বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন১২,৬০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ৪৫ / ১২৬ · ৪,৪০১৪,৫০০ / ১২,৬০৫

৪,৪০১.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় 'অপহৃতা নারী প্রত্যর্পণে বাধ্য করার ক্ষমতা' দেয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৫৫০
  2. ধারা ৫৫৪
  3. ধারা ৫৫২
  4. ধারা ৫৫১
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৫২- অপহৃতা নারী প্রত্যর্পণে বাধ্য করার ক্ষমতা

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট কোন স্ত্রীলোক অথবা ১৬ বছরের নিম্ন বয়স্ক কোন বালিকাকে অপহরণ বা বে-আইনীভাবে আটক রাখার নালিশ করা হলে, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সেই স্ত্রীলোককে বা গ্রাহককে অবিলম্বে তার স্বামী, মাতা-পিতা, অথবা তার আইন সংগত অভিভাবকের নিকট প্রত্যর্পণের আদেশ দিতে পারবেন।

Section 552- Power to compel restoration of abducted females
Upon complaint made to a Metropolitan Magistrate or a Magistrate of the first class or District Magistrate on oath of the abduction or unlawful detention of woman, or of a female child under the age of sixteen years, for any unlawful purpose, he may make an order for the immediate restoration of such woman to her liberty, or of such female child to her husband, parent, guardian or other person having the lawful charge of such child, and may compel compliance with such order, using such force as may be necessary.
৪,৪০২.
নিচের কোন সম্পত্তিকে দণ্ডবিধি অনুযায়ী “চোরাই মাল” বলা হয় না?
  1. বৈধভাবে কেনা সম্পত্তি
  2. বলপূর্বক আদায়কৃত সম্পত্তি
  3. চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
  4. বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪১০-এর অধীন, চোরাই মাল (stolen property) বলতে চুরি, বলপূর্বক আদায় (extortion), দস্যুতা (robbery), অপরাধমূলক আত্মসাতকরণ (criminal misappropriation) বা বিশ্বাসভঙ্গ (criminal breach of trust)-এর দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে বোঝায়, যা বাংলাদেশের মধ্যে বা বাইরে সংঘটিত হোক না কেন। বৈধভাবে কেনা সম্পত্তি এই সংজ্ঞার অন্তর্গত নয়, এবং যদি চোরাই মাল আইনানুগভাবে দখলের অধিকারীর কাছে ফিরে আসে, তাহলে তা আর চোরাই মাল থাকে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই মালের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১০ ধারামতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণ্য হবে তা হল-
ক) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি;
খ) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি;
গ) দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি; এবং
ঘ) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।
⇒ উক্ত চোরাই মাল যখন আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী লোকের দখলে আসে, তখন সেগুলো আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার বিধান চোরাই সম্পত্তি:- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে "চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি 'চোরাই সম্পত্তি' বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
----------
⇒The Penal Code, 1860- Section 410: Stolen property:
- Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.

৪,৪০৩.
সাক্ষ্য আইনের ৫০ ধারায় কোন বিষয়ে অভিমত প্রাসঙ্গিক?
  1. হাতের লেখা
  2. আত্মীয়তার সম্পর্ক
  3. প্রথা বা রীতিনীতি
  4. ডিজিটাল স্বাক্ষর
ব্যাখ্যা

ধারা ৫০- সম্পর্ক বিষয়ক মতামত কখন প্রাসঙ্গিক:
যখন আদালতকে একজন ব্যক্তির সঙ্গে অন্যজনের সম্পর্ক (যেমন— স্বামী–স্ত্রী, পিতা–পুত্র, ভাই–বোন ইত্যাদি) সম্পর্কে মতামত গঠন করতে হয়, তখন এমন ব্যক্তির আচরণ দ্বারা প্রকাশিত মতামত (opinion expressed by conduct) প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে,
যিনি পরিবারের সদস্য বা অন্যভাবে ঐ সম্পর্ক বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী।

তবে এই মতামত, Divorce Act-এর অধীনে বিবাহ সংক্রান্ত মামলা, অথবা দণ্ডবিধির ধারা ৪৯৪, ৪৯৫, ৪৯৭, বা ৪৯৮ (প্রতারণামূলক বিবাহ, ব্যভিচার ইত্যাদি অপরাধ)–এর মামলায় বিবাহ প্রমাণের একমাত্র ভিত্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

উদাহরণ (Illustrations):
(ক) প্রশ্ন হলো- “A ও B কি বিবাহিত?”
যদি দেখা যায় যে A ও B-কে সমাজে সবাই স্বামী–স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ ও আচরণ করেছে, তাহলে এই তথ্য প্রাসঙ্গিক (relevant)।

(খ) প্রশ্ন হলো- “A কি B-এর বৈধ পুত্র?”
যদি দেখা যায় যে পরিবারের সদস্যরা সর্বদা A-কে B-এর বৈধ সন্তান হিসেবে আচরণ করেছে, তাহলে সেটিও প্রাসঙ্গিক তথ্য।

৪,৪০৪.
A, B-এর কাছ থেকে একটি মৃত চিত্রশিল্পীর আঁকা ছবি কেনার জন্য সম্মত হয়। এই চুক্তিতে B-ও সম্মত হয় বিক্রির জন্য। পরে B ছবি হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। এক্ষেত্রে, A আদালতের মাধ্যমে B-কে-
  1. ছবি হস্তান্তরের আদেশ দিতে বাধ্য করতে পারে না
  2. ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করতে পারে
  3. বিকল্প প্রতিকার দিতে বাধ্য করতে পারে
  4. ছবি হস্তান্তরের আদেশ দিতে বাধ্য করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ এই ধরনের বস্তু (বিরল ও অদ্বিতীয় জিনিস) সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়, এবং এর ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য কোনো মানদণ্ড নেই। তাই A আদালতের মাধ্যমে B-কে specific performance (চুক্তি অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তরের আদেশ) দিতে বাধ্য করতে পারে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ১২ অনুসারে,
এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে-
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা:
যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমন ভাবে করা যায়।
৪,৪০৫.
কখন অধিকতর তদন্ত করা যায়?
  1. কেবল সাক্ষ্য অপর্যাপ্ত হলে
  2. তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলে
  3. আসমী আবেদন করলে
  4. মামলার যে-কোনো পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩ মতে ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট না হন, তাহলে তিনি মামলাটি আমলে নেয়ার পূর্বে পুলিশকে আরও তদন্তের (Further Investigation) নির্দেশ দিতে পারেন। এছাড়া তদন্তকারী পুলিশ অফিসার পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পরও ১৭৩(৩খ) ধারার অধীন অধিকতর তদন্ত করতে পারে (Do Further Investigation)। এই অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে আরও কোন সাক্ষ্য পেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৭৩(৩খ) ধারার আওতায় পুনরায় যে চার্জ শীট দাখিল করে তাকে সম্পূরক চার্জ শীট (Supplementary charge sheet) বলে। সম্পূরক চার্জ শীট তদন্ত প্রক্রিয়ার একটি অংশ।

♦ পূর্বে দাখিলকৃত চার্জ শীটের আসামীকে সম্পূরক চার্জ শীট থেকে বাদ দেয়া যায়না; তবে সম্পূরক চার্জ শীটে নতুন করে আসামী যুক্ত করা যায়।

♦ অর্থাৎ মামলার যে-কোনো পর্যায়ে অধিকতর তদন্ত করা যায়
৪,৪০৬.
A একটি বিচারালয়ের অফিসার। উক্ত আদালত কর্তৃক Y কে আটক করার আদেশ প্রাপ্ত হয়ে এবং যথাযথ অনুসন্ধান করার পর জানা যায় Z কে Y মনে করে Z কে আটক করে। এই ক্ষেত্রে A এর অপরাধ
  1. কোন অপরাধ করেনি
  2. অবৈধ আটক করেছে
  3. বেআইনী বাধা প্রদান করেছে
  4. উপরের কোনটি না
ব্যাখ্যা
♦Y কে আটক করার আদেশ ছিল কিন্তু Z কে Y মনে করে A কে আটক করে। এটা একটি ঘটনাগত ভুল বা (Mistake of Fact) এবং A আটক করতে আইনবলে বাধ্য ছিল। যদি এই ক্ষেত্রে তিনি সরল বিশ্বাসে কোন প্রকার অবহেলা ছাড়া আটক করে, তাহলে এটা কোন অপরাধ না।
৪,৪০৭.
দণ্ডবিধির কত ধারায় গুরুতর আঘাতের বিধান আছে?
  1. ৩১৯
  2. ৩২০
  3. ৩২১
  4. ৩২২
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒The penal Code,1860: Section-320. Grievous hurt:
-The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
৪,৪০৮.
দলিল বাতিলের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে-
  1. যেকোন ব্যক্তি যার জন্য দলিলটি ক্ষতিকর
  2. যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য
  3. স্থানীয় চেয়ারম্যান
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
♦৩৯ ধারায় দলিল বাতিলের প্রতিকার শুধুমাত্র দলিলের পক্ষসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। অর্থাৎ একমাত্র দলিলের পক্ষরা যে দলিল বাতিলের মামলা করতে পারবে তা না বরং যেকোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য বা যে ব্যক্তি উক্ত বাতিল এবং বাতিলযোগ্য দলিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সে দলিলটি বাতিলের জন্য ৩৯ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
৩৯ ধারায় নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণ দলিল বাতিলের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে
১. দলিলের পক্ষ
২. যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য বা
৩. যে ব্যক্তি উক্ত বাতিল এবং বাতিলযোগ্য দলিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
দলিল বাতিলের মামলায় বাদীকে উক্ত দলিলের পক্ষ হওয়ার প্রয়োজন নেই বরং সে যদি প্রমাণ করতে পারে যে বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিলটির কারণে সে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে তাহলে সে মামলা দায়েরের অধিকারী।
৪,৪০৯.
ফৌজদারী কার্যবিধি কত সালের আইন?
  1. ১৮৬০
  2. ১৮৬১
  3. ১৮৯৮
  4. ১৮৭২
ব্যাখ্যা
 ♦ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ সালের আইন। ফৌজদারী কার্যবিধি হলো প্রধানত একটি পদ্ধতিগত আইন। কারণ এই আইনে ফৌজদারী আদালতের গঠন এবং ক্ষমতা থেকে শুরু করে, অভিযোগ দায়ের, আসামী গ্রেফতার, মামলার তদন্ত, মামলা আমলে নেওয়া, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, রায়, রায়ের বিরুদ্ধে আপীল ইত্যাদি সংক্রান্ত সকল নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। ১৮৬১ সালে সর্ব প্রথম ফৌজদারী কার্যবিধি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক পাস করা হয়। পরবর্তীতে ১৮৭২ এবং ১৮৮২ সালে ফৌজদারী কার্যবিধি সংস্কার করে, ভারতীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রেসিডেন্সি শহরে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়। ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ সালে পুনরায় সংস্কার করে কার্যকর করা হয়। এই আইনটি ১৮৯৮ সালের পহেলা জুলাই হতে কার্যকর করা হয়।
৪,৪১০.
সাক্ষ্য আইনের ৩৫ ধারায় সরকারি দায়িত্বে প্রস্তুতকৃত রেকর্ড কী হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
  1. চূড়ান্ত সত্য
  2. প্রাসঙ্গিক তথ্য
  3. অনুমানমূলক তথ্য
  4. অবিশ্বাস্য প্রমাণ
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৫- সরকারি বা সরকারি দায়িত্বে প্রস্তুতকৃত রেকর্ডের প্রাসঙ্গিকতা:
যে কোনো সরকারি বা অন্যান্য অফিসিয়াল বই, রেজিস্টার বা রেকর্ড (বা ডিজিটাল রেকর্ড)–এ  যদি কোনো বিতর্কিত বা প্রাসঙ্গিক ঘটনা (fact in issue or relevant fact) সম্পর্কিত তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে, এবং তা- কোনো সরকারি কর্মচারী (public servant) তার সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়, অথবা আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকা অন্য কোনো ব্যক্তি, দ্বারা তৈরি বা রেকর্ড করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই রেকর্ড নিজেই প্রাসঙ্গিক তথ্য (relevant fact) হিসেবে গণ্য হবে।

৪,৪১১.
রহিম একটি জমি কেনার জন্য করিমের সাথে চুক্তি করেন। পরবর্তীতে করিম জমিটি অন্য কাউকে বিক্রি করে দেন। রহিম চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য আদালতে মামলা করেন, কিন্তু আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৯ অনুযায়ী রহিম পরবর্তীতে-
  1. চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন
  2. চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারবেন না
  3. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের জন্য আবার মামলা করতে পারবেন
  4. চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ফৌজদারি মামলা করতে পারবেন
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২৯ অনুসারে,
একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে, তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে

Section 29- Bar of suit for breach after dismissal:
The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
৪,৪১২.
সরকারি চাকরি হতে নৈতিক স্খলনের দায়ে বরখাস্তকৃত একজন ব্যক্তি এ্যাডভোকেট হবার জন্য অযোগ্য হবে, যদি না সে অতিবাহিত করে
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
♦ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ২৭ (৩) অনুচ্ছে অনুযায়ী কোন ব্যক্তি সরকারী চাকরী হতে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে অপসারিত হলে এবং ২ বছর অতিক্রম না হলে এবং নৈতিক অবক্ষয় জনিত কোন অপরাধে দণ্ডিত হলে এবং ৫ বছর অতিক্রম না হলে অ্যাডভোকেট হওয়ার যোগ্য হবেনা।
৪,৪১৩.
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে ফৌজদারি কার্যবিধি এর কোন ধারা মোতাবেক?
  1. ৩৬৭
  2. ৩৬৬
  3. ৩৬৯
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে ফৌজদারি কার্যবিধি এর ধারা ৩৬৮ মোতাবেক। অর্থাৎ উপরের কোন উত্তরই সঠিক নয়। তাই উত্তর হবে (ঘ)।
৪,৪১৪.
A wrongfully strikes B with a cane. A may be separately charged with and convicted of offences under section _________ and ____________ of the Penal Code.
  1. 323, 324
  2. 352, 324
  3. 351, 323
  4. 323, 352
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২৩৫ ধারার বিধান একাধিক অপরাধের বিচার (Trial for more than one offence): পর পর সংঘটিত কতকগুলো কাজ পরস্পরের সাথে এরূপ সম্পর্কযুক্ত হয় যে, কাজগুলো একটিমাত্র কাজের সামিল এবং একই ব্যক্তি যদি উক্ত ব্যাপারে একাধিক অপরাধ করে থাকে তাহলে এরূপ প্রত্যেকটি অপরাধের জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে একটি মাত্র মামলায় বিচার করা যাবে।
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২৩৫-এর ২ নং উপধারায় একই অপরাধ ২ টি ধারায় শাস্তিযোগ্য হলে পৃথক চার্জ করে একসাথে বিচার করা যাবে। বোতল দিয়ে আঘাত করলে ৩২৩ ধারার আঘাতের অপরাধ ও ৩৫২ ধারার আক্রমণের অপরাধ হয়। তবে এই ক্ষেত্রে যে কোন একটি ধারায় শাস্তি দিতে হবে। ২৩৫ ধারার (২) উপ-ধারার (i) নং উদাহরণ দ্রষ্টব্য।
৪,৪১৫.
অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রাহ্য বা অগ্রাহ্য করা হলে তজ্জন্য নতুন করে বিচার হবে না এটি সাক্ষ্য আইনের কত ধারার বিধান?
  1. ১৬৭ ধারায়
  2. ১০৬ ধারায়  
  3. ১৫৭ ধারায়
  4. ১৬৫ ধারায় 
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন ১৬৭ ধারার বিধান অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রাহ্য বা অগ্রাহ্য করা হইলে এই জন্য নতুন করিয়া বিচার হইবে না।

♦ সাক্ষ্যের অবৈধ গ্রহণ বা বর্জন হইয়া থাকিলে যে আদালতে উহার বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হয়, সেই আদালত যদি মনে করেন যে, যে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইয়াছে ও তাহার বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হইয়াছে, সেই সাক্ষ্য ব্যতীতও এমন সাক্ষ্য প্রমাণ আছে যদ্বারা আদালতের সিদ্ধান্তে ন্যায্যতা প্ৰতিপন্ন হয়, অথবা যে সাক্ষ্য বর্জন করা হইয়াছে, তাহা গ্রাহ্য করা হইলেও আদালতের সিদ্ধান্তের কোন তারতম্য হইত না তবে, কেবলমাত্র অন্যয়রূপে কোন সাক্ষ্য গ্রহণ বা বর্জন করিবার অজুহাতেই কোন মামলার পুনর্বিচার বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন দাবি করা যাইবে না।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১৬৭ ধারায় কেবলমাত্র অন্যায়ভাবে সাক্ষ্য গ্রাহ্য বা অগ্রাহ্য করা হলে এর জন্য নতুন করে বিচার হবেনা।
৪,৪১৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে আদালত চুক্তি রদের আদেশ দিতে পারেন?
  1. যেক্ষেত্রে চুক্তিটি অবৈধ হওয়ার কারণ চুক্তি হতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান নয় 
  2. চুক্তিটি অবৈধ হওয়ার কারণের জন্য বাদী অপেক্ষা বিবাদী অধিক দায়ী 
  3. চুক্তিটি অবৈধ হওয়ার কারণ স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান এবং বিবাদী অপেক্ষা বাদী অধিক দায়ী 
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৫: বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়:
লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন:
(ক) যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়;
(খ) যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;
(গ) যেখানে একটি বিক্রয়চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।
⇒ যখন ক্রেতা বা ইজারাদার বিষয়বস্তুর দখলকারী থাকে এবং আদালত তেমন দখল অন্যায় মনে করেন সেখানে আদালত তাকে তেমন দখলকারী হিসাবে কোন লাভ বা ভাড়া পেয়ে থাকলে তা বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।
⇒ একই ক্ষেত্রে আদালত সে মামলায়ই আদেশ কর্তৃক যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদমোতাবেক কাজ করা হয়নি, হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় বা অসম্পূর্ণ চুক্তিই মামলার ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা মোতাবেক রদ করে দিতে পারেন।

উদাহরণ:
উপধারা-ক এর-
'ক', 'খ'-এর নিকট একটি মাঠ বিক্রয় করল। মাঠের উপর দিয়ে যাতায়াতের অধিকার সম্পর্কে 'ক'-এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল, কিন্তু তা সে 'খ'-এর নিকট গোপন রাখল। সে চুক্তি রদ করে নেওয়ার অধিকারী।

৪,৪১৭.
'A' জানে যে 'Z' একটি ঝোপের পেছনে আছে, কিন্তু 'B' তা জানে না। 'A', 'Z'-কে মারার উদ্দেশ্যে 'B'-কে ঝোপের দিকে গুলি করতে প্ররোচিত করে এবং 'Z'-এর মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান অনুযায়ী কে দোষী হবে?
  1. শুধুমাত্র B
  2. শুধুমাত্র A
  3. A এবং B উভয়েই
  4. A এবং B কেউই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারা- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):
কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) 'ক' একটি কূপের মুখে আড়াআড়িভাবে বাঁশের কঞ্চি পেতে তার উপর ঘাস পাতা বিছিয়ে দেয়- এই উদ্দেশ্যে যে, তাতে মৃত্যু ঘটতে পারে অথবা তাতে যে মৃত্যু ঘটতে পারে তা জানা সত্ত্বেও তা করে। 'চ' শক্ত মাটি মনে করে উহার উপর দিয়ে চলতে গিয়ে কূপের ভিতর পড়ে যায় এবং নিহত হয়। 'ক' শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(খ) একটি ঝোপের একপাশে 'ক' ও 'খ' রয়েছে এবং অন্য পাশে 'চ' রয়েছে 'ক' জানে যে, 'চ' অন্য পাশে রয়েছে, কিন্তু 'খ' তা জানে না। ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করলে যাতে 'চ'-এর মৃত্যু হয় সে। উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ গুলিবর্ষণ করলে 'চ'-এর মৃত্যু হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও 'ক' ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করার জন্য 'খ'-কে অনুরোধ করে। 'খ' অনুরোধ রক্ষা করে গুলিবর্ষণ করে এবং তার গুলিবর্ষণের ফলে 'চ' এর মৃত্যু হয়। এইক্ষেত্রে 'খ' কোন দোষে দোষী না হতে পারে, কিন্তু 'ক' শাস্তি যোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(গ) 'ক' একটি মুরগি হত্যা করে উহা চুরি করার উদ্দেশ্যে উহার প্রতি গুলিবর্ষণ করে, কিন্তু গুলিবর্ষণের ফলে ঝোপের অন্য পাশে 'খ'-এর মৃত্যু হয়। 'ক' জানত না যে, 'খ' সেখানে ছিল। এই ক্ষেত্রে 'ক' যদিও একটি বেআইনী কাজই করতেছিল, তথাপি সে শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী নয়, কেননা সে 'খ'-কে হত্যা করতে চায় নাই, অথবা যে কার্য মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, জ্ঞাতসারে সে কার্য করে সে মৃত্যু ঘটায় নাই।

⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
⇒ ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 299: Culpable homicide:
- Whoever causes death by doing an act with the intention of causing death, or with the intention of causing such bodily injury as is likely to cause death, or with the knowledge that he is likely by such act to cause death, commits the offence of culpable homicide. 
Illustrations:
(a) A lays sticks and turf over a pit, with the intention of thereby causing death, or with the knowledge that death is likely to be thereby caused. Z, believing the ground to be firm, treads on it, falls in and is killed. A has committed the offence of culpable homicide. 
(b) A knows Z to be behind a bush. B does not know it. A, intending to cause, or knowing it to be likely to cause Z's death induces B to fire at the bush. B fires and kills Z. Here B may be guilty of no offence; but A has committed the offence of culpable homicide. 
(c) A, by shooting at a fowl with intent to kill and steal it, kills B, who is behind a bush; A not knowing that he was there. Here, although A was doing an unlawful act, he was not guilty of culpable homicide, as he did not intend to kill B or cause death by doing an act that he knew was likely to cause death. 
 
Explanation 1. A person who causes bodily injury to another who is labouring under a disorder, disease or bodily infirmity, and thereby accelerates the death of that other, shall be deemed to have caused his death. 
Explanation 2. Where death is caused by bodily injury, the person who causes such bodily injury shall be deemed to have caused the death, although by resorting to proper remedies and skilful treatment the death might have been prevented. 
Explanation 3. The causing of the death of a child in the mother's womb is not homicide. But it may amount to culpable homicide to cause the death of a living child, if any part of that child has been brought forth, though the child may not have breathed or been completely born.

৪,৪১৮.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. তামাদির দরুন প্রতিকার নষ্ট হয়, অধিকার নষ্ট হয় না
  2. তামাদির দরুন প্রতিকার নষ্ট হয় না, অধিকার নষ্ট হয়
  3. তামাদির দরুন প্রতিকার ও অধিকার উভয়ই নষ্ট হয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦তামাদির দরুন প্রতিকার নষ্ট হয়, অধিকার নষ্ট হয় না: তামাদি আইন একটি পদ্ধতিগত আইন। তামাদি আইনের ২৮ ধারার বিধান ব্যতীত অন্য কোন বিধানবলে কোন অধিকার সৃষ্টিও হয় না, নষ্টও হয় না। ২৮ ধারার বিধান ব্যতীত তামাদি আইনের অন্যান্য ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় উত্তীর্ণ হয়ে গেলে মামলা করে প্রতিকার লাভ করা নিষিদ্ধ হয় বটে; কিন্তু সংশ্লিষ্ট অধিকার বিদ্যমান থেকেই যায়। মামলা-মোকদ্দমা ব্যতিত অন্য কোন উপায়ে যদি সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারা যায়, তবে তামাদি আইন সেক্ষেত্রে কোন বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে না।
৪,৪১৯.
দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার বিধান কী?
  1. ডাকাতির সাজা
  2. দস্যুতা সাজা
  3. খুনসহকারে ডাকাতি সাজা
  4. ডাকাত দলে থাকার সাজা
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার বিধান খুনসহকারে ডাকাতির সাজাঃ যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে, অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

♦দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারায় ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি ডাকাতি করতে গেলে এবং সে ঘটনায় কোনো একজন খুন করলে “খুনসহ ডাকাতি”-এর অপরাধে সকল ডাকাতকে শাস্তি দেওয়া যাবে যদিও তারা প্রত্যেকে খুনে অংশগ্রহণ করেনি।
৪,৪২০.
'চ' খুনের মামলায় দায়রা আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হয়। উক্ত আদেশ হাইকোর্ট বিভাগে পেশ করা হয় এবং হাইকোর্ট বিভাগ 'চ' কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এই ঘটনা ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা সমর্থন করে?
  1. ৩৭৪ ধারা
  2. ৩৮১ ধারা
  3. ৩৭৬ ধারা
  4. ৩৮৫ ধারা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধিতে ৩৭৪ থেকে ৩৮০ ধারা পর্যন্ত দণ্ড অনুমোদনের বিধানসমূহ রয়েছে। দণ্ড অনুমোদন বলতে মূলত মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের বিষয় বোঝায়। কার্যবিধির ধারা ৩১ এ বলা আছে যে, কোনো দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে বর্ণিত যেকোনো দণ্ড প্রদান করতে পারেন। কিন্তু যদি কোনো মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় তবে তা অবশ্যই হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হবে। 

অন্যদিকে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৬ ধারানুযায়ী, দায়রা আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগে পেশ করলে হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মৃত্যুদণ্ড-
⇒ বহাল রাখতে পারেন, বা
⇒ বাতিল করতে পারেন, বা
অন্য কোন দণ্ড দিতে পারেন, বা
⇒ খালাস দিতে পারেন।

এক্ষেত্রে আদালত মৃত্যুদণ্ড আদেশ বাতিল করে অন্য দণ্ড অর্থাৎ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। তাই বলা যায়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৬ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে।
৪,৪২১.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিচারক কোন সাক্ষীকে কোন প্রশ্ন করতে পারেন?
  1. ধারা ১৫৩
  2. ধারা ১৫৫
  3. ধারা ১৬৫
  4. ধারা ১৬৭
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারায় বিচারক কর্তৃক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার বা কিছু দাখিল করার আদেশ প্রদানের ক্ষমতা আছে- বিচারক প্রাসঙ্গিক ঘটনা উদ্ঘাটন করার জন্য অথবা উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য যে কোন সাক্ষীকে যে কোন সময় যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন, অথবা প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে পক্ষগণকে যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন এবং যে কোন দলিল বা বস্তু উপস্থাপন করার আদেশ দিতে পারবেন।

♦ তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন অনুসারে যে সকল ঘটনা প্রাসঙ্গিক ও যথারীতি প্রমাণিত বলে ঘোষিত হবে, তার ভিত্তিতেই মামলার রায় দান করতে হবে।

♦ পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিগণ বিচারকের কোন প্রশ্ন বা আদেশ সম্পর্কে কোন আপত্তি করতে পারবে না। অনুরূপ কোন প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী যা বলবে ঐ সম্পর্কে আদালতের অনুমতি ব্যতীত সাক্ষীকে কোন জেরা করতেও পারবে না।

♦ সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারায় Inquisitorial system এর বিধান রয়েছে। এখানে বিচারক একজন আইনজীবী ও তদন্তকারীর ভূমিকা পালন করেন।
৪,৪২২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৭ অনুযায়ী আদালত কর্তৃক আদেশকৃত জরিমানা ছাড়া অন্য অর্থ কীভাবে আদায়যোগ্য?
  1. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে
  2. দেওয়ানি মামলা দায়ের করে
  3. জরিমানা হিসেবে আদায়যোগ্য
  4. পুলিশি হেফাজতের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৭ অনুযায়ী, আদালত যদি জরিমানা ব্যতীত কোনো অর্থ প্রদানের আদেশ দেন এবং তার জন্য অন্য কোনো নির্দিষ্ট আদায়ের পদ্ধতি উল্লেখ না থাকে, তবে সেই অর্থ জরিমানা হিসেবে আদায়যোগ্য হবে। অর্থাৎ, সাধারণ জরিমানার আদায়ের নিয়ম অনুযায়ীই সেই টাকা আদায় করা যাবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৭ ধারার বিধান:- টাকা প্রদানের আদেশ প্রদত্ত হলে তা জরিমানা হিসেবে আদায়যোগ্য:
এই বিধির অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ অনুসারে কোন অর্থ জরিমানা ছাড়া দেয়া হলে এবং তা আদায়ের পন্থা সম্পর্কে অন্য কোন বিধান না থাকলে উক্ত অর্থ জরিমানা বলে ধরে নিয়ে আদায় করতে হবে।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section-547: Moneys ordered to be paid recoverable as fines:
Any money (other than a fine) payable by virtue of any order made under this code, and the method of recovery of which is not otherwise expressly provided for shall be recoverable as if it were a fine.

৪,৪২৩.
দণ্ডবিধির ধারা ৩৩৮ক-এ বর্ণিত অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ কত বছর কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ৩৩৮ক অনুযায়ী, যদি কেউ জনপথে বেপরোয়া বা অবহেলামূলকভাবে গাড়ি চালিয়ে বা অশ্বারোহণ করে অন্য কাউকে গুরুতর আঘাত করে, যাতে মানুষের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন হয়, তবে সে অপরাধী হবে।
- এই অপরাধের শাস্তি হলো সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড।
-  তাই সঠিক উত্তর হলো: গ) ২ বছর।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৩৮ক ধারা: জনপথে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে বা অশ্বারোহণ করে গুরুতর আঘাত প্রদান করা:
যে ব্যক্তি বেপরোয়া বা অবহেলামূলকভাবে গণপথে গাড়ি চালিয়ে বা অশ্বারোহণ করে কোন ব্যক্তিকে এমন গুরুতর আঘাত করে যাতে মনুষ্যজীবন ও অন্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ডে, বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 338A- Causing grievous hurt by rash driving or riding on a public way:
Whoever causes grievous hurt to any person by driving any vehicle, or riding on any public way so rashly or negligently as to endanger human life, or the personal safety of others, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৪,৪২৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন ধারা অনুযায়ী কূটনৈতিক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করা যায়?
  1. ৮৬ ধারা
  2. ৮৬ ক ধারা
  3. ৮৭ ধারা
  4. ৭৬ ক ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৮৬ ক ধারা অনুযায়ী কূটনৈতিক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।
৪,৪২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী দায়রা আদালত চার্জ গঠন করে?
  1. ২৪৫ক ধারা
  2. ২৬৫ক ধারা
  3. ২৬৫খ ধারা
  4. ২৬৫ঘ ধারা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা- ২৬৫ঘ: চার্জ গঠন করা:
(১) যদি উক্ত পর্যালোচনা এবং শুনানির পর আদালত এই মতামত ব্যক্ত করে যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধ করার জন্য সন্দেহ সৃষ্টি করার যথেষ্ট কারণ আছে, তবে আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি লিখিত চার্জ গঠন করবে।

(২) যখন আদালত উপধারা (১) অনুযায়ী একটি চার্জ গঠন করে, তখন ওই চার্জটি অভিযুক্তকে পড়া এবং ব্যাখ্যা করা হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, সে অভিযুক্ত অপরাধে দোষী কিনা, অথবা সে বিচার প্রার্থনা করে।
৪,৪২৬.
বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য [deferred dower] একজন মুসলিম মহিলা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির সময়কাল তামাদি আইনের কত অনুছেদে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১০২
  2. অনুচ্ছেদ ১০৩
  3. অনুচ্ছেদ ১০১
  4. অনুচ্ছেদ ১০৪
ব্যাখ্যা
♦তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১০৩ এবং ১০৪ অনুযায়ী মুসলিম আইনের অধীন দেনমোহর আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর।

অর্থাৎ বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য [deferred dower] একজন মুসলিম মহিলা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির ৩ বৎসর যা তামাদি আইনের ১০৪ অনুছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪,৪২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির কারাবাসের স্থান নির্দিষ্টকরণের ক্ষমতা রয়েছে কার?
  1. সরকারের
  2. কারা কর্তৃপক্ষের
  3. কারাদণ্ড প্রদানকারী আদালতের
  4. হাইকোর্ট বিভাগের
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪১ ধারার বিধান কারাবাসের স্থান নির্দিষ্টকরণের ক্ষমতা:
(১) বর্তমানে কার্যকর কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।
(২) দেওয়ানী কারাগারে আটক আসামী কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারী কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানী কারাগারে প্রত্যাবর্তন:
এই কার্যবিধির অধীন কারাদন্ড বা হাজতবাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে কারাদণ্ড বা হাজত বাসের আদেশদানকারী আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারী কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি উপধারা (২) এর অধীন ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হলে তা থেকে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানী জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না-
(ক) ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর পার হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে দেওয়ানী জেল থেকে অব্যাহতি পেয়েছে মর্মে অভিহিত করতে হবে, কিংবা
(খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানী জেলে আটকের আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদালত ফৌজদারী জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে অব্যাহতি পাবার অধিকারী।
৪,৪২৮.
ফরিয়াদী কর্তৃক আসামীর উপর পরোয়ানা জারীর ফি প্রদান করা না হলে, আদালত কি শাস্তি দিতে পারে?
  1. অনধিক ১৫ দিন সশ্রম কারাদণ্ড
  2. অনধিক ৩০ দিন সশ্রম কারাদণ্ড
  3. অনধিক ৩০ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. অনধিক ৬০ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪৬ক- আমল অযোগ্য মামলার ফরিয়াদী কর্তৃক প্রদত্ত কতিপয় ফিস প্রদানের আদেশ

(১) কোন আদালতে আমল অযোগ্য অপরাধের কোন অভিযোগ করা হলে এবং আসামী সাজাপ্রাপ্ত হলে আদালত উক্ত সাজা ব্যতীতও ফরিয়াদীকে নিম্নে বর্ণিত অর্থ দানের জন্য আসামীকে আদেশ দিতে পারবেন-
(ক) নালিশের দরখাস্তে অথবা ফরিয়াদীর জবানবন্দীর জন্য প্রদত্ত ফি (যদি থাকে ) এবং 
(খ) ফরিয়াদী কর্তৃক তার সাক্ষী কিংবা আসামীর উপর পরোয়ানা জারীর জন্য প্রদত্ত ফি এবং আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, উক্ত অর্থ পরিশোধ না করিলে অনধিক ত্রিশ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবে।

(২) রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন আপীল আদালত বা হইকোর্ট বিভাগও এই ধারার অধীন আদেশ দিতে পারবেন ।
৪,৪২৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতের কোন ধরনের ক্ষমতার বিধান রয়েছে?
  1. ordinary powers
  2. original powers
  3. inherent powers
  4. review powers
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা-
আদালতের সহজাত ক্ষমতা বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) ন্যায় বিচারের স্বার্থে দেওয়ানী আদালতের একটি অলিখিত ক্ষমতা যা প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়। কোন বিচারপ্রার্থী ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত না হওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতকে একটি বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। যেক্ষেত্রে আইনের কোন সুস্পষ্ট বিধান নেই বা আইনের কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নেই সেক্ষেত্রে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কল্পে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন। একেই বলা হয় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বা সহজাত ক্ষমতা।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারামতে, দেওয়ানি আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।

Section 151- Saving of inherent powers of Court:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court.
৪,৪৩০.
ল্যাটিন শব্দ "res judicata" এর অর্থ কী?
  1. A judgment open to appeal
  2. A case dismissed for lack of evidence
  3. A dispute yet to be adjudicated
  4. A thing settled by judicial decision
ব্যাখ্যা
ল্যাটিন শব্দ "res judicata" এর অর্থ হলো: "A thing settled by judicial decision"

অর্থাৎ, একটি বিষয় যা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দ্বারা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং তা পুনরায় একই পক্ষের মধ্যে আদালতে তোলা যাবে না।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতিটি [Res Judicata] আলোচনা করা হয়েছে। রেস জুডিকাটা নীতির মূল কথা হলো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত কোন বিচারিত বিষয়কে পরবর্তীতে পুনরায় বিচার করা যাবেনা। এই নীতির মূল কথা হলো, একবার নিষ্পত্তিকৃত কোন মোকদ্দমা, পুনরায় বিচারযোগ্য নয়। ১১ ধারার নিয়ম অনুসরণ করা আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

শর্তসমূহ:
⇒ দুইটি মোকদ্দমা থাকতে হবে। একটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত মোকদ্দমা এবং অন্যটি পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা;
⇒ উভয় মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় একই;
⇒ পরবর্তী মোকদ্দমাটি যারা দায়ের করেছে, পূর্ববর্তী চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত মোকদ্দমাটি সেই একই পক্ষগণের মধ্যে ছিল বা সেই পক্ষগণের মধ্যে ছিল যাদের মাধ্যমে তারা বা তাদের কোন একজন প্রতিকার দাবী করে;
⇒ উক্ত পক্ষগণ পূর্ববর্তী মোকদ্দমায় একই বিষয়বস্তু নিয়ে মোকদ্দমা দায়ের করেছে;
⇒ এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তি করেছে।

• এই নীতি আরো পাওয়া যায়:
- সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারা;
- ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারা;
- সাংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদ।
৪,৪৩১.
তামাদি আইনে বিল অব এক্সচেঞ্জ (Bill of Exchange) হিসেবে কোনটি অর্ন্তভুক্ত হবে?
  1. চেক
  2. হুন্ডি
  3. ক ও খ উভয়
  4. ক বা খ কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ধারা ২(২) অনুযায়ী-
হুন্ডি এবং চেক, বিল অব এক্সচেঞ্জ-এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

Section 2(2)
“bill of exchange” includes a hundi and a cheque.
৪,৪৩২.
"Canons of Professional Conduct and Etiquette"-এর চতুর্থ অধ্যায়ের কোন বিধি অনুযায়ী একজন আইনজীবী তার পেশা ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসা বা চাকরির সাথে জড়িত হতে পারবেন না?
  1. বিধি-৫
  2. বিধি-৬
  3. বিধি-৭
  4. বিধি-৮
ব্যাখ্যা

⇒ "Canons of Professional Conduct and Etiquette" হলো বাংলাদেশের আইনজীবীদের জন্য প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা যা তাদের পেশাগত আচরণ ও শালীনতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এটি একটি সামগ্রিক নিয়মাবলী যা আইনজীবীদের কর্তব্য, দায়িত্ব এবং নৈতিক আচরণের বিভিন্ন দিকগুলো আওতাভুক্ত করে। Canons of Professional Conduct and Etiquette- এ মোট ৪টি অধ্যায়ে ৪২টি বিধি আছে।
অধ্যায়সমূহ:
১ম অধ্যায়- আইনজীবীদের পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য;
২য় অধ্যায়- মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য;
৩য় অধ্যায়- আদালতের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য;
৪র্থ অধ্যায়- জনসাধারনের প্রতি দায়িত্ব।
------------------------------
-একজন আইনজীবীর জনসাধারণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য: “Canons of Professional Conduct and Etiquette” অংশের চতুর্থ অধ্যায়ের ১-৮ বিধি অনুযায়ী একজন আইনজীবীর জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য কী তা উল্লেখ করা হয়েছে-
- একজন আইনজীবীর জনসাধারণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য- ৮টি:
[বিধি-১]-কোন ব্যক্তিকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নিযুক্তি না নেওয়া: কোন ব্যক্তিকে বিরক্ত করা, হয়রানি করা বা মোকদ্দমা বিলম্বিত করা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে বাদী বা বিবাদী কোন পক্ষে একজন আইনজীবী নিযুক্ত হবেন না।
[বিধি-২]- ভিন্ন পক্ষের সাথে ভালো আচরণ করা: একজন আইনজীবী সর্বদা তার ভিন্ন পক্ষের সাথে ভালো আচরণ করবেন। বিচার চলাকালে আইন বহির্ভুত কাজ করবেন না।
[বিধি-৩]- ক্ষতির উদ্দেশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করা: একজন আইনজীবী কোন ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মোকদ্দমা দায়ের বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
[বিধি ৪]- পরামর্শ প্রদানে বাধ্যবাধকতা: কোন আইনজীবী প্রত্যেককে পরামর্শ প্রদান করতে বা আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য নন।
[বিধি-৫]-  মোকদ্দমা গ্রহণ বা বর্জন করতে পারেন: একজন আইনজীবী কোন ব্যক্তি বা সংস্থা যতই ক্ষমতাবান হোক অথবা রাজনৈতিক মোকদ্দমা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক তিনি পেশাগত নিযুক্তি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
[বিধি-৬]- পরিচয় প্রকাশ করা: কোন আইনজীবী কোন সরকারি অফিসার, বোর্ড কমিটি ইত্যাদির নিকট পেশাগত দায়িত্বে উপস্থিত হলে প্রথমে তিনি তার পরিচয় দিবেন।
[বিধি-৭]- পূর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে: কোন আইনজীবী যদি কোন বিষয়ে পূর্বে বিচারক পদমর্যাদায় কাজ করেন তাহলে তিনি সেই বিষয়ে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ লাভ করবেন না।
[বিধি-৮]- ব্যবসা, চাকুরি বা অন্য পেশার সাথে জড়িত না হওয়া: একজন আইনজীবী নিজের আইন পেশা ব্যতীত অন্য কোন ব্যবসা, চাকুরি বা পেশার সাথে জড়িত হবে না।

৪,৪৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৬(৩) অনুযায়ী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কত শ্রেণিতে বিভক্ত?
  1. ২ শ্রেণি
  2. ৩ শ্রেণি
  3. ৪ শ্রেণি
  4. ৫ শ্রেণি
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৬(৩) এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, Judicial Magistrate-দের চারটি শ্রেণি রয়েছে। এই শ্রেণিগুলো হলো: 
(ক) Chief Metropolitan Magistrate (মেট্রোপলিটন এলাকায়) এবং Chief Judicial Magistrate (অন্যান্য এলাকায়);
(খ) Magistrate of the first class, যিনি মেট্রোপলিটন এলাকায় Metropolitan Magistrate নামে পরিচিত;
(গ) Magistrate of the second class;
(ঘ) Magistrate of the third class।

Explanation অংশে আরও বলা হয়েছে যে, “Chief Metropolitan Magistrate” এবং “Chief Judicial Magistrate” শব্দের মধ্যে Additional Chief Metropolitan Magistrate এবং Additional Chief Judicial Magistrate-কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-6(3): There shall be four classes of judicial Magistrate, namely: -
(a) Chief Metropolitan Magistrate in Metropolitan Area and Chief judicial Magistrate to other areas;
(b) Magistrate of the first class, who shall in Metropolitan area, be known as Metropolitan Magistrate;
(c) Magistrate of the second class; and
(d) Magistrate of the third class.
Explanation: For the purpose of this sub-section, the word "Chief Metropolitan Magistrate" and "Chief judicial Magistrate" shall include "Additional Chief Metropolitan Magistrate" and "Additional Chief judicial Magistrate" respectively.

৪,৪৩৪.
আপীল পেশের জন্য স্মারকলিপি (memorandum) কে স্বাক্ষর করতে হবে?
  1. সরকারি কৌঁসুলি
  2. নিম্ন আদালতের রেজিস্ট্রার
  3. আপীলকারী বা তার উকিল
  4. আপীল আদালতের বিচারক
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১, বিধি ১(১) অনুসারে, আপীল পেশ করার জন্য স্মারকলিপি (memorandum) আপীলকারী (appellant) বা তার উকিল (pleader) কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে। এটি আপীলের আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করে। অন্যান্য অপশনগুলো (সরকারি কৌঁসুলি, নিম্ন আদালতের রেজিস্ট্রার বা আপীল আদালতের বিচারক) এই বিধির সাথে সম্পর্কিত নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ১ এর বিধান আপীলের নমুনা স্মারকলিপির সঙ্গে যা থাকতে হবে:
-(১) প্রত্যেকটি আপীল আপীলকারী বা তার উকিল কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি স্বারকলিপির আকারে পেশকরতে হবে এবং আদালত বা এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মচারীর নিকট দাখিল করতে হবে। যে ডিক্রি হতে আপীল করা হচ্ছে এবং (যদি না আপীল আদালত ইহার প্রয়োজনীয়তা শেষ করেন) যে রায়ের উপর উহা প্রতিষ্ঠিত, তার একটি নাকল স্বারকলিপির সঙ্গে প্রদান করতে হবে।

(২) স্মারকলিপির সারমর্মঃ যে ডিক্রি হতে আপীল করা হচ্ছে, সেই ডিক্রি সম্পর্কে আপত্তির সঙ্গত কারণগুলি সংক্ষেপে এবং স্পষ্ট শিরোনামে স্বারকলিপিতে কোন তর্ক বা ধারাবাহিক বর্ণনা ব্যতিত ব্যাখ্যা করতে হবে, এবং এরূপ সঙ্গত কারণগুলি ধারাবাহিক নম্বর যুক্ত হতে হবে।
--------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-41 Rule-1.Form of appeal. What to accompany memorandum:
(1) Every appeal shall be preferred in the form of a memorandum signed by the appellant or his pleader and presented to the Court or to such officer as it appoints in this behalf. The memorandum shall be accompanied by a copy of the decree appealed from and (unless the Appellate Court dispenses therewith) of the Judgment on which it is founded. 

- Contents of memorandum:
(2) The memorandum shall set forth, concisely and under distinct heads, the grounds of objection to the decree appealed from without any argument or narrative; and such grounds shall be numbered consecutively. 

৪,৪৩৫.
অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করতে পারে-
  1. সরকারের অনুমতিতে
  2. ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে
  3. পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুমতিতে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৮ এ অভিযোগকারী কর্তৃক নালিশ প্রত্যাহারের ফলাফল দেয়া হয়েছে-
এই ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যে কোন সময় অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করতে পারে।অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে খালাস [Acquittal] দিবে।

• অপরদিকে,৪৯৪ ধারা অনুযায়ী পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের সম্মতিতে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রায় ঘোষণার পূর্বে প্রত্যাহার করতে পারে। পাবলিক প্রসিকিউটর অভিযোগ গঠনের আগে মামলা প্রত্যাহার করলে,আদালত অভিযুক্তকে[Discharge] দিতে পারে এবং অভিযোগ গঠনের পরে মামলা প্রত্যাহার করলে,আদালত অভিযুক্তকে খালাস[Acquittal] দিতে পারে।
৪,৪৩৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৬ ধারা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলা সাধারণত কোথায় দায়ের করতে হবে?
  1. বাদীর বাসস্থানের আদালতে
  2. বিবাদীর বাসস্থানের আদালতে
  3. সম্পত্তি অবস্থিত স্থানের আদালতে
  4. মামলার কারণ উদ্ভবের স্থানের আদালতে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১৬ ধারা অনুযায়ী মোকদ্দমার বিষয়বস্তু যে আদালতের আঞ্চলিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত সেই আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। সাধারণত স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত মোকদ্দমা যেমন স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, ভাগ বাটোয়ারা, স্থাবর সম্পত্তির বিনা সংক্রান্ত মামলা, সেই আদালতে দায়ের করাতে হবে, যেখানে উক্ত বিরোধীয় সম্পত্তি অবস্থিত।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৬ ধারার বিধান- বিষয়বস্তু যেখানে অবস্থিত, মামলা সেখানেই দায়ের করতে হবে:
- যে কোন আইনে নির্ধারিত আর্থিক বা অন্যান্য এখতিয়ার সাপেক্ষ -
ক) খাজনা বা মুনাফাসহ বা ব্যতীত স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য,
খ) স্থাবর সম্পত্তি বাটোয়ারা জন্য,
গ) স্থাবর সম্পত্তির বন্ধক বা দায় (charge) উদ্ধারের অধিকার, হরণ, বিক্রয় বা
ঘ) স্থাবর সম্পত্তির অন্য কোনো প্রকার অধিকার বা স্বার্থ নির্ণয়ের জন্য,
ঙ) স্থাবর সম্পত্তির অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে,
চ) আটক বা ক্রোককৃত অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য -
আনীত মামলাগুলি যে সকল আদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবস্থিত, অথবা, ‘গ’ দফায় বর্ণিত মামলার ক্ষেত্রে যে স্থানে মামলার কারণ পূর্ণভাবে অথবা আংশিকভাবে উদ্ভব হয়, সেসব আদালতেই দায়ের করতে হবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী কর্তৃক বা তার পক্ষে দাখিলী কোন স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত প্রতিকার বা উহার অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা, প্রার্থতি প্রতিকার যদি সম্পূর্ণরূপে বিবাদির ব্যক্তিগতভাবে আনুগতভাবে আনুগত্যের ফলে লাভ করা যায়, তবে তাহলে যে আদালতের স্থানীয় সীমানার মধ্যে সম্পত্তি অবস্থিত, অথবা (ঙ) দফায় বর্ণিত ক্ষেত্রে যে স্থানে পূর্ণ বা আংশিকভাবে মামলার কারণ উদ্ভব হয়েছে অথবা যে আদালতের স্থানীয় সীমানার মধ্যে প্রকৃত পক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বিবাদী বাস করে বা ব্যবসা-বাণিজ্য চালায় বা ব্যক্তিগতভাবে লাভের জন্য কর্ম করে সেই আদালতে দায়ের করা যাবে।
------------
→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-16. Suits to be instituted where subject-matter situate: 
Subject to the pecuniary or other limitations prescribed by any law, suits- 
(a) for the recovery of immovable property with or without rent or profits, 
(b) for the partition of immovable property, 
(c) for foreclosure, sale or redemption in the case of a mortgage of or charge upon immovable property, 
(d) for the determination of any other right to or interest in immovable property, 
(e) for compensation for wrong to immovable property, 
(f) for the recovery of movable property actually under distraint or attachment, 
shall be instituted in the Court within the local limits of whose jurisdiction the property is situate, or, in the case of suits referred to in clause (c), at the place where the cause of action has wholly or partly arisen: 
Provided that a suit to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property held by or on behalf of the defendant may, where the relief sought can be entirely obtained through his personal obedience, be instituted either in the Court within the local limits of whose jurisdiction the property is situate, or, in the case of suits referred to in clause (c), at the place where the cause of action has wholly or partly arisen, or in the Court within the local limits of whose jurisdiction the defendant actually and voluntarily resides, or carries on business, or personally works for gain. 
Explanation.-In this section "property' means property situate in Bangladesh.

৪,৪৩৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৭ ধারার অধীনে কোন পরিস্থিতিতে তদন্ত করা যাবে না?
  1. যদি বাদী মামলা প্রত্যাহার করতে চায়
  2. যদি আসামির পরিচয় অজানা থাকে
  3. যদি তদন্তের উপযুক্ত কারণ না থাকে
  4. যদি অভিযোগ মৌখিকভাবে দায়ের করা হয়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৭(১)(খ) ধারার বিধান অনুসারে, যদি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (Officer-in-Charge) দেখেন যে তদন্ত শুরু করার জন্য পর্যাপ্ত কারণ নেই, তাহলে তিনি মামলাটি তদন্ত করবেন না। এই ক্ষেত্রে, তিনি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি জানাবেন এবং সংবাদদাতাকে (informant) অবহিত করবেন যে, তিনি এই মামলাটি তদন্ত করবেন না বা করাবেন না।

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
(ক) যদি বাদী মামলা প্রত্যাহার করতে চায় →
- বাদী মামলা প্রত্যাহার করলেও আমলযোগ্য অপরাধ হলে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে।
(খ) যদি আসামির পরিচয় অজানা থাকে →
- আসামির পরিচয় অজানা হলেও পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধী শনাক্ত করার চেষ্টা করবে।
(ঘ) যদি অভিযোগ মৌখিকভাবে দায়ের করা হয় →
- মৌখিক অভিযোগ গ্রহণ করার পর পুলিশ সেটি লিখিতভাবে রেকর্ড করতে পারে এবং তদন্ত শুরু করতে পারে।

সুতরাং, তদন্ত বন্ধ করার একমাত্র বৈধ কারণ হলো "যথেষ্ট তদন্তের কারণ না থাকা" যা ১৫৭(১)(খ) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
৪,৪৩৮.
'ক' 'খ' এর বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের দায়ে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের করেছে। মোকদ্দমাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায়, 'ক' 'খ' এর বিরুদ্ধে একই চুক্তি ভঙ্গের দায়ে অন্য একটি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে। এক্ষেত্রে আদালত-
  1. পরবর্তী মোকদ্দমা বাতিল করতে বাধ্য
  2. পূর্ববর্তী মোকদ্দমা খারিজ আদেশ করতে বাধ্য
  3. পরবর্তী মোকদ্দমার বিচার স্থগিতের আদেশ দিতে বাধ্য
  4. উভয় মোকদ্দমার বিচার চালিয়ে যেতে বাধ্য
ব্যাখ্যা
মোকদ্দমা স্থগিতকরণ [Res sub judice]:
দেওয়ানী কার্যবিধির ১০ ধারায় মোকদ্দমা স্থগিতকরণ [stay of suit] বা res sub judice সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। রেস-সাবজুডিসের বা ১০ ধারার নীতি প্রয়োগ করতে হলে-
১. অবশ্যই দুইটি মোকদ্দমা থাকতে হবে। একটি হলো পূর্বে দায়েরকৃত মোকদ্দমা এবং অন্যটি হলো পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা;
২. উভয় মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় প্রত্যক্ষ এবং মৌলিকভাবে একই;
৩. উভয় মোকদ্দমা একই পক্ষগণের বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে হবে;
৪. পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি অবশ্যই বিচারাধীন থাকতে হবে-
i. পরবর্তী মোকদ্দমাটি যে আদালতে দায়ের করা হয়েছে সেখানে; বা
ii. বাংলাদেশের কোন আদালতে যার দাবীকৃত প্রতিকার মঞ্জুর করার এখতিয়ার আছে; বা
iii.সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বা পরিচালিত বাংলাদেশের বাইরের কোন আদালতে যার এমন এখতিয়ার আছে; বা
iv. সুপ্রীম কোর্টে;
৫. পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি যে আদালতে দায়ের করা হয়েছে সেই আদালতের দাবীকৃত প্রতিকার দেওয়ার এখতিয়ার থাকতে হবে;
৬. উভয় মোকদ্দমায় উভয় পক্ষগণ একই স্বত্বের অধীন মোকদ্দমা দায়ের করেছে।

এখানে, ১০ ধারায় আদালত পরবর্তী মোকদ্দমাটি খারিজ করতে পারে না বরং পরবর্তী মোকদ্দমাটির বিচার স্থগিতের আদেশ দিতে পারে। ১০ ধারার বিধান মান্য করা আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ উপরে উল্লেখিত শর্ত পূরণ হলে আদালত পরবর্তী মোকদ্দমাটির বিচার স্থগিত করতে বাধ্য। 
উদাহরণ: 'ক' 'খ' এর বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের দায়ে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা দায়ের করেছে। মোকদ্দমাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায়, 'ক' 'খ' এর বিরুদ্ধে একই চুক্তি ভঙ্গের দায়ে অন্য একটি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করে। আদালত পরবর্তী মোকদ্দমার বিচার স্থগিতের আদেশ দিতে বাধ্য

উল্লেখ্য, বিদেশী আদালতে বিচারাধীন কোন মোকদ্দমার ক্ষেত্রে রেস সাব-জুডিস নীতি প্রযোজ্য না। অর্থাৎ কোন মামলা বিদেশী আদালতে বিচারাধীন থাকলেও উক্ত মামলার বিচার বাংলাদেশের আদালতে করা যাবে।
৪,৪৩৯.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৫৯ ধারার অধীন আদালত কর্তৃক দেনাদারকে মুক্তি দেয়ার কারণ-
  1. গুরুতর অসুস্থতা
  2. মুচলেকা প্রদান
  3. দেনাদারের সম্পত্তি ক্রোক
  4. জামানত প্রদান
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী দেনাদারকে গ্রেফতার করার পর কোন ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হইলে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিধান আছে।

• দেওয়ানি কার্যবিধি ৫৯ ধারার বিধান- অসুস্থতার দরুন মুক্তি:
১) কোন রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতার করার জন্য পরোয়ানা জারির পর যে কোন সময় তার গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালত তা নাকচ করতে পারেন।
২) রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতারের পর আদালত যদি মনে করেন যে, স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় ঐ ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখা চলে না, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারবেন।

৩) দেওয়ানি জেলে আটক রায়সিদ্ধ দেনাদার নিম্নলিখিত উপায়ে মুক্তি পেতে পারে-
ক) কোন সংক্রামক বা ক্ষতিকারক রোগের দরুন সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারেন; বা
খ) উক্ত ব্যক্তির গুরুতর অসুস্থতার দরুন সোপর্দকারী আদালত বা তা যে আদালতের অধীনস্ত তদ্রূপ কোন আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারেন।

৪) এই ধারার অধীনে মুক্তিপ্রাপ্ত রায়সিদ্ধ দেনাদারকে পুনরায় গ্রেফতার করা যেতে পারে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখার মোট মেয়াদ গড়ে ৫৮ ধারায় উল্লেখিত মেয়াদের অধিক হবে না।

Section 59- Release on ground of illness:
(1) At any time after a warrant for the arrest of a judgment-debtor has been issued the Court may cancel it on the ground of his serious illness.
(2) Where a judgment-debtor has been arrested, the Court may release him if, in its opinion, he is not in a fit state of health to be detained in the civil prison.

(3) Where a judgment-debtor has been committed to the civil prison, he may be released therefrom-
(a) by the Government, on the ground of the existence of any infectious or contagious disease, or
(b) by the committing Court, or any Court to which that Court is subordinate, on the ground of his suffering from any serious illness.

(4) A judgment-debtor released under this section may be re-arrested, but the period of his detention in the civil prison shall not in the aggregate exceed that prescribed by section 58.
৪,৪৪০.
তামাদি আইনের কোন ধারার বিধান কোনো পক্ষ অধিকার হিসেবে আদালতে দাবি করতে পারবে না?
  1. ১২ ধারার
  2. ১৪ ধারার
  3. ৫ ধারার
  4. উল্লিখিত সকল বিধান
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী ৫টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে, আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। একে Condonation of delay বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে।

তামাদি আইনের কঠোরতা লাঘবের জন্য এই আইনে যুক্ত করা হয়েছে ‘কতিপয় বিশেষ ক্ষেত্রে মেয়াদ বৃদ্ধিকরণ’ শিরোনামে ৫ ধারা। যেখানে বলা হয়েছে, কোন পক্ষ শুধুমাত্র আপীল, রিভিউ, রিভিশন, লিভ টু আপীল এবং বিভিন্ন প্রকার দরখাস্ত দায়েরে ক্ষেত্রে তামাদির সময় বৃদ্ধি করার আবেদন করতে পারে। এই সকল আবেদন করার সময় উল্লেখ করতে হবে ‘কেন সঠিক সময় আবেদন দায়ের করা যায়নি তার কারণ’। আদালত উক্ত ‘কারণ’ বিবেচনায় নিয়ে সন্তুষ্টচিত্তে ক্ষেত্র বিশেষে সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন। তবে মূল মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা কখনো গ্রহণযোগ্য হয় না।

এই ৫ ধারায় মূলত ’Equity will not suffer a wrong to be without a remedy’- অর্থাৎ ‘ইকুইটিতে ভুলের প্রতিকার বিদ্যমান’ নীতির প্রকাশ পেয়েছে। তামাদি আইনের ৫ ধারার বক্তব্য বুঝার জন্য এই ধারার ব্যাখ্যা অংশে বলা আছে- হাইকোর্ট বিভাগের কোন আদেশ, প্রথা কিংবা সিদ্ধান্তের দ্বারা তামাদির সময়কাল হিসাব কিংবা নির্ধারণে বিভ্রান্ত হলে তা বর্তমান ধারা অনুযায়ী ‘যথার্থ কারণ’ বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে বর্তমান আইনে বা আরও যেসব আইনে ‘যথার্থ কারণ/Sufficient cause’ শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়েছে সে সকল কোন আইনেই শব্দ গুলোর ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত থেকে বলা যায় ১.অসুস্থতা (অবশ্যই গুরুতর বা মারাত্মক) ২.কারাবাস ৩.সরল বিশ্বাসে ভুল ৪.কৌসুলি বা উকিলের ভুল ৫.আদালতের সংঘাতপূর্ণ সিদ্ধান্ত ৬.রায় বা ডিক্রি তুলতে আদালতের কর্মচারীর ভুল ইত্যাদি ‘যথার্থ কারণ/Sufficient cause’ হিসেবে আদালত বিবেচনায় নিতে পারে। তবে কোন ভাবেই এই ৫ ধারার সময় বৃদ্ধির আবেদন কোন পক্ষ অধিকার হিসেবে আদালতে দাবি করতে পারবে না।
৪,৪৪১.
বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কখন পুলিশ তল্লাশি ও বাজেয়াপ্ত করতে পারে?
  1. কোনো অবস্থাতেই নয়
  2. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আইনত মুক্তি দেয়া গেলে
  3. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জামিন দিতে সক্ষম হলে
  4. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আইনত জামিনে মুক্তি দেয়া না গেলে
ব্যাখ্যা
• Section 51- Search of arrested persons:
Whenever a person is arrested by a police-officer under a warrant which does not provide for the taking of bail, or under a warrant which provides for the taking of bail but the person arrested cannot furnish bail, and Whenever a person is arrested without warrant, or by a private person under a warrant, and cannot legally be admitted to bail, or is unable to furnish bail,
the officer making the arrest or, when the arrest is made by a private person, the police-officer to whom he makes over the person arrested, may search such person, and place in safe custody all articles, other than necessary wearing-apparel, found upon him.

ধারা ৫১:
যখনই কোন ব্যক্তিকে পুলিশ অফিসার দ্বারা গ্রেফতার করা হয় এমন ওয়ারেন্ট দ্বারা যাতে জামিন গ্রহণের বিধান নেই, অথবা এমন ওয়ারেন্ট যাতে জামিন গ্রহণের বিধান আছে কিন্তু গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জামিন দিতে অক্ষম, এবং যখনই কোন ব্যক্তিকে বিনা ওয়ারেন্টে বা কোন ব্যক্তি কর্তৃক ওয়ারেন্ট সাপেক্ষে গ্রেফতার করা হয় এবং আইনত তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া যায় না বা সে জামিন দিতে অক্ষম,
তখন গ্রেফতারকারী অফিসার, বা যখন গ্রেফতার কোন ব্যক্তি কর্তৃক করা হয়, যে পুলিশ অফিসারের নিকট গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে হস্তান্তর করা হয়, তিনি ঐ ব্যক্তির তল্লাশি নিতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যতীত তার কাছ থেকে পাওয়া অন্যান্য সমস্ত জিনিষপত্র নিরাপদ হেফাজতে রাখতে পারবেন।
৪,৪৪২.
অ্যাডভোকেট সনদের জন্য আবেদনকারীর Pupilage Diary তে অন্যূন কয়টি মামলার নোট থাকতে হবে-
  1. ৫ টি
  2. ১০ টি
  3. ১২ টি
  4. ১৫ টি
ব্যাখ্যা
⇒বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২ এর বিধি-৬০: শিক্ষানবিশ: অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তি হওয়ার পূর্বে কমপক্ষে ১০ বছর নিয়মিত উকালতি করেন এমন একজন অ্যাডভোকেটের অধীনে দরখাস্তকারীকে নিয়মিত কমপক্ষে ৬ মাস শিক্ষানবিশ থাকতে হবে।

-আবেদনপত্রের সাথে ৫টি দেওয়ানি এবং ৫টি ফৌজদারি মোট ১০ টি মামলার লিখিত নোটবুক দাখিল করতে হবে।
-কোন অ্যাডভোকেট বার কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া একসাথে ৪ জনের বেশি শিক্ষানবিশ গ্রহণ করবেন না।
-অ্যাডভোকেটের সাথে শিক্ষানবিশ এর যে চুক্তি হবে তা অ্যাফিডেভিট সহ বার কাউন্সিলের সেক্রেটারির নিকট ৩০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।
-কোন অ্যাডভোকেট চুক্তি পত্রে মিথ্যা বিবৃতি বা মিথ্যা সার্টিফিকেট দিলে পেশাগত অসদাচরণের জন্য দায়ী হবেন।
-শিক্ষানবিশ তালিকাভুক্তির আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিলে উক্ত শিক্ষানবিশ ৫ বছরের জন্য অযোগ্য হবেন।
-হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসের অনুমতির এবং রেজিস্ট্রেশন ৫ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে।
- ৫ বছরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে ব্যর্থ হলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে।
- এম.সি.কিউ এবং লিখিত পরীক্ষা এবং হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস অনুমতির পরীক্ষা সরকারি কলেজে হবে।
- বিধি-৬০(গ): এম.সি.কিউ ও লিখিত পরীক্ষায় পাশ নম্বর ৫০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় পাশ নম্বর ২৫।
৪,৪৪৩.
একজন মৃত ব্যক্তির উইলে বা পারিবারিক দলিলে লিখিত বক্তব্য সাক্ষ্য আইনের কোন উপ-ধারায় প্রাসঙ্গিক?
  1. ধারা ৩২(৫)
  2. ধারা ৩২(৬)
  3. ধারা ৩২(৭)
  4. ধারা ৩২(৮)
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২(৬)-এ স্পষ্টভাবে বিধান করা হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির উইল বা পারিবারিক বিষয়ক দলিলে (will or deed relating to family affairs) লিখিত বক্তব্য প্রাসঙ্গিক হিসেবে গৃহীত হবে। এটি পারিবারিক সম্পর্ক, সম্পত্তি বণ্টন বা অনুরূপ বিষয়ে প্রমাণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অন্য অপশনগুলো:
ক) ধারা ৩২(৫) → আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্পর্কিত বক্তব্য (relates to existence of relationship)।
গ) ধারা ৩২(৭) → ধারা ১৩(ক)-এ উল্লিখিত লেনদেন সম্পর্কিত দলিলে বক্তব্য।
ঘ) ধারা ৩২(৮) → একাধিক ব্যক্তির অনুভূতি প্রকাশকারী বক্তব্য।
সুতরাং, মৃত ব্যক্তির উইল বা পারিবারিক দলিলে লিখিত বক্তব্য সরাসরি ধারা ৩২(৬) এর অধীনে প্রাসঙ্গিক।

-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
(6) or is made in will or deed relating to family affairs;
When the statement relates to the existence of any relationship by blood, marriage or adoption between persons deceased, and is made in any will or deed relating to the affairs of the family to which any such deceased person belonged, or in any family pedigree or upon any tombstone, family portrait or other thing on which such statements are usually made, and when such statement was made before the question in dispute was raised.
------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

৪,৪৪৪.
A ধোঁয়া দ্বারা বাতাসকে এত দূষিত করে যে তা পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বসবাসরত B ও C এর দৈনন্দিন আরাম-আয়েশে উল্লেখযোগ্যভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। B ও C সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় প্রতিকার পেতে পারে?
  1. এই আইনে প্রতিকার নেই
  2. ধারা ৫৪
  3. ধারা ৫৫
  4. ধারা ৫৭
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৫৪ অনুসারে,এই অধ্যায়ের অন্তর্ভূক্ত বা এই বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।

♦ যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন। যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর পারেন :
 
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার; 

(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই; 

(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;

(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;

(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
৪,৪৪৫.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ২১ এর কত বিধিতে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি কার্যকর করার বিশেষ বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে?
  1. বিধি ৩০
  2. বিধি ৩০ক
  3. বিধি ৩১
  4. বিধি ৩১ক
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ২১, বিধি ৩০ক- অর্থ পরিশোধের ডিক্রি কার্যকর করার জন্য বিশেষ বিধান: 
(১) এই বিধিতে যা কিছুই বলা থাকুক না কেন, ডিক্রিপ্রাপ্ত ব্যক্তির (decree-holder) আবেদনক্রমে, আদালত রায়প্রাপ্ত ব্যক্তিকে (judgment-debtor) সিভিল কারাগারে আটক রাখার আদেশ দিতে পারে- যতদিন না সম্পূর্ণ বা আংশিক বকেয়া ডিক্রির অর্থ পরিশোধ করা হয় বা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত, এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে।

(২) এই বিধি অনুযায়ী সিভিল কারাগারে আটক রায়প্রাপ্ত ব্যক্তির জীবিকা নির্বাহের জন্য যে খরচ হবে, তা সরকার বহন করবে।

(৩) নিম্নোক্ত রায়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সিভিল কারাগারে আটক রাখার বিধান প্রযোজ্য হবে না:
- যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক,
- মানসিক ভারসাম্যহীন,
- যথাযথ আদালতের মাধ্যমে দেউলিয়া ঘোষিত,
- অথবা যিনি মূল রায়প্রাপ্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রতিস্থাপিত হয়েছেন।

(৪) যদি রায়প্রাপ্ত ব্যক্তি কারাগারে থাকাকালীন ডিক্রির মোট অর্থের ন্যূনতম ২৫% পরিশোধ করেন এবং বাকি অর্থ ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের জন্য একটি বন্ড দেন, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দেবে। তবে যদি বন্ড অনুযায়ী বাকি অর্থ প্রদান না করা হয়, তাহলে তাকে পুনরায় সিভিল কারাগারে আটক করা যেতে পারে, এবং তা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে।

(৫) যদি কোনো রায়প্রাপ্ত ব্যক্তি উপ-নিয়ম (১) বা (৪) অনুযায়ী পূর্ণ মেয়াদে সিভিল কারাগারে আটক থাকেন, তাহলে তাকে একই ডিক্রির আওতায় বা একই ডিক্রি থেকে উদ্ভূত অন্য কোনো কার্যক্রমে পুনরায় আটক করা যাবে না।

(৬) যদি রায়প্রাপ্ত ব্যক্তি পুরো বা আংশিক সময়ের জন্য সিভিল কারাগারে আটক থাকেন, তবুও তিনি ডিক্রির বাকি অর্থ পরিশোধ থেকে অব্যাহতি পাবেন না।

⇒ এই বিধান Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 দ্বারা সংযুক্ত করা হয়েছে।
৪,৪৪৬.
সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ অনুযায়ী নিম্ন লিখিত কোন বিষয়টি আদালত বিচারক দৃষ্টিগোচরে নিতে পারে না?
  1. বাংলাদেশের ভূখণ্ড
  2. বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোন পদবীর অস্তিত্ব
  3. সংবাদপত্রে প্রকাশিত কোন সংবাদ
  4. সমুদ্র এবং স্থল পথের নিয়ম কানুন
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী ১১ টি বিষয়ের উপর বিচারক দৃষ্টিগোচর রাখা আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। যথা:-
(i) বাংলাদেশের সকল আইনসমূহ।
(ii) সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যাবতীয় অস্ত্র ও রসদ।
(iii) আইনসভার কার্যসমূহ।
(iv) নিম্নলিখিত সীল:-
           a) বাংলাদেশ সকল আদালত সমূহের সীল।
           b) এডমিডালটি ও সামুদ্রিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত সমূহের সীল।
           c) নোটারি পাবলিকের সীল।
           d) সকল সীল যেটা বাংলাদেশে বলবৎ কোন আইনের দ্বারা কোন ব্যক্তি ব্যবহারের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
(v) বাংলাদেশে কোন সরকারি পদে কাহারো যোগদানের বিষয়ে সরকারি গ্যাজেট।
(vi) সরকার কর্তৃক স্বীকৃত প্রত্যেক রাষ্ট্র বা সার্বভৌম বা রাজা বা রাণীর অস্তিত্ব, উপাধি ও জাতীয় পতাকা।
(vii) সময়ের বিভাগসমূহ, পৃথিবীর ভৌগোলিক বিভাগসমূহ এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত সর্বসাধারণের উৎসব, উপবাস এবং ছুটিসমূহ।
(viii) বাংলাদেশের ভূখণ্ডসমূহ।
(ix) বাংলাদেশের সাথে অপর রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরোধ আরম্ভ হওয়া, চলতে থাকা ও অবসান হওয়া।
(x)  আদালতের সদস্য ও কর্মকর্তাগণ এবং তাদের অধীনস্থ অফিসার এবং সহকারীগণ এবং আদালতের কার্য সম্পাদনকারী অন্যান্য কর্মকর্তাগণের এবং আইন অনুসারে আদালতে উপস্থিত হয়ে মোকাদ্দমা পরিচালনায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত সকল এডভোকেট এবং অনন্য ব্যক্তিদের নাম।
(xi) স্থল বা সমুদ্র পথের নিয়মাবলী।
৪,৪৪৭.
আপীলের শুনানীর জন্য নির্ধারিত দিনে আপীলকারী উপস্থিত না হলে, আপীল আদালত আপীলটি খারিজ করে দেয়। উক্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে__________করা যাবে-
  1. রিভিউ
  2. রিভিশন
  3. আপীল
  4. উপরের যে কোন একটি
ব্যাখ্যা
♦যেহেতু আপীল খারিজ কোন ডিক্রি বা আপীলযোগ্য আদেশ না, তাই এর বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না কিন্তু রিভিশন করা যায়। যেহেতু কোন মোকদ্দমার বিরুদ্ধে আপীল করা হয়েছে এবং সেই আপীল শুনানীতে আপীল খারিজের সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে, সুতরাং দ্বিতীয় আপীল করার সুযোগ নাই। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধিতে দ্বিতীয় আপীলের সুযোগ নাই।
৪,৪৪৮.
আদেশ ১৩ বিধি ৩ এর অধীন মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত যদি মনে করেন যে, একটি দলিল অপ্রাসঙ্গিক বা অগ্রহনযোগ্য তাহলে কারন লিপিবদ্ধ করে আদালত সেই দলিল ______ করতে পারবেন।
  1. গ্রহণ
  2. প্রত্যাখ্যান
  3. বাজেয়াপ্ত
  4. অবৈধ ঘোষণা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৩ এ দলিল দাখিল, আটক ও ফেরত (Production, Impounding and Return of Documents) সম্পর্কিত বিধি-বিধান দেয়া আছে।

• বিধি ৩- দলিল প্রত্যাখ্যান:
মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে আদালত যদি মনে করেন যে কোন একটি দলিল অপ্রাসঙ্গিক বা অন্যকোনভাবে অগ্রহনযোগ্য, তবে কারণ লিপিবদ্ধ করে আদালত সেই দলিল প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন।

বিধি ৩ অনুসারে,
যদি মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত মনে করে যে কোনো একটি দলিল অপ্রাসঙ্গিক বা অন্য কোনোভাবে অগ্রহণযোগ্য, তাহলে আদালত নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে সেই দলিলটি প্রত্যাখ্যান করতে পারবে:
১. প্রথমেই আদালতকে কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে যে কেন তারা সংশ্লিষ্ট দলিলটি অপ্রাসঙ্গিক বা অগ্রহণযোগ্য মনে করছেন। কারণগুলি সুস্পষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত হওয়া আবশ্যক।
২. কারণগুলি লিপিবদ্ধ করার পর, আদালতকে একটি আদেশ বা রায় দ্বারা সেই দলিলটি প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
৩. এই আদেশ/রায়ে আদালতকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে তারা বিধি ৩ অনুসরণ করে দলিলটি প্রত্যাখ্যান করছেন।
৪. সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এই আদেশ/রায়ের কপি প্রদান করতে হবে যাতে তারা আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত হতে পারে।
৪,৪৪৯.
বার কাউন্সিলের ভোটার তালিকা ভোট গ্রহণের কতদিন পূর্বে প্রকাশ করতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর : ৩০ দিন।

The Bangladesh Legal Practitioners & Bar Council Rules, 1972 এর বিধি ১১:
১) বার কাউন্সিল ভোটারদের একটি তালিকা প্রকাশ করবে, যাতে বলা থাকবে কোন ভোটার কোন ভোটকেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করবে। এই তালিকাটি ভোটগ্রহণের কমপক্ষে ত্রিশ (৩০) দিন আগে প্রকাশ করতে হবে।
শর্তসাপেক্ষ, ভোটগ্রহণ পর্যন্ত বার কাউন্সিল তালিকায় নতুন ভোটার যোগ করার ক্ষমতা রাখবে।
আরও শর্তসাপেক্ষ, যে ব্যক্তি ভোটের সময় পর্যন্ত আইনজীবী না থাকবেন, তিনি ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন না।

(২) সমস্ত ভোটার তালিকায় উল্লেখিত ভোটকেন্দ্রে ভোট দিবেন, তবে যেসব ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত, তারা তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত কেন্দ্রেই ভোট দিতে পারবেন।
একজন প্রার্থী যে কোনো ভোটকেন্দ্রে তার ভোট দিতে পারবেন।
৪,৪৫০.
'Joinder of Parties' বলতে কী বোঝায়?
  1. Joinder of Plaintiffs
  2. Joinder of defendants
  3. Joinder of legal representatives of parties
  4. Joinder of Plaintiffs & defendants
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১ বিধি ১-৩ [মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত (Joinder of Parties)]-
দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশে কতিপয় ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত হতে পারে। একটি মোকদ্দমায় একাধিক ব্যক্তিকে বাদী এবং বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একটি মোকদ্দমায় সকল ব্যক্তি বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে পারে, যদি-
১. মোকদ্দমার প্রত্যেক বাদী বা বিবাদীর দাবীকৃত প্রতিকার একই কার্য বা লেনদেন থেকে উৎপত্তি হয় বা
২. মোকদ্দমাটি এমন যে, যদি এই ব্যক্তিরা (বাদী বা বিবাদী) পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করে তাহলে আইন বা তথ্য সংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্নের উদ্ভব হবে। 

উদহারণ-
'ক' যৌথভাবে 'খ' এবং 'গ' এর সাথে ১০০ কেজি গম বিক্রয়ের চুক্তি করে। 'ক' পরবর্তীতে তা বিক্রয়ে অস্বীকার করে। এখানে 'খ' এবং 'গ' উভয়ের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার আছে যা একই কার্য (বিক্রয় চুক্তি) থেকে উদ্ভব হয়েছে। তাই 'খ' এবং 'গ' বাদী হিসাবে যৌথভাবে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে ।
৪,৪৫১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ORDER-XXIII এর বিধান কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে
  2. বাদীর দাবী পরিত্যাগের ক্ষেত্রে
  3. ডিক্রি জারির কার্যক্রমের ক্ষেত্রে
  4. মামলার আপোষ মীমাংসার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ (ORDER XXIII) মূলত নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর জন্য প্রযোজ্য:
১) মামলা প্রত্যাহার – বাদী নিজে মামলা তুলে নিতে পারে।
২) দাবির আংশিক পরিত্যাগ – বাদী তার দাবির কিছু অংশ বাদ দিতে পারে।
৩) আদালতের অনুমতি নিয়ে নতুন মামলা দায়ের – নির্দিষ্ট শর্তে অনুমতি নিয়ে।
৪) মামলার আপোষ মীমাংসা – আইনগত আপোষ হলে আদালত সেটি রেকর্ড করে ডিক্রি দেয়।
→ কিন্তু বিধি ৪ (Rule 4) স্পষ্টভাবে বলে: "এই আদেশের কোনো কিছুই ডিক্রি বা আদেশের জারির কোন কার্যক্রমে প্রযোজ্য হবে না।"
অর্থাৎ, একবার ডিক্রি হয়ে গেলে সেটি কার্যকর করার বা execution চালানোর জন্য আদেশ ২৩-এর বিধান প্রযোজ্য নয়। এ জন্য আলাদা বিধান রয়েছে।

সুতরাং ORDER XXIII কেবল মামলার প্রত্যাহার, পরিত্যাগ এবং আপোষে নিষ্পত্তি নিয়ে, কিন্তু ডিক্রি কার্যকর (execution) নিয়ে নয়।

⇒The Code of Civil Procedure,1908, Order-23 Rule-4. Proceedings in execution of decrees not affected:
 Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order.
৪,৪৫২.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী একতরফাভাবে কোনো অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রদত্ত হলে, অপরপক্ষের হাজির হওয়ার কত দিনের মধ্যে আদালত কর্তৃক বিষয়টি নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে?
  1. ৩ দিন
  2. ৫ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ১০ দিন
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৯, বিধি ৫(ক)(৩):
যদি কোনো বেসরকারি পক্ষের অনুরোধে অপর কোনো বেসরকারি পক্ষের বিরুদ্ধে একতরফা (ex-parte) অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করা হয়, তবে—
- বিপক্ষ পক্ষ আদালতে হাজির হওয়ার দিন থেকে সাত (৭) দিনের মধ্যে আদালতকে বিষয়টি মূল বিষয়ের উপর শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে হবে, যতক্ষণ না বিপক্ষ পক্ষের অনুরোধে সময় বৃদ্ধি করা হয়।
- যদি যেই পক্ষের অনুরোধে একতরফা আদেশটি দেওয়া হয়েছিল, সে পক্ষ শুনানির জন্য স্থগিতাদেশ (adjournment) চায়, অথবা আদালতের ডাকে সাড়া না দিয়ে শুনানিতে অনুপস্থিত থাকে, তাহলে অন্য কোনো আদেশ ছাড়াই উক্ত অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার আদেশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল (vacated) বলে গণ্য হবে।

Order-39 Rule-5A.(3)-
If any order of ad interim or temporary injunction is passed ex-parte at the instance of a private party against another private party, the Court shall hear and dispose of the matter on merit within seven days of appearance of the opposite party, unless the period is extended further at the instance of the opposite party; and any such order of ad interim or temporary injunction shall stand vacated, if the party at whose instance it was passed, prays for adjournment, or on being called upon by the Court, fails to attend hearing.
৪,৪৫৩.
ফৌজদারী আদালতের রায় অনুযায়ী জল্লাদ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসি কার্যকর করলে তা-
  1. অপরাধ বলে গণ্য হবে না
  2. অপরাধ বলে গণ্য হবে
  3. নরহত্যা
  4. খুন
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৭৮ ধারা মতে আদালতের আদেশে কৃত কাজ অপরাধ নয় অর্থাৎ আদালতের রায় বা আদেশ মোতাবেক সম্পাদিত কোন কাজ অপরাধ নয় আদালতের আদেশ বাস্তবায়িত করার জন্য সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীগণ যে সমস্ত কার্য করবেন তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না।

♦ দণ্ডবিধির ৭৮ ধারার বিধান আদালতের রায় বা আদেশের অনুসরণে সম্পাদিত কাজ:- কোন আদালতের নির্দেশক্রমে অথবা কোন আদালতের রায় বা আদেশ অনুযায়ী উক্ত রায় বা আদেশ বলবৎ থাকাকালে সম্পাদিত কোন কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না; আদালতের অনুরূপ রায় বা আদেশ প্রদানের এখতিয়ার না থাকলেও অনুরূপ কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না যদি উক্ত কাজটি সম্পন্নকারী ব্যক্তি সরল মনে বিশ্বাস করে থাকে যে, আদালতের অনুরূপ এখতিয়ার রয়েছে।

-------------------
Act done pursuant to the judgment or order of Court:
Section 78. Nothing which is done in pursuance of, or which is warranted by the judgment or order of, a Court of Justice, if done whilst such judgment or order remains in force, is an offence, notwithstanding the Court may have had no jurisdiction to pass such judgment or order, provided the person doing the act in good faith believes that the Court had such jurisdiction.
৪,৪৫৪.
খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ কত দিন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ১৫৭ নং আর্টিকেল অনুসারের খালাসের বিরুদ্ধে আদেশ প্রচারের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করার বিধান আছে।
৪,৪৫৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২১ অনুযায়ী এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি কখন উত্থাপন করতে হবে?
  1. যেকোনো সময়
  2. প্রাথমিক পর্যায়ে
  3. মামলার নিষ্পত্তির পর
  4. ডিক্রি কার্যকরের সময়
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২১ অনুযায়ী, এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি অবশ্যই প্রাথমিক পর্যায়ে উত্থাপন করতে হবে। বিশেষভাবে, এটি নিম্নলিখিত সময়ের মধ্যে উত্থাপন করতে হবে:
- আদালতে প্রথম উপস্থিত হওয়ার সময়।
- বিচার্য বিষয় (issues) নির্ধারণের সময় বা তার আগে।
- যেকোনো প্রক্রিয়ার শুরুতে।
যদি এই সময়ের মধ্যে এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি না তোলা হয়, তবে পরবর্তীতে সাধারণত আপিল বা রিভিশন আদালতে এ ধরনের আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে যদি প্রাথমিক আদালতে আপত্তি না তোলার ফলে ন্যায় বিচারের ব্যত্যয় (failure of justice) ঘটে থাকে, তাহলে আপিল বা রিভিশন আদালত বিশেষ ক্ষেত্রে এ আপত্তি বিবেচনা করতে পারে।

⇒  দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ ধারার বিধান: এখতিয়ারে আপত্তি-
যে আদালতে প্রথমে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়, সেই আদালতে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগ এবং বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময় বা পূর্বে, আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত কোন আপত্তি উত্থাপন করতে হবে। যদি তা না করা হয় এবং ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত না হলে কোন আপিল বা রিভিশন আদালত মামলা দায়ের স্থান সম্পর্কে কোন আপত্তি গ্রহণ করবে না। কিন্তু ন্যায় বিচার ব্যাহত হলে এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে, আপিল বা রিভিশনের সময় আদালত এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি গ্রহণ করতে পারে।
------------ 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, section - 21: Objections to jurisdiction-
No objection as to the place of suing shall be allowed by any appellate or revisional Court unless such objection was taken in the Court of first instance at the earliest possible opportunity and in all cases where issues are settled at or before such settlement, and unless there has been a consequent failure of justice.

৪,৪৫৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে আদালতের বিবেচনার ভিত্তি কী?
  1. আইনের বিধান
  2. ক্ষতির পরিমাণ
  3. ন্যায় ও ইক্যুইটি
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৫৪ থেকে ৫৭ এর অধীনে নিষেধাজ্ঞা (Injunction) প্রদানের ক্ষেত্রে আদালতের বিবেচনার ভিত্তি একাধিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। নিম্নে এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:

আইনের বিধান: নিষেধাজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৪-এর বিধান দ্বারা পরিচালিত হয়। ধারা ৫৪ উল্লেখ করে যে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction) প্রদান করা যেতে পারে যখন বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন রোধ করা প্রয়োজন, যেমন চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন বা সম্পত্তির অধিকারে হস্তক্ষেপ। চুক্তি থেকে উদ্ভূত বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে, আদালত আইনের অধ্যায় II-এর নিয়ম ও বিধান অনুসরণ করে ধারা ৫৭-এ নেগেটিভ চুক্তি (Negative Agreement) পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রদানের বিধান রয়েছে।

ক্ষতির পরিমাণ:
ধারা ৫৪-এর উপ-ধারা (খ), (গ), এবং (ঘ) অনুসারে, নিষেধাজ্ঞা প্রদানের জন্য ক্ষতির প্রকৃতি ও পরিমাণ বিবেচনা করা হয়। যেখানে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কোনো মানদণ্ড নেই।যেখানে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার প্রদান করতে পারে না। যেখানে ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব নয়। এই ক্ষেত্রগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ বা তার অনুপস্থিতি নিষেধাজ্ঞা প্রদানের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

ন্যায় ও ইক্যুইটি:
নিষেধাজ্ঞা একটি ইক্যুইটেবল প্রতিকার (Equitable Remedy), তাই আদালত ন্যায়, ন্যায্যতা এবং সৎ বিবেকের (Justice, Equity, and Good Conscience) নীতি অনুসরণ করে। ধারা ৫৫ অনুসারে, বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) প্রদানের ক্ষেত্রে আদালতের বিবেচনার (Discretion) উপর জোর দেওয়া হয়। যদি আর্থিক ক্ষতিপূরণ বাদীর অধিকার রক্ষা করতে অপর্যাপ্ত হয়, তবে আদালত ন্যায়ের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারে। তদুপরি, ধারা ৫৬ অনুসারে, আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রদান থেকে বিরত থাকে যদি বাদীর আচরণ (Conduct) ইক্যুইটির সহায়তার জন্য অযোগ্য হয় (যেমন, ধারা ৫৬(জ))।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে নিষেধাজ্ঞা প্রদান একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে আদালত আইনের বিধান, ক্ষতির পরিমাণ এবং ন্যায় ও ইক্যুইটির নীতি—এই সবগুলোই বিবেচনা করে। অতএব, আদালতের সিদ্ধান্ত এই তিনটি উপাদানের সমন্বয়ের উপর নির্ভর করে।

- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (ধারা ৫৪–৫৭) অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে আদালতের বিবেচনার মূল ভিত্তি (আদালত নিষেধাজ্ঞা দেবেন কি না) তা নির্ভর করে –আইনের বিধান, ক্ষতির প্রকৃতি ও ন্যায়-ইক্যুইটি—এই তিনটির সমন্বয়ের উপর।

৪,৪৫৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় আপিল সংক্ষিপ্তভাবে (summary) খারিজ করার বিধান রয়েছে?
  1. ৪১৯ ধারা
  2. ৪২০ ধারা
  3. ৪২১ ধারা
  4. ৪২৩ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২১ অনুযায়ী, যদি আপিল আদালত মনে করে যে আপিলে হস্তক্ষেপ করার মতো পর্যাপ্ত কারণ নেই, তবে সে আপিল সংক্ষিপ্তভাবে (summarily) খারিজ করতে পারে। তবে, ধারা ৪১৯ এর অধীনে দাখিলকৃত আপিলে আপিলকারী বা তার উকিলকে শুনানির যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে খারিজ করা যাবে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারামতে আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ (Summary dismissal of appeal)-
(১) ধারা-৪১৯ বা ৪২০ এর আওতায় দরখাস্ত ও নকল পাওয়ার পর আপিল আদালত উহা পড়বেন, এবং যদি ইহা বিবেচনা করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত পর্যাপ্ত কারণ নেই, সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে আপিল খারিজ করতে পারবেন।
শর্ত থাকে যে, ধারা-৪১৯ এর আওতায় দাখিলকৃত আপিলের ক্ষেত্রে আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে আপিল খারিজ করা যাবে না।
(২) এই ধারার আওতায় আপিল খারিজ করার পূর্বে আদালত মামলার নথি তলব করতে পারবেন, কিন্তু আদালত এরূপ তলব করতে বাধ্য হবেন না।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-421: Summary dismissal of appeal:
(1) On receiving the petition and copy under section 419 or section 420, the Appellate Court shall pursue the same, and, if it considers that there is no sufficient ground for interfering, it may dismiss the appeal summarily:
-Provided that no appeal presented under section 419 shall be dismissed unless the appellant or his pleader has had a reasonable opportunity of being heard in support of the same.
(2) Before dismissing an appeal under this section, the Court may call for the record of the case, but shall not be bound to do so.
৪,৪৫৮.
The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972-এর ৩৬ অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক কতদিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ শাস্তি বিধানের বিরুদ্ধে প্রতিকারের বিধান:
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর ৩৬ আদেশের বিধান মোতাবেক কোন অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিলে এবং উক্ত আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে, অনুরূপ আদেশ প্রাপ্তির দিন হতে নব্বই (৯০) দিনের মধ্যে উক্ত সংক্ষুব্ধ অ্যাডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
- অনুরূপ আপিল হাই কোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ কর্তৃক শ্রবণ করতে হবে এবং ঐ বেঞ্চের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে হবে।
-এই আপিল বার কাউন্সিল নিজে অথবা অভিযুক্ত আইনজীবী স্বেচ্ছায় করতে পারেন।
----------------------------
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972: Article-36. (1) Any person aggrieved by an order of a Tribunal under Article 34 may, within ninety days from the date of the communication of the order to him, prefer an appeal to the High Court.
(2) Every such appeal shall be heard by a Division Bench of the High Court which may pass such order thereon as it may deem fit and the order of the High Court shall be final.

৪,৪৫৯.
সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা কোন প্রকার বিবৃতিকে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য করে?
  1. সব ধরনের নকল দলিল
  2. সাক্ষ্যদানে অনিচ্ছুক ব্যক্তির বিবৃতি
  3. কেবলমাত্র জীবিত ব্যক্তির মৌখিক বক্তব্য
  4. মৃত, নিখোঁজ, বা সাক্ষ্যদানে অযোগ্য ব্যক্তির বিবৃতি
ব্যাখ্যা
⇒ সঠিক উত্তর: ঘ) মৃত, নিখোঁজ, বা সাক্ষ্যদানে অযোগ্য ব্যক্তির বিবৃতি।
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২–এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, এমন ব্যক্তির বিবৃতি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হয়— যিনি: মারা গেছেন (dead), নিখোঁজ (cannot be found), সাক্ষ্যদানে অযোগ্য (incapable of giving evidence) বা যাঁর উপস্থিতি আদালতের জন্য অত্যন্ত সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ (attendance cannot be procured without unreasonable delay or expense)
এই ধরনের পরিস্থিতিতে, তাদের পূর্বে দেওয়া মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি (যেমন: মৃত্যুকালীন ঘোষণা, ব্যবসায়িক দলিল, স্বার্থবিরোধী বক্তব্য ইত্যাদি) ৮টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ও সাক্ষ্যযোগ্য হিসেবে ধারা ৩২-এ স্বীকৃত।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
-----------
-The Evidence Act, 1872, Section-32: Cases in which statement of relevant fact by person who is dead or cannot be found, etc., is relevant.
- When it relates to cause of death;
or is made in course of business;
or against interest of maker;
or gives opinion as to public right or custom, or matters of general interest;
or relates to existence of relationship;
or is made in will or deed relating to family affairs;
or in document relating to transaction mentioned in section 13, clause (a);
or is made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question

Illustrations:
(a) The question is, whether A was murdered by B; or
A dies of injuries received in a transaction in the course of which she was ravished. The question is whether she was ravished by B; or
The question is whether A was killed by B under such circumstances that a suit would lie against B by A's widow.
Statements made by A as to the cause of his or her death, referring respectively to the murder, the rape and the actionable wrong under consideration are relevant facts.
৪,৪৬০.
দণ্ডবিধি ১০০ ধারায় উল্লেখিত কোনটি আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের শর্ত নয়?
  1. গুরুতর আঘাতের আশঙ্কা।
  2. অপহরণের উদ্দেশ্যে আক্রমণ।
  3. চুরির করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ।
  4. ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ।
ব্যাখ্যা
→ "চুরির করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ" দণ্ডবিধি ১০০ ধারায় উল্লেখিত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের শর্ত নয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১০০ ধারা অনুযায়ী ছয়টি ক্ষেত্রে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা:  
      (i) এমন আক্রমণ যা মৃত্যু ঘটাতে পারে।
      (ii) এমন আক্রমণ যা গুরুতর আঘাত তৈরি করতে পারে।
      (iii) ধর্ষণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
      (iv) অপকৃত কাম লালসার অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
      (v) মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টায় আক্রমণ।
      (vi) আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিতে অবৈধভাবে আটক রাখলে।
-------------------
The Penal Code, 1860- Section 100. When the right of private defence of the body extends to causing death:
-The right of private defence of the body extends, under the restrictions mentioned in the last preceding section, to the voluntary causing of death or of any other harm to the assailant, if the offence which occasions the exercise of the right be of any of the descriptions hereinafter enumerated, namely:- 
Firstly.-Such an assault as may reasonably cause the apprehension that death will otherwise be the consequence of such assault; 
Secondly.-Such an assault as may reasonably cause the apprehension that grievous hurt will otherwise be the consequence of such assault; 
Thirdly.-An assault with the intention of committing rape; 
Fourthly.-An assault with the intention of gratifying unnatural lust; 
Fifthly.-An assault with the intention of kidnapping or abducting; 
Sixthly.-An assault with the intention of wrongfully confining a person, under circumstances which may reasonably cause him to apprehend that he will be unable to have recourse to the public authorities for his release.
৪,৪৬১.
দণ্ডবিধির ধারা ৫৩-এ কারাদণ্ডের কত প্রকার উল্লেখ আছে?
  1. দুটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি (১৮৬০), ধারা ৫৩-এ শাস্তির প্রকারভেদের মধ্যে 'কারাদণ্ড' (Imprisonment) দুই প্রকারের উল্লেখ করা হয়েছে:
- সশ্রম কারাদণ্ড (Rigorous Imprisonment: কঠিন শ্রমসহ)
- বিনাশ্রম কারাদণ্ড (Simple Imprisonment: শ্রম ছাড়া)
- এছাড়া, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদা সশ্রম হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু এটি কারাদণ্ডের পৃথক প্রকার নয়। 
- তাই মোট কারাদণ্ডের প্রকার দুটি।


⇒ দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন।
- দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে।
৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
(i) মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
(iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is, with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple)
(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
(v) অর্থদণ্ড (fine)
- দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ তে বিধান আছে যে, কারাদণ্ড ২ প্রকারের- সশ্রম ও বিনাশ্রম।
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 53. Punishments:
The punishments to which offenders are liable under the provisions of this Code are,-
Firstly,- Death;
Secondly,- Imprisonment for life;
Thirdly,-[Omitted].
Fourthly,-Imprisonment, which is of two descriptions, namely:-
(1) Rigorous, that is, with hard labour;
(2) Simple;
Fifthly,- Forfeiture of property;
Sixthly,- Fine.
Explanation: -In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous.

৪,৪৬২.
একই মামলায় প্রদত্ত বিবৃতি পরবর্তী মামলায় প্রাসঙ্গিক হবে যদি উক্ত ব্যক্তি _
  1. মৃত হয়।
  2. নিরুদ্দেশ হয়
  3. সাক্ষ্য দিতে অসমর্থ হলে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২, ধারা ৩৩ অনুযায়ী- সাক্ষী মামলার বিচারক্রমে বা আইনত সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা সম্পন্ন কোন ব্যাক্তির নিকট যে সাক্ষ্য দেয়, উক্ত সাক্ষীর মৃত্যু হলে, সন্ধান পাওয়া না গেলে, সে সাক্ষ্য দিতে অসমর্থ হয়ে পড়লে, বিরুদ্ধ পক্ষ তাকে সরিয়ে রাখলে অথবা তাকে উপস্থিত করার জন্য সে সময় ও অর্থের প্রয়োজন, মামলার অবস্থা বিবেচনায় আদালত তা অযৌক্তিক বলে মনে করলে, উক্ত সাক্ষীর পুর্বোক্ত সাক্ষ্যে বর্ণিত কোন ঘটনার সত্যতা পরবর্তী কোন মামলায় বা একই মামলায় পরবর্তী পর্যায়ে প্রমাণের জন্য প্রাসঙ্গিক হবে (শর্তসাপেক্ষে)।
৪,৪৬৩.
দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারায় মোট কয়টি ব্যাখ্যা (Explanation) রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ৩টি।
দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারায় ৩টি ব্যাখ্যা রয়েছে: ১) অসুস্থ বা অপারগ ব্যক্তির মৃত্যু ত্বরান্বিত করা শাস্তিযোগ্য। ২) দৈহিক আঘাতের কারণে মৃত্যু ঘটলে, আঘাতকারীকে দায়ী করা হবে। ৩) মাতৃগর্ভে শিশুর মৃত্যু নরহত্যা নয়, তবে জন্মের পর মৃত্যু ঘটানো শাস্তিযোগ্য।

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান শাস্তিযোগ্য নরহত্যা:- কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।
ব্যাখ্যা ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগছে, তার দৈহিক, জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
ব্যাখ্যা ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভূমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 299: Culpable homicide:
- Whoever causes death by doing an act with the intention of causing death, or with the intention of causing such bodily injury as is likely to cause death, or with the knowledge that he is likely by such act to cause death, commits the offence of culpable homicide.
Explanation-1. A person who causes bodily injury to another who is labouring under a disorder, disease or bodily infirmity, and thereby accelerates the death of that other, shall be deemed to have caused his death.
Explanation-2. Where death is caused by bodily injury, the person who causes such bodily injury shall be deemed to have caused the death, although by resorting to proper remedies and skilful treatment the death might have been prevented.
Explanation-3. The causing of the death of a child in the mother's womb is not homicide. But it may amount to culpable homicide to cause the death of a living child, if any part of that child has been brought forth, though the child may not have breathed or been completely born.
৪,৪৬৪.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দানের শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ৩০৫
  2. ৩০৬
  3. ৩০৭
  4. ৩০৮
ব্যাখ্যা
→ দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করে এবং অন্য কোনো ব্যক্তি তাকে আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচিত করে, তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধী বলে গণ্য হবে।
- এই অপরাধের জন্য দণ্ডবিধিতে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারার বিধান আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:- কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করবে, উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
--------------------
⇒ The Penal Code, 1860: Section 306 Abetment of suicide:- If any person commits suicide, whoever abets the commission of such suicide, shall be punished with imprisonment either description for a term which may extend to ten years and shall also be liable to fine.
৪,৪৬৫.
খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ কর্তৃক আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ, তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. ১৫১
  2. ১৫৩
  3. ১৫৭
  4. ১৬৩
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908 এর অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে।
- খালাসের বিরুদ্ধে আপিল গৃহীত না হলে বা প্রত্যাখ্যাত হলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

⇒ যদি আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয় তবেই ফরিয়াদি খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।
- The Code of Criminal Procedure, 1898 ধারা ৪১৭(৩) মতে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।

অর্থাৎ খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ, তামাদি আইনের ১৫৭ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে।
৪,৪৬৬.
স্বল্প এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত প্রদত্ত রায় পুনরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩৫ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১৬১

[Court of Small Causes] স্বল্প এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতের রায় অথবা স্বল্প এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত হিসাবে বিচার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন আদালত কর্তৃক অনুরূপ এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত রায় পুনরীক্ষণের [Review] জন্য দরখাস্ত

তামাদি- ১৫ দিন
সময় গণনা শুরু- ডিক্রি বা আদেশের তারিখ হতে।
৪,৪৬৭.
'ক' এবং 'খ' কে যৌথভাবে 'গ' এর হত্যার জন্য বিচার করা হচ্ছে। 'ক' এর স্বীকারোক্তি যে "আমি এবং 'খ' 'গ' কে হত্যা করেছি" - আদালত এই স্বীকারোক্তি কার বিরুদ্ধে বিবেচনা করতে পারবে?
  1. শুধুমাত্র 'ক' এর বিরুদ্ধে
  2. শুধুমাত্র 'খ' এর বিরুদ্ধে
  3. 'ক' এবং 'খ' উভয়ের বিরুদ্ধে
  4. কারও বিরুদ্ধেই না
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩০ অনুসারে, যখন একাধিক ব্যক্তি একই অপরাধের (যেমন হত্যা) জন্য যৌথভাবে বিচার করা হয় এবং একজনের স্বীকারোক্তি (কনফেশন) যা নিজেকে এবং অন্যদের প্রভাবিত করে (অর্থাৎ, অন্যদের অপরাধের সাথে জড়িত দেখায়), তখন আদালত সেই স্বীকারোক্তি অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও বিবেচনা করতে পারে। এখানে 'ক'-এর স্বীকারোক্তি ("আমি এবং 'খ' 'গ'-কে হত্যা করেছি") নিজেকে এবং 'খ'-কে প্রভাবিত করে, এবং যেহেতু তারা যৌথভাবে বিচারাধীন, তাই এটি উভয়ের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে বিবেচ্য।

ধারার ইলাস্ট্রেশন (a)-এও একইভাবে উল্লেখ আছে: A এবং B যৌথভাবে C-এর হত্যার জন্য বিচার। A-এর স্বীকারোক্তি ("B এবং আমি C-কে হত্যা করেছি") B-এর বিরুদ্ধেও বিবেচ্য। যদি যৌথ বিচার না হয় (ইলাস্ট্রেশন b), তাহলে অন্যের বিরুদ্ধে বিবেচনা করা যায় না।
---------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section- 30. Consideration of proved confession affecting person making it and others jointly under trial for same offence:
When more persons than one are being tried jointly for the same offence, and a confession made by one of such persons affecting himself and some other of such persons is proved, the Court may take into consideration such confession as against such other persons as well as against the person who makes such confession.
Explanation.-"Offence", as used in this section, includes the abatement of, or attempt to commit, the offence.

Illustrations:
(a) A and B are jointly tried for the murder of C. It is proved that A said-"B and I murdered C." The Court may consider the effect of this confession as against B.
(b) A is on his trial for the murder of C. There is evidence to show that C was murdered by A and B, and that B said- "A and I murdered C".
This statement may not be taken into consideration by the Court against A, as B is not being jointly tried.

৪,৪৬৮.
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর কোন ধারা অনুসারে বিবাদীর বাংলাদেশের বাইরে অবস্থানকালীন সময় তামাদি গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়?
  1. ধারা ১৫
  2. ধারা ১৪
  3. ধারা ১৩
  4. ধারা ১২
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৩ অনুযায়ী, বিবাদী যদি বাংলাদেশের বাইরে থাকে, তার অনুপস্থিতির সময় তামাদি গণনা থেকে বাদ যাবে।
উদাহরণ: বিবাদী ২ বছর বিদেশে থাকলে, সেই ২ বছর তামাদি মেয়াদের হিসাবে গণনা হবে না।
 - এই বিধান শুধু মামলা (Suit)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (আপিল/দরখাস্ত নয়)।
-  সুতরাং, বিবাদীর বিদেশ অবস্থানকালীন সময় বাদ দেওয়ার বিধানটি ধারা ১৩-তে বর্ণিত।

⇒ তামাদি আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী, যদি বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে থাকে, তাহলে তামাদি মেয়াদ গণনার সময় তার অনুপস্থিতির সময় বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, বিবাদী যতদিন অনুপস্থিত থাকবে, সেই সময় তামাদি গণনার মধ্যে পড়বে না, বরং সে ফিরে আসার পর তামাদি গণনা চলবে।
- এই বিধান বাদীর স্বার্থ রক্ষার জন্য রাখা হয়েছে, যাতে বিবাদির বিদেশে থাকার কারণে বাদী মামলা দায়েরের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
--------
⇒ The Limitation Act:- Section 13. Exclusion of the time of the defendant’s absence from Bangladesh and certain other territories
In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the defendant has been absent from Bangladesh and from the territories beyond Bangladesh under the administration of the Government shall be excluded.

৪,৪৬৯.
দণ্ডবিধির ৪৪৫ ধারা অনুসারে, নিম্নের কোনটি অপথে গৃহে প্রবেশ (House Breaking) এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. তালা ভেঙে গৃহে প্রবেশ করা
  2. নতুন পথ তৈরি করে প্রবেশ করা
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৪৫ ধারায় অপথে গৃহে প্রবেশের বিধান রয়েছে। ৪৪৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৬টি উপায়ে কোন গৃহে প্রবেশ করলে বা গৃহ থেকে বের হলে তা অপথে গৃহে প্রবেশ বা 'House breaking' বলে গণ্য হবে। যথা-

i) বন্ধ দরজা বা পথ খুলে (Opening any passage fastended for );
ii) তালা খুলে বা ভেঙ্গে (Opening or breaking lock);
iii) নতুন পথ তৈরি করে (Passage made by him);
iv) আক্রমন বা বলপ্রয়োগের ভয় দেখিয়ে (Using criminal force);
v) আটকানো কোন কিছুকে খুলে বা অন্যভাবে মুক্ত করে অস্বাভাবিক পন্থায় ভিতরে প্রবেশ করা বা নির্গমন হওয়া; অথবা
vi) প্রবেশ বা প্রস্থানের জন্য নয় এমন পথ দিয়ে গৃহে প্রবেশ করলে অপথে গৃহ প্রবেশ (house breaking) এর অপরাধ হবে।
৪,৪৭০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১০ অনুযায়ী কোন ধরনের সম্পত্তির জন্য মামলা দায়ের করা যায়?
  1. স্থাবর সম্পত্তি
  2. অস্থাবর সম্পত্তি
  3. অর্থ ও ক্ষতিপূরণ
  4. চুক্তিভিত্তিক সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ১০ অনুসারে, সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির (specific moveable property) দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে পারে। এটি স্থাবর সম্পত্তি (immoveable property) বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের জন্য প্রযোজ্য নয়, বরং অস্থাবর যেমন গাড়ি, জুয়েলারি ইত্যাদির জন্য।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারা: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার:
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ১:- এই ধারা অনুসারে একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে, সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ২:- সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।
-----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-10: Recovery of specific moveable property:
A person entitled to the possession of specific moveable property may recover the same in the manner prescribed by the Code of Civil Procedure.
Explanation 1- A trustee may sue under this section for the possession of property to the beneficial interest in which the person for whom he is trustee is entitled.
Explanation 2- A special or temporary right to the present possession of property is sufficient to support a suit under this section.

৪,৪৭১.
দণ্ডবিধির ১২০ক ধারায় কোন অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. জোরপূর্বক গ্রহণ
  2. ক্ষতিসাধন বা অনিষ্টসাধন
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  4. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ১২০ক ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রকে (criminal conspiracy) কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন অবৈধ কাজ করতে [To do an illegal act] বা কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করতে to do a legal act by illegal means] সম্মত হয় তখন উক্ত ব্যক্তিরা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেছে বলে গণ্য হবে।

শর্ত বা উপাদান:
১. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দুই (২) বা ২ এর অধিক ব্যক্তি বা সদস্য থাকতে হবে;
২. যাদেরকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে অপরাধ করার একটি সম্মতি [Agreement] থাকতে হবে;
৩. সম্মতি [Agreement] টি হতে হবে-
1. কোন অবৈধ কাজ করতে বা
II. কোন বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করতে।
৪,৪৭২.
According to Section 60 of The Evidence Act, 1872, Oral evidence must be ______.
  1. proved
  2. direct
  3. accurate
  4. disproved
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৬০ মতে-
মৌখিক সাক্ষ্যকে সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে (oral evidence must be direct)।

অর্থাৎ এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয়, যা দেখা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলবে যে, সে এটি দেখেছে তার সাক্ষ্যই দিতে হবে; এটি যদি এমন বিষয় সম্পর্কে হয় যা শোনা যেতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলে যে, সে এটি শুনেছে, তার সাক্ষ্যই দিতে হবে। অর্থাৎ অন্যের কাছ থেকে শোনা সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
৪,৪৭৩.
কোনটি ব্যভিচারের উপাদান?
  1. অভিযুক্ত ব্যক্তি নারীর সহিত সঙ্গম করে থাকে
  2. উক্ত নারী বিবাহিত থাকে
  3. অভিযুক্ত ব্যক্তি জানেন যে যৌন সঙ্গমকারী নারী অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী
  4. উপরে বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারার বিধান ব্যভিচার:- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোন ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌন সঙ্গম করে যা নারী ধর্ষণের সামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না।

⇒ Section 497. Adultery:- Whoever has sexual intercourse with a person who is and whom he knows or has reason to believe to be the wife of another man, without the consent or connivance of that man, such sexual intercourse not amounting to the offence of rape, is guilty of the offence of adultery, and shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both. In such case the wife shall not be punishable as an abettor.
৪,৪৭৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮১ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার সম্পত্তি কখন ক্রোক করা যেতে পারে?
  1. ডিক্রি জারির সময়
  2. নোটিশ প্রদানের সময়
  3. মামলা দায়েরের সময়
  4. কখনোই ক্রোক করা যাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮১ অনুযায়ী, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তার পদাধিকারবলে (official capacity) কৃত কাজের কারণে মামলা দায়ের করা হয়, তাহলে তার সম্পত্তি কেবলমাত্র ডিক্রি কার্যকর করার সময় (i.e., execution of decree) ক্রোক করা যেতে পারে।

- আইনের ভাষা (ধারা ৮১ এর (a) অংশ): "the defendant shall not be liable to arrest nor his property to attachment otherwise than in execution of a decree"
অর্থাৎ, ডিক্রি ছাড়া অন্য কোনো কারণে তার সম্পত্তি ক্রোক (attachment) করা চলবে না।
→ সুতরাং সরকারি কর্মকর্তার পদাধিকারবলে কৃত কার্য সংক্রান্ত মামলায় তার সম্পত্তি শুধুমাত্র ডিক্রি কার্যকর করতে গিয়ে ক্রোক করা যায়, এর বাইরে নয়।
তাই সঠিক উত্তর: ক) ডিক্রি জারির সময়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮১ - গ্রেফতার ও হাজিরা হতে অব্যাহতি:
পদাধিকারে বলে কৃত কোন কাজের জন্য কোন সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করা হয়ে থাকলে—
ক) বিবাদীকে গ্রেফতার করা যাবে না এবং ডিক্রিজারী ব্যতিত অন্য কোন কারণে তার সম্পত্তি ক্রোক করা চলবে না এবং
খ) যেক্ষেত্রে আদালত এই মর্মে নিঃসন্দিহান হন যে, বিবাদী জনসেবার ক্ষতি না করে তার কর্তব্য হতে অনুপস্থিত থাকতে পারবে না, সেক্ষেত্রে ইহা তাকে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা হতে অব্যাহতি দিবে।
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section- 81. Exemption from arrest and personal appearance:
-In a suit instituted against a public officer in respect of any act purporting to be done by him in his official capacity- 
(a) the defendant shall not be liable to arrest nor his property to attachment otherwise than in execution of a decree, and, 
(b) where the Court is satisfied that the defendant cannot absent himself from his duty without detriment to the public service, it shall exempt him from appearing in person.
৪,৪৭৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৮ ধারায় বিদেশি আদালতের কোন কার্যক্রম সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়েছে?
  1. বিদেশি সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণ
  2. বিদেশি আদালত থেকে কমিশন জারি
  3. বিদেশি আদালতের আদালত ফি নির্ধারণ
  4. বিদেশি আদালতের জন্য আইনি ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৮ ধারায় বিদেশি আদালত থেকে কমিশন জারি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থিত এবং বাংলাদেশ সরকারের কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বা অনুমোদিত কোনো আদালত, অথবা বিদেশী কোনো রাষ্ট্রের আদালত, যদি সাক্ষীদের পরীক্ষার জন্য বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কমিশন জারি করে, তবে সেই কমিশনটির নির্বাহী এবং ফেরত আনা প্রক্রিয়া বাংলাদেশে প্রযোজ্য হবে, তবে নির্দিষ্ট শর্তাবলী এবং সীমাবদ্ধতার অধীনে।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো (খ) বিদেশি আদালত থেকে কমিশন জারি।

→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section- 78. Commissions issued by foreign Courts.
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the provisions as to the execution and return of commissions for the examination of witnesses shall apply to commissions issued by or at the instance of- 
(a) Courts situate beyond the limits of Bangladesh and established or continued by the authority of Government, or 
(c) Courts of any State or country outside Bangladesh.
৪,৪৭৬.
'খ' একজন পুলিশ কর্মকর্তা আদালতের নির্দেশে 'ক'-কে আইনানুগভাবে গ্রেফতার করে। এতে 'ক' প্রচণ্ডভাবে উত্তেজিত হয়ে 'খ' কে হত্যা করে। 'ক' পেনাল কোডের কোন ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে?
  1. ৩০০
  2. ৩০২
  3. ৩০৪
  4. ৩০৪-এ
ব্যাখ্যা
• উল্লিখিত প্রশ্নটি দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম ১- এর উদাহরণ (গ) এ দেয়া আছে।

ব্যতিক্রম ১ এ বলা আছে-
মারাত্মক বা আকস্মিক প্ররোচনায় সংযম হারাইয়া প্ররোচনাকারীকে বা ভুলক্রমে বা দূর্ঘটনাক্রমে অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে তা খুন বলে গণ্য হবে না। কিন্তু এখানে 'খ' একজন সরকারি কর্মচারী এবং সে তার দায়িত্ব পালন করেছে। এক্ষেত্রে তার হত্যা 'খুন' বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য যে,
আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের সময় আসামি কোন ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধটি করেছে, তার উল্লেখ করতে হয়। অর্থাৎ যে ধারাতে অপরাধের সংজ্ঞা দেওয়া আছে সে ধারা উল্লেখ করতে হয় না; যে ধারাতে অপরাধের শাস্তির উল্লেখ আছে সে ধারা উল্লেখ করতে হয়।

বর্ণিত ঘটনাটি ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম অনুযায়ী একটি খুন। আর খুনের শাস্তি (Punishment of Murder] উল্লেখ আছে ৩০২ ধারায়। সুতরাং প্রশ্নের ঘটনাটি ৩০২ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
৪,৪৭৭.
বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর কোন অনুচ্ছেদটি 'লিঙ্গ বৈষম্য বিরোধী'?
  1. ২৭ অনুচ্ছেদ
  2. ২৮ অনুচ্ছেদ
  3. ২৯ অনুচ্ছেদ
  4. ৩০ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
⇒ বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর  অনুচ্ছেদ - ২৮ এর বিধান: শুধুমাত্র লিঙ্গের কারণে কোনো নারীকে আইনজীবী হিসেবে ভর্তির যোগ্যতা অর্জনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না।
-------------
⇒  The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972: Article 28. No woman shall be disqualified for admission to be an advocate for reason only of her sex.
৪,৪৭৮.
আদালত কোন পর্যায়ে মামলার পক্ষ বাদ বা যোগ করতে পারে?
  1. মামলার শুনানির আগে
  2. মামলার যেকোনো পর্যায়ে
  3. সাক্ষ্য গ্রহণের আগে
  4. রায় ঘোষণার  আগে শুধু
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ এর  বিধি ১০ (২)- আদালত পক্ষসমূহকে বাদ দিতে বা যোগ করতে পারেন:
মামলার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে বা বিনা আবেদনে এবং সেই সকল শর্তে যা আদালতের কাছে সঙ্গতঃ বলে প্রতীয়মান হয়, অন্যায় ভাবে যুক্ত কোন পক্ষের নাম, বাদী বা বিবাদী যে হিসেবেই হউক, কর্তন করতে এবং অন্য যে ব্যক্তির নাম বাদী বা বিবাদী যে হিসেবেই হউক যুক্ত করা উচিত, অথবা মামলায় বিজড়িত প্রশ্নসমূহের কার্যর ও সম্পূর্ণভাবে বিচার ও নিস্পত্তি করার জন্য আদালতের সামনে যার উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে, তাকে যুক্ত করতে আদেশ দিতে পারেন।

৪,৪৭৯.
একজন শৈল্য চিকিৎসক সরল বিশ্বাসে একজন রােগীকে বলেন "আপনি আর বাঁচবেন না, এতে উক্ত রোগী মানসিক আঘাত পেয়ে মারা যায়। এক্ষেত্রে শৈল্য চিকিৎসকের কৃত কাজটি দণ্ডবিধির কত ধারায় বিচারযোগ্য?
  1. দণ্ডবিধির ৯২ ধারার
  2. দণ্ডবিধির ৯৩ ধারার
  3. দণ্ডবিধির ৯৪ ধারার
  4. দণ্ডবিধির ৯৫ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৯৩ ধারার বিধান সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ:
 কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে আন্তরিক সদিচ্ছাক্রমে কৃত যোগাযোগ বা খবর প্রদান, উক্ত খবর প্রদানের ফলে উক্ত ব্যক্তির কোন প্রকার ক্ষতি হওয়ার দরুণ অপরাধ হবে না।

উদাহরণ:
'ক' একজন সার্জন। তিনি আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে জনৈক রোগীকে তার এই মত জানান যে, সে বাঁচবে না। ইহাতে মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে রোগীটির মৃত্যু হয়। 'ক' এর কাজটি অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না, যদিও তিনি জানতেন যে, তার এইরূপ মত দেওয়ার ফলে রেগিটির মৃত্যু ঘটতে পারে।
------------------------------------
-The Penal Code, 1860, Section 93: Communication made in good faith:
- No communication made in good faith is an offence by reason of any harm to the person to whom it is made, if it is made for the benefit of that person. 

Illustration:
A, a surgeon, in good faith, communicates to a patient his opinion that he cannot live. The patient dies in consequence of the shock. A has committed no offence, though he knew it to be likely that the communication might cause the patient's death.
৪,৪৮০.
নিম্নের কোনটি সঠিক নয়?
  1. মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর আদালত তৎক্ষণাৎ রায় ঘোষণা করবে
  2. মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর ভবিষ্যত কোন দিনে রায় ঘোষণা করবে
  3. পক্ষদ্বয়ের উকিলগণের উপর যথাযথ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার পর যা দশদিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করবে
  4. প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০ এ রায় এবং ডিক্রির প্রস্তুতকরণ,বিষয়বস্তু,প্রচার ইত্যাদির বিধি-বিধান রয়েছে।

• আদেশ ২০ বিধি ১-
মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্ত হওয়ার পর আদালতে তৎক্ষণাৎ কিংবা ভবিষ্যত কোন দিনে ,পক্ষগণের বা তাদের উকিলগণের উপর যথাযথ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার পর যা সাতদিনের বেশি হবে না প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করবে।
[The Court after the case has been heard, shall pronounce judgment in open Court either at once or on some future day, not beyond seven days of which due notice shall be given to the parties or their pleaders.]
৪,৪৮১.
'A' desires a Court to give judgment that 'B' shall be punished for a crime which 'A' says 'B' has committed. Who must have to prove that 'B' has committed the crime?
  1. 'A'
  2. 'B'
  3. Police
  4. Victim
ব্যাখ্যা
• The Evidence Act 1872 এর ১০১ ধারা অনুযায়ী,
প্রমাণের দায়ভার বলতে বুঝায় যদি কোন ব্যক্তি তার দাবি অনুযায়ী অন্যের বিরুদ্ধে রায় কামনা করে তাহলে উক্ত দাবীকৃত বিষয়ের অস্তিত্ব তাকেই প্রমাণ করতে হয়। এই ধারা অনুযায়ী এই প্রমাণের ভার কখনও পরিবর্তন হয় না।

Section 101 of The Evidence Act 1872- Burden of proof:
Whoever desires any Court to give judgment as to any legal right or liability dependent on the existence of facts which he asserts, must prove that those facts exist. 
When a person is bound to prove the existence of any fact, it is said that the burden of proof lies on that person. 

Illustrations -
(a) 'A' desires a Court to give judgment that 'B' shall be punished for a crime which 'A' says 'B' has committed. 'A' must prove that 'B' has committed the crime. 

(b) A desires a Court to give judgment that he is entitled to certain land in the possession of B, by reason of facts which he asserts, and which B denies, to be true. A must prove the existence of those facts.
৪,৪৮২.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩১ অনুসারে, সাক্ষীদের সমনের ক্ষেত্রে কোন কোন ধারার বিধান প্রযোজ্য?
  1. ২০, ২১, ২২ ধারা
  2. ২৫, ২৬, ২৭ ধারা
  3. ২৭, ২৮, ২৯ ধারা
  4. ৩০, ৩১, ৩২ ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা- ৩১ অনুযায়ী,
সাক্ষ্য দান বা দলিল পেশ অথবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় দাখিল করার জন্য সমনের ক্ষেত্রে ২৭, ২৮ ও ২৯নং ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, বিবাদীর ক্ষেত্রে সমনের যে বিধানসমূহ প্রযোজ্য, সাক্ষীদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে।

Sec-31: Summons to witness
The provisions in sections 27, 28 and 29 shall apply to summonses to give evidence or to produce documents or other material objects.
৪,৪৮৩.
চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে (At peremtory hearing) আদালত কয়টির অধিক মামলা রাখবে না?
  1. ৫ টির
  2. ১০০ টির
  3. ১২০ টির
  4. ৭০টির
ব্যাখ্যা
কোন আদালত চূড়ান্ত শুনানির জন্য দৈনন্দিন কার্যতালিকায় সর্বোচ্চ ৫টি এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০০টি মোকদ্দমা নির্ধারণ করবেন

• মোকদ্দমার শুনানী (Hearing of suit) অর্থ হলো, আদালতে কোনো মামলার বিচারকার্য যেখানে বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণ করে বা যুক্তিতর্ক শোনে ইত্যাদি।
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৮ নং আদেশে মোকদ্দমার শুনানী এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ [Hearing of the Suit and Examination of Witnesses] সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আদেশ ১৮ বিধি ২০-

কোন আদালত চূড়ান্ত শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে দৈনন্দিন কার্যতালিকায় আংশিক শ্রবণীয় মোকদ্দমাসহ পাঁচটির অধিক মোকদ্দমা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে একশতটির অধিক মোকদ্দমা নির্ধারণ করবে না; এবং নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত পর্যায়ের মোকদ্দমার সংখ্যা সত্তরটির নিম্নে নেমে আসলে সাধারণত দাখিল করা তারিখের উপর ভিত্তি করে আদালত চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও মোকদ্দমা আনার ব্যবস্থা করতে পারবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন আদালতে শ্রবণ কার্যের নিমিত্তে তৈরীকৃত মোকদ্দমার সংখ্যা উপযুক্ত মতে নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট না হলে যথোপযুক্ত পদ্ধতিতে নির্ধারণ করার বিবেচনামূলক ক্ষমতা আদালতের থাকবে।

[Court shall not fix more than five suits including two part -heard suits, in the daily cause list for peremptory hearing and more than one hundred suits in the peremptory stage and when upon disposal, the total number of suits in the peremptory stage comes down to less than seventy, the Court shall then bring in more suit in the peremptory stage, generally in the order of dates of institution of suits:
Provided that if in any Court, the number of suits made ready for hearing is not sufficient for fixation in the manner as aforesaid, it shall be in the discretion of the Court to make the fixation in a reasonable manner.]
৪,৪৮৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারা অনুযায়ী মধ্যস্থতা সম্পন্ন করার আদর্শ সময়সীমা কত দিন এবং আদালত কতদিন পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় বাড়াতে পারে?
  1. ৩০ দিন; অতিরিক্ত ১৫ দিন
  2. ৬০ দিন; অতিরিক্ত ৩০ দিন
  3. ৯০ দিন; অতিরিক্ত ৬০ দিন
  4. ৬০ দিন; অতিরিক্ত ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯ক অনুযায়ী, যখন আদালত মধ্যস্থতার আদেশ প্রদান করে, তখন পক্ষদ্বয়কে ১০ দিনের মধ্যে তাদের নিয়োগকৃত মধ্যস্থতাকারীর নাম আদালতকে জানানোর জন্য বলা হয়।
- এরপর, মধ্যস্থতা সম্পন্ন করার জন্য ৬০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
- আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদন পেলে এই সময়সীমা অতিরিক্ত ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়াতে পারে, অর্থাৎ মোট সময়সীমা সর্বোচ্চ ৯০ দিন হতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার বিধান মতে মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে।
- যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।
- সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।
- দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন,২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
- মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে।
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section- 89A(4) Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator, and if the parties fail to appoint the mediator during this time, the Court shall, within seven days, appoint a mediator from the panel as mentioned in sub-section (10) and the mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days from the day on which the Court is so informed, or the dispute or disputes are referred to Legal Aid Officer, or a mediator is appointed by the Court, as the case may be, unless the Court of its own motion or upon a joint prayer of the parties, extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.
৪,৪৮৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় Time for disposal of appeals and Revision এর বিধান আছে?
  1. ৪৪১ক
  2. ৪৪২
  3. ৪৪২ক
  4. ৪৩৯ক
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure) অনুযায়ী, ধারা ৪৪২ক (Section 442A) এ "Time for disposal of appeals and revisions" সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪২ক ধারার বিধান:- আপিল ও রিভিশন নিষ্পত্তির সময়:
(১) কোন আপিল আদালত ইহার নিকট দায়েরকৃত আপিল রেসপন্ডেন্টের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।
(২) রিভিশনের ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত পক্ষগণের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে রিভিশনের কার্যক্রম নিষ্পত্তি করবেন।
(৩) এই ধারায় সময় নির্ধারণের জন্য কেবল কার্যদিবস গণনা করতে হবে।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 442A- Time for disposal of appeals and Revision:
(1) An Appellate Court shall dispose of an appeal filed before it within ninety days from the date of service of notice upon respondents.
(2) A Court having power of revision shall dispose of a proceeding in revision within ninety days from the date of service of notice upon the parties.
(3) In this section, in determining the time, only the working days shall be counted.

৪,৪৮৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৯ ধারা অনুসারে, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেট -
  1. খালাস আদেশ দেবেন
  2. মুক্তির আদেশ দেবেন
  3. অব্যাহতির আদেশ দেবেন
  4. জামিনের আদেশ দেবেন
ব্যাখ্যা

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৯ মামলার যে কোন পর্যায়ে কোন রায় ঘোষণা না করে, কার্যক্রম বন্ধের ক্ষমতা দিয়েছে। উল্লেখ আছে,
নালিশ ব্যতিরেকে অন্যভাবে দায়ের করা যে কোন মোকদ্দমায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি পূর্বে নিয়ে অন্য যেকোনো জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলার যে কোন পর্যায়ে বেকসুর খালাস অথবা দণ্ডের কোন রায় ঘোষণা না করে,কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারেন এবং অতঃপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুক্তি (Release) দিতে পারবেন।

৪,৪৮৭.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে ইন্টারপ্লিডার মামলায় বাদী কী ধরনের স্বার্থ দাবি করতে পারে?
  1. সম্পত্তির পুরো মূল্য
  2. খরচ এবং ব্যয়ের জন্য
  3. ব্যক্তিগত মালিকানার অংশ
  4. সম্পূর্ণ জমির অধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure) এর অর্ডার XXXV অনুসারে, ইন্টারপ্লিডার মামলায় বাদীকে আবেদনপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয় যে, তার বিবাদের বিষয়বস্তুতে (যেমন সম্পত্তি, টাকা বা অন্য কোনো সম্পদ) কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, শুধুমাত্র খরচ বা ব্যয় (charges or costs) ছাড়া।
- এর মানে হলো, বাদী মামলার বিষয়বস্তুর উপর মালিকানা বা অধিকার দাবি করতে পারে না; তার দাবি কেবল মামলা পরিচালনা বা সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য ব্যয়িত খরচ বা ফি-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- ইন্টারপ্লিডার মামলার উদ্দেশ্য হল একাধিক পক্ষের মধ্যে সম্পত্তি বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিরোধ।
এই ধরনের মামলায়, বাদী সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর প্রতি কোন স্বার্থ দাবি করেন না, তবে তিনি শুধুমাত্র তার খরচ এবং আইনগত ব্যয়ের জন্য দাবি করতে পারেন।
বাদী কখনোই দাবি করতে পারেন না যে তিনি সম্পত্তির মালিক বা সম্পত্তির পুরো মূল্য দাবি করেন, কারণ তিনি মামলার বিষয়ে কোনো পক্ষের স্বার্থে দাঁড়িয়ে থাকেন না, বরং তিনি শুধু মামলার ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকেন। আদালত তাকে কোন পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বলে।
- এজন্য, বাদী "খরচ এবং ব্যয়ের জন্য" দাবি করতে পারে, যেমন আদালতের ফি, আইনজীবীর খরচ ইত্যাদি।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৫ অনুসারে, ইন্টারপ্লিডার:
ইন্টারপ্লিডার মামলার আবেদনপত্রের বিষয়বস্তু
প্রতিটি ইন্টারপ্লিডার মামলায়, আবেদনপত্রে (বাদীর দাখিলকৃত আইনি দলিল) অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণের সাথে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উল্লেখ থাকতে হবে:
(ক) বাদীর বক্তব্য যে, মামলার বিষয়বস্তুতে (বিবাদের বিষয়) তার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, শুধুমাত্র খরচ বা ফি ছাড়া।
(খ) প্রতিটি বিবাদীর পৃথক পৃথক দাবির বিবরণ।
(গ) বাদী এবং কোনো বিবাদীর মধ্যে কোনো গোপন চুক্তি বা ষড়যন্ত্র নেই বলে ঘোষণা।
বিবাদিত সম্পত্তি জমা বা হস্তান্তর
যদি বিবাদের বিষয়টি (যেমন, টাকা বা সম্পত্তি) আদালতে জমা দেওয়া বা আদালতের হেফাজতে রাখা সম্ভব হয়, তবে বাদীকে মামলায় কোনো আদেশ পাওয়ার আগে সেটি আদালতে জমা দিতে বা হস্তান্তর করতে হতে পারে।

⇒ Order XXXV – Interpleader
Rule 1: Contents of Plaint in Interpleader Suit
In every interpleader suit, the plaint (complaint) must state the following, along with other necessary details:
(a) That the plaintiff claims no personal interest in the subject matter of the dispute, except for charges or legal costs;
(b) That different defendants are making separate claims to the subject matter;
(c) That there is no collusion (secret agreement or fraud) between the plaintiff and any of the defendants.

Rule 2: Payment or Deposit into Court
If the disputed thing (subject matter) can be paid into the Court or kept in the custody of the Court, the Court may require the plaintiff to do so before granting any orders in the suit.
৪,৪৮৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৪ অনুসারে লিখিত জবাবে কার স্বাক্ষর করতে হবে??
  1. কেবল বিবাদী
  2. কেবল বিবাদীর আইনজীবী
  3. বাদী ও তার আইনজীবী
  4. বিবাদী ও তার আইনজীবী
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৬ এর বিধি ১৪:
প্রত্যেক প্লিডিংস (আরজি এবং জবাব) সংশ্লিষ্ট পক্ষ কর্তৃক এবং তার আইনজীবী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে।

অর্থাৎ, আরজিতে বাদী এবং তার আইনজীবী স্বাক্ষর করবে এবং লিখিত জবাবে বিবাদী এবং তার আইনজীবী স্বাক্ষর করবে
৪,৪৮৯.
গণ-উৎপাত সংঘটনের ক্ষেত্রে মামলা করতে পারে কে?
  1. সরকারি কৌসুলী
  2. ভুক্তভোগী
  3. অ্যাটর্নি-জেনারেল
  4. যে-কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা: ৯১ এর বিধান জনক্ষতিকর কাজ (Public nuisances): জনক্ষতিকর কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষতির কারণ না হলেও অ্যাটর্নি জেনারেল বা অ্যাটর্নি জেনারেলের লিখিত সম্মতিপ্রাপ্ত দুই বা ততোধিক ব্যক্তি ঘোষণা এবং নিষেধাজ্ঞা বা মোকদ্দমার পরিস্থিতির আলোকে অন্য কোন যথাযথ প্রতিকারে নিমিত্তে মোকদ্দমা রুজু করতে পারে।
৪,৪৯০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৮ অনুসারে নিম্নের কোনটি সঠিক?
  1. অভিজ্ঞদের মতামত সর্বদা প্রাসঙ্গিক
  2. আইনজীবীর মতামত গ্রহণযোগ্য নয়
  3. আদালত মতামত সর্বদা প্রাসঙ্গিক নয়
  4. জানার সম্ভাব্যতা থাকা ব্যক্তির মতামত প্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৮- অধিকার অথবা প্রথার অস্তিত্ব সম্বন্ধে অভিমত যখন প্রাসঙ্গিক:
কোন সাধারণ প্রথা অথবা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেক্ষেত্রে আদালতকে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব থাকলে যে সমস্ত ব্যক্তির পক্ষে তা জানা স্বাভাবিক, এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তার অভিমত প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যাঃ "সাধারণ প্রথা অথবা অধিকার" কথাটি বলতে যথেষ্ঠ সংখ্যক ব্যক্তির একটি শ্রেণীর ভিতর সাধারণভাবে প্রচলিত প্রথা বা অধিকারও বুঝায়।

উদাহরণ
কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা এ ধারার অর্থ অনুযায়ী সাধারণ অধিকার বলে বিবেচিত হবে।

Section 48- Opinion as to existence of right or custom, when relevant:

When the Court has to form an opinion as to the existence of any general custom or right, the opinions, as to the existence of such custom or right, of persons who would be likely to know of its existence if it existed, are relevant.

Explanation. The expression "general custom or right" includes customs or rights common to any considerable class of persons.
৪,৪৯১.
‘ক’ ঢাকায় বসবাস করে। ‘খ’ কুমিল্লা বসবাস করে। উভয়ের মধ্যে খুলনায় একটি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। ‘ক’ ‘খ’ এর বিরুদ্ধে মামলা করতে চায়। উক্ত মামলাটি কোন জেলায় দায়ের করবে?
  1. ঢাকার আদালতে
  2. কুমিল্লার আদালতে
  3. খুলনার আদালতে
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১৬ ধারায় বলা হয়েছে যে, সম্পত্তি বা মোকদ্দমার বিষয়বস্তু যে আদালতের এখতিয়ারাধীন সে আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।

• যেহেতু ‘ক’ ও ‘খ’ এর মধ্যে বিরোধীয় সম্পত্তিটি খুলনায় অবস্থিত তাই খুলনার এখতিয়ার সম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে দায়ের করতে হবে।
৪,৪৯২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪০ ধারা অনুসারে, রিভিশন কার্যক্রমের সময় আদালত কোন শর্তে কোনো পক্ষকে শুনতে পারে?
  1. যদি পক্ষটি দাবি করে
  2. যদি হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়
  3. যদি আদালত নিজে উপযুক্ত মনে করে
  4. যদি মামলাটি গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িত হয়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪০ ধারার প্রদত্ত অংশে (শর্ত থাকে যে) স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: "আদালত উপযুক্ত মনে করলে এরূপ ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন পক্ষের বক্তব্য শ্রবণ করতে পারবেন।"
- এটি আদালতের বিবেচনাভিত্তিক ক্ষমতা (discretionary power), যেখানে পক্ষের আবেদন বা দাবি নয়, বরং আদালতের নিজস্ব সন্তুষ্টিই একমাত্র মানদণ্ড। অন্য বিকল্পগুলো এই ধারার বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪০ ধারার বিধান:
-কোন আদালত যেক্ষেত্রে তার রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালতে কোন পক্ষেরই ব্যক্তিগতভাবে বা অ্যাডভোকেট কর্তৃক বক্তব্য দাখিলের অধিকার থাকবে না:
শর্ত থাকে যে, আদালত উপযুক্ত মনে করলে এরূপ ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন পক্ষের বক্তব্য ব্যক্তিগতভাবে বা উকিলের কর্তৃক শ্রবণ করতে পারবেন; এবং এই ধারার কোন বিধান ধারা-৪৩৯(২) কে প্রভাবিত করবে বলে গণ্য করা যাবে না।
----------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 440: Optional with Court to hear parties:
- No party has any right to be heard either personally or by pleader before any Court when exercising its powers of revision: 
Provided that the Court may, if it thinks fit, when exercising such powers, hear any party either personally or by pleader, and that nothing in this section shall be deemed to affect section 439, sub-section (2).

৪,৪৯৩.
অন্যদের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে বিপন্নকারী কাজের জন্য The Penal Code, 1860 এর ৩৩৬ ধারার অধীন, অপরাধীর সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত হতে পারে?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৩৬ ধারা- অন্যদের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে বিপন্নকারী কার্য:
যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করে যা অতিরিক্ত বেপরোয়া বা অবহেলামূলকভাবে করা হয় এবং এতে মানবজীবন বা অন্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন হয়, তাকে তিন মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ দুইশত পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

Section 336- Act endangering life or personal safety to others:
Whoever does any act so rashly or negligently as to endanger human life or the personal safety of others, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three months, or with fine which may extend to two hundred and fifty taka, or with both.
৪,৪৯৪.
A এবং B এর মধ্যে একটি দলিল সম্পাদিত হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালত সেই দলিলটি বাতিল করে দেয়। এক্ষেত্রে-
  1. বাদীপক্ষ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আদেশ পেতে পারে
  2. বিবাদীপক্ষ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আদেশ পেতে পারে
  3. কোনো পক্ষই ক্ষতিপূরণ পাবে না
  4. ক্ষতিগ্রস্তপক্ষ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আদেশ পেতে পারে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ৪১ ধারা অনুযায়ী,
 আদালত নিজস্ব বিবেচনায় যে পক্ষের অনুকূলে দলিলটি বাতিল করেছে, সে পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দিতে পারে।

ধারা ৪১:
দলিল বিলুপ্তির রায় প্রদানের সময় আদালত যে পক্ষকে তদ্রুপ প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সেপক্ষের তরফ হতে অন্য পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা মোতাবেক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।

Section 41:
On adjudging the cancellation of an instrument, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪১ ধারা অনুযায়ী, যখন আদালত কোনো দলিল বিলুপ্ত বা বাতিল করার রায় প্রদান করে, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো করতে পারবে:
১. আদালত যে পক্ষের অনুকূলে দলিল বিলুপ্ত করার রায় দিয়েছে, সে পক্ষকে অন্য পক্ষের কাছ থেকে ন্যায্য ও  প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দিতে পারবে।
২. ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে বিচারিক ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী।

অর্থাৎ, দলিল বাতিল করার রায়ের সময়ই আদালত এক পক্ষকে অন্য পক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দিতে পারবে। এটি করতে হবে ন্যায়বিচারের দাবী মোতাবেক। এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো দলিল বাতিলের ফলে যে পক্ষের ক্ষতি হয়েছে, সে পক্ষকে প্রতিকারস্বরূপ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান নিশ্চিত করা।
৪,৪৯৫.
নিচের কোন কাজটি দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার ব্যতিক্রম অনুযায়ী মানহানি হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা প্রচার করা
  2. পুলিশের কাছে সৎ বিশ্বাসে অভিযোগ করা
  3. কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা
  4. কোনো ব্যক্তির খ্যাতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার অধীনে মানহানির ব্যতিক্রমগুলোর মধ্যে অষ্টম ব্যতিক্রমে বলা হয়েছে যে, কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে (যেমন: পুলিশ) সৎ বিশ্বাসে কারও সম্পর্কে অভিযোগ করা মানহানি হিসেবে গণ্য হবে না। অন্য বিকল্পগুলো মানহানির সংজ্ঞার আওতায় পড়ে, কারণ সেগুলো সৎ বিশ্বাসে বা জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে করা হয় না।

⇒ মানহানির সংজ্ঞা-
১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারামতে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কথিত বা পঠিত হওয়ার জন্য কথা বা চিহ্ন বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তির সাহায্যে সেই ব্যক্তি-সম্পর্কিত কোনো নিন্দাবাদ প্রণয়ন বা প্রকাশ করেন, তবে সেটি মানহানি হয়েছে বলে পরিগণিত হবে। উদ্দিষ্ট ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে জেনে বা সুনাম নষ্ট হতে পারে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, যদিও কেউ নিন্দাবাদ প্রণয়ন ও প্রকাশ করেন তাহলেও সেটি মানহানি বলে গণ্য হবে।

⇒ মানহানির শাস্তি-
দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির মানহানি করে, তবে ওই ব্যক্তি দুই বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদে বিনা শ্রম কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।’ 

- তাছাড়া ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’-এর ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহলে ওই ব্যক্তির এমন কর্মকাণ্ড হবে একটি অপরাধ। এর জন্য তিনি অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ আইনে মানহানির মামলায় কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়নি।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় কোন কাজগুলো মানহানি হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এই ধারায় ১০টি ব্যতিক্রমের কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ এই ব্যতিক্রমগুলো আইন অনুযায়ী মানহানি বলে গণ্য হবে না:
১. জনগণের কল্যাণে কারও প্রতি সত্য দোষারোপ করলে;
২. সরকারি কর্মচারীর সরকারি আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করলে;
৩. সরকারি বিষয়-সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে কোনো ব্যক্তির আচরণ নিয়ে মতপ্রকাশ করলে;
৪. আদালতের কার্যবিবরণী প্রতিবেদন প্রকাশ করা মানহানির অন্তর্ভুক্ত হবে না;
৫. যেকোনো জনসমস্যা সম্পর্কে ও কোনো ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা;
৬. আদালতে সিদ্ধান্তকৃত মামলার দোষ, গুণ বা সাক্ষীদের সম্পর্কে বা অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ সম্পর্কে অভিমত দেওয়া;
৭. গণ-অনুষ্ঠানের অনুষ্ঠানাদি সম্পর্কে কোনো মতামত দেওয়া;
৮. কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে সৎ বিশ্বাসে কারও সম্পর্কে অভিযোগ করা হলে সেটিও মানহানি হবে না। যেমন: পুলিশের কাছে কারও ব্যাপারে সৎ বিশ্বাসে অভিযোগ দেওয়া; 
৯. কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার বা অন্য কারও স্বার্থ রক্ষার্থে দোষারোপ করা;
১০. জনকল্যাণের স্বার্থে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কারও সম্পর্কে কিছু বলা হলে।

৪,৪৯৬.
ক্রেতা ‘ক’ বিক্রেতা 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি প্যাটেন্ট বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করলো। মামলার শুনানীর আগেই প্যাটেন্টটির অবসান হলো। এই ক্ষেত্রে আদালত নিম্নলিখিত কোন আদেশটি দিতে পারে?
  1. চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের
  2. ক্ষতিপূরণ প্রদানের
  3. আরজি সংশোধনের
  4. খ এবং গ উভয়
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 ধারা ১৯ অনুযায়ী কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জরের ক্ষমতাঃ কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কার্যসম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জর করবেন।এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যাঃ চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
♦যেহেতু শুনানীর আগেই চুক্তির বিষয়বস্তু (পায়টেন্ট) অবসান হয়েছে তাই এই ক্ষেত্রে চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের সুযোগ নেই। কিন্তু যেহেতু পক্ষগণের মধ্যে একটি চুক্তি রয়েছে তাই আদাল এক্ষেত্রে ১৯ ধারায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারে। তাছাড়া বাদী যেহেতু ক্ষতিপূরণের আবেদন করেনি, তাই আদালত আরজি সংশোধনের নির্দেশও দিতে পারে।
৪,৪৯৭.
দন্ডবিধি অনুসারে কোনটি গুরুতর আঘাত?
  1. পায়ে রক্তাক্ত জখম
  2. হাতে জখম
  3. পিঠে স্থায়ী ক্ষত
  4. দাত ভেঙ্গে ফেলা
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোডের ধারা ৩২০-এ ৮ ধরণের অপরাধের তালিকা দেওয়া হয়েছে যেগুলো মারাত্মক বা grivious hurt হিসেবে গণ্য হবে।
♦পেনাল কোডের ৩২০ ধারায় ৮ ধরণের গুরুতর জখমের উল্লেখ রয়েছে। যথাঃ
(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ দিন পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।
৪,৪৯৮.
X সদবিশ্বাসে Y এর একটি ঘড়ি তার (X) নিজের মনে করে নিয়ে যায় এবং তা ব্যবহার করতে থাকে। X এর কৃত কাজ -
  1. অপারধ নয়
  2. চুরি
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  4. প্রতারণা
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।

♦ দন্ডবিধির ৩৭৮ ধারার উদাহরণ-৪: ক সরল মনে গ-এর সম্পত্তি নিজের সম্পত্তি বলে বিশ্বাস করে গ-এর দখল হতে নিয়ে যায়। এখানে যেহেতু ক অসাধুভাবে সম্পত্তিটি নিয়ে যায় নাই, সেহেতু সে চুরি করেছে বলে গণ্য হবে না।

অর্থাৎ X এর কৃত কাজ অপারধ নয়।
৪,৪৯৯.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় যদি দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি থাকে যে কোনো স্বীকৃতি সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া হবে না, তাহলে সেই স্বীকৃতি-
  1. যেকোনো পক্ষের ইচ্ছায় গ্রহণযোগ্য
  2. আদালতের ইচ্ছায় গ্রহণযোগ্য
  3. অপ্রাসঙ্গিক
  4. সর্বদাই প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৩ ধারার বিধান: দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক:
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি যদি এরূপ প্রকাশ্য শর্তাধীন করা হয় যে, ঐ সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না অথবা যদি এরূপ পরিস্থিতিতে করা হয় যে, তা সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বলে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে আদালত অনুমান করতে পারেন, তবে তা প্রাসঙ্গিক হবে না।

ব্যাখ্যা: কোন অ্যাডভোকেট ১২৬ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য থাকলে এই ধারার কোন বিধান অনুসারে তিনি সাক্ষ্য দেওয়া হতে অব্যাহতি পাবে না।

⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয় যদি-
- স্বীকৃতিটি এই শর্তে করা হয় যে উক্ত স্বীকৃতি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
- সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য পক্ষগণের মধ্যে কোন চুক্তি থাকলে।

৪,৫০০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫০ ধারা সন্দেহযুক্ত চোরাইমাল জব্ধ করার ক্ষমতা দিয়েছে-
  1. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে
  2. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে
  3. যেকোন পুলিশ কর্মকর্তাকে
  4. জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৫০: সন্দেহযুক্ত চোরাইমাল জব্ধ করার ব্যাপারে পুলিশের ক্ষমতা
চোরাই মর্মে কথিত বা সন্দেহযুক্ত কিংবা কোন অপরাধ সংঘটনের সন্দেহযুক্ত অবস্থায় প্রাপ্ত কোন সম্পত্তি কোন পুলিশ কর্মকর্তা আটক করতে পারবেন। এরূপ পুলিশ কর্মকর্তা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অধঃস্তন হলে তিনি সাথে সাথে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জব্দ করার ব্যাপারে রিপোর্ট করবেন।

Section 550: Powers to police to seize property suspected to be stolen
Any police officer may seize any property which may be alleged or suspected to have been stolen, or which may be found under circumstances which create suspicion of the commission of any offence. Such police-officer, if subordinate to the officer in charge of a police-station, shall forthwith report the seizure to that officer.