বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক

মোট প্রশ্ন৬৪০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৬৪০

৫০১.
'উৎস থেকে নিরন্তর' কী জাতীয় সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) গল্প
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা,
- মৃত্যুর নীল পদ্ম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০২.
"সাঁঝের মায়া" কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. নীলিমা ইব্রাহীম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. বেগম সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।  এই কাব্যে ২৮টি কবিতা রয়েছে।

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।

৫০৩.
বেগম রোকেয়া রচিত 'অর্ধাঙ্গী' একটি-
  1. প্রবন্ধ
  2. নাটক
  3. কবিতা
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

অর্ধাঙ্গী
বেগম রোকেয়ার ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গোড়ার ভারতবর্ষে নারী জীবনের কষ্ট ও সীমাবদ্ধতা দেখানো হয়েছে।
⇒ পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা ও আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে রচিত এ প্রবন্ধ।
⇒ অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে বেগম রোকেয়া আবেগধর্মী যুক্তিপ্রধান এই রচনায় নারীসমাজকে জ্ঞানচর্চা ও কর্মব্রত, অধিকার সচেতনতা ও মুক্তি আকাঙ্ক্ষায় আকৃষ্ট করতে সচেষ্ট হয়েছেন।
⇒  তিনি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজ যে পূর্ণ ও স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হতে পারছে না তার কারণ পরিবার ও সমাজজীবনের অপরিহার্য অর্ধেক শক্তি নারীসমাজের দুর্বল ও অবনত অবস্থা। এজন্য পুরুষসমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতাকে দায়ী করেছেন তিনি।
⇒ এই রচনায় তিনি নারীজাগরণের পক্ষে যে সুচিন্তিত, দৃঢ় ও বলিষ্ঠ মতামত ব্যক্ত করেছেন তাতে তাঁর মন্তব্যে আছে আবেগের গাঢ়তা আর যুক্তিতে আছে তীক্ষ্ণতা। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজজীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণসাধনের জন্যে নারীজাগরণ এবং সেই সঙ্গে পুরুষ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা,
- পদ্মরাগ (উপন্যাস,
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫০৪.
'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. আবুল আসাদ ইব্রাহিম
  4. মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫০৫.
'ফুলকলি প্রধানমন্ত্রী হবে' কার রচনা?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিম আল দীন
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬৯ সালে সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক হন।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন তিনি।
- জলোচ্ছ্বাস তাঁর ১ম উপন্যাস।

♦ শিশু-কিশোর সাহিত্য: 
- কুড়কুড়ির মুক্তিযুদ্ধ (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক),
- ফুলকলি প্রধানমন্ত্রী হবে,
- যখন বৃষ্টি নামে।

♦ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: 
- জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা,
- হাঙর নদী গ্রেনেড ,
- যুদ্ধ,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা।

♦ ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস: 
- যাপিত জীবন , 
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি।

♦ অন্যান্য উপন্যাস: 
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা।

উৎস : বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৬.
সুফিয়া কামাল রচিত প্রথম গল্পের নাম কী?
  1. ক) পিপাসা
  2. খ) কেয়ার কাঁটা
  3. গ) পদ্মরাগ
  4. ঘ) সৈনিক বধূ
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯):
- কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন।
-  সওগাত সম্পাদক  মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
-  বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়াকে আজীবন প্রভাবিত করেছে।
- তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে মৃত্তিকার ঘ্রাণ (১৯৭০) শীর্ষক একটি সঙ্কলন উৎসর্গ করেন।
 
তার রচিত:
- প্রথম কবিতা - বাসন্তী; এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাঁঝের মায়া; এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে এবং এর মুখবন্ধ লিখেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
- প্রথম গল্প - সৈনিক বধূ ; এটি বরিশালের 'তরুণ ' পত্রিকায় ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

এছাড়া,
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া (১৯৩৮)
- মায়া কাজল (১৯৫১)
- মন ও জীবন (১৯৫৭)
- প্রশস্তি ও প্রার্থনা (১৯৫৮)
- উদাত্ত পৃথিবী (১৯৬৪)
- দিওয়ান (১৯৬৬)
- অভিযাত্রিক (১৯৬৯)
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ (১৯৭০)
- মোর জাদুদের সমাধি পরে (১৯৭২)

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা (১৯৩৭)

ভ্রমনকাহিনী:
- সোভিয়েতে দিনগুলি (১৯৬৮)

স্মৃতিকথা:
- একাত্তরের ডায়েরি (১৯৮৯)

--------------------
অন্যদিকে, 
- বেগম রোকেয়ার প্রথম লেখা ‘পিপাসা’। 
- বেগম রোকেয়ার লেখা একমাত্র উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০৭.
স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. বলাকা 
  2. সাধনা
  3. ভারতী
  4. বঙ্গদর্শন 
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক ।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন। 
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ, 
- মেবার রাজ, 
- মালতী, 
- বিদ্রোহ, 
- বিচিত্রা, 
- স্বপ্নবাণী, 
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব, 
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা, 
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫০৮.
কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতাটি পাঠকের মনে কোন ধরনের আচরণের উদ্রেক ঘটায়?
  1. পরোপকারিতা
  2. সাহসিকতা
  3. সংকোচহীনতা
  4. ভয়হীনতা
ব্যাখ্যা
• 'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতা: 
- কবিতাটি কামিনী রায় রচিত ‘আলাে ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ নেওয়া হয়েছে।
- কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।
- অর্থাৎ এই কবিতা পাঠে মানুষের মনে অন্যের সমালোচনার কারণে "সংকোচ" ঘটে।
- দৃঢ় মনােবল নিয়ে লােকলজ্জা ও সমালােচনাকে উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করতে হলে সংকোচ উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে। 
- কবিতাটি পাঠকের মনে 'সংকোচহীনতা'র অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। 
------------------ 
• কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতা, সাহিত্য কণিকা- অষ্টম শ্রেণি।
৫০৯.
সুফিয়া কামালের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
  1. বরিশাল
  2. কুষ্টিয়া
  3. রংপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১০.
‘মাল্য ও নির্মাল্য’ কোন সাহিত্যিকের রচনা?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. কায়কোবাদ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়: 
- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে,
⇒ “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫১১.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) মহুয়া : চন্দ্রাবতী
  2. খ) দস্যু কেনারাম : চন্দ্রাবতী
  3. গ) বিদ্যাসুন্দর : কবিকঙ্ক
  4. ঘ) কমলা : দ্বিজ ঈশান
  5. ঙ) দেওয়ানা মদিনা : মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
উপরে উল্লেখিত সবগুলোই ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহিত পালা ও রূপকথা। এদের মধ্যে মহুয়া পালাটির রচয়িতা দ্বিজ কানাই। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৫১২.
সুফিয়া কামাল রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সাঁঝের মায়া
  2. খ) মায়া কাজল
  3. গ) কেয়ার কাঁটা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
বেগম সুফিয়া কামাল কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া 
- মায়া কাজল 
- মন ও জীবন
- মোর যাদুদের সমাধি পরে
- উদাত্ত পৃথিবী
- অভিযাত্রিক  ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৩.
সেলিনা হোসেন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি ?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. একাত্তরের ঢাকা
  3. একাত্তরের দিনগুলি
  4. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা
- ভালোবাসা প্রীতিলতা

উল্লেখ্য ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশী জাহানারা ইমাম রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর]
৫১৪.
বেগম রোকেয়ার প্রথম রচনা কোনটি?
  1. ক) পিপাসা
  2. খ) পদ্মরাগ
  3. গ) মতিচূর
  4. ঘ) পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়। 
- সওগাত পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার (অগ্রহায়ণ ১৩২৫) প্রথম পৃষ্ঠায় রোকেয়ার ‘সওগাত’ কবিতাটি ছাপা হয়। 

- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর 
- Sultana’s Dream
- পদ্মরাগ
- অবরোধবাসিনী প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১৫.
'দীপ ও ধূপ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- নির্মাল্য, মাল্য ও নির্মাল্য, পৌরাণিকী, অশোক সঙ্গীত, অম্বা, দীপ ও ধূপ, জীবন পথে, গুঞ্জন ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫১৬.
স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. সওগাত
  4. ভারতবর্ষ
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ও সাহিত্য কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন।
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫১৭.
সুফিয়া কামালের ‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থের মূল পটভূমি কী? 
  1. প্রকৃতির বিষণ্ণ চিত্র ও মানুষের বেদনা 
  2. রোমান্টিক প্রেমের গল্প 
  3. প্রকৃতির কল্পিত রূপ ও কল্পনা
  4. কবির বৃদ্ধকালের অনুভূতি 
ব্যাখ্যা

• ‘সাঁঝের মায়া’:
- সুফিয়া কামালের ‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থের মূল পটভূমি হলো প্রকৃতির বিষণ্ণ চিত্র ও মানুষের বেদনা।
- কবিতায় বিরহ, নিঃসঙ্গতা এবং নারী জীবনের দুঃখ গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।
- বিশেষ করে পর্দার আড়ালে বেড়ে ওঠা নারীর দৃষ্টিতে সমাজ ও জীবনের সীমাবদ্ধতা এই কাব্যতে প্রকাশ পেয়েছে।
- ‘সাঁঝের মায়া’ হলো সুফিয়া কামালের কৈশোর ও প্রারম্ভিক যৌবনের অনুভূতি, প্রকৃতির নিবিড় পর্যবেক্ষণ।
- এই কাব্যটি সমাজ-সংস্কৃতির প্রতিফলন, যা কবিকে একজন স্বতন্ত্র ও বিশিষ্ট কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- এছাড়া, নারীর অধিকার ও সামাজিক সচেতনতার বীজ এই কাব্যগ্রন্থে নিহিত রয়েছে।
------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর গল্প ও স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘কেয়ার কাঁটা’ ও
- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫১৮.
'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১৩টি 
  2. ১৫টি 
  3. ১৭টি 
  4. ১৯টি 
ব্যাখ্যা

• 'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

​------------------
বেগম রোকেয়া রচিত অন্যান্য গ্রন্থসমূহ:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১৯.
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. সেলিনা হোসেন
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

----------------
• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুভিত্তিক),
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- অপেক্ষা,
- টানাপোড়েন,
- কালকেতু ও ফুল্লরা,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা।

• তাঁর রচিত গল্প:
- মতিজানের মেয়েরা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,
- মানুষটি,
- অনুড়া পূর্ণিমা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস।

৫২০.
নীলিমা ইব্রাহিম কোন গ্রন্থটি রচনা করেননি?
  1. বাংলার কবি মধুসূদন
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. বহ্নিবলয়
  4. ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা
• "ওরা কদম আলী" - মামুনুর রশীদ রচিত নাটক।
-------------------- 
• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫২১.
''বিশ শতকের মেয়ে'' কার সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহীম
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহীম এর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
উপন্যাস - বিশ শতকের মেয়ে (১৯৫৮), এক পথ দুই বাঁক (১৯৫৮), কেয়াবন সঞ্চারিণী (১৯৬২), বহ্নিবলয় (১৯৮৫)।
নাটক - দুয়ে দুয়ে চার (১৯৬৪), যে অরণ্যে আলো নেই (১৯৭৪), রোদ জ্বলা বিকেল (১৯৭৪), সূর্যাস্তের পর (১৯৭৪)।
আত্মজীবনী - বিন্দু-বিসর্গ (১৯৯১) ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৫২২.
”কেয়া বন সঞ্চারিণী” উপন্যাসের রচিতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ও বাংলাপিডিয়া।
৫২৩.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?"- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. কামিনী রায়
  3. কায়কোবাদ
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

• কুসুমকুমারী দাশ:
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আরেকটি পরিচয়, তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল কবি জীবনান্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা 'আদর্শ ছেলে'। তার রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।

যার প্রথম দুই চরণ-
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া 

৫২৪.
'সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।'- কার রচিত পংক্তি?
  1. রজনীকান্ত সেন
  2. ইসমাইল হােসেন সিরাজী
  3. কামিনী রায়
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা / প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- কামিনী রায়।

সুখ - কবিতা
কামিনী রায়
"আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।"

----------------
• কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে।

উৎস: 'সুখ' কবিতা; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫২৫.
‘সুলতানার স্বপ্ন’ কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্য
  3. ছোটগল্প
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত 'Lady Land' বা 'নারীস্থান' মূলত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
- তিনি ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),  
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী উপন্যাস রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২৬.
নিচের কোনটি বেগম রোকেয়ার কল্পকাহিনী?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. মতিচূর
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. পদ্মরাগ
ব্যাখ্যা

‘সুলতানার স্বপ্ন’ বেগম রোকেয়ার কল্পকাহিনি।
---------------------------------------------
সুলতানার স্বপ্ন’:
- বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ একটি নারীবাদী ইউটোপিয়ান কল্পকাহিনী।
- এখানে পিতৃতান্ত্রিক সমাজকে ব্যঙ্গ করে নারীমুক্তির এক আদর্শ ভবিষ্যৎ তুলে ধরা হয়েছে।
- এতে কবি একটি সম্পূর্ণ উল্টো সমাজব্যবস্থা কল্পনা করতে চেয়েছেন।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় নারীরা গড়ে তুলবে শান্তিপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব এক উন্নত দেশ—Land of Ladies.
- গল্পটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নারী-পুরুষ সমতা, শিক্ষার গুরুত্ব এবং প্রচলিত পর্দাপ্রথা ও সামাজিক নিয়ম উল্টে নারীর ক্ষমতায়নকে সামনে আনা।
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ এমন এক ভবিষ্যৎ সমাজের চিত্র তুলে ধরে - যেখানে নারী নিজের যোগ্যতা, যুক্তি এবং বিজ্ঞানের শক্তিতে শোষণহীন, শান্ত এবং উন্নত এক পৃথিবী নির্মাণ করবে।
-----------------------------------------
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
-  ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।
-  বাংলার নারী জাগরণে বেগম রোকেয়ার অবদান অসাধারণ।
- নারীশিক্ষা, লিঙ্গসমতা ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তিনি সারাজীবন নারীদের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন।
- বাংলাদেশে নারীশিক্ষা আন্দোলনের প্রকৃত অগ্রদূত হিসেবে তিনি নিজের লেখনী ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছিলেন।
- বলা যায়, তাঁর উদ্যোগেই বাংলার নারীরা মুক্তির পথে আলোকিত হতে পেরেছে।
- বাংলাদেশে সরকারিভাবে বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।
- বাঙালি লেখক, শিক্ষাবিদ এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন - ৯ ডিসেম্বর - কে "রোকেয়া দিবস" হিসেবে উদযাপন করা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৫২৭.
'কবিতা মুকুল' শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
কুসুমকুমারী দাশ:
• ১৮৭৫ (১২৮২ বঙ্গাব্দ ২১শে পৌষ) খ্রিষ্টাব্দের ২১ সেপ্টেম্বর বাখরগঞ্জ জেলার বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন জীবনানন্দ জননী অবিসংবাদিত প্রতিভাময়ী কবি কুসুমকুমারী দাশ।

• শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ 'কবিতা মুকুল' রচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় কুসুমকুমারী দাশের কাব্যজীবন। প্রবাসী, ব্রাহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রায়ই প্রকাশিত হতো। স্বদেশী যুগের কবিতা, দেশবিভাগে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের আর্তনাদমুখর কবিতা, সাময়িক ঘটনা কাব্যময় রূপ, মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনমূলক কবিতা-এরকম বহু ধরনের কবিতা লিখেছেন কুসুমকুমারী দাশ।

• বালক-বালিকাদের জন্য মুদ্রিত সচিত্র মাসিক পত্রিকাটিতে কুসুমকুমারী দাশ-এর কয়েকটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। 'আদর্শ ছেলে' কবিতাটি মুকুল এর প্রথম ভাগে পৌষ ১৩০২ সপ্তম সংখ্যায় স্থান পেয়েছিলো। 'খোকার বিড়ালছানা', 'দাদার চিঠি' কবিতা দুটিও মুকুল-এ প্রকাশিত হয়।

• তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।

উৎস: 'দিনলিপি' কুসুমকুমারী দাশ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৮.
কোনটি কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. পৌরাণিকী
  2. মাল্য
  3. পৃথিবীজোড়া গান
  4. আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ 'পৌরাণিকী'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে। 

• কামিনী রায়:

- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

অন্যদিকে,
• “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কবিতা।
• ‘পৃথিবীজোড়া গান’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫২৯.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত কোন গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকার কথা বলা হয়েছে?
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. বহ্নিবলয়
  3. যে অরণ্যে আলো নেই
  4. সূর্যাস্তের পর
ব্যাখ্যা
আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- নীলিমা ইব্রাহিম রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
- যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।
- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দুলক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
- বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩০.
‘অবরোধবাসিনী’ কী ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নকশাধর্মী গদ্য
  3. ব্যঙ্গ রচনা 
  4. আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা

• 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'।
- এই গ্রন্থে মোট ৪৭টি ঘটনা অনুগল্প আকারে লেখা হয়েছে।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

------------
তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচুর (প্রবন্ধ),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৩১.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. রংপুর
  3. কুমিল্লা
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) ছিলেন সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।

- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বিয়ের পরে তাঁর নাম হয় রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন। তবে তিনি বেগম রোকেয়া নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন।

- বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর স্বাতন্ত্র্য ও নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেগম রোকেয়া। বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন।

- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান। মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। তাঁর জীবনব্যাপী সাধনার অন্যতম ক্ষেত্র এই মহিলা সমিতি। 

তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
• Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
• পদ্মরাগ (উপন্যাস),
• অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫৩২.
'বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন' এর সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. মতিচূর
  2. পদ্মরাগ
  3. অবরোধবাসিনী
  4. নারীর মূল্য
ব্যাখ্যা
• 'বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন' এর সাহিত্যকর্ম নয়- নারীর মূল্য।

• 'নারীর মূল্য' প্রবন্ধ:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে ১৯২৩ সালে 'নারীর মূল্য' নামক প্রবন্ধটি যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। 
- এটি নারীর সামাজিক অধিকার এবং সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান একটি প্রবন্ধ। 

-----------------------------
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
- রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ), প্রভৃতি। 
- এছাড়া, আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩৩.
সুফিয়া কামালের শিশুতোষ গল্প কোনটি?
  1. কেয়ার কাঁটা
  2. ইতল বিতল
  3. একালে আমাদের কাল
  4. সাঁঝের মায়া
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামালের শিশুতোষ গল্প হচ্ছে ইতল বিতল। 

সুফিয়া কামাল
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল, ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা। 

শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল, 
- নওল কিশোরের দরবারে। 

ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩৪.
"মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন মহিলা পরিষদের সভানেত্রী।
- সুফিয়া কামালের সপ্তম কবিতাগ্রন্থ মোর যাদুদের সমাধি পরে এবং দিনলিপি একাত্তরের ডায়েরী ধারণ করে আছে অগ্নিঝরা একাত্তরে এক সংবেদী কবি ও সাহসী জননীর স্বর।

---------------------- 
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩৫.
'কাঁটাতারের প্রজাপতি' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) নীলিমা ইব্রাহিম
  2. খ) রেজিয়া বেগম
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা
• সেলিনা হোসেন একজন প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৬.
’শরৎ প্রতিভা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জাহানারা ইমাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়ন সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:-
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৫৩৭.
'শরৎ প্রতিভা' গবেষণা প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।
 
• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।
 
• তাঁর নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৩৮.
মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করা হয়েছে কোন প্রবন্ধে?
  1. সভ্যতা
  2. জীবন ও বৃক্ষ
  3. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  4. সুখ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ। 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"
- তিনি বলেছেন, যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।

⇒ মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩৯.
'আমলকির মৌ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রিজিয়া খান
  2. দিলারা হাশেম
  3. বিপ্রদাশ বড়ুয়া
  4. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• দিলারা হাশেম রচিত ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় তার নারীবাদী উপন্যাস 'আমলকীর মৌ'।

• দিলারা হাশেম:

- একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী লেখক এবং বিখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- তিনি ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'ঘর মন জানালা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- যা পাঠক ও সমালোচক মহলে বিপুল সমাদর পায়।
- পরবর্তীতে গ্রন্থটি রুশ ও চীনা ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং ১৯৭৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে একই শিরোনামে একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- মুরাল,
- শঙ্খ করাত,
- অনুক্ত পদাবলী,
- মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৪০.
জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সাতটি তারার তিমির
  2. বুকের ভিতর আগুন
  3. ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস
  4. একাত্তরের দিনগুলি
ব্যাখ্যা
• 'সাতটি তারার তিমির' কাব্যগ্রন্থটি জাহানারা ইমাম রচনা করেন নি।
- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - জীবনানন্দ দাশ।

• জাহানারা ইমাম:

- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৪১.
বেগম সুফিয়া কামাল রচিত কোন গ্রন্থে বেগম রোকেয়ার কথা উল্লেখ আছে? 
  1. সাঁঝের মায়া
  2. উদাত্ত পৃথিবী
  3. কেয়ার কাঁটা
  4. একালে আমাদের কাল 
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• বেগম সুফিয়া কামালের আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘একালে আমাদের কাল’-এ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কথা উল্লেখ আছে। 

• ‘একালে আমাদের কাল’ নিয়ে কিছু কথা:
- ‘একালে আমাদের কাল’ হলো বিশিষ্ট বাঙালি কবি বেগম সুফিয়া কামাল-এর আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত এই স্মৃতিকথা গ্রন্থে তিনি তাঁর শৈশবের দিনগুলি, পারিবারিক জীবন এবং সমাজের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।
- এছাড়া, সুফিয়া কামালের ‘একালে আমাদের কাল’ গ্রন্থে মূলত নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন-এর গভীর প্রভাব ও অনুপ্রেরণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
- তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও নারী মুক্তি আন্দোলনে রোকেয়ার আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং সেই প্রভাবকে বিশেষভাবে এই আত্মজীবনীর মধ্যে তুলে ধরেছেন।

----------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মন ও জীবন,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল,
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’। 
• স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে কবির উল্লেখযোগ্য ডায়েরী- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

• কবি সুফিয়া কামালের শিশু সাহিত্যেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
- তাঁর ‘ইতল বিতল’ এবং ‘নওল কিশোরের দরবারে’ গ্রন্থ দুটি শিশুদের জন্য রচিত ছড়া ও কবিতার সংকলন।
- গ্রন্থ দুইটি বাংলা শিশু সাহিত্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
- এসব রচনায় শিশুদের কল্পনা, আনন্দ ও মানসিক জগৎ অত্যন্ত সহজ ও প্রাণবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।

• এ ছাড়া শিশুদের কেন্দ্র করে লেখা তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘আজিকার শিশু’ শিশু সাহিত্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫৪২.
'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে' কার উক্তি?
  1. ক) অতুলপ্রসাদ সেন
  2. খ) রজনীকান্ত সেন
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
"করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে –
পাছে লোকে কিছু বলে।" এই লাইনদ্বয় হচ্ছে কামিনী রায়ের ‘পাছে লোকে কিছু বলে ’ কবিতা থেকে। 

• কামিনী রায়
- কামিনী রায় একজন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালে বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।  
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য 
- পৌরাণিকী 
- গুঞ্জন ,
- মাল্য ও নির্মাল্য 
- অশোকসঙ্গীত (সনেট সংগ্রহ) 
- অম্বা 
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ 
- ঠাকুরমার চিঠি 
- দীপ ও ধূপ 
- জীবনপথে 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫৪৩.
‘অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. নীলা চৌধুরী
  2. শেখ রেহেনা
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' - একটি প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ।
তার আরো কয়েকটি প্রবন্ধ হচ্ছে -
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি ইত্যাদি।

উপন্যাস :
- বিশ শতকের মেয়ে
- এক পথ দুই বাঁক
- কেয়া বন সঞ্চারিণী
- বহ্নিবলয়

'বিন্দু বিসর্গ' তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

উৎসঃ ড. সৌমিত্র শেখরের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪৪.
স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে কোন পত্রিকার সঙ্গে লেখক ও সম্পাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন?
  1. পরিচয়
  2. সাধনা
  3. ভারতী
  4. বালক
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।

- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে 'সখী সমিতি' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক 'জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে' ভূষিত হন।
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৫.
"প্রবাসের দিনলিপি" গ্রন্থের লেখিকা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• "প্রবাসের দিনলিপি":
- ঘাতক ক্যান্সার ব্যাধির সঙ্গে লড়তে গিয়ে জাহানারা ইমামকে প্রায় প্রতি বছরই যেতে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে। যখনি কোন উপসর্গ দেখা দেয় তখনি ডাক্তারের নির্দেশে তাকে ছুটে যেতে হয় সেখানে। এর আগে ক্যান্সারের সাথে বসবাস' বইতে জাহানারা ইমাম লিখেছেন কিভাবে এই ঘাতকের সঙ্গে তিনি যুদ্ধের সূচনা করেছেন। 'প্রবাসের দিনলিপি' সেই যুদ্ধেরই সম্প্রসারিত প্রেক্ষাপট।

- তবে এ বইতে তিনি শুধু নিজের কথাই লেখেন নি, লক্ষ লক্ষ আমেরিকান তরুণ তরুণী, শিশু-কিশাের কিভাবে লড়ছে। অন্য সব ঘাতক ব্যাধির সঙ্গে তারও অন্তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ এতে পাওয়া যাবে। যদিও দিনলিপির আঙ্গিকেই লেখা হয়েছে পুরাে বই, শুধুমাত্র দৈনন্দিন জীবনের কর্মপ্রবাহের বিবরণের ভেতর লেখক সীমাবদ্ধ থাকেন নি।

- একজন অনুসন্ধিৎসু লেখকের পক্ষে তা সম্ভবও নয়। স্বাভাবিক ভাবেই এই গ্রন্থে পরিবেশিত হয়েছে আমেরিকান সমাজ, নর-নারীর বিচিত্র সম্পর্ক, প্রবাসী বাঙালীদের জীবন এবং আরাে বহু কিছু। এসবই বর্ণিত হয়েছে উপন্যাসের মতাে চিত্তাকর্ষক এবং দিনলিপির নৈর্ব্যক্তিক ভঙ্গিতে যা এই গ্রন্থের আবেদনকে বহুমাত্রিক করেছে।

উৎস: "প্রবাসের দিনলিপি"।
৫৪৬.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) মতিচূর
  2. খ) সুলতানার স্বপ্ন
  3. গ) পদ্মগোখরা
  4. ঘ) অবরোধবাসিনী
ব্যাখ্যা
বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত - বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।
- রোকেয়ার তার নারীবাদী চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন মতিচূর প্রবন্ধসংগ্রহের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডে।
তার সৃজনশীল রচনার মধ্যে অন্যতম - সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৫), পদ্মরাগ (১৯২৪), অবরোধবাসিনী (১৯৩১) ইত্যাদি।
'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলামের গল্প।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৫৪৭.
'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছিলেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জহির রায়হান
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

সাঁঝের মায়া:
- সুফিয়া কামালের লেখা সাঁঝের মায়া একটি কাব্যগ্রন্থটি।
- এটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়
- সাঁঝের মায়া কাব্যগ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য,
- সুফিয়া কামাল, যাঁকে 'জননী সাহসিকা' নামে খ্যাতি প্রাপ্ত, মূলত একজন কবি ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের একজন কীর্তিসম্পন্ন কবি, লেখিকা এবং নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প 'সৈনিক বধূ' ১৯২৩ সালে রচিত এবং বরিশালের 'তরুণ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৪৮.
'আমি প্রবীণদের মহলে নবীন, নবীনদের মহলে প্রবীণ।' কে বলেছিলেন?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) আনিসুজ্জামান
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ বিনুর বই। তিনি এই গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন- 'আমি প্রবীণদের মহলে নবীন, নবীনদের মহলে প্রবীণ।' তাঁর রচিত উপন্যাস- অসমাপিকা, আগুন নিয়ে খেলা, পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫৪৯.
‘সুলতানার স্বপ্ন’– গ্রন্থটি কোন সাহিত্যিকের রচনা?
  1. ক) কবি সুফিয়া কামাল
  2. খ) রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
  3. গ) রাবেয়া খাতুন
  4. ঘ) সেলিনা হােসেন
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সৃজনশীল রচনার মধ্যে অন্যতম সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৫), পদ্মরাগ (১৯২৪), অবরোধবাসিনী (১৯৩১) ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৫৫০.
“বহ্নিবলয়” উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. নুরুল মোমেন
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

বহ্নিবলয় নীলিমা ইব্রাহিম কর্তৃক রচিত উপন্যাস।

 তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হল:
- বিশ শতকের মেয়ে
- এক পথ দুই বাক
- কেয়া বন সঞ্চারিণী

তাঁর রচিত নাটক:
- দুইয়ে দুইয়ে চার
- যে অরণ্যে আলো নেই
- সূর্যাস্তের পর

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

৫৫১.
‘একাত্তরের দিনগুলি’ কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. দিনলিপি
ব্যাখ্যা

'একাত্তরের দিনগুলি' একটি ডায়েরি/দিনলিপি। 

একাত্তরের দিনগুলি:
- জাহানারা ইমামের সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- এটি বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত।

জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪):
- জন্ম: ১৯২৯ সালের ৩ মে, অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে।
- পরিচিতি: শহীদ জননী
- তিনি ছিলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’ এর আহ্বায়ক এবং এ ভূমিকার জন্য ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক ডায়েরি গ্রন্থ: ‘একাত্তরের দিনগুলি’, যা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিহরণময় ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হিসেবে বিবেচিত।
- ১৯৮১ সালে মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন, আমেরিকার মিশিগান স্টেট, ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
- পরে তাঁর দেহ ঢাকায় এনে সমাহিত করা হয়।

উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থসমূহ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৫৫২.
নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  3. মেজদিদি
  4. ঘুমকাতুরে ঈশ্বর
ব্যাখ্যা

প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের বিখ্যাত উপন্যাস-
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
-কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

- অপরদিকে, 'মেজদিদি' হচ্ছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ

উৎসঃ
লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫৫৩.
বেগম রোকেয়া কখন এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৮৭০ সালে গাইবান্ধা জেলায়
  2. খ) ১৮৮১ সালে রংপুর জেলায়
  3. গ) ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায়
  4. ঘ) ১৮৭৯ সালে রংপুর জেলায়
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
বিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি নারীশিক্ষা বিশেষত মুসলিম নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।
এছাড়া তিনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং সরকারের নিকট নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী দাওয়া পেশ করেন।
বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালে কলকাতায় মারা যান।
তার জন্ম ও মৃত্যু তারিখ ৯ ডিসেম্বর।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

৫৫৪.
বেগম রোকেয়া রচিত 'অবরোধবাসিনী' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. ছোটগল্পের সংকলন
  3. গদ্যগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'।
- এই গ্রন্থে মোট ৪৭টি ঘটনা অনুগল্প আকারে লেখা হয়েছে।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

------------
তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচুর (প্রবন্ধ),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৫.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. পদ্মরাগ
  2. মতিচূর
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. অবরোধবাসিনী
ব্যাখ্যা
• 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 

------------------------
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ)
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৬.
'নিঃসঙ্গ পাইন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত। তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জাহানারা ইমাম লেখালেখিতে ব্যস্ত সময় কাটান এবং তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি এ সময়ে প্রকাশ পায়। গল্প, উপন্যাস ও দিনপঞ্জি জাতীয় রচনা মিলিয়ে তাঁর আরও কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: অন্য জীবন, বীরশ্রেষ্ঠ, জীবন মৃত্যু, চিরায়ত সাহিত্য, বুকের ভিতরে আগুন, নাটকের অবসান, দুই মেরু, নিঃসঙ্গ পাইন, নয় এ মধুর খেলা, ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস ও প্রবাসের দিনলিপি‌।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৫৫৭.
সুফিয়া কামাল রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. কেয়ার কাঁটা
  2. উদাত্ত পৃথিবী
  3. মায়া কাজল
  4. সাঁঝের মায়া
ব্যাখ্যা
• কেয়ার কাঁটা: 
- সুফিয়া কামালের শ্রেষ্ঠ একটি গল্পগ্রন্থ- কেয়ার কাঁটা।
--------------------- 
• সুফিয়া কামাল:

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৮.
সুফিয়া কামাল তাঁর কোন সংকলনটি বেগম রোকেয়াকে উৎসর্গ করেন?
  1. সাঁঝের মায়া
  2. মৃত্তিকার ঘ্রাণ
  3. মায়া কাজল
  4. মন ও জীবন
ব্যাখ্যা
• ১৯২৯ সালে সুফিয়া কামাল বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত মুসলিম মহিলা সংগঠন ‘আঞ্জুমান-ই-খাওয়াতিন-ই-ইসলাম’-এ যোগ দেন। এখানে নারীশিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারসহ নারীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।

• বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' (১৯৭০) শীর্ষক একটি সঙ্কলন উৎসর্গ করেন। তিনি ‘রোকেয়া সাখাওয়াত স্মৃতি কমিটি’ গঠনে সহায়তা করেন, যার প্রস্তাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হল ‘রোকেয়া’ তাঁর নামে করা হয়।

অন্যদিকে, 
- সুফিয়া কামালের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'। ১৯৮৪ সালে রুশ ভাষায় তাঁর সাঁঝের মায়া গ্রন্থটি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে।

• গল্প:
- কেয়ার কাঁটা।

• স্মৃতিকথা/ ডায়েরী:
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৫৯.
'ঘর মন জানালা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল জহির
  2. আহসান হাবিব
  3. রশীদ করীম
  4. দিলারা হাসেম
ব্যাখ্যা
• 'ঘর মন জানালা':
- 'ঘর মন জানালা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'দিলারা হাসেম'। 

- এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস।
- 'ঘর মন জানালা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• দিলারা হাসেম:
- দিলারা হাসেম একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী লেখক এবং বিখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- ১৯৩৬ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- মুরাল,
- শঙ্খ করাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬০.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক কে? 
  1. কামিনী রায় 
  2. চন্দ্রাবতী 
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
 - স্বর্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'। তাঁর দীপ নির্বাণ (১৮৭০) উপন্যাসটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ১৮৭৯ সালে গীতিনাটক বসন্ত উৎসব প্রকাশ করেন। সম্ভবত এটি ছিল বাংলায় (বাংলাদেশে) লিখিত প্রথম অপেরা।
- তিনি বাংলায় সর্বমোট ২৫টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬১.
কামিনী রায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মাল্য ও নির্মাল্য
  2. আলো ও ছায়া
  3. অশোকসঙ্গীত
  4. পৌরাণিকী
ব্যাখ্যা

• কামিনী রায়: 
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
- তিনি 'নারী শ্রম তদন্ত কমিশন' (১৯২২-২৩) এর সদস্য ছিলেন।
- তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে হাজারীবাগ, বিহারে মৃত্যুবরণ করেন।
- 'আলো ও ছায়া' (১৮৮৯): এটি তাঁর ১৫ বছর বয়সে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৬২.
'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত 'Lady Land' বা 'নারীস্থান' মূলত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
- তিনি ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬৩.
'নওল কিশোরের দরবারে' শিশুতোষ গল্পটি কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. সুফিয়া কামাল
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• 'নওল কিশোরের দরবারে' সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬৪.
সেলিনা হোসেন রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. কালো বরফ
  2. ময়ূরীর মুখ
  3. খোল করতাল
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা
• সেলিনা হোসেন রচিত গল্পগ্রন্থ - খোল করতাল

অন্যদিকে,
- 'দোজখের ওম' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ছোটগল্প সংকলন।
- সালেহা চৌধুরী রচিত উপন্যাস - ময়ূরীর মুখ।
- মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস - কালো বরফ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৫.
বাংলাদেশে লিখিত প্রথম অপেরা -
  1. বিচিত্রা
  2. স্বপ্নবাণী
  3. বসন্ত উৎসব
  4. মিলনরাত্রী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন স্বর্ণকুমারী দেবীর জন্ম ২৮ আগস্ট, ১৮৫৫ সালে। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’ (১৮৭৬)।
- এটি মূলত ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস। দ্বাদশ শতকে দিল্লি ও এর পার্শ্ববর্তী রাজাদের মধ্যে আত্মকলহ গৃহবিবাদ ও পররাজ্য দখলের প্রবণতা থেকে সৃষ্ট অনৈক্য এর বিষয়বস্তু। 
- ১৮৭৯ সালে তাঁর রচিত গীতিনাটক 'বসন্ত উৎসব' বাংলায় লিখিত প্রথম অপেরা।
- ৩ জুলাই, ১৯৭২ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ, 
- মেবার রাজ, 
- মালতী, 
- বিদ্রোহ, 
- বিচিত্রা, 
- স্বপ্নবাণী, 
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব, 
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা, 
- কবিতা ও গান।

উৎস:
১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
২.বাংলাপিডিয়া।
৫৬৬.
'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত ছিলেন কোন নারী লেখক?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. সেলিনা হোসেন 
  3. জাহানারা ইমাম
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত। তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।
- কর্ম জীবনে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- একাত্তরের দিনগুলি (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ)
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি। 

অন্যদিকে,
- 'জননী সাহসিকা' বলা হতো সুফিয়া কামালকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬৭.
মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাস-
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা

 • হাঙর নদী গ্রেনেড:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাসটি
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় ছিল- অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি ১৯৮০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৮৮ সালে ফিলিপস্‌ পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৪ সালে সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- যমুনা নদীর মুশায়রা ইত্যাদি।

উৎস: প্রথম আলো, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬৮.
’কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বেগম মাহবুবা
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জানাহারা ইমাম
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• ’কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।
- পঙ্‌ক্তিটি ’তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার অন্তর্গত।

• তাহারেই পড়ে মনে:

- কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে এবং প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়।
- কবিতার মূল বক্তব্য- কবিজীবনের খ্যাতির অন্তরালে বেদনাকে স্মরণ।
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার স্তবক সংখ্যা ৫টি এবং পঙ্‌তি সংখ্যা ৩০টি। 
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

সুফিয়া কামাল: 
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়। 
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। 
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়। 
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর, ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা। 
- সৈনিক বধূ।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে। 

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬৯.
'সাঁঝের মায়া' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. নুরজাহান বেগম
  4. রিজিয়া রহমান
ব্যাখ্যা

• 'সাঁঝের মায়া' সুফিয়া কামাল রচিত একটি কবিতা। কবিতাটি 'সাঁঝের মায়া' নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ:

- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
- ২৮টি কবিতার এই নাতিদীর্ঘ সঞ্চয়নটির অন্যতম গুণ হচ্ছে সুফিয়া কামালের ভবিষ্যৎ সাহিত্য রচনার ভিত্তি স্থাপনা, যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এক নারীর কণ্ঠস্বরে, সংস্কৃতির শিকড়ে তার গভীর অথচ গতিময় সঞ্চরণে এবং এক বৈশ্বিক, সামগ্রিক চেতনার পরিচয়ে।
- কবি কামা ইভানোভা কর্তৃক অনূদিত 'সাঁঝের মায়া' গ্রন্থটির রাশিয়ান অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে তদানিন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নে।

--------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়। সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'- এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।

৫৭০.
"হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?"
কহিলাম, "উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?"-পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের লেখক কে? 
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কুসুমকুমারী দাস 
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• কবিতা- তাহারেই পড়ে মনে।
কবি- সুফিয়া কামাল।

"হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?"
কহিলাম, "উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?"
কহিল সে কাছে সরে আসি-
"কুহেলি উত্তরূ তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে! তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।"

- এই পঙ্‌ক্তিদ্বয় সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার অংশ।
- কবিতার মূলভাব হলো প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক। 
- স্বামীর মৃত্যুর পর কবির মনে এমন দুঃখ জমে আছে যে বসন্তের আগমনও তাকে আনন্দ দিতে পারে না।
- প্রকৃতির সৌন্দর্য তার কাছে অর্থহীন হয়ে ওঠে।
- এই কবিতায় কবির অন্তরের বিষাদ, শূন্যতা ও একাকীত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
- সংলাপধর্মী রীতিতে কবি নিজের চাপা কষ্ট প্রকাশ করেছেন;
- যা প্রিয়জন হারানোর মানবিক বেদনা ও জীবনের চিরন্তন দুঃখকে সহজভাবে তুলে ধরে।
------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’। 
- স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে কবির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫৭১.
'অবরোধবাসিনী' প্রবন্ধটির রচয়িতা-
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন(১৮৮০-১৯৩২) রচিত উপন্যাস পদ্মরাগ (১৯২৪)। তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধঃ মতিচুর, অবরোধবাসিনী ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ বাংলা ১ম পত্র নবম দশম শ্রেণির বোর্ড বই।
৫৭২.
'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেন রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• 'উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ:
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের লেখা প্রথম গল্পগ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল, খেয়াঘাট ইত্যাদি গল্প সংকলিত হয়েছে গ্রন্থটিতে।
- বিচিত্র বিষয় নিয়ে প্রথম গল্পগ্রন্থেই সেলিনা হোসেন স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দেন।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি তাঁর গল্পের বিষয়।

---------------------
• সেলিনা হোসেন: 
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

• তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৭৩.
'সঙ্গীতসার' ও 'সঙ্গীতলহরী' - কাব্যদুটি কার রচনা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  4. ঘ) লালন শাহ
ব্যাখ্যা
নবাব ফয়জুন্নেসা (১৮৩৪-১৯০৩):
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
-  বান্ধব,  ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু,  সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কার স্বরূপ ব্রিটিশ সরকার ১৮৮৯ সালে তাঁকে 'নওয়াব' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
--------------
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী - নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটা?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. মাটি আর অশ্রু
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড 
  4. সারেং বউ
ব্যাখ্যা

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।
---------------
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

• ‘মাটি আর অশ্রু’ সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

'সারেং বউ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বউ। তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৭৫.
কোনটি সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গল্প?
  1. ওটেন সাহেবের বাংলো
  2. ক্ষুদে সোশালিস্ট
  3. নওল কিশোরের দরবারে
  4. ডানপিটে শওকত
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

---------------------
অন্যদিকে,
• ‘ওটেন সাহেবের বাংলো’ ও ‘ক্ষুদে সোশালিস্ট’ শওকত ওসমান রচিত একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
• ‘ডানপিটে শওকত’ আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৬.
'কেয়ার কাঁটা' সুফিয়া কামাল রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ 
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা

• 'কেয়ার কাঁটা' হলো বাংলাদেশের প্রথিতযশা সাহিত্যিক বেগম সুফিয়া কামালের একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ যা ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। এটি পনেরোটি গদ্য নিয়ে গঠিত, যেখানে প্রেম, সংকট, ও নারীদের বাস্তবতার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 

---------------------
• সুফিয়া কামাল:

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কেয়ার কাঁটা' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৭৭.
‘উদাত্ত পৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. সুফিয়া কামাল
  3. আহসান হাবীব
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'উদাত্ত পৃথিবী' কাব্য গ্রন্থের রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।
- এটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------
• সুফিয়া কামাল:

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৮.
সুফিয়া কামালের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম কী?
  1. সাঁঝের মায়া
  2. তাহারেই পড়ে মনে
  3. জন্মেছি এই দেশে
  4. বাসন্তী
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন। তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।

সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৯.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. মোর যাদুদের সমাধি পরে
  2. কালের ধুলোয় লেখা
  3. একাত্তরের দশ মাস
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

• "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কবি সুফিয়া কামালের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের কবিতা স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে, 
---------------------
• 'কালের ধুলোয় লেখা' আত্মস্মৃতি:
- 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
- এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
- বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

• 'একাত্তরের দশ মাস':
- 'একাত্তরের দশ মাস' রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী রচিত দিনলিপি। 
- লেখক রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী তার নর্ব্যত্তিক দৃষ্টিভংগীতে নির্মোহ হয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দিনলিপি নির্মাণ করেছেন। তার এ গ্রন্থে ১৯৭১'এর মার্চ থেকে ১৯৭২ এর ১০ই জানুয়ারী পর্যন্ত ঘটনা কালানুক্রমিক বর্ণিত ।

• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাটক:
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক। এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।
- কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ এবং 'একাত্তরের দশ মাস'। 

৫৮০.
স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের-
  1. ভগ্নী
  2. ভ্রাতুষ্পুত্রী
  3. বৌদি
  4. কাকি
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮১.
সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. নারীর মূল্য 
  2. স্বদেশ পরবাসী
  3. তরুণের বিদ্রোহ 
  4. স্বদেশ ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা

সেলিনা হোসের রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - স্বদেশ পরবাসী।

সেলিনা হোসেন:

- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ-
১. নারীর মূল্য ।
২.তরুণের বিদ্রোহ 
৩. স্বদেশ ও সাহিত্য

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৮২.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটক -
  1. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  2. এক পথ দুই বাঁক
  3. বিশ শতকের মেয়ে
  4. যে অরণ্যে আলো নেই,
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন

তাঁর রচিত নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. মাটি আর অশ্রু
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. সারেং বউ
ব্যাখ্যা
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। তারমধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
৫৮৪.
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
  2. যাপিত জীবন
  3. গায়ত্রী সন্ধ্যা
  4.  উৎস থেকে নিরন্তর
ব্যাখ্যা

• 'উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ:
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি বিষয়বস্তুর পেক্ষাপটে গল্পগুলো রচিত।
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল-ইত্যাদি গল্প সংকলিত হয়েছে এই গল্পগ্রন্থে।

--------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক। সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিন্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
-দীপান্বিতা ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি; 'উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৮৫.
'আদর্শ ছেলে' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সুকুমার রায়
  3. জসিম উদ্দিন
  4. কুসুমকুমারী দাস
ব্যাখ্যা

• কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা আদর্শ ছেলে।
- তাঁর রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।

• কুসুমকুমারী দাশ: 
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল'। 
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।

আদর্শ ছেলে
কুসুমকুমারী দাশ। 

আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই তার পণ।
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?
সে ছেলে কে চাই বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখে জল, মাথা ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা 'মানুষ' হলে দেশের কল্যাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও আমার বাংলা বই তৃতীয়-শ্রেণি।

৫৮৬.
‘বিদায় দে মা ঘুরে আসি‘ শিশু সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. জাহানারা ইমাম
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
⇒ জাহানারা ইমাম:
• জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪)  শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
• অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
• ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

• তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য:
- গজকচ্ছপ, 
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি। 

•অনুবাদ গ্রন্থ:
- জাগ্রত ধরিত্রী, 
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর, 
- নদীর তীরে ফুলের মেলা।

• মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থ:
- বীরশ্রেষ্ঠ, 
- একাত্তরের দিনগুলি।

• অন্যান্য:
- জীবন মৃত্যু, 
- নিঃসঙ্গ পাইন, 
- বুকের ভিতরে আগুন, 
- নাটকের অবসান, 
- দুই মেরু, 
- প্রবাসের দিনগুলি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৮৭.
সেলিনা হোসেনের ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. বায়ান্নর দিনগুলো
  3. আর্তনাদ
  4. যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

অন্যদিকে,
• 'আরেক ফাল্গুন' জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।

• জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'বায়ান্নর দিনগুলো' তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (২০১২) গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনের নানা বিষয় এবং বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ রচনায় ফুটে উঠেছে।

• ‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
৫৮৮.
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি সুফিয়া কামালের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মায়া কাজল
  2. সাঁঝের মায়া
  3. উদাত্ত পৃথিবী
  4. মন ও জীবন
ব্যাখ্যা
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা:
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া' থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এই কবিতাটি প্রথম ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।

-----------------
সুফিয়া কামাল রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং  'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।
৫৮৯.
বেগম রোকেয়ার রচিত প্রথম সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. ক) পিপাসা
  2. খ) সৈনিক বধু
  3. গ) মায়া কানন
  4. ঘ) পদ্মরাগ
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়ার সাহিত্যকর্ম:
- তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায়।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়।
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন তাঁকে উৎসাহিত করেন স্বাধীন মতামত প্রকাশের জন্য।
- সওগাতের সঙ্গে বেগম রোকেয়ার সম্পৃক্ততা ছিল নিবিড়।
- এ পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার (অগ্রহায়ণ ১৩২৫) প্রথম পৃষ্ঠায় রোকেয়ার ‘সওগাত’ কবিতাটি ছাপা হয়।
- মতিচূর ২য় খন্ডে আছে ‘সৌরজগৎ’

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৯০.
'হাঙর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সেলিনা হোসেন
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4.  সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড:
- সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• সেলিনা হোসেন:

- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯১.
মুসলমান নারী কর্তৃক লিখিত বাংলা সাহিত্যকর্ম ‘রূপজালাল’–এর লেখক–
  1. বেগম রোকেয়া
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
  3. রহিমুন্নিসা
  4. শামসুর নাহার 
ব্যাখ্যা

• 'রূপজালাল' এর পরিচিতি:
- গদ্যে-পদ্যে নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে। 
- এটি ১৮৭৬ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সম্ভবত বাংলার একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক প্রথম রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যকর্ম।
- ফয়জুন্নেসার নিজের একটি লাইব্রেরি ছিল। সেখানে তিনি বিভিন্ন সাহিত্য ও ধর্মবিষয়ক গ্রন্থাদি পাঠ করতেন। তাঁর স্বোপার্জিত জ্ঞানের প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উক্ত প্রতীকাশ্রয়ী গ্রন্থটিতে।
- পুথি ও জারিগানের মিশ্র ধারায় লিখিত এ গ্রন্থটি শুরু হয়েছে আল্লাহর প্রশংসা এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।
- সমকালীন বাংলায় মুসলমানদের সাহিত্যচর্চার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ফয়জুন্নেসা তাঁর লেখায় অনেক আরবি, ফার্সি ও উর্দু শব্দ ব্যবহার করেছেন।

------------------
নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী:
- নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন। মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।

- নবাব ফয়জুন্নেসা আলোচিত আত্মজীবনীমূলক রচনা রূপজালাল।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়। উল্লেখ্য যে, নবাব ফয়জুন্নেসা এমন এক সময়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা করেন যখন অভিজাত মুসলমানদের মধ্যে এই ভাষা সাধারণত ব্যবহৃত হতো না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৯২.
'শাহনামা' মৌলিক গ্রন্থটি কার?
  1. ক) মালিক জয়সী
  2. খ) ফেরদৌসী
  3. গ) সৈয়দ হামজা
  4. ঘ) বাহরাম খাঁ
ব্যাখ্যা
শাহনামা:
- শাহনামা পারস্যের (বর্তমান ইরান) কবি ফেরদৌসী দ্বারা লিখিত একটি দীর্ঘ মহাকাব্য।
- এটি একই সাথে ইরানের ও সারা বিশ্বের ফার্সি ভাষাভাষী লোকদের জন্য জাতীয় মহাকাব্য।
- ফেরদৌসী ৯৭৭ থেকে ১০১০ সালের মধ্যে ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে এই মহাকাব্য রচনা করেন।
- শাহনামায় প্রায় ষাট হাজার শ্লোক রয়েছে।
- ইরানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে আনা হয়েছে এই মহাকাব্যে। 
- এটিকে বলা হয় ইরানের জাতীয় মহাকাব্য।
- ভারতীয় উপমহাদেশে এটির একটি সংকলন প্রকাশিত হয় ১৮২৯ সালে। 
- প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর এই মহাকাব্য থেকে কিছু পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেছিলেন।
- বাংলার নবাব আলীবর্দী খাঁও শাহনামা পড়ে উদ্দীপ্ত হয়েছিলেন।

উৎস: কালের কন্ঠ, ৩১ জুলাই, ২০১৫, ‘শাহনামা' গ্রন্থ- কবি ফেরদৌসী। 
৫৯৩.
’উদাত্ত পৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নিহারীকা দেবী
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
-  সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯৪.
"পোকামাকড়ের ঘরবসতি" উপন্যাসের লেখক কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সেলিম আল দীন
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সানাউল হক 
ব্যাখ্যা

"পোকামাকড়ের ঘরবসতি" উপন্যাসের লেখক হচ্ছে সেলিনা হোসেন। 

পোকামাকড়ের ঘরবসতি
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত একটি উপন্যাস।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে অবস্থিত শাহপরি দ্বীপের মানুষের জীবনকে, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ করে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো মালেক, সাফিয়া এবং তোরাব আলী।

সেলিনা হোসেন
- ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী এবং তাঁর উপন্যাসের প্রধান বিষয় হলো অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- সাহিত্য ও কলার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্ পুরস্কার (১৯৮৮) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেছেন।

উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫৯৫.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) মেবার রাজ
  2. খ) যুগান্তর
  3. গ) দীপনির্বাণ
  4. ঘ) ছিন্ন মুকুল
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক রবীন্দ্রনাথের ভগ্নি স্বর্ণকুমারী দেবী। তার উপন্যাসঃ দীপনির্বাণ, মেবার রাজ, ছিন্ন মুকুল, মালতী, হুগলির ইমাম বাড়ি, বিদ্রোহ, বিচিত্রা, মিলনরাত্রি ইত্যাদি। তার রচিত নাটক - বসন্ত উৎসব, বিবাহ উৎসব, দেবকৌতুক, কনে বদল, রাজকন্যা, যুগান্তর, দিব্যকমল ইত্যাদি। তিনি ভারতী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন (১৮৮৪-১৮৯৪)। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৫৯৬.
'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতা পাঠকের মনে কোন আচরণের উদ্রেক ঘটায়?
  1. ক) পরোপকারিতা
  2. খ) সাহসিকতা
  3. গ) ভয়হীনতা
  4. ঘ) সংকোচ
ব্যাখ্যা
'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতাটি কামিনী রায় রচিত ‘আলাে ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ নেওয়া হয়েছে।
- কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।
- অর্থাৎ এই কবিতা পাঠে মানুষের মনে অন্যের সমালোচনার কারণে যে "সংকোচ" তাঁর উদ্রেক ঘটে।
- দৃঢ় মনােবল নিয়ে লােকলজ্জা ও সমালােচনাকে উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করতে হলে ভয়-ভীতি সংকোচ উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে।

কামিনী রায় রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য (১৮৯১),
- পৌরাণিকী (১৮৯৭),
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য, ১৯০৫),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ, ১৯০৭),
- মাল্য ও নির্মাল্য (১৯১৩),
- অশোকসঙ্গীত (সনেট, ১৯১৪),
- অম্বা (নাটক, ১৯১৫),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮),
- ঠাকুরমার চিঠি (১৯২৪),
- দীপ ও ধূপ (১৯২৯),
- জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০)।

উৎস: সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৭.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. সাঁঝের মায়া
  2. বলাকা
  3. খেয়া
  4. চিত্রা
ব্যাখ্যা
• সাঁঝের মায়া:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 
  
- ২৮টি কবিতার এই নাতিদীর্ঘ সঞ্চয়নটির অন্যতম গুণ হচ্ছে সুফিয়া কামালের ভবিষ্যৎ সাহিত্য রচনার ভিত্তি স্থাপনা, যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এক নারীর কণ্ঠস্বরে, সংস্কৃতির শিকড়ে তার গভীর অথচ গতিময় সঞ্চরণে এবং এক বৈশ্বিক, সামগ্রিক চেতনার পরিচয়ে ।
- কবি কামা ইভানোভা কর্তৃক অনূদিত 'সাঁঝের মায়া' গ্রন্থটির রাশিয়ান অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে।

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- মানসী,
- খেয়া,
- সোনার তরী,
- চিত্রা, 
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।
 
৫৯৮.
বেগম সুফিয়া কামাল সম্পাদিত পত্রিকার নাম কোনটি?
  1. কোহিনূর
  2. তত্ত্ববোধিনী 
  3. বেগম
  4. সওগত
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামাল: 
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়। 
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। 
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়। 
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর, ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা। 
- সৈনিক বধূ।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে। 

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল। 

অন্যদিকে,
সওগাত (মাসিক) পত্রিকার সম্পাদক- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন।
তত্ত্ববোধিনী  পত্রিকার সম্পাদক- অক্ষয়কুমার দত্ত।
কোহিনুর পত্রিকার সম্পাদক-  এর সম্পাদক ছিলেন এ.কে.এম মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৯৯.
'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।'- পঙ্‌ক্তিগুলো কার রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।'- পঙ্‌ক্তিগুলো কামিনী রায়ের 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত। 

- কামিনী রায়ের “সুখ” কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আলো ও ছায়া” (১৮৮৯) থেকে সংকলিত। এই কবিতায় কবি মানুষের জীবনে সুখের প্রকৃত স্বরূপ ও তার অর্জনের পথ নিয়ে গভীর দার্শনিক ভাবনা প্রকাশ করেছেন।

----------------
কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৬০০.
কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ কোনটি?
  1. পৌরাণিকী
  2. অশোক সংগীত
  3. নির্মাল্য
  4. অম্বা
ব্যাখ্যা
• 'অশোক সংগীত' কামিনী রায় রচিত - সনেট সংগ্রহ।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত।

• কামিনী রায়:

- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।