বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন১২,৬০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ১২৫ / ১২৬ · ১২,৪০১১২,৫০০ / ১২,৬০৫

১২,৪০১.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী মোকদ্দমা দায়েরের পর বাদী কখন মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে পারে?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে
  2. রায় ঘোষণার পূর্বে
  3. যে কোন সময়
  4. বিচার্য বিষয় গঠনের পূর্বে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩ বিধি-১ এর বিধান মোকদ্দমা প্রত্যাহার কিংবা দাবীর আংশিক পরিত্যাগ:
১) মোকদ্দমা রুজু হওয়ার পর যে কোন সময় বাদি সকল বা যে কোন বিবাদির বিরুদ্ধে তার মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে কিংবা তার দাবীর আংশিক পরিত্যাগ করতে পারবে।
-----------
⇒ The Code of Civil Procedure,1908, Order-23 Rule-1. Withdrawal of suit or abandonment of part of claim.
(1) At any time after the institution of a suit the plaintiff may, as against all or any of the defendants, withdraw his suit or abandon part of his claim. 
১২,৪০২.
The Limitation Act, 1908 এর ৬ ধারা কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে
  2. মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে
  3. ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে
  4. আদালতের কার্যধারা পরিচালনার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ The Limitation Act, 1908-এর ৬ ধারা শুধুমাত্র মোকদ্দমা দায়ের, আদালতের কার্যধারা পরিচালনা, এবং ডিক্রি জারির আবেদন সংক্রান্ত তামাদি গণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৬ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি নাবালক, উন্মাদ, বা জড়বুদ্ধি হয়, তবে তার বিরুদ্ধে তামাদি গণনা শুরু হবে তখনই, যখন সে এই অপারগতা থেকে মুক্ত হবে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক মামলা (suit), আদালতের কার্যধারা (proceeding), বা ডিক্রি জারির আবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রযোজ্য।
- আপিল দায়ের একটি পৃথক অধিকার: মোকদ্দমা (suit) বা কার্যধারা (proceeding) দায়ের করার অধিকার এবং আপিল দায়ের করার অধিকার আলাদা। আপিল সাধারণত একটি আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়, যা স্বতন্ত্র এবং The Limitation Act-এর অন্যান্য ধারা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- তামাদির গণনার প্রভাব: ৬ ধারায় উল্লেখিত বৈধ অপারগতার কারণে যে সময় গণনা বন্ধ রাখা হয়, তা শুধুমাত্র মূল মামলা বা ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আপিলের ক্ষেত্রে নয়।

অর্থাৎ আপিলের জন্য নির্ধারিত সময়: আপিল দায়েরের জন্য The Limitation Act-এ স্বতন্ত্র সময়সীমা নির্ধারিত আছে (যেমন, ৩০ বা ৯০ দিন, নির্ভর করে আদেশ বা ডিক্রির ধরন অনুযায়ী)। এই সময়সীমা ৬ ধারার বিধান দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

সুতরাং, The Limitation Act, 1908-এর ৬ ধারা মোকদ্দমা দায়ের, কার্যধারা পরিচালনা, এবং ডিক্রি জারির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, আপিল দায়েরের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারিত আছে এবং তা ৬ ধারার আওতাভুক্ত নয়।
১২,৪০৩.
দণ্ডবিধির কত ধারায় "অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ" সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. ৩৫০
  2. ৩৫১
  3. ৩৬১
  4. ৩৬২
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫০-এ "অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ" সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর তার সম্মতি ছাড়া বল প্রয়োগ করে এবং সে বল প্রয়োগের উদ্দেশ্য হয় অপরাধ ঘটানো বা সেই বল প্রয়োগের ফলে অন্য ব্যক্তির শারীরিক ক্ষতি, ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি হতে পারে—তাহলে এটি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৫০ ধারার বিধান অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ
(ক) চ নদীতে নোঙ্গর করা একটি নৌকাতে বসে আছে। ক নোঙ্গর তুলে দিল এবং এইভাবে ইচ্ছাপূর্বক নৌকাটিকে নদীতে ভেসে যেতে দিল। এখানে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-তে গতি সঞ্চার করল, এবং তা করল একটি বস্তুকে এমনভাবে সঞ্চালিত করে, যে বস্তুটি সঞ্চালনের পর কোন ব্যক্তির অন্যকোন কাজ ব্যতীতই উহাতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সুতরাং ক-ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে এবং ক যদি এটা চ-এর সম্মতি ব্যতীত করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠান করা, অথবা সে যদি এইরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও কার্যটি করে থাকে যে, চ জখম, বিরক্তি বা ভীতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 350. Criminal force:
 Whoever intentionally uses force to any person, without that person's consent, in order to the committing of any offence, or intending by the use of such force to cause, or knowing it to be likely that by the use of such force he will cause injury, fear or annoyance to the person to whom the force is used, is said to use criminal force to that other. 
 
Illustrations
(a) Z is sitting in a moored boat on a river. A unfastens the moorings, and thus intentionally causes the boat to drift down the stream. Here A intentionally causes motion to Z, and he does this by disposing substances in such a manner that the motion is produced without any other action on any person's part. A has therefore intentionally used force to Z; and if he has done so without Z's consent, in order to the committing of any offence, or intending or knowing it to be likely that this use of force will cause injury, fear or annoyance to Z, A has used criminal force to Z. 
(h) A incites a dog to spring upon Z, without Z's consent. Here, if A intends to cause injury, fear or annoyance to Z, he uses criminal force to Z.
১২,৪০৪.
'ক' একটি দাঙ্গার সময় আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণকারীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে, কিন্তু ভুলক্রমে এক নিরপরাধ ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এক্ষেত্রে, দণ্ডবিধির কোন ধারাটি প্রযোজ্য হবে?
  1. ১০৫ ধারা
  2. ১০৬ ধারা
  3. ১০৭ ধারা
  4. ১০৮ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা-১০৬: আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষতি ঘটানো (Right of private defence against deadly assault when there is risk of harm to innocent person)-
যদি কোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে, যা যুক্তিসঙ্গতভাবে মৃত্যুর আশঙ্কা সৃষ্টি করে, আত্মরক্ষাকারী এমন পরিস্থিতিতে থাকে যেখানে সে নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষতির ঝুঁকি ছাড়া কার্যকরভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, তবে তার আত্মরক্ষার অধিকার সেই ঝুঁকি নেওয়া পর্যন্ত প্রসারিত হয়।

যেমন-
'ক'-কে খুন করার জন্য একদল লোক তাড়া করে। 'ক' আক্রমণকারী লোকদের প্রতি গুলিবর্ষণ না করলে 'ক'-এর মৃত্যু এড়ানো সম্ভব না; অন্যদিকে গুলিবর্ষণ করলে আক্রমণকারীদের পাশাপাশি কয়েকটি নির্দোষ শিশুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যারা ঐ আক্রমণকারী লোকদের সাথে মিশে আছে।

এই পরিস্থিতিতে ক যদি গুলিবর্ষণ করে এবং তার ফলে কোন শিশু ক্ষতিগ্রস্তও হয়, তবুও ক-এর অপরাধ হবে না। কেননা ১০৬ ধারামতে মারাত্মক আক্রমনের বিরূদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষতি বা মৃত্যু হলে তা অপরাধ নয়।
১২,৪০৫.
A, B-এর জন্য ভাড়া সংগ্রহের দায়িত্ব নেয়। A, C থেকে B-এর প্রাপ্য ভাড়া সংগ্রহ করেনি বলে B, A-এর বিরুদ্ধে মামলা করে। A দাবি করে যে, "C-এর কাছে B-এর কোনো ভাড়া পাওনা ছিল না।" এক্ষেত্রে C-এর বিবৃতি A-এর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে কত ধারায়?
  1. ১৭ ধারায়
  2. ১৮ ধারায়
  3. ১৯ ধারায়
  4. ২০ ধারায়
ব্যাখ্যা

ধারা ১৯- সেই ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি, যাদের অবস্থান বা দায় প্রমাণ করা প্রয়োজন:
যে ব্যক্তিদের অবস্থান (position) বা দায় (liability) কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে প্রমাণ করা প্রয়োজন হয়, তাদের দ্বারা প্রদত্ত বিবৃতি (statement) স্বীকারোক্তি (admission) হিসেবে গণ্য হবে — যদি সেই বিবৃতিগুলো ঐ ব্যক্তিদের নিজের অবস্থান বা দায় সম্পর্কে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় প্রাসঙ্গিক হতো, এবং যদি তা তারা সেই অবস্থানে থাকাকালীন বা দায়ে আবদ্ধ থাকাকালীন প্রদান করে থাকে।

উদাহরণ (Illustration):
A, B-এর জন্য ভাড়া সংগ্রহের দায়িত্ব নেয়। B, A-এর বিরুদ্ধে মামলা করে- কারণ A, C থেকে B-এর প্রাপ্য ভাড়া সংগ্রহ করেনি।
A দাবি করে যে, “C-এর কাছে B-এর কোনো ভাড়া পাওনা ছিল না।"
এই পরিস্থিতিতে, যদি C বলে থাকে যে, সে B-এর কাছে ভাড়া পাওনাদার ছিল, তাহলে C-এর এই বিবৃতি একটি Admission (স্বীকারোক্তি), এবং এটি A-এর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে, কারণ A অস্বীকার করছে যে C-এর কোনো দায় ছিল।

১২,৪০৬.
দণ্ডবিধির ৮২ ধারায় নয় বছরের কম বয়সী শিশুর কাজকে কীভাবে গণ্য করা হয়?
  1. অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে
  2. অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না
  3. আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে অপরাধ হবে
  4. কেবলমাত্র গুরুতর অপরাধ হলে অপরাধ হবে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৮২ অনুযায়ী, নয় বছরের কম বয়সী শিশু দ্বারা করা কোনো কাজই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না।
- অর্থাৎ, বয়স নয় বছরের কম হলে শিশু আইনের চোখে অপরাধী নয়, কোনো কাজের জন্য তাকে দায়ী করা যায় না।

⇒ দণ্ডবিধির  ৮২ ধারার বিধান নয় বৎসরের কম বয়সের শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ:- নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কোন কার্যই অপরাধ নয়।
-------- 
⇒ The Penal Code, 1860, Section 82. Act of a child under nine years of age:- Nothing is an offence which is done by a child under nine years of age.

১২,৪০৭.
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৩২৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট 'ক' কে ১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। 'ক' উক্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আপীল দায়েরের শর্তে জামিনের আবেদন করেন। 'ক' এর দরখাস্তটি ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর কত ধারায় আনীত হয়েছে?
  1. ৪৩৫
  2. ৪৩৯
  3. ৪২৬
  4. ৪২৮
ব্যাখ্যা
•ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪২৬ এ বলা হয়েছে- দণ্ডিত ব্যক্তির আপীল সাপেক্ষ আপীল-আদালত লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করে আদেশ দিতে পারবেন যে, আপীলকৃত দণ্ড বা আদেশ কার্যকরীকরণ স্থগিত থাকবে এবং আসামী আটক থাকলে আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, তাকে জামিনে বা তার নিজের মুচলেকায় মুক্তি দিতে হবে।
১২,৪০৮.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৪২ এর কার্যক্রমে অভিযুক্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়-
  1. চার্জশীটের প্রতি
  2. নির্ধারিত সাজার প্রতি
  3. গঠিত চার্জের প্রতি
  4. প্রাপ্ত সাক্ষ্যের প্রতি
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারার উদ্দেশ্য হলো আসামীর সাক্ষ্য গ্রহণ। আসামীর বিরুদ্ধে যে সকল সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, আসামী ঐ সকল সাক্ষ্য সম্পর্কে নিজের আবস্থান ব্যাখ্যা করবে। এই ক্ষেত্রে আদালতের গুরুতূপূর্ণ দায়িত্ব হলো সাক্ষ্যে আসামীর বিরুদ্ধে যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে সে বিষয় গুলোর প্রতি আসামীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেন আসামী সেই সকল বিষয় সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে
১২,৪০৯.
‘প্রশ্নাবলির মাধ্যমে আবিষ্কার’ এর ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের অনুমতি ব্যতীত কয় সেট প্রশ্নমালা দাখিল করা যায়?
  1. ১ সেট
  2. ২ সেট
  3. ৩ সেট
  4. ৫ সেট
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ নং আদেশে উদ্ঘাটন বা আবিষ্কার ও পরিদর্শন (Discovery and Inspection) বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী উদ্ঘাটন বা আবিষ্কার দুইভাবে হতে পারে। যথা-
- প্রশ্নের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by interrogatories) এবং 
- দলিলের সাহায্যে তথ্য উদঘাটন (Discovery by documents)।

আদেশ ১১, বিধি ১: জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তথ্য উদ্ঘাটন (Discovery by Interrogatories)-
যেকোনো মামলায়, বাদী বা বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে [ইস্যু নির্ধারণের তারিখ হতে দশ দিনের মধ্যে] প্রতিপক্ষ বা তার মধ্যে যেকোনো একজন বা একাধিক ব্যক্তিকে লিখিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ (interrogatories) প্রদান করতে পারে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে। এই জিজ্ঞাসাবাদগুলো প্রদান করার সময় সেগুলোর নিচে একটি নোট দিতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকবে—প্রত্যেক ব্যক্তি কোন কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য।

শর্তস্বরূপ:
- আদালতের অনুমতি ব্যতীত কোন পক্ষ অপর পক্ষকে ১ সেটের বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করবে না।
- এমন কোনও জিজ্ঞাসাবাদ যা মামলার প্রকৃত প্রশ্ন বা বিতর্কিত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তা অপ্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে—যদিও তা মৌখিক জেরা (oral cross-examination) চলাকালে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
১২,৪১০.
A, B কে একটি দেয়াল ঘেরা স্থানে প্রবেশ করতে বাধ্য করে এবং B কে সেখানে তালাবদ্ধ করে রাখে। A কোন অপরাধটি করেছে?
  1. অবৈধ আটক
  2. অপহরণ
  3. অবৈধ বাধা
  4. মনুষ্যহরণ
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৪০ ধারার বিধান- অবৈধ আটক:
যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তির চলাচলে অবৈধভাবে এমন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে যে, উক্ত ব্যক্তি নিৰ্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে পারে না, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অবরোধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ:
(ক) ক, চ-কে একটি দেয়াল-ঘেরা জায়গায় যেতে বাধ্য করে এবং সেখানে চ-কে তালাবদ্ধ করে রাখে। ফলে চ সে দেয়ালের মধ্যবর্তী নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেতে অসমর্থ হয়। ক চ-কে অবৈধভাবে অবরোধ বা আটক করেছে।

(খ) ক কোন অট্টালিকার সকল বহির্দ্বারে আগ্নেয়াস্ত্রে-সজ্জিত ব্যক্তিদের মোতায়েন করে চ-কে বলে যে, চ অট্টালিকা হতে নিষ্ক্রমণের চেষ্টা করলে আগ্নেয়াস্ত্র-সজ্জিত ব্যক্তিরা চ-এর প্রতি গুলিবর্ষণ করবে। ক অবৈধভাবে চ-কে অবরোধ করেছে।

Section 340- Wrongful confinement:
Whoever wrongfully restrains any person in such a manner as to prevent that person form proceeding beyond certain circumscribing limits, is said "wrongfully to confine" that person. 
 
Illustrations-
(a) A causes Z to go within a walled space, and locks Z in. Z is thus prevented from proceeding in any direction beyond the circumscribing line of wall. A wrongfully confines Z. 
(b) A places men with firearms at the outlets of a building, and tells Z that they will fire at Z if Z attempts to leave the building. A wrongfully confines Z.
১২,৪১১.
দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৯ ধারায় কোন আদালতে আপিল করার বিধান রয়েছে?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত
  4. ক, খ এবং গ
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৯ ধারার বিধান: সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল করা চলবে:
দেশের আদালতসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে যে সমস্ত বিধি প্রণয়ন করবেন, তৎসাপেক্ষে এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল করা চলবে-
ক) হাইকোর্ট বিভাগ বা চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন আদালত কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে;
খ) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এর মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে; এবং
গ) অতঃপর বর্ণিত বিধানানুসারে কোন মোকদ্দমা আপিল বিভাগের নিকট আপিলের যোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে তদ্রূপ মোকদ্দমায় প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে।

Section 109- When appeals lie to the Supreme Court:
Subject to such rules as may, from time to time, be made by the Supreme Court regarding appeals from the Courts of Bangladesh, and to the provisions hereinafter contained, an appeal shall lie to the Appellate Division.
(a) from any Judgment, decree or final order passed on appeal by the High Court Division or by any other Court of final appellate jurisdiction; 
(b) from any Judgment, decree or final order passed by the High Court Division in the exercise of original civil jurisdiction; and 
(c) from any Judgment, decree or final order, when the case, as hereinafter provided, is certified to be a fit one for appeal to the Appellate Division.
১২,৪১২.
যদি ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৬ ধারার অধীনে দেওয়া দণ্ড আপিলের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যায়, তবে মুচলেকার কী হবে?
  1. মুচলেকা বহাল থাকবে
  2. মুচলেকা বাতিল হয়ে যাবে
  3. মুচলেকার পরিমাণ কমানো হবে
  4. মুচলেকা নতুন করে সম্পাদন করতে হবে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মুচলেকা বাতিল হয়ে যাবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৬ অনুসারে, আদালত শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকা দিতে আদেশ দিতে পারে শুধুমাত্র তখনই, যখন কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয় এবং দণ্ডিত হয় নির্দিষ্ট অপরাধে।
তবে যদি ঐ দণ্ড আপিলের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যায়, তাহলে সেই ব্যক্তির দোষী সাব্যস্ত হওয়া আর থাকে না, এবং সেই কারণে তার বিরুদ্ধে ধারা ১০৬ অনুসারে মুচলেকার আদেশ আর কার্যকর থাকে না।
এটা সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং বিচারিক দৃষ্টান্ত অনুযায়ীও স্বীকৃত যে, মূল দণ্ড যদি বাতিল হয়, তবে মুচলেকার ভিত্তি (conviction) উঠে যায়। ফলে মুচলেকাও বাতিল হয়ে যায়।
→ অর্থাৎ ধারা ১০৬ শান্তি রক্ষার মুচলেকা দেওয়ার ক্ষমতা দেয় শাস্তির সময়। যদি সেই শাস্তিই বাতিল হয়, তাহলে মুচলেকা আর কার্যকর থাকে না।
- তাই খ) মুচলেকা বাতিল হয়ে যাবে — এই উত্তরটি সঠিক।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১০৬ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো অপরাধে দণ্ডিত হন যা: শান্তিভঙ্গ বা তা উসকে দেওয়া সংক্রান্ত, অথবা আসামি দ্বারা হুমকি প্রদর্শন (criminal intimidation) সংক্রান্ত, এবং আদালত মনে করেন যে, তাকে ভবিষ্যতে শান্তি বজায় রাখতে বাধ্য করা প্রয়োজন, তাহলে আদালত মুচলেকা (bond) প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন।
-এই মুচলেকার মেয়াদ সর্বোচ্চ হতে পারে ৩ (তিন) বছর।
- এই আদেশ দিতে পারেন: হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা আদালত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
- যদি দণ্ডটি আপিলে বাতিল হয়, তাহলে মুচলেকাও বাতিল হয়ে যাবে।
 অতএব, ধারা ১০৬ অনুসারে শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার সর্বোচ্চ সময়কাল ৩ বছর।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-106: Security for keeping the peach on conviction:
(1) Whenever any person accused of any offence punishable under Chapter VIII of the Penal Code, other than an offence punishable under section 143, section 149, section 153A or section 154 thereof, or of assault or other offence involving a breach of the peace, or of abetting the same, or any person accused of committing criminal intimidation, is convicted of such offence before High Court Division, a Court of Session, or the Court of a Metropolitan Magistrate, or a Magistrate of the first class, and such Court is of opinion that it is necessary to require such person to execute a bond for keeping the peace, such Court may, at the time of passing sentence on such person, order him to execute a bond for a sum proportionate to his means, with or `without sureties, for keeping the peace during such period, not exceeding three years, as it thinks fit to fix.
(2) If the conviction is set aside on appeal or otherwise, the bond so executed shall become void.
(3) An order under this section may also be made by an Appellate Court or by the High Court Division when exercising its powers of revision.

১২,৪১৩.
দেওয়ানি সমন জারির ক্ষেত্রে কুরিয়ার সার্ভিস তালিকা কে প্রস্তুত করবেন?
  1. সংশ্লিষ্ট বিচারক
  2. জেলা জজ
  3. সরকারের ডাক বিভাগ
  4. বাদীপক্ষের আইনজীবী
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ৯ (জারির জন্য সমন অর্জন অথবা প্রেরণ) -
(১) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে, বিবাদী সেটির এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় বসবাস করে বা সমন গ্রহণ করার ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি বিবাদীর পক্ষে যদি এরূপ এলাকার ভিতর বসবাস করে, তবে আদালত অন্য কোনরূপ নির্দেশ না দিলে হয় উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট স্বয়ং জারি করার লক্ষ্যে বা তাদের অধঃস্তন কোন ব্যক্তি দ্বারা অথবা উপ-ধারা(৪) এর বিধান অনুযায়ী জেলা জজ কর্তৃক তালিকাভুক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমন অর্পিত বা প্রেরিত হবে।

(২) উপযুক্ত কর্মকর্তা যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে সেখানকার না হয়ে অন্য কোন আদালতের কর্মকর্তাও হতে পারেন, এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তার নিকট ডাকযোগে বা আদালত যেভাবে নির্দেশ দিতে পারে অনুরূপ অন্য যে কোন উপায়ে প্রেরণ করা যাবে।

(৩) আদালত উপ-বিধি (১) তে বর্ণিত বিধানের অতিরিক্ত হিসেবে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদীকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করতে পারে এবং একইসঙ্গে ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে বা ইলেক্ট্রনিক মেইল সার্ভিস এর মাধ্যমে নিজ খরচে সমন প্রেরণের নির্দেশ দিবেন।

(৪) জেলা জজ উপ-বিধি(১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কুরিয়ার সার্ভিসের একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন (সময় সময় হালনাগাদসহ) এবং তার প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রের সকল দেওয়ানি আদালতসমূহকে তা অবহিত করবেন।

(৫) যখন সমন উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস এর নিকট প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত সমন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে সার্ভিস বা প্রেরণ করবেন এবং আদালতকে এতদবিষয়ে অবহিত করবেন: তবে শর্ত থাকে যে, যদি উপযুক্ত কর্মকর্তা বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণে ব্যর্থ হন, তাহলে উক্ত কর্মকর্তা অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং কুরিয়ারের ক্ষেত্রে,জেলা জজ প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে তা বাদ দিবেন।
১২,৪১৪.
দেওয়ানী মোকদ্দমায় চূড়ান্ত শুনানীর পূর্বে কোনো পক্ষ সর্বোচ্চ কতবার সময় পেতে পারে?
  1. ১২
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে দেওয়ানী মোকদ্দমায় মূলতবির আবেদন করতে হয়। আদালতে সময়ের প্রার্থনা (Time petition) করাই হলো মূলতবীর আবেদন । আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মূলতবি রাখতে পারে। চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৬টি এবং খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি করে মোট ৯টি মূলতবি মঞ্জুর করতে পারে। 

♦ অন্যদিকে চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে ( At the Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি মূলতবি মঞ্জুর করতে পারে; তবে খরচ ছাড়া আদালত কোন মূলতবি মঞ্জুর করেনা।

♦ মূলতবি খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে। মূলতবির আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
১২,৪১৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২ অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতিতে যদি একজন আসামীর দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার সর্বোচ্চ সাজা কত দিন হতে পারে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২ অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতিতে যদি একজন আসামীর দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার সর্বোচ্চ সাজা ২ বছর হতে পারে।

- এটি সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য, যেখানে গুরুতর অপরাধের জন্য বিচারের ব্যবস্থা করা হয় না, বরং লঘু অপরাধের জন্য দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া প্রযোজ্য।
- এই প্রক্রিয়ায় সাজা দিতে হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, যা গুরুতর অপরাধের জন্য প্রযোজ্য না।

- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৬২(২) অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচারের (Summary Trial) মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া যাবে না।
ধারা ২৬২(২)-এর বিধান:
"No sentence of imprisonment for a term exceeding two years shall be passed in the case of any conviction under this Chapter."
অর্থাৎ,  ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২-এ স্পষ্ট বলা আছে যে, সংক্ষিপ্ত বিচারে ২ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া যায় না।
১২,৪১৬.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক অনুযায়ী, নিচের কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য দিতে পারেন?
  1. ধর্ম সম্পর্কে
  2. আইন সম্পর্কে
  3. রাজনীতি সম্পর্কে
  4. ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৪৫ক (Section 45A) অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি শুধুমাত্র শারীরিক (physical) বা ফরেনসিক (forensic) প্রমাণ সম্পর্কিত বিষয়ে আদালতের অনুমতিক্রমে সাক্ষ্য দিতে পারেন।
এই ধারা স্পষ্টভাবে বলে: “Opinion of experts on physical or forensic evidence…”
অর্থাৎ, বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য বৈজ্ঞানিক বা প্রযুক্তিগত বিষয়ে সীমাবদ্ধ, যেমন: ডিএনএ বিশ্লেষণ, আঙুলের ছাপ (fingerprint), রক্তের নমুনা পরীক্ষা, অস্ত্র পরীক্ষার ফলাফল ইত্যাদি।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক: বিশেষজ্ঞের মতামত শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে:
(১) আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না, যতক্ষণ না তার প্রতিবেদনটি (উপ-ধারা ২ অনুযায়ী) সমস্ত পক্ষকে প্রদান করা হয়।
(২) বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদনটি আদালতের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হবে এবং কোনো পক্ষের পক্ষে নয়, এবং বিশেষজ্ঞের কর্তব্য হচ্ছে আদালতকে সাহায্য করা।
-----------
⇒ The Evidence Act, 1872 Section 45A. Opinion of experts on physical or forensic evidence:
(1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
১২,৪১৭.
নিম্নের কোনটি পাবলিক ডকুমেন্ট?
  1. বিক্রয় চুক্তি
  2. বিক্রয় দলিল
  3. দানপত্ৰ
  4. ডিক্রি
ব্যাখ্যা
♦ সাক্ষ্য আইনের ৭৪ থেকে ৭৮ ধারায় সরকারী দলিল সংক্রান্ত বিধানসমূহ আলোচনা করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের দলিলগুলোকে সাক্ষ্য আইন মতে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. সরকারী দলিল (Public Document); এবং ২. বেসরকারী/ব্যক্তিগত দলিল (Private Document)।

♦ধারা-৭৪: সরকারী দলিল (Public Document)- সরকারীভাবে রক্ষিত দলিলকে সরকারী দলিল বা Public document বলে। কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ যেমন-সংসদের আইন, সরকারি সংস্থা বা ট্রাইবুনাল সমূহের নথিপত্র অর্থাৎ দেশী বিদেশী আইন, বিচার বা শাসন বিভাগীয় কোন কর্মচারীর কার্যাবলির লিখিত বিবরণ ও নথিপত্রকে সরকারী দলিল বা Public Document বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারী দলিল বলতে সেই সমস্ত দলিলকে বোঝায় যে সমস্ত দলিল কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা ট্রাইব্যুনালের এবং বাংলাদেশের কোন অংশের বা কমনওয়েলথের বা বিদেশে সরকারী অফিসার, আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কার্যাবলী বা কাজের লিপিবদ্ধ বিবরণকে অন্তর্ভুক্ত করে।

♦সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারা মতে নিম্নলিখিত দলিল গুলি সরকারী দলিলঃ
(১) যে সমস্ত দলিল (ক) কোন সাবভৌম কর্তৃপক্ষের, (খ) সরকারী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং (গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের কোন অংশের অথবা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।
(২) বাংলাদেশে সরকারীভাবে রক্ষিত ব্যাক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

♦সাক্ষ্য আইনের ৭৪ ধারায় সরকারি দলিলের কোনো তালিকা না দিয়ে এর বৈশিষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে। আদালতের ডিক্রি, আদেশ, আরজি তা যখন আদালতে দাখিল করা হয় এবং সমনের আসল এগুলো সবই আদালতের কার্যক্রমের অংশ। সুতরাং এগুলো সবই সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হবে।

♦ধারা-৭৫: বেসরকারি দলিল (Private document)- সরকারি দলিল ব্যতীত সকল দলিলই বেসরকারি বা ব্যক্তিগত দলিল । কবিতা, উইল, বিক্রয় চুক্তি, দানপত্র, মূল বিক্রয় দলিল, কবলা দলিল, চিঠিপত্র সবই বেসরকারি দলিল বা Private document.
১২,৪১৮.
The Evidence Act 1872 এর ১১৮ ধারা অনুযায়ী কে সাক্ষী দেওয়ার যোগ্য নয়?
  1. অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু
  2. বিকৃত মস্তিস্কের ব্যক্তি যে প্রশ্নের ধরন বুঝতে পারে
  3. অতি বৃদ্ধ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- The Evidence Act 1872 এর ১১৮ ধারা অনুসারে যারা প্রশ্নের ধরন বুঝে উত্তর দানে সক্ষম তারা সাক্ষী হতে পারে। সুতরাং উল্লিখিত প্রশ্নে সকলেই উত্তর দিতে সক্ষম। তাই তারা সাক্ষী হওয়ার যোগ্য।
১২,৪১৯.
১ জুলাই, ২০০৪ তারিখে একটি রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তির অনুকুলে সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি বলবতের জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে বাদীকে আরজির সাথে জমা দেয়ার প্রয়োজন ছিল-
  1. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্যের ২৫%
  2. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্যের ৫০%
  3. অবশিষ্ট চুক্তি মূল্য
  4. কোন চুক্তিমূল্য দাখিল অপ্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, এর ধারা ২১ক হচ্ছে অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্যঃএই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিষ্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা উহার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।

♦সহজ কথা- স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে যদি-
i) চুক্তিটি লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হয়
ii) চুক্তির বিনিময় মূল্যের বাকি অংশ আদালতে জমা প্রদান করে।

♦The Specific Relief (Amendment)Act, 2004 ধারা 21A অনুযায়ী ২০০৫ সালের ১লা জুলাই থেকে একটি রেজিষ্ট্রিকৃত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবতের জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে বাদীকে আরজির সাথে অবশিষ্ট চুক্তি মূল্য জমা দিতে হবে।

♦অর্থাৎ বিক্রয় চুক্তিটি ১ জুলাই, ২০০৫ এর সময় হতে পরবর্তী যেকোন সময়ের হলে ২১ক ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে। ১ জুলাই ২০০৫ এর আগের বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে ২১ক এর বিধান প্রযোজ্য নয়।

 ♦যেহেতু ১ জুলাই, ২০০৪ তারিখে চুক্তিটি রেজিষ্ট্রী করা হয়েছে, সেহেতু অবশিষ্ট চুক্তিমূল্য আরজির সাথে দাখিল করার প্রয়োজন নেই।
১২,৪২০.
বাদীকে তার আরজিতে কোন ধরনের প্রতিকার সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে?
  1. সাধারণভাবে যে প্রতিকার দাবী করে
  2. বিকল্পভাবে যে প্রতিকার দাবী করে
  3. যে প্রতিকার আদালত সঙ্গত বিবেচনায় মঞ্জুর করে থাকে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১ থেকে ১৮ নং বিধিতে আরজি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

• আদেশ ৭ বিধি ৭-
আরজিতে বাদী সাধারণভাবে অথবা বিকল্পভাবে যে প্রতিকার দাবী করে তা সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতে হবে। অবশ্য আদালত কর্তৃক সঙ্গত বিবেচনায় যে প্রতিকার দাবী না করলেও মঞ্জুর করে থাকেন, তা আরজিতে দেখানোর কোন প্রয়োজন নেই। এই নিয়ম বিবাদির লিখিত বিবৃতিতে যে দাবী করা হয়, সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

Relief to be specifically stated-
Every plaint shall state specifically the relief which the plaintiff claims either simply or in the alternative, and it shall not be necessary to ask for general or other relief which may always be given as the Court may think just to the same extent as if it had been asked for. And the same rule shall apply to any relief claimed by the defendant in his written statement.
১২,৪২১.
দণ্ডবিধি ১৮৬০ কবে কার্যকর করা হয়?
  1. ১ মে ১৮৬২
  2. ১ জানুয়ারি ১৮৬০
  3. ১ জানুয়ারি ১৮৬২
  4. ৬ অক্টোবর ১৮৬০
ব্যাখ্যা
- প্রথম আইন কমিশন গঠিত হয় ১৮৩৪ সালে।
- প্রথম আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন লর্ড থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে।
- ১৮৬০ সালের ৬ অক্টোবর দণ্ডবিধি প্রণীত হয় যা ১৮৬২ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে ‘Indian Penal Code’ নামে কার্যকর হয়।
১২,৪২২.
সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারায় কোনটি সম্পর্কে বলা আছে?
  1. Criminal Conspiracy
  2. Common Intention
  3. Res Gestae
  4. A & B
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারায় Criminal Conspiracy (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) এবং Common Intention (অভিন্ন অভিপ্রায়) সম্পর্কে বলা আছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারার বিধান: অভিন্ন অভিপ্রায় প্রসঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীর কথা বা কাজ (Things said or done by conspirator in reference to common design): দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একযোগে কোন অপরাধ বা নালিশ যোগ্য অন্যায় কার্য করার ষড়যন্ত্র করেছে, এরূপ বিশ্বাস করার যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে; তবে তাদের যেকোন একজনের উক্তি, ষড়যন্ত্রের ইচ্ছা পোষণ করার পর তাদের ঐ সাধারণ ইচ্ছা সম্পর্কে তাদের মধ্যে যেকোন একজনের কোন কথা, কার্য বা লেখা ষড়যন্ত্রকারী বলে মনে করা হচ্ছে, এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক ঘটনা, ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য তা প্রাসঙ্গিক; তেমনি কোন ব্যক্তি যে উক্ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তা প্রমাণ করার জন্য তাও প্রাসঙ্গিক।

⇒ যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে কোন অপরাধ সংঘটন করে এবং সেই অভিন্ন অভিপ্রায়ের লক্ষ্যে করা কোন এক জনের কথা, কাজ বা বিবৃতি প্রাসঙ্গিক। অর্থাৎ অভিন্ন অভিপ্রায় প্রসঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীর কথা বা কাজ ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য প্রাসঙ্গিক হবে।

----------------------
Things said or done by conspirator in reference to common design:
Section 10. Where there is reasonable ground to believe that two or more persons have conspired together to commit an offence or an actionable wrong, anything said, done or written by any one of such persons in reference to their common intention, after the time when such intention was first entertained by any one of them, is a relevant fact as against each of the persons believed to be so conspiring, as well for the purpose of proving the existence of the conspiracy as for the purpose of showing that any such person was a party to it.
১২,৪২৩.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কোন পর্যায়ে মঞ্জুর করা যেতে পারে?
  1. মামলার প্রথম শুনানির সময়
  2. মামলার রায়ের পর্যায়ে
  3. মামলার বিচার্য বিষয় গঠনের পর্যায়ে
  4. মামলার যেকোনো পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫৩ ধারার বিধান:
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোনো পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।

চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
- চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল মাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
----------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-53. Temporary injunctions, Perpetual injunctions:
- Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.

- A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit: the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
১২,৪২৪.
দণ্ডবিধির কত ধারায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিশেষাধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে?
  1. ৫৩ক ধারায়
  2. ৫৫ক ধারায়
  3. ৫৫ ধারায়
  4. ৫৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫৫ক ধারায় বলা হয়েছে, ৫৪ ও ৫৫ ধারার কোন কিছু রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, শাস্তি কমানো, লাঘব বা মওকুফের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
- সরকার দণ্ডবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে এবং ৫৫ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস করে যে কোন দণ্ডে রূপান্তর করতে পারে । 
- সরকার দণ্ডবিধির ৫৪ ও ৫৫ ধারামতে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দণ্ড হ্রাস বা মওকুফ করতে পারে এবং রাষ্ট্রপতির ৫৫ক ধারামতে ক্ষমা প্রদর্শন, শাস্তি কমানো, লাঘব বা মওকুফ করতে পারে।
অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৫৫ক ধারায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিশেষাধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে।

⇒ সংবিধানের আওতায় ক্ষমা প্রদর্শন- বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৯ নং অনুচ্ছেদ মতে রাষ্ট্রপতি কোন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দণ্ড হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।
প্রাণ-ভিক্ষা: মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধীরা সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ মতে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ-ভিক্ষা করে থাকেন।
--------------------------------
The penal Code,1860: Section-55A. Saving for President’s prerogative:
-Nothing in section fifty-four or section fifty-five shall derogate from the right of the President to grant pardons, reprieves, respites or remissions of punishment.
১২,৪২৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক ধারার বিধান মতে মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে?
  1. ১০
  2. ২১
  3. ১৭
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার বিধান মতে মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে।
অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে। মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে।
- যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।
⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারি করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারি করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন,২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
⇒মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।
------------
⇒ CPC Section-89A(4) Within ten days from the date of reference under sub-section (1), the parties shall inform the Court in writing whom they have appointed as mediator, and if the parties fail to appoint the mediator during this time, the Court shall, within seven days, appoint a mediator from the panel as mentioned in sub-section (10) and the mediation under this section shall be concluded within 60 (sixty) days from the day on which the Court is so informed, or the dispute or disputes are referred to Legal Aid Officer, or a mediator is appointed by the Court, as the case may be, unless the Court of its own motion or upon a joint prayer of the parties, extends the time for a further period of not exceeding 30 (thirty) days.
১২,৪২৬.
মুচলেকার আদেশ অনুযায়ী, মুচলেকা প্রদান না করলে আদালত কত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করতে পারে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৩(৩) ধারামতে মুচলেকার আদেশ অনুযায়ী মুচলেকা প্রদান না করলে আদালত অনধিক ৩ বছরের জন্য কারাদন্ড প্রদান করতে পারে।
-----------------------------------
Imprisonment in default of security (Proceedings when to be laid before High Court Division or Court of Sessions)

♦ section 123(3) The Sessions Judge, after examining such proceedings and requiring from the Magistrate any further information or evidence which he thinks necessary, may pass such order on the case as he thinks fit: 
 
Provided that the period (if any) for which any person is imprisoned for failure to give security shall not exceed three years.
১২,৪২৭.
‘X’ কোন অজুহাত ছাড়াই জনতার উপর একটি গোলাভর্তি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করে এবং তাদের মধ্যে একজনকে নিহত করে। 'X'এর অপরাধ কি?
  1. নিন্দনীয় নরহত্যা
  2. হত্যা
  3. খুন
  4. কোনটি নয়।
ব্যাখ্যা
♦The Penal Code, 1860 এর ৩০০ ধারায় বলা হয়ছেঃ খুনের যে সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।
♦ ‘X’ খুনের অপরাধে দোষী। যদিও কোন বিশেষ ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য তার পূর্বকল্পিত অভিসন্ধি ছিল না। কিন্তু সে জানতো তার এই কাজের ফলে যেকারো মৃত্যু ঘটতে পারে।
১২,৪২৮.
মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যেকোন সময় অভিযোগকারী কর্তৃক নালিশ প্রত্যাহারের ফলাফল-
  1. অভিযোগকারীকে শাস্তি(Punishment)
  2. অভিযুক্তকে মুক্তি(Release)
  3. অভিযুক্তকে খালাস(Acquittal)
  4. অভিযুক্তকে অব্যাহতি(Discharge)
ব্যাখ্যা
• চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যেকোন সময় অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে খালাস(Acquittal) দিবে।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৮ এ অভিযোগকারী কর্তৃক নালিশ প্রত্যাহারের ফলাফল দেয়া হয়েছে-
এই ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যে কোন সময় অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করতে পারে।অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে খালাস(Acquittal) দিবে।
[If a complainant,at any time before a final order is passed in any case under this Chapter,satisfies the Magistrate that there are sufficient grounds for permitting him to withdraw his complaint the Magistrate may permit him to withdraw the same,and shall thereupon acquit the accused.]

• অপরদিকে,৪৯৪ ধারা অনুযায়ী পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের সম্মতিতে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রায় ঘোষণার পূর্বে প্রত্যাহার করতে পারে। পাবলিক প্রসিকিউটর অভিযোগ গঠনের আগে মামলা প্রত্যাহার করলে,আদালত অভিযুক্তকে অব্যাহতি(Discharge) দিতে পারে আর অভিযোগ গঠনের পরে মামলা প্রত্যাহার করলে,আদালত অভিযুক্তকে খালাস(Acquittal) দিতে পারে।
১২,৪২৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯খ ধারার বিধান কী?
  1. Mediation
  2. Arbitration
  3. Special provisions for mediation
  4. Mediation in Appeal.
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯খ ধারায় সালিশ বা Arbitration এর বিধান রয়েছে। ৮৯খ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী আদালত কোন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিরোধীয় বিষয়টি সালিশের নিকট পাঠাতে পারেন এবং এই জন্য মোকদ্দমার পক্ষগণ মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে তা তুলে নেওয়ার জন্য আদালতের নিকট আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করবেন এবং মোকদ্দমা তুলে নেওয়ার অনুমতি দিবেন। তারপর সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী বিরোধটি নিষ্পত্তি করতে হবে অর্থাৎ কোন বিরোধ সালিশে (Arbitration) পাঠানো হলে তা সালিশ আইন, ২০০১ অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।

⇒তবে এই ক্ষেত্রে কোন কারণে সালিশ অনুষ্ঠিত না হলে বা সালিশের রোয়েদাদ প্রদত্ত না হলে উক্ত মোকদ্দমাটি পক্ষগণ পুনঃ দাখিল করতে পারবেন।

⇒ সর্বশেষ ২০১২ সালে দেওয়ানী কার্যবিধির বিকল্প বিরোধ সংক্রান্ত বিধানগুলো (ধারা-৮৯ক থেকে ৮৯৬) সংশোধন করা হয়। এছাড়া ২০১৭ সালের সংশোধনী অনুযায়ী জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা কোনো দেওয়ানী মামলায় একজন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে।
-----------------------
⇒ CPC Section-89B. Arbitration:
(1) If the parties to a suit, at any stage of the proceeding, apply to the Court for withdrawal of the suit on ground that they will refer the dispute or disputes in the suit to arbitration for settlement, the Court shall allow the application and permit the suit to be withdrawn; and the dispute or disputes, thereafter, shall be settled in accordance with Salish Ain, 2001 (Act No. 1 of 2001) so far as may be applicable:
 
Provided that, if, for any reason, the arbitration proceeding referred to above does not take place or an arbitral award is not given, the parties shall be entitled to re-institute the suit permitted to be withdrawn under this sub-section. 
 
(2) An application under sub-section (1) shall be deemed to be an arbitration agreement under section 9 of the Salish Ain, 2001 (Act No. 1 of 2001).
১২,৪৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা কোন ধরনের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. পরোয়ানা সহিত গ্রেফতার
  2. ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গ্রেফতার
  3. বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার
  4. সাধারন নাগরিক কর্তৃক গ্রেফতার
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে চব্বিশ ঘন্টার বেশী সময় আটক রাখা যাবে না:
কোন পুলিশ অফিসার বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারকৃত কোন ব্যক্তিকে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যৌক্তিক সময়ের চাইতে অধিক কাল আটক রাখবেন না এবং ১৬৭ ধারার বিধান অনুসারে কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের বিশেষ আদেশ না থাকলে এরূপ আটকের সময় গ্রেফতারের স্থান হতে ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে যাবার সময় বাদ দিয়ে ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার বেশী হবে না।

Section 61: Person arrested not to be detained more than twenty-four hours-
No police-officer shall detain in custody a person arrested without warrant for a longer period than under all the circumstances of the case is reasonable, and such period shall not, in the absence of a special order of a Magistrate under section 167, exceed twenty-four hours exclusive of the time necessary for the journey from the place of arrest to the Magistrate's Court.
১২,৪৩১.
একটিন বাড়ির চুরির ঘটনায় গৃহকর্মীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। গৃহকর্মী যুক্তি দেখান যে, সে ঘটনার সময় বাইরের বাজারে কেনাকাটা করছিলেন।- সাক্ষ্য আইনের কত ধারার সাথে উক্ত ঘটনা সম্পর্কযুক্ত?
  1. ৭ ধারা
  2. ৯ ধারা
  3. ১১ ধারা
  4. ১৩ ধারা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১ অনুসারে, অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণ করা হলে, তা ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে পারে।

যখন কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তখন সে Plea of alibi দিয়ে দাবি করতে পারে যে সে অপরাধের সময় অন্য কোথাও উপস্থিত ছিল এবং সুতরাং অপরাধে জড়িত থাকতে পারে না। 'Plea of alibi' হল একটি আইনগত জবাব, যা কোনো অপরাধীকে নিজেকে দোষমুক্ত প্রমাণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হল "অন্যত্র উপস্থিতি"। এটি হল একটি বিশেষ প্রকৃতির অপরাধমুক্তির প্রমাণ যেখানে প্রসিকিউটরদের দাবিকৃত অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ,
যদি কাউকে খুনের অভিযোগ আনা হয়, তাহলে সে Plea of alibi দিয়ে দাবি করতে পারে যে সে খুনের সময় অন্য কোথাও ছিল এবং তার অনুপস্থিতির প্রমাণ দেখাতে পারে। এটি তাকে দোষী সাব্যস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
১২,৪৩২.
ডিক্রি জারির মাধ্যমে ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল লাভের জন্য ক্রেতা কর্তৃক মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৩৮ অনুযায়ী, ডিক্রি জারির মাধ্যমে ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল লাভের জন্য ক্রেতা কর্তৃক মামলা দায়ের করার তামাদি মেয়াদ ১২ বছর। এই মেয়াদ সম্পত্তি বিক্রয় চূড়ান্ত হওয়ার তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

- ডিক্রি জারির মাধ্যমে ক্রয়কৃত সম্পত্তি বলতে আদালতের ডিক্রি (রায়) অনুযায়ী নিলাম বা বিক্রয়ের মাধ্যমে ক্রয়কৃত সম্পত্তিকে বোঝায়।
- দখল লাভের জন্য মামলা বলতে ক্রেতা কর্তৃক সম্পত্তির দখল নেওয়ার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করা বোঝায়।

এই মামলা দায়ের করার জন্য সম্পত্তি বিক্রয় চূড়ান্ত হওয়ার তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
- যদি এই সময়সীমার মধ্যে মামলা দায়ের না করা হয়, তবে মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না।
১২,৪৩৩.
Which section of the Penal Code defines "Abduction"?
  1. Section 361
  2. Section 362
  3. Section 363
  4. Section 364
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৬২ ধারার বিধান অপহরণ বা মনুষ্যহরণ:- যদি কোন ব্যক্তি, অপর কোন ব্যক্তিকে কোন স্থান হতে গমন করার জন্য জোরপূর্বক বাধ্য করে বা কোন প্রতারণামূলক উপায়ে প্রলুব্ধ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ ব্যক্তিকে অপহরণ করে বলে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৬৩ ধারার বিধান মনুষ্য হরণের সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি কাউকে বাংলাদেশ হতে অথবা আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 362. Abduction:- Whoever by force compels, or by any deceitful means induces, any person to go from any place, is said to abduct that person.

⇒ The Penal Code, 1860- Section 363. Punishment for kidnapping:- Whoever kidnaps any person from Bangladesh or from lawful guardianship, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
১২,৪৩৪.
সাক্ষ্য আইন অনুসারে নিচের কোন ক্ষেত্রে আদালত বিশারদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে?
  1. বিদেশী আইনের প্রশ্নে 
  2. বিজ্ঞান বিষয়ে
  3. হস্তলিপি সনাক্তকরণের ক্ষেত্রে 
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ৪৫ ধারা অনুসারে উপরিউক্ত সবগুলো ক্ষেত্রে আদালত বিশারদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে

সাক্ষ্য আইন ১৮৭২,ধারা ৪৫: বিশারদের অভিমত: যখন কোনো বিদেশী আইন, কিংবা বিজ্ঞান বা চারুকলা বিষয়ে, কিংবা হস্তাক্ষর বা টিপসহির সাদৃশ্যের প্রশ্নে আদালতকে কোনো অভিমতে উপনীত হইতে হয়, তখন সংশ্লিষ্ট বিদেশী আইন, কিংবা বিজ্ঞান বা চারুকলা বিষয়ে কিংবা হস্তাক্ষর বা টিপসহির সাদৃশ্যের প্রশ্নে যে সকল লোকের বিশেষ পারদর্শিতা আছে, তাহাদের অভিমত প্রাসঙ্গিক ঘটনা।
-------------------
The Evidence Act 1872, Section 45,Opinion of Experts: When the Court has to form an opinion upon a point of foreign law, or of science, physical or forensic evidence or digital record, or art, or as to identity of hand writing or finger impression or footprint or palm impression or iris impression or typewriting or usage of trade or technical terms or identity of person or animal, the opinion upon that point of person specially skilled in such foreign law, science, physical or forensic evidence or digital record or art, or in questions as to identity of handwriting or finger impression, footprint, palm impression, typewriting, usage of trade, technical term or identity of person or animal, as the case may be, are relevant facts.

১২,৪৩৫.
সর্বনিম্ন কতজন ব্যক্তির অংশগ্রহণে দস্যুতা সংঘটিত হতে পারে?
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
♦দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।
♦দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখিয়েছিল;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করেছিল; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।
দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।
১২,৪৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২২-এর অধীনে দখল পুনরুদ্ধারের আদেশ কখন দেওয়া যেতে পারে?
  1. যেকোনো সময়
  2. শুধু দণ্ডাদেশ প্রদানের সময়
  3. মামলা দায়েরের ৩ মাসের মধ্যে
  4. দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ১ মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২২ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, শক্তি প্রদর্শন বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কাউকে কোনো স্থাবর সম্পত্তি থেকে বেদখল করে এবং সেই অপরাধে দণ্ডিত হয়, তবে আদালত চাইলে দণ্ডাদেশ প্রদানের সময় বা দণ্ডের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধারের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২২ ধারার বিধান:
(১) যখন কোন ব্যক্তি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, বা শক্তি প্রদর্শন বা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন সহযোগে কৃত অপরাধে দণ্ডিত হয়, এবং আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, এরূপ বল প্রয়োগ বা শক্তি প্রদর্শন বা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দ্বারা কোন ব্যক্তিকে কোন স্থাবর সম্পত্তিতে বেদখ করা হয়েছে, তখন আদালত উপযুক্ত মনে করলে উক্ত ব্যক্তিকে দণ্ডদানের সময় বা এই দণ্ডের তারিখ হতে একমাসের মধ্যে যেকোনো সময় বেদখল হওয়া ব্যক্তিকে উক্ত সম্পত্তির দখল দেওয়ার আদেশ দিতে পারবেন।
(২) কোন ব্যক্তি দেওয়ানী মামলার দ্বারা এরূপ স্থাবর সম্পত্তিতে কোন অধিকার বা স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে উক্ত আদেশ দ্বারা তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
(৩) যেকোনো আপিল আদালত, দণ্ড অনুমোদন, রেফারেন্স বা রিভিশন আদালত এই উপধারার অধীন আদেশ দিতে পারবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 522. Power to restore possession of immovable property:
(1) Whenever a person is convicted of an offence attended by criminal force or show of force or by criminal intimidation and it appears to the Court that by such force or show of force or by criminal intimidation any person has been dispossessed of any immovable property, the Court may, if it thinks fit, when convicting such person or at any time within one month from the date of the conviction order the person dispossessed to be restored to the possession of the same.
(2) No such order shall prejudice any right or interest to or in such immovable property which any person may be able to establish in a civil suit.
(3) An order under this section may be made by any Court of appeal, confirmation, reference or revision.
১২,৪৩৭.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুযায়ী কোন পক্ষ নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে?
  1. ১৫২ ধারা
  2. ১৫৩ ধারা
  3. ১৫৪ ধারা
  4. ১৫৫ ধারা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারা অনুযায়ী কোন পক্ষ নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে।

• ১৫৪ ধারার বক্তব্য অনুযায়ী- বিরুদ্ধ পক্ষ জেরায় যেসব প্রশ্ন করতে পারে, সেসব প্রশ্ন যদি কোন পক্ষ নিজের সাক্ষীকে করার অনুমতি চায়, আদালত তা করার অনুমতি দিতে পারে। এরূপ সাক্ষীকে বৈরী/প্রতিকূল সাক্ষী (Hostile witness) বলে ।

বৈরী সাক্ষীকে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের জেরা করার অনুমতি দান করা আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন আদালতের অনুমতি নিয়ে যে পক্ষ সাক্ষী নিয়ে আসে, সে পক্ষ নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। এ ধরনের সাক্ষী হল বৈরী (Hostile) সাক্ষী।

সাধারণত জেরা করার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। এরূপ কাজ কোন মামলার বিরুদ্ধ পক্ষ করে থাকে, তবে ১৫৪ ধারার অধীন সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের সাক্ষীকে জেরা করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।
১২,৪৩৮.
দেওয়ানি কার্যবিধিতে কত সালে মধ্যস্থতা (Mediation) বাধ্যতামূলক করা হয়?
  1. ২০০৩ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০০৩ সালে প্রথম বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) বিধান সংযোজন করা হয় এবং ধারা ৮৯ ক, ৮৯খ,৮৯গ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পূর্বে তা ঐচ্ছিক ছিল কিন্তু ২০১২ সালে দেওয়ানি কার্যবিধিতে মধ্যস্থতা (Mediation) বাধ্যতামূলক করা হয়। ধারা ৮৯ক তে 'may' এর পরিবর্তে 'shall' শব্দটি প্রতিস্থাপন করা হয়।

• দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি (২) পন্থা বর্ণিত হয়েছে
১- মধ্যস্থতা (Mediation)
২- সালিশী (Arbitration)

মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে। মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।

মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বইচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে। সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপীল বা রিভিশন চলবে না। দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

Section: 89A(1)-
Except in a suit under the Artha Rin Adalat Ain, 2003 (Act No. 8 of 2003), after filing of written statement, if all the contesting parties are in attendance in the Court in person or by their respective pleaders, the Court shall, by adjourning the hearing, mediate in order to settle the dispute or disputes in the suit, or refer the dispute or disputes in the suit to the concerned Legal Aid Officer appointed under the Legal Aid Act, 2000 (Act No. 6 of 2000), or to the engaged pleaders of the parties, or to the party or parties, where no pleader or pleaders have been engaged, or to a mediator from the panel as may be prepared by the District Judge under sub-section (10), for undertaking efforts for settlement through mediation.
১২,৪৩৯.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ২৪ ধারানুযায়ী জেলা জজ কর্তৃক মামলা বদলির ক্ষেত্রে ___________।
  1. শুনানী আবশ্যক কিন্তু নোটিশ নয়
  2. নোটিশ ও শুনানী আবশ্যক
  3. নোটিশ আবশ্যক কিছু শুনানী নয়
  4. নোটিশ ও শুনানী কোনোটিই আবশ্যক নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ২৪ স্থানান্তর ও প্রত্যাহারের সাধারণ ক্ষমতা:

(১) মামলার যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে, সকলপক্ষকে নোটিশ দিয়া এবং তাদের কারো বক্তব্য শুনার ইচ্ছা করলে তা শ্রবণ করে অথবা কোন নোটিশ না দিয়া স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা জেলা আদালত যে কোন স্তরে -

ক) তার সম্মুখে বিচারাধীন কোন মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম তার অধীনস্থ এবং ইহা বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন কোন আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্য স্থানান্তরিত করতে পারেন, অথবা খ) তার অধীনস্থ কোন আদালত হতে কোন মামলা, আপীল বা অন্যান্য কার্যক্রম প্রত্যাহার করতে পারেন, এবং
১. ইহার বিচার বা নিস্পত্তি করতে পারেন, অথবা
২. ইহার বিচার বা নিম্পত্তি করার উপযুক্ত কোন আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্যে স্থানান্তর করতে পারেন, অথবা
৩. যে আদালত হতে উহা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই আদালতে বিচার বা নিস্পত্তির জন্য প্রেরণ করতে পারেন।
১২,৪৪০.
স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার জন্য চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য কখন পরিশোধ করতে হয় ?
  1. মোকদ্দমা দায়েরেরে ১ বছর পূর্বে
  2. মোকদ্দমা দায়েরেরে ১ বছরের মধ্যে
  3. মোকদ্দমা দায়েরের সময়
  4. চুক্তিভঙ্গের তারিখ হতে ১ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা

২১ক, বিক্রয়ের জন্য অনিবন্ধিত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না: এই আইন বা আপাতত বলবৎঅন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাইবে না যদিনা-
(ক ) চুক্তিটি লিখিত এবং নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর অধীন নিবন্ধিত হয়, হস্তান্তরগ্রহীতা সম্পত্তি বা ইহার অংশ বিশেষের দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তির বিনিময় মূল্যের অবশিষ্ট অংশ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলা দায়ের করিবার সময় আদালতে জমা প্রদান করা হয়।
------------------------
21A, Unregistered Contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless-
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

১২,৪৪১.
পুলিশ তদন্তের সময় সাক্ষীর মৌখিক বক্তব্য লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করতে পারে কোন ধারার অধীনে?
  1. ১৬০ ধারায়
  2. ১৬১ ধারায়
  3. ১৬২ ধারায়
  4. ১৭৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারার বিধান অনুযায়ী, পুলিশ তদন্তের সময় সাক্ষীর মৌখিক বক্তব্য লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায়- তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মামলার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ের সাথে পরিচিত ব্যক্তির মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে। তার নিকট জিজ্ঞাসিত মামলা সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সে বাধ্য থাকবে কিন্তু যে প্রশ্নের জবাব উক্ত সাক্ষীকে ফৌজদারি অভিযোগে দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির দিকে টেনে নিতে পারে, সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে সাক্ষী বাধ্য নয়।
========
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-161: Examination of witnesses by police:
(1) Any police-officer making an investigation under this Chapter or any police-officer not below such rank as the Government may, by general or special order, prescribe in this behalf, acting on the requisition of such officer may examine orally any person supposed to be acquainted with the facts and circumstances of the case.
(2) Such person shall be bound to answer all questions relating to such case put to him by such officer, other than questions the answers to which would have a tendency to expose him to a criminal charge or to a penalty or forfeiture.
(3) The police-officer may reduce into writing any statement made to him in the course of an examination under this section, and if he does so he shall make a separate record of the statement, of each such person whose statement he records.
১২,৪৪২.
আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করা না হলে, মোকদ্দমা-
  1. ৩য় পক্ষ চালু করতে পারবে
  2. স্থগিত থাকবে
  3. খারিজ হবে
  4. রাষ্ট্রপক্ষ চালিয়ে যাবে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী ৩টি বিষয়কে আইনগত অপারগতা (Legal Disability) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. নাবালকত্ব [Minority]
২. উন্মাদ [Insanity]
৩. জড়বুদ্ধি বা চরম বুদ্ধিহীনতা [Idiocy]

• আইনগত অপারগতার ক্ষেত্রে যখন মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে মামলা করার অধিকারী কোন ব্যক্তি যে সময়ে সে মামলা করার অধিকারী হয় উক্ত সময়ে সে নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকলে তার মামলা করার তামাদির মেয়াদ গণনা করা শুরু হবে যখন তার এই আইনগত অপারগতা অর্থাৎ নাবালকত্ব, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধিতার অবসান হবে তখন থেকে।

• ধারা ৮ হচ্ছে ৬ ও ৭ ধারার আইনগত অপারগতার ব্যতিক্রম। ৮ ধারায় উল্লেখিত বিশেষ ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ৬ ও ৭ ধারায় উল্লেখিত আইনগত অপারগতা বিশ্লেষণ করতে হবে। নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ৬ এবং ৭ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না-

১. অগ্রক্রয়ের (pre-emption) অধিকার বলবৎকরণের মামলায়, এবং

২. আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর বা আইনগত অক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার তিন (৩) বছরের বেশী সময় তামাদির মেয়াদ থাকবে না এবং সর্বোচ্চ এই ৩ বৎসরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। অর্থাৎ যেক্ষেত্রে ৬ বা ৭ ধারায় আইনগত অপারগতার সুবিধা প্রার্থনা করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত আইনগত অক্ষমতার অবসান হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে অন্যথায় মোকদ্দমা খারিজ হবে।
১২,৪৪৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৩ ধারা অনুসারে, ৫১ ধারায় জব্দকৃত বা চোরাই সন্দেহভাজন মাল জব্দ করলে পুলিশ অফিসারকে কী করতে হবে?
  1. মালিককে তা বুঝিয়ে দিতে হবে
  2. আদালতে অভিযোগ দাখিল করতে হবে
  3. সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে
  4. আদালতের অনুমতি ছাড়া মাল খরচ করতে হবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৩ ধারা অনুসারে, যদি কোনো পুলিশ অফিসার ৫১ ধারায় জব্দ করা মাল, চোরাই মাল বা চোরাই সন্দেহে পাওয়া মাল, অথবা এমন কোনো সম্পত্তি যা অপরাধ সংঘটনের সন্দেহ সৃষ্টি করে, তা জব্দ করেন, তাহলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেই জব্দের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করবেন।
এর পর ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নেবেন মালটি দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে প্রদান করা হবে কি না, অথবা, এমন ব্যক্তি চিহ্নিত না হলে মাল হেফাজতে রাখা হবে কি না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৩ ধারার বিধান:- ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত মাল বা চোরাইমাল আটকের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃক গৃহীত পদ্ধতি:
(১) ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত বা চেরাইমাল বলে কথিত বা সন্দেহযুক্ত বা কোন অপরাধ সংঘটনের সন্দেহ সৃষ্টিকারী অবস্থায় প্রাপ্ত সম্পত্তি কোন পুলিশ অফিসার জব্দ করলে সঙ্গে সঙ্গে তা কোন ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাতে হবে এবং উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত সম্পত্তির বিহিত ব্যবস্থা বা উহার দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে প্রদান বা এরূপ ব্যক্তিকে না পাওয়া গেলে উহার হেফাজত ও অর্পণ সম্পর্কে যেরূপ মনে করেন সেরূপ আদেশ দিবেন।
- জব্দকৃত মারের মালিক অজ্ঞাত হলে পদ্ধতি:
(২) সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি যদি পরিচিত হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শর্তে (যদি আরোপিত হয়) তাকে সম্পত্তি প্রদানের আদেশ দিতে পারবেন। কিন্তু উক্ত ব্যক্তি যদি অজ্ঞাত হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত সম্পত্তি আটক রাখতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে, তিনি সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণসহ এই মর্মে একটি ঘোষণা দিবেন যে, উক্ত সম্পত্তিতে কারো কোন দাবী থাকলে ঘোষণা তারিখ হতে এক মাসের মধ্যে তার সামনে হাজির হয়ে উক্ত দাবী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-523: Procedure by police upon seizure of property taken under section 51 or stolen:
(1) The seizure by any police-officer of property taken under section 51, or alleged or suspected to have been stolen, or found under circumstances which create suspicion of the commission of any offence, shall be forthwith reported to a Magistrate, who shall make such order as he thinks fit respecting the disposal of such property or the delivery of such property to the person entitled to the possession thereof, or, if such person cannot be ascertained, respecting the custody and production of such property.
-Procedure where owner of property seized unknown:
(2) If the person so entitled is known, the Magistrate may order the property to be delivered to him on such conditions (if any) as the Magistrate thinks fit. If such person is unknown, the Magistrate may detain it and shall, in such case, issue a Proclamation specifying the articles of which such property consists, and requiring any person who may have a claim thereto, to appear before him and establish his claim within [one month] from the date of such proclamation.
১২,৪৪৪.
ডিক্রিদারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি কার্যক্রম শুরু হতে পারে যদি ডিক্রিটি হয়-
  1. বন্ধকের
  2. অর্থের
  3. বন্টনের
  4. অগ্রক্রয়ের
ব্যাখ্যা
⇒ The Code of Civil Procedure,1908 এর আদেশ ২১ বিধি-১১ মৌখিক আবেদন:
১) যেক্ষেত্রে ডিক্রি টাকা পরিশোধের জন্য হয় সেক্ষেত্রে ডিক্রি প্রদত্ত হয়ে থাকলে ডিক্রি প্রদানের সময়েই ডিক্রিদারের মৌখিক আবেদনক্রমে আদালত, দায়িক আদালত প্রাঙ্গনে উপস্থিত থাকলে গ্রেফতারী পরোয়ানা প্রস্তুত করার পূর্বে তাকে গ্রেফতার ক্রমে তৎক্ষণাৎ জারির আদেশ প্রদান করতে পারে।
-----------
⇒ Order-21 Rule-11  Oral application:
(1) Where a decree is for the payment of money the Court may, on the oral application of the decree-holder at the time of the passing of the decree, order immediate execution thereof by the arrest of the judgment-debtor, prior to the preparation of a warrant if he is within the precincts of the Court. 
১২,৪৪৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় দলিল সংশোধনের মূলনীতির বিধান আছে?
  1. ৩১
  2. ৩২
  3. ৩৩
  4. ৩৪
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারায় দলিল সংশোধনের মূলনীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- এ ধারা অনুযায়ী দলিল সংশোধনের সময় আদালত নিম্নের বিষয় অনুসন্ধান করতে পারেন:
- দলিলের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং দলিলের ফলাফল কী।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারার বিধান: সংশোধনের মূলনীতিসমূহ:
- লিখিত দলিল সংশোধন করার সময় আদালত অনুসন্ধান করতে পারেন, কি অর্থ বহন করা দলিলের অভিপ্রেত ছিল এবং চুক্তির বৈধ ফলাফল সম্পর্কে অভিপ্রায় কি ছিল, কেবল মাত্র সে ব্যাপারেই অনুসন্ধান সীমিত থাকবে না।
------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-33: Principles of rectification:
-In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be.
১২,৪৪৬.
ডিক্রি জারির নতুন দরখাস্ত ১২ বৎসর পরেও দায়ের করা যায় যদি জারী কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়________
  1. প্রবঞ্চনার কারণে
  2. শক্তি প্রয়োগের ফলে
  3. ক ও খ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর ৪৮ ধারা অনুযায়ী ডিক্রী জারীর জন্য ১ম আবেদন ৩ বছরের মধ্যে করতে হবে।
♦তবে নতুন আবেদন ১২ বছরের মধ্যে করতে হবে। তবে ১২ বছরের পরেও আবেদন করা যায়। যদি দেনাদার  প্রবঞ্চনা কিংবা শক্তি প্রয়োগ করে ডিক্রী জারীতে বাধা দিয়ে থাকে।
♦উল্লেখ্য ২ বৎসরের মধ্যে আবেদন করলে নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন নাই। তবে ২ বছরে পরে আবেদন করলে দায়িক কে নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক।
১২,৪৪৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২ ধারা অনুসারে কোন ক্ষেত্রটি জনসাধারণের বাধ্যবাধকতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. শান্তিভঙ্গ প্রতিরোধ করা
  2. সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা
  3. ব্যক্তিগত বিরোধে সহায়তা করা
  4. অন্য কাউকে গ্রেফতার করতে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২ ধারার বিধান জনসাধারণ যখন ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশকে সাহায্য করবেন:
কোন ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা পুলিশ অফিসার যুক্তিসংগতভাবে সাহায্য চাইলে প্রত্যেকটি লোক তাকে সাহায্য করতে বাধ্য থাকবেন
ক) অন্য কোন লোককে (যে লোককে গ্রেফতার করার জন্য উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা পুলিশ অফিসার ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়েছেন) গ্রেফতার করতে অথবা তার পলায়ন প্রতিরোধ করতে;
খ) শান্তিভঙ্গের আশংকা প্রতিরোধ অথবা শান্তিভঙ্গ দমন করতে অথবা রেলপথ, খাল, টেলিগ্রাফ অথবা সরকারী সম্পত্তির প্রতি ক্ষতির প্রচেষ্টা প্রতিরোধের ব্যাপারে সাহায্য করতে ।
----------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section-42. Public when to assist:
-Every person is bound to assist any Magistrate whether Judicial or Executive or police officer reasonably demanding his aid-
(a) in the taking or preventing the escape of any other person whom such Magistrate or police-officer is authorized to arrest;
(b) in the prevention or suppression of a breach of the peace, or in the prevention of any injury attempted to be committed to any railway, canal, telegraph or public property.
১২,৪৪৮.
কেউ যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা লুকিয়ে রাখে এবং তা জানার পরও কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে, তাহলে দণ্ডবিধি অনুসারে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. শুধুমাত্র জরিমানা
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. ১০ বছর কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১২৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কেউ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর পরিকল্পনা লুকিয়ে রাখে এবং তার মাধ্যমে এটি সংঘটিত হতে সহায়তা করতে চায়, তবে তাকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। এটি তখন ঘটে যখন কেউ কোনো অযাচিত কর্মকাণ্ড বা অবহেলা করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পরিকল্পনা লুকিয়ে রাখে।
- তাহলে, এই প্রশ্নে সঠিক উত্তর হবে: গ) ১০ বছর কারাদণ্ড। 
---------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Sections- 123. Concealing with intent to facilitate design to wage war:
Whoever, by any act, or by any illegal omission, conceals the existence of a design to wage war against Bangladesh, intending by such concealment to facilitate, or knowing it to be likely that such concealment will facilitate the waging of such war, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
১২,৪৪৯.
আইনানুগভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ পালন করে সৈনিক যদি জনতার উপর গুলি চালায়, এটি দণ্ডবিধির কোন ধারার আওতায় অপরাধ গণ্য হবে না? 
  1. ধারা ৭৬
  2. ধারা ৭৭
  3. ধারা ৭৮
  4. ধারা ৭৯
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ৭৬ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি আইনবলে বাধ্য বা ভুল ধারণাবশতঃ নিজেকে আইনবলে বাধ্য মনে করে কোনো কাজ করে, যেমন সৈনিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশে জনতার উপর গুলি চালানো, তার কাজ অপরাধ গণ্য হবে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৭৬ ধারার বিধান- আইনবলে বাধ্য বা ভুল ধারণাবশতঃ নিজেকে আইনবলে বাধ্য বলে বিশ্বাসকারী ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃক সম্পাদিত কার্য:
যে ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনত: বাধ্য বলে কোন কাজ সম্পাদন করলে, অথবা আইনের কাজটি ভুল না করে ঘটনা সম্পর্কে ভুলবশত: কাজটি করতে আইনত: বাধ্য বলে সরল মনে বিশ্বাস করে সে ব্যক্তি কোন কাজ সম্পাদন করলে তা অপরাধ হবে না।
উদাহরণসমূহ:
(ক) ক একজন সৈনিক। সে তার উর্ধ্বতন অফিসারের নির্দেশক্রমে আইনের বিধানমতে কোন জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে। ক-এর গুলিবর্ষণ কাজ অপরাধ হবে না।
(খ) বিচারালয়ের জনৈক কর্মকর্তা 'ক' উক্ত বিচারালয় কর্তৃক ম-কে গ্রেফতার করার জন্য আদিষ্ট হয়ে এবং যথাযথ তদন্তের পর 'খ'-কে 'ম' মনে করে 'খ'-কে গ্রেফতার করেন। 'ক' কোন অপরাধ সংঘটন করেন নাই।
---------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 76: Act done by a person bound, or by mistake of fact believing himself bound, by law:
Nothing is an offence which is done by a person who is, or who by reason of a mistake of fact and not by reason of a mistake of law in good faith believes himself to be, bound by law to do it.
Illustrations:
(a) A, a soldier, fires on a mob by the order of his superior officer, in conformity with the commands of the law. A has committed no offence.
(b) A, an officer of a Court of Justice, being ordered by that Court to arrest Y, and, after due enquiry, believing Z to be Y, arrests Z. A has committed no offence.

১২,৪৫০.
কেউ যদি এমনভাবে বস্তু স্থাপন করে যে সেটি অন্য ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে তার অনুভূতি ব্যাহত করে, তাহলে তা কী বলে গণ্য হবে?
  1. দুর্ঘটনা
  2. বলপ্রয়োগ
  3. মানহানি
  4. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারা অনুসারে, যদি কেউ এমনভাবে কোনো বস্তু স্থাপন করে, যার ফলে সেই বস্তুটি অন্য কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে তার অনুভূতি ব্যাহত করে, তাহলে তা বলপ্রয়োগ (Force) বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ, বস্তুটিকে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যার সংস্পর্শে এসে ব্যক্তির অনুভূতি প্রভাবিত হয়। এটি বলপ্রয়োগের সংজ্ঞার অন্তর্গত।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৯ ধারার বিধান: বলপ্রয়োগ:- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:-
তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে-
প্রথমত:- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত:- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয়।
তৃতীয়ত:- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি স্তব্ধ করে। 
---------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 349: Force:
- A person is said to use force to another if he causes motion, change of motion, or cessation of motion to that other, or if he causes to any substance such motion, or change of motion, or cessation of motion as brings that substance into contact with any part of that other's body, or with anything which that other is wearing or carrying, or with anything so situated that such contact affects that other's sense of feeling:
Provided that the person causing the motion, or change of motion, or cessation of motion, causes that motion, change of motion, or cessation of motion in one of the three ways hereinafter described: 
Firstly. By his own bodily power. 
Secondly. By disposing any substance in such a manner that the motion or change or cessation of motion takes place without any further act on his part, or on the part of any other person. 
Thirdly. By inducing any animal to move, to change its motion, or to cease to move.

১২,৪৫১.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণকারীকে হত্যা বা জখম করার ক্ষেত্রে কোন কারণটি আইনসম্মত নয়?
  1. হত্যা না করলে নিজেই মারা যেত।
  2. হত্যা না করলে অপহরণ করা হতো।
  3. হত্যা না করলে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যেত।
  4. হত্যা না করলে গুরুতর জখম করা হতো।
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে "হত্যা না করলে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যেত" আত্মরক্ষার জন্য আক্রমণকারীকে হত্যা বা জখম করার ক্ষেত্রে এই কারণটি আইনসম্মত নয়।

⇒ দণ্ডবিধির ১০০ ধারা অনুযায়ী ছয়টি ক্ষেত্রে দেহ বা শরীরকে প্রতিরক্ষার জন্য আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা:  
      (i) এমন আক্রমণ যা মৃত্যু ঘটাতে পারে।
      (ii) এমন আক্রমণ যা গুরুতর আঘাত তৈরি করতে পারে।
      (iii) ধর্ষণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
      (iv) অপকৃত কাম লালসার অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ।
      (v) মনুষ্যহরণ বা অপহরণের চেষ্টায় আক্রমণ।
      (vi) আইনের আশ্রয় নিতে বাধা দিতে অবৈধভাবে আটক রাখলে।
-------------------
The Penal Code, 1860- Section 100. When the right of private defence of the body extends to causing death:
-The right of private defence of the body extends, under the restrictions mentioned in the last preceding section, to the voluntary causing of death or of any other harm to the assailant, if the offence which occasions the exercise of the right be of any of the descriptions hereinafter enumerated, namely:- 
Firstly.-Such an assault as may reasonably cause the apprehension that death will otherwise be the consequence of such assault; 
Secondly.-Such an assault as may reasonably cause the apprehension that grievous hurt will otherwise be the consequence of such assault; 
Thirdly.-An assault with the intention of committing rape; 
Fourthly.-An assault with the intention of gratifying unnatural lust; 
Fifthly.-An assault with the intention of kidnapping or abducting; 
Sixthly.-An assault with the intention of wrongfully confining a person, under circumstances which may reasonably cause him to apprehend that he will be unable to have recourse to the public authorities for his release.
১২,৪৫২.
একটি সমাবেশ বেআইনি সমাবেশ হতে হলে এই সমাবেশে-
  1. সর্বোচ্চ ৫ জন ব্যক্তি থাকতে হবে
  2. অনুর্ধ্ব ৫ জন ব্যক্তি থাকা আবশ্যক
  3. ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি থাকা আবশ্যক
  4. অসংখ্য ব্যক্তি থাকা আবশ্যক
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনি সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারনের শান্তি শৃঙ্খলা  বিঘ্নকারী কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনি সমাবেশ বলে।

♦ পেনাল কোড-এর ১৪১ ধারা মতে বে-আইনি সমাবেশে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি থাকা আবশ্যক।
১২,৪৫৩.
X নামক আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের সীমার মধ্যে A আহত হয় এবং Z নামক আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের সীমার মধ্যে মারা যায়। A এর নিন্দনীয় নরহত্যা অপরাধের বিচার করতে পারে?
  1. X নামক আদালতে
  2. Z নামক আদলতে
  3. X বা Z নামক আদালতে
  4. X এবং Z নামক আদালতে
ব্যাখ্যা
♦অপরাধ যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে সংঘটিত হয় সেই আদালতে অথবা যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে অপরাধের পরিণাম দেখা দিয়েছে সেই সেই আদালতে উক্ত অপরাধের বিচার করা যাবে। 
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮২ এবং ১৮৫ ধারার অপরাধের স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে বা একাধিক আদালতের এখতিয়ারে অপরাধটি সংঘটিত হলে কোথায় বিচার করতে হবে সে সম্পর্কে বলা হয়েছে।
♦১৮২ ধারা অনুযায়ী অপরাধের স্থান নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা দেখা দিলে বা একাধিক আদালতের অধিক্ষেত্রে অপরাধটি সংঘটিত হলে যেকোন একটি আদালতে বিচার করা যাবে।
♦১৮৫ ধারা অনুযায়ী অপরাধের স্থান নিয়ে কোন অনিশ্চয়তার ক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন দেখা দিলে হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
♦অর্থাৎ A এর নিন্দনীয় নরহত্যা অপরাধের বিচার করতে পারে X বা Z নামক আদালতে।
১২,৪৫৪.
The provisions under Section 3 of the Limitation Act are considered:
  1. Optional
  2. Directory
  3. Mandatory
  4. Discretionary
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে,
ধারা ৪ থেকে ২৫ পর্যন্ত বিধান সাপেক্ষে, প্রথম তফসিলে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে যদি কোনো মামলা দায়ের করা হয়, আপিল দাখিল করা হয় বা আবেদন করা হয়, তবে তা খারিজ করা হবে, যদিও প্রতিপক্ষ পক্ষ থেকে সীমাবদ্ধতার (Limitation) বিষয়টি প্রতিরক্ষা হিসেবে উত্থাপন করা না হয়।

ব্যাখ্যা:
সাধারণত, কোনো মামলা তখনই দায়ের করা হয় যখন মামলার আবেদনপত্র (plaint) যথাযথ কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপন করা হয়।
দরিদ্র ব্যক্তি (pauper) মামলার অনুমতি চাইলে, তার দরিদ্র হিসেবে মামলা দায়েরের আবেদন করার সময়ই তা দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে।
কোনো কোম্পানি যদি আদালতের মাধ্যমে লিকুইডেশনের (winding up) প্রক্রিয়ায় থাকে, তবে উক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে দাবি তখনই উত্থাপিত হবে, যখন দাবি প্রথমবারের মতো অফিসিয়াল লিকুইডেটরের কাছে উপস্থাপিত হয়।

অর্থাৎ, তামাদি আইনের ৩ ধারার বিধান আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক (Mandatory).

Section-3: Dismissal of suits, etc., instituted, etc., after period of limitation:
Subject to the provisions contained in sections 4 to 25 (inclusive), every suit instituted, appeal preferred, and application made, after the period of limitation prescribed therefor by the first schedule shall be dismissed, although limitation has not been set up as a defence.

Explanation.-A suit is instituted, in ordinary cases, when the plaint is presented to the proper officer; in the case of a pauper, when his application for leave to sue as a pauper is made; and, in the case of a claim against a company which is being wound up by the Court, when the claimant first sends in his claim to the official liquidator.
১২,৪৫৫.
কোন ধরনের সম্পত্তির জন্য আদেশ-২১, বিধি-৫৪ প্রযোজ্য?
  1. স্থাবর সম্পত্তি
  2. অস্থাবর সম্পত্তি
  3. ক ও খ উভয়ই
  4. শুধুমাত্র সরকারি সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৫৪: স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক:
(১) যখন সম্পত্তি অস্থাবর হয়, তখন ক্রোক করার আদেশটি এমন একটি আদেশ দ্বারা করা হবে যা ডিক্রি-দেনাদারকে সম্পত্তি স্থানান্তর বা চার্জ করার যে কোন উপায় থেকে নিষিদ্ধ করবে এবং সকল ব্যক্তিকে সেই স্থানান্তর বা চার্জ থেকে কোন সুবিধা গ্রহণ করতে নিষেধ করবে।

(২) আদেশটি ঐ সম্পত্তিতে বা সম্পত্তির সংলগ্ন কোন স্থানে ঢোল পেটানো বা অন্য প্রচলিত পদ্ধতিতে ঘোষণা করতে হবে, এবং আদেশটির একটি অনুলিপি সম্পত্তির সুস্পষ্ট অংশে এবং আদালত ভবনের সুস্পষ্ট অংশে টানিয়ে দিতে হবে, এবং যদি সম্পত্তিটি সরকারের রাজস্ব প্রদানকারী জমি হয়, তবে সেই জমি যে জেলার কালেক্টরের কার্যালয়ে অবস্থিত সেখানে ও আদেশটির একটি অনুলিপি টানিয়ে দিতে হবে।
১২,৪৫৬.
'ক' সত্য বলার জন্য শপথ অনুসারে সত্য বলতে আইনত বাধ্য হয়ে এই বলে বিবৃতি দান করে যে, 'চ' কোন এক বিশেষ দিনে বিশেষ জায়গায় উপস্থিত ছিল, যদিও সে ঐ বিষয়ে কিছু জানে না। এক্ষেত্রে 'ক' এর প্রদত্ত বিবৃতি-
  1. কোনো ভাবেই মিথ্যা সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে না
  2. 'চ' উল্লেখিত দিনে উপস্থিত না থাকলে মিথ্যা সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে
  3. 'চ' উল্লেখিত দিনে উপস্থিত থাকলে মিথ্যা সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে না
  4. চ' উল্লেখিত দিনে উপস্থিত থাকুক বা না থাকুক মিথ্যা সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ১৯১- মিথ্যা সাক্ষ্যদান:
যে লােক সত্য বলার জন্য শপথক্রমে বা আইনের প্রকাশ্য বিধানবলে আইনত বাধ্য হয়ে বা কোন বিষয়ে কোন ঘােষণা করার জন্য আইনবলে বাধ্য হয়ে এমন কোন বিবৃতি দেয়, যা মিথ্যা ও যা সে মিথ্যা বলে জানে বা বিশ্বাস করে বা সত্য বলে বিশ্বাস করেনা, সে লােক মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় বলে কথিত হয়।

ব্যাখ্যা ১: কোন উক্তি বা বিবৃতি মৌখিকভাবে বা প্রকারান্তরে, যেভাবেই দেওয়া হােক এই ধারার তাৎপর্যাধীন হবে।
ব্যাখ্যা ২: সত্যতা নিরূপনকারি লােকের বিশ্বাস বিষয়ক মিথ্যা বিবৃতি এই ধারার তাৎপর্যাধীন হবে ও এই বলে বিবৃতি প্রদানকারি লােক, যে বলে যে, সে এমন কোন বস্তুতে বিশ্বাস করে যা সে বিশ্বাস করে না ও এরূপ বিবৃতি প্রদানকারি লােক, যে বলে যে, সে এমন কোন বিষয় জানে, যা সে জানে না, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের জন্য অপরাধি বলে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ:
'ক' সত্য বলার জন্য শপথ অনুসারে সত্য বলতে আইনত বাধ্য হয়ে এই বলে বিবৃতি দান করে যে, 'চ' কোন এক বিশেষ দিনে বিশেষ জায়গায় উপস্থিত ছিল, যদিও সে ঐ বিষয়ে কিছু জানে না। 'চ' উল্লেখিত দিনে উপস্থিত থাকুক বা না থাকুক 'ক' মিথ্যা সাক্ষ্য দান করল।
১২,৪৫৭.
একজন আইনজীবী তার মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর কোন অধ্যায়ে বর্ণিত আছে?
  1. প্রথম অধ্যায়ে
  2. দ্বিতীয় অধ্যায়ে
  3. তৃতীয় অধ্যায়ে
  4. চতুর্থ অধ্যায়ে
ব্যাখ্যা
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette- এ মোট ৪টি অধ্যায়ে ৪২টি বিধি আছে।
- প্রথম অধ্যায়ে ১১ টি, দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৪টি, তৃতীয় অধ্যায়ে ৯টি, চতুর্থ অধ্যায়ে ৮টি।
⇒ Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর ২য় অধ্যায়ে একজন আইনজীবীর তাহার মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে বর্ণিত আছে।
সেখানে ১৪টি বিধি রয়েছে যেখানে একজন আইনজীবীর তাহার মক্কেলের প্রতি কী কী দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেন তা উল্লেখ আছে।
১২,৪৫৮.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ১২৫ অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট কোন ধরনের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নন?
  1. কোনো সাক্ষীর বিবরণ
  2. অপরাধ সংঘটন সংক্রান্ত তথ্য
  3. বিচার সংক্রান্ত তথ্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৫ ধারার বিধান: অপরাধ সংঘটন সংক্রান্ত তথ্য:
কোনও ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন, তা প্রকাশ করতে বাধ্য থাকবেন না। তেমনি, কোনও রাজস্ব কর্মকর্তা জনস্বার্থে রাজস্ব সম্পর্কিত কোনও অপরাধের বিষয়ে তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন, তা প্রকাশ করতে বাধ্য থাকবেন না।

ব্যাখ্যা: এই ধারায় "রাজস্ব কর্মকর্তা" বলতে জনস্বার্থে রাজস্ব সম্পর্কিত কোনো শাখায় নিযুক্ত বা কাজরত কর্মকর্তাকে বোঝায়।
১২,৪৫৯.
দেওয়ানী কার্যবিধির ডিক্রির অধীনে টাকা পরিশোধের পদ্ধতি কোনটি?
  1. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে টাকা জমা দিয়ে;
  2. ডিক্রিদারকে আদালতের বাইরে টাকা দিয়ে;
  3. ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়;
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর আদেশ-২১, বিধি-১: ডিক্রির টাকা পরিশোধ- ২১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে ডিক্রির টাকা ৩ ভাবে পরিশোধ করা যায়। যথা-
ⅰ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে টাকা জমা দিয়ে;
ii) ডিক্রিদারকে আদালতের বাহিরে টাকা দিয়ে; এবং
iii) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়ে ডিক্রির টাকা পরিশোধ করা যায়।

⇒ ডিক্রি জারির সংজ্ঞা (Definition of Execution of Decree)- আদালত প্রদত্ত ডিক্রিকে বলবৎ বা বাস্তবায়ন করাকে ডিক্রি জারি বা executuion of decree বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৬ থেকে ৭৪, ১৩৫ক ধারা এবং ২১ নং আদেশের ১ থেকে ১০৩ বিধিসমূহে ডিক্রি জারিকরণ সংক্রান্ত সকল নিয়মাবলী আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ কোন মোকদ্দমার রায়ে যার পক্ষে ডিক্রি দেয়া হয় তিনি আপনা আপনি ডিক্রির ফল ভোগ করতে পারবেন না। জারিযোগ্য ডিক্রির ক্ষেত্রে তাকে নতুন করে একটি ডিক্রি জারির মামলা করতে হয়। নির্দিষ্ট ফরম পূরণপূর্বক জাবেদা নকল সহ ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে বা যে আদালতে ডিক্রি স্থানান্তর করা হয়েছে সে আদালতে ডিক্রি জারির আবেদন করতে হয়।

⇒ডিক্রি জারির পদ্ধতি- দেওয়ানী কার্যবিধির ৫১ ধারামতে ৫টি উপায়ে আদালত ডিক্রি জারি বা ডিক্রি কার্যকর করতে পারে। যথা-
i) সম্পত্তি অর্পণ (by delivery);
ii) ক্রোক ও বিক্রয় (attachment and sale);
iii) দেনাদারকে গ্রেফতার ও কারাগারে আটক;
iv) রিসিভার নিয়োগ; এবং
ⅳ) প্রতিকারের প্রকৃতি অনুযায়ী অন্য কোন উপায়ে।
১২,৪৬০.
দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭ কোন ধরনের অপরাধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. শারীরিক আঘাত
  2. মানহানি
  3. অপরাধ সংঘটনের উদ্যোগ
  4. অজ্ঞাতপরিচয়ে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭ মূলত অজ্ঞাতপরিচয়ে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত। এই ধারার মাধ্যমে যেসব ব্যক্তি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করেন বা তাদের নাম বা অবস্থান গোপন করে এমন কোনো হুমকি দেন, তাদের শাস্তির বিধান রয়েছে।
অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের সাথে যদি অজ্ঞাত পরিচয় যুক্ত হয়, তখন এই ধারা প্রযোজ্য হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭- অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন:
যে ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে, বা যে ব্যক্তি হুমকি প্রদানের জন্য যার নাম বা অবস্থান গোপন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাকে দুই বছরের পর্যন্ত যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়া, এই অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী ধারায় প্রদত্ত শাস্তিও তাকে প্রদান করা হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section- 507: Criminal intimidation by an anonymous communication:
Whoever commits the offence of criminal intimidation by an anonymous communication, or having taken precaution to conceal the name or abode of the person from whom the threat comes, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, in addition to the punishment provided for the offence by the last preceding section.
১২,৪৬১.
একজন বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট যখন কোনো মামলার সিদ্ধান্তে পার্সোনাল ইন্টারেস্ট (ব্যক্তিগত আগ্রহ) যুক্ত থাকে, তখন তাকে কী করতে হবে?
  1. মামলাটি বাতিল করতে হবে
  2. মামলার রায় ঘোষণা করতে হবে
  3. মামলার বিচার করতে উভয় পক্ষের অনুমতি নিতে হবে
  4. অন্য কোনো বিচারকের কাছে মামলাটি হস্তান্তর করতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে একজন বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট যখন কোনো মামলার সিদ্ধান্তে পার্সোনাল ইন্টারেস্ট (ব্যক্তিগত আগ্রহ) যুক্ত থাকে, তখন তাকে অন্য কোনো বিচারকের কাছে মামলাটি হস্তান্তর করতে হবে।
• 'Principles of natural justice' এর দ্বিতীয় নীতি হচ্ছে- 'nemo judex in causa sua in propria causa বা nemo debet esse judex in propria causa, যার অর্থাৎ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হওয়া যায় না।
৫৫৬ ধারা অনুসারে, যে মামলায় কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে একজন পক্ষ বা ব্যক্তিগত ভাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, ঊর্ধ্বতন আপিল আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সে মামলার বিচার করবেন না এবং কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজের প্রদত্ত রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শ্রবণ করবেন না। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৬ ধারায় এই নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।

- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৫৬: বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকার ক্ষেত্রে বিধান:
কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট, যার আদালত থেকে আপিল করা যায় এমন আদালতের অনুমতি ছাড়া, এমন কোনো মামলার বিচার বা শুনানি পরিচালনা করতে পারবেন না যেখানে তিনি নিজে পক্ষ বা ব্যক্তিগতভাবে স্বার্থ জড়িত রয়েছেন। এছাড়া কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে প্রদত্ত কোনো রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনবেন না।

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যে, কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটকে শুধুমাত্র নিম্নলিখিত কারণে পক্ষ বা ব্যক্তিগতভাবে স্বার্থ জড়িত বলে গণ্য করা হবে না:
১. তিনি একজন পৌর কমিশনার বা অন্য কোনো সরকারি পদে রয়েছেন এবং সেই সূত্রে মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন।
২. তিনি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থান বা মামলার সাথে সম্পর্কিত অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট তদন্ত করেছেন।

উদাহরণ: A একজন কালেক্টর হিসেবে B-কে এক্সাইজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করার নির্দেশ দেন। এই মামলায় A ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বিচার পরিচালনা করতে অযোগ্য হবেন, কারণ তিনি ব্যক্তিগতভাবে মামলার সাথে জড়িত।

- অর্থাৎ কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যক্তিগতভাবে স্বার্থ জড়িত থাকলে সেই মামলার বিচার বা শুনানি পরিচালনা করতে পারবেন না।
- শুধুমাত্র সরকারি পদে থাকা বা স্থান পরিদর্শন করা ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত হওয়া বলে গণ্য হবে না।
- এই বিধান মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রযোজ্য।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, sections 556. Case in which Judge or Magistrate is personally interested:
- No Judge or Magistrate shall, except with the permission of the Court to which an appeal lies from his Court, try for trial any case to or in which he is a party, or personally interested, and no Judge or Magistrate shall hear an appeal from any judgment or order passed or make himself. 

Explanation:–
- A Judge or Magistrate shall not be deemed a party, or personally interested, within the meaning of this section, to or in any case by reason only that he is a Municipal Commissioner or otherwise concerned therein in a public capacity, or by reason only that he has viewed the place in which an offence is alleged to have been committed, or any other place in which any other transaction material to the case is alleged to have occurred, and made an inquiry in connection with the case. 

Illustration:
A, as Collector, upon consideration of information furnished to him, directs the prosecution of B or a breach of the excise Laws. A is disqualified from trying this case as a Magistrate.
১২,৪৬২.
ধারা ৩৫৮-এর অধীনে আক্রমণ বা বল প্রয়োগের জন্য কী শর্ত পূরণ করতে হবে?
  1. অপরাধ দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল হতে হবে
  2. অপরাধ গুরুতর ও হঠাৎ প্ররোচনার কারণে হতে হবে
  3. আক্রমণ একাধিক ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত হতে হবে
  4. অপরাধ শুধুমাত্র নিজের রক্ষার জন্য হতে হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৫৮- গুরুতর প্ররোচনায় আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ:
যে কেউ অন্য কোনো ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত গুরুতর ও হঠাৎ প্ররোচনার কারণে সেই ব্যক্তিকে আক্রমণ করে বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তাকে সর্বোচ্চ এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুইশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

Section 358- Assault or criminal force on grave provocation:
Whoever assaults or uses criminal force to any person on grave and sudden provocation given by that person, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one month or with fine which may extend to two hundred taka, or with both.
১২,৪৬৩.
'ক' সেচ্ছায় 'খ'-কে বাঁশ দিয়ে গুরুতর আঘাত প্রদান করে। The Penal Code, 1860 অনুযায়ী 'ক' এর সর্বোচ্চ শান্তি ____ বৎসর কারাদণ্ড।
  1. ১০
ব্যাখ্যা
- দণ্ডবিধির ধারা-৩২২ তে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দানের সংজ্ঞা (voluntarily causing grievous hurt) - কাউকে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে (intentionally) জেনে গুরুতর আঘাত প্রদান করা হয়, তাহলে তাকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান বলা হয়।

- যদি কোন লোক প্রকৃতপক্ষে গুরুতর আঘাত দেয় এবং গুরুতর আঘাত দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করে অথবা গুরুতর আঘাত দিতে পারে বলে জানে, তবে সে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে গণ্য হবে। অন্যথায় সে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে গণ্য হবে না

- দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাতের শাস্তি হল অনধিক ৭ বৎসর কারাদন্ড এবং অর্থদণ্ড।

- দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারার একটি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র হল ৩৩৪ ধারা; অন্যদিকে ৩২৬ ধারার ব্যতিক্রম হল ৩৩৫ ধারা। 
১২,৪৬৪.
কোন সংবিধি, আইন, প্রবিধান বা উপ-আইনের আওতায় কোন বাজেয়াপ্তির জন্য মোকদ্দমা দায়েরের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৬ অনুসারে,
যখন কোনো বিধি, আইন, প্রবিধান বা উপ-আইনের আওতায় কোনো জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি আরোপিত হয়, তখন সেই জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি আরোপিত হওয়ার পর ১ বছর এর মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
১২,৪৬৫.
যদি কেউ একজনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুলি করে এবং ভুলবশত অন্য কারও মৃত্যু হয়, তবে-
  1. সে দোষী হবে না
  2. শুধুমাত্র দুর্ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে
  3. নরহত্যার অপরাধে শাস্তিযোগ্য হবে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
 ⇒ দণ্ডবিধির ৩০১ ধারার বিধান- যার মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যতীত অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া শাস্তি যোগ্য নরহত্যা সংঘটন:
কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুণ মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যেরূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।

Section 301. Culpable homicide by causing death of person other than person whose death was intended:
If a person, by doing anything which he intends or knows to be likely to cause death, commits culpable homicide by causing the death of any person, whose death he neither intends nor knows himself to be likely to cause, the culpable homicide committed by the offender is of the description of which it would have been if he had caused the death of the person whose death he intended or knew himself to be likely to cause.
১২,৪৬৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১ অনুযায়ী ডিক্রির অধীনে অর্থ প্রদান সাধারণত কতটি উপায়ে করা যায়?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২১, বিধি-১ অধীনে ডিক্রির অর্থপ্রদানের তিনটি প্রাথমিক উপায় নির্ধারিত আছে:
১. আদালতে অর্থ প্রদান: যে আদালত ডিক্রি কার্যকর করার দায়িত্বে আছে, সেখানে অর্থ জমা দেওয়া হয়।
২. আদালতের বাইরে ডিক্রি-হোল্ডারকে অর্থ প্রদান: ডিক্রি-হোল্ডারকে সরাসরি আদালতের বাইরে অর্থ প্রদান করা যেতে পারে।
৩. আদালতের নির্দেশক্রমে অন্য কোন পদ্ধতি: যদি ডিক্রি প্রদানকারী আদালত অন্য কোনো বিশেষ পদ্ধতি নির্দেশ দেয়, সেই অনুযায়ী অর্থ প্রদান করা হয়।
- অর্থাৎ, মোট তিনটি উপায়েই অর্থ প্রদান করা যায়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ সালের আইন এর আদেশ-২১, বিধি-১: ডিক্রির টাকা পরিশোধ- ২১ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে ডিক্রির টাকা ৩ ভাবে পরিশোধ করা যায়। যথা-
ⅰ) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে টাকা জমা দিয়ে;
ii) ডিক্রিদারকে আদালতের বাহিরে টাকা দিয়ে; এবং
iii) ডিক্রি প্রদানকারী আদালতের নির্দেশে অন্য উপায়ে ডিক্রির টাকা পরিশোধ করা যায়।
⇒ ডিক্রি জারির সংজ্ঞা (Definition of Execution of Decree)- আদালত প্রদত্ত ডিক্রিকে বলবৎ বা বাস্তবায়ন করাকে ডিক্রি জারি বা executuion of decree বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৬ থেকে ৭৪, ১৩৫ক ধারা এবং ২১ নং আদেশের ১ থেকে ১০৩ বিধিসমূহে ডিক্রি জারিকরণ সংক্রান্ত সকল নিয়মাবলি আলোচনা করা হয়েছে।
--------
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Order-21 Rule-1: Payment under Decree:
- Modes of paying money under decree:
(1) All money payable under a decree shall be paid as follows, namely:−
(a) into the Court whose duty it is to execute the decree; or
(b) out of Court to the decree-holder; or
(c) otherwise as the Court which made the decree directs.
(2) where any payment is made under clause (a) of subrule (1), notice of such payment shall be given to the decreeholder.
১২,৪৬৭.
সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারায়, নথি উপস্থাপন নিয়ে যদি আপত্তি থাকে, তাহলে সেই আপত্তির বৈধতা নির্ধারণ করবেন কে?
  1. আইনজীবী
  2. পুলিশ
  3. আদালত
  4. সাক্ষী নিজে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারার বিধান: নথি উপস্থাপন:
যদি কোনো সাক্ষীকে কোনো নথি আদালতে উপস্থাপনের জন্য ডাকা হয়, তবে সেই নথিটি তার অধিকারে বা হেফাজতে থাকলে, তিনি তা আদালতে আনতে বাধ্য থাকবেন, যদিও সেই নথি উপস্থাপন করা বা তা গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলেও। আপত্তির বৈধতা আদালতই নির্ধারণ করবে।
আদালত যদি মনে করে, তবে নথিটি পর্যালোচনা করতে পারে, যদি না সেটি রাষ্ট্র সম্পর্কিত কোনো বিষয়বস্তু হয়। এছাড়াও, নথির গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের জন্য আদালত অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে।

Section-162. Production of documents:
A witness summoned to produce a document shall, if it is in his possession or power, bring it to Court, notwithstanding any objection which there may be to its production or to its admissibility. The validity of any such objection shall be decided on by the Court. 
The Court, if it sees fit, may inspect the document, unless it refers to matters of State, or take other evidence to enable it to determine on its admissibility.
১২,৪৬৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী, সাধারণভাবে একটি ডিক্রি কার্যকর করার জন্য কত বছরের মধ্যে আবেদন করতে হবে?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১২ বছর 
  4. ২ বছর 
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৪৮ অনুযায়ী, একটি ডিক্রি কার্যকর করার আবেদন সাধারণত ডিক্রি জারির তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে করতে হয়। এই ১২ বছরের পরে সাধারণত আর সেই ডিক্রি কার্যকর করা যায় না, যদি না আইন বা আদালতের বিশেষ আদেশে ভিন্ন কিছু বলা থাকে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত:- নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোন ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে আবেদন করা হয়ে থাকলে ঐ একই ডিক্রি জারির জন্য নিম্নলিখিত তারিখ থেকে বার বৎসর পর প্রদত্ত কোন আবেদন অনুযায়ী একই ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ; বা
খ) কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশে আবেদনকারীর প্রার্থনা মতে কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ অথবা সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হলে, তা লঙ্ঘনের তারিখ।

২) এই ধারার কোন বিধানই-
ক) আবেদনের তারিখের অব্যাবহিত পূর্ববর্তী বার বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারি দেওয়ার ব্যাপারে রায়সিদ্ধ দেনাদার প্রতারণা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা সৃষ্টি করে থাকলে উক্ত বার বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর উপস্থাপিত আবেদন মোতাবেক ডিক্রি জারির আদেশদানে আদালতকে বিরত করবে না; বা
খ) ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৮৩ অনুচ্ছেদের কার্যকারীতাকে সীমাবদ্ধ বা অন্যভাবে প্রভাবিত করবে না।
-------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section 48 Limit of Time for Execution:
 Execution barred in certain cases: (1) Where an application to execute a decree not being a decree granting an injunction has been made, no order for the execution of the same decree shall be made upon any fresh application presented after the expiration of twelve years from
(a) the date of the decree sought to be executed, or,
(b) where the decree or any subsequent order directs any payment of money or the delivery of any property to be made at a certain date or at recurring periods, the date of the default in making the payment or delivery in respect of which the applicant seeks to execute the decree.

(2) Nothing in this section shall be deemed:
(a) to preclude the Court from ordering the execution of a decree upon an application presented after the expiration of the said term of twelve years, where the judgment-debtor has, by fraud or force, prevented the execution of the decree at some time within twelve years immediately before the date of the application; or
(b) to limit or otherwise affect the operation of article 183 of the First Schedule to the Limitation Act, 1908.

১২,৪৬৯.
কোন ধারা অনুযায়ী সরকার ২য় বা ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করতে পারে?
  1. ধারা ২৬০
  2. ধারা ২৬১
  3. ধারা ২৬২
  4. ধারা ২৬৩
ব্যাখ্যা
• গুরুতর নয় এমন অপরাধ এবং যে অপরাধমূলক কাজের জন্য লঘু শাস্তি হয়, সেই সব অপরাধগুলোর বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা যায়। ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২ এবং ধারা ২৬০-২৬৫ এ সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পর্কে বিধান রয়েছে। 

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬০ অধীন নিম্নলিখিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ সংক্ষিপ্ত বিচার করতে পারেন-
১. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট;
২. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট; বা
৩. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ম্যাজিস্ট্রেট বেঞ্চ। 
 
• কিন্তু ২৬১ ধারার বিধান অনুযায়ী-
সরকার ২য় বা ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে কতিপয় ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার করার ক্ষমতা দিতে পারে।
১২,৪৭০.
বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নিম্নের কোন উক্তিটি সঠিক?
  1. আলাপ-আলোচনা [Negotiation] এ তৃতীয় পক্ষ উপস্থিত থাকে
  2. মধ্যস্থতা কার্যক্রম [Mediation] পদ্ধতিতে তৃতীয় কোন পক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকে
  3. সালিশ প্রক্রিয়ার [Arbitration] রায় পক্ষ গণের উপর বাধ্যকর নয়
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
• বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নিম্ন বর্ণিত পন্থা রয়েছে-
১) আলাপ-আলোচনা (Negotiation);
২) মধ্যস্থতা (Mediation);
৩) সালিশী (Arbitration)।

১. আলাপ-আলোচনা [Negotiation]-

এমন একটি পদ্ধতি যেখানেই কোন বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে বিরোধের দুই পক্ষই যখন তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়াই একটি সুবিধাজনক পরিণতির দিকে পৌঁছে বা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে সমাধান করে থাকে।

আলাপ-আলোচনার [Negotiation] মাধ্যমে শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২১০(২) ২১০(৩) উপধারায় বলা আছে।

২. মধ্যস্থতা কার্যক্রম [Mediation]-

এ পদ্ধতিতে কোন বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তৃতীয় কোন পক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়
এবং কোন পক্ষের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে দুটি পক্ষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা হয়।
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮৯[ক] এবং অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ২২ ধারাতে মধ্যস্থতা বিষয়ে বলা হয়েছে।

৩. সালিশ প্রক্রিয়া [Arbitration]-

সালিশ[Arbitration] প্রক্রিয়াটি অনেকটা মধ্যস্থতা পদ্ধতির অনুরূপ। এ কারণেই সালিশ কার্যক্রম [Arbitration] কে মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উন্নত সংস্করণ বলে মনে করা হয়। কেননা মধ্যস্থতা কার্যক্রমে মধ্যস্থতাকারী বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে পক্ষগণের উপর কোন পন্থা চাপিয়ে দিতে পারেন কিন্তু সালিশ কার্যক্রমের সালিশকারী (Conciliator) পক্ষগণের ওপর রায় চাপিয়ে দিতে পারে। এ ধরনের রায়কে রোয়েদাদ [Award] বলা হয়।
সালিশ[Arbitration] প্রক্রিয়াটি সালিশ আইন-২০০১ দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ আইনের ২১০ ধারায় বিরোধ সালিসীর (Conciliation) মাধ্যমে নিষ্পত্তি কথা বলা হয়েছে।
১২,৪৭১.
মোকদ্দমায় শুনানী (hearing) বলতে কি বোঝায়?
  1. রায় বা ডিক্রি শুনানী
  2. মোকদ্দমার পক্ষসমূহের বক্তব্য শ্রবণ
  3. বিচারকের বক্তব্য শ্রবণ
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• হেয়ারিং বা শুনানী বলতে কোন মোকদ্দমায় কোন বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের বক্তব্য শ্রবণ, যাচাই অথবা জিজ্ঞাসাবাদ করাকে বোঝায়। কোন বিষয় বা ঘটনার শুনানীর মানে বিষয় বা ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত শোনা এবং সেই অনুসারে সিদ্ধান্ত দেয়া।

• দেওয়ানি মোকদ্দমার মূলত তিন ধরনের শুনানী হয়ে থাকে। যথা-

i) বিচার কার্যক্রম-পূর্ব শুনানী (Pre-trial hearing);

ii) চূড়ান্ত শুনানী (Pre-emptory hearing); এবং

iii) অধিকতর শুনানী (Further hearing)।
১২,৪৭২.
১৮ বছরের কম বয়স্ক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হলে এবং উক্ত অপরাধ আপসযোগ্য হলে, তা আপোস করতে পারবে-
  1. উক্ত ব্যক্তির অনুমতি সাপেক্ষে যেকোন ব্যক্তি
  2. অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে ভুক্তভোগী
  3. আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে উক্ত ব্যক্তির পক্ষে চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় যে সকল অপরাধসমূহ আপসযোগ্য, সেই সকল অপরাধের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির কোন ধারার কোন অপরাধটি আপসযোগ্য তা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায় উল্লেখিত টেবিলের প্রথম এবং দ্বিতীয় কলামে উল্লেখ করা হয়েছে এবং যে ব্যক্তির দ্বারা এমন অপরাধ আপস করা যায় তা তৃতীয় কলামে উল্লেখ করা হয়েছে। 

• ৩৪৫(১) ধারায় উল্লেখিত অপরাধের আপস মীমাংসার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির সম্মতিই যথেষ্ট কিন্তু ৩৪৫(২) ধারায় টেবিলে উল্লেখিত অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়ে তৃতীয় কলামে উল্লেখিত ব্যক্তিরা অপরাধের আপস মীমাংসা করতে পারে।

• দণ্ড আরোপের পূর্বে যেকোনো সময় ৩৪৫ ধারায় অপরাধ আপস মীমাংসা হতে পারে এবং সেটা কোর্টের ভিতরে বা অপরাধের আপস করার জন্য অন্যভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি ১৮ বছরের কম বয়স্ক হলে বা জড়বুদ্ধি হলে বা পাগল হলে, তার পক্ষে চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি আদালতের অনুমতি নিয়ে আপস মীমাংসা করতে পারে।

• ৩৪৫(৬) ধারা অনুযায়ী অপরাধের আপস মীমাংসা অভিযুক্তের খালাস বলে গণ্য হবে।

• প্রতিকার-
যেহেতু ৩৪৫ ধারায় আপস মীমাংসা অভিযুক্তের খালাস বলে গণ্য হয় এবং যেহেতু খালাসের বিরুদ্ধে আপীল করা যায়, তাই ৩৪৫ ধারায় আপস মীমাংসার বিরুদ্ধে ৪১৭ ধারায় সরকার আপীল করতে পারে।
১২,৪৭৩.
নিম্নের কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিপালনের জন্য বাধ্য করা যাবে?
  1. যে চুক্তি পালন না হলে সাধিত ক্ষতি অর্থ দ্বারা পূরণযোগ্য
  2. যখন ট্রাস্টি কোন সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টের পরিপন্থি চুক্তি করে
  3. যখন কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি করা হয়
  4. যে চুক্তি বাতিলযোগ্য প্রকৃতির
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে নিম্নলিখিত ৪টি ক্ষেত্রে কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়। যথা-

ক) চুক্তিটি অছি বা জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলে।
খ) চুক্তিভঙ্গের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নির্ণয়ের মানদন্ড না থাকলে।
গ) চুক্তিভঙ্গের ফলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত হলে।
ঘ) চুক্তিভঙ্গের ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।

 খ.গ, এবং ঘ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বলা যায়, আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হলে বা নির্ণয় করা গেলে বা পাওয়া গেলে, আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের প্রতিকার দিবেনা বরং ক্ষতিপূরণ প্রতিকার দিবে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ১২ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদিনা এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ভিন্ন কিছু প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আদালত অবশ্যই অনুমান করবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব না, এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার এভাবে করা যায়।

যদি চুক্তির বিষয়বস্তু স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি বিক্রয়ের চুক্তি বা জমি লিজের বা বন্ধকের চুক্তি হয়, তাহলে আদালত ধরে নিবে চুক্তি ভঙ্গের প্রতিকার পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব না এবং এই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তিটি সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে পারে।
১২,৪৭৪.
কোন আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করতে পারে না?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. দায়রা আদালত
  3. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• আগাম জামিন (ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারা)-
আটক হবার বা গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই জামিন মঞ্জুর করাকে আগাম জামিন বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধানমতে আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করতে পারে, যাকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

৪৯৮ ধারার বিধানমতে নিম্নোক্ত আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করতে পারে:
১. হাইকোর্ট বিভাগ,
২. দায়রা আদালত।

তাছাড়া এই ধারা অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামানত হ্রাস করার নির্দেশ দিতে পারেন।

Section 498: Power to direct admission to bail or reduction of bail
The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.
১২,৪৭৫.
কখন নিজের সাক্ষীকে বৈরী (Hostile witness) ঘোষণা করা হয়?
  1. অসুস্থ হলে
  2. বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে
  3. সাক্ষী হাজির না হলে
  4. উপস্থাপনকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিলে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারায় সুস্পষ্টভাবে বৈরী সাক্ষী বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বৈরী সাক্ষী হলো এমন একজন সাক্ষী যে, সে যে উপায়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে বোঝা যায় যে, সে আদালতের নিকট সত্য বলতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে না। বৈরী সাক্ষী বলতে মিথ্যুক সাক্ষী বোঝায় না। সাক্ষী যে সাক্ষ্য দিচ্ছে তা থেকে সাক্ষীর বৈরীতা বুঝতে হবে। বিষয়টি হলো যখন যে পক্ষ কোন সাক্ষীকে আহ্বান করে বা ডাকে, সেই পক্ষ উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ যখন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে, তখন সাক্ষীর নিকট যে প্রশ্ন করা হয় তখন সে উক্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করতে পারে বা বৈরী হতে পারে। সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ এমন ধরণের সাক্ষীকে বৈরী সাক্ষী হিসাবে ঘোষণা করতে পারে।

⇒ ১৫৪ ধারার বক্তব্য অনুযায়ী- বিরুদ্ধ পক্ষ জেরায় যেসব প্রশ্ন করতে পারে, সেসব প্রশ্ন যদি কোন পক্ষ নিজের সাক্ষীকে করার অনুমতি চায়, আদালত তা করার অনুমতি দিতে পারে। এরূপ সাক্ষীকে বৈরী/প্রতিকূল সাক্ষী (Hostile witness) বলে ।

⇒ বৈরী সাক্ষীকে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষের জেরা করার অনুমতি দান করা আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করে। আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ১৫৪ ধারার অধীন আদালতের অনুমতি নিয়ে যে পক্ষ সাক্ষী নিয়ে আসে, সে পক্ষ নিজ সাক্ষীকে জেরা করতে পারে। এ ধরনের সাক্ষী হল বৈরী (Hostile) সাক্ষী।

⇒ সাধারণত জেরা করার উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা। এরূপ কাজ কোন মামলার বিরুদ্ধ পক্ষ করে থাকে, তবে ১৫৪ ধারার অধীন সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের সাক্ষীকে জেরা করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।

⇒ যখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়:
১) সাক্ষী যদি নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়
২) সাক্ষী যদি বিরুদ্ধ পক্ষের সমর্থনে সাক্ষ্য দেয়
৩) সাক্ষী যদি তার পূর্বের সাক্ষ্য থেকে সরে এসে বিপরীত সাক্ষ্য দেয়।

⇒ এরূপ ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আহ্বানকারী পক্ষ নিজ সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করার জন্য আদালতের অনুমতির জন্য দরখাস্ত/ আবেদন দেয়। আদালত উক্ত আবেদন গ্রহণ করলে সাক্ষী বৈরী হয় এবং নিজপক্ষের অ্যাডভোকেট তাকে জেরা করতে পারে।
১২,৪৭৬.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী যদি কোনো তথ্য দেখা যায় এমন হয়, তবে মৌখিক সাক্ষ্য কার দ্বারা দেওয়া উচিত?
  1. যিনি শুনেছেন
  2. যিনি দেখেছেন
  3. যিনি অনুমান করেছেন
  4. যিনি এটি সম্পর্কে পড়েছেন
ব্যাখ্যা
⇒সাক্ষ্য আইনের ৬০ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ঘটনা এমন কিছু হয় যা দেখা যায়, তবে সেই তথ্যের মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই সেই ব্যক্তির দ্বারা দেওয়া উচিত যিনি সেই ঘটনা নিজে দেখেছেন।
এই নিয়মটি প্রমাণের সরাসরি এবং সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, যিনি ঘটনাটি দেখেছেন, তার সাক্ষ্যই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং প্রাসঙ্গিক হবে।

- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬০ (মৌখিক সাক্ষ্য সম্পর্কিত) অনুসারে:
"মৌখিক সাক্ষ্য সর্বদা প্রত্যক্ষ হতে হবে; অর্থাৎ - যদি কোনো ঘটনা দেখা যায় এমন হয়, তাহলে সাক্ষ্য দেবেন তিনি যিনি তা দেখেছেন..."

- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬০ অনুযায়ী, মৌখিক সাক্ষ্য সবসময় সরাসরি (direct) হতে হবে। এতে স্পষ্টভাবে বলা আছে:
"If it refers to a fact which could be seen, it must be the evidence of a witness who says he saw it."
অর্থাৎ, যদি কোনো তথ্য এমন হয় যা দেখা যায়, তবে মৌখিক সাক্ষ্য সেই ব্যক্তির দ্বারা দেওয়া উচিত যিনি নিজে সেই তথ্যটি দেখেছেন।
১২,৪৭৭.
দেওয়ানী আদালত গঠিত হয় নিম্নের কোন আইন অনুযায়ী?
  1. The Code of Civil Procedure, 1908
  2. The General Clauses Act, 1897
  3. The Civil Courts Act, 1887
  4. The Constitution of the People's Republic of Bangladesh
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি আদালতসমূহের গঠন,এখতিয়ার সম্পর্কে The Civil Courts Act,1887 এ বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ Civil Courts Act,1887 অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতসমূহ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

• The Civil Courts Act,1887 এর ধারা-৩ এ নিম্নলিখিত দেওয়ানি আদালতের প্রকারভেদ দেয়া হয়েছে-

১. জেলা জজ আদালত [Court of District Judge]
২. অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত [Court of Additional District Judge]
৩. যুগ্ম জেলা জজ আদালত [Court of Joint District Judge]
৪. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত [Court of Senior Assistant Judge]
৫. সহকারী জজ আদালত [Court of Assistant Judge]
১২,৪৭৮.
তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত দায় স্বীকারের ফলাফল কি?
  1. তামাদির মেয়াদ গণনা স্থগিত থাকবে
  2. নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে
  3. তামাদির মেয়াদ থেকে লিখিত দায় স্বীকারের মেয়াদ বাদ যাবে
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১৯ ধারায় লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কোন মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অপর পক্ষ যদি উক্ত মামলার বা দরখাস্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের মাধ্যমে দায় স্বীকার করে নেয় সেক্ষেত্রে উত্তরুপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন থেকে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা করতে হবে।

তামাদি আইনের ১৯ ধারার শর্তসমূহ নিম্নরূপ-
⇒ লিখিত হতে হবে
⇒ উক্ত পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে
⇒ অবশ্যই তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই করতে হবে
⇒ উক্ত স্বীকৃতি অবশ্যই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে হবে।

Section 19: Effect of acknowledgement in writing-

(1) Where, before the expiration of the period prescribed for a suit or application in respect of any property or right, an acknowledgement of liability in respect of such property or right has been made in writing signed by the party against whom such property or right is claimed, or by some person through whom he derives title or liability, a fresh period of limitation shall be computed from the time when the acknowledgement was so signed. 
 
(2) Where the writing containing the acknowledgement is undated, oral evidence may be given of the time when it was signed; but, subject to the provisions of the Evidence Act, 1872, oral evidence of its contents shall not be received. 
 
Explanation I- For the purposes of this section an acknowledgement may be sufficient though it omits to specify the exact nature of the property or right, or avers that the time for payment, delivery, performance or enjoyment has not yet come, or is accompanied by a refusal to pay, deliver, perform or permit to enjoy, or is coupled with a claim to a set-off, or is addressed to a person other than the person entitled to the property or right. 
Explanation II- For the purposes of this section, “signed” means signed either personally or by an agent duly authorized in this behalf. 
Explanation III- For the purposes of this section an application for the execution of a decree or order is an application respect of a right.
১২,৪৭৯.
তামাদি আইনের কত ধারায় সদিচ্ছায় ভুল আদালতে মামলা দায়ের করা সময় তামাদি গণনায় বাদ দেওয়া হবে?
  1. ৪ ধারায়
  2. ৫ ধারায়
  3. ১৪ ধারায়
  4. ১৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ১৪: ভুল আদালতে সদিচ্ছায় পরিচালিত কার্যধারার সময় বাদ দেওয়া-
(১) যেকোনো মামলার জন্য নির্ধারিত তামাদি সময় গণনার ক্ষেত্রে, যদি বাদী সততা ও যথাযথ যত্নসহকারে অন্য কোনো দেওয়ানি কার্যধারা পরিচালনা করে থাকেন — তা প্রথম আদালতে হোক কিংবা আপিল আদালতে — এবং সেই কার্যধারা একই কারণে দায়েরকৃত হয় এবং সেই আদালত কোনো এখতিয়ারগত ত্রুটি বা অনুরূপ কোনো কারণে মামলাটি গ্রহণে অক্ষম হয়, তাহলে সেই সময় তামাদি সময় গণনায় বাদ দেওয়া হবে।

(২) একইভাবে, যেকোনো দরখাস্তের তামাদি সময় গণনার সময়ও, যদি আবেদনকারী সততা ও সচেষ্টতার সাথে পূর্বে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একই প্রার্থনার জন্য অন্য কোনো দেওয়ানি কার্যধারা পরিচালনা করে থাকেন এবং আদালত এখতিয়ারগত ত্রুটির কারণে তা গ্রহণ করতে অক্ষম হয় — তবে সেই সময় বাদ যাবে।

ব্যাখ্যা ১: পূর্বের মামলা বা দরখাস্ত চলাকালীন সময় বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে, মামলা/দরখাস্ত দায়েরের দিন এবং নিষ্পত্তির দিন – উভয়ই গণনায় ধরা হবে।
ব্যাখ্যা ২: যদি কোনো বাদী বা আবেদনকারী একটি আপিল প্রতিরোধ করেন, তবে তাকেও কার্যধারা পরিচালনাকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।
ব্যাখ্যা ৩: এই ধারার উদ্দেশ্যে, অপ্রাসঙ্গিক পক্ষ বা কারণের ভুল সংযুক্তিকরণ (misjoinder of parties or causes of action) কে আদালতের এখতিয়ারগত ত্রুটির অনুরূপ কারণ বলে গণ্য করা হবে।
১২,৪৮০.
চূড়ান্ত ডিক্রি প্রচারের পর সংক্ষুব্ধ পক্ষ নিম্নের কোন পদক্ষেপ নিতে পারবে?
  1. প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল
  2. প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন
  3. চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল
  4. প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিউ
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ৯৭ ধারানুযায়ী, প্রদত্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের বিধান:

প্রাথমিক ডিক্রিতে যে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আপিল করা না হলে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল হলে তখন উক্ত আপিলে প্রাথমিক ডিক্রির যথার্থতা/বৈধতা অস্বীকার করা যাবে না।

অর্থাৎ প্রাথমিক ডিক্রি দেওয়া হলে, প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা না হলে- যখন চূড়ান্ত ডিক্রি দেওয়া হবে তখন প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না অথবা চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও প্রাথমিক ডিক্রির বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

এ ধারার সারমর্ম হচ্ছে-
প্রাথমিক ডিক্রি এবং চূড়ান্ত ডিক্রি উভয় ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। তবে প্রাথমিক ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল না করলে চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিলে প্রাথমিক ডিক্রি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
১২,৪৮১.
'Judgment' এর বাংলা পরিভাষা কী?
  1. ডিক্রি
  2. রায়
  3. আদেশ
  4. বিবৃতি
ব্যাখ্যা
Section-2(9)- "Judgment" means the statement given by the Judge of the grounds of a decree or order:
- 'রায়' (Judgment): বলতে ডিক্রি বা আদেশের ভিত্তি হিসেবে বিচারক যে বিবৃতি দেন, তা বুঝায়।

⇒ রায় বলতে বুঝায় কোন দেওয়ানী মামলায় প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশের যুক্তি হিসেবে বিচারক যে বর্ণনা দেন। সাধারণত, দেওয়ানী মোকদ্দমার শুনানীর পর আদালত রায় ঘোষণা করেন এবং রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করেন।
১২,৪৮২.
কতিপয় ক্ষেত্রে সময় বৃদ্ধিকরণ (Extension of period in certain cases) বিধানটি তামাদি আইনের কত ধারায় আছে?
  1. ৫ ধারা 
  2. ৭ ধারা 
  3. ৬  ধারা 
  4. ১৪ ধারা 
ব্যাখ্যা

⇒ কতিপয় ক্ষেত্রে সময় বৃদ্ধিকরণ (Extension of period in certain cases) বিধানটি তামাদি আইনের ৫ ধারায়।

⇒ তামাদি আইন ১৯০৮ এর ৫ ধারা, কতিপয় ক্ষেত্রে সময় বৃদ্ধিকরণ: কোনো আপিল বা রায় পুনর্বিচার বা পুনরীক্ষণের দরখাস্ত বা আপিল করিবার অনুমতি প্রার্থনার দরখাস্ত বা অন্য কোনো দরখাস্ত, যাহার উপর এই ধারা বর্তমানে বলবত কোনো আইনের দ্বারা বা অধীনে প্রযোজ্য করা হয়, উহার নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর গৃহীত হইতে পারে, যদি আপিলকারী বা দরখাস্তকারী এই মর্মে আদালতের সন্তুষ্টি সাধন করিয়া থাকে যে, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আপিল বা দরখাস্তটি দাখিল না করিবার যথেষ্ট কারণ ছিল।

ব্যাখ্যা: আপিলকারী বা দরখাস্তকারী যদি হাইকোর্ট বিভাগের কোনো আদেশ, প্রথা বা রায় দ্বারা তামাদির মেয়াদ গণনা বা নির্ধারণ করিতে বিভ্রান্ত হইয়া থাকেন, তবে তাহা বর্তমান ধারা অনুযায়ী যথেষ্ট কারণ বলিয়া গণ্য হইবে।
--------------------
⇒ The Limitation act 1908, Section 5, Extension of period in certain cases: Any appeal or application for a revision or a review of judgment or for leave to appeal or any other application to which this section may be made applicable by or under any enactment for the time being in force may be admitted after the period of limitation prescribed therefor, when the appellant or applicant satisfies the Court that he had sufficient cause for not preferring the appeal or making the application within such period.

Explanation: The fact that the appellant or applicant was misled by any order, practice or judgment of the High Court Division in ascertaining or computing the prescribed period of limitation may be sufficient cause within the meaning of this section.

১২,৪৮৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে, ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের জন্য-
  1. নিষিদ্ধ
  2. বাধ্যতামূলক
  3. সুবিবেচনামূলক
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী, ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন বা সুবিবেচনামূলক। আদালত এই ধরনের ডিক্রি প্রদান করতে পারে বা না-ও করতে পারে, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
- ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮৭৭, ধারা ৪২: আইনগত পরিচয় বা অধিকার ঘোষণার ক্ষেত্রে আদালতের সুবিবেচনা। এ ধরনের ঘোষণায় নিষেধাজ্ঞা:
যে কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো আইনগত পরিচয় বা কোনো সম্পত্তির অধিকারী, তিনি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন যে ব্যক্তি বা যার আগ্রহ তার সেই পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করছে, এবং আদালত তার ইচ্ছাধীনভাবে সেই ব্যক্তির অধিকার ঘোষণা করতে পারে, এবং বাদীকে এই মামলায় কোনো অতিরিক্ত সাহায্য চাওয়ার প্রয়োজন নেই।
যদিও, কোনো আদালত সেই ধরনের ঘোষণা করবে না যেখানে বাদী, যিনি শুধুমাত্র স্বত্বের ঘোষণা চাইতে পারছেন, আরও কোনো সাহায্য চাওয়ার ক্ষমতা থাকার পরও তা করেন না।
ব্যাখ্যা:- সম্পত্তির ট্রাস্টি একটি "ব্যক্তি যার আগ্রহ অস্বীকার করার" অধিকার রয়েছে, যখন কোন অপরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার অধিকার সংক্রান্ত স্বত্ব রয়েছে, এবং যদি সে ব্যক্তি বর্তমান থাকতো তবে সে একজন ট্রাস্টি হতো।

⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation - A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
১২,৪৮৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২৩ এর বিধানাবলী কোন ক্ষেত্রে প্রযোগ করা হয় না?
  1. ডিক্রি কার্যকরের ক্ষেত্রে
  2. মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে
  3. মামলা আপসের ক্ষেত্রে
  4. দাবির অংশ পরিত্যাগের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩, বিধি ৪ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে যে: "Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order."
- অর্থাৎ, আদেশ ২৩-এর বিধানাবলী (মামলা প্রত্যাহার, দাবি পরিত্যাগ ও আপস-সমঝোতা সংক্রান্ত) ডিক্রি কার্যকরের (execution of decree) কোনো কার্যক্রমে প্রযোজ্য হবে না।
----------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Order-23 Rule-4: Proceedings in execution of decrees not affected:
- Nothing in this Order shall apply to any proceedings in execution of a decree or order.

১২,৪৮৫.
আদি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন আদেশকে সাধারণত আইনের প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ করা যায়-
  1. রেফারেন্সে
  2. আপিলে
  3. রিভিউ-এ
  4. রিভিশনে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করা যাবে যদি আদেশ বা ডিক্রিটি আপীলঅযোগ্য হয় বা ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের বিধান না থাকে এবং নিম্ন আদালত আইনগত ভুল করার কারণে ডিক্রি বা আদেশে ভুল হয়েছে এবং উক্ত ভুলের কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হলে [Occasioning failure of Justice]। শুধুমাত্র আইনত ভুলের ক্ষেত্রে আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করবে না। যদি আইনগত ভুলটি ন্যায় বিচার বিঘ্ন করে, শুধুমাত্র আদালত তখনই রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

⇒ রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।

⇒ দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের শর্ত- ২০০৩ সালে দেওয়ানী কার্যবিধি পরিবর্তনের মাধ্যমে দেওয়ানী রিভিশনের বিধানে ব্যাপক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়। বর্তমানে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে রিভিশন করা যায়-
⇒ সাধারণত রিভিশন এখতিয়ারে আদালত ঘটনার প্রশ্ন (question of fact) বিবেচনা করে না। যেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে (question of law) ভুল ও ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটে, সেক্ষেত্রে আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আইনগত ভুলের কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্ন ঘটলেই আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
⇒ কোন ডিক্রি বা আদেশ আপিলযোগ্য না হলে, কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান না থাকলে অথবা কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে আপিলের বিধান থাকার পরও উক্ত ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা না হলে সেক্ষেত্রে রিভিশন দায়ের করা করা যায়।
⇒ কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরূদ্ধে একবার আপিল করা হলে উক্ত আপিলে প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে রিভিশন করা যায়, কেননা দেওয়ানী কার্যবিধিতে ২য় আপিলের বিধান নেই।
⇒ ১১৫ ধারার বর্তমান বিধান অনুযায়ী কেবলমাত্র ডিক্রি বা আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ যে কোন পক্ষ রিভিশন দায়ের করতে পারে, কিন্তু আগের মত আদালত কর্তৃক স্বেচ্ছাপ্রণোদিত (suo moto) হওয়ার বিধান নেই।
⇒ রিভিশন হল সম্পূর্ণ বিবেচনামূলক প্রতিকার এবং রিভিশনকে অধিকার হিসাবে দাবী করা যায় না। ✓ আপিলের ন্যায় রিভিশন বিচারকার্যের চলমান অবস্থা নয় 

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-১১৫ এর বিধান রিভিশন।
১) কোন মোকদ্দমায় কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় জেলা জজ আদালত বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত কর্তৃক ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হলে, বা যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক ডিক্রি প্রদত্ত হলে, যার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা চলে না; সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদনে হাইকোর্ট ডিভিশন তার নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা সমাপণ করিয়ে এই ডিক্রি বা আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে হাইকোর্ট ডিভিশন এই ডিক্রি বা আদেশ সংশোধন করতে পারবেন, কিংবা তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।

২) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না, কোন যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বা সহকারী জজ আদালত উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদান করলে সংক্ষুব্ধ পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জেলা জজ আদালত এই মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় নথি তলব করতে পারবেন; এবং ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা অবসান করিয়ে এই আদেশে উক্ত আদালত আইনে ভ্রান্তি করেছে মর্মে দৃষ্টমান হলে জেলা জজ আদালত উক্ত আদেশ সংশোধন করতে পারবে এবং তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা কিংবা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।

৩) জেলা জজ রিভিশন মোকদ্দমা হস্তান্তর করলে উপ-ধারা (২) এর অধীনে জেলা জজের সকল সর্বময় ক্ষমতা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে থাকবে।

৪) ন্যায়বিচারের ব্যর্থতার অবসান করিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত প্রদান করলে প্রয়োজনীয় আইনের প্রশ্নে ভুলের যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন রিভিশনের অনুমতির অনুমোদন দেয়, সেক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) বা (৩) এর অধীনে প্রদানকৃত জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশ পুনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন করা চলবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশন তা যেরূপ যথার্থভাবে মোকদ্দমা বা কর্মপ্রক্রিয়ায় সেরূপ আদেশ প্রদান করতে পারবে।

৫) এই ধারাটির প্রতিস্থাপনে যেটাই বর্ণিত থাকুক না কেন, ঐরূপ প্রতিস্থাপনের পূর্বে ১১৫নং ধারার অধীনে আরম্ভ হওয়া বা ঝুলন্ত থাকা কর্মপ্রক্রিয়া যেরূপে নিষ্পত্তি হবে যেন ১১৫নং ধারূ প্রতিস্থাপিত হয়নি।
১২,৪৮৬.
'ক' খ-কে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে তার মোবাইল ফোন দিতে বাধ্য করে। দণ্ডবিধি অনুসারে ক-এর অপরাধ কী?
  1. চুরি
  2. ভীতি প্রদর্শন
  3. দস্যুতা 
  4. অপরাধমূলক আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা

⇒ প্রদত্ত পরিস্থিতিতে, 'ক' খ-কে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে (যা আশু মৃত্যুর ভয় সৃষ্টি করে) তার মোবাইল ফোন তাৎক্ষণিক দিতে বাধ্য করেছে। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩৯০ অনুসারে, এটি দস্যুতা (Robbery) হিসেবে গণ্য হয়, কারণ বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় (extortion) অপরাধী উপস্থিত থেকে আশু মৃত্যু/আঘাতের ভয় দেখিয়ে তাৎক্ষণিক অর্পণে বাধ্য করে সংঘটিত হয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান দস্যুতা:- প্রত্যেক দস্যুতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।
যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে:- চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে 'দস্যুতা'।
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে:- বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী- যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহ্বল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় 'দস্যুতা' বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা:- অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860 -Section-390- Robbery: In all robbery there is either theft or extortion:
- When theft is robbery:
Theft is "robbery" if, in order to the committing of the theft, or in committing the theft, or in carrying away or attempting to carry away property obtained by the theft, the offender, for that end, voluntarily causes or attempts to cause to any person death or hurt or wrongful restraint, or fear of instant death or of instant hurt, or of instant wrongful restraint.
- When extortion is robbery:
Extortion is “robbery” if the offender, at the time of committing the extortion, is in the presence of the person put in fear, and commits the extortion by putting that person in fear of instant death, instant hurt, or of instant wrongful restraint to that person, or to some other person, and, by so putting in fear, induces the person so put in fear then and there to deliver up the thing extorted.
- Explanation. -The offender is said to be present if he is sufficiently near to put the other person in fear of instant death, of instant hurt, or of instant wrongful restraint.

১২,৪৮৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারার অধীনে কোন পরিস্থিতিতে আপিল খারিজ করা যেতে পারে?
  1. যদি আপিল যথাযথভাবে নথিভুক্ত না হয়
  2. যদি আপিলকারী আদালতে উপস্থিত না হন
  3. যদি আপিলকারী একাধিকবার আপিল দাখিল করেন
  4. যদি আপিল আদালত মনে করে যে হস্তক্ষেপের পর্যাপ্ত কারণ নেই
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারার অধীনে যদি আপিল আদালত মনে করে যে হস্তক্ষেপের পর্যাপ্ত কারণ নেই তখন আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করতে পারেন। 

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২১ ধারামতে আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ (Summary dismissal of appeal)-
(১) ধারা-৪১৯ বা ৪২০ এর আওতায় দরখাস্ত ও নকল পাওয়ার পর আপিল আদালত উহা পড়বেন, এবং যদি ইহা বিবেচনা করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত পর্যাপ্ত কারণ নেই, সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে আপিল খারিজ করতে পারবেন।
শর্ত থাকে যে, ধারা-৪১৯ এর আওতায় দাখিলকৃত আপিলের ক্ষেত্রে আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে আপিল খারিজ করা যাবে না।

(২) এই ধারার আওতায় আপিল খারিজ করার পূর্বে আদালত মামলার নথি তলব করতে পারবেন, কিন্তু আদালত এরূপ তলব করতে বাধ্য হবেন না।
--------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-421: Summary dismissal of appeal:
(1) On receiving the petition and copy under section 419 or section 420, the Appellate Court shall pursue the same, and, if it considers that there is no sufficient ground for interfering, it may dismiss the appeal summarily:ঃ
-Provided that no appeal presented under section 419 shall be dismissed unless the appellant or his pleader has had a reasonable opportunity of being heard in support of the same.

(2) Before dismissing an appeal under this section, the Court may call for the record of the case, but shall not be bound to do so.
১২,৪৮৮.
দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার অধীনে কোন সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় না?
  1. যেটি চুরি করা হয়েছে
  2. যেটি বৈধ মালিকের দখলে এসেছে
  3. যেটি জোরপূর্বক আদায় করা হয়েছে
  4. যেটি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই মালের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১০ ধারামতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণ্য হবে তা হল-
ক) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি;
খ) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি;
গ) দস্যুতা মূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি; এবং
ঘ) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।

⇒ উক্ত চোরাই মাল যখন আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী লোকের দখলে আসে, তখন সেগুলো আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার বিধান চোরাই সম্পত্তি:- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে "চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি 'চোরাই সম্পত্তি' বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
---------------------- 
⇒ The Penal Code, 1860, Section 410: Stolen property:
- Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.
১২,৪৮৯.
বিলম্বিত দেনমোহরানা আদায়ের মামলার তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ২ বছর
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১০৩ এবং ১০৪ অনুযায়ী মুসলিম আইনের অধীন দেনমোহর আদায়ের মামলা দায়েরের তামাদির মেয়াদ ৩ বৎসর।
→ অর্থাৎ বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য [deferred dower] একজন মুসলিম মহিলা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির ৩ বৎসর যা তামাদি আইনের ১০৪ অনুছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।
→ তামাদি আইনের ধারা ১০৪ অনুযায়ী, বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred Dower) এর জন্য মুসলিম মহিলার মামলা দায়ের করার জন্য তামাদির মেয়াদ হল ৩ বছর।
- এটি তামাদি আইনের ১০৪ অনুচ্ছেদ-এ নির্ধারিত, যেখানে বলা হয়েছে যে, যদি মৃত্যু বা তালাক দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তবে মহিলার বিলম্বিত মোহর আদায়ের জন্য ৩ বছরের তামাদি মেয়াদ থাকবে।
- এই তামাদি মেয়াদটির শুরু হবে: মৃত্যু বা তালাক ঘটানোর পর। সেই ৩ বছরের মধ্যে মহিলাকে মোহরের দাবি করার জন্য মামলা করতে হবে, অন্যথায় তার দাবি বাতিল হয়ে যাবে।
১২,৪৯০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় নেতিবাচক চুক্তি পালনের নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে?
  1. ৫৪ ধারায়
  2. ৫৫ ধারায়
  3. ৫৬ ধারায়
  4. ৫৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৭ ধারায় নেতিবাচক চুক্তি পালনের জন্য নিষেধাজ্ঞা [ Injunction to perform negative agreement ] মঞ্জুর করতে পারে।
⇒ The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৭ ধারার বিধান হল নেতিবাচক চুক্তি পালনের নিষেধাজ্ঞাঃ ধারা ৫৬ এর উপধারা-(চ) এর বিধান সত্ত্বেও যেক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতবোধকভাবে কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ করা এবং কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ না করবার সম্মতির সমন্বয়, সেক্ষেত্রে হাঁ-সূচক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে বাধ্য করতে আদালত অসমর্থ হলেও সে পরিস্থিতি আদালতকে না সূচক কাজ সম্পাদন সম্বন্ধে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা থেকে নিবারণ করবে না।
তবে শর্ত থাকে যে, বাদী তার যতটুকু অবশ্যপালনীয়, চুক্তির ততটুকু পালনে ব্যর্থ হয় নাই।
----------------
⇒  Section 57 Injunction to perform negative agreement:
- Notwithstanding section 56, clause (f), where a contract comprises an affirmative agreement to do a certain act, coupled with a negative agreement, express or implied, not to do a certain act, the circumstance that the Court is unable to compel specific performance of the affirmative agreement shall not preclude it from granting an injunction to perform the negative agreement: provided that the applicant has not failed to perform the contract so far as it is binding on him.
১২,৪৯১.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে রেহাই দিতে পারেন?
  1. ধারা ২০৩
  2. ধারা ২০৫
  3. ধারা ২০০
  4. ধারা ২০৪
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫ অনুসারে-

(১) যখন কোন ম্যাজিস্ট্রেট সমন জারি করেন তখন যুক্তিসংগত কারণ থাকলে তিনি আসামিকে ব্যক্তিগত হাজিরা হতে রেহাই দিয়ে, তাকে উকিলের মাধ্যমে হাজির হওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন।
(২) কিন্তু তদন্ত বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট তার বিচারিক ক্ষমতায় মামলার যে কোন পর্যায়ে আসামিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনবোধে ইতোপূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে পারবেন।

Section 205: Magistrate may dispense with personal attendance of accused
(1) Whenever a Magistrate issues a summons, he may, if he sees reason so to do, dispense with the personal attendance of the accused, and permit him to appear by his pleader. 
(2) But the Magistrate inquiring into or trying the case may, in his discretion, at any stage of the proceedings, direct the personal attendance of the accused, and, if necessary, enforce such attendance in manner hereinbefore provided.
১২,৪৯২.
রহিম একটি কল্পিত নাম ব্যবহার করে ভোটদান করে। রহিমের অপরাধটি কোন ধারার অধীনে পড়বে?
  1. ধারা ১৭১ঘ
  2. ধারা ১৭১চ
  3.  ধারা ১৭২
  4. ধারা ১৭৩
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ধারা ১৭১ঘ।

⇒ দণ্ডবিধির ১৭১ঘ ধারার বিধান- নির্বাচনে মিথ্যা পরিচয় দান:
কোন ব্যক্তি যদি কোন নির্বাচনে অপর কোন জীবিত বা মৃত ব্যক্তির নামে ভোটের কাগজের জন্য প্রার্থনা করে বা অপর কোন জীবিত বা মৃত ব্যক্তির নামে ভোটদান করে বা কোন কল্পিত নামে ভোটের কাগজ প্রার্থনা বা ভোটদান করে অথবা অনুরূপ নির্বাচনে একবার ভোটদানের পর পুনরায় একই নির্বাচনে নিজের নামে ভোটের কাগজ চায় এবং কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ কোন উপায়ে কোন ব্যক্তি দ্বারা ভোটদানে সহায়তা করে বা অনুরূপ কোন উপায়ে কোন ব্যক্তির ভোট সংগ্রহ করে বা সংগ্রহ করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি নির্বাচনে মিথ্যা পরিচয়দানের অপরাধে অপরাধী হবে।

১২,৪৯৩.
আপীলকারী জেলে থাকলে আপীলের দরখাস্ত কার বরাবর দাখিল করতে হবে?
  1. সরাসরি আপিল আদালত
  2. নিজের আইনজীবী
  3. জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
  4. বিচারিক আদালত
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২০ ধারা- আপীলকারী জেলে অবস্থান করলে সেক্ষেত্রে পদ্ধতি:
আপীলকারী জেলে থাকলে আপীলের নকলসহ তার আপীলের দরখাস্ত জেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করতে হবে এবং অতঃপর উক্ত অফিসার উক্ত দরখাস্ত ও নকল যথাযথ আপীল আদালত বরাবর প্রেরণ করবেন।

Section 420- Procedure when appellant in jail:
If the appellant is in jail, he may present his petition of appeal and the copies accompanying the same to the officer in charge of the jail, who shall thereupon forward such petition and copies to the proper Appellate Court.
১২,৪৯৪.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় “অনধিকার গৃহে প্রবেশ” (House-trespass)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৪৪১
  2. ধারা ৪৪২
  3. ধারা ৪৪৩
  4. ধারা ৪৪৪
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৮৬০ এর ৪৪২ ধারায় "অনধিকার গৃহে প্রবেশ" বা House-trespass অপরাধটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে মানুষের বাসস্থান, উপাসনালয় বা সম্পত্তি সংরক্ষণের স্থানে প্রবেশ বা অবস্থান করে, তবে এটি অনধিকার গৃহে প্রবেশ হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারার বিধান অনধিকার গৃহে প্রবেশ:- কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 442- House-trespass:- Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".
Explanation: -The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house-trespass.

১২,৪৯৫.
ব্যভিচার অপরাধের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় ব্যভিচার অপরাধ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে
  2. স্ত্রীলোক এবং পুরুষ উভয়কে অপরাধে অভিযুক্ত করা যায়
  3. অনধিক সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়ার বিধান আছে
  4. শুধু পুরুষ ব্যক্তিকে ব্যভিচারের অপরাধে অভিযুক্ত করা যায়
ব্যাখ্যা
ব্যভিচার (Adultery):
দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা অনুসারে, কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোন ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোন স্ত্রীর সাথে সে নারীর স্বামীর বিনা সম্মতিতে বা যৌন কামনার উপস্থিতি ছাড়া যৌনসঙ্গম করে, যা নারী ধর্ষণের সামিল নয়, কিন্তু সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য,
ব্যভিচারের ক্ষেত্রে স্ত্রীলোকটি অভিযুক্ত হবে না। কিন্তু পুরুষ ব্যক্তিকে ব্যভিচারের অপরাধে অভিযুক্ত করা যায়।

শাস্তি:
অনধিক সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড। [ধারা ৪৯৭]
১২,৪৯৬.
দণ্ডবিধির ১৬৩ ধারায় পারিতোষিক গ্রহণের উদ্দেশ্য কোনটি হতে পারে?
  1. সরকারি কাজ করানো বা করা হতে বিরত রাখা
  2. সরকারি দায়িত্ব পালনে অনুগ্রহ বা নিগ্রহ প্রদর্শন
  3. সরকার বা আইনসভা দ্বারা উপকার বা অপকার করানো
  4. উপরোক্ত সকলটি
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৬৩ ধারার বিধান- সরকারি কর্মচারীর উপর ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগের জন্য পারিতোষিক গ্রহণ:
কোন ব্যক্তি যদি সরকারি কর্মচারীর উপর তার ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগ করে উক্ত সরকারি কর্মচারীকে দিয়ে কোন সরকারি কাজ করানোর বা করা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে বা পুরস্কার হিসাবে, অথবা সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কোন ব্যক্তিকে অনুগ্রহ প্রদর্শন বা নিগ্রহ প্রদর্শন করানোর বা করা হতে বিরত রাখার জন্য, অথবা বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভা দ্বারা কিংবা কোন সরকারি কর্মচারী দ্বারা কোন উপকার বা অপকার করানোর জন্য বা তা করানোর চেষ্টায় নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির জন্য কারো নিকট থেকে কোনরূপ পারিতোষিক গ্রহণ করে, বা লাভ করে, বা গ্রহণ করতে সম্মত হয়, বা লাভ করতে চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১২,৪৯৭.
জালিয়াতির শাস্তি কী?
  1. ১ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  2. ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  3. ৩ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী যে সব কাজ জালিয়াতি বলে গণ্য হবে তা হলো-
(i) কোন ব্যক্তি নিজে যদি এই উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর করে যে, তার স্বাক্ষর বা নামটি একই নামের অন্য কোন ব্যক্তির বলে চালিয়ে দেবেন;
(ii) যখন কোন ব্যক্তি অন্য কারো স্বাক্ষর জালিয়াতি করে স্বাক্ষর করে;
(iii) যদি কোন ব্যক্তি কোন বিলে পৃষ্ঠাঙ্কন করে এই উদ্দেশ্যে যে, তা অন্য কেউ করেছে বলে চালিয়ে দেবেন:
(iv) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে তার নামে কোন সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে ইজারা নেয় কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল মূলত তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা; অথবা
(v) যদি কোন ব্যক্তি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তির কাছে সম্পদ গচ্ছিত রাখে এবং সে উদ্দেশ্য কোন প্রমিসরি নোট তৈরি করে।
♦কোন ব্যক্তির নিজের নাম স্বাক্ষরও জালিয়াতির সামিল হতে পারে। নিজের নামে স্বাক্ষর করলেই জালিয়াতি হবে বিষয়টা এমন নয়। বরং নিজের নাম স্বাক্ষর জালিয়াতি হতে পারে যদি স্বাক্ষরটা দ্বারা কোন মিথ্যা দলিল তৈরী করা হয়, কোন অধিকার দাবী করতে, কোন ব্যক্তিকে ক্ষতি করতে বা প্রতারণা করতে ইত্যাদি।
♦পেনাল কোড-এর  ৪৬৫ ধারায় জালিয়াতির শাস্তি বর্ণিত আছে যা সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
১২,৪৯৮.
নিম্নের কে Panel of Mediators এ অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না?
  1. অবসরপ্রাপ্ত বিচারক
  2. স্থানীয় বারের সভাপতি
  3. স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় চাকুরিরত ব্যক্তি
  4. লাভজনক সরকারি পদে চাকুরিরত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
♦ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির সাথে পরামর্শক্রমে আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত জজ, বিরোধ নিষ্পত্তির প্রশিক্ষিত বলে জানা কোন ব্যক্তি এবং প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত এইরূপ ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ যারা উক্ত উদ্দেশ্যে উপযুক্ত বলে বিবেচিত তাদের সমন্বয়ে জেলা জজ মধ্যস্থতাকারীগণের একটি তালিকা তৈরী করবেন (সময়ে সময়ে তা হালনাগাদ করতে হবে) এবং তার প্রশাসনিক এখতিয়ারাধীন সকল দেওয়ানি আদালতকে তালিকার বিষয়ে তিনি অবহিত করবেন।

♦ মধ্যস্থতাকারীর যোগ্যতা-
i) জেলা জজ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্যানেল সদস্য; বা
ii) অবসরপ্রাপ্ত জজ; অথবা
iii) সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমার পক্ষগণ নিযুক্ত উকিল ব্যতীত অন্য যে কোন উকিল মধ্যস্থতাকারী হতে পারবেন।

♦ তবে প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে (Office of Profit) নিযুক্ত কোন ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারী হতে পারবে না
১২,৪৯৯.
মোকদ্দমার কোনো পক্ষ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দিলে এবং আইনজীবী কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম হলে বা অস্বীকার করলে, আদালত কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে?
  1. মোকদ্দমার শুনানী মুলতবি রাখবে
  2. উক্ত পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ
  3. মোকদ্দমা খারিজ
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১০ এ আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of Parties by the Court] এর বিধান রয়েছে।

• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

• আদেশ ১০ বিধি ৪(১,২) অনুসারে, যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কোন পক্ষ নিজে না এসে কোন আইনজীবীর মাধ্যমে আদালত হাজিরা দেয়, সেই ক্ষেত্রে আইনজীবী কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অক্ষম হলে বা উত্তর দিতে অস্বীকার করলে, আদালত মোকদ্দমার শুনানী মুলতুবি রেখে উক্ত পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। উক্ত নির্ধারিত দিনে এমন পক্ষ হাজির হতে ব্যর্থ হলে আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে।

• উল্লেখ্য যে, আদেশ ১০ এর ৪ বিধির অধীন কোন পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আদেশ হলো একটি আপীলযোগ্য আদেশ।
১২,৫০০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই বাদীপক্ষের মামলা পরিচালনা করতে পারবেন?
  1. অ্যাটর্নি জেনারেল
  2. সরকারি সলিসিটর
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. উপরিউক্ত সবাই
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫(১) অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি সলিসিটর, পাবলিক প্রসিকিউটর, অথবা সরকার কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য অফিসার অনুমতি ছাড়াই বাদীপক্ষের মামলা পরিচালনা করতে পারবেন। অন্য সকল ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না।
- অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫(১) অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি সলিসিটর, পাবলিক প্রসিকিউটর এবং সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অফিসার অনুমতি ছাড়াই মামলা পরিচালনা করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫- সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনার অনুমতি:
(১) কোন মামলার ইনকোয়ারি বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক এতদ্‌বিষয় নির্ধারিত পদের নিম্নপদস্থ কোন পুলিশ অফিসার ব্যতীত অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করতে পারবেন, কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি সলিসিটর, পাবলিক প্রসিকিউটর অথবা সরকার কর্তৃক এই বিষয়ে সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন অফিসার ব্যতীত কোন ব্যক্তি উক্ত অনুমতি ব্যতিরেকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অধিকারী হবে না।
(২) মামলা প্রত্যাহারের ব্যাপারে এরূপ অফিসারের ধারা-৪৯৪ এ উল্লিখিত ক্ষমতা থাকবে এবং তাঁর প্রত্যাহৃত মামলার ক্ষেত্রে উক্ত ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।
(৩) বাদীপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী কোন ব্যক্তিতা ব্যক্তিগতভাবে বা কোন অ্যাডভোকেট কর্তৃক এরূপ করতে পারবেন।
(৪) যে অপরাধের জন্য আসামীর বিচার চলছে সেই অপরাধের কোন তদন্তে অংশ গ্রহণ করে থাকলে কোন পুলিশ অফিসারকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 495- Permission to conduct prosecution:
(1) Any Magistrate inquiring into or trying any case may permit the prosecution to be conducted by any person other than an officer of police below the rank to be prescribed by the Government in this behalf but no person, other than the Attorney-General, Government Solicitor, Public Prosecutor or other officer generally or specially empowered by the Government in this behalf, shall be entitled to do so without such permission.
(2) Any such officer shall have the like power of withdrawing the prosecution as is provided by section 494, and the provisions of that section shall apply to any withdrawal by such officer.
(3) Any person conducting the prosecution may do so personally or by a pleader.
(4) An officer of police shall not be permitted to conduct the prosecution if he has taken any part in the investigation into the offence with respect to which the accused is being prosecuted.