বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

মোট প্রশ্ন৬৩৫এই পাতা৩৪প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

PrepBank · পাতা / · ৬০১৬৩৪ / ৬৩৫

৬০১.
মোগল সম্রাটদের মধ্যে কে প্রথম আত্মজীবনী লিখেছেন?
  1. আকবর
  2. বাবর
  3. হুমায়ুন
  4. আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
তুজুক-ই-বাবুরী:

- তুজুক-ই-বাবুরী ভারতে মুগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দীন বাবরের আত্মজীবনী।
- এটি বাবুরনামা বা বাবরের স্মৃতিকথা নামেও পরিচিত।
- মোগল সম্রাটদের মধ্যে বাবর প্রথম আত্মজীবনী লিখেছেন।
- বাবুর এটি তুর্কি ভাষায় রচনা করেন।
- এটি মুগল রাজ কর্মকর্তা বৈরাম খান খান-ই-খানানের পুত্র আবদুর রহিম খান-ই-খানান কর্তৃক ফারসি ভাষায় অনূদিত হয়।
- ইউরোপীয় পন্ডিতদের সমাদৃত এ গ্রন্থ বিভিন্ন ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬০২.
ঢাকায় নির্মিত শায়েস্তা খানের কীর্তি কোনগুলো?
  1. বড় কাটরা, ছোট কাটরা
  2. চক মসজিদ, লালবাগ কেল্লা
  3. ছোট সোনা মসজিদ, লালবাগ কেল্লা
  4. ঢাকা গেট, ছোট কাটরা
ব্যাখ্যা
শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খান ছিলেন বাংলার মুঘল সুবাদার।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু তালিব।
- মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে শায়েস্তা খান নাম দেন।
- তিনি ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা।
- শায়েস্তা খান ৬৩ বছর বয়সে প্রথম বাংলায় আসেন।
- ১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত হন।
- তাঁর শাসনামলে তিনি কুচবিহার বিদ্রোহ দমন করেন, চট্টগ্রাম জয় ও মগ দস্যুদের বিতাড়িত করেন (১৬৬৬ সালে)।

⇒ তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের নাম রাখেন ইসলামাবাদ।
- তাঁর শাসনামলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।
- তিনি লালবাগ কেল্লা, শায়েস্তা খান মসজিদ, ছোট কাটরা, সাত গম্বুজ মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন।
- ১৬৯৪ সালে তিনি ৯৪ বছর বয়সে মারা যান।

অন্যদিকে,
- ঢাকায় ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন শাহ সুজা।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।
- ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।
- বড় সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন নুসরত শাহ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬০৩.
কোন শাসক সর্বপ্রথম বাংলায় মুদ্রা প্রচলন করেন?
  1. শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  2. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  3. ঈশা খাঁ 
  4. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
ব্যাখ্যা
• শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ:
→ ১২০০ হতে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ অঞ্চলে মুসলিম যুগের শাসনামল লক্ষ করা যায়।
→ ইতিহাসে এ সময়কে স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
→ ১৩০১ খ্রিস্টাব্দে শামছুদ্দিন ফিরোজ শাহ বিনিময় প্রথা রহিত করে সোনারগাঁয়ে প্রথম মুদ্রার প্রচলন করেন।

→ মধ্যযুগে শেরশাহের আমলে সমগ্র রাজত্বকে কতগুলো সরকার এবং পরগণায় বিভক্ত করা হয়। তখন জমির উৎপাদিত ফসলের এক-চতুর্থাংশ খাজনা হিসাবে কৃষকরা দিত।
সম্রাট আকবরের আমলে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রাজা টোডরমল এ অঞ্চলের রাজস্ব বন্দোবস্তের তালিকা প্রস্তুত করেন।

তথ্যসূত্র: অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৪.
'রক্তপাত ও কঠোর নীতি'- কার শাসনের বৈশিষ্ট্য ছিল?
  1. ক) সুলতানা রাজিয়া
  2. খ) ইব্রাহীম লোদী
  3. গ) সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন
  4. ঘ) জহিরউদ্দিন মুহম্মদ বাবর
ব্যাখ্যা
- সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন সাম্রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতাবাদ, গোলযোগ ও বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলা নির্মূল করার উদ্দেশ্যে এক অভিনব ও নির্মম নীতি অবলম্বন করেন।
- সুলতান কর্তৃক গৃহীত এই নীতি ইতিহাসে ‘রক্তপাত ও কঠোরতার নীতি' (Blood and Iron Policy) নামে পরিচিত।
- সুলতান ইলতুৎমিশ তাঁর বিশ্বস্ত ও সুযোগ্য চল্লিশজন ক্রীতদাসকে নিয়ে বিখ্যাত ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান' বা চল্লিশ চক্র গঠন করেছিলেন।
- সুলতান বলবন এই চল্লিশ চক্রের প্রভাব হ্রাস করার জন্য কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- এমনকি সামান্য অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধানও প্রয়োগ করেন।
- আমির খান, হায়বৎখান এবং বরবকসহ বহু প্রভাবশালী অভিজাতকে তিনি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
- তিনি আপন চাচাতো ভাই ও চল্লিশ চক্রের অন্যতম সদস্য শেরখানকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন।
- সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ছিলেন স্বেচ্ছাচারী এবং আধিপত্যবাদী স্বৈরশাসক। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৫.
নিচের কোন জেলা আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন?
  1. বাঁকুড়া
  2. নদীয়া
  3. হুগলি
  4. বীরভূম
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৬.
বার ভূইঁয়াদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভূইঁয়া কে ছিলেন?
  1. ক) চাঁদ রায়
  2. খ) কেদার রায়
  3. গ) কন্দন রায়
  4. ঘ) ঈসা খাঁ
ব্যাখ্যা
- মুঘল আমলে পূর্ববঙ্গের জমিদারগণ বারোভূঁইয়া নামে পরিচিত ছিলো।
- এদের নেতা ছিলেন ঈসা খান। ঈসা খান সোনারগাঁওয়ের জমিদার ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তারপুত্র মুসা খান সোনারগাঁওয়ের জমিদার হন।
- বারোভূঁইয়াদের অন্যতম চাঁদ রায় ও কেদার রায় ছিলেন বিক্রমপুর বা মুন্সিগঞ্জের জমিদার। চন্দ্রদ্বীপের জমিদার ছিলেন পরমানন্দ রায়। ভাওয়ালের জমিদার ছিলেন বাহাদুর গাজি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৬০৭.
কোন সুলতানের শাসনকালে আল-বারুনি কিতাবুল হিন্দ গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন? 
  1. মুহাম্মদ বিন কাসিম
  2. ময়জুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুড়ি
  3. সুলতান মাহমুদ
  4. কুতুবউদ্দিন আইবেক 
ব্যাখ্যা

সুলতান মাহমুদ:
- গজনির সুলতান মাহমুদ (৯৭১–১০৩০ খ্রিঃ) ছিলেন মধ্যযুগীয় গজনি সাম্রাজ্যের একজন শক্তিশালী ও বিখ্যাত শাসক।
- তাঁর সাম্রাজ্য বর্তমান আফগানিস্তান, উত্তর-পূর্ব ইরান এবং উত্তর ভারতের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল।
- সুলতান মাহমুদ গজনিকে একটি সমৃদ্ধশালী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন, যা বাগদাদের সমকক্ষ বিবেচিত হত।
- তিনি শিল্প, সাহিত্য ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন।
- এর ফলে তাঁর রাজসভা বিদ্বানদের মিলনক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি পায়।
- তাঁর শাসনামলে মুসলিম দার্শনিক আল বেরুনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ কিতাবুল হিন্দ রচনা করেন।
- তাঁর শাসনামলেই ইরানের কবি ফেরদৌসি শাহনামা মহাকাব্য রচনা করেন। 

উল্লেখ্য,
- সুলতান মাহমুদ মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রায় ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন,।
- তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ধনসম্পদ লুণ্ঠন এবং সাম্রাজ্য বিস্তার।
- তার সবচেয়ে বিখ্যাত অভিযান ছিল সোমনাথ মন্দির লুন্ঠন।
- এই ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে তিনি অনেক সোনা অর্জন করেন।
- তিনিই প্রথম শাসক যিনি ‘সুলতান’ উপাধি ধারণ করেছিলেন।

অন্যদিকে, 
• মুহাম্মদ বিন কাসিম ছিলেন ভারতের মুসলিম শাসনের সূচনাকারী।
• ময়জুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুড়ি ছিলেন আফগানিস্তানের ঘুড় বংশের শাসক।
- তিনি হচ্ছেন ভারতবর্ষের মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
• কুতুবুদ্দিন আইবেক হচ্ছে দিল্লী সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।  

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৮.
বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা শশাঙ্ক কোন শতকে বাংলা শাসন করেন?
  1. ক) ষষ্ঠ শতক
  2. খ) পঞ্চম শতক
  3. গ) অষ্টম শতক
  4. ঘ) সপ্তম শতক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা। তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন। ড. নীহাররঞ্জনের মতে শশাঙ্ক “স্বতন্ত্র স্বাধীন নরপতিরূপে সুবিস্তৃত রাজ্যের অধিকারী হইয়াছিলেন।”

শশাঙ্কের প্রাথমিক জীবন ও উত্থান: 
শশাঙ্কের বংশ বা বাল্যজীবন সম্পর্কে সঠিক কিছু জানা যায় না। 
অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, শশাঙ্ক প্রথম জীবনে স্বাধীন রাজা ছিলেন না, গুপ্ত বংশীয় মহাসেন নামক এক রাজার সামন্ত ছিলেন। শশাঙ্ক কখন এবং কিভাবে গৌড়দেশে সার্বভৌম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন তাও সঠিকভাবে বলা যায় না। 
তবে ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে গৌড়ের পরবর্তী গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়েন। 
এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। 
স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল। 
কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী। 
বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ ।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬০৯.
লালবাগ দুর্গের অভ্যন্তরে কাকে সমাহিত করা হয়েছে?
  1. মরিয়ম
  2. ইরান দুখত
  3. জাহানারা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
লালবাগ দুর্গের অভ্যন্তরে পরী বিবিকে (ইরান দুখত) সমাহিত করা হয়েছে।

লালবাগ কেল্লা:

- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
- এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন।

উল্লেখ্য,
- পরী বিবির আসল নাম ইরান দুখত রেহমত বানু।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ৯ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
৬১০.
বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) লর্ড ডালহৌসি
  4. ঘ) লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন পাশ করে হিন্দু বিধবা বিয়েকে আইনসংগত করেন। এ বিষয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ডালহৌসিকে সাহায্য করেন। [সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পত্র, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা]
৬১১.
কোন মুঘল সম্রাট বাংলা সন পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট হুমায়ূন
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

⇒ আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন। আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল। তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১২.
আলাউদ্দিন খলজী সিংহাসনে আরোহণ করেন -
  1. ক) ১২৯২ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১২৯১ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১২৯৫ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন খলজী সিংহাসনে বসেন।

• আলাউদ্দিন খলজী: 

- সিংহাসনে আরোহণের পর জালালউদ্দিন খলজী তাঁর প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা ‘আলি ঘুরশাস্প' কে ‘আমীর-ই-তুজুক' নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেন।
- এই আলিই হলেন শ্রেষ্ঠ খলজী শাসক আলাউদ্দিন খলজী।
- সুলতানি সাম্রাজ্যের একজন বিখ্যাত সুলতান হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
- আলাউদ্দিনের বাল্যকাল সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। সম্ভবত ১২৬৬-৬৭ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন জন্মগ্রহণ করেন।

- জালালউদ্দিনের ভ্রাতুষ্পুত্র আলাউদ্দিন খলজী হলেন শ্রেষ্ঠ খলজী শাসক।
- নানাবিধ ঘটনার মধ্যদিয়ে ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৩.
বাংলায় মুসলমান শাসনের সূত্রপাতকারী বখতিয়ার খলজী বাংলা বিজয়ের পর কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করেছিলেন; প্রদেশগুলো কী নামে পরিচিত ছিলো?
  1. ক) ইকতা
  2. খ) মুকতা
  3. গ) গজনী
  4. ঘ) ওয়াসিত
ব্যাখ্যা
মুসলিম শাসন:
- ১২০৪ সালে বাংলায় মুসলমান শাসনের সূত্রপাত করেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি ১২০৪ সালে।
- এই শাসন প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছর বাংলায় স্থায়ী হয়েছিল ( ১২০৪-১৭৬৫ পর্যন্ত)। 

- উচ্চাভিলাষী ও সমর কুশলী যোদ্ধা ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলায় অভিযান করে ক্ষমতাসীন সেনবংশীয় রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত করেন।
- সুশাসনের জন্য তিনি বাংলাকে অনেকগুলি প্রদেশে বিভক্ত করেন।
- প্রদেশগুলোকে ‘ইকতা’ বলা হত। ইকতার শাসনকর্তাকে বলা হত মুকতা।
- তিনি বাংলায় মুসলিম সমাজ ও সংস্কৃতিরও প্রতিষ্ঠা করেন। 
- তাঁর শাসনাকালে বহু মাদ্রাসা, মক্তব ও মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। 
- ইসলাম ধর্ম ও মুসলমান সংস্কৃতি বিকাশের জন্য তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি - ২য় পত্র, বাউবি।
৬১৪.
ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের কী নাম দিয়েছিলেন?
  1. বুলগাকপুর
  2. বঙ্গদেশ
  3. বিদ্রোহী অঞ্চল
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বাংলায় তুর্কি শাসনের ইতিহাস: 
- বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি।
- এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না।
- তাঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযোদ্ধা খলজি মালিক, আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
- শাসকদের সকলেই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন।
- পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন।
- তবে তাঁদের বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
- দিল্লির আক্রমণের মুখে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
- মুসলিম শাসনের এ যুগ ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ।
- তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন 'বুলগাকপুর'। এর অর্থ 'বিদ্রোহের নগরী'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬১৫.
'দীন পানাহ' ভবন কোথায় অবস্থিত?
  1. দিল্লিতে
  2. আগ্রায়
  3. লাহোরে
  4. কাবুলে
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত। 

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৬.
ঐতিহাসিক ’বাঘা মসজিদ’ কার শাসনামলে নির্মিত হয়?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. সুলতান নুসরত শাহ 
  4. শের শাহ
ব্যাখ্যা

• বাঘা মসজিদ:
- বাঘা মসজিদ রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪০ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্বে বাঘাতে অবস্থিত। 
- আদিতে এ মসজিদের প্রধান প্রবেশদ্বারের উপরে লাগানো একটি শিলালিপির (বর্তমানে করাচিতে) বর্ণনা অনুযায়ী, সুলতান নুসরত শাহ ১৫২৩ খ্রিস্টাব্দে এটি নির্মাণ করেন।  
- মসজিদটিতে ১০টি গম্বুজ আছে ।
- মসজিদটিতে ৪টি মেহরাব রয়েছে যা অত্যন্ত কারুকার্য খচিত।
- মাঝখানের দরজার ওপর ফার্সি ভাষায় লেখা একটি শিলালিপি রয়েছে। 
- মসজিদটির গাঁথুনি চুন-সুরকি দিয়ে। ভেতরে এবং বাইরের দেয়ালে মেহরাব ও স্তম্ভ রয়েছে। 
- বাঘা মসজিদের দৈর্ঘ্য ২২.৯২ মিটার, প্রস্থ ১২.১৮ মিটার এবং উচ্চতা ২৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। 
- মসজিদটিতে সর্বমোট ১০টি গম্বুজ, ৪টি মিনার (যার শীর্ষদেশ গম্বুজাকৃতির) এবং ৫টি প্রবেশদ্বার রয়েছে। 
- এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, মসজিদের ভেতরে উত্তর-পশ্চিম কোণে উঁচু ভিটিতে নির্মিত অতিরিক্ত নামাজ কক্ষটি শুধু সুলতানের  প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত গভর্নরের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল বলে মনে হয়।
- এ ধরনের বিশেষ নামায কক্ষ বাংলার কোনো কোনো মসজিদেও লক্ষ্য করা যায়। 
- এতে মনে হয় যে, এ ব্যবস্থা ‘মাকসুরা’র বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল।
- ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ের মসজিদ স্থাপত্যের এ বৈশিষ্ট্য খলিফার নিরাপত্তার জন্য প্রবর্তন করা হয়েছিল। 
- বাঘা মসজিদের এ বিশেষ বৈশিষ্ট্যটি মসজিদটিকে জামে মসজিদের মর্যাদা প্রদান করেছে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।

৬১৭.
ঢাকা গেইট এর নির্মাতা কে?
  1. শায়েস্তা খাঁ
  2. নবাব আবদুল গণি
  3. লর্ড কার্জন
  4. মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উল্লেখ্য,
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- সম্প্রতি ঢাকা গেট সংস্কার শেষে নতুন করে উদ্বোধন হয় ঐতিহাসিক ঢাকা গেইট।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
৬১৮.
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ বাংলায় কোন শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন?
  1. হাবশি শাসন
  2. ইলিয়াস শাহী শাসন
  3. তুঘলক শাসন
  4. মুঘল শাসন
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৯.
কোন আফগান সুলতানের পরাজয়ের পর বাংলায় মুগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) দাউদ খান
  2. খ) শের খান
  3. গ) খিজির খান
  4. ঘ) ইসলাম শাহ
ব্যাখ্যা
মুঘল সাম্রাজ্য:

- আফগান সুলতান  দাউদ খান এর পরাজয়ের পর বাংলায় মুগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ জুলাই রাজমহলের যুদ্ধে খান জাহানের কাছে আফগান সুলতান দাউদ খান পরাজিত হয়।
- ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে জাহাঙ্গীর এর সুবাহদার ইসলাম খান চিশতি সমগ্র বাংলা মুগলদের কর্তৃত্বাধীনে আনেন।
- দাউদ খানের পরাজয়ের সঙ্গেই বাংলায় সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে
- গল আগ্রাসন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত ভূঁইয়ারা ছিলেন সর্বাধিক খ্যাত।
- রাজা, ভূঁইয়া ও জমিদার, যারা মুগলদের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তারা সংখ্যায় ছিলেন অনেক, প্রায় ৩৬ জন

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬২০.
চৌসার যুদ্ধে কে পরাজিত হয়েছিলেন?
  1. হুমায়ুন
  2. শেরশাহ
  3. আকবর
  4. বাবুর
ব্যাখ্যা
চৌসার যুদ্ধ (১৫৩৯):
- সম্রাট হুমায়ুন গৌড় পরিত্যাগ করার পূর্বে জাহাঙ্গীর কুলী বেগকে বাংলার শাসনভার অর্পণ করেন।
- হুমায়ুন তাঁর বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে আগ্রা অভিমুখে যাত্রা করলেন। কিন্তু দুভার্গ্যক্রমে পথিমধ্যে বক্সারের নিকটবর্তী চৌসা নামক স্থানে
শেরখান ও তাঁর আফগান অনুচরেরা সম্রাট হুমায়ুনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন চৌসায় উভয়পক্ষের মধ্যে এক তীব্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে চৌসার যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এই যুদ্ধে হুমায়ুন শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র:
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র।
৬২১.
কোন শাসকের আমলে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সুদীর্ঘ রাস্তা নির্মিত হয়?
  1. ক) ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. খ) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  3. গ) সিকান্দার শাহ
  4. ঘ) গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
ব্যাখ্যা
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল শুরু হয় ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের আমল থেকে। বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান ছিলেন তিনি। তাঁর ১১ বছরের শাসনামলের উল্লেখযোগ্য দিক হলো চট্টগ্রাম জয় করে ঐ অঞ্চলে মুসলিম শাসন বিস্তার। তিনি চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সুদীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করেন। তাঁর সময়ে মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতার আগমন ঘটে। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৬২২.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  2. সিকান্দার শাহ
  3. রুকনউদ্দীন বারবক শাহ
  4. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন।
- স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ সালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৬২৩.
খিলাফত আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ 
  3. তিতুমীর 
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

 খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটিশ সরকার ও জোট শক্তির কারণে তুরস্ক (অটোমান সাম্রাজ্য)কে ভেঙে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়।
- এর ফলে ভারতের মুসলিমরা উদ্বিগ্ন হন।
- কারণ তারা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন।
- ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় মনে করেছিল, খলিফা বা খলিফার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হলে ধর্মীয় কর্তৃত্ব হ্রাস পাবে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পাশে থাকায় ভারতীয় মুসলিমদের অবস্থান জটিল হয়ে পড়ে।
- ধর্মীয় আনুগত্যের কারণে তারা খলিফার প্রতি অনুগত থাকতে চায়।
- কিন্তু রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারেরও সমর্থন করতে বাধ্য।
- যুদ্ধে জার্মানির পরাজয় ও সেভার্স চুক্তি মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
- এই প্রেক্ষাপটে খিলাফত আন্দোলন গড়ে ওঠে।
- এটি মূলত ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে প্যান-ইসলামি রাজনৈতিক আন্দোলন।

- আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল খলিফার মর্যাদা রক্ষা ও ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রভাবিত জনমত সৃষ্টি করা।
- অন্দোলনের নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। 
- তাঁর সহযোগীও- দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী ও মাওলানা মোহাম্মদ আলী- আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 
- আন্দোলন মুসলিমদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গেও সংযুক্ত ছিল। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী। 

৬২৪.
কোন শাসকের আমলে ‘বারোদুয়ারি মসজিদ’ নির্মিত হয়েছিল?
  1. ক) সুলতান ইলিয়াস শাহ
  2. খ) সুলতান হোসেন শাহ
  3. গ) সুলতান নুসরত শাহ
  4. ঘ) সুলতান হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
মুসলিম শাসন
- মুসলমান শাসকগন ইসলামের গৌরবকে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং নিজেদের শাসনকালকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রাসাদ, মসজিদ, কবর, দরগাহ ইত্যাদি নির্মাণ করেছিলেন।
- মসজিদ নির্মাণকে মুসলমান শাসকগণ অতিশয় পূণ্যের কাজ বলে বিবেচনা করতেন।
- ‘কদম রসূল’ গৌড়ে অবস্থিত।
- মহানবীর পদচিহ্নের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়।
- এটি ১৫৩১ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান হোসেন শাহের পুত্র সুলতান নাসিরুদ্দিন নুসরত শাহ নির্মাণ করেছিলেন।

- এই ভবনের এক কক্ষে একটি কালো কারুকার্যখচিত মর্মর বেদির উপরে হযরত মুহম্মদ (স) এর পদচিহ্ন সংবলিত একখন্ড প্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল।
 - গৌড়ের সুবিখ্যাত ‘বড় সোনামসজিদ’ বা ‘বারোদুয়ারি মসজিদ’ নুসরত শাহ আমলের কীর্তি।
- বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট নগর এবং রাজশাহী জেলার বাঘা নামক স্থানে তিনি দুইটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৫.
সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. মুহাম্মদ বিন কাসিম
  2. ওবায়দুল্লাহ 
  3. বুদাইল 
  4. মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা

সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি ছিলেন- মুহাম্মদ বিন কাসিম।

সিন্ধু আভযানের ঘটনা :
- ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন-ইউসুফ সিন্ধু বিজয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন।
- ওবায়দুল্লাহ ও বুদাইল নেতৃত্বে প্রথম দুই অভিযান ব্যর্থ হয়।
- তিনি তৃতীয় অভিযান পাঠালেন, এই অভিযানের নেতৃত্ব দিলেন তাঁর ভ্রাতুস্পুত্র ও জামাতা মুহম্মদ বিন-কাসিমকে।
- তরুণ সেনানায়ক ছিলেন অসীম মনোবলের অধিকারী।
- নেতৃত্ব দেয়ার সকল গুণাবলীই তাঁর ছিল।
- মুহম্মদ মাকরানের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হলেন।
- মাকরানের শাসকের সাথে তিনি বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন।
- মাকরানের শাসক মুহম্মদকে আরও একটি সৈন্যবাহিনী দিয়ে সাহায্য করেন।
- তখনকার সময় সিন্ধু রাজা দাহিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ জাঠ ও মেওয়াট গণ মুসলমানদের পক্ষে যোগ দেয়। 
- হাজ্জাজ জলপথেও মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধির জন্য একদল সৈন্য পাঠান।
- এছাড়া 'বলিস্ত' নামক একপ্রকার যন্ত্রও হাজ্জাজ পাঠিয়েছিলেন।
- বলিস্ত ছিল এক ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র

 এই যমুহম্মদ বিন-কাসিম প্রথমেই দেবল বন্দর অবরোধ করেন।
- তিনি ছিলেন খুবই বুদ্ধিমান সেনানায়ক।
- দেবলের প্রধান মন্দিরের চূড়ায় একটি লাল নিশান উড়ানো ছিল।
- তিনি বলিস্ত দিয়ে পাথর ছুড়ে নিশানটি ধ্বংস করে ফেলেন।
- এতে দেবলের সৈনিকদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে।
- তাদের ধারণা ছিল মন্দিরের চূড়ায় যতক্ষণ নিশান উড়বে ততক্ষণ বাইরের কোন শত্রু দেবল দখল করতে পারবে না।

- মুসলমানদের দখলে এলো দেবল বন্দর।
- দেবল দখলের পর মুহম্মদ বিন-কাসিম সিন্ধু নদের তীর ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে নীরুন, সিওয়ান ও সিসাম শহরগুলো একের পর এক জয় করলেন। 

- কিন্তু রাওয়ার দুর্গ দখলের ব্যাপারে মুহম্মদ বিন-কাসিমকে প্রচণ্ড বাঁধার মুখে পড়তে হয়।
- এখানে রাজা দাহির এক বিশাল সৈন্যবাহিনীর সমাবেশ ঘটান।
- মুহম্মদ বিন-কাসিম নৌকার সেতু তৈরি করে সিন্ধু নদ পার হন।
- অতঃপর দাহিরের বাহিনীর সাথে মুসলমানদের প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়।
- রাজা দাহির বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রাণ ত্যাগ করেন। 

- রাওয়ার দুর্গ দখলের পর মুহম্মদ বিন কাসিম ব্রাহ্মণাবাদ অধিকার করেন। 
- এরপর সিন্ধুর রাজধানী আলোর দুর্গের পতন ঘটে। 
- আলোর জয় করে তিনি সিন্ধু অঞ্চলে সুশাসনের ব্যবস্থা করেন। 
- এরপর মুহম্মদ বিন-কাসিম আরও উত্তরে অগ্রসর হয়ে মলতান জয় করেন। 
- মুলতানের পথে তিনি বাড়ী নদীর তীরে অবস্থিত উচু দখল করেন।
- মূলতান দখল করতে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।
- মুলতান রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে স্থানীয় যোদ্ধারা প্রায় দু'মাস মুলতান দুর্গ রক্ষায় সক্ষম হয়। 
- অবশেষে তাদের সকল প্রতিরোধ চূর্ণ করে মুহম্মদ বিন-কাসিম মুলতান দখল করতে সক্ষম হন। 
- মুলতান দখলের মধ্য দিয়ে রাজা দাহিরের রাজ্যের পুরোটাই মুসলমানদের অধিকারে চলে আসে।

উল্লেখ্য,
-  ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করেন ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৬.
হোসেনী দালান কে নির্মাণ করেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মীর কাসিম
  3. মীর মুরাদ
  4. মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
হোসেনী দালান:
- হোসেনী দালান পুরানো ঢাকায় অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের একটি ইমারত।
- এটি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল।
- ৬১ হিজরির ১০ মুহররম (৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর) তারিখে ইরাকের কারবালার যুদ্ধে আল-হোসেনের শহীদত্বকে স্মরণ করার জন্য ইমারত নির্মাণ করা ছিল শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত একটি সাধারণ রীতি।
- শাহ সুজার শাসনকালে জনৈক মীর মুরাদ প্রথম এ ইমারত নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়।
- শাহ সুজা নিজে সুন্নি মুসলমান হলেও শিয়াদের মধ্যে প্রচলিত রীতিনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে আগ্রহী ছিলেন।
- সৈয়দ মুরাদ একদা স্বপ্নে আল হোসেনকে একটি ‘তাজিয়াখানা’ নির্মাণ করতে দেখে এই ইমারত নির্মাণে উৎসাহিত হন।
- তিনিই এই ইমারতের নাম রাখেন হোসেনী দালান।
- ইমারতটি সম্ভবত একটি ছোট্ট স্থাপনা ছিল।
- পরবর্তীকালে ১৮০৭ ও ১৮১০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে ইমারতটির সংস্কার করা হয় এবং ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের পর এর কিছু অংশ নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬২৭.
দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক ইবনে বতুতাকে কোন পদে নিযুক্ত করেন?
  1. সেনাপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. কাজী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬২৮.
মানসিংহ কোন ভাটির জমিদারকে পরাজিত করেন?
  1. ক) চাঁদ রায়
  2. খ) কেদার রায়
  3. গ) ঈসা খান
  4. ঘ) মুসা খান
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবরের রাজত্বকাল:

- মানসিংহ কেদার রায়কে পরাজিত করেন।
- আকবরের সেনাপতি খান জাহান রাজমহলের যুদ্ধে জয়লাভ করে রাজধানী তাঁড়া অধিকার করেন।
- প্রকৃতপক্ষে অনেক যুদ্ধ করেও আকবর বাংলাদেশ জয় করতে পারেননি। সমগ্র বাংলায় অধিকার প্রতিষ্ঠার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক আফগান এবং হিন্দু জমিদার এবং ভূঁইয়া ইত্যাদি স্বাধীন হয়ে যায় এবং কেন্দ্রীয় শক্তির শাসন অস্বীকার করে। মোগলদের পক্ষে সহজে তাদের দমন করা সম্ভব হয়নি।
- প্রথমদিকে বাংলায় মোগল অধিকার মালদহ-দিনাজপুর হয়ে উত্তরে ঘোড়াঘাট এবং পূর্বে করতোয়া পর্যন্ত সীমিত ছিল।
- বাংলায় মোগলদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বড় বাধা ছিল ভাটি এলাকা।
- ভাটির জমিদারদের মধ্যে চাঁদ রায় ও কেদার রায় প্রসিদ্ধ ছিলেন।
- ভাটির জমিদারদের মধ্যে ঈসা খান ও তাঁর পুত্র মুসা খান ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। তারা উভয়ে মোগলদের দীর্ঘদিন প্রতিরোধ করতে সক্ষম হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬২৯.
কাকে বাংলার আকবর বলা হতো?
  1. ক) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ্
  2. খ) রুকনউদদিন নুসরত শাহ্
  3. গ) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ্
  4. ঘ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্
ব্যাখ্যা
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্ ছিলেন হুসেন‌ শাহী বংশের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ শাসক।
- তাঁর রাজত্ব কাল ছিল ২৬ বছর (১৪৯৩-১৫১৯)।
- তিনি গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।
- তাঁর শাসনকালকে বলা হয় মুসলমান শাসনের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ।
- তাঁকে বলা হতো 'বাংলার আকবর'।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩০.
সম্রাট আকবরের উল্লেখযোগ্য অবদান নয় কোনটি?
  1. জিজিয়া কর রহিত
  2. বাংলা সন প্রবর্তন
  3. সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা
  4. ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তাঁর আদেশে প্রাচীন বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

অন্যদিকে,
- ধর্মপাল সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩১.
ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী কোথায় রাজধানী স্থাপন করেছিলেন?
  1. ক) লখনৌতে
  2. খ) গৌড়ে
  3. গ) নদীয়াতে
  4. ঘ) মধ্য প্রদেশ
ব্যাখ্যা
- ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কর্তৃক নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজি বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) এলাকার বাসিন্দা ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়র্ভুক্ত ছিলেন। 
- বখতিয়ার খলজী স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে তিনি গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩২.
উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন কে?
  1. লর্ড ক্লাইভ
  2. শের শাহ
  3. শায়েস্তা খান
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন।
- কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।

এছাড়াও,
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন।
- গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৩.
দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলাকে কতটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন?
  1. চারটি
  2. তিনটি 
  3. দুইটি 
  4. পাচঁটি
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ):
- দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বিদ্রোহপ্রবণ বাংলাকে দিল্লির অধীনে রাখার জন্য বাংলাকে তিনটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন।
- ইউনিটগুলো হলো:  লাখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁ।

- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়।
- বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন 'ফখরা' নামের একজন রাজকর্মচারী।
- প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন।
- এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।
- দিল্লির সুলতান মুহম্মদ-বিন-তুঘলকের পক্ষে এ সময় বাংলার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। 
- তাই সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ধীরে ধীরে স্বাধীন অংশের সীমা বিস্তৃত হতে থাকে।
- পরবর্তী দুই'শ বছর এ স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৬৩৪.
সম্রাট আকবর বাংলা বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করেন কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ক) ১৫৮৪
  2. খ) ১৫৮৫
  3. গ) ১৫৬৪
  4. ঘ) ১৫৬৫
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ষপঞ্জি ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর প্রবর্তন করেন।
• এই নতুন বর্ষপঞ্জিটি প্রথমে তারিখ-ই-এলাহী নামে পরিচিত ছিল ।
• ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ এটি বঙ্গাব্দ নামে প্রচলিত হয়।
• নতুন এই সালটি আকবরের রাজত্বের ঊনত্রিশতম বর্ষে প্রবর্তিত হলেও তা গণনা করা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে, কারণ এদিন আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
• তারিখ-ই-এলাহীর উদ্দেশ্য ছিল আকবরের বিজয়কে মহিমান্বিত করে রাখা এবং একটি অধিকতর পদ্ধতিগত উপায়ে রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করা।
• এর পূর্বে মুগল সম্রাটগণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে হিজরি বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করেতেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।