বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ

মোট প্রশ্ন৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৩৩১

২০১.
বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. ক) রক্তাক্ত
  2. খ) সততা
  3. গ) তিক্ততা
  4. ঘ) সরলতা
ব্যাখ্যা
বিশেষণ :
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

রক্তাক্ত (বিশেষণ): রক্তে মাখা; রক্তরঞ্জিত।

অন্যদিকে,
- সততা, তিক্ততা, সরলতা শব্দগুলো বিশেষ্য পদ। 

 তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
২০২.
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে কী বলা হয়?
  1. শব্দ
  2. পদ
  3. উপসর্গ
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• পদ:
বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷

অন্যভাবে,
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২০৩.
'নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি' বাক্যে 'নিশীথ' কোন পদ? 
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. বিশেষ্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:  
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন: 
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।

• নাম বিশেষণ: 
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা -

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৪.
'চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর' বাক্যে 'ক্ষুদ্রতর' কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বহুর মধ্যে অতিশায়ন
  2. খ) বিশেষণের অতিশায়ন
  3. গ) অব্যয়ের অতিশায়ন
  4. ঘ) বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
'চন্দ্র পৃথিবী অপেক্ষা ক্ষুদ্রতর' বাক্যে 'ক্ষুদ্রতর' বিশেষণের অতিশায়ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষণ পদ যখন দুই বা ততোধিক বিশেষ্য পদের মধ্যে গুণ, অবস্থা, পরিমাণ প্রভৃতি বিষয়ের তুলনায় একের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝিয়ে থাকে তখন তাকে বিশেষণের অতিশায়ন বলে। যেমন যমুনা অপেক্ষা পদ্মা দীর্ঘতর নদী, চন্দ্র পৃথিবীর তুলনায় ক্ষুদ্রতর ইত্যাদি। [সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী]
২০৫.
'মরি তো মরব'- এ বাক্যে ‘তো’ কোন ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) সময়বাচক
  2. খ) ধরণবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) পদাণু
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করেও  কি, যে, বা, তো, প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন:
কি : আমি কি যাব?
যে : খুব যে বলেছিলে আসবেন!
বা : কখনও বা দেখা হবে।
না : একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো: মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২১ সংস্করণ)।
২০৬.
'কার কাছে গেলে জানা যাবে?' - বাক্যে 'কাছে' কোন অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
  2. বিশেষ অনুসর্গ
  3. সাধারণ অনুসর্গ
  4. সাপেক্ষ অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলা হয়।
যেমন,
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?

অন্যদিকে, 
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন,
করে- ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে- মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০৭.
কোনটি পদের নাম নয়?
  1. আবেগ
  2. অনুসর্গ
  3. যোজক
  4. পদাণু
ব্যাখ্যা
• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:
যথা - 
- বিশেষ্য, 
- সর্বনাম, 
- বিশেষণ, 
- ক্রিয়া, 
- ক্রিয়াবিশেষণ, ,
- অনুসর্গ, 
- যােজক, 
- আবেগ।

অন্যদিকে,
- 'পদাণু' পদের নাম নয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২০৮.
‘তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।’ বাক্যে ‘তবু’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. অনুসর্গ
  2. যোজক
  3. উপসর্গ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২০৯.
'যত গর্জে তত বর্ষে না' - বাক্যটি কোন যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. কারণ যোজক
  2. সাপেক্ষ যোজক
  3. বিরোধ যোজক
  4. সাধারণ যোজক
ব্যাখ্যা
যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
যত গর্জে তত বর্ষে না

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১০.
‘ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে’ বাক্যে ‘নইলে’ কোন পদ?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) আবেগ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।
- যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, অতএব, যদি, যত, তত ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১১.
নিম্নের কোনটি বাংলা ব্যাকরণের পদ নয়?
  1. ক) ক্রিয়া
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) যোজক
  4. ঘ) আবেগ।
ব্যাখ্যা

পদ বিবেচনায় শব্দ কে ৮ টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়
যথা বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক, আবেগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি।

২১২.
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যে সব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে বলে-
  1. ক) অলংকার
  2. খ) ছন্দ
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) অনুরোধ
ব্যাখ্যা
• মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যে সব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
- অলংকার আবেগে এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্যতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
- এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি  ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের জন্য অলংকার আবেগ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: যাকগে, ওসব কথা থাক।
অন্যদিকে, 
হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন = সম্বোধন আবেগ। 
আহা! বেচারার এত কষ্ট = করূণা আবেগ।
উহ্‌, কী বিপদে পড়া গেল = আতঙ্ক আবেগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৩.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে বলে -
  1. ক্রিয়া
  2. শব্দ
  3. অব্যয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
পদ:
- বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷
- অন্যভাবে, শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৪.
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
⇒ যোজক: পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিমকরিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

•  সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২১৫.
এখন যেও না। এখানে 'না' অব্যয়টি কোন অর্থে ব্যাবহৃত হয়েছে?
  1. ক) আদেশ
  2. খ) নিষেধ
  3. গ) অনুরোধ
  4. ঘ) বিরক্তি
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যাবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন- এখন যেও না (নিষেধ অর্থে), মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ! (উছ্বাস প্রকাশে), ছি ছি, তুমি এত নীচ! (ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২১৬.
বাক্যের অন্তর্গত পদকে কতটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. চারটি
  2. তিনটি
  3. ছয়টি
  4. আটটি
ব্যাখ্যা
• পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়।
যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২১৭.
'সমিতি' শব্দটি কোন পদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) বস্তুবাচক বিশেষ্য
  2. খ) ভাববাচক বিশেষ্য
  3. গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
যে পদে বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি বা প্রাণির সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২১৮.
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ গুচ্ছ যখন পদের ন্যায় আচরন করে তখন তাকে কি বলে?
  1. ক) শব্দ
  2. খ) বর্ণ
  3. গ) বর্গ
  4. ঘ) পদ
ব্যাখ্যা

বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ গুচ্ছ যখন পদের ন্যায় আচরন করে তখন তাকে বর্গ বলে।

যেমন -
- সজল ও লতা বই পড়ে।”

এখানে ‘সজল ও লতা’ একটি বর্গ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি।

২১৯.
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের কী বলে?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) বচন
  4. ঘ) কর্মকর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার - ক্রিয়া বিভক্তি ও কারক বিভক্তি
'করলাম' শব্দে 'লাম' শব্দাংশটি হলো ক্রিয়া বিভক্তির উদাহরণ।
'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো কারক বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

২২০.
জাতি-বিশেষ্য কোনটি?
  1. ক) পরিবার
  2. খ) সাগর
  3. গ) লবণ
  4. ঘ) বাহিনী
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'সাগর' হচ্ছে জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ।

• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন নদী, সাগর, পর্বত, মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন:
বস্তু-বিশেষ্য: যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি ।
সমষ্টি-বিশেষ্য: যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২২১.
নিচের কোন পদের পুরুষ নেই?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
‘পুরুষ’ একটি পারিভাষিক শব্দ। বিশেষ্য,সর্বনাম ও ক্রিয়ারই পুরুষ আছে। বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই। ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার। যথা- উত্তম, মধ্যম ও নাম পুরুষ। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২২২.
‘খুব যে বলেছিলেন আসবেন!’ এখানে ‘যে’ শব্দ দ্বারা কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) পদানু ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

যে পদ ক্রিয়া কে বিশেষিত করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন: লোকটি ধীরে হাটে।

ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোন ক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয় তা নির্দেশ করে। যেমন, টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ে।
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। যেমন, যথাসময়ে সে হাজির হয়।
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়া সম্পাদনের স্থান নির্দেশ করে। যেমন, কোথাও কেউ নেই।
নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। যেমন, তিনি বেড়াতে যান নি।
পদানু ক্রিয়াবিশেষণ: কি, যে, বা, না , তো প্রভৃতি পদানু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন, খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।

২২৩.
নিচের কোনটি বলকের উদাহরণ?
  1. লোকটি
  2. তখনই
  3. ভালোটুকু
  4. করলাম
  5. ছেলেরা
ব্যাখ্যা

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
২২৪.
'না-হয়, অথচ' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিরোধমূলক যোজক
  2. কারণবাচক যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. বৈকল্পিক যোজক
ব্যাখ্যা
বৈকল্পিক যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক পদ, বা বাক্যকল্প বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
- বৈকল্পিক যোজক হলো- বা, না-হয়, অথচ
যেমন:
- সাদা বা কালো।
- তিনি হয় রিকশায় না-হয় হেঁটে যাবেন।
- সারাদিন খুঁজলাম, অথচ বইটা পেলাম না।

কারণবাচক যোজক:

- এ ধরনের যোজক এমন দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
- কারণবাচক যোজক হলো- কারণ, যেহেতু, তাই, অতএব।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ পরিবহন ধর্মঘট।
- যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না।
- তুমি অপরাধী, অতএব শাস্তি পেতে হবে।

বিরোধমূলক যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বিরোধ নির্দেশ করে।
- বিরোধমূলক যোজক হলো- কিন্তু, তবু, অথচ।
যেমন:
- তোমাকে চিঠি লিখেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।
- এত বৃষ্টি হলো, তবু গরম গেল না।
- সারাদিন অপেক্ষা করলাম, অথচ আপনি এলেন না।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের সংযোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
- প্রথাগত ব্যাকরণে এগুলো শর্তবাচক বা সাপেক্ষ বা নিত্যসম্বন্দ্বী অব্যয় নামে পরিচিত।
- সাপেক্ষ যোজক হলো- যথা... তথা, যত... তত, যখন... তখন, যেমন... তেমন, যেরূপ ... সেরূপ। যেমন: যত গর্জে তত বর্ষে না। যথা ধর্ম তথা জয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৫.
যোজক কাকে যুক্ত করে?
  1. ক) পদ
  2. খ) বর্গ
  3. গ) বাক্য
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। 
যেমন: এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২২৬.
'দুঃসাহসী' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• দুঃসাহসী (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ। 
- উচ্চারণ- দুশ্‌শাহোশি।
অর্থ  
অত্যধিক সাহসী, নির্ভীক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২২৭.
কোনটি বাক্যের অপরিহার্য পদ?
  1. নামপদ
  2. কর্মপদ
  3. ক্রিয়াপদ
  4. কর্তৃপদ
ব্যাখ্যা

• যে পদের দ্বারা কোন কার্য সম্পাদন করা বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
• ক্রিয়াপদ বাক্য গঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
• ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
• তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৮.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. প্রত্যয়
  2. পদ
  3. বিভক্তি
  4. শব্দ
ব্যাখ্যা

• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

যেমন:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২২৯.
পদ বা পদাবলী বলতে কি বুঝায়?
  1. ক) লাচাড়ী ছন্দে রচতি পদ্য বা কবিতাবলী
  2. খ) পদ্যাকারে রচতি দেবস্তুতিমূলক রচনা
  3. গ) বাউল বা মরমী গীতি
  4. ঘ) বৌদ্ধ বা বৈষ্ণবীয় ধর্মের গূঢ় বিশয়ের বিশেষ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যধারা হচ্ছে পদাবলি। এর শুরু চৈতন্যপূর্বযুগেই।
- রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক এ সাহিত্য ভাব, ভাষা ও ছন্দে অতুলনীয়।
- এতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আত্মার আত্মীয়রূপে কল্পিত; তাঁর ও ভক্তের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই।
- পরে রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এবং চৈতন্যদেবের প্রেমসাধনাকে অবলম্বন করেই বিস্তার লাভ করে মধ্যযুগের পদাবলি বা গীতিকাব্যের ধারা।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২৩০.
'সে খুব দ্রুত দৌড়ায়'- বাক্যে 'দ্রুত' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ
ব্যাখ্যা

'সে খুব দ্রুত দৌড়ায়'- বাক্যে 'দ্রুত'- ক্রিয়া-বিশেষণ। 
--------------
• ক্রিয়া বিশেষণ: 
- যে শব্দ ক্রিয়ার কাজের ধরণ, সময়, স্থান, পরিমাণ, কারণ বা অবস্থা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেয়, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
- সাধারণত ক্রিয়াকে কীভাবে দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরে ক্রিয়াবিশেষণটি পাওয়া যায়।
- 'সে খুব দ্রুত দৌড়ায়'- বাক্যটিতে দৌড়ায় হচ্ছে ক্রিয়া আর দ্রুতহচ্ছে বিশেষণ।
- 'দ্রুত' শব্দটি কোনো কাজ করার গতি বা ধরনকে নির্দেশ করে।
- যদি প্রশ্ন করা হয় কিভাবে দৌড়ায় তাহলে উত্তর হবে দ্রুত দৌড়ায়।
- যেহেতু 'দ্রুত' শব্দটি ক্রিয়াকে বিশেষায়িত করছে, তাই এটি একটি ক্রিয়া-বিশেষণ।

- ক্রিয়া বিশেষণের কিছু উদাহরণ-
- গাড়িটি জোরে ছুটছে।
- তুমি একটু আস্তে হাঁটো।
- ছেলেটি কেঁদে কেঁদে অনুরোধ করল।
- লোকটি নাচতে নাচতে এল।  
-----------
অন্যদিকে,
- বিশেষ্য: এমন পদ যা কোনো বস্তু, ব্যক্তি বা স্থানের নাম প্রকাশ করে।
- ক্রিয়া: এমন পদ যা বাক্যে কাজ বা কার্য সম্পাদনের অর্থ বহন করে (যেমন এখানে ‘দৌড়ায়’ হলো ক্রিয়া)।
- বিশেষণ: এমন পদ যা বিশেষ্য বা সর্বনামের বৈশিষ্ট্য, গুণ বা অবস্থার বর্ণনা দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

২৩১.
বাক্যে বর্গের নাম কী অনুযায়ী হয়?
  1. ক) পদ অনুযায়ী
  2. খ) বাক্য অনুযায়ী
  3. গ) ধ্বনি অনুযায়ী
  4. ঘ) বর্ণ অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
- কোনো একটি বর্গ বাক্যের মধ্যে যে পদের মতো আচরণ করে। সেই পদের নাম অনুযায়ী বর্গের নাম হয়।
- উপরের উদাহরণে মালা ও মায়া' ও 'স্কুল-বাসে' হলো বিশেষ্যবর্গ; 'বাড়ির সামনে থাকা' হলো বিশেষণবর্গ, ‘খুব সকালে’ ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ এবং ‘উঠে পড়লো' হলো ক্রিয়াবর্গ ।
• বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
•  বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
• বৰ্গকে বলা যায় বাক্যের একক, কেননা মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
যেমন -
মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল । এই বাক্যে 'মালা ও মায়া’, ‘খুব সকালে', ‘বাড়ির সামনে থাকা’, 'স্কুল-বাসে’, ‘উঠে পড়ল' প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ এক একটি বর্গ ।

নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেওয়া হলো-
১) বিশেষ্যবর্গ
২) বিশেষণবর্গ
৩) ক্রিয়াবিশেষণবর্গ
৪) ক্রিয়াবর্গ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩২.
‘যত গর্জে তত বর্ষে না।’—বাক্যে কোন ধরনের অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ত প্রত্যয়ান্ত
  2. খ) পদান্বয়ী
  3. গ) বাক্যালংকার
  4. ঘ) নিত্য সম্বন্ধীয়
ব্যাখ্যা
কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত। যেমনঃ যথা-তথা, যখন-তখন, যেমন-তেমন, যে রূপ- সে রূপ ইত্যাদি। উদাহরণ- যথা ধর্ম তথা জয়। যত গর্জে তত বর্ষে না। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৩৩.
বলকযুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) লোকটি
  2. খ) বইগুলো
  3. গ) তখনই
  4. ঘ) কৃষকের
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে বলকযুক্ত শব্দের উদাহরণ হচ্ছে তখনই।

 • লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

লগ্নক চার ধরনের:
• বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- যেমন: ‘করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো' পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই বা ‘এখনও’ পদের ‘ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২৩৪.
‘পদের রূপ পরিবর্তন’ বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) রূপতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাক্যের সঠিক গঠনপ্রণালী, বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন, বিয়োজন, এদের সার্থক ব্যবহারযোগ্যতা, বাক্যমধ্যে শব্দ বা পদের স্থান বা ক্রম, পদের রূপ পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় আলোকপাত করে এ ভাষার বাক্যতত্ত্ব। বাক্যতত্ত্বকে পদক্রমও বলা হয়। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৩৫.
নিচের কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য-
  1. ক) দুঃখ
  2. খ) তিক্ততা
  3. গ) দর্শন
  4. ঘ) সৌরভ
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য পদে ক্রিয়ার ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন− ‘গমন’। ‘গমন’ ভাববাচক বিশেষ্য এজন্য যে এতে যাওয়ার ভাব প্রকাশিত হয়েছে। এরকম আরও উদাহরণ দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন, শয়ন ইত্যাদি। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৩৬.
'অতিশয় মন্দ কথা' বাক্যে 'অতিশয়' শব্দে কোন প্রকার বিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিশেষণের বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) বাক্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ভাব বিশেষণ: যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তা-ই ভাব বিশেষণ।
ভাব বিশেষণ চার প্রকার।
যথা- ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ, বাক্যের বিশেষণ।

১. ক্রিয়ার বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই ক্রিয়া বিশেষণ।
যথা- বাতাস ধীরে বইছে। সে খুব তাড়াতাড়ি হাটল। পরে একবার এসাে।
২. বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন- সামান্য একটু দুধ দাও। অতিশয় মন্দ কথা। রকেট অতি দ্রুত চলে।
৩. অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন- ধিক্ তারে, শত ধিক নির্লজ্জ যে জন।
৪. বাক্যর বিশেষণ: কখনাে কখনাে কোনাে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যে বিশেষণ বলা হয়।
যেমন- দুর্ভাগ্যক্রমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়ােজন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৩৭.
পদ বিবেচনায় শব্দকে কতটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. তিনটি 
  2. দুইটি 
  3. চারটি 
  4. আটটি
ব্যাখ্যা

• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)। 

২৩৮.
"সে গান শিখতে রাজশাহী যাবে" বাক্যে দাগাঙ্কিত শব্দটি কী ধরনের ক্রিয়া শব্দ?
  1. ক) সমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কি ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয় তালে ক্রিয়া পদ বলে।
ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার।
সমাপিকা ক্রিয়া - যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করবে ।
অসমাপিকা ক্রিয়া - যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় না তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া ৩ প্রকারের। যথা-
ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া - সে গান করে আনন্দ পায়।
শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া - গান করলে মন ভালো হয় ।
ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া - সে গান শিখতে রাজশাহী যাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

২৩৯.
‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন’ বাক্যটিতে কোন ধরণের অব্যয় রয়েছে-
  1. ক) সংযোজক অব্যয়
  2. খ) বিয়োজক অব্যয়
  3. গ) সংকোচক অব্যয়
  4. ঘ) অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন’- বাক্যটিতে রয়েছে বিয়োজক অব্যয়। এখানে কিংবা অব্যয়টি দুটো বাক্যাংশের বিয়োজক। বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৪০.
বিরোধ যোজক কোনটি?
  1. না-হয়
  2. তবুও
  3. ততই
ব্যাখ্যা
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

অন্যদিকে,
সাপেক্ষ যোজক - যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
সাধারণ যোজক - করিম রহিম এ কাজটি করেছে।
বিকল্প যোজক - চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪১.
'নগর' শব্দের বিশেষণ পদ -
  1. নাগরীকত্ব
  2. নাগরক
  3. নগরসমেত
  4. নাগরী
ব্যাখ্যা
• 'নগর' শব্দের বিশেষণ পদ - নাগরক

'নাগরক' শব্দের অর্থ:
- নগরে বসবাসকারী,
- নগররক্ষক।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - নাগরী, নাগরীকত্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৪২.
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, সেসব শব্দাংশকে বলে-
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) লগ্নক
  4. ঘ) ধাতু
ব্যাখ্যা
পদ: শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।

পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 

লগ্নক চার ধরনের:
বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ। 

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু' পদের ‘টি' বা ‘টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’
বা ‘বইগুলো” পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। ‘তখনই
বা ‘এখনও’ পদের ‘ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২৪৩.
নিচের কোন শব্দ বিশেষ্য'র উদাহরণ?
  1. ক) পতিত
  2. খ) জান্তব
  3. গ) আগ্নেয়
  4. ঘ) উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'উন্নয়ন' শব্দটি বিশেষ্যের উদাহরণ।

• উন্নয়ন (বিশেষ্য):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে উন্‌নয়োন।
- এর অর্থ হচ্ছে উন্নতিসাধন, বিকাশ, উত্তোলন।

অন্যদিকে,
• জান্তব (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে জান্‌তব্‌।
- এর অর্থ হচ্ছে জন্তুজাত, জন্তুসম্পর্কিত, পশুবৎ।

• পতিত (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে পোতিতো।
- এর অর্থ হচ্ছে অনাবাদি, দুর্দশাপ্রাপ্ত, চ্যুত, ভ্রষ্ট ইত্যাদি।

• আগ্নেয় (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে আগ্‌নেয়ো।
- এর অর্থ হচ্ছে অগ্নি-সম্বন্ধীয়, অগ্নিগর্ভ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৪৪.
কোন বাক্যে ক্রিয়া-বিশেষণ রয়েছে? 
  1. ইশান হেলেধুলে হাঁটে। 
  2. মাহাদিকে সামান্য একটু দুধ দাও।
  3. বাস খুব দ্রুত চলে। 
  4. রকেট অতি দ্রুত চলে। 
ব্যাখ্যা

ইশান হেলেধুলে হাঁটে- বাক্যটি ক্রিয়া বিশেষণ।
------------------------------------
• ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়ার কাজের ধরণ, সময়, স্থান, পরিমাণ, কারণ বা অবস্থা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেয়, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
- সাধারণত ক্রিয়াকে কীভাবে দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরে ক্রিয়াবিশেষণটি পাওয়া যায়।
- ইশান হেলেধুলে হাঁটে- বাক্যটিতে হাঁটা হচ্ছে ক্রিয়া আর হেলেধুলে হচ্ছে বিশেষণ।
- যদি প্রশ্ন করা হয় কিভাবে হাঁটে তাহলে উত্তর হবে হেলেধুলে হাঁটে।
- তাই ‘ইশান হেলেধুলে হাঁটে’- এই বাক্যটি ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ। 

ক্রিয়া বিশেষণের কিছু উদাহরণ-
- গাড়িটি জোরে ছুটছে।
- তুমি একটু আস্তে হাঁটো।
- ছেলেটি কেঁদে কেঁদে অনুরোধ করল।
- লোকটি নাচতে নাচতে এল।
-------------------------------
অন্যদিকে,
• সামান্য একটু দুধ দাও- নাম-বিশেষনের বিশেষণ। 

• বাস খুব দ্রুত চলে ও রকেট অতি দ্রুত চলে- বাক্য দুইটি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নির্দেশ করে।  
- এখানে "খুব" এবং “ অতি” হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

২৪৫.
কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. ভয়ে ভয়ে
  2.  মরতে মরতে
  3. ভালোভাবে
  4. যায় যায়
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:

যেমন:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৪৬.
অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম কোনটি?
  1. ক) এই
  2. খ) যে
  3. গ) আপনি
  4. ঘ) কিছু
ব্যাখ্যা
কিছু অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম হলো- কোন, কেহ, কেউ, কিছু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৪৭.
নিচের কোনটি ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. ক) যথাসময়ে সে হাজির হয়
  2. খ) টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে
  3. গ) মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
  4. ঘ) আমি কি যাব? 
ব্যাখ্যা
'টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে'- ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।  

ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন – টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
            ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ -  ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।
যেমন: মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন : তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন: আমি কি যাব? 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৪৮.
'তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।'- বাক্যটিতে কোন ধরনের যোজক এর প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিকল্প যোজক
  2. খ) বিরোধ যোজক
  3. গ) কারণ যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
'তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।'- বাক্যটিতে 'কারণ যোজক' এর প্রয়োগ ঘটেছে। 

• কারণ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
'তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।'

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

• বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন: চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪৯.
'আহ্বান' শব্দের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. ক) আহরিত
  2. খ) আহূত
  3. গ) আহত
  4. ঘ) আন্বিত
ব্যাখ্যা
'আহ্বান' শব্দের বিশেষণ রূপ = 'আহূত'

আহ্বান (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = আ+√হ্বে+অন
অর্থ: 
- নিমন্ত্রন, আমন্ত্রন
- সম্বোধন, ডাক 

আহূত (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: আহ্বান করা হয়েছে এমন। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৫০.
সাধারণত কোন পদে সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য সর্বাধিক পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া ও সর্বনাম
  3. গ) বিশেষ্য ও ক্রিয়া
  4. ঘ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
অন্যদিকে, 
চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য সহজেই নির্ণয় করা যায়।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২৫১.
কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. যায় যায়
  2. গুনগুনিয়ে
  3. চুপি চুপি
  4. ভয়ে ভয়ে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
যেমন:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫২.
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে। - এই বাক্যে ‘গুণগুনিয়ে’ কোন বিশেষণ?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. অব্যয়ের বিশেষণ
  4. বিশেষ্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৩.
নিচের কোন বাক্যটিতে কারণবাচক যোজকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সারাদিন খুঁজলাম অথচ বইটা পেলাম না।
  2. খ) এত বৃষ্টি হলো তবু গরম গেল না।
  3. গ) যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না।
  4. ঘ) যত গর্জে তত বর্ষে না।
ব্যাখ্যা
যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না- বাক্যটিতে 'কার যোজক' ব্যবহৃত হয়েছে। 

কারণ যোজক: 
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন – যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। 
জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি। 
বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে ।
যেমন – সারাদিন খুঁজলাম অথচ বইটা পেলাম না। 
লাল বা নীল কলমটা আনো ৷
চা না-হয় কফি খান।

বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন - এত বৃষ্টি হলো তবু গরম গেল না। 
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না ৷
তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন – যত গর্জে তত বর্ষে না। 
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২৫৪.
পদ বিবেচনায় শব্দকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৬
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা

পদ বিবেচনায় শব্দ কে ৮ টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়।
যথা বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, অনুসর্গ, যোজক, আবেগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি।

২৫৫.
কোনটি লগ্নক নয়?
  1. ক) নির্দেশক
  2. খ) বাচ্য
  3. গ) বিভক্তি
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের:
বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম’ শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

 বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের রা’ বা ‘গুলাে হলাে বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৫৬.
“আমরা আজকের মধ্যে সমস্যাটির সমাধান করবই” বাক্যে ‘করব’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত ই শব্দাংশটিকে কী বলে?
  1. ক) বচন
  2. খ) বিভক্তি
  3. গ) নির্দেশক
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা

যেসব শব্দাংশ পদের শেষে যুক্ত হয়ে বক্তব্যকে জোড়ালো করে তাকে বলক বলে ।
‘তখনই’ বা ‘এখনও’ শব্দের শেষে ‘ই’ এবং ‘ও’ শব্দাংশ হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

২৫৭.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ নয়?    
  1. তারুণ্য
  2. দুঃখ
  3. সন্ধ্যা
  4. ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
- ঐচ্ছিক বিশেষ্য পদ নয়।
- এটি বিশেষণের উদাহরণ।
- ঐচ্ছিক এমন একটি বিশেষণ পদ, যা কোনো বিশেষ্যকে বিশেষিত করে।
- যেমন- ঐচ্ছিক বিষয়, ঐচ্ছিক শিক্ষা।
- বিশেষণ হলো সেই পদ যা বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে।
- যেমন:
- মেধাবী ছেলে (গুণ);
- নীল আকাশ (অবস্থা/রং);
- সুন্দর মেয়ে (গুণ);
- দ্রুত হাঁট (ক্রিয়া);
- তিন/চার (সংখ্যা)।
 
- বিভিন্ন ধরনের বিশেষণ পদের উদাহরণ: 

• বিশেষ্যের বিশেষণ: বিশেষ্য পদকে বিশেষিত করে।
- উদাহরণ: চঞ্চল শিশু (শিশুর অবস্থা), চলন্ত ট্রেন (ট্রেনের অবস্থা)।

• সর্বনামের বিশেষণ: সর্বনামকে বিশেষিত করে।
- উদাহরণ: ধৈর্যশীল তুমি (তোমার গুণ), যত পদ তত ফল (ফলের অবস্থা। 

• ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়াপদকে বিশেষিত করে।
- উদাহরণ: দ্রুত দৌড়াও (দৌড়ানোর ধরন)।

• সংখ্যাবাচক বিশেষণ: সংখ্যা বোঝায়।
- উদাহরণ: সতের বছর, পাঁচশ টাকার নোট।

• গুণবাচক বিশেষণ: গুণ বা দোষ প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: মেধাবী ছেলে, কুৎসিত লোক।

• পরিমাণবাচক বিশেষণ: পরিমাণ বোঝায়।
- উদাহরণ: সল্প সম্পদ, অনেক পানি।

• অবস্থা নির্দেশক বিশেষণ: অবস্থার মান প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: লাল গোলাপ, নরম বিছানা।
-------------------------------------------------
বিশেষ্য পদ:
- তারুণ্য, দুঃখ, সন্ধ্যা- বিশেষ্য পদের উদাহরণ।
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা বা গুণের নাম বোঝানো হয়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলা হয়।

- বিশেষ্য পদ সাধারণত ছয় প্রকারে বিভক্ত:
১. নাম-বিশেষ্য: আরিফ, রিমা, সিলেট, যমুনা, রবিবার, শ্রাবণ, ফাল্গুন, ঈদ, স্বাধীনতা।
২. জাতি-বিশেষ্য: মানুষ, সিংহ, হরিণ, গাছ, ফল, নদী, পাহাড়।
৩. বস্তু-বিশেষ্য: কাঁঠাল, লবণ, আকাশ, চেয়ার, বই।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: দল, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল।
৫. গুণ-বিশেষ্য: উদারতা, করুণা, আনন্দ, গুরুত্ব, ধৈর্য, সততা।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: পঠন, ভ্রমণ, শয়ন, লেখা, খাওয়া, শেখা।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ);
আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

২৫৮.
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান'–এখানে 'টাপুর টুপুর' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. ক) অবস্থাবাচক
  2. খ) বাক্যালঙ্কার
  3. গ) ধ্বন্যাত্মক
  4. ঘ) সংযোজক
ব্যাখ্যা

যে–অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় তাকে ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বা অনুকার অব্যয় বলে৷
যেমন- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
শাঁ করে ছুটে গেলো তীরটা৷
ধপ্ করে তাল পড়ল। বাতাসের গতি শনশন
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

২৫৯.
"ভোগে নয়, ত্যাগেই মনুষ্যত্বের বিকাশ' বাক্যে অলগ্নক পদ কোনটি?
  1. ক) ভোগে
  2. খ) ত্যাগেই
  3. গ) মনুষ্যত্বের
  4. ঘ) বিকাশ
ব্যাখ্যা
- বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলােকে সলগ্নক পদ 
- যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলােকে অলগ্নক পদ বলে।
- ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’- এই বাক্যের ‘ছেলেরা ও ‘খেলে সলগ্নক পদ আর ক্রিকেট অলগ্নক পদ।
অনুরূপভাবে,
"ভোগে নয়, ত্যাগেই মনুষ্যত্বের বিকাশ'
বাক্যে 'ভোগে' 'ত্যাগেই' 'মনুষ্যত্বের'  সলগ্নক পদ এবং 'নয়' 'বিকাশ' অলগ্নক পদ।  

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬০.
‘ব্যাপ্তি‘ অর্থে সম্বন্ধ কোনটি?
  1. ক) রাজার রাজ্য
  2. খ) বাটির দুধ
  3. গ) দেশের লোক
  4. ঘ) রোজার ছুটি
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ পদ বহু প্রকারের হতে পারে।
যেমন:
অধিকরণ সম্বন্ধ : রাজার রাজ্য, প্রজার জমি।
কার্যকারণ সম্বন্ধ : অগ্নির উত্তাপ, রোগের কষ্ট।
হেতু সম্বন্ধ : ধনের অহংকার, রূপের দেমাক।
ব্যাপ্তি সম্বন্ধ : রোজার ছুটি, শরতের আকাশ।
অভেদ সম্বন্ধ : জ্ঞানের আলোক, দুঃখের দাহন।
উপমান-উপমেয় সম্বন্ধ : ননীর পুতুল, লোহার শরীর।
নির্ধারক সম্বন্ধ : সবার সেরা, সবার ছোট।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২৬১.
'লাল থেকে নীল ভালো।'- বাক্যে 'লাল' কোন পদ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নোক্ত বাক্যে 'লাল' হচ্ছে বিশেষ্য পদ।

• বিশেষ্য পদ:
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
- যেমন: নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• ‘লাল থেকে নীল ভালো।
- এখানে 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ।

আবার যখন বলা হয়-
• আমি একটি লাল ফুল তুলেছি।
- এখানে ‘লাল’ বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
২৬২.
‘কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।’—এখানে অব্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সাকল্য অর্থে
  2. খ) হতাশা জ্ঞাপনে
  3. গ) বিরক্তি প্রকাশে
  4. ঘ) বিড়ম্বনা প্রকাশে
ব্যাখ্যা
‘কী বিপদ, লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।’—এখানে অব্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে বিরক্তি প্রকাশে। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৬৩.
নিচের কোন বাক্যে সাপেক্ষ যোজকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. লাল বা নীল কলমটা আনো।
  2. তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
  3. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
  4. জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
ব্যাখ্যা
⇒ যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২৬৪.
সাপেক্ষ যোজক কোনটি?
  1. ততই
  2. তবুও
  3. না-হয়
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে,
বিরোধ যোজক - তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।
সাধারণ যোজক - করিম রহিম এ কাজটি করেছে।
বিকল্প যোজক - চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৫.
শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম নিম্নের কোনটি?
  1. ক) আমি
  2. খ) তিনি
  3. গ) তুই
  4. ঘ) তারা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
এই সর্বনাম তিন ধরণের।
যেমন,
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম- আমি, আমরা, আমাকে।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম- তুমি, তোমরা, তুই
- অন্য পক্ষের সর্বনাম- সে, তারা, তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৬.
'পদ' বলতে বোঝায়-
  1. ক) যে কোন শব্দ
  2. খ) প্রত্যয় যুক্ত শব্দ বা ধাতু
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) বিভক্তি যুক্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
বিভক্তিযুক্ত শব্দকে পদ বলে। বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি শব্দ এক একটি পদ।
পদ প্রথমত দুই প্রকার। নামপদ ও ক্রিয়াপদ।
নামপদ আবার চার প্রকার- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয়।
২৬৭.
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য পদের সঙ্গে কোন ধরনের শব্দাংশ যুক্ত হয়?
  1. বলক
  2. বিভক্তি
  3. বচন
  4. নির্দেশক
ব্যাখ্যা

• বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি দুই প্রকার।
যথা: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা 'টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।
• বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলো পদের রা' বা 'গুলো হলো বচনের উদাহরণ।
• বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। তখনই বা 'এখনও পদের ই বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৬৮.
যথাসময়ে সে হাজির হয়। - এখানে ‘যথাসময়ে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. পদাণু
  2. স্থানবাচক
  3. কালবাচক
  4. ধরনবাচক
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
- যথাসময়ে সে হাজির হয়েছিল।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

অন্যদিকে,
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৯.
হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।- এখানে কোন ধরনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. বিস্ময় আবেগ
  2. আতঙ্ক আবেগ
  3. সিদ্ধান্ত আবেগ
  4. বিরক্তি আবেগ
ব্যাখ্যা
সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয় ।
যেমন -
- হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক ।

অন্যদিকে, 
বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
- জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের আবেগ-শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন –
- উহ্, কী বিপদে পড়া গেল ৷
- বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন –
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্, কী চমৎকার দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭০.
‘স্বাস্থ্য’ শব্দটি কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. ক) ভাববাচক
  2. খ) গুণবাচক
  3. গ) সমষ্টিবাচক
  4. ঘ) বস্তুবাচক
ব্যাখ্যা
 বিশেষ্য পদ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে:

১. গুণবাচক বিশেষ্যঃ মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন ইত্যাদি।
২. ভাববাচকঃ গমন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, দেখা, শোনা।
৩. বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচকঃ বই, খাতা, কলম ইত্যাদি।
৪. সমষ্টিবাচক - পঞ্চায়েত, মাহফিল, জনতা, সভা, সমিতি ইত্যাদি।

তথ্যসূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণঃ নবম-দশম শ্রেণী
২৭১.
নিচের কোন বাক্যে বিরোধ যোজকের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
  2. লাল বা নীল কলমটা আনো।
  3. এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
  4. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২৭২.
‘বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।’- এখানে ‘তাই’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. অনুসর্গ
  2. যোজক
  3. আবেগ
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩-সংস্করণ)।
২৭৩.
“তোমরা নিজেরা নিজেরা গিয়ে পার্ক থেকে ঘুরে এসো।”- বাক্যটিতে “নিজেরা নিজেরা” কোন ধরনের সর্বনাম পদ নির্দেশ করছে? 
  1. সকলবাচক সর্বনাম
  2. ব্যতিহারিক সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম 
ব্যাখ্যা

“তোমরা নিজেরা নিজেরা গিয়ে পার্ক থেকে ঘুরে এসো।”—
এখানে “নিজেরা নিজেরা” হলো ব্যতিহারিক বা পারস্পারিক সর্বনাম এর উদাহরণ। 
-------------------------------- 
ব্যতিহারিক বা পারস্পারিক সর্বনাম:
- ব্যতিহারিক সর্বনাম হলো সেইসব সর্বনাম, যা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা পারস্পরিক ক্রিয়া প্রকাশ করে। 
- অর্থাৎ, এই সর্বনামগুলো ব্যবহার করা হয় তখন, যখন একাধিক ব্যক্তি বা বস্তু একে অপরের প্রতি কোনো কাজ করে বা পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
- এগুলো সাধারণত একই শব্দের পুনরাবৃত্তি বা সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- যেমন: আপনা-আপনি, নিজে-নিজে, আপসে, পরস্পর, নিজেরা-নিজেরা। 

- উদাহরণস্বরূপ,
- "পরস্পর না মিলতে পারলে বন্ধুত্ব গড়বে কী করে"? 
- “তারা আপনা-আপনিই সব কাজ করেছে”,
- “তারা পরস্পরকে সাহায্য করে”,
- “শিক্ষার্থীরা নিজে-নিজে খেলা করছে”- এই বাক্যগুলোতে দেখা যায়, কাজটি কেবল একমুখী নয়, বরং পক্ষগুলোর মধ্যে আবর্তিত হয়েছে।
------------------------
অন্যদিকে,
সকলবাচক সর্বনাম: 
- সকলবাচক সর্বনাম হচ্ছে বাক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি। 
- যেমন- 
- সবাই গেছে বনে। 
- সকলেই খাবার খেয়েছেন। 
- সকলেই ত্রাণসামগ্রী পেয়েছেন। 
- সবাই সমুদ্রে ঘুরতে যেতে চাচ্ছে। 

আত্মবাচক সর্বনাম:
- যে সকল সর্বনাম দ্বারা কর্তা নিজেই কোনো ক্রিয়া সম্পাদন করেছে তা প্রকাশ পায়, তাদেরকে আত্মবাচক সর্বনাম বলা হয়।
- উদাহরণ: স্বয়ং, নিজ, নিজে, আপনি, খোদ, আপনা-আপনি, ও নিজে, নিজেই।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম (পুরুষবাচক সর্বনাম):
- যে সকল সর্বনাম কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমূহকে নির্দেশ করে বা তাদের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়, তাদেরকে ব্যক্তিবাচক সর্বনাম বা পুরুষবাচক সর্বনাম বলা হয়।
- এগুলো মূলত বিশেষ্য বা নামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, আপনি, তুই, আমাকে, তোমাকে, তাকে, তাদের, আমাদের, তাহার ইত্যাদি।

- পুরুষভেদে ভাগ:
- উত্তম পুরুষ: আমি, আমরা, আমার, আমাদের, আমাকে।
- মধ্যম পুরুষ: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমার, তোমাকে, আপনাকে।
- নাম পুরুষ: সে, তারা, তিনি, তাহারা, তাঁর, তাদের, তাঁকে, তাকে

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২৭৪.
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে কী বলে?
  1. প্রত্যয়
  2. উপসর্গ
  3. বলক
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- 'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।

অন্যদিকে,
বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

প্রত্যয়:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
২৭৫.
‘আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।’- বাক্যে ‘আজকাল’ শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।’- বাক্যে ‘আজকাল’ শব্দটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

ক্রিয়াবিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
যথাসময়ে কামাল হাজির হয়েছিল।
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়। এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
২৭৬.
‘লাবণ্য’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘লাবণ্য’ বিশেষ্য পদ।

• বিশেষ্য: যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন- নজরূল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষণ: যে শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন-
সুন্দর ফুল
বাজে কথা
পঞ্চাশ টাকা
হাজার সমস্যা

• সর্বনাম: বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। সর্বনামকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয় যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
২. আত্মবাচক সর্বনাম
৩. নির্দেশক সর্বনাম
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম
৭. পারস্পরিক সর্বনাম
৮. সকলবাচক সর্বনাম
৯. অন্যবাচক সর্বনাম


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৭.
ভালো করে পড়াশোনা করবে- এ বাক্যে ‘করবে’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) আবেগ
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ নিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন-
রাজীব খেলছে
বৃষ্টি হতে পারে

- ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন- ভালো করে পড়াশোনা করবে
২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন- ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

উৎস:- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
২৭৮.
‘তাঁর কথায় কেউ কেউ দুঃখ পেয়েছে।’ এ বাক্যে 'কেউ' হলো-
  1. ক) নির্দেশক সর্বনাম
  2. খ) অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. গ) সকলবাচক সর্বনাম
  4. ঘ) অন্যবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম: আমি , আমরা, তুমি, তোমরা ইত্যাদি।
- আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ , খোদ, আপনি ইত্যাদি।
- প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কোন, কার ইত্যাদি।
- নির্দেশক সর্বনাম: এ, ঐ, ইনি, উনি ইত্যাদি।
- অনির্দিষ্ট সর্বনাম: কোন, কেউ কিছু ইত্যাদি।
- সকলবাচক সর্বনাম: সবাই, সব, সকল, সমুদয় ইত্যাদি।
- অন্যবাচক সর্বনাম: অন্য , অপর, পর ইত্যাদি।
- পারষ্পরিক সর্বনাম: পরষ্পর, আপনা আপনি, নিজে নিজে ইত্যাদি।
- সাপেক্ষ সর্বনাম: যে-যে, যা-তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।

২৭৯.
'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে'- এখানে 'বেশ' কোন ধরণের বিশেষণ ?
  1. ক) পরিমাণবাচক
  2. খ) উপাদানবাচক
  3. গ) ভাববাচক
  4. ঘ) নির্দিষ্টতাবাচক
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত বাক্যের  'বেশ' শব্দটি হলো 'ভাববাচক' বিশেষণ।
ভাববাচক বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালো খবর' ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে'- এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন আধা কেজি চাল, অনেক লোক – এখানে “আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

•উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে' ও 1 ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ ।

•নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ ।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮০.
নিম্নের কোনটি লগ্নক এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কারক
  2. বিভক্তি
  3. নির্দেশক
  4. বলক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

⇒ বিভক্তি : ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

⇒ নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। লােকটি বা ভালােটুকু পদের 'টি' বা 'টুকু' হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

⇒ বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের 'রা' বা 'গুলাে' হলাে বচনের উদাহরণ।

⇒ বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা এখনও পদের 'ই' বা 'ও' হলাে বলকের উদাহরণ।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৮১.
পক্ষভেদে (পুরুষভেদে) সর্বনাম পদ কয় প্রকার?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা

'পক্ষ' হল নাম শব্দের এমন এক ব্যাকরণিক বৈশিষ্ট্য, যা দিয়ে বক্তা, বক্তার সামনের শ্রোতা, এবং যার কথা বলা হচ্ছে এমন উপস্থিত সত্তা নির্দেশ করা হয়।
প্রচলিত ব্যাকরণে এটি 'পুরুষ' নামে পরিচিত। 

পক্ষভেদে বা পুরুষভেদে সর্বনাম পদ ৩ প্রকার।
১. বক্তাপক্ষ (উত্তম পুরুষ) : আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি।
২. শ্রোতাপক্ষ (মধ্যম পুরুষ) : তুমি, আপনি, তুই, ইত্যাদি।
৩. অন্যপক্ষ (প্রথম পুরুষ) : সে, তারা, তিনি, ওড়া, এদের ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, সর্বনাম পদ মোট ৯ প্রকার; অর্থগত দিক থেকে ৭ প্রকার।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ।

২৮২.
গঠনগতভাবে পদ কয় প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
• গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের।
যথা -
- অলগ্নক পদ,
- সলগ্নক পদ। 
 -------------------  
• সলগ্নক পদ:
- বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'। 
- এ বাক্যে 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক পদ।
 
• অলগ্নক পদ:
যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'।
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৩.
কোনটি অসমাপিকা ক্রিয়ার ধরন?
  1. ক) ভাবী
  2. খ) ভূত
  3. গ) শর্ত
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে ।
যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে ।

• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা।
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৮৪.
"এ এক বিরাট সত্য।" - বাক্যে 'সত্য' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) যোজক
ব্যাখ্যা
• "এ এক বিরাট সত্য।" - বাক্যে 'সত্য' বিশেষ্য পদ।

• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ
বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৫.
নির্দেশকযুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) লোকটি
  2. খ) এখনও
  3. গ) কৃষকের
  4. ঘ) বই
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে নির্দেশকযুক্ত শব্দের উদাহরণ হচ্ছে লোকটি

 • লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

লগ্নক চার ধরনের:

• বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- যেমন: ‘করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো' পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

• বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই বা ‘এখনও’ পদের ‘ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২৮৬.
’অবজ্ঞাত’ বিশেষণটির বিশেষ্য নির্দেশ করুন?
  1. ক) অজ্ঞাত
  2. খ) অবজ্ঞেও
  3. গ) অজ্ঞান
  4. ঘ) অবজ্ঞা
ব্যাখ্যা
’অবজ্ঞাত’ বিশেষণটির বিশেষ্য রূপ হলো অবজ্ঞা

অবজ্ঞা (বিশেষ্য)
১ উপেক্ষা।
২ তাচ্ছিল্য।
৩ ঘৃণা।
৪ অবমাননা; অপমান।

অবজ্ঞাত (বিশেষণ)
অর্থ :
(সে অজ্ঞাত অবজ্ঞাত তুচ্ছ সাধারণ নারী মাত্র নহে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।

অবজ্ঞেয় (বিশেষ্য)
অর্থ :
অবজ্ঞার যোগ্য।

উৎস : বাংলা একাডেমি অভিধান
২৮৭.
'আহা ! বেচারার এত কষ্ট।'- বাক্যটিতে কোন ধরনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) বিরক্তি আবেগ
  2. খ) আতঙ্ক আবেগ
  3. গ) বিস্ময় আবেগ
  4. ঘ) করুণা আবেগ
ব্যাখ্যা
'আহা ! বেচারার এত কষ্ট।'- বাক্যটিতে করুণা আবেগ প্রকাশ পেয়েছে।

⇒ করূণা আবেগ: 
এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

⇒ বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

⇒ আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

⇒ বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৮.
উপাস্যের প্রতি সাধারণত ‘আপনি’ স্থানে কোন সর্বনাম যুক্ত হয়?
  1. ক) তুই
  2. খ) তুমি
  3. গ) তোমা
  4. ঘ) তিনি
ব্যাখ্যা
উপাস্যের প্রতি সাধারণত ‘আপনি’ স্থানে তুমি প্রযুক্ত হয়। যেমন- (উপাস্যের প্রতি ভক্ত) ‘প্রভু, তুমি রক্ষা কর এ দীন সেবকে।’ সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৮৯.
'সে এতক্ষণ কী করেছে?' - এই বাক্যে 'কী' কোন পদ?
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয় তাকে সর্বনাম পদ বলে। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু সর্বনামসমূহ-
ব্যক্তিবাচকঃ আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে ইত্যাদি।
আত্মবাচকঃ নিজে, স্বয়ং, খোদ, আপনি।
প্রশ্নবাচকঃ কে, কি, কী, কোন, কার, কাহার, কিসে?
দূরত্ববাচকঃ ঐ, ঐসব।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।।
২৯০.
'যদি রোদ ওঠে, তবে বেড়াতে যাবো।' - বাক্যটি কোন যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. সাধারণ যোজক
  2. বিরোধ যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. কারণ যোজক
ব্যাখ্যা
যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।

সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- যদি রোদ ওঠে, তবে বেড়াতে যাবো
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯১.
‘যথাসময়ে সে হাজির হয়’ উক্তিটিতে ‘যথাসময়ে’ কোন পদ?
  1. ক) ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে ‘এ’, ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি এবং ‘ভাবে’, ‘বশত’, ‘মতো’, ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়। যেমন- ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয় যায়। যথা:
১. ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
২. কালবাচক  ক্রিয়াবিশেষণ
৩. স্থানবাচক  ক্রিয়াবিশেষণ
৪. নেতিবাচক  ক্রিয়াবিশেষণ
৫. পদাণু  ক্রিয়াবিশেষণ

• যে ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাকে কালবাচক  ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন-
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

বাক্যে ব্যবহৃত আজকাল ও যথাসময়ে শব্দগুলো কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯২.
'বিশ্বস্ত' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'বিশ্বস্ত' - বিশেষণ পদ।

• 'বিশ্বস্ত' অর্থ:
- বিশ্বাসযোগ্য; বিশ্বাসভাজন।

• 'বিশ্বস্ত' এর বিশেষ্য হবে - বিশ্বস্ততা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৯৩.
কোনটি ক্রিয়াজাত বিশেষণের উদাহরণ?
  1. উপরি পাওনা
  2. চৌচালা ঘর
  3. হারানো সম্পত্তি
  4. জ্ঞানহারা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) হারানো সম্পত্তি। 

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি
ক. ক্রিয়াজাত - হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত - আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক।
গ. সর্বনামজাত - কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
ঘ. সমাসসিদ্ধ - বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর
ঙ. বীপ্সামূলক - হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত - কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

২৯৪.
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা দিল। বাক্যটি কোন বর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বিশেষ্য বর্গ
  2. খ) বিশেষণ বর্গ
  3. গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বর্গ
ব্যাখ্যা
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা দিল- এখানে সকাল আটটার সময়ে  ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ  এর উদাহরণ।

বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ। 

বিশেষ্যবর্গ
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন – আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন –
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর

ক্রিয়াবিশেষণ-বৰ্গ
- যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন: সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো ।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম ।

ক্রিয়াবৰ্গ
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে। যেমন –
অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে।
সে লিখছে আর হাসছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২৯৫.
'অভিধান' শব্দটির বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. অভিধানিক
  2. অভিধান
  3. আভিধানিক
  4. অভিধান্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অভিধান' শব্দটি বিশেষ্য পদ।
 'অভিধান' শব্দের অর্থ: অর্থসহ শব্দকোষ।

 • 'অভিধান' এর বিশেষণ পদ- 'আভিধানিক'।
- আভিধানিক (বিশেষণ) শব্দের অর্থ: শব্দকোষ সম্বন্ধীয়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৯৬.
কোন প্রকার লগ্নক একের বেশি সংখ্যা বুঝায়?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) বচন
  3. গ) নির্দেশক
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা
একের বেশি সংখ্যা বুঝাতে যেসকল লগ্নক ব্যবহৃত হয় তাদের কে বচন বলে। 
- যেসকল শব্দের শেষে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় না তাদের একবচন শব্দ।
যেসকল শব্দের শেষে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় তাদের বহুবচন শব্দ।
'রা' - ছাত্ররা, ধনী
'এরা' - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
'গণ; - সদস্যগণ, সচিবগণ, 
'বৃন্দ''- শিক্ষকবৃন্দ, দর্শকবৃন্দ ইত্যাদি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯৭.
নিম্নের কোন বাক্যে বিরোধ যোজকের উদাহরণ রয়েছে?
  1. ক) যতই পড়িবে, ততই জানিবে।
  2. খ) তাকে এত করে অনুরোধ করলাম, তবুও সে আমার কথা রাখলো না।
  3. গ) জলদি যাও এবং কাজটি সমাধান করে ফিরে এসো।
  4. ঘ) সংখ্যাটি ২০ কিংবা ২১ হতে পারে।
ব্যাখ্যা

যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন, বিয়োজন অথবা সংকোচ ঘটায়।
যেমন: এতগুলো বই আর এতগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?

যোজক ৫ প্রকার ।
সাধারন যোজক - জলদি যাও এবং কাজটি সমাধান করে ফিরে এসো।
বৈকল্পিক যোজক - সংখ্যাটি ২০ কিংবা ২১ হতে পারে।
বিরোধমূলক যোজক - তাকে এত করে অনুরোধ করলাম, তবুও সে আমার কথা রাখলো না।
কারণবাচক যোজক - যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না
সাপেক্ষ যোজক - যতই পড়িবে, ততই জানিবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বাংলা একাডেমি।

২৯৮.
লগ্নক নয় কোনটি?
  1. ক) বাচ্য
  2. খ) বিভক্তি
  3. গ) বচন
  4. ঘ) নির্দেশক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ। পদে পরণত হবার সময় শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়। তাকে লগ্নক বলে।
লগ্নক ৪ প্রকার -
বিভক্তি
নির্দেশক
বচন
বলক

বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক এবং বাক্যের যেসকল পদে লগ্নক থাকে না তাকে অলগ্নক পদ বলে।
“ছেলেরা স্টেশন বরাবর দৌড়ে যাচ্ছে” বাক্যটিতে 'ছেলেরা', 'দৌড়ে' 'যাচ্ছে' সলগ্নক পদ। অন্যদিকে 'স্টেশন', 'বরাবর' অলগ্নক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
২৯৯.
‘শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।’ বাক্যে ‘শাবাশ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. যোজক
  2. অনুসর্গ
  3. আবেগ
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• আবেগ-পদ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
• সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

• প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

• বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

• আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

• বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

• করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

• সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

• অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০০.
বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না কোন পদের সাথে?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• অব্যয় পদ:
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
অব্যয় শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলোর একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলোর স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে-
- বাংলা অব্যয় শব্দ,
- তৎসম অব্যয় শব্দ এবং
- বিদেশি অব্যয় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।