বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য

মোট প্রশ্ন৭৪৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য

PrepBank · পাতা / · ৬০১৭০০ / ৭৪৮

৬০১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘জীবন আমার বোন’ এর রচয়িতা কে?
  1. মাহমুদুল হাসান
  2. ইমদাদুল হক মিলন
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক আপাত নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম থোকা প্রমুখ।

• মাহমুদুল হক:
- মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি লেখক। তাকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০২.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. আগুনপাখি
  3. নামহীন গোত্রহীন
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
• 'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়'  ও দুই সৈনিক শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬০৩.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ নয়?
  1. আগুনের পরশমনি
  2. আগুন পাখি
  3. উপমহাদেশ
  4. জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা
- 'আগুনের পরশমনি' এবং 'জোছনা ও জননীর গল্প' হুমায়ুন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- ''উপমহাদেশ'' কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
অপরদিকে,
- 'আগুন পাখি' হাসান আজিজুল হক এর পৈতৃক নিবাস পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা মানুষের সংগ্রামী জীবন, বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা এই উপন্যাসের উপজীব্য।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৪.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কী?
  1. জাফর
  2. খোকা
  3. জাহেদুল কবির খোকা
  4. বদিউল আলম
ব্যাখ্যা

'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- 'জীবন আমার বোন' দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- জীবন আমার বোন,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- চিক্কোর কাবুল,
- খেলাঘর,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।

৬০৫.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের নারী নির্যাতনের করুণ বাস্তবতা নিয়ে রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির লেখক কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. নীলিমা ইব্রাহীম
  3. আবদুল্লাহ আল মামু
  4. মমতাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমদ।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনার  মূর্তি নির্মাণ করেছেন। আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।
-  মুক্তিযুদ্ধকালীন নারী নির্যাতনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র "রৌশনারা"।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মতাজউদ্দীন আহমেদের 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন। রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ।

রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান 'লালন' কে নিয়ে সন্দেহ। ৬ বছরের শিশু সন্তান লালনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রৌশনারার স্বামী। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য রৌশনারাকে মানসিক হাসপাতালে পাগল চিহ্নিত করে ভর্তি করিয়ে দেন তার শ্বশুর জনাব আলী সাহেব(৬০)। 

অন্যদিকে, 
• আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক- আয়নায় বন্ধুর মুখ। 
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক- নরকে লাল গোলাপ। 
• নীলিমা ইব্রাহীম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক - যে অরণ্যে আলো নেই। 

উৎস: 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৬০৬.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. রেইনকোট
  3. খোয়াবনামা
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা

'রেইনকোট' ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- এই গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে ৷
- এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'চিলেকোঠার সেপাই' (১৯৮৭)।
• তাঁর রচিত ছােটগল্প-
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত ও
- দোজখের ওম।

অন্যদিকে,
- 'চিলেকোঠার সেপাই' (১৯৮৭) উপন্যাসের মূল উপজীব্য ১৯৬৯ - এর গণঅভ্যূত্থান।
- “দোজখের ওম” গল্পে এক দরিদ্র পরিবারের জীবনসংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, তেভাগা আন্দোলন, দেশভাগের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রকাশিত উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা' ⎯ এর কালো মেয়েটির নাম কী?
  1. সালমা
  2. জামিলা
  3. নাজমা
  4. সালেহা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি লেখকের সর্বশেষ রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র নাজমা নামের এই আশ্চর্য কালো মেয়ে হয়ে ওঠে ১৯৭১-এর তৎকালীন পূর্ব বাংলার নির্যাতিত-নিপীড়িত মা-বোনদের প্রতীক।
-------------- 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়াও কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- পঞ্চগ্রাম,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা ,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৮.
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম,(১৯২৯-১৯৯৪)  শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে ‘শহীদ জননী’ জাহানারা ইমামের নাম ছড়িয়ে পরে তাঁর সামাজিক-রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য।
- মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য জাহানারা ইমাম নিজেও সর্বদা সক্রিয় ছিলেন।
- তিনি বুদ্ধিজীবীদের পরিচালিত ‘সাম্প্রদায়িকতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী নাগরিক কমিটি’, ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি’ ইত্যাদি উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল বরেণ্য  বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিক দল ও কর্মিবৃন্দ, দেশপ্রেমিক তরুণ সমাজ এবং প্রজন্ম ’৭১ তাঁর আহবানে এগিয়ে আসেন
- তাঁদের সক্রিয় সমর্থনে জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬০৯.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. রেইনকোট
  3. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  4. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
ব্যাখ্যা
• 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪)।

- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

- লেখক মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মানুষজন তাদের আপনজন ও বসতভিটা হারিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।  
 
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা। বিভিন্ন জায়গা ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ - বন্দী শিবির থেকে। 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' গল্পে রেইনকোট বহন করছে- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
• শওকত ওসমান রচিত নাটক - পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

উৎস: 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১০.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. বখতিয়ারের ঘোড়া
  2. উপমহাদেশ
  3. সাদা কফিন
  4. পরীবানুর কাহিনী
ব্যাখ্যা

• "উপমহাদেশ" উপন্যাস:
- "উপমহাদেশ" কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জীবনচিত্রকে আশ্রয় করে লেখা উপন্যাসটিকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা না গেলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম সব কিছুরই প্রতিচ্ছবি সত্যনিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরার প্রয়াস করেছেন লেখক।

অন্যদিকে, 
• 'বখতিয়ারের ঘোড়া' (১৯৮৪) কবি আল মাহমুদ রচিত একটি কাব্যগ্রস্থ।
• বিপ্রদাশ বড়ুয়া রচিত ‘সাদা কফিন ও মুক্তিযোদ্ধা’ ( ২০১৭) গল্পগ্রন্থের অন্যতম নামগল্প ‘সাদা কফিন’। এই গল্পের প্রেক্ষাপট মুক্তিযুদ্ধ।

• ‘পরীবানুর কাহিনী’ হলো সত্যেন সেন রচিত একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে পটভূমি করে লেখা, যেখানে এক সাধারণ মেয়ে পরীবানুর জীবন ও অসাধারণ ত্যাগ ও সাহসিকতার চিত্র ফুটে উঠেছে, যা মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এক গভীর মানবিক আবেদনের গল্প বলে।

উৎস: "উপমহাদেশ" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৬১১.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. দুই সৈনিক
  3. আগুনের পরশমনি
  4. যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

'দুই সৈনিক':
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।

"দুই সৈনিক"
গ্রামের পটভূমিতে লেখা শওকত ওসমানের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হল দুই সৈনিক।
বেতারের সংবাদই তখন জীবন সঞ্জীবনী। কলকাতা বেতার শুনছে সাহেলী ও চামেলী। বাবা মখদুম মৃধা; তিনি মৌলিক গণতন্ত্রী ছিলেন, উনসত্তরে গণঅভ্যুত্থানের সময় সাজাও পেয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তিনি দ্বিধায় আছেন। একটি গ্রামীণ প্রতিবেশে উপন্যাসের কাঠামো নির্মাণ, ইতিহাসের সভ্যতা তার পরিপূরক হয়ে আসে। প্রথম দুপর্বে চরিত্রগুলোর পারস্পরিক কথোপকথনে জানা যায় একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে দেশের স্বাধীনতা, শেখ মুজিব কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন, নির্বাচনে জিতেছেন। মখদুম মৃধার দুই মেয়ে সারাক্ষণ ট্রানজিস্টার নিয়ে দেব দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠ শুনছেন। রণেশদাশ গুপ্তের মতে, দুই সৈনিক হচ্ছে হানাদার বাহিনীর দুই মদমত্ত অফিসার। ৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী সারাদেশে যে হামলা চালায় তার দুই মূর্তিমন্ত প্রতীক। তাদের পাশবিক ক্রিয়াকলাপ উপন্যাসটির ঘটনা তরঙ্গ সৃষ্টি করে। এই জন্যই সম্ভবত উপন্যাসের নাম দুই সৈনিক। কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে সচেতন লেখক শওকত ওসমান সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনীতি, সামাজিক পরিবেশ বিশেষ করে সাম্প্রদায়িকতা এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের কথা বলতে ভোলেননি।

শওকত ওসমান:
-  শওকত ওসমান, একজন  কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
-  ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য

অন্যদিকে,
- ’সৈয়দ শামসুল হক’ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- “নিষিদ্ধ লোবান”।
- ’হুমায়ূন আহমেদ’ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- “আগুনের পরশমনি”।
- ’সেলিনা হোসেন’ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- “যুদ্ধ”।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দুই সৈনিক উপন্যাস ।

৬১২.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. ফরিদ
  2. ওসমান
  3. আজাদ
  4. রায়হান
ব্যাখ্যা

'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৬১৩.
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা 'আর্তনাদ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শওকত আলী
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমানের 'আর্তনাদ' উপন্যাসটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা।
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমান: 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬১৪.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাট্যটি কোন ঘটনার পদধ্বনি নির্দেশ করে?
  1. মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি
  2. মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের পদধ্বনি
  3. রাজাকারদের আগমনের পদধ্বনি
  4. মুক্তিযোদ্ধাদের শত্রুদমনের পদধ্বনি
ব্যাখ্যা
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়':
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- কাব্যনাট্যটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

নাটকের চরিত্রগুলো হলো-
- মাতবর, 
- পীর সাহেব, 
- মাতবরের মেয়ে, 
- পাইক, 
- গ্রামবাসীগণ, 
- তরুণদল, 
- মুক্তিযোদ্ধাগণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য।
৬১৫.
'একটি কালো মেয়ের কথা' - উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা
  2. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা

'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত উপন্যাস ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ রচনা করেছিলেন শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
- এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬১৬.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক রচনা নয় কোনটি?
  1. কবর
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. যাপিত জীবন
  4. কী চাহ শঙ্খচিল
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক রচনা:
- কবর;
- আরেক ফাল্গুন;
- যাপিত জীবন।

অন্যদিকে,
'কী চাহ শঙ্খচিল' - মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
--------------------------
বিস্তারিত আলোচনা:

• 'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।
- যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়।
- আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬১৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রচিত এবং প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ-
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. জলাঙ্গী
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 

• ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাস: 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন পলায়ন-পর মধ্যবিত্তের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাসে ।
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- গাজী রহমান যুদ্ধকালের সাহসী মুক্তিযোদ্ধা নয়। বরং সে সময় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পথে নামে সে।
- এক সময় দেশের সীমান্ত পেরিয়ে নিরাপদ বোধ করে নিজে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: 
» জননী,
» ক্রীতদাসের হাসি,
» সমাগম,
» চৌরসন্ধি,
» রাজা উপাখ্যান,
» জাহান্নম হইতে বিদায়,
» দুই সৈনিক,
» নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩),
» পতঙ্গ পিঞ্জর,
» আর্তনাদ,
» রাজপুরুষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ 'নেকড়ে অরণ্য' (১৯৭৩) উপন্যাসে জায়েদা, তানিমা, সখিনা, রশীদা বিবি, আমোদিনী প্রমুখ নির্যাতিতা নারীরা যেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা-বোনের প্রতীক। এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে নারী নির্যাতনের মর্মন্তুদ কাহিনী। সিভিল সাপ্লাইয়ের গোডাউনে প্রায় একশ নারীকে ধরে এনে উলঙ্গ করে রেখেছিল হানাদাররা। এখানেই নির্যাতনের শিকার হয় পাঁচজন নারী। তাদের অতীত জীবনালেখ্য, তাদের বন্দি জীবনের মর্মন্তুদ ঘটনাকে তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসে।

⇒ 'দুই সৈনিক' (১৯৭৩) উপন্যাসে হানাদার বাহিনীর লালসায় বিপন্ন বাঙালি নারীর বিনষ্ট জীবনের অভিঘাত প্রতিবিম্বিত হয়েছে। হানাদার বাহিনীর নারী লোলুপতার ঘৃণ্য চেহারাকে ফুটিয়ে তুলেছেন দুই সৈনিক (১৯৭৩) উপন্যাসে। এ উপন্যাসে দুই সামরিক অফিসার পাকিস্তানের সমর্থক একজন মুসলিম লীগপন্থি চেয়ারম্যানের বাড়িতে পরম আতিথেয়তা লাভের পর তার কলেজপড়–য়া দুই মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। নিজের চোখের সামনে মেয়েদের তুলে নিতে দেখে অসহায় বাবা তীব্র গ্লানিতে আত্মহত্যা করে।

⇒ স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম। এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়। এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার; ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাস।
৬১৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের দিনগুলি
  2. বন্দি শিবির থেকে
  3. স্বাধীনতা তুমি
  4. স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ: 
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- এর অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল- ডিসেম্ভর, ১৯৭১ সময়ে রচিত। 
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি, 
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
জাহানারা ইমাম এর স্মৃতিকথা - “একাত্তরের দিনগুলি”।
স্বাধীনতা তুমি - শামসুর রহমান এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।
স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা - মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১৯.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মুরাদ
  2. রঞ্জু
  3. খোকা
  4. ইয়াসিন
ব্যাখ্যা
• জীবন আমার বোন:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- ‘জীবন আমার বোন’ দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। 

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো-
- রঞ্জু,
- মুরাদ,
- ইয়াসিন,
- রহমান,
- লুলু চৌধুরী। 

--------------
মাহমুদুল হকের রচিত উপন্যাস:
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- জীবন আমার বোন,
- কালো বরফ,
- খেলাঘর
- চিক্কোর কাবুক,
- মাঠির জাহাজ,
- অশরীরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২০.
মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) কী চাহ শঙ্খচিল
  2. খ) অলাতচক্র
  3. গ) স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়ার যায়
ব্যাখ্যা
⇒ 'অলাতচক্র' উপন্যাস: 
• 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস। 
• ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়। 
• এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস। 
• এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন 
• এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ। 

অন্যদিকে,
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক।
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' মমতাজউদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- 'আর্তনাদ' ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শওকত ওসমান রচিত একটি উপন্যাস।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬২১.
মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের পূর্বেই কোন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটি রচিত হয়েছিল?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) জন্ম যদি তব বঙ্গে
  3. গ) রাইফেল রোটি আওরাত
  4. ঘ) আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
-  মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা প্রথম কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। 
- লেখক মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝে অবস্থান করে এ উপন্যাসে লিখেছেন যুদ্ধকথা। 
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। 
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে। 
- শহীদ হবার আগেই তিনি এ উপন্যাসটি লিখে যান। 

- সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' রচিত হয় ১লা মে  থেকে ১৩ জুন ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ।
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২২.
‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র
ব্যাখ্যা
• জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা:
- শহীদুল জহির রচিত 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি ভিন্নমাত্রার উপন্যাস।
- উপন্যাসটি টানাগদ্যে লেখা। প্রবন্ধের বই বলে অনেকে ভুলও করতে পারেন।
- এতে গতানুগতিক উপন্যাসের স্বাদ নেই। নিরীক্ষা আছে। ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতাসহ উত্তরাধুনিক চেতনার সংমিশ্রণ রয়েছে।
- উপন্যাসটি বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্য়ে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চেয়েও এতে দর্শনের প্রয়োগ ও কর্মের নতুনত্ব কারণে।

• শহীদুল জহির:
- ১৯৫৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রকৃত নাম মো. শহীদুল হক।
- তিনি ২০০৮ সালের ২৩ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা,
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৩.
কোনটি রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. অন্ধ কথামালা
  2. যাত্রা
  3. এক যুবকের ছায়াপথ
  4. অদ্ভুত আঁধার এক
ব্যাখ্যা
⇒ অন্ধ কথামালা:
রশীদ হায়দার রচিত ‘অন্ধ কথামালা’ (১৯৮২) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস কাল পর্বের প্রেক্ষাপটে মৃত্যু-মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতীক্ষারত একজন মুক্তিযোদ্ধার দুর্বিসহ স্মৃতিকাতরতাক্রান্ত রুদ্ধশ্বাসের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা ও আবেগের রসায়নে ‘অন্ধ কথামালা’ উপন্যাসকে একটি পরিণততর সৃষ্টি বলা যায়।

রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্য উপন্যাস হলো-
• ‘খাঁচা’ (১৯৭৫) উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্বের অবরুদ্ধ নগর জীবনের আলেখ্য।

অন্যদিকে,
- ‘যাত্রা’ শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ‘এক যুবকের ছায়াপথ’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: খাঁচায় অন্ধ কথামালা উপন্যাস এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬২৪.
'আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।' উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলাভাষা, বাংলা সাহিত্য, বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় একটি ভাষণে বলেছিলেন— ‘আমরা হিন্দু বা মুসলিম যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব কথা। প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ দিয়েছেন যে, তা মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই”।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৭ম শ্রেণি।
৬২৫.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. কাবিলের বোন
  3. নূরলদীনের সারা জীবন
  4. খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব- মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
- নুরুলদীনের সারা জীবন - রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ নিয়ে রচিত। 

• ‘খোয়াবনাম’ মানবজীবনের সংগ্রামের পেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান উলিয়াস রচিত উপন্যাস।

----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কাবিলের বোন' উপন্যাস।
৬২৬.
‘বকুলপুরের স্বাধীনতা’ মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক -
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. গল্প
  4. দিনলিপি
ব্যাখ্যা
মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬২৭.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) আর্তনাদ
  3. গ) স্মৃতিস্মম্ভ
  4. ঘ) কবর
ব্যাখ্যা
•‘যাত্রা’ শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস।
– ‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা  আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।
– ‘স্মৃতিস্তম্ভ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা  আন্দোলনভিত্তিক কবিতা।
– ‘কবর’ মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা  আন্দোলনভিত্তিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস একটি কালো মেয়ের কথা রচনা করেন কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. মমতাজউদ্দীন
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হুমায়ন আহমেদ
ব্যাখ্যা
- প্রকাশকালের বিবেচনায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা প্রথম উপন্যাস হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি কালো মেয়ের কথা’।
- 'সুতপার তপস্যা' ও 'একটি কালো মেয়ের কথা' এই দুইটি রচনা মিলে প্রকাশিত হয় তার বই '১৯৭১'।
- প্রকাশিত  হয় ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ, নবকল্লোলের উল্টোরথের পুজো সংখ্যায়।
- ডেভিড আর্মস্ট্রং ওরফে মনসুর আলীর জবানীতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নৃশংসতা বর্ণনা অনুষঙ্গে উপন্যাসটির মূল প্রেক্ষাপটের সূচনা ঘটেছে।
- জীবনের সায়াহ্নে লেখকের দায়বোধ থেকে রোগশয্যাতে জর্জরিত অশান্ত ও উদ্বিগ্ন তারাশঙ্কর নাজমা নামক এক কালো মেয়েকে হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতীকরূপে উপস্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর পর্বের পাক হানাদারদের রিরংসাকে চিত্রিত করেছেন।

উৎস: দৈনিক যুগান্তর [লিঙ্ক]
৬২৯.
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. দিনিলিপি 
  2. রাজনৈতিক নাটক 
  3. কাব্যগ্রন্থ 
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

• 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪)।

- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা। বিভিন্ন জায়গা ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

--------------------
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

• কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নুরুলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন ইত্যাদি।

উৎস: 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৩০.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. আর্তনাদ
  4. নীল দংশন
ব্যাখ্যা
‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস। এছাড়া, 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস। রাইফেল রোটি আওরাত আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস। ‘নীল দংশন’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
৬৩১.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ‘দেয়াল’ একটি-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) অনুবাদগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• দেয়াল (উপন্যাস):
আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর ‘দেয়াল’ (১৯৮৬) উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির বিবোমিশাকর নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে। সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে। 

⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:

• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল
[আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।]

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

অন্যদিকে,
- হুমায়ূন আহমেদ রচিতে একটি উপন্যাস রয়েছে‘দেয়াল’ (২০১২) নামে।
- উপন্যাসের একটি আখ্যানে তিনি পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাবলি বর্ণনা করে ইতিহাসের নানা পরিবর্তনের ইতিবৃত্ত তুলে ধরেছেন। দ্বিতীয় আখ্যানে তিনি কিছু চেনা চরিত্র সৃষ্টি করে এর সমন্বয় সাধন করেছেন। তবে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এ উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদের ‘ব্যক্তিগত পটভূমি’ দ্বারা ‘প্রভাবান্বিত’ হওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে এনেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৬৩২.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কবর
  2. ফেরারী সূর্য
  3. আর্তনাদ
  4. স্মৃতিস্তম্ভ
ব্যাখ্যা

• 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। 
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক - কবর।
• 'ফেরারী সূর্য’ রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা - স্মৃতিস্তম্ভ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

৬৩৩.
September on Jessore Road- কবিতার রচয়িতা অ্যালেন গিন্সবার্গ কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) কানাডা
  4. ঘ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
- সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড - বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা যা থেকে পরে গান করা হয়েছিল।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে যশোর রোডে সীমান্তের ওপারে শরণার্থী শিবির ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তা নিয়ে তিনি লিখেন বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।

- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি। এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। এভাবেই বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন গিন্সবার্গ।
- এই কবিতার বাংলা ভাষান্তর করেন খান মোহাম্মদ ফারাবি।     

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।
৬৩৪.
'Making of a Nation Bangladesh' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কামাল হোসেন
  2. খ) এস. এ. করিম
  3. গ) নুরুল ইসলাম
  4. ঘ) আনিসুর রহমান
ব্যাখ্যা
Making of a Nation, Bangladesh: An Economist's Tale - বইটির রচয়িতা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম।

৬৩৫.
'বকুলপুরের স্বাধীনতা' কী ধরণের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্প
ব্যাখ্যা
• 'বকুলপুরের স্বাধীনতা' মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- এবারের সংগ্রাম,
- স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

• মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে।
- এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে 'বিবাহ' ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩৬.
‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সংকলনগ্রন্থ সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. এটির প্রকাশকাল ১৯৫২
  2. এটি কবিতা সংকলন
  3. এটির সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী
  4. এটির প্রকাশক মোহাম্মদ সুলতান
ব্যাখ্যা

• একুশে ফেব্রুয়ারি:
- একুশের প্রথম সংকলন টির নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- এটি সম্পাদনা করেছেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে 'পুথিপত্র' প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২জন লেখক লিখেছেন। 
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উপরের তথ্যের ভিত্তিতে অপশন বিশ্লেষণ:
ক) প্রকাশকাল ১৯৫২: ভুল। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে (ভাষা আন্দোলনের এক বছর পর)।
খ) এটি কবিতা সংকলন: আংশিক সত্য কিন্তু অসম্পূর্ণ। এটি মূলত কবিতা, গান ও প্রবন্ধের সংকলন; শুধু কবিতা নয়।
গ) সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী: ভুল। সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান (প্রথম সংস্করণ)।
ঘ) প্রকাশক মোহাম্মদ সুলতান: সঠিক। প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।

সুতরাং, সঠিক উত্তরটি হলো: ঘ) এটির প্রকাশক মোহাম্মদ সুলতান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা আন্দোলনের দলিলপত্র।

৬৩৭.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. নূরলদীনের সারাজীবন
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. অনিল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'অনিল বাগচীর একদিন' এর লেখক - হুমায়ূন আহমেদ।

• অনিল বাগচীর একদিন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।
- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

অন্যদিকে,
• 'নূরলদীনের সারাজীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস - একটি কালো মেয়ের কথা।

------------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তিনি ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যান্য উপন্যাস-
- আগুনের পরশমণি,
- সূর্যের দিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস-
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. জলাঙ্গী 
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

অন্যদিকে,
- সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'জলাঙ্গী'  শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৩৯.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) নেকড়ে অরণ্য
  2. খ) নীল দংশন
  3. গ) একটি কালো মেয়ের কথা
  4. ঘ) শঙ্খনীল কারাগার
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আহমেদের প্রথম রচিত উপন্যাস - শঙ্খনীল কারাগার।
- প্রকাশিত হয় - ১৯৭৩ সালে।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - নন্দিত নরকে (১৯৭২)।

অন্যদিকে, 
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস - নীল দংশন
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো - নেকড়ে অরণ্য
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস - একটি কালো মেয়ের কথা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪০.
জহির রায়হান রচিত ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসটির পটভূমিকা হলো ?
  1. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
  2. ভাষা আন্দোলনের ঘটনাবলী
  3. একুশে ফেব্রুয়ারি পালন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান, চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল  মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।

- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়। 
এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো :
- মুনিম
 -আসাদ 
- রসুল 
- সালমা
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' - এই উপন্যাসের সংলাপ।

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- হাজার বছর ধরে
- বরফ গলা নদী
- আর কতদিন
- তৃষ্ণা
- শেষ বিকেলের মেয়ে
- কয়েকটি মৃত্যু

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৬৪১.
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল 
  3. সেলিনা হোসেন
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।

৬৪২.
মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা কোনটি?
  1. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. ওঙ্কার
  4. জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
জীবন আমার বোন:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- ১৯৭৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন শিল্পী তাঁর উপন্যাসে।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
এছাড়া,
- 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস।
- 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমানের উপন্যাস।
- 'ওঙ্কার' আহমদ ছফার উপন্যাস।

উৎস: দৈনিক কালের কণ্ঠ। [লিঙ্ক]
৬৪৩.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক?
  1. খোয়াবনামা
  2. কি চাহ শঙ্খচিল
  3. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  4. বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
ব্যাখ্যা
• 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কি চাহ শঙ্খচিল' মমতাজ উদ্দীন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক। নাটকে আলোচিত হয়েছে বীরঙ্গনার গল্প।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজ উদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।

- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন। যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি। যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক। নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস 'খোয়াবনামা' (১৯৯৬)।
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা প্রবন্ধ।
• সরদার জয়েনউদ্দিনের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপাদানে রচিত একটি বৃহৎ উপন্যাস 'বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ'।

উৎস: 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৪.
'খেলাঘর' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শওকত ওসমান
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস 
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

• 'খেলাঘর' উপন্যাস:
- 'খেলাঘর' (১৯৮৮) মাহমুদুল হক রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
-  ‘খেলাঘর’ অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলাম ২০০৬ সালে  একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।
 চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব।

--------------------
• মাহমুদুল হক:
- মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি লেখক।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে। তাঁর লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ।

তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে),
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত),
- খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক),
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: 'খেলাঘর' উপন্যাস এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৪৫.
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই 
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. ওঙ্কার
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা

• 'দুই সৈনিক' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান।
- উপন্যাসটি প্রকাশ হয় — ১৯৭৩ সালে।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ্ব পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।

শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস-
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাঙ্গী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' — নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি — নাটক।
- নাটকটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

 • পায়ের আওয়াজ পাওয়ার যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি — কাব্যনাট্য। 
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে। 

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়— ওঙ্কার।
- এটি '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফার — উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৪৬.
উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান নিয়ে রচিত সাহিত্য কোনটি?
  1. ক) এখনও ক্রীতদাস
  2. খ) রেইনকোর্ট
  3. গ) অন্য ঘরে অন্য স্বর
  4. ঘ) চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস 'চিলেকোঠার সেপাই' ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ছিলো উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান

অন্যদিকে, 
- 'রেইনকোর্ট' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি গল্প।
- 'অন্য ঘরে অন্য স্বর' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ।
- 'এখনও ক্রীতদাস' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী নিম্নবর্গের মানুষের জীবন নিয়ে নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)। 
৬৪৭.
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' গ্রন্থের উপজীব্য কী?
  1. সামাজিক বৈষম্য
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. নারীর আত্মজাগরণ
ব্যাখ্যা
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা।
- বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪৮.
একুশের প্রথম কবিতা কোন শিরোনামে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ভুলবো না ভুলবো না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না
  3. গ) একুশে
  4. ঘ) কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি
ব্যাখ্যা
- কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক  মাহবুব উল আলম চৌধুরী (১৯২৭-২০০৭) ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
-----------------
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক হলো - মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর'৷
- প্রথম উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন (জহির রায়হান)৷
- প্রথম চলচ্চিত্র - জীবন থেকে নেয়া (জহির রায়হান)৷
------------------
- মাহবুব উল আলমের কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ ঢাকার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ২০০৬ সালের ৭ নভেম্বর তাঁর ৮০তম জন্মদিন পালন করে।
- এ উপলক্ষে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সম্পাদনায় ‘মাহবুব উল আলম চৌধুরীঃ এক অবিম্মরণীয় কবিতার জনক’ শীর্ষক স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে তাঁকে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করে।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরী ২০০৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় মারা যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৪৯.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. জাহান্নম হতে বিদায়
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প - জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- এটি শওকত ওসমান রচিত 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' এবং 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - উপমহাদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫০.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. জীবন আমার বোন
  2. নূরলদীনের সারাজীবন
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- 'জীবন আমার বোন' দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো-
- রঞ্জু,
- মুরাদ,
- ইয়াসিন,
- রহমান,
- লুলু চৌধুরী।

অন্যদিকে,
• "নূরলদীনের সারাজীবন" সৈয়দ শামসুল হকের লেখা একটি কাব্যনাটক, যা ব্রিটিশ আমলে ১৭৮৩ সালের রংপুর কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।
• 'চিলেকোঠার সেপাই' হলো আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি বিখ্যাত মহাকাব্যিক উপন্যাস, যা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য।

---------------
• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- জীবন আমার বোন,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- চিক্কোর কাবুল,
- খেলাঘর,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।

৬৫১.
'অলাতচক্র' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আহমদ ছফা
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'অলাতচক্র' উপন্যাস:
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।

এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- তায়েবা,
- জাহিদুল,
- দানিয়েল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫২.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' রচনা করেন কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
-‌ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি।

স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫৩.
'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. শওকত আলী
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' রচনা করেন ' রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ'।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ইতিহাস-সচেতন কবি। ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতায় তিনি যখন বলেন:

‘আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে—
এ—দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?’

তখন তাঁর কবিস্বরূপ আপনাতেই ধরা পড়ে। তাঁর এ সংগ্রামী চেতনা পাঠককে বর্তমানের নৈরাশ্য থেকে আশান্বিত করে তোলে ভবিষ্যতের দিকে।

---------------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯) ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ :
- ছোবল,
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার,
- উপদ্রুত উপকূলইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬৫৪.
'যাত্রা' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৮৬ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

• 'যাত্রা' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- 'যাত্রা' শওকত আলী রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস যা ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।

-------------------
শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ। 
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

কথাসাহিত্যিক শওকত আলী রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।

৬৫৫.
'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' শহীদুল জহির রচিত কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. রাজনৈতিক বিষয়ক প্রবন্ধ
  3. সমাজ সমস্যামূলক গবেষণা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপন্যাসের রচয়িতা শহীদুল জহির। এটি তাঁর রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- সোনায় মোড়ানো হাতের কথাশিল্পী শহীদুল জহিরের এই উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যে এক অভিনব সংযোজন। বাংলা আখ্যানগদ্যের এমন অপূর্ব রূপ ও ভঙ্গি এর আগে তো ছিলই না, এখনও বিরল।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৮৫ সালে একদিন লক্ষ্মীবাজারের শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাসিন্দা যুবক আব্দুল মজিদ রায়সাহেব বাজারে যাওয়ার পথে কারকুন বাড়ি লেন থেকে বের হয়ে নবাবপুর রোডে উঠলে তার ডান পায়ের স্পঞ্জের স্যান্ডেলের ফিতে ফট্ করে ছিঁড়ে যায়। এভাবে এই কাহিনির শুরু। ৬২ পৃষ্ঠা পরে কাহিনির শেষে দেখা যায়, আব্দুল মজিদ দৈনিক ইত্তেফাকে একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে তার বাড়িটি বিক্রি করে লক্ষ্মী লক্ষ্মীবাজার থেকে বসত উঠিয়ে চলে যায়, ফলে তার অস্তিত্বই যেন মুছে যায়।
কিন্তু শহীদুল জহির এইটুকু পরিসরে ফুটিয়ে তুলেছেন একাত্তরের নয় মাসে ঢাকা শহরের একটি মহল্লার সমগ্র জীবন। তখন কী ঘটেছিল, তারপর দেশ স্বাধীন হওয়ার দেড় দশক না পেরোতেই আব্দুল মজিদকে কেন তার বসতবাড়ি বিক্রি করে দিয়ে চলে যেতে হলো, এই নিদারুণ প্রশ্নের মধ্যে নিহিত রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির এক নিষ্করুণ বাস্তবতা।

উৎস: 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাস।
৬৫৬.
কোনটি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক?
  1. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  2. নরকে লাল গোলাপ
  3. ক্ষুধা ও আশা
  4. মানচিত্র
ব্যাখ্যা
• 'নরকে লাল গোলাপ' গ্রন্থটি আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

-------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:

- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• নাটক:
- নরকে লাল গোলাপ, 
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫৭.
তৎকালীন পাকিস্তানের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে শওকত ওসমানের কোন উপন্যাসে?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. জাহান্নাম হইতে বিদায়
  3. জলাঙ্গী
  4. নেকড়ে অরণ্য
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়
অন্যদিকে,
- 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬৫৮.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' ছোটগল্পের প্রেক্ষাপট কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. গ্রামীণ দারিদ্র্য
  3. ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'রেইনকোট' ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷ ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
- “রেইনকোট” গল্পটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫৯.
'একাত্তরের বর্ণমালা' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জাহানারা ইমাম
  4. এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
এম আর আখতার মুকুল:
- তিনি সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- পিতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক সা’দত আলি আখন্দ, মাতা রাবেয়া খাতুন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন পরিদর্শন শেষে তাঁর রচিত এবং স্বকণ্ঠে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- একাত্তরের বর্ণমালা,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি,
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৬০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'একটি কালো মেয়ের কথা' রচনা করেন কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. মাহমুদুল হক
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬১.
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন' রচনা করেন -
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. সেলিনা হোসেন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ।
- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
৬৬২.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম নাটক-
  1. বর্ণচোরা
  2. কবর
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কেউ কিছু বলতে পারে না
ব্যাখ্যা
• 'কবর' নাটক:
- একাঙ্ক বিশিষ্ট 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- নাটকটি মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw এর Bury the Dead অবলম্বনে রচিত।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- প্রকাশ্যে প্রথম মঞ্চস্থ হয় ১৯৫৬ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে উদযাপন উপলক্ষে।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬৩.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক রচনা নয় কোনটি?
  1. কবর
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. ওঙ্কার
  4. আর্তনাদ
ব্যাখ্যা

• 'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভকরে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

অন্যদিকে, 
------------------------
• 'কবর' নাটক
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম 'আর্তনাদ'।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ। এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

• 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' উপন্যাস:
"নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি" উপন্যাস লিখেছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন। এটি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত একটি উপন্যাস এবং এটি "একুশের উপন্যাস" নামক একটি সংকলন গ্রন্থের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৬৪.
কোনটি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. কালো বরফ
  2. জীবন আমার বোন
  3. কালো ঘোড়া
  4. কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব- মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

অন্যদিকে,
• মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বােন'।
• ‘কালো বরফ’ মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস। এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে।
• ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘কালো ঘোড়া’।

----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কাবিলের বোন' উপন্যাস।
৬৬৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটা?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. মাটি আর অশ্রু
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড 
  4. সারেং বউ
ব্যাখ্যা

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।
---------------
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

• ‘মাটি আর অশ্রু’ সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

'সারেং বউ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বউ। তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৬৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. মাটি আর অশ্রু
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. সারেং বউ
ব্যাখ্যা
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। তারমধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
৬৬৭.
‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ - গানটির সুরকার কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. নজরুল ইসলাম বাবু
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• নজরুল ইসলাম বাবু: 
- তাঁর লেখা কালজয়ী দুটি গান- 'সবকটা জানালা খুলে দাও না' এবং 'একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার'।   

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আরও কিছু বিখ্যাত গান: 
- একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যাঁরা’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা’ ইত্যাদি কালজয়ী গানের রচয়িতা ও গীতিকার গোবিন্দ হালদার

- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।   
- সিকান্দার আবু জাফর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।  

ব্রি:দ্র: 'সবকটা জানালা খুলে দাও না' গানটির গীতিকার হচ্ছেন নজরুল ইসলাম বাবু এবং আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় এই গানে কণ্ঠ দেন সাবিনা ইয়াসমিন।

[অপশনে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের নাম না থাকায় কাছাকাছি সঠিক উত্তর হিসেবে অপশন (খ) গ্রহণ করা হলো।]

উৎস:
বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো (২৬ মার্চ ২০২৩ ও ১৭ জানুয়ারি ২০১৫), দ্যা ডেইলি ষ্টার বাংলা (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২)।

৬৬৮.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক নয়?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) কী চাহ শঙ্খচিল
  3. গ) কবর
  4. ঘ) স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক।

- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক। 
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' ও 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজুদ্‌দীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।  

বর মুনীর চৌধুরীর একাঙ্ক বিশিষ্ট নাটক। বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে মুনীর চৌধরীকে আটক করা হয়।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় অন্য রাজবন্দি বামপন্থী লেখক রণেশ দাশগুপ্ত মুনীর চৌধুরীকে নাটক লিখতে বলেন।
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত Bury The Dead নাটকের অনুসরণে ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ‘কবর’ নাটকটি রচিত হয়েছে।
- রাজবন্দিরা এই নাটকটি জেলেই মঞ্চস্থ করেন।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬৯.
'যাত্রা' উপন্যাসে কোন ঐতিহাসিক কাহিনির পেক্ষাপট উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. ৪৭এর দেশভাগ
  2. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  3. বঙ্গভঙ্গ
  4. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• "যাত্রা" উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রির পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা, ঢাকা শহরের গণহত্যা, প্রতিরোধ সংগ্রাম, এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।  

--------------------
• 'যাত্রা' উপন্যাস:

- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাত্রা' উপন্যাস।
৬৭০.
’একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং’-এই চরণটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. রক্তে আমার অনাদি অস্থি
  2. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  3. ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯
  4. একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
• ’একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং’-এই চরণটি কবি শামসুর রাহমানের 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতা,
---------শামসুর রাহমান।   

আবার ফুটেছে দেখো কৃষ্ণচূড়া  থরে থরে শহরের পথে
কেমন নিবিড় হয়ে। কখনো মিছিলে কখনো বা
একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয় ওরা
শহিদের  ঝলকিত রক্তের  বুদ্বদ স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।
একুশর কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং।
এ রংয়ে র বিপরীত আছে অন্য রং,
যে রং লাগে না ভালো চোখে, যে রং সন্ত্রাস আনে
প্রাত্যহিকতায় আমাদের মনে সকাল-সন্ধ্যা
 এখন সে রঙে  গেছে পথ- ঘাট সারা দেশ
ঘাতকের অশুভ আস্তানা।

'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯’ কবিতা সম্পর্কিত আলোচনা: 
- 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯’ কবিতাটি নেয়া হয়েছে কবি শামসুর রহমান এর ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।
- এ কবিতার পটভূমি  পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ১৯৬৯ এ সূচিত পূর্ববঙ্গের মানুষের গণ আন্দোলন। 
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
- ১৯৫২ তে ভাষা শহিদ সালামের রক্তে অর্জিত বাংলা ভাষাই ৬৯ সালের আন্দোলনে প্রতিবাদীদের মুখে ধ্বনিত হয়েছে।
- কবি দেখেছেন যে, ১৯৫২ সালের সংগ্রামের অর্জন ১৯৬৯ সালের আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতা, উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭১.
শওকত ওসমানের আর্তনাদ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী ছিল?
  1. ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  2. ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন
  3. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
  4. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস- ' আর্তনাদ'।
--------------------------------------
'আর্তনাদ' উপন্যাস বিষয়ক কিছু তথ্য: 
- শওকত ওসমানের ভাষা আন্দোলননির্ভর উপন্যাস আর্তনাদ। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। 
- উপন্যাসটি নির্মিত হয়েছে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে। 

- উপন্যাসটিতে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার দমননীতি, ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে নামা ছাত্র–জনতার প্রতিবাদ, এবং রফিক–সালামের মতো তরুণদের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার করুণ বাস্তবতা জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামষ্টিক বেদনার সংমিশ্রণে লেখক আন্দোলনের অন্তর্গত যন্ত্রণা ও প্রতিবাদের তীব্রতা প্রকাশ করেছেন। বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগ, সাধারণ মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষা এবং আন্দোলনের আবেগঘন পরিবেশ—সব মিলিয়ে আর্তনাদ ভাষা আন্দোলনের এক শক্তিশালী সাহিত্যিক দলিল।
------------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস: আর্তনাদ।
------------------------------------------------- 

উৎস:
'আর্তনাদ' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৬৭২.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা- 
  1. স্মৃতির মিনার
  2. বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
  3. কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  4. সভ্যতার মনিমধ্যে
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা:
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম ও ঐতিহাসিক কবিতা হলো "কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি"।
- কবিতাটির রচয়িতা মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের রাতে এই কবিতাটি রচনা করেন ভাষা শহীদদের প্রতি স্মরণ আর তাদের হত্যার প্রতিবাদ হিসেবে।
- পরে ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে এটি ছাপানো হয়।
- কবিতাটি একুশের প্রথম প্রতীকী কবিতা হিসেবে পরিচিত।
- এবং এতে আন্দোলনের প্রতিবাদ, সাহস ও তীব্র জাতীয় চেতনা ফুটে উঠেছে।
-------------------- 
অন্যদিকে, 
- স্মৃতির মিনার – কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মহান ভাষা আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে লেখা একটি বিখ্যাত প্রতিবাদী কবিতা।
- বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা – শামসুর রাহমান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক কবিতা।
- সভ্যতার মনিমধ্যে হলো কবি ও সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি বিখ্যাত কবিতা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া, 

৬৭৩.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত প্রথম নাটক কোনটি? 
  1. বিবাহ
  2. কবর 
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. স্মৃতিস্তম্ভ
ব্যাখ্যা

» 'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৬৭৪.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আ ন ম গাজীউল হক
  2. খ) আলাউদ্দিন আজাদ
  3. গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা - কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।
- কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকায় ছাপা হয় কবিতাটি। 

- প্রথম নির্মিত শহীদ মিনার ধ্বংসের প্রতিবাদে আলাউদ্দিন আজাদ লিখেন 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি। 
- একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা - 'কোন এক মাকে'
- একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ ন ম গাজীউল হক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৫.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা-
  1. স্মৃতির মিনার
  2. কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  3. মাগো ওরা বলে
  4. স্মৃতিস্তম্ভ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:
স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার। 

অন্যদিকে, 
• মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহর কবিতা ‘স্মৃতির মিনার’। 

• ভাষা আন্দোলন চলাকালে ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বসে ভাষা শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে মাহবুবুল আলম চৌধুরী রচনা করেন ১২০ লাইনের- ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ শিরোনামের কবিতা।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘মাগো ওরা বলে’ কবিতায় কবি এক দুঃখিনী মায়ের চিত্রকল্প এঁকেছেন।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৬.
'জীবন আমার বোন' কী?
  1. সামাজিক উপন্যাস
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  4. জেলে কেন্দ্রিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে। 
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রঞ্জু প্রমুখ।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
 • উপন্যাস:
- কালো বরফ; 
- জীবন আমার বোন;
- অনুর পাঠশালা;
- নিরাপদ তন্দ্রা;
- অশরীরী;
- চিক্কোর কাবুল ;
- খেলাঘর;
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৬৭৭.
কোনটি হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. একাত্তরের রণাঙ্গন
  2. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
  3. একাত্তরের ঢাকা
  4. আমি বিজয় দেখেছি
ব্যাখ্যা
• একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা:
- হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।
- কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক তাঁর দেখা একাত্তরের ভাষ্য শুরু করেছেন নিস্পৃহ নিরাবেগ ভঙ্গিতে। বইয়ের সূচনাবাক্যে তিনি লিখেছেন:
'আমার জানা ছিল না যে পানিতে ভাসিয়ে দিলে পুরুষের লাশ চিৎ হয়ে ভাসে আর নারীর লাশ ভাসে উপুড় হয়ে। এই জ্ঞান আমি পাই '৭১ সালের মার্চ মাসের একেবারে শেষে।'

অন্যদিকে,
• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'একাত্তরের রণাঙ্গন' এর রচয়িতা - শামসুল হুদা চৌধুরী। 
• এম এ আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'আমি বিজয় দেখেছি'। 
• সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'একাত্তরের ঢাকা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা' গ্রন্থ।
৬৭৮.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস কোনটি?  
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. শ্যামল ছায়া
  3. যাপিত জীবন 
  4. জলাঙ্গী
ব্যাখ্যা

• 'জলাঙ্গী' উপন্যাস:
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।
- স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম।
- শওকত ওসমান রচিত এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা।
- এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়।
- এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

অন্যদিকে, 
• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'শ্যামল ছায়া'।
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'নিষিদ্ধ লোবান'।
• 'যাপিত জীবন' সেলিনা হোসেনের দেশবিভাগ ও ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত উপন্যাস।

• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো-
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী ইত্যাদি।

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। 
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

শওকত ওসমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- বনি আদম,
- জননী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬৭৯.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রথম উপন্যাস রচনা করেন কে?
  1. আহমদ ছফা 
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. আনোয়ার পাশা
  4. শওকত ওসমান 
ব্যাখ্যা

• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত'।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

-------------------
• আনোয়ার পাশা:
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা।
- আনোয়ার পাশাকে ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করে।

আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত।

গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৮০.
বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা-
  1. ক) ছয়দফা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী

৬৮১.
স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রভাবে রচিত কোন উপন্যাসটি?
  1. ক) আগুনের পরশমনি
  2. খ) রুমালি
  3. গ) কুহক
  4. ঘ) নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাসঃ জোসনা ও জননীর গল্প, শ্যামল ছায়া, আগুনের পরশমনি, সূর্যের দিন ও অনিল বাগচীর একদিন।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬৮২.
‘সুদীপ্ত শাহীন’ - কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. যাত্রা
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা

'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দু'রাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

​অন্যদিকে,
- '​যাত্রা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান।
​- 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - বদিউল আলম।
​- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্র হল বিলকিস এবং প্রদীপ

আনোয়ার পাশা:
- তিনি ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডবকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সমালোচক ছিলেন।
- তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬৮৩.
‘কারাগারের রােজনামচা'-
  1. ক) নাটক
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) দিনলিপি
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নামকরণ করেন শেখ রেহেনা। প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
৬৮৪.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. তপু
  2. অপু
  3. মুনিম
  4. ওসমান
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।

- প্রধান চরিত্র -মুনিম। 
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।

• জহির রায়হান:

- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তাঁর 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৮৫.
সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৮৫ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি। হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে। আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।
৬৮৬.
'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মমতাজউদদীন আহমদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. শওকত ওসমান
  4.  সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।
- ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমানের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
• নাটক:
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

• উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহ:
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাংগী
- জাহান্নম হইতে বিদায়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী (এর জন্য তিনি ১৯৯১ সালে ফিলিপস পুরস্কার পান)।
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে (এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)।

অন্যদিকে, 
-----------------
• মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক:
কী চাহ শঙ্খচিল, বর্ণচোরা, বকুলপুরের স্বাধীনতা, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। 

• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক: নরকে লাল লোলাপ, নিঃশব্দ যাত্রা

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৮৭.
'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কী?
  1. জমিলা
  2. জাহেদুল করিম
  3. রৌশনারা
  4. শফিক
ব্যাখ্যা

'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমদ।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনার মূর্তি নির্মাণ করেছেন। আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন নারী নির্যাতনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র "রৌশনারা"।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
- মতাজউদ্দীন আহমেদের 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন।
রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ।
রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান 'লালন' কে নিয়ে সন্দেহ। ৬ বছরের শিশু সন্তান লালনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রৌশনারার স্বামী। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য রৌশনারাকে মানসিক হাসপাতালে পাগল চিহ্নিত করে ভর্তি করিয়ে দেন তার শ্বশুর জনাব আলী সাহেব (৬০)

অন্যদিকে,
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র - জাহেদুল করিম।
- 'সৌরভ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - শফিক।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬৮৮.
‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটির নাম কী?
  1. জীবন থেকে নেয়া
  2. আগুনের পরশমণি
  3. গেরিলা
  4. মুক্তি
ব্যাখ্যা
‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
- ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
- ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ: 
- এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে বিলকিস নামের এক নারীকে নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি হারায়। তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপকুমার তথা সিরাজের। পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তাদের গুলিতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন রাতের অন্ধকারে লাশগুলো দাফন করতে গিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বিলকিস প্রতিবাদে অবিচল থাকে।

উৎস: ‘নিষিদ্ধ লোবান’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৮৯.
মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক নয় কোনটি?
  1. বর্ণচোরা
  2. নরকে লাল গোলাপ
  3. কী চাহ শঙ্খচিল
  4. বকুলপুরের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক নয়- নরকে লাল গোলাপ।

- “নরকে লাল গোলাপ” মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটির রচয়িতা- আলাউদ্দিন আল আজাদ।
-------------------
• মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

• মমতাজউদদীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোরা,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; যুগান্তর পত্রিকা,রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১০ জানুয়ারি, ২০২৪।
৬৯০.
'যে অরণ্যে আলো নেই' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ 
  2. উপন্যাস 
  3. গল্পগ্রন্থ 
  4. নাটক 
ব্যাখ্যা

• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'যে অরণ্যে আলো নেই' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে।

--------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম হলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- নীলিমা ইব্রাহিমের পুরো নাম ছিল নীলিমা রায় চৌধুরী।
- তিনি ১৯২১ সালের ১১ জানুয়ারি খুলনার বাগেরহাটে জমিদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাক,
- কেয়াবন সঞ্চারিনী,
- বহ্নিবলয়।

উৎস বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৯১.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ‘মানচিত্র’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. আল মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম।  

⇒ উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:  
• তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়), 
• কর্ণফুলী (আদিবাসীদের নিয়ে), 
• শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন, 
• ক্ষুধা ও আশা। 

⇒ উল্লেখযোগ্য নাটক: 
• নরকে লাল গোলাপ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),  
• মরক্কোর যাদুকর, 
• ধন্যবাদ, 
• মায়াবী প্রহর, 
• নিঃশব্দ যাত্রা। 

⇒ কাব্যগ্রন্থ: 
• মানচিত্র (স্মৃতিস্তম্ভ কবিতা),
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ‘মানচিত্র’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ।
  
• ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।   

⇒ গল্পগন্থ:
• জেগে আছি,
• ধানকন্যা,
• জীবন জমিন।   

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৯২.
মুক্তিযুদ্ধ নির্ভর রচনা কোনটি?
  1. নূরলদীনের সারা জীবন
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. বুকের ভিতর আগুন
  4. নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা

জাহানারা ইমাম রচিত "বুকের ভিতর আগুন" মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।
উপন্যাসটি ১৯৯০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• জাহানারা ইমাম:
- মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে ১৯২৯ সালে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী নামে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর লেখা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিহরণময় ও মর্মস্পর্শী ঘটনা বর্ণনা করে।
- মৃত্যু: ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন, আমেরিকার মিশিগান স্টেট, ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস। 

অন্যদিকে,
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন। রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'নন্দিত নরকে' হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৯৩.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক? 
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. কী চাহ শঙ্খচিল
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. জীবন আমার বােন
ব্যাখ্যা

• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমেদ।  
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কি চাহ শঙ্খচিল’ নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানাের বেদনা মূর্তি নির্মাণ করেছেন।
- আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের (বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ধর্ষিত ও নির্যাতিত নারীদের জন্য একটি খেতাব) নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।
- আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাস্তবে বীরাঙ্গনার অবস্থার নাটকীয় উপস্থাপনা দেখা যায় নাটকটিতে।

অন্যদিকে,
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বােন'।
- 'নেকড়ে অরণ্য' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা আনোয়ার পাশা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৯৪.
ভাষা আন্দোলন বিষয়ক প্রথম সাহিত্য সংকলন প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৫৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রথম সাহিত্য সংকলন একুশে ফেব্রুয়ারী প্রকাশিত হয়। তবে এটি প্রকাশের মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় সরকার তা বাজেয়াপ্ত করে৷ (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৬৯৫.
‘জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল’ গল্পগ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. প্রেম ও বিরহ
  2. গ্রামীণ জীবন
  3. রোমান্টিক কবিকল্পনা
  4. যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতা
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

• জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল:
- 'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ।
- এই সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এই গল্পগ্রন্থে ৫টি গল্প সংকলিত হয়েছে।

• এগুলো হলো:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

তাঁর রচিত ছোটগল্প: 
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।
তাঁর রচিত উপন্যাস-
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।

৬৯৬.
একুশে ফেব্রুয়ারী নিয়ে প্রথম গান কোনটি?
  1. আমাার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী
  2. ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়
  3. ভুলবো না ভুলবো না, একুশে ফেব্রুয়ারী
  4. কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
ব্যাখ্যা
- একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ. ন. ম. গাজীউল হক।
- গানটির প্রথম চরণ- 'ভুলবো না ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না'।
- ৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আরমানিটোলা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- ১৯৫৩-৫৪ সাল পর্যন্ত ওই গানটি গেয়েই প্রভাতফেরি করা হতো।
- গানটির সুরকার ছিলেন গাজীউল হক নিজেই। 

- “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি।” - এই গানটি রচনা করেছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- এটি প্রথমে সুর করেন - আবদুল লতিফ এবং বর্তমানে যে সুরে গাওয়া হয়, তা করেছেন - আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৯৭.
'আর্তনাদ' কোন প্রকার সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যনাট্য
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম-আর্তনাদ।
'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬৯৮.
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস-
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. যাপিত জীবন
  3. উৎস থেকে নিরন্তর
  4. কাঠকয়লার ছবি
ব্যাখ্যা

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে। সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ।

- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।

- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কন্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

 সেলিনা হােসেন রচিত উপন্যাসসমূহ:
• ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।

• ‘কাকতাড়ুয়া’ (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন ।

• ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ । চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

• 'কাঠকয়লার ছবি' (২০০১): এটি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে রচিত।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ:
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি বিষয়বস্তুর পেক্ষাপটে গল্পগুলো রচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি; 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৬৯৯.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
  2. রেইনকোট
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. কলিমদ্দি দফাদার
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। 

• "জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা" উপন্যাস:

- 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' শহীদুল জহির রচিত প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি সর্বপ্রথম ১৯৮৭ সালে হাক্কানী পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর দেশে রাজাকারদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়ন এই নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- সোনায় মোড়ানো হাতের কথাশিল্পী শহীদুল জহিরের এই উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যে এক অভিনব সংযোজন। বাংলা আখ্যানগদ্যের এমন অপূর্ব রূপ ও ভঙ্গি এর আগে তো ছিলই না, এখনও বিরল।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৮৫ সালে একদিন লক্ষ্মীবাজারের শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাসিন্দা যুবক আব্দুল মজিদ রায়সাহেব বাজারে যাওয়ার পথে কারকুন বাড়ি লেন থেকে বের হয়ে নবাবপুর রোডে উঠলে তার ডান পায়ের স্পঞ্জের স্যান্ডেলের ফিতে ফট্ করে ছিঁড়ে যায়। এভাবে এই কাহিনির শুরু। ৬২ পৃষ্ঠা পরে কাহিনির শেষে দেখা যায়, আব্দুল মজিদ দৈনিক ইত্তেফাকে একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে তার বাড়িটি বিক্রি করে লক্ষ্মীবাজার থেকে বসত উঠিয়ে চলে যায়, ফলে তার অস্তিত্বই যেন মুছে যায়। কিন্তু শহীদুল জহির এইটুকু পরিসরে ফুটিয়ে তুলেছেন একাত্তরের নয় মাসে ঢাকা শহরের একটি মহল্লার সমগ্র জীবন। তখন কী ঘটেছিল, তারপর দেশ স্বাধীন হওয়ার দেড় দশক না পেরোতেই আব্দুল মজিদকে কেন তার বসতবাড়ি বিক্রি করে দিয়ে চলে যেতে হলো, এই নিদারুণ প্রশ্নের মধ্যে নিহিত রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির এক নিষ্করুণ বাস্তবতা।

অন্যদিকে, 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ 'জন্ম যদি তব বঙ্গে'। গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• আবুজাফর শামসুদ্দীন 'কলিমদ্দি দফাদার' গল্পটি সংকলিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গল্প-সংকলন 'মুক্তিযুদ্ধের গল্প' থেকে।

উৎস: "জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা" উপন্যাস শহীদুল জহির।
৭০০.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. একাত্তরের ঢাকা (সেলিনা হোসেন)
  2. যে অরণ্যে আলো নেই (নীলিমা ইব্রাহীম)
  3. ফেরারী ডায়েরী (রাবেয়া খাতুন)
  4. কলিমদ্দি দফাদার (আবু জাফর শামসুদ্দীন)
ব্যাখ্যা
• 'ফেরারী ডায়েরী' গ্রন্থের রচয়িতা- আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই 'ফেরারী ডায়েরী'। 

অন্যদিকে, 
• একাত্তরের ঢাকা: 
- সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' একটি প্রবন্ধ। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- সেলিনা হোসেন রচিত একাত্তরের ঢাকা একটি সংকলন গ্রন্থ। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ লা মার্চ থেকে। 
-  শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।
- এ বইয়ে ২২টি শিরোনামে তিনি বিভিন্ন বিষয় এনেছেন।

• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• ‘কলিমুদ্দিন দফাদার’ - আবু জাফর শামসুদ্দিন রচিত গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।