বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন১২,৬০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ৩৭ / ১২৬ · ৩,৬০১৩,৭০০ / ১২,৬০৫

৩,৬০১.
'কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে প্রদত্ত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলবে না' - এই বিধানটি দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. ৯৬ ধারায়
  2. ১০৪ ধারায়
  3. আদেশ ৪৩ বিধি ১ এ
  4. আদেশ ৪৩ বিধি ২ এ
ব্যাখ্যা

ধারা ১০৪: কোন আদেশগুলি থেকে আপিল করা যেতে পারে:
(১) নিম্নলিখিত আদেশগুলি থেকে আপিল করা যেতে পারে, এবং যদি এই কোডের মূল অংশে বা বর্তমানে কার্যকর কোনো আইনে অন্যথায় স্পষ্টভাবে প্রদান না করা হয়, তবে অন্য কোনো আদেশ থেকে আপিল করা যাবে না:
(চচ) ধারা ৩৫ক এর অধীনে একটি আদেশ;
(ছ) ধারা ৯৫ এর অধীনে একটি আদেশ;
(জ) এই কোডের কোনো ধারা অনুযায়ী একটি আদেশ যা কোনো ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান বা দেওয়ানি কারাগারে আটক বা আটক করার নির্দেশ দেয়, তবে এমন আটক বা আটককরণ যদি কোনো ডিক্রির কার্যকরীকরণের জন্য না হয়;
(ঝ) নিয়মের অধীনে করা কোনো আদেশ যা থেকে নিয়ম অনুযায়ী আপিল স্পষ্টভাবে অনুমোদিত হয়:
তবে শর্ত থাকে যে ধারা (চচ) এ উল্লিখিত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, যদি না এই ভিত্তিতে যে কোনো আদেশ, বা কম পরিমাণ প্রদানের জন্য আদেশ করা উচিত ছিল না।

(২) এই ধারার অধীনে আপিলে দেয়া কোনো আদেশ থেকে আপিল করা যাবে না।

৩,৬০২.
'X' এবং 'Y' প্রকাশ্য স্থানে মারামারি করে সাধারণ জনশান্তি বিঘ্নিত করে। দণ্ডবিধি অনুযায়ী, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ১৫ দিন পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ১ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১৫৯ অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি প্রকাশ্য স্থানে মারামারি করলে তা “মারামারি” হিসেবে গণ্য হয়। ধারা ১৬০ অনুযায়ী, দোষী ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, একশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় হতে পারে।
- প্রশ্নের ঘটনাটি দণ্ডবিধির ধারা ১৬০-এর অধীনে পড়ে, যা “মারামারি” (Affray) সম্পর্কিত।
সুতরাং, 'X' এবং 'Y'-এর সর্বোচ্চ শাস্তি ১ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার বিধান মারামারি:
যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা "মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ১৬০ ধারার বিধান মারামারির শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-159: Affray:
When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to "commit an affray".
⇒The Penal Code, 1860-Section-160: Punishment for committing affray:
Whoever commits an affray, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to one hundred taka, or with both.

৩,৬০৩.
কোন আদালত স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারে না?
  1. সহকারী জজ আদালত
  2. জেলা জজ আদালত
  3. আপিল বিভাগ
  4. স্মল কজ কোর্ট
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৮২ মতে কোন কোন আদালত বিক্রয় করার আদেশ প্রদান করতে পারে: স্মল কজ কোর্ট ব্যতীত অন্য যে কোন আদালত ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে।
- সুতরাং স্মল কজ কোর্ট ডিক্রি জারিতে স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ের আদেশ প্রদান করতে পারে না।
-------------------
⇒ Order-21 Rule-82. What Courts may order sales:
- Sales of immovable property in execution of decrees may be ordered by any Court other than a Court of Small Causes.
৩,৬০৪.
Condonation of delay নীতি তামাদি আইনের কোন ধার‍ার-
  1. ৪ ধারায়
  2. ৫ ধারায়
  3. ৬ ধারায়
  4. ৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী ৫ টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। এটিকে Condonation of delay বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে।

♦ Condonation of delay, sufficient cause (বিলম্ব মওকুফ, যথেষ্ট কারণ) এসব শব্দাবলি ৫ ধারার সাথে সংশ্লিষ্ট।


♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান নিম্নোক্ত ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য -
i) আপিল (Appeal);
ii) আপিল করার অনুমতি দরখাস্ত (Leave to appeal)
iii) রায়ের পুনর্বিচার দরখাস্ত (Revision)
iv) রায়ের পুনরীক্ষণের দরখাস্ত (Review)
v) অন্য কোন দরখাস্তে ( Any other application)

♦ এছাড়া অন্যকোন ক্ষেত্রে ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফের সুযোগ নেয়া যাবে না।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়-
১. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে।
২. মূল মামলার ক্ষেত্রে। যেমন- স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা ইত্যাদি।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার প্রদত্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী আপিলকারী বা দরখাস্তকারী হাইকোর্ট বিভাগের কোন আদেশ, প্রথা বা রায় দ্বারা তামাদির মেয়াদ গণনা বা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হলে তা পর্যাপ্ত কারণ বলে গণ্য হবে। এছাড়া উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যাপ্ত কারণ বলে গণ্য হবে- মারাত্মক অসুস্থতা, কারাবাস, সরল বিশ্বাসে ভুল, আইনজীবী বা উকিলের ভুল ইত্যাদি।
 
♦তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকৃষ্ণের জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।

♦১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপীলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমান করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপীল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তোষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।

♦অর্থাৎ ৫ ধারায় দরখাস্তকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে যথাসময়ে আদালতে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারার পেছনে যথোপযুক্ত কারণ (sufficient cause) ছিলো।
৩,৬০৫.
খুন বলে গণ্য হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যা এবং খুন বলে গন্য না হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যার মধ্যে মূখ্য পার্থক্যকারী উপাদান কোনটি?
  1. খুনের অভিপ্রায়
  2. আঘাতের গুরুতর প্রকৃতি
  3. ব্যবহৃত অস্ত্রের গুরুতর প্রকৃতি
  4. যে পরিস্থিতিতে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে
ব্যাখ্যা
♦খুন বলে গন্য হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যা এবং খুন বলে গন্য না হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যার মধ্যে মূখ্য পার্থক্যকারী উপাদান হলো ৩০০ ধারায় উল্লেখিত ৫টি ব্যতিক্রম পরিস্থিতি।
♦দণ্ডবিধি এর ৩০০ ধারায় উল্লিখিত খুনের সংজ্ঞায় ৫ টি ব্যতিক্রম আছে। যথা -
১. মারাত্মক বা আকস্মিক প্ররোচনায় সংযম হারাইয়া প্ররোচনাকারীকে বা ভুলক্রমে বা দূর্ঘটনাক্রমে অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
২. অপরাধী সরলমনে আত্মরক্ষার বা সম্পত্তি রক্ষায় কোনোরূপ পরিকল্পনা ব্যতীত মৃত্যু ঘটায়।
৩. অপরাধকারী সরকারি কর্মচারী হিসেবে বা কর্মচারীর সাহায্যকারী হিসেবে দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে আইনানুগ বলিয়া সরল মনে কর্তব্য পালন করতে যেয়ে মৃত্যু ঘটালে।
৪. পরিকল্পনা ব্যতীত আকস্মিক বিবাদের সময় উত্তেজনায় মৃত্যু ঘটলে।
৫. ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে স্বীয় সম্মতিতে মৃত্যু ঘটলে।
♦অর্থাৎ খুন বলে গণ্য হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যা এবং খুন বলে গন্য না হওয়া দণ্ডনীয় নরহত্যার মধ্যে মূখ্য পার্থক্যকারী উপাদান হল যে পরিস্থিতিতে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
৩,৬০৬.
তামাদি আইন অনুযায়ী তামাদি মওকুফ মানে কী?
  1. মামলা বাতিল করা
  2. অভিযোগ পুনরায় করা
  3. সময়সীমা বৃদ্ধির অনুমতি
  4. অভিযোগ প্রত্যাহার করা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি মওকুফ: তামাদি আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা, আপিল বা দরখাস্ত পেশ করতে না পারলে বিলম্বের যথাযথ কারণ দেখিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন করা যায়। আদালত যদি সন্তুষ্ট হয় যে, যথেষ্ট কারণবশত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে আসা সম্ভব ছিল না, তাহলে মওকুফের আদেশ দিতে পারে।
- অর্থাৎ তামাদি আইন অনুযায়ী তামাদি মওকুফ মানে সময়সীমা বৃদ্ধির অনুমতি।

⇒ বিলম্ব মওকুফের কারণ: আদালত সাধারণত অসুস্থতা, কারাবাস, সরল বিশ্বাসে ভুল, দারিদ্রতা, কৌসুলীর ভুল, আইনের অজ্ঞতা, বা ভুল আদালতে মামলা দায়ের ইত্যাদিকে যথেষ্ট কারণ হিসেবে গণ্য করে।

-বিলম্ব মওকুফের শর্তসমূহ:
যথেষ্ট কারণের প্রমাণ দিতে হবে।
অবহেলা বা গাফলতির প্রমাণ থাকা যাবে না।
  
⇒ একজন দরখাস্তকারী বা প্রার্থীকে মওকুফের জন্য সাধারণত আদালতকে যা দেখাতে হয়:
(১) তিনি যথেষ্ট এবং যথোপযুক্ত কারণে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আপীল বা দরখাস্ত দাখিল করতে পারে নাই।
(২) তার কোনরূপ অবহেলা বা গাফলতি ছিল না
(৩) তার তেমন কোন গুরতর ত্রুটি ছিল না এবং
(৪) অবহেলাবশ:ত উক্ত ত্রুটি করেন নাই।
------------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 5: Extension of period in certain cases:
- Any appeal or application for a revision or a review of judgment or for leave to appeal or any other application to which this section may be made applicable by or under any enactment for the time being in force may be admitted after the period of limitation prescribed therefor, when the appellant or applicant satisfies the Court that he had sufficient cause for not preferring the appeal or making the application within such period. 
 
- Explanation - The fact that the appellant or applicant was misled by any order, practice or judgment of the High Court Division in ascertaining or computing the prescribed period of limitation may be sufficient cause within the meaning of this section.
৩,৬০৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৩ ধারায় কমিশন প্রেরণ করে কার সাক্ষ্য গ্রহণ করা যায়?
  1. অভিযুক্তের
  2. সাক্ষীর
  3. ফরিয়াদির
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
ধারা ৫০৩- সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহনের জন্য কমিশন নিয়োগ

ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যকোন কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত অথবা হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহন করা প্রয়োজন কিন্তু বিলম্ব, ব্যয় অথবা অসুবিধা ব্যতীত উক্ত সাক্ষীকে হাজির করা সম্ভব নয় অথবা মামলার পরিস্থিতিতে এই বিলম্ব,ব্যয় বা অসুবিধা বহন করা অযৌক্তিক তাহলে,

উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত উক্ত সাক্ষীকে হাজির হতে রেহাই দিতে পারবে এবং উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য সাক্ষী যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে বাস করেন তাকে কমিশন দিতে পারবেন। সাক্ষী যদি যুক্তরাজ্য বা বাংলাদেশ ব্যতীত কমনওয়েলথের অন্য কোন দেশে বা মায়ানমারে বাস করেন তাহলে সরকার কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত উক্ত দেশে এই সম্পর্কে ক্ষমতাবান কোন আদালত বা জজকে কমিশন দেয়া যাবে। এরূপ কমিশন প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার সাক্ষী যেখানে আছেন সেখানে গমন করবেন অথবা সাক্ষীকে নিজের নিকট আহ্বান করবেন এবং তার সাক্ষাত করবেন।
৩,৬০৮.
'স্বীকৃত বিষয় প্রমাণের আবশ্যকতা নেই' এই বিধান সাক্ষ্য আইনের কোথায় আছে?
  1. ৫৬ ধারায়
  2. ৫৪ ধারায়
  3. ৫৮ ধারায়
  4. ৫২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার বিধান অনুযায়ী স্বীকৃত ঘটনা সমূহ প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারামতে মোকদ্দমার পক্ষ বা তাদের প্রতিনিধি যে সকল বিষয় বা ঘটনা মোকদ্দমার শুনানীর সময় বা মোকদ্দমার শুনানীর পূর্বে লিখিত আকারে স্বীকার করতে সম্মত হয়েছে অথবা প্লিডিংসের (Pleadings) মাধ্যমে স্বীকার করেছে, সে সকল বিষয় প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।

⇒ সাক্ষ্য আইনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সকল প্রাসঙ্গিক বিষয় বা বিচার্য বিষয় সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হয়। তবে আদালতে তিন ধরনের বিষয় প্রমান করার প্রয়োজন হয় না। যথা- অনুমিত বিষয়াদি (Presumption), জুডিশিয়াল নোটিশ এবং স্বীকৃতি (Admission)।

⇒ The Evidence Act 1872 এর ৫৬, ৫৭ ও ৫৮ ধারায় বলা হয়েছে যে সকল বিষয়ে পক্ষগণ স্বীকৃতি দেয়, এবং যে বিষয় আদালত বিচারিক নজরে নিতে পারেন সেই বিষয় আদালতে প্রমাণ করার আবশ্যকতা নাই। বাংলাদেশের আইনের বিষয়ে আদালত নিজেই বিচারিক নজিরে নিতে পারবেন।
৩,৬০৯.
অ্যাডভোকেট ব্যতিত অন্য কোন ব্যক্তি যদি আইন ব্যবসা করেন, তাহলে তাকে কি শাস্তি দিতে পারে?
  1. ২ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৪ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৪১ অনুযায়ী অ্যাডভোকেট না হয়ে কোন ব্যক্তি আইন ব্যবসা করলে তার ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
৩,৬১০.
X একটি অতি অল্প বয়স্ক শিশুর মৃত্যু ঘটানোর অভিপ্রায়ে তাকে একটি মরূভূমিতে রেখে আসলেও শিশুটির মৃত্যু হয়নি। X কোন অপরাধ করেছে?
  1. শিশুর আত্মহত্যায় সহায়তাকরণ
  2. দণ্ডনীয় নরহত্যার চেষ্টা
  3. অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা
  4. খুনের চেষ্টা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারার বিধান খুনের উদ্যোগ:- কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যার ফলে মৃত্যু ঘটলে সে খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, এবং
যদি অনুরূপ কাজের কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা হয়, তবে অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা ইতোপূর্বে যে সাজার উলেখ করা হয়েছে, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
⇒ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির উদ্যোগ:- যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি যদি এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করে এবং তার ফলে কেউ আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
উদাহরণ:
(অ) ক চ-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এমন অবস্থায় গুলি করে, যে অবস্থায় মৃত্যু অনুষ্ঠিত হলে ক খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। ক এই ধারা বলে দণ্ডিত হবে।
(আ) ক একটি অতি অল্প বয়স্ক শিশুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে উহাকে মরুভূমিতে রেখে আসে। ইহার ফলে শিশুটির মৃত্যু না হলেও ‘ক’ এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
(ই) ক, চ কে খুন করার উদ্দেশ্যে একটি বন্দুক ক্রয় করে উহা গুলি ভর্তি করে। এতদূর পর্যন্ত ক অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। ক চ-এর প্রতি গুলি বর্ষণ করে। এইক্ষেত্রে সে এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করেছে, এবং এই গুলি বর্ষণের দরুণ যদি সে চ-কে আহত করে থাকে, তবে সে এই ধারার প্রথম অনুচ্ছেদের শেষাংশে নিদিষ্ট দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
(ঈ) ক চ-কে বিষ প্রয়োগ করে খুন করার উদ্দেশ্যে বিষ ক্রয় করে এবং খাদ্যে বিষ মিশ্রিত করে; বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রব্যটি ক-এর নিকটই রয়েছে। এতদূর পর্যন্ত ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। ক বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রবটি চএর খাবার টেবিলে রাখে অথবা উহা চ-এর খাবার টেবিলে রাখার জন্য চ-এর চাকরকে প্রদান করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
--------
⇒Section 307: Attempt to murder, Attempts by life-convicts:
Whoever does any act with such intention or knowledge, and under such circumstances that, if he by that act caused death, he would be guilty of murder, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if hurt is caused to any person by such act, the offender shall be liable either to imprisonment for life, or to such punishment as is hereinbefore mentioned.
⇒ When any person offending under this section is under sentence of imprisonment for life, he may, if hurt is caused, be punished with death.
Illustration
(a) A shoots at Z with intention to kill him, under such circumstances that, if death ensued, A would be guilty of murder. A is liable to punishment under this section.
(b) A with the intention of causing the death of a child of tender years exposes it in a desert place. A has committed the offence defined by this section, though the death of the child does not ensue.
(c) A, intending to murder Z, buys a gun and loads it. A has not yet committed the offence. A fires the gun at Z. He has committed the offence defined in this section, and, if by such firing he wounds, he is liable to the punishment provided by the latter part of the first paragraph of this section.
(d) A, intending to murder Z, by poison, purchases poison and mixes the same with food which remains in A's keeping; A has not yet committed the offence in this section. A places the food on Z's table or delivers it to Z's servants to place it on Z's table. A has committed the offence defined in this section.
৩,৬১১.
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বলতে নিম্নের কোনটিকে নির্দেশ করে?
  1. ১৪ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ২০ বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  4. দণ্ডিত ব্যক্তির অবশিষ্ট জীবন ব্যাপী কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
যাবজ্জীবন সাজা অর্থ ৩০ বছরের কারাদণ্ড, তবে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনাল বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড উল্লেখ করলে তখন ওই আসামির আমৃত্যু কারাবাস হবে।
 
২০১৭ সালে সাভারের একজন ব্যবসায়ী জামান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে আপিল বিভাগ বলেছিলো যাবজ্জীবন মানে ত্রিশ বছর নয়, আমৃত্যু কারাবাস।
 
কিন্তু পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলে এ বিষয়ক একটি রিভিউ আবেদন হয় এবং ওই আবেদনের চূড়ান্ত রায়ে আপিল বিভাগ বলেছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে ৩০ বছরের কারাদণ্ড।
 
আপিল বিভাগ শর্ট অর্ডারে বলেছেন- বাংলাদেশের দণ্ডবিধি ও ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী যাবজ্জীবন সাজার অর্থ হবে ত্রিশ বছর কারাদণ্ড। তবে কোনো নির্দিষ্ট আদালত বা ট্রাইব্যুনাল যদি কোনো ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাগারের আদেশ দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির জন্য কোনো রেয়াত বা বেনিফিট প্রযোজ্য হবেনা। তাকে আমৃত্যুই কারাগারে থাকতে হবে। তবে সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ হবে ত্রিশ বছর।
৩,৬১২.
বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১১-এ কতগুলো স্থায়ী কমিটির উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972-এর ১১ অনুচ্ছেদে ৩ টি স্থায়ী কমিটির (Standing Committees] উল্লেখ আছে।
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ১১(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বার কাউন্সিল নিম্নলিখিত স্থায়ী কমিটি নিয়ে গঠিত হবে:
১. নির্বাহী কমিটি।
২. আর্থিক কমিটি।
৩. আইন শিক্ষা কমিটি। 
---------------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972, Article-11: (1) The Bar Council shall constitute the following standing committees namely:-
(a) an executive committee consisting of five members elected by the Council from amongst its members;
(c) a finance committee consisting of five members elected by the Council from amongst its members;
(d) a legal education committee consisting of nine members-five elected by the Council from amongst its members and four co-opted by the Council from persons other than the members of the Council at least two of whom shall be teachers of law in any university or college in Bangladesh.
(2) The aforesaid committees shall have such powers and functions as may be prescribed.
(3) The Bar Council may constitute from amongst its members such other committees as it may deem necessary for the performance of its functions under this Order.

৩,৬১৩.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের বিধান রয়েছে?
  1. ৫৩ ধারা
  2. ৫৪ ধারা
  3. ৫৫ ধারা
  4. ৫৬ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ৫৪ ধারা অনুযায়ী, ৯টি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়াই এবং পরোয়ানা ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারে।
- এই ধারা মূলত "arrest without warrant" বা “বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার” সংক্রান্ত বিধান প্রদান করে।
⇒ পুলিশ ৯ প্রকার ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে:-
১. কোন আমলযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত আছে মর্মে সন্দেহ হলে (Cognizable Offence)
২. ঘর ভাঙ্গার সরঞ্জাম পেলে (Implement of House breaking )
৩. অপরাধী ঘোষিত হলে (Proclaimed offender)
৪. চোরাই মাল পাওয়া গেলে (Stolen property )
৫. পুলিশ অফিসারের কাজে বাধা দিলে, আইনসঙ্গত হেফাজত থেকে পলায়নের চেষ্টা বা পলায়ন করলে (Obstructs)
৬. সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়ন করলে (Deserter from Armed forces)
৭. বাংলাদেশের বাইরে বাংলাদেশের আইনে আমলযোগ্য অপরাধ করলে (Out of BD act committed)
৮. মুক্তিপ্রাপ্ত আসামি ৫৬৫(৩) ধারা ভঙ্গ করলে (Released Convict )
৯. যাকে গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ রয়েছে (Requisition of arrest) ।
------------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section- 54.When police may arrest without warrant:
(1) Any police-officer may, without an order from a Magistrate and without a warrant, arrest-
firstly , any person who has been concerned in any cognizable offence or against whom a reasonable complaint has been made or credible information has been received, or a reasonable suspicion exists of his having been so concerned;
secondly , any person having in his possession without lawful excuse, the burden of proving which excuse shall lie on such person, any implement of house breaking;
thirdly , any person who has been proclaimed as an offender either under this Code or by order of the Government;
fourthly, any person in whose possession anything is found which may reasonably be suspected to be stolen property and who may reasonably be suspected of having committed an offence with reference to such thing;
fifthly, any person who obstructs a police-officer while in the execution of his duty, or who has escaped, or attempts to escape, from lawful custody;
sixthly, any person reasonably suspected of being a deserter from the armed forces of Bangladesh;
seventhly , any person who has been concerned in, or against whom a reasonable complaint has been made or credible information has been received or a reasonable suspicion exists of his having been concerned in, any act committed at any place out of Bangladesh, which, if committed in Bangladesh, would have been punishable as an offence, and for which he is, under any law relating to extradition or under the Fugitive Offenders Act, 1881, or otherwise, liable to be apprehended or detained in custody in Bangladesh;
eighthly , any released convict committing a breach of any rule made under section 565, sub-section (3);
ninthly, any person for whose arrest a requisition has been received from another police-officer, provided that the requisition specifies the person to be arrested and the offence or other cause for which the arrest is to be made and it appears therefrom that the person might lawfully be arrested without a warrant by the officer who issued the requisition.
৩,৬১৪.
দেওয়ানি আদালতের জারি মামলার দরখাস্ত দাখিলের তামাদির মেয়াদ বর্ণিত আছে কোন আর্টিকেলে?
  1. ১৮০
  2. ১৮২
  3. ১৮৩
  4. ১৮১
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের সিডিউলের ১৮২ নং আর্টিকেলের বিধান অনুসারে দেওয়ানী মামলার ডিক্রি জারির আবেদন করতে হয় ৩ বছরের মধ্যে এবং ডিক্রি রেজিস্টার্ড হলে ৬ বছরের মধ্যে।
৩,৬১৫.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩ এর বিধান কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না?
  1. বাদীর দাবী পরিত্যাগ
  2. ডিক্রি জারির কার্যক্রম
  3. মামলার আপস মীমাংসা
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ (ORDER XXIII) মূলত নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর জন্য প্রযোজ্য:
১) মামলা প্রত্যাহার – বাদী নিজে মামলা তুলে নিতে পারে।
২) দাবির আংশিক পরিত্যাগ – বাদী তার দাবির কিছু অংশ বাদ দিতে পারে।
৩) আদালতের অনুমতি নিয়ে নতুন মামলা দায়ের – নির্দিষ্ট শর্তে অনুমতি নিয়ে।
৪) মামলার আপস মীমাংসা – আইনগত আপস হলে আদালত সেটি রেকর্ড করে ডিক্রি দেয়।

- সুতরাং ORDER XXIII মূলত মামলার প্রত্যাহার, আংশিক দাবির পরিত্যাগ এবং আপস মীমাংসার জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু একবার ডিক্রি জারি হয়ে গেলে তার কার্যকর (execution) প্রক্রিয়ায় এই আদেশ প্রযোজ্য নয়। এজন্য Rule 4 স্পষ্টভাবে বলে, “Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order.”
------- 
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-23 Rule-4. Proceedings in execution of decrees not affected:
Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order.

৩,৬১৬.
দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারায় আলোচ্য বিষয় কি?
  1. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
  2. প্রতারণা
  3. অনিষ্ট
  4. অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারার বিধান ক্ষতি বা অনিষ্ট:- কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকীয়তা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'ক্ষতি' সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ১:- ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক।

ব্যাখ্যা ২:- যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
---------
⇒ Mischief:
Section 425. Whoever, with intent to cause, or knowing that he is likely to cause, wrongful loss or damage to the public or to any person, causes the destruction of any property, or any such change in any property or in the situation thereof as destroys or diminishes its value or utility, or affects it injuriously, commits "mischief".

Explanation 1.-It is not essential to the offence of mischief that the offender should intend to cause loss or damage to the owner of the property injured or destroyed. It is sufficient if he intends to cause, or knows that he is likely to cause, wrongful loss or damage to any person by injuring any property, whether it belongs to that person or not.

Explanation 2.-Mischief may be committed by an act affecting property belonging to the person who commits the act, or to that person and others jointly.
৩,৬১৭.
দণ্ডবিধির ১৭৭ ধারায় প্রদানকৃত মিথ্যা তথ্য যদি কোনো অপরাধের সংঘটন বা অপরাধী গ্রেফতারের সাথে সম্পর্কিত হয়, সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড 
  4. ৩ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৭৭ ধারা- মিথ্যা তথ্য পরিবেশন:
কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারি কর্মচারীর নিকট, তিনি সরকারি কর্মচারী বলেই, কোন বিষয়ে তথ্য দিতে আইনত: বাধ্য হয়ে, সে বিষয়টির উপর সত্য বলে এমন কোন তথ্য পরিবেশন করে যা মিথ্যা বলে সে জানে বা যা মিথ্যা বলে বিশ্বাস করার তার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;
অথবা, উক্ত ব্যক্তি যে তথ্য দিতে আইনত বাধ্য, তা যদি কোন অপরাধের সংঘটন বিষয়ক হয়, বা কোন অপরাধের সংঘটন নিরোধের জন্য আবশ্যকীয় হয়, বা কোন অপরাধীকে গ্রেফতার করার জন্য আবশ্যকীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩,৬১৮.
According to Section 382 of the Code of Criminal Procedure, 1898, which court is authorized for postponing the capital sentence of a pregnant woman?
  1. The High Court Division
  2. The Magistrate Court
  3. The Sessions Court
  4. All of above
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section-382: Postponement of capital sentence on pregnant woman:
If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life. 

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২ ধারার অধীন গর্ভবতী স্ত্রী লোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা যায়। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রীলোক গর্ভবতী হলে হাইকোর্ট তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।
৩,৬১৯.
কত দিন অতিবাহিত না হলে সরকারি চাকরি হতে নৈতিক স্খলনের দায়ে বরখাস্তকৃত একজন ব্যক্তি অ্যাডভোকেট হওয়ার জন্য অযোগ্য হবেন?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972 অনুচ্ছেদ ২৭ (৩) অনুযায়ী অ্যাডভোকেট হওয়ার অযোগ্যতার কথা উল্লেখ আছে।
⇒The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972এর ২৭ (৩) অনুচ্ছে অনুযায়ী কোন ব্যক্তি সরকারি চাকরি হতে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে অপসারিত হলে এবং ২ বছর অতিক্রম না হলে।
-নৈতিক অবক্ষয় জনিত কোন অপরাধে দণ্ডিত হলে ৫ বছর অতিক্রম না হলে অ্যাডভোকেট হওয়ার যোগ্য হবেনা।
-------------------------------------------
- The Bangladesh legal practitioners and Bar council orders 1972: Article-27.(3) A person shall be disqualified from being admitted as an advocate if-
(a) he was dismissed from service of Government or of a public statutory corporation on a charge involving moral turpitude, unless a period to two years has elapsed since his dismissal; or
(b) he has been convicted for an offence involving moral turpitude, unless a period of five years or such less period as the Government may, by notification in the official Gazette, specify in this behalf, had elapsed from the date of the expiration of the sentence.
৩,৬২০.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১১০ ধারার বিধান-
  1. Bar of certain appeals
  2. Value of subject-matter
  3. Appeal from original decree
  4. Reference of High Court Division
ব্যাখ্যা
Section-110. Value of subject-matter:
 In each of the cases mentioned in clauses (a) and (b) of section 109, the amount or value of the subject-matter of the suit in the Court of first instance must be twenty thousand Taka or upwards, and the amount or value of the subject-matter of the suit in the Court of first instance must be twenty thousand Taka or upwards, and the amount or value of the subject-matter in dispute on appeal to the 81[Appellate Division] must be the same sum or upwards, 
or the Judgment, decree or final order must involve, directly or indirectly, some claim or question to or respecting property of like amount or value, 
and where the Judgment, decree or final order appealed from affirms the decision of the Court immediately below the Court passing such Judgment, decree or final order, the appeal must involve some substantial question of law.
--------------
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১০ ধারার বিধান বিষয়বস্তুর মূল্য:
-১০৯ ধারার (ক) এবং (খ) দফায় উল্লেখিত প্রত্যেক ক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য প্রথম বিচারিক আদালতে বিশ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব হতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের নিকট আপিলেও বিরোধীয় বিষয়বস্তুর মূল্য অবশ্যই তার সমপরিমাণ বা তদূর্ধ্বে হতে হবে;

অথবা রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবশ্যই অনুরূপ পরিমাণ অর্থের দাবি কিংবা অনুরূপ মূল্যের সম্পত্তি জড়িত থাকতে হবে;

এবং যে রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে, তা দ্বারা যদি অব্যবহিত অধঃস্তন আদালতের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়ে থাকে, তবে আপিলে অবশ্যই আইনগত একটি বড় প্রশ্ন নিহিত থাকতে হবে।
৩,৬২১.
তামাদি আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ এর মামলা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ-
  1. ২ বছর 
  2. ১ বছর 
  3. ৩ বছর 
  4. ৬ বছর 
ব্যাখ্যা

⇒তামাদি আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ এর মামলা দায়ের করার তামাদির মেয়াদ- ১ বছর।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১০-এ অগ্রক্রয়ের অধিকার (Right of Pre-emption) বলবৎ করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ১ বছর নির্ধারিত। এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় :
- যখন ক্রেতা বিক্রিত সম্পত্তির প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে; অথবা যদি সম্পত্তির প্রত্যক্ষ দখল স্বীকার না করে, তবে যখন বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হয়।
- অর্থাৎ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১০-এ অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ করার জন্য মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর নির্ধারিত, যা ক্রেতার দখল গ্রহণ বা বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রির সময় থেকে গণনা করা হয়।
---------------------

⇒ According to Article 10 of The Limitation Act 1908- To enforce a right of pre-emption whether the right is founded on law, or general usage, or on special contract is one year. The period begins:
- When the purchaser takes, under the sale sought to be impeached, physical possession of the whole of the property sold, or, where the subject of the sale does not admit of the physical possession, when the instrument of sale is registered.

৩,৬২২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬১ অনুসারে, পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে যাতায়াতের সময় বাদে সর্বোচ্চ কত ঘণ্টা আটক রাখা যায়?
  1. ১২ ঘণ্টা
  2. ২৪ ঘণ্টা
  3. ৪৮ ঘণ্টা
  4. ৭২ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬১ অনুযায়ী, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখতে পারবেন না।
- এই সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।
- তবে, যদি ধারা ১৬৭ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট বিশেষ আদেশ দেন, তখন সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
- যাতায়াতের সময় (গ্রেপ্তারের স্থান থেকে আদালতে পৌঁছাতে যে সময় লাগে) এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গণনা করা হবে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা-গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে চব্বিশ ঘন্টার বেশী সময় আটক রাখা যাবে না:
কোন পুলিশ অফিসার বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারকৃত কোন ব্যক্তিকে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যৌক্তিক সময়ের চাইতে অধিক কাল আটক রাখবেন না এবং ১৬৭ ধারার বিধান অনুসারে কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের বিশেষ আদেশ না থাকলে এরূপ আটকের সময় গ্রেফতারের স্থান হতে ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে যাবার সময় বাদ দিয়ে ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার বেশী হবে না।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 61- Person arrested not to be detained more than twenty-four hours:
No police-officer shall detain in custody a person arrested without warrant for a longer period than under all the circumstances of the case is reasonable, and such period shall not, in the absence of a special order of a Magistrate under section 167, exceed twenty-four hours exclusive of the time necessary for the journey from the place of arrest to the Magistrate's Court.

৩,৬২৩.
রবি একটি মামলায় দোষ স্বীকার করেছে এবং তার ভিত্তিতে আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। এই অবস্থায়, রবি কোন বিষয়ে আপিল করতে পারবে?
  1. আপিল করতে পারবে না
  2. দণ্ডের বৈধতা নিয়ে
  3. দোষ স্বীকার করার প্রক্রিয়া নিয়ে
  4. মামলার পুনর্বিচার নিয়ে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১২ থেকে ৪১৪ ধারায় যে সকল ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাবে না, তা উল্লেখ করা হয়েছে।

ধারা ৪১২- দোষ স্বীকারের ক্ষেত্রে [In Case of Guilty Plead]:
অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করলে এবং তার উপর ভিত্তি করে অভিযুক্তকে দণ্ড দিলে, সেই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। কিন্তু উক্ত দণ্ডাদেশের পরিমাণ বা যৌক্তিকতা (extent or legality) বিষয়ে আপিল দায়ের করা যাবে। যেমন- দোষ স্বীকার করার পরও অধিক দণ্ড দিলে, দণ্ডের পরিমাণের (quantum of sentence) বৈধতার বিষয়ে আপিল করা যেতে পারে।
৩,৬২৪.
‘A’ ‘B’-কে একটি দলিল সম্পর্কে বলে, “যাও ‘C’-কে জিজ্ঞাসা করো, সে সব জানে।” এই পরিস্থিতিতে ‘C’-এর বিবৃতি কী হিসেবে গণ্য হবে?
  1. Evidence
  2. Admission
  3. Confession
  4. Hearsay Evidence
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ২০ অনুযায়ী, যখন কোনো পক্ষ অন্য কাউকে একটি বিষয়ে তথ্য জানার জন্য স্পষ্টভাবে রেফার করে, তাহলে ওই ব্যক্তির বিবৃতিটি Admission হিসেবে গণ্য হবে।
এখানে ‘A’ ‘B’-কে ‘C’কে রেফার করছে, ফলে ‘C’-এর বক্তব্য Admission হিসেবে গণ্য হবে।
- সঠিক উত্তর: খ) স্বীকারোক্তি (Admission)

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২০ (Section 20) এই পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য। ধারা ২০-তে বলা হয়েছে: "Statements made by persons to whom a party to the suit has expressly referred for information in reference to a matter in dispute are admissions."
অর্থাৎ, যদি মামলার কোনো পক্ষ (এখানে ‘A’) কোনো বিষয়ে তথ্যের জন্য স্পষ্টভাবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে (‘C’) রেফার করে, তবে সেই ব্যক্তির (‘C’) বিবৃতি একটি Admission হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ The Evidence Act, 1872- Section- 20. Admissions by persons expressly referred to by party to suit:
- Statements made by persons to whom a party to the suit has expressly referred for information in reference to a matter in dispute are admissions.
Illustrations:
- The question is whether a horse sold by A to B is sound.
- A says to B–"Go and ask C; C knows all about it." C's statement is an admission.
৩,৬২৫.
৩ মাসের অধিক নির্জন কারাদণ্ডে (solitary confinement) দণ্ডিত আসামির ক্ষেত্রে মাসে কয়দিন নির্জন কারাবাস প্রদান করতে হবে?
  1. ১৪ দিন
  2. ২ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ৫ দিন
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ধারা ৭৪ মতে- নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।
৩,৬২৬.
সাক্ষ্য আইনের ৬৮ ধারা অনুযায়ী, যে দলিল সত্যায়নের প্রয়োজন, তা প্রমাণ করতে সাধারণত কী করতে হয়?
  1. দলিল রেজিস্ট্রি করতে হয়
  2. দলিলটি আদালতে জমা দিতে হয়
  3. কমপক্ষে একজন সত্যায়নকারী সাক্ষীকে তলব করতে হয়
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৬৮ ধারার বিধান- যে দলিল সত্যায়িত করা আইনত প্রয়োজন, তা সম্পাদনের প্রমাণ:
যে দলিল আইনে সত্যায়ন করার জন্য নির্দেশিত সেই দলিল প্রমাণ করার জন্য অন্ততপক্ষে একজন সত্যায়নকারী সাক্ষী তলব না করা পর্যন্ত দলিলটি সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। তবে শর্ত থাকে যে উইল ব্যতীত অন্য কোন দলিল যদি- রেজিস্ট্রি করা হয়ে থাকে এবং সম্পাদনকারী যদি সম্পাদনের কথা নির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করা না হয়, তা হলে প্রত্যয়নকারী সাক্ষীকে তলব করা প্রয়োজন হবে না।
৩,৬২৭.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫০ অনুসারে, মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৭ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদে সর্বনিম্ন তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে। যা হচ্ছে মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে ৭ দিন মেয়াদ থাকবে।
- অনুচ্ছেদ ১৫০- দায়রা আদালত কর্তৃক অথবা মূল ফৌজদারি এখতিয়ার প্রয়োগকালে হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৫০ অনুসারে, দায়রা আদালত কর্তৃক বা হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
- আপিলের ধরন: মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল। 
- তামাদি মেয়াদ: ৭ দিন। 
- সময় গণনার শুরু: দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে। 
এটি তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে উল্লিখিত সর্বনিম্ন তামাদি মেয়াদগুলোর মধ্যে একটি। মৃত্যুদণ্ড একটি গুরুতর বিষয় হওয়ায় এর বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের জন্য খুব সীমিত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

৩,৬২৮.
কোন ক্ষেত্রটি "অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র" হিসাবে গণ্য করা হবে?
  1. যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি সম্মত হয় একটি বৈধ কাজ করার জন্য
  2. যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি সম্মত হয় একটি বেআইনি কাজ করার জন্য
  3. যখন একজন ব্যক্তি একা একটি বেআইনি কাজ করার পরিকল্পনা করে
  4. যখন একটি বেআইনি কাজ করা হয়, কিন্তু কোনো সম্মতি ছাড়া
ব্যাখ্যা
ধারা ১২০ক: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সংজ্ঞা:

যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি সম্মত হয়, অথবা সম্মতি দেয়-
(১) একটি বেআইনি কাজ করার জন্য, অথবা
(২) একটি কাজ যা বেআইনি নয়, কিন্তু বেআইনি উপায়ে তা করার জন্য, তখন সেই সম্মতিকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসাবে গণ্য করা হয়।

তবে শর্ত থাকে যে, শুধুমাত্র কোনো অপরাধ করার উদ্দেশ্যে সম্মতি দেওয়াকেই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হবে, যদি না ওই সম্মতির পাশাপাশি ঐ সম্মতির পক্ষে একটি বা একাধিক পক্ষ দ্বারা কিছু কাজ করা হয়।

ব্যাখ্যা: বেআইনি কাজটি ওই সম্মতির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কিনা, বা কেবলমাত্র সেই উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত একটি ঘটনা কিনা, তা কোনো ব্যাপার নয়।
৩,৬২৯.
আরিফ পার্কে প্রবেশ করতে চাইলে, রানা তাকে বাধা দেয়, যদিও আরিফের প্রবেশের অধিকার আছে। রানার কাজটি দণ্ডবিধির কোন ধারায় সংজ্ঞিত অপরাধ?
  1. ৩৩৯ ধারায়
  2. ৩৪০ ধারায়
  3. ৩৪১ ধারায়
  4. ৩৪২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারার বিধান অবৈধ বাধা (Wrongful restraint):- যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধাদান করে যার ফলে উক্ত ব্যক্তির যেদিকে যাবার অধিকার রয়েছে, এমন কোন দিকে উক্ত ব্যক্তির যাবার পথ রুদ্ধ হয়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করেছে বলে পরিগণিত হয়।
ব্যতিক্রম:- যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশত উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।
⇒ উদাহরণ:
যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয়। ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।

--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 339. Wrongful restraint:
Whoever voluntarily obstructs any person so as to prevent that person from proceeding in any direction in which that person has a right to proceed, is said wrongfully to restrain that person.
Exception: The obstruction of a private way over land or water which a person in good faith believes himself to have a lawful right to obstruct, is not an offence within the meaning of this section.
Illustration:
A obstructs a path along which Z has a right to pass, A not believing in good faith that he has a right to stop the path. Z is thereby prevented from passing. A wrongfully restrains Z.
৩,৬৩০.
দেওয়ানী কার্যবিধির Order-XXI rule 92 অনুসারে প্রদত্ত "Setting aside or refusing to set aside a sale" আদেশটি-
  1. রিভিশনযোগ্য
  2. আপিলযোগ্য
  3. ১৫১ ধারার বিধান মতে রদ ও রহিতযোগ্য
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ আপিলযোগ্য আদেশ:
 সাধারনত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল চলে না, তবে আদেশটি যদি আপিলযোগ্য আদেশ হয় তাহলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। যে সকল আদেশ আপিলযোগ্য, সে সকল আদেশ সম্পর্কে Order 43 এ বিধান রয়েছে। আদেশ ৪৩ এ মোট ২৫টি আপীলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) রয়েছে।

-Order 43, Rule 1(J) অনুসারে:
২১ অর্ডারের ৭২ অথবা ৯২ রুল-এর অধীন ডিক্রি জারিতে বিক্রয় বাতিল করার আদেশ বা বিক্রয় বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার আদেশ (setting aside or refusing to set aside)- একটি আপিলযোগ্য আদেশ।
৩,৬৩১.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন বিধান অনুসারে রায় ঘোষণার সময় তারিখসহ বিচারকের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক?
  1. আদেশ-২০ বিধি-১
  2. আদেশ-২০ বিধি-৩
  3. আদেশ-২০ বিধি-৫ক
  4. আদেশ-২০ বিধি-৬
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ২০ বিধি ৩ এর বিধান অনুযায়ী, বিচারককে রায় ঘোষণার সময়ই খোলা আদালতে তারিখসহ রায়ের উপর স্বাক্ষর করতে হয়। এটি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। একবার স্বাক্ষরিত হওয়ার পর শুধুমাত্র ধারা ১৫২ (সংশোধনীয় ভুল) বা পুনরীক্ষণ (রিভিউ) এর মাধ্যমেই এতে পরিবর্তন করা যায়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২০ বিধি-৩ এর বিধান: রায় স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে:
-রায় ঘোষণার করার সময় বিচারক কর্তৃক উহা তারিখসহ স্বাক্ষরযুক্ত হতে হবে এবং একবার স্বাক্ষরিত হলে ১৫২ ধারা অনুসারে কিংবা পুনরীক্ষণ ব্যতীত উহা পরবর্তী কোন সময়ে সংশোধিত বা সংযোজিত হতে পারবে না।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908-Order 20 Rule 3: Judgment to be signed: 
The Judgment shall be dated and signed by the Judge in open Court at the time of pronouncing it and, when once signed, shall not afterwards be altered or added to, save as provided by section 152 or on review.

৩,৬৩২.
আইনানুগ কার্যধারায় যে সময় তামাদির গণনা থেকে বাদ দিতে হয় - এটি তামাদি আইনের কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ১১ ধারা
  2. ১২ ধারা
  3. ২৯ ধারা
  4. ২৫ ধারা
ব্যাখ্যা
আইনানুগ কার্যধারায় যে সময় তামাদির গণনা থেকে বাদ দিতে হয় - এটি তামাদি আইনের ১২ ধারার বিষয়বস্তু।

 তামাদি আইনের ১২ ধারা মতে কতিপয় সময় বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে। যথা-
⇒ মামলা, আপিল বা দরখাস্তের মেয়াদ আরম্ভের দিন,
⇒ রায় ঘোষণার দিন,
⇒ রায়ের নকল গ্রহণে ব্যয়িত সময়,
⇒ রোয়েদাদ উত্তোলন করতে যে সময় ব্যয় হয়।

Section 12: Exclusion of time in legal proceedings

(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 

(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
৩,৬৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারায় তল্লাশির সময় সর্বনিম্ন কতজন স্থানীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকতে হবে?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ নেই
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ২ জন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা- সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশী কার্যক্রম চালাতে হবে:

(১) এই অধ্যায় মোতাবেক তল্লাশী করার পূর্বে যে অফিসার বা ব্যক্তি তা করতে গিয়েছেন, তিনি যে এলাকার মধ্যে, যে স্থান তল্লাশী করতে হবে তা অবস্থিত, সেই এলাকার দুই বা ততোধিক নিরপেক্ষ ও গণ্যমান্য অধিবাসীকে তল্লাশীর সাক্ষী হবার জন্য আহ্বান করবেন এবং এরূপ করার জন্য তাদেরকে বা তাদের যে কোন একজনের প্রতি লিখিত আদেশ দিতে পারবেন।

(২) তাদের সমক্ষে তল্লাশী করতে হবে, এবং ঐরূপ অফিসার বা অন্য ব্যক্তি ঐরূপ তল্লাশী করার সময় যেসব জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং যেসব স্থানে ঐগুলি যথাক্রমে পাওয়া যায় তার একটি তালিকা তৈয়ারী করবেন এবং ঐরূপ সাক্ষীগণ তাতে সহি দিবেন; কিন্তু আদালত বিশেষভাবে সমন না দিলে এই ধারায় সম্পাদিত তল্লাশী দর্শনকারী ব্যক্তিকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 103- Search to be made in presence of witnesses:
(1) Before making a search under this Chapter, the officer or other person about to make it shall call upon two or more respectable inhabitants of the locality in which the place to be searched is situate to attend and witness the search and may issue an order in writing to them or any of them so to do.

(2) The search shall be made in their presence, and a list of all things seized in the course of such search and of the places in which they are respectively found shall be prepared by such officer or other person and signed by such witnesses; but no person witnessing a search under this section shall be required to attend the Court as a witness of the search unless specially summoned by it.
৩,৬৩৪.
‘D’ জানে যে, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। তবুও একটি অচল চেক দিয়ে ‘Z’-এর কাছ থেকে পণ্য কিনে, পরিশোধের ইচ্ছা না রেখে। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিধান অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪১৫ অনুসারে, প্রতারণার মাধ্যমে কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে বা সম্পত্তি ধরে রাখার সম্মতি দিতে প্ররোচিত করা, অথবা এমন কিছু করতে বা না করতে প্ররোচিত করা যা প্রতারিত না হলে সে করত না বা বাদ দিত না, এবং যা শারীরিক, মানসিক, খ্যাতি বা সম্পত্তির ক্ষতি করে, তা প্রতারণা (Cheating) হিসেবে গণ্য। এখানে, ‘D’ জেনে যে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা নেই, একটি অচল চেক দিয়ে ‘Z’-এর কাছ থেকে পণ্য কিনেছে, পরিশোধের ইচ্ছা না রেখে। এটি ধারা ৪১৫-এর উদাহরণ (d)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বলা হয়েছে যে অচল চেক দিয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করানো প্রতারণা।

- যেহেতু এই প্রতারণার ফলে পণ্য (সম্পত্তি) হস্তান্তর হয়েছে, তাই ধারা ৪২০ প্রযোজ্য। ধারা ৪২০ অনুসারে, প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করানো বা মূল্যবান দলিল নষ্ট করার শাস্তি হলো ৭ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের কারাদণ্ড এবং জরিমানা।

- ‘D’-এর কাজ ধারা ৪১৫-এর অধীনে প্রতারণা হিসেবে গণ্য, এবং যেহেতু এটি সম্পত্তি হস্তান্তরের সাথে জড়িত, ধারা ৪২০ অনুসারে সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) ৭ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪২০ অনুযায়ী,
যদি কেউ প্রতারণা করে এবং এর ফলে প্রতারিত ব্যক্তিকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য করে, অথবা প্রতারিত ব্যক্তিকে কোনো মূল্যবান দলিল (যেমন চেক, চুক্তি ইত্যাদি) তৈরি, পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে প্ররোচিত করে, তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য তাকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে এবং এর পাশাপাশি তাকে অর্থদণ্ডও দেয়া যেতে পারে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section-420: Cheating and dishonestly inducing deliver of property:
- Whoever cheats and thereby dishonestly induces the person deceived to deliver any property to any person, or to make, alter or destroy the whole or any part of a valuable security, or anything which is signed or sealed, and which is capable to being converted into a valuable security, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

৩,৬৩৫.
নিম্নের কোনটি পাবলিক দলিল (Public documents)?
  1. চিঠি
  2. রায়
  3. কবলা
  4. উইল
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার বিধান সরকারী দলিল: নিম্নলিখিত দলিলগুলো সরকারী দলিল:

(১) যে সমস্ত দলিল-

(ক) কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,

(খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং

(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের যে কোন স্থানের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

---------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার বিধান বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। 

⇒ কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.

⇒  আদালতের রায় ৭৪(১) ধারার বিধান মতে পাবলিক ডকুমেন্টস। কারণ রায় বিচার বিভাগীয় কাজের অংশ। 
৩,৬৩৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৭ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০০৩ সালে প্রথম বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) বিধান সংযোজন করা হয় এবং ধারা ৮৯ ক, ৮৯খ,৮৯গ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পূর্বে এটা ঐচ্ছিক ছিল কিন্তু ২০১২ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমানে আদালত বিকল্প পদ্ধতিতে মধ্যস্থতার জন্য বিরোধীয় বিষয়টি মধ্যস্থতাকারীর কাছে পাঠাতে বাধ্য।

⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে। মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
৩,৬৩৭.
'ক' তার পৈতৃক বাড়ির মালিকানার জন্য 'Declaratory Suit' দায়ের করতে চান। কত দিনের মধ্যে এই মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে?
  1. ৩ বছরের মধ্যে
  2. ৬ বছরের মধ্যে
  3. ১২ বছরের মধ্যে
  4. নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই
ব্যাখ্যা

The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৪২- ঘোষনামূলক মোকদ্দমা (Declaration suit):
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক বিধান রয়েছে । কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মোকদ্দমা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা বা 'Declaratory Suit' বা 'Suit for Declaration' বলে।

তামাদি আইনে ঘোষণামূলক মোকদ্দমার কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। এই আইনের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 
যেসকল মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ উল্লেখ নাই, সেগুলো সাধারণত ৬ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়। এক্ষেত্রে ঘোষণামূলক মামলার প্রকৃত কারণ উদ্ভব হওয়ার সময় হতে ৬ বছরের মধ্যে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে হবে।

৩,৬৩৮.
কোন ব্যক্তি স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি ঘোষণামূলক মোকদ্দমা করতে পারে যদি সম্পত্তিতে তার-
  1. দখল না থাকে
  2. আংশিক দখল থাকে
  3. একচ্ছত্র দখল থাকে
  4. প্রতীকী দখল থাকে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
 
⇒ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:-
i) ঘোষণামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষণা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষণামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষণামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষণা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।
 
⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।
 
⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
--------------
⇒ SR Act:- Section-42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
-Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation:- A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
Illustrations:
(a) A is lawfully in possession of certain land. The inhabitants of a neighboring village claim a right of way across the land. A may sue for a declaration that they are not entitled to the right so claimed.
৩,৬৩৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ অনুযায়ী কোন উপায়ে প্রতিকার প্রদান করা হয় না?
  1. রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে
  2. মানহানি মামলায় সাজা দিয়ে
  3. সম্পত্তির দখল ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে
  4. পক্ষসমূহের অধিকার ঘোষণা করার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৫ ধারায় প্রতিকার প্রদানের ৫টি উপায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূলত দেওয়ানি স্বত্ব/দাবি রক্ষায় ব্যবহৃত হয়। এগুলোর মধ্যে সাজা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত নয়। "মানহানি মামলায় সাজা" ফৌজদারি (criminal) আইনের বিষয়, যা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের আওতাধীন নয়।
অন্য অপশনগুলো যেমন: রিসিভার নিয়োগ, সম্পত্তির দখল ফেরত দেওয়া, অধিকার ঘোষণা — সবই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন বৈধ প্রতিকার।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section: 5. Specific relief how given:
- Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.
৩,৬৪০.
"No woman shall be disqualified for admission to be an advocate for reason only of her sex."- এই বিধান The Bangladesh Legal practitioner's and Bar Council Order, 1972 এর কত অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে?
  1. Article 27
  2. Article 28
  3. Article 29
  4. Article 30
ব্যাখ্যা
Article 28 of The Bangladesh Legal Practitioner's and Bar Council Order, 1972:

"No woman shall be disqualified for admission to be an advocate for reason only of her sex."
"কোনো নারী তার লিঙ্গের কারণে অ্যাডভোকেট হিসেবে গৃহীত হওয়ার অযোগ্য হবে না।"
৩,৬৪১.
'A' একজন মহিলার কান হতে একটি কানের রিং টান দিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছিল। এর ফলে মহিলা কানে আঘাত প্রাপ্ত হয় এবং কান হতে রক্ত পড়ে এই ক্ষেত্রে 'A' এর অপরাধটি হবে-
  1. চুরি
  2. দস্যুতা
  3. ডাকাতি
  4. বলপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান: দস্যুতার সংজ্ঞা (Robbery)- চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তাদস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
⇒ দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে। দস্যুতাকে সহজ কথায় রাহাজানি বলে আখ্যায়িত করা হয়।
⇒ বলপূর্বক গ্রহণ কখন দস্যুতা বলে গণ্য হবে (When extortion is robbery)- বলপূর্বক গ্রহণের সময় অপরাধী স্বয়ং ভিকটিমের নিকটে বা আশেপাশে উপস্থিত থেকে তাৎক্ষনিক ভয়ের সৃষ্টি করলে বলপূর্বক গ্রহণ দস্যুতা বলে গণ্য হবে।
⇒ চুরি কখন দস্যুতা বলে গণ্য হবে (When theft is robbery)- চুরি করার উদ্দেশ্যে বা চুরি করার সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা অবৈধ আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন চুরি দস্যুতা বলে গণ্য হবে।

⇒ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারায় দস্যুতার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চুরি করার সময় কোন কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নেবে এবং বলপূর্বক গ্রহণের সময় কী কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নিবে সেটি বর্ণনা করা হয়েছে। চুরি অপরাধ সংঘটনকালে যদি death, hurt, wrongful restraint ইত্যাদি করে বা তা করার চেষ্টা করে বা তা করার তাৎক্ষণিক ভয় দেখায় তবে তা দস্যুতায় রূপ নেবে। কিন্তু extortion –এর ক্ষেত্রে উক্ত অপরাধগুলো সংঘটন করা নয়, বরং তা করার ভয় দেখালেই তা দস্যুতায় রূপান্তরিত হবে।
⇒ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারা মতে প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।

⇒ যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-
চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে দস্যুতা।

⇒ বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে  দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী-যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে।
⇒ ব্যাখ্যা (Explanation):-
অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।

⇒ অর্থাৎ চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
⇒ দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।

⇒ দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করে;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখায়;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করে; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকে।

⇒ দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।
⇒ প্রত্যেক ডাকাতির ক্ষেত্রে দস্যুতা ( চুরি অথবা বলপূর্বক গ্রহণ) থাকে। কিন্তু দস্যুতা এবং ডাকাতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সংখ্যাগত। দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন থাকতে হবে।
৩,৬৪২.
Previous judgments relevant to bar a second suit or trial- সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারার এই বিধানের ব্যতিক্রম কী?
  1. পূর্বোক্ত মোকদ্দমার ডিক্রি প্রতারণা ও যোগসাজসীভাবে নেওয়া
  2. পূর্বোক্ত মোকদ্দমায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করা
  3. পূর্বোক্ত মোকদ্দমার ফলাফল সম্পর্কে না জানা
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
♦ একই বিষয়ে পূর্বে কোনো ডিক্রি থাকলে ঐ বিষয়ে নতুন মামলা করার ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত মামলার ডিক্রি প্রাসঙ্গিক হবে এবং নতুন মামলাটি করতে দেওয়া হবে না। তবে যদি দাবি করা হয় যে fraud or collusion এর মাধ্যমে পূর্বের ডিক্রি হাসিল করা হয়েছে তবে সেই বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ থাকবে, অর্থাৎ মোকদ্দমা দায়ের বারিত নয়।
৩,৬৪৩.
বিচার চলাকালীন সময় আসামি হাজতে থাকলে এবং বিচারে দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তার উক্ত হাজতবাসের মেয়াদ বাদ দেওয়া হবে না যদি সে-
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়
  2. মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়
  3. ১২ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় বিচার চলাকালে আসামীর জেল হাজতে থাকা সময় কিভাবে দন্ড থেকে বাদ যাবে তা বলা হয়েছে যা নিম্নরূপ:
♦ ধারা-৩৫ক(১): ফৌজদারি মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ মামলা শুরু হওয়ার পর দন্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আসামি যে কয়দিন জেলহাজতে ছিল, তা কারাদন্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। তবে এই বিধানটি আসামী মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হলে প্রযোজ্য হবে না অর্থাৎ ৩৫ক ধারাটি মৃত্যুদন্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
♦ ধারা-৩৫ক(২): যদি বিচার চলাকালীন সময়ে হাজতে থাকার মেয়াদ কারাদন্ডের মেয়াদ থেকে বেশী হয় তাহলে আসামি পুরো কারাদন্ড ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে এবং জেল থেকে মুক্তি পাবে; পাশাপাশি কোন অর্থদন্ড থাকলে সেই অর্থদন্ডও মওকুফ হয়ে যাবে।
৩,৬৪৪.
আদেশ ৩৩ বিধি-৪ এর অধীন আদালত কোন পরিস্থিতিতে নিঃস্ব হিসাবে মোকদ্দমা রুজুর আবেদনকারীর কমিশন দ্বারা জবানবন্দি গ্রহণ করার নির্দেশ দিতে পারে?
  1. আবেদনকারী অসুস্থ হলে
  2. আবেদনকারী সঠিক তথ্য না দিলে
  3. আবেদনকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা হলে
  4. আবেদনকারীর প্রতিনিধি দ্বারা আবেদনপত্র উপস্থাপিত হলে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৩ বিধি-৪: আবেদনকারীর জবানবন্দি গ্রহণ:
১) যেক্ষেত্রে আবেদনপত্র সঠিকভাবে এবং যথারীতি উপস্থাপন করা হয়েছে সেক্ষেত্রে আদালত উপযুক্ত মনে করলে আবেদনকারীর বা প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনকারীকে হাজিরার অনুমতি দেয়া হলে, তার প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনকারীকে হাজিরার অনুমতি দেয়া হলে, তার প্রতিনিধির দাবীর গুণগত বৈশিষ্ট্যের গুণাগুণ এবং আবেদনকারীর সম্পত্তি সম্পর্কে জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে।

২) প্রতিনিধি কর্তৃক উপস্থাপন করা হলে আদালত কমিশন দ্বারা আবেদনকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে আদেশ দিতে পারেঃ যেক্ষেত্রে আবেদনপত্র প্রতিনিধি দ্বারা উপস্থাপিত হয় সেক্ষেত্রে আদালত, যদি সঙ্গত মনে করেন, তবে অনুপস্থিত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের মতই কমিশন কর্তৃক আবেদনকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করার নির্দেশ দিতে পারে।
৩,৬৪৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৫২ ধারা
  2. ৫৪ ধারা
  3. ৫৫ ধারা
  4. ৫৬ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা-তে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তখন প্রদান করা যায় যখন আদালত সন্তুষ্ট হয় যে আবেদনকারী পক্ষের অধিকার লঙ্ঘন হওয়ার ফলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত নয় এবং বিরোধী পক্ষের কাজ বা আচরণ প্রমাণিতভাবে বাদীর অধিকারের বিপরীত। এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র মামলার শুনানির পর মামলার গুণাগুণের উপর ভিত্তি করে ডিক্রি দ্বারা মঞ্জুর করা হয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীর পক্ষে কোন বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা, যা ভঙ্গ করাকে প্রতিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর হতে পারে। চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমায় স্বত্বের প্রশ্নটি বড় নয়, দখলের প্রশ্নটি বড়। বাদী যদি দীর্ঘদিন দখলে থাকে, তাহলে আদালত তার অনুকূলে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারবে। নিষেধাজ্ঞা চিরস্থায়ী করার অর্থ ইহা নয় যে, উক্ত নিষেধাজ্ঞা চিরকালের জন্য চলতে থাকবে এবং উক্ত নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির বিরুদ্ধে কোন কিছু করা যাবে না। কোন উপর্যুক্ত আদালত যতদিন পর্যন্ত স্বত্বের মীমাংসা না করেন এবং এই নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি রদ না করেন ততদিন পর্যন্ত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।

⇒ The Specific Relief Act, 1877: Section- 53. Perpetual injunctions: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit, the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.

⇒ The Specific Relief Act, 1877: Section- 54 Perpetual injunctions when granted:
Subject to the other provisions contained in, or referred to by, this Chapter, a perpetual injunction may be granted to prevent the breach of an obligation existing in favour of the applicant, whether expressly or by implication.
When such obligation arises from contract, the Court shall be guided by the rules and provisions contained in Chapter II of this Act.
When the defendant invades or threatens to invade the plaintiff's right to, or enjoyment of, property, the Court may grant a perpetual injunction in the following cases (namely):-
(a) where the defendant is trustee of the property for the plaintiff;
(b) where there exists no standard for ascertaining the actual damage caused, or likely to be caused, by the invasion;
(c) where the invasion is such that pecuniary compensation would not afford adequate relief;
(d) where it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the invasion;
(e) where the injunction is necessary to prevent a multiplicity of judicial proceedings.

Explanation - For the purpose of this section a trademark is property.
৩,৬৪৬.
একটি দলিল বাতিল করার জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার দায়েরের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২৪ এবং দলিলের বাতিলের কারণ উদ্ভব হয় ১৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে। এক্ষেত্রে-
  1. মামলা গ্রহণ করা হবে, কারণ তামাদি মেয়াদ অতিক্রান্ত হয় নি
  2. মামলা খারিজ হবে, কারণ তামাদি মেয়াদ অতিবাহিত হয়েছে
  3. মামলা স্থগিত হবে, কারণ তামাদি মেয়াদ অতিবাহিত হয়েছে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিল বা দলিল রদ এর মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর।

অনুচ্ছেদ- ৯১:
কোন দলিল রদ [Set aside] বা বাতিল [Cancel] করার জন্য, যে ক্ষেত্রে অন্য কোন বিধান নেই;
তামাদি- ৩ বছর;
সময় গণনা শুরু- যে সকল ঘটনা বাদীকে উক্ত দলিল বাতিল বা রদ করার অধিকার দান করে, সেগুলি যখন বাদী অবগত হয়।

তামাদি মেয়াদ গণনা:
তামাদি মেয়াদ শুরু হয় দলের বাতিলের কারণ উদ্ভব হওয়ার তারিখ থেকে। এই ক্ষেত্রে, দলিলের বাতিলের কারণ উদ্ভব হয় ১৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে। মামলা দায়ের করা হয়েছে ১০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে। তামাদি মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে আদালত মামলাটি খারিজ করবে।
৩,৬৪৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৭১ ধারার অধীন ফরিয়াদি বা সাক্ষীর হাজিরা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
  1. আদালত
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. অভিযোগকারী
  4. পুলিশ অফিসার
ব্যাখ্যা
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৭১ ধারার বিধান: ফরিয়াদি এবং সাক্ষীগণকে কোন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যেতে বলা যাবে না:

(১) কোন ফরিয়াদি বা সাক্ষীকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যাবার পথে কোন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যেতে বলা যাবে না।

- ফরিয়াদি ও সাক্ষীগণকে বাধা দেয়া যাবে না:
অথবা অনাবশ্যক বাধা দেয়া যাবে না বা অসুবিধায় ফেলা যাবে না, বা তার নিজের মুচলেকা ছাড়া তার হাজিরের জন্য কোন জামানত দাবি করা যাবে না।

- অবাধ্য ফরিয়াদি বা সাক্ষীকে হেফাজতে পাঠানো যাবে:
শর্ত থাকে যে, ধারা-১৭০ এ প্রদত্ত নির্দেশ অনুসারে কোন ফরিয়াদি বা সাক্ষী হাজির হতে বা মুচলেকা সম্পাদন করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে হেফাজতে গ্রহণ করে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর পাঠাতে পারেন এবং ম্যাজিস্ট্রেট তাকে মুচলেকা সম্পাদন না করা বা মামলার শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে আটক রাখতে পারেন।
 
(২) উপধারা (১) এ যা কিছুই বর্ণিত থাকুক না কেন, মোকদ্দমার শুনানিকালে ফরিয়াদি বা সাক্ষী যেন আদালতে উপস্থিত থাকে তার সুনিশ্চিত বন্দোবস্ত করার দায়িত্ব পুলিশ কর্মকর্তার উপর ন্যস্ত হবে।

Section-171: Complainants and witnesses not to be required to accompany Police-Officer:
(1)] No complainant or witness on his way to the Court of the Magistrate shall be required to accompany a police-officer,

- Complainants and witnesses not to be subjected to restraint:
or shall be subjected to unnecessary restraint or incon-venience, or required to give any security for his appearance other than his own bond:

- Recusant complainant or witness may be forwarded in custody:
Provided that, if any complainant or witness refuses to attend or to execute a bond as directed in section 170, the officer in charge of the police-station may forward him in custody to the Magistrate, who may detain him in custody until he executes such bond, or until the hearing of the case is completed.

(2) Notwithstanding anything contained in sub-section (1), it shall be the responsibility of the police-officer to ensure that the complainant or the witness appears before the Court at the time of hearing of the case.
৩,৬৪৮.
'A' একজন জল্লাদ যে আদালতের আদেশ অনুযায়ী এক কয়েদীকে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এই ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি অনুসারে 'A' এর কাজটি-
  1. খুন
  2. নরহত্যার
  3. অপরাধমূলক নরহত্যার
  4. কোন অপরাধ নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৭৮ ধারা মতে আদালতের আদেশে কৃত কাজ অপরাধ নয় অর্থাৎ আদালতের রায় বা আদেশ মোতাবেক সম্পাদিত কোন কাজ অপরাধ নয় আদালতের আদেশ বাস্তবায়িত করার জন্য সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীগণ যে সমস্ত কার্য করবেন তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না।
- দণ্ডবিধির ৭৮ ধারার বিধান আদালতের রায় বা আদেশের অনুসরণে সম্পাদিত কাজ:- কোন আদালতের নির্দেশক্রমে অথবা কোন আদালতের রায় বা আদেশ অনুযায়ী উক্ত রায় বা আদেশ বলবৎ থাকাকালে সম্পাদিত কোন কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না; আদালতের অনুরূপ রায় বা আদেশ প্রদানের এখতিয়ার না থাকলেও অনুরূপ কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না যদি উক্ত কাজটি সম্পন্নকারী ব্যক্তি সরল মনে বিশ্বাস করে থাকে যে, আদালতের অনুরূপ এখতিয়ার রয়েছে।
-------------------
Section 78: Act done pursuant to the judgment or order of Court:
 Nothing which is done in pursuance of, or which is warranted by the judgment or order of, a Court of Justice, if done whilst such judgment or order remains in force, is an offence, notwithstanding the Court may have had no jurisdiction to pass such judgment or order, provided the person doing the act in good faith believes that the Court had such jurisdiction.
৩,৬৪৯.
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারবেন না?
  1. উৎপাত বা জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশংকা
  2. কোন ব্যক্তির আত্মহত্যার আশংকা
  3. দাঙ্গা বা মারামারির আশংকা
  4. মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশংকা
ব্যাখ্যা
♦ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারো আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা নিজে স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে-

i) আইনানুগভাবে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির আশংকা,

ii) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশংকা;

iii) উৎপাত বা জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশংকা ;

iv) দাঙ্গা বা মারামারির আশংকা ; এবং

v) আশু প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন হলে 

অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আত্মহত্যার আশংকা থাকলে  ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়না।

১৪৪ ধারার আদেশ ম্যাজিস্ট্রেটের স্বেচ্ছাধীন/বিবেচনামূলক (Discretionary) ক্ষমতা।


♦ ১৪৪ ধারা জারির ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত সাধারণ নিয়মাবলী অনুসরণ করা হয় । যথা-

i) সাধারণত নোটিশ জারি করার পর ১৪৪ ধারা জারি করা হয় কিন্তু জরুরী পরিস্থিতিতে নোটিশ ব্যতীত একতরফাভাবে ১৪৪ ধারা জারি করা যায়। এই আদেশ কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি অথবা বিশেষ স্থানে ঘন ঘন গমনকারী বা সফরকারী জনসাধারণের প্রতি নির্দেশ হতে পারে।
(ii) ১৪৪ ধারার আদেশে কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখতে অথবা কোন নির্দিষ্ট সম্পত্তি ম্যাজিস্ট্রেটের দখলে বা ব্যবস্থাধীনে নেয়ার নির্দেশ থাকতে পারে।
iii) ১৪৪ ধারার আদেশ সাধারণত সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে; তবে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা ১৪৪ ধারার আদেশকে ২ মাসের অধিক সময় পর্যন্ত বলবৎ রাখতে পারে ।

♦ ১৪৪(৪) ধারামতে কোন ম্যাজিস্ট্রেট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদনক্রমে ১৪৪ ধারার আওতায় তার নিজের বা তার অধীনস্ত কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা তার পূর্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারেন। ১৪৪ ধারা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবেনা। তবে মেট্রোপলিটন এলাকায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে।

♦ ১৪৪ ধারার আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যাবে।
৩,৬৫০.
দণ্ডবিধির ধারা ১০৯ প্রযোজ্য হতে হলে কোন শর্তটি থাকতে হবে?
  1.  প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হতে হবে
  2.  প্ররোচনাকারী ঘটনাস্থলে থাকতে হবে
  3. প্ররোচনাকারীর স্বীকারোক্তি প্রয়োজন
  4. অপরাধ পুলিশের সামনে ঘটতে হবে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হতে হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অনুসারে,
যদি কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধে প্ররোচনা (Abetment) দেয় এবং সেই প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হয়, তবে প্ররোচনাকারীকে অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি দেওয়া হবে। এই ধারাটি তখন প্রযোজ্য হয় যখন দণ্ডবিধিতে প্ররোচনার জন্য আলাদা বা স্পষ্ট শাস্তির বিধান নেই।

উদাহরণ:
যদি A, B কে কোনো অপরাধ করতে প্ররোচনা দেয় এবং B সেই অপরাধটি করে, তবে A কেও B এর মতো একই শাস্তি দেওয়া হবে, যদি দণ্ডবিধিতে প্ররোচনার জন্য আলাদা শাস্তির বিধান না থাকে।

ধারা ১০৯-এর মূল ভিত্তি হলো- প্ররোচনা + সেই প্ররোচনার ফলে অপরাধ সংঘটন।

৩,৬৫১.
নিম্নে সাক্ষ্য গ্রহণের কোন ক্রমটি সঠিক?
  1. জেরা, জবানবন্দি, পুনঃজবানবন্দি
  2. জবানবন্দি, পুনঃজবানবন্দি, জেরা
  3. জেরা, পুনঃজবানবন্দি, জবানবন্দি
  4. জবানবন্দি, জেরা, পুনঃজবানবন্দি
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৮ মতে- প্রথমে সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করা হবে। তারপর (বিরুদ্ধপক্ষ ইচ্ছা করলে) সাক্ষীকে জেরা করবে, তারপর (সাক্ষী উপস্থিতকারী পক্ষ ইচ্ছা করলে) পুনঃজবানবন্দী গ্রহণ করাতে পারবে। সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ ও জেরা প্রাসঙ্গিক সম্পর্কে হতে হবে। কিন্তু সাক্ষী তার জবানবন্দীতে যে সকল বিষয় সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন, কেবল সেই সকল বিষয়েই জেরা করা চলবে, এমন নয়। জেরা প্রসঙ্গে সাক্ষী যে সকল বিষয়ের উল্লেখ করেন, পুনঃজবানবন্দীতে সেইগুলির ব্যাখ্যা চাইতে হবে, পুনঃজবানবন্দী গ্রহণের সময় যদি আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন নতুন বিষয়ের অবতারণা করা হয়, তবে বিরুদ্ধপক্ষ সেই সকল বিষয়ে আরও জেরা করতে পারবে।

অর্থাৎ জবানবন্দী- জেরা- পুনঃজবানবন্দি।
৩,৬৫২.
Under the provision of Code of Criminal Procedure, the Court of a Magistrate of the first class may pass a sentence of imprisonment for a term not exceeding five years, or of fine not exceeding _________ tk or both.
  1. Five thousand
  2. Ten thousand
  3. Seven thousand
  4. Fifteen thousand
ব্যাখ্যা
• Under the section 32 of Code of Criminal Procedure,1898 the Court of a Magistrate of the first class may pass a sentence of imprisonment for a term not exceeding five years, or of fine not exceeding ten thousand tk or both.

Section 32: Sentences which Magistrates may pass- (1) The Courts of Magistrates may pass the following sentences namely:- 

(a) Courts of Metropolitan Magistrates and of Magistrates of the first class:
Imprisonment for a term not exceeding five years, including such solitary confinement as is authorized by law;
Fine not exceeding ten thousand taka; Whipping.

(b) Courts of Magistrates of the second class:
Imprisonment for a term not exceeding three years, including such solitary confinement as is authorized by law;
Fine not exceeding five thousand taka.

 (c) Courts of Magistrates of the third class:
Imprisonment for a term not exceeding two year; 
Fine not exceeding two thousand taka.

(2) The Court of any Magistrate may pass any lawful sentence, combining any of the sentences which it is authorized by law to pass.


ফৌজদারী কার্যবিধির ৩২ ধারার বিধানঃ (১) ম্যাজিষ্ট্রেটের নিম্নবর্ণিত আদালতসমূহ নিম্নলিখিত দণ্ড দিতে পারবেন যথাঃ

ক) মেট্রোপলিটন এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ পাঁচ বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, দশ হাজার টাকার অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত।
(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ তিন বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকার অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত৷
(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের দুই বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, দুই হাজার আদালত টাকার অর্থদণ্ড।

২) যেকোন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত আইনের দ্বারা যেসব দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা অর্জন করেছেন, সেসব দণ্ডের মধ্যে একটির সহিত আরেকটির যুক্ত করে যেকোন আইনসঙ্গত দণ্ড প্রদান করতে পারেন।
৩,৬৫৩.
A, B-এর সঙ্গে চুক্তি করে যে, সে বারো মাস ধরে B-এর থিয়েটারে গান গাইবে এবং অন্য কোথাও জনসমক্ষে গান গাইবে না। এক্ষেত্রে, আদালত আদালত কী ধরনের আদেশ দিতে পারে?
  1. ক্ষতিপূরণের আদেশ
  2. নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ
  3. নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ
  4. চুক্তি বাতিলের আদেশ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: (গ) নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ (injunction)।

প্রশ্নে, A একটি ইতিবাচক চুক্তি করেছে যে সে B-এর থিয়েটারে গান গাইবে এবং একই সঙ্গে একটি নেতিবাচক চুক্তি করেছে যে সে অন্য কোথাও গান গাইবে না।

আদালত A-কে জোর করে গান গাইতে বাধ্য করতে পারে না, কারণ এটি ব্যক্তিগত দক্ষতার (personal skill) কাজ — কিন্তু আদালত A-কে অন্য কোনো জনসমক্ষে গান গাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে, অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ (injunction) দিতে পারে।

ধারা ৫৭. নেতিবাচক চুক্তি কার্যকর করার জন্য নিষেধাজ্ঞা (Injunction to perform negative agreement):
ধারা ৫৬-এর উপধারা (f) সত্ত্বেও, যেখানে কোনো চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য ইতিবাচক (affirmative) চুক্তির পাশাপাশি একটি নেতিবাচক (negative) চুক্তিও থাকে — স্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে — অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট কাজ না করার অঙ্গীকার থাকে, সেখানে আদালত যদি সেই ইতিবাচক চুক্তির নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন (specific performance) করাতে সক্ষম না হয়, তাহলেও আদালত সেই নেতিবাচক চুক্তি কার্যকর করার জন্য নিষেধাজ্ঞা (injunction) জারি করতে পারে;

তবে শর্ত থাকে যে, আবেদনকারী এখন পর্যন্ত তার চুক্তির বাধ্যবাধক অংশ সম্পূর্ণভাবে পালন করতে ব্যর্থ হননি।

উদাহরণসমূহ-
(ক) A, B-এর কাছে ১,০০০ টাকায় একটি ব্যবসার সুনাম (goodwill) বিক্রি করতে সম্মত হয়, এবং আরও অঙ্গীকার করে যে সে চট্টগ্রামে ওই ব্যবসা আর করবে না। B টাকা পরিশোধ করে, কিন্তু A চট্টগ্রামে আবার সেই ব্যবসা শুরু করে। আদালত A-কে বাধ্য করতে পারবে না যেন সে তার গ্রাহকদের B-এর কাছে পাঠায়, কিন্তু B আদালতের কাছে আবেদন করে নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে যাতে A-কে চট্টগ্রামে সেই ব্যবসা চালানো থেকে বিরত রাখা যায়।

(খ) A, B-এর কাছে কোনো ব্যবসার সুনাম বিক্রি করে। পরে A, B-এর দোকানের কাছেই অনুরূপ ব্যবসা শুরু করে এবং তার পুরনো গ্রাহকদের আহ্বান করে যাতে তারা তার কাছেই আসে। এটি তার চুক্তির পরোক্ষ শর্ত ভঙ্গের সমতুল্য। ফলে, B আদালতের মাধ্যমে A-কে নিষিদ্ধ করতে পারে যাতে সে তার গ্রাহকদের আহ্বান না করে এবং এমন কোনো কাজ না করে যাতে ব্যবসার সুনাম B-এর কাছ থেকে সরে যায়।

(গ) A, B-এর সঙ্গে চুক্তি করে যে সে বারো মাস ধরে B-এর থিয়েটারে গান গাইবে এবং অন্য কোথাও জনসমক্ষে গান গাইবে না। B আদালতের মাধ্যমে A-কে গান গাইতে বাধ্য করতে পারবে না, কিন্তু A-কে অন্য কোনো জনসম্মুখে গান গাওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে।

(ঘ) B, A-এর সঙ্গে চুক্তি করে যে সে বারো মাস ধরে বিশ্বস্তভাবে A-এর ক্লার্ক হিসেবে কাজ করবে। A আদালতের মাধ্যমে B-কে কাজ করতে বাধ্য করতে পারবে না, কিন্তু A, B-কে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করা থেকে বিরত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে।

(ঙ) A, B-এর সঙ্গে চুক্তি করে যে, B নির্ধারিত দিনে তাকে ১,০০০ টাকা প্রদান করলে, সে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে কোনো ব্যবসা শুরু করবে না। কিন্তু B টাকা দিতে ব্যর্থ হয়। সেক্ষেত্রে, A-কে সেই নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ব্যবসা শুরু করা থেকে বিরত রাখার কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যাবে না।

৩,৬৫৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতা সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে?
  1. ৬০ দিনের মধ্যে
  2. ৯০ দিনের মধ্যে
  3. ১২০ দিনের মধ্যে
  4. ১৮০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতা সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে।

• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে
১- মধ্যস্থতা (Mediation) 
২- সালিশী (Arbitration)

সাধারন নিয়মসমূহ-

⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না। 

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন,২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।

Section: 89A(4)-

Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator, and if the parties fail to appoint the mediator during this time, the Court shall, within seven days, appoint a mediator from the panel as mentioned in sub-section (10) and the mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days from the day on which the Court is so informed, or the dispute or disputes are referred to Legal Aid Officer, or a mediator is appointed by the Court, as the case may be, unless the Court of its own motion or upon a joint prayer of the parties, extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.
৩,৬৫৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর কোন ধারা অনুসারে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়?
  1. ৫২ ধারা
  2. ৫৩ ধারা
  3. ৫৪ ধারা
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৪ ধারা অনুসারে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়।
• এই নিষেধাজ্ঞা চিরদিনের জন্য দেওয়া হয়।
• যদি কেউ বাদীর আইনগত অধিকার লঙ্ঘন/হস্তক্ষেপের জন্য হুমকি প্রদান করে তখন আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করে।
• এক্ষেত্র বাদীকে একচেটিয়া সম্পত্তিতে দখল থাকবে হবে।
৩,৬৫৬.
দণ্ডবিধির কোন অধ্যায়ে 'মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধ' আলোচনা করা হয়েছে?
  1. চতুর্থ অধ্যায়
  2. ষষ্ঠ অধ্যায়
  3. ষোড়শ অধ্যায়
  4. বিংশ অধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০ আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং দণ্ডবিধির মোট ধারা ৫১১ টি (মূল দণ্ডবিধিতে ৪৮৮টি ধারা ছিল)।

- গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়ের নাম:
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ ব্যাখ্যা সমূহ,
তৃতীয় অধ্যায়: শাস্তি,
চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ ব্যতিক্রম সমূহ,
পঞ্চম অধ্যায়: অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা,
পঞ্চম-ক অধ্যায়: অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্র,
ষষ্ঠ অধ্যায়: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ,
নবম অধ্যায়: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংক্রান্ত অপরাধ,
নবম-ক অধ্যায়: নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ,
ষোড়শ অধ্যায়: মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধ,
সপ্তদশ অধ্যায়: সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ,
বিংশ অধ্যায়: বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ,
একবিংশ অধ্যায়: মানহানি,
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়: অপরাধ সংগঠনের উদ্যোগ।
৩,৬৫৭.
'ক' উন্মাদ থাকাকালীন অবস্থায় ২০১৬ সালে অগ্রক্রয়ের মামলা করার অধিকার অর্জন করে এবং ৩ বছর পর ২০১৯ সালে 'ক' সুস্থ হয়। 'ক' কখন মামলা দায়ের করতে পারবে?
  1. সুস্থ হওয়ার পর যেকোন সময়
  2. ২০২২ সালের মধ্যে
  3. ২০১৭ সালের মধ্যে
  4. ২০২৫ সালের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ৬, ৭,৮ এবং ৯ ধারায় আইনগত অপারগতার নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তির মামলা করার অধিকার সৃষ্টি হয়েছে সে যদি উক্ত সময় মামলা করতে আইনগতভাবে অপারগ থাকে, তাহলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ কিভাবে গণনা করা হবে তা ৬ থেকে ৯ ধারা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। 

তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী ৩টি বিষয়কে আইনগত অপারগতা (Legal Disability) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. নাবালকত্ব [Minority]
২. উন্মাদ [Insanity]
৩. জড়বুদ্ধি বা চরম বুদ্ধিহীনতা [Idiocy]

• আইনগত অপারগতার ক্ষেত্রে যখন মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপারগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধিতার অবসান হবে তখন থেকে।

• ধারা ৮ হচ্ছে ৬ ও ৭ ধারার আইনগত অপারগতার ব্যতিক্রম। ৮ ধারায় উল্লেখিত বিশেষ ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ৬ ও ৭ ধারায় উল্লেখিত আইনগত অপারগতা বিশ্লেষণ করতে হবে। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ৬ এবং ৭ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না-

১. অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার বলবৎকরণের মামলায়, এবং

২. আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর বা আইনগত অক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার তিন (৩) বছরের বেশী সময় তামাদির মেয়াদ থাকবে না এবং সর্বোচ্চ এই ৩ বৎসরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। অর্থাৎ যেক্ষেত্রে ৬ বা ৭ ধারায় আইনগত অপারগতার সুবিধা প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত আইনগত অক্ষমতার অবসান হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে অন্যথায় মামলা খারিজ হবে।

যেহেতু উল্লিখিত মামলা অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার সম্পর্কিত, সেক্ষেত্রে 'ক' তামাদির মেয়াদ থেকে অব্যাহতি পাবে না। তামাদি আইন,১৯০৮ এর ১ম শিডিউলের অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী, অগ্রক্রয়ের মামলা দায়েরের অধিকার অর্জনের ১ বছরের মধ্যে তা দায়ের করতে হবে। অর্থাৎ 'ক' কে ২০১৭ সালের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
৩,৬৫৮.
আবেদনপত্রে বাদীর নাম বা ঠিকানা ভুল উল্লেখ থাকলে এবং মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দেয়া হলে, উক্ত খারিজ আদেশ-
  1. ডিক্রি হিসাবে গণ্য হয় এবং আপিল করা যায়
  2. ডিক্রি হিসাবে গণ্য হয় না কিন্তু আপিল করা যায়
  3. ডিক্রি হিসাবে গণ্য হয় না এবং আপিল করা যায় না
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ধারা ২(২) এ ডিক্রির সংজ্ঞা হিসেবে দেয়া আছে:

ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় → সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে। আরজি প্রত্যাখ্যান এবং ১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না-
ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
খ) কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।

এসব ক্ষেত্রে আদালত প্রক্রিয়াগত সমস্যাগুলি সংশোধন বা সঠিকীকরণের সুযোগ দেয়। সুতরাং এগুলোকে চূড়ান্ত রায় বা ডিক্রি হিসাবে গণ্য করা হয় না। মূলত এগুলো মামলা চালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ মাত্র। সুতরাং প্রক্রিয়াগত বা আনুষ্ঠানিক ত্রুটির জন্য খারিজ ডিক্রি হিসাবে গণ্য হয় না এবং এতে আপিলও করা যায় না।
৩,৬৫৯.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ধর্ষণের অপরাধ কে আমলে গ্রহণ করতে পারে না?
  1. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  4. উল্লিখিত সবাই
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ ধারার বিধান:- স্বামীর দ্বারা ধর্ষণের অপরাধ সম্পর্কে বিশেষ বিধান:
(১) এই বিধিতে যা-ই থাকুক না কেন, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট-
(ক) ধর্ষণের অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন না, যদি যৌন সংগমটি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সহিত করে থাকে, কিংবা
(খ) ব্যক্তিকে উক্ত অপরাধের বিচার করার জন্য প্রেরণ করবেন না ।
(২) এবং এই বিধিতে যা-ই থাকুক না কেন, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যেক্ষেত্রে (১) উপধারায় উল্লেখিত অপরাধ সম্পর্কে কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন মনে করবেন, সেক্ষেত্রে উক্ত তদন্তের জন্য বা তদন্তে অংশগ্রহণের জন্য পুলিশ ইন্সপেক্টর পদের নিম্ন পদস্থ কোন অফিসারকে নিয়োগ করা যাবে না।
-----------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 561- Special provisions with respect to offence of rape by a husband
(1) Notwithstanding anything in this Code, no Magistrate except the Chief Metropolitan Magistrate or a Chief Judicial Magistrate shall-
(a) take cognizance of the offence of rape where the sexual intercourse was by a man with is wife, or
(b) send the man for trial for the offence.
(2) And, notwithstanding anything in this Code, if the Chief Metropolitan Magistrate or a Chief Judicial Magistrate deems it necessary to direct an investigation by a police-officer, with respect to such an offence as is referred to in sub-section (1), no police-officer of a rank below that of police-inspector shall be employed either to make, or to take part in, the investigation.
৩,৬৬০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারায় অভিযোগ পরিবর্তন বা সংযোজন কবে করা যেতে পারে?
  1. সাজা ঘোষণা হওয়ার পর
  2. অভিযোগ গঠনের পর
  3. অভিযোগ খারিজ করার পর
  4. রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোনো সময়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২৭ আদালতকে অভিযোগ পরিবর্তনের ক্ষমতা দিয়েছে। রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার অনুযায়ী, আদালত যেকোনো সময় রায় ঘোষণার পূর্বে অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ সংযোজন করতে পারেন। এর উদ্দেশ্য হল যদি অভিযোগে কোন ভুল বা অবহেলা থেকে থাকে বা কিছু বাদ পড়ে যায়, তাহলে তা সংশোধন করার সুযোগ দেওয়া। তবে এই পরিবর্তন বা সংযোজনের পর, আদালত তা অভিযুক্তকে পড়তে এবং বুঝিয়ে শোনাতে বাধ্য। এর ফলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রকৃতি এবং বিস্তারিত জানার অধিকারী হন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান-অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।
------------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-227: Court may alter charge:
(1) Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.
(2) Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.
৩,৬৬১.
মেট্রোরেলে বিনা টিকিটে ভ্রমণের দায়ে X অভিযুক্ত হল। তার নিকট টিকিট ছিল তা প্রমাণের দায়িত্ব _______ ।
  1. অভিযুক্তের
  2. মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের
  3. কর্তব্যরত আনসারের
  4. কর্তব্যরত পুলিশের
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১০৬ ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করেন যা তার উদ্দেশ্য বা কার্যকলাপের প্রকৃতি এবং পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তখন তার উপর সেই উদ্দেশ্য বা ইচ্ছা প্রমাণের দায় থাকে। তাই অভিযুক্তকে প্রমাণ করতে হবে যে তার কাছে টিকিট ছিল।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১০৬ অনুসারে:
"যখন কোনো সত্য বিশেষভাবে কোনো ব্যক্তির জ্ঞানের মধ্যে থাকে, তখন সেই সত্য প্রমাণের দায়িত্ব তার উপর বর্তায়।"
প্রযোজ্য উদাহরণ (Illustration b to Section 106):
"A কে রেলওয়েতে বিনা টিকিটে ভ্রমণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। A-এর উপরই প্রমাণ করতে হবে যে তার কাছে টিকিট ছিল।"

⇒ The Evidence Act, 1872, Section 106- Burden of proving fact especially within knowledge
When any fact is especially within the knowledge of any person, the burden of proving that fact is upon him.
Illustrations-
(a) When a person does an act with some intention other than that which the character and circumstances of the act suggest, the burden of proving that intention is upon him.
(b) A is charged with traveling on a railway without a ticket. The burden of proving that he had a ticket is on him.
৩,৬৬২.
সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী আদালতের অনুমান কার্যকর হওয়ার জন্য দলিলটির বয়স কত হতে হবে?
  1. কমপক্ষে ১০ বছর
  2. কমপক্ষে ২০ বছর
  3. কমপক্ষে ৩০ বছর
  4. ৫০ বছর বা তার বেশি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯০ (Section 90: Presumption as to documents thirty years old) স্পষ্টভাবে বলে—
"Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume..."
অর্থাৎ: দলিলটি কমপক্ষে ৩০ বছর পুরনো হতে হবে, এবং তা সঠিক হেফাজত (proper custody) থেকে আদালতে উপস্থাপিত হতে হবে।
→ তাহলেই আদালত অনুমান করতে পারে যে—
- দলিলের স্বাক্ষর যে ব্যক্তির নামে আছে, সেটি তাঁরই হস্তাক্ষর।
- দলিলটি যথাযথভাবে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার বিধান ত্রিশ বৎসরের পুরাতন দলিল সম্পর্কে অনুমান:
যখন কোন দলিল ত্রিশ বৎসরের পুরাতন বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় বা প্রমাণ করা হয় এবং তাহা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় যে পক্ষের হেফাজতে থাকা সঙ্গত বলিয়া আদালত মনে করেন, সেই পক্ষের হেফাজত হইতে উহা আদালতে দাখিল করা হয়; তখন আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, সেই দলিলে স্বাক্ষর এবং অন্যান্য সকল অংশ যে ব্যক্তির হস্তাক্ষ বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয়, তাহা সেই ব্যক্তিরই হস্তাক্ষর এবং যেখানে দলিলটি সম্পাদিত বা প্রত্যায়িত, সেখানে আদালত ধরিয়া লইতে পারেন যে, যে ব্যক্তির দ্বারা উহা সম্পাদিত ও সত্যায়িত বলিয়া বুঝিতে দেওয়া হয় সেই ব্যক্তির দ্বারা উহা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত ও সত্যায়িত হইয়াছে।
ব্যাখ্যা: দলিল যেস্থানে ও যে ব্যক্তির হেফাজতে থাকা স্বাভাবিক, যদি উহা সেই স্থানে এবং সেই ব্যক্তির হেফাজতে থাকে, তবে উহা উপযুক্ত হেফাজতে আছে বলিয়া বুঝাইবে। কিন্তু দলিলটি যে হেফাজতে আছে, সেখানে থাকিবার আইন সঙ্গত কারণ আছে বলিয়া যদি প্রমাণিত হয় অথবা সংশ্লিষ্ট মকদ্দমায় ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে অনুরূপ কারণ থাকা সম্ভব বলিয়া যদি বিবেচিত হয়, তবে সেই হেফাজত অনুপযুক্ত বলিয়া গণ্য হইবে না।
এই ব্যাখ্যা ৮১ ধারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
-------------------
⇒ The Evidence Act 1872, Section 90. Presumption as to documents thirty years old:
Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested.

- Explanation.-Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable.
- This explanation applies also to section 81.
৩,৬৬৩.
আদেশ ১৩ বিধি-৮ এর বিধান অনুযায়ী আদালত কতদিনের জন্য দলিল আটক রাখতে পারে?
  1. সর্বোচ্চ ৩০ দিন
  2. মামলার রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত
  3. যতদিন আদালত যথার্থ মনে করে
  4. চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
আদেশ ১৩ বিধি-৮ এর বিধান: আদালত কোন দলিল আটক করার আদেশ দিতে পারে:
এই আদেশের ৫ কিংবা ৭ বিধি অথবা ৭ম আদেশের ১৭ বিধিতে কোন বিধান নিহিত থাকা সত্ত্বেও আদালত যদি পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে বলে মনে করেন, তবে আদালত যথার্থ মনে করে এরূপ সময়ের জন্য এবং শর্ত সাপেক্ষে মোকদ্দমায় ইহার সম্মুখে পেশকৃত কোন দলিল বা বহি আটক করার এবং আদালতের কোন অফিসারের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দান করতে পারে।

Rule.-8: Court may order any document to be impounded- 
Notwithstanding anything contained in rule 5 or rule 7 of this Order or in rule 17 of Order VII, the Court may, if it sees sufficient cause, direct any document or book produced before it in any suit to be impounded and kept in the custody of an officer of the Court, for such period and subject to such conditions as the Court thinks fit. 
৩,৬৬৪.
একই ডাকাত দল H ও K এর বাড়িতে যথাক্রমে রাত ২ ও ৪ টায় ডাকাতি করলে তাদের বিরুদ্ধে কয়টা মামলা হবে?
  1. ভিকটিমের ইচ্ছা মতে
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২৩৪ ধারার বিধান- একই ধরনের অনধিক ৩টি অপরাধ ১ বছরের মধ্যে হলে একত্রে অভিযোগ গঠন করে একটি মামলায় বিচার করা যাবে। ২৩৯ ধারায় কোন কোন ব্যক্তিকে একই সাথে অভিযুক্ত করা যায় এই বিষয়ে বিধান আছে।
৩,৬৬৫.
বাংলাদেশী বা বিদেশী কোন নাগরিক বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোন জাহাজে বা বিমানে কোন অপরাধ করলে তার বিচার বাংলাদেশে করা যাবে এর বিধান আছে-
  1. দণ্ডবিধির ৪ ধারা
  2. ফৌজদারী কার্যবিধির ১৮৮ ধারা
  3. দণ্ডবিধির ২ ধারা
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৪ ধারার বিধান বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের জন্য বিধিটির আওতার সম্প্রসারণ:- নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ দ্বারা সংঘটিত কোন অপরাধের ক্ষেত্রেও এই বিধির বিধানগুলো প্রয়োগযোগ্য হবে;
(১) বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত কোন জায়গায় বাংলাদেশের নাগরিক; 
(৪) বাংলাদেশে রেজিষ্ট্রিকৃত যে কোন জাহাজ বা বিমান পোতে আরোহী যে কোন ব্যক্তি উক্ত জাহাজ কিংবা বিমান পোতে যেখানেই থাকুক না কেন।

♦ ব্যাখ্যা:- এই ধারা মতে যে কার্য বাংলাদেশের মধ্যে সংঘটিত হলে এই বিধি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত তা বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত হলে তার 'অপরাধ' কথাটির আওতাভুক্ত হবে।

♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৮৮ ধারার বিধান বাংলাদেশের বাহিরে সংঘটিত অপরাধের দায়: যখন বাংলাদেশের কোন নাগরিক বাংলাদেশের সীমার বাহিরে কোন স্থানে কোন অপরাধ করে; অথবা যখন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে নিবন্ধিকৃত কোন জাহাজ বা উড়োজাহাজে, তাহা যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, কোন অপরাধ করে;
তখন বাংলাদেশের যে স্থানেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে সে স্থানে অপরাধ সংঘটন করেছে মর্মে ধরে নিয়ে সে অনুসারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

♦ দণ্ডবিধির ২ ধারার বিধান বাংলাদেশের মধ্যে সংঘটিত অপরাধ এর সাজা:- বাংলাদেশের মধ্যে এই বিধির আওতায় প্রণীত বিধানের পরিপন্থি কোন কার্য করলে অথবা বিধানের নির্দেশ অনুযায়ী কোন কার্য না করলে প্রত্যেক ব্যক্তি এই বিধির আওতায় সাজার জন্য দায়ী হবেন এবং অপর কোনভাবে নয়।
৩,৬৬৬.
বাংলাদেশে আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টির অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন
  3. ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা- রাষ্ট্রদ্রোহিতা:
কোন ব্যক্তি যদি উচ্চারিত বা লিখিত কথা বা উক্তি দ্বারা, অথবা চিহ্নাদি দ্বারা, অথবা দৃশ্যমান প্রতীকের সহায়তায় অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশে আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা করার চেষ্টা করে অথবা বৈরিতা উদ্রেক করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন অথবা যে কোন কম মেয়াদের কারাদণ্ডে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে অথবা তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে, অথবা তাকে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

Section 124A- Sedition:
Whoever by words, either spoken or written, or by signs, or by visible representation, or otherwise, brings or attempts to bring into hatred or contempt, or excites or attempts to excite disaffection towards, the Government established by law shall be punished with imprisonment for life or any shorter term, to which fine may be added, or with imprisonment which may extend to three years, to which fine may be added, or with fine.
৩,৬৬৭.
চুরির সংজ্ঞা অনুসারে, নিম্নলিখিত কোনটি চুরির অপরাধ গঠনের জন্য অপরিহার্য?
  1. অস্থাবর সম্পত্তি
  2. অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্য
  3. দখলকারীর সম্মতি ব্যতীত স্থানান্তর
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারা অনুযায়ী, চুরি সংঘটিত হওয়ার জন্য নিচের সব উপাদানগুলো একত্রে থাকতে হয়:
- অস্থাবর সম্পত্তি (Movable Property): কেবল অস্থাবর সম্পত্তি চুরির বিষয় হতে পারে।
- অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্য (Dishonest Intention): দোষী ব্যক্তির মনে থাকতে হবে অসাধু উদ্দেশ্য।
- দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত স্থানান্তর (Without Consent of Possessor): চুরি তখনই ঘটে, যখন দখলকারীর স্পষ্ট বা পরোক্ষ সম্মতি ছাড়া সম্পত্তিকে সরানো হয়।
এই তিনটি উপাদানের যেকোনো একটি না থাকলে চুরি সংঘটিত হয় না।
- তাই, এই প্রশ্নে “উপরের সবকটি” একত্রে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে সঠিক উত্তর।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মুহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বস্তু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লিখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-378: Theft:
- Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.- A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.- A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.- A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.- A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.- The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.
৩,৬৬৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না -
  1. দণ্ডমূলক প্রতিকারে
  2. চুক্তি নয় এমন প্রতিকারে
  3. রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রতিকারে
  4. উল্লিখিত সব ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ প্রশ্নে উল্লিখিত তিনটি ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না। 

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪ ধারামতে কোন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না-
i) চুক্তি নয় এমন কোন অঙ্গীকারের অধীন প্রতিকারে, এবং
ii) ১৯০৮ সালের রেজিষ্ট্রেশন আইনের অধীন প্রতিকারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৭ ধারামতে দণ্ডমূলক আইন (Penal Laws) বলবৎ বা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়।
- অর্থাৎ দণ্ডমূলক আইনের (Penal Laws) ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়।

 ⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (Specific Relief Act) এর ৫ ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের পদ্ধতিগুলো নিম্নরূপ:
১) দখল প্রদান: সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদান।
২) বাধ্যকরণ আদেশ: কোনো পক্ষকে নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য করার আদেশ।
৩) নিষেধাজ্ঞা আদেশ: কোনো পক্ষকে নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে বিরত রাখার আদেশ।
৪) ঘোষণামূলক রায়: ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে।
৫) রিসিভার নিয়োগ: সম্পত্তি বা বিষয়ের তত্ত্বাবধানের জন্য রিসিভার নিয়োগ।

- এই ৫টি উপায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানের জন্য প্রযোজ্য।
৩,৬৬৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা অনুসারে, চুক্তি রদ করার জন্য আদালতের সিদ্ধান্ত কীসের উপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়?
  1. চুক্তিটি বাতিলযোগ্য বা সমাপ্তিযোগ্য কিনা
  2. চুক্তিটি অবৈধ কিনা এবং চুক্তির মুখপত্রে তা স্পষ্ট না হলে
  3. ক্রেতা বা ইজারাদার চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে কিনা
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা অনুসারে, আদালত লিখিত চুক্তি রদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নিম্নলিখিত তিনটি মূল ভিত্তির উপর:
১) চুক্তিটি বাতিলযোগ্য (Voidable) বা সমাপ্তিযোগ্য (Terminable) কিনা:
- যদি চুক্তি আইনত বাতিলযোগ্য বা পক্ষগণ একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করতে পারে, তবে আদালত রদের আদেশ দিতে পারেন।
উদাহরণ: যদি প্রতারণা, বলপ্রয়োগ, অবৈধ প্রভাব বা ভুল বুঝাবুঝির কারণে চুক্তি করা হয়ে থাকে, তবে এটি বাতিলযোগ্য হতে পারে।
২) চুক্তিটি অবৈধ কিনা এবং চুক্তির মুখপত্রে তা স্পষ্ট না হলে:
- যদি চুক্তিটি অবৈধ হয় কিন্তু তা চুক্তির বাহ্যিক ভাষায় স্পষ্ট না থাকে, তাহলে আদালত এটি রদের আদেশ দিতে পারে।
বিশেষত, যদি বিবাদী (Defendant) পক্ষ বেশি দোষী হয়, তবে চুক্তি রদের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
উদাহরণ: যদি একজন উকিল (A) তার ক্লায়েন্ট (B)-কে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি স্থানান্তর করতে বাধ্য করে, তাহলে B আদালতে গিয়ে চুক্তি রদের দাবি করতে পারেন।
৩) ক্রেতা বা ইজারাদার চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে:
- যদি ক্রেতা বা ইজারাদার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ না করেন বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত লঙ্ঘন করেন, তাহলে আদালত চুক্তি রদ করতে পারেন।
উদাহরণ: একটি জমি বিক্রির চুক্তিতে ক্রেতা যদি সময়মতো মূল্য পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তবে বিক্রেতা আদালতে গিয়ে চুক্তি রদের আবেদন করতে পারেন।

যেহেতু এই তিনটি কারণই আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, তাই "ঘ) উপরের সবকটি" সঠিক উত্তর।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 35. When rescission may be adjudged:
Any person interested in a contract in writing may sue to have it rescinded, and such rescission may be adjudged by the Court in any of the following cases, namely:- 
(a) where the contract is viodable or terminable by the plaintiff; 
(b) where the contract is unlawful for causes not apparent on its face, and the defendant is more to blame than the plaintiff; 
(c) where a decree for specific performance of a contract of sale, or of a contract to take a lease, has been made, and the purchaser or lessee makes default in payment of the purchase-money or other sums which the Court has ordered him to pay. 

When the purchaser or lessee is in possession of the subject-matter, and the Court finds that such possession is wrongful, the Court may also order him to pay to the vendor or lessor the rents and profits, if any, received by him as such possessor. 
In the same case, the Court may, by order in the suit in which the decree has been made and not complied with, rescind the contract, either so far as regards the party in default, or altogether as the justice of the case may require. 

Illustrations:
to (a)- 
A sells a field to B. There is a right of way over the field of which A has direct personal knowledge, but which he conceals from B. B is entitled to have the contract rescinded.to (b)- 
A, an Advocate, induces his client B, a Hindu widow, to transfer property to him for the purpose of defrauding B's creditors. Here the parties are not equally in fault, and B is entitled to have the instrument of transfer rescinded.
৩,৬৭০.
মহানগর এলাকায় কে অপরাধ আমলে নিতে পারে?
  1. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. খ এবং গ উভয়ে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ এ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।কোন কোন ম্যাজিস্ট্রেট,কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধ আমলে নিতে পারে সেই সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• এই ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ অপরাধ আমলে নিতে পারে-

- মহানগর এলাকায়

১. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
২. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

- মহানগর এলাকার বাইরে

১. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
২. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অথবা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেট
৩,৬৭১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ ধারা অনুসারে, আপিলের ক্ষেত্রে পরপর চলমান একাধিক দণ্ড কীভাবে বিবেচিত হবে?
  1. শুধুমাত্র সর্বোচ্চ দণ্ড কার্যকর হবে
  2. পৃথক দণ্ড হিসেবে গণ্য হবে
  3. একত্রিতভাবে একটি দণ্ড হিসেবে গণ্য হবে
  4. শুধুমাত্র প্রথম দণ্ড কার্যকর হবে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ ধারার বিধান- একই বিচারে কতিপয় অপরাধে দোষী সাব্যস্তের ক্ষেত্রে দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ:
(১) যখন কোন ব্যক্তি একই বিচারে দুই বা ততোধিক অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে দণ্ডবিধির ৭১ ধারার ব্যবস্থা সাপোক্ষে আদালত উক্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য নির্ধারিত ও আদালতের ক্ষমতার অন্তর্ভূক্ত শাস্তি প্রদান করতে পারেন; এরূপ শান্তি কারাদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে আদালত যদি একই সাথে চলবে মর্মে নির্দেশ প্রদান না করেন, তাহলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একটির পর অপরটি চলবে।

(২) আদালত একটিমাত্র অপরাধের জন্য যে শাস্তি দিতে পারেন, তার চেয়ে একাধিক দণ্ড পর পর চলবার ক্ষেত্রে মোট শাস্তির পরিমাণ যদি অধিক হয়, তখন কেবলমাত্র ইহার জন্য উক্ত আদারতকে বিচারের জন্য অপরাধীকে উচ্চতর আদালতে পাঠাতে হবে না।
 
তবে শর্ত থাকে যে,
(ক) দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদঃ কোনভাবেই এরূপ ব্যক্তিকে চৌদ্দ বৎসরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে না।
(খ) কোন ম্যাজিস্ট্রেট যদি এরকমের মামলার বিচার করেন, তাহলে মোট শাস্তির পরিমাণ উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তার সাধারণ এখতিয়ারে যে শাস্তি প্রদান করতে পারেন তার দ্বিগুণের বেশী হবে না।
(৩) আপীলের উদ্দেশ্যে এই ধারার বিধান অনুসারে একই বিচারে বিভিন্ন অপরাধের জন্য প্রদত্ত পর পর চলার একাধিক দণ্ডের মোট পরিমাণকে একটিমাত্র দণ্ড মর্মে ধরে নিতে হবে।
৩,৬৭২.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২৪৯ ধারা মতে মামলার কার্যক্রম বন্ধ (Stop) নিম্নোক্ত কোন মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. GR
  2. CR
  3. Non-GR
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৯ নালিশ ব্যতীত অন্যান্য মামলার যেকোনো পর্যায়ে কোন রায় ঘোষণা না করে, কার্যক্রম বন্ধের ক্ষমতা দিয়েছে।
উল্লেখ আছে, নালিশ ব্যতিরেকে অন্যভাবে দায়ের করা যে কোন মোকদ্দমায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি পূর্বে নিয়ে অন্য যেকোনো জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার যে কোন পর্যায়ে বেকসুর খালাস অথবা দণ্ডের কোন রায় ঘোষণা না করে, কার্যবাহ বন্ধ করে দিতে পারেন এবং অতঃপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুক্তি (Release) দিতে পারবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-249: Power to stop proceedings when no complainant:
-In any case instituted otherwise than upon complaint, a Metropolitan Magistrate, a Magistrate of the first class, or with the previous sanction of the Chief Judicial Magistrate, any other Judicial Magistrate, may for reasons to be recorded by him, stop the proceedings at any stage without pronouncing any judgment either of acquittal or conviction, and may thereupon release the accused.
৩,৬৭৩.
দণ্ডবিধির ৪২৪ ধারা কোন অপরাধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ
  2. প্রতারণামূলক সম্পত্তি অপসারণ
  3. সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সংক্রান্ত
  4. সরকারি তহবিল আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৪২৪ ধারা: অসাধু বা প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি অপসারণ বা গোপন করা:
যে ব্যক্তি অসাধু বা প্রতারণামূলকভাবে নিজের বা অন্যকারো সম্পত্তি গোপন করে অথবা অপসারণ করে, অথবা এমন কাজে সহায়তা করে যা সম্পত্তি গোপন বা অপসারণে সহায়তা করে, অথবা নিজের কোনো দাবি বা দাবির ছেড়ে দেয় যা তার অধিকারভুক্ত, তাকে দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদের জন্য কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

[Whoever dishonestly or fraudulently conceals or removes any property of himself or any other person, or dishonestly or fraudulently assists in the concealment or removal thereof, or dishonestly releases any demand or claim to which he is entitled, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.]
৩,৬৭৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৬ষ্ঠ কলামে কী উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. দণ্ডবিধির অধীন উল্লিখিত শাস্তি
  2. অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য কিনা
  3. আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ
  4. অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৬ষ্ঠ কলামে "অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা" উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি বোঝায় যে, এই কলামে একটি নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে এটি নির্ধারণ করা হয় যে, অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (অর্থাৎ, যার জন্য অভিযুক্ত পক্ষ এবং ভুক্তভোগী পক্ষ চুক্তির মাধ্যমে আপস করতে পারে) কিনা।
মীমাংসাযোগ্য অপরাধগুলো সাধারণত অপরাধী এবং ভুক্তভোগীর মধ্যে আপস বা সমঝোতা করার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায়, যার ফলে মামলা তুলে নেওয়া হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের ৮টি কলাম নিম্নরূপ দেওয়া হলো:
১ম কলাম - পেনাল কোডের অধীন ধারাসমূহ,
২য় কলাম - অপরাধ,
৩য় কলাম - আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ (পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে কি না),
৪র্থ কলাম - প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা,
৫ম কলাম - অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য,
৬ষ্ঠ কলাম - অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা,
৭ম কলাম - দণ্ডবিধির অধীনে উল্লিখিত শাস্তি,
৮ম কলাম - যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য।
৩,৬৭৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১১৯ অনুযায়ী, শুধুমাত্র তদন্তের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি পুলিশি হেফাজতে থাকেন, তাহলে তাকে _____ দেওয়া হবে।
  1. মুক্তি
  2. খালাস
  3. জামিন
  4. অব্যাহতি
ব্যাখ্যা
ধারা ১১৯: অভিযোগকৃত ব্যক্তির অব্যাহতি-
যদি ধারা ১১৭ অনুযায়ী তদন্তে প্রমাণ না হয় যে শান্তি রক্ষা করা বা ভালো আচরণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বন্ডে স্বাক্ষর করানো জরুরি, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট এই বিষয়ে নথিতে উল্লেখ করবেন। যদি সেই ব্যক্তি শুধুমাত্র তদন্তের উদ্দেশ্যে হেফাজতে থাকেন, তাহলে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। যদি ওই ব্যক্তি হেফাজতে না থাকেন, তবে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

Discharge of person informed against-
If, on an inquiry under section 117, it is not proved that it is necessary for keeping the peace or maintaining good behaviour, as the case may be, that the person in respect of whom the inquiry is made, should execute a bond, the Magistrate shall make an entry on the record to that effect, and if such person is in custody only for the purposes of the inquiry, shall release him, or, if such person is not in custody, shall discharge him.
৩,৬৭৬.
তামাদির মেয়াদ গণনায় ইংরেজি ক্যালেন্ডার ব্যবহার হবে- তামাদি আইনের কত ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ১৩ ধারা
  2. ২৫ ধারা
  3. ২২ ধারা
  4. ২৮ ধারা
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনে ধারা ২৫ উল্লেখ করে,

তামাদি আইন, ১৯০৮ এর সকল সময় গণনা করা হবে গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জীকা বা ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে।

Section 25- Computation of time mentioned in instruments

All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar. 
 
Illustrations 
(a) A Hindu makes a promissory note bearing a Native date only, and payable four months after date. The period of limitation applicable to a suit on the note runs from the expiration of four months after date computed according to the Gregorian calendar. 
(b) A Hindu makes a bond, bearing a Native date only, for the repayment of money within one year. The period of limitation applicable to a suit on the bond runs from the expiration of one year after date computed according to the Gregorian Calendar.
৩,৬৭৭.
দণ্ডবিধির কত ধারায় "আঘাত" (Hurt) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. ধারা ৩১৯
  2. ধারা ৩২০
  3. ধারা ৩২১
  4. ধারা ৩২২
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১৯ ধারা অনুসারে "আঘাত" (Hurt) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি অন্য কাউকে শারীরিক ব্যথা, রোগ বা শারীরিক দুর্বলতা সৃষ্টি করে, তাকে "আঘাত" হিসেবে গণ্য করা হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section- 319. Hurt: - Whoever causes bodily pain, disease or infirmity to any person is said to cause hurt.
৩,৬৭৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার বিধান কার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য নয়?
  1. ব্যক্তি
  2. সরকার
  3. তৃতীয় পক্ষ
  4. সম্পত্তির দাবিদার
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭–এর ধারা ৯ অনুসারে,
- “No suit under this section shall be brought against the Government.”
- অর্থাৎ, এই ধারার অধীনে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।
- এই ধারা মূলত একটি দখল পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা দেয়—যখন কোনো ব্যক্তি তার অসম্মতিতে, আইনগত পন্থা ব্যতিরেকে, স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হন, তখন তিনি কেবলমাত্র দখল পুনরুদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করতে পারেন, স্বত্ব প্রমাণের প্রয়োজন নেই।
- তবে, আইন পরিষ্কারভাবে বলেছে যে, এই সুবিধা সরকারের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য নয়।
এর কারণ হলো, সরকারের বিরুদ্ধে কোনো সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলে তা ভিন্ন আইনি পদ্ধতিতে মোকাবিলা করতে হয়, যেমন- মালিকানা দাবি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান: স্থাবর সম্পত্তির দখল চ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
- যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
- সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো প্রয়োগযোগ্য নেই।
- আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।
------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-9: Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
- Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
- No suit under this section shall be brought against the Government.
- No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.

৩,৬৭৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৫ অনুযায়ী, সত্যতা প্রতিপাদনকারী ব্যক্তি কোন তথ্যগুলো উল্লেখ করবেন?
  1. বিচারকের নাম
  2. তার নাম এবং ঠিকানা
  3. স্বাক্ষরিত তারিখ এবং স্থান
  4. আরজির সমস্ত বিবরণ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৫- প্লিডিংস সত্যাখ্যান বা সত্যতা প্রতিপাদন [Verification of Pleadings]-
সত্যাখ্যান হলো মামলার পক্ষসমূহ যেমন আরজির ক্ষেত্রে বাদী এবং লিখিত জবাবের ক্ষেত্রে বিবাদী আরজি বা লিখিত জবাবে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা তার জানা বলে স্বীকার করা। আরজির নিচে মোকদ্দমার বাদী এবং লিখিত জবাবের নিচে বিবাদী সত্যাখ্যান (সত্যতা প্রতিপাদন) করবে অথবা আদালত সন্তষ্ট হলে, অন্য কোন ব্যক্তি যে মোকদ্দমার বিষয় সম্পর্কে জানে, সে আরজি বা লিখিত জবাবে সত্যাখ্যান করতে পারে। যে ব্যক্তি সত্যাখ্যান করছে সে সত্যতা প্রতিপাদন অংশে স্বাক্ষর করবে এবং যে দিন এবং স্থানে সত্যাখ্যান স্বাক্ষর করা হয়েছিল তা উল্লেখ করবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৫ আরজি জবাব সত্যতা প্রতিপাদন:
(১) বর্তমানে বলবৎ যেকোন আইনে অন্যরূপ যে বিধান আছে, তা ব্যতিত প্রত্যেক আরজি জবাবের নিম্নে পক্ষ বা আরজি জবাব দানকারী পক্ষদের মধ্যে একজন অথবা অপর কোন ব্যক্তি, যিনি মামলার ঘটনাবলীর সাথে পরিচিত বলে আদালতের সন্তুষ্টিতে প্রমাণিত, তৎকর্তৃক আরজি জবাবের সত্যতা প্রতিপাদন করতে হবে।
(২) সত্যতা প্রতিপাদনকারী ব্যক্তি আরজি জবাবের দফার সংখ্যা উল্লেখ পূর্বক নির্দিষ্ট করে বলবেন যে কোনগুলি সত্যতা তিনি স্বজ্ঞানে প্রতিপাদন করছেন এবং কোনগুলির সত্যতা তিনি অপরের নিকট হতে প্রাপ্ত ও তার বিশ্বাস মতে সত্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিপাদন করেছেন।
(৩) যিনি সত্যতা প্রতিপাদন করবেন, তিনি উহাতে স্বাক্ষর দিবেন এবং যে তারিখে ও স্থানে উহা স্বাক্ষরিত হলো তা উল্লেখ করবেন।
--------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-6, Rule-15. (1) Save as otherwise provided by any law for the time being in force, every pleading shall be verified at the foot by the party or by one of the parties pleading or by some other person proved to the satisfaction of the Court to be acquainted with the facts of the case.
(2) The person verifying shall specify, by reference to the numbered paragraphs of the pleading, what he verifies of his own knowledge and what he verifies upon information received and believed to be true.
(3) The verification shall be signed by the person making it and shall state the date on which and the place at which it was signed.
৩,৬৮০.
গ্রাম আদালত গঠন হওয়ার অনধিক কত দিনের মধ্যে পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসার মাধ্যমে বিচার্য বিষয় নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করবে?
  1. ৫ দিনের মধ্যে
  2. ৭ দিনের মধ্যে
  3. ১৫ দিনের মধ্যে
  4. ৩০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬: ধারা ৬খ- প্রাক বিচার:

(১) ধারা ৫ এর অধীন গ্রাম আদালত গঠিত হইবার অনধিক ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে গ্রাম আদালতের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হইবে এবং উক্ত অধিবেশনে গ্রাম আদালত উভয় পক্ষের শুনানী করিয়া মামলার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করিবে এবং পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসার মাধ্যমে বিচার্য বিষয় নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী আপোষ বা মীমাংসার মাধ্যমে বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করা হইলে, উক্তরূপ উদ্যোগ গ্রহণের তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন বিচার্য বিষয় নিষ্পত্তি হইলে, মীমাংসার শর্তাবলী উল্লেখপূর্বক উভয়পক্ষ যৌথভাবে একটি আপোষনামা স্বাক্ষর বা বাম হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ প্রদান করিবেন এবং সাক্ষী হিসাবে উভয়পক্ষের মনোনীত সদস্যগণ আপোষনামায় স্বাক্ষর করিবেন।

(৪) উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী আপোষনামা স্বাক্ষরিত হইলে, গ্রাম আদালত নির্ধারিত ফরমে উহার আদেশ লিপিবদ্ধ করিবে এবং উক্তরূপ আদেশ গ্রাম আদালতের আদেশ বা ডিক্রী বলিয়া গণ্য হইবে।

(৫) এই ধারার অধীন আপোষনামার মাধ্যমে বিচার্য বিষয় নিষ্পত্তি করা হইলে উহার বিরুদ্ধে আপীল বা রিভিশন দায়ের করা যাইবে না।
৩,৬৮১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা অনুযায়ী আদালত দলিল বাতিলের ক্ষেত্রে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. ধারা ৮
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ৩১
  4. ধারা ৩৯
ব্যাখ্যা
• বিবেচনামূলক ক্ষমতা বলতে বোঝায় যে, আদালত আইনত বাধ্য নয় কিন্তু উভয়পক্ষের বিরোধীয় বিষয়ে যুক্তি-প্রমাণে সন্তুষ্ট হয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন দেওয়ানি আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:

১. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২);
২. দলিল সংশোধন (ধারা ৩১);
৩. বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিল বাতিল (ধারা ৩৯);
৪. ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২);
৫. রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪);
৬. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৪);
৭. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৫);
৮. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৩)।

আদালত ২টি ক্ষেত্রে Discretionary Power প্রয়োগ করতে পারে না:
১. সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা ৮);
২. স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৯)।
৩,৬৮২.
‘ক’ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নকল করে তার চারিত্রিক সনদে নিজে চেয়ারম্যানের নামে স্বাক্ষর দেয়। ‘ক’ কোন অপরাধ করেছে?
  1. জালিয়াতি
  2. নকল
  3. ক্ষতি
  4. চুরি
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী যে সব কাজ জালিয়াতি বলে গণ্য হবে তা হলো-
(i) কোন ব্যক্তি নিজে যদি এই উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর করে যে, তার স্বাক্ষর বা নামটি একই নামের অন্য কোন ব্যক্তির বলে চালিয়ে দেবেন;
(ii) যখন কোন ব্যক্তি অন্য কারো স্বাক্ষর জালিয়াতি করে স্বাক্ষর করে;
(iii) যদি কোন ব্যক্তি কোন বিলে পৃষ্ঠাঙ্কন করে এই উদ্দেশ্যে যে, তা অন্য কেউ করেছে বলে চালিয়ে দেবেন:
(iv) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে তার নামে কোন সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নেয় কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মূলত তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা; অথবা
(v) যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির কাছে সম্পদ গচ্ছিত রাখে এবং সে উদ্দেশ্য কোন প্রমিসরি নোট তৈরি করে।
৩,৬৮৩.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪৬(১)-এর অধীনে জেরায় (cross-examination) জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা
  2. পক্ষের মোটিভ প্রমাণ করা
  3. সাক্ষীর সত্যবাদিতা পরীক্ষা করা
  4. অপরাধের বিবরণ বর্ণনা করা
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৪৬(১) অনুসারে, জেরায় সাক্ষীকে জিজ্ঞাসা করা যায় এমন প্রশ্ন যা তার সত্যবাদিতা (veracity) পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে হয়। এর মাধ্যমে সাক্ষীর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হয়, যাতে তার দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়। অন্য অপশনগুলো (ডকুমেন্ট উপস্থাপন, মোটিভ প্রমাণ বা অপরাধের বিবরণ) ধারা ১৪৬-এর অধীনে জেরার প্রশ্নের উদ্দেশ্য নয়; এগুলো অন্যান্য ধারা বা প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারার বিধান জেরায় আইনসঙ্গত প্রশ্ন: যখন সাক্ষীকে জেরা করা হয় তখন ইতিপূর্বে উল্লেখিত প্রশ্নসমূহ ছাড়াও এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যা দ্বারা:
১) তার সত্যবাদিতা পরীক্ষা করা যায়।
২) তার পরিচয় ও মর্যাদা জানা যায়, অথবা
৩) তার চরিত্রের প্রতি আঘাত করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়, যদিও এরূপ প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপরাধের সাথে জড়িত হতে পারে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির সম্ভাবনা থাকে।
তবে শর্ত থাকে যে, ধর্ষণের অপরাধ বা ধর্ষণের চেষ্টার জন্য একটি মামলায়, দফা (৩) এর অধীনে ভিক্টিমের সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, এই ধরনের প্রশ্ন শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি নিয়েই জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যদি এটি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়।
----------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section-146. Questions lawful in cross-examination:
 When a witness is cross-examined, he may, in addition to the questions hereinbefore referred to, be asked any questions which tend –
(1) to test his veracity,
(2) to discover who he is and what is his position in life, or
(3) to shake his credit, by injuring his character, although the answer to such questions might tend directly or indirectly to criminate him or might expose or tend directly or indirectly to expose him to a penalty or forfeiture:
Provided that in a prosecution for an offence of rape or attempt to rape, no question under clause (3) can be asked in the cross-examination as to general immoral character or previous sexual behaviour of the victim:
Provided further that such question can only be asked with the permission of the Court, if it appears to the Court necessary for the ends of justice.

৩,৬৮৪.
কালাম এর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন দায়রা আদালত এবং উক্ত আদেশ অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করে। হাইকোর্ট বিভাগ _______
  1. কালামকে খালাস দিতে পারে।
  2. উক্ত আদেশ বাতিল করে নতুন দণ্ডাদেশ দিতে পারে।
  3. উক্ত দণ্ডাদেশ বহাল রাখতে পারে।
  4. উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৩৭৬ ধারা মোতাবেক ৩৭৪ ধারা অনুসারে পেশকৃত কোন মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ __
ক) দণ্ডাদেশ অনুমোদন অথবা আইনানুসারে সমর্থনীয় অন্য কোন দণ্ডাদেশ দিতে পারবেন, অথবা
খ) অপরাধী সাব্যস্ত করার আদেশ বাতিল করতে পারবেন এবং আসামীকে এমন কোন অপরাধের জন্য অপরাধী সাব্যস্ত করতে পারবেন যে অপরাধের জন্য দায়রা আদালত তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে পারবেন অথবা একই অভিযোগ বা সংশোধিত অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন বিচারের আদেশ দিতে পারবেন, অথবা
গ) আসামীকে খালাস দিতে পারবেন, তবে শর্ত এই যে, আপীলের জন্য নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা উক্ত সময়ের মধ্যে আপীল পেশ করা হলে উহ নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ধারা অনুসারে অনুমোদনের আদেশ দেয়া যাবে না।
৩,৬৮৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬১-এর অধীনে পুলিশ কর্মকর্তা কী করতে পারেন?
  1. সাক্ষীকে কারাগারে পাঠাতে পারেন
  2. সাক্ষীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারেন
  3. সাক্ষীকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন
  4. সাক্ষীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬১ অনুযায়ী,
পুলিশ কর্মকর্তা কোনো মামলার তদন্তের সময় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন এবং তাদের বিবৃতি লিপিবদ্ধ করতে পারেন। এই ধারা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:

(১) পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী জিজ্ঞাসাবাদ:
যে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি এই অধ্যায়ের অধীনে তদন্ত করছেন, অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিম্নপদস্থ না এমন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, মামলার প্রয়োজন অনুযায়ী মৌখিকভাবে যে কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। সেই ব্যক্তিকে মামলার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত বলে মনে করলে তার কাছে তথ্য জানতে চাওয়া যায়।

(২) প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা:
সাক্ষী ব্যক্তি মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য, তবে এমন কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নয় যা তাকে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগের মুখোমুখি করতে পারে, কিংবা তাকে কোনো জরিমানা, দণ্ড বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

(৩) বিবৃতি লিপিবদ্ধকরণ:
পুলিশ কর্মকর্তা চাইলে সাক্ষী বা জিজ্ঞাসাবাদকৃত ব্যক্তির বিবৃতি লিখিত আকারে সংরক্ষণ করতে পারেন। যদি তিনি তা করেন, তবে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা বিবৃতি তৈরি করতে হবে।
৩,৬৮৬.
সংশোধিত লিখিত চুক্তি কখন সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেতে পারে?
  1. উক্ত চুক্তি বাদীর বিরুদ্ধে হলে
  2. বাদী আরজিতে প্রার্থনা করলে
  3. বিবাদী তার লিখিত জবাবে প্রার্থনা করলে
  4. উক্ত চুক্তি বিবাদীর বিরুদ্ধে হলে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৪ ধারা: সংশোধিত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরীকরণ:
লিখিত চুক্তি প্রথমত সংশোধিত হতে পারে এবং যদি বাদী আরজিতে প্রার্থনা করে থাকে এবং আদালত তা যুক্তিযুক্ত মনে করেন, তবে পরে তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেতে পারে।

উদাহরণ:
'ক' তার অ্যাটর্নি 'খ'-কে খরচের টাকার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট অর্থ প্রদানের জন্য লিখিতভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তিতে মক্কেলের নাম ও অধিকার ভুলভাবে অন্তর্ভূক্ত হয়। যদি সঠিকভাবে তা ব্যাখ্যা করা হয়, তবে তা চুক্তির অধীনে সকল অধিকার হতে 'খ'-কে বঞ্চিত করবে। যদি আদালত উপযুক্ত মনে করেন তবে 'খ' চুক্তি সংশোধন করার এবং নির্দিষ্ট অংকের অর্থ প্রদানের আদেশ পাবার অধিকারী।

Section 34- Specific enforcement of rectified contract:
A contract in writing may be first rectified and then, if the plaintiff has so prayed in his plaint and the Court thinks fit, specifically enforced.

Illustration:
A contracts in writing to pay his attorney, B, a fixed sum in lieu of costs. The contract contains mistakes as to the name and rights of the client, which, if construed strictly, would exclude B from all rights under it. B is entitled, if the Court thinks, fit, to have it rectified, and to an order for payment of the sum, as if at the time of its execution it had expressed the intention of the parties.
৩,৬৮৭.
কোন ব্যক্তিকে ফৌজদারী অপরাধে অভিযুক্ত করতে নিচের কোনটি থাকতে হয়?
  1. Mens Rea
  2. Actus Rea
  3. Res Gestae
  4. A & B Both
ব্যাখ্যা
⇒ কোন ব্যক্তিকে ফৌজদারী অপরাধে অভিযুক্ত করতে প্রধানত ২টি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হয়।
      (i) দোষযুক্ত মন বা অপরাধী মন [Mens Rea] এবং
      (ii) দোষাবহ কার্য বা অপরাধজনক কার্য [Actus Rea]

⇒ Actus reas and Mens rea:

 ⇒
'Actus reas' এর আভিধানিক অর্থ 'দোষাবহ কার্য'। এটি অপরাধের একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান যা কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার পূর্বে অবশ্যই প্রমাণ করতে হয়। 'Actus reas' অভিযুক্ত ব্যক্তির মানসিক অবস্থার তুল্য নয়; অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা হবে নিছক একটি কার্য, যেমন- সম্পত্তি আত্মসাৎ করা চুরিরূপ কার্য এবং এর সাথে সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি- যেমন, সম্পত্তিটির মালিক ব্যতীত অন্য কেউ যুক্ত থাকবে।

⇒  “Mens rea' শব্দের অর্থ ‘অপরাধী মন বা দোষযুক্ত মন' (guilty mind).
⇒  অপরাধ সংঘটনের সময়ে আসামীর মনের অবস্থা “Mens rea' নামে পরিচিত। এটা ‘অপরাধীর দুষ্টমন' নামেও পরিচিত। একজন অপরাধী শুধু তার অপরাধজনক কার্যের জন্যই দায়ী হয় না বরং সে তার কার্যের সাথে তার অপরাধী মন বা অপরাধ করার ইচ্ছা বা উদ্দেশ্যের জন্যই বিশেষভাবে দায়ী হয়ে থাকে। এই অপরাধী মন বা অপরাধ করার ইচ্ছাকে বলা হয় mens rea বা guilty mind.

⇒ Res Gestae বা 'একই কার্যের অংশ'- Res Gestae (রেস গেস্টাই) অর্থ হলো একই কাজের অংশ বিশেষ বা একই Transaction এ সংগঠিত অনেকগুলো ঘটনা।
⇒ অর্থাৎ কোন একটি কাজ করতে গিয়ে উক্ত কাজের ধারাবাহিকতায় অন্য যেসব কাজ করা হয় বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা তা ঐ একই কাজের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে Res Gestae বলে পরিচিত।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬ থেকে ৯ এবং ১৪ ধারায় Res Gestae (রেস গেস্টাই) নীতির বিধান রয়েছে।
৩,৬৮৮.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার অধীনে শনাক্তকরণ প্যারেড (Test Identification Parade) একটি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ১৮
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় শনাক্তকরণ প্যারেড বা Test Identification Parade-কে সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারার বিধান: প্রাসঙ্গিক ঘটনার ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ঘটনা (Facts necessary to explain or introduce relevant facts): যে সমস্ত বিষয় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ইঙ্গিতবহ অনুমানকে সমর্থন বা অপ্রমাণ করে, অথবা বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়কে ব্যাখ্যা করে বা পরিচয় করায়, অথবা কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রাসঙ্গিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে, অথবা বিচার্য প্রাসঙ্গিক বিষয়টি ঘটার সময় ও স্থান নির্দেশ করে, অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় ঘটনাকারী ব্যক্তির সম্পর্কে আলোকপাত করে, সেই সময় বিষয়ের যতখানি সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রয়োজন ততখানি প্রাসঙ্গিক।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় Test Identification Parade (শনাক্তকরণ প্যারেড) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে করে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সাক্ষী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত -
১. কোন সম্পত্তি সনাক্ত করতে সক্ষম হয় বা,
২. কোন ব্যক্তি যেমন আসামীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

⇒ প্রাসঙ্গিক ঘটনা ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করার জন্য যে সকল ঘটনা আবশ্যক সেগুলো প্রাসঙ্গিক। এ মূল ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বা ঐ ঘটনা, তার স্থান, কাল ব্যাখ্যা করতে পারে এমন ঘটনাকে ৯ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

⇒ এজাহারে অনেক সময় আসামির নাম উল্লেখ না করে অভিযোগকারী আসামিকে দেখলে চিনবেন এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেন। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা এই আসামি সনাক্তকরণ মহড়ার জন্য আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেন।

⇒ P.R.B-282 অনুযায়ী TI Parade বলতে বুঝায় যে, “কোন সন্দেহভাজন আটককৃত অপরাধের সাথে জড়িত অভিযুক্ত আসামিকে জেলখানার  ভিতরে বাদী এবং সাক্ষী কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে  নির্ধারিত দিন ও তারিখে সনাক্তকরণের জন্য যে মহড়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয় তাহাকেই টি আই প্যারেড বা টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড বা সনাক্তকরণ মহড়া বলে।”

⇒ নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী, ভিকটিম বা অভিযোগকারীকে হাজির করার এবং সেই সাথে যারা সন্দেহজনক ভাবে অভিযুক্ত (একাধিক ব্যক্তি) তাদের হাজির করার নির্দেশ দেন আদালত। তখন ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে জেলহাজতে রাখার আদেশ প্রদান পূর্বক সনাক্তকরণ মহড়ার তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করে আদেশ দেন। লক্ষ্য রাখতে হবে যে, এখানে সাক্ষী, ভিকটিম বা অভিযোগকারী যেন টিআই প্যারেড এরপূর্বে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কে কোনক্রমে দেখার সুযোগ না পায়। শুধুমাত্র এই টি আই প্যারেড চলাকালীন সময়ে তাদেরকে দেখবেন। তারপর সাক্ষী বা ভিকটিম বা অভিযোগকারী শনাক্ত করবেন আসল অপরাধী কে? এই মহড়াকে টি আই প্যারেড বলে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারা অনুসারে, প্রাসঙ্গিক ঘটনা ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হয়। এই ধারার আওতায় শনাক্তকরণ প্যারেড (Test Identification Parade) পরিচালনা করা হয়, যার মাধ্যমে কোনো সাক্ষী বা ভিকটিম অপরাধের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা সম্পত্তি সনাক্ত করতে পারে। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো আদালতের সামনে সাক্ষীর সনাক্তকরণ ক্ষমতা যাচাই করা এবং এটি একটি প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃত।

৩,৬৮৯.
The rules of Order _______ shall apply, so far as may be, to appeals from appellate decrees.
  1. XL
  2. XLI
  3. XLII
  4. XLIII
ব্যাখ্যা
ORDER 42:
APPEALS FROM APPELLATE DECREES (আপিলের ডিক্রি হতে আপিল)

Rule.-1: Procedure:
The rules of Order XLI shall apply, so far as may be, to appeals from appellate decrees.

বিধি-১- কর্মপদ্ধতি:
আপিলের ডিক্রি হতে আপিল-এর ক্ষেত্রে আদেশ-৪১ এর বিধিসমূহ যতদূর সম্ভব প্রযোজ্য হবে।
৩,৬৯০.
একজন বে-সরকারি ব্যক্তি কর্তৃক বর্তস্বত্ব (easement) অধিকার অর্জনের ন্যুনতম সময় কাল হলো-
  1. ১২ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা
♦ Easement Right মানে হল সুখাধিকার। সুখাধিকার বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সম্পত্তি অন্য ব্যক্তি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
♦ তামাদি আইনের ২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জনের বিধান রয়েছে। ২৬ ধারা অনুযায়ী কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অথবা যে কোন সুখাধিকার অব্যাহতভাবে ২০ বছর (সরকারী সম্পত্তিতে ৬০ বছর) ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে উক্ত সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলঙ্গনীয় অধিকারে পরিণত হবে।

♦ অর্থাৎ ২৬ ধারামতে কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অব্যাহতভাবে ২০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে সুখাধিকার অর্জন করা যায়।

♦ সুখাধিকারের ক্ষেত্রে ২০ বছর বলতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে সমাপ্ত ২০ বছরকে বুঝায় । তবে সরকারী সম্পত্তির উপর সুখাধিকার অর্জন করতে হলে ৬০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করতে হবে। ২৬ ধারায় সুখাধিকার বলতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরণের সুখাধিকারকে বোঝায়।

♦অর্থাৎ একজন বে-সরকারি ব্যক্তি কর্তৃক বর্তস্বত্ব (easement) অধিকার অর্জনের ন্যুনতম সময় কাল হলো ২০ বছর।
৩,৬৯১.
What is the purpose of tendering a pardon according to Section 338 of The Code of Criminal Procedure,1898?
  1. To absolve the accused of all charges
  2. To obtain evidence during the trial
  3. To delay the trial proceedings
  4. To increase the severity of the punishment
ব্যাখ্যা
Section 338- Power to direct tender of pardon:
At any time before the judgment is passed, the Court of Session trying the case may, with the view of obtaining on the trial the evidence of any person supposed to have been directly or indirectly concerned in or privy to, any such offence, tender, or order or the Chief Metropolitan Magistrate or the Chief Judicial Magistrate to tender, a pardon on the same condition to such person.

ধারা ৩৩৮- ক্ষমা প্রদর্শনের নির্দেশ দানের ক্ষমতা:
রায় দেয়ার পূর্বে যে কোন সময় যে দায়রা আদালত মােকদ্দমার বিচার করছেন সেই আদালত বিচারকালে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে জড়িত বা সেই সম্পর্কে গােপন তথ্যের অধিকারি বলে অনুমতি কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে তাকে এই শর্তে ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারবেন বা চীফ মেটোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ক্ষমা মঞ্জুর করার আদেশ দিতে পারেন।
৩,৬৯২.
মোকদ্দমার বাদী 'ক' মোকদ্দমা শুনানির পর মারা গেছেন। আদালত তার মৃত্যুর পর রায় ঘোষণা করেছেন। দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২২, বিধি ৬ অনুযায়ী-
  1. রায় বাতিল হবে
  2. আদালত পুনঃশুনানি করবে
  3. রায় কার্যকর থাকবে
  4. নতুন বাদী নিযুক্ত করতে হবে
ব্যাখ্যা

আদেশ ২২ বিধি ৬: শুনানির পর মৃত্যুর কারণে কোনরূপ বাতিল হবে না:
আগের বিধিগুলিতে যা কিছু বলা হয়েছে তার সত্ত্বেও, মামলার কারণ যে স্থায়ী থাকে বা না থাকে, মোকদ্দমার শুনানি সমাপ্তি এবং রায় ঘোষণার মধ্যবর্তী সময়ে কোনো পক্ষের মৃত্যু ঘটলেও মামলা বাতিল হবে না।

এমন ক্ষেত্রে, রায় মৃত্যুর পরও ঘোষণা করা যেতে পারে এবং তার কার্যকারিতা একই থাকবে, যেমনটি রায় মৃত্যুর আগে ঘোষণার সময় থাকত।

৩,৬৯৩.
চোরাই মালের সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কত ধারায় আছে?
  1. ৪১১
  2. ৪১২
  3. ৪১০
  4. ৩৭৮
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই  মালের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা মতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণা হবে তা হল-

(i) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি

(ii) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি

(iii) দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি এবং 

(iv) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।


♦উক্ত চোরাই মাল যখন আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী লোকের দখলে আসে, তখন সেগুলো আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
৩,৬৯৪.
১৪ বছর বয়সী X ২০১৪ সালে চুক্তি বলবতকরণের মামলা করার অধিকার লাভ করে। X এর মামলা করার তামাদি উত্তীর্ণ হবে __________ সালে।
  1. ২০১৯
  2. ২০১৭
  3. ২০১৮
  4. ২০১৫
ব্যাখ্যা
ধারা-৬(১): আইনগত অক্ষমতা চলমান থাকলে- তামাদি আইনের ৬(১) ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যতদিন পর্যন্ত আইনগত অক্ষমতায় ভোগে, ততদিন পর্যন্ত সেই ব্যক্তি আদালতে কোন মামলা বা দরখাস্ত করতে পারে না। তবে উক্ত ব্যক্তির আইনগত অক্ষমতার অবসান হয়ে গেলে অর্থাৎ সুস্থ হলে সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি আইনগত অক্ষমতায় না ভুগলে যে সময়ের মধ্যে মামলা বা দরখাস্ত করতে পারত, ঐরূপ একই সময়ের মধ্যে তিনি মামলা দায়ের বা দরখাস্ত করতে পারবেন।

যেমন- রহিম নাবালক থাকাকালে একটি নৌকার ভাড়া আদায়ের জন্য মামলা করার অধিকার অজর্ন করল। মামলা করার অধিকার অর্জনের ৪ বৎসর পর সে সাবালক হল। এক্ষেত্রে রহিম সাবালক হওয়ার তারিখ থেকে আইনে উল্লেখিত সময়ের (এই ক্ষেত্রে ৩ বছর) মধ্যে যে কোন সময় সে উক্ত মামলা দায়ের করতে পারবে।

♦ তামাদি আইনের ১১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট চুক্তি প্রবলের মোকাদ্দমার তামাদির মেয়াদ ১ বছর । চুক্তি সম্পাদনে অস্বীকৃতির বিষয় জানতে পারার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে  সুনির্দিষ্ট চুক্তি সম্পাদনের জন্য মামলা  করতে হবে।

সুতরাং, X এর আইনগত অক্ষমতার অবসান হয় ২০১৮ সালে। এবং সুনির্দিষ্ট চুক্তি প্রবলের মোকাদ্দমার তামাদির মেয়াদ ১ বছর হওয়ার কারণে মামলা করার তামাদি উত্তীর্ণ হবে ২০১৯ সালে।
৩,৬৯৫.
কোন আদালত জেলা জজ আদালতের রিভিশন আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে?
  1. হাইকোর্ট ডিভিশন
  2. আপিল বিভাগ
  3. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  4. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-১১৫ এর বিধান- রিভিশন:
১) কোন মোকদ্দমায় কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় জেলা জজ আদালত বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত কর্তৃক ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হলে, বা যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক ডিক্রি প্রদত্ত হলে, যার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা চলে না; সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনে হাইকোর্ট ডিভিশন তার নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা সমাপণ করিয়ে এই ডিক্রি বা আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে হাইকোর্ট ডিভিশন এই ডিক্রি বা আদেশ সংশোধন করতে পারবেন, কিংবা তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।

২) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না, কোন যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বা সহকারী জজ আদালত উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদান করলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত এই মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা অবসান করিয়ে এই আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে জেলা জজ আদালত উক্ত আদেশ সংশোধন করতে পারবে এবং তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।

৩) জেলা জজ রিভিশন মোকদ্দমা হস্তান্তর করলে উপ-ধারা (২) এর অধীনে জেলা জজের সকল সর্বময় ক্ষমতা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে থাকবে।

৪) ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার অবসান করিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত প্রদান করলে প্রয়োজনীয় আইনের প্রশ্নে ভুলের যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন রিভিশনের অনুমতির অনুমোদন দেয়, সেক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) বা (৩) এর অধীনে প্রদানকৃত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশ পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন করা চলবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশন তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।

৫) এই ধারাটির প্রতিস্থাপনে যেটাই বর্ণিত থাকুক না কেন, ঐরূপ প্রতিস্থাপনের পূর্বে ১১৫নং ধারার অধীনে আরম্ভ হওয়া বা ঝুলন্ত থাকা কর্মপ্রক্রিয়া যেরূপে নিষ্পত্তি হবে যেন ১১৫নং ধারূ প্রতিস্থাপিত হয়নি।
৩,৬৯৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, অভিযোগপত্র, সমন, ওয়ারেন্ট বা চার্জে ত্রুটি থাকলেও রায় বাতিল হবে না, যদি না ন্যায়বিচারে ব্যর্থতা ঘটে?
  1. ধারা ৫৩৫
  2. ধারা ৫৩৩
  3. ধারা ৫৩৭
  4. ধারা ৫৩৮
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৩৭-এর শিরোনাম হলো "Finding or sentence when reversible by reason of error or omission in charge or other proceedings"।
ধারা ৫৩৭ এর মাঝে বলা আছে যে, অভিযোগপত্র (complaint), সমন (summons), ওয়ারেন্ট (warrant), চার্জ (charge), ঘোষণাপত্র (proclamation), আদেশ (order), রায় (judgment) বা অন্য কোনো কার্যধারায় (proceedings) কোনো ত্রুটি (error), বাদ পড়া (omission) বা অনিয়ম (irregularity) থাকলেও, সেই কারণে কোনো সক্ষম এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের (Court of competent jurisdiction) দেওয়া রায় (finding), দণ্ডাদেশ (sentence) বা আদেশ (order) অধ্যায় XXVII-এর অধীনে, আপিলে (appeal) বা পুনর্বিচারে (revision) বাতিল (reversed) বা পরিবর্তন (altered) করা যাবে না, যদি না সেই ত্রুটির কারণে ন্যায়বিচারে ব্যর্থতা (failure of justice) ঘটে থাকে।

অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৩৭ অনুযায়ী: কোনো আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়, দণ্ড বা আদেশ শুধুমাত্র অভিযোগপত্র, সমন, ওয়ারেন্ট, চার্জ বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় ত্রুটি, বাদ বা অনিয়ম থাকার কারণে বাতিল হবে না।
তবে, যদি প্রমাণিত হয় যে এই ত্রুটি বা অনিয়মের কারণে ন্যায়বিচারে ব্যর্থতা (failure of justice) ঘটেছে, তখনই রায় বাতিল বা পরিবর্তন হতে পারে।
Explanation: আদালত বিবেচনা করবে যে আপত্তি বা ত্রুটি কি বিচার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে উত্থাপন করা যেত এবং করা উচিত ছিল কিনা।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 537. Finding or sentence when reversible by reason of error or omission in charge or other proceedings:
Subject to the provisions hereinbefore contained, no finding, sentence or order passed by a Court of competent jurisdiction shall be reversed or altered under Chapter XXVII or on appeal or revision on account– 
(a) of any error, omission or irregularity in the complaint, summons, warrant, charge, proclamation, order, judgment or other proceedings before or during trial or in any inquiry or other proceedings under this Code, or 

Explanation–In determining whether any error, omission or irregularity in any proceeding under this Code has occasioned a failure of justice, the Court shall have regard to the fact whether the objection could and should have been raised at an earlier stage in the proceedings.

৩,৬৯৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের প্রস্তাবনায় উল্লিখিত "সুনির্দিষ্ট প্রতিকার" বলতে মূলত কোন ধরনের প্রতিকার বোঝানো হয়েছে?
  1. আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে প্রতিকার
  2. দেওয়ানি মামলায় প্রাপ্য বিশেষ প্রতিকার
  3. প্রশাসনিক ত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রতিকার
  4. ফৌজদারি অপরাধের জন্য শাস্তিমূলক প্রতিকার
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act) এমন একটি আইন যা মূলত দেওয়ানি মামলাগুলির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রতিকার বা সাহায্য প্রদান করে। এর মাধ্যমে আদালত একটি নির্দিষ্ট শাস্তির পরিবর্তে, ব্যক্তির অধিকার বা দাবির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। "সুনির্দিষ্ট প্রতিকার" বলতে এমন প্রতিকার বোঝানো হয় যা শুধুমাত্র সঠিক এবং নির্দিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে বিচার করা হয়, যেমন সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া, বিশেষ পারফরমেন্সের আদেশ, বা কোনও চুক্তির কার্যকরী বাস্তবায়ন।
- এটি মূলত আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং এমন প্রতিকার যা কিছু নির্দিষ্ট দাবি বা অধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে দেয়। এর মধ্যে থাকে:
- চুক্তি বাস্তবায়নের আদেশ (Specific Performance of Contract)
- সম্পত্তির দখল ফেরত আদেশ (Recovery of Possession)
- নিষেধাজ্ঞা আদেশ (Injunction)
- ঘোষণামূলক আদেশ (Declaratory Decree) ইত্যাদি।
এই প্রতিকারগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট অধিকার বাস্তবায়ন করা, যা কেবলমাত্র দেওয়ানি মামলার মাধ্যমেই প্রয়োগ করা যায়।

প্রস্তাবনা:
যেহেতু কিছু নির্দিষ্ট ধরনের দেওয়ানি মামলায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সম্পর্কিত আইন নির্ধারণ এবং সংশোধন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; তাই এটি নিম্নরূপ প্রবর্তিত হলো:-
--------
Preamble:
WHEREAS it is expedient to define and amend the law relating to certain kinds of specific relief obtainable in civil suits; It is hereby enacted as follows:

৩,৬৯৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারার অধীন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. হাইকোর্টে আপিল
  2. দায়রা আদালতে রিভিশন
  3. দায়রা আদালতে আপিল
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিভিউ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার কার্যক্রম সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
ধারা ২৪১(ক)-ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আসামির অব্যাহতি [Discharge of Accused by Magistrate):
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে ২৪১ক ধারায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিবে। পুলিশ কেসের ক্ষেত্রে মামলার এফআইআর, চার্জশিট, পুলিশের নিকট দেয়া বা সংগ্রহকৃত তথ্য বা প্রস্তুতকৃত ডকুমেন্ট, তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দি, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং নালিশি কেসের ক্ষেত্রে মামলার অভিযোগ, বিচারিক অনুসন্ধান ও মেডিকেল সার্টিফিকেট ইত্যাদি কাগজপত্র আমলে নিবেন।

⇒ ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিলে ফরিয়াদীর প্রতিকার-
২৪১(ক) ধারার অধীন ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে অব্যাহতির আদেশ দিলে, ফরিয়াদী উক্ত অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজ কোর্টে রিভিশন দায়ের করতে পারে।

উল্লেখ্য যে, ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ৩ ক্ষেত্রে আপিলের বিধান রয়েছে-
- দণ্ডাদেশ (ধারা ৪০৭, ৪০৮ এবং ৪১০);
- অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশ (ধারা ৪১৭ক); এবং
- খালাস আদেশের বিরুদ্ধে (ধারা ৪১৭)।
যেহেতু অব্যাহতির ক্ষেত্রে আপিলের বিধান নেই এবং যেক্ষেত্রে আপিল করা যায় না সেক্ষেত্রে রিভিশনের সুযোগ রয়েছে, সেহেতু উক্ত অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করা যাবে।

---------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-241A: When accused shall be discharged:
- When the accused appears or is brought before the Magistrate, and if the Magistrate, upon consideration of the record of the case and the documents submitted therewith and making such examination, if any, of the accused as the Magistrate thinks necessary and after giving the prosecution and the accused an opportunity of being heard, considers the charge to be groundless, he shall discharge the accused and record his reasons for so doing.
৩,৬৯৯.
The Penal Code, 1860 এর কোন অধ্যায়ে সর্বসাধারণের শান্তি পরিপন্থী অপরাধ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. সপ্তম
  2. ষষ্ঠ
  3. পঞ্চম
  4. অষ্টম
ব্যাখ্যা
→ ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম আইন কমিশন গঠন করা হয় ১৮৩৪ সালে। প্রথম আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে (Lord Macaulay)। প্রথম আইন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন G.W. Anderson, F. Millet, এবং J.M. Macleod। ১৮৩৭ সালে এই কমিশন দণ্ডবিধি প্রণয়নের জন্য খসড়া জমা দেয় এবং ৬ অক্টোবর ১৮৬০ সালে বিলটি পাস হয়, এবং দণ্ডবিধি ১লা জানুয়ারি ১৮৬২ সালে আইনটি কার্যকর হয়। এটি ছিল দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন। The Penal Code, 1860 আইনে মোট অধ্যায় ২৩টি এবং মোট ধারা ৫১১টি (মূল দণ্ডবিধিতে ৪৮৮টি ধারা ছিল)।

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো:
- দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ ব্যাখ্যা (GENERAL EXPLANATIONS);
- তৃতীয় অধ্যায়: শাস্তি (PUNISHMENTS);
- চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ ব্যতিক্রম (GENERAL EXCEPTIONS);
- পঞ্চম অধ্যায়: অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (ABETMENT);
- পঞ্চম-ক অধ্যায়: অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (CRIMINAL CONSPIRACY);
- ষষ্ঠ অধ্যায়: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ (OFFENCES AGAINST THE STATE);
- সপ্তম অধ্যায়: সেনাবাহিনী (Army), নৌবাহিনী (Navy) এবং বিমানবাহিনী (Air Force)- সম্পর্কিত অপরাধ (OFFENCES RELATING TO THE ARMY, NAVY AND AIR FORCE);
- অষ্টম অধ্যায়: সর্বসাধারণের শান্তি পরিপন্থী অপরাধ (OFFENCES AGAINST THE PUBLIC TRANQUILITY)
- নবম অধ্যায়: সরকারি কর্মচারী সংক্রান্ত অপরাধ (OFFENCES BY OR RELATING TO PUBLIC SERVANTS);
- নবম-ক অধ্যায়: নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ (OFFENCES RELATING TO ELECTIONS);
- ষোড়শ অধ্যায়: মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধ (OFFENCES AFFECTING THE HUMAN BODY);
- সপ্তদশ অধ্যায়: সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ (OFFENCES AGAINST PROPERTY);
- বিংশ অধ্যায়: বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ (OFFENCES RELATING TO MARRIAGE);
- একবিংশ অধ্যায়: মানহানি (DEFAMATION);
- ত্রয়োবিংশ অধ্যায়: অপরাধ সংগঠনের উদ্যোগ (ATTEMPTS TO COMMIT OFFENCES)।
৩,৭০০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কোন উপায়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দেওয়া যেতে পারে?
  1. রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে
  2. অগ্রক্রয় আদেশের মাধ্যমে
  3. বাটোয়ারা ডিক্রি প্রদানের মাধ্যমে
  4. অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫ ধারা অনুযায়ী রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দেয়া যেতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
-----------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 5 Specific relief how given: Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.