বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন১২,৬০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ৬৯ / ১২৬ · ৬,৮০১৬,৯০০ / ১২,৬০৫

৬,৮০১.
Res Gestae সাক্ষ্য কীভাবে প্রমাণিত হয়?
  1. স্বাক্ষরের মাধ্যমে
  2. সাক্ষী দ্বারা কথা বলার মাধ্যমে
  3. আক্রমণকারী ব্যক্তির বক্তব্য দিয়ে
  4. ঘটনার সময় বা পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য বা আচরণে
ব্যাখ্যা
⇒ Res Gestae বা 'একই কার্যের অংশ'- Res Gestae (রেস গেস্টাই) অর্থ হলো একই কাজের অংশ বিশেষ বা একই Transaction এ সংগঠিত অনেকগুলো ঘটনা।
- অর্থাৎ কোন একটি কাজ করতে গিয়ে উক্ত কাজের ধারাবাহিকতায় অন্য যে-সব কাজ করা হয় বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা তা ঐ একই কাজের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে Res Gestae বলে পরিচিত।
- সাক্ষ্য আইনের ৬ থেকে ৯ এবং ১৪ ধারায় Res Gestae (রেস গেস্টাই) নীতির বিধান রয়েছে।
- Res Gestae হলো এমন এক প্রকার সাক্ষ্য যা কোনো ঘটনার সঙ্গে এত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত থাকে যে, তার প্রকৃতি ও কারণ বুঝতে সাহায্য করে। এই ধরনের সাক্ষ্য মূলত সেই ঘটনা বা আচরণের অংশ হয় যা ঘটনার সময় বা ঘটনার খুব শিগগির পরে স্বাভাবিকভাবে ঘটে।
- Res Gestae সাক্ষ্য প্রমাণিত হয় ঘটনার সময় বা পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য বা আচরণ দ্বারা, যার মাধ্যমে আদালত ঘটনাটির প্রকৃতি এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিকতা বোঝে।
৬,৮০২.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ আদেশ ৪৩ এর বিধান কি?
  1. নিঃস্ব ব্যক্তির আপীল
  2. আদেশ বিরুদ্ধে আপীল
  3. আপীলের ডিক্রী থেকে আপীল
  4. মূল ডিক্রী থেকে আপীল
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এর বিধান হলো আদেশের বিরুদ্ধে আপীল
⇒ সাধারনত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল চলে না তবে আদেশটি যদি আপিল যোগ্য আদেশ হয় তাহলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যায়।
আদেশ ৪৩ এবং ধারা ১০৪ এর মধ্যে আপীল যোগ্য আদেশ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
৬,৮০৩.
'ক' ১,০০০ টাকার বিনিময়ে তার নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি 'খ' বরাবর উইল করে দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তির পরপরই 'ক' উইল না করে মারা যায় এবং 'গ' তার সম্পত্তির প্রশাসনভার গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে 'খ', 'গ'-এর বিরুদ্ধে-
  1. কোনো প্রতিকার পাবে না
  2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন দাবি করতে পারে না
  3. চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন দাবি করতে পারে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
ধারা ২৭- পক্ষগণ ও তাদের নিকট প্রাপ্ত পরবর্তী স্বত্ত্বাধীন দাবিদার ব্যক্তি এবং পক্ষসমূহের বিরুদ্ধে প্রতিকার:

যদি এই অধ্যায়ে ভিন্নরূপ কোন বিধিবদ্ধ আইন না থাকলে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকরী করা যেতে পারে-
ক) যেকোন পক্ষের বিরুদ্ধে;

খ) চুক্তির পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত স্বত্ব কর্তৃক তার অধীনে দাবিরত যেকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যদি না সে মূল্যের বিনিময়ে এমন একজন হস্তান্তরগ্রহীতা হয়, যে সরল বিশ্বাসে মূল চুক্তি সম্বন্ধে অবগত না থেকে তার অর্থ প্রদান করেছিল।

গ) এমন স্বত্বের আওতাধীন দাবিদার ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যা যদিও চুক্তির পূর্ববর্তী ছিল এবং বাদী অবহিত ছিল, তবুও তা প্রতিবাদী স্থানচ্যুত করে থাকবে;

ঘ) যেক্ষেত্রে পাবলিক কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ হয় এবং তার পর পরই তা অন্য পাবলিক কোম্পানির সাথে মিলিত হয়, সেক্ষেত্রে মিলিত হওয়ার কারণে সৃষ্ট নূতন কোম্পানির বিরুদ্ধে;

ঙ) যেক্ষেত্রে পাবলিক কোম্পানির উদ্যোক্তা ব্যক্তিগণ, কোম্পানি গঠনের আগেই চুক্তি করে, সেক্ষেত্রে কোম্পানির বিরুদ্ধে; যদি কোম্পানি চুক্তি অনুমােদন ও গ্রহণ করে থাকে এবং কোম্পানি গঠনের শর্ত দ্বারা চুক্তি সমর্থিত হয়ে থাকে।

উদাহরণসমূহ: উপধারা-খ এর-
- ক ১,০০০ টাকার বিনিময়ে তার নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি উইল করে দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তির পরপরই ক উইল না করে ইন্তেকাল করে এবং গ তার সম্পত্তির প্রশাসনভার গ্রহণ করে। খ, গ-এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকরী করতে পারে।

- ক কতক নির্দিষ্ট জমি খ-এর কাছে বিক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি সম্পাদনের পূর্বেই ক পাগল হয়ে যায় এবং গ-কে তার কার্যনির্বাহক নিযুক্ত করা হয়। খ গ-এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করতে পারে।
৬,৮০৪.
গবাদি পশুকে হত্যা, বিষ প্রয়োগ কিংবা বিকলাঙ্গ করার মাধ্যমে ক্ষতি সাধনের শাস্তি-
  1. অনধিক ৫ বৎসর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড
  2. অনধিক ৩ বৎসর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড
  3. অনধিক ৭ বৎসর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৪২৯ ধারার বিধান যেকোন মূল্যের গবাদিপশু ইত্যাদি বা পঞ্চাশ টাকা মূল্যের কোন জন্তু বিকলাঙ্গ করিয়া অনিষ্ট সাধনঃ

কোন ব্যক্তি যদি যে কোন মূল্যের হাতি, উট, ঘোড়া, খচ্চর, মহিষ, ষাড়, গাভী বা গরু, অথবা পঞ্চাশ টাকা বা তদূর্ধ্ব মূল্যের অপর কোন পশুকে হত্যা করে, বিষ প্রয়োগ করে, বিকলাঙ্গ করে বা অকেজো করে ক্ষতি সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
৬,৮০৫.
খুনের শাস্তির বিধান দণ্ডবিধির কত ধারায় রয়েছে?
  1. ২৯৯
  2. ৩০২
  3. ৩০১
  4. ৩০৪
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিধান খুনের সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি খুনের অপরাধ করে তবে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-----------------
⇒ The Penal Code, 1860: Section 302. Punishment for murder:-Whoever commits murder shall be punished with death, or imprisonment for life, and shall also be liable to fine.
৬,৮০৬.
আদেশ ৪১ বিধি-১৭ অনুযায়ী একতরফাভাবে আপিল শুনানির শর্ত কী?
  1. আদালত চাইলে যেকোনো পরিস্থিতিতে
  2. শুধুমাত্র রেসপন্ডেন্ট উপস্থিত থাকলে
  3. আপিলকারী ও রেসপন্ডেন্ট উভয়েই অনুপস্থিত থাকলে
  4. আপিলকারী উপস্থিত থাকলে, কিন্তু রেসপন্ডেন্ট অনুপস্থিত থাকলে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪১ বিধি-১৭: আপিলকারীর বরখেলাপের জন্য আপিল খারিজ করা:
১) যেক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনে অথবা অন্য যে দিনের জন্য শুনানি মূলতবী হতে পারে ঐ দিনে আপিল শুনানির জন্য ডাক পড়লে আপিলকারী অনুপস্থিত থাকে, সেক্ষেত্রে আদালত আপিল খারিজের আদেশ দিতে পারবে।

২) একতরফাভাবে আপিল শুনানিঃ যেক্ষেত্রে আপিলকারী হাজির হয়, কিন্তু রেসপন্ডেন্ট উপস্থিত হয় না, সেক্ষেত্রে একতরফাভাবে আপিলের শুনানি হবে।

Order 41 Rule 17: Dismissal of appeal for appellant's Default-
1) Where on the day fixed, or on any other day to which the hearing may be adjourned, the appellant does not appear when the appeal is called on for hearing, the Court may an order that the appeal be dismissed.

2) Hearing appeal ex parte: Where the appellant appears and the respondent does not appear, the appeal shall be heard ex parte.
৬,৮০৭.
একজন ব্যক্তি যদি তার নিজ স্ত্রীকে ধর্ষণ করে এবং স্ত্রীর বয়স বারো বছরের নিচে না হয়, তবে সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ২ বছর কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. ১০ বছর কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ২ বছর কারাদণ্ড।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারার ব্যতিক্রমী বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি তার নিজ স্ত্রীকে ধর্ষণ করে এবং স্ত্রীটির বয়স বারো বছরের নিচে না হয়, তবে সে ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ২ বছর মেয়াদে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত করা যেতে পারে।
এই বিধানটি একটি Exception হিসেবে ধারা ৩৭৬-এ যুক্ত রয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারার বিধান ধর্ষণের সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রূপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 376. Punishment for rape:- Whoever commits rape shall be punished with imprisonment for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine, unless the woman raped is his own wife and is not under twelve years of age, in which case he shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৬,৮০৮.
সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় নিম্নের কোনটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. Examination in Chief
  2. Cross Examination
  3. Re-examination
  4. উল্লিখিত সবগুলোর
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৩৭ ধারায় জবানবন্দি (Examination in Chief), জেরা (Cross Examination), এবং পুনঃজবানবন্দি (Re-examination) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief]-
যে পক্ষ সাক্ষীকে হাজির করে সেই পক্ষ যখন সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তখন তাকে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ [Examination in Chief] বলে।

জেরা [Cross Examination]-
বিরুদ্ধ পক্ষ যখন সেই সাক্ষীকে প্রশ্ন করে, তখন তাকে জেরা বলে [Cross Examination] বলে।

পুন: জবানবন্দি [Re-examination]-
জেরার পর সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ যদি আবার সাক্ষীকে প্রশ্ন করে তবে তাকে পুন: জবানবন্দি (Re- examination) বলে।
৬,৮০৯.
তামাদি আইন অনুযায়ী ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের অনুমতি চেয়ে মামলা দায়েরের সর্বোচ্চ সময়সীমা কত?
  1. ৩০ দিন
  2. ৯০ দিন
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন অনুযায়ী, ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের অনুমতি চেয়ে মামলা দায়েরের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৬ মাস।
- এই সময়সীমা ডিক্রির তারিখ হতে গণনা করা হয়। অর্থাৎ, ডিক্রি জারি হওয়ার পর থেকে ৬ মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে যদি কিস্তিতে পরিশোধের অনুমতি চাওয়া হয়।
- এটি তামাদি আইন, অনুচ্ছেদ ১৭৫ এর অধীনে নির্ধারিত সময়সীমা।


৬,৮১০.
তামাদি আইনের ২১ ধারা অনুসারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি বলতে কাদের বোঝাবে?
  1. আইনসম্মত অভিভাবক
  2. কমিটি বা ম্যানেজার
  3. কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

ধারা-২১;অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি:
উপধারা-(১) অত্র আইনের ১৯ ও ২০ ধারায় 'তাহার পক্ষে যথাবিহিতরূপে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি' বলিতে অপারগতাগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তাহার আইন সম্মত অভিভাবক, কমিটি বা
ম্যানেজারকে অথবা অনুরূপ অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক স্বীকৃতি স্বাক্ষর করিবার বা অর্থ প্রদান করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বুঝাইবে।
উপধারা-(২) যৌথ চুক্তিকারী প্রভৃতির একজন কর্তৃক স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান (Acknowledgment or payment by one of several joint contractors, etc.) উপরোক্ত ধারাগুলি কোনো বিধানবলে যৌথ চুক্তিকারী, অংশীদার, নির্বাহক বা বন্ধকগ্রহীতাগণের মধ্যে একজনের বা একাধিক জনের অথবা তাহাদের একজনের বা একাধিকজনের প্রতিনিধির স্বাক্ষরিত কোনো লিখিত স্বীকৃতির ফলে বা অর্থ প্রদানের ফলে অপরজনকে কোনো দেনার জন্য দায়ী করা যাইবে না।
উপধারা-(৩) উপেরাক্ত ধারাগুলির উদ্দেশ্য সাধনকল্পে--
(ক) হিন্দু আইনের আওতাধীন কোনো বিধান অথবা কোনো সম্পত্তিতে সীমিত স্বত্বে স্বত্ববান কোনো ব্যক্তি বা তাহার যথাবিহিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কর্তৃক কোনো দায়েরের ব্যাপারে স্বাক্ষরিত স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান উক্ত দায়ের পরবর্তী উত্তরাধীকারীর প্রতিকূলে বৈধ স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান হিসাবে গণ্য হইবে।
(খ) যেইক্ষেত্রে কোনো অবিভক্ত হিন্দু পরিবার বা তত্পক্ষ কেহ কোনো দায়গ্রস্ত হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিবারের ম্যানেজার বা তাহার যথাবিহিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি কোনো স্বীকৃতিদান বা অর্থ প্রদান করিলে তাহার সমগ্র পরিবারের পক্ষ হইতে করা হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।
--------------
Section 21, Agent of persons under disability: 
(1) The expression "agent duly authorised in his behalf," in sections 19 and 20, shall, in the case of a person under disability, include his lawful guardian, committee or manager, or an agent duly authorised by such guardian, committee or manager to sign the acknowledgement or make the payment.
(2) Nothing in the said sections renders one of several joint contractors, partners, executors or mortgagees chargeable by reason only of a written acknowledgment signed or of a payment made by, or by the agent of, any other or others of them.
(3) For the purposes of the said sections-
(a) an acknowledgment signed, or a payment made, in respect of any liability, by, or by the duly authorised agent of, any widow or other limited owner of property who is governed by the Hindu law, shall be a valid acknowledgment or payment, as the case may be, as against a reversioner succeeding to such liability; and
(b) where a liability has been incurred by, or on behalf of, a Hindu undivided family as such, an acknowledgment or payment made by, or by the duly authorised agent of, the manager of the family for the time being shall be deemed to have been made on behalf of the whole family.

৬,৮১১.
যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানোর ইচ্ছা ছিল তার মৃত্যু না ঘটিয়ে, অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানোর মাধ্যমে অপরাধজনক নরহত্যা ঘটালে- এর বিধান দণ্ডবিধির কত ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ৩০১ ধারায়
  2. ৩০৩ ধারায়
  3. ৩০৫ ধারায়
  4. ২৯৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০১ ধারার বিধান: যার মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যতীত অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া শাস্তি যোগ্য নরহত্যা সংঘটন:-
-কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুণ মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যেরূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।
-------------------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section: 301- Culpable homicide by causing death of person other than person whose death was intended:
-If a person, by doing anything which he intends or knows to be likely to cause death, commits culpable homicide by causing the death of any person, whose death he neither intends nor knows himself to be likely to cause, the culpable homicide committed by the offender is of the description of which it would have been if he had caused the death of the person whose death he intended or knew himself to be likely to cause.
৬,৮১২.
নিরোধক প্রতিকার কীভাবে মঞ্জুর করা হয়?
  1. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি
  2. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি
  3. ক বা খ
  4. উল্লিখিত কোনোভাবেই নয়
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা- নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়:
আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়.

Section 52- Preventive relief how granted:
Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.

প্রতিরোধমূলক/ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন।
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে; বা
২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারীর মাধ্যমে।
৬,৮১৩.
বার কাউন্সিল সদস্যগণের অফিস ধারণের মেয়াদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরবর্তী কোন তারিখে শুরু হয়?
  1. ১লা জুলাই
  2. ১লা জানুয়ারি
  3. ১লা মে
  4. ১লা জুন
ব্যাখ্যা
♦ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ-৪ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরবর্তী ১লা জুলাই থেকে ০৩ (তিন) বছর পর্যন্ত বার কাউন্সিলের মেয়াদ থাকবে। অর্থাৎ বার কাউন্সিলের মেয়াদ ৩ বছর। বার কাউন্সিলের মেয়াদ শেষে বার কাউন্সিলের সদস্যগণ অফিস ধারণের যোগ্যতা হারাবেন।

♦ অর্থাৎ অনুচ্ছেদ ৪ অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্যদের পদের মেয়াদ ৩ বৎসর। এই ৩ বৎসর শুরু হবে সাধারণ নির্বাচনের পর পহেলা জুলাই থেকে।
৬,৮১৪.
বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নিম্নের কোন উক্তিটি সঠিক?
  1. আলাপ-আলোচনা [Negotiation] এ তৃতীয় পক্ষ উপস্থিত থাকে
  2. মধ্যস্থতা কার্যক্রম [Mediation] পদ্ধতিতে তৃতীয় কোন পক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকে
  3. সালিশ প্রক্রিয়ার [Arbitration] রায় পক্ষ গণের উপর বাধ্যকর নয়
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
• বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নিম্ন বর্ণিত পন্থা রয়েছে-
আলাপ-আলোচনা (Negotiation)
মধ্যস্থতা (Mediation) 
সালিশী (Arbitration)

১. আলাপ-আলোচনা [Negotiation]-
এমন একটি পদ্ধতি যেখানেই কোন বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে বিরোধের দুই পক্ষই যখন তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়াই একটি সুবিধাজনক পরিণতির দিকে পৌঁছে বা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে সমাধান করে থাকে।
আলাপ-আলোচনার [Negotiation] মাধ্যমে শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২১০(২) ২১০(৩) উপধারায় বলা আছে।

২. মধ্যস্থতা কার্যক্রম [Mediation]-
এ পদ্ধতিতে কোন বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তৃতীয় কোন পক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং কোন পক্ষের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে দুটি পক্ষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা হয়।
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯[ক] এবং অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ২২ ধারাতে মধ্যস্থতা বিষয়ে বলা হয়েছে।

৩. সালিশ প্রক্রিয়া [Arbitration]-
সালিশ[Arbitration] প্রক্রিয়াটি অনেকটা মধ্যস্থতা পদ্ধতির অনুরূপ। এ কারণেই সালিশ কার্যক্রম [Arbitration] কে মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উন্নত সংস্করণ বলে মনে করা হয়। কেননা মধ্যস্থতা কার্যক্রমে মধ্যস্থতাকারী বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে পক্ষগণের উপর কোন পন্থা চাপিয়ে দিতে পারেন কিন্তু সালিশ কার্যক্রমের সালিশকারী (Conciliator) পক্ষগণের ওপর রায় চাপিয়ে দিতে পারে। এ ধরনের রায়কে রোয়েদাদ [Award] বলা হয়।
সালিশ[Arbitration] প্রক্রিয়াটি সালিশ আইন-২০০১ দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ আইনের ২১০ ধারায় বিরোধ সালিসীর (Conciliation) মাধ্যমে নিষ্পত্তি কথা বলা হয়েছে।
৬,৮১৫.
দণ্ডবিধির ২১০ ধারা অনুযায়ী, যদি একজন ব্যক্তি জালিয়াতি করে এবং অবৈধভাবে আদেশ পায়, তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. শুধুমাত্র জরিমানা
  2. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২১০ ধারা অনুযায়ী, যদি একজন ব্যক্তি জালিয়াতি করে এবং অবৈধভাবে কোনো আদেশ পায়, তবে তাকে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। এই ধারা অনুসারে, জালিয়াতি করে কোনো আদেশ লাভ করা বা আদেশটি কার্যকর করা হলে, সে শাস্তির আওতায় আসবে।
অতএব, সঠিক উত্তর হবে: গ) ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। 
----
⇒ The Penal Code, 1860-Section- 210. Fraudulently obtaining decree for sum not due:
- Whoever fraudulently obtains a decree or order against any person for a sum not due, or for a larger sum than is due, or for any property or interest in property to which he is not entitled, or fraudulently causes a decree or order to be executed against any person after it has been satisfied or for anything in respect of which it has been satisfied, or fraudulently suffers or permits any such act to be done in his name, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৬,৮১৬.
'ক', তার প্রতিনিধি 'খ'-এর নিকট এক বাক্স সোনার গহনা জমা রাখে। 'গ' অভিযোগ করে যে, 'ক' তার নিকট থেকে অন্যায়ভাবে সোনার গহনাগুলো লাভ করেছে এবং 'খ' এর নিকট থেকে তা দাবী করে। এমতাবস্থায়, 'খ', 'ক' এবং 'গ'-এর বিরুদ্ধে আদেশ ৩৫ বিধি ৫ এর অধীন-
  1. স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা রুজু করতে পারে
  2. স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা রুজু করতে পারে না
  3. ফৌজদারি মামলা রুজু করতে পারে
  4. নিজস্ব স্বার্থযুক্ত মোকদ্দমা রুজু করতে পারে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৫ বিধি-৫: প্রতিনিধি বা প্রজাগণ স্বার্থ বিহীন মোকদ্দমা রুজু করতে পারে না:
এই আদেশের কোন বিধানই প্রতিনিধিগণকে তাদের প্রধান ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করতে কিংবা প্রজাগণকে তাদের ভূস্বামীর বিরুদ্ধে উক্ত প্রধান ব্যক্তি বা ভূ-স্বামীগণের মাধ্যমে দাবীদার ব্যক্তিগণ ব্যতীত অন্য কারো সাথে স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সমর্থ করতে বিবেচিত হবে না।

উদাহরণ:
ক) 'ক'-তার প্রতিনিধির 'খ'-এর নিকট এক বাক্স সোনার গহনা জমা রাখে। 'গ'- অভিযোগ করে যে 'ক'-তার নিকট থেকে অন্যায়ভাবে সোনার গহনাগুলো লাভ করেছে এবং 'খ'-এর নিকট থেকে তা দাবী করে। 'খ', 'ক' এবং 'গ'-এর বিরুদ্ধে স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা রুজু করতে পারে না।
৬,৮১৭.
তামাদি আইন কোন ধরনের আইন?
  1. মূল আইন
  2. তত্ত্বগত আইন
  3. পদ্ধতিগত আইন
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন হলো একটি পদ্ধতিগত আইন।

-পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law):
তত্ত্বগত আইনগুলোতে যে অধিকার, কর্তব্য ও শাস্তিসমূহ উল্লেখ থাকে সেগুলো যে প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি যে আইনসমূহে উল্লেখ থাকে তাই পদ্ধতিগত আইন। যেমন: ফৌজদারি কার্যবিধি, তামাদি আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি ইত্যাদি।

-তত্ত্বগত আইন (Substantive Law):
যে আইনসমূহ অধিকার ও কর্তব্যকে সংজ্ঞায়িত বা সন্নিবেশিত করে বা কোন অপরাধ কে সংজ্ঞায়িত করে ও তার শাস্তির পরিমাণ উল্লেখ করে, তাই তত্ত্বগত আইন বা মূল আইন। যেমন: চুক্তি আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।
৬,৮১৮.
ধারা ৪৭৭ক এর অধীন অভিযোগ আনার ক্ষেত্রে কী উল্লেখ করা প্রয়োজন?
  1. নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম
  2. নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ
  3. প্রতারণার উদ্দেশ্য
  4. নির্দিষ্ট দিনের তারিখ
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৭৭ক:
যে ব্যক্তি একজন কেরানি, কর্মকর্তা, অথবা কর্মচারী হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায়, বা কেরানি, কর্মকর্তা, অথবা কর্মচারী হিসেবে কাজ করার সময়, ইচ্ছাকৃতভাবে এবং প্রতারণার উদ্দেশ্যে, তার নিয়োগকর্তার মালিকানাধীন বা দখলে থাকা যেকোনো বই, কাগজ, লেখা, মূল্যবান সিকিউরিটি, অথবা হিসাব নষ্ট, পরিবর্তন, কেটে ফেলা অথবা ভুয়া করে, অথবা প্রতারণার উদ্দেশ্যে কোন মিথ্যা তথ্য তৈরি করে বা তৈরিতে সহায়তা করে, অথবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিবর্তন বা বাদ দেয়, অথবা এ ধরনের পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার সহায়তা করে, তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে।

ব্যাখ্যা:
এই ধারার অধীনে অভিযোগ আনার জন্য নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করার বা নির্দিষ্ট কোন পরিমাণ অর্থ উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই, কিংবা অপরাধটি কোন বিশেষ দিনে ঘটেছে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। সাধারণ প্রতারণার উদ্দেশ্য উল্লেখ করলেই যথেষ্ট হবে।
৬,৮১৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান অনুযায়ী মধ্যস্থতার মাধ্যমে আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন করা যাবেনা?
  1. ৮৯ক(১০) ধারা
  2. ৮৯ক(১১) ধারা
  3. ৮৯ক(১২) ধারা
  4. ৮৯ক(১৩) ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক(১২) ধারার বিধান মতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে আদালত কোন আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন করা যাবেনা।

⇒ ধারা-৮৯ক(৫): মধ্যস্থতার ফলে ডিক্রি প্রদান- মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোকদ্দমাটি আপোষ-মিমাংসা হলে, উক্ত আপোষ প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করবে।
⇒ আপোষের উপর ভিত্তি করে ডিক্রি প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির ২৩ নং আদেশের সোলে ডিক্রির বিধানসমূহ অনুসরণ করবে।
------------------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Section 89A(12): No appeal or revision shall lie against any order or decree passed by the Court in pursuance of settlement between the parties under this section.
৬,৮২০.
নিজ সাক্ষীকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করা যাবে না এই নীতি ব্যতিক্রম The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ১৫৪
  2. ১৫৬
  3. ১৫২
  4. ১৫১
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বৈরী সাক্ষী বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বৈরী সাক্ষী হলো এমন একজন সাক্ষী যে, সে যে উপায়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে বোঝা যায় যে, সে আদালতের নিকট সত্য বলতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে না। বৈরী সাক্ষী বলতে মিথ্যুক সাক্ষী বোঝায় না। সাক্ষী যে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে সাক্ষীর বৈরীতা বুঝতে হবে। বিষয়টি হলো যখন যে পক্ষ কোন সাক্ষীকে আহ্বান করে বা ডাকে, সেই পক্ষ উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ যখন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে, তখন সাক্ষীর নিকট যে প্রশ্ন করা হয় তখন সে উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে বা বৈরী হতে পারে। সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ এমন ধরণের সাক্ষীকে বৈরী সাক্ষী হিসাবে ঘোষণা করতে পারে।

- ১৫৪ ধারার বক্তব্য অনুযায়ী- বিরুদ্ধ পক্ষ জেরায় যেসব প্রশ্ন করতে পারে, সেসব প্রশ্ন যদি কোন পক্ষ নিজের সাক্ষীকে করার অনুমতি চায়, আদালত তা করার অনুমতি দিতে পারে। এরূপ সাক্ষীকে বৈরী/প্রতিকূল সাক্ষী (Hostile witness) বলে ।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন নিজ সাক্ষীকে জেরা করা যায়।

এরূপ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক। আর আদালত অনুমতি দিবে কিনা তা আদালতের বিবেচনামূলক।
৬,৮২১.
একটি ফৌজদারি আদালত পুলিশ ডায়েরী তলব করতে পারেন-
  1. সাক্ষ্যের জন্য
  2. তদন্তের জন্য
  3. বিচারের জন্য
  4. সুরতহালের জন্য
ব্যাখ্যা
♦ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তের বিবরণ/অগ্রগতি যে ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন, তাকেই পুলিশ ডায়েরি বলা হয়। পুলিশ ডায়েরিতে উল্লেখ থাকে; কখন সংবাদটি তার নিকট পৌঁছেছিল। কখন তদন্ত শুরু এবং শেষ করেছে। কোন কোন স্থানটি পরিদর্শন করেছে।তল্লাশি, গ্রেফতার, আলামত উদ্ধার, ১৬১ ধারায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পর্কিত সকল বিবরণসহ মামলার সকল প্রকার কার্যক্রম।
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭২(২) ধারামতে শুধুমাত্র আদালত অনুসন্ধান বা বিচারে (সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার ব্যতীত) সহায়তা পেতে অর্থাৎ ন্যায় বিচারের স্বার্থে পুলিশ ডায়েরী তলব করতে পারে।
♦ কোনভাবেই অভিযুক্ত বা তার প্রতিনিধি পুলিশ ডায়েরী তলব করতে পারে না, তবে তদন্ত কর্মকর্তা (IO) স্মৃতি পুনঃরুজ্জীবিত করার জন্য (Refreshing Memory) পুলিশ ডায়েরী বা কেস ডায়েরী ব্যবহার করতে পারে।
৬,৮২২.
কোন ধরনের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যায়?
  1. যে কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে
  2. আপিলযোগ্য ডিক্রি এবং আদেশের বিরুদ্ধে
  3. অর্থের মামলার ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে
  4. যে সকল ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী কোনো ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যাবে যদি
i) ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান না থাকলে এবং
ii) নিম্ন আদালত আইনগত ভুল করার কারণে ডিক্রি বা আদেশে ভুল হয়েছে এবং
iii) উক্ত ভুলের কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হলে

শুধুমাত্র আইনত ভুলের ক্ষেত্রে আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করবে না। যদি আইনগত ভুলটি ন্যায় বিচার বিঘ্ন করে, শুধুমাত্র আদালত তখনই রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
-----------------
CPC Section 115. Revision:
(1) The High Court Division may, on the application of any party aggrieved, call for the record of any suit or proceedings, in which a decree or an order has been passed by a Court of District Judge or Additional District Judge, or a decree has been passed by a Court of Joint District Judge, Senior Assistant Judge or Assistant Judge, from which no appeal lies; and if such Court appears to have committed any error of law resulting in an error in such decree or order occasioning failure of justice, the High Court Division may, revise such decree or order and, make such order in the suit or proceedings, as it thinks fit. 
 
(2) The Court of District Judge may, on the application of any party aggrieved, call for the record of any suit or proceeding, in which an order has been passed by a Court of Joint District Judge, Senior Assistant Judge or Assistant Judge, from which no appeals lies; and if such Court appears to have committed any error of law resulting in an error in such order occasioning failure of justice, the Court of District Judge may, revise such order and, make such order as it thinks fit. 
 
(3) A Court of Additional District Judge shall have all the powers of the District Judge under sub-section (2) in respect of revision case which may be transferred to it by the District Judge. 
 
(4) An application to the High Court Division for revision of an order of the District Judge or, Additional District Judge, as the case may be, made under sub-section (2) or (3) shall lie, where the High Court Division grants leave for revision on an (4) An application to the High Court Division for revision of an order of the District Judge or, Additional District Judge, as the case may be, made under sub-section (2) or (3) shall lie, where the High Court Division grants leave for revision on an error of an important question of law resulting in erroneous decision occasioning failure of justice, and the High Court Division may make such order in the suit or proceeding as it thinks fit. 
 
(5) Notwithstanding the substitution of this section, any proceeding commenced and pending under section 115 prior to such substitution shall be disposed of in such manner as if section 115 has not been substituted.
৬,৮২৩.
ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা-২৪১ক এর প্রায় অনুরূপ আরেকটি ধারা কোনটি?
  1. ২৬৫ক
  2. ২৬৫গ
  3. ২৬৫ঘ(১)
  4. কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা- ২৪১ক মোতাবেক আসামী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট হাজির হলে বা তাকে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট  মামলার নথি ও তৎসহ দাখিলকৃত যাবতীয় কাগজপত্র বিবেচনা করে যদি ম্যাজিস্ট্রেট  প্রয়োজন মনে করেন সেই মোতাবেক আসামীর জবানবন্দী গ্রহণ করে এবং ফরিয়াদী ও আসামীকে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দান করে যদি মনে করেন যে, অভিযোগ ভিত্তিহীন তাহলে তিনি আসামীকে অব্যাহতি দিবেন এবং এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা- ২৬৫গ মোতাবেক মামলার নথি এবং তার সাথে দাখিলী দলিলাদি বিবেচনা এবং তৎসম্পর্কে আসামী ও সরকার পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত যদি মনে করেন যে, আসামীর বিরুদ্ধে মামলা চালানোর কোনই কারণ নেই, তাহলে আদালত আসামীকে অব্যাহতি দিবেন এবং তদ্রুপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।
৬,৮২৪.
দণ্ডবিধির ২৮০ ধারার অধীনে বেপরোয়া নৌযান চালানোর জন্য শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমাণ কী?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ১০০০ টাকা
  3. ১৫০০ টাকা
  4. ২০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
→ দণ্ডবিধির ২৮০ ধারা অনুযায়ী, বেপরোয়া বা অবহেলায় নৌযান চালানোর জন্য সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড হিসেবে ১০০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

- দণ্ডবিধির ২৮০ ধারা বেপরোয়াভাবে নৌযান চালনা:- কোন ব্যক্তি যদি এমন বেপরোয়াভাবে বা অবহেলার সাথে কোন নৌযান চালনা করে, যার কারণে কোন মানুষের জীবন বিপদাপন্ন হয় অথবা অপর কোন ব্যক্তির আঘাত লাগার বা জখম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
------------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section 280. Rash navigation of vessel:- Whoever navigates any vessel in a manner so rash or negligent as to endanger human life, or to be likely to cause hurt or injury to any other person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
৬,৮২৫.
'Principles of rectification'- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ৩১ ধারা
  2. ৩২ ধারা
  3. ৩৩ ধারা
  4. ৩৪ ধারা
ব্যাখ্যা
The Specific Relief Act, 1877- Section 33. Principles of rectification:
 In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be.

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারায় দলিল সংশোধনের সময় আদালত কর্তৃক অনুসৃত নীতির বিধান রয়েছে। ৩৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, একটি লিখিত দলিল সংশোধনের সময় দলিল দ্বারা কি বুঝাতে চাওয়া হয়েছিল এবং চুক্তির বৈধ ফলাফল বিষয়ে পক্ষসমূহের কি অভিপ্রায় ছিল আদালত সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারবেন। শুধুমাত্র দলিলের ভাষা দ্বারা পক্ষসমূহ কি অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে চেয়েছিল আদালত এই বিষয়েই অনুসন্ধান সীমিত রাখবেন না। অর্থাৎ দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে আদালত পক্ষগণের ইচ্ছা কি ছিল তা খুঁজে বের করবেন এবং সে ইচ্ছা কার্যকর করবেন। এরূপ ক্ষেত্রে আদালত শুধুমাত্র দলিলের গঠনের দিকে না তাকিয়ে দলিলের মূল বিষয়ের উপর লক্ষ্য দেবেন।
৬,৮২৬.
সরকার পক্ষের আইনজীবীর দায়িত্ব কী?
  1. আসামীর শাস্তি নিশ্চিত করা
  2. মামলায় জয় লাভ করা
  3. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
• 'Canons of Professional Conduct and Etiquette' এর অধ্যায় ৩- আদালতের প্রতি আইনজীবীদের কর্তব্য (সারমর্ম):

১- আদালতের মর্যাদা রক্ষা:
আইনজীবীদের আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাবনত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করা উচিত। বিচারকদের বিরুদ্ধে অন্যায্য সমালোচনা ও কুৎসা থেকে সুরক্ষা প্রদান আইনজীবী সমাজের দায়িত্ব। তবে, যথার্থ অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রতিকার চাওয়া তাদের অধিকার।

২- সাক্ষী সম্পর্কে পরামর্শ:
মামলার প্রমাণ নির্ধারণে সহায়ক ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণকে দুষপ্রাপ্য করার পরামর্শ আইনজীবীদের দেওয়া উচিত নয়।

৩- ভুল উদ্ধৃতি না করা:
বিচারকদের কাছে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উদ্ধৃতি বা বাতিল হওয়া নজির পেশ করা উচিত নয়।

৪- আচরণ ও গোপন আলোচনা:
বিচারকদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণমূলক কিছু করা উচিত নয় এবং গোপনে বিচারকের সঙ্গে মামলার গুনাগুন বিষয়ে আলোচনা করা উচিত নয়।

৫- সরকার পক্ষে আইনজীবীর দায়িত্ব:
আসামীর শাস্তি নিশ্চিত করা নয়, বরং ন্যায় বিচার হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা সরকারের আইনজীবীর দায়িত্ব।


৬- পত্রিকায় প্রকাশ:
বিচারাধীন মামলার তথ্য পত্রিকায় প্রকাশ করা উচিত নয়, কারণ তা মামলার স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে।

৭- বিচারক নিয়োগ:
আইনজীবীদের বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনার বিরোধিতা করা উচিত এবং যোগ্য বিচারক নিয়োগে সক্রিয় থাকা উচিত।

৮- মামলা ডাকার সময় উপস্থিতি:
আইনজীবীদের আদালতে মামলার সময় উপস্থিত থাকা উচিত বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

৯- মতামত প্রদান:
নিজে জড়িত না থাকা মামলায় স্বেচ্ছায় মতামত প্রদান করা উচিত নয়, তবে আদালতের আহবানে মতামত প্রদান করা যেতে পারে।
৬,৮২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৩(৩) অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট A–কে B–র কাছ থেকে চুরি করার জন্য দণ্ডিত করেন। একই ঘটনার ভিত্তিতে A–কে দস্যুতার অভিযোগে-
  1. পরবর্তীতে বিচার করা যাবে
  2. নতুন অভিযোগ গ্রহণ করা যাবে না
  3. পরবর্তীতে বিচার করা যাবে না
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো- ক) পরবর্তীতে বিচার করা যাবে।

কারণ:
ধারা ৪০৩(৩) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যে অপরাধে দণ্ডিত হয়েছে, যদি সেই কাজের ফলে পরবর্তীতে এমন কিছু ঘটে যা একটি নতুন ও ভিন্ন অপরাধ সৃষ্টি করে, এবং যা দণ্ডাদেশের সময় ঘটেনি বা জানা ছিল না- তাহলে তাকে সেই নতুন অপরাধে পরবর্তীতে বিচার করা যাবে।

ধারা ৪০৩ – একবার দণ্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একই অপরাধে পুনরায় বিচার করা যাবে না:
(১) কোনো ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধে উপযুক্ত আদালতে বিচারপ্রাপ্ত হয়ে দণ্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত হন, এবং সেই দণ্ড বা খালাস বলবৎ থাকে- তাহলে তাকে একই অপরাধের জন্য আবার বিচার করা যাবে না। এমনকি একই ঘটনার ভিত্তিতে এমন কোনো ভিন্ন অভিযোগেও বিচার করা যাবে না, যা ধারা ২৩৬ অনুযায়ী আনা যেত বা ধারা ২৩৭ অনুযায়ী যার জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা যেত।

(২) কোনো ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধে খালাসপ্রাপ্ত বা দণ্ডিত হন, তবুও তিনি ভিন্ন ও পৃথক কোনো অপরাধে পরবর্তীতে বিচারিত হতে পারেন- যদি ধারা ২৩৫(১) অনুযায়ী আগের বিচারেই তাকে আলাদা অভিযোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেত।

(৩) কোনো ব্যক্তি যে অপরাধে দণ্ডিত হয়েছে, যদি সেই কাজের ফলে পরবর্তীতে এমন কিছু ঘটে যা একটি নতুন ও ভিন্ন অপরাধ সৃষ্টি করে, এবং যা দণ্ডাদেশের সময় ঘটেনি বা জানা ছিল না- তাহলে তাকে সেই নতুন অপরাধে পরবর্তীতে বিচার করা যাবে।

(৪) কোনো ব্যক্তি একই কাজের ভিত্তিতে কোনো অপরাধে খালাসপ্রাপ্ত বা দণ্ডিত হলেও, যদি প্রথম আদালত পরবর্তীতে যার জন্য বিচার হবে সেই অপরাধটি বিচার করার ক্ষমতা না রাখে, তাহলে তাকে সেই অপরাধে পরবর্তীতে বিচার করা যাবে।

(৫) এই ধারার কিছুই General Clauses Act, 1897-এর ধারা ২৬ বা CrPC-এর ধারা ১৮৮–এর বিধানকে বাধাগ্রস্ত করবে না।

ব্যাখ্যা: যে পরিস্থিতিতে- অভিযোগ খারিজ, ধারা ২৪৯ অনুসারে কার্যক্রম স্থগিত, অথবা অভিযুক্তের ডিসচার্জ- এসবকে এই ধারার উদ্দেশ্যে খালাস হিসেবে গণ্য করা হবে না।

Illustrations (উদাহরণসমূহ)
(a) A একজন চাকর হিসেবে চুরি করার অভিযোগে বিচার হয়ে খালাস পায়। তাকে একই ঘটনার ভিত্তিতে চাকর হিসেবে চুরি, সাধারণ চুরি, অথবা অপরাধমূলক আত্মসাৎ-এই কোনোটিতেই পুনরায় বিচার করা যাবে না।

(b) A হত্যার অভিযোগে বিচার হয়ে খালাস পায়। বিচারের সময় দেখা যায়, হত্যার সময় সে ডাকাতিও করেছে। তাকে পরে ডাকাতির অভিযোগে বিচার করা যাবে।

(c) A গুরুতর আঘাত করার অপরাধে দণ্ডিত হয়। পরে আহত ব্যক্তি মারা গেলে- A কে culpable homicide–এর অভিযোগে পুনরায় বিচার করা যাবে।

(d) A সেশন কোর্টে B–কে হত্যার (culpable homicide) অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়। পরে একই ঘটনার ভিত্তিতে তাকে মার্ডার–এর অভিযোগে বিচার করা যাবে না।

(e) A কে প্রাথমিক আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট B–কে আঘাত করার অপরাধে দণ্ডিত করে। একই ঘটনার ভিত্তিতে তাকে গুরুতর আঘাত (grievous hurt)–এর অভিযোগে বিচার করা যাবে না- যদি না এটি উপ-ধারা (৩)-এর আওতায় আসে (যেমন: আঘাতের ফল পরে গুরুতর হয়েছে ইত্যাদি)।

(f) দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট A–কে B–র কাছ থেকে চুরি করার জন্য দণ্ডিত করেন। একই ঘটনার ভিত্তিতে তাকে robbery–র অভিযোগে পরবর্তীতে বিচার করা যাবে।

(g) A, B, C–কে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট D–কে ডাকাতি করার অপরাধে দণ্ডিত করেন। একই ঘটনার ভিত্তিতে তাদের dacoity–এর অভিযোগে পরবর্তীতে বিচার করা যাবে।

৬,৮২৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ৮ এর আওতায় আদালত নোটিশ জারীর জন্য কার কাছ থেকে খরচ গ্রহণ করবে?
  1. বাদী
  2. বিবাদী
  3. স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি
  4. আদালতের রেজিস্টার
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১ নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা (Representative Suit) এর বিধান রয়েছে। যদি অনেক ব্যক্তির একই স্বার্থ থাকে, তবে আদালতের অনুমতিক্রমে, এক বা একাধিক ব্যক্তি সকলের পক্ষে মামলা করতে পারে। এভাবে তারা অন্যান্যদের প্রতিনিধিত্ব করে। 

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ৮ এর বিধান: একই ব্যক্তি একই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষে মামলা করতে বা আত্মপক্ষ সমৰ্থন করতে পারে:
(১) যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ নিহিত থাকে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে এরূপ এক বা একাধিক ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির পক্ষে বা উপকারার্থে এরূপ মামলা করতে বা মামলায় বিবাদী হতে বা অভিযোগের জবাব দিতে পারে। কিন্তু এরূপ ক্ষেত্রে আদালত বাদীর খরচায় অনুরূপ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলকে মামলা দায়ের সম্পর্কে ব্যক্তিগত জারীর মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করবেন যেক্ষেত্রে লোকের সংখ্যাধিক্যের বা অন্য কোন কারণে এরূপ নোটিশজারী যুক্তসঙ্গতভাবে উপযোগী না হয়, গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, প্রত্যেকক্ষেত্রে আদালত যে ভাবেই নির্দেশ দেন।
(২) উপ-বিধি (১) অনুসারে যে কোন ব্যক্তি যাদের পক্ষে বা উপকারার্থ কোন মামলা দায়ের করা হয়েছে বা অভিযোগের জবাব দেয়া হয়েছে, এরূপ মামলায় পক্ষ হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order 1 Rule 8: One person may sue or defend on behalf of all in the same interest-
1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Cour sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plaintiff's expense, notice of the institution of the suit to all such personnel either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct

2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.
৬,৮২৯.
প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক কত টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করলে, উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না?
  1. ৫০ টাকা
  2. ১০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
ধারা ৪১৩- তুচ্ছ মামলার ক্ষেত্রে [Petty Cases] আপিল-
 
ফৌজদারী কার্যবিধির ৪১৩ ধারা অনুসারে কোন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে না, যদি দায়রা আদালত অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে বা দায়রা আদালত বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ৫০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করে।

অন্যদিকে, যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে, আদালত দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে আপিল করা যাবেনা।
 
[Notwithstanding anything hereinbefore contained, there shall be no appeal by a convicted person in cases in which a Court of Session passes a sentence of imprisonment not exceeding one month only, or in which a Court of Session or Chief Judicial Magistrate or Metropolitan Magistrate or other Magistrate of the first class passes a sentence of fine not exceeding fifty Taka only.
Explanation- There is no appeal from a sentence of imprisonment passed by such Court or Magistrate in default of payment of fine when no substantive sentence of imprisonment has also been passed.]
৬,৮৩০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৫ অনুযায়ী, যদি আদালত মনে করে যে গ্রেপ্তার, জব্দ বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অযথা কারণে চাওয়া হয়েছে, তাহলে আদালত কী করতে পারে?
  1. মামলা বাতিল করবে
  2. ক্ষতিপূরণ আদায় করবে
  3. মামলার ফলাফল স্থগিত করবে
  4. একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করতে নির্দেশ দেবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ক্ষতিপূরণ আদায় করবে। 
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৫(১) অনুযায়ী, যদি আদালত মনে করে যে কোনো গ্রেপ্তার, জব্দ বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অযথা কারণে চাওয়া হয়েছে, অথবা মামলাটি ব্যর্থ হয়েছে এবং আদালত মনে করে যে, এটি করার জন্য যথাযোগ্য ও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল না, তখন আদালত বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিতে পারে।
- এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আদালত ১০,০০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করবে, তবে আদালতের আর্থিক এখতিয়ার অনুসারে এর সীমা থাকতে পারে।

- এছাড়া, ধারা ৯৫(২) অনুসারে, একবার যদি আদালত ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়, তাহলে তার পরে আর কোনো নতুন মামলা ক্ষতিপূরণের জন্য করা যাবে না। এটি চূড়ান্ত আদেশ হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908,Section 95.Compensation for obtaining an arrest, attachment or injunction on insufficient grounds.
(1) Where, in any suit in which an arrest or attachment has been effected or a temporary injunction granted under the last proceeding section,- 
(a) it appears to the Court that such arrest, attachment or injunction was applied for on insufficient grounds, or 
(b) the suit of the plaintiff fails and it appears to the Court that there was no reasonable or probable ground for instituting the same. 
the defendant may apply to the Court, and the Court may, upon such application, award against the plaintiff by its order such amount, not exceeding ten thousand Taka, as it deems a reasonable compensation to the defendant for the expense or injury caused to him: 
Provided that a Court shall not award, under this section, an amount exceeding the limits of its pecuniary jurisdiction. 
(2) An order determining any such application shall bar any suit for compensation in respect of such arrest, attachment or injunction.
৬,৮৩১.
এজাহার সম্পর্কে নিম্মলিখিত কোন তথ্যটি সত্য-?
  1. এজাহার একটি চূড়ান্ত সাক্ষ্য
  2. এজাহার কোন মূল সাক্ষ্য না
  3. ঘটনা সম্পর্কে অবগত যেকোন ব্যক্তি এজাহার দায়ের করতে পারে
  4. খ ও গ উভয়
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা এজাহারের (FIR) বিধান রয়েছে। এছাড়া পুলিশ প্রবিধানের (PRB) ২৪৩ বিধিতে FIR বর্ণিত রয়েছে। FIR এর পূর্ণরূপ হচ্ছে First Information Report। আমলযোগ্য কোন অপরাধ সংঘটিত হলে থানায় লিখিতভাবে বা মৌখিকভাবে খবর দিলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক তা ১৫৪ ধারানুযায়ী বি.পি. ২৭ নং ফরমে লিপিবদ্ধ করা হয় যা FIR বা প্রাথমিক তথ্য বিবরণী নামে পরিচিত।
♦অর্থাৎ আমলযোগ্য কোন অপরাধ সংঘটিত হলে থানায় লিখিতভবে কিংবা মৌখিকভাবে খবর দিলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক তা নির্ধারিত বইতে লিপিবদ্ধ করাকে এজাহার বলে।
♦প্রাথমিক তথ্য বিবরনী কোন মূল সাক্ষ্য না। অর্থাৎ শুধুমাত্র প্রাথমিক তথ্য বিবরণীর উপর ভিত্তি করে কোন দণ্ড দেওয়া যাবে না।
৬,৮৩২.
Judicial Confession হলো-
  1. ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ আসামীর দোষ স্বীকার
  2. পুলিশের নিকট দোষ স্বীকার
  3. অভিযোগকারীর নিকট দোষ স্বীকার
  4. জনগণের নিকট দোষ স্বীকার
ব্যাখ্যা
⇒ স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার (Confession)- কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করে যে বক্তব্য দেয়, তাকে স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার (Confession) বলে। ল্যাটিন প্রবচন nemo tenetur seipsum accusare এর বাংলা অর্থ হল কোন ব্যক্তিকে নিজেকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে বাধ্য করা যায় না। সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারাতেও বলা হয়েছে "কোন ব্যক্তিকে দোষ স্বীকার করতে বাধ্য করা হলে তা অপ্রাসঙ্গিক হবে।"

⇒ সুতরাং কোন আসামী যদি ক্ষমতাবান ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট কোন প্রকার ভয় ভীতি প্রদর্শন, প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি ব্যতীত স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে, তবে তাকে স্বীকারোক্তি বা Confession বলা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৪ থেকে ৩০, ৮০, ১১৪ (বি), ১৩৩; ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪, ৩৬৪, ৩৩৭ ধারা: দন্ডবিধির ৩৩০, ৩৪৮ ধারা এবং সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদে Confession বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
৬,৮৩৩.
সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারায় কার অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে সাজা দেয়া হলে, কেবলমাত্র সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনী হইবে না?
  1. বৈরি সাক্ষীর
  2. নাবালক সাক্ষীর
  3. দুষ্কর্মের সহযোগীর
  4. স্বামী বা স্ত্রীর
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারা- দুষ্কর্মে সহযোগী:
দুষ্কর্মের সহযোগী অভিযুক্তরবিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলিয়া গন্য হইবেন। দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে সাজা দেওয়া হইলে, কেবলমাত্র সেই কারণেই উক্ত সাজা বেআইনী হইবে না।

Section-133. Accomplice:
An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
৬,৮৩৪.
গ্রেফতারী পরোয়ানা অনুযায়ী আটককৃত ব্যক্তিকে কত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে?
  1. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
  2. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে
  3. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে
  4. অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়া
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারায় বিনা গ্রেফতারী পরোয়ানায় আটককৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং ৮১ ধারায় গ্রেফতারী পরোয়ানা অনুযায়ী আটককৃত ব্যক্তিকে অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়া আদালতে হাজির করতে হবে।
 
• ধারা ৮১- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব আদালতে উপস্থিত করতে হবে:
গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকর করছেন এমন পুলিশ অফিসার অথবা অন্য কোন ব্যক্তি (জামিন বিষয়ে ৭৬ ধারার বিধানের প্রেক্ষিতে) অনাবশ্যক বিলম্ব ব্যতিরেকেই গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে সেই আদালতে হাজির করবেন, যেখানে হাজির করতে তিনি আইনতঃ বাধ্য।
 
Section 81: Person arrested to be brought before Court without delay-
The police- officer or other person executing a warrant of arrest shall (subject to the provisions of section 76 as to security) without unnecessary delay bring the person arrested before the Court before which he is required by law to produce such person.
৬,৮৩৫.
চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর কার অনুমোদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়?
  1. পুলিশ সুপার
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. তদন্তকারী অফিসার
ব্যাখ্যা

→ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পুলিশ রিপোর্ট বা প্রতিবেদন:

- মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা আদালতের নিকট যে প্রতিবেদন দাখিল করেন, তাকে পুলিশ রিপোর্ট বলা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩-তে পুলিশ রিপোর্ট সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
পুলিশ রিপোর্ট সাধারণত দুই প্রকার—
১) চার্জশিট (Charge Sheet):
- যদি প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকে চার্জশিট বলে। এর ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যান।
২️) চূড়ান্ত প্রতিবেদন (Final Report): 
- যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা বা পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া না যায়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বলা হয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি (Discharge) দেন।

৬,৮৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ক ধারা অনুযায়ী, সরকার কোন প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করার সময় কী করতে পারবেন?
  1. সরকারি গেজেটে নোটিফিকেশন জারি করতে পারবেন
  2. অভিমতের ভিত্তি বিবৃতি দিতে পারবেন
  3. পুলিশ অফিসারকে তল্লাশি করার নির্দেশ দিতে পারবেন
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবকটি।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ক ধারা অনুযায়ী, সরকার যখন কোন প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে, তখন তাদের তিনটি কাজ করতে হয়:
- সরকারি গেজেটে নোটিফিকেশন জারি করতে হবে, যাতে সরকার প্রকাশনাটি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে এবং এর কারণ উল্লেখ করে।
- অভিমতের ভিত্তি বিবৃতি দিতে হবে, অর্থাৎ সরকার কেন এই প্রকাশনাটি বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করছে, তার বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।
- পুলিশ অফিসারকে তল্লাশি করার নির্দেশ দিতে হবে, যাতে পুলিশের পক্ষ থেকে বাজেয়াপ্তকৃত প্রকাশনাগুলি খুঁজে এবং উদ্ধার করা যায়।
এই তিনটি পদক্ষেপ একসাথে গ্রহণ করার মাধ্যমে সরকার বাজেয়াপ্তকৃত প্রকাশনাগুলি উদ্ধারের জন্য কার্যক্রম শুরু করে।


⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ক ধারার বিধান: কতকগুলি প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করা হলো বলে ঘোষণা করার ও উহার জন্য তল্লাশি পরোয়ানা দিবার ক্ষমতা:
(১) যেক্ষেত্রে সরকারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোন সংবাদপত্রে বা গ্রন্থে বা কোন দলিলে, তা যেখানেই মুদ্রিত হোক না কেন, নিম্নে বর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে-
(ক) কোন বিষয়বস্তু, যার প্রকাশনা দণ্ডবিধি (১৮৬০ সনের ৪৫নং আইন)-এর ধারা-১২৩এ অথবা ১২৪এ অথবা ১৫৩এ অথবা ২৯২ অথবা ২৯৫এ অথবা ৫০৫ অথবা ৫০৫এ মতে দণ্ডনীয়,
(খ) কোন বিষয়বস্তু যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, সরকারের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পীকার, অথবা বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির জন্য মানহানিকর, অথবা
(গ) এরূপ কোন বিষয়বস্তু রয়েছে যা অত্যন্ত শিষ্ঠাচারহীন বা অশ্লীল অথবা কুৎসিত, অথবা
(ঘ) কোন কথা, বা দৃষ্টিগোচর আচরণ, যা কোন ব্যক্তিকে বা কোন শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গকে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনে উত্তেজিত করে বা করতে পারে,

সেক্ষেত্রে সরকার, সরকারি গেজেট গেজেট নোটিফিকেশন কর্তৃক, উহার অভিমতের ভিত্তি বিবৃতি করে, অনুরূপ বিষয়বস্তু, কথা বা দৃষ্টিগোচর আচরণ সম্বলিত গ্রন্থ অথবা অন্য কোন প্রকার দলিল সরকারে বাজেয়াপ্ত বলে ঘোষণা করতে পারবেন, এবং অতঃপর যে কোন পুলিশ অফিসার বাংলাদেশের যে স্থানে পরিদৃষ্ট হোক না কেন, সে স্থানেই তা আটক করতে পারবেন এবং যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট পরোয়ানা জারি দ্বারা সাব-ইন্সপেক্টর-এর চেয়ে নিম্নের পদাধিকারী নহেন এরূপ যে কোন পুলিশ অফিসারকে ক্ষমতা দিতে পারবেন এরূপ সকল প্রাঙ্গণে তল্লাশি করার, যেখানে উক্ত গ্রন্থ বা অন্য কোন দলিলের যেকোনো সংখ্যা খুঁজে পাওয়া যাবে অথবা পাওয়া যাবার সংগত সন্দেহ করা যেতে পারে।

(২) উপধারা (১) এ "সংবাদপত্র", "গ্রন্থ" এবং "দলিল" শব্দগুলো মুদ্রণালয় ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইন, ১৯৭৩ (১৯৭৩ সনের ২৩নং আইন)-এ যে অর্থ দেয়া আছে, সেই একই অর্থ বহন করবে।
৬,৮৩৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৩৭ অনুসারে, দেওয়ানী আদালতের কার্যভাষা নির্ধারণ করার বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কে নিতে পারে?
  1. সরকার
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. সংশ্লিষ্ট আদালত
  4. আইন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৩৭ অনুযায়ী, দেওয়ানী আদালতের কার্যভাষা নির্ধারণ বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করতে পারে।
- ধারা ১৩৭-এর মূল বিষয়বস্তু:
১৩৭(১): দেওয়ানী কার্যবিধি কার্যকর হওয়ার সময় যে ভাষা কোনো অধস্তন আদালতের কার্যভাষা ছিল, সেটিই কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ না সরকার অন্য কোনো নির্দেশনা প্রদান করে।
১৩৭(২): সরকার নির্ধারণ করতে পারে কোন ভাষায় দেওয়ানী আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং আদালতে ব্যবহৃত আবেদন ও অন্যান্য নথি কোন ভাষায় লেখা হবে।
১৩৭(৩): আদালতে কোনো নথি ইংরেজিতে লেখা যেতে পারে, তবে যদি কোনো পক্ষ বা তার আইনজীবী ইংরেজি ভাষা বুঝতে না পারেন, তাহলে তার অনুরোধে আদালতের ভাষায় অনুবাদ সরবরাহ করতে হবে। 

অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৭ ধারার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, সরকারই দেওয়ানী আদালতের কার্যভাষা নির্ধারণ ও পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশনা দিতে পারে।
--------------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 137. Language of subordinate Courts:
(1) The language which, on the commencement of this Code, is the language of any Court subordinate to the High Court Division shall continue to be the language of such subordinate Court until the Government otherwise directs. 
(2) The Government may declare what shall be the language of any such Court and in what character applications to and proceedings in such Courts shall be written. 
(3) Where this Code requires or allows anything other than the recording of evidence to be done in writing in any such Court, such writing may be in English; but if any party or his pleader is unacquainted with English a translation into the language of the Court shall, at his request, be supplied to him; and the Court shall make such order as it thinks fit in respect of the payment of the costs of such translation.
৬,৮৩৮.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারায় দায়রা জজ অপরাধ আমলে নিতে পারেন?
  1. ১৯৩ ধারায়
  2. ১৯০ ধারায়
  3. ১৯৫ ধারায়
  4. ১৯৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৩ ধারায় দায়রা আদালতকে অপরাধ আমলে নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

• অপরাধ আমলে নেওয়া অর্থ আদালত কর্তৃক কোন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করা।কোন অপরাধ সংঘটিত হলে আদালতে অথবা থানায় অপরাধের অভিযোগ করা যায়।আদালত অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর তা বিচারের জন্য গ্রহণ করবেন অথবা খারিজ বা ফেরত দিবেন।যদি তিনি গ্রহণ করে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন তখন তাকে অপরাধ আমলে নেয়া বলে।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৩ ধারামতে,
দায়রা আদালতের সরাসরি মামলা আমলে নেয়ার এখতিয়ার নেই,ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নেয়ার পর দায়রা আদালতে প্রেরণ করলে দায়রা আদালত বিচারার্থে অপরাধ আমলে নিতে পারেন।অর্থাৎ দায়রা আদালত মূল এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত নয়,তবে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ২০৫(গ) ধারায় মামলা পাঠানো হলেই কেবল উক্ত মামলা দায়রা জজ আমলে নিয়ে বিচার করতে পারেন।

এই ধারার অধীন অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ ও অপরাধ আমলে নিতে পারেন।নিম্নলিখিত ২টি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ অপরাধ আমলে নিতে পারে । যথা-
i) সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা বিচারের নির্দেশ দিলে; অথবা
ii) দায়রা জজ বিচারের জন্য অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজকে অর্পণ করলে।
৬,৮৩৯.
‘A’ এর নিকট প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র এবং মামলার বিষয় বস্তু ছাড়া কত টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকলে, ‘A’ কে নিঃস্ব ব্যক্তি বলে গণ্য করা হবে?
  1. ৫,০০ টাকা
  2. ১,০০০ টাকা
  3. ৩,০০০ টাকা
  4. ৫,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৩ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মোকদ্দমা  দায়ের করতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিতে অক্ষম বা যে ক্ষেত্রে কোন কোর্ট ফি নির্ধারন থাকে না সেক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র এবং মামলার বিষয়বস্তু ছাড়া ৫০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকলে উক্ত ব্যক্তি নিঃস্ব হিসেবে গণ্য হবে।
⇒ নিঃস্ব ব্যক্তি হিসেবে মামলা করার অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে।
⇒ তবে আবেদন প্রত্যাখ্যান হবে যদি আবেদনের ২ মাস পূর্বে প্রতারনামূলক সম্পত্তি হস্তান্তর করে।

অর্থাৎ ‘A’ এর নিকট প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র এবং মামলার বিষয় বস্তু ছাড়া ৫,০০০ টাকার বেশি সম্পত্তি না থাকলে, ‘A’ কে নিঃস্ব ব্যক্তি বলে গণ্য করা হবে।
৬,৮৪০.
ধারা ৪৯৮ অনুসারে জামিনের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত কী নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. শুধু জামিন মঞ্জুর করার
  2. শুধু জামানত হ্রাস করার
  3. জামিনের আবেদন বাতিলের
  4. জামিন মঞ্জুর করা বা জামানত হ্রাস করা
ব্যাখ্যা
• আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮):
আটক হবার বা গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই জামিন মঞ্জুর করাকে আগাম জামিন বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধানমতে আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করতে পারে, যাকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশের গ্রেফতার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

৪৯৮ ধারার বিধানমতে নিম্নোক্ত আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করতে পারে:
১. হাইকোর্ট বিভাগ;
২. দায়রা আদালত।

তাছাড়া এই ধারা অনুসারে,
হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামানত হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন।

Section 498: Power to direct admission to bail or reduction of bail:
The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.
৬,৮৪১.
'ক'  কতিপয় সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে। 'খ' দাবী করে যে 'খ' উক্ত সম্পত্তির মালিক এবং এই কারণে 'ক' উক্ত সম্পত্তি খ-কে অর্পণ করা আবশ্যক । এই ক্ষেত্রে 'ক' এর নিম্নলিখিত কোন প্রতিকারটি সঠিক?
  1. ঘোষণামূলক মামলা দায়ের
  2. দখল উদ্ধারের মামলা
  3. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা
  4. চুক্তি বলব এর মামলা
ব্যাখ্যা
♦ 'খ'  দাবী করছে যে সে উক্ত সম্পত্তির মালিক তাই এখানে 'খ' সম্পত্তিতে 'ক' এর মালিকানা অস্বীকার করছে। এই ক্ষেত্রে 'ক' যে উক্ত সম্পত্তির মালিক এমন ঘোষণা চেয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করলে হবে কারণ বাদী ক সম্পত্তির দখলে আছে।

♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক বিধান রয়েছে । কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে। ~

♦ সুতরাং শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্ত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে। ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে।
♦ অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree ) বলে।
৬,৮৪২.
'ক' কতিপয় সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে। 'খ' দাবি করে যে 'খ' উক্ত সম্পত্তির মালিক এবং এই কারণে 'ক' উক্ত সম্পত্তি খ-কে অর্পণ করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে 'ক' কত দিনের মধ্যে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক বিধান রয়েছে । কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মোকদ্দমা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা বা 'Declaratory Sui't বা 'Suit for Declaration' বলে।
 
তামাদি আইনে ঘোষণামূলক মোকদ্দমার কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। এই আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে-সকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়।
-ঘোষণামূলক মামলার প্রকৃত কারণ উদ্ভব হওয়ার সময় হতে ৬ বছরের মধ্যে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে হবে।
৬,৮৪৩.
দণ্ডবিধির ২৩০ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিতগুলোর মধ্যে কোনটি 'মুদ্রা' হিসেবে গণ্য হবে?
  1. কড়ি (কাউরি)
  2. পদক (মেডেল)
  3. ফরুখাবাদী টাকা
  4. স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারায় "মুদ্রা" বলতে সরকার বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতায় স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে বোঝানো হয়েছে, যা অর্থরূপে ব্যবহৃত হয় বা হওয়ার জন্য তৈরি। "বাংলাদেশি মুদ্রা" হিসেবে এমনকি ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেলেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তা মুদ্রা গণ্য হয়। উদাহরণ (e) অনুসারে, "ফরুখাবাদ" টাকা পূর্বে ভারত সরকারের কর্তৃত্বে অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবে গণ্য। অন্য অপশনগুলো (কড়ি, মেডেল, স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো) স্ট্যাম্পযুক্ত বা ইস্যুকৃত নয়, তাই মুদ্রা নয়।
অতএব, সঠিক উত্তর: গ) ফরুখাবাদী টাকা।

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারার বিধান: 'মুদ্রার' সংজ্ঞা:- বর্তমানে অর্থরূপে ব্যবহৃত এবং অনুরূপে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কোন রাষ্ট্রে বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতাধীনে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে মুদ্রা বলে।
- বাংলাদেশি মুদ্রা:- বাংলাদেশি মুদ্রা বলতে বাংলাদেশের সরকারের ক্ষমতাধীন অর্থরূপে ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বুঝাবে; এবং অর্থরূপে, ব্যবহার রহিত হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অনুরূপভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বাংলাদেশি মুদ্রা বলে পরিচিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) কড়ি (কাউরি) মুদ্রা নয়।
(খ) স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো, যদিও তা অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়, মুদ্রা নয়।
(গ) মেডেল মুদ্রা নয়, কারণ সেগুলো অর্থরূপে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় না।
(ঘ) কোম্পানির টাকা নামে পরিচিত মুদ্রা রানির মুদ্রা।
(ঙ) "ফরুখাবাদ" টাকা, যা পূর্বে ভারত সরকারের কর্তৃত্বে অর্থরূপে ব্যবহৃত হতো, তা বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবেই গণ্য হবে, যদিও তা এখন আর ব্যবহৃত হয় না।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 230. “Coin” defined Bangladesh coin:
- Coin is metal used for the time being as money, and stamped and issued by the authority of some State or Sovereign Power in order to be so used.
- Bangladesh coin is metal stamped and issued by the authority of the Government in order to be used as money; and metal which has been so stamped and issued shall continue to be Bangladesh coin for the purposes of this Chapter, notwithstanding that it may have ceased to be used as money.

Illustrations:
(a) Cowries are not coin.
(b) Lumps of unstamped copper, though used as money, are not coin.
(c) Medals are not coin, inasmuch as they are not intended to be used as money.
(d) The coin denominated as the Company's taka is the Queen's coin.
(e) The "Farukhabad" taka, which was formerly used as money under the authority of the Government of India, is Bangladesh coin although it is no longer so used.

৬,৮৪৪.
ধারা ৫৪০ক(৩) অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন শুনানির তারিখ পর্যন্ত অভিযুক্তের উপস্থিতি মওকুফ করা যাবে যদি-
  1. তিনি অসুস্থ হন
  2. তিনি পলাতক থাকেন
  3. তিনি আদালতে হাজির হন
  4. তিনি জামিনে থাকেন
ব্যাখ্যা

ধারা ৫৪০ক: "নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে তদন্ত ও বিচার পরিচালনার বিধান":
(১) এই কোডের অধীনে তদন্ত বা বিচারের যে কোনো পর্যায়ে  যদি বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট, কারণ লিপিবদ্ধ করে সন্তুষ্ট হন যে, অভিযুক্তদের মধ্যে যে কেউ বা একাধিক জন আদালতে উপস্থিত থাকার জন্য অক্ষম, তবে তিনি, যদি ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি [একজন আইনজীবী] দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করেন, তার উপস্থিতি মওকুফ করতে পারেন এবং তার অনুপস্থিতিতে ওই তদন্ত বা বিচার পরিচালনা করতে পারেন, এবং পরবর্তী যে কোনো পর্যায়ে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত উপস্থিতি নির্দেশ দিতে পারেন।

(২) যদি এই ধরনের কোনো মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি [একজন আইনজীবী] দ্বারা প্রতিনিধিত্ব না করেন, অথবা যদি বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি প্রয়োজনীয় মনে করেন, তবে তিনি উপযুক্ত মনে করলে এবং কারণ লিপিবদ্ধ করে, ওই তদন্ত বা বিচার মুলতবি করতে পারেন, অথবা ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির মামলা আলাদাভাবে গ্রহণ বা বিচার করার আদেশ দিতে পারেন।

(৩) এই কোডের অধীনে তদন্তের পর্যায়ে, বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করে, যে অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে আছেন এবং একজন আইনজীবী দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করছেন, তদন্ত প্রতিবেদন শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি মওকুফ করতে পারেন।

৬,৮৪৫.
গ্রেফতার করার সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো যাবে, যদি উক্ত ব্যক্তি-
  1. আমলযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়
  3. মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি ৪৬ ধারা: গ্রেপ্তারের পদ্ধতি
৪৬(১) ধারা:
যদি কথাবার্তা বা কাজের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়, তাহলে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির দেহ স্পর্শ করতে পারবে না।

৪৬(২) ধারা:
যদি কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার হতে বাধা দেন বা গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে আইনি পন্থা অবলম্বন করতে পারবে।

৪৬(৩) ধারা:
যদি ব্যক্তিটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হয়, তবে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো যাবে না।

Section 46: Arrest how made-
(1) In making an arrest the police-officer or other person making the same shall actually touch or confine the body of the person to be arrested, unless there be a submission to the custody by word or action.
(2) If such person forcibly resists the endeavor to arrest him, or attempts to evade the arrest, such police-officer or other person may use all means necessary to effect the arrest. 
(3) Nothing in this section gives a right to cause the death of a person who is not accused of an offence punishable with death or with transportation for life.
৬,৮৪৬.
'আদালত চুক্তির আংশিক কার্য সম্পাদনের আদেশ দিতে পারবে না'- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা এই সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম?
  1. ৯ থেকে ১২ ধারা
  2. ১৪ থেকে ১৬ ধারা
  3. ১৮ থেকে ২১ ধারা
  4. ৩১ থেকে ৩৩ ধারা
ব্যাখ্যা
আংশিক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন (Specific Performance of part of contract):

চুক্তির সম্পূর্ণ অংশের যেমন সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করা যায় ঠিক তেমনি কোন কোন ক্ষেত্রে চুক্তির অংশ বিশেষেরও সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করা যায়। সাধারণত আইন অনুসারে একটি চুক্তিকে অবিভাজ্য বলে ধরে নেয়া হয়। সুতরাং যদি সম্পূর্ণ চুক্তিটির কার্য সম্পাদন সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত চুক্তিটি সম্পাদনে কাউকেও বাধ্য করতে পারবে না অর্থাৎ আদালত চুক্তির আংশিক কার্য সম্পাদনের আদেশ দিতে পারবে না।
কিন্তু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ থেকে ১৬ ধারায় বর্ণিত বিধানগুলি এই সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম। এই তিনটি ধারায় বর্ণিত অবস্থাতে একটি চুক্তির অংশ বিশেষের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে বাধ্য করা যায়। ১৪,১৫ ও ১৬ ধারা ব্যতীত অন্য কোন ক্ষেত্রে আদালত কোন চুক্তির আংশিক সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারবে না।
৬,৮৪৭.
দণ্ডবিধির কত ধারায় "ক্ষতি" (Mischief)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৪১৫ 
  2. ধারা ৪২৫
  3. ধারা ৪২৭
  4. ধারা ৪৩১
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ৪২৫–এ "ক্ষতি" (Mischief)–এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের বা কারও অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জানে যে তার কাজের ফলে অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট হতে পারে, এমন কোনো কাজ করে যার ফলে কোনো সম্পত্তি ধ্বংস, বিনষ্ট বা অবস্থান পরিবর্তিত হয়, এবং এর ফলে সম্পত্তির মূল্য, প্রয়োজনীয়তা বা কার্যকারিতা নষ্ট হয় বা হ্রাস পায়, তবে তা "ক্ষতি" বলে গণ্য হবে।
শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড।
-  তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) ধারা ৪২৫।

⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারার বিধান ক্ষতি বা অনিষ্ট:- কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকতা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'ক্ষতি' সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা-১: ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক।
ব্যাখ্যা-২: যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 425. Mischief:
Whoever, with intent to cause, or knowing that he is likely to cause, wrongful loss or damage to the public or to any person, causes the destruction of any property, or any such change in any property or in the situation thereof as destroys or diminishes its value or utility, or affects it injuriously, commits "mischief".
Explanation-1: It is not essential to the offence of mischief that the offender should intend to cause loss or damage to the owner of the property injured or destroyed. It is sufficient if he intends to cause, or knows that he is likely to cause, wrongful loss or damage to any person by injuring any property, whether it belongs to that person or not.
Explanation-2: Mischief may be committed by an act affecting property belonging to the person who commits the act, or to that person and others jointly.

৬,৮৪৮.
যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরির মালামাল নিজের দখলে রাখে এবং উক্ত দখলের উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারে, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আদালত কী অনুমান করতে পারে?
  1. সেই ব্যক্তি নিজেই চোর
  2. সেই ব্যক্তি না জেনেশুনে চুরির মাল গ্রহণ করেছে
  3. চুরির মাল গ্রহণ করতে কেউ তাকে বাধ্য করেছে
  4. মালগুলো চুরির সেই বিষয়ে ব্যক্তি অবগত নয়
ব্যাখ্যা
• ধারা ১১৪: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে।

আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -
(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরির মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;
(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;

(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;

(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।
৬,৮৪৯.
সাক্ষ্য আইন মোট কতটি ভাগে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ একটি প্রক্রিয়াগত (Procedural/Adjective) আইন, যা বিচার ব্যবস্থায় প্রমাণ বিধান সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে।
- এই আইনটি মোট ৩টি ভাগে (Part) বিভক্ত।
- প্রতিটি ভাগে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে।

- এই ৩টি ভাগ হলো:
Part I – Relevancy of Facts (তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা):
→ এখানে বলা হয়েছে কোন কোন তথ্য আদালতে প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হবে।
Part II – On Proof (প্রমাণ সংক্রান্ত বিধান):
→ কীভাবে প্রাসঙ্গিক তথ্য আদালতে প্রমাণ করতে হবে, তার পদ্ধতি ও বিধান এখানে রয়েছে।
Part III – Production and Effect of Evidence (সাক্ষ্য উপস্থাপন ও তার কার্যকারিতা):
→ সাক্ষ্য উপস্থাপনের নিয়ম এবং তা বিচারকের উপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটি বর্ণনা করা হয়েছে।

অর্থাৎ সাক্ষ্য আইন মোট ৩টি ভাগে বিভক্ত, যার মাধ্যমে আদালতে তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা, প্রমাণের নিয়ম এবং সাক্ষ্যের কার্যকারিতা নির্ধারিত হয়।
৬,৮৫০.
তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত দায় স্বীকারের ফলাফল কি?
  1. তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে
  2. নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে
  3. তামাদির মেয়াদ থেকে লিখিত দায় স্বীকারের মেয়াদ বাদ যাবে
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোন মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অপর পক্ষ যদি উক্ত মামলার বা দরখাস্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে নেয় সেক্ষেত্রে উত্তরুপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে

তামাদি আইনের ১৯ ধারার শর্তসমূহ নিম্নরূপ-
⇒ লিখিত হতে হবে
⇒ উক্ত পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে
⇒ অবশ্যই তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই করতে হবে
⇒ উক্ত স্বীকৃতি অবশ্যই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে হবে।

Section 19: Effect of acknowledgement in writing-
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed. 
 
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received. 
 
Explanation I- For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right. 
Explanation II- For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf. 
Explanation III- For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
৬,৮৫১.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন ব্যক্তি বা অধীনস্থ কোন কর্মকর্তাকে অর্পিত ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবে?
  1. ৪১ ধারার
  2. ৪২ ধারার
  3. ৩৩ ধারার
  4. ৩৭ ধারার
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান ক্ষমতাদি প্রত্যাহরকরণঃ (১) সরকার এই কার্যবিধি অনুসারে কোন ব্যক্তি বা ইহার অধীনস্থ কোন অফিসারকে অর্পিত সকল বা যে কোন ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবেনঃ

শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে উক্তরূপ ক্ষমতা অর্পণ এই কার্যবিধি অনুসারে হয় সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনের সাথে আলোচনা করতে হবে। এ ধরণের প্রত্যাহার সেই আদালতের সাথে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।

(২) যেক্ষেত্রে কোন ক্ষমতা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়, সেক্ষেত্রে তা সেভাবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রত্যায়িত হতে পারবে।

♦ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন ব্যক্তি বা অধীনস্থ কোন কর্মকর্তাকে অর্পিত ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবে।
-------------------------------------------------------------------------
♦ section 41. Withdrawal of powers: (1) The Government may withdraw all or any of the powers conferred under this Code on any person by it or by any officer subordinate to it:

Provided that where the conferring of a power is, under this code, required to be made in consultation with the High Court Division, the withdrawal thereof shall be made in consultation with that Court.

(2) Any powers conferred by the Chief Judicial Magistrate or the District Magistrate may be withdrawn by the chief Judicial Magistrate or the District Magistrate respectively.
৬,৮৫২.
দেওয়ানি কার্যবিধির _____ এর মাঝে রিসিভারের দায়িত্ব (Duties of Receiver) সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
  1. আদেশ-৪০, বিধি-২
  2. আদেশ-৪০, বিধি-৩
  3. আদেশ-৩২, বিধি-৭
  4. আদেশ-২৬, বিধি-১৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪০, বিধি-৩ এ রিসিভারের দায়িত্বসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। এতে বলা হয়েছে যে, রিসিভারকে সম্পত্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে আদালত নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে, আদালতের নির্ধারিত সময় ও ফরম্যাটে হিসাব দাখিল করতে হবে, আদালতের নির্দেশমতো অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং ইচ্ছাকৃত ত্রুটি বা গুরুতর অবহেলার কারণে সম্পত্তির যেকোনো ক্ষতির জন্য দায়ী হতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৪০, বিধি-৩. রিসিভারের দায়িত্ব:
নিয়োগকৃত প্রতিটি রিসিভারকে—
(ক) সম্পত্তি বাবদ যা কিছু গ্রহণ করবে তার যথাযথ হিসাব প্রদানের জন্য আদালত যেরূপ নিরাপত্তা (যদি প্রয়োজন হয়) নির্ধারণ করে তা প্রদান করতে হবে;
(খ) আদালত যে সময় ও ফরম্যাট নির্ধারণ করবে সেই অনুযায়ী হিসাব দাখিল করতে হবে;
(গ) আদালত যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে বলবে তা প্রদান করতে হবে; এবং
(ঘ) তার ইচ্ছাকৃত ত্রুটি বা গুরুতর অবহেলার কারণে সম্পত্তির যেকোনো ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Order XL, Rule-3. Duties of Receiver:
Every receiver so appointed shall—
(a) furnish such security (if any) as the Court thinks fit, duly to account for what he shall receive in respect of the property;
(b) submit his accounts at such periods and in such form as the Court directs;
(c) pay the amount due from him as the Court directs; and
(d) be responsible for any loss occasioned to the property by his wilful default or gross negligence.
৬,৮৫৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশ অনুসারে নিষেধাজ্ঞার আদেশ লঙ্ঘন করলে আদালত কী ব্যবস্থা নিতে পারে?
  1. অভিযুক্তের সম্পত্তি জব্দ করতে পারে।
  2. অভিযুক্তকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখতে পারে।
  3. ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সম্পত্তি বিক্রি করতে পারে।
  4. উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ২ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে বা আদেশের শর্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে আদালত নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নিতে পারে:
১. সম্পত্তি জব্দ (Attachment of Property):
বিধি ২(৩) অনুসারে, আদেশ অমান্যকারী ব্যক্তির সম্পত্তি জব্দ করার আদেশ দিতে পারে আদালত।

২. কারাদণ্ড (Civil Imprisonment):
আদেশ ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারে আদালত।

৩. ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সম্পত্তি বিক্রি:
যদি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের পরও এক বছরের মধ্যে আদেশ পালন না হয়, তবে জব্দ করা সম্পত্তি বিক্রি করে তার অর্থ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে।

আদেশ ৩৯ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ লঙ্ঘন করলে আদালত – ১) সম্পত্তি জব্দ করতে পারে, ২) ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারে, এবং ৩) প্রয়োজন হলে সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।
তাই সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।
৬,৮৫৪.
বিশেষজ্ঞের রিপোর্টের অনুলিপি ধারা ৪৫ক(১) অনুযায়ী কাকে প্রদান করতে হবে?
  1. অভিযোগকারী পক্ষকে
  2. মামলার সকল পক্ষকে
  3. মামলার সকল সাক্ষীকে
  4. মামলার সকল পক্ষ এবং সাক্ষীকে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারা- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:

(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না, যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
 
অর্থাৎ শারীর সম্বন্ধীয় বা ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কোন সাক্ষ্য দিতে-
১. আদালতের অনুমতি গ্রহণ করবে;
২. তার বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন বা মতামতের কপি সকল পক্ষকে সরবরাহ করবে;
৩. আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।
৬,৮৫৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় দেওয়ানি মোকদ্দমায় আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান আছে?
  1. ৯৬ ধারায়
  2. ১০৪ ধারায়
  3. ১০৭ ধারায়
  4. ৯৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒  দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১০৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে সেই ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোন আদেশ হতে আপীল চলবেনা।
- কোন কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে তার বর্ণনা আছে আদেশ ৪৩ তে।
- দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৪ ধারায় এবং ৪৩ আদেশে আপীলযোগ্য আদেশ  এর তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।
- দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ যদি ১০৪ ধারায় বা ৪৩ আদেশে উল্লেখিত কোন আপীলযোগ্য আদেশ হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যায়।
--------------------------------
⇒ CPC Section-104. Orders from which appeal lies.
(1) An appeal shall lie from the following orders, and save as otherwise expressly provided in the body of this Code or by any law for the time being in force, from no other orders:
(ff) an order under section 35A;
(g) an order under section 95; 
(h) an order under any of the provisions of this Code imposing a fine or directing the arrest or detention in the civil prison of any person except where such arrest or detention is in execution of a decree; 
(i) any order made under rules from which an appeal is expressly allowed by rules: 
 
Provided that no appeal shall lie against any order specified in clause (ff) save on the ground that no order, or an order for the payment of a less amount, ought to have been made. 
 
(2) No appeal shall lie from any order passed in appeal under this section.
৬,৮৫৬.
ফৌজদারি কার্যবিধিতে অনধিক কত বছরের ব্যক্তিদের কিশোর ধরা হয়?
  1. অনধিক ১৮ বছরের
  2. অনধিক ১৬ বছরের
  3. অনধিক ১৫ বছরের
  4. অনধিক ২১ বছরের
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি ২৯খ ধারা-
কোন ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডনীয় অপরাধ ব্যতিরেকে অপর যে কোন অপরাধ করলে এবং তাকে আদালতে উপস্থিত হবার বা তাকে হাজির করার তারিখে তার বয়স ১৫ (পনের) বৎসরের নীচে হলে তার বিচার যে কোন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট করতে পারবেন অথবা তরুণ অপরাধীদের হেফাজত, বিচার এবং শাস্তি দেবার জন্য বলবৎ আইন কর্তৃক বা অধীনে সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট, এবং এরূপ আইনের দ্বারা আরোপিত সকল বা যেকোন ক্ষমতা প্রয়োগ করবার জন্য উহার দ্বারা বা অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোন ম্যাজিস্ট্রেট করতে পারবেন।

Section 29B: Jurisdiction in the case of juveniles-
Any offence, other than one punishable with death or transportation for life, committed by any person who at the date when he appears or is brought before the Court is under the age of fifteen years, may be tried by Chief Judicial Magistrate or the Chief Metropolitan Magistrate, or by any Magistrate specially empowered by the Government to exercise the powers conferred by or under any law providing for the custody, trial or punishment of youthful offenders, by any Magistrate empowered by or under such law to exercise all or any of the powers conferred thereby.
৬,৮৫৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের কোন কলামে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করা হয়?
  1. ১ম কলাম
  2. ২য় কলাম
  3. ৩য় কলাম
  4. ৪র্থ কলাম
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের ১ম কলাম-এ দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করা হয়।
- প্রথম কলামে পেনাল কোডের অধীন সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ উল্লেখ করা হয়, যা অপরাধের ধরন এবং শাস্তির বিধান বর্ণনা করে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে মোট ৮টি কলাম রয়েছে। 
দ্বিতীয় তফসিল- (Second Schedule)
১ম কলাম- পেনাল কোডের অধীন ধারাসমূহ।
২য় কলাম- অপরাধ।
৩য় কলাম- পরোয়ানা ছাড়া পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে কি পারে না অর্থাৎ আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ।
৪র্থ কলাম- প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা।
৫ম কলাম- অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য।
৬ষ্ঠ কলাম- অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা।
৭ম কলাম- দণ্ডবিধির অধীন উল্লিখিত শাস্তি।
৮ম কলাম- যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য।
৬,৮৫৮.
নিঃস্ব হিসেবে আপিল করার অনুমতির জন্য আবেদনের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ১৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে নিঃসম্বল হিসাবে আপিল করার অনুমতির দরখাস্ত (for leave to appeal as pauper) দাখিলের তামাদির মেয়াদ ৩০ দিন।
- তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১৭০ অনুসারে, নিঃস্ব (pauper) হিসেবে আপীল করার অনুমতির জন্য আবেদন দাখিলের তামাদি মেয়াদ হলো ৩০ দিন। এই সময়সীমা গণনা শুরু হয় সেই ডিক্রি বা আদেশের তারিখ থেকে, যার বিরুদ্ধে আপীল করা হবে।

৬,৮৫৯.
আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত কোন আপত্তি সর্বপ্রথম কোথায় উত্থাপন করতে হবে ?
  1. যে আদালতে প্রথমে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়
  2. জেলা জজের নিকট
  3. আপিল আদালতে
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• ধারা-২১ (এখতিয়ারে আপত্তি)-

যে আদালতে প্রথমে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়, সেই আদালতে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগ এবং বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময় বা পূর্বে আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত কোন আপত্তি থাকলে তা উত্থাপন করতে হবে। যদি তা না করা হয় এবং ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত না হলে কোন আপীল বা রিভিশন আদালত মামলা দায়ের স্থান সম্পর্কে কোন আপত্তি গ্রহণ করবে না।
কিন্তু ন্যায় বিচার ব্যাহত হলে এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে, আপীল বা রিভিশনের সময় আদালত এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি গ্রহণ করতে পারে।

Sec.-21: Objections to jurisdiction-
No objection as to the place of suing shall be allowed by any appellate or revisional Court unless such objection was taken in the Court of first instance at the earliest possible opportunity and in all cases where issues are settled at or before such settlement, and unless there has been a consequent failure of justice.
৬,৮৬০.
দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ কে নিয়োগ করতে পারেন?
  1. সুপ্রিম কোর্ট
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. সরকার
ব্যাখ্যা
⇒ দায়রা আদালতের শ্রেণীবিভাগ- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারামতে দায়রা আদালতে তিন ধরণের বিচারক থাকে। যথা-
ⅰ) দায়রা জজ (Sessions Judge);
ii) অতিরিক্ত দায়রা জজ (Additional Sessions Judge);
iii) যুগ্ম দায়রা জজ (Joint Sessions Judge)।

ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা-৯(৩ক): দায়রা আদালতের বিচারক নিয়োগ- সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রনীত বিধি সাপেক্ষে দায়রা আদালতের বিচারকগণকে অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হয়।

⇒অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করতে পারেন।
-------------------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 9: Court of Sessions:
(1) The Government shall establish a Court of Session for every sessions division, and appoint a judge of such Court ; and the Court of Session for  Metropolitan Area shall be called the Metropolitan Court of Session.

(2) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Session shall hold its sitting; but, until such order is made, the Courts of Session shall hold their sittings as heretofore. 
(3) The Government may also appoint Additional Sessions Judges and Assistant Sessions Judges to exercise jurisdiction in one or more such Courts. 

 (3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.

(4) A Sessions Judge of one sessions division may be appointed by the Government to be also an Additional Sessions Judge of another division, and in such case he may sit for the disposal of cases at such place or places in either division as the Government may direct. 
(5) All Courts of Session existing when this Code comes into force shall be deemed to have been established under this Act.
৬,৮৬১.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১৫, বিধি-১ অনুসারে পক্ষগণ বিরোধী না হলে আদালত কী করবে?
  1. প্রমাণ গ্রহণ করবে
  2. মামলা স্থগিত করবে
  3. পক্ষকে নোটিশ জারি করবে
  4. তৎক্ষণাৎ রায় ঘোষণা করবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১৫, বিধি-১ এ বলা হয়েছে- যদি মামলার প্রথম শুনানির দিনে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, পক্ষগণ (বাদী ও বিবাদী) আইনগত বা তথ্যগত কোনো প্রশ্নে বিরোধী নয়, অর্থাৎ তারা কোনো বিষয়ে বিতর্ক করছে না, তাহলে আদালত প্রমাণ গ্রহণ, সাক্ষ্যগ্রহণ বা আরও শুনানির প্রয়োজনীয়তা ব্যতিরেকে তৎক্ষণাৎ রায় দিতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ORDER-XV এর Rule-1 অনুসারে, প্রথম শুনানিতে যদি পক্ষগণ কোন প্রশ্নে বিরোধী না হন, তাহলে আদালত তৎক্ষণাৎ রায় ঘোষণা করতে পারেন। এটি তখন ঘটে যখন পক্ষগণ কোন আইনগত বা তথ্যগত প্রশ্নে বিরোধী না হন এবং তাদের মধ্যে কোনো বিতর্ক নেই।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- ORDER-XV, Rule-1 :Parties not at issue.
- Where at the first hearing of a suit it appears that the parties are not at issue on any question of law or of fact, the Court may at once pronounce judgment.
৬,৮৬২.
ধারা-১২৩ এর অধীন গঠিত বিধি প্রণয়ন কমিটিতে মোট কতজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক থাকবে?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
• ধারা-১২৩ অনুযায়ী, সর্বমোট ৬ জন সদস্য নিয়ে বিধি প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়। সদস্যগণ হলো-
ক. সুপ্রীম কোর্টের তিন (৩) জন বিচারক নিয়ে যাদের মধ্যে একজন সর্বনিম্ন (৩ বছর জেলা জজ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে;
খ. উক্ত আদালতে অ্যাডভোকেট হিসাবে প্রাক্টিস করছে এমন ২ জন অ্যাডভোকেট;
গ. হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ দেওয়ানী আদালতের একজন বিচারক।

• সদস্যগণের নিয়োগ:
এই কমিটির সদস্যরা প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবে এবং তিনি উক্ত কমিটির সভাপতি মনোনীত করবে এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দিবে।এই কমিটির প্রত্যেক সদস্য প্রধান বিচারপতি কর্তৃক উল্লেখিত মেয়াদ পর্যন্ত পদে বহাল থাকবে।
৬,৮৬৩.
কোন ক্ষেত্রে ডিক্রির নকল গ্রহণের সময় তামাদির মেয়াদ গণনা থেকে বাদ দিতে হবে?
  1. শুধুমাত্র আপিলের ক্ষেত্রে
  2. শুধুমাত্র পুনরীক্ষণের ক্ষেত্রে
  3. ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে
  4. আপিল ও পুনরীক্ষণ উভয়ের ক্ষেত্রেই
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।

(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।

(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।
৬,৮৬৪.
'ক', 'গ'- এর বিনা সম্মতিতে একটি কুকুরকে 'গ'-এর প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়তে লেলিয়ে দেয়। এইক্ষেত্রে 'ক', 'গ'-কে জখম, ভীত ও বিরক্ত করার ইচ্ছা থাকলে সে 'গ'-এর প্রতি __________ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
  1. আক্রমণ
  2. আঘাত
  3. অপরাধজনক বল প্রয়ােগ
  4. দস্যুতা
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৫০- অপরাধজনক বলপ্রয়ােগ:
কোন লােক যদি কোন অপরাধ সংঘটন করার উদ্দেশ্যে কোন লােকের প্রতি ঐ লােকের বিনা সম্মতিতে বলপ্রয়ােগ করে, বা এরূপ বল প্রয়ােগের সাহায্যে যে লােকের প্রতি বল প্রয়ােগ করা হয় সে লােকের জখম ভীতি বা বিরক্তি উদ্ভব করার অভিপ্রায়ে, বা সে লােকের ক্ষতি, ভীতি বা বিরক্তি উদ্ভব করার আশংকা আছে জেনে, তার বিনা সম্মতিতে তার প্রতি বল প্রয়ােগ করে, সে লােক ঐ অপর লােককে অপরাধজনক বলপ্রয়ােগ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

উদহারণ:
'ক', 'গ'- এর বিনা সম্মতিতে একটি কুকুরকে 'গ'-এর প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়তে লেলিয়ে দেয়। এইক্ষেত্রে 'ক', 'গ'-কে জখম, ভীত ও বিরক্ত করার ইচ্ছা থাকলে সে 'গ'-এর প্রতি অপরাধজনক বল প্রয়ােগ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
৬,৮৬৫.
অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ করার মামলার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হয়-
  1. ক্রেতার দখল গ্রহণের দিন থেকে
  2. বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকরণের দিন থেকে
  3. ক্রেতার আদালতে উপস্থিতির দিন থেকে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• অনুচ্ছেদ ১০- অগ্রক্রয়ের অধিকার [Right to pre-emption] বলবৎ এর মামলা:

তামাদি- ১ বছর।

সময় গণনা শুরু- যখন ক্রেতা যে বিক্রয়ের‌ বিরুদ্ধে মামলা করা হবে সেই বিক্রিত সমস্ত সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে বা যে ক্ষেত্রে বিক্রয়ের বিষয়বস্তু প্রত্যক্ষ দখল স্বীকার করে না, সেক্ষেত্রে বিক্রয় দলিল যখন রেজিস্ট্রিকৃত হয়।

⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে অগ্রক্রয়ের (preemption) অধিকার কার্যকরের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ১ বছর। এই মেয়াদ শুরু হবে যখন ক্রেতা যে বিক্রয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে সেই বিকৃত সমস্ত সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে বা যে ক্ষেত্রে বিক্রয়ের বিষয়বস্তু প্রত্যক্ষ দখল স্বীকার করেন না, সেক্ষেত্রে বিক্রয় দলিল যখন রেজিস্ট্রিকৃত হয় তখন থেকে। অর্থাৎ, ক্রেতার দখল গ্রহণ অথবা দখল সম্ভব না হলে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার কার্যকরের মামলা দায়ের করতে হবে।
৬,৮৬৬.
যদি একটি চুক্তির একটি বড় অংশ অপূর্ণ থাকে বা ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিস্থাপন সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত কখন যেটুকু সম্ভব সেই অংশের জন্য চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. বাদী পক্ষ বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করলে
  2. বাদী পক্ষ বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি না করলে
  3. বাদী পক্ষ বাকি অংশের বাস্তবায়নের দাবি না করলে
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
ধারা ১৫:
যদি একটি চুক্তির কোনো পক্ষ তার দায়িত্বের সবটুকু পালন করতে না পারে এবং যেই অংশটুকু অপূর্ণ থাকবে, সেটি চুক্তির একটি বড় অংশ হয় অথবা অর্থ প্রতিস্থাপন সম্ভব না হয়, তাহলে সেই পক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের জন্য রায় পাওয়ার যোগ্য নয়। তবে অন্য পক্ষের মামলায়, আদালত বিলম্বকারী পক্ষকে যেটুকু সম্ভব তাই সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার নির্দেশ দিতে পারে, যদি বাদী পক্ষ আরো কোনো বাস্তবায়নের দাবি না করে এবং বিবাদী পক্ষের বিলম্বের কারণে হওয়া ক্ষতি বা ক্ষয়ের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি না করে।

[Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, and the part which must be left unperformed forms a considerable portion of the whole, or does not admit compensation in money, he is not entitled to obtain a decree for specific performance. But the Court may, at the suit of the other party, direct the party in default to perform specifically so much of his part of the contract as he can perform, provided that the plaintiff relinquishes all claim to further performance, and all right to compensation either for the deficiency, or for the loss or damage sustained by him through the default of the defendant.]

এই নীতি অনুসারে,
যদি একটি চুক্তির একটি বড় অংশ অপূর্ণ থাকে বা ক্ষতিপূরণ দ্বারা প্রতিস্থাপন সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত পুরোপুরি সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের রায় দিতে পারবে না। কারণ এক্ষেত্রে পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে আদালত যেটুকু সম্ভব, সেইটুকুর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে পারে, যদি বাদী পক্ষ বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি না করে এবং আরো কোনো বাস্তবায়নের দাবি না করে। অর্থাৎ বাদীকে সীমিত বাস্তবায়নই গ্রহণ করতে হবে।
৬,৮৬৭.
Representative Suit-এর ক্ষেত্রে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলকে কার খরচে নোটিশ দেওয়া হয়?
  1. আদালতের
  2. বাদীর
  3. বিবাদীর
  4. নিজ নিজ খরচে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১ নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা (Representative Suit) এর বিধান রয়েছে। যদি অনেক ব্যক্তির একই স্বার্থ থাকে, তবে আদালতের অনুমতিক্রমে, এক বা একাধিক ব্যক্তি সকলের পক্ষে মামলা করতে পারে। এভাবে তারা অন্যান্যদের প্রতিনিধিত্ব করে। 

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ৮ এর বিধান: একই ব্যক্তি একই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষে মামলা করতে বা আত্মপক্ষ সমৰ্থন করতে পারে:
(১) যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ নিহিত থাকে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে এরূপ এক বা একাধিক ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির পক্ষে বা উপকারার্থে এরূপ মামলা করতে বা মামলায় বিবাদী হতে বা অভিযোগের জবাব দিতে পারে। কিন্তু এরূপ ক্ষেত্রে আদালত বাদীর খরচায় অনুরূপ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলকে মামলা দায়ের সম্পর্কে ব্যক্তিগত জারীর মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করবেন। যেক্ষেত্রে লোকের সংখ্যাধিক্যের বা অন্য কোন কারণে এরূপ নোটিশজারী যুক্তসঙ্গতভাবে উপযোগী না হয়, গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে, প্রত্যেকক্ষেত্রে আদালত যে ভাবেই নির্দেশ দেন।

(২) উপ-বিধি (১) অনুসারে যে কোন ব্যক্তি যাদের পক্ষে বা উপকারার্থ কোন মামলা দায়ের করা হয়েছে বা অভিযোগের জবাব দেয়া হয়েছে, এরূপ মামলায় পক্ষ হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে।

৬,৮৬৮.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী লিখিত জবাব দাখিলের জন্য সর্বাধিক সময়সীমা কত?
  1. এক মাস
  2. দুই মাস
  3. তিন মাস
  4. ছয় মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর অর্ডার ৮, ধারা ১ অনুযায়ী, লিখিত জবাব দাখিলের জন্য সর্বাধিক সময়সীমা হল দুই মাস।
এটি আদালতের অনুমতি বা অন্য কোন ব্যতিক্রম না থাকলে, বিবাদী প্রথম শুনানির সময় বা তার পূর্বে বা আদালতের অনুমতিক্রমে অনধিক দুই মাসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে পারেন।
তবে, আদালত বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারেন বা শর্ত সাপেক্ষে দাখিলের অনুমতি দিতে পারেন।

⇒ বিবাদীর সমন প্রাপ্তির পর ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে, আদালত আরো ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় দিতে পারে। লিখিত জবাব দাখিলের জন্য বিবাদী সর্বমোট ৬০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় পেতে পারেন।

⇒ বিবাদী যদি ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মামলাটি একতরফা নিষ্পত্তি হবে। বিবাদী লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হয়ার কারণে একতরফা নিষ্পত্তি করলে আপিল করা যাবে।

⇒ সাক্ষ্য হিসাবে দাবির সমর্থনে ব্যবহারের জন্য বিবাদীর দখলে থাকা দলিলসমূহ লিখিত জবাব পেশ করার সময় আদালতে হাজির করবেন এবং তখন দলিলগুলো লিখিত জবাবের সাথে নথিভুক্ত করবেন। তবে উক্ত দলিল দখলে না থাকলে, সেক্ষেত্রে লিখিত বিবৃতির সাথে দলিলাদির তালিকা অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং উক্ত দলিলসমূহ কার দখলে আছে তা বর্ণনা করবেন। এরুপ দলিলসমূহ লিখিত জবাব দাখিলের সময় তালিকাভুক্ত না করলে পরবর্তীতে আদালতের অনুমতি ছাড়া সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হবে না।

৬,৮৬৯.
The Code of Civil Procedure, Section 22 অনুসারে, কোন পক্ষ স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারে?
  1. বাদী
  2. আদালত
  3. বিবাদী
  4. দুই পক্ষের সম্মতি থাকলে সাক্ষী
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ২২ থেকে ২৪ পর্যন্ত মোকদ্দমা স্থানান্তরের বিধান রয়েছে।
- ধারা ২২ এ যে মোকদ্দমাটি একের অধিক আদালতে দায়েরযোগ্য তা স্থানান্তরের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এ ধারায় শুধুমাত্র বিবাদী মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে যদি মোকদ্দমাটি দুই বা ততোধিক আদালতের যে কোন একটিতে দায়েরযোগ্য হয় এবং তার মধ্যে যে কোন একটি আদালতে দায়ের করা হয়।

- যখন আবেদন করতে পারে: যে কোন বিবাদী অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে এবং যে ক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ হয়ে গেছে, সেই ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় নির্ধারণের সময় বা তার পূর্বে অপর একটি আদালতে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারবে। আদালত এইরুপ আবেদন পাওয়ার পর অপর পক্ষের আপত্তি (যদি থাকে) শ্রবণ করে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতসমূহের কোনটিতে মামলা অগ্রসর হবে তা স্থির করবে।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 22: Power to transfer suits which may be instituted in more than one Court-
Where a suit may be instituted in any one of two or more Courts and is instituted in one of such Courts, any defendant, after notice to the other parties, may, at the earliest possible opportunity and in all cases where issue are settled at or before such settlement, apply to have the suit transferred to another Court and the Court to which such application is made, after considering the objections the other parties (if any), shall determine which of the several 31 Courts having jurisdiction the suit shall proceed.
৬,৮৭০.
তামাদি আইনের ২০ ধারা প্রযোজ্য হবে-
  1. ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে
  2. সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে
  3. ক এবং খ উভয়
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২০ ধারামতে কোন দেনা তামাদি হবার পূর্বেই যদি দেনাদার দেনার স্বীকৃতিস্বরূপ কোন অর্থ পাওনাদারকে দিয়ে থাকে তাহলে, সেক্ষেত্রে যে তারিখ উক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছিল সে তারিখ হতেই তামাদির সময়সীমা নতুনভাবে হিসাব করতে হবে।

সুতরাং ২০ ধারা অনুযায়ী-
ঋণ বা দেনার ক্ষেত্রে তামাদির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আংশিকভাবে কোন ঋণ বা সুদ পরিশোধ করলে, উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদির সময় শুরু হয়। অর্থাৎ কোন দেনা আংশিক পরিশোধ করলে পরিশোধের তারিখ হতে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।তবে এই ক্ষেত্রে দেনা পরিশোধ অবশ্যই লিখিত এবং স্বাক্ষরিত হতে হবে।

Section 20: Effect of payment on account of debt as of interest on legacy-

(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made: 
 
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.
৬,৮৭১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৫ ধারা অনুযায়ী সমন জারির মাধ্যমে তলবকৃত ব্যক্তিগণ-
  1. সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য
  2. উপস্থিত থাকতে বাধ্য
  3. উপস্থিত থাকতে বাধ্য নন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
•ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৫ ধারা পুলিশকে কতিপয় ব্যক্তিবর্গকে সমন করার ক্ষমতা প্রদান করেছে-

(১) ধারা-১৭৪ মতে অগ্রসর হতেছেন এরূপ পুলিশ কর্মকর্তা লিখিত আদেশ দ্বারা কথিত তদন্তের প্রয়োজনে দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে এবং যিনি ঘটনার তথ্যাবলীর সহিত পরিচিত বলে মনে হয় এরূপ না কোন ব্যক্তিকে,সমন করতে পারেন এবং এরূপে সমনপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি হাজিরা দিতে এবং যে সব প্রশ্নের উত্তর তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী অভিযোগ আনয়ন করতে বা তাকে দণ্ডিত করতে বা তার অধিকার হরণ করতে চাইতে পারে এরূপ প্রশ্ন ব্যতীত যাবতীয় প্রশ্নের সত্য উত্তর প্রদান করতে বাধ্য।
(২) তথ্যাদি যদি এরূপ আমলযোগ্য অপরাধ প্রকাশ না করে যাতে ধারা-১৭০ প্রযোজ্য,তাহলে পুলিশ অফিসার ঐরূপ ব্যক্তিবর্গকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিতে অনুরোধ করবেন না।

[Power to Summon Persons]
(1) A police-officer proceeding under section 174 may, by order in writing summon two or more persons as aforesaid for the purpose of the said investigation, and any other person who appears to be acquainted with the facts of the case. Every person so summoned shall be bound to attend and to answer truly all questions other than questions the answers to which would have a tendency to expose him to a criminal charge, or to a penalty or forfeiture. 
(2) If the facts do not disclose a cognizable offence to which section 170 applies, such persons shall not be required by the police-officer to attend a Magistrate's Court.

অর্থাৎ সমন জারির মাধ্যমে তলবকৃত ব্যক্তিগণ হাজিরা দিতে বাধ্য কিন্তু সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নয়।
৬,৮৭২.
স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার জন্য চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য কখন আদালতে জমা দিতে হয়?
  1. চুক্তি স্বাক্ষরের পর
  2. সম্পত্তির হস্তান্তরের সময়
  3. মোকদ্দমা রুজুর সময়
  4. রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারা- অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য:
এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইনের অধীন নিবন্ধিত হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।

Section 21A- Unregistered contract for sale not specifically enforceable:
Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless–
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.
৬,৮৭৩.
আইনানুগ অভিভাবকের নিকট হতে কত বছরের ছেলে বা মেয়েকে তাদের অভিভাবকের সম্মতি ব্যতীত অন্যত্র নিয়ে গেলে তা মনুষ্য হরণ হবে বিবেচিত হবে?
  1. ১৪ ও ১৮ বছর
  2. ১৪ ও ১৬ বছর
  3. ১২ ও ১৬ বছর
  4. ৯ ও ১২ বছর
ব্যাখ্যা
• দন্ডবিধির ৩৬১ ধারায় আইনগত অভিভাবকের নিকট থেকে মনুষ্যহরণের বিধান রয়েছে।
• ১৪ বছরের কম বয়স্ক কোন পুরুষ বা ১৬ বছরের কম বয়স্ক কোন নারী বা কোন অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিকে আইনগত অভিভাবকের সম্মতি ব্যতীত তার তত্ত্বাবধান থেকে অন্যত্র নিয়ে গেলে তা আইনগত অভিভাবকের নিকট থেকে মনুষ্যহরণ বলে গণ্য হবে।
• বাংলাদেশ থেকে মনুষ্যহরণের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোন বয়সের ব্যক্তিকে বাংলাদেশের বাহিরে নিয়ে যাওয়া বোঝায়।
৬,৮৭৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৪ ধারায় আদালত কখন পেশ করা দলিল বা বস্তু বাজেয়াপ্ত করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র অভিযুক্তের অনুরোধে
  2. অভিযোগকারীর অনুরোধে
  3. আদালত নিজে উপযুক্ত মনে করলে
  4. তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরোধে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৪ ধারা- পেশকৃত দলিলসমূহ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাঃ
যেকোনো আদালত, উপযুক্ত বিবেচনা করলে, এই কোড অনুসারে ইহার সমক্ষে পেশ করা যে কোন দলিল বা বস্তু বাজেয়াপ্ত করতে পারেন।
 
Section 104- Power to impound document, etc, produced:
Any Court may, if it thinks fit, impound any document or thing produced before it under this Code.
৬,৮৭৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধি ৪ অনুযায়ী, আদালত সর্বাধিক কত দিনের জন্য বিচার্য বিষয় নির্ধারণ মুলতবি রাখতে পারে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪ বিধি-৪- আদালত বিচার্য বিষয় প্রণয়নের পূর্বে সাক্ষীকে পরীক্ষা গ্রহণ বা দলিল পরিদর্শন করতে পারেন:
যদি আদালতের মতামত হয় যে, কোনো ব্যক্তি যার উপস্থিতি আদালতে নেই অথবা কোনো নথি যা মামলায় উপস্থাপন করা হয়নি তা পরীক্ষা করা ব্যতীত বিচার্য বিষয় (issues) যথাযথভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, তবে আদালত বিচার্য বিষয় নির্ধারণের কাজ সর্বোচ্চ পনেরো (১৫) দিনের জন্য মুলতবি রাখতে পারে।
এছাড়াও, আদালত (তৎকালীন প্রচলিত কোনো আইনের বিধান সাপেক্ষে) যার কাছে সেই ব্যক্তি বা দলিল আছে, তাকে সমন বা অন্য কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে হাজির করতে বা দলিল পেশ করতে বাধ্য করতে পারে।

৬,৮৭৬.
নিম্নের কোনটি গুরুতর আঘাত নয়?
  1. পুরুষত্বহীন করণ
  2. দুই কর্ণের যে কোন কোনটির শ্রবণশক্তি রহিতকরণ
  3. আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দশ দিন মেয়াদের জন্য তীব্র যন্ত্রণা দান করে
  4. যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্টসাধন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒ Grievous hurt:
Section 320. The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
৬,৮৭৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি।
  2. বাংলাদেশের বাইরে কৃত অপরাধের বিচার।
  3. আদালতের আপিল প্রক্রিয়া।
  4. সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ।
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৮৮ তে বাংলাদেশের বাইরে কৃত অপরাধের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে বলা আছে।
- এই ধারা অনুসারে, যখন বাংলাদেশের কোন নাগরিক বাংলাদেশের সীমানার বাইরে কোন স্থানে কোন অপরাধ করে;অথবা যখন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে রেজিস্ট্রিকৃত কোন জাহাজ বা উড়োজাহাজে টা যেখানেই থাকুক না কেন, কোন অপরাধ করে ;তখন বাংলাদেশের যে স্থানেই তাকে পাওয়া যাবে সেই স্থানে অপরাধ সংঘটন করেছে বলে ধরে নিয়ে সেই মোতাবেক বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- এই সকল অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪ ধারা একত্রে মিলিয়ে পড়তে হয়। দণ্ডবিধির ৪ ধারায় রাষ্ট্রীয় অধিক্ষেত্রের বাইরে দণ্ডবিধির ব্যাপ্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-188. Liability for offences committed outside Bangladesh:
When a citizen of Bangladesh commits an offence at any place without and beyond the limits of Bangladesh, or 
When any person commits an offence on any ship or aircraft registered in Bangladesh wherever it may be, 
he may be dealt with in respect of such offence as if it had been committed at any place within Bangladesh at which he may be found:
Political Agents to certify fitness of inquiry into charge
Provided that notwithstanding anything in any of the preceding sections of this Chapter no charge as to any such offence shall be inquired into in Bangladesh except with the sanction of the Government: 
Provided, also, that any proceedings taken against any person under this section which would be a bar to subsequent proceedings against such person for the same offence if such offence had been committed in Bangladesh shall be a bar to further proceedings against him under the Extradition Act, 1974, in respect of the same offence in any territory beyond the limits of Bangladesh.
৬,৮৭৮.
যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মহিলার শাড়ি টান দেয় যাতে তার শালীনতাহানি ঘটে, তাহলে এটি দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য?
  1. ধারা ৩৫২
  2. ধারা ৩৫২ক
  3. ধারা ৩৫৪
  4. ধারা ৩৫৪ক
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মহিলার উপর আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে এবং তার শালীনতায় আঘাত দেয়ার উদ্দেশ্যে বা জ্ঞানসহকারে এটি করে, তাহলে তাকে শাস্তি প্রদান করা হয়।
- যেহেতু মহিলার শাড়ি টান দেয়ার মাধ্যমে তার শালীনতায় আঘাত করা হচ্ছে, এটি ধারা ৩৫৪ এর অধীনে শাস্তিযোগ্য, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় হতে পারে।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি: কোনো নারীর উপর আক্রমণ (assault) বা অপরাধমূলক বল (criminal force) প্রয়োগ করে উদ্দেশ্য বা জ্ঞানসহকারে যে এতে তার শালীনতায় আঘাত (outrage modesty) পড়বে, তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি একসাথে প্রযোজ্য।
------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 354. Assault or criminal force to woman with intent to outage her modesty:
Whoever assaults or uses criminal force to any woman, intending to outrage or knowing it to be likely that he will thereby outrage her modesty, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৬,৮৭৯.
দেওয়ানী কার্যবিধিতে মূল ডিক্রি হতে আপিলের বিধান আছে-
  1. আদেশ ৪০
  2. আদেশ ৪১
  3. আদেশ ৪৪
  4. আদেশ ৪৩
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪১  এর মাঝে মূল ডিক্রী হতে আপীল বিষয় বিধান আছে।
⇒ আদেশ ৪১-৪৫ এবং ধারা ৯৬-১১২ পর্যন্ত আপীল সংক্রান্ত বিধান আছে।
 
আপীল (Appeal)- মোকদ্দমার কোন পক্ষ বিচারিক আদালতের (Trial court) সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধনের জন্য ঐ সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে উচ্চ আদালতে যে আবেদন করে, তাকে আপীল বলে।
- আপীল হলো সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির মামলার রায় অনুমোদনযোগ্য কিনা তা পুনরায় নির্ধারণের জন্য নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে প্রেরণের অধিকার।
- অর্থাৎ আপীল হলো উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিচারিক পুনঃমূল্যায়ন।
 
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬ থেকে ১১২ ধারা পর্যন্ত দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আপীলের বিধান উল্লেখ রয়েছে। নিম্নে দেওয়ানী মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আপীলের বিধানসমূহ আলোচনা করা হলো-
ⅰ) মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল: ধারা-৯৬ থেকে ৯৯, আদেশ-৪১;
ii) আদেশের বিরুদ্ধে আপিল: ধারা-১০৪ থেকে ১০৬, আদেশ-৪৩;
iii) আপীলের সাধারণ বিধানমসূহ: ধারা-১০৭ থেকে ১০৮;
iv) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল: ধারা-১০৯ থেকে ১১২; এবং
v) নিঃস্ব ব্যক্তির আপিল: আদেশ-৪৪।
৬,৮৮০.
যদি কোনো ব্যক্তি জোরপূর্বক তার জমি থেকে উচ্ছেদ হয়, তাহলে সে কত দিনের মধ্যে স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে?
  1. ৬ মাস
  2. ১২ মাস
  3. ১২ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
→ উত্তর হবে গ) ১২ বছর।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৮ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি তার জমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ হয়, তাহলে সে বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারথা
অর্থাৎ, তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুযায়ী, দখলের তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৮ অনুযায়ী,
সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি তা দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নির্ধারিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে।

এক্ষেত্রে,
- বাদীকে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে;
- বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে;
- সরকার বাদী হলে ৬০ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে। (অনুচ্ছেদ-১৪৯)

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮: অনুচ্ছেদ ১৪২- যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে, তখন বাদী বেদখল হলে অথবা বাদী তার দখল ত্যাগ করলে, সেই সম্পত্তির দখল লাভের জন্য দখলের তারিখ হতে ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়।
৬,৮৮১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের কোন কলামে 'আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ' সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৩য়
  2. ৫ম
  3. ৭ম
  4. ৮ম
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫টি তফসিল আছে। তার মধ্যে ২য় তফসিলটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২য় তফসিলে মোট ৮টি কলাম রয়েছে, যা নিম্নরূপ-

• দ্বিতীয় তফসিল- (Second Schedule)

১ম কলাম- দণ্ডবিধির অধীন ধারাসমূহ;
২য় কলাম- অপরাধ;
৩য় কলাম- পরোয়ানা ছাড়া পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে কি,পারে না অর্থাৎ আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ;
৪র্থ কলাম- প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা;
৫ম কলাম- অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য;
৬ষ্ঠ কলাম- অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা;
৭ম কলাম- দণ্ডবিধির অধীন উল্লিখিত শাস্তি;
৮ম কলাম- যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য।
৬,৮৮২.
বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. ১ বছরের কারাদণ্ড
  3. অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
- ২৩২ ধারা মতে বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
- কড়িসমূহ, স্ট্যাম্পবিহীন তাম্রখন্ড এবং পদকসমূহ মুদ্রা বলে গণ্য হবে না।
৬,৮৮৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৭ অনুযায়ী, কোনো আদালত কোনো সম্পত্তি নিষ্পত্তির আদেশ দিলে, সাধারণত কত দিন পর্যন্ত সেই আদেশ কার্যকর করা যাবে না?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ১ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৭(৩) অনুযায়ী, আদালত যদি কোনো সম্পত্তি ধ্বংস, বাজেয়াপ্তি বা হস্তান্তরের আদেশ দেয়, তবে সেই আদেশ এক মাস পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না, অথবা যদি আপিল দাখিল করা হয়, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ কার্যকর হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৭- যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা হস্তান্তরের আদেশ:
(১) কোন ফৌজদারি আদালতে কোন ইনকোয়ারি বা বিচার শেষ হবার উপর উক্ত আদালতে পেশকৃত বা উহার হেফাজতে রক্ষিত কোন সম্পত্তি বা দলিল, যা সম্পর্কে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা যা কোন অপরাধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়, ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা যে ব্যক্তি উহার দখল দাবি করে তাকে প্রদান বা অন্য কোনভাবে উহার বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরকম আদেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত এরূপ আদেশ দিবেন এবং সুবিধাজনকভাবে নিজস্ব অফিসার কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি উহার অধিকারী ব্যক্তিকে অর্পণ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত আদেশ বলবৎ করবেন।
(৩) এই ধারার অধীন আদেশ প্রদান করা হলে তা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি গৃহপালিত পশু বা দ্রুত ও স্বাভাবিক ক্ষয়শীল না হলে, এবং উপধারা-(৪) এ বর্ণিত বিধান মতে না হলে ১ (এক) মাসের জন্য কার্যকর করা যাবে না অথবা যেক্ষেত্রে আপিল পেশ করা হয়, সেক্ষেত্রে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না।
(৪) যে ব্যক্তি কোন সম্পত্তি দখলের অধিকারী মর্মে দাবী করে সে ব্যক্তি আদালতের সন্তুষ্টি বিধানপূর্বক জামিনদারসহ বা ব্যতীত এ মর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদন করে যে, এই ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশ আপিলে সংশোধিত বা বাতিল হলে সে উক্ত সম্পত্তি আদালতে অর্পণ করবে, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন বিধান উপধারা-(১) অনুসারে আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে সম্পত্তি দেয়ার ব্যাপারে কোন বাধার সৃষ্টি করবে মর্মে মনে করা যাবে না।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 517. Order for disposal of property regarding which offence committed:
(1) When an inquiry or a trial in any Criminal Court is concluded, the Court may make such order as it thinks fit for the disposal by destruction, confiscation, or delivery to any person claiming to be entitled to possession thereof or otherwise of any property or document produced before it or in its custody or regarding which any offence appears to have been committed, or which has been used for the commission of any offence. 
(2) When High Court Division or a Court of Session makes such order and cannot through its own officers conveniently deliver the property to the person entitled thereto, such Court may direct that the order be carried into effect by the Chief Metropolitan Magistrate or District Magistrate. 
(3) When an order is made under this section such order shall not, except where the property is livestock or subject to speedy and natural decay, and save as provided by sub-section (4), be carried out for one month, or, when an appeal is presented, until such appeal has been disposed of. 
(4) Nothing in this section shall be deemed to prohibit any Court from delivering any property under the provisions of sub-section (1) to any person claiming to be entitled to the possession thereof, on his executing a bond with or without sureties to the satisfaction of the Court, engaging to restore such property to the Court if the order made under this section is modified or set aside on appeal.
Explanation- In this section the term "property" includes in the case of property regarding which an offence appears to have been committed, not only such property as has been originally in the possession or under the control of any party, but also any property into or for which the same may have been converted or exchanged, and anything acquired by such conversion or exchange, whether immediately or otherwise.

৬,৮৮৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯খ অনুসারে, কে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারেন?
  1. পুলিশ কর্মকর্তা
  2. পাবলিক প্রসিকিউটর
  3. যে কোনো জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. শুধুমাত্র হাইকোর্টের বিচারক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) যে কোনো জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯খ (Section 539B of the CrPC, 1898) অনুযায়ী যে কোনো জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত, বিচার বা অন্য কোনো কার্যধারার যেকোনো পর্যায়ে, পক্ষসমূহকে নোটিশ দিয়ে, অপরাধ সংঘটিত স্থান বা প্রাসঙ্গিক কোনো স্থান যথাযথভাবে সাক্ষ্য উপলব্ধি করার স্বার্থে পরিদর্শন করতে পারেন। তাঁরা পরিদর্শনের সময় দেখা প্রাসঙ্গিক তথ্যসমূহ স্মারকলিপি আকারে লিপিবদ্ধ করবেন, যা মামলার রেকর্ডের অংশ হয়ে যাবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯খ- সরেজমিনে পরিদর্শন:-
১) কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কার্যধারার যে কোন পর্যায়ে কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট পক্ষসমূহকে নোটিশ দিয়ে যে স্থানে কোন অপরাধ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ আনীত হয়েছে সে স্থান কিংবা উক্ত তদন্ত বা বিচারে প্রদত্ত কোন সাক্ষ্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করার জন্য প্রয়োজন বলে মনে করলে অন্য কোন স্থান সফর ও পরিদর্শন করতে পারবেন, ও অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই উক্ত পরিদর্শন বা সফরে দৃষ্ট কোন প্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে একটি স্মারকলিপি তৈরি করবেন।
২) উক্ত স্মারকলিপি মামলার নথির অংশ হবে। পাবলিক প্রসিকিউটর বা ফরিয়াদি কিংবা অভিযুক্ত চাইলে উহার একটি নকল তাকে বিনা মূল্যে সরবরাহ করতে হবে।
------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 539B: Local inspection:-
(1) Any Judge or Magistrate may at any stage of any inquiry, trial or other proceeding, after due notice to the parties, visit and inspect any place in which an offence is alleged to have been committed, or any other place which it is in his opinion necessary to view for the purpose of property appreciating the evidence given at such inquiry or trial, and shall without unnecessary delay record a memorandum of any relevant facts observed at such inspection.
(2) Such memorandum shall form part of the record of the If the Public Prosecutor, complainant or accused so desires, a copy of the memorandum shall be furnished to him free of cost:

৬,৮৮৫.
'P', একজন সরকারি কর্মচারী, আইনানুগ দায়িত্ব পালনের সময় সরল মনে 'Q' এর মৃত্যু ঘটায়। এটি খুন হিসেবে গণ্য হবে না দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার কোন ব্যতিক্রমের কারণে?
  1. ব্যতিক্রম-২
  2. ব্যতিক্রম-৩
  3. ব্যতিক্রম-৪
  4. ব্যতিক্রম-৫
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩০০ এর ব্যতিক্রম ৩ (Exception 3) অনুযায়ী:
যদি কোনো সরকারি কর্মচারী বা তার সহকারী, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়, আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে, কিন্তু সরল মনে বিশ্বাস করে যে তিনি তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন — এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে, কিন্তু কোনো রকম দুরভিসন্ধি ছাড়াই, তবে তা খুন নয়।
→ উদাহরণ: 'P' যদি একজন পুলিশ অফিসার হন এবং তিনি কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে গিয়ে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেন, যার ফলে 'Q' এর মৃত্যু ঘটে — তবে যদি প্রমাণ হয় P "সরল মনে" তার কর্তব্য পালন করছিলেন, তাহলে এটি খুন হবে না, বরং culpable homicide not amounting to murder হিসেবে গণ্য হবে।
→ সঠিক উত্তর: খ) ব্যতিক্রম-৩।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না:
⇒ ব্যতিক্রম ১:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।
⇒ ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।
⇒ ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।
⇒ ব্যতিক্রম ৪ :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
⇒ ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
৬,৮৮৬.
'House-trespass' শব্দটি দণ্ডবিধির কোন ধারায় সংজ্ঞায়িত?
  1. ধারা ৪৪১
  2. ধারা ৪৪২
  3. ধারা ৪৪৪
  4. ধারা ৪৩৮
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৮৬০ এর ৪৪২ ধারায় "অনধিকার গৃহে প্রবেশ" বা House-trespass অপরাধটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে মানুষের বাসস্থান, উপাসনালয় বা সম্পত্তি সংরক্ষণের স্থানে প্রবেশ বা অবস্থান করে, তবে এটি অনধিকার গৃহে প্রবেশ হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারার বিধান অনধিকার গৃহে প্রবেশ:- কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 442- House-trespass:- Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".
Explanation: -The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house-trespass.
৬,৮৮৭.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুযায়ী একজন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা যায়?
  1. ধারা ১৪২
  2. ধারা ১৬৭
  3. ধারা ১৩২
  4. ধারা ১৫৪
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪-এর বিধান হলো: আদালতের বিবেচনাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী (at the discretion of the Court) যে পক্ষ সাক্ষীকে উপস্থাপন করেছে, সেই পক্ষই তার নিজের সাক্ষীকে বৈরী (hostile) ঘোষণা করে জেরা (cross-examine) করতে পারে। তাই সঠিক উত্তর ঘ) ধারা ১৫৪।

⇒ বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) হলো সেই সাক্ষী যাকে কোনো পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থাপন করে, কিন্তু সে যদি নিজের পক্ষের বিরুদ্ধে বা প্রতিপক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে যদি সাক্ষী বৈরী হয়ে যায়। সাধারণত, জেরা করার অধিকার প্রতিপক্ষের থাকে, তবে যদি আদালত মনে করে যে একজন সাক্ষী ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছে, তবে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষও তাকে জেরা করতে পারে।

 কখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়?
১) যখন সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়।
২) যখন সাক্ষী প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে।
৩) যখন সাক্ষী তার আগের দেওয়া বক্তব্য থেকে সরে আসে বা বিপরীত কথা বলে।

উদাহরণ:
- একজন সাক্ষী যদি পুলিশের সামনে একরকম বক্তব্য দেয়, কিন্তু আদালতে এসে তার বিপরীত কথা বলে, তাহলে সে বৈরী সাক্ষী বলে গণ্য হতে পারে।

⇒ অর্থাৎ যদি একজন সাক্ষী তার পক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলে অথবা প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী বলা হয় এবং সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে জেরা করতে পারে।
- এটি আদালতের বিবেচনার বিষয় যে সাক্ষী সত্যিই বৈরী কি না।

৬,৮৮৮.
নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা আদালতের কোন ধরনের ক্ষমতা?
  1. ইচ্ছাধীন ক্ষমতা
  2. বাধ্যতামূলক ক্ষমতা
  3. উচ্চ আদালতের নির্দেশনামূলে প্রাপ্ত ক্ষমতা
  4. স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা- নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়:
আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।

⇒ প্রতিরোধমূলক/ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন-
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে; বা
২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারীর মাধ্যমে।

৬,৮৮৯.
'হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধী জামাকাপড় পরিবর্তন করেছিল এবং পালিয়ে গিয়েছিল।' সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় উক্ত কার্য প্রাসঙ্গিক?
  1. ৯ ধারায়
  2. ৮ ধারায়
  3. ১১ ধারায়
  4. ১০ ধারায়
ব্যাখ্যা
• The Evidence Act, 1872 এর ৮ ধারায় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায় (Motive), প্রস্তুতি (Preparation) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct) কে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য করা হয়েছে-

ধারা ৮: মোটিভ, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কার্যক্রম-
যে কোন সত্য যার কারণে বা যার প্রতিক্রিয়ায় কোন ঘটনা ঘটেছে বা ঘটে, অথবা যার উদ্দেশ্য থেকে বা যার প্রতিক্রিয়ায় কোন ঘটনা ঘটে, তা প্রাসঙ্গিক, যদি সেই উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি বা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কার্যক্রম প্রাসঙ্গিক ঘটনা হয়।

উদাহরণ:
A একটি অপরাধ সংঘটিত করার জন্য B এর বাড়িতে গিয়েছিল। A এর বাড়ি থেকে B এর বাড়ি পর্যন্ত তার যাত্রাপথ এবং B এর বাড়িতে তার কার্যকলাপ প্রাসঙ্গিক।
A এর খুনের আগে এবং পরে B এর আচরণ প্রাসঙ্গিক।
যদি A এর অপরাধ করার উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে হয়, তাহলে সেই উদ্দেশ্যের সকল প্রস্তুতি প্রাসঙ্গিক।

পরবর্তী কার্য (Subsequent Conduct):
অপরাধের পর অপরাধীর আচরণ যেমন পলাতক অবস্থা, সন্দেহজনক কাজ, মিথ্যা বক্তব্য প্রদান ইত্যাদি।
যেমন:
ক) হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধী পালিয়ে গিয়েছিল এবং জামাকাপড় পরিবর্তন করেছিল।
খ) অপরাধের পর অপরাধী তার ছদ্মনাম ব্যবহার করে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছিল।
৬,৮৯০.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৩ ধারার বিধান কী?
  1. REFERENCE
  2. REVIEW
  3. REVISION
  4. APPEALS
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৩ ধারায় রেফারেন্সের (Reference) বিধান রয়েছে। ১১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী যে কোন আদালত কোন মামলা হাইকোর্ট বিভাগের অভিমত গ্রহণের জন্য প্রেরণ করতে পারেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মামলা সম্পর্কে উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

⇒ CPC section 113. Reference of High Court Division:

 Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, any Court may state a case and refer the same for the opinion of the High Court Division, and the High Court Division may make such order thereon as it thinks fit.
৬,৮৯১.
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ধারা ২৪৫ অনুসারে আসামীকে নির্দোষ সাব্যস্ত করার পর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন?
  1. দণ্ডাদেশ প্রদান করবেন
  2. জামিন প্রদান করবেন
  3. খালাস আদেশ প্রদান করবেন
  4. পুনরায় শুনানি করবেন
ব্যাখ্যা
ধারা ২৪৫: খালাস (acquittal)-
ম্যাজিস্ট্রেট ২৪৪ ধারার উল্লেখিত সাক্ষ্য, স্বত:প্রবৃত্ত হয়ে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আসামীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আসামীকে নির্দোষ বলে সাব্যস্ত করলে খালাস আদেশ প্রদান করবেন।

[If the Magistrate upon taking the evidence referred to in section 244 and such further evidence (if any) as he may, of his own motion, cause to be produced, and (if he thinks fit) examining the accused, finds the accused not guilty, he shall record an order of acquittal.]
৬,৮৯২.
চোরাই মাল কেউ অসাধুভাবে গ্রহণ করলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড 
  3. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

• চোরাই মাল (Stolen Property):
দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা অনুযায়ী- যে সম্পত্তির দখল চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার ফলে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে বা অপরাধমূলকভাবে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে, সে সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি” বলে গণ্য করতে হবে। অর্থাৎ, যে সম্পত্তি নিম্নোক্ত উপায়ে অর্জিত হয়েছে তাকে "চোরাই সম্পত্তি" বলে গণ্য করা হবে:
১. চুরি করে অর্জিত সম্পত্তি;
২. জোরপূর্বক আত্মসাৎ করে অর্জিত সম্পত্তি;
৩. দস্যুতা করে আনীত সম্পত্তি;
৪. অপরাধমূলক উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি;
৫. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্জিত সম্পত্তি।

শাস্তি:
দণ্ডবিধির ৪১১ ধারা অনুসারে, যে ব্যক্তি চোরাই মাল গ্রহণ করে, সেই ব্যক্তি ৩ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৬,৮৯৩.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন বিধানটি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত নয়?
  1. Order XXXIX, rule 1 & 2
  2. Order XXXIX, rule 5 (A)
  3. Section 94(c)
  4. Section 94(e)
ব্যাখ্যা
♦প্রশ্নটির অপশন বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় যে দেওয়ানী কার্যবিধির,
(ক) Order XXXIX, Rule 1 & 2:- আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
(খ) Order- XXXIX, Rule 5 (A):-  অপরপক্ষের শুনানি ব্যতীত অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ীনিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া যাবে না।
(গ) Section 94 (c):- ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে এবং কেউ তা অমান্য করলে দোষী ব্যক্তিকে দেওয়ানি কারাগারে আটক এবং তার সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে।|
(ঘ) Section 94(e):- আদালতের কাছে যেরূপ ন্যায্য ও সুবিধাজনক মনে হয়; সেরূপ অন্তবর্তীকালীন আদেশ (Interlocutory Order) জারি করতে পারে ।
♦অর্থাৎ The Code of Civil Procedure, 1908 এর Section 94(E) [Interlocutory Order]  বিধানটি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত নয়.
♦দেওয়ানি আদালতের অতিরিক্ত কার্যক্রম: CPC'র ৯৪ ধারায় Supplementary Proceeding বা অতিরিক্ত কার্যক্রম সম্পর্কে বলা আছে। ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য যেন ব্যাহত না হয় সে জন্য আদালত ক্ষেত্রবিশেষে নিম্নোক্ত আদেশ দিতে পারে। ৯৪ ধারা মোতাবেক -
a) দেওয়ানি কারাগারে পাঠানোর আদেশ ।
b) সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ ।
c) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ ।
d) Receiver নিয়োগের আদেশ ।
e) আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করবে সেরূপ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ [Interlocutory Order]
৬,৮৯৪.
'ক' চন্দ্রসূর্য, আকাশ-বাতাসকে সাক্ষী রেখে 'খ' কে বিয়ে করেন। 'ক' জানে যে এটা মিথ্যা বিবাহের অনুষ্ঠান হয়েছে কিন্তু সে 'খ'কে বিশ্বাস করায় যে নিজে 'খ'এর স্বামী। 'খ'ও 'ক'কে স্বামী হিসেবে বিশ্বাস করে। এই ক্ষেত্রে 'ক' দণ্ডবিধির কত ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন?
  1. দণ্ডবিধির ৪৯৫ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৪৯৬ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৬ ধারার বিধান আইনসম্মত বিবাহ সম্পাদন ছাড়াই প্রতারণামূলক ভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা:- কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সে আইনতঃ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে না জানা সত্ত্বেও বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-------------
⇒ Section 496. Marriage ceremony fraudulently gone through without lawful marriage:- Whoever, dishonestly or with a fraudulent intention, goes through the ceremony of being married, knowing that he is not thereby lawfully married, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
৬,৮৯৫.
যদি কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী গর্ভবতী হন, তবে আদালত কোন বিকল্প সাজা দিতে পারেন?
  1. অর্থদণ্ড
  2. ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৮২ অনুসারে,
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কোন স্ত্রীলোক গর্ভবতী রয়েছে বলে দেখা গেলে, হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড কার্যকরীকরণ স্থগিত রাখার আদেশ দিবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাসকরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।

Section 382- Postponement of capital sentence on pregnant woman
If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life.

৬,৮৯৬.
'A', 'B'-এর নিকট ২৫ শতক জমি বিক্রি করার নিমিত্তে চুক্তিপত্র করে কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ৭ শতক জমি হস্তান্তর করতে অসমর্থ হয়, এক্ষেত্রে চুক্তিটি-
  1. সম্পাদন করা যাবে
  2. সম্পাদন করা যাবে না
  3. সম্পাদন করা যাবে কিন্তু অসম্পাদিত অংশের ক্ষতিপূরণ পাবে
  4. সম্পাদন করা যাবে কিন্তু অসম্পাদিত অংশের ক্ষতিপূরণ পাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান:
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।
 
⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিবে।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী কোনো চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে উক্ত চুক্তি সম্পাদন করা যাবে।

- এখানে চুক্তির সম্পাদিত অংশ ১৮ শতক তথা বড় এবং অসম্পাদিত অংশ ৭ শতক তথা ছোট, তাই চুক্তিটি সম্পাদন করা যাবে এবং অসম্পাদিত অংশের জন্য B-কে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
----------------------------------
SR Act-Section-14.Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.
 
Illustrations
(a) A contracts to sell B a piece of land consisting of 100 bighas. It turns out that 98 bighas of the land belong to A, and the two remaining bighas to a stranger, who refuses to part with them. The two bighas are not necessary for the use or enjoyment of the 98 bighas, nor so important for such use of enjoyment that the loss of them may not be made good in money. A may be directed at the suit of B to convey to B the 98 bighas and to make compensation to him for not conveying the two remaining bighas; or B may be directed, at the suit of A, to pay to A, on receiving the conveyance and possession of the land, the stipulated purchase-money less a sum awarded as compensation for the deficiency.
 
(b) In a contract for the sale and purchase of a house and lands for two lakhs of Taka, it is agreed that part of the furniture should be taken at a valuation. The court may direct specific performance of the contract notwithstanding the parties are unable to agree as to the valuation of the furniture, and may either have the furniture valued in the suit and include it in the decree for specific performance, or may confine its decree to the house.
৬,৮৯৭.
একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় না, যখন-
  1. চুক্তিটির সম্পাদন পক্ষগণের ব্যক্তিগত যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল।
  2. চুক্তিটির প্রকৃত ক্ষতি নিরুপনের কোন মাপকাঠি থাকে না।
  3. চুক্তিটির আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয় না।
  4. চুক্তিটির আর্থিক ক্ষতিপূরন পাওয়া যায় না।
ব্যাখ্যা
♦২১ ধারা অনুযায়ী- ৮ ক্ষেত্রে চুক্তি কার্যকর/বলবৎ করা যায় না:
১). যে চুক্তি সম্পাদন না করলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা পর্যাপ্ত প্রতিকার হয়।
২). যে চুক্তি সুক্ষ্ম ও জটিল শর্ত দ্বারা গঠিত বা ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল [যেমন: গল্প-উপন্যাস রচনা, অভিনয়, ব্যক্তিগত সেবা দেওয়া, বিবাহ করা সংক্রান্ত চুক্তি।]। 
৩). যে চুক্তির শর্ত আদালত যুক্তিসংগতভাবে নির্ণয় করতে পারে না।
৪). যে চুক্তি তার প্রকৃতির (Nature) কারণেই বাতিলযোগ্য [Revocable বা যে চুক্তি প্রকৃতিগতভাবেই প্রত্যহারযোগ্য]।
৫). জিম্মাদার/ট্রাস্টি কর্তৃক ক্ষমতা/চুক্তি বর্হিভূত চুক্তি। 
৬). কোম্পানির পক্ষে বা কর্মকর্তা কর্তৃক ক্ষমতা/চুক্তি বর্হিভূত চুক্তি। 
৭). যে চুক্তি পালনে শুরু করার তারিখ হতে ৩ বছরের বেশি সময় লাগে। 
৮) যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই বিষয়বস্তু বিলুপ্ত হয়েছে। মনে রাখুন, চুক্তিতে Arbitration Clause থাকলে চুক্তি কার্যকর করা যাবে না।

♦যে চুক্তির সম্পাদন পক্ষগণের ব্যক্তিগত যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল, সেই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যায় না।
৬,৮৯৮.
মোকদ্দমার সামগ্রিক বা আংশিকভাবে স্বীকৃতির উপর আদালত কখন রায় প্রদান করবেন?
  1. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  2. স্বীকৃতির বিষয়ে কোন পক্ষের আবেদেনের প্রেক্ষিতে
  3. আদালত সঙ্গত মনে করলে
  4. 'ক', 'খ' ও 'গ'-এ বর্ণিত উল্লেখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১২ বিধি ৬ এ (Judgment on admissions) এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১২ বিধি-৬ (স্বীকারোক্তির উপর রায়)-
যখন আরজি জবাবে কিংবা অন্যপ্রকারে কোন ঘটনা সম্পর্কে স্বীকারোক্তি করা হয়েছে তদক্ষেত্রে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে যে কোন পক্ষ আদালতে এ মর্মে আবেদন করতে পারে যে, পক্ষগণের মধ্যে অন্য কোন প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা না করে, উপরের স্বীকারোক্তি যতদূর তার পক্ষে হয়েছে, সে পর্যন্ত রায় কিংবা আদেশ দান করা হোক এবং আদালত অনুরূপ আবেদনক্রমে যেরূপ সঙ্গত মনে করতে পারে, সেরূপ রায় কিংবা আদেশ দিতে পারে।

[Rule-6: Judgment on admissions —
Any party may, at any stage of a suit, where admissions of fact have been made, either on the pleadings or otherwise, apply to the Court for such judgment or order as upon admissions he may be entitled to, without waiting for the determination of any other question between the parties: and the Court may upon such application make such order or give such judgment, as the Court may think just.]্য 
৬,৮৯৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সংজ্ঞা দেওয়া আছে?
  1. ৫২ ও ৫৩
  2. ৫৩
  3. ৫৫ ও ৫৬
  4. ৫৭
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫৩ ধারার বিধান:
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোনো পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
 
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল মাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
----------------
SR Act: Section-53. Temporary injunctions, Perpetual injunctions:
Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
 
A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit: the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
৬,৯০০.
কোন আদালত ১৫ লক্ষ টাকার বেশি নয় এমন মোকদ্দমা গ্রহণের এখতিয়ার রাখে?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সহকারী জজ আদালত
  3. যুগ্ম-জেলা জজ আদালত
  4. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত
ব্যাখ্যা
⇒ আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction) নির্ধারণ করে কোন আদালত কত টাকার মামলা গ্রহণ করতে পারবে।
⇒ The Civil Courts (Amendment) Act, 2021 অনুযায়ী:
→ সহকারী জজ আদালত: ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
→ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত: ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
→ যুগ্ম জেলা জজ আদালত: সীমাহীন (unlimited)।
→ তাই, ১৫ লক্ষ টাকার বেশি নয় এমন (≤১৫ লক্ষ) মোকদ্দমা সহকারী জজ আদালত গ্রহণ করতে পারে।
→ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫ অনুযায়ী, মামলাটি সর্বনিম্ন যােগ্যতাসম্পন্ন আদালতে দায়ের করতে হবে।
- সহকারী জজ আদালতই সর্বনিম্ন স্তরের আদালত যার এখতিয়ার ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

→ অতএব, ১৫ লক্ষ টাকার বেশি নয় এমন মোকদ্দমা দায়েরের এখতিয়ার একমাত্র সহকারী জজ আদালতের রয়েছে।