বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন১২,৬০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ১৮ / ১২৬ · ১,৭০১১,৮০০ / ১২,৬০৫

১,৭০১.
‘A’ একজন ১২ বছর বয়সী ছেলেকে তার আইনি অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৬৩ অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৬৩ অনুসারে, কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশ থেকে বা আইনি অভিভাবকের তত্ত্বাবধান থেকে অপহরণ করলে শাস্তি ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা। এখানে, ‘A’ একজন ১২ বছর বয়সী ছেলেকে তার আইনি অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া নিয়ে গেছে, যা ধারা ৩৬১-এর অধীনে আইনি অভিভাবকের তত্ত্বাবধান থেকে অপহরণ হিসেবে গণ্য। তাই, ধারা ৩৬৩ অনুসারে সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬৩ ধারার বিধান মনুষ্য হরণের সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি কাউকে বাংলাদেশ হতে অথবা আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 363. Punishment for kidnapping:- Whoever kidnaps any person from Bangladesh or from lawful guardianship, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

১,৭০২.
জিজ্ঞাসার মাধ্যমে উদঘাটন (Discovery by interrogatories) করতে পারে-
  1. বিবাদী কর্তৃক বাদীকে
  2. বাদী কর্তৃক বিবাদীকে
  3. ক এবং খ
  4. কোনটি নহে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১নং আদেশের ১নং বিধিমতে-
আরজি ও লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্য মামলার প্রকৃতি নির্ণয়ে অপর্যাপ্ত হলে, আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগণ মামলার প্রকৃতির বিধায় একে অপরকে প্রশ্নমালা দিয়ে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে কোন তথ্য বা ঘটনা উদঘাটন করতে পারে। বিচার্য বিষয় প্রনয়নের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে হয়। আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবে না।

বিধি ১ঃ প্রশ্নাবলী দ্বারা আবিষ্কার-
কোন মোকদ্দমায় বাদি কিংবা বিবাদিপক্ষ অপর পক্ষসমূহকে অথবা তাদের মধ্যে একজন বা একাধিক জনকে পরীক্ষা করার জন্য আদালতের অনুমতিক্রমে, বিচার্য বিষয় প্রণয়নের তারিখ থেকে দশ দিনের মধ্যে লিখিতরূপে প্রশ্নমালা প্রদান করতে পারে এবং অনুরূপ প্রশ্নমালা প্রদান করা হলে এর মধ্যে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর অনুরূপ ব্যক্তির কাউকে প্রদান করতে হবে তা প্রশ্নমালার পাদটিকায় লিখিত থাকবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, কোন পক্ষ অপর পক্ষকে আদালতের আদেশ ব্যতিরেকে এক প্রস্থের অধিক প্রশ্নমালা প্রদান করবে নাঃ তবে আরও শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার সাথে কোনভাবেই সম্পর্কীত নয়, এরূপ প্রশ্নমালা সাক্ষীর মৌখিক জেরায় জিজ্ঞাসা করা চললেও এক্ষেত্রে তা অবান্তর বলে গণ্য হবে।
১,৭০৩.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় অসাধুভাবে আদালতে মিথ্যা দাবি উথাপন করার শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ২০৭
  2. ২০৮
  3. ২০৯
  4. ২১৩
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ২০৯ ধারা অনুসারে, অসাধুভাবে আদালতে মিথ্যা দাবী উত্থাপন করার জন্য কোন ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারাবাস যা ২ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
১,৭০৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারার (২) উপ-ধারা অনুযায়ী, পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুপস্থিতিতে কে পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে পারেন?
  1. সরকার
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. আইন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ধারা ৪৯২(২) অনুযায়ী, যদি পাবলিক প্রসিকিউটর অনুপস্থিত হন বা নিযুক্ত না হন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সেই মামলার জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে অন্য কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারেন, তবে এটি নিয়মিত পুলিশ কর্মকর্তার নিম্নপদস্থ নয় এমন ব্যক্তি হতে হবে, যা সরকার দ্বারা নির্ধারিত।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারার বিধান:- পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের ক্ষমতা:-
(১) সরকার বা কোন স্থানীয় এলাকায় সাধারণভাবে, বা কোন মামলায়, বা কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর মামলার জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর নামক এক বা একাধিক অফিসার নিয়োগ দান করতে পারবেন।
(২) পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুপস্থিতিতে, বা যেক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর নিযুক্ত হননি সেক্ষেত্রে মামলা পরিচালনার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক এতদ্বিষয়ে নির্ধারিত পদের নিম্নপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য যে কোন ব্যক্তিকে পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে পারবেন।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-492:Power to appoint Public Prosecutor:
(1) The Government may appoint, generally, or in any case, or for any specified class of cases, in any local area, one or more officers to be called Public Prosecutors.
(2) The District Magistrate may, in the absence or the Public Prosecutor, or where no Public Prosecutor has been appointed, appoint any other person, not being an officer of police below such ranks as the Government may prescribe in this behalf to be Public Prosecutor for the purpose of any case.

১,৭০৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় 'Limit of Time for Execution' এর বিধান আছে?
  1. ৪৬
  2. ৪৮
  3. ৪৯
  4. ৪৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত:- নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোন ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে আবেদন করা হয়ে থাকলে ঐ একই ডিক্রি জারির জন্য নিম্নলিখিত তারিখ থেকে বার বৎসর পর প্রদত্ত কোন আবেদন অনুযায়ী একই ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ; বা
খ) কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশে আবেদনকারীর প্রার্থনামতে কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ অথবা সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হলে, তা লঙ্ঘনের তারিখ।

২) এই ধারার কোন বিধানই-
ক) আবেদনের তারিখের অব্যাবহিত পূর্ববর্তী বার বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারি দেওয়ার ব্যাপারে রায়সিদ্ধ দেনাদার প্রতারণা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা সৃষ্টি করে থাকলে উক্ত বার বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর উপস্থাপিত আবেদন মোতাবেক ডিক্রি জারির আদেশদানে আদালতকে বিরত করবে না; বা
খ) ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৮৩ অনুচ্ছেদের কার্যকারীতাকে সীমাবদ্ধ বা অন্যভাবে প্রভাবিত করবে না।
------------------
⇒ Limit of Time for Execution
Section 48 Execution barred in certain cases: (1) Where an application to execute a decree not being a decree granting an injunction has been made, no order for the execution of the same decree shall be made upon any fresh application presented after the expiration of twelve years from 
(a) the date of the decree sought to be executed, or, 
(b) where the decree or any subsequent order directs any payment of money or the delivery of any property to be made at a certain date or at recurring periods, the date of the default in making the payment or delivery in respect of which the applicant seeks to execute the decree. 
 
(2) Nothing in this section shall be deemed
(a) to preclude the Court from ordering the execution of a decree upon an application presented after the expiration of the said term of twelve years, where the judgment-debtor has, by fraud or force, prevented the execution of the decree at some time within twelve years immediately before the date of the application; or 
(b) to limit or otherwise affect the operation of article 183 of the First Schedule to the Limitation Act, 1908.
১,৭০৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯২(২) অনুসারে, পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুপস্থিতিতে বা কোন পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ না থাকলে, কে অন্য কোন ব্যক্তিকে পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে পারেন?
  1. সরকার
  2. হাইকোর্ট
  3. পুলিশ সুপার
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯২(২) অনুযায়ী, যদি কোনো পাবলিক প্রসিকিউটর নিযুক্ত না থাকেন, অথবা তিনি অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামলার জন্য একজন ব্যক্তিকে পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন। তবে শর্ত হলো, যাকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তিনি যেন সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পদমর্যাদার নিচে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা না হন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারার বিধান:- পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের ক্ষমতা:-
(১) সরকার বা কোন স্থানীয় এলাকায় সাধারণভাবে, বা কোন মামলায়, বা কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর মামলার জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর নামক এক বা একাধিক অফিসার নিয়োগ দান করতে পারবেন।
(২) পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুপস্থিতিতে, বা যেক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর নিযুক্ত হননি সেক্ষেত্রে মামলা পরিচালনার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক এতদ্বিষয়ে নির্ধারিত পদের নিম্নপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য যে কোন ব্যক্তিকে পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে পারবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-492:Power to appoint Public Prosecutor:
(1) The Government may appoint, generally, or in any case, or for any specified class of cases, in any local area, one or more officers to be called Public Prosecutors.
(2) The District Magistrate may, in the absence or the Public Prosecutor, or where no Public Prosecutor has been appointed, appoint any other person, not being an officer of police below such ranks as the Government may prescribe in this behalf to be Public Prosecutor for the purpose of any case.
১,৭০৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার (২) উপধারা অনুসারে আদালত জামিন দেওয়ার সময় কী করতে পারে?
  1. আসামিকে জরিমানা আরোপ করতে পারে
  2. তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দিতে পারে
  3. যুক্তিসঙ্গত এবং ন্যায্য শর্ত আরোপ করতে পারে
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার (২) উপধারা অনুসারে, কোনো আদালত আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার সময় যুক্তিসঙ্গত এবং ন্যায্য শর্ত আরোপ করতে পারে যাতে আসামির পলায়ন রোধ করা যায় বা তার সৎ আচরণ নিশ্চিত করা যায়। এই শর্তগুলো মামলার পরিস্থিতি এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে আরোপ করা হয়, যেমন নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেওয়া, নির্দিষ্ট এলাকা ত্যাগ না করা ইত্যাদি।

- অর্থাৎ ৪৯৮ ধারার (২) উপধারা স্পষ্টভাবে জামিনের শর্ত আরোপের ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে, যা ন্যায়বিচার এবং আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয়।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 498. Power to direct admission to bail or reduction of bail:
(1) The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.
(2) Any Court, while releasing the accused on bail, may impose reasonable and fair conditions to prevent his abscondence or to ensure his good behaviour.

১,৭০৮.
সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যায় কোন দুটি সাক্ষ্যের মাধ্যমে?
  1. মৌখিক সাক্ষ্য এবং দালিলিক সাক্ষ্য
  2. প্রাথমিক সাক্ষ্য এবং মাধ্যমিক সাক্ষ্য
  3. প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং পরোক্ষ সাক্ষ্য
  4. কোনো সাক্ষ্য নয়
ব্যাখ্যা
→ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাথমিক সাক্ষ্য হচ্ছে মূল দলিল, যা সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে, মাধ্যমিক সাক্ষ্য তখন ব্যবহার করা হয় যখন মূল দলিল আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব না হয়, এবং তখন তার প্রতিলিপি বা অনুলিপি আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

- সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারায় বলা হয়েছে, দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করতে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
তাই সঠিক উত্তর: খ) প্রাথমিক সাক্ষ্য এবং মাধ্যমিক সাক্ষ্য।

দালিলিক সাক্ষ্য (Documentary Evidence):
দালিলিক সাক্ষ্য বলতে আদালতের পরিদর্শনের জন্য যে সমস্ত দলিল বা লিপিবদ্ধ বস্তু উপস্থাপন করা হয়, তা বোঝানো হয়। সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা অনুসারে, দলিলের বিষয়বস্তু দুই প্রকার দালিলিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে:
১. প্রাথমিক সাক্ষ্য; এবং
২. মাধ্যমিক সাক্ষ্য।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা- দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ:
দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যেতে পারে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য এর মাধ্যমে।

⇒ The Evidence Act, 1872- Section 61 - Proof of contents of documents:
The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.
১,৭০৯.
তামাদি আইনের কোন ধারায় বলা হয়েছে যে মেয়াদ উত্তীর্ণের পর মামলা দায়ের করলে তা খারিজ হবে?
  1. ৩ ধারা
  2. ৪ ধারা
  3. ৫ ধারা
  4. ৯ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩ (Section 3 of the Limitation Act, 1908) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা। এই ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে: "যদি কোনো মামলা, আপীল বা দরখাস্ত নির্ধারিত তামাদির মেয়াদের পর দাখিল করা হয়, তবে তা খারিজ করে দিতে আদালত বাধ্য থাকবে— এমনকি প্রতিপক্ষ (বিবাদী) যদি তামাদির প্রশ্ন না-ও তোলে, তবুও।"
অর্থাৎ, মামলা, আপিল বা দরখাস্ত যদি তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দায়ের করা হয়, তাহলে আদালত নিজ থেকেই সেটি খারিজ করে দেবে, এটি আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক (mandatory)।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৩ মোতাবেক- প্রথম তফসিলে এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু, দায়ের বা দাখিল করা হলে বিবাদীপক্ষ যদি তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন নাও করে, তারপরও উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত খারিজ বলে বিবেচিত হবে।

⇒ যা যা খারিজ হবে:
- Suit (মামলা)
- Appeal (আপিল)
- Application (আবেদন)
১,৭১০.
মোকদ্দমার একাধিক বিবাদীর মধ্যে কেউ অনুপস্থিত থাকলে কী হবে?
  1. মোকদ্দমা স্থগিত হবে
  2. মোকদ্দমা অগ্রসর হবে
  3. মোকদ্দমা বাতিল হবে
  4. শুধুমাত্র উপস্থিতদের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা চলবে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৯ বিধি ১১: কতিপয় বিবাদীর এক বা একাধিক অনুপস্থিত থাকলে কার্য পদ্ধতি [Procedure in case of nonattendance of one or more of several defendants]:
যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী রয়েছে, সেক্ষেত্রে একজন বা কয়েকজন বিবাদী উপস্থিত হয় এবং অন্যরা উপস্থিত না হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি অগ্রসর হবে এবং রায় ঘোষণার সময় আদালত অনুপস্থিত বিবাদীদের সম্পর্কে উপযুক্ত যেকোনো আদেশ দান করবেন।

১,৭১১.
দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৩৭ আদেশ অনুযায়ী ঋণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৬৪ক অনুযায়ী, দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৩৭ আদেশ মোতাবেক ঋণ আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ ৩ বছর। এই মেয়াদ ঋণ পরিশোধযোগ্য হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।
- ৩৭ আদেশ দেওয়ানী কার্যবিধিতে ঋণ আদায়ের মামলার প্রক্রিয়া ও সময়সীমা সম্পর্কে বিধান রয়েছে।
- ঋণ পরিশোধযোগ্য হওয়ার তারিখ বলতে সেই তারিখকে বোঝায় যখন ঋণ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়।
যদি এই ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।
১,৭১২.
দণ্ডবিধির কত ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে?
  1. ৫১ ধারায়
  2. ৫৩ ধারায়
  3. ৫৩ক ধারায়
  4. ৭৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি মূলত দণ্ড সম্পর্কিত আইন, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় শাস্তির প্রকারভেদ রয়েছে। ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
      (i)  মৃত্যুদণ্ড (Death penalty)
      (ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life)
      (iii) কারাদণ্ড(Imprisonment) দুই প্রকার:
           ক) সশ্রম( Rigorous, that is,  with hard labour) এবং
           খ) বিনাশ্রম (Simple)
      (iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property)
      (v) অর্থদণ্ড (fine)
-দণ্ডবিধির ধারা ৫৩ তে বিধান আছে যে, কারাদণ্ড ২ প্রকারের- সশ্রম ও  বিনাশ্রম। 
 - যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে।
---------------------------------------------------
⇒ Section 53. Punishments
 The punishments to which offenders are liable under the provisions of this Code are,- 
Firstly,- Death;
Secondly,- Imprisonment for life;
Thirdly,-[Omitted by the Criminal Law (Extinction of Discriminatory Privileges) Act 1949 (Act No. II of 1950]. 
Fourthly,-Imprisonment, which is of two descriptions, namely:- 
(1) Rigorous, that is, with hard labour; 
(2) Simple; 
Fifthly,- Forfeiture of property; 
Sixthly,- Fine.
- Explanation.-In the punishment of imprisonment for life, the imprisonment shall be rigorous.
১,৭১৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার বিধান কোন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. দেওয়ানি আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের
  2. বেআইনীভাবে আটককৃত ব্যক্তিদের
  3. নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের
  4. সরকারী হেফাজতে অযৌক্তিকভাবে আটক ব্যক্তিদের
ব্যাখ্যা
• যখন কোন ব্যক্তিকে বেআইনীভাবে আটক করা হয়, তখন বন্দী হাজির রিট পিটিশন দায়ের করা যায়। হাজির রিটের ক্ষেত্রে আদালত বেআইনীভাবে আটককৃত কোন বন্দীকে আদালতে হাজির করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে তার নিজের সন্তুষ্টির জন্য যে উক্ত ব্যক্তিকে বেআইনীভাবে আটক রাখা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষ উক্ত বিষয়ে যথাযথ ব্যাখা দিতে ব্যর্থ হলে বন্দীকে মুক্তি দিতে পারে। 

ধারা ৪৯১: হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা-

(১) হাইকোর্ট ডিভিশন যখনই সঠিক মনে করেন, তখন এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে-

(ক) ইহার ফৌজদারী আপীল এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে উপস্থিত করা হোক;
(খ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে সরকারী বা বেসরকারী হেফাজতে বে-আইনী অযৌক্তিকভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হোক;
(গ) আদালতের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোন বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দী নিয়ে উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থিত কোন জেলে আটক কোন বন্দীকে আদালতে হাজির করা হোক,
(ঘ) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের বিবেচনাধীন কোন বিষয় বিচারের জন্য বা সাক্ষী দিবার জন্য উক্তরূপে আটক কোন বন্দীকে যথাক্রমে উক্ত কোর্ট মার্শাল বা কমিশনার বরাবর হাজির করা হোক,
(ঙ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন বন্দীকে বিচারের উদ্দেশ্যে এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে অপসারণ করা হোক; এবং 

(২) মামলার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপ্রীম কোর্ট সময়ে সময়ে এই ধারার অধীন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবেন।

(৩) এই ধারার কোন বিধানই বর্তমান কার্যকর কোন নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
১,৭১৪.
বন্ধুত্বের সম্পর্কের ভিত্তিতে A, Z এর লাইব্রেরীতে যায়। উক্ত সময় Z লাইব্রেরীতে ছিলনা। Z এর অনুপস্থিতিতে এবং Z এর কোন বাক্ত সম্মতি ছাড়া শুধুমাত্র পড়ার উদ্দেশ্যে এবং ফেরত প্রদানের অভিপ্রায়ে A একটি বই নিয়ে আসে। A এর অপরাধ হলে-
  1. চুরি
  2. বলপূর্বক গ্রহণ
  3. সম্মতি ছাড়া গ্রহণ
  4. কোন অপরাধ করেনি
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।

♦ দন্ডবিধির ৩৭৮ ধারার উদাহরণ-(ড): গ-এর সাথে ক-এর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্কের সুবাদে ক গ-এর অনুপস্থিতিতে গ-এর গ্রন্থাগারে গিয়ে গ-এর প্রকাশ্য অনুমতি ব্যতীত কেবল পড়ার উদ্দেশ্যে এবং পড়ে ফেরত দেওয়ার অভিপ্রায়ে একখানি বই নিয়ে যায়। এখানে ইহা সম্ভব যে, ক মনে করেছে যে, গ-এর এই ব্যবহার করার জন্য তার প্রতি গ-এর অব্যক্ত সম্মতি আছে। যদি ইহাই ক-এর ধারণা হয়ে থাকে, তবে ক চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে না।

♦ অর্থাৎ A এর যদি এমন ধারণা থাকে যে, উক্ত বই ব্যবহারে Z এর পরোক্ষ সম্মতি ছিল, তাহলে A কোন অপরাধ করেনি।
১,৭১৫.
বেআইনী সমাবেশ সংঘটিত হতে হলে সর্বনিম্ন কতজন সদস্য থাকতে হবে?
  1. ৫ জন সদস্য
  2. ৩ জন সদস্য
  3. ১০ জন সদস্য
  4. এ সংক্রান্ত বিধান নেই
ব্যাখ্যা
ধারা ১৪১- বেআইনী সমাবেশ অর্থ:

দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনী সমাবেশকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাঁচ (৫) বা পাঁচের অধিক ব্যক্তির সমাবেশ বেআইনী সমাবেশ নামে পরিচিত যদি তাদের মধ্যে ১৪১ ধারায় উল্লেখিত কোন সাধারণ উদ্দেশ্য Common Objects| থাকে।

বেআইনী সমাবেশ সংঘটিত হতে হলে নিম্নলিখিত শর্তসমূহ পূরণ করতে হবে:
১. সর্বনিম্ন ৫ বা ৫ এর অধিক সদস্য থাকতে হবে;
২. সমাবেশের উদ্দেশ্য অবশ্যই ১৪১ ধারায় উল্লেখিত সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহের common objects) যেকোন একটি হতে হবে।

সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহ [Common Objects]
দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় যে সকল উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো সাধারণ উদ্দেশ্য বলে গণ্য হবে। ১৪১ ধারায় ধরণের সাধারণ উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয়েছে। যদি বেআইনী সমাবেশটি হয়-

১. বলপ্রয়োগ করে সরকার বা সরকারী কর্মকর্তাকে ভীত করতে [To overawe government or legislature or public servant by criminal force];

২. আইন বা আইনী প্রক্রিয়া বলবৎকরণে বাধা দেওয়া [to resist execution of law or legal process];

৩. ক্ষতি, অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ বা অন্যান্য অপরাধ সংঘটন [to commit mischef, trespass or other offences];

৪. সম্পত্তির বলপূর্বক দখল গ্রহণ করতে [to obtain possession of property by criminal force];

৫. অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে কোন ব্যক্তি যে কাজ করতে বাধ্য না তা করতে বা যে কাজ করতে অধিকারী তা করা হতে বিরত থাকতে বাধ্য করা [to compel any person to do what he is not legally bound to do, or to omit to do what he is legally entitled to do]
১,৭১৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১ অনুসারে কয়টি পদ্ধতিতে ডিক্রির টাকা পরিশোধের বিধান আছে?
  1. ৫ টি
  2. ৪ টি
  3. ৩ টি
  4. ২ টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর আদেশ-২১, বিধি-১: ডিক্রির টাকা পরিশোধ- ২১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে ডিক্রির টাকা ৩ ভাবে পরিশোধ করা যায়। যথা-
ⅰ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে টাকা জমা দিয়ে;
ii) ডিক্রিদারকে আদালতের বাহিরে টাকা দিয়ে; এবং
iii) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়ে ডিক্রির টাকা পরিশোধ করা যায়।

⇒ ডিক্রি জারির সংজ্ঞা (Definition of Execution of Decree)- আদালত প্রদত্ত ডিক্রিকে বলবৎ বা বাস্তবায়ন করাকে ডিক্রি জারি বা executuion of decree বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৬ থেকে ৭৪, ১৩৫ক ধারা এবং ২১ নং আদেশের ১ থেকে ১০৩ বিধিসমূহে ডিক্রি জারিকরণ সংক্রান্ত সকল নিয়মাবলি আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ কোন মোকদ্দমার রায়ে যার পক্ষে ডিক্রি দেয়া হয় তিনি আপনা আপনি ডিক্রির ফল ভোগ করতে পারবেন না। জারিযোগ্য ডিক্রির ক্ষেত্রে তাকে নতুন করে একটি ডিক্রি জারির মামলা করতে হয়। নির্দিষ্ট ফরম পূরণপূর্বক জাবেদা নকল সহ ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে বা যে আদালতে ডিক্রি স্থানান্তর করা হয়েছে সে আদালতে ডিক্রি জারির আবেদন করতে হয়।

⇒ডিক্রি জারির পদ্ধতি- দেওয়ানী কার্যবিধির ৫১ ধারামতে ৫টি উপায়ে আদালত ডিক্রি জারি বা ডিক্রি কার্যকর করতে পারে। যথা-
i) সম্পত্তি অর্পণ (by delivery);
ii) ক্রোক ও বিক্রয় (attachment and sale);
iii) দেনাদারকে গ্রেফতার ও কারাগারে আটক;
iv) রিসিভার নিয়োগ; এবং
ⅳ) প্রতিকারের প্রকৃতি অনুযায়ী অন্য কোনো উপায়ে।
-------------------------
CPC Order-21 Rule-1:Payment under Decree:
Modes of paying money under decree:
(1) All money payable under a decree shall be paid as follows, namely:−
(a) into the Court whose duty it is to execute the decree; or
(b) out of Court to the decree-holder; or
(c) otherwise as the Court which made the decree directs.

(2) where any payment is made under clause (a) of subrule (1), notice of such payment shall be given to the decreeholder.
১,৭১৭.
Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর Article 8 এর নতুন সংশোধন অনুযায়ী Bar Council নির্বাচনের তারিখ কেমন হবে?
  1. নির্বাচন নভেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে
  2. নির্বাচন সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে
  3. নির্বাচন মে মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে শেষ হবে
  4. নির্বাচন জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে শেষ হবে
ব্যাখ্যা
⇒ Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর সংশোধিত Article 8(1) এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
"Elections to the Bar Council shall be held so as to conclude on or before the thirty first day of May in the year in which the term of the Bar Council expires."
অর্থাৎ, বার কাউন্সিলের যেই বছরে মেয়াদ শেষ হবে, সেই বছরের ৩১ মে বা তার আগে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: গ) নির্বাচন মে মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে শেষ হবে।

Article- 8. (1) Elections to the Bar Council shall be held so as to conclude on or before the thirty first day of May in the year in which the term of the Bar Council expires.
(2) If the elections to the Bar Council cannot be held within the time specified in clause (1) due to pandemic, epidemic, act of God or for any other unavoidable circumstances as may be determined by the Government from time to time, the Government may, by notification in the official Gazette, constitute an Ad-hoc Bar Council consisting of fifteen members for a term not exceeding one year and this term shall not be further extended.
The Attorney-General for Bangladesh shall be one of the members of the Ad-hoc Bar Council and shall also be its Chairman.
(4) Notwithstanding anything contained in any other provision of this Order, the Ad-hoc Bar Council shall exercise such powers and functions of the Bar Council as specified in this Order and the rules made thereunder.
১,৭১৮.
ধারা-৭৭ অনুসারে যদি কোনো সাক্ষী বাংলাদেশের বাইরে থাকে, আদালত কী করবে?
  1. নোটিশ পাঠাবে
  2. ডিক্রি জারি করবে
  3. অনুরোধপত্র প্রেরণ করবে
  4. কমিশন প্রেরণ করবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৭৭: অনুরোধপত্র:
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়, এরূপ যে কোন দেশে বসবাসকারী সাক্ষীর পরীক্ষা করার নিমিত্তে আদালত কমিশন প্রেরণ করার বিপরীতে অনুরোধ পত্র প্রেরণ করতে পারে।

Sec.-77: Letter of request.
In lieu of issuing a commission the Court may issue a letter of request to examine a witness residing at any place not within Bangladesh.
১,৭১৯.
জামিননামা বাজেয়াপ্তির ক্ষেত্রে মুচলেকাবদ্ধ ব্যক্তি কর্তৃক জরিমানার টাকা পরিশোধ করা না হলে, তাকে কত সময় পর্যন্ত দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা যাবে?
  1. ৩ মাস
  2. ১ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১২ মাস
ব্যাখ্যা
• জামিননামা বাজেয়াপ্তির ক্ষেত্রে মুচলেকাবদ্ধ ব্যক্তি কর্তৃক জরিমানার টাকা পরিশোধ করা না হলে বা ক্রোক এবং বিক্রয়ের মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব না হলে, জামিননামার অর্থ পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে ৬ মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যাবে। 

ধারা ৫১৪- জামিননামা বাজেয়াপ্তি পদ্ধতি

(১) যে আদালত এই আইন অনুসারে জামিননামা গ্রহণ করেছেন সেই আদালত অথবা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতের সন্তুষ্টি বিধান করে, অথবা জামিননামাটি কোন আদালতে হাজির হবার জন্য প্রদত্ত হলে সেই আদালতের সন্তুষ্টি বিধান করে যখন প্রমানীত হয় যে, জামিননামাটি বাজেয়াপ্ত হয়েছে তখন আদালত এরূপ প্রমাণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এরূপ মুচলেকাবদ্ধ ব্যক্তিকে উহাতে উল্লেখিত অর্থ প্রদান করতে, অথবা কেন উহা প্রদান করা হবে না তার কারণ দর্শাতে বলতে পারবেন ।

(২) যদি পর্যাপ্ত কারণ প্রদর্শন করা না হয় এবং জরিমানার টাকা প্রদান করা না হয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তির অস্থাবর সম্পত্তি বা তিনি মারা গেলে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির মধ্য হতে অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের নিমিত্তে পরোয়ানা জারী করে অর্থ আদায়ের জন্য অগ্রসর হতে পারবেন।

(৩) এরূপ পরোয়ানা যে আদালত ইস্যু করেন সেই আদালতের স্থানীয় সীমার মধ্যে কার্যকর করা যাবে; এবং এই আদালত উক্ত সীমার বাইরে উক্ত ব্যক্তি অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয়ের ক্ষমতা দিতে পারবেন; যদি উক্ত সম্পত্তি যে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেটের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে অবস্থিত তার দ্বারা উহা পৃষ্ঠাঙ্কিত হয়।

(৪) যদি উক্ত জরিমানার টাকা পরিশোধ করা না হয় এবং উক্ত ক্রোক ও বিক্রয় দ্বারা যদি আদায় করা না যায়, তাহলে যে আদালত পরোয়ানা ইস্যু করেছেন সেই আদালতের আদেশক্রমে মুচেলেকাবদ্ধ ব্যক্তি দেওয়ানি জেলে ছয় মাস পর্যন্ত আবদ্ধ থাকবেন।

(৫) আদালত ইহার বিবেচনামূলক ক্ষমতার দ্বারা উল্লেখিত অর্থের অংশ বিশেষ মওকুফ করতে এবং অংশ বিশেষ পরিশোধে বাধ্য করতে পারবেন।

(৬) কোন জামিননামা বাজেয়াপ্ত হবার পূর্বে উহার জামিনদার মারা গেলে তার সম্পত্তি উক্ত জরিমানা সম্পর্কিত সমস্ত দায় হতে মুক্ত হয়ে যাবে।

(৭) যে ব্যক্তি ১০৬ বা ১১৮ বা ৫৬২ ধারা অনুসারে জামানত দিয়াছে সেই ব্যক্তি যদি এমন কোন অপরাধে দণ্ডিত হয় যে অপরাধ করা তার জামিননামার শর্ত লংঘন' বলে পরিগনিত হয়, অথবা তার ৫১৪খ ধারার জামিননামার শর্ত লংঘন বলে পরিগণিত হয়, তাহলে যে আদালত তাকে উক্ত অপরাধে দণ্ডিত করেছেন, সেই আদালতের রায়ের একটি সইমোহর সকল এই ধারা অনুসারে তার জামিনদার বা জামিনদারগণের বিরুদ্ধে আনীত প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাবে, এবং এই নকল এভাবে ব্যবহৃত হলে বিপরীত সত্য প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ধরে নিবেন যে, সে উক্ত অপরাধ করেছে।
১,৭২০.
ধর্ষণ সংঘটনের উপাদান হলো-
  1. ৩ টি
  2. ৫ টি
  3. ৭ টি
  4. ২ টি
ব্যাখ্যা
• দন্ডবিধির ৩৭৫ ধারামতে ৫টি ক্ষেত্রে কোন নারীর সাথে যৌন সহবাস করলে তা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে। যথা-
(i) ইচ্ছার বিরুদ্ধে
(ii) সম্মতি ব্যতীত
(iii) মৃত্যু বা আঘাতের ভয় দেখিয়ে সম্মতি আদায় করা হলে
(iv) প্রতারণামূলকভাবে সম্মতিক্রমে (যখন নারীটি পুরুষটিকে নিজের স্বামী বলে বিশ্বাস করে) অথবা
(v) সম্মতিসহ বা ছাড়া ১৪ বছরের কম বয়স্ক নারীর সাথে (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী ১৬ বছর) অর্থাৎ ১৪ বছরের কম বয়স্ক মেয়ের সাথে যৌন সহবাস করলেই তা ধর্ষণ হবে এ ক্ষেত্রে মেয়েটির সম্মতি থাকা না থাকা অপ্রাসঙ্গিক।

• ধারা-৩৭৫, ব্যাখ্যা (Explanation)- ধর্ষণের অপরাধের জন্য প্রয়োজনীয় যৌনসঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবেশ করাই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে।
১,৭২১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩১ ধারার অধীনে যুগ্ম দায়রা জজ কোন ধরনের দণ্ড প্রদান করতে পারেন না?
  1. অর্থদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কম কারাদণ্ড
  4. কোনো দণ্ডই দিতে পারেন না
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩১ ধারার বিধান হাইকোর্ট ও দায়রা জজ যে-সব দণ্ড দিতে পারেন:
(১) হাইকোর্ট বিভাগ আইনে অনুমোদিত যে কোনো দণ্ড দিতে পারেন।
(২) দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন; তবে এরূপ কোন মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে তা হাইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে হবে।
(৩) যুগ্ম দায়রা জজ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড ব্যতিরেকে আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন।

- অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩১ ধারার বিধান অনুযায়ী যুগ্ম দায়রা জজ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবে না।

---------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 31: Sentences which High Court Division and Sessions Judges may pass:
(1) The High Court Division] may pass any sentence authorized by law.
(2) A Sessions Judge or Additional Sessions Judge may pass any sentence authorized by law; but any sentence of death passed by any such Judge shall be subject to confirmation by the High Court Division.
(3) An Joint Sessions Judge may pass any sentence authorized by law, except a sentence of death or of transportation for a term exceeding ten years or of imprisonment for a term exceeding ten years.
১,৭২২.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে নিম্নের কোনটি সরকারি দলিল (Public documents)?
  1. উইল
  2. কবলা
  3. চাকরির আবেদন পত্র
  4. আদালতের সমন
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারার বিধান সরকারী দলিল: নিম্নলিখিত দলিলগুলো সরকারী দলিল:
(১) যে সমস্ত দলিল-
(ক) কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং
(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের যে কোন স্থানের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
---------
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৭৫ ধারার বিধান বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল। 
⇒ কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.

আদালতের সমন ৭৪(১) ধারার বিধান মতে পাবলিক ডকুমেন্ট। কারণ সমন বিচার বিভাগীয় কাজের অংশ।
১,৭২৩.
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide) এর সংজ্ঞা কোথায় দেওয়া হয়েছে?
  1. দণ্ডবিধি ধারা ২৯৯
  2. দণ্ডবিধি ধারা ৩০২
  3. দণ্ডবিধি ধারা ৩০৪
  4. দণ্ডবিধি ধারা ৩০৬
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) দণ্ডবিধি ধারা ২৯৯
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ২৯৯-এ "শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide)" এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি, মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে, অথবা যে ধরনের দৈহিক আঘাত মৃত্যু ঘটাতে পারে, এই জেনেও সেই আঘাত করে, অথবা এমন কোনো কাজ করে যা সে জানে মৃত্যু ঘটাতে পারে, এবং এর ফলে যদি কারো মৃত্যু ঘটে, তবে সে শাস্তিযোগ্য নরহত্যার (culpable homicide) দায়ে দণ্ডিত হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারার বিধান শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):- কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।
- ব্যাখ্যা ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
- ব্যাখ্যা ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
- ব্যাখ্যা ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section- 299. Culpable homicide:
Whoever causes death by doing an act with the intention of causing death, or with the intention of causing such bodily injury as is likely to cause death, or with the knowledge that he is likely by such act to cause death, commits the offence of culpable homicide. 
Explanation 1. A person who causes bodily injury to another who is labouring under a disorder, disease or bodily infirmity, and thereby accelerates the death of that other, shall be deemed to have caused his death. 
Explanation 2. Where death is caused by bodily injury, the person who causes such bodily injury shall be deemed to have caused the death, although by resorting to proper remedies and skilful treatment the death might have been prevented. 
Explanation 3. The causing of the death of a child in the mother's womb is not homicide. But it may amount to culpable homicide to cause the death of a living child, if any part of that child has been brought forth, though the child may not have breathed or been completely born.
১,৭২৪.
Section 12 of The Specific Relief Act, 1877 deals with-
  1. Recovery of specific moveable property
  2. Cases in which specific performance not enforceable
  3. Cases in which specific performance enforceable
  4. Bar in other cases of specific performance of part of contract
ব্যাখ্যা
Section 12- Cases in which specific performance enforceable:
Except as otherwise provided in this Chapter, the specific performance of any contract may in the discretion of the Court be enforced-
(a) when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust;
(b) when there exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done;
(c) when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief; or
(d) when it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done.

Explanation - Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা- যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য:
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
১,৭২৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোথায় ফ্যাক্স বা ইলেকট্রনিক মেইল দ্বারা সমন প্রেরণ করার বিধান আছে?
  1. আদেশ-৫ বিধি-৭
  2. আদেশ-৫ বিধি-৯
  3. আদেশ-৫ বিধি-১৩
  4. আদেশ-৫ বিধি-১১
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৫ বিধি-৯  জারীর জন্য সমন অর্পণ বা প্রেরণ:-
(১) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে, বিবাদি সেটির এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বসবাস করে, বা সমন গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি বিবাদির পক্ষে যদি এরূপ এলাকার ভিতর বসবাস করে, তবে আদালত অন্য কোনরূপ নির্দেশ না দিলে হয় উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট স্বয়ং জারি করার লক্ষ্যে বা তাদের অধঃস্তন কোন ব্যক্তি দ্বারা অথবা উপ-ধারা (৪) এর বিধান অনুযায়ী জেলা জজ কর্তৃক তালিকাভুক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমন অর্পিত বা প্রেরিত হবে।
(২) উপযুক্ত কর্মকর্তা যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে, সেখানকার না হয়ে অন্য কোন আদালতের কর্মকর্তাও হতে পারেন, এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তার নিকট ডাকযোগে বা আদালত যেভাবে নির্দেশ দিতে পারে অনুরূপ অন্য যে কোন উপায়ে প্রেরণ করা যাবে।

(৩) আদালত উপ-বিধি (১) তে বর্ণিত বিধানের অতিরিক্ত হিসেবে বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করতে পারে এবং একইসঙ্গে ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে বা ইলেক্ট্রনিক মেইল সার্ভিস এর মাধ্যমে নিজ খরচে সমন প্রেরণের নির্দেশ দিবেন।

(৪) জেলা জজ উপ-বিধি (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কুরিয়ার সার্ভিসের একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন (সময় সময় হালনাগাদসহ) এবং তার প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রের সকল দেওয়ানি আদালতসমূহকে তা অবহিত করবেন।
(৫) যখন সমন উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস এর নিকট প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত সমন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে বা প্রেরণ করবেন এবং আদালতকে এতদবিষয়ে অবহিত করবেন:তবে শর্ত থাকে যে, যদি উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণে ব্যর্থ হন, তাহলে উক্ত কর্মকর্তা অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং কুরিয়ার ক্ষেত্রে, জেলা জজ উপ-বিধি (৪) অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে তা বাদ দিবেন।
১,৭২৬.
'ক' তার ছেলের মঙ্গলের জন্য একজন সার্জনকে দিয়ে অপারেশন করাতে চায় । সার্জন শিশুটির পিতার নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে অপারেশন করে । শিশুটি মারা যায়। সার্জনের অপরাধ কী?
  1. নিন্দনীয় নরহত্যা
  2. ভুলবশত খুন
  3. খুন
  4. কোন অপরাধ হয়নি
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৮৯ ধারা মতে অভিভাবক দ্বারা বা তার সম্মতিক্রমে শিশু বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সদবিশ্বাসে কৃত কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না
 
♦ ১২ বছরের কম বয়সী বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির অভিভাবক দ্বারা বা অভিভাবকের অনুমতিক্রমে উল্লেখিত ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সরল বিশ্বাসে কোন কাজ করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না।

♦সার্জনের অপরাধ না হবার কারণ হলো শিশুটির অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে এবং শিশুর মঙ্গলার্থে সরল বিশ্বাসে কার্যটি করেছে।
১,৭২৭.
দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারা অনুসারে চুরির জন্য নিচের কোন উপাদানটি আবশ্যক?
  1. অস্থাবর সম্পত্তি
  2. অসাধু অভিপ্রায়
  3. সম্পত্তির মালিকের সম্মতি না নেওয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারা-এ চুরির সংজ্ঞায় নিম্নলিখিত উপাদানগুলি আবশ্যক বলে উল্লেখ করা হয়েছে:
১. অস্থাবর সম্পত্তি (Moveable Property): শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তি নয়, অস্থাবর সম্পত্তিই চুরির বিষয় হতে পারে।
২. অসাধু বা Dishonest অভিপ্রায় (Dishonest Intention): সম্পত্তি নেওয়ার সময় অসাধু বা dishonest মনোভাব থাকতে হবে।
৩. সম্পত্তির দখল থেকে নেওয়া (Taking out of Possession): সম্পত্তিটি কারও দখল থেকে নেওয়া হতে হবে।
৪. সম্মতি না নেওয়া (Without Consent): যে ব্যক্তির দখলে সম্পত্তি রয়েছে, তার সম্মতি ছাড়া নেওয়া হতে হবে।
৫. সম্পত্তি স্থানান্তর (Moving the Property): চুরি সম্পন্ন করার জন্য সম্পত্তিটিকে নড়াতে বা স্থানান্তর করতে হবে।
সুতরাং, প্রশ্নে উল্লিখিত অস্থাবর সম্পত্তি, অসাধু অভিপ্রায় এবং সম্পত্তির মালিকের সম্মতি না নেওয়া—এই তিনটি উপাদানই চুরির জন্য আবশ্যক। অতএব, সঠিক উত্তর ঘ) উপরের সবগুলো।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরির বিধান রয়েছে। ৩৭৮ ধারামতে কোন ব্যক্তির দখল থেকে সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি (Movable property) অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করলে বা সরানো হলে তা চুরি বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তির দখলে থাকা ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে তবে তা চুরি বলে গণ্য হবে।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারায় চুরিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। চুরির অপরাধ অস্থাবর সম্পত্তি যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। যখন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দখলে থাকা কোন অস্থাবর সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অসাধু উপায়ে গ্রহণ করার অভিপ্রায়ে বা অনুরূপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে উক্ত সম্পত্তি স্থানান্তর করে, সেই ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে। চুরির উপাদান বা শর্তসমূহ:
(i) অন্যকোনো ব্যক্তির দখল হতে অসাধুভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করা
(ii) সম্পত্তিটি অবশ্যই অস্থাবর সম্পত্তি হবেl যেমন টাকা, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি।
(iii) উক্ত সম্পত্তি অন্য ব্যক্তির দখল থেকে নিতে হবে।
(iv) সম্পত্তিটি উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া নিবে।
(v) চুরি সম্পন্ন হবে যদি সম্পত্তিটি সামান্য হলেও প্রকৃতপক্ষে স্থানান্তর করা হয়।
------------
⇒ The Penal Code, 1860 Section, 378. Theft:
Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft. 
Explanation 1.-A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth. 
Explanation 2.-A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft. 
Explanation 3.-A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it. 
Explanation 4.-A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal. 
Explanation 5.-The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.

১,৭২৮.
ক', 'খ' এর নিকট একটি মাঠ বিক্রয় করে। গ এর মাঠটির উপর দিয়ে চলাচলের অধিকার ছিল যা সম্পর্কে 'ক' এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল কিন্তু সে সেটা 'খ' এর নিকট হতে গোপন রেখেছিল। এই ক্ষেত্রে-
  1. 'ক' চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার অধিকারী
  2. 'খ' চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার অধিকারী
  3. 'খ' চুক্তিটি রদ করার অধিকারী
  4. উপরের কোনটি না
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার বিধান বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়ঃ লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যে কোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেনঃ
ক. যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়;
খ. যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ, এবং বাদীর চাইতে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি।
গ, যেখানে একটি বিক্রয় চুক্তি অথবা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা, ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। যা আদালত তাকে পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হিসেবে গৃহীত খাজনা এবং লাভ বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদান করার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন। একই ক্ষেত্রে আদালত সে মামলায় আদেশের মাধ্যমে যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদানুযায়ী কাজ করা হয়নি , হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় অথবা সম্পূর্ণ চুক্তিই মামলায় ন্যায়বিচারের আবশ্যক অনুযায়ী রদ করে দিতে পারেন।
♦ অর্থাৎ ধারা ৩৫-এর বিধান মোতাবেক চুক্তি অবসানের মামলা করতে পারেন। ৩৫ ধারার উদাহরণ দ্রষ্টব্য। 
১,৭২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ ধারায় তল্লাশী পরোয়ানার অধীন পরিচালিত তল্লাশীর মাধ্যমে প্রাপ্ত জিনিস কার নিকট দাখিল করতে হবে?
  1. দায়রা আদালতে
  2. পুলিশ স্টেশনে
  3. পরোয়ানা প্রদানকারী আদালতে
  4. জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ ধারা: অধিক্ষেত্র বহির্ভূত স্থানে তল্লাশী চালিয়ে প্রাপ্ত বস্তু বিলিবন্দেজ করা:
যখন, কোন তল্লাশী পরোয়ানা প্রদানকারী আদালতের স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাহিরের যে কোন স্থানে তল্লাশী পরোয়ানা কার্যকরকালে যেসব জিনিসের জন্য তল্লাশী পরিচালনা করা হচ্ছে তার কোন কোনটি পাওয়া যায়, সেসব জিনিস, অতঃপর বিধৃত বিধানসমূহ অনুসারে তৈয়ারী করা তালিকাসহ, অবিলম্বে কার্যত পরোয়ানা জারীকারী আদালতের সমক্ষে নিয়ে যেতে হবে, যদি না এরূপ স্থানে ঐ আদালত অপেক্ষা ঐস্থানে এখতিয়াবান ম্যাজিস্ট্রেটের নিকটতর হয়, যেক্ষেত্রে ঐ তালিকা ও জিনিসপত্র অবিলম্বে ঐ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং বিরুদ্ধ কিছু করার উত্তম কারণ না থাকলে ঐরূপ ম্যাজিস্ট্রেট ঐরূপ আদালতে ঐগুলি নিয়ে যাবার ক্ষমতা দিয়ে আদেশ দিবেন।

সহজ ভাষায়-
যদি কোনো আদালত একটি তল্লাশির পরোয়ানা জারি করে এবং তা আদালতের এখতিয়ার এলাকার বাইরে কোনো স্থানে কার্যকর করা হয়, তখন তল্লাশির সময় যেসব বস্তু খোঁজা হচ্ছিল, সেগুলো পাওয়া গেলে-পাওয়া যাওয়া বস্তুর একটি তালিকা তৈরি করতে হবে এবং এসব বস্তু এবং তালিকা অবিলম্বে সেই আদালতে জমা দিতে হবে, যেখান থেকে তল্লাশির পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তবে, যদি পরোয়ানা জারি করা আদালতের চেয়ে তল্লাশির স্থানের নিকটবর্তী অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন, তাহলে সেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও বস্তু ও তালিকা জমা দেওয়া যেতে পারে। সেই ম্যাজিস্ট্রেট, যদি কোনো বিরোধী কারণ না থাকে, বস্তুগুলো মূল আদালতে পাঠানোর জন্য আদেশ দেবেন।
১,৭৩০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা কখন মঞ্জুর করা হয়?
  1. চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য
  2. ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য
  3. বাধ্যবাধকতার ভঙ্গ রোধের জন্য
  4. আদালতের রায় কার্যকর করার জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারা অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা "বাধ্যবাধকতার ভঙ্গ রোধের জন্য" মঞ্জুর করা হয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারা: বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা:
- যেক্ষেত্রে একটি বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করান রোধের লক্ষ্যে এমন নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে বাধ্য করা আবশ্যক হয় এবং আদালতে তা কার্যকরীযোগ্য হয়, সেক্ষেত্রে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী যে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়েছে তা রোধ করা এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদনে বাধ্য করার জন্য ইনজাংশন মঞ্জুর করতে পারেন।
------------
⇒Specific Relief Act- Section 55- Mandatory injunctions:
- When, to prevent the breach of an obligation, it is necessary to compel the performance of certain acts which the Court is capable of enforcing, the Court may in its discretion grant an injunction to prevent the breach complained of, and also to compel performance of the requisite acts.
১,৭৩১.
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২০ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. নিলাম বিক্রয়
  2. সুদ বা ঋণ পরিশোধ
  3. বিবাহ সংক্রান্ত অধিকার
  4. তৃতীয় পক্ষের দাবি
ব্যাখ্যা

তামাদি আইন, ১৯০৮- ধারা ২০ : উত্তর দায় (Debt) সংক্রান্ত ঋণ বা সুদ প্রদানের ফলাফল:
(১) যে ক্ষেত্রে কোনো দেনা বা দায়ের সুদ বাবদ নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে, উক্ত দেনা বা দায় পরিশোধে দায়ী ব্যক্তি স্বয়ং অথবা তার যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কোনো অর্থ প্রদান করে, সে ক্ষেত্রে উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদি মেয়াদ গণনা করতে হবে।

তবে শর্ত থাকে যে, ১৯২৮ সালের ১লা জানুয়ারির পূর্বে সুদ পরিশোধের ক্ষেত্র ব্যতীত, অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে যিনি অর্থ প্রদান করবেন, সেই ব্যক্তির স্বহস্তে লিখিত ও স্বাক্ষরিত (অথবা অন্যের দ্বারা লিখিত হলেও তার দ্বারা স্বাক্ষরিত) স্বীকৃতি থাকতে হবে।

১,৭৩২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১ বিধি ৮ অনুসারে- প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা (Representative Suit) তখন অনুমোদন করা হয়, যখন-
  1. একই মামলায় অনেক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করে
  2. একই মামলায় একাধিক ব্যক্তি একই পরিবারের সদস্য হয়
  3. একই মামলায় একাধিক ব্যক্তির একই ধরনের স্বার্থ জড়িত থাকে
  4. একই মামলায় একাধিক ব্যক্তির আলাদা স্বার্থ জড়িত থাকে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা [Representative suit] এর বিধান রয়েছে।
সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিস্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ এই বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে। এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।

Order 1 Rule 8: One person may sue or defend on behalf of all in same interest-
1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Cour sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plantiffs expense, notice of the institution of the suit to all such personal either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct

2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.
১,৭৩৩.
Which section of the Penal Code, defines the offense of forgery?
  1. 461
  2. 463
  3. 467
  4. 469
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারার বিধান জালিয়াতি:
-
কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের কিংবা কোন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতিসাধনের জন্য অথবা কোন দাবি বা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অথবা কোন ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রকাশ্য বা অনুক্ত চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে এইরূপ অভিপ্রায়ে, কোন মিথ্যা দলিল কিংবা দলিলের অংশবিশেষ প্রণয়ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি জালিয়াতি করেছে বলে পরিগণিত হবে।
------------------------ 
⇒ The Penal Code, 1860- Section 463- Forgery:
- Whoever makes any false document or part of a document, with intent to cause damage or injury, to the public or to any person, or to support any claim or title, or to cause any person to part with property, or to enter into any express or implied contract, or with intent to commit fraud or that fraud may be committed, commits forgery.
১,৭৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৮ ধারামতে কয়টি বিষয়ে আপিলের বিধান আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
• ফৌজধারী কার্যবিধির ৪১৮ ধারামতে ২ টি বিষয়ে আপিল করা যায়।
•১) ঘটনার প্রশ্নে ও ২) আইনের প্রশ্নে (Question of Law & Question of Fact).
১,৭৩৫.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ১৬২ ধারা অনুযায়ী, আদালত কোন পরিস্থিতিতে দলিল পরিদর্শন করতে পারে না?
  1. দলিল ব্যক্তিগত হলে
  2. দলিল ইংরেজিতে লেখা হলে
  3. দলিল অপরাধ সংক্রান্ত হলে
  4. দলিল রাষ্ট্রীয় বিষয় সম্পর্কিত হলে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ১৬২ ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো সাক্ষী আদালতের সমনে কোনো দলিল হাজির করতে বাধ্য হন, তখন আদালত চাইলে সেই দলিল নিজেই পরিদর্শন করতে পারে, তবে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে,
- যদি দলিলটি রাষ্ট্রীয় বিষয়ে (matters of State) সম্পর্কিত হয়, তাহলে আদালত সেই দলিল পরিদর্শন করতে পারবে না।
- কারণ, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা বা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় আদালত নিজে মূল্যায়ন করে না, বরং এর জন্য কিছু বিশেষ বিধান ও সংরক্ষণ রয়েছে।
- এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং গোপনীয় নথির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

⇒ The Evidence Act, 1872-Section-162. Production of documents:
A witness summoned to produce a document shall, if it is in his possession or power, bring it to Court, notwithstanding any objection which there may be to its production or to its admissibility. The validity of any such objection shall be decided on by the Court.
The Court, if it sees fit, may inspect the document, unless it refers to matters of State, or take other evidence to enable it to determine on its admissibility.
Translation of documents:
If for such a purpose it is necessary to cause any document to be translated, the Court may, if it thinks fit, direct the translator to keep the contents secret, unless the document is to be given in evidence: and, if the interpreter disobeys such direction, he shall be held to have committed an offence under section 166 of the Penal Code.
১,৭৩৬.
তামাদি আইনের ১৪ ধারার অধীনে সময় বাদ দেওয়ার জন্য কোন শর্তটি অপরিহার্য?
  1. মামলা ফৌজদারি হতে হবে
  2. বাদী অবশ্যই আপিল করতে হবে
  3. বাদীকে মামলাটি সৎ বিশ্বাসে দায়ের করতে হবে
  4. মামলা অবশ্যই সরকারী সংস্থার বিরুদ্ধে হতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৪ এর মূল উদ্দেশ্য হল যদি কোনো ব্যক্তি যথাযথ যত্ন (due diligence) এবং সৎ বিশ্বাসে (good faith) একটি দেওয়ানি মামলা বা দরখাস্ত এমন কোনো আদালতে দায়ের করেন যেটি এখতিয়ারগত ত্রুটির কারণে সেই মামলার বিচার করতে অক্ষম, তবে উক্ত মামলায় যে সময় ব্যয় হয়, তা বাদ দিয়ে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।

এখানে "সৎ বিশ্বাসে" দায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
- কারণ যদি বাদী জানার পরও ভুল আদালতে মামলা করেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে এখতিয়ারবিহীন আদালতে মামলা করেন, তাহলে সেটা “সৎ বিশ্বাসে” ধরা হবে না।
- সৎ বিশ্বাসের মানে হলো যথাযথ যত্ন ও মনোযোগ সহকারে, ভুল না করে, বিশ্বাসযোগ্য ও ন্যায্য উদ্দেশ্যে মামলা করা।

⇒ তামাদি আইনের ১৪ ধারার বিধান এখতিয়ারবিহীন আদালতে সৎ উদ্দেশ্যে দায়ের করা কার্যধারায় যেই সময় গণনা হতে বাদ দিতে হবে:
(১) কোনো মামলা দায়েরের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে, বাদী মূল বা আপিল আদালতে বিবাদির বিরুদ্ধে যদি অন্য একটা দেওয়ানি কার্যক্রম যথাবিহিত যত্ন সহকারে চালাতে থাকে সেক্ষেত্রে উক্ত মামলা ও কার্যক্রমের কারণ যদি একই হয় এবং এখতিয়ারগত ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে যে আদালত শেষোক্ত কার্যক্রমের বিচার করার ক্ষমতা সম্পন্ন নয়, সেই আদালতে যদি সৎবিশ্বাসে তা দায়ের করা হয়ে থাকে, তবে কার্যক্রমে যে সময় ব্যয়িত হয়, মামলার মেয়াদ গণনা হতে তা বাদ দিতে হবে।
(২) কোন দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করতে দরখাস্তকারী মূল বা আপিল আদালতে একই পক্ষের বিরুদ্ধে যদি অন্য একটি দেওয়ানি কার্যধারা যথোপযুক্ত যত্ন সহকারে চালাতে থাকে এবং তাতে একই প্রতিকার দাবি করা হয়ে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে এখতিয়ার নিয়ে ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোন কারণে যে আদালতে শেষোক্ত কার্যধারার বিচার করার ক্ষমতা সম্পন্ন নয় সেই আদালতে সৎবিশ্বাসে উপরোক্ত কার্যধারা দায়ের করা হয়ে থাকলে শেষোক্ত কার্যধারায় যে সময় ব্যয়িত হয়, উপরোক্ত দরখাস্তের মেয়াদ গণনা হতে তা বাদ দিতে হবে।
ব্যাখ্যা-১: যে সময়ের জন্য পূর্ববর্তী মামলা বা দরখাস্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল তা বাদ দিতে, যে ঐ মামলা বা দরখাস্ত রুজু বা দাখিল করা হয়েছিল এবং যে দিন তাদের কার্যধারা শেষ হয়েছিল, উভয় দিনই গণনা করতে হবে।
ব্যাখ্যা-২: এ ধারার উদ্দেশ্যে যে বাদী বা দরখাস্তকারী আপিলে বিরোধিতা করছে, সে কার্যধারা চালাচ্ছে বলে গণ্য হবে ।
ব্যাখ্যা-৩: এ ধারার উদ্দেশ্যে ভুল পক্ষভুক্তি বা মামলার কারণভুক্তি, এখতিয়ারগত ত্রুটির ন্যায় একই প্রকৃতির কারণ বলে পরিগণিত হবে।
--------------
⇒ The Limitation Act:- Section- 14. Exclusion of time of proceeding bona fide in Court without jurisdiction:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, the time during which the plantiff has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the defendant, shall be excluded, where the proceeding is founded upon the same cause of action and is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for any application, the time during which the applicant has been prosecuting with due diligence another civil proceeding, whether in a Court of first instance or in a Court of appeal, against the same party for the same relief shall be excluded, where such proceeding is prosecuted in good faith in a Court which, from defect of jurisdiction, or other cause of a like nature, is unable to entertain it. 
Explanation I: - In excluding the time during which a former suit or application was pending, the day on which that suit or application was instituted or made, and the day on which the proceedings therein ended, shall both be counted. 
Explanation II: - For the purposes of this section, a plaintiff or an applicant resisting an appeal shall be deemed to be prosecuting a proceeding.  
Explanation III: - For the purposes of this section misjoinder of parties or of causes of action shall be deemed to be a cause of a like nature with defect of jurisdiction.
১,৭৩৭.
The Evidence Act, 1872 এর ৬০ ধারানুযায়ী 'Oral evidence must be ________।
  1. Direct
  2. Indirect
  3. Circumstantial
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ The Evidence Act, 1872 এর ধারা ৬০ অনুযায়ী, মৌখিক সাক্ষ্য (oral evidence) সরাসরি (direct) হতে হবে, অর্থাৎ এটি সেই তথ্য হতে হবে যা সাক্ষী নিজে প্রত্যক্ষ করেছে।
- এটি নির্দেশ করে যে, একজন সাক্ষী যেটি প্রত্যক্ষভাবে দেখেছেন বা অভিজ্ঞতা করেছেন, সেই তথ্যই আদালতে উপস্থাপন করা যাবে।
- পরোক্ষ (indirect) বা পরিস্থিতিগত (circumstantial) প্রমাণ যথাযথ মৌখিক সাক্ষ্য হিসেবে গৃহীত হবে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৯ ধারার বিধান মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা তথ্য প্রমাণ: দলিলের বিষয় বস্তু ব্যতীত সকল তথ্য মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যাইতে পারে।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারার বিধান মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে: মৌখিক সাক্ষ্য সকল ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যক্ষ হইতে হইবে,
অর্থাৎ সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি দেখা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে, সে উহা দেখিয়াছে তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি শোনা যাইতে পারে, তবে যে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা শুনিয়াছে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
সাক্ষ্যে উল্লিখিত তথ্য যদি অন্য কোন ইন্দ্রিয় দ্বারা বা অন্য কোন উপায়ে উপলব্ধি করা যাইতে পারে, তবে সে সাক্ষী বলিবে যে সে উহা সেই ইন্দ্রিয় দ্বারা বা সেই উপায়ে উপলব্ধি করিয়াছে, তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
সাক্ষ্যে উল্লিখিত বিষয় যদি কাহারও অভিমত অথবা অভিমতের ভিত্তি হয়, তবে যে ব্যক্তি সেই ভিত্তিতে সেই অভিমত পোষণ করে তাহার সাক্ষ্যই দিতে হইবে।
তবে শর্ত এই যে, বিশেষজ্ঞের অভিমত পোষকতার কোন গ্রন্থ যদি সাধারণভাবে বাজাবে বিক্রিয় হয়, সেক্ষেত্রে সেই অভিমত এবং যে যুক্তির উপর উহা প্রতিষ্ঠিত তাহা প্রমাণের জন্য সেই গ্রন্থ উপস্থাপন করা যাইতে পারে, যদি সেই গ্রন্থের প্রণেতার মৃত্যু হইয়া থাকে, অথবা যদি তাহার সন্ধান পাওয়া না যায়, অথবা যদি তিনি সাক্ষ্য দিতে অপারগ হইয়া থাকেন, অথবা যদি তাহাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করিতে এইরূপ বিলম্ব ও ব্যয় হয় যাহা আদালত অযৌক্তিক বলিয়া বিবেচনা করেন।
ইহা ছাড়া মৌখিক সাক্ষ্যে যদি দলিল ভিন্ন অপর বস্তর অস্তিত্ব বা অবস্থা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় তবে আদালত উপযুক্ত মনে করিলেই সেই বস্তু আদালতের পরিদর্শনের জন্য দাখিল করার নির্দেশ দিতে পারেন।
----------------
⇒ Section 59. Proof of facts by oral evidence.  All facts, except the contents of documents, may be proved by oral evidence.
⇒ Section 60.  Oral evidence must be direct. Oral evidence must, in all cases whatever, be direct; that is to say-
if it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it;
if it refers to a fact which could be heard, it must be the evidence of a witness who says he heard it;
if it refers to a fact which could be perceived by any other sense or in any other manner, it must be the evidence of a witness who says he perceived it by that sense or in that manner;
if it refers to an opinion or to the grounds on which that opinion is held, it must be the evidence of the person who holds that opinion on those grounds:
Provided that the opinions of experts expressed in any treatise commonly offered for sale, and the grounds on which such opinions are held, may be proved by the production of such treatises if the author is dead or cannot be found, or has become incapable of giving evidence, or cannot be called as a witness without an amount of delay or expense which the Court regards as unreasonable:
Provided also that, if oral evidence refers to existence or condition of any material thing other than a document, the Court may, if it thinks fit, require the production of such material thing for its inspection.
১,৭৩৮.
নিম্নলিখিত কোনটি তামাদি আইনের ৫ ধারার অধীনে বিলম্ব মওকুফের ক্ষেত্র নয়?
  1. আপিল
  2. মামলা দায়ের
  3. রায়ের পুনঃনিরীক্ষণের দরখাস্ত
  4. রায়ের পুনর্বিচার দরখাস্ত
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী- ৫টি ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর আদালতকে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে, আদালত বিলম্ব মওকুফ করতে পারে। একে 'Condonation of delay' বা বিলম্ব মওকুফ করা বলে।

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান নিম্নোক্ত ৫টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য -
i) আপিল (Appeal);
ii) আপিল করার অনুমতি দরখাস্ত (Leave to appeal);
iii) রায়ের পুনর্বিচার দরখাস্ত (Revision);
iv) রায়ের পুনঃনিরীক্ষণের দরখাস্ত (Review);
v) অন্য কোন দরখাস্তে (Any other application)।

১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ৫ ধারার বিধান প্রযোজ্য নয়-
১. বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে।
২. মূল মামলার ক্ষেত্রে। যেমন- স্বত্ব ঘোষণা, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, তামাদি আইনের ৫ ধারায় তামাদি মওকুফের আবেদন মঞ্জুর করা আদালতের স্বেচ্ছাধীন।
১,৭৩৯.
'ক' 'খ' কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং 'খ' সেখান থেকে বালি বা নুডিপাথর খনন বা উত্তোলন না করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ক' নিম্নলিখিত কোন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবকরণ
  2. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার
  3. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারার বিধান: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের সময়:
-এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বা এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন আবেদনকারীর স্বপক্ষে বিরাজমান বাধ্যবাধকতা, তা প্রকাশ্য হোক বা অনুমিত হোক ভঙ্গ করাকে নিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী ইনজাংশন মঞ্জুর করা যেতে পারে।
যেক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা চুক্তির ফলে উদ্ভূত হয়, সেক্ষেত্রে আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানসমূহ ও নিয়মাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন।
 
যেক্ষেত্রে প্রতিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকারে বা সম্ভোগে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রসমূহে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন:
(ক) যেক্ষেত্রে প্রতিবাদীর জন্য সম্পত্তির জিম্মাদার;
(খ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘনের ফলে কৃত বাস্তব ক্ষতি অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের কোন মানদণ্ড নেই;
(গ) যেক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘন এমন ধরনের যে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা তার পর্যাপ্ত প্রতিকার করা যাবে না;
(ঘ) যেক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা থাকে যে, অধিকার লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না;
(ঙ) যেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কার্যধারার জটিলতা নিবারণের জন্য ইনজাংশন প্রয়োজনীয়।
 
ব্যাখ্যা: এই ধারার লক্ষ্য অনুযায়ী ট্রেডমার্ক সম্পত্তি মর্মে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ: 
(ক) 'ক', 'খ' কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং 'খ' সেখান থেকে বালি বা নুড়িপাথর খনন বা উত্তোলন না করবার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ থেকে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'ক' মামলা দায়ের করতে পারে।

(খ) একজন জিম্মাদার জিম্মা ভঙ্গের হুমকি প্রদান করে। তার সহ-জিম্মাদার যদি থেকে থাকে, অবশ্যই এবং উপকার লাভকারী মালিক চুক্তিভঙ্গ নিরোধের লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।

(ঘ) একটি অগ্নি এবং জীবন বীমা কোম্পানির পরিচালকবৃন্দ নৌ-বিমা করার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাদেরকে তা হতে বিরত রাখবার লক্ষ্যে ইনজাংশন জারির জন্য যেকোনো অংশীদারই মামলা দায়ের করতে পারেন।

(ঙ) একজন কার্যনির্বাহী 'ক' অসদাচরণ বা দেউলিয়া অবস্থার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিকে বিপদাপন্ন করে তুলেছে। আদালত তাকে তার আয় পাওয়া থেকে নিবৃত্ত রাখবার জন্য ইনজাংশন মঞ্জুর করতে পারেন।
 
(চ) 'খ' এর জিম্মাদার 'ক' জিম্মা সম্পত্তির একটি ক্ষুদ্র অংশের অযৌক্তিক বিক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 'খ' বিক্রয় থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য মামলা রুজু করতে পারে, যদিও আর্থিক ক্ষতিপূরণ তার পর্যাপ্ত প্রতিকার বিধান করে।
 
(ছ) 'ক', 'খ' ও তার সন্তানগণের নামে একটি সম্পত্তি নামজারি করে। 'ক' তারপর উক্ত সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। বিক্রয় হতে বিরত থাকবার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' বা তার যেকোনো সন্তান মামলা দায়ের করতে পারে।
 
(জ) উকিল হিসাবে 'ক' এর নিয়োজিত থাকার সময় তার মক্কেল 'খ' এর কতিপয় দলিল তার হস্তগত হয়। 'ক' উক্ত দলিল সমূহ সাধারণ্যে প্রকাশ অথবা তার বিষয়বস্তু একজন আগন্তুকের নিকট প্রকাশ করে দেবার হুমকি প্রদান করে। 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা তে বিরত রাখবার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
 
(ঝ) 'ক', 'খ' এর মেডিকেল অ্যাডভাইজার। 'ক' টাকা দাবি করল যা 'খ' প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশ করল। 'ক' তারপর রোগী হিসাবে 'খ' যে সমস্ত তথ্য তার নিকট প্রকাশ করেছে তা সাধারণ্যে প্রকাশ করার হুমকি প্রদান করল। এটি 'ক' এর কর্তব্যের বিপরীত এবং 'ক' কে তেমন কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
 
(ঞ) দু'টি সংলগ্ন বাড়ির মালিক 'ক', 'খ' এর নিকট বাড়ি ভাড়া প্রদান করে এবং পরবর্তী সময়ে 'গ' এর নিকট অপর বাড়িটি ভাড়া প্রদান করে। অতঃপর 'ক' ও 'গ', 'গ'-কে ভাড়া প্রদান করা বাড়ির পরিবর্তন আরম্ভ করল, যা 'খ' কে ভাড়া প্রদান করা বাড়ির স্বাচ্ছন্দ্যমূলক উপভোগকে বিঘ্নিত করবে। তাদেরকে তেমন কাজ করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য 'খ' মামলা দায়ের করতে পারে।
১,৭৪০.
'কোন আইনজীবী যদি কোন বিষয়ে পূর্বে বিচারক পদমর্যাদায় কাজ করেন, তাহলে তিনি সেই বিষয়ে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ লাভ করবেন না।’- এটি কার প্রতি একজন আইনজীবীর আচরণ হওয়া উচিত?
  1. আদালত
  2. মক্কেল
  3. অন্যান্য আইনজীবী
  4. জনগণ 
ব্যাখ্যা

একজন আইনজীবীর জনসাধারণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য- ৮টি:
[বিধি-১]-কোন ব্যক্তিকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নিযুক্তি না নেওয়া: কোন ব্যক্তিকে বিরক্ত করা, হয়রানি করা বা মোকদ্দমা বিলম্বিত করা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে বাদী বা বিবাদী কোন পক্ষে একজন আইনজীবী নিযুক্ত হবেন না।
[বিধি-২]- ভিন্ন পক্ষের সাথে ভালো আচরণ করা: একজন আইনজীবী সর্বদা তার ভিন্ন পক্ষের সাথে ভালো আচরণ করবেন। বিচার চলাকালে আইন বহির্ভুত কাজ করবেন না।
[বিধি-৩]- ক্ষতির উদ্দেশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করা: একজন আইনজীবী কোন ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মোকদ্দমা দায়ের বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
[বিধি ৪]- পরামর্শ প্রদানে বাধ্যবাধকতা: কোন আইনজীবী প্রত্যেককে পরামর্শ প্রদান করতে বা আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য নন।
[বিধি-৫]-  মোকদ্দমা গ্রহণ বা বর্জন করতে পারেন: একজন আইনজীবী কোন ব্যক্তি বা সংস্থা যতই ক্ষমতাবান হোক অথবা রাজনৈতিক মোকদ্দমা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক তিনি পেশাগত নিযুক্তি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
[বিধি-৬]- পরিচয় প্রকাশ করা: কোন আইনজীবী কোন সরকারি অফিসার, বোর্ড কমিটি ইত্যাদির নিকট পেশাগত দায়িত্বে উপস্থিত হলে প্রথমে তিনি তার পরিচয় দিবেন।
[বিধি-৭]- পূর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেকোন আইনজীবী যদি কোন বিষয়ে পূর্বে বিচারক পদমর্যাদায় কাজ করেন তাহলে তিনি সেই বিষয়ে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ লাভ করবেন না।
[বিধি-৮]- ব্যবসা, চাকুরি বা অন্য পেশার সাথে জড়িত না হওয়া: একজন আইনজীবী নিজের আইন পেশা ব্যতীত অন্য কোন ব্যবসা, চাকুরি বা পেশার সাথে জড়িত হবে না।

১,৭৪১.
যুগ্ম দায়রা জজ প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে হয়-
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. স্পেশাল জজের নিকট
  3. জেলা জজের নিকট
  4. দায়রা জজের নিকট
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪১৭ আনুযায় ফরিয়াদী কর্তৃক দায়রা আদালতের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে এবং ফরিয়াদী কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে দায়রা আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে।

♦ খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন ১৯০৮ এর আনুচ্ছেদ ১৫৭ আনুযায় পাবলিক প্রসিকিউটর আপিল দায়ের করতে পারে ৬ মাসের মধ্যে।

♦ অভিযোগকারি বা ফরিয়াদি শুধুমাত্র মূল মামলায় প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারে, কিন্তু আপিলে প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল করতে পারেনা অর্থাৎ ২য় আপিলের সুযোগ নেই।

♦ তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ (৪) ধারা অনুযায়ী খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিল নাকচ বা প্রত্যাখান হলে, উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে ২য় আপিল চলবেনা; তবে রিভিশন দায়ের করা যাবে।
১,৭৪২.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ৬(১)(গ) অনুসারে, সমন জারি হয়েছে কিন্তু বিবাদীর উপস্থিতি ও জবাব দানের জন্য পর্যাপ্ত সময় না পেলে আদালত কী করবেন?
  1. বাদীর জেরা নেবেন
  2. মামলা খারিজ করবেন
  3. একতরফা শুনানি করবেন
  4. নতুন তারিখ দিয়ে বিবাদীকে নোটিশ দেবেন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ৬(১)(গ) অনুসারে, যদি প্রমাণিত হয় যে বিবাদীর কাছে সমন জারি হয়েছে কিন্তু তা পর্যাপ্ত সময়ের মধ্যে (sufficient time) হয়নি, যাতে করে বিবাদী নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত হয়ে জবাব দিতে পারেন, তাহলে আদালত মামলার শুনানি ভবিষ্যতের অন্য একটি দিনের জন্য মুলতুবি (postpone) রাখবেন এবং সেই নতুন তারিখের নোটিশ (notice) বিবাদীকে প্রদান করার নির্দেশ দেবেন।
- অর্থাৎ আদেশ ৯, বিধি ৬(১)(গ) স্পষ্টভাবে বলে যদি সমন যথাসময়ে বিবাদীর কাছে পৌঁছায় না, অর্থাৎ তার হাজিরা ও জবাব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় না থাকে, তবে আদালত শুনানি পিছিয়ে দিবে এবং নতুন তারিখ নির্ধারণ করে বিবাদীকে জানিয়ে দিবে।
- সঠিক উত্তর: ঘ) নতুন তারিখ দিয়ে বিবাদীকে নোটিশ দেবেন।
-----
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-9 Rule-6. Procedure when only plaintiff appears:
(1) Where the plaintiff appears and the defendant does not appear when the suit is called on for hearing, then-
When summons duly served:
(a) if it is proved that the summons was duly served, the Court may proceed ex parte; 
When summons not duly served:
(b) if it is not proved that the summons was duly served, the Court shall direct a second summons to be issued and served on the defendant;
When summons served, but not in due time:
(c) if it is proved that the summons was served on the defendant, but not in sufficient time to enable him to appear and answer on the day fixed in the summons, the Court shall postpone the hearing of the suit to a future day to be fixed by the Court, and shall direct notice of such day to be given to the defendant.

১,৭৪৩.
The Penal Code, 1860 এর 500 ধারানুযায়ী মানহানি (Defamation) এর সর্বোচ্চ শান্তি ________।
  1. ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী যখন কোন ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন কুৎসা রটনা করা হয় যা উক্ত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করে (harm reputation) তাকে মানহানি বা Defamation বলে। অর্থাৎ কুৎসাজনক কথা বা চিহ্ন দ্বারা বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তি প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি করা হয়।

-দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার অধীন মানহানির [defamation] শাস্তি হল ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 500: Punishment for defamation:
-Whoever defames another shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
১,৭৪৪.
'প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা না হলে, চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিলে প্রাথমিক ডিক্রি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।'- দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারার বিধান?
  1. ৯৬ ধারা
  2. ৯৭ ধারা
  3. ৯৮ ধারা
  4. ৯৯ ধারা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৭ ধারানুযায়ী,
প্রাথমিক ডিক্রিতে যে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আপিল করা না হলে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল হলে তখন উক্ত আপিলে প্রাথমিক ডিক্রির যথার্থতা/বৈধতা অস্বীকার করা যাবে না।

এ ধারার সারমর্ম হচ্ছে-
প্রাথমিক ডিক্রি এবং চূড়ান্ত ডিক্রি উভয় ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। তবে প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল না করলে চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিলে প্রাথমিক ডিক্রি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

Section 97- Appeal from final decree where no appeal from preliminary decree:
Where any party aggrieved by a preliminary decree passed after the commencement of this Code does not appeal from such decree, he shall be precluded from disputing its correctness in any appeal which may be preferred from the final decree.
১,৭৪৫.
The Evidence Act, 1872 এর ১২৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এরকম যোগাযোগ প্রকাশ করতে কোনো ________ বাধ্য করা যাবে না।
  1. রাষ্ট্রকে
  2. সরকারি কর্মকর্তাকে
  3. যেকোনো ব্যক্তিকে
  4. সরকারকে
ব্যাখ্যা
ধারা ১২৪: সরকারি যোগাযোগ:
কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে তাঁর কাছে সরকারি গোপনীয়তায় করা যোগাযোগ প্রকাশ করতে বাধ্য করা যাবে না, যখন তিনি মনে করেন যে এই প্রকাশের ফলে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

[No public officer shall be compelled to disclose communications made to him in official confidence, when he considers that the public interests would suffer by the disclosure.]
১,৭৪৬.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১০৭ ধারা অনুসারে, দেওয়ানী মামলায় আপীল আদালতের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না কোনটি?
  1. কোন মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা;
  2. কোন মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণ করা ;
  3. বিচার্য বিষয় গঠন এবং সেইগুলি বিচারার্থে প্রেরণ;
  4. নতুনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা।
ব্যাখ্যা
♦The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১০৭ ধারা অনুসারে, দেওয়ানি আপীলে আদালতের ক্ষমতা সমূহ হলো- মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা, মোকদ্দমা পুনঃপ্রেরণ করা, বিচার্য বিষয় গঠনপূর্বক বিচারার্থে প্রেরণ এবং অতিরিক্ত কিংবা অনুরূপ সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তলব করা
১,৭৪৭.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারায় সুপ্রিম কোর্টকে কী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. রায় পরিবর্তন
  2. বিধি প্রণয়ন
  3. আপিলের রায় দেওয়ার
  4. আদালতের খরচ নির্ধারণ
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১২২ ধারায় সুপ্রিম কোর্টকে বিধি প্রণয়ন ও সংশোধন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ধারা ১২২: সুপ্রিম কোর্টের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা:
সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে, পূর্ব ঘোষণা (previous publication) প্রদানের পর, সুপ্রিম কোর্টের প্রতিটি বিভাগের (Division) কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে থাকা দেওয়ানি আদালতের (Civil Courts) কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ম প্রণয়ন করতে পারে।

এই নিয়ম প্রণয়নের ক্ষমতার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের অধিকার রয়েছে যে, প্রয়োজনমতো First Schedule–এ উল্লেখিত সকল বা যেকোন নিয়মকে বাতিল, পরিবর্তন বা নতুন নিয়ম যোগ করা।

Section 122- Power of the Supreme Court to make rules:
The Supreme Court may, from time to time after previous publication, make rules regulating the procedure of each Division of the Supreme Court and the procedure of Civil Courts subject to its Superintendence and may by such rules annul, alter or add to all or any of the rules in the First Schedule.

১,৭৪৮.
Canons of Professional Conduct and Etiquette অনুসারে, বিচারকের সাথে অ্যাডভোকেটের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?
  1. বিচারকের সাথে আগ্রহ ও আতিথেয়তার সম্পর্ক রাখা 
  2. মামলার বিষয়ে গোপনে যোগাযোগ করা 
  3. মর্যাদা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সম্মানজনক আচরণ
  4. ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বজায় রেখে মামলার সুবিধা আদায়
ব্যাখ্যা

⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette, অধ্যায়-৩, বিধি-৪ অনুযায়ী, একজন অ্যাডভোকেটের উচিত বিচারকের সাথে মর্যাদা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সম্মানজনক আচরণ করা। বিচারকের সাথে গোপন আলোচনা বা ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা উচিত নয়। আদালত এবং বিচারকের মর্যাদা রক্ষায় অ্যাডভোকেটের আচরণ হওয়া উচিত শ্রদ্ধাশীল এবং পেশাদার।

এছাড়া, ক)বিচারকের সাথে আগ্রহ ও আতিথেয়তার সম্পর্ক রাখা, খ)মামলার বিষয়ে গোপনে আলোচনা এবং গ)ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বজায় রেখে মামলার সুবিধা আদায় এসব অ্যাডভোকেটের পেশাদারিত্বের পরিপন্থী এবং অনুমোদিত নয়।

⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette, Chapter-3,Rule ৪: Marked attention and unusual hospitality on the part of an Advocate to a judge or judicial officer not called for by the personal relations of the parties, subject both the judge and the Advocate to misconstructions of motive and should be avoided. An Advocate should not communicate or argue privately with the judge as to the merits of a pending cause and he deserves rebuke and denunciation for any device or attempt to gain from a judge special consideration or favour. A self-respecting independence in the discharge of professional duty, without denial or diminution of courtesy and respect due to the Judge's station, is the only proper foundation for cordial personal and official relations between the Bench and the Bar.

১,৭৪৯.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ এর অধীন সিদ্ধান্ত মূলত-
  1. আদেশ
  2. রায়
  3. ডিক্রি
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭ বিধি ১১ এর অধীন(আরজি প্রত্যাখান) এর সিদ্ধান্ত মূলত একটি ডিক্রি।
 
• ধারাঃ ২(২) অনুসারে-
ডিক্রি বলতে কোন আদালত কর্তৃক  আনুষ্ঠানিকভাবে ভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বুঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোন বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই “ডিক্রি” প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে।উল্লেখ্য যে-
আদেশ ৭ বিধি ১১ এর অধীন আরজি প্রত্যাখান এবং
১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোন প্রশ্ন নির্ধারণও ডিক্রি বলে গণ্য হবে।

• তবে নিম্নলিখিত বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত হবে না-
ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মত আপিল করা যায়; অথবা
খ) কোন ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ।

Section 2(2)-
"decree" means the formal expression of an adjudication which, so far as regards the Court expressing it, conclusively determines the rights of the parties with regard to all or any of the matters in controversy in the suit and may be either preliminary or final. It shall be deemed to include the rejection of a plaint and the determination of any question within section 144, but shall not include- 
(a) any adjudication from which an appeal lies as an appeal from an order, or 
(b) any order of dismissal for default. 
১,৭৫০.
'No influence, by means of any promise or threat or otherwise, shall be used to an accused person to induce him to disclose or withhold any matter within his knowledge.'- ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ৩৪১
  2. ধারা ৩৪২
  3. ধারা ৩৪৩
  4. ধারা ৩৪৪
ব্যাখ্যা
Section 343- No influence to be used to induce disclosures:
Except as provided in sections 337 and 338, no influence, by means of any promise or threat or otherwise, shall be used to an accused person to induce him to disclose or withhold any matter within his knowledge.

ধারা ৩৪৩ - প্রভাব ব্যবহারের নিষেধ:
ধারা ৩৩৭ ও ৩৩৮ দ্বারা প্রদত্ত নির্দেশনার ব্যতীত, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার জ্ঞানে থাকা কোনো বিষয়ে তথ্য প্রকাশ বা গোপন করতে প্ররোচিত করার জন্য কোনো প্রকার প্রভাব, প্রতিশ্রুতি বা হুমকি ব্যবহার করা যাবে না।
১,৭৫১.
'ক' পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় এমন তথ্য দেয় যার ভিত্তিতে চোরাই মাল উদ্ধার হয়। সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুযায়ী এই অংশ প্রাসঙ্গিক?
  1. ধারা ২৪
  2. ধারা ২৫
  3. ধারা ২৬
  4. ধারা ২৭
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২৭ অনুযায়ী, "পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে যদি এমন কিছু উদঘাটিত হয় যা ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত, তবে সেই অংশ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।"
অর্থাৎ, আসামি 'ক' যদি পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় এমন কোনো তথ্য দেয় যার ভিত্তিতে চোরাই মাল উদ্ধার হয় — তবে সেই তথ্য (বা তার প্রাসঙ্গিক অংশ) ধারা ২৭-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক ও প্রমাণযোগ্য বলে গণ্য হবে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা: আসামীর নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্য কতটুকু প্রমাণ হতে পারে:
পুলিশ অফিসারের হেফাজতে থাকা কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য হতে প্রাপ্ত কোন তথ্যে, যদি এমন বিষয় উদঘাটিত হয় যা ঘটনার সাথে স্পষ্টরূপে সম্পর্কযুক্ত হয় তবে তা দোষ স্বীকার হোক বা না হোক প্রমাণ করা যেতে পারে।
--------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section 27: How much of information received from accused may be proved:
Provided that, when any fact is deposed to as discovered in consequence of information received from a person accused of any offence, in the custody of a police officer, so much of such information, whether it amounts to a confession or not, as relates distinctly to the fact thereby discovered, may be proved.
১,৭৫২.
‘ক’ প্রতিবেশীর ঘরে আগুন দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘরের পাশে কেরোসিন ঢালে এবং দেশলাই জ্বালাতে যায়। ঠিক তখনই লোকজন দেখে ফেলায় আগুন দেওয়া সম্ভব হয় না। শুধুমাত্র উদ্যোগ নেয়ায়-
  1. ‘ক’ অপরাধী হবে না
  2. ‘ক’ ৪২৫ ধারায় অপরাধী হবে
  3. ‘ক’ ৫১০ ধারায় অপরাধী হবে
  4. ‘ক’ ৫১১ ধারায় অপরাধী হবে
ব্যাখ্যা

⇒ অগ্নিসংযোগের উদ্যোগ ও প্রস্তুতিমূলক কাজ থাকায় ‘ক’ ৫১১ ধারায় অপরাধী হবে।

দণ্ডবিধির ৫১১ ধারা- যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগের সাজা:

কোন ব্যক্তি যদি এই বিধিবলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটন করার অথবা অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটন করানোর উদ্যোগ করে এবং অনুরূপ উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে, তবে যেক্ষেত্রে অনুরূপ উদ্যোগের সাজার জন্য এই বিধিতে কোন প্রকাশ্য বিধান করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য সে ধরনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা সে অপরাধটির জন্য যে অর্থদণ্ডেও বিধান করা হয়েছে সে অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ:
(ক) 'ক' একটি বাক্স ভেঙ্গে কিছু গহনাপত্র চুরি করার উদ্যোগ করে। সে বাক্সটি ভেঙ্গে দেখতে পায় যে, উহাতে কোন গহনাপত্র নাই। সে চুরির উদ্দেশ্যে এই কাজটি করেছে; সুতরাং সে এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।

(খ) 'ক', 'চ'- এর পকেটে হাত দিয়ে চ-এর পকেট মারার উদ্যোগ নেয়। 'চ'- এর পকেটে কিছু ছিল না বলে ক-এর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। 'ক' এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।

১,৭৫৩.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় সহ-অভিযুক্তদের সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা দেয়া হয়েছে?
  1. ২৭ ধারায়
  2. ৩৩ ধারায়
  3. ৩০ ধারায়
  4. ৩১ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৩০- যখন দোষ স্বীকারোক্তি সহ-অভিযুক্তদের [co-accused) বিরুদ্ধে সাক্ষ্যে ব্যবহার করা যায়:

সাক্ষ্য আইনের সাধারণ নিয়ম হলো যে ব্যক্তি দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করে উক্ত দোষ স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে অন্যকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারা এই নিয়মের ব্যতিক্রম।

সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারায় বলা হয়েছে- যেখানে একের অধিক ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য যৌথ বিচার করা হচ্ছে, সেখানে কোন একজন অভিযুক্ত নিজেকে সহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করলে, উক্ত স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলে তা স্বীকারোক্তি প্রদানকারীসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

শর্তসমূহ:
১. একই অপরাধের জন্য একাধিক ব্যক্তি অভিযুক্ত হতে হবে:
২. উক্ত একই অপরাধের জন্য তাদের যৌথ বিচার (Tried jointly) করা হবে:
৩. উক্ত অভিযুক্তদের মধ্যে কোন একজন অভিযুক্ত নিজেকেসহ অন্যান্য অভিযুক্তকে জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করবে;
৪. এমন দোষ স্বীকারোক্তি প্রমাণিত হলে আদালত উক্ত দোষ স্বীকারোক্তি প্রদানকারীসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসাবে আমলে নিতে পারে।
১,৭৫৪.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় দোষ স্বীকারোক্তির (Confession) সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১৭ থেকে ২০ ধারা
  2. ১৭ থেকে ২৪ ধারা
  3. ২৪ থেকে ৩০ ধারা
  4. ২৩ থেকে ২০ ধারা
ব্যাখ্যা
 • সাক্ষ্য আইনের ২৪ থেকে ৩০ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তির (Confession) বিষয়ে বলা হয়েছে।
দোষ স্বীকারোক্তি (Confession) ২ ধরনের হয়।
(১) বিচারিক দোষ স্বীকারোক্তি (Judicial Confession) এবং
(২) বিচার বহির্ভূত দোষ স্বীকারোক্তি (Judicial Confession) ।

(১)বিচারিক দোষ স্বীকারোক্তি (Judicial Confession) হলো ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ও ৩৬৪ ধারা অনুযায়ী এবং
(২) বিচার বহির্ভূত দোষ স্বীকারোক্তি (Extra-judicial Confession) হল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বাহিরে দোষ স্বীকার।
১,৭৫৫.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কোন নাবালকের বিরুদ্ধে মুচলেকা সম্পাদনের আদেশ দেয়া হলে সেক্ষেত্রে উক্ত মুচলেকা কে সম্পাদন করবে?
  1. আইনগত অভিভাবক
  2. আসন্ন বন্ধু
  3. পিতা-মাতা
  4. জামিনদার
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৮ ধারার বিধান মুচলেকা প্রদানের আদেশ: এহেন তদন্তের ভিত্তিতে যদি ইহা প্রমাণিত হয় যে, শান্তি রক্ষা বা সদাচরণের জন্য যার সম্পর্কে অনুসন্ধান করা হলো, শান্তিরক্ষা ও সদাচারণের জন্য তার জামিনসহ বা জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট সেই অনুসারে আদেশ দিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে,
প্রথমত, কোন ব্যক্তিকে, ১১২ ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত আদেশে যেরকম বর্ণিত হয়েছে, তদাপেক্ষা পৃথক প্রকৃতির অথবা তদপেক্ষা অধিক অর্থ পরিমাণের অথবা তদাপেক্ষা অধিক কালখন্ডের জন্য জামিন দিতে আদেশ প্রদান করা যাবে না;
দ্বিতীয়ত, প্রতিটি মুচলেকার অর্থের পরিমাণ পারিপার্শ্বিক অবস্থা যথাযথরূপে বিবেচনার পর স্থির করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না;
তৃতীয়ত, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হলো, সে নাবালক হলে কেবলমাত্র তার জামিনদারগণ মুচলেকা নির্বাহ করবেন।
------------------
⇒ CrPC-Section-118: Order to give security:
If, upon such inquiry, it is proved that it is necessary for keeping the peace or maintaining good behaviour, as the case may be, that the person in respect of whom the inquiry is made should execute a bond, with or without sureties the Magistrate shall make an order accordingly: 
Provided- 
firstly , that no person shall be ordered to give security of a nature different from, or of an amount larger than, or for a period longer than, that specified in the order made under section 112:  
secondly, that the amount of every bond shall be fixed with due regard to the circumstances of the case and shall not be excessive: 
thirdly, that when the person in respect of whom the inquiry is made is a minor, the bond shall be executed only by his sureties.
১,৭৫৬.
দেওয়ানী কার্যবিধির ____________ অনুযায়ী যৌথ ডিক্রিদার কর্তৃক ডিক্রি জারির আবেদনের বিধান রয়েছে?
  1. আদেশ-২০, বিধি-১৫
  2. আদেশ-২১, বিধি-১৪
  3. আদেশ-২১, বিধি-১৫
  4. আদেশ-২২, বিধি-১৫
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১৫ অনুযায়ী, যদি একাধিক ব্যক্তির পক্ষে যৌথভাবে একটি ডিক্রি প্রদান করা হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যেকেউ এক বা একাধিক ব্যক্তি ডিক্রি জারির আবেদন করতে পারেন, যদি ডিক্রিতে ভিন্ন কোনো শর্ত না থাকে। এছাড়া, যদি যৌথ ডিক্রিদারদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে, তাহলে বাকি জীবিত ডিক্রিদার ও মৃত ব্যক্তির আইনগত উত্তরাধিকারীগণ একত্রে এই আবেদন করতে পারেন।
অতএব, যৌথ ডিক্রিদার কর্তৃক ডিক্রি জারির আবেদন সম্পর্কিত বিধান আদেশ-২১, বিধি-১৫ তে নির্ধারিত আছে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২১, বিধি ১৫ (Order XXI, Rule 15) অনুযায়ী, যদি একাধিক ব্যক্তির পক্ষে যৌথভাবে একটি ডিক্রি প্রদান করা হয় (যেমন: দুই বা ততোধিক ডিক্রিদার), তাহলে তাদের মধ্যে যে কোনো একজন বা একাধিক ব্যক্তি ডিক্রি জারির আবেদন করতে পারেন, যদি না ডিক্রিতে ভিন্ন কোনো শর্ত থাকে।
এছাড়া, যদি যৌথ ডিক্রিদারদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে, তবে বাকি জীবিত ডিক্রিদার এবং মৃত ব্যক্তির আইনগত উত্তরাধিকারীগণ একত্রে এই আবেদন করতে পারেন।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908- Order-21, Rule-15. Application for execution by joint decree-holder:
(1) Where a decree has been passed jointly in favour of more persons than one, any one or more of such persons may, unless the decree imposes any condition to the contrary, apply for the execution of the whole decree for the benefit of them all, or, where any of them has died, for the benefit of the survivors and the legal representatives of the deceased.
(2) Where the Court sees sufficient cause for allowing the decree to be executed on an application made under this rule, it shall make such order as it deems necessary for protecting the interests of the persons who have not joined in the application.
১,৭৫৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৪৫ ধারানুসারে কার্যধারার প্রতিপক্ষ মারা গেলে
  1. কার্যধারাটি স্থগিত হয়
  2. কার্যধারাটি এ্যাবেট হয়
  3. মৃতের প্রতিনিধিরা পক্ষ হতে পারে
  4. কার্যধারাটি নথিজাত হয়
ব্যাখ্যা
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৪৫(৭) ধারানুসারে কোন পক্ষ যখন মারা যায় তখন ম্যাজিষ্ট্রেট মৃত পক্ষের বৈধ এজেন্টকে প্রসিডিংস এর পক্ষ করাতে পারবেন এবং অতঃপর তিনি ইনকোয়ারী চালিয়ে যাবেন এবং এরূপ প্রসিডিংস এর প্রয়োজনে মৃত পক্ষের বৈধ এজেন্ট কে সেই সম্পর্কে যদি কোনরূপ প্রশ্ন তোলা হয়, সেক্ষেত্রে মৃত পক্ষের এজেন্ট মর্মে দাবীকারী সকল ব্যক্তিকে পক্ষ করতে হবে।
১,৭৫৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অধীনে পুলিশ গ্রেফতারের জন্য কোন পরিস্থিতি প্রযোজ্য নয়?
  1. পুলিশ অফিসারের কাজে বাধা দেওয়া
  2. ঘর ভাঙ্গার সরঞ্জাম পেলে
  3. সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়ন করলে
  4. বাংলাদেশের বাইরে ঐ দেশের আইনের বিরুদ্ধে অপরাধ করলে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় পুলিশ ৯টি ক্ষেত্রে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে-
 
⇒ কোন আমলযোগ্য অপরাধের সাথে জড়িত আছে মর্মে সন্দেহ হলে;
⇒ ঘর ভাঙ্গার সরঞ্জাম পেলে;
⇒ অপরাধী ঘোষিত হলে;

⇒ চোরাই মাল পাওয়া গেলে;
⇒ পুলিশ অফিসারের কাজে বাধা দিলে, আইনসঙ্গত হেফাজত থেকে পলায়নের চেষ্টা বা পলায়ন করলে;
⇒ সশস্ত্র বাহিনী হতে পলায়ন করলে;
 
⇒ বাংলাদেশের বাইরে বাংলাদেশের আইনে আমলযোগ্য অপরাধ করলে;
⇒ মুক্তিপ্রাপ্ত আসামি ৫৬৫(৩) ধারা ভঙ্গ করলে;
⇒ যাকে গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ রয়েছে।
১,৭৫৯.
কোন ব্যক্তি স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি ঘোষণামূলক মোকদ্দমা করতে পারে যদি সম্পত্তিতে তার-
  1. প্রতীকী দখল থাকে
  2. দখল না থাকে
  3. আংশিক দখল থাকে
  4. একচ্ছত্র দখল থাকে
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।

♦ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

♦ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।

♦ঘোষনামূলক ডিক্রির প্রকৃতি
i) ঘোষনামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষনা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষনামূলক মামলা করা যায় না।

ii) ঘোষনামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষনা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।

iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।

♦৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।

♦ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।

২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।

৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।

♦ মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যায়।
১,৭৬০.
তামাদি আইনের ১২ ধারার কোন উপধারায় রোয়েদাদ নাকচ করার দরখাস্তের সময় বাদ দেওয়ার বিধান উল্লিখিত হয়েছে?
  1. উপধারা (১)
  2. উপধারা (২)
  3. উপধারা (৩)
  4. উপধারা (৪)
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১২(৪) এ বলা হয়েছে যে, যেসব আবেদন বা দরখাস্ত পুরস্কার (award) বাতিল করার জন্য দাখিল করা হয়, সেক্ষেত্রে পুরস্কারের কপি পাওয়ার জন্য যে সময় লাগে, তা তামাদি গণনার সময় থেকে বাদ দিতে হবে। এখানে ‘রোয়েদাদ নাকচ করার দরখাস্ত’ এর ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। তাই এই বিধান ধারা ১২ এর উপধারা (৪) তে রয়েছে।

⇒ তামাদি আইনের ১২ ধারা- আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে:
(১) কোন মামলা আপীল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে।
(২) কোন আপীল, আপীলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় পুনরীক্ষণের দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা হইবে তাহা যেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে সেইদিন এবং যে ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপীল করা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক, তাহা বাদ দিতে হইবে।
(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপীল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থনা করা হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডিক্রী যে রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই রায়ের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহাও বাদ দিতে হইবে।
(৪) কোন রোয়েদাদ নাকচ করিবার দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, রোয়েদাদের নকল লইতে যে সময় লাগে, তাহা বাদ দিতে হইবে।
-----------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section- 12. Exclusion of time in legal proceedings:
(1) In computing the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application, the day from which such period is to be reckoned shall be excluded. 
(2) In computing the period of limitation prescribed for an appeal, an application for leave to appeal and an application for a review of judgment, the day on which the judgment complained of was pronounced, and the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded. 
(3) Where a decree is appealed from or sought to be reviewed, the time requisite for obtaining a copy of the judgment on which it is founded shall also be excluded. 
(4) In computing the period of limitation prescribed for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded.
১,৭৬১.
আইনগত অপারগতার কারণে কোন ধরণের মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে না?
  1. স্বত্বঘোষণা
  2. বন্ধক উদ্ধারের মোকদ্দমা
  3. দেন মোহরের মোকদ্দমা
  4. অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের ৬-৭ ধারায় মামলা করার অধিকার সৃষ্টির সময় বাদী legal disability তে আক্রান্ত থাকলে তখন তামাদির মেয়াদ গণনা বন্ধ রাখার বিধান আছে। কিন্তু এই বিধান অগ্রক্রয়ের আবেদন বা মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ধারা ৮ এ এই বিষয়ে উল্লেখ আছে।
১,৭৬২.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৬১ ধারায় রেকর্ডকৃত সাক্ষীর জবানবন্দিতে কে স্বাক্ষর করবেন?
  1. সাক্ষী নিজে
  2. নিযুক্তীয় আইনজীবী
  3. সাক্ষ্য রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট
  4. সাক্ষ্য রেকর্ডকারী তদন্ত কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারা অনুযায়ী,
পুলিশ (অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা) অভিযোগের সাথে পরিচিত যেকোনো ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে/জবানবন্দি নিতে পারবে এবং পুলিশ জবানবন্দি রেকর্ড বা লিপিবদ্ধ করে নিবে এবং নিজে স্বাক্ষর করবে।

• ১৬১ ধারা- পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী পরীক্ষা:

(১) এই অধ্যায় মতে তদন্ত সম্পাদনকারী যে কোন পুলিশ কর্মকর্তা, অথবা এ ব্যাপারে সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা যে প্রকার নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন সে প্রকার পদের নিম্নের কোন পদে অধিষ্ঠিত নহেন এরূপ এবং ঐরূপ অফিসারের অধি- যাচন অনুসারে কার্যসম্পাদনকারী যে কোন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটির তথ্যাদি এবং পারিপার্শ্বিক- তার সাথে পরিচিত আছে বলে অনুমিত যে কোন ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে পরীক্ষা করতে পারেন।

(২) ঐরূপ ঘটনা সম্বন্ধে উক্ত কর্মকর্তা, যে সকল প্রশ্নের উত্তর তাঁকে ফৌজদারী অভিযোগে অভিযুক্ত করতে বা তাকে দণ্ডিত করতে বা কোন কিছুতে তার অধিকার খোয়াইতে চাইতে পারে সেসব প্রশ্ন ব্যতিরেকে যেসকল প্রশ্ন তাকে করবেন তার যথার্থ উত্তর প্রদান করতে ঐরূপ ব্যক্তি বাধ্য থাকবেন।

(৩) এ ধারামতে পরীক্ষা করার সময় তার নিকট কোন বিবৃতি দেয়া হলে তিনি তা লিপিবদ্ধ করতে পারেন, এবং যদি তিনি ঐরূপ করেন তাহলে, তিনি এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তির, বিবৃতির একটি পৃথক ও সত্য নথি তৈয়ার করবেন, যার বিবৃতি তিনি নথিভুক্ত করেন।
১,৭৬৩.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ২৪ অনুযায়ী, মামলা স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের ক্ষমতা কার আছে?
  1. কেবল জেলা জজ
  2. কেবল সরকার
  3. কেবল হাইকোর্ট বিভাগ
  4. হাইকোর্ট বিভাগ ও জেলা আদালত উভয়ই
ব্যাখ্যা

→ দেওয়ানী কার্যবিধির ২৪ ধারা- স্থানান্তর ও প্রত্যাহারের সাধারণ ক্ষমতা:
 (১) মামলার যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে, সকলপক্ষকে নোটিশ দিয়া এবং তাদের কারো বক্তব্য শুনার ইচ্ছা করলে তা শ্রবণ করে অথবা কোন নোটিশ না দিয়া স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা জেলা আদালত যে কোন স্তরে-

ক) তার সম্মুখে বিচারাধীন কোন মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম তার অধীনস্থ এবং ইহা বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন কোন আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্য স্থানান্তরিত করতে পারেন, অথবা

খ) তার অধীনস্থ কোন আদালত হতে কোন মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম প্রত্যাহার করতে পারেন, এবং
১. ইহার বিচার বা নিস্পত্তি করতে পারেন, অথবা
২. ইহার বিচার বা নিম্পত্তি করার উপযুক্ত কোন আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্যে স্থানান্তর করতে পারেন, অথবা
৩. যে আদালত হতে উহা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্য প্রেরণ করতে পারেন।
২) কোন মামলা (১) উপধারা অনুসারে স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত হয়ে থাকলে পরে যে আদালতে ইহার বিচার হয়, সেই আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ সাপেক্ষে পূর্ণ বিচার করতে পারেন, অথবা যে পর্যায় হতে উহা স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই পর্যায় হতে বিচার শুরু করতে পারেন।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ও সহকারী জজের আদালতকে জেলা কোর্টের অধীন বলে গণ্য করতে হবে।

(৪) স্মলকজ কোর্ট হতে স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত মামলার বিচারকারী আদালতকে উক্ত মামলার ব্যাপারে স্মলকজ কোর্ট বলে গণ্য করতে হবে।

১,৭৬৪.
কোনো ব্যক্তি যদি কাউকে আত্মহত্যার জন্য সরঞ্জাম (যেমন দড়ি, বিষ) দিয়ে সহায়তা করে, তবে তা দণ্ডবিধির কোন ধারায় পড়বে?
  1. ১০৭ ধারা
  2. ৩০৬ ধারা
  3. ৩০২ ধারা
  4. ৫০৯ ধারা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা- আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:
কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করবে, উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 306- Abetment of suicide:
If any person commits suicide, whoever abets the commission of such suicide, shall be punished with imprisonment either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
১,৭৬৫.
বর্তমানে বলবৎ সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ সালের কয় নং আইন?
  1. ১নং
  2. ২নং
  3. ৫নং
  4. ৯নং
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর প্রাথমিক তথ্য:

আইন নং: ১৮৭২ সালের ১নং আইন।
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ১৮৭২।
কার্যকর: ১ লা সেপ্টেম্বর, ১৮৭২।
ধারা: ১৬৭ টি।
অধ্যায়: ১১টি।

খন্ড: ৩টি
১ম খন্ড: ১ - ৫৫ ধারা - ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা,
২য় খন্ড: ৫৬ - ১০০ ধারা - ঘটনার প্রমাণ,
৩য় খন্ড: ১০১ - ১৬৭ ধারা - সাক্ষ্য উপস্থাপন ও ইহার ফলাফল।
১,৭৬৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৭ ধারা মূলত কোন পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. সাক্ষীদের অনুপস্থিতির পরিণাম
  2. অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতির পরিণাম
  3. অভিযোগকারীর অনুপস্থিতির পরিণাম
  4. আইনজীবীর অনুপস্থিতির পরিণাম
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৭ মূলত অভিযোগকারীর অনুপস্থিতি বিষয়ে কথা বলে। ধারা অনুযায়ী, যদি মামলায় সমন জারি হয়ে অভিযুক্তের হাজিরা নির্দিষ্ট দিনে বা পরে (যে দিন শুনানি মুলতবি করা হয়) হয়, কিন্তু অভিযোগকারী উপস্থিত না হন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণত অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দেবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৭ অনুযায়ী-
নালিশের ভিত্তিতে যদি সমন জারি করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির হাজির হবার জন্য নির্দিষ্ট দিনে অথবা তার পরবর্তী কোন দিনে (শুনানি মূলতবীর দিন) অভিযোগকারী যদি উপস্থিত না হন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস প্রদান করবেন যদি না কোন কারণে তিনি অন্য কোন দিনে মামলাটির শুনানি মুলতবি করে দেয়া যথাযথ বিবেচনা করেন।
শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে কোন অভিযোগকারী যদি সরকারি কর্মচারী হন এবং যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিমত পোষণ করেন যে, অভিযোগকারীর ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দেয়া অপ্রয়োজনীয় সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ঐরূপ হাজিরা দেয়া হতে অব্যাহতি দিতে পারেন ও মামলায় অগ্রসর হতে পারেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-247.Non-appearance of complainant:
If the summons has been issued on complaint, and upon the day appointed for the appearance of the accused, or any day subsequent thereto which the hearing may be adjourned, the complainant does not appear, the Magistrate shall, notwithstanding anything herein before contained, acquit the accused, unless for some reason he thinks proper to adjoin the hearing of the case to some other day:
Provided that, where the complainant is a public servant and his personal attendance is not required, the Magistrate may dispense with his attendance, and proceed with the case.
১,৭৬৭.
৩০ ধারানুযায়ী সমন পেয়েও সাক্ষ্য দিতে না এলে সাক্ষীকে সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা করা যায়?
  1. অনধিক ১০০০ টাকা
  2. অনধিক ২০০ টাকা
  3. অনধিক ১০০ টাকা
  4. অনধিক ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
→ দেওয়ানী কার্যবিধি ৩২ ধারার বিধান- হাজির না হলে দণ্ড:
যার প্রতি ৩০ ধারা অনুসারে সমন দেয়া হয়েছে, আদালত তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে পারেন এবং এই উদ্দেশ্যে
ক) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করতে পারেন;
খ) তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;
গ) তাকে অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা করতে পারেন;
ঘ) তার হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেয়ার আদেশ দিতে পারেন; এবং জামানত না দিলে তাকে দেওয়ানী কারাগারে প্রেরণ করতে পারেন।

The Code of Civil Procedure, 1908, Sections- 32: Penalty for default:
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may- 
(a) issue a warrant for his arrest; 
(b) attach and sell his property; 
(c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka; 
(d) order him to furnish security for his appearance and in default commit him to the civil prison.
১,৭৬৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৭ ধারায় অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা করতে পারে-
  1. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. ২য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  4. সকলে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৭ ও ৩৩৮ ধারায় সত্য সাক্ষ্যদানের শর্তসাপেক্ষে দুষ্কর্মের সহযোগীকে ক্ষমা করার বিধান করা হয়েছে। দুষ্কর্মের সহযোগী বা রাজসাক্ষীর বিচারের পদ্ধতি ৩৩৯ক ধারায় আলোচনা করা হয়েছে। অপরাধের সহযোগিকে বা দুষ্কর্মের সহযোগীকে এই শর্তে ক্ষমা করা হয় যে, সে অপরাধ সম্পর্কে তার জানা সম্পূর্ণ এবং সত্য ঘটনাসমূহ প্রকাশ করবে।
 
৩৩৭ ধারায় অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা করতে পারে-
১. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট; বা
২. প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।
 
৩৩৭ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধের তদন্ত বা অনুসন্ধানের বা বিচারের যেকোন পর্যায়ে সাক্ষ্য প্রমাণ প্রাপ্তির জন্য অপরাধের সহযোগীকে এই শর্তে ক্ষমা করতে পারে যে, উক্ত সহযোগী অপরাধ সম্পর্কিত তার জানা সম্পূর্ণ এবং সত্য ঘটনাসমূহ প্রকাশ করবে।
১,৭৬৯.
একজন বিচারকের সরল বিশ্বাসে সম্পাদিত বিচারিক কাজ অপরাধের অন্তর্ভুক্ত নয় মর্মে পেনাল কোডের কত ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ৭৯
  2. ৭৭
  3. ৭৫
  4. ৭০
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোডের ৭৭ ধারার অধীন বিচারকের কার্য ফৌজদারী দায় হতে অব্যাহতি পাবে যদি বিচারক বিচারিক কার্যসম্পাদনকালে এমন কার্যটি করে এবং আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কার্যটি সম্পাদন করে এবং এমন ক্ষমতা আইন দ্বারা তাকে দেওয়া হয়েছে বলে সরল বিশ্বাসে বিশ্বাস করে।
১,৭৭০.
নিচের কোন বিষয়কে সাক্ষ্য আইনের প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে?
  1. প্রস্তুতি
  2. অভিপ্রায়
  3. পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারার বিধান: উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আচরণ (Motive, preparation and previous subsequent conduct): কোন ঘটনা সংঘটনের উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি, এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আচরণ প্রাসঙ্গিক ব্যা বিবেচিত হবে। কারণ ঘটনা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অভিযুক্তের আচরণ ঘটনা প্রমাণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
⇒ যে সকল ঘটনা বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায় (Motive), প্রস্তুতি (Preparation) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct) হিসেবে গণ্য হয়, সে সকল ঘটনাকে সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারায় ৩টি বিষয়কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে-(i) অভিপ্রায় (Motive) (ii) প্রস্তুতি (Preparation) (iii) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct).
⇒ সাধারণত অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে Motive প্রমাণ করতে হয় না। তবে বাদী যখন Motive দাবী করে ও মামলাটা যদি শুধুমাত্র Circumstantial evidence এর উপর নির্ভর করে তখন Motive প্রমাণ করতে হয়।
----------------
⇒ Motive, preparation and previous or subsequent conduct:
Section 8. Any fact is relevant which shows or constitutes a motive or preparation for any fact in issue or relevant fact. 
 
The conduct of any party, or of any agent to any party, to any suit or proceeding, in reference to such suit or proceeding, or in reference to any fact in issue therein or relevant thereto, and the conduct of any person an offence against whom is the subject of any proceeding, is relevant, if such conduct influences or is influenced by any fact, in issue or relevant fact, and whether it was previous subsequent thereto.
১,৭৭১.
'নির্বাচন প্রার্থী' এবং 'নির্বাচনী অধিকার' এর সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কত ধারায় দেয়া আছে?
  1. ১৭০ ধারা
  2. ১৭০ক ধারা
  3. ১৭১ ধারা
  4. ১৭১ক ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৭১ক ধারার বিধান- 'নির্বাচন প্রার্থী', 'নির্বাচনী অধিকার' এর সংজ্ঞা :
এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে-
(ক) 'নির্বাচন প্রার্থী' বলতে কোন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিকে বুঝাবে এবং যে ব্যক্তি কোন নির্বাচনের জল্পনা-কল্পনা চলাকালে উহাতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিভাত করেন সে ব্যক্তিকেও বুঝাবে। তবে সে ব্যক্তিকে পরে অনুরূপ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হতে হবে;

(খ) 'নির্বাচনী অধিকার' বলতে কোন ব্যক্তির কোন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবার অথবা না দাঁড়াবার অথবা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে নাম প্রত্যাহার করার অথবা ভোট দেওয়ার অথবা ভোটদান হতে বিরত থাকার অধিকার বুঝায়।

১,৭৭২.
মোকদ্দমা চলাকালীন সময়ে বিষয়বস্তু স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য আদালত কোন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করিবেন?
  1. Perpetual Injunction
  2. Prohibitory Injunction
  3. Temporary Injunction
  4. Mandatory Injunction
ব্যাখ্যা
⇒ নিষেধাজ্ঞা হল একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম যেখানে কোন পক্ষকে নির্দিষ্ট কোন কাজ করা বা করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, কোনো কিছু করা হতে মামলার পক্ষগণকে বিরত রাখা বা মামলা করার পর কোনো পক্ষের করা কাজের জন্য পরিবর্তিত কোনো সম্পত্তিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞা বলে।
⇒  নিষেধাজ্ঞার প্রধানত দুই প্রকার হতে পারে। যথাক্রমে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অনন্তকালের জন্য চলতে পারে। মামলার রায় চূড়ান্ত আদেশ হওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

⇒  মামলা চলাকালীন সময়ে বিবাদী যাতে মামলার বিষয়বস্তু হস্তান্তর বা কোন প্রকার রূপান্তর ঘটাতে না পারে সেই জন্য মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে এই কাজ হতে বিরত থাকার জন্য সাময়িকভাবে যে আদেশ দেয়া হয় তাকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলে।

⇒  দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের বিধি-১ বা বিধি-২ অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পিটিশন দাখিল করতে হয়।
⇒  অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রার্থনার সময় আবেদনকারীকে কিছু বিষয় প্রমাণ করতে হবে –
(১) আবেদনকারীকে অবশ্যই (Prima facie case) প্রমাণ করতে হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে মামলার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
(২) আবেদনকারী আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করবে যে অস্থায়ী নিষেধজ্ঞার আবেদন গ্রহণ করা না হলে অপূরণীয় ক্ষতি (Irreparable loss) হবার সম্ভাবনা আছে। যেখানে অপূরণীয় ক্ষতি বলতে সেই ক্ষতিকে বুঝাবে যা অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
(৩) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন গ্রহণ করার ক্ষেরে আদালত (The balance of convenience and inconvenience of the Parties) বিবেচনা করেন। তাই আবেদনকারীকে সুবিধা এবং অসুবিধার ভারসাম্য আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।
(৪) জনস্বার্থে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা যায়। যা সাধারণত সরকারের বিপক্ষে করা হয়। সেই ক্ষেত্রে জনস্বার্থ (Public interest) বিষয়টি কার্যকর ভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:-অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
-চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
--------- 
⇒ Section 53 Temporary injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
-Perpetual injunctions: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit, the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
১,৭৭৩.
দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারা অনুযায়ী অভ্যাসগতভাবে চোরাই সম্পত্তির বেচাকেনা করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৩ বছরের কারাদণ্ড 
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪১৩ অনুসারে, যে ব্যক্তি অভ্যাসগতভাবে (habitually) চোরাই সম্পত্তি জেনে বা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকা সত্ত্বেও ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেন করে, তার শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের (সশ্রম বা বিনাশ্রম) কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত জরিমানা। সুতরাং সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারার বিধান অভ্যাসগতভাবে চোরাই সম্পত্তির বেচাকেনা করা:- কোন ব্যক্তি যদি যে সম্পত্তি চোরাই বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, অভ্যাসগতভাবে বরাবর সে সম্পত্তির বেচাকেনা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।
-------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 413. Habitually dealing in stolen property:- Whoever habitually receives or deals in property which he knows or has reason to believe to be stolen property, shall be punished with imprisonment for life, or with imprison - ment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

১,৭৭৪.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে চার্জ কী ভাষায় লিখতে হবে?
  1. শুধুমাত্র বাংলায়
  2. শুধুমাত্র ইংরেজিতে
  3. আসামির মাতৃভাষায়
  4. ইংরেজি বা আদালতের ভাষায়
ব্যাখ্যা
→ উত্তর: ইংরেজি বা আদালতের ভাষায়।

চার্জের বিষয়বস্তু (Contents of Charge): চার্জে কোন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ থেকে ২২৩ ধারায় বলা হয়েছে যা নিম্নরূপ-
- ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ ধারামতে চার্জে অপরাধের নাম, তবে নাম না থাকলে অপরাধের সংজ্ঞা সুস্পষ্টভাবে প্রদান করতে হবে। এছাড়া অপরাধটি কোন আইনের কত ধারার অন্তর্গত তা চার্জে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। চার্জ ইংরেজিতে বা আদালতের ভাষায় লিখতে হয়।

→ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ ধারামতে চার্জে অপরাধের বিবরণ থাকতে হবে:
(১) এই কার্যবিধি অনুসারে প্রত্যেক চার্জে আসামি যে অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছে, তার বিবরণ থাকবে ।
(২) অপরাধের সুনির্দিষ্ট নামই যথেষ্ট বিবরণ: যে আইন কর্তৃক অপরাধটির উদ্ভব হয়েছে, সেখানে উহার কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে চার্জে শুধুমাত্র সে নামেই উহার বিবরণ প্রদান করা যাবে।
(৩) অপরাধের সুনির্দিষ্ট নাম না থাকলে কীভাবে উল্লেখ করতে হবে: যে আইন কর্তৃক অপরাধটির উদ্ভব হয়েছে, সেখানে উহার কোন নির্দিষ্ট নাম না থাকলে উহার সংজ্ঞা এরূপভাবে বর্ণিত হতে হবে যেন আসামি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে ।
(৪) যে আইন এবং যে ধারার বিধানমতে অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছে মর্মে বর্ণিত হয়েছে, চার্জে তার উল্লেখ করতে হবে।
(৫) চার্জ দ্বারা কি বুঝায়: কোন ক্ষেত্রে চার্জ প্রণীত হলে তা এমর্মে বিবৃত প্রদানের শামিল হয় যে, উক্ত বিশেষ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধটি সংঘটনের জন্য আইনগত যে-সব শর্ত বিদ্যমান, তা পূরণ করা হয়েছে ।
(৬) চার্জের ভাষা: চার্জ ইংরেজিতে অথবা আদালতের ভাষায় লিখতে হবে।
(৭) পূর্ববর্তী দণ্ডের বিষয় যেক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হবে: আসামি পূর্বে কোন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার জন্য পরবর্তী অপরাধের ক্ষেত্রে বর্ধিত দণ্ড বা ভিন্ন প্রকৃতির দণ্ডে দণ্ডনীয় হলে এবং পরবর্তী অপরাধের দণ্ড বৃদ্ধি বা প্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য পূর্ববর্তী দণ্ড প্রমাণ করার দরকার হলে, চার্জে পূর্ববর্তী দণ্ডের ঘটনা, তারিখ ও স্থান বর্ণনা করতে হবে। এধরণের বর্ণনা না করা হয়ে থাকলে আদালত দণ্ডদানের পূর্বে যে কোন সময়ে তা যোগ করতে পারেন।
------------ 
→ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 221: (1) Charge to state offence-
- Every charge under this Code shall state the offence with which the accused is charged.
(2 )Specific name of offence sufficient description-
- If the law which creates the offence gives it any specific name, the offence may be described in the charge by that name only.
(3) How stated where offence has no specific name-
- If the law which creates the offence does not give it any specific name, so much of the definition of the offence must be stated as to give the accused notice of the matter with which he is charged.
(4) The law and section of the law against which the offence is said to have been committed shall be mentioned in the charge.
(5) What implied in charge-
- The fact that the charge is made is equivalent to a statement that every legal condition required by law to constitute the offence charged was fulfilled in the particular case.
(6) Language of charge- The charge shall be written either in English or in the language of the Court.
(7) Previous conviction when to be set out-
- If the accused having been previously convicted of any offence is liable, by reason of such previous conviction, to enhanced punishment, or to punishment of a different kind, for a subsequent offence, and it is intended to prove such previous conviction for the purpose of affecting the punishment which the Court may think fit to award for the subsequent offence, the fact, date and place of the previous conviction shall be stated in the charge. If such statement has been omitted, the Court may add it at any time before sentence is passed.
১,৭৭৫.
‘A’ কে X আদালতের এলাকায় গুরুতর আহত করা হয়। এরপর ১০ দিন ‘A', Y আদালতের এলাকায় এবং ১০ দিন Z আদালতের এলাকায় চিকিৎসাধীন থাকে। The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১৭৯ অনুসারে, ‘A’–কে গুরুতর আঘাত দেওয়ার অপরাধ কোন আদালতে বিচার করা যেতে পারে?
  1. শুধু X আদালতে
  2. শুধু Y বা Z আদালতে
  3. অভিযুক্ত যে আদালতের এখতিয়াধীন এলাকায় বাস করে
  4.  X বা Y বা Z যেকোনো আদালতে
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১৭৯- অপরাধের বিচার: যেখানে কাজ ঘটেছে বা ফলাফল প্রাপ্ত হয়েছে:
যদি কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধ সংঘটিত করার জন্য অভিযুক্ত হয়, যার জন্য কোনো কাজ (act) করা হয়েছে অথবা কোনো ফলাফল (consequence) ঘটেছে, তাহলে সেই অপরাধ যে কোন নিম্নলিখিত আদালতের সীমার মধ্যে তদন্ত বা বিচার করা যেতে পারে: 
- যে অঞ্চলে সেই কাজ করা হয়েছে;
- যে অঞ্চলে সেই ফলাফল ঘটেছে।

অর্থাৎ, অপরাধ যেখানে সংঘটিত হয়েছে বা যেখানে তার প্রভাব দেখা দিয়েছে, সেই যেকোনো আদালত মামলা করতে পারে।

Illustrations (উদাহরণ):
(ক) ‘A’ কে Court X–এর এলাকায় আহত করা হয়।‘A’ পরে Court Z–এর এলাকায় মারা যায়।
→ ‘A’–এর হত্যার মামলা Court X বা Court Z–এ তদন্ত বা বিচার করা যেতে পারে।

(খ) ‘A’ কে Court X–এর এলাকায় আহত করা হয়। এরপর ১০ দিন ‘A’ Court Y–এর এলাকায় এবং ১০ দিন Court Z–এর এলাকায় চিকিৎসাধীন থাকে। 
→ ‘A’–কে গুরুতর আঘাত (grievous hurt) দেওয়ার অপরাধ Court X, Y বা Z–এ তদন্ত বা বিচার করা যেতে পারে।

(গ) ‘A’ কে Court X–এর এলাকায় ভয় দেখানো হয়। ভয় দেখানোর কারণে ‘A’ Court Y–এর এলাকায় সম্পত্তি হস্তান্তর করে।
→ ‘A’–এর উপর জোরপূর্বক গ্রহণ (Extortion)–এর অপরাধ Court X বা Y–এ তদন্ত বা বিচার করা যেতে পারে।

(ঘ) ‘A’ কে ঢাকা–এ আহত করা হয়। ‘A’ পরে চট্টগ্রাম–এ আহত অবস্থায় মারা যায়।
→ ‘A’–এর মৃত্যুর জন্য দায়ী অপরাধ চট্টগ্রাম–এ তদন্ত বা বিচার করা যাবে।

১,৭৭৬.
'ক' এর বিরুদ্ধে এক ফৌজদারি মামলায় তার ৮ বছরের কারাদণ্ড হয়। অভিযোগকারী অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের অভিযোগ এনে আপিল করে। আপিল চলাকালীন অভিযোগকারী মারা যায়।এক্ষেত্রে-
  1. আপিল বাতিল হবে
  2. আপিল বাতিল হবে না
  3. অভিযুক্তের আবেদনক্রমে বাতিল হবে
  4. স্থগিত থাকবে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৩১ ধারায় আপিল বাতিলের বিধান আলোচনা করা হয়েছে। ৪৩১ ধারায় বলা হয়েছে,

৪১৭ বা ৪১৭ক ধারার অধীন প্রত্যেকটি আপিল অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুতে চূড়ান্তভাবে বাতিল হবে, এবং এই অধ্যায়ের অধীন অন্যান্য প্রত্যেকটি আপিল (অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল ব্যতীত) আপিলকারীর মৃত্যুতে চূড়ান্তভাবে বাতিল হবে।

ফৌজদারী মামলা বা আপিল বাতিল হবে যদি অভিযুক্ত মারা যায়। সুতরাং কে মারা গেলে আপিল বাতিল হবে, তা নির্ধারণ করতে হলে দেখতে হবে, আপিল চলাকালীন সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি মারা গেছে কিনা। এটা নির্ধারণ করতে দেখতে হবে আপিলটি কে করেছে।

৪১৭ ধারার অধীন খালাসের বিরুদ্ধে আপিল এবং ৪১৭ক ধারার অধীন অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে আসামী মারা গেলে আপিল বাতিল হবে না। কারণ খালাস এবং অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে স্বাভাবিকভাবে আপিল করবে পাবলিক প্রসিকিউটর বা অভিযোগকারী।

অন্যদিকে ৪০৭, ৪০৮ বা ৪১০ ধারায় দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করে অভিযুক্ত ব্যক্তি। সুতরাং এই ক্ষেত্রে আপিলকারী মারা যাওয়া মানে অভিযুক্ত ব্যক্তি মারা যায় এবং এই কারণে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে আপিলকারী মারা গেলে আপিলটি বাতিল হয়।
১,৭৭৭.
কোনো মামলায় একাধিক বাদী থাকলে আদালত কখন কোনো একজন বাদীকে মামলার দাবি প্রত্যাহারের অনুমতি দিতে পারে?
  1. বিবাদীর সম্মতিতে
  2. আইনজীবীর সম্মতি
  3. সরকারী কৌসুলির অনুমতিতে
  4. অন্য বাদীদের সম্মতিতে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি-১ এর বিধান: মোকদ্দমা প্রত্যাহার কিংবা দাবীর আংশিক পরিত্যাগ:
১) মোকদ্দমা রুজু হওয়ার পর যে কোন সময় বাদি সকল বা যে কোন বিবাদির বিরুদ্ধে তার মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে কিংবা তার দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করতে পারবে।

২) যেক্ষেত্রে আদালতের নিকট এটি সন্তোষজনক হয় যে,-
ক) কিছু রীতিসিদ্ধ ত্রুটির কারণে অবশ্যই ব্যর্থ হবে; অথবা

খ) মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর জন্য বা কোন দাবীর অংশের জন্য নুতনভাবে মোকদ্দমা রুজুর জন্য বাদিকে অনুমতি প্রদান করার অন্যান্য যথেষ্ট অজুহাত থাকে,

সেক্ষেত্রে আদালত উপযুক্ত মনে করে এরূপ শর্তে বাদিকে উক্ত মোকদ্দমার বিষয়বস্তু বা কোন বাদির উক্ত অংশ সম্পর্কে নূতনভাবে মোকদ্দমা রুজু করার স্বাধীনতাসহ উক্ত মোকদ্দমা থেকে প্রত্যাহার করার বা দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করার অনুমতি মঞ্জুর করতে পারে।

৩) যেক্ষেত্রে উপবিধি (২) এ দায়েরে অনুমতি ব্যতীত বাদি মোকদ্দমা প্রত্যাহার করে বা দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করে সেক্ষেত্রে সে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে মোকদ্দমার খরচাদির জন্য দায়ী হবে এবং উক্ত বিষয়বস্তু বা আংশিক দাবী সম্পর্কে নূতনভাবে কোন মোকদ্দমা রুজু করতে বারিত হবে।

৪) এই বিধির কোন কিছুই আদালতকে কতিপয় বাদির মধ্যে থেকে একজন কর্তৃক অন্যদের সম্মতি ব্যতীত মোকদ্দমা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিতে ক্ষমতা প্রদান করবে বলে বিবেচিত হবে না।
১,৭৭৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২০ অনুসারে, চুক্তিতে ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ থাকলে কী হবে?
  1. চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে
  2. শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে
  3. সুনির্দিষ্ট কার্যকরকরণ করা যাবে না
  4. সুনির্দিষ্ট কার্যকরকরণ করা যেতে পারে
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ২০ অনুসারে, চুক্তিতে লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট পরিমাণ (liquidated damages) উল্লেখ থাকলেও, যদি চুক্তি অন্যথায় সুনির্দিষ্ট কার্যকরণের (specific performance) উপযুক্ত হয় এবং লঙ্ঘনকারী পক্ষ সেই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে সুনির্দিষ্ট কার্যকরণ প্রদানে কোনো বাধা হয় না। এটি নিশ্চিত করে যে ক্ষতিপূরণের বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের পথে বাধা সৃষ্টি করবে না।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ২০ অনুযায়ী, একটি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেতে পারে, যদিও চুক্তিতে তার লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা থাকে এবং লঙ্ঘনকারী পক্ষ সেই অর্থ পরিশোধ করতে প্রস্তুত থাকে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে বাধা সৃষ্টি করবে না।
------------
• The Specific Relief Act, 1877-Section: 20. Liquidation of damages not a bar to specific performance:
A contract, otherwise proper to be specifically enforced, may be thus enforced, though a sum be named in it as the amount to be paid in case of its breach, and the party in default is willing to pay the same.
Illustration:
A contracts to grant B an under-lease of property held by A under C, and that he will apply to C for a license necessary to the validity of the under lease, and that, if the license is not procured, A will pay B taka 10,000. A refuses to apply for the license and offers to pay B the taka 10,000. B is nevertheless entitled to have the contract specifically enforced it C consents to give the license.

১,৭৭৯.
A “পেটেন্ট সিলেন” নামে একটি জিনিস তৈরি ও বিক্রি করে, যদিও বাস্তবে তা কখনো পেটেন্ট করা হয়নি। B ঐ নাম ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি শুরু করে। এক্ষেত্রে, A কী প্রতিকার পাবে?
  1. আদালত তার পক্ষে নিষেধাজ্ঞা দেবে
  2. আদালত তার পক্ষে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবে
  3. B এর পণ্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেবে
  4. কোনো প্রতিকার পাবে না
ব্যাখ্যা

ধারা ৫৬. যে সকল ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা যায় না (Injunction when refused)

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা (injunction) প্রদান করতে পারে না—

(ক) সেই মামলার প্রবর্তনের সময়ে ইতিমধ্যে চলমান কোনো বিচারিক কার্যধারা (judicial proceeding) স্থগিত রাখার জন্য,
যদি না সেই নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা একাধিক মামলা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় হয়;

(খ) যে আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে, তার অধীনস্থ নয় এমন অন্য কোনো আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য;

(গ) কোনো ব্যক্তিকে আইনসভা বা বিধানসভায় আবেদন করা থেকে বিরত রাখার জন্য;

(ঘ) সরকারের কোনো বিভাগের জনসাধারণের দায়িত্ব পালনে বা কোনো বিদেশি সরকারের সার্বভৌম কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার জন্য;

(ঙ) কোনো ফৌজদারি কার্যধারা (criminal proceeding) স্থগিত রাখার জন্য;

(চ) এমন কোনো চুক্তি ভঙ্গ রোধ করার জন্য, যার নির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করা যায় না;

(ছ) এমন কোনো কাজ রোধ করার জন্য যা স্পষ্টভাবে উপদ্রব (nuisance) বলে প্রতীয়মান নয়;

(জ) এমন কোনো চলমান ভঙ্গ (continuing breach) রোধ করার জন্য, যাতে আবেদনকারী নিজেই সম্মতি বা অনুমতি দিয়েছে (acquiesced);

(ঝ) যখন অন্য কোনো প্রচলিত উপায়ে সমান কার্যকর প্রতিকার (efficacious relief) পাওয়া সম্ভব,
তবে বিশ্বাসভঙ্গ (breach of trust)-এর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়;

(ঞ) যখন আবেদনকারীর বা তার প্রতিনিধির আচরণ এমন হয়েছে যে, তা তাকে আদালতের সাহায্য পাওয়ার অযোগ্য করে তুলেছে;

(ট) যখন আবেদনকারীর ঐ বিষয়ে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ (personal interest) নেই।

উদাহরণসমূহ (Illustrations)-

(ক) A তার অংশীদার B-কে অংশীদারিত্বের দেনা-পাওনা গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা চায়। দেখা গেল, A নিজেই অনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠানের বই-পত্র নিজের দখলে রেখেছে এবং B-কে সেগুলিতে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। আদালত নিষেধাজ্ঞা দেবে না।

(খ) A “পেটেন্ট প্লাম্বাগো ক্রুসিবলস” নামে একটি জিনিস তৈরি ও বিক্রি করে, যদিও বাস্তবে তা কখনো পেটেন্ট করা হয়নি। B ঐ নাম ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি শুরু করে। A এই নাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চাইলে আদালত তা দেবে না, কারণ A নিজেই প্রতারণামূলকভাবে “পেটেন্ট” শব্দটি ব্যবহার করছে।

(গ) A “মেক্সিকান বাম” নামে একটি ওষুধ বিক্রি করে, দাবি করে এটি নানা বিরল উপাদানে তৈরি এবং অসাধারণ ঔষধি গুণসম্পন্ন। B একই রকম একটি পণ্য বিক্রি করে যার নাম ও বিবরণ এমন যে মানুষ মনে করে এটি A-এর “মেক্সিকান বাম”। A নিষেধাজ্ঞা চায় যাতে B বিক্রি বন্ধ করে। কিন্তু B প্রমাণ করে যে A-এর “মেক্সিকান বাম” কেবল সুগন্ধিযুক্ত চর্বি। যেহেতু A-এর দাবি সৎ নয়, তাই আদালত তাকে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না।

১,৭৮০.
ধারা ৬৪-এর মূল নীতি কোনটি?
  1. দলিলের সত্যতা যাচাই শুধুমাত্র সাক্ষীর উপর নির্ভর করে
  2. দলিল প্রমাণের ক্ষেত্রে মূল দলিল প্রদর্শন করা আবশ্যক
  3. নকল দলিল যথেষ্ট প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য
  4. দলিল প্রমাণ করতে শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি প্রয়োজন
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইনের ৬৪ ধারা- প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ: 
এই আইনে অতঃপর যে সকল ব্যতিক্রমের উল্লেখ করা হইয়াছে উহা ভিন্ন অন্য সকল ক্ষেত্রে দলিলসমূহ অবশ্যই প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করিতে হইবে।

ধারা ৬৪-এর মূল নীতি হলো যে,
কোনো দলিল প্রমাণ করার জন্য মূল দলিল (Primary Evidence / Original Document) প্রদর্শন করা আবশ্যক, ব্যতিক্রম ছাড়া।
এটি আদালতকে দলিলের সত্যতা যাচাইতে সরাসরি সহায়তা করে এবং নকল বা কপি দলিলকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য করে না।

১,৭৮১.
আদেশ ৯ বিধি-২ অনুসারে, কোন পরিস্থিতিতে বাদীর মামলা খারিজ হবে?
  1. বাদী আদালতে উপস্থিত না হলে
  2. বাদী লিখিত জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হলে
  3. সময়মতো মামলার নথিপত্র দাখিল না করলে
  4. কোর্ট ফি প্রদান না করার ফলে বিবাদীর উপর সমন জারি না হলে
ব্যাখ্যা
আদেশ ৯ বিধি-২:
নির্ধারিত তারিখে যদি দেখা যায় যে, বাদি কোর্ট ফি প্রদান না করার কিংবা ঐরূপ সমনজারির জন্য প্রয়োজনীয় ডাক-মাশুল (যদি লাগে) না দেয়ায় বিবাদির উপর সমন জারি করা হয় নেই, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজের আদেশ দান করতে পারবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদির উপর সমন জারি না হলেও যদি তার হাজিরা ও জবাব দানের নির্ধারিত তারিখে সে ব্যক্তিগত বা প্রতিনিধির মারফতে হাজিরা চললে প্রতিনিধির মারফতে জন্য হাজির হয়, সেক্ষেত্রে অনুরূপ খারিজের আদেশ প্রদান করা যাবে না।

Dismissal of suit where summons not served in consequence of plaintiff's failure to pay costs-
Where on the day so fixed it is found that the summons has not been served upon the defendant in consequence of the failure of the plaintiff, to pay the court-fee or postal charges (if any) chargeable for such service, the Court may make an order that the suit be dismissed:
Provided that no such order shall be made although the summons has not been served upon the defendant, if on the day fixed for him to appear and answer he attends in person or by agent when he is allowed to appear by agent.
১,৭৮২.
দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা অনুসারে, যদি কেউ অবহেলামূলকভাবে মারাত্মক রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন কাজ করে, তবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থ দণ্ড অথবা উভয় দণ্ড
  2. ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অর্থ দণ্ড অথবা উভয় দণ্ড
  3. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অর্থ দণ্ড অথবা উভয় দণ্ড
  4. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অর্থ দণ্ড অথবা উভয় দণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ বেআইনিভাবে বা অবহেলামূলকভাবে এমন কোনো কাজ করে যা জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তবে তাকে ৬ মাস পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারার বিধান: জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক রোগের সংক্রমণ বিস্তার করতে পারে এবং অবহেলামূলক কার্য :- কোন ব্যক্তি যদি বেআইনিভাবে বা অবহেলামূলকভাবে এমন কোন কার্য করে যা জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক কোন রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তা জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তা করে, তবে-সেই ব্যক্তি ছয়মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
------------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 269. Negligent act likely to spread infection of disease dangerous to life:- Whoever unlawfully or negligently does any act which is, and which he knows or has reason to believe to be, likely to spread the infection of any disease dangerous to life, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine, or with both.
১,৭৮৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ XXI, বিধি ৩০ক অনুসারে, সিভিল কারাগার থেকে মুক্তি পেতে আসামীকে ডিক্রিকৃত অর্থের অনূন্য কত অংশ জমা দিতে হবে?
  1. ১৫%
  2. ২৫%
  3. ৫০%
  4. ৭৫%
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure, 1908)-এর আদেশ XXI, বিধি ৩০ক (Order XXI, Rule 30A) ২০২৫ সালের সংশোধনী (Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025) এর মাধ্যমে নতুনভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে। এই বিধি অর্থ পরিশোধের ডিক্রি (decree for money) জারির জন্য বিশেষ বিধান প্রদান করে। বিশেষ করে উপ-বিধি (৪) অনুসারে:
- দেওয়ানি কারাগারে (civil prison) আটক রায়দেনাদার (judgment-debtor) যদি ৬০ দিনের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধের জন্য একটি মুচলেকা (bond) সহ ডিক্রিকৃত অর্থের অনূন্য ২৫% (minimum 25%) জমা দেন, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি (release) দেবে।
- এরপর যদি রায়দেনাদার মুচলেকার শর্ত অনুসারে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হবেন এবং আরও ছয় মাস পর্যন্ত কারাগারে আটক থাকবেন।
- এই বিধানের উদ্দেশ্য হলো রায়দেনাদারকে মুক্তির সুযোগ দেওয়া, কিন্তু অপরিশোধিত অর্থ থেকে তাকে অব্যাহতি (discharge) দেওয়া নয়।
- অন্য অপশনগুলি (১৫%, ৫০%, ৭৫%) এই বিধির সাথে মিলে না; মুক্তির জন্য জমা-সংক্রান্ত শর্ত হিসেবে ২৫% নির্দিষ্ট।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ আদেশের ৩০ক বিধি: অর্থ পরিশোধের ডিক্রি জারির জন্য বিশেষ বিধান (Special provisions for execution of decree for money):
(১) এই কোডে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকুক না কেন, ডিক্রিধারীর আবেদনের ভিত্তিতে আদালত রায় দেনাদারকে সম্পূর্ণ বা অপরিশোধিত ডিক্রিকৃত অর্থের কোনো অংশের জন্য অনূর্ধ্ব ছয় মাসের জন্য অথবা অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটবে, দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারেন।
(২) এই কোডের অধীনে দেওয়ানি কারাগারে আটক রায় দেনাদারের ভরণপোষণের জন্য ব্যয় সরকার বহন করবে।
(৩) দেওয়ানি কারাগারে আটকের বিধান কোনো নাবালক বা বিকৃতমস্তিষ্ক রায় দেনাদারের ক্ষেত্রে অথবা যিনি কোনো উপযুক্ত আদালত দ্বারা দেউলিয়া (insolvent) ঘোষিত হয়েছেন অথবা যিনি উত্তরাধিকারসূত্রে মূল রায় দেনাদারের উত্তরাধিকারী হিসাবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) যদি দেওয়ানি কারাগারে থাকা রায় দেনাদার ৬০ দিনের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধের জন্য একটি মুচলেকা (bond) সহ ডিক্রিকৃত অর্থের অনূ্যন ২৫% জমা দেন, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দেবেন এবং যদি রায় দেনাদার মুচলেকাতে বর্ণিত শর্ত অনুযায়ী বাকি ডিক্রিকৃত অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার এবং আরও ছয় মাস পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটক থাকার জন্য দায়ী হবেন।
(৫) যদি কোনো রায় দেনাদার উপ-বিধি (১) বা (৪) এর অধীনে দেওয়ানি কারাগারে সম্পূর্ণ মেয়াদের জন্য আটক থাকেন, তাহলে তাকে একই জারি কার্যধারায় বা একই ডিক্রি থেকে উদ্ভূত অন্য কোনো জারি কার্যধারায় পুনরায় গ্রেপ্তার বা দেওয়ানি কারাগারে আটক করা যাবে না।
(৬) যদি কোনো রায় দেনাদার এই বিধির অধীনে দেওয়ানি আটকের সম্পূর্ণ বা আংশিক মেয়াদের জন্য দেওয়ানি কারাগারে আটক থাকেন, তাহলে তিনি ডিক্রির অপরিশোধিত অর্থ পরিশোধ করা থেকে অব্যাহতি পাবেন না।

১,৭৮৪.
মহানগর এলাকায় কে ১৪৪ ধারা জারি করেন?
  1. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  2. পুলিশ কমিশনার
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ম্যাজিস্ট্রেট মেট্রোপলিটন
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৪৪(৭) ধারার বিধান মহানগর এলাকার জন্য প্রযোজ্য নয় অর্থাৎ ম্যাজিস্ট্রেট মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করতে পারেন না কিন্তু মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনারকে ১৪৪ ধারা জারির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

♦ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারো আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা নিজে স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে-
i) আইনানুগভাবে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির আশংকা;
ii) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশংক;
iii) উৎপাত বা জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশংকা;
iv) দাঙ্গা বা মারামারির আশংকা;  এবং
v) আশু প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন হলে।  
♦১৪৪ ধারার আদেশ সাধারণত সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে; তবে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা ১৪৪ ধারার আদেশকে ২ মাসের অধিক সময় পর্যন্ত বলবৎ রাখতে পারে।‌
♦১৪৪ (৪) ধারামতে কোন ম্যাজিস্ট্রেট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদনক্রমে ১৪৪ ধারার আওতায় তার নিজের বা তার অধীনস্ত কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা তার পূর্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারেন।‌
১,৭৮৫.
ক একটি সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী, খ সম্পত্তিটির দখলে আছে। উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কে নিম্ন লিখিত কোন মামলাটি সঠিক?
  1. ক শুধুমাত্র স্বত্ব ঘোষনার মামলা করতে পারবে
  2. ক স্বত্ব ঘোষনা এবং সম্পত্তির দখলের জন্য মামলা করতে পারে
  3. ক চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার এবং দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারে
  4. উপরের কোনটি না
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী স্বত্ব ঘোষনার মামলা করতে হবে এবং আনুষাঙ্গিক প্রতিকার হিসাবে ৮ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করবে।
- কারণ বাদী ক সম্পত্তির দখলে নাই বরং বিবাদী খ সম্পত্তির দখলে আছে।
- তাই ৪২ ধারার সঙ্গে আনুষাঙ্গিক প্রতিকার হিসাবে ৮ ধারার মামলা করলে আদালত ঘোষনা মঞ্জুর করবেন, এখানে আনুষাঙ্গিক প্রতিকার চাওয়া বাধ্যতামূলক।
১,৭৮৬.
According to Section 64 of the The Evidence Act, 1872- Documents must be proved by __________ except in the cases hereinafter mentioned.
  1. oral evidence
  2. written evidence
  3. direct evidence
  4. primary evidence
ব্যাখ্যা
• প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence)-
প্রাথমিক সাক্ষ্য হল এমন সাক্ষ্য যা কোনও ঘটনা বা বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে প্রাপ্ত। প্রাথমিক সাক্ষ্য এক প্রকারের মৌল সাক্ষ্য। কোন বিচার্য বিষয়ে প্রাথমিক সাক্ষ্যের অস্তিত্ব থাকলে সেটাই প্রমাণ করতে হয়। এই ধরনের সাক্ষ্য সাধারণত মৌখিক বা দালিলিক আকারে থাকে।

⇒ Section 64 ⇒ Proof of documents by primary evidence:
Documents must be proved by primary evidence except in the cases hereinafter mentioned.

সাক্ষ্য আইনের ৬৪ ধারা- প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ:
এই আইনে অতঃপর যে সকল ব্যতিক্রমের উল্লেখ করা হইয়াছে উহা ভিন্ন অন্য সকল ক্ষেত্রে দলিলসমূহ অবশ্যই মুখ্য সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করিতে হইবে।
১,৭৮৭.
সাধারন দেওয়ানি মোকদ্দমায় মধ্যস্থতা সম্পন্ন হওয়ার জন্য আদালত অতিরিক্ত সময় কত দিন বাড়াতে পারবে?
  1. ১০ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে
১- মধ্যস্থতা (Mediation);
২- সালিশী (Arbitration).

• দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা আছে। এর সাধারন নিয়মসমূহ হল-

⇒ মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।

⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

১,৭৮৮.
আগাম জামিন দিতে পারেন-
  1. হাইকোর্ট
  2. দায়রা কোর্ট
  3. চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট
  4. হাইকোর্ট এবং দায়রা কোর্ট উভয়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় আগাম জামিনের বিধান আছে। এ ধারায় আগাম জামিন দিতে পারেন হাইকোর্ট বিভাগ ও দায়রা জজ আদালত। এ ধারার অধীনে আদালত যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করতে পারেন এবং জামানত হ্রাস করতে পারেন। [ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪৯৮]
১,৭৮৯.
সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারার অধীনে আদালত কখন তলবকৃত দলিল পরিদর্শন করতে পারে না?
  1. যদি দলিল প্রাসঙ্গিক না হয়।
  2. যদি দলিল রাষ্ট্রীয় বিষয় সম্পর্কিত হয়।
  3. যদি দলিল ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করে।
  4. যদি দলিলের বৈধতা নিশ্চিত করা হয়।
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারার অধীনে যদি দলিল রাষ্ট্রীয় বিষয় সম্পর্কিত হয় তখন আদালত তলবকৃত দলিল পরিদর্শন করতে পারে না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারা অনুযায়ী যদি সাক্ষীকে দলিল দাখিলের জন্য সমন দেওয়া হয় এবং সেই দলিল সাক্ষীর দখলে থাকে, তাহলে সেই সাক্ষী দলিলটি আদালতে হাজির করতে বাধ্য থাকবেন।
-আদালতের আদেশে সমন দেওয়া হলে সাক্ষীকে তার দখলস্থ নথি বা দলিলগুলি আদালতে হাজির করতে হবে। দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো আপত্তি থাকলে তা পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে।
-যদি কোনো সাক্ষী আদালতের সমনকে অমান্য করেন এবং দলিল হাজির না করেন, তাহলে তিনি আদালতের অবমাননার দায়ে দণ্ডিত হতে পারেন।
-সুতরাং, দলিলের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে যেকোনো আপত্তি থাকলেও, সাক্ষীকে আদালতের সমন অনুসারে দলিল হাজির করতে হবে।

১. দলিল উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা:
যে সাক্ষীকে দলিল উপস্থাপনের জন্য আদালতে তলব করা হয়েছে, তার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা দলিলটি আদালতে নিয়ে আসতে হবে, যদিও তার উপস্থাপন বা গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে। এই ধরনের আপত্তি আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।

২. আদালতের পরিদর্শনের ক্ষমতা:
আদালত চাইলে দলিলটি পরিদর্শন করতে পারে, তবে যদি তা রাষ্ট্রীয় বিষয় সম্পর্কিত হয়, তাহলে আদালত এ ধরনের দলিল পরিদর্শনে বিরত থাকতে পারে। এছাড়া, আদালত প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণের জন্য অন্য প্রমাণ গ্রহণ করতে পারে।

৩. দলিল অনুবাদ:
যদি দলিল উপস্থাপনের জন্য তা অনুবাদ করা প্রয়োজন হয়, তাহলে আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে অনুবাদক বিষয়বস্তু গোপন রাখবেন, যদি দলিলটি সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন না করা হয়। যদি অনুবাদক এই নির্দেশনা অমান্য করেন, তাহলে তিনি দণ্ডবিধির ১৬৬ ধারার অধীনে অপরাধ করবেন।
----------------------
⇒ The Evidence Act, 1872-Section-162. Production of documents:
A witness summoned to produce a document shall, if it is in his possession or power, bring it to Court, notwithstanding any objection which there may be to its production or to its admissibility. The validity of any such objection shall be decided on by the Court. 

The Court, if it sees fit, may inspect the document, unless it refers to matters of State, or take other evidence to enable it to determine on its admissibility.

Translation of documents:
If for such a purpose it is necessary to cause any document to be translated, the Court may, if it thinks fit, direct the translator to keep the contents secret, unless the document is to be given in evidence: and, if the interpreter disobeys such direction, he shall be held to have committed an offence under section 166 of the Penal Code.
১,৭৯০.
তামাদি আইনে রিভিশনের তামাদির মেয়াদ কোথায় উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ১৪৯ অনুচ্ছেদ
  2. ১৫৭ অনুচ্ছেদ
  3. ১৮৩ অনুচ্ছেদ
  4. কোথাও উল্লেখ নেই
ব্যাখ্যা
• রিভিশনের তামাদির মেয়াদ তামাদি আইনের কোথাও উল্লেখ নেই। 

• তফসিলে মোকদ্দমা, আপীল এবং আবেদন দায়েরের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে। তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ বলবৎ আছে। তফসিলের ৩টি বিভাগে ৩ ধরণের বিষয়ের তামাদির মেয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে-
১. মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling suits]- অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।
২. আপিল, রিভিউ দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling appeals]- অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।
৩. বিভিন্ন দরখাস্ত (পিটিশন) দায়েরের তামাদির মেয়াদ [Limitation for filling applications and petitions]- অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

সাধারণত আদালতে, আপিলের তামাদি মেয়াদকেই রিভিশনের তামাদি হিসেবে গণ্য করা হয়।
১,৭৯১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪১ অনুযায়ী, ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন কাকে বলা হয়?
  1. যে প্রশ্নে আদালতের নির্দেশনা থাকে
  2. যে প্রশ্নে প্রশ্নকারী উত্তরের ইঙ্গিত দেয়
  3. যে প্রশ্নে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়া হয়
  4. যে প্রশ্নে উত্তরদাতার মতামত জানতে চাওয়া হয়
ব্যাখ্যা
⇒ যে প্রশ্নে প্রশ্নকারী নিজেই উত্তর কী হবে তা ইঙ্গিতে প্রকাশ করেন, তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।
- ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন হল এমন একটি প্রশ্ন যা উত্তরদাতার উত্তরকে প্রভাবিত করে এবং প্রশ্নকারী নিজের প্রত্যাশিত উত্তর ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন। এটি সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৪১-এ সংজ্ঞায়িত।
- তাই সঠিক উত্তর: খ) যে প্রশ্নে প্রশ্নকারী উত্তরের ইঙ্গিত দেয়।

উদাহরণ:
প্রশ্ন: “তুমি কি দেখেছিলে যে সে ছুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল?”
→ এই প্রশ্নে প্রশ্নকারী প্রত্যাশিত উত্তর “হ্যাঁ”– তা ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪১ ধারার বিধান ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন: প্রশ্নকারী প্রশ্নের যে উত্তর আশা বা ইচ্ছা করেন, প্রশ্নের মধ্যেই তার ইঙ্গিত দেওয়া হলে তাকে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন বলা হয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারার বিধান ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাবে না: বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা যাবে না।
যেসকল বিষয় ভূমিকামূলক অথবা বিতর্কিহীন অথবা যেসব বিষয় পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেন, সে সকল বিষয় সম্পর্কে আদালত অবশ্যই ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করার অনুমতি দিবেন।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪৩ ধারার বিধান যখন এরূপ প্রশ্ন করা যেতে পারে: জেরাতে ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে।
-------
⇒The Evidence Act, 1872-Section 141. Leading questions:
- Any question suggesting the answer which the person putting it wishes or expects to receive is called a leading question.
⇒The Evidence Act, 1872-Section 142.When they must not be asked:
- Leading questions must not, if objected to by the adverse party be asked in an examination-in-chief, or in a re-examination, except with the permission of the Court.
- The Court shall permit leading questions as to matters which are introductory or undisputed, or which have, in its opinion, been already sufficiently proved.
⇒The Evidence Act, 1872- Section 143. When they may be asked:
- Leading questions may be asked in cross-examination.
১,৭৯২.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রীলোক গর্ভবতী হলে হাইকোর্ট দণ্ড হ্রাস করে-
  1. অর্থদণ্ড দিতে পারে
  2. ১০ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারে
  3. ২০ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারে
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২ ধারার অধীন গর্ভবতী স্ত্রী লোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা যায়:-
- মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রীলোক গর্ভবতী হলে হাইকোর্ট তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।
------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section-382: Postponement of capital sentence on pregnant woman:
-If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life. 
১,৭৯৩.
দস্যুতার ক্ষেত্রে অনধিক কত জন সদস্য হতে পারে?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান: দস্যুতার সংজ্ঞা (Robbery)- চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তাদস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
⇒ দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে। দস্যুতাকে সহজ কথায় রাহাজানি বলে আখ্যায়িত করা হয়।
⇒ বলপূর্বক গ্রহণ কখন দস্যুতা বলে গণ্য হবে (When extortion is robbery)- বলপূর্বক গ্রহণের সময় অপরাধী স্বয়ং ভিকটিমের নিকটে বা আশেপাশে উপস্থিত থেকে তাৎক্ষনিক ভয়ের সৃষ্টি করলে বলপূর্বক গ্রহণ দস্যুতা বলে গণ্য হবে।
⇒ চুরি কখন দস্যুতা বলে গণ্য হবে (When theft is robbery)- চুরি করার উদ্দেশ্যে বা চুরি করার সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা অবৈধ আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন চুরি দস্যুতা বলে গণ্য হবে।

⇒ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারায় দস্যুতার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চুরি করার সময় কোন কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নেবে এবং বলপূর্বক গ্রহণের সময় কী কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নিবে সেটি বর্ণনা করা হয়েছে। চুরি অপরাধ সংঘটনকালে যদি death, hurt, wrongful restraint ইত্যাদি করে বা তা করার চেষ্টা করে বা তা করার তাৎক্ষণিক ভয় দেখায় তবে তা দস্যুতায় রূপ নেবে। কিন্তু extortion –এর ক্ষেত্রে উক্ত অপরাধগুলো সংঘটন করা নয়, বরং তা করার ভয় দেখালেই তা দস্যুতায় রূপান্তরিত হবে।
⇒ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারা মতে প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।

⇒ যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-
চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে দস্যুতা।

⇒ বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে  দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী-যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে।
⇒ ব্যাখ্যা (Explanation):- অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।

⇒ অর্থাৎ চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।

⇒ দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করে;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখায়;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করে; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকে।

⇒ দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।

⇒ অর্থাৎ দস্যুতার ক্ষেত্রে অনধিক ৪ জন সদস্য হতে পারে।
১,৭৯৪.
দেওয়ানী মামলায় সর্বোচ্চ কত টাকা adjournment cost দেয়া যেতে পারে?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ৩,০০০ টাকা
  3. ১,০০০ টাকা
  4. ৩,৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি মোকদ্দমায় মুলতবির খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে।

• আইনে মুলতবি [Adjournment] অর্থ হলো আদালতের কার্যপ্রণালিতে কোনো মামলার শুনানি পরবর্তী কোনো তারিখ পর্যন্ত স্থগিত বা মুলতবি করা। সাধারণত কোন মোকদ্দমার শুনানী শুরু হলে তা চলমান থাকবে। কিন্তু অনিবার্য অবস্থার প্রেক্ষাপটে মোকদ্দমার কোন পক্ষ আদালতে হাজির নাও হতে পারে এবং তখন শুনানী মুলতবির আবেদন করা প্রয়োজনীয় হয়।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ১৭নং আদেশে [Adjournment] বা মুলতবির বিধানসমূহ রয়েছে। আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখতে পারে। ১৭নং আদেশ অনুযায়ী মুলতবির কিছু সাধারন বিধান-

⇒ আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখতে পারে।
⇒ চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৬টি এবং খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি করে মোট ৯টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে।
⇒ অন্যদিকে চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে (At the Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি মুলতবি মঞ্জুর করতে পারে। তবে খরচ ছাড়া আদালত কোন মুলতবি মঞ্জুর করে না।
⇒ মুলতবির খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে।
⇒ মুলতবির আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
১,৭৯৫.
দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী আদালত কয়টি বিষয়ে কমিশন নিয়োগ দিতে পারেন?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৭৫ ধারায় বলা হয়েছে যে, ৪টি ক্ষেত্রে আদালত কমিশন নিয়োগ দিতে পারে,
(১) স্বাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য
(২) স্থানীয় তদন্তের জন্য
(৩) হিসাব পরীক্ষা ও সমন্বয় করার জন্য
(৪) বাটোয়ারা করার জন্য।
-----------
⇒ Section 75. Power of Court to issue commissions:
Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, the Court may issue a commission- 
(a) to examine any person; 
(b) to make a local investigation; 
(c) to examine or adjust accounts; or 
(d) to make a partition.
১,৭৯৬.
ক্রোক সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এর জন্য কোনটি প্রমাণ করতে হয়?
  1. সে পলাতক ছিলো না।
  2. হুলিয়ার নোটিশ পায় নাই।
  3. পরোয়ানা কার্যকরী করণ এড়ানোর জন্য আত্মগোপন করে নাই।
  4. উপরের সব কয়টি।
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৮৯ মোতাবেক যার সম্পত্তি ৮৮ ধারার (৭) উপধারার অধীন সরকারের হেফাজত ভুক্ত রয়েছে বা হয়েছে সে যদি ক্রোকের তারিখ হতে দুই বৎসরের মধ্যে যে আদালতের আদেশে সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছিল সেই আদালতের বা এই আদালত যে আদালতের অধীন সেই আদালতে ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির হয় বা তাকে গ্রেফতার করে হাজির করা হয় এবং এই মর্মে প্রমাণ করা উক্ত আদালতের সম্ভষ্টি বিধান করে যে সে পলাতক ছিল না বা পরোয়ানা কার্যকরীকরণ এড়াবার জন্য যে আত্মগোপন করেনি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির হবার জন্য যে হুলিয়ার নোটিশ পায় নাই, তাহলে ক্রোক সম্পর্কিত সমস্ত খরচ কাটিয়া নিয়ে উক্ত সম্পত্তি বা উহা বিক্রয় করা হয়ে থাকলে নীট মূল্য অথবা আংশিকভাবে বিক্রয় করা হয়ে থাকলে নীট মূল্য ও আংশিক সম্পত্তি তাকে প্রদান করতে হবে।
১,৭৯৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ হাইকোর্ট বিভাগকে কোন ক্ষমতা প্রদান করে?
  1. তদন্তের ক্ষমতা
  2. রিভিশন ক্ষমতা
  3. আপিল শুনানির ক্ষমতা
  4. ফাঁসি অনুমোদনের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪৩৯ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যা রিভিশন ক্ষমতা (Revisionary Power) প্রদান করে।
এই ধারায় বলা হয়েছে, হাইকোর্ট ডিভিশন যে কোনো মামলার নথি তলব করতে পারে বা তার নজরে আসা কোনো মামলার আদেশ, রায় বা কার্যক্রম খতিয়ে দেখে—
-তার সঠিকতা (Correctness)
- বৈধতা (Legality)
- যুক্তিসংগততা (Propriety)
- এবং কার্যক্রমের নিয়মিততা (Regularity)
পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে রিভিশনের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
- এছাড়া, হাইকোর্ট ডিভিশন ধারা ৪২৩, ৪২৬, ৪২৭ ও ৪২৮-এর অধীনে আপিল আদালতের যেসব ক্ষমতা রয়েছে, তা রিভিশন চলাকালেও প্রয়োগ করতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ ধারা- হাইকোর্ট ডিভিশনের রিভিশনের ক্ষমতা:
(১) হাইকোর্ট ডিভিশন নিজে যে মামলার নথি তলব করেছেন, বা যা আদেশের জন্য পাঠানো হয়েছে, বা যা অন্য কোনভাবে হাইকোর্ট ডিভিশনের গোচরীভূত হয়েছে, সেই মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন ইহার বিচারিক ক্ষমতাবলে ধারা-৪২৩, ৪২৬, ৪২৭ ও ৪২৮ এ আপিল আদালতকে বা ধারা-৪৩৮ এ কোন আদালতকে প্রদত্ত ক্ষমতাদির মধ্যে যে কোনটি প্রয়োগ করতে পারবেন এবং দণ্ড বাড়াতে পারবেন এবং রিভিশনে এতিয়ার সম্পন্ন আদালতের জজগণ যখন তাঁদের অভিমতে সমানভাবে বিভক্ত হন, তখন মামলাটি ধারা-৪২৯ এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করতে হবে।
(২) আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজে বা অ্যাডভোকেট কর্তৃক তার বক্তব্য পেশের সুযোগ না পেলে এই ধারা অনুসারে তার বিরুদ্ধে কোন আদেশ দেয়া যাবে না।
(৩) এই ধারায় সংশ্লিষ্ট দণ্ড কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়ে থাকলে আসামি যে অপরাধ সংঘটন করেছে মর্মে আদালত মনে করেন, সেই অপরাধের জন্য কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট যে দণ্ড দিতে পারতেন, আদালত তার চেয়ে বেশি দণ্ড দিবেন না।
(৪) খালাসের অভিমতকে দণ্ডের অভিমতের পরিবর্তন করার বা দায়রা জজ কর্তৃক ধারা- ৪৩৯ক এর অধীন প্রদত্ত আদেশ বিষয়ে রিভিশনে কোন কার্যক্রম গ্রহণ করার ক্ষমতা হাইকোর্ট ডিভিশনকে দেয়া হয়েছে মর্মে এই ধারায় কোন কিছু মনে করা যাবে না।
(৫) যেক্ষেত্রে এই বিধির অধীন আপিল চলে কিন্তু আপিল দায়ের করা হয়নি, সেক্ষেত্রে যে পক্ষ আপিল দায়ের করতে পারত সেই পক্ষের প্রচেষ্টায় রিভিশনের আকারে কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।
(৬) এই ধারায় যা-ই বর্ণিত থাকুক না কেন, কোন দণ্ডিত ব্যক্তিকে কেন তার দণ্ড বাড়ানো হবে না এমর্মে উপধারা-২ এর অধীন উহার কারণ দর্শাবার সুযোগ দেয়া হলে, উক্ত কারণ দর্শাবার সময় সে তার দণ্ডের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শাতে অধিকারী হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section- 439. High Court Division's powers of revision:
(1) In the case of any proceeding the record of which has been called for by itself or which has been reported for orders, or which otherwise comes to its knowledge, the High Court Division may, in its discretion, exercise any of the powers conferred on a Court of Appeal by sections 423, 426, 427 and 428 or on a Court by section 338, and may enhance the sentence; and, when the Judges composing the Court of Revision are equally divided in opinion, the case shall be disposed of in manner provided by section 429. 
(2) No order under this section shall be made to the prejudice of the accused unless he has had an opportunity of being heard either personally or by pleader in his own defence. 
(3) Where the sentence dealt with under this section has been passed by a Magistrate, the Court shall not inflict a greater punishment for the offence which, in the opinion of such Court, the accused has committed than might have been inflicted for such offence by a Metropolitan Magistrate or a Magistrate of the first class. 
(4) Nothing in this section shall be deemed to authorize the High Court Division to convert a finding of acquittal into one of conviction, or to entertain any proceedings in revision with respect to an order made by the Sessions Judge under section 439A.
(5) Where under this Code an appeal lies and no appeal is brought, no proceedings by way of revision shall be entertained at the instance of the party who could have appealed. 
(6) Notwithstanding anything contained in this section, any convicted person to whom an opportunity has been given under sub-section (2) of showing cause why his sentence should not be enhanced shall, in showing cause, be entitled also to show cause against his conviction.
১,৭৯৮.
Order 8 Rule 9 এর অধীন মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত কোন পক্ষকে অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশ করার আদেশ দিতে পারে?
  1. সাক্ষীকে
  2. বাদী পক্ষকে
  3. বিবাদী পক্ষকে
  4. বাদী বা বিবাদী পক্ষকে
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যেকোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment] করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।
১,৭৯৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৫২ অনুযায়ী, কত বছর বয়সের নিচে কোন বালিকা অপহৃত হলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যর্পণের আদেশ দিতে পারেন?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৬ বছর
  3. ১৫ বছর
  4. ১৪ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৫২ অনুযায়ী, যদি ১৬ বছর বয়সের নিচে কোনো বালিকাকে অপহরণ বা অবৈধভাবে আটক করার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঐ বালিকাকে তার স্বামী, মাতা-পিতা বা আইনগত অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদেশ দিতে পারেন। প্রয়োজনে জবরদস্তি বা বলপ্রয়োগ করেও আদেশ কার্যকর করতে পারেন।
- এই ধারা ১৬ বছরের কম বয়সী বালিকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই সঠিক উত্তর: খ) ১৬ বছর।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৫২- অপহৃতা নারী প্রত্যর্পণে বাধ্য করার ক্ষমতা:
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট কোন স্ত্রীলোক অথবা ১৬ বছরের নিম্ন বয়স্ক কোন বালিকাকে অপহরণ বা বে-আইনীভাবে আটক রাখার নালিশ করা হলে, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সেই স্ত্রীলোককে বা গ্রাহককে অবিলম্বে তার স্বামী, মাতা-পিতা, অথবা তার আইন সংগত অভিভাবকের নিকট প্রত্যর্পণের আদেশ দিতে পারবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure,1898-Section 552- Power to compel restoration of abducted females
Upon complaint made to a Metropolitan Magistrate or a Magistrate of the first class or District Magistrate on oath of the abduction or unlawful detention of woman, or of a female child under the age of sixteen years, for any unlawful purpose, he may make an order for the immediate restoration of such woman to her liberty, or of such female child to her husband, parent, guardian or other person having the lawful charge of such child, and may compel compliance with such order, using such force as may be necessary.
১,৮০০.
নারীর সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করানোর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ৭ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৫ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারার বিধান- স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করণ:
কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসবা হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 313⇒ Causing miscarriage without women's consent:
Whoever commits the offence defined in the last preceding section without the consent of the woman, whether the woman is quick with child or not, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.