বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন

মোট প্রশ্ন২৬৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২৬৫

১০১.
মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. মিহির বললো, তার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
  2. মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  3. মিহির বলে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  4. মিহির বললো যে, সে জানতো সবুজ সে বাসায় থাকতো।
ব্যাখ্যা
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

উল্লেখ্য,
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

• উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন
- ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
- ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১০২.
"তুমি আসবে এবং আমি যাব।" - বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. তুমি আসবে আর আমি যাবো।
  2. তুমি এলে আমি যাব।
  3. তুমি যখন আসবে তখন আমি যাবো।
  4. তুমি আসবে এরপর আমি যাবো।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাব।
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৩.
প্রত্যক্ষ উক্তি থেকে পরোক্ষ উক্তি তৈরি করার সময় কোন পরিবর্তনগুলো ঘটতে পারে?
  1. উক্তি চিহ্নের সংখ্যা পরিবর্তন
  2. ক্রিয়ার কাল ও স্থান পরিবর্তন
  3. বক্তব্যকারীর নাম পরিবর্তন
  4. ক্রিয়ার রূপ অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

• উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন -
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে — কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
→ পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০৪.
"পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।" - বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
  2. তোমাকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে, এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত
  3. তোমার তোমার পড়া উচিত এবং তুমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
  4. তোমার তোমার পড়া উচিত, তাহলেই তুমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর: 
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়। 

যেমন:
সরল বাক্য: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।
যৌগিক বাক্য: এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৫.
পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী কোন পদের পরিবর্তন করতে হয়?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. ক্রিয়া
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।

উক্তি পরিবর্তনের কিছু নিয়মসমূহ:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

২. অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

৩. পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

৪. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
• পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১০৬.
লোকটি বলল, "বাঃ! পাখিটি তো চমৎকার।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. লোকটি আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
  2. লোকটি আনন্দের সাথে বলল, পাখিটি চমৎকার।
  3. লোকটি হাসি দিয়ে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
  4. লোকটি বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খন্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়। যেমন-

• আবেগসূচক বাক্য:
 
- প্রত্যক্ষ উক্তি : লোকটি বলল, "বাঃ! পাখিটি তো চমৎকার।"
- পরোক্ষ উক্তি : লোকটি আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

- প্রত্যক্ষ উক্তি : ভিখারিনী বলল, "শীতে আমরা কতই না কষ্ট পাচ্ছি।"
- পরোক্ষ উক্তি: ভিখারিনী দুঃখের সাথে বলল যে, তারা শীতে বড়ই কষ্ট পাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১০৭.
'সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।' - বাক্যটির সরলরূপ কোনটি? 
  1. আমি সত্য কথা বলিনি, তাই আমি বিপদে পড়েছি।
  2. সত্য কথা বলিনি, তবে বিপদে পড়িনি।
  3. সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
  4. যেহেতু সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি। 
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে, 
(১) বাক্যসমূহের একটি সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
(২) অন্যান্য সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয়।
(৩) অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
(৪) কোনো কোনো স্থলে একটি বাক্যকে হেতুবোধক বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়।
যথা:
- যৌগিক বাক্য: সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
- সরল বাক্য: সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
১০৮.
পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করুন: "রাষ্ট্রপতি বললেন, বাংলাদেশ চিরজীবী হউক"।
  1. রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের চিরায়ু কামনা করলেন।
  2. রাষ্ট্রপতি বলেন যে বাংলাদেশ যেন চিরজীবী হয়।
  3. রাষ্ট্রপতি উৎফুল্ল হয়ে বাংলাদেশের বড় আয়ু কামনা করলেন।
  4. রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অনেক আয়ু প্রার্থণা করলেন।
ব্যাখ্যা
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” – এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 

প্রার্থনাসূচক বাক্য:

- প্রত্যক্ষ উক্তিতে উক্তিটি প্রার্থনাসূচক বাক্যে থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়াপদটি উক্তির অর্থ অনুযায়ী 'প্রার্থনা করল', 'কামনা করল' প্রভৃতি হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: ইন্দ্র বলল, 'বাবুদের জয় হউক।'
পরোক্ষ উক্তি: ইন্দ্র বাবুদের জয় কামনা করল।

প্রত্যক্ষ উক্তি: সফিক বলল, 'সৃষ্টিকর্তা তোমাকে দীর্ঘজীবী করুক।'
পরোক্ষ উক্তি: সফিক সৃষ্টিকর্তার কাছে তার দীর্ঘজীবন প্রার্থনা করল।

প্রত্যক্ষ উক্তি: "রাষ্ট্রপতি বললেন, বাংলাদেশ চিরজীবী হউক"।
পরোক্ষ উক্তি: রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের চিরায়ু কামনা করলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৯.
'তিনি আসতে পারলেন না, কারণ তিনি অসুস্থ।' - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. তিনি অসুস্থ হওয়ায় আসতে পারলেন না।
  2. তিনি সুস্থ থাকলে আসতে পারতেন।
  3. তিনি অসুস্থ তাই আসতে পারলেন না।
  4. অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারলেন না।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য পরিবর্তন:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: তিনি আসতে পারলেন না, কারণ তিনি অসুস্থ।
সরল বাক্য: অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারলেন না।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১০.
'তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।' - বাক্যটির যৌগিক রূপ কী হবে?
  1. তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
  2. যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি সুতরাং ব্যর্থ হয়েছ।
  3. যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি তাই ব্যর্থ হয়েছ।
  4. তুমি চেষ্টা করোনি বলে ব্যর্থ হয়েছ।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরলবাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
 
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
 
সরল বাক্য: সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ।
যৌগিক বাক্য: সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

১১১.
পরোক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. পূর্বদিন
  2. ওখানে
  3. আজ
  4. এই
ব্যাখ্যা
• 'গতকল্য' এর পরোক্ষ উক্তি - পূর্বদিন।

অন্যদিকে,
• 'এই' এর পরোক্ষ উক্তি - 'সেই'।
• 'ওখানে' এর পরোক্ষ উক্তি - 'ঐখানে'।
• 'আজ' এর পরোক্ষ উক্তি - 'সেদিন'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১১২.
'সে এখানে এসেই বসে পড়ল' -এ বাক্যটির যৌগিক রূপ কি হবে?
  1. ক) সে এখানে এসে বসলো।
  2. খ) সে এখানে এসে বসে পড়ল।
  3. গ) সে এখানে এসে বসেছে।
  4. ঘ) সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য: দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমনঃ
সরল বাক্যঃ তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিকবাক্যঃ তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

'সে এখানে এসেই বসে পড়ল' -এ বাক্যটির যৌগিক রুপ  'সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৩.
'আমি আছি, ভয় কেন মা করো'-কোন ধরণের উক্তি?
  1. পরোক্ষ
  2. প্রশ্নবোধক
  3. প্রত্যক্ষ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

উক্তি: বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

পরোক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
যেমন: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

প্রদত্ত 'আমি আছি, ভয় কেন মা করো? উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত হয়েছে। সুতরাং এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

১১৪.
‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'- কে বলেছেন?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) রামকৃষ্ণ পরমহংস
  4. ঘ) বিবেকানন্দ
ব্যাখ্যা
• চন্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।',
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১১৫.
বাক্যের অর্থ সঙ্গতি রক্ষার জন্য পরোক্ষ উক্তিতে কিসের  পরিবর্তন করতে হয়?
  1. ক) ক্রিয়াপদের
  2. খ) বিশেষণের
  3. গ) সর্বনামের 
  4. ঘ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের অর্থ সঙ্গতি রক্ষার জন্য পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়াপদের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন - 
প্রত্যক্ষ উক্তি : হিরণ বলল, “আমি এক্ষুণি আসছি।” 
পরোক্ষ উক্তি : হিরণ বলল যে, সে তক্ষুণি যাচ্ছে। 

উৎস : বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১১৬.
জটিল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোন পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হয়?
  1. যোজক 
  2. সর্বনাম
  3. যতিচিহ্ন 
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে। 
• যৌগিক বাক্য: সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে। 

• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১৭.
কোন বাক্যে ‘ভালো’ বিশেষ্য রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ভালো, তাই হোক
  2. খ) তোমার ভালো হোক
  3. গ) পরের ভালো দেখতে পারে না
  4. ঘ) ভালো কথা, তোমার বাড়ি তৈরির কি হলো
ব্যাখ্যা

‘ভালো’ এর বিভিন্ন রূপ-
বিশেষ্য রূপেঃ তোমার ভালো হোক।
বিশেষণ রূপেঃ পরের ভালো দেখতে পারে না।
অব্যয় রূপেঃ ভালো, তাই হোক; ভালো কথা, তোমার বাড়ি তৈরির কি হলো।
সূত্র- অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমী।

১১৮.
উক্তি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত কোন পদের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তনের নিয়মসমূহ:
• প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
- পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"
- পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

- প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"
- পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
- পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।-
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
- পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২৩ সংস্করণ)।
১১৯.
প্রত্যক্ষ উক্তির ‘গতকাল' পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. পূর্বদিন
  2. আগেরদিন
  3. সেদিন
  4. গতকল্য
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

প্রত্যক্ষরূপ - পরোক্ষরূপ:
• আগামীকাল - পরদিন,
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
গতকাল - আগেরদিন,
• আজ - সেদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• এখানে - সেখানে,
• ওখানে - ঐখানে,
• এখন - তখন,
• এ - সে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১২০.
রাজু বললো, 'আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে'- পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি কী হবে?
  1. রাজু বললো যে, আমার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  2. রাজু বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
  3. রাজু বললো, তার জানামতে সে বাসায় থাকতো।
  4. রাজু বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো না।
ব্যাখ্যা
• পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি হচ্ছে- 'রিমি বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো'।  

• উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।

যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজু বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজু বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১২১.
প্রত্যক্ষ উক্তি থেকে পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তরের সময় কোন পরিবর্তনগুলো ঘটতে পারে?
  1. উক্তি চিহ্নের সংখ্যা পরিবর্তন
  2. কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন
  3. বক্তব্যকারীর নাম পরিবর্তন
  4. ক্রিয়ার রূপ অপরিবর্তিত থাকা
ব্যাখ্যা

• উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন -
→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে — কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
→ পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২২.
তিনি বললেন যে বইটা তাঁর দরকার। - বাক্যটি কীসের উদাহরণ?
  1. পরোক্ষ উক্তির
  2. কর্তৃবাচ্যের
  3. প্রত্যক্ষ উক্তির
  4. কর্মবাচ্যের
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তি:
- যে বাক্যের সাহায্যে বক্তার কথা সরাসরি বর্ণনা করা হয় তাকে বলা হয় প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ইব্রাহীম বলল, 'আমি কাজটি শেষ করতে পারিনি'।
- এ বাক্যের বক্তা হলো ইব্রাহীম। ইব্রাহীমের কথাই এখানে সরাসরি বর্ণনা করা হয়েছে।
- অতএব এটি হলো প্রত্যক্ষ উক্তির উদাহরণ।

পরোক্ষ উক্তি:
- যে বাক্যে বক্তার বক্তব্য সরাসরি বর্ণনা করা হয় না, অন্যের দ্বারা বর্ণনা করা হয় সে উক্তিকে বলা হয় পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
- তিনি বললেন যে, বইটা তার দরকার।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
'দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।' এর জটিল রূপ কোনটি?
  1. যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
  2. তুমি দোষ কর, তাহলে শাস্তি পাবে।
  3. দোষ করলে শাস্তি পাবে।
  4. দোষ করেছে, তাই সে শাস্তি পাবে।
ব্যাখ্যা
'দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।' এর জটিল রূপ- 'যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।'

যৌগিক-বাক্য থেকে মিশ্র বা জটিল বাক্যে রূপান্তর:

যৌগিক বাক্য থেকে মিশ্র বা জটিল বাক্যে রূপান্তর করছে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-
সূত্র: ক। যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত যোজক বাদ দিতে হবে।
সূত্র: খ। নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যগুলোর মধ্যে একটিকে প্রধান রেখে অন্যান্য নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যকে অপ্রধান খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র : গ। যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত স্বনির্ভর বা স্বাধীন খণ্ডবাক্যগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যটি জটিলবাক্যে প্রধান খন্ড বাক্য হয় এবং অপর স্বনির্ভর খণ্ডবাক্য অপ্রধান খন্ডবাক্যে পরিণত হয়।
সূত্র: ঘ। সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বা নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় ব্যবহার করে বাক্যের অর্থ ও সমতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

কতিপয় দৃষ্টান্ত:
যৌগিক: বেলা যায়, কিন্তু গন্তব্যের খোঁজ নেই এখনো।
জটিল: যদিও বেলা যায়, তবু গন্তব্যের খোঁজ নেই এখনো।
যৌগিক: মনোযোগ দিয়ে পড়, তবে পাশ করতে পারবে।
জটিল: যদি মনোযোগ দিয়ে পড়, তবে পাশ করতে পারবে।
যৌগিক: তোমার কথা রসাল বটে, কিন্তু তাতে মন ভরে না।
জটিল: যদিও তোমার কথা রসাল, তবু তাতে মন ভরে না।
যৌগিক: ছেলেরা আনন্দিত হলো এবং দ্রুতবেগে চলে গেল।
জটিল: ছেলেরা যখন আনন্দিত হলো, তখন দ্রুতবেগে চলে গেল।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৪.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিণত করার সময় উপস্থাপিত বাক্যের কোন রূপের পরিবর্তন করতে হয় না?
  1. সর্বনাম রূপ
  2. বিশেষ্যে রূপ
  3. ক্রিয়া-বিশেষণ রূপ
  4. ক্রিয়া রূপ
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিণত করার সময় উপস্থাপিত বাক্যের বিশেষ্যে রূপের পরিবর্তন করতে হয় না। 

--------------
• উক্তি:

বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
• ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
• ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি। আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

• উক্তি-পরিবর্তনের নিয়ম:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির উপস্থাপিত অংশ উদ্ধার চিহ্নের (" ") মধ্যে রাখা হয়।
২. পরোক্ষ উক্তিতে উপস্থাপিত অংশের পরিবর্তিত অংশটা উদ্ধার চিহ্নের ("" ) মধ্যে রাখা হয় না।
৩. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিণত করার সময় কেবল উপস্থাপিত বাক্যের- সর্বনামের রূপ, ক্রিয়ার রূপ, ক্রিয়া-বিশেষণ এবং কদাচিৎ ক্রিয়ার কাল পরিবর্তন করতে হয়।
উপস্থাপক অংশের কোনো পরিবর্তন হয় না।
৪. উপস্থাপক অংশের পরে প্রত্যক্ষ উক্তিতে একটা কমা চিহ্ন (,) বসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১২৫.
অর্থ সঙ্গতি রক্ষার জন্য পরোক্ষ উক্তিতে কোন পদের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. আবেগ
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
অর্থ সঙ্গতি রক্ষার জন্য পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়াপদের পরিবর্তন হতে পারে।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রহমান বলল, ‘আমি এখনই আসছি’।
• পরোক্ষ উক্তি: রহমান বলল যে, সে তখনই যাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২৬.
‘বাবা ছেলের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন’ - এই পরোক্ষ উক্তির প্রত্যক্ষরূপ হবে-
  1. বাবা ছেলেকে বললেন, বাবা তুমি দীর্ঘজীবী হও
  2. বাবা ছেলেকে বললেন যে, তোমার দীর্ঘায়ু হোক
  3. বাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’
  4. বাবা ছেলেকে বললেন যে, আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত থাকে।
• পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পেয়ে সেখানে 'যে' সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়।

এখানে,
- পরোক্ষ উক্তি: ‘বাবা ছেলের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন’।
- প্রত্যক্ষ উক্ততি: বাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৭.
'মেঘ করলে বৃষ্টি হয়' - বাক্যটির জটিল রূপ নিচের কোনটি?
  1. মেঘ করে, এবং তখন বৃষ্টি হয়।
  2. যখন মেঘ করে, বৃষ্টি হয়।
  3. যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।
  4. যদি মেঘ করে তখন বৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
♠ সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• তুমি এলে আমি যাব।
• দয়া করে সব খুলে বলুন।  
• সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়। 
• সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছ। 
• আমরা তিন ভাইবোন ( ক্রিয়া অনুপস্থিত)।

♠ জটিল বাক্য:  
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম;
- এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেমন-তেমন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।   
 
• যদিও তিনি ধনী, তথাপি তিনি সুখী না। 
•  যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব। 
• যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
• যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।  

♣ সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:  
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
- যেমন: 
• সরল বাক্য: মেঘ করলে বৃষ্টি হয়। 
• জটিল বাক্য: যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।    

• সরল বাক্য: সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে। 
• জটিল বাক্য: যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।  
• সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য। 
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য। 
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 
• জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৮.
“সাতাশ যদি হতো একশ সাতাশ” - এখানে কী বুঝাতে নিত্যবৃত্ত অতীত ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কামনা
  2. খ) ইচ্ছা
  3. গ) সম্ভাবনা
  4. ঘ) অসম্ভব কল্পনায়
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত অতীত কাল : অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন : আমরা তখন রোজ সকালে নদীর তীরে ভ্রমণ করতাম।
নিত্যবৃত্ত অতীত কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ :
ক. কামনা প্রকাশে : আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
খ. অসম্ভব কল্পনায় : সাতাশ যদি হতো একশ সাতাশ।
গ. সম্ভবনা প্রকাশে : তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১২৯.
'লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।' বাক্যটির যৌগিকরূপ কোনটি?
  1. যদিও লোকটি অশিক্ষিত, তবে অভদ্র নয়।
  2. যদিও লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
  3. যেহেতু লোকটি অশিক্ষিত, তবে অভদ্র নয়।
  4. লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।

- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
সরল বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
যৌগিক বাক্য: লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩০.
শিক্ষক বললেন, 'তোমার নাম কী?'- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. ক) শিক্ষক বললেন যে, আমার নাম কী?
  2. খ) শিক্ষক আমার নাম জানতে চাইলেন।
  3. গ) শিক্ষক বললেন যে, তার নাম কী?
  4. ঘ) শিক্ষক তার নাম জানতে চাইলেন।
ব্যাখ্যা
- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে শিক্ষক আমার নাম জানতে চাইলেন।

• সাধারণত প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তনের সময় প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' সংযোজক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়। তবে প্রশ্নসূচক এবং অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে 'যে' ব্যবহৃত হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ: শিক্ষক বললেন, 'তোমার নাম কী?
পরোক্ষ: শিক্ষক আমার নাম জানতে চাইলেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩১.
সাকিব বলল, "আমি এখানে থাকব"। - বাক্যটির পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর কোনটি?
  1. সাকিব বলল যে, সে সেখানে থাকবে। 
  2. সাকিব বলল, "আমি সেখানে থাকব।"
  3. সাকিব বলল, "সে এখানে থাকবে।
  4. সাকিব জানাল যে আমি এখানে থাকব।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর — ক) সাকিব বলল যে, সে সেখানে থাকবে।

ব্যাখ্যা:
প্রত্যক্ষ উক্তি: বলল সাকিব, "আমি এখানে থাকব"।
সঠিক পরোক্ষ উক্তি: সাকিব বলল যে, সে সেখানে থাকবে।

উক্তি রূপান্তরের নিয়মসমূহ:
১. পুরুষের পরিবর্তন:
"আমি" → "সে" (প্রথম পুরুষ থেকে তৃতীয় পুরুষে)।

২. স্থানের পরিবর্তন:
"এখানে" → "সেখানে" (নিকট স্থান থেকে দূর স্থানে)।

৩. বাক্য গঠন:
উদ্ধৃতি চিহ্ন সরিয়ে "যে" সংযোজক অব্যয়।

৪. ক্রিয়ার রূপ:
"থাকব" → "থাকবে" (পুরুষ অনুযায়ী পরিবর্তন)।

অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
ক) এখনও প্রত্যক্ষ উক্তি (উদ্ধৃতি চিহ্ন আছে) এবং পুরুষ পরিবর্তন হয়নি।
গ) পুরুষ ও স্থান পরিবর্তন হয়নি ("আমি এখানে" রয়ে গেছে)।
ঘ) এখনও প্রত্যক্ষ উক্তি (উদ্ধৃতি চিহ্ন আছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩২.
‘মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে’- বাক্যটির সরল রূপ কোনটি? 
  1. যদি মেঘ গর্জন করে, তাহলে ময়ূর নৃত্য করে। 
  2. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করবে। 
  3. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
  4. মেঘ গর্জন করে এবং ময়ূর নৃত্য করে।  
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছ। 
• পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে। 
• তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
 
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক ব্যবহৃত হয়।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে। 

• সূর্য উদিত হয়, তবে অন্ধকার দূর হয়। 
• সত্য কথা বলনি, তাই বিপদে পড়েছ। 
• হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।

♣ যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; আর সরল বাক্যে একটি।
- তাই যৌগিক থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়। 

• যৌগিক বাক্য: সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি। 
• সরল বাক্য: সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।   

• যৌগিক বাক্য: মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে। 
• সরল বাক্য: মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।  

• যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।   
• সরল বাক্য: ভিক্ষুককে টাকা দাও।  

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৩.
নিচের কোন শব্দটি পরোক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ওখানে
  2. ইহা
  3. গতকল্য
  4. তখন
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ পরোক্ষ রূপ:
আগামীকাল - পরদিন, 
এই - সেই,
ইহা - তাহা,
গতকাল - আগেরদিন,
আজ - সেদিন,
গতকল্য - পূর্বদিন,
এখানে - সেখানে,
ওখানে - ঐখানে,
এখন - তখন,
এ- সে।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯ সংস্করণ)।

১৩৪.
"আমি এ সাক্ষী চাই না।" - এর জটিল রূপ কোনটি?
  1. যে সাক্ষী এরকম, তাকে আমি চাই না।
  2. যে সাক্ষী মিথ্যা বলে, আমি তাকে চাই না।
  3. আমি এ সাক্ষীকে না চাই।
  4. আমি কোনো সাক্ষীকেই চাই না।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: আমি এ সাক্ষী চাই না।
জটিল বাক্য: যে সাক্ষী এরকম, তাকে আমি চাই না।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৫.
"এই" এর পরোক্ষ রূপ কী হবে?
  1. ইহা
  2. তাহা
  3. সেই
  4. সে
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষরূপ - পরোক্ষরূপ: 
• আগামীকাল - পরদিন,
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
• গতকাল - আগেরদিন,
• আজ - সেদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• এখানে - সেখানে,
• ওখানে - ঐখানে,
• এখন - তখন,
• এ - সে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১৩৬.
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?' কবিতাংশটি কার?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  5. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• কবিতা মুকুল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।
• কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা আদর্শ ছেলে।
• তাঁর রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।

কবিঃ কুসুমকুমারী দাশ
কবিতাঃ আদর্শ ছেলে

আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই তার পণ।
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?
সে ছেলে কে চাই বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখে জল, মাথা ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা 'মানুষ' হলে দেশের কল্যাণ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩৭.
‘প্রিয়াংবদা যথার্থ কহিয়াছে’ বাক্যটির নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. প্রিয়াংবদা যথার্থ কহে নাই
  2. প্রিয়াংবদা অযথার্থ কহে নাই
  3. প্রিয়াংবদা অযথার্থ কহিয়াছে
  4. প্রিয়াংবদা কি অযথার্থ কহিয়াছে?
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলেও বাক্যের অর্থ যেনো একই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখলে বুঝা যায় যে ‘প্রিয়াংবদা অযথার্থ কহে নাই’ বাক্যটি সঠিকভাবে নেতিবাচক রূপ লাভ করেছে। এখানে এ দুটো বাক্যের মূলভাবের কোন পরিবর্তন ঘটেনি।
১৩৮.
'​পরোপকারীকে সকলে শ্রদ্ধা করে।' - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. সকলে শ্রদ্ধা করে পরোপকারীকে।
  2. সকলে যে পরোপকারী তাকে শ্রদ্ধা করে।
  3. সকলে পরোপকারীকে শ্রদ্ধা করে।
  4. যে পরোপকারী, তাকে সকলেই শ্রদ্ধা করে।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

​যেমন:
সরল বাক্য: ​পরোপকারীকে সকলে শ্রদ্ধা করে।
জটিল বাক্য: ​যে পরোপকারী, তাকে সকলেই শ্রদ্ধা করে।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩৯.
‘তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ’ বাক্যটিকে সরল বাক্য়ে রূপান্তর কর?
  1. তুমি চেষ্টা করোনি, অথচ ব্যর্থ হয়েছ। 
  2. যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ। 
  3. তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
  4. তুমি চেষ্টা করোনি, ফলে ব্যর্থ হয়েছ।  
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে। 
• তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
• আমরা তিন ভাইবোন ( ক্রিয়া অনুপস্থিত)।

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক ব্যবহৃত হয়।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে। 
• হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
• অন্ধকার হয়ে এসেছে - বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।  


⇒ যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; আর সরল বাক্যে একটি।
- তাই যৌগিক থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়। 

• যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল। 
• সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল। 
 
• যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ। 
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৪০.
খোকা বলল, "আমার বাবা বাড়ি নেই।" - উক্তিটির পরোক্ষ রূপ কোনটি?
  1. খোকা বলল, আমার বাবা এখন বাড়িতে নেই।
  2. খোকা বলল, বাবা এখন বাড়িতে নেই।
  3. খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
  4. খোকা বলল, বাবা বাড়িতে নেই।
ব্যাখ্যা
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের (" ") অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়।
- প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়।
- বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: খোকা বলল, "আমার বাবা বাড়ি নেই।"
পরোক্ষ উক্তি: খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।

- বাক্যের অর্থ-সঙ্গতি রক্ষার জন্য সর্বনামের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: রশিদ বলল, "আমার ভাই আজই ঢাকা যাচ্ছেন।"
পরোক্ষ উক্তি: রশিদ বলল যে, তার ভাই সেদিনই ঢাকা যাচ্ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪১.
নিচের কোনটি পরোক্ষ উক্তি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. এখানে 
  2. গতকল্য 
  3. সেদিন
  4. এটা 
ব্যাখ্যা
• 'সেদিন'- পরোক্ষ উক্তির শব্দ। 

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
• এই  -  সেই।
• ইহা  -  তাহা/উহা।
এখানে  -  ওইখানে।
• আগামীকাল  -  পরদিন।
গতকল্য  -  পূর্বদিন।
• এটা  - ওটা/সেটা।
• এ  -  সে।
• আজ  - সেদিন।
• গতকাল  -  আগেরদিন।
• এখন  -  তখন।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪২.
"সে লোকটিকে খুন করেছিল এবং তার মাথা ঠাণ্ডা ছিল।" - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. সে যে লোকটিকে খুন করেছিলো তার মাথা ঠাণ্ডা ছিলো।
  2. সে ঠাণ্ডা মাথায় লোকটিকে খুন করেছিল।
  3. সে ঠাণ্ডা মাথার কারণে লোকটিকে খুন করেছিল।
  4. সে লোকটিকে খুন করেছিল কিন্তু তার মাথা ঠাণ্ডা ছিল।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে লোকটিকে খুন করেছিল এবং তার মাথা ঠাণ্ডা ছিল।
সরল বাক্য: সে ঠাণ্ডা মাথায় লোকটিকে খুন করেছিল।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪৩.
'যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে'৷ সরল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. তারা এ কথা বিশ্বাস করবে কারণ তাদের বুদ্ধি নেই।
  2. যেহেতু তাদের বুদ্ধি নেই তাই তারা এ কথা বিশ্বাস করবে।
  3. বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
  4. যাদের বুদ্ধি নেই কিন্তু তারাই বিশ্বাস করবে এ কথা।
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়৷
যথা:
মিশ্র বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
সরল বাক্য: নির্বোধরা/বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
 
মিশ্র বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
সরল বাক্য:আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।
 
মিশ্র বাক্য: যে সব পশু মাংশ খায়, তারা খুব বলবান হয়।
সরল বাক্য: সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৪.
প্রত্যক্ষ উক্তির 'ইহা' পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. এই
  2. সেই
  3. তাহা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির 'ইহা' পরোক্ষ উক্তিতে হবে - তাহা।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু উক্তি পরিবর্তন:
প্রত্যক্ষ  -  পরোক্ষ-
• এই  -  সেই।
• ইহা  -  তাহা/উহা।
• এখানে - ওইখানে।
• আগামীকাল - পরদিন।
• গতকল্য - পূর্বদিন।
• এ - সে।

উৎস: ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৫.
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে কি বলে?
  1. ক) উক্তি
  2. খ) বক্তব্য
  3. গ) বাচ্য
  4. ঘ) বাক্য
ব্যাখ্যা
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

• উক্তি দুই প্রকার:
১/ প্রত্যক্ষ উক্তি ও
২/ পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” – এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। – এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৪৬.
'মেঘ করলে বৃষ্টি হয়।' বাক্যটির জটিলরূপ কী হবে?
  1. মেঘ করে ও বৃষ্টি হয়।
  2. মেঘ করে তাই বৃষ্টি হয়।
  3. মেঘ করায় বৃষ্টি হয়।
  4. যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
• 'মেঘ করলে বৃষ্টি হয়।' বাক্যটি একটি সরল বাক্য।
• এই বাক্যের জটিলরূপ: যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়। 

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৭.
'যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।’- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. পরিশ্রম করলেই, ফল পাবে।
  2. পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।
  3. যদি পরিশ্রম কর, ফল পাবে।
  4. যদি পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর: 
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে। 
সূত্র খ:  জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।
যেমন:
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল:যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ। 
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৮.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত 'ইহা' শব্দটির পরোক্ষ উক্তিতে কী পরিবর্তন হবে?
  1. উহা
  2. এটি
  3. তা
  4. তাহা
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ:
→ এই-সেই, 
→ ইহা-তাহা, 
→ এ-সে, 
→ আজ-সেদিন, 
→ আগামীকাল-পরদিন, 
→ গতকাল-আগেরদিন, 
→ গতকল্য-পূর্বদিন, 
→ ওখানে-ঐখানে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৪৯.
লোকটি বললেন, ‘আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।’ – এটি পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন এখানে আবার যাবেন।
  2. লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
  3. লোকটি বললেন যে, আগামীকাল এখানে আবার আসবেন।
  4. সে লোকটি বললেন যে, আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।

যেমন - প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।” 
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন ।

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

উক্তি দুই প্রকার।
যথা: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” – এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 

পরােক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরােক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনাে পরিবর্তন হয় না।
যেমন - যেমন: শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
 শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার। 

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৫০.
'যিনি জ্ঞানী, তিনিই সত্যিকার ধনী।' বাক্যটির সরলরূপ কী? 
  1. জ্ঞানীই সত্যিকার ধনী।
  2. জ্ঞানীরা ধনী হয়।
  3. যে ব্যক্তি ধনী, তিনি জ্ঞানী।
  4. তিনি জ্ঞানী, তাই সত্যিকার  ধনী
ব্যাখ্যা
'যিনি জ্ঞানী, তিনিই সত্যিকার ধনী।' এটি একটি জটিল বাক্য।
• এটির সরলরূপ: জ্ঞানীই সত্যিকার ধনী।

• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:

- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিতে হয়।
- অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হবে।
যেমন:
- জটিল বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
- সরল বাক্য: আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫১.
লোকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরোধ করলেন। বাক্যটির প্রত্যক্ষ উক্তি হল -
  1. লোকটি আমাকে বললেন, ‘আগে আসুন সামনে বসুন।’
  2. লোকটি আমাকে বললেন, ‘আপনি সামনের আসনে বসুন।’
  3. লোকটি আমাকে বললেন, ‘অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।’
  4. লোকটি আমাকে বললেন, ‘অনুগ্রহ করুন এবং সামনের আসনে বসুন।’
ব্যাখ্যা
⇒ উক্তি দুই প্রকার- প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: 
যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা উদ্ধরণ চিহ্ন (‘ ’/“ ”)-এর মধ্যে থাকে এবং বক্তার কথা ‍উদ্ধৃত করার আগে কমা (,) ব্যবহার করা হয়। এগুলো দেখে সহজেই প্রত্যক্ষ উক্তি চেনা যায়।
যেমন:
- খোকা বলল, আমার বাবা বাড়ি নেই।
- লোকটি আমাকে বললেন, 'অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।'

• পরোক্ষ উক্তি: 
যে বাক্যে বক্তার কথা অন্যের জবানীতে পরিবর্তিত/রূপান্তরিত ভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলে।
পরোক্ষ উক্তিতে কোনো উদ্ধরণ চিহ্ন থাকে না, এবং প্রথম উদ্ধরণ চিহ্নের স্থলে ‘যে’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
বেশিরভাগ পরোক্ষ উক্তিতেই ‘যে’ সংযোজক অব্যয়টি থাকে বলে একে দেখে পরোক্ষ উক্তি চেনা যেতে পারে। তবে ‘যে’ ছাড়াও অনেক পরোক্ষ উক্তি গঠিত হতে পারে।
যেমন:
- খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
- লোকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরোধ করলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫২.
শিক্ষক বললেন, "তোমরা কি ছুটি চাও?"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করে।
  2. শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমরা কি ছুটি চাও?
  3. শিক্ষক বললেন যে, "তোমরা কি ছুটি চাও?
  4. আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খন্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়। যেমন-

• প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "তোমরা কি ছুটি চাও?"
• পরোক্ষ উক্তি : আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: বাবা বললেন, "কবে নাগাদ তোমাদের ফল বের হবে?"
• পরোক্ষ উক্তি : আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১৫৩.
হামিদ বলল, "তোমরা আগামীকাল এসো।” - পরোক্ষ উক্তিতে হবে-
  1. হামিদ বলল যে তোমরা পরদিন এসো।
  2. হামিদ তাদের বলল যে তারা যেন আগামীকাল আসে।
  3. হামিদ তাদের বলল যে তারা যেন পরদিন আসে।
  4. হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।
ব্যাখ্যা

উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের ("") অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়।
- প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়। 
- বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়।
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোনো চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

প্রত্যক্ষ উক্তি: হামিদ বলল, "তোমরা আগামীকাল এসো।”
পরোক্ষ উক্তি: হামিদ তাদের পরদিন আসতে (বা যেতে) বলল।

প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫৪.
'বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ -
  1. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয় না।
  2. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয়।
  3. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয় না।
  4. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন না হয়ে পারে না।
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'
- বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'
- বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয় না

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫৫.
কামাল বলল, “বাঃ ! পাখিটি তো চমৎকার” - এর সঠিক পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. কামাল বলল যে, পাখিটি খুব চমৎকার’
  2. কামাল বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
  3. কামাল আনন্দের সাথে বলল, পাখিটি তো চমৎকার।
  4. কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
ব্যাখ্যা

• কামাল বলল, “বাঃ ! পাখিটি তো চমৎকার” - এর সঠিক পরোক্ষ উক্তি - কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

• আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত করার সময় নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলো ব্যবহার করতে হয়।
যেমন- আনন্দের সাথে/ আক্ষেপের সাথে/ দুঃখের সাথে/বিরক্তিভরে/বিস্ময়ের সাথে + বলল/বললেন/ বললাম + যে।

• অতপর খণ্ড বাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ : কামাল বলল, “বাঃ! পাখিটি তো চমৎকার।”
পরোক্ষ : কামাল আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫৬.
খোকা বলল, "আমার বাবা বাড়ি নেই।" এর পরোক্ষ উক্তি হবে-
  1. খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
  2. খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি নেই।
  3. খোকা বলল যে তোমার বাবা বাড়ি নেই।
  4. খোকা বলল যে, আমার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
ব্যাখ্যা

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
- উক্তি পরিবর্তনের কিছু নিয়মসমূহ:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়। বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়। যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: খোকা বলল, "আমার বাবা বাড়ি নেই।"
• পরোক্ষ উক্তি: খোকা বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।

২. অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

৩. পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়। যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

৪. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়। যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
• পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

১৫৭.
হামিদ বলল, "তোমরা আগামীকাল এসো।" এর পরোক্ষ উক্তি কী হবে?
  1. হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।
  2. হামিদ তাদের বলল যে তারা যেন আগামীকাল আসে।
  3. হামিদ বলল যে তোমরা পরদিন এসো।
  4. হামিদ তাদের বলল যে তারা যেন পরদিন আসে।
ব্যাখ্যা

উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের ("") অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়। প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়।
- বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়।
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোনো চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার।

• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
ক) প্রত্যক্ষ উক্তি: হামিদ বলল, "তোমরা আগামীকাল এসো।”
পরোক্ষ উক্তি : হামিদ তাদের পরদিন আসতে (বা যেতে) বলল।

খ) প্রত্যক্ষ উক্তি: তিনি বললেন, "দয়া করে ভেতরে আসুন।”
পরোক্ষ উক্তি: তিনি (আমাকে) ভেতরে যেতে অনুরোধ করলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৫৮.
খোকা তোমাকে বলল, "আমার বাবা বাড়ি নেই।"  এর পরোক্ষ উক্তি কোনটি? 
  1. খোকা তোমাকে বলল যে, আমার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
  2. খোকা তোমাকে বলল যে, তোমার বাবা বাড়ি নেই।
  3. খোকা তোমাকে বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।
  4. খোকা তোমাকে বলল যে, তার বাবা বাড়ি থাকেন না।'
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
- কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
- যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে। যথা তিনি বললেন, "বইটা আমার দরকার।"
- যে বাক্যে বক্তার উক্তি অন্যের জবানিতে রূপান্তরিতভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলা হয়।
যথা:
- তিনি বললেন যে বইটা তাঁর দরকার।

• উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
১. প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের ("") অন্তর্ভুক্ত থাকে। পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়। প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়।
বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: খোকা তোমাকে বলল, "আমার বাবা বাড়ি নেই।"
পরোক্ষ উক্তি: খোকা তোমাকে বলল যে, তার বাবা বাড়ি ছিলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৫৯.
পরোক্ষ উক্তিতে কী অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন হয়?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. উদ্দেশ্য
  4. বিধেয়
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।

উক্তি পরিবর্তনের কিছু নিয়মসমূহ:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

২. অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

৩. পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

৪. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
• পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১৬০.
'দোষ স্বীকার কর, তোমাকে কোন শাস্তি দেব না৷' মিশ্র বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. ক) যদি দোষ স্বীকার কর, তাহলে তোমাকে কোন শাস্তি দেব না
  2. খ) দোষ স্বীকার করলে তোমাকে কোন শাস্তি দিব না
  3. গ) দোষ স্বীকার কর তাহলে কোন শাস্তি দেব না
  4. ঘ) দোষ স্বীকার না করলে তোমাকে শাস্তি দেব
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্যকে মিশ্র বাক্যে রূপান্তর: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত পরস্পর নিরপেক্ষ বাক্য দুটির প্রথমটির পূর্বে 'যদি' কিংবা 'যদিও' এবং দ্বিতীয়টির পূর্বে 'তাহলে' কিংবা 'তথাপি' অব্যয়গুলো ব্যবহার করতে হয়৷
যেমন– যৌগিক বাক্য- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে কোন শাস্তি দেব না৷
মিশ্র বাক্য- যদি দোষ স্বীকার কর, তাহলে তোমাকে কোন শাস্তি দেব না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬১.
'পাপ্পু মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।' - বাক্যটির সরল রূপ কী হবে?
  1. পাপ্পু মোটা ও তার গায়ে শক্তি নেই
  2. পাপ্পু মোটা, তবে তার গায়ে শক্তি নেই।
  3. পাপ্পু  ভারী হলেও শক্তিহীন।
  4. মোটা হলেও পাপ্পুর গায়ে শক্তি নেই।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে মোটা বটে, কিন্তু তার গায়ে শক্তি নেই।
সরল বাক্য: মোটা হলেও পাপ্পুর গায়ে শক্তি নেই।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬২.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  2. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
  3. তোমার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
  4. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
ব্যাখ্যা

• 'তোমার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে।'- বাক্যটি শুদ্ধ। 

তাছাড়া,
ভুল বাক্য:  এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

ভুল বাক্য: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়। 
শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়। 

ভুল বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়। 
শুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৬৩.
'যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।' এই বাক্যের যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যদি পরিশ্রম কর তাহলে সাফল্য পাবে।
  2. পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।
  3. সাফল্য চাইলে পরিশ্রম কর।
  4. পরিশ্রম করলে সাফল্য পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- সূত্র ক: আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
- সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
- সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।
যেমন:
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল:যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬৪.
বাবা বললেন, "কবে নাগাদ তোমাদের ফল বের হবে?"- উক্তিটির পরোক্ষ রূপ কোনটি?
  1. বাবা জানতে চাইলেন, কবে নাগাদ ফল বের হবে।
  2. বাবা জিজ্ঞাস করলেন, আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে।
  3. বাবা জানতে চাইলেন, কবে নাগাদ তোমাদের ফল বের হবে।
  4. আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ থেকে পরোক্ষ উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
প্রশ্নবোধক বাক্য-
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "তোমরা কি ছুটি চাও?”
পরোক্ষ উক্তি: আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।

প্রত্যক্ষ উক্তি: বাবা বললেন, "কবে নাগাদ তোমাদের ফল বের হবে?"
পরোক্ষ উক্তি: আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৬৫.
জামাল বলেছিল, "আমি বাজারে যাচ্ছি।" - এ বাক্যের পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. জামাল বলেছিল, সে বাজারে যাচ্ছে।
  2. জামাল বলেছিল যে, সে বাজারে যাচ্ছিল।
  3. জামাল বলেছিল যে, আমি বাজারে যাচ্ছি।
  4. জামাল বলেছিল যে তারা বাজারে যাচ্ছিল।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
জামাল বলেছিল, "আমি বাজারে যাচ্ছি।"
জামাল বলেছিল যে, সে বাজারে যাচ্ছিল। 

তেমনিভাবে, 
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব ।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৬৬.
ইন্দ্র বলল, 'তুই দাঁড় টানতে পারিস?'- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. ক) ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, তুই কি দাঁড় টানতে পারিস।
  2. খ) ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, তুই দাঁড় টানতে পারিস কি না বল।
  3. গ) ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না।
  4. ঘ) ইন্দ্র তাকে জিজ্ঞাসা করল দাঁড় টানতে পারিস।
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নের পরোক্ষ উক্তি-  ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না।

• প্রশ্নবোধক বাক্য:
প্রত্যক্ষ উক্তিতে উক্তিটি প্রশ্নবোধক বাক্যে থাকলে, পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়াপদটি 'জিজ্ঞেস করল', প্রশ্ন করল' প্রভৃতি হয়।
- বাক্যে জিজ্ঞাসা চিহ্ন উঠে গিয়ে পূর্ণচ্ছেদ বসে।

প্রত্যক্ষ উক্তি: ইন্দ্র বলল, 'তুই দাঁড় টানতে পারিস?'
পরোক্ষ উক্তি: ইন্দ্র জিজ্ঞাসা করল যে, সে দাঁড় টানতে পারে কি না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৭.
সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি।- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. সমাজে দয়ার জোর বেশি না হয়ে দায়ের জোর বেশি হয়।
  2. যেসকল সমাজে দয়ার জোর বেশি নয় সেসকল সমাজে দায়ের জোর বেশি।
  3. যে সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, সে সমাজে দায়ের জোর বেশি।
  4. সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম-
সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-

• সূত্র: বাক্যের পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
যেমন-
সরল: সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি।
যৌগিক: সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।

• সূত্র: সরল বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) যারা স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হয়।
যেমন-
সরল: 'গুহাটা হইতে বাহির হইয়া আসিয়া ধড়ে প্রাণ আসিল।'
যৌগিক: 'গুহাটা হইতে বাহির হইলাম, তবেই ধড়ে প্রাণ আসিল।'

• সূত্র: সরল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা অন্য একটি স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যও গঠিত হয়।
যেমন-
সরল ঝুরি নেমে গড়ে ওঠা গড়িই এখন রয়েছে।
যৌগিক: ঝুরি নেমে গুঁড়ি গড়ে উঠেছে, আর তা-ই এখন রয়েছে।

• সূত্র: প্রয়োজনে সরল বাক্যের অন্য শব্দসমষ্টির দ্বারা কিংবা বাক্যাংশকে প্রসারিত করে এক বা একাধিক স্বনির্ভর খণ্ডবাক্য গঠিত হতে পারে।
যেমন-
সরল: আমি বর ছিলাম বলে বিবাহ সম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।
যৌগিক: আমি ছিলাম বর, সুতরাং বিবাহ সম্মন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।

• সূত্র: খণ্ডবাক্যগুলো ব্যতিরেকাত্মক, প্রাতিপাক্ষিক, সংযোজক, বিয়োজক প্রভৃতি যে কোনো অব্যয় দ্বারা যুক্ত করে যৌগিক বাক্য গঠন করা।
যেমন-
সরল: তুমি চলে গেলে তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?
যৌগিক: তুমি চলে যাবে, কিন্তু তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬৮.
জটিল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোন পদ বর্জন করতে হবে?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া 
  3. যোজক 
  4. সাপেক্ষবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে। 
• যৌগিক বাক্য: সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে। 

• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬৯.
'মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে'- বাক্যটিকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলে হয়-
  1. মিথ্যাবাদীকে সবাই পছন্দ করে
  2. মিথ্যাবাদীকে সবাই পছন্দ না করে পারে না
  3. মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না
  4. মিথ্যাবাদীকে কেউ অপছন্দ করে না
ব্যাখ্যা
• অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলেও বাক্যের অর্থ যেনো একই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখলে বুঝা যায় যে “মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না” বাক্যটি সঠিকভাবে নেতিবাচক রূপ লাভ করেছে।

অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:

১. বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়া) নেতিবাচক করতে হবে।
২. হ্যাঁ-সূচক বাক্যকে না করতে হলে মুল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হবে।
৩. বাক্যের বিশেষণ পদটিকে বিপরীত শব্দে রূপান্তর করতে হবে।
৪. প্রয়োজন মত বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক বাক্যের প্রয়োগের আওতাভুক্ত করতে হবে।
৫. 'না' বাচক ক্রিয়া ও 'না' বাচক শব্দ বা 'না' বাচক অব্যয় মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।

যেমন:
অস্তিবাচক: হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।
নেতিবাচক: হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।

অস্তিবাচক: এমন দিনে তারে বলা যায়।
নেতিবাচক: এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না।

অস্তিবাচক: পাখিটা মরল।
নেতিবাচক: পাখিটা বাঁচল না।

অস্তিবাচক: এভাবে সমাজ অচল হয়ে পড়ে।
নেতিবাচক: এভাবে সমাজ চলে না।

অস্তিবাচক: অনুপমার উচিত কাজ হয়েছে।
নেতিবাচক: অনুপমার অনুচিত কাজ হয়নি।

অস্তিবাচক: বাড়িটা তারা দখল করেছে।
নেতিবাচক: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭০.
'লোকটির সবই আছে, কিন্তু সুখী নয়।'- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. লোকটির সবই থাকায় সে সুখী নয়।
  2. লোকটির সবই থাকার পরও সে সুখী।
  3. যদিও লোকটির সবই আছে, তথাপি সে সুখী নয়।
  4. লোকটির সবই আছে এবং সে সুখী নয়।
ব্যাখ্যা
• 'লোকটির সবই আছে, কিন্তু সুখী নয়।' বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

• বাক্যটির জটিলরূপ: যদিও লোকটির সবই আছে, তথাপি সে সুখী নয়।

• যৌগিক বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করার সময় যৌগিক বাক্যের যোজক বাদ দিয়ে, এর বদলে সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজক যুক্ত হয়।
- যৌগিক বাক্য: ছেলেটির বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
- জটিল বাক্য: যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৭১.
“কোথাও শান্তি ছিল না” - এর অস্তিবাচক রূপ কোনটি ?
  1. কোথাও শান্তি পাওয়া যায়নি 
  2. কোথাও শান্তি নেই
  3. সর্বত্র অশান্তি ছিল
  4. সর্বত্র শান্তি ছিল না 
ব্যাখ্যা

• “কোথাও শান্তি ছিল না” - এর অস্তিবাচক রূপ - “সর্বত্র অশান্তি ছিল”

নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না। 
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্রঃ ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭২.
কোন ক্ষেত্রে পরোক্ষ উক্তির ক্রিয়ার কাল অপরিবর্তিত থাকে?
  1. অনুজ্ঞা ভাব
  2. প্রশ্ন জিজ্ঞাসা
  3. আবেগ প্রকাশ
  4. চিরন্তন সত্য
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোনো চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।

যেমন-
- প্রত্যক্ষ উক্তি : শিক্ষক বললেন, "পৃথিবী গোলাকার।"
- পরোক্ষ উক্তি : শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার।

- প্রত্যক্ষ উক্তি: বৈজ্ঞানিক বললেন, "চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।"
- পরোক্ষ উক্তি : বৈজ্ঞানিক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৭৩.
'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।' উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পদ্মানদীর মাঝি 
  2. লালসালু 
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. সূর্য দীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা

• "লালসালু" উপন্যাস:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। সাধারণ মানুষের সরলতাকে কিভাবে ধর্ম ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয় তা লালসালু উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়।

- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে। ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
- ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "লালসালু" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭৪.
কোনো কথকের বাক কর্মের নামকে কী বলে?
  1. বাক্য
  2. বাচ্য
  3. উক্তি
  4. প্রবাদ
ব্যাখ্যা
উক্তি:  
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি।  
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।  
- যেমন:   
• ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” - এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 
• ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। - এটি পরোক্ষ উক্তি।  

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি। 
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।  

♠ প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:   
• রফিক হেসে বললো, “আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।”  
• কালো চুলের মানুষটি বলল, “দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।” 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৫.
'ভিক্ষুককে টাকা দাও'- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. ক) যারা ভিক্ষা করে, তাদের ভিক্ষা দাও।
  2. খ) কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।
  3. গ) যে ব্যক্তি ভিক্ষা করে, তাকে টাকা দাও।
  4. ঘ) ভিক্ষা করা, মানুষদের টাকা দাও।
ব্যাখ্যা
⇒ যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

[এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।]

যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
• যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

• সরল বাক্য: ভিক্ষুকে টাকা দাও।
• যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১৭৬.
'মেঘ করলে বৃষ্টি হয়।' বাক্যটিকে জটিল বাক্যে রুপান্তর করুন।
  1. যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।
  2. মেঘ করায় বৃষ্টি হয়।
  3. মেঘ করে তাই বৃষ্টি হয়।
  4. মেঘ করে ও বৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
• 'মেঘ করলে বৃষ্টি হয়।' বাক্যটি একটি সরল বাক্য।
• এই বাক্যের জটিলরূপ: যখন মেঘ করে, তখন বৃষ্টি হয়।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৭.
ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" - বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি কী হবে?
  1. ছেলেটি বলেছিল যে, গতদিন সে অনেক পড়েছে।
  2. ছেলেটি বলেছিল যে, আরেক দিন সে অনেক পড়েছে।
  3. ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
  4. ছেলেটি বলেছিল যে, এইদিন সে অনেক পড়েছে।
ব্যাখ্যা

উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
- পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৭৮.
খোকা বলল, “বাহ! পাখিটি তো চমৎকার।” - বাক্যটির পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. খোকা বলল, পাখিটি খুব চমৎকার।
  2. খোকা আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।
  3. খোকা আনন্দের সাথে বলেছিল, পাখিটি অনেক চমৎকার।
  4. খোকা বলল, পাখিটি চমৎকার।
ব্যাখ্যা
• খোকা বলল, "বাহ! পাখিটি তো চমৎকার।" - এর সঠিক পরোক্ষ উক্তি - খোকা আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

• আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত করার সময় নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলো ব্যবহার করতে হয়।
যেমন- আনন্দের সাথে/ আক্ষেপের সাথে/ দুঃখের সাথে/বিরক্তিভরে/বিস্ময়ের সাথে + বলল/বললেন/ বললাম + যে।

• অতপর খণ্ড বাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ : খোকা বলল, “বাহ! পাখিটি তো চমৎকার।”
পরোক্ষ : খোকা আনন্দের সাথে বলল যে, পাখিটি চমৎকার।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৯.
"তুমি আসবে এবং আমি যাব।" - বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. তুমি আসবে আর আমি যাবো।
  2. তুমি এলে আমি যাব।
  3. তোমার আসবে তারপর আমি যাবো।
  4. তুমি আসবে এরপর আমি যাবো।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাব।
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮০.
নিচের কোন শব্দটি পরোক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. তখন
  2. আজ
  3. ওখানে
  4. গতকল্য
ব্যাখ্যা
• 'তখন'- পরোক্ষ উক্তির শব্দ। 
- 'এখন' এর পরোক্ষ উক্তি- 'তখন'। 

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
প্রত্যক্ষ-------- পরোক্ষ।
এখন - তখন। 
আগামীকাল - পরদিন । 
ইহা - তাহা। 
গতকাল - আগেরদিন।
আজ - সেদিন। 
ওখানে - ঐখানে। 
গতকল্য - পূর্বদিন। 
এখানে - সেখানে।
এ - সে। 
======================== 
⇒ বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 

• পরােক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)। 
১৮১.
"গাড়িঘোড়া চড়তে হলে লেখাপড়া কর।" - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. গাড়িঘোড়া চড়ার ইচ্ছা হলে লেখাপড়া করতে হবে।
  2. যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।
  3. গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তাই লেখাপড়া কর।
  4. গাড়িঘোড়া চড় এবং লেখাপড়া কর।
ব্যাখ্যা

 সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: গাড়িঘোড়া চড়তে হলে লেখাপড়া কর।
জটিল বাক্য: যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮২.
"গাড়িঘোড়া চড়তে হলে লেখাপড়া কর।" - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. গাড়িঘোড়া চড়ার ইচ্ছা হলে লেখাপড়া করতে হবে।
  2. যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।
  3. লেখাপড়া করলেই গাড়িঘোড়া চড়তে পারবে।
  4. গাড়িঘোড়া চড় এবং লেখাপড়া কর।
ব্যাখ্যা
সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: গাড়িঘোড়া চড়তে হলে লেখাপড়া কর।
জটিল বাক্য: যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৩.
নিচের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. ক) যে ভিক্ষুক, তাকে দান কর।
  2. খ) যে ভিক্ষা চায় তাকে দান কর। 
  3. গ) ভিক্ষুক কে দান কর।
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
উপরিউক্ত ক ও খ দুটি বাক্যই জটিল বাক্য। 

‘ভিক্ষুক কে দান কর’- বাক্যটি সরল বাক্য 

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৮৪.
শিক্ষক বললেন, "চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।" - বাক্যটির পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. শিক্ষক বললেন, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করেছিল।
  2. শিক্ষক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।
  3. শিক্ষক বলল, চুম্বক থেকে লোহা আকর্ষণ করে।
  4. শিক্ষক বলেছিলেন, চুম্বক লোহাকে আকর্শিত করে।
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত বাক্যটি - শিক্ষক বললেন, "চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।" - 
পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি হবে:
শিক্ষক বললেন যে, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে।

• উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরােক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনাে পরিবর্তন হয় না।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি:
- শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।”
পরােক্ষ উক্তি:
- শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮৫.
নীরা বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে। - উক্তিটির প্রত্যক্ষরূপ কোনটি?
  1. নীরা বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করতাম।
  2. নীরা বলেছিল, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।
  3. নীরা বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"
  4. নীরা বলে, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নীরা বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"
• পরোক্ষ উক্তি: নীরা বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
---------------------------------------
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

উল্লেখ্য,
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

• উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন
- ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
- ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১৮৬.
‘বিচারটা অযৌক্তিক' কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) অস্তিবাচক
  2. খ) প্রশ্নবাচক
  3. গ) নেতিবাচক
  4. ঘ) অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
• অস্তিবাচক বাক্য/ হাঁ বাচক বাক্য:
যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।
যে বাক্যে হাঁ বাচক শব্দ থাকে, তাকে হাঁ বাচক বা অস্তিবাচক বাক্য বলে।
যেমন - তুমি কালকে আসবে।
প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্য 'বিচারটা অযৌক্তিক' - এটি অস্তিবাচক বাক্য।
এর নেতিবাচক রূপ - বিচারটা যৌক্তিক নয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৭.
‘আগামীকাল’ এর পরােক্ষরূপ কোনটি?
  1. আগেরদিন
  2. সেদিন
  3. পরদিন
  4. পূর্বদিন
ব্যাখ্যা
• আগামীকাল এর পরােক্ষরূপ ‘পরদিন’।

-----------------------
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- “ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
“ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।”- এটি পরােক্ষ উক্তি।

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
উক্তির প্রত্যক্ষপরােক্ষরূপ:
- এই - সেই।
- ইহা - তাহা।
- এ - সে।
- এখন - তখন।
- আগামীকাল - পরদিন।
- গতকাল - আগেরদিন।
- আজ - সেদিন।
- ওখানে - ঐখানে।
- গতকল্য - পূর্বদিন।
- এখানে - সেখানে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৮৮.
‘আজ’ এর পরােক্ষরূপ কোনটি?
  1. আগেরদিন
  2. পূর্বদিন
  3. সেদিন
  4. পরদিন
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি। যেমন:

• প্রত্যক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
যেমন:
- ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

• পরােক্ষ উক্তি:
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
• উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষরূপ:
- এই - সেই।
- ইহা - তাহা।
- এ - সে
- এখন - তখন।
- আগামীকাল - পরদিন ।
- গতকাল - আগেরদিন।
- আজ - সেদিন।
- ওখানে - ঐখানে।
- গতকল্য - পূর্বদিন।
- এখানে - সেখানে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৮৯.
'যে অন্ধ তাকে আলো দাও।'- এর সরল রূপ কোনটি?
  1. সে অন্ধ হওয়ায় তাকে আলো দাও।
  2. সে অন্ধ তাই তাকে আলো দাও।
  3. অন্ধকে আলো দাও।
  4. আলো দাও যদি সে অন্ধ হয়।
ব্যাখ্যা
• 'যে অন্ধ তাকে আলো দাও।'- এর সরল রূপ অন্ধকে আলো দাও। 

• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-
সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

সূত্র:  প্রধান খণ্ডবাক্যকে পরিবর্তন না করে অপ্রধান খণ্ডবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করা। যেমন:
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

সূত্র: কৃৎ ও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রয়োগে কিংবা সমাস নিষ্পন্নের দ্বারা সংকুচিত করে পুরো বাক্যটাকে একটি উদ্দেশ্য (কর্তা) ও একটিমাত্র বিধেয় (সমাপিকা) ক্রিয়ায় রূপান্তর করা।
যেমন:
- জটিল : 'পিছন হইতে জেলেদের যে অস্পষ্ট কথাবার্তা, তাহা কানে আসিতে লাগিল।'
- সরল: পিছন হইতে জেলেদের অস্পষ্ট কথাবার্তা কানে আসিতে লাগিল।

সূত্র: ঘ। জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম কিংবা সাপেক্ষ যোজক লোপ পায়। যেমন:
জটিল: যদি নাও পড়ি পাশ করব।
সরল: না পড়েও পাশ করব।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯০.
“কোথাও শান্তি ছিল না” - এর অস্তিবাচক রূপ কোনটি ?
  1. ক) সর্বত্র শান্তি ছিল না
  2. খ) কোথাও শান্তি নেই
  3. গ) সর্বত্র অশান্তি ছিল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
“কোথাও শান্তি ছিল না” - এর অস্তিবাচক রূপ - “সর্বত্র অশান্তি ছিল”

নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না। 
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্রঃ ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯১.
একটি সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার সময় বাক্যের মাঝখানে কীসের পরিবর্তন করতে হয়?
  1. উদ্দেশ্য
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. বিধেয়
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করার নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

• সরল বাক্য: এখন পরকালের কর্ম না করিলে কবে করিব?
• যৌগিক বাক্য: এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯২.
লোকটি দুঃখের সাথে বলল, "শীতে আমরা কতই না কষ্ট পাচ্ছি।"- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
  1. লোকটি দুঃখের সাথে বলল যে, এই শীতে তারা কতই না কষ্ট পাচ্ছি।
  2. লোকটি দুঃখের সাথে বলল যে, তারা শীতে বড়ই কষ্ট পাচ্ছে।
  3. লোকটি দুঃখের সাথে বলল, শীতে তারা কতই না কষ্ট পাচ্ছে।
  4. লোকটি দুঃখের সাথে বলল যে, শীতে আমরা কতই কষ্ট পাচ্ছি।
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে - লোকটি দুঃখের সাথে বলল যে, তারা শীতে বড়ই কষ্ট পাচ্ছে।

• আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত করার সময় নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলো ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
আনন্দের সাথে/আক্ষেপের সাথে/দুঃখের সাথে/বিস্ময়ের সাথে + বল্ল/বললেন/বললাম + যে।

- আবার খণ্ড বাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।

⇒ প্রত্যক্ষ উক্তি: ভিখারিণী দুঃখের সাথে বলল, "শীতে আমরা কতই না কষ্ট পাচ্ছি।
⇒ পরোক্ষ উক্তি: ভিখারিণী দুঃখের সাথে বলল যে, তারা শীতে বড়ই কষ্ট পাচ্ছে।

⇒ প্রত্যক্ষ উক্তি: সে বলল, "বাহঃ! পাখিটি বেশ চমৎকার।
⇒ পরোক্ষ উক্তি: সে বিস্ময়ের সাথে বলল যে, পাখিটা খুব সুন্দর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৩.
'বিপদে ধৈর্য ধর।'- এই বাক্যের নির্দেশাত্মক রূপ কোনটি?
  1. বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত নয় কী?
  2. বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।
  3. বিপদে ধৈর্য ধারণ করো।
  4. বিপদ আসলে ধৈর্য ধারণ করো।
ব্যাখ্যা
'বিপদে ধৈর্য ধর।'- এই বাক্যের নির্দেশাত্মক রূপ- বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য থেকে নির্দেশাত্মক বাক্যে রূপান্তর:

⇒ সূত্র: অনুজ্ঞাবাচক বাক্য থেকে নির্দেশাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদের অন্তর্গত মূল ধাতুর সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়াবিভক্তি (-ইয়া। -এ, ইতে। -তে, ইলে। লে) বা কৃৎ-প্রত্যয় যোগ করে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ গঠন করতে হয় এবং অনুজ্ঞার ভাবকে দিতে হয়  নির্দেশাত্মক ভাবের পরিণতি। যেমন:
- অনুজ্ঞাবাচক: দরজা খোল।
- নির্দেশাত্মক তোমায় দরজা খুলতে বলছি।
- অনুজ্ঞাবাচক: খবরদার, আর এক পাও এগিয়ো না।
- নির্দেশাত্মক আর এক পাও অগ্রসর না হতে সাবধান করে দিচ্ছি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৪.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় নিচের কোন গুণটি থাকা প্রয়োজন?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা 
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা  
  4. ঘ) আকাঙ্খা 
ব্যাখ্যা
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় আসত্তি গুণটি থাকা প্রয়োজন। 

• আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন-
- ছেলেরা খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া। 
উপরের দুইটি বাক্যই অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

আসত্তি: 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি। 
যেমন: 
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই একে আদর্শ বাক্য বলা যায় না।
- পরিপূর্ণ বাক্যে পরিণত করতে হলে বাক্যের পদ্গুলো নিম্নভাবে সাজালে বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
যেমন: 
‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’
- এভাবে বললে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর।
১৯৫.
যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন - "সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।"
  1. সত্যের পূজারি বলেই তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
  2. তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
  3. সত্যের পূজারি হওয়ায় তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
  4. তিনি সত্যের পূজারি এবং জগতের সবার কাছে সম্মানিত।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
সরল বাক্য: সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
যৌগিক বাক্য: তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৬.
উক্তি পরিবর্তনঃ মা রেগে আমাকে বললেন, ''তোমার গিয়ে কাজ নেই।''
  1. ক) রাগান্বিতভাবে মা আমাকে যেতে নিষেধ করেছিলেন।
  2. খ) মা রেগে আমাকে বললেন যে, আমার যেয়ে কী হবে?
  3. গ) মা রাগ করে বললেন যে, যেও না।
  4. ঘ) রাগ করে মা আমাকে বললেন যে, আমার যাওয়া অকার্যকর হবে।
ব্যাখ্যা

প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময় কালবাচক এবং স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।

যেমনঃ
প্রত্যক্ষ উক্তিঃ লোকটি বললেন, 'আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।'
পরোক্ষ উক্তিঃ লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
প্রত্যক্ষ উক্তিঃ মা রেগে আমাকে বললেন, ''তোমার গিয়ে কাজ নেই।''
পরোক্ষ উক্তিঃ রাগান্বিতভাবে মা আমাকে যেতে নিষেধ করেছিলেন।

১৯৭.
পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে ভাব অনুযায়ী ক্রিয়ার পরিবর্তন করতে হয় কোন প্রকার বাক্যে?
  1. ক) প্রশ্নসূচক
  2. খ) অনুজ্ঞাসূচক
  3. গ) আবেগসূচক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন, অনুজ্ঞা ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে ভাব অনুযায়ী ক্রিয়ার পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: মা আমাকে বললেন, “তােমাদের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হবে কবে?”
পরােক্ষ উক্তি: মা আমার কাছে জানতে চাইলেন কবে আমাদের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হবে।
প্রত্যক্ষ উক্তি: লােকটি আমাকে বললেন, 'অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।'  
পরােক্ষ উক্তি: লােকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরােধ করলেন।
প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলে উঠলাে, 'বাহ! কী সুন্দর বাড়ি।'
পরােক্ষ উক্তি: ছেলেটি আনন্দের সঙ্গে বললাে যে, বাড়িটি খুব সুন্দর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১৯৮.
"তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন।" - বাক্যটি যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. পাঁচ টাকা দিয়ে তিনি বললেন, তুমি বাড়ি যাও।
  2. তিনি আমাকে বললেন বাড়ি যেতে, সঙ্গে পাঁচ টাকা দিলেন।
  3. তিনি পাঁচ টাকা দিয়ে বললেন যে বাড়ি যাও।
  4. তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
ব্যাখ্যা
সরল থেকে যৌগিক বাক্য রূপান্তর:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।

যেমন: 
সরল বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন।
যৌগিক বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।

সরল বাক্য: সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ
যৌগিক বাক্য: সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৯.
‘ছেলেটির বয়স অল্প; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।’ বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. ছেলেটির বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
  2. ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
  3. যদিও ছেলেটির বয়স অল্প তবু বেশ বুদ্ধিমান।
  4. ছেলেটির বয়স অল্প তবু বেশ বুদ্ধিমান।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেমন-তেমন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
• যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
• যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
• যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

• যৌগিক বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্য়ে রূপান্তর করার সময় যৌগিক বাক্যের যোজক বাদ দিয়ে, এর বদলে সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজক যুক্ত হয়।

• যৌগিক বাক্য: ছেলেটির বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
• জটিল বাক্য: যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।

• যৌগিক বাক্য: দোষ করেছ; অতএব শাস্তি পাবে।
• জটিল বাক্য: যেহেতু দোষ করেছ, সেহেতু শাস্তি পাবে।

অন্যদিকে,
• সরলরূপ: ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০০.
“১৯৫২ সালে ঢাকার রাজপথে বাঙালি জাতির অহংকার রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।”
- এই বাক্যে বিধেয়ের পূরক কোনটি?
  1. ক) উৎসর্গ করেছিলেন
  2. খ) জীবন
  3. গ) মাতৃভাষার জন্য
  4. ঘ) বাঙালি জাতির অহংকার
ব্যাখ্যা

''১৯৫২ সালে ঢাকার রাজপথে বাঙালি জাতির অহংকার রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।''

এই বাক্যে উদ্দেশ্য হলাে 'রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার',
উদ্দেশ্যের প্রসারক হলাে 'বাঙালি জাতির অহংকার’ ।

বিধেয় ক্রিয়া হলাে 'উৎসর্গ করেছিলেন',
বিধেয়ের পূরক হলাে 'জীবন'।
অন্যদিকে '১৯৫২ সালে', 'ঢাকার রাজপথে', এবং 'মাতৃভাষার জন্য' - এই তিনটি অংশ হলাে বিধেয়ের প্রসারক।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।