বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন১২,৬০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ৩৩ / ১২৬ · ৩,২০১৩,৩০০ / ১২,৬০৫

৩,২০১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী আদালত কর্তৃক সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের আবেদন খারিজ করা হলে, চুক্তি রদ করার নির্দেশ দেওয়া-
  1. আদালতের পক্ষে অসম্ভব
  2. আদালতের বিবেচনাধীন
  3. আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক
  4. বাদীর সম্মতির উপর নির্ভরশীল
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৭ অনুযায়ী, আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করতে অস্বীকার করলে চুক্তি রদ (rescission) করার নির্দেশ দিতে পারেন — অর্থাৎ এটি আদালতের বিবেচনাধীন (discretionary) বিষয়, বাধ্যতামূলক নয়।
- সুতরাং, চুক্তি রদের নির্দেশ আদালতের বিবেচনাধীন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.

৩,২০২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা অনুযায়ী আদালত যে পক্ষকে চুক্তি রদের প্রতিকার মঞ্জুর করে তাকে অপরপক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারে?
  1. ৩৫ ধারায়
  2. ৩৬ ধারায়
  3. ৩৭ ধারায়
  4. ৩৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৮ ধারা অনুযায়ী: রদকারী পক্ষের পক্ষ থেকে আদালত প্রয়োজন অনুসারে ন্যায়পরতার দাবি করতে পারেন:
- চুক্তি রদের রায় প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত যে পক্ষকে তেমন প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সে পক্ষের পক্ষ থেকে অপর পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজন অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।
------------------------------
⇒ SR Act Section-38. Court may require party rescinding to do equity:
-On adjudging the rescission of a contract, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.
৩,২০৩.
সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারা অনুযায়ী কয়টি ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যায়?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারার বিধান যে সকল ক্ষেত্রে দলিল সম্পর্কে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দেওয়া যেতে পারে:
⇒ কোন কোন ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ করা যায় তা সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় বলা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় ৭টি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।

⇒ ক্ষেত্রসমূহ নিম্নরূপঃ
১) সংশ্লিষ্ট দলিলটি যার বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে হবে, মূল দলিলটি যদি তার দখলে বা কর্তৃত্বাধীনে থাকে।
২) মূল দলিলটি যদি আদালতের সমনের আওতার বাহিরে বা এখতিয়ারের বাহিরে কোন লোকের দখলে থাকে কিংবা এমন কোন লোকের দখলে আছে যে লোক উক্ত দলিলটি উপস্থাপন করতে আইনত বাধ্য কিন্তু ৬৬ ধারার অধীন নোটিশ প্রদানের পরও সে তা উপস্থাপন করেনি।
৩) সংশ্লিষ্ট দলিলটি যার বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে হবে সে লোক বা তার কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি মূল দলিলের অস্তিত্ব, অবস্থা বা বিষয়বস্তু লিখিতভাবে যদি স্বীকার করে নেয়।
৪) যেক্ষেত্রে মূল দলিলটি বিনষ্ট হয়েছে বা হারিয়ে গেছে কিংবা যৌক্তিক কোন কারণে মূল দলিলটি আদালতে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।
৫) মূল দলিলটি যদি এমন প্রকৃতির হয় যে, সহজে তা স্থানান্তর করা যায়না।
৬) মূল দলিলটি যেক্ষেত্রে ৭৪ ধারার বিধান অনুসারে সরকারি দলিল হয়।
৭) মূল দলিলটি যেক্ষেত্রে এমন যে, উক্ত দলিলের জাবেদা নকল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের আইনত বিধান আছে।
৩,২০৪.
আদেশ ২১ বিধি ৬৮ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তি নিলাম বিক্রির পূর্বে সর্বনিম্ন কতদিনের সময় দিতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৬৮ এর বিধান- বিক্রয়ের সময়:
বিক্রয়ের আদেশদানকারী বিচারকের আদালত ভবনে ইশতেহারের নকল লটকিয়ে দেয়ার তারিখ থেকে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে ৩০ দিন এবং অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ১৫ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ডিক্রি দায়িকের লিখিত সম্মতি ব্যতীত নিলাম বিক্রয় অনুষ্ঠিত হতে পারবে না।

৩,২০৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২ অনুযায়ী আদালত কক্ষে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার কীসের উপর নির্ভর করে?
  1. মামলার গুরুত্ব
  2. পুলিশের সুপারিশ
  3. শুধুমাত্র বিচারকের ইচ্ছা
  4. আদালতের সুবিধাজনক ধারণক্ষমতা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২ অনুযায়ী, আদালত কক্ষে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার "আদালতের সুবিধাজনক ধারণক্ষমতা" এর উপর নির্ভর করে।
এর মানে হল, আদালত কক্ষটি যতটুকু লোক ধারণ করতে সক্ষম, সাধারণ জনগণ ততটুকু সেখানে প্রবেশ করতে পারবে। এই প্রবেশাধিকার সীমিত হবে যদি কক্ষের ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যায়।
তবে, বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন, কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বসাধারণের উপস্থিতি ক্ষতিকর হতে পারে বা মামলার প্রকৃতির কারণে গোপনীয়তা প্রয়োজন, তাহলে তিনি আদেশ দিতে পারেন যে, সেই particular কক্ষে জনসাধারণ প্রবেশ করতে পারবেন না।

অতএব, সঠিক উত্তর হল: ঘ) আদালতের সুবিধাজনক ধারণক্ষমতা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২: আদালত উন্মুক্ত থাকবে-
কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারি আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে পরিগণিত করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে সুবিধাজনক স্থান সংকুলান হয়, সে পর্যন্ত সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকতে পারেঃ
শর্ত থাকে যে, বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মর্মে মনে করলে কোন বিশেষ মামলার অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন ধাপে আদেশ প্রদান করতে পারবেন যে, সর্বসাধারণ বা কোন বিশেষ ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত কক্ষ বা ভবনে প্রবেশ করতে বা অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 352: Courts to be open-
The place in which any Criminal Court is held for the purpose of inquiring into or trying any offence shall be deemed an open Court, to which the public generally may have access, so far as the same can conveniently contain them:
Provided that the presiding Judge or Magistrate may, if he thinks fit, order at any stage of any inquiry into, or trial of, any particular case, that the public generally, or any particular person, shall not have access to, or be or remain in, the room or building used by the Court.
৩,২০৬.
দণ্ডবিধির ১৯২ ধারার অধীন কার নিকট ব্যবহার করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভব বলে গণ্য হবে?
  1. সরকারী কর্মকর্তার নিকট
  2. বিচারিক কার্যক্রমে
  3. সালিসের সম্মুখে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৯২ ধারার বিধান: মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন করা:- কোন ব্যক্তি যদি কোন অবস্থার অস্তিত্ব সৃষ্টি বা উদ্ভাবন করে, অথবা কোন বইতে বা রেকর্ডে মিথ্যা কথা লিপিবদ্ধ করে অথবা মিথ্যা বিবরণ সাক্ষ্য হিসেবে কোন বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমে অথবা সরকারী কর্মচারীর সম্মুখে সরকারী কর্মচারী হিসেবে কোন আইনগত কার্যক্রমে অথবা কোন সালিসের সম্মুখে উত্থাপন করার উদ্দেশ্যেই যদি তা করা হয়ে থাকে এবং অনুরূপ অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতি যদি এমন প্রকৃতির হয় যে, উক্ত কার্যক্রমে যিনি সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে তাঁর মতামত গঠন করবেন, তিনি উক্ত অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতিজনিত সাক্ষ্যে প্রভাবিত হয়ে অনুরূপ কার্যক্রমের সাথে গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত কোন বিষয় সম্পর্কে ভুল ধারণা বা মত পোষণ করবেন, তবে সে ব্যক্তি 'মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করেছে' বলে পরিগণিত হয়।

--------------
♦ Fabricating false evidence:
Section 192. Whoever causes any circumstance to exist or makes any false entry in any book or record, or makes any document containing a false statement, intending that such circumstance, false entry or false statement may appear in evidence in a judicial proceeding, or in a proceeding taken by law before  a public servant as such, or before an arbitrator, and that such  circumstance, false entry or false statement, so appearing in evidence, may cause any person who in such proceeding is to form an opinion upon the evidence, to entertain an erroneous opinion touching any point material to the result of such proceeding, is said "to fabricate the evidence.” 
 
Illustrations- 
(a) A puts jewels into a box belonging to Z, with the intention that they may be found in that box, and that this circumstance may cause Z to be convicted of theft. A has fabricated false evidence. 
 
(b) A makes a false entry in his Shop-book for the purpose of using it as corroborative evidence in a Court of Justice. A has fabricated false evidence. 
 
(c) A, with the intention of causing Z to be convicted of a criminal conspiracy, writes a letter in imitation of Z's handwriting purporting to be addressed to an accomplice in such criminal conspiracy, and puts the letter in a place which he knows that the officers of the Police are likely to search. A has fabricated false evidence.
৩,২০৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কয়টি আদেশাত্মক প্রতিকারের কথা বলা হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা- 
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ)রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।

 ⇒ সুতরাং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারামতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন মোট ৫ প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় যার মধ্যে ৪টি আদেশাত্মক প্রতিকার এবং ১টি নিষেধাত্মক বা নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)।

 ⇒ ৫ ধারার ক, খ, ঘ এবং ও অনুচ্ছেদের ৪টি প্রতিকার হলো আদেশাত্মক প্রতিকার। অন্যদিকে ৫ ধারার গ অনুচ্ছেদের প্রতিকারটি নিরোধমূলক বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief)

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫(ঘ) ধারার বিধান অনুযায়ী আদলত ক্ষতিপূরণ ব্যতীত অন্য কোনভাবে পক্ষসমূহের অধিকার নির্ধারণ এবং ঘোষণার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দিতে পারে। অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেনা। সুতরাং আর্থিক ক্ষতিপূরণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার নয়।
-----------------
⇒ Section 5 Specific relief how given: Specific relief is given- 
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant; 
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do; 
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do; 
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or 
(e) by appointing a receiver.
৩,২০৮.
একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকলে, সেই কাজটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে কোন ধারায়?
  1. ধারা ১৮
  2. ধারা ১৫
  3. ধারা ১৬
  4. ধারা ১৭
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৬ অনুসারে, যখন কোনো নির্দিষ্ট কাজ করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে, তখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া বা রুটিন একটি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে।

- ধারা ১৬ অনুযায়ী, যদি কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য একটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকে, তাহলে সেই কাজটি করার প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, যে কাজটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বাভাবিকভাবে হওয়ার কথা, তার প্রমাণ সাপেক্ষে সেই কাজের হওয়া বা না হওয়া প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৬ অনুসারে, কোনো কাজ স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া (course of business) অনুযায়ী সম্পাদিত হলে, সেই প্রক্রিয়ার অস্তিত্বই প্রমাণ করে যে কাজটি করা হয়েছিল।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 16. Existence of course of business when relevant:
- When there is a question whether a particular act was done, the existence of any course of business, according to which it naturally would have been done, is a relevant fact.

৩,২০৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী যে সম্পত্তি বা দলিল বিষয়ে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়?
  1. ৫০৩
  2. ৫০৭
  3. ৫১৫
  4. ৫১৭
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারা অনুযায়ী কোন অপরাধে যে সম্পত্তি বা দলিল বিষয়ে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে বলে আদালত মনে করে, অনুসন্ধান বা বিচার শেষ হওয়ার পর আদালত উক্ত সম্পত্তি বা দলিল ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা অর্পণের মাধ্যমে হস্তান্তরের আদেশ দিতে পারে।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারার বিধান যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা হস্তান্তরের আদেশ:-
(১) কোন ফৌজদারী আদালতে কোন ইনকোয়ারী বা বিচার শেষ হবার উপর উক্ত আদালতে পেশকৃত বা উহার হেফাজতে রক্ষিত কোন সম্পত্তি বা দলিল, যা সম্পর্কে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা যা কোন অপরাধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়, ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা যে ব্যক্তি উহার দখল দাবী করে তাকে প্রদান বা অন্য কোনভাবে উহার বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরুপ আদেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত এরূপ আদেশ দিবেন এবং সুবিধা- জনকভাবে নিজস্ব অফিসার কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি উহার অধিকারী ব্যক্তিকে অর্পণ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত আদেশ বলবৎ করবেন।
(৩) এই ধারার অধীন আদেশ প্রদান করা হলে তা সংশিষ্ট সম্পত্তি গৃহপালিত পশু বা দ্রুত ও স্বাভাবিক ক্ষয়শীল না হলে, এবং উপধারা-(৪) এ বর্ণিত বিধান মতে না হলে ১ (এক) মাসের জন্য কার্যকর করা যাবে না অথবা যেক্ষেত্রে আপীল পেশ করা হয়, সেক্ষেত্রে আপীলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না।
(৪) যে ব্যক্তি কোন সম্পত্তি দখলের অধিকারী মর্মে দাবী করে সে ব্যক্তি আদালতের সন্তুষ্টি বিধানপূর্বক জামিনদারসহ বা ব্যতীত এমর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদন করে যে, এই ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশ আপীলে সংশোধিত বা বাতিল হলে সে উক্ত সম্পত্তি আদালতে অর্পণ করবে, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন বিধান উপধারা-(১) অনুসারে আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে সম্পত্তি দেয়ার ব্যাপারে কোন বাধার সৃষ্টি করবে মর্মে মনে করা যাবে না।
৩,২১০.
ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী চিকিৎসক সাক্ষীকে তলব করার জন্য আদালত সমন দিতে পারে?
  1. ৫০৯
  2. ৫০৮
  3. ৫১০ক
  4. ৫১১
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫০৯ মতে- আসামীর উপস্থিতিতে ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত ও প্রত্যায়িত অথবাকমিশনে গৃহীত কোন সিভিল সার্জন বা অন্য কোন চিকিৎসক সাক্ষীর জবান বন্দী তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা না হলেও এই আইন অনুসারে কোন অনুসন্ধান বিচার বা অন্যকোন কার্যক্রম সাক্ষ্য হিসাবে প্রদান করা যাবে। আদালত উপযুক্ত মনে করলে এরূপ সাক্ষীকে সমন করতে এবং তার জবানবন্দীর বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাকে পরীক্ষা করতে পারবেন।
৩,২১১.
'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের মোকদ্দমা দায়ের করে। 'খ' তার লিখিত জবাবে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে। এক্ষেত্রে 'ক' উক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকারের জন্য, মোকদ্দমা শুনানীর তারিখ থেকে কত দিন 'খ' কে পূর্বে নোটিশ প্রদান করতে পারে?
  1. ১০ দিন
  2. ৯ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
মোকদ্দমার কোন পক্ষ অপর পক্ষকে কোন ঘটনার সত্যতা স্বীকারের জন্য, মোকদ্দমা শুনানীর তারিখ থেকে ৯ দিন পূর্বে নোটিশ প্রদান করতে হবে।

• দেওয়ানী কার্যবিধির ১২ নং আদেশ অনুযায়ী স্বীকারোক্তি তিন (৩) প্রকার-
 
১/ মামলা স্বীকারের নোটিশ [বিধি-১];
২/ দলিল স্বীকার নোটিশ [বিধি-২];
৩/ ঘটনা স্বীকারের জন্য নোটিশ [বিধি ৪]।
 
• আদেশ-১২, বিধি-৪: ঘটনার সত্যতা স্বীকারের জন্য নোটিশ-
 
মোকদ্দমার কোন পক্ষ অপর পক্ষকে কোন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেওয়ার জন্য মোকদ্দমা শুনানীর তারিখ থেকে ৯ দিন পূর্বে নোটিশ প্রদান করবে এবং নোটিশ প্রদানের ৬ দিনের মধ্যে বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষকে নোটিশের জবাব দিতে হবে।
৩,২১২.
দেওয়ানি কার্যবিধির ২৬ আদেশের ৪ বিধিতে কয় ধরনের ব্যক্তির ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন পাঠানো যেতে পারে বলে উল্লেখ করা আছে?
  1. ৩ ধরনের
  2. ৪ ধরনের
  3. ৫ ধরনের
  4. ৬ ধরনের
ব্যাখ্যা
 • দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ এ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশনের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ রয়েছে।

আদেশ ২৬ বিধি ৪ অনুসারে, নিম্নোক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারেন [Persons for whose examination commission my issue]:
i) এমন ব্যক্তি যে আদালতের অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে বসবাস করে;
ii) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের পূর্বে সে ব্যক্তি অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে চলে যাবে;
iii) প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত ব্যক্তি; যার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হলে জনস্বার্থের ক্ষতি হতে পারে।
৩,২১৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০১(২) অনুযায়ী, মৌখিক নালিশ দায়ের হলে ম্যাজিস্ট্রেট কী করবেন?
  1. নালিশ বাতিল করবেন
  2. নালিশ গ্রহণ করবেন
  3. নালিশকারীকে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন
  4. নালিশকারীকে লিখিত নালিশ দাখিল করতে বলবেন
ব্যাখ্যা

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০১ এ এখতিয়ারবিহীন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়েরের ফলাফল সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• ধারা ২০১(১)
লিখিত আকারে নালিশের ক্ষেত্রে-
আমলে নেওয়ার এখতিয়ার নেই এমন কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করা হয়, তাহলে তিনি উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য নালিশটি ফেরত দিবেন।

ধারা ২০১(২)
মৌখিক নালিশের ক্ষেত্রে-
যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের না করা হয় অর্থাৎ মৌখিকভাবে নালিশ দায়ের করা হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীকে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন।

Section 201: Procedure by Magistrate not competent to take cognizance of the case-
(1) If the complaint has been made in writing to a Magistrate who is not competent to take cognizance of the case, he shall return the complaint for presentation to the proper Court with an endorsement to that effect. 
(2) If the complaint has not been made in writing, such Magistrate shall direct the complainant to the proper Court.

৩,২১৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর কোন ধারায় আপীল আদালতের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা রয়েছে?
  1. ৯৬ ধারা
  2. ১০৭ ধারা
  3. ১০৪ ধারা
  4. ১০৫ ধারা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ১০৭ ধারায় আপীল আদালতের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা রয়েছে। ১০৭ ধারা  অনুযায়ী আপীল আদালতের ৪টি ক্ষমতা যথাঃ

১। মোকদ্দমা চূড়ান্ত ভাবে নিষ্পত্তি করতে পারে
২। মোকদ্দমা পুনঃ বিচারের জন্য পাঠাতে পরে
৩। বিচার্য বিষয় গঠন এবং তা বিচারের জন্য প্রেরণ
৪। অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ।
৩,২১৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট কখন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করবেন?
  1. অভিযুক্ত স্বীকারোক্তি করলে
  2. অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার পর
  3. অভিযুক্ত অপরাধ করেছে বলে মনে হলে
  4. অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারা অনুসারে, যদি ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে, অভিযুক্ত অপরাধ করেছে এমন ধারণা করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তবে তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট চার্জ গঠন করেন। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে। ২৪১ক ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিয়ে যদি এই মত পোষণ করেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন তাহলে চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
আর যদি অভিযুক্ত অপরাধ করেছে বলে মনে হয়, তবে যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে সেই অপরাধ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ২৪২ ধারায় আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারার ধারার বিধান চার্জ গঠন:
যদি উপরোক্ত বিবেচনা ও শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে, অভিযুক্ত অপরাধ করেছে এমন ধারণা করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তবে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করবেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তিনি এই অপরাধটি করেছেন কিনা।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-242. Charge to be framed:
If, after such consideration and hearing as aforesaid, the Magistrate is of opinion that there is ground for presuming that the accused has committed an offence, the Magistrate shall frame a formal charge relating to the offence of which he is accused and he shall be asked whether he admits that he has committed the offence with which he is charged.
৩,২১৬.
২০২১ সালের দেওয়ানি আদালত সংশোধন আইন অনুযায়ী, জেলা জজ আদালতের আপিল এখতিয়ার কত টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে?
  1. ১ কোটি টাকা
  2. ৫ কোটি টাকা
  3. ১০ কোটি টাকা
  4. ২৫ কোটি টাকা
ব্যাখ্যা
• The Civil Courts Act,1887 এর ২১ ধারায় আপিল গ্রহণের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমার বিধান রয়েছে। ২১ ধারামতে শুধুমাত্র ২টি আদালত আপিলের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) জেলা জজ আদালত এবং
ii) হাইকোর্ট বিভাগ।

• এই আইন সর্বশেষ সংশোধন করা হয় ২০২১ সালে। উক্ত সংশোধনী দ্বারা ১৯ ও ২১ ধারা সংশোধন করা হয় এবং দেওয়ানী আদালতের আর্থিক এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, জেলা জজ আদালত ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল শুনতে পারেন। অর্থাৎ, জেলা জজ আদালতের আপিল এখতিয়ার ৫,০০০,০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকা পর্যন্ত। ৫,০০০,০০০০ (পাঁচ কোটি) টাকার অধিক মূল্যমানের ডিক্রির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে হবে।
৩,২১৭.
মামুন ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছে এবং ৭ মার্চ ২০২৪ তারিখে আপিল দায়ের করে। তামাদি আইনের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
  1. আপিল গ্রহণযোগ্য হবে
  2. আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না
  3. আপিলের সময়কাল বাড়ানো হবে
  4. আপিলের জন্য নতুন সময় নির্ধারণ করা হবে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৫০ অনুচ্ছেদে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ আছে।

অনুচ্ছেদ ১৫০ এর বিধান-
দায়রা আদালত কর্তৃক অথবা মূল ফৌজদারি এখতিয়ার প্রয়োগকালে হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আপিল দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

১৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে,
মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মেয়াদ দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৭ দিন। মামুন ৭ মার্চ ২০২৪ তারিখে আপিল দায়ের করাতে, তা আপিলের সময়সীমা অতিক্রম করেছে, তাই আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না।
৩,২১৮.
কোন পরিস্থিতিতে একটি দলিল বাতিলের জন্য মামলা দায়েরযোগ্য?
  1. যখন দলিল নিবন্ধিত নয়
  2. যখন দলিলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে
  3. যখন দলিল একপক্ষীয় হয়
  4. যখন দলিল গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৯: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।

(ক) একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। 'খ' বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে।

(খ) 'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিলের বাতিলের আদেশ পেতে পারে।

(গ) 'ক' তার জমির, সকল প্রজা উচ্ছেদযোগ্য, এ বিবরণ প্রদান পূর্বক 'খ' এর নিকট জমি বিক্রয় করে। ১৮৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে একটি দলিলের মাধ্যমে 'খ' এর নিকট তা হস্তান্তর করে। এই তারিখের পরপরই ১৮৭৬ সালের পহেলা অক্টোবরের তারিখ দিয়ে 'ক' প্রতারণামূলকভাবে 'গ' কে উক্ত জমির অংশবিশেষ ইজারা প্রদান করে এবং নিবন্ধন আইন অনুসারে ইজারা নিবন্ধন করা হয়। 'খ' এ ইজারার বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
 
(ঘ) 'ক' একটি জাহাজ 'খ' এর নিকট অর্পণে সম্মত হল। যার জন্য 'খ' কে ৪টি হুণ্ডির মারফত ৩০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে, যা 'ক' গ্রহণ করবে। হুণ্ডিসমূহ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ প্রদান করা হল না। 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি হণ্ডি প্রসঙ্গে মামলা দায়ের করল। 'খ' সকল হুণ্ডির বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
৩,২১৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় কার্যক্রম স্থগিত বা মুলতবি রাখার বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৩৩৩
  2. ধারা ৩৪৪
  3. ধারা ৩৫৫
  4. ধারা ৩৬৬
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৪৪- কার্যক্রম স্থগিত বা মুলতবি রাখার ক্ষমতা:
(১) কোন সাক্ষীর অনুপস্থিতি বা অন্য কোন যৌক্তিক কারণে যদি কোন অনুসন্ধান বা বিচার আরম্ভ, স্থগিত রাখা বা মুলতবি রাখা প্রয়োজনীয় বা সংগত হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে আদালত সঠিক মনে করলে কারণ উল্লেখপূর্বক লিখিত আদেশ দ্বারা যে শর্তে সঠিক মনে করেন সে শর্তে, যে সময়ের জন্য যৌক্তিক মনে করেন সেই সময়ের জন্য সময়ে সময়ে তা স্থগিত বা মুলতবি রাখতে পারবেন এবং আসামী হাজতে থাকলে পরোয়ানা দ্বারা তাকে রিমান্ডে দিতে পারবেনঃ

রিমান্ডঃ শর্ত থাকে যে, এই ধারা অনুসারে, কোন ম্যাজিস্ট্রেট কোন আসামীকে একসঙ্গে ১৫ (পনের) দিনের অধিক মেয়াদের জন্য রিমান্ডে পাঠাতে পারবেন না।

(২) হাইকোর্ট ডিভিশন ব্যতিরেকে অন্য কোন আদালত কর্তৃক এই ধারার অধীন প্রদত্ত প্রত্যেকটি আদেশ লিখিত ও বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে।

ব্যাখ্যাঃ আসামী অপরাধ করে থাকতে পারে এ মর্মে সন্দেহ সৃষ্টির মত পর্যাপ্ত সাক্ষ্য যদি সংগ্রহ হয়ে থাকে, এবং রিমান্ডের দ্বারা আরও সাক্ষ্য হতে পারে বলে যদি প্রতীয়মান হয়, তাহলে তা আসামীকে রিমান্ডে দিবার একটি যৌক্তিক কারণ হবে।
৩,২২০.
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে কোন ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকৃত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় প্রতিকার পাওয়া সম্ভব?
  1. ৯ ধারায়
  2. ২২ ধারায়
  3. ৪১ ধারায়
  4. ৪২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

⇒ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
 
⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:-
i) ঘোষণামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষণা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষণামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষণামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষণা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।
 অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে কোন ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকৃত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।

⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।
 
⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
--------------
⇒ SR Act:- Section-42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
-Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation:- A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
Illustrations:
(a) A is lawfully in possession of certain land. The inhabitants of a neighboring village claim a right of way across the land. A may sue for a declaration that they are not entitled to the right so claimed.
৩,২২১.
নিচের কোনটি দোষ স্বীকারোক্তির গ্রহণযোগ্যতার শর্ত নয়?
  1. তা স্বেচ্ছামূলক হতে হবে
  2. তা পুলিশের হেফাজতে হতে হবে
  3. তা ভীতি বা প্রলোভন ছাড়া হতে হবে
  4. তা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হতে হবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) তা পুলিশের হেফাজতে হতে হবে।
⇒ দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য যেসব শর্ত পূরণ হতে হয়, তা হল—
স্বেচ্ছামূলক হতে হবে → (ধারা ২৪, সাক্ষ্য আইন): কোনো প্ররোচনা, ভয়ভীতি বা প্রতিশ্রুতি ছাড়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেওয়া হলে তা গ্রহণযোগ্য। 
ভীতি, প্রলোভন বা প্রতিশ্রুতি ছাড়া হতে হবে → (ধারা ২৪): অন্যথায়, তা আদালতে অগ্রহণযোগ্য। 
ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হলে গ্রহণযোগ্য হয় → (ধারা ২৬): যদি পুলিশ হেফাজতে থেকে স্বীকারোক্তি দেয়, তবে তা কেবল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বৈধ হয়। 

কিন্তু "পুলিশের হেফাজতে হতে হবে" — এটি কোনো গ্রহণযোগ্যতার শর্ত নয়, বরং এই অবস্থায় স্বীকারোক্তি সন্দেহজনক বলে বিবেচিত হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেট না থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। (ধারা ২৫ ও ২৬, সাক্ষ্য আইন)

অর্থাৎ দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্ত হচ্ছে: স্বেচ্ছায়, ভয়ভীতি ও প্রলোভন ছাড়া, এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে হতে হবে। পুলিশের হেফাজত কোনো শর্ত নয়, বরং তা হলে স্বীকারোক্তি সাধারণত অগ্রহণযোগ্য।
৩,২২২.
দেওয়ানি কার্যবিধি আদেশ-১১, বিধি-১ অনুযায়ী, মোকদ্দমার পক্ষ আদালতের অনুমতিতে ইস্যু গঠনের তারিখ থেকে কত দিনের মধ্যে Interrogatories পাঠাতে পারবে? 
  1. ৭ দিন 
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১১ বিধি-১ (Order XI Rule 1) Discovery by interrogatories:
"In any suit the plaintiff or defendant by leave of the Court may, within ten days from the date of framing of issues, deliver interrogatories in writing..."
অর্থাৎ, মামলার ইস্যু (issues) গঠনের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বাদী বা বিবাদী আদালতের অনুমতি নিয়ে লিখিত প্রশ্নাবলী (Interrogatories) দিতে পারে।

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১১, বিধি ১ অনুযায়ী, মামলার কোনো পক্ষ আদালতের অনুমতিতে, ইস্যু গঠনের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিত প্রশ্নাবলী (Interrogatories) দিতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order 11 Rule 1: Discovery by interrogatories:
- In any suit the plaintiff or defendant by leave of the Court may, within ten days from the date of framing of issues, deliver interrogatories in writing for the examination of the opposite parties or any one or more of such parties, and such interrogatories when delivered shall have a note at the foot thereof stating which of such interrogatories each of such persons is required to answer: Provided that no party shall deliver more than one set of interrogatories to the same party without an order for that purpose: Provided also that interrogatories which do not relate to any matters in question in the suit shall be deemed irrelevant, notwithstanding that they might be admissible on the oral cross-examination of a witness.

৩,২২৩.
কোনো চুক্তি বাতিলযোগ্য হলে The Specific Relief Act, 1877 অনুযায়ী আদালত চুক্তিটি ______
  1. সংশোধন করবেন
  2. রদ করবেন
  3. বাতিল করবেন
  4. পক্ষদের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত দেবেন
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ থেকে ৩৮ ধারায় চুক্তি রদের বিধান রয়েছে ।
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী একটি লিখিত চুক্তিতে স্বার্থ আছে এমন যে কোন ব্যক্তি (Any person interested in a contract) চুক্তিটি রদ করার জন্য মামলা করতে পারে এবং আদালত যে ক্ষেত্রে চুক্তিটি বিচারপূর্ব রদের আদেশ দিতে পারবেন-  তা হল ধারা ৩৫(১) অনুযায়ী চুক্তিটি বাতিল যোগ্য বা বাদী কর্তৃক সমাপনীয় হলে আদালত চুক্তিটি বিচারপূর্ব রদ করতে পারে ।
৩,২২৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুসারে, স্বত্ব ঘোষণার ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির মামলা করার প্রয়োজন হয় না কেন?
  1. এটি আইনত নিষিদ্ধ
  2. এটি বেশি খরচ সাপেক্ষ
  3. আদালত এটি অনুমতি দেয় না
  4. শুধুমাত্র ঘোষণার মাধ্যমেই ডিক্রিদারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী, স্বত্ব ঘোষণার ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি করার প্রয়োজন হয় না কারণ, এই ধরনের মামলায় আদালত কেবলমাত্র অধিকার ঘোষণা করে এবং ডিক্রি জারি না করেই সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি ব্যক্তি আদালতে মামলা করে এবং নিজের অধিকার বা আইনগত পরিচয় দাবি করে, তাহলে আদালত শুধুমাত্র সেই দাবি স্বীকার করে ঘোষণা দিতে পারেন, তবে ডিক্রি জারির প্রয়োজন পড়ে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮৭৭, ধারা ৪২: আইনগত পরিচয় বা অধিকার ঘোষণার ক্ষেত্রে আদালতের সুবিবেচনা। এ ধরনের ঘোষণায় নিষেধাজ্ঞা:
যে কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো আইনগত পরিচয় বা কোনো সম্পত্তির অধিকারী, তিনি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন যে ব্যক্তি বা যার আগ্রহ তার সেই পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করছে, এবং আদালত তার ইচ্ছাধীনভাবে সেই ব্যক্তির অধিকার ঘোষণা করতে পারে, এবং বাদীকে এই মামলায় কোনো অতিরিক্ত সাহায্য চাওয়ার প্রয়োজন নেই।
যদিও, কোনো আদালত সেই ধরনের ঘোষণা করবে না যেখানে বাদী, যিনি শুধুমাত্র স্বত্বের ঘোষণা চাইতে পারছেন, আরও কোনো সাহায্য চাওয়ার ক্ষমতা থাকার পরও তা করেন না।
ব্যাখ্যা:- সম্পত্তির ট্রাস্টি একটি "ব্যক্তি যার আগ্রহ অস্বীকার করার" অধিকার রয়েছে, যখন কোন অপরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার অধিকার সংক্রান্ত স্বত্ব রয়েছে, এবং যদি সে ব্যক্তি বর্তমান থাকতো তবে সে একজন ট্রাস্টি হতো।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation - A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
৩,২২৫.
রিভিশনের আবেদনের ক্ষেত্রে সেশন জজের সিদ্ধান্ত-
  1. আপিলযোগ্য
  2. চূড়ান্ত 
  3. পুনরায় রিভিশনযোগ্য
  4. হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত 
ব্যাখ্যা

ধারা ৪৩৯ক: সেশন জজের রিভিশন ক্ষমতা:

(১) কোনো বিচার কার্যক্রমের রেকর্ড যা- নিজে সেশন জজ আহ্বান করেছেন, অথবা অন্যভাবে তার নজরে এসেছে, সে ক্ষেত্রে সেশন জজ হাইকোর্ট বিভাগের ধারা ৪৩৯ অনুসারে যেসব ক্ষমতা ব্যবহার করা যায়, তার সব বা যেকোনো ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন।

(২) কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে বা দ্বারা রিভিশনের আবেদন করলে—সেশন জজের সেই বিষয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

(৩) অতিরিক্ত সেশন জজেরও এই অধ্যায়ের অধীনে সেশন জজের সব ক্ষমতা থাকবে এবং প্রয়োগ করতে পারবেন, যদি কোনো মামলা সেশন জজের সাধারণ বা বিশেষ আদেশে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

৩,২২৬.
'পরিবর্তিত চার্জ আসামিকে পড়ে শোনানোর বাধ্যবাধকতা'- ফৌজদারির কার্যবিধির কত ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ২২১ ধারা
  2. ২২৩ ধারা
  3. ২২৫ ধারা
  4. ২২৭ ধারা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি মামলায় একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অপরাধ সংগঠিত করেছেন, সেই অভিযোগ চার্জে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনে সেই অপরাধে কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে।
সুতরাং বলা যায়, চার্জ হলো কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী।ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান-

অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 227: Court may alter charge-
(1) Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.
(2) Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.
৩,২২৭.
দণ্ডবিধির ৯৩ ধারায় কোন বিষয়ে বিধান দেয়া হয়েছে?
  1. সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ
  2. আত্মরক্ষা
  3. অপরাধে প্ররোচনা
  4. আদালতের নির্দেশ পালন
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৯৩ ধারা- বিধান সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ:
কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে আন্তরিক সদিচ্ছাক্রমে কৃত যোগাযোগ বা খবর প্রদান, উক্ত খবর প্রদানের ফলে উক্ত ব্যক্তির কোন প্রকার ক্ষতি হওয়ার দরুণ অপরাধ হবে না।
 
উদাহরণ
'ক' একজন সার্জন। তিনি আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে জনৈক রোগীকে তার এই মত জানান যে, সে বাঁচবে না। ইহাতে মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে রোগীটির মৃত্যু হয়। 'ক' এর কাজটি অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না, যদিও তিনি জানতেন যে, তার এইরূপ মত দেওয়ার ফলে রোগীটির মৃত্যু ঘটতে পারে।

Section 93- Communication made in good faith:
No communication made in good faith is an offence by reason of any harm to the person to whom it is made, if it is made for the benefit of that person.
 
Illustration 
A, a surgeon, in good faith, communicates to a patient his opinion that he cannot live. The patient dies in consequence of the shock. A has committed no offence, though he knew it to be likely that the communication might cause the patient's death.
৩,২২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় পলাতক কয়েদীর দণ্ড কার্যকরীকরণ সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৩৯৬
  2. ধারা ৩৯৭
  3. ধারা ৩৭৬
  4. ধারা ৩৬৯
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৯৬- পলাতক কয়েদীর দণ্ড কার্যকরীকরণঃ

(১) এই বিধি অনুসারে কোন পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী দপ্রাপ্ত হলে উক্ত দত্ত মৃত্যুদণ্ড, অর্থদণ্ড বা বেত্রদণ্ড হলে ইতোপূর্বে উল্লেখিত বিধান সাপেক্ষে উহা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং কারাদণ্ড হলে নিম্নোক্ত নিয়ম অনুসারে কার্যকর হবে, অর্থাৎ

(২) পালাবার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী যে দণ্ড ভোগ করতেছিল, তার চেয়ে নতুন দণ্ড কঠোরতর হলে দণ্ড অবিলম্বে কার্যকর হবে।

(৩) পায়নের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী যে দণ্ড ভোগ করতেছিল তদাপেক্ষা নতুন দণ্ড কঠোরতর না হলে, পলায়নের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর পূর্বতন দণ্ডের যে পরিমাণ অনতি বাহিত ছিল তার সমপরিমাণ অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করার পর যখন দণ্ড কার্যকর হবে।

ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,
(ক) কারাদণ্ড হতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কঠোরতর রূপে মনে করতে হবে;
(খ) নির্জন বাস কারাদতে নির্জনবাস ব্যতীত একই ধরণের কারাদত অপেক্ষা কঠোর হিসাবেমনে করতে হবে: এবং
(গ) সশ্রম কারাদণ্ড নির্জনবাসসহ বা নির্জনবাস ব্যতীত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অপেক্ষা কঠোর হিসাবে মনে করতে হবে।
৩,২২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৬ক অনুসারে ফরিয়াদির কোন ফি আসামিকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া যায়?
  1. ফরিয়াদির ব্যক্তিগত খরচ
  2. মামলার আইনজীবীর ফি
  3. নালিশ বা জবানবন্দির ফি
  4. আদালতের রক্ষণাবেক্ষণ ফি
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৬ক অনুযায়ী, যদি কোনো আমল অযোগ্য মামলায় আসামি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে আদালত আসামিকে ফরিয়াদিকে নির্দিষ্ট কিছু ফি পরিশোধের আদেশ দিতে পারেন।
এই ফিগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
(ক) নালিশের দরখাস্তে বা ফরিয়াদির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য প্রদত্ত ফি।
(খ) ফরিয়াদির সাক্ষী হাজিরা বা আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির জন্য প্রদত্ত ফি।
এইসব ফি সরকারি খরচ নয়, বরং ফরিয়াদির ব্যক্তিগতভাবে প্রদানকৃত মামলা-সংক্রান্ত খরচ। তাই এগুলো আসামিকে ফেরত দিতে হয়, যদি তিনি দোষী প্রমাণিত হন।
অতএব, ‘নালিশ বা জবানবন্দির ফি’ আসামিকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৬ক ধারার বিধান আমল অযোগ্য মামলার ফরিয়াদি কর্তৃক প্রদত্ত কতিপয় ফিস প্রদানের আদেশ:
(১) কোন আদালতে আমল অযোগ্য অপরাধের কোন অভিযোগ করা হলে এবং আসামি সাজাপ্রাপ্ত হলে আদালত উক্ত সাজা ব্যতীতও ফরিয়াদীকে নিম্নে বর্ণিত অর্থদানের জন্য আসামিকে আদেশ দিতে পারবেন-
(ক) নালিশের দরখাস্তে অথবা ফরিয়াদির জবানবন্দির জন্য প্রদত্ত ফি (যদি থাকে ) এবং
(খ) ফরিয়াদি কর্তৃক তার সাক্ষী কিংবা আসামীর উপর পরোয়ানা জারীর জন্য প্রদত্ত ফি এবং আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, উক্ত অর্থ পরিশোধ না করিলে অনধিক ত্রিশ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবে।
(২) রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন আপিল আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগও এই ধারার অধীন আদেশ দিতে পারবেন।
--------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 546A: Order of payment of certain fees paid by the complainant in non-cognizable cases:
(1) Whenever any complaint of a non-cognizable offence is made to a Court, the Court, if it convicts the accused, may in addition to the penalty imposed upon him, order him to pay to the complainant–
(a) the fee (if any) paid on the petition of complaint or for the examination of the complainant, and
(b) any fees paid by the complainant for serving processes on his witnesses or on the accused,
and may further order that, in default of payment, the accused shall suffer simple imprisonment for a period not exceeding thirty days.
(2) An order under this section may also be made by an Appellate Court, or by the High Court Division, when exercising its powers of revision.
৩,২৩০.
একই বিচারে জাফরুল্লাহকে দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারায় ২ বছর এবং ৩২৫ ধারায় ৪ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বিচার চলাকালীন সে ১ বছর জেলে ছিলো। তাকে আর কয় বছর জেলে থাকতে হবে?
  1. ৫ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা-৩৫ক মোতাবেক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি জেলহাজতে থাকলে সেক্ষেত্রে কারাদণ্ডের মেয়াদ বাদ দিতে হবে।
- যেহেতু জাফরুল্লাহ এর মোট সাজা ৬ বছর এবং ইতোমধ্যে সে ১ বছর হাজতবাস করে ফেলেছে, তার আরো ৫ বছর জেলে থাকতে হবে।
৩,২৩১.
সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারায়, নথি গ্রহণযোগ্যতা বা উপস্থাপনের আপত্তি নির্ধারণ করবে-
  1. সাক্ষী নিজে
  2. আদালত
  3. আইনজীবী
  4. পুলিশ কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারার বিধান: নথি উপস্থাপন:
যদি কোনো সাক্ষীকে কোনো নথি আদালতে উপস্থাপনের জন্য ডাকা হয়, তবে সেই নথিটি তার অধিকারে বা হেফাজতে থাকলে, তিনি তা আদালতে আনতে বাধ্য থাকবেন, যদিও সেই নথি উপস্থাপন করা বা তা গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলেও। আপত্তির বৈধতা আদালতই নির্ধারণ করবে।
আদালত যদি মনে করে, তবে নথিটি পর্যালোচনা করতে পারে, যদি না সেটি রাষ্ট্র সম্পর্কিত কোনো বিষয়বস্তু হয়। এছাড়াও, নথির গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের জন্য আদালত অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে।

৩,২৩২.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোথায় বলা হয়েছে যে, বিবাদী একাধিক হলে সমন প্রত্যেক বিবাদির উপর জারি করতে হবে?
  1. আদেশ-৫, বিধি-৯ 
  2. আদেশ-৫, বিধি-১১
  3. আদেশ-৫, বিধি-১৫
  4. আদেশ-৫, বিধি-১৯
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৫, বিধি-১১ তে বিবাদী একাধিক হলে সমন প্রত্যেক বিবাদির উপর জারি করার বিধান উল্লেখ রয়েছে।
- মোকদ্দমা যথাযথভাবে রুজু হওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবির সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা রুজুর পাঁচ(৫) কার্যদিবসের মধ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদির নিকট সমন প্রেরণ করবে। মোকদ্দমায় এক বা একাধিক বিবাদী থাকতে পারে।
যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী থাকে সেক্ষেত্রে সমন আদেশ ৫ এর বিধি ১১ নং অনুসারে জারি করতে হবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৫ বিধি-১১ এর বিধান: 
অনুরূপ নির্দেশ যদি না থাকে তবে ক্ষেত্রে বিবাদির সংখ্যা বহুসংখ্যক হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদিগণের প্রত্যেকের উপর সমন জারি করতে হবে।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-5 Rule-11: Service on several defendants:
- Save as otherwise prescribed, where there are more defendants than one, service of the summons shall be made on each defendant.

৩,২৩৩.
'mutatis mutandis' অর্থ কী?
  1. পরিবর্তন ছাড়া
  2. প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ
  3. অপরিবর্তনীয় শর্তসমূহ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'mutatis mutandis' একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ হল- "প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ।"

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩০:
এই অধ্যায়ের চুক্তি সম্পর্কিত বিধানগুলি, প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ, পুরস্কার এবং উইল বা কোডিসিলে একটি বিশেষ সেটেলমেন্ট নিষ্পন্ন করার নির্দেশনাসমূহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
[The provisions of this Chapter as to contracts shall, mutatis mutandis, apply to awards and to directions in a will or codicil to execute a particular settlement.]

অর্থাৎ, চুক্তির যে সকল বিধি-নিয়ম, দ্বিতীয় অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলিকে প্রয়োজনমত পরিবর্তন করে পুরস্কার এবং উইল/কোডিসিলের নির্দেশনাসমূহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হবে।
৩,২৩৪.
যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কাজ মৃত্যু ঘটালে তবে তাকে কী অপরাধে অভিযুক্ত করা হবে?
  1. খুন
  2. শাস্তিযোগ্য নরহত্যা
  3. আত্মহত্যার প্ররোচনা
  4. গুরুতর আঘাত দেওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।

৩,২৩৫.
Estoppel সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় বর্ণিত হইয়াছে?
  1. ৫২-৫৫ ধারায়
  2. ১০১-১১২ ধারায়
  3. ১১৫-১১৭ ধারায়
  4. ২৪-৩০ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৫, ১১৬ ও ১১৭ ধারায় এস্টপেল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারায় এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪৩ ধারায় Estoppel সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
⇒ সাক্ষ্য আইনে estoppel শব্দটি বহুল পরিচিত। সাধারণতঃ স্বকার্যজনিত বাধা বা Estoppel হচ্ছে যা একবার স্বীকার করে নেয়া হয় তা পরবর্তীতে অস্বীকার করার বাধা। অর্থাৎ সাক্ষ্য আইনের যে নীতি কোন ব্যক্তিকে তার পূর্বে প্রদত্ত কোন বক্তব্যকে পরবর্তীতে অস্বীকার করতে বিরত রাখে তা Estoppel বা প্রতিবন্ধক বা স্বকার্যজনিত বাধা নামে পরিচিত। মূলতঃ কোন ব্যক্তির পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য গ্রহণীয় নয়, এটাই এস্টপলের মূলনীতি।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারায় বলা হয়েছে যখন কোন ব্যক্তি তার ঘোষনা, কাজ বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ব্যক্তিকে কোন বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করিয়েছেন এবং সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে উক্ত ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বলেছেন, তখন উক্ত ব্যক্তি বা তার মধ্যে অথবা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন মামলায় প্রথমোক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি তার পূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা, কার্য বা কার্য বিরতির বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না"।

⇒ প্রতিবন্ধঃ- যেক্ষেত্রে এক ঘোষণা, কার্য বা কার্যবিররিত দ্বারা স্বেচ্ছায় অপর ব্যক্তিকে কিছু সত্য বলে বিশ্বাস করিয়েছেন অতবা বিশ্বাস করতে দিয়েছেন এবং সে বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাজ করতে দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে এদের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোন মোকদ্দমায় প্রথমোক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি উক্ত প্রসঙ্গের সত্যতা অস্বীকার করতে পারবেন না।

Section-115. Estoppel: When one person has, by his declaration, act or omission, intentionally caused or permitted another person to believe a thing to be true and to act upon such belief, neither he nor his representative shall be allowed, in any suit or proceeding between himself and such person or his representative, to deny the truth of that thing.
৩,২৩৬.
সন্তানের জন্ম বৈধ বলে প্রমাণিত হয়, যদি সন্তানের জন্ম হয় বিবাহবিচ্ছেদের:
  1. ৩০ দিনের মধ্যে
  2. ১৮০ দিনের মধ্যে
  3. ২৮০ দিনের মধ্যে
  4. ১ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা: সন্তানের জন্মই বিবাহ স্থির থাকাকালে এর বৈধতার চূড়ান্ত প্রমাণ-
কোন ব্যক্তির মাতার সঙ্গে এক ব্যক্তির আইনসঙ্গত বিবাহ কায়েম থাকাকালে অথবা বিবাহবিচ্ছেদের পর দুইশত আশি দিনের ভিতর তার মাতা অবিবাহিতা থাকাকালে যদি তার জন্ম হয় ও যদি এটা দেখান না হয় যে, ঐ ব্যক্তি যখন মাতৃগর্ভে এসে থাকতে অনুরূপ কোন সময়ে বিবাহিত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে মিলনের পথ উন্মুক্ত ছিল, তাহলে সে যে জন্মেছে এ প্রসঙ্গ দ্বারা অবশ্যই চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণিত হবে যে, সে সে ব্যক্তির বৈধ সন্তান।
 
Section 112: Birth during marriage conclusive proof of legitimacy-
The fact that any person was born during the continuance of a valid marriage between his mother and any man, or within two hundred and eighty days after its dissolution, the mother remaining unmarried, shall be conclusive proof that he is the legitimate son of that man, unless it can be shown that the parties to the marriage had no access to each other at any time when he could have been begotten.
৩,২৩৭.
'ক', তার বন্ধু 'খ'-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, 'খ' তাকে টাকা না দিলে সে 'খ'- এর ছেলেকে আটকে রাখবে। এইভাবে 'ক','খ'-কে টাকা দিতে বাধ্য করে। 'ক' নিম্নের কোন অপরাধ করেছে?
  1. দস্যুতা
  2. বলপূর্বক গ্রহণ
  3. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
  4. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারা- বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়:
 
কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাঁদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অর্পণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে 'সম্পত্তি আদায়' করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
 
উদাহরণসমূহ:
(ক) 'ক', 'গ'-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, 'গ' তাকে টাকা না দিলে 'ক', 'গ'- এর বিরুদ্ধে মানহানির কুৎসা রটনা করবে। এইভাবে সে তাকে টাকা দিতে 'গ'-কে বাধ্য করে। 'ক' 'বল প্রয়োগে' সম্পত্তি আদায়' করেছে বলে পরিগণিত হবে।

উল্লিখিত ক্ষেত্রেও 'ক' ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি আদায় করেছে। তাই উক্ত অপরাধ 'বলপূর্বক গ্রহণ' হিসেবে গণ্য হবে।
 
বলপূর্বক গ্রহণের শাস্তি:
দণ্ডবিধির ৩৮৪ ধারা মোতাবেক যে ব্যক্তি জোরপূর্বক গ্রহণের অপরাধ করে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
৩,২৩৮.
আদেশ ৪ বিধি ১ অনুযায়ী কোন আদেশের বিধিসমূহ মোকদ্দমার আরজি প্রণয়নে প্রযোজ্য হবে?
  1. ১ম ও ২য় আদেশ
  2. ৩য় ও ৪র্থ আদেশ
  3. ৫ম ও ৬ষ্ঠ আদেশ
  4. ৬ষ্ঠ ও ৭ম আদেশ
ব্যাখ্যা
• আদেশ ৪ বিধি ১: মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হবে:

১) আদালত অথবা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তার নিকট, আরজি উপস্থাপন করার মাধ্যমে প্রত্যেকটি মোকদ্দমা দাখিল করতে হবে এবং আরজি সংশ্লিষ্ট যতজন বিবাদী থাকে, ততগুলো আরজির অবিকল নকল অনুরূপ সকল বিবাদীর উপর পরোয়ানা জারি করার জন্য পেশ করতে হবে।
১ক) মোকদ্দমার ক্ষেত্রে পরোয়ানা জারি করার জন্য নির্ধারিত প্রদেয় কোর্ট ফি আরজি দাখিল করার সময় এবং অন্যান্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যখন সমন ব্যবহার করা হয় তখন পরিশোধ করতে হবে।
১খ) সমনের একটি নকলসহ প্রত্যেক বিবাদীর জন্য সকল বিবাদীর পূর্ণ ও সঠিক ঠিকানা যুক্ত যথোচিত খামে আগাম প্রদত্ত প্রাপ্তি স্বীকারপত্র আরজির সঙ্গে বাদীকে পেশ করতে হবে।

২) ৬ষ্ঠ ও ৭ম আদেশের বিধিসমূহ যতদূর প্রযোজ্য হয়, তদনুসারে প্রত্যেকটি আরজি প্রণয়ন করতে হবে।
৩,২৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারার অধীনে অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর পূর্বে নিচের কোনটি অবশ্যই করতে হবে?
  1. পুলিশ রিপোর্ট সংগ্রহ করা
  2. পত্রিকায় দোষ স্বীকারোক্তি প্রকাশ করা
  3. অভিযুক্তের আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা
  4. দুটি জাতীয় বাংলা পত্রিকায় হাজিরার আদেশ প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯(খ) ধারায় বলা হয়েছে যে, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর পূর্বে তাকে হাজিরার জন্য ব্যাপক প্রচার আছে এমন দুটি জাতীয় দৈনিক বাংলা পত্রিকায় হাজিরার আদেশ প্রকাশ করতে হবে। যদি অভিযুক্ত উল্লিখিত সময়ের মধ্যে হাজির না হন, তবে তার অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করা যাবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-খ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
(১) যেক্ষেত্রে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন করার পর আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, আসামিকে যাতে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দ করা না হয় সেজন্য সে পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে এবং তাকে গ্রেফতার করার আশু সম্ভাবনা নাই, সেক্ষেত্রে নালিশি অপরাধ আমলে গ্রহণকারী আদালত বহুল প্রচারিত কমপক্ষে দুইটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশে ব্যর্থ হলে তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে।
(২) আসামিকে হাজির করার পর কিংবা আসামি হাজির হবার পর অথবা জামিনে মুক্ত হবার পর যেক্ষেত্রে আসামি পলায়ন করে কিংবা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশি অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 339B: Trial in absentia:
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.
(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
৩,২৪০.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী নিচের কোনটি আদালতে প্রমাণের কোনো প্রয়োজন নেই?
  1. রাষ্ট্রপক্ষের দাবি
  2. স্বীকৃত ঘটনা
  3. সাক্ষীর সাক্ষ্য
  4. আইনজীবীর বক্তব্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : স্বীকৃত ঘটনা।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার বিধান: স্বীকৃত ঘটনাসমূহ প্রমাণ করার আবশ্যকতা নেই:
মোকদ্দমায় পক্ষগণ বা তার প্রতিনিধিগণ যদি কোন বিষয় মামলার শুনানির সময়কালে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা শুনানির পূর্বে যদি তারা এটা নিজ হস্তে লিখে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা উক্ত সময়ে কার্যকর কোন নিয়ম বা পক্ষগণের কোন আরজি-জবাব ইত্যাদি অনুসারে এটা পক্ষগণের দ্বারা স্বীকৃত বলে বিবেচিত হয়, তবে সে ঘটনা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
তবে, নিজের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী আদালত কোন স্বীকৃত ঘটনার এবং অন্যবিধ প্রমাণ চাইতে পারেন।

৩,২৪১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ১৬ ধারা অনুযায়ী, কোন ধরনের মামলা অবশ্যই সম্পত্তি যেখানে অবস্থিত, সেই আদালতে দায়ের করতে হবে?
  1. ফৌজদারি মামলা
  2. স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মামলা
  3. অস্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মামলা
  4. অস্থাবর ও স্থাবর উভয় সম্পত্তি সম্পর্কিত মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১৬ ধারা অনুযায়ী মোকদ্দমার বিষয়বস্তু যে আদালতের আঞ্চলিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত সেই আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। সাধারণত স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত মোকদ্দমা যেমন স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, ভাগ বাটোয়ারা, স্থাবর সম্পত্তির বিনা সংক্রান্ত মামলা, সেই আদালতে দায়ের করাতে হবে, যেখানে উক্ত বিরোধীয় সম্পত্তি অবস্থিত।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৬ ধারার বিধান- বিষয়বস্তু যেখানে অবস্থিত, মামলা সেখানেই দায়ের করতে হবে:
- যে কোন আইনে নির্ধারিত আর্থিক বা অন্যান্য এখতিয়ার সাপেক্ষ -
ক) খাজনা বা মুনাফাসহ বা ব্যতীত স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য,
খ) স্থাবর সম্পত্তি বাটোয়ারা জন্য,
গ) স্থাবর সম্পত্তির বন্ধক বা দায় (charge) উদ্ধারের অধিকার, হরণ, বিক্রয় বা
ঘ) স্থাবর সম্পত্তির অন্য কোনো প্রকার অধিকার বা স্বার্থ নির্ণয়ের জন্য,
ঙ) স্থাবর সম্পত্তির অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে,
চ) আটক বা ক্রোককৃত অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য -

আনীত মামলাগুলি যে সকল আদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবস্থিত, অথবা, ‘গ’ দফায় বর্ণিত মামলার ক্ষেত্রে যে স্থানে মামলার কারণ পূর্ণভাবে অথবা আংশিকভাবে উদ্ভব হয়, সেসব আদালতেই দায়ের করতে হবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী কর্তৃক বা তার পক্ষে দাখিলী কোন স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত প্রতিকার বা উহার অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা, প্রার্থতি প্রতিকার যদি সম্পূর্ণরূপে বিবাদির ব্যক্তিগতভাবে আনুগতভাবে আনুগত্যের ফলে লাভ করা যায়, তবে তাহলে যে আদালতের স্থানীয় সীমানার মধ্যে সম্পত্তি অবস্থিত, অথবা (ঙ) দফায় বর্ণিত ক্ষেত্রে যে স্থানে পূর্ণ বা আংশিকভাবে মামলার কারণ উদ্ভব হয়েছে অথবা যে আদালতের স্থানীয় সীমানার মধ্যে প্রকৃত পক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বিবাদী বাস করে বা ব্যবসা-বাণিজ্য চালায় বা ব্যক্তিগতভাবে লাভের জন্য কর্ম করে সেই আদালতে দায়ের করা যাবে।
------------
→ The Code of Civil Procedure, 1908- Section-16. Suits to be instituted where subject-matter situate.
Subject to the pecuniary or other limitations prescribed by any law, suits- 
(a) for the recovery of immovable property with or without rent or profits, 
(b) for the partition of immovable property, 
(c) for foreclosure, sale or redemption in the case of a mortgage of or charge upon immovable property, 
(d) for the determination of any other right to or interest in immovable property, 
(e) for compensation for wrong to immovable property, 
(f) for the recovery of movable property actually under distraint or attachment, 
shall be instituted in the Court within the local limits of whose jurisdiction the property is situate, or, in the case of suits referred to in clause (c), at the place where the cause of action has wholly or partly arisen: 
Provided that a suit to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property held by or on behalf of the defendant may, where the relief sought can be entirely obtained through his personal obedience, be instituted either in the Court within the local limits of whose jurisdiction the property is situate, or, in the case of suits referred to in clause (c), at the place where the cause of action has wholly or partly arisen, or in the Court within the local limits of whose jurisdiction the defendant actually and voluntarily resides, or carries on business, or personally works for gain. 
Explanation.-In this section "property' means property situate in Bangladesh.
৩,২৪২.
'A' কোন নদীতে নোঙর করা একটি নৌকায় বসে রয়েছে। 'Z' নোঙরের বাধন খুলে দেয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে স্রোতের অনুকূলে ভাসিয়ে দেয় এবং উক্ত কাজের ফলে 'Z' এর মনে ভীতি সৃষ্টি হয়। 'A' এর অপরাধ কী?
  1. অপরাধ করার চেষ্টা করা
  2. বলপ্রয়োগ করা
  3. অপরাধমূলক ক্ষতি করা
  4. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৫০ ধারার বিধান অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ
(ক) চ নদীতে নোঙ্গর করা একটি নৌকাতে বসে আছে। ক নোঙ্গর তুলে দিল এবং এইভাবে ইচ্ছাপূর্বক নৌকাটিকে নদীতে ভেসে যেতে দিল। এখানে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-তে গতি সঞ্চার করল, এবং তা করল একটি বস্তুকে এমনভাবে সঞ্চালিত করে, যে বস্তুটি সঞ্চালনের পর কোন ব্যক্তির অন্যকোন কাজ ব্যতীতই উহাতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সুতরাং ক-ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে এবং ক যদি এটা চ-এর সম্মতি ব্যতীত করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠান করা, অথবা সে যদি এইরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও কার্যটি করে থাকে যে, চ জখম, বিরক্তি বা ভীতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।
-----------
Criminal force:
Section 350. Whoever intentionally uses force to any person, without that person's consent, in order to the committing of any offence, or intending by the use of such force to cause, or knowing it to be likely that by the use of such force he will cause injury, fear or annoyance to the person to whom the force is used, is said to use criminal force to that other. 
 
Illustrations 
(a) Z is sitting in a moored boat on a river. A unfastens the moorings, and thus intentionally causes the boat to drift down the stream. Here A intentionally causes motion to Z, and he does this by disposing substances in such a manner that the motion is produced without any other action on any person's part. A has therefore intentionally used force to Z; and if he has done so without Z's consent, in order to the committing of any offence, or intending or knowing it to be likely that this use of force will cause injury, fear or annoyance to Z, A has used criminal force to Z. 
 
(b) Z is riding in a chariot. A lashes Z's horses, and thereby causes them to quicken their pace. Here A has caused change of motion to Z by inducing the animals to change their motion. A has therefore used force to Z; and if A has done this without Z's consent, intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy Z, A has used criminal force to Z. 
 
(c) Z is riding in a palanquin. A, intending to rob Z, seizes the pole and stops the palanquin. Here A has caused cessation of motion to Z, and he has done this by his own bodily power. A has therefore used force to Z; and as A has acted thus intentionally, without Z's consent, in order to the commission of an offence. A has used criminal force to Z. 
 
(d) A intentionally pushes against Z in the street. Here A has by his own bodily power moved his own person so as to bring it into contact with Z. He has therefore intentionally used force to Z; and if he has done so without Z's consent, intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy Z, he has used criminal force to Z. 
 
(e) A throws a stone, intending or knowing it to be likely that the stone will be thus brought into contact with Z, or with Z's clothes, or with something carried by Z, or that it will strike water, and dash up the water against Z's clothes or something carried by Z. Here, if the throwing of the stone produce the effect of causing any substance to come into contact with Z, or Z's clothes, A has used force to Z; and if he did so without Z's consent, intending thereby to injure, frighten or annoy Z, he has used criminal force to Z. 
 
(f) A intentionally pulls up a woman's veil. Here A intentionally uses force to her, and if he does so without her consent intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy her, he has used criminal force to her. 
 
(g) Z is bathing, A pours into the bath water which he knows to be boiling. Here A intentionally by his own bodily power causes such motion in the boiling water as brings that water into contact with Z, or with other water so situated that such contact must affect Z's sense of feeling: A has therefore intentionally used force to Z; and if he has done this without Z's consent intending or knowing it to be likely that he may thereby cause injury, fear or annoyance to Z, A has used criminal force. 
 
(h) A incites a dog to spring upon Z, without Z's consent. Here, if A intends to cause injury, fear or annoyance to Z, he uses criminal force to Z.
৩,২৪৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-XXI, Rule-32 প্রধানত কোন ধরনের ডিক্রি কার্যকর করার বিধান প্রদান করে?
  1. দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার
  2. নিষেধাজ্ঞামূলক ডিক্রি
  3. সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন
  4. উল্লিখিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির Order XXI, Rule 32 প্রধানত তিন ধরনের ডিক্রি কার্যকর করার বিধান প্রদান করে:
১) সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি (Decree for specific performance of a contract)
২) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রি (Decree for restitution of conjugal rights)
৩) নিষেধাজ্ঞামূলক ডিক্রি (Decree for injunction)
- এই বিধি অনুযায়ী, যদি উক্ত ডিক্রির অধীনে দায়িক ইচ্ছাকৃতভাবে আদেশ না মানে, তবে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তার সম্পত্তি ক্রোক করা যেতে পারে।
- সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বা নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির ক্ষেত্রে তাকে দেওয়ানি কারাগারে আটক, সম্পত্তি ক্রোক, অথবা উভয় পদ্ধতিতে কার্যকর করা যেতে পারে।
অর্থাৎ আদেশ-২১, বিধি-৩২ দাম্পত্য অধিকার, নিষেধাজ্ঞা, এবং সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন—এই তিন ধরনের ডিক্রি কার্যকর করার নিয়ম বলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৩২ এর বিধান সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার অথবা নিষেধাজ্ঞার জন্য ডিক্রি:
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সম্পত্তি ক্রোক, অথবা  চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের বা নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে বা সম্পত্তি ক্রোক করে বা উভয় প্রকারেই কার্যকর করা যাবে।
যদি কোন কর্পোরেশন হয়, তবে কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্রোক করে অথবা পরিচালকগণকে বা অন্যান্য প্রধান কর্মকর্তাগণকে দেওয়ানি কারাগারে আটক করে বা ক্রোক এবং আটক উভয় প্রকারেই ডিক্রিটি জারি করা যাবে। কোন ক্রোক ১ বছর যাবৎ বলবৎ থাকলে যদি ডিক্রি দায়িক ডিক্রিটি মান্য না করে থাকে এবং ডিক্রিদার ক্রোককৃত সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ের জন্য আবেদন করে থাকে, তবে অনুরূপ সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত ডিক্রিদারকে অর্থ প্রদান করতে পারেন।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21 Rule- 32. Decree for specific performance, for restitution of conjugal rights, or for an injunction:
(1) Where the party against whom a decree for the specific performance of a contract, or for restitution of conjugal rights, or for an injunction, has been passed, has had an opportunity of obeying the decree and has wilfully failed to obey it, the decree may be enforced in the case of a decree for restitution of conjugal rights by the attachment of his property or, in the case of a decree to the specific performance of a contract or for an injunction by his detention in the civil prison, or by the attachment of his property, or by both.
(2) Where the party against whom a decree for specific performance or for an injunction has been passed is a corporation, the decree may be enforced by the attachment of the property of the corporation or, with the leave of the Court, by the detention in the civil prison of the directors or other principal officers thereof, or by both attachment and detention.

৩,২৪৪.
ক-এর বিরুদ্ধে খ-এর স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগে আদালতে বিচার চলছে। নীচের কোনটি ক-এর বিচারের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক?
  1. সে যে সম্পত্তি চুরি করেছে সেটি অত্যন্ত মূল্যবান
  2. চেইনটির মালিক ‘খ’ নয়
  3. চেইনটি সে গোপনে নাকি প্রকাশ্যে চুরি করেছে?
  4. ক এর আগেও চুরির অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
♦মূলনীতি এই যে, fact in issue ও relevant issue ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া যায় না। কী বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া যায় তাঁর বিস্তারিত আছে ৫-৫৫ ধারা পর্যন্ত। ৪১ ধারায় বলা হয়েছে পূর্বোক্ত মামলার রায় কখন প্রাসঙ্গিক হবে। ‘ক’ একই অপরাধে আগেও দণ্ডিত হয়েছে এই বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। উদাহরণ (e) দ্রষ্টব্য।
৩,২৪৫.
রাশেদ তার কর্মচারীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম করতে বাধ্য করে। রাশেদ দণ্ডবিধির কোন ধারা লঙ্ঘন করেছে?
  1. ধারা ৩৬৬
  2. ধারা ৩৭৪
  3. ধারা ৩৭৮
  4. ধারা ৩৮৪
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৭৪ ধারা- বেআইনী শ্রমে বাধ্য করা:
(১) কোনো ব্যক্তি যদি কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম দান করতে বাধ্য করে, তবে সেই ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

(২) কোনো ব্যক্তি যদি কোন যুদ্ধবন্দী বা অপর কোন আশ্রিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সশ্রম বাহিনীতে কার্য করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: এই “যুদ্ধবন্দী" এবং "আশ্রিত ব্যক্তি" অভিব্যক্তিসমূহ যথাক্রমে ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধবন্দীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের-৪ দফা এবং ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধকালে বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের ৪ দফা মোতাবেক তৎসমূহের প্রতি আরোপিত অর্থের অনুরূপ অর্থ দ্যোতক হবে।

Section 374- Unlawful compulsory labour:
(1) Whoever unlawfully compels any person to labour against the will of that person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

(2) Whoever compels a prisoner of war or a protected person to serve in the armed forces of Bangladesh shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year.

Explanation- In this section the expressions "prisoner of war" and "protected person" shall have the same meaning as have been assigned to them respectively by Article 4 of the Geneva Convention Relative to the Treatment of Prisoners of War of August 12, 1949, and Article 4 of the Geneva Convention Relative to the Protection of Civilian Persons in Time of War of August 12, 1949.
৩,২৪৬.
‘A’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘Z’-এর দিকে পাথর নিক্ষেপ করে, জেনে যে এটি ‘Z’-কে জখম বা ভীত করতে পারে, এবং ‘Z’-এর সম্মতি ছাড়া এটি করে। ‘A’ দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে অপরাধী? 
  1. ধারা ৩৫০
  2. ধারা ৩৫১
  3. ধারা ৩৫২
  4. ধারা ৩৫৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৫০ অনুসারে, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে বলপ্রয়োগ করা, যদি এটি অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বা আঘাত, ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টির জন্য হয়, তবে তা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বলে গণ্য হয়। এখানে, ‘A’ ইচ্ছাকৃতভাবে ‘Z’-এর দিকে পাথর নিক্ষেপ করে, জেনে যে এটি ‘Z’-এর শরীর জখম করতে পারে এবং তাকে ভয় দেখাতে পারে। এটি ধারা ৩৫০-এর অধীনে অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ।
- সুতরাং, ‘A’ ধারা ৩৫০-এর অধীনে অপরাধী হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৫০ ধারার বিধান অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।
উদাহরণ:
(ক) চ নদীতে নোঙ্গর করা একটি নৌকাতে বসে আছে। ক নোঙ্গর তুলে দিল এবং এইভাবে ইচ্ছাপূর্বক নৌকাটিকে নদীতে ভেসে যেতে দিল। এখানে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-তে গতি সঞ্চার করল, এবং তা করল একটি বস্তুকে এমনভাবে সঞ্চালিত করে, যে বস্তুটি সঞ্চালনের পর কোন ব্যক্তির অন্যকোন কাজ ব্যতীতই উহাতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সুতরাং ক-ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে এবং ক যদি এটা চ-এর সম্মতি ব্যতীত করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠান করা, অথবা সে যদি এইরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও কার্যটি করে থাকে যে, চ জখম, বিরক্তি বা ভীতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 350: Criminal force:
-Whoever intentionally uses force to any person, without that person's consent, in order to the committing of any offence, or intending by the use of such force to cause, or knowing it to be likely that by the use of such force he will cause injury, fear or annoyance to the person to whom the force is used, is said to use criminal force to that other. 
 
Illustration:
(a) Z is sitting in a moored boat on a river. A unfastens the moorings, and thus intentionally causes the boat to drift down the stream. Here A intentionally causes motion to Z, and he does this by disposing substances in such a manner that the motion is produced without any other action on any person's part. A has therefore intentionally used force to Z; and if he has done so without Z's consent, in order to the committing of any offence, or intending or knowing it to be likely that this use of force will cause injury, fear or annoyance to Z, A has used criminal force to Z. 
 
(b) Z is riding in a chariot. A lashes Z's horses, and thereby causes them to quicken their pace. Here A has caused change of motion to Z by inducing the animals to change their motion. A has therefore used force to Z; and if A has done this without Z's consent, intending or knowing it to be likely that he may thereby injure, frighten or annoy Z, A has used criminal force to Z. 
 
(c) Z is riding in a palanquin. A, intending to rob Z, seizes the pole and stops the palanquin. Here A has caused cessation of motion to Z, and he has done this by his own bodily power. A has therefore used force to Z; and as A has acted thus intentionally, without Z's consent, in order to the commission of an offence. A has used criminal force to Z. 

৩,২৪৭.
'ক' একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি রাস্তায় চিৎকার করছে, যার কারণে অন্যান্য লোকজন বিরক্ত হচ্ছে। উক্ত কাজ দণ্ডবিধির কত ধারার অধীন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ৫০৬
  2. ৫০৭
  3. ৫০৯
  4. ৫১০
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৫১০ ধারা অনুযায়ী, নেশাগ্রস্থ ব্যক্তি দ্বারা প্রকাশ্যে অসদাচরণ:
কোন ব্যক্তি যদি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কোন প্রকাশ্য স্থানে গমন করে, বা যে স্থানে প্রবেশ করা তার পক্ষে অনধিকার প্রবেশ, সে স্থানে প্রবেশ করে এবং সে স্থানে এমন আচরণ করে, যার ফলে কারো বিরক্তি ঘটে, তবে সে ব্যক্তি চব্বিশ ঘন্টা পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা দশ টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 510- Misconduct in public by a drunken person:
Whoever, in a state of intoxication appears in any public place, or in any place which it is a trespass in him to enter, and there conducts himself in such a manner as to cause annoyance to any person, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to twenty-four hours, or with fine which may extend to ten taka, or with both.
৩,২৪৮.
নিম্নের কোন কার্যটি চুরি (Theft) হিসাবে গণ্য হবে না?
  1. চলাচলের রাস্তায় পড়ে থাকা মূল্যবান আংটি কুড়িয়ে নেওয়া
  2. অপরের জমিতে দণ্ডায়মান গাছ কেটে ফেলা
  3. টোপ দিয়ে অন্যের পোষা প্রাণী নিয়ে যাওয়া
  4. অপরের জমিতে দণ্ডায়মান গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে, কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।

ধারা ৩৭৮- চুরি:
কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ১: কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মুহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ২: যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।

ব্যাখ্যা ৩: কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা ৪: কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ৫: সংজ্ঞায় উল্লেখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে। এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।

১,২ এবং ৪ নং ব্যাখা অনুসারে, অপশন 'খ', 'গ' এবং 'ঘ' চুরি বলে গণ্য হবে। যেহেতু রাস্তায় পড়ে থাকা আংটির মালিক কে বা প্রকৃত দখলদার কে তা যে ব্যক্তি আংটি কুড়িয়ে নিয়েছে, সে জানে না, তাই সে আংটি টি মালিকের বা প্রকৃত দখলদারের অসম্মতিতে নিয়েছে তা বলা যাবে না। সুতরাং, চলাচলের রাস্তায় পড়ে থাকা মূল্যবান আংটি কুড়িয়ে নেয়া চুরি বলে গণ্য হবে না।
৩,২৪৯.
নিম্নের কোনটি সমন পাঠানোর সঠিক মাধ্যম নয়?
  1. ফ্যাক্স বার্তা
  2. মোবাইল মেসেজ
  3. ক এবং খ
  4. কুরিয়ার সার্ভিস
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধিতে সমন পাঠানোর উল্লেখিত মাধ্যমসমূহ হলো-
⇒ ডাকযোগে
⇒ ফ্যাক্স
⇒ ই-মেইল
⇒ কুরিয়ার সার্ভিস


• আদেশ ৫ বিধি ৯ (জারির জন্য সমন অর্জন অথবা প্রেরণ) -

(১) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে, বিবাদি সেটির এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বসবাস করে, বা সমন গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি বিবাদির পক্ষে যদি এরূপ এলাকার ভিতর বসবাস করে, তবে আদালত অন্য কোনরূপ নির্দেশ না দিলে হয় উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট স্বয়ং জারি করার লক্ষ্যে বা তাদের অধঃস্তন কোন ব্যক্তি দ্বারা অথবা উপ-ধারা (৪) এর বিধান অনুযায়ী জেলা জজ কর্তৃক তালিকাভুক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমন অর্পিত বা প্রেরিত হবে।

(২) উপযুক্ত কর্মকর্তা যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে, সেখানকার না হয়ে অন্য কোন আদালতের কর্মকর্তাও হতে পারেন, এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তার নিকট ডাকযোগে বা আদালত যেভাবে নির্দেশ দিতে পারে অনুরূপ অন্য যে কোন উপায়ে প্রেরণ করা যাবে।

(৩) আদালত উপ-বিধি (১) তে বর্ণিত বিধানের অতিরিক্ত হিসেবে বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করতে পারে এবং একইসঙ্গে ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে বা ইলেক্ট্রনিক মেইল সার্ভিস এর মাধ্যমে নিজ খরচে সমন প্রেরণের নির্দেশ দিবেন।

(৪) জেলা জজ উপ-বিধি (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কুরিয়ার সার্ভিসের একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন (সময় সময় হালনাগাদসহ) এবং তার প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রের সকল দেওয়ানি আদালতসমূহকে তা অবহিত করবেন।

(৫) যখন সমন উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস এর নিকট প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত সমন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে বা প্রেরণ করবেন এবং আদালতকে এতদবিষয়ে অবহিত করবেন:তবে শর্ত থাকে যে, যদি উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণে ব্যর্থ হন, তাহলে উক্ত কর্মকর্তা অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং কুরিয়ার ক্ষেত্রে, জেলা জজ উপ-বিধি (৪) অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে তা বাদ দিবেন।
৩,২৫০.
নিম্নলিখিত কোনটি "ডকুমেন্ট" (Document) হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. একটি ফটোগ্রাফ
  2. একটি মানচিত্র
  3. মৌখিক বক্তব্য
  4. খোদাই করা ধাতব ফলক
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুসারে, "ডকুমেন্ট" বলতে এমন কোনো বিষয় বোঝানো হয় যা কোনো পদ বা চিহ্ন দ্বারা লেখা, অঙ্কিত বা বর্ণিত হয়ে থাকে, এবং তা রেকর্ড হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এটি ফটোগ্রাফ, মানচিত্র, বা খোদাই করা ধাতব ফলক এর মতো বস্তু হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এগুলি তথ্য ধারণ করে এবং সেগুলি ডকুমেন্ট হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা যায়।
তবে, মৌখিক বক্তব্য একটি ডকুমেন্ট হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ এটি কোনো লিখিত বা চিহ্নিত রেকর্ড নয়, বরং মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়।

- অতএব, সঠিক উত্তর "গ) মৌখিক বক্তব্য"।

"ডকুমেন্ট" মানে হলো কোনো বিষয় যা যেকোনো পদ, চিহ্ন বা অঙ্ক দ্বারা বা এইগুলোর একাধিক মাধ্যমে কোনো পদার্থের ওপর প্রকাশিত বা বর্ণিত হয়, যেটি ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় বা যা ব্যবহৃত হতে পারে সেই বিষয়টি রেকর্ড করার জন্য। [এবং এতে যেকোনো ডিজিটাল রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত।]

উদাহরণসমূহ:
একটি লেখা একটি ডকুমেন্ট।
শব্দগুলি যা মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফ করা হয়েছে তা ডকুমেন্ট।
একটি মানচিত্র বা পরিকল্পনা একটি ডকুমেন্ট।
একটি ধাতব প্লেট বা পাথরের ওপর খোদাই করা লেখা একটি ডকুমেন্ট।
একটি ক্যারিকেচার একটি ডকুমেন্ট।
-----------
 "Document" means any matter expressed or described upon any substance by means of letters, figures or marks, or by more than one of those means, intended to be used, or which may be used, for the purpose of recording that matter and includes any digital record.

Illustrations

A writing is a document:
Words printed, lithographed or photographed are documents:
A map or plan is a document:
An inscription on a metal plate or stone is a document:
A caricature is a document.
৩,২৫১.
বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণীর নাগরিকদের মধ্যে শত্রুতা প্রসারিত করার শাস্তির বিধান করা হয়েছে-
  1. ১৫৩গ ধারায়
  2. ১৫২ ধারায়
  3. ১৫৩ক ধারায়
  4. ১৫৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৫৩ক ধারার বিধান বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা:- কোন ব্যক্তি যদি কোন উচ্চারিত বা লিখিত কথা কর্তৃক অথবা চিহ্ন কর্তৃক অথবা দৃশ্যমান প্রতীক কর্তৃক অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশের জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে শত্রুতার মনোভাব বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

♦ ব্যাখ্যা:- বাংলাদেশের জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে বৈরিতা বা বিদ্বেষের মনোভাবপ্রসূত, বিষয়ারার বা যেসব বিষয় অনুরূপ বৈরিতা বা বিদ্বেষের মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে হয়, সেসব বিষয় দূরীকরণের সৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এবং কোনরূপ দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া তৎসমূহের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তা এই ধারার অর্থ অনুযায়ী অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।
৩,২৫২.
Code of Civil Procedure-এর কোন ধারায় আদালত 'Compliance Report' দাখিলের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. ধারা ৯২
  2. ধারা ৯৩
  3. ধারা ৯৪
  4. ধারা ৯৪ক
ব্যাখ্যা
Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ৯৪ক: আদেশ বা ডিক্রি কার্যকরকরণে নির্দেশ:
"কোনো ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে, আদালত নির্বাহী কর্তৃপক্ষসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহকে আদালত কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিকে সহায়তা করার জন্য এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকরির প্রতিবেদন (compliance report) দাখিলের নির্দেশ দিতে পারবে।"

94A- Direction in execution of orders, etc
For the purpose of execution of any decree or order, the Court may direct the executive authorities, including law enforcement agencies, to assist any person designated by it and to submit compliance report within the time specified by it.
৩,২৫৩.
কোনো একটি দলিল ‘ক’-এর উইল কি না তার বিচারে, তর্কিত উইলের তারিখে ‘ক’ এর সম্পত্তি ও তার পরিবারের অবস্থা- সাক্ষ্য হিসেবে কত ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
  1. ৯ ধারায়
  2. ১০ ধারায়
  3. ১১ ধারায়
  4. ১২ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন (ধারা ৯): প্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য:
যে তথ্যগুলো প্রাসঙ্গিক তথ্য বা বিরোধপূর্ণ বিষয় ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করতে সহায়তা করে, অথবা- কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর পরিচয় নির্ধারণ করে, কোনো ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় বা স্থান নির্ধারণ করে, যে পক্ষগুলোর মাধ্যমে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে, তাদের সম্পর্ক স্পষ্ট করে, সেই সকল তথ্য প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে, যদি তা এই উদ্দেশ্যের জন্য অপরিহার্য হয়।

উদাহরণ:
(ক) প্রশ্ন হলো, একটি নির্দিষ্ট নথি A-এর উইল কিনা।
উইল তৈরির সময় A-এর সম্পত্তি ও পরিবারের অবস্থা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

(খ) A, B-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে। B দাবি করেছে যে অভিযোগ সত্য।
মানহানির সময় A ও B-এর পারস্পরিক সম্পর্ক প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি মূল বিষয়টি বোঝাতে সাহায্য করবে।
কিন্তু A ও B-এর পূর্ববর্তী অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিতর্ক প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না তা তাদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে থাকে।

(গ) A একটি অপরাধের জন্য অভিযুক্ত।
অপরাধ সংঘটনের পর A-এর আকস্মিকভাবে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রাসঙ্গিক। যদি প্রমাণিত হয় যে জরুরি ব্যবসার কারণে সে চলে গিয়েছিল, তাহলে সেটিও প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে পারে। তবে ব্যবসার বিস্তারিত বিবরণ প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না তা প্রমাণ করে যে ব্যবসাটি হঠাৎ ও জরুরি ছিল।
৩,২৫৪.
বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল কিভাবে তার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে পারে?
  1. নিজস্ব উদ্যোগে
  2. কোনো আবেদনের ভিত্তিতে
  3. প্রধান বিচারপতির নির্দেশে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
⇒ বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (রিভিউ) করার ক্ষমতা:
অনুচ্ছেদ ৩৪(৮) অনুযায়ী: বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে তার পূর্বের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (review), পরিবর্তন (vary) বা বাতিল (rescind) করতে পারে।
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ৩৪ (৮) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল তার নিজস্ব উদ্যোগে বা কোন আবেদনের প্রেক্ষাপটে তার সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে পারে বা পরিবর্তন করতে পারে বা বাতিল করতে পারে।
------------------ 
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 Article-34(8):
The Tribunal may, of its own motion or on application made to it in this behalf, review any order passed under clause (4) or (6) and maintain, vary or rescind the same, as it thinks fit.
৩,২৫৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫গ অনুযায়ী, মামলাটি দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হলে কাকে অবহিত করতে হয়?
  1. অভিযুক্তকে
  2. আদালতের রেজিস্ট্রারকে
  3. পাবলিক প্রসিকিউটরকে
  4. অভিযোগকারীকে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫গ:
যখন কোনো মামলার সূত্রপাত পুলিশ প্রতিবেদন বা অন্য কোনো উপায়ে হয়, এবং আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয় বা আনা হয়, তখন যদি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মনে হয় যে উক্ত অপরাধটি এককভাবে দায়রা আদালতে (Court of Session) বিচারযোগ্য, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নিম্নোক্ত কাজসমূহ করবেন:
(ক) মামলাটি দায়রা আদালতে পাঠাবেন;
(খ) এই বিধি অনুযায়ী জামিন বা রিমান্ড সংক্রান্ত বিধানসমূহ অনুসারে, আসামিকে বিচার চলাকালীন ও বিচারের সমাপ্তি পর্যন্ত হেফাজতে (custody) রাখার আদেশ দিতে পারবেন;
(গ) মামলার নথিপত্র, এবং প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য যেসব দলিল ও বস্তু রয়েছে, তা দায়রা আদালতে প্রেরণ করবেন;
(ঘ) মামলাটি দায়রা আদালতে স্থানান্তরের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিকে (Public Prosecutor) অবহিত করবেন।
৩,২৫৬.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় বলা হয়েছে যে, অপর কারো ক্ষতি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ক্ষতি ঘটানোর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যদি কাজটি সদাশয়ভাবে ও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছাড়াই করা হয়, তবে তা অপরাধ নয়?
  1. ধারা-৭৯
  2. ধারা-৮০
  3. ধারা-৮১
  4. ধারা-৮২
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ধারা ৮১ বলছে: যদি কেউ অপর কোনো ব্যক্তি বা সম্পত্তির ক্ষতি প্রতিরোধ বা রোধ করার উদ্দেশ্যে, সদাশয়ভাবে (good faith) ও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছাড়াই, এমন কোনো কাজ করে যার ফলে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে—তাহলেও সেটি অপরাধ হবে না, যদি ওই ক্ষতি প্রতিরোধ জরুরি ও তাৎক্ষণিক ছিল বলে প্রমাণিত হয়।

দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ধারা ৮১: ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও অপর ক্ষতি প্রতিরোধে ও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ব্যতীত কাজ করলে তা অপরাধ নয়:
যদি কোনো কাজ এমন জেনে-বুঝেই করা হয় যে, তাতে ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও সেই কাজটি কারো প্রতি ক্ষতি সাধনের অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ব্যতীত এবং সদাশয়ভাবে (good faith) করা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সম্পত্তির প্রতি অন্য একটি ক্ষতি প্রতিরোধ বা পরিহারের উদ্দেশ্যে, তাহলে তা মাত্ৰ এই কারণে অপরাধ বলে গণ্য হবে না যে, সেটি ক্ষতির সম্ভাবনা রাখে।ঃ

ব্যাখ্যা: এই ধরনের ক্ষেত্রে, যেই ক্ষতি প্রতিরোধ বা পরিহার করা হচ্ছিল, সেটি কতটা প্রকৃত ও তাৎক্ষণিক ছিল, এবং সেই কারণে ক্ষতি ঘটার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাজটি করা যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য ছিল কি না, তা বাস্তব প্রশ্ন (question of fact) হিসেবে বিবেচিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 81: Act likely to cause harm, but done without criminal intent and to prevent other harm:
Nothing is an offence merely by reason of its being done with the knowledge that it is likely to cause harm, if it be done without any criminal intention to cause harm, and in good faith for the purpose of preventing or avoiding other harm to person or property. 
 
Explanation.-It is a question of fact in such a case whether the harm to be prevented or avoided was of such a nature and so imminent as to justify or excuse the risk of doing the act with the knowledge that it was likely to cause harm.
৩,২৫৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় মেট্রোপলিটন এলাকায় সাক্ষীর ক্ষেত্রে কমিশন নিয়োগের বিধান আছে?
  1. ৫০৩
  2. ৫০৪
  3. ৫০৫
  4. ৫০৬
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৪ ধারার বিধান: মেট্রোপলিটন এলাকায় সাক্ষীর ক্ষেত্রে কমিশন:
(১) সাক্ষী যদি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অধিক্ষেত্রের স্থানীয় সীমার মধ্যে অবস্থান করে, সেক্ষেত্রে কমিশন দানকারী ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত উক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিশন করতে নির্দেশ দিবেন এবং তিনি এরূপভাবে সাক্ষীকে হাজির করে তার সাক্ষ্য এমনভাবে গ্রহণ করবেন যাতে তার নিজের কাছেই মামলাটি পেন্ডিং আছে।

(২) এই ধারার অধীন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিশন দেয়া হলে তিনি কমিশনে প্রদত্ত যাবতীয় ক্ষমতা ও কর্তব্য তার অধীনস্ত কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর ন্যস্ত করতে পারবেন। 
----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-504: Commission in case of witness being within a Metropolitan Area:
(1) If the witness is within the local limits of the jurisdiction of any Metropolitan Magistrate, the Magistrate or Court issuing the commission may direct the same to such Metropolitan Magistrate, who thereupon may compel the attendance of, and examine, such witness as if he were a witness in a case pending before himself.
(2) When a commission is issued under this section to the Chief Metropolitan Magistrate, he may delegate his powers and duties under the commission to any Metropolitan Magistrate subordinate to him.
৩,২৫৮.
তামাদি আইন অনুসারে খালাশ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে -
  1. ৩০ দিনের মধ্যে
  2. ৬০ দিনের মধ্যে
  3. ৬ মাসের মধ্যে
  4. ১ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
♣ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী খালাশ আদেশের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে হবে। 
৩,২৫৯.
তামাদি আইনের বিধান অনুযায়ী দেনা আংশিক পরিশোধের ফলাফল কী?
  1. নতুন করে তামাদি গণনা
  2. তামাদি গণনা স্থগিত থাকবে
  3. তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে না
  4. পূর্বের তামাদির মেয়াদ অব্যাহত থাকবে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ধারা ১৯ মতে- দেনা আংশিক পরিশোধ বা লিখিত স্বীকৃতি ফলে নতুন করে তামাদি মেয়াদ শুরু হবে।
⇒ তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোন মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অপর পক্ষ যদি উক্ত মামলার বা দরখাস্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে নেয়, সেক্ষেত্রে উত্তরুপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।

তামাদি আইনের ১৯ ধারার শর্তসমূহ নিম্নরূপ-
⇒ লিখিত হতে হবে,
⇒ উক্ত পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে,
⇒ অবশ্যই তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই করতে হবে,
⇒ উক্ত স্বীকৃতি অবশ্যই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে হবে।

তামাদি আইনের ১৯ ধারার বিধান: লিখিত স্বীকারোক্তির প্রভাব (মেয়াদ আইনের অধীনে)
(১) যদি কোনো সম্পত্তি বা অধিকারের বিষয়ে মামলা বা আবেদন করার জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে, সেই সম্পত্তি বা অধিকারের বিষয়ে দায় স্বীকার করে কোনো লিখিত স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়, এবং এটি সেই ব্যক্তির স্বাক্ষরযুক্ত হয় যার বিরুদ্ধে সম্পত্তি বা অধিকার দাবি করা হচ্ছে, অথবা তার পক্ষে কোনো ব্যক্তি, যার থেকে তিনি তার অধিকার বা দায় লাভ করেছেন, তাহলে স্বীকারোক্তি দেওয়ার সময় থেকে মেয়াদের নতুন সময় শুরু হবে।

(২) যদি স্বীকারোক্তির লিখিত দলিলটি তারিখবিহীন হয়, তাহলে কখন এটি স্বাক্ষরিত হয়েছে সে সম্পর্কে মৌখিক প্রমাণ দেওয়া যেতে পারে। তবে, Evidence Act, 1872 এর অধীনে, দলিলের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হবে না।

ব্যাখ্যা-I:
এই ধারার উদ্দেশ্যে, কোনো স্বীকারোক্তি যথেষ্ট হবে, যদিও তাতে সম্পত্তি বা অধিকারের প্রকৃতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা না হয়। অথবা এতে বলা হয় যে, প্রদানের বা সম্পাদনের সময় এখনও আসেনি। এমনকি যদি স্বীকারোক্তির সাথে কোনো অস্বীকৃতিও যুক্ত থাকে যে, অর্থ প্রদান বা সম্পত্তি সরবরাহ করা হবে না, তবুও সেটি যথেষ্ট স্বীকারোক্তি বলে বিবেচিত হবে। এটি এমন ব্যক্তির উদ্দেশ্যে পাঠানো হলেও যথেষ্ট হবে, যে ব্যক্তিটি ঐ সম্পত্তি বা অধিকারের জন্য আসলে অধিকারী নয়।

ব্যাখ্যা-II:
এই ধারার উদ্দেশ্যে, "স্বাক্ষরিত" বলতে বোঝানো হয়েছে, হয় স্বয়ং ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষর করা, অথবা কোনো নিয়োজিত প্রতিনিধি দ্বারা স্বাক্ষর করা।

ব্যাখ্যা-III:
এই ধারার উদ্দেশ্যে, কোনো ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার জন্য আবেদনও একটি অধিকারের বিষয়ে আবেদন বলে গণ্য হবে।
------------
⇒The Limitation Act, 1908, Section-19. Effect of acknowledgement in writing:
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed.

(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received.
Explanation-I - For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time
for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right.
Explanation-II - For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf.
Explanation-III - For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
৩,২৬০.
দণ্ডবিধির কত অধ্যায়ে "রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ" সমূহ আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৩য় অধ্যায়ে
  2. ৫ম অধ্যায়ে
  3. ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে
  4. ৪র্থ অধ্যায়ে
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি, ১৮৬০ আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং দণ্ডবিধির মোট ধারা ৫১১ টি। দণ্ডবিধির ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ (OFFENCES AGAINST THE STATE) সমূহ আলোচনা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ: 

রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ হলো এমন অপরাধ যা দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হয়। দণ্ডবিধিতে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের বিধান রয়েছে। এগুলো হলো:

১. দেশদ্রোহ অপরাধ (Offences relating to Waging War against Bangladesh):
দণ্ডবিধির ১২১-১২৪এ ধারায় এ অপরাধসমূহ আছে। যেমন যুদ্ধ বা সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘোষণা করা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো ইত্যাদি। এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

২. নানা রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ (Offences against the State):
১২১এ থেকে ১২৪ধারার বাইরেও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ আছে ১২৫-১৩৩ধারায়। যেমন শাসনতন্ত্র উৎখাতের চেষ্টা (১২৫), প্রচার (১২৩), রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র (১২১এ) ইত্যাদি। শাস্তি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

৩. গোপনীয়তা ভঙ্গ (Sedition):
১২৪এ ধারায় সরকারের প্রতি অবাধ্যতা ও আইন অমান্য করাকে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শাস্তি আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত।

এছাড়াও সৈন্য জন বা সামরিক ব্যক্তিদের জন্য আরও কিছু বিশেষ রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের বিধান রয়েছে দণ্ডবিধিতে।
৩,২৬১.
অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল চালাকালে আসামী মারা গেলে আপীলটি-
  1. এবেট হবে
  2. এবেট হবে না
  3. খারিজ হবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩১ মতে-
৪১৭ ধারা ও ৪১৭ক ধারা অধীন প্রত্যেকটি আপিলে আসামীর মৃত্যু হলে চূড়ান্তভাবে পণ্ড হয়ে যাবে এবং এই অধ্যায়ের অধীন অন্যান্য প্রত্যেকটি আপিল (জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল ব্যতিত) আপিলকারীর মৃত্যু হলে চূড়ান্তভাবে পণ্ড বা আপিল Abatement হয়ে যাবে। 

অর্থাৎ জরিমানার বা অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল হলে আপিলকারী মারা গেলেও আপিল বাতিল হবে না, তখন আপিলকারীর আইনগত প্রতিনিধিরা স্থলভিষিক্ত হবে এবং আসামীর সম্পদ থেকে জরিমানার বা অর্থদণ্ড আদায় হবে।

Section 431- Abatement of appeals
Every appeal under section 417 or section 417A shall finally abate on the death of the accused, and every other appeal under this Chapter
(except an appeal from a sentence of fine) shall finally abate on the death of the appellant.
৩,২৬২.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর কত ধারায় “Order” (আদেশ) এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ধারা ২(১০)
  2. ধারা ২(১২)
  3. ধারা ২(১৪)
  4. ধারা ২(১৬)
ব্যাখ্যা

ধারা ২(১৪): “Order” (আদেশ):
“Order” means the formal expression of any decision of a Civil Court which is not a decree.
“আদেশ” বলতে বোঝায় দেওয়ানি আদালতের যে কোন সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ, যা ডিক্রি (decree) নয়।

⇒ আদালতের যে সিদ্ধান্ত ডিক্রি নয়, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়, তাকে আদেশ (Order) বলা হয়। অর্থাৎ, প্রতিটি আদালতের সিদ্ধান্ত হয় ডিক্রি, নয়তো আদেশ — যদি তা দেওয়ানি আদালতের হয়। যেমন - মামলার অগ্রগতি, সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা, বা মামলার খারিজ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ইত্যাদি “আদেশ” হিসেবে গণ্য হয়।

৩,২৬৩.
নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে আদালতে উপস্থিতি ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তির মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
  1. ব্যক্তি মৃত হলে
  2. ব্যক্তি নিখোঁজ হলে
  3. ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে অক্ষম হলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী- কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হয়।

- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩২ অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি আদালতে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদিও সেই ব্যক্তি আদালতে উপস্থিত নেই। এই পরিস্থিতিগুলো হলো—
→ ব্যক্তি মৃত হলে – যদি কোনো ব্যক্তি মারা যান, তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত বা মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিবৃতি আদালতে "মৃত্যুকালীন ঘোষণা" (Dying Declaration) হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
→ ধারা ৩২-এর প্রাথমিক শর্ত মতে ব্যক্তি নিখোঁজ হলে – যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া না যায় বা তার অবস্থান অনির্ধারিত থাকে, তবে তার পূর্বে করা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
→ ধারা ৩২-এর শর্ত মতে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে অক্ষম হলে – যদি কেউ শারীরিক বা মানসিক কারণে সাক্ষ্য দিতে অপারগ হন, যেমন— পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা কোমায় থাকেন, তাহলে তার পূর্বে করা লিখিত বা মৌখিক বিবৃতি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। 

অর্থাৎ উপরোক্ত তিনটি শর্তের যে কোনো একটির উপস্থিতিতে আদালত ব্যক্তির মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি গ্রহণ করতে পারে। তাই, "উপরের সবগুলো" (ঘ) সঠিক উত্তর।
৩,২৬৪.
দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ আদেশের ৮৯ বিধি অনুযায়ী, নিলাম বিক্রয় রদ করতে ক্রয় মূল্যের কত শতাংশ জমা দেয়ার বিধান রয়েছে?
  1. ৫%
  2. ১০%
  3. ১৫%
  4. ২০%
ব্যাখ্যা
ডিক্রি জারিতে বিক্রয় রদ করার আবেদন:
দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ আদেশের ৮৯ বিধির অধীন ডিক্রি জারিতে বিক্রয় রদ করার আবেদন করা যায়। ডিক্রি জারিতে কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করা হলে, উক্ত নিলাম বিক্রয়ের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে বিক্রয় বাতিলের জন্য আবেদন করা যায়। এই ক্ষেত্রে ক্রয় মূল্যে ৫% বা নিলাম ঘোষণায় উল্লেখিত অর্থের মধ্যে যেটা কম তা জমা দিয়ে বিক্রয় রদের আবেদন করতে হবে।

অন্যদিকে, ডিক্রি জারিতে কোন স্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় হলে উক্ত নিলাম রদের জন্য ৯০ বিধির অধীন আবেদন করা যায় যদি-
১. নিলাম প্রচার বা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম বা প্রতারণা থাকে,
২. আবেদনকারীকে যদি ২২ বিধির অধীন নোটিশ দিতে ব্যর্থ হয়।

যদি আবেদনকারী প্রমাণ করতে পারে যে, নিলাম প্রচার বা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম বা প্রতারণা ছিল, তাহলে আদালত উক্ত নিলাম রদ করতে পারে। ৮৯ এবং ৯০ বিধির অধীন নিলাম বিক্রয়ের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে বিক্রয় বাতিলের জন্য আবেদন করা যায় (তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৬৬ অনুচ্ছেদ)।

প্রতিকার:
৮৯ এবং ৯০ বিধির অধীন বিক্রয় রদের কোন আদেশ দিলে বা বিক্রয় বাতিল করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে কোন আদেশ দিলে, উক্ত আদেশ হলো আপীলযোগ্য এবং উভয় ক্ষেত্রে আপীল করা যায় (আদেশ ৪৩, বিধি ১)।
৩,২৬৫.
'প্রত্যেকটি বণ্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না'- কোন ধারায় বলা আছে?
  1. ৪৯৮ ধারায়
  2. ৪৯৯ ধারায়
  3. ৫০০ ধারায়
  4. ৫০১ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৯৮- জামিন মঞ্জুর করার এবং অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা:

(১) এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেকটি বণ্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না, এবং দণ্ডের পর আপীল থাকুক আর না থাকুক, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবীকৃত জামিন হ্রাস করার নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।

Section 498: Power to direct admission to bail or reduction of bail
The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.
৩,২৬৬.
কোন মামলার ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে কোনো মহিলাকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখা যাবে না?
  1. স্বত্ত্বের মামলা
  2. অর্থ মামলা
  3. অগ্রক্রয়ের মামলা
  4. দখলের মামলা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৫৬ ধারা- টাকার ডিক্রি জারিতে মহিলাকে গ্রেফতারের বা আটকের বাধা-নিষেধ:
এই খণ্ডে অন্য কোন বিধান থাকা সত্ত্বেও আদালত টাকা পরিশোধের জন্য ডিক্রি জারির জন্য কোন মহিলাকে দেওয়ানি জেলে গ্রেপ্তার বা আটক রাখার আদেশ প্রদান করবে না।

Section 56- Prohibition of arrest or detention of women in execution of decree for money:
Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of a woman in execution of a decree for the payment of money.
৩,২৬৭.
তামাদি আইনের ১৭৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের জন্য দরখাস্ত দাখিলের তামাদি মেয়াদ কত দিন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১ম শিডিউলের ১৭৫ অনুচ্ছেদে ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের জন্য দরখাস্ত দাখিলের বিধান রয়েছে। উক্ত  দরখাস্ত ডিক্রির তারিখ হতে ৬ মাস মধ্যে দাখিল করতে হয়। 
অর্থাৎ তামাদি আইনের ১৭৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ডিক্রির অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের জন্য দরখাস্ত দাখিলের তামাদি মেয়াদ ডিক্রির তারিখ হতে ৬ মাস।

⇒ According to Article 175 of The Limitation Act, 1908, the limitation period for the payment of the amount of a decree by instalments is six months from the date of the decree. 
 
উল্লেখ্য, 
⇒  তামাদি আইন ১৯০৮ সালে তৈরি করা হয় এবং ১৯০৯ সালে প্রযোজ্য হয়। বর্তমানে মানে ২৯ টি ধারা এবং একটি তফসিল আছে ।
- তামাদি আইনের তফসিলে মোকদ্দমা, আপীল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে।

- তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।
৩,২৬৮.
যেক্ষেত্রে পেনাল কোড অনুসারে অর্থদণ্ডের বিধান থাকে কিন্তু কত টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে সে বিষয়ে কোন উল্লেখ থাকে না, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমাণ কত?
  1. এক হাজার টাকা
  2. দুই হাজার টাকা
  3. পাঁচ হাজার টাকা
  4. নির্দিষ্ট সীমা নেই কিন্তু অত্যধিক হবে না
ব্যাখ্যা
• অর্থদণ্ডের পরিমাণ (Amount of Fine): অর্থদণ্ডের বিধান আইনে আছে, কিন্তু কত পরিমাণ/টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে সে বিষয়ের উল্লেখ না থাকলে- সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমাণ নির্ধারণে নির্দিষ্ট সীমা নেই।

দণ্ডবিধির ৬৩ ধারা অনুযায়ী-

যেক্ষেত্রে অর্থদণ্ডের বিধান থাকে কিন্তু কত টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে সে বিষয়ে কোন উল্লেখ থাকে না, সেক্ষেত্রে অর্থ দণ্ডের নির্দিষ্ট সীমা নাই তবে অত্যাধিক হবে না।
৩,২৬৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন অধ্যায়ে সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. অধ্যায় ২০
  2. অধ্যায় ২১
  3. অধ্যায় ২২
  4. অধ্যায় ২৩
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২ তে সংক্ষিপ্ত বিচারের (Summary Trials) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই অধ্যায়ে ধারা ২৬০ থেকে ২৬৫ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি এবং শর্তাবলী বর্ণনা করা হয়েছে।
- সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে লঘু শাস্তির অপরাধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়, যেখানে কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর হতে পারে।
- গুরুতর অপরাধ, যেমন হত্যা বা ধর্ষণ, সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় পড়ে না।

- অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর অধ্যায় ২২-এ সংক্ষিপ্ত বিচার (Summary Trial) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই অধ্যায়ের ধারা ২৬০ থেকে ২৬৫ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্র, পদ্ধতি ও সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হয়েছে।
৩,২৭০.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী, যদি সহকারী জজ রায় প্রদান করেন, তবে রিভিউ আবেদন কোথায় দাখিল করতে হবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. জেলা জজ আদালতে
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে
  4. সহকারী জজের আদালতে
ব্যাখ্যা
⇒ যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ দেয়, সেই আদালতে ডিক্রি বা আদেশটি রিভিউ করার জন্য আবেদন করতে হয়। 
- যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেছে, সেই আদালতেই ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে হয়।
- দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ ও অর্ডার ৪৭ অনুযায়ী, রিভিউ আবেদন করতে হয় সেই আদালতেই, যে আদালত ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করেছে। অর্থাৎ, আদালত নিজেই তার রায়/আদেশ পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা রাখে।
- যদি সহকারী জজ রায় প্রদান করেন, তবে সেই রায়ের রিভিউ আবেদনও সহকারী জজের আদালতেই দাখিল করতে হবে, অন্য কোনো উচ্চতর আদালতে নয়। রিভিউয়ের এখতিয়ার একমাত্র থাকে রায়দাতা আদালতের হাতে, আপিলের মত উচ্চতর আদালতে নয়।

- উল্লিখিত প্রশ্নে সহকারী জজ রায় দিলে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে উক্ত সহকারী জজের নিকট রিভিউ আবেদন করতে হবে।
৩,২৭১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে চুক্তির বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে-
  1. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য
  2. সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য নয়
  3. আদালত অনিষ্পন্ন অবস্থায় রেখে দিতে পারে
  4. চুক্তিটিকে বাতিল বলে ঘোষণা করবেন
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে, নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলি নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানি কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে অথবা;
৮) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে।
------------------
Contracts not specifically enforceable, 21. The following contracts cannot be specifically enforced:
(a) a contract for the non-performance of which compensation in money is an adequate relief;
(b) a contract which runs into such minute or numerous details, or which is so dependent on the personal qualifications or volition of the parties, or otherwise from its nature is such, that the Court cannot enforce specific performance of its material terms;
(c) a contract the terms of which the Court cannot find with reasonable certainty;
(d) a contract which is in its nature revocable;
(e) a contract made by trustees either in excess of their powers or in breach of their trust;
(f) a contract made by or on behalf of a corporation or public company created for special purposes, or by the promoters of such company, which is in excess of its powers;
(g) a contract the performance of which involves the performance of a continuous duty extending over a longer period than three years from its date;
(h) a contract of which a material part of the subject matter, supposed by both parties to exist, has, before it has been made, ceased to exist.

৩,২৭২.
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর কোন ধারার ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়?
  1. ২০ ধারার
  2. ২৫ ধারার
  3. ৩৫ ধারার
  4. ৪৫ ধারার
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইন,১৯০৮ এর ধারা ২৯ অনুসারে, তামাদি আইন প্রযোজ্য নয়-
⇒ বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ৫ ধারা;
⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ২৫ ধারার ক্ষেত্রে;
⇒ বিবাহ বিচ্ছেদ আইন মোতাবেক আনীত মামলার ক্ষেত্রে;
⇒ সুখাধিকার আইন, ১৮৮২ এর আওতাভুক্ত এলাকা থেকে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায় বর্ণিত "সুখাধিকার" এর সংজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

Section 29- Savings:
(1) Nothing in this Act shall affect section 25 of the Contract Act, 1872.

(2) Where any special law prescribes for any suit, appeal or application a period of limitation different from the period prescribed therefore by the first schedule, the provision of section 3 shall apply, as if such period were prescribed therefor in that schedule, and for the purpose of determining any period of limitation prescribed for any suit, appeal or application by any special law-
(a) the provisions contained in section 4, sections 9 to 18, and section 22 shall apply only in so far as, and to the extent to which, they are not expressly excluded by such special law; and
(b) the remaining provisions of this Act shall not apply.

(3) Nothing in this Act shall apply to suits under the Divorce Act.

(4) Sections 26 and 27 and the definition of “easement” in section 2 shall not apply to cases arising in territories to which the Easements Act, 1882, may for the time being extend.
৩,২৭৩.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী নিম্নলিখিতদের মধ্যে কে পদাধিকারবলে (Ex-officio) Justice of the Peace নয়?
  1. দায়রা জজ
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি
  4. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৫-এ পদাধিকারবলে (Ex-officio) জাস্টিস অফ দি পিস কারা হবেন, তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া আছে। এই ধারা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গ পদাধিকারবলে জাস্টিস অফ দি পিস:
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ (সমগ্র বাংলাদেশের জন্য)।
- দায়রা জজ (Sessions Judges) (নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে)।
- চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (Chief Judicial Magistrate) (নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে)।
- মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (Metropolitan Magistrates) (নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে)।
উপরোক্ত তালিকায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (District Magistrate)-এর নাম উল্লেখ নেই। যদিও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রশাসনিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদ, তবে ফৌজদারি কার্যবিধির এই বিশেষ ধারা (২৫) অনুযায়ী তিনি পদাধিকারবলে জাস্টিস অফ দি পিস নয়।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ২৫ ধারায় ‘পদাধিকার বলে জাস্টিস অব দি পিস' শিরোনামে বলা আছে যে, সমগ্র বাংলাদেশে সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতিগণ এবং দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ স্ব স্ব এলাকায় Justice of the Peace থাকবেন।
- ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর  ২২ ধারা অনুযায়ী মফম্বল এলাকার জন্য সরকার বিদেশি নাগরিক ব্যতীত উপযুক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে জাস্টিস অব দি পিস নিয়োগ দিতে পারেন।
- সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যেক বিচারক পদাধিকারবলে সমগ্র বাংলাদেশের জাস্টিস অফ দি পিস।
- দায়রা বিচারকগণ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ পদাধিকারবলে তাদের অধিক্ষেত্রভুক্ত এলাকার জন্য জাস্টিস অফ দি পিস।
------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section: 22: Justice of the peace for the mafassal:
The Government may, by notification in the official Gazette, appoint such persons resident within Bangladesh and not being the subjects of any foreign State as it thinks fit to be Justices of the Peace within and for the local area mentioned in such notification.
Repealed
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section: 25: Ex-officio Justices of the Peace:
In virtue of their respective offices, the Judges of the Supreme Court are Justices of the Peace within and for of the whole of Bangladesh, Sessions Judges, Chief Judicial Magistrate and Metropolitan Magistrates are Justices of the Peace within their respective jurisdictions.

৩,২৭৪.
The death of a _________ shall not cause the suit to abate if the right to sue survives.
  1. person
  2. defendant
  3. plaintiff
  4. plaintiff or defendant
ব্যাখ্যা
• Order-22 Rule-1: No abatement by party's death, if right to sue survives:
The death of a plaintiff or defendant shall not cause the suit to abate if the right to sue survives.

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২২ বিধি-১: মোকদ্দমা করার অধিকার উদ্ভব হয়ে থাকলে পক্ষের মৃত্যুতে মোকদ্দমা বিলোপসাধন হয় না:
মোকদ্দমা করার অধিকার যদি উদ্ভব হয়, তাহলে কোন বাদী বা বিবাদীর মৃত্যু মোকদ্দমার বিলুপ্তি ঘটায় না।
৩,২৭৫.
তামাদি আইন অনুসারে, দায় স্বীকার (Acknowledgment) করা হলে সময়সীমা গণনা শুরু হবে-
  1. দায় সৃষ্টির দিন থেকে
  2. চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে
  3. দায় স্বীকারের দিন থেকে
  4. আদালতে দায় স্বীকারের দিন থেকে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৯ অনুসারে, যদি কোনো দায় ( liability) সম্পর্কিত লিখিত স্বীকারোক্তি (Acknowledgment) করা হয়, তাহলে সময়সীমা পুনরায় গণনা স্বীকারোক্তিটি স্বাক্ষর করার দিন থেকে শুরু হবে।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর গ) দায় স্বীকারের দিন থেকে।

⇒ তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোন মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অপর পক্ষ যদি উক্ত মামলার বা দরখাস্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে নেয় সেক্ষেত্রে উত্তরুপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।
তামাদি আইনের ১৯ ধারার শর্তসমূহ নিম্নরূপ-
- লিখিত হতে হবে
- উক্ত পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে
- অবশ্যই তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই করতে হবে
- উক্ত স্বীকৃতি অবশ্যই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে হবে।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section 19: Effect of acknowledgement in writing-
(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed.
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received.
Explanation I- For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right.
Explanation II- For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf.
Explanation III- For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.

৩,২৭৬.
দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি জীবিত স্বামী বা স্ত্রীর সাথে থাকা অবস্থায় পুনরায় বিবাহ করে, তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. ৩ বছর কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারার বিধান স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করা: কোন ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোন পরিস্থতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বিষয়টি অবৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যতিক্রম:- অনুরূপ স্বামী বা স্ত্রীর সাথে যে ব্যক্তির বিবাহ কোন উপযুক্ত আদালত দ্বারা নাকচ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ধারাটি প্রয়োগযোগ্য হবে না। কিংবা যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় বিবাহ সংঘটিত হচ্ছে, বিবাহের সময় পর্যন্ত যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী যদি পূর্ববর্তী সাত বৎসর পর্যন্ত ক্রমাগত পরবর্তী বিবাহ অনুষ্ঠানকারীর নিকট থেকে অনুপস্থিত থেকে থাকে এবং সে সাত বৎসর যাবৎ অনুরূপ প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী জীবিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি না শুনে থাকে তবে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না; তবে পরবর্তী বিবাহকালে বিবাহ অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তি যার সাথে তার বিবাহ হচ্ছে তাকে বিবাহ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তার জ্ঞাত সকল ঘটনা সংক্রান্ত প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
------------------------- 
⇒ The Penal Code, 1860-Section 494. Marrying again during life-time of husband or wife:
- Whoever, having a husband or wife living, marries in any case in which such marriage is void by reason of its taking place during the life of such husband or wife, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to finel.

Exception: This section does not extend to any person whose marriage with such husband or wife has been declared void by a Court of competent jurisdiction, nor to any person who contracts a marriage during the life of a former husband or wife, if such husband or wife, at the time of the subsequent marriage, shall have been continually absent from such person for the space of seven years, and shall not have been heard of by such person as being alive within that time provided the person contracting such subsequent marriage shall, before such marriage takes place, inform the person with whom such marriage is contracted of the real state of facts so far as the same are within his or her knowledge.
৩,২৭৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন আদেশ ও বিধিতে প্লিডিংস সংশোধনের বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ ৬, বিধি ১৭
  2. আদেশ ১, বিধি ১০
  3. আদেশ ৭, বিধি ১১
  4. আদেশ ৪, বিধি ১৭
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬ বিধি ১৭: প্লিডিংস সংশোধন:
- মামলার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষকে আরজি বা জবাবের ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তন বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন।
- বাদী বা বিবাদী উভয় পক্ষের বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় সংশোধন করা যাবে।
- আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতার উপর আরজি জবাব সংশোধনের আদেশ নির্ভর করে।
- প্লিডিংস সংশোধনের দরখাস্ত দাখিল করতে হয় বিচারিক আদালতে।
- প্লিডিংস মামলার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিল আদালতের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order 6 Rule 17: Amendment of pleadings:
The Court may at any stage of the proceedings allow either party to alter or amend his pleadings in such manner and on such terms as may be just, and all such amendments shall be made as may be necessary for the purpose of determining the real questions in controversy between the parties:
Provided that no application for amendment shall be allowed after the trial has commenced, unless the Court is of opinion that in spite of due diligence, the party could not have raised the matter before the commencement of trial:
Provided further that if an application for amendment is made after the trial has commenced and the Court is of opinion that the application is made to delay the proceedings, the Court shall make an order for the payment to the objector such cost by way of compensation as it thinks fit. 

৩,২৭৮.
একজন আইনজীবির সহ-আইনজীবির প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য কয়টি?
  1. ৮টি
  2. ১১ টি
  3. ৯ টি
  4. ১৪ টি
ব্যাখ্যা
Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর ১ম  অধ্যায়ে একজন আইনজীবির সহ-আইনজীবির প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে বর্ণিত আছে। 
♦ একজন আইনজীবির সহ-আইনজীবির প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য ১১টি
১) ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা। [বিধি-১]।
২) পেশাগত প্রচারণার জন্য কোন বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না তবে প্রকাশনা, পেশাগত কার্ড, নামফলক বা প্রচলিত ডাইরেক্টরী ব্যবহার করা যাবে--[বিধি-২]।
৩) একজন এ্যাডভোকেট অন্য ব্যক্তিকে বা দালালকে আইন পেশা পরিচালনার জন্য অনুমতি বা পারিশ্রমিক দিবেন না--[বিধি-৩]।

৪) প্রতিপক্ষের এডভোকেটের অনুপস্থিতিতে আদালতে মামলার বিষয়বস্তু উপস্থাপনা করবেন না [এক তরফা মামলার (ex- parte) ক্ষেত্র ব্যতীত] [বিধি ৪]।
৫) প্রতিপক্ষ মক্কেলের সাথে মামলার বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন না--[বিধি-৫]।
৬) মক্কেল অতিরিক্ত এ্যাডভোকেট নিয়োগ করতে পারবেন তবে এক্ষেত্রে নিযুক্তিয় এডভোকেটের বকেয়া পরিশোধ না করলে উক্ত মামলায় অতিরিক্ত এডভোকেটের জড়িত হওয়া উচিত হবে না---[এক্ষেত্রে নিযুক্তিয় এ্যাডভোকেট এন.ও.সি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দিলে ভাল হয়।]----[বিধি-৬]।
৭) কোন মামলার বিচার চলার সময় কোন এ্যাডভোকেট অপরপক্ষের এডভোকেটের ব্যক্তিগত ইতিহাস বা বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে কোন বক্তব্য প্রদান করবেন না--[বিধি-৭]।

৮) একজন এ্যাডভোকেট বন্টন নীতিমালাতে যেরূপ আছে ঐ ভাবে আইন সহায়তার জন্য ফিস নিতে পারবে এবং তার ফিস অন্য কোন ব্যক্তির সাথে বন্টিত বা ভাগ বাটোয়ারা হবে না--[বিধি-৮]।

৯) প্রত্যেক আইনজীবী বার কাউন্সিল প্রণীত তালিকাভুক্তির বিধান অনুসারে পদাধিকারের বিধান মেনে চলবে। [বিধি - ৯]।
১০) জুনিয়র এবং নবীন আইনজীবীরা সর্বদা সিনিয়র এবং প্রবীন আইনজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে--[বিধি-১০]। 
১১)কোন মামলায় কোন পক্ষে একাধিক এ্যাডভোকেট নিয়োজিত হলে, সেক্ষেত্রে সিনিয়র এ্যাডভোকেট মামলা পরিচালনা করবেন-- [বিধি-১১]।
৩,২৭৯.
বাদী সমনের জন্য খরচ প্রদান না করায় খারিজ আদেশ হলে, তা রদ করার জন্য তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ১১২ অনুচ্ছেদ
  2. ১৬৩ অনুচ্ছেদ
  3. ১৭৪ অনুচ্ছেদ
  4. ১৮১ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাদী সমনের জন্য খরচ প্রদান না করায় খারিজ আদেশ হলে তা রদ করার জন্য তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের ১৬৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে।

অনুচ্ছেদ-১৬৩
হাজির হতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বা গরহাজিরার ফলে [default of appearance] বা সমন জারীর খরচ জমা না দেওয়ার জন্য অথবা খরচার জামানত দাখিল না করার জন্য মামলা খারিজ আদেশ বাতিল করার জন্য দরখাস্ত [to set aside an order of dismissal]

তামাদি- ৩০ দিন।
সময় গণনা শুরু -খারিজ হওয়ার তারিখ হতে।
৩,২৮০.
আদেশ ৩৯ বিধি ২ এর অধীনে ক্রোকাদেশ সর্বোচ্চ কত দিন বলবৎ থাকবে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৯ বিধি ২:

১) বিবাদিকে চুক্তি লঙ্ঘন বা অন্য কোন প্রকার অনিষ্ট করা থেকে বিরত রাখার মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবী করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, মোকদ্দমা শুরু হওয়ার পর যে কোন সময় এবং রায়ের পূর্বে বা পরে বাদি অভিযোগে আনীত চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে কিংবা একই চুক্তি থেকে উদ্ভূত অথবা একই সম্পত্তি বা অধিকারের সাথে সম্পর্কিত কোন চুক্তি লঙ্ঘন বা অনিষ্ট করা থেকে বিবাদিকে বিরত রাখার জন্য আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে।

২) নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ, হিসাব রক্ষণ, জামানত প্রদান অথবা অন্য প্রকারে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ শর্ত সাপেক্ষে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করতে পারে।

৩) যদি অমান্য করা হয় কিংবা অনুরূপ কোন শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত অনুরূপ অমান্য করা বা লঙ্ঘন করার জন্য দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে অনধিক ছয় মাস মেয়াদের জন্য দেওয়ানি জেলে আটক রাখতেও নির্দেশ দিতে পারে, যদি না আদালত ইতোমধ্যে তার মুক্তির আদেশ প্রদান করে থাকে।

৪) এই বিধির অধীনে কোন ক্রোক এক বৎসরের অধিক বলবৎ থাকবে না এবং উক্ত সময়ের পরও যদি অমান্য বা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে তবে ক্রোকী সম্পত্তি বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ খেসারতের আদেশ প্রদান করতে পারে এবং অবশিষ্ট অর্থ, যদি থাকে, তাতে অধিকারী পক্ষকে প্রদান করবে।
৩,২৮১.
ফৌজদারি অপরাধ খুনের মামলায় 'A' মৃত্যুদণ্ডের আদেশপ্রাপ্ত হয় পরবর্তীতে মেডিক্যাল পরীক্ষায় জানা গেলো যে, 'A' গর্ভবতী। এক্ষেত্রে-
  1. হাইকোর্ট বিভাগ সাজা হ্রাস করতে পারে
  2. বিচারিক আদালত বিচার বাতিল করতে পারে
  3. দায়রা আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারে
  4. জেল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ কার্যকর করবেন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২ ধারার অধীন গর্ভবতী স্ত্রী লোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা যায়:-
- মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রীলোক গর্ভবতী হলে হাইকোর্ট তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।
------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section-382: Postponement of capital sentence on pregnant woman:
-If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life.
৩,২৮২.
দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্র উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ১৫০
  2. ধারা ১৫১
  3. ধারা ১৫৩
  4. ধারা ১৫৫
ব্যাখ্যা

 • দেওয়ানি আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা-
আদালতের সহজাত ক্ষমতা বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of court) ন্যায় বিচারের স্বার্থে দেওয়ানী আদালতের একটি অলিখিত ক্ষমতা যা প্রয়োগের মাধ্যমে আদালত ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়। কোন বিচারপ্রার্থী ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত না হওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতকে একটি বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। যেক্ষেত্রে আইনের কোন সুস্পষ্ট বিধান নেই বা আইনের কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা নেই সেক্ষেত্রে আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কল্পে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন। একেই বলা হয় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বা সহজাত ক্ষমতা।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারামতে, দেওয়ানি আদালত ২টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা (For the ends of justice); এবং
ii) আদালতের কার্যধারা বা আদালত কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা (To prevent abuse of the process of the court)।

Section 151- Saving of inherent powers of Court:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or otherwise affect the inherent power of the Court to make such orders as may be necessary for the ends of justice or to prevent abuse of the process of the Court.

৩,২৮৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারায় 'হাইকোর্ট ডিভিশন' অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারে—
  1. ম্যাজিস্ট্রেটকে
  2. দায়রা আদালতকে
  3. জেলা পুলিশ সুপারকে
  4. 'ক' বা 'খ' যেকোনো একটিকে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারায় বলা হয়েছে, আপিল আদালত (যদি হাইকোর্ট ডিভিশন হয়) চাইলে নিজে অতিরিক্ত সাক্ষ্য নিতে পারে।
অথবা, চাইলে দায়রা আদালত অথবা ম্যাজিস্ট্রেট—এই দুইয়ের কোনো একজনকে তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারে।
অতএব, উত্তর ঘ (ক বা খ যেকোনো একটিকে)–ই সঠিক, কারণ হাইকোর্ট ডিভিশন চাইলে এই দুইয়ের মধ্যে যে কাউকে সাক্ষ্য গ্রহণের দায়িত্ব দিতে পারে।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারার বিধান: আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন:
(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন আপিল বিবেচনার সময় আপিল আদালত যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ দরকার মর্মে মনে করেন, তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন, অথবা আপিল আদালত যখন হাইকোর্ট ডিভিশন হয়, তখন কোন দায়রা আদালত বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন ।
(২) দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যখন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গৃহীত হয়, ইহা বা তিনি উক্ত সাক্ষ্য সত্যায়নপূর্বক আপিল আদালতে প্রেরণ করবেন, এবং উক্ত আদালত অতঃপর আপিল নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হবেন।
(৩) আপিল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামি বা তাহার কৌসুলী উপস্থিত থাকবেন।
(৪) অধ্যায়-২৫ এর বিধান সাপেক্ষে এই ধারার অধীন এমনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যেন তা একটি অনুসন্ধান।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 428- Appellate Court may take further evidence or direct it to be taken:
(1) In dealing with any appeal under this Chapter, the Appellate Court, if it thinks additional evidence to be necessary, shall record its reasons, and may either take such evidence itself, or direct it to be taken by a Magistrate, or, when the Appellate Court is High Court Division, by a Court of Session or a Magistrate.
(2) When the additional evidence is taken by the Court of Session or the Magistrate, it or he shall certify such evidence to the Appellate Court, and such Court shall thereupon proceed to dispose of the appeal.
(3) Unless the Appellate Court otherwise directs, the accused or his pleader shall be present when the additional evidence is taken.
(4) The taking of evidence under this section shall be subject to the provisions of Chapter XXV, as if it were an inquiry.
৩,২৮৪.
৪৩৯ক ধারার বিধান কী?
  1. দায়রা আদালতের আপিলের বিধান
  2. হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশনের ক্ষমতা
  3. দায়রা আদালতের রিভিশনের ক্ষমতা
  4. হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
♦ দায়রা আদালত –এর রিভিশনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ৪৩৯ক নং ধারায়।
♦ ধারাঃ ৪৩৯-ক মতে (১) কোন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে নিজে কোন মামলার নথি তলব করে থাকলে বা অন্য কোনভাবে বিষয়টি তার গোচরীভূত হলে দায়রা জজ ৪৩৯ ধারা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের সকল বা যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
♦ (২) কোন ব্যক্তি কর্তৃক বা তার পক্ষ হতে দায়রা জজের নিকট কোন রিভিশনের আবেদন করা হলে, সে সম্পর্কে দায়রা জজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
♦ (৩) দায়রা জজের সাধারণ বা বিশেষ আদেশক্রমে কোন মামলা অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট হস্তান্তরিত হলে সেই মামলা সম্পর্কে তিনি এই অধ্যায়ের অধীন দায়রা জজের সকল বা যেকোন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
♦ রিভিশনের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের যে সকল ক্ষমতা আছে সেসকল ক্ষমতা দায়রা জজকে দেওয়া হয়েছে। 
♦ রিভিশনের ক্ষেত্রে দায়রা জজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দায়রা জজের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পুনরায় রিভিশন দায়ের করা যাবে না।
♦ অতিরিক্ত দায়রা জজ তার নিকট হস্তান্তরকৃত মামলা সম্পর্কে দয়রা জজের রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।
৩,২৮৫.
ধারা ৩৩৯ক অনুযায়ী, যদি অভিযুক্ত ক্ষমার শর্ত পূরণ করে, তবে আদালত কী রায় দিবে?
  1. মুক্তির রায় দিতে হবে
  2. খালাসের রায় দিতে হবে
  3. শাস্তি স্থগিত করতে হবে
  4. পুনরায় বিচার করতে হবে
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৩৯ক- ৩৩৯ ধারার অধীনে ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিচার প্রক্রিয়া:
(১) যে আদালত ৩৩৯ ধারার অধীনে ক্ষমা গ্রহণকারী ব্যক্তির বিচার করছে, সে আদালত—
(ক) যদি আদালত সেশন কোর্ট হয়, তবে অভিযোগপত্র অভিযুক্তকে ২৬৫ডি ধারা, উপ-ধারা (২) অনুযায়ী পাঠ করা ও ব্যাখ্যা করার আগে; এবং
(খ) যদি আদালত ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত হয়, তবে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের আগে—

অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসা করবে যে তিনি কি এই দাবি করেন যে ক্ষমা প্রদানের শর্ত তিনি পূরণ করেছেন।

(২) যদি অভিযুক্ত এই দাবি করেন, তবে আদালত তার এই আবেদন/দাবি নথিভুক্ত করবে এবং বিচার চালিয়ে যাবে। পরে রায় ঘোষণার আগে আদালত নির্ধারণ করবে অভিযুক্ত আসলেই ক্ষমার শর্ত পূরণ করেছেন কি না।

যদি আদালত দেখতে পায় যে শর্ত পূরণ করা হয়েছে, তবে এই বিধি সত্ত্বেও আদালত খালাসের রায় প্রদান করবে।

৩,২৮৬.
তামাদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর আদালত যদি সন্তুষ্ট হয় যে দেরির জন্য যৌক্তিক কারণ ছিল, তাহলে আদালত সময় বাড়াতে পারে—এই বিষয়টি তামাদি আইনের কোন ধারার বিধান?
  1. ৩ ধারা
  2. ৯ ধারা
  3. ৫ ধারা
  4. ৮ ধারা
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ৫ নম্বর ধারা (Section 5) অনুযায়ী—
যদি কোন আপিল, রিভিশন, রিভিউ বা অন্যান্য প্রযোজ্য আবেদন নির্ধারিত সময়সীমার পরে দায়ের করা হয়, এবং আবেদনকারী আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে বিলম্বের জন্য যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছিল, তাহলে আদালত সেই বিলম্ব মওকুফ করতে পারে এবং আবেদনটি গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করতে পারে।

- তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৫ এর বিধান, “যদি কোনো আপীল বা আবেদন তামাদির মেয়াদ শেষে দাখিল করা হয়, তবে আদালত সেই দাখিল গ্রহণ করতে পারে যদি আপীলকারী বা আবেদনকারী আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, দেরি হওয়ার জন্য যুক্তিসংগত কারণ ছিল।”


- এই ধারা প্রযোজ্য হয়:
১. Appeal (আপিল)
২. Application for leave to appeal (আপিলের অনুমতির আবেদন)
৩. Review of judgment (রায়ের পুনর্বিবেচনা/রিভিউ)
৪. Revision (রিভিশন আবেদন)
৫. Any other application to which this section may apply

এই ধারা প্রযোজ্য নয়:
এই ধারা মৌলিক স্যুট বা মূল মামলা (Suit)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যেমন:
- ঘোষণামূলক মামলা
- সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলা
- স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা
 এই ধরনের মামলার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করলে ৫ ধারায় বিলম্ব মওকুফ চাওয়া যায় না।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 5. Extension of period in certain cases:
 Any appeal or application for a revision or a review of judgment or for leave to appeal or any other application to which this section may be made applicable by or under any enactment for the time being in force may be admitted after the period of limitation prescribed therefor, when the appellant or applicant satisfies the Court that he had sufficient cause for not preferring the appeal or making the application within such period. 
 
Explanation - The fact that the appellant or applicant was misled by any order, practice or judgment of the High Court Division in ascertaining or computing the prescribed period of limitation may be sufficient cause within the meaning of this section.
৩,২৮৭.
দণ্ডবিধির ধারা ১১৪ অনুযায়ী, যদি কোনো উস্কানিদাতা অপরাধ সংঘটনের সময় উপস্থিত থাকে, তাহলে তাকে কীভাবে বিবেচনা করা হবে?
  1. নির্দোষ হিসেবে
  2. সরাসরি অপরাধী হিসেবে
  3. অপরাধের সাক্ষী হিসেবে
  4. শুধুমাত্র সহায়তাকারী হিসেবে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১১৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো অপরাধে সহায়তা করে (abetment), যাতে সে অপরাধ সংঘটনের সময় উপস্থিত থাকে, তাহলে তাকে আর শুধু সহায়তাকারী হিসেবে নয়, প্রধান অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে।
- অর্থাৎ, উস্কানিদাতা (Abettor) যদি অপরাধ সংঘটনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকে, তাহলে আইন তাকে সহায়তাকারী না ভেবে মুল অপরাধী হিসেবে দেখবে এবং তদনুসারে শাস্তি প্রদান করবে।

উদাহরণ: কোনো ব্যক্তি (ক) তার বন্ধুকে (খ) হত্যা করতে উস্কানি দেয় এবং হত্যার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকে — তাহলে কেবল উস্কানির জন্য নয়, খুনের দায়েও সে দোষী বলে বিবেচিত হবে।

⇒The Penal Code, 1860- Section- 114: Abettor present when offence is committed:
Whenever any person, who if absent would be liable to be punished as an abettor, is present when the act or offence for which he would be punishable in consequence of the abetment is committed, he shall be deemed to have committed such act or offence.
৩,২৮৮.
আদেশ-২১ বিধি-৬৮ এর অধীনে অস্থাবর সম্পত্তি নিলাম বিক্রয়ের আগে সর্বনিম্ন কতদিনের নোটিশ দিতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৬৮ এর বিধান- বিক্রয়ের সময়:
বিক্রয়ের আদেশদানকারী বিচারকের আদালত ভবনে ইশতেহারের নকল লটকিয়ে দেয়ার তারিখ থেকে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে ৩০ দিন এবং অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ১৫ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ডিক্রি দায়িকের লিখিত সম্মতি ব্যতীত নিলাম বিক্রয় অনুষ্ঠিত হতে পারবে না।

⇒ Order-21 Rule-68. Time of sale:
Save in the case of property of the kind described in the proviso to rule 43, no sale hereunder shall, without the consent in writing of the judgment-debtor, take place until after the expiration of at least thirty days in the case of immovable property, and of at least fifteen days in the case of movable property, calculated from the date on which the copy of the proclamation has been affixed on the court-house of the Judge ordering the sale.
৩,২৮৯.
The definition of "offence" is stated in __________ of The Code of Criminal Procedure, 1898.
  1. Section 4(j)
  2. Section 4(l)
  3. Section 4(n)
  4. Section 4(o)
ব্যাখ্যা
• Section 4(o)-
"offence" means any act or omission made punishable by any law for the time being in force.

"অপরাধ" বলতে বর্তমানে প্রচলিত আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য কোন কাজ বা কাজ না করাকে বোঝায়।
৩,২৯০.
দণ্ডবিধির ধারা ৩০৪খ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. ৫ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ২ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৪খ অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় অবহেলা বা বেপরোয়া চালনার কারণে কারো মৃত্যু ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, বা জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩০৪খ (Section 304B) অনুযায়ী: “যদি কোনো ব্যক্তি, জনসাধারণের পথে কোনো যানবাহন রাশ বা অবহেলার সাথে চালনার মাধ্যমে এমন কোনো কার্য করে যার ফলে অন্য কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে, যা দণ্ডনীয় নরহত্যার পর্যায়ে পড়ে না, তবে সে ব্যক্তি অনধিক তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, বা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।”

⇒The Penal Code, 1860-Section- 304B. Causing death by rash driving or riding on a public way:
Whoever causes the death of any person by rash or negligent driving of any vehicle or riding on any public way not amounting to culpable homicide shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
৩,২৯১.
তামাদি আইন অনুসারে অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার কার্যকর করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ -
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

 ⇒ তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে,
অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার কার্যকর করার জন্য মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ১ বছর।

এই মেয়াদ গণনা শুরু হয়:
→ ক্রেতা যদি সম্পত্তিতে প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ করে, তাহলে দখল গ্রহণের তারিখ থেকে।
→ যদি ক্রেতা প্রত্যক্ষ দখল গ্রহণ না করে, তাহলে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রিকৃত হওয়ার তারিখ থেকে।

৩,২৯২.
কোন সংস্থা কর্তৃক মামলায় আরজিতে স্বাক্ষর ও সত্যপাঠ করতে পারবে উক্ত সংস্থার-
  1. সেক্রেটারী
  2. প্রধান কর্মচারী
  3. ডিরেক্টর
  4. উপরের যে কোন ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানি কার্যবিধির ২৯ আদেশের ১ বিধি অনুসারে- কোন সংস্থা মামলা করলে বা তার বিরুদ্ধে মামলা হলে প্লিডিংস-এ বা আরজিতে স্বাক্ষর ও সত্যপাঠ করবেন-

১) সংস্থার সেক্রেটারী বা

২) ডিরেক্টর বা

৩) প্রধান কর্মচারী
৩,২৯৩.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ৬৫ অনুযায়ী ক্রেতার স্বত্ব কখন থেকে গণ্য হবে?
  1. বিক্রয় চূড়ান্ত হওয়ার সময় থেকে
  2. সম্পত্তি বিক্রি হওয়ার সময় থেকে
  3. নিলামের ঘোষণার সময় থেকে
  4. আদালতের অনুমতি পাওয়ার সময় থেকে
ব্যাখ্যা

ধারা ৬৫- ক্রেতার স্বত্ব:
যখন কোনো স্থাবর সম্পত্তি ডিক্রি কার্যকর করার জন্য বিক্রি করা হয় এবং ওই বিক্রয় চূড়ান্ত হয়ে যায়, তখন উক্ত সম্পত্তি ক্রেতার অধিকারভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে সেই সময় থেকে যখন সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছিল, না যে সময়ে বিক্রয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।

Section 65- Purchaser's title:
Where immovable property is sold in execution of a decree and such sale has become absolute, the property shall be deemed to have vested in the purchaser from the time when the property is sold and not from the time when the sale becomes absolute.

৩,২৯৪.
‘A’, ‘B’ এর জন্য একটি ছবি আঁকার ব্যাপারে B এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় এবং B এর জন্য ১০০০ টাকা প্রদানে সম্মত হয়। ছবিটি আঁকা সম্পন্ন হলে B টাকা পরিশোধ করলেও A ছবি দিতে অস্বীকার করে। এক্ষেত্রে চুক্তি-
  1. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য
  2. সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়
  3. আদালত কর্তৃক চুক্তি বাতিলযোগ্য
  4. টাকা ফেরত দিবে
ব্যাখ্যা
♦১২ ধারামতে যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য সে ক্ষেত্রে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:-
  (i) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়।
  (ii) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না।
  (iii) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না।
  (iv) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
৩,২৯৫.
তামাদি আইনের ১৫ ধারা অনুসারে মোকদ্দমা দায়েরের পূর্বে প্রদত্ত নোটিশের মেয়াদ তামাদির মেয়াদ গণনা করতে বাদ দিতে হবে যেক্ষেত্রে-
  1. নোটিশ দেওয়া বিবেচনামূলক
  2. নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক
  3. নোটিশ দেওয়া নির্দেশণামূলক
  4. নোটিশ দেওয়া অপ্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের ১৫ ধারার বিধান অনুযায়ী, কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হইবে-
(১) যেই মামলা বা ডিক্রি জারির দরখাস্ত দায়ের বা জারি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিত রাখা হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময়, যতদিন উক্ত নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ বলবৎ ছিল, যেদিন তা প্রদত্ত হয়েছিল এবং যেদিন তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা বাদ দিতে হবে।
(২) যেই মামলার জন্য বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনের বিধান অনুসারে নোটিশ দেয়া হয়েছে, তার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ গণনায় নোটিশের কাল বাদ দিতে হবে।
-------------
Section 15: Exclusion of time during which proceedings are suspended-
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit or application for the execution of a decree, the institution or execution of which has been stayed by injunction or order, the time of the continuance of the injunction or order, the day on which it was issued or made, and the day on which it was withdrawn, shall be excluded.
(2) In computing the period of limitation prescribed for any suit of which notice has been given in accordance with the requirements of any enactment for the time being in force, the period of such notice shall be excluded.

৩,২৯৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০ অনুযায়ী রেস সাবজুডিস (Res Sub Judice) এর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক?
  1. একই বিষয়বস্তু
  2. সম এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত
  3. একই পক্ষ বা তাদের স্থলবর্তীদের মধ্যে মোকদ্দমা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১০ অনুযায়ী, রেস সাবজুডিস নীতির সকল বৈশিষ্ট্য (একই বিষয়বস্তু, সম এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত, এবং একই পক্ষ বা তাদের স্থলবর্তীদের মধ্যে মোকদ্দমা) প্রযোজ্য। একাধিক মামলার বিচারের জন্য এই শর্তগুলি পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন, যাতে একাধিক আদালতে একই বিষয়ে বিচার না হয়। এর মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় দ্বৈত সিদ্ধান্ত বা বিরোধী সিদ্ধান্ত এড়ানো সম্ভব হয়।

-  ধারা ১০ অনুযায়ী, রেস সাবজুডিস (Res Sub Judice) এমন একটি ধারণা যা একই বিষয়ের বিষয়ে একাধিক আদালতে একযোগে মামলা চলতে দেয় না, যাতে একই বিষয়ে বিরোধী সিদ্ধান্ত না হয়। রেস সাবজুডিসের জন্য নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো প্রযোজ্য:
- একই বিষয়বস্তু (Same Matter in Issue):
রেস সাবজুডিসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো যে একই বিষয়ের উপর যদি একাধিক মামলা চলমান থাকে, তবে অন্য আদালত সেটি শুনানির জন্য গ্রহণ করতে পারে না। অন্য আদালতে যে বিষয়টি বিচারের জন্য রয়েছে, সেটির সাথেই মামলার বিষয়টি এক হওয়া উচিত।
- সম এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত (Court with Same Jurisdiction):
মামলাটি যেখানে বিচারাধীন, সেখানে আদালতের এখতিয়ার সমান হতে হবে। অর্থাৎ, একই বা অভিন্ন এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত (বাংলাদেশের মধ্যে বা বৈদেশিক আদালতেও) থাকতে হবে, যারা সেই বিষয়ে কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে।
- একই পক্ষ বা তাদের স্থলবর্তীদের মধ্যে মোকদ্দমা (Same Parties or Their Representatives):
রেস সাবজুডিসে শুধুমাত্র সেই সব মামলাগুলি অন্তর্ভুক্ত হবে যেখানে পক্ষগুলো একই অথবা তাদের প্রতিনিধিরা, যেমন, আইনগত উত্তরাধিকারী, স্থলবর্তী ব্যক্তি (যেমন, মিরাসী বা হেরিটর) একই বিষয়ে মামলা করছে।
এতসব বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে, রেস সাবজুডিসের উদ্দেশ্য হচ্ছে একই বিষয়ে একাধিক আদালত একযোগে মামলা পরিচালনা না করে, একটি আদালতে সেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা।

তাহলে সঠিক উত্তর হবে: ঘ) উপরের সবগুলো।
৩,২৯৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় 'The effect of dismissing a Suit for Specific Performance' এর বিধান আছে?
  1. ২৭
  2. ২৮
  3. ২৯
  4. ৩০
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৯ ধারার সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ করার ফলাফল বা 'The effect of dismissing a Suit for Specific Performance' এর বিধান আছে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ২৯ অনুসারে, একটি চুক্তি অথবা তার অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মামলা খারিজ হয়ে গেলে তা তেমন চুক্তি বা তার অংশবিশেষ ভঙ্গ করার দায়ে ক্ষতিপূরণের জন্য বাদী কর্তৃক মামলা দায়ের করার অধিকারে প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করবে।
------------
SR Act- Section-29. Bar of suit for breach after dismissal:
-The dismissal of a suit for specific performance of a contract or part thereof shall bar the plaintiff's right to sue for compensation for the breach of such contract or part, as the case may be.
৩,২৯৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কোন আইনের প্রদত্ত সব সংজ্ঞা সমভাবে প্রযোজ্য হবে?
  1. কোম্পানি আইনের
  2. সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের
  3. চুক্তি আইনের
  4. সাক্ষ্য আইনের
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৩ ব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদে বলা আছে, চুক্তি আইনে যে-সব শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এমন যে-সব শব্দ এই আইনে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ উক্ত আইনে অনুরূপ শব্দগুলোর যে অর্থ করা হয়েছে সেরূপ একই অর্থবোধক গণ্য করা হবে।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে চুক্তি আইনের প্রদত্ত সব সংজ্ঞা সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
-----------------
- Section-3: Words defined in Contract Act:
-All words occurring in this Act, which are defined in the Contract Act, 1872, shall be deemed to have the meanings respectively assigned to them by that Act.
৩,২৯৯.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে, নারীকে তল্লাশির ক্ষেত্রে কী নিয়ম পালন করতে হবে?
  1. তল্লাশি করার আগে ওয়ারেন্ট প্রয়োজন।
  2. তল্লাশি যে কোনো পুরুষ কর্মকর্তা করতে পারেন।
  3. তল্লাশির জন্য কোনো নিয়ম পালনের প্রয়োজন নেই।
  4. তল্লাশি অবশ্যই অন্য একজন নারীর দ্বারা এবং শালীনতার সাথে করতে হবে।
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ঘ) তল্লাশি অবশ্যই অন্য একজন নারীর দ্বারা এবং শালীনতার সাথে করতে হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫২ (Section 52: Mode of searching women)-এ বলা হয়েছে:
“Whenever it is necessary to cause a woman to be searched, the search shall be made by another woman, with strict regard to decency.”
অর্থাৎ যদি কোনো নারীকে তল্লাশি করার প্রয়োজন হয়, তাহলে তা অবশ্যই একজন নারী দ্বারা করা উচিত, এবং তল্লাশির সময় শালীনতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে।
এটি নারীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

- ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারায় স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশীর বিধান রয়েছে। ৫২ ধারা অনুযায়ী কোন স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশী করার প্রয়োজন হলে শালীনতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে অন্য একজন স্ত্রীলোক দ্বারা তল্লাশী করাতে হবে।
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section 52- Mode of searching women: Whenever it is necessary to cause a woman to be searched, the search shall be made by another woman, with strict regard to decency.
৩,৩০০.
দেওয়ানি মামলায় রিভিউ দরখাস্ত মঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. রেফারেন্স
  4. কোনো প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪৩ বিধি ১ অনুযায়ী ৪৭ আদেশের ৪ বিধির অধীন রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে কোন আদেশ দিলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যায়। 
- দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪৩ বিধি ১ তে মোট ২৫টি আদেশ রয়েছে যেগুলার বিরুদ্ধে আপীল করা যায়।

- দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৪ ধারায় ও ৪৩ আদেশে  "আদেশ হতে আপীল" এর বিধান আছে । এইখানে বলা আছে ৪৭ আদেশের ৪ বিধির আধিনে রিভিউ আবেদন বা দরখাস্ত মনঞ্জুর হলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে। 
- দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ এবং ধারা ১১৪ তে রিভিউর বিধান আছে ।
আদালত রিভিউ আবেদন মনঞ্জুর করলে এর বিরুদ্ধে আপীল চলে , তবে রিভিউ না-মনঞ্জুর করলে তার বিরদ্ধে রিভিশন চলবে।