ব্যাখ্যা
- ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্তমানে বলবৎ আছে ৪টি তফসিল।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬৫ / ১২৬ · ৬,৪০১–৬,৫০০ / ১২,৬০৫
ধারা ৮৯(১০):
এই ধারার উদ্দেশ্যে, জেলা জজ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করে একটি মধ্যস্থতাকারীর (Mediator) তালিকা প্রস্তুত করবেন (সময় সময় তা হালনাগাদ করা হবে)।
এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবেন- আইনজীবীগণ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকগণ, বিবাদ নিষ্পত্তি (dispute resolution) বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ, এবং এমন অন্যান্য ব্যক্তি— যাদেরকে এই উদ্দেশ্যে উপযুক্ত মনে করা হয়; তবে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি এই তালিকায় থাকতে পারবেন না।
জেলা জজ তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন সকল দেওয়ানি আদালতকে এ তালিকা সম্পর্কে অবহিত করবেন।
শর্ত:
এই উপ-ধারার অধীনে তালিকাভুক্ত কোনো মধ্যস্থতাকারী কোনো মামলায় মধ্যস্থতা করতে পারবেন না, যদি তিনি পূর্বে ওই মামলার কোনো পক্ষের আইনজীবী হিসেবে কোনো আদালতে নিযুক্ত হয়ে থাকেন।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৯: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।
অর্থাৎ দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় আদালত তার ডিক্রির কপি নিবন্ধন কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন।
--------------------
According to section 39 of the Specific Relief act, When cancellation may be ordered: Any person against whom a written instrument is void or voidable, who has reasonable apprehension that such instrument, if left outstanding, may cause him serious injury, may sue to have it adjudged void or voidable; and the Court may, in its discretion, so adjudge it and order it to be delivered up and cancelled.
If the instrument has been registered under the [Registration Act, 1908], the Court shall also send a copy of its decree to the officer in whose office the instrument has been so registered; and such officer shall note on the copy of the instrument contained in his books the fact of its cancellation.
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক (ক) অনুসারে, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ কর্মকর্তার সঠিক, দৃশ্যমান এবং পরিষ্কার নাম পরিচয় থাকতে হবে, যা সহজে শনাক্তকরণের সুবিধা প্রদান করে।
সঠিক উত্তর: ঘ) পরিষ্কার ও দৃশ্যমান নাম পরিচয়।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক: গ্রেফতারের পদ্ধতি এবং গ্রেফতারকারী অফিসারের কর্তব্য:
গ্রেফতার করার সময়, পুলিশ অফিসার বা অন্য যে ব্যক্তি গ্রেফতার করে, তাকে নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হবে—
১. (ক) তার নাম স্পষ্ট, পরিচিতিযোগ্য এবং সহজে বোঝার মতোভাবে ধারণ করতে হবে, যাতে পরিচয় সহজ হয়।
২. (খ) নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং চাহিদা হলে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে এবং গ্রেফতারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের তার পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
৩. (গ) গ্রেফতারের একটি স্মারকলিপি তৈরি করতে হবে, যা—
(i) অন্তত একজন সাক্ষীর সাক্ষরিত থাকবে; ওই সাক্ষী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকার সম্মানিত নাগরিক হতে হবে। যদি এমন কেউ না থাকে, তবে তার কারণ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করতে হবে।
(ii) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা অঙ্গুলিমুদ্রা থাকবে, যদি সে প্রত্যাখ্যান না করে।
৪. (ঘ) যদি গ্রেফতার স্থান তার বাসার বাইরে হয়, তবে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবার, আত্মীয় বা তার নিজ নির্বাচিত বন্ধুকে যত দ্রুত সম্ভব কিন্তু গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের সময়, স্থান এবং হেফাজতের জায়গার খবর দিতে হবে।
৫. (ঙ) যদি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে তাকে মেডিকেল অফিসার বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে হবে, মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে এবং আঘাতের কারণ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করতে হবে।
৬. (চ) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি চাইলে, গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিজের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার অথবা পরিবারের কাছাকাছি কারো সাথে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ধারা ৫২৩(২)-এর অনুযায়ী, যদি জব্দকৃত সম্পত্তির মালিক অজ্ঞাত হয়, ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণসহ একটি ঘোষণা (Proclamation) জারি করবেন। সেই ঘোষণার তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে যে কেউ দাবিদার হিসাবে হাজির হয়ে তার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৩ ধারার বিধান:- ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত মাল বা চোরাইমাল আটকের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃক গৃহীত পদ্ধতি:
(১) ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত বা চেরাইমাল বলে কথিত বা সন্দেহযুক্ত বা কোন অপরাধ সংঘটনের সন্দেহ সৃষ্টিকারী অবস্থায় প্রাপ্ত সম্পত্তি কোন পুলিশ অফিসার জব্দ করলে সঙ্গে সঙ্গে তা কোন ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাতে হবে এবং উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত সম্পত্তির বিহিত ব্যবস্থা বা উহার দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে প্রদান বা এরূপ ব্যক্তিকে না পাওয়া গেলে উহার হেফাজত ও অর্পণ সম্পর্কে যেরূপ মনে করেন সেরূপ আদেশ দিবেন।
- জব্দকৃত মারের মালিক অজ্ঞাত হলে পদ্ধতি:
(২) সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি যদি পরিচিত হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শর্তে (যদি আরোপিত হয়) তাকে সম্পত্তি প্রদানের আদেশ দিতে পারবেন। কিন্তু উক্ত ব্যক্তি যদি অজ্ঞাত হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত সম্পত্তি আটক রাখতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে, তিনি সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণসহ এই মর্মে একটি ঘোষণা দিবেন যে, উক্ত সম্পত্তিতে কারো কোন দাবী থাকলে ঘোষণা তারিখ হতে এক মাসের মধ্যে তার সামনে হাজির হয়ে উক্ত দাবী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-523: Procedure by police upon seizure of property taken under section 51 or stolen:
(1) The seizure by any police-officer of property taken under section 51, or alleged or suspected to have been stolen, or found under circumstances which create suspicion of the commission of any offence, shall be forthwith reported to a Magistrate, who shall make such order as he thinks fit respecting the disposal of such property or the delivery of such property to the person entitled to the possession thereof, or, if such person cannot be ascertained, respecting the custody and production of such property.
-Procedure where owner of property seized unknown:
(2) If the person so entitled is known, the Magistrate may order the property to be delivered to him on such conditions (if any) as the Magistrate thinks fit. If such person is unknown, the Magistrate may detain it and shall, in such case, issue a Proclamation specifying the articles of which such property consists, and requiring any person who may have a claim thereto, to appear before him and establish his claim within [one month] from the date of such proclamation.
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৬ অনুসারে,
যখন কোনো বিধি, আইন, প্রবিধান বা উপ-আইনের আওতায় কোনো জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি আরোপিত হয়, তখন সেই জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি আরোপিত হওয়ার ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির ১০ টি ব্যতিক্রম (Exception) রয়েছে অর্থাৎ এই ১০ টি ক্ষেত্রে কোন মানহানিকর উক্তি বা তথ্য প্রকাশ করা হলেও মানহানির অপরাধ হবে না।
⇒ ৪৯৯ ধারায় ১০টি ব্যতিক্রম নিচে দেয়া হল-
১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৮, বিধি ১২ অনুযায়ী, আদালত সাক্ষীর জবানবন্দি প্রদানকালে তার হাব-ভাব বা আচরণ (demeanour) সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে সে সম্পর্কে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারে। এই মন্তব্য সাক্ষীর আচরণের বিশ্বাসযোগ্যতা, সত্যবাদিতা, দ্বিধা বা অসঙ্গতি ইত্যাদি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে হতে পারে, যা মামলার ন্যায়বিচারে সহায়ক।
অর্থাৎ যদি কোন সাক্ষীর আচরণ মামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় হয়,তখন বিচারক ন্যায় বিচারার্থে উক্ত সাক্ষীর ব্যবহার সম্পর্কে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারবেন।
- আদেশ ১৮ বিধি ১২- আদালতে কোন সাক্ষী জবানবন্দি দানকালে তার আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, এরূপ কোন মন্তব্য লিপিবদ্ধ করতে পারে।
- The Court may record such remarks as it thinks material respecting the demeanour of any witness while under examination.
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি সংহিতা (CPC) ১৯০৮-এর ধারা ১৫১-এ আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) সম্পর্কিত বিস্তারিত বিধান রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, "Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court" অর্থাৎ CPC-এর কোনো বিধান আদালতের সহজাত ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করবে না, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আদালতের কার্যধারার অপব্যবহার রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয়।
⇒ দেওয়ানি আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা:-
আদালতের সহজাত ক্ষমতা বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) ন্যায় বিচারের স্বার্থে দেওয়ানী আদালতের একটি অলিখিত ক্ষমতা যা প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়। কোন বিচারপ্রার্থী ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত না হওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতকে একটি বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। যেক্ষেত্রে আইনের কোন সুস্পষ্ট বিধান নেই বা আইনের কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নেই সেক্ষেত্রে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কল্পে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন। একেই বলা হয় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বা সহজাত ক্ষমতা।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারামতে, দেওয়ানি আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 151- Saving of inherent powers of Court:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court.
দেওয়ানি কার্যবিধি, আদেশ ৪১, বিধি ১২ক: আপিলে মুলতবি (Adjournment in Appeal):
(১) আপিল শুনানির জন্য কোনো পক্ষের অনুরোধে তিনবারের বেশি মুলতবি (adjournment) আদালত দিতে পারবে না। তিনবারের বেশি মুলতবি চাইলে, যে পক্ষ তা চাইবে, তাকে অপর পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যা কমপক্ষে ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে — আদালত যা উপযুক্ত মনে করবে।
- যদি আপিলকারী (Appellant) টাকা না দেয়, তাহলে আপিল খারিজ হয়ে যাবে।
- যদি প্রতিবাদী (Respondent) টাকা না দেয়, তাহলে একতরফা শুনানিতে আপিল নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী যেকোনো আপিল যদি খারিজ হয় বা একতরফা নিষ্পত্তি হয়, তাহলে যার কারণে তা হয়েছে, সে পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করলে শুনানির জন্য আপিল পুনরুজ্জীবিত (revive) করা যাবে।
- এই আবেদনের সাথে আদালত কমপক্ষে ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ ধার্য করবে।
- খরচ আদালতে জমা দিলে, কোনো অতিরিক্ত প্রক্রিয়া ছাড়াই আপিল পুনরায় শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে।
- আদালত জমাকৃত অর্থ অপর পক্ষকে পরিশোধ করবে।
- একই পক্ষ একবারের বেশি এই নিয়মে আপিল পুনরুজ্জীবন করাতে পারবে না।
(৩) আপিল শুনানির সময় আদালত নিজে থেকে মুলতবি আদেশ দিতে পারবে না, যদি না আদালত উপযুক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪১ ধারা অনুযায়ী, যখন আদালত কোনো দলিল বিলুপ্ত বা বাতিল করার রায় প্রদান করে, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো করতে পারবে:
১. আদালত যে পক্ষের অনুকূলে দলিল বিলুপ্ত করার রায় দিয়েছে, সে পক্ষকে অন্য পক্ষের কাছ থেকে ন্যায্য
ও প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দিতে পারবে।
২. ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে বিচারিক ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী।
ধারা ৪১:
দলিল বিলুপ্তির রায় প্রদানের সময় আদালত যে পক্ষকে তদ্রুপ প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সে পক্ষের তরফ হতে অন্য পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা মোতাবেক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।
--------------
Section 41:
On adjudging the cancellation of an instrument, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette- এ মোট ৪টি অধ্যায়ে ৪২টি বিধি আছে।
- প্রথম অধ্যায়ে ১১ টি, দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৪টি, তৃতীয় অধ্যায়ে ৯টি, চতুর্থ অধ্যায়ে ৮টি।
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর ২য় অধ্যায়ে একজন আইনজীবীর তাহার মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে বর্ণিত আছে।
- সেখানে ১৪টি বিধি রয়েছে যেখানে একজন আইনজীবীর তাহার মক্কেলের প্রতি কী কী দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেন তা উল্লেখ আছে।
অর্থাৎ Canons of Professional Conduct and Etiquette- এর দ্বিতীয় অধ্যায়ে আইনজীবীর মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে ১৪টি বিধি রয়েছে। এই অধ্যায়টি মক্কেলের সাথে আইনজীবীর সম্পর্ক, গোপনীয়তা, লয়্যালটি, কমিউনিকেশন ইত্যাদি বিষয়গুলো কভার করে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা- দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ:
দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যেতে পারে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য এর মাধ্যমে।
⇒ The Evidence Act, 1872- Section 61 - Proof of contents of documents:
The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৯-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, তদন্তের পর যদি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ বা যুক্তিসংগত সন্দেহের ভিত্তি নেই, তাহলে তিনি আসামিকে (হেফাজতে থাকলে) একটি মুচলেকা (Bond) সম্পাদন করিয়ে মুক্তি দিতে পারেন।
সুতরাং, সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে আসামিকে মুক্তি দেওয়ার সরাসরি বিধান রয়েছে ধারা ১৬৯-এ।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৯ ধারা অনুসারে-
- তদন্তের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, আসামিকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ নাই তাহলে আসামি হেফাজতে থাকলে একটি মুচলেকা সম্পাদনের পর উক্ত কর্মকর্তা তাকে মুক্তি দিবেন।
- সেই মোতাবেক উক্ত কর্মকর্তা নির্দেশ দিবেন যে, কখনো প্রয়োজন হলে তার বিচারের জন্য বা তাকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য অপরাধটি আমলে নিতে ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির হতে হবে।
----------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898,- Section:-169: Release of accused when evidence deficient:
- If, upon an investigation under this Chapter, it appears to the officer in charge of the police station or to the police officer making the investigation that there is not sufficient evidence or reasonable ground of suspicion to justify the forwarding of the accused to a Magistrate,
- such officer shall, if such person is in custody, release him on his executing a bond, with or without sureties, as such officer may direct, to appear, if and when so required, before a Magistrate empowered to take cognizance of the offense on a police-report and to try the accused or send him for trial.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৭৪(১)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বা সরকার কর্তৃক বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার যদি নিম্নলিখিত যেকোনো তথ্য পান, তাহলে তিনি নিকটতম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করে মৃতদেহের স্থানে গিয়ে তদন্ত (inquest) করবেন এবং সুরতহাল রিপোর্ট (Inquest Report) তৈরি করবেন:
(a) কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে (has committed suicide)
(b) কোনো ব্যক্তি অন্য কারও দ্বারা হত্যা করা হয়েছে, বা প্রাণী বা যন্ত্র বা দুর্ঘটনার কারণে নিহত হয়েছে (has been killed by another, or by an animal, or by machinery or by an accident)
(c) এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছে যা যৌক্তিক সন্দেহ সৃষ্টি করে যে অন্য কোনো ব্যক্তি অপরাধ সংঘটন করেছে (has died under circumstances raising a reasonable suspicion that some other person has committed an offence)
অর্থাৎ, উপরের তিনটি পরিস্থিতি (আত্মহত্যা, দুর্ঘটনাজনিত/হত্যাজনিত মৃত্যু, বা অপরাধজনিত সন্দেহজনক মৃত্যু) যেকোনো একটি হলেই পুলিশ অফিসারকে এই ধারার অধীনে তদন্ত করতে হবে।
- সুতরাং, প্রশ্নে উল্লিখিত সবগুলো ক্ষেত্রই (আত্মহত্যা, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, সন্দেহজনক মৃত্যু) ধারা ১৭৪-এর আওতাভুক্ত।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী:
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার যদি সংবাদ পান যে—
- কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে।
- অন্য কারও দ্বারা, কোনো প্রাণী বা যন্ত্রের কারণে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।
এরূপ অবস্থায় মারা গেছে, যা যৌক্তিক সন্দেহ সৃষ্টি করে যে এটি অপরাধজনিত মৃত্যু।
- তখন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা নিকটতম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি অবহিত করবেন।
- এরপর তিনি মৃত ব্যক্তির লাশের স্থানে উপস্থিত হয়ে তদন্ত পরিচালনা করবেন।
- তদন্তে স্থানীয় দুই বা ততোধিক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
- পুলিশ মৃতদেহের জখম, হাড় ভাঙা, থেঁতলানো ও অন্যান্য আঘাতের চিহ্ন পর্যবেক্ষণ ও বর্ণনা করবেন।
- সেইসঙ্গে কোনো অস্ত্র, যন্ত্র বা উপায়ে ওই চিহ্নগুলো সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হয়, তা উল্লেখ করবেন।
- তদন্ত শেষে মৃত্যুর দৃশ্যমান কারণ উল্লেখ করে একটি লিখিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে, যা সুরতহাল রিপোর্ট (Inquest Report) নামে পরিচিত।
--------------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-174: Police to inquire and report on suicide, etc.
(1) The officer in charge of a police station or some other police officer specially empowered by the Government in that behalf, on receiving information that a person-
(a) has committed suicide, or
(b) has been killed by another, or by an animal, or by machinery or by an accident, or
(c) has died under circumstances raising a reasonable suspicion that some other person has committed an offence,
shall immediately give intimation thereof to the 204[nearest Executive Magistrate] empowered to hold inquests, and, unless otherwise directed by any rule prescribed by the Government, or by any general or special order 205[of the District Magistrate], shall proceed to the place where the body of such deceased person is, and there, in the presence of two or more respectable inhabitants of the neighborhood, shall make an investigation, and draw up a report of the apparent cause of death, describing such wounds, fractures, bruises and other marks of injury as may be found on the body, and stating in what manner, or by what weapon or instrument (if any), such marks appear to have been inflicted:
Provided that, unless the Government otherwise directs, it shall not be necessary under this sub-section, in any case where the death or any person has been caused by enemy action, to make any investigation or to draw up any report or to send any intimation to a Magistrate empowered to hold inquests.
(2) The report shall be signed by such police officer and other persons, or by so many of them as concur therein, and shall be forthwith forwarded to the District Magistrate.
(3) When there is any doubt regarding the cause of death, or when for any other reason the police officer considers it expedient so to do, he shall, subject to such rules as the Government may prescribe in this behalf, forward the body, with a view to its being examined, to the nearest Civil Surgeon, or other qualified medical man appointed in this behalf by the Government, if the state of the weather and the distance admit of its being so forwarded without risk of such putrefaction on the road as would render such examination useless.
(5) The following Magistrates are empowered to hold inquest, namely, any District Magistrate or any other Executive Magistrate specially empowered in this behalf by the Government or the District Magistrate.
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির মুচলেকার মেয়াদ:
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৬ দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৭ দণ্ডিত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৮ রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক বিষয় প্রচারকারীর সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৯ ভবঘুরে ও সন্দেহজনক ব্যক্তিবৃন্দের সদাচরণের মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১১০ অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।
⇒ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে সর্বোচ্চ ৩ বছর।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৬ অনুযায়ী, কোনো সুস্থ বয়স্ক ব্যক্তি আত্মহত্যা করলে এবং কেউ তাকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করে, তাহলে সেই প্ররোচনাকারীকে সর্বাধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা দেওয়া যেতে পারে।
- মৃত্যুদণ্ড বা জীবনভর কারাদণ্ড ধারা ৩০৬–এ প্রযোজ্য নয়; এগুলো ধারা ৩০৫–এর জন্য নির্ধারিত।
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারার বিধান আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করবে, উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 306 Abetment of suicide:- If any person commits suicide, whoever abets the commission of such suicide, shall be punished with imprisonment either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
ধারা ৪৩৬ অনুযায়ী,
যখন হাইকোর্ট বিভাগ বা সেশন জজ ধারা ৪৩৫-এর অধীনে বা অন্য কোনোভাবে কোনো নথি পরীক্ষা করেন, তখন তারা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিতে পারেন যাতে তিনি নিজে বা তাঁর অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত তদন্ত সম্পন্ন করেন। এই তদন্ত করা যেতে পারে এমন অভিযোগে যা ধারা ২০৩ বা ধারা ২০৪(৩) অনুযায়ী খারিজ করা হয়েছে, অথবা এমন মামলায় যেখানে কোনো অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিজেও এই ধরনের তদন্ত করতে পারেন, অথবা তাঁদের অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে তা করতে নির্দেশ দিতে পারেন।
তবে কোনো আদালত discharged ব্যক্তির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে না যতক্ষণ না সেই ব্যক্তিকে যথাযথভাবে সুযোগ দেওয়া হয়েছে কেন এই নির্দেশ দেওয়া উচিত নয়।
সঠিক উত্তর : ২ বছর কারাদণ্ড।
⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারায় জালিয়াতি কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারা অনুযায়ী ,কোন ব্যক্তি জালিয়াতি (Forgery) করেছে বলে গণ্য হবে যদি সে নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে কোন দলিল বা দলিলের অংশ প্রস্তুত করে;
১. কোনো ব্যক্তি বা জনসাধারণের ক্ষতি সাধন করতে [with intent to cause damage or injury]; বা
২. কোনো দাবি বা অধিকার সমর্থন করতে [to support any claim or title]; বা
৩. কোনো ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তি পরিত্যাগ করতে [to cause any person to part with property]; বা
৪. কোনো লোককে প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য করতে [to enter into any express or implied contract]; বা
৫. প্রতারণা করার অভিপ্রায়ে বা প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে [with intend to commit fraud or fraud may be committed]।
ধারা ৪৬৫- জালিয়াতির শাস্তি:
যে কোনো ব্যক্তি জালিয়াতি (Forgery) সংঘটিত করে, তাকে নিম্নলিখিত শাস্তি দেওয়া যেতে পারে:
-কারাদণ্ড (Imprisonment) – আইন অনুযায়ী যে কোনো রূপের কারাদণ্ড (rigorous বা simple) হতে পারে, এবং কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে; বা
- অর্থদণ্ড (Fine); বা
- উভয়ই (Both) – কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই প্রযোজ্য হতে পারে।
আদেশ ২০ বিধি ৬: ডিক্রির বিষয়সমূহ:
১) রায়ের সাথে সাদৃশ্য:
ডিক্রিটি রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এতে মামলার নম্বর, পক্ষগণের নাম ও বিবরণ এবং দাবির বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং মামলায় মঞ্জুরীকৃত প্রতিকার বা অন্যান্য সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
২) খরচের বিবরণ:
ডিক্রিতে মামলায় incurred (ব্যয়িত) ব্যয়ের পরিমাণ, কার দ্বারা এবং কোন সম্পত্তি থেকে বা কোন অনুপাতে সেই ব্যয় পরিশোধ করতে হবে—তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
৩) পারস্পরিক দায় সমন্বয়:
আদালত নির্দেশ দিতে পারেন যে, এক পক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষের প্রতি প্রদেয় খরচাদির পরিমাণ সেই অংকের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে (set-off), যা পূর্বে অপর পক্ষের কাছ থেকে পাওনা হিসাবে স্বীকৃত বা নির্ধারিত হয়েছে।
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৫৫ ধারা- আমল অযোগ্য মামলার সংবাদ:
(১) যখন কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঐরূপ থানার সীমার মধ্যে কোন আমল অযোগ্য অপরাধের সম্পাদনের বিষয়ে সংবাদ প্রদান করা হয়, তখন তিনি, এ ব্যাপারে সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট নিদর্শে ঐরূপ অফিসার কর্তৃক রক্ষিত বহিতে উক্ত সংবাদের সারাংশ লিখে রাখবেন বা রাখাবেন এবং সংবাদ জ্ঞাপনকারীকে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর যাওয়ার নির্দেশ দিবেন।
(২) আমল অযোগ্য মামলার তদন্তঃ আমল অযোগ্য অপরাধের বিচার করার বা উহা বিচারার্থ প্রেরণ ক্ষমতা আছে এরূপ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত কোন পুলিশ অফিসার কোন আমল অযোগ্য ঘটনা তদন্ত করবেন না।
(৩) এরূপ আদেশপ্রাপ্ত যে কোন পুলিশ অফিসার ঐ তদন্তের ব্যাপারে (বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাড়া), কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমলযোগ্য ঘটনায় যে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন সেই একই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১১(১) (গ) অনুযায়ী আইন শিক্ষা কমিটি (Legal Education Committee) গঠিত হবে ৯ জন সদস্য নিয়ে-যার মধ্যে -
- ৫ জন হবেন বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত,
- এবং ৪ জন হবেন কো-অপ্টেড সদস্য, যাঁরা কাউন্সিলের সদস্য নন, এবং
- এই ৪ জন কো-অপ্টেড সদস্যের মধ্যে অন্তত ২ জন হতে হবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের আইন বিভাগের শিক্ষক।
অন্যদিকে:
- নির্বাহী কমিটি ও অর্থ কমিটি – (অনুচ্ছেদ ১১ (১) (ক) ও ১১ (১) (খ) অনুযায়ী উভয়ে কমিটির সদস্য সংখ্যা মাত্র ৫ জন।
- নিবন্ধন কমিটি-১১(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিবন্ধন কমিটির সংখ্যা মাত্র ৫ জন।
⇒ বাংলাদেশ আইনজীবী ও বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ অনুচ্ছেদ ১১:
(১) বার কাউন্সিল নিম্নলিখিত স্থায়ী কমিটি গঠন করবে:
(ক) একটি নির্বাহী কমিটি, যা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে;
(খ) একটি অর্থ কমিটি, যা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে;
(গ) একটি আইন শিক্ষা কমিটি, যা নয়জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে-যার মধ্যে পাঁচজন কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন এবং চারজন কাউন্সিল কর্তৃক কো-অপ্টেড (co-opted) হবেন, যারা কাউন্সিলের সদস্য নন। এই চারজনের মধ্যে কমপক্ষে দুজন বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের আইন বিভাগের শিক্ষক হবেন।
(২) উল্লিখিত কমিটিগুলোর ক্ষমতা ও কার্যাবলী যেরূপ নির্ধারণ করা হবে, সেরূপ হবে।
(৩) বার কাউন্সিল এই আদেশের অধীনে তার কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন মনে করলে তার সদস্যদের মধ্য থেকে অন্যান্য কমিটি গঠন করতে পারবে।
দেওয়ানি কার্যবিধি – আদেশ ৮ : লিখিত জবাব (Written Statement)
বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আদালতে যে লিখিত বিবরণ দাখিল করে, তাকে লিখিত জবাব (Written Statement) বলা হয়।
এ সম্পর্কিত বিধানগুলো দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮-এর বিধি ১ থেকে ১০ পর্যন্ত আলোচিত হয়েছে।
আদেশ ৮ বিধি ১ – লিখিত জবাব দাখিলের সময়সীমা:
বিবাদী তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনপূর্বক একটি লিখিত জবাব দাখিল করবে। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে আদালত অতিরিক্ত সময় দিতে পারে, এবং সেই কারণটি আদালত রেকর্ডে লিপিবদ্ধ করবে। কিন্তু এই অতিরিক্ত সময় সমন জারির তারিখ হতে সর্বোচ্চ ৬০ কার্যদিবসের বেশি হতে পারবে না।
৬০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব না দিলে:
যদি বিবাদী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত একতরফা (ex parte) মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করতে পারবে।
সঠিক উত্তর: সময় গণনায় একরূপতা আনয়ন।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৫ অনুযায়ী, সকল দলিলকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিবেচনা করার বিধান রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সময় গণনার ক্ষেত্রে কোনো বিভ্রান্তি বা বৈচিত্র্য না রেখে একরূপ ও নির্ভরযোগ্য সময়চক্র নিশ্চিত করা, যাতে আইন প্রয়োগে সুনির্দিষ্টতা বজায় থাকে।
⇒ দলিলে উল্লিখিত সময়ের গণনা (Computation of Time mentioned in instruments )- তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লিখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচিত হবে।
-------
-The Limitation Act, 1908, Section-25. Computation of time mentioned in instruments:
All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.