বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ

মোট প্রশ্ন৩৩১এই পাতা২৭প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ

PrepBank · পাতা / · ৩০১৩২৭ / ৩৩১

৩০১.
জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) জনতা
  2. খ) হিমালয়
  3. গ) পর্বত
  4. ঘ) আকাশ
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
- নাম-বিশেষ্য
- জাতি-বিশেষ্য
- বহু-বিশেষ্য
- সমষ্টি-বিশেষ্য
- গুণ-বিশেষ্য
- ক্রিয়া-বিশেষ্য

জাতি-বিশেষ্য :
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনাে নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
- যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩০২.
‘ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।’ - এখানে ‘ঠিকভাবে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. যোজক
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- মেয়ে দুটি ছাদের ওপরে হাঁটছে।
- তুমি কবে লন্ডন যাচ্ছ?

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না
- তিনি বেড়াতে যাননি
- এমন কথা আমার জানা নেই

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলে ছিলেন আসবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৩০৩.
‘হিমালয়’ কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. সৃষ্টিনাম
  2. কালনাম
  3. স্থাননাম
  4. ব্যক্তিনাম
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন - 
ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা।
স্থাননাম: বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৪.
'যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।'- বাক্যটিতে কোন প্রকার যোজকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিকল্প যোজক
  2. খ) বিরোধ যোজক
  3. গ) কারণ যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
'যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।'- বাক্যটিতে সাপেক্ষ যোজকের প্রয়োগ ঘটেছে। 
 
• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

• বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন: চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।

• কারণ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৫.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে সর্বনামের অবস্থান সঠিক নয়?
  1. ক) বিশেষ্যের পরিবর্তে
  2. খ) বিশেষ্যপদবন্ধের পরিবর্তে
  3. গ) বাক্যের পরিবর্তে
  4. ঘ) নাম বিশেষণের পরিবর্তে
ব্যাখ্যা

সর্বনাম অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ্য, বিশেষ্যপদবন্ধ, বিশেষ্যস্থানীয় বাক্যাংশের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
বিশেষ্যের পরিবর্তে -ডাক্তার অসুস্থ, তিনি রোগী দেখতে আসবেন না।
(বিশেষ্য: ডাক্তার। সর্বনাম: তিনি)

বিশেষ্যপদবন্ধের পরিবর্তে - আমাদের স্কুলের বিতার্কিকরা ঢাকা চলে গেছে। তারা টিভি বিতর্কে অংশ নেবে।

বাক্যের পরিবর্তে - প্রশ্ন: তুমি কী টের পেয়েছিলে?
লোকটা পালিয়ে যাবে, আমি আগেই টের পেয়েছিলাম।
ওই লোকটাই যে যত নষ্টের গোড়া, তা কারও বুঝতে বাকি ছিল না।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ।

৩০৬.
'যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।' - এখানে 'যত' ও 'ততই' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিরোধ
  2. সাধারণ
  3. বিকল্প
  4. সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে, 
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩০৭.
‘যত গর্জে তত বর্ষে না।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘যত-তত’ কোন পদ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. আবেগ
  3. অনুসর্গ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• ‘ যত গর্জে তত বর্ষে না।’- বাক্যে ‘যত-তত’ যোজক পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 

• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।  
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
- যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।
- তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, কিংবা, অতএব, যদি, যত-তত,  যেরূপ-সেরূপ, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০৮.
‘যৌবন’ কোন প্রকারের বিশেষ্য পদ?
  1. ক) নামবাচক বিশেষ্য
  2. খ) জাতিবাচক বিশেষ্য
  3. গ) ভাববাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে পদ দিয়ে কোন কিছুর নাম বোঝায় তাকেই বিশেষ্য পদ বলে। বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। এগুলো হচ্ছে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য, জাতিবাচক বিশেষ্য, বস্তু বাচক বিশেষ্য, ভাববাচক বিশেষ্য, সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, এবং গুণবাচক বিশেষ্য। যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোন বস্তুর গুণ বা দোষের নাম বোঝায়, তাকেই গুণবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন− তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, মধুর বস্তুর গুণ − মধুরতা, বীরের গুণ-বীরত্ব ইত্যাদি। তদ্রুপঃ সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩০৯.
কোনটি লগ্নক নয়?
  1. প্রত্যয়
  2. নির্দেশক
  3. বলক
  4. বচন
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম পদ।
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনেরঃ
- বিভক্তি
- নির্দেশক
- বচন
- বলক

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
৩১০.
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়। - বাক্যে 'দ্রুত' কিসের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। 
যেমন -
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১১.
‘ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।’ বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. ক) বাক্যের বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণের বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়ের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যেমন- ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩১২.
অব্যয় পদ কত প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাচঁ
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদ প্রধানত চার প্রকার। যথাঃ সমুচ্চয়ী, অনন্বয়ী, অনুসর্গ এবং অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩১৩.
তুমি কীভাবে যাবে? - প্রশ্নে 'কীভাবে' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
- তুমি কীভাবে যাবে?- প্রশ্নসূচক 'কীভাবে' (কেমন করে) পদটি হচ্ছে সর্বনাম পদ

আবার,
তুমি কী খাবে?: খাদ্য নামের পরিবর্তে প্রশ্নসূচক 'কী' একটি সর্বনাম পদ।
আপনার নাম কী?:  ব্যক্তি নামের পরিবর্তে প্রশ্নসূচক 'কী' একটি সর্বনাম।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৪.
নিম্নের কোনটি লগ্নকের প্রকারভেদ নয়?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) বলক
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ। পদে পরণত হবার সময় শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়। তাকে লগ্নক বলে। লগ্নক ৪ প্রকার -
বিভক্তি
নির্দেশক
বচন
বলক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

৩১৫.
‘ওরে, তুই যাবি নাকি সোহাগ তলীর গাঁ?’- বাক্যে ‘ওরে’ কোন পদ?
  1. অনুসর্গ
  2. যোজক
  3. বিশেষণ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ওরে, তুই যাবি নাকি সোহাগ তলীর গাঁ?’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ওরে’ সম্বোধন আবেগ পদের উদাহরণ।

• আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নব-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১৬.
পদ প্রধানত কত প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

• পদ প্রধানত দুই প্রকার। যথাঃ
- সব্যয় পদ ও
- অব্যয় পদ।
• সব্যয় পদ চার প্রকার। যথাঃ
- বিশেষ্য,
- বিশেষণ,
- সর্বনাম ও
- ক্রিয়া।
• সুতরাং পদ মোট পাঁচ প্রকার। যথাঃ
- বিশেষ্য,
- বিশেষণ,
- সর্বনাম,
- ক্রিয়া ও
- অব্যয় পদ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১৭.
'কি' এবং 'কী' যথাক্রমে-
  1. ক) সর্বনাম ও বিশেষ্য পদ
  2. খ) অব্যয় ও সর্বনাম পদ
  3. গ) বিশেষ্য ও অব্যয় পদ
  4. ঘ) সর্বনাম ও বিশেষণ পদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা বানানের নিয়মানুসারে 'কি' ও 'কী' এর ব্যবহারের নিয়ম:
১. অন্যদিকে অব্যয়পদরূপে 'কি' ব্যবহৃত হয়।
বাংলা ভাষায় যেসব প্রশ্নবোধক বাক্যের উত্তর 'হ্যা-না' হয় অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়, সেসব বাক্যে  কি' ব্যবহৃত হবে।
যেমন-
 যদি কামাল জামালকে প্রশ্ন করে- তুমি কি যাবে?
এখানে জামাল হ্যাঁ অথা না দিয়ে উত্তর দিতে পারে অথবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও জানাতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে 'কী' না হয়ে 'কি' হাবে।

২. সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে- 'কী' ব্যবহৃত হয়। 
যেসব প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া লাগতে পারে সেখানে 'কী' বসবে।
 যেমন-
কী করো?
এটা কী ধরনের রং?

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩১৮.
'ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।'- বাক্যে কোন ধরনের আবেগ এর ব্যবহার ঘটেছে?
  1. করুণা আবেগ
  2. বিরক্তি আবেগ
  3. আতঙ্ক আবেগ
  4. বিস্ময় আবেগ
ব্যাখ্যা
বিরক্তি আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
- জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!

অন্যদিকে,
বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

আতঙ্ক আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

করুণা আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৩১৯.
‘ইচ্ছামতো’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া
  2. ক্রিয়া বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'ইচ্ছামতো' (ক্রিয়া বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত + বাংলা ভাষা যোগে গঠিত শব্দ।
অর্থ:
- খেয়ালখুশিমাফিক। 

-----------------------
• ক্রিয়া বিশেষণ:
 যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, ইচ্ছামতো ইত্যাদি।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
- তিনি বেড়াতে যাননি।
- এমন কথা আমার জানা নেই।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- কখনো বা দেখা হবে।
- একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
- মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩২০.
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে তাকে কী বলা হয়?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: 
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
 - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: 
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: 
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 
'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২১.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. সুন্দর
  2. সুন্দরতম
  3. সৌন্দর্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সৌন্দর্য:
- বিশেষ্য পদ সৌন্দর্য।
- বিশেষণ পদ সুন্দর।
- এটি একটি তৎসম শব্দ।
- অর্থ: মনোহর, উত্তম।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: সু+√দৃ+অ; সু+√উন্দ্‌+অর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।
৩২২.
নিচের কোনটি বিস্ময় আবেগের ভাব প্রকাশ করে?
  1. বাহ্‌ !
  2. উহ্‌ !
  3. আহা !
  4. আরে !
ব্যাখ্যা
আবেগ:
- মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!

অন্যদিকে,
• আহা - করুণা আবেগ।
• উহ্‌ - আতঙ্ক আবেগ।
• বাহ্‌ - প্রশংসা আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩২৩.
বিকল্প যোজকের ব্যবহার ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
  2. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
  3. বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
  4. চা না-হয় কফি খান।
ব্যাখ্যা
•  চা না-হয় কফি খান।- বাক্যে ‘না-হয়’ বিকল্প যোজক পদের উদাহরণ।

-----------------------
• যোজক:

পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৩২৪.
নিরন্তরতা অর্থে যৌগিক ক্রিয়া কোনটি?
  1. ক) ছেলে মেয়েরা শুয়ে পড়ল
  2. খ) ঘটনাটা শুনে রাখ
  3. গ) তিনি বলতে লাগলেন
  4. ঘ) শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে
ব্যাখ্যা

একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে
তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন-
তাগিত দেওয়া অর্থে : ঘটনাটা শুনে রাখ।
নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন।
কার্যসমাপ্তি অর্থে : ছেলে মেয়েরা শুয়ে পড়ল।
আকস্মিকতা অর্থে : সাইরেন বেজে উঠল।
অভ্যস্ততা অর্থে : শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
অনুমোদন অর্থে : এখন যেতে পার।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৩২৫.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয় তাকে কী বলে?
  1. বিভক্তি
  2. বলক
  3. নির্দেশক
  4. বচন
ব্যাখ্যা
বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩২৬.
বাক্যের একক কী?
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) পদ
  3. গ) বর্ণ
  4. ঘ) অক্ষর
ব্যাখ্যা

এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে। এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৩২৭.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. আহ - প্রশংসা আবেগ
  2. বাহ - বিস্ময় আবেগ
  3. আহা - অলঙ্কার আবেগ
  4. বাপরে বাপ - আতঙ্ক আবেগ
ব্যাখ্যা
আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন -
উহ! কি বিপদে পড়া গেল।
বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

অন্যদিকে,
প্রশংসা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
বাহ, চমৎকার লিখেছ।
শাবাশ! এমন খেলাই তো চেয়েছিলাম।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
আরে! তুমি আবার কখন এলে?
আহ, কী চমৎকার দৃশ্য!

অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যাকগে, ওসব কথা থাক। 
দুর! এ কথা কি বলতে আছে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।