বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন১২,৬০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

PrepBank · পাতা / ১২৬ · ২০১৩০০ / ১২,৬০৫

২০১.
সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারা অনুসারে, যদি শুধুমাত্র দুষ্কর্মের সহযোগীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামীকে দণ্ড দেওয়া হয়, তাহলে ঐ দণ্ড-
  1. বেআইনী হবে
  2. বাতিলযোগ্য হবে
  3. আপিলযোগ্য হবে না
  4. বেআইনী হবে না
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৩- দুষ্কর্মের সহযোগী:
আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে, শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনী হবে না।
 
Section 133- Accomplice:
An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.

⇒ একজন সহ-অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন সাক্ষ্য দেয়, তখন তা সাধারণত বিচারকদের কাছে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। সাক্ষীর বক্তব্য এককভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারে না, যতক্ষণ না তা অন্যান্য সাক্ষ্য ও প্রমাণের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশেষত, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৭ এবং সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৩ অনুসারে, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি একই মামলায় অপর আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে পারেন। তবে, তার বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকলে সেটিকে অতিরিক্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হয়।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১৫-এর অধীনে এই বিধানটি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত। ট্রাইব্যুনালের আইনের আলোকে, এপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হতে হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই নিজের অপরাধ স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে নিরপেক্ষ ও প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রদান করতে হয়। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় শাস্তি লঘু করা বা কিছু ক্ষেত্রে দণ্ড মওকুফের সুযোগ থাকতে পারে।
২০২.
দেওয়ানি আদালতের ডিক্রি জারির প্রথম দরখাস্তের/আবেদনের তামাদির মেয়াদ কত দিন?
  1. ০১ বছর
  2. ০২ বছর
  3. ০৩ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ডিক্রি জারির জন্য প্রথম দরখাস্ত/আবেদন ৩ বছরের মধ্যে করতে হয়। ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর ডিক্রি জারির দরখাস্ত করা হলে দেনাদারকে (Judgement debtor) নোটিশ দিতে হয়।
⇒ তামাদি আইনের ১৮২ অনুচ্ছেদমতে যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রি সংশোধন করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে উক্ত সংশোধিত ডিক্রি জারির দরখাস্ত সংশোধনের তারিখ হতে ৩ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
⇒ তামাদি আইনের ১৮২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রেজিস্ট্রিকৃত/নিবন্ধিত ডিক্রি বা আদেশের ক্ষেত্রে জারি বা কার্যকর করার জন্য আবেদনের সময়সীমা ৬ বছর।

⇒ সাধারনত নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্যান্য ডিক্রির ক্ষেত্রে জারির জন্য আবেদনের সময়সীমা সর্বোচ্চ ১২ বছর। তবে প্রতারণা, প্রবঞ্চনা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলে ১২ বছরের পরও ডিক্রি জারির আবেদন করা যায়।

⇒ তামাদি আইনের ১৮৩ অনুচ্ছেদমতে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক সাধারণ আদি দেওয়ানী এখতিয়ার বলে প্রদত্ত রায়, ডিক্রি বা আদেশ অথবা সুপ্রীম কোর্টের কোন আদেশ কার্যকর করার জন্য ১২ বছরের মধ্যে দরখাস্ত/আবেদন দাখিল করতে হবে।
⇒ তামাদি আইনের ১৮৩ অনুচ্ছেদে এবং দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারায় কোন বিধান না থাকলে সে সকল ডিক্রি জারির জন্য আবেদনের সময়সীমা ৩ বছর।
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908  ধারা- ৪৮ এর বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত (Execution barred in certain cases): নিম্নলিখিত তারিখ থেকে ১২ বছর পর কোন ডিক্রি জারির আবেদন করা হলে উক্ত ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ, অথবা
খ) যে ক্ষেত্রে কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশ দ্বারা কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ বা কোন সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এরূপ পরিশোধ বা প্রদানের তারিখ হতে যে ডিক্রি জারির প্রার্থনা করা হয়েছে।
দেনাদার প্রতারণা বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জারির আবেদনে বাধা দিলে ১২ বছরের পরেও জারির আবেদন করা যায়।
২০৩.
ফৌজদারি কার্যবিধি এর কত ধারায় পক্ষগণ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে?
  1. ৫০৩ ধারায়
  2. ৫০১ ধারায়
  3. ৫০৪ ধারায়
  4. ৫০৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি এর ৫০৫ ধারায় পক্ষগণ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে।

ধারা ৫০৫: পক্ষগণ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবেন-

(১) এই বিধির অধীন যে মামলায় কমিশন প্রদান করা হয়েছে সেই মামলার পক্ষসমূহ কমিশন দানকারী ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত যে বিষয়কে মূল বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক মর্মে মনে করেন সেই বিষয়ে প্রশ্নমালা দিতে পারেন এবং উক্ত কমিশন যখন ধারা-৫০৩ এ বর্ণিত কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার বরাবর প্রেরিত হয়, তখন যে ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসারের উপর কমিশন কার্যকর করার দায়িত্ব অর্পিত হয় সেই ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার উক্ত প্রশ্নমালার ভিত্তিতে সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করবেন।

(২) মামলার কোন পক্ষ এডভোকেট কর্তৃক বা কারাগারে না থাকলে ব্যক্তিগতভাবে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার বরাবর উপস্থিত হবে এবং উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দী জেরা ও পুনঃ জবানবন্দী, যেখানে যেরূপ, গ্রহণ করতে পারবেন।

Section 505: Parties may examine witnesses-
(1) The parties to any proceeding under this Code in which a commission is issued, may respectively forward any interrogatories in writing which the Magistrate or Court directing the commission may think relevant to the issue and when the commission is directed to a Magistrate or officer mentioned in section 503, such Magistrate or the Officer to whom the duty of executing such commission has been delegated shall examine the witness upon such interrogatories. 
(2) Any such party may appear before such Magistrate or officer by pleader, or if not in custody, in person, and may examine, cross-examine and re-examine (as the case may be) the said witness.
২০৪.
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৭৯ ধারা অনুযায়ী সরকার বাদী/বিবাদী হলে কোন কর্তৃত্বের ব্যবহার হবে?
  1. রাষ্ট্র্র
  2. বাংলাদেশ
  3. সরকার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৭৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, সরকার বাদী বা বিবাদী হলে কর্তৃত্ব হিসাবে নাম হবে বাংলাদেশ।

•তবে ফৌজদারী মোকদ্দমায় কর্তৃত্ব হিসাবে নাম হবে রাষ্ট্র।
২০৫.
তামাদি আইন ১৯০৮-এর Section 20 অনুযায়ী, কোন কার্যক্রম বা বক্তব্য স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে? 
  1. ঋণের সুদ পরিশোধ
  2. মৌখিক প্রতিশ্রুতি
  3. ভবিষ্যতে পরিশোধের আশ্বাস
  4. উল্লিখিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২০(১) অনুযায়ী:
- ঋণ বা লিগ্যাসির সুদের অর্থপ্রদান যদি তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে করা হয়, তাহলে তা একটি বৈধ স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে।
- এই অর্থপ্রদানের ফলে তামাদি মেয়াদ পুনরায় গণনা শুরু হবে (Payment refreshes the limitation period)।

- ধারা ২০ তে বলা হয়েছে, যদি কোনো ঋণগ্রহীতা তার ঋণের সুদ পরিশোধ করে, তবে এটি ঋণ সম্পর্কিত দায় স্বীকার করার সমতুল্য এবং এর ফলে তামাদি মেয়াদ পুনরায় শুরু হতে পারে। অর্থাৎ, ঋণের সুদ পরিশোধে ঋণগ্রহীতা তার দায় স্বীকার করেছে এবং তামাদি আইনের অধীনে এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হয়।

অর্থাৎ, তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২০(১) অনুসারে, ঋণের সুদ পরিশোধ একটি স্পষ্ট ও স্বীকৃত কার্যক্রম যা একটি বৈধ স্বীকৃতি (Acknowledgment) হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 20. Effect of payment on account of debt as of interest on legacy:
(1) Where payment on account of a debt or of interest on a legacy is made before the expiration of the prescribed period by the person liable to pay the debt or legacy, or by his duly authorized agent, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the payment was made:
Provided that, save in the case of a payment of interest made before the 1st day of January, 1928, an acknowledgment of the payment appears in the handwriting of, or in a writing signed by the person making the payment.

২০৬.
দণ্ডাদেশ প্রদানের পরবর্তী কত বছরের মধ্যে অর্থদণ্ড আদায়যোগ্য?
  1. ৬ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ২ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৭০ ধারামতে সাধারনত অর্থদন্ড প্রদানের ৬ বছরের মধ্যে অর্থদন্ড আদায় করতে হবে, কিন্তু যদি অপরাধী ৬ বৎসরের বেশি সময়ের জন্য দণ্ডিত হয়, তাহলে উক্ত দন্ডের মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পূর্বে যে কোন সময়ে অর্থদন্ড আদায়যোগ্য হবে। অপরাধীর মৃত্যু হলে তার সম্পত্তি থেকে অর্থদন্ড আদায় করা যাবে।

♦ কারাদন্ডের আদেশ হওয়ার ৬ বছরের মধ্যে জরিমানার টাকা আদায় করা না হলে, উক্ত টাকা আর কখনও আদায় করা যাবে না। উহা তামাদি দোষে বারিত হবে।
২০৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬১ মূলত কী বিষয় নিয়ে প্রযোজ্য?
  1. জামিনের শর্ত
  2. আদালতের রায় প্রদান
  3. পুলিশের সাক্ষী জিজ্ঞাসাবাদ
  4. মামলার নথি সংরক্ষণ করা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬১ মূলত তদন্তের সময় পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীদের মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদ-এর সাথে সম্পর্কিত। এই ধারার মূল বিধানগুলো হলো:
১. তদন্তকারী পুলিশ অফিসার মামলার তথ্য-পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞাত বলে ধারণা করা হয় এমন কোনো ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।
২. সাক্ষীকে মামলা সম্পর্কিত সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করা যায়, তবে শুধুমাত্র সেইসব প্রশ্ন বাদে যার উত্তর তাকে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ, জরিমানা বা বাজেয়াপ্তির মুখোমুখি করতে পারে।
৩. পুলিশ অফিসার এই জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রাপ্ত বিবরণ লিখিতভাবে রেকর্ড করতে পারেন এবং যদি রেকর্ড করেন, তবে প্রত্যেক সাক্ষীর জন্য আলাদা রেকর্ড তৈরি করতে হবে।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি আইন, ১৮৯৮, ১৬১ ধারা: পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীদের জবানবন্দী গ্রহণ:
(১) এই অধ্যায়ের অধীনে তদন্তকারী যে কোন পুলিশ কর্মকর্তা অথবা সরকার কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্ধারিত পদমর্যাদার নিচে নহেন এমন কোন পুলিশ কর্মকর্তা, যদি তিনি উক্তরূপ তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরোধক্রমে কাজ করেন, তবে তিনি মামলার ঘটনা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছেন বলে অনুমিত যে কোন ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে পরীক্ষা (জবানবন্দী গ্রহণ) করতে পারেন।
(২) এইরূপ ব্যক্তি উক্ত কর্মকর্তার নিকট মামলার প্রাসঙ্গিক সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য থাকিবেন, তবে যে সকল প্রশ্নের উত্তর তাহাকে অপরাধমূলক অভিযোগ বা দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির সম্মুখীন করিতে পারে, সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি বাধ্য থাকিবেন না।
(৩) পুলিশ কর্মকর্তা এই ধারার অধীনে পরীক্ষার সময় তাহার নিকট প্রদত্ত যে কোন জবানবন্দী লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করিতে পারেন; এবং যদি তিনি তাহা করেন, তবে তিনি যে প্রত্যেক ব্যক্তির জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করিতেছেন, তাহার জন্য একটি পৃথক রেকর্ড তৈরি করিবেন।
--------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-161: Examination of witnesses by police:
(1) Any police-officer making an investigation under this Chapter or any police-officer not below such rank as the Government may, by general or special order, prescribe in this behalf, acting on the requisition of such officer may examine orally any person supposed to be acquainted with the facts and circumstances of the case.
(2) Such person shall be bound to answer all questions relating to such case put to him by such officer, other than questions the answers to which would have a tendency to expose him to a criminal charge or to a penalty or forfeiture.
(3) The police-officer may reduce into writing any statement made to him in the course of an examination under this section, and if he does so he shall make a separate record of the statement, of each such person whose statement he records.

২০৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ৯ অনুসারে আদালত কখন অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি দাখিলের আদেশ দিতে পারে?
  1. যে কোনো সময়
  2. মোকদ্দমার শুরুতে
  3. শুধুমাত্র বাদীর অনুরোধে
  4. বিচার্য বিষয় (বা ইস্যু) গঠনের আগে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি ৯ অনুসারে, আদালত যে কোনো সময় (at any time) প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি (written statement or additional written statement) পেশের আদেশ দিতে পারেন এবং তার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিতে পারেন। আদালতের এই ক্ষমতা মামলার যেকোনো পর্যায়ে প্রযোজ্য, শুধুমাত্র শুরুতে বা বিচার্য বিষয় গঠনের আগে সীমাবদ্ধ নয়।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী- আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment] করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৮ বিধি-৯: পরবর্তী আরজি জবাব (Subsequent pleadings):
বিবাদির লিখিত জবাব দাখিলের পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে দাবি-সমন্বয়ের দাবি ব্যতীত অন্য কোন আরজি জবাব আদালতের অনুমতি ব্যতীত উপস্থাপন করা যাবে না, কিন্তু আদালত প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় যে কোন পক্ষের নিকট লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব তলব করতে পারবেন এবং তা দাখিলের জন্য সময় নির্ধারিত করে দিতে পারবেন।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-8 Rule-9: Subsequent pleadings:
No pleading subsequent to the written statement of a defendant other than by way of defence to a set-off shall be presented except by the leave of the Court and upon such terms as the Court thinks fit, but the Court may at any time require a written statement or additional written statement from any of the parties and fix a time for presenting the same.

২০৯.
দণ্ডবিধির ধারা ৩০৭ অনুযায়ী, খুনের উদ্দেশ্যে যদি কারো উপর আঘাত করা হয়, তবে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৭ বছর কারাদণ্ড
  2. ১০ বছর কারাদণ্ড
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. মৃত্যুদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৭ (খুনের উদ্যোগ) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি এমন উদ্দেশ্যে বা জ্ঞানে এমন কাজ করে, যা দ্বারা মৃত্যু ঘটলে সেটি খুন (murder) হতো, তবে
- সাধারণভাবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।
- কিন্তু যদি সেই কাজের দ্বারা কাউকে আঘাত (hurt) করা হয়, তবে সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে "যাবজ্জীবন কারাদণ্ড"।
- আর যদি সেই ব্যক্তি আগে থেকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে থাকে এবং আঘাত করে, তবে মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।
সুতরাং এই প্রশ্নে সঠিক উত্তর: গ) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারার বিধান খুনের উদ্যোগ:- কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যার ফলে মৃত্যু ঘটলে সে খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, এবং যদি অনুরূপ কাজের কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা হয়, তবে অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা ইতোপূর্বে যে সাজার উলেখ করা হয়েছে, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
⇒ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির উদ্যোগ:- যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি যদি এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করে এবং তার ফলে কেউ আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 307. Attempt to murder Attempts by life-convicts
 Whoever does any act with such intention or knowledge, and under such circumstances that, if he by that act caused death, he would be guilty of murder, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if hurt is caused to any person by such act, the offender shall be liable either to imprisonment for life, or to such punishment as is hereinbefore mentioned. 
- When any person offending under this section is under sentence of imprisonment for life, he may, if hurt is caused, be punished with death.
২১০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৩ আদেশে নিচে বর্ণিত কোন তালিকা দেওয়া আছে?
  1. আপিলযোগ্য ডিক্রির তালিকা
  2. আপিলযোগ্য আদেশের তালিকা
  3. আপিলঅযোগ্য আদেশের তালিকা
  4. আপিলঅযোগ্য ডিক্রির তালিকা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এর বিধান হলো- আদেশের বিরুদ্ধে আপিল। আদেশ ৪৩ এ মোট ২৫টি আপিলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) এর তালিকা রয়েছে।

আদেশ ৪৩:
আদেশ ৪৩ মোট ২৫টি আপীলযোগ্য আদেশের তালিকা উল্লেখ করেছে যেগুলোর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করা যায়। যেমন - অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা, স্থগিতাদেশ, মোকদ্দমা বাতিল করা, জামিন প্রত্যাখ্যান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ১০৪ আপীলযোগ্য আদেশগুলোর সামগ্রিক বর্ণনা দিয়েছে। এই ধারা বলছে যে, যদি কোনো আদালত এমন কোনো আদেশ প্রদান করে যা চূড়ান্ত না হয়ে একটি বিষয়ের বিরাট অংশ নিষ্পত্তি করে দেয়, তাহলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যেতে পারে।
২১১.
নিম্নের কোন ফৌজদারি কার্যক্রমে কোনো পক্ষের ব্যক্তিগতভাবে বক্তব্য দাখিলের অধিকার থাকবে না?
  1. আপিলের ক্ষেত্রে
  2. রিভিশনের ক্ষেত্রে
  3. ২য় আপিলের ক্ষেত্রে
  4. কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৪৪০:
 
কোন আদালত যেক্ষেত্রে তার রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালতে কোন পক্ষেরই ব্যক্তিগতভাবে বা এডভোকেট কর্তৃক বক্তব্য দাখিলের অধিকার থাকবে নাঃ শর্ত থাকে যে, আদালত উপযুক্ত মনে করলে এরূপ ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন পক্ষের বক্তব্য ব্যক্তিগতভাবে বা উকিলের কর্তৃক শ্রবণ করতে পারবেন; এবং এই ধারার কোন বিধান ধারা-৪৩৯ (২) কে প্রভাবিত করবে বলে গণ্য করা যাবে না।
 
Section 440: Optional with Court to hear parties-
No party has any right to be heard either personally or by pleader before any Court when exercising its powers of revision: 
Provided that the Court may, if it thinks fit, when exercising such powers, hear any party either personally or by pleader, and that nothing in this section shall be deemed to affect section 439, sub-section (2).
২১২.
নিম্ম আদালত কোনো বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স পাঠাতে পারে কত ধারা অনুযায়ী?
  1. ১১৩
  2. ১১৪
  3. ১১৫
  4. ১৫৩
ব্যাখ্যা
♦হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স: অধস্তন কোন আদালত মোকদ্দমার বিষয়ে মতামতের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করে অভিমত চাইলে তাকে রেফারেন্স (Reference) বলে।
♦আদেশ ৪৬ এবং ধারা ১১৩ রেফারেন্স (Reference) সম্পর্কিত বিধান উল্লেখ আছে।

♦ ১১৩ ধারার বিধান হাইকোর্ট বিভাগে অভিমতের জন্য প্রেরণ: নির্ধারিত শর্ত ও সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে কোন আদালত কারণ উল্লেখপূর্বক কোন মোকদ্দমা হাইকোর্ট বিভাগের মতামত চেয়ে প্রেরণ করতে পারেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মোকদ্দমা সম্পর্কে যথোপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারে।
২১৩.
ফৌজদারি মামলায় কোন ক্ষেত্রে আপিল করা যায়?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধিতে বিধান থাকলে
  2. বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন ফৌজদারি আইনে বিধান থাকলে
  3. যেকোনো ফৌজদারি মামলায়
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• মামলার কোন পক্ষ বিচারিক আদালতের (Trial court) সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে, উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধনের জন্য ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যে আবেদন করে তাকে আপিল বলে। অর্থাৎ আপিল হলো উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিচারিক পুনঃমূল্যায়ন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৪ ধারা হতে ৪৩১ ধারা পর্যন্ত আপিলের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে।

ধারা ৪০৪: ফৌজদারি মামলায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আপিল করা যায় না

উক্ত কার্যবিধিতে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে আপিলের বিধান না থাকলে, সেক্ষেত্রে আপিল করা যায় না।

Section 404: Unless otherwise provided, no appeal to lie
No appeal shall lie from any judgment or order of a Criminal Court except as provided for by this Code or by any other law for the time being in force.
২১৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা "প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা" সম্পর্কে বিধান করে?
  1. ধারা ২১
  2. ধারা ২২
  3. ধারা ২৪
  4. ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২৪-এর শিরোনামই হলো "প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা" (Personal bars to the relief)। ধারা ২৪ অনুসারে যেসব ব্যক্তির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যাবে না:
- যে চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না
- যে নিজে চুক্তির কোনো প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করেছে
- যে ইতোমধ্যে অন্য প্রতিকার বেছে নিয়ে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে
- যে চুক্তি সম্পাদনের আগেই বিষয়বস্তুর বিলিবন্দোবস্ত সম্পর্কে জানত
অতএব, সঠিক উত্তর গ) ধারা ২৪।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারার বিধান: প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা:
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
(ক) যে চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;
(খ) যে নিজে চুক্তির কোন প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করে বা শর্ত পালন করতে অসমর্থ হয় এবং যার ফলে তার নিজের অংশেরই কাজ সম্পাদন বাকী থাকে;
(গ) যে ইতোমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা
(ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।
------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 24- Personal bars to the relief:
Specific performance of a contract cannot be enforced in favor of a person-
(a) who could not recover compensation for its breach;
(b) who has become incapable of performing, or violates, any essential term of the contract that on his part remains to be performed;
(c) who has already chosen his remedy and obtained satisfaction for the alleged breach of contract; or
(d) who, previously to the contract, had notice that a settlement of the subject matter thereof (though not founded on any valuable consideration) had been made and was then in force.

২১৫.
"Document" means any matter expressed or described upon any substance by means of letters, figures or marks, or by more than one of those means, intended to be used, or which may be used, for the purpose of recording that matter.- সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় এই সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৩
  3. ধারা ৪
  4. ধারা ৫
ব্যাখ্যা
The Evidence Act,1872 এর ধারা ৩ মতে-
"Document" means any matter expressed or described upon any substance by means of letters, figures or marks, or by more than one of those means, intended to be used, or which may be used, for the purpose of recording that matter.

'দলিল বা Document' বলতে কোন পদার্থের উপর অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নের (letters, figures or marks) সাহায্যে প্রকাশিত বা বর্ণিত কোন বিষয়কে বোঝায়।

সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী দলিল বলে গণ্য হয়-
⇒ যে কোনো লিখন;
⇒ মুদ্রিত, লিথোগ্রাফ বা ফটোগ্রাফকৃত শব্দ;
⇒ কোন মানচিত্র বা নকশা, কোন ধাতু খন্ড বা প্রস্তর খন্ডের উপর খোদাইকৃত কোন বিষয় অথবা কোন ব্যঙ্গচিত্র (caricature)।
২১৬.
যদি মূল দলিলটি কোনো ব্যক্তির দখলে থাকে যিনি আদালতের নোটিশ সত্ত্বেও তা উপস্থাপন করেন না, তবে কী করা যেতে পারে?
  1. কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাবে না
  2. গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে
  3. মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে
  4. শুধুমাত্র প্রাথমিক সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬৫(ক) অনুসারে:
-"যখন মূল দলিলটি এমন ব্যক্তির দখলে থাকে যিনি:
(i) যার বিরুদ্ধে দলিলটি প্রমাণ করা হচ্ছে, বা
(ii) আদালতের এখতিয়ারের বাইরে, বা
(iii) দলিলটি উপস্থাপনের জন্য আইনগতভাবে বাধ্য,
এবং ধারা ৬৬ অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি দলিলটি উপস্থাপন করেন না, তখন গৌণ সাক্ষ্য দেওয়া যাবে।"

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬৫(ক) অনুযায়ী, গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া আছে। এর মধ্যে একটি শর্ত হলো:
"When the original is shown or appears to be in the possession or power of the person against whom the document is sought to be proved, or of any person out of reach of, or not subject to, the process of the Court, or of any person legally bound to produce it, and when, after the notice mentioned in section 66, such person does not produce it."

- অর্থাৎ, যদি মূল দলিলটি এমন কোনো ব্যক্তির দখলে থাকে যার বিরুদ্ধে দলিলটি প্রমাণ করতে হবে, অথবা যিনি আইনত এটি উপস্থাপন করতে বাধ্য, এবং ধারা 66-এ উল্লেখিত নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তা উপস্থাপন না করেন, তবে আদালত গৌণ সাক্ষ্য (secondary evidence) গ্রহণ করতে পারে।
২১৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১০, বিধি-২ কী সম্পর্কিত?
  1. সাক্ষী তলব
  2. দলিল উপস্থাপন
  3. লিখিত জবাব দাখিল
  4. মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি সংহিতা (CPC) ১৯০৮-এর আদেশ ১০, বিধি ২-এ পক্ষ বা তার সঙ্গী ব্যক্তির মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদের (Oral examination of party or companion of party) বিধান রয়েছে। এই বিধি অনুসারে, প্রথম শুনানি বা পরবর্তী শুনানিতে আদালত মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পেতে পক্ষ বা তার সঙ্গীকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, এবং চাইলে পক্ষের সুপারিশকৃত প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করতে পারে (আদালতের বিবেচনাধীন)।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১০, বিধি ২ অনুযায়ী, আদালত প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোনো শুনানিতে যদি কোনো পক্ষ বা তার সাথে থাকা ব্যক্তি মোকদ্দমা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হন, তবে আদালত তাকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

⇒ The Code of Civil Procedure,1908: Order-10 Rule-2: Oral examination or party of companion of party:-
At the first hearing of the suit, or at any subsequent hearing, any party appearing in person or present in Court, or any person able to answer any material questions relating to the suit by whom such party or his pleader is accompanied, may examined orally by the Court; and the Court may, if it thinks fit, put in the course of such examination questions suggested by either party.

২১৮.
ফৌজদারী কার্যবিধি কত তারিখে কার্যকর করা হয়?
  1. ১লা জানুয়ারি ১৮৯৮
  2. ১লা জুলাই ১৮৯৮
  3. ২২ মার্চ ১৯৯৮
  4. ১লা মার্চ ১৯৯৮
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ সালের আইন। ফৌজদারী কার্যবিধি হলো প্রধানত একটি পদ্ধতিগত আইন। কারণ এই আইনে ফৌজদারী আদালতের গঠন এবং ক্ষমতা থেকে শুরু করে, অভিযোগ দায়ের, আসামী গ্রেফতার, মামলার তদন্ত, মামলা আমলে নেওয়া, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, রায়, রায়ের বিরুদ্ধে আপীল ইত্যাদি সংক্রান্ত সকল নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। ১৮৬১ সালে সর্ব প্রথম ফৌজদারী কার্যবিধি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক পাস করা হয়। পরবর্তীতে ১৮৭২ এবং ১৮৮২ সালে ফৌজদারী কার্যবিধি সংস্কার করে, ভারতীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রেসিডেন্সি শহরে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হয়। ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ সালে পুনরায় সংস্কার করে কার্যকর করা হয়। এই আইনটি ১৮৯৮ সালের পহেলা জুলাই হতে কার্যকর করা হয়।

- অর্থাৎ বর্তমানে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধিটি প্রণয়ন করা হয় (পাস/গৃহীত হয়) ১৮৯৮ সালের ২২ মার্চ এবং কার্যকর হয় ১৮৯৮ সালের ১ জুলাই।
২১৯.
যে পক্ষের খরচ প্রদানের ব্যর্থতায় আপিল খারিজ হয়েছে, সে পক্ষ উক্ত আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করতে সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ প্রদান করবে?
  1. ২০০ টাকা
  2. ১০০০ টাকা
  3. ৩০০০ টাকা
  4. ২০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ১২ক- আপিল মুলতুবি (Adjournment in appeal):

⇒ আপিলের ক্ষেত্রে কোন পক্ষের অনুরোধে আপিল আদালত ৩ বারের অধিক সময় মঞ্জুর করবেন না ।
⇒ ৩ বারের বেশি মুলতবি করলে আদালত সর্বনিম্ন ২০০ টাকা ও অনধিক ১০০০ টাকা খরচ অপর পক্ষকে প্রদানের নির্দেশ দিবেন।
⇒ আপিলকারী খরচ প্রদানে ব্যর্থ হলে- আপিল খারিজ হবে;
প্রতিবাদী খরচ প্রদানে ব্যর্থ হলে- একতরফা নিষ্পত্তি হবে।

⇒ একতরফাভাবে কোন আপিল খারিজ বা নিষ্পত্তি করা হলে তা শুনানির জন্য পুনরুজ্জীবিত করতে হলে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে এবং নূন্যতম ২০০ এবং অনধিক ১০০০ টাকা খরচ দিতে হবে। তবে খরচ সহ কয়টি মুলতুবি মঞ্জুর করা হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।
⇒ কোন পক্ষ আপিল পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ একবারই পাবেন।

অর্থাৎ,
যে পক্ষের খরচ প্রদানের ব্যর্থতায় আপিল খারিজ হয়েছে বা একতরফা নিষ্পত্তি হয়েছে, সে পক্ষ উক্ত আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করতে পারে খারিজ আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে। আদালত সর্বনিম্ন ২০০ এবং অনধিক ১০০০ টাকা খরচ প্রদানের শর্তে প্রত্যেক পক্ষে সর্বোচ্চ একবার এরকম আবেদন মঞ্জুর করে থাকেন।
২২০.
A, B এবং C-কে মধ্যরাতে একটি বাসযোগ্য বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে প্ররোচিত করে এবং এই উদ্দেশ্যে তাদের অস্ত্র সরবরাহ করে। B এবং C বাড়িতে প্রবেশ করে, এবং বাড়ির একজন বাসিন্দা Z বাধা দিলে তাকে হত্যা করে। এখানে-
  1. A কোনো ভাবেই হত্যার জন্য দায়ী হবে না
  2. A শুধু ডাকাতির প্ররোচনার জন্য দায়ী হবে
  3. ক এবং খ
  4. প্ররোচনার স্বাভাবিক ফল হিসেবে হত্যাটি হলে, A হত্যার জন্য দায়ী হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ১১১- যখন একটি কাজ প্ররোচিত করা হয় এবং একটি ভিন্ন কাজ সংঘটিত হয়, তখন প্ররোচনাকারীর দায়িত্ব:
যখন কোনো একটি কাজ প্ররোচিত করা হয় এবং একটি ভিন্ন কাজ সংঘটিত হয়, তখন প্ররোচনাকারী সেই সংঘটিত কাজের জন্য ঠিক সেইভাবেই দায়ী থাকবে, যেমনটি সে সরাসরি সেই কাজটি প্ররোচিত করলে হতো।

শর্ত: যদি সংঘটিত কাজটি প্ররোচনার একটি সম্ভাব্য ফলাফল হয় এবং তা প্ররোচনার প্রভাবে, বা প্ররোচনার অংশ হিসেবে সম্পাদিত হয়, অথবা কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয় যা প্ররোচনার অংশ ছিল।

উদাহরণ:
A, B এবং C-কে মধ্যরাতে একটি বাসযোগ্য বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে প্ররোচিত করে এবং এই উদ্দেশ্যে তাদের অস্ত্র সরবরাহ করে। B এবং C বাড়িতে প্রবেশ করে, এবং বাড়ির একজন বাসিন্দা Z বাধা দিলে তাকে হত্যা করে। এখানে, যদি ওই হত্যা A-এর প্ররোচনার স্বাভাবিক ফল হিসেবে ঘটে, তবে A হত্যার জন্য নির্ধারিত শাস্তির জন্য দায়ী থাকবে।
২২১.
ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা রুজু করা যাবে না যদি-
  1. সকল পক্ষ সম্মতি দেয়
  2. কোনো পক্ষ মামলা করতে অস্বীকার করে
  3. সম্পত্তির বাজার মূল্য বৃদ্ধি পায়
  4. সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিষয়ে অন্য কোনো মামলা বিচারাধীন থাকে
ব্যাখ্যা
ধারা ৮৮: ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা কখন রুজু করা যেতে পারে:
যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি, অন্য কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয়, উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি- দাওয়া না থাকে এবং যদি তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন, তবে ঐ সম্পত্তি বা অর্থ কার নিকট অর্পণ করতে হবে, সে বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ঐরূপ দাবিদারগণের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সকল পক্ষের অধিকার যা দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে, এমন কোন মোকদ্দমা যদি বিচারাধীন থাকে তাহলে, ঐরূপ ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা রুজু করা যাবে না।

Sec.-88: Where interpleader suit may be instituted:
Where two or more persons claim adversely to one another the same debt, sum of money or other property, movable or immovable, from another person, who claims no interest therein other than for charges or costs and who is ready to pay or deliver it to the rightful claimant, such other person may institute a suit of interpleader against all the claimants for the purpose of obtaining a decision as to the person to whom the payment or delivery shall be made and of obtaining indemnity for himself:

Provided that where any suit is pending in which the rights of all parties can properly be decided, no such suit of interpleader shall be instituted.
২২২.
নিম্নের কোন ধরনের মোকদ্দমায় দাবীকৃত বস্তু আদালতে জমা দিতে হবে?
  1. নিঃস্ব ব্যক্তি কর্তৃক আনীত
  2. ইন্টারপ্লিডার
  3. ফোরক্লোজার
  4. হস্তান্তরযোগ্য দলিল সংক্রান্ত
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ৮৮ অনুযায়ী যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির নিকট একই পাওনা টাকা বা কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দাবি করে এবং যার নিকট দাবি করা হয় উক্ত সম্পত্তির উপর তার খরচের দাবি ব্যতীত অন্য কোন দাবি না থাকে এবং তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট উক্ত সম্পত্তি বা অর্থ অর্পণ করতে প্রস্তুত থাকেন।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থ বিহীন মামলা (Interpleader Suits ) বলতে বুঝায় একাধিক বিবাদীগণের মধ্যে একই বিষয়বস্তু নিয়ে মালিকানা দাবি যেখানে বাদীর কোন স্বার্থ নেই।  স্বার্থ বিহীন মামলায়, মামলার বিষয়বস্তুতে বাদীর খরচের দাবি ছাড়া অন্য কোন স্বার্থ নেই।

⇒ তবে কার নিকট পরিশোধ বা অর্পণ করতে হবে সেই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত লাভের জন্য এবং নিজের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য এরূপ দাবিদারদের সকলের বিরুদ্ধে ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ অর্থাৎ আদেশ ৩৫ অনুযায়ী স্বার্থবিহীন মোকদ্দমা বা  Interpleader Suits বিবাদি থাকবে কমপক্ষে ২ জন।

⇒ আদেশ ৩৫ বিধি-১। ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় আর্জি (Plaint in interpleader-suits): ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় প্রত্যেকটি মোকদ্দমার আরজিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি বিবৃত করতে হবে - বাদী মোকদ্দমার খরচের জন্য ব্যয়িত দাবি ব্যতীত অন্য কোন স্বার্থ দাবি করে না; বিবাদীগণ কর্তৃক দাবিসমূহ পৃথকভাবে প্রণীত হয়েছে; এবং বাদী ও কোন বিবাদীগণের মধ্যে কোনরূপ যোগসাজশ বা ষড়যন্ত্র নেই।

⇒আদেশ-৩৫, বিধি-২: দাবিকৃত বস্তু আদালতে প্রদান- যেক্ষেত্রে দাবিকৃত বস্তু আদালতে প্রদানের বা আদালতের হেফাজতে রাখার যোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে মামলায় বাদী কোন আদেশের অধিকারী হওয়ার পূর্বে বাদীকে তা অনুরূপভাবে আদালতে প্রদান করতে তলব করা যেতে পারে। 

অর্থাৎ  ইন্টারপ্লিডার মোকদ্দমায় দাবীকৃত বস্তু আদালতে জমা দিতে হবে।
--------------------------------
⇒CPC Order-35 Rule-1: Plaint in interpleader suits:
 In every suit of interpleader the plaint shall, in addition to other statements necessary for plaints, state-
(a) that the plaintiff claims no interest in the subject-matter in dispute other than for charges or costs; 
(b) the claims made by the defendants severally; and
(c) that there is no collusion between the plaintiff and any of the defendants. 

⇒ CPC Order-35 Rule-2: Payment of thing claimed into Court:
 Where the thing claimed is capable of being paid into Court or placed in the custody of the Court, the plaintiff may be required to so pay or place it before he can be entitled to any order in the suit. 
২২৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২৭ অনুসারে জারি স্থগিত হলেও কী করা যায়?
  1. ডিক্রি বাতিল করা
  2. মামলা পুনরায় শুরু করা
  3. দায়িকের সম্পত্তি পুনরায় ক্রোক করা
  4. দায়িকের সম্পত্তি ফেরত দেওয়া
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-২৭ অনুযায়ী, যদি কার্যকরী আদেশ (execution) স্থগিত করা হয় এবং তাতে দায়িকের ব্যক্তি বা সম্পত্তি মুক্ত করে দেওয়া হয় (restitution/discharge), তবুও যদি পরে কার্যকরী আবার শুরু হয়, তাহলে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার বা তার সম্পত্তি পুনরায় ক্রোক করা যাবে।
“No order of restitution or discharge under rule 26 shall prevent the property or person of a judgment-debtor from being retaken in execution of the decree sent for execution.”
অর্থাৎ, স্থগিতাদেশ সাময়িক, কিন্তু ডিক্রির কার্যকরিতা সম্পূর্ণভাবে নাকচ হয় না। পরবর্তীতে প্রয়োজনে পুনরায় কার্যকর করা যেতে পারে।

Stay of Execution

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-26.When Court may stay execution:
(1) The Court to which a decree has been sent for execution shall, upon sufficient cause being shown, stay the execution of such decree for a reasonable time, to enable the judgment-debtor to apply to the Court by which the decree was passed, or to any Court having appellate jurisdiction in respect of the decree or the execution thereof, for an order to stay execution, or for any other order relating to the decree or execution which might have been made by such Court of first instance or appellate Court if execution had been issued thereby, or if application for execution had been made thereto.
(2) Where the property or person of the judgment-debtor has been seized under an execution the Court which issued the execution may order the restitution of such property or the discharge of such person pending the result of the application.
- Power to require security from, or impose conditions upon, judgment-debtor
(3) Before making an order to stay execution or for the restitution of property or the discharge of the judgment-debtor, the Court may require such security from, or impose such conditions upon, the judgment-debtor as it thinks fit.

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-27. Liability of judgment-debtor discharged:
 No order of restitution or discharge under rule 26 shall prevent the property or person of a judgment-debtor from being retaken in execution of the decree sent for execution.
২২৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯, বিধি ৪ অনুযায়ী, কে নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাতিল বা পরিবর্তনের আবেদন করতে পারে?
  1. যেকোন পক্ষ
  2. আদালত নিজে
  3. শুধুমাত্র বাদী
  4. যেই পক্ষ আদেশে অসন্তুষ্ট
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি-৪: নিষেধাজ্ঞার আদেশ মুক্ত, পরিবর্তন বা বাতিল হতে পারে:
নিষেধাজ্ঞার কোন আদেশ অনুরূপ আদেশে কোন পক্ষ অসন্তুষ্ট হলে সে পক্ষের আবেদনক্রমে আদালত কর্তৃক উক্ত নিষেধাজ্ঞার আদেশ মুক্ত বা পরিবর্তন বা বাতিল হতে পারে।

Rule.-4: Order for injunction may be discharged, varied or set aside:
Any order for an injunction may be discharged, or varied, or set aside by the Court, on application made thereto by any party dissatisfied with such order.
২২৫.
সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারায় নিচের কোন সংজ্ঞাটি রয়েছে?
  1. Admission
  2. Confession
  3. Res Gestae
  4. Presumption
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারার বিধান: স্বীকৃতির সংজ্ঞা: স্বীকৃতি হচ্ছে মৌখিক বা ঐ দালিলিক বিবৃতি অথবা ডিজিটাল রেকর্ড যা বিচার্য বিষয় - বা প্রাসঙ্গিক ঘটনা প্রসঙ্গে কোনো অনুমানের ইঙ্গিত দেয়, এবং যা এ আইনের পরবর্তীতে বর্ণিত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যে কেউ কর্তৃক প্রদত্ত হয়।
---------------------
⇒The Evidence Act  1872, Section 17: Admission defined:
- An admission is a statement, oral or documentary or contained in digital record, which suggests any inference as to any fact in issue or relevant fact, and which is made by any of the persons, and under the circumstances, hereinafter mentioned.
২২৬.
বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর বিধি ৯১ অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের কোন সদস্যের আসন শূন্য হবে না?
  1. যিনি সচিবের নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেন
  2. যিনি সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান
  3. যিনি আইনজীবী তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে অপসারিত হন
  4. যিনি চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে ৩টি মিটিং মিস করেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) যিনি চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে ৩টি মিটিং মিস করেন।

⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর বিধি ৯১(১)(c) অনুযায়ী, যদি কোনো সদস্য পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন, এবং প্রথম ও শেষ সভার মধ্যে কমপক্ষে চার মাস ব্যবধান থাকে, তাহলে তার আসন শূন্য হয়ে যায়।
তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে— যদি চেয়ারম্যানের পূর্বানুমতি নিয়ে তিনি ঐ সভাগুলোতে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে সেই অনুপস্থিতিকে 'অনুপস্থিতি' হিসাবে ধরা হবে না।
- "Provided that a meeting for the absence from which the member has taken permission of the Chairman shall not be regarded as a meeting from which he is absent."
 অর্থাৎ,
পদত্যাগপত্র জমা দিলে (ক),
আইনজীবী তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে অপসারিত হলে (গ),
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে পদোন্নতি হলে (খ)
— এই সবক্ষেত্রে সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যায়।

 কিন্তু, যদি তিনি চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে তিনটি মিটিং মিস করেন — তাহলে তার আসন শূন্য হবে না।

বিধি ৯১: সদস্যপদ শূন্য হওয়া
(১) বার কাউন্সিলের কোনো সদস্যের আসন শূন্য হবে, যদি—
(ক) তিনি বার কাউন্সিলের সচিবের নিকট পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পদত্যাগ করেন (উক্ত পদত্যাগপত্র দাখিলের সময় থেকে তা কার্যকর হবে); অথবা
(খ) তিনি আইনজীবীদের তালিকা থেকে অপসারিত হন; অথবা
(গ) তিনি বার কাউন্সিলের তিনটি ধারাবাহিক সভায় অনুপস্থিত থাকেন, তবে শর্ত থাকে যে প্রথম ও শেষ সভার মধ্যে কমপক্ষে চার মাসের ব্যবধান থাকতে হবে;
তবে যদি কোনো সভায় অনুপস্থিত থাকার পূর্বে সদস্য চেয়ারম্যানের অনুমতি গ্রহণ করেন, তাহলে সেই সভায় অনুপস্থিতিকে অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য করা হবে না;
(ঘ) তিনি যদি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন।
(২) কোনো সদস্য যদি আইনজীবী হিসেবে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন, তবে বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে কাজ করতে পারবেন না;
তবে তিনি কেবল তখনই আসন হারাবেন যদি বরখাস্তকাল এক বছরের সমান বা তার বেশি হয় অথবা বরখাস্তের মেয়াদ তার বাকি মেয়াদকে সম্পূর্ণরূপে আবৃত করে ফেলে।

Rule-91. (1) A member of the Bar Council shall vacate his seat if - (a) he resigns his seat by delivery of his resignation to the Secretary (the resignation being effective from the time it is so delivered); or
(b) he is removed from the roll; or
(c) he is absent for three consecutive meetings of the Bar Council, the interval between the first and the last meeting being of not less than four months;
Provided that a meeting for the absence from which the member has taken permission of the Chairman shall not be regarded as a meeting from which he is absent.
(d) he is elevated as a Judge of the Supreme Court.
(2) A member of the Bar Council who is suspended as a Advocate shall not act as a member during the period o his suspension but shall vacate his seat only if hi suspension is for a year or more or covers the whole c his remaining terms as a member.

২২৭.
The Evidence Act, 1872 এর কোন ধারানুযায়ী একজন সাক্ষী নিজের লিখিত দেখে তথ্য আদালতে জবানবন্দী দিতে পারবেন?
  1. ১৫৬
  2. ১৫৭
  3. ১৫৮
  4. ১৫৯
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষী সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তার স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলিল দেখে উত্তর দিতে পারেন। এক্ষেত্রে সাক্ষী তার নিজের লেখা, অন্যের লেখা বা দলিলের নকল দেখেও উত্তর দিতে পারেন। এটাই হল Refreshing memory। সাক্ষ্য আইনের ১৫৯ ধারায় স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করন বা Refreshing memory এর বিধান রয়েছে। এছাড়াও সাক্ষ্য আইনের ১৫৯ থেকে ১৬১ ধারায় এ সংক্রান্ত আলোচনা করা হয়েছে যা নিম্নরূপ-

i) সাক্ষ্য আইনের ১৫৯ ধারা অনুসারে কোন মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে তার স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কেস ডায়েরী দেখতে পারবেন। এভাবে ১৫৯ ধারার অধীন একজন বিশেষজ্ঞ তার পেশা সম্পর্কিত পুস্তক দেখিয়ে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।

ii) সাক্ষ্য আইনের ১৬০ ধারা অনুসারে কোন মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার তার মামলা তদন্তকালে কেস ডায়েরীতে লিপিবদ্ধকৃত বিষয়াবলী সম্পর্কে আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারেন।

iii) সাক্ষ্য আইনের ১৬১ ধারা অনুসারে কোন মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার সাক্ষ্য আইনের ১৬০ ধারা অনুসারে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বিবাদী পক্ষ জেরা করতে পারবেন। অর্থাৎ স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কোন সাক্ষী কর্তৃক যে লিখিত বিবৃতি ব্যবহার করা হয়েছে, বিরোধী পক্ষ উক্ত লিখিত বিবৃতি দেখতে চাইতে পারে, উক্ত সাক্ষীকে জেরা করতে পারে বা উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে
২২৮.
পলাতক দণ্ডিত ব্যক্তির উপর মৃত্যুদণ্ড সাজা ঘোষণা করা হলে তা কখন কার্যকর হবে?
  1. অবিলম্বে
  2. পুনরায় হাজির হওয়ার পরে
  3. আদালতের আদেশ সাপেক্ষে
  4. অবশিষ্ট সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৯৬- পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দণ্ড কার্যকর করা:
(১) যখন এই কোডের অধীনে কোনো পলাতক দণ্ডিত ব্যক্তির উপর সাজা ঘোষণা করা হয়, তখন উক্ত সাজা, যদি মৃত্যুদণ্ড বা জরিমানা হয়, পূর্বে উল্লিখিত বিধানাবলীর সাপেক্ষে, অবিলম্বে কার্যকর হবে। আর যদি সাজা কারাদণ্ড বা পরিবহন (ট্রান্সপোর্টেশন) হয়, তবে নিম্নলিখিত নিয়ম অনুসারে কার্যকর হবে, যথা:

(২) যদি নতুন সাজা তার ধরনে পূর্বের সাজার তুলনায় কঠোর হয়, যে সাজা দণ্ডিত ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার সময় ভোগ করছিল, তবে নতুন সাজা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

(৩) যদি নতুন সাজা তার ধরনে পূর্বের সাজার তুলনায় কঠোর না হয়, যে সাজা দণ্ডিত ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার সময় ভোগ করছিল, তবে নতুন সাজা কার্যকর হবে তার পরে, যখন সে আরও একটি সময়ের জন্য কারাদণ্ড বা পরিবহন, যে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ভোগ করবে। এই সময়টি তার পূর্বের সাজার অবশিষ্ট মেয়াদের সমান হবে, যা পালানোর সময় অপূর্ণ ছিল।

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যে—

(ক) পরিবহনের সাজা কারাদণ্ডের সাজার চেয়ে কঠোর বলে গণ্য হবে; (খ) নির্জন কারাবাস সহ কারাদণ্ডের সাজা একই ধরনের কারাদণ্ডের তুলনায় কঠোর বলে গণ্য হবে, যেখানে নির্জন কারাবাস নেই; (গ) কঠোর কারাদণ্ডের সাজা সাধারণ কারাদণ্ডের সাজার চেয়ে কঠোর বলে গণ্য হবে, যেখানে নির্জন কারাবাস থাকুক বা না থাকুক।

২২৯.
বিবাহ স্থির থাকাকালে কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদের ২৮০ দিনে সন্তানের জন্মই উহার বৈধতা চূড়ান্ত প্রমাণ'- ইহা সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ১১১ ধারা
  2. ১১২ ধারা
  3. ১১০ ধারা
  4. ১১৩ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা অনুযায়ী সন্তানের জন্মই বিবাহ স্থির থাকাকালে এর বৈধতার ছড়ান্ত প্রমাণঃ কোন ব্যক্তির মাতার সঙ্গে এক ব্যক্তির আইনসঙ্গত বিবাহ কায়েম থাকাকালে অথবা বিবাহবিচ্ছেদের পর দুইশত আশি দিনের ভিতর তার মাতা অভিবাহিতা থাকাকালে যদি তার জন্ম হয় ও যদি এটা দেখান না হয় যে, ঐ ব্যক্তি যখন মাতৃগর্ভে এসে থাকতে অনুরূপ কোন সময়ে বিবাহিত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে মিলনের পথ উন্মুক্ত ছিল, তাহলে সে যে জন্মেছে এ প্রসঙ্গ দ্বারা অবশ্যই চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণিত হবে যে, সে সে ব্যক্তির বৈধ সন্তান।

-----------------
⇒ Birth during marriage conclusive proof of legitimacy:
Section 112. The fact that any person was born during the continuance of a valid marriage between his mother and any man, or within two hundred and eighty days after its dissolution, the mother remaining unmarried, shall be conclusive proof that he is the legitimate son of that man, unless it can be shown that the parties to the marriage had no access to each other at any time when he could have been begotten.
২৩০.
আপিল বিভাগ কর্তৃক ফৌজদারি মামলা ও আপিল স্থানান্তরের উদ্দেশ্য কী?
  1. ন্যায়বিচার
  2. পক্ষগণের সুবিধা
  3. সাক্ষীদের সুবিধা
  4. 'ক' বা 'খ' বা 'গ'
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫২৫ক- মামলা ও আপিল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের ক্ষমতা:

(১) যেক্ষেত্রে এটা প্রতীয়মান হয় যে, এরূপ স্থানান্তর ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বা পক্ষগণ বা সাক্ষীদের সাধারণ সুবিধার উন্নয়ন ঘটাবে সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগ কোন নির্দিষ্ট মামলা বা আপিল হাইকোর্ট বিভাগের এক স্থায়ী বেঞ্চ থেকে উহার অন্য স্থায়ী বেঞ্চে কিংবা হাইকোর্ট বিভাগের কোন স্থায়ী বেঞ্চের এখতিয়ারের মধ্যকার কোন ফৌজদারী আদালত থেকে হাইকোর্ট বিভাগের অন্য কোন স্থায়ী বেঞ্চের মধ্যকার এখতিয়ারের মধ্যকার একই বা উচ্চতর ক্ষমতা সম্পন্ন ফৌজদারী আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।

(২) যে হাইকোর্ট ডিভিশনের স্থায়ী বেঞ্চ কিংবা ক্ষেত্রমতে আদালতে মামলা বা আপীল স্থানান্তরিত হয়, সে বেঞ্চ বা আদালত এমনভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন যাতে মূলতঃ সেখানেই উক্ত মামলা বা আপিল দায়ের করা বা উপস্থাপিত হয়েছিল।

Section 525A- Power of Appellate Division to transfer cases and appeals:
(1) The Appellate Division may direct the transfer of any particular case or appeal from one permanent Bench of the High Court Division to another permanent Bench of the High Court Division, or from any Criminal Court within the jurisdiction of one permanent Bench of the High Court Division to any other Criminal Court of equal or superior jurisdiction within the jurisdiction of another permanent Bench of the High Court Division, whenever it appears to it that such transfer promote the ends of justice, or tend to the general convenience of parties or witnesses.

(2) The permanent Bench of the High Court Division or the Court, as the case may be, to which such case or appeal is transferred shall deal with the same as if it had been originally instituted in, or presented to, such Bench or Court, as the case may be.
২৩১.
একটি আদালত খরচার উপর সুদ প্রদান করতে পারে বার্ষিক অনধিক-
  1. ৬%
  2. ১০%
  3. ১২%
  4. ১৩%
ব্যাখ্যা
 ♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৫ ধারার বিধান মোকদ্দমার খরচ (Cost ); মোকদ্দমার খরচ ও আনুষাঙ্গিক বিষয়াদি আদালতের সুবিবেচনার উপর নির্ভর করবে। মোকদ্দমার খরচ কে দিবে, কিভাবে এবং কার থেকে নেওয়া হবে এগুলো আদালত বলে দিবে। খরচ এবং খরচের উপর সর্বোচ্চ ৬% হারে বার্ষিক সুদ প্রদানের আদেশ দিতে পারবেন। এই সুদ খরচের সাথে যোগ হবে।
২৩২.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা পরিবর্তন করার ক্ষমতা কার রয়েছে?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. আপিল বিভাগ
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
আইন প্রণয়নের একমাত্র ক্ষমতা সংসদের:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫(১) ধারা অনুসারে, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেবল জাতীয় সংসদের রয়েছে।
- দেওয়ানী কার্যবিধি একটি প্রক্রিয়াগত আইন (Procedural Law) যা সংসদ কর্তৃক প্রণীত ও সংশোধিত হয়।
- হাইকোর্ট বিভাগ বা আপিল বিভাগ আইন সংশোধন করতে পারেন না; তারা কেবল আইনটির ব্যাখ্যা দিতে পারেন (সংবিধানের ১০২ ও ১০৩ ধারা)। তাদের কাজ হচ্ছে আইন প্রয়োগ এবং ব্যাখ্যা করা, কিন্তু আইন পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের নেই।
- আদালত শুধুমাত্র নিয়ম (Rules) প্রণয়ন করতে পারেন (যেমন: CPC-এর First Schedule-এর আদেশসমূহ), তবে মূল ধারা সংশোধন বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের নেই।
-দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারা অনুসারে, সুপ্রীম কোর্ট দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়নসহ বিধিসমূহ বাতিল, পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারে।
- ১২২ ধারায় সুপ্রীম কোর্টকে দেওয়ানী কার্যবিধির বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হলেও, সংবিধানে জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সেটাকে খর্ব করা হয়নি। কারণ সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন।
- জাতীয় সংসদ যে দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন আদেশ ও বিধিসমূহ সংশোধন করতে পারে তার বড় উদাহরণ হলো ২০১২ সালে দেওয়ানী কার্যবিধির সংশোধন।
২৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় প্রদত্ত তল্লাশি পরোয়ানার বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. আপীল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় বে-আইনীভাবে আটক ব্যক্তিকে পুনরুদ্ধারের জন্য তল্লাশী পরোয়ানা জারির বিধান রয়েছে।

♦ ১০০ ধারা অনুযায়ী বে-আইনীভাবে আটক ব্যক্তিকে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।

♦  ১০০ ধারার অধীন জারিকৃত তল্লাশী পরোয়ানা বাতিলের জন্য দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যায়।

♦ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারার বিধান
যখন কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তিকে এরূপ অবস্থায় আটক রাখা হয়েছে যে আটক রাখা অপরাধের সামিল তখন তিনি তল্লাশী পরোয়ানা প্রদান করতে পারবেন এবং যার প্রতি পরোয়ানাটি নির্দেশিত তিনি পরোয়ানা অনুসারে উক্ত আটক ব্যক্তির জন্য তল্লাশী করতে পারবেন, এবং সেই ব্যক্তিকে পাওয়া গেলে তাকে অবিলম্বে কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে এবং অবস্থানুসারে যেরূপ মনে করেন সেরূপ উপযুক্ত আদেশ দিবেন।
২৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক একই বিচারে একাধিক অপরাধের জন্য প্রদত্ত consecutive sentences-এর সর্বোচ্চ সীমা কত?
  1. অনধিক ১৪ বছর
  2. কেবল একটি অপরাধের সাজা
  3. তার স্বাভাবিক ক্ষমতার সমান
  4. তার স্বাভাবিক ক্ষমতার দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫(২)(খ) অনুসারে, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক একই বিচারে একাধিক অপরাধের জন্য প্রদত্ত consecutive sentences (ধারাবাহিক কারাদণ্ড)-এর সর্বোচ্চ সীমা হবে তার স্বাভাবিক ক্ষমতার দ্বিগুণ।
- ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাভাবিক ক্ষমতা বলতে ধারা ৩২-এ বর্ণিত দণ্ডের সীমা বোঝায় (যেমন: প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড)।
- একাধিক অপরাধের ক্ষেত্রে সমষ্টিগত সাজার এই দ্বিগুণ সীমা প্রযোজ্য হয় (ধারা ৩৫(২)(খ))।
- তবে সর্বোচ্চ ১৪ বছর সীমাটি (ধারা ৩৫(২)(ক)) দায়রা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ম্যাজিস্ট্রেটের নয়।

উদাহরণ:
প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাভাবিক ক্ষমতা ৫ বছর কারাদণ্ড। একই বিচারে একাধিক অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ৫ × ২ = ১০ বছর কারাদণ্ড দিতে পারবেন (১৪ বছর নয়)।

অতএব, সঠিক উত্তর ঘ) তার স্বাভাবিক ক্ষমতার দ্বিগুণ।

- Section 35(2) In the case of consecutive sentences, it shall not be necessary for the Court, by reason only of the aggregate punishment for the several offences being in excess of the punishment which it is competent to inflict on conviction of a single offence, to send the offender for trial before a higher Court:
Provided as follows:-
(a) in no case shall such person be sentenced to imprisonment for a longer period than fourteen years;
(b) if the case is tried by a Magistrate , the aggregate punishment shall not exceed twice the amount of punishment which he is, in the exercise of his ordinary jurisdiction, competent to inflict.
২৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধিতে ম্যাজিস্ট্রেটদের উপর অতিরিক্ত ক্ষমতা আরোপের বিধান কোন তফসিলে রয়েছে?
  1. প্রথম তফসিল
  2. দ্বিতীয় তফসিল
  3. তৃতীয় তফসিল
  4. চতুর্থ তফসিল
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) চতুর্থ তফসিল। 
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ৫টি তফসিল থাকে, যার মধ্যে প্রথম তফসিল বাতিল।
→ দ্বিতীয় তফসিলে অপরাধসমূহের শ্রেণীবিভাগ এবং বিচারযোগ্যতা উল্লেখ থাকে।
→ তৃতীয় তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটদের সাধারণ ক্ষমতার বর্ণনা আছে।
→ চতুর্থ তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটদের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা নির্ধারিত হয়েছে।
→ পঞ্চম তফসিলে বিভিন্ন ফরমের বিষয় থাকে।
→ অতএব, ম্যাজিস্ট্রেটদের অতিরিক্ত ক্ষমতা আরোপের বিধান চতুর্থ তফসিলে রয়েছে।
২৩৬.
তামাদি আইনের ৫ ধারার বিলম্ব মওকুফের জন্য দরখাস্তে কী দাবি/উল্লেখ করতে হয়?
  1. বিলম্বের কারণ
  2. মামলার গুরুত্ব
  3. বিলম্বের উপযুক্ত কারণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ৫ ধারা মতে কোন আপিলকারী বা দরখাস্তকারী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোন আপিল , রিভিউ বা রিভিশন করতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিল মর্মে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে সে ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে তখন এই ব্যবস্থাকেই আইনের ভাষায় বিলম্ব মওকুফ বলে।
⇒ অর্থাৎ ৫ ধারায় দরখাস্তকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে যথাসময়ে আদালতে আপিল বা দরখাস্ত দাখিল করতে না পারার পেছনে যথোপযুক্ত কারণ (sufficient cause) ছিল।
তামাদি আইনের ৫ ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফের আবেদন করা যায়। কিন্তু তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান মূল মোকদ্দমা [suit) এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না।
- অর্থাৎ কোন মোকদ্দমা দায়েরে বিলম্ব হলে উক্ত বিলম্ব মওকুফ করার জন্য ৫ ধারায় আবেদন করা হলে, আবেদনটি গ্রহণযোগ্য না।
- তামাদি আইনের ৫ ধারাটি কেবল আপিল এবং রিভিউ ,রিভিশন সহ অন্যান্য উল্লিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এমনকি ফৌজদারি মামলার আপিলের ক্ষেত্রেও ৫ ধারা প্রযোজ্য হবে।
২৩৭.
নিচের কোনটি পাবলিক দলিল (Public document)?
  1. কবিতা
  2. দানপত্র
  3. কবলা দলিল
  4. আদালতের রায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার বিধান সরকারী দলিল: নিম্নলিখিত দলিলগুলো সরকারী দলিল:
(১) যে সমস্ত দলিল-
(ক) কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং
(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের যে কোন স্থানের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার বিধান বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। 
⇒ কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.

⇒  আদালতের রায় ৭৪(১) ধারার বিধান মতে পাবলিক ডকুমেন্টস। কারণ রায় বিচার বিভাগীয় কাজের অংশ। 
--------------
Section-74. Public documents:

The following documents are public documents:–
(1) documents forming the acts or records of the acts- 
(i) of the sovereign authority, 
(ii) of official bodies and tribunals, and 
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country; 
(2) public records kept in Bangladesh of private documents.

Section-75.Private documents: All other documents are private.
২৩৮.
জাহাঙ্গীর এর বিরুদ্ধে আগের চার্জ পরিবর্তন করে নতুন চার্জ গঠন করা হয়। এরূপ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীর এর আইনজীবী হিসেবে তার পক্ষে আপনার করণীয় কী?
  1. আপীল দায়ের।
  2. রিভিশন দায়ের।
  3. রিভিউ দায়ের।
  4. খ অথবা গ।
ব্যাখ্যা
- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা- ২২৭(১) মোতাবেক রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন।
- তবে তার বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি রিভিশন দায়ের করতে পারে।
২৩৯.
আদালত আরজি সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর করার পূর্বে কি নিশ্চিত করবে?
  1. মামলা খুব জটিল কিনা
  2. আদালতের সময়সীমা
  3. পক্ষগণের মধ্যে সমস্যা আছে কিনা
  4. সংশোধনী অপরিহার্য কিনা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ আদেশের ১৭ বিধি অনুসারে,
মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে প্লিডিংস সংশোধন করার আবেদন করা যায়। অর্থাৎ মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে বাদী তার আরজি বা বিবাদী তার লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন করতে পারে। বিচার কার্য শুরুর পর আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের জন্য দাখিলকৃত কোন আবেদন আদালত অনুমোদন করবে না যদি না আদালত অভিমত পোষণ করে যে, 'যথাযথ নিষ্ঠার’ সত্ত্বেও পক্ষগণ বিচারকার্য শুরুর পূর্বে সংশোধনের আবেদন করতে পারেনি। সুতরাং, বিচার কার্য শুরুর পরও আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন করা যায়।

আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন মঞ্জুরের কারণ:
দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ আদেশের ১৭ বিধি অনুসারে- আদালত মোকদ্দমার উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ করার উদ্দেশ্যে আরজি বা লিখিত জবাব সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর করতে পারে। আরজি সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর করার পূর্বে আদালত অবশ্যই নিশ্চিত হবে যে, মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার বিরোধীয় প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণ করার উদ্দেশ্যে এমন সংশোধনী অপরিহার্য।
২৪০.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-৫ অনুযায়ী একই জেলায় অবস্থিত আদালতের মধ্যে ডিক্রি স্থানান্তর করতে হলে কীভাবে পাঠানো হয়?
  1. রেজিস্ট্রি ডাকের মাধ্যমে
  2. সরাসরি সংশ্লিষ্ট আদালতে
  3. জেলা আদালতের মাধ্যমে
  4. হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ-২১, বিধি-৫ (Order-XXI, Rule-5) অনুযায়ী "ডিক্রি জারির জন্য এক আদালত থেকে অন্য আদালতে পাঠানোর নিয়ম (Mode of Transfer)" নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এই বিধির অধীনে বলা হয়েছে: যদি ডিক্রি জারির জন্য যেই আদালতে পাঠানো হবে, সেই আদালত ডিক্রি প্রদানের আদালতের সঙ্গে একই জেলায় অবস্থিত হয়, তাহলে ডিক্রি সরাসরি সেই আদালতে পাঠানো যাবে। এতে কোনো মধ্যবর্তী আদালত (যেমন জেলা জজ আদালত বা হাইকোর্ট) যুক্ত থাকে না।
- অর্থাৎ Order XXI, Rule 5 অনুযায়ী, একই জেলায় অবস্থিত আদালতের মধ্যে ডিক্রি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে, "সরাসরি সংশ্লিষ্ট আদালতে" ডিক্রি পাঠানো যাবে।
তাই সঠিক উত্তর: খ) সরাসরি সংশ্লিষ্ট আদালতে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-৫: স্থানান্তরের পদ্ধতি (Mode of transfer): ডিক্রিদানকারী আদালত এবং ডিক্রি জারির জন্য যে আদালতে প্রেরিত হবে সে আদালত যদি একই জেলায় অবস্থিত হয় তবে ডিক্রি সরাসরি শেষোক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন কিন্তু ভিন্ন জেলায় অবস্থিত হলে, ডিক্রিদানকারী আদালত তা সেই জেলার জেলা আদালতে প্রেরণ করবেন।
----------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Order-21 Rule-5.(Mode of transfer):  Where the Court to which a decree is to be sent for execution is situate within the same district as the Court which passed such decree, such Court shall send the same directly to the former Court. But, where the Court to which the decree is to be sent for execution is situate in a different district, the Court which passed it shall send it to the District Court of the district in which the decree is to be executed.
২৪১.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-১৭, বিধি-১(৩) অনুসারে, মোকদ্দমার একটি পক্ষ সর্বোচ্চ কতবার খরচ ছাড়া মোকদ্দমা মুলতবি করতে পারে?
  1. ৩ বার
  2. ৬ বার
  3. ২ বার
  4. ৪ বার
ব্যাখ্যা

⇒দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order XVII, Rule 1-এর sub-rule (3) অনুসারে, ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে একটি পক্ষ সর্বোচ্চ চারবার খরচ ছাড়া মোকদ্দমা মুলতবির আবেদন করতে পারে। 

- দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর Order XVII, Rule 1 এর সংশোধন অনুসারে, যা Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 (২০২৫ সনের ১৮ নং অধ্যাদেশ) এর মাধ্যমে সংশোধিত হয়েছে, স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, sub-rule (3)-তে "six" শব্দটির পরিবর্তে "four" শব্দটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এর অর্থ হলো, কোনো পক্ষ একটি মোকদ্দমা সর্বোচ্চ চারবার খরচ ছাড়া মোকদ্দমা মুলতবি করতে পারে।

- এই সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো মোকদ্দমার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব রোধ করা। পূর্বে এই বিধানে একটি পক্ষ সর্বোচ্চ ছয়বার মুলতবির আবেদন করতে পারত, কিন্তু ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এই সংখ্যা কমিয়ে চারবার করা হয়েছে।

২৪২.
আদেশ ৩৫ বিধি-২ অনুসারে, আদালত কখন বাদীকে দাবীকৃত বস্তু জমা দিতে বা হেফাজতে রাখতে বলতে পারে?
  1. বাদী মামলায় হেরে গেলে
  2. মামলা শেষ হওয়ার পর
  3. বাদী মামলা নাকচ করলে
  4. দাবীকৃত বস্তু আদালতে বা হেফাজতে রাখার যোগ্য হলে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৩৫ বিধি-২: দাবীকৃত বস্তু আদালতে জমা প্রদান:
যেক্ষেত্রে দাবীকৃত বস্তু আদালতে জমা দেওয়া বা বাদীর হেফাজতে রাখার যোগ্য, সেক্ষেত্রে কোন আদেশের অধিকারী হওয়ার পূর্বে বাদীকে সেই বস্তু আদালতে জমা দিতে বা হেফাজতে রাখতে বলা যেতে পারে।

Rule.-2: Payment of thing claimed into Court:
Where the thing claimed is capable of being paid into Court or placed in the custody of the the plaintiff may be required to so pay or place it before he can be entitled to any order in the suit.

২৪৩.
কোন ধরণের বিবৃতি সর্বদা বিবৃতিদানকারীর বিরুদ্ধে যায়?
  1. Dying Declaration
  2. Confession
  3. Admission
  4. Dying Deposition
ব্যাখ্যা
Confession (স্বীকারোক্তি):
বিবৃতিদানকারীর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন বিবৃতিকে Confession (স্বীকারোক্তি) বলা হয়। এটি এমন একটি বিবৃতি যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি অপরাধ সংঘটিত করেছেন।

অন্যদিকে:

Dying Declaration (মরণোত্তর ঘোষণা):
এটি একটি বিবৃতি যা মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তি দেন, যেখানে তিনি তার মৃত্যুর কারণ বা মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তির সম্পর্কে বলেন। এটি সবসময় বিবৃতিদানকারীর বিরুদ্ধে যায় না, বরং অপরাধীর বিরুদ্ধে যেতে পারে।

Admission (অঙ্গীকার বা স্বীকারোক্তি):
Admission মানে আংশিক বা পরোক্ষ স্বীকারোক্তি, যা সবসময় বিবৃতিদানকারীর বিরুদ্ধে যায় না। এটি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রাসঙ্গিক তথ্য বা ঘটনা স্বীকার করাকে বোঝায়, তবে এটি সরাসরি অপরাধ স্বীকার করে না।

Dying Deposition (মৃত্যুর পূর্বের জবানবন্দি):
Dying Deposition এবং Dying Declaration প্রায় একই ধরনের, তবে Dying Deposition বিচারকের সামনে শপথের ভিত্তিতে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং এটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য। এটি সবসময় বিবৃতিদানকারীর বিরুদ্ধে যায় না।
২৪৪.
অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আরজিতে-
  1. অমিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে আনুমানিক অর্থ (approximate) লিখতে হবে
  2. মিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে আনুমানিক অর্থ (approximate) লিখতে হবে
  3. অর্থের পরিমাণ না লিখলেও চলে
  4. অমিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিমান (precise amount) লিখতে হবে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরজিতে যে যে বিষয়গুলো সাধারণত উল্লেখ থাকে-

> যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার নাম
> বাদী ও বিবাদীর নাম, পরিচয়, বাসস্থান
> বাদী বা বিবাদী নাবালক অথবা মানসিক বিকারগ্রস্ত হলে, সেই মর্মে বিবৃতি
> মোকদ্দমার মূল্যমান উল্লেখ করতে হবে
> কারণ (Cause of action) এবং কারণ উদ্ভবের সময়।
> প্রার্থিত প্রতিকার (relief claimed) ও দাবির কোন অংশ বর্জন করা হলে সেই মর্মে বিবৃতি ইত্যাদি।

• বিধি-২: অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে-
৭ নং আদেশের ২ নং বিধিমতে অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আরজিতে দাবিকৃত অর্থের যথাযথ পরিমান (precise amount) কিন্তু অমিমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে আনুমানিক অর্থ (approximate) লিখতে হবে।

[In money suits-Where the plaintiff seeks the recovery of money, the plaint shall state the precise amount claimed: But where the plaintiff sues for mesne profits, or for an amount which will be found due to him on taking unsettled accounts between him and the defendant, the plaint shall state approximately the amount sued for.]
২৪৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৭ক অনুযায়ী, যদি আদালত দেখে যে গ্রেফতার সংক্রান্ত কোন বিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—
  1. সংবিধান অনুযায়ী
  2. ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী
  3. সার্ভিস রুল অনুযায়ী
  4. দণ্ডবিধি অনুযায়ী
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৭ক (Section 67A, CrPC) অনুযায়ী, কোনো ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের সামনে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে হাজির করা হলে আদালত পরীক্ষা করবে গ্রেফতারের বিধানগুলো সঠিকভাবে মানা হয়েছে কি না। যদি দেখা যায় যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবহেলার কারণে বিধান লঙ্ঘন করেছেন, তবে আদালত লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করে প্রযোজ্য সার্ভিস রুল অনুযায়ী সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: সার্ভিস রুল অনুযায়ী (গ)।
----------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-67A. Procedure in case of non-compliance with provisions relating to arrest
The Magistrate or Court, as the case may be, before whom the arrested person is produced, shall examine whether the provisions of this Code relating to arrest have been duly complied with by the officer making the arrest; and if the Magistrate or Court finds that any such provision or provisions have been negligently violated or not complied with, he or it may, for reasons to be recorded in writing, direct appropriate action to be taken against the concerned officer in accordance with the applicable service rules.

২৪৬.
নিম্নের কোনটি বলপ্রয়োগ নয়?
  1. একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে ধাক্কা দিলে
  2. একজন লোক বল ছুঁড়ে অন্য কাউকে আঘাত করলে
  3. কোন দুর্ঘটনায় অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রাপ্ত আঘাত
  4. কেউ একটি কুকুরকে চালিত করে অন্য কাউকে আক্রমণ করালে
ব্যাখ্যা
• বলপ্রয়োগের সংজ্ঞা (Force)-
দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারায় বলপ্রয়োগের বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে গতিশীল করানো, গতি পরিবর্তন, গতিরোধ করানো অথবা অপর কোন ব্যক্তির দেহে বা পরিহিত পোশাক স্পর্শ করে তার অনুভূতিকে প্রভাবিত করা অর্থাৎ একজনের শক্তি অন্যের উপর প্রয়োগ করাকে বলপ্রয়োগ বা Force বলা হয়।

দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারামতে বলপ্রয়োগ ৩ ভাবে হতে পারে। যথা-
ⅰ) দৈহিক শক্তি প্রয়োগ করার মাধ্যমে (by bodily power);
ii) বস্তুর গতি পরিবর্তন করার মাধ্যমে (by disposing any substance that the motion or change or cessation of motion takes place); এবং
iii) কোন পশু বা জন্তুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন করার মাধ্যমে (by inducing any animal to move, to change its motion or to cease to move)।

যদি কোন ব্যক্তি সচেতনভাবে অন্য কারো গতি পরিবর্তন বা স্তব্ধ করার উদ্দেশ্য না থাকে এবং তাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাত বা ক্ষতির কারণ হয়ে  থাকে, তাহলে তা বলপ্রয়োগের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তাই কোন দুর্ঘটনায় যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাত লাগে, তবে তা বলপ্রয়োগ হবে না।

Section 349: Force:
A person is said to use force to another if he causes motion, change of motion, or cessation of motion to that other, or if he causes to any substance such motion, or change of motion, or cessation of motion as brings that substance into contact with any part of that other's body, or with anything which that other is wearing or carrying, or with anything so situated that such contact affects that other's sense of feeling: Provided that the person causing the motion, or change of motion, or cessation of motion, causes that motion, change of motion, or cessation of motion in one of the three ways hereinafter described:

Firstly, By his own bodily power.
Secondly, By disposing any substance in such a manner that the motion or change or cessation of motion takes place without any further act on his part, or on the part of any other person.
Thirdly, By inducing any animal to move, to change its motion, or to cease to move.
২৪৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৩৫খ অনুসারে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আবেদন বা লিখিত আপত্তি দাখিল না করা হয়, তবে শুনানির জন্য কত টাকা পর্যন্ত বিলম্ব ফি দিতে হতে পারে?
  1. ৩,০০০ টাকা
  2. ২,০০০ টাকা
  3. ১,০০০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫খ (Cost for delay in making applications, etc., in respect of interlocutory matters) ধারায় বলা হয়েছে—
→ যদি কোনো পক্ষ আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো আবেদন বা লিখিত আপত্তি দাখিল করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে
- উক্ত আবেদন বা লিখিত আপত্তি শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না, যদি না সংশ্লিষ্ট পক্ষ অপর পক্ষকে ক্ষতিপূরণ বাবদ সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা প্রদান করে।
→ এই বিধানটি মূলত আদালতের কার্যক্রমে দেরি রোধ করার জন্য প্রণীত হয়েছে, যাতে পক্ষগণ সময়মতো তাদের আবেদন বা আপত্তি দাখিল করে।
অতএব, সঠিক উত্তর হলো (খ) ২,০০০ টাকা।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 Section- 35B. Cost for delay in making applications, etc., in respect of interlocutory matters.
(1) If at any stage of a suit or proceeding, an application or written objection is not filed within the time fixed by the Court, such application or written objection, as the case may be, shall not be admitted for hearing without payment by that party of such cost to the other party not exceeding two thousand taka.
(2) If after filing of written statement, any party to the suit makes an application in respect of any matter which, in the opinion of the Court, could and ought to have been made earlier, and is likely to delay the main proceeding of the suit, the Court may admit, but shall not hear and dispose of the application, without payment by that party of such cost to the other party not exceeding three thousand taka, as it shall determine and direct, and upon failure to pay the cost, the application shall stand rejected.
২৪৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২ ধারার অধীন কয়টি ক্ষেত্রে জনসাধারণ ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসারকে সহযোগিতা করতে বাধ্য?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২ ধারা অনুসারে জনসাধারণ ২টি ক্ষেত্রে নির্বাহী বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশ অফিসারকে সহযোগিতা এবং সাহায্য করতে বাধ্য:
 
১: গ্রেফতার বা পলায়ন প্রতিরোধ-
ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২(ক) মোতাবেক পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট যে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার জন্য আইনগতভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়েছেন সে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার জন্য বা তার পলায়ন প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনসাধারণ সাহায্য করতে বাধ্য থাকবেন।

২: অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা-
ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২(খ) তে বলা আছে যে, কোথাও শান্তি ভঙ্গ হলে তা দমন  কিংবা শান্তি ভঙ্গের সম্ভাবনা দেখা দিলে তা প্রতিরোধ অথবা রেলপথ, খাল, টেলিগ্রাফ বা সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের  চেষ্টা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনসাধারণ সাহায্য করতে বাধ্য থাকবেন।
 
Section 42: Public when to assist-
Every person is bound to assist any Magistrate whether Judicial or Executive or police officer reasonably demanding his aid,- 
(a) in the taking or preventing the escape of any other person whom such Magistrate or police-officer is authorized to arrest; 
(b) in the prevention or suppression of a breach of the peace, or in the prevention of any injury attempted to be committed to any railway, canal, telegraph or public property.
২৪৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৪ ধারা অনুসারে রিমান্ড দেওয়ার যৌক্তিক কারণ কী হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. পুলিশের অনুরোধে
  2. আদালতের সুবিধার জন্য
  3. আসামীকে শাস্তি দেওয়ার জন্য
  4. আরও সাক্ষ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা থাকলে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) আরও সাক্ষ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা থাকলে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৪ অনুসারে, কোনো বিচার বা অনুসন্ধান স্থগিত করে ম্যাজিস্ট্রেট যদি আসামিকে হাজির রাখার আদেশ দেন (রিমান্ড), তাহলে তার অবশ্যই লিখিতভাবে যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে।
এই "যৌক্তিক কারণ" হিসেবে যে বিষয়টি প্রধান বিবেচ্য হয় তা হলো: "যদি আদালত মনে করে যে তদন্তের স্বার্থে আরও সাক্ষ্য বা প্রমাণ সংগ্রহের সম্ভাবনা আছে।"
- রিমান্ড দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য তদন্ত বা বিচার কার্যক্রমে সহায়ক তথ্য সংগ্রহ করা। এটি কোনোভাবেই শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।
- আদালত কেবল তখনই রিমান্ড মঞ্জুর করবেন, যদি তাঁর কাছে যৌক্তিক কারণ থাকে যে আরও তথ্য বা সাক্ষ্য বের হতে পারে, যা মামলার নিষ্পত্তিতে সহায়ক হবে।
অর্থাৎ ধারা ৩৪৪ অনুসারে, “আরও সাক্ষ্য বা তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা থাকলে” সেটিই হচ্ছে রিমান্ড দেওয়ার বৈধ ও যৌক্তিক কারণ।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৪: কার্যক্রম স্থগিত বা মুলতবি রাখার ক্ষমতা:
(১) কোন সাক্ষীর অনুপস্থিতি বা অন্য কোন যৌক্তিক কারণে যদি কোন অনুসন্ধান বা বিচার আরম্ভ, স্থগিত রাখা বা মুলতবি রাখা প্রয়োজনীয় বা সংগত হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে আদালত সঠিক মনে করলে কারণ উল্লেখপূর্বক লিখিত আদেশ দ্বারা যে শর্তে সঠিক মনে করেন সে শর্তে, যে সময়ের জন্য যৌক্তিক মনে করেন সেই সময়ের জন্য সময়ে সময়ে তা স্থগিত বা মুলতবি রাখতে পারবেন এবং আসামি হাজতে থাকলে পরোয়ানা দ্বারা তাকে রিমান্ডে দিতে পারবেন:
রিমান্ড: শর্ত থাকে যে, এই ধারা অনুসারে, কোন ম্যাজিস্ট্রেট কোন আসামিকে একসঙ্গে ১৫ (পনেরো) দিনের অধিক মেয়াদের জন্য রিমান্ডে পাঠাতে পারবেন না।
(২) হাইকোর্ট ডিভিশন ব্যতিরেকে অন্য কোন আদালত কর্তৃক এই ধারার অধীন প্রদত্ত প্রত্যেকটি আদেশ লিখিত ও বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে।
ব্যাখ্যা: আসামি অপরাধ করে থাকতে পারে এ মর্মে সন্দেহ সৃষ্টির মত পর্যাপ্ত সাক্ষ্য যদি সংগ্রহ হয়ে থাকে, এবং রিমান্ডের দ্বারা আরও সাক্ষ্য হতে পারে বলে যদি প্রতীয়মান হয়। তাহলে তা আসামিকে রিমান্ডে দেওয়ার একটি যৌক্তিক কারণ হবে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 344: Power to postpone or adjourn proceedings:
(1) If, from the absence of a witness, or any other reasonable cause, it becomes necessary or advisable to postpone the commencement of, or adjourn any inquiry or trial, the Court may, if it thinks fit, by order in writing, stating the reasons therefor, from time to time, postpone or adjourn the same on such terms as it thinks fit, for such time as it considers reasonable, and may by a warrant remand the accused if in custody:
Remand: Provided that no Magistrate shall remand an accused person to custody under this section for a term exceeding fifteen days at a time.
(2) Every order made under this section by a Court other than High Court Division shall be in writing signed by the presiding Judge or Magistrate.
Explanation: Reasonable cause for remand.-If sufficient evidence has been obtained to raise a suspicion that the accused may have committed an offence, and it appears likely that further evidence may be obtained by a remand, this is a reasonable cause for a remand.
২৫০.
নিম্ন আদালতের নথি তলবের ক্ষমতা ফৌজদারী কার্যবিধি কত ধারায় আছে ?
  1. ৪৩৫
  2. ৪৬৩
  3. ৪০৬
  4. ৪০৪
ব্যাখ্যা
•৪৩৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশনের ক্ষমতা বা নিন্ম আদালতের নথি তলবের ক্ষমতা আছে হাইকোর্ট বিভাগের ও দায়রা জজ আদালতের (অতিরিক্ত দায়রা জজ)।
•হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশন করেন ৪৩৯ ধারায় এবং দায়রা জজ কোর্ট রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন ৪৩৯(ক) ধারায়।
২৫১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার মামলায় বাদী কী প্রমাণ করতে হবে না?
  1. সম্পত্তিটি বাদীর দখলে ছিল
  2. বাদী ৬ মাসের মধ্যে মামলা করেছে
  3. সম্পত্তিতে বাদীর স্বত্ব রয়েছে
  4. বিবাদী কর্তৃক বাদীকে বেদখল করা হয়েছে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধার করতে হলে বাদীকে প্রমাণ করতে হবে নালিশি সম্পত্তি তার দখলে ছিল এবং উক্ত সম্পত্তি হতে তাকে গত ৬ মাসের মধ্যে জোরপূর্বক বা বেআইনিভাবে বেদখল করা হয়েছে।
-এই ধারায় ( স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার মামলায়) স্বত্ব প্রমাণ বা স্বত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করার প্রয়োজন নেই, তথাপিও পক্ষ চাইলে উত্থাপন করতে পারেন।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার স্থাবর সম্পত্তির দখল পুরুদ্ধার (স্বত্বছাড়া শুধু দখল পুনুরুদ্ধার/মামলা করার সময়সীমা ৬ মাস)।
-------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-9. Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
 
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.
২৫২.
সমন জারির জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা প্রযোজ্য?
  1. ধারা ৬৬
  2. ধারা ৬৮
  3. ধার ৭৬
  4. ধার ৭৮
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৮-এ সমন জারির প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ধারা অনুসারে, আদালত যখন কাউকে সমন জারি করবে, তখন তা লিখিত আকারে, আদালতের বিচারক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সীলমোহর ও স্বাক্ষরযুক্ত হবে
- এছাড়া, সমন পরিবেশন করার জন্য এটি পুলিশ কর্মকর্তা, আদালতের কর্মকর্তা, বা সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক পরিবেশন করা যেতে পারে, এবং ব্যক্তিগতভাবে বা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে তা পরিবেশন করা হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮ ধারার বিধান সমনের ফরম:
(১) কোন আদালত কর্তৃক এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে প্রদত্ত প্রত্যেকটি সমন লিখিতভাবে ও দুই কপিতে দিতে হবে এবং উক্ত আদালতের বিচারক বা সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রণীত বিধি কর্তৃক নির্দেশিত অন্য কোন অফিসার দ্বারা স্বাক্ষরিত ও সীলমোহরকৃত হবে।
(২) সমন জারিকারক : এরূপ সমন কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক অথবা এতদ্দুদ্দেশ্যে সরকার দ্বারা প্রণীত বিধি সাপেক্ষে সমন প্রদানকারী আদালতের কোন অফিসার কর্তৃক অথবা কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক জারী হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section- 68. Form of summons:
1) Every summons issued by a Court under this Code shall be in writing in duplicate, signed and sealed by the presiding officer of such Court, or by such other officer as the 78[Supreme Court] may, from time to time, by rule, direct.

Summons by whom served:
2) Such summons shall be served by a police-officer, or subject to such rules as the Government may prescribe in this behalf, by an officer of the Court issuing it or other public servant.
২৫৩.
একটি Complaint Case এ ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখেন যে তার অপরাধটি আমলে নেওয়ার এখতিয়ার নেই তখন The Code of Criminal Procedure, 1898 এর নিম্নের ধারা অনুযায়ী মামলাটি উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য ফেরত পাঠাবেন?
  1. ২০০
  2. ২০১
  3. ২০২
  4. ২০৩
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০১ ধারায় অভিযোগ বা নালিশ ফেরতের (return of complaint) বিধান রয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০১ ধারামতে নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের অপরাধটি আমলে নেয়ার ক্ষমতা না থাকলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য নালিশটি (complaint) ফেরত পাঠাবেন। তবে উক্ত অভিযোগ যদি লিখিতভাবে করা না হয়, তাহলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদিকে উপযুক্ত আদালতে যেতে নির্দেশ প্রদান করবেন।

♦অর্থাৎ একটি Complaint Case বা সি আর মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখেন যে তার কগনিজেন্স নেওয়ার এখতিয়ার নেই তখন The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২০১ ধারা অনুযায়ী মামলাটি উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য ফেরত পাঠাবেন।
২৫৪.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় সরকারি দলিলের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ৭২ ধারা
  2. ৭৪ ধারা
  3. ৭৬ ধারা
  4. ৭৮ ধারা
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৭৪ ধারায় সরকারি দলিল (Public Document) এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যে সমস্ত দলিল সরকারিভাবে রক্ষিত থাকে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত হয়, সেগুলো সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হবে।
৭৪ ধারার মূল বক্তব্য:
- সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইব্যুনালের নথিপত্র।
- দেশি-বিদেশি আইন, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলির লিখিত বিবরণ।
- সরকারিভাবে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

→ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২: ৭৪ ধারার বিধান সরকারি দলিল:
নিম্নলিখিত দলিলসমূহ সরকারি দলিল (Public Documents) হিসেবে গণ্য হবে—
(১) যে সকল দলিল নিম্নলিখিত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার কার্যাবলির অংশ বা রেকর্ড হিসেবে গঠিত:
(i) সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(ii) সরকারি সংস্থা ও ট্রাইব্যুনালের, এবং
(iii) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশের কোনো অংশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় সরকারি কর্মকর্তার।
(২) বাংলাদেশে সরকারিভাবে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ রেকর্ড।
--------
⇒ The Evidence Act, 1872: Section- 74. Public documents:
The following documents are public documents:– 
(1) documents forming the acts or records of the acts- 
(i) of the sovereign authority, 
(ii) of official bodies and tribunals, and 
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country; 
(2) public records kept in Bangladesh of private documents.
২৫৫.
বার কাউন্সিল আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুসারে, বার কাউন্সিল কোন কার্যটি করবে?
  1. বার কাউন্সিলের ফান্ড ব্যবস্থাপনা করা
  2. বার কাউন্সিলের সদস্যদের নির্বাচনের আয়োজন
  3. আইনজীবীদের পেশাগত আচরণের স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর অনুচ্ছেদ-১০: বার কাউন্সিলের কতিপয় কার্যাবলী-
১. অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি করা এবং এই উদ্দেশ্যে পরীক্ষা নেয়া, সনদ প্রদান, তালিকাভুক্তি থেকে বাদ দেয়া;
২. এরূপ তালিকা প্রণয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা;
৩. অ্যাডভোকেটদের পেশাগত আচার আচরণ ও নৈতিকতা নির্ধারণ করা;
৪. অ্যাডভোকেটদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগের বিচার ও শাস্তি দেওয়া;
৫. তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেটগণের সুযোগ-সুবিধা ও স্বার্থ রক্ষা করা;
৬. বার কাউন্সিল ফান্ডের ব্যবস্থা করা;
৭. সদস্যদের নির্বাচনের আয়োজন করা;
৮. অনুসরণযোগ্য বিধি প্রণয়ন করা;
৯. আইন শিক্ষার উন্নয়ন করা;
১০. অন্যান্য অনুমোদিত ও সহায়ক যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করা।
----------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 Article-10:
-Subject to the provisions of this Order and the rules made thereunder the functions of the Bar Council shall be-
(a) to admit persons as advocates on its roll, to hold examinations for purposes of admission, and to remove advocates from such roll;
(b) to prepare and maintain such roll;
(c) to lay down standard of professional conduct and etiquette for advocates;
(d) to entertain and determine cases of misconduct against advocates on its roll and to order punishment in such cases;
(e) to safeguard the rights, privileges and interests of advocates on its roll;
(f) to manage and invest the funds of the Bar Council;
(g) to provide for the election of its members;
(h) to lay down the procedure to be followed by its committees;
(i) to promote legal education and to lay down the standards to such education in consultation with the universities in Bangladesh imparting such education;
(j) to perform all other functions conferred on it by or under this Order;
(k) to do all other things necessary for discharging the aforesaid functions.
২৫৬.
মৌখিক কুৎসার দ্বারা মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ২৫ অনুযায়ী, মৌখিক কুৎসার [Slander] দ্বারা মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করার জন্য তামাদির মেয়াদ হল ১ বছর।
- এটি মূলত নির্ধারণ করে যে, যদি কেউ অন্যের বিরুদ্ধে মৌখিক কুৎসা রটায় বা অপবাদ দেয়, এবং এর ফলে কোনো ধরনের মানহানি বা ক্ষতি ঘটে, তবে ক্ষতিপূরণের মামলা কুৎসামূলক কথা বলার তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
- যদি সেই কুৎসামূলক কথা নালিশযোগ্য না হয়, তবেও তবে যদি বিশেষ ক্ষতি ঘটে, তার ফলস্বরূপ ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করা যাবে।
২৫৭.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে কোনো প্রসেস (Process) জারি হলে তার খরচ কে বহন করবে?
  1. সরকার
  2. বিবাদী পক্ষ
  3. আদালত স্বয়ং
  4. প্রসেস প্রেরণকারী পক্ষ
ব্যাখ্যা

​⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ORDER XLVIII (Miscellaneous), Rule 1(1) অনুযায়ী: কোনো প্রসেস (যেমন সমন, নোটিশ, আদেশ ইত্যাদি) জারি করা হলে তার খরচ সেই পক্ষকে বহন করতে হবে, যার পক্ষে প্রসেসটি জারি করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রসেস প্রেরণকারী পক্ষ।

​⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর অর্ডার XLVIII, বিধি ১(১) অনুযায়ী স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
"Every process issued under this Code shall be served at the expense of the party on whose behalf it is issued, unless the Court otherwise directs."
অর্থাৎ, যে পক্ষের পক্ষে প্রসেস (যেমন সমন, নোটিশ, ওয়ারেন্ট ইত্যাদি) জারি করা হয়, সেই পক্ষই প্রসেস পরিবেশনের খরচ বহন করবে।
তবে আদালত বিশেষ ক্ষেত্রে অন্যথায় নির্দেশ দিতে পারে (যেমন দরিদ্র পক্ষের জন্য খরচ মওকুফ করা)।

⇒ ​দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর অর্ডার XLVIII, বিধি ১(১) অনুসারে, কোনো প্রসেস (Process) জারি করা হলে তার খরচ সেই পক্ষকে বহন করতে হবে যার পক্ষে প্রসেসটি জারি করা হয়েছে, যদি না আদালত অন্যথা নির্দেশ দেয়। এর মানে হলো, যে পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) প্রসেস জারির আবেদন করে, তাকে সাধারণত প্রসেস পরিবেশনের খরচ বহন করতে হবে। তবে, আদালতের বিশেষ নির্দেশ থাকলে এই খরচের দায়িত্ব অন্য কোনো পক্ষের উপর অর্পিত হতে পারে।
অধিকন্তু, অর্ডার XLVIII, বিধি ১(২) অনুসারে, প্রসেস পরিবেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি প্রসেস জারির আগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এটি নিশ্চিত করে যে প্রসেস জারির প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং আদালতের কার্যক্রমে কোনো বিলম্ব না হয়।

২৫৮.
'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে। মোকদ্দমার মূল্যমান অনুযায়ী মোকদ্দমাটি সহকারী জজ আদালতে দায়ের করতে হবে। সিনিয়র সহকারী জজ আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত পাঠায়। এক্ষেত্রে 'ক' এর প্রতিকার কী?
  1. কোনো প্রতিকার নেই
  2. শুধুমাত্র ফেরতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারে
  3. শুধুমাত্র এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজি পুনরায় দাখিল করতে পারে
  4. সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল বা এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজি পুনরায় দাখিল করতে পারে
ব্যাখ্যা
• এই ক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি পুনরায় দাখিল করতে পারেন বা আরজি ফেরতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারেন।

আরজি ফেরত:

দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশের বিধি-১০ অনুযায়ী, আরজি ফেরত অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেওয়া। যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতের উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।

আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার হলো-
১. বাদী আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পুনরায় দাখিল করতে পারে বা
২. আরজি ফেরত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে। কারণ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৩ আদেশের ১ (ক) বিধি অনুযায়ী আরজি ফেরতের সিদ্ধান্ত একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
২৫৯.
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে কয়টি বিভাগ রয়েছে?
  1. ৪ টি
  2. ৫ টি
  3. ৩ টি
  4. ২ টি
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলে ৩টি বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম বিভাগ (First Division)
মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits] 
অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division)
আপীল দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]
অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭ পর্যন্ত।

তৃতীয় বিভাগ (Third Division)
বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]
অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩ পর্যন্ত।
২৬০.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারার ক্ষমতাবলে ম্যাজিস্ট্রেট নিজে কোনো ব্যক্তিকে আটক করতে পারে?
  1. ৬৩
  2. ৬৬
  3. ৫৪
  4. ৬৫
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৬৫ ধারার বিধান: কোন ম্যাজিষ্টেট তার উপস্থিতিতে ও তাহর এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে যে কোন সময়ে এরূপ যে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে অথবা গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে পারবেন, যাকে গ্রেফতারের জন্য তিনি উক্ত সময়ে ক্ষমতাবান, এবং পরিস্থিতি অনুসারে পরোয়ানা জারী করতে পারবেন।
২৬১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচ বৎসরের কারাদণ্ড এর সাজা দিতে পারেন কে?
  1. বিষেশ ক্ষমতা প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  4. তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
ধারা-৩২ঃ ম্যাজিস্ট্রেটগণ যে দণ্ড দিতে পারেন।- (১) ম্যাজিস্ট্রেটগণের আদালতসমূহ নিম্নলিখিত দণ্ড দিতে পারেন; যথাঃ

(ক) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতঃ আইনে অনুমোদিত পরিমাণ নিঃসঙ্গে অবরোধসহ পাঁচ বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড; দশ হাজার টাকার অনধিক জরিমানা; বেত্রদণ্ড।

(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতঃ আইনে অনুমোদিত পরিমাণ নিঃসঙ্গ অবরোধসহ তিন বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড; পাঁচ হাজার টাকার অনধিক জরিমানা।

(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতঃ দুই বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড; দুই হাজার টাকার অনধিক জরিমানা।

(২) যেকোন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত আইন দ্বারা যেই সকল দণ্ডদানের ক্ষমতা লাভ করিয়াছেন, সেই সকল দণ্ডের মধ্যে একটির সহিত অপরটি যুক্ত যেকোন আইনসঙ্গত দণ্ড দিতে পারেন।

----------------------
Sec.32: Sentences which Magistrates may pass (1) The Courts of Magistrates may pass the following sentences  namely:-
(a) Courts of Metropolitan Magistrates and of Magistrates of the first class: Imprisonment for a term not exceeding "five years, including such solitary confinement as is authorized by law; Fine not exceeding "ten thousand taka; Whipping.

(b) Courts of Magistrates of the second class: Imprisonment for a term not exceeding "three years, including such solitary confinement as is authorized by law; Fine not exceeding "five thousand taka;
(c) Courts of Magistrates of the third class: Imprisonment for a term not exceeding two year; Fine not exceeding two thousand taka.

(2) The Court of any Magistrate may pass any lawful sentence, combining any of the sentences which it is authorized by law to pass.
২৬২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারা অনুযায়ী, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার জন্য চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য কখন আদালতে জমা দিতে হবে?
  1. মামলার রায় ঘোষণার পূর্বে
  2. মোকদ্দমা দায়েরের সময়
  3. হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ার পর
  4. আদালতের নির্দেশে যেকোনো সময়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ২১ক(খ)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার মামলায় চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য (balance amount of consideration) মোকদ্দমাটি রুজু/দায়েরের কালে (at the time of filing the suit) আদালতে জমা দিতে হবে। এটি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতার জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless– 
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and 
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

২৬৩.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় “স্বেচ্ছায়” (Voluntarily) শব্দটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৩৭
  2. ধারা ৩৮
  3. ধারা ৩৯
  4. ধারা ৪০
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩৯ অনুসারে, “স্বেচ্ছায়” (Voluntarily) শব্দটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি তখনই কোনো ফলাফল “স্বেচ্ছায়” ঘটায় যখন সে:
- ইচ্ছাকৃতভাবে সেই ফলাফল ঘটানোর উদ্দেশ্যে কাজ করে, অথবা
- এমন উপায় ব্যবহার করে যা সম্পর্কে সে জানে বা বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে যে, তা সেই ফলাফল ঘটাতে পারে।
------- 
⇒ The Penal Code, 1860: Section 39. “Voluntarily”
- A person is said to cause an effect "voluntarily" when he causes it by means whereby he intended to cause it, or by means which, at the time of employing those means, he knew or had reason to believe to be likely to cause it.
Illustration:
A sets fire, by night, to an inhabited house in a large town, for the purpose of facilitating robbery and thus causes the death of a person. Here, A may not have intended to cause death, and may even be sorry that death has been caused by his act: yet, if he knew that he was likely to cause death, he has caused death voluntarily.

২৬৪.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে "ডিজিটাল রেকর্ড" বা "ইলেকট্রনিক রেকর্ড" এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ড্রোন ডেটা
  2. সিসিটিভি ফুটেজ
  3. মোবাইল ফোন রেকর্ড
  4. ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩ অনুসারে, "ডিজিটাল রেকর্ড" বা "ইলেকট্রনিক রেকর্ড" বলতে বোঝায় যেকোনো রেকর্ড, ডেটা বা তথ্য যা ম্যাগনেটিক, ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমরি, মাইক্রো ফিল্ম, কম্পিউটার জেনারেটেড মাইক্রো ফিচে ইত্যাদি মাধ্যমে উৎপন্ন, প্রস্তুত, পাঠানো, গৃহীত বা সংরক্ষিত হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত: অডিও, ভিডিও, ডিভিডি, সিসিটিভি রেকর্ডস, ড্রোন ডেটা, সেল ফোন রেকর্ডস, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস (ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, ২০১৮ অনুসারে সংজ্ঞায়িত)।

অপশন ক, খ এবং গ (ড্রোন ডেটা, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন রেকর্ড) সকলই এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, কারণ এগুলো ইলেকট্রনিক/ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষিত ডেটা।
কিন্তু ঘ) ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA) একটি জৈবিক উপাদান (বডি ম্যাটেরিয়াল), যা ডিজিটাল রেকর্ডের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি পরিবর্তে ধারা ৩-এ "ফিজিক্যাল বা ফরেনসিক সাক্ষ্য"-এর অংশ, যেখানে রক্ত, সেমেন, চুল, অঙ্গ বা DNA-সম্পর্কিত উপাদানগুলো অপরাধ প্রমাণ বা অস্বীকারের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- DNA ডিজিটাল ডিভাইস বা ইলেকট্রনিক স্টোরেজের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত নয়, বরং এটি একটি শারীরিক বা জেনেটিক উপাদান যা ফিজিক্যাল বা ফরেনসিক সাক্ষ্য।

২৬৫.
'A'-কে জনৈক জেলা জজ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন দিয়েছেন। 'A' এই সমন মোতাবেক সাক্ষী হিসেবে উক্ত জেলা জজের সম্মুখে উপস্থিত হতে আইনত: বাধ্য। কিন্তু 'A' ইচ্ছাকৃত গরহাজির থাকে। 'A' দণ্ডবিধির কত ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছ?
  1. দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ১৭৫ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ১৭৩ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ১৭২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারার বিধান সরকারী কর্মচারীর আদেশানুসারে উপস্থিত না হওয়া- কোন ব্যক্তি সরকারী কর্মচারী হিসেবে আইনতঃ কোন সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণা জারি করার ক্ষমতাসম্পন্ন অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর নিকট থেকে উদ্ভূত অনুরূপ সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণার আজ্ঞানুযায়ী স্বয়ং বা প্রতিনিধি মারফত কোন নির্দিষ্ট স্থানে এবং সময়ে হাজির হওয়ার জন্য আইনতঃ বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও,- ইচ্ছাকৃত সে স্থানে ও সময়ে উপস্থিত না হয় অথবা যে স্থানে সে উপস্থিত থাকতে বাধ্য সে স্থান হতে যখন তার প্রস্থান করা আইনসম্মত হত তার আগেই প্রস্থান করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে; 

⇒ অথবা সমন, নোটিশ, আদেশ বা ঘোষণাটি যদি স্বয়ং বা প্রতিনিধি, মারফত কোন আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশবাহী হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒ উদাহরণসমূহ
(ক) ক বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট হতে ইস্যুকৃত একটি নির্দেশ মোতাবেক উক্ত আদালতে উপস্থিত হতে আইনতঃ বাধ্য। কিন্তু সে ইচ্ছাকৃত আদালতে গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

(খ) ক-কে জনৈক জেলা জজ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন দিয়েছেন। ক এ সমন মোতাবেক সাক্ষী হিসেবে উক্ত জেলা জজের সম্মুখে উপস্থিত হতে আইনত: বাধ্য। কিন্তু ক ইচ্ছাকৃত গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
---------
⇒ Section 174. Non-attendance in obedience to an order from public servant:
 Whoever, being legally bound to attend in person or by an agent at a certain place and time in obedience to a summons, notice, order or proclamation proceeding from any public servant legally competent, as such public servant, to issue the same, intentionally omits to attend at that place or time, or departs from the place where he is bound to attend before the time at which it is lawful for him to depart,shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to five hundred taka or with both; 

or, if the summons, notice, order or proclamation is to attend in person or by agent in a Court of Justice, with simple imprisonment for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.

⇒ Illustrations 
(a) A, being legally bound to appear before the 62[Supreme Court of Bangladesh] in obedience to a subpoena issuing from that Court, intentionally omits to appear. A has committed the offence defined in this section. 
 
(b) A, being legally bound to appear before a Zila Judge, as a witness, in obedience to a summons issued by that Zila Judge, intentionally omits to appear. A has committed the offence defined in this section.
২৬৬.
What constitutes an "affray" under Section 159?
  1. A peaceful protest
  2. A verbal argument between two people
  3. Fighting in private that grievously hurt each other
  4. Fighting in a public place that disturbs the public peace
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারার বিধান মারামারি:
-যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা "মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ১৬০ ধারার বিধান  মারামারির শাস্তি:
-কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
___________________________________________
⇒ The Penal Code, 1860-Section-159: Affray: 
 -When two or more persons, by fighting in a public place, disturb the public peace, they are said to "commit an affray".
⇒ The Penal Code, 1860-Section 160: Punishment for committing affray:
-Whoever commits an affray, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to one hundred taka, or with both.
২৬৭.
'A' shakes his fist at 'Z', intending or knowing it to be likely that he may thereby cause 'Z' to believe that 'A' is about to strike 'Z'. 'A' has committed _________. 
  1. hurt
  2. assault
  3. force
  4. Criminal force
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৫১ ধারা- আক্রমণ:
কোন ব্যক্তি যদি এই উদ্দেশ্য নিয়ে বা এটা জানা সত্ত্বেও এমন কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করে যে, তাতে হাজির কোন ব্যক্তির ভয় হয় যে, যে ব্যক্তি উক্ত অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যক্তি উক্ত হাজির ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করতে উদ্যত হয়েছে, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি আক্রমণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা:- কেবলমাত্র মুখের কথা আক্রমণ বলে পরিগণিত হয় না। কিন্তু কোন ব্যক্তির ব্যবহৃত কথাগুলি তার অঙ্গভঙ্গিকে বা প্রস্তুতিকে এমন অর্থপূর্ণ করতে পারে, যার কারণে তার অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে।

উদাহরণ:
(ক) ক, চ-এর প্রতি মুষ্টি উত্তোলন করে। ইহার ফলে চ যাতে বিশ্বাস করে যে ক তাকে আঘাত করতে উদ্যত হয়েছে, সে জন্যই ক তা করে অথবা ইহার ফলে এইরূপ : হতে পারে জানা সত্ত্বেও তা করে । ক আক্রমণ করেছে।

Section 351: Assault:
Whoever makes any gesture, or any preparation intending or knowing it to be likely that such gesture or preparation will cause any person present to apprehend that he who makes that gesture or preparation is about to use criminal force to that person, is said to commit an assault. 

Explanation.- Mere words do not amount to an assault. But the words which a person uses may give to his gestures or preparation such a meaning as may make those gestures or preparations amount to an assault. 

Illustrations:
(a) A shakes his fist at Z, intending or knowing it to be likely that he may thereby cause Z to believe that A is about to strike Z. A has committed an assault.
২৬৮.
ধারা ৩৮৪ অনুযায়ী দণ্ড কার্যকরীর পরোয়ানা কাকে উদ্দেশ্য করে ইস্যু করা হবে?
  1. পুলিশ সুপার
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. সংশ্লিষ্ট কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
  4. স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৪- দণ্ড কার্যকরীর জন্য পরোয়ানার নির্দেশ:
- কারাদণ্ড কার্যকরীর প্রত্যেকটি পরোয়ানা আসামী যে কারাগারে বা অন্য যে স্থানে আটক রয়েছে বা থাকবে, সেই কারাগারের বা স্থানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর নির্দেশিত হবে।

The Code of Criminal Procedure,1898 Section 384: Direction of the warrant for execution:

Every warrant for the execution of a sentence of imprisonment shall be directed to the officer in charge of the jail or other place in which the prisoner is, or is to be, confined.

২৬৯.
আপোষমূলক ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া যায়
  1. আপিলে
  2. রিভিউ-এ
  3. রিভিশনে
  4. রেফারেন্সে
ব্যাখ্যা
♦Order 23, Rule 3 -তে আপোষমূলক ডিক্রি (Compromise of Suit) বা সোলে ডিক্রি (Compromise of Decree)-এর বিধান আছে।

♦দেওয়ানী কার্যবিধির ৯৬(৩) ধারা অনুযায়ী- আপোষমূলক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় বলা আছে- যেসব ডিক্রি বা অর্ডারের বিরুদ্ধে আপিল চলে না (no appeal lies), সেসব ডিক্রি বা অর্ডারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন করা যায়। অর্থাৎ, আপোষমূলক ডিক্রি যেহেতু আপিল-অযোগ্য, তাই এর বিরুদ্ধে রিভিশন করা যাবে।
২৭০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৪ অনুসারে, দলিলের ভাষা যদি নিজে থেকেই স্পষ্ট এবং বাস্তব পরিস্থিতির সাথে মিলে যায়, তাহলে–
  1. দলিল বাতিলযোগ্য
  2. পক্ষগণ নতুন সাক্ষ্য দিতে পারবে
  3. দলিলটি অব্যবহৃত বলে গণ্য হবে
  4. এমন সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় যা বলে দলিলের উদ্দেশ্য ভিন্ন ছিল
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯৪ অনুযায়ী—
- যখন কোনো দলিলের ভাষা নিজে থেকেই পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট, এবং তা যদি বিদ্যমান বাস্তব পরিস্থিতির সাথে পুরোপুরি মিলে যায়, তখন—
- এই বিষয়ের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় যা প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে দলিলটি আসলে ভিন্ন কিছু বোঝাতে চেয়েছিল।

অর্থাৎ ধারা ৯৪ অনুযায়ী, স্পষ্ট ভাষার দলিল বাস্তব পরিস্থিতিতে সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে তা নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার প্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয়।

⇒The Evidence Act, 1872, Section- 94. Exclusion of evidence against application of document of existing facts:
- When language used in a document is plain in itself, and when it applies accurately to existing facts, evidence may not be given to show that it was not meant to apply to such facts.

Illustration:
A sells to B, by deed, "my estate at Rangpur containing 100 bighas". A has an estate at Rangpur containing 100 bighas. Evidence may not be given of the fact that the estate meant to be sold was one situated at a different place and of a different size.

২৭১.
একটি দলিলের মাধ্যমে A তার একটি বাড়ি B কে বিক্রয় করেছে; A, B কে একটি গাড়ি উপহার দিয়েছে এবং B এর বাড়িতে A কে থাকার অধিকার দিয়েছে।
তৃতীয় অংশটি অর্থাৎ B এর বাড়িতে A কে থাকার অধিকার দেওয়ার অংশটি আইনগতভাবে বাতিলযোগ্য। এক্ষেত্রে-
  1. সম্পূর্ণ দলিল বাতিল হবে
  2. সম্পূর্ণ দলিল বহাল থাকবে
  3. সকল অধিকার অবৈধ হবে
  4. অবশিষ্টাংশ বলবৎ থাকবে
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী, এক্ষেত্রে কেবলমাত্র তৃতীয় অংশটিই বাতিল হবে। বাকি দুটি অংশ অর্থাৎ বাড়ি বিক্রয় এবং গাড়ি উপহার দেওয়ার অংশগুলি বলবৎ থাকবে। সুতরাং সমগ্র দলিলটি বাতিল হবে না, শুধুমাত্র বাতিলযোগ্য অংশটিই বাতিল হবে। এভাবে দলিলের বাকি বৈধ অংশগুলি কার্যকর থাকবে।

এই আইনের ৪০ ধারা অনুসারে,
যদি একই দলিল দ্বারা বিভিন্ন অধিকার সৃষ্টি হয় এবং সেই দলিলের কোনো একটি অংশ বাতিলযোগ্য (void) হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে কেবলমাত্র সেই বাতিলযোগ্য অংশটিই বাতিল বলে গণ্য হবে। দলিলের অবশিষ্ট অংশগুলি বলবৎ থাকবে।

অর্থাৎ দলিলের সম্পূর্ণ অংশই বাতিল হবে না, শুধু বাতিলযোগ্য অংশটিই বাতিল বা অকার্যকর হবে। দলিলের অন্যান্য অংশসমূহ যেখানে বৈধ অধিকার সৃষ্টি করা হয়েছে সেগুলি বলবৎ থাকবে।
এই বিধানের উদ্দেশ্য হল একই দলিলের সকল অংশকেই বাতিল না করে, শুধুমাত্র বাতিলযোগ্য অংশকেই বাতিল করা এবং বাকি দলিলটিকে কার্যকর রাখা। এতে দলিলের মূল উদ্দেশ্য বা বৈধ অংশগুলি বলবৎ থাকবে এবং কেবলমাত্র অবৈধ অংশটি বাতিল হবে। এটি দলিলের পক্ষদের স্বার্থরক্ষা করে।
২৭২.
দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার ব্যাখ্যা-১ অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে মানহানি হতে পারে যদি:
  1. তার সম্পত্তি নষ্ট করা হয়
  2. তার নামে মিথ্যা মামলা করা হয়
  3. তার ছবি অননুমোদিতভাবে ব্যবহার করা হয়
  4. তার পরিবার-পরিজনের মনকে পীড়িত করার উদ্দেশ্যে নিন্দাবাদ করা হয়
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানি বা defamation এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

মানহানি:
কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বা তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কথিত বা পঠিত হওয়ার জন্য অভিপ্রেত কথা বা চিহ্ন কর্তৃক বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তির সাহায্যে সে ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন নিন্দাবাদ প্রণয়ন বা প্রকাশ করে, তবে নিম্নে নির্দেশিত ব্যতিক্রমসমূহ ছাড়াই অন্যান্য ক্ষেত্রে, সে ব্যক্তি উক্ত অন্য ব্যক্তির মানহানি করে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা ১:
যে মৃত ব্যক্তির জীবনকালে তার সম্পর্কে কোন নিন্দা করা হলে তার মানহানি ঘটত, সে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে অনুরূপ কোন নিন্দাবাদ এবং সে মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের বা অন্যান্য কাছে আত্মীয়ের মনকে পীড়িত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ নিন্দাবাদ করা, মানহানি বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা ২:
কোন কোম্পানি বা সংঘ বা ব্যক্তিসমাবেশ সম্পর্কে সমষ্টিগতভাবে কোন নিন্দাবাদ করা মানহানি বলে পরিগণিত হতে পারে।

ব্যাখ্যা ৩:
বিকল্পরূপে বা বিদ্রূপাত্মকরূপে ব্যক্ত কোন নিন্দাবাদ মানহানির সামিল হতে পারে।

ব্যাখ্যা ৪:
কোন ব্যক্তি সম্পর্কে কোন নিন্দাবাদ প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অন্যান্য ব্যক্তির দৃষ্টিতে সে ব্যক্তির নৈতিক বা বুদ্ধিগত চরিত্র হেয় না করলে, অথবা তার বর্ণ বা সম্প্রদায় কিংবা তার পেশার দিক হতে সে ব্যক্তির চরিত্রকে হেয় না করলে, অথবা সে ব্যক্তির প্রসিদ্ধি ক্ষুন্ন না করলে, অথবা তার দেহ বীভৎস বা ঘৃণা অবস্থায় বা যে অবস্থা সাধারণভাবে অরুচির বলে গণ্য, সে অবস্থায় রয়েছে বলে বিশ্বাস সৃষ্টি না করলে, সে ব্যক্তি সম্পর্কে উক্ত নিন্দাবাদ তার খ্যাতি বা সুনাম নষ্ট করে নাই বলে পরিগণিত হয়।
২৭৩.
কোন মামলা একাধিক বিচারক নিয়ে গঠিত কোন বেঞ্চে শ্রুত হলে এবং উক্ত বিচারকগণ তাদের অভিমতে সমানভাবে বিভক্ত হলে কী করণীয়?
  1. মামলা উচ্চতর আদালতে প্রেরণ করা।
  2. উভয় পক্ষের আইনজীবী এর মতামত নেয়া।
  3. অন্য একজন বিচারকের মতামত নেয়া।
  4. নতুন বেঞ্চ গঠন করা।
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি এর ধারা ৩৭৮ এ মতানৈক্যের ক্ষেত্রে কার্যপদ্ধতি বলা হয়েছে।
• যদি কোন মামলা একাধিক বিচারক নিয়ে গঠিত কোন বেঞ্চে শ্রুত হলে এবং উক্ত বিচারকগণ তাদের অভিমতে সমানভাবে বিভক্ত হলে তাদের মতামতসহ অন্য একজন বিচারকের নিকট পেশ করতে হবে এবং তিনি যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ রায় দিতে পারেন।
২৭৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় আদালত কোন পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণমূলক খরচের আদেশ দিতে পারে?
  1. যখন কোনো পক্ষ সত্য দাবি করে
  2. যখন কোনো পক্ষ মিথ্যা বা বিরক্তিকর দাবি করে
  3. যখন কোনো পক্ষ আপিল করে
  4. যখন কোনো পক্ষ আদালতে উপস্থিত হয় না
ব্যাখ্যা
• প্রত্যেক মোকদ্দমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিছু খরচ/ব্যয় থাকে। দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫,৩৫ক এবং ৩৫খ ধারায় খরচের বিষয়ে বিধান রয়েছে। খরচ প্রদানের আদেশ আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। দেওয়ানি কার্যবিধির আওতায় তিন (৩) ধরনের খরচ প্রদান করা হয়ে থাকে। যথা-
i) সাধারণ খরচ;
ii) ক্ষতিপূরণমূলক খরচ; এবং
iii) বিলম্বের জন্য খরচ।

• ধারা ৩৫ক: ক্ষতিপূরণমূলক খরচ (Compensatory cost)-
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় ক্ষতিপূরণমূলক খরচের বিধান রয়েছে। মূল মোকদ্দমায় বা ডিক্রি জারিতে কোনো পক্ষ আরজি বা লিখিত জবাবে মিথ্যা বা বিরক্তিকর (false or vexatious) বিষয় দাবি করলে, আদালত মিথ্যা বা বিরক্তিকর দাবি উত্থাপনকারীকে সর্বোচ্চ ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ স্বরূপ খরচের আদেশ দিতে পারে।
২৭৫.
সম্পত্তি বাটোয়ারা অথবা বিভাজন সম্পর্কত কোন ডিক্রি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব কার?
  1. কালেক্টর
  2. কালেক্টরের অধীনস্থ গেজেটেড কর্মচারীর
  3. আদালত
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৫৪ ধারার বিধান সম্পত্তি বাটোয়ারা বা অংশ পৃথকীকরণ (Partition of estate or separation of share): সরকারি রাজস্ব প্রদানের প্রয়োজনে কোন অবিভক্ত সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য বা সম্পত্তির কোন অংশের পৃথক দখলের জন্য ডিক্রি প্রদত্ত হলে, কালেক্টর বা মনোনীত কর্মকর্তা বাটোয়ারা বা অংশ পৃথকীকরণ সম্পন্ন করবেন।
২৭৬.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর কত ধারা অনুযায়ী আপিল আদালত মোকদ্দমা remand এ প্রেরণ করেন?
  1. ৯৬
  2. ১০৫
  3. ১০৭
  4. ১০৯
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১০৭ মতে আপিল আদালতের ক্ষমতা: (১) যে সকল শর্ত ও নিয়ন্ত্রণ বিধি দ্বারা হতে পারে, সে সাপেক্ষে কোন আপিল আদালতের নিম্নোক্ত ক্ষমতাগুলো থাকবে-
ক. মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা;
খ. মোকদ্দমা পুনর্বিচারের জন্য পাঠানো; (remand )
গ. বিচার্য বিষয় গঠন এবং সেগুলি বিচারের জন্য প্রেরণ করা এবং
ঘ. অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করা বা গ্রহণের নির্দেশ দান করা।
২৭৭.
কোন ফৌজদারী আদালত কোন ব্যক্তিকে তার দখলে থাকা দলিল হাজির করতে বললে সে যদি তা উপযুক্ত কারণ ছাড়া হাজির করতে অস্বীকার করে, তাহলে আদালত উক্ত ব্যক্তিকে কী দণ্ড দিতে পারে?
  1. সশ্রম কারাদণ্ড
  2. সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা
  3. শুধু অর্থদণ্ড
  4. বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৮৫- কোন ব্যক্তি জবাব দিতে বা দলিল করতে অস্বীকার করলে কারাদণ্ড বা সোপর্দকরণ

কোন ফৌজদারী আদালত কোন সাক্ষী বা ব্যক্তিকে তার দখলের বা ক্ষমতার অন্তর্ভূক্ত কোন দলিল বা বস্তু হাজির করতে বললে সে যদি তা হাজির করতে অস্বীকার করে বা তার নিকট জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করে, এবং এই অস্বীকৃতির জন্য কোন যৌক্তিক কৈফিয়ত না দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করে যে কোন সময়ের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন অথবা প্রিজাইডিং ম্যাজিস্ট্রেট বা জজের নিজ হাতে স্বাক্ষরিত পরোয়ানা দ্বারা তাকে ৭ (সাত) দিনের অনধিক যেকোন সময়ের জন্য কোর্টের কোন অফিসারের হেফাজতে আটক রাখতে পারবেন, যদি না উক্ত ব্যক্তি ইতোমধ্যে জবানবন্দী দিতে বা দলিল বা বস্তু হাজির করতে রাজী হয়। উক্ত ব্যক্তি তার অস্বীকৃতিতে অবিচল থাকলে ধারা-৪৮০ বা ৪৮২ অনুসারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশনের ক্ষেত্রে তাকে অবমাননার জন্য দোষী মর্মে গণ্য করতে হবে।
২৭৮.
কোনটি বার কাউন্সিলের অস্থায়ী কমিটি?
  1. নির্বাহী কমিটি
  2. আর্থিক কমিটি
  3. আইন শিক্ষা কমিটি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর ১১ অনুচ্ছেদে ৩ টি স্থায়ী কমিটির (Standing Committees) উল্লেখ আছে। ১১(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বার কাউন্সিল নিম্নলিখিত স্থায়ী কমিটি গঠিত করবে:
১. নির্বাহী কমিটি;
২. আর্থিক কমিটি;
৩. আইন শিক্ষা কমিটি।

অর্থাৎ উল্লিখিত সবগুলো বার কাউন্সিলের স্থায়ী কমিটি।

Article-11: (1) The Bar Council shall constitute the following standing committees namely:-
(a) an executive committee consisting of five members elected by the Council from amongst its members;
(c) a finance committee consisting of five members elected by the Council from amongst its members;
(d) a legal education committee consisting of nine members-five elected by the Council from amongst its members and four co-opted by the Council from persons other than the members of the Council at least two of whom shall be teachers of law in any university or college in Bangladesh.

(2) The aforesaid committees shall have such powers and functions as may be prescribed.
(3) The Bar Council may constitute from amongst its members such other committees as it may deem necessary for the performance of its functions under this Order.
২৭৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির Order 11 rule 21 অনুসারে আদালত কোনো আদেশ প্রচার করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির প্রতিকার-
  1. Order 9 অনুসারে ছানি মামলা করা
  2. Order 43 rule 1 অনুসারে বিবিধ আপীল করা
  3. Section 96 এর বিধান অনুসারে আপীল দায়ের করা
  4. Section 115 এর বিধান অনুসারে রিভিশন দায়ের করা
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১১ বিধি ২১ অনুযায়ী,
প্রশ্নকারীপক্ষ অথবা দলিলসমূহ উদ্‌ঘাটন বা পরিদর্শন প্রার্থনাকারী আদালতে আবেদন করলে, আদালত অপরপক্ষকে নিম্নোক্ত আদেশ দিবেন-
- প্রশ্নমালার উত্তরদান (answer to interrogatories)- এর আদেশ, বা
- দলিলসমূহ প্রকাশ/উদঘাটন [discovery of documents]- এর আদেশ, বা
- দলিলসমূহ পরিদর্শন [inspection of documents]- এর আদেশ।

সংশ্লিষ্ট পক্ষ উপরিউক্ত আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হলে বা অমান্য করলে (তার ফলাফল)-
- বাদীর ব্যর্থ হলে- বাদীর মোকদ্দমা খারিজ আদেশ দিবে এবং
- বিবাদী ব্যর্থ হলে- আত্মপক্ষ সমর্থন বাতিল (To strike out defence) আদেশ দিবে।

প্রতিকার: The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৪৩ আদেশে যেসকল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে, সে সম্পর্কে বলা আছে। আদেশ ১১ বিধি ২১ অনুযায়ী, আদালত কোনো আদেশ দিলে তা আপিলযোগ্য আদেশ বলে গণ্য হবে।
- Order 43 rule 1(f) এর অধীন এই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল করতে পারবে।
২৮০.
দেওয়ানী আদালতের ডিক্রি জারীর বিক্রয় রদের [Set aside] মামলার তামাদির মেয়াদ?
  1. ৩ বছর
  2. ১ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১২

নিম্নলিখিত বিক্রয় রদের [Set aside] মামলা
ক. দেওয়ানী আদালতের ডিক্রি জারী করতে বিক্রয়;
খ. কালেক্টর বা অন্য রাজস্ব কর্মকর্তার ডিক্রি বা আদেশ অনুসারে বিক্রয়;
গ. বকেয়া সরকারী রাজস্ব আদায়ের জন্য বা বকেয়া হিসাবে আদায়যোগ্য যে কোন দাবী আদায়ের জন্য বিক্রয়;
ঘ. ভাড়ার হাল (নগদ) বকেয়ার জন্য বিক্রিত‌ পত্তনী তালুক বিক্রয়।

ব্যাখ্যা: এই অনুচ্ছেদে, পত্তনী তালুক শব্দের মধ্যে হাল খাজনার বকেয়ার জন্য বিক্রয়যোগ্য যে কোন মধ্যস্বত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 

তামাদি- ১ বছর
সময় গণনা শুরু- যখন বিক্রয় বহাল হয় বা এমন মামলা দায়ের না করার কারণে যখন বিক্রয় চূড়ান্ত হয়।
২৮১.
দণ্ডবিধির ধারা ৭৩-এর অধীন কারাদণ্ড ৬ মাসের অধিক কিন্তু ১ বছরের অনধিক হলে নির্জন কারাবাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৭৩-এর অধীন, সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর নির্জন কারাবাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ কারাদণ্ডের দৈর্ঘ্য অনুসারে নির্ধারিত হয়। যদি কারাদণ্ড ৬ মাসের অধিক কিন্তু ১ বছরের অনধিক হয়, তাহলে নির্জন কারাবাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ অনধিক ২ মাস। সামগ্রিকভাবে নির্জন কারাবাস ৩ মাসের বেশি হতে পারে না, এবং ধারা ৭৪-এর অধীন একটানা ১৪ দিনের বেশি বা এক মাসে ৭ দিনের বেশি হতে পারে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৩ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাস:- যদি কোন ব্যক্তিকে এমন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত করা হয়, যে অপরাধের জন্য আদালত এই আইনবলে তাকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন তবে, আদালত তার দণ্ডাজ্ঞার মাধ্যমেই আদেশ করতে পারবেন যে অপরাধীকে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের কোন অংশবিশেষের বা কয়েকটি অংশের জন্য-যা সর্বসাকুল্যে তিন মাসের বেশি হতে পারবে না-নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতসময়ের জন্য অপরাধীকে নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে তা নিম্নে নির্দেশ করা যাচ্ছে: কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক না হলে অনধিক এক মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক কিন্তু এক বৎসরের অনধিক হলে অনধিক দুই মাস পর্যন্ত; কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বৎসরের অধিক হলে অনধিক তিন মাস পর্যন্ত।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৪ ধারার বিধান, নির্জন কারাবাসে সাজার সীমা:- নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।

২৮২.
"Abetment" বা প্ররোচনার সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ১০৫ ধারা
  2. ১০৬ ধারা
  3. ১০৭ ধারা
  4. ১০৮ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় "প্ররোচনা বা Abetment" এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ আছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ সংঘটনের জন্য কাউকে প্ররোচিত করে (instigation), ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে (conspiracy) বা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (aiding), তাহলে তা প্ররোচনা বলে গণ্য হবে।

⇒ যে সমস্ত কাজ করলে অপরাধ হয় সেই সমস্ত কাজ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোন ইন্ধন জোগান কিংবা সমর্থন করাকে আইনের ভাষায় প্ররোচনা বা Abetment বলা হয়।
- দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী ৩ ভাবে প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা অপরাধ হতে পারে।
(i) কাউকে প্ররোচিত করে (instigation)
(ii) ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে (engagement)
(iii) কার্য বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (aiding)
---------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 107: Abetment of a thing: A person abets the doing of a thing, who
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.
Explanation-1: A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.

২৮৩.
বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (রিভিউ) করার ক্ষমতা সম্পর্কে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর কোন অনুচ্ছেদে বিধান রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৪(১)
  2. অনুচ্ছেদ ৩৪(৪)
  3. অনুচ্ছেদ ৩৪(৬)
  4. অনুচ্ছেদ ৩৪(৮)
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর ৩৪(৮) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে তার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (রিভিউ), পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে।

⇒ বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (রিভিউ) করার ক্ষমতা: অনুচ্ছেদ ৩৪(৮) অনুযায়ী: বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব উদ্যোগে বা কোনো ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে তার পূর্বের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (review), পরিবর্তন (vary) বা বাতিল (rescind) করতে পারে।
------------------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council order, 1972 Article-34(8):
The Tribunal may, of its own motion or on application made to it in this behalf, review any order passed under clause (4) or (6) and maintain, vary or rescind the same, as it thinks fit.
২৮৪.
'A' সহ চার ব্যক্তি 'B'-কে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পিত দিন, তারিখ ও সময়ে তারা সকলে মিলে 'B'-কে হত্যা করে। 'A' সহ উক্ত চার ব্যক্তির বিরূদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার সাথে নিচের কোন ধারাটি প্রাসঙ্গিক?
  1. ৩৪ ধারা
  2. ১১৪ ধারা
  3. ১৩৪ ধারা
  4. ১২৪ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারামতে যখন কতিপয় ব্যক্তি (২ বা ততোধিক) দ্বারা সকলের একই অভিপ্রায় পূরণকল্পে (in furtherance of Common Intention) কোন অপরাধমূলক কার্য সম্পাদিত হয় তখন প্রত্যেকে যৌথভাবে দায়ী হবে যেন নিজে কাজটি করেছে।
- অভিন্ন অভিপ্রায় ফৌজদারি আইনের একটা নীতি, যেটা দিয়ে যৌথভাবে অভিযুক্ত করা যায়। অভিন্ন অভিপ্রায় মৌলিক/স্বতন্ত্র অপরাধ নয়।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারা অনুযায়ী যখন একই অভিপ্রায় পূরণকল্পে একাধিক ব্যক্তি কোন অপরাধমূলক কাজ সম্পাদন করে তখন তাদের প্রত্যেকে উক্ত কাজের জন্য এমনভাবে দায়ী হবেন যেন প্রত্যেকে আলাদাভাবে কাজটি সম্পাদন করেছে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার অধীনে সাধারণ অভিপ্রায় প্রমাণ করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয় সমূহ গুরুত্বপূর্ণ:
ⅰ) কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত হবে;
ii) তাদের প্রত্যেকের সাধারণ অভিপ্রায় এবং পূর্ব পরিকল্পনা ছিল উক্ত অপরাধ সংঘটন করা; এবং
iii) অভিপ্রায়কে সফল করার জন্য অপরাধ সংঘটনে অংশগ্রহণ।
- কোনো ব্যক্তিকে ৩৪ ধারায় দায়ী করতে হলে এ ধারার যেকোনো একটি উপাদান থাকতে হবে।

উল্লিখিত প্রশ্নে ৩৪ ধারার মূলনীতি প্রয়োগ করে ৩০২ ধারার অধীনে Common Intention এর জন্য দায়ী করে শাস্তি দেওয়া যাবে। অর্থাৎ ৩০২ ধারার সাথে ৩৪ ধারাটি প্রাসঙ্গিক।
২৮৫.
তামাদি আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো চুক্তি অবিরামভাবে ভঙ্গ করা হয়, তখন তামাদির সময়সীমা কখন শুরু হয়?
  1. চুক্তি ভঙ্গের প্রথম দিন থেকে
  2. চুক্তি বাতিল করার দিন থেকে
  3. চুক্তি সম্পাদনের শেষ দিন থেকে
  4. চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় করার প্রতিটি মুহূর্ত থেকে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ২৩ ধারা অনুসারে, যখন কোনো চুক্তি অবিরামভাবে ভঙ্গ করা হয় বা অন্যায় করা হয়, তখন প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির সময়সীমা শুরু হয়। অর্থাৎ, যতক্ষণ চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ নালিশের কারণ প্রতিনিয়ত উদ্ভব হতে থাকবে, এবং সেই অনুযায়ী তামাদির মেয়াদ পুনরায় গণনা শুরু হবে।

⇒ তামাদি আইনের ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা:

-যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
-এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতি মুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তি বহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়। এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
--------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section-23.Continuing breaches and wrongs:
-In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.
২৮৬.
According to Section 133 of The Evidence Act, 1872, an accomplice is considered a:
  1. Biased witness
  2. Incompetent witness
  3. Competent witness
  4. Unreliable witness
ব্যাখ্যা
Section 133- Accomplice:
An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান: দুষ্কর্মের সহযোগীঃ
আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনি হবে না।
২৮৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ক অনুযায়ী, Examination-in-chief কীভাবে নেওয়া হয়?
  1. আদালতের প্রশ্নের মাধ্যমে
  2. হলফনামার মাধ্যমে
  3. লিখিত জবাবের মাধ্যমে
  4. মৌখিকভাবে উন্মুক্ত আদালতে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (4A), যা দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (অধ্যাদেশ নং XVIII, ২০২৫) এর মাধ্যমে যোগ করা হয়েছে, অনুসারে, বাদী বা বিবাদীর জবানবন্ধি গ্রহণ (Examination-in-chief) হলফনামার (Affidavit) মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। এরপর তাকে জেরা (Cross-examination) এবং প্রয়োজনে পুনঃপরীক্ষা (Re-examination) করা যাবে। এই বিধানে আরও উল্লেখ আছে যে:
- হলফনামার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগে অন্য পক্ষকে সরবরাহ করতে হবে।
- হলফনামার সাথে দাখিলকৃত দলিলের প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্যতা আদালতের আদেশের অধীন হবে।
-------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-18, Rule-4A. Examination-inchief on affidavit and admissibility of documents:
Notwithstanding anything contained in this Code or the Evidence Act, 1872 (Act No. 1 of 1872), the facts stated in the plaint or written statement shall not be required to be orally stated or denied by the plaintiff or the defendant, as the case may be, and in every case, the examination-in-chief of the plaintiff or the defendant, as the case may be, shall be on affidavit and he may then be cross-examined and, if necessary, re-examined:
Provided that a copy of such affidavit shall be supplied to the other party before being furnished to the Court:
Provided further that where documents are filed along with the affidavit and the parties rely upon such documents, the proof and admissibility of those documents shall be subject to the orders of the Court.

২৮৮.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারায় সরকার পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করার ক্ষমতা রাখে?
  1. ৪৯২ ধারা
  2. ৪৯৩ ধারা
  3. ৪৯৪ ধারা
  4. ৪৯৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪৯২ অনুযায়ী, সরকার পাবলিক প্রসিকিউটর (Public Prosecutor) নিয়োগ করার ক্ষমতা রাখে।
অর্থাৎ, সরকার যেকোনো নির্দিষ্ট মামলায়, নির্দিষ্ট শ্রেণীর মামলায় অথবা সাধারণভাবে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারার বিধান:- পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের ক্ষমতা:-
(১) সরকার বা কোন স্থানীয় এলাকায় সাধারণভাবে, বা কোন মামলায়, বা কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর মামলার জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর নামক এক বা একাধিক অফিসার নিয়োগ দান করতে পারবেন।
(২) পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুপস্থিতিতে, বা যেক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর নিযুক্ত হননি সেক্ষেত্রে মামলা পরিচালনার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক এতদ্বিষয়ে নির্ধারিত পদের নিম্নপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য যে কোন ব্যক্তিকে পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে পারবেন।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-492:Power to appoint Public Prosecutor:
(1) The Government may appoint, generally, or in any case, or for any specified class of cases, in any local area, one or more officers to be called Public Prosecutors.
(2) The District Magistrate may, in the absence or the Public Prosecutor, or where no Public Prosecutor has been appointed, appoint any other person, not being an officer of police below such ranks as the Government may prescribe in this behalf to be Public Prosecutor for the purpose of any case.
২৮৯.
What must be true for a statement to be relevant under Section 32(3) of The Evidence Act, 1872?
  1. It must be made under oath
  2. It must be made in front of a judge
  3. It must be made for public interest
  4. It must be against the maker's proprietary interest
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-

৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
- যখন বিবৃতিটি উক্ত ব্যক্তির অর্থনৈতিক বা স্বত্ব সম্পর্কিত স্বার্থের বিরুদ্ধে হয়, অথবা যখন এটি সত্য হলে, তা তাকে বা তার বিরুদ্ধে কোন অপরাধমূলক মামলা বা ক্ষতিপূরণের মামলা করার জন্য উন্মুক্ত করবে বা করেছিল।

[When the statement is against the pecuniary or proprietary interest of the person making it, or when, if true, it would expose him or would have exposed him to a criminal prosecution or to a suit for damages.]

এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি একজন ব্যক্তি কোনো বিবৃতি দেন যা তার আর্থিক বা স্বত্ব সম্পর্কিত স্বার্থের বিরুদ্ধে থাকে, অথবা সত্য হলে তা তাকে অপরাধের মুখোমুখি করতে পারে, তাহলে ওই বিবৃতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
২৯০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৫ ধারার অধীনে অধিকতর অনুসন্ধান বা অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি কে নির্ধারণ করে?
  1. জেলা আদালত
  2. দায়রা আদালত
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. পুলিশ কমিশনার
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৫ ধারার অধীনে, হাইকোর্ট বিভাগ নির্ধারণ করে যে, দণ্ডিত ব্যক্তির দোষ বা নির্দোষিতা সম্পর্কে অধিকতর অনুসন্ধান বা অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না। যদি হাইকোর্ট বিভাগ মনে করেন যে, এই ধরনের অনুসন্ধান বা সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, তারা তা নিজে করতে পারেন অথবা দায়রা আদালতকে এই কাজ করতে নির্দেশ দিতে পারেন।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 375: Power to direct further inquiry to be made or additional evidence to be taken-
(1) If when such proceedings, are submitted the High Court Division thinks that a further inquiry should be made into, or additional evidence taken upon, any point bearing upon the guilt or innocence of the convicted person, it may make such inquiry or take such evidence itself, or direct it to be made or taken by the Court of Session.
(2) Unless the High Court Division otherwise directs, the presence of the convicted person may be dispensed with when such inquiry is made or such evidence is taken.
(3) When the inquiry and the evidence (if any) are not made and taken by the High Court Division, the result of such inquiry and the evidence shall be certified to such Court.
২৯১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার মতে, স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কোন অবস্থায় মামলা করতে পারে?
  1. যদি আদালত সম্মতি দেয়
  2. যদি তার স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়
  3. যদি তার অনুমতি ছাড়া দখলচ্যুত হয়
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি তার অনুমতি ছাড়া এবং আইনগত পন্থা অনুসরণ না করে স্থাবর সম্পত্তি থেকে দখলচ্যুত হয়, তবে সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার ব্যক্তি আদালতে মামলা করে সেই সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করতে পারে। এই ধারা এমন ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যারা অবৈধভাবে তাদের সম্পত্তির দখল হারিয়েছে, এবং এটি সম্পত্তির বৈধতা বা মালিকানা প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র দখল পুনরুদ্ধারের জন্য।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান: স্থাবর সম্পত্তির দখল চ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
- যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
- সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো প্রয়োগযোগ্য নেই।
- আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-9: Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
- Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
- No suit under this section shall be brought against the Government.
- No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.

২৯২.
আদালত রায়ের পূর্বে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিতে পারে যদি বিবাদী-
  1. তার সম্পত্তির সমগ্র বা কোন অংশ হস্তান্তর করার উপক্রম করে
  2. আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানাহতে তার সমগ্র সম্পত্তি বা উহার কোন অংশ অপসারণের উপক্রম করে
  3. আদালতের অনুমতি ব্যতীত দেশ ছাড়ার উপক্রম করে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮ বিধি ৫ অনুযায়ী  যেক্ষেত্রে বিবাদীকে সম্পত্তি উপস্থিত করার জন্য জামানত প্রদানের নির্দেশ দেয়া যায়:
(১) যেক্ষেত্রে শপথনামা দ্বারা বা অন্য কোনভাবে মামলার যে কোন পর্যায়ে আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, বিবাদী তার বিরুদ্ধে কোন ডিক্রি প্রদত্ত হলে তা জারীকরণে বাধাদান বা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে-
ক) তার সম্পত্তির সমগ্র বা কোন অংশ হস্তান্তর করার উপক্রম করেছে, বা
খ) আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানাহতে তার সমগ্র সম্পত্তি বা উহার কোন অংশ অপসারণের উপক্রম করেছে,
সেক্ষেত্রে আদালত ইহার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদেশের উল্লেখিত পরিমাণ অংকের টাকা জামানত হিসাবে দাখিল করতে বা উক্ত সম্পত্তি বা উহার মূল্য বা ডিক্রি পরিতুষ্ট হওয়ার মত উহার যথেষ্ট অংশ আবশ্যক হলে আদালতের এখতিয়ারে ন্যস্ত করার জন্য অথবা সে কেন জামানত প্রদান করবে না তার কারণ দর্শাইতে হাজির হবার জন্য বিবাদীর প্রতি নির্দেশ দিতে পারবেন।

(২) আদালত অন্যরূপ নির্দেশ না দিলে, যে সম্পত্তি ক্রোক করা আবশ্যক বাদীকে উহ এবং উহার আনুমানিক মূল্য নির্দিষ্ট সম্পত্তির সমগ্র বা উহার কোন অংশ শর্ত সাপেক্ষে ক্রোকের ও নির্দেশ দিতে পারেন।

- অর্থাৎ আদেশ-৩৮, বিধি- ৫ থেকে ১৩: রায় ঘোষণার পূর্বে ক্রোক: বাদী এফিডেভিট দ্বারা বা অন্য কোন উপায়ে আদালতকে যদি সন্তুষ্ট করতে পারে যে, বিবাদী তার বিরুদ্ধে ডিক্রি হতে পারে মনে করে তার সম্পত্তি হস্তান্তর করার চেষ্টা করছে, তাহলে আদালত রায় ঘোষণার পূর্বে উক্ত সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিতে পারেন।
২৯৩.
Easement Right বলতে কি বুঝায়?
  1. সুখাধিকার
  2. ঋণ
  3. ফেরত নেওয়া
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
♦ Easement Right মানে হল সুখাধিকার। সুখাধিকার বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের অধিকার যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সম্পত্তি অন্য ব্যক্তি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।

♦ তামাদি আইনের ২৬ ধারায় সুখাধিকার অর্জনের বিধান রয়েছে। ২৬ ধারা অনুযায়ী কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অথবা যে কোন সুখাধিকার অব্যাহতভাবে ২০ বছর (সরকারী সম্পত্তিতে ৬০ বছর) ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে উক্ত সুখাধিকার নিরঙ্কুশ ও অলঙ্গনীয় অধিকারে পরিণত হবে।

♦ অর্থাৎ ২৬ ধারামতে কোন দালানে আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার অথবা স্থল ও জল পথের ব্যবহার অথবা পানির ব্যবহার অব্যাহতভাবে ২০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করলে সুখাধিকার অর্জন করা যায়।

♦ সুখাধিকারের ক্ষেত্রে ২০ বছর বলতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে সমাপ্ত ২০ বছরকে বুঝায় । তবে সরকারী সম্পত্তির উপর সুখাধিকার অর্জন করতে হলে ৬০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যে ভোগ করতে হবে। ২৬ ধারায় সুখাধিকার বলতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরণের সুখাধিকারকে বোঝায়।

♦ ২৬ ধারা অনুযায়ী সুখাধিকার আলো, বায়ু প্রবেশ ও ব্যবহার, স্থল ও জল পথের ব্যবহার এবং পানির ব্যবহারকে অন্তর্ভুক্ত করে।

♦ সুখাধিকার বা ব্যবহার স্বত্ব (ইজমেন্ট রাইট)- ১৮৮২ সালের ইজমেন্ট রাইট অ্যাক্ট এর ৪ ধারায় সুখাধিকারের (ইজমেন্ট রাইট) সংজ্ঞা রয়েছে। সুখাধিকার বলতে এমন এক সুবিধাভোগী স্বত্বের অধিকারকে বুঝায় যা দ্বারা কোনো জমির মালিক বা দখলকার তার জমির সুবিধাজনক ভোগের জন্য অপর কোনো ব্যক্তির জমির উপর দিয়ে কিছু করতে বা করা অব্যাহত রাখতে, কোনো কিছু নিবৃত্ত করতে বা নিবৃত্ত অব্যাহত রাখতে পারে।
২৯৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ক অনুসারে মামলার পক্ষের সাক্ষীর Examination-in-chief কীভাবে নেওয়া হয়?
  1. হলফনামার মাধ্যমে
  2. লিখিত জবাবের মাধ্যমে
  3. আদালতের প্রশ্নের মাধ্যমে
  4. মৌখিকভাবে উন্মুক্ত আদালতে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮, বিধি ৪ক এর বিধান অনুযায়ী, বাদী বা বিবাদীর জবানবন্দি (Examination-in-chief) হলফনামা (Affidavit) এর মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ, সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত হয়ে সরাসরি মৌখিকভাবে তার বক্তব্য প্রদান করতে হবে না; বরং সে তার বক্তব্য একটি হলফনামা আকারে লিখিতভাবে জমা দিবে। এরপর অন্যান্য পক্ষ তাকে জেরা (Cross-examination) করতে পারবে এবং প্রয়োজনে পুনঃপরীক্ষা (Re-examination) করা যাবে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (4A), যা দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (অধ্যাদেশ নং XVIII, ২০২৫) এর মাধ্যমে যোগ করা হয়েছে, অনুসারে, বাদী বা বিবাদীর জবানবন্ধি গ্রহণ (Examination-in-chief) হলফনামার (Affidavit) মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। এরপর তাকে জেরা (Cross-examination) এবং প্রয়োজনে পুনঃপরীক্ষা (Re-examination) করা যাবে। এই বিধানে আরও উল্লেখ আছে যে:
- হলফনামার কপি আদালতে জমা দেওয়ার আগে অন্য পক্ষকে সরবরাহ করতে হবে।
- হলফনামার সাথে দাখিলকৃত দলিলের প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্যতা আদালতের আদেশের অধীন হবে।
-------- 
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order-18, Rule-4A. Examination-inchief on affidavit and admissibility of documents:
Notwithstanding anything contained in this Code or the Evidence Act, 1872 (Act No. 1 of 1872), the facts stated in the plaint or written statement shall not be required to be orally stated or denied by the plaintiff or the defendant, as the case may be, and in every case, the examination-in-chief of the plaintiff or the defendant, as the case may be, shall be on affidavit and he may then be cross-examined and, if necessary, re-examined:
Provided that a copy of such affidavit shall be supplied to the other party before being furnished to the Court:
Provided further that where documents are filed along with the affidavit and the parties rely upon such documents, the proof and admissibility of those documents shall be subject to the orders of the Court.

২৯৫.
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৬-এর মতে, চুক্তিভঙ্গের ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর 
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১১৬ অনুসারে, একটি লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ হলো ৬ বছর।

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১১৬: - লিখিত এবং নিবন্ধিত চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা ৬ বছর বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
- তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হবে: চুক্তি নিবন্ধিত না হলে যখন মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে তখন থেকে।

২৯৬.
ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে দেনাদারকে নোটিশ প্রদানের বিধান কোন আদেশ ও বিধিতে উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ-২০, বিধি-২১
  2. আদেশ-২১, বিধি-২২
  3. আদেশ-২২, বিধি-২১
  4. আদেশ-২৩, বিধি-২০
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২১, বিধি-২২ তে ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে নোটিশ প্রদানের বিধান রয়েছে- সাধারণত নোটিশ ব্যতীত ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়, তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ডিক্রি জারির মামলা করলে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে। যথ‍া:
- ডিক্রির তারিখ থেকে ২ বছর পর ডিক্রি জারির দরখাস্ত করা হলে দেনাদারকে (Judgement debtor) নোটিশ দিতে হয়।
- পক্ষের বৈধ প্রতিনিধিগণের বিপক্ষে ডিক্রি জারি করলে। তবে নোটিশ দিতে গিয়ে অযৌক্তিক বিলম্ব বা ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হলে নোটিশ না দিলেও হবে।
- এছাড়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন করলে নোটিশ দিতে হয়।
- দেওয়ানি কার্যবিধির ৫০(১) ধারা অনুযায়ী, দেনাদারের (Judgement debtor) মৃত্যু হলে তার বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করা যাবে। এক্ষেত্রে বৈধ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ডিক্রি জারির আবেদন হলে নোটিশ দিতে হয়। অর্থাৎ দেনাদারের বৈধ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জারির আবেদন করতে হলে নোটিশ দিতে হয়।
---------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-22. Notice to show cause against execution in certain cases:
(1) Where an application for execution is made-
(a) more than two years after the date of the decree, or
(b) against the legal representative of a party to the decree,
or where an application is made for execution of a decree filed under the provisions of section 44A, the Court executing the decree shall issue a notice to the person against whom execution is applied for, requiring him to show cause, on a date to be fixed, why the decree should not be executed against him:
Provided that no such notice shall be necessary in consequence of more than two years having elapsed between the date of the decree and the application for execution if the application is made within two years from the date of the last order against the party against whom execution is applied for, made on any previous application for execution, or in consequence of the application being made against the legal representative of the judgment-debtor, if upon a previous application for execution against the same person the Court has ordered execution to issue against him.

২৯৭.
বাংলাদেশের বার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠাকারী আইন একটি
  1. President's Order
  2. Ordinance
  3. Act
  4. Rules
ব্যাখ্যা
♦Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 (President's Order No. 46 of 1972 ) এর অধীন গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
২৯৮.
নিচের কোন ধরনের মোকদ্দমার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১ বছর?
  1. শ্রমিকের মজুরি আদায়ের মোকদ্দমা
  2. অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবৎ এর মোকদ্দমা
  3. বিক্রয় রদের মোকদ্দমা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৭- গৃহ-ভৃত্য কারিগর বা শ্রমিকের মজুরীর জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে যখন থেকে মজুরী বকেয়া হয় তার সর্বোচ্চ ১ বছরের মধ্যে করতে হয়।

• অনুচ্ছেদ ১০- অগ্রক্রয়ের অধিকার [Right to pre-emtion] বলবৎ এর মামলার তামাদি- ১ বছর।

• অনুচ্ছেদ ১২- বিক্রয় রদের [Set aside] মামলার তামাদি- ১ বছর।
২৯৯.
গণ উৎপাত [PUBLIC NUISANCES] সংক্রান্ত বিধান প্রযোজ্য না-
  1. জেলা এলাকায়
  2. মেট্রোপলিটন এলাকায়
  3. বিভাগীয় এলাকায়
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০ম অধ্যায়ের বিধান গণ-উৎপাত [PUBLIC NUISANCES].

♦ ধারা ১৩২ক তে এই অধ্যায়ের বলতে গণ-উৎপাত [PUBLIC NUISANCES] অধ্যায়কে বুঝানো হয়ছে।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩২ক ধারার বিধান প্রয়োগঃ এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রযোজ্য হবে না।

-----------------------------
♦ CHAPTER X -PUBLIC NUISANCES:
Section 132A. Application: The provisions of this Chapter shall not apply to a Metropolitan Area.
৩০০.
The jurisdiction to decree specific performance is __________.
  1. Arbitrary
  2. Mandatory
  3. Discretionary
  4. None
ব্যাখ্যা
⇒ Section 22 Discretion as to decreeing specific performance: The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal. 
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:- 
i) Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.
ii) Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.
iii) Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.
-----------------
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (Specific Relief) বলতে ঐ সকল প্রতিকারকে বোঝায় যা কোন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বিধান মোতাবেক সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়ার অধিকারী। 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সমূহ কেউ অধিকারবলে দাবী করতে পারবেন না; ইহা আদালতের ইচ্ছার(discretion) উপর নির্ভর করে থাকে। এই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা বা নামঞ্জুর করা আদালতের ইচ্ছাধীন বা সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা (Discretionary Power)।আইনটির ২২ ধারা আদালতকে এই ক্ষমতা অর্পণ করেছে। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে আদালতকে আইন দ্বারা বাধ্য করা যায়না। পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তবে আদালতের এই ইচ্ছাধীন বা সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা অবশ্যই স্বেচ্ছাচারীতামূলক হবে না বরং ন্যায় বিচার সহায়ক হবে।