বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন১২,৬০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ৫০ / ১২৬ · ৪,৯০১৫,০০০ / ১২,৬০৫

৪,৯০১.
আরজিতে উল্লেখিত প্রতিটি অভিযোগ যদি বিবাদী চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করে, তাহলে এর ফলাফল কী হবে?
  1. মিথ্যা বলে গণ্য হবে
  2. স্বীকার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে
  3. অনির্ণীত আছে বলে গণ্য হবে
  4. অস্বীকার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে
ব্যাখ্যা
• আদেশ-৮, বিধি-৩: সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার-
ক্ষতিপূরণ ব্যতীত আরজিতে উল্লেখিত প্রতিটি অভিযোগ বিবাদী তার লিখিত জবাবে সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করবে, তা নাহলে বিবাদী তা স্বীকার করেছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ বিবাদী তার লিখিত জবাবে বাদীর দাবি চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করবে না। যদি বিবাদী আরজির কোন বিষয় চাতুরীপূর্ণভাবে অস্বীকার করেন, তবে তা স্বীকার করেছেন বলেই ধরে নেওয়া হবে।

[Denial to be specific-
It shall not be sufficient for a defendant in his written statement to deny generally the grounds alleged by the plantiff, but the defendant must deal specifically with each allegation of fact of which he does not admit the truth, except damages.]
৪,৯০২.
No _____ or _____ shall lie against any order or decree passed by the Court in pursuance of settlement between the parties under Section 89A of The Code of Civil Procedure,1908.
  1. appeal, review
  2. review, revision
  3. appeal, revision
  4. None of above
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে
১- মধ্যস্থতা (Mediation) 
২- সালিশী (Arbitration)

সাধারন নিয়মসমূহ-

⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন,২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না। 

Section 89A(12):
No appeal or revision shall lie against any order or decree passed by the Court in pursuance of settlement between the parties under this section.
৪,৯০৩.
দেওয়ানী কার্যবিধি ৫৮ ধারা অনুসারে ৬ সপ্তাহের বেশি আটক রাখা যাবে না যদি অর্থ পরিশোধের পরিমাণ _________ হয়।
  1. ৫০ টাকার বেশি
  2. ৫০ টাকার কম
  3. ৫০০ টাকার কম
  4. ১০০ টাকার কম
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ৫৮ ধারার বিধান আটক ও মুক্তি:
 ৫০ টাকার বেশি পরিশোধের ডিক্রির ক্ষেত্রে ৬ মাসের বেশি দেওয়ানি জেলে আটক রাখা যাবে না; এবং
 ৫০ টাকার কম হলে সে ক্ষেত্রে ৬ সপ্তাহের বেশি আটক রাখা যাবে না।
 যে ডিক্রি জারিতে ডিক্রি দায়িক আটক থেকে মুক্তি পেয়েছেন, সেই বিষয়ে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা যাবে না।
____________
Section 58. Detention and release:
(1) Every person detained in the civil prison in execution of a decree shall be so detained,- 
(a) where the decree is for the payment of a sum of money exceeding fifty Taka, for a period of six months, and, 
(b) in any other case for a period of six weeks: 
Provided that he shall be released from such detention before the expiration of the said period of six months or six weeks, as the case may be,- 
(i) on the amount mentioned in the warrant for his detention being paid to the officer in charge of the civil prison, or 
(ii) on the decree against him being otherwise fully satisfied, or 
(iii) on the request of the person on whose application he has been so detained, or 
(iv) on the omission by the person, on whose application he has been so detained, to pay subsistence allowance: 
Provided, also, that he shall not be released from such detention under clause (ii) or clause (iii), without the order of the Court. 
 
(2) A judgment-debtor released from detention under this section shall not merely by reason of his release be discharged from his debt, but he shall not be liable to be re-arrested under the decree in execution of which he was detained in the civil prison.
৪,৯০৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন ধারায় গ্রেফতার ও আটকের বিষয়ে বিধান আছে?
  1. ৫৪ ধারা
  2. ৫৫ ধারা
  3. ৫৭ ধারা
  4. ৫৯ ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৫৫ ধারা অনুযায়ী যখন কোন ব্যক্তিকে যে কোন দিনে ডিক্রী জারীর জন্য সাব্যস্ত দেনাদারকে গ্রেফতার করা যাবে ও দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা যাবে।
• আটক ২ প্রকার- (১) আইনী আটক (২) বেআইনী আটক।
•আইনী আটক আবার ২ প্রকার যথা- (১) নিবারন মূলক আটক (২) শাস্তি মূলক আটক।

• কোন দেনাদারকে গ্রেফতার করার জন্য কোন বাসগৃহে সূর্যাস্তের পর এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে প্রবেশ করা যাবে না।
• উল্লেখ্য যে, কোন মহিলাকে আটক করা যাবে না।
-------------
দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৫ ধারার বিধান গ্রেফতার ও আটক: ডিক্রি জারির জন্য কোন ডিক্রি দায়িককে যে কোন সময় এবং যে কোন দিনে গ্রেফতার করা যাবে এবং দেওয়ানি কারাগারে তাকে আটক রাখা যাবে। তবে উক্ত ব্যক্তিকে আটক করার জন্য-
- সূর্যাস্তের পর ও সূর্যোদয়ের পূর্বে কোন বাসগৃহে প্রবেশ করা যাবে না;
- কোন বাসগৃহের দরজা ভেঙ্গে ফেলা যাবে না;
- কোন বাসগৃহে কোন মহিলা থাকলে, উক্ত মহিলাকে সরে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত সময় ও সুযোগ প্রদান না করে প্রবেশ করা যাবে না।

তবে শর্ত থাকে যে, অর্থ পরিশোধের ডিক্রিতে ডিক্রি দায়িককে গ্রেফতার করার পর ডিক্রি দায়িক ডিক্রির টাকা ও গ্রেফতারের খরচ গ্রেফতারকারী কর্মকর্তাকে প্রদান করলে উক্ত কর্মকর্তা দায়িককে অবিলম্বে মুক্তি দিবে। এছাড়া ডিক্রি দায়িক দেউলিয়া হলে তাকে মুক্তি দেয়া যাবে।
৪,৯০৫.
দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী, দস্যুতায় কোন অপরাধগুলো সংঘটিত হয়?
  1. খুন অথবা নরহত্যা
  2. চুরি অথবা বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়
  3. অপহরণ অথবা জীবননাশক অপরাধ
  4. ধর্ষণ অথবা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) চুরি অথবা বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়। 
⇒দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী, “In all robbery there is either theft or extortion.”
- অর্থাৎ, প্রত্যেক দস্যুতার ভিতরে চুরি (Theft) বা বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় (Extortion) – এ দুই অপরাধের যেকোনো একটি অবশ্যই বিদ্যমান থাকে।
- তবে দস্যুতাকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, যখন চুরি বা বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় আশু মৃত্যু, গুরুতর আঘাত, বা অবৈধ আটকের ভয় সৃষ্টি করা হয় বা সে উদ্দেশ্যে কোনো শারীরিক উপায় অবলম্বন করা হয়।
- তাই, দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার আওতায় দস্যুতা বলতে বোঝায়, চুরি বা বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সেই রূপ, যেখানে ভুক্তভোগীকে অবিলম্বে শারীরিক ক্ষতির ভয় দেখানো হয়।
 
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান দস্যুতা:- প্রত্যেক দস্যুতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।
যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে:- চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে 'দস্যুতা'।
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে:- বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী- যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহ্বল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় 'দস্যুতা' বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা:- অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section: 390- Robbery: In all robbery there is either theft or extortion:
When theft is robbery:
Theft is "robbery" if, in order to the committing of the theft, or in committing the theft, or in carrying away or attempting to carry away property obtained by the theft, the offender, for that end, voluntarily causes or attempts to cause to any person death or hurt or wrongful restraint, or fear of instant death or of instant hurt, or of instant wrongful restraint.
When extortion is robbery:
Extortion is “robbery” if the offender, at the time of committing the extortion, is in the presence of the person put in fear, and commits the extortion by putting that person in fear of instant death, instant hurt, or of instant wrongful restraint to that person, or to some other person, and, by so putting in fear, induces the person so put in fear then and there to deliver up the thing extorted.
-Explanation:- The offender is said to be present if he is sufficiently near to put the other person in fear of instant death, of instant hurt, or of instant wrongful restraint.
৪,৯০৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন খণ্ডে "বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি" পদ্ধতি উল্লেখ আছে?
  1. দ্বিতীয় খণ্ড
  2. পঞ্চম খণ্ড
  3. সপ্তম খণ্ড
  4. একাদশ খণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ "বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি" (Alternative Dispute Resolution – ADR) বিষয়ক বিধানসমূহ দেওয়ানি কার্যবিধির পঞ্চম খণ্ডে (Part V) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- এই খণ্ডের অধীনে ধারা ৮৯B থেকে ৮৯E পর্যন্ত সালিশি ও মধ্যস্থতা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে, যা আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা প্রদান করে।
- এই ধারাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো মামলা দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত, সহজ ও আপোষযোগ্য পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা, যাতে আদালতের ওপর মামলার চাপ কমে এবং পক্ষগণ নিজেদের মধ্যে সমাধানে পৌঁছাতে পারে।

উল্লেখযোগ্য ধারা:
ধারা ৮৯A: আদালতের মধ্যস্থতা বা নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টা।
ধারা ৮৯B: সালিশির মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি।
ধারা ৮৯C: আপিল পর্যায়ে মধ্যস্থতা।
ধারা ৮৯D ও ৮৯E: পূর্বের মামলাগুলোর জন্য ও কার্যকর তারিখ নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধান।
৪,৯০৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪২ অনুযায়ী, নিচের কোনটি ঘোষণামূলক মোকদ্দমার বিষয়বস্তু হতে পারে না?
  1. আইনগত পরিচয়
  2. জরিমানা আদায়
  3. উত্তরাধিকার সনাক্তকরণ
  4. সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকার
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) জরিমানা আদায়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭–এর ধারা ৪২ অনুযায়ী, ঘোষণামূলক মোকদ্দমা (Declaratory Suit) দায়ের করা যায় যদি–❝কোন ব্যক্তি তার আইনগত পরিচয় (legal character) অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকার (right to any property) অস্বীকার করা হচ্ছে অথবা অস্বীকার করার ঝুঁকি রয়েছে।❞
এই অবস্থায়, আদালতের কাছে সে ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন যাতে আদালত তার আইনগত অধিকার বা পরিচয় ঘোষণা করে।

→ তাই, নিচের বিষয়গুলো ঘোষণামূলক মোকদ্দমার উপযুক্ত বিষয়বস্তু হতে পারে:
(ক) আইনগত পরিচয়: ধারা ৪২ স্পষ্টভাবে এটার অনুমতি দেয়।
(গ) উত্তরাধিকার সনাক্তকরণ: এটা আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তির অধিকার সংশ্লিষ্ট, তাই এখানে ঘোষণামূলক ডিক্রি চাওয়া যেতে পারে।
(ঘ) সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকার: এটাও ধারা ৪২-এর সরাসরি স্বীকৃত একটি ক্ষেত্র।

→ কিন্তু, (খ) জরিমানা আদায়: - এটি ঘোষণামূলক ডিক্রির উদ্দেশ্য নয়। জরিমানা আদায় একটি বাধ্যতামূলক প্রতিকার (compensatory or penal remedy), যা দণ্ডমূলক বা প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি ব্যক্তির "আইনগত পরিচয়" বা "স্বত্বের ঘোষণা"র বিষয় নয়। তাই এটি ধারা ৪২-এর আওতায় আসে না।

অর্থাৎ ঘোষণামূলক মোকদ্দমা হলো কারও অস্বীকৃত আইনগত অধিকার বা পরিচয় নির্ধারণের জন্য। জরিমানা আদায় অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ বা শাস্তির বিষয়, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গ।

৪,৯০৮.
"nemo debet bis vexari" নীতির অর্থ কী?
  1. কাউকে দণ্ডিত করা উচিত নয়
  2. একজন ব্যক্তিকে শুধুমাত্র প্রথমবার কঠোরভাবে দণ্ডিত করা উচিত
  3. একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে
  4. একজন ব্যক্তিকে দ্বিতীয়বার একই অপরাধের জন্য বিচার করা যাবে না
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারায় বলা হয়েছে, একবার দন্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য পুনরায় বা দ্বিতীয়বার বিচার করা যাবে না [person once convicted or acquitted not to be tried for same offence twice]। ৪০৩ ধারা [nemo debet bis vexari] নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত যার অর্থ হলো কোন ব্যক্তিকে দ্বিতীয় বারের জন্য বিচারাধীন করা যাবে না যার জন্য তাকে একবার বিচার করা হয়েছিল।

এক্ষেত্রে তিনটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে-
১. অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে অপরাধের চার্জ করা হয়েছে তাকে সেই অপরাধের জন্য বিচার করতে
২. উক্ত বিচার অবশ্যই এখতিয়ারসম্পন্ন কোন আদালত কর্তৃক হতে হবে
৩. বিচারে অবশ্যই খালাসের [Acquittal] বা দণ্ডের [Conviction] আদেশ থাকতে হবে।

দোবারা সাজা নীতি প্রযোজ্য হবে না-
১. অভিযোগ খারিজ করে যদি কোন ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বা
২. ২৪৯ ধারার অধীন মামলার প্রক্রিয়া বন্ধ করে যদি কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয় বা
৩. কোনো আসামীকে অব্যাহতি দেয়া হলে।
৪,৯০৯.
বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ জানার পরও তাতে যোগদান করলে কতদিনের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৬ মাস পর্যন্ত
  2. ১ বছর পর্যন্ত
  3. ২ বছর পর্যন্ত
  4. ৩ বছর পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১৪৫ ধারা: বেআইনী সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানা সত্ত্বেও উহাতে যোগদান করা অথবা উহাতে থেকে যাওয়া:
কোন বেআইনী সমাবেশকে আইন-নির্দেশিত পদ্ধতিতে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি উক্ত বেআইনী সমাবেশে যোগদান করলে বা উক্ত বেআইনী সমাবেশে থাকলে, তাকে দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

Section 145- Joining or continuing in unlawful assembly, knowing it has been commanded to disperse:
Whoever joins or continues in an unlawful assembly, knowing that such unlawful assembly has been commanded in the manner prescribed by law to disperse, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
৪,৯১০.
‘ক’ রাতের বেলায় ‘খ’-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত না হলেও তার প্রবেশের উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয়। ‘ক’-এর বিরুদ্ধে কোন ধারা প্রযোজ্য হবে?
  1. ধারা ৪৫২
  2. ধারা ৪৫১
  3. ধারা ৪৫০
  4. ধারা ৪৪৯
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪৪৯ – মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের জন্য গৃহে অনধিকার প্রবেশ:
যে ব্যক্তি কোনো ঘর, গৃহ বা ভবনে অনধিকার প্রবেশ করে, সেই প্রবেশের উদ্দেশ্য থাকে কোনো মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ (offence punishable with death) সংঘটন করা, তাকে এই ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।

শাস্তি
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life) অথবা
- সশ্রম কারাদণ্ড (Rigorous imprisonment) সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত, এবং
- অর্থদণ্ড (Fine) প্রযোজ্য।

৪,৯১১.
দণ্ডবিধির কত ধারায় জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক রোগের সংক্রমণ বিস্তারে অবহেলামূলক কার্যের শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ২৬৮
  2. ধারা ২৬৯
  3. ধারা ২৭০
  4. ধারা ২৭১
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ২৬৯–এ বলা হয়েছে যে, যদি কেউ বেআইনীভাবে বা অবহেলামূলকভাবে এমন কোনো কাজ করে যা জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে, এবং সে জানে বা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকে যে তার কাজের ফলে সংক্রমণ ঘটতে পারে, তবে তাকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।
-  তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) ধারা ২৬৯।

⇒ দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারার বিধান:  জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক রোগের সংক্রমণ বিস্তার করতে পারে এবং অবহেলামূলক কার্য :- কোন ব্যক্তি যদি বেআইনীভাবে বা অবহেলামূলকভাবে এমন কোন কার্য করে যা জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক কোন রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তা জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তা করে, তবে-সেই ব্যক্তি ছয়মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 269. Negligent act likely to spread infection of disease dangerous to life:- Whoever unlawfully or negligently does any act which is, and which he knows or has reason to believe to be, likely to spread the infection of any disease dangerous to life, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine, or with both.

৪,৯১২.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে cross-examination এ কোন ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যায়?
  1. সাক্ষীর সত্যতা পরীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন
  2. সাক্ষীর পরিচয় ও জীবনযাত্রা সম্পর্কিত প্রশ্ন
  3. সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার জন্য প্রশ্ন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪৬ অনুসারে, জেরায় (Cross-examination) সাক্ষীকে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যায় যা নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে সহায়ক হয়: 
সাক্ষীর সত্যতা পরীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন (ক): জেরায় একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো সাক্ষীর সাক্ষ্যের সত্যতা যাচাই করা। এটি সাক্ষীর দেওয়া তথ্যের সঠিকতা বা নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসার মাধ্যমে করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, সাক্ষীর দেওয়া বিবৃতির সাথে তার পূর্বের বিবৃতি বা অন্য প্রমাণের অসঙ্গতি খুঁজে বের করা।
সাক্ষীর পরিচয় ও জীবনযাত্রা সম্পর্কিত প্রশ্ন (খ): জেরায় সাক্ষীর পরিচয়, পেশা, সামাজিক অবস্থান বা জীবনযাত্রা সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যায় যাতে তার প্রেক্ষাপট বোঝা যায়। এটি সাক্ষীর সাক্ষ্যের পটভূমি বা বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়ন করতে সহায়ক হয়।
সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার জন্য প্রশ্ন (গ): জেরায় এমন প্রশ্ন করা যায় যা সাক্ষীর চরিত্র বা বিশ্বাসযোগ্যতার উপর প্রশ্ন তুলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সাক্ষীর পূর্বের অপরাধের রেকর্ড বা পক্ষপাতমূলক আচরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা যেতে পারে। তবে, ধারা ১৪৬-এর প্রোভাইসো অনুসারে, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় সাক্ষীর সাধারণ নৈতিক চরিত্র বা পূর্বের যৌন আচরণ সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যায় না, যদি না আদালতের অনুমতি থাকে এবং তা ন্যায়ের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়।

অর্থাৎ জেরায় সাক্ষীর সত্যতা পরীক্ষা, তার পরিচয় ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার জন্য প্রশ্ন করা যায়। অতএব, সঠিক উত্তর হলো উপরের সবগুলো।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারার বিধান জেরায় আইনসঙ্গত প্রশ্ন: যখন সাক্ষীকে জেরা করা হয় তখন ইতিপূর্বে উল্লেখিত প্রশ্নসমূহ ছাড়াও এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যা দ্বারা:
১) তার সত্যবাদিতা পরীক্ষা করা যায়।
২) তার পরিচয় ও মর্যাদা জানা যায়, অথবা
৩) তার চরিত্রের প্রতি আঘাত করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়, যদিও এরূপ প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপরাধের সাথে জড়িত হতে পারে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির সম্ভাবনা থাকে।
তবে শর্ত থাকে যে, ধর্ষণের অপরাধ বা ধর্ষণের চেষ্টার জন্য একটি মামলায়, দফা (৩) এর অধীনে ভিক্টিমের সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, এই ধরনের প্রশ্ন শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি নিয়েই জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যদি এটি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়।
----------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section-146. Questions lawful in cross-examination:
 When a witness is cross-examined, he may, in addition to the questions hereinbefore referred to, be asked any questions which tend –
(1) to test his veracity,
(2) to discover who he is and what is his position in life, or
(3) to shake his credit, by injuring his character, although the answer to such questions might tend directly or indirectly to criminate him or might expose or tend directly or indirectly to expose him to a penalty or forfeiture:
Provided that in a prosecution for an offence of rape or attempt to rape, no question under clause (3) can be asked in the cross-examination as to general immoral character or previous sexual behaviour of the victim:
Provided further that such question can only be asked with the permission of the Court, if it appears to the Court necessary for the ends of justice.

৪,৯১৩.
মোকদ্দমা চলাকালীন সময়ে বিষয়বস্তু স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য আদালত কোন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করিবেন?
  1. Prohibitory Injunction
  2. Mandatory Injunction
  3. Temporary Injunction
  4. Perpetual Injunction
ব্যাখ্যা
⇒ নিষেধাজ্ঞা হল একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম যেখানে কোন পক্ষকে নির্দিষ্ট কোন কাজ করা বা করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, কোনো কিছু করা হতে মামলার পক্ষগণকে বিরত রাখা বা মামলা করার পর কোনো পক্ষের করা কাজের জন্য পরিবর্তিত কোনো সম্পত্তিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞা বলে।
 
⇒  নিষেধাজ্ঞার প্রধানত দুই প্রকার হতে পারে। যথাক্রমে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অনন্তকালের জন্য চলতে পারে। মামলার রায় চূড়ান্ত আদেশ হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
 
⇒  মামলা চলাকালীন সময়ে বিবাদী যাতে মামলার বিষয়বস্তু হস্তান্তর বা কোন প্রকার রূপান্তর ঘটাতে না পারে সেই জন্য মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে এই কাজ হতে বিরত থাকার জন্য সাময়িকভাবে যে আদেশ দেয়া হয় তাকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলে।
 
⇒  দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের বিধি-১ বা বিধি-২ অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পিটিশন দাখিল করতে হয়।
 
⇒  অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রার্থনার সময় আবেদনকারীকে কিছু বিষয় প্রমাণ করতে হবে –
(১) আবেদনকারীকে অবশ্যই (Prima facie case) প্রমাণ করতে হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে মামলার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
(২) আবেদনকারী আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করবে যে অস্থায়ী নিষেধজ্ঞার আবেদন গ্রহণ করা না হলে অপূরণীয় ক্ষতি (Irreparable loss) হবার সম্ভাবনা আছে। যেখানে অপূরণীয় ক্ষতি বলতে সেই ক্ষতিকে বুঝাবে যা অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
(৩) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন গ্রহণ করার ক্ষেরে আদালত (The balance of convenience and inconvenience of the Parties) বিবেচনা করেন। তাই আবেদনকারীকে সুবিধা এবং অসুবিধার ভারসাম্য আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।
(৪) জনস্বার্থে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা যায়। যা সাধারণত সরকারের বিপক্ষে করা হয়। সেই ক্ষেত্রে জনস্বার্থ (Public interest) বিষয়টি কার্যকর ভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:-অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
 
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
--------- 
⇒ Section 53 Temporary injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
 
Perpetual injunctions: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit, the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
৪,৯১৪.
দণ্ডবিধির ১০০ ধারা মতে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য কয়টি ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়?
  1. ৫ টি
  2. ৬ টি
  3. ৭ টি
  4. ৮ টি
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১০০ ধারামতে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য নিম্নলিখিত ৬টি ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা-
   (i) এমন আক্রমন যা মৃত্যু ঘটাতে পারে
   (ii) এমন আক্রমন যা গুরুতর আঘাত তৈরী করতে পারে
   (iii) ধর্ষণের ক্ষেত্রে
   (iv) অপ্রকৃত কাম লালসার ক্ষেত্রে
   (v) মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টা করলে
   (vi) আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিতে অবৈধভাবে আটক করলে
৪,৯১৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারায় কাকে সম্পত্তির দখল হস্তান্তরের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্য করা যেতে পারে?
  1. অস্থাবর সম্পত্তির মালিককে
  2. স্থাবর সম্পত্তির স্বত্বাধিকারীকে
  3. অস্থাবর সম্পত্তির দখলকারীকে
  4. স্থাবর সম্পত্তির দখলকারীকে
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারা: অব্যবহিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট থেকে দখল প্রদানের নিমিত্তে মালিক নয় এরূপ দখলকারী ব্যক্তির দায় দায়িত্ব:
যে সম্পত্তির মালিক সে নিজে নয়, এমন অস্থাবর সম্পত্তির কোন বিশেষ অংশের দখলকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত যে কোন অবস্থাতে অবিলম্বিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট সেটি প্রদানার্থে সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্য করা যেতে পারে-
(ক) যখন দাবীকৃত সম্পত্তি দাবিদারের জিম্মাদারের বা প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিবাদীদের নিকট রয়েছে;
(খ) যখন দাবিকৃত বস্তুর ক্ষতি টাকার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবীদারের পর্যাপ্ত প্রতিকার করবে না;
(গ) যখন দাবীকৃত বস্তুর ক্ষতির কোন সাধিত যথার্থ ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হবে;
(ঘ) যখন দাবীকৃত বস্তুর দখল দাবিদারের নিকট হতে অন্যায়ভাবে হস্তান্তরিত করা হয়েছে।

Section 11- Liability of person in possession, not as owner to deliver to person entitled to immediate possession:
Any person having the possession or control of a particular article of moveable property, of which he is not the owner, may be compelled specifically to deliver it to the person entitled to its immediate possession, in any of the following cases:
(a) when the thing claimed is held by the defendant as the agent or trustee of the claimant;
(b) when compensation in money would not afford the claimant adequate relief for the loss of the thing claimed;
(c) when it would be extremely difficult to ascertain the actual damage caused by its loss;
(d) when the possession of the thing claimed has been wrongfully transferred from the claimant.
৪,৯১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ১২ক অনুসারে আপিলের শুনানিতে তিনবারের বেশি মুলতুবি করলে আদালত কত টাকা খরচ আরোপ করতে পারেন?
  1. সর্বনিম্ন ১০০ টাকা, অনধিক ৫০০ টাকা
  2. সর্বনিম্ন ২০০ টাকা, অনধিক ১০০০ টাকা
  3. সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা, অনধিক ২০০০ টাকা
  4. সর্বনিম্ন ১০০০ টাকা, অনধিক ৫০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪১ বিধি ১২ক(১) অনুসারে, আপিলের শুনানিতে তিনবারের বেশি মুলতুবি (Adjournment) মঞ্জুর করা হলে আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে অনধিক ১০০০ টাকা খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ১২ক- আপিল মুলতুবি (Adjournment in appeal):
- আপিলের ক্ষেত্রে কোন পক্ষের অনুরোধে আপিল আদালত ৩ বারের অধিক সময় মঞ্জুর করবেন না ।
- ৩ বারের বেশি মুলতবি করলে আদালত সর্বনিম্ন ২০০ টাকা ও অনধিক ১০০০ টাকা খরচ অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দিবেন।
- আপিলকারী খরচ প্রদানে ব্যর্থ হলে- আপিল খারিজ হবে;
প্রতিবাদী খরচ প্রদানে ব্যর্থ হলে- একতরফা নিষ্পত্তি হবে।

⇒ একতরফাভাবে কোন আপিল খারিজ বা নিষ্পত্তি করা হলে তা শুনানির জন্য পুনরুজ্জীবিত করতে হলে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে এবং নূন্যতম ২০০ এবং অনধিক ১০০০ টাকা খরচ দিতে হবে। তবে খরচ সহ কয়টি মুলতুবি মঞ্জুর করা হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।
⇒ কোন পক্ষ আপিল পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ একবারই পাবেন।

অর্থাৎ, যে পক্ষের খরচ প্রদানের ব্যর্থতায় আপিল খারিজ হয়েছে বা একতরফা নিষ্পত্তি হয়েছে, সে পক্ষ উক্ত আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করতে পারে খারিজ আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে। আদালত সর্বনিম্ন ২০০ এবং অনধিক ১০০০ টাকা খরচ প্রদানের শর্তে প্রত্যেক পক্ষে সর্বোচ্চ একবার এরকম আবেদন মঞ্জুর করে থাকেন।
-------------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-41 Rule-12A-Adjournment in appeal:
(1) The Appellate Court shall not grant more than three adjournments for hearing of an appeal at the instance of either party to the appeal, and any adjournment granted to a party beyond the aforesaid limit shall make such party liable to pay such cost which shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka to the other party as the Court may deem appropriate and determine, non-compliance with which, by the appellant shall render the appeal liable to be dismissed and, by the respondent shall render the appeal liable to be disposed of ex parte.

(2) An appeal dismissed or disposed of ex parte under sub-rule (1) shall not be revived for hearing unless the party, for whose non-compliance the appeal was dismissed or disposed of ex parte, makes, within thirty days of such dismissal or ex parte disposal, an application to the court for such revival; and upon such application being made, the Court shall award such cost as shall not be less than two hundred taka and more than one thousand taka as it may deem appropriate and determine, and the cost being deposited, the appeal shall be revived for hearing without any further proceeding; and the cost deposited in the Court shall be paid by it to the other party:
Provided that no appeal shall be revived more than once at the instance of the same party under this rule.

(3) The Appellate Court shall not, of its own, order any adjournment at the stage of hearing of appeal without recording reasons therefor.

৪,৯১৭.
দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় কোন অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ডাকাতি
  2. দস্যুতা
  3. খুনসহ ডাকাতি
  4. ডাকাতির প্রস্তুতির
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারা- ডাকাতির সাজা:
কোন ব্যক্তি যদি ডাকাতি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

Section 395⇒ Punishment for dacoity:
Whoever commits dacoity shall be punished with imprisonment for life, or with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
৪,৯১৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির অধীনে কী কী বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়?
  1. দেওয়ানি মামলার পদ্ধতিগত নিয়ম
  2. রায় এবং ডিক্রি কীভাবে কার্যকর করা হয়
  3. আপিল, রিভিশন এবং রিভিউ করার নিয়ম
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ সালের ৫ নং আইন।
→ The Code of Civil Procedure, 1908 (ACT NO. V OF 1908)
→ ১৮৫৯ সালে প্রথমবারের মতো সিভিল কোড সংক্রান্ত পদ্ধতিগত আইন বিধিবদ্ধ (codified) করা হয়।
→ বর্তমান দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ সালের ২১ মার্চ পাস হয় এবং ১৯০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
→ দেওয়ানি কার্যবিধি (Civil Procedure Code) একটি পদ্ধতিগত আইন, যা দেওয়ানি মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট নিয়মকানুন নির্ধারণ করে।
→ এই আইনে দেওয়ানি আদালত ও মামলার পক্ষগণের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান উল্লেখ করা হয়েছে, যা মামলার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করে।

এর মাধ্যমে জানা যায়:
- কীভাবে মামলা দায়ের করতে হয়।
- মামলার আবেদন বা জবাব কীভাবে দিতে হয়।
- কীভাবে সমন (জবানবন্দি বা উপস্থিতির আদেশ) জারি করতে হয়।
- কীভাবে আদালতে শুনানি হয়।
- রায় এবং ডিক্রি (আদালতের আদেশ) কীভাবে ঘোষণা এবং কার্যকর করা হয়।
- আপিল, রিভিশন এবং রিভিউ করার নিয়ম।
- অর্থাৎ দেওয়ানি মামলার প্রতিটি ধাপে আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য দিকনির্দেশনা দেয়।
৪,৯১৯.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯০ অনুসারে, পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমান কার্যকর হতে হলে দলিলটি কোথা থেকে দাখিল করা উচিত?
  1. পুলিশের নিকট থেকে
  2. আদালতের রেজিস্ট্রি থেকে
  3. যেকোনো ব্যক্তির কাছ থেকে
  4. সঠিক বা উপযুক্ত হেফাজত থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯০ (Section 90: Presumption as to documents thirty years old) অনুযায়ী, আদালত তখনই একটি ৩০ বছর বা ততোধিক পুরাতন দলিলের স্বাক্ষর ও সত্যতা সম্পর্কে অনুমান করতে পারে, যদি দলিলটি "উপযুক্ত হেফাজত" (proper custody) থেকে আদালতে উপস্থাপিত হয়।
 মূল বক্তব্য: “...is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper…”
- অর্থাৎ দলিলটি যেখানে থাকার কথা, সেখানেই যদি থাকে এবং সেখান থেকে আদালতে পেশ করা হয়, তাহলে সেই হেফাজতকে "উপযুক্ত হেফাজত" বলা হয়।
- যদি দলিলটি এমন কারো কাছ থেকে আসে যার কাছে থাকাটা অস্বাভাবিক, তাহলে আদালত প্রথমে খতিয়ে দেখবে, সেখানে থাকার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে কি না।
- কিন্তু, যদি একটি দলিল কোনো অপ্রাসঙ্গিক বা সন্দেহজনক সূত্র থেকে পাওয়া যায়, তখন আদালত সেটিকে উপযুক্ত হেফাজত হিসাবে গণ্য নাও করতে পারে।

→ অতএব, আদালতের অনুমান কার্যকর হতে হলে দলিলটি অবশ্যই উপযুক্ত বা সঠিক হেফাজত থেকে দাখিল করা উচিত—যেমনটা ধারা ৯০ স্পষ্টভাবে বলে।
৪,৯২০.
নিম্নের কোনটি 'Principle of Estoppel' সম্পর্কে সঠিক নয়?
  1. এটি সংবিধিবদ্ধ আইনের বিরুদ্ধে কাজ করে না
  2. এটি আইনগত বিষয়ে প্রযোজ্য নয়
  3. এটির জন্য প্রতারণামূলক অভিপ্রায় আবশ্যক নয়
  4. এটি দ্ব্যর্থবোধক হতে পারে
ব্যাখ্যা
♦ ধারা-১১৫: স্বকার্যজনিত বাধা বা প্রতিবন্ধক (Estoppel) - সাক্ষ্য আইনে estoppel শব্দটি বহুল পরিচিত। সাধারণতঃ স্বকার্যজনিত বাধা বা Estoppel হচ্ছে যা একবার স্বীকার করে নেয়া হয় তা পরবর্তীতে অস্বীকার করার বাধা। অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের যে নীতি কোন ব্যক্তিকে তার পূর্বে প্রদত্ত কোন বক্তব্যকে পরবর্তীতে অস্বীকার করতে বিরত রাখে তা Estoppel বা প্রতিবন্ধক বা স্বকার্যজনিত বাধা নামে পরিচিত। মূলতঃ কোন ব্যক্তির পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য গ্রহণীয় নয়, এটাই এস্টপলের মূলনীতি। অর্থাৎ Principle of Estoppel দ্ব্যর্থবোধক হতে পারে না।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১১৫, ১১৬ ও ১১৭ ধারায় এস্টপেল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারায় এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪৩ ধারায় Estoppel সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষনা, কাজ বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করিয়েছেন এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে উক্ত ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বলেছেন, তখন উক্ত ব্যক্তি বা তার মধ্যে অথবা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন মামলায় প্রথমোক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কার্য বা কার্য বিরতির বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না”।

♦আইনের পরিস্থিতি প্রতিবন্ধক হতে পারে কিনা- প্রতিবন্ধক বা Estoppel এর নিয়মটি ঘটনা বিষয়ক প্রশ্নে প্রযোজ্য হয়, আইন বিষয়ে নয়। অর্থাৎ আইন বলে কেউ যদি কোন অধিকার লাভ করে সেক্ষেত্রে Estoppel নীতি প্রয়োজ্য হবেনা।

♦ কোন আইনের বিধান বা আইন বলে পাওয়া অধিকারকে Estoppel নীতি প্রভাবিত করে না।

যেমন- কেউ যদি তার পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কোন সম্পত্তির অধিকারী হয়, তাহলে সে ঐ সম্পত্তি নেবেনা বললেই পরবর্তীতে ঐ সম্পত্তি নিতে বাধাগ্রস্থ হবেনা। কারণ এটি তার আইন দ্বারা সৃষ্ট অধিকার। সুতরাং, আইনের পরিস্থিতি প্রতিবন্ধক হতে পারেনা।
৪,৯২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২২ অনুসারে Specific performance আদালত কোন ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করতে পারে?
  1. ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার হলে
  2. চুক্তি বাস্তবায়নে কঠোরতা থাকলে
  3. Plaintiff এর conduct খারাপ হলে
  4. উপরোক্ত সবগুলো ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২২ অনুসারে, সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন (Specific Performance) একটি বিবেচনাধীন (Discretionary) প্রতিকার, এবং আদালত এটি প্রদান করতে বাধ্য নয়, এমনকি যদি চুক্তিটি আইনত বৈধ হয়। আদালত বিভিন্ন কারণে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। প্রশ্নে উল্লিখিত তিনটি অপশন এমন কারণ, যার ভিত্তিতে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। নিম্নে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

১. ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার হলে:
- ধারা ২২ এর অধীনে, যদি ক্ষতিপূরণ (Compensation) চুক্তি ভঙ্গের জন্য যথেষ্ট প্রতিকার হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন প্রদান করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, Meghlal Moizdal and others Vs. Najma Begum and another (1 BLD (HCD) 447) মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যদি সুসুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হয়, তবে আদালত বিবেচনাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এটি সাধারণত তখন প্রযোজ্য যখন সম্পত্তির বাজার মূল্য বা চুক্তির শর্তাবলী অনুসারে ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হয়।

২. চুক্তি বাস্তবায়নে কঠোরতা থাকলে:
- ধারা ২২ এর অধীনে, যদি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বিবাদীর জন্য অত্যধিক কষ্ট (Hardship) সৃষ্টি করে, তবে আদালত এটি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, Osmanuddin Vs. Subal Chandra Mondal and others (3 BLD (HCD) 226) মামলায় আদালত বলেছে যে, যদি চুক্তি বাস্তবায়ন বিবাদীকে চরম কষ্টের মুখে ফেলে (যেমন, একমাত্র বাসস্থান হারানো), তবে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। এছাড়াও, Md. Latifur Rahman and others Vs. Golam Ahmed Shah and others (6 BLD (AD) 231) মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি চুক্তি বাস্তবায়ন বিবাদীকে রাস্তায় ফেলে দেয়, তবে আদালত কষ্টের কারণে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

৩. Plaintiff এর conduct খারাপ হলে:
- ধারা ২২ অনুসারে, সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন একটি ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার (Equitable Relief), এবং বাদীর আচরণ (Conduct) যদি সৎ বা ন্যায্য না হয়, তবে আদালত এটি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। Nur Mohammad and another Vs. Sultan Ahmed and others (9 BLD (HCD) 351) মামলায় বলা হয়েছে যে, যদি বাদীর আচরণ পরিষ্কার না হয়, তবে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন মঞ্জুর করবে না। উদাহরণস্বরূপ, যদি বাদী প্রতারণা বা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে চুক্তি করে, তবে আদালত তার দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এছাড়াও, Rash Behari Moshalkar Vs. Hiran Bala Debi and another (5 BLD (AD) 51) মামলায় দেখা যায় যে, বাদী যদি চুক্তির অংশ পালনে প্রস্তুত না হয় বা অযৌক্তিক বিলম্ব করে, তবে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন প্রত্যাখ্যান করা যায়।

অন্য অপশনগুলির বিশ্লেষণ:
ক) ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার হলে: এটি সঠিক, কিন্তু শুধুমাত্র এই কারণে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন প্রত্যাখ্যান করা যায় না। অন্যান্য কারণও বিবেচনা করা হয়।
খ) চুক্তি বাস্তবায়নে কঠোরতা থাকলে: এটিও সঠিক, কিন্তু এটি একমাত্র কারণ নয়। কষ্ট ছাড়াও বাদীর আচরণ বা অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হয়।
গ) Plaintiff এর conduct খারাপ হলে: এটি সঠিক, কিন্তু এটি একমাত্র কারণ নয়। ধারা ২২ এর অধীনে একাধিক কারণ বিবেচিত হয়।

অর্থাৎ ধারা ২২ এর অধীনে, আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে যদি ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হয়, চুক্তি বাস্তবায়নে কষ্ট হয়, বা বাদীর আচরণ সৎ না হয়। এই সকল কারণই আদালতের বিবেচনাধীন ক্ষমতার আওতায় পড়ে। তাই, উপরোক্ত সবগুলো ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর।

৪,৯২২.
কোনো quick with child নারীর জীবন বাঁচানোর উদেশ্য ব্যতীত সদবিশ্বাস ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে তার গর্ভপাত করার সর্বোচ্চ শাস্তি কত বছরের কারাদণ্ড?
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা মতে যেক্ষেত্রে নারী সন্তানের বিচলন [quick with child] অনুভব করে এবং সেই ক্ষেত্রে নারীর জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্য ব্যতীত সদবিশ্বাস ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে তার গর্ভপাত করা হলে, শান্তি হতে পারে- অর্থদণ্ডসহ ৭ বৎসর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ড।
৪,৯২৩.
'A' একজন মৃত চিত্রকরের একটি ছবি এবং দুটি দুর্লভ চায়না ফুলদানির মালিক, যা 'B' এর দখলে আছে। এই জিনিসগুলি এতটাই বিশেষ প্রকৃতির যে, এদের কোনো নির্দিষ্ট বাজার মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় 'B' কে বাধ্য করা যেতে পারে-
  1. জিনিসগুলি A কে হস্তান্তর করার
  2. A কে যথেষ্ট পরিমাণে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার
  3. অন্য কোনো দুর্লভ বস্তুর মাধ্যমে A কে ক্ষতিপূরণ দেয়ার
  4. A এর সাথে জিনিসগুলি ভাগাভাগি করে নেয়ার
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারার বিধান: অব্যবহিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট থেকে দখল প্রদানের নিমিত্তে মালিক নয় এরূপ দখলকারী ব্যক্তির দায় দায়িত্ব:
যে সম্পত্তির মালিক সে নিজে নয়, এমন অস্থাবর সম্পত্তির কোন বিশেষ অংশের দখলকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত যে কোন অবস্থাতে অবিলম্বিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট সেটি প্রদানার্থে সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্য করা যেতে পারে-
(ক) যখন দাবীকৃত সম্পত্তি দাবিদারের জিম্মাদারের বা প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিবাদীদের নিকট রয়েছে;
(খ) যখন দাবিকৃত বস্তুর ক্ষতি টাকার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবীদারের পর্যাপ্ত প্রতিকার করবে না;
(গ) যখন দাবীকৃত বস্তুর ক্ষতির কোন সাধিত যথার্থ ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হবে;
(ঘ) যখন দাবীকৃত বস্তুর দখল দাবিদারের নিকট হতে অন্যায়ভাবে হস্তান্তরিত করা হয়েছে।

⇒ এখানে প্রধান বিষয় হলো- এই জিনিসগুলির স্বতন্ত্র ও অনন্য প্রকৃতি। এদের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন। সুতরাং অর্থপ্রতিপূরণ বা ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে A তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পালন বা স্পেসিফিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই A তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। অর্থাৎ, আদালত B কে বাধ্যতামূলকভাবে নির্দেশ দিতে পারে যেন সে, জিনিসগুলি A কে হস্তান্তর করে।
৪,৯২৪.
ক” মামলার বাদী এবং খ” মামলার বিবাদী। ক” খ” এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের মামলা করতে চায়। চুক্তিভঙ্গের তারিখ হতে বিবাদী খ” উন্মাদ হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে নিম্মলিখিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. মামলার তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে
  2. ক” কে তামাদিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা করতে হবে
  3. মামলার তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে না
  4. খ এবং গ উভয়
ব্যাখ্যা
♦যেহেতু খ” মামলার বিবাদী তাই তামাদির আইনের ৬ ধারা খ” এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না এবং এই ক্ষেত্রে ক”-কে অবশ্যই ১ বৎসরের মধ্যে মামলা করতে হবে। কারণ ৬ ধারায় শুধুমাত্র বাদী সুবিধা পেতে পারে বা বাদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
♦তামাদি আইনের ৬-৮ ধারা শুধুমাত্র বাদী ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; বিবাদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৪,৯২৫.
আদেশ ১৮ বিধি ১৭ এর অধীন আদালত কখন সাক্ষীকে পুনঃ আহ্বান করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র রায় ঘোষণার আগে
  2. মোকদ্দমা সমাপ্তির পর
  3. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  4. শুধুমাত্র মোকদ্দমার শুনানির সময়
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৮ বিধি-১৭: আদালত সাক্ষীকে পুনঃ আহ্বান ও জবানবন্দি নিতে পারে:
যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে, আদালতে উক্ত সাক্ষীকে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে পুনঃ আহ্বান করতে পারে এবং প্রচলিত সাক্ষ্য আইনের বিধান সাপেক্ষে আদালত সঙ্গত মনে করে এরূপ প্রশ্ন তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারে।

Order 18 Rule 17: Court may recall and examine witness:
The Court may at any stage of a suit recall any witness who has been examined and may (subject to the law of evidence for the time being in force) put such questions to him as the Court thinks fit.
৪,৯২৬.
তামাদি আইনের ২৪ ধারা অনুসারে, ক্ষতিপূরণের মামলার তামাদির মেয়াদ গণনা কখন থেকে শুরু হবে?
  1. মামলা দায়েরের দিন থেকে
  2. ক্ষতি প্রতিরোধের চেষ্টা শুরুর দিন থেকে
  3. ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার দিন থেকে
  4. বাস্তবিক ক্ষতি সংঘটিত হওয়ার দিন থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৪ ধারা অনুযায়ী: যখন এমন কোনো কার্য বা অবহেলা ঘটে যার কারণে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবিক ক্ষতি তখনও ঘটে না, তখন তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হয় সেদিন থেকে যেদিন বাস্তবিক ক্ষতি ঘটে।
→ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ২৪ ধারা অনুযায়ী, তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে তখনই, যখন ক্ষতি বাস্তবে ঘটে। সঠিক উত্তর: ঘ) বাস্তবিক ক্ষতি সংঘটিত হওয়ার দিন থেকে।

→ তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান মতে, যে কাজের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত নাহলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, সে কাজের দরুন ক্ষতিপূরণ মামলার জন্য যখন ক্ষতি সাধিত হয় তখন থেকে তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হয়।
⇒ তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান: যে কার্যের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হইলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, তদ্রূপ কার্যের দরুন ক্ষতিপূরণের মামলার জন্য যখন ক্ষতি হয়, তখন হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।
উদাহরণ: 'ক' একটি জমি
র উপরিভাগের মালিক। 'খ' ঐ জমির ভূগর্ভের মালিক। উপরিভাগের তাৎক্ষণিক স্পষ্ট কোন ক্ষতি না করিয়া ভূ-গর্ভ হইতে কয়লা খনন ও উত্তোলন করে। কিন্তু অবশেষে জমিটির উপরিভাগ ধসে পড়ে। এইক্ষেত্রে 'ক' কর্তৃক 'খ' এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের তামাদির মেয়াদ ধসিয়া পড়ার সময় হইতে শুরু হইবে।

⇒ The Limitation Act:- Section- 24. Suit for compensation for act not actionable without special damage:
-In the case of a suit for compensation for an act which does not give rise to a cause of action unless some specific injury actually results therefrom, the period of limitation shall be computed from the time when the injury results. 
Illustration: A owns the surface of a field. B owns the subsoil. B digs coal thereout without causing any immediate apparent injury to the surface, but at last the surface subsides. The period of limitation in the case of a suit by A against B runs from the time of the subsidence.
৪,৯২৭.
'A', 'Z'- এর সম্মতি ছাড়াই একটি কুকুরকে 'Z'-এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে প্ররোচিত করে। এক্ষেত্রে, 'A' -এর কৃত কাজ কোন উদ্দেশ্যে করা হলে তা 'অপরাধমূলক বল প্রয়োগ' হিসেবে গণ্য হবে?
  1. 'Z' কে আহত করা
  2. 'Z' কে ভয় দেখানো
  3. 'Z' কে বিরক্ত করা
  4. উপরের যেকোনো একটি
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৫০ ধারা- অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ:
কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদহারণ:
"A, Z-এর সম্মতি ছাড়াই একটি কুকুরকে Z-এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে প্ররোচিত করে। এক্ষেত্রে, যদি A-এর উদ্দেশ্য Z-কে আহত করা, ভয় দেখানো বা বিরক্ত করা হয়, তাহলে A, Z-এর প্রতি অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।"

Section 350- Criminal force:
Whoever intentionally uses force to any person, without that person's consent, in order to the committing of any offence, or intending by the use of such force to cause, or knowing it to be likely that by the use of such force he will cause injury, fear or annoyance to the person to whom the force is used, is said to use criminal force to that other.

(h) A incites a dog to spring upon Z, without Z's consent. Here, if A intends to cause injury, fear or annoyance to Z, he uses criminal force to Z.
৪,৯২৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রির জন্য মোকদ্দমা দায়ের করা যেতে পারে?
  1. ২৪ ধারার
  2. ৪১ ধারার
  3. ৪২ ধারার
  4. ৪৪ ধারার
ব্যাখ্যা
ঘোষণামূলক মোকদ্দমা (Declaratory Suit):
কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তির অধিকার ঘোষণা চেয়ে যে মোকদ্দমা দায়ের করা হয় তা হলো ঘোষণামূলক মোকদ্দমা। ঘোষণামূলক মোকদ্দমায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি দেয় তা হলো ঘোষণামূলক ডিক্রি। ঘোষণামূলক মোকদ্দমার মাধ্যমে আদালত একটি ব্যক্তি বা পক্ষের আইনগত পরিচয় বা অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ঘোষণা দেয়, যা তাদের আইনগত অবস্থানকে সুস্পষ্ট করে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারার অধীন ২টি বিষয়ে ঘোষণামূলক ডিক্রির জন্য মোকদ্দমা দায়ের করা যেতে পারে-
১. বাদীর আইনগত পরিচয়ের জন্য; অথবা
২. সম্পত্তিতে বাদীর কোন অধিকার বিষয়ে ঘোষণামূলক ডিক্রির জন্য মোকদ্দমা দায়ের করা যেতে পারে।
৪,৯২৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোন বিধান অনুযায়ী, আদালত মামলার পক্ষ বা কোনো পক্ষের সাক্ষী ব্যতীত তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে সমন দিতে পারে?
  1. আদেশ-১৬, বিধি-৬
  2. আদেশ-১৬, বিধি-১৪
  3. আদেশ-১৬, বিধি-৭
  4. আদেশ-১৬, বিধি-১২
ব্যাখ্যা
⇒ আদেশ-১৬ এ সাক্ষীর প্রতি সমন এবং হাজিরা সম্পর্কিত বিধি-বিধান রয়েছে।
⇒ আদেশ ১৬ বিধি-১৪ অনুযায়ী আদালত মোকদ্দমায় আগন্তুককে(৩য় ব্যক্তিকে) ঐচ্ছিক ক্ষমতায় সাক্ষী হিসাবে সমন দিতে পারে।
- হাজিরা এবং উপস্থিতি সম্পর্কে উক্ত আইনের বিধানাবলী এবং বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইন সাপেক্ষে যেক্ষেত্রে আদালত যে কোন সময় মোকদ্দমার পক্ষ নয় এরূপ কোন ব্যক্তিকে এবং মোকদ্দমার পক্ষ কর্তৃক সাক্ষী হিসাবেও ডাকা হয়নি এরূপ কোন ব্যক্তিকে জবানবন্দি করিতে প্রয়োজন বোধ সেক্ষেত্রে আদালত স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে উক্ত ব্যক্তিকে নির্ধারিত কোন তারিখে সাক্ষ্য দানের নিমিত্ত বা তার হস্তগত কোন দলিল দাখিল করতে সাক্ষী হিসাবে ঐ ব্যক্তিকে সমন করাতে পারবে এবং তাকে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবে বা অনুরূপ দলিল দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারবে।
অর্থাৎ আদালত উল্লেখিত ক্ষেত্রে ৩য় ব্যক্তিকে সমন দিতে পারে-
১- সাক্ষ্য গ্রহণ
২- দলিল দাখিল
-----------------------------
⇒ CPC-Order-16 Rule-14: Court may of its own accord summon as witnesses strangers to suit-
Subject to the provisions of this Code as to attendance and appearance and to any law for the time being in force, whether the Court at any time thinks it necessary to examine any person other than a party to the suit and not called as a witness by a party to the suit, the Court may, of its own motion, cause such person to be summoned as a witness to give evidence, or to produce any document in his possession, on a day to be appointed, and may examine him as a witness or require him to produce such document.
৪,৯৩০.
দেওয়ানি মোকদ্দমা যথাযথভাবে দায়ের হওয়ার কত দিনের মধ্যে সাধারণত বিবাদীর প্রতি সমন জারি করতে হবে?
  1. পাঁচ দিন
  2. পাঁচ কার্যদিবস
  3. সাত দিন
  4. সাত কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার ৫, রুল ১(১) এর সরাসরি বিধান অনুযায়ী, একটি মোকদ্দমা যথাযথভাবে দায়ের হওয়ার পর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতের নিযুক্ত কর্মকর্তাকে বিবাদীর কাছে সমন জারি করতে হবে। এখানে "কার্যদিবস" শব্দটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সাধারণ দিন নয়।
⇒ আরজির মাধ্যমে দাখিলকৃত দেওয়ানি মামলায় বিবাদী পক্ষকে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত যে পত্র বা নোটিশের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, তাকে সমন বলে ।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ১নং অনুযায়ী-
১) মোকদ্দমা যথাযথভাবে রুজু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবির সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা রুজুর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদির নিকট সমন প্রেরণ করবে। তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে সে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদি আরজী দাখিল করার সময়ে হাজির হয়ে বাদির দাবি স্বীকার করে নেন, তাহলে এরূপ কোন সমন প্রেরণ করা যাবে না।
২) বিবাদির উপর উপবিধি-১ মোতাবেক সমন প্রেরণ করা হলে নিম্নোক্ত যে কোন পদ্ধতিতে বিবাদি হাজিরা দিতে পারবে—
ক) ব্যক্তিগতভাবে, অথবা
খ) মক্কেলের নির্দেশ প্রাপ্ত এবং মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সক্ষম এবং কোন কৌশলী কর্তৃক, অথবা
গ) অনুরূপ সকল প্রশ্নের উত্তর দানে সক্ষম কোন ব্যক্তি সহযোগে কোন কৌশলী কর্তৃক বিবাদী হাজিরা দিতে পারে।

৪,৯৩১.
দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার অধীনে মানহানির সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত?
  1. ১ বছর বিনাশ্রম
  2. ১ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম
  3. ২ বছর বিনাশ্রম
  4. ২ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধি, ১৮৬০-ধারা ৫০০ : মানহানির শাস্তি:
যে ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির মানহানি করে, সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section- 500: Punishment for defamation:
Whoever defames another shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৪,৯৩২.
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে হাজির করা হলে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৭ক ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের প্রধান দায়িত্ব কী?
  1. আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা।
  2. আসামিকে জামিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া।
  3. গ্রেফতারকারী কর্মকর্তাকে সরাসরি শাস্তি দেওয়া।
  4. গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধান কতটুকু মানা হয়েছে তা পরীক্ষা করা।
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৭ক অনুসারে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের প্রধান দায়িত্ব হল গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধান কতটুকু মানা হয়েছে তা পরীক্ষা করা।
সুতরাং, ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৬৭ক অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের প্রধান দায়িত্ব হল গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধান কতটুকু মানা হয়েছে তা পরীক্ষা করা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৭ক (Section 67A, CrPC) অনুযায়ী, কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের সামনে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে হাজির করা হলে আদালত পরীক্ষা করবে গ্রেফতারের বিধানগুলো সঠিকভাবে মানা হয়েছে কি না। যদি দেখা যায় যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবহেলার কারণে বিধান লঙ্ঘন করেছেন, তবে আদালত লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করে প্রযোজ্য সার্ভিস রুল অনুযায়ী সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।
----------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-67A. Procedure in case of non-compliance with provisions relating to arrest
The Magistrate or Court, as the case may be, before whom the arrested person is produced, shall examine whether the provisions of this Code relating to arrest have been duly complied with by the officer making the arrest; and if the Magistrate or Court finds that any such provision or provisions have been negligently violated or not complied with, he or it may, for reasons to be recorded in writing, direct appropriate action to be taken against the concerned officer in accordance with the applicable service rules.

৪,৯৩৩.
'Power to issue order absolute at once in urgent cases o nuisance or apprehended danger'-সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় বিধান বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ১৩৩
  2. ধারা ১৪৫
  3. ধারা ১৪৪
  4. ধারা ১২৫
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ১১ এর শিরোনাম- "TEMPORARY ORDERS IN URGENT CASES OF NUISANCE OR APPREHENDED DANGER." উক্ত অধ্যায়ে ধারা ১৪৪ আছে।

• আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারো আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা নিজে স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে-

i) আইনানুগভাবে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির আশংকা,
ii) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশংকা;
iii) উৎপাত বা জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশংকা ;
iv) দাঙ্গা বা মারামারির আশংকা ; এবং
v) আশু প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন হলে 

• স্থাবর সম্পত্তি অর্থাৎ জমি বা জলাশয় বা তার সীমানা নিয়ে বিরোধের ফলে শান্তিভঙ্গের আশংকা দেখা দিলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন আদেশ প্রদান করতে পারে। ১৪৪ ধারা জারির ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত সাধারণ নিয়মাবলী অনুসরণ করা হয় । যথা-

i) সাধারণত নোটিশ জারি করার পর ১৪৪ ধারা জারি করা হয় কিন্তু জরুরী পরিস্থিতিতে নোটিশ ব্যতীত একতরফাভাবে ১৪৪ ধারা জারি করা যায়। এই আদেশ কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি অথবা বিশেষ স্থানে ঘন ঘন গমনকারী বা সফরকারী জনসাধারণের প্রতি নির্দেশ হতে পারে।
(ii) ১৪৪ ধারার আদেশে কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখতে অথবা কোন নির্দিষ্ট সম্পত্তি ম্যাজিস্ট্রেটের দখলে বা ব্যবস্থাধীনে নেয়ার নির্দেশ থাকতে পারে।
iii) ১৪৪ ধারার আদেশ সাধারণত সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে; তবে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা ১৪৪ ধারার আদেশকে ২ মাসের অধিক সময় পর্যন্ত বলবৎ রাখতে পারে ।

• ১৪৪(৪) ধারামতে কোন ম্যাজিস্ট্রেট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদনক্রমে ১৪৪ ধারার আওতায় তার নিজের বা তার অধীনস্ত কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা তার পূর্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারেন। ১৪৪ ধারা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তবে মেট্রোপলিটন এলাকায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে।
৪,৯৩৪.
'Small Cause Court not to attach immovable property' এই বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় বলা আছে?
  1. Order-XXXVIII, Rule-5
  2. Order-XXI, Rule-89
  3. Order-XXII, Rule-32
  4. Order-XXXVIII, Rule-13
ব্যাখ্যা
- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি-১৩ (Order-XXXVIII, Rule-13) এর বিধান: স্মল কজ আদালত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করবেন না। 
- দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি-১৩: স্মল কজ আদালত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করতে পারে না:
এই আদেশের কোন বিধানই স্মল কজ আদালতকে স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের জন্য আদেশ প্রদানের কোন ক্ষমতা প্রদান করবে বলে বিবেচিত হবে না।
-------------
CPC Order-38 Rule-13: Small Cause Court not to attach immovable property.
- Nothing in this Order shall be deemed to empower any Court of Small Causes to make an order for the attachment of immovable property.
৪,৯৩৫.
দেওয়ানি আপিলের স্মারকলিপিতে বা মেমোতে উল্লেখ করা হয়নি, এরুপ কোন কারণ বা হেতু সম্পর্কে আপিলকারী তার বক্তব্য আপিল শুনানিতে ________ অনুমতি ব্যতীত পেশ করবে না।
  1. বিরোধী পক্ষের
  2. আপিল আদালতের
  3. বিচারিক আদালতের
  4. আপিল আদালত এবং বিরোধী পক্ষ উভয়ের
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪১ বিধি-২- আপিলে যে সকল সঙ্গত কারণ গ্রহণ করা যাবে:
আপিলের স্মারকলিপিতে প্রকাশ করা হয়নি, আপত্তির এরূপ কারণের সমর্থনে আদালতের অনুমতি ব্যতিত আপিলকারীর বক্তব্য পেশ করতে পারবে না বা তাকে শ্রবণ করা যাবে না; কিন্তু আপিল আদালত আপিল নিষ্পত্তিকালে আপিলের স্মারকলিপিতে প্রকাশিত আপত্তির সঙ্গত কারণসমূহ বা অত্র বিধির অধীনে আদালতের অনুমতি ক্রমে গৃহীত কারণসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কোন কারণের উপর ইহার সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন না, যদি না, যে পক্ষ উহা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে সেই পক্ষ উক্ত কারণের উপর মামলায় প্রতিদ্বন্দিতা করার যথেষ্ট সুযোগ পেয়ে থাকে।

দেওয়ানি আপিলের স্মারকলিপিতে বা মেমোতে উল্লেখ করা হয়নি, এরুপ কোন কারণ বা হেতু সম্পর্কে আপিলকারী তার বক্তব্য আদালতের অনুমতি ব্যতীত পেশ করবে না অর্থাৎ একমাত্র আপিল আদালতের অনুমতি নিয়ে আপিলকারী এমন হেতুসমূহ [grounds] শুনানীকালে উত্থাপন করা যেতে পারে।
৪,৯৩৬.
গ-কে গুরুতর জখম করে ক,খ-কে প্ররোচিত করে। খ উক্ত প্ররোচনার ফলে গ-কে গুরুতর জখম করে। ফলে গ মারা যায়। এই ক্ষেত্রে ক _____জন্য দণ্ডিত হবে।
  1. ক শুধুমাত্র গুরুতর জখমে প্ররোচনার জন্য দণ্ডিত হবে
  2. ক গুরুতর জখম এবং খুন উভয়ের জন্য দণ্ডিত হবে
  3. ক খুনে সহায়তার জন্য দণ্ডিত হবে
  4. ক খুনের জন্য দণ্ডিত হবে না শুধুমাত্র জখমের জন্য দণ্ডিত হবে
ব্যাখ্যা
♦যদি ক জানতো যে প্ররোচিত জখমের কার্যটি সম্ভাব্য মৃত্যু ঘটাবে তাহলে ক খুনে সহায়তার জন্য দণ্ডিত হবে এবং ক খুনের জন্য নির্ধারিত শাস্তি পাবে।
৪,৯৩৭.
কোন সাক্ষীকে অধিকতর জেরা [further cross-examination] করা যেতে পারে যদি-
  1. জেরায় যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো ব্যখ্যা করতে
  2. পুনঃজবানবন্দিতে উল্লেখিত বিষয় অধিকতর ব্যাখ্যা করতে
  3. আদালতের অনুমতি নিয়ে পুনঃজবানবন্দিতে নতুন বিষয় উল্লেখ করলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦পুনঃজবানবন্দির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে যদি কোন নতুন বিষয়ের সূচনা করা হয়, তবে সেই সকল বিষয়ে বিরুদ্ধ পক্ষ অধিকতর জেরা করতে পারে।
৪,৯৩৮.
একটি দেওয়ানি আপিলের স্মারকলিপির সাথে যুক্ত করতে হবে-
  1. মোকদ্দমার আরজির কপি
  2. মোকদ্দমার লিখিত জবাবের কপি
  3. মোকদ্দমার ডিক্রির কপি 
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ১ এর বিধান- আপিলের নমুনা স্মারকলিপির সঙ্গে যা থাকতে হবে:
(১) আপিলের রূপ এবং স্মারকলিপির সাথে সংযুক্তি:
- প্রত্যেকটি আপিল একটি স্মারকলিপি (memorandum) আকারে দায়ের করতে হবে,
- যেটি আপিলকারী বা তার আইনজীবীর (pleader) দ্বারা স্বাক্ষরিত হতে হবে,
- এবং তা আদালতে বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত কোনো কর্মকর্তার নিকট দাখিল করতে হবে।

স্মারকলিপির সাথে যা যুক্ত করতে হবে:
- যেই ডিক্রির (decree) বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, তার একটি অনুলিপি (copy) এবং (যদি আপিল আদালত তা অব্যাহতি না দেয়) উক্ত ডিক্রির ভিত্তিতে প্রদত্ত রায়ের (judgment) একটি অনুলিপিও দাখিল করতে হবে।

(২) স্মারকলিপির বিষয়বস্তু:
স্মারকলিপিতে আপিলকারীর আপত্তির কারণসমূহ সংক্ষিপ্তভাবে এবং পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে, কোনো বর্ণনামূলক বক্তব্য বা যুক্তি ছাড়াই, এবং প্রতিটি কারণকে ক্রম অনুযায়ী নম্বর দিয়ে সাজাতে হবে।

৪,৯৩৯.
দেওয়ানি আপিলের স্মারকলিপি (memorandum) কে স্বাক্ষর করবে?
  1. আপিলকারী এবং বিচারক
  2. আপিলকারী অথবা তার সাক্ষী
  3. আপিলকারী অথবা তার আইনজীবী
  4. আপিলকারী এবং আপিলের উত্তরদায়ক
ব্যাখ্যা
আদেশ ৪১ বিধি ১ এর বিধান- আপীলের নমুনা স্মারকলিপির সঙ্গে যা থাকতে হবে:
(১) আপিলের রূপ এবং স্মারকলিপির সাথে সংযুক্তি:
- প্রত্যেকটি আপিল একটি স্মারকলিপি (memorandum) আকারে দায়ের করতে হবে,
- যেটি আপিলকারী বা তার আইনজীবীর (pleader) দ্বারা স্বাক্ষরিত হতে হবে,
- এবং তা আদালতে বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত কোনো কর্মকর্তার নিকট দাখিল করতে হবে।

স্মারকলিপির সাথে যা যুক্ত করতে হবে:
- যেই ডিক্রির (decree) বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, তার একটি অনুলিপি (copy) এবং (যদি আপিল আদালত তা অব্যাহতি না দেয়) উক্ত ডিক্রির ভিত্তিতে প্রদত্ত রায়ের (judgment) একটি অনুলিপিও দাখিল করতে হবে।

(২) স্মারকলিপির বিষয়বস্তু:
স্মারকলিপিতে আপিলকারীর আপত্তির কারণসমূহ সংক্ষিপ্তভাবে এবং পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে, কোনো বর্ণনামূলক বক্তব্য বা যুক্তি ছাড়াই, এবং প্রতিটি কারণকে ক্রম অনুযায়ী নম্বর দিয়ে সাজাতে হবে।
৪,৯৪০.
A কতিপয় সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে। B দাবী করে যে সে উক্ত সম্পত্তির মালিক এবং এই কারনে A-কে উক্ত সম্পত্তি B-এর নিকট অর্পন করতে হবে। এই ক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. ঘোষনামূলক মোকদ্দমা দায়ের
  2. দখল উদ্ধারের মামলা
  3. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা
  4. চুক্তি বলবৎ এর মামলা
ব্যাখ্যা
• B দাবী করেছে যে সে আলোচ্য সম্পত্তির মালিক অর্থাৎ সে সম্পত্তিতে A-এর মালিকানা অস্বীকার করছে।
• এই ক্ষেত্রে B যে উক্ত সম্পত্তির মালিক এমন ঘোষনা চেয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪২ ধারায় ঘোষনামূলক মামলা করবেন।
• A যেহেতু সম্পত্তি দখলে আছে তাই আনুষাঙ্গিক প্রতিকার প্রয়োজন নাই।
৪,৯৪১.
'For the purpose of this section a trademark is property.' এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ৫২
  2. ৫৪
  3. ৫৬
  4. ৫৭
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধানে বলা আছে যে, বিবাদী যখন বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা ভোগ দখলে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা করার হুমকি দেয় তখন আদালত ৫টি ক্ষেত্রে বিবাদীর বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেতে পারে। তাছাড়া সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৪ ধারায় ১টি ব্যাখা আছে তা হলো "ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে"।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৪ ধারার বিধান চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়। এই অধ্যায়ের অন্তর্ভূক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
⇒ ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে। 
----------------------
⇒ Section 54 Perpetual injunctions when granted: Subject to the other provisions contained in, or referred to by, this Chapter, a perpetual injunction may be granted to prevent the breach of an obligation existing in favour of the applicant, whether expressly or by implication. 
When such obligation arises from contract, the Court shall be guided by the rules and provisions contained in Chapter II of this Act. 
When the defendant invades or threatens to invade the plaintiff's right to, or enjoyment of, property, the Court may grant a perpetual injunction in the following cases (namely):- 
(a) where the defendant is trustee of the property for the plaintiff; 
(b) where there exists no standard for ascertaining the actual damage caused, or likely to be caused, by the invasion; 
(c) where the invasion is such that pecuniary compensation would not afford adequate relief; 
(d) where it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the invasion; 
(e) where the injunction is necessary to prevent a multiplicity of judicial proceedings. 
⇒  Explanation:- For the purpose of this section a trademark is property.
৪,৯৪২.
আদেশ ৮ বিধি ৩ অনুসারে, বিবাদীকে তার লিখিত জবাবে বাদীর প্রত্যেকটি অভিযোগ-
  1. সাধারণভাবে অস্বীকার করবে
  2. সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করতে হবে
  3. সাধারণভাবে স্বীকার করবে
  4. সুনির্দিষ্টভাবে স্বীকার করতে হবে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৮ বিধি-৩: অস্বীকার সুনির্দিষ্ট হবে:
বিবাদীকে তার লিখিত বিবৃতিতে বাদীর অভিযোগের কারণসমূহ সাধারণভাবে অস্বীকার করলেই যথেষ্ট হবে না, বরং যে সকল তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা বিবাদী স্বীকার করে না, সেগুলোর প্রত্যেকটি বিবাদীকে অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তবে ক্ষতিপূরণের বিষয় ব্যতীত।

Order 8 Rule 3- Denial to be specific:
It shall not be sufficient for a defendant in his written statement to deny generally the grounds alleged by the plantiff, but the defendant must deal specifically with each allegation of fact of which he does not admit the truth, except damages.
৪,৯৪৩.
বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বা ঘৃণা প্রচারে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি ১৫৩(ক) ধারা: শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা প্রচার করা:
যে কেউ, কথার মাধ্যমে, মৌখিক বা লিখিত, অথবা সংকেতের মাধ্যমে, দৃশ্যমান উপস্থাপনা দ্বারা বা অন্য যেকোনো উপায়ে, বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বা ঘৃণা প্রচার করে বা প্রচারের চেষ্টা করে, তাকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

ব্যাখ্যা: যদি কোনো ব্যক্তি বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্য ছাড়াই এবং প্রকৃতপক্ষে সেই সমস্যাগুলি তুলে ধরে, যা বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বা ঘৃণা সৃষ্টি করছে বা সৃষ্টি করার প্রবণতা রাখে, তাহলে এটি এই ধারার অধীনে অপরাধ বলে গণ্য হবে না।
৪,৯৪৪.
বলপূর্বক গ্রহণের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কোন বক্তব্যটি সঠিক নয়?
  1. ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতির ভয় দেখানো।
  2. বলপূর্বক গ্রহণের ক্ষেত্রে সংঘটনকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে।
  3. বলপূর্বক গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ক্ষতির ভয় দেখানো হয় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোন ক্ষতি করা হয় না।
  4. ক্ষতির ভয় দেখিয়ে কোন সম্পত্তি বা মূল্যমান জামানত জমা দিতে অসাধু প্ররোচনা করা।
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারার বিধান বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়:- কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাঁদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অর্পণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে 'সম্পত্তি আদায়' করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

⇒ উদাহরণসমূহ:
(ক) ক, গ-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, গ তাকে টাকা না দিলে ক গ-এর বিরুদ্ধে মানহানির কুৎসা রটনা করবে। এইভাবে সে তাকে টাকা দিতে গ-কে বাধ্য করে। ক 'বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়' করেছে বলে পরিগণিত হবে।

⇒ বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায়ের সংজ্ঞা (Extortion)- কাউকে ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বা extortion বলে। অন্যভাবে বলা যায়, কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুর ভয়, আঘাতের ভয় বা পথরুদ্ধ করার ভয় দেখিয়ে কোন কিছু দিতে বাধ্য করলে তাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বলে।
⇒ বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায়ের উপাদান-
 স্থাবর ও অস্থাবর উভয় সম্পত্তির ক্ষেত্রে বলপূর্বক গ্রহণ হয়; এবং অপরাধী স্বয়ং উপস্থিত না থেকেও বলপূর্বক আদায় বা গ্রহণের অপরাধ করতে পারে।
যে ব্যক্তিকে ভয় দেখানো হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে সম্পত্তি অর্পণ করার সঙ্গেই বলপূর্বক গ্রহণের অপরাধ সংঘটিত হয়।
বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায়ের ক্ষেত্রে দূরবর্তী ক্ষতির ভয় থাকলেও তাৎক্ষণিক কোন ক্ষতি হয়না।

"বলপূর্বক গ্রহণের ক্ষেত্রে সংঘটনকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে" এই বক্তব্যটি সঠিক নয়।
-------
Extortion: 
Section 383. Whoever intentionally puts any person in fear of any injury to that person, or to any other, and thereby dishonestly induces the person so put in 124[fear to give donation or subscription of any kind or to deliver] to any person any property or valuable security or anything signed or sealed which may be converted into a valuable security, commits "extortion".
৪,৯৪৫.
'ক', 'খ' থেকে জমি কিনেছে, যদিও তখন 'গ' ওই জমিটি দখলে রয়েছে। 'ক', 'গ'- এর জমিতে কোন স্বার্থ আছে কিনা তা জানার জন্য কোন তদন্ত করেনি। এই আইনের অর্থে, 'গ' এর স্বার্থের পরিমাণ পর্যন্ত-
  1. 'গ' হলো 'ক' এর ট্রাস্টি
  2. 'ক' হলো 'গ' এর ট্রাস্টি
  3. 'খ' হলো 'গ' এর ট্রাস্টি
  4. 'গ' হলো 'খ' এর ট্রাস্টি
ব্যাখ্যা
• উল্লিখিত উদহারনটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩ ধারার (জ) উদহারনের অনুরূপ। এই পরিস্থিতিতে, এই আইনের অর্থে, গ-এর জমিতে যতটুকু স্বার্থ আছে, সেটুকু পরিমাণ পর্যন্ত 'ক' হলেন 'গ' এর একজন ট্রাস্টি। একজন ট্রাস্টি হলেন যে ব্যক্তি অন্য কারও স্বার্থের তত্ত্বাবধানে থাকে।

 সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩ ধারায়-
"ট্রাস্টি" শব্দটি প্রত্যেক ব্যক্তিকে বুঝায় যারা স্পষ্টভাবে, গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে বা কাঠামোগতভাবে আস্থাভাজন বা বিশ্বাসভাজন চরিত্র বহন করে।

এখানে, 'ক' জানতেন যে 'গ' জমিতে দখলে রয়েছে কিন্তু স্বার্থ সম্পর্কে জানতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায়, আইনের নজরে 'ক' হলেন 'গ'-এর স্বার্থের একজন ট্রাস্টি।
৪,৯৪৬.
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর কত ধারার ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে না?
  1. ৫ ধারা
  2. ১৫ ধারা
  3. ২৫ ধারা
  4. ২২ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ২৯ অনুসারে, তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়-
- বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা
- চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে
- বিবাহ বিচ্ছেদ আইন মোতাবেক আনীত মামলার ক্ষেত্রে
- সুখাধিকার আইন, ১৮৮২ এর আওতাভুক্ত এলাকা থেকে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত "সুখাধিকার" এর সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
------------
⇒ Limitation Act Section-29. Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872. 
(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law- 
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special  law; and 
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply. 
(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act. 
(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
৪,৯৪৭.
The Civil Courts Act,1887 এর ধারা ৯ অনুযায়ী, জেলা জজের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অধিকার কার তত্ত্বাবধানে থাকে?
  1. আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. ফৌজদারি আদালত
  4. বিশেষ আদালত
ব্যাখ্যা
ধারা ৯- আদালতের প্রশাসনিক ক্ষমতা:
হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধানে জেলা জজের তার স্থানীয় সীমানায় অবস্থিত সকল দেওয়ানি আদালতের উপর তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

Section 9: Administrative control of Courts-
Subject to the superintendence of the High Court Division, the District Judge shall have administrative control over all the Civil Courts under this Act within the local limits of his jurisdiction.
৪,৯৪৮.
বিচারিক কার্যক্রমে (judicial proceeding) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের শাস্তি হতে পারে-
  1. অর্থদণ্ডসহ যেকোন বর্ণনার কারাবাস যা ২ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে
  2. অর্থদণ্ডসহ যেকোন বর্ণনার কারাবাস যা ৩ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে
  3. অর্থদণ্ডসহ যেকোন বর্ণনার কারাবাস যা ৫ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে
  4. অর্থদণ্ডসহ যেকোন বর্ণনার কারাবাস যা ৭ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষাদান ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং

কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

♦ ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।

♦ ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।

♦ ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
৪,৯৪৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারার অধীন আদালত কখন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে পালন করার নির্দেশ দিতে পারে?
  1. সম্পাদনযোগ্য এবং অসম্পাদনযোগ্য অংশ পরস্পর নির্ভরশীল হলে
  2. সম্পাদনযোগ্য এবং অসম্পাদনযোগ্য অংশ হতে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন হলে
  3. সম্পাদনযোগ্য অংশ, অসম্পাদনযোগ্য অংশ থেকে ছোট হলে
  4. সম্পাদনযোগ্য অংশ, অসম্পাদনযোগ্য অংশ থেকে বড় হলে
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারা- কোন চুক্তির স্বাতন্ত্র্য অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন:
যখন চুক্তির একটি অংশের স্বাতন্ত্র্যভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ সম্পাদন করা যায় বা করা আবশ্যক হয় এবং তা একই চুক্তির এমন অন্য অংশ হতে স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যাবে না বা করা আবশ্যক নহে, তাহলে আদালত পূর্ববর্তী অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারামতে,
কোনো চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, একটি অংশ আপনা-আপনি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনযোগ্য এবং অপর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনযোগ্য নয় এবং প্রথম অংশটি দ্বিতীয় অংশ থেকে ভিন্ন ও স্বাধীন (Separate and independent) হয়, তাহলে আদালত ঐ চুক্তির প্রথম অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে পালনের নির্দেশ দিতে পারবে।
----------------------
Section 16- Specific performance of independent part of contract:
When a part of a contract which, taken by itself, can and ought to be specifically performed, stands on a separate and independent footing from another part of the same contract which cannot or ought not to be specifically performed, the Court may direct specific performance of the former part.

৪,৯৫০.
ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার নিম্নের কোন আদালতের অন্তনির্হিত ক্ষমতা (Inherent Power) আছে?
  1. আপলি বিভাগ
  2. দায়রা জজ আদালত
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. মহানগর দায়রা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি এর ধারা ৫৬১ক তে বলা হয়েছে- ফৌজদারী কার্যবিধি এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করার জন্য বা কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করার জন্য বা অন্য কোনভাবে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন আদেশ প্রদানের নিমিত্ত হাইকোর্ট বিভাগের যে সহজাত ক্ষমতা আছে এই বিধির কোন কিছু তা সীমাবদ্ধ বা ক্ষুন্ন বা প্রভাবিত করবে বলে গণ্য করা যাবে না।
৪,৯৫১.
রিভিশন আদালতের বিবেচ্য বিষয় কোনটি?
  1. আইনগত ভুল
  2. তথ্যগত ভুল
  3. একপক্ষীয় ভুল
  4. 'ক' ও 'খ' উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।

⇒ দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের শর্ত- ২০০৩ সালে দেওয়ানী কার্যবিধি পরিবর্তনের মাধ্যমে দেওয়ানী রিভিশনের বিধানে ব্যাপক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়। বর্তমানে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে রিভিশন করা যায়-
⇒ সাধারণত রিভিশন এখতিয়ারে আদালত ঘটনার প্রশ্ন (question of fact) বিবেচনা করে না। যেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে (question of law) ভুল ও ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটে, সেক্ষেত্রে আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আইনগত ভুলের কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটলেই আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
⇒ কোন ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য না হলে, কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান না থাকলে অথবা কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান থাকার পরও উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা না হলে সেক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করা করা যায়।
⇒ কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে একবার আপিল করা হলে উক্ত আপিলে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে রিভিশন করা যায়, কেননা দেওয়ানী কার্যবিধিতে ২য় আপিলের বিধান নেই।
⇒ ১১৫ ধারার বর্তমান বিধান অনুযায়ী কেবলমাত্র ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ যে কোন পক্ষ রিভিশন দায়ের করতে পারে, কিন্তু আগের মত আদালত কর্তৃক স্বেচ্ছাপ্রণোদিত (suo moto) হওয়ার বিধান নেই।
⇒ রিভিশন হল সম্পূর্ণ বিবেচনামূলক প্রতিকার এবং রিভিশনকে অধিকার হিসাবে দাবী করা যায় না। ✓ আপিলের ন্যায় রিভিশন বিচারকার্যের চলমান অবস্থা নয় 

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-১১৫ এর বিধান রিভিশন। ১) কোন মোকদ্দমায় কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় জেলা জজ আদালত বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত কর্তৃক ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হলে, বা যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক ডিক্রি প্রদত্ত হলে, যার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা চলে না; সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনে হাইকোর্ট ডিভিশন তার নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা সমাপণ করিয়ে এই ডিক্রি বা আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে হাইকোর্ট ডিভিশন এই ডিক্রি বা আদেশ সংশোধন করতে পারবেন, কিংবা তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
২) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না, কোন যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বা সহকারী জজ আদালত উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদান করলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত এই মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা অবসান করিয়ে এই আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে জেলা জজ আদালত উক্ত আদেশ সংশোধন করতে পারবে এবং তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
৩) জেলা জজ রিভিশন মোকদ্দমা হস্তান্তর করলে উপ-ধারা (২) এর অধীনে জেলা জজের সকল সর্বময় ক্ষমতা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে থাকবে।

৪) ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার অবসান করিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত প্রদান করলে প্রয়োজনীয় আইনের প্রশ্নে ভুলের যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন রিভিশনের অনুমতির অনুমোদন দেয়, সেক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) বা (৩) এর অধীনে প্রদানকৃত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশ পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন করা চলবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশন তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।
৫) এই ধারাটির প্রতিস্থাপনে যেটাই বর্ণিত থাকুক না কেন, ঐরূপ প্রতিস্থাপনের পূর্বে ১১৫নং ধারার অধীনে আরম্ভ হওয়া বা ঝুলন্ত থাকা কর্মপ্রক্রিয়া যেরূপে নিষ্পত্তি হবে যেন ১১৫নং ধারূ প্রতিস্থাপিত হয়নি।
৪,৯৫২.
স্ত্রী "ক" বিচ্ছেদ ও নাবালক সন্তানের অভিভাবকত্ব চেয়ে মামলা করে স্বামীর "খ” বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে "খ" নাবালক সন্তানের অভিভাবক হওয়ার জন্য আরেকটি মামলা দায়ের করে। এই ক্ষেত্রে-
  1. দুটো মামলাই চলতে থাকবে
  2. "ক"এর মামলাটা স্থগিত হবে
  3. "খ" এর মামলাটা স্থগিত হবে
  4. আদালত যেকোন রকম সিদ্ধান্ত নিবেন
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ১০ অনুযায়ী মামলা স্থগিতকরণ (stay of suit)/Res-subjudice) সম্পর্কে বলা আছে।

♦ যখন পূর্বে দায়েরকৃত বিচারধীন মামলার পক্ষসমূহ ও বিচার্য বিষয় এবং পরবর্তীতে দায়েরকৃত মামলার পক্ষসমূহ ও বিচার্য বিষয় একই হয়, তখন পরবর্তীতে দায়েরকৃত মামলাটির বিচারকার্য আদালত স্থগিত বা মূলতবি (stay of suit / Res-Subjudice) করে দিবেন।

♦  তবে পূর্ববতী মামলা যদি কোন বিদেশী আদালতে দায়ের করা হয়ে থাকে, তখন মামলার কারণ একই হওয়ার সত্ত্বেও বাংলাদেশের কোন আদালতে পরবর্তী মামলা বিচারে বাধা সৃষ্টি করবেনা।
৪,৯৫৩.
সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা অনুযায়ী, সরকারি দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার জন্য কী উপস্থাপন করা যেতে পারে?
  1. স্বাক্ষরিত আবেদন
  2. মূল দলিলের অনুলিপি
  3. প্রত্যয়নকৃত অনুলিপি
  4. কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা অনুযায়ী, সরকারি দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার জন্য তার প্রত্যয়নকৃত অনুলিপি (Certified Copy) আদালতে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা অনুযায়ী, সরকারি দলিল বা এর কোনো অংশের বিষয়বস্তু প্রমাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দলিলের প্রত্যয়নকৃত অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করা যেতে পারে। এই অনুলিপিগুলোই প্রমাণ হিসাবে গৃহীত হতে পারে যদি তা সংশ্লিষ্ট দলিলের যথাযথ প্রত্যয়ন করে।

- সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা: "অনুরূপ জাবেদা নকল সরকারি যে দলিলের নকল বা যে দলিলের অংশ বিশেষের নকল বলে বুঝতে দেয়া হয়, সে দলিলের বা তার অংশ বিশেষের বিষয়বস্তুর প্রমাণ স্বরূপ তা উপস্থাপন করা যেতে পারে।"

প্রত্যয়নকৃত অনুলিপি কী?
→ এটি হলো সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও সত্যায়িত অনুলিপি, যা মূল দলিলের সত্যতার নিশ্চয়তা প্রদান করে।

উদাহরণ:
যদি কোনো ব্যক্তি জমির খতিয়ানের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে চায়, তবে তিনি সেটির প্রত্যয়নকৃত অনুলিপি জমা দিতে পারবেন, যা রাজস্ব দপ্তর থেকে সত্যায়িত হবে।

সাক্ষ্য আইনের ৭৭ ধারা সহজ ভাষায়:
"সরকারি দলিলের কোনো অনুলিপি যদি সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত হয়, তাহলে সেটি আদালতে মূল দলিলের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।"
------------------
⇒ The Evidence Act,1872: section- 77.Proof of documents by production of certified copies:
- Such certified copies may be produced in proof of the contents of the public documents or parts of the public documents of which they purport to be copies.
৪,৯৫৪.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯০ক অনুসারে, আদালত ডিজিটাল রেকর্ডকে সঠিক বলে অনুমান করতে পারে যদি রেকর্ডটি -
  1. সরকারি হেফাজতে থাকে
  2. ১ বছর পুরোনো হয়
  3. ৫ বছর পুরোনো হয়
  4. স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার দ্বারা তৈরি করা হয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯০ক অনুযায়ী,
যে কোনো ডিজিটাল রেকর্ড যদি পাঁচ বছর পুরোনো হয় এবং আদালত মনে করে যে এটি সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে,
 তবে আদালত এটি সঠিক বলে ধরে নিতে পারে এবং অনুমান করতে পারে যে ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তার অনুমোদিত কোনো ব্যক্তির দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে।

⇒ The Evidence Act,1872, section- 90A. Presumption as to digital records five years old:
Where any digital record, purporting or proved to be five years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the digital signature which purports to be the digital signature of any particular person was so affixed by him or any person authorized by him in this behalf.
৪,৯৫৫.
Under what circumstances may the Magistrate restrict public access to the Court?
  1. Only during a final judgment
  2. Only if the accused requests privacy
  3. Only during a jury trial
  4. At any stage of the inquiry or trial, if deemed fit
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারার বিধান- আদালত উন্মুক্ত থাকবে:
কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারী আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে পরিগণিত করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে সুবিধাজনক স্থান সংকুলান হয়, সে পর্যন্ত সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকতে পারেঃ
শর্ত থাকে যে, বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মর্মে মনে করলে কোন বিশেষ মামলার অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন ধাপে আদেশ প্রদান করতে পারবেন যে, সর্বসাধারণ বা কোন বিশেষ ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত কক্ষ বা ভবনে প্রবেশ করতে বা অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-352: Courts to be open-
The place in which any Criminal Court is held for the purpose of inquiring into or trying any offence shall be deemed an open Court, to which the public generally may have access, so far as the same can conveniently contain them:
Provided that the presiding Judge or Magistrate may, if he thinks fit, order at any stage of any inquiry into, or trial of, any particular case, that the public generally, or any particular person, shall not have access to, or be or remain in, the room or building used by the Court.
৪,৯৫৬.
Under Section 28, the extinguishment of right occurs-
  1. Automatically by operation of law
  2. Only when the court orders
  3. When the parties agree
  4. When a new suit is filed
ব্যাখ্যা

⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 28. Extinguishment of right to property:
At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished. 

তামাদি আইন, ১৯০৮–এর ধারা ২৮ বলছে যে—
কোনো ব্যক্তি যদি নির্ধারিত তামাদি সময়ের মধ্যে কোনো সম্পত্তির দখল চেয়ে মামলা না করে, তাহলে—
- তার সেই সম্পত্তির অধিকার নিজে থেকেই লোপ পায়।
- আদালতের আলাদা কোনো আদেশ লাগে না।
- এটি আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটায়।

অর্থাৎ, সময়মতো মামলা না করলে—
“Remedy is barred” নয়, বরং “Right itself is extinguished” হয়ে যায়। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনের বলে ঘটে (by operation of law)
আদালতের নির্দেশ বা পক্ষদ্বয়ের সম্মতির প্রয়োজন হয় না

৪,৯৫৭.
Nothing is an offence which is done by a child under ______________.
  1. Eighteen years of age.
  2. Seven years of age.
  3. Nine years of age.
  4. Twelve years of age.
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির  ৮২ ধারার বিধান নয় বৎসরের কম বয়সের শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ:- নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কোন কার্যই অপরাধ নয়।

⇒  Section 82. Act of a child under nine years of age:- Nothing is an offence which is done by a child under nine years of age.

⇒  দণ্ডবিধির ৮৩ ধারার বিধান নয় বৎসরের অধিক কিন্তু বার বৎসরের কম বয়সের অপরিণত বুদ্ধিসম্পন্ন শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ:- নয় বৎসর অপেক্ষা বেশি কিন্তু বার বৎসর অপেক্ষা কম বয়সের এমন কোন শিশুর কোন কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যে শিশু সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় উহার প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা লাভ করে নাই।

⇒  Section 83. Act of a child above nine and under twelve of immature understanding:
 Nothing is an offence which is done by a child above nine years of age and under twelve, who has not attained sufficient maturity of understanding to judge of the nature and consequences of his conduct on that occasion.
৪,৯৫৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭ক(১) অনুযায়ী, কোন অবস্থায় সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে সাজা সংক্রান্ত আপিল দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. যখন সাজা ঠিক থাকে
  2. যখন সাজা অপর্যাপ্ত হয়
  3. যখন সাজা অত্যন্ত বেশি
  4. উল্লিখিত সবক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭ক(১) এর বিধান অনুযায়ী:
- সরকার যে কোনো দণ্ডাদেশের (conviction) ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটরকে সাজা অপর্যাপ্ত (inadequacy of sentence) হওয়ার ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে।
- আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সাজা (যেমন: কারাদণ্ড বা জরিমানা) অপরাধের গুরুত্ব ও প্রকৃতির তুলনায় কম মনে হলে সরকার এ আপিল করতে পারে।
- আপিলে শুধুমাত্র সাজা বাড়ানোর (enhancement of sentence) আবেদন করা যায়।
- তবে, আপিল আদালত সাজা বাড়ানোর আগে আসামীকে শুনানির সুযোগ দিতে বাধ্য (ধারা ৪১৭ক(৩))।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭ক(১) (Section 417A(1)) অনুসারে, সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে সাজা সংক্রান্ত আপিল দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে যখন সাজা অপর্যাপ্ত হয়।
অর্থাৎ, যদি কোনো আসামীর অপরাধের জন্য দেওয়া সাজা অপর্যাপ্ত বা অপ্রতুল মনে হয়, তখন সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে আপিল দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারে যাতে সাজার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়।
তবে, যখন সাজা অত্যন্ত বেশি বা ঠিক থাকে, তখন এ ধরনের আপিল দাখিল করার জন্য সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দিতে পারে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ক ধারার বিধান অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল:-
(১) কোন আদালতের বিচারে প্রদত্ত দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততার কারণে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল দায়েরের জন্য সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) আদালতে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে একজন ফরিয়াদী দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততাহেতু আপিল আদালতে আপিল দায়ের করতে পারবেনঃ
শর্ত থাকে যে, দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৬০ (ষাট) দিন পার হবার পর এই উপ-ধারার অধীন আপিল আদালত কর্তৃক কোন আপিল গৃহীত হবে না।
(৩) দণ্ডের অপর্যাপ্ততা হেতু কোন আপিল রুজু করা হলে আপিল আদালত দণ্ড বাড়ানোর বিরুদ্ধে কারণ দর্শাবার জন্য আসামীকে যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে দণ্ড বাড়াবেন না এবং কারণ দর্শাবার সময় আসামী তার খালাস প্রাপ্তি বা দণ্ড কমানোর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
----------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 417A: Appeal against inadequacy of sentence:
(1) The Government may, in any case of conviction on a trial held by any court, direct the Public Prosecutor to present an appeal to the High Court Division against the sentence on the ground of its inadequacy.
(2) A complainant may, in any case of conviction on a trial held by any Court, present an appeal to the Appellate Court against the sentence on the ground of its inadequacy:
Provided that no appeal under this sub-section shall be entertained by the Appellate Court after the expiry of sixty days from the date of conviction.
(3) When an appeal has been filed against the sentence on the ground of its inadequacy, the Appellate Court shall not enhance the sentence except after giving to the accused a reasonable opportunity of showing cause against such enhancement and while showing cause, the accused may plead for his acquittal or for the reduction of the sentence.
৪,৯৫৯.
সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারা অনুসারে কোন ধরনের বিষয় প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই?
  1. সাক্ষ্য প্রমাণে প্রমাণিত বিষয়
  2. কোনো পক্ষের দাবি করা নতুন তথ্য
  3. প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণিত ঘটনা
  4. আদালতের বিচারিক দৃষ্টিগোচরে থাকা বিষয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৬ ধারা- বিচারিক দৃষ্টিগোচরে যে সকল বিষয় নেয়ার যোগ্য সেগুলো প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই:
যে বিষয়ে আদালত বিচারিক দৃষ্টিগোচর হিসেবে অবগত হবেন তা প্রমাণ করার অবশ্যকতা নেই। 

Section 56⇒ Fact judicially noticeable need not be proved:
No fact of which the Court will take judicial notice need be proved.
৪,৯৬০.
আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত কর্তৃক আরজি নাকচ বা প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির প্রতিকার হলোঃ-
  1. আপীল
  2. রিভিউ
  3. রিভিশন
  4. রেফারেন্স
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৬ ধরার অধীন মূল ডিক্রি হতে আপিল: (১) এই আইনের কোন কোন অংশে অথবা বর্তমানে প্রচলিত অন্য কোন আইনে স্পষ্টতঃ অন্যরূপ বিধান না থাকলে, আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যেক ডিক্রি হতে আপিল শ্রবণের ক্ষমতাসম্পন্ন আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে।
(২) একতরফা মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে।
(৩) পক্ষগণের সম্মতিতে আদালত কোন ডিক্রি দান করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল চলবে না ।
আদি এখতিয়ার প্রয়োগকারী আদালত [Court exercising original jurisdiction] অর্থ হলো কোন মোকদ্দমা প্রথমে বা আদিতে যে আদলতে শুনানী এবং বিচারপূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এটা হলো এমন আদালত যে আদলত  সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর বিষয়টি আপীল বা রিভিশন আদালতে দায়ের করতে হয়। যেমন দেওয়ানি মোকদ্দমার ক্ষেত্রে সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, যুগ্ম জেলা জজ হলো আদি এখতিয়ারকারী আদালত। এই সকল আদালতে মোকদ্দমা প্রথমে দায়ের করতে হয় এবং এই আদালত সিদ্ধান্ত দিলে তার বিরূদ্ধে আপীল বা রিভিশন আদালতে দায়ের করতে হবে।
৪,৯৬১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী "সাধারণ নাগরিক" (private person) কোন ধরনের অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন?
  1. জামিনযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ
  2. জামিন অযোগ্য ও আমলঅযোগ্য অপরাধ
  3. জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ
  4. উল্লিখিত সকল অপরাধে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী, সাধারণ নাগরিক শুধুমাত্র সেই ধরনের অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন যেগুলো জামিন অযোগ্য (অর্থাৎ জামিন পাওয়া যায় না) এবং আমলযোগ্য (অর্থাৎ পুলিশ তদন্তের যোগ্য, মামলা নেওয়ার যোগ্য)।
- জামিন অযোগ্য (Non-bailable): যে অপরাধে জামিন পাওয়ার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেই, আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।
- আমলযোগ্য (Cognizable): যে অপরাধে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারে এবং তদন্ত করতে পারে।
- Proclaimed offender: আইনত ঘোষিত অপরাধী।
অতএব, ধারা ৫৯ অনুসারে, সাধারণ নাগরিক জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ বা ঘোষিত অপরাধী (proclaimed offender)-কে গ্রেপ্তার করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারার বিধান সাধারণ নাগরিক কর্তৃক গ্রেফতার এবং এই ধরনের গ্রেফতারের পরবর্তী কার্যপ্রণালি:
(১) যে কোন সাধারণ নাগরিক তাঁর মতে জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনকারীকে অথবা অপরাধী মর্মে ঘোষিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন এবং অনাবশ্যক বিলম্ব না করে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন অথবা পুলিশ অফিসারের অনুপস্থিতিতে তাকে নিকটস্থ থানায় হেফাজতে নিয়ে যাবেন বা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবেন।
(২) এই ধরনের ব্যক্তি ৫৪ ধারার বিধানসাপেক্ষ বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে একজন পুলিশ অফিসার পুনরায় তাকে গ্রেফতার করবেন।
(৩) সে আমল-অযোগ্য অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে এবং পুলিশ অফিসারের দাবিকে সে নিজের নাম ও বাসস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে অথবা যদি এরূপ নাম ও বাসস্থান দেয় যা উক্ত অফিসারের মিথ্যা রূপে বিশ্বাস করবার কারণ ঘটে, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারার বিধান সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে কোন অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করবার মত পর্যাপ্ত কারণ না থাকলে তাকে সাথে সাথে ছেড়ে দিতে হবে।
----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-59: Arrest by private persons and procedure on such arrest:
(1) Any private person may arrest any person who in his view commits a non-bailable and cognizable offence, or any proclaimed offender, and without unnecessary delay, shall make over any person so arrested to a police-officer, or, in the absence of a police-officer, take such person or cause him to be taken in custody to the nearest police-station. 
(2) If there is reason to believe that such person comes under the provisions of section 54, a police-officer shall re-arrest him. 
(3) If there is reason to believe that he has committed a non-cognizable offence, and he refuses on the demand of a police-officer to give his name and residence, or gives a name or residence which such officer has reason to believe to be false, he shall be dealt with under the provisions of section 57. If there is no sufficient reason to believe that he has committed any offence, he shall be at once released.

৪,৯৬২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার অধীনে কোন আদালত জামিন মঞ্জুর বা জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. শুধুমাত্র দায়রা আদালত
  2. ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও দায়রা আদালত
  3. হাইকোর্ট ডিভিশন ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট
  4. হাইকোর্ট ডিভিশন ও দায়রা আদালত
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার অধীনে হাইকোর্ট ডিভিশন ও দায়রা আদালত জামিন মঞ্জুর বা জামিনের পরিমাণ হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধান: জামিন মঞ্জুর করার এবং অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা:
- এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেকটি বন্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না, এবং দণ্ডের পর আপিল থাকুক আর না থাকুক, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যে-কোনো ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামিন হ্রাস করার নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
--------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 498: Power to direct admission to bail or reduction of bail:
- The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.
৪,৯৬৩.
অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের জবাব শুনানীর সময়ের কমপক্ষে কত দিন পূর্বে বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর দাখিল করবেন?
  1. ২ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর ৪৬ বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের জবাব দিতে পারবেন এবং উহার ২ কপি শুনানীর সময়ের কমপক্ষে ৭ দিন পূর্বে বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর দাখিল করবেন। সচিব শুনানীর কমপক্ষে দুই দিন পূর্বে তা অভিযোগকারী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে সরবরাহ করবেন।
-------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council Rules, 1972. Rule- 46: The advocate concerned shall be entitled to file a reply to the allegations against him whether or not he has already filed a reply before the Bar Council.
-He shall deliver such reply along with two copies to the Secretary at least seven days before the date of hearing fixed by the Tribunal and the Secretary shall deliver the copies to the Attorney General and the complainant at least two days before such d hearing.
৪,৯৬৪.
Mesne Profits-এর মধ্যে সাধারণত কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকে?
  1. শুধু সুদ
  2. শুধু ফসল
  3. সুদসহ মুনাফা
  4. শুধু মুনাফা
ব্যাখ্যা

⇒The Code of Civil Procedure, 1908-এর ধারা ২(১২) অনুসারে,
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।

ব্যতিক্রম:-
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।

৪,৯৬৫.
নিচের কোনটি চোরাই সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. দস্যুতা করে আনীত সম্পত্তি
  2. জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
  3. জোরপূর্বক আত্মসাৎ করে অর্জিত সম্পত্তি
  4. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্জিত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি।

• চোরাই মাল (Stolen Property): দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা অনুযায়ী-
যে সম্পত্তির দখল চুরি, জোরপূর্বক আদায় (extortion) অথবা দস্যুতা (robbery) দ্বারা হস্তান্তরিত হয়েছে, এবং যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে অথবা যার ক্ষেত্রে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ সংঘটিত হয়েছে, সেই সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি” বলে গণ্য করা হবে- চুরি, আত্মসাৎ বা বিশ্বাসভঙ্গ বাংলাদেশের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই সংঘটিত হোক না কেন।

তবে, যদি উক্ত সম্পত্তি পরবর্তীতে আইনসিদ্ধভাবে অধিকারপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির দখলে আসে, তাহলে সেই মুহূর্ত থেকে উক্ত সম্পত্তি আর চোরাই সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে না।

⇒ জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার সংজ্ঞা অনুযায়ী “চোরাই সম্পত্তি” হিসেবে গণ্য হয় না।

শাস্তি:
দণ্ডবিধির ৪১১ ধারা অনুসারে, যে ব্যক্তি চোরাই মাল গ্রহণ করে, সেই ব্যক্তি ৩ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৪,৯৬৬.
দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার মামলার আসামী দাবি করে যে, আসামীর কাজ সাধারণ ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে। উক্ত দাবি প্রমাণের দায়িত্ব আসামীর সাক্ষ্য আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ১০২ ধারার
  2. ৯৬ ধারার
  3. ১০৩ ধারার
  4. ১০৫ ধারার
ব্যাখ্যা
♦ যে কাজগুলোকে স্বাভাবিকভাবে অপরাধ বলে গণ্য করা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়না তাকেই সাধারণ ব্যতিক্রম বা General Exception বলে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় কিছু সাধারণ ব্যতিক্রমের উল্লেখ রয়েছে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্য বা কার্যবিরতিগুলো (acts or omission) স্বাভাবিকভাবে অপরাধ মনে হলেও সেগুলো ফৌজদারি দায় (criminal liability) থেকে মুক্ত; অর্থাৎ ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্যগুলো অপরাধ মনে হলেও অপরাধী কোন শাস্তি পায়না। 
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১০৫ মতে- কোন ব্যক্তি কোন অপরাধে অভিযুক্ত হলে মামলাটি যাতে দন্ডবিধিতে বর্ণিত সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহের মধ্যে পড়তে পারে, অথবা দন্ডবিধিতে বর্ণিত কোন বিশেষ ব্যতিক্রম বা উহার অপর কোন অংশে বর্ণিত কোন শর্তের মধ্যে পড়তে পারে বা উক্ত অপরাধ সম্পর্কিত অপর কোন আইনে বর্ণিত কোন শর্তের মধ্যে পড়তে পারে, এইরূপ কোন পরিস্থিতির অস্তিত্ব প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর ন্যস্ত থাকে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে আদালত অনুরূপ পরিস্থিতি অনুপস্থিত বলে অবশ্যই ধরে নিবেন।
♦সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি দণ্ডবিধির অধীন উল্লেখিত দণ্ডের সাধারণ ব্যতিক্রম দাবী করে, তাহলে সে যে দণ্ডবিধির অধীন বর্ণিত সাধারণ ব্যতিক্রমের অধীন পড়ে তা তাকেই প্রমাণ করতে হবে।
♦ সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারামতে দন্ডবিধির সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ সহ যে কোন ব্যতিক্রম প্রমানের দায়িত্ব আসামীর।
৪,৯৬৭.
দণ্ডবিধি অনুসারে কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও উক্ত আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. শুধু অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. অনধিক ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির  ১৯৪ ধারা মতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা-
(i) কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদন্ড না হলে বা আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(ii) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
-----------------------------------
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা :- কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

⇒ যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:- যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।ঃ
______________________________________________________
⇒ The Penal Code, 1860, Section 194: Giving or fabricating false evidence with intent to procure conviction of capital offence; if innocent person be thereby convicted and executed
⇒  Whoever gives or fabricates false evidence, intending thereby to cause, or knowing it to be likely that he will thereby cause, any person to be convicted of an offence which is capital by any law for the time being in force, shall be punished with imprisonment for life, or with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; 
⇒ and if an innocent person be convicted and executed in consequence of such false evidence, the person who gives such false evidence shall be punished either with death or the punishment herein before described.
৪,৯৬৮.
একটি বাড়ি ও জমি ২০ লাখ টাকায় ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য দুই পক্ষ চুক্তি করে, যেখানে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কিছু আসবাবপত্রের মূল্য পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে দুই পক্ষ আসবাবপত্রের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে একমত হতে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে-
  1. চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হবে
  2. চুক্তিটির কোনো কার্য সম্পাদন সম্ভব নয়
  3. মূল্য নির্ধারণ পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত থাকবে
  4. শুধু বাড়ি ও জমির ব্যাপারে কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে-
কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অসম্পাদিত অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান:
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।

Section 14: Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.
৪,৯৬৯.
তামাদি আইন কখন থেকে কার্যকর হয়?
  1. ১৮০৯ সালের ১লা জানুয়ারি
  2. ১৯০৮ সালের ১লা জানুয়ারি
  3. ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি
  4. ১৯১০ সালের ১লা জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
⇒ বর্তমানে প্রচলিত তামাদি আইনটি ৭ আগস্ট ১৯০৮ সালে প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়), যা তামাদি আইন ১৯০৮ নামে পরিচিত।
- তামাদি আইন ১৯০৮ সালের ৯ নং আইন।
- এটি ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
- বর্তমানে তামাদি আইনের ২৯টি ধারা এবং ১টি তফশিল বলবৎ আছে।
- তফসিলে মোকদ্দমা, আপিল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে।

- তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরনের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
i. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
ii. আপিল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
iii. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।
৪,৯৭০.
জহির একজন মুদি দোকানি। সে তার পাশের দোকানে চোরাইমাল আছে জানতে পেরেও এই দোকানিকে আটক করে এবং পরবর্তীতে পুলিশে সোপর্দ করে। ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা তার এই কাজকে সমর্থন করে?
  1. ৫৬
  2. ৫৭
  3. ৫৯
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা-৫৯ (বেসরকারী লোক কর্তৃক গ্রেফতার ও এইরূপ ক্ষেত্রে পদ্ধতি) অনুযায়ী- যে কোন সাধারণ নাগরিক তার মতে জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ সংগঠনকারীকে অথবা অপরাধী বলে ঘোষিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন এবং অনাবশ্যক বিলম্ব না করে পুলিশ অফিসারের নিকট দিবেন অথবা পুলিশ অফিসারের অনুপস্থিতিতে ক্ষেত্রে নিকটস্থ থানার হেফাজতে নিয়ে যাবেন অথবা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবেন।
৪,৯৭১.
তামাদি আইন,১৯০৮ কোন ধরনের আইন?
  1. তত্ত্বগত আইন
  2. পদ্ধতিগত আইন
  3. মূল আইন
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন,১৯০৮ হচ্ছে পদ্ধতিগত আইন।

তত্ত্বগত আইন (Substantive Law):
যে আইনসমূহ অধিকার ও কর্তব্যকে সজ্ঞায়িত বা সন্নিবেশিত করে বা কোন অপরাধ কে সজ্ঞায়িত করে ও তার শাস্তির পরিমান উল্লেখ করে, তাই তত্ত্বগত আইন বা মূল আইন। যেমনঃ চুক্তি আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, দণ্ডবিধি ইত্যাদি।

পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law):
তত্ত্বগত আইনগুলোতে যে অধিকার, কর্তব্য ও শাস্তিসমূহ উল্লেখ থাকে সেগুলো যে প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়, সেই প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি যে আইনসমূহে উল্লেখ থাকে তাই পদ্ধতিগত আইন। যেমনঃ ফৌজদারি কার্যবিধি, তামাদি আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি ইত্যাদি।
৪,৯৭২.
একজন ব্যক্তি যদি নিজেকে একজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা বলে পরিচয় দেয় এবং রাজনৈতিক সহায়তা লাভের চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির কত ধারার অধীন অভিযোগ আনা যাবে?
  1. ৪০৬
  2. ৪১৬
  3. ৪২৬
  4. ৪৩৬
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারা- অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণা:
কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):
যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) 'ক' একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। 'ক' অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
(খ) 'ক' নিজেকে 'খ' বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে, 'খ' জনৈক মৃত ব্যক্তি। 'ক' অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
৪,৯৭৩.
চুরির অপরাধের শাস্তি কী?
  1. সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ন্যূনতম ২ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড বা উভয়
  4. সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারার বিধান- চুরি করার সাজা:
কোন ব্যক্তি যদি চুরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 379- Punishment for theft:
Whoever commits theft shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
৪,৯৭৪.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুসারে ৩০ বছর যাবৎ জীবিত ব্যক্তিকে জীবিত বলে অনুমান করা হয়?
  1. ধারা ১০৬
  2. ধারা ১০৭
  3. ধারা ১০৮
  4. ধারা ১০৯
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১০৭ অনুসারে— যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো ব্যক্তি বিগত ৩০ বছরের মধ্যে জীবিত ছিলেন, তাহলে আদালত তাকে জীবিত বলে অনুমান করতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি দাবি করে যে তিনি মৃত, তার ওপরই মৃত্যুর প্রমাণের ভার বর্তায়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৭ ধারায় বিগত ৩০ বৎসর যাবৎ জীবিত ব্যক্তিকে আদালত জীবিত বলে অনুমান করতে বাধ্য; এক্ষেত্রে যে ব্যক্তি মৃত বলে দাবী করে তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে উক্ত ব্যক্তি মৃত।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 107: Burden of proving death of person known to have been alive within thirty years:  When the question is whether a man is alive or dead, and it is shown that he was alive within thirty years, the burden of proving that he is dead is on the person who affirms it.

৪,৯৭৫.
"অসাধু উদ্দেশ্যে" (Dishonestly) কোনো কাজ করা বলতে কী বোঝায়, তা সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে কোন ধারায়?
  1. দণ্ডবিধির ২৩ ধারা
  2. দণ্ডবিধির ২৪ ধারা
  3. দণ্ডবিধির ২৫ ধারা
  4. দণ্ডবিধির ২৬ ধারা
ব্যাখ্যা
উত্তর:খ) দণ্ডবিধির ২৪ ধারা।
⇒ The Penal Code, 1860-এর ২৪ ধারা অনুযায়ী, "অসাধু উদ্দেশ্যে" (Dishonestly) বলতে বোঝায়—
যে কেউ যদি অবৈধভাবে অন্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা অন্যকে অবৈধভাবে লাভবান করার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে, তবে সেটিকে অসাধু উদ্দেশ্যে করা কাজ হিসেবে গণ্য করা হবে।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Sections-24. “Dishonestly”:
- Whoever does anything with the intention of causing wrongful gain to one person or wrongful loss to another person, is said to do that thing "dishonestly".
৪,৯৭৬.
আদেশ ৪০, বিধি ৫ অনুযায়ী আদালত কাকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন?
  1. যেকোনো ব্যক্তিকে
  2. কালেক্টরকে
  3. যেকোনো সরকারী কর্মকর্তাকে
  4. মামলার কোন পক্ষকে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৪০ বিধি ৫: যখন কালেক্টরকে রিসিভার নিয়োগ করা যায়:
যেক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তি সরকারকে রাজস্ব প্রদানকারী ভূমি বা উক্ত ভূমির রাজস্ব হস্তান্তরিত বা মুক্ত করা হয়ে থাকে এবং আদালত যদি মনে করেন যে, কালেক্টর কর্তৃক ব্যবস্থপনা চালিত হলে সংশ্লিষ্ট সকলের স্বার্থ রক্ষা হবে, সেক্ষেত্রে আদালত কালেক্টরের সম্মতিক্রমে তাকে উক্ত সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

৪,৯৭৭.
A, যিনি নাবালক অবস্থায় একটি মিরাস আদায়ের অধিকার (right to sue for a legacy) অর্জন করেছেন, সেই অধিকার অর্জনের ১১ বছর পরে সাবালক হন। তামাদি আইনের ধারা ৬ এবং ৮ অনুযায়ী সে অতিরিক্ত কত সময় পাবে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর 
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১২৩:
- কোন উইলদাতা (Testator) দ্বারা মিরাস বা অঙ্গীকারকৃত অংশের  জন্য মামলা বা উত্তরাধিকারীর (Intestate) সম্পত্তির বিতরণযোগ্য অংশের জন্য মামলা (legacy or for a share of a residue bequeathed)

মেয়াদকাল (Period of limitation): ১২ বছর।
মেয়াদকালের গণনার সময় (Time from which period begins to run): যখন মিরাস বা অংশ প্রদানের জন্য যোগ্য বা পাওয়ার যোগ্য হয়।

তামাদি আইনের ৮ ধারার বিধান: বিশেষ ব্যতিক্রম:
৬ অথবা ৭ ধারার কোন কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে। যেই মেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোন কিছুই তিন বৎসরের অধিক বর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না।

উদাহরণ:
(ক) (A), যিনি নাবালক অবস্থায় একটি মিরাস আদায়ের অধিকার অর্জন করেছেন, সেই অধিকার অর্জনের ১১ বছর পরে সাবালক হন। সাধারণ আইন অনুযায়ী, এই সময়ে তার মাত্র ১ বছরের অবশিষ্ট সময় থাকে মামলা করার জন্য। কিন্তু তামাদি আইনের ধারা ৬ এবং ৮ অনুযায়ী তাকে ২ বছর অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে। এর ফলে মোট ৩ বছর সময় পাবেন সাবালক হওয়ার দিন থেকে মামলা দায়ের করার জন্য।

৪,৯৭৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ধারার বিধান সাপেক্ষে সকল নির্বাহী বা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটগণ কার অধস্তন বলে গণ্য হবে?
  1. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট
  3. দায়রা জজ
  4. জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৩৫ (নিম্ন আদালতের নথি তলবের ক্ষমতা)-

ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৩৫ (১) ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ এবং দায়রা জজ অধীনস্থ কোন ফৌজদারী আদালতের কোনো মামলার নথি তলব করতে পারে বা মামলার কোন কার্যক্রম পরীক্ষা করতে পারে। অধীনস্থ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত বা লিপিবদ্ধকৃত কোন দণ্ড বা আদেশের নির্ভুলতা, বৈধতা বা যৌক্তিকতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে; বা অধীনস্থ আদালতের মামলার কার্যক্রম রীতিসম্মত কিনা সে সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে উক্ত নথি পর্যালোচনা থাকাকালীন সময়ের জন্য হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত কোনো দণ্ড কার্যকর করা স্থগিতের আদেশ দিতে পারে; এবং যদি অভিযুক্ত আটক থাকে, তাহলে তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে বা আসামীর নিজ মুচলেকায় জামিন দিতে পারে।

সেই সাথে উক্ত ধারার ব্যাখায় বলা হয়েছে, এই ধারার উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে নির্বাহী কিংবা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, যা-ই হোক, সকল ম্যাজিস্ট্রেট দায়রা জজের অধঃস্তন হিসাবে পরিগণিত হবে।

Section 435- Power to call for records of inferior Courts

(1) The High Court Division or any Sessions Judge, may call for and examine the record of any proceeding before any inferior Criminal Court situate within the local limits of its or his jurisdiction for the purpose of satisfying itself or himself as to the correctness, legality or propriety of any finding, sentence or order recorded or passed, and as to the regularity of any proceedings of such inferior Court and may, when calling for such record, direct that the execution of any sentence be suspended and, if the accused is in confinement, that he be released on bail or on his own bond pending the examination of the record. 
 
Explanation-All Magistrates, whether Executive or Judicial, shall be deemed to be inferior to the Sessions Judge for the purposes of this sub-section
৪,৯৭৯.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯২ এর কোন Proviso অনুযায়ী প্রতারণা প্রমাণ করা যায়?
  1. Proviso-1
  2. Proviso-2
  3. Proviso-3
  4. Proviso-4
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯২ বলছে, যখন কোনো চুক্তি, অনুদান বা সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয় লিখিত দলিল আকারে প্রমাণ করা হয়, তখন সাধারণভাবে কোনো মৌখিক চুক্তি বা বক্তব্য দ্বারা সেই দলিলের শর্তাবলী পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন করা যাবে না।
তবে, এর কিছু ব্যতিক্রম আছে যেগুলো প্রভিসো (Provisos) আকারে ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯২ এর Proviso-1 অনুযায়ী, যেকোনো তথ্য প্রমাণ করা যেতে পারে যা কোনো দলিলকে অবৈধ করে বা যা কোনো ব্যক্তিকে সেই সম্পর্কে কোনো ডিক্রি বা আদেশ পাওয়ার অধিকার দেয়। এর মধ্যে প্রতারণা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, অবৈধতা, যথাযথ সম্পাদনের অভাব, চুক্তিকারী পক্ষের সক্ষমতার অভাব, বিবেচনার অভাব বা ব্যর্থতা, অথবা তথ্য বা আইনের ভুল অন্তর্ভুক্ত।

- সুতরাং, একটি দলিলের ক্ষেত্রে প্রতারণা প্রমাণ করতে হলে Proviso-1 ব্যবহার করতে হবে।

- Proviso-1
"Any fact may be proved which would invalidate any document, or which would entitle any person to any decree or order relating thereto; such as fraud, intimidation, illegality, want of due execution, want of capacity in any contracting party, want or failure of consideration, or mistake in fact or law."
- অর্থাৎ, প্রতারণা (fraud), ভয়ভীতি, বেআইনি বিষয়, বৈধতা না থাকা ইত্যাদি কোনো কারণে যদি দলিলটি অবৈধ হয়, তা প্রমাণ করা মৌখিক সাক্ষ্যে সম্ভব — এবং এই ব্যতিক্রম অনুমোদন করে Proviso-1।
৪,৯৮০.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২ বিধি-১৪ অনুযায়ী, নাবালক বাদী কী কারণে তার নেক্সট ফ্রেন্ডের মাধ্যমে রুজুকৃত মোকদ্দমা খারিজ করতে পারে?
  1. মামলার শিরোনাম ভুল
  2. কোনো কারণ ছাড়াই
  3. অযৌক্তিক বা অসংগত
  4. অত্যধিক সময় নেওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৩২ বিধি-১৪ অনুযায়ী, একটি নাবালক বাদী সাবালক হওয়ার পর আবেদন করতে পারে যে, তার নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক তার নামে রুজুকৃত মোকদ্দমা অযৌক্তিক বা অসংগত কারণে খারিজ করা হোক। এর মানে হল, যদি নাবালক বাদী মনে করে যে, তার নামে রুজুকৃত মামলা যুক্তিসংগত বা আইনি কারণে সঠিক নয়, তবে সে আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করতে পারে।

- দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)-এর আদেশ-৩২, বিধি-১৪(১) অনুসারে, নাবালক বাদী সাবালকত্ব প্রাপ্তির পর তার নামে নেক্সট ফ্রেন্ড (Next Friend) দ্বারা রুজুকৃত মোকদ্দমা খারিজের আবেদন করতে পারবে শুধুমাত্র নিম্নলিখিত কারণে: মোকদ্দমাটি অযৌক্তিক (Unreasonable) বা অনুচিত (Improper) হলে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩২ বিধি-১৪: অযৌক্তিক বা অনুচিত মোকদ্দমা:
১) কোন নাবালক একমাত্র বাদি হলে সাবালকত্ব প্রাপ্ত হয়ে এ মর্মে আবেদন করতে পারে যে, তার নেক্সট ফ্রেন্ড কর্তৃক তার নামে রুজুকৃত মোকদ্দমা অযৌক্তিক বা অসংগত হওয়ার কারণে খারিজ হবে।
২) সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উপর আবেদনের নোটিশ জারি করতে হবে এবং উক্ত অসংগত কারণ সম্পর্কে সন্তুষ্ট হয়ে আদালত আবেদন মঞ্জুর করতে পারে এবং আবেদনপত্র ও মোকদ্দমার ব্যাপারে কোন কিছু সম্পর্কে সকল পক্ষ বরাবর খরচাদি পরিশোধের জন্য নেক্সট ফ্রেন্ডকে আদেশ দিতে পারে বা আদালত উপযুক্ত মনে করে অন্য কোন উপযুক্ত নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-32 Rule-14:
(1)A minor, upon attaining majority, may, if he is the sole plaintiff, apply for the dismissal of a suit instituted in his name by his next friend on the grounds that it was unreasonable or improper.
(2)Notice of the application shall be served on all the parties concerned. Upon being satisfied of the unreasonableness or impropriety of the suit, the Court may grant the application and order the next friend to pay the costs of all parties regarding the application and anything done in the suit, or make such other order as it deems appropriate.
৪,৯৮১.
স্বীকৃতি বিষয়ে সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ১৯ থেকে ২১ ধারায়
  2. ১৭ থেকে ২০ ধারায়
  3. ২৪ থেকে ২৫ ধারায়
  4. ২২ থেকে ৩০ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ স্বীকৃতির সংজ্ঞা (Defintion of Admission)- সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারায় স্বীকৃতির সংজ্ঞা রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারামতে মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি যা মামলার বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্তের সূচনা করে, তাকে স্বীকৃতি বা admission বলে।

সাক্ষ্য আইনের ১৭ থেকে ৩১ ধারা এবং দেওয়ানি কার্যবিধির ১২ নং আদেশে স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান রয়েছে।

-----------
⇒ Admission defined:
Section 17. An admission is a statement, oral or documentary or contained in digital record, which suggests any inference as to any fact in issue or relevant fact, and which is made by any of the persons, and under the circumstances, hereinafter mentioned.
৪,৯৮২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় সাক্ষী কী ধরনের জবানবন্দি দিতে বাধ্য নয়?
  1. ব্যক্তিগত মতামত
  2. তদন্তকারীর সমস্ত প্রশ্ন
  3. মামলার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য
  4. এমন প্রশ্ন যার উত্তর তাকে অপরাধে অভিযুক্ত করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬০ থেকে ১৬২ এ পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব, সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উহার ব্যবহার সম্পর্কে বিধান রয়েছে। ১৬০ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব করা, ১৬১ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উক্ত জবানবন্দির ব্যবহার সম্পর্কে ১৬২ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায়- তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মামলার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ের সাথে পরিচিত ব্যক্তির মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে। তার নিকট জিজ্ঞাসিত মামলা সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সে বাধ্য থাকবে কিন্তু যে প্রশ্নের জবাব উক্ত সাক্ষীকে ফৌজদারী অভিযোগে দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির দিকে টেনে নিতে পারে, সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে সাক্ষী বাধ্য নয়।
--------------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-161: Examination of witnesses by police:
(1) Any police-officer making an investigation under this Chapter or any police-officer not below such rank as the Government may, by general or special order, prescribe in this behalf, acting on the requisition of such officer may examine orally any person supposed to be acquainted with the facts and circumstances of the case. 
 
(2) Such person shall be bound to answer all questions relating to such case put to him by such officer, other than questions the answers to which would have a tendency to expose him to a criminal charge or to a penalty or forfeiture. 
 
(3) The police-officer may reduce into writing any statement made to him in the course of an examination under this section, and if he does so he shall make a separate record of the statement, of each such person whose statement he records.
৪,৯৮৩.
বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা দায়ের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা/ Mandatory Injunction-

কোন ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনগত ভাবে বাধ্য থাকা শর্তেও তা করা থেকে বিরত থাকলে আদালত তাকে কাজটি সম্পাদন করতে বাধ্য করে তথা কোন বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ রোধ করার জন্য নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে তা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা নামে পরিচিত। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারায় এই সম্পর্কে বলা হয়েছে।

বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে সে যে কাজ করতে বাধ্য তাকে তা করতে আদেশ দেয়া হয়। সে জন্য ৫৫ ধারার বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা আদালতে প্রার্থনা করা হলে আদালত তার বিবেচনামূলক স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে সন্তুষ্টচিত্তে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে মঞ্জুর করে থাকেন।

যেক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ সম্পর্কে তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলে কোন বিধান নাই, সেক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ ১২০ অনুসারে সেই মামলার তামাদির মেয়াদ মামলা করার অধিকার যখন উদ্ভব হয় সেই সময় থেকে ৬ বছর। তামাদি আইনে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়েরের তামাদির সুনির্দিষ্ট বিধান নেই।

অর্থাৎ বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ হবে ৬ বছর।
৪,৯৮৪.
The Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ৩৭(১) অনুযায়ী, মুসলিম ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত কীসের ভিত্তিতে নেওয়া হবে?
  1. পারিবারিক আইন
  2. হিন্দু আইন
  3. মুসলিম আইন
  4. উত্তরাধিকার আইন
ব্যাখ্যা

⇒ The Civil Courts Act,1887 আইনের ৩৭ ধারায় কতিপয় বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আইন নয় বরং হিন্দু এবং মুসলিমদের ধর্মীয় আইনের বিধানকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
⇒ The Civil Courts Act, 1887-এর ধারা ৩৭(১) অনুসারে, কোনো মামলা বা কার্যক্রমে যদি উত্তরাধিকার (Succession), বিবাহ (Marriage), জাতি (Caste), বা ধর্মীয় প্রথা ও প্রতিষ্ঠান (Religious Usage or Institution) সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে পক্ষগুলোর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ করা হয়। বিশেষ করে:
- যদি পক্ষগুলো মুসলিম হয়, তবে মুসলিম আইন প্রয়োগ করা হবে।
- যদি পক্ষগুলো হিন্দু হয়, তবে হিন্দু আইন প্রয়োগ করা হবে।

সুতরাং প্রশ্নে যেহেতু বলা হয়েছে “মুসলিম ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে” → সিদ্ধান্ত হবে শুধুমাত্র মুসলিম আইনের ভিত্তিতে। সঠিক উত্তর: গ) মুসলিম আইন।
----------
⇒ The Civil Courts Act,1887, Section 37- Certain decisions to be according to local law:
(1) Where in any suit or other proceeding it is necessary for a Civil Court to decide any question regarding succession, inheritance, marriage or caste, or any religious usage or institution, the Muslim law in cases where the parties are Muslim, and the Hindu law in cases where the parties are Hindus, shall form the rule of decision except in so far as such law has, by legislative enactment, been altered or abolished.
(2) In cases not provided for by sub-section (1) or by any other law for the time being in force, the Court shall act according to justice, equity and good conscience.

৪,৯৮৫.
দু'টি পৃথক মামলায় ভিন্ন দু'জন বাদী একই বিবাদীর বিরুদ্ধে একই সম্পত্তির ব্যাপারে একই স্বত্ব দাবি করলে নিম্নের কোন কার্যক্রম গ্রহণ সঠিক হবে?
  1. দুটি মামলায় বিচার একত্রে চলবে
  2. দুটি মামলার বিচার পৃথক কোর্টে চলবে
  3. দুটি মামলার মধ্যে পরের মামলাটি স্থগিত হবে
  4. দুটি মামলার বিচার একই কোর্টে পাশাপাশি চলবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ১০ ধারার রেস-সাবজুডিস নীতি প্রয়োগ করে আদালত যেমন পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমাটি স্থগিত করতে পারে। সেই সাথে, ১৫১ ধারার সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত একই পক্ষসমূহের মধ্যে বিভিন্ন মোকদ্দমা একত্রিকরণ করার আদেশ দিতে পারে যে ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় প্রকৃতিগতভাবে একই।

দু'টি পৃথক মামলায় ভিন্ন দু'জন বাদী একই বিবাদীর বিরুদ্ধে একই সম্পত্তির ব্যাপারে একই স্বত্ব দাবী করলে, ১০ ধারার রেস-সাবজুডিস নীতি অনুযায়ী পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমার বিচার স্থগিত থাকার কথা। কিন্তু যেহেতু ১০ ধারার উদ্দেশ্য হলো বিরোধপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিহার করা, তাই যথাযথ মোকদ্দমার ক্ষেত্রে উভয় মোকদ্দমা একত্রিকরণ করে বিচার করার আদেশ আদালত দিতে পারে।

তাই দুইটি মোকদ্দমার বিচার একত্রে (Analogous Hearing) চলতে ১৫১ ধারায় আবেদন করা যায়।
৪,৯৮৬.
দণ্ডবিধির ৪২ ধারা অনুযায়ী 'স্থানীয় আইন' কাকে বলা হয়?
  1. শুধুমাত্র শহর এলাকায় প্রযোজ্য আইন
  2. বাংলাদেশের সমস্ত অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য আইন
  3. শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য আইন
  4. শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য আইন
ব্যাখ্যা
ধারা ৪২- স্থানীয় আইন (Local law) :

কেবলমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরস্থ এলাকাসমূহের কোন বিশেষ অংশের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য আইনকে স্থানীয় আইন বলে।
A "local law" is a law applicable only to a particular part of the territories comprised in Bangladesh.
৪,৯৮৭.
Penal Code, 1860 এর ধারা ৪৪৯ অনুযায়ী, কোন ধরনের অনধিকার প্রবেশ শাস্তিযোগ্য?
  1. সাধারণ চুরি করার জন্য প্রবেশ
  2. মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে প্রবেশ
  3. সাধারণ কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে প্রবেশ
  4. সম্পত্তি ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে প্রবেশ
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860) এর ধারা ৪৪৯ – মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের জন্য গৃহে অনধিকার প্রবেশ:
যে ব্যক্তি কোনো ঘর, গৃহ বা ভবনে অনধিকার প্রবেশ করে, সেই প্রবেশের উদ্দেশ্য থাকে কোনো মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ (offence punishable with death) সংঘটন করা, তাকে এই ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।

শাস্তি
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life) অথবা
- সশ্রম কারাদণ্ড (Rigorous imprisonment) সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত, এবং
- অর্থদণ্ড (Fine) প্রযোজ্য।

৪,৯৮৮.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে সরকারকে রাজস্ব প্রদানকারী ভূমির ক্ষেত্রে আদালত কাকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন?
  1. ভূমি কর্মকর্তা
  2. থানা নির্বাহী অফিসারকে
  3. কালেক্টরকে
  4. জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৪০ বিধি ৫ অনুযায়ী যে ক্ষেত্রে সরকারকে রাজস্ব দেওয়া হয় সেই সব ভূমির জন্য কালেক্টরকে রিসিভার নিয়োগ করতে পারে। 
⇒ রিসিভার নিয়োগ, অধিকার ও কর্তব্য নিয়ন্ত্রন হয় দেওয়ানী কার্যবিধি আনুসারে।
⇒ আদালত রিসিভারের পারিশ্রমিক কি পরিমাণ নির্ধারন করবে এটা আদালতের ইচ্ছাধীন।
-----------------
CPC Order-40 Rule-5.When Collector may be appointed receiver:
Where the property is land paying revenue to the Government, or land of which the revenue has been assigned or redeemed, and the Court considers that the interest of those concerned will be promoted by the management of the Collector, the Court may, with the consent of the Collector, appoint him to be receiver of such property.
৪,৯৮৯.
বসতঘরে চুরির অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা কি?
  1. ৫ বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা
  2. ৩ বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা
  3. ৭ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা
  4. ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩৮০ ধারার বিধান বাসগৃহ ইত্যাদিতে চুরি করা:- কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন গৃহ, তাঁবু জলযানে চুরি করে যে গৃহ তাঁবু বা জলযান মানুষের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয় অথবা সম্পত্তি হেফাজতের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

যেহেতু সশ্রম কারাদণ্ড বিনাশ্রম কারাদণ্ড থেকে কঠিন এজন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড হিসেবে অপশন 'ঘ' (৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও জরিমানা)  নির্বাচন করা হয়েছে।
৪,৯৯০.
আদালত কয় ভাবে 'Preventive relief' মঞ্জুর করতে পারে?
  1. দুই ভাবে
  2. তিন ভাবে
  3. চার ভাবে
  4. পাঁচ ভাবে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান- নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়:
আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।
 
আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন-
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে বা
২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারির মাধ্যমে।
-------------------------
⇒ Section 52- Preventive relief how granted:
Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual. 
৪,৯৯১.
'নির্বাচনকালে অন্যায় প্রভাব (Undue influence at elections)' দণ্ডবিধির কত ধারায় সংজ্ঞায়িত?
  1. ১৭০
  2. ১৭১ক
  3. ১৭১গ
  4. ১৭১ঘ
ব্যাখ্যা
ধারা ১৭১গ: নির্বাচনকালে অন্যায় প্রভাব-
(১) যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বা চেষ্টা করে কোনো নির্বাচনী অধিকারের মুক্ত ব্যবহারকে হস্তক্ষেপ করতে, সে নির্বাচনকালে অন্যায় প্রভাবের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে।

(২) উপধারা (১)-এর সাধারণ বিধির উপর ক্ষতি না করে, যে ব্যক্তি—
(ক) কোনো প্রার্থী বা ভোটার অথবা প্রার্থী বা ভোটারের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিকে কোনো ধরনের ক্ষতির ভয় দেখায়, অথবা
(খ) কোনো প্রার্থী বা ভোটারকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে বা চেষ্টা করে যে সে বা তার সাথে সম্পর্কিত কেউ ঈশ্বরের অদৃষ্টদোষ বা আধ্যাত্মিক শাস্তির সম্মুখীন হবে,

তাহলে তাকে নির্বাচনী অধিকারের মুক্ত ব্যবহারকে হস্তক্ষেপ হিসাবে গণ্য করা হবে, যেমনটি উপধারা (১)-এ উল্লেখিত।

(৩) সরকারি নীতি বা সরকারি কর্মের প্রতিশ্রুতি, বা কোনো নির্বাচনী অধিকারে হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্য ছাড়া শুধুমাত্র কোনো আইনগত অধিকার প্রয়োগ করা, এটি এই ধারার অধীনে হস্তক্ষেপ হিসাবে গণ্য হবে না।
৪,৯৯২.
রফিক হাসানকে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে, পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে হাসান একটি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। রফিক জানেন যে হাসান কোনো চুরি করেনি, তবুও তিনি এই মিথ্যা অভিযোগটি দায়ের করেন যাতে হাসানকে আইনি জটিলতায় ফেলা যায়। এই ধরনের কাজের জন্য, রফিক দণ্ডবিধির ______ ধারার অধীনে দোষী সাব্যস্ত হবেন।
  1. ২১১
  2. ৩১১
  3. ৪১১
  4. ১১১
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ২১১ ধারার বিধান- ক্ষতি করিবার উদ্দেশ্যে অপরাধের মিথ্যা অভিযোগ:

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের জন্য উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রুজু করার বা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উত্থাপন করার কোন সংগত বা আইনানুগ যুক্তি নাই বলে জানা সত্ত্বেও উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী মামলা রুজু করে বা অনুরূপ মামলা রুজু করায়, কিংবা উক্ত অন্য ব্যক্তির কোন অপরাধ করেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে,
তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে, এবং যদি অনুরূপ ফৌজদারি মামলায়, মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, কিংবা সাত বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের মিথ্যা অভিযোগ রুজু করা হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
৪,৯৯৩.
ধারা ২১ অনুযায়ী ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি’ বলতে বোঝায়:
  1. আদালতের নিয়োগকৃত অ্যাডভোকেট
  2. শুধুমাত্র আদালতের নিযুক্ত ব্যক্তিকে
  3. স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিকে
  4. আইনে স্বীকৃত অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজারকে
ব্যাখ্যা
• ধারা ২১: অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি (Agent of person under disability)-
যথাবিহিতরূপে ‘ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি’ বলিতে অপারগতাগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে-
আইন সম্মত অভিভাবক;
কমিটি বা ম্যানেজারকে; অথবা
অনুরূপ অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক স্বীকৃতি স্বাক্ষর করিবার বা অর্থ প্রদান করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বুঝাইবে।
৪,৯৯৪.
Execution of a 30 years old document may be presumed to be correct , if it is-
  1. Produced from a Lawyer
  2. Produced from a witness
  3. Produced from any custody
  4. Produced from a proper custody
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয় বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করতে পারে আবার নাও করতে পারে। ৯০ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করবে যদি দলিলটি সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার বিধান ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমান:
যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তাহা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হইতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষ বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা উহা সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা উহা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হইয়াছে।

⇒ ব্যাখ্যা: দলিল যেস্থানে ও যে ব্যক্তির হেফাজতে থাকা স্বাভাবিক, যদি উহা সেই স্থানে এবং সেই ব্যক্তির হেফাজতে থাকে, তবে উহা উপযুক্ত হেফাজতে আছে বলিয়া বুঝাইবে। কিন্তু দলিলটি যে হেফাজতে আছে, সেখানে থাকিবার আইন সঙ্গত কারণ আছে বলিয়া যদি প্রমাণিত হয় অথবা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে অনুরূপ কারণ থাকা সম্ভব বলিয়া যদি বিবেচিত হয়, তবে সেই হেফাজত অনুপযুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে না।
এই ব্যাখ্যা ৮১ ধারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

অর্থাৎ ধারা ৯০ অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।
-------------------
⇒The Evidence Act  1872, Section 90. Presumption as to documents thirty years old:
Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested. 

⇒ Explanation.-Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable. 
 
⇒ This explanation applies also to section 81.
৪,৯৯৫.
X অন্যায়ভাবে Y-এর ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক Y-এর একটি আংটি নদীতে নিক্ষেপ করে। X-এর কৃত অপরাধ হলো-
  1. চুরি
  2. অর্থ আত্মসাৎ
  3. ক্ষতি
  4. জোরপূর্বক সম্পত্তি আদায়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৪২৫ ধারা অনুযায়ী অন্যের অন্যায় ক্ষতি বা লোকসানের (Wrongful loss or damage) উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট অথবা সম্পত্তির মূল্য/উপযোগীতা হ্রাস বা ক্ষতিগ্রস্ত করাকে অনিষ্ট বা ক্ষতি (mischief) বলে।
৪,৯৯৬.
দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারা অনুযায়ী চুরির জন্য অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
  1. স্থাবর সম্পত্তি
  2. অসাধু উদ্দেশ্য
  3. মালিকের সম্মতি
  4. সাক্ষীর উপস্থিতি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৮ অনুসারে চুরির (Theft) অপরাধ গঠনের জন্য নিম্নলিখিত উপাদানগুলি অপরিহার্য:
১. অসাধু উদ্দেশ্য (Dishonest intention)
২. অস্থাবর সম্পত্তি (Moveable property)
৩. দখলকারীর সম্মতি ব্যতীত (Without consent of the person in possession)
৪. সম্পত্তি স্থানান্তর (Moving the property)

প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে "অপরিহার্য উপাদান" - এবং এর মধ্যে অসাধু উদ্দেশ্য হলো সর্বাধিক মৌলিক ও অপরিহার্য উপাদান। কারণ, অসাধু উদ্দেশ্য ছাড়া সম্পত্তি নেওয়া হলে তা চুরি হিসেবে গণ্য হয় না (যেমন– ভুলবশত অন্যকারও জিনিস নিয়ে যাওয়া)।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লেখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-378. Theft:
-Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.-A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.-A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.-A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.-A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.-The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.

৪,৯৯৭.
মামুন তার বন্ধুর গুরুতর এবং আকস্মিক প্ররোচনার কারণে ঘুষি মেরে বন্ধুকে আঘাত করে। তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিচের কোনটি হতে পারে?
  1. ১ মাসের কারাদণ্ড 
  2. ২ মাসের কারাদণ্ড
  3. ৩ মাসের কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : সর্বোচ্চ ১ মাসের কারাদণ্ড।

দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ৩৩৪- প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান:

যে ব্যক্তি গুরুতর এবং আকস্মিক প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত করে, যদি সে অন্য কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য বা জ্ঞান না থাকে, কেবল সেই ব্যক্তিকে আঘাত করে যে প্ররোচনা দিয়েছে, তবে তাকে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয়ই দেওয়া যেতে পারে।

৪,৯৯৮.
দণ্ডবিধির অধীন কত থেকে কত ধারা পর্যন্ত ফৌজদারী অপরাধের সাধারণ ব্যতিক্রম আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ধারা ৭৬ থেকে ১০০ পর্যন্ত
  2. ধারা ৭৪ থেকে ১০৪ পর্যন্ত
  3. ধারা ৭৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত
  4. ধারা ৯৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর চতুর্থ অধ্যায় ৭৬ ধারা থেকে ১০৬ ধারা পর্যন্ত সাধারণ ব্যতিক্রম সমূহ বা General exceptions নিয়ে আলোচনা করা হয়।

♦ যে কাজগুলোকে স্বাভাবিকভাবে অপরাধ বলে গণ্য করা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়না তাকেই সাধারণ ব্যতিক্রম বা General Exception বলে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় কিছু সাধারণ ব্যতিক্রমের উল্লেখ রয়েছে। দন্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্য বা কার্যবিরতিগুলো (acts or omission) স্বাভাবিকভাবে অপরাধ মনে হলেও সেগুলো ফৌজদারি দায় (criminal liability) থেকে মুক্ত; অর্থাৎ ৭৬ থেকে ১০৬ ধারার আওতাধীন কার্যগুলো অপরাধ মনে হলেও অপরাধী কোন শাস্তি পায়না।

♦ পেনাল কোডের ৭৬-১০৬ ধারার মধ্যে যে সকল সাধারণ ব্যতিক্রম বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলোর কোনো একটির সুযোগ যদি কোনো অভিযুক্ত পায় তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে যে কাজের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে তা আর অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তি এই ক্ষেত্রে নিরপরাধ হিসেবে খালাস পাবে। দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগও নাই।

♦  সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি দাবি করে তার কার্য বা কার্যবিরতি দণ্ডবিধির ৭৬ থেকে ১০৬ ধারায় উল্লেখিত কোন সাধারণ ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে, তবে তা প্রমাণের ভার উক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায়।
৪,৯৯৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২ অনুযায়ী, নিচের কোন ক্ষেত্রে জনসাধারণ সহায়তা করতে বাধ্য নয়?
  1. শান্তিভঙ্গ রোধে
  2. ব্যক্তিগত বিবাদে
  3. গ্রেফতার কার্যক্রমে
  4. সরকারি সম্পত্তি রক্ষায়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪২ অনুসারে জনসাধারণ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সহায়তা করতে বাধ্য, কিন্তু ব্যক্তিগত বিবাদে সহায়তা করতে বাধ্য নয়।
- ধারা ৪২-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে জনসাধারণ নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সহায়তা করতে বাধ্য:
(ক) গ্রেফতার বা পলায়ন প্রতিরোধে।
(খ) শান্তিভঙ্গ দমন বা প্রতিরোধে। 
(গ) রেলপথ, খাল, টেলিগ্রাফ বা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি প্রতিরোধে।
তবে ব্যক্তিগত বিবাদ এই ধারার আওতাভুক্ত নয়।
- সুতরাং, ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪২ অনুযায়ী ব্যক্তিগত বিবাদে জনসাধারণ সহায়তা করতে বাধ্য নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২ ধারা অনুসারে জনসাধারণ ২টি ক্ষেত্রে নির্বাহী বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশ অফিসারকে সহযোগিতা এবং সাহায্য করতে বাধ্য:
১: গ্রেফতার বা পলায়ন প্রতিরোধ-
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২(ক) মোতাবেক পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট যে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার জন্য আইনগতভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়েছেন সে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার জন্য বা তার পলায়ন প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনসাধারণ সাহায্য করতে বাধ্য থাকবেন।
২: অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা-
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২(খ) তে বলা আছে যে, কোথাও শান্তি ভঙ্গ হলে তা দমন  কিংবা শান্তি ভঙ্গের সম্ভাবনা দেখা দিলে তা প্রতিরোধ অথবা রেলপথ, খাল, টেলিগ্রাফ বা সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের  চেষ্টা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনসাধারণ সাহায্য করতে বাধ্য থাকবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 42: Public when to assist-
Every person is bound to assist any Magistrate whether Judicial or Executive or police officer reasonably demanding his aid,- 
(a) in the taking or preventing the escape of any other person whom such Magistrate or police-officer is authorized to arrest; 
(b) in the prevention or suppression of a breach of the peace, or in the prevention of any injury attempted to be committed to any railway, canal, telegraph or public property.

৫,০০০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৪ অনুযায়ী আপিল করার জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. রাষ্ট্রপতির আদেশ
  2. আদালতের অনুমতি
  3. দণ্ডিত ব্যক্তির আবেদন
  4. ফৌজদারি কার্যবিধি বা অন্য কোনো আইনে আপিলের বিধান
ব্যাখ্যা
⇒ মামলার কোন পক্ষ বিচারিক আদালতের (Trial court) সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে, উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধনের জন্য ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যে আবেদন করে তাকে আপিল বলে।
-অর্থাৎ আপিল হলো উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিচারিক পুনঃমূল্যায়ন।
-ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৪ ধারা হতে ৪৩১ ধারা পর্যন্ত আপিলের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৪ ধারার বিধান: ফৌজদারি মামলায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আপিল করা যায় না:
উক্ত (ফৌজদারি) কার্যবিধিতে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে আপিলের বিধান না থাকলে, সেক্ষেত্রে আপিল করা যায় না।
-------------------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-404: Unless otherwise provided, no appeal to lie:
No appeal shall lie from any judgment or order of a Criminal Court except as provided for by this Code or by any other law for the time being in force.