বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক

মোট প্রশ্ন৬৪০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৬৪০

১০১.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ক) গাথা
  2. খ) মালতি 
  3. গ) স্বপ্নবাণী
  4. ঘ) বিবাহ উৎসব 
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- দীপ নির্বাণ 
- মেবার রাজ
- মালতি 
- বিদ্রোহ 
- বিচিত্রা 
- স্বপ্নবাণী 
- মিলনরাত্র্রী 

তাঁর রচিত নাটক: 
- বসন্ত উৎসব 
- বিবাহ উৎসব 
- দেব কৌতুক 

তাঁর রচিত কাব্য: 
- গাথা 
- কবিতা ও গান 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১০২.
'উদাত্ত পৃথিবী' কবিতাটির কবি কে?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
তার রচিত কবিতা- সাঁঝের মায়া, উদাত্ত পৃথিবী, অভিযাত্রিক, মায়া কাজল ইত্যাদি।
গল্প- কেয়ার কাঁটা৷
- একাত্তরের ডায়েরী৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৩.
কোন বাংলা সাহিত্যিকের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী একই দিনে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 
- বেগম রোকেয়া বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী। 
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

- ১৯০২-এ ‘পিপাসা’ নামে একটি বাংলা গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি সাহিত্যজগতে পা রাখেন।
- রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।
- তার লেখাগুলো নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

- ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন।
- ১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম বাঙালি নারীদের সংগঠন 'আনজুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: ১.ড. সৌমিত্র শেখর রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. দৈনিক প্রথম আলো।
১০৪.
নিচের কোনটি প্রবন্ধ?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. এক পথ দুই বাঁক
  4. দুয়ে দুয়ে চার
ব্যাখ্যা

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' প্রবন্ধ:
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।

- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি। বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

-----------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-

• তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।
• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০৫.
'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি নাটক।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০৬.
কামিনী রায় রচিত কোন গ্রন্থের ভূমিকা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন?
  1. ক) দীপ ও ধূপ
  2. খ) মাল্য ও নির্মাল্য
  3. গ) আলো ও ছায়া
  4. ঘ) অশোক সঙ্গীত
ব্যাখ্যা
কামিনী রায় (১৮৬৪-১৯৩৩): কবি ও সমাজকর্মী।
“জনৈক বঙ্গমহিলা” ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন কামিনী রায়। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে; হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো: নির্মাল্য (১৮৯১), পৌরাণিকী (১৮৯৭), গুঞ্জন (শিশুকাব্য, ১৯০৫), ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ, ১৯০৭), মাল্য ও নির্মাল্য (১৯১৩), অশোক সঙ্গীত (সনেট, ১৯১৪), অম্বা (নাটক, ১৯১৫), বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮), ঠাকুরমার চিঠি (১৯২৪), দীপ ও ধূপ (১৯২৯), জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০)।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১০৭.
মুসলিম মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. শামসুন্নাহার মাহমুদ
  2. সুফিয়া কামাল
  3. নবাব ফয়জুন্নেসা
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- চাষার দুক্ষু (প্রবন্ধ),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৮.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ‘ইউরোপের চিঠি’ একটি-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) পত্রসংকলন
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২): ভারতের উড়িষ্যা জেলায় তাঁর জন্ম। তিনি একজন স্বনামধন্য বাঙ্গালি কবি, লেখক এবং বিশিষ্ট ছড়াকারও। তিনি ‘লীলাময় রায়’ ছদ্মনামে লিখতেন।
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য-
উপন্যাসঃ অসমাপিকা(১৯৩০, প্রথম উপন্যাস), আগুন নিয়ে খেলা, পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য, অজ্ঞাতবাস, কঙ্কাবতী প্রভৃতি।
ভ্রমণকাহিনীঃ পথে প্রবাসে (১৯৩১), ইউরোপের চিঠি (১৯৪২) ইত্যাদি।
প্রবন্ধগ্রন্থঃ তারুণ্য, জীবনশিল্পী, ইশারা, বিনুর বই, জীয়ন কাটি, প্রত্যয় ইত্যাদি।
কবিতাঃ রাখী, কালের শাসন, কামনা পঞ্চবিংশতি ইত্যাদি।
ছোটগল্পঃ প্রকৃতির পরিহাস, মন পবন, যৌবন জ্বালা, কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
১০৯.
'সকলের তরে সকলে আমরা / প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) রজনীকান্ত সেন
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্ব কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।

'সুখ' কবিতার কিছু অংশ সংক্ষেপে দেয়া হলো-

সুখ
- কামিনী রায়
"সুখ" "সুখ" করি কেঁদ না আর,
যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

উৎস: সুখ কবিতা- কামিনী রায়।

১১০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক কে ছিলেন?
  1. মৈত্রেয়ী দেবী
  2. আশাপূর্ণা দেবী
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী 
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
--------------------------------------
 স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ‘
- ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তিনি সাহিত্য ও নারী জাগরণে অবদান রেখেছেন।
- ১৮৮৬ সালে তিনি ‘সখী সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলার প্রথম নারী সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
- এর মাধ্যমে বিধবা ও অনাথ মহিলাদের সাহায্য এবং নারী অধিকারের জন্য কাজ করেছেন।
 -তাঁর প্রসিদ্ধ উপন্যাস হুগলীর ইমামবাড়ি রচিত হয়েছে হাজী মুহম্মদ মহসিনকে নিয়ে।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
--------------------------------------
অন্যদিকে,
- মৈত্রেয়ী দেবী -‘মঙ্গলা’ উপন্যাসের রচয়িতা।
- আশাপূর্ণা দেবী - ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’, ‘সুবর্ণলতা’, ‘বকুল কথা’-র লেখিকা।
- কুসুমকুমারী দাশ - তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১১১.
নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম কী?
  1. সঙ্গীতসার
  2. রূপজালাল
  3. সঙ্গীতলহরী
  4. মুসলিম বন্ধু
ব্যাখ্যা

নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত আত্মজীবনীমূলক রূপক গ্রন্থের নাম হচ্ছে রূপজালাল। 

• রূপজালাল:
- রূপজালাল নওয়াব ফয়জুননেসা-র গদ্য ও পদ্য ছন্দে রচিত আত্মজীবনী ও কল্পকাহিনীমূলক একটি গ্রন্থ।
- এটি ১৮৭৬ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সম্ভবত বাংলার একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক প্রথম রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যকর্ম।

নবাব ফয়জুন্নেসা (১৮৩৪-১৯০৩)
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারী পাওয়ার আগে থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ ও দীন-দরিদ্রের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন।
- নারী শিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি হিসেবেও পরিচিত।
- ১৮৮৯ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন, যা বাংলার প্রথম নারী হিসেবে এই উপাধি লাভের সম্মান।
- বাংলা পত্রপত্রিকা যেমন বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃতির আর্থিক সহায়তা লাভ করেছেন।
- সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিত; তাঁর রচিত রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের মাধ্যমে আত্মজীবনীমূলক রচনা, যাতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী প্রকাশ পেয়েছে।
- এছাড়া তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থ সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১২.
কুসুমকুমারী দাশ রচিত শিশু সাহিত্যের নাম কী?
  1. ক) ফণি-মনসা
  2. খ) কবিতা-মুকুল
  3. গ) পাখির বাসা
  4. ঘ) ইতল বিতল
ব্যাখ্যা

'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' - এই বিখ্যাত কবিতার রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল।'

- 'ফণি-মনসা' কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ।
- 'পাখির বাসা' ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- 'ইতল বিতল' সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 

১১৩.
বাংলা ভাষার প্রথম সচিত্র নারী সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সেলিনা হোসেন 
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নূরজাহান বেগম
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল।
------------------------------------
বেগম’:
- বাংলা ভাষার প্রথম সচিত্র নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল ‘বেগম’।
-পত্রিকাটি ২০ জুলাই ১৯৪৭ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল;
- আর পরে এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন নূরজাহান বেগম।
- নারীদের সাহিত্য, শিক্ষা ও সমাজজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য পত্রিকাটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করে।
------------------------------------------------
সুফিয়া কামাল: 
- সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বরিশালে একটি অভিজাত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট কবি, লেখিকা ও নারীবাদী আন্দোলনের নেত্রী।
- একই সঙ্গে তিনি ভাষা আন্দোলনের অগ্রগামী কর্মী হিসেবেও সুপরিচিত।
- ১৯৫০-এর দশকের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির যেকোনো সংকটে তিনি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—একজন জননীর মতো।
- তিনি শুধু কবিতার স্রষ্টা নন, বরং বাঙালি জাতীয়তাবোধ ও নারী মুক্তির সংগ্রামের এক আলোকবর্তিকা।
- তিনি তাঁর সাহিত্য ও কর্মের শক্তিতে সমাজকে নতুন পথে পরিচালিত করেছেন।

• সাহিত্যজীবনে সুফিয়া কামাল বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন:
- কেয়ার কাঁটা,
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন,
- প্রশস্তি ও প্রার্থনা,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- দিওয়ান,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ।

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি-হুমায়ুন আজাদ;
বাংলাপিডিয়া।

১১৪.
"সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতা হতে নেওয়া হয়েছে?
  1. মানব কল্যাণ
  2. সুখ
  3. শহীদ স্মরণে
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্ব কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।

'সুখ' কবিতার কিছু অংশ সংক্ষেপে দেয়া হলো-

সুখ
- কামিনী রায়
"সুখ" "সুখ" করি কেঁদ না আর,
যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং সুখ, কামিনী রায়।

১১৫.
"রূপজালাল" কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
রূপজালাল:
- এটি ফয়জুন্নেসার একমাত্র সাহিত্যকর্ম।
- এই গ্রন্থটির ধরণ হচ্ছে গদ্য ও কবিতায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি ছিলেন।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- ফয়জুন্নেসার এরূপ জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ১৯০৩ সালে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে তিনি সমাহিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৬.
'একাত্তরের দিনগুলি' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে
  2. খ) ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
  3. গ) ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ঘ) ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। 
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
-১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে। ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্ত্তত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১৭.
‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটির রচিয়তা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল। তবে ‘পদ্মরাগে’র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না ; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।
এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• ‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

-------------------------
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৮.
নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস কোনটি ?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. বিশ শতকের মেয়ে
  3. শেষ বিকেলের মেয়ে
  4. রোদজ্বল বিকেল
ব্যাখ্যা
- ’বিশ শতকের মেয়ে’ নীলিমা ইব্রাহীমের একটি উপন্যাস।

• নীলিমা ইব্রাহিম :
- তিনি খুলনায় ১১ ই জানুয়ারি ১৯২১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথে দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,

• নাটক :
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর,

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস- একটি কালো মেয়ের কথা ।
• জহির রায়হানের উপন্যাস - শেষ বিকেলের মেয়ে' । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৯.
মতিচুর বইটি কার লেখা?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. রাজিয়া মাহবুব
ব্যাখ্যা
'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২০.
"জলোচ্ছ্বাস" কার রচিত গ্রন্থ?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. নীলিমা ইব্রাহীম
  3. জাহানারা ইমাম
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• 'জলোচ্ছ্বাস' উপন্যাস:
- রচয়িতা- 'সেলিনা হোসেন'।
- বাংলাদেশের মানচিত্রে দক্ষিণের যে অংশ নদীর কূল আর সমুদ্রের উপকূল দ্বারা ঘিরে রেখেছে সে অঞ্চলের মানুষের পাওয়া-না-পাওয়া এবং আনন্দ-বেদনার ঘটনারাজি নিয়েই উপন্যাসের ক্যানভাস। ১৯৭০ সালের জলোচ্ছ্বাসের উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করেছেন এক হৃদয়নিংড়ানো ইতিহাস; আর তাএসেছে পুরোপুরি বাস্তব নিরিখে।

• সেলিনা হোসেন: 
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

• তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২১.
‘বিদায় দে মা ঘুরে আসি‘ জাহানারা ইমাম রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. শিশু সাহিত্য
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. অনুবাদ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ জাহানারা ইমাম:
• জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪)  শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
• অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
• ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

• তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য:
- গজকচ্ছপ, 
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি। 

•অনুবাদ গ্রন্থ:
- জাগ্রত ধরিত্রী, 
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর, 
- নদীর তীরে ফুলের মেলা।

• মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থ:
- বীরশ্রেষ্ঠ, 
- একাত্তরের দিনগুলি।

• অন্যান্য:
- জীবন মৃত্যু, 
- নিঃসঙ্গ পাইন, 
- বুকের ভিতরে আগুনম, 
- নাটকের অবসান, 
- দুই মেরু, 
- প্রবাসের দিনগুলি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২২.
পর্দাপ্রথা নির্ভর নকশাধর্মী গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সুলতানার স্বপ্ন
  2. খ) অবরোধবাসিনী
  3. গ) পদ্মরাগ
  4. ঘ) মতিচূর
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 

• তাঁর একটি নকশাধর্মী গ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'। এতে মোট ৪৭টি ঘটনাকে অনুগল্প আকারে লেখা আছে।
- এর মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

বেগম রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা,
- পদ্মরাগ (উপন্যাস,
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৩.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত 'পদ্মরাগ' একটি-
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২৪.
'আলো ও ছায়া' - কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. কামিনী রায়
  3. জাহানারা ইমাম
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

'আলো ও ছায়া' - এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২৫.
'মতিচূর' কি ধরণের রচনা?
  1. উপন্যাস 
  2. প্রবন্ধ সংকলন
  3. নাটক 
  4. কল্পকাহিনি
ব্যাখ্যা

'মতিচূর' বেগম রোকেয়ার লিখা একটি প্রবন্ধ সংকলন।

• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
-  ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী ও বহুভাষী জ্ঞানী ব্যক্তি। 
- তৎকালীন সমাজে মুসলিম নারীদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকা সত্ত্বেও বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বড় বোন করিমুন্নেসা খানম চৌধুরানীর উৎসাহে তিনি শিক্ষা অর্জনের পথ খুঁজে পান।
- পরবর্তীতে তিনি সাখাওয়াত হোসেনকে বিয়ে করেন।
- এবং স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে প্রতিষ্ঠা করেন সাখাওয়াত হোসেন মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল।
- নারীদের সংগঠিত করার জন্য ১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।

- সাহিত্যক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: 
- বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল—
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (গল্প),
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ সংকলন) ও
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (কল্পকাহিনি)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১২৬.
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. যাপিত জীবন
  2. যাত্রা 
  3. কবর 
  4. একুশের গল্প
ব্যাখ্যা

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের আলেচিত উপন্যাস 'যাপিত জীবন'। এই উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন।
- নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। কাহিনির পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র। এই উপন্যাস মূলত প্রতীকী ভাবনায় বাংলা ও বাঙালির শেকড় ও অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে। জাফর হয়ে ওঠে বাঙালির বলিষ্ঠ কণ্ঠের উৎসারণ।

অন্যদিকে, 
• শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস যাত্রা। এই উপন্যাসে যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
• 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
• জহির রায়হানের অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম 'একুশের গল্প'। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।

-------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন। তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাস।

১২৭.
‘হুগলীর ইমামবাড়ি’ উপন্যাসটি কোন চরিত্রকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে? 
  1. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক 
  2. হাজী মুহম্মদ মহসিন
  3. হাতেম তাই
  4. হাজী শরীয়তুল্লাহ 
ব্যাখ্যা

‘হুগলীর ইমামবাড়ি’ হাজী মুহম্মদ মহসিনকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে।
--------------------------------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন।
- এটি তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও তিনি কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। 

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
-------------------------------------------- 
'হুগলীর ইমামবাড়ি’ নিয়ে কিছু কথা:
- স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রসিদ্ধ উপন্যাস হুগলীর ইমামবাড়ি রচিত হয়েছে হাজী মুহম্মদ মহসিনকে নিয়ে।
- হুগলীর ইমামবাড়ি’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট উনিশ শতকের হুগলি অঞ্চলের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবন।
- উপন্যাসটি হাজী মুহম্মদ মহসিনের দানকৃত সম্পত্তি থেকে নির্মিত ইমামবাড়িকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে ঐতিহাসিক ও কল্পনার মিশেল চমতকারভাবে ফুটে উঠেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১২৮.
সেলিনা হোসেন রচিত ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. স্মৃতিস্তম্ভ
  2. আর্তনাদ
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা - স্মৃতিস্তম্ভ।

উৎস: 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৯.
'বটতলার উপন্যাস' গ্রন্থের লেখকের নাম কী?
  1. দিলারা হাশেম
  2. রাজিয়া খান
  3. রিজিয়া রহমান
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'বটতলার উপন্যাস' এর লেখক 'রাজিয়া খান'।  

• রাজিয়া খান: 
- রাজিয়া খান আমিন মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপক ছিলেন।
- অধ্যাপনা করলেও সাহিত্যের অঙ্গনেও তাঁর সমান পদচারণা ছিল।
- সাহিত্যকর্মে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫৮ সালে।
- তাঁর সাড়া জাগানো বই ‘বটতলার উপন্যাস’।



উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'বটতলার উপন্যাস' এবং বিবিসি নিউজ বাংলা।
১৩০.
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি- “দখিন দুয়ার গেছে খুলি?- কোন কবিতার অংশ?
  1. মায়া কাজল
  2. উদাত্ত পৃথিবী
  3. অভিযাত্রিক
  4. তাহারেই পড়ে মনে
ব্যাখ্যা
তাহারেই পড়ে মনে 
সুফিয়া কামাল,

“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?” (সংক্ষিপ্ত)
---------------------------------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল মূলত কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ’সৈনিক বধূ’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,
- একাত্তরের ডায়েরী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- একাল আমাদের কাল;
- তাঁর লিখিত ডায়রি: একাত্তরের ডায়রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩১.
”রূপজালাল” কী ধরনের রচনা?
  1. মনস্তাত্বিক
  2. আত্মজীবনী
  3. রাজনৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- তিনি একজন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক ছিলেন- 
  1. কাদম্বরী দেবী
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. নবাব ফয়জুন্নেসা 
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিকের নাম- স্বর্ণকুমারী দেবী। 
------------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ভারতী-এর সম্পাদনা করেছিলেন প্রায় এক দশক ধরে।
- এছাড়া তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার অগ্রদূত ছিলেন।
- নারীদের সৃজনশীলতা ও সহায়তার জন্য তিনি সখী সমিতি নামক একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।
------------------------ 
অন্যদিকে,
• কাদম্বরী দেবী জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির বধূ ছিলেন এবং তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর অত্যন্ত প্রিয় বৌঠান; তিনি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর স্ত্রী ছিলেন।

• নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন একজন বিশিষ্ট জমিদার, সমাজসেবী, নারীশিক্ষার অগ্রদূত ও সাহিত্যচর্চায় যুক্ত কবি, যিনি সমাজকল্যাণ ও শিক্ষাবিস্তার কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

• চন্দ্রাবতী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি হিসেবে পরিচিত; তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৩৩.
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. জসীমউদ্দীন
  3. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
⇒ 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ:
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'রোকেয়া রচনাবলী' থেকে চয়ন করা হয়েছে।
- এ প্রবন্ধে লেখক তৎকালীন সভ্যতার নামে এক শ্রেণির মানুষের বিলাসিতা ও অন্যদিকে দারিদ্র্যপীড়িত কৃষকদের বঞ্চনার কথা ব্যক্ত করেছেন।
- কৃষকদের এই মুমূর্ষু অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য তিনি শিক্ষা বিস্তারে পাঠশালা প্রতিষ্ঠার উপর এবং গ্রামীণ কুটির শিল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

⇒ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ)
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৪.
“নীল ময়ূরের যৌবন” উপন্যাসের রচয়িতার নাম কী?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. রাজিয়া বেগম
  3. আমেনা খাতুন
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

 • 'নীল ময়ূরের যৌবন'- সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস। 
- ১৯৮৩ সালে 'নীল ময়ূরের যৌবন’ প্রকাশিত হয়।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- সাহিত্যভাবনা: তাঁর উপন্যাসে অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি প্রতিফলিত হয়েছে।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- যমুনা নদীর মুশায়রা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩৫.
নওয়াব ফয়জুন্নেসা কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. রংপুরে
  2. বরিশালে
  3. ঢাকায়
  4. কুমিল্লায়
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:  
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নওয়াব ফয়জুন্নেসা ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
-  'বান্ধব', 'ঢাকা প্রকাশ', 'মুসলমান বন্ধু', 'সুধাকর', 'ইসলাম প্রচারক' প্রভৃতি বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও নওয়াব ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া 'সঙ্গীতসার' ও 'সঙ্গীতলহরী' নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।
- ১৯০৩ সালে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে তিনি সমাহিত হন।
- ২০০৪ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসাকে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩৬.
'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শওকত ওসমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

•'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩৭.
‘রূপজালাল’ আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ফজিলাতুন্নেসা
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
⇒ রূপজালাল:
- গদ্যে-পদ্যে নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে। 
-  এটি ১৮৭৬ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সম্ভবত বাংলার একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক প্রথম রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যকর্ম।
- ফয়জুন্নেসার নিজের একটি লাইব্রেরি ছিল। সেখানে তিনি বিভিন্ন সাহিত্য ও ধর্মবিষয়ক গ্রন্থাদি পাঠ করতেন। তাঁর স্বোপার্জিত জ্ঞানের প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উক্ত প্রতীকাশ্রয়ী গ্রন্থটিতে।
- পুথি ও জারিগানের মিশ্র ধারায় লিখিত এ গ্রন্থটি শুরু হয়েছে আল্লাহর প্রশংসা এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।
- সমকালীন বাংলায় মুসলমানদের সাহিত্যচর্চার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ফয়জুন্নেসা তাঁর লেখায় অনেক আরবি, ফার্সি ও উর্দু শব্দ ব্যবহার করেছেন।

⇒ নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী:
- নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন। মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।

- নবাব ফয়জুন্নেসা আলোচিত আত্মজীবনীমূলক রচনা রূপজালাল।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়। উল্লেখ্য যে, নবাব ফয়জুন্নেসা এমন এক সময়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা করেন যখন অভিজাত মুসলমানদের মধ্যে এই ভাষা সাধারণত ব্যবহৃত হতো না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩৮.
সুফিয়া কামাল রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. কেয়ার কাঁটা
  2. সাঁঝের মায়া
  3. মায়া কাজল 
  4. অভিযাত্রিক
ব্যাখ্যা

• 'কেয়ার কাঁটা' সুফিয়া কামাল রচিত গল্পের সংকলন বা গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• সুফিয়া কামাল:

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'সৈনিক বধূ' ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩৯.
বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রবর্তক কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত প্রমথ চৌধুরী। তিনি বীরবল ছদ্মনাম ব্যবহার করে অনেক রচনা প্রকাশ করেন। বীরবলের হালখাতা তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা। তিনি মাসিক সবুজপত্র (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৪০.
নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং আলোর দিশারী বলা হয় কাকে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং আলোর দিশারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪১.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কোন কাব্যখানি ‘বাহার-নাহার’কে উৎসর্গ করেন?
  1. সন্ধ্যা
  2. সর্বহারা
  3. সাম্যবাদী
  4. সিন্ধু-হিন্দোল
ব্যাখ্যা
শামসুন্নাহার মাহমুদ:
- ১৯০৮ সালে ফেনী (বৃহত্তর নোয়াখালী) জেলার গুথুমা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, লেখক।
- তাঁর লেখায় সমাজ ও সংস্কৃতি-প্রীতির প্রকাশ ঘটেছে।
- তিনি বেগম রোকেয়ার নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অংশীদার হন।
- কলকাতায় থাকাকালে কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বহুবার সাক্ষাৎ হয়। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে সাহিত্য চর্চায় উদ্বুদ্ধ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'সিন্ধু-হিন্দোল' (১৯২৭) কাব্যখানি ‘বাহার-নাহার’কে উৎসর্গ করেন।
- শামসুন্নাহারের প্রথম লেখা কবিতা প্রকাশিত হয় কিশোরদের 'আঙ্গুর' নামক মাসিক পত্রিকায়।
- আই.এ পড়ার সময় তিনি 'নওরোজ' ও 'আত্মশক্তি' পত্রিকার মহিলা বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'বুলবুল' (১৯৩৩) পত্রিকা হবীবুল্লাহ্ বাহার ও শামসুন্নাহার যুগ্মভাবে সম্পাদনা করেন।
- ১৯৬৪ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- পুণ্যময়ী (১৯২৫),
- ফুলবাগিচা (১৯৩৫),
- বেগম মহল (১৯৩৬),
- রোকেয়া জীবনী (১৯৩৭),
- শিশুর শিক্ষা (১৯৩৯),
- আমার দেখা তুরষ্ক (১৯৫৫),
- নজরুলকে যেমন দেখেছি (১৯৫৮) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪২.
সুফিয়া কামালের কবিতা কোনটি?
  1. তাহারেই পড়ে মনে
  2. তোমাকে
  3. তোমায় আমি
  4. তোমাকে ভালোবেসে
ব্যাখ্যা
তাহারেই পড়ে মনে:
- সুফিয়া কামাল রচিত কবিতাটি ১৯৩৫ সালে মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।
- কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'র অন্তর্গত।

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো জীবনানন্দ দাশের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; সাঁঝের মায়া, সুফিয়া কামাল; শ্রেষ্ঠ কবিতাসমগ্র, জীবনানন্দ দাশ।
১৪৩.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মতিচূর
  2. অবরোধবাসিনী
  3. পদ্মরাগ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- এটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

অন্যদিকে,
নারী ও শিশু বিষয়ক প্রবন্ধ - মতিচূর, অবরোধবাসিনী।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৪.
'মাল্য ও নির্মাল্য' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. কামিনী রায়
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'মাল্য ও নির্মাল্য' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - কামিনী রায়।
- এটি ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------
• কামিনী রায়:

- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- মাল্য ও নির্মাল্য, 
- অশোক সঙ্গীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য)
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে, 
- একলব্য,
- দ্রোণ-ধৃষ্টদ্যুম্ন,
- শ্রাদ্ধিকী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৫.
'পদ্মরাগ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস। এটি ১৯২৪ সালে প্রাকশিত হয়।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ উপন্যাসে।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় তাঁর জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৬.
‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধটি কার লেখা?
  1. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. আহমদ শরীফ
  4. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা

• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

• 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধ:
 - 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধটিতে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী পুরুষের প্রাত্যহিক জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক হাস্য-রসাত্মকভাবে বর্ণনা করেছেন।
- বাঙালি পুরুষগণের অলসপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর আচরণ সম্পর্কে আলোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি নারীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রতি আলোচনাও রয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে ব্যাঙ্গাত্মক এই প্রবন্ধের মাধ্যমে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি পুরুষ ও নারীকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। 

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

অন্যদিকে,
• ‘বিশ শতকের বাঙালি’ প্রবন্ধটির রচয়িতা 'আহমদ শরীফ'।
• নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪৭.
নিচের কোনটি গল্প?
  1. দুই সৈনিক
  2. আমি সৈনিক
  3. সৈনিক বধূ
  4. জননী
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

অন্যদিকে,
• ‘আমি সৈনিক’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান।
• জননী শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৮.
‘বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ’- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. কায়কোবাদ
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার অন্তর্গত। 

• কামিনী রায়:

- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসণ্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে; হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৯.
মুসলিম নারী জাগরনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান কোথায়?
  1. পারাতলী গ্রাম
  2. পাইকারদি গ্রাম
  3. পায়রাবন্দ গ্রাম
  4. শাহজাদপুর
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন, (১৮৮০-১৯৩২)
- সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী, নবপ্রভা, মহিলা, ভারতমহিলা, আল-এসলাম, নওরোজ, মাহে নও, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, The Mussalman, Indian Ladies Magazine  প্রভৃতি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন।
- তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায়।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়।
- সমকালীন সাময়িক পত্রে মিসেস আর.এস হোসেন নামে তাঁর রচনা প্রকাশিত হতো।
- রোকেয়ার সমগ্র সাহিত্যকর্মের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে সমাজের কুসংস্কার ও অবরোধ প্রথার কূফল, নারীশিক্ষার পক্ষে তাঁর নিজস্ব মতামত, নারীদের প্রতি সামাজিক অবমাননা এবং নারীর অধিকার ও নারী জাগরণ সম্পর্কে তাঁর প্রাগ্রসর ধ্যানধারণা।
- বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধেও তাঁর লেখনী ছিল সোচ্চার।

রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream  (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।
- Sultana’s Dream গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫০.
সেলিনা হোসেনের 'যাপিত জীবন' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. নারী জাগরণ
  2. স্বদেশী আন্দোলন
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

উৎস: 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
১৫১.
’রূপজালাল’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  3. সুফিয়া কামাল
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- তিনি একজন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরি ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দু খানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫২.
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন রচিত ‘মতিচুর’ গ্রন্থটি কত খণ্ডে রচিত?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

'মতিচুর' রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
গ্রন্থটি দুইখণ্ডে রচিত।
প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে। দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে,
-আবরোধবাসীনি
-পদ্মরাগ-
-Sultana's Dream ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৫৩.
নিচের কোনটি দিলেরা হাসেম রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ঘর মন জানালা
  2. আমি ভাল আছি তুমি
  3. একদা এবং অনন্ত
  4. আমলকির মৌ
ব্যাখ্যা
দিলারা হাসেম: 
- দিলারা হাসেম একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯৩৬ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।  

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- শঙ্খকরাত,
- অনুক্ত পদাবলী। 

অন্যদিকে,
- "আমি ভাল আছি তুমি" দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৪.
'জন্মেছি এই দেশে'- কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'জন্মেছি এই দেশে'- কবিতাটির রচয়িতা: 'সুফিয়া কামাল'। 
----------------------- 
• সুফিয়া কামাল: 

- জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,  
- একাত্তরের ডায়েরী। 
--------------------------
জন্মেছি এই দেশে- কবিতা, 
- সুফিয়া কামাল---সংকলিত (সুফিয়া কামাল)

অনেক কথার গুঞ্জন শুনি
অনেক গানের সুর
সবচেয়ে ভাল লাগে যে আমার
‘মাগো’ ডাক সুমধুর।
আমার দেশের মাঠের মাটিতে
কৃষাণ দুপুরবেলা
ক্লান্তি নাশিতে কন্ঠে যে তার
সুর লয়ে করে খেলা। (সংক্ষেপিত) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, জন্মেছি এই দেশে- কবিতা।
১৫৫.
’রূপজালাল’ গ্রন্থটি রচিত-
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  2. গদ্য ছন্দে
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  4. গদ্য ও পদ্য ছন্দে
ব্যাখ্যা
• রূপজালাল:
- রূপজালাল নওয়াব ফয়জুননেসা-র গদ্য ও পদ্য ছন্দে রচিত আত্মজীবনী ও কল্পকাহিনীমূলক একটি গ্রন্থ।
- এটি ১৮৭৬ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সম্ভবত বাংলার একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক প্রথম রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যকর্ম।

• নবাব ফয়জুন্নেসা:
- তিনি ছিলেন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি ।
- নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
-১৮৯৪ সালে হজ্জ পালন করতে গিয়ে ফয়জুন্নেসা মক্কায় একটি মাদ্রাসা ও একটি মুসাফিরখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে 'নবাব' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।
বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
-গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য
জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫৬.
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিনা হোসেন
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।
 
তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- একাত্তরের দিনগুলি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৭.
'বিশ শতকের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. জহির রায়হান
  3. আহমদ শরীফ
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

'বিশ শতকের মেয়ে' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• 'আগুনের মেয়ে' নামক উপন্যাসটির রচয়িতা আল মাহমুদ।
• জহির রায়হানের 'শেষ বিকেলের মেয়ে' যত না প্রেমের উপন্যাস, আসলে এটি তার চেয়ে বেশী করে প্রেমহীনতার উপন্যাস। 
• "বিশ শতকের বাঙালি" ন্থটির লেখক হলেন আহমদ শরীফ। 

-------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১-২০০২) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তাঁর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• গবেষণা:
- শরৎ-প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক।
 
• উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

• আত্মজীবনী:
- বিন্দু-বিসর্গ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫৮.
নওয়াব ফয়জুন্নেসা কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুমিল্লা
  2. কুড়িগ্রাম
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নওয়াব ফয়জুন্নেসা ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
- 'বান্ধব', 'ঢাকা প্রকাশ', 'মুসলমান বন্ধু', 'সুধাকর', 'ইসলাম প্রচারক' প্রভৃতি বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও নওয়াব ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫৯.
'সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা? 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. কামিনী রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্ব কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।

'সুখ' কবিতার কিছু অংশ সংক্ষেপে দেয়া হলো-

সুখ
- কামিনী রায়
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

----------------------
• কামিনী রায়: 
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
- তিনি 'নারী শ্রম তদন্ত কমিশন' (১৯২২-২৩) এর সদস্য ছিলেন।
- তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে হাজারীবাগ, বিহারে মৃত্যুবরণ করেন।
- 'আলো ও ছায়া' (১৮৮৯): এটি তাঁর ১৫ বছর বয়সে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'সুখ' কবিতা।

১৬০.
'আলো ও ছায়া' কোন সাহিত্যিকের রচনা?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
'আলো ও ছায়া' ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত, কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ।
কামীনি রায় ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
কামিনী রায়ের রচিত আরো কিছু কাব্যগ্রন্থ,
-নির্মাল্য,
-পৌরাণিকী
-গুঞ্জন
-মাল্য ও নির্মাল্য
-অশোক সংগীত
-অম্বা
-দীপ ও ধূপ
-জীবন পথে ।
তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
কামিনী রায় ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬১.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত 'মতিচূর' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্য
  3. গল্প
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত 'Lady Land' বা 'নারীস্থান' মূলত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
- তিনি ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
 • তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খণ্ড: ১ম খণ্ড - ১৯০৪, ২য় খণ্ড - ১৯২২),  
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬২.
কত সালে সেলিনা হোসেন 'মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক' লাভ করেন?
  1. ১৯৬৩
  2. ১৯৬৫
  3. ১৯৬৭
  4. ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বদেশে পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে,
- মুক্তো করো ভয়,
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনুঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৩.
সুফিয়া কামাল রচিত প্রথম গল্প- 
  1. বাসন্তী
  2. সাঁঝের মায়া
  3. সৈনিক বধূ
  4. মায়া কাজল
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামাল:
- বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।

তার রচিত:
- প্রথম কবিতা - বাসন্তী; এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাঁঝের মায়া; এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে এবং এর মুখবন্ধ লিখেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
- প্রথম গল্প -- সৈনিক বধূ; এটি বরিশালের 'তরুণ ' পত্রিকায় ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

সুফিয়া কামালের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- উদাত্ত পৃথিবী,
- মায়া কাজল,
- অভিযাত্রিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৬৪.
'ঘরগেরস্থির রাজনীতি' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. সেলিনা হোসেন
  3. সরদার জয়েন উদ্দিন
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
'ঘরগেরস্থির রাজনীতি' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'ঘরগেরস্থির রাজনীতি'।
- গ্রন্থটি ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে মোট সতেরটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
- প্রতিটি প্রবন্ধে বাংলাদেশের সমাজ প্রেক্ষিতে নারীর অবস্থা ও অবস্থানের বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
- নারীবাদী প্রেক্ষিত থেকে সমাজ-ভাবনার চিত্রটি উঠে এসেছে প্রবন্ধগুলোতে।

সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বদেশে পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে,
- মুক্তো করো ভয়,
- ঘরগেরস্থির রাজনীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ঘরগেরস্থির রাজনীতি, সেলিনা হোসেন।
১৬৫.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কোন গ্রন্থে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদ প্রকাশিত হয়েছে?
  1. মতিচুর
  2. পদ্মরাগ
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত রচিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৬৬.
জাহানারা ইমাম কী নামে খ্যাত?
  1. বাংলার রাণী
  2. শহীদ জননী
  3. মুক্তিযোদ্ধা জননী
  4. জননী সাহসিকা
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬৭.
কামিনী রায়ের কোন কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লিখে দেন?
  1. অশোকসঙ্গীত
  2. আলো ও ছায়া
  3. জীবনপথে
  4. মাল্য ও নির্মাল্য
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সাহিত্য শাখার সভানেত্রী (১৯৩০) এবং  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সহসভাপতি (১৯৩২-৩৩) ছিলেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'আলো ও ছায়া' প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৮.
'আদর্শ ছেলে' কবিতা কে রচনা করেছেন?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কামিনী রায়
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা 'আদর্শ ছেলে'।
- তার রচিত "আদর্শ ছেলে", যার প্রথম চরণ "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে", বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সর্বাধিক পরিচিত।

আদর্শ ছেলে
কুসুমকুমারী দাশ

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি, বুকে বল তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই তার পণ,
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান,
নাই কি শরীরে তব রক্ত মাংস প্রাণ?
হাত, পা সবারি আছে মিছে কেন ভয়,
চেতনা রয়েছে যার সে কি পড়ে রয়?
সে ছেলে কে চায় বল কথায়-কথায়,
আসে যার চোখে জল মাথা ঘুরে যায়।
হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান
তোমরা মানুষ হলে দেশের কল্যাণ।

• কুসুমকুমারী দাশ:
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল'।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।

উৎস: আমার বাংলা বই তৃতীয়-শ্রেণি এবং ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৯.
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. চাঁদবেনে
  2. দীপান্বিতা
  3. গায়ত্রী সন্ধ্যা
  4. উৎস থেকে নিরন্তর
ব্যাখ্যা
• ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস নয়। এটি সেলিনা হোসেন রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

 • গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
১৭০.
"করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
•  "করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।"
- কবিতাংশটুকু কামিনী রায়ের ‘পাছে লোকে কিছু বলে ’ কবিতা থেকে সংকলিত।

- 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতাটি লিখেছেন: 'কামিনী রায়'।  
 - কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।

পাছে লোকে কিছু বলে,
- কামিনী রায়। 
করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে। (সংক্ষেপিত)

উৎস: সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭১.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. এখানে এখন
  2. বিশ শতকের মেয়ে
  3. দুয়ে দুয়ে চার
  4. উজানের মৃত্যু
ব্যাখ্যা

• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটকঃ
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।
• তাঁর রচিত ছোটগল্প- রমনা পার্কে।
• এখানে এখন কাব্যনাট্যের রচয়িতা সৈয়দ শামসুল হক।
• উজানের মৃত্যু নাটকের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৭২.
‘বায়ান্ন গলির এক গলি’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• রাবেয়া খাতুনের উপস্থাপনায় এক বিশ্বস্ত দলিল উপন্যাস ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’।
- ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’ নামের ন্যায় এমন প্রেক্ষাপটেই এ উপন্যাসের পটভূমি বিস্তারিত হয়েছে। ’৪৭-পূর্ব ঢাকার সমাজ জীবন, রাজনীতি, দাঙ্গা এসেছে এ উপন্যাসে।

• রাবেয়া খাতুন:
- রাবেয়া খাতুনের জন্ম ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। ২৭শে ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে মামাবাড়ি পাউসার গ্রামে।
- খাতুনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন শহর ও পুরোন ঢাকায়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প 'প্রশ্ন'।
- পুস্তকাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'মধুমতী'।
- প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশ। মূলত ঔপন্যাসিক হলেও সাহিত্যের সব শাখায় রয়েছে তাঁর স্বাচ্ছন্দ বিচরণ। লিখেছেন অসংখ্য ছোট গল্প, নাটক, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, ছড়া, কিশোর সাহিত্য।

রাবেয়া খাতুন রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- শুধু তোমার জন্য,
- বসন্তভীলা,
- কুয়াশার ভোর,
- মেঘের পরে মেঘ,
- চাঁদের ফোটা।

উৎস: ‘একাত্তরের নয় মাস’ প্রবন্ধ রাবেয়া খাতুন এবং যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ জানুয়ারি, ২০২১।
১৭৩.
সুফিয়া কামাল কোন পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন?
  1. বেগম
  2. মোহাম্মদী
  3. সওগাত
  4. ক্রান্তি
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭৪.
মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ কে ছিলেন?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন:
• বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- তিনি মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি গঠন করেন।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
-  নবনূর, সওগাত, মোহাম্মাদী, পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হাতো।

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

• তার রচিত উপন্যাস:
- পদ্মরাগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭৫.
'সাতটি তারার ঝিকিমিকি' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. জাহানারা ইমাম
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- একাত্তরের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৭৬.
'ঘর মন জানালা' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) রশীদ করীম
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) দিলারা হাসেম
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
'ঘর মন জানালা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'দিলারা হাসেম'
• তাঁর প্রথম উপন্যাস 'ঘর মন জানালা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

দিলারা হাসেম  
- দিলারা হাসেম একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী লেখক এবং বিখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- ১৯৩৬ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তিনি ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- মুরাল,
- শঙ্খ করাত,
- অনুক্ত পদাবলী,
- মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৭৭.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. পদ্মরাগ
  3. মতিচূর
  4. সুলতানার স্বপ্ন
  5. নারীর মূল্য
ব্যাখ্যা
• 'নারীর মূল্য' প্রবন্ধ:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে ১৯২৩ সালে 'নারীর মূল্য' নামক প্রবন্ধটি যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। 
- এটি নারীর সামাজিক অধিকার এবং সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান একটি প্রবন্ধ। 
---------------------------------- 
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৭৮.
‘ক্যান্সারের সাথে বসবাস’ বইটি কে লিখেছেন?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জাহানারা ইমাম
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
- 'ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস' গ্রন্থটি রচনা করেন জাহানারা ইমাম।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনেও মুখের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন এবং মারা যান।

• জাহানারা ইমাম:
- মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে ১৯২৯ সালে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- প্রবাসের দিনগুলি।

• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭৯.
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. বেগম রোকেয়া 
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ ও গবেষণাগ্রন্থ।

আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত নারীদের জীবনকাহিনীকে কেন্দ্র করে লেখা।
- বইয়ে উল্লেখিত নারীরা হলেন: তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।
- লেখক বলেছেন, এই সাতজনের কাহিনী প্রতিনিধিত্ব করছে প্রায় দুই লাখ মা-বোনের।
- বইতে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি সম্বন্ধেও আলোচনা করা হয়েছে।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন মৃত্যু বরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ ও গবেষণাকর্ম:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- উনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়। 

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই, 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর। 

তাঁর আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৮০.
'একাত্তরের দিনগুলি' জাহানারা ইমাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. দিনলিপি
  3. নাটক
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের দিনগুলি' দিনলিপি:
- একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

- বইটি ব্যক্তিগত দিনলিপি আকারে লেখা, যার শুরু ১৯৭১ সালের ১ মার্চ এবং সমাপ্তি সেই বছরের ১৭ ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা শহরের অবস্থা ও গেরিলা তৎপরতার বাস্তব চিত্র এতে উঠে এসেছে। বইটিতে তার সন্তান শফি ইমাম রুমী অন্যতম প্রধান চরিত্র হিসেবে দেখা দেয়।

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।খণ্ড খণ্ড আকারে লেখা এই ঘটনাগুলিই ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়।

- বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

উৎস: 'একাত্তরের দিনগুলি' জাহানারা ইমাম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮১.
শাহপরি দ্বীপের মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ ঘটেছে সেলিনা হোসেন রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  2. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  3. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
  4. জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা

'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত একটি উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- মালেক,
- সাফিয়া,
- তোরাব আলী প্রমুখ।

--------------
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস এবং 'পোকা মাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস।

১৮২.
নিচের কোনটি কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ?
  1. অশোকসঙ্গীত
  2. পৌরাণিকী
  3. মাল্য ও নির্মাল্য
  4. অম্বা
ব্যাখ্যা

• 'অশোকসঙ্গীত' হলো বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি ও লেখিকা কামিনী রায়ের লেখা একটি বিখ্যাত সনেট সংগ্রহ, যা তিনি ১৯১৪ সালে রচনা করেন। 

-----------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮৩.
সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ-  
  1. সাঁঝের মায়া 
  2. কেয়ার কাঁটা 
  3. আলো ও ছায়া 
  4. অশোকসঙ্গীত 
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ- সাঁঝের মায়া। 

• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’।
• তাঁর স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

অন্যদিকে, 
- আলো ও ছায়া এবং অশোকসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থ দুইটির রচয়িতা হচ্ছে- কামিনী রায়। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য।

১৮৪.
মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন-
  1. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- র্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৫.
’বিন্দু বিসর্গ’ কার রচিত আত্মজীবনী?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বিনোদিনী
  3. জাহানারা ইমাম
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
’বিন্দু বিসর্গ’ নীলিমা রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। 
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন। 
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক রচনার 'আত্মচরিত'।
• জাহানারা ইমাম রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ- একাত্তরের দিনগুলি।
• বিনোদিনী রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ’আমার কথা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৮৬.
'জন্মেছি এই দেশে' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) জসীমউদ্দীন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
'জন্মেছি এই দেশে' কবিতাটির রচয়িতা- কবি সুফিয়া কামাল। 

জন্মেছি এই দেশে
- সুফিয়া কামাল

অনেক কথার গুঞ্জন শুনি
অনেক গানের সুর
সবচেয়ে ভাল লাগে যে আমার
‘মাগো’ ডাক সুমধুর।

আমার দেশের মাঠের মাটিতে
কৃষাণ দুপুরবেলা
ক্লান্তি নাশিতে কন্ঠে যে তার
সুর লয়ে করে খেলা।

মুক্ত আকাশে মুক্ত মনের
সেই গান চলে ভেসে
জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে
মরি যেন এই দেশে।

এই বাংলার আকাশ-বাতাস
এই বাংলার ভাসা
এই বাংলার নদী, গিরি-বনে
বাঁচিয়া মরিতে আশা।

শত সন্তান সাধ করে এর
ধূলি মাখি সারা গায়
বড় গৌরবে মাথা উচু করি
মানুষ হইতে চায়।

উৎস: জন্মেছি এই দেশে কবিতা- সুফিয়া কামাল। 
১৮৭.
‘রূপজালাল’ গ্রন্থটি কী ধরনের রচনা?
  1. গবেষণামূলক প্রবন্ধ
  2. নাট্য রচনা
  3. আত্মজীবনীমূলক
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নওয়াব ফয়জুন্নেসা ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
- 'বান্ধব', 'ঢাকা প্রকাশ', 'মুসলমান বন্ধু', 'সুধাকর', 'ইসলাম প্রচারক' প্রভৃতি বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও নওয়াব ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া 'সঙ্গীতসার' ও 'সঙ্গীতলহরী' নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।
- ১৯০৩ সালে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে তিনি সমাহিত হন।
- ২০০৪ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসাকে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৮৮.
জাহানারা ইমামের রচিত অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. জাগ্রত ধরিত্রী
  2. শবনম
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. প্রতিধ্বনি
ব্যাখ্যা

জাহানারা ইমামের রচিত অনুবাদ গ্রন্থ হচ্ছে জাগ্রত ধরিত্রী। 

জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম ১৯২৯ সালের ৩ মে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে পরিচিত।
- ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’ এর আহবায়ক হিসেবে তিনি ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ তাঁর সর্বাধিক পরিচিত কীর্তি।
- ১৯৮১ সালের দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
 - পরে ঢাকায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থসমূহ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি। 

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি। 

অনুবাদ গ্রন্থ:
- নদীর তীরে ফুলের মেলা,
- জাগ্রত ধরিত্রী,
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর। 

অন্যদিকে, 
খ) "শবনম" সৈয়দ মুজতবা আলীর এক কালজয়ী প্রেমের উপন্যাস যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অনন্য। উপন্যাসটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়। এটি একটি মৌলিক রচনা।
গ) 'সুলতানার স্বপ্ন' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের একটি অনুবাদ গ্রন্থ।
ঘ) 'প্রতিধ্বনি' (১৯৫৪) নামে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের একটি অনুবাদগ্রন্থ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

১৮৯.
সেলিনা হোসেনের দেশবিভাগ ও ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) যাপিত জীবন
  2. খ) হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. গ) উৎস থেকে নিরন্তর
  4. ঘ) পোকামাকড়ের ঘরবসতি
ব্যাখ্যা
- সেলিনা হোসেনের দেশবিভাগ ও ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত উপন্যাস- যাপিত জীবন

তাছাড়া,
- সেলিনা হোসেনের মাঝিদের সংগ্রামী জীবন নিয়ে রচিত উপন্যাস- পোকামাকড়ের ঘরবসতি।
- সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- হাঙর নদী গ্রেনেড।
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের লেখা প্রথম গল্পগ্রন্থ।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
১৯০.
উনিশ শতকের সাহিত্যিক কে?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. আলাওল
  3. আবদুল হাকিম
  4. নবাব ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা
• উনিশ শতকের সাহিত্যিক — নবাব ফয়জুন্নেসা।

অন্যদিকে,
• শাহ মুহম্মদ সগীর - পনের শতকের কবি। 
• আলাওল, আবদুল হাকিম- সতের শতকের কবি। 

• নবাব ফয়জুন্নেসা (১৮৩৪-১৯০৩):
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কার স্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
-  বান্ধব,  ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু,  সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯১.
‘যে অরণ্যে আলো নেই’ কার রচিত সাহিত্যকর্ম?
  1. নীলিমা ইব্রাহীম
  2. শামসুর রাহমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহিম, ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
তাঁর রচিত নাটকগুলোর মধ্যে :-
- দুয়ে দুয়ে চার (১৯৬৪),
- যে অরণ্যে আলো নেই (১৯৭৪),
- রোদ জ্বলা বিকেল (১৯৭৪)
- সূর্যাস্তের পর (১৯৭৪)


উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া

১৯২.
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কবর
  2. একুশের গল্প
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

অন্যদিকে,
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- ‘জীবন থেকে নেয়া’ জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র।
- “একুশের গল্প” গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলী দ্বিতীয় খণ্ড (১৯৮১ সালে প্রকাশিত) থেকে সংগৃহীত। এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।

----------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

উৎস: 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৩.
"অশোক সংগীত" এর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রজনীকান্ত সেন
  3. কামিনী রায়
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৪.
'গোলাপ ফোঁটা সকাল' সেলিনা হোসেনের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. উৎস থেকে নিরন্তর
  2. মানুষটি
  3. অনুঢ়া পূর্ণিমা
  4. নারীর রূপকথা
ব্যাখ্যা
উৎস থেকে নিরন্তর:
- এটি সেলিনা হোসেনের লেখা প্রথম গল্পগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল, খেয়াঘাট ইত্যাদি সংকলিত হয়েছে গ্রন্থটি।
- বিচিত্র বিষয় নিয়ে প্রথম গল্পগ্রন্থেই সেলিনা হোসেন স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দেন।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি তাঁর গল্পের বিষয়।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৫.
'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন কোন কবি?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. জাহানারা ইমাম
  3. কামিনী রায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় একজন প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৬.
কিশোর পত্রিকা 'বালক' প্রতিষ্ঠা কার অমর কীর্তি?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. আল মাহমুদ
  4. কাদম্বরী দেবী
ব্যাখ্যা

• কিশোর পত্রিকা 'বালক' প্রতিষ্ঠা স্বর্ণকুমারী দেবীর অমর কীর্তি। 

-----------------
• ‘বালক’ পত্রিকা:
‘বালক’ ছিল কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত একটি পারিবারিক সচিত্র মাসিক শিশু-পত্রিকা। ১২৯২ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় জ্ঞানদানন্দিনী দেবী–র সম্পাদনায়। তিনি ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেজোবৌঠাকুরানী। যদিও সম্পাদক ছিলেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, পত্রিকার কার্যাধ্যক্ষ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১২৯৩ বঙ্গাব্দে কার্য্যধ্যক্ষের পদ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবসর নেন। ফলে জ্ঞানদানন্দিনীর পক্ষে একা পত্রিকা দেখাশোনা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। সচিত্র মাসিক পত্রিকা 'বালক' তাই দীর্ঘায়ু হয়নি, মাত্র এক বছর চলেছিল।

পরে এটি যুক্ত হয় ঠাকুরবাড়িরই বিখ্যাত পত্রিকা 'ভারতী'র সঙ্গে, যুগ্ম-পত্রিকার নাম হয় 'ভারতী ও বালক'। প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ১২৯৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (ইংরাজী ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে)। তৎকালীন 'ভারতী' পত্রিকার সম্পাদক স্বর্ণকুমারী দেবী 'বালক' পত্রিকার সম্পাদনা করেন। 'ভারতী'র সাথে যুগ্মভাবে 'বালক'-এর আয়ুষ্কাল ছিল সাত বছর এবং এই সাতবছরে শিশুসাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে বাংলায় জাগরণ এনেছিলো 'বালক' পত্রিকা। 

‘বালক’ পত্রিকায় ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের পাশাপাশি তৎকালীন বহু খ্যাতনামা লেখকের রচনা প্রকাশিত হতো, যা বাংলা শিশুসাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: ‘বালক’ পত্রিকা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৯৭.
‘উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন 
  2. আনোয়ার পাশা 
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. সেলিনা হোসেনে
ব্যাখ্যা

• ‘উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ:  
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি বিষয়বস্তুর পেক্ষাপটে গল্পগুলো রচিত। 
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল -ইত্যাদি গল্প সংকলিত হয়েছে এই গল্পগ্রন্থে।

----------------------
সেলিনা হোসেন রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং ‘উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ।

১৯৮.
নিচের কোনটি উপন্যাস? 
  1. গড্ডলিকা
  2. নতুন চাঁদ
  3. কন্যাকুমারী
  4. নেমেসিস
ব্যাখ্যা
• 'কন্যাকুমারী' রাশিদা আখতার রচিত একটি উপন্যাস।

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ- 'নতুন চাঁদ'।
- 'গড্ডলিকা' রাজশেখর বসু রচিত গল্পগ্রন্থ।
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কন্যাকুমারী' উপন্যাস রাশিদা আখতার।
১৯৯.
কোনটি বেগম রোকেয়ার রচনা নয়?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. পদ্মিনী শঙ্খিনী
  3. Sultana’s Dream
  4. মতিচূর
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মিনী শঙ্খিনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা সানাউল হক

বেগম রোকেয়া:

- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা,
- পদ্মরাগ (উপন্যাস,
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০০.
সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'র মুখবন্ধ লেখেন -
  1. জসীম উদ্দিন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'সাঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা/মুখবন্ধ লিখেছিলেন ⎯ কাজী নজরুল ইসলাম।
- উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
 
- ২৮টি কবিতার এই নাতিদীর্ঘ সঞ্চয়নটির অন্যতম গুণ হচ্ছে সুফিয়া কামালের ভবিষ্যৎ সাহিত্য রচনার ভিত্তি স্থাপনা, যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এক নারীর কণ্ঠস্বরে, সংস্কৃতির শিকড়ে তার গভীর অথচ গতিময় সঞ্চরণে এবং এক বৈশ্বিক, সামগ্রিক চেতনার পরিচয়ে ।
- কবি কামা ইভানোভা কর্তৃক অনূদিত 'সাঁঝের মায়া' গ্রন্থটির রাশিয়ান অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে।
----------------------- 
সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
-  সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’- এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 
 
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।