বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন

মোট প্রশ্ন২৬৫এই পাতা৬৪প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন

PrepBank · পাতা / · ২০১২৬৪ / ২৬৫

২০১.
উক্তি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত কোন পদের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়?
  1. বিশেষ্য পদের
  2. বিশেষণ পদের
  3. সর্বনাম পদের
  4. অব্যয় পদের
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

উক্তি পরিবর্তনের কিছু নিয়মসমূহ:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

২. অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

৩. পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

৪. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২০২.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. ড্যাশ
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. উদ্ধারচিহ্ন
ব্যাখ্যা
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
--------------------------
• উক্তি:

- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
• উক্তি দুই প্রকার:

• প্রত্যক্ষ উক্তি;
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।

• পরোক্ষ উক্তি।
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।

যেমন
• ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
• ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২০৩.
"দশ মিনিট পর ট্রেন এলো।" যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. ট্রেন এলো এবং দশ মিনিট পার হলো।
  2. দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো, তারপর ট্রেন এলো।
  3. ট্রেন এলো কারণ দশ মিনিট পার হলো।
  4. দশ মিনিট পার হয়ে ট্রেন এলো।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
সরল বাক্য: দশ মিনিট পর ট্রেন এলো।
যৌগিক বাক্য: দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো, তারপর ট্রেন এলো।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৪.
‘দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।’- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. দোষ করেছ, তাই শাস্তি পাবে।
  2. যেহেতু দোষ করেছ শাস্তি পাবে।
  3. দোষ করাই, তুমি শাস্তি পাবে।
  4. যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য: দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
• বাক্যের জটিলরূপ: যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।

----------------------
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
২০৫.
‘যে সব পশু মাংশ খায়, তারা খুব বলবান হয়।' বাক্যটির সরলরূপ হবে -
  1. সকল মাংসাশী পশুই বলবান হয় বৈ কি।
  2. মাংসাশী পশুমাত্রই কি বলবান হয় না!
  3. মাংসাশী পশুরা মাংস খায়, তাই বলবান হয়।
  4. সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়৷
যথা:
মিশ্র বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
সরল বাক্য: নির্বোধরা/বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।

মিশ্র বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
সরল বাক্য:আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।

মিশ্র বাক্য: যে সব পশু মাংশ খায়, তারা খুব বলবান হয়।
সরল বাক্য: সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৬.
উপস্থাপক অংশের পরে প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. উদ্ধার চিহ্ন
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. কলন
ব্যাখ্যা
• উক্তি-পরিবর্তনের নিয়ম:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির উপস্থাপিত অংশ উদ্ধার চিহ্নের (" ") মধ্যে রাখা হয়।
২. পরোক্ষ উক্তিতে উপস্থাপিত অংশের পরিবর্তিত অংশটা উদ্ধার চিহ্নের ("" ) মধ্যে রাখা হয় না।
৩. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিণত করার সময় কেবল উপস্থাপিত বাক্যের- সর্বনামের রূপ, ক্রিয়ার রূপ, ক্রিয়া-বিশেষণ এবং কদাচিৎ ক্রিয়ার কাল পরিবর্তন করতে হয়।
উপস্থাপক অংশের কোনো পরিবর্তন হয় না।
৪. উপস্থাপক অংশের পরে প্রত্যক্ষ উক্তিতে একটা কমা চিহ্ন (,) বসে।

যেমন:
- "রহিম বলল, "আমি তোমাকে চিনি।”

[এই বাক্যে 'রহিম'-কে উপস্থাপক-কর্তা এবং 'আমি'-কে উপস্থাপিত কর্তা বা উপস্থাপিত বাক্যের কর্তা বলে চিহ্নিত করা যায়। তাহলে আমরা পাচ্ছি- 'রহিম বলল' উপস্থাপক অংশ; "আমি তোমাকে চিনি"- উপস্থাপিত অংশ; 'বলল'- উপস্থাপক অংশের ক্রিয়া: 'চিনি'- উপস্থাপিত অংশের ক্রিয়া।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৭.
শিক্ষক বললেন, "তােমরা কি ছুটি চাও?" - বাক্যের পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।
  2. শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন তােমরা ছুটি চাও?
  3. তােমরা ছুটি চাও কি না শিক্ষক তা জিজ্ঞেস করলেন।
  4. শিক্ষক জানতে চেয়েছেন আমরা কি ছুটি চাই?
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবােধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তি পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।

যেমন:
প্রশ্নবােধক বাক্য:

প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "তােমরা কি ছুটি চাও?"
পরােক্ষ উক্তি: আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।
 
প্রত্যক্ষ উক্তি : বাবা বললেন, "কবে নাগাদ তােমাদের ফল বের হবে?”
পরােক্ষ উক্তি : আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০৮.
'তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার।' এটিকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করুন-
  1. তাঁর সম্মন্ধে জানার কি দরকার?
  2. তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার কি?
  3. তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার নয় কি?
  4. তাঁর সম্মন্ধে জানা অদরকার নয় কি?
ব্যাখ্যা
• অস্তিবাচক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
- অস্তিবাচক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
- অস্তিবাচকবাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে:

- সূত্র: ক। কর্তার পর সাধারণত প্রশ্নবাচক অব্যয় ব্যবহার করতে হবে।
- সূত্র: খ। ক্রিয়াপদের পর 'না' অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হবে।
- সূত্র: গ। বাক্য শেষে প্রশ্নবোধক জিজ্ঞাসা-চিহ্ন থাকবে।
যেমন:
- অস্তিবাচক: তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার।
- প্রশ্নাত্মক: তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার নয় কি?

- অস্তিবাচক: বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কি তা জানতে চাই।
- প্রশ্নাত্মক: বাংলাদেশের রাজধানীর নাম জানতে পারি কি?

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৯.
”রাজীব বললো যে, সে কবিতা লিখতে পছন্দ করে।” - উক্তিটির প্রত্যক্ষরূপ কোনটি?
  1. রাজীব বলতেছিলো, "আমি কবিতা লিখতে পছন্দ করি”।
  2. রাজীব বললো, "আমি কবিতা লিখতে পছন্দ করি”।
  3. রাজীব বলেছিলো, "আমি কবিতা লিখতে পছন্দ করি”।
  4. রাজীব বললো, "আমি কবিতা লিখতে পছন্দ করতাম”।
ব্যাখ্যা

• উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন
- প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
- পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন
- প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি কবিতা লিখতে পছন্দ করি”।
- পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে কবিতা লিখতে পছন্দ করে।

- প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"
- পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

২১০.
'দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।' - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. দুর্জন লোকেরা পরিত্যাজ্য।
  2. যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  3. তারা পরিত্যাজ্য, যারা দুর্জন।
  4. লোকটি দুর্জন এবং পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম: 
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য। 
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী ।

সরল বাক্য: পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
জটিল বাক্য: যে লোক পরিশ্রমী, সে সাফল্য লাভ করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১১.
'যদি পানিতে নাম, তবে সাঁতার শিখতে পারবে।' - বাক্যটির যৌগিক রূপ কী হবে?
  1. তুমি পানিতে নামলে সাঁতার শিখতে পারবে।
  2. পানিতে নাম, তবে সাঁতার শিখতে পারবে।
  3. পানিতে নামো এবং সাঁতার শিখতে পারবে।
  4. তুমি পানিতে নামছো, কারণ তুমি সাঁতার শিখতে চাও।
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে। জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

জটিল বাক্য: যদি পানিতে নাম, তবে সাঁতার শিখতে পারবে।
যৌগিক বাক্য: পানিতে নাম, তবে সাঁতার শিখতে পারবে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১২.
'শফিক চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছে।' - বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যদিও শফিক চেষ্টা করেছে তাই ব্যর্থ হয়েছে।
  2. শফিক চেষ্টা করেনি, তাই ব্যর্থ হয়েছে।
  3. শফিক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।
  4. শফিক চেষ্টা করেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা (, ), সেমিকোলন (ঃ), কোলন ( ; ), ড্যাশ ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

• যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
সরল বাক্য: 'শফিক চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছে।' 
যৌগিক বাক্য: শফিক চেষ্টা করেনি, তাই ব্যর্থ হয়েছে।

সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।

সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।

২১৩.
রশিদ বলল, "আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।”- বাক্যের পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. রশিদ বলল যে, তার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছিলেন।
  2. রশিদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছেন।
  3. রশিদ বলল যে, তার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।
  4. রশিদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তন:
প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়। পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।”
পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: রশিদ বলল, "আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।”
পরোক্ষ উক্তি: রশিদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১ ও ২০১৯)।
২১৪.
যে বাক্যে বক্তার নিজের কথাই অবিকল উদ্ধৃত হয় তাকে কি বলে?
  1. ক) উক্তি
  2. খ) প্রত্যক্ষ উক্তি
  3. গ) পরোক্ষ উক্তি
  4. ঘ) বাচ্য
ব্যাখ্যা
- যে বাক্যে বক্তার নিজের কথাই অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।

• উক্তি:
- কোনো কিছু বলার নামই উক্তি।
- উক্তি দুই প্রকার। 
- যথা: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৫.
নিম্নলিখিত প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর করুন:
রানা বলল, “আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।”
  1. রানা বলল যে আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।
  2. রানা বলল যে তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছেন।
  3. রানা বলল যে তার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।
  4. রানা বলল যে ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছেন।
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তি: রানা বলল, "আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।"
সঠিক পরোক্ষ উক্তি: রানা বলল যে তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছেন।

• উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
→ পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২১৬.
'লােকটি অশিক্ষিত কিন্তু অভদ্র নয়' - বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
  2. লােকটি অশিক্ষিত এবং অভদ্র নয়।
  3. যদিও লোকটি শিক্ষিত কিন্তু সে অভদ্র নয়।
  4. লােকটি শিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১৭.
'পানিতে না নামলে সাঁতার শিখতে পারবে না' এই বাক্যের জটিল রূপ কী?
  1. যদি পানিতে না নামো, তবে সাঁতার শিখতে পারবে না।
  2. পানিতে নামো, নচেৎ সাঁতার শিখতে পারবে না।
  3. পানিতে নামলে সাঁতার শিখতে পারবে।
  4. আগে পানিতে নামো, নতুবা সাঁতার শিখতে পারবে না।
ব্যাখ্যা
• পানিতে না নামলে সাঁতার শিখতে পারবে না' একটি সরল বাক্য।
এর জটিল রূপ: যদি পানিতে না নামো, তবে সাঁতার শিখতে পারবে না।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- সরল বাক্য: মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না।
- জটিল বাক্য: যে মিথ্যাবাদী, তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১৮.
প্রত্যক্ষ উক্তির 'আগামীকাল' পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. আগেরদিন
  2. পরদিন
  3. পূর্বদিন
  4. সেদিন
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

প্রত্যক্ষরূপ - পরোক্ষরূপ:
• আগামীকাল - পরদিন,
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
• গতকাল - আগেরদিন,
• আজ - সেদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• এখানে - সেখানে,
• ওখানে - ঐখানে,
• এখন - তখন,
• এ - সে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
২১৯.
পরোক্ত উক্তিতে ব্যবহৃত শব্দ কোনটি?
  1. এই
  2. গতকাল
  3. পরদিন
  4. ইহা
ব্যাখ্যা
• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:

প্রত্যক্ষ - পরোক্ষ।

এখন - তখন। 
আগামীকাল - পরদিন । 
ইহা - তাহা। 
গতকাল - আগেরদিন।
আজ - সেদিন। 
ওখানে - ঐখানে। 
গতকল্য - পূর্বদিন। 
এখানে - সেখানে।
এই - সেই।
-------------------- 
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২২০.
সুমি বলল, “আমি গান গাইতে ভালোবাসি।” — এটি পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. সুমি বলল, আমি গান গাইতে ভালোবাসি।
  2. সুমি বলল যে, সে গান গাইতে ভালোবাসে।
  3. সুমি বলল যে, আমি গান গাইতে ভালোবাসি।
  4. সুমি বলল যে, সে গান গাইতে ভালোবাসতো।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হলো:
খ) সুমি বলল যে, সে গান গাইতে ভালোবাসে।

ব্যাখ্যা:
• পরোক্ষ উক্তির "আমি" পরিবর্তিত হয়ে→ "সে" (সর্বনাম পরিবর্তন)
• উদ্ধৃতচিহ্ন (" ") উঠে গিয়ে "যে" বসেছে (যোজক)।
• "ভালোবাসি" পরিবর্তিত হয়ে → "ভালোবাসে" (ক্রিয়ার কাল অনুযায়ী পরিবর্তন)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
২২১.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন হয় না -
  1. ক্রিয়ার কালের
  2. যতচিহ্ন
  3. নাম বিভক্তির
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।”
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

আবার,
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২২২.
"আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।"- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।
  2. আমি বহু কষ্ট করেছি বলেই, শিক্ষা লাভ করেছি।
  3. যেহেতু আমি বহু কষ্ট করেছি, তাই শিক্ষা লাভ করেছি।
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাক্যটির যৌগিক রূপ: আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।

----------------
• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম-
সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-

• সূত্র: বাক্যের পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
যেমন-
সরল: সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি।
যৌগিক: সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।

• সূত্র: সরল বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) যারা স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হয়।
যেমন-
সরল: 'গুহাটা হইতে বাহির হইয়া আসিয়া ধড়ে প্রাণ আসিল।'
যৌগিক: 'গুহাটা হইতে বাহির হইলাম, তবেই ধড়ে প্রাণ আসিল।'

• সূত্র: সরল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা অন্য একটি স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যও গঠিত হয়।
যেমন-
সরল ঝুরি নেমে গড়ে ওঠা গড়িই এখন রয়েছে।
যৌগিক: ঝুরি নেমে গুঁড়ি গড়ে উঠেছে, আর তা-ই এখন রয়েছে।

• সূত্র: প্রয়োজনে সরল বাক্যের অন্য শব্দসমষ্টির দ্বারা কিংবা বাক্যাংশকে প্রসারিত করে এক বা একাধিক স্বনির্ভর খণ্ডবাক্য গঠিত হতে পারে।
যেমন-
সরল: আমি বর ছিলাম বলে বিবাহ সম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।
যৌগিক: আমি ছিলাম বর, সুতরাং বিবাহ সম্মন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।

• সূত্র: খণ্ডবাক্যগুলো ব্যতিরেকাত্মক, প্রাতিপাক্ষিক, সংযোজক, বিয়োজক প্রভৃতি যে কোনো অব্যয় দ্বারা যুক্ত করে যৌগিক বাক্য গঠন করা।
যেমন-
সরল: তুমি চলে গেলে তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?
যৌগিক: তুমি চলে যাবে, কিন্তু তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৩.
‘এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?’ এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ডিত বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

• সরল বাক্য: এখন পরবালের কর্ম না করিলে কবে করিব?
• যৌগিক বাক্য: এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৪.
বৈজ্ঞানিক বললেন, "চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. বৈজ্ঞানিক বললেন, চুম্বক যে লোহাকে আকর্ষণ করে।
  2. বৈজ্ঞানিক বলেছিলেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।
  3. বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।
  4. বৈজ্ঞানিক বলছেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোনো চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ: শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
• পরোক্ষ: শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার।

• প্রত্যক্ষ: বৈজ্ঞানিক বললেন, "চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।"
• পরোক্ষ: বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৫.
'দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।' - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. পরিত্যাজ্য হলো দুর্জন লোক।
  2. দুর্জন ব্যক্তি সবার দ্বারা পরিত্যক্ত।
  3. লোক দুর্জন হলেও সে পরিত্যাজ্য।
  4. যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন-

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৬.
‘ইহা’ এর পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. সেই
  2. তখন
  3. তাহা
  4. সে
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:
 
• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 
 
• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।
 
প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষরূপ:
- এই - সেই।
- ইহা - তাহা। 
- এ - সে
- এখন - তখন। 
- আগামীকাল - পরদিন । 
- গতকাল - আগেরদিন।
- আজ - সেদিন। 
- ওখানে - ঐখানে। 
- গতকল্য - পূর্বদিন। 
- এখানে - সেখানে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)। 
২২৭.
'বৃষ্টি হলে বের হব না।' - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমি বের হব না।
  2. বৃষ্টি হচ্ছে, তাই আমি বের হব না।
  3. যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।
  4. বৃষ্টি হবে, তখন আমি বের হব না।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: বৃষ্টি হলে বের হব না।
জটিল বাক্য: যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।
 
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২৮.
নিচের কোন শব্দটি প্রত্যক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. সেই
  2. সেদিন
  3. ইহা
  4. তখন
ব্যাখ্যা
• 'ইহা'- প্রত্যক্ষ উক্তির শব্দ। 

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
প্রত্যক্ষ -------- পরোক্ষ।
এখন - তখন। 
আগামীকাল - পরদিন । 
ইহা - তাহা। 
গতকাল - আগেরদিন।
আজ - সেদিন। 
ওখানে - ঐখানে। 
গতকল্য - পূর্বদিন। 
এখানে - সেখানে।
এই - সেই। 
--------------------- 
⇒ বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
উক্তি দুই প্রকার:
প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 

• পরােক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২২৯.
‘যে রক্ষক সেই ভক্ষক।’- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. রক্ষকই কিন্তু ভক্ষক।
  2. যিনি রক্ষক তিনি ভক্ষক।
  3. রক্ষকই এখন ভক্ষক।
  4. সেই রক্ষক অথচ সেই ভক্ষক।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩০.
‘গতকাল’ এর পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. আগামীকাল
  2. সেদিন
  3. পরদিন
  4. আগেরদিন
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষরূপ:
- এই - সেই।
- ইহা - তাহা।
- এ - সে
- এখন - তখন।
- আগামীকাল - পরদিন ।
- গতকাল - আগেরদিন।
- আজ - সেদিন।
- ওখানে - ঐখানে।
- গতকল্য - পূর্বদিন।
- এখানে - সেখানে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২৩১.
"তার কাছে সকলেই প্রার্থিত বস্তু পেত।" - বাক্যটির জটিল রূপ কী হবে?
  1. সবাই তার কাছে প্রার্থিত বস্তু পায়।
  2. তার কাছে সকলেই প্রার্থিত বস্তু চাইতো এবং তা পেত।
  3. তার কাছে যে যা চাইত, সে তাই পেত।
  4. সবাই তার কাছে প্রার্থিত বস্তু পেতো বিধায় তার কাছেই সবসময় চাইতো।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে পরিবর্তন:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: তার কাছে সকলেই প্রার্থিত বস্তু পেত।
জটিল বাক্য: তার কাছে যে যা চাইত, সে তাই পেত।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
২৩২.
ফরিদা বলল, “বা”! ফুলটি খুব সুন্দর।” বাক্যের পরোক্ষ উক্তি কী?
  1. ক) ফরিদা বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর।
  2. খ) ফরিদা হেসে হেসে বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর।
  3. গ) ফরিদা উৎফুল্ল হয়ে বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর।
  4. ঘ) ফরিদা আনন্দের সঙ্গে বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত বাক্যের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে ফরিদা আনন্দের সঙ্গে বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর

• আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত করার সময় নিম্নলিখিত বাগ্ভঙ্গি ব্যবহার করতে হবে।
টেকনিক: আনন্দের সঙ্গে/আক্ষেপের সঙ্গে/দুঃখের সঙ্গে/বিরক্তির সঙ্গে/বিস্ময়ের সঙ্গে + বলল/বললেন/বললাম + যে...
প্রত্যক্ষ উক্তি: ফরিদা বলল, “বা”! ফুলটি খুব সুন্দর।”
পরোক্ষ উক্তি: ফরিদা আনন্দের সঙ্গে বলল যে, ফুলটি খুব সুন্দর।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২৩৩.
রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।” বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. ক) রাজীব বললো যে, আমি বাগান করা পছন্দ করি।
  2. খ) রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
  3. গ) রাজীব বলিল যে, আমি বাগান করা পছন্দ করি।
  4. ঘ) রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে না।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে

• উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক ‘যে’ বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২৩৪.
'মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না।' - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে।
  2. তিনি মিথ্যাবাদী এবং তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।
  3. যে মিথ্যাবাদী, তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।
  4. মিথ্যাবাদী তাই কেউ বিশ্বাস করে না।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না।
জটিল বাক্য: যে মিথ্যাবাদী, তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
২৩৫.
'সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।' বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. সত্য কথা বলিনি বলেই বিপদে পড়েছি।
  2. আমি সত্য কথা বলিনি, সেহেতু আমি বিপদে পড়েছি।
  3. আমি সত্য কথা বলিনি, তাই আমি বিপদে পড়েছি।
  4. যেহেতু আমি সত্য কথা বলিনি, তাই আমি বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা
• বাক্যটির জটিল রূপ: যেহেতু আমি সত্য কথা বলিনি, তাই আমি বিপদে পড়েছি।

-----------------
• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

→ সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন-
সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

→ সূত্র: সরল বাকোর উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

→ সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

→ সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খন্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কিছু যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহৃত হয় -
• সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম।
যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩৬.
‘যদিও তাঁর টাকা আছে, তথাপি তিনি দান করেন না’- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. তাঁর টাকা আছে এবং তিনি দান করেন না
  2. তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না।
  3. তাঁর টাকা থাকলেও তিনি দান করেন না।
  4. টাকা থাকা সত্ত্বেও তিনি দান করেন না।
ব্যাখ্যা
• মিশ্রবাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
মিশ্র বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিবর্তন করতে হলে খণ্ডবাক্যগুলোকে এক একটি স্বাধীন বাক্যে পরিবর্তন করে তাদের মধ্যে সংযোজক অব্যয়ের ব্যবহার করতে হয়। যেমন-
(১) মিশ্র বাক্য: যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
যৌগিক বাক্য: সে কাল আসবে এবং আমি যাব।
(২) মিশ্র বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
যৌগিক বাক্য: বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।
(৩) মিশ্র বাক্য: যদিও তাঁর টাকা আছে, তথাপি তিনি দান করেন না।
যৌগিক বাক্য: তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৩৭.
‘সৎ ব্যক্তি বলে সকলে তাকে সম্মান করে।’- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. সে সৎ ব্যক্তি বলেই সকলে তাকে সম্মান করে।
  2. লোকটি সৎ এবং সকলে তাকে সম্মান করে।
  3. যেহেতু সে সৎ ব্যক্তি তাই সকলে তাকে সম্মান করে।
  4. লোকটি সৎ তাই সকলে তাকে সম্মান করে।
ব্যাখ্যা
‘সৎ ব্যক্তি বলে সকলে তাকে সম্মান করে।’- বাক্যটির জটিল রূপ - যেহেতু সে সৎ ব্যক্তি, তাই সকলে তাকে সম্মান করে।

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:

সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোনো অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়। এবং যথাসম্ভব সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হয়। যেমন-
১. সরল বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন।
যৌগিক বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।

২. সরল বাক্য: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।
যৌগিক বাক্য: এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।

৩. সরল বাক্য: আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
যৌগিক বাক্য: আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৩৮.
`তিনি অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু অন্তঃকরণ খুব উদার' কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) মিশ্র বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা (, ), সেমিকোলন (ঃ), কোলন ( ; ), ড্যাশ ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

• যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত পরস্পর নিরপেক্ষ বাক্য দুটোর প্রথমটির পূর্বে ‘যদি’ কিংবা ‘যদিও’ এবং দ্বিতীয়টির পূর্বে ‘তা হলে’ (তাহা হইলে) কিংবা ‘তথাপি’ অব্যয় গুলো ব্যবহার করতে হয়। যেমন-
যৌগিক বাক্য: তিনি অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু অন্তঃকরণ খুব উদার।
মিশ্র বাক্য: যদিও তিনি অত্যন্ত দরিদ্র, তথাপি অন্তঃকরণ খুব উদার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৯.
অর্থের সংগতি রাখার জন্য উক্তি পরিবর্তনের সময়ে কোন পদের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. অনুসর্গ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উক্তি পরিবর্তন:
প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন
- প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
- পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন-
- প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"
- পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, "সে বাগান করা পছন্দ করে।"

পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
- পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫ সংস্করণ)

২৪০.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কী ধরনের শব্দের পরিবর্তন হয়?
  1. কালবাচক
  2. স্থানবাচক
  3. ক এবং খ উভয়ই 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন -
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
→ পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৪১.
তিনি বললেন, ‘দয়া করে ভিতরে আসুন।’ বাক্যটি কিসের উদাহরণ?
  1. বচন
  2. বাচ্য
  3. পরোক্ষ উক্তি
  4. প্রত্যক্ষ উক্তি
ব্যাখ্যা
উক্তি দুই প্রকার- প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: 
যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা উদ্ধরণ চিহ্ন (‘ ’/“ ”)-এর মধ্যে থাকে এবং বক্তার কথা ‍উদ্ধৃত করার আগে কমা (,) ব্যবহার করা হয়। এগুলো দেখে সহজেই প্রত্যক্ষ উক্তি চেনা যায়।
যেমন,
- খোকা বলল, 'আমার বাবা বাড়ি নেই'। 
- তিনি বললেন, ‘দয়া করে ভিতরে আসুন'। 
- লোকটি আমাকে বললেন, 'অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।'

অন্যদিকে,
• বচন: 
- 'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
- ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।
- কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

• বাচ্য: 
- বাক্যের বিভিন্ন ধরণের প্রকাশ ভঙ্গিকে বলা হয় বাচ্য।
- বাচ্য তিন প্রকার।
- যথা: কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য। 

• পরোক্ষ উক্তি: 
যে বাক্যে বক্তার কথা অন্যের জবানীতে পরিবর্তিত/রূপান্তরিত ভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলে।
পরোক্ষ উক্তিতে কোনো উদ্ধরণ চিহ্ন থাকে না, এবং প্রথম উদ্ধরণ চিহ্নের স্থলে ‘যে’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
বেশিরভাগ পরোক্ষ উক্তিতেই ‘যে’ সংযোজক অব্যয়টি থাকে বলে একে দেখে পরোক্ষ উক্তি চেনা যেতে পারে। তবে ‘যে’ ছাড়াও অনেক পরোক্ষ উক্তি গঠিত হতে পারে।
যেমন, 
- খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
- লোকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরোধ করলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২৪২.
নিচের কোন শব্দটি পরোক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়?
  1. ইহা
  2. পূর্বদিন
  3. ওখানে
  4. এখন
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:

• আগামীকাল - পরদিন,
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
• গতকাল - আগেরদিন,
• আজ - সেদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• এখানে - সেখানে,
ওখানে - ঐখানে,
এখন - তখন,
• এ - সে।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)। 
২৪৩.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  3. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  4. মাতাহীন শিশুর কি দুঃখ!
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: মাতাহীন শিশুর কি দুঃখ।
শুদ্ধ বাক্য: মাতৃহীন শিশুর কি দুঃখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৪৪.
প্রত্যক্ষ উক্তির 'আগামীকাল' পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. আরেকদিন
  2. সেদিন
  3. পরদিন
  4. অন্যদিন
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তির 'আগামীকাল' পরোক্ষ উক্তিতে হবে-  'পরদিন'। 
--------------------------- 
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময় কালবাচক এবং স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন: 
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, 'আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।'
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উল্লেখ্য,
প্রত্যক্ষ উক্তির 'গতকল্য' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- পূর্বদিন। 
প্রত্যক্ষ উক্তির 'আজ' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- সেদিন। 
প্রত্যক্ষ উক্তির 'গতকাল' পরোক্ষ উক্তিতে হবে- আগেরদিন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

২৪৫.
"সে অনেক চেষ্টা করে সাফল্য লাভ করেছে।" যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন-
  1. সে সাফল্য লাভ করেছে, যাতে সবাই খুশি হয়।
  2. সে অনেক চেষ্টা করেছে, তাই সাফল্য লাভ করেছে।
  3. সে সাফল্য লাভ করেছে, যদিও সে চেষ্টা করেনি।
  4. সে সাফল্য লাভ করেছে কারণ সে চেষ্টা করেছে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
সরল বাক্য: সে অনেক চেষ্টা করে সাফল্য লাভ করেছে।
যৌগিক বাক্য: সে অনেক চেষ্টা করেছে, তাই সাফল্য লাভ করেছে।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৬.
'লোকটি গরিব, কিন্ত শিক্ষিত।' বাক্যটির সরলরূপ-
  1. লোকটি গরিব ও শিক্ষিত।
  2. লোকটি গরিব হলেও শিক্ষিত।
  3. যদিও লোকটি গরিব, তবুও সে শিক্ষিত।
  4. গরিব লোকটি শিক্ষিত।
ব্যাখ্যা
- যৌগিক বাক্য: 'লোকটি গরিব, কিন্ত শিক্ষিত।'
- সরল বাক্য: লোকটি গরিব হলেও শিক্ষিত। 

• যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:

- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন-
- যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
- সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

- যৌগিক বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
- সরল বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
২৪৭.
‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’ বিখ্যাত এই উক্তিটি কার?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- 'কবিতার কথা' হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
-  এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি,তিমির হননের কবি ,নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল-
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা,

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল-
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

সোর্স: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২৪৮.
"মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না।" এটিকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. মিথ্যাবাদীকে কেউই বিশ্বাস করতে চায় না।
  2. সে একজন মিথ্যাবাদী, তাই কেউ তাকে বিশ্বাস করে না।
  3. যেহেতু সে মিথ্যা বলে, তাই কেউ তাকে বিশ্বাস করে না।
  4. সে মিথ্যাবাদী এবং তাকে কেউ বিশ্বাস করে না।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না।
জটিল বাক্য: যেহেতু সে মিথ্যা বলে, তাই কেউ তাকে বিশ্বাস করে না।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
২৪৯.
'যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।'– বাক্যটির সঠিক যৌগিক বাক্য কোনটি?
  1. বিপদ তথাপি দুঃখ এক সময়ে আসে।
  2. বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
  3. বিপদ আসলে দুঃখও আসে।
  4. যখন বিপদ আসে, সাথে দুঃখো আসে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য: 
- জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করতে হয়।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।

যেমন -
- জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে
- যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
- জটিল বাক্য: যদি নিয়মিত সাঁতার কাটো, তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
- যৌগিক বাক্য: নিয়মিত সাঁতার কাটো, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)। 
২৫০.
'সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ।' বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যদিও সে পরিশ্রমী, কিন্তু নির্বোধ।
  2. সে পরিশ্রমী হলেও, কিন্তু নির্বোধ।
  3. সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।
  4. সে পরিশ্রমী হলেও, সে নির্বোধ।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে-
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
• সরল বাক্য: সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ। 
• যৌগিক বাক্য: সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ। 

• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

• সরল বাক্য: সৎ ব্যক্তি বলে সকলে তাকে সম্মান করে।
• যৌগিক বাক্য: লোকটি সৎ, তাই সকলে তাকে সম্মন করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

২৫১.
'ওখানে' কালসূচক শব্দের পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. এখানে
  2. সেখানে
  3. ঐখানে
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
যথা:
প্রত্যক্ষ - পরোক্ষ:
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
• এ - সে,
• আগামীকাল -  পরদিন,
• গতকাল - আগেরদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• আজ - সেদিন,
• ওখানে - ঐখানে,
• এখানে - সেখানে,
• এখন - তখন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৫২.
লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।” - বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি কী হবে?
  1. লোকটি বললো, সে পরদিন সেখানে আবার যাবে।
  2. লোকটি বললেন যে, তিনি পরশুদিন সেখানে আবার যাবেন।
  3. লোকটি বললেন যে, তিনি আগামীকালের পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
  4. লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।

যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।”
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

আবার,
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।

যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২৫৩.
প্রত্যক্ষ উক্তির 'এই' পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. ক) উহা
  2. খ) ওটা
  3. গ) সেটা
  4. ঘ) সেই
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির 'এই' পরোক্ষ উক্তিতে হবে - সেই।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু উক্তি পরিবর্তন:

প্রত্যক্ষ  -  পরোক্ষ
এই  -  সেই।
ইহা  -  তাহা/উহা।
এখানে  -  ওইখানে।
আগামীকাল  -  পরদিন।
গতকল্য  -  পূর্বদিন।
এটা  - ওটা/সেটা।
এ  -  সে।
আজ  - সেদিন।
গতকাল  -  আগেরদিন।
এখন  -  তখন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৫৪.
নিচের কোনটি পরোক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ইহা
  2. সেই
  3. আজ
  4. গতকল্য
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

যেমন:
প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ
→ এই-সেই, 
ইহা-তাহা, 
→ এ-সে, 
আজ-সেদিন,
→ আগামীকাল-পরদিন, 
→ গতকাল-আগেরদিন, 
গতকল্য-পূর্বদিন, 
→ ওখানে-ঐখানে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫৫.
'দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না' - বাক্যটির জটিল রূপ কী হবে?
  1. তুমি দোষ স্বীকার করলে তোমার আর কোনো শাস্তি হবে না।
  2. যদি দোষ স্বীকার কর তবে তোমার কো্নো শাস্তি হবে না।
  3. যদি দোষ স্বীকার কর তবে তোমার শাস্তি হবে না।
  4. যদি দোষ স্বীকার কর তোমার শাস্তি হবে না।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
জটিল বাক্য: যদি দোষ স্বীকার কর তবে তোমার কো্নো শাস্তি হবে না।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৬.
উক্তি পরিবর্তন করুন: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
  1. ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
  2. ছেলেটি বলেছিল যে, গতদিন সে অনেক পড়েছে।
  3. ছেলেটি বলেছিল যে, এইদিন সে অনেক পড়েছে।
  4. ছেলেটি বলেছিল যে, আরেক দিন সে অনেক পড়েছে।
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
- পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
- কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
- পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৭.
'উক্তি পরিবর্তন' বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1.  শব্দতত্ত্ব
  2. পদতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

- বাংলা ব্যাকরণে উক্তি পরিবর্তন বাক্যতত্ত্ব এর  আলোচ্য বিষয়। 

উক্তি ও বাক্যতত্ত্ব: 
-বাংলা ব্যাকরণে উক্তি হলো বাক্য প্রকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ; যা বাক্যতত্ত্ব এর আলোচ্য বিষয়।
- বাক্য প্রকরণে মূলত প্রত্যক্ষ উক্তি  এবং পরোক্ষ উক্তি –এর নিয়ম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
-উক্তি এবং বাচ্য পরিবর্তন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- বাক্য প্রকরণ বাক্যের গঠন, পদবিন্যাস, এবং বাক্য পরিবর্তনের নিয়ম নিয়ে আলোচনা করে, যার মধ্যে উক্তি একটি প্রধান অংশ। 
- উক্তি মূলত বাচ্যের ধারণা থেকেই আসে;
- কারণ বাচ্য নির্ধারণ করে বাক্যে কর্তা, কর্ম বা ক্রিয়ার প্রাধান্য কীভাবে প্রকাশ পাচ্ছে, যা উক্তি পরিবর্তনের মূল ভিত্তি।

উল্লেখ্য, 
• উক্তি হলো বক্তার কথা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রকাশ করার প্রক্রিয়া।
• অন্যদিকে, বাচ্য হলো বাক্যের এমন রূপ যা কর্তা, কর্ম বা ক্রিয়ার প্রাধান্য অনুসারে বাক্যের কাঠামো পরিবর্তন করে।
- সহজভাবে বলতে গেলে, উক্তি বাক্যের বিষয়বস্তু প্রকাশ করে, আর বাচ্য বাক্যের প্রকাশভঙ্গি বা গঠন (কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য) নির্ধারণ করে। 

 উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৮.
সরল বাক্যে রূপান্তর করুন - যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
  1. যদি সুসংবাদ পাও, তবে আনন্দিত হও।
  2. যেই সে সুসংবাদ পেল, সেই সে আনন্দিত হলো।
  3. সে সুসংবাদ পেল এবং আনন্দিত হলো।
  4. সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন -
- জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
- সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।

- জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
- সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৯.
"শিক্ষক ছাত্রের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন" এই পরোক্ষ উক্তির প্রত্যক্ষরূপ কী হবে?
  1. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন, বাবা তুমি দীর্ঘজীবী হও।
  2. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন, তোমার দীর্ঘায়ু হোক।
  3. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন ,"তুমি দীর্ঘজীবী হও"।
  4. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন, আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি।
ব্যাখ্যা
- "শিক্ষক ছাত্রের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন" - পরোক্ষ উক্তি।
- শিক্ষক ছাত্রকে বললেন ,"তুমি দীর্ঘজীবী হও"।- প্রত্যক্ষ উক্তি।

• উক্তি পরিবর্তন:
- কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
- যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে। যথা তিনি বললেন, "বইটা আমার দরকার।"
- যে বাক্যে বক্তার উক্তি অন্যের জবানিতে রূপান্তরিতভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলা হয়।

• উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের ("") অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়।
- প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়।
- বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৬০.
"আমার কথা বিশ্বাস কর, তোমার মঙ্গল হবে।" - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. তুমি আমার মঙ্গল বিশ্বাস কর।
  2. আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।
  3. তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবে এবং মঙ্গল লাভ করবে।
  4. তুমি যদি আমার কথা বিশ্বাস কর, তবে তোমার মঙ্গল হবে
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: আমার কথা বিশ্বাস কর, তোমার মঙ্গল হবে।
সরল বাক্য: আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬১.
আশালতা বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"-এর পরোক্ষ উক্তি কী?
  1. আশালতা বলল যে, সে বের হবে।
  2. আশালতা বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।
  3. আশালতা বলল যে, সে তখন বের হবে।
  4. আশালতা বলল যে, সে বের হচ্ছে।
ব্যাখ্যা

• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন
• প্রত্যক্ষ উক্তি: আশালতা বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: আশালতা বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
• বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
উক্তি দুই প্রকার:
- প্রত্যক্ষ উক্তি ও
- পরোক্ষ উক্তি।
যেমন
- ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
- ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

২৬২.
“শহিদের মৃত্যু নেই” - এর অস্তিবাচক রূপ -
  1. ক) শহিদেরা মরেনা
  2. খ) শহিদ এর মৃত্যু নাই
  3. গ) শহিদেরা অমর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
‘শহিদের মৃত্যু নেই’- এর অস্তিবাচক রূপ - “শহিদেরা অমর”

নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না। 
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না।
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্রঃ ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দ দ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৩.
প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে উদ্ধারচিহ্নের পরিবর্তে কোন পদ বসে?
  1. সর্বনাম
  2. উপসর্গ
  3. অনুসর্গ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।

উক্তি পরিবর্তনের কিছু নিয়মসমূহ:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

২. অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

৩. পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

৪. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
• পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
২৬৪.
শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।” - বাক্যের পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
  2. শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রতিবার প্রদক্ষিণ করে।
  3. শিক্ষক বলল যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করিয়া চলে।
  4. শিক্ষক বলল যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করিয়া চলে না।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।”
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

আবার,
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব ।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।