যাস্ত।

♦ কোন ব্যক্তি যখন এমন ইচ্ছা প্রণোদিত হয়ে একটি কাজ করে, যা উক্ত কাজের প্রকৃতি ও পরিস্থিতি হতে অনুমিত ইচ্ছা অপেক্ষা ভিন্ন, তখন ঐ ইচ্ছা প্রমাণের দায়িত্ব সেই ব্যক্তির উপর ন্যাস্ত।
৭,৫২২.
সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী স্বীকৃতি (Admissions) কী হিসেবে ব্যবহার করা যায়?
  1. Confession
  2. Estoppel
  3. Conclusive Proof
  4. Shall presume
ব্যাখ্যা
⇒ স্বীকৃতি হচ্ছে মৌখিক বা লিখিত এমন কোন বিবৃতি, যা কোন বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে কোন অনুমানের ইঙ্গিত বহন করে।
- সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রতিবন্ধক হতে পারে:
কোনো বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এই আইনে অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে এগুলি প্রতিবন্ধক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী স্বীকৃতি (Admissions) প্রতিবন্ধক (Estoppel) হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
-------------
⇒ The Evidence Act,1872, Section 31: Admissions not conclusive proof, but may stop:
Admissions are not conclusive proof of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.
৭,৫২৩.
আপিল আদালত যদি নিম্ন আদালতের কোনো ডিক্রি রদ করে, সেক্ষেত্রে আদেশ-৪১ বিধি-২৩ অনুযায়ী আপিল আদালত-
  1. নতুন ডিক্রি জারি করতে পারে
  2. মোকদ্দমা খারিজ করতে পারে
  3. মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণের আদেশ দিতে পারে
  4. সাক্ষীকে পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ করার নির্দেশ দিতে পারে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪১ বিধি-২৩- বিচারের নিমিত্তে আপিল আদালত কর্তৃক মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণ:
যেক্ষেত্রে যে আদালতের ডিক্রি হতে আপিল দায়ের করা হয়েছে, সে আদালত যদি মোকদ্দমাটি কোন প্রাথমিক বিষয়ের উপর নিস্পত্তি করে থাকেন এবং আপিলে উক্ত ডিক্রি রদ হয় সেক্ষেত্রে আপিল আদালত উপযুক্ত মনে করলে মোকদ্দমাটি পুনঃপ্রেরণের আদেশ দিতে পারেন এবং অনুরূপে পুনঃপ্রেরিত মোকদ্দমায় কোন্ কোন বিষয় বা বিষয়াবলীর বিচার করতে হবে তৎসম্পর্কে আরো নির্দেশ দিতে পারেন এবং এটির রায়ের ও আদেশের একটি নকল যে আদালতে ডিক্রি হতে আপিল করা হয়েছে, অনুরূপ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমার রেজিস্ট্রারে সেটির মূল নম্বরের অধীনে মোকদ্দমাটি বিচারার্থে পুনঃগ্রহণ করার এবং মোকদ্দমা নিস্পত্তি করার নির্দেশাবলীসহ প্রেরণ করতে হবে এবং মূল বিচারকালে লিপিবদ্ধকৃত সাক্ষ্য (যদি কোন) যাবতীয় সঙ্গত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ঐগুলোও পুনরায় প্রেরণের পর বিচারকালে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে।

Order 41 Rule 23- Remand of case by Appellate Court:
Where the Court from whose decree an appeal is preferred has disposed of the suit upon a preliminary point and the decree is reversed in appeal, the Appellate Court may, if it thinks fit, by order remand the case, and may further direct what issue or issues shall be tried in the case so remanded, and shall send a copy of its judgment and order to the Court from whose decree the appeal is preferred, with directions to re-admit the suit under its original number in the register of civil suits, and proceed to determine the suit; and the evidence (if any) recorded during the original trial shall, subject to all just exceptions, be evidence during the trial after remand.
৭,৫২৪.
একটি নির্দিষ্ট দলিল উপস্থাপনের জন্য একজন সাক্ষীকে তলব করা হয়েছে। দলিলটি তার অধীনেই রয়েছে, কিন্তু তিনি উপস্থাপনে আপত্তি করছেন। এধরনের আপত্তির বৈধতা কে নির্ধারন করবে?
  1. আদালত
  2. পক্ষদ্বয়
  3. পক্ষদ্বয়ের আইনজীবী
  4. সাক্ষী নিজে
ব্যাখ্যা
• ধারা ১৬২: দলিলের উপস্থাপন:

একজন সাক্ষীকে কোনো নথি উপস্থাপন করার জন্য সমন জারি করা হলে, যদি সে নথিটি তার কাছে থাকে বা তার নিয়ন্ত্রণাধীন হয়, তাহলে সে সেটি আদালতে উপস্থিত করবে, এর বিরুদ্ধে যে কোনো আপত্তি থাকলেও। এই ধরনের আপত্তির বৈধতা আদালত নির্ধারন করবে। আদালত যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে রাষ্ট্রীয় বিষয়সমূহ ব্যতীত নথিটি পরীক্ষা করতে পারবে অথবা এর গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের জন্য অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণ করতে পারবে।

[A witness summoned to produce a document shall, if it is in his possession or power, bring it to Court, notwithstanding any objection which there may be to its production or to its admissibility. The validity of any such objection shall be decided on by the Court.
The Court, if it sees fit, may inspect the document, unless it refers to matters of State, or take other evidence to enable it to determine on its admissibility.]
৭,৫২৫.
Common object কোন ধারার অপরাধের উপাদান?
  1. ১৩৪
  2. ৩৪
  3. ১৪৯
  4. ৩৫
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোড-এর ১৪৯ ধারা মতে বে-আইনি সমাবেশের কোনো সদস্য যদি common object বাস্তবায়নে কোনো অপরাধ করে তবে উক্ত সমাবেশের সকল সদস্য ব্যক্তিগতভাবে উক্ত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হবে। সকল সদস্যের সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object ছিল এটি প্রমাণ করতে না পারলে ১৪৯ ধারায় সকলকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ি করা যাবে না।
৭,৫২৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন মৃত আপিলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার দরখাস্ত কত দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১৭৬ এর বিধান: মৃত বাদী অথবা আপিলকারীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন দরখাস্ত মৃত বাদী বা আপিলকারীর মৃত্যুর তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
- অন্যদিকে, তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৭৭ অনুযায়ী-মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর আইনগত প্রতিনিধিকে পক্ষভুক্ত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন দরখাস্ত মৃত বিবাদী বা প্রতিবাদীর মৃত্যুর তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
৭,৫২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. জামিন প্রদান
  2. সাক্ষ্য গ্রহণ
  3. সাক্ষীর হাজিরা নিশ্চিতকরণ
  4. আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৩৩৯খ ধারা মূলত আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার (Trial in absentia) সম্পর্কিত।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
(১) ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৮৭ এবং ধারা ৮৮-তে যা কিছুই থাকুক না কেন, যদি আদালতের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকে যে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক অথবা নিজেকে এমনভাবে গোপন করে রেখেছে যাতে তাকে গ্রেফতার করে বিচারার্থে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না এবং তাকে দ্রুত গ্রেফতার করার সম্ভাবনা নেই, তবে অভিযোগের বিষয়ে বিচার গ্রহণকারী আদালত, জাতীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারিত দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত এক আদেশের মাধ্যমে, উক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেবে। এবং যদি উক্ত ব্যক্তি ওই নির্দেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

শর্তসাপেক্ষে, আদালত প্রয়োজনে আরও নির্দেশ দিতে পারে যে অভিযুক্ত ব্যক্তির হাজিরার আদেশটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত, প্রধান বিচারিক হাকিম আদালত, প্রধান মহানগর হাকিম আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বাংলাদেশ পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি ওয়েবসাইট—যার জনসাধারণের কাছে ব্যাপক প্রবেশাধিকার রয়েছে—সেখানে প্রকাশ করা হবে।

(২) আসামিকে হাজির করার পর কিংবা আসামি হাজির হবার পর অথবা জামিনে মুক্ত হবার পর যেক্ষেত্রে আসামি পলায়ন করে কিংবা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশি অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 339B: Trial in absentia:
(1) Notwithstanding anything contained in section 87 and section 88, where the Court has reason to believe that an accused person has absconded or is concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in one national daily Bangla Newspaper having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence:
Provided that the Court may, in addition, direct that the order for appearance of the accused be published on the official website of the District and Sessions Judge Court, the Chief Judicial Magistrate Court, the Chief Metropolitan Magistrate Court, the office of the Deputy Commissioner, the Bangladesh Police, or any other government website having wide public accessibility.

(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
৭,৫২৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় "যিনি দখলে আছেন, তিনিই দখলে থাকিবেন"-এই নীতির প্রতিফলন ঘটেছে?
  1. ৮ ধারার
  2. ১২ ধারার
  3. ৯ ধারার
  4. ৪২ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা: যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না।
এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না। এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবীদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোন প্রয়োগযোগ্য নেই। আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।
ক) কোন সম্পত্তিতে জনসাধারণের যত ভাল স্বত্ব থাকে না কেন তাদেরকে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া হতে নিরুৎসাহ করাই এই ধারার লক্ষ্য।
খ) এই ধারায় ফরিয়াদীকে কোন স্বত্ব প্রদান করা হয়নি। আইনের মাধ্যম ছাড়া কেউ কাউকে সম্পত্তি হতে দখলচ্যুত করলে অধিকার বিচার না করে দখলচ্যুত ব্যক্তি বর্তমান ধারার মাধ্যমে দখল লাভ করতে পারে। শান্তিভঙ্গ রোধই এই ধারার অন্যতম লক্ষ্য।
গ) বর্তমান ধারার লক্ষ্য হল, বলপ্রয়োগ করে বেদখল নিরুৎসাহিত করা। এ ধারার শেষের অংশে কোন ডিক্রি অথবা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল কিংবা পুনর্বিচারের প্রার্থনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ধারার অধীন কোন পক্ষ ডিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি তার প্রতিকার চেয়ে তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মামলা করতে পারেন কিংবা দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারার অধীনে হাইকোর্ট পুনর্বিচারের প্রার্থনা করতে পারেন।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার নীতি: দখলদারই দখলে থাকবেন, এটিই সাধারণ নীতি। তবে যার স্বত্ব আছে কিন্তু দখল নেই, তিনি আইন হাতে তুলে নিয়ে বলপ্রয়োগ করে দখলদারকে দখলচ্যুত না করে বরং প্রচলিত আইনের বিধান মতে স্বত্বের মোকদ্দমা রুজুর মাধ্যমে দখলে আসতে পারেন। মূলত এটিই আলোচ্য আইনের প্রধান নীতি।
⇒ বেদখল বলতে কি বুঝ?
বেদখল অর্থ প্রকৃত উচ্ছেদ বা তাড়ানো অর্থাৎ যে ব্যক্তি প্রকৃত দখলে ছিল তাকে দখল থেকে উচ্ছেদ করাই হল বেদখল। একজন প্রজাকে ইজারার শেষে দখলে থাকা শুধুমাত্র আইনের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা যাবে।
⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১১৬ ধারার আওতায় হোল্ডিন ওভার বিশিষ্ট একজন প্রজা বা টেন্যান্টের দখল বৈধ। অবৈধ নয় এরূপ প্রজাকে বেদখল করলে ৯ ধারা অনুসারে তা পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারে। আইনের যথার্থ মাধ্যম অর্থ নিয়মিত, স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা দ্বারা কোন কিছু সিদ্ধান্তের জন্য আদালতে উত্থাপন করা হয়।
⇒ বেদখল বাস্তবে হতে হবে, শুধুমাত্র কাগজপত্রে বেদখল হলে তাকে ৯ ধারা মোতাবেক বেদখল বলা যায় না। ৯ ধারার অধীন দখল পুনরুদ্ধারের জন্য বেদখল অবশ্যই আইনের পরিপন্থি হতে হবে। পক্ষান্তরে কোন ব্যক্তির ঘর বাড়ী বা সম্পত্তি থেকে আইনগত পদ্ধতিতে উচ্ছেদ হলে তাকে বেদখল বলা যায় না।
৭,৫২৯.
সরকার মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে যে কোন দণ্ডে রূপান্তর করতে পারে দণ্ডবিধির কত ধারা অনুযায়ী?
  1. ৫৪ ধারায়
  2. ৫৫ ধারায়
  3. ৫৫ক ধারায়
  4. ৫৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৫৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ড হ্রাসকরণ:- মৃত্যুদণ্ড দান করা যেতে পারে এইরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধকারীর সম্মতি ব্যতিরেকে উক্ত দণ্ডকে এই বিধি ও আইন বলে ব্যবস্থিত অন্য যেকোন স্বল্প দণ্ডে রূপান্তরিত করতে পারবেন।
♦ সরকার দণ্ডবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে এবং ৫৫ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস করে যে কোন দণ্ডে রূপান্তর করতে পারে । দণ্ডবিধির ৫৫ক ধারায় বলা হয়েছে, ৫৪ ও ৫৫ ধারার কোন কিছু রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, শাস্তি কমানো, লাঘব বা মওকুফের অধিকার ক্ষতিগ্রস্থ করবে না।
৭,৫৩০.
একটি দেওয়ানি মামলার অতিরিক্ত জেলা জজ প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন হবে কোন আদালতে?
  1. জেলা জজ
  2. আপিল বিভাগ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. স্পেশাল জজ
ব্যাখ্যা
♦রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
♦১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।
♦দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে -জেলা জজ আদালতে।
♦অর্থাৎ ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।
♦অর্থাৎ দেওয়ানি মামলার অতিরিক্ত জেলা জজ প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করতে হবে- হাইকোর্ট বিভাগে।
৭,৫৩১.
দেওয়ানি মামলায় যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দায়ের করতে হবে রায়ের তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে?
  1. ২০
  2. ৩০
  3. ৬০
  4. ৯০
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৭৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, যেকোন দেওয়ানী আদালতের নিকট দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন রিভিউ করার তামাদির মেয়াদ ৯০ দিন।
৭,৫৩২.
A, B-কে বছরে ৫,০০০ টাকা ভাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া দিল। ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৭ সালের ভাড়া বাকি আছে। A, ২০০৮ সালে শুধু ২০০৬ সালের ভাড়ার জন্য মামলা করলো। এক্ষেত্রে, A পরে ২০০৫ বা ২০০৭ সালের ভাড়ার জন্য-
  1. আলাদা মামলা করতে পারবে
  2. আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলা করতে পারবে
  3. আলাদা মামলা করতে পারবে না
  4. আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় বিচার করবে
ব্যাখ্যা

Order II Rule 2 of the Code of Civil Procedure (CPC):
প্রতিটি মামলা এমনভাবে দায়ের করতে হবে যাতে তা মামলাকারীর (plaintiff) পুরো দাবি (claim) অন্তর্ভুক্ত করে, যা তিনি ঐ একই কারণ (cause of action) থেকে করার অধিকার রাখেন।
তবে, মামলাকারী চাইলে তার দাবির কোনো অংশ ত্যাগ করতে পারেন, যদি তা করার মাধ্যমে মামলাটি কোনো নির্দিষ্ট আদালতের এখতিয়ারের (jurisdiction) মধ্যে আনা সম্ভব হয়।

(২) যদি কোনো মামলাকারী তার দাবির কোনো অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেন বা সেই অংশের জন্য মামলা না করেন, তাহলে তিনি পরে সেই বাদ দেওয়া অংশের জন্য আবার মামলা করতে পারবেন না।
অর্থাৎ: একবার কোনো অংশ বাদ দিলে বা ত্যাগ করলে, পরে সেই অংশের জন্য পুনরায় মামলা করা যাবে না।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি একই “cause of action” (অর্থাৎ একই ঘটনার ভিত্তিতে) একাধিক প্রতিকার (relief) পাওয়ার অধিকারী হন, তাহলে তিনি চাইলে সবগুলো প্রতিকার বা যেকোনো একটি প্রতিকারের জন্য মামলা করতে পারেন। তবে যদি তিনি আদালতের অনুমতি (leave of Court) ছাড়া কোনো প্রতিকার বাদ দেন, তাহলে তিনি পরে সেই বাদ দেওয়া প্রতিকারের জন্য আলাদা করে মামলা করতে পারবেন না।

Explanation (ব্যাখ্যা):
একটি বাধ্যবাধকতা (obligation), তার সাথে সম্পর্কিত জামানত বা সিকিউরিটি, এবং সেই বাধ্যবাধকতা থেকে ক্রমাগত উদ্ভূত দাবিগুলো — সব মিলিয়ে একটি cause of action বলে গণ্য হবে।

Illustration (উদাহরণ):
A, B-কে বছরে ১,২০০ টাকা ভাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া দিল। ১৯০৫, ১৯০৬ ও ১৯০৭ সালের ভাড়া বাকি আছে। A, ১৯০৮ সালে শুধু ১৯০৬ সালের ভাড়ার জন্য মামলা করলো। তাহলে A পরে ১৯০৫ বা ১৯০৭ সালের ভাড়ার জন্য আলাদা মামলা করতে পারবে না।

৭,৫৩৩.
যদি রাতের বেলায় কেউ একটি বাড়িতে চুরি করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে, তবে সেই বাড়ির মালিক আত্মরক্ষার অধিকারের সর্বোচ্চ সীমা কতদূর পর্যন্ত প্রয়োগ করতে পারেন?
  1. চোরকে ধরিয়ে দিতে পারেন
  2. চোরকে কেবল ভয় দেখাতে পারেন
  3. চোরকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারেন
  4. চোরের মৃত্যু ঘটাতে পারেন যদি পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়
ব্যাখ্যা
→ দণ্ডবিধির ১০৩ ধারার মতে, সম্পত্তি রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা যায়, এমনকি আক্রমণকারীর মৃত্যু ঘটানো পর্যন্ত, যদি অপরাধের প্রকৃতি গুরুতর হয়।
রাতের বেলায় বেআইনিভাবে ঘরে প্রবেশ (House-breaking by night) এই চারটি গুরুতর অপরাধের মধ্যে একটি, যার ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে অপরাধীর মৃত্যু ঘটানো বৈধ হতে পারে।
তবে, এই অধিকার দণ্ডবিধির ৯৯ ধারার শর্ত সাপেক্ষে প্রযোজ্য। যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে আত্মরক্ষা না করলে বাড়ির মালিক বা পরিবারের সদস্যদের জীবন বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তখন প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা আইনসিদ্ধ হতে পারে।

অতএব, যদি রাতের বেলায় কেউ বেআইনিভাবে চুরি করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে এবং সেই পরিস্থিতি প্রাণনাশ বা গুরুতর আঘাতের আশঙ্কা তৈরি করে, তাহলে আত্মরক্ষার সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত (অপরাধীর মৃত্যু ঘটানো) যেতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১০৩ :- যেক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়:
- সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাকৃতভাবে অপরাধকারীর মৃত্যু সংঘটন বা তার অপর কোনরূপ ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে, যদি যে অপরাধটি করার বা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে সে অপরাধটি নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়, যথা:-
প্রথমত (First): দস্যুতা;
দ্বিতীয়ত (Secondly): রাত্রিবেলা ঘর ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করা:
তৃতীয়ত (Thirdly): কোন গৃহ, তাঁবু বা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতি সাধন, যদি গৃহটি, তাবুটি বা যানবাহনটি মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
চতুর্থত (Fourthly): চুরি, অনিষ্টকারিতা, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, সংশ্লিষ্ট আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ না করলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার উদ্ভব হয়।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section-103: When the right of private defence of property extends to causing death:
The right of private defence of property extends, under the restrictions mentioned in section 99, to the voluntary causing of death or of any other harm to the wrong-doer, if the offence, the committing of which, or the attempting to commit which, occasions the exercise of the right, be an offence of any of the descriptions hereinafter enumerated, namely:-
Firstly.-Robbery;
Secondly.-House-breaking by night;
Thirdly.-Mischief by fire committed on any building, tent or vessel, which building, tent or vessel is used as a human dwelling or as a place for the custody of property;
Fourthly.-Theft, mischief or house-trespass, under such circumstances as may reasonably cause apprehension that death or grievous hurt will be the consequence, if such right of private defence is not exercised;
৭,৫৩৪.
অন্যান্য আইনজীবী এর উপর কার প্রাক-শ্রোতা অধিকার (Right of Pre-audience) রয়েছে?
  1. বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি
  2. সংশ্লিষ্টবার এসোসিয়েশনের সভাপতি
  3. এনরোলমন্ট কমিটির চেয়ারম্যান
  4. বাংলাদেশের অ্যাটর্নী জেনারেল
ব্যাখ্যা
♦ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 রাষ্ট্রপতির ৪৬ নং আদেশ এর অনুচ্ছেদ ২৬(১)  এর বিধান মতেঃ অন্যান্য আইনজীবী এর উপর বাংলাদেশের অ্যাটর্নী জেনারেল প্রাক-শ্রোতা অধিকার (Right of Pre-audience) রয়েছে। 
৭,৫৩৫.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ২৬ এর বিধান অনুযায়ী কমিশন ইস্যুর আদেশ দেয়া যায় না?
  1. স্থাবর সম্পত্তির ভাগ বণ্টন
  2. নালিশী জমি কোন নির্দিষ্ট দাগভুক্ত কিনা তা নির্ধারণ
  3. কোন দলিলে বর্ণিত জমি নির্দিষ্ট কোন দাগভুক্ত কিনা তা নির্ধারণ
  4. নালিশি জমিতে কোন পক্ষের স্বত্ব আছে কিনা তা নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির অর্ডার ২৬ অনুযায়ী আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কমিশন ইস্যু করতে পারে-
- সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের জন্য,
- স্থাবর সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য,
- স্থানীয় তদন্ত যেমন নালিশী জমি কোন নির্দিষ্ট দাগভুক্ত কিনা এবং কোন দলিলে বর্ণিত জমি নির্দিষ্ট কোন দাগভূক্ত কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য, এবং
- হিসাব পরীক্ষা করার জন্য।

অর্থাৎ ২৬ আদেশের অধীন, আদালত নালিশী জমিতে কোন পক্ষের স্বত্ব আছে কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য কমিশন ইস্যু করতে পারে না।
৭,৫৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ধারার অধীনে নথি পর্যালোচনার সময় হাইকোর্ট বিভাগ নিম্নের কোনটি করতে পারে?
  1. দণ্ড কার্যকর স্থগিত করা
  2. আটককৃত আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া
  3. আটককৃত আসামিকে তার নিজস্ব মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ অনুসারে, নথি তলব ও পর্যালোচনার সময় হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা জজ চাইলে দণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিতে পারে এবং যদি আসামি আটক থাকে, তবে তাকে জামিনে অথবা নিজ দায়িত্বে (মুচলেকায়) মুক্তির নির্দেশ দিতে পারে।
→ সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলোই।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ধারার বিধান নিম্ন আদালতের নথি তলবের ক্ষমতা:-
-ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ (১) ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ এবং দায়রা জজ অধীনস্থ কোন ফৌজদারি আদালতের কোনো মামলার নথি তলব করতে পারে বা মামলার কোন কার্যক্রম পরীক্ষা করতে পারে। অধীনস্থ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত বা লিপিবদ্ধকৃত কোন দণ্ড বা আদেশের নির্ভুলতা, বৈধতা বা যৌক্তিকতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে; বা অধীনস্থ আদালতের মামলার কার্যক্রম রীতিসম্মত কিনা সে সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে উক্ত নথি পর্যালোচনা থাকাকালীন সময়ের জন্য হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা কোনো দণ্ড কার্যকর করা স্থগিতের আদেশ দিতে পারে; এবং যদি অভিযুক্ত আটক থাকে, তাহলে তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে বা আসামীর নিজ মুচলেকায় জামিন দিতে পারে।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 435: Power to call for records of inferior Courts:-
-(1) The High Court Division or any Sessions Judge, may call for and examine the record of any proceeding before any inferior Criminal Court situate within the local limits of its or his jurisdiction for the purpose of satisfying itself or himself as to the correctness, legality or propriety of any finding, sentence or order recorded or passed, and as to the regularity of any proceedings of such inferior Court and may, when calling for such record, direct that the execution of any sentence be suspended and, if the accused is in confinement, that he be released on bail or on his own bond pending the examination of the record.
Explanation-All Magistrates, whether Executive or Judicial, shall be deemed to be inferior to the Sessions Judge for the purposes of this sub-section.
৭,৫৩৭.
দণ্ডবিধির ১১৪ ধারা অনুসারে, প্ররোচনাকারী যখন অপরাধ সংঘটনের সময় উপস্থিত থাকে, তখন তাকে কী শাস্তি প্রদান করা হতে পারে?
  1. কোনো শাস্তি নয়
  2. সাক্ষী হিসেবে শাস্তি
  3. অপরাধী হিসেবে শাস্তি
  4. প্ররোচনাকারী হিসেবে শাস্তি
ব্যাখ্যা
ধারা ১১৪: অপরাধ সংঘটনের সময় উপস্থিত প্ররোচনাকারী:
যখন কোনো ব্যক্তি, যে অনুপস্থিত থাকলে প্ররোচনাকারী হিসেবে শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হতো, সেই ব্যক্তি যদি সেই কাজ বা অপরাধ সংঘটনের সময় উপস্থিত থাকে, যার জন্য সে প্ররোচনার কারণে শাস্তিযোগ্য হতো, তখন তাকে সেই কাজ বা অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে গণ্য করা হবে।

Section 114- Abettor present when offence is committed:
Whenever any person, who if absent would be liable to be punished as an abettor, is present when the act or offence for which he would be punishable in consequence of the abetment is committed, he shall be deemed to have committed such act or offence.
৭,৫৩৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৩০ এর বিধান অনুসারে বিকল্প প্রতিকার হিসেবে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে দায়িককে-
  1. দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে
  2. তার সম্পত্তি ক্রোক করা যাবে
  3. তার সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় করে যাবে
  4. উল্লিখিত সবগুলো করে যাবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৩০ এর বিধান: অর্থ পরিশোধের ডিক্রি: বিকল্প প্রতিকার হিসেবে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ডিক্রি দায়িককে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে অথবা তার সম্পত্তি ক্রোক এবং নিলাম বিক্রয় করে অথবা উভয় প্রকারেই জারি করা যাবে। 
------------
Order-21 Rule-30.Decree for payment of money:
Every decree for the payment of money, including a decree for the payment of money as the alternative to some other relief, may be executed by the detention in the civil prison of the judgment-debtor, or by the attachment and sale of his property, or by both. 
৭,৫৩৯.
কোন আদালত বা ব্যক্তিরা দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৩৯–এর অধীনে হলফনামার শপথ পরিচালনা করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র জেলা জজ
  2. কেবলমাত্র আইনজীবী
  3. যেকোনো আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৯ ধারার বিধান হলফনামার শপথ যার দ্বারা পরিচালিত হবে: এই আইন মোতাবেক কোন এফিডেভিটের ক্ষেত্রে-
ক) যেকোনো আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট; অথবা
খ) যেকোনো অফিসার বা অন্য কোন ব্যক্তি যাকে সুপ্রিমকোর্ট এতদুদ্দেশ্যে নিয়োগ করতে পারেন; অথবা
গ) সরকার কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন আদালতে যে ব্যক্তিকে এই কার্যের জন্য নিযুক্ত করতে পারেন, তিনি শপথ গ্রহণকারীর প্রতি শপথ পরিচালনা করতে পারবেন।
------------
⇒ CPC Section: 139. Oath on affidavit by whom to be administered:
 In the case of any affidavit under this Code- 
(a) any Court or Magistrate, or 
(b) any officer or other person whom 107[the Supreme Court] may appoint in this behalf, or 
(c) any officer appointed by any other Court which the Government has generally or specially empowered in this behalf,
may administer the oath to the deponent.

৭,৫৪০.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন অর্ডারে রিভিউ সম্পর্কিত বিধান বর্ণিত আছে?
  1. অর্ডার ৪৫
  2. অর্ডার ৪৬
  3. অর্ডার ৪৭
  4. অর্ডার ৪৮
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর অর্ডার ৪৭ রিভিউ সম্পর্কিত বিধান বর্ণনা করে। 
​-
এই অর্ডারের বিধি ১-এ রিভিউ আবেদনের শর্তগুলি উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন:
- নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় বা প্রমাণ আবিষ্কার হওয়া।
- মামলার নথিতে স্পষ্ট ভ্রান্তি বা ত্রুটি থাকা।
- অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ থাকা।
এই অর্ডারটি নির্দিষ্ট করে যে রিভিউ আবেদন শুধুমাত্র সেই আদালতে দায়ের করা যাবে যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করেছে।

⇒ ​দেওয়ানি কার্যবিধি ধারা-১১৪ ও অর্ডার ৪৭ দেওয়ানি রিভিউ (Review):
ধারা ১১৪ অনুযায়ী: যদি কোনো ব্যক্তি নিম্নলিখিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন—
১. এমন ডিক্রি বা আদেশ যার বিরুদ্ধে আপীল করা যেত কিন্তু করা হয়নি,
২. এমন আদেশ যার বিরুদ্ধে আপীলের সুযোগ নেই, অথবা
৩. Small Causes Court-এর রেফারেন্সের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হন—
তবে তিনি সেই আদালতে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন, যিনি ঐ আদেশ বা ডিক্রি জারি করেছেন।

​অর্ডার ৪৭ অনুযায়ী: ধারা ১১৪-এর অধীনে রিভিউ আবেদনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া বর্ণিত।
রিভিউ শুধুমাত্র তখনই করা যাবে যখন—
১. নতুন বা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যায় যা আগে সম্ভব ছিল না,
২. রেকর্ডে স্পষ্ট ভুল বা ত্রুটি থাকে, অথবা
৩. অন্য কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে।
এছাড়া, অর্ডার ৪৭-এ রিভিউ মঞ্জুরি বা নামঞ্জুরের পদ্ধতি, আবেদন আদালত, শুনানির আগে নোটিশ, এবং পুনঃশুনানি প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে বর্ণিত।

৭,৫৪১.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে কোনটির ডেটা ইলেকট্রনিক রেকর্ড হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ড্রোন ডেটা
  2. সিসিটিভি ডেটা
  3. সেলফোন ডেটা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• The Evidence Act (Amendment ), 2022 এর সংশোধন অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রিক রেকর্ড বলতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো যুক্ত হবে-

⇒ ম্যাগনেটিক বা ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমরি, মাইক্রোফিল্ম,
⇒ অডিও, ভিডিও, ডিজিটাল বহুমুখী ডিস্ক বা ডিজিটাল ভিডিও ডিস্ক (ডিভিডি), কম্পিউটার উদ্ভূত মাইক্রোফিচ ইত্যাদিতে প্রস্তুতকৃত, প্রেরিত, গৃহীত বা ধারণকৃত কোন রেকর্ড, ডাটা বা তথ্য;
⇒ ড্রোন ডেটা বা ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশনের রেকর্ড (সিসিটিভি)
;
সেল ফোন, হার্ডওয়্যার, সফ্টওয়্যার বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ তে সংজ্ঞায়িত অন্য কোন ডিজিটাল ডিভাইসের কোন রেকর্ডস।
৭,৫৪২.
মৃত্যুকালীন ঘোষণা আদালতে প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজন-
  1. ভিডিও রেকর্ড
  2. পুলিশি তদন্ত রিপোর্ট
  3. ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন
  4. যিনি শুনেছেন বা লিখেছেন তার সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
মৃত্যুকালীন ঘোষণা:
১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রদত্ত বিবৃতিকে সাধারণত মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলা হয়৷ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা মতে, কোন ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্বে যদি তার মৃত্যুর কারণ, অবস্থা এবং পরিস্থিতি বর্ণনা করে কোন বিবৃতি বা জবানবন্দি প্রদান করে থাকেন তবে তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলা হয়। মৃত্যুর সময় সাধারণত কোন মানুষ মিথ্যা কথা বলে না, সুতরাং এই ঘােষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মৃত্যুকালীন ঘোষণা করা যায়: ১. লিখিত ভাবে ২. ইশারায় ৩. মৌখিকভাবে।
মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রযোজ্য: দেওয়ানি মোকদ্দমা ও ফৌজদারি মামলা উভয় ক্ষেত্রেই।

মৃত্যুকালীন ঘােষণা কিভাবে প্রমাণ করা যায়-
কোন মানুষ তার মৃত্যুর পূর্বে মৃত্যুর কারণ বা আংশকা প্রকাশ করে যদি প্রাসঙ্গিক ঘােষণা প্রদান করে তাহলে তা মৃত্যুকালীন ঘােষণা হিসেবে গণ্য হয়। মৃত্যুকালীন ঘােষণা পুলিশ অফিসারের নিকট দেয়া হােক বা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট দেয়া হােক বা সাধারণ মানুষের নিকট দেয়া হােক সকল ক্ষেত্রেই তা গ্রহণীয় হবে। এক্ষেত্রে যিনি মৃত্যুকালীন ঘােষণা লিখেছেন তাকে আদালতে সাক্ষ্য দিতে হবে। সাক্ষ্য যদি মৌখিক হয় তাহলে যিনি তা শুনেছেন মর্মে আদালতে সাক্ষ্য দিতে হবে। এভাবে মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করা যায়।

মৃত্যুকালীন ঘােষণা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণীয় হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যু কালীন ঘোষনা;
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি;
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে;
iv) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত;
ⅴ) পারিবারিক দলিল বা উইল;
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি;
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি;

⇒ মৃত্যুকালীন ঘােষণা দানকারী যদি দৈবাৎ বেঁচে যায় তাহলে ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনে অনুযায়ী তার ঘােষণা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণীয় হবে না। কারণ উক্ত ব্যক্তি বেঁচে থাকলে পরবর্তীতে তার ঘােষণা পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু মৃত্যুকালীন ঘােষণা দানকারী দৈবাৎ বেঁচে গেলে বাংলাদেশী আইন অনুযায়ী তার ঘােষণা একেবারে বাতিল হয় না। উক্ত বিবৃতি বা ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ১৫৭ ধারানুযায়ী সমর্থনমূলক সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
৭,৫৪৩.
চূড়ান্ত শুনানীর জন্য আদালত দৈনিক কার্যতালিকায় সর্বোচ্চ কয়টি মোকদ্দমা ধার্য্য করতে পারে?
  1. ১০০ টি
  2. ৭০ টি
  3. ৫ টি
  4. ১০ টি
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির  আদেশ ১৮ বিধি ২০ অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানীর জন্য আদালত দৈনিক কার্যতালিকায় ৫টির বেশি মোকদ্দমা ধার্য্য করবেন না এবং আদালত দৈনিক কার্য তালিকায় মোকদ্দমার চূড়ান্ত পর্যায়ে ১০০ টির অধিক মোকদ্দমা ধার্য্য করবে না।
♦ যদি চূড়ান্ত পর্যায়ে মোকদ্দমার সংখ্যা ৭০ টির নীচে আসে তাহলে আবার চূড়ান্ত পর্যায়ে আরো মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করবেন।
৭,৫৪৪.
আদেশ-১১ বিধি-৮ অনুযায়ী, প্রশ্নমালার উত্তর দাখিল করতে কত দিন সময় দেওয়া হয়েছে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ আদেশ-১১ বিধি-৮ অনুযায়ী, প্রশ্নমালার উত্তর দাখিল করতে ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
- এতে বলা হয়েছে যে, প্রশ্নমালার উত্তর শপথনামার মাধ্যমে ১০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
- শপথনামার মাধ্যমে প্রশ্নমালার উত্তরের যথার্থতা নিশ্চিত করা হয়, এবং ১০ দিনের মধ্যে তা দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-11 Rule-8. Affidavit in answer, filing:
Interrogatories shall be answered by affidavit to be filed within ten days.
৭,৫৪৫.
ম্যাজিস্ট্রেট যদি অভিযুক্তকে নির্দোষ বলে মনে করেন, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী তিনি খালাসের আদেশ দেবেন?
  1. ২৪২ ধারা
  2. ২৪৩ ধারা
  3. ২৪৪ ধারা
  4. ২৪৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৫ ধারার বিধান - খালাস:
(১) ম্যাজিষ্ট্রেট যদি ২৪৪ ধারায় উল্লেখিত সাক্ষ্যগ্রহণ করে এবং তিনি স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে যে অতিরিক্ত সাক্ষ্য (যদি থাকে) হাজির করতে বলেন তা গ্রহণ করে এবং (যদি তিনি উপযুক্ত মনে করেন) আসামীর জবানবন্দী গ্রহণ করে আসামীকে নির্দোষ বলে সাব্যস্ত করেন, তাহলে তিনি খালাসের আদেশ লিপিবদ্ধ করবেন।
শাস্তি:
(২) যদি ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ৩৪৯ অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ না করেন, তবে যদি তিনি অভিযুক্তকে দোষী মনে করেন, তাহলে তিনি আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের উপর দণ্ড আরোপ করবেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 245. Acquittal:
(1) If the Magistrate upon taking the evidence referred to in section 244 and such further evidence (if any) as he may, of his own motion, cause to be produced, and (if he thinks fit) examining the accused, finds the accused not guilty, he shall record an order of acquittal.
Sentence:
(2) Where the Magistrate does not proceed in accordance with the provisions of section 349 , he shall, if he finds the accused guilty, pass sentence upon him according to law.
৭,৫৪৬.
'The improper admission or rejection of evidence shall not be ground of itself for a new trail or reversal of any decision in any case.'- সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ১৬২ ধারায়
  2. ১৬৫ ধারায়
  3. ১৬৬ ধারায়
  4. ১৬৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
Section 167⇒ No new trial for improper admission or rejection of evidence:
The improper admission or rejection of evidence shall not be ground of itself for a new trail or reversal of any decision in any case, if it shall appear to the Court before which such objection is raised that, independently of the evidence objected to and admitted, there was sufficient evidence to justify the decision, or that, if the rejected evidence had been received, it ought not to have varied the decision.

সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারামতে,
আদালত অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করে থাকলে যে সাক্ষ্যের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, সেই সাক্ষ্য ছাড়াও যদি এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকে যা দ্বারা আদালতের সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন হয়, অথবা যে সাক্ষ্য বর্জন করা হয়েছে, তা গ্রহণ করা হলেও আদালতের সিদ্ধান্তে কোন তারতম্য হতো না, তবে কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করার অজুহাতে কোন মামলার পুনর্বিচার বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন দাবি করা যাবে না। সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারার বিধান দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলাতেই সমভাবে প্রযোজ্য।
৭,৫৪৭.
কোন সাক্ষীকে মামলার উভয়পক্ষ জেরা করতে পারে?
  1. পুনরায় তলবকৃত সাক্ষী
  2. চিকিৎসক সাক্ষী
  3. ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ডকারী সাক্ষী
  4. বৈরী ঘোষিত সাক্ষী
ব্যাখ্যা
⇒ সঠিক উত্তর: ঘ) বৈরী ঘোষিত সাক্ষী।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারা অনুযায়ী, যখন কোন সাক্ষী বৈরী (Hostile) সাক্ষী হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তখন তার বিরুদ্ধে উভয়পক্ষ (অর্থাৎ, সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ এবং বিরোধী পক্ষ) জেরা করতে পারে। বৈরী সাক্ষী সাধারণত সেই সাক্ষী হয়, যিনি তার পূর্বের সাক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে উল্টো কথা বলেন বা বিরুদ্ধ পক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য দেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয়: 
- বৈরী সাক্ষী হতে পারে যদি সে তার দেওয়া সাক্ষ্য থেকে সরে আসে, অথবা বিপরীত সাক্ষ্য দেয় বা বিরুদ্ধ পক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়।
- সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারা অনুযায়ী, আদালত যদি সাক্ষীকে বৈরী হিসেবে ঘোষণা করে, তবে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তাকে জেরা করতে পারে এবং একইভাবে বিরুদ্ধ পক্ষও তাকে জেরা করতে পারে।

⇒ বৈরী সাক্ষীকে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের জেরা করার অনুমতি দান করা আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন আদালতের অনুমতি নিয়ে যে পক্ষ সাক্ষী নিয়ে আসে, সে পক্ষ নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। এ ধরনের সাক্ষী হল বৈরী (Hostile) সাক্ষী।
⇒ সাধারণত জেরা করার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। এরূপ কাজ কোন মামলার বিরুদ্ধ পক্ষ করে থাকে, তবে ১৫৪ ধারার অধীন সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের সাক্ষীকে জেরা করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।

⇒ যখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়:
১) সাক্ষী যদি নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়
২) সাক্ষী যদি বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়
৩) সাক্ষী যদি তার পূর্বের সাক্ষ্য থেকে সরে এসে বিপরীত সাক্ষ্য দেয়।
⇒ এরূপ ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ নিজ সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করার জন্য আদালতের অনুমতির জন্য দরখাস্ত/ আবেদন দেয়। আদালত উক্ত আবেদন গ্রহণ করলে সাক্ষী বৈরী হয় এবং নিজপক্ষের অ্যাডভোকেট তাকে জেরা করতে পারে।
৭,৫৪৮.
Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025 অনুসারে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা দিতে পারেন?
  1. ১০,০০০ টাকা
  2. ২,০০,০০০ টাকা
  3. ৩,০০,০০০ টাকা
  4. ৫,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩২: ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডের ক্ষমতা:

(সংশোধনের পরে)
• মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট / প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ৫ বছর
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ৫,০০,০০০ টাকা
- চাবুক মারা — বিলুপ্ত
• দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ৩ বছর
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ টাকা
• তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ২ বছর
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ২,০০,০০০ টাকা

(সংশোধনের পূর্বে)
• মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট / প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ৫ বছর (আইন দ্বারা অনুমোদিত একাকী কারাবাসসহ)
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা
- চাবুক মারা (Whipping) — (বর্তমানে বিলুপ্ত)
• দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ৩ বছর (আইন দ্বারা অনুমোদিত একাকী কারাবাসসহ)
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা
• তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট:
- কারাদণ্ড: সর্বোচ্চ ২ বছর
- জরিমানা: সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা
৭,৫৪৯.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৯৩ অনুযায়ী, কোন ধরনের দলিল সাক্ষ্যের মাধ্যমে ব্যাখ্যা বা সংশোধন করা যায় না?
  1. নকল দলিল
  2. আদালতে জমাকৃত দলিল
  3. সরকারি দলিল
  4. অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ দলিল
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ ধারা ৯৩ – অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ দলিল ব্যাখ্যা বা সংশোধনের জন্য সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়:
যখন কোনো দলিলে ব্যবহৃত ভাষা নিজে থেকেই অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ (অর্থাৎ, দলিলের ভাষা দেখে বুঝা যায় যে সেখানে অস্পষ্টতা বা ভুল রয়েছে), তখন তথ্যপ্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয় যা ঐ অস্পষ্টতার অর্থ বোঝাতে বা ত্রুটি সংশোধনে ব্যবহৃত হতে পারে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) A লিখিতভাবে B-কে একটি ঘোড়া ১,০০০ টাকা বা ১,৫০০ টাকায় বিক্রি করতে রাজি হয়।
→ এখানে মূল্য দুটি দেওয়া আছে – সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না কোন মূল্যটি ঠিক ছিল তা প্রমাণ করতে।

(খ) একটি দলিলে কিছু ফাঁকা জায়গা (blanks) আছে।
→ সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না এই ফাঁকাগুলো কীভাবে পূরণ করা ছিল তা দেখানোর জন্য।
৭,৫৫০.
কোনো ব্যক্তি মিথ্যা এজাহার দায়ের করলে তার শাস্তির বিধান দণ্ডবিধির কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ২২০ ধারা
  2. ৩০৫ ধারা
  3. ২১১ ধারা
  4. ৪১২ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ২১১ ধারার বিধান ক্ষতি করিবার উদ্দেশ্যে অপরাধের মিথ্যা অভিযোগ:
-কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের জন্য উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রুজু করার বা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উত্থাপন করার কোন সংগত বা আইনানুগ যুক্তি নাই বলে জানা সত্ত্বেও উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী মামলা রুজু করে বা অনুরূপ মামলা রুজু করায়, কিংবা উক্ত অন্য ব্যক্তির কোন অপরাধ করেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে, এবং
-যদি অনুরূপ ফৌজদারি মামলায়, মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, কিংবা সাত বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের মিথ্যা অভিযোগ রুজু করা হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
৭,৫৫১.
দায়রা আদালতের রায় ও দণ্ডাদেশের অনুলিপি অগ্রবর্তী করতে হবে_______।
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর
  2. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর
  3. প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৩৭৩ ধারা অনুযায়ী দায়রা কোন মামলার বিচারে প্রদত্ত রায়ের ও দন্ডাদেশের কপি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে প্রেরণ করবেন।
৭,৫৫২.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশের অধীনে রিসিভার নিয়োগের বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-৩৭
  2. আদেশ-৩৯
  3. আদেশ-৪০
  4. আদেশ-৪৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪০ (Order XL)-এর অধীনে রিসিভার (Receiver) নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
→ এই আদেশ অনুযায়ী, আদালত যদি মনে করে যে কোনো সম্পত্তির বিষয়ে ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক (just and convenient), তাহলে আদালত আদেশ দ্বারা নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে পারে:
- রিসিভার নিয়োগ করতে পারে – ডিক্রির পূর্বে বা পরে।
- সম্পত্তি থেকে কোনো ব্যক্তিকে অপসারণ করতে পারে।
- সম্পত্তিটি রিসিভারের হেফাজত, দখল বা ব্যবস্থাপনায় দিতে পারে।
রিসিভারকে এমন সব ক্ষমতা প্রদান করতে পারে—যেমন:
- মামলা দায়ের ও প্রতিরক্ষা
- সম্পত্তি উদ্ধার, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন
- ভাড়া/মুনাফা সংগ্রহ ও প্রয়োগ
- দলিল সম্পাদন ইত্যাদি
→ রিসিভারের পারিশ্রমিকও আদালত নির্ধারণ করে (বিধি ২ অনুযায়ী)।
- অর্থাৎ, রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত বিধান আদেশ ৪০-এর অধীনে দেওয়া হয়েছে।

আদেশ ৪০ – রিসিভার নিয়োগ:

১. রিসিভার নিয়োগ:
১.(১) যদি আদালতের নিকট এটি ন্যায়সঙ্গত ও সুবিধাজনক বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে আদালত আদেশ দ্বারা—
(ক) যে কোনো সম্পত্তির (ডিক্রি প্রদানের পূর্বে বা পরে) রিসিভার নিয়োগ করতে পারে;
(খ) কোনো ব্যক্তিকে ঐ সম্পত্তির দখল বা হেফাজত থেকে অপসারণ করতে পারে;
(গ) উক্ত সম্পত্তি রিসিভারের দখল, হেফাজত বা ব্যবস্থাপনায় দিতে পারে; এবং
(ঘ) রিসিভারকে এমন সকল ক্ষমতা প্রদান করতে পারে—যেমন মামলা দায়ের ও প্রতিরক্ষা গ্রহণ, সম্পত্তি উদ্ধার, ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন, ভাড়া ও মুনাফা সংগ্রহ, সেগুলোর প্রয়োগ ও ব্যয়, এবং দলিল সম্পাদন—যেমন মালিক নিজে করতে পারতেন, অথবা আদালত যেটুকু উপযুক্ত মনে করে সেই ক্ষমতা প্রদান করতে পারে।
১.(২) এই বিধানের কিছুই আদালতকে কোনো ব্যক্তিকে সম্পত্তির দখল বা হেফাজত থেকে অপসারণ করার ক্ষমতা প্রদান করে না, যদি না মামলার কোনো পক্ষ সেই ব্যক্তিকে বর্তমানে অপসারণ করার অধিকার রাখে।
২. পারিশ্রমিক: রিসিভারের সেবার জন্য আদালত সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে পারে।
-------------- 
The Code of Civil Procedure, 1908, Order XL – Appointment of Receivers:
1. Appointment of Receivers:
(1) Where it appears to the Court to be just and convenient, the Court may by order—
(a) appoint a receiver of any property, whether before or after decree;
(b) remove any person from the possession or custody of the property;
(c) commit the same to the possession, custody, or management of the receiver; and
(d) confer upon the receiver all such powers, as to bringing and defending suits and for the realization, management, protection, preservation, and improvement of the property, the collection of the rents and profits thereof, the application and disposal of such rents and profits, and the execution of documents as the owner himself has, or such of those powers as the Court thinks fit.
(2) Nothing in this rule shall authorise the Court to remove from the possession or custody of property any person whom any party to the suit has not a present right so to remove.

2. Remuneration of Receiver:
The Court may by general or special order fix the amount to be paid as remuneration for the services of the receiver.
৭,৫৫৩.
দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারার বিধান অনুযায়ী, যদি কেউ অন্যকে তার ব্যক্তিগত, মর্যাদার বা সম্পত্তির ক্ষতি বা ক্ষতি হতে পারে এমন হুমকি দেয়, তাহলে সে কী অপরাধে দোষী হবে?
  1. ডাকাতি
  2. অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন
  3. বলপূর্বক গ্রহণ
  4. দস্যুতা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারার বিধান অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করা:- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তিকে তার দেহের, খ্যাতির বা সম্পত্তির অথবা সে ব্যক্তি যার সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন কোন লোকের দেহের বা খ্যাতির ক্ষতি বা হানি করার ভীতি প্রদর্শন করে এবং সে ব্যক্তির ভয় সরকারের উদ্দেশ্যে অথবা সে ব্যক্তিকে হুমকি হতে বাঁচার জন্য সে আইনতঃ যা করতে বাধ্য নয়, তাকে তা করতে বাধ্য করায়, অথবা সে আইনত যা করার ক্ষমতা সম্পন্ন, তাকে তা করা হতে বিরত থাকতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ ভীতি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করেছে।
ব্যাখ্যা:- ভীতি প্রদর্শিত ব্যক্তির স্বার্থ নিহিত আছে এমন কোন মৃত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার ভীতি প্রদর্শন এই ধারার আওতাধীন হবে। 

⇒ উদাহরণ:
ক খ-কে একটি দেওয়ানী মামলা পরিচালনা করা হতে বিরত করার জন্য খ-এর বাড়ি পুড়ে ফেলার ভীতি প্রদর্শন করে, ক অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দায়ে অপরাধী হবে।
------------
⇒ The Penal Code,1860- Section 503. Criminal Intimidation:
- Whoever threatens another with any injury to his person, reputation or property, or to the person or reputation of any one in whom that person is interested, with intent to cause alarm to that person, or to cause that person to do any act which he is not legally bound to do, or to omit to do any act which that person is legally entitled to do, as the means of avoiding the execution of such threat, commits criminal intimidation.
Explanation:- A threat to injure the reputation of any deceased person in whom the person threatened is interested, is within this sect on.

⇒ Illustration:
A, for the purpose of inducing B to desist from prosecuting a civil suit, threatens to burn B's house. A is guilty of criminal intimidation.
৭,৫৫৪.
জালিয়াতির সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কত ধারায় দেওয়া হয়েছে?
  1. ৪৬২ ধারায়
  2. ৪৬৩ ধারায়
  3. ৪৬৪ ধারায়
  4. ৪৬৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
• ৪৬৩ ধারা অনুযায়ী জালিয়াতির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
• ৪৬৪ ধারায় মিথ্যা দলিল প্রস্তুত করণ,
• ৪৬৬ ধারায় আদালতের নথিপত্র ও সরকারী রেটিষ্টার জালিয়াতি,
• ৪৬৬ ধারায় বিবাহের রেজিষ্ট্রি জালিয়াতি এবং
• ৪৬৭ ধারার মূল্যবান জামানত ও উইল জামানত ও উইল জালিয়াতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
৭,৫৫৫.
একটি দেওয়ানি মামলার যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন হবে কোন আদালতে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. আপিল বিভাগ
  3. জেলা জজ
  4. অতিরিক্ত জেলা জজ
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
- ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।
- দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে।
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে - জেলা জজ আদালতে।
- ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।

- অর্থাৎ দেওয়ানি মামলার যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করতে হবে- জেলা জজ আদালতে।

অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে সরাসরি রিভিশন দায়ের করা যায় না, জেলা জজ আদালতে কোন রিভিশন দায়ের করলে জেলা জজ এটি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে প্রেরণ করেন। 
৭,৫৫৬.
মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার জন্য আদালত কোন মোকদ্দমা মধ্যস্থতার জন্য পাঠাতে পারে বা মধ্যস্থতা করতে পারে?
  1. আরজি দাখিলের সময়
  2. লিখিত জবাব দাখিলের আগে
  3. মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার পর
  4. লিখিত জবাব দাখিলের পর যদি উভয় পক্ষ হাজির হয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৮৯ (ক) ধারায় বলা হয়েছে যে, লিখিত জবাব দাখিলের পর যদি মোকদ্দমার উভয় পক্ষ নিজে / আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয় তাহলে আদালত শুনানী মুলতবী রেখে মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবেন।
⇒ মধ্যস্থতার ১০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ব্যর্থ হইলে আদালত পরবর্তীতে ৭ দিনের মধ্যে সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করিবেন।
⇒ মধ্যস্থতার সময় হবে ৬০ দিন তবে সর্বাধিক ৯০ দিনের বেশি নয়।

⇒ মধ্যস্থতার সংজ্ঞা (Definition of Mediation)- দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ ধারার ১নং ব্যাখ্যায় মধ্যস্থতার সংজ্ঞা রয়েছে। ৮৯ ধারার ১নং ব্যাখ্যায় মধ্যস্থতা বলতে প্রসারিত অনানুষ্ঠানিক, অবাধ্যতামূলক, গোপনীয়, অপ্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং সমঝোতামূলক বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতিকে বোঝায়, যার মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী মীমাংসার কোন শর্তে নির্দেশ না করে কিংবা তৎসম্পর্কে কোন আদেশ না দিয়ে পক্ষগণের মধ্যকার বিরোধগুলো নিষ্পত্তির সুযোগ করে দেন।
⇒ কখন মধ্যস্থতার কার্যক্রম শুরু হয়- লিখিত জবাব দাখিলের পর আদালত শুনানী মুলতবি রেখে মোকদ্দমার বিরোধটি আদালত নিজে মধ্যস্থতা করতে পারে বা উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একজন মধ্যস্থতাকারীর নিকট পাঠাতে পারে। সুতরাং লিখিত জবাব দাখিলের পরই মধ্যস্থতার কার্যক্রম শুরু হয়।
⇒ বর্তমানে মধ্যস্থতার (Mediation) জন্য মামলার বিরোধীয় বিষয়টি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে পাঠানো আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
⇒ বিচারক নিজেই অথবা পক্ষগণ বা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী (mediator) মধ্যস্থতা করতে পারে।
৭,৫৫৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এ নিম্নোক্ত কোন শব্দটির প্রয়োগ নেই?
  1. Inquiry
  2. Investigation
  3. Re-investigation
  4. Further investigation
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৮ ধারায় নিয়োগকৃত পুলিশের উপরস্থ কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ মুলতুবি রেখে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১৭৩ (২) ধারায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে [may order further investigation] ১৭৩ (১) ধারার অধীন পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পরও পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারার অধীন অধিকতর তদন্ত করতে পারে (do further investigation)

• অধিকতর তদন্ত করে মৌখিক বা দালিলিক অধিকতর সাক্ষ্য পেলে, পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারায় অধিকতর রিপোর্ট বা সম্পূরক চার্জ শীট [supplementary charge sheet) দাখিল করতে পারে।
- ১৭৩ ধারার অধীন পুন:তদন্তের (re-investigation) কোন বিধান নেই। অর্থাৎ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর মাঝে Re-investigation শব্দটির প্রয়োগ নেই।

• তথ্য প্রদানকারীর বা থানার ভারপ্রাপ্ত উদ্ধতন কর্মকর্তার আবেদনক্রমে বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজ উদ্যোগে অধিকর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু আসামীর আবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে না।

• ১৭৩ ধারার অধীন তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার পর ম্যাজিস্ট্রেট চার্জশীটভুক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিতে পারে এবং যে সকল অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, তাদের অব্যাহতি দিতে পারে। যাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেট একবার অব্যাহতি দিলো তাদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারে না। বরং ম্যাজিস্ট্রেট ১৯০ ধারায় অপরাধ আমলে নিতে পারে।
৭,৫৫৮.
ফৌজদারি কার্যবিধিতে "গ্রেপ্তার স্মারক" (Memorandum of Arrest) ফর্মটি কোন SCHEDULE-এ যুক্ত করা হয়েছে?
  1. SCHEDULE-I
  2. SCHEDULE-II
  3. SCHEDULE -IV
  4. SCHEDULE-V
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮,(Act No. V of 1898)-এর SCHEDULE V-এ নতুন Form IA, যা "গ্রেপ্তার স্মারক" (Memorandum of Arrest) নামে পরিচিত, ধারা ৪৬ক (Section 46A)-এর অধীনে উল্লেখিত হয়েছে। এই ফর্মটি গ্রেপ্তারের সময় এবং স্থানে প্রস্তুত করতে হয় এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির সাথে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতে পাঠাতে হয়। ফর্মটির উদ্দেশ্য হলো গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য (যেমন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, গ্রেপ্তারের কারণ, শারীরিক অবস্থা, পরিবারকে অবহিত করার তথ্য) রেকর্ড করা, যাতে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮,-এর SCHEDULE V-তে নতুন Form IA সন্নিবেশিত হয়েছে যা "MEMORANDUM OF ARREST" নামে পরিচিত এবং এটি ধারা 46A অনুসারে প্রস্তুত করতে হবে। এই ফর্মে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম, পিতার নাম, স্বামীর নাম (যদি থাকে), ঠিকানা ও বয়স
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির NID/পাসপোর্ট/জন্ম নিবন্ধন নম্বর (যদি থাকে)
- গ্রেফতারের স্থান
- গ্রেফতারের তারিখ ও সময়
- গ্রেফতারের কারণ (সম্পর্কিত আইন ও ধারা উল্লেখসহ)
- নিশ্চয়তা প্রদানকারী/অভিযোগকারীর নাম ও ঠিকানা (যদি থাকে)
- মামলা/জিডি নম্বর
- গ্রেফতারের পরিপত্র নম্বর ও তারিখ (যদি প্রযোজ্য হয়)
- গ্রেফতারের সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা
- শরীরে কোন আঘাতের কারণ থাকলে তা উল্লেখ
- উপস্থিত নিবন্ধিত চিকিৎসকের নাম ও শংসাপত্র (যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাহলে এর একটি কপি সংযুক্ত করতে হবে)
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য/আত্মীয়/বন্ধু/প্রতিবেশীকে জানানো হয়েছে কিনা - হ্যাঁ/না
- গ্রেফতারের তথ্য জানানো ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা
- তথ্য প্রাপ্ত ব্যক্তির যোগাযোগ নম্বর
- সেই আদালতের নাম যেখানে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তোলা হবে
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ (যদি অস্বীকার না করে)
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় সম্মানিত ব্যক্তির স্বাক্ষর (যদি না পাওয়া যায় তবে কারণ উল্লেখ করতে হবে)
- গ্রেফতার কর্মকর্তার নাম, পদবী, আইডি নম্বর ও স্বাক্ষরও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নির্দেশনা:
এই মেমো গ্রেফতারের সময় ও স্থানে প্রস্তুত করা হবে এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সাথে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতে পাঠাতে হবে। আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শংসাপত্র ও মুক্তির দলিল সংযুক্ত করতে হবে। মেমো এর একটি কপি মামলার ডায়েরিতে সংরক্ষণ করতে হবে ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য।

৭,৫৫৯.
'দণ্ডবিধি' ১৮৬০ সালের কত নং আইন?
  1. ১ নং আইন
  2. ৫ নং আইন
  3. ৩৫ নং আইন
  4. ৪৫ নং আইন
ব্যাখ্যা
⇒ ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন গঠন করা হয় ১৮৩৪ সালে। প্রথম আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Lord Macaulay)। প্রথম আইন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন G.W. Anderson, F. Millet, এবং J.M. Macleod। ১৮৩৭ সালে এই কমিশন দণ্ডবিধি প্রণয়নের জন্য খসড়া জমা দেয় এবং ৬ অক্টোবর ১৮৬০ সালে বিলটি পাস হয় এবং দণ্ডবিধি ১লা জানুয়ারী ১৮৬২ সালে আইনটি কার্যকর হয়।

⇒ এই আইন সামান্য কিছু পরিবর্তন সাপেক্ষে বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে প্রচলিত আছে।
⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন।
⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০ আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং দণ্ডবিধির মোট ধারা ৫১১ টি (মূল দণ্ডবিধিতে ৪৮৮টি ধারা ছিল)।
৭,৫৬০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারা কী বিষয়ের উপর আলোকপাত করে?
  1. চুক্তির বৈধতা নির্ধারণ
  2. ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের নিয়ম
  3. চুক্তি বলবৎ করার বিষয়ে আইনসম্মত বাধ্যবাধকতা
  4. চুক্তি বলবৎকরণের আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

⇒ আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি প্রদান করা আইনসম্মত হলেও এটি বাধ্যতামূলক নয়। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২২ অনুযায়ী, চুক্তি বলবৎকরণের মোকদ্দমায় যদি বিবাদী দেখাতে পারে যে, বিবাদির প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে এবং যেক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ বিবাদির প্রতি কষ্ট বা কঠোরতা hardship সৃষ্টি করবে কিন্তু চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীকে এমন ধরনের কোন কঠোরতায় জড়াবে না,
সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং চুক্তি বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) মঞ্জুর করতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ - ধারা ২২: চুক্তি বলবৎকরণের বিষয়ে আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা: 
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি প্রদানের ক্ষমতা বিচারিক বিবেচনার উপর নির্ভরশীল, এবং কেবলমাত্র এটি আইনগতভাবে করা সম্ভব বলেই আদালত বাধ্যতামূলকভাবে এ ধরনের ডিক্রি প্রদান করবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আদালতের এই বিবেচনা স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না; এটি অবশ্যই যথাযথ ও যুক্তিসঙ্গত হতে হবে, যা বিচারিক নীতিমালা দ্বারা পরিচালিত এবং আপিল আদালত কর্তৃক সংশোধনযোগ্য হতে পারে।
নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি না দেওয়ার জন্য তার বিবেচনাধিকার প্রয়োগ করতে পারে—
১. যখন চুক্তির প্রেক্ষাপট এমন যে, তাতে বাদী প্রতিপক্ষের তুলনায় অন্যায্য সুবিধা লাভ করে, যদিও বাদীর পক্ষে কোনো প্রতারণা বা মিথ্যা উপস্থাপন নেই।
২. যখন চুক্তি কার্যকর করলে বিবাদীর জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত কষ্ট বা অসুবিধার সৃষ্টি হয়, যা পূর্বানুমান করা সম্ভব হয়নি, তবে চুক্তি কার্যকর না করলে বাদীর জন্য তেমন কোনো অসুবিধা সৃষ্টি হবে না।
৩. যখন বাদী চুক্তি কার্যকর করার উপযোগী উল্লেখযোগ্য কার্য সম্পাদন করেছে বা এর ফলে কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
---------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-22: Discretion as to decreeing specific performance:
-The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal.
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:-
I. Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.
II. Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.
III. Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.

৭,৫৬১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৪(৪) অনুসারে, ৩৬৪ ধারার বিধান কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. ধারা ১৬৪ এর ক্ষেত্রে
  2. ধারা ২৬৩ এর ক্ষেত্রে
  3. ধারা ৩৬২ এর ক্ষেত্রে
  4. ধারা ৩৬৮ এর ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৪(৪)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "এই ধারার কোন বিধান ধারা-২৬৩ অনুসারে অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে মর্মে পরিগণিত করা যাবে না।"
- অর্থাৎ ধারা ৩৬৪-এর সম্পূর্ণ পদ্ধতি (জবানবন্দি পূর্ণাঙ্গভাবে লিপিবদ্ধকরণ, স্বাক্ষর করানো, সার্টিফিকেট প্রদান ইত্যাদি)  ধারা ২৬৩ (Summary trial-এ অভিযুক্তের পরীক্ষা)-র অধীন নেওয়া জবানবন্দির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৪ অভিযুক্তের জবানবন্দি যেভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে:-
(১) যেক্ষেত্রে কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা হাইকোর্ট ডিভিশন ব্যতীত, অন্য কোন আদালত, কোন অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে তাকে জিজ্ঞাসিত প্রত্যেকটি প্রশ্ন ও তাঁর প্রদত্ত প্রত্যেকটি জবাবসহ সমগ্র , যে ভাষায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সে ভাষায় বা তা সম্ভব না হলে আদালতের ভাষায় কিংবা ইংরেজি ভাষায় পূর্ণাঙ্গরূপে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং উক্ত নথি তাকে দেখাতে হবে বা পড়ে শুনাতে হবে অথবা যে ভাষায় তা লেখা হয়েছে ঐ সে বুঝতে না পারলে যে ভাষায় সে বুঝে ঐ ভাষায় তা তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে এবং সে তার জবাব ব্যাখ্যা করতে বা তাতে জবাবে নতুন কিছু যোগ করতে পারবে।
(২) সে যখন সমগ্র জবানবন্দি সত্য হিসাবে স্বীকার করে, তখন অভিযুক্ত এবং উক্ত আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ তাতে স্বাক্ষর করবেন এবং উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ স্বহস্তে সার্টিফাই করবেন যে, জবানবন্দি তাঁর উপস্থিতিতে ও শ্রবণের মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং নথিতে অভিযুক্তের বিবৃতির একটি পূর্ণাঙ্গ ও সত্য বিবরণ রয়েছে।
(৩) ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ স্বয়ং অভিযুক্তের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ না করলে জবানবন্দি চলার সময় তিনি আদালতের ভাষায় বা ইংরেজির সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে পরিচিত হলে ইংরেজি ভাষায় তার একটি স্মারক তৈরি করতে থাকবেন এবং এরূপ স্মারক ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ কর্তৃক স্বহস্তে লিখিত ও স্বাক্ষরিত হবে এবং নথির সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট বা জর্জ যদি উক্ত স্মারক তৈরি করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর এরূপ অসামর্থ্যের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।
(৪) এই ধারার কোন বিধান ধারা-২৬৩ অনুসারে অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে মর্মে পরিগণিত করা যাবে না।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 364. Examination of accused how recorded:
(1) Whenever the accused is examined by any Magistrate, or by any Court other than High Court Division the whole of such examination, including every question put to him and every answer given by him, shall be recorded in full, in the language in which he is examined, or, if that is not practicable, in the language of the Court or in English: and such record shall be shown or read to him, or, if he does not understand the language in which it is written, shall be interpreted to him in a language which he understands, and he shall be at liberty to explain or add to his answers.
(2) When the whole is made conformable to what he declares is the truth, the record shall be signed by the accused and the Magistrate or Judge of such Court, and such Magistrate or Judge shall certify under his own hand that the examination was taken in his presence and hearing and that the record contains a full and true account of the statement made by the accused.
(3) In cases in which the examination of the accused is not recorded by the Magistrate or Judge himself, he shall be bound, as the examination proceeds, to make a memorandum thereof in the language of the Court, or in English, if he is sufficiently acquainted with the latter language; and such memorandum shall be written and signed by the Magistrate or Judge with his own hand, and shall be annexed to the record. If the Magistrate or Judge is unable to make a memorandum as above required, he shall record the reason of such inability.
(4) Nothing in this section shall be deemed to apply to the examination of an accused person under section 263.

৭,৫৬২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০ ধারা অনুসারে, ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে অভিযোগ মিথ্যা বা উৎপীড়নমূলক, তাহলে তিনি কত টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আদেশ করতে পারেন?
  1. সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা
  2. সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা
  3. সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা
  4. সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০ ধারার বিধান মিথ্যা, তুচ্ছ বা বিরক্তিকর অভিযোগ - 
(১) যদি কোনো মামলা অভিযোগের উপর ভিত্তি করে অথবা পুলিশ কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হয় এবং ওই মামলা একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বিচারাধীন থাকে, এবং ম্যাজিস্ট্রেট যদি মামলাটি শুনে আসামিদের মধ্যে এক বা একাধিককে খালাস বা মুক্তি দেন, এবং ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা বিরক্তিকর ছিল, তবে ম্যাজিস্ট্রেট তার খালাস বা মুক্তির আদেশে, যদি অভিযোগকারী বা তথ্যদাতা আদালতে উপস্থিত থাকে, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর জন্য বলবেন কেন তিনি এমন অভিযোগে ক্ষতিপূরণ প্রদান করবেন না। এবং যদি অভিযোগকারী বা তথ্যদাতা উপস্থিত না থাকে, তবে তাকে হাজির হতে এবং কারণ দর্শানোর summon জারি করার নির্দেশ দিতে পারেন।
(২) ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারী বা তথ্যদাতার প্রদত্ত কারণ রেকর্ড করে এবং যদি তিনি সন্তুষ্ট হন যে অভিযোগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা বিরক্তিকর ছিল, তবে তিনি রেকর্ডকৃত কারণের ভিত্তিতে এমন ক্ষতিপূরণ আদায় করার নির্দেশ দিতে পারেন, যার পরিমাণ ১,০০০ টাকা (যদি ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় শ্রেণির বা তৃতীয় শ্রেণির হন, তবে ৫০০ টাকা) পর্যন্ত হতে পারে এবং সেই ক্ষতিপূরণ আসামি বা তাদের মধ্যে এক বা একাধিককে প্রদান করতে হতে পারে।
(২ক) ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষতিপূরণের আদেশ দেওয়ার পর, যদি অভিযোগকারী ক্ষতিপূরণ প্রদান না করেন, তবে তিনি আরও আদেশ দিতে পারেন যে, ক্ষতিপূরণ প্রদান না করা পর্যন্ত ওই ব্যক্তি এক মাসের বেশি না হওয়া পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাবাস ভোগ করবেন।
(২খ) যখন কোনো ব্যক্তি ২(এ) উপধারার অধীনে কারাবাসে যাবেন, তখন দণ্ডবিধির ৬৮ ও ৬৯ ধারা অনুযায়ী সেই ব্যক্তির ওপর প্রযোজ্য শর্তাবলী অনুসৃত হবে।
(২গ) যিনি এই ধারার অধীনে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য নির্দেশিত হয়েছেন, তিনি এই আদেশের কারণে তার করা অভিযোগ বা প্রদত্ত তথ্যের জন্য কোনো সিভিল বা ফৌজদারি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন না। তবে, যদি এই পরিমাণ কোনো আসামিকে প্রদান করা হয়, তা পরবর্তী সিভিল মামলায় ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে গণনা করা হবে।
(৩) যে অভিযোগকারী বা তথ্যদাতা ২(২) উপধারার অধীনে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশিত হয়েছেন, এবং যদি ক্ষতিপূরণ ১০০ টাকা বা তার বেশি হয়, তবে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন, যেমন যদি তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(৪) যদি এমন কোনো আদেশ থাকে যা আপিলযোগ্য, তবে ক্ষতিপূরণ তখন প্রদান করা হবে না, যতক্ষণ না আপিলের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ না হয়, অথবা যদি আপিল হয়, ততক্ষণ না আপিল নিষ্পত্তি হয়। এবং যদি আপিলযোগ্য না হয়, তবে ওই আদেশের এক মাস পরে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
(৫) এই ধারায় যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, তা সত্ত্বেও ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষতিপূরণ আদায়ের আদেশের সাথে অতিরিক্তভাবে নির্দেশ দিতে পারেন যে, ক্ষতিপূরণ প্রদানে ব্যর্থ ব্যক্তি ছয় মাসের কারাবাসে দণ্ডিত হবেন অথবা তিন হাজার টাকা জরিমানা করবেন।
-------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-250 False, frivolous or vexatious accusations:
(1) If in any case instituted upon complaint or upon information given to a police-officer or to a Magistrate, one or more persons is or are accused before a Magistrate or any offence triable by a Magistrate, and the Magistrate by whom the case is heard discharges or acquits all or any of the accused, and is or opinion that the accusation against them or any of them was false and either frivolous or vexatious, the Magistrate may, by his order of discharge or acquittal, if the person upon whose complaint or information the accusation was made is present, call upon him forthwith to show cause why he should not pay compensation to such accused or to each or any of such accused when there are more than one, or, if such person is not present direct the issue of a summons to him to appear and show cause as aforesaid. 
(2) The Magistrate shall record and consider any cause which such complainant or information may show and if he is satisfied that the accusation was false and either frivolous or vexatious may, for reasons to be recorded, direct that compensation to such amount not exceeding one thousand Taka or, if the Magistrate is a Magistrate of the third Class, not exceeding five hundred Taka, as he may determine be paid by such complainant or informant to the accused or to each or any of them. 
(2A) The Magistrate may, by the order directing payment of the compensation under sub-section (2), further order that, in default of payment, the person ordered to pay such compensation shall suffer simple imprisonment for a period not exceeding thirty days. 
(2B) When any person is imprisoned under sub-section (2A), the provisions of sections 68 and 69 of the Penal Code shall, so far as may be, apply. 
(2C) No person who has been directed to pay compensation under this section shall, by reason of such order, be exempted from any civil or criminal liability in respect of the complaint made or information given by him: 
Provided that any amount paid to an accused person under this section shall be taken into account in awarding compensation to such person in any subsequent civil suit relating to the same matter. 
(3) A complainant or informant who has been ordered under sub-section (2) by a Magistrate of the second or third class to pay compensation or has been so ordered by any other Magistrate to pay compensation exceeding one hundred taka may appeal from the order, in so far as the order relates to the payment of the compensation, as if such complainant or informant had been convicted on a trial held by such Magistrate. 
(4) When an order for payment of compensation to an accused person is made in a case which is subject to appeal under sub-section (3), the compensation shall not be paid to him before the period allowed for the presentation of the appeal has elapsed, or, if any appeal is presented, before the appeal has been decided and, where such order is made in a case which is not so subject to appeal, the compensation shall not be paid before the expiration of one month from the date of the order. 
(5) Notwithstanding anything contained in this section, the Magistrate may, in addition to the order directing payment of the compensation under sub-section (2), further order that the person ordered to pay such compensation shall also suffer imprisonment for a period not exceeding six months or pay a fine not exceeding three thousand Taka.]

৭,৫৬৩.
সরকারি চাকরি হতে নৈতিক স্খলনের দায়ে বরখাস্তকৃত একজন ব্যক্তি কত দিন অতিবাহিত না হলে অ্যাডভোকেট হওয়ার জন্য অযোগ্য হবেন?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুচ্ছেদ ২৭ (৩) অনুযায়ী অ্যাডভোকেট হওয়ার অযোগ্যতার কথা উল্লেখ আছে।
⇒The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972এর ২৭ (৩) অনুচ্ছে অনুযায়ী কোন ব্যক্তি সরকারি চাকরি হতে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে অপসারিত হলে এবং ২ বছর অতিক্রম না হলে।
-নৈতিক অবক্ষয় জনিত কোন অপরাধে দণ্ডিত হলে ৫ বছর অতিক্রম না হলে অ্যাডভোকেট হওয়ার যোগ্য হবেনা।
-------------------------------------------
- The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972: Article-27.(3) A person shall be disqualified from being admitted as an advocate if-
(a) he was dismissed from service of Government or of a public statutory corporation on a charge involving moral turpitude, unless a period to two years has elapsed since his dismissal; or
(b) he has been convicted for an offence involving moral turpitude, unless a period of five years or such less period as the Government may, by notification in the official Gazette, specify in this behalf, had elapsed from the date of the expiration of the sentence.
৭,৫৬৪.
When the person summoned cannot be found despite due diligence, the summons can be served on:
  1. Any neighbor
  2. Any member of the family
  3. Adult member of the family
  4. Adult male member of the family
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০ ধারার বিধান খুঁজে পাওয়া যায় না এমন ব্যক্তির কাছে সমন জারির পদ্ধতি:-
-যার উপর সমন জারী করা হবে, সঠিক পদ্ধতিতে চেষ্টা করেও যেক্ষেত্রে তাকে খুঁজে পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রে সমনের দুই কপির মধ্যে একটি তার পরিবারের একজন সাবালক পুরুষ সদস্য বরাবর দিয়া সমন জারী করতে হবে এবং জারীকারী অফিসার দাবী করলে, যার নিকট সমন জারী করা হল, তিনি সমনের দুটি নকলের অপর পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর করে প্রাপ্তি স্বীকার করবেন।
------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 70: Service when person summoned cannot be found:
-Where the person summoned cannot by the exercise of due diligence be found, the summons may be served by leaving one of the duplicates for him with some adult male member of his family, and the person with whom the summons is so left shall, if so required by the serving officer, sign a receipt therefore on the back of the other duplicate.
৭,৫৬৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫ অনুযায়ী কোন পুলিশ অফিসারকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া যাবে না?
  1. যিনি তদন্তে অংশ নেননি
  2. যিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত
  3. যিনি অপরাধের তদন্তে অংশ নিয়েছেন
  4. যিনি ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে কাজ করেন
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫(৪) অনুযায়ী বলা হয়েছে: “An officer of police shall not be permitted to conduct the prosecution if he has taken any part in the investigation into the offence with respect to which the accused is being prosecuted.”
 অর্থাৎ, যদি কোনো পুলিশ অফিসার অপরাধের তদন্তে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে তাকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া যাবে না।
- এটি পক্ষপাতমূলক পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য এবং নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া বজায় রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
- তাই সঠিক উত্তর: গ) যিনি অপরাধের তদন্তে অংশ নিয়েছেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫- সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনার অনুমতি:
(১) কোন মামলার ইনকোয়ারি বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক এতদ্‌বিষয় নির্ধারিত পদের নিম্নপদস্থ কোন পুলিশ অফিসার ব্যতীত অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করতে পারবেন, কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি সলিসিটর, পাবলিক প্রসিকিউটর অথবা সরকার কর্তৃক এই বিষয়ে সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন অফিসার ব্যতীত কোন ব্যক্তি উক্ত অনুমতি ব্যতিরেকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অধিকারী হবে না।
(২) মামলা প্রত্যাহারের ব্যাপারে এরূপ অফিসারের ধারা-৪৯৪ এ উল্লিখিত ক্ষমতা থাকবে এবং তাঁর প্রত্যাহৃত মামলার ক্ষেত্রে উক্ত ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।
(৩) বাদীপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী কোন ব্যক্তিতা ব্যক্তিগতভাবে বা কোন অ্যাডভোকেট কর্তৃক এরূপ করতে পারবেন।
(৪) যে অপরাধের জন্য আসামীর বিচার চলছে সেই অপরাধের কোন তদন্তে অংশ গ্রহণ করে থাকলে কোন পুলিশ অফিসারকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 495- Permission to conduct prosecution:
(1) Any Magistrate inquiring into or trying any case may permit the prosecution to be conducted by any person other than an officer of police below the rank to be prescribed by the Government in this behalf but no person, other than the Attorney-General, Government Solicitor, Public Prosecutor or other officer generally or specially empowered by the Government in this behalf, shall be entitled to do so without such permission.
(2) Any such officer shall have the like power of withdrawing the prosecution as is provided by section 494, and the provisions of that section shall apply to any withdrawal by such officer.
(3) Any person conducting the prosecution may do so personally or by a pleader.
(4) An officer of police shall not be permitted to conduct the prosecution if he has taken any part in the investigation into the offence with respect to which the accused is being prosecuted.

৭,৫৬৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারার বিধান কী?
  1. When rescission may be adjudged
  2. Presumption as to intent of parties
  3. When instrument may be rectified
  4. Principles of rectification
ব্যাখ্যা
The Specific Relief Act, 1877 Section:-32. Presumption as to intent of parties:
-For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.
----------------------------------
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারার বিধান: পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
-লিখিত চুক্তি সংশোধন করবার উদ্দেশ্যে আদালত অবশ্যই নিশ্চিত হবেন যে, চুক্তির সকল পক্ষের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষম ও সুবিচারমূলক চুক্তি সম্পাদন করা। 
৭,৫৬৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির ২০ আদেশের ১৪ বিধির অধীন কোন ধরনের মোকদ্দমার ডিক্রির বিধান উল্লেখ রয়েছে?
  1. সম্পত্তি বাটোয়ারা সংক্রান্ত
  2. অগ্রক্রয় সংক্রান্ত
  3. দখল এবং অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা সংক্রান্ত
  4. প্রশাসনিক মোকদ্দমা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ২০ আদেশের ১৪ বিধি: অগ্রক্রয় সংক্রান্ত মোকদ্দমার ডিক্রি:
অগ্রক্রয় মোকদ্দমার সম্পত্তি বিক্রয় এর বিরুদ্ধে আদালত ডিক্রি প্রদান করলে, যদি উক্ত সম্পত্তির মূল্য আদালতে জমা দেয়া না হয় তাহলে আদালত টাকা জমা দেয়ার দিন অথবা সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। ডিক্রিতে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে বাদী যদি সম্পত্তির মূল্য এবং খরচের টাকা জমা দেয় তাহলে টাকা জমা দেয়ার তারিখ থেকে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে। ডিক্রিতে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে বাদী যদি সম্পত্তির মূল্য এবং খরচের টাকা জমা না দেয় বা ব্যর্থ হয় তাহলে আদালত উক্ত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দিতে পারেন।
আদালত যদি দুই বা ততোধিক দাবীদারের পক্ষে ডিক্রি প্রদান করেন তাহলে প্রত্যেক দাবিদারকে আনুপাতিক হারে সম্পত্তির মূল্য এবং খরচের টাকা জমা দিতে হবে। সকল দাবীদারের পক্ষে ডিক্রি প্রদান না করে আদালত বিশেষ দাবীদারের পক্ষে ডিক্রি প্রদান করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তির মূল্য এবং খরচের টাকা জমা দিতে সক্ষম হলে অন্যান্য দাবিদারের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না।
৭,৫৬৮.
সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে কোনটি প্রমাণিত হতে পারে?
  1. মৌখিক সাক্ষ্য
  2. ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী
  3. মূল দলিলের প্রতিলিপি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) মূল দলিলের প্রতিলিপি।

সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুযায়ী, মাধ্যমিক সাক্ষ্য বলতে মূল দলিলের প্রতিলিপি, ফটোগ্রাফ, অথবা অন্য কোনো বিকল্প উপায়ে প্রস্তুত করা যে কোনও প্রমাণ বোঝানো হয় যা মূল দলিলের উপস্থিতি ছাড়াই প্রমাণিত হতে পারে।
তবে মৌখিক সাক্ষ্য এবং ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী মূলত প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence) হিসেবে গণ্য হয়, তাই এগুলি ৬৩ ধারার অধীনে মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারায় মাধ্যমিক সাক্ষ্যের বিধান রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুসারে মূল দলিল আদালতে হাজির না করে মূল দলিলের প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করাকে মাধ্যমিক সাক্ষ্য বা Secondary Evidence বলে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারার বিধান মাধ্যমিক সাক্ষ্য- মাধ্যমিক সাক্ষ্য অর্থ এবং তাহার অন্তর্ভুক্ত হয়:
(১) বর্ণিত বিধানবলি অনুসারে প্রদত্ত জাবেদা নকল;
(২) মূল দলিল হইতে এরূপ যান্ত্রিক উপায়ে প্ৰস্তুত নকল, যাহাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এরূপ নকলের সহিত মিলাইয়া লওয়া অন্য নকল;
(৩) মূল দলিল হইতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সহিত মিলাইয়া লওয়া নকল;
(৪) কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তাহার বিরুদ্ধে উহা ব্যবহারের ক্ষেত্রে;
(৫) যে ব্যক্তি নিজের কোন দলিল দেখিয়াছে, তাহার দেওয়া উক্ত দলিলের বিষয় বস্তু সম্পর্কে মৌখিক বিবরণ।

উদাহরণ:
(ক) একটি মূল দলিলের সহিত উহার ফটোগ্রাফ মিলাইয়া দেখা না হইয়া থাকলেও যদি প্রমাণ করা হয় যে, ফটোগ্রাফটি যে দলিলের ফটোগ্রাফ, তাহাই মূল দলিল; তবে উক্ত ফটোগ্রাফ উক্ত মূল দলিলের মাধ্যমিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।
---------
The Evidence Act, 1872: Section- 63. Secondary evidence:
Secondary evidence means and includes-
(1) certified copies given under the provisions hereinafter contained;
(2) copies made from the original by mechanical processes which in themselves insure the accuracy of the copy, and copies compared with such copies;
(3) copies made from or compared with the original;
(4) counterparts of documents as against the parties who did not execute them;
(5) oral accounts of the contents of a document given by some person who has himself seen it.

Illustrations:
(a) A photograph of an original is secondary evidence of its contents, though the two have not been compared, if it is proved that the thing photographed was the original.
৭,৫৬৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১২ নং আদেশ অনুযায়ী স্বীকৃতি (Admission) হতে পারে-
  1. মৌখিক ভাবে
  2. আরজি বা লিখিত জবাবের মাধ্যমে
  3. লিখিত অন্য কোনো উপায়ে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১২ নং আদেশে স্বীকৃতি (Admission) বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মোকদ্দমার কোন পক্ষ, অপর পক্ষের দাবির সত্যতা সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে স্বীকার করলে তা আদালতকে ৩ ভাবে জানানো যেতে পারে অর্থাৎ ৩ ভাবে স্বীকৃতি (Admission) হতে পারে। যথা-

i) আরজি বা লিখিত জবাবের মাধ্যমে লিখিত স্বীকৃতি দিয়ে;
ii) সম্মতি দ্বারা স্বীকৃতির মাধ্যমে; এবং
iii) নোটিশ দ্বারা স্বীকৃতি দিয়ে।

আদেশ ১২ বিধি ১ঃ মোকদ্দমার স্বীকারের নোটিশ-
মোকদ্দমার যেকোন পক্ষ তার আরজি বা জবাবের মাধ্যমে কিংবা লিখিত অন্য উপায়ে, অন্য কোন পক্ষের মোকদ্দমার সামগ্রিক বা আংশিকভাবে স্বীকার করে বলে নোটিশ প্রদান করতে পারে।
৭,৫৭০.
দণ্ডবিধির ২০১ ধারা অনুযায়ী, যদি মূল অপরাধটি দশ বছরের কম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে অপরাধের সাক্ষ্য অদৃশ্যকারী বা ধ্বংসকারী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড
  3. মূল অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির অর্ধেক
  4. মূল অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২০১ এর তৃতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি মূল অপরাধ দশ বছরের কম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সাক্ষ্য অদৃশ্যকারী বা ধ্বংসকারী ব্যক্তি মূল অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ২০১ ধারার বিধান অপরাধকারীকে গোপন করিবার জন্য অপরাধের সাক্ষ্য অদৃশ্য করিয়া দেওয়া বা মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করা:
- কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধীকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে, কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও অথবা অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, সে অপরাধটি সংঘটনের কোন সাক্ষ্য বা প্রমাণ বিলুপ্ত করে বা করায়, অথবা সে উদ্দেশ্য নিয়ে সে অপরাধটি সম্পর্কে কোন খবর দেয়, যা সে মিথ্যা বলে জানে অথবা যা মিথ্যা বলে তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তখন-
-যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if a capital offence):-
যদি, যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সে জানে বা যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস সে অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;
যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if punishable with imrisonment for life):-
এবং যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;
যদি দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if punishable with less thatn ten year’s imprisonment):-
এবং যদি অপরাধটি দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য যে ধরনের কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সে ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অপরাধটির জন্য দীর্ঘতম যে মেয়াদের কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে, তার কারাদণ্ডের মেয়াদ উহার এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোনো দৈর্ঘ্যের হবে, অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
উদাহরণ:
'খ', 'চ'-কে খুন করেছে জানা সত্ত্বেও 'ক', 'খ'-কে সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে 'খ'-কে 'চ' এর মৃতদেহটি লুকিয়ে ফেলিতে সহায়তা করে। 'ক' সাত বৎসর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং এতদ্‌ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 201. Causing disappearance of evidence of offence, or giving false information to screen offender- if a capital offence; if punishable with imprisonment for life; if punishable with less than ten years’ imprisonment:
Whoever, knowing or having reason to believe that an offence has been committed, causes any evidence of the commission of that offence to disappear, with the intention of screening the offender from legal punishment, or with that intention gives any information respecting the offence which he knows or believes to be false,
shall, if the offence which he knows or believes to have been committed is punishable with death, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
and if the offence is punishable with [imprisonment for life], or with imprisonment which may extend to ten years, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine;
and if the offence is punishable with imprisonment for any term not extending to ten years, shall be punished with imprisonment of the description provided for the offence, for a term which may extend to one-fourth part of the longest term of the imprisonment provided for the offence, or with fine, or with both.

Illustration:
A, knowing that B has murdered Z, assists B to hide the body with the intention of screening B from punishment. A is liable to imprisonment of either description for seven years, and also to fine.

৭,৫৭১.
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচার বিধি, ১৯৬৯ অনুযায়ী, কোনটি পেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে হবে?
  1. পেশাদারির মর্যাদা রক্ষা করা
  2. পেশাগত বিজ্ঞাপন দেওয়া
  3. ডিরেক্টরিতে নাম তালিকাভুক্ত করা
  4. পেশাগত যোগ্যতা বা সরকারি পদসমূহের তালিকা প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: (খ) পেশাগত বিজ্ঞাপন দেওয়া।
⇒ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচার বিধি, ১৯৬৯-এর প্রথম অধ্যায়ের ২ নম্বর বিধি অনুযায়ী, কোনো আইনজীবী পেশাগত বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো উপায়ে মামলা পাওয়ার জন্য প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এটি আইন পেশার মর্যাদা ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

তবে, এই বিধিতে ব্যতিক্রমও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আইনজীবীরা সাধারণ পেশাগত কার্ড, নামপ্লেট বা ডিরেক্টরির তালিকায় নিজের নাম, পেশাগত ও একাডেমিক যোগ্যতা, এবং সরকারি পদবির তথ্য সংযোজন করতে পারবেন, যতক্ষণ না তা ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনের পর্যায়ে পড়ে।

অতএব, "ডিরেক্টরিতে নাম তালিকাভুক্ত করা" ও "পেশাগত যোগ্যতা বা সরকারি পদসমূহের তালিকা প্রকাশ করা" অনুমোদিত হলেও, "পেশাগত বিজ্ঞাপন দেওয়া" সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৭,৫৭২.
রেজিনা একটি গাড়ির দখলে আছেন। সাহেল বলছেন যে, রেজিনা গাড়ির মালিক নন। ১১০ ধারার অধীনে, এই দাবির প্রমাণের দায়িত্ব কার?
  1. রেজিনার
  2. সাহেলের
  3. আদালতের
  4. সাক্ষীর
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১১০ ধারার বিধান: মালিকানা প্রমানের দায়িত্ব:
যে ব্যক্তির কর্তৃত্বাধীনে কিছু আছে বলে দেখানো হয়, সে ব্যক্তি ঐটার মালিক কিনা এই প্রশ্ন উত্থিত হলে যে ব্যক্তি দাবি করে যে, দখলকারী ব্যক্তি সে জিনিসের মালিক নয়, তবে এটা প্রমাণের দায়িত্ব সে ব্যক্তির উপরই ন্যস্ত হয়।

Section-110. Burden of proof as to ownership:
When the question is whether any person is owner of anything of which he is shown to be in possession, the burden of proving that he is not the owner is on the person who affirms that he is not the owner.
৭,৫৭৩.
দেওয়ানি আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়নে কোন ধরনের দলিলের বিষয়বস্তু বিবেচনা করতে পারে?
  1. আদালতের নিজস্ব দলিল
  2. শুধুমাত্র বাদীর দাখিলকৃত দলিল
  3. শুধুমাত্র বিবাদীর দাখিলকৃত দলিল
  4. উভয় পক্ষের দাখিলকৃত দলিল
ব্যাখ্যা
• কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা আইনগত কোন বিষয় এর স্বীকার করলে এবং অপর পক্ষ অস্বীকার করলে বিচার্য বিষয়ের উদ্ভব হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪ নং আদেশে বিচার্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

• আদেশ ১৪ বিধি ৩ মতে-
আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সকল কিংবা যে কোনটি থেকে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে পারেন [Materials from which issues may be framed]—

ক) পক্ষগণ কর্তৃক কিংবা তাদের পক্ষে উপস্থিত কোন ব্যক্তিগণ কর্তৃক কিংবা উত্তরূপ ব্যক্তিসমূহের উকিলগণ কর্তৃক শপথের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ,
[allegations made on faith by the parties, or by any persons present on their behalf, or made by the pleaders of such parties]

খ) আরজি জবাবে কিংবা মোকদ্দমায় প্রদত্ত প্রশ্নমালার উত্তরে রচিত অভিযোগসমূ্‌হ,
[allegations made in the pleadings or in answers to interrogatories delivered in the suit]

গ) কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল পত্রের বিষয়বস্তু। 
[the contents of documents produced by either party]
৭,৫৭৪.
আদালত বিচার্য বিষয় সংশোধন করতে পারে _______।
  1. রায় ঘোষণার পূর্বে যে কোনো সময়
  2. সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে
  3. যুক্তিতর্ক শুনানীর পূর্বে
  4. ডিক্রি প্রদানের পূর্বে যে কোনো সময়
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪ আদেশের ৫ বিধি অনুসারে- প্রথম শুনানী বা লিখিত জবাব দাখিলের ১৫ দিনের মধ্যে (যেটা আগে হয়) 

বিচার্য বিষয় প্রণয়ন ও লিপিবদ্ধ করতে হয়। যে সকল বিষয় বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করা হয় না সে সকল বিষয়ে আদালতের উচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা। আদালত বিচার্য বিষয় সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারেন ডিক্রী প্রদানের পূর্বে যে কোন সময়। বিচার্য বিষয় নির্ধারনের ১২০ দিনের মধ্যে আদালত মামলার চূড়ান্ত শুনানীর দিন ধার্য করবেন।

♦ অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৪ আদেশের ৫ বিধি মতে আদালাত পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়াবলী নির্ণয়ের জন্য ডিক্রী প্রদানের পূর্বে যে কোন সময় বিচার্য বিষয় সংশোধন বা পরিবর্তন ,কর্তন করতে পারেন বা অতিরিক্ত বিচার্য বিষয়  গঠন করতে পারেন।
৭,৫৭৫.
‘ক’ নিজের মনে করে ‘খ’ এর ঘর হতে তাঁকে না জানিয়ে একটি ঘড়ি নিয়ে গেলো। পেনাল কোডের অধীনে ‘ক’ কী অপরাধ করেছে?
  1. ক চুরির অপরাধ করেছে
  2. ক কোনো অপরাধ করেনি
  3. ক বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ করেছে
  4. ক বিনা অনুমতিতে বস্তু সরানোর অপরাধ করেছে।
ব্যাখ্যা
♦ চুরির অপরাধ সংঘটনের জন্য অসৎ উদ্দেশ্য থাকা লাগে। এখানে ক ঘড়িটি তাঁর নিজের ঘড়ি ভেবে সৎ বিশ্বাসে তা নিয়ে যাওয়ায় তা চুরি হয় নি। এখানে বিশ্বাসভঙ্গের কোনো উপাদানও নাই।
৭,৫৭৬.
আদেশ ৪৭, বিধি ২ অনুসারে, নিম্নের কোনটি 'পুনর্বিবেচনার' জন্য গ্রহণযোগ্য সাধারণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয় না?
  1. বিচারকের ব্যক্তিগত মত
  2. নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান ভ্রান্তি
  3. ক্লারিক্যাল বা গাণিতিক ভুল
  4. নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ উদ্ভাবন
ব্যাখ্যা

⇒ আদেশ ৪৭, বিধি ২ (Order 47, Rule 2, CPC) অনুযায়ী, পুনর্বিবেচনার আবেদন করার জন্য গ্রহণযোগ্য সাধারণ কারণ হলো:
- নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা প্রমাণ উদ্ভাবন (New and important matter or evidence)
- ক্লারিক্যাল বা গাণিতিক ভুল (Clerical or arithmetical mistake)
- নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান ভ্রান্তি (Error apparent on the face of the record)
কিন্তু বিচারকের ব্যক্তিগত মত বা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ নয়।

⇒ আদেশ ৪৭ বিধি ২: যার নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে:
বিধি ১ এ উল্লেখিত রূপ এবং নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা প্রমাণ আবিষ্কারের বা ক্লারিক্যাল সম্পর্কে অথবা গাণিতিক ভুলের সঙ্গত কারণ বা নথিদৃষ্টে প্রতীয়মান কোন ভ্রান্তির অস্তিত্ব ছাড়া অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণের উপর করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ব্যতীত অন্য কোন আদালতের ডিক্রি বা আদেশ পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন করলে পুনর্বিবেচনার জন্য প্রার্থীত ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন, শুধু সে বিচারকের নিকট আবেদন করতে হবে, কিন্তু ডিক্রি বা আদেশটি যে বিচারক প্রদান করেছেন তিনি যদি বিধি-৪ এর উপবিধি-২ এর অন্তর্গত (ক) শর্তাংশ মোতাবেক নোটিশ জারি করে থাকেন, তাহলে অনুরূপ আবেদনপত্র তার স্থলাভিষিক্ত বিচারক দ্বারা সমাধান করা যাবে।
-------
⇒ Order 47 Rule 2: To whom applications for review may be made:
An application for review of a decree or order of a Court, not being a the High Court Division, upon some ground other than the discovery of such new and important matter or evidence as is referred to in rule 1 or the existence of a clerical or arithmetical mistake or error apparent on the face of the decree, shall be made only to the Judge who passed the decree or made the order sought to be reviewed, but any such application may, if the Judge who passed the decree or made the order has ordered notice to issue under rule 4, sub-rule (2), proviso (a), be disposed of by his successor.

৭,৫৭৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১২ক অনুযায়ী, তিন বারের বেশি মুলতবি নেওয়া হলে অপর পক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কত টাকা পরিশোধ করতে হবে?
  1. ন্যূনতম ১০০ টাকা, সর্বাধিক ৫০০ টাকা
  2. ন্যূনতম ২০০ টাকা, সর্বাধিক ১০০০ টাকা
  3. ন্যূনতম ৫০০ টাকা, সর্বাধিক ১০০০ টাকা
  4. ন্যূনতম ১০০০ টাকা, সর্বাধিক ৩০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১, বিধি ১২ক(১) অনুসারে, আপিলের শুনানিতে কোনো পক্ষ যদি তিন বারের বেশি মুলতবি চায়, তাহলে আদালত তাকে ন্যূনতম ২০০ (দুইশ) টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ (এক হাজার) টাকা পর্যন্ত খরচ (cost) অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে। এই খরচ আদালত উপযুক্ত মনে করলে নির্ধারণ করবেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ এর বিধি ১২ক অনুসারে, আপিল শুনানির ক্ষেত্রে আদালত কোনো পক্ষের অনুরোধে সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বার মুলতবি (adjournment) দিতে পারবেন।
- তবে ৩ বারের বেশি মুলতবি দেওয়া হলে, আদালত ন্যূনতম ২০০ টাকা এবং সর্বাধিক ১০০০ টাকা খরচ অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দেবেন।
- যদি আপিলকারী এই খরচ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার আপিল খারিজ হয়ে যাবে।
- আর যদি প্রতিবাদী খরচ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আপিল একতরফাভাবে নিষ্পত্তি হবে।
- একতরফাভাবে আপিল খারিজ বা নিষ্পত্তি হলে, সংশ্লিষ্ট পক্ষ খারিজের তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে পুনরুজ্জীবনের আবেদন করতে পারবে।
- এই আবেদনের সঙ্গে আদালতের নির্ধারিত ন্যূনতম ২০০ টাকা ও সর্বাধিক ১০০০ টাকা খরচ দিতে হবে।
- প্রত্যেক পক্ষ এইরকম পুনরুজ্জীবনের সুযোগ একবারই পাবে।
- তবে আদালত যদি নিজে থেকে আপিল শুনানি মুলতবি করতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে, নইলে মুলতবির আদেশ দেবেন না।
------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-41 Rule-12A .Adjournment in appeal:
(1) The Appellate Court shall not grant more than three adjournments for hearing of an appeal at the instance of either party to the appeal, and any adjournment granted to a party beyond the aforesaid limit shall make such party liable to pay such cost which shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka to the other party as the Court may deem appropriate and determine, non-compliance with which, by the appellant shall render the appeal liable to be dismissed and, by the respondent shall render the appeal liable to be disposed of ex parte.
(2) An appeal dismissed or disposed of ex parte under sub-rule (1) shall not be revived for hearing unless the party, for whose non-compliance the appeal was dismissed or disposed of ex parte, makes, within thirty days of such dismissal or ex parte disposal, an application to the court for such revival; and upon such application being made, the Court shall award such cost as shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka as it may deem appropriate and determine, and the cost being deposited, the appeal shall be revived for hearing without any further proceeding; and the cost deposited in the Court shall be paid by it to the other party:
Provided that no appeal shall be revived more than once at the instance of the same party under this rule.
(3) The Appellate Court shall not, of its own, order any adjournment at the stage of hearing of appeal without recording reasons therefor.

৭,৫৭৮.
ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কোন সাক্ষ্য দেয়ার ক্ষেত্রে নিম্নের কোন শর্ত পূরণ করা আবশ্যক নয়?
  1. আদালতের অনুমতি নেয়া
  2. পক্ষদ্বয়ের অনুমতি নেয়া
  3. প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো
  4. প্রতিবেদন বা মতামতের কপি সকল পক্ষকে সরবরাহ করা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারা- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:

(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না, যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
 
অর্থাৎ শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কোন সাক্ষ্য দিতে-
১. আদালতের অনুমতি গ্রহণ করবে;
২. তার বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন বা মতামতের কপি সকল পক্ষকে সরবরাহ করবে;
৩. আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
 
Section 45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence.-
(1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
৭,৫৭৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৫ মূলত কোন আদালতের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. শ্রম আদালত
  2. ফৌজদারি আদালত
  3. রাজস্ব আদালত
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৫ ধারার বিধান: রাজস্ব আদালতে এই আইনের প্রয়োগ:
১) রাজস্ব আদালতে প্রযোজ্য বিশেষ আইন কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে নীরব থাকার ফলে এই আইনের বিধানসমূহ রাজস্ব আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে সরকার, সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তির দ্বারা ঘোষণা করতে পারে যে, উক্ত বিধানসমূহের যে-সকল অংশ এই আইন দ্বারা সুস্পষ্টরূপে প্রযোজ্য করা হয়নি, তা উক্ত আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সংশোধনীসহ প্রযোজ্য হবে।

২) (১) উপধারায় “রাজস্ব আদালত” বলতে ঐ আদালত বুঝায়, কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমির খাজনা রাজস্ব বা লাভ সম্পর্কিত মোকদ্দমা অথবা অন্যান্য কার্যধারা গ্রহণ করতে কোন আইনের অধীনে এখতিয়ারভুক্ত আদালতকে বুঝায়। তবে এটা দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা কার্যধারার মত অনুরূপ মোকদ্দমা বা কার্যধারাসমূহ বিচার করতে এই আইনের অধীনে মূল এতিয়ারযুক্ত দেওয়ানি আদালতকে অন্তর্ভুক্ত করে না।
৭,৫৮০.
বিবাদীর হাজির হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করার সময় আদালতকে কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হয়?
  1. বিবাদীর বাসস্থান
  2. আদালতের চলমান কার্যাবলী
  3. সমন পরিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সময়
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি Order V Rule 6-এর স্পষ্ট বিধান: Fixing day for appearance of defendant: “The day for the appearance of the defendant shall be fixed with reference to the current business of the Court, the place of residence of the defendant and the time necessary for the service of the summons; and the day shall be so fixed as to allow the defendant sufficient time to enable him to appear and answer on such day.”

অর্থাৎ বিবাদীর হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করতে গেলে আদালতকে বাধ্যতামূলকভাবে ৩টি বিষয় বিবেচনা করতে হবে:
- আদালতের চলমান কার্যাবলী / ব্যস্ততা (current business of the Court)
- বিবাদীর বাসস্থানের দূরত্ব (place of residence of the defendant)
- সমন সার্ভ করতে যে সময় লাগবে (time necessary for service of summons)
তাই আদালতকে সবগুলোই বিবেচনা করতে হবে।

৭,৫৮১.
সাক্ষ্য আইনের ৪১ ধারার বিধান মতে প্রবেট, এডমিরালটি, বিবাহ সংক্রান্ত কোন রায়কে কী বলে ধরা হয়?
  1. May Presume
  2. Shall Presume
  3. Conclusive proof
  4. কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪১ ধারার বিধান: প্রবেট, এডমিরালটি, বিবাহ সংক্রান্ত কোন রায়ের প্রাসঙ্গিকতা-
ⅰ) ৪১ ধারায় প্রবেট (উইল সংক্রান্ত), ম্যাট্রিমোনিয়াল (বিবাহ সংক্রান্ত), এডমিরালটি (নৌ-সংক্রান্ত), bankruptcy (দেউলিয়া) বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কোন আইনগত চরিত্র কারো ওপর আরোপ করা হয় বা কারো নিকট থেকে নিয়ে ফেলা হয় বা কাউকে কোন আইনগত চরিত্রের বা সম্পত্তির অধিকারী বলে ঘোষণা করা হয়।
ii) এই ধারায় Judgement in rem নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে কেননা এই ধারার অন্তর্গত প্রবেট, এডমিরালটি, বিবাহ বিষয়ে যে আইনগত চরিত্র নির্ধারন করা হয় যা কোন বিশেষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর নয় বরং বিশ্বের সকলের বিরুদ্ধে কার্যকর।
iii) এই ধারার অন্তর্ভুক্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত সমূহকে চূড়ান্ত প্রমাণ (conclusive proof) বলে ধরা হয়।
iv) ৪১ ধারা অনুযায়ী Probate, Matrimonial, Admiralty, Insolvency সম্পর্কে যে ডিক্রি বা আদেশ দেওয়া হয় তা পরবর্তী মামলায় পক্ষ এক না থাকলেও অবশ্যই প্রাসঙ্গিক হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪১ ধারা- প্রবেট, এখতিয়ার ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোন রায়ের প্রাসঙ্গিকতা: প্রবেট, এডমিরালটি, বিবাহ ও দেউলিয়াত্ব বিষয়ক এখতিয়ার প্রয়োগকালে কোন উপযুক্ত আদালত উহার চূড়ান্ত রায়, আদেশ বা ডিক্রি বলে যখন কোন আইনগত চরিত্র কাহারও উপর আরোপ করে বা কাহাকেও উহা হইতে বঞ্চিত করে, অথবা কোন ব্যাক্তিকে অনুরূপচরিত্রের অধিকারী অথবা নিদিষ্ট কোন কিছুর অধিকারী বলিয়া ঘোষণা করে এবং সেই অধিকার কোন ব্যাক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নহে, বরং সবাত্মাক বলিয়া ঘোষণা করে তখন অনুরূপকোন আইনগত চরিত্র বা অনুরূপকোন কিছুর উপর কোন ব্যাক্তির অধিকারের অস্তিত্ব যদি প্রাসঙ্গিক হয়, তবে উহা চূড়ান্ত রায়, আদেশ বা ডিক্রি প্রাসঙ্গিক।
উক্ত রায় আদেশ বা ডিক্রি চূড়ান্তরুপে প্রমাণ করে যে, উক্ত রায়, আদেশ বা ডিক্রি দ্বারা যে আইনগত চরিত্র আরোপিত হয়, উহা বলবৎ হইবার সময় তাহা উদ্ভুত হইয়াছিল।
উক্ত রায় আদেশ বা ডিক্রি দ্বারা কোন ব্যাক্তিকে আইন ভিত্তিক সত্তা হইতে বঞ্চিত করা হয়, তাহা হইতে উক্ত ব্যক্তিকে উহা দ্বারা বঞ্চিত করিবার সময় উক্ত ব্যক্তি উক্ত সত্তা হারাইয়াছিল।
এবং উক্ত রায়, আদেশ বা ডিক্রি দ্বারা কোন ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তির অধিকারী ছিল বা থাকা উচিত বলিয়া ঘোষণা করা হয়, সেই সম্পত্তির উক্ত সময় তাহারই সম্পত্তি ছিল।
---------------- 
⇒ The Evidence Act,1872: Section 41. Relevancy of certain judgments in probate, etc., jurisdiction:
- A final judgment, order or decree of a competent Court, in the exercise of probate, matrimonial, admiralty or insolvency jurisdiction, which confers upon or takes away from any person any legal character, or which declares any person to be entitled to any such character, or to be entitled to any specific thing, not as against any specified person but absolutely, is relevant when the existence of any such legal character, or the title of any such person to any such thing, is relevant. 
 
-Such judgment, order or decree is conclusive proof-
that any legal character which it confers accrued at the time when such judgment, order or decree come into operation; 
that any legal character, to which it declares any such person to be entitled, accrued to that person at the time when such judgment, order or decree declares it to have accrued to that person; 
that any legal character which it takes away from any such person ceased at the time from which such judgment, order or decree declared that it had ceased or should cease;
and that anything to which it declares any person to be so entitled was the property of that person at the time from which such judgment, order or decree declares that it had been or should be his property.
৭,৫৮২.
বিশেষজ্ঞের মতামত কোন প্রকার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়?
  1. সরাসরি প্রমাণ
  2. চূড়ান্ত প্রমাণ
  3. সহায়ক প্রমাণ
  4. লিখিত প্রমাণ
ব্যাখ্যা
• যখন আদালতকে বিদেশী আইন, বা বিজ্ঞান, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ বা ডিজিটাল রেকর্ড, বা চারুকলা, বা হাতের লেখা বা আঙ্গুলের ছাপ বা পায়ের ছাপের বা হাতের তালুর ছাপ বা চোখের আইরিসের ছাপ বা টাইপ রাইটিং বা ব্যবসায়িক প্রথা ব্যবহার বা টেকনিক্যাল শব্দ বা ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচয় শনাক্তের প্রশ্নে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, তখন এই বিষয়ে বিশেষভাবে দক্ষ ব্যক্তির অভিমত অনুরূপ প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক বিষয়। এই ধরনের ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞ বলা হয়।
 
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ এবং ৪৫ক ধারায় বিশেষজ্ঞদের মতামত (Expert Opinion) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। পূর্বে পাঁচটি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের মতামত সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক ছিল। কিন্তু সাক্ষ্য আইন (সংশোধন) ২০২২ এর ফলে ৪৫ ধারাটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন ৪৫ ধারা অনুসারে, নিম্নলিখিত ১৩টি ক্ষেত্রে বিশারদের মতামত সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে-

(i) বিদেশী আইন;
(ii) বিজ্ঞান;
(iii) শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক সাক্ষ্য;(iv) ডিজিটাল রেকর্ড;

(v) চারুকলা;
(vi) হস্তলিপি বা হাতের লেখা;
(vii) আঙ্গুলের ছাপ বা টিপসহি;
(viii) পায়ের ছাপ;
(ix) তালুর ছাপ;

(x) চোখের কনীনিকার ছাপ;
(xi) টাইপ রাইটিং;
(xii) ট্রেড বা টেকনিকাল অভিব্যক্তির ব্যবহার;
(xiii) ব্যক্তি বা প্রাণীর পরিচিতি।

⇒ Expert Opinion আদালতের জন্য বাধ্যকর নয়, এটি আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। এটি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু অনুসমর্থন প্রকৃতির। অর্থাৎ অন্যান্য সাক্ষ্যের সাথে মিলিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৭,৫৮৩.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদ কত দিন?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ২০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলে সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদ হলো ৭ দিন, যা অনুচ্ছেদ ১৫০-এ উল্লেখিত। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল দায়েরের জন্য তামাদি মেয়াদ ৭ দিন, যা রায় ঘোষণার তারিখ থেকে গণনা করা হয়। এটি প্রথম তফসিলের দ্বিতীয় বিভাগে (আপিল) অন্তর্ভুক্ত।
অর্থাৎ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদ হলো ৭ দিন, যা অনুচ্ছেদ ১৫০-এ মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

৭,৫৮৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১১
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ১০
  4. ধারা ১২
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০-এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়োগ, তাঁদের ক্ষমতা, এবং তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে সরকার প্রতিটি জেলার জন্য এবং প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করবেন। এছাড়া, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM), সহকারী কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) এর সদস্যদেরও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০ ধারার বিধান নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট:
(১) প্রতিটি জেলায় এবং প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় সরকার যত সংখ্যক প্রয়োজন মনে করবেন সেই সংখ্যক ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করবেন এবং তাঁদের মধ্য হতে একজনকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করবেন।
(২) সরকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যে কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিযুক্তি করতেও পারবেন এবং অনুরূপ অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সরকারের নির্দেশ অনুসারে এই কোড বা সাময়িকভাবে কার্যকর অপর কোন আইন অনুসারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের যাবতীয় বা যে কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবেন।
(৩) কোন সময় কোন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পদ শূন্য হবার দরুণ কোন কর্মকর্তা সরকারের আদেশ সাপেক্ষে অস্থায়ীভাবে জেলা প্রশাসনের মুখ্য নিবাহীর ঐ পদটির উত্তরাধিকার হলে তিনি সরকার কর্তৃক জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রদত্ত সকল ক্ষমতা ও তাঁর উপর অর্পিত যাবতীয় দায়িত্ব যথাক্রমে প্রয়োগ ও পালন করবেন।
(৪) সরকার অথবা সরকারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সময়ে সময়ে আদেশ প্রদানপূর্বক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ তাঁদেরকে উক্ত কোড বলে প্রদত্ত যাবতীয় বা যে কোন ক্ষমতা যে স্থানীয় এলাকার মধ্যে প্রয়োগ করতে পারবেন তা নির্ধারণ করে দিতে পারবেন এবং অনুরূপ এলাকা নির্ধারণে ভিন্নরূপ ব্যবস্থিত ক্ষেত্র ব্যতিত অনুরূপ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার ও ক্ষমতা সমগ্র জেলায় পরিব্যপ্ত হবে।
(৫) সরকার সমীচীন প্রয়োজন মনে করলে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন)-এ নিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপে নিয়োগ দিতে পারবেন এবং অনুরূপ সদস্যকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাদি অর্পণ করতে পারবেন।
(৬) উপ-ধারা-৪ এ বর্ণিত স্থানীয় এলাকা নির্ধারণ সাপেক্ষে, কোন জেলা বা উপজেলায় সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নিযুক্ত সকল ব্যক্তি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হবেন এবং তাঁদের স্ব স্ব স্থানীয় এলাকার অভ্যন্তরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
(৭) এই ধারার কোন কিছুই সরকারকে সাময়িকভাবে বলবৎ কোন আইনবলে পুলিশ কমিশনারকে কোন মেট্রোপলিটন এলাকা সম্পর্কে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যাবতীয় বা যে কোন ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবেন না।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-10. Executive Magistrates: 
(1) In every district and in every Metropolitan Area, the Government shall appoint as many persons as it thinks fit to be
Executive Magistrates and shall appoint one of them to be the District Magistrate.
(2) The Government may also appoint any Executive Magistrate to be an Additional District Magistrate, and such Additional District Magistrate shall have all or any of the powers of a District Magistrate under this Code or under any other law for the time being in force, as the Government may direct.
(3) Whenever in consequence of the office of a District Magistrate becoming vacant, any officer succeeds temporarily to the chief executive in the administration of the district, such officer shall, pending the orders of the Government, exercise all the powers and perform all the duties respectively conferred and imposed by this Code on the District Magistrate.
(4) The Government may, or subject to the control of the Government, the District Magistrate may, from time to time, by order define local areas within which the Executive Magistrate may exercise all or any of the powers with which they may be invested under this Code and, except as otherwise provided by such definition, the jurisdiction and powers of every such Executive Magistrate shall extend throughout the district.
(5) The Government may, if it thinks expedient or necessary, appoint any persons employed in the Bangladesh Civil Service (Administration) to be an Executive Magistrate and confer the powers of an Executive Magistrate on any such member.
(6) Subject to the definition of the local areas under sub-section (4) all persons appointed as Assistant Commissioners, Additional Deputy Commissioners or Upazila Nirbahi Officer in any District or Upazila shall be Executive Magistrates and may exercise the power of Executive Magistrate within their existing respective local areas.
(7) Nothing in this section shall preclude the Government from conferring, under any law for the time in force, on a Commissioner of Police, all or any of the powers of an executive Magistrate in relation to a Metropolitan area.
৭,৫৮৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারার মামলার ক্ষেত্রে বাদীকে কী প্রমাণ করতে হবে?
  1. স্থাবর সম্পত্তির দখল
  2. স্থাবর সম্পত্তির স্বত্ব
  3. স্থাবর সম্পত্তির স্বত্ব এবং দখল দুটোই
  4. কোনো কিছু প্রমাণ করতে হবে না
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৮ ধারায় শুধুমাত্র যে একজন স্থাবর সম্পত্তির মালিক তার স্বত্বের উপর ভিত্তি করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে তা না বরং দখলের অধিকারী যে কোন ব্যক্তি ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে; যদি সে তার স্বত্ব প্রমাণ করতে পারে।

৮ ধারায় স্থাবর সম্পত্তিতে দখলের অধিকারী বলতে মালিক বা দখলদার হিসেবে দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
৮ ধারার অধীন দেখাতে হবে সম্পত্তিতে স্বত্ব আছে এবং তা চুক্তিবলে হোক বা উত্তরাধিকারসূত্রে হোক বা দখলি স্বত্ব হোক এবং এমন স্বত্বের কারণে দখলের অধিকারী।

Section 8- Recovery of specific immoveable property:
A person entitled to the possession of specific immovable property may recover it in the manner prescribed by The Code of Civil Procedure, 1908.
৭,৫৮৬.
The Penal Code, 1860 এর ধারা ৮২ কাদের সুরক্ষা দেয়?
  1. ৯–১২ বছরের শিশুদের
  2. কেবল ৯ বছরের নিচের শিশুদের
  3. মানসিক অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিদের
  4. কিশোর অপরাধীদের
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৮২ ধারার বিধান- নয় বৎসরের কম বয়সের শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ:
নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কোন কার্যই অপরাধ নয়।

Section 82- Act of a child under nine years of age:
Nothing is an offence which is done by a child under nine years of age.

৭,৫৮৭.
পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবে না নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে?
  1. সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়নকারী হলে
  2. কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ করা হলে
  3. পিতা-মাতার সাথে ঝগড়া করলে
  4. আইনসঙ্গত হেফাজত হতে পলায়ন করলে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারামতে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং বিনা পরোয়ানায় (without warrant) নিম্নলিখিত ৯টি ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে। যথা-
i) কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ (cognizable offence) করেছে বা জড়িত থাকার যুক্তিযুক্ত সন্দেহ (reasonable
suspicion) থাকলে;

ii) আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত কোন ব্যক্তির নিকট ঘর ভাঙ্গার সরঞ্জাম (Implement of house breaking) থাকলে;

iii) কোন ব্যক্তিকে অপরাধী ঘোষণা করা হলে (proclaimed as an offender);

iv) কোন ব্যক্তির নিকট চোরাই মাল (stolen property) পাওয়া গেলে বা উক্ত অপরাধ করেছে বলে সন্দেহ হলে;

v) কোন ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের কাজে বাধা দিলে অথবা আইনসঙ্গত হেফাজত হতে পলায়ন করলে (escape from lawful
custody) অথবা পলায়নের চেষ্টা করলে;

vi) সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়নকারী (deserter);

vii) বাংলাদেশের বাহিরে বাংলাদেশের আইনে আমলযোগ্য অপরাধ করলে;

viii) মুক্তিপ্রাপ্ত আসামী (released convict) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬৫(৩) ধারা ভঙ্গ করলে; অথবা 

ix) যে ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

♦ অর্থাৎ শুধুমাত্র পিতা-মাতার সাথে ঝগড়া করলে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবে না। বাকি তিন ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারামতে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং বিনা পরোয়ানায় (without warrant) কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে।
৭,৫৮৮.
সাক্ষ্য আইনের অনুযায়ী নিম্নের কোনটি সরকারি দলিল (Public documents)?
  1. কবলা দলিল
  2. আদালতের রায়
  3. উইল
  4. দানপত্র
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার বিধান সরকারী দলিল: নিম্নলিখিত দলিলগুলো সরকারী দলিল:
(১) যে সমস্ত দলিল-
(ক) কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং
(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের যে কোন স্থানের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
---------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার বিধান বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। 
⇒ কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.

⇒  আদালতের রায় ৭৪(১) ধারার বিধান মতে পাবলিক ডকুমেন্টস। কারণ রায় বিচার বিভাগীয় কাজের অংশ। 
৭,৫৮৯.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় 'Principle of Estoppel' সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ১১৫
  2. ১১৬
  3. ১১৭
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনে Estoppel শব্দটি বহুল পরিচিত। সাধারণতঃ স্বকার্যজনিত বাধা বা Estoppel হচ্ছে যা একবার স্বীকার করে নেয়া হয় তা পরবর্তীতে অস্বীকার করার বাধা। অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের যে নীতি কোন ব্যক্তিকে তার পূর্বে প্রদত্ত কোন বক্তব্যকে পরবর্তীতে অস্বীকার করতে বিরত রাখে তা Estoppel বা প্রতিবন্ধক বা স্বকার্যজনিত বাধা নামে পরিচিত। মূলতঃ কোন ব্যক্তির পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য গ্রহণীয় নয়, এটাই এস্টপলের মূলনীতি। অর্থাৎ, Principle of Estoppel দ্ব্যর্থবোধক হতে পারে না।

সাক্ষ্য আইনের ১১৫, ১১৬ ও ১১৭ ধারায় এস্টপেল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারায় এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪৩ ধারায় Estoppel সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষনা, কাজ বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করিয়েছেন এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে উক্ত ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বলেছেন, তখন উক্ত ব্যক্তি বা তার মধ্যে অথবা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন মামলায় প্রথমোক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কার্য বা কার্য বিরতির বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না”।

⇒ আইনের পরিস্থিতি প্রতিবন্ধক হতে পারে কিনা- প্রতিবন্ধক বা Estoppel এর নিয়মটি ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে প্রযোজ্য হয়, আইন বিষয়ে নয়। অর্থাৎ আইন বলে কেউ যদি কোন অধিকার লাভ করে সেক্ষেত্রে Estoppel নীতি প্রয়োজ্য হবেনা।

⇒ প্রতিবন্ধক বা Estoppel এর উপাদান: এস্টপেল কার্যকরী হতে হলে নিম্নলিখিত উপাদান থাকতে হবে-
ⅰ) যার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক কার্যকরী করতে চাওয়া হচ্ছে তিনি বা তার প্রতিনিধি কোন ঘোষনা বা কর্ম বিরতি করেছিলেন।
ii) কিন্তু পরে ঐ ব্যক্তি কিংবা তার প্রতিনিধি এমন কোন দাবী উত্থাপন করলেন যা তার পূর্ব বর্ণিত ঘোষনা বা কর্ম বিরতি প্রভৃতির পরিপন্থি।
iii) মূল ঘোষনা প্রভৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তি তার পূর্বের অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে কিছু কাজ করেছিলেন।
iv) মূল ঘোষণা প্রভৃতির দ্বারা প্রতিবন্ধক উত্থাপনকারী পক্ষ কিছু করতে প্রভাবিত হয়েছিলেন।
ⅳ) মূল ঘোষনা প্রভৃতি দ্বিতীয় ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধির নিকট করা হয়েছিল।

⇒ সাক্ষ্য আইনের Estoppel নীতি দেওয়ানি মামলায় প্রযোজ্য, কিন্তু ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
⇒ এস্টপেল আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন বা বিধিবদ্ধ আইনের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য নয়। এস্টপেল সুস্পষ্ট হতে হবে।
৭,৫৯০.
জনাব 'ক' এবং জনাব 'খ' -এর মধ্যে একটি জমি বিক্রির লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তি হয় ১ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে। এই লিখিত চুক্তিভঙ্গের জন্য জনাব 'খ' যদি ক্ষতিপূরণের মামলা করতে চান, তাহলে তাকে কয় বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে?
  1. ৬ মাসের মধ্যে
  2. ১ বছরের মধ্যে
  3. ৩ বছরের মধ্যে
  4. ৬ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
The Limitation Act, 1908 এর ১ম তফসিল- অনুচ্ছেদ ১১৬:
লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা:
তামাদি সময়সীমা: ৬ বছর।
তামাদি সময়সীমা গণনা শুরু হবে: যখন চুক্তি নিবন্ধিত না হয় এবং মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

এক্ষেত্রে, জনাব খ যদি ক্ষতিপূরণের মামলা করতে চান, তাহলে তাকে ৬ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
৭,৫৯১.
আদেশ ১০ বিধি ৪ অনুযায়ী নির্দেশিত দিনে কোনো পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হলে, আদালত কী করতে পারে?
  1. মামলা খারিজ করবে
  2. তার বিরুদ্ধে রায় দিতে পারে
  3. উক্ত পক্ষকে নোটিশ পাঠাবে
  4. শুনানি পুনরায় শুরু করবে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) তার বিরুদ্ধে রায় দিতে পারে।

আদেশ ১০ বিধি ৪: আইনজীবী (pleader) গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে ফলাফল:

(১) যে পক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হয়েছে, যদি সেই আইনজীবী (pleader) অথবা আইনজীবীর সাথে থাকা ব্যক্তি (Rule 2 অনুযায়ী), মামলার সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে অথবা উত্তর দিতে অক্ষম হয়,
এবং আদালতের মত অনুযায়ী- সেই প্রশ্নের উত্তর পক্ষ নিজে দিতে পারতেন (যদি তাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করা হতো), তাহলে আদালত মামলার শুনানি স্থগিত করতে পারে, এবং ঐ পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারে নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ তারিখে।

(২): যদি ঐ পক্ষ বৈধ অজুহাত ছাড়াই ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হয়, তাহলে আদালত তার বিরুদ্ধে রায় (judgment) দিতে পারে, অথবা মামলার স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্য কোনো আদেশ দিতে পারে।

৭,৫৯২.
আদেশ ৩ বিধি ১ অনুযায়ী- আদালত যদি নির্দেশ প্রদান করে যে পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে হবে, তাহলে-
  1. পক্ষকে অবশ্যই আদালতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে হবে
  2. পক্ষ তার স্বীকৃত প্রতিনিধি দ্বারা উপস্থিত থাকতে পারবে
  3. উকিলের মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত থাকতে পারবে
  4. পক্ষের অন্য কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত থাকা যাবে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৩ বিধি ১: উপস্থিতি ইত্যাদি ব্যক্তিগতভাবে, স্বীকৃত প্রতিনিধি বা আইনজীবী মারফতে হতে পারে:

মোকদ্দমার কোন পক্ষের আদালতে হাজিরা দেয়া, আবেদন করা বা আইন মোতাবেক অন্য যা করা কর্তব্য, প্রত্যক্ষভাবে অন্য কোন বিপরীত বিধান না থাকলে উক্ত কার্যগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে সম্পন্ন করতে পারে, অথবা তার স্বীকৃত প্রতিনিধি কর্তৃক কিংবা তার পক্ষে [ক্ষেত্র বিশেষ উপস্থিত, দরখাস্ত কিংবা কার্যকরী] কোন উকিলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় হাজিরা দিতে, আবেদন করতে বা অন্য কোন কাজ সমাধান করতে পারে-

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত নির্দেশ প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের হাজিরা বা উপস্থিতি ব্যক্তিগতভাবেই দিতে হবে।
৭,৫৯৩.
সাক্ষ্য আইনের ১০২ ধারা অনুসারে, কার উপর মামলার বিষয়বস্তু প্রমাণের দায়িত্ব থাকে?
  1. আদালত
  2. অভিযুক্ত পক্ষ
  3. প্রধান সাক্ষীর
  4. যে পক্ষ মামলা দায়ের করে
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১০২ ধারার বিধান: প্রমাণের দায়িত্ব যাহার উপর ন্যস্ত থাকে:
মামলায় বা কার্যক্রমে কোন পক্ষ হইতেই সাক্ষ্য দেওয়া না হইলে যে পক্ষ মামলায় ঠকিবে, মামলার বিষয়বস্তু প্রমাণ করিবার দায়িত্ব সেই পক্ষের উপর ন্যস্ত।
 
⇒ উদাহরণঃ
(ক) ক একটি জমির জন্য খ-এর বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা দায়ের করে। জমিটি খ-এর দখলে আছে। ক দাবি করে যে খ-এর পিতা গ উইল করিয়া ঐ জমি ক-কে দিয়া গিয়াছে। এই মামলায় কোন পক্ষ্য সাক্ষ্য না দিলে খ জমির দখল বজায় রাখিবার অধিকারী হইবে। সুতরাং এইক্ষেত্রে প্রমাণের দায়িত্ব ক-এর উপর ন্যস্ত আছে।
৭,৫৯৪.
'ক' ও 'খ' পৃথকভাবে এবং বিভিন্ন সময়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাত্রায় বিষ প্রয়োগ করে 'গ' কে খুন করার জন্য একমত হয়। 'ক' ও 'খ', 'গ' কে খুন করার লক্ষ্যে চুক্তি অনুযায়ী বিষ প্রয়োগ করে। 'গ' এর প্রতি অনুরূপভাবে প্রযুক্ত কতিপয় মাত্রায় বিষ প্রয়োগের কারণে তার মৃত্যু হয়। উক্ত খুনের দায়ে দায়ী হবে____।
  1. ক ও খ
  2. ক অথবা খ
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code, 1860 এর ৩৭ ধারা মতে যদি কতিপয় ব্যক্তি একাধিক কাজের মাধ্যমে কোন অপরাধ করে, সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি উক্ত অপরাধ সংঘটনের সকল বা যে কোন একটি কাজের মাধ্যমে অপরাধটি সংঘটনে সহায়তা করে, সে সহায়তাকারী ব্যক্তি অন্য অপরাধীদের সাথে সমানভাবে দায়ী হবে।

♦ এক্ষেত্রে “ক' ও 'খ' ইচ্ছাপূর্বকভাবে খুন সংঘটনে সহযোগিতা করে এবং তাদের প্রত্যেকেই এ ধরণের একটি কাজ সম্পাদন করে যাদ্বারা মৃত্যু সংঘটিত হয়। যদিও তাদের কাজসমূহ স্বাতন্ত্র্য তবুও উভয়েই উক্ত অপরাধের জন্য দোষী হবে।
৭,৫৯৫.
দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার আলোকে নিম্নলিখিত কোনটি "গুরুতর আঘাত" হিসেবে গণ্য হবে?
  1. সামান্য রক্তপাত
  2. অস্থি ভঙ্গ হওয়া
  3. কেবল অস্থায়ী আঁচড়
  4. ত্বকে সামান্য লাল হয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩২০ গুরুতর আঘাত (Grievous Hurt) এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। এই ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে:
“অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ” — এটি গুরুতর আঘাত হিসেবে গণ্য হবে।
অর্থাৎ, কারো হাড় ভেঙে গেলে (fracture) বা দাঁত ভেঙে গেলে অথবা স্থানচ্যুত হলে, সেটা গুরুতর আঘাত হিসেবে আইনের চোখে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে, সামান্য রক্তপাত, অস্থায়ী আঁচড়, ত্বকে সামান্য লাল হওয়া – এগুলো সাধারণ আঘাত (Simple hurt) হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ধারা ৩২০ এর অধীনে পড়ে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংসকরণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 320: Grievous hurt:
The following kinds of hurt only are designated as "grievous":-
Firstly.-Emasculation.
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye.
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear.
Fourthly.-Privation of any member or joint.
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint.
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face.
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth.
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.

৭,৫৯৬.
'ক' 'খ'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে 'ক' কে কী প্রমাণ করতে হবে?
  1. অবশ্যই 'খ'-এর মৃত্যু প্রমাণ করতে হবে
  2. অবশ্যই 'খ'-এর ঘোষণাটি প্রমাণ করতে হবে
  3. অবশ্যই 'ক' এর কাছে যে বক্তব্য দিয়েছে তা প্রমাণ করতে হবে
  4. উপরের সবগুলো প্রমাণ করতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারামতে একটি সাক্ষ্যকে আদালতের নিকট গ্রহণযোগ্য করাতে যদি কোন ঘটনা প্রমানের প্রয়োজন হয়, তাহলে যে পক্ষ সাক্ষ্যকে গ্রহণযোগ্য করাতে চায় তাকেই উক্ত ঘটনা প্রমান করতে হবে।

⇒ যেমন- 'B' একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। 'A', 'B'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায়। সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারামতে এখানে 'A'-কে অবশ্যই 'B'-এর মৃত্যু প্রমাণ করতে হবে; কেননা মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রাসঙ্গিক এবং গ্রহণযোগ্য হবে যদি ঘোষণাকারী মৃত হয়। অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণাটির গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করছে ঘোষণাকারী মৃত কিনা সেই তথ্যের উপর। আর ঘোষণাকারী মৃত কিনা তা প্রমাণের ভার সেই ব্যক্তির উপর বর্তাবে যে মৃত্যুকালীন ঘোষণা সাক্ষ হিসাবে দিতে চায়। যেহেতু এখানে 'A', 'B'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে চায় সুতরাং মৃত্যুকালীন ঘোষণাকে গ্রহণযোগ করার জন্য, 'B'-এর মৃত্যু সংক্রান্ত প্রমাণ দাখিলের দায়ভার 'A',-এর উপর বর্তাবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার বিধান যে ঘটনা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রমাণ করতে হবে তা প্রমাণের দায়িত্বঃ- যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি অন্য কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারে, তজ্জন্য বিষয় প্রমাণ করা আবশ্যক, সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে ইচ্ছুক তার উপর উপরেবর্ণিত বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।

⇒ উদাহরণ:

(ক) 'ক' 'খ'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে অবশ্যই 'খ'-এর মৃত্যু 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।

(খ) একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের প্রসঙ্গের মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা 'ক' প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। দলিলাটি যে হারিয়ে গিয়েছে, অবশ্যই তা 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।

--------------------
Section-104. Burden of proving fact to be proved to make evidence admissible: The burden of proving any fact necessary to be proved in order to enable any person to give evidence of any other fact is on the person who wishes to give such evidence.

(a) A wishes to prove a dying declaration by B. A must prove B's death.

(b) A wishes to prove, by secondary evidence, the contents of a lost document. A must prove that the document has been lost.
৭,৫৯৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুসারে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা সম্পূরক চার্জশিট (Supplementary Charge Sheet) দাখিল করতে পারে?
  1. ১৭৩(৪)
  2. ১৭৩(৩খ)
  3. ১৭২(৩খ)
  4. ১৭৩(৩ক)
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির অনুসারে অধিকতর তদন্ত [Further Investigation) এবং সম্পূরক চার্জশীট (Supplementary Charge Sheet)-
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৮ ধারায় নিয়োগকৃত পুলিশের উপরস্থ কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ মুলতুবি রেখে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১৭৩ (২) ধারায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে [may order further investigation] ১৭৩ (১) ধারার অধীন পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পরও পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারার অধীন অধিকতর তদন্ত করতে পারে (do further investigation)
⇒ অধিকতর তদন্ত করে মৌখিক বা দালিলিক অধিকতর সাক্ষ্য পেলে, পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারায় অধিকতর রিপোর্ট বা সম্পূরক চার্জ শীট [supplementary charge sheet) দাখিল করতে পারে। ১৭৩ ধারার অধীন পুন:তদন্তের (re-investigation) কোন বিধান নেই।
- তথ্য প্রদানকারীর বা থানার ভারপ্রাপ্ত উদ্ধতন কর্মকর্তার আবেদনক্রমে বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজ উদ্যোগে অধিকর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু আসামীর আবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে না।
-১৭৩ ধারার অধীন তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার পর ম্যাজিস্ট্রেট চার্জশীটভুক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিতে পারে এবং যে সকল অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, তাদের অব্যাহতি দিতে পারে। যাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেট একবার অব্যাহতি দিলো তাদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারে না। বরং ম্যাজিস্ট্রেট ১৯০ ধারায় অপরাধ আমলে নিতে পারে।
----------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-173. Report of police-officer:
(1) Every investigation under this Chapter shall be completed without unnecessary delay, and, as soon as it is completed, the officer in charge of the police-station shall- 
(a) forward to a Magistrate empowered to take cognizance of the offence on a police-report a report, in the form prescribed by the Government, setting forth the names of the parties, the nature of the information and the names of the persons who appear to be acquainted with the circumstances of the case, and stating whether the accused (if arrested) has been forwarded in custody or has been released on his bond, and, if so, whether with or without sureties, and 
(b) communicate, in such manner as may be prescribed by the Government, the action taken by him to the person, if any, by whom the information relating to the commission of the offence was first given. 
(2) Where a superior officer of police has been appointed under section 158, the report shall in any cases in which the Government by general or special order so directs, be submitted through that officer, and he may, pending the orders of the Magistrate, direct the officer-in-charge of the police-station to make further investigation. 
(3) Whenever it appears from a report forwarded under this section that the accused has been released on his bond, the Magistrate shall make such order for the discharge of such bond or otherwise as he thinks fit. 
(3A) When such report is in respect of a case to which section 170 applies, the police-officer shall forward to the Magistrate along with the report- 
(a) all documents or relevant extracts thereof on which the prosecution proposes to rely other than those already sent to the Magistrate during investigation; 
(b) the statements recorded under sub-section (3) of section 161 of all the persons whom the prosecution proposes to examine as its witnesses. 
 
(3B) Nothing in this section shall be deemed to preclude further investigation in respect of an offence after a report under sub-section (1) has been forwarded to the Magistrate and, whereupon such investigation, the officer in charge of the police-station obtains further evidence, oral or documentary, he shall forward to the Magistrate a further report or reports regarding such evidence in the form prescribed; and the provisions of sub-section (1) to (3A) shall, as far as may be, apply in relation to such report or reports as they apply in relation to a report forwarded under sub-section (1).
 
(4) a copy of any report forwarded under this section shall on application, be furnished to the accused before the commencement of the inquiry or trial: 
Provided that the same shall be paid for unless the Magistrate for some special reason thinks fit to furnish it free of cost.
৭,৫৯৮.
দণ্ডবিধির ২২৮ ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি বিচার কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে বিচারকের আসন গ্রহণকারী সরকারি কর্মচারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করে, তবে তাকে _____ মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২২৮ ধারা- বিচার বিষয়ক কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে বিচারকের আসন গ্রহণকারী কোন সরকারী কর্মচারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা বা তাহার কার্যে বাধা দেওয়ার শাস্তি:
কোন সরকারী কর্মচারী কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে নিয়ত থাকাকালে কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে অপমান করে বা তার কাজে বাধা প্রদান করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 228- Intentional insult or interruption to public servant sitting in judicial proceeding:
Whoever intentionally offers any insult, or causes any interruption to any public servant, while such public servant is sitting in any stage of a judicial proceeding, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
৭,৫৯৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-32, Rule-9 এর বিধান কী?
  1. Retirement of next friend
  2. Removal of next friend
  3. Minor to sue by next friend
  4. Unreasonable or improper suit
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২ বিধি-৯ এর বিধান: আসন্ন বন্ধু অপসারণ (Removal of next friend): নাবালকের আসন্ন বন্ধুকে অপসারণ করা যায়- যখন আসন্ন বন্ধর স্বার্থ নাবালকের স্বার্থের প্রতিকূলে হয়; অথবা যখন আসন্ন বন্ধর স্বার্থ নাবালকের স্বার্থের প্রতিকূলে যায় এমন ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট হয়; অথবা যখন সে তার কর্তব্য পালন করে না; অথবা মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাকালে বাংলাদেশে বসবাস না করে অথবা  অন্য কোন যথেষ্ট কারণে নাবালকের পক্ষ হতে বা বিবাদী কর্তৃক তার অপসারণের জন্য আবেদন করা হয়।
-------------- 
⇒ CPC Order-32 Rule-9. Removal of next friend:

(1) Where the interest of the next friend of a minor is adverse to that of the minor or where he is so connected with a defendant whose interest is adverse to that of the minor as to make it unlikely that the minor's interest will be properly protected by him, or where he does not do his duty, or, during the pendency of the suit, ceases to reside within Bangladesh, or for any other sufficient cause, application may be made on behalf of the minor or by a defendant for his removal; and the Court, if satisfied of the sufficiency of the cause assigned, may order the next friend to be removed accordingly, and make such other order as to costs as it thinks fit.

(2) Where the next friend is not a guardian appointed or declared by an authority competent in this behalf, and an application is made by a guardian so appointed or declared, who desires to be himself appointed in the place of the next friend, the Court shall remove the next friend unless it considers, for reasons to be recorded by it, that the guardian ought not to be appointed the next friend of the minor, and shall thereupon appoint the applicant to be next friend in his place upon such terms as to the costs already incurred in the suit as it thinks fit.
৭,৬০০.
দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা কোন অপরাধের শাস্তির সাথে সম্পর্কিত?
  1. খুন
  2. ধর্ষণ
  3. চুরি
  4. অবৈধ অবরোধ
ব্যাখ্যা
⇒দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা ধর্ষণ (Rape) অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান দেয়।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, ধর্ষণের দায়ে দোষী ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
- তবে যদি ভিকটিম তার নিজ স্ত্রী হন এবং স্ত্রীর বয়স ১২ বছরের কম না হয়, তাহলে শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারার বিধান ধর্ষণের সাজা:
- কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রূপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 376. Punishment for rape:
-Whoever commits rape shall be punished with imprisonment for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine, unless the woman raped is his own wife and is not under twelve years of age, in which case he shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.