বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক

মোট প্রশ্ন৬৪০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৬৪০

৪০১.
'একাত্তরের ডায়েরী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. স্বদেশ রায়
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের ডায়েরী' সুফিয়া কামাল রচিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথামূলক রচনা।

সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

তার রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০২.
‘পদ্মরাগ’ - উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. কাজী ইমদাদুল হক 
  2. আবুল ফজল 
  3. রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
  4. সেলিনা হােসেন
ব্যাখ্যা

'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- এটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪০৩.
‘পদ্মরাগ’ কোন লেখকের রচিত উপন্যাস?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

পদ্মরাগ (উপন্যাস)
- বেগম রোকেয়া সাখওয়াত রচিত উপন্যাস।
- প্রথমত কোনো মুসলিম রচিত উপন্যাস
-  দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না;
- তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪০৪.
’রূপজালাল’ গ্রন্থটি কার আত্মজীবনীমূলক রচনা?
  1. নুরুল মোমেন
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. নীলিমা ইব্রাহীম
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।

• নওয়াব ফয়জুন্নেসা:

- তিনি একজন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরি ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দু খানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪০৫.
‘উৎস থেকে নিরন্তর’ সেলিনা হোসেন রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• উৎস থেকে নিরন্তর:
- ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ সেলিনা হোসেনের লেখা প্রথম গল্পগ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল, খেয়াঘাট ইত্যাদি গল্প সংকলিত হয়েছে গ্রন্থটিতে।
- বিচিত্র বিষয় নিয়ে প্রথম গল্পগ্রন্থেই সেলিনা হোসেন স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দেন।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি তাঁর গল্পের বিষয়।

--------------------
• সেলিনা হোসেন:

- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০৬.
'জলোচ্ছ্বাস' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

• 'জলোচ্ছ্বাস' উপন্যাসের রচয়িতা- 'সেলিনা হোসেন'। 

• সেলিনা হোসেন: 
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

• তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪০৭.
নিচের কোন নারী লেখক বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. আঁখি মজুমদার
  4. নাদিরা মজুমদার
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪০৮.
সুফিয়া কামালের কোন কবিতায় মাতৃভূমির প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য মহিলাদের আহবান জানান?
  1. ক) তাহারেই পড়ে মনে
  2. খ) জাগো তবে অরণ্য কন্যারা
  3. গ) বেণীবিন্যাস সময় তো আর নেই
  4. ঘ) জন্মেছি এই দেশে
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামালের তাঁর কবিতায় বেণীবিন্যাস সময় তো আর নেই কবিতায় মাতৃভূমির প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য মহিলাদের আহবান জানান।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সুফিয়া কামাল সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। শুধু তা-ই নয়, পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর দমননীতির অঙ্গ হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে তিনি তার বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানান। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষে তিনি ‘সাংস্কৃতিক স্বাধিকার আন্দোলন পরিচালনা করেন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম পরিষদ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।

সুফিয়া, তাঁর স্বামী ও ছেলে দেশের মধ্যেই থেকে যান মুক্তিবাহিনীকে সাহস ও শক্তি জোগানোর জন্য এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন খবরাখবর সরবরাহের জন্য। যুদ্ধকালীন তিনি একাত্তরের ডায়েরী নামে একটি দিনলিপি রচনা করেন এবং এ সময়ে লেখা তাঁর কবিতাগুলি পরবর্তীকালে মোর যাদুদের সমাধি পরে নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলিতে তিনি বাঙালিদের ওপর পাকবাহিনীর নৃশংসতা বর্ণনা করেন এবং দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেন। এ সময় রচিত বেণীবিন্যাস সময় তো আর নেই কবিতায় মাতৃভূমির প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি মহিলাদেরও আহবান জানান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৪০৯.
'সভ্যতা' ও 'সুখ' অনুবাদগ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) লুৎফর রহমান
  2. খ) মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  3. গ) মীর মোশারফ হোসেন
  4. ঘ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম  নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের দৈন্য’, ‘আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী’ ও ‘মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা’ প্রবন্ধ যথাক্রমে সাহিত্য সমাজের পঞ্চম (১৯৩১), ষষ্ঠ (১৯৩২) ও অষ্টম (১৯৩৪) বার্ষিক সম্মেলনে পঠিত হয়। এছাড়া তাঁর ‘রবীন্দ্রনাথ ও বৈরাগ্যবিলাস’ প্রবন্ধটি সমাজের মুখপত্র শিখার পঞ্চম বর্ষে প্রকাশিত হয়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।
- সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ 'সুখ' (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং তৃতীয় গ্রন্থ 'সভ্যতা' (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া.

৪১০.
"হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, 
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?" - কবিতাংশটুকু কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অভিযাত্রিক
  2. সাঁঝের মায়া
  3. ঝরা পালক
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

“হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, 
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা 'সুফিয়া কামাল'। এটি তাঁর "তাহারেই পড়ে মনে" কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। "তাহারেই মনে পড়ে" কবিতাটি বেগম সুফিয়া কামাল রচিত 'সাঁঝের মায়া' নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

অন্যদিকে,
- 'ঝরা পালক' জীবনানন্দ দাশের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'রূপসী বাংলা' বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের সর্বাধিক জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪১১.
জাহানারা ইমাম রচিত অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. গজকচ্ছপ
  2. নদীর তীরে ফুলের মেলা
  3. বিদায় দে মা ঘুরে আসি
  4. সাতটি তারার ঝিকিমিকি
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম রচিত অনুবাদ গ্রন্থ - নদীর তীরে ফুলের মেলা
- এটি ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।

জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি

তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- নদীর তীরে ফুলের মেলা,
- জাগ্রত ধরিত্রী,
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪১২.
সুফিয়া কামাল রচিত প্রথম গল্প কোনটি?
  1. কেয়ার কাঁটা
  2. অভিযাত্রিক
  3. সৈনিক বধূ
  4. মৃত্তিকার ঘ্রাণ
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন।
- সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়াকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে মৃত্তিকার ঘ্রাণ (১৯৭০) শীর্ষক একটি সঙ্কলন উৎসর্গ করেন।

তাঁর প্রথম রচনাগুলো-
- প্রথম কবিতা বাসন্তী; এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ- সাঁঝের মায়া; এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে এবং এর মুখবন্ধ লিখেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
- প্রথম গল্প- সৈনিক বধূ; এটি বরিশালের 'তরুণ' পত্রিকায় ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• এছাড়াও, তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সাঁঝের মায়া, 
- মায়া কাজল, 
- মন ও জীবন, 
- প্রশস্তি ও প্রার্থনা, 
- উদাত্ত পৃথিবী, 
- দিওয়ান,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ,
- মোর জাদুদের সমাধি পরে। 

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা। 

• ভ্রমনকাহিনি:
- সোভিয়েতে দিনগুলি। 

• স্মৃতিকথা:
- একাত্তরের ডায়েরি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪১৩.
'অশোক সংগীত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. আবুল ফজল
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• অশোক সংগীত:
- 'অশোক সংগীত' কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত।

কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর.
৪১৪.
নীলিমা ইব্রাহিমের রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) সূর্যাস্তের পর
  2. খ) রমনা পার্কে
  3. গ) দুয়ে দুয়ে চার
  4. ঘ) রোদ জ্বলা বিকেল
ব্যাখ্যা
আমি বীরাঙ্গনা বলছি - প্রবন্ধ গবেষনা গ্রন্থ, রমনা পার্কে - গল্প। নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস - বিশ শতকের মেয়ে, এক পথ দুই বাঁক, কেয়া বন সঞ্চারিণী, বহ্নিবলয়। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৫.
সেলিনা হোসেনের কোন উপন্যাসটি শাহপরীর দ্বীপের মাঝিদের জীবনকাহিনি নিয়ে রচিত?
  1. নীল ময়ূরের যৌবন
  2. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
  3. যাপিত জীবন
  4. হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
• শাহপরীর দ্বীপের মাঝিদের জীবনকাহিনী নিয়ে রচিত উপন্যাস — পোকামাকড়ের ঘরবসতি। 
-------------------------
• 'পোকামাকরের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস। 
- বংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরিদ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রাম জীবনের বাস্তব রূপায়ণ ঘটেছে এই উপন্যাসে।
 চরিত্র:
- মালেক, সাফিয়া। 
------------------- 
সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাশিল্পী। 
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় ছিল- অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি ১৯৮০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৮৮ সালে ফিলিপস্‌ পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৪ সালে সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- যমুনা নদীর মুশায়রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৬.
প্রথম সনেট রচয়িতা মুসলিম বাঙালী মহিলা কবি কে?
  1. কাজী ফজিলাতুন্নেছা
  2. মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা
  3. বেগম সুফিয়া কামাল
  4. ফেরদৌসি বেগম
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা।

• বাংলা সাহিত্যে প্রথম সনেট রচয়িতা মুসলিম বাঙালি মহিলা কবি হলেন মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা।

‘মন ও মৃত্তিকা’ কাব্যের কিছু কিছু কবিতায় এ প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। ‘প্রেম প্রকৃতি ও বিরহের বেদনা বিধুর উপলব্ধি তাঁর সনেট কবিতার উপজীব্য হিসেবে মূর্ত হয়ে উঠেছে। প্রকৃত সনেট বিবেচনায় তাঁর সনেট রচনাগুলোর শৈল্পিক শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয় এবং চৌদ্দমাত্রার চৌদ্দ চরণের আঙ্গিকে কেবল গদ্য কবিতার ঢঙে সনেট রচনায় প্রয়াসও পরিলক্ষিত হয়েছে:
গ্রীষ্মের দহন জ্বালা আষাঢ়ের ছায়ায়
ঘুমের আমেজ আনে শাল তাল পিয়ালের বনে
সিকৃত শ্যামল দুর্ব্বা বায়ু বহে গভীর স্বপনে
ঝরঝর বারিধারা অবিরাম দু’কূল ভাসায়।
[“তৃষ্ণা” ‘মন ও মৃত্তিকা’]

অন্যান্য অপশনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
ক) কাজী ফজিলাতুন্নেছা – প্রথম মুসলিম বাঙালি মহিলা স্নাতক।
গ) বেগম সুফিয়া কামাল – বিখ্যাত কবি, কিন্তু তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ (সাঁঝের মায়া) ১৯৩৮ সালে, এবং তাতে সনেট ছিল না।
ঘ) ফেরদৌসি বেগম – কবি, কিন্তু সনেট রচনায় অগ্রণী নন।

সুতরাং সঠিক উত্তর: মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা রিপোর্ট;লিংক।

৪১৭.
সুফিয়া কামালের প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
  1. মন ও জীবন
  2. সাঁঝের মায়া
  3. মায়া কাজল
  4. উদাত্ত পৃথিবী
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।-
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'
- তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে।

• গল্প:
- কেয়ার কাঁটা।

• আত্মজীবনী:
- একালে আমাদের কাল।

• স্মৃতিকথা/ ডায়েরী:
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪১৮.
‘কেয়ার কাঁটা’ সুফিয়া কামাল রচিত-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. ভ্রমণ কাহিনী
  4. স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা

'কেয়ার কাঁটা' - সুফিয়া কামালের একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪১৯.
'বিশ শতকের মেয়ে' কোন ধরণের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'বিশ শতকের মেয়ে' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত - উপন্যাস।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিমের জন্ম ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে।
- তিনি বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।
- মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪২০.
'অবরোধবাসিনী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মিসেস আর.এস হোসেন
  2. খ) নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
'অবরোধবাসিনী' গ্রন্থের রচয়িতা বেগম রোকেয়া। 
- মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৮ সালে। 
- সমকালীন সাময়িক পত্রে মিসেস আর.এস হোসেন নামে তাঁর রচনা প্রকাশিত হতো।
- মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। 
- বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায়।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়।
- - নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী, নবপ্রভা, মহিলা, ভারতমহিলা, আল-এসলাম, নওরোজ, মাহে নও, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, The Mussalman, Indian Ladies Magazine  প্রভৃতি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন।

- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream  (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪২১.
জাহানারা ইমাম রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. গজকচ্ছপ
  2. তেপান্তরের ছোট্ট শহর
  3. বিদায় দে মা ঘুরে আসি
  4. সাতটি তারার ঝিকিমিকি
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ নয় - তেপান্তরের ছোট্ট শহর
- এটি তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ।
- এটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়।

জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি

তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- নদীর তীরে ফুলের মেলা,
- জাগ্রত ধরিত্রী,
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪২২.
বেগম রোকেয়ার 'অবরোধবাসিনী' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্য
  2. গদ্যগ্রন্থ
  3. ছোটগল্পের সংকলন
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'।
- এই গ্রন্থে মোট ৪৭টি ঘটনা অনুগল্প আকারে লেখা হয়েছে।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

------------
তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচুর (প্রবন্ধ),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৪২৩.
’বহ্নিবলয়’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• ’বহ্নিবলয়’ উপন্যাসটির রচয়িতা- নীলিমা ইব্রাহিম।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

 তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪২৪.
তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত সেলিনা হোসেনের উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  2. খ) পোকা মাকড়ের ঘরবসতি
  3. গ) যাপিত জীবন
  4. ঘ) কাঁটাতারে প্রজাপতি
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ জলোচ্ছ্বাস, হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত), যাপিত জীবন (৪৭ থেকে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনা অবলম্বনে রচিত), পোকামাকড়ের ঘরবসতি (শাহ পরীর দ্বীপের মানুষদের নিয়ে লেখা) ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৪২৫.
নিচের কোনটি রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. একাত্তরের ঢাকা 
  2. ফেরারী সূর্য
  3. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  4. নীল দংশন 
ব্যাখ্যা

• 'ফেরারী সূর্য' উপন্যাস:
- "ফেরারী সূর্য" হলো বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখিকা রাবেয়া খাতুন রচিত একটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। যা ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল.
- ফেরারী সূর্য বইয়ের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, উপন্যাসের ব্যাপ্তিঃ '১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত'। আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরো নয় মাসের অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের যাপিত জীবনের প্রতিচিত্র তুলে ধরেছেন রাবেয়া খাতুন।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
কাহিনির পুরোভাগ আবর্তিত হয়েছে করিম সাহেব নামক এক সরকারি চাকুরিজীবীর পরিবারকে ঘিরে। তাঁর বড় ছেলেও সরকারি চাকরিজীবী। শুরুতে যে থাকে পাকিস্তানের অন্ধভক্ত। একসময় তার চক্ষু খুলে যায়। পরিবারের ছোট ছেলে আবেদ, সারাদিন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যস্ত। বড়ভাইয়ের সাথে প্রায়শই তার কথা কাটাকাটি হয়। আবেদের বোন জাকিয়ার স্বামী রকীব, ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তার। গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করায় তাকে অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। শেষ পর্যন্ত বিজয়ের প্রাক্কালে অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের মত তাকেও বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্য করে পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসররা। পরিবারের মেঝোছেলে মুক্তিযোদ্ধা আশেক, উপন্যাসের নায়ক সে-ই। শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলোতে আশেক-রাশার প্রেমের উপাখ্যান দিয়েই সাজানো হয়েছে ফেরারী সূর্যের আপাদমস্তক কাহিনি।

অন্যদিকে, 
• সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সংকলন গ্রন্থ।
• সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'নীল দংশন' লিখেছেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস।

উৎস: 'ফেরারী সূর্য' উপন্যাস রাবেয়া খাতুন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪২৬.
বেগম রোকেয়ার 'মতিচুর' প্রবন্ধগ্রন্থটি কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. ৭টি
  2. ৬টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
'মতিচুর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচুর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচুর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই। 'মতিচুর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- এই গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে ১০টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
• Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
• পদ্মরাগ (উপন্যাস),
• অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪২৭.
'একাত্তরের দিনগুলি' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. দিনপঞ্জি
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের দিনগুলি':
- জাহানারা ইমাম রচিত 'একাত্তরের দিনগুলি' শীর্ষক দিনপঞ্জির আকারে রচিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন দিনগুলিতে হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার কথা এবং জনজীবনের আতঙ্ক, দুর্ভোগ, আত্মত্যাগের কথা লেখক তাঁর এই রচনাটিতে অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় উপস্থাপন করেছেন।

--------------
জাহানারা ইমাম রচিত উল্লেখযোগ্য রচনা:
• শিশুসাহিত্য:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি। 

• অনুবাদ:
- জাগ্রত ধরিত্রী,
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর,
- নদীর তীরে ফুলের মালা। 

• স্মৃতিকথা:
- একাত্তরের দিনগুলি,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৮.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. মালতী
  2. স্বপ্নবাণী
  3. দীপনির্বাণ
  4. বিচিত্রা
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

• দীপনির্বাণ:
- স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস হচ্ছে ‘দীপনির্বাণ’।
- এই উপন্যাস ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি ইতিহাসভিত্তিক রচনা।
- দীপনির্বাণ ছিল জাতীয়তাবাদী ভাবে অনুপ্রাণিত এক উপন্যাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪২৯.
'জলোচ্ছ্বাস' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'জলোচ্ছ্বাস' উপন্যাসের রচয়িতা- 'সেলিনা হোসেন'। 

• সেলিনা হোসেন: 
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

• তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩০.
আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।- কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) নীলিমা ইব্রাহিম
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।- পঙক্তিগুলো কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার।

• 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতাটি লিখেছেন: 'কামিনী রায়' 
 - কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।

কামিনী রায়: 
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালে বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- আলো ও ছায়া, 
- নির্মাল্য 
- পৌরাণিকী 
- গুঞ্জন ,
- মাল্য ও নির্মাল্য 
- অশোকসঙ্গীত 
- অম্বা 
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ 
- ঠাকুরমার চিঠি 
- দীপ ও ধূপ 
- জীবনপথে 

পাছে লোকে কিছু বলে
        কামিনী রায় 

করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,-
পাছে লোকে কিছু বলে।

আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।

হৃদয়ে বুদবুদ মত
উঠে চিন্তা শুভ্র কত,
মিশে যায় হৃদয়ের তলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

কাঁদে প্রাণ যবে আঁখি
সযতনে শুকায়ে রাখি;
নিরমল নয়নের জলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

উৎস: সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৩১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি কে?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. চন্দ্রাবতী
  3. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

চন্দ্রাবতী:
- মধ্যযুগ তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী।
- চন্দ্রাবতী পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে। তিনিই মহিলা কবিদের মধ্যে প্রথম রামায়ণ অনুবাদ করেন।
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন মহিলা কবির একজন। অপর দুইজন চণ্ডীদাসের অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত রামায়ণ বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল।

চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য:
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী উপন্যাস রচয়িতা বা ঔপন্যাসিক - স্বর্ণকুমারী দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৩২.
বেগম রোকেয়ার লিখিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সুলতানার স্বপ্ন
  2. মতিচূর
  3. পদ্মাবতী
  4. অবরোধবাসিনী
ব্যাখ্যা

• বেগম রোকেয়ার লিখিত গ্রন্থ নয় — পদ্মাবতী। 

উল্লেখ্য, 
- ‘পদ্মাবতী’ — কবি আলাওল রচিত গ্রন্থ।
আবার, 
- 'পদ্মাবতী'  — মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি নাটক৷
--------------------------------- 
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- সুলতানার স্বপ্ন, 
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪৩৩.
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সুকুমার রায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• ‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থ:
- সুফিয়া কামালের একগুচ্ছ ছড়া নিয়ে 'ইতল বিতল' প্রথমবার প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে।
- চট্টগ্রাম থেকে বইটি প্রকাশ করেন সৈয়দ মোঃ শফি, তাঁর শিশু সাহিত্য বিতানের মাধ্যমে।
- ছড়াগুলোর সাথে ছবি ও প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন তখন তরুণ, আজ প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান।

-------------------------
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ইতল বিতল’ গ্রন্থ।
৪৩৪.
সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. কামিনী রায়
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্বয় কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তিনি 'আলো ও ছায়া' নামে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছিলেন। 'সুখ' কবিতাটি ঐ কাব্যগ্রন্থেরই অন্তর্ভুক্ত।

সুখ
কামিনী রায়

"আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে 
আসে নাই কেহ অবনী পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।"

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং সুখ, কামিনী রায়।

৪৩৫.
বেগম সুফিয়া কামাল সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক ?
  1. ক) একজন কবি ও রাজনীতিবিদ
  2. খ) একজন কবি ও সমাজসেবক
  3. গ) শিশুতোষ গ্রন্থলেখক ও সমাজসেবক
  4. ঘ) একজন কবি ও গৃহিণী
ব্যাখ্যা

বেগম সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯): কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী
- তিনি বাংলাদেশের জনগণের কাছে ‘জননী সাহসিকা’ অভিধায় অভিসিক্ত।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া (১৯৩৮)
- মায়া কাজল (১৯৫১),
- মন ও জীবন (১৯৫৭),
- উদাত্ত পৃথিবী (১৯৬৪),
- অভিযাত্রিক (১৯৬৯) ইত্যাদি।

সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৩৬.
“স্বদেশে পরবাসী” কার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থঃ স্বদেশে পরবাসী। একাত্তরের ঢাকা, নির্ভয় করো হে, ঘর গেরস্থির রাজনীতি ইত্যাদি। তার শিশুতোষ উপন্যাস - “কাকতাড়ুয়া” (১৯৯৬)। এতে বুধা নামের এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনী বিবৃত করা হয়েছে। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৪৩৭.
মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন কে?
  1. ক) নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) মিসেস আর এস হোসেন
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। 
- তিনি প্রথমে মিসেস আর এস হোসেন নামে লিখতেন। 
- তিনি মূলত মুসলিম নারীজাগরনের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
---------------------------------------
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন(১৮৮০-১৯৩২)  
সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৯৮ সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে। তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, তদুপরি সমাজসচেতন, কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন। রোকেয়ার জীবনে স্বামী সাখাওয়াৎ হোসেনের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯০৯ সালের ৩ মে সাখাওয়াৎ হোসেন মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন।
- সাহিত্যিক হিসেবে তৎকালীন যুগের প্রেক্ষাপটে রোকেয়া ছিলেন এক ব্যতিক্রমী প্রতিভা।
- নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী, নবপ্রভা, মহিলা, ভারতমহিলা, আল-এসলাম, নওরোজ, মাহে নও, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, The Mussalman, Indian Ladies Magazine  প্রভৃতি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন।
- তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায়। মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়। সমকালীন সাময়িক পত্রে মিসেস আর.এস হোসেন নামে তাঁর রচনা প্রকাশিত হতো। 
- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream  (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৩৮.
নিচের কোনটি কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) আলো ও ছায়া
  2. খ) অশোক সংগীত
  3. গ) কুসুমকানন
  4. ঘ) মাল্য ও নির্মাল্য
ব্যাখ্যা
কুসুমকানন কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কায়কোবাদ। বাকিগুলোর রচয়িতা কামিনী রায়। কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো- আলো ও ছায়া, নির্মাল্য, পৌরাণিকী, গুঞ্জন, মাল্য ও নির্মাল্য, অশোক সংগীত, অম্বা, দীপ ও ধূপ, জীবনপথে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩৯.
রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-
  1. খাঁচায়
  2. দ্রৌপদী
  3. আমার যত গ্লানি
  4. বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
- রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত।
- ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক লিখেন-
১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। আজ শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোে কলকাতা থেকে এর প্রকাশ আমার পক্ষে বড় গৌরবের। আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুট লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

অন্যদিকে, 
• 'খাচায়' রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• 'আমার যত গ্লানি' রশীদ করীম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• 'বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ' সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪০.
'ঘরগেরস্থির রাজনীতি' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিনা হোসেন
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
ঘরগেরস্থির রাজনীতি:
- সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'ঘরগেরস্থির রাজনীতি'। গ্রন্থটি ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে মোট সতেরটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
- প্রতিটি প্রবন্ধে বাংলাদেশের সমাজ প্রেক্ষিতে নারীর অবস্থা ও অবস্থানের বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
- নারীবাদী প্রেক্ষিত থেকে সমাজ-ভাবনার চিত্রটি উঠে এসেছে প্রবন্ধগুলোতে।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ঘরগেরস্থির রাজনীতি, সেলিনা হোসেন।
৪৪১.
'বায়ান্ন গলির এক গলি' কার রচনা-
  1. ক) বেগম সুফিয়া কামাল
  2. খ) রাবেয়া খাতুন
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) রিজিয়া খান
ব্যাখ্যা
'বায়ান্ন গলির এক গলি' উপন্যাসের রচয়িতা রাবেয়া খাতুন। তিনি পেশায় শিক্ষক ও সাংবাদিক। তার অন্যান্য উপন্যাস : অনন্ত অন্বেষা, মধুমতি, সাহেব বাজার, ফেরারী সূর্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৪৪২.
‘ধান্য তার বসুন্ধরা যার’ - এ বাণীটি নিচের কোন রচনায় উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. বিড়াল
  2. সাম্যবাদী
  3. অপরিচিতা
  4. চাষার দুক্ষু
ব্যাখ্যা
চাষার দুক্ষু:
- 'চাষার দুক্ষু' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত প্রবন্ধ।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় 'চাষার দারিদ্র্য'।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে 'ধান ভানতে শিবের গীত' বাগ্‌ধারার উল্লেখ আছে।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ থেকে,
আমাদের বঙ্গভূমি সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা,-তবু চাষার উদরে অন্য নাই কেন? ইহার উত্তর শ্রদ্ধাস্পদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়াছেন, “ধান্য তার বসুন্ধরা যার”। তাইতো অভাগা চাষা কে? সে কেবল “ক্ষেতে ক্ষেতে পুইড়া মরিবে”, হাল বহন করিবে, আর পাট উৎপাদন করিবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।
৪৪৩.
’নারীর রূপকথা’ গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

সেলিনা হোসেন রচিত গল্পগ্রন্থ- নারীর রূপকথা।

সেলিনা হোসেন:

- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মানুষমাটি,
- মতিজানের মেয়ে,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- পরজন্ম,
- নারীর রূপকথা।
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪৪.
‘বিন্দু বিসর্গ' কোন শ্রেণির গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. আত্মজীবনী
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহীম রচিত আত্মজীবনী - বিন্দু-বিসর্গ।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।
- বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন

নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

নীলিমা ইব্রাহীম রচিত নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৪৫.
দিনপঞ্জিরূপে লেখা 'একাত্তরের দিনগুলি' এর রচয়িতা-
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
- জাহানারা ইমাম এর দিনপঞ্জিরূপে লেখা অনবদ্য গ্রন্থ- 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

জাহানারা ইমাম 
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি। 
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪৪৬.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ?
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. অন্ধ কথামালা
ব্যাখ্যা
• আমি বীরাঙ্গনা বলছি (প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ):
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। 
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। 
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

--------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• তাঁর নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

অন্যদিকে,
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস - একটি কালো মেয়ের কথা।
- 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প। 
- ‘অন্ধ কথামালা’ রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৪৭.
‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. স্বদেশ রায়
  2. সুফিয়া কামাল
  3. শওকত ওসমান
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থের রচয়িতা: 'জাহানারা ইমাম'। 

• একাত্তরের দিনগুলি:
- একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। 
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।
• ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'। 

=============
• জাহানারা ইমাম:
- মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে ১৯২৯ সালে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি;
- অন্যজীবন;
- বুকের ভিতর আগুন;
- নাটকের অবসান;
- নিঃসঙ্গ পাইন;
- প্রবাসের দিনগুলি;
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।

অন্যদিকে,
- সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'একাত্তরের ডায়েরি'।
- সেলিনা হোসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ 'একাত্তরের ঢাকা'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৮.
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজসিংহ
  2. শহরতলী
  3. কন্যাকুমারী
  4. গায়ত্রী সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা

‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস:
• গায়ত্রী সন্ধ্যা' সেলিনা হোসেন রচিত একটি ত্রয়ী উপন্যাস।
• গ্রন্থটি একই শিরোনামে ৩টি পটভূমিতে ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
• সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়।
• দীর্ঘ আটাশ বছরের অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস।

সেলিনা হোসেন:

- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- রাজসিংহ।
- মানিক বন্দোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শহরতলী।
- 'কন্যাকুমারী' রাশিদা আখতার রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪৯.
কোনটি সেলিনা হোসেনের উপন্যাস নয়?
  1. ক) হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. খ) যাপিত জীবন
  3. গ) নারীর রূপকথা
  4. ঘ) অপেক্ষা
ব্যাখ্যা
'নারীর রূপকথা' সেলিনা হাসানের উপন্যাস নয়।
এটি তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।

তাঁর অন্যান্য গল্প সমূহ:
- উৎস থেকে নিরন্তরত
- পরজন্ম 
- মানুষটি 
- মতিজানের মেয়েরা
- অনূঢ়া
- পূর্ণিমা
- একালের পান্তাবুড়ি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫০.
“গায়ত্রী সন্ধ্যা” - কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) দিলারা হাশেম
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস:
• গায়ত্রী সন্ধ্যা' সেলিনা হোসেন রচিত একটি ত্রয়ী উপন্যাস।
• গ্রন্থটি একই শিরোনামে ৩টি পটভূমিতে ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
• সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়।
• দীর্ঘ আটাশ বছরের অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস।

• এই আটাশ বছর সময়ের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে নানা ঘটনা।যেমন-
⇒ ১৯৪৭ সালে বৃটিশ ভারত দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে লাভ করেছিল স্বাধীনতা। ধোপে টেকেনি এ স্বাধীনতার আদর্শগত ভিত্তি।
⇒ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাঙালি অর্জন করে একটি পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং স্বাধীন ভূখণ্ড। এ জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্নে অনুপ্রাণিত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
⇒ ১৯৭৫ সালে তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পট-পরিবর্তন হয় ইতিহাসের। শুরু হয় বাঙালির - উল্টো যাত্রা। 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস এই সময়ের শিল্পিত শব্দরূপ। 

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন উপন্যাসের ভূমিকায় লেখেন-
একটি স্বপ্নের ঘোরে আমি 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' ত্রয়ী উপন্যাসটি লিখি। এর অখণ্ড প্রকাশের প্রুফ দেখার সময় বারবারই মনে হয়েছে কীভাবে লিখলাম।
স্বপ্ন ছিল একটি ট্রিলজি লেখার। বড় পটভূমি নিয়ে কাজ করব এমন তাগিদ ছিল নিজের ভেতরে। কতটা হয়েছে সেটা সময় বিচার করবে। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, এটুকু আমার সান্ত্বনা। 

♦ সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

 • গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
৪৫১.
'বেগম’ পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন কে?
  1. নূরজাহান বেগম
  2. শামসুন্নাহার বেগম
  3. বেগম রোকেয়া
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকা:
- বেগম বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪৫২.
'বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বদরুদ্দীন ওমর
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

• 'বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা নীলিমা ইব্রাহিম।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলারকবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪৫৩.
সুফিয়া কামাল কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. সওগাত
  2. জননী
  3. বেগম
  4. বাসন্তী
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী ও সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৫৪.
'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতার জন্য কাজী নজরুল ইসলাম কয় মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন?
  1. ক) ৩ মাস
  2. খ) ৬ মাস
  3. গ) ৯ মাস
  4. ঘ) ১২ মাস
ব্যাখ্যা
আনন্দময়ীর আগমনে কবিতার কারণে কবির ১২ মাস বা একবছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪৫৫.
১৯ শতকের মহিলা কবির নাম-
  1. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
  2. রহিমুন্নেসা
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নুরুন্নেসা খাতুন
ব্যাখ্যা
• ১৯ শতকের মহিলা কবির নাম- নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী। 

অন্যদিকে,
• কবি রহিমুন্নেসা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি রহিমুন্নেসা।
- কবি রহিমুন্নেসা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মুসলিম মহিলা কবি। ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক এই মহিলা কবির (আবির্ভাবকাল) ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ নির্ধারণ করেন। 
- তিনি (১৮শ শতক) বা অন্ত্যমধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর রচিত  লায়লী-মজনু কাব্যে সে সময়কার বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

- বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালে। কিন্তু তিনি সাহিত্য রচনা শুরু করেছেন বিংশ শতাব্দীতে। তিনি ১৯ শতকের কবি নন।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাহিত্যচর্চার শুরু ১৯০২ সালে প্রকাশিত ‘পিপাসা’ শিরোনামে মহররমবিষয়ক একটি প্রবন্ধ দিয়ে। আর সাহিত্যচর্চার শেষ হয়েছে ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর রাতে মৃত্যুর আগে অসমাপ্ত লেখা ‘নারীর অধিকার’—প্রবন্ধ দিয়ে।

• নুরুন্নেসা খাতুন (১৮৯৪-১৯৭৫) -
প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক।
----------------------
----------------------
নবাব ফয়জুন্নেসা:

- ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক। 
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কার স্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।

- বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৫৬.
শাহপরি দ্বীপের মাঝিদের সংগ্রামী জীবনকাহিনি অবলম্বনে রচিত উপন্যাস- 
  1. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
  2. জলোচ্ছ্বাস
  3. যাপিত জীবন
  4. হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা

• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
--------------------
• ‘জলোচ্ছ্বাস' (১৯৭২): দক্ষিণ বাংলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, কাজল নদীর কূলে প্রতিকূল প্রকৃতি ও সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের জীবনধারা এ উপন্যাসের আলেখ্য।

• ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• 'যাপিত জীবন'  উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন। নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। কাহিনীর পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৫৭.
'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিমের একটি -
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. ভ্রমণ কাহিনি
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি নাটক।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- নীলিমা ইব্রাহিম শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।
- তিনি আমৃত্যু মানুষের শুভ ও কল্যাণী চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়;

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর;

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর 
২. বাংলাপিডিয়া।
৪৫৮.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই
  2. নূরুলদীনের সারা জীবন
  3. নিষিদ্ধ লোবান
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

 • নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।
 
• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।

অন্যদিকে,
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিকায় সৈয়দ সামসুল হক রচিত নাটক - নূরুলদীনের সারা জীবন। 
- ‘নিষিদ্ধ লোবান‘ মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।
- 'ক্রীতদাসের হাসি' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৫৯.
বেগম রোকেয়ার প্রতীকী রচনা কোনটি?
  1. Sultana's Dream
  2. মতিচূর
  3. পদ্মরাগ
  4. অবরোধবাসিনী
ব্যাখ্যা

• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।

- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান-ই-খাওয়াতীন-ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

- 'Sultana's Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচুর (প্রবন্ধ),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৬০.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন?
  1. ভারতী
  2. সাধনা
  3. চিত্রদর্শন
  4. সুধাকর
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন।
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৬১.
সেলিনা হোসেন রচিত "ঘরগেরস্থির রাজনীতি" গ্রন্থটি একটি-
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ঘরগেরস্থির রাজনীতি:
- সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'ঘরগেরস্থির রাজনীতি'।
- গ্রন্থটি ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে মোট সতেরটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
- প্রতিটি প্রবন্ধে বাংলাদেশের সমাজ প্রেক্ষিতে নারীর অবস্থা ও অবস্থানের বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
- নারীবাদী প্রেক্ষিত থেকে সমাজ-ভাবনার চিত্রটি উঠে এসেছে প্রবন্ধগুলোতে।[
---------------------------------------

সেলিনা হোসেন:

- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনুঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বদেশে পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে,
- মুক্তো করো ভয়,
- ঘরগেরস্থির রাজনীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ঘরগেরস্থির রাজনীতি, সেলিনা হোসেন।
৪৬২.
নিচের কোন কাব্যগ্রন্থে স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের কবিতা স্থান পেয়েছে?
  1. মায়া কাজল
  2. সাঁঝের মায়া
  3. মোর যাদুদের সমাধি পরে
  4. অভিযাত্রিক
ব্যাখ্যা

• "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কবি সুফিয়া কামালের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটেতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের কবিতা স্থান পেয়েছে।

--------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।-
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়। তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে।

• গল্প:
- কেয়ার কাঁটা।

• আত্মজীবনী:
- একালে আমাদের কাল।

• স্মৃতিকথা/ ডায়েরী:
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৬৩.
নীলিমা ইব্রাহীম রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. কেয়াবন সঞ্চারিনী
  2. উদাত্ত পৃথিবী
  3. অভিযাত্রিক
  4. জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহীম:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- ১১ জানুয়ারি ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাক,
- কেয়াবন সঞ্চারিনী,
- বহ্নিবলয়।

অন্যদিকে,
সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ - উদাত্ত পৃথিবী, অভিযাত্রিক।
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস - জলোচ্ছ্বাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৪.
বেগম রোকেয়ার রচনা কোনটি?
  1. ক) আয়না
  2. খ) লালসালু
  3. গ) ভাষা ও সাহিত্য
  4. ঘ) পদ্মরাগ
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়ার রচনা - পদ্মরাগ।

সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে। 
- তাঁর পিতা জহীরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের এবং মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী।
- ১৮৯৮ সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে। তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, তদুপরি সমাজসচেতন, কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন।

• তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।

এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,  ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৫.
'অবরোধবাসিনী' পর্দাপ্রথা নির্ভর হাস্যরসাত্মক গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) শামসুন্নাহার মাহমুদ
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
'অবরোধবাসিনী':
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি নকশাধর্মী গ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'। এতে মোট ৪৭টি ঘটনাকে অনুগল্প আকারে লেখা আছে। এর মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
- বেগম রোকেয়াকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়৷
- আর নারী জাগরণের কবি হচ্ছেন - শামসুন্নাহার মাহমুদ।
৪৬৬.
‘উৎস থেকে নিরন্তর’ গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. সেলিনা হোসেন
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• উৎস থেকে নিরন্তর:
- ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ সেলিনা হোসেনের লেখা প্রথম গল্পগ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল, খেয়াঘাট ইত্যাদি গল্প সংকলিত হয়েছে গ্রন্থটিতে।
- বিচিত্র বিষয় নিয়ে প্রথম গল্পগ্রন্থেই সেলিনা হোসেন স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দেন।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি তাঁর গল্পের বিষয়।

--------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৭.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই পঙ্‌ক্তিগুলো রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই পঙ্ক্তির রচয়িতা হচ্ছে কুসুমকুমারী দাশ।
কুসুমকুমারী দাশের লেখা কবিতাটির নাম "আদর্শ ছেলে" এবং এর প্রথম পঙক্তিটি হলো "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে"।

কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জীবনানন্দ দাশের মাতা ছিলেন।
- তার গদ্যগ্রন্থের নাম ‘পৌরাণিক আখ্যায়িকা’।
- শিশুদের জন্য তিনি ‘কবিতা মুকুল’ নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন।
- বিভিন্ন পত্রিকা যেমন: ‘প্রবাসী’, ‘ব্রহ্মবাদী’, ‘মুকুল’ তে তার কবিতা প্রকাশিত হত। 
- তার বিখ্যাত কবিতার একটি পঙ্ক্তি: “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।”
- কুসুমকুমারী দাশ ১৯৪৮ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪৬৮.
'পদ্মরাগ' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস। এটি ১৯২৪ সালে প্রাকশিত হয়।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ উপন্যাসে। 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় তাঁর জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৬৯.
‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত-
  1. বেগম রোকেয়া
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামালকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
--------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর গল্প ও স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘কেয়ার কাঁটা’ ও
- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৪৭০.
'একটি স্নেহের কথা প্রশমিতে পারে ব্যাথা' - পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) হরতাল
  2. খ) কবিতা মুকুল
  3. গ) অমিয়ধারা
  4. ঘ) পাছে লোকে কিছু বলে
ব্যাখ্যা
'একটি স্নেহের কথা
প্রশমিতে পারে ব্যাথা' - পঙক্তিদ্বয়  কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার অন্তর্গত। 

কামিনী রায় (১৮৬৪-১৯৩৩)
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য,
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭১.
'শাহী এলাকার পথে পথে' ভ্রমণকাহিনিটি কার রচনা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
'শাহী এলাকার পথে পথে'  নীলিমা ইব্রাহিম রচিত ভ্রমণকাহিনি বিষয়ক গ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি নালন্দা প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত হয়। 

------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা বিষয়ে এম.এ (১৯৪৩) পাস করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম ‘বিহারীলাল মিত্র গবেষণা’ বৃত্তি লাভ করেন। 
- কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৭২ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। 


• ভ্রমণকাহিনি- শাহী এলাকার পথে পথে (১৯৬৩)। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শাহী এলাকার পথে পথে'  নীলিমা ইব্রাহিম এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭২.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি? 
  1. দীপনির্বাণ 
  2. নির্বাণদীপ 
  3. বিচিত্রা 
  4. বিদ্রোহ 
ব্যাখ্যা
 স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
 
৪৭৩.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. বকুলপুরের স্বাধীনতা
  3. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  4. জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা

• আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
- যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।

অন্যদিকে, 
• 'নিষিদ্ধ লোবান' মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস 'জোছনা ও জননীর গল্প'।
• মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক- বকুলপুরের স্বাধীনতা। 

--------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
-  নীলিমা ইব্রাহি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৭৪.
সুফিয়া কামাল রচিত 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. পূর্বমেঘ
  2. মাসিক মোহাম্মদী
  3. ভারতী
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
বেগম সুফিয়া কামাল কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 

- কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘তাহারেই পড়ে মনে’ প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 
- এটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া (১৯৩৮)
- মায়া কাজল (১৯৫১),
- মন ও জীবন (১৯৫৭),
- উদাত্ত পৃথিবী (১৯৬৪),
- অভিযাত্রিক (১৯৬৯) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭৫.
'ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সত্যেন সেন
  3. রফিক আজাদ
  4. সমর সেন
ব্যাখ্যা

জাহানারা ইমাম: 
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৭৬.
নবাব ফয়জুন্নেসার দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. রূপজালাল
  2. সঙ্গীতসার
  3. সঙ্গীতলহরী
  4. প্রেম প্রবাহিণী
ব্যাখ্যা
• নবাব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।

- বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

অন্যদিকে,
• ‘প্রেম প্রবাহিণী’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭৭.
“যাপিত জীবন” কার রচনা?
  1. ক) রিজিয়া রহমান
  2. খ) দিলারা হাশেম
  3. গ) আকিমুন রহমান
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

''গায়ত্রী সন্ধ্যা'' - সেলিনা হোসেন রচিত - ত্রয়ী উপন্যাস। এর তিনটি খন্ড যথাক্রমে - ১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আটাশ বছরের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত এ উপন্যাস।
তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস -
- জলোচ্ছ্বাস
- হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- যুদ্ধ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- যাপিত জীবন (ভাষা আন্দোলন বিষয়ক)
- কাঁটাতারে প্রজাপতি (নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত)
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি (নাফনদীর তীরে শাহ পরীর দ্বীপের মানুষের জীবন সংগ্রাম)
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি (দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ৪৩ এর দুর্ভিক্ষ প্রভৃতি বিষয় উঠে এসেছে) ইত্যাদি
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।

৪৭৮.
মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ রয়েছে সেলিনা হোসেন রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. যাপিত জীবন
  4. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
ব্যাখ্যা
• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

সেলিনা হোসেন রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের আগের ও পরের সাহিত্য চর্চা, রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দিয়ে কাহিনি শুরু। সাথে আছে দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু পরিবারের চিত্র (১৯৪৩ যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত)।

• 'যাপিত জীবন'  উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন। নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। কাহিনীর পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭৯.
'গজকচ্ছপ' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
'গজকচ্ছপ' রচনাটির রচয়িতা - জাহানারা ইমাম।

জাহানারা ইমাম
শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।

• স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জাহানারা ইমাম লেখালেখিতে ব্যস্ত সময় কাটান এবং তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি এ সময়ে প্রকাশ পায়। গল্প, উপন্যাস ও দিনপঞ্জি জাতীয় রচনা মিলিয়ে তাঁর আরও কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে।
সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- অন্য জীবন,
- বীরশ্রেষ্ঠ,
- জীবন মৃত্যু,
- চিরায়ত সাহিত্য,
- বুকের ভিতরে আগুন,
- নাটকের অবসান,
- দুই মেরু,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- নয় এ মধুর খেলা,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনলিপি।

• তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ সমূহ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮০.
সেলিনা হোসেন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয় কোনটিকে?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. গায়ত্রী সন্ধ্যা
  3. পোকা মাকড়ের ঘরবসতি
  4. টানাপোড়েন
ব্যাখ্যা
• 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস:
- গায়ত্রী সন্ধ্যা' সেলিনা হোসেন রচিত একটি ত্রয়ী উপন্যাস।  গ্রন্থটি একই শিরোনামে ৩টি পটভূমিতে ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।

- প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে, এবং পরবর্তী তিন বছরে প্রকাশিত হয় তিনটি খণ্ড। ২০০১ সালের মধ্যে প্রথম দুটি খণ্ডের তৃতীয় মুদ্রণ এবং তৃতীয় খণ্ডের দুটি মুদ্রণ প্রকাশিত হয়। এই দ্রুত পুনর্মুদ্রণ পাঠকের কাছে উপন্যাসটির গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ। সময় প্রকাশন থেকে ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি এই ত্রয়ী উপন্যাসের অখণ্ড রূপ প্রকাশিত হয়। 

- সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়। দীর্ঘ আটাশ বছরের অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস।

উপন্যাসের পটভূমি ও সময়কাল:
উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ ২৮ বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। এই সময়ে পূর্ববঙ্গের বাঙালি জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নানা ঘটনা প্রভাব ফেলেছে। ১৯৪৭ সালে বৃটিশ ভারতের দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে স্বাধীনতা লাভ, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন, এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ইতিহাসের পট-পরিবর্তন এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু। এই সময়কাল একটি সূচনা থেকে আরেকটি সূচনার ক্রান্তিকাল হিসেবে বিবেচিত।

-----------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুভিত্তিক), 
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- অপেক্ষা,
- টানাপোড়েন,
- কালকেতু ও ফুল্লরা,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা। 

তাঁর রচিত গল্প :
- মতিজানের মেয়েরা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,
- মানুষটি,
- অনুড়া পূর্ণিমা,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস।
৪৮১.
“হে কবি! নীরব কেন—ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” - পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অংশ?  
  1. হৃদয় নিঃসঙ্গ চিল
  2. স্বাধীনতা তুমি
  3. তাহারেই পড়ে মনে
  4. অঙ্গুরি এসেছ তুমি
ব্যাখ্যা

• তাহারেই পড়ে মনে।
     — সুফিয়া কামাল।

"কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল? ”

 “ হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়? ”
------------------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মী।  
- বেগম সুফিয়া কামাল ২০ জুন ১৯১১ সালে বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন সৈয়দ আবদুল বারী এবং মা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- ১৯২৫ সালে তিনি মাতৃমঙ্গল নামক সংগঠনের একমাত্র মুসলিম সদস্য ছিলেন।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- তিনি বেগম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা (প্রথম গল্পগ্রন্থ),
- সাঁঝের মায়া (প্রথম কাব্যগ্রন্থ), 
- মায়া কাজল (কাব্যগ্রন্থ), 
- উদাত্ত পৃথিবী (কাব্যগ্রন্থ), 
- অভিযাত্রিক (কাব্যগ্রন্থ), 
- সোভিয়েতের দিনগুলি (ভ্রমণ কাহিনী),
- একালে আমাদের কাল (আত্মজীবনীমূলক রচনা),
- একাত্তরের ডায়েরী (স্মৃতিকথা)।

- তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ-
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে। 
----------------------------------------- 
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার খুঁটিনাটি:
- ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি বেগম সুফিয়া কামালের রচিত একটি নাটকীয় সংলাপনির্ভর কবিতা।
- কবিতায় কবি ও কবি-ভক্তের মধ্যে সংলাপ বিনিময় হয়েছে।
- এটি প্রথম ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- কবিতার মূলভাব হলো—প্রকৃতির পালাবদলের (বসন্তের আগমন) মধ্যেও প্রিয়জনের (স্বামীর) বিয়োগে কবির জীবনে নেমে আসা গভীর শূন্যতা ও বিষাদ।
- কবিতায় দেখা যায় যে, কবি বসন্তের সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করে কেবল অন্তর্নিহিত দুঃখ ও প্রিয়জন বিয়োগের বেদনা স্মরণ করেছেন।
---------------------------------- 
উল্লেখ্য, 
হৃদয় নিঃসঙ্গ চিল, স্বাধীনতা তুমি, অঙ্গুরি এসেছ তুমি- শামসুর রাহমান রচিত কবিতা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া;
তাহারেই পড়ে মনে কবিতা। 

৪৮২.
সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসটির কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) ছয়
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসটি  তিনটি খণ্ডে রচিত।

- এর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় - ১৯৯৪ সালে
- এর দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় - ১৯৯৫ সালে
- এর তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় - ২০০৬ সালে

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থসমূহ:

প্রবন্ধ: 
- স্বদেশে পরবাসী
- একাত্তরের ঢাকা
- নির্ভয় করো হে
- মুক্তো করো ভয়
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি

গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তরত
- পরজন্ম
- মানুষটি 
- মতিজানের মেয়েরা
- অনূঢ়া
- পূর্ণিমা
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা। 

উপন্যাস : 
- জলোচ্ছ্বাস
- হাঙর নদী গ্রেনেড
-মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি 
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
- কালকেতু ও ফুল্লরা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮৩.
বেগম রোকেয়া রচিত "পদ্মরাগ" কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়া:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা,
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।

'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস। এটি ১৯২৪ সালে প্রাকশিত হয়।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ উপন্যাসে।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় তাঁর জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৮৪.
সুফিয়া কামাল রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. সাঁঝের মায়া
  2. মায়া কাজল
  3. কেয়ার কাঁটা
  4. উদাত্ত পৃথিবী
ব্যাখ্যা
• "কেয়ার কাঁটা" সুফিয়া কামাল রচিত একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। 

----------------
• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন। তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম মহিলা সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৮৫.
'অশোকসঙ্গীত' কে রচনা করেছেন? 
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. কামিনী রায়
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৮৬.
'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. সুফিয়া কামাল
  3. ফররুখ আহমদ
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• সাঁঝের মায়া:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের  প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 
- এই কাব্যে ২৮টি কবিতা রয়েছে।
--------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।
৪৮৭.
‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন ⎯
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• সাঝের মায়া:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা/মুখবন্ধ লিখেছিলেন ⎯ কাজী নজরুল ইসলাম।
- উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

- ২৮টি কবিতার এই নাতিদীর্ঘ সঞ্চয়নটির অন্যতম গুণ হচ্ছে সুফিয়া কামালের ভবিষ্যৎ সাহিত্য রচনার ভিত্তি স্থাপনা, যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এক নারীর কণ্ঠস্বরে, সংস্কৃতির শিকড়ে তার গভীর অথচ গতিময় সঞ্চরণে এবং এক বৈশ্বিক, সামগ্রিক চেতনার পরিচয়ে ।
- কবি কামা ইভানোভা কর্তৃক অনূদিত 'সাঁঝের মায়া' গ্রন্থটির রাশিয়ান অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে।
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
-  সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’- এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।
৪৮৮.
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসের কাহিনী কোন গ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে?
  1. নিভৃতপুর
  2. রূপনগর
  3. হলদী গ্রাম
  4. আনন্দপুর
ব্যাখ্যা

'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।

৪৮৯.
বাংলায় প্রথম অপেরা রচনা করেন -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন স্বর্ণকুমারী দেবীর জন্ম ২৮ আগস্ট, ১৮৫৫ সালে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’ (১৮৭৬)।
- এটি মূলত ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস। দ্বাদশ শতকে দিল্লি ও এর পার্শ্ববর্তী রাজাদের মধ্যে আত্মকলহ গৃহবিবাদ ও পররাজ্য দখলের প্রবণতা থেকে সৃষ্ট অনৈক্য এর বিষয়বস্তু।
- ১৮৭৯ সালে তাঁর রচিত গীতিনাটক 'বসন্ত উৎসব' বাংলায় লিখিত প্রথম অপেরা।
- ৩ জুলাই, ১৯৭২ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
২.বাংলাপিডিয়া।
৪৯০.
সেলিনা হোসেন রচিত গল্প হচ্ছে-
  1. ক) মানুষটি
  2. খ) সীমানা
  3. গ) আসন্ন
  4. ঘ) জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন। তার রচিত একটি গল্পের নাম “মানুষটি”। অন্যদিকে “মানুষ” নামে মুনীর চৌধুরীর একটি নাটক আছে। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৪৯১.
'জীবনপথে' সনেট সংগ্রহটি কোন কবির রচনা?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. কায়কোবাদ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

'জীবনপথে' কামিনী রায় রচিত একটি সনেট সংগ্রহ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে।

-----------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯২.
সেলিনা হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. রংপুর
  2. রাজবাড়ী
  3. রাজশাহী
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বদেশে পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে,
- মুক্তো করো ভয়,
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯৩.
বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. গাইবান্ধা
  2. রাজশাহী
  3. দিনাজপুর
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রাগে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা);
- পদ্মরাগ (উপন্যাস);
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯৪.
বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে স্বর্ণকুমারী দেবী কোন সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. নারী শক্তি
  2. মহিলা সমাজ
  3. সখী সমিতি
  4. জোড়াসাঁকো সমিতি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন। 
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ, 
- মেবার রাজ, 
- মালতী, 
- বিদ্রোহ, 
- বিচিত্রা, 
- স্বপ্নবাণী, 
- মিলনরাত্রি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪৯৫.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয়-
  1. বিচিত চিন্তা
  2. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  3. স্বদেশ অন্বেষা
  4. বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় 'কেয়াবন সঞ্চারিণী'।
- 'কেয়াবন সঞ্চারিণী' নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস।

• আহমদ শরীফ:
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ১৯৯৯ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:

- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৪৯৬.
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস-
  1. কাঁটাতারে প্রজাপতি
  2. যাপিত জীবন
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে। সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ।
- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

----------------------------
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাসসমূহ:
• ‘জলোচ্ছ্বাস' (১৯৭২): দক্ষিণ বাংলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, কাজল নদীর কূলে প্রতিকূল প্রকৃতি ও সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের জীবনধারা এ উপন্যাসের আলেখ্য।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন ।

• ‘যাপিত জীবন' (১৯৮১): এ উপন্যাসে ১৯৪৭-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের যাবতীয় ঘটনা কেন্দ্রীয় চরিত্র জাফর এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ । চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

• ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।

• ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি' (১৯৮৯): নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।

• ‘কাকতাড়ুয়া’ (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি ।

• 'যুদ্ধ' (১৯৯৮): ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। এ উপন্যাসে ১১ নম্বর সেক্টরের নারী মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবির প্রসঙ্গ এসেছে।

• ‘কাঠকয়লার ছবি' (২০০১): এটি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস।

৪৯৭.
'একালে আমাদের কাল' আত্মজীবনীর রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সেলিনা হোসেন
  3. বেগম রোকেয়া
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• 'একালে আমাদের কাল' আত্মজীবনীটির রচয়িতা - সুফিয়া কামাল

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৪৯৮.
সুফিয়া কামাল কোন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন?
  1. নারীশক্তি 
  2. বেগম
  3. মুক্তি 
  4. কাড়নটি 
ব্যাখ্যা

• 'বেগম' পত্রিকা:
- 'বেগম' বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

--------------------
• সুফিয়া কামাল:

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯৯.
'মেঘের পর মেঘ' মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. জাহানারা ইমাম
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. রামেন্দ্রসুন্দর
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মেঘের পর মেঘ’।
• এই উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে ২০০৪ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
• ২০১১ সালে তাঁর আরেক জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মধুমতি’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন পরিচালক শাহজাহান চৌধুরী।
• ২০০৩ সালে তাঁর লেখা ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ অবলম্বনে এই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন অভিনেত্রী মৌসুমী।
• তাঁর লেখা বিভিন্ন উপন্যাসের মধ্যে আছেঃ
- ‘মধুমতি’,
- ‘সাহেব বাজার’,
- ‘অনন্ত অন্বেষা’,
- ‘রাজারবাগ শালিমারবাগ’,
- ‘মন এক শ্বেত কপোতী’,
- ‘ফেরারী সূর্য’,
- ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’,
- ‘পাখি সব করে রব’,
- ‘হোটেল গ্রীন বাটন’,
- ‘বাগানের নাম মালনিছড়া’,
- ‘প্রিয় গুলশানা’,
- ‘ছায়া রমণী’, ‘
- ‘হৃদয়ের কাছের বিষয়’, ‘
- ‘রঙিন কাচের জানালা’ ইত্যাদি।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো।

৫০০.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের রচনা কোনটি?
  1. বাঙালি মুসলমানের মন
  2. যে তুমি হরণ করাে
  3. অবরোধবাসিনী
  4. স্বদেশ চিন্তা
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং আলোর দিশারী বেগম রোকেয়ার জীবনকাল ছিল মাত্র বায়ান্ন বছর। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

বেগম রোকেয়া রচিত  গ্রন্থ -
- মতিচুর,
- অবরোধবাসিনী,
- Sultana's Dream ইত্যাদি।

উপন্যাস:
-পদ্মরাগ

উল্লেখ্য 
'বাঙালি মুসলমানের মন' প্রবন্ধটির রচিয়তা আহমদ ছফা
'যে তুমি হরণ করাে' গ্রন্থটির রচিয়তা আবুল হাসান
'স্বদেশ চিন্তা' গ্রন্থটির রচিয়তা আহমদ শরীফ

[উৎস: ড. সৌমিত্র শেখর রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া ]