বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

খাদ্য, পুষ্টি ও পরিমাপকসমূহ

মোট প্রশ্ন২৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

খাদ্য, পুষ্টি ও পরিমাপকসমূহ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২৬৪

১০১.
অতিবেগুনী রশ্মির সাহায্যে ভিটামিন ডি তৈরীর শেষ ধাপ সংগঠিত হয়-
  1. ক) লিভারে
  2. খ) কিডনিতে
  3. গ) অগ্ন্যাশয়ে
  4. ঘ) অন্ত্রে
ব্যাখ্যা
সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমে থাকা কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ডি তৈরী হয়। সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরীর শেষ ধাপ সংগঠিত হয় কিডনিতে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১০২.
কচু শাকে কোন মূল্যবান খাদ্য উপাদানটি রয়েছে?
  1. ক) লৌহ
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) থায়ামিন
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
কচু নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
১) কচুর শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বি, সি,ক্যালসিয়াম ও লৌহ। ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্য রাতকানা প্রতিরোধ করে আর ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ছোট বেলা থেকেই কচুর শাক খাওয়ানো উচিত।
২) কচুতে আছে আয়রন, যা রক্ত শূন্যতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৩) কচুতে আছে নানা রকমের ভিটামিন যা গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য দারুন উপকারি।
৪) কচুর ডাঁটায় প্রচুর পরিমানে পানি থাকে,তাই গরমের সময় কচুর ডাঁটায় রান্না করে খেলে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয়।
৫) কচুর শাকে পর্যাপ্ত পরিমানে আঁশ থাকে যা হজমে সহায়তা করে।
৬) কচুতে আছে প্রচুর ফাইবার, ফোলেট ও থায়ামিন যা মানব শরীরের জন্য অনেক দরকারি উপাদান।
৭) কচু খেলে রক্তের কোলেস্টরল কমে তাই উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের জন্য ওল কচুর রস বেশ উপকারী।
8) নিয়মিত কচু খেলে কোলন ক্যান্সার ও ব্রেষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
৯) কচু শাক বা কচু খেলে অনেক সময় গলা চুলকায়; কারণ কচুতে ক্যালসিয়াম অক্সলেট আছে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই ও পত্রিকার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
১০৩.
প্রােটিন তৈরি হয়-
  1. ফ্যাটি এসিড দিয়ে
  2. সাইট্রিক এসিড দিয়ে
  3. অ্যামিনাে এসিড দিয়ে
  4. অক্সালিক এসিড দিয়ে
ব্যাখ্যা
• প্রােটিন তৈরি হয় অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে।

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত।
- আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।
- প্রােটিন গঠনকারী অ্যামাইনাে অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনাে অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এই ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলাে হলাে:
১. লাইসিন,
২. লিউসিন,
৩. আইসােলিউসিন,
৪. মিথিওনিন,
৫. ট্রিপটোফ্যান,
৬. ভ্যালিন,
৭. ফিনাইল অ্যালানিন,
৮. থ্রিওনিন।

উৎস:
১. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
১০৪.
নিচের কোনটি দ্বি-শর্করা পুষ্টি উপাদান?
  1. ক) গ্লাইকোজেন
  2. খ) গ্লুকোজ
  3. গ) ফ্রুক্টোজ
  4. ঘ) সুক্রোজ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ হলো এক শর্করা পুষ্টি উপাদান।
- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ হলো দ্বি-শর্করা পুষ্টি উপাদান।
- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন হলো বহু শর্করা পুষ্টি উপাদান।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১০৫.
বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ বলতে কী বুঝায়?
  1. শরীরের ওজন কম
  2. সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান
  3. অতিরিক্ত ওজন
  4. মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
• বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার) 

বিএমআই মান ⇒ করণীয় 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৬.
কড মাছের তেলে কোন ধরণের ভিটামিন অধিক পরিমাণে রয়েছে?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন বি
  3. গ) ভিটামিন ই
  4. ঘ) ভিটামিন কে
ব্যাখ্যা
কড মাছের তেলে ভিটামিন এ এর পরিমাণ অধিক পরিমাণে রয়েছে।

উৎস : ভিটামিন এ এর ভালো প্রাণিজ উৎসগুলো হলে-ডিম, দুধ, ছানা, মাখন, ঘি, পনির, কলিজা, ও কড় মাছের তেল। গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পাকা আম, গাঢ় সবুজ শাক, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল এবং লাল শাক, কচু শাক, পুঁই শাক, পাট শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, পুদিনা পাতা ইত্যাদি ভিটামিন এ এর উদ্ভিজ্জ উৎস।

ভিটামিন এ এর কাজ- 
১। দৃষ্টি শক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে ।
২। দাঁত ও অস্থি গঠনে সহায়তা করে
৩। দেহের বিভিন্ন আবরককলা যেমন- ত্বক, চোখের কর্ণিয়া, বৃক্ক ইত্যাদি স্বাভাবিক ও সজীব রাখে।
৪ । রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে ।

অভাবজনিত অবস্থা : এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। দীর্ঘদিনের অভাবে ব্যক্তি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: ১৫ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৭.
অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড কোনটি?
  1. ক) লাইসিন
  2. খ) লিউসিন
  3. গ) মিথিওনিন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এরা দেহে তৈরি হতে পারে না। বিশেষ বিশেষ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য হতে এসমস্ত অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো মানবদেহে সরবরাহ করতে হয়। এদের অত্যাবশ্যক বা অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে ।

এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো- 
১। লাইসিন
৫। ট্রিপটোফ্যান
২। লিউসিন
৬। ভ্যালিন
৩। আইসোলিউসিন
৭। ফিনাইল অ্যালানিন
৪। মিথিওনিন
৮। থ্রিওনিন

দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, ছানা ইত্যাদিতে প্রায় সবকটি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।

সূত্র: ৫ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০৮.
কোন ধরনের শর্করা দেহে সরাসরি শোষিত হয়? 
  1. দ্বি-শর্করা
  2. বহু শর্করা
  3. সরল শর্করা
  4. আঁশজাতীয় শর্করা
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 
- শর্করা জাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন। 
- উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে জমা থাকে। 
- ফলের রসের গ্লুকোজ, দুধের ল্যাকটোজ, গম, আলু, চাল ইত্যাদি শর্করাজাতীয় খাদ্যের বিভিন্ন রূপ। 
- গঠনপদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
- নিচের সারণিতে এই তিন ধরনের শর্করার গঠন এবং উৎস দেখানো হলো- 

- প্রধানত চাল, গম, আলু থেকে শ্বেতসার পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না, এজন্য চাল, আটা, আলু ইত্যাদি রান্না করে খাওয়া হয়। 
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা এবং বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়। 
- মানব পরিপুষ্টির জন্য সরল শর্করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানবদেহ শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৯.
ফলিক এসিড কোন ভিটামিনের রাসায়নিক নাম?
  1. ভিটামিন বি১
  2. ভিটামিন বি৯
  3. ভিটামিন বি৬
  4. ভিটামিন বি৩
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন B কমপ্লেক্সভুক্ত বিভিন্ন ভিটামিনের রাসায়নিক নাম।
- B1 - Thiamin (থায়ামিন)। 
- B2 - Riboflavin (রিবোফ্লাভিন)। 
- B3 - Niacin (নিয়াসিন)। 
- B5 - Pantothenic acid (প্যানটোথেনিক এসিড)। 
- B6 - Pyridoxine (পাইরিডক্সিন)। 
- B7 - Biotin (বায়োটিন)। 
- B9 - Folate [folic acid) (ফোলেট, ফলিক এসিড)। 
- B12 - Cobalamin (কোবালামিন)। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
১১০.
প্রোটিনের কোন রাসায়নিক পদার্থটি দেহে বৃদ্ধি সাধন করে?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন
ব্যাখ্যা
- প্রানি কোষের অন্যতম উপাদান হচ্ছে প্রোটিন। 
- প্রোটিনে নাইট্রোজেন থাকার কারণে দেহের বৃদ্ধিসাধন করে এবং ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের অভাব পূরণ করতে পারে। 
- প্রাণিজ প্রোটিনে অত্যাবশ্যক এমাইনো এসিড থাকার কারণে একে সম্পূর্ণ প্রোটিন বলা হয়। 
- অত্যাবশ্যক এমাইনো এসিড কম থাকার কারণে উদ্ভিজ আমিষ অসম্পূর্ণ প্রোটিন হিসেবে চিহ্নিত। 
- প্রয়োজন অনুপাতে সময়মত প্রোটিন গ্রহণ অপরিহার্য।
 
উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১১.
নিচের কোনটি স্নেহ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে?
  1. ট্রিপসিন
  2. লাইপেজ
  3. টায়ালিন
  4. অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। 
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১১২.
ভিটামিন - ই এর কাজ -
  1. জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে
  2. নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে
  3. অকাল বার্ধক্য রোধ করে
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন - ই (Vitamin - E):

• ভিটামিন - ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
• এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

- ভিটামিন - ই এর উৎস:
• সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন - নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস। শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
• ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

- ভিটামিন - ই এর কাজ:
•  ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
• জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে।
• নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
• নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
• অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
• ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

- ভিটামিন - ই এর অভাবজনিত অবস্থা: 
• নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
• ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
• গর্ভপাত হতে পারে।
• অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৩.
হাড় ও দাঁত শক্ত রাখার জন্য অত্যাবশ্যক খনিজ উপাদান কোনটি?
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 
- উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁত শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। 
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৪.
রক্তনালীর ভিতরে রক্ত জমাট বাধতে দেয় না -
  1. ক) ভিটামিন কে
  2. খ) হেপারিন
  3. গ) হিমোগ্লোবিন
  4. ঘ) বিলিরুবিন
ব্যাখ্যা

রক্তবাহিকার অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না, কারণ সেখানে হেপারিন নামে এক পদার্থ সংবহিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।

১১৫.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা কত? 
  1. ক) ০.০৫ মিলিগ্রাম/লিটার
  2. খ) ০.০৩ মিলিগ্রাম/লিটার
  3. গ) ০.০২ মিলিগ্রাম/লিটার
  4. ঘ) ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার
ব্যাখ্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার। 

- আর্সেনিক দূষণ  ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক দূষণ ধরা পড়ার পর থেকে বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাসমূহে আর্সেনিক দূষণের আশঙ্কা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ সালে  নবাবগঞ্জ সদর (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
- ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে (School of Environmental Sciences – SOES/ এস.ও.ই.এস) অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারের পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এর পর থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর প্রিভেনটিভ এন্ড সোশাল মেডিসিন (নিপসম), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বি.ডব্লিউ.ডি.বি)-এর গ্রাউন্ড ওয়াটার সার্কেল, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ইত্যাদি সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের ভিতরে আর্সেনিক দূষণের প্রমাণ অনুসন্ধান করা শুরু করে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
১১৬.
আমিষ গঠনের একক কোনটি?
  1. ফরমিক এসিড
  2. অ্যামাইনো এসিড
  3. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  4. কার্বোলিক এসিড
ব্যাখ্যা
আমিষের গঠন: 
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2)। 
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়। 
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। 
- তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। 
অর্থাৎ, পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি, শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়। 

অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড: 
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। 
- এরা দেহে তৈরি হতে পারে না। 
- বিশেষ বিশেষ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য হতে এ সমস্ত অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো মানবদেহে সরবরাহ করতে হয়। 
- এদের অত্যাবশ্যক বা অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে। 
- এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিড হলো- 
১। লাইসিন, 
২। লিউসিন, 
৩। আইসোলিউসিন, 
৪। মিথিওনিন, 
৫। ট্রিপটোফ্যান, 
৬। ভ্যালিন, 
৭। ফিনাইল অ্যালানিন এবং 
৮। থ্রিওনিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
দুধে যে শর্করা থাকে তাকে কী বলে?
  1. ক) ফ্রুকটোজ
  2. খ) গ্যালাকটোজ
  3. গ) ল্যাকটোজ
  4. ঘ) অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা
দুধ একটি আদর্শ খাবার। এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে। এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে এবং দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।
১১৮.
Which acid is mainly present in tomatoes?
  1. Carbonic acid
  2. Tartaric acid 
  3. Folic acid
  4. Lactic acid
  5. Oxalic acid
ব্যাখ্যা

- টমেটোতে প্রধানত অক্সালিক এসিড (Oxalic acid) উপস্থিত থাকে, যদিও টমেটোতে ম্যালিক এবং সাইট্রিক অ্যাসিড সহ আরও অনেক অ্যাসিড থাকে, তবে অক্সালিক অ্যাসিডকে সাধারণত প্রধান অ্যাসিড হিসেবে গণ্য করা হয়। 

জৈব এসিড: 
- এসিড সাধারণত টক স্বাদযুক্ত হয়ে থাকে। 
- লেবু, আমলকি, কাঁচা আমড়া, জলপাই ও করমচায় প্রয়োজনীয় সাইট্রিক এসিড থাকে। 
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে। 
- টমেটোতে অক্সালিক এসিড থাকে। 
- আপেল ও আনারসে ম্যালিক এসিড থাকে। 
- আমাদের পাকস্থলিতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন হয় যা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- বাজারের সকল সফট ড্রিংকসে যা থাকে তা প্রকৃত অর্থে কার্বনিক এসিডের দ্রবণ। 

অন্যদিকে, 
- কার্বনিক এসিড হলো CO2 + H2O দ্রবণে তৈরি হওয়া অ্যাসিড যা মূলত সোডা বা carbonated drinks-এ থাকে। 
- ফলিক অ্যাসিড হলো একটি ভিটামিন B9, যা সবজি ও ফল-এ থাকে। 
- ল্যাকটিক অ্যাসিড সাধারণত দুগ্ধজাত পণ্য বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়, টমেটোতে প্রাকৃতিকভাবে এটি প্রধান অ্যাসিড নয়। 
- টারটারিক অ্যাসিড মূলত আঙ্গুরে পাওয়া যায়, এটি টমেটোতে প্রধান অ্যাসিড নয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১৯.
রাফেজ প্রধানত কী জাতীয় খাদ্য? 
  1. শর্করা
  2. আমিষ
  3. চর্বি
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
খাদ্যআঁশ বা রাফেজ: 

• শস্যদানা, ফলমূল ও সবজির অপাচ্য তন্তুময় অংশ অর্থাৎ সেলুলোজই হচ্ছে রাফেজ। 
• এগুলো জটিল শর্করা।
• গবাদি পশু সাধারণ সেলুলোজ হজম করতে পারে। কিছু মানুষ এগুলো হজম করতে পারে না।
• মানুষ রাফেজ হজম করতে পারে না বলে পরিপাকতন্ত্রে এটি প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকে যায়।
• সব ধরনের সবুজ শাক-সবজি, ফলমূল, ফলের খোসা, শস্যদানার বহিরাবরণ হচ্ছে রাফেজের ভালো উৎস।
• রাফেজ দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের হয়।

রাফেজ বা আঁশের গুরুত্ব: 
১. খাদ্য পরিপাকের সাহায্য করে
২. পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
৩. শরীর থেকে অপাচ্য বস্তু বের করে দিতে সাহায্য করে
৪. দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে
৫. মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, অ্যাপেন্ডিকস, পিত্তথলির রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদি রোগ হ্রাসে সাহায্য করে।


ছবির উৎস: কালের কণ্ঠ পত্রিকা 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২০.
ল্যাকটিক এসিড নিচের কোনটিতে পাওয়া যায়?
  1. দই
  2. পালংশাক
  3. লেবু
  4. ভিনেগার
ব্যাখ্যা

দই তৈরির প্রক্রিয়ায় ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক এসিড এ রূপান্তরিত করে।
- এই ল্যাকটিক এসিডই দইয়ের টক স্বাদ এবং ঘন গঠনের জন্য দায়ী।

ল্যাকটিক এসিড:
- ল্যাকটিক এসিড হলো এক ধরনের জৈব যৌগ, যা একটি কার্বোক্সিলিক এসিড। এর রাসায়নিক সূত্র হলো C3H6O3
- এটি সাধারণত দুধের শর্করা (ল্যাকটোজ) এবং অন্যান্য শর্করা থেকে গাঁজন (fermentation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। 
- এটি দই ও অন্যান্য গাঁজনকৃত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। এটি খাদ্যকে জমাট বাঁধাতে এবং স্বাদ তৈরি করতে সাহায্য করে।
- তীব্র শারীরিক কাজের সময় (যেমন: ব্যায়াম), শরীরে অক্সিজেন সীমিত হলে গ্লুকোজ ল্যাকটিক এসিডে রূপান্তরিত হয়, যা শক্তি দেয়।
- ল্যাকটিক এসিড অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধ করে হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।

উল্লেখ্য-
- পালংশাক→ অক্সালিক এসিড।
- লেবু → সাইট্রিক এসিড।
- ভিনেগার → অ্যাসেটিক এসিড।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১২১.
মানবদেহে ক্যালসিয়ামের অভাবে কোন রোগটি হয়ে থাকে?
  1. ক) ডায়াবেটিস
  2. খ) এইডস
  3. গ) যক্ষ্মা
  4. ঘ) অস্টিওপরোসিস
ব্যাখ্যা
মানবদেহে ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্টিওপরোসিস রোগটি হয়ে থাকে। 

- অস্টিওপোরোসিস হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ।
- এ সমস্যায় ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় হালকা ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
- সাধারণত বয়স্ক নারী এবং পুরুষ এর মাঝে এ রোগটি দেয়া দেয়। 

সূত্র- ১৯৯ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১২২.
সুষম খাদ্যের মুখ্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) স্নেহ
  3. গ) খনিজ লবণ
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা

সুষম খাদ্যের উপাদান ছয়টি। যেমন ০- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি।
- এদের মধ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ হলো খাদ্যের মুখ্য উপাদান।
- আর ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি হলো সহায়ক উপাদান।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১২৩.
খাদ্যের উপাদান মোট কতটি? 
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- পুষ্টিবিজ্ঞান অনুসারে তাদেরকেই খাদ্য বলে যেগুলো জীবদেহের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষয়পূরণ করে অর্থাৎ এক কথায় দেহের পুষ্টি সাধন করে। 
- খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদেরকে একসঙ্গে পরিশোষক বা নিউট্রিয়েন্টস ( Nutrients) বলে। 
যেমন - গ্লুকোজ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ইত্যাদি হচ্ছে নিউট্রিয়েন্টস। 
- খাদ্যের কাজ প্রধানত তিনটি। 
যথা- 
১। খাদ্য দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। 
২। খাদ্য দেহে তাপ উৎপাদন করে, কর্মশক্তি প্রদান করে। 
৩। খাদ্য রোগ প্রতিরোধ করে, দেহকে সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম রাখে। 

- খাদ্যের উপাদান মোট ছয়টি (৬) টি। 
যথা- 
• শর্করা, 
• আমিষ, 
• স্নেহ, 
• ভিটামিন, 
• খনিজ লবণ এবং 
• পানি। 
- এগুলোর মধ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ (ফ্যাট) দেহ পরিপোষক খাদ্য। 
- খাদ্যের শর্করা ও স্নেহকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য এবং আমিষযুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য। 
- ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান, যেগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৪.
ভিটামিন সি এর রাসায়নিক নাম কী? 
  1. রেটিনল
  2. এসকরবিক এসিড
  3. টোকোফেরল
  4. নিকোটিনামাইড
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (Vitamin C): 
- ভিটামিন সি এর রাসায়নিক নাম এসকরবিক এসিড (Ascorbic acid)। 
- এটি তাপ, আলো, বাতাস ও ক্ষারে খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। 
- টাটকা শাক-সবজি ও ফল-মূল ভিটামিন সি এর উত্তম উৎস। 
- টক জাতীয় ফল যেমন- কমলা, লেবু, পেয়ারা, আমলকী, বাতাবি লেবু, আমড়া, কামরাঙা, আঙুর, আনারস ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এছাড়া, লেটুস পাতা, কাঁচা মরিচও ভিটামিন সি এর ভালো উৎস। 

এসকরবিক এসিডের কাজ: 
১। ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী জারণরোধী ভিটামিন। 
২। ভিটামিন সি নিজে জারিত হয়ে অন্যান্য উপাদানের জারণ প্রতিরোধ করে। (সাধারণভাবে কোনো কিছুর সাথে অক্সিজেন যুক্ত হওয়াকে জারণ বলে।) 
৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। 
৪। ক্ষতস্থানের ঘা শুকাতে সাহায্য করে। 
৫। দেহের পেশি, কলা ও অস্থির সংযোজক কলা তৈরিতে সহায়তা করে। 
৬। ভিটামিন সি অন্ত্রে লৌহের শোষণ এবং হিমোগ্লোবিনে লৌহ যুক্তকরণে সাহায্য করে। 
৭। ত্বক, দাঁত, মাড়ি প্রভৃতির দৃঢ়তা রক্ষা করে। 
৮। রক্তবাহী নালীর প্রাচীর মজবুত করতে সহায়তা করে। 

এসকরবিক এসিডের অভাবজনিত অবস্থা: 
১। ভিটামিন সি এর দীর্ঘদিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। স্বার্ভি রোগে দাঁতের মাড়ি ফুলে স্পঞ্জের মতো হয়ে যায়, রক্তক্ষরণ হয়, গোড়া আলগা ও নরম হয়ে যায়, অনেক সময় দাঁত পড়ে যায়। 
২। ত্বক খসখসে হয়, ফুসকুড়ি ওঠে এবং ত্বক চুলকায়। 
৩। অস্থি দুর্বল হয় ও অস্থি সন্ধিতে বা গাঁটে ব্যথা হয়, অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়। 
৪। লৌহের পরিশোষণ ব্যহত হয় ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। 
৬। রক্তবাহী নালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 
৭। ক্ষুধামন্দা, অলসতা, খিটখিটে মেজাজ পরিলক্ষিত হয়। 

অন্যদিকে, 
- রেটিনল হচ্ছে ভিটামিন A-এর একটি রূপ। 
- টোকোফেরল হলো ভিটামিন E-এর রাসায়নিক নাম। 
- নিকোটিনামাইড হলো ভিটামিন B3 (নিয়াসিন)-এর একটি রূপ। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৫.
আমিষে কোন মৌলের উপস্থিতি নেই?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা

কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এ চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলাে অ্যামাইনাে এসিডে পরিণত হয়। অর্থাৎ বলা যায় একটি নির্দিষ্ট আমিষের পরিচয় হয় কিছু অ্যামাইনাে এসিড দিয়ে।
মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনে এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনাে এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১২৬.
খাদ্যের উপাদান কয়টি?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৬ টি
  4. ৭ টি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের রাসায়নিক প্রকৃতি ও গঠনের বিভিন্নতা অনুসারে খাদ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, এগুলোকে খাদ্য উপাদান বলা হয়। 
- খাদ্য উপাদান ৬ টি। 
যথা:
১। প্রোটিন বা আমিষ, 
২। কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, 
৩। ফ্যাট বা স্নেহ পদার্থ, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। মিনারেল বা খনিজ লবণ এবং 
৬। পানি । 

কাজ অনুযায়ী খাদ্যের ভাগ: 
- দেহে খাদ্যের কাজ অনুযায়ী খাদ্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণকারী খাদ্য: প্রধানত আমিষ জাতীয় খাদ্য। 
২। তাপ ও শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য: প্রধানত স্নেহ ও শর্করা জাতীয় খাদ্য। 
৩। রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য: প্রধানত ভিটামিন ও খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৭.
খাওয়ার পর শর্করা কোন পদার্থে পরিণত হয়? 
  1. ফ্রুক্টোজ
  2. সেলুলোজ
  3. গ্লুকোজ
  4. ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 
- শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন। 
- উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে জমা থাকে। 
- ফলের রসের গ্লুকোজ, দুধের ল্যাকটোজ, গম, আলু, চাল ইত্যাদি শর্করাজাতীয় খাদ্যের বিভিন্ন রূপ। 
- গঠনপদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
- নিচের এই তিন ধরনের শর্করার গঠন এবং উৎস দেখানো হলো-

- প্রধানত চাল, গম, আলু থেকে শ্বেতসার পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না। এজন্য চাল, আটা, আলু ইত্যাদি রান্না করে খাওয়া হয়। 
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা এবং বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় (গ্লুকোজ) পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়। 
- মানব পরিপুষ্টির জন্য সরল শর্করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানবদেহ শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৮.
শর্করা দেহে প্রধানত কোন কাজে সহায়তা করে? 
  1. দেহে শক্তি উৎপাদনে 
  2. কোষের অঙ্গাণুগুলো ধারণে
  3. মল নিষ্কাশনে 
  4. দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষায় 
ব্যাখ্যা

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৯.
নিচের কোনটি প্রোটিনের অভাব জনিত রোগ?
  1. রিকেটস
  2. গলগন্ড
  3. মেরাসমাস
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা
প্রোটিনের অভাবজনিত রোগঃ
খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে 'মেরাসমাস' ও 'কোয়াশিয়রকর' নামক দুটি রোগ হয়।
মেরাসমাস রোগে পেশী ও মেদ ক্ষয় হয় ও চামড়া কুচকে যায়, দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা ৬০ ভাগ কমে যায়, কম বয়সে এ রোগ হলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
সাধারণত ২ - ৪ বছর বয়সে শিশুদের খাদ্যে আমিষের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। এ রোগে শিশুদের দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, পেশী ক্ষয় হতে থাকে, পানি জমে শরীর ফুলে যায়, রক্তাল্পতা দেখা দেয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। 
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
১৩০.
আদর্শ খাদ্য পিরামিডে কোন খাদ্য উপাদান সবচেয়ে নিচে অবস্থান করে?
  1. আমিষ
  2. ফলমূল
  3. স্নেহ ও চর্বি
  4. শর্করা
ব্যাখ্যা
আদর্শ খাদ্য পিরামিড: 
- যেকোনো একটি সুষম খাদ্যতালিকায় শর্করা, ভিটামিন ও খনিজ, আমিষ ও স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য এবং ফাইবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। 
- একজন কিশোর বা কিশোরী, প্রাপ্তবয়স্ক একজন পুরুষ বা মহিলার সুষম খাদ্যতালিকা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- শর্করাকে নিচে রেখে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ এবং স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয়, তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। 

- চিত্রে এই পিরামিডের সবচেয়ে উপরে রয়েছে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য আর সবচেয়ে নিচে রয়েছে শর্করা। 
- মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাবার তালিকায় যেসব খাবার থাকে, তা এই চিত্রে পিরামিডের আকারে দেখানো হয়েছে। 
- পিরামিডের অংশগুলো তার আকার অনুযায়ী নিচের দিকে চওড়া এবং উপরের দিকে সরু। 
- সবচেয়ে চওড়া অংশে ভাত, আলু, রুটি এসব, এগুলো বেশি করে খেতে হবে। 
- তার পরের অংশে আছে শাকসবজি এবং ফলমূল, এসব ভাত, রুটির চেয়ে কম খেতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, পনির, ছানা, দই আরও কম পরিমাণে খেতে হবে। 
- তেল, চর্বি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার সবচেয়ে কম খাওয়া উচিত। 
- মানুষের প্রতিদিনের খাবার এই খাদ্য পিরামিড অনুযায়ী বেছে নিতে হবে, তবেই মানুষ সহজে সুষম খাদ্য নির্বাচন করতে পারবে। 
- কোনো কিছু খেতে ভালো লাগলে অনেক সময় বেশি খেয়ে নেই যা সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই সবারই পরিমিত পরিমাণ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, সেই সঙ্গে খাদ্য গ্রহণের নিয়মনীতি এবং সময় মেনে চলতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩১.
ভালো কোলেস্টেরল বলা হয় কোনটিকে?
  1. HDL
  2. LDL
  3. Tryglyceride
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- ভালো কোলেস্টেরল বলা হয় HDL কে।

কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন উচ্চশ্রেণীর প্রানিজ কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। রক্তে তিন ধরণের লিপোপ্রোটিন দেখা যায়।

 LDL(LOW DENSITY LIPOPROTEIN):
- একে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়। কারণ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত আমাদের রক্তে 70% LDL থাকে। ব্যক্তিবিশেষে এই পরিমাপের পার্থক্য দেখা যায়।

HDL(HIGH DENSITY LIPOPROTEIN):
- একে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ট্রাইগ্লিসারাইড(Tryglyceride):
- এটি চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে। ট্রাইগ্লিসারাইড আমাদের খাদ্যের প্রানিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

১৩২.
সুষম খাদ্যে শর্করার শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ৮০ %
  2. ৯০ %
  3. ৬০ %
  4. ১৫ %
ব্যাখ্যা
সুষম খাদ্য:

- মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা সঠিকভাবে পূরণের জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য।
- সুষম খাদ্যের উপাদান ৬টি।
- সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের অনুপাত =  ৪ : ১ : ১। 

• সুষম খাদ্যের উপাদান:
১. শর্করা (৬০%),
২. আমিষ (১৫%),
৩. ভিটামিন,
৪. খনিজ লবণ (১০%),
৫. চর্বি (১৫%) এবং 
৬. পানি।

- যে খাদ্যে এই ছয়টি উাপাদান পরিমিত পরিমাণে রয়েছে তাকে আমরা বলি সুষম খাদ্য। এই খাদ্য ব্যক্তি বিশেষের দৈহিক চাহিদা পূরণ করে এবং তাকে সুস্থ সবল ও রোগমুক্ত থাকতে সাহায্য করে।

ছবির উৎস: প্রথম আলো 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পরিবেশ-শিক্ষা বিজ্ঞান, পৃষ্ঠা: ২৬৯, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৩.
নিচের কোনটি দুই অণু বিশিষ্ট শর্করার উদাহরণ?
  1. গ্লুকোজ
  2. ল্যাকটোজ
  3. শ্বেতসার
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:

- শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। শর্করার মৌলিক উপাদান - কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।

শর্করার শ্রেণিবিভাগ:
১. এক শর্করা (Monosaccharide):
- একটি মনোমার বিশিষ্ট শর্করা। 
- উদাহরণ: গ্লুকোজ। 
- উৎস: মধু, ফুলের রস ইত্যাদি।

২. দ্বি-শর্করা (Disaccharide):
- দুইটি মনোমার বিশিষ্ট (ডাইমার) শর্করা।
- উদাহরণ: সুক্রোজ, ল্যাকটোজ। 
- উৎস:  চিনি ও দুধ ইত্যাদি। 

৩. বহু শর্করা (Polysaccharide):
- বহু মনোমারবিশিষ্ট (পলিমার) শর্করা। 
- উদাহরণ: শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন। 
- উৎস: চাল, আটা, আলু, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি। 


উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৪.
স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য মূলত কী কাজ করে? 
  1. মল নিষ্কাশনে সহায়তা করে 
  2. দেহে শক্তি ও তাপ উৎপাদন করে 
  3. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে 
  4. কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে 
ব্যাখ্যা

খাদ্য ও পুষ্টি উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে থাকে। 
শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
• স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে থাকে। 

- এছাড়া আরোও তিন ধরনের উপাদান দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
• পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরেও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো ধরনের পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত। 
• রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৫.
১ খাদ্য ক্যালরি প্রায় কত কিলোজুলের সমান?
  1. ১.৫ কিলোজুল
  2. ২.৪ কিলোজুল
  3. ৩.৪ কিলোজুল
  4. ৪.২ কিলোজুল
ব্যাখ্যা

খাদ্য শক্তি পরিমাপের একক: 
- শক্তির বিভিন্ন রূপ রয়েছে। 
- পুষ্টি উপাদান থেকে নির্গত শক্তি হচ্ছে তাপ শক্তি। 
- তাপ শক্তির একক হচ্ছে ক্যালরি। 
- পদার্থবিজ্ঞানের হিসেবে এক কিলোগ্রাম (1000 গ্রাম) পানির উষ্ণতা 1 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি করতে 1000 ক্যালরি বা 1 কিলোক্যালরি তাপের প্রয়োজন হয়। 
- পুষ্টিবিদেরা খাদ্যের শক্তি বোঝানোর জন্যেও "ক্যালরি” শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খাদ্যের ক্যালরি আসলে কিলোক্যালরি। 
উল্লেখ্য, বিভ্রান্তি এড়াতে এখানে খাদ্য শক্তি বোঝানোর জন্য খাদ্য ক্যালরি অথবা কিলোক্যালরি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। 
- আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, খাদ্যের শক্তিমূল্য প্রকাশের ক্ষেত্রে খাদ্য ক্যালরি কিংবা কিলোক্যালরির পরিবর্তে কিলোজুল একক ব্যবহার করা উচিত। 
এক্ষেত্রে, 1 খাদ্য ক্যালরি = 1 কিলোক্যালরি = 4.2 কিলোজুল (প্রায়)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৬.
আমলকি, লেবু, পেয়ারা কোন ভিটামিনের উৎস?
  1. ভিটামিন - C
  2. ভিটামিন- D
  3. ভিটামিন - E
  4. ভিটামিন- K
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ভিটামিনের উৎস:
- ভিটামিন এ - দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদি।
- ভিটামিন বি - ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদাম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদ্পিণ্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি ।
- ভিটামিন সি - পেয়ারা, আমলকি, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি।
- ভিটামিন ডি - ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি।
- উপরে উল্লিখিত সকল খাবার হতে ভিটামিন 'ই' ও ভিটামিন 'কে' পাওয়া যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৭.
অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড কতটি?
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১২টি
  4. ২০টি
ব্যাখ্যা
অ্যামাইনো এসিড: 
- ২০টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়।
- এগুলো হল: লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন। 
- এই আটটি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীর সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১৩৮.
মানুষের দেহের ওজনের প্রায় কত শতাংশ পানি?
  1. ৩০–৪৫%
  2. ৫০–৫৫%
  3. ৬০–৭৫%
  4. ৮০–৯০%
ব্যাখ্যা

পানি: 
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। 
- দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। 
- মানুষের দৈহিক ওজনের ৬০-৭৫% হচ্ছে পানি। 
- মানুষের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। 
- পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। 
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। 
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেক দিনই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- পানি দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়। 
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৯.
স্নেহ পদার্থ কোনটির সমন্বয়ে গঠিত হয়?
  1. ক) ফ্যাটি এসিড ও ফলিক এসিড
  2. খ) ফলিক এসিড ও গ্লিসারল
  3. গ) ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল
  4. ঘ) ফ্যাটি এসিড ও থায়ামিন
ব্যাখ্যা
- স্নেহ পদার্থকে শক্তি উৎপাদনকারী উপাদান বলা হয়।
- স্নেহ পদার্থে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।
- কার্বনের দহন ক্ষমতা বেশি থাকায় স্নেহ পদার্থের অণু থেকে বেশি তাপশক্তি উৎপন্ন হয়।
- স্নেহ পদার্থ ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ।
- স্নেহ পদার্থ পরিপাক হয়ে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হয়।
- স্নেহ পদার্থে ২০ প্রকার চর্বি জাতীয় এসিড পাওয়া যায়।
- চর্বি জাতীয় এসিড দুই প্রকার। যথা- ১. অসম্পৃক্ত চর্বি জাতীয় এসিড ও ২. সম্পৃক্ত চর্বি জাতীয় এসিড।

সূত্র- ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১৪০.
Identify the mineral whose deficiency is associated with goitre.
  1. Sulfur
  2. Iodine
  3. Chromium
  4. Molybdenum
  5. Nickel
ব্যাখ্যা
- 'আয়োডিন' -এর অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। 

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের ৬টি উপাদান শর্করা, স্নেহ পদার্থ, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবন এবং পানি প্রধানত আমাদের দেহে ৩টি কাজ করে। 
১. বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ। 
২. তাপ উৎপাদন ও কর্মশক্তি প্রদান। 
৩. রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থতা প্রদান। 

খনিজ লবন: 
- কয়েক রকমের খনিজ পদার্থ রয়েছে, খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য। 
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। 
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং সামুদ্রিক মাছ ও লবনে আয়োডিন পাওয়া যায়। 
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ, লৌহের অভাবে রক্তশূন্যতা, ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেটস ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
নিচের কোনটি আয়োডিনের সবচেয়ে ভালো উৎস?
  1. বাদাম
  2. ডাল
  3. শাকসবজি
  4. সামুদ্রিক মাছ
ব্যাখ্যা

আয়োডিন (Iodine):
- থাইরয়েড গ্রন্থি হতে নিঃসৃত হরমোন থাইরক্সিনের প্রধান খনিজ উপাদান হলো- আয়োডিন।
- দেহে মোট আয়োডিনের পরিমাণ মাত্র ২০-২৫ মিলিগ্রাম। এর বেশির ভাগই ৬৫% থাইরয়েড গ্রন্থিতে থাকে। সারা জীবনে একজন মানুষের মাত্র ৩-৪ গ্রাম আয়োডিন দরকার।
- সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক উদ্ভিদ, সমুদ্রের কাছাকাছি মাটিতে উৎপন্ন ফল ও সবজি ইত্যাদিতে আয়োডিন পাওয়া যায়। 
- থাইরক্সিন হরমোনের গঠন উপাদান হিসেবে আয়োডিন দেহের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
- থাইরক্সিন হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
- আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যাকে সংক্ষেপে IDD (Iodine Deficiency Disorder) বলা হয়। 
- গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত, মৃত ও বিকলাঙ্গ শিশুর (cretin baby) জন্ম হতে পারে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪২.
নিচের কোনটির জিন ধানে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে?
  1. ক) ভিটামিন সি
  2. খ) ভিটামিন বি
  3. গ) ভিটামিন ই
  4. ঘ) ভিটামিন এ
ব্যাখ্যা
জিনগত রূপান্তরের মাধ্যমে ফসলের পুষ্টিমান উন্নয়ন করা হয়েছে।
যেমন, ধানে ভিটামিন A তথা বিটাক্যারােটিন জিন স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই ধানের চাল থেকে প্রস্তুত ভাত খেলে আলাদা করে আর ভিটামিন A খেতে হবে না।

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
১৪৩.
শিশুদের কোন রোগ ক্যালসিয়ামের অভাবে হয়? 
  1. ডায়রিয়া
  2. রিকেটস
  3. নিউমোনিয়া
  4. ব্রঙ্কাইটিস
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। 
- শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক। 
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে। 
- এছাড়া, রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। 
- উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি। 
- প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের কাজ: 
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে। 
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে। 
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে। 
- শিশুদের রিকেটস (Rickets) রোগ হয় যার কারণে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়। 
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রো হয় যার ফলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। 
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৪.
খাদ্যের মুখ্য উপাদান কোনটি?
  1. ভিটামিন
  2. খনিজ লবণ
  3. পানি
  4. স্নেহ
ব্যাখ্যা
খাদ্যের উপাদান ছয়টি - শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। 
শর্করা, আমিষ ও স্নেহ হচ্ছে দেহ পরিপোষক খাদ্য।
খাদ্যের স্নেহ ও শর্করাকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য।
আমিষ যুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য।
খাদ্যের উপাদান দুই ধরনের - (১) মুখ্য উপাদান ( শর্করা, আমিষ ও স্নেহ )
                                            (২) সহায়ক উপাদান ( ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি )

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
১৪৫.
উদ্ভিজ্জ প্রোটিন কোনটি?
  1. মাছ
  2. ডিম
  3. বাদাম
  4. মাংস
ব্যাখ্যা
প্রোটিন বা আমিষ: 
- উৎসের উপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে প্রাণিজ এবং উদ্ভিজ প্রোটিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 
- মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত দ্রব্য প্রোটিনের উৎস প্রাণী, তাই এগুলো প্রাণিজ প্রোটিন। 
- অপরদিকে ডাল, বাদাম, শিম ও বরবটির বীজ ইত্যাদির উৎস উদ্ভিদ, তাই এগুলো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। 
- শিশুদের খাদ্যে প্রোটিনের অভাব ঘটলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। 
- এ রোগের কারণে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন বাধাগ্রস্ত হয়। 
- শিশুদেহের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হলে শিশু পুষ্টিহীনতা বা অপুষ্টিতে ভোগে। 

প্রোটিনের কাজ: 
১. প্রোটিনের প্রধান কাজ হচ্ছে দেহে বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা। 
যেমন- দেহের পেশি, হাড় বা অস্থি, রক্ত কণিকা ইত্যাদি প্রোটিন দ্বারা গঠিত। 
২. দেহে শক্তি উৎপন্ন করা। 
৩. দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি প্রোটিন থেকে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৪৬.
শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) জুল
  2. খ) ক্যালরি
  3. গ) বিএমআই
  4. ঘ) বিএএমই
ব্যাখ্যা
খাদ্য শক্তি মূল্য নির্ণয়ের আন্তর্জাতিক একক হচ্ছে জুল। 

১০০০ জুল = ১ কিলোজুল,
১০০০ কিলোজুল = ১ মেগাজুল,
১ কিলোক্যালরি= ৪১৮০ জুল = ৪.১৮ কিলোজুল ।

বিএমআই (BMI) এবং বিএমআর (BMR) : পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায় বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR- Basal Metabolic Rate) মানব শরীরে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ নির্দেশ করে। আর বডি মাস ইনডেক্স (BMI - Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এ মানদন্ড দুটি খুবই উপযোগী ।

সূত্র: ৬৩ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৭.
মানুষের শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড রয়েছে কয়টি?
  1. ১৬টি
  2. ৮টি
  3. ১২টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা

অ্যামাইনো এসিড:
- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়।
- যেমন- লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন (Valine), লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন।
- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৮.
স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন নয় কোনটি?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin D
  3. Vitamin E
  4. Vitamin C
ব্যাখ্যা
• স্নেহে দ্রবণীয়  ভিটামিনগুলি হল:
- ভিটামিন A – দৃষ্টি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ত্বক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- ভিটামিন D – ক্যালসিয়াম শোষণ এবং হাড়ের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সহায়ক।
- ভিটামিন E – অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, কোষগুলিকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
- ভিটামিন K – রক্ত জমাট বাঁধা এবং হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয়।

• পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলি হল: 
- ভিটামিন C ।
- ভিটামিন B1 (থায়ামিন) ।
- ভিটামিন B2 (রিবোফ্ল্যাভিন) ।
- ভিটামিন B3 (নিয়াসিন) ।
- ভিটামিন B5 (প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড) ।
- ভিটামিন B6 (পিরিডক্সিন) ।
- ভিটামিন B7 (বায়োটিন) ।
- ভিটামিন B9 (ফোলেট/ফলিক অ্যাসিড) ।
- ভিটামিন B12 (কোবালামিন) ।

উৎস: (এসএসসি প্রোগ্রাম),বিজ্ঞান,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
মানবদেহে কোন এনজাইম স্নেহজাতীয় (চর্বিযুক্ত) খাদ্য হজমে প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. পেপসিন
  2. মল্টেজ
  3. লাইপেজ
  4. ল্যাকটেজ
ব্যাখ্যা

লাইপেজ হলো চর্বি বা স্নেহ জাতীয় খাদ্য হজমের প্রধান এনজাইম।
- এটি ট্রাইগ্লিসারাইড (চর্বি) ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল তৈরি করে। যা মানবদেহে স্নেহজাতীয় খাদ্যের পুষ্টির শোষণে গুরুত্বপূর্ণ।।
- মানবদেহে প্রধানত অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে লাইপেজ নিঃসৃত হয়।
- ছোট অন্ত্রে (ডিওডেনাম) সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে।
- লাইপেজ এনজাইমের অভাবে চর্বি সঠিকভাবে হজম হতে পারে না, যার ফলে পুষ্টির অভাব, পেটে অস্বস্তি এবং অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে,
- পেপসিন: প্রোটিন হজমকারী এনজাইম, যা পেটের অ্যাসিডিক পরিবেশে প্রোটিনকে পেপটাইডে ভেঙে দেয়। এটি স্নেহজাতীয় খাদ্যের হজমে কাজ করে না।
- মল্টেজ: কার্বোহাইড্রেট হজমের এনজাইম, যা ম্যলটোজকে তরলাকার ঘন শর্করায় ভেঙে দেয়। এটি চর্বি হজমে কার্যকর নয়।
-  ল্যাকটেজ: দুধে থাকা ল্যাকটোজ (দুগ্ধশর্করা) হজম করতে সাহায্য করে।
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।

উৎস:
১।বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

১৫০.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনটি হল-
  1. Vitamin K
  2. Vitamin A
  3. Vitamin B
  4. Vitamin C
ব্যাখ্যা
- রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনটি হলো- Vitamin K (ভিটামিন কে)। 

ভিটামিন কে (Vitamin K): 
- ভিটামিন কে-এর রাসায়নিক নাম ফাইটাল নেপথোকুইনোন। 
- ভিটামিন কে তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। 

ভিটামিন কে-এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে ভিটামিন কে পাওয়ার যায়। 

ভিটামিন কে-এর কাজ: 
- কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। 
- রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
- ভিটামিন কে পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ভিটামিন কে যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

ভিটামিন কে-এর অভাবজনিত সমস্যা: 
- ভিটামিন কে-এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়, ফলে সামান্য কাটাছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 
 
উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫১.
দুধে যে প্রোটিন থাকে সেটাকে বলা হয় -
  1. ক) ল্যাকটোজ
  2. খ) কেসিন
  3. গ) রেনিন
  4. ঘ) গ্যালাক্টোজ
ব্যাখ্যা
• দুধ একটি আদর্শ খাবার।
• এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
• দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
• এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
• দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।
১৫২.
পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন কোনগুলো?
  1. A ও D
  2. B ও C
  3. D ও E
  4. K ও E
ব্যাখ্যা

পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিনগুলো হচ্ছে B ও C

ভিটামিন শোষণ:
• চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন।
- চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন গুলো হচ্ছে A, D, E, K।
- এগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ে শোষিত হয়।
- সাধারণ পিত্তলবণ এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

• পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন:
- পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন C ও কয়েক প্রকার B ভিটামিন।
- ব্যাপন ও সক্রিয় শোষণ প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্রান্ত্রের ইলিয়াম অংশে শোষিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

১৫৩.
কোন খাদ্য উপাদান মানবদেহে অল্প পরিমাণে প্রয়োজন যাদের অণুখাদ্য বলা হয়? 
  1. ফ্যাট 
  2. প্রোটিন 
  3. শর্করা 
  4. ভিটামিন 
ব্যাখ্যা

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়। 
- খাদ্য উপাদান ৬ টি। 
 যথা- 
১। আমিষ বা প্রোটিন, 
২। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, 
৩। স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। খনিজ লবণ বা মিনারেল এবং 
৬। পানি। 

- আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান বা মূল উপাদান (Macro nutrients) বলা হয়। কারণ, এ উপাদানগুলো মানবদেহে অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বা অণুখাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয়। কারণ, এ খাদ্য উপাদানগুলো মানবদেহে অতি অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- যেকোনো খাদ্য উপদানই প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতা দেখা দেয়। 
- খাদ্য উপাদান পানি জীবনধারণের অত্যবশ্যকীয় উপাদান কারণ দেহের ৭০ শতাংশই পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৪.
কোনটি গঠনমূলক খাদ্য উপাদান?
  1. রাফেজ
  2. ভিটামিন
  3. আমিষ
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে আমিষ (Protein)-কে দেহ গঠনকারী বা গঠনমূলক উপাদান বলা হয়। কারণ এটি শরীরের কোষ গঠন, টিস্যু মেরামত, পেশি তৈরি এবং বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
- অন্যদিকে, ভিটামিন ও খনিজ লবণ মূলত দেহ সংরক্ষক উপাদান (Protective foods)।
- রাফেজ হজমে সহায়তা করে।

• খাদ্য উপাদান:
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে।
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়।
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

যথা:
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পুরণ করে।
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।

এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন।
যেমন:
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়।
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়।
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে।
- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান।
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৫.
জেরোফথ্যালমিয়া নামক রোগ কোন ভিটামিনের অভাবে হয়? 
  1. ভিটামিন 'এ'
  2. ভিটামিন 'বি'
  3. ভিটামিন 'সি'
  4. ভিটামিন 'ডি'
ব্যাখ্যা

রাতকানা (Night Blindness): 
- ভিটামিন 'এ'-এর অভাবে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জেরোফথ্যালমিয়া (Xerophthalmia) নামক রোগ হয়
অর্থাৎ, এই রোগের সর্বনিম্ন মাত্রা রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন 'এ'-এর অভাব পূরণ না হলে রোগটির মাত্রা ও তীব্রতা বাড়তে থাকে। 
- জেরোফথ্যালমিয়ার সাত থেকে আটটি মাত্রা রয়েছে, যার সর্বনিম্ন মাত্রা হচ্ছে রাতকানা। 
- সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। 
- এতে চোখের সংবেদী 'রড' কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্বল্প আলোতে ভালো দেখতে পায় না, চোখে সবকিছু ঝাপসা দেখা যায়। 
- রোগটা বেড়ে গেলে কর্নিয়া ঘোলাটে হয়ে যায়। 
- রাতকানা দশা থেকে শুরু করে চতুর্থ বা পঞ্চম মাত্রার জেরোফথ্যালমিয়া ভিটামিন 'এ'-সহ কিছু ওষুধ প্রয়োগে ভালো হয়, কিন্তু রোগ চূড়ান্ত মাত্রায় বা তার কাছাকাছি পৌঁছে গেলে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার ছাড়া আর তেমন কিছু করার থাকে না। 
- এই রোগ প্রতিরোধের জন্য ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন: মাছের যকৃতের তেল, কলিজা, সবুজ শাকসবজি, রঙিন ফল (পাকা আম, কলা ইত্যাদি) ও সবজি (মিষ্টি কুমড়া, গাজর ইত্যাদি) এবং মলা-ঢেলা মাছ খাওয়া উচিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৬.
কোনটি শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?
  1. আমিষ
  2. ভিটামিন
  3. খনিজ লবণ
  4. স্নেহ
ব্যাখ্যা

◉ শরীরে নাইট্রোজেন (Nitrogen) সরবরাহ করে মূলত আমিষ (Protein)।
- কার্বোহাইড্রেট ও স্নেহে নাইট্রোজেন থাকে না, আর ভিটামিন/খনিজ লবণ নাইট্রোজেনের উৎস নয়।

আমিষ (Protein): 
– আমিষ বা প্রোটিন-জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
– আমিষে শতকরা 16 ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
– আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রনও থকে। 
– নাইট্রোজেন এবং শেষোক্ত উপাদানগুলোর উপস্থিতির কারণে আমিষের গুরুত্ব শর্করা ও স্নেহ পদার্থ থেকে আলাদা। শুধু আমিষজাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

আমিষের উৎস: 
– মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শিমের বীচি, শুঁটকি মাছ, চিনাবাদাম ইত্যাদি থেকে আমিষ পাওয়া যায়। 
– উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। 
যথা- প্রাণিজ আমিষ এবং উদ্ভিজ্জ আমিষ। 

প্রাণিজ আমিষ: 
– মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃৎ ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
– ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। একসময় ধারণা করা হতো এগুলো প্রাণিজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর, কারণ উদ্ভিজ্জ আমিষে প্রয়োজনীয় সবকয়টি অ্যামাইনো এসিড থাকে না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উদ্ভিজ্জ আমিষ প্রাণিজ আমিষের মতোই সকল অ্যামাইনো এসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে ধারণ করে। 
– অনেক সময়, দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৭.
যদি একটি খাবারের মধ্যে ২০ গ্রাম চর্বি থাকে, তাহলে এটি মোট ক্যালরিতে কতটুকু যুক্ত হবে?
  1. ১২০ ক্যালরি
  2. ১৬০ ক্যালরি
  3. ১৮০ ক্যালরি
  4. ২০০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
- সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
- তৈলের গলনাঙ্ক 20° C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20° C এর অধিক হয়। 
- তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 

১ গ্রাম তৈল বা চর্বি = ৯ ক্যালরি খাদ্যমান। 

∴ ২০ গ্রাম তৈল বা চর্বি = (৯ × ২০) ক্যালরি
= ১৮০ ক্যালরি

(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং, বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহৃত হয়। 

(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন, সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।
১৫৮.
লাইপেজ স্নেহজাতীয় খাদ্যকে ভেঙে কোন সরল উপাদানগুলোতে পরিণত করে?
  1. পেপটাইড ও পেপটোন
  2. গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ
  3. অ্যামিনো অ্যাসিড ও মনোস্যাকারাইড
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল
ব্যাখ্যা

লাইপেজ স্নেহজাতীয় খাদ্যকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

লাইপেজ:
- লাইপেজ হলো একটি পাচক এনজাইম যা স্নেহ জাতীয় খাদ্য বা ফ্যাট পরিপাকে সহায়তা করে।
- লাইপেজ (Lipase) হলো এক ধরনের হাইড্রোলাইটিক এনজাইম, যা স্নেহ পদার্থের (ফ্যাট) অণুগুলোকে ফ্যাটি অ্যাসিড (Fatty acid) ও গ্লিসারলে (Glycerol) পরিণত করে।
- স্নেহ জাতীয় খাদ্য পরিপাকের জন্য পিত্তরসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পিত্তরস ফ্যাটকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভেঙে ইমালসিফাই (Emulsify) করে, যা লাইপেজ এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে।
- এই পরিপাক প্রক্রিয়াটি প্রধানত ক্ষুদ্রান্ত্রে সম্পন্ন হয়, যেখানে স্নেহ কণাগুলো সম্পূর্ণরূপে বিশ্লেষিত হয়।
- জমা হওয়া ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারল পরবর্তীতে অন্ত্রের লসিকাতন্ত্র (Lymphatic system) এবং রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শোষিত হয়।
- লাইপেজের অভাবে ফ্যাট হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার ফলে স্বাস্থ্যগত জটিলতা যেমন ডায়রিয়া বা ভিটামিনের অভাব হতে পারে।
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়।
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে।
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।

উৎস: 
১। বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২। প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৫৯.
কোন খনিজ উপাদান পেশি সংকোচনে ভূমিকা রাখে? 
  1. আয়রন
  2. পটাসিয়াম
  3. আয়োডিন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
- 'পটাসিয়াম' খনিজটি পেশি সংকোচনে ভূমিকা রাখে। 

খনিজ লবণ: 

- গলগণ্ড, রক্তাস্বল্পতা খনিজ লবণের অভাবে দেহে এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- দেহ কোষ ও দেহের তরল উপাদানের জন্য (যেমন- রক্ত, এনজাইম, হরমোন ইত্যাদি) খনিজ লবণ খুবই দরকারি। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন, দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ (যেমন- পেশি সংকোচন, স্নায়ু উত্তেজনা) নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। 
- হাড়, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে সরাসরি খনিজ লবণ শোষণ করে। 
- আমাদের দেহের ওজনের ১% পরিমাণ লবণ থাকে। 
- এ উপাদানগুলো হলো ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সালফার, সোডিয়াম, ক্লোরিন ও ম্যাগনেসিয়াম। 
- এছাড়া লোহা, আয়োডিন, দস্তা, তামা ইত্যাদি খনিজ লবণ আমাদের দেহের জন্য অতি সামান্য পরিমাণে থাকে। 
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। গলগণ্ড রোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া উচিত। 


উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৬০.
সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ কোন খনিজ উপাদানের ভালো উৎস?
  1. সোডিয়াম
  2. আয়োডিন
  3. ফসফরাস
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
খনিজ লবণ (Mineral salts): 
- দেহকোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, লৌহ, সালফার, দস্তা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি থাকে। 
- এ উপাদানগুলো কখনো মৌলিক উপাদানরূপে মানবদেহে অবস্থান করে না, এগুলো খাদ্য ও মানবদেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব এবং অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম এবং হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- স্নায়ুর উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন, দেহকোষে পানির সাম্যতা বজায় রাখা, অম্ল ও ক্ষারের সমতাবিধান, এসব কাজে খনিজ লবণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস। 
- কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে। 
- আয়োডিনের উৎস হলো সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬১.
শক্তি উৎপাদক খাদ্য -
  1. ক) আমিষ
  2. খ) খনিজ লবণ
  3. গ) শর্করা
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা
খাদ্যের উপাদান ছয়টি - শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। 
শর্করা, আমিষ ও স্নেহ হচ্ছে দেহ পরিপোষক খাদ্য।
খাদ্যের স্নেহ ও শর্করাকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য।
আমিষ যুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য।
খাদ্যের উপাদান দুই ধরনের -
(১) মুখ্য উপাদান ( শর্করা, আমিষ ও স্নেহ )
(২) সহায়ক উপাদান ( ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি )

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
১৬২.
স্বাভাবিক প্রজনন সহায়তা ও বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে -
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন ডি
  4. ভিটামিন ই
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ই (Vitamin E):
- ভিটামিন ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
- এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

ভিটামিন ই এর উৎস:
- সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন- নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস।
- শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
- ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

ভিটামিন ই এর কাজ:
১। ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
২। জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে ।
৩। নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
৪। নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
৫। অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
৬। ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ই এর অভাবজনিত অবস্থা:
১। নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
২। ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৩। গর্ভপাত হতে পারে।
৪। অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

তথ্যসূত্র - গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৩.
দুধের প্রোটিনের প্রধান উপাদান কী? 
  1. গ্লুকোজ 
  2. কেজিন 
  3. এলবুমিন 
  4. গ্লোবিউনিন 
ব্যাখ্যা

দুধ: 
- দুধ হচ্ছে লিপিড, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন এবং পানিতে দ্রবীভূত অথবা বিক্ষিপ্ত বিভিন্ন অজৈব এবং জৈব লবণের মিশ্রণ। 
- দুধ একটি কলয়েড বা ইমালশন।
- স্তন্যপায়ী স্ত্রী প্রাণীর দেহে এটি তৈরি হয় যা তাদের নবজাতক শিশুর খাদ্যের প্রধান উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- দুধের প্রধান উপাদানগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
১. চর্বি (Lipids): 
- দুধের মধ্যে চর্বি অদ্রবণীয় সূক্ষ্ম কণারূপে বিদ্যমান থাকে। চর্বির পরিমাণ দ্বারা দুধের গুণগতমান নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। উচ্চ চর্বি বিশিষ্ট দুধ অধিক ক্রিম বহন করে ও মসৃণ হয় এবং বেশি মাখন ও পনির উৎপন্ন করে। এটি শক্তির একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে কাজ করে। 

২. প্রোটিন (Protein): 
- দুধে উচ্চমান সম্পন্ন প্রোটিন বিদ্যমান। সাধারণত প্রতি লিটার দুধে 30-35g প্রোটিন উপস্থিত থাকে। দুধে উপস্থিত 76-86% প্রোটিনই কেজিন (Casein) দ্বারা গঠিত। প্রধানত চার প্রকার কেজিন দুধের মধ্যে পাওয়া যায়। যেমন: αS1, αS2, β এবং K-কেজিন। এর সাথে অল্প পরিমাণ অ্যালবুমিন ও গ্লোবিউনিন বিদ্যমান যা বিভিন্ন অসুখের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

৩. কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 
- দুধে বিদ্যমান প্রধান শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হচ্ছে ল্যাকটোজ। এক অণু গ্লুকোজ এবং এক অণু গ্ল্যাক্টোজ এর সমন্বয়ে ল্যাকটোজ তৈরি হয়। এটি দুধের মিষ্টতা বাড়ায়। দুধের মধ্যে প্রায় 4.8% ল্যাকটোজ বিদ্যমান যা দুধের 40% ক্যালরি উৎপন্ন করে। 

8. খনিজ লবণ (Minerals): 
- দুধে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস অধিক পরিমাণে বিদ্যমান। এছাড়া অল্প পরিমাণে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরাইড, সাইট্রেট প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। ক্যালসিয়াম হাড়ের বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম খুবই প্রয়োজন। 

৫. ভিটামিন (Vitamins): 
- দুধ ভিটামিনের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। দুধের মধ্যে ভিটামিন A, B6, B12, C, D, K, F আছে। এছাড়াও থায়ামিন, নায়াসিন, রিবোফ্লাবিন, প্যান্টোথ্যানিক এসিড প্রভৃতি উপাদান বিদ্যমান। 

৬. পানি (Water): 
- দুধে পানির পরিমাণ গড়ে ৪7%। পানিতে দ্রবণীয় বিভিন্ন খাদ্য উপাদান দ্রবীভূত থাকে। এদের মধ্যে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও সি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৪.
পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে কী বলে?
  1. ক) COD
  2. খ) WOD
  3. গ) BOD
  4. ঘ) TOD
ব্যাখ্যা

প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Biological/Biochemical Oxygen Demand - BOD):
পানিতে উপস্থিত অনুজীব কর্তৃক জৈব ও অজৈব পদার্থকে বিয়োজিত করতে প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণকে প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড BOD বলে।
পানির উৎকর্ষতা নির্ধারণে BOD নির্দেশক রূপে কাজ করে।

রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Chemical Oxygen Demand - COD):
পানির মধ্যে কিছু অপচনশীল বা জৈব বিয়োজনের অযোগ্য (nonbiodegradable) বস্তু থাকে যাদের বিয়োজন ব্যাকটেরিয়া বা জীবণু দ্বারা সম্পন্ন হয় না।
এগুলিকে বিয়োজনের জন্য শক্তিশালী জারক পদার্থ যেমন K2Cr2O7 (যা অক্সিজেন সরবরাহ করে) প্রয়োজন হয়। এরা দূষক পদার্থকে জারিত করে। পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (COD) বলে।

উল্লেখ্য যে,
কোন নমুনার COD এর মান BOD এর মান অপেক্ষা বেশি হয়। কেননা COD নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জৈব ভাঙ্গনযোগ্য বা বিয়োজন যোগ্য এবং বিয়োজন অযোগ্য এই উভয় প্রকার জৈব বস্তুই জারিত হয়। পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো দূষণের হার বৃদ্ধি।

উৎসঃ পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৫.
Which of the following vitamins plays a key role in blood clotting?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin C
  3. Vitamin D
  4. Vitamin E
  5. Vitamin K
ব্যাখ্যা

• রক্ত জমাট বাঁধার জন্য ভিটামিন K অপরিহার্য। এটি যকৃতে প্রথম্বিন (Prothrombin) নামক প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে যা রক্ত জমাট বাঁধতে মূল ভূমিকা পালন করে।

ভিটামিন কে (Vitamin K): 

- ভিটামিন কে-এর রাসায়নিক নাম ফাইলোকুইনন বা ন্যাপথোকুইনন। 
- এটি তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। 

ভিটামিন কে -এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে ভিটামিন কে পাওয়ার যায়। 

ভিটামিন কে-এর কাজ: 
১. কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
২. পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩. যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

ভিটামিন কে-এর অভাবজনিত অবস্থা: 
- এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়। 
- ফলে, সামান্য কাটা ছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৬.
পটাসিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস কোনটি?
  1. স্যুপ ও সরবত
  2. ডাবের পানি
  3. খাবার লবণ
  4. সামুদ্রিক মাছ
ব্যাখ্যা
খনিজ উপাদান: 
- খনিজ উপাদানসমূহ দেহের বৃদ্ধি, শরীরবৃত্তীয় বিভিন্ন ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, সুস্থতা ও সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- দেহ গঠনে এসব অজৈব খনিজ পদার্থের অংশগ্রহণ দেহ ওজনের প্রায় ৪% হয়ে থাকে। 
- বিভিন্ন প্রকারের খনিজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রণ (লৌহ), আয়োডিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক (দস্তা), ক্লোরিন, কপার (তামা) ইত্যাদি। 

পটাসিয়াম (k): 
১। খেজুর, পালং শাক, গাজর, বিট, ডাবের পানি, ফল (আম, কলা) ইত্যাদি পটাসিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস। 
২। পটাসিয়াম দেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। কোষের ভেতরে পানির চাপ, অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে। পেশি ও স্নায়ুর উদ্দীপনা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। হৃৎপিন্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। 
৩। পটাসিয়ামের অভাবে দেহের পানির সমতা বিনষ্ট হয়। হৃদস্পন্দন অনিয়ন্ত্রিত হয়। মাংসপেশির দুর্বলতা দেখা দেয়। 

সোডিয়াম (Na): 
১। খাবার লবণ, পনির, লবণাক্ত খাদ্য, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি সোডিয়ামের ভালো উৎস। 
২। সোডিয়াম পটাসিয়ামের মতোই দেহে পানি, অম্ল ও ক্ষারের ক্ষমতা রক্ষা করে। হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। স্নায়ুর ও পেশির উদ্দীপনা স্বাভাবিক রাখে বা নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩। সোডিয়ামের অভাবে দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, রক্তচাপ কমে যায়, খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট হয়। অরুচি, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা হয়। 

ক্লোরিন (CI): 
১। খাবার লবণ, দুধ, ডিম ও মাংসে ক্লোরিন পাওয়া যায়। 
২। দেহে পানি, অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে। পরিপাক ও হজম প্রভাবিত করে। 
৩। ক্লোরিনের অভাবে বমি ও ক্লান্তি দেখা দেয়। 

জিংক (Zn) বা দস্তা: 
১। ডিম, দুধ, মাংস, সামুদ্রিক মাছ, যকৃত, বাদাম ইত্যাদিতে জিংক (Zink) পাওয়া যায়। 
২। জিংক প্রতিটি প্রাণিকোষে থাকে। এটি প্রজনন ক্ষমতা রক্ষা করে। এনজাইমের কাজে সহায়তা করে। অস্থি ও মস্তিষ্ক গঠনে ভূমিকা রাখে। 
৩। জিংকের অভাবে শিশুর বর্ধন ও মস্তিষ্কের গঠন ব্যাহত হয়। ক্ষুধা কমে যায়। প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৭.
সরল প্রোটিন কোনটি?
  1. পেপটোন
  2. লাইপোপ্রোটিন
  3. গ্লোবিউলিন
  4. গ্লাইকোপ্রোটিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন বা আমিষ: 
- দেহ গঠনে প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা সর্বাধিক। 
- মানবদেহের মাংসপেশি, অস্থি, রক্ত ইত্যাদি গঠনের প্রধান উপাদান প্রোটিন। 
- প্রোটিনকে ভাঙলে বা সম্পূর্ণরূপে আর্দ্র বিশ্লেষিত করলে কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও নাইট্রোজেন (N) মৌল পাওয়া যায়, তবে কোনো কোনো প্রোটিনে সালফার, ফসফরাস ও লৌহের সামান্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। 
- তবে প্রোটিনের মূল গঠন উপাদান হলো কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন, এ চারটি মৌল মিলিত হয়ে প্রথমে এ্যামাইনো এসিড এবং পরে এ্যামাইনো এসিডগুলো পেপটাইট বন্ধনী দিয়ে সংযুক্ত হয়ে প্রোটিন অণু গঠিত হয়। 
অর্থাৎ, প্রোটিন হলো এ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

প্রোটিনের শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রোটিনে এ্যামাইনো এসিড ও অন্যান্য উপাদানের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা: 
১। সরল প্রোটিন: 
- যেসব প্রোটিনকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে শুধুমাত্র এ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায় অর্থাৎ এ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য কোনো উপাদান পাওয়া যায় না তাদের সরল প্রোটিন বলে। 
যেমন- এলবুমিন, গ্লোবিউলিন, গ্লুটেনিন, প্রোলামিন, হিস্টোন ইত্যাদি। 

২। যৌগিক প্রোটিন: 
- যেসব প্রোটিনকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে এ্যামাইনো এসিড ছাড়াও অন্যান্য অপ্রোটিন উপাদান পাওয়া যায় তাদের যৌগিক প্রোটিন বলে। 
যেমন- ফসফোপ্রোটিন, লাইপোপ্রোটিন, নিউক্লিওপ্রোটিন, গ্লাইকোপ্রোটিন ইত্যাদি। 
- প্রোটিনের সাথে সংযুক্ত অপ্রোটিন অংশের নামানুসারে এদের নামকরণ করা হয়। 
উদাহরণ স্বরূপ- প্রোটিনের সাথে ফসফেট যুক্ত থাকে বলে ফসফোপ্রোটিন। প্রোটিনের সাথে নিউক্লিয়িক এসিড যুক্ত থাকলে নিউক্লিওপ্রোটিন। এভাবে লিপিড যুক্ত থাকলে লাইপোপ্রোটিন ইত্যাদি। এদের সংযুক্ত প্রোটিনও বলা হয়ে থাকে। 

৩। উদ্ভুত প্রোটিন: 
- সরল ও যৌগিক প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত প্রোটিনকে উদ্ভুত প্রোটিন বলে। 
যেমন- পেপটাইডসমূহ, পেপটোন, প্রোটিওজ ইত্যাদি। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
ভিটামিন B12 এর রাসায়নিক নাম কী?
  1. থায়ামিন
  2. নায়াসিন
  3. রিবোফ্লাভিন
  4. কোবালামিন
ব্যাখ্যা

ভিটামিন B12:
- ভিটামিন B12, যা কোবালামিন নামে পরিচিত, একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
- কোবালামিন নামটি এসেছে কারণ এই ভিটামিনের অণুতে কোবাল্ট নামক একটি খনিজ পদার্থ থাকে, যা এর কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য।
- এটি নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এর অভাবে পার্নিসাস এ্যনিমিয়া (রক্তস্বল্পতা) হয়, যেখানে লোহিত রক্তকণিকা অস্বাভাবিকভাবে বড় হয় এবং তাদের সংখ্য কমে যায়।
- এটি স্নায়ু কোষের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং স্নায়ুতন্ত্রের আবরণ (myelin sheath) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এর অভাবে স্নায়বিক দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অসাড়তা এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
- এটি শরীরের প্রতিটি কোষে ডিএনএ সংশ্লেষণ এবং নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- সাধারণত প্রাণিজ উৎসে পাওয়া যায়, যেমন: যকৃত, মাছ, মাংস, ডিম, এবং দুগ্ধজাত পণ্য।

উল্লেখ্য-
- থায়ামিন: এটি ভিটামিন B1 এর রাসায়নিক নাম।
- নায়াসিন: এটি ভিটামিন B5 এর রাসায়নিক নাম।
- রিবোফ্লাভিন: এটি ভিটামিন B2 এর রাসায়নিক নাম।

উৎস:
১। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

১৬৯.
মানুষের প্রধান খাদ্য কোনটি?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) শর্করা
  3. গ) ভিটামিন
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলাে-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, ও অক্সিজেন নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়।
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন।

উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৭০.
কচুশাক বিশেষভাবে মূল্যবান যে উপাদানের জন্য তা হলো-
  1. ভিটামিন 'এ'
  2. ভিটামিন 'সি'
  3. লৌহ
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
খনিজ উপাদান: 
- ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎসের তালিকায় কচু শাক দেয়া আছে। তবে, কচু শাক লৌহেরও ভাল উৎস। 
- কিন্তু লৌহ এবং ক্যালসিয়াম একসাথে দেয়া হলে ক্যালসিয়াম প্রধান উৎস হিসেবে জীববিজ্ঞান বইতে সরাসরি বলা আছে তাই এটাকেই উত্তর হিসেবে নেয়া হল। 
- লৌহ/আয়রনের উদ্ভিজ্জ উৎস: ফুলকপির পাতা, নটোশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম ইত্যাদি৷
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, গাজর, ফুলকপি, পালংশাক, কচুশাক, লাল শাক, বাধাকপি ইত্যাদি৷

- যদিও, এখানে লিস্টে নাম দেয়া হয়নি। তবে, কচু শাক লৌহের ভাল উৎস কোন সন্দেহ নেই। যাইহোক, দুইটা রেফারেন্সেরই দিক থেকে চিন্তা করলে ক্যালসিয়ামকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
১৭১.
অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয় কোনটি?
  1. লাইসিন
  2. ট্রিপেটোফ্যান
  3. গ্লাইসিন
  4. ভ্যালিন
ব্যাখ্যা
• অ্যামাইনো এসিড:
- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়।
- যেমন- লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন (Valine), লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন।
- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭২.
ম্যালিক এসিড পাওয়া যায়-
  1. আমলকিতে
  2. কমলালেবুতে
  3. তেঁতুলে
  4. আপেলে
ব্যাখ্যা
- আপেল, আনারসে ম্যালিক এসিড বেশি মাত্রায় পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।

উল্লেখ্য,
- টমেটোতে অক্সালিক এসিড, ম্যালিক এসিড ও সাইট্রিক এসিড পাওয়া যায়।
- স্যালিসাইক্লিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১৭৩.
শিশুর জন্য "ভিটামিন এ" ক্যাপসুল বছরে কতবার দিতে হয়?
  1. বছরে দুইবার
  2. বছরে তিনবার
  3. বছরে একবার
  4. বছরে চারবার
ব্যাখ্যা
- শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিন পূর্ণ হলেই পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব) ও ওপিভি টিকার প্রথম ডােজ দিতে হবে জন্মের প্রথম বছরেই সবগুলাে টিকা দেয়ার জন্য কমপক্ষে ৪ বার টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে ।
- শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হয়ে ১০ মাসে পড়লেই হামের টিকা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিতে হবে। 
- ১৫ বছর বয়স হলেই সকল মহিলাদের ধনুষ্টংকারের প্রতিষেধক টিটি টিকা দেয়া শুরু করতে হবে এবং সময়সূচি অনুযায়ী ৫ ডােজ টিটি টিকা নেয়া শেষ করতে হবে। 
- ১ - ৫ বছর বয়সী শিশুকে ৬ মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।
- অর্থাৎ বছরে দুইবার শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হয়। 

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১৭৪.
কোন খাদ্য উপাদানটি আমাদের শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?
  1. ক) চর্বি
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রােটিন-জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত।
আমিষে শতকরা 16 ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।
আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রনও থকে।
নাইট্রোজেন এবং শেষােক্ত উপাদানগুলাের উপস্থিতির কারণে আমিষের গুরুত্ব শর্করা ও স্নেহ পদার্থ থেকে আলাদা।
শুধু আমিষজাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
১৭৫.
নিম্নের কোন খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ বেশি?
  1. ক) ঘি
  2. খ) গরুর দুধ
  3. গ) খাসির মাংস
  4. ঘ) ইলিশ মাছ
ব্যাখ্যা

100 গ্রাম ঘি এ মোট 900 কিলোক্যালরি শক্তি আছে।
অন্যদিকে, 100 গ্রাম গরুর দুধ, খাসির মাংস, ইলিশ মাছ এ শক্তি আছে যথাক্রমে 67 কিলোক্যালরি 194 কিলোক্যালরি এবং 273 কিলোক্যালরি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৬.
রক্তশূণ্যতা দেখা দেয় কোনটির অভাবে?
  1. লৌহ
  2. ভিটামিন A
  3. ক্যালসিয়াম
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা
• লৌহ বা আয়রণ (Fe):
- রক্তের অন্যতম প্রধান উপাদান লৌহ বা আয়রণ।
- প্রতি ১০০ মিলি রক্তের প্রায় ৫০ মিলি গ্রাম লৌহ থাকে।
- এছাড়া যকৃত, প্লিহা, অস্তিমজ্জায় লৌহ সঞ্চিত থাকে।
- পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দেহে বিদ্যমান ৩-৪ গ্রাম লৌহের চার ভাগের তিন ভাগই রক্তে থাকে।
- উৎস: কাঁচা কলা, সবুজ শাক, কচু, শুকনো ফল, আপেল, কলা ইত্যাদি লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস। ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছ, মাংস ইত্যাদি লৌহের প্রাণিজ উৎস।
- কাজ : লৌহ রক্তের লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, রক্তে অক্সিজেন বহন করে।
- অভাবজনিত অবস্থা: লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন A  এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
- ক্যালসিয়াম  এর অভাবে শিশুদের রিকেট এবং বয়স্ক মহিলাদের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয়।
- আয়োডিন এর অভাবে গলগণ্ড রোগ হবে।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৭.
ভিটামিন ডি তৈরির চূড়ান্ত ধাপটি সংঘটিত হয়- 
  1. যকৃতে
  2. অন্ত্রে
  3. অস্থিমজ্জায়
  4. কিডনিতে
ব্যাখ্যা
রিকেটস (Rikets): 
- এটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন।
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে। 

- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।
- এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়।
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো।
- এতে সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়।
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৮.
রিবোফ্লাভিনের অভাবজনিত মূল সমস্যা কোনটি? 
  1. রক্তশূন্যতা দেখা দেয়
  2. ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হয়
  3. ক্ষতস্থান শুকাতে দেরি হয়
  4. অস্থি ও দাঁতের গঠন দুর্বল হয়
ব্যাখ্যা
রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি উৎস: 
- কমলা ও হলুদ বর্ণের শাকসবজি যেমন- মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, কুমড়োর ফুল, ডিমের কুসুম, দুধ, বাদাম, যকৃত রিবোফ্লাভিনের ভালো উৎস। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
- রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি এর অভাবে জিহ্বায়, ঠোঁটের কোণায় ও মুখের ভিতরে ঘা দেখা দেয়। 
- ত্বক খসখসে হয়ে যায়। 
- ভিটামিন বি২ অভাবে মুখে ঘা হতে পারে। 

দৈনিক চাহিদা: 
- প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১.৭ মিলিগ্রাম ও নারীর ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 
- শিশুদের দৈনিক ০.৮ মিলিগ্রাম এবং কিশোর কিশোরীদের যথাক্রমে ২.০ মিলিগ্রাম ও ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৯.
কোন খাদ্য উপাদান পানি শোষণ ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে?
  1. রাফেজ
  2. স্নেহ
  3. খনিজ লবণ
  4. পানি
ব্যাখ্যা
খাদ্যের উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বে গঠিত। এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- যেহেতু এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- অধিকাংশ খাদ্যে একাধিক খাদ্য উপাদান থাকে। 
- কোনে খাদ্যে যে উপাদানটি বেশি পরিমাণে থাকে, তাকে সেই উপাদানের খাদ্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) আমিষ: দেহের বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 
(২) শর্করা: দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
(৩) স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য: দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন করে। 
- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
(৪) খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপন যোগায়। 
(৫) খনিজ লবণ: বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
(৬) পানি: দেহে পানি এবং তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি ন জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
(৭) খাদ্য আঁশ (Fibre) বা রাফেজ: রাফেজ পানি শোষণ করে, মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮০.
আপেলে কোন ধরনের শর্করা বিদ্যমান?
  1. ক) গ্লুকোজ
  2. খ) ফ্রুক্টোজ
  3. গ) সুক্রোজ
  4. ঘ) মলটোজ
ব্যাখ্যা
আপেলে ফ্রুক্টোজ  ধরনের শর্করা বিদ্যমান।

- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস।
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। কার্বন (C) হাইড্রোজেন (Hz) ও অক্সিজেন (O2) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়।
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন।

শর্করার উৎস- 
কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি । প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা।

শর্করার প্রকারভেদ- 
গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার যথা : এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)।
১। এক শর্করা : এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ
ক) গগ্লুকোজ-চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি
খ) ফ্রুক্টোজ-মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি গ) গ্যালাক্টোজ-দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়।

২। দ্বি-শর্করা : দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ
ক) সুক্রোজ-আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস
খ) মলটোজ-চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)
গ) ল্যাক্টোজ-দুধের শর্করা।

৩। বহু শর্করা : বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ
ক) শ্বেতসার-চাল, গম, আলু, কচু
খ) সেলুলোজ-ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা
গ) গ্লাইকোজেন-প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়।

সূত্র: ৮ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮১.
নিচের কোন উপাদান হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে?
  1. সোডিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. ভিটামিন সি
  4. ক্যালসিয়াম
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। 
- হাড়ের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। 
- রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। 
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস খাদ্যের উৎস: ম্যাকরেল মাছ, স্যামন মাছ, ডিমের সাদা অংশ, সয়া মিল্ক, দুধ, মাশরুম, চিজ, কমলালেবুর রস ইত্যাদি। 

উলেখ্য, 
অপশনে শুধুমাত্র ক্যালসিয়াম উল্লেখ আছে কিন্তু ফসফরাস নেই। তাই সঠিক উত্তর হবে ক্যালসিয়াম। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮২.
ঢেঁকিছাটা চালে কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ‘এ’ : দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসব্জি, মলা মাছ ইত্যাদি।

ভিটামিন ‘বি’ : ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি ইত্যাদি।

ভিটামিন ‘সি’ : পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসব্জি ইত্যাদি।

ভিটামিন ‘ডি’ : ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৩.
মানবদেহে স্নেহজাতীয় পদার্থ হজমের জন্য কোন এনজাইমটি অপরিহার্য?
  1. পেপসিন
  2. অ্যামাইলেজ
  3. লাইপেজ
  4. ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা

লাইপেজ হলো একটি পাচক এনজাইম যা স্নেহ জাতীয় খাদ্য বা ফ্যাট পরিপাকে সহায়তা করে। 
- লাইপেজ (Lipase) হলো এক ধরনের হাইড্রোলাইটিক এনজাইম, যা স্নেহ পদার্থের (ফ্যাট) অণুগুলোকে ফ্যাটি অ্যাসিড (Fatty acid) ও গ্লিসারলে (Glycerol) পরিণত করে।
- স্নেহ জাতীয় খাদ্য পরিপাকের জন্য পিত্তরসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পিত্তরস ফ্যাটকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভেঙে ইমালসিফাই (Emulsify) করে, যা লাইপেজ এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে।
- এই পরিপাক প্রক্রিয়াটি প্রধানত ক্ষুদ্রান্ত্রে সম্পন্ন হয়, যেখানে স্নেহ কণাগুলো সম্পূর্ণরূপে বিশ্লেষিত হয়।
- জম হওয়া ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারল পরবর্তীতে অন্ত্রের লসিকাতন্ত্র (Lymphatic system) এবং রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শোষিত হয়।
- লাইপেজের অভাবে ফ্যাট হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার ফলে স্বাস্থ্যগত জটিলতা যেমন ডায়রিয়া বা ভিটামিনের অভাব হতে পারে।
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়।
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে।
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।

উল্লেখ্য-
- পেপসিন: প্রোটিন পরিপাককারী একটি এনজাইম, যা পাকস্থলীতে প্রোটিনকে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে।
- অ্যামাইলেজ: শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) পরিপাককারী একটি এনজাইম। লালা এবং অগ্ন্যাশয়ে এটি পাওয়া যায়।
- ট্রিপসিন:  ট্রিপসিন হলো প্রোটিন পরিপাককারী আরেকটি এনজাইম, যা অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয়ে প্রোটিনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পলিপেপটাইডে ভাঙে।

উৎস:
১। বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২। প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৮৪.
খাদ্যআঁশ কোন শ্রেণির খাদ্য? 
  1. প্রোটিন
  2. শর্করা
  3. ফ্যাট
  4. খনিজ
ব্যাখ্যা
খাদ্যআঁশ বা রাফেজ: 
- শস্য দানার বহিরাবরণ, সবজি, ফলের খোসা, শাঁস বীজ ও উদ্ভিদের ডাটা, ফল, মূল, পাতা ইত্যাদিতে আঁশ থাকে। 
- খাদ্যআঁশগুলো মূলত কোষ প্রাচীরের সেলুলোজ এবং লিগনিন। 
- খাদ্যআঁশের সেলুলোজ এবং লিগনিন উদ্ভিদের দেহ কাঠামো তৈরি করে, এগুলো এক ধরনের জটিল শর্করা। 
- গবাদি পশু সাধারণ সেলুলোজ হজম করতে পারে, কিছু মানুষ এগুলো হজম করতে পারে না। 
- রাফেজ পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 
- ধারণা করা হয় এরূপ খাবার খাদ্যনালির ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করে। 
- আঁশযুক্ত খাবার স্থূলতা হ্রাস, ক্ষুধা প্রকটতা হ্রাস ও চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫.
নিচের কোনটি এক অণুবিশিষ্ট শর্করা?
  1. ল্যাকটোজ
  2. সুক্রোজ
  3. গ্লুকোজ
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
- এক অণুবিশিষ্ট শর্করা হচ্ছে- গ্লুকোজ। 

শর্করা বা শ্বেতসার: 

- শর্করা জাতীয় খাদ্য দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে থাকে। 
- গ্লুকোজ, ল্যাকটোজ ও শ্বেতসার শর্করার বিভিন্ন রূপমাত্র। 
- গঠন পদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 


 - সাধারণত চাল, গম, আলু থেকে শর্করা বা শ্বেতসার পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না বলে একে চাল, আটা, আলু ইত্যাদির সাথে রান্না করে খাোয়া হয়। 
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা ও বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়। 
- কারণ মানবদেহে শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৬.
​মানুষের শরীরের ওজনের কত শতাংশ ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত?
  1. ৮%
  2. ৫%
  3. ২%
  4. ১০%
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম খনিজ উপাদান: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৭.
মানবদেহে কত ধরনের অ্যাামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে? 
  1. ১২ ধরনের
  2. ১৫ ধরনের
  3. ১৮ ধরনের
  4. ২০ ধরনের
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৮.
আমিষের প্রধান কাজ কী? 
  1. শক্তি উৎপাদন করা
  2. রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করা
  3. মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করা
  4. দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করা
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে যা কোনো পুষ্টি না জোগালেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান।  
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৯.
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন কোনটি?
  1. A
  2. C
  3. B6
  4. B12
ব্যাখ্যা

• ভিটামিনের শ্রেণিবিভাগ:
- এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ভিটামিনসমূহকে তাদের দ্রবণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ২টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১. চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- যে ভিটামিনসমূহ তেল/চর্বিতে দ্রবীভূত হয় কিন্তু পানিতে অদ্রবণীয় থাকে তাদেরকে চর্বিতে দ্রবণীয় (fat soluble) ভিটামিন বলা হয়।
- এরা তেল এবং চর্বির সাথে মিশে দেহে শোষিত হয়।
- তেল/চর্বি বা স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো: ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন কে।

২. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- যে ভিটামিনগুলো পানিতে দ্রবীভূত হয় কিন্তু তেল বা চর্বিতে অদ্রবীভূত থাকে তাদের পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (Water soluble vitamin) বলে।
- এ ভিটামিনগুলো হলো বিভিন্ন প্রকারের বি ভিটামিন ও ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড।
- বি ভিটামিনগুলোকে একত্রে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলে।
- ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন, ভিটামিন বি২ বা রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি৫ বা নায়াসিন, ভিটামিন বি৬ বা পিরিডক্সিন, ভিটামিন বি১২ বা কোবালামিন, ফলিক এসিড, পেন্টোথেনিক এসিড, বায়োটিন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বি ভিটামিন। এগুলো মানবদেহের জন্য আবশ্যক।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯০.
হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। 
- হাড়ের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। 
- রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। 
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস খাদ্যের উৎস: ম্যাকরেল মাছ, স্যামন মাছ, ডিমের সাদা অংশ, সয়া মিল্ক, দুধ, মাশরুম, চিজ, কমলালেবুর রস ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯১.
ফিল্টার কোন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করে থাকে?
  1. ক) ক্লোরিনেশন
  2. খ) স্ফুটন
  3. গ) পরিস্রাবণ
  4. ঘ) পাতন
ব্যাখ্যা
সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলাে হলাে পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। নিচে এই প্রক্রিয়াগুলাে বর্ণনা করা হলােঃ

পরিস্রাবণঃ পরিস্রাবণ হলাে তরল আর কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলা-বালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা-আবর্জনার কণা থাকে। এদেরকে পরিস্রাবণ করে পানি থেকে দূর করা হয়। এটি করার জন্য পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়, তখন পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলাে বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের বাসায় আমরা যেসব ফিল্টার ব্যবহার করি, সেখানে আরাে উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয়।

ক্লোরিনেশনঃ যদি পানিতে রােগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে তা অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সেটি করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এদের মাঝে অন্যতম হচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার এবং আরও কিছু পদার্থ যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলাে ব্যবহার করা হয়।

স্ফুটনঃ পানিকে খুব ভালােভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। প্রশ্ন হতে পারে, জীবাণুমুক্ত করার জন্য কতক্ষণ পানি ফুটাতে হয়? স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা-বাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।

পাতনঃ যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়ােজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। যেমন: ঔষধ তৈরির জন্য, পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে সেটাকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯২.
প্রোটিন জাতীয় খাদ্যে নিচের কোন উপাদানটি অনুপস্থিত?
  1. কার্বন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: আমিষ, শর্করা ও স্নেহ। 

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। যথা- 

১। প্রাণিজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃত ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। 
- এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

২। উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
- অনেক সময় দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৩.
ভিটামিন-সি এর উৎস কোনটি?
  1. দুধ
  2. ঢেঁকিছাটা চাল
  3. বাঁধাকপি
  4. ভোজ্য তেল
ব্যাখ্যা


সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৪.
ভিটামিন D তৈরি হওয়ার শেষ ধাপ কোন অঙ্গে ঘটে? 
  1. কিডনিতে 
  2. হাড়ে 
  3. যকৃতে 
  4. ত্বকে 
ব্যাখ্যা

রিকেটস (Rikets): 
- এটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন। 
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে। 

- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়। 
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। 
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো। এতে সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়। 
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৫.
মানুষের শরীরে কত ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. ৮ ধরনের
  2. ১৩ ধরনের
  3. ১৮ ধরনের
  4. ২০ ধরনের
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং কিছু ক্ষেত্রে সালফার-এ পাঁচটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট আমিষের পরিচয় হয় কিছু অ্যামাইনো এসিড দিয়ে। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। যথা- প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ। 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির-এগুলো প্রাণিজ আমিষ। 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন- ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম হচ্ছে উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ। 

- ২০টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো এসিডকে (লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইনকে) অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়। এই আটটি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড মানুষের শরীর সংশ্লেষ করতে পারে। প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম। 
- প্রাণীদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য, দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং-এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৬.
কয়টি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
শরীর গঠনের জন্য আমিষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- শরীরের প্রতিটা অংশ এবং কোষে প্রোটিন রয়েছে।
- শরীর গঠন ও বৃদ্ধির জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন - এ চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়।
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো এমাইনো এসিডে পরিনত হয়।
- আমিষের পরিচয় হয় এমাইনো এসিডের সাহায্যে। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১৯৭.
খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে কী বলে?
  1. ক) পুষ্টি
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) পরিপোষক
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

পুষ্টি হলো পরিবেশ থেকে প্রয়ােজনীয় খাদ্যবস্তু আহরণ করে খাদ্যবস্তুকে পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরণ দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পুরণ, রোগ প্রতিরোধ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা। পুষ্টির ইংরেজি প্রতিশব্দ Nutrition.
অপরদিকে খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে পরিপোষক বা নিউট্রিয়েন্টস বলে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১৯৮.
দুধের মধ্যে বিদ্যমান শর্করা কোনটি?
  1. ল্যাক্টোজ
  2. গ্যালাক্টোজ
  3. ফ্রুক্টোজ
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করার গঠন: 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। 
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। 
- কার্বন (C) হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়। 
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন। 

শর্করার উৎস: 
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো- চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি। 
- প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা। 

শর্করার প্রকারভেদ: 
- গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার। 
যথা: এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)। 
১। এক শর্করা: 
- এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ। 
ক) গ্লুকোজ- চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি। 
খ) ফ্রুক্টোজ- মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি। 
গ) গ্যালাক্টোজ- দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়। 

২। দ্বি-শর্করা: 
- দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ। 
ক) সুক্রোজ- আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস। 
খ) মলটোজ- চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)। 
গ) ল্যাক্টোজ- দুধের শর্করা। 

৩। বহু শর্করা: 
- বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ। 
ক) শ্বেতসার- চাল, গম, আলু, কচু। 
খ) সেলুলোজ- ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা। 
গ) গ্লাইকোজেন- প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৯.
দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি, কোন রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে?
  1. হাইপো-থাইরয়ডিজম
  2. রাতকানা
  3. এনিমিয়া
  4. কোয়াশিয়রকর
ব্যাখ্যা
- সামুদ্রিক মাছ/শৈবাল আয়োডিনের ভাল উৎস।
- আয়োডিনের অভাবে হাইপো-থাইরয়ডিজম বা গলগণ্ড রোগ হয়।
- ফলে দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি থাকলে আয়োডিনের অভাবজনিত হাইপো-থাইরয়ডিজম রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকেই গলগণ্ড (Goitre) বলে।
- গলগন্ড (Goiter) খাদ্য ও খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাব, সংক্রমণজনিত প্রদাহ, টিউমার, অথবা গলগ্রন্থির কম কার্যকারিতার কারণে গলগ্রন্থির (thyroid) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। 
- "Severe and prolonged iodine deficiency, may lead to a deficient supply of thyroid hormones. This condition is referred to as hypothyroidism."

উৎস: WHO and US National Library of Medicine National Institutes of Health এবং বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
২০০.
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক কত কিলোক্যালরির সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন?
  1. ২০০০ কিলোক্যালরি
  2. ২২৫০ কিলোক্যালরি
  3. ২৫০০ কিলোক্যালরি
  4. ২৭০০ কিলোক্যালরি
ব্যাখ্যা
খাদ্য ক্যালরি বা কিলোক্যালরি: 
-খাদ্যের মধ্যে নিহিত শক্তিকে খাদ্য ক্যালরি বা কিলোক্যালরি হিসেবে মাপা হয়।
- ক্যালরি হচ্ছে শক্তির একক।
- এক গ্রাম খাদ্য জারণের ফলে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে খাদ্যের ক্যালরি বলে।
- এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১০ (ডিগ্রি) সেলসিয়াস বৃদ্ধি করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সে পরিমাণ তাপশক্তি হচ্ছে এক ক্যালরি।
- এক হাজার ক্যালরি সমান এক কিলোক্যালরি বা এক খাদ্য ক্যালরি (One Food Calorie)।
- খাদ্যের ক্যালরিকে কিলোক্যালরি দিয়ে বোঝানো হয়।
- একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক প্রায় ২৫০০ kcal এবং একজন নারীর প্রায় ২০০০ kcal-এর সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।