বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

মোট প্রশ্ন৬৩৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৬৩৫

১০১.
মুঘল সম্রাট বাবরের পুরো নাম কি?
  1. ক) তৈমুর লং
  2. খ) জহির উদ্দিন
  3. গ) জালাল উদ্দিন
  4. ঘ) শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা

জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর। ভারতীয় উপমহাদেশে পরাক্রমশালী মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি।
১৪৮৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি বর্তমান উজবেকিস্তানের আন্দিজানে জন্ম হয়েছিল মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবরের।
উৎসঃ বিবিসি

১০২.
গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন কে?
  1. সিকান্দার শাহ
  2. নুসরত শাহ
  3. মাহমুদ শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন হোসেন শাহ গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।

আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:

- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি 'বাংলার আকবর হিসেবে' পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব "বৈষ্ণব ধর্ম" প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

• শিল্প ও স্থাপত্যের নির্মাতা:
- সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শিল্প স্থাপত্যের একজন শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিলেন।
- গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ, মানিকগঞ্জ জেলার নাচাইল মসজিদ, গোমতি ফটক ছাড়া অগণিত মসজিদ, মাদ্রসা, সমাধি ও দূর্গ নির্মাণ করে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি ‘বাদশাহী সড়ক’ সহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য অনেক রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন।
- সুদীর্ঘ ২৬ বছর গৌরবময় রাজত্ব শেষে ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে হোসেন শাহ ইন্তেকাল করেন।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ নিঃসন্দেহে মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাসে একজন শ্রেষ্ঠ নরপতি ছিলেন। 

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) বাংলাপিডিয়া।

১০৩.
'লাল কেল্লা' কে নির্মাণ করেন?
  1. শাহ সুজা
  2. মীর জুমলা
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র শাহজাহান ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জাহাঙ্গীরের উত্তরাধিকারী হিসেবে ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন ।
- দাদা আকবরের মতো তিনিও তার সাম্রাজ্য প্রসারিত করতে আগ্রহী ছিলেন।
- ১৬৫৮ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পুত্র আওরঙ্গজেব তাকে বন্দী করেন এবং বন্দী অবস্থায় ১৬৬৬ সালে আগ্রা দূর্গে তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
- তার রাজত্বের সময়কালের মুঘল স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ ছিল।
- তিনি পৃথিবীর স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ সমাধিসৌধ 'আগ্রার তাজমহল' নির্মাণ করেন।
- তিনি কেবল তাজমহলই নয়, আগ্রায় মতি মসজিদ, দিল্লিতে লাল কেল্লা ও জামে মসজিদও নির্মাণ করেন; শাহজাহানাবাদ নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন।
- তিনি ইংরেজদের বঙ্গদেশে কুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১০৪.
টিপু সুলতান কোন অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন?
  1. ক) হায়দ্রাবাদ
  2. খ) মহীশূর
  3. গ) বিহার
  4. ঘ) ঝাড়খণ্ড
ব্যাখ্যা
- টিপু সুলতান ভারতের মহীশূর অঞ্চলের (বর্তমান কর্নাটক) শাসক ছিলেন।
- তাকে মহীশূরের বাঘ বলা হয়।
- তিনি ১৭৮২ সাল থেকে ১৭৯৯ সাল পর্যন্ত মহীশূরের শাসক ছিলেন।
- ১৭৯৯ সালে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি লর্ড ওয়েলেসলির নিকট পরাজিত ও নিহত হন।
(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস ও বিবিসি বাংলা)
১০৫.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে কে পরাজিত হন?
  1. ক) বৈরাম খাঁ
  2. খ) আহমদ শাহ আবদালি
  3. গ) মারাঠা বাহিনী
  4. ঘ) আফগান নেতা হিমু
ব্যাখ্যা
• পানি পথের যুদ্ধ:
- পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- দিল্লি হতে পানি পথের দূরত্ব- ৯০ কি.মি.
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। যথা:

• পানি পথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল-১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
- পক্ষ- বারব বনাম ইব্রাহিম লোদী
- ফলাফল- ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন্
- এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।
- এই যুদ্ধের ফলে ভারতে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং দিল্লি সালতানাতের পতন হয়।
• পানিপথের ‍দ্বিতীয় যুদ্ধ: 
 - সময়কাল-১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ 
- পক্ষ - আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল - হিমু পরাজিত ও নিহত হন।
• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল - ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল - মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৬.
ফরায়েজী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো কোথায়?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) ফরিদপুর
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল।
- ১৮৪০ সালে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেন।
- ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যুর পর সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
১০৭.
হোসেন শাহী রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে?
  1. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা: 
- হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ। 
- তিনি ছিলেন আরবের সৈয়দ বংশের লোক। 
- তিনি হাবশি সুলতান বরবক শাহের আমলে বাংলায় আসেন এবং চাকুরি গ্রহণ করেন। 
- সর্বশেষ হাবশি সুলতান মুজাফ্ফর শাহ তাঁকে উজির নিযুক্ত করেন।
- মুজাফ্ফর শাহের স্বৈর শাসনে দেশে বিদ্রোহ দেখা দেয়।
- গৌড়ের অনেক অধিবাসীকে তিনি নির্মমভাবে হত্যা করেন।
- দেশের এরূপ পরিস্থিতিতে হোসেন শাহ হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- তিনি আলাউদ্দিন হোসেন শাহ উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর নামানুসারেই তাঁর বংশের নাম হয় হোসেন শাহী বংশ।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৮.
কৈবর্ত বিদ্রোহ কোন আমলে সংঘঠিত হয়?
  1. ক) পাল
  2. খ) সেন
  3. গ) মোঘল
  4. ঘ) ইংরেজ
ব্যাখ্যা

রাজা দ্বিতীয় মহিপালের (১০৭৫-১০৮০) শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়। অনেকে শুধু জেলে সম্প্রদায়কে কৈবর্ত বললেও প্রকৃতপক্ষে জেলে, কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষকে সাধারণত কৈবর্ত বলা হতো।
পাল রাজাদের এক সামন্ত দিব্যর নেতৃত্বে কৈবর্তরা রাজ্যের বরেন্দ্রীয় অংশ দখল করে নেয়।
রাজা দ্বিতীয় মহীপাল কৈবর্তবাহিনীকে আক্রমন করতে দিয়ে নিজে নিহত হন।
উৎস - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।

১০৯.
বাংলায় তুর্কি শাসন প্রতিষ্ঠা পায় কত সালে?
  1. ১২২৫ সালে
  2. ১২২৬ সালে
  3. ১২২৭ সালে
  4. ১২২৮ সালে
ব্যাখ্যা
তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ সালে বাংলায় তুর্কি শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১০.
রানী চাঁদ সুলতানা কোন মুসলিম রাজ্যের রানী ছিলেন?
  1. ক) আহমদ নগর
  2. খ) বিজাপুর
  3. গ) গোলকুন্ডা
  4. ঘ) খান্দেশ 
ব্যাখ্যা
রানী চাঁদ সুলতানা আহমদ নগর মুসলিম রাজ্যের রানী ছিলেন।

• আহমদ নগর:

- সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে দাক্ষিণাত্যে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুন্ডা, বিদর এবং খান্দেশ এই পাঁচটি স্বাধীন মুসলিম রাজ্য ছিল। এদের মধ্যে আহমদনগর ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
- আকবর প্রথমে দূত পাঠিয়ে এসব রাজ্যের সুলতানদের মোগল আধিপত্য মেনে নেয়ার প্রস্তাব দেন।
কিন্তু একমাত্র খান্দেশের সুলতান সম্রাট আকবরের আনুগত্য স্বীকার করে। ফলে আকবর সমরাভিযানের প্রস্তুতি মনোনিবেশ নেন।
- ১৫৯৫ খ্রিস্টাব্দে মোগল বাহিনী আহমদনগর অভিযানে বের হয়।
- আহমদনগরের রাণী চাঁদ সুলতানা আকবরকে বেরার প্রদেশ দান করে তাঁর সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে চাঁদ সুলতানার মৃত্যুর পর আহমদনগর আকবরের সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১১.
কার পতনের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু হয়?
  1. ঈসা খাঁ
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  4. মুর্শিদ কুলী খান
ব্যাখ্যা

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা-এর পতনের মাধ্যমে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু হয়েছিল।

ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক। এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।
- অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১২.
চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. শাহ সুজা
  3. মীর জুমলা
  4. মীর মদন
ব্যাখ্যা
সুবেদার শায়েস্তা খান:

- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৩.
বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠাকারী কে ছিলেন?
  1. আজম শাহ
  2. শের শাহ
  3. ইসলাম শাহ
  4. মোবারক শাহ
ব্যাখ্যা
বাংলায় আফগান শাসন:
- ১৫৩৮ সালে শেরশাহ গৌড় জয় করে বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- আফগানরা ৩৮ বছর বাংলায় শাসন করে, এর মধ্যে মাত্র ৯ মাস মোগল সম্রাট হুমায়ুন গৌড় অধিকার করেন।
- শেরশাহ যুদ্ধে হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসনও অধিকার করেন।
- শেরশাহ ও তাঁর ছেলের সময়ে বাংলাদেশ দিল্লির একটি প্রদেশে পরিণত হয়।
- ১৫৫৬ সালে শেরশাহের ছেলে ইসলাম শাহের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায় এবং মোগল বিজয়ের আগে স্বাধীন থাকে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৪.
ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা ও ইসলামের অতীত গৌরবের কথা তুলে ধরে গ্রন্থ লিখেছেন-
  1. ক) নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. খ) এ.কে. ফজলুল হক
  3. গ) স্যার সলিমুল্লাহ
  4. ঘ) সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
বাংলার মুসলিম সমাজকে আলোর পথে টেনে তুলতে যাঁদের অবদান মূল্যবান বলে বিবেচিত হয় সৈয়দ আমীর আলী তাঁদেরই একজন। শুধুমাত্র পাশ্চাত্য শিক্ষাই নয়, মুসলমানদের রাজনৈতিক শিক্ষার গুরুত্বও তিনি অনুভব করেছেন এবং সে কারণে তিনি ‘সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তাঁর বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হচ্ছে-‘The Spirit of Islam’ ও ‘A Short History of Saracens’ । এতে ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা ও ইসলামের অতীত গৌরবের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
১১৫.
কত সালে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৫৪৮ সালে
  2. ১৫২৬ সালে
  3. ১৫৫৭ সালে
  4. ১৫৯১ সালে
ব্যাখ্যা
• জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন ১৫২৬ সালে।
- তারপর দীর্ঘ পনের বছর পর বাবরের পুত্র হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসন দখল করেন।
- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর মাত্র ১৩ বছর বয়সে জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবর নাম ধারণ করে দিল্লির মোগল সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবরের মৃত্যুর পর যুবরাজ সেলিম ‘নুরউদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- মুঘল সম্রাটদের মধ্যে প্রথম আত্মজীবনী লিখেছিলেন 'জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর'।
- মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর তার আত্মজীবনী লিখেছিলেন যার শিরোনাম ছিল তুজুক-ই-বাবরী।
- এতে তাঁর সংঘটিত যুদ্ধের বর্ণনা রয়েছে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও  BBC বাংলা।
১১৬.
'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে কাকে ভূষিত করা হয়?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
  3. গিয়াসউদ্দিন মহমুদ শাহ
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করলেও সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ।
- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভ করেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই- সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
বখতিয়ার খলজি কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. ইরান
  2. আফগানিস্তান
  3. মিশর
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি  বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৮.
চাঁদ রায় ও কেদার রায় বাংলার কোন অঞ্চলের জমিদার ছিলেন?
  1. ভাওয়াল
  2. বিক্রমপুর
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. ভুলুয়া
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগে ষোল শতকের মাঝামাঝি থেকে সতের শতকের মধ্য সময় পর্যন্ত পূর্ব বাংলার যেসব জমিদার মুঘলদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে সচেষ্ট ছিলেন তারা ‘বারোভূঁইয়া’ নামে পরিচিত।

বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনারগাঁও এর জমিদার ঈসা খান এবং তার পুত্র মুসা খান।
বারোভূঁইয়াদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেন:
- লক্ষণ মাণিক্য : ভুলুয়া (নোয়াখালী)
- চাঁদ রায় ও কেদার রায় : বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ)
- বাহাদুর গাজি : ভাওয়াল
- সোনাগাজি : সরাইল (উত্তর ত্রিপুরা)
- ওসমান খান : বোকাইনগর (সিলেট)
- বীর হামির বিষ্ণুপুর (বাকুড়া)
- পরমানন্দ রায় : চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল)
- বিনোদ রায়/মধু রায় : চান্দপ্রতাপ (মানিকগঞ্জ)
- মুকুন্দরা/সত্রজিৎ : ভূষণা (ফরিদপুর)
- রাজা কন্দর্পনারায়ণ/রামচন্দ্র : বরিশাল জেলার অংশবিশেষ।

১৬১১ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান বারোভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলা মুঘল অধিকারে আনেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১৯.
সিন্ধু বিজেতা প্রথম মুসলিম সেনাপতি ছিলেন-
  1. মুহাম্মদ বিন কাসিম
  2. মাহমুদ গজনভী
  3. আলাউদ্দিন খিলজি
  4. মুহাম্মদ ঘুরি
ব্যাখ্যা
সিন্ধু বিজয়:
- আরবদের সিন্ধু বিজয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের আগমনের সূচনালগ্ন ধরা হয়।
- এ ঐতিহাসিক ঘটনার প্রধান কুশীলব ছিলেন আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সিন্ধুর তৎকালীন রাজা দাহির।
- প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি ছিলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম।
- খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সময় মুসলমানগণ সিন্ধু অভিযান করে।

উল্লেখ্য
- খলিফার অনুমতি নিয়ে ইরাকের গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এই অভিযান পাঠান।
- সিন্ধু বিজয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের বিস্তার সাধন এবং অর্থ সম্পদ লাভ।
- মুহম্মদ বিন কাসিম এক শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে সিন্ধুদেশ আক্রমণ করেন।
- তিনি দাইবুল, নীরুন, সিওয়ান ও সিসাম দখল করে আরও উত্তরে অগ্রসর হন।
- সিন্ধুরাজ দাহির রাওয়ার দুর্গ রক্ষার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু তিনি যুদ্ধে নিহত হন।
- রাওয়ার দখলের পর মুহম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজধানী আলোর জয় করেন।
- এরপর মুলতানও মুসলমানদের দখলে আসে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি,  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২০.
বাগেরহাটের 'মিঠাপুকুর' কে খনন করেন?
  1. ক) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. খ) সুলতান নুসরত শাহ
  3. গ) সম্রাট হুমায়ুন
  4. ঘ) সুজাউদ্দিন
ব্যাখ্যা
বঙ্গেশ্বর নসরৎ শাহের খলিফাতাবাদ টাকশাল সম্ভবতঃ বাগেরহাট শহরের মিঠাপুকুরের নিকটে অবস্থিত ছিল। মিঠাপুকুর পাড়ে সে আমলের একটি মসজিদ আছে। ধারণা করা হয় যে বাগেরহাটের মিঠাপুকুর খনন করেন নুসরৎ শাহ।
১২১.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. ক) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
  2. খ) বঙ্গভঙ্গ রদ
  3. গ) সিমলা ডেপুটেশন
  4. ঘ) সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ
ব্যাখ্যা
১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর ভারতীয় মুসলমানদের ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগা খানের নেতৃত্বে সিমলায় বড়লাট লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাত করেন।
তারা মুসলমানদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া বড়লাটের নিকট পেশ করে। এটিই সিমলা ডেপুটেশন নামে পরিচিত।
অন্যদিকে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করা হয় ১৯১১ সালে।
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ১৯১৯ সালে।
সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ঘোষিত হয় ১৯৩২ সালে।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১২২.
ষাট গম্বুজ মসজিদ কোন শতাব্দীতে নির্মিত হয়?
  1. ১৩শ
  2. ১৪শ
  3. ১৫শ
  4. ১৬শ
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করা হয়। সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়। তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট।
- মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও এর গম্বুজের সংখ্যা আসলে ৭৭টি। মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই।

⇒ এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত। বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।

উল্লেখ্য, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য:
- বাংলাদেশের তিনটি স্থান ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে:
১. নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার (১৯৮৫ সালে),
২. বাগেরহাট জেলার ষাটগম্বুজ মসজিদ (১৯৮৫ সালে),
৩. সুন্দরবন (১৯৯৭ সালে)।

উল্লেখ্য,
- সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য,
- পাহাড়পুরের সোমপুর বৌদ্ধবিহার ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২২তম বিশ্ব ঐতিহ্য,
- ষাটগম্বুজ মসজিদ ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২১তম বিশ্ব ঐতিহ্য।

উৎস: i) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
ii)  প্রথম আলো।

১২৩.
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী কোন দেশের সেনাপতি ছিলেন?
  1. আরব সেনাপতি
  2. তুর্কি সেনাপতি
  3. ভারতীয় সেনাপতি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি দ্বাদশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে আসেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
-  বাংলা জয় করেন ১৩ শতকে।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলার ইতিহাস; সুলতানি আমল: আব্দুল করিম।
১২৪.
কোন সম্রাটের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. সম্রাট হুমায়ূন
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট বাবর
ব্যাখ্যা

- প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান।
- বারোভূঁইয়াদের দমন করার জন্য সম্রাট আকবর বিশেষ মনোযোগ দেন।
- এজন্য তিনি ১৫৮৩ সালে শাহবাজ খান, ১৫৮৫ সালে সাদিক খান, ১৫৮৬ সালে উজির খান ও ১৫৯৪ সালে রাজা মানসিংহকে বাংলার সুবাদার করে পাঠান।
- তাঁরা ঈসা খান ও অন্যান্য জমিদারের সাথে বহুবার যুদ্ধ করেন।
- কিন্তু বারোভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খানকে সম্পূর্ণ পরাজিত করা সম্ভব হয়নি।
- তিনি সম্রাট আকবরের আনুগত্য স্বীকারের বিনিময়ে নিজের আধিপত্য বজায় রাখেন।
-১৫৯৯ সালে ঈসা খানের মৃত্যু হলে বারোভূঁইয়াদের নেতা হন তাঁর পুত্র মুসা খান।
- এদিকে ১৬০১ সালে মানসিংহকে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলায় পাঠানো হয়। এবার মানসিংহ কিছুটা সফল হন।
- ১৬০৩ সালে মুসা খান এক নৌযুদ্ধে মানসিংহের হাতে পরাজিত হন।
- কিন্তু চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করার আগে সম্রাট আকবরের অসুস্থতার খবর আসে।
- সম্রাটের ডাকে মানসিংহ আগ্রায় ফিরে যান।
- সম্রাট আকবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সেলিম 'জাহাঙ্গীর' নাম ধারণ করে ১৬০৫ সালে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি মানসিংহকে আবার বাংলায় প্রেরণ করেন।
- এক বছর পর ১৬০৬ সালে কুতুব উদ্দিন কোকাকে বাংলার প্রাদেশিক শাসক বা সুবাদার নিয়োগ করা হয়।
- কুতুব উদ্দিন শের আফকুনের হাতে প্রাণ হারান।
- তাঁর পরবর্তী সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খান এক বছর পর মারা যান।
- এর পর ইসলাম খান ১৬০৮ সালে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- বারোভূঁইয়াদের মোকাবিলা করার জন্য ইসলাম খান শক্তিশালী নৌবহর গড়ে তোলেন।
- মুসা খানের সাথে প্রথম সংঘর্ষ বাধে ১৬০৯ সালে করতোয়া নদীর পূর্বতীরে যাত্রাপুরে।
- সেখানে মুসা খানের দুর্গ ছিল। যুদ্ধে মুসা খান ও অন্যান্য জমিদার শেষ পর্যন্ত পিছু হটেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী।
- সম্রাটের নাম অনুসারে ঢাকার নাম রাখা হয় 'জাহাঙ্গীরনগর'। 
- বাংলার বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালের কৃতিত্বপূর্ণ কাজ।
- আর এ কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদার ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ সালে)।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১২৫.
ভারতে মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন -
  1. ক) মুহম্মদ ঘোরী
  2. খ) মুহম্মদ-বিন-কাসিম
  3. গ) সুলতান মাহমুদ
  4. ঘ) বখতিয়ার খলজী
ব্যাখ্যা
ভারতে মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মুহম্মদ ঘোরী। মুহম্মদ ঘোরী ভারতে অনেকগুলো অভিযান পরিচালনা করেন। মুলতান, সিন্ধু ও পাঞ্জাব জয়ের পর ভারতের হিন্দু রাজশক্তিগুলোর সাথে তাঁর যুদ্ধ হয়। তরাইনের প্রথম যুদ্ধে তিনি পৃথ্বীরাজের নিকট পরাজিত হন। কিন্তু ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে তিনি জয়লাভ করেন। ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ভাইয়ের মৃত্যুর পর মুহম্মদ ঘোরী ঘোরের সুলতান হন। ১২০৬ খ্রি: মুহম্মদ ঘোরী নিহত হন। [সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি)]
১২৬.
Question (43 to 57) : Choose the correct answer.
৪৩. The Sonakanda fort situated in the district of-
  1. Manshigonj
  2. Hajigonj
  3. Narayangonj
  4. Kushtia
ব্যাখ্যা
সোনাকান্দা দুর্গ:
- সোনাকান্দা দুর্গ  শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে অবস্থিত একটি মুগল জলদুর্গ।
- হাজীগঞ্জ দুর্গের প্রায় বিপরীত দিকে এ দুর্গের অবস্থান।
- নদীপথে ঢাকার সাথে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নদীপথগুলির নিরাপত্তা বিধানের জন্য মুগলগণ কতকগুলি জলদুর্গ নির্মাণ করেছিলেন, সোনাকান্দা দুর্গ তার অন্যতম।
- বন্দর উপজেলা সদর হতে ১.৫ কিঃ মিঃ দূরত্বে অবস্থিত এ দূর্গটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তির একটি নিদর্শণ।
- আনুমানিক ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মীর জুমলা ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীতে জলদস্যুদের নিধন করার জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরবর্তী সোনাকান্দা এলাকায় এ দূর্গটি স্থাপন করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২৭.
কৌলীন্য প্রথা প্রবর্তন করেন কে?
  1. হেমন্ত সেন
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. বল্লাল সেন
  4. বিজয় সেন
ব্যাখ্যা
- বল্লাল সেন ছিলেন বাংলার সেন বংশের তৃতীয় শাসক। তিনি ১১৬০ সাল থেকে ১১৭৮ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
- বল্লাল সেন তন্ত্র হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ফলে তার রাজত্বকালে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রসার ঘটে।
- হিন্দু সমাজকে নতুন করে গঠন করার উদ্দেশ্যে তিনি কৌলীন্য প্রথা প্রবর্তন করেন। কৌলীন্য প্রথার ফলে ব্রাহ্মণরা হিন্দু সমাজে অধিকতর সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী হন। তবে কিছু সূত্রমতে কৌলীন্য প্রথার উদ্ভব ঘটে পাল আমলে।
- বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর তার রচিত দুটো গ্রন্থ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১২৮.
কোন মুঘল সম্রাটকে পরাজিত করে শের খান ‘শের শাহ’ উপাধি ধারন করেন?
  1. ক) মুঘল সম্রাট বাবর
  2. খ) মুঘল সম্রাট আকবর
  3. গ) মুঘল সম্রাট শাহজাহান
  4. ঘ) মুঘল সম্রাট হুমায়ন
ব্যাখ্যা

- শেরশাহ বিহারের শাসনকর্তা বাহারাম খানের অধীনে কর্মরত থাকাকালীন নিজগুণে তাঁর আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। এ সময় একটি বাঘ হত্যা করে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিলে ফরিদ ‘শের খান’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- পরবর্তীকালে চৌসার যুদ্ধে সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে ‘শেরশাহ’ উপাধি ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে বসেন তিনি ।
- ১৫৪১ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহ বাংলা আক্রমণ করে বাংলার সুলতান খিজির খানকে পরাজিত ও বিতাড়িত করেন।
- বাংলায় যাতে বিদ্রোহ সংঘটিত হতে না পারে সে জন্য তিনি বাংলাকে ১৯টি সরকারে বিভক্ত করে প্রত্যেকটির শাসনভার একজন আমিনের উপর ন্যস্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনী ও বাংলাপিডিয়া।

১২৯.
বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা ঘটে কবে?
  1. ১৩২৮ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা ঘটে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে।

সুলতানি আমল:

- ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হলে বাংলার ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- এরপর থেকে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না, বরং তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকেই সুযোগ পেলেই স্বাধীনতার জন্য দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
- এজন্য বাংলাকে বুলঘাকপুর বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।

উল্লেখ্য,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন।
- ১৩৩৮ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দু'শ বছর ধরে বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতা ভোগ করেছিল।
- বাংলার এই স্বাধীন সুলতানি যুগে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ, ইলিয়াস শাহী বংশ, রাজা গণেশের বংশ, হাবশি সুলতান এবং পরবর্তীতে হোসেন শাহী বংশের শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন।
- এ সময় বাংলার সুলতানগণ বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাসংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধন, জনকল্যাণকামী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন।
- তাই দু'শ বছরের এ স্বাধীন যুগটিকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

এছাড়াও,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওকে স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী করেন।
- জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ তার রাজধানী গৌড়ে স্থানান্তরিত করেন।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ সিংহাসনে আরোহণ করে রাজধানী গৌড় থেকে একডালাতে স্থানান্তরিত করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩০.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধে কে পরাজিত হন?
  1. বিক্রমাদিত্য
  2. সম্রাট বাবর
  3. ইব্রাহিম লোদী
  4. সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। 
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। 
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন। 
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। 
- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।

উল্লেখ্য,
- পানিপথের ২য় যুদ্ধ: ১৫৫৬  খ্রিস্টাব্দ।
- পানিপথের ৩য় যুদ্ধ: ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩১.
মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি কে?
  1. ক) সৈয়দ সুলতান
  2. খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. গ) দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. ঘ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের মধে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শাহ মুহাম্মদ সগীর।
- তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৪-এর শেষ থেকে ১৫ শতক। 
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য 'ইউসুফ জোলেখা'।
- ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- পারসি কবি আব্দুর রহমান জামি রচিত ইউসুফ জোলেখা থেকে তিনি এ কাহিনী গ্রহণ করেছেন। 

অন্যদিকে, 
• সৈয়দ সুলতানের জীবনকাল আনু্মানিক ১৫৫০ থেকে ১৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দ। 
• দৌলত উজির বাহরাম খান ষােড়শ শতাব্দীতে চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ বা জাফরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
• শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ ১৮শ শতকের মধ্যভাগে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩২.
বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. বখতিয়ার খলজি
  3. মুহাম্মদ বিন কাসিম
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

- বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলায় তুর্কি শাসনের প্রথম পর্যায় ধরা হয়।
- এ সময়ের শাসকরা পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না।
- কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহবোদ্ধা খলজি মালিক, আবার কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
- সবাই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হিসেবে শাসন করতেন।
- পরবর্তীকালে অনেক শাসক দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছিলেন।
- কিন্তু তাঁদের বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি; দিল্লির আক্রমণে ব্যর্থ হয়।
- এ যুগ ছিল বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ।
- ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলার নাম দেন ‘বুলগাকপুর’, অর্থ ‘বিদ্রোহের নগরী’।

- বখতিয়ার খলজির মৃত্যুর পর তাঁর সহযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
- তাঁর তিনজন সহযোদ্ধা খলজি মালিক ছিলেন—মুহম্মদ শিরান খলজি, আলি মর্দান খলজি, হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি।
- অনেকের ধারণা ছিল আলি মর্দান খলজি বখতিয়ার খলজির হত্যাকারী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৩৩.
বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমনের সময় লক্ষ্মণ সেন কোথায় অবস্থান করছিলেন?
  1. কনৌজ
  2. বিক্রমপুর
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. নদীয়া
ব্যাখ্যা
বখতিয়ার খিলজির বাংলা আক্রমণ:
- তের শতকের প্রথম দিকে (১২০৪ সালে) বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন।
- দুর্বল লক্ষ্মণ সেন কোনো প্রতিরোধ না করে নদীপথে দক্ষিণপূর্ব বাংলায় চলে যান।
- এর ফলে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম বাংলা বখতিয়ার অধিকার করেন এবং লক্ষ্মণাবতীকে (গৌড়) কেন্দ্র করে বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল বলে ধরা হলেও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় লক্ষ্মণ সেন আরও কয়েক বছর রাজত্ব করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৪.
ইবনে বতুতা রচিত কোন গ্রন্থে চতুর্দশ শতকে বাংলার আর্থ সামাজিক অবস্থার চিত্র পাওয়া যায়?
  1. ক) কিতাবুল রেহালা
  2. খ) আন-নহর উল-আয্রাক
  3. গ) ইবনে জুযাই
  4. ঘ) আল রিহবাত
ব্যাখ্যা
- ইবনে বতুতা মরক্কোর পর্যটক ছিলেন।
- তিনি ১৩৩৪ সালে ভারতে ও ১৩৪৬ সালে বাংলায় ভ্রমণ করেন।
- তাঁর লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ কিতাবুল রেহালা বা সফরনামা।
- তাঁর ‘কিতাবুল রেহালা’ নামক গ্রন্থে সমসাময়িক বাংলায় আর্থ-সামাজিক অবস্থার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
-  ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
- তিনি বাংলার নামকরণ করেন ‘দোযখ-ই-পুর নিয়ামত’ বা প্রাচুর্যপূর্ণ নরক।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
১৩৫.
পাল শাসন আমলের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ‘জগদ্দল বিহার’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) বগুড়া
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) নওগাঁ
  4. ঘ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা

পাল শাসনামলের ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি 'জগদ্দল বিহার' রাজা রামপাল কর্তৃক নির্মিত।
এটি নওগাঁ জেলায় অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- শালবন বিহার (সর্বপ্রাচীন) কুমিল্লার ময়নামতিতে অবস্থিত।
- বাসু বিহার অবস্থিত বগুড়ার শিবগঞ্জে।
- উয়ারী বটেশ্বর অবস্থিত নরসিংদীতে।

সূত্রঃ http://www.archaeology.gov.bd

১৩৬.
শায়েস্তা খানকে বাংলার সুবেদার হিসেবে নিয়োগ দেন কে?
  1. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

শায়েস্তা খান:
- ইরানি বংশোদ্ভূত শায়েস্তা খান মোগল আমলে বাংলার একজন বিখ্যাত সুবাদার ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু তালিব। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে শায়েস্তা খান নাম দেন।
- শায়েস্তা খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা ছিলেন।
- ১৬৬৩ সালে বাংলার সুবাদার মীর জুমলার মৃত্যু হলে ১৬৬৪ সালে আওরঙ্গজেব তাঁকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।

⇒ শায়েস্তা খানকে বাংলার সুবেদার হিসেবে নিয়োগ দেন সম্রাট আওরঙ্গজেব।
- সিংহাসনে আরোহণের পর আওরঙ্গজেব তাঁকে উচ্চতর পদমর্যাদা দান করেন এবং উত্তরাধিকার যুদ্ধে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ আমীর-উল-উমারা (আমীরদের বা অভিজাতদের প্রধান) উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- শায়েস্তা খান ৬৩ বছর বয়সে প্রথম বাংলায় আসেন।
- দুই দফায় ২২ বছর তিনি বাংলা শাসন করেন। প্রথমে ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ সাল এবং দ্বিতীয় বার ১৬৮০ থেকে ১৬৮৮ সাল পর্যন্ত যা ছিল মুঘল আমলে বাংলার দীর্ঘতম শাসনকাল। 
- তাঁর ছয়জন দক্ষ পুত্র শাসনকাজে তাঁকে সহায়তা করেছেন। 

⇒ শায়েস্তা খানের বিজয়াভিযানের মধ্যে চট্টগ্রাম বিজয় উল্লেখযোগ্য।
- ১৪৫৯ সালে আরকান রাজ চট্টগ্রামকে বাংলার সুলতানদের নিকট থেকে দখল করে নিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম পুনর্দখলের উদ্দেশ্য শায়েস্তা খান সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। তাঁর সেনাবাহিনী সন্দ্বীপ দখল করে চট্টগ্রামের দিকে মনোনিবেশ করেন। এ সময় চট্টগ্রামের মগ-রাজা ও স্থানীয় পর্তুগিজদের মধ্যে বিবাদ বাঁধে। চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গীরা তখন নোয়াখালিতে এসে আশ্রয় নেয়। শায়েস্তা খান ফিরিঙ্গী নেতাকে নিজ দলভুক্ত করেন। ১৬৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফিরিঙ্গীদের ৪০টি রণতরী সহ ইবনে হুসাইনের নেতৃত্বে বিশাল নৌবাহিনীসহ চট্টগ্রামে আক্রমণ করে। সম্মিলিত বাহিনীর মুকাবিলায় আরাকান বাহিনী পরাজিত হয়।

উল্লেখ্য,
- তাঁর শাসনামলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।
- তিনি লালবাগ কেল্লা, শায়েস্তা খান মসজিদ, ছোট কাটরা, সাত গম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন।
- ১৬৯৪ সালে তিনি ৯৪ বছর বয়সে মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৭.
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে কোথায় নির্বাসিত করা হয়?
  1. ক) রেঙ্গুন (বার্মা)
  2. খ) শ্রীলংকা
  3. গ) মালদ্বীপ
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করা হয়।

• দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ:

- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।

- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 


- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৮.
লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করেন কে?
  1. সম্রাট আজম শাহ
  2. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  3. নবাব শায়েস্তা
  4. সম্রাট শাহ জাহান
ব্যাখ্যা

• লালবাগ কেল্লার ইতিহাসঃ
- লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৭৮ সালে। 
- তৎকালীন মুঘল সম্রাট আজম শাহ এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। 
- যদিও আজম শাহ খুব কম সময়ের জন্যেই মুঘল সম্রাট হিসেবে ছিলেন। 
- তবুও তার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার এই অসাধারণ কাজটি শুরু করেন।
- উল্লেখ্য আজম শাহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর পুত্র আর সম্রাট শাহ জাহানের নাতি, 
- এই দুর্গ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছরের মাথায় তার বাবার ডাকে তাকে দিল্লিতে চলে যেতে হয় ।
- সম্রাট আজম শাহ চলে যাওয়ার পর দুর্গ নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। 
- তখন এই দুর্গ নির্মাণের কাজ আদৌ সম্পূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।
- তৎকালীন নবাব শায়েস্তা খাঁ পুনরায় লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন কাজ থেমে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরে। 
- পুরো উদ্যমে আবার কাজ চলতে থাকে দুর্গ নির্মাণের।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৩৯.
আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলা সাহিত্যে কী কারণে খ্যাতিমান?
  1. ক) শাসনকর্তা হিসেবে
  2. খ) বাংলা ভাষার স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য
  3. গ) অনুবাদের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য
  4. ঘ) সালতানাৎ প্রতিষ্ঠার জন্য
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহের শাসনাধীনে দেশে নিরবচ্ছিন্ন শান্তি বিরাজ করছিল। সমকালীন কবি বিজয়গুপ্ত তাঁকে নৃপতিতিলক, জগৎভূষণ ও কৃষ্ণ-অবতার বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অধীনস্থ প্রাদেশিক শাসনকর্তা পরাগল খান ও ছুটি খান মহাভারতের বাংলা অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর এবং শ্রীকর নন্দীর পৃষ্ঠপোষকতা করেন। বৈষ্ণব কাব্যসমূহে হোসেন শাহের উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, শ্রী চৈতন্যএর প্রতি তিনি খুবই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং তাঁকে তিনি ঈশ্বরের অবতার বলে মনে করতেন। শ্রী চৈতন্যের ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে হোসেন শাহ সার্বিক সুবিধা প্রদান করেছেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৪০.
ঢাকার নাম জাহাঙ্গীর নগর রাখেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. সুবেদার ইসলাম খান
  3. ইব্রাহীম খান
  4. মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
জাহাঙ্গীর:

- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে ইসলাম খান বারো ভূঁইয়াদের দমন করে সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৬১০ সালে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকা শহরের গোড়পত্তন করেন।
- তিনি ঢাকার ‘ধোলাই খাল’ খনন করেন এবং ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীর নগর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী।
১৪১.
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কোন শহর থেকে বাংলায় আসেন?
  1. ক) ইস্তাম্বুল
  2. খ) কাবুল
  3. গ) বাগদাদ
  4. ঘ) মক্কা
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:

- তিনি মক্কা থেকে বাংলাদেশে আসেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি জনপ্রিয় সুলতান ছিলেন এবং তাঁর খ্যাতি বাংলাদেশের জনস্মৃতিতে বহুকাল ছিল। 
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- মুজাফফর শাহের কুশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে প্রধান প্রধান অমাত্য ও সৈন্যরা তাঁকে হত্যা করে সবাই মিলিত হয়ে হোসেন শাহকে সুলতান মনোনীত করেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ ‘আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের ‘গোপাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
-  তিনি হাবশিদের প্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য তাদের পরিবর্তে সৈয়দ, আফগান, মোঙ্গল ও হিন্দুদেরকে উচ্চ রাজ পদে নিযুক্ত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন। 
- তিনি রাজধানী দিনাজপুর জেলার একডালায় নিয়ে আসেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ সমগ্র উত্তর বিহার এবং দক্ষিণ বিহারের কিছু অংশ দখল করেছিলেন। তিনি ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে কামতা রাজ্য আক্রমণ করে দখল করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪২.
দিল্লী থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন কে?
  1. ক) সম্রাট আকবর
  2. খ) সুলতান ইলিয়াস শাহ
  3. গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) মুহম্মদ বিন তুগলক
ব্যাখ্যা
রাজ্য শাসনের প্রত্যক্ষ অসুবিধা দূর করার জন্য মুহম্মদ বিন তুগলক ১৩২৬ - ২৭ খ্রিষ্টাব্দে সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজধানী দিল্লী থেকে দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। তবে নানাবিধ কারনে তিনি আবার রাজধানী দেবগিরি থেকে দিল্লীতে আনেন।
মুহম্মদ বিন তুগলক সোনা ও রূপার মুদ্রার পরিবর্তে প্রতীকী তামার মুদ্রা প্রচলন করে মুদ্রামান নির্ধারণ করে দেন। তবে এ পরিকল্পনাও পরিত্যাগ করতে হয় । কেননা তাম্র মুদ্রা জাল হতে শুরু করে।
উৎস - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১৪৩.
খিলাফত আন্দোলনের যুগপৎ কোন আন্দোলনটি সংঘটিত হয়?
  1. ক) স্বদেশী আন্দোলন
  2. খ) অসহযোগ আন্দোলন
  3. গ) ভারত ছাড় আন্দোলন
  4. ঘ) আলীগড় আন্দোলন
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খেলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ খেলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
একই সময়ে চেমসফোর্ড-মন্টেগু সংস্কার আইন, রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড প্রভৃতি ইস্যুতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন পরিচালিত হয়।
এ দুটি আন্দোলন তখন সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের খেলাফত বিলুপ্ত করলে খেলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৪৪.
ইলিয়াস শাহ কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. জর্ডান
  2. ইরাক
  3. ইরান
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন। 
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন। 
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে। 
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৫.
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে বাংলায় প্রথম আসেন-
  1. ক) ইংরেজরা
  2. খ) ওলন্দাজরা
  3. গ) ফরাসিরা
  4. ঘ) পর্তুগিজরা
ব্যাখ্যা
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পনেরো শতকের শুরু থেকেই তারা বাণিজ্যের জন্য দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা শুরু করে।
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ভাস্কো ডা গামার কালিকটে পৌঁছার কয়েক দশক পরে বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন ঘটে।
- পনেরো শতকের শেষ দিক হতেই এশিয়া থেকে মসলা আহরণের উদ্দেশ্যে ভেনিস ও আরব বণিকদের এড়িয়ে বিকল্প পথ অনুসরণের ফলেই এদেশে পর্তুগিজদের অনুপ্রবেশ ঘটে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১৪৬.
বাংলায় বংশানুক্রমিক শাসনের সূচনা হয়-
  1. ক) পাল বংশের মাধ্যমে
  2. খ) সেন বংশের মাধ্যমে
  3. গ) গুপ্ত বংশের মাধ্যমে
  4. ঘ) মৌর্য বংশের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
পাল বংশের মাধ্যমে বাংলায় বংশানুক্রমিক শাসনের সূত্রপাত হয়। গোপাল প্রতিষ্ঠিত এ বংশের শাসন চলে নানা ধরনের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে আঠারো পুরুষ ধরে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১৪৭.
কবি বিজয়গুপ্ত আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে কোন উপাধি প্রদান করেন?
  1. নৃপতিতিলক
  2. জগৎভূষণ
  3. কৃষ্ণ-অবতার
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এর শাসনামলে বাংলা: 
- হোসেন শাহ (১৪৯৪-১৫১৯) বাংলার হোসেনশাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি নেতৃস্থানীয় আমীরদের দ্বারা সুলতান নির্বাচিত হন।
- তিনি 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহের শাসনাধীনে দেশে নিরবচ্ছিন্ন শান্তি বিরাজ করছিল।
- সমকালীন কবি বিজয়গুপ্ত তাঁকে নৃপতিতিলক, জগৎভূষণ ও কৃষ্ণ-অবতার বলে উল্লেখ করেছেন।
- হিন্দুদের প্রতি তিনি সহনশীল ও উদারনীতি পোষণ করতেন।
- হিন্দুরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- রূপ গোস্বামী ছিলেন সাকার মালিক, সনাতন গোস্বামী ছিলেন দবির-ই-খাস, জগাই ও মাধাই ছিলেন নবদ্বীপের কোতোয়াল, গোপীনাথ বসু ছিলেন তাঁর মন্ত্রী, মুকুন্দদাস ব্যক্তিগত চিকিৎসক, কেশব খান ছত্রী ছিলেন তাঁর দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান এবং অনুপ ছিলেন টাকশালের দায়িত্বে নিয়োজিত।
- তাঁর অধীনস্থ প্রাদেশিক শাসনকর্তা পরাগল খান ও ছুটি খান মহাভারতের বাংলা অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর এবং শ্রীকর নন্দীর পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- বৈষ্ণব কাব্যসমূহে হোসেন শাহের উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।
- এতে বলা হয়েছে যে, শ্রী চৈতন্যএর প্রতি তিনি খুবই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং তাঁকে তিনি ঈশ্বরের অবতার বলে মনে করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪৮.
বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন -
  1. নাসির উদ্দিন মাহমুদ
  2. ফকরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. সুলতান সিকান্দার শাহ
  4. নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ
ব্যাখ্যা
তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
নিম্নের কোন মসজিদটি সুলতানি আমলের নিদর্শন নয়?
  1. ছোট সোনা মসজিদ
  2. সাত গম্বুজ মসজিদ
  3. কুসুম্বা মসজিদ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাত গম্বুজ মসজিদ সুলতানি আমলের নিদর্শন নয়। এটি মুঘল আমলের নিদর্শন। 

• ছোট সোনা মসজিদ:

- ছোট সোনা মসজিদ 'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন' বলে আখ্যায়িত।
- মধ্যযুগের সুলতানি আমলের গৌড়নগরীর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ।
- মসজিদটিকে বলা হতো ‘গৌড়ের রত্ন’।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রধানতম নিদর্শন হচ্ছে ছোট সোনামসজিদ।
- মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) নির্মিত হয় সোনামসজিদ।

কুসুম্বা মসজিদ:
- নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান।
- মসজিদটি ধরে রেখেছে সুলতানি আমলের অনন্য নিদর্শন।
- এর মিহরাবের ওপর সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহর নাম লিপিবদ্ধ করা।
- ধারণা করা হয়, তাঁর শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত।

অন্যদিকে,
• সাত গম্বুজ মসজিদ:
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত।
- এটি মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ।
- এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাত গম্বুজ মসজিদ'।
- এর নির্মাতা মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান।
- ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এটি নির্মাণ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৫০.
মুঘল সম্রাট আকবরের সময়ের স্থাপত্য কোনটি?
  1. দিওয়ান-ই-আম
  2. দীন-পানাহ ভবন
  3. বুলন্দ দরওয়াজা
  4. বাদশাহী মসজিদ
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত।

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫১.
কোন আমলে বাংলা গজল ও সুফী সাহিত্য সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ইলিয়াস শাহী
  2. খ) হোসেন শাহী
  3. গ) মোগল
  4. ঘ) সুলতানি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরঃ মোগল আমলে/যুগে।

ব্যাখ্যাঃ মোগল যুগে শাসকবর্গের ভাষা ছিল ফারসি। তাছাড়া সরকারি কাজে ফারসি ভাষা চালু করার ফলে বাংলায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়। সরকারি চাকরি লাভের আশায় হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকেরা ফারসি ভাষা শিখতেন। এসব ফারসি ভাষা জানা কর্মচারীদের 'মুন্সী' বলা হতো।
নবাব সুবাহদার ও মুসলিম অভিজাত শ্রেণী ফারসি ভাষা উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। ফারসি একটি সমৃদ্ধ ভাষা। বাংলা সাহিত্যে এ ভাষার প্রভাব বেশ করা যায়। ফারসির প্রভাবে বাংলা ভাষার ঐশ্বর্য বৃদ্ধি পায়।
ফারসি সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও লেখার অনুকরণে বাংলা সাহিত্য উজ্জ্বল হয়ে উঠে। ক্রমে বাংলা কবিতায় ফারসি শব্দের ব্যবহার বাড়তে থাকে। ফারসির অনুকরণে বাংলায় গজল ও সূফী সাহিত্যের সৃষ্টি হয়।

হিন্দু কবিদের রচনায় সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাব সুস্পষ্ট হলেও তারাও ফারসি সাহিত্যের প্রভাব এড়াতে পারতেন না। বৈষ্ণব পদাবলীতে ফারসি সাহিত্যের প্রভাব লক্ষণীয়। মোগল যুগে বাংলায় বাউল গানের সৃষ্টি হয়। এসময় কবিগান, মর্সিয়া গানও রচিত হয়।

উৎসঃ এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [Click here to get pdf file]

বিশেষ নোটঃ বিভিন্ন গাইড বইয়ে এই প্রশ্নের উত্তর ''হোসেন শাহী'' আমল দেওয়া আছে। কিন্তু এর পক্ষে কোন রেফারেন্স পাওয়া যায়নি।

১৫২.
দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা-
  1. ক) কুতুবউদ্দিন আইবক
  2. খ) মুহাম্মদ ঘোরী
  3. গ) শামসুদ্দীন ইলতুৎমিশ
  4. ঘ) সুলতানা রাজিয়া
ব্যাখ্যা
দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ইলতুৎমিশ। 

- ইলতুৎমিশ (১২১০-১২৩৬) দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত শামসুদ্দীন ইলতুৎমিশ তুর্কিস্তানের ইলবারি গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- জনশ্রুতি আছে যে, ইলতুৎমিশের বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা ও সুদর্শন চেহারা তাঁর ভাইদের মনে ঈর্ষার উদ্রেক করে এবং তারা তাঁকে বাল্যকালে ক্রীতদাসরূপে বিক্রি করে দেয়।
- দিল্লির শাসনকর্তা কুতুবউদ্দীন তার নৈপূণ্যে আকৃষ্ট হয়ে তাকে উচ্চমূল্যে ক্রয় করেন।
- ইলতুৎমিশের পদমর্যাদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
- তিনি দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দীনের অধীনে বদায়ুনের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন এবং তার সঙ্গে সুলতানের এক কন্যার বিবাহ দেওয়া হয়।
- ইলতুৎমিশ ১২১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
১৫৩.
সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন - প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ক) নওয়াব আবদুল লতিফ
  2. খ) স্যার সৈয়দ আহমদ
  3. গ) সৈয়দ আমির আলি
  4. ঘ) নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
১৮৭৭ সালে সৈয়দ আমির আলি কলকাতায় সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯০৬ সালে মুসলিমলীগ প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশনই ছিলো মুসলানদের একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
সৈয়দ আমির আলিই প্রথম মুসলমানদের জন্যে পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি আজীবন সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ছিলেন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১৫৪.
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের মধ্যে প্রথম দুর্গ স্থাপন করেন -
  1. ফরাসীরা
  2. দিনেমাররা
  3. ওলন্দাজরা
  4. পর্তুগিজরা
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস বিখ্যাত ইতালীয় নাবিক ছিলেন।
- পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং কুঠিগুলোকে দুর্গে পরিণত করে।
- পর্তুগিজরাই প্রথম ইউরোপীয় যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজে এদেশে সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।
- ভারতে প্রথম ইউরোপীয় দুর্গগুলির মধ্যে, ফোর্ট ইমানুয়েল ১৫০৩ সালে পর্তুগিজদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
- ফোর্ট কোচিতে অবস্থিত।
- এটি একসময় কোচির শাসক এবং পর্তুগালের রাজার মধ্যে জোটের প্রতীক ছিল।
- সৈকত বরাবর একটি আকর্ষণীয় কাঠামো, এটি একটি আকর্ষণীয় অনুসন্ধানের জন্য তৈরি করে।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ফোর্ট ইমানুয়েল, অবিশ্বাস্য ভারত।
১৫৫.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন-
  1. কুতুবউদ্দীন আইবক
  2. বখতিয়ার খলজী
  3. সুলতান মাহমুদ
  4. শের শাহ
ব্যাখ্যা

• বখতিয়ার খলজী:
- বখতিয়ার খলজী  ১২০৫ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে নদীয়া জয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
- উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) এলাকার বাসিন্দা ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়র্ভুক্ত ছিলেন। 

- ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী বিহার আক্রমণ করেন এবং ওদন্তপুরী বৌদ্ধবিহারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে।
- অতঃপর তারা সে স্থান থেকে মূল্যবান সম্পদ লুণ্ঠন করে প্রত্যাবর্তন করে।
- তিনি কুতুবউদ্দীন আইবকের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে মূল্যবান উপহার প্রদান করেন। 
- অপরপক্ষে কুতুবউদ্দীনও তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানান।
- অতঃপর ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে তিনি ঝাড়খন্ডের দুর্গম অরণ্যাঞ্চলের মধ্য নদীয়া আক্রমন করেন।
- রাজা লক্ষ্মণসেন নৌপথে তাঁর রাজধানী বিক্রমপুরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- ইতোমধ্যে বখতিয়ার খলজীর মূল বাহিনীও এসে পড়েছিল।
- ফলে নদীয়া মুসলমানদের  অধিকারে আসে।

- বখতিয়ার খলজী স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে তিনি গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৫৬.
কার সময় থেকেই বাংলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ‘বাঙালি’ নামে পরিচিতি পায়?
  1. ক) সিকান্দর শাহ
  2. খ) গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ঘ) ফিরুজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা
• শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:
- বাংলায় সুলতানী আমলের সূত্রপাত ১৩৩৮ সালে যা ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- সুলতানি আমলে বাংলায় মুসলিম শাসন বিস্তৃতি লাভ করে।
- শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ হলেন `ইলিয়াস শাহী’ বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তার রাজত্বকাল ছিল ১৩৪২ সাল থেকে ১৩৫৮ সাল পর্যন্ত। এ সময়ে তিনি সমগ্র বাংলাকে একত্র করে বাঙ্গালাহ নাম দেন এবং এর অধিবাসীদের বাঙ্গালি নাম দেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভ করেন। ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' এবং ‘সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে বাংলার প্রথম প্রকৃত স্বাধীন সুলতান হিসেবে অভিহিত করা হয় ।
- তিনি ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহকে পরাজিত করে দুই বাংলা একত্র করে বৃহত্তর বা অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার সময় থেকেই বাংলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ‘বাঙালি’ নামে পরিচিত পায়

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৭.
সিন্ধু বিজয়ের প্রধান মুসলিম সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. খালিদ বিন ওয়ালিদ
  2. কুতুবউদ্দিন আইবক
  3. মুহাম্মদ বিন কাসিম
  4. মাহমুদ গজনভী
ব্যাখ্যা

সিন্ধু বিজয়:
- সিন্ধু বিজয়ের প্রধান মুসলিম সেনাপতি ছিলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম।

আরবদের সিন্ধু বিজয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের আগমনের সূচনালগ্ন ধরা হয়।
- এ ঐতিহাসিক ঘটনার প্রধান কুশীলব ছিলেন আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সিন্ধুর তৎকালীন রাজা দাহির।
- প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি ছিলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম।

উল্লেখ্য,
- খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সময় মুসলমানগণ সিন্ধু অভিযান করে। খলিফার অনুমতি নিয়ে ইরাকের গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এই অভিযান পাঠান। সিন্ধু বিজয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের বিস্তার সাধন এবং অর্থ সম্পদ লাভ।
- মুহম্মদ বিন কাসিম এক শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে সিন্ধুদেশ আক্রমণ করেন। তিনি দাইবুল, নীরুন, সিওয়ান ও সিসাম দখল করে আরও উত্তরে অগ্রসর হন। সিন্ধুরাজ দাহির রাওয়ার দুর্গ রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি যুদ্ধে নিহত হন।
- রাওয়ার দখলের পর মুহম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজধানী আলোর জয় করেন।
- এরপর মুলতানও মুসলমানদের দখলে আসে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৮.
কোন সুলতানের আমলে ইবনে বতুতা ভারতে এসেছিলেন?
  1. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  2. মুহম্মদ বিন কাসেম
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনামলে ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।

⇒ ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫৯.
পারস্যের কবি হাফিজের সাথে পত্রালাপ হয়েছিল -
  1. ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. খ) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. গ) সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ
  4. ঘ) সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
- গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান।
- সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন।
- পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল।
- একবার তিনি হাফিজের নিকট কবিতার একটি চরণ লিখে পাঠান এবং কবিতাটিকে পূর্ণ করার জন্য কবিকে অনুরোধ জানান।
- হাফিজ দ্বিতীয় চরণটি রচনা করে কবিতাটি পূর্ণ করে পাঠান।
- তিনি সুলতানের নিকট একটি গজলও লিখে পাঠান।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনা করেন। 

উৎস: ইতিহাস, SSHL, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬০.
'অন্ধকূপ হত্যা' কাহিনী কার বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. মীর জাফর
  2. জে.জেড হলওয়েল
  3. নবাব সিরাজ-উদ্দৌলা
  4. লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
অন্ধকূপ হত্যা:
- বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে ২০ জুন কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য,
- নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।
- কিন্তু পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদগণ হলওয়েলের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার মতো প্রমাণ আবিষ্কার করেন।
- সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নবাবের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতেই ঘটেছিল।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৬১.
লালবাগের কেল্লা স্থাপন করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. টিপু সুলতান
  3. ইসলাম খান
  4. শাহ সুজা
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লা পুরাতন ঢাকার লালবাগে অবস্থিত।
- সতের শতকে ১৬৭৮ সালে সুবাদার আজম শাহ এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মাঝে এর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান পুনরায় এর কাজ শুরু করে এটি নির্মাণ করেন।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে শায়েস্তা খানের কন্যা 'ইরান দুখত রহমত বানুর' সমাধি অবস্থিত।
- ইরান দুখত 'পরীবিবি' নামে পরিচিত।
- ১৯১০ সালে লালবাগ কেল্লা প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এর আদি নাম কেল্লা আওরঙ্গবাদ। লালবাগে অবস্থিত হওয়ায় পরে এর নামকরণ করা হয় লালবাগ কেল্লা।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১৬২.
দিল্লী সালতানাতের পতন হয় কাদের হাতে?
  1. ক) আফগানদের হাতে
  2. খ) তৈমুর লঙের হাতে
  3. গ) পারস্যের শাহ্‌ এর বাহিনীর হাতে
  4. ঘ) মোঙ্গলদের হাতে
  5. ঙ) মোগলদের হাতে
ব্যাখ্যা
ইব্রাহিম লোদীর উদ্ব্যত আচরণ ও কঠোর দমন নীতির ফলে অসন্তুষ্ট আফগান অভিজাত শ্রেণি, পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খান লোদী এবং ইব্রাহীম লোদীর পিতৃব্য আলম খান এবং রাজপুতনার মেবারের রানা সংগ্রাম সিংহ কাবুলের অধিপতি জহিরুদ্দীন মুহম্মদ বাবরকে ভারত আক্রমণের আহ্বান জানান। উচ্চাভিলাষী এবং সাম্রাজ্যবাদী বাবর এই আহবানে সাড়া দিয়ে ভারত আক্রমণ করেন। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের সর্বশেষ শাসক ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে দিল্লি সালতানাতের পতন ঘোষণা করেন এবং ভারতর্ষে মুঘল শাসনের গোড়াপত্তন করেন।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১৬৩.
‘অন্ধকূপ হত্যা’ বাংলার কোন নবাবের নামের সাথে জড়িত?
  1. নবাব আলীবর্দি খান
  2. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  3. নবাব মুর্শিদকুলী খান
  4. সুবেদার ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
‘অন্ধকূপ হত্যা’ বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার নামের সাথে জড়িত।

অন্ধকূপ হত্যা:

- অন্ধকূপ হত্যা ১৭৫৬ সালের ২০ জুন বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে জুন মাসে কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।
- হলওয়েল, জন জেফেনিয়াহ বহুল আলোচিত অন্ধকূপ হত্যা কাহিনীর রচয়িতা।
- উনিশ শতকের প্রথম দিকের অধিকাংশ ইংরেজ ইতিহাসবিদ এ কাহিনী বিশ্বাস করেন এবং অন্ধকূপ হত্যার ঘটনাকে প্রাচ্যদেশীয় শাসকদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার জঘন্য নিদর্শনরূপে গণ্য করেন।
- কিন্তু পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদগণ হলওয়েলের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার মতো প্রমাণ আবিষ্কার করেন।
- সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নবাবের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতেই ঘটেছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৪.
বাংলায় আফগান শাসন কে সূচনা করেন?
  1. হোসেন শাহ
  2. শেরশাহ
  3. দাউদ খান
  4. মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
→ বাংলায় আফগান শাসন সূচনা করেন শেরশাহ।

 আফগান শাসনের সূচনা
- ১৫৩৮ সালে শেরখান গৌড় জয় করেন।
- বাংলায় আফগান শাসনের প্রবর্তন ঘটে।
→ শাসনকাল:
- আফগানরা বাংলায় ৩৮ বছর শাসন করে।
- এর মধ্যে মাত্র ৯ মাস গৌড় মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের দখলে ছিল।

•  শেরশাহের উত্থান:
- শেরখান (পরবর্তীতে শেরশাহ) হুমায়ুনকে পরাজিত করেন।
- দিল্লির সিংহাসন দখল করে ভারতীয় উপমহাদেশে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন।
→ বাংলার অবস্থা:
- শেরশাহ ও তাঁর পুত্রের আমলে বাংলাদেশ দিল্লির একটি প্রদেশে পরিণত হয়।
- ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহের পুত্র ইসলাম শাহ (অর্থাৎ সলীম শাহ) মৃত্যুবরণ করেন।
- এর পর বাংলাদেশ পুনরায় স্বাধীন হয়ে যায়।
- এবং মুঘল বিজয় পর্যন্ত স্বাধীনতা বজায় থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৫.
কোন যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় মুঘল শাসনের সূত্রপাত হয়?
  1. ক) চৌসার যুদ্ধ
  2. খ) কণৌজের যুদ্ধ
  3. গ) গিরিয়ার যুদ্ধ
  4. ঘ) রাজমহলের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী গৌড় অধিকার করে মুঘল শাসনের সূচনা করেন। কিন্তু বাংলায় তাঁর অধিকার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে পরাজয়ের পর বিজয়ী আফগান নেতা শের খান গৌড় দখল করেন এবং বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলার প্রবেশ পথ রাজমহলের নিকটে বাংলার শেষ আফগান শাসক দাউদ খান ও মুঘল বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। যা রাজমহলের যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে দাউদ খান পরাজিত ও বন্দি হলে বাংলায় মুঘল শাসনের সূত্রপাত হয়। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি) ও বাংলাপিডিয়া।
১৬৬.
ষাট গম্বুজ মসজিদে কয়টি গম্বুজ রয়েছে?
  1. ৬০টি
  2. ৭৭টি
  3. ৮১টি
  4. ৮৮টি
ব্যাখ্যা
ষাটগম্বুজ মসজিদ:

- এটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- ১৫ শতকের দিকে উলঘ খান-ই-জাহান ঐতিহাসিক মসজিদের শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ষাটগম্বুজ মসজিদটিতে ৮১ টি গম্বুজ রয়েছে।
- মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া।
- দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু।
- এ বিশাল মসজিদের চতুর্দিকে প্রাচীর ৮ফুট চওড়া, এর চার কোনে চারটি মিনার আছে।
- মসজিদটি ছোট ইট দিয়ে তৈরী, এর দৈর্ঘ্য ১৬০ফুট, প্রস্থ ১০৮ ফুট, উচ্চতা ২২ফুট।
- মসজিদের পশ্চিম দিকে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট ২৬টি দরজা আছে।
- ইউনেস্কো এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১৬৭.
সম্রাট হুমায়ুন বাংলার নতুন নাম করেন -
  1. জাহাঙ্গীরনগর
  2. ইসলামাবাদ
  3. জান্নাতাবাদ
  4. ফতেহাবাদ
ব্যাখ্যা

সম্রাট হুমায়ুন:
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

উল্লেখ্য,
- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
 
উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১৬৮.
কার উদ্যোগে ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) হেনরি লুই ডি রোজিও
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলার নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়ের উদ্যোগে ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট ব্রাহ্মসমাজ বা ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠিত হয়।
ব্রাহ্মসমাজ মানে হলো ঈশ্বরের সমাজ। ব্রাহ্মসমাজের সভ্যরা একে সর্বজনীন ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করতো। দ্বারকানাথ ঠাকুর ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্মসমাজের অনুসারী ছিলেন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১৬৯.
বাংলার মধ্যযুগের ইতিহাসে কার শাসনকালকে ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. শেরশাহ সূরি
ব্যাখ্যা

• হুসেন শাহিবংশ:
- হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন সৈয়দ হুসেন।
- সুলতান হয়ে তিনি 'আলাউদ্দিন হুসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বাংলায় 'হুসেন শাহি বংশ' নামে এক নতুন বংশের শাসনপর্ব শুরু হয়।
- বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে হুসেন শাহি আমল (১৪৯৩-১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) ছিল নানা কারণেতাৎপর্যপূর্ণ।
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের প্রধান সুলতান।
-  একজন শাসক হিসেবে হোসেন শাহ নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়াও শাসন ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং জনকল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে তিনি উদ্যম, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।
- হুসেন শাহের হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি স্থাপনের প্রচেষ্টা তৎকালীন সমাজ জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল। তারশাসনকালেই আবির্ভাব ঘটে বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক, ভক্তি আন্দোলনের নেতা, মানবতাবাদী শ্রীচৈতন্য দেবের। 
-  এ যুগের প্রখ্যাত কবি ও লেখকদের মধ্যে রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস, পরাগল খান ও যশোরাজ খান উল্লেখযোগ্য ছিলেন। 
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহ আরবি ও ফার্সি ভাষারও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- সকল ধর্মের মানুষের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভক্তিছিল আলাউদ্দিন হুসেন শাহের। তাঁর রাজত্বকালে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।
- তাঁর ২৬ বছরের শাসনকালে বাংলায় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলার বিশেষ উন্নতি সাধিত হয়েছিল। এজন্য তাঁর শাসনকালকে অনেকেই বাংলার মধ্যযুগের ইতিহাসে 'স্বর্ণযুগ' বলে আখ্যাত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম, শ্রেণি। 

১৭০.
আহসান মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. নওয়াব খাজা আহসানউল্লাহ
  2. নওয়াব খাজা আব্দুল গণি
  3. নওয়াব খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. নওয়াব আলীবর্দী খান
ব্যাখ্যা

আহসান মঞ্জিল:
- আহসান মঞ্জিল পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- এটি পূর্বে ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ।
- বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- এর প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব আবদুল গণি। তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ'র নামানুসারে এর নামকরণ করেন।
- এর নির্মাণকাল ১৮৫৯-১৮৭২ সাল।
- নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করান।
- ১৯০৬ সালে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।
- এই প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

১৭১.
কোন সম্রাট ইংরেজদের বঙ্গদেশে কুঠি নির্মানের অনুমতি দেয়?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:
- মুগল সম্রাট শাহজাহান।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র শাহজাহান ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জাহাঙ্গীরের উত্তরাধিকারী হিসেবে ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন ।
- দাদা আকবরের মতো তিনিও তার সাম্রাজ্য প্রসারিত করতে আগ্রহী ছিলেন।
- ১৬৫৮ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পুত্র আওরঙ্গজেব তাকে বন্দী করেন এবং বন্দী অবস্থায় ১৬৬৬ সালে আগ্রা দূর্গে তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
- তার রাজত্বের সময়কালের মুঘল স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ ছিল।
- তিনি পৃথিবীর স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ সমাধিসৌধ 'আগ্রার তাজমহল' নির্মাণ করেন।
- তিনি কেবল তাজমহলই নয়, আগ্রায় মতি মসজিদ, দিল্লিতে লাল কেল্লা ও জামে মসজিদও নির্মাণ করেন; শাহজাহানাবাদ নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন।
- তিনি ইংরেজদের বঙ্গদেশে কুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
১৭২.
বাঙালি মুসলমানদের মাঝে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারে কোন মনীষী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
  1. ক) নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ
  2. খ) হাজী মুহাম্মাদ মুহসীন
  3. গ) নওয়াব আবদুল লতিফ
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
বাংলার মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ও ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারে নওয়াব আব্দুল লতিফ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
এ বিষয়ে তিনি সরকারের নিকট মুসলমানদের পক্ষে বিভিন্ন দাবী দাওয়া পেশ করেন। তার প্রচেষ্টায় মুহসিন ফান্ডের অর্থ কেবল মুসলমান ছাত্রদের জন্যে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তিনি ১৮৬৩ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি গঠন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৭৩.
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৫১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭১ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ: 
- পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে।
- মুঘল সম্রাট আকবর এবং দিল্লির হিন্দু রাজা হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য (হেমু)-র মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- বৈরাম খানের নেতৃত্বে মুঘল বাহিনী হেমুর বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সুদৃঢ় করে। 

উল্লেক্য,
- ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে দিল্লির সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে সম্রাট বাবর ভারতবর্ষে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন। সম্রাট বাবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র হুমায়ুন সিংহাসনে বসেন। সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তাঁর ১৩ বছর বয়সী পুত্র আকবর। সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণের সময় মোগল সাম্রাজ্য ছোট হয়ে কেবল কাবুল, কান্দাহার ও পাঞ্জাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সম্রাট আকবর তাঁর অভিভাবক বৈরাম খাঁর পরামর্শে রাজ্য শাসন করছিলেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৪.
হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. মুর্শিদাবাদ
  2. ঢাকা
  3. গৌড়
  4. লক্ষ্মনাবতী
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন:

- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬) মুগল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানী গৌড়ের নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।
- হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৭৫.
হিন্দু লেখকগণ কোন শাসককে 'কৃষ্ণাবতার' উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. চন্দ্রগুপ্ত
  2. বিক্রমাদিত্য
  3. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  4. বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৬.
ভারতীয় উপমহাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তক-
  1. ক) ক্যানিং
  2. খ) লিটন
  3. গ) কার্জন
  4. ঘ) রিপন
ব্যাখ্যা
- ভারতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তক লর্ড রিপন।
- লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর লর্ড রিপন ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন। তার শাসনকাল ১৮৮০ থেকে ‌১৮৮৪ সাল।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন এবং ভারতবাসীর আশা আকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে উদারনীতি অবলম্বন করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সংস্কার কাজ হচ্ছে-
- আফগান সীমান্ত সমস্যার সমাধান,
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
- শিক্ষা কমিশন গঠন (হান্টার কমিশন),
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক আইন, রাজ্বস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন,
- ফ্যাক্টরি আইন (দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের নিয়ম) ইত্যাদি।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনীর ইতিহাস বই, অধ্যাপক মো: গোলাম মোস্তফা।
১৭৭.
অবিভক্ত বাংলার সর্বপ্রথম রাজা কাকে বলা হয়?
  1. ক) অশােক
  2. খ) শশাঙ্ক
  3. গ) মেগদা
  4. ঘ) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা

সপ্তম শতকের প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা ‘গৌড়রাজ্য’ নামে পরিচিত।
- এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪-৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

খেয়াল করুন, অশোক একজন সম্রাট ছিলেন, রাজা নন। একটি সাম্রাজ্যে অনেকগুলো রাজ্য থাকে। তেমনি, একজন সম্রাটের অধীনে কয়েকজন রাজা থাকতে পারেন।
১৭৮.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয় কবে?
  1. ১৫২০ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৩২ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ।
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন।
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন।
- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৯.
কোন মোগল সম্রাট ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন?
  1. বাবর
  2. হুমায়ূন
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতী:
- মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মোগল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মোগল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মোগল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮০.
হোসেনী দালান কে নির্মাণ করেন?
  1. মীর মুরাদ
  2. ইসলাম খান
  3. মীর জুমলা
  4. শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
হোসেনী দালান:
- হোসেনী দালান পুরানো ঢাকায় অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের একটি ইমারত।
- এটি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল।
- শাহ সুজার শাসনকালে জনৈক মীর মুরাদ প্রথম এ ইমারত নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়।

⇒ ৬১ হিজরির ১০ মুহররম তারিখে ইরাকের কারবালার যুদ্ধে আল-হোসেনের শহীদত্বকে স্মরণ করার জন্য ইমারত নির্মাণ করা ছিল শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত একটি সাধারণ রীতি।
- শাহ সুজার শাসনকালে জনৈক মীর মুরাদ প্রথম এ ইমারত নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়।
- শাহ সুজা নিজে সুন্নি মুসলমান হলেও শিয়াদের মধ্যে প্রচলিত রীতিনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে আগ্রহী ছিলেন।
- সৈয়দ মুরাদ একদা স্বপ্নে আল হোসেনকে একটি ‘তাজিয়াখানা’ নির্মাণ করতে দেখে এই ইমারত নির্মাণে উৎসাহিত হন।
- তিনিই এই ইমারতের নাম রাখেন হোসেনী দালান।
- ইমারতটি সম্ভবত একটি ছোট্ট স্থাপনা ছিল।
- পরবর্তীকালে ১৮০৭ ও ১৮১০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে ইমারতটির সংস্কার করা হয় এবং ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের পর এর কিছু অংশ নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮১.
কররানিদের বাংলার রাজধানী ছিল -
  1. ক) তাণ্ডায়
  2. খ) সোনারগাঁও
  3. গ) কর্ণসুবর্ণ
  4. ঘ) পাটালিপুত্র
ব্যাখ্যা
- কররারিদের বাংলার রাজধানী ছিল তাণ্ডায়।
- সর্দার তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন (১৫৬৪ খ্রি.)।
- তাজ খান কররাণী ও সুলায়মান খান কররাণী শের শাহের সেনাপতি ছিলেন।
- দাউদ কররাণী ছিলেন বাংলায় শেষ আফগান শাসক।
- কর্ণসুবর্ণ বাংলার গৌড় রাজ্যের প্রথম স্বাধীন শাসক শশাঙ্ক-এর রাজধানী।
- সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানী ছিল প্রথমে সোনারগাঁও (১৩৩৮-১৩৫২ খ্রি.)।
- পরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় গৌড়ে (১৪৫০-১৫৬৫ খ্রি.)।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো। এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিলো কর্ণসুবর্ণ।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮২.
সুবাদার ইসলাম খান ‘বারোভূঁইয়া’দের দমন করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কোন সম্রাটের রাজত্বকালে?
  1. ক) সম্রাট আকবর
  2. খ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. গ) সম্রাট হুমায়ুন
  4. ঘ) সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর বাংলায় কররানি (আফগান) শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুঘল শাসনের সূত্রপাত করলেও ‘বারোভূঁইয়া’দের বাধার মুখে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে সুবাদার ইসলাম খান ‘বারোভূঁইয়া’দের দমন করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
১৮৩.
বাংলার নববর্ষ পহেলা বৈশাখ কে চালু করেছিলেন?
  1. সম্রাট বাবর
  2. শায়েস্তা খান 
  3. সম্রাট আকবর
  4. ইলিয়াস শাহ 
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মুঘল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়। খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তাঁর আদেশে প্রাচীন বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

এছাড়াও,
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন। আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড। ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৪.
'কুসুম্বা মসজিদ' কোন শাসনামলের স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. সেন
  2. মুঘল
  3. সুলতানি
  4. ইংরেজ
ব্যাখ্যা
কুসুম্বা মসজিদ:
- নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান।
- মসজিদটি ধরে রেখেছে সুলতানি আমলের অনন্য নিদর্শন।
- এর মিহরাবের ওপর সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহর নাম লিপিবদ্ধ করা।
- ধারণা করা হয়, তাঁর শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত।
- এটি চারকোনাবিশিষ্ট। কালো ও ধূসর রঙের পাথর আর পোড়ামাটির ইটে গড়া এই মসজিদ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ৫ টাকার নোটে কুসুম্বা মসজিদের ছবি ছাপানো আছে।

উৎস: প্রথম আলো।
১৮৫.
ওলন্দাজরা কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) পর্তুগাল
  2. খ) হল্যান্ড
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা
ওলন্দাজ
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। 
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি করত।
- ইংরেজদের সাথে তাদের যে বাণিজ্য চুক্তি হয় তা দু'বছরের মধ্যে ভেঙ্গে গিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
- ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- এভাবে ওলন্দাজদের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৬.
ইস্ট - ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা লাভের পর সর্বপ্রথম যে বিদ্রোহ হয় -
  1. ক) চাকমা বিদ্রোহ
  2. খ) ফকির - সন্ন্যাসী আন্দোলন
  3. গ) বারাসাত বিদ্রোহ
  4. ঘ) নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ইস্ট - ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা লাভের পর সর্বপ্রথম ফকির - সন্ন্যাসী বিদ্রোহ হয়েছিল। ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত মজনু শাহের নেতৃত্বে ফকির আন্দোলন ও ভবানী পাঠকের নেতৃত্বে সন্ন্যাসী আন্দোলন যৌথভাবে চলতে থাকে।
এছাড়া ১৭৭৭ সালে জোয়ান বকসের নায়েব রাণু খান এর নেতৃত্বে চাকমা বিদ্রোহ, তিতুমীর এর নেতৃত্বে বারাসত বিদ্রোহ এবং নীল চাষিদের যৌথ চেষ্টায় ১৮৬০ সালে নীল বিদ্রোহ হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী।
১৮৭.
কার শাসনামলে বিখ্যাত সুফি ব্যক্তিত্ব হযরত শাহ জালাল বাংলায় আসেন?
  1. ক) রুকনুদ্দিন কায়কাউস
  2. খ) আলাউদ্দিন আলী শাহ
  3. গ) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. ঘ) শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা
শাহ জালাল (রঃ) বাংলার একজন প্রখ্যাত সুফি দরবেশ।
-সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসনামলে হযরত শাহ জালাল ৩৬০ জন সাথী ও মুরিদ নিয়ে বাংলায় আসেন।
-শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সিলেট অভিযানে হযরত শাহ জালাল মুসলমান সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেন। মুসলমান সৈন্যরা জয়লাভ করে। গৌর গোবিন্দ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং সিলেট মুসলমানদের শাসনাধীন হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১৮৮.
ইলিয়াস শাহ কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. জর্ডান
  2. ইরাক
  3. ইরান
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা

ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন। 
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন। 
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে। 
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৯.
ভারতের মুঘল আমলে ‘দীন-ই-ইলাহি’ নামে নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেছিলেন কে?
  1. সম্রাট বাবর
  2. সম্রাট হুমায়ুন
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

◉ দীন-ই-ইলাহি (Din-i-Ilahi) ছিল মুঘল সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত একটি ধর্মমত, যা তিনি ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে প্রচলন করেন।

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

⇒ সম্রাট আকবর সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

উৎস:
i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯০.
কোন মুঘল সুবাদার সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন-
  1. ক) কাসিম খান জুয়িনী
  2. খ) মীর জুমলা
  3. গ) শাহ সুজা
  4. ঘ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন। তাঁর সুবাদারী শাসনকাল দুপর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম দফায় ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ খ্রি: পর্যন্ত এবং শেষে ১৬৭৯ থেকে ১৬৮৮ খ্রি: পর্যন্ত তিনি বাংলার সুবাদার ছিলেন।
শায়েস্তা খানের কীর্তিঃ
-সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন।
-চট্টগ্রাম জয় করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ।
-তিনি বাংলা থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন।
-তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্মের মধ্যে ছােট কাটারা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির সমাধিসৌধ, হােসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১৯১.
লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় কত সালে?
  1. ১৬৭৮ সালে
  2. ১৬৭৯ সালে
  3. ১৬৭৩ সালে
  4. ১৬৭২ সালে
ব্যাখ্যা

• লালবাগ কেল্লার ইতিহাসঃ
- লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৬৭৮ সালে। 
- তৎকালীন মুঘল সম্রাট আজম শাহ এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। 
- যদিও আজম শাহ খুব কম সময়ের জন্যেই মুঘল সম্রাট হিসেবে ছিলেন। 
- তবুও তার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার এই অসাধারণ কাজটি শুরু করেন।
- উল্লেখ্য আজম শাহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এর পুত্র আর সম্রাট শাহ জাহানের নাতি, 
- এই দুর্গ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছরের মাথায় তার বাবার ডাকে তাকে দিল্লিতে চলে যেতে হয় ।
- সম্রাট আজম শাহ চলে যাওয়ার পর দুর্গ নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। 
- তখন এই দুর্গ নির্মাণের কাজ আদৌ সম্পূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।
- তৎকালীন নবাব শায়েস্তা খাঁ পুনরায় লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন কাজ থেমে যাওয়ার প্রায় এক বছর পরে। 
- পুরো উদ্যমে আবার কাজ চলতে থাকে দুর্গ নির্মাণের।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৯২.
ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন কোন শাসককে?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. মোবারক শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা
⇒ ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:

- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে।
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৩.
বারো ভুঁইয়াদের রাজত্ব ছিল কোন আমলে?
  1. ক) সুলতানী
  2. খ) তুর্কি
  3. গ) আফগান
  4. ঘ) মুঘল
ব্যাখ্যা
বারো ভু্‌ঁইয়া: 
- বাংলার ইতিহাসে ষোড়শ শতক থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলায় যেসব বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি এবং শক্তিশালী সৈন্য ও নৌ-বহর নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারাই বাংলার ইতিহাসে 'বারো ভুঁইয়া' নামে পরিচিত।
- যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ছিলেন। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতাপের ক্ষমতা ও খ্যাতি পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল।
- বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনার গাঁয়ের জমিদার - ঈসা খাঁ। তার মৃত্যুর পর মোগলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ স্তিমিত হয়ে যায়।


তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
১৯৪.
নিচের কোন পর্যটক সোনারগাঁও এসেছিলেন?
  1. মার্কোপোলো
  2. ফা- হিয়েন
  3. হিউয়েন সাং
  4. ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও: 

- ১৩৩৫ থেকে ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সোনারগাঁও কখনো বাংলার রাজধানী আবার কখনো পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল।
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও ভ্রমণ করেন।
- পানামের জমিদারেরা ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশী-আন্দোলন ও মহাত্মা গান্ধীর অহিংস-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক মোহাজের সমস্যা সোনারগাঁওয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৯৫.
সাতগম্বুজ মসজিদ কোন শতাব্দীতে নির্মিত হয়?
  1. পঞ্চদশ শতাব্দী
  2. ষোড়শ শতাব্দী
  3. সপ্তদশ শতাব্দী
  4. অষ্টাদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
সাতগম্বুজ মসজিদ:
- ষোড়শ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত মোগল শাসনের ধারাবাহিকতায় যে স্থাপত্যরীতি প্রচলিত রয়েছে তারই উদাহরণ ‘সাত গম্বুজ মসজিদ’টি।
- সপ্তদশ শতাব্দীতে ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে নবাব শায়েস্তা খাঁ মসজিদটি নির্মাণ করেন।
- ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত।
- এর ছাদে রয়েছে তিনটি বড় গম্বুজ এবং চার কোণের প্রতি কোনায় একটি করে অনু গম্বুজ থাকায় একে সাত গম্বুজ মসজিদ বলা হয়।
- মসজিদের গম্বুজ পদ্ম-চূড়া শোভিত।
- মসজিদের পূর্বপাশে এরই অবিচ্ছেদ্য অংশে হয়ে রয়েছে একটি সমাধি।
- কথিত আছে, এটি শায়েস্তা খাঁর মেয়ের সমাধি।
- সমাধিটি ‘বিবির মাজার’ বলেও খ্যাত।

উল্লেখ্য,
- একসময় মসজিদের পাশ দিয়ে বয়ে যেত বুড়িগঙ্গা।
- মসজিদের ঘাটেই ভেড়ানো হতো লঞ্চ ও নৌকা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৯৬.
কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ নৃপতি কে ছিলেন?
  1. হুবিষ্ক
  2. কনিষ্ক
  3. বাসুদেব
  4. শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা

কুষাণ যুগ:
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ নৃপতি ছিলেন কনিষ্ক। 
- উমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন কুষাণ সম্রাটগণ।
- কুষাণ সম্রাট বীম কদফিসেসই সম্ভবত সর্বপ্রথম স্বর্ণমুদ্রা প্রবর্তন করেন যেখানে মুদ্রার উপরিপৃষ্ঠে বেদিতে যজ্ঞরত রাজার প্রতিকৃতি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, এই বিশেষ প্রতিকৃতি পার্থিয়ান রাজা গোটার্জেসের স্বর্ণমুদ্রার নকশা দ্বারা প্রভাবিত।
- তবে পরবর্তীকালের কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক ও হুবিষ্ক তাদের স্বর্ণমুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের নকশা ও প্রতীক ব্যবহার করেছেন যেগুলো আলাদাভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ বাংলার বিভিন্ন প্রত্নস্থান থেকে কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক, হুবিষ্ক ছাড়াও মহানাদ কুষাণ, প্রথম বাসুদেব ও দ্বিতীয় বাসুদেবের স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কার করেছেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ, বিবিএ বাংলা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৭.
কত জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন?
  1. ১০ জন
  2. ১৫ জন
  3. ২০ জন
  4. ২৫ জন
ব্যাখ্যা
তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৮.
বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. শেরশাহ্
  3. বাবর
  4. হুমায়ূন
ব্যাখ্যা

বাংলায় আফগান শাসন:
- ১৫৩৮ সালে শেরখান গৌড় জয় করে বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- আফগানরা ৩৮ বৎসর বাংলায় শাসন করে, এর মধ্যে মাত্র নয় মাস মুঘল সম্রাট হুমায়ুন গৌড় অধিকার করেন।
- তবে শেরখান (শেরশাহ্) যুদ্ধে হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসনও অধিকার করেন।
- অতএব শেরশাহ্ ও তাঁর ছেলের সময়ে বাংলাদেশ দিল্লির একটি প্রদেশে পরিণত হয় ।
- তবে ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহের ছেলে ইসলাম শাহ্ (সলীম শাহ্ নামেও পরিচিত) মৃত্যুর পর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায় এবং সেই থেকে মুঘল বিজয় পর্যন্ত স্বাধীন থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৯৯.
কোন শাসকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলায় দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটে?
  1. নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ
  2. আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহকে হত্যা করে গৌড়ের সিংহাসনে বসেন। তাঁর পাঁচ বছরের রাজত্বকালে উল্লেখযোগ্য ঘটনা আফগান নেতা শেরশাহ শূরের সাথে সংঘর্ষ।
অবশেষে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহ গৌড় দখল করে বাংলায় আফগানি শাসনের সূত্রপাত করেন।
১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওয়ে যে স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেছিলেন ১৫৩৮ সালে গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলায় দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটে।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]

২০০.
বড় কাটরা ও ছোট কাটরা ঢাকা শহরের কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সদরঘাট
  2. খ) লালবাগ
  3. গ) চকবাজার
  4. ঘ) ইসলামপুর
ব্যাখ্যা
- বড় কাটরা ও ছোট কাটরা ঢাকা শহরের চকবাজার এলাকায় অবস্থিত।
- ছোট কাটরা হলো পুরাতন ঢাকার একটি মুঘল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে পুরান ঢাকার চকবাজারের হাকিম হাবিবুর রহমান লেনে অবস্থিত।
- মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান ১৬৬৪ সালের দিকে এটি নির্মাণ করেন।
- এটির পাশেই শাহ সুজা নির্মিত হয় বড় কাটরা (১৬৪৪ খ্রি.) অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।