বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ

মোট প্রশ্ন৩৩১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩৩১

১০১.
"ছেলেরা খেলছে" - বাক্যে কোনটি সলগ্নক পদ?
  1. ছেলেরা
  2. খেলছে
  3. ক + খ
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের।
যথা -
- অলগ্নক পদ,
- সলগ্নক পদ। 
 
সলগ্নক পদ:
• বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'। 
- বাক্যে, 'ছেলেরা' ও 'খেলে' হলো সলগ্নক পদ, কারণ এখানে 'রা' ও 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
 
অলগ্নক পদ:
• যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'।
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
১০২.
বাংলা ব্যাকরণে 'পদ' বলতে কী বোঝায়?
  1. যে কোনো বর্ণ 
  2. উপসর্গ যুক্ত শব্দ 
  3. বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তি যুক্ত শব্দ ও ধাতু
  4. প্রত্যয়ান্ত শব্দ
  5. উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

পদ:
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তি যুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত। যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার।
যথা- 
​১. সব্যয় পদ ও 
​২. অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১০৩.
‘আবেগ’ কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়াবিশেষণ
  3. পদ
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা
• ‘আবেগ’ - পদ এর অন্তর্ভুক্ত।

• পদ:

বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে৷

অন্যভাবে, শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

• বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
- বিশেষ্য,
- সর্বনাম,
- বিশেষণ,
- ক্রিয়া,
- ক্রিয়াবিশেষণ,
- অনুসর্গ,
- যােজক,
- আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০৪.
কোন ধরনের আবেগ দ্বারা অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) প্রশংসা আবেগ
  2. খ) আতঙ্ক আবেগ
  3. গ) বিস্ময় আবেগ
  4. ঘ) অলংকার আবেগ
ব্যাখ্যা
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

⇒ করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১০৫.
নিচের কোনগুলি গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) লবণ, জনতা
  2. খ) পরিবার, দয়া
  3. গ) ভোজন, সরলতা
  4. ঘ) আনন্দ, ধৈর্য
ব্যাখ্যা
- আনন্দ, ধৈর্য হচ্ছে গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সােমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

• বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১০৬.
একটি বাক্যের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ হলো -
  1. ক) কর্তা
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) কর্ম
  4. ঘ) ভাব
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদ একটি বাক্যের অপরিহার্য অংশ, এটা ছাড়া মনের ভাব সম্পূর্ণরুপে প্রকাশ করা যায় না। তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য থাকতে পারে৷ যেমন- ইনি আমার ভাই (হন)। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
১০৭.
‘মাস খরচ বাবদ টাকা প্রদান করো।’- ‘বাবদ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. সর্বনাম
  2. যোজক
  3. অনুসর্গ
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘মাস খরচ বাবদ টাকা প্রদান করো।’ - এখানে ‘বাবদ’ নাম অনুসর্গের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে  শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ,
- ক্রিয়া অনুসর্গ।

• নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ:
ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে যেসব অনুসর্গ এসেছে সেগুলো নামজাত বা বিশেষ্য অনুসর্গ।

নাম অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১০৮.
মরি তো মরব। - এ বাক্যে ‘তো’ কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. পদাণু
  2. স্থানবাচক
  3. কালবাচক
  4. ধরনবাচক
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১০৯.
'তবু' কোন ধরনের যোজকের উদাহরণ?
  1. বিরোধ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. কারণ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
বিরোধ যোজক: 
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। 
যেমন-
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

অন্যদিকে,
কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন-
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন –
- রহিম করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন -
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
১১০.
“মানুষ চাইলেই সব কিছু পায় না, এটাই সত্য”। এই বাক্যে ’সত্য’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
- সত্য শব্দটি এই বাক্যের বিষয়, তাই এটি বিশেষ্য।
- কিন্তু যদি বলা হয় ‘সত্য পথে থেকে সত্য কথা বলবে’ তবে সত্য শব্দটা বিশেষণ হত।
- কারণ, সত্য শব্দটা পথ ও কথা শব্দকে বিশেষিত করেছে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
১১১.
কোন যোজক একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কারণ যোজক
  2. খ) বিকল্প যোজক
  3. গ) সাপেক্ষ যোজক
  4. ঘ) সাধারণ যোজক
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

• বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন: চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।

• কারণ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

সাধারন যোজক:
এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১১২.
“এই পুকুরের পানি ঘোলা” বাক্যে ‘ঘোলা’ শব্দটি কোন প্রকারের বিশেষণ?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষণ
  2. খ) অবস্থাবাচক বিশেষণ
  3. গ) নির্দিষ্টবাচক বিশেষণ
  4. ঘ) বিধেয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষণ এর শ্রেণিবিভাগ:
বর্ণবাচক বিশেষণ - নীল আকাশ, সবুজ ঘাস, লাল ফিতা।
গুণবাচক বিশেষণ - চালাক ছেলে, ঠাণ্ডা পানি।
অবস্থাবাচক বিশেষণ - চলন্ত ট্রেন, তরল পানি।
ক্রমবাচক বিশেষণ - এক টাকা, আট দিন।
পূরণবাচক বিশেষণ - তৃতীয় প্রজন্ম, দ্বাদশ অধিবেশন।
পরিমানবাচক বিশেষণ - আধা কেজি চাল, অনেক লোক।
উপাদানবাচক বিশেষণ - বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি।
প্রশ্নবাচক বিশেষণ - কেমন গান? কতক্ষণ সময়?
নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ - এই দিনে, সেই সময়।
ভাববাচক বিশেষণ - খুব ভালো খবর। ঘোড়াটি বেশ জরে ছুটছে।
বিধেয় বিশেষণ - লোকটা পাগল। এই পুকুরের পানি ঘোলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

১১৩.
পদ কত প্রকার?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৫
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে পদ বলে।
- বাক্যে অন্তর্গত পদ কে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. বিশেষ্য
২. বিশেষণ
৩. সর্বনাম ও
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়াবিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক ও
৮. আবেগ

উঃস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)
১১৪.
বাংলা ব্যাকরণে পদ রয়েছে _____ প্রকার।
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় পদ প্রধানত ২ প্রকার। যথা নাম ও ক্রিয়া পদ। এর মধ্যে নামপদ ৪ প্রকার। যার কারণে সামগ্রিকভাবে বাংলা ভাষায় পদ ৫ প্রকার। এগুলো হলোঃ বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১৫.
লগ্নক কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
লগ্নক:
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের।

বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু’ পদের ‘টি’ বা ‘টুকু’ হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো’ পদের ‘রা’ বা ‘গুলো’ হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১৬.
"যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না।" বাক্যে 'যেহেতু............তাই' দ্বারা কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. ক) ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) যোজক
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) আবেগ
ব্যাখ্যা

যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন, বিয়োজন অথবা সংকচ ঘটায়। যেমন: এতগুলো বই আর এতগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?

যোজক ৫ প্রকার ।
সাধারন যোজক - নীপা আর দীপা দুই বোন।
বৈকল্পিক যোজক - তিনি হয় ট্রেনে আসবেন না হয় বাসে আসবেন।
বিরোধমূলক যোজক - এত বৃষ্টি হল, তবুও গরম গেল না
কারণবাচক যোজক - যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। 
সাপেক্ষ যোজক - যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বাংলা একাডেমি।

১১৭.
‘বিঘাটেক জমি’ - এখানে 'বিঘাটেক' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক্রমবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. অংশবাচক
  4. উপাদানবাচক
ব্যাখ্যা

‘বিঘাটেক জমি’ পরিমাণবাচক নাম বিশেষণ। 

নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। 

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১১৮.
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ কোনটি?
  1. কোথাও
  2. যথাসময়ে
  3. সামনে
  4. কি
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১৯.
‘আপনা আপনি’ কোন শ্রেণির সর্বনাম?
  1. সংযোগজ্ঞাপক
  2. অন্যাদিবাচক
  3. ব্যতিহারিক
  4. আত্মবাচক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ব্যতিহারিক সর্বনাম।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়:
- ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক - আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
- আত্মবাচক - স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
- সামীপ্যবাচক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
- দূরত্ববাচক - ঐ, ঐসব।
- সাকুল্যবাচক - সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
- প্রশ্নবাচক - কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
- অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক - কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
- ব্যতিহারিক - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর, ইত্যাদি।
- সংযোগজ্ঞাপক - যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা, ইত্যাদি।
- অন্যাদিবাচক - অন্য, অপর, পর, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১২০.
‘ধীরে ধীরে বায়ু বয়’ বাক্যটিতে কিসের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণের বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) বাক্যের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যথা-
ক্রিয়া সংঘঠনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল : পরে একবার এসো।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]

১২১.
নিচের কোনটি উভয়লিঙ্গ শব্দ?
  1. ক) চেয়ার
  2. খ) পিতা
  3. গ) সন্তান
  4. ঘ) রানি
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গ চার প্রকার। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে
ক) পুংলিঙ্গ 
খ) স্ত্রীলিঙ্গ
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ 

উভয়লিঙ্গ:
যেসব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ উভয়ই বোঝায় তাদেরকে উভয়লিঙ্গ বলে, 
উভয়লিঙ্গের উদাহরণ- সন্তান, শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, কবি ইত্যাদি। 

'সন্তান' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়।
তাই 'সন্তান' শব্দটি উভয় লিঙ্গ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১২২.
‘যারা দেশের ডাকে সারা দিতে পারে তারাই তো সত্যিকারের বীরপুরুষ’। এখানে ‘তারাই’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
- বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম সাধারণত ইতোপূর্বে ব্যবহৃত বিশেষ্যের প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দ।
- যেমন: হস্তী প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ প্রাণী। তার শরীরটি যেন বিরাট এক মাংসের স্তুপ।(এখানে তার হচ্ছে সর্বনাম পদ)।
- বিশেষ্য পদ অনুক্ত থাকলেও ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হতে পারে।
- যেমন: যারা দেশের ডাকে সারা দিতে পারে, তারা তো সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। (এখানে তারা হচ্ছে সর্বনাম পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৩.
সব্যয় পদ কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
সব্যয় পদ চার প্রকার। যথা-
১. বিশেষ্য
২. বিশেষণ
৩. সর্বনাম
৪. ক্রিয়া
সূত্রঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১২৪.
মরি মরি ! কী রূপমাধুরী!” বাক্যটির অনন্বয়ী অব্যয়ে কী প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ক) যন্ত্রণা
  2. খ) বিরক্তি
  3. গ) সম্মতি
  4. ঘ) উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা

যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন-
উচ্ছ্বাস প্রকাশে : মরি মরি! কী রূপমাধুরী!
স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে :হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।
সূত্র- এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র(উন্মুক্ত)।

১২৫.
বিশেষ্য পদ কত প্রকার?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৫
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার৷
যথা-
১. নামবাচক বিশেষ্য,
২. জাতিবাচক বিশেষ্য,
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য,
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য,
৫. ভাববাচক বিশেষ্য এবং
৬. গুণবাচক বিশেষ্য।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)

১২৬.
“রকেট অতি দ্রুত চলে” বাক্যে “অতি” কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. অব্যয়ের বিশেষণ
  3. বাক্যের বিশেষণ
  4. বিশেষণীয় বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

“রকেট অতি দ্রুত চলে” বাক্যে “অতি” হচ্ছে বিশেষণীয় বিশেষণ। 

বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা:
- ক. নাম বিশেষণের বিশেষণ: সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
- খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে।

------------------
ক্রিয়া বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
- ক. ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
- খ. ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
- যথা: ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।

বাক্যের বিশেষণ: কখনো কখনো কোনো বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলা হয়।
যেমন:
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১২৭.
জাতিবাচক বিশেষ্য নিচের কোনটি?
  1. ক) সমিতি
  2. খ) সভা
  3. গ) গাছ
  4. ঘ) মাহফিল
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্যঃ যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অপরদিকে,
সমষ্টিবাচক বিশেষ্যঃ যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৮.
নিচের কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না।
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) বিভক্তি
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা

যেসকল অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ) প্রভৃতি শব্দে 'অ' 'অভি' হলো উপসর্গ।

যেসকল শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- 'সাংবাদিক' শব্দে 'ইক' একটি প্রত্যয়।

ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
- 'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো বিভক্তির উদাহরণ।

যেসব শব্দাংশ পদের শেষে যুক্ত হয়ে বক্তব্যকে জোড়ালো করে তাকে বলক বলে।
- 'সে এখনই যাবে' বাক্যে এখনি শব্দের 'ই' দ্বারা শব্দটি জোড়ালো হচ্ছে। তাই এটি বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

১২৯.
‘ইচ্ছা’ বিশেষ্যের বিশেষণ কোনটি নির্দেশ করে?
  1. ঐচ্ছিক
  2. ইচ্ছুক
  3. ইচ্ছাময়
  4. সদিচ্ছা
ব্যাখ্যা
• ইচ্ছা (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- অভিলাষ; স্পৃহা; বাসনা।
- রুচি; প্রবৃত্তি (খাওয়ার ইচ্ছা নাই)।
- অভিপ্রায় (খোদার ইচ্ছায় সব হয়)।

অন্যদিকে,
• ইচ্ছুক (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- অভিলাষী;
- বাসনাযুক্ত
- রাজি;
- সম্মত।

• ঐচ্ছিক ( বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,
- ইচ্ছানুযায়ী,
- ইচ্ছাধীন।

- ঐচ্ছিক এবং ইচ্ছুক দুটিই বিশেষণ পদ।
- কিন্তু এখানে ইচ্ছা- কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে না, বরং একটি বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করছে। তাই এর বিশেষণ হিসেবেও এমন শব্দ চয়ন করা উচিত যেটা কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ না করে একটি বিমূর্ত ধারণাকে প্রকাশ করবে।

• ইচ্ছুক - সাধারণত ব্যক্তিকেই নির্দেশ করে।
• ঐচ্ছিক - বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করে।

সুতরাং, ‘ইচ্ছা’ শব্দের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বিশেষণর পদ হচ্ছে- ঐচ্ছিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩০.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে কী বলা হয়?
  1. কারক 
  2. পদ
  3. অক্ষর 
  4. প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

পদ:
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার।
 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

কারক:
- ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

অক্ষর:
এর ইংরেজি নাম - syllable.অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।

প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৩১.
‘জীবন’ শব্দের বিশেষণ রূপ কি?
  1. ক) জীবনী
  2. খ) জীবাণু
  3. গ) জীবিকা
  4. ঘ) যৌবন
ব্যাখ্যা
জীবন বিশেষ্যের বিশেষণ ‘জীবনী’ । জীবাণু, জীবিকা- বিশেষ্য। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৩২.
ক্রিয়াপদ -
  1. ক) সবসময়ে বাক্যে থাকবে
  2. খ) কখনো কখনো বাক্যে উহ্য থাকতে পারে
  3. গ) শুধু অতীতকাল বোঝাতে বাক্যে ব্যবহৃত হয়
  4. ঘ) আসলে বিশেষণ থেকে অভিন্ন
ব্যাখ্যা
যে পদের দ্বারা কোন কার্য সম্পাদন করা বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
ক্রিয়াপদ বাক্য গঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৩.
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি; এখানে 'অসুস্থ ছেলেটি' কোন ধরণের বর্গের অন্তর্গত?
  1. ক) বিশেষ্যবর্গ
  2. খ) বিশেষণবর্গ
  3. গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশ কে বর্গ বলে। 
নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেয়া হল- 

বিশেষ্যবর্গ:
বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধ পদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্যবর্গ তৈরি হয়। 
যেমন - অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি। 

বিশেষণবর্গ:
বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণবর্গ।
যেমন- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। 

ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ:
যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ বলে। 
যেমন - তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে  গিয়ে দাড়ালাম। 

ক্রিয়া বর্গ:
বাক্যের ইধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় সময় ক্রিয়া বর্গহিসেবেকাজকরে।
যেমন - সে লিখছে আর হাসছে। 
            সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩৪.
কোনটি বিশেষণ বাচক শব্দ?
  1. ক) জীবনী
  2. খ) জীবিকা
  3. গ) জীবাণু
  4. ঘ) জীবন
ব্যাখ্যা

জীবনী বা আয়ু দান করে এমন অর্থে জীবনী বিশেষণ বাচক।
জীবন, জীবিকা ও জীবাণু বিশেষ্য বাচক শব্দ।
কিন্তু জীবনবৃত্তান্ত বা জীবন কাহিনী অর্থে 'জীবনী' বিশেষ্য বাচক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ।
১৩৫.
‘ও, তবু, কারণ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. অনুসর্গ
  2. আবেগ
  3. যোজক
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৩৬.
‘মানুষের ভেতর স্বর্গ নরক।’- এখানে ‘ভেতর’ কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. অনুসর্গ
  2. সর্বনাম
  3. যোজক
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা
• ‘মানুষের ভেতরে স্বর্গ নরক।’-এখানে ‘ভেতর’ নাম অনুসর্গ।
 
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে  শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
 
অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ,
- ক্রিয়া অনুসর্গ।
 
• নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ:
ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে যেসব অনুসর্গ এসেছে সেগুলো নামজাত বা বিশেষ্য অনুসর্গ।
 
নাম অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১৩৭.
পদের শ্রেণিবিভাগ নয় কোনটি?
  1. যোজক
  2. আবেগ
  3. উপসর্গ
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• পদের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়- উপসর্গ। 

• পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়।
যথা:
১. বিশেষ্য, ২. সর্বনাম, ৩. বিশেষণ, ৪. ক্রিয়া, ৫. ক্রিয়াবিশেষণ, ৬. অনুসর্গ, ৭. যোজক ও ৮. আবেগ।

বাক্যে প্রয়োগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। যেমন- যখন বলা হয়: 'লাল থেকে নীল ভালো, তখন 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ। কিন্তু যখন বলা হয়: আমি একটি লাল ফুল তুলেছি- তখন 'লাল' বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১৩৮.
কোনটি অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ-
  1. ক) আমি রাতে খাব না
  2. খ) আকাশে চাঁদ দেখি না
  3. গ) ছেলেটা কথা শোনে
  4. ঘ) আমি টিফিন খেয়েছি
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়ার কর্ম পদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া। যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া। প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে। যেমনঃ অকর্মক : আমি রাতে খাব না। সকর্মক : আমি রাতে ভাত খাব না। অকর্মক : আমি চোখে দেখি না। সকর্মক : আকাশে চাঁদ দেখি না। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৩৯.
‘জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।’ বাক্যে ‘কারণ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. যোজক
  2. উপসর্গ
  3. অনুসর্গ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৪০.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. কি
  2. সামনে
  3. টিপ টিপ
  4. যথাসময়ে
ব্যাখ্যা

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 

যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি। 

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪১.
মধ্যম পুরুষ-এ তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা-জ্ঞাপক সর্বনামের রূপ কোনটি?
  1. ক) ওরা
  2. খ) এরা
  3. গ) ইহারা
  4. ঘ) তোরা
ব্যাখ্যা
মধ্যম পুরুষ-এ তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা-জ্ঞাপক সর্বনামের রূপঃ তুই, তোরা, তোর, তোদের, তোকে।
নাম পুরুষ-এ তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা-জ্ঞাপক সর্বনামের রূপঃ ইহা, ইহারা, এই, এ, এরা, উহা, উহারা, ও, ওরা, ওদের।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৪২.
পদ বিবেচনায় শব্দকে মোট কতভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ছয়
  2. সাত
  3. আট
  4. নয়
ব্যাখ্যা

শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণি ভাগ করে বর্ণনা করা যায়।
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
8. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়াবিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৩.
'সিদ্ধান্ত আবেগ'- এর প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) আরে! তুমি আবার কখন এলে?
  2. খ) ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
  3. গ) যাকগে, ওসব কথা থাক।
  4. ঘ) বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
ব্যাখ্যা
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

⇒ করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৪৪.
অনুকার অব্যয় কোনটি?
  1. ক) ছিঃ
  2. খ) নিশ্চয়ই
  3. গ) বটে
  4. ঘ) ঝম ঝম
ব্যাখ্যা

- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।
যথা-
- বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়,
- বৃষ্টির তুমুল শব্দ - ঝম ঝম,
- শুষ্ক পাতার শব্দ - মর মর,
- বাতাসের গতি - শন শন,
- কোকিলের রব - কুহু কুহু ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৫.
কোনটি বাংলা অব্যয় শব্দ?
  1. ক) আবার
  2. খ) যদি
  3. গ) খুব
  4. ঘ) খাসা
ব্যাখ্যা
বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি। যদি তৎসম অব্যয় শব্দ ; খুব ও খাসা বিদেশি অব্যয় শব্দ। [সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী]
১৪৬.
সদুপায় শব্দটিতে কোন শর্ত অনুসরন করে?
  1. ক) ক/চ/ট/ত/প + স্বর = গ/জ/ড/দ/ব
  2. খ) ক/চ/ট/প/ত + স্বর = খ/ঝ/ঢ/দ/ব
  3. গ) ক/চ/ট/ত/প + ব্যঞ্জন = গ/জ/ড/দ/ব
  4. ঘ) ক/চ/ট/প/ত + স্বর = ঙ/ঞ/ন/ম/ণ
ব্যাখ্যা

সদুপায় শব্দটি ব্যাঞ্জনসন্ধির (ব্যঞ্জন + স্বর) উদাহরণ।
সদুপায় = সৎ + উপায়।
সুত্র: ক/চ/ট/ত/প + স্বর = গ/জ/ড/দ/ব 
অনুরূপভাবে দিগন্ত = দিক্‌ + অন্ত।
এখানে স্বরধ্বনিগুলো ঘোষবৎ হয়। এখানে ঘোষবৎ স্বরধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘোষধ্বনি (ক/চ/ট/ত/প) পরবর্তী ঘোষধ্বনিতে (গ/জ/ড/দ/ব) পরিনত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

১৪৭.
কোনটি পদের নাম নয়?
  1. ক) যোজক
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) আবেগ
ব্যাখ্যা

বাক্যে অন্তর্গত শব্দ বা পদকে ৮ টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যথা:
- বিশেষ্য
- বিশেষণ
- সর্বনাম
- ক্রিয়াবিশেষণ
- ক্রিয়া
- যোজক
- অনুসর্গ
- আবেগ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

১৪৮.
পদ/পদ প্রকরণ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) বাক্যতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) রূপতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
প্রতিটি ভাষারই ৪টি মৌলিক অংশ থাকে-
১. ধ্বনি,
২.শব্দ,
৩. বাক্য ও
৪. অর্থ।

আর তাই সব ভাষার ব্যাকরণই প্রধানত এই ৪টি অংশ নিয়েই আলোচনা করে। অর্থাৎ, ব্যাকরণের বা বাংলা ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয়/ অংশ ৪টি-
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax)
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)

বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম:
- পদ প্রকরণ (শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হলে তখনই সেটাকে পদ বলে। তাই পদ বাক্যের ও পদ প্রকরণ বাক্যতত্ত্বের অন্তর্গত।)
- ক্রিয়াপদ
- কারক ও বিভক্তি (বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে। বাক্যের অন্তর্গত পদ নিয়ে কাজ করে বলে কারকও বাক্যতত্ত্বের অন্তর্গত।)
- কাল
- পুরুষ
- অনুসর্গ
- বাগধারা
- বাচ্য
- উক্তি
- যতি ও ছেদ চিহ্ন (বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে যতি বা ছেদ চিহ্ন ব্যবহার হয়। অর্থাৎ, এরা বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- বাক্যের প্রকারভেদ
- বাক্যে পদ-সংস্থাপনার ক্রম বা পদক্রম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি।
১৪৯.
কোন বাক্যটি ক্রিয়ার সাপেক্ষ ভাব প্রকাশ করছে?
  1. অন্যায় কাজ করো না।
  2. তারা বাড়ি যাবে।
  3. বৃষ্টি আসে আসুক।
  4. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) ভালো করে পড়লে সফল হবে।

সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

অন্যদিকে, 
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব: যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-সে যাক। যা হয় হোক। সে একটু হাসুক। বৃষ্টি আসে আসুক। তার মঙ্গল হোক।

অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। যেমন-
ক. আদেশাত্মক: চুপ কর, তুমি কাল যেও।
খ. নিষেধাত্মক: অন্যায় কাজ করো না।

নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়। যথা-
ক. সাধারণ নির্দেশক : আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায় : আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৫০.
খুব যে বলেছিলে আসবেন! - এ বাক্যে ‘যে’ কোন ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) সময়বাচক
  2. খ) ধরনবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) পদাণু
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও  কি, যে, বা, না, তো প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন :
কি : আমি কি যাব?
যে : খুব যে বলেছিলে আসবেন!
বা : কখনও বা দেখা হবে।
না : একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো : মরি তো মরব।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১৫১.
“তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।” বাক্যে “অথচ” কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

“তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।” বাক্যে “অথচ” সংকোচক অব্যয়। 

সমুচ্চয়ী অব্যয়
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
ক. সংযোজক অব্যয়: আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।
খ. বিয়োজক অব্যয়: বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলোও বিয়োজক অব্যয়।
গ. সংকোচক অব্যয়: অথচ, কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
ঘ. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫২.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে কী বলে?
  1. প্রাতিপাদিক
  2. পদ
  3. প্রত্যয়
  4. বচন
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে- পদ বলে। 

• পদ:
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৫৩.
বাংলা ‘ধীর’ শব্দটির বিশেষ্য রূপ কি?
  1. ক) ধৈর্য
  2. খ) ধীরস্থির
  3. গ) ধীরস্থিরতা
  4. ঘ) ধীরতা
ব্যাখ্যা

ধীর [ধির্‌](বিশেষণ) {(তৎসম বা সংস্কৃত) ধী+√রা+অ(ক)}
১ ধৈর্যশীল; সহিষ্ণু; শোক ও ক্লেমাদিতে অভিভূত (ধীরচিত্ত)।
২ মন্থর; মৃদু; মৃদুমন্দ; অল্প; সামান্য (ধীরগতি, ধীরচলন)।
৩ স্থির; চঞ্চলতাশূন্য (ধীরভাব)।
৪ শান্ত; নম্র; বিনীত (ধীরস্বভাব)।
৫ স্থিরবুদ্ধি (ধীর ব্যক্তি)।
৬ পণ্ডিত; জ্ঞানী; বিজ্ঞ (পরস্পর শাস্ত্রকথা কহে ধীরগণ-ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর)।

অধীর বিপরীতার্থক শব্দ।
ধীরতা, ধীরত্ব (বিশেষ্য)
১ ধৈর্য; ধৃতি (সকল ধীরতা শিক্ষা রসেতে পণ্ডিত-দৌকা)।
২ স্থিরচিত্ততা।
৩ গাম্ভীর্য।
৪ পাণ্ডিত্য।
৫ বুদ্ধিমত্তা।
ধীরপ্রশান্ত (বিশেষ্য) ১ ধীর ও শান্ত।
২ নায়কবিশেষ, যার অনেক গুণ আছে।
ধীরললিত (বিশেষ্য) মৃদু প্রকৃতির নায়কবিশেষ; যে নায়ক নম্র প্রফুল্ল ও নৃত্যগীতাদি প্রিয়।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) ধী+√রা+অ(ক)}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান

১৫৪.
নিচের কোন বাক্যে বিধেয় বিশেষণ ভুলভাবে ব্যবহার হয়েছে? 
  1. মেয়েটি সুন্দরী 
  2. বালিকাটি অস্থির
  3. মেয়েটি দুষ্টু 
  4. সুন্দর মেয়ে  
ব্যাখ্যা

- মেয়েটি সুন্দরী-বাক্যে বিধেয় বিশেষণ ভুলভাবে ব্যবহার হয়েছে। 

বিধেয় বিশেষণ:
- বিশেষণ হলো সেই পদ যা বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে।
- বাক্যে বিশেষণের অবস্থান অনুযায়ী বিশেষণ দুই প্রকার-
১. সাক্ষাৎ বিশেষণ:
- যে বিশেষণ বিশেষিত শব্দের আগে বসে, তাকে সাক্ষাৎ বিশেষণ বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ: লাল ফুল, বিশাল পাহাড়, গভীর নদী, সবুজ চারা।

২. বিধেয় বিশেষণ:
- যে বিশেষণ বাক্যে শেষ অংশে (বিধেয় অংশে) বসে, তাকে বিধেয় বিশেষণ বলা হয়।
- বিধেয় বিশেষণ বিশেষ্যের পরে বসে এবং এর পর আর কোনো বিশেষ্য থাকে না।
- উদাহরণস্বরূপ: ছেলেটি সাহসী, বালিকাটি ধৈর্যশীল, পুকুরের পানি স্বচ্ছ।
- বিধেয় বিশেষণ স্ত্রীবাচক হয় না, পুরুষবাচক হয়।
- যেমন:
- মেয়েটি সুন্দর;
- নারীটি কৃতজ্ঞ;
- মেয়েটি বিদ্বান;
- বালিকাটি অস্থির।

- বিধেয় বিশেষণে মেয়েটি সুন্দরী বলা যাবেনা।
- বলতে হবে- মেয়েটি সুন্দর। 
- কারণ, বিধেয় বিশেষণ স্ত্রীবাচক হয় না, পুরুষবাচক হয়।

- বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দের বিশেষণও সাধারণত পুরুষবাচক রূপে থাকে।
- যেমন:
- সুন্দর বলদ;
- সুন্দর গাই;
- সুন্দর ছেলে;
- সুন্দর মেয়ে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

১৫৫.
কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না'- বাক্যে 'কী আপদ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. ক) সমুচ্চয়ী
  2. খ) অনুকার
  3. গ) অনন্বয়ী
  4. ঘ) পদান্বয়ী
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না' - বিরক্তি প্রকাশে।
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
হ্যাঁ, আমি যাব না। না, আমি যাব না।- স্বীকৃতি জ্ঞাপনে।
আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব - সম্মতি প্রকাশে।
উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে- যন্ত্রণা প্রকাশে।
'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে - সম্বোধনে।
ছি ছি, তুমি এত নীচ! - ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)।
১৫৬.
সকর্মক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত বাক্য কোনটি?
  1. ক) আমি রাতে খাব না।
  2. খ) আমি রাতে ভাত খাব না।
  3. গ) ছেলেটা কানে শোনে না।
  4. ঘ) আমি চোখে দেখি না।
ব্যাখ্যা

- যে ক্রিয়ার কর্ম পদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।
যেমনঃ
অকর্মক: আমি রাতে খাব না। সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না। সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না। সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১৫৭.
নিচের কোন শব্দযুগল সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) নদী ও সাগর
  2. খ) বই ও পাহাড়
  3. গ) মিছিল ও জনতা
  4. ঘ) পরিবার ও ভোজন
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, কল্প, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলােকে বিশেষ্য বলে।
যেমন – নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভােজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
- নাম-বিশেষ্য
- জাতি-বিশেষ্য
- বস্তু-বিশেষ্য
- সমষ্টি-বিশেষ্য
- গুণ-বিশেষ্য
- ক্রিয়া-বিশেষ্য

সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বােঝায়।
যেমন – জনতা, পরিবার, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।


তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি 
১৫৮.
‘চটপটে ছেলে’ এখানে ‘চটপটে’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:
বিশেষণ হলো সেই শব্দশ্রেণি যা অন্য শব্দের অর্থকে বিশাদ বা সীমিত করে শব্দটিকে বিশেষিত করে। বিশেষণ যখন কোনো কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তখন বিশেষ্য শব্দের অর্থ বিশাদ হয়।
যেমন:
- সাদা বাড়ি।
- সুন্দর বাগান।
- চটপটে ছেলে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫৯.
নিচের কোনটি অলংকার আবেগ এর উদাহরণ?
  1. উহ ! কি বিপদে পরা গেল।
  2. দূর ! এ কথা কি বলতে আছে? 
  3. আরে ! তুমি আবার কখন এলে?
  4. আহা ! বেচারার কত কষ্ট।
ব্যাখ্যা
অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
যাকগে, ওসব কথা থাক। 
দূর ! এ কথা কি বলতে আছে? 
============================ 
অন্যদিকে, 
 বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি ! এরকম কথা মুখে মানায় না।

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ ! কি বিপদে পরা গেল।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে ! তুমি আবার কখন এলে?

করুণা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা ! বেচারার কত কষ্ট।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬০.
কোনটি পদের নাম নয়?
  1. আবেগ
  2. যোজক
  3. সর্বনাম
  4. বিভক্তি 
ব্যাখ্যা
• পদ বিবেচনায় শব্দ - ৮ প্রকার।

• পদ:
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।

- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ

অন্যদিকে,
- 'বিভক্তি' পদের নাম নয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১৬১.
‘সাইরেন বেজে উঠল’ বাক্যটি যৌগিক ক্রিয়ার কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. তাগিদ দেওয়া
  2. কার্যসমাপ্তি
  3. আকস্মিকতা
  4. নিরন্তরতা
ব্যাখ্যা

'সাইরেন বেজে উঠল' বাক্যটি যৌগিক ক্রিয়ার আকস্মিকতা অর্থ প্রকাশ করে। 

যৌগিক ক্রিয়া: একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

উদাহরণসমূহ:
ক. তাগিদ দেওয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ।
খ. নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন।
গ. কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
ঘ. আকস্মিকতা অর্থে: সাইরেন বেজে উঠল।
ঙ. অভ্যস্ততা অর্থে: শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
চ. অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৬২.
'প্রলুব্ধ' শব্দের বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) প্রলিপ্ত
  2. খ) প্রলোভিত
  3. গ) প্রলোভন
  4. ঘ) প্রলেপক
ব্যাখ্যা
 প্রলুব্ধ/ প্রলোভিত' শব্দের বিশেষ্য রূপ = 'প্রলোভন'

• প্রলোভন (বিশেষ্য) 
অর্থ: লুব্ধকরণ, লোভজনক বিষয় 

• প্রলুব্ধ  (বিশেষণ) 
অর্থ: অতিশয় লোভাতুর,
- আকৃষ্ট

• প্রলোভ (বিশেষ্য) 
অর্থ: অতিরিক্ত লোভ 

• প্রলিপ্ত (বিশেষণ) 
অর্থ: উত্তমরূপে লেপন করা হয়েছে এমন। 

• প্রলেপক (বিশেষণ) 
অর্থ: প্রলেপকারী, লেপক। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৬৩.
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। এখানে 'ভারী সুন্দর' কোন বর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বিশেষ্যবর্গ
  2. খ) বিশেষণবর্গ
  3. গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বর্গ
ব্যাখ্যা

আমটা দেখতে ভারী সুন্দর- এখানে 'ভারী সুন্দর' বিশেষণ বর্গের উদাহরণ।
- এখানে 'আম' বিশেষ্যের বিশেষণ রূপে ভারী সুন্দর ব্যবহৃত হয়েছে।  
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশ কে বর্গ বলে। 

নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেয়া হল- 
বিশেষ্যবর্গ:
বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধ পদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্যবর্গ তৈরি হয়। 
যেমন - অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি। 
             আমার ভাই পড়তে বসেছে।  
            রহিম ও করিম বৃষ্টিতে ভিজছে। 

বিশেষণবর্গ:
বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণবর্গ।
যেমন- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। 
           ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ

ক্রিয়াবিশেষণ
বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ বলে। 
যেমন - সকাল আটটার সময় সে রওনা হলো।
            তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে  গিয়ে দাড়ালাম। 

ক্রিয়া বর্গ:
বাক্যের ইধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় সময় ক্রিয়া বর্গহিসেবেকাজকরে।
যেমন - সে লিখছে আর হাসছে। 
            সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

১৬৪.
সম্ভ্রমার্থে সর্বনামে কোনটি সংযোজিত হয়?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) চন্দ্রবিন্দু
  4. ঘ) বিসর্গ
ব্যাখ্যা
সম্ভ্রমার্থে সর্বনামে চন্দ্রবিন্দু সংযোজিত হয়।যেমনঃ তাদের(তুচ্ছার্থে)→তাঁদের(সম্ভ্রমার্থে)। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৬৫.
যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে কী বলে?
  1. বিভক্তি
  2. প্রত্যয়
  3. উপসর্গ
  4. বলক
ব্যাখ্যা
বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- 'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।

প্রত্যয়:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
১৬৬.
'বেশ, তবে যাওয়াই যাক।' - এখানে কোন ধরনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. সিদ্ধান্ত আবেগ
  2. বিরক্তি আবেগ
  3. বিস্ময় আবেগ
  4. আতঙ্ক আবেগ
ব্যাখ্যা

সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয় ।

যেমন:
- হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

অন্যদিকে, 
বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
- জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের আবেগ-শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন –
- উহ্, কী বিপদে পড়া গেল ৷
- বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন –
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্, কী চমৎকার দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৬৭.
বিশেষ্য পদ কত প্রকার?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাচঁ
  4. ঘ) ছয়
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার৷ যথা- নামবাচক বিশেষ্য, জাতিবাচক বিশেষ্য, বস্তুবাচক বিশেষ্য, সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, ভাববাচক বিশেষ্য এবং গুণবাচক বিশেষ্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৬৮.
জ্বালা ! তোমাকে নিয়ে আর পারিনা !- কী ধরনের আবেগ?
  1. ক) প্রশংসা আবেগ
  2. খ) সিদ্ধান্ত আবেগ
  3. গ) আতঙ্ক আবেগ
  4. ঘ) বিরক্তি আবেগ
ব্যাখ্যা
জ্বালা ! তোমাকে নিয়ে আর পারিনা !- এখানে বিরক্তি আবেগ প্রকাশ পেয়েছে। 

আবেগ:
মনের নানা ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন – ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

নিচে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো।
সিদ্ধান্ত আবেগ:
এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাব প্রকাশ করা হয় ।
যেমন -
- হ্যাঁ, আমাদের জিততেই হবে।
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক ।

বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন –
- ছি ছি! এরকম কথা তার মুখে মানায় না।
- জ্বালা! তোমাকে নিয়ে আর পারি না!

আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের আবেগ-শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রণা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন –
- উহ্, কী বিপদে পড়া গেল ৷
- বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষসটা।

বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ করে।
যেমন –
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্, কী চমৎকার দৃশ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৯.
অবস্থাবাচক বিশেষণ আছে কোনটিতে?
  1. ক) নীল আকাশ
  2. খ) তাজা মাছ
  3. গ) ঠাণ্ডা হাওয়া
  4. ঘ) বেলে মাটি
ব্যাখ্যা

নাম বিশেষণ : যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ :
ক. রূপবাচক : নীল আকাশ, কালো মেঘ
খ. গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া
গ. অবস্থাবাচক : তাজা মাছ, রোগা ছেলে
ঘ. সংখ্যাবাচক : হাজার লোক, দশ টাকা
ঙ. ক্রমবাচক : দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা
চ. পরিমাণবাচক : পাঁচ শতাংশ ভূমি, দু কিলোমিটার রাস্তা
ছ. অংশবাচক : অর্ধেক সম্পত্তি, সিকি পথ
জ. উপাদানবাচক : বেলে মাটি, মেটে কলসি
ঝ. প্রশ্নবাচক : কতদূর পথ, কেমন অবস্থা
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক : এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১৭০.
কৃদন্ত পদের পূর্বের নাম পদকে কী বলে?
  1. ক) প্রাতিপদিক
  2. খ) ধাতু
  3. গ) প্রকৃতি
  4. ঘ) উপপদ
ব্যাখ্যা
কৃদন্ত পদের আগে নামপদ যুক্ত হলে থাকে উপপদ বলে।
আর এই সমাসকে বলা হয় উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন : ছেলেধরা
এখানে ধরা কৃদন্ত পদের পূর্বে ছেলে নাম পদ যুক্ত হয়েছে বলে ছেলে শব্দটি উপপদ।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১৭১.
‘পরিবার’ শব্দটি কি ধরনের বিশেষ্য? 
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. সমষ্টি-বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
• যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
• যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। 

♠ বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন - 
• ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা। স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।  
• কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান। 
• সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা। 

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ফুল, নদী ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, বাহিনী ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন - সরলতা, দয়া, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৭২.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. সৌরভ
  2. গমন
  3. যৌবন
  4. তারুণ্য
ব্যাখ্যা

গমন ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ), দেখা, শোনা।

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
- যথা: মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা,
- তরল দ্রব্যের গুণ = তারল্য,
- তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ = তিক্ততা,
- তরুণের গুণ = তারুণ্য।
- তদ্রূপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১৭৩.
"এখানে বসো।"- এ বাক্যে ‘এখানে’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অনুসর্গ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।

- যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কোথায় বা কোন স্থানে সংঘটিত হচ্ছে বোঝায় তাকে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন :
আমার সামনে দাঁড়াও।
এখানে বসো।
বড় মামা মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন।
চশমাটা কোথায় হাড়িয়েছি জানি না।

• "এখানে বসো।" (কোথায় বসো?—এখানে।) 
- স্থান নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত শব্দগুলো ক্রিয়া বিশেষণ হতে পারে। তাই, এখানে- ক্রিয়াবিশেষণ।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৪.
বাংলা বানানে বিসর্গ এর অবস্থান কোথায়?
  1. ক) পদের শুরুতে
  2. খ) পদান্তে
  3. গ) পদ মধ্যস্থানে
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

বাংলা বানানে বিসর্গ এর অবস্থান:
- পদান্তে বিসর্গ থাকবে না
যেমন: প্রথমত, দ্বিতীয়ত, ক্রমশ, প্রধানত, বস্তুত, মূলত।
- পদমধ্যস্থ বিসর্গ থাকবে
যেমন: অন্তঃস্থ, দুঃখ, দুঃসহ, নিঃশব্দ, পুনঃপুন, স্বতঃস্ফূর্ত। 
- আভিধানসিদ্ধ হলে পদমধ্যস্থ বিসর্গ হবে না। 
যেমন: দুস্থ, নিশ্বাস, নিস্পৃহ, বহিস্থ, মনস্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৭৫.
‘বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।’ বাক্যে কোন ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কারণ যোজক
  2. সাধারণ যোজক
  3. বিকল্প যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
⇒ যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৭৬.
নিচের কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়া-বিশেষণের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  2. খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
  3. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  4. আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি। 
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি। 

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭৭.
বিরোধ যোজকের উপস্থিতি আছে কোন বাক্যে?
  1. ক) এত প্রস্তুতি নিলাম, কিন্তু আশানুরুপ ফল পেলাম না
  2. খ) যত পড়ছি তত জানার আগ্রহ বাড়ছে
  3. গ) রীমা এবং সীমা এই কাজটি করেছে
  4. ঘ) হাতে সময় কম তাই চলে যেহে হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
- যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

যোজকের প্রকারভেদ:
বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

- সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৭৮.
সুস্থ-সবল দেহকে কে না ভালবাসে? বাক্যটিতে ‘সুস্থ-সবল’ হল-
  1. ক) বাক্যের বিশেষণ
  2. খ) বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণের বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনামের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে বিশেষণ পদ কোন বিশেষ্য বা সর্বনামকে বিশেষিত করে তাকে, নাম বিশেষণ বলে। ‘সুস্থ-সবল দেহকে কে না ভালবাসে?’ এখানে দেহ বিশেষ্য পদ। এ পদটিকে বিশেষিত করেছে সুস্থ-সবল। তাই ‘সুস্থ- সবল’ বিশেষ্যের বিশেষণ। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৭৯.
আমার সামনে দাঁড়াও- এ বাক্যে ‘সামনে’ কোন পদ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
- যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কোথায় বা কোন স্থানে সংঘটিত হচ্ছে বোঝায় তাকে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন :
আমার সামনে দাঁড়াও।
এখানে বসো।
বড় মামা মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন।
চশমাটা কোথায় হাড়িয়েছি জানি না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮০.
‘মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন’ বাক্যে প্রযোজ্য কর্তা কে?
  1. মা
  2. শিশু
  3. চাঁদ
  4. খাচ্ছেন
ব্যাখ্যা

‘মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন’ বাক্যে প্রযোজ্য কর্তা হচ্ছে "শিশুকে"। 

প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া একজনের (কর্তার) প্রযোজনা বা চালনায় অন্যের দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
- সংস্কৃতে একে ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়।
উদাহরণ:
চাঁদ দেখাচ্ছেন = প্রযোজক ক্রিয়া। 

প্রযোজক কর্তা:
- যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
মা = প্রযোজক কর্তা। 

প্রযোজ্য কর্তা:
- যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
শিশুকে = প্রযোজ্য কর্তা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৮১.
‘যদি ও তবে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. উপসর্গ
  2. আবেগ
  3. অনুসর্গ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৮২.
‘ছেলেরা ক্রিকেট খেলে’-বাক্যে ‘ক্রিকেট’ পদটি -
  1. বলক
  2. সলগ্নক পদ
  3. বচন
  4. অলগ্নক পদ
ব্যাখ্যা
গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের। যথা -
- অলগ্নক পদ,
- সলগ্নক পদ। 
 
সলগ্নক পদ:
• বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে। যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক পদ।
 
অলগ্নক পদ:
• যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে। যেমন -
'ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
১৮৩.
'জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো'- বাক্যে ‘এবং’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. অনুসর্গ
  2. যোজক
  3. আবেগ
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৮৪.
'তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না' - বাক্যে নিম্নরেখ পদটি কী ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ধরনবাচক
  2. নেতিবাচক
  3. পদাণু
  4. স্থানবাচক
ব্যাখ্যা
নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
- এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- সে এখন যাবে না
- তিনি বেড়াতে যাননি
- এমন কথা আমার জানা নেই
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮৫.
‘আর, অথবা, কারণ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. যোজক
  2. অনুসর্গ
  3. আবেগ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৮৬.
'বন্য' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- "বন্য" শব্দটি একটি — বিশেষণ পদ।

• 'বন্য' (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- বনে জাত বা উৎপন্ন, বুনো।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮৭.
'প্রচুর' শব্দের বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) প্রাচুর্য
  2. খ) প্রাচুর্য্য
  3. গ) প্রাচুর্যতা
  4. ঘ) প্রাচুর্য্যতা
ব্যাখ্যা
'প্রচুর' শব্দের বিশেষ্য রূপ = 'প্রাচুর্য'

প্রচুর (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্র+√চুর্‌+অ
অর্থ: ঢের, পর্যাপ্ত

প্রাচুর্য (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রচুর+য
অর্থ:
- আধিক্য
- বাহুল্য
- প্রচুরতা 
- ধনাঢ্যতা 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৮৮.
সাধারণ বাক্যের প্রধান অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) কর্তা
  2. খ) পদ
  3. গ) কর্ম
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবােধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।

সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ:
- কর্তা,
- কর্ম ও
- ক্রিয়া।

- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা।
- যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮৯.
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।' বাক্যে 'টাপুর টুপুর' কোন পদ?
  1. ক) অনুসর্গ অব্যয়
  2. খ) অনন্বয়ী অব্যয়
  3. গ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে। যথা- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়, বৃষ্টির তুমুল শব্দ- ঝম ঝম, শুষ্ক পাতার শব্দ- মর মর, বাতাসের গতি-, শন শন, কোকিলের রব- কুহু কুহু, বৃষ্টি পড়ার শব্দ- টাপুর টুপুর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯০.
'যদি রোধ ওঠে, তবে রওনা দেবো'- বাক্যটিতে কোন ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কারণ যোজক
  2. বিরোধ যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. বিকল্প যোজক
ব্যাখ্যা
'যদ রোধ ওঠে, তবে রওনা দেবো'- বাক্যটিতে 'সাপেক্ষ যোজক' ব্যবহৃত হয়েছে।  

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন – যত গর্জে তত বর্ষে না। 
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

• কারণ যোজক: 
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন – যেহেতু ঠান্ডা লেগেছে তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। 
জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি। 
বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে ।
যেমন – সারাদিন খুঁজলাম অথচ বইটা পেলাম না। 
লাল বা নীল কলমটা আনো ৷
চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন - এত বৃষ্টি হলো তবু গরম গেল না। 
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না ৷
তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৯১.
'নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশী' এ বাক্যে 'নিশীথ' কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে 'নিশীথ' বিশেষণ পদ।
উদাহরণ- 
বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯২.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. পদ
  2. বাক্যাংশ
  3. প্রকৃতি
  4. পদাণু
ব্যাখ্যা
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের:

বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু’ পদের ‘টি’ বা ‘টুকু’ হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো’ পদের ‘রা’ বা ‘গুলো’ হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৩.
'বীরত্ব' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ- 
  1. নামবাচক-বিশেষ্য
  2. বস্তুবাচক-বিশেষ্য
  3. গুণবাচক-বিশেষ্য
  4. জাতিবাচক-বিশেষ্য
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

'বীরত্ব' গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 
--------------------------
বিশেষ্য পদ:
- যে শব্দ বা পদ দিয়ে ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, জাতি, গুণ কিংবা কোনো কাজের নাম প্রকাশ করা হয়, তাকে বিশেষ্য পদ (Noun) বলা হয়।
- বিশেষ্য মূলত কোনো কিছুর নাম নির্দেশ করে এবং বাক্যের গঠন ও অর্থ প্রকাশে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণ:
- সালাম, বরকত, ওয়াজেদ আলী, লক্ষ্মীপুর, শ্রীলঙ্কা, এভারেস্ট, বই, কলম, পাখি, নদী, সততা, দয়া, ভোজন।
------------------------- 
•  বিশেষ্য পদ ৬ প্রকার:
• নামবাচক-বিশেষ্য: 
- কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান, সময় বা সৃষ্টির নাম বোঝায়।
- ব্যক্তিনাম: ললিতা, খুশি। 
- স্থাননাম: যশোর, নারায়ণগঞ্জ, কর্ণফুলী, দার্জিলিং। 
- কালনাম: শনিবার, আষাঢ়, মার্চ, রমজান। 
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চয়িতা, প্রথম আলো, সাবাস বাংলাদেশ। 

• জাতিবাচক-বিশেষ্য: 
- যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী, বস্তু বা স্থানের নাম না বলে, বরং একই জাতিভুক্ত প্রাণী, বস্তু বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝানো হয়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- উদাহরণ: 
- মানুষ, বাঘ, গরু, ভাল্লুক, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি। 

• বস্তুবাচক-বিশেষ্য:
- কোনো বস্তু বা দ্রব্যের নাম বোঝায়।
- উদাহরণ:
- বই, খাতা, কলম, টেবিল, চেয়ার, মাটি, পানি, সোনা, চিনি, লবণ ইত্যাদি। 

• সমষ্টিবাচক-বিশেষ্য:
- কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর দল বা সমষ্টি বোঝায়।
- উদাহরণ:
- মানুষের ক্ষেত্রে: জনতা, কমিটি, জুরি, জনসমাগম ইত্যাদি।
- প্রাণীর ক্ষেত্রে: হাতির পাল, মেষের ঝাঁক ইত্যাদি। 
- বস্তুর ক্ষেত্রে: লাইব্রেরি, নৌবহর, তোড়া ইত্যাদি। 

• গুণবাচক-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদ দিয়ে কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীর গুণ, দোষ, অবস্থা, ধর্ম কিংবা মানসিক ভাবের নাম প্রকাশ করা হয়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলা হয়।
- উদাহরণ:
- উদারতা, বীরত্ব, ভদ্রতা, তারুণ্য, বার্ধক্য, অসুস্থতা, দারিদ্র্য, প্রেম, ক্রোধ, ভক্তি, করুণা, সততা, অসুস্থতা, দারিদ্র্য, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, ধৈর্য, সাহস, 

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- কোনো কাজ বা ক্রিয়ার নাম বোঝায়।
- উদাহরণ:
- পঠন, ভোজন, শয়ন, গমন, দর্শন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 

১৯৪.
'চলন্ত ট্রেন' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক) ভাববাচক
  2. খ) উপাদানবাচক
  3. গ) অবস্থাবাচক
  4. ঘ) গুণবাচক
ব্যাখ্যা
• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ।

 অন্যান্য অপশন:
• ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে’ ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১৯৫.
'অধ্যয়ন' শব্দের বিশেষণ কী?
  1. অধ্যয়নকৃত
  2. অধীত
  3. অধ্যয়নরত
  4. পঠিত
ব্যাখ্যা

'অধ্যয়ন' শব্দের বিশেষণ হচ্ছে - অধীত।

উল্লেখ্য,
- 'অধ্যয়ন’ শব্দটি - বিশেষ্য পদ।
- ‘'অধ্যয়ন’ শব্দের অর্থ - পঠন; অভিনিবেশ সহকারে পাঠ।
- “অধীত” শব্দটি বিশেষণ পদ।
- ‘অধীত’ শব্দের অর্থ - পাঠ করা হয়েছে এমন, পঠিত।

অন্যদিকে,
‘অধ্যয়নরত’ শব্দটি - বিশেষণ পদ।
‘অধ্যয়নরত’ শব্দের অর্থ - গভীর মনোযোগ সহকারে পাঠ করছে এমন।

‘পঠিত’ শব্দটি - বিশেষণ পদ।
‘পঠিত’ শব্দের অর্থ - পাঠ করা হয়েছে এমন, অধীত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৯৬.
বাংলা ব্যাকরণে 'পদ' বলতে কি বোঝায়?
  1. কবিতার চরণ
  2. যে কোন শব্দ
  3. বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতু
  4. প্রত্যয়ন শব্দ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ব্যাকরণে বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে পদ বলে। 
-------------- 
• পদ:

- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৭.
না' শব্দটি?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
না (অব্যয় পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ক্রিয়ার অঘটন বা নিষেধ (এখন যেয়ো না)।
- অভাব (না আছে বিদ্যা না আছে বুদ্ধি)। 
- অনুরোধ বা অনুজ্ঞা (আমায় করতে দাও না)। আধিক্য (কত না ধন এ জগতে)।
- প্রশ্ন বা সন্দেহ (খাবে না?)।
- বিকল্প (কোনো না কোনো)।
- বিনা (না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখিজলে। রবীন্দ্র.)

অন্যদিকে,
• না অব্যয় পদ হিসেবে নঞর্থক বাংলা উপসর্গবিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

আবার, 
• না বিশেষ্য পদ হিসেবে অঞ্চলিক ভাষায় নৌকা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- না নিয়ে গেল বোয়াল-মাছে।

তবে ‘না’ শব্দের বহুল ব্যবহার হয় অব্যয় পদ হিসেবেই। তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ঘ’ গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯৮.
নিচের কোনটি সমষ্টি বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. নদী
  2. জনতা
  3. মানুষ
  4. হিমালয়
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য পদ:
- কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে।
- বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

• বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য: যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়,তাকে সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
(ক) ব্যক্তির নাম: নজরুল, ওমর, আনিস, মাইকেল।
(খ) ভৌগোলিক স্থানের: ঢাকা, দিল্লি, লন্ডন, মক্কা।
(গ) ভৌগোলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি) মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর।
(ঘ) গ্রন্থের নাম: 'গীতাঞ্জলি', 'অগ্নিবীণা', 'দেশে বিদেশে', 'বিশ্বনবি'।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮- সংস্করণ)।

১৯৯.
সর্বনামের বিভক্তিগ্রাহী রূপ নেই কোন কারকের?
  1. ক) কর্তৃ কারকের
  2. খ) কর্ম কারকের
  3. গ) সম্প্রদান কারকের
  4. ঘ) অপাদান কারকের
ব্যাখ্যা
বাংলা সর্বনামসমূহ কর্তৃকারক ভিন্ন অন্যান্য কারকে বিভক্তিযুক্ত হওয়ার পূর্বে একটি বিশেষ রূপ পরিগ্রহ করে। সর্বনামের এ রূপটিকে বিভক্তিগ্রাহী রূপ বলা হয়। কর্তকারকে সর্বনামের মূল রূপটিই ব্যবহৃত হয় এবং একে প্রথমা বিভক্তিযুক্ত একবচন ধরা হয়। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২০০.
'সে আমার চেনা লোক' -বাক্যে 'চেনা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
বিশেষণ পদ:
-যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- 
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।