বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল

মোট প্রশ্ন৩১৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩১৬

১০১.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হাওয়াই দ্বীপের মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবার আক্রমণ করে-
  1. ক) ইতালি
  2. খ) রাশিয়া
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) জার্মানি
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী জাপান, জার্মানি ও ইতালিকে একত্রে অক্ষশক্তি বলা হয়।
জাপান ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি আক্রমণ করে।
এজন্য ১৯৪১ সালের ৮ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১০২.
আরব উপদ্বীপ এশিয়া মহাদেশের কোন দিকে অবস্থিত?
  1. উত্তর পশ্চিম কোণে
  2. পূর্বে পশ্চিম কোণে
  3. দক্ষিণ পশ্চিম কোণে
  4. দক্ষিণ পূর্বে কোণে
ব্যাখ্যা
আরব উপদ্বীপ:
- আরব উপদ্বীপ বিশ্বের বৃহত্তম উপদ্বীপ।
- এটি এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত।
- আয়তন প্রায় ১,২০০,০০০ বর্গ মাইল (৩,১০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার)।
- আরব উপদ্বীপের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগর, দক্ষিণে এডেন উপসাগর।
- জর্ডান ও ইরাকসহ এতে নয়টি দেশ অবস্থিত। এর মধ্যে আয়তনে বৃহত্তম দেশ সৌদি আরব এবং ক্ষুদ্রতম বাহরাইন।

উৎস:ব্রিটানিকা।[Link]
১০৩.
ভারত ও নেপালের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল কোনটি?
  1. কালাপানি
  2. লিমপিয়াধুরা
  3. লিপুলেখ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধ:
- ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত রয়েছে ১,৬৯০ কিলোমিটার বা ১,০৫০ মাইল।
- বর্তমানে যেসব স্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে সেগুলো হলো কালাপানি, লিমপিয়াধুরা, লিপুলেখ ও সুস্তা।
- ২ নভেম্বর ২০১৯ সালে ভারত নতুন একটি রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে।
- উক্ত মানচিত্রে বিতর্কিত ভূমি কালাপানি, লিমপিয়াধুরালিপুলেখ ভারতীয় সীমান্তের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দেখানো হয়।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো ও বিবিসি বাংলা।
১০৪.
ভ্লাদিভস্টক কোন দেশের সমুদ্রবন্দর?
  1. ক) ইউক্রেন
  2. খ) কাজাখস্তান
  3. গ) তাজাখস্তান
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা
রাশিয়ার অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর।
Source: Britannica
১০৫.
কোন যুদ্ধের সময় সিনাই উপদ্বীপ ইসরায়েলের দখলে আসে?
  1. প্রথম আরব ইসরায়েল যুদ্ধ
  2. ছয় দিনের যুদ্ধ
  3. দ্বিতীয় আরব ইসরায়েল যুদ্ধ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সিনাই উপদ্বীপ: 
- সিনাই উপদ্বীপ হলো একটি ত্রিভুজাকৃতির উপদ্বীপ যা আফ্রিকাকে এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে।
- এই শুষ্ক অঞ্চলটি সিনাই মরুভূমি নামে পরিচিত। 
- এটি সুয়েজ উপসাগর ও সুয়েজ খাল দ্বারা মিশরের পূর্ব মরুভূমি থেকে পৃথক।
- পূর্বদিকে এটি তেমন ভৌগোলিক পরিবর্তন ছাড়াই নেগেভ মরুভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
- সাধারণত এটি এশিয়ার অংশ হিসাবে গণ্য করা হয়।
- এটি মিশরের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এবং পূর্বে ইসরায়েল ও গাজা উপত্যকার সীমানা সংলগ্ন।
- ১৯৬৭ সালের জুনে ছয় দিনের যুদ্ধের সময় উপদ্বীপটি ইসরায়েলের দখলে আসে।
- তবে ইসরায়েল ও মিশরের মধ্যে শান্তি চুক্তি অনুযায়ী ১৯৮২ সালে সিনাই উপদ্বীপ মিশরের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

উৎস: Britannica.
১০৬.
নিচের কোনটি সংঘর্ষ নিবারক রাষ্ট্র?
  1. নেপাল
  2. মঙ্গোলিয়া
  3. ভুটান
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাফার স্টেট বা (সংঘর্ষ নিবারক রাষ্ট্র):
- ১৭ শতকে বাফার রাষ্ট্রের ধারণা প্রকাশ পায়।
- বিবদমান দুই বৃহত্তর রাষ্ট্রের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্র।
- যেমন: বেলজিয়াম (ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স): নেপাল, ভুটান (ভারত ও চীন); মঙ্গোলিয়া (চীন ও রাশিয়া)।

উৎস: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।[লিংক]
১০৭.
সিয়াচেন হিমবার (Siachen Glaciar) কোন দুইটি দেশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ভারত ও চীন
  2. নেপাল ও চীন
  3. পাকিস্তান ও চীন
  4. ভারত ও পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
সিয়াচেন হিমবার (Siachen Glacier) ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অবস্থিত।
 
সিয়াচেন হিমবাহ:
- ‘সিয়াচেন হিমবাহ’ অবস্থিত উত্তর কাশ্মীরে।
- সিয়াচেন হিমবাহ পৃথিবীর উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র বলে পরিচিত।
- 'সিয়াচেন হিমবাহ' পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।

⇒ কারাকোরাম পর্বতের সিয়াচেন হিমবাহ দখলে রাখা নিয়ে দুই চিরবৈরী দেশ ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে লড়াই শুরু হয় আশির দশকের গোড়া থেকে।
- তবে দ্বন্দ্বের বীজ লুকিয়ে ছিল দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া করাচি আর সিমলা চুক্তি দুটির মধ্যেই – যেখানে ‘এন জে ৯৮৪২’ নামের একটি অবস্থানের পরে নিয়ন্ত্রণ রেখা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি মানচিত্রে।
- মনে করা হত ওই এলাকার আবহাওয়া এতটাই প্রতিকুল, যেখানে কোনও মানুষ থাকতে পারবে না।

অন্যদিকে,
• ভারত ও নেপালের মধ্যে অমীমাংসিত ভূখন্ড হলো কালাপানি,
• ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল লাদাখ,
• ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল ইম্ফল।



উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
১০৮.
ইরাকে কখন মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়?
  1. ক) ২০০৩ সালের ১৮ মার্চ
  2. খ) ২০০৩ সালের ২০ মার্চ
  3. গ) ২০০৩ সালের ২২ মার্চ
  4. ঘ) ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ
ব্যাখ্যা
- ২০০৩ সালের ২০ মার্চ মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাক আক্রমণ করে।
- ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক অভিযান ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’ নামে পরিচিত।

- তার আগে ১৯৯০ সালের ২ আগস্ট ইরাক কর্তৃক কুয়েত আক্রান্ত হলে ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী ইরাকের উপর বিমান হামলা শুরু করে যা ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ নামে পরিচিত।

উৎস: ব্রিটানিকা
১০৯.
সিয়াচেন হিমবাহ নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে কোন দুই দেশের মধ্যে?
  1. ভারত ও চীন
  2. নেপাল ও ভারত
  3. ভারত ও পাকিস্তান
  4. চীন ও নেপাল
ব্যাখ্যা
সিয়াচেন হিমবাহ:
- এই হিমবাহ পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, এটা দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কারণ হয়ে আছে।
- সিয়াচেন হিমবাহ উত্তর কাশ্মীরে অবস্থিত এবং এটি পৃথিবীর উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
- কারাকোরাম পর্বতের সিয়াচেন হিমবাহ দখল নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে লড়াই শুরু হয় আশির দশকের গোড়ায়।
- তবে এই দ্বন্দ্বের মূল শেকড় লুকিয়ে আছে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত করাচি ও সিমলা চুক্তির ফাঁকে।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও বিবিসি নিউজ।
১১০.
রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কোনটি?
  1. ব্যাফিন দ্বীপপুঞ্জ
  2. কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
  3. আলোর দ্বীপপুঞ্জ
  4. পান্তার দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ:
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ ।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের কাছ থেকে এই দ্বীপগুলো সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল করে নেয়।
- প্রশান্ত মহাসাগরের যে চারটি দ্বীপ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এটি তার মধ্যে একটি  হলো এই কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ।
- বিতর্কিত কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের চারটির মধ্যে দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় দ্বীপ কুনাশির। 
- চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে কুড়িল দ্বীপপুঞ্জকে জাপান তাদের নর্দান টেরিটরি হিসাবে অভিহিত করে।
- এমনকি এই বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসান ঘোষণা করে হওয়া শান্তিচুক্তিতেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করে নি।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১১১.
আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপ কোনটি?
  1. ক) সাইপ্রাস
  2. খ) সেন্ট হেলেনা
  3. গ) মাল্টা
  4. ঘ) সিসিলি
ব্যাখ্যা
• আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপসমূহ:
- ফকল্যান্ড (যুক্তরাজ্য),
- গ্রেট ব্রিটেন,
- রোবেন দ্বীপ (দ. আফ্রিকা),
- সেন্ট হেলেনা (যুক্তরাজ্য)।

• ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত দ্বীপসমূহ:
- সিসিলি (ইতালি),
- সাইপ্রাস,
- মাল্টা।

উৎস: World Atlas
১১২.
সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ কোন সাগরে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ চীন সাগর
  2. জাপান সাগর
  3. পূর্ব চীন সাগর
  4. পীত সাগর
ব্যাখ্যা

সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ:
- পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে জাপান ও চীনের মধ্যকার বিরোধ দীর্ঘদিনের।
- সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জটি উৎসুরি, তাইশো, কুবা, কিতা কোজিমা ও মিনামি কোজিমা নামের পাঁচটি দ্বীপ এবং তিনটি ভাসমান পাথুরে টিলার সমন্বয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৭ বর্গ কিলোমিটার।
- তাইওয়ান থেকে ১২০ নটিক্যাল মাইল, চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল এবং জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপ থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল দূরে এর অবস্থান।
- জাপানিরা এই দ্বীপগুলোকে 'সেনকাকু' (Senkaku) বলে ডাকে।
- তবে চীনাদের কাছে এগুলো 'তিয়াওইউ' (Diaoyu) নামে পরিচিত।
- চতুর্দশ শতক থেকে চীন সেনকাকুর মালিকানা দাবি করে আসছে।
- ১৪ জানুয়ারি ১৮৯৫ জাপান প্রথম দ্বীপপুঞ্জটির নিয়ন্ত্রণ পায়।
- ১৯৬৮ সালে এশিয়ার অর্থনীতিবিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন দ্বীপটিতে তেল-গ্যাস মজুত থাকার কথা জানায়। এর পর থেকেই তিন দেশ দ্বীপের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাটানি করছে।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।

১১৩.
আর্টসাখ (Artsakh) কোন দুটি দেশের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ অঞ্চল?
  1. ক) আর্মেনিয়া ও উজবেকিস্তান
  2. খ) আজারবাইজান ও জর্জিয়া
  3. গ) আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান
  4. ঘ) উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান
ব্যাখ্যা
- নাগার্নো কারাবাখ বা আর্টসাখ (Karabakh/Artsakh) প্রজাতন্ত্র হলো ককেশাস অঞ্চলে অবস্থিত আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।
-  সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর  নাগার্নো কারাবাখ প্রজাতন্ত্র (Republic of Nagorno-Karabakh) ১৯৯২ সালের শুরুতে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।  
- এটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত হলেও এর অধিকাংশ অধিবাসী হলো আর্মেনীয় জাতিসত্ত্বার। ফলে এর নিয়ণন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দেশ দুটির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে।
- ১৯৯৪ সাল থেকে আর্মেনিয়া অঞ্চলটির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
- গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ নাগার্নো কারাবাখ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ বাঁধে।
- ৯ নভেম্বর ২০২০ রাশিয়ার মধ্যস্থতায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তির ফলে আজারবাইজান নাগার্নো কারাবাখের সাতটি অঞ্চলের পাঁচটির উপর তার নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে।

উৎসঃ আল-জাজিরা রিপোর্ট, ব্রিটানিকা।
১১৪.
পেরেজিল দ্বীপ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় কোন দুটি দেশের মধ্যে?
  1. স্পেন – মরক্কো
  2. স্পেন – ফ্রান্স
  3. পর্তুগাল – মরক্কো
  4. আলজেরিয়া – স্পেন
ব্যাখ্যা
- পেরেজিল দ্বীপ (Isla Perejil) নিয়ে বিরোধ রয়েছে মরক্কো ও স্পেনের মধ্যে।

বিরোধপূর্ণ দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জ:
- সেনকাকু দ্বীপ : চীন – জাপান।
- পেরেজিল দ্বীপ : মরক্কো – স্পেন।
- শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ : রাশিয়া – জাপান।
- স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ : চীন– তাইওয়ান – ফিলিপাইন - মালয়েশিয়া – ভিয়েতনাম।
- ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ : যুক্তরাজ্য – আর্জেন্টিনা।
- কুরিল দ্বীপপুঞ্জ : রাশিয়া – জাপান।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও পত্রিকা নিউজ।
১১৫.
আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক বিরোধের প্রধান কারণ কী? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. কাস্পিয়ান সাগরের তেলক্ষেত্র
  2. নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল
  3. ককেশাস পর্বতমালা অঞ্চল
  4. কিউবায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপন
ব্যাখ্যা

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক বিরোধের প্রধান কারণ হলো নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত।

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান শান্তিচুক্তি:

- দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের রাষ্ট্র আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ৮ আগস্ট, ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশনিয়ান।
- এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী মিত্রতা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
- শান্তিচুক্তির পাশাপাশি উভয় দেশের সাথে করিডোর ও বাণিজ্য ইস্যুতে পৃথক চুক্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

উল্লেখ্য,
- বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলে নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান কয়েক দশক ধরে বিবাদে লিপ্ত।
- অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত হলেও ১৯৯৪ সালের এক যুদ্ধের পর থেকে আর্মেনিয়ার সমর্থনে জাতিগত আর্মেনীয় বাহিনী ওই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
- আর্মেনিয়া নাগোর্নো কারাবাখের দখল নেয়ার পর কয়েক দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয় দুই দেশের মধ্যে।
- ২০২৩ সালে পুনরায় অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয় আজারবাইজান।

উৎস: Reuters.

১১৬.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বাফার স্টেট ছিল কোন দেশ?
  1. ক) ফ্রান্স
  2. খ) জার্মানি
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) বেলজিয়াম
ব্যাখ্যা
বাফার স্টেট: 
- দুটি বৃহৎ অথচ বিপরীতমনা রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত কোন ক্ষুদ্র রাষ্ট্র, যা সংঘর্ষে জড়িয়ে যেতে রাষ্ট্র দুটোকে নিবৃত্ত করে তাকে বাফার স্টেট বলে।
- দুটি বৃহৎ শক্তিশালী দেশের মধ্যস্থলে অবস্থিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে অনেক সময় বিশেষভাবে সাহায্য করে।
- দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত বেলজিয়ামের কথা উল্লেখ করতে পারি।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
১১৭.
'অপারেশন অডিসি ডন' এর মাধ্যমে পতন ঘটে -
  1. ক) গাদ্দাফীর শাসনামল
  2. খ) সাদ্দামের শাসনামল
  3. গ) মুরসির শাসনামল
  4. ঘ) হোসনি মোবারকের শাসনামল
ব্যাখ্যা
Operation Odyssey Dawn: 
- অপারেশন অডিসি ডন (Operation Odyssey Dawn) লিবিয়ায় মার্কিন তথা আন্তর্জাতিক মিলিটারি অপারেশনস-এর কোড নাম।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি সিদ্ধান্ত (১৯৭৩) বাস্তবায়নের জন্যই ছিল এই মিলিটারি অপারেশনস্।
- এই অপারেশন পরিচালিত হয় ১৯ থেকে ৩১ মার্চ ২০১১ পর্যন্ত।
- এর মধ্য দিয়ে লিবিয়ায় বিমান হামলা চালানো হয় এবং লিবিয়ার উপর ‘নোফ্লাই জোন' প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আরো অংশ নিয়েছিল বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ইতালি, হল্যান্ড, নরওয়ে, কাতার, রোম, আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের বিমান বাহিনী।
- এই বিমান হামলায় গাদ্দাফী উৎখাত হন এবং তার সরকারের পতন ঘটে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
১১৮.
আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়-
  1. ক) ৬ নভেম্বর ২০২০
  2. খ) ৭ নভেম্বর ২০২০
  3. গ) ৮ নভেম্বর ২০২০
  4. ঘ) ৯ নভেম্বর ২০২০
ব্যাখ্যা
প্রতিবেশী দুই দেশ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া‌র মধ্যে দক্ষিণ ককেশাসের বিতর্কিত অঞ্চল নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো।
বিবাদপূর্ণ নাগার্নো-কারাবাখের মালিকানা ঘিরে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া।
৯ নভেম্বর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই অঞ্চলের প্রধান সম্পদ- দস্তা, কয়লা, স্বর্ণ, মার্বেল, চুনা পাথর ও প্রাকৃতিক ঝরণা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
১১৯.
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের অপর নাম কী?
  1. গ্যালাপাগোস
  2. মালভিনাস
  3. সেন্ট হেলেনা
  4. ফিজি
ব্যাখ্যা
- ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের অপর নাম হলো মালভিনাস।

ফকল্যান্ড দ্বীপ:
- ফকল্যান্ড দ্বীপ দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- এটি মালভিনাস নামেও পরিচিত।
- ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ১৯৮২ সালে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- যুদ্ধের স্থান ছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ।
- যুদ্ধের যুক্তরাজ্য বিজয়ী হয় এবং ফকল্যান্ডসহ কিছু দ্বীপে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখলে নিলে ব্রিটেন যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ১৪ জুন আর্জেন্টিনা পরাজিত হলে দ্বীপপুঞ্জে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার ক্ষমতা হারায়।

সূত্র: Britannica. 
১২০.
হানিস দ্বীপপুঞ্জ কোথায় অবস্থিত?
  1. লোহিত সাগরে
  2. পারস্য উপসাগরে
  3. বঙ্গোপসাগরে
  4. ভূমধ্যসাগরে
ব্যাখ্যা
হানিস দ্বীপপুঞ্জ: 
- দক্ষিণ লোহিত সাগরের এ দ্বীপপুঞ্জটি অবস্থিত।  
- ইয়েমেন ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে হানিস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরােধ ছিল। 
- ১৯৯৮ সালে স্থায়ী সালিসি আদালত বিরোধটি মীমাংসা করে। 
- সেই সময় থেকে দ্বীপটি ইয়েমেনের অধীন।

সূত্র: ব্রিটানিকা। 
১২১.
মিনস্ক গ্রুপ কোন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকট
  2. ক্রিমিয়া সংকট
  3. আর্মেনিয়া-আজারবাইজার দ্বন্দ্ব
  4. সিরিয়ান শরনার্থী সংকট
ব্যাখ্যা
- নাগার্নো কারাবাখ ছিটমহল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে দ্বন্দ্ব শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিরসনের লক্ষ্যে The Organization for Security and Co-operation of Europe (OSCE) এর উদ্যোগে ১৯৯৪ সালে মিনস্ক গ্রুপ গঠন করা হয়।
- রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স মিনস্ক গ্রুপের কো-চেয়ার। আর্মেনিয়া, আজারবাইজানসহ আরো আটটি দেশ মিনস্ক গ্রুপের সদস্য।

(তথ্যসূত্র: OSCE ওয়েবসাইট)
১২২.
ভারত ও পাকিস্তানের সীমানারেখা কোনটি?
  1. লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল
  2. ডুরান্ড লাইন
  3. লাইন অব কন্ট্রোল
  4. ম্যাকমোহন লাইন
ব্যাখ্যা
লাইন অব কন্ট্রোল:
- লাইন অব কন্ট্রোল (LOC) ভারত ও পাকিস্তানের সীমানারেখা।
- ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
- কাশ্মীরের তৎকালীন মহারাজা প্রথমে স্বাধীন থাকতে চাইলেও পরে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশ রোধে ভারতের সহায়তার শর্তে ভারতভুক্ত হন, যার ফলে ১৯৪৭-৪৮ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়।
- ১৯৪৯ সালের করাচি চুক্তি একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি আনলেও ১৯৬৫ সালে সীমান্ত সংঘর্ষ ফের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়।
- এরপর ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের ফলে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি কাশ্মীর অঞ্চলে লাইন অব কন্ট্রোল (LOC) স্থাপন করে।
- তবে ১৯৭৪ সালে ভারতের পারমাণবিক পরীক্ষা এবং পরে পাকিস্তানের একই পথে এগিয়ে যাওয়া এ বিরোধকে পারমাণবিক স্তরে নিয়ে যায়, যার ফলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

উল্লেখ্য,
- ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানারেখা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল। 
- ডুরান্ড লাইন হল আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত একটি সীমান্ত রেখা বা লাইন।
- ম্যাকমোহন লাইন ১৯১৪ সালে সিমলা চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন ও তিব্বতের স্বীকৃত হয়। বর্তমানে এটি ভারত ও চীনের মধ্যে আইন স্বীকৃত সীমানা, যদিও চীন সরকার একে বিতর্কিত অংশ বলে মনে করে।

উৎস: Global Conflict Tracker
১২৩.
‘গালওয়ান উপত্যকা’ কোন দুটি দেশের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা?
  1. ভারত ও চীন
  2. ভারত ও পাকিস্তান
  3. ভারত ও নেপাল
  4. নেপাল ও ভুটান
ব্যাখ্যা
গালওয়ান উপত্যকা:
- ‘গালওয়ান উপত্যকা’ ভারত ও চীনের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা।

⇒ গালওয়ান উপত্যকা লাদাখ অঞ্চলে অবস্থিত এবং চীন ও ভারতের মধ্যে একটি বিতর্কিত এলাকা।
- গালওয়ান নদী এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে এবং নদীটির উভয় পাশে ভারত ও চীনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
- উপত্যকাটি উত্তরে কারাকোরাম পর্বতমালা সহ দুর্গম ভূখণ্ড দ্বারা বেষ্টিত।
- গালওয়ান উপত্যকার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩,০০০ থেকে ১৪,০০০ ফুটের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি ভারত-চীন সীমান্তে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC)-এর কাছে অবস্থিত।
- ১৯৬২-র যুদ্ধের সময় যে সমস্ত স্থানে ভারত ও চীনের বড়সড় লড়াই বেঁধেছিল, সেগুলির মধ্যে অন্যতম গালওয়ান নদী উপত্যকা।

উৎস: BBC.
১২৪.
'নাগার্নো কারাবাখ' অঞ্চল নিয়ে কোন দুইটি দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে?
  1. আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান
  2. জর্জিয়া ও রাশিয়া
  3. রাশিয়া ও ইউক্রেন
  4. ইরান ও তুরস্ক
ব্যাখ্যা

নাগার্নো কারাবাখ:
- 'নাগার্নো কারাবাখ' আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এর বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।
- পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে সাবেক সোভিয়েত রিপাবলিকের অংশ এই দেশ দুটির মধ্যে।
- ১৯৮৮-৯৪ সাল পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও থেমে থেমে সংঘর্ষ চলেছে।
- এলাকাটি নিয়ে কোন ধরনের নিষ্পত্তি দুই দেশের মধ্যে হয়নি।
- আন্তর্জাতিকভাবে এই এলাকাটি আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত।
- কিন্তু এটি পরিচালনা করে জাতিগত আর্মেনিয়রা।
- বন্দী বিনিময় এবং মরদেহ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি করার জন্য এই যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, বিবিসি বাংলা।

১২৫.
'রাফাহ সীমান্ত' কোন দুইটি দেশের সাথে সংযুক্ত?
  1. সিরিয়া ও ফিলিস্তিন
  2. ইসরায়েল ও লেবানন
  3. মিশর ও ফিলিস্তিন
  4. ইসরায়েল ও সিরিয়া
ব্যাখ্যা
রাফাহ সীমান্ত :
- রাফাহ হল গাজা উপত্যকার সবচেয়ে দক্ষিণে ৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি শহর।
- রাফাহ ক্রসিং হল মিশর আর ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের মধ্যে একমাত্র সীমান্ত পারাপারের পথ।
- সীমান্তটি মানবিক সহায়তা, পণ্য প্রবাহ এবং সাধারণ নাগরিক চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।
- রাফাহ সীমান্তের গুরুত্ব ১৯৪৮ সালের পর থেকে বেড়ে গেছে, যখন ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলির মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।
- ২০০৭ সালে হামাস গাজায় ক্ষমতা গ্রহণ করার পর, সীমান্তে আরো কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
- রাফাহ সীমান্তটি বর্তমানে কখনো খোলা থাকে, কখনো আবার রাজনৈতিক বা যুদ্ধকালীন নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ থাকে।

উৎস: প্রথম আলো ও বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
১২৬.
'সিয়াচেন হিমবাহ' কোন দুইটি দেশের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল?
  1. পাকিস্তান ও ভারত
  2. ভারত ও চীন
  3. পাকিস্তান ও চীন
  4. ভারত ও ভুটান
ব্যাখ্যা

সিয়াচেন হিমবাহ:
- ‘সিয়াচেন হিমবাহ’ অবস্থিত উত্তর কাশ্মীরে।
- সিয়াচেন হিমবাহ পৃথিবীর উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র বলে পরিচিত।
- 'সিয়াচেন হিমবাহ' পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।

⇒ কারাকোরাম পর্বতের সিয়াচেন হিমবাহ দখলে রাখা নিয়ে দুই চিরবৈরী দেশ ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে লড়াই শুরু হয় আশির দশকের গোড়া থেকে।
- তবে দ্বন্দ্বের বীজ লুকিয়ে ছিল দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া করাচি আর সিমলা চুক্তি দুটির মধ্যেই – যেখানে ‘এন জে ৯৮৪২’ নামের একটি অবস্থানের পরে নিয়ন্ত্রণ রেখা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি মানচিত্রে।
- মনে করা হত ওই এলাকার আবহাওয়া এতটাই প্রতিকুল, যেখানে কোনও মানুষ থাকতে পারবে না।

অন্যদিকে,
• ভারত ও নেপালের মধ্যে অমীমাংসিত ভূখন্ড হলো কালাপানি,
• ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল লাদাখ,
• ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল ইম্ফল।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৪ সালে ভারত অপারেশন মেঘদূতের (Operation Meghdoot) মাধ্যমে সিয়াচেন হিমবাহের ৭০% নিয়ন্ত্রণ নেয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১২৭.
চীন ও ভিয়েতনামের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কোনটি?
  1. কুড়িল দ্বীপ
  2. স্প্রাটলি দ্বীপ
  3. শাখালিন দ্বীপ
  4. সেনকাকু দ্বীপ
ব্যাখ্যা
স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ:
- স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত।
- এটি চীনের অধীনস্ত বর্তমানে।
- এই দ্বীপটি নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

অন্যদিকে,
রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ:
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ ও শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ।

• শাখালিন দ্বীপ:
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ।

• সেনকাকু দ্বীপ:
- চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ।
- চীনে এটি পরিচিত 'দিয়াওয়ার্ড' নামে।

উৎস: Britannica.
১২৮.
'আয়া সোফিয়া' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) তুরস্ক
  2. খ) ইরান
  3. গ) ইরাক
  4. ঘ) স্পেন
ব্যাখ্যা
আয়া সোফিয়া তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত। তুরস্কের শীর্ষ প্রশাসনিক আদালত ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত আয়া সোফিয়ার জাদুঘরের মর্যাদা নাকচ করার পর এ স্থাপনাকে মসজিদ হিসেবে মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত বলে ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
১ হাজার ৫০০ বছর আগে আয়া সোফিয়া ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থোডক্স গির্জা, পরে তা পরিণত হয় মসজিদে, এরও পর একে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।
সর্বশেষ ২৪ জুলাই ২০২০ তারিখে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত স্থাপনা আয়া সোফিয়ায় দীর্ঘ ৮৬ বছর পর প্রথমবারের মতো জুমার নামাজ আদায় হয়।
উৎসঃ বিবিসি নিউজ।
১২৯.
কোন আগ্নেয়গিরিকে 'ভূমধ্যসাগরের আলোক স্তম্ভ' বলা হয়?
  1. ভিসুভিয়াস
  2. স্ট্রম্বোলি
  3. এটনা
  4. বারবারো
ব্যাখ্যা

আগ্নেয়গিরি:
- স্ট্রম্বোলি হল একটি স্ট্র্যাটোভোলকানো যা শক্ত আগ্নেয়গিরির ছাই, শিলা এবং লাভা প্রবাহের স্তর দিয়ে গঠিত।
- যা 'ভূমধ্যসাগরের বাতিঘর বা  আলোক স্তম্ভ' নামে পরিচিত।
- স্ট্রম্বোলি দীর্ঘকাল ধরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে তার রাতের বিস্ফোরণের মাধ্যমে।
- স্ট্রম্বোলি অনলাইন আগ্নেয়গিরির আরও দর্শনীয় অগ্ন্যুৎপাতের কিছু ফটো গ্যালারি সরবরাহ করে।
- স্ট্রম্বোলি দ্বীপ টাইরহেনিয়ান সাগরে (ভূমধ্যসাগরের), অবস্থিত।
- আয়তন ৫ বর্গ মাইল (১২ বর্গ কিমি)।
- দর্শনার্থীরা দ্বীপের আগ্নেয়গিরি, জলবায়ু এবং সৈকত দ্বারা আকৃষ্ট হয়।

উৎস: Britannica & earthobservatory.nasa

১৩০.
পার্ল হারবার কী?
  1. ক) মার্কিন নৌ ও বিমান ঘাঁটি
  2. খ) ব্রিটিশ নৌ ও বিমান ঘাঁটি
  3. গ) জার্মান নৌ ও বিমান ঘাঁটি
  4. ঘ) ফরাসি নৌ ও বিমান ঘাঁটি
ব্যাখ্যা
• ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর হাওয়াই-এর ওয়াহু দ্বীপে অবস্থিত পার্ল হারবারে মার্কিন নৌ ও বিমান ঘাঁটিতে জাপান বিমান হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করে দেয়।
- ৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে যুক্তরাষ্ট্র সাফল্যজনকভাবে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
- এর ঠিক তিন সপ্তাহ পর হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমাবর্ষণ করা হয়।
- ১৯৪৫ সালের ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও রাশিয়া পটাসডাম সম্মেলনে জাপানকে আত্মসমর্পণ করতে বললে জাপান তা প্রত্যাখ্যান করে।
- পরে ৬ ও ৯ আগস্ট হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমাবর্ষণ করা হয়।
- ফলে ১৪ আগস্ট (১৯৪৫) জাপান শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ করে। 

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
১৩১.
তাসখন্দ চুক্তির মধ্যস্থতাকারী কে ছিলেন?
  1. অ্যালেক্সি কোসিগিন
  2. জোসেফ স্টালিন
  3. মোরারজি দেসাই
  4. মিখাইল গর্বাচেভ
ব্যাখ্যা

তাসখন্দ চুক্তি:
- ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি ঐতিহাসিক তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এর মধ্য দিয়ে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে চিরবৈরী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ১৯৬৫ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আপাত অবসান ঘটে।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত উজবেকিস্তানের তাসখন্দে এই চুক্তি সম্পন্ন হয় বিধায় ইতিহাসে এটি তাসখন্দ চুক্তি নামেই বহুল পরিচিত।
- তৎকালীন সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সি কোসিগিনের মধ্যস্থতায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান দুই দেশের পক্ষে  চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি.কম।

১৩২.
কোন জলপথ নিয়ে ইরান-ইরাক যুদ্ধের অন্যতম প্রধান বিরোধ ছিল?
  1. সুয়েজ খাল
  2. বসফরাস প্রণালী
  3. শাত-ইল-আরব
  4. পানামা খাল 
ব্যাখ্যা

ইরান-ইরাক যুদ্ধের অন্যতম প্রধান বিরোধ ছিল শাত-ইল-আরব জলপথ নিয়ে।

ইরান-ইরাক যুদ্ধ:
- ইরাক-ইরান যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৮০ সালে।
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ ২০ আগস্ট, ১৯৮৮ সাল।
- ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন "শাত-ইল-আরব” জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের তেল সমৃদ্ধ সীমান্তবর্তী অঞ্চল “কোহেস্তান" (Khuzestan) দখলের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে ইরান আক্রমণ করেন।
- দীর্ঘ ৮ বছর যুদ্ধ চলার পর ১৯৮৮ সালের ২০ জুলাই জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ।
- ১৯৮৮ সালের ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়।

⇒ শাত-ইল-আরব:
- এটি পারস্য উপসাগরে অবস্থিত।
- শাত-ইল-আরব জলপথের অধিকারকে কেন্দ্র করেই মূলত ইরাক-ইরান বিরোধ শুরু হয়।
- বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে।
- শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

⇒ আলজিয়ার্স চুক্তি:
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী: ইরাক এবং ইরান।
- চুক্তির বিষয়: শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মীমাংসা।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৩ই জুন, ১৯৭৫।
- চুক্তি অনুমোদন হয়: ১৯৭৬ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: আলজির্য়াস, আলজেরিয়া।
- স্বাক্ষরকারী: ইরানের পক্ষে রেজা শাহ পাহলভী এবং ইরাকের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন।

উৎস: Britannica.

১৩৩.
বিরোধপূর্ণ স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ কোন সাগরে অবস্থিত?
  1. আন্দামান সাগর
  2. দক্ষিণ চীন সাগর
  3. ফিলিপাইন সাগর
  4. পূর্ব চীন সাগর
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ চীন সাগর:
- দক্ষিণ চীন সাগর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি শাখা, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডকে ঘিরে রেখেছে।
- এটি তাইওয়ান প্রণালী দ্বারা পূর্ব চীন সাগরের সাথে যুক্ত।
- দক্ষিণ চীন সাগর এবং পূর্ব চীন সাগর একত্রে চীন সাগর গঠন করে।
- দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
- এই দ্বীপপুঞ্জ মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, চীন এবং তাইওয়ান দাবি করেছে।
- অঞ্চলটি তেলসমৃদ্ধ হওয়ার কারণে তা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিরোধপূর্ণ।

উৎস: Britannica. 
১৩৪.
আফ্রিকার পার্ল কোন দেশকে বলা হয়?
  1. ক) উগান্ডা
  2. খ) দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. গ) কেনিয়া
  4. ঘ) মিশর
ব্যাখ্যা
- উগান্ডা একটি সুন্দর দৃশ্যের দেশ এবং এখানে গরিলা ট্রেকিং, সাফারি, বহুদিনের পর্বত ট্রেক এবং হোয়াইট ওয়াটার রাফটিং এর মতো বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ অফার করে। 
- উইনস্টন চার্চিল এর সৌন্দর্য, প্রচুর বন্যপ্রাণী এবং বৈচিত্র্যের জন্য উগান্ডাকে 'আফ্রিকার মুক্তা' বলে অভিহিত করেছেন।
- তারপর থেকে, উগান্ডা আফ্রিকার সবচেয়ে কাঙ্খিত ভ্রমণ ভ্রমণের একটিতে পরিণত হয়েছে।
- ‘উগান্ডা - আফ্রিকার মুক্তা’ - উইনস্টন চার্চিল তার ১৯০৮ সালের বই "মাই আফ্রিকান জার্নি" ১৯০৭ সালে উগান্ডা ভ্রমণ সম্পর্কে বিখ্যাত করেছিলেন। 
- উইনস্টন চার্চিল উগান্ডায় যা পেয়েছেন তা নিয়ে বেশ উৎসাহী ছিলেন।
- উগান্ডার কিছু এলাকা পার্বত্য হওয়ায়, সুন্দর দৃশ্যের সৃষ্টি দেশটিকে আরাধ্য বাস করে। 
- পার্বত্য অঞ্চলগুলি বৃষ্টির ব্যবস্থার মাধ্যমে উগান্ডার ত্রাণ উত্তোলন করে, খনির খাত এবং পর্যটনকে সমর্থন করে।

উৎস: Uganda, the Pearl of Africa - এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। 
১৩৫.
দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমার দাবিদার নয় কোন রাষ্ট্র?
  1. জাপান 
  2. ভিয়েতনাম
  3. মালয়েশিয়া
  4. ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণ চীন সাগরে সীমানা নিয়ে বিরোধ: 
- চীন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই- এদের দক্ষিণ চীন সাগরে সীমানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- দক্ষিণ চীন সাগর একটি প্রধান সমুদ্র পথ।
- জাতিসংঘের বাণিজ্য এবং উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আংকটাডের অনুমান, বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ২১ শতাংশ ২০১৬ সালে এই সমুদ্র পথে পরিবহন করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩.৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার।
- এছাড়া এখানে মৎস্য সম্পদও আছে প্রচুর।
- পুরো অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ এই সাগরে মাছ ধরে জীবন চালায়।
- বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মাছ ধরা জাহাজ ও নৌকা চলে এখানে।

⇒ চীন যে ধরণের ব্যাপক দাবি শুরু করেছে, যার মধ্যে বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জ এবং সংলগ্ন জলসীমাও রয়েছে, তা ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনেইকে ক্ষুব্ধ করেছে।
- এসব দেশও এখন দক্ষিণ চীন সাগরে সীমানা নিয়ে পাল্টা দাবি করছে।
- অন্যান্য দেশও সাগরের মাঝখানে প্যারাসেল এবং স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ এবং সাগরের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর তাদের অধিকার দাবি করছে।

⇒ দক্ষিণ চীন সাগরের সবচেয়ে বড় অংশটি দাবি করে চীন।
- তথাকথিত নাইন-ড্যাশ লাইনের মাধ্যমে চীন তাদের এই সীমানা চিহ্নিত করে রেখেছে।
- মোট নয়টি ড্যাশ চিহ্ন দিয়ে এই নাইন-ড্যাশ লাইনটি তৈরি।
- এটি চীনের সবচেয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হাইনান থেকে শত শত মাইল দক্ষিণ এবং পূর্বদিক পর্যন্ত বিস্তৃত।

অন্যদিকে,
- জাপান বিরােধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের জলসীমার দাবিদার নয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

১৩৬.
'Law of the Sea Convention' অনুযায়ী উপকূল থেকে কত দূরত্ব পর্যন্ত 'Exclusive Economic Zone' হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ১২ নটিক্যাল মাইল
  2. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  3. ২৭০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩২০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা

সমুদ্রসীমা:
- 'Law of the Sea Convention' অনুযায়ী  আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে, প্রতিটি উপকূলীয় দেশ উপকূল থেকে 200 নটিক্যাল মাইল (370 কিলোমিটার) বিস্তৃত একটি একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

অন্যদিকে,
- টেরিটোরিয়াল বা রাজনৈতিক সমুদ্রসীমার দৈর্ঘ্য - ১২ নটিক্যাল মাইল
- মহীসোপানের দৈর্ঘ্য - ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

১৩৭.
'এভিন কারাগার' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. সিরিয়া
  2. আফগানিস্তান
  3. কিউবা
  4. ইরান
ব্যাখ্যা
এভিন কারাগার:
- কুখ্যাত 'এভিন কারাগার' ইরানে অবস্থিত
- রাজনৈতিক বন্দী, সাংবাদিক ও বিদেশি নাগরিকদের আটকে রাখার কারণে তেহরানের এভিন কারাগারের বিশেষভাবে পরিচিত।
- এভিন কারাগারে শত শত রাজনৈতিক বন্দী আছে, এর পাশাপাশি সাধারণ অপরাধীদেরও সেখানে রাখা হয়।

উৎস: বিবিসি পত্রিকা রিপোর্ট।
১৩৮.
বার্লিন প্রাচীর নির্মাণের পর পূর্ব জার্মানি কোন দেশের নিয়ন্ত্রণে ছিল?
  1. ফ্রান্স
  2. ব্রিটেন
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
⇒ বার্লিন প্রাচীর নির্মাণের পর পূর্ব জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

বার্লিন প্রাচীর (১৯৬১-১৯৮৯):

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, জার্মানি চারভাগে বিভক্ত হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- পরে, পশ্চিম জার্মানি (ফেডারেল রিপাবলিক) গঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অংশ নিয়ে এবং পূর্ব জার্মানি (ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক) গঠিত হয় সোভিয়েত অংশ থেকে।
- পশ্চিম জার্মানি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার কারণে সমৃদ্ধ হয়, কিন্তু পূর্ব জার্মানি ছিল অপেক্ষাকৃত কম উন্নত।
- উন্নত জীবনের জন্য পূর্ব জার্মানির মানুষ পশ্চিম জার্মানিতে চলে যেতে শুরু করে।
- এই অভিবাসন ঠেকাতে এবং পুঁজিবাদী প্রভাব থেকে বাঁচতে, পূর্ব জার্মানি ১৩ আগস্ট, ১৯৬১ সালে বার্লিন শহরের মাঝ দিয়ে একটি প্রাচীর তৈরি করে।
- এই প্রাচীরের দৈর্ঘ্য ছিল ১৫৫ কিলোমিটার।
- ৯ নভেম্বর, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়।
- ৩ অক্টোবর, ১৯৯০ সালে, দুই জার্মানি একত্রিত হয়ে একটি রাষ্ট্র গঠন করে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১৩৯.
ভারত ও চীনের সীমান্ত রেখার নাম -
  1. ক) ম্যাকমোহন লাইন
  2. খ) ডুরান্ড লাইন
  3. গ) র‍্যাডক্লিফ লাইন
  4. ঘ) লাইন অব কন্ট্রোল
ব্যাখ্যা
ম্যাকমোহন লাইন

- বর্তমানে ভারত ও চীনের মধ্যে আইন স্বীকৃত সীমানা।
- যদিও চীন সরকার একে বিতর্কিত অংশ বলে মনে করে।
- এর নামকরণ করা হয় স্যার হেনরি ম্যাকমোহনের নামে।


তথ্যসূত্র: হিস্টরি.কম।
১৪০.
'নাগার্নো-কারাবাখ' 'অঞ্চল নিয়ে কোন দুটি দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে?
  1. জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া
  2. আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান
  3. রাশিয়া ও তুরস্ক
  4. আর্মেনিয়া ও জর্জিয়া
ব্যাখ্যা

• নাগার্নো কারাবাখ:
- 'নাগার্নো কারাবাখ' আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এর বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।
- পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে সাবেক সোভিয়েত রিপাবলিকের অংশ এই দেশ দুটির মধ্যে।
- ১৯৮৮-৯৪ সাল পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও থেমে থেমে সংঘর্ষ চলেছে।
- এলাকাটি নিয়ে কোন ধরনের নিষ্পত্তি দুই দেশের মধ্যে হয়নি।
- আন্তর্জাতিকভাবে এই এলাকাটি আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত।
- কিন্তু এটি পরিচালনা করে জাতিগত আর্মেনিয়রা।
- বন্দী বিনিময় এবং মরদেহ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি করার জন্য এই যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

উল্লেখ্য:
- আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান:
- স্বাক্ষর: ৯ নভেম্বর, ২০২০।
- স্থান: মস্কো, রাশিয়া।
- মধ্যস্থতাকারী: রাশিয়া।
- যুদ্ধবিরতি কার্যকর: ১০ নভেম্বর, ২০২০।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও বিবিসি বাংলা।

১৪১.
'ভিজিনজাম সমুদ্র বন্দর' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. কানাডা
  2. জর্ডান
  3. রাশিয়া
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
সমুদ্রবন্দর:
- ভারতের সর্বদক্ষিণের সমুদ্রবন্দর ‘ভিজিনজাম’।
- কেরালায় অবস্থিত এ বন্দরে বিভিন্ন দেশের জাহাজ নোঙর করে তেল ভরাটসহ অন্যান্য পণ্য এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে উঠাতে পারবে।
- আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের পাশে এ অঞ্চলের অবস্থান, সেই পথে বিশ্বের ৩০ শতাংশ কার্গো জাহাজ চলাচল করে।
- আবার এই বন্দরের গভীরতা ২৪ মিটারের বেশি। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজগুলোও এখানে অনায়াসে ভিড়তে পারবে। 

অন্যদিকে,
- 'আকাবা' সমুদ্রবন্দর অবস্থিত জর্ডানে।
- 'এডেন' সমুদ্রবন্দর ইয়েমেনে অবস্থিত।
- গ্লাসগো সমুদ্র বন্দর অবস্থিত স্কটল্যান্ডে।
- মন্ট্রিল, কুইবেক, ভ্যাঙ্কুভার সমুদ্রবন্দর অবস্থিত কানাডায়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১৪২.
ফ্রান্স কত সালে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করে?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৭০ সালে
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা:
- ফ্রান্স ১৯৬০ সালে সাহারা মরুভূমিতে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করে।
- ১০৫মিটার (৩৪৪ফুট) টাওয়ার থেকে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। 
- NPT এর অধীনে স্বীকৃত পাঁচটি পারমাণবিক অস্ত্র রাষ্ট্রের মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম।
- ফ্রান্সের পারমাণবিক বোমা তৈরিতে প্রধান ব্যক্তিরা হলেন - পিয়েরে গুইলাউমাট, জেনারেল চার্লস আইলেরেট এবং ইয়েভেস রোকার্ড।
- বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম পারমাণবিক মজুদ রয়েছে, যা সাবমেরিন এবং এয়ার-লঞ্চ ক্রুজ মিসাইল দ্বারা সরবরাহযোগ্য।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং nti.org.[Link]
১৪৩.
বর্তমানে কোন রাষ্ট্রের সীমানায় মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত ছিল?
  1. মিশর
  2. ইরাক
  3. ভারত
  4. গ্রিস
ব্যাখ্যা
সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয় সভ্যতা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মধ্যে একটি।
- এটি বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে অবস্থিত ছিল।
- সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান, ও কুয়েতে এই সভ্যতার কিছু অংশ রয়েছে।
- মেসোপটেমিয়া একটি উন্নত সাংস্কৃতিক সভ্যতা ছিল, যেখানে লেখনী, গণনা, ও কলা প্রচলিত ছিল।

উৎস: হিস্টরি.কম ও ব্রিটানিকা।
১৪৪.
চীন কোন ভারতীয় রাজ্যকে “দক্ষিণ তিব্বত” হিসেবে দাবি করে?
  1. সিকিম
  2. মেঘালয়
  3. অরুণাচল
  4. জম্মু ও কাশ্মীর
ব্যাখ্যা
- চীন অরুণাচল প্রদেশকে "দক্ষিণ তিব্বত" হিসেবে দাবি করে।  
- চীন অরুণাচল প্রদেশকে তাদের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এটিকে "জাংনান" নামে অভিহিত করে, যা দক্ষিণ তিব্বত নামেও পরিচিত।
- ভারত এই অঞ্চলের উপর চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং অরুণাচল প্রদেশকে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
- চীন প্রায়শই অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে তাদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করে, যা উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। 
- মোট ২৭টি স্থানের নাম এবারে চীন তাদের মতো করে পরিবর্তন করেছে।
- এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি পাহাড়, ৫টি আবাসিক এলাকা, ৪টি পাহাড়ের গিরিপথ, ২টি নদী ও ১টি হ্রদ।

উৎস: BBC NEWS বাংলা
প্রথম আলো (১৪ মে ২০২৫)
১৪৫.
কোন দেশের মধ্যে 'স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ' নিয়ে বিরোধ রয়েছে?
  1. চীন ও ফিলিপাইন
  2. চীন ও রাশিয়া
  3. জাপান ও রাশিয়া
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ:
- স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীন, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান।
- প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জটি চীন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের মধ্যে বিরোধপূর্ণ।
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে শাখালিন ও কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরোধপূর্ণ।

সূত্র - ব্রিটানিকা ও বিবিসি বাংলা।
১৪৬.
কোন দেশের সাথে ইতালি, স্পেন এবং বেলজিয়ামের সীমানা রয়েছে?
  1. ফ্রান্স
  2. জর্জিয়া
  3. বেলারুশ
  4. ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ফ্রান্স:
• ফ্রান্সের মোট সীমানা ২৪৬৪ মাইল।
• ফ্রান্সের সাথে ইউরোপের আটটি দেশের সীমানা রয়েছে:
- জার্মানি,
- সুইজারল্যান্ড,
- লুক্সেমবার্গ,
- ইতালি,
- স্পেন,
- বেলজিয়াম,
- অ্যান্ডোরা এবং মোনাকো,

অন্যদিকে,
• স্পেনের সাথে ৪০১ মাইল সীমানা রয়েছে, যা ফ্রান্সের ইউরোপীয় প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘতম।
• ফ্রান্স দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলির সাথেও সীমানাযুক্ত (দেশের বিদেশী অঞ্চল ফ্রেঞ্চ গায়ানার মাধ্যমে)।
• ফ্রান্সের সীমানার সাথে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ:
- ব্রাজিল
- সুরিনাম।

উৎস: World Atlas. [Link]
১৪৭.
নিচের কোন দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মাঝে বিরোধ রয়েছে?
  1. স্পিটসবার্গেন দ্বীপপুঞ্জ
  2. সোলমন দ্বীপপুঞ্জ
  3. শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ
  4. ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ:
- এটি মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নামেও পরিচিত।
- দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপপুঞ্জ যা যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসিত বিদেশি অঞ্চল।
- এই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মাঝে বিরোধ রয়েছে।
- ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার ফকল্যান্ড আক্রমণ করে।
- এরই প্রেক্ষিতে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের যুদ্ধ শুরু হয়।
- ১০ সপ্তাহ পর স্ট্যানলিতে ব্রিটিশ সৈন্যদের কাছে আর্জেন্টাইন বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই যুদ্ধ শেষ হয়।
- ব্রিটিশ সৈন্যরা জোরপূর্বক দ্বীপগুলো পুনরায় দখল করে নেয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

১৪৮.
ভূমধ্যসাগরে জলসীমা নিয়ে দ্বন্দ্ব কোন দুটি দেশের মধ্যে?
  1. গ্রিস ও তুরস্ক
  2. স্পেন ও ফ্রান্স
  3. মোনাকো ও ইতালি
  4. ফ্রান্স ও ইতালি
ব্যাখ্যা
• ভূমধ্যসাগরে জলসীমা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে। 
- তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের ২০০ কিলোমিটারের সীমান্ত আছে।
- ভূমধ্যসাগরে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন নিয়েও দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিরোধ চলে। 
- তুরস্ক ও গ্রিস দুটি দেশই ন্যাটোর সদস্য। কিন্তু পূর্ব ভূমধ্যসাগর এলাকা থেকে জ্বালানি আহরণের প্রতিযোগিতায় তারা হয়ে উঠেছে পরস্পরের প্রতিপক্ষ। 

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক রিপোর্ট। 
১৪৯.
ভারত ও পাকিস্তানের অমীমাংসিত সীমানারেখাকে বলা হয়?
  1. ক) Line of Access Control
  2. খ) Line of Actual Control
  3. গ) Line of Control
  4. ঘ) Line of No Crossing
ব্যাখ্যা
- ভারত ও পাকিস্তানের অমীমাংসিত সীমানারেখাকে বলা হয়  Line of Control.
- ভারত ও চীনের অমীমাংসিত সীমানারেখাকে বলা হয়  Line of Actual Control.
 
ডুরান্ড লাইন : পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
ব্লু লাইন : ইসরাইল ও লেবানন
সনোরা লাইন : যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
ওডারনিস লাইন : জার্মানি ও পোল্যান্ড
সিগফ্রিড লাইন : জার্মানি ও ফ্রান্স
হিন্ডারবার্গ লাইন : জার্মানি ও ফ্রান্স
গ্রিন লাইন : ইসরাইল ও জর্ডান।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও আটলান্টিক কাউন্সিল ওয়েবসাইট)
১৫০.
সম্প্রতি আফগানিস্তান পাকিস্তান সংঘর্ষের জন্য দায়ী সংগঠন কোনটি?(নভেম্বর, ২০২৫)
  1. তেহরিক-ই পাকিস্তান 
  2. তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান
  3. বালুচ লিবারেশন আর্মি
  4. দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট
ব্যাখ্যা

• আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষ:
- ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষের মূল কারণ হিসেবে পাকিস্তান সরকার “তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান (TTP)” নামের সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে।
- পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, TTP-এর সন্ত্রাসীরা আফগান ভূখণ্ডে আশ্রয় নিচ্ছে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে।

- পাকিস্তান সরকার আফগান তালেবান প্রশাসনের ওপর অভিযোগ তোলে যে তারা TTP-কে দমন না করে বরং নীরবে সহায়তা দিচ্ছে।
- এর ফলে সীমান্তের তোরখাম, চামান ও কুর্রাম এলাকায় তীব্র গোলাগুলি, বিমান হামলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

- আফগান পক্ষ পাল্টা অভিযোগ করে যে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে এবং বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।

উৎস: রয়টার্স, এবিসি নিউজ।

১৫১.
'Northern Limit Line' কোন দুটি দেশের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ সমুদ্র সীমা?
  1. ক) চীন ও জাপান
  2. খ) জাপান ও রাশিয়া
  3. গ) উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
  4. ঘ) চীন ও ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা
- নথার্ন লিমিট লাইন (Northern Limit Line) হলো উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার  বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা।
- এই বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা বর্তমানে হান নদীর মোহনা থেকে শুরু হয়ে পশ্চিমে পীত সাগর (Yellow Sea) পর্যন্ত প্রসারিত। 
 
The Northern Limit Line is a delimitation line separating the territorial claims of North and South Korea. It starts on the Han River estuary and extending west into the Yellow Sea. Currently, the demarcation line acts as the only maritime boundary between North Korea and South Korea, albeit in de facto status.
 
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট। 
১৫২.
'গ্রেট ডিপ্রেশন' বলতে বুঝায় -
  1. ক) প্রাচীন ও সমৃদ্ধতম সভ্যতার বিকাশ
  2. খ) প্লেগ মহামারি
  3. গ) বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকের অর্থনৈতিক মন্দা
  4. ঘ) আধুনিক স্থাপত্য ও নগরায়ন
ব্যাখ্যা
'গ্রেট ডিপ্রেশন' বলতে বুঝায় - বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকের অর্থনৈতিক মন্দা।

• গ্রেট ডিপ্রেশন:

- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে ১৯২৯ সালের অক্টোবর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি ছন্দপতন লক্ষ করা গেছে।
- অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় আকারের এই ছন্দপতনকে মহামন্দা তথা দ্য গ্রেট ডিপ্রেশন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে পশ্চিমা বিশ্বে ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে পুঁজিবাদ।
- আর পুঁজিবাদী ব্যবস্থার নিয়মই হচ্ছে এখানে মাঝে মাঝে মন্দাভাব দেখা দেয়।
- তবে ঝড়ের বেগে এসে এই মন্দাভাব ও পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে গ্রাস করবে, তা ছিল কল্পনাতীত।
- হঠাৎ করে সংকট উপনীত হওয়ার অনেকগুলো শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।
- বিভিন্ন স্থানে বেড়ে যায় বেকার ও চাকরি প্রত্যাশী মানুষের সংখ্যা।
- ১৯২৯ সালের এই মন্দা অতীতে ঘটে যাওয়া সব ধরনের রেকর্ড ভঙ্গ করে।
- আর সেদিক থেকে ধরতে গেলে এর মহামন্দা নামকরণ স্বার্থক।
- এর প্রমাণ হিসেবে এক যুক্তরাষ্ট্রেই ১৯২৯-৩৫ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার দেউলিয়া হয়ে যাওয়া ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৩.
ভেনেজুয়েলা ও গায়ানার মধ্যে কোন অঞ্চলটি নিয়ে বিরোধ রয়েছে? 
  1. পাতাগোনিয়া
  2. চাকো অঞ্চল
  3. এসেকুইবো
  4. লাইলা দ্বীপ
ব্যাখ্যা

- এসেকুইবো অঞ্চল গায়ানার প্রায় ১৬০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা,
- যা তেল এবং অন্যান্য খনিজ সমৃদ্ধ।
- ভেনেজুয়েলা এটিকে ঐতিহাসিকভাবে তাদের অংশ বলে দাবি করে,
- এবং ২০২৩-২০২৪ সালে এই বিরোধ তীব্রতর হয়েছে—ভেনেজুয়েলা একটি রেফারেন্ডামের মাধ্যমে দাবি জোরদার করেছে,
- যার ফলে সামরিক উত্তেজনা এবং সীমান্তে টেনশন সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালত (ICJ) এটি নিয়ে শুনানি চালাচ্ছে।

বিখ্যাত কয়েকটি  বিরোধপূর্ণ দ্বীপ
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ ও শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়া কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয়।
- চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ সেনকাকু।
- সিনাই উপদ্বীপ একটি মরুভূমি অঞ্চল। ১৯৫৬ সালে ইসরাইল দখল করেছিল।
- পেরেজিল বা লাইলা দ্বীপ নিয়ে বিরোধ রয়েছে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে।

উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস।

১৫৪.
ইরান-ইরাক যুদ্ধবিরতি তদারকির কাজে নিয়ােজিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন কোনটি?
  1. ক) UNIMOG
  2. খ) UNTSO
  3. গ) UNIIMOG
  4. ঘ) UNAMIR
ব্যাখ্যা
ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় জাতিসংঘের গঠিত শান্তিরক্ষা মিশন এর নাম United Nations Iran Iraq Military Observer Group (UNIIMOG)
বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে United Nations Iran-Iraq Military Observer Group (UNIIMOG) মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সংযুক্ত হয়।
 
- UNTSO হলো ফিলিস্তিনে নিয়োজিত জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন।
- UNAMIR হলো United Nations Assistance Mission for Rwanda) হলো রুয়ান্ডায় প্রেরিত মিশন।
 
ইরান-ইরাক যুদ্ধ (Iran Iraq War)
যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
যুদ্ধ সংঘটনকাল: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮০ - ২০ আগস্ট, ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত।
ফলাফল জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি।

ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন “শাত-ইল-আরব” জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের তেল সমৃদ্ধ সীমান্তবর্তী অঞ্চল “কোহেস্তান” (Khuzestān) দখলের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে ইরান আক্রমণ করেন।
দীর্ঘ ৮ বছর যুদ্ধ চলার পর ১৯৮৮ সালের ২০ জুলাই জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ। ১৯৮৮ সালের ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়।
 
সূত্রঃ ইউএন পিসকিপিং সংস্থার ওয়েবসাইট, হিস্ট্রি ওয়েবসাইট। 
১৫৫.
'পানমুনজন' হচ্ছে-
  1. ক) দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী নদীর নাম
  2. খ) কোরিয়া ও চীনের সীমানা
  3. গ) চীন ও ভারতের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল
  4. ঘ) দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রাম
ব্যাখ্যা
দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজন। এই স্থানে ঐতিহাসিক বৈঠকে কিম জং উন এবং মুন জে ইন ঘোষণা দিলেন আর নয় যুদ্ধ। দুই কোরিয়ার দুই নেতা ঘোষণা দিলেন কোরিয়া যুদ্ধের সমাপ্তির। সম্মেলন শেষে কিম এবং মুন ‘কোরিয় উপদ্বীপে শান্তি, সমৃদ্ধ এবং একত্রিভূতকরণ সংক্রান্ত পানমুনজন যৌথ ঘোষণা’য় স্বাক্ষর করেন।
১৫৬.
'সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ চীন সাগর
  2. খ) আটলান্টিক মহাসাগর
  3. গ) কোরিয়ান উপসাগর
  4. ঘ) পূর্ব চীন সাগর
ব্যাখ্যা
সেনকাকু দ্বীপ
- চীন, জাপান ও তাইওয়ানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ: সেনকাকু দ্বীপ।
- এটি পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত। 
- দ্বীপটি জাপানের কাছে পরিচিত সেনকাকু দ্বীপ নামে।
- চীনের কাছে ‘দিয়াওউ’ এবং তাইওয়ানের কাছে ‘তিয়াওউতাই’ নামে পরিচিত।
- তবে সেনকাকু নামেই এটি সর্বাধিক পরিচিত।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
১৫৭.
মধ্য আমেরিকার কোন দেশে স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই?
  1. ক) কলাম্বিয়া
  2. খ) নিকারাগুয়া
  3. গ) কোস্টারিকা
  4. ঘ) এল সালভাদর
ব্যাখ্যা
কোস্টারিকা দেশটির নিজস্ব কোন সেনাবাহিনী নেই।
দেশটির সমস্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব দেশটির পুলিশ বাহিনীর উপর ন্যস্ত।
১৯৪৮ সালে গৃহযুদ্ধ বাধে দেশটিতে।
যুদ্ধ-বিগ্রহের ক্ষতি ও ভয়াবহতার স্মৃতি তাদের সেনাবাহিনী ছাড়া পথচলার স্বপ্ন দেখায়। তখন থেকেই দেশটিতে কোনো সেনাবাহিনী গড়ে ওঠেনি।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা।
১৫৮.
গোলান মালভূমির মালিকানা নিয়ে কোন দুটি দেশ বিরোধে জড়িত? 
  1. লেবানন ও জর্ডান
  2. ফিলিস্তিন ও মিশর
  3. ইসরায়েল ও মিশর
  4. ইসরায়েল ও সিরিয়া
ব্যাখ্যা
গোলান মালভূমি: 
- গোলান মালভূমি নিয়ে ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ অবস্থা বিদ্যমান।
- এটি ১১৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি অঞ্চল এবং সিরিয়া-ইসরায়েল সীমান্তে অবস্থিত।
- ১৯৬৭ সালের তৃতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল এই মালভূমির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে নেয়।

পরবর্তীতে,
- ১৯৭৩ সালের চতুর্থ আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে সংঘর্ষ চলাকালে ইসরায়েল গোলান মালভূমির কিছু অংশ সিরিয়াকে ফেরত দেয়।
- বর্তমানে গোলান মালভূমির মধ্য দিয়ে যাওয়া যুদ্ধবিরতি রেখাটি ‘পার্পল লাইন’ নামে পরিচিত। 

সূত্র: ব্রিটানিকা ও পত্রিকা রিপোর্ট।
১৫৯.
ভারতের কোন রাজ্যটিকে চীন তাদের একাংশ বলে দাবি করে?
  1. অরুণাচল
  2. মণিপুর
  3. মিজোরাম
  4. নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা
চীন–ভারত যুদ্ধ (Sino-Indian War):
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- রাজ্যগুলাে হচ্ছে: অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।
- চীন অরুণাচল প্রদেশকে তাদের অংশ বলে দাবি করে।
- চীন এই রাজ্যটিকে "জ্যাং নান" নামে অভিহিত করে এবং এটিকে তিব্বতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
- চীনের বেসামরিক নাগরিক–বিষয়ক মন্ত্রণালয় অরুণাচল প্রদেশের স্থানগুলোর সর্বশেষ নাম প্রকাশ করে বলেছে, অরুণাচল প্রদেশ বা তাদের ভাষায় ‘জাংনান’ তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের অংশ। মোট ২৭টি স্থানের নাম এবারে চীন তাদের মতো করে পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি পাহাড়, ৫টি আবাসিক এলাকা, ৪টি পাহাড়ের গিরিপথ, ২টি নদী ও ১টি হ্রদ। প্রতিটি স্থানের নাম চীনা অক্ষর, তিব্বতি ও পিনয়িন (মান্দারিন চীনার রোমান হরফে লেখা বানান) ভাষায় প্রকাশ করার পাশাপাশি মানচিত্রে স্থানগুলোর অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের স্থানাঙ্ক এবং একটি উচ্চ রেজল্যুশনের মানচিত্রসহ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- চীন তিব্বত দখল করার পর ভারতের বর্তমান অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চীনের অন্তর্ভুক্ত এলাকা বলে দাবি করে।
- এভাবে যে সীমান্ত সমস্যার শুরু হয় তা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের সূচনা করে।
- যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য ভারতকে সমর্থন করে, অন্যদিকে পাকিস্তান চীনের সঙ্গে মিত্রতা বাড়াতে সচেষ্ট হয়।
- যুদ্ধ সংঘটিত হয়: ২০ অক্টোবর, ১৯৬২ - ২০ নভেম্বর, ১৯৬২।
- যুদ্ধের স্থান: Aksai Chin যা চীন ও ভারতের সীমান্তে অবস্থিত।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
১৬০.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির অন্তভুর্ক্ত দেশ -
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) রাশিয়া
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) জাপান
ব্যাখ্যা
• ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর অ্যাডলফ হিটলারের জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু করেন।
- এর দুদিন পরেই ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ১৯৪০ সালের মে মাসে হিটলার ফ্রান্স আক্রমণ করেন এবং মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে ফ্রান্স দখল করে নেন।

• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও পৃথিবীর ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো দুভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল।
- জার্মানি, জাপান, ইতালির সমন্বয়ে গঠিত  অক্ষশক্তির  প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত মিত্রশক্তি। 
- যুদ্ধে একের পর এক জার্মানির পরাজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে জার্মানি ও ইতালি মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। হিটলার আত্মহত্যা করেন, আর মুসোলিনিকে গ্রেফতার করে হত্যা করা হয়।
- ১৪ আগস্ট (১৯৪৫) জাপান শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ করে।  

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
১৬১.
“স্বাধীনতা, সাম্য, মৈত্রী” - কোন বিপ্লবের মূলনীতি?
  1. ক) বলশেভিক বিপ্লব
  2. খ) সাংস্কৃতিক বিপ্লব
  3. গ) ফরাসি বিপ্লব
  4. ঘ) অক্টোবর বিপ্লব
ব্যাখ্যা
- “স্বাধীনতা, সাম্য, মৈত্রী” - ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান।
- ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতনের মাধ্যমে ফরাসী বিপ্লব শুরু হয়।
- এই বিপ্লব ১০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- রাজধানী প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
- ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।
- বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার লেখনীর মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র- হিস্টরি.কম।
১৬২.
শাখালিন দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান -
  1. ক) দক্ষিণ চীন সাগর
  2. খ) পারস্য উপসাগর
  3. গ) প্রশান্ত মহাসাগর
  4. ঘ) কৃষ্ণ সাগর
ব্যাখ্যা
শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ

- শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।
- রাশিয়ার সুদূর পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগরে এর অবস্থান।
- বর্তমানে রাশিয়ার দখলে রয়েছে।
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ আরেকটি অঞ্চল হচ্ছে কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ।


তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
১৬৩.
কে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ'র সাবেক পরামর্শক এডওয়ার্ড স্নোডেনের নাগরিকত্ব অনুমোদন করেন?
  1. ক) জন মরিসন
  2. খ) ভ্লাদিমির জোলেনাস্কি 
  3. গ) ভ্লাদিমির পুতিন
  4. ঘ) জাস্টিন  ট্রুডো
ব্যাখ্যা
এডওয়ার্ড স্নোডেন

-যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসএ'র সাবেক পরামর্শক এডওয়ার্ড স্নোডেনকে রাশিয়া নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। 
-রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর নাগরিকত্ব অনুমোদন করেছেন।
- এনএসএ'র কম্পিউটার গোয়েন্দাবৃত্তি সংক্রান্ত পরামর্শক হিসেবেচুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন এডওয়ার্ড স্নোডেন। 
- এনএসএ'র নজরদারি সংক্রান্ত একের পর এক গোপন নথি ফাঁস করে আলোচনায় আসেন তিনি।
-যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার এড়াতে ২০১৩ সালে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন স্নোডেন। ৯ বছর ধরে সেখানেই আছেন তিনি।
- গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে কয়েক বছর ধরে রাশিয়ার কাছ থেকে স্নোডেনকে ফেরত চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

 উৎস:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, নভেম্বর ২০২২ এবং প্রথম আলো।
১৬৪.
ট্রুম্যান ডকট্রিনের উদ্দেশ্য ছিল -
  1. ক) গণতন্ত্রের বিকাশ
  2. খ) সমাজতন্ত্রের বিকাশ
  3. গ) গণতন্ত্রের প্রসার ঠেকানো
  4. ঘ) সমাজতন্ত্রের প্রসার ঠেকানো
ব্যাখ্যা
ট্রুম্যান ডকট্রিন:
- ১৯৪৭ সালে ট্রুম্যান ডকট্রিনের প্রদান করা হয়েছিল।
- ট্রুম্যান ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (৩৩তম প্রেসিডেন্ট, ১৯৪৫-১৯৫৩)।
- ট্রুম্যান ডকট্রিনের উদ্দেশ্য ছিল সমাজতন্ত্রের প্রসার ঠেকানো।
- দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধোত্তর গ্রিস ও তুরস্কে কমিউনিস্টদের প্রভাব বাড়ছিল।
- ওই প্রভাব কমানোর পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে এলো।

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
১৬৫.
আফগানিস্তানের কোন শহরে তালিবানরা ইরানের কূটনীতিবিদদের হত্যা করেছে?
  1. ক) মাজার-ই-শরীফ
  2. খ) হেরাত
  3. গ) জালালাবাদ
  4. ঘ) কান্দাহার
ব্যাখ্যা
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই শরীফ।
- আফগানিস্তানে তালেবান ১৯৯৬-২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকা কালে ১৯৯৮ সালে মাজার-ই শরীফে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেটে আক্রমন চালায়।
- তাদের হামলায় সেই সময় সাতজন কূটনীতিক ও এক ইরানি সাংবাদিক নিহত হয়েছিলেন। 
উৎসঃ যুগান্তর আর্কাইভ।
১৬৬.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন কে?
  1. ক) ফ্রাংক্‌লিন ডি. রুজভেল্ট
  2. খ) উড্রো উইলসন
  3. গ) হ্যারি এস ট্রুম্যান
  4. ঘ) জন এফ কেনেডি
ব্যাখ্যা
• উইলসনের ১৪ দফা:
- উড্রো উইলসন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৮তম প্রেসিডেন্ট।
- তিনি ক্ষমতায় ছিলেন ১৯১৩ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত।
- তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার ১৪ দফা উপস্থাপন করেছিলেন।
- ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি কংগ্রেসে তার দাবিসমূহ উপস্থাপন করেন।

• তার ১৪ দফা প্রস্তাবে ছিল :
১. আলোচনার মাধ্যমে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর;
২. সমুদ্রপথে অবাধ যাতায়াত,
৩. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সব বাধা অপসারণ,
৪. যুদ্ধ উপকরণ ও যুদ্ধাস্ত্রের পরিমাণ হ্রাস করা,
৫. উপনিবেশগুলোর জনগণের স্বার্থানুসারে উপনিবেশ সম্পর্কিত দাবির বিচার ও কণ্টন করা; ৬. অধিকৃত রুশ অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার;
৭. বেলজিয়াম থেকে সকল সৈন্য প্রত্যাহার ও বেলজিয়ামের সার্বভৌমত্ব পুনঃস্থাপন;
৮. অধিকৃত ফরাসি এলাকা থেকে সকল বৈদেশিক সৈন্য প্রত্যাহার, আলসাস ও লোরেন এলাকায় ফরাসি অধিকার প্রতিষ্ঠা,
৯. পরিচিত জাতীয় সীমারেখা অনুসারে ইতালির সীমানা পুনর্বিন্যাস;
১০. অস্ট্রীয় হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের জনসাধারণের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দান;
১১. রুমানিয়া, সার্বিয়া ও মন্‌টেনেগ্রো থেকে সেনা অপসারণ, সার্বিয়াকে সামুদ্রিক যোগসূত্র স্থাপনে সুবিধাদান ও বলকান অঞ্চলের দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ;
১২. তুরস্কের অধীনস্থ সকল জাতিগোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসন দান;
১৩. পোলিশ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে স্বাতন্ত্র্য পোল্যান্ড রাষ্ট্র গঠন;
১৪. ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সকল রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও রাজ্যসীমার নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একটি বিশ্বসংস্থা গঠন। 

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
১৬৭.
বর্তমানে পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল মূলত কেন সংঘাতপূর্ণ? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. কৃষি শিল্পের জন্য
  2. তেল ও গ্যাস খনির জন্য
  3. স্বর্ণের খনি আছে বলে
  4. কয়লা ও ইস্পাত শিল্পের জন্য
ব্যাখ্যা

পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলটি মূলত কয়লা ও ভারী শিল্পের জন্য সংঘাতপূর্ণ। এই অঞ্চলটি কয়লা খনি, ইস্পাত কারখানা এবং অন্যান্য ভারী শিল্পের জন্য পরিচিত, যা ইউক্রেনের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। 

ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল:

- দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল নিয়ে দনবাস গঠিত হয়েছে।
- ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল মূলত কয়লা শিল্প ও ইস্পাত/ভারী শিল্প-এর জন্য বিখ্যাত।

⇒ ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক এলাকা ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত। এই অঞ্চলে ইউক্রেনের রুশভাষী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বসবাস করে। ইউক্রেনের কয়লাভিত্তিক অর্থনীতির কেন্দ্র ছিল এই দনবাস এলাকা।
- খনিজসমৃদ্ধ এই অঞ্চলে আছে ইউরোপের চতুর্থ বৃহত্তম কয়লাক্ষেত্র। এখানে উত্তোলনযোগ্য কয়লার মজুত আছে এক হাজার কোটি টনের বেশি। এ ছাড়া দনবাসে থাকা ১১৫টি কয়লাখনি থেকে বছরে প্রায় ৭ কোটি টন কয়লা উৎপাদিত হয়। দোনেৎস্ক অঞ্চলে আছে আটটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র।
- অন্যদিকে লুহানস্ক হচ্ছে ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্র। পাশাপাশি এলাকাটি ধাতুবিদ্যা, যন্ত্রপাতি ও কৃষিশিল্পের জন্যও সুপরিচিত। এখানে রাসায়নিক, ওষুধ কারখানা ও বেশ কয়েকটি কয়লাখনি আছে। সব মিলিয়ে ইউক্রেনের শিল্প উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশের কেন্দ্র হচ্ছে এই দনবাস এলাকা। 

উৎস: i) Britannica.
ii) প্রথম আলো।

১৬৮.
পোল্যান্ড এবং লিথুনিয়ার মধ্যকার সীমারেখা কোনটি?
  1. ক) ফচ লাইন
  2. খ) কার্জন লাইন
  3. গ) ম্যানারহেইম লাইন
  4. ঘ) সনোরা লাইন
ব্যাখ্যা
ফচ লাইন:- পোল্যান্ড - লিথুনিয়া। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অস্থায়ীভাবে চিহ্নিত দুটি দেশের মধ্যকার সীমারেখা।

অন্যদিকে,
▪ কার্জন লাইন (Curzon Line):- রাশিয়া - পোল্যান্ড মধ্যকার সীমারেখা। ১৯১৯-২০ সালে সংঘটিত রুশ-পোলিশ যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যকার নির্ধারিত অস্থায়ী সীমারেখা। 
▪ ম্যানারহেইম লাইন:- রাশিয়া - ফিনল্যান্ড।
▪ সনোরা লাইন:- যুক্তরাষ্ট্র - মেক্সিকো।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা।     
১৬৯.
ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা প্যাকেজের  মধ্যে কোন ধরনের  সামরিক সহায়তা রয়েছে?
  1. ক) অত্যাধুনিক ট্যাঙ্ক
  2. খ) অত্যাধুনিক বন্দুক
  3. গ) পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের সরঞ্জাম
  4. ঘ) ব্র‍্যাডলি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান
ব্যাখ্যা
⇒ ইউক্রেনের জন্য ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের একটি বড় ধরনের সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
⇒এই প্যাকেজে ৫০টি ব্র্যাডলি ট্যাংক এবং কয়েক ডজন সাঁজোয়া যান থাকছে।
⇒যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৮৫ কোটি এবং বিদেশিসামরিক অর্থায়নের ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের এ সহায়তা প্যাকেজে  কিয়েভের চাওয়া অত্যাধুনিক পশ্চিমা ট্যাঙ্কগুলো অন্তর্ভুক্ত নেই।

 উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার ফ্রেব্রুয়ারি, ২০২২ এবং সমকাল।
১৭০.
Anti-Personnel Mine Ban Convention চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় কোথায়?
  1. ক) ভিয়েনা
  2. খ) মন্ট্রিল
  3. গ) অসলো
  4. ঘ) অটোয়া
ব্যাখ্যা
• Anti-Personnel Mine Ban Convention (Ottowa Treaty):
- ভূমি মাইন ব্যবহার, গুদামজাত করা, উৎপাদন করা ও সরবরাহ করা নিষিদ্ধ সংক্রান্ত চুক্তিটির নাম হচ্ছে 'এন্টি পারসোনাল মাইন ব্যান কনভেনশন' যা অটোয়া চুক্তি নামেও অভিহিত করা হয়।
- ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে অটোয়ায় ১২২টি দেশ ভূমি-মাইন চুক্তি স্বাক্ষর করে।
- যুক্তরাষ্ট্র সহ রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, ভিয়েতনাম ও তুরস্ক এ চুক্তি স্বাক্ষরে অস্বীকৃতি জানায় ।
- ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ থেকে এটি আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
১৭১.
গোলান মালভূমি কোন দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের কারণ?
  1. মিশর ও ইসরায়েল
  2. জর্ডান ও ইসরায়েল
  3. ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল
  4. সিরিয়া ও ইসরায়েল
ব্যাখ্যা

• গোলান মালভূমি:
- ১১৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি মালভূমি যা গোলান পর্বতমালার অংশ।
- এটি সিরিয়া-ইসরায়েল সীমান্তে অবস্থিত।
- এটি ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার একটি অংশ ছিল।
- সেই বছর, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গোলান মালভূমিতে প্রবেশ করে।
- ১৯৮১ সালে ইসরায়েলি সরকার গোলান হাইটসকে সংযুক্ত করে, বা ঘোষণা করে যে এলাকাটি ইসরায়েলের একটি অংশ।
- এর উত্তরে লেবানন এবং দক্ষিণে জর্ডান অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৭ সালের তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল গোলান মালভূমির দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে নেয়।
- পরবর্তীতে, ১৯৭৩ সালে চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল এটি ফেরত দেয়।
- গোলান মালভূমিতে সিরিয়া-ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি রেখা ‘পার্পল লাইন' নামে পরিচিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৭২.
নিচের কোনটিকে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মাঝখানে বাফার জোন বলা হতো?
  1. জর্ডান নদী
  2. মৃত সাগর
  3. গোলান মালভূমি
  4. গ্যালিলিও সাগর
ব্যাখ্যা
গোলান মালভূমি:
- গোলান হলো সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ১৮০০ বর্গকিলোমিটার (প্রায় ১০০০ বর্গমাইল) আয়তনের এক পাথুরে মালভূমি।
- এলাকাটি ইসরায়েলের উত্তর-পূর্বাঞ্চল স্পর্শ করেছে। 
- এই অঞ্চলটি ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ার অংশ ছিল। কিন্তু ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় এটি ইসরায়েলি সামরিক দখলে চলে যায়।
- ১৯৮১ সালের ডিসেম্বরে ইসরায়েল একতরফাভাবে দখলকৃত গোলান মালভূমিকে নিজেদের সাথে যুক্ত করার ঘোষণা দেয়।
- গোলান বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে।
- সিরিয়া ও ইসরায়েলের মাঝখানে বাফার জোন (সংঘাতমুক্ত বিশেষ অঞ্চল) বলা হতো গোলান মালভূমিকে।
- কিন্তু দামেস্কে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গোলানসহ আরও কয়েকটি এলাকা দখল করে নিয়েছে।

উৎস: Britannica.
বিবিসি বাংলা (১৩ ডিসেম্বর ২০২৪)
১৭৩.
চীন কোন দেশটিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের মাধ্যমে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন করেছে?
  1. ক) ইথিওপিয়া
  2. খ) জাম্বিয়া
  3. গ) লাইবেরিয়া
  4. ঘ) জিবুতি
ব্যাখ্যা
পূর্ব আফ্রিকার বাব-এল-মান্দেবের তীরে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছোট দেশ জিবুতি। চীন ২০১৭ সালে জিবুতিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে।
ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার জন্য আগে থেকেই দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
উৎসঃ বিবিসি নিউজ।
১৭৪.
'আরব বসন্ত' বলতে কি বুঝায়?
  1. ক) আরবের বিভিন্ন দেশে গণজাগরণ
  2. খ) আরব অঞ্চলে বসন্তকাল
  3. গ) আরব রাজতন্ত্র
  4. ঘ) আরবীয় মহিলাদের ক্ষমতায়ন
ব্যাখ্যা
Arab Spring, wave of pro-democracy protests and uprisings that took place in the Middle East and North Africa beginning in 2010 and 2011.
Source: britannica.com
১৭৫.
নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে সংঘাত প্রধানত কোন দুটি দেশের মধ্যে?
  1. আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান 
  2. গ্রিস ও তুরস্ক
  3. ইরান ও ইরাক
  4. রাশিয়া ও ইউক্রেন
ব্যাখ্যা

নাগার্নো-কারাবাখ:
- 'নাগার্নো কারাবাখ' আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান-এর বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।
- পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে সাবেক সোভিয়েত রিপাবলিকের অংশ এই দেশ দুটির মধ্যে।
- ১৯৮৮-৯৪ সাল পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও থেমে থেমে সংঘর্ষ চলেছে।
- এলাকাটি নিয়ে কোন ধরনের নিষ্পত্তি দুই দেশের মধ্যে হয়নি।
- আন্তর্জাতিকভাবে এই এলাকাটি আজারবাইজানের বলে স্বীকৃত।
- কিন্তু এটি পরিচালনা করে জাতিগত আর্মেনিয়রা।
- বন্দী বিনিময় এবং মরদেহ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি করার জন্য এই যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

⇒ সম্প্রতি ৮ আগস্ট, ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশনিয়ান।
- এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী মিত্রতা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
- শান্তিচুক্তির পাশাপাশি উভয় দেশের সাথে করিডোর ও বাণিজ্য ইস্যুতে পৃথক চুক্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

উৎস: i) Britannica.
         ii) Reuters.

১৭৬.
১৯৮০-১৯৮৮ সালের মধ্যে শাত-ইল-আরব নিয়ে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. উপসাগরীয় যুদ্ধ
  2. ছয় দিনের যুদ্ধ
  3. ইরাক–ইরান যুদ্ধ
  4. আফগান যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

শাত-ইল-আরব:
- এই জলপথের অবস্থান পারস্য উপসাগরে।
- শাত-ইল-আরব জলপথের অধিকারকে কেন্দ্র করেই মূলত ইরাক-ইরান বিরোধ শুরু হয়।
- বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে।
- ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে ইরাক-ইরান যুদ্ধ হয়েছিল।
- তার আগে, শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য,
- এতে ইরানের পক্ষে রেজা শাহ পাহলভী এবং ইরাকের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষর করেন।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে মীমাংসা।

সূত্র: Britannica.

১৭৭.
রাশিয়ার যে শহরে হাসপাতালে আক্রমণ করার পর বাধ্য হয়ে রাশিয়া চেচনিয়ার সাথে শান্তি বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে তার নাম-
  1. ক) Budennovsk
  2. খ) Keldavisk
  3. গ) Dasanova
  4. ঘ) Gariev
ব্যাখ্যা
- The Budyonnovsk hospital hostage crisis took place from 14 to 19 June 1995,
- when a group of 80 to 200 Chechen separatists led by Shamil Basayev attacked the southern Russian city of Budyonnovsk,
- some 110 kilometres (70 mi) north of the border with the de facto independent Chechen Republic of Ichkeria.
- The attack resulted in a ceasefire between Russia and Chechen separatists, and peace talks (which later failed) between Russia and the Chechens.
Source: https://dbpedia.org/
১৭৮.
'ভিক্টরি ইন ইউরোপ ডে' পালিত হয়-
  1. ক) ২ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ৮ মে
  3. গ) ১৪ আগস্ট
  4. ঘ) ৬ জুন
ব্যাখ্যা

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে।
- জার্মানি আত্মসমর্পণ করে ৭ মে রাত ২.৪৫ মিনিট অর্থ্যাৎ ৮ মে, ১৯৪৫ সালে।
- তাই ৮মে ভিক্টরি ইন ইউরোপ ডে পালিত হয়।
- জাপান আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেয় ১৪ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে।
- জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সালে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম।

১৭৯.
নাইন ড্যাস লাইন খ্যাত কাল্পনিক লাইনটি কোন সাগরে অবস্থিত?
  1. ক্যারিবিয়ান সাগর
  2. দক্ষিণ চীন সাগর
  3. জাপান সাগর
  4. এজিয়ান সাগর
ব্যাখ্যা

সামুদ্রিক দাবি:
- নাইন-ড্যাশ লাইন' বিতর্কিত চীনা সামুদ্রিক দাবির মধ্যে অন্যতম।
- এটি দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত।
- নাইন-ড্যাশ লাইন (এগারো-ড্যাশ লাইন, ইউ-আকৃতির লাইন এবং ডটেড লাইন) নামেও পরিচিত। 

অন্যদিকে,
- পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ক্যারিবিয়ান সাগরে।
- এজিয়ান সাগর (Aegean Sea) ভূমধ্য-সাগরের প্রলম্বিত অংশ এবং এটি গ্রীস ও তুরস্কের আনাতোলিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

উৎস: chinaus-icas.org & Worldatlas.com [link]

১৮০.
কত সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ১৯৮৮ সালে
  2. ১৯৮০ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
ব্যাখ্যা
ফকল্যান্ড যুদ্ধ:
- যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ১৯৮২ সালে
- পক্ষসমুহ: যুক্তরাজ্য ও আজের্ন্টিনা।
- যুদ্ধ সংঘটরেন স্থান- ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ ও দক্ষিণ স্যান্ডইচ  দ্বীপ।
- যুদ্ধের ফলাফল- যুক্তরাজ্য বিজয়ী ও ফকল্যান্ড সহ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র: Britannica & History.com.
১৮১.
বেলফোর ঘোষণায় একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল যার নাম -
  1. ক) ফিলিস্তান
  2. খ) সিরিয়া
  3. গ) ইসরাইল
  4. ঘ) ইরাক
ব্যাখ্যা
বেলফোর ঘোষণা (Balfour Delclaration):
- বেলফোর ঘোষণার সাথে আজকের ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি সরাসরিভাবে জড়িত।
- ১৯১৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালিন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ জে বেলফো ব্রিটিশ জায়নিষ্ঠ ফেডারেশনের সভাপতি লর্ড রথচাইল্ডকে একটি চিঠি দেন।
- ওই চিঠির উদ্দেশ্য ছিল ইহুদীদের জন্য একটি আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা।
- ইতিহাসে এটাই বেলফোর ঘোষণা হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ প্যালেস্টাইন অধ্যুষিত আরব এলাকা বিভক্তির মধ্যে দিয়ে ইসরাইল রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। 
- ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
১৮২.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অস্ট্রিয়ার যুবরাজকে কোন শহরে হত্যা করা হয়ছিল?
  1. ক) সারায়েভো
  2. খ) জাগরেব
  3. গ) সালজবুরগ
  4. ঘ) ভিয়েনা
ব্যাখ্যা
• প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যান্ড, বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে।

• এর আগে অস্ট্রিয়ার সাথে সার্বিয়ার শত্রুতা চরম আকার ধারণ করেছিল।
- ধারণা করা হয়েছিল সার্বিয়ার নেতৃবৃন্দ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।
- এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অস্ট্রিয়া কিছু শর্তসহ চরমপত্র দেয়।
- কিন্তু সার্বিয়া ওইসব শর্ত (অস্ট্রিয়া বিরোধী সকল প্রচারণা বন্ধ, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রাজকর্মচারীদের সুযোগ দেওয়া, অস্ট্রিয়াবিরোধী সকল সার্বীয় কর্মচারী ও স্কুল শিক্ষকদের চাকরিচ্যুতি) না মানলে অস্ট্রিয়া ও জার্মান সেনাবাহিনী সারায়েভোতে অভিযান চালায়।
- রাশিয়া, ফ্রান্স সার্বিয়ার পাশে এসে দাঁড়ায়। ফলে জার্মানি ফ্রান্স ও রাশিয়া আক্রমণ করে। আর এভাবেই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
- যুদ্ধের মধ্য দিয়েই জন্ম হয় কেন্দ্রীয় শক্তিজোট (জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও তুরস্ক) ও মিত্রশক্তি জোটের (রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জাপান, সার্বিয়া, বেলজিয়াম)। 
- ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। 

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
১৮৩.
চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কোনটি?
  1. পেরেজিল দ্বীপ
  2. সেনকাকু দ্বীপ
  3. শাখালিন দ্বীপ
  4. স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ অঞ্চল:

- চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ সেনকাকু।
- দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে চীন ও জাপানের মধ্যকার বিরোধ দীর্ঘদিনের।
- বিরোধপূর্ণ দ্বীপটি জাপানের কাছে ‘সেনকাকু’ ও চীনের কাছে ‘দিয়াওয়ু’ নামে পরিচিত।
- সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত।
- ১৮৯৫ সালে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ জাপানের ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর, জাপানি নাগরিকরা দ্বীপগুলিতে বসতি স্থাপন করে।

তথ্যসূত্র: জাপান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা।

১৮৪.
'প্রেয়াহ বিহার' মন্দির নিয়ে কোন দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে?
  1. থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া
  2. ভারত ও পাকিস্তান
  3. মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড
  4. ভারত ও নেপাল
ব্যাখ্যা

প্রেয়াহ বিহার (Preah Vihear):
- প্রেয়াহ বিহার একটি ঐতিহাসিক হিন্দু মন্দির যা কম্বোডিয়ার সীমান্তে অবস্থিত।
- 'প্রেয়াহ বিহার' মন্দির নিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
- থাইল্যান্ডও এর মালিকানা দাবি করায় দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ চলে আসছে।
- ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) রায় দেয় যে মন্দিরটি কম্বোডিয়ার অধীনে থাকবে।

⇒ ইংল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার অতীত এবং বর্তমানের এই দ্বন্দ্বে মন্দিরটি আর কেবল একটি স্থাপনা নয়—এটা এখন সম্মানের প্রতীক, ইতিহাসের ছায়া এবং ভূখণ্ডের দাবি।
- এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গেলে এসে মিলেছে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওস—এই তিন দেশের সীমানা।
- এই এলাকার মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর হলো ১১০০ শতকে তৈরি প্রেয়াহ বিহার মন্দির।
- ১৯০৭ সালে সেই উপনিবেশিক শাসকরাই তৈরি করে একটি মানচিত্র, যেখানে স্পষ্টভাবে প্রেয়াহ বিহারকে দেখানো হয় কম্বোডিয়ার অংশ হিসেবে। কিন্তু পরবর্তীতে থাইল্যান্ড তা মানতে চায়নি। তারা দাবি তোলে, মন্দিরটি তাদের সীমানার ভেতরেই অবস্থিত।
- ২০০৮ সালে ফের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে, যখন ইউনেস্কো প্রেয়াহ বিহারকে কম্বোডিয়ার অংশ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।

উৎস: i) The Economic Times.
ii) প্রথম আলো।

১৮৫.
সোভিয়েত ইউনিয়ন ন্যাটোর (NATO) বিকল্প সামরিক জোট হিসেবে কোন জোট গঠন করে?
  1. Warsaw Pact
  2. NPT
  3. APEC
  4. NAFTA
ব্যাখ্যা

ওয়ারশ প্যাক্ট:
- ওয়ারশ চুক্তি সংস্থা বা ওয়ারশ প্যাক্ট হল একটি রাজনৈতিক ও সামরিক চুক্তি জোট যা ১৪ মে ১৯৫৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পূর্ব ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন ন্যাটোর (NATO) বিকল্প সামরিক জোট হিসেবে ওয়ারশ চুক্তি জোট গঠন করে।
- পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্র পোল্যান্ডের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী ওয়ারশ এর নাম অনুসারে চুক্তিটির নামকরণ করা হয়।
- এই জোটের উদ্দেশ্য ছিলো পুঁজিবাদী দেশগুলোর আগ্রাসন প্রতিহত করা।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে ১৯৯১ সালের ১ জুলাই ওয়ারশ প্যাক্ট বিলুপ্ত ঘটে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৮৬.
আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরান সীমান্তে অবস্থিত আফিম মাদক উৎপাদনকারী অঞ্চল কী নামে পরিচিত?
  1. গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল
  2. গোল্ডেন ক্রিসেন্ট
  3. গোল্ডেন ওয়েজ
  4. গোল্ডেন ভিলেজ
ব্যাখ্যা

গোল্ডেন ক্রিসেন্ট:
- আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরান সীমান্তে অবস্থিত আফিম মাদক উৎপাদনকারী অঞ্চল।

অন্যদিকে -
- গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল: গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি (মায়ানমার ,থাইল্যান্ড ,লাওস) দেশের সীমান্তে অবস্থিত আফিম উৎপাদনকারী অঞ্চল।
- গোল্ডেন ওয়েজ: বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল সীমান্ত যা মাদক পাচার ও চোরাচালানের জন্য বিখ্যাত ।
- গোল্ডেন ভিলেজ: বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার ২৬ টি গ্রামকে গাঁজা উৎপাদনের জন্য 'গোল্ডেন ভিলেজ' বলা হয়।

উৎস: Britannica.

১৮৭.
প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের সদর দপ্তর হচ্ছে-
  1. ইউকোসুক
  2. হাওয়াই
  3. গোয়াম
  4. সুবিক বে
ব্যাখ্যা
• প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের সদর দপ্তর হচ্ছে- ইউকোসুক। 
---------------- 
• সপ্তম নৌবহর:
- মূল ভূখণ্ডের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নেভাল ফোর্স হল- সপ্তম নৌবহর।
- এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের একটি অংশ। 
- বর্তমানে এর প্রধান ঘাটি জাপানের ইয়াকোসুকে অবস্থিত।
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের অংশ।
- বর্তমানে এতে ৬০-৭০ জাহাজ, ৩০০ বিমান এবং ৪০,০০০ নৌবাহিনী, মেরিন কর্পস সদস্য এবং কোস্টগার্ড সদস্য রয়েছে।

• সপ্তম নৌবহর নিয়ে কিছু অতিরিক্ত তথ্য:
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর সপ্তম নৌবহরের কয়েকটি জাহাজ নিয়ে 'টাস্কফোর্স ৭৪' গঠন করা হয়।
- জাহাজগুলো সিঙ্গাপুরে একত্র হয়ে বঙ্গোপসাগর অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।
- এই বহরের জাহাজগুলোর মধ্যে প্রধান জাহাজ হল USS Enterprise.
- সপ্তম নৌবহরের আরেকটি জাহাজ USS Tripoli. 
- এটি একটি অ্যাম্ফিভিয়াস অ্যাসল্ট শিপ। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিয়া ও কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১৮৮.
McMahon Line is a frontier between -
  1. ক) Kashmir and Ladakh
  2. খ) Tibet and Assam
  3. গ) Kalapani and Limpiyadhura
  4. ঘ) Lipulekh and Darjeeling
ব্যাখ্যা
- McMahon Line, frontier between Tibet and Assam in British India.
- It runs from the eastern border of Bhutan along the crest of the Himalayas until it reaches the great bend in the Brahmaputra River, where that river emerges from its Tibetan course into the Assam Valley.

Source: Britannica
১৮৯.
চীন ও জাপানের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কোনটি?
  1. স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ
  2. কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
  3. দিয়াউ দ্বীপপুঞ্জ
  4. প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
- দিয়াউ বা সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীন ও জাপানের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
- এটি পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত। দ্বীপপুঞ্জটি জাপানে সেনকাকু এবং চীনের নিকট দিয়াউ নামে পরিচিত।
অন্যদিকে,
- স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান।
- প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীনের সাথে ভিয়েতনামের দ্বন্দ্ব বিদ্যমান।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ও বিবিসি ওয়ার্ল্ড)
১৯০.
জেনিন শরণার্থী শিবির কোথায় অবস্থিত?
  1. সিরিয়া
  2. ইসরায়েল
  3. লেবানন
  4. ফিলিস্তিন
ব্যাখ্যা
জেনিন শরণার্থী শিবির (Jenin Refugee Camp):
- ফিলিস্তিনের উত্তর পশ্চিম তীরে জেনিন শহরের নিকট এই শিবির অবস্থিত।
- এটি ১৯৫৩ সালে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা UNRWA (United Nations Relief and Works Agency) এর তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- শিবিরটি মূলত ১৯৪৮ সালের নাকবা (Nakba - "The Catastrophe") নামে পরিচিত ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন যুদ্ধের পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য গঠিত হয়েছিল।
- বর্তমানে এটি পশ্চিম তীরের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবির এবং প্রায় ১৪,০০০-এর বেশি শরণার্থী এখানে বসবাস করে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উত্তর পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শহর ও শিবিরগুলিতে, বিশেষ করে জেনিন, তুলকারাম এবং তুবাস প্রদেশে 'আয়রন ওয়াল' নামে তাদের সামরিক হামলা জোরদার করেছে।
- এই হামলার উদ্দেশ্য পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং এর উপর পুরো কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
- উল্লেখ্য, হামলার অংশ হিসেবে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক মোতায়েন করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট। [link]
১৯১.
উইকিলিকস এর প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন-
  1. জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ
  2. জুলিয়ান ফ্রেডরিক
  3. এডওয়ার্ড স্নোডেন
  4. এডওয়ার্ড ওয়েলস
ব্যাখ্যা
WikiLeaks:
জুলিয়ান পল অ্যাসাঞ্জ অস্ট্রেলীয় কম্পিউটার প্রোগ্রামার এবং হ্যাকার।

- উইকিলিকস হলো একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া সংস্থা যা বিভিন্ন গোপন নথিপত্র ফাঁসের জন্যে আলোচিত।
- কিশোর বয়সে, তিনি কম্পিউটারের সাথে একটি অদ্ভুত দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন, এবং হ্যাকিং ডাকনাম "মেন্ডাক্স" ব্যবহার করে তিনি NASA এবং পেন্টাগন সহ বেশ কয়েকটি সুরক্ষিত সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করেছিলেন।
- ১৯৯১ সালে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ তাকে ৩১ টি সাইবার অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করে
- ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ উইকিলিকস প্রতিষ্ঠা করেন।
- ২০০৭ সালে এটি অফিসিয়ালি চালু হয়।
- ২০১২ সালের জুনে অ্যাসাঞ্জ লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।
- দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে গত সোমবার ২০২৪ সালের ২৪ জুন যুক্তরাজ্যের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।

উৎস: ব্রিটানিকা & সিএনএ পত্রিকা রিপোর্ট।
১৯২.
যুক্তরাষ্ট্র 'গুয়ানতানামো বে' কোন দেশ থেকে ইজারা নিয়েছে?
  1. ফান্স
  2. কিউবা
  3. রাশিয়া
  4. ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা
⇒ যুক্তরাষ্ট্র 'গুয়ানতানামো বে' কিউবা থেকে ইজারা নিয়েছে।

গুয়ানতানামো বে:

- গুয়ানতানামো বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কারাগার।
- এটি কিউবার দক্ষিণ-পূর্বে, ক্যারিবীয় সাগরের তীরে অবস্থিত।
- ১৯০৩ সালে হাভানা চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এটি কিউবার কাছ থেকে ইজারা নিয়েছে।
- কারাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালে।
- এটি বন্দীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত।
- ক্যাম্প সেভেন হলো কারাগারের একটি সুরক্ষিত অংশ, যেখানে ৯/১১ হামলার সাথে জড়িত অপরাধী এবং সিআইএ-এর অন্যান্য শীর্ষ অপরাধীদের আটক রাখা হতো।
- যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিভাগ পরে ক্যাম্পটি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১৯৩.
ভারত ও নেপালের মধ্যকার বিতর্কিত একটি অঞ্চল-
  1. লাদাখ
  2. কালাপানি
  3. কাশ্মীর
  4. তিনবিঘা করিডোর
ব্যাখ্যা
কালাপানি:
- কালাপানি অঞ্চল ভারত ও নেপালের মধ্যকার বিতর্কিত একটি অঞ্চল যা উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলায় অবস্থিত।
- বর্তমানে এই অঞ্চল ভারত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
- নেপাল ও ভারতের মধ্যে ১৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি খোলা সীমান্ত রয়েছে।
- তার মধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
- বিরোধের কেন্দ্রে থাকা ভূখণ্ডগুলোর মধ্যে কালাপানি, লিপুলেখ এবং সুস্তা অন্যতম।
- নেপালের উত্তর-পশ্চিম অংশে এগুলো অবস্থিত।
- যার দক্ষিণে ভারতের কুমায়ুন এবং উত্তরে চীনের তিব্বত।
- এই ভূখণ্ডটি ভারত, নেপাল ও চীন - তিন দেশের একটি সংযোগস্থল।

অন্যদিকে,
- তিন বিঘা করিডোর বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার সংযোগ পথ।
- কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তান মধ্য অবস্থিত । এর কিছু অংশ ভারত শাসিত, কিছু অঞ্চল পাকিস্তান শাসিত।

উৎস: বিবিসি, ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।
১৯৪.
'গডস আর্মি' মিয়ানমারের কোন রাজ্যে তাদের কার্যক্রম চালায়‌?
  1. ক) রাখাইন
  2. খ) চিন
  3. গ) কারেন
  4. ঘ) কাচিন
ব্যাখ্যা
- 'গডস আর্মি' মিয়ানমারের একটি বিপ্লবী গ্রুপ বা গোষ্ঠী।
- ১৯৯৭ সালে সাউ তুই তুই এটা প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই গোষ্ঠীটি মিয়ানমারের কারেন রাজ্যে তাদের কার্যক্রম চালায়‌। 

তথ্যসূত্র:- নিউইয়র্ক টাইমস ও ব্রিটানিকা।
১৯৫.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 'ডমিনো তত্ত্ব' প্রয়োগ করে -
  1. ক) দক্ষিণ এশিয়ায়
  2. খ) দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়
  3. গ) মধ্য এশিয়ায়
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ডমিনো তত্ত্ব (Domino Theory):
- ডমিনো তত্ত্ব-এর মূল কথা হচ্ছে কোনো একটি দেশে যদি সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তার পাশের এবং আশেপাশের দেশগুলোও এই মতাদেশে উদ্বুদ্ধ হবে এবং এক সময় রাষ্ট্রগুলো সমাজতন্ত্রী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসে এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে সেখানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল।
- তবে প্রেসিডেন আইসেনহাওয়ার এর ১৯৫৪ সালের ৭ এপ্রিলের সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো পরোক্ষভাবে ডমিনো তত্ত্ব-এর কথা বলেছিলেন। মূল বিষয় ছিল কোনো অবস্থাতেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যত্র সমাজতন্ত্রের প্রসারকে এগিয়ে নিজে যেতে দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে সেইসব দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ কর হবে। 

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
১৯৬.
কোন প্রণালী ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. হরমুজ প্রণালী
  2. বসফরাস প্রণালী
  3. বেরিং প্রণালী
  4. জিব্রাল্টার প্রণালী
ব্যাখ্যা
প্রণালী:
- জিব্রাল্টার প্রণালী ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- এই জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।

অন্যদিকে,
- কৃষ্ণসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মাঝে সংযোগ স্থাপন করেছে বসফরাস প্রণালি ও দার্দানেলিস প্রণালি।
- দুটি প্রণালিই তুরস্কে অবস্থিত এবং এশিয়া থেকে ইউরোপ কে পৃথক করেছে।
- বসফরাস প্রণালি কৃষ্ণসাগর ও মর্মরসাগর এবং দার্দানেলিস প্রণালি মর্মর সাগর ও ঈজিয়ান সাগর তথা ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে।

উৎস: Worldatlas.com
১৯৭.
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বিতর্কিত বসতি প্রকল্পের নাম কী? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ‘সি-ওয়ান’ প্রকল্প
  2. ‘ই-ওয়ান’ প্রকল্প

  3. ‘জি-ওয়ান’ প্রকল্প
  4. ‘এফ-ওয়ান’ প্রকল্প
ব্যাখ্যা

‘ই-ওয়ান’ বসতি প্রকল্প:
- ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরে একটি বসতি নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করতে যাচ্ছে ইসরায়েল।
- এই প্রকল্পটির নাম ই-১ বসতি প্রকল্প।
- ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ জেরুজালেম ও মালে আদুমিম বসতির মধ্যবর্তী অঞ্চলে এই প্রকল্পের ঘোষণা দেন স্মোত্রিচ।
- পরিকল্পনায় পশ্চিম তীরের মা’আলে আদুমিম এলাকায় ৩ হাজার ৪০১টি নতুন আবাসিক ইউনিট নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। 
- এখানে বসতি স্থাপন হলে পূর্ব জেরুজালেম থেকে পশ্চিম তীর কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
- ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ‘পিস নাউ’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১৬০টি বসতিতে প্রায় সাত লাখ ইহুদি বসবাস করেন।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [Link]

১৯৮.
আকারের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর অবস্থিত-
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্রে
  2. খ) সৌদি আরবে
  3. গ) জাপানে
  4. ঘ) রাশিয়ায়
ব্যাখ্যা
সৌদি আরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দ৷
Source: World Atlas
১৯৯.
‘সিয়াচেন হিমবাহ’ কোন দুটি দেশের একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল?
  1. ভারত ও পাকিস্তান 
  2. ভারত ও চীন
  3. ভারত ও নেপাল
  4. ভারত ও মিয়ানমার
ব্যাখ্যা

সিয়াচেন হিমবাহ:
- ‘সিয়াচেন হিমবাহ’ অবস্থিত উত্তর কাশ্মীরে।
- সিয়াচেন হিমবাহ পৃথিবীর উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্র বলে পরিচিত।
- 'সিয়াচেন হিমবাহ' পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।

⇒ কারাকোরাম পর্বতের সিয়াচেন হিমবাহ দখলে রাখা নিয়ে দুই চিরবৈরী দেশ ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে লড়াই শুরু হয় আশির দশকের গোড়া থেকে।
- তবে দ্বন্দ্বের বীজ লুকিয়ে ছিল দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া করাচি আর সিমলা চুক্তি দুটির মধ্যেই – যেখানে ‘এন জে ৯৮৪২’ নামের একটি অবস্থানের পরে নিয়ন্ত্রণ রেখা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি মানচিত্রে।
- মনে করা হত ওই এলাকার আবহাওয়া এতটাই প্রতিকুল, যেখানে কোনও মানুষ থাকতে পারবে না।

অন্যদিকে,
• ভারত ও নেপালের মধ্যে অমীমাংসিত ভূখন্ড হলো কালাপানি,
• ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল লাদাখ,
• ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল ইম্ফল।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

২০০.
ট্রান্সডনিস্ট্রিয়া (Transdniestria) অঞ্চলটি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. সুইডেন
  2. রাশিয়া
  3. জাপান
  4. মলদোভা
ব্যাখ্যা
ট্রান্সডনিস্ট্রিয়া:
- এটি মলদোভা-ইউক্রেন সীমান্তে নিস্টার নদীর পূর্বতীরে অবস্থিত।
 - ট্রান্সডনিস্ট্রিয়া মলদোভার বিচ্ছিন্নতাবাদী ছিটমহল।
- ট্রান্সডনিস্ট্রিয়া বিভিন্ন সময়ে অটোমান সাম্রাজ্য , রাশিয়া , ইউক্রেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বারা শাসিত হয়েছিল ।
- এটির প্রধান শহর তিরাসপোল।
- অঞ্চলটির মোট আয়তন প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গকিলোমিটার।
- মলদোভা সরকারের সাথে বিরোধের প্রেক্ষিতে ১৯৯৫ সালে অঞ্চলটিতে ১,৫০০ রুশ শান্তিরক্ষী মোতায়েন করা হয় যা এখনো সক্রিয় রয়েছে।
 
উৎস: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]