বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

মোট প্রশ্ন৬৩৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৬৩৫

৪০১.
প্রাচীন বাংলার স্বাধীন গৌড় রাজ্যের স্থপতি কে?
  1. ক) হর্ষবর্ধন
  2. খ) শশাঙ্ক
  3. গ) রাজা গণেশ
  4. ঘ) অশোক
ব্যাখ্যা
খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে উত্তর বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ এবং মগধ গৌড় জনপদ রূপে পরিচিতি লাভ করে।
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন পরবর্তী বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগ গ্রহণ করে শশাঙ্ক ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে গৌড় অঞ্চল অধিকার করে ‘স্বাধীন গৌড় রাজ্য’ স্থাপন করেন।
তার রাজধানী ছিলো কর্ণসুবর্ণ। ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড় রাজ্যের অধিপতি ছিলেন।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪০২.
কুতুবউদ্দিন আইবেক নিম্নের কোন বংশের প্রতিষ্ঠাতা?
  1. তুঘলক বংশ
  2. দাস বংশ
  3. খিলজি বংশ
  4. সৈয়দ বংশ
ব্যাখ্যা
দাস বংশ:
- ভারতবর্ষে দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেক।


উল্লেখ্য,
⇒ মুহাম্মদ ঘোরির কোন পুত্র সন্তান না থাকায় তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতুস্পুত্র গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ তরাইনের যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি এবং মুহাম্মদ ঘোরির আস্থাভাজন কুতুবউদ্দিন আইবেককে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে সনদ ও 'সুলতান' উপাধি প্রদান করেন।
- এভাবে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের নেতৃত্বে ভারতে স্বাধীন সুলতানদের শাসনের সূচনা হয়।
- কুতুবউদ্দিন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ইসলামের ইতিহাসে তথাকথিত 'দাস বংশ' নামে সমধিক পরিচিত।
- ভারতীয় উপমহাদেশে এই বংশ ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২৯০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করে।
- উল্লিখিত সময়ে (৮৪ বছর) সর্বমোট ১১ জন সুলতান শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
- ১২০৬ থেকে ১২৯০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কুতুবউদ্দিন, ইলতুতমিস, বলবন এবং তাঁদের বংশধরেরা শাসন করেন।
- এই বংশের প্রথম সুলতান ছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবেক এবং সর্বশেষ সুলতান ছিলেন শামসুদ্দিন কাইমুরস (১২৮৯-১২৯০ খ্রি.)।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৩.
'তারা মসজিদ' তৈরি করেন কে?
  1. মির্জা গোলাম পীর
  2. শায়েস্তা খান
  3. নবাব সলিমুল্লাহ
  4. আলী জান ব্যাপারী
ব্যাখ্যা
তারা মসজিদ:
- তারা মসজিদ পুরানো ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত।
- সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে।
- মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) ঢাকার বিখ্যাত ‘তারা মসজিদ’ তৈরি করেন।
- ১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। সে সময় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয় মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।
৪০৪.
১৭৭০ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ কী নামে পরিচিত?
  1. ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  2. খ) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
  3. গ) তেতাল্লিশের মন্বন্তর
  4. ঘ) সত্তরের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
ইংরেজি ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ ও বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে বাংলার ইতিহাসের ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এই দুর্ভিক্ষ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
এতে তৎকালীন বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা এবং পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টিজনিত খরার কারণে ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় এই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তখন বাংলার গভর্নর ছিলেন কার্টিয়ার।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪০৫.
ষাটগম্বুজ মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
  1. শায়েস্তা খাঁ
  2. খান জাহান আলী
  3. বায়েজীদ বোস্তামী
  4. ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
ষাটগম্বুজ মসজিদ:
- এটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- ১৫ শতকের দিকে উলঘ খান-ই-জাহান ঐতিহাসিক মসজিদের শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ষাটগম্বুজ মসজিদটিতে ৮১ টি গম্বুজ রয়েছে।
- মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া।
- দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু।
- এ বিশাল মসজিদের চতুর্দিকে প্রাচীর ৮ফুট চওড়া, এর চার কোনে চারটি মিনার আছে।
- মসজিদটি ছোট ইট দিয়ে তৈরী, এর দৈর্ঘ্য ১৬০ফুট, প্রস্থ ১০৮ ফুট, উচ্চতা ২২ফুট।
- মসজিদের পশ্চিম দিকে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট ২৬টি দরজা আছে।
- ইউনেস্কো এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৪০৬.
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খান রাজধানী স্থাপন করেছিলেন-
  1. ক) সোনারগাঁও
  2. খ) রাজমহল
  3. গ) জাহাঙ্গীরনগর
  4. ঘ) মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
বাংলার ইতিহাসে ষোড়শ শতক থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলায় যেসব বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি এবং শক্তিশালী সৈন্য ও নৌ-বহর নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারাই বাংলার ইতিহাসে 'বারো ভূঁইয়া' নামে পরিচিত।
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান। তিনি সোনারগাঁও রাজধানী স্থাপন করেছিলেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী]
৪০৭.
কোন মুঘল সুবেদার পর্তুগীজদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. আজম শাহ
  3. মীর জুমলা
  4. শাহ সুজা
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- আবার সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মুঘল সম্রাটের বিরাগভাজন হন। 
- তাঁরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত।
- এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাসদাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে।
- পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত।

- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগীজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৮.
বার্নিয়ের কোন দেশের পর্যটক ছিলেন?
  1. ইংলিশ
  2. ফরাসি
  3. পর্তুগিজ
  4. স্প্যানিশ
ব্যাখ্যা
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার:
- ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। 
- মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। 
- বার্নিয়ারের মূল ভ্রমণবৃত্তান্ত ফরাসি ভাষায় লিখিত ও প্রকাশিত।
- Travels in The Mogul Empire, AD 1656-68 শিরোনামে আরচিবল্ড কনস্টেবল (Archibald Constable) পুস্তকটি ১৮৯১ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ও ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- সেই সময় থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় পুস্তকটি অনূদিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪০৯.
বখতিয়ার খলজি বাংলার বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনকে অতর্কিত আক্রমণ করেন-
  1. ক) দেবকোটে
  2. খ) নদীয়ায়
  3. গ) বিক্রমপুরে
  4. ঘ) লক্ষণাবতীতে
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি। বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
তিনি অশ্ব বিক্রেতার বেশে ১৭/১৮ জন অশ্বারোহীসহ লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়ায় প্রবেশ করে অতর্কিত আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে লক্ষণ সেন পালিয়ে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে আশ্রয় নেন।
লক্ষণ সেন পলায়ন করলে বখতিয়ার খলজি বিনা বাধায় নদীয়া দখল করেন এবং গৌড়ের নাম পরিবর্তন করে লক্ষণাবতী রাখেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে প্রথম মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪১০.
ঢাকা গেইট কোন মুঘল সম্রাটের শাসনামলে নির্মিত?
  1. মীর জুমলা
  2. আওরঙ্গজেব
  3. শায়েস্তা খান
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উল্লেখ্য,
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- সম্প্রতি ঢাকা গেট সংস্কার শেষে নতুন করে উদ্বোধন হয় ঐতিহাসিক ঢাকা গেইট।

অন্যদিকে,
- লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করেন শায়েস্তা খান।
- ঢাকায় ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন শাহ সুজা।
- ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
৪১১.
মসলিন কাপড় কেমন সুতা দিয়ে বোনা হতো?
  1. হালকা
  2. ভারী
  3. মোটা
  4. সূক্ষ্ম
ব্যাখ্যা
মসলিন কাপড়:
- মসলিন ‘ঢাকাই মসলিন’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এক ধরনের মিহি সুতিবস্ত্র।
- ঢাকা শহর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থানীয় কারিগররা ফুটি কার্পাস নামক তুলা থেকে তৈরি অতি সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে মসলিন প্রস্তুত করত।
- মুঘল আমলে প্রাচীন বাংলার গৌরব মসলিন কাপড় ঢাকায় তৈরী হতো।

⇒ মুঘল আমলে বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে ঢাকাই মসলিনের খ্যাতি বেড়ে যায়।
- মুঘল সম্রাট ও অভিজাতরা ঢাকার মসলিন শিল্পের প্রসারে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- সে সময়ে সম্রাট, প্রাদেশিক শাসনকর্তা এবং পদস্থ কর্মকর্তা ও অভিজাতদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর পরিমাণে সূক্ষ্ম মসলিন বস্ত্র সংগ্রহ করা হতো।
- সম্রাট, উজির, নওয়াব ও অভিজাত শ্রেণির জন্য বোনা হতো সূক্ষ্ম ও মিহি বস্ত্র এবং দরিদ্রদের জন্য মোটা ও ভারী কাপড়।
- কাপড়ের সূক্ষ্মতা ও স্বচ্ছতা, উৎপাদনের উৎস এবং ব্যবহারভেদে ঢাকাই মসলিনের মলমল, ঝুনা, রঙ্গ, আবিরাওয়ান, খাস, শবনম, আলাবালি, তনজিব, নয়ন-সুখ, জামদানি ইত্যাদি নাম দেওয়া হতো।
- বিভিন্ন রকম মসলিনের মধ্যে জামদানি এখনো প্রচলিত।

⇒ কথিত আছে, মসলিনে তৈরি করা পোশাকগুলো এতই সূক্ষ্ম ছিল যে ৫০ মিটার দীর্ঘ মসলিনের কাপড়কে একটি দিয়াশলাই বাক্সে ভরে রাখা যেত।

উল্লেখ্য,
- ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে ১৮৫০ সালে।
- ইতিমধ্যেই ঢাকাই মসলিনের জিআই স্বত্বের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
৪১২.
Which of the following historical place contains the tomb of 'Pari Bibi'?
  1. Star Mosque
  2. Sixty Dome Mosque
  3. Lalbagh Fort
  4. Ahsan Manzil
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
-  এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন। 
 
উল্লেখ্য,
- পরী বিবির আসল নাম ইরান দুখত রেহমত বানু। 
 
 উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
          ii) ৯ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
৪১৩.
বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন কে?
  1. ইসলাম খান
  2. মুর্শিদ কুলি খান
  3. শায়েস্তা খান
  4. মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
নবাব মুর্শিদ কুলি খান:
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নওয়াবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- বিশেষ করে মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে কর তলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৪১৪.
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে স্বাধীন সুলতানী আমলের সূচনা করেছিলেন কোন শাসক?
  1. ক) মুহম্মদ ঘোরি
  2. খ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  4. ঘ) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ
  5. ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা
১২০৬ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগীয় ভারতে পাঁচটি রাজবংশ শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করে। এই পাঁচটি রাজবংশের অন্যতম হলো দিল্লির তথাকথিত দাস বংশ। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১১৯২ খ্রি.) জয়লাভকারী মুইজউদ্দিন মুহম্মদ বিন সাম ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। মুহাম্মদ ঘোরি নামে সমধিক পরিচিত মুহম্মদ বিন সামের কোন পুত্র সন্তান ছিল না। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতুস্পুত্র, তৎকালীন ঘুর রাজ্যের শাসনকর্তা এবং উত্তরাধিকারী গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ তরাইনের যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি এবং মুহাম্মদ ঘোরির আস্থাভাজন কুতুবউদ্দিন আইবেককে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে সনদ ও ‘সুলতান’ উপাধি প্রদান করেন। এভাবে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের নেতৃত্বে ভারতে স্বাধীন সুলতানদের শাসনের সূচনা হয়। কুতুবউদ্দিন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ইসলামের ইতিহাসে তথাকথিত ‘দাস বংশ’ নামে সমধিক পরিচিত।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৪১৫.
Which ruler is referred to as 'Gopal' of the Middle Ages?
  1. Fakhruddin Mubarak Shah
  2. Alauddin Hossain Shah
  3. Giasuddin Azam Shah
  4. Shamsuddin Firuz Shah
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৬.
সুলতান মাহমুদ ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন কত বার?
  1. ৪ বার
  2. ১৩ বার
  3. ১৭ বার
  4. ৬ বার
ব্যাখ্যা
• সুলতান মাহমুদ 
- সুলতান মাহমুদ তার কালে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম বিজেতা, বিশাল রাজ্যসংগঠক, দক্ষ যুদ্ধপরিচালক, বিচক্ষণ সমরনায়ক এবং অমিতবিক্রম যোদ্ধা হিসেবে খ্যাত হয়ে আছেন।
- তিনি ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত ভারতে ১৭ বার অভিযান চালান।
- এই সব অভিযানের একটিতেও তিনি পরাজিত হননি।
- সিংহাসন লাভের প্রথম তিন বছর পর্যন্ত তিনি আক্রমণকারী ও চুক্তির শর্ত ভঙ্গকারী রাজা জয়পালের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
- এ সময় তিনি খোরাসানে যুদ্ধে ব্যাপৃত থাকেন।
- ৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঐ অঞ্চলের সর্বেসর্বা হিসেবে খলিফার স্বীকৃতি লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
৪১৭.
বাংলায় মুসলমান শাসনের স্থায়ীত্বকাল কত বছর ছিল?
  1. ক) সাড়ে ছয়শ বছর
  2. খ) সাড়ে সাতশ বছর
  3. গ) সাড়ে পাঁচশ বছর
  4. ঘ) সাড়ে চারশ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজির প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে প্রথম মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এ শাসন প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছরের অধিক স্থায়ী হয়েছিল (১২০৪-১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দ)।
⇒ ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করার মাধ্যমে বাংলায় মুসলমান/তুর্কি শাসনের সূত্রপাত ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১৮.
মীর জুমলা নিম্নের কোন স্থাপত্যটি নির্মাণ করেন?
  1. বড় কাটরা
  2. ঢাকা গেইট
  3. লালবাগ কেল্লা
  4. ছোট সোনা মসজিদ
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উল্লেখ্য,
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- সম্প্রতি ঢাকা গেট সংস্কার শেষে নতুন করে উদ্বোধন হয় ঐতিহাসিক ঢাকা গেইট।

অন্যদিকে,
- লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করেন শায়েস্তা খান।
- ঢাকায় ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন শাহ সুজা।
- ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
৪১৯.
'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক' রোডটি অন্য কী নামে পরিচিত ছিল?
  1.  শাহী সড়ক
  2. সড়ক-ই-আজম
  3. বাদশাহী রাস্তা
  4. প্রধান রাজপথ
ব্যাখ্যা

'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক' রোড:
- নির্মাতা: গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক' রোডের নির্মাতা শেরশাহ।
- দৈর্ঘ্য: আড়াই হাজার কিলোমিটার।
- বিস্তার: সোনারগাঁও থেকে পাঞ্জাব বিস্তৃত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সড়ক।
- এটি নির্মাণ করা হয়- ষোল শতকে।
- মূল পরিকল্পনায় রাজধানী আগ্রাকে পূর্বে সোনারগাঁও, পশ্চিমে দিল্লি ও লাহোর হয়ে মূলতান, দক্ষিণে বোরহানপুর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে যোধপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
- সড়ক- ই- আজম নামে পরিচিত এ সড়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪২০.
বাংলাকে জান্নাতাবাদ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন-
  1. ক) বাবর
  2. খ) জাহাঙ্গীর
  3. গ) হুমায়ুন
  4. ঘ) আকবর
ব্যাখ্যা
মুঘল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট ছিলেন নাসির উদ্দিন মুহাম্মদ হুমায়ুন। ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ুন ভারতীয় উপমহাদেশের মুঘল ভূখণ্ডের শাসক হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে তাঁর বাবার উত্তরাধিকারী হন। তিনি ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসা এবং ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে কনৌজের যুদ্ধে শেরশাহ সুরির কাছে পরাজিত হয়ে মুঘল সাম্রাজ্য হারিয়েছিলেন। কিন্তু সাফাভি রাজবংশর সহায়তায় ১৫ বছর পরে ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে সেগুলি পুনরুদ্ধার করেন। বাংলাকে জান্নাতাবাদ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন হুমায়ুন। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি) ও বাংলাপিডিয়া।
৪২১.
মীর জুমলাকে বাংলার সুবেদার হিসেবে নিয়োগ দেন কে?
  1. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
মীরজুমলা:
- মীরজুমলা বাংলার সুবাহদার।
- জন্মসূত্রে তিনি ছিলেন ইরানি এবং প্রথমে তাঁর নাম ছিল মুহম্মদ সাঈদ।
- মুগল সম্রাটের কাছ থেকে তিনি মুয়াজ্জম খান, খান-ই-খানান, সিপাহ সালার এবং ইয়ার-ই-ওয়াফাদারের মতো বিভিন্ন উপাধি লাভ করেছিলেন। 
- মীর জুমলাকে বাংলার সুবেদার হিসেবে নিয়োগ দেন সম্রাট আওরঙ্গজেব।

⇒ সম্রাট আওরঙ্গজেবের অধীনে মীরজুমলা শাহ সুজার মোকাবিলা করার দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। খাজোয়ার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শাহ সুজা তান্ডায় পালিয়ে যান এবং ৯ মে ১৬৬০ খিস্টাব্দে ঢাকায় পৌঁছেন। মীর জুমলা খাজোয়া থেকে তান্ডা হয়ে ঢাকা পর্যন্ত শাহ সুজার পশ্চাদ্ধাবন করেন। কিন্তু সুজা ঢাকা থেকে পূর্ব সীমান্ত অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত আরাকানের রাজার কাছে আশ্রয়লাভ করেন। মীরজুমলা ঢাকায় পৌঁছার অল্পদিন পরই বাংলার সুবাহদার হিসেবে তাঁর নিয়োগের রাজকীয় ফরমান লাভ করেন ১৬৬০ খিস্টাব্দে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪২২.
গৌড়ের নাম 'জান্নাতাবাদ' রাখেন কে?
  1. শেরশাহ
  2. জাহাঙ্গীর
  3. হুমায়ুন
  4. বাবর
ব্যাখ্যা

- গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে হুমায়ুন এর নামকরণ করেন 'জান্নাতবাদ'।

- মুঘল সম্রাট বাবর ও তাঁর পুত্র হুমায়ুন হুসেন শাহি যুগের শেষ দিক থেকেই চেষ্টা করেছিলেন বাংলাকে মুঘল অধিকারে নিয়ে আসতে।
কিন্তু আফগানদের কারণে মুঘলদের এ উদ্দেশ্য প্রথম দিকে সফল হয়নি।
- আফগান নেতা শের খান শূরের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন সম্রাট হুমায়ুন।
- সমগ্র ভারতের অধিপতি হওয়ার স্বপ্ন ছিল শের খানের তাই গোপনে তিনি নিজের শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকেন।
- এ লক্ষ্যে অল্প সময়ের মধ্যে শের খান শক্তিশালী চুনার দুর্গ ও বিহার অধিকার করেন।
- তিনি ১৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে দুইবার বাংলার রাজধানী গৌড় আক্রমণ করেন।
- এর পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির মুঘল সম্রাট হুমায়ুন শের খানের পিছু ধাওয়া করে বাংলার রাজধানী গৌড় অধিকার করে নেন।
- গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে হুমায়ুন এর নামকরণ করেন 'জান্নাতবাদ'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৪২৩.
গুলবদন বেগম রচিত গ্রন্থের নাম কী?
  1. তুযুক-ই-জাহাঙ্গীরী
  2. আইন-ই-আকবরী
  3. হুমায়ুননামা
  4. বাবরনামা
ব্যাখ্যা
মুঘল অর্থনীতি:

- মুঘল যুগে ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি ছিল কৃষি।
- মুঘল যুগে ভারতবর্ষে ইউরোপিয় বাণিজ্যের বিকাশ শুরু হয়।
- মুঘল যুগের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে সমকালীন ফার্সি সাহিত্য, ইউরোপিয় পর্যটকদের বিবরণী ইত্যাদি থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যায়।
- তাছাড়া বাবরনামা, হুমায়ুন নামা, আইন-ই-আকবরী গ্রন্থ থেকেও বিশেষ তথ্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- গুলবদন বেগমের হুমায়ুননামা-তে উল্লিখিত মুঘল আমলের আর্থিক সচ্ছলতার প্রসঙ্গ সম্পর্কে বলা যায়।
- মুঘল যুগে কৃষিই ছিল ভারতের জনগণের প্রধান জীবিকা ও সাম্রাজ্যের রাজস্বের প্রধান উৎস।
- মুঘল আমলে জাবতি, গাল্লাবকস, নাসাব প্রভৃতি প্রথা অনুসারে রাজস্ব আদায় হত।
- মুঘল আমলে পণ্যদ্রব্যের দাম খুব কম ছিল।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৪.
ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির হাতে বাংলায় কোন শাসনের অবসান ঘটে?
  1. সেন
  2. গুপ্ত
  3. পাল
  4. সুলতানি
ব্যাখ্যা
মুসলমান শাসনের সূচনা:
- সেন শাসনের অবসান ঘটে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির হাতে।
- তিনি রাজা লক্ষ্মণসেনকে পরাজিত করে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন।
- ১২০৪ থেকে ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার পশ্চিমে নদীয়া ও উত্তর বাংলার কিছুটা অংশ বখতিয়ার খলজির দখলে ছিল।
- তারপর ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলা জুড়ে মুসলিম শাসনের বিস্তার ঘটতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪২৫.
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কোন শাসনের অবসান ঘটান?
  1. হাবশি
  2. তুর্কি
  3. মুঘল
  4. সেন
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৬.
সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল -
  1. ঢাকা
  2. সোনারগাঁও
  3. গৌড়
  4. খ+গ
ব্যাখ্যা
সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁও ও গৌড়।

সুলতানি আমল:
- ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হলে বাংলার ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- এরপর থেকে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না, বরং তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকেই সুযোগ পেলেই স্বাধীনতার জন্য দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
- এজন্য বাংলাকে বুলঘাকপুর বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।

উল্লেখ্য,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন।
- ১৩৩৮ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দু'শ বছর ধরে বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতা ভোগ করেছিল।
- বাংলার এই স্বাধীন সুলতানি যুগে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ, ইলিয়াস শাহী বংশ, রাজা গণেশের বংশ, হাবশি সুলতান এবং পরবর্তীতে হোসেন শাহী বংশের শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন।
- এ সময় বাংলার সুলতানগণ বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাসংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধন, জনকল্যাণকামী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন।
- তাই দু'শ বছরের এ স্বাধীন যুগটিকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

এছাড়াও,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওকে স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী করেন।
- জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ তার রাজধানী গৌড়ে স্থানান্তরিত করেন। 
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ সিংহাসনে আরোহণ করে রাজধানী গৌড় থেকে একডালাতে স্থানান্তরিত করেন। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৭.
কত সালে ডেনিস ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়?
  1. ক) ১৬০২ সালে
  2. খ) ১৬১৬ সালে
  3. গ) ১৬২০ সালে
  4. ঘ) ১৬২৫ সালে
ব্যাখ্যা
দিনেমার
- ডেনমার্কের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়।
- ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে দিনেমারগণ উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্য ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- দক্ষিণ ভারতের ত্রিবাঙ্কুরে ও কলকাতার শ্রীরামপুরে তাদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- অবশেষে দিনেমারগণ কোনো প্রকার বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই এদেশ থেকে চিরতরে বিদায় নেয়।

অন্যদিকে -
- ওলন্দাজ বণিকরা ভারতে আসে ১৬০২ সালে।
- দিনেমাররা ভারতের তাঞ্জোর জেলায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ১৬২০ সালে।
- ওলন্দাজরা প্রথম বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে ১৬২৫ সালে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৮.
‘Parrot of India’ বা 'তোতা-ই-হিন্দ' বলা হয় কাকে?
  1. ক) তানসেনকে
  2. খ) আমীর খসরুকে
  3. গ) আবুল ফজলকে
  4. ঘ) গালিবকে
ব্যাখ্যা

১) তানসেনকে সঙ্গীত সম্রাট বলা হয়। তার একমাত্র উপাধি ছিল "মিয়া", মানে হল জ্ঞানী ব্যাক্তি।
২) আমীর খস্রু কে বলা হয় "Parrot of India" তোতা-ই-হিন্দ।
৩) বিখ্যাত নেত্রী সরোজিনী নাইডু, তিনি বিশিষ্ট কবিও ছিলেন। তাঁর রচিত কবিতা সংগ্রহ The Golden Threshold ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সাধারণ্যে ‘বুলবুলে হিন্দ’ খেতাবে বিভূষিত হন।
১৯০৮ সালে হায়দ্রাবাদে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে কায়সার-ই-হিন্দ স্বর্ণপদক প্রদান করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা।

৪২৯.
ইলিয়াস শাহ কত খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও অধিকার করেন?
  1. ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৩৮২ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন। 
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন। 
- তিনি ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাঁও দখল করেন। এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- তাঁর পূর্বে আর কোনো সুলতান এ গৌরব অর্জন করতে পারেননি।
- তাই ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩০.
বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক’ রোড কোন কোন শহরকে সংযুক্ত করেছে?
  1. ক) চট্রগ্রাম থেকে লাহোর
  2. খ) দাউদকান্দি থেকে করাচি
  3. গ) সোনারগাঁও থেকে ইসলামাবদ
  4. ঘ) সোনারগাঁও থেকে লাহোর
ব্যাখ্যা
চৌসারের যুদ্ধে (১৫৩৯) হুমায়ুনকে পরাজিত করে শেরখান (শেরশাহ) নিজেকে বিহারের স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন। ১৫৪০ সালে তিনি বাংলা দখল করে নেন।
তিনি বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে লাহোর পর্যন্ত ২৭০০ কি.মি (১৭০০ মাইল) দীর্ঘ একটি মহাসড়ক ‘সড়ক-ই-আজম’ নির্মান করেন।
পরবর্তীতে ইংরেজগণ এ রাস্তা সংস্কার করে নাম দেয় ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক’ রোড।
এছাড়াও শেরশাহ ‘ঘোড়ার ডাক’ এবং কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথার প্রচলন করেন। তিনি ‘দাম’ নামক রূপার মুদ্রার প্রচলন করেন।
উৎস-বাংলাপিডিয়া।
৪৩১.
শাহ-ই বাঙালা নামে খ্যাত শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বৃহত্তর (অখন্ড) বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. ক) ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৩৭৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৩১৭ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮ খ্রি.)।
- তিনি ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহকে পরাজিত করে দুই বাংলা একত্র করে বৃহত্তর বা অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার সময় থেকেই বাংলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ‘বাঙালি’ নামে পরিচিত পায়।
- তিনি `ইলিয়াস শাহী’ বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তার উপাধি ছিলো ‘শাহ-ই বাঙালা’ ও ‘শাহ-ই বাঙালিয়ান’।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৩২.
রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয়-
  1. ক) আফগান শাসক দাউদ খান ও মুঘল বাহিনীর মধ্যে
  2. খ) সম্রাট বাবর ও দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদির মধ্যে
  3. গ) আহমদ শাহ দুররানি ও মারাঠাদের মধ্যে
  4. ঘ) আফগান নেতা শের খান ও সম্রাট হুমায়ুন মধ্যে
ব্যাখ্যা
সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী গৌড় অধিকার করে মুঘল শাসনের সূচনা করেন। কিন্তু বাংলায় তাঁর অধিকার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে পরাজয়ের পর বিজয়ী আফগান নেতা শের খান গৌড় দখল করেন এবং বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলার প্রবেশ পথ রাজমহলের নিকটে বাংলার শেষ আফগান শাসক দাউদ খান ও মুঘল বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। যা রাজমহলের যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে দাউদ খান পরাজিত ও বন্দি হলে বাংলায় মুঘল শাসনের সূচনা হয়। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৩.
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কোন অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন?
  1. গৌড়
  2. নদীয়া
  3. সোনারগাঁও
  4. মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা
- ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁও এর শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে তার বর্মরক্ষক ‘ফখরা’ ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ নামধারণ করে সোনারগাঁও এর সিংহাসনে বসেন এবং নিজেকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন।
- এভাবেই বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হয় যা প্রায় দুইশ বছর স্থায়ী ছিলো।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ সাল থেকে ১৩৪৯ সাল পর্যন্ত সোনারগাঁয়ে রাজত্ব করেন।
- চট্টগ্রাম জয় করার মাধ্যমে তিনি তার রাজ্য বাংলার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিস্তৃত করেন। তিনি চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি রাজপথ নির্মাণ করেন।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৩৪.
কোন পর্যটক সোনারগাঁও এসেছিলেন?
  1. ফা হিয়েন
  2. ইবনে বতুতা
  3. হিউয়েন সাং
  4. সিমা কিয়ান
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- ১৩৩৫ থেকে ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সোনারগাঁও কখনো বাংলার রাজধানী আবার কখনো পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল।
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও ভ্রমণ করেন।
- পানামের জমিদারেরা ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশী-আন্দোলন ও মহাত্মা গান্ধীর অহিংস-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক মোহাজের সমস্যা সোনারগাঁওয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৩৫.
নিচের কোনটি লালবাগ দুর্গের অভ্যন্তরে অবস্থিত?
  1. পরী বিবির মাজার
  2. ছোটকাটরা
  3. ষাট গম্বুজ মসজিদ
  4. বড়কাটরা
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- লালবাগ দুর্গের অভ্যন্তরে পরী বিবির মাজার অবস্থিত।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
-  এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন। 

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৪৩৬.
লালবাগ দুর্গের অভ্যন্তরের সমাধিতে সমাহিত শায়েস্তা খানের কন্যার আসল নাম কী?
  1. মরিয়ম
  2. হাফেজা
  3. ইরান দুখত
  4. জাহানারা
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
-  এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন। 

উল্লেখ্য,
- পরী বিবির আসল নাম ইরান দুখত রেহমত বানু। 

 উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
          ii) ৯ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
৪৩৭.
দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন কে?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. শায়েস্তা খান
  3. সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক
  4. মুহম্মদ বিন তুগলক
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ বিন তুঘলক:
- গিয়াসউদ্দীন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহন করেন।
- তাঁর রাজত্বকালের প্রথম তের বছর দেশে শান্তি বিরাজমান ছিল।
- এ সময়ের মধ্যে মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন।
- এছাড়াও খোরাসান অভিযান, কারাচিল অভিযান, প্রতীক মুদ্রার প্রচলন, দোয়াবে কর বৃদ্ধি ইত্যাদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
- সিন্ধুর বিদ্রোহ দমনকালে ক্লান্ত সুলতান মৃত্যু বরণ করেন।
- তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ পন্ডিত ছিলেন।

অন্যদিকে -
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির কুতুব মিনার নির্মাণ করেন।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার প্রথম স্বাধিন সুলতান। তিনি রাজধানী সোনারগায়ে প্রতিষ্ঠা করেন।
- শায়েস্তা খান লালবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, সাতগম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৮.
সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলাকে একত্র করেন -
  1. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  2. গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ
  3. শিহাবুদ্দিন শাহ
  4. সিকান্দার শাহ
ব্যাখ্যা
• শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ:
→ এই দেশে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ খ্যাত সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলাকে একত্র করেন।
→ তার সময় থেকে বাঙালা ও জনগণ বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
→ তিনি ছিলেন উদার, সব ধর্মের মানুষের প্রতি তার সম্মান দৃষ্টি ছিল। তার মৃত্যুর পর সিকান্দার শাহ ও গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ সিংহাসনে বসেন। এই সময় বাংলায় রাজা গণেশ নামক এক জমিদার ও আমাত্য স্বল্প সময়ের জন্যে বাংলার শাসক হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৯.
বারভূঁইয়াদের অন্যতম চাদ রায় ও কেদার রায় কোন অঞ্চলের জমিদার ছিলেন?
  1. ক) ময়নসিংহ
  2. খ) মুন্সিগঞ্জ
  3. গ) নোয়াখালী
  4. ঘ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  5. ঙ) মানিকগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বারভূঁইয়াদের অন্যতম চাদ রায় ও কেদার রায় বিক্রমপুর বার ‍মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন ঈসা খান ও মুসা খান। নোয়াখালীতে ছিলেন লক্ষণমাণিক্য । মানিকগঞ্জে ছিলেন বিনোদ রায় ও মধু রায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল অঞ্চলের জমিদার ছিলেন সোনা গাজি । (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৪০.
বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয় -
  1. মীর জুমলা
  2. শায়েস্তা খান 
  3. ইসলাম খান চিশতি
  4. শাহ সুজা
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতি:
- সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয়
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।

⇒ ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।
- নিয়োগ লাভ করে তিনি অনতিবিলম্বে বাংলার তদানীন্তন রাজধানী বিহারের রাজমহল-এ চলে আসেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তিনি সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
- ইসলাম খান ঢাকাকে সুরক্ষিত করে তিনি ভূঁইয়াদের সব অবস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন এবং ১৬১১ খ্রিস্টাব্দেই মুসা খানসহ বারো ভূঁইয়াদের সবাই ইসলাম খানের নিকট বশ্যতা স্বীকার করেন। 

⇒ সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি লোহার পুল নির্মান করেন এবং ঢাকার ধোলাই খাল খনন করেন।
- বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে রাজমহলে স্থানান্তরিত করেন শাহ সুজা।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪৪১.
কোন সুলতান 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধি ধারণ করেন?
  1.  আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ইলিয়াস শাহের রাজত্বকাল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
- একজন সামান্য শাসক থেকে একত্রিত বৃহৎ বাংলা প্রতিষ্ঠিত করে এখানে সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে জনকল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত করায় ইলিয়াস শাহ বাংলার ইতিহাসে উচ্চ স্থান অধিকার করে আছেন।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয় এবং শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ বলা হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪২.
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কোন রাজাকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন?
  1. হেমন্ত সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. বিজয় সেন
ব্যাখ্যা

ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি এবং আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন। ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪৪৩.
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ-এর স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী কোনটি ছিল?
  1. গৌড় 
  2. লক্ষ্মণাবতী
  3. সোনারগাঁও
  4. কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর প্রতিষ্ঠা করা বাংলার প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের রাজধানী হয় সোনারগাঁও। ইতিহাসবিদরা বলেন, এটাই সোনারগাঁ-এর সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। 

উল্লেখ্য,
- তিনি দিল্লির তুগলক সুলতানের অধীনে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের সিলাহদার বা অস্ত্রাগারের তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। ১৩৩৭ সালে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ের শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন। ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়। তিনি কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম জয় করেন।

• ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন। তিনি বাংলায় তাঁর ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি তাঁর বিবরণে ফখরুদ্দীনের চারিত্রিক গুণাবলির প্রশংসা করে তাঁকে একজন খ্যাতনামা নরপতি হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

• ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলায় সর্বাধিক সুদৃশ্য মুদ্রার রূপকার, চারুশিল্প ও হস্তশিল্পের পৃষ্ঠপোষক, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারক, বহিরাগত ও ফকির-দরবেশদের উদার পৃষ্ঠপোষক, মসজিদ সমাধিসৌধ ও সড়ক নির্মাতা, আরাকানি মগদের অত্যাচার ও লুণ্ঠন থেকে রাজ্যের জনগণের রক্ষক এই মহান নৃপতি বাংলার ইতিহাসে এক উজ্জল স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ব
- ১৩৪৯ খ্রিস্টাব্দে (৭৫০ হিজরি) সোনারগাঁয়ে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের মৃত্যু হয়।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪৪৪.
কোন মুঘল সুবাদার বারো ভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকা অধিকার করেন?
  1. সুবাদার মুনিম খান
  2. সুবাদার মীর জুমলা
  3. সুবাদার ইসলাম খান
  4. সুবাদার শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
মুঘল সুবাদার ইসলাম খান বারো ভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকা অধিকার করেন।

সুবাদার ইসলাম খান চিশতি:

- সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয়।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং ঢাকাকে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এর নাম করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- তিনি লোহার পুল নির্মান করেন এবং দোলাই খাল খনন করেন।

⇔ বারো ভূঁইয়া:
- বাংলায় কররানী বংশের রাজত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বাংলার সোনারগাঁ, খুলনা, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলে কিছুসংখ্যক জমিদার স্বাধীন রাজার মতো রাজত্ব শুরু করে।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অধিকাংশই দখল করে নেন।
- এক দল জমিদার বা ভূস্বামী একযোগে পূর্ব বাংলার ওপর মোগল আক্রমণ প্রতিহত করেন।
- এরাই বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত।
- বারো ভূঁইয়াদের প্রধান ছিলেন ঈশা খাঁ।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলেও বারো ভূঁইয়ারা মোগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

⇒ এ বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে সোনারগাঁও এর ঈসা খাঁ ও তার পুত্র মুসা খাঁ, যশোহরের প্রতাপদিত্য, বিক্রমপুরের কেদার রায় ও চাঁদ রায়, বরিশালের কন্দর্প নারায়ণ, ফরিদপুরের মুকুন্দ রাম রায়, নোয়াখালীর লক্ষণ মাণিক্য, নাটোরের কংস নারায়ণ, বাকুড়ার বীর হাম্মীর, ভাওয়ালের ফজল গাজী, চন্দ্রপ্রতাপের চাঁদ গাজ, পুটিয়ার পীতাম্বর রায় এবং দিনাজপুরের প্রমথ রায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়াও বাহাদুর গাজী, সোনা গাজী, ওসমান কান, রাজা ছত্রজিৎ ও রাজা অনন্ত মাণিক্যও বারো ভূঁইয়াদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- তবে শেষ পর্যন্ত বারো ভূঁইয়াগণ মুঘল সুবাদার ইসলাম খানের হাতে পরাজিত হন এবং মুঘল বশ্যতা স্বীকার করেন।
- ফলে বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএএস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৪৫.
‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বা মহাদুর্ভিক্ষ হয় ইংরেজি -
  1. ক) ১১৭৬ সালে
  2. খ) ১১৭০ সালে
  3. গ) ১৭৭০ সালে
  4. ঘ) ১৭৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
রবার্ট ক্লাইভের দ্বৈতশাসন নীতি এবং ইংরেজ কর্মচারীদের অত্যাচার, উৎপীড়ন এবং শোষনের ফলে বাংলার জনসাধারণের অবস্থা ক্রমশ শোচনীয় হয়ে যায় এবং ১১৭০ সালে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে বাংলায় প্রচন্ড খাদ্যাভাব দেখা দেয়।
এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় ১ কোটি লোক মারা যায় । বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজী - ১৭৭০ সাল ) সংঘটিত এই দুর্ভিক্ষ "ছিয়াত্তরের মন্বন্তর" নামে পরিচিত।
এই সময় বাংলার গভর্ণর ছিল লর্ড কার্টিয়ার।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
৪৪৬.
নিম্নের কোন ব্যক্তি মুঘল সম্রাট ছিলেন না?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করলেও সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়। এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই- সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

অন্যদিকে,
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট। .জাহাঙ্গীর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট আকবর-এর পুত্র।
- ১৭০৭ খ্রি. সম্রাট আওরঙ্গজেব মৃত্যুবরণ করেন। আওরঙ্গজের পরবর্তী মুঘল শাসকগণ হলেন যথাক্রমে;
১। বাহাদুর শাহ (১৭০৭-১২),
২। জাহান্দর শাহ (১৭১২-১৩),
৩। ফররুখ শিয়ার (১৭১৩-১৯),
৪। মুহাম্মদ শাহ (১৭১৯-৪৮),
৫। আহমদ শাহ (১৭৪৮-৫৪),
৬। দ্বিতীয় আলমগীর (১৭৫৪-৫৯),
৭। দ্বিতীয় শাহ আলম (১৭৫৯-১৮০৬),
৮। দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-৩৭),
৯। দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ (১৮৩৭-৫৮)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৭.
‘ইয়ং বেঙ্গল’ গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বঙ্গদূত
  2. খ) জ্ঞানান্বেশণ
  3. গ) জ্ঞানাংকুর
  4. ঘ) সংবাদপ্রভাকর
ব্যাখ্যা
'জ্ঞানান্বেষণ'(১৮৩১) পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।যা 'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে প্রকাশিত হয়। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪৪৮.
কোন পর্যটক বাংলাকে 'দোযখপুর নিয়ামত' বলে আখ্যা দেন?
  1. ক) ইবনে বতুতা
  2. খ) ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. গ) বখতিয়ার খলজি
  4. ঘ) হিউয়েন সাং
ব্যাখ্যা
- ইবনে বতুতার ভ্রমণকালে বাংলার সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ছিলেন একজন খ্যাতিমান নরপতি। 
- ইবনে বতুতা সোনারগাঁয়ের সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ও লক্ষ্ণৌতির সুলতান আলাউদ্দিন আলী শাহের মধ্যকার তীব্র সংঘর্ষের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছেন।
- ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে বাংলার জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন।
- তিনি বলেছেন, 'জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রাচুর্য ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেশটিকে বসবাসের জন্য খুবই আকর্ষণীয় করে তুলেছে।'
- কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া এবং তার সঙ্গে ভ্যাপসা গরম বিশেষত গ্রীষ্মকালে নদীনালা থেকে উদ্ভূত দাবদাহ এতটাই পীড়াদায়ক ছিল যে, বিদেশিরা যে একে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত’ অর্থাৎ 'প্রাচুর্যপূর্ণ নরক' বলে অভিহিত করত। 


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৪৯.
Which sultan's reign of Bengal is called Golden Age?
  1. ক) Ghiyasuddin Azam Shah
  2. খ) Alauddin Hossain Shah
  3. গ) Shamsuddin Ilyas Shah
  4. ঘ) Nasiruddin Mahmud Shah
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ও বাংলার স্বর্ণযুগ:-
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহের শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- শাসন ব্যবস্থার ব্যাপারে তিনি উদার নীতি গ্রহণ করেন।
- তিনি মুসলমান ও হিন্দুদেরকে সমান চোখে দেখতেন এবং যোগ্যতানুসারেই সব সম্প্রদায়ের লোককে উচ্চ রাজপদে নিয়োগ
করতেন।

-  তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
- বড় সোনা মসজিদ, গৌড় ছোট সোনা মসজিদ, গৌড় বাংলাভাষায়ও অনেক গ্রন্থ রচিত হয়।
- এ সময়ে বিজয়গুপ্ত পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল, বিপ্রদাস মনসা বিজয় এবং যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য রচনা করেন।

- মালাধর বসু শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।
- তিনি শ্রীকৃষ্ণ বিজয় নামে আর একটি কাব্যও রচনা করেন।
- তাঁর রাজত্বকালে নির্মিত মসজিদসমূহের মধ্যে গৌড়ের ‘ছোট সোনা’ মসজিদ বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।
- মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাসে সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন।
- দীর্ঘ ২৬ বছর রাজত্ব করার পর আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫০.
কোন যুদ্ধে জয়ের পর শেরশাহ রাজধানী গৌড় থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করেন?
  1. ক) বিলগ্রাম
  2. খ) সুরুজগড়
  3. গ) চৌসা
  4. ঘ) খানুয়া 
ব্যাখ্যা
• শেরশাহের শাসন:
- চৌসার যুদ্ধজয় শেরশাহের সিংহাসনে বসার পথ করে দিয়েছিল।
- যুদ্ধজয়ের পরপর শেরশাহ সবার আগে গৌড় পুনরুদ্ধার করেন। গৌড় থেকেই তিনি হুমায়ুনের বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়েছিলেন।
- এরপর বিলগ্রামের যুদ্ধে হুমায়ুনের পরাজয়ের পর শেরশাহ গৌড় থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তর করেছিলেন
- তখন থেকে বাংলা দিল্লির অধীনে একটি প্রদেশে পরিণত হয়।
- খিজির খাঁ নামক একজন কর্মকর্তাকে বাংলা প্রদেশের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
এদিকে ১৫৪১ খ্রিস্টাব্দে খিজির খাঁ বাংলার ভূতপূর্ব সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের কন্যাকে বিয়ে করে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে শেরশাহ বাংলা অভিযান করে খিজির খাঁকে বন্দি করেন।
- তিনি খিজির খাঁ’র স্থলে কাজী ফজীলতকে গৌড়ের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
কোন মুঘল সম্রাটের শাসনামলে বাংলায় সুবাদারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলায় সুবাদারী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলায় সুবাদারী প্রতিষ্ঠা:

- মোগল সম্রাট আকবর তাঁর সাম্রাজ্যকে অনেকগুলো প্রদেশে ভাগ করেছিলেন।
- এই প্রদেশগুলোকে বলা হতো 'সুবা'। সুবার শাসনকর্তাকে বলা হতো সুবাদার।
- আকবরের সময় থেকে বাংলায় সুবাদার নিয়োগ করা শুরু হয়।
- তবে বারভূঁইয়াদের দাপটে বাংলায় মোগল সুবা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারেনি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে দক্ষতার সাথে বারভূঁইয়াদের দমন করেন সুবাদার ইসলাম খান। তিনি ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করেন। এরপর থেকে বাংলার সুবাদারদের মাধ্যমে পুরো বাংলায় মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মুঘল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫২.
‘সিপাহী বিদ্রোহের কারণ’ বইটির লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ আহমদ খান
  2. খ) সৈয়দ আমীর আলী
  3. গ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. ঘ) মাওলানা মোহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর মুসলমানরা ব্রিটিশ সরকারের বিরাগভাজন হয়ে পড়ে। কেননা সরকারের ধারণা ছিল, সংগ্রামের মূলে মুসলমানরা দায়ী। ইংরেজ সরকারের এ মনোভাব পরিবর্তনের জন্য সৈয়দ আহমদ খান ‘সিপাহী বিদ্রোহের কারণ’ ও ভারতের রাজ ভক্ত মুসলমান’ নামে দুইটি বই লিখেন। [সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পত্র, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা]
৪৫৩.
Who was the founder of 'Karrani dynasty' in Bangla?
  1. Bayazid Karrani
  2. Daud Karrani
  3. Sulemon Karrani
  4. Taz Khan Karrani
ব্যাখ্যা
কররানি শাসন:
- কররানি উপাধিধারী আফগানরা হচ্ছে একটি আফগান গোত্র।
- ১৫৬৪ সালে তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি এক সময় শেরশাহের অধীনে চাকরি করতেন।
- ১৫৬৫ সালে তিনি বাংলার অধিপতি হওয়ার এক বছরের মধ্যে মারা যান।
- তাজ খানের তাঁর ভাই সুলেমান কররানি প্রায় সাত বছর বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
- তাঁর আমলে বাংলায় অপেক্ষাকৃত সুশাসন ও শান্তি বিরাজ করেছে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৪.
'মাৎস্যন্যায়' যুগের অবসান ঘটে কোন রাজবংশের আগমনের মাধ্যমে? 
  1. সেনদের আগমনে
  2. মৌর্যদের আগমনে
  3. পালদের আগমনে
  4. গুপ্তদের আগমনে
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায়:
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে।
- এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সময় উত্তর ভারতের আধিপত্য নিয়ে গুর্জর প্রতিহার, রাষ্ট্রকুট ও পালবংশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ধর্মপালের পর রাজা হলেন তাঁর পুত্র দেবপাল।
- তাঁর শাসনামলে পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
- রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন।
- তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: ইতহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৫.
নিচের কোন ব্যক্তি মোঘল সম্রাট নয়?
  1. ক) আকবর
  2. খ) বাহাদুর শাহ
  3. গ) শাহজাহান
  4. ঘ) শের শাহ
ব্যাখ্যা
• মোঘল সম্রাট:
- মোঘল সম্রাট - বাবর, আকবর, হুমায়ুন, শাহজাহান, আওরঙ্গজেব।

অপরদিকে -
- শেরশাহ হলেন শূর শাসনের শ্রেষ্ঠ শাসক।
- শেরশাহ ছিলেন আফগান শাসক।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৬.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন কে?
  1. ক) খাজা নাজিমউদ্দিন
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
ব্যাখ্যা
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কংগ্রেস, মুসলিমলীগ ও কৃষক প্রজা পার্টি কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় মুসলিমলীগ ও কৃষক প্রজা পার্টি কোয়ালিশন সরকার গঠন করে।
এই সরকারে বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। তিনি (১৯৩৭-১৯৪১) এবং (১৯৪১-১৯৪৩) দুটো মন্ত্রিসভায় ‍মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪৫৭.
'তারা মসজিদ' নির্মাণ করেন কে?
  1. ঈসা খান
  2. আলী জান ব্যাপারী
  3. মির্জা গোলাম পীর 
  4. নবাব সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা

তারা মসজিদ:
- তারা মসজিদ পুরানো ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত।
- সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে।
- মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) ঢাকার বিখ্যাত ‘তারা মসজিদ’ তৈরি করেন।
- ১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। সে সময় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয় মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

৪৫৮.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক প্রথম অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন-
  1. ক) ১৯৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৪৩ সালে
  3. গ) ১৯৩৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা। তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ছিলেন।
- তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৪৫৯.
সর্বপ্রথম 'বঙ্গ' দেশের নাম পাওয়া যায় কোথায়?
  1. ক) পুরাণে
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) আইন-ই-আকবরী
  4. ঘ) ঐতরেয় আরণ্যক
ব্যাখ্যা
'বঙ্গ' বাংলার একটি সুপ্রাচীন মানব-বসতির স্থান বা জনপদ, যা  চৌদ্দ শতকে মুসলমান শাসনামলে পরিবর্তিত রূপে বাঙ্গালাহ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
- বাংলার অন্যান্য ভৌগোলিক ইউনিটের মতো বঙ্গের ভৌগোলিক গূঢ়ার্থও ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়েছে।

দেশবাচক শব্দ হিসাবে 'বঙ্গ' বা 'বাঙ্গাল' শব্দটি প্রথম পাওয়া যায় - আবুল ফজল রচিত 'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থে।

অন্যদিকে,
- ঐতরেয় আরণ্যক -এ সর্বপ্রথম মগধের সাথে বঙ্গ নামক একটি জনগোষ্ঠীর কথা উল্লিখিত হয়েছে।
- বৌধায়ন ধর্মসূত্রে একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে বঙ্গ নামের উল্লেখ রয়েছে, যারা আর্যসভ্যতার সীমার বাইরে কলিঙ্গের পাশেই বসবাস করত।
- পুরাণে এদের উল্লেখ রয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় অন্যান্য জনগোষ্ঠী যেমন অঙ্গ, মগধ, মুদগরক, পুন্ড্র, বিদেহ, তাম্রলিপ্তি ও প্রাগজ্যোতিষ-এর সাথে।
- রামায়ণ এ অযোধ্যার সাথে বঙ্গের মৈত্রীবন্ধনের কথার উল্লেখ রয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও নবম - দশম শ্রেণীর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই (উন্মুক্ত)।
৪৬০.
ইসলাম খান চিশতি কোন স্থান থেকে স্থানান্তরিত করে বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থাপন করেন?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. চট্টগ্রাম
  3. সোনারগাঁও
  4. রাজমহল
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতি:
- সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয়।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।

উল্লেখ্য,
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।
- নিয়োগ লাভ করে তিনি অনতিবিলম্বে বাংলার তদানীন্তন রাজধানী বিহারের রাজমহল-এ চলে আসেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তিনি সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
- ইসলাম খান ঢাকাকে সুরক্ষিত করে তিনি ভূঁইয়াদের সব অবস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন এবং ১৬১১ খ্রিস্টাব্দেই মুসা খানসহ বারো ভূঁইয়াদের সবাই ইসলাম খানের নিকট বশ্যতা স্বীকার করেন। 

⇒ সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি লোহার পুল নির্মান করেন এবং ঢাকার ধোলাই খাল খনন করেন।
- বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে রাজমহলে স্থানান্তরিত করেন শাহ সুজা।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৬১.
কোনটি ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম?
  1. ক) নীল বিদ্রোহ
  2. খ) সিপাহী বিদ্রোহ
  3. গ) ফকির সন্ন্যাসি আন্দোলন
  4. ঘ) স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৬২.
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনামল কোনটি?
  1. ১৩৩২ – ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৩৩৮ – ১৩৪৯ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৩৪২ – ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৩৪৫ – ১৩৬২ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনাকারী।
তিনি ১৩৩৮ সাল থেকে ১৩৪৯ সাল পর্যন্ত সোনারগাঁয়ে রাজত্ব করেন।
তিনিই সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম জয় করেন এবং চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি রাজপথ নির্মাণ করেন।
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের মৃত্যু পর তার পুত্র ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সোনারগাঁও শাসন করেন।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, পৃষ্ঠা-৬২/৬৩)
৪৬৩.
'তবকাত-ই-নাসিরী' গ্রন্থের লেখক -
  1. আবুল ফজল
  2. মিনহাজ-ই-সিরাজ
  3. আব্দুল মালিক ইসামী
  4. সুলতান নাসির-উদ-দীন
ব্যাখ্যা
তবকাত-ই-নাসিরী:
- তবকাত-ই-নাসিরী মিনহাজ-ই-সিরাজ জুর্জানি রচিত মধ্যযুগের সাধারণ ইতিহাস গ্রন্থ।
- এ গ্রন্থে ইসলামের বিভিন্ন নবী-রসুলের ইতিহাস থেকে শুরু করে মিনহাজ তাঁর নিজের সময় পর্যন্ত ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন।
- বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্য এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থ।
- বাংলা মুলুকে মুসলিম শাসনের প্রথম ৫০ বছরের ইতিহাস একমাত্র এ গ্রন্থেই পাওয়া যায়।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয় থেকে ১২৫৯ সাল পর্যন্ত বাংলার ইতিহাসের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস হলো তবকাত-ই-নাসিরী। 

উল্লেখ্য,
- মিনহাজ-ই-সিরাজ ছিলেন দিল্লির কাজি।
- কর্মসূত্রে সুলতানি আমলের বাংলায় এসে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করার পর দিল্লি ফিরে রচনা করেন এই বই।
- দিল্লির সুলতানের বিরুদ্ধে খলজিদের বিদ্রোহ, বখতিয়ার খলজির নেতৃত্বে বাংলায় তুর্কি অধিকার, ব্যর্থ তিব্বত অভিযান ও তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত বাংলার ৫৪ বছরের একমাত্র ইতিহাস এই বই।
- মূল্যবান ও বিশদ ভূমিকাসহ বইটির সংশ্লিষ্ট তিনটি অংশ মূল ফারসি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন নিষ্ঠাবান ইতিহাস-গবেষক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া। 

অন্যদিকে -
- তুর্কি-আফগান যুগে একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক রচনা হলো, আব্দুল মালিক ইসামী রচিত "ফুতুহ-উস-সালাতিন" নামক গ্রন্থ।
- আকবরনামা আবুল ফজল আল্লামী বিরচিত ঐতিহাসিক ঘটনাপঞ্জি সম্বলিত ফার্সি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৬৪.
কে ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. শামস-ই-সিরাজ আফীফ
  4. ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহ
ব্যাখ্যা

শামস-ই-সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:

- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করলেও সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভ করেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই- সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৫.
মুঘল আমলের রাষ্ট্র ভাষা কী ছিল?
  1. উর্দু
  2. বাংলা
  3. আরবি
  4. ফার্সি
ব্যাখ্যা
• মুঘল আমল:
- ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা - জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।
- মুঘল যুগে ভারতীয় সমাজ ছিল সামন্ততান্ত্রিক।
- মুঘল আমলে রাষ্ট্র ভাষা ছিল - ফার্সি। 
- মুঘল সম্রাট আকবর দীন-ই-ইলাহী ধর্মমত চালু করেন। 
- মুঘল সম্রাটদের মধ্যে সর্বপ্রথম আত্মজীবনী লেখেন - সম্রাট বাবর।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৬.
ভারতবর্ষের কোন মুঘল সম্রাট সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট হুমায়ুন
  3. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. সম্রাট বাবর
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর ভারতবর্ষের সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন। 

সম্রাট আকবর:

- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

⇒ সম্রাট আকবর সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৭.
আকবরের শেষ সমরাভিযান কোনটি?
  1. ক) বাংলা বিজয়
  2. খ) হলদিঘাটের যুদ্ধ
  3. গ) আসির গড়ের যুদ্ধ
  4. ঘ) কাবুল ও কান্দাহার বিজয়
ব্যাখ্যা
আকবরের শেষ সমরাভিযান ছিল - আসির গড়ের যুদ্ধ

• সম্রাট আকবর:
- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর মাত্র ১৩ বছর বয়সে জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর নাম ধারণ করে দিল্লির মোগল সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সম্রাট আকবর ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬০১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তাঁর রাজ্য জয় ও সাম্রাজ্য বিস্তৃতি নীতি অব্যাহত রাখেন। 
- সম্রাট আকবরের ক্ষমতা গ্রহণের সময় মোগল রাজত্ব পাঞ্জাব, দিল্লী ও আগ্রার মধ্যে সীমিত ছিল।

- আকবর দীর্ঘ ৪০ বছর সমরাভিযান পরিচালনা করে তাঁর রাজ্য উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে কৃষ্ণানদী এবং পশ্চিমে হিন্দুকুশ থেকে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন।
- এই বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য সম্রাট আকবর সম্মুখ সমরের পাশাপাশি কখনও কখনও ক‚টনীতিরও আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন।
- ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে আকবর দুর্ভেদ্য দুর্গ আসিরগড় অধিকার করেন।

- আসিরগড়ই ছিল আকবরের সর্বশেষ রাজ্য জয়।
- তিনি আহমদনগর, বেরার ও খান্দেশ নিয়ে একটি সুবাহ গঠন করেন এবং যুবরাজ দানিয়েলকে এই সুবাহর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- এভাবে দক্ষিণে কৃষ্ণানদী পর্যন্ত আকবরের সাম্রাজ্য বিস্তৃত হলো। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৮.
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৫১৬ সালে
  2. খ) ১৬০০ সালে
  3. গ) ১৬১৬ সালে
  4. ঘ) ১৬৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৪৬৯.
কোন চুক্তির মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে?
  1. লক্ষ্মৌ চুক্তি
  2. আলীগড় চুক্তি
  3. এলাহাবাদ চুক্তি
  4. বক্সার চুক্তি
ব্যাখ্যা

এলাহাবাদ চুক্তি: 
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে এলাহাবাদ চুক্তি (Allahabad Treaty) এর মাধ্যমে।
- দ্বিতীয় শাহ আলম (১৭৬১-১৮০৫) দিল্লির মুঘল সম্রাট আজিজুদ্দীন দ্বিতীয় আলমগীরের পুত্র।
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম মীর কাসিমকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সুবাহদার হিসেবে অভিষিক্ত করেন এবং বিনিময়ে নওয়াব কর্তৃক বার্ষিক ২৪ লক্ষ টাকা কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন।
- ১৭৫১ সাল থেকে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ পর্যন্ত বাদশাহ শাহ আলম অযোদ্ধার নওয়াব  সুজাউদ্দৌলার আশ্রয়ে ছিলেন।
- বক্সারের যুদ্ধের পর সম্রাট শাহ আলম এলাহাবাদ চুক্তি অনুসারে (১৭৬৫) বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বা দীউয়ানি প্রদান করেন।
- কোম্পানি কারা ও এলাহাবাদকে বাদশাহর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৭০.
ইবনে বতুতা কোন শতকে বাংলাদেশে আসেন?
  1. চতুর্দশ
  2. পঞ্চদশ
  3. সপ্তদশ
  4. অষ্টাদশ
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন। 
- ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন।
- সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাঁকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন।
- ইবনে বতুতা চতুর্দশ শতকে ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন।
- ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৭১.
লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ আরম্ভ করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. যুবরাজ মোহাম্মদ আযম
  3. হোসেন শাহ্
  4. সুবাদার ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
-  এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন। 

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৭২.
বাংলায় বারো ভূঁইয়াদের অভ্যুত্থান ঘটে কার শাসনামলে?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে
  2. সম্রাট আকবরের শাসনামলে
  3. সম্রাট হুমায়ুনের শাসনামলে
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলায় বারো ভূঁইয়াদের অভ্যুত্থান ঘটে।

⇒ বাংলায় কররানী বংশের রাজত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বাংলার সোনারগাঁ, খুলনা, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলে কিছুসংখ্যক জমিদার স্বাধীন রাজার মতো রাজত্ব শুরু করে।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অধিকাংশই দখল করে নেন।
- এক দল জমিদার বা ভূস্বামী একযোগে পূর্ব বাংলার ওপর মুঘল আক্রমণ প্রতিহত করেন। এরাই বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত।
- বারো ভূঁইয়াদের প্রধান ছিলেন ঈশা খাঁ।
- আকবরের সেনাপতি মানসিংহ বারবার চেষ্টা করেও ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারেননি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলেও বারো ভূঁইয়ারা মোগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

⇒ বারো-ভূঁইয়া শব্দটির অর্থ বারোজন ভূঁইয়া।
- প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন।
- এ অবস্থায় বহু ভূঁইয়া বিদ্রোহ করেছিলেন।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএএস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৭৩.
কার আমলে ঢাকাকে সুবাবাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) আকবর
  2. খ) জাহাঙ্গীর
  3. গ) হুমায়ুন
  4. ঘ) শাহজাহান
ব্যাখ্যা
ঢাকায় সর্বপ্রথম বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয় ১৬১০ সালে।
মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবাবাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

উৎসঃ নবম দশম শ্রেণি সমাজ বই।
৪৭৪.
'নৃপতি তিলক' উপাধি লাভ করেন বাংলার কোন শাসক?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. মাহমুদ শাহ
  4. কুতুবুদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন হোসেন শাহ:
- সুলতান হোসেন শাহ একজন পরধর্ম সহিষ্ণু ও নিষ্ঠাবান শাসক ছিলেন।
- জ্ঞানতাপস ও সুফি-সাধকদের তিনি ভক্তি করতেন।
- তাঁর উজির ছিলেন পুরন্দর খান।
- অনেক হিন্দু কবি-সাহিত্যিকও তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন।
- তাঁর উদারতায় মুগ্ধ হয়ে হিন্দু প্রজাগণ হোসেন শাহকে 'নৃপতি তিলক' 'জগৎভূষণ' 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধি দিয়েছিলেন।
- এ সময়ই শ্রী চৈতন্যদেবের অভ্যুদয় হয় এবং তিনি গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক ছিলেন।
- হিন্দু ও মুসলমানদের মিলনের যোগসূত্র হিসেবে তিনি 'সত্যপীর' নামে একটি নতুন কৃষ্টি প্রবর্তন করেন।

এছাড়াও, 
- সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শিল্প স্থাপত্যের একজন শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিলেন।
- গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ, মানিকগঞ্জ জেলার নাচাইল মসজিদ, গোমতি ফটক ছাড়া অগণিত মসজিদ, মাদ্রসা, সমাধি ও দূর্গ নির্মাণ করেন।
- তিনি 'বাদশাহী সড়ক' সহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য অনেক রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন।
- সুদীর্ঘ ২৬ বছর গৌরবময় রাজত্ব শেষে ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে হোসেন শাহ ইন্তেকাল করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৫.
ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয় -
  1. ১৬০২ সালে
  2. ১৬০৫ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬১২ সালে
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
- জনপদ হিসেবে ঢাকার গোড়াপত্তন হয় ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে।
- শহর হিসেবে এর গোড়াপত্তন হয় ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Business Standard.
৪৭৬.
মধ্যযুগে মুসলিম সুলতানদের বাংলার রাজধানী ছিল-
  1. পাহাড়পুর
  2. সোনারগাঁও 
  3. মহাস্থানগড়
  4. জাহাঙ্গীরনগর
ব্যাখ্যা

সোনারগাঁও:
- নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পাশে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উত্তরে সোনারগাঁও অবস্থিত।
- বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৭৭.
ঢাকার বিখ্যাত 'তারা মসজিদ' নির্মাণ করেন কে?
  1. মির্জা আহমদ খান
  2. মির্জা গোলাপ পীর
  3. মির্জা গোলাম পীর
  4. মির্জা গোলাম জান
ব্যাখ্যা

তারা মসজিদ:
- তারা মসজিদ পুরানো ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত।
- সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে।
- মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) ঢাকার বিখ্যাত ‘তারা মসজিদ’ তৈরি করেন।
- ১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। সে সময় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয় মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

৪৭৮.
বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাসে সর্বাধিককাল রাজত্ব করেন-
  1. ক) সিকান্দার শাহ
  2. খ) গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা

- সিকান্দার শাহ (১৩৫৮-১৩৯৩ খ্রিঃ)
- শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দার শাহ (১৩৫৮-১৩৯৩ খ্রিঃ) বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- সিকান্দার শাহ বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাসে সর্বাধিককাল রাজত্ব করেন। সুদীর্ঘ ৩৫ বছরের শাসনকালে তিনি বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- পান্ডুয়ার আদিনা মসজিদের সন্নিকটে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
- শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৪২ সাল থেকে ১৩৫৮ সাল পর্যন্ত শাসন করে।
- গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ (১৩৯৩-১৪১১ খ্রি.)।
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ১৪৯৪ -১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনী ও বাংলাপিডিয়া।

৪৭৯.
বাংলার ইতিহাসে কররানি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. আসগর কররানি
  2. দাউদ কররানি
  3. সুলেমান কররানি
  4. তাজ খান কররানি
ব্যাখ্যা

• কররানি শাসন:
- কররানি উপাধি ধারী আফগানরা হচ্ছে একটি আফগান গোত্র।
- সর্দার তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন ১৫৬৪ খ্রি.।
- তিনি এক সময় শেরশাহের অধীনে চাকরি করতেন।
- আদিল শাহের আমলে তাজ খান বাংলার তাণ্ডায় জায়গীরদার হিসেবে ছিলেন।
- তিনি বাংলার অধিপতি হওয়ার এক বছরের মধ্যে মারা যান (১৫৬৫ খ্রি.)।

অপরদিকে, 
- তাজ খানের তাঁর ভাই সুলেমান কররানি সাত বছর বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
- তাঁর আমলে বাংলায় অপেক্ষাকৃত সুশাসন ও শান্তি বিরাজ করেছে।
- গৌড় নগরী বাসযোগ্যতা হারালে সুলেমান কররানি তান্ডাতে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৮০.
কত সালে বক্সারের যুদ্ধ সংগঠিত হয়?
  1. ক) ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন
  2. খ) ১৭৬০ সালের ২২ অক্টোবর
  3. গ) ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৭৬৬ সালের ২৯ জুলাই
ব্যাখ্যা

- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে বাংলার নবাব মীর কাশিম, মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনীর সাথে মেজর মনরো নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়।
- - বক্সারের যুদ্ধকে পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের নিকট হারানো বাংলার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা বিবেচনা করা হয়।
- এই যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার নামমাত্র টিকে থাকা স্বাধীনতা পুরোপুরি বিনষ্ট হয়। ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ আরও সুগম হয়।
- যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়ে নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।

৪৮১.
'বাংলার নৌকা বাইচ' উৎসবের সূচনা করেছিলেন কে?
  1. ক) ইসলাম খান
  2. খ) মীর মুরাদ
  3. গ) শাহবাজ খান
  4. ঘ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
- ইসলাম খান বাংলায় নিযুক্ত প্রথম মুঘল সুবেদার।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানীর মর্যাদা প্রদান করেন।
- ঢাকার ধোলাই খাল খনন ও নৌকা বাইচের প্রচলন করেন ইসলাম খান।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
৪৮২.
শেরশাহ কোন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন?
  1. তুঘলক
  2. লোদী 
  3. শূর
  4. গজনি
ব্যাখ্যা

শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
-  তাঁর প্রকৃত নাম ফরিদ। 

⇒ তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন।
- কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন।  গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪৮৩.
ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা বলা হয় কাকে?
  1. ক) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. খ) দুদু মিয়া
  3. গ) মীর লতিফ
  4. ঘ) মজনু শাহ
ব্যাখ্যা
• ফরায়েজী আন্দোলন ঊনিশ শতকে বাংলায় গড়ে ওঠা একটি সংস্কার আন্দোলন।
• প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
• ফরায়েজী শব্দটি ‘ফরজ’ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। কাজেই ফরায়েজী বলতে তাদেরকেই বোঝায় যাদের লক্ষ্য হচ্ছে অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহ কার্যকর করা।
• এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ
• তিনি অবশ্য শব্দটিকে ব্যাপক অর্থে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, অবশ্য পালনীয়ই হোক বা ঐচ্ছিকই হোক, কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সকল ধর্মীয় কর্তব্যই এর অন্তর্ভুক্ত।
• শরীয়তউল্লাহ হজ্ব পালনের জন্য মক্কায় যান এবং সেখানে বিশ বছর অবস্থান করে হানাফি শাস্ত্রজ্ঞ শেখ তাহির সোম্বলের নিকট ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
• দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান যে, বাংলার মুসলমানদের একটি অংশ বহুবিধ স্থানীয় লোকাচার ও পর্ব-উৎসব পালনে উৎসাহী হয়ে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার প্রতি চরম উদাসীন হয়ে উঠেছেন।
• সে কারণেই তিনি ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন এবং কালক্রমে এ আন্দোলন সমগ্র পূর্ববঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
• ১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসীনউদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
• ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৪.
'আদিনা মসজিদ' নির্মাণ করেন কে?
  1. সিকান্দার শাহ
  2. সুলতান ইলিয়াস শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

সিকান্দর শাহ:
- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। 
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- তাঁর সময় তৈরি আদিনা মসজিদ মধ্যযুগের বাংলার স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৫.
'গম্ভীরা' বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের লোক সংগীত?
  1. বরিশাল
  2. রাজশাহী
  3. খুলনা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা:
- গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত।
- ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব।
- সাধারণত বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত।

উল্লেখ্য, 
- ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।
- গম্ভীরা গানের উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় হিন্দুসমাজে।
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর মালদহ থেকে গম্ভীরা গান রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৮৬.
‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার কোন সময়কে নির্দেশ করে?
  1. ক) ৫ম - ৬ষ্ঠ শতক
  2. খ) ৬ষ্ঠ - ৭ম শতক
  3. গ) ৭ম - ৮ম শতক
  4. ঘ) ৮ম - ৯ম শতক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্কের পর দীর্ঘদিন বাংলায় কোন যোগ্য শাসক ছিল না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়।
সামন্ত রাজারা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকেন। অরাজকতাপূর্ণ সময় (৭ম - ৮ম) কে পাল তাম্র শাসনে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে। পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা 'গোপাল' এর শাসনামলে এই মাৎস্যন্যায় এর অবসান ঘটে ও শৃঙ্খলা ফিরে আসে।
উৎস - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৪৮৭.
মোগল প্রশাসনে রাজস্ব বিভাগ ন্যাস্ত ছিল কার উপর?
  1. দিউয়ান
  2. কাজী-উল- কুজ্জাত
  3. মীর বক্সি
  4. মীর-ই-সামান
ব্যাখ্যা
মোগল প্রশাসন:

- মোগল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- এটি ফার্সি শব্দ যা বাংলায় বাদশাহ হিসেবে ব্যবহৃত।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল। তিনি কোনো কোনো সময় রাজস্ব বিভাগও দেখাশুনা করতেন।
- তবে মোগল প্রশাসনের ওয়াজিরের পদ অপরিহার্য ছিল না। তাই মোগল আমলে সব সময় ওয়াজির নিযুক্ত হত না।
- মোগল আমলের রাজস্ব বিভাগের যাবতীয় কার্যভার দিউয়ানের ওপর ন্যস্ত ছিল। তিনি অর্থনৈতিক বিভাগের পরিচালনা ও পরিদর্শন করতেন।
- মীর বকসি ছিলেন সামরিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ রাজকর্মচারি।
- মীর-ই-সামান ছিলেন সম্রাটের গৃহ পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত কর্মচারি।
- কাজী-উল-কুজ্জাত বা প্রধান কাজী ছিলেন সম্রাটের অধীনে সর্বোচ্চ বিচারপতি।
- বিশাল মোগল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৮.
গৌড়ের সোনা মসজিদ কোন আমলের স্থাপত্যের রত্ন হিসেবে আখ্যায়িত?
  1. পাল
  2. সেন
  3. মুঘল
  4. সুলতানি
ব্যাখ্যা
সোনা মসজিদ:
- গৌড়ের সোনা মসজিদ 'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন' বলে আখ্যায়িত।
- মধ্যযুগের সুলতানি আমলের গৌড়নগরীর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ।
- মসজিদটিকে বলা হতো ‘গৌড়ের রত্ন’।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রধানতম নিদর্শন হচ্ছে ছোট সোনামসজিদ।
- মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) নির্মিত হয় সোনামসজিদ।
- প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৮৯.
শের শাহ নির্মাণ করেন -
  1. কুতুব মিনার
  2. লালবাগ কেল্লা
  3. ছোট কাটরা
  4. গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড
ব্যাখ্যা
শের শাহ:
- শের শাহের শাসনকালে ভারতবর্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উপযুক্ত উন্নতি সাধিত হয়।
- এজন্য তিনি সাম্রাজ্যের নানা স্থানে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করেছিলেন। 
- তাঁর নির্মিত এসব চওড়া রাস্তার মধ্যে ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' অন্যতম। 
- বিখ্যাত এই গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- তখনকার দিকে যাতায়াত ও পরিবহনে এই পথের গুরুত্ব ছিল অনেক। 
- তিনি এপথে গমনকারী পথচারীদের সুবিধার জন্য রাস্তার উভয় পার্শ্বে বৃক্ষরোপণ ও সরাইখানা স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ।

অন্যদিকে -
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির কুতুব মিনার নির্মাণ করেন।
- শায়েস্তা খান লালবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, সাতগম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯০.
কার ‍মৃত্যুর পর প্রাচীন বাংলায় ‘মাৎস্যন্যায়’ অবস্থা দেখা দেয়?
  1. ক) রাজা গণেশ
  2. খ) শশাঙ্ক
  3. গ) গোপাল
  4. ঘ) হেমন্ত সেন
ব্যাখ্যা
৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে বাংলায় অরাজকতা দেখা দেয়। সর্বত্র অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, লুটতরাজ প্রভৃতিতে ছেয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন।
পুকুরে যেমন বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, এই সময়ে বাংলার অবস্থাও তেমনই ছিলো। যার কারণে এ সময়কে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়।
৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর ‘মাৎস্যন্যায়’ অবস্থা বিরাজমান ছিলো।
৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনামলের সূচনার মাধ্যমে ‘মাৎস্যন্যায়’ অবস্থার অবসান হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৯১.
সিন্ধু অভিযানে মুসলিম সেনাপতি কে ছিলেন-
  1. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ
  2. মুহাম্মদ বিন কাসেম
  3. সুলতান মাহমুদ
  4. খান জাহান আলী
ব্যাখ্যা

- সিন্ধু অভিযানে মুসলিম সেনাপতি কে ছিলেন- মুহাম্মদ বিন কাসিম। 

• সিন্ধু বিজয়:

- আরবদের সিন্ধু বিজয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের আগমনের সূচনালগ্ন ধরা হয়।
- এ ঐতিহাসিক ঘটনার প্রধান কুশীলব ছিলেন আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সিন্ধুর তৎকালীন রাজা দাহির।
- প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি ছিলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম।

উল্লেখ্য,
- খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সময় মুসলমানগণ সিন্ধু অভিযান করে।
- খলিফার অনুমতি নিয়ে ইরাকের গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এই অভিযান পাঠান।
- সিন্ধু বিজয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের বিস্তার সাধন এবং অর্থ সম্পদ লাভ।
- মুহম্মদ বিন কাসিম এক শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে সিন্ধুদেশ আক্রমণ করেন।
- তিনি দাইবুল, নীরুন, সিওয়ান ও সিসাম দখল করে আরও উত্তরে অগ্রসর হন।
- সিন্ধুরাজ দাহির রাওয়ার দুর্গ রক্ষার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু তিনি যুদ্ধে নিহত হন।
- রাওয়ার দখলের পর মুহম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজধানী আলোর জয় করেন।
- এরপর মুলতানও মুসলমানদের দখলে আসে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯২.
কত সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হয়?
  1. ক) ১৭৬৫ সালে
  2. খ) ১৭৭২ সালে
  3. গ) ১৭৯৩ সালে
  4. ঘ) ১৭৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
এ ব্যবস্থায় ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ তারিখে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা প্রদান করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৯৩.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে সর্বশেষ বাংলায় এসেছিলেন-
  1. ক) পর্তুগিজরা
  2. খ) ইংরেজরা
  3. গ) ফরাসিরা
  4. ঘ) ওলন্দাজরা
ব্যাখ্যা
১৪৯৮ সালের ২৭মে দুঃসাহসিক পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করে তিনটি বাণিজ্য তরী নিয়ে ভারতের পশ্চিম উপকূলে কালিকট বন্দরে আগমন করেন। তারা ১৫১৬ সালে প্রথম বাংলায় আসেন।
এরপর ১৬৩০ সালে ওলন্দাজরা, ১৬৫৮ সালে ইংরেজরা এবং সবশেষে ১৬৭৪ সালে ফরাসিরা বাংলায় আগমন করে।
উৎস - বাংলাপিডিয়া।
৪৯৪.
বাংলার শেষ কররানী শাসক কে ছিলেন?
  1. দাউদ কররানী
  2. সুলায়মান কররানী
  3. বায়েজীদ কররানী
  4. সেলিম কররানী
ব্যাখ্যা
কররানি শাসন:
- কররানি উপাধিধারী আফগানরা হচ্ছে একটি আফগান গোত্র।
- কররানীদের আদি নিবাস ছিল আফগানিস্তানের বঙ্গাশ নামক স্থানে। বর্তমানে এটি কুররম নামে অভিহিত।
- পাঠানদের কররানী শাখা আফগানিস্তানে করলানি নামে পরিচিত।
- ১৫৬৪ সালে তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি এক সময় শেরশাহের অধীনে চাকরি করতেন।
- ১৫৬৫ সালে তিনি বাংলার অধিপতি হওয়ার এক বছরের মধ্যে মারা যান।
- তাঁর ভাই সুলেমান কররানি প্রায় সাত বছর বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
- তাঁর আমলে বাংলায় অপেক্ষাকৃত সুশাসন ও শান্তি বিরাজ করেছে।
- সুলায়মান কররানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র বায়েজীদ কররানী তাঁর উত্তরাধিকারী হন।
- তিনি তাঁর পিতার নীতি পরিহার করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- বায়েজীদ কররানী মাত্র অল্প কয়েকমাস বাংলা শাসন করেন।
- ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে বায়েজীদের কনিষ্ঠ ভ্রাতা দাউদ কররানীকে বাংলার সিংহাসনে অভিষিক্ত করেন।
- দাউদ তাঁর ভাইয়ের স্বাধীন নীতি অনুসরণ করে নিজের নামে খুৎবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলন করেন।
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ জুলাই রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দাউদ কররানী বন্দি হন এবং তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।
- দাউদ কররানীর মৃত্যুদন্ডের ফলে বাংলায় স্বাধীন মুসলিম শাসনের অবসান ও মুঘল শাসনের সূচনা হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪৯৫.
আদিনার বিখ্যাত মসজিদ কোন্ সুলতানের শাসনামলে নির্মিত হয়?
  1. গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ্
  2.  সিকান্দার শাহ্
  3. হুসেন শাহ্ ই আজম
  4. শামস উদ্দীন মাবরুহ শাহ্
ব্যাখ্যা

• আদিনা মসজিদ:
- আদিনা মসজিদ  পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হযরত পান্ডুয়া বা ফিরুজাবাদে অবস্থিত। 
- এটি কেবল বাংলায়ই নয়, গোটা উপমহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম মসজিদ। 
- এর পেছনের দেয়ালে প্রাপ্ত একটি শিলালিপি অনুসারে এটি ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে ইলিয়াস শাহের পুত্র সিকান্দর শাহ কর্তৃক নির্মিত।
- এর আয়তন ২১১০ মিটার এবং এক সময় উচ্চতা প্রায় ১৮ মিটার, 
- আদিনা মসজিদের একটি বহুল আলোচিত অনুষঙ্গ হচ্ছে মসজিদের পেছনে সিকান্দর শাহ-এর তথাকথিত সমাধি কক্ষ।
- মসজিদটি বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত। কালের চাপ উপেক্ষা করে খিলান ছাদযুক্ত প্রবেশদ্বারসহ পশ্চিম দেয়ালের অংশবিশেষ মাত্র টিকে আছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৯৬.
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কোন শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন?
  1. গুপ্ত
  2. হাবশি
  3. সেন
  4. পাল
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৭.
'বর্গী' বলা হতো কাদেরকে?
  1. নেপালি উপজাতি
  2. আরাকানী জলদস্যু
  3. মারাঠা
  4. আবিসিনীয় দাস সৈন্য
ব্যাখ্যা
- দক্ষিণ ভারতের মারাঠারা বাংলায় ‘বর্গী’ নামে পরিচিত ছিলো।
- মারাঠা সৈন্যবাহিনীর সর্বনিম্ন পদধারী সৈনিকরা ‘বরগি’ নামে পরিচিত ছিলো। এই বরগি থেকেই বর্গী নামের উদ্ভব।
- আঠারো শতকে বাংলায় বর্গীরা ব্যাপক লুটতরাজ চালাতো।
- আলীবর্দি খান বাংলায় বর্গীদের দমন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৪৯৮.
সতীদাহ প্রথা কত সালে বিলুপ্ত হয় ?
  1. ক) ১৭২৯ সালে
  2. খ) ১৮২৯ সালে
  3. গ) ১৬২৯ সালে
  4. ঘ) ১৮২৮ সালে
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪- ১৮৩৩ খ্রি.)
- বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রামমোহন রায় উনিশ শতকের একজন ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- রামমোহন রায় সংবাদ কৌমুদী নামে একটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- ১৮২১ সালে
- পরের বছর ফারসি ভাষায় আরেকটি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- এর নাম ছিল মিরাত উল আখবার।
- তিনি ১৮২৮ সালে ‘ব্রাহ্মসমাজ’  প্রতিষ্ঠা করেন।‘
- তিনি সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য কোম্পানির শাসকদের প্রাভাবিত করতে থাকেন।
- তার প্রচেষ্টায়  ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ করে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ শ্রেণি ( উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৪৯৯.
কাকে 'প্রাচ্যের হোমার' বলা হয়?
  1. ক) মহাকবি ফেরদৌসীকে
  2. খ) কবি কালিদাসকে
  3. গ) আর্যভট্টকে
  4. ঘ) অমরসিংহকে
ব্যাখ্যা
মহাকবি ফেরদৌসী
- ফেরদৌসী ছিলেন একজন পারস্যের কবি।
- তিনি লিখেছেন 'শাহনামা'।
- তাকে 'প্রাচ্যের হোমার' হিসাবে গণ্য করা হয়।
- ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুলতান ও বিজেতা হিসেবে সুলতান মাহমুদ ছিলেন প্রতিভাবান শাসক ও সুনিপুন সৈনিক।
- ঈশ্বরী প্রসাদ সুলতান মাহমুদের যুগকে 'কবিতার যুগ' বলে অভিহিত করেছেন।
- ঐ যুগের প্রসিদ্ধ কবি ছিলেন আবুল কাশেম ফেরদৌসী।
- প্রাচ্যের হোমার নামে খ্যাত এ কবি সুলতান মাহমুদের অনুরোধে জগদ্বিখ্যাত ‘শাহনামা' মহাকাব্য রচনা করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০০.
কোন নাবিক সর্বপ্রথম সমুদ্রপথে ইউরোপ থেকে ভারতে আসেন?
  1. ক্রিস্টোফার কলম্বাস
  2. ক্যাপ্টেন হকিন্স
  3. ভাস্কো দা গামা
  4. আল বুকার্ক
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ১৪৯৮ সালে সমুদ্রপথে সর্বপ্রথম ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষে পদার্পণ করেন। তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
তার সূত্র ধরেই পরবর্তীতে অন্যান্য ইউরোপীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য তথা সাম্রাজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে পাড়ি জমাতে শুরু করে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)