বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিদর্শন ও স্থানসমূহ

মোট প্রশ্ন৫৮৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিদর্শন ও স্থানসমূহ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৫৮৮

১০১.
ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপনের সময় মোগল সুবেদার কে ছিলেন?
  1. ইসলাম খান
  2. ইব্রাহীম খান
  3. শায়েস্তা খান
  4. মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
• ইসলাম খান:
- সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করে পাঠান। ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মোগল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মোগল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- ইসলাম খান চিশতী ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শায়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

- ইসলাম খান বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা পর্যালোচনা করে উপলব্ধি করেন যে, রাজধানী রাজমহল থেকে সারা বাংলাদেশের উপর সজাগ দৃষ্টি রাখা সম্ভব নয়।
- তাই বাংলাদেশে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হলে রাজধানী স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
- এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন এবং এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০২.
ষাটগম্বুজ মসজিদে কয়টি গম্বুজ রয়েছে?
  1. ৬০টি
  2. ৬৫টি
  3. ৭০টি
  4. ৮১টি
ব্যাখ্যা
ষাটগম্বুজ মসজিদ:
- এটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- ১৫ শতকের দিকে উলঘ খান-ই-জাহান ঐতিহাসিক মসজিদের শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ষাটগম্বুজ মসজিদটিতে ৮১ টি গম্বুজ রয়েছে।
- মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া।
- দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু।
- এ বিশাল মসজিদের চতুর্দিকে প্রাচীর ৮ফুট চওড়া, এর চার কোনে চারটি মিনার আছে।
- মসজিদটি ছোট ইট দিয়ে তৈরী, এর দৈর্ঘ্য ১৬০ফুট, প্রস্থ ১০৮ ফুট, উচ্চতা ২২ফুট।
- মসজিদের পশ্চিম দিকে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট ২৬টি দরজা আছে।
- ইউনেস্কো এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১০৩.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে কয়টি তারকা থাকে?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার - নিত্যানন্দ সাহা (এনএন সাহা)।
- এই মনোগ্রামে রয়েছে লাল বৃত্তের মাঝখানে হলুদ রংঙের মানচিত্র।
- বৃত্তের উপরে লেখা ’গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, নিচে লেখা ’সরকার’ এবং বৃত্তের দুপাশে রয়েছে ২ টি করে মোট ৪ টি তারকা।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার - কামরুল হাসান।
- জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রে রয়েছে পানিতে ভাসমান একটি শাপলা ফুল, তার উপর ৩ টি পরস্পর সংযুক্ত পাট পত্রক এবং তার দুপাশে ২ টি করে তারকা।
- সৈয়দ মাইনুল হোসেন জাতীয় স্মৃতিসৌধের ডিজাইনার।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়/জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কামরুল হাসান।
- বাংলাদেশের আন্তজার্তিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী হলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।
-  বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কার্টুনিস্ট হলেন রফিকুন্নবী।

তথ্যসূত্র:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০৪.
Where is Uttara Ganobhaban located?
  1. Dhaka
  2. Rajshahi
  3. Bogura
  4. Natore
  5. Cumilla
ব্যাখ্যা
উত্তরা গণভবন:
- ইতিহাস খ্যাত দিঘাপতিয়া রাজবাড়ী তথা উত্তরা গণভবন নাটোরে অবস্থিত।
- নাটোরের রাণী ভবানী তাঁর নায়েব দয়ারামের উপরে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে দিঘাপতিয়া পরগনা উপহার দেন।
- ১৯৫২ সালে দিঘাপতিয়ার শেষরাজা প্রতিভানাথ রায় সপরিবারে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে কলকাতায় চলে যান।
- পরবর্তীতে রাজ প্রাসাদটি ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিঘাপতিয়া রাজবাড়িকে ‘উত্তরা গণভবন’ নামকরণ করেন।
- উত্তরা গণভবন ৪১.৫১ একর জমির উপর অবস্থিত।
- বর্তমানে এই রাজপ্রাসাদ থেকে হারিয়ে যাওয়া রাজা-রাণীর ব্যবহৃত ঐতিহাসিক দ্রব্যসামগ্রী উদ্ধার করে একটি সংগ্রহশালা নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য,
- ঢাকার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র বাসভবন নাটোরের উত্তরা গণভবন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০৫.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় কোন সালে?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯৩৫ সালে
  4. ১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- ঢাকার রমনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য তিনি ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় ‘সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
- ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন।
- ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
- ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।
- ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হয়ে আসছে।

উৎস: i) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১০৬.
At which university was the 'July 36 Gate' constructed?
  1. Sylhet Agricultural University
  2. Khulna  University
  3. Rajshahi University
  4. University of Dhaka
ব্যাখ্যা

জুলাই ৩৬ গেইট:
-সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে  জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি অম্লান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ‘জুলাই ৩৬ গেইট’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
- ২৪ এর জুলাইয়ের শহীদ ও আহত বীর সন্তানদের প্রতি সম্মান জানিয়ে গেইটটির নাম ‘জুলাই ৩৬’ রাখা হয়েছে। নামটির প্রতিটি অংশে নিহিত আছে স্মৃতি ও প্রতিজ্ঞা।

তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক অফিস, সিলেট।

১০৭.
বাউলার চর হিসেবে খ্যাত-
  1. নিঝুম দ্বীপ
  2. সন্দ্বীপ
  3. শাহপরীর দ্বীপ
  4. কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা
নিঝুম দ্বীপ :
- হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত একটি ছোট দ্বীপ ।
- এটি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত ।
- একসময় এটিকে বলা হতো চর ওসমানী, বালুয়ার চর, গোল্ডেন আইল্যান্ড

- 1950 এর দশকের গোড়ার দিকে নোয়াখালীর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের অগভীর মোহনায় একটি পলিমাটির মতো একটি দ্বীপের গুচ্ছ (প্রধানত বল্লার চর, কমলার চর, চর ওসমান এবং চর মুড়ি) আবির্ভূত হয়। এই নতুন বালুকাটা প্রথমে একদল জেলেদের নোটিশ টেনেছিল, যারা এর নাম দিয়েছিল বাউলার চর (আক্ষরিক অর্থে, বালির পলি) পরে বল্লার চরে রূপান্তরিত হয়। 

- ২০০ 8 সালের 8 এপ্রিল সরকার জহজমারা রেঞ্জের ,০,3০ একর (১,,3৫ হেক্টর) বনকে নিঝুম দ্বীপে ,,৫৫০ একর (8,65৫ হেক্টর) বনভূমি জঙ্গলের জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু বাস্তবে, এই ঘোষণার একটি খুব অলস চেহারা আছে।

- প্রাক্তন মন্ত্রী আমিরুল ইসলাম কালাম এর বিচ্ছিন্নতা এবং মৃদু স্বভাব দেখে এটিকে 'নিঝুম দ্বীপ' নামকরণ করেছিলেন।

উৎস: নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন ওয়েবসাইট।
১০৮.
’সাত গম্বুজ মসজিদ’ কোথায় অবস্থিত?
  1. মুন্সিগঞ্জ
  2. বাগেরহাট
  3. খুলনা
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা

সাত গম্বুজ মসজিদ:
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ।
- এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাতগম্বুজ মসজিদ'।
- এটি মোঘল আমলের অন্যতম নিদর্শন।
- ১৬৮০ সালে মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর আমলে তার পুত্র উমিদ খাঁ মসজিদটি নির্মান করান।
- মসজিদটি লালবাগ দূর্গ মসজিদ এবং খাজা আম্বর মসজিদ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

⇒ এর ছাদে রয়েছে তিনটি বড় গম্বুজ এবং চার কোণের প্রতি কোনায় একটি করে অনু গম্বুজ থাকায় একে সাত গম্বুজ মসজিদ বলা হয়।
- মসজিদের পূর্বপাশে এরই অবিচ্ছেদ্য অংশে হয়ে রয়েছে একটি সমাধি।
- কথিত আছে, এটি শায়েস্তা খাঁর মেয়ের সমাধি। সমাধিটি ‘বিবির মাজার’ বলেও খ্যাত। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।

১০৯.
বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. ময়নামতি
  2. সোনারগাঁও
  3. ঢাকা
  4. পাহাড়পুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লোকশিল্প জাদুঘর:
- নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় বাংলাদেশ লোকশিল্প জাদুঘর অবস্থিত।
- বাংলাদেশের লোকশিল্পের সংরক্ষণ, বিকাশ ও সর্বসাধারণের মধ্যে লোকশিল্পের গৌরবময় দিক তুলে ধরার জন্য ১৯৭৫ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকার বিশাল এলাকা নিয়ে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন।
- সোনারগাঁয়ের 'বড়সর্দারবাড়ি' নামে পরিচিত একটি প্রাচীন জমিদার প্রাসাদে এই জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে।
- এখানে আরো রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কারুপল্লী ও একটি বিশাল লেক।

⇒ সোনারগাঁয়ের পূর্বে মেঘনা নদী, পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা, দক্ষিণে ধলেশ্বরী এবং উত্তরে ব্রষ্মপুত্র দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকায় এলাকাটি উন্নত ছিল। সেজন্য রাজা-বাদশাগণ সানন্দে সোনারগাঁয়ে বাংলার রাজধানী গড়ে তুলেছিলেন। বৌদ্ধ আমল থেকেই সুবর্ণগ্রাম শুর, পাল এবং দেব প্রভৃতি রাজার রাজধানী হিসেবে মর্যাদা পেয়েছিল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১০.
‘গম্ভীরা’ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের গান?
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

• গম্ভীরা গান:
- গম্ভীরা গান  এক প্রকার জনপ্রিয়  লোকসঙ্গীত।
- সাধারণত বৃহত্তর  রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত।
- ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব। ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।
- গম্ভীরা উৎসবের সঙ্গে এ সঙ্গীতের ব্যবহারের পেছনে জাতিগত ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১১.
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি কোথায় অবস্থিত?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. টাঙ্গাইল
  3. ময়মনসিংহ
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি:
- বালিয়াটি জমিদার বাড়ি মানিকগঞ্জে অবস্থিত।
- মানিকগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ঢাকা থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে বালিয়াটি প্রাসাদ জাদুঘরটি অবস্থিত।
- এ জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জনৈক গোবিন্দ রাম সাহা যিনি আঠার শতকের মাঝামাঝি সময়ে একজন মহাজন ও ব্যবসায়ী ছিলেন।
- জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকারের মধ্যে “কিশোরিলাল রায় চৌধুরী, রায়বাহাদুর হরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী তৎকালীন শিক্ষাখাতে উন্নয়নের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
- ঢাকার জগন্নাথ কলেজ প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কিশোরিলাল রায় চৌধুরীর পিতা এবং যার নামানুসারে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়।

⇒ বালিয়াটি জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত, এই প্রাসাদ চত্বরটি প্রায় ১৬,৫৫৪ বর্গমিটার জমির উপর ছড়িয়ে থাকা ৭টি দক্ষিণমুখী দালানের সমাবেশ।
- এই দালানগুলো খ্রিষ্টীয় মধ্য ঊনবিংশ শতক থেকে বিংশ শতকের প্রথমভাগের বিভিন্ন সময়ে জমিদার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
- সামনের চারটি প্রসাদ ব্যবহৃত হত ব্যবসায়িক কাজে।
- এই প্রসাদের পেছনের প্রাসাদকে বলা হয় অন্দর মহল যেখানে বসবাস করত তারা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১২.
‘সাবাস বাংলাদেশ’ ভাস্কর্যের স্থপতি কে?
  1. নিতুন কুণ্ডু
  2. হামিদুর রহমান
  3. শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  4. কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা

সাবাস বাংলাদেশ:
- 'সাবাস বাংলাদেশ' ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্যগুলোর অন্যতম।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীকী ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ভাস্কর্য।
- ভাস্কর্যটির স্থপতি শিল্পী নিতুন কুণ্ডু।
- এই ভাস্কর্যটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- ১৯৯২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কংক্রিটে তৈরি ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন জাহানারা ইমাম।
- মূল ভাস্কর্যটি ৪০ বর্গফুট মাপের একটি বেদির ওপর অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো পত্রিকা।

১১৩.
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড গঠিত হয় কত সালে? 
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৭৪
  3. ১৯৭৮
  4. ১৯৮২
ব্যাখ্যা

বিসিবি:
- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
- বিসিবি মূলত ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রধান সদর দপ্তর- ঢাকায় ।
- বিসিবি সর্বপ্রথম ১৯৭৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহযোগী সদস্য এবং ২৬শে জুন ২০০০-এ পূর্ণ সদস্য হন।
- বর্তমানে বিসিবি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আমিনুল ইসলাম।

উৎস: বিসিবি ওয়েবসাইট।

১১৪.
ঢাকা শেরাটন হোটেলের বর্তমান নাম কী?
  1. রূপসী বাংলা
  2. চিরন্তন বাংলা
  3. শ্বাশত বাংলা
  4. অপূর্ব বাংলা
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নটি তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন ছিল। সেই অনুযায়ী উত্তর গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে নাম হচ্ছে- হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল।

হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল:
যাত্রা শুরু: ১৯৬৬ খ্রি.।
স্বত্বাধিকারী: বাংলাদেশ সার্ভিসেস লি।
স্থপতি: উইলিয়াম বি. ট্যাবলার।
অবস্থান: ঢাকার শাহবাগ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ১ম পাঁচ তারকা হোটেল।
- রেডক্রস মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে 'নিরপেক্ষ স্থান' ঘোষণা করেছিল।
- নাম পরিবর্তন ক্রম:
ইন্টার কন্টিনেন্টাল> শেরাটন> রূপসী বাংলা> ইন্টার কন্টিনেন্টাল (সর্বশেষ)।

তথ্যসূত্র: হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল ওয়েবসাইট।
১১৫.
ইলা মিত্র সংগ্রহশালা কোথায় অবস্থিত?
  1. ঈশ্বরদী
  2. ত্রিশাল
  3. নাচোল
  4. আলফাডাঙ্গা
ব্যাখ্যা
ইলা মিত্র সংগ্রহশালা:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র।
- জমিতে উৎপন্ন ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ দাবি জানিয়ে ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়েছিল 'তেভাগা আন্দোলন'।
- এ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন ইলা মিত্র।

                 

- তাঁর স্মরণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে 'ইলা মিত্র সংগ্রহশালা'।
- সংগ্রহশালাটি নির্মিত হয়েছে উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের রাওতারা গ্রামের কেন্দুয়া এলাকায় ইলা মিত্র মঠের পাশেই।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার।
- সংগ্রহশালায় ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগই তেভাগা আন্দোলন ও ইলা মিত্র সম্পর্কিত বই, পত্র-পত্রিকা, দুর্লভ স্থিরচিত্র।
- এ ছাড়াও রয়েছে জেলার ঐতিহ্যবাহী নানা উপাদান।

উৎস: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সমকাল।
১১৬.
কোনটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসাবে প্রসিদ্ধ নয়? 
  1. ময়নামতি
  2. পাহাড়পুর
  3. মহাস্থানগড়
  4. সুন্দরবন
ব্যাখ্যা

 • প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয় - সুন্দরবন।

• প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান:
- প্রত্ন’ শব্দের অর্থ অতি পুরাতন বা প্রাচীন।
- এ-সম্পর্কিত যে তত্ত্ব তা-ই হচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব।
- আর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হলো যেসব স্থানে প্রাচীন কালের জিনিসপত্র, মুদ্রা, অট্টালিকা, স্থাপত্য, গহনা, ধাতব বস্ত্র ইত্যাদি পাওয়া যায়।

- বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি স্থানে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো মহাস্থানগড়, ময়মামতি, পাহাড়পুর ও উয়ারী-বটেশ্বর।

• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমি। 
- বাংলাদেশে অবস্থিত সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা বোর্ড বই।

১১৭.
কুসুম্বা মসজিদ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নাটোর
  2. রাজশাহী
  3. নওগাঁ
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
কুসুম্বা মসজিদ:
- নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান।
- মসজিদটি ধরে রেখেছে সুলতানি আমলের অনন্য নিদর্শন।
- এর মিহরাবের ওপর সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহর নাম লিপিবদ্ধ করা।
- ধারণা করা হয়, তাঁর শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত।
- এটি চারকোনাবিশিষ্ট। কালো ও ধূসর রঙের পাথর আর পোড়ামাটির ইটে গড়া এই মসজিদ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ৫ টাকার নোটে কুসুম্বা মসজিদের ছবি ছাপানো আছে।

উৎস: প্রথম আলো।
১১৮.
'ভবদেব মহাবিহার' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. বগুড়া
  3. কুমিল্লা
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
শালবন বিহার:
- বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বিহার যা দেব সাম্রাজ্যের কীর্তি।
- এটি দেববংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব খ্রিস্টীয় আট শতকে নির্মাণ করেন।
- বিহারের আসল নাম 'ভবদেব মহাবিহার'।
- সময়কাল:- অষ্টম শতক।

সীতাকোট বিহার:
- দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সীতাকোট বিহার অবস্থিত।
- বিহারটিতে মোট ৪১টি প্রায় সমআয়তনের কক্ষ ছিল।
- এই কক্ষগলি একটি প্রশস্ত টানা বারান্দার সংগে যুক্ত ছিল।
- সীতাকোট বিহার আঙ্গিনার মধ্যবর্তী স্থানে কোন প্রধান মন্দির ছিলনা।
- এখানে পাহাড়পুর,শালবন বিহার এবং আনন্দ বিহারের মত ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ফলক দেখা যায়না।
- তবে আকার আয়তনের দিক থেকে এই বিহারের সংগে বগুড়ায় অবস্থিত ভাসু বিহার এর অনেক মিল রয়েছে।
- সীতাকোট বিহার থেকে প্রাপ্ত দুইটি ব্রোঞ্জ মূর্তির গঠন শৈলী থেকে অনুমান করা যায় যে, এগুলি ৭ম-৮ম শতাব্দীতে তৈরী।
- সময়কাল: - খ্রিঃ ৭-৮ম শতক।

সোমপুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- সময়কাল: অষ্টম-নবম শতক (আনুমানিক ৭৭০ - ৮১০ খিঃ)

শালবন বিহার:
- বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বিহার যা দেব সাম্রাজ্যের কীর্তি।
- এটি দেববংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব খ্রিস্টীয় আট শতকে নির্মাণ করেন।
- বিহারের আসল নাম 'ভবদেব মহাবিহার'।
- সময়কাল:- অষ্টম শতক

আনন্দ বিহার:
- আনন্দবিহার প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে সমৃদ্ধ কুমিল্লার নিকটবর্তী কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
- বিহারটি নির্মাণ করেন - প্রথম দেববংশের তৃতীয় শাসক শ্রী আনন্দ দেব।
- সময়কাল:- অষ্টম শতক।

[উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা বলা যায় যে, প্রশ্নে উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে সিতাকোট বিহার সবচেয়ে প্রাচীন।]

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট।
১১৯.
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বসতি কোনটি?
  1. ময়নামতি
  2. পুণ্ড্রবর্ধন
  3. পাহাড়পুর
  4. সােনারগাঁ
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হলাে পুণ্ড্র।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড়ের বিস্তীর্ণ ধবংসাবশেষ প্রাচীর পুন্ড্রবর্ধনভূক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরেরসুদীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জনপদ।

অন্যদিকে -
পাহাড়পুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

ময়নামতি:
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।

উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২০.
ঐতিহাসিক ‘কিন ব্রিজ (Keane Bridge)’ কোন নদীর ওপর স্থাপিত?
  1. বুড়িগঙ্গা নদী
  2. সুরমা নদী
  3. মেঘনা নদী
  4. কুশিয়ারা নদী
ব্যাখ্যা

কিন ব্রিজ (Keane Bridge)
- ক্বীন ব্রীজ হলো বাংলাদেশের সিলেট শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদীর উপর স্থাপিত একটি লৌহ নির্মিত সেতু।

- সিলেট শহরের কেন্দ্রস্থলে ক্বীন ব্রীজটি অবস্থিত।
- এটি সিলেটের অন্যতম দর্শনীয় এবং ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে সবার কাছে পরিচিত।
- সুরমা নদীর ওপর নির্মিত এই স্থাপনাটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবেও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- এই ব্রীজটিকে সিলেট শহরের "প্রবেশদ্বার" বলা হয়। 
- ব্রীজটি ব্রিটিশ গভর্নর মাইকেল ক্বীন এর নামে নামকরণকৃত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১২১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের মোট দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৩.৩২ কিলোমিটার
  2. ৩.৩৯ কিলোমিটার
  3. ৫.৩৫ কিলোমিটার
  4. ৯.৩৯ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু টানেল:
- কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণ করা হয়েছে।
- এই টানেল চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে আনোয়ারা উপজেলাকে যুক্ত করেছে।
- টানেলের প্রকল্প পরিচালক মোঃ হারুনুর রশীদ চৌধুরী।
- মোট দৈর্ঘ্য ৯.৩৯ কিমি।
- এপ্রোচ সড়কের দৈর্ঘ্য ৫.৩৫ কিমি।
- কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিলোমিটার।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম টানেল টিউব নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
- ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং যৌথভাবে বঙ্গবন্ধু টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে।
- বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা।
- নদীর নিচ দিয়ে টানেল দক্ষিণ এশিয়ায় এটাই প্রথম।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন করা হয় ২৮ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে।

উৎস: i) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
         ii) ২৮ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো।
        iii) ২৮ অক্টোবর ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
১২২.
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নকশাকার কে ছিলেন?
  1. এহসান খান
  2. রোহানি বাহারিন
  3. ফয়েজ উল্লাহ
  4. বোরহান আহমেদ 
ব্যাখ্যা

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল:
- ২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়।
- এরপর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর।
- এর নির্মাণকাজ করেছে জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং।

⇒ ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল।
- জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে।
- এ ভবনটির নকশা করেছেন রোহানি বাহারিন। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সিঙ্গাপুরের সিপিজি করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের স্থপতি।
- টার্মিনালটির যাত্রী ক্যাপাসিটি ১ কোটি ৬০ লাখ।
- টার্মিনালটির ফ্লোর আয়তন ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গ মিটার।

অন্যদিকে -
- কক্সবাজার রেলস্টেশনটির নকশা করেছেন ফয়েজ উল্লাহ।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) The Daily Star Bangla.

১২৩.
অপরাজেয় বাংলা কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা সেনানিবাসে
  2. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা ভবন চত্বরে
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এস সি প্রাঙ্গনে
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় বাংলা:
- বাঙালির প্রতিবাদী মনোভাব ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াকু চেতনার মূর্ত প্রতীক অপরাজেয় বাংলা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন চত্বরে ৬ ফুট উঁচু বেদির ওপর নির্মিত।
- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ- প্রতিটি সংগ্রামে ছাত্রদের গৌরবময় ত্যাগকে স্মরণীয় করার জন্য অপরাজেয় বাংলা নির্মাণ করা হয়।
- মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ এটি নির্মাণ করেন।
- এই ভাস্কর্যে অসম সাহসী তিনজন তরুণ-তরুণী মুক্তিযোদ্ধার অবয়ব অপূর্ব দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- দুইজন তরুণ রাইফেল হাতে শত্রুর মোকাবেলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আর ঔষধের ব্যাগ কাঁধে তরুণী মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ।
- অপরাজেয় বাংলা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

এছাড়া-
- রাজু ভাস্কর্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এস সি প্রাঙ্গনে অবস্থিত।
- সংশপ্তক ভাস্কর্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৪.
ছোট সোনা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
  1. কুষ্টিয়া
  2. রাজশাহী
  3. বাগেরহাট
  4. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা

ছোট সোনা মসজিদ:
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রধানতম নিদর্শন হচ্ছে ছোট সোনা মসজিদ।
- ছোট সোনা মসজিদ 'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন' বলে আখ্যায়িত।
- প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়।
- শিলালিপিতে নির্মানের সঠিক তারিখ সম্বলিত অক্ষরগুলি মুছে গেছে।
- তবে এতে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর নামের উল্লেখ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, মসজিদটি তার রাজত্বকালের (১৪৯৪-১৫১৯) কোন এক সময় নির্মিত।
- বিশাল এক দিঘির দক্ষিণপাড়ের পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে এর অবস্থান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২৫.
'স্বাধীনতার সংগ্রাম'  ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ফুলার রোড, ঢাকা
  2. ইন্দিরা রোড, ঢাকা
  3. বেইলি রোড, ঢাকা
  4. সেলিনা পারভীন রোড, ঢাকা
ব্যাখ্যা
 স্বাধীনতার সংগ্রাম
- ঢাবির জগন্নাথ হলের পশ্চিম পাশে ফুলার রোডের একটি সড়কদ্বীপে স্থাপন করা হয়েছে 'স্বাধীনতার সংগ্রাম' ভাস্কর্য।
- এক জায়গায় এত ভাস্কর্য দেশের আর কোথাও নেই।

- ভাস্কর্যের সবচেয়ে উঁচুতে বন্দুকের সঙ্গে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা বাঁধা।
- তার নিচে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের তর্জনীর উঁচু করা সেই চিরচেনা ভঙ্গি।
- ভাস্কর্যটিতে ৪২টি বাতি, একটি সংকেত বাতি, একটি লাইটিং, একটিপানির পাম্প ও ছয়টি পানির ফোয়ারা সংযুক্ত করা আছে।
- ভাস্কর্যগুলোর সবই নির্মাণ করেছেন ভাস্কর শামীম সিকদার।
- মূল ভাস্কর্যটি ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন মনীষীর ছোট ছোট অনেক ভাস্কর্য।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২৬.
জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্তম্ভগুলো নিম্নের কোন ঘটনাটির প্রতিনিধিত্ব করে না?
  1. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন
  3. ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন
  4. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন জাতীয় স্মৃতিসৌধের সাতটি স্তম্ভে বর্ণনা করা হয়নি। 
 
জাতীয় স্মৃতিসৌধ:

- জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত মুক্তিযোদ্ধা ও নিহত বেসামরিক বাঙালি ও অবাঙ্গালিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি স্মারক স্থাপনা।
- এটি সাভারে অবস্থিত।
- এর অপর নাম 'সম্মিলিত প্রয়াস'।
- এর স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।
- ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের গণপূর্ত বিভাগ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের জন্য একটা জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় এবং নকশা আহবান করে।
- এর উচ্চতা ১৫০ ফুট (৪৫.৭২ মি)।

⇒ ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবসে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
- ১৯৮২ সালের আগষ্ট মাসে সৌধের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
- জাতীয় স্মৃতিসৌধ ১৯৮২ সালে উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- স্মৃতিসৌধের রয়েছে ৭টি খাঁজ।
- ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ৭টা বড় আন্দোলন হয়েছিল।
- ওই খাঁজগুলো দিয়ে সেই সব আন্দোলন বোঝানো হয়েছে।
১. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
২. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন।
৩. ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন।
৪. ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন।
৫. ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন।
৬. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান।
৭. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২৭.
বড় কাটরা কে নির্মাণ করেছেন?
  1. মুর্শিদকুলি খান
  2. শায়েস্তা খান
  3. ইসলাম খান
  4. শাহ সুজা
ব্যাখ্যা

বড় কাটরা:
- এটি একটি মুঘল নিদর্শন।
- ঢাকার চক বাজারের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে 'বড় কাটরা' অবস্থিত।
- সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজার নির্দেশে এই ইমারতটি নির্মাণ করা হয়।
- বড় কাটরা মধ্য এশিয়ার ক্যারাভান সরাই-এর ঐতিহ্য অনুসরণে নির্মিত।
- আয়তাকারে নির্মিত এ অট্টালিকা দক্ষিণে ও উত্তরে ৬৭.৯৭ মিটার দীর্ঘ এবং ধারণা করা হয় পূর্ব-পশ্চিমে ৭০.১০ মিটার।
- বড় কাটরায় ফারসি ছন্দোবদ্ধ পংক্তিযুক্ত দুটি শিলালিপি আছে। এর একটিতে উৎকীর্ণ আছে যে, ইমারতটি ১০৫৩ হিজরিতে (১৬৪৩-৪৪ খ্রি) নির্মিত এবং অন্যটিতে আছে ১০৫৫ হিজরিতে (১৬৪৫-৪৬ খ্রি) নির্মিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১২৮.
‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত?
  1. যশোর সেনানিবাসে
  2. ঢাকা সেনানিবাসে
  3. কুমিল্লা সেনানিবাসে
  4. চট্টগ্রাম সেনানিবাসে
ব্যাখ্যা
সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য:
- সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’।
- এর উদ্বোধন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
- ভাস্কর্যটি ঢাকা সেনানিবাসের মাটিকাটা মিলিটারি পুলিশ চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থিত।
- ১২ নভেম্বর ২০২৩ সালে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়।
- ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটিতে ‘অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীরে’ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে।
- ভাস্কর্যের সামনে ‘ফোয়ারা’ নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
- ফোয়ারা থেকে প্রাচীর পর্যন্ত সংযুক্ত রেখাগুলো ‘সূর্যরশ্মির প্রতীক’, যা দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে বীরশ্রেষ্ঠরা জাতির সূর্যসন্তান এবং তাঁরা সূর্যরশ্মির মতো দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোর দিশারি ও অনবদ্য অনুপ্রেরণার উৎস।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩।
১২৯.
বাঘা মসজিদ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. নাটোর
  3. বগুড়া
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

বাঘা মসজিদ:
- বাঘা মসজিদ রাজশাহী শহরের বাঘা উপজেলায় অবস্থিত।
- একটি উঁচু টিলার উপর টেরাকোটা অলংকরণে সমৃদ্ধ দশ গম্বুজ বিশিষ্ট অতুলনীয় বাঘা মসজিদটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম মসজিদ গুলির অন্যতম।
- বাংলার (গৌড়) সুলতান নশরত শাহের আমলে ১৫২৩ খৃষ্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।
- মসজিদ চত্ত্বরের পার্শ্বেই রয়েছে একাধিক পীর আউলিয়াগনের মাজার।
- মসজিদটি ২৫৬ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত। সমভুমি থেকে থেকে ৮-১০ ফুট উঁচু করে মসজিদের আঙিনা তৈরি করা হয়েছে।
- মসজিদটিতে সর্বমোট ১০টি গম্বুজ, ৪টি মিনার (যার শীর্ষদেশ গম্বুজাকৃতির) এবং ৫টি প্রবেশদ্বার রয়েছে।
- এই মসজিদটি চারদিক হতে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এবং প্রাচীরের দু’দিকে দু’টি প্রবেশদ্বার রয়েছে। মসজিদের ভিতরে-বাইরে সবর্ত্রই টেরাকোটার নকশা রয়েছে।

তথ্যসূত্র - রাজশাহী জেলা ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

১৩০.
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত নতুন ১০০ টাকার নোটে কোন স্থাপনার ছবি আছে? (সেপ্টেম্বর, ২০২৫)
  1. ষাট গম্বুজ মসজিদ
  2. কুসুম্বা মসজিদ
  3. কান্তজিউ মন্দির
  4. ছোট সোনা মসজিদ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশি নতুন ১০০ টাকার নোট:
- ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট ১২ আগস্ট, ২০২৫ থেকে বাজারে এসেছে।
- এই ব্যাংক নোট প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হয়।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত ১০০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪০ মিমি x ৬২ মিমি।
- নোটটি ১০০ শতাংশ সুতি কাগজে মুদ্রিত এবং নোটে জলছাপ হিসেবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ থাকছে। নোটটিতে থাকছে নীল রঙের আধিক্য।
- নোটের সামনে বাঁ পাশে আছে বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের ছবি। 
- নোটের মাঝখানের ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা-কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি মুদ্রিত রয়েছে। নোটের পেছন ভাগে আছে সুন্দরবনের ছবি।
- নোটটিতে মোট ১০ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা হয়েছে।

উৎস: যুগান্তর পত্রিকা।

১৩১.
'চুকনগর বধ্যভূমি' কোথায় অবস্থিত?
  1. যশোর
  2. খুলনা
  3. রাজশাহী
  4. গাজীপুর
  5. বাগেরহাট
ব্যাখ্যা
চুকনগর বধ্যভূমি:
- পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম যেসব গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি চুকনগর গণহত্যা।
- এটি খুলনা জেলার ডুমুরিয়ার ছোট্ট শহরে অবস্থিত।
- ১৯৭১ সালের ২০ মে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুলনার ডুমুরিয়ার ছোট্র শহর চুকনগরে পাকিস্তানি বর্বর সেনারা নির্মম এ হত্যাকান্ড ঘটায়।
- এ স্থানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে।

⇒ চুকনগর গণহত্যা:
- অতর্কিত এ হামলা চালিয়ে মুক্তিকামী ১০-১২ হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে তারা।
- মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনারা যে নির্মম অত্যাচার, নির‌যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তারও এক নীরব সাক্ষী হয়ে আছে আজকের চুকনগর।
- ওই দিন যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ পুরুষ হলেও বহু নারী ও শিশুকেও হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা।
- পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দক্ষিণাঞ্চলের জনগোষ্ঠী বাঁচার তাগিদে ভারতে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।
- মে মাসের মাঝামাঝি সময় বৃহত্তর খুলনার বাগেরহাট, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা, মংলা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, চালনা, ফরিদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ভারতে যাবার উদ্দেশে রওনা হন।
- ভারতে যাবার জন্যে তারা ট্রানজিট হিসেবে বেছে নেন ডুমুরিয়ার চুকনগরকে।
- ২০মে সকাল ১০টার দিকে ৩টি ট্রাকে করে হঠাৎ পাকিস্তানি সেনারা চুকনগর বাজারের ঝাউতলায় (তৎকালীন পাতখোলা) এসে থামে।
- দুপুর ৩টা পর্যন্ত তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে থাকে।
- মাঠে, ক্ষেতে, খালে-বিলে পড়ে থাকে লাশ আর লাশ।
- এসব স্থান থেকে লাশ নিয়ে নদীতে ফেলার কাজ শুরু করেন স্থানীয়রা।
- চুকনগরের ফসলি জমিগুলোয় আজও পাওয়া যায় সেদিনের শহীদদের হাড়গোড়, তাদের শরীরে থাকা বিভিন্ন অলঙ্কার। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩২.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. মহাখালী, ঢাকা
  2. অক্সিজেন, চট্রগ্রাম
  3. সেগুনবাগিচা, ঢাকা
  4. আজিমপুর ঢাকা
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট: 
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এই ঘোষণা বাংলা ভাষা ও ভাষা শহিদদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রথম ঐতিহাসিক ধাপ।
- প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ: ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৯।
- ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: ১৫ মার্চ ২০০১ সালে।
- জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান।
- ঢাকার সেগুনবাগিচায় ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- উদ্বোধন: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে।
- অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ইনস্টিটিউট ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩৩.
পানাম নগর কোন জেলার অন্তর্গত?
  1. কুমিল্লা
  2. বগুড়া
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
• পানাম নগরঃ
- পানাম নগর বাংলাদেশের চারশত বছর প্রাচীন নগর।
- সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘর হতে ০.৫ কি.মি. উত্তরে অবস্থিত।
- এটি নারায়নগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের নগর ভিত্তীক একটি প্রাচীন নগরীর মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
- ‘‘পাইনাম’’ ফার্সি শব্দ।
- পাইনাম থেকে পানাম। অর্থ আশ্রয়।
- ধারনা করা যেতে পারে ঐতিহাসিক ‘‘সড়কে-ই-আযম’’ গ্রান্ড ট্রাংঙ্ক রোডের সমাপ্তি এ পানাম নগরেই হয়েছিল।
- সে সুবাদে পানাম নগরী ‘‘সরকার-ই-সোনারগাঁওয়ের’’ পরগনার হেড কোয়ার্টার হিসেবে ও বিবেচিত।
- সোনারগাঁয়ের নান্দনিক চারু ও কারু শিল্পের জন্যে বিখ্যাত মসলিনের আড়ং ছিল পানাম নগর।
- সোনারগাঁয়ের পৃথিবীখ্যাত নান্দনিক চারু ও কারুশিল্পর জন্যে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩৪.
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. বাগেরহাট
  2. কক্সবাজার
  3. চাঁদপুর
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI):
- বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার জন্য একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- ইনস্টিটিউটের সদরদপ্তর ময়মনসিংহে অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দেশের মৎস্য খাতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা মোকাবেলা করার লক্ষ্যে এটি তৈরি করা হয়েছে।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের উৎপাদনশীলতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে গবেষণা পরিচালনা, কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচী প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।
- ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ৫টি কেন্দ্র হতে পরিচালিত হয়ে থাকে।
- গবেষণা কেন্দ্রগুলো হচ্ছে:
1. স্বাদুপানি কেন্দ্র ময়মনসিংহে অবস্থিত।
2. নদী কেন্দ্র চাদপুরে অবস্থিত।
3. চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র বাগেরহাটে অবস্থিত
4. লোনাপানি কেন্দ্র পাইকগাছা, খুলনায় অবস্থিত।
5. সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র কক্সবাজারে অবস্থিত

উৎস: বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট। 

১৩৫.
স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা সেনানিবাসে
  2. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
  3. রাজশাহী ‍বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
ব্যাখ্যা

স্বোপার্জিত স্বাধীনতা:
- স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনের সড়কের মোড়ে অবস্থিত।
- ভাস্কর্যটির স্থপতি: শামীম শিকদার।
- ভাস্কর্য কর্মে সহায়তা করেন হিমাংশু রায় ও আনোয়ার চৌধুরী।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি।
- ১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চ তারিখে, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক এ ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উৎস: প্রথম আলো।

১৩৬.
’কান্তজীউ মন্দির’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর
  2. রংপুর
  3. রাজশাহী
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা

• কান্তজীউ মন্দির:
- দিনাজপুর জেলার কাহারোল থানার কান্তনগর গ্রামে অবস্থিত কান্তজীউ মন্দির বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত হিন্দু ধর্মীয় স্থাপত্য।
- অনেকের মতে, কান্তনগরে অবস্থিত হওয়ায় এই মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে “কান্তজীউ মন্দির”।
- শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ অধিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে এই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল।
- দিনাজপুরের তৎকালীন জমিদার প্রাণনাথ রায় ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে পোড়ামাটির কারুকাজে সুসজ্জিত এই মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- তবে তিনি তাঁর জীবদ্দশায় এই মন্দির নির্মাণ শেষ করে যেতে পারেননি।
- পরবর্তীতে তাঁর পালক পুত্র রাম নাথ রায় ১৭৫২ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন।

১৩৭.
'স্বোপার্জিত স্বাধীনতা' ভাস্কর্যের স্থপতি কে?
  1. শামীম শিকদার
  2. নিতুন কুণ্ডু
  3. মোস্তফা হারুন কুদ্দুস
  4. সৈয়দ মাইনুল হোসেন
ব্যাখ্যা
• স্বোপার্জিত স্বাধীনতা:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি।
- স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনের সড়কের মোড়ে অবস্থিত।
- ভাস্কর্যটির স্থপতি: শামীম শিকদার।
- ভাস্কর্য কর্মে সহায়তা করেন হিমাংশু রায় ও আনোয়ার চৌধুরী।
- ১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চ তারিখে, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক এ ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩৮.
প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন নগর কোন স্থানে অবস্থিত?
  1. ময়নামতি
  2. বিক্রমপুর
  3. মহাস্থানগড়
  4. পাহাড়পুর
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩৯.
What is the height of the National Monument?
  1. 45.72 feet
  2. 50 feet
  3. 154 feet
  4. 150 feet
  5. 144 feet
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্মৃতিসৌধ:
- জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত মুক্তিযোদ্ধা ও নিহত বেসামরিক বাঙালি ও অবাঙ্গালিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি স্মারক স্থাপনা।
- এটি সাভারে অবস্থিত।
- এর অপর নাম 'সম্মিলিত প্রয়াস'।
- এর স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।
- ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের গণপূর্ত বিভাগ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের জন্য একটা জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় এবং নকশা আহবান করে।
- এর উচ্চতা ১৫০ ফুট (৪৫.৭২ মি)।

⇒ ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবসে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
- ১৯৮২ সালের আগষ্ট মাসে সৌধের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
- জাতীয় স্মৃতিসৌধ ১৯৮২ সালে উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- স্মৃতিসৌধের রয়েছে ৭টি খাঁজ।
- ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ৭টা বড় আন্দোলন হয়েছিল।
- ওই খাঁজগুলো দিয়ে সেই সব আন্দোলন বোঝানো হয়েছে।
১. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
২. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন।
৩. ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন।
৪. ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন।
৫. ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন।
৬. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং
৭. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪০.
নিম্নের কোনটি ঢাকার প্রাচীনতম মসজিদ?
  1. চকবাজার শাহি মসজিদ
  2. হারানো মসজিদ
  3. তারা মসজিদ
  4. বিনত বিবির মসজিদ
ব্যাখ্যা
ঢাকার প্রথম মসজিদ:
- ‘মসজিদের শহর’ ঢাকা।
- ‘বিনত বিবির মসজিদ’ ঢাকার প্রাচীনতম মসজিদ। 
- বিনত বিবির মসজিদ বাংলাদেশের ঢাকা শহরের পুরানো ঢাকা এলাকায় অবস্থিত একটি মধ্যযুগীয় মসজিদ।
- নারিন্দা পুলের উত্তর দিকে অবস্থিত এই মসজিদটির গায়ে উৎকীর্ণ শিলালিপি অনুসারে ৮৬১ হিজরি সালে, অর্থাৎ ১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনামলে মারহামাতের কন্যা মুসাম্মাত বখত বিনত বিবি এটি নির্মাণ করান। 
- ১৪৫৬ খ্রিস্টব্দে ইসলাম খাঁর আগমনের প্রায় দেড়শ বছর আগে বাংলার সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের আমলে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি নির্মিত হয়।
- বাংলা ১৩৩৭ সালে এ মসজিদটির দ্বিতীয় সংস্করণ করা হয় এবং দ্বিতীয় গম্বুজটি স্থাপন করা হয়।

অন্যদিকে,
- ঢাকার প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে চকবাজার শাহি মসজিদ (স্থাপিত : ১৬৭৬ খ্রিস্টাব্দ), বেগমবাজার মসজিদ (স্থাপিত : ১৭০৪ খ্রিস্টাব্দ), তারা মসজিদ (স্থাপিত : ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ), মুসা খাঁর মসজিদ (স্থাপিত : ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের শুরুর দিকে) অন্যতম।
- দেশের প্রাচীনতম মসজিদ হারানো মসজিদ। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের প্রাচীনতম নিদর্শন ৬৯ হিজরিতে সাহাবা আমলে তৈরি ‘হারানো মসজিদ’। রংপুর-কুড়িগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের প্রায় ১ কিলোমিটার দক্ষিণে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে মসজিদটি অবস্থিত।
- ‘জাতীয় মসজিদখ্যাত’ ‘বায়তুল মোকাররম’ আধুনিক ঢাকার কেন্দ্রস্থলে নির্মিত হয় ২৬ ডিসেম্বর ১৯৬২।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪১.
'জগদ্দল মহাবিহার' কোথায় অবস্থিত?
  1. নাটোর
  2. কুমিল্লা 
  3. বগুড়া 
  4. নওগাঁ 
ব্যাখ্যা

জগদ্দল মহাবিহার:
- জগদ্দল মহাবিহার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার ধামুরহাট উপজেলায় অবস্থিত। 

⇒ পাল রাজাদের নির্মিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মগধের বিশালায়তন বিক্রমশীলা মহাবিহার, বিক্রমপুরের বিক্রমপুরী বিহার এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের সোমপুর মহাবিহার ও জগদ্দল মহাবিহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- জগদ্দল মহাবিহার নির্মাণ করেন সম্ভবত রামপাল (১০৭৭-১১২০)। মদনপালের রাজত্বকালে রচিত সন্ধ্যাকরনন্দীর রামচরিতম গ্রন্থ অনুসারে এ বিহারের অবস্থান বরেন্দ্রীতে। বিভূতি চন্দ্র, দানশীল, মোক্ষকর গুপ্ত ও শুভকর গুপ্তের ন্যায় তিববতের কয়েকজন বিখ্যাত বৌদ্ধ পন্ডিত এ বিহারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- শুভকর গুপ্ত ও অভয়কর গুপ্ত বিক্রমশীলা মহাবিহারের অন্যান্য পন্ডিতসহ ওই  বিহারের ধ্বংসের পর জগদ্দল মহাবিহারে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। এখানে তাঁরা বৌদ্ধধর্ম বিষয়ক বহু সংস্কৃত গ্রন্থ রচনা করেন।
- আইন-ই-আকবর রচয়িতা আবুল ফজল এ স্থানটিকে রমৌতি বলে উল্লেখ করেছেন। প্রাচীন বাংলার ধর্মমঙ্গল কাব্যগুলিতে রামাবতীর উল্লেখ আছে। 
- বর্তমানে স্থানীয় জনগণ এটিকে বটকৃষ্ণ রায় নামক এক জন জমিদারের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ বলে মনে করে।

উৎস: i) প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। 
ii) বাংলাপিডিয়া। 

১৪২.
'বাংলাদেশ লোকশিল্প জাদুঘর' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. রাজশাহী
  4. মুন্সিগঞ্জ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ লোকশিল্প জাদুঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত।  

• ১৯৯৬ সালের ১৯ অক্টোবর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ জাদুঘরের শুভ উদ্বোধন করেন।
• শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও এ অবস্থিত।
- ১৯৭৫ সালে জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে সোনারগাঁও এ বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে এখানে উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয় যা পরে সর্দার বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়।

উৎস: সোনারগাঁও জাদুঘর ওয়েবসাইট। 

১৪৩.
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য-
  1. শিখা চিরন্তন
  2. স্বোপার্জিত স্বাধীনতা
  3. রক্তসোপান
  4. শিখা অনির্বাণ
ব্যাখ্যা
• গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য 'রক্তসোপান'।
- রক্তসোপান (গাজীপুর সদর) গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য।
- এ স্মৃতিস্তম্ভে মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনা অর্ডনেন্স কোরের শহীদ ৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধার অবদান ও পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে।
- ভাস্কর্যটির নকশাকার অর্ডনেন্স কোরের মেজর শফিকুল মোস্তফা মুনির।
- ২৫০০ বর্গফুট আয়তনের আটকৌণিক বেদিতে এ স্মৃতিস্তম্ভটি স্থাপিত হয়েছে।
- এ স্মৃতিস্তম্ভে মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরবগাথা ছাড়াও সবুজ প্রান্তর, ভাষা-আন্দোলন-, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়, সাত বীরশ্রেষ্ঠ ইত্যাদি তুলে ধরা হয়েছে।
- রক্তসোপানের মর্মকথায় বলা হয়েছে, ৯টি সিঁড়ি- রক্তক্ষয়ী ৯ মাসের যুদ্ধের প্রতীক;
- মূল চত্বরে সবুজ ঘাস- চিরসবুজ বাংলার প্রতীক;
- পেছনের দেয়ালে লাল রং- ৫২-এর ভাষা-আন্দোলনের রক্তাক্ত দিনের প্রতীক
- ও ৮ ফুট উচ্চতা ৮ই ফাল্গুনকে নির্দেশ করে;
- মাঝের দেয়ালের কালো রং- দুঃসহ দুঃখভরা যুদ্ধের দিনগুলোর নিষ্পেষণের তিক্ত স্মৃতি ও ১১ ফুট উচ্চতা ১১ দফা আন্দোলনকে নির্দেশ করে;
-  সম্মুখের দেয়াল- সাধারণ বিশ্বজনীন শান্তির প্রতীক;
- ১৬ ফুট উচ্চতা ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত বিজয়ের নির্দেশক;
- রক্তিম সূর্য মহান স্বাধীনতা সূচনার প্রতিচ্ছবি;
- ৭টি রশ্মি- অমর ৭ বীর শ্রেষ্ঠের অম্লান স্মৃতির নিদর্শন।
- নিজস্ব সেনা তহবিলে নির্মিত এ স্মৃতিস্তম্ভটি ২০০০ সালের ১৯শে জুলাই সেনাবাহিনী প্রধান লে. জে. মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, বীর বিক্রম উদ্বোধন করেন। [মনিরুজ্জামান শাহীন]

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ ৯ম খণ্ড
১৪৪.
বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি কে? (ডিসেম্বর-২০২৫)
  1. অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ
  2. অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক
  3. অধ্যাপক মুহম্মদ নূরুল হুদা
  4. অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম
ব্যাখ্যা

 • বাংলা একাডেমি:
- বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ (৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫) ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলা একাডেমীর বর্তমান মহাপরিচালকের নাম- অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম (ডিসেম্বর-২০২৫)।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি -অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক (ডিসেম্বর-২০২৫)।
- আবু হোসেন সরকার ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন।
- প্রথম মহপরিচালক- প্রফেসর মযহারুল ইসলাম।
- বাংলা একাডেমির প্রথম সভাপতি মাওলানা আঁকরাম খাঁ (১৯৬১ সাল)।
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয় - ১৯৬০ সাল থেকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা একাডেমী ওয়েবসাইট।

১৪৫.
নিচের কোনটির নাম প্রথমে ছিল 'কেল্লা আওরঙ্গবাদ'?
  1. আহসান মঞ্জিল
  2. বড় কাটরা
  3. ছোট কাটরা
  4. লালবাগ দুর্গ
ব্যাখ্যা
লালবাগ দুর্গ: 
- প্রথমে এই কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- মাত্র এক বছর পরেই দুর্গের নির্মাণকাজ শেষ হবার আগেই মারাঠা বিদ্রোহ দমনের জন্য সম্রাট আওরঙ্গজেব তাকে দিল্লি ডেকে পাঠান।
 এসময় একটি মসজিদ ও দরবার হল নির্মাণের পর দুর্গ নির্মাণের কাজ থেমে যায়।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- তবে শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর এ দুর্গ অপয়া মনে করা হয় এবং শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- এই পরী বিবির সাথে শাহজাদা আজম শাহের বিয়ে ঠিক হয়েছিল।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- শায়েস্তা খাঁ দরবার হলে বসে রাজকাজ পরিচালনা করতেন।
- ১৬৮৮ সালে শায়েস্তা খাঁ অবসর নিয়ে আগ্রা চলে যাবার সময় দুর্গের মালিকানা উত্তরাধিকারীদের দান করে যান।
- শায়েস্তা খাঁ ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নানা কারণে লালবাগ দুর্গের গুরুত্ব কমতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।
১৪৬.
টাইম ম্যাগাজিনের ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস গ্রেটেস্ট প্লেসেস অব ২০২৫’– এ স্থান পাওয়া জেবুন নেসা মসজিদটি কোথায় অবস্থিত? 
  1. আশুলিয়া
  2. টঙ্গী
  3. উত্তরা
  4. ধামরাই
ব্যাখ্যা

জেবুন নেসা মসজিদ: 
- টাইম ম্যাগাজিনের ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস গ্রেটেস্ট প্লেসেস অব ২০২৫’– এ স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের জেবুন নেসা মসজিদ। 
- সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ার দরগার পাড় এলাকায় অবস্থিত জেবুন নেসা মসজিদ।
- এটি নকশা করেছেন স্থপতি সায়কা ইকবাল।
- ২০২৩ সালে স্টুডিও মরফোজেনেসিস-এর মাধ্যমে নির্মিত মসজিদটি ৬০৬০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃৃত।
- মসজিদটি মূলত আইডিএস গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কর্মীর নামাজের জন্য বানানো।
- তবে অন্যরাও সেখানে নামাজ পড়তে পারেন।
- জেবুন নেসা মসজিদে নারী-পুরুষ উভয়েরই প্রবেশাধিকার আছে।
- নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য আছে আলাদা স্থান।

উল্লেখ্য,
- ২০১৮ সাল থেকে টাইম ম্যাগাজিন প্রতিবছর বিশ্বের ১০০টি স্থাপনাকে ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস গ্রেটেস্ট প্লেসেস’ হিসেবে ঘোষণা করছে।
- প্রথমবারের মতো এই বছর কোনো বাংলাদেশি স্থাপনা তালিকায় স্থান পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: নিউজ রিপোর্ট। [link]

১৪৭.
নিম্নের কোন মসজিদটি সুলতানি আমলের নিদর্শন নয়?
  1. ছোট সোনা মসজিদ
  2. সাত গম্বুজ মসজিদ
  3. কুসুম্বা মসজিদ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাত গম্বুজ মসজিদ সুলতানি আমলের নিদর্শন নয়। এটি মুঘল আমলের নিদর্শন। 

• ছোট সোনা মসজিদ:

- ছোট সোনা মসজিদ 'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন' বলে আখ্যায়িত।
- মধ্যযুগের সুলতানি আমলের গৌড়নগরীর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ।
- মসজিদটিকে বলা হতো ‘গৌড়ের রত্ন’।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রধানতম নিদর্শন হচ্ছে ছোট সোনামসজিদ।
- মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) নির্মিত হয় সোনামসজিদ।

কুসুম্বা মসজিদ:
- নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান।
- মসজিদটি ধরে রেখেছে সুলতানি আমলের অনন্য নিদর্শন।
- এর মিহরাবের ওপর সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহর নাম লিপিবদ্ধ করা।
- ধারণা করা হয়, তাঁর শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত।

অন্যদিকে,
• সাত গম্বুজ মসজিদ:
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত।
- এটি মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ।
- এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাত গম্বুজ মসজিদ'।
- এর নির্মাতা মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান।
- ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এটি নির্মাণ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪৮.
'স্বোপার্জিত স্বাধীনতা' ভাস্কর্যটির স্থপতি কে?
  1. আবদুর রাজ্জাক
  2. শামীম শিকদার
  3. সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
  4. মাইনুল হোসেন
ব্যাখ্যা
স্বোপার্জিত স্বাধীনতা:
- স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনের সড়কের মোড়ে অবস্থিত।
- ভাস্কর্যটির স্থপতি: শামীম শিকদার।
- ভাস্কর্য কর্মে সহায়তা করেন হিমাংশু রায় ও আনোয়ার চৌধুরী।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি।
- ১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চ তারিখে, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক এ ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য,
- শামীম শিকদার ২০০০ সালে একুশে পদক অর্জন করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৪৯.
’শালবন বিহার’ কোথায় অবস্থিত?
  1. নওগাঁ জেলা
  2. কুমিল্লা জেলা
  3. বগুড়া জেলা
  4. রাজশাহী জেলা
ব্যাখ্যা
• শালবন বিহার:
- কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম প্রধান।
- কোটবাড়িতে বার্ডেরকাছে লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান।
- বিহারটির আশপাশে এক সময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল বলে এ বিহারটির নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার।
- এ বিহারটি পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মতো হলেও আকারে ছোট।
- ধারণা করা হয় যে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ঢাকা জেলা।
১৫০.
বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর-
  1. সোনা মসজিদ
  2. চট্টগ্রাম
  3. বেনাপোল
  4. হিলি
ব্যাখ্যা
• দেশের প্রধান ও বৃহত্তম স্থলবন্দর — বেনাপোল যশোর জেলায় অবস্থিত।
• ২য় বৃহত্তম স্থলবন্দর হলো দিনাজপুরের — হিলি স্থলবন্দর।
------------------------------------- 
বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ:  
— স্থলপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজতর এবং উন্নতর করাই বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।
— বর্তমানে স্থলবন্দরের মোট সংখ্যা — ২৪টি এবং চালুকৃত বন্দরের সংখ্যা — ১৬ টি।
— ১৬টি স্থলবন্দরের মধ্যে ১১টি স্থলবন্দর — বেনাপোল, ভোমরা, আখাউড়া, বুড়িমারী, নাকুগাঁও, তামাবিল, সোনাহাট, গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী, বিলোনিয়া, শেওলা ও ধানুয়াকামালপুর স্থলবন্দর বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের (বাস্থবক) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে এবং সোনামসজিদ, হিলি, টেকনাফ, বাংলাবান্ধা ও বিবিরবাজার এই ৫টি স্থলবন্দর — BOT ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।
— এছাড়া রামগড় ও বাল্লা এই ২টি স্থলবন্দর চালুর জন্য অপেক্ষাধীন রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৪।
১৫১.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. যশোর
  3. কুমিল্লা 
  4. কুষ্টিয়া 
ব্যাখ্যা

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ:
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুষ্টিয়া জেলায় অবস্থিত।

⇒ শিলাইদহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ি।
- কুষ্টিয়া শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে কুমারখালি উপজেলার অর্ন্তগত শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরেশদপুর কুঠিবাড়ি অবস্হিত ।
- রবীন্দ্রনাথের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে এ অঞ্চলের জমিদারি পান।
- পরবর্তিতে ১৮৮৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে জমিদার হয়ে আসেন।
- এখানে তিনি ১৯০১ সাল পর্যন্ত জমিদারী পরিচালনা করেন। এ সময় এখানে বসেই তিনি রচনা করেন তার বিখ্যাত গ্রন্থ সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, ইত্যাদি, গীতাঞ্জলী কাব্যের অনুবাদ কাজও শুরু করেন।

⇒ ১৯৫৮ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ব্যবস্হাপনায় শিলাইদহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িটি গৌরবময় স্মৃতিরূপে সংরক্ষিত আছে।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কুঠিবাড়িটি গুরুত্ব অনুধাবন করে কবির বিভিন্ন শিল্পকর্ম সংগ্রহপূর্বক একে একটি জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- জাদুঘরের নীচ ও দ্বিতীয় তলায় ১৬টি কক্ষেই কবি রবীন্দ্রনাথ, শিল্পী রবীন্দ্রনাথ, জমিদার রবীন্দ্রনাথ, কৃষক বন্ধু রবীন্দ্রনাথ অর্থাৎ নানা বয়সের বিচিত্র ভঙ্গির রবীন্দ্রনাথের ছবি। বাল্যকাল থেকে মৃতু্শয্যার ছবি পর্যন্ত সংরক্ষিত আছে।
- তাছাড়াও রয়েছে শিল্পকর্ম এবং তাঁর ব্যবহার্য আসবাবপত্র দিয়ে পরিপাটি দিয়ে সাজানো ।

উৎস: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১৫২.
আলুটিলা গুহা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান
  2. রাঙ্গামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
আলুটিলা গুহা: 
- খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় আলুটিলার সবচেয়ে আকষীয় স্থান হচ্ছে পাহাড়ের পাদদেশে রহস্যময় এক গুহা।
- প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি বিশাল ওই গুহাটি পাহাড়কে একপাশ থেকে অন্য পাশ পযন্ত ভেদ করেছে।
- ঘুটঘুটে অন্ধকার এই গুহার ওপর থেকে ঝিরঝির করে পড়ে পানি।
- গুহার ভিতর ঢুকতে হলে মশাল জ্বালিয়ে যেতে হয়।
- পর্যটন কেন্দ্রেই ৫ থেকে ১০ টাকা দিয়ে পাওয়া যায় মশাল।
- গা ছমছম করা অনুভূতি নিয়ে পাহাড়ি সুরঙ্গ পথ বেয়ে নামতে নামতে মনে হবে আপনি যেন পাতালে চলে যাচ্ছেন।
- পাহাড়ের পাদদেশ থেকে গুহার মুখ পযন্ত যেতে এক সময় দর্শনাথীদের অনেক কষ্ট করতে হতো।
- তবে জেলা পরিষদ সেখানে পাকা সিঁড়ি নির্মাণ করায় এখন পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬ টি সিড়ি বেয়ে চলে যাওয়া যায় নিচে।
- আলুটিলা সুরঙ্গের দৈঘ্য প্রায় ২৮২ ফুট।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৫৩.
”দুর্বার বাংলা” ভাস্কর্যটির স্থপতি কে?
  1. হামিদুর রহমান
  2. গোপাল চন্দ্র পাল
  3. শ্যামল চৌধুরী
  4. নিতুন কুন্ডু
ব্যাখ্যা

- ”দুর্বার বাংলা” ভাস্কর্যটি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- ২০১৩ সালে এই ভাস্কর্যটি তৈরি হয়।
- ”দুর্বার বাংলা” ভাস্কর্যটির  ভাস্কর গোপাল চন্দ্র পাল।

এছাড়াও,
• কিছু গুরত্বপূর্ণ কিছু ভাস্কর্যিএবং তাদের স্থপতি।
- জাতীয় স্মৃতিসৌধ এর স্থপতি- সৈয়দ মাইনুল হোসেন।
- কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এর স্থপতি- হামিদুর রহমান।
- সাবাশ বাংলাদেশ ভাস্কর্যটির স্থপতি- নিতুন কুন্ডু।
- সংশপ্তক ভাস্কর্যটির স্থপতি- হামিদুজ্জামান।
-  বিজয় ৭১” ভাস্কর্যটির স্থপতি- শ্যামল চৌধুরী।
- ”মোদের গর্ব” ভাস্কর্যটির স্থপতি- অখির পাল।
- মিশুক ভাস্কর্যটির স্থপতি- মুস্তফা মনোয়ার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং পত্রিকার রিপোর্ট।

১৫৪.
কক্সবাজার থেকে কত কিলোমিটার দূরে সেন্টমার্টিন দ্বীপ?
  1. ৯০ কিলোমিটার
  2. ১২০ কিলোমিটার
  3. ১৫০ কিলোমিটার
  4. ১০২ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
"সেইন্ট মার্টিন দ্বীপ" বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। 
- কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন। চারদিকে শুধুপানি আর পানি।
- এর আয়তন ৮ বর্গ কিলোমিটার।
- স্থানীয়দের কাছে এটি "নারিকেল জিঞ্জিরা" নামে পরিচিত।

উৎসঃ টেকনাফ উপজেলা ওয়েবসাইট।
১৫৫.
জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফলক:
  1. ৫ টি
  2. ৭ টি
  3. ৯ টি
  4. ১০ টি
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্মৃতিসৌধ:
- বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভারে অবস্থিত।
- এই জাতীয় স্মৃতিসৌধের ফলক সাতটি।
- স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি ঐতিহাসিক পর্যায়ের জন্য স্মৃতিসৌধে ফলক সংখ্যা ৭টি রাখা হয়েছে।

এর পর্যায় গুলো হলো:
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন;
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন;
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন;
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন;
- ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন;
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং
- ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১৫৬.
ষাট গম্বুজ মসজিদ এর সর্বমোট গম্বুজ সংখ্যা কত?
  1. ৬০টি
  2. ৭৭টি
  3. ৮১টি
  4. ৮৯টি
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। 
- তবে মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে এটি যে খান-ই-জাহান নির্মাণ করেছিলেন সে সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ থাকে না।
- ধারণা করা হয় তিনি ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেন। এ মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিলো। পাথরগুলো আনা হয়েছিলো রাজমহল থেকে।
- এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত; বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।
- মসজিদের ভেতরে ৬০টি স্তম্ভ বা পিলার আছে।
- এগুলো উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬ সারিতে অবস্থিত এবং প্রত্যেক সারিতে ১০টি করে স্তম্ভ আছে।
- প্রতিটি স্তম্ভই পাথর কেটে বানানো, শুধু ৫টি স্তম্ভ বাইরে থেকে ইট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এই ৬০টি স্তম্ভ ও চারপাশের দেয়ালের ওপর তৈরি করা হয়েছে গম্বুজ।
- মসজিদটির নাম ষাট গম্বুজ (৬০ গম্বুজ) মসজিদ হলেও এখানে গম্বুজ মোটেও ৬০টি নয়, গম্বুজ, ১১টি সারিতে মোট ৭৭টি। 
- মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে।

[ষাটগম্বুজ নামকরণ নিয়ে জনশ্রুতি আছে, সাতটি করে সারিবদ্ধ গম্বুজ আছে বলে এ মসজিদের নাম ছিল আসলে সাত গম্বুজ। মানুষের মুখে মুখে ষাট গম্বুজ হয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, গম্বুজগুলো ৬০টি স্তম্ভের ওপর অবস্থিত বলে ‘ষাট খাম্বা’ কালে কালে ‘ষাটগম্বুজ’ হয়ে উঠেছে।]

উৎস: i) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।
ii) বাগেরহাট জেলা, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৫৭.
'ষাট গম্বুজ মসজিদ' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. শাহ বায়েজীদ বোস্তামী
  2. সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. শাহ মখদুম রূপোশ
  4. খান জাহান আলী
ব্যাখ্যা
ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- এটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- ১৫ শতকের দিকে খান জাহান আলী ঐতিহাসিক মসজিদের শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ষাট গম্বুজ মসজিদটিতে ৮১ টি গম্বুজ রয়েছে।
- মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া।
- দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু।
- এ বিশাল মসজিদের চতুর্দিকে প্রাচীর ৮ফুট চওড়া, এর চার কোনে চারটি মিনার আছে।
- মসজিদটি ছোট ইট দিয়ে তৈরী, এর দৈর্ঘ্য ১৬০ফুট, প্রস্থ ১০৮ ফুট, উচ্চতা ২২ফুট।
- মসজিদের পশ্চিম দিকে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট ২৬টি দরজা আছে।
- ইউনেস্কো এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১৫৮.
বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের নাম কী? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. বঙ্গভবন
  2. গণভবন
  3. উত্তরাভবন
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা
প্রধান উপদেষ্টা:
- বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনের নাম যমুনা।
- রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়।
- এটি ঢাকার রমনা থানার মিন্টো রোডে অবস্থিত।
- পূর্বে এটি বাংলাদেশে সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য সরকারি অতিথি ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

উল্লেখ্য,
- প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ মানুষ ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনে।
- এর ফলে এই দুই জায়গায় আপাতত অফিস করা বা বসবাস করার মতো পরিবেশ নেই।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Daily Star Bangla।
১৫৯.
মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে নির্মিত ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’ এর ভাস্কর কে?
  1. আবদুর রাজ্জাক
  2. হামিদুজ্জামান খান
  3. শামীম শিকদার
  4. মৃণাল হক
ব্যাখ্যা

সংশপ্তক:
- মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে নির্মিত ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’।
- মুক্তিযুদ্ধে অকুতোভয় বাঙালির বীরত্বগাথার স্মারক এই ভাস্কর্য।।
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ভবনের সামনে ভাস্কর্যটির অবস্থান।
- চার স্তরের লাল সিরামিক ইটের বেদির ওপর ব্রোঞ্জের তৈরি ভাস্কর্যের উচ্চতা ১৫ ফুট।
- ২৬ মার্চ, ১৯৯০ সালে ভাস্কর্য স্থাপিত হয়।
- এর ভাস্কর স্থপতি হামিদুজ্জামান খান।
- ভাস্কর্যটিতে মূর্ত হয়েছে যুদ্ধে শত্রুর আঘাতে এক হাত ও এক পা হারিয়েও বন্দুক হাতে লড়ে যাওয়া এক বীরের প্রতিকৃতি। যিনি পঙ্গুত্ববরণ করেও নির্ভীক এবং যুদ্ধে জয়লাভে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

১৬০.
সাত গম্বুজ মসজিদ কোন আমলে নির্মিত?
  1. ব্রিটিশ আমল
  2. মোঘল আমল
  3. সুলতানি আমল
  4. তুর্কি শাসনামল 
ব্যাখ্যা

সাত গম্বুজ মসজিদ: 
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মোঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ। 
- এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাতগম্বুজ মসজিদ'।
- এটি মোঘল আমলের অন্যতম নিদর্শন।
- ১৬৮০ সালে মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর আমলে তার পুত্র উমিদ খাঁ মসজিদটি নির্মান করান।
- গম্বুজ সংখ্যা: ৭টি (৩টি বড় গম্বুজ ও ৪টি অনু গম্বুজ)।
- মিনার সংখ্যা: ৪টি (চার কোণায়)।
- মসজিদটি লালবাগ কেল্লার মসজিদ ও খাজা আম্বর মসজিদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

১৬১.
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালাটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকায়
  2. রাজশাহীতে
  3. ময়মনসিংহে
  4. চট্টগ্রামে
ব্যাখ্যা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা ময়মনসিংহে অবস্থিত।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ এপ্রিল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নিজের ৭০টি চিত্রকর্ম নিয়ে তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের মাধ্যমে এই সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালাটি একটি দ্বিতল ভবনের রূপ লাভ করে।
- এছাড়া শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদকে ঘিরে বাঁধ দিয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল উদ্যান গড়ে তোলা হয়েছে।
- বর্তমানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট।
১৬২.
ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নাম কী?
  1. স্বাধীনতা সোপান
  2. রক্ত সোপান
  3. বিজয় চেতন
  4. বিজয় কেতন
ব্যাখ্যা
বিজয় কেতন:
- ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নাম বিজয় কেতন।

- বিজয় কেতন জাদুঘরের মূলমন্ত্র 'অতীতকে শ্রদ্ধা কর, ভবিষ্যতকে আলোকিত কর'।
- মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের স্মরণে নির্মিত এ জাদুঘর চালু হয় ২০০০ সালের ২১ নভেম্বর।
- ছয়টি গ্যালারিতে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত বাংলাদেশের সামরিক যোদ্ধাদের নানা কীর্তি, স্মৃতিস্মারক, সেক্টর কমান্ডারদের আলোকচিত্র ও পরিচিতি, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত রাইফেল, কামান, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মরদেহ বহনের কফিন ইত্যাদিসহ মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত আরো অনেক সামগ্রী রয়েছে।

অন্যদিকে,
- ঢাকার সাভার সেনানিবাসের কোর অব মিলিটারি পুলিশ সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (সিএমপিসিঅ্যান্ডএস) চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘বিজয় চেতন’। 
- ২৬ মার্চ আর ১৬ ডিসেম্বর, এই দৈর্ঘ্য প্রস্থেই নির্মাণ করা হয়েছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা চত্বরে 'স্বাধীনতা সোপান'।
- রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের নাম রক্ত সোপান। 

উৎস: i) দৈনিক ইত্তেফাক।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৬৩.
আহসান মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. নওয়াব খাজা আহসানউল্লাহ
  2. নওয়াব খাজা আব্দুল গণি
  3. নওয়াব খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. নওয়াব আলীবর্দী খান
ব্যাখ্যা

আহসান মঞ্জিল:
- আহসান মঞ্জিল পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- এটি পূর্বে ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ।
- বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- এর প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব আবদুল গণি। তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ'র নামানুসারে এর নামকরণ করেন।
- এর নির্মাণকাল ১৮৫৯-১৮৭২ সাল।
- নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করান।
- ১৯০৬ সালে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।
- এই প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

১৬৪.
'ঢাকা গেইট' নির্মাণ করেন কে?
  1. মীর কাশেম
  2. লর্ড কার্জন
  3. মীর জুমলা
  4. ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় অবস্থিত।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- জানা যায়, ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে তিনি ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র: ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, বিবিসি বাংলা।
১৬৫.
রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত ‘দুর্জয়’ ভাস্কর্যের শিল্পী কে?
  1. হামিদুজ্জামান খান
  2. নভেরা আহমেদ
  3. মৃণাল হক 
  4. কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা

• রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত 'দুর্জয়' ভাস্কর্যটির শিল্পী — মৃণাল হক।

• তার আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য:
- মতিঝিলের - ‘বলাকা’
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে - ‘রত্নদ্বীপ’,
- হোটেল শেরাটনের সামনে - ‘রাজসিক’,
- পরীবাগ মোড়ে - ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’,
- ইস্কাটনে - ‘কোতোয়াল’,
- সাতরাস্তায় - ‘ময়ূর’,
- এয়ারপোর্ট গোল চত্বরের - ভাস্কর্য,
- নৌ সদর দপ্তরের সামনে - ‘অতলান্তিকে বসতি’ ইত্যাদি।

উৎস: প্রথম আলো।

১৬৬.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর কোথায় নির্মাণ করা হবে?
  1. বঙ্গভবনে
  2. যমুনায়
  3. গণভবনে
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হ‌য়।

• সংবিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী।
• প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের নাম 'গণভবন'। 
• গণভবন অবস্থিত শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।  
• প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ইংরেজি নাম 'পিএমও'। 
• প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অবস্থান তেজগাঁও, ঢাকা।
• রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনের নাম 'বঙ্গভবন'।

উৎস: বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট। 
১৬৭.
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জিয়াউর রহমান
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন:
- বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনটি সোনারগাঁও জাদুঘর হিসেবেই পরিচিত। 
- এটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় অবস্থিত। 
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ।
- প্রতিষ্ঠাতা: শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন।
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন অনুধাবন করেছিলেন যে, শেকড়কে ভুলে কোনো জাতি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। তাই তিনি আমাদের সোনালি ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ ঘটাতে ঐতিহাসিক সোনারগাঁওকেই বেছে নিয়েছিলেন এই ফাউন্ডেশনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে। তাঁর এই দূরদর্শী চিন্তাই আজ বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করছে।
- সোনারগাঁয়ের 'বড়সর্দারবাড়ি' নামে পরিচিত একটি প্রাচীন জমিদার প্রাসাদে এই জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে। এখানে আরো রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কারুপল্লী ও একটি বিশাল লেক। সোনার গাঁয়ের যাদুঘর এলাকাকে রূপসী বাংলাদেশ হিসাব ঘোষণা করা হয়েছে।

• কারুশিল্পের উন্নয়ন ও শিল্পীদের অধিকার সুরক্ষায় ১৯৯৮ সালে ‘বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন আইন (১৯৯৮ সনের ৮ নং আইন)’ প্রণীত হয়। এই আইনের ৭ (চ) উপ-ধারায় কারুশিল্পের প্রসারে উৎসাহ প্রদানের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের মূল কার্যাবলি ও উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে:
- সংগ্রহ ও সংরক্ষণ: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লোকজ নিদর্শনগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণ করা।
- গবেষণা ও প্রকাশনা: কারুশিল্পের উদ্ভব ও বিবর্তন নিয়ে মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করা।
- প্রদর্শন ও মেলা: লোকজ মেলার আয়োজন এবং যাদুঘরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের ঐতিহ্যের পরিচয় তুলে ধরা।
- পৃষ্ঠপোষকতা: কারুশিল্পীদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়তা করা।

উল্লেখ্য,
- বাংলার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলো সোনারগাঁও। সুলতানি আমলের রাজধানী থেকে শুরু করে বারো ভূঁইয়াদের শাসনকাল পর্যন্ত প্রায় তিনশত বছর সোনারগাঁও ছিল বাংলার প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বিশেষ করে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈসা খাঁর বীরত্ব এবং বিশ্ববিখ্যাত মসলিন কাপড়ের আভিজাত্য সোনারগাঁওকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। মসলিনের সেই সূক্ষ্ম কারুকাজ আজও বাংলার কারুশিল্পীদের সৃজনশীলতার চরম উৎকর্ষের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১৬৮.
'ছেঁড়াদ্বীপ' কোন উপজেলার অন্তর্গত?
  1. উখিয়া
  2. টেকনাফ
  3. কুতুবদিয়া
  4. রামু
ব্যাখ্যা

১. সবচেয়ে পূর্বের স্থান-
- স্থান: আখাইনঠং।
- উপজেলা: থানচি।
- জেলা: বান্দরবান।
 
২. সবচেয়ে পশ্চিমের স্থান-
- স্থান: মনাকষা।
- উপজেলা: শিবগঞ্জ।
- জেলা: চাপাইনবাবগঞ্জ।
 
৩. সবচেয়ে দক্ষিণের স্থান-
- স্থান: ছেঁড়া দ্বীপ।
- উপজেলা: টেকনাফ।
- জেলা: কক্সবাজার।
 
৪. সবচেয়ে উত্তরের স্থান-
- স্থান: বাংলাবান্দা।
- উপজেলা: তেঁতুলিয়া।
- জেলা: পঞ্চগড়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন

১৬৯.
ছোট কাটরা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. তুরাগ 
  2. শীতলক্ষ্যা 
  3. বুড়িগঙ্গা 
  4. মেঘনা 
ব্যাখ্যা

• ছোট কাটরা:
- ছোট কাটরা শায়েস্তা খানের আমলে তৈরি একটি স্থাপনা বা ইমারত।
- আনুমানিক ১৬৬৩ থেকে ১৬৬৪ সালের দিকে এ ইমারতটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- এবং  ১৬৭১ সালে শেষ হয়েছিল।
- এটির অবস্থান বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে।
- ইমারতটি দেখতে অনেকটা বড় কাটরার মত হলেও এটি আকৃতিতে বড় কাটরার চেয়ে ছোট।
- এবং এ কারণেই এর নাম হয়েছিল ছোট কাটরা।
- ১৮১৬ সালে মিশনারি লিওনার্দ ঢাকার প্রথম ইংরেজি স্কুল।
- ছোট কাটরার সাথে বিবি চম্পার স্মৃতিসৌধ অবস্থিত ছিল।

উল্লেখ্য,
- ঢাকার বড় কাটরা নির্মাণ করেন  শাহ সুজা।
- সুবেদার ইসলাম খান বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ নবাব।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭০.
হোসেনী দালান কে নির্মাণ করেন?
  1. মীর মুরাদ
  2. ইসলাম খান
  3. মীর জুমলা
  4. শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
হোসেনী দালান:
- হোসেনী দালান পুরানো ঢাকায় অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের একটি ইমারত।
- এটি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল।
- শাহ সুজার শাসনকালে জনৈক মীর মুরাদ প্রথম এ ইমারত নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়।

⇒ ৬১ হিজরির ১০ মুহররম তারিখে ইরাকের কারবালার যুদ্ধে আল-হোসেনের শহীদত্বকে স্মরণ করার জন্য ইমারত নির্মাণ করা ছিল শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত একটি সাধারণ রীতি।
- শাহ সুজার শাসনকালে জনৈক মীর মুরাদ প্রথম এ ইমারত নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়।
- শাহ সুজা নিজে সুন্নি মুসলমান হলেও শিয়াদের মধ্যে প্রচলিত রীতিনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে আগ্রহী ছিলেন।
- সৈয়দ মুরাদ একদা স্বপ্নে আল হোসেনকে একটি ‘তাজিয়াখানা’ নির্মাণ করতে দেখে এই ইমারত নির্মাণে উৎসাহিত হন।
- তিনিই এই ইমারতের নাম রাখেন হোসেনী দালান।
- ইমারতটি সম্ভবত একটি ছোট্ট স্থাপনা ছিল।
- পরবর্তীকালে ১৮০৭ ও ১৮১০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে ইমারতটির সংস্কার করা হয় এবং ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের পর এর কিছু অংশ নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭১.
'জুলাই শহীদ স্মৃতি ভবন' কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  3. সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন:
- জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসনের জন্য নবনির্মিত ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন’ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ শনিবার উদ্বোধন করা হয়েছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান প্রধান অতিথি হিসেবে এই ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
- উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১১- তলা বিশিষ্ট ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন’-এর ২৫২ টি কক্ষে ১ হাজার ৮জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- জুলাই ৩৬ গেইট - সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
- ‘শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

উৎস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও পত্রিকা প্রতিবেদন।

১৭২.
'কুসুম্বা মসজিদ' কোন শাসনামলের স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. সেন
  2. মুঘল
  3. সুলতানি
  4. ইংরেজ
ব্যাখ্যা
কুসুম্বা মসজিদ:
- নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান।
- মসজিদটি ধরে রেখেছে সুলতানি আমলের অনন্য নিদর্শন।
- এর মিহরাবের ওপর সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহর নাম লিপিবদ্ধ করা।
- ধারণা করা হয়, তাঁর শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত।
- এটি চারকোনাবিশিষ্ট। কালো ও ধূসর রঙের পাথর আর পোড়ামাটির ইটে গড়া এই মসজিদ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ৫ টাকার নোটে কুসুম্বা মসজিদের ছবি ছাপানো আছে।

উৎস: প্রথম আলো।
১৭৩.
পদ্মা সেতুর নকশা প্রনয়ণ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. AOECM
  2. AEOCN
  3. ACEOM
  4. AECOM
ব্যাখ্যা
পদ্মা সেতু:
- পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু।
- এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু।
- এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত উত্তর-পুর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

⇒ মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার, প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।
- পদ্মা সেতুর মোট স্প্যান ৪১টি।
- পদ্মা সেতুর মোট পিলার রয়েছে ৪২টি।
- ২৫ জুন, ২০২২ তারিখে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়।
- পদ্মা সেতু ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সংযোগ স্থাপন করেছে।

উল্লেখ্য,
- পদ্মা সেতুর নকশা প্রনয়ণ করে নিউজিল্যান্ড ভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইসিওম (AECOM)।

উৎস: i) বিবিসি।
ii) সেতু বিভাগ ওয়েবসাইট।
১৭৪.
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিহার কোনটি?
  1. সোমপুর বিহার
  2. সীতাকোট বিহার
  3. আনন্দ বিহার
  4. শালবন বিহার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হিসাবমতে, বাংলাদেশে মোট ৫১৮টি প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট রয়েছে।
এক্ষেত্রে, প্রশ্নে উল্লেখিত সাইটগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ হচ্ছে -

সীতাকোট বিহার:
- দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সীতাকোট বিহার অবস্থিত।
- বিহারটিতে মোট ৪১টি প্রায় সমআয়তনের কক্ষ ছিল।
- এই কক্ষগলি একটি প্রশস্ত টানা বারান্দার সংগে যুক্ত ছিল।
- সীতাকোট বিহার আঙ্গিনার মধ্যবর্তী স্থানে কোন প্রধান মন্দির ছিলনা।
- এখানে পাহাড়পুর,শালবন বিহার এবং আনন্দ বিহারের মত ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ফলক দেখা যায়না।
- তবে আকার আয়তনের দিক থেকে এই বিহারের সংগে বগুড়ায় অবস্থিত ভাসু বিহার এর অনেক মিল রয়েছে।
- সীতাকোট বিহার থেকে প্রাপ্ত দুইটি ব্রোঞ্জ মূর্তির গঠন শৈলী থেকে অনুমান করা যায় যে, এগুলি ৭ম-৮ম শতাব্দীতে তৈরী।
- সময়কাল: - খ্রিঃ ৭-৮ম শতক।

সোমপুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- সময়কাল: অষ্টম-নবম শতক (আনুমানিক ৭৭০ - ৮১০ খিঃ)

শালবন বিহার:
- বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বিহার যা দেব সাম্রাজ্যের কীর্তি।
- এটি দেববংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব খ্রিস্টীয় আট শতকে নির্মাণ করেন।
- বিহারের আসল নাম 'ভবদেব মহাবিহার'।
- সময়কাল:- অষ্টম শতক

আনন্দ বিহার:
- আনন্দবিহার প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে সমৃদ্ধ কুমিল্লার নিকটবর্তী কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
- বিহারটি নির্মাণ করেন - প্রথম দেববংশের তৃতীয় শাসক শ্রী আনন্দ দেব।
- সময়কাল:- অষ্টম শতক।

[উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা বলা যায় যে, প্রশ্নে উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে সিতাকোট বিহার সবচেয়ে প্রাচীন।]

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট।
১৭৫.
বিখ্যাত ’তারা মসজিদ’ কে নির্মাণ করেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. ইসলাম খান চিশতী
  3. মির্জা আহমদ জান
  4. নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা

তারা মসজিদ:
- বাংলাদশের পুরানো ঢাকার আরমানিটোলা-র আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত ‘তারা মসজিদ’।
- খ্রিষ্টীয় আঠারো শতকে ঢাকার জমিদার মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।
- তারা মসজিদের আরও কিছু প্রচলিত নাম আছে, যেমন, মির্জা গোলাম পীরের মসজিদ বা সিতারা মসজিদ।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

⇒ সতের শতকে দিল্লি, আগ্রা ও লাহোরে নির্মিত মোঘল স্থাপত্য শৈলী অনুসরণে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
- মসজিদের কোথায়ও এর তৈরির সময় উল্লেখ নেই বলে কবে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়, তার সুস্পষ্ট কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
- তবে, মসজিদটি তৈরির পর ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে মির্জা গোলাম পীর মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন।
- এই সময় মসজিদটির আকার বৃদ্ধি করা হয়।
- ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে এই মসজিদটির পুনরায় সংস্কার করা হয়।
- এই সময় পুরনো একটি মেহরাব ভেঙে দুটো গম্বুজ আর তিনটি নতুন মেহরাব বানানো হয়।
- সব মিলিয়ে বর্তমানে এর গম্বুজ সংখ্যা পাঁচটিতে দাঁড়িয়েছে।
- এর ফলে মসজিদের জায়গা সম্প্রসারিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৭৬.
‘ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান’-এর বর্তমান অবস্থান কোথায়?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. সিরিয়া
  4. সৌদি আরব
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান:
- রাণীর সন্তুষ্টির জন্য নেবুচাঁদনেজার এক মনোরম উদ্যান নির্মাণ করেন।
- এই উদ্যানই বিশ্বখ্যাত ‘ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান’ বা ‘ঝুলন্ত উদ্যান’ নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে পরিচিত- ‘ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান’।
- ‘ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান’ ব্যাবিলনীয় সভ্যতার নিদর্শন যা নির্মাণ করেন রাজা নেবুচাঁদনেজার
- ব্যাবিলন শহরের (বর্তমান ইরাক) ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত এই ‘ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান ’বা ‘ঝুলন্ত উদ্যান’।
- ধারনা করা হয় চার হাজার শ্রমিক রাত-দিন পরিশ্রম করে তৈরি করেছিল এই বাগান। 
- গবেষণা থেকে জানা যায়, পাঁচ থেকে ছয় হাজার প্রজাতির ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছিল ওই ঝুলন্ত বাগানে।
 
উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৭.
Who is the architect of the National Memorial?
  1. Syed Mainul Hossain
  2. Abdur Razzaq
  3. Hamidur Rahman
  4. Novera Ahmed
  5. Tanveer Kabir
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্মৃতিসৌধ:
- জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত মুক্তিযোদ্ধা ও নিহত বেসামরিক বাঙালি ও অবাঙ্গালিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি স্মারক স্থাপনা।
- এটি সাভারে অবস্থিত।
- এর অপর নাম 'সম্মিলিত প্রয়াস'।
- এর স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।
- ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের গণপূর্ত বিভাগ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের জন্য একটা জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় এবং নকশা আহবান করে।
- এর উচ্চতা ১৫০ ফুট (৪৫.৭২ মি)।

⇒ ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবসে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
- ১৯৮২ সালের আগষ্ট মাসে সৌধের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
- জাতীয় স্মৃতিসৌধ ১৯৮২ সালে উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- স্মৃতিসৌধের রয়েছে ৭টি খাঁজ।
- ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ৭টা বড় আন্দোলন হয়েছিল।
- ওই খাঁজগুলো দিয়ে সেই সব আন্দোলন বোঝানো হয়েছে।
১. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
২. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন।
৩. ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন।
৪. ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন।
৫. ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন।
৬. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান।
৭. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৭৮.
স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ভাস্কর্য কোনটি?
  1. অপরাজেয় বাংলা
  2. মোদের গরব
  3. শাবাশ বাংলাদেশ
  4. জাগ্রত চৌরঙ্গী
ব্যাখ্যা

জাগ্রত চৌরঙ্গী:
- জাগ্রত চৌরঙ্গী মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত এটিই প্রথম ভাস্কর্য।
- গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তার ঠিক মাঝখানে সড়কদ্বীপে অবস্থিত ভাস্কর্যটি।
- এটি নির্মাণ করেন খ্যাতিমান ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক।
- ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
- ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক সহযোগী হামিদুজ্জামান খানকে নিয়ে ১৯৭২ সালে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ শুরু করেন।

• ভাস্কর্যটির বৈশিষ্ট্য
- ভিত বা বেদিসহ জাগ্রত চৌরঙ্গীর উচ্চতা ৪২ ফুট ২ ইঞ্চি। 
- ২৪ ফুট ৫ ইঞ্চি ভিত বা বেদির ওপর মূল ভাস্কর্যের ডান হাতে গ্রেনেড ও বাঁ হাতে রাইফেল।
- ভাস্কর্যটিতে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩ নম্বর সেক্টরের ১০০ জনের নাম ও
- ১১ নম্বর সেক্টরের ১০৭ জন শহীদ সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের নাম লেখা আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৭৯.
কত সালে ইউনেস্কো পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকেকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৮৭ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- এই মহাবিহার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি প্রাচীন বাংলার একটি বৌদ্ধ বিহার।

⇒ পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- পাল রাজবংশের রাজা ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন।
- সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার।
- এর দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট।
- মূল ভবনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল।

⇒ পূর্বভারতে জরিপ কাজ পরিচালনাকালে ১৮০৭ ও ১৮১২ সালে বুকানন হ্যামিল্টন সর্ব প্রথম প্রত্নস্থলটি পরিদর্শন করেন।
- পরবর্তীকালে ওয়েস্টম্যাকট পাহাড়পুর পরিভ্রমণে আসেন।
- স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে এ স্থান পরিদর্শন করেন ও ২২ ফুট বর্গাকার একটি ইমারত আবিষ্কার করেন।
- প্রত্নস্থলটি ১৯০৯ সালের পুরাকীর্তি আইনের আওতায় ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ কর্তৃক ১৯১৯ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৮০.
‘রত্নদ্বীপ’ ভাস্কর্যটির অবস্থান কোথায়?
  1. ইস্কাটনে
  2. পরীবাগ মোড়ে
  3. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে
  4. লালবাগে
ব্যাখ্যা
- রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত 'দুর্জয়' ভাস্কর্যটির শিল্পী মৃণাল হক।
তার আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য:
- মতিঝিলের - ‘বলাকা’
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে - ‘রত্নদ্বীপ’,
- হোটেল শেরাটনের সামনে - ‘রাজসিক’,
- পরীবাগ মোড়ে - ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’,
- ইস্কাটনে - ‘কোতোয়াল’,
- সাতরাস্তায় - ‘ময়ূর’,
- এয়ারপোর্ট গোল চত্বরের - ভাস্কর্য,
- নৌ সদর দপ্তরের সামনে - ‘অতলান্তিকে বসতি’ ইত্যাদি।

সূত্র: প্রথম আলো রিপোর্ট।
১৮১.
'জননী ও গর্বিত বর্ণমালা' ভাস্কর্য কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
  2. ঢাকার পরিবাগে
  3. ঢাকা সেনানিবাসে
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনের সামনে
ব্যাখ্যা
জননী ও গর্বিত বর্ণমালা:
- একুশের ভাস্কর্য জননী ও গর্বিত বর্ণমালা।
- এটি ঢাকার পরিবাগে অবস্থিত।
- এটির নকশা করেছেন শিল্পী মৃণাল হক।

⇒ জননী ও গর্বিত বর্ণমালা ভাস্কর্যে দেখা যায় একজন মা তার মৃত সন্তানকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
- তার সামনে একটি সবুজ বৃত্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কয়েকটি বাংলা বর্ণ।
- পেছনে লাল বৃত্তে রয়েছে ‘২১’ এবং ‘ব ও ‘ক’।

উৎস: i) banglanews24.com 
ii) প্রথম আলো।
১৮২.
দেশের একমাত্র কৃত্রিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. বান্দরবান
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র
- চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙ্গামাটি জেলার অন্তর্গত কাপ্তাই উপজেলায় নির্মিত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ।
- ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্য্যুতের চাহিদা পূরণের জন্য, কর্ণফুলী নদীর উপর বাঁধ দিয়ে, এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই সূত্রে তৈরি হয়েছিল কৃ্ত্রিম কাপ্তাই হ্রদ।
- ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করে ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে নির্মাণ শেষ হয়। এই সময় ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি এবং ইউতাহ ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেট ৬৭০.৬ মিটার দীর্ঘ ও ৫৪.৭ মিটার উচ্চতার এ বাঁধটি নির্মাণ করে। এ বাঁধের পাশে ১৬টি জলকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি পানি নির্গমন পথ বা স্প্রিলওয়ে রাখা হয়েছে। এ স্প্রিলওয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক ফিট পানি নির্গমন করতে পারে। 
-  ১৯৫৬ থেকে ১৯৬১ সালে কাপ্তাই খালে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তৈরি জলাধারের পানি প্রবাহের মাধ্যমে এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।
- এই কেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া।  
১৮৩.
নিপোর্ট (NIPORT) কী ধরনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান?
  1. জনসংখ্যা গবেষণা
  2. নদী গবেষণা
  3. মিঠাপানি গবেষণা
  4. বন্দর গবেষণা
ব্যাখ্যা

NIPORT:
- জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট NIPORT-এর পূর্ণরূপ: National Institute of Population Research and Training.
- এটি ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।

• স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি কর্মসূচী ব্যবস্থাপনার  ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আদর্শ আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান তৈরির দিকে দৃষ্টি রেখে ১৯৭৭ সালে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- নিপোর্ট স্বস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মনোভাবের পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে।
- নিপোর্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে জোরদার করার জন্য কর্মসূচিভিত্তিক মূল্যায়নধর্মী অপারেশনাল গবেষণা ও সার্ভে পরিচালনা করা এবং কর্মসূচি উন্নয়নের জন্য গবেষণার ফলাফল কার্যকরভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে উপস্থাপন করা।
- নিপোর্ট প্রধান কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ সুবিধা ছাড়াও বিভাগীয় ও জেলা শহরেরয়েছে ১২টি পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (FWVTI), উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে ২০টি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (RTC)। এছাড়া, ১২টি এফডব্লিউভিটিআই-এর সাথে আরো ৩১টি মাঠ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (FTC) সংযুক্ত রয়েছে।

• রূপকল্প:  ২০৩০ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টরে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান ও গবেষণা পরিচালনার  ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার একটি নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান (Centre of excellence) হিসেবে নিপোর্টকে গড়ে তোলা।
- অভিলক্ষ্য: গুণগতমানে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে ও চাহিদাভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি কর্মসূচির উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশের জনসংখ্যাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা।

• নিপোর্টের ৩টি পরিচালনা ইউনিট রয়েছে- প্রশাসন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা।
- মহাপরিচালক নিপোর্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। 

উৎস: NIPORT ওয়েবসাইট।

১৮৪.
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) কোথায় অবস্থিত? 
  1. ফরিদপুর
  2. চাঁদপুর
  3. চট্টগ্রাম
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI):
- বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার জন্য একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- ইনস্টিটিউটের সদরদপ্তর ময়মনসিংহে অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দেশের মৎস্য খাতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা মোকাবেলা করার লক্ষ্যে এটি তৈরি করা হয়েছে।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের উৎপাদনশীলতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে গবেষণা পরিচালনা, কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচী প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।

উল্লেখ্য,
- বিএফআরআই গবেষণা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সংরক্ষণ প্রচেষ্টা এবং নীতি সহায়তার মাধ্যমে মৎস্য খাতের অগ্রগতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, যা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

এছাড়াও,
⇒ ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ৫টি কেন্দ্র হতে পরিচালিত হয়ে থাকে।
⇒ গবেষণা কেন্দ্রগুলো হচ্ছে:
- সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র: কক্সবাজার।
- স্বাদুপানি কেন্দ্র: ময়মনসিংহ।
- নদী গবেষণা কেন্দ্র: চাঁদপুর।
- লোনাপানি কেন্দ্র: পাইকগাছা, খুলনা।
- চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র: বাগেরহাট।

উৎস: বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট। 

১৮৫.
জাতীয় সংসদ ভবন কোথায় অবস্থিত?
  1. শাহবাগ
  2. শেরেবাংলা নগর
  3. মতিঝিল
  4. কদমতলি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন ঢাকার শেরে-বাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত।
- ভবনটি পৃথক নয়টি ব্লকে বিভক্ত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কমপ্লেক্স।
- প্রখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান এটির মূল স্থপতি।
- ১৯৫৯ সালে প্রথম ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সটির পরিকল্পনা গৃহীত হয়। 
- ১৯৬২ সালে মূল নকশা প্রস্তুত করা হয়।
- ১৯৬৪ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হলে এর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায় ।
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮২ সালে ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

উল্লেখ্য,
- মূল ভবন কমপ্লেক্সটির নয়টি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত।
- কেন্দ্রীয় ব্লকটি ৩৫৪ আসন ধারণক্ষম অ্যাসেম্বলি কক্ষ নিয়ে গঠিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।

১৮৬.
বাঘা মসজিদ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. যশোর
  2. রাজশাহী
  3. নাটোর
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

বাঘা মসজিদ:
- বাঘা মসজিদ রাজশাহী শহরের বাঘা উপজেলায় অবস্থিত।
- একটি উঁচু টিলার উপর টেরাকোটা অলংকরণে সমৃদ্ধ দশ গম্বুজ বিশিষ্ট অতুলনীয় বাঘা মসজিদটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম মসজিদ গুলির অন্যতম।
- বাংলার (গৌড়) সুলতান নশরত শাহের আমলে ১৫২৩ খৃষ্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।
- মসজিদ চত্ত্বরের পার্শ্বেই রয়েছে একাধিক পীর আউলিয়াগনের মাজার।
- মসজিদটি ২৫৬ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত। সমভুমি থেকে থেকে ৮-১০ ফুট উঁচু করে মসজিদের আঙিনা তৈরি করা হয়েছে।
- মসজিদটিতে সর্বমোট ১০টি গম্বুজ, ৪টি মিনার (যার শীর্ষদেশ গম্বুজাকৃতির) এবং ৫টি প্রবেশদ্বার রয়েছে।
- এই মসজিদটি চারদিক হতে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এবং প্রাচীরের দু’দিকে দু’টি প্রবেশদ্বার রয়েছে। মসজিদের ভিতরে-বাইরে সবর্ত্রই টেরাকোটার নকশা রয়েছে।

তথ্যসূত্র - রাজশাহী জেলা ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

১৮৭.
'বজরা শাহী মসজিদ' কোথায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. বগুড়া
  3. নোয়াখালী
  4. নাটোর
ব্যাখ্যা
বজরা শাহী মসজিদ:
- নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নে নির্মিত ঐতিহাসিক মসজিদের নাম বজরা শাহী মসজিদ।
- দিল্লির শাহী জামে মসজিদের নকশার অনুকরণে বজরা শাহী মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে।
- মসজিদের সাথে যে শিলালিপি আছে তা থেকে জানা যায় যে, সম্রাট মোহাম্মদ শাহ এর রাজত্বকালে ১৭৪১ সালে আমানউল্লাহ নামক এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- বজরা শাহী মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৬ ফুট, প্রন্থ প্রায় ৭৪ ফুট এবং মসজিদটির উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির ভীত মাটির প্রায় ২০ ফুট নিচ থেকে তৈরী করা হয়েছে। ভিনিটি গম্বুজই সুদৃশা মার্বেল পাথর সুসজ্জিত।
- ১৯৯৮ সালে ২৯ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষা এবং দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
- মোগল সম্রাট মোহাম্মদ শাহের অনুরোবে সৌদি আরবের পবিত্র কাবা শরীফ হতে মাওলানা শাহ আবু সিদ্দীক বজরা শাহী মসজিদের প্রথম ইমাম হিসেবে স্থায়ীত্ব পালন শুরু করেন।
- মাওলানা শাহ আবু সিদ্দীক সাহেবের বংশয়রগণ যুগ যুগ ধরে বজরা শাহী মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করে চলছেন।
- বর্তমানে শাহ আবু সিদ্দীক সাহেবের ৭ম পুরুষ ইমাম হাসান সিদ্দীকি বজরা শাহী মসজিদে ইমাম হিসাবে নিযুক্ত আছেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৮৮.
বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন - (ডিসেম্বর, ২০২৪)
  1. অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম
  2. আবুল কাসেম ফজলুল হক
  3. সেলিনা হোসেন
  4. আলী ইমাম মজুমদার
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি:
- বাংলা একাডেমির মূল ভবনের নাম ছিল বর্ধমান হাউস।
- বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ (৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫) ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালকের নাম- অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। (ডিসেম্বর, ২০২৪)
- বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। (ডিসেম্বর, ২০২৪)
- আবু হোসেন সরকার ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন।
- প্রথম মহাপরিচালক প্রফেসর মযহারুল ইসলাম।
- বাংলা একাডেমির প্রথম সভাপতি মাওলানা আঁকরাম খাঁ (১৯৬১ সাল)।
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয় ১৯৬০ সাল থেকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১৮৯.
লালবাগ দুর্গ কোন আমল এর নিদর্শন?
  1. সুলতানি আমল
  2. আফগান আমল
  3. মোঘল আমল
  4. নবাবি আমল
ব্যাখ্যা
লালবাগ দুর্গ: 
- লালবাগ দুর্গ মোঘল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন।
- প্রথমে এই কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- মাত্র এক বছর পরেই দুর্গের নির্মাণকাজ শেষ হবার আগেই মারাঠা বিদ্রোহ দমনের জন্য সম্রাট আওরঙগজেব তাকে দিল্লি ডেকে পাঠান। - এসময় একটি মসজিদ ও দরবার হল নির্মাণের পর দুর্গ নির্মাণের কাজ থেমে যায়।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- তবে শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর এ দুর্গ অপয়া মনে করা হয় এবং শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন। 
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
- অবশেষে নির্মাণের ৩০০ বছর পর গত শতকের আশির দশকে লালবাগ দুর্গের যথাসম্ভব সংস্কার করে এর আগের রূপ ফিরিয়ে আনা হয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। 
১৯০.
পদ্মা সেতু কোন দুটি জেলাকে যুক্ত করেছে?
  1. শরীয়তপুর ও মাদারীপুর
  2. মুন্সিগঞ্জ ও মাদারীপুর
  3. শরীয়তপুর ও মুন্সিগঞ্জ
  4. মাদারীপুর ও শরীয়তপুর
ব্যাখ্যা
পদ্মা সেতু:
- পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।
- পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু।
- এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু।
- সেতুটি মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, লৌহজংকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত উত্তর-পুর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার।
- সেতুতে মোট পাইল রয়েছে ২৭২টি।
- পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় করে।
- পদ্মা সেতুর মোট স্প্যান ৪১টি, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার।
- পদ্মা সেতুর মোট পিলার রয়েছে ৪২টি।
- পদ্মা সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স ১৮.৩০ মিটার।
- ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে প্রথম স্প্যান বসানো হয়।
- ১০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে শেষ স্প্যান বসানো হয়।
- ২৫ জুন ২০২২ সালে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়।

তথ্যসূত্র - ডেইলি স্টার বাংলা, জুন ২৫, ২০২২ ও যুগান্তর, ২৪ জুন ২০২২।
১৯১.
'উয়ারী বটেশ্বর' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নড়াইল
  2. বগুড়া
  3. নরসিংদী
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৯২.
'জাতীয় স্মৃতিসৌধ' বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের কয়টি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার চিহ্ন বহন করে?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্মৃতিসৌধ:
- ঢাকার সাভার থানার নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ অবস্থিত।
- বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ 'সম্মিলিত প্রয়াস' নামেও পরিচিত।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ডিস্বেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধন করা হয়।
- এর স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন।
- স্মৃতিসৌধের সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৫০ ফুট।
- জাতীয় স্মৃতিসৌধে সাতটি ফলক রয়েছে, যা বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট কে নির্দেশ করে।

- পর্যায়গুলো হলো :
১. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
২. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন।
৩. ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন।
৪. ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন।
৫. ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন।
৬. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং
৭. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৯৩.
পুঠিয়া রাজবাড়ি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কুষ্টিয়া
  2. রংপুর
  3. দিনাজপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

পুঠিয়া রাজবাড়ি:
- পুঠিয়া রাজবাড়ি রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
- ১৮৯৫ সালে মহারানী হেমন্তকুমারী দেবী আকর্ষনীয় ইন্দো ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতিতে আয়তাকার দ্বিতল বর্তমান রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন।
- দোতলা রাজবাড়ি ভবনের সম্মুখে উত্তর দিকে খোলা প্রাঙ্গণের অপর পার্শ্বে রয়েছে সম্মুখভাগ ৬০.৯৬ মিটার বিস্তৃত বিশাল পিরামিড আকৃতির চারতলা মনোরম দোলমঞ্চ। ভবনের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে একই ধরনের দুটি সম্প্রসারিত অংশ এবং প্রায় ১৫.২৪ মিটার দীর্ঘ মধ্যবর্তী অংশে রয়েছে এক বিশাল তোরণ।
- চারদিকে পরিখাবেষ্টিত রাজবাড়ির এ বিশাল এলাকায় টেরাকোটা অলঙ্করণ সমৃদ্ধ বেশ কয়েকটি সুদৃশ্য মন্দির আছে।
- এদের মধ্যে রয়েছে পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দির, প্রাসাদের পেছনে একটি ছোট দোচালা সুদৃশ্য মন্দির, পশ্চিম দিকে কুঁড়েঘর আকৃতির জগদ্ধাত্রী মন্দির এবং রাজবাড়ির প্রবেশপথে বিরাট শিবমন্দির।

পুঠিয়া রাজবংশ:
- পুঠিয়া রাজবংশ মুঘল সম্রাট আকবর এর সময় (১৫৫৬-১৬০৫) প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় পুঠিয়া লস্করপুর পরগনার অর্ন্তগত ছিল। ১৫৭৬ সালে মুঘল সম্রাট আকবর এর সুবেদার মানসিংহ বাংলা দখল করার সময় পুঠিয়া এলাকার আফগান জায়গীরদার লস্কর খানের সাথে যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে পুঠিয়া রাজবংশের প্রথম পুরুষ বৎসাচার্য যিনি পুঠিয়ায় একটি আশ্রম পরিচালনা করতেন, তিনি মানসিংহকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করায় লস্কর খান পরাজিত হন। এ জন্য মানসিংহ বৎসাচার্যকে পুঠিয়া এলাকার জমিদারী দান করেন। বৎসাচার্য জমিদারী নিজ নামে না নিয়ে তার পুত্র পীতম্বর এর নামে বন্দোবস্ত নেন। পীতম্বর জমিদারীর আয়তন বৃদ্ধি করেন।পীতম্বর নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যু বরণকরলে তার সহোদর নীলাম্বর জমিদারী প্রাপ্ত হন। সম্রাট জাহাঙ্গীর তাকে রাজা উপাধি দান করেন।

তথ্যসূত্র - পুঠিয়া উপজেলা ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

১৯৪.
বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন কত তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২১ নভেম্বর, ২০০৪
  2. ২৩ নভেম্বর, ২০০৪
  3. ২৫ নভেম্বর, ২০০৪
  4. ২৮শে নভেম্বর, ২০০৪
ব্যাখ্যা

• দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক):
- ২১ শে নভেম্বর ২০০৪ বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ১৭ ধারা অনুসারে দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রতিরোধ, গবেষণা এবং গণসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- এটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।
- কার্যালয়: ঢাকার সেগুনবাগিচা।
- রুপকল্প: সমাজের সর্বস্তরে প্রবাহমান একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতির চর্চা এবং এর প্রসার সুনিশ্চিত করা। 
-  লক্ষ্য: অব্যাহতভাবে দুর্নীতির দমন, নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং উত্তম চর্চার বিকাশ সাধন করা। 

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত।
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ৬(১) ধারার বিধানমতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনারগণ হলেন -
(১) জনাব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন;
(২) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী; এবং
(৩) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ। 
- দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনারগণ দুদক আইন ২০০৪ এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

 তথ্যসূত্র: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।

১৯৫.
কমলাপুর রেলস্টেশনের স্থপতি কে?
  1. লুই কান
  2. এস এম রেলডলস
  3. এফ আর খান
  4. ড্যানিয়েল বার্নহ্যাম
ব্যাখ্যা
কমলাপুর রেলস্টেশন:
- কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশনও।
- এর অবস্থান ঢাকার মতিঝিলে।
- এটি ঢাকার সঙ্গে দেশের অন্য জায়গার মধ্যে যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল।
- এ স্টেশনের স্থাপত্যশৈলী অনন্য।
- কমলাপুর রেলস্টেশনের স্থপতি ছিলেন দুই মার্কিন নাগরিক।
- তারা ছিলেন ড্যানিয়েল বার্নহ্যাম এবং বব বুই।

উৎস: i) ২২ ডিসেম্বর ২০২০, প্রথম আলো।
ii) ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, প্রথম আলো।
১৯৬.
রাজশাহী শহরে সর্বপ্রাচীন ইমারত কোনটি এবং এটি প্রথমে কাদের ব্যবসা কেন্দ্র ছিল?
  1. বড় কাটরা ও ওলন্দাজদের
  2. বড়কুটি ও ফরাসীদের
  3. বড়কুঠি ও ডাচদের
  4. বড়কুঠি ও ইংরেজদের
ব্যাখ্যা
বড়কুঠি:
- রাজশাহী শহরের এক বিশাল ভবনের নাম বড়কুঠি। 
- রাজশাহী অঞ্চলের সর্বপ্রাচীন ইমারত বড়কুঠি।
- এটি ডাচদের নির্মিত।
- এটি রাজশাহী মহানগরীর পদ্মপাড়ে অবস্থিত’।
- ইট নির্মিত ও সমতল ছাদবিশিষ্ট এ ইমারতটি আঠারো শতকের প্রথমার্ধে (১৭২৫ সালের আগে) ওলন্দাজ রেশম ব্যবসায়ীদের নির্মিত এক উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বড়কুঠি ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।
- এরপর থেকে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ছিল। 

উল্লেখ্য,
- এটি প্রথমে ওলন্দাজ বা ডাচদের বাবসা কেন্দ্র ছিল।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ডাচরা ভারতে তাদের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ১৮১৪ সালে ইংরেজদের সাথে একটি চুক্তি করে বড়কুঠিসহ ভারতের সব ব্যবসা কেন্দ্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে হস্তান্তর করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন
         ii)  ১৪ মার্চ ২০১৯, নয়াদিগন্ত।
১৯৭.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যম কোন প্রতিষ্ঠানের  জন্ম হয়?
  1. চারুকলা ইন্সটিটিউট
  2. বাংলা একাডেমী
  3. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট
  4. বাংলাদেশ শিশু একাডেমি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমী:
- বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ (৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫) ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং এ দেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।
- ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় পূর্ব-পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে মূল সভাপতির অভিভাষণে শহীদুল্লাহ্ একটি একাডেমি গড়ার কথা বলেন। 
- ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।
-  দ্বিতীয়বার যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন। 
- এভাবে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাস্তব রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলা একডেমি এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯৮.
জননী ও গর্বিত বর্ণমালা ভাস্কর্যটির ভাস্কর কে?
  1. মোস্তফা হারুণ কুদ্দুস হিলি
  2. হামিদুজ্জামান খান
  3. তানভীর কবীর
  4. মৃণাল হক
ব্যাখ্যা
- জননী ও গর্বিত বর্ণমালা ভাস্কর্যটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক।
- এটি অবস্থিত শাহবাগের পরীবাগে।
- জননী ও গর্বিত বর্ণমালা ভাস্কর মৃণাল হক।

উৎস: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইট।
১৯৯.
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (RAD) কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. ঢাকা
  3. বগুড়া
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

RDA: 
- পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (RDA) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান,
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বগুড়া জেলায় অবস্থিত।
- একাডেমিটির মূল দায়িত্ব হলো প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনা ও পরামর্শ সেবা প্রদান করা।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কুমিল্লার কোটবাড়ীতে অবস্থিত। 

সূত্র: RDA ওয়েবসাইট। 

২০০.
নজরুল ইনস্টিটিউট কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?
  1. শিল্প মন্ত্রণালয়
  2. সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়
  3. সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  4. তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
নজরুল ইনস্টিটিউট সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় অধীন।
নজরুল ইনস্টিটিউট:
- প্রতিষ্ঠিত হয়:  ১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারি।
- এর সদর দপ্তর: ঢাকার ধানমন্ডির কবি ভবনে।

উদ্দেশ্য
- সংগীত ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম দেশ ও বিদেশ হতে সংগ্রহ,
- সংকলন, সংরক্ষণ এবং প্রকাশ করা।
- সকল সাহিত্যকর্ম অনুশীলনে উৎসাহিত করা।
- সাহিত্যকর্মের উপর গবেষণা, প্রকাশনা এবং প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ।
- সাহিত্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কবির অবদান সম্পর্কে সম্মেলন।
- সংগীত ও সাহিত্য সম্পর্কিত পুস্তক রেকর্ড।
- টেপ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য লাইব্রেরি, আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: নজরুল ইনস্টিটিউট।