বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন১২,৬০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল ও বিজেএস - এর Common আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ১০৩ / ১২৬ · ১০,২০১১০,৩০০ / ১২,৬০৫

১০,২০১.
আদেশ-১৫, বিধি-৩ অনুসারে, কখন আদালত অতিরিক্ত শুনানি স্থগিত রাখতে পারেন?
  1. যখন মামলার পক্ষগণ রায় মেনে নিতে অসম্মত হন
  2. যখন মামলায় নতুন করে সাক্ষী যুক্ত করা হয়
  3. যখন আদালত নতুন করে বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করেন
  4. যখন আদালত মনে করেন যে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা যুক্তি উপস্থাপিত হয়নি
ব্যাখ্যা
• আদেশ-১৫, বিধি ৩-
১) যদি মামলার পক্ষদের মধ্যে আইন বা ঘটনার কোনো প্রশ্ন বিচারযোগ্য হয় এবং আদালত আগে থেকেই বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করে থাকে, তবে আদালত যদি মনে করেন যে আরও যুক্তি বা প্রমাণের দরকার নেই এবং তাৎক্ষণিক রায় ঘোষণা করলে কারো প্রতি অবিচার হবে না, তাহলে আদালত সরাসরি বিচার্য বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে রায় দিতে পারেন।

তবে, যদি শুধুমাত্র বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য সমন দেওয়া হয়ে থাকে এবং মামলার পক্ষ বা তাদের উকিল উপস্থিত থেকে কোনো আপত্তি না করেন, তাহলে আদালত সেই অনুযায়ী রায় ঘোষণা করতে পারেন।

২) কিন্তু, যদি আদালত মনে করেন যে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা যুক্তি উপস্থাপিত হয়নি, তাহলে তিনি মামলার অতিরিক্ত শুনানি স্থগিত রাখতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য বা যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সময় নির্ধারণ করতে পারেন।
১০,২০২.
নিম্নের কোন বিধানটি স্বীকারোক্তি ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে সঠিক নয়?
  1. স্বীকৃতি শুধু ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
  2. স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে শাস্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকে
  3. স্বীকৃতিতে দোষ স্বীকার থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে
  4. সকল স্বীকারোক্তিই স্বীকৃতি এর অন্তর্ভুক্ত কিন্তু সকল স্বীকৃতি স্বীকারোক্তি নয়
ব্যাখ্যা
স্বীকারোক্তি ও স্বীকৃতি:

⇒ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করে বিবৃতি প্রদান করলে তাকে স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার বলে; কিন্তু কোন মামলার বিষয়ে কোনো বিবৃতি প্রদান করা হলে, উক্ত বিবৃতি যদি সেই মামলার বিচার্য বিষয় সম্পর্কে ইঙ্গিত বহন করে তাহলে তাকে স্বীকৃতি বলে।
⇒ স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার কে ইংরেজিতে confession এবং স্বীকৃতি কে ইংরেজিতে admission বলে।

সকল স্বীকারোক্তি অবশ্যই স্বীকৃতি কিন্তু সকল স্বীকৃতি স্বীকারোক্তি নয়।
⇒ স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে প্রমাণের প্রয়োজন কিন্তু স্বীকৃতির ক্ষেত্রে প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।

স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে শাস্তি হওয়ার আশঙ্কা থাকে কিন্তু স্বীকৃতিতে দোষ স্বীকার না থাকলে শাস্তি হয় না।
স্বীকারোক্তি শুধু ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিন্তু স্বীকৃতি ফৌজদারি ও দেওয়ানী উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

⇒ স্বীকারোক্তি সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয় কিন্তু স্বীকৃতি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
স্বীকারোক্তিতে অবশ্যই দোষ স্বীকার থাকে কিন্তু স্বীকৃতিতে দোষ স্বীকার থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।
১০,২০৩.
Provisions relating to 'Discharge of sureties' is provided in-
  1. Section 512
  2. Section 502
  3. Section 514
  4. Section 522
ব্যাখ্যা
• Section 502: Discharge of sureties-
(1) All or any sureties for the attendance and appearance of a person released on bail may at any time apply to a Magistrate to discharge the bond, either wholly or so far as relates to the applicants. 
(2) On such application being made, the Magistrate shall issue his warrant of arrest directing that the person so released be brought before him. 
(3) On the appearance of such person pursuant to the warrant, or on his voluntary surrender, the Magistrate shall direct the bond to be discharged either wholly or so far as relates to the applicants, and shall call upon such person to find other sufficient sureties, and, if he fails to do so, may commit him to custody.

ধারা ৫০২: জামিনদারের অব্যাহতি-
 
জামিনদার যেকোন সময় জামিননামাটি সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট মুচলেকাটি বাতিল করবেন এবং জামিনে মুক্ত আসামীকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করবেন এবং উক্ত জামিনদারকে অব্যাহতি দিবেন। আসামী আদালতে হাজির হলে বা তাকে হাজির করানো হলে আদালত তাকে নতুন জামিনদার সংগ্রহ করতে বলবেন এবং সে যদি জামিনদার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে জেলে প্রেরন করবেন।
১০,২০৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির Order-VI, Rule-18 অনুসারে সংশোধনীর আদেশ পাওয়ার পর কত দিনের মধ্যে সংশোধন করতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৪ দিন
  3. ২১ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৬, বিধি ১৮ অনুযায়ী: যদি কোনো পক্ষ প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আদালতের অনুমতি (order for leave to amend) পায়, এবং আদালত সংশোধনের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ না করে, তাহলে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধিত প্লিডিংস আদালতে দাখিল করতে হবে।
- যদি নির্ধারিত এই ১৪ দিনের মধ্যে সংশোধন না করা হয়, তাহলে সংশোধনের অনুমতি বাতিল হয়ে যাবে যদি না আদালত সময় বৃদ্ধি করে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৬, বিধি ১৮: আদেশ প্রাপ্তির পর সংশোধনে ব্যর্থতা:
যদি কোন পক্ষ তার প্লিডিংস সংশোধনের জন্য আদালতের অনুমতি আদেশের মাধ্যমে পায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন না করে, অথবা আদেশে যদি কোন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা না থাকে, তবে আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে চৌদ্দ দিনের মধ্যে সংশোধন না করে, তাহা হইলে উক্ত নির্ধারিত সময় বা উক্ত চৌদ্দ দিন অতিবাহিত হইলে সংশোধনের অনুমতি দেওয়া হইবে না; যদি না আদালত সময় বৃদ্ধি করিয়া দেয়।

⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Order VI, Rule 18: Failure to Amend After Order: 
If a party who has obtained an order for leave to amend does not amend accordingly within the time limited for that purpose by the order, or if no time is thereby limited, then within fourteen days from the date of the order, he shall not be permitted to amend after the expiration of such limited time as aforesaid or of such fourteen days, as the case may be, unless the time is extended by the Court.

১০,২০৫.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় দাঙ্গা দমনের সময় সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধাদানের শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ১৫৪
  2. ধারা ১৫২
  3. ধারা ১৫১
  4. ধারা ১৪৯
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১৫২ অনুযায়ী, যদি কেউ দাঙ্গা বা অবৈধ সমাবেশ দমন করার সময় কোনো সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ করে, হুমকি দেয় বা বাধা দেয়, তাহলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৫২ ধারার বিধান: দাঙ্গা ইত্যাদি দমনকালে সরকারি কর্মচারীকে আক্রমণ বা বাধাদান করা:- কোন সরকারি কর্মচারী অনুরূপ সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্তব্য সম্পাদন উদ্দেশ্যে একটি অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার অথবা দাঙ্গা দমন করার প্রচেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি তাকে আক্রমণ করে অথবা আক্রমণ করার হুমকি প্রদর্শন করে, অথবা বাধাদান করে বা বাধাদান করার চেষ্টা করে, অথবা অনুরূপ সরকারি কর্মচারীর প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা করার হুমকি প্রদর্শন করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-152- Assaulting or obstructing public servant when suppressing riot, etc.
- Whoever assaults or threatens to assault, or obstructs or attempts to obstruct, any public servant in the discharge of his duty as such public servant, in endeavouring to disperse an unlawful assembly, or to suppress a riot or affray, or uses, or threatens, or attempts to use criminal force to such public servant, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years or with fine, or with both.
১০,২০৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট হলে কোন ধরনের "Set-off" দাবি করা যায়?
  1. Fixed Set-off
  2. Legal Set-off
  3. English Set-off
  4. Equitable Set-off
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮নং আদেশের ৬ নং বিধিতে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফের বিধান রয়েছে। অর্থ আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী যদি পূর্বেই বাদীর নিকট কোন পরিমাণ অর্থ পাওনা থাকে তবে বাদীর দাবীকৃত অর্থের সাথে বিবাদীর দাবীকৃত অর্থের সমন্বয় করার জন্য বিবাদী যে আবেদন করে তাকে পারস্পরিক দায়শোধ বা সেট অফ বলে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির Set-off দুই প্রকার যথা:
ক) Legal Set-off [Order VIII, Rule 6],
খ) Equitable Set-off 

যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট, সেক্ষেত্রে Legal Set-off দাবি করা যায়। কিন্তু, যেক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ অনির্দিষ্ট সেক্ষেত্রে Equitable Set-off মঞ্জুর করা যেতে পারে (আদালতের Discretion-এর উপর)।

Equitable Set-off একটি বিশেষ ধরনের প্রতিরক্ষা, যা নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলোতে প্রযোজ্য:
⇒ যখন বাদী ও বিবাদীর মধ্যে পারস্পরিক দাবী-দাওয়া থাকে এবং উভয় দাবীই একই উত্স থেকে উদ্ভূত হয়েছে। অর্থাৎ উভয়ের দাবী একই চুক্তি, লেনদেন বা ঘটনার সাথে জড়িত।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী বাদীর দাবীর চেয়ে কম। কারণ যদি বিবাদীর দাবী বেশি হয়, তাহলে বিবাদীকে ক্রস-মামলা দায়ের করতে হবে।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী নগদ টাকার নয়, বরং কোন অনিষ্পন্ন কাজের জন্য। যেমন - বাদী যদি বাকি বেতনের দাবী করে আর বিবাদী দাবী করে কিছু অসম্পূর্ণ কাজের জন্য।
⇒ যখন বিবাদীর দাবী সুস্পষ্টভাবে অর্থগত মান নির্ণয় করা সম্ভব নয়। যেমন - ক্ষতিপূরণের চাহিদা ইত্যাদি।
১০,২০৭.
দেওয়ানী কার্যবিধির কোথায় "কর্মকর্তাগণ কর্তৃক নিলাম ডাকা বা খরিদে বাধা-নিষেধ" এর বিধান আছে?
  1. আদেশ-২১ বিধি-৬৭
  2. আদেশ-২১ বিধি-৬৮
  3. আদেশ-২১ বিধি-৭৩
  4. আদেশ-২১ বিধি-৭৪
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২১ বিধি-৭৩ এর বিধান কর্মকর্তাগণ কর্তৃক নিলাম ডাকা বা খরিদে বাধা-নিষেধ: কোন নিলাম বিক্রয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিলাম ডাকতে পারবে না বা উক্ত বিক্রীত সম্পত্তিতে কোন স্বার্থ অর্জন বা অর্জনের চেষ্টা করতে পারবে না।
--------------------
⇒ Order-21 Rule-73. Restriction on bidding or purchaser by officers:
No officer or other person having any duty to perform in connection with any sale shall, either directly or indirectly, bid for, acquire or attempt to acquire any interest in the property sold.
১০,২০৮.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর বিধান অনুযায়ী, মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ড ধার্য করতে পারবেন?
  1. ১ লাখ
  2. ২ লাখ
  3. ৩ লাখ
  4. ৫ লাখ
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৩২: বিভিন্ন শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট যে সাজা দিতে পারবেন:
(১) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নিম্নলিখিত সাজা দিতে সক্ষম-
(ক) মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত:
- সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত একাকী বন্দিত্ব (solitary confinement) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত:
- সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত একাকী বন্দিত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত:
- সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
- সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

(২) যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইন অনুযায়ী যে কোনো সাজা দিতে পারবে, একাধিক ধরণের সাজা একত্রিত করে।

১০,২০৯.
দণ্ডবিধির কোন ধারাটি ফোর টুয়েন্টি নামে সকলের নিকট পরিচিত?
  1. ৪১৫ ধারা
  2. ৪২০ ধারা
  3. ৪৩০ ধারা
  4. ৪২৫ ধারা
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা হলে ফোর-টুয়েন্টি (Four- Twenty)-  প্রতারনা, ছলনা এবং ভাওতার দ্বারা কাউকে ঠকানো হলে সাধারনভাবে তা ৪২০ ধারার অধীন দণ্ডনীয় হয়।
• ৪২০ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি, প্রতারণা করে এবং তা দ্বারা প্রতারিত ব্যক্তিকে অন্য কোন ব্যক্তির নিকট কোন সম্পত্তি সমর্পণ করতে অথবা কোন মূল্যবান জামানত কিংবা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরিত হওয়ার যোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরকৃত বস্তু প্রস্তুত, পরিবর্তন অথবা সমুদয় অংশ বা অংশবিশেষ বিনাশ করার জন্য অসাধুভাবে প্ররোচিত করে, তাহলে সে ব্যক্তি যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে। সুতরাং দণ্ডবিধি অনুযায়ী ফোর টুয়েন্টির শাস্তি অনধিক ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
১০,২১০.
'ক', 'খ' এর নিকট একটি মাঠ বিক্রয় করে। মাঠটির উপর দিয়ে জনসাধারনের চলাচলের অধিকার ছিল, যা সম্পর্কে 'ক' এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল কিন্তু সে সেটা 'খ' এর নিকট হতে গোপন রেখেছিল। এই ক্ষেত্রে-
  1. 'ক' চুক্তিটি রদ করার অধিকারী
  2. ‘খ’ শুধু ক্ষতিপূরণ পাবার অধিকারী
  3. 'খ' চুক্তিটি রদ করার অধিকারী
  4. 'ক' চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যসম্পাদনের অধিকারী
ব্যাখ্যা
- এই ক্ষেত্রে 'খ' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার বিধান অনুযায়ী চুক্তিটি রদ করার অধিকারী।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৫ ধারার বিধান: বিচারপূর্বক যখন রদ করা যায়-
লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোন ব্যক্তি তা রদ করার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে এবং আদালত নিম্নোক্ত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন:
(ক) যেখানে চুক্তি বাতিলযোগ্য অথবা বাদী কর্তৃক সমাপনীয়;
(খ) যেখানে আপাতত দৃশ্যমান নয় এমন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর চেয়ে প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;
(গ) যেখানে একটি বিক্রয়চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

যখন ক্রেতা বা ইজারাদার বিষয়বস্তুর দখলকারী থাকে এবং আদালত তেমন দখল অন্যায় মনে করেন সেখানে আদালত তাকে তেমন দখলকারী হিসাবে কোন লাভ বা ভাড়া পেয়ে থাকলে তা বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

একই ক্ষেত্রে, আদালত সে মামলায়ই আদেশ কর্তৃক যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদমোতাবেক কাজ করা হয়নি, হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় বা অসম্পূর্ণ চুক্তিই মামলার ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা মোতাবেক রদ করে দিতে পারেন।
১০,২১১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৫ ধারায় কোন ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে?
  1. আটককৃত সম্পত্তি ধ্বংস করার
  2. আটককৃত সম্পত্তি বিক্রি করার
  3. আটককৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার
  4. আটককৃত সম্পত্তি মালিককে ফেরত দেওয়ার
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৫ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা রয়েছে দ্রুত ক্ষয়শীল, কম মূল্যের, অথবা মালিকের অনুপস্থিত/অজ্ঞাত অবস্থায় আটককৃত সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশ প্রদান করার।
অতএব, এই ধারার মূল ক্ষমতা হলো আটককৃত সম্পত্তি বিক্রি করার ক্ষমতা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৫ ধারা অনুযায়ী- আটককৃত চোরাই মাল দ্রুত ধ্বংসশীল বা ক্ষয়শীল হলে অথবা উক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করা মালিকের জন্য কল্যাণকর হলে অথবা উক্ত সম্পত্তির মূল্য ১০ টাকার কম হলে যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আটকের খবর দেয়া হয়েছে, সেই ম্যাজিস্ট্রেট যে কোন সময় উক্ত সম্পত্তি বিক্রির আদেশ দিতে পারেন।
অর্থাৎ এমন সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি যদি অপরিচিত বা অনুপস্থিত থাকে এবং সম্পত্তি দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে ক্ষয়শীল হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট যেকোন সময় তা বিক্রয়ের নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 525- Power to sell perishable property:
If the person entitled to the possession of such property is unknown or absent and the property is subject to speedy and natural decay, or if the Magistrate to whom its seizure is reported is of opinion that its sale would be for the benefit of the owner, or that the value of such property is less than ten taka the Magistrate may at any time direct it to be sold; and the provisions of sections 523 and 524 shall, as nearly as may be practicable, apply to the net proceeds of such sale.

১০,২১২.
দেওয়ানী মোকদ্দমায় একাধিক বাদী থাকলে কোন একজনকে আদালত মামলাটি প্রত্যাহার করার অনুমিত দিতে পারে।
  1. অন্য বিবাদীর সম্মতিতে
  2. সরকারী কৌসুলীর অনুমতিতে
  3. অন্যান্য বাদীদের সম্মতি ছাড়া 
  4. অন্য বাদীদের সম্মতিতে
ব্যাখ্যা
⇒ মোকদ্দমা দায়ের হওয়ার পর যে কোন সময় বাদী মোকদ্দমা প্রত্যাহার করতে অথবা তার দাবির আংশিক পরিত্যাগ করতে পারবে। এক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
-তবে একাধিক বাদী থাকলে, আদালত অন্যান্য বাদীদের অনুমতি ছাড়া কোন একজন বাদীকে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিবেন না।
⇒ যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা কোন আনুষ্ঠানিক ত্রুটির কারণে অবশ্যই ব্যর্থ হবে, অথবা নতুনভাবে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য অন্যান্য যথেষ্ট কারণ আছে সেক্ষেত্রে আদালত বাদীকে নতুন করে মোকদ্দমা করার অনুমতিসহ উক্ত মোকদ্দমার বিষয় বস্তু বা কোন দাবীর অংশ পরিত্যাগ করার অনুমতি মঞ্জুর করতে পারেন।

⇒ কোন মামলায় একাধিক বাদী থাকলে কোন একজনকে আদালত মামলাটির দাবী প্রত্যাহারের অনুমতি দিতে পারে- অন্য বাদীদের সম্মতিতে।

⇒ জবাদী আদালতের অনুমতি না নিয়ে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করলে সে একই কারণে নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে না, এবং খরচ প্রদানের জন্য দায়ী হবে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি-২ এর বিধান প্রথম মোকদ্দমা দ্বারা তামাদি আইন প্রভাবিত হয় না:- পূর্ববর্তী বিধির অধীনে আদালতের অনুমতিক্রমে যদি নূতনভাবে কোন মোকদ্দমা রুজু করা হয়, তবে প্রথম মোকদ্দমাটি রুজু করা না হলে বাদি তামাদি আইন দ্বারা যেরূপ বাধ্য হত, ঠিক একই পদ্ধতিতে বাধ্য হবে।

⇒ Order 23 Rule.-2: Limitation law not affected by first suit:- In any fresh suit instituted on permission granted under the last preceding rule, the plaintiff shall be bound by the law of limitation in the same manner as if the first suit had not been instituted.
১০,২১৩.
নিম্নের কোনটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. শান্তি রক্ষার জন্য জামানত দাবি করার ক্ষমতা
  2. মুচলেকা বাতিল করে জামিনদারকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা
  3. অন্যায়ভাবে আটক ব্যাক্তিকে খুঁজে বের করার তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধিতে ২ ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট এর কথা উল্লেখ রয়েছে-
⇒ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
⇒ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

• ফৌজদারি কার্যবিধি,১৮৯৮ এর ৩য় তফসিলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতাসমূহ-

৬৪ ধারা
তার উপস্থিতিতে অপরাধকারী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা বা গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া এবং হাজতে প্রেরণ করার ক্ষমতা,

৬৫ ধারা

কোনো অপরাধীকে গ্রেফতার করা, বা নিজের উপস্থিতিতে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতা, যাকে গ্রেফতারের নিমিত্তে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ওয়ারেন্ট জারি করতে পারে,

৮৩,৮৪ ও ৮৬ ধারা

পরোয়ানা পৃষ্ঠাংকন করা, বা পরোয়ানা অনুসারে গ্রেফতারকৃত কোনো আসামিকে অপসারণের আদেশ দেয়ার ক্ষমতা, 

৯৫(২)ধারা

ডাক বা তার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে অবস্থিত দলিলের জন্য তল্লাশির পরোয়ানা জারি এবং উক্ত দলিলাদি বা ব্যক্তিতে আটক করার ক্ষমতা, 

১০০ ধারা

অন্যায়ভাবে আটক ব্যাক্তিকে খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা,

১০৫ ধারা

যে স্থানে তল্লাশির জন্য তিনি তল্লাশি পরোয়ানা প্রদান করতে উপযুক্ত, এইরূপ কোন স্থানে তার উপস্থিতিতে তল্লাশি আদেশ দানের ক্ষমতা,

১০৭,
১০৯,১১০ ধারা
শান্তি রক্ষার জন্য জামানত দাবি করার ক্ষমতা, সদাচরণের জন্য ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মুচলেকা সম্পাদন এবং জামানত দাবী করার ক্ষমতা, 

১২৬ক ধারা

মুচলেকা বাতিল করে জামিনদারকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা,

১২৭,১২৮,১৩০ ধারা

বেআইনী সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ হওয়ার আদেশ দেয়ার ক্ষমতা,ছত্রভঙ্গ করার জন্য অসামরিক বাহিনী এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা, 
১৩৩ ধারা
স্থানীয় উৎপাত সম্পর্কে আদেশ দেয়ার ক্ষমতা, 
১৪২ ধারা
আশু ব্যবস্থা হিসাবে, জনসাধারণের উৎপাতের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা ।
১০,২১৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় কতিপয় নারীর ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির বিধান রয়েছে?
  1. ১২৮ ধারা
  2. ১৩০ ধারা
  3. ১৩২ ধারা
  4. ১৩৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ১৩২ ধারায় বলা হয়েছে যেসব নারীকে দেশের প্রথা অনুযায়ী জনসমক্ষে আনতে বাধ্য করা উচিত নয়, সেই নারীরা ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজিরা থেকে অব্যাহতি পাবেন।
- এই বিধান মূলত "পর্দানশীন নারী" বা ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির ভিত্তিতে জনসমক্ষে হাজির হওয়া যাদের জন্য সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, তাদের সুরক্ষার জন্য প্রণীত।
- তবে, এই ধারা নারীদের গ্রেফতার থেকে অব্যাহতি দেয় না, বরং কেবল ব্যক্তিগত হাজিরা (personal appearance) থেকে অব্যাহতি দেয়।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩২ ধারার বিধান: কতিপয় মহিলার ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি:-
১) দেশের প্রথা ও রীতি অনুযায়ী যে সকল মহিলাকে জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়ার জন্য বাধ্য করা উচিত নয়, উক্তরূপ মহিলা ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হতে অব্যাহতি পাবে।
২) এই আইন অনুসারে কোন মহিলাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে যেক্ষেত্রে কোন নিষিদ্ধতা নেই, সেক্ষেত্রে দেওয়ানি পরোয়ানা জারিতে গ্রেফতার হতে উক্তরূপ মহিলা অব্যাহতি পাবে বলে এখানে উল্লেখিত কোন কিছু হতে বিবেচনা করা যাবে না।
------------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908: Section: 132. Exemption of certain women from personal appearance.
(1) Women who, according to the customs and manners of the country, ought not to be compelled to appear in public shall be exempt from personal appearance in Court. 
(2) Nothing herein contained shall be deemed to exempt such women from arrest in execution of civil process in any case in which the arrest of women is not prohibited by this Code.
১০,২১৫.
সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারা অনুসারে, একজন উকিল কখন মক্কেলের বার্তা প্রকাশ করতে পারেন?
  1. আদালতের নির্দেশ ছাড়া
  2. শুধুমাত্র মক্কেলের স্পষ্ট সম্মতি থাকলে
  3. মক্কেলের স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া যেকোনো সময়
  4. পেশাগত কার্য শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১২৬ অনুযায়ী,
- একজন ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের হয়ে কাজ করার সময় মক্কেলের পক্ষ থেকে বা উদ্দেশ্যে পাওয়া যে কোনো বার্তা, পরামর্শ বা দলিলের তথ্য - গোপন রাখতে বাধ্য, যতক্ষণ না মক্কেল নিজে স্পষ্টভাবে তা প্রকাশে সম্মতি দেন।
 এই ধারার মূল বক্তব্য হলো:
“No Advocate shall… be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication…”
অর্থাৎ, মক্কেলের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ আইনত বৈধ নয়।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান পেশা সম্পর্কিত বার্তা: ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদনকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহতি দিবেন না।
(১) বেআইনি উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,
(২) ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।
------------
⇒ The Evidence Act, 1872, Section 126 Professional communications:
- No Advocate shall at any time be permitted, unless with his client's express consent, to disclose any communication made to him in the course and for the purpose of his employment as such Advocate by or on behalf of his client, or to state the contents or condition of any document with which he has become acquainted in the course and for the purpose of his professional employment, or to disclose any advice given by him to his client in the course and for the purpose of such employment:

Provided that nothing in this section shall protect from disclosure–
(1) any such communication made in furtherance of any illegal purpose:
(2) any fact observed by any Advocate, in the course of his employment as such, showing that any crime of fraud has been committed since the commencement of his employment.
It is immaterial whether the attention of such Advocate was or was not directed to such fact by or on behalf of his client.

Explanation.– The obligation stated in this section continues after the employment has ceased.

১০,২১৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদনকারীকে কত বছরের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হবে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদনকারীকে দুই বছরের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৯ ধারার বিধান- ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধার:
- যার সম্পত্তি ৮৮ ধারার (৭) উপধারা অনুসারে সরকারের এখতিয়ারভুক্ত রয়েছে বা হয়েছে, সে যদি ক্রোক করার তারিখ থেকে ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে যে আদালতের আদেশে সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছিল সেই আদালতের বা সেই আদালত যে আদালতের আওতাধীন সেই আদালতে ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির হয় বা তাকে গ্রেফতার করে হাজির করানো হয় এবং এ মর্মে প্রমাণ দ্বারা সে উক্ত আদালতের সন্তুষ্টি উৎপাদনপূর্বক প্রমাণ করে যে,
সে পলাতক (ফেরার) ছিল না বা পরোয়ানার নির্বাহ এড়াবার জন্য সে পলায়ন করেনি এবং তিনি হুলিয়া হতে এরূপ জ্ঞানার্জন করেনি যাতে তিনি উহাতে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে হাজিরা দিতে পারেন, তাহলে ক্রোক সম্পর্কিত সমস্ত খরচ কেটে নিয়ে উক্ত সম্পত্তি বা তা বিক্রয় করা হয়ে থাকলে নিট মূল্য অথবা আংশিকভাবে বিক্রয় করা হয়ে থাকলে নিট মূল্য ও আংশিক সম্পত্তি তাকে অর্পণ করতে হবে।
-------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section-89: Restoration of attached property:
If, within two years from the date of the attachment any person whose property is or has been at the disposal of the Government, under sub-section (7) of section 88, appears voluntarily or is apprehended and brought before the Court by whose order the property was attached, or the Court to which such Court is subordinate, and proves to the satisfaction of such Court that he did not abscond or conceal himself for the purpose of avoiding execution of the warrant, and that he had not such notice of the proclamation as to enable him to attend within the time specified therein, such property, or, if the same has been sold, the nett proceeds of the sale, or, if part only thereof has been sold, the nett proceeds of the sale and the residue of the property, shall, after satisfying thereout all costs incurred in consequence of the attachment, be delivered to him.
১০,২১৭.
নতুন পক্ষ যোগ করার সময়সীমা গণনায় তামাদি আইনের কোন ধারা প্রযোজ্য?
  1. ধারা ২২
  2. ধারা ২৩
  3. ধারা ২৪
  4. ধারা ২৫
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২২ নতুন বাদী বা বিবাদী যোগ করার সময় তামাদির মেয়াদ গণনার বিষয়ে বিধান প্রদান করে।
- ধারা ২২(১): মামলা দায়েরের পর যদি কোনো নতুন বাদী বা বিবাদী যুক্ত বা প্রতিস্থাপিত হয়, তবে তাদের ক্ষেত্রে মামলাটি সেই তারিখ থেকে দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে যখন তারা পক্ষ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২২ এর বিধান নতুন বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করার ফলাফল:-
(১) যেক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার পর নতুন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হয়েছে, তার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
(২) যেক্ষেত্রে মামলা মুলতবি থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণে কাউকে পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকে বাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না।
-----------
⇒ The Limitation Act:- Section-22: Effect of substituting or adding new plaintiff or defendant:-
(1) Where, after the institution of a suit, a new plaintiff or defendant is substituted or added, the suit shall, as regards him, be deemed to have been instituted when he was so made a party.
(2) Nothing in sub-section (1) shall apply to a case where a party is added or substituted owing to an assignment or devolution of any interest during the pendency of a suit or where a plaintiff is made a defendant or a defendant is made a plaintiff.

১০,২১৮.
অনুমান কত প্রকারের হতে পারে?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার মতে- অনুমান (Presumption) ৩ প্রকার:
১) অনুমান করতে পারে (May presume);
২) অনুমান করবে (Shall presume);
৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof)।

অনুমান করতে পারে (May presume):
যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

অনুমান করবে (Shall presume):
যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন।

চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof):
এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত। করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।
১০,২১৯.
নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্যান্য ডিক্রি জারির আবেদন কত বছরের মধ্যে করতে হবে?
  1. ৬ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৫ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারার বিধান- কতিপয় ক্ষেত্রে ডিক্রি জারি বারিত:
 নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ব্যতীত অন্য কোন ডিক্রি জারির ক্ষেত্রে আবেদন করা হয়ে থাকলে ঐ একই ডিক্রি জারির জন্য নিম্নলিখিত তারিখ থেকে বার বৎসর পর প্রদত্ত কোন আবেদন অনুযায়ী একই ডিক্রি জারির জন্য আদেশ দেয়া যাবে না-
ক) যে ডিক্রি জারির আবেদন করা হয়েছে, তার তারিখ; বা
খ) কোন ডিক্রি বা পরবর্তীকালীন আদেশে আবেদনকারীর প্রার্থনামতে কোন নির্ধারিত তারিখে বা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ অথবা সম্পত্তি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হলে, তা লঙ্ঘনের তারিখ।

২) এই ধারার কোন বিধানই-
ক) আবেদনের তারিখের অব্যাবহিত পূর্ববর্তী বার বৎসরের মধ্যে ডিক্রি জারি দেওয়ার ব্যাপারে রায়সিদ্ধ দেনাদার প্রতারণা বা শক্তি প্রয়োগের দ্বারা ডিক্রি জারিতে বাধা সৃষ্টি করে থাকলে উক্ত বার বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পর উপস্থাপিত আবেদন মোতাবেক ডিক্রি জারির আদেশদানে আদালতকে বিরত করবে না; বা
খ) ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৮৩ অনুচ্ছেদের কার্যকারীতাকে সীমাবদ্ধ বা অন্যভাবে প্রভাবিত করবে না।
১০,২২০.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে আসামীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাবে?
  1. যে ক্ষেত্রে আসামি জামিনে মুক্ত আছে
  2. যে ক্ষেত্রে আসামি আগাম জামিন নিয়েছে
  3. যে ক্ষেত্রে আসামি পলাতক এবং গ্রেফতারের সম্ভাবনা নেই
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১২ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ:-
(১) যদি প্রমাণিত হয় যে, আসামী পালিয়েছে এবং তার গ্রেফতারের সম্ভাবনা নেই, সেক্ষেত্রে যে অপরাধ সম্পর্কে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই অপরাধের জন্য তাকে বিচার করার বা বিচারের জন্য প্রেরণ করার ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত তার অনুপস্থিতিতে বাদীপক্ষ দ্বারা দাখিলকৃত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দী গ্রহণ করতে ও তা লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। এরুপ সাক্ষী মারা গেলে বা সাক্ষ্য দিবার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়লে অথবা বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা বহন করা মামলার অবস্থায় অযৌক্তিক হয়ে পড়লে প্রদত্ত সাক্ষ্য সে যে অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছে সেই অপরাধের ইনকোয়ারী বা বিচারে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে ।
(২) অপরাধী অজানা হলে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ-
যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোন অজানা ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে, তাহলে হাইকোর্ট ডিভিশন নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট এই বিষয়ে ইনকোয়ারী করবেন এবং অপরাধ সম্পর্কে যারা সাক্ষ্য দিতে পারেন তাদেরকে পরীক্ষা করবেন। এরূপ সাক্ষী মারা গেলে বা সাক্ষ্য দিবার অযোগ্য হয়ে পড়লে বা বাংলাদেশের সীমার বাহিরে থাকলে গৃহীত জবানবন্দী পরবর্তীকালে উক্ত অপরাধ অভিযুক্ত যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে।
-------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-512: Record of evidence in absence of accused:
(1) If it is proved that an person has absconded, and that there is no immediate prospect of arresting him, the Court competent to try such person for the offence complained of may, in his absence, examine the witnesses (if any) produced on behalf of the prosecution, and record their depositions. Any such deposition may be given in evidence against him on the inquiry into, or trial for, the offence with which he is charged, if the deponent is dead or incapable of giving evidence or his attendance cannot be procured without an amount of delay, expense or incon- venience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable.

(2) Record of evidence when offender unknown.-
If it appears that an offence punishable with death or transportation has been committed by some person or persons unknown, the High Court Division may direct that any Magistrate of the first class shall hold an inquiry and examine any witnesses who can give evidence concerning the offence. Any depositions so taken may be given in evidence against any person who is subsequently accused of the offence, if the deponent is dead or incapable of giving evidence or beyond the limits of Bangladesh.
১০,২২১.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারায় অভিন্ন অভিপ্রায়ের কথা বলা হয়েছে?
  1. ১২
  2. ১১
  3. ১০
ব্যাখ্যা
♦সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারার বিধান অভিন্ন অভিপ্রায় প্রসঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীর কথা বা কাৰ্যঃ দুই বা ততোধিক ব্যাক্তি একযোগে কোন অপরাধ বা নালিশ যোগ্য অন্যায় কার্য করিবার ষড়যন্ত্র করিয়াছে, এইরুপ বিশ্বাস করিবার যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে; তবে তাহাদের যেকোন একজনের উক্তি, ষড়যন্ত্রের ইচ্ছা পোষণ করিবার পর তাহাদের ঐ সাধারণ ইচ্ছা সম্পর্কে তাহাদের মধ্যে যেকোন একজনের কোন কথা কার্য বা লেখা ষড়যন্ত্রকারী বলিয়া মনে করা হইতেছে, এইরুপপ্রত্যেক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক ঘটনা, ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণ করিবার জন্য উহা প্রাসঙ্গিক; তেমনি কোন ব্যাক্তি যে উক্ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তাহা প্রমাণ করিবার জন্য উহাও প্রাসঙ্গিক।
১০,২২২.
ফৌজদারি আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ৩০০ টাকা
  3. ২০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারায় আদালত অবমাননার (Contempt of Court) শাস্তি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
 
• ধারা ৪৮০- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি-
কোন দেওয়ানী, ফৌজদারী বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লেখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হবার পূর্বে যেকোন সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
 
Section 480: Procedure in certain cases of contempt-
When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid.
১০,২২৩.
একটি মামলার দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ২০ লক্ষ টাকা। এটি কোন আদালতে দায়ের করা যেতে পারে?
  1. সহকারী জজ আদালতে
  2. জেলা জজ আদালতে
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে
  4. সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ – ধারা ১৯ : সিনিয়র সহকারী জজ প্রভৃতির এখতিয়ারের পরিসর-
(১) বর্তমানে কার্যকর অন্য কোনো আইনে ভিন্নভাবে উল্লেখ না থাকলে, সিনিয়র সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকার বেশি নয়, এবং সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ১৫ (পনের) লক্ষ টাকার বেশি নয়।

(২) জেলা জজকে বাধ্যতামূলকভাবে সিভিল কোর্টস (সংশোধন) আইন, ২০২১ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে যুগ্ম জেলা জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন মামলা বা কার্যধারা যথাযথ আদালতে স্থানান্তর করতে হবে।

(৩) উপ-ধারা (২) অনুসারে যদি কোনো মামলা বা কার্যধারা স্থানান্তরিত হয়, তবে তা যে স্তর থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে সেই স্তর থেকেই শুরু হবে।

⇒ দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭–এর ধারা ১৯(১) স্পষ্টভাবে বলেছে:
“সিনিয়র সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ২৫ লক্ষ টাকার বেশি নয়, এবং সহকারী জজের এখতিয়ার থাকবে এমন সব মামলা যা ১৫ লক্ষ টাকার বেশি নয়।”

যেহেতু ২০ লক্ষ টাকা ১৫ লক্ষের বেশি কিন্তু ২৫ লক্ষের কম, তাই এটি সহকারী জজের নয়, বরং সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হবে।

১০,২২৪.
কোন Judicial Proceeding এ ইচ্ছাকৃত ভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের শাস্তির বিধান বর্ণিত হয়েছে The Penal Code 1860 এর Section-
  1. ১৯১ ধারায়
  2. ১৯৩ ধারায়
  3. ১৯৫ ধারায়
  4. ১৯৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদান ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং

-কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

♦ ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।

♦ ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।

♦ ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।

♦ উদাহরণ: 
জমির সীমানা অকুস্থলে নির্ণয়কল্পে কোন আদালত দ্বারা প্রেরিত কর্মচারীর বা অফিসারের সম্মুখে সম্পাদিত তদন্তে ক শপথ গ্রহণান্তর এমন একটি বিবৃতি দান করে, যা সে মিথ্যা বলে জানে। যেহেতু উক্ত তদন্তটি একটি বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমেরই একটি পর্যায়, সেহেতু ক মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করেছে বলে অভিহিত হবে।
১০,২২৫.
নিম্নে কোনটি বিশ্বাস ভঙ্গের উপাদান?
  1. যিনি কোন সম্পদের অধিপত্যের ভার পাইয়াছেন,
  2. অধিপত্যের ভার পাইয়া যিনি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করেন,
  3. সম্পদের অধিপত্যের ভার পাইয়া যিনি নিজের ব্যবহারে লাগান, 
  4. 'ক', 'খ' ও 'গ'
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪০৫ ধারার বিধান অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ:- কোন ব্যক্তি যদি কোনভাবে কোন সম্পত্তির বা সম্পত্তি পরিচালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে, অসাধুভাবে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, অথবা অনুরূপ দায়িত্ব যেভাবে নির্বাহিত হত বলে বিহিত আইনে নির্দেশ করা হয়েছে, তা খেলাফ করে সে দায়িত্ব নির্বাহ সম্পর্কে সে প্রকাশ্য বা অনুরূপ যে আইনগত চুক্তি করেছে তা খেলাফ করে সে সম্পত্তি অসাধুভাবে ব্যবহার করে, বা বিলি ব্যবস্থা করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক অপর কোন ব্যক্তিকে তা করতে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের' অপরাধ করেছে।
------------
⇒ Criminal breach of trust:
Section 405. Whoever, being in any manner entrusted with property, or with any dominion over property, dishonestly misappropriates or converts to his own use that property, or dishonestly uses or disposes of that property in violation of any direction of law prescribing the mode in which such trust is to be discharged, or of any legal contract, express or implied, which he has made touching the discharge of such trust, or wilfully suffers any other person so to do, commits "criminal breach of trust".
১০,২২৬.
দেওয়ানি কার্যবিধির অধীনে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) জন্য কোন পদ্ধতি উল্লেখ রয়েছে? 
  1. আপোষ ও মীমাংসা
  2. মীমাংসা ও সমঝোতা
  3. মধ্যস্থতা ও সালিশী
  4. সমঝোতা ও সালিশী
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীনে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির (Alternative Dispute Resolution - ADR) জন্য দুটি প্রধান পদ্ধতি উল্লেখ রয়েছে:
১) মধ্যস্থতা (Mediation);
২) সালিশী (Arbitration)।

⇒দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারায় মধ্যস্থতার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা আছে। এর সাধারন নিয়মসমূহ হল- মধ্যস্থতার আদেশ প্রদানের ১০ দিনের মধ্যে পক্ষদ্বয় আদালতকে জানাবে যে, তারা কাউকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে কিনা। যদি তারা নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয় তবে আদালত ৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করবে। অর্থাৎ সর্বাধিক ১৭ দিনের মধ্যে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করতে হবে।মধ্যস্থতার ফি পক্ষগণ নির্ধারণ করবে। যদি তারা ব্যর্থ হন তবে আদালত তা নির্ধারণ করে দিবেন এবং সেটা পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হবে।
⇒ মধ্যস্থতাকারী ৬০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করবে। তবে আদালত স্বেচ্ছায় বা পক্ষদ্বয়ের যৌথ আবেদনের প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত ৩০দিন বাড়াতে পারবে। অর্থাৎ মোট ৯০ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা সম্পন্ন করতে হবে।
⇒ সমঝােতা সম্পন্ন হলে, তার প্রতিবেদন প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে আদালত আদেশ বা ডিক্রি জারী করবে। উক্ত আদেশ বা ডিক্রি জারী করলে তার বিরুদ্ধে কোন আপিল বা রিভিশন চলবে না।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন মধ্যস্থতার এই বিধান অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

১০,২২৭.
বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত বা বিচার কোন শর্তে করা যাবে?
  1. কোনো শর্ত ছাড়া
  2. রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে
  3. সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে
  4. সুপ্রিম কোর্টে আবেদন সাপেক্ষে
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 – ধারা ১৮৮ (Liability for offences committed outside Bangladesh): 
যদি- বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বাংলাদেশের সীমার বাইরে কোথাও কোনো অপরাধ করে, অথবা কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নিবন্ধিত জাহাজ বা উড়োজাহাজে (ship or aircraft) যেখানেই থাকুক না কেন, অপরাধ করে, তাহলে তাকে সেই অপরাধের জন্য এমনভাবে বিচার করা যাবে, যেন সে বাংলাদেশের ভেতরে, যেখানে তাকে পাওয়া যায়, সেখানেই অপরাধটি করেছে।

শর্ত (Proviso):
তবে এই অধ্যায়ের পূর্ববর্তী ধারাগুলোর যেকোনো বিধান সত্ত্বেও, এমন কোনো অপরাধের অভিযোগ বাংলাদেশে তদন্ত বা বিচার করা যাবে না সরকারের অনুমোদন (sanction of the Government) ছাড়া।

দ্বিতীয় শর্ত (Second Proviso):
এই ধারার অধীনে যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা কার্যক্রম নেওয়া হয়, এবং যদি তা এমন প্রকৃতির হয় যে, যদি অপরাধটি বাংলাদেশেই সংঘটিত হত তবে সেই কার্যক্রম একই অপরাধে পরবর্তী বিচারকে (subsequent proceedings) বাধা দিত,
তাহলে একই অপরাধে তাকে Extradition Act, 1974 অনুযায়ী বাংলাদেশের বাইরে অন্য কোনো অঞ্চলে পুনরায় বিচার করা যাবে না।

১০,২২৮.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৭৯ ধারায় কার বিরুদ্ধে মামলার বিধান আছে?
  1. সরকার
  2. বিচারক
  3. সরকারি কর্মচারী
  4. বিদেশি রাষ্ট্রদূত
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধি ৭৯ ধারা- সরকার কর্তৃক বা তার বিরুদ্ধে মোকদ্দমা:
সরকার কর্তৃক বা সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসাবে যে কর্তৃত্বের নাম উল্লেখ করতে হবে, তা হচ্ছে বাংলাদেশ

Section 79- Suits by or against the Government:

In a suit by or against the Government the authority to be named as plaintiff or defendant, as the case may be, shall be Bangladesh.
১০,২২৯.
সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা এবং সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম নির্ধারিত হবে-
  1. শুধুমাত্র ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী
  2. সাক্ষীদের নিজের ইচ্ছামত
  3. প্রচলিত দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী
  4. উভয় পক্ষের আইনজীবীর ইচ্ছা অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন ধারা ১৩৫- সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা ও সাক্ষ্য গ্রহন করার ক্রম:
যে ক্রমানুসারে সাক্ষী হাজির করা ও তাদের সাক্ষ্য গ্রহন করা হবে দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি সে সম্পর্কে প্রচলিত আইন ও রীতি মােতাবেক তা নির্ধারিত হবে। কোন আইন না থাকলে আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে তা নির্ধারিত হবে।

[The order in which witnesses are produced and examined shall be regulated by the law and practice for the time being relating to civil and criminal procedure respectively, and, in the absence of any such law, by the discretion of the Court.]
১০,২৩০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত ______ প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।
  1. সাধারন
  2. সুনির্দিষ্ট
  3. অতিরিক্ত
  4. অনির্দিষ্ট
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধ বা নিরোধক প্রতিকারের সংজ্ঞা বর্নিত হয়েছে।

৬ ধারা: নিরোধক প্রতিকার:
৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।

Section 6- Preventive relief:
Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.
১০,২৩১.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী সর্বোত্তম সাক্ষ্য কী?
  1. গৌণ সাক্ষ্য
  2. মাধ্যমিক সাক্ষ্য
  3. পরোক্ষ সাক্ষ্য
  4. প্রাথমিক সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ অনুযায়ী সর্বোত্তম সাক্ষ্য (Best Evidence) হলো প্রাথমিক সাক্ষ্য (Primary Evidence)। কারণ, প্রাথমিক সাক্ষ্য মূল দলিল বা নথি যা সরাসরি আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং এতে তথ্য বিকৃতির সম্ভাবনা কম থাকে।
সাক্ষ্য আইনের ৬২ ধারায় প্রাথমিক সাক্ষ্যের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এটি সেই দলিল বা নথি যা আদালতে সরাসরি উপস্থাপিত হয় এবং যা থেকে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক সাক্ষ্য যেহেতু মূল নথি বা প্রত্যক্ষ উপস্থাপিত প্রমাণ, তাই এটিকে সর্বোত্তম সাক্ষ্য বলা হয়।

অন্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
- (ক) গৌণ সাক্ষ্য: গৌণ সাক্ষ্য বলতে সাধারণত পরোক্ষ সাক্ষ্য বা মাধ্যমিক সাক্ষ্য বোঝায়, যা কোনো ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়, বরং অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া তথ্য। এটি আদালতে গৃহীত হতে পারে, তবে প্রাথমিক সাক্ষ্যের চেয়ে কম নির্ভরযোগ্য।
- (খ) মাধ্যমিক সাক্ষ্য: মাধ্যমিক সাক্ষ্য (Secondary Evidence) তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন প্রাথমিক সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয় না। উদাহরণস্বরূপ, কোনো মূল দলিলের অনুলিপি বা ফটোকপি মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হবে। যেহেতু এটি সরাসরি আদালতে উপস্থাপিত মূল দলিল নয়, তাই এটি সর্বোত্তম সাক্ষ্য নয়।
- (গ) পরোক্ষ সাক্ষ্য: পরোক্ষ সাক্ষ্য (Circumstantial Evidence) হল এমন সাক্ষ্য যা কোনো ঘটনার সরাসরি প্রমাণ দেয় না, বরং ঘটনার পারিপার্শ্বিক প্রমাণ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এটি সরাসরি প্রমাণ নয়, তাই এটি সর্বোত্তম সাক্ষ্য নয়।

- যেহেতু প্রাথমিক সাক্ষ্যই (Primary Evidence) মূল দলিল বা প্রত্যক্ষ উপস্থাপিত নথি, যা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, তাই সর্বোত্তম সাক্ষ্য হলো প্রাথমিক সাক্ষ্য।
⇒ সঠিক উত্তর: (ঘ) প্রাথমিক সাক্ষ্য। 
১০,২৩২.
বৈদেশিক চুক্তির ক্ষেত্রে তামাদি আইনের প্রয়োগের বিষয়টি আইনের কত ধারায় আছে?
  1. ০৭
  2. ১০
  3. ১১
  4. ১২
ব্যাখ্যা
♣♣  
• তামাদি আইনের ১১ ধারায় বৈদেশিক চুক্তির ক্ষেত্রে তামাদি আইনের প্রয়োগের বিষয়টি বলা আছে।
• বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশে কোন মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তামাদি আইন প্রযোজ্য হবে।
১০,২৩৩.
সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় 'শনাক্তকরণ প্যারেড' নীতি আলোচনা করা হয়েছে?
  1. সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায়
  2. সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারায়
  3. সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায়
  4. সাক্ষ্য আইনের ৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
 ⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় শনাক্তকরণ প্যারেড বা Test Identification Parade-কে সাক্ষ্য হিসাবে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারার বিধান: প্রাসঙ্গিক ঘটনার ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ঘটনা (Facts necessary to explain or introduce relevant facts): যে সমস্ত বিষয় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ইঙ্গিতবহ অনুমানকে সমর্থন বা অপ্রমাণ করে, অথবা বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়কে ব্যাখ্যা করে বা পরিচয় করায়, অথবা কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রাসঙ্গিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে, অথবা বিচার্য প্রাসঙ্গিক বিষয়টি ঘটার সময় ও স্থান নির্দেশ করে, অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয় ঘটনাকারী ব্যক্তির সম্পর্কে আলোকপাত করে, সেই সময় বিষয়ের যতখানি সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রয়োজন ততখানি প্রাসঙ্গিক।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯ ধারায় Test Identification Parade (শনাক্তকরণ প্যারেড) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে করে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সাক্ষী অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত -
১. কোন সম্পত্তি সনাক্ত করতে সক্ষম হয় বা,
২. কোন ব্যক্তি যেমন আসামীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

⇒ প্রাসঙ্গিক ঘটনা ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করার জন্য যে সকল ঘটনা আবশ্যক সেগুলো প্রাসঙ্গিক। এ মূল ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বা ঐ ঘটনা, তার স্থান, কাল ব্যাখ্যা করতে পারে এমন ঘটনাকে ৯ ধারায় প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে।
১০,২৩৪.
একজন ব্যক্তি হঠাৎ ঝগড়ার উত্তেজনায় (Sudden fight in heat of passion) অন্য একজনকে মেরে ফেললে তা খুন না হয়ে Culpable homicide হিসেবে গণ্য হতে পারে ধারা ৩০০ এর কোন ব্যতিক্রমের আওতায়?
  1. ব্যতিক্রম ২
  2. ব্যতিক্রম ৩
  3. ব্যতিক্রম ৪
  4. ব্যতিক্রম ৫
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩০০-এর ব্যতিক্রম ৪-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দোষপূর্ণ হত্যা (Culpable Homicide) তখন খুন (Murder) হিসেবে গণ্য হবে না, যদি তা নিম্নলিখিত শর্তে ঘটে:
- পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই (without premeditation) হঠাৎ ঝগড়ার উত্তেজনায় (in a sudden fight in the heat of passion) ঘটে।
- ঝগড়াটি হঠাৎ এবং আকস্মিকভাবে (upon a sudden quarrel) শুরু হয়।
- অপরাধী অযাচিত সুবিধা গ্রহণ করেনি (without taking undue advantage)।
- অপরাধী নিষ্ঠুর বা অস্বাভাবিকভাবে (cruel or unusual manner) আচরণ করেনি।
এই ব্যতিক্রমে আরও বলা হয়েছে যে, কে প্রথমে উস্কানি দিয়েছে বা আক্রমণ শুরু করেছে তা বিবেচ্য নয়। অর্থাৎ, ঝগড়ার উৎপত্তি যে কোনো পক্ষ থেকে হতে পারে, কিন্তু যদি উপরের শর্তগুলো পূরণ হয়, তবে তা খুন নয়, বরং দোষপূর্ণ হত্যা হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণ: যদি দুজন ব্যক্তি হঠাৎ ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং উত্তেজনার মুহূর্তে একজন অপরজনকে আঘাত করে মেরে ফেলে, তবে পূর্বপরিকল্পনা না থাকলে এবং অযাচিত সুবিধা বা নিষ্ঠুর আচরণ না থাকলে এটি ধারা ৩০০-এর ব্যতিক্রম ৪-এর আওতায় দোষপূর্ণ হত্যা হিসেবে গণ্য হবে।
------------
⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের যে সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা

দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা

তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।
ব্যতিক্রম ১:- যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।

উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।
ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।
ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।
ব্যতিক্রম ৪:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 300. Murder:
 Except in the cases hereinafter excepted, culpable homicide is murder, if the act by which the death is caused is done with the intention of causing death, or-
Secondly.- If it is done with the intention of causing such bodily injury as the offender knows to be likely to cause the death of the person to whom the harm is caused, or –
Thirdly.- If it is done with the intention of causing bodily injury to any person and the bodily injury intended to be inflicted is sufficient in the ordinary course of nature to cause death, or –
Fourthly.- If the person committing the act knows that it is so imminently dangerous that it must, in all probability, cause death, or such bodily injury as is likely to cause death, and commits such act without any excuse for incurring the risk of causing death or such injury as aforesaid.
When culpable homicide is not murder
Exception 1.-Culpable homicide is not murder if the offender, whilst deprived of the power of self-control by grave and sudden provocation, causes the death of the person who gave the provocation or cause the death of any other person by mistake or accident.
The above exception is subject to the following provisos:
Firstly.-That the provocation is not sought or voluntarily provoked by the offender as an excuse for killing or doing harm to any person. 
Secondly.-That the provocation is not given by anything done in obedience to the law, or by a public servant in the lawful exercise of the powers of such public servant. 
Thirdly.-That the provocation is not given by anything done in the lawful exercise of the right of private defence. 
Explanation.- Whether the provocation was grave and sudden enough to prevent the offence from amounting to murder is a question of fact.
Exception 2.- Culpable homicide is not murder if the offender, in the exercise in good faith of the right of private defense of person or property, exceeds the powers given to him by law and causes the death of the person against whom he is exercising such right of defense without premeditation, and without any intention of doing more harm than is necessary for the purpose of such defense.
Exception 3.- Culpable homicide is not murder if the offender, being a public servant or aiding a public servant acting for the advancement of public justice, exceeds the powers given to him by law, and causes death by doing an act which he, in good faith, believes to be lawful and necessary for the due discharge of his duty as such public servant and without ill-will towards the person whose death is caused.
Exception 4.-Culpable homicide is not murder if it is committed without premeditation in a sudden fight in the heat of passion upon a sudden quarrel and without the offender's having taken undue advantage or acted in a cruel or unusual manner. 
Explanation.- It is immaterial in such cases which party offers the provocation or commits the first assault.
Exception 5.- Culpable homicide is not murder when the person whose death is caused, being above the age of eighteen years, suffers death or takes the risk of death with his own consent.

১০,২৩৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১ক কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. দলিল সংশোধন
  2. রিসিভার নিয়োগ
  3. বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা
  4. নিষেধাজ্ঞা প্রদান
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২১ক সরাসরি স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতা-এর সাথে সম্পর্কিত। এই ধারা অনুসারে, কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করার জন্য দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. চুক্তিটি লিখিত এবং রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে।
২. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মামলা দায়েরের সময় আদালতে জমা দিতে হবে।
- এই ধারার শিরোনামই হলো "অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য"।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless– 
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and 
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

১০,২৩৬.
সামরিক আইন ছাড়াও দণ্ডবিধির ধারা ৫ অনুযায়ী আর কোন ধরনের আইনকে দণ্ডবিধির প্রভাব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে?
  1. আন্তর্জাতিক আইন
  2. বিশেষ বা স্থানীয় আইন
  3. ফৌজদারি কার্যবিধি
  4. সাধারণ ক্ষমার আইন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৫ অনুযায়ী, দণ্ডবিধি সামরিক আইন ছাড়াও কোনো বিশেষ বা স্থানীয় আইনকে প্রভাবিত করতে পারে না।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা-৫: কতিপয় আইন এই আইন দ্বারা প্রভাবিত হবে না: এই আইনের কোনো কিছুই প্রজাতন্ত্রের সামরিক, নৌ বা বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বিমান সেনাদের বিদ্রোহ ও পলায়নের শাস্তির জন্য প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলি বা কোনো বিশেষ বা স্থানীয় আইনকে বাতিল, পরিবর্তন, স্থগিত বা প্রভাবিত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে না।
অতএব, সামরিক আইনের পাশাপাশি বিশেষ আইন (Special Law) এবং স্থানীয় আইন (Local Law)-ও দণ্ডবিধির প্রভাব থেকে অব্যাহত রয়েছে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section-5. Certain laws not to be affected by this Act:
 Nothing in this Act is intended to repeal, vary, suspend, or affect any of the provisions of any Act for punishing mutiny and desertion of officers, soldiers, sailors or airmen in the service of the Republic, or of any special or local law.

১০,২৩৭.
"Cheating" এর সংজ্ঞা দণ্ডবিধির কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ৪১৫
  2. ৪১৬
  3. ৪১৭
  4. ৪২০
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪১৫-এ "প্রতারণা" (Cheating) এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যে কেউ কাউকে প্রতারিত করে অসাধুভাবে বা জালিয়াতিমূলকভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে প্ররোচিত করে, বা সম্পত্তি ধরে রাখার সম্মতি দেয়, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু করতে বা না করতে প্ররোচিত করে যা প্রতারিত না হলে সে করত না বা বাদ দিত না, এবং যা শারীরিক, মানসিক, খ্যাতি বা সম্পত্তির ক্ষতি বা সম্ভাব্য ক্ষতি করে, তবে তাকে প্রতারণা করা হয়েছে বলা হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারার বিধান প্রতারণা:- যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী 'প্রতারণা' করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 415: Cheating:
- Whoever, by deceiving any person, fraudulently or dishonestly induces the person so deceived to deliver any property to any person, or to consent that any person shall retain any property, or intentionally induces the person so deceived to do or omit to do anything which he would not do or omit if he were not so deceived, and which act or omission causes or is likely to cause damage or harm to that person in body, mind, reputation or property, is said to "cheat".
Explanation:- A dishonest concealment of facts is a deception within the meaning of this section.

১০,২৩৮.
সর্বপ্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক ফৌজদারি কার্যবিধি কত সালে পাশ করা হয়?
  1. ১৮৯৮ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৭২ সালে
  4. ১৯০৮ সালে
ব্যাখ্যা

⇒  ১৮৬১ সালের পূর্বে ব্রিটিশ ভারতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা বিভিন্ন স্থানীয় প্রথা, রেগুলেশন এবং মুসলিম আইন দ্বারা পরিচালিত হতো। এই ব্যবস্থায় একতা ছিল না।
⇒  ১৮৬১ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি: এটি ছিল ব্রিটিশ ভারত জুড়ে ফৌজদারি পদ্ধতির জন্য প্রণীত প্রথম সমন্বিত এবং সাধারণ আইন বা কোড। এই আইনটি একটি অভিন্ন বিচার ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাইলফলক ছিল।
⇒  পরবর্তী কোডসমূহ: ১৮৬১ সালের আইনটি পরে ১৮৭২, ১৮৮২ এবং অবশেষে ১৮৯৮ সালের কোড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে (বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত) দীর্ঘকাল ধরে মৌলিক আইন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে (যদিও ভারত ১৯৭৩ সালে নতুন আইন করেছে)।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি মূলত একটি পদ্ধতিগত আইন যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Adjective law বা Procedural law, সিভিল বা দেওয়ানী মামলায় যেমন দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসরণ করে মামলা মোকদ্দমার প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়, তেমনি সকল প্রকার ক্রিমিনাল মামলাতেও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হয়, যদি না আইনে ভিন্ন কিছু বলা থাকে।

⇒ ফৌজদারি আদালতের গঠন এবং ক্ষমতা থেকে শুরু করে, অভিযোগ দায়ের, আসামী গ্রেফতার, তদন্ত, মামলা আমলে নেওয়া, অভিযোগ গঠন, অব্যাহতি, সাক্ষ্য গ্রহণ, রায়, খালাস, মুক্তি, রায়ের বিরুদ্ধে আপীল ইত্যাদি সংক্রান্ত সকল বিষয় ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক ১৮৬১ সালে সর্ব প্রথম ফৌজদারী কার্যবিধি পাশ করা হয়। যদিও পরবর্তীতে ১৮৭২, ১৮৮২ এবং ১৮৯৮ সালে  সংস্কার করে কার্যকর করা হয়। বর্তমানে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি আইনটি ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই হতে কার্যকর আছে। 

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ধারা ৫৬৫ টি এবং মোট তফসিল ছিল ৫টি, যার মধ্যে ১ টি বাতিল করা হয়েছে। যার ফলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্তমানে বলবৎ আছে ৪ টি তফসিল।

১০,২৩৯.
কোন ব্যক্তি সাক্ষ্য আইনের ১৮ ধারার অধীনে "Admission" দিতে পারে?
  1. মামলার পক্ষ নিজে
  2. মামলার পক্ষের অনুমোদিত প্রতিনিধি
  3. মামলার ৩য় পক্ষ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

ধারা ১৮- কার্যধারার পক্ষ বা তার প্রতিনিধির স্বীকৃতি (Admission):
যেকোনো বিচারিক কার্যধারার পক্ষ (Party to the proceeding) বা তার কোনো প্রতিনিধি (Agent), যাকে আদালত উক্ত পরিস্থিতিতে স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে অনুমোদিত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে, তার দ্বারা প্রদত্ত কোনো বক্তব্য (Statement) স্বীকৃতি (Admission) হিসেবে গণ্য হবে।

[Statements made by a party to the proceeding, or by an agent to any such party, whom the Court regards, under the circumstances of the case, as expressly or impliedly authorized by him to make them, are admissions.]

অর্থাৎ, মামলার পক্ষ নিজে বা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি যদি কোনো তথ্য স্বীকার করে, তবে তা আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
১০,২৪০.
কোন মামলায় আদালত চূড়ান্ত শুনানীর পূর্বে যে কোন এক পক্ষের প্রার্থনায় খরচসহ সময় প্রদান করতে পারে অনধিক
  1. ৩ বার
  2. ৬ বার
  3. ৯ বার
  4. ১২ বার
ব্যাখ্যা
♦ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ নং আদেশের ১ নং বিধিমতে দেওয়ানী মোকদ্দমায় মূলতবির আবেদন করতে হয়। আদালতে সময়ের প্রার্থনা (Time petition) করাই হলো মূলতবীর আবেদন । আদালত মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে (At any stage of the suit) মোকদ্দমার শুনানী মূলতবি রাখতে পারে। চূড়ান্ত শুনানীর আগে (Before Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচ ছাড়া সর্বোচ্চ ৬টি এবং খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি করে মোট ৯টি মূলতবি মঞ্জুর করতে পারে। 
♦ অন্যদিকে চূড়ান্ত শুনানী পর্যায়ে ( At the Peremptory hearing) আদালত প্রত্যেক পক্ষকে খরচসহ সর্বোচ্চ ৩টি মূলতবি মঞ্জুর করতে পারে; তবে খরচ ছাড়া আদালত কোন মূলতবি মঞ্জুর করেনা।
♦ মূলতবি খরচ সর্বনিম্ন ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা হতে পারে। মূলতবির আবেদন মঞ্জুর করা বা না করা আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
১০,২৪১.
'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' কোন ধারার অধীনে জাল দলিলের বাতিলের আদেশ পেতে পারে?
  1. ২১ ধারার
  2. ৩১ ধারার
  3. ৩৩ ধারার
  4. ৩৯ ধারার
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৯: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।

(ক) একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। 'খ' বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে।

(খ) 'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিলের বাতিলের আদেশ পেতে পারে।

(গ) 'ক' তার জমির, সকল প্রজা উচ্ছেদযোগ্য, এ বিবরণ প্রদান পূর্বক 'খ' এর নিকট জমি বিক্রয় করে। ১৮৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে একটি দলিলের মাধ্যমে 'খ' এর নিকট তা হস্তান্তর করে। এই তারিখের পরপরই ১৮৭৬ সালের পহেলা অক্টোবরের তারিখ দিয়ে 'ক' প্রতারণামূলকভাবে 'গ' কে উক্ত জমির অংশবিশেষ ইজারা প্রদান করে এবং নিবন্ধন আইন অনুসারে ইজারা নিবন্ধন করা হয়। 'খ' এ ইজারার বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
 
(ঘ) 'ক' একটি জাহাজ 'খ' এর নিকট অর্পণে সম্মত হল। যার জন্য 'খ' কে ৪টি হুণ্ডির মারফত ৩০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে, যা 'ক' গ্রহণ করবে। হুণ্ডিসমূহ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ প্রদান করা হল না। 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি হণ্ডি প্রসঙ্গে মামলা দায়ের করল। 'খ' সকল হুণ্ডির বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
১০,২৪২.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪৪ প্রযোজ্য?
  1. দেউলিয়াত্ব ঘোষণা
  2. সম্পত্তির মালিকানা
  3. দখল পুনরুদ্ধার
  4. বংশগত পদ রক্ষা
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ : ১৪৪, প্রথম তফসিল, তামাদি আইন-
যদি কারো জমি বা স্থাবর সম্পত্তি অন্য কেউ জবরদখল করে নেয়, সেই দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়েরের তামাদি মেয়াদ (Limitation Period) - ১২ বছর। এই সময় গণনা শুরু হবে যখন প্রতিপক্ষের দখল বাদীর স্বার্থের বিরুদ্ধে (adverse) হয়ে ওঠে।
১০,২৪৩.
ক, খ-এর নিকট ১০ শতক জমি বিক্রি করার নিমিত্তে চুক্তিপত্র করে কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ২ শতক জমি হস্তান্তর করতে অসমর্থ হয়, এক্ষেত্রে চুক্তিটি-
  1. সম্পাদন করা যাবে না
  2. সম্পাদন করা যাবে
  3. সম্পাদন করা যাবে কিন্তু অসম্পাদিত অংশের ক্ষতিপূরণ পাবে না
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে উক্ত চুক্তি সম্পাদন করা যাবে।
- এখানে চুক্তির সম্পাদিত অংশ ৮ শতক তথা বড় এবং অসম্পাদিত অংশ ২ শতক তথা ছোট, তাই চুক্তিটি সম্পাদন করা যাবে এবং অসম্পাদিত অংশের জন্য খ-কে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
১০,২৪৪.
'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধ সংঘটনের জন্য কোনটি যথেষ্ট?
  1. প্রবেশকারীর প্রবেশ করার ইচ্ছা
  2. প্রবেশকারীর সম্পূর্ণ শরীরের প্রবেশ
  3. প্রবেশকারীর অবস্থান করার ইচ্ছা
  4. প্রবেশকারীর দেহের কোনো অংশের প্রবেশ
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারা- অনধিকার গৃহে প্রবেশ:
কোনো ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোনো গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোনো গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা: অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোনো অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ সংঘটনের জন্য যথেষ্ট।

Section 442- House-trespass:
Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".

Explanation: The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house-trespass.
১০,২৪৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী পুলিশ সম্পূরক চার্জ শীট [supplementary charge sheet) দাখিল করতে পারে?
  1. ধারা ১৭৩(২খ)
  2. ধারা ১৭৩(৩ক)
  3. ধারা ১৭৩(৩খ)
  4. ধারা ১৭৩(১খ)
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৭৩(৩খ) অনুযায়ী, পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট (চার্জ শীট) দাখিল করার পরও অধিকতর তদন্ত (Further Investigation) চালিয়ে গেলে যদি নতুন মৌখিক বা দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে পুলিশ সম্পূরক চার্জ শীট (Supplementary Charge Sheet) ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দাখিল করতে পারে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৮ ধারায় নিয়োগকৃত পুলিশের উপরস্থ কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ মুলতুবি রেখে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১৭৩ (২) ধারায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে [may order further investigation] ১৭৩ (১) ধারার অধীন পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করার পরও পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারার অধীন অধিকতর তদন্ত করতে পারে (do further investigation)।
- অধিকতর তদন্ত করে মৌখিক বা দালিলিক অধিকতর সাক্ষ্য পেলে, পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারায় অধিকতর রিপোর্ট বা সম্পূরক চার্জ শীট [supplementary charge sheet) দাখিল করতে পারে। ১৭৩ ধারার অধীন পুন:তদন্তের (re-investigation) কোন বিধান নেই।
- তথ্য প্রদানকারীর বা থানার ভারপ্রাপ্ত উদ্ধতন কর্মকর্তার আবেদনক্রমে বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজ উদ্যোগে অধিকর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু আসামীর আবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে না।
-১৭৩ ধারার অধীন তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার পর ম্যাজিস্ট্রেট চার্জশীটভুক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিতে পারে এবং যে সকল অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, তাদের অব্যাহতি দিতে পারে। যাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেট একবার অব্যাহতি দিলো তাদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারে না। বরং ম্যাজিস্ট্রেট ১৯০ ধারায় অপরাধ আমলে নিতে পারে।
-------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-173: Report of police-officer:
-(3B) Nothing in this section shall be deemed to preclude further investigation in respect of an offence after a report under sub-section (1) has been forwarded to the Magistrate and, whereupon such investigation, the officer in charge of the police-station obtains further evidence, oral or documentary, he shall forward to the Magistrate a further report or reports regarding such evidence in the form prescribed; and the provisions of sub-section (1) to (3A) shall, as far as may be, apply in relation to such report or reports as they apply in relation to a report forwarded under sub-section (1).
১০,২৪৬.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩৫ অনুযায়ী, কোন ধরনের রেকর্ড প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে?
  1. জমির খতিয়ান
  2. ব্যক্তিগত ডায়েরি
  3. ব্যক্তিগত চিঠিপত্র
  4. সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩৫ অনুযায়ী, "যেকোনো সরকারি বা অন্যান্য অফিসিয়াল বই, রেজিস্টার বা রেকর্ড [বা ডিজিটাল রেকর্ড],
যা সরকারি কর্মচারী তাঁর দায়িত্ব পালনকালে অথবা আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ব্যক্তি রক্ষণ করেন,
এবং সেই রেকর্ডে উল্লিখিত কোনো তথ্য যদি কোনো বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক তথ্য হয়—তাহলে তা সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে।"
→ সরকারি বা আইনগত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের সময় প্রণীত ও সংরক্ষিত রেকর্ড-ই ধারা ৩৫-এর অধীনে প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য হয়।
- অর্থাৎ অপশন ক) জমির খতিয়ান এটি সরকারি রেকর্ড, ভূমি অফিসে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক রক্ষণ করা হয়। তাই এটি ধারা ৩৫ অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য।
------
⇒The Evidence Act, 1872, Section- 35.Relevancy of entry in public record 24[or digital record], made in performance of duty:
- An entry in any public or other official book, register or record 25[,or digital record], stating a fact in issue or relevant fact, and made by a public servant in the discharge of his official duty, or by any other person in performance of a duty specially enjoined by the law of the country in which such book, register 26[, record or digital record] is kept, is itself a relevant fact.
১০,২৪৭.
১লা জুলাই, ২০০৫ তারিখে একটি রেজিষ্ট্রিকৃত চুক্তির অনুকূলে সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তি বলবতের জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে বাদীকে আরজির সাথে জমা দেওয়া প্রয়োজন-
  1. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্যের ২৫%
  2. চুক্তির অবশিষ্ট মূল্যের ৫০%
  3. অবশিষ্ট চুক্তি মূল্য
  4. কোন চুক্তি মূল্য দাখিল অপ্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief (Amendment)Act, 2004 ধারা 21A(c) অনুযায়ী ২০০৫ সালের ১লা জুলাই থেকে একটি রেজিষ্ট্রিকৃত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবতের জন্য মামলা করার ক্ষেত্রে বাদীকে আরজির সাথে অবশিষ্ট চুক্তি মূল্য জমা দিতে হবে।
♦The Specific Relief Act, এর ধারা ২১ক হচ্ছে অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্যঃএই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিষ্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা উহার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
১০,২৪৮.
শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ কোথায় দাখিল করতে হবে?
  1. থানায় পুলিশের নিকট
  2. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. সরাসরি দায়রা আদালতে
  4. হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার বিধান:
(১) যখন কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট, বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ রিপোর্ট বা অন্য কোনোভাবে সংবাদ পাইয়া এই মর্মে সন্তুষ্ট হল যে, তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে জমি বা পানি বা তার সীমানা সম্পর্কে এমন একটি বিরোধ রয়েছে, যা শান্তিভঙ্গ ঘটাতে পারে। তখন তিনি তার এরূপ স্পষ্ট হওয়ার কারণ উল্লেখ করে তার দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা কুলির মাধ্যমে তার আদালতে হাজির হওয়ার এবং বিরোধের বিষয় বস্তুতে প্রকৃত দখল সম্পর্কে তাদের নিজ নিজ দাবি সম্পর্কে বিবৃতি পেশ করার নির্দেশ দিয়া একটি লিখিত আদেশ দিবেন।
(২) এই ধারার উদ্দেশ্যে জমি বা পানি বলতে দালান, বাজার, ম্যাগার, ফসল বা সম্পত্তির খাজনা বা মুনাফাও বুঝায়।
(৩) ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশক্রমে এরূপ ব্যক্তি ব্যক্তিগণের উপর আদেশের একটি সমন জারির জন্য এই আইনে বর্ণিত পদ্ধতিতে জারি করতে হবে এবং অন্ততপক্ষে একটি নকল সুবিধাজনক স্থানে বা বিরোধের বিষয় বস্তুর নিকটে লটকায়ে জারি করতে হবে।

→ অর্থাৎ স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করা যায়।
১০,২৪৯.
কোন ব্যক্তি যদি পুলিশ হেফাজতে মারা যান, তবে তদন্তের জন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে?
  1. শুধুমাত্র জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  3. শুধুমাত্র প্রথম ব দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  4. যেকোনো নিকটতম ক্ষমতাবান ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ ধারা: মৃত্যুর কারণ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ইনকেয়ারী:
(১) কোন ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে মারা গেলে সুরতহাল তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাবান নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট অবশ্যই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত ছাড়াও বা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি করবেন এবং ধারা-১৭৪ এর উপধারা-(১) এর অনুচ্ছেদ-(ক), (খ) ও (গ) এ বর্ণিত অন্যান্য ক্ষেত্রে উক্তরূপে ক্ষমতাবান যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক অনুষ্ঠিত তদন্ত ব্যতীতও অথবা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি সম্পন্ন করতে পারবেন এবং তিনি যদি এরূপ সম্পাদন করেন, সেক্ষেত্রে অপরাধ ইনকোয়ারীর বেলায়ও তাঁর যে পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে এক্ষেত্রেও তার একই পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে। এরূপ ইনকোয়ারি পরিচালনাকালীন সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি অনুসারে অতঃপর উল্লিখিত পন্থাসমূহের যে কোন একটি অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ নথিবদ্ধ করবেন।
 
(২) কবর হতে লাশ তুলার ক্ষমতা: যখনই কোন ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ কোন ব্যক্তির লাশ, যাকে ইতঃপূর্বে কবর দেয়া হয়েছে, পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত মনে করেন তার মৃত্যুর কারণ আবিষ্কার করার জন্য, তখনই ওই ম্যাজিস্ট্রেট ওই লাশটি কবর হতে তোলাইয়া পরীক্ষা করাতে পারবেন।
১০,২৫০.
দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারা অনুযায়ী, কোন কাজ করলে শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ সংঘটিত হয়?
  1. মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করা
  2. কোনো কাজ করা, যা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে জানা থাকে
  3. কোনো কাজের মাধ্যমে দৈহিক আঘাত করা, যা মৃত্যু ঘটাতে পারে
  4. উপরের সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধের শর্তগুলো বর্ণিত হয়েছে, এবং সেখানে যেকোনো কাজের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর উদ্দেশ্যে কিংবা এমন কাজ যা মৃত্যু ঘটাতে পারে, সে অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য নরহত্যা হতে পারে।
- মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করা (ক):
যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে এবং তার ফলস্বরূপ মৃত্যু ঘটে, তবে সেটা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা হবে। এটি সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যে কাজ করার প্রমাণ।
- কোনো কাজ করা, যা মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে জানা থাকে (খ):
যদি ব্যক্তি জানে যে তার কাজের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটাতে পারে, এবং সে তাতে সজ্ঞানে কাজ করে, তাও শাস্তিযোগ্য নরহত্যা হবে। এখানে অভিপ্রায় বা উদ্দেশ্য থাকলেও, তিনি জানতেন যে তার কাজের ফলস্বরূপ মৃত্যু ঘটতে পারে।
- কোনো কাজের মাধ্যমে দৈহিক আঘাত করা, যা মৃত্যু ঘটাতে পারে (গ):
যদি কোনো ব্যক্তি এমন কাজ করে যা মৃত্যু ঘটাতে পারে, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, শরীরের এমন আঘাত করা, যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে, সেক্ষেত্রেও অপরাধ হতে পারে।
⇒ এই তিনটি শর্ত পূর্ণ হলে, ব্যক্তিটি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার জন্য দায়ী হতে পারে।

⇒ কোন ব্যক্তি যদি:
- মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে এবং তার ফলস্বরূপ মৃত্যু ঘটে,
- যে কাজের মাধ্যমে দৈহিক জখম হতে পারে এবং সেই জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, এমন কাজ করে এবং তার ফলস্বরূপ মৃত্যু ঘটে,
- যে কাজ মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে সে জানে, সেই কাজ করে এবং তার ফলে মৃত্যু ঘটে, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারা- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide):
কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ১:
যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ২:
যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:
মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভূমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।
১০,২৫১.
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুকালে তার সম্পত্তি তার চাকর বা কর্মচারী কর্তৃক অসাধুভাবে আত্মসাৎকরণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিচের কোনটি?
  1. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড 
  4.  ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪০৪ – মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ:
যে ব্যক্তি অঅসাধুভাবে (dishonestly) মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার দখলে থাকা সম্পত্তি নিজের ব্যবহারের জন্য নেয় বা পরিণত করে,
যা তখন কোনো আইনসিদ্ধ অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির দখলে যায়নি, তাকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।

শাস্তি:
- কারাদণ্ড (Imprisonment) – সর্বোচ্চ ৩ বছর, এবং
- অর্থদণ্ড (Fine) প্রযোজ্য।

বিশেষ নিয়ম:
যদি অপরাধী ওই মৃত ব্যক্তির ক্লার্ক বা চাকর হিসেবে কাজ করত, তবে কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

১০,২৫২.
দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারার অধীন অনিষ্টসাধন (Mischief) এর শাস্তি হতে পারে-
  1. ৩ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
  2. ৬ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
  3. ১ বৎসর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
  4. ৩ বৎসর পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারার অধীন অনিষ্টসাধন (Mischief) এর শাস্তি হতে পারে ৩ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়।
--------------------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section- 426: Punishment for mischief: Whoever commits mischief shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three months, or with fine, or with both.
১০,২৫৩.
সজল ও মিনা ২০১৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০১৭ সালের নভেম্বরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারি মিনার একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এক্ষেত্রে শিশুটি সজলের বৈধ সন্তান হিসেবে-
  1. চূড়ান্তভাবে গণ্য হবে
  2. অনুমান করা যেতে পারে
  3. অনুমান করা যেতে পারে না
  4. আদালত কোনো অনুমান করবে না
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা: সন্তানের জন্মই বিবাহ স্থির থাকাকালে এর বৈধতার চূড়ান্ত প্রমাণ-

কোন ব্যক্তির মাতার সঙ্গে এক ব্যক্তির আইনসঙ্গত বিবাহ কায়েম থাকাকালে অথবা বিবাহবিচ্ছেদের পর দুইশত আশি দিনের ভিতর তার মাতা অবিবাহিতা থাকাকালে যদি তার জন্ম হয় ও যদি এটা দেখান না হয় যে, ঐ ব্যক্তি যখন মাতৃগর্ভে এসে থাকতে অনুরূপ কোন সময়ে বিবাহিত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে মিলনের পথ উন্মুক্ত ছিল, তাহলে সে যে জন্মেছে এ প্রসঙ্গ দ্বারা অবশ্যই চূড়ান্ত ভাবে প্রমাণিত হবে যে, সে সে ব্যক্তির বৈধ সন্তান।
 
Section 112: Birth during marriage conclusive proof of legitimacy-
The fact that any person was born during the continuance of a valid marriage between his mother and any man, or within two hundred and eighty days after its dissolution, the mother remaining unmarried, shall be conclusive proof that he is the legitimate son of that man, unless it can be shown that the parties to the marriage had no access to each other at any time when he could have been begotten.

এক্ষেত্রে, শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছে মিনার বিবাহবিচ্ছেদের ২৮০ দিনের মধ্যে এবং প্রমাণও নেই যে গর্ভধারণের সময় সজল ও মিনার মিলন সম্ভব ছিল না। সুতরাং সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা মোতাবেক, শিশুটি সজলের বৈধ সন্তান বলেই চূড়ান্তভাবে গণ্য হবে।
১০,২৫৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৪ ধারা অনুসারে, ম্যাজিস্ট্রেট কখন অভিযুক্তকে দণ্ডিত না করার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবেন?
  1. অভিযুক্ত স্বীকারোক্তি করলে
  2. অভিযুক্ত স্বীকারোক্তি না করলে
  3. অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার পর
  4. অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হলে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৪ ধারায় বলা হয়েছে, যদি ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে দণ্ডিত না করেন বা অভিযুক্ত স্বীকারোক্তি না করেন, তখন ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদির (যদি থাকে) বক্তব্য শুনবেন এবং বাদী পক্ষের সমর্থনে প্রদত্ত সমস্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।
- এরপর, অভিযুক্তের বক্তব্যও শুনবেন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে তার প্রদত্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন। এর পর ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করলে সাক্ষীদের সমন ইস্যু করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
এটি নির্দেশ করে যে, অভিযুক্ত যদি স্বীকারোক্তি না করেন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার শুনানি অব্যাহত রাখবেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৪ ধারা অনুযায়ী-
(১) ম্যাজিস্ট্রেট যদি পূর্ববর্তী ধারা(২৪৩) অনুসারে অভিযুক্তকে দণ্ডিত না করেন বা অভিযুক্ত যদি উক্তরূপে স্বীকারোক্তি না করে,তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদির(যদি থাকে) বক্তব্য শুনবেন এবং বাদী পক্ষের সমর্থনে প্রদত্ত সমস্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন এবং অভিযুক্তের বক্তব্যও শুনবেন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে তার প্রদত্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।তবে শর্ত থাকে যে,কোনো আদালত যখন নালিশ করে তখন ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদি হিসাবে কারো বক্তব্য শুনতে বাধ্য হবেন না।
(২) ম্যাজিস্ট্রেট যদি উপযুক্ত মনে করেন,তাহলে ফরিয়াদি বা আসামির আবেদনক্রমে কোন সাক্ষীর প্রতি হাজির হওয়ার বা কোন দলিল বা কোনো জিনিস হাজির করার নির্দেশ দিয়ে সমন ইস্যু করতে পারবেন।
(৩) এরূপ আবেদনের ভিত্তিতে কোন সাক্ষীর প্রতি সমন দেওয়ার পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিতে পারবেন যে, বিচারের উদ্দেশ্যে হাজির হওয়ার জন্য তার যুক্তিসংগত খরচ আদালতে জমা দিতে হবে।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-244. Procedure when no such admission is made:
(1) If the Magistrate does not convict the accused under the preceding section or if the accused does not make such admission, the Magistrate shall proceed to hear the complainant (if any), and take all such evidence as may be produced in support of the prosecution, and also to hear the accused and take all such evidence as he produces in his defence:
Provided that the Magistrate shall not be bound to hear any person as complainant in any case in which the complaint has been made by a Court.
(2) The Magistrate may, if he thinks fit, on the application of the complainant or accused, issue a summons to any witness directed him to attend or to produce any document or other thing.
(3) The Magistrate may, before summoning any witness on such application, require that his reasonable expenses, incurred in attending for the purposes of the trial, be deposited in Court.
১০,২৫৫.
বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্বাচনের কত দিন পূর্বে তফসিল প্রকাশ করতে হয়?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

বার কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্বাচনেরর ৪৫ দিন পূর্বে তফসিল প্রকাশ করতে হয়।

The Bangladesh Legal Practitioners & Bar Council Rules, 1972 এর বিধি ৩:
চেয়ারম্যানকে বার কাউন্সিল নির্বাচনের অন্তত ৪৫ দিন পূর্বে সরকারি গেজেটে নির্বাচনের একটি তফসিল প্রকাশ করতে হবে, যাতে বার কাউন্সিলের সদস্যদের নির্বাচনের জন্য নিচের বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে-
(ক) প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ, যা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে হবে না এবং প্রস্তাব বার কাউন্সিলের অফিসে জমা দিতে হবে;
(খ) উক্ত প্রস্তাবগুলোর যাচাই-বাছাই (scrutiny) করার তারিখ;
(গ) ভোটগ্রহণের তারিখ বা তারিখসমূহ;
(ঘ) নির্বাচনের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিলের শেষ তারিখ;
(ঙ) বার কাউন্সিলের অফিসে নির্বাচন পিটিশন কমিটি কর্তৃক প্রথমবারের মতো উক্ত আপত্তি গ্রহণের তারিখ।
------------------------------------

The Chairman shall at least 45 days before the election , publish a programme of the election members of the Bar Council in the official Gazette specifying -
(a) the date not being a day within ten days of t Notification by which proposals for election are to I delivered at the office of the Bar Council;
(b) the date for the scrutiny of such proposals;
(c) the date or dates on which voting shall take place;
(d) the date by which objections to election shall be filed;
(e) the date on which objection shall be taken up for the fi time by the Election Petition Committee at the office the Bar Council;

১০,২৫৬.
দণ্ডবিধির ৮০ ধারায় কোন ধরনের কাজকে "অপরাধ নয়" বলে গণ্য করা হয়েছে?
  1. সতর্কতা ছাড়া করা কাজ
  2. আইন ভঙ্গকারী কাজ
  3. অপরাধমূলক উদ্দেশ্য সহ কাজ
  4. সতর্কতা ও যত্নসহকারে দুর্ঘটনাজনিত কাজ
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৮০ ধারার বিধান- আইনানুগ কাজ সম্পাদনকালে বিপত্তি বা দুর্ঘটনা:
কোন আইনানুগ কাজ আইনানুগ পদ্ধতিতে আইনানুগ উপায়ে যথোপযুক্ত সতর্কতা ও যত্নসহকারে সম্পাদন করাকালে কোন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা অবগতি ছাড়া দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্যক্রমে অনুষ্ঠিত কোন কিছুই অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

উদাহরণ: ‘ক’ একটি কুঠার নিয়ে কাজ করছে, হঠাৎ তা কুঠারের মাথাটি খুলে গিয়ে উড়ে যায় এবং সন্নিকটে দণ্ডায়মান এক ব্যক্তিকে নিহত করে। এক্ষেত্রে যদি ‘ক’ এর পক্ষে যথাযথ সতর্কতার অভাব না থেকে থাকে, তাহলে তার কাজ মার্জনীয় হবে এবং অপরাধ হবে না।

Section 80- Accident in doing a lawful act:
Nothing is an offence which is done by accident or misfortune, and without any criminal intention or knowledge in the doing of a lawful act in a lawful manner by lawful means and with proper care and caution.

Illustration: A is at work with a hatchet; the head flies off and kills a man who is standing by. Here if there was no want of proper caution on the part of A, his act is excusable and not an offence.
১০,২৫৭.
The breach of a contract to transfer immovable property cannot be adequately relieved by compensation in money” বিধানটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোথায় বলা আছে? 
  1. ধারা ২৩
  2. ধারা ১২
  3. ধারা ২৯
  4. ধারা ২১
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ১২ অনুসারে,এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে ঃ

(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্তহয়;

(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;

(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা

(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা : যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমন ভাবে করা যায়।


--------------------------------------------------------------
Explanation
- Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.
১০,২৫৮.
A conviction based solely on the testimony of an accomplice is-
  1. illegal
  2. invalid
  3. valid
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৩৩ অনুযায়ী:
“An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.”

ধারা ১৩৩ বলছে: যদি একজন দুষ্কর্মের সহযোগী (accomplice) আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন এবং সেই সাক্ষ্য কোনো অতিরিক্ত প্রমাণ ছাড়া (i.e., uncorroborated) হয়, তবুও শুধু এই কারণে আদালতের দেওয়া সাজা বেআইনী (illegal) বলা যাবে না।

আদালত যদি একমাত্র সহযোগীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে, সেটা আইনত valid বা বৈধ। যদিও বাস্তবে আদালত সাধারণত corroboration (অর্থাৎ, অন্য কোনো প্রমাণ বা সাক্ষ্যের মাধ্যমে সমর্থন) খোঁজে - কারণ accomplice-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। কিন্তু আইনগতভাবে আদালত একা সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই সাজা দিতে পারে।
১০,২৫৯.
দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান অনুসারে চুরির অপরাধ গঠনের জন্য কী প্রয়োজন?
  1. অসাধু উদ্দেশ্য
  2. সম্পত্তি স্থানান্তর
  3. মালিকের সম্মতি না থাকা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৮-এর অধীন, চুরির (theft) অপরাধ গঠনের জন্য তিনটি মূল উপাদান প্রয়োজন: (১) অসাধু উদ্দেশ্য (dishonest intention) দিয়ে অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করা, (২) সম্পত্তির স্থানান্তর (moving the property), এবং (৩) দখলকারী বা মালিকের সম্মতি না থাকা (without consent)। এই তিনটির সমন্বয়ে চুরির অপরাধ সম্পূর্ণ হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান চুরি:- কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহূর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মুহূর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।
ব্যাখ্যা ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বন্ধু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাঁটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা ৫:- সংজ্ঞায় উল্লিখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে: এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 378: Theft:
- Whoever, intending to take dishonestly any moveable property out of the possession of any person without that person's consent, moves that property in order to such taking, is said to commit theft.
Explanation 1.- A thing so long as it is attached to the earth, not being moveable property, is not the subject of theft; but it becomes capable of being the subject of theft as soon as it is severed from the earth.
Explanation 2.- A moving effected by the same act which effects the severance may be a theft.
Explanation 3.- A person is said to cause a thing to move by removing an obstacle which prevented it from moving or by separating it from any other thing, as well as by actually moving it.
Explanation 4.- A person, who by any means causes an animal to move, is said to move that animal, and to move everything which, in consequence of the motion so caused, is moved by that animal.
Explanation 5.- The consent mentioned in the definition may be express or implied, and may be given either by the person in possession, or by any person having for that purpose authority either express or implied.

১০,২৬০.
দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ৩৩৪-এর অধীনে অপরাধ সংঘটিত হতে হলে নিম্নের কোনটি অবশ্যই থাকতে হবে?
  1. মারাত্মক আঘাত
  2. কোনো অস্ত্রের ব্যবহার
  3. ইচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা
  4. গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ৩৩৪- প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান:
যে ব্যক্তি গুরুতর এবং আকস্মিক প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত করে, যদি সে অন্য কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য বা জ্ঞান না থাকে, কেবল সেই ব্যক্তিকে আঘাত করে যে প্ররোচনা দিয়েছে, তবে তাকে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয়ই দেওয়া যেতে পারে।

তাই, দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ৩৩৪-এর অধীনে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অপরিহার্য উপাদান হলো: গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনা।
১০,২৬১.
ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪৬ক অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে কখন আইনজীবীর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে?
  1. ১২ ঘণ্টার মধ্যে
  2. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
  3. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে
  4. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) ১২ ঘণ্টার মধ্যে।

ধারা ৪৬ক- গ্রেপ্তার পদ্ধতি এবং গ্রেপ্তারকারী অফিসারের কর্তব্য: 

যে পুলিশ কর্মকর্তা বা ব্যক্তি কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করবেন, তাকে-
(ক) নিজের নাম ও পরিচয় স্পষ্টভাবে বহন করতে হবে, যাতে সহজে শনাক্ত করা যায়।

(খ) নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে, এবং চাইলে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।

(গ) একটি গ্রেপ্তার স্মারক (memorandum of arrest) প্রস্তুত করতে হবে, যা-
(i) কমপক্ষে একজন সাক্ষী (অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় সম্মানিত ব্যক্তি) দ্বারা স্বাক্ষরিত হতে হবে;
(ii) গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ থাকতে হবে (যদি তিনি অস্বীকার না করেন)।

(ঘ) অভিযুক্তকে যদি বাড়ির বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে তার পরিবারের সদস্য/আত্মীয়/মনোনীত বন্ধুকে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের সময়, স্থান ও হেফাজতের জায়গা জানাতে হবে।

(ঙ) যদি অভিযুক্তের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকে, তবে ডাক্তারের পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, ডাক্তারের সনদ সংগ্রহ করতে হবে, এবং আঘাতের কারণ লিখে রাখতে হবে।

(চ) গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে চাইলে আইনজীবীর সাথে দেখা করার বা আত্মীয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দিতে হবে, অগ্রাধিকারভিত্তিতে ১২ ঘণ্টার মধ্যে।

১০,২৬২.
মোকদ্দমার অ্যাবেটমেন্ট আদেশ সরাসরি বাতিলের জন্য আদালত একজন দরখাস্তকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ১০০০ টাকা
  3. ২০০০ টাকা
  4. ৩০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশ-২২, বিধি-৯ক এর বিধান সরাসরি খারিজ বা বাতিল আদেশ রহিতকরণ: বাতিল বা খারিজের ৬০ দিনের মধ্যে যদি মৃত বাদীর আইনগত প্রতিনিধি বাতিল বা খারিজের আদেশকে রহিতকরণের জন্য আবেদন করে তাহলে আদালত বিলম্ব এড়ানো ও বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান না করে বাতিল বা খারিজ আদেশ সরাসরি রহিত করতে পারেন। এক্ষেত্রে আদালত বাদীকে অনধিক ৩০০০ টাকা খরচ প্রদানের আদেশ দিবেন।
------------------
⇒ Order-22 Rule-9A.Directly setting aside abatement or dismissal:
Notwithstanding anything contained in rule 9 or any other law, where the legal representative of a deceased plaintiff or the assignee or the receiver of any insolvent plaintiff files an application for setting aside abatement or dismissal made under this Order, within sixty days of abatement or dismissal, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, set aside the abatement or dismissal without requiring the applicant to adduce evidence to prove sufficient cause as required under rule 9, but requiring him to pay such cost not exceeding three thousand taka as the Court may deem appropriate.
১০,২৬৩.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে “Res Judicata” শব্দের অর্থ কী?
  1. অসম্পূর্ণ বিষয়
  2. অকার্যকর বিষয়
  3. বিচারাধীন বিষয়
  4. নিষ্পত্তিকৃত বিষয়
ব্যাখ্যা

⇒ "Res Judicata" একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ, যার আক্ষরিক অর্থ "a matter judged" বা "নিষ্পত্তিকৃত বিষয়"।
-  Res Judicata হলো একটি আইনি নীতি যা বলে, একটি মামলা যখন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, তখন একই ইস্যু, একই কারণ, এবং একই পক্ষদের নিয়ে সেই মামলা আবার উঠানো যাবে না। তাই এটিকে "নিষ্পত্তিকৃত বিষয়" বলা হয়। অর্থাৎ দেওয়ানি কার্যবিধির Res Judicata নীতির মূল উদ্দেশ্য আদালতের একই বিষয়ে পুনরায় বিচার নিষিদ্ধ করা।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় দোবারা দোষ নীতিটি [Res Judicata] আলোচনা করা হয়েছে। রেস জুডিকাটা নীতির মূল কথা হলো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিকৃত কোন বিচারিত বিষয়কে পরবর্তীতে পুনরায় বিচার করা যাবেনা। এই নীতির মূল কথা হলো, একবার নিষ্পত্তিকৃত কোন মোকদ্দমা, পুনরায় বিচারযোগ্য নয়।
→ Res Judicata নীতি আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক, এটি মানা আদালতের দায়িত্ব।

Res Judicata (দোবারা দোষ) কার্যকর হওয়ার শর্তসমূহ:
→ দুইটি মামলা থাকতে হবে:
একটি মামলা আগে নিষ্পত্তি হয়ে থাকতে হবে।
অন্যটি পরবর্তীতে দায়েরকৃত হতে হবে।
→ উভয় মামলার বিষয়বস্তু একই হতে হবে:
আগের মামলায় যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন মামলাতেও সেই একই বিষয় থাকতে হবে।
→ পক্ষগণ একই হতে হবে:
পরবর্তী মামলা যারা করেছে, তারা আগের মামলার পক্ষ হতে হবে।
অথবা তারা তাদের পক্ষের হয়ে মামলা করেছে।
→একই বিষয়ে পূর্বেও মামলা করা হয়েছে:
পূর্ববর্তী মামলার পক্ষগণ একই বিষয় নিয়ে মামলা করেছিল।
→ আগের মামলাটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত নিষ্পত্তি করেছে:
যে আদালত আগের মামলা নিষ্পত্তি করেছে, তার বিচার করার ক্ষমতা (এখতিয়ার) থাকতে হবে।

১০,২৬৪.
'ক' নিজেকে 'খ' বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে; 'খ' জনৈক মৃত ব্যক্তি। 'ক' এর অপরাধ?
  1. Cheating
  2. Cheating by personation
  3. Dishonestly misappropriation of property
  4. Criminal breach of trust
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১৬ ধারার বিধান: অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা:- কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা:- যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।

⇒ উদাহরণসমূহ:
(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।দ
(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে; খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।
----------------
Cheating by personation
416. A person is said to "cheat by personation" if he cheats by pretending to be some other person, or by knowingly substituting one person for another, or representing that he or any other person is a person other than he or such other person really is. 
Explanation.-The offence is committed whether the individual personated is a real or imaginary person. 
Illustrations 
(a) A cheats by pretending to be a certain rich banker of the same name. A cheats by personation. 
(b) A cheats by pretending to be B, a person who is deceased. A cheats by personation.
১০,২৬৫.
কোন ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের ডিক্রি দিবে না আদালত?
  1. বাদী অনুচিত সুবিধা পেলে
  2. বিবাদীর উপর তা কষ্টকর হলে
  3. বাদী যেক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত মোতাবকে উল্লেখযোগ্য কাজ করে ফেলেছেন
  4. ক+খ
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর অধীনে চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন সম্ভব হলেও আদালত চাইলে তাঁর বিবেচনাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে ডিক্রি নাও দিতে পারেন। আবার চুক্তির বাস্তবায়ন –এর শর্ত (২১ ধারার বিধান মোতাবেক) উপস্থিত না থাকলেও আদালত একটি ক্ষেত্রে ডিক্রি দিতে পারবেন। এই বিষয়ে নীতি প্রদান করা হয়েছে ২২ ধারায়।
১০,২৬৬.
The Penal Code, 18760 এর ধারা -৪৯৯ এ বর্ণিত মানহানির সংজ্ঞার কয়টি ব্যতিক্রমের উল্লেক্ষ আছে?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
♦ পেনাল কোড-এর ৪৯৯ ধারায় মানহানি বা defamation এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং সেখানে মোট ১০ টি ব্যতিক্রম সাপেক্ষে এই অপরাধ সংঘটনের কথা বলা আছে।
♦ ৪৯৯ ধারায় ১০টি  ব্যতিক্রম নিচে দেয়া হল-
১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা ।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না ।

♦ শান্তি: ধারা ৫০০ অনুযায়ী, মানহানি অপরাধের শাস্তি- ২ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়।
১০,২৬৭.
আপিলের পিটিশন কে দাখিল করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র আপিলকারী
  2. শুধুমাত্র উকিল
  3. আপিলকারী বা তার উকিল
  4. আদালতের ক্লার্ক
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪১৯: আপিলের দরখাস্ত:
প্রত্যেকটি আপিল দায়ের করতে হবে পিটিশন বা দরখাস্ত আকারে। আপিলের পিটিশন আপিলকারী বা তার উকিল দাখিল করবে। যে রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হচ্ছে তার কপি আপিলের পিটিশনের সাথে দাখিল করতে হবে।

Section 419- Petition of appeal:
Every appeal shall be made in the form of a petition in writing presented by the appellant or his pleader, and every such petition shall (unless the Court to which it is presented otherwise directs) be accompanied by a copy of the judgment or order appealed against.
১০,২৬৮.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ ভঙ্গ করা হলে ভঙ্গকারীকে সর্বোচ্চ কতদিন civil prison-এ রাখার আদেশ দেয়া যেতে পারে?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর আদেশ ৩৯ বিধি ২ অনুযায়ী-

⇒ যদি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হয়, অথবা কোন শর্ত ভঙ্গ করা হয় তবে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরকারী আদালত দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিতে পারেন, এবং উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৬ মাস মেয়াদের জন্য (Civil prison) দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখারও নির্দেশ দিতে পারেন।

⇒ চুক্তিভঙ্গ বা অন্য কোন প্রকার ক্ষতি করা থেকে বিবাদীকে বিরত রাখার জন্য মোকদ্দমা শুরুর পর যেকোন সময়, রায়ের পূর্বে বা পরে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারে। 

⇒ এরূপ কোন ক্রোক ১ বছরের অধিক বলবৎ থাকবে না, উক্ত সময়ের পরও যদি অবাধ্যতা বা চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহলে সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করা যাবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদালত উপযুক্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে পারে। 
১০,২৬৯.
দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য ডিক্রি কীভাবে কার্যকর করা যেতে পারে?
  1. সম্পত্তি ক্রোকের মাধ্যমে
  2. দেওয়ানি কারাগারে আটক করে
  3. আদালতে ক্ষতিপূরণ জমা দিয়ে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৩২: সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার অথবা নিষেধাজ্ঞার জন্য ডিক্রি:

(১) যে পক্ষের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তির নির্দিষ্ট পালন, বিবাহ সংক্রান্ত অধিকার পুনরুদ্ধার বা নিষেধাজ্ঞার জন্য ডিক্রি জারি করা হয়েছে, সেই পক্ষ যদি ডিক্রি পালনের সুযোগ পেয়েও ইচ্ছাকৃতভাবে তা পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে:
- বিবাহ সংক্রান্ত অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রির ক্ষেত্রে তার সম্পত্তি ক্রোকের মাধ্যমে ডিক্রি কার্যকর করা যেতে পারে;
- চুক্তির নির্দিষ্ট পালন বা নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির ক্ষেত্রে তাকে দেওয়ানি কারাগারে আটকের মাধ্যমে, তার সম্পত্তি ক্রোকের মাধ্যমে, অথবা উভয় পদ্ধতিতে ডিক্রি কার্যকর করা যেতে পারে।

(২) যে পক্ষের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট পালন বা নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি জারি করা হয়েছে, যদি সেই পক্ষ কোনো কর্পোরেশন হয়, তবে ডিক্রি কার্যকর করা যেতে পারে:
- কর্পোরেশনের সম্পত্তি ক্রোকের মাধ্যমে; অথবা
- আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে কর্পোরেশনের পরিচালক বা অন্যান্য প্রধান কর্মকর্তাদের দেওয়ানি কারাগারে আটকের মাধ্যমে; অথবা
সম্পত্তি ক্রোক এবং আটক উভয় পদ্ধতিতে।

১০,২৭০.
দেওয়ানি আদালতের ১০৮ ধারায় ________ আদালতের ডিক্রি ও আদেশসমূহ হতে আপিলের পদ্ধতি বর্ণিত আছে।
  1. রিভিউ
  2. আপিল
  3. রিভিশন
  4. জেলা জজ
ব্যাখ্যা
ধারা-১০৮: আপিল আদালতের ডিক্রি ও আদেশসমূহ হতে আপিলের পদ্ধতি:
মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলসমূহ সম্পর্কিত এই খণ্ডের বিধানসমূহ যথাসম্ভব নিম্নোক্ত আপিলের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হবে-
ক) আপিল আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল; এবং
খ) এই আইন অনুযায়ী প্রদত্ত কোন আদেশ কিংবা যে কোন বিশেষ বা স্থানীয় আইনে স্বাতন্ত্র্য কোন পদ্ধতির বিধান নেই, তদ্রূপ আইনবলে প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল।

Sec.-108: Procedure in appeals from appellate decrees and orders:
The provisions of this Part relating to appeals from original decrees shall, so far as may be, apply to appeals-
a) from appellate decrees, and
b) from orders made under this Code or under any special law in which a different procedure is not provided.
১০,২৭১.
বাদীর আরজি সংশোধনীর দরখাস্ত নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কি?
  1. রিভিশন
  2. রিভিউ
  3. আপীল
  4. রেফারেন্স
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশর ৬ এর বিধি ১৭ অনুযায়ী প্লিডিংস সংশোধনের বিধান আছে।

⇒ আদেশর ৬ বিধি ১ অনুযায়ী প্রিডিং বলতে আরজি বা লিখিত জৰাৰ বুঝাবে। 
⇒ মামর্লা যে কোন পর্যায়ে প্লিডিংস সংশোধণ হতে পারে।
⇒  প্লিডিংস সংশোধন করা বা না করা আদালতের বিবেচনা মূলক ক্ষমতা।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি আদেশর ৬ এর বিধি ১৭ অনুযায়ী আরজি জবাব সংশোধন বা প্লিডিংস সংশোধন বলতে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষকে ন্যায় সঙ্গত পদ্ধতিতে ও শর্তে তার আরজি জবাবে পরিবর্তন বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন এবং উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের উদ্দেশ্যেই এরূপ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যাবে।
⇒ তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর , সংশোধনের কোন আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
⇒ যদি  আদালত অভিমত পোষণ করেন যে, পরিশ্রম করা সত্ত্বেও পার্টি  বিচারকার্য শুরু হওয়ার পূর্বে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেননি সেক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে।
⇒ আরো শর্ত থাকে যে, বিচারকার্য শুরু হওয়ার পর যদি সংশোধনের আবেদন করা হয় এবং আদালত এই মত পোষণ করেন যে, বিচারকার্য পরিচালনাকে বিলম্ব করার জন্য এটি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত আপত্তিকারীকে যেরূপ উপযুক্ত মনে তদ্রুপ ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ পরিশোধ করতে আদেশ দিবেন।
⇒ বাদীর আরজি সংশোধনীর দরখাস্ত নামঞ্জুরের আদেশ আপীলযোগ্য আদেশ নয়, আদেশের বিরুদ্ধে ১১৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশন করা যাবে।
১০,২৭২.
সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করতে হবে কোন আদালতে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. জেলা জজের আদালতে
  3. যুগ্মজেলা জজের আদালতে
  4. অতিরিক্ত জেলা জজের আদালতে
ব্যাখ্যা
- রিভিশন (Revision)- রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে।
- ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে।

- দেওয়ানী মামলায় রিভিশনের দায়েরের স্থান-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে -জেলা জজ আদালতে। 

- অর্থাৎ ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে। জেলা জজ আদালত ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল শুনানীর এখতিয়ার রাখে না। 
সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ ও যুগ্ম জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন জেলা জজের আদালতে দাখিল করতে হয়, তবে এই সকল আদালতের ডিক্রির বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে।
১০,২৭৩.
“Every suit shall be instituted in the court of the lowest grade competent to try it”- দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ধারা ৬
  2. ধারা ৯
  3. ধারা ১৩
  4. ধারা ১৫
ব্যাখ্যা

• কোন দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করবেন সেটা ২টি বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়-
১) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং
২) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার।

• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৫-
"Every suit shall be instituted in the court of the lowest grade competent to try it"

অর্থাৎ প্রত্যেকটি দেওয়ানি মোকদ্দমা তা বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালতে দায়ের করতে হবে। কোনটি সর্বনিম্ন আদালত সেটা নির্ধারিত হবে আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং মোকদ্দমার মূল্যমান অনুযায়ী ।

১০,২৭৪.
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ অনুযায়ী নিচের কোনটি আপীল আদালতের ক্ষমতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ?
  1. চূড়ান্ত নিষ্পত্তি
  2. বিচারার্থে প্রেরণ
  3. অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ না করা
  4. সবগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ
ব্যাখ্যা
♦দেওয়ানি কার্যবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী কোন আপীল আদালতের নিম্নলিখিত ক্ষমতাবলী থাকবে-
(i) কোন মোকদ্দমা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার।
(ii) কোন মোকদ্দমা পুনর্বিচারে প্রেরণ করার।
(iii) বিচার্য বিষয় গঠন এবং সেইগুলি বিচারার্থে প্রেরণ করার।
(iv) অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ বা অনুরূপ সাক্ষ্য গ্রহণ বা তলব করার ক্ষমতা। 
১০,২৭৫.
সাক্ষ্য আইন কতটি অধ্যায়ে বিভক্ত?
  1. ১০টি অধ্যায়
  2. ১১টি অধ্যায়
  3. ১৩টি অধ্যায়
  4. ১৫টি অধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (The Evidence Act, 1872) ভারতীয় উপমহাদেশে প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন, যা সাক্ষ্য সংক্রান্ত বিধানাবলী নির্ধারণ করে।
- প্রণয়ন তারিখ: ১৫ মার্চ, ১৮৭২
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১ সেপ্টেম্বর, ১৮৭২
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ মোট ১১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এতে মোট ১৬৭টি ধারা (Section) সন্নিবেশিত রয়েছে।
- এই আইনে ৩টি ভাগ (Part) রয়েছে।
- সাক্ষ্য আইনের খসড়া প্রস্তুতকারী হলো স্যার জেমস স্টিফেন।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্র: এটি সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য এবং সমস্ত বিচারিক কার্যক্রমে প্রয়োগ করা হয়, তবে সামরিক আদালত বা সালিশি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
- এই আইনের মাধ্যমে আদালতে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য ও প্রমাণের ধরন, সাক্ষ্যগ্রহণের পদ্ধতি এবং প্রমাণের মূল্যায়ন সম্পর্কে বিধান নির্ধারিত হয়।
১০,২৭৬.
‘A’ মহিলার কানের রিং টান দিয়ে ছিনিয়ে নেয়, এতে মহিলার কানে আঘাত ও রক্তপাত হয়। দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘A’-এর অপরাধটি কী বলে গণ্য হবে?
  1. ডাকাতি
  2. দস্যুতা
  3. বলপ্রয়োগ
  4. ছিন্তাই
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান: দস্যুতার সংজ্ঞা (Robbery)- চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তাদস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
⇒ দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে। দস্যুতাকে সহজ কথায় রাহাজানি বলে আখ্যায়িত করা হয়।
⇒ বলপূর্বক গ্রহণ কখন দস্যুতা বলে গণ্য হবে (When extortion is robbery)- বলপূর্বক গ্রহণের সময় অপরাধী স্বয়ং ভিকটিমের নিকটে বা আশেপাশে উপস্থিত থেকে তাৎক্ষনিক ভয়ের সৃষ্টি করলে বলপূর্বক গ্রহণ দস্যুতা বলে গণ্য হবে।
⇒ চুরি কখন দস্যুতা বলে গণ্য হবে (When theft is robbery)- চুরি করার উদ্দেশ্যে বা চুরি করার সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা অবৈধ আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন চুরি দস্যুতা বলে গণ্য হবে।

⇒ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারায় দস্যুতার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চুরি করার সময় কোন কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নেবে এবং বলপূর্বক গ্রহণের সময় কী কাজ করলে সেটি দস্যুতায় রূপ নিবে সেটি বর্ণনা করা হয়েছে। চুরি অপরাধ সংঘটনকালে যদি death, hurt, wrongful restraint ইত্যাদি করে বা তা করার চেষ্টা করে বা তা করার তাৎক্ষণিক ভয় দেখায় তবে তা দস্যুতায় রূপ নেবে। কিন্তু extortion –এর ক্ষেত্রে উক্ত অপরাধগুলো সংঘটন করা নয়, বরং তা করার ভয় দেখালেই তা দস্যুতায় রূপান্তরিত হবে।
⇒ পেনাল কোডের ৩৯০ ধারা মতে প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।

⇒ যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-
চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে দস্যুতা।

⇒ বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে  দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী-যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে।
⇒ ব্যাখ্যা (Explanation):-
অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।

⇒ অর্থাৎ চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।

⇒ দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।

⇒ দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করে;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখায়;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করে; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকে।

⇒ দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।

⇒ প্রত্যেক ডাকাতির ক্ষেত্রে দস্যুতা ( চুরি অথবা বলপূর্বক গ্রহণ) থাকে। কিন্তু দস্যুতা এবং ডাকাতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সংখ্যাগত। দণ্ডবিধির ৩৯১ ধারা অনুযায়ী ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন থাকতে হবে।
১০,২৭৭.
আদালতে যদি কাউকে কোনো নথি উপস্থাপন করার জন্য সমন দেয়া হয়, তাহলে শুধুমাত্র সে নথি উপস্থাপন করার কারণেই-
  1. তাকে সাক্ষী বলে গণ্য করা হবে
  2. তাকে সাক্ষী বলে গণ্য করা হবে না
  3. তাকে জেরা করা যাবে
  4. নথি গ্রহণের পর সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবে
ব্যাখ্যা
• Section 139: Cross-examination of person called to produce a document:
A person summoned to produce a document does not become a witness by the mere fact that he produces it and cannot be cross-examined unless and until he is called as a witness.

বাংলা অর্থ:
যদি কাউকে কোনো নথি উপস্থাপন করার জন্য সমন দেয়া হয়, তাহলে শুধুমাত্র সে নথি উপস্থাপন করার কারণেই তাকে সাক্ষী বলে গণ্য করা হবে না। আর যতক্ষণ না তাকে সাক্ষী হিসেবে আহ্বান করা হয়, ততক্ষণ তার বিরুদ্ধে জেরা করা যাবে না।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে,
নথি উপস্থাপনকারী ব্যক্তি সাক্ষী নয়, শুধুমাত্র নথি উপস্থাপনকারী। তাকে সাক্ষী হিসেবে আহ্বান না করা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে জেরা করা যাবে না। নথি উপস্থাপন করার কারণেই তাকে স্বতঃই সাক্ষী বলে গণ্য করা হবে না।
১০,২৭৮.
দণ্ডবিধির কত ধারায় গুরুতর আঘাতের সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. ৩১৯ ধারা
  2. ৩২০ ধারা
  3. ৩২১ ধারা
  4. ৩২২ ধারা
ব্যাখ্যা
• ৩২০ ধারা অনুযায়ী ৮ শ্রেণির আঘাতকে গুরুতর আঘাত বলা হয়েছে।
যথা:
(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।
১০,২৭৯.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী চুরির সর্বোচ্চ শাস্তি-
  1. ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারার বিধান চুরি করার সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি চুরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
----------
⇒ Section 379 Punishment for theft: Whoever commits theft shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both.
১০,২৮০.
খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে The Code of Criminal Procedure, 1898, অনুযায়ী আপিল দায়েরের তামাদি মেয়াদ _________।
  1. ৬ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ১৮০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
♦যদি আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয় তবেই ফরিয়াদি খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 ধারা ৪১৭(৩) মতে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।
♦The Limitation Act, 1908 এর অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী  খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে। [
♦ খালাসের বিরুদ্ধে আপিল গৃহীত না হলে বা প্রত্যাখ্যাত হলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
১০,২৮১.
No party has any right to be heard either personally or by pleader before any Court when exercising its powers of _______.
  1. Appeal
  2. Review
  3. Revision
  4. Second appeal
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪০ ধারার বিধান:
-কোন আদালত যেক্ষেত্রে তার রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালতে কোন পক্ষেরই ব্যক্তিগতভাবে বা এডভোকেট কর্তৃক বক্তব্য দাখিলের অধিকার থাকবে নাঃ
শর্ত থাকে যে, আদালত উপযুক্ত মনে করলে এরূপ ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন পক্ষের বক্তব্য ব্যক্তিগতভাবে বা উকিলের কর্তৃক শ্রবণ করতে পারবেন; এবং এই ধারার কোন বিধান ধারা-৪৩৯ (২) কে প্রভাবিত করবে বলে গণ্য করা যাবে না।
----------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 440: Optional with Court to hear parties:
-No party has any right to be heard either personally or by pleader before any Court when exercising its powers of revision: 

Provided that the Court may, if it thinks fit, when exercising such powers, hear any party either personally or by pleader, and that nothing in this section shall be deemed to affect section 439, sub-section (2).
১০,২৮২.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী দস্যুতার (Robbery) সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
  2. ১৪ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড।
  3. ৭ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড
  4. ১০ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারামতে দস্যুতার শাস্তি (Punishment for robbery)- অনধিক ১০ বৎসর 'সশ্রম' কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। তবে দস্যুতার অপরাধ সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় সংঘটিত হলে দস্যুতার শাস্তি ১৪ বৎসর পর্যন্ত 'সশ্রম' কারাদণ্ড হতে পারে।
 
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারার বিধান দস্যুতার সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি দস্যুতা সংঘটন করে তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় রাজপথে দস্যুতা অনুষ্ঠিত হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।
--------------
⇒ Section 392. Punishment for robbery:- Whoever commits robbery shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if the robbery be committed on the highway between sunset and sunrise, the imprisonment may be extended to fourteen years.
১০,২৮৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারায় জরিমানা আদায়ের জন্য কালেক্টর কোন পদ্ধতি অনুসরণ করবেন?
  1. ফৌজদারি পদ্ধতি
  2. দেওয়ানী পদ্ধতি
  3. প্রশাসনিক পদ্ধতি
  4. সামরিক পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) দেওয়ানী পদ্ধতি।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬(১)(খ) ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন কোনো আসামীকে জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়, তখন আদালত জেলা কালেক্টরকে জরিমানা আদায়ের জন্য দেওয়ানী পদ্ধতিতে পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দিতে পারে। অর্থাৎ, জেলা কালেক্টর দেওয়ানী পদ্ধতি অনুযায়ী জরিমানা আদায় করবে এবং এটি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারার বিধান- জরিমানা আদায় করার পরোয়ানা:
(১) যেক্ষেত্রে কোন আসামিকে জরিমানা দণ্ডে দণ্ড দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে দণ্ড দানকারী আদালত নিম্নে বর্ণিত দু'টি বা উভয় উপায় অনুযায়ী জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা নিতে পারবেন, অর্থাৎ ইহা-
(ক) অপরাধীর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করে জরিমানা আদায়ের জন্য পরোয়ানা দিতে পারবেন, অথবা
(খ) খেলাপকারীর স্থাবর বা অস্থাবর বা উভয় প্রকার সম্পত্তিতে দেওয়ানী পদ্ধতি অনুযায়ী পরোয়ানা বলবৎ করে জরিমানার টাকা আদায়ের কর্তৃত্ব দিয়ে জেলার কালেক্টরকে পরোয়ানা প্রদান করতে পারবেন:
শর্ত থাকে যে, যদি দণ্ডাদেশে নির্দেশ থাকে যে, জরিমানা পরিশোধ করা না হলে অপরাধী কারাদণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত হবে এবং সে যদি অনাদায়বশত সমগ্র কারাদণ্ড ভোগ করে থাকে, তাহলে কোন আদালত উক্তরূপ পরোয়ানা দিবে না, যদি না বিশেষ কোন কারণ বশত প্রয়োজন মনে করলে আদালত উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করে পরোয়ানা দিয়ে থাকেন।
(২) সরকার উপধারা-(১) এর অনুচ্ছেদ- (ক) এর পরোয়ানা কার্যকরীকরণের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং উক্ত পরোয়ানা কার্যকরীকরণ প্রসঙ্গে ক্রোককৃত সম্পত্তিতে অপরাধী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির কোন দাবি সংক্ষেপে নির্ধারণের ব্যবস্থা নেবার জন্য বিধি প্রণয়ন করতে পারবেন।
(৩) আদালত যেক্ষেত্রে উপধারা-(১) এর অনুচ্ছেদ (খ) অনুযায়ী কালেক্টরকে পরোয়ানা দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৫নং আইন) এর অর্থানুযায়ী উক্ত পরোয়ানাকে ডিক্রি এবং কালেক্টরকে ডিক্রিদার মর্মে আখ্যায়িত করতে হবে এবং যে নিকটতম দেওয়ানী আদালত অনুরূপ পরিমাণ অর্থের ডিক্রি জারি করতে পারেন উক্ত কার্যবিধির উদ্দেশ্যে সেই আদালতকে উক্ত ডিক্রি দাতা আদালত মর্মে আখ্যায়িত করতে হবে এবং ডিক্রি জারির ব্যাপারে উক্ত কার্যবিধির বিধানাদি অনুরূপভাবে প্রযোজ্য হবে।
শর্ত থাকে যে, অপরাধীকে গ্রেফতার বা কারাগারে আটক রাখার মাধ্যমে এইরূপ পরোয়ানা কার্যকর করা যাবে না।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section-386: Warrant for levy of fine:
(1) Whenever an offender has been sentenced to pay a fine, the Court passing the sentence may take action for the recovery of the fine in either or both of the following ways, that is to say, it may-
(a) issue a warrant for the levy of the amount by attachment and sale of any movable property belonging to the offender;
(b) issue a warrant to the Collector of the District authorising him to realise the amount by execution according to civil process against the movable or immovable property, or both, of the defaulter:
Provided that, if the sentence directs that in default of payment of the fine the offender shall be imprisoned, and if such offender has undergone the whole of such imprisonment in default, no Court shall issue such warrant unless for special reasons to be recorded in writing is considers it necessary to do so.
(2) The Government may make rules regulating the manner in which warrants under sub-section (1), clause (a), are to be executed, and for the summary determination of any claims made by any person other than the offender in respect of any property attached in execution of such warrant.
(3) Where the Courts issue a warrant to the Collector under sub-section (1), Clause (b), such warrant shall be deemed to be a decree, and the Collector to be the decree-holder, within the meaning of the Code of Civil Procedure, 1908, and the nearest Civil Court by which any decree for a like amount could be executed shall, for the purposes of the said Code, be deemed to be the Court which passed the Decree, and all the provisions of that Code as to execution of decrees shall apply accordingly:
Provided that no such warrant shall be executed by the arrest or detention in prison of the offender.
১০,২৮৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫ক অনুসারে, যেক্ষেত্রে বিচার চলাকালীন সময়ে হাজতে থাকার মেয়াদ কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বেশী হয়, সেক্ষেত্রে আদালত-
  1. অর্থদণ্ড মওকুফের আদেশ দিবে
  2. ফরিয়াদিকে জরিমানার আদেশ দিবে
  3. নতুন করে কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দিবে
  4. আসামিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিবে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় বিচার চলাকালে আসামীর জেল হাজতে থাকা সময় কীভাবে দণ্ড থেকে বাদ যাবে তা বলা হয়েছে যা নিম্নরূপ:
- ধারা-৩৫ক (১): ফৌজদারি মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ মামলা শুরু হওয়ার পর দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আসামি যে কয়দিন জেলহাজতে ছিল, তা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
 তবে এই বিধানটি আসামি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ ৩৫ক ধারাটি মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- ধারা-৩৫ক (২): যদি বিচার চলাকালীন সময়ে হাজতে থাকার মেয়াদ কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বেশী হয় তাহলে আসামি পুরো কারাদণ্ড ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে এবং জেল থেকে মুক্তি পাবে; পাশাপাশি কোন অর্থদণ্ড থাকলে সেই অর্থদণ্ড মওকুফ হয়ে যাবে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-35A: Deduction of imprisonment in cases where convicts may have been in custody:
(1) Except in the case of an offence punishable only with death, when any court finds an accused guilty of an offence and, upon conviction, sentences such accused to any term of imprisonment, simple or rigorous, it shall deduct from the sentence of imprisonment, the total period the accused may have been in custody in the meantime, in connection with that offence. 
(2) If the total period of custody prior to conviction referred to in sub-section (1) is longer than the period of imprisonment to which the accused is sentenced, the accused shall be deemed to have served out the sentence of imprisonment and shall be released at once, if in custody, unless required to be detained in connection with any other offence; and if the accused is also sentenced to pay any fine in addition to such sentence, the fine shall stand remitted.
১০,২৮৫.
দলিল যথাযথ হেফাজত থেকে আদালতে দাখিল হলে তা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত বলে অনুমান করা যাবে _______ পুরাতন হলে।
  1. ৩০ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১৪ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ The Evidence Act, 1872 এর ধারা ৯০ অনুযায়ী, ৩০ বছর পুরনো দলিল যদি যথাযথ হেফাজত থেকে আদালতে দাখিল করা হয়, তবে তা যথাবিহিতরূপে সম্পাদিত (properly executed) বলে অনুমান করা যাবে।
- এটি নিশ্চিত করে যে, ৩০ বছরের পুরনো দলিলের ক্ষেত্রে আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমান করতে পারে যে, এটি সঠিকভাবে সম্পাদিত হয়েছে এবং এর তথ্য সঠিক।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরনো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক মনে করবে যদি দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হয় এবং আদালতের দৃষ্টিতে সঠিক হেফাজত হতে দলিলটি আদালতে দাখিল করা হয়।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয় বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করতে পারে আবার নাও করতে পারে। ৯০ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ বছরের পুরানো একটি দলিলের সম্পাদন ও বিষয়বস্তুকে আদালত সঠিক বলে মনে করবে যদি দলিলটি সঠিক ব্যক্তির দখল থেকে আসে।
⇒ ৩০ বছরের পুরোনো দলিল সম্পর্কে আদালত May presume করেন।
⇒ ৯০ ধারার অনুমান শুধুমাত্র মূল দলিলের জন্য। কোন প্রত্যয়িত কপি বা জাবেদা নকলের জন্য নয়।
⇒ এ ধারার বিধানের অনুযায়ী- ১. দলিলটি ৩০ বছরের পুরাতন হতে হবে। ২. দলিলটি সঠিক ব্যক্তির হেফাজত হতে আদালতে দাখিল করতে হবে।
------------------
⇒ The Evidence Act,1872: Section 90: Presumption as to documents thirty years old:
-Where any document, purporting or proved to be thirty years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the signature and every other part of such document, which purports to be in the handwriting of any particular person, is in that person's handwriting, and, in the case of a document executed or attested, that it was duly executed and attested by the persons by whom it purports to be executed and attested.

⇒ Explanation.-Documents are said to be in proper custody if they are in the place in which, and under the care of the person with whom, they would naturally be; but no custody is improper if it is proved to have had a legitimate origin, or if the circumstances of the particular case are such as to render such an origin probable.
This explanation applies also to section 81.
১০,২৮৬.
"Enlargment of Time" সংক্রান্ত বিধান দেওয়ানী কার্যবিধির কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ১৪৬
  2. ধারা ১৪৭
  3. ধারা ১৪৮
  4. ধারা ১৪৯
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৪৮ ধারার বিধান সময় বাড়ানো (Enlargement of time)- আইনে অনুমোদিত কোন কাজ করার জন্য আদালত কোন সময় নির্ধারণ করে দেয়ার পরও (এমনকি নির্ধারিত সময় পার হলেও) ১৪৮ ধারা অনুযায়ী আদালত তার সুবিবেচনামূলক ক্ষমমতাবলে সময়ে সময়ে উক্ত সময়কাল বাড়াতে পারে।
- ১৪৮ ধারার বিধান মোতাবেক কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত উক্ত কাজ সম্পাদনের জন্য পক্ষদেরকে সময় মনজুর করতে পারেন। এটি আদেশ ১৭- এর adjournments সংক্রান্ত বিধান থেকে আলাদা। adjournments আদেশে শুধু শুনানী মূলতবীর জন্য সময় দেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু ১৪৮ ধারার বিধান মোতাবেক যে কোনো কাজের জন্য নির্ধারিত সময় বৃদ্ধির আবেদন করা যায়। 
---------------
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908, Section: 148. Enlargement of time:
Where any period is fixed or granted by the Court for the doing of any act prescribed or allowed by this Code, the Court may, in its discretion, from time to time, enlarge such period, even though the period originally fixed or granted may have expired.
১০,২৮৭.
"Mesne Profits" এর সংজ্ঞা দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ২(৮)
  2. ২(১০)
  3. ২(১২)
  4. ২(১৪)
ব্যাখ্যা
ধারা ২(১২) অনুসারে,
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফাকে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।

"mesne profits" of property means those profits which the person in wrongful possession of such property actually received or might with ordinary diligence have received there from,together with interest on such profits.

ব্যতিক্রম-
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।
১০,২৮৮.
‘B’ ও তার পাঁচজন বন্ধু একটি ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা করে একটি গোপন স্থানে মিলিত হয়। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪০২ অনুসারে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৫ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪০২ অনুসারে, যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য। এই অপরাধের শাস্তি হলো ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা। এখানে, ‘B’ ও তার পাঁচজন বন্ধু (মোট ছয়জন) ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা করে একত্রিত হয়েছে, যা ধারা ৪০২-এর অধীনে অপরাধ। সুতরাং, সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ ধারা ৪০২: ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়া:
যে কোনো ব্যক্তি, এই আইন কার্যকর হওয়ার পর, যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে একজন হন যারা ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছে, তবে তিনি সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন, যা সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত মেয়াদে হতে পারে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যেতে পারে।

⇒ The Penal Code, 1860, Section 402. Assembling for purpose of committing dacoity:
Whoever, at any time after the passing of this Act, shall be one of five or more persons assembled for the purpose of committing dacoity, shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

১০,২৮৯.
BLAST বনাম বাংলাদেশ (55 DLR 363) মামলায় কোন আইনের অধীনে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি আলোচনা করা হয়?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৫৪ ও ১৬৭
  2. ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ১৯০ ও ২১০
  3. ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ১০০ ও ১২৫
  4. ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ২২৫ ও ২৩০
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা এবং ১৬৭ ধারার অধীনে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে BLAST VS Bangladesh (55 DLR 363) মামলা বহুল পরিচিত। এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিস্তারিত আলোচনা নিম্নরূপ:

পটভূমি:
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST) নামক একটি এনজিও কর্তৃক ১৯৯৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয় যে, পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করছে না।

মামলার বিষয়বস্তু:
এই মামলায় BLAST দাবি করে যে পুলিশ অনেক সময় অভিযুক্তদের অবৈধভাবে হেফাজতে রাখে এবং নির্যাতন করে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার (নিরাপত্তা প্রাপ্তির অধিকার) এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে।

আদালতের রায়:
হাইকোর্ট বিভাগ ২০০৩ সালে এই মামলার রায় প্রদান করে। হাইকোর্ট বিভাগ মোট ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করার সুপারিশ করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগের ১৫টি নির্দেশনার মধ্যে প্রথম ৮টি নির্দেশনা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অধীনে পুলিশের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা সংক্রান্ত। রায়ে বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে হেফাজতে থাকার সময় ও কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করতে হবে। অভিযুক্তর উপস্থিতিতেই এটি করতে হবে। পরবর্তীতে অভিযুক্তকে কাছাকাছি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে।
১০,২৯০.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ১২০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত সমাপ্ত করার বিধানটি ?
  1. বিবেচনামূলাক
  2. বাধ্যতামূলাক
  3. নির্দেশনামূলক
  4. কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ১২০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত সমাপ্ত করার বিধানটি নির্দেশনামূলক।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৭ ধারার বিধানঃ
(১) যখন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে হেফাজতে আটক রাখা হয় এবং ইহা প্রতীয়মান হয় যে, ৬১ ধারায় নির্ধারিত ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত করা যাবে না এবং এরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে যে, অভিযোগ বা সংবাদ দৃঢ় ভিত্তিক, তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা তিনি যদি সাব-ইনসপেকটর পদের নিম্ন পর্যায়ের না হন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে অতঃপর নির্ধারিত ডায়েরীতে লিখিত ঘটনা সম্পর্কিত নকল নিকটবতী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন, এবং একই সময়ে আসামীকে উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

(২) এই ধারার অধীন আসামীকে যে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করা হয়, সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করার এখতিয়ার থাকুক বা না থাকুক, তিনি উপযুক্ত মনে করলে আসামীকে হেফাজতে আটক রাখার জন্য সময়ে সময়ে ক্ষমতা প্রদান করবেন, তবে এরূপ আইনের মেয়াদ সর্বসাকুল্যে পনেরো দিনের অধিক হবে না। তার যদি মামলাটি বিচার করার বা বিচারের জন্য পাঠাবার এখতিয়ার না থাকে এবং তিনি যদি আরও আটক রাখা অপ্রয়োজনীয় মনে করেন তাহলে তিনি আসামীকে এরূপ এখতিয়ারবান ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণের আদেশ দিতে পারবেন, তবে শর্ত এই যে, তৃতীয় শ্রেণীর কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এবং সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত নহেন এরূপ কোন দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আসামীকে পুলিশ হেফাজতে আটক রাখার আদেশ দিবেন না ।

(৩) এই ধারার অধীন আসামীকে পুলিশহেফাজতে আটক রাখার ক্ষমতাদানকারী ম্যাজিষ্ট্রেট তার এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।

(৪) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট ব্যতিত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেট এরূপ আদেশ দিলে তিনি আদেশ দিবার কারণসহ আদেশের একটি নকল ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন, তিনি যার অব্যবহিত অধস্তন।

(৫) অপরাধ সংঘটন সম্পর্কিত সংবাদ প্রাপ্তির তারিখ অথবা এরূপ তদন্তের জন্য ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হতে একশত বিশ দিনের মধ্যে যদি তদন্ত সমাপ্ত না হয় তাহলে,

ক) অপরাধটি আমলে নিতে ক্ষমতাসম্পন্ন বা তদন্তের আদেশদানকারী ম্যাজিষ্ট্রেট, তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে যাবজীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন; এবং

খ) তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে দায়রা আদালত ইহার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন,
তবে শর্ত এই যে, আসামীকে যদি এই উপধারার অধীন জামিনে মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা ক্ষেত্র বিশেষে দায়রা আদালত ইহার কারণ লিপিবদ্ধ করবেনঃ

আরও শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে অনুমোদন গ্রহণ করতে যে সময় লাগিবে এই উপধারায় নির্ধারিত সময় হতে তা বাদ দিতে হবে।

ব্যাখ্যাঃ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ মামলাটি যে দিন তার নিকট পেশ করা হবে, অনুমোদন গ্রহণের সময় সেই দিন হতে গণণনা শুরু হবে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আদেশ পাবার তারিখে উহা সমাপ্ত বলে গণ্য হবে।
১০,২৯১.
দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুসারে প্ররোচনা (Abetment) কয়টি উপায়ে সংঘটিত হতে পারে? 
  1. চারটি উপায়ে
  2. তিনটি উপায়ে
  3. একটি উপায়ে
  4. দুটি উপায়ে
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী, প্ররোচনা (Abetment) তিনটি উপায়ে হতে পারে:
১) প্ররোচনা (Instigation)
২) ষড়যন্ত্র (Conspiracy)
৩) ইচ্ছাকৃত সহায়তা (Intentional Aid)

⇒ অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (Abetment):
অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা বলতে এমন কাজ বা কার্যক্রম বোঝায় যা অন্যকে অপরাধ করতে উসকানির মাধ্যমে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে:
- অনুপ্রেরণা বা উসকানি (Instigation): অন্য কাউকে অপরাধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ বা প্ররোচিত করা।
- ষড়যন্ত্র (Conspiracy): অপরাধ করার জন্য অন্য কারও সাথে গোপনে পরিকল্পনা করা।
- সহায়তা (Assistance): অপরাধ সংঘটনে সরাসরি সাহায্য করা।
-  যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে অপরাধ করতে সাহায্য বা উসকানি দেয়, তখন তাকে অপরাধের সাথে সম্পর্কিত হিসেবে দণ্ডবিধির ১০৮ ধারায় প্ররোচনাকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করার জন্য কাউকে প্ররোচিত করে বা অপরাধ সংঘটনের জন্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়, তবে তাকে অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনাকারী বলে গণ্য করা হবে।

উদাহরণ: যদি একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে চুরি করতে উসকানি দেয় বা চুরির জন্য তাকে সাহায্য করে, তবে সে সেই অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860 Section 107: Abetment of a thing: 
- A person abets the doing of a thing, who-
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1.- A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
Explanation-2.- Whoever, either prior to or at the time of the commission of an act, does anything in order to facilitate the commission of that act, and thereby facilitates the commission thereof, is said to aid the doing of that act.

১০,২৯২.
পক্ষদ্বয় লিখিত জবাবে উল্লেখিত তথ্যসমূহ স্বীকার বা অস্বীকার করে কিনা, তা আদালত নিশ্চিত করবে-
  1. লিখিত জবাব দাখিলের সময়
  2. মোকদ্দমার প্রথম শুনানীর সময়
  3. ক বা খ
  4. রায় ঘোষণার পূর্বে
ব্যাখ্যা
• আদেশ ১০(১) অনুযায়ী, মোকদ্দমা প্রথম শুনানীর সময় মোকদ্দমার পক্ষগণের মধ্যেকার প্রকৃত বিরোধ নির্ধারণ করার জন্য এবং পক্ষগণ বিষয়গুলো স্বীকার করে কি/ করে না তা নির্ধারণ করার জন্য আদালত পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং ১০ (২) বিধি অনুযায়ী পক্ষগণ বা তাদের সঙ্গীদের মৌখিক জবানবন্দি (oral examination) নিতে পারে।

বিধি-১ (আরজি জবাবের অভিযোগাদি স্বীকৃত না অস্বীকৃত তা নিশ্চিতকরণ)-
আদালত মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে প্রত্যেক পক্ষ কিংবা পক্ষের উকিল হতে নিশ্চিত করবে যে, সেই পক্ষ অপর পক্ষের আরজিতে কিংবা লিখিত বিবৃতিতে (যদি থাকে) রচিত তথ্যগত উক্তি সমূহ স্বীকার না কি অস্বীকার করে, এবং যা সংশ্লিষ্ট পক্ষ দ্বারা প্রকাশ্য কিংবা প্রয়োজনীয় অর্থে স্বীকৃত বা অস্বীকৃত হয়নি-আদালত একই ধরণের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিসমূহ রেকর্ড করবে।

Rule 1: Ascertainment whether allegations in pleadings are admitted or denied-
At the first hearing of the suit the Court shall ascertain from each party or his pleader whether he admits or denies such allegations of fact as are made in the plaint or written statement (if any) of the opposite party, and as are not expressly or by necessary implication admitted or denied by the party against whom they are made. The Court shall record such admissions and denials.
১০,২৯৩.
The Specific Relief Act, 1877 কোন আইনের ভিত্তি থেকে উদ্ভূত?
  1. ইকুইটি আইন
  2. দেওয়ানি কার্যবিধি
  3. সম্পত্তি হস্তান্তর আইন
  4. উল্লিখিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

⇒ The Specific Relief Act, 1877 প্রাথমিকভাবে ইকুইটি আইন (Equity Law) এর ভিত্তি থেকে উদ্ভূত। এই আইনটি ন্যায়বিচারের নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা ল্যাটিন শব্দ “aequitas” (অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচার) থেকে এসেছে। ইকুইটি আইন সাধারণ আইনের (Common Law) পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, যেখানে কেবলমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত নয় এমন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (specific relief) প্রদান করে, যেমন চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন (specific performance) বা ইনজাংশন (injunction)।

⇒ The Specific Relief Act, 1877 এর মূল উদ্দেশ্য হলো চুক্তি পালন নিশ্চিত করা এবং সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করা, যেখানে ন্যায়বিচারের নীতি প্রয়োগ করে পক্ষগুলোর মধ্যে ন্যায্যতা বজায় রাখা হয়। এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত হয়েছিল এবং বাংলাদেশে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করে।

⇒ প্রয়োগের প্রেক্ষাপট (বাংলাদেশে):
বাংলাদেশে, Specific Relief Act, 1877 ইকুইটি আইনের নীতির উপর ভিত্তি করে চুক্তি ভঙ্গ, সম্পত্তি বিরোধ, এবং ইনজাংশনের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
খ) দেওয়ানি কার্যবিধি: দেওয়ানি কার্যবিধি (Civil Procedure Code, 1908) এই আইনের প্রয়োগের জন্য একটি পদ্ধতিগত কাঠামো প্রদান করে, তবে Specific Relief Act এর উৎস বা ভিত্তি নয়। এটি কেবল মামলা পরিচালনার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে।
গ) সম্পত্তি হস্তান্তর আইন: সম্পত্তি হস্তান্তর আইন (Transfer of Property Act, 1882) সম্পত্তি হস্তান্তরের নিয়ম-কানুন নিয়ে কাজ করে। যদিও এটি Specific Relief Act এর কিছু বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত (যেমন, সম্পত্তির দখল বা মালিকানা), তবে এটি Specific Relief Act এর ভিত্তি নয়।
ঘ) উল্লিখিত সবগুলো: Specific Relief Act শুধুমাত্র ইকুইটি আইনের উপর ভিত্তি করে তৈরি। দেওয়ানি কার্যবিধি এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এর প্রয়োগ বা সম্পর্কিত ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও এর উৎস নয়। তাই এই অপশনটি সঠিক নয়।

অর্থাৎ The Specific Relief Act, 1877 ইকুইটি আইন থেকে উদ্ভূত, যা ন্যায়বিচারের নীতির উপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করে। এটি বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থায় চুক্তি এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১০,২৯৪.
আদালত কখন তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন?
  1. কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্যে
  2. কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা না থাকলে
  3. কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু আদালতে হাজির করা হবে না বলে বিশ্বাস করলে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারায় তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যুর বিধান রয়েছে:

(১) যখন কোন আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তির উপর ৯৪ ধারার অধীন কোন সমন অথবা আদেশ অথবা ৯৫ ধারার (১) উপ- ধারার অধীন কোন সমন জারী করা হয়েছে বা হতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিকুইজশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করবে না।

অথবা যখন এরূপ দলিল বা বস্তু কোন ব্যক্তির দখলে আছে বলে আদালতের জানা নাই। অথবা যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশী বা পরিদর্শন দ্বারা এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিং এর উদ্দেশ্য সাধিত হবে :
তখন ইহা তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারবে, এবং যে ব্যক্তির উপর এই পরোয়ানা নির্দেশিত হবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশী বা পরিদর্শন করতে পারবেন।

(২) এখানে বর্ণিত কোন কিছুই জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ব্যতিত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষের হেফাজতে অবস্থিত কোন দলিল, পার্সেল বা অন্য কোন বস্তু তল্লাশীর জন্য পরোয়ানা মঞ্জুর করার কর্তৃত্ব দিবে না।

♦ অর্থাৎ ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদালত ৩টি কারণে তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন। যথা-

i) কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু আদালতে হাজির করা হবে না বলে বিশ্বাস করলে;

ii) উক্তরূপ দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা না থাকলে; এবং

iii) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্যে আদালত তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।

♦৯৬ ধারামতে জারিকৃত তল্লাশী পরোয়ানা বাতিলের জন্য দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যায়।
১০,২৯৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩১ অনুসারে কোন পরিস্থিতিতে ভুল স্থানে বিচার অনুষ্ঠিত হলেও তা বাতিলযোগ্য নয়?
  1. সাক্ষী উপস্থিত ছিল না
  2. ন্যায়বিচার বিঘ্নিত না হলে
  3. মামলার অভিযোগ ছিল দুর্বল
  4. বিচারকের অনুপস্থিতিতে বিচার
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ন্যায়বিচার বিঘ্নিত না হলে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩১ অনুযায়ী, “কোন তদন্ত, বিচার বা কার্যধারা কেবলমাত্র এই কারণে বাতিল হবে না যে তা ভুল দায়রা বিভাগ, জেলা বা স্থানীয় এলাকায় পরিচালিত হয়েছে, যদি না এটি প্রতীয়মান হয় যে এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে।”
অর্থাৎ, যদি একটি ফৌজদারি মামলা ভুল জায়গায় (যেমন: অন্য জেলা, অন্য দায়রা বিভাগ) পরিচালিত হয়, তাহলেও সেটিকে শুধুমাত্র ভুল স্থানেই বিচার হয়েছে বলে বাতিল করা যাবে না, যদি না প্রমাণ হয় যে এর ফলে ন্যায়বিচারে ব্যাঘাত ঘটেছে।
- ধারা ৫৩১ আসলে আদালতের এখতিয়ারগত বা ভৌগোলিক ভুল বিচারস্থল সম্পর্কিত এবং ন্যায়বিচার বিঘ্নিত না হলে, এই কারণে কোন আদেশ বা দণ্ড বাতিলযোগ্য নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩১: ভুল স্থানে অনুষ্ঠিত কার্যধারা:
কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কোন কার্যধারায় কোন ফৌজদারী আদালতের অভিমত, দণ্ড বা আদেশ শুধুমাত্র উক্ত তদন্ত, বিচার বা অন্য কোন কার্যধারা ভুল দায়রা বিভাগে, জেলায় বা অন্য স্থানীয় এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেই বাতিল হবে না যদি না প্রতীয়মান হয় যে, এ ভুলের ফলে প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচার ব্যাহত হচ্ছে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 531: Proceedings in wrong place:
No finding sentence or order of any Criminal Court shall be set aside merely on the ground that the inquiry, trial or other proceeding in the course of which it was arrived at or passed, took place in a wrong sessions division, district, or other local area, unless it appears that such error has in fact occasioned a failure of justice.
১০,২৯৬.
আপিল শুনানীর সময় বা স্থান সম্পর্কে কাকে নোটিশ দিতে হবে?
  1. আপিলকারীকে
  2. আপিলকারীর উকিলকে
  3. সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অফিসারকে
  4. উল্লিখিত সকল ব্যক্তিকে
ব্যাখ্যা
ধারা ৪২২- আপিলের নোটিশ

আপিল আদালত যদি সঙ্গে সঙ্গে আপিল খারিজ না করেন, সেক্ষেত্রে যে সময় ও যে স্থানে উক্ত আপিল শ্রবণ করা যাবে সেই সময় ও স্থান সম্পর্কে আপিলকারী বা তার উকিলকে এবং এ সম্পর্কে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অফিসারকে নোটিশ দিবেন এবং উক্ত অফিসার আবেদন করলে তাকে আপিলের কারণসমূহের একটি নকল দিবেন এবং ধারা-৪১৭ অনুসারে আপিলের ক্ষেত্রে আপিল আদালত আসামীকে অনুরূপ নোটিশ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Section 422- Notice of appeal
If the Appellate Court does not dismiss the appeal summarily, it shall cause notice to be given to the appellant or his pleader, and to such officer as the Government may appoint in this behalf, of the time and place at which such appeal will be heard, and shall, on the application of such
officer, furnish him with a copy of the grounds of appeal; and, in cases of appeals under or section 417, the Appellate Court shall cause a like notice to be given to the accused.
১০,২৯৭.
মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে কোন আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হয়?
  1. দায়রা আদালত
  2. হাইকোর্ট ডিভিশন
  3. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯ ধারা- ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিচার:
(১) যখন কোনো ব্যক্তিকে ৩৩৭ বা ৩৩৮ ধারার অধীনে ক্ষমা দেওয়া হয়েছে এবং পাবলিক প্রসিকিউটর মনে করেন যে, ওই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে এবং ক্ষমার শর্ত লঙ্ঘন করেছে — তখন তাকে সেই অপরাধের জন্য, যার জন্য তাকে ক্ষমা দেওয়া হয়েছিল, অথবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা যেতে পারে।

শর্ত: তাকে অন্য আসামিদের সঙ্গে একত্রে বিচার করা যাবে না। সে নিজেকে রক্ষা করতে বলতে পারবে যে, ক্ষমার শর্ত পালন করেছে। তখন প্রসিকিউশনের দায়িত্ব হবে প্রমাণ করা যে, সে শর্ত ভঙ্গ করেছে।

(২) ক্ষমা গ্রহণকারী ব্যক্তির দেওয়া বিবৃতি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারবে।

(৩) তার মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে মামলা করতে হলে উচ্চ আদালতের (হাইকোর্ট ডিভিশন) অনুমতি (অনুমোদন) লাগবে।
১০,২৯৮.
ফৌজদারি মামলায় চার্জ গঠনের দায়িত্ব কার?
  1. বাদীর
  2. পুলিশের
  3. আদালতের
  4. সরকারি উকিলের
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি মামলায় চার্জ গঠনের দায়িত্ব আদালতের।

• ফৌজদারি মামলায় একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়। চার্জ হল কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে। সেই সাথে ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২০ এবং ২৩ এ যথাক্রমে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (ধারা ২৪১ থেকে ২৫০) এবং দায়রা আদালতে (ধারা ২৬৫ক থেকে ২৬৫জ) মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

• ধারা ২৪২ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে এবং ধারা ২৬৫ঘ দায়রা আদালতকে অভিযোগ গঠনের ক্ষমতা দিয়েছে। মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিয়ে যদি অভিযুক্ত অপরাধ করেছে বলে মনে হয়, তবে সেই অপরাধ বিষয়ে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করবেন।
১০,২৯৯.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ১১৫(৪) জেলা জজ প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য?
  1. যেকোনো আদেশ
  2. আপিল আদেশ
  3. রিভিউ আদেশ
  4. রিভিশন আদেশ
ব্যাখ্যা

ধারা ১১৫(৪): ২য় রিভিশন:
উপ-ধারা (২) বা (৩) অনুসারে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক প্রদত্ত রিভিশন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন আবেদন করা যাবে- যদি হাইকোর্ট বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইনগত ভুলের কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে মর্মে রিভিশনের অনুমতি (leave) প্রদান করে।

এক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ মামলার কার্যধারায় প্রয়োজনীয় যে কোনো আদেশ দিতে পারে।

১০,৩০০.
দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার অধীন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বিচার করতে সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কোনো ব্যক্তিকে দণ্ডিত করলে তার বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. জেলা দায়রা জজ আদালতে
  3. চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  4. বিশেষ ট্রাইবুনালে।
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৪০৮ ধারা মতে সধারণত প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে হয় দায়রা জজ/মেট্রোপলিটন দায়রা জজের আদালতে। ব্যতিক্রম হলো রাস্ট্রদ্রোহ মামলার ক্ষেত্রে আপীল করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে। 
♦রাষ্ট্রদ্রোহিতার : দন্ডবিধির ১২৪ক ধারামতে কথিত বা লিখিত শব্দাবলীর দ্বারা অথবা চিহ্নাদি দ্বারা বা দৃশ্যমান প্রতীকের দ্বারা আইনবলে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করলে বা করার উদ্যোগ গ্রহণ করলে অথবা বৈরিতা সৃষ্টি করলে বা করার উদ্যোগ গ্রহণ করলে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়।
সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার অভিযোগ ব্যতীত আদালত রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা আমলে নিবেনা।
♦শুধুমাত্র দায়রা আদালত, চীফ জুডিশিয়াল বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার বিচার করে থাকেন। যা ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ এর দ্বিতীয় তফসিলে সরাসরি উল্লেখ আছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার ক্ষেত্রে The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৪০৮ ধারা মতে আপীল করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে। দন্ডবিধির ১২৪ক ধারা ছাড়াও সংবিধানের ৭খ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান রয়েছে।