বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য

মোট প্রশ্ন৭৪৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৭৪৮

৩০১.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হব' কালজয়ী এই উক্তির রচয়িতা কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. জহির রায়হান
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান:
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্যে একটি সুপরিচিত নাম।
- এদেশের চলচ্চিত্রেরও তিনিই প্রথম সফল নির্মাতা।
- তিনি ১৯৩৩ সালে ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনে জহির রায়হান যোগ দেন একজন সক্রিয় ও সাহসী কর্মী হিসেবে। তখন তিনি ছিলেন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র।
- তিনি ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় কারাবরণ করেন।
- ১৯৫৫ সালে শহীদ দিবস পালনের প্রস্তুতি, সরকারী বাধা ইত্যাদি অবরুদ্ধতাকে কেন্দ্র করে ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসের পটভূমি রচিত।
- জহির রায়হানের ’আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসের কাহিনী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। কাহিনীর স্থিতিকাল মাত্র তিন দিন দুই রাত।
- আরেক ফাল্গুন উপন্যাসের নায়ক মুনিম। মুনিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা।
- সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতিময়তা এই উপন্যাসের সূচনাকে করেছে তাৎপর্যময় এবং বর্ণনায় প্রকৃতির পরিচর্যা কাহিনীকে করেছে সংকেতময়।
- মেঘের গতি উত্তর থেকে দক্ষিণে আর মুনিমের গতি দক্ষিণ থেকে উত্তরে।
- বর্ণনার এই সংকেতময় ইংগিতটি শৈল্পিক। উপন্যাসের শেষাংশে বর্ণনায় এই ইংগিত আরও সম্ভাবনাময় ও সুদূরপ্রসারী বলে মনে হয়েছে।
- যেমন- নাম ডেকে ডেকে তখন একজন একজন করে ছেলেমেয়েদের ঢোকানো হচ্ছিল জেলখানার ভেতরে। নাম ডাকতে ডাকতে হাঁফিয়ে উঠেছিলেন ডেপুটি জেলার সাহেব।
- এক সময় বিরক্তির সঙ্গে বললেন, ''উহ অত ছেলেকে জায়গা দেব কোথায়? জেলখানাতো এমনি ভর্তি হয়ে আছে''।
- ওর কথা শুনে কবি রসুল চিৎকার করে উঠল, ''জেলখানা আরও বাড়ান সাহেব। এত ছোট জেলখানায় হবে না''।
- আর একজন বলল, ''এতেই ঘাবড়ে গেলে নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হব''।

 
উৎস: দৈনিক জনকণ্ঠ।  [লিঙ্ক]
৩০২.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।' এ গানের প্রথম সুরকার কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. আসাদ চৌধুরী
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত (একুশের গান) শিরোনামের  গান: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি।
• হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
• গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে।
• ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বলতে বোঝানো হয়েছে- যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৩.
'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতাটির রচয়িতা -
  1. আবুল হাসান
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ'  রচনা করেন 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ'।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- ১৯৫৬ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন। 
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• কবিতাটির কয়েকটি লাইন হলো:

আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে- এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে, মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার। আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম? একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতা।
৩০৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দিনলিপি 'ফেরারী ডায়েরী' রচনা করেন কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. জাহানারা ইমাম
  4. রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা
'ফেরারী ডায়েরী' গ্রন্থ:
- গ্রন্থটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ
- গ্রন্থটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের দিনলিপি নিয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের আলোকে রচনা করেন 'ফেরারী ডায়েরী।''

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। 
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন সাহিত্যকর্মটি উপন্যাস নয়?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. খাঁচায়
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ শামসুল হকের লেখা কালজয়ী  মুক্তিযুদ্ধের কাব্যনাট্য ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’।
- ১৯৭৬ সালের ২৫ নভেম্বর, ঢাকার মহিলা সমিতি মঞ্চে প্রথম অভিনীত হয়েছিল কালজয়ী এ কাব্যনাট্য।
- যুদ্ধ চলাকালে একটি খণ্ড ঘটনা নিয়ে এই কাব্যনাট্যের কাহিনী।
- এই ঘটনায় স্বাধীনতা প্রাপ্তির কথা বলা হয়নি তবে জাতীয় পতাকা দিয়ে স্বাধীনতা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিসমাপ্তি টানা হয়েছে।
- মুক্তিযুদ্ধে জীবনদান করা বা জীবন বাঁচানোর কৌশল এই নাটকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
- বাস্তবতা কত নির্মম ছিল ভয়াবহ সেই দিনগুলোয়, তার একটি চিত্র এখানে পাওয়া যায়।
এছাড়া, 
- রাইফেল রোটি আওরাত, হাঙর নদী গ্রেনেড ও খাঁচায় এই তিনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এগুলোর রচয়িতা যথাক্রমে আনোয়ার পাশা, সেলিনা হোসেন ও রশীদ হায়দার।

উৎস: দৈনিক কালের কণ্ঠ। [লিঙ্ক]
৩০৬.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির বর্তমান সুরকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আপেল মাহমুদ
  3. গাজী আনোয়ার
  4. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আলতাফ মাহমুদ:
- আলতাফ মাহমুদ একাধারে একজন সংগীতশিল্পী, সুরকার, সংস্কৃতিকর্মী, চিত্রশিল্পী, ভাষাসৈনিক ও স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির প্রথম সুরকার আব্দুল লতিফ হলেও পরবর্তী সময়ে আলতাফ মাহমুদের সুরটিই গৃহীত হয়।
- এই সুরটি ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তাঁর চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’তে ব্যবহার করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তাঁর বাসায় গোপন ক্যাম্প স্থাপন করেন।
- বাংলা সংস্কৃতি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য ১৯৭৭ সালে আলতাফ মাহমুদকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।
৩০৭.
“একটি কালো মেয়ের কথা” গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. মাহমুদুল হক
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' :
-'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটির রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- উপন্যাসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।
- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
- জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে : '... এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভালো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।'

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ’একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাস ।
৩০৮.
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) মৌলিক মুখোশ
  2. খ) মানুষের মানচিত্র
  3. গ) বাতাসে লাশের গন্ধ
  4. ঘ) দূরে আছো দূরে
ব্যাখ্যা
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙক্তিটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' এর অন্তর্গত। 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

বাতাসে লাশের গন্ধ
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন। (সংক্ষিপ্ত) 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- উপদ্রুত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আদেশ
- মৌলিক মুখোশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০৯.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কার রচনা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. রফিক আজাদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি।

স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার ? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য।

-----------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১০.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. রশীদ করিম
  2. জহির রায়হান
  3. আল মাহমুদ
  4. মাহমুদুল হাসান
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' জহির রায়হানের রচিত একটি উপন্যাস।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১১.
'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. রফিক আজাদের 
  2. হাসান হাফিজুর রহমানের
  3. হুমায়ুন কবিরের 
  4. হাসান আজিজুল হকের 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র:
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়সীমা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সারা বিশ্বে যা কিছু ঘটেছে তার তথ্য ও দলিলপত্র সংগ্রহ এবং সেসবের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস রচনা ও মুদ্রণের দায়িত্ব অর্পিত হয় মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্পের ওপর। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারী থেকে (পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য)।

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্প গ্রহণ করে। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা ও বিকৃতির আশঙ্কা এড়িয়ে যাবার জন্যই ইতিহাস রচনার পরিবর্তে দলিল ও তথ্য প্রকাশকেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে। আর সে প্রকল্পের ফসলই "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র"।

- প্রায় ১৫,০০০ পৃষ্ঠায় ১৫ খণ্ডে এসব দলিলপত্র প্রণয়ন করে ১৯৮২ সালে তা প্রকাশ করা হয়। এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত গবেষক ও সম্পাদকবৃন্দের আক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই দলিলপত্র গ্রন্থমালা।

----------------
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধগুলো হলো:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু

উৎস: 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' গ্রন্থ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১২.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প-
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. দুই সৈনিক
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. জন্ম যদি তব বঙ্গে
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প- জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- এটি শওকত ওসমান রচিত 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে,
- ‘নেকড়ে অরণ্য’- শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।

• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো:
- নেকড়ে অরণ্য,
- দুই সৈনিক,
- জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
- জলাংগী।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,
• শওকত ওসমান রচিত নাটক: তস্কর নস্কর, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, আমলার মামলা।
• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ: ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, পিঁজরাপোল, জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩১৩.
'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে'- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের কার রচনা?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী 
  3. গাজীউল হক
  4. আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে'- বিখ্যাত লাইনগুলোর রচয়িতা আব্দুল লতিফ।

• "ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়" গানটির/কবিতাটির রচয়িতা হলেন কিংবদন্তি গণসংগীত শিল্পী আবদুল লতিফ; এটি তাঁর লেখা এবং সুর করা একটি কালজয়ী গান, যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের আগে রচিত হয়েছিল এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
কথা: আব্দুল লতিফ
সুর: আব্দুল লতিফ

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে
ওরা কথায় কথায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমাদেরই হাতে-পায়ে
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়

-––––––––––––––––––
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য:
• চট্টগ্রামে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী লেখেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি'।
• ঢাকায় কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ লেখেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতির মিনার'।

ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অসংখ্য গান রচিত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এবং গাজীউল হক রচিত 'ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না' – এই গান দুটি ভাষার চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগকে অমর করে রেখেছে। এছাড়া, ভাষা আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন কবি-গীতিকার যেমন: শামসুল হক, শামসুর রাহমান প্রমুখের গান ও কবিতা রয়েছে যা এই আন্দোলনকে স্মরণীয় করে রেখেছে। 

এছাড়া ভাষা আন্দোলনের সময় আরও অনেক গান রচিত হয়েছিল যা 'একুশে সংকলন' (১৯৫৩) এর মতো সংকলনে প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে অনেক কবি-গীতিকার অংশ নিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়' গান। 

৩১৪.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  2. কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  3. কবর
  4. কী চাহ শঙ্খচিল
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা - কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি (মাহবুব উল আলম চৌধুরী)।
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক হলো - মুনীর চৌধুরী রচিত - 'কবর'।
- ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ - সেলিনা হোসেন রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস।

অন্যদিকে,
'কী চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।
- যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়।
- আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি। 

তথ্যসূত্র: The Daily Star বাংলা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১৫.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ছোটগল্প ‘একুশের গল্প’-এর মুখ্য চরিত্র কোনটি?
  1. তপু
  2. আজাদ
  3. রফিক
  4. তুহিন
ব্যাখ্যা

• জহির রায়হান:
- বাংলাদেশে জহির রায়হান এক বহুমুখী বিরলতম প্রতিভা। 
- তিনি বাংলাদেশের এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব; যিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে সংগ্রামের চেতনতর সত্তা হিসেবে ছোটগল্প, উপন্যাস এবং চলচ্চিত্রে সদর্থকভাবে ব্যবহার করেছেন।
- জহির রায়হান একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে বেশকিছু গল্প রচনা করেছেন।
- এসব গল্পে তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তথ্যকে যেমন তুলে ধরেছেন; তেমনই ফুটিয়ে তুলেছেন একুশের সম্ভাবনা এবং আবেগকে।
- জহির রায়হানের বিখ্যাত একটি গল্পের নাম ‘একুশের গল্প’।
- একটি প্রতীকাশ্রিত গল্প। 
- গল্পটির মুখ্য চরিত্র তপু।
- অন্যন্য চরিত্র: রেণু ও রাহাত।
- গল্পের বিন্যাসে পরিলক্ষিত হয়: চার বছর আগে হাইকোর্টের মোড়ে মাথায় গুলি অবস্থায় পুলিশ যে তপুকে নিয়ে গিয়েছিল চার বছর পরে একটি মাথার কঙ্কালের খুলিতে ছিদ্র দেখে তপুর বন্ধু রাহাত চিনতে পারে তপুকে।
- কঙ্কালের মধ্যে তপুকে নতুন করে পাওয়ার কামনা, অনুভব করার আনন্দবোধ এবং তারই পাশাপাশি হৃদয়ের যন্ত্রণার রক্তক্ষরণ অনন্যতা পেয়েছে।

» জহির রায়হানের অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- সোনার হরিণ
- সময়ের প্রয়োজনে
- একটি জিজ্ঞাসা
- হারানো বলয়
- বাঁধ

তথ্যসূত্র: পত্রিকা প্রতিবেদন । (লিংক)

৩১৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. শওকত ওসমান
  3. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা

'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ:
- এটি শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ের সব গল্প স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিকায় ১৯৭১-১৯৭২ সনে লিখিত ও প্রকাশিত।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী,
- প্রস্তর ফলক,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩১৭.
‘একাত্তরের ঢাকা’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. জাহানারা ইমাম
  3. রাজিয়া খানম
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

» একাত্তরের ঢাকা:
- সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ঘটনা শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।
- একাত্তরের নয় মাসে কত কি ঘটেছে তার নানা ধরণের বিবরণ আছে এ বইয়ে। বিভিন্ন শিরোনামে তিনি বিভিন্ন বিষয় এনেছেন।

• সেলিনা হোসেন:
- কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন, রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭ সালে বিএ অনার্স এবং ১৯৬৮ সালে এমএ পাস করেন।
- তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক হন।
-  ২০ বছরেরও বেশি সময় ধান শালিকের দেশ পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
» তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে।
 
» তার রচিত গল্প:
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা,
- মৃত্যুর নীল পদ্ম ইত্যাদি।
 
তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও পত্রিকা প্রতিবেদন।

৩১৮.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. জাহিদুল কবির খোকা
  2. সুদীপ্ত শাহীন
  3. রায়হান 
  4. বদিউল আলম
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- 'জীবন আমার বোন' দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো-
- রঞ্জু,
- মুরাদ,
- ইয়াসিন,
- রহমান,
- লুলু চৌধুরী।

অন্যদিকে, 
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস: 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) আনোয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুতপূর্ণ চরিত্র।

• 'যাত্রা' উপন্যাস: শওকত আলী রচিত 'যাত্রা' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।'যাত্রা' উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র অধ্যাপক রায়হান। 

• 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস: হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস আগুনের পরশমণি। এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।
---------------
• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- জীবন আমার বোন,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- চিক্কোর কাবুল,
- খেলাঘর,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।

৩১৯.
এম. আর. আখতার মুকুল রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের বর্ণমালা
  2. একাত্তরের নিশান
  3. একাত্তরের কথামালা
  4. একাত্তরের রণাঙ্গন
ব্যাখ্যা

• 'একাত্তরের বর্ণমালা':
- 'একাত্তরের বর্ণমালা' মূলত এম. আর. আখতার মুকুল রচিত ও মাহমুদা খানম রেবা সহযোগিতায় প্রকাশিত একটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি গ্রন্থ । 
- গ্রন্থটি 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চরমপত্র'-এর অংশবিশেষ নিয়ে লেখা, যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের নানা ঘটনা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা বর্ণমালার অক্ষরের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।  যা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের দলিল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। 

----------------------
• এম আর আখতার মুকুল:
- এম আর আখতার মুকুল ছিলেন একজন সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।

- জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে। পুরো নাম মুস্তাফা রওশন আখতার মুকুল। পিতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক সা’দত আলি আখন্দ, মাতা রাবেয়া খাতুন। 

- মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন পরিদর্শন শেষে তাঁর রচিত এবং স্বকণ্ঠে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমে তাঁকে বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নিয়োগ করা হয়। 

- ১৯৭২ সালে তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ চাকরি হারিয়ে অনেক বছর তিনি লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- একাত্তরের বর্ণমালা,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি,
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি।

অন্যান্য অনশনগুলোর বিশ্লেষণ, 
• 'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের লেখন- রাবেয়া খাতুন।
• 'একাত্তরের কথামালা' গ্রন্থের লেখন- বেগম নূরজাহান। 
• 'একাত্তরের রণাঙ্গন' গ্রন্থের লেখন- শামসুল হুদা চৌধুরী। 

উৎস: একাত্তরের বর্ণমালা' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া 

৩২০.
ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা কোনটি? 
  1. কোন এক মাকে
  2. অমর একুশে
  3. কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  4. মাগো ওরা বলে
ব্যাখ্যা

• কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি: 
- 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' একুশের প্রথম কবিতা।
- কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি ১৭ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় কবিতাটি ছাপা হয়।
- বইটির দাম রাখা হয় দুই আনা।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান। 

অন্যদিকে,
- মাগো ওরা বলে কবিতাটি এটি একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে উপজীব্য করে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত।
- এ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, মায়ের ছেলেরা কী করে মাতৃভাষার মানরক্ষা করতে গিয়ে বুক পেতে দেয়। আর ফিরে আসে লাশ হয়ে।
- অমর একুশে কবিতাটি এটি একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে উপজীব্য করে হাসান হাফিজুর রহমান রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩২১.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য হিসেবে অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা?
  1. ক) আগুনের পরশমণি
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. ঘ) অনিল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা

দুইভাবে আলাদা করা যেতে পারে।
১)  'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজ উদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক এবং বাকিগুলো উপন্যাস।
২) গ অপশনটি ছাড়া বাকী তিনটির (উপন্যাস) রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩২২.
‘যাত্রা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. রশীদ হায়দার
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• ‘যাত্রা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা শওকত আলী।

• যাত্রা:
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই 'যাত্রা'।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা 'যাত্রা' উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কালের ঘটনার শিল্পরূপ।
- 'যাত্রা' উপন্যাস মূলত যুদ্ধে আক্রান্ত নগরবাসীর আত্মরক্ষার্থে পলায়ন এবং আশ্রয়ের শেষ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তারা প্রতিরোধের চেতনায় উজ্জীবিত।

• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'অন্ধ কথামালা' রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'ফেরারী সূর্য' রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস, শওকত আলী।
৩২৩.
জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৬৫
  2. ১৯৬৬
  3. ১৯৬৭
  4. ১৯৬৮
  5. ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।
 
• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন, 
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।
 
জহির রায়হান রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো: 
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৪.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অমর একুশে
  2. মানচিত্র
  3. শহিদ মিনারে
  4. সোনালি কাবিন
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ। 
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মহান একুশে নিয়ে এটি তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

স্মৃতিস্তম্ভ,
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার ।

লেখকের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র (১৯৬১)
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২)

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৫.
১৬ ডিসেম্বর ২০২২ মুক্তি পাওয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) একাত্তরের জয়গান
  2. খ) স্বাধীনতার ৫০ বছর
  3. গ) অপরাজেয় বাংলা
  4. ঘ) জয় বাংলা
ব্যাখ্যা
১৬ ডিসেম্বর ২০২২ মুক্তি পায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘জয় বাংলা'।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক কাজী হায়াৎ।

ততথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, জানুয়ারি ২০২৩।
৩২৬.
অমর একুশের প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ক) বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।
  2. খ) স্মৃতিস্তম্ভ
  3. গ) কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি।
  4. ঘ) একুশে ফেব্রুয়ারি।
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা - 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি'।
- কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকায় ছাপা হয় কবিতাটি। 

- প্রথম নির্মিত শহীদ মিনার ধ্বংসের প্রতিবাদে আলাউদ্দিন আজাদ লিখেন 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি। 
- একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- 'বর্ণমালা, আমার দুঃখীনি বর্ণমালা' কবিতাটি শামসুর রাহমানের 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থের অন্তুর্গত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৭.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় -
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. উপমহাদেশ
  3. একুশের গল্প
  4. কবর
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় - উপমহাদেশ
- এটি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন।
• জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ছোটগল্প - একুশের গল্প।
• মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক - কবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৮.
মোদের গরব মোদের আশা/ আ-মরি বাংলা ভাষা'- চরণ দুইটির রচয়িতা কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. অতুল প্রসাদ সেন
  3. প্রতুল মুখোপাধ্যায়
  4. আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
‘মোদের গরব, মোদের আসা আ মরি বাংলা ভাষা’- চরণ দুইটির রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন।
- বিখ্যাত গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে।

অতুলপ্রসাদ সেন: 
- তিনি ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন৷
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশটি৷ 
- তাঁর রচিত গানের সঙ্কলনের নাম 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৯.
'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. খোয়ারি
  2. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  3. দুধেভাতে উৎপাত
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা

• 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ-
মিলির হাতে স্টেনগান গল্পটির প্রেক্ষাপট বাহাত্তর বা তিয়াত্তর সালের ঢাকা শহর। মা, বাবা, দুই ভাই ও এক বোন নিয়ে মিলিদের পরিবার। বড় ছেলে রানা একজন মুক্তিযোদ্ধা। অস্ত্র জমা দেয়নি সে, নিজের কাছেই লুকিয়ে রেখেছে তার স্টেনগানটি।

না, দীর্ঘ নয় মাসের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দোদুল্যমান প্রতিটি মুহূর্তের বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে অস্ত্রটির প্রতি একান্ত ভালবাসা থেকে স্টেনগানটি রেখে দেয়নি রানা, বরং এই অস্ত্রটিকেই বর্তমানে টিকে থাকার অবলম্বন হিসেবে এখনো সযত্নে আগলে রেখেছে সে।

অবশ্য শুধু টিকে থাকার ব্যাপারে সাহায্য করাই যে স্টেনগানটির মূল লক্ষ্য, তা কিন্তু নয়। বরং মাঝেমধ্যে আনকোরা নতুন টিভি সেট বা অন্য কোনো গৃহসজ্জার উপকরণ হস্তগত করার কাজেও যে অস্ত্রটি এখনো সফল পার্শ্বচর হিসেবে রানার সাথে সাথে অবস্থান করে, গল্পটি পড়ে তা বুঝতে বেগ পেতে হয় না।

কিন্তু যত সমস্যা বাঁধাচ্ছে আব্বাস পাগলা। এই ‘থরোব্রেড বাস্টার্ড’টা নির্লজ্জের মতো রানার কাছে তার সাধের স্টেনগানটা চেয়ে বসে। আব্বাস পাগলার ভাষ্যমতে, চাঁদের মধ্যে নাকি দখলদার বাহিনী ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। সেই হানাদারদের গুষ্টির পিণ্ডি চটকানোর জন্য রানার স্টেনগানটাই যথেষ্ট আব্বাস পাগলার জন্য।

--------------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি, 
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্প; 'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩৩০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. ক) চাষী নজরুল ইসলাম
  2. খ) আলমগীর কবির
  3. গ) সুভাষ দত্ত
  4. ঘ) নাসির উদ্দীন ইউসুফ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রটির পরিচালক- 'আলমগীর কবির'  

ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩)
- এটির নির্মাতা আলমগীর কবির।
- ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়।
- সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরও গভীরভাবে মর্মাহত হয়।
- অভিনয়ে বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান আছে এ ছবিতে।

আরো উল্লেখযোগ্য কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। 
সংগ্রাম 
- এটি নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- এর গল্প নেওয়া হয়েছে সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফের ডায়েরি থেকে।
- এতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও অন্যান্য বাহিনীর বীরত্বগাথা চিত্রিত হয়েছে।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন সুচন্দা, খসরু।

 অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২)
- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চলচ্চিত্র ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’।
- কাহিনিতে পাকিস্তানি নৃশংসতার বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রতিরোধযুদ্ধের কথা আছে।
- এখানে একজন ধর্ষিতা নারীকে একজন অভিনেতা স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।

একাত্তরের যীশু (১৯৯৩)
- চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
- শাহরিয়ার কবিরের উপন্যাস থেকে এর কাহিনি নেওয়া হয়েছে।
- অভিনয় করেছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন ফরীদি, জহির উদ্দিন পীয়ার, আবুল খায়ের, আনোয়ার ফারুক, কামাল বায়েজীদ, শহীদুজ্জামান সেলিম।

ওরা ১১ জন (১৯৭২)
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’।
- এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, এ টি এম শামসুজ্জামান, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- সিনেমায় অভিনয় করা ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার ১০ জনই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন।
- তাঁদের মধ্যে আছেন খসরু, মুরাদ, হেলাল, নান্টু। ছবির নামটি প্রতীকী।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্ররা ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন করে।
- এখান থেকে ছবির নামকরণ হয়েছে ‘ওরা ১১ জন’।

উৎস: প্রথম আলো- তারিক মনজুর, শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩১.
কোনটি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক দিনলিপি গ্রন্থ?
  1. ফেরারী ডায়েরী
  2. একাত্তরের দিনগুলি
  3. ফেরারী সূর্য
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
• মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিদিনের ঘটনাবলী নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত দিনলিপি হচ্ছে ‘ফেরারী ডায়েরী’।

------------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

অন্যদিকে,
• ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
• রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - ফেরারী সূর্য।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ‘নরকে লাল গোলাপ’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩২.
'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংকলন গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিনা হোসেন
  4. রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের ঢাকা':
- সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ঘটনা শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।
- একাত্তরের নয় মাসে কত কি ঘটেছে তার নানা ধরণের বিবরণ আছে এ বইয়ে। বিভিন্ন শিরোনামে তিনি বিভিন্ন বিষয় এনেছেন।
- একটি-দু'টি উদাহরণ এমন : 'মার্চের পঁচিশ দিন : পাকিস্তান সরকার বনাম বঙ্গবন্ধু সরকার, কাক ও ডোমদের শহর, রুদ্ধশ্বাসের দিনগুলো ইত্যাদি।

-------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

অন্যদিকে,
• ‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমাম রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক অসাধারণ ডায়েরি (দিনলিপি) গ্রন্থ।
• ‘একাত্তরের ডায়েরী’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিকথাটির রচয়িতা সুফিয়া কামাল।

উৎস: ‘একাত্তরের ঢাকা’ সংকলন গ্রন্থ সেলিনা হোসেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৩.
'কারাগারের রোজনামচা' বইটি ইংরেজিতে কে অনুবাদ করেন?
  1. ক) ড. হাবিবুর রহমান
  2. খ) ড. মুনজুরুল করিম
  3. গ) ড. ফকরুল আলম
  4. ঘ) ড. ফরহাদ রেজা
ব্যাখ্যা
- 'কারাগারের রোজনামচা' বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন 'ড. ফকরুল আলম'

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।

•এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

•নামকরণ করেন শেখ রেহেনা
প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।

- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
৩৩৪.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জহির রায়হান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ 'আর্তনাদে বিবর্ণ' এর রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. ড. মযহারুল ইসলাম
  3. শামসুর রহমান
  4. সৈয়দ হাদী আহসান
ব্যাখ্যা
প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম (১ জুলাই ১৯২৯ - ১৪ নভেম্বর ২০০৩)
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোকাচারবেত্তা, লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, লোকতাত্ত্বিক, লোকবিজ্ঞানী, কবি-কথাশিল্পী-সংগঠক ও শিল্পপতি।
- তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- মাটীর ফসল
- বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি
- আর্তনাদে বিবর্ণ
- যেখানে বাঘের থাবা
- অপরাহ্ণে বিবস্ত্র প্রাতরাশ
- দুঃসময়ের ছড়া
- উজানে ফেরার প্রতিধ্বনি

উৎস: বাংলা কবিতার ব্লগ ও দৈনিক পত্রিকা
৩৩৬.
'কবর' নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জহির রায়হান
  3. আনিস চৌধুরী
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক - কবর।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।
- এটি এক অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- কবর নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৭.
'কাবিলের বোন' উপন্যাসে বড় ক্যানভাসে উপস্থাপন করা হয়েছে-
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. গণঅভ্যুত্থান
  3. ৭২এর নির্বাচন
  4. শেখ মুজিবের ৬দফা
ব্যাখ্যা
•  'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব-মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

----------------
• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কাবিলের বোন' উপন্যাস।
৩৩৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল কোনটি?
  1. একাত্তরের যিশু — অজয় দাশগুপ্ত
  2. একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম
  3. একাত্তরের বর্ণমালা — শামসুল হুদা 
  4. একাত্তরের বিজয়গাথ — সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল: একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম।

• ‘একাত্তরের দিনগুলি’:
- ‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমামের লেখা একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দিনপঞ্জি। 
- বইটিতে তিনি ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, বেদনা এবং ছেলের (শহীদ রুমী) স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
- এটি মূলত একটি দিনলিপি, যেখানে প্রতিদিনের ঘটনা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ আছে।
- বইতে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র, হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, সাধারণ মানুষের জীবন, এবং গেরিলাদের কার্যক্রমের বর্ণনা রয়েছে
- জাহানারা ইমাম তার শহীদ পুত্র রুমীর আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো উল্লেখ করেছেন, যা একজন মায়ের গভীর শোক ও সংগ্রামের সাক্ষ্য দেয়।
- গ্রন্থে দেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বাধীনতার প্রতি ন্যায়বিচার এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিত্রও ফুটে উঠেছে।
- এটি কেবল একটি বই নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা, একজন মায়ের ত্যাগ এবং দেশপ্রেমের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
----------------------------------------
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম (১৯৩৫-২০০৩) বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন অগ্রগামী নারী।
- যিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদ রুমীর মা হিসেবে নয়;
- বরং পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সাহসী ভূমিকার জন্যও সুপরিচিত।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ছেলে, রুমী, স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশ নেয়।
- রুমীর আত্মত্যাগের কারণে তিনি ‘শহীদ জননী’ হিসেবে জনসাধারণের কাছে পরিচিত।

অন্যদিকে, 
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উল্লেখযোগ্য বাংলা সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে :
- একাত্তরের যাত্রী — আজয় দাশগুপ্ত;
- একাত্তরের যিশু — শহরয়ার কবির;
- একাত্তরের যাত্রী — শাহরিয়ার কবির;
- একাত্তরের বিজয়গাথা — মেজর রফিকুল ইসলাম;
- একাত্তরের ডায়েরি — বেগম সুফিয়া কামাল;
- একাত্তরের বর্ণমালা — আখতার মুকুল;
- একাত্তরের রণাঙ্গন — শামসুল হুদা;

উৎস:  
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩৩৯.
সেলিনা হোসেন রচিত 'যাপিত জীবন' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ১৯৭২ এর নির্বাচন
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- সেলিনা হোসেন রচিত 'যাপিত জীবন' উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন।
- এই উপন্যাসের নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। এই উপন্যাসের কাহিনির পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র। এই উপন্যাস মূলত প্রতীকী ভাবনায় বাংলা ও বাঙালির শেকড় ও অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে। জাফর হয়ে ওঠে বাঙালির বলিষ্ঠ কণ্ঠের উৎসারণ।

•  তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

 •তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনুঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস।
৩৪০.
“বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা” - কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান রচিত বিখ্যাত কিছু কবিতা:
- ''হাতির শুড়'' - - স্বৈরশাসক আয়ুব খানকে বিদ্রুপ করে লেখা,
- ''টেলেমেকাস'' - - ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কারাবন্দী হলে তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা,
- ''বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা'' - - ১৯৬৮ সালে অভিন্ন রোমান হরফে পাকিস্তানের সব ভাষার বর্ণমালা লেখার প্রস্তাব করার প্রেক্ষিতে লেখা।
- ''আসাদের শার্ট'' - - গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গুলিতে আসাদ নিহত হলে তার রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল দেখে,
- ''স্বাধীনতা তুমি'', ''তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা'' ইত্যাদি।

উৎস: শামসুর রাহমানের কবিতা সংকলন ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪১.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. যাপিত জীবন
  3. আর্তনাদ
  4. নিয়ন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস- জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন। 
---------------
• 'আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- ‘আরেক ফাল্গুন’ জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
গল্পটির কাহিনী ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাগুলোকে স্মরণ করার মধ্যদিয়ে আবর্তিত হয়েছে। গল্পটির মূল কাহিনীতে  ১৯৫৫ সালের ফেব্রুয়ারির কাহিনী বলা হয়েছে। উপন্যাসে দেখানো হয়েছে কিভাবে ছাত্ররা পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বাধা উপেক্ষা করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানায়। প্রধান চরিত্র মুনিম এবং তার সঙ্গী ছাত্রনেতারা সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে। গল্পের সময়কাল মাত্র তিন দিন ও দুই রাত, কিন্তু তা ভাষা আন্দোলনের চেতনা, ছাত্রদের অদম্য সাহস এবং স্বাধীনতার আশা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। 
------------------- 
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব,
- ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।
-----------------------------
অন্যদিকে,
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস:
- যাপিত জীবন – সেলিনা হোসেন (১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রেক্ষাপট)।
- আর্তনাদ – শওকত ওসমান (ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি)।
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি – সেলিনা হোসেন (ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপট)। 

উৎস:
'আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৩৪২.
'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পটি কার লেখা? 
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা
• ‘মিলির হাতে স্টেনগান’ গল্পটির লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প: 
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৩.
'পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
  4. এম এ আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি' গ্রন্থটি রচনা করেন - বদরুদ্দীন উমর

বদরুদ্দীন উমর:
- ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত পান।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪৪.
মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি বিষয়ক গল্পগ্রন্থ "জন্ম যদি তব বঙ্গে" এর রচয়িতা কে?
  1. আনিসুল হক
  2. সেলিনা হোসেন
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ গল্পগ্রন্থ:
- ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি বিষয়ক একটি গল্পগ্রন্থ।

শওকত ওসমান:
- তিনি কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। 
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

শওকত ওসমান রচিত নাটক:
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ গল্পগ্রন্থ।
৩৪৫.
মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. কালঘোড়া
  2. জীবন আমার বোন
  3. নূরলদীনের সারাজীবন
  4. কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত তৃতীয় উপন্যাস ‘জীবন আমার বোন’।  প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে, সাহিত্য প্রকাশ থেকে।

- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ যুগসন্ধিক্ষণের ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে এই উপন্যাসে। পটভূমি ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের ঢাকা শহর।

- উপন্যাস এগিয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল কবির খোকার বয়ানে। ‘জীবন আমার বোন’ মুক্তিযুদ্ধকালীন উপন্যাস হয়েও শুধুমাত্র একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়। বরং দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে এটি হয়ে যায় মানবজাতির চিরন্তন স্বাধীনতার এক আখ্যান।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
১ মার্চ প্রেসিডেন্টের ভাষণে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। যতদিন যেতে থাকে, বাড়তে থাকে উত্তেজনা। সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত হয়ে ওঠে খোকার বয়সী তরুণেরা। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের জল্পনা-কল্পনা, কাঠের ডামি রাইফেল হাতে কুচকাওয়াজ। সমান্তরালে চলতে থাকে রঞ্জু-খোকার পারিবারিক জীবন। এর মধ্যেই ঘটে যায় আসন্ন যুদ্ধ পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক সব ঘটনাবলী- অসহযোগ আন্দোলন, জাহাজে করে চট্টগ্রামে পাকিস্তানী সৈন্যের আগমন, নতুন গভর্নর টিক্কা খান, ৭ই মার্চের ভাষণ, জয়দেবপুরে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি, ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় চলতে থাকা মিছিল-মিটিং-জনসভা। সমগ্র দেশ যেন ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিকে।

খোকার দৃষ্টি দিয়ে আমরা দেখি বারুদের স্তুপে পরিণত হওয়া ঢাকা শহরকে, যার সলতেয় স্ফুলিঙ্গ লাগে ২৫ মার্চ কালরাতে। গণহত্যা শেষে ২৭ মার্চ ঠিক মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মুহূর্তেই শেষ হয় উপন্যাস। যদিও শেষ দু’পাতায় বর্ণিত হয়েছে যুদ্ধ শেষে চরিত্রগুলোর পরিণতি।
 
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য চরিত্র:
- খোকার ছোট বোন রঞ্জু,
- বন্ধু মুরাদ-ইয়াসিন-রহমান,
- মুরাদের বড় বোন লুলু চৌধুরী,
- খোকার পরিচিত রাজীব ভাই এবং তার দুই স্ত্রী।

অন্যদিকে, 
• 'কালঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি উপন্যাস। 
• 'কাবিলের বোন' কবি আল মাহমুদ রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি উপন্যাস।
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাটক 'নূরলদীনের সারাজীবন'। 

উৎস: ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৬.
কোনটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ?
  1. বাংলাদেশ কথা কয়
  2. নাম না জানা ভোর
  3. চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  4. শেষ রাত্রির চাঁদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ কথা কয়:
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
• সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
• এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন। 
-----------------------------------
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা ।
৩৪৭.
'যাত্রা' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
  4. ত্রিভুজ প্রেম
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস যাত্রা।
- এই উপন্যাসে যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' এর রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

সৈয়দ শামসুল হক:
- ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাসটি পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশে অবস্থানরত তাদের বংশধর বিহারী দের কতৃক নির্যাতিত ও হত্যাকৃত হাজারো মুক্তিকামী জনতার প্রতিচ্ছবি।
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (১২ আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪৯.
‘১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চের কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যা’র বর্ণনা রয়েছে আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  2. দেয়াল
  3. জীবন
  4. সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
• দেয়াল (উপন্যাস):
- আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘দেয়াল’।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। 
- আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর ‘দেয়াল’ উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে।
- সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে। 

অন্যদিকে,
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।

================
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৩৫০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. আর্তনাদ
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. খাচাঁয়
  4. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - খাচাঁয়
- এটি রশীদ হায়দার রচনা করেন।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।
• জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন।
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. 'আর্তনাদ' উপন্যাস, শওকত ওসমান;
৩. জাগোনিউজ২৪.কম
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১৪ অক্টোবর, ২০২০।
৩৫১.
'আয়নায় বন্ধুর মুখ' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. নীলামা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
- "আয়নায় বন্ধুর মুখ" মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটির রচয়িতা আবদুল্লাহ আল মামুন।
- এটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পথ হারানো তারুণ্য, ঘরের বাইরে বাঙালি মেয়েদের সীমাবদ্ধতা- এসবই ছিল আয়নায় বন্ধুর মুখ-এর উপজীব্য।

• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৫২.
কোনটি রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ফেরারী সূর্য
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. দ্রৌপদী
  4. অদ্ভুত আঁধার এক
ব্যাখ্যা
⇒ 'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
• রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত। 
• ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাস বিষয়ে রাজিয়া খান বলেন: আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুটা লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

⇒ রাজিয়া খান:
• রাজিয়া খান ১৯৩৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
• রাজিয়া খান এম.এ. পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর কর্মজীবনের শুরু করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে। 
• পরবর্তীতে ইংল্যান্ড থেকে ফিরে তিনি অবজারভার পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীতে যোগ দেন এবং নিয়মিত ভাবে ব্যঙ্গ কলাম- 'কালচার কেটল' লেখা শুরু করেন। 
• পঞ্চাশ দশকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুরাগী ও প্রগতিবাদী লেখিকা হিসেবে লেখালেখি করেছেন রাজিয়া খান। বাংলাদেশের উপন্যাসে নারীভাবমূর্তি সৃষ্টিতে নারী লেখকদের মধ্যে তাই আকিমুন রহমান তাকে প্রথম দিককার একজন মনে করেন।
• আর ১৫ বছর বয়সেই পুরোদস্তুর উপন্যাস লিখতে শুরু করেন তিনি, আর ১৮ বছর বয়সেই লেখা হয়ে যায় ‘বট তলার উপন্যাস’। ১৮ বছর বয়সে তাঁর লেখা 'বটতলার উপন্যাস' জনপ্রিয়তা পায়।
•  তিনি খুব বেশি লিখে গিয়েছেন তেমন নয়, কিন্তু যা লিখে গেছেন তাতে জটিলায়তন নগরজীবন-অন্তর্গত ব্যক্তিমানুষের নৈঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্নতা ও আত্মরক্তক্ষরণের শিল্পরূপায়ন করেছেন।

অন্যদিকে,
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।
- ‘ফেরারী সূর্য’ রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস রাজিয়া খান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৩.
অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন ও আওয়ামী লীগ নেতা জামাল সাহেব কোন উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. ক) রাইফেল রোটি আওরাত
  2. খ) নদী নিঃশেষিত হলে
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা
• রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আনােয়ার পাশা যুদ্ধকালে যুদ্ধের ভয়াবহতা এই উপন্যাসে লিখেছেন, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা দেখতে পারেননি। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্থানিরা। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে।
- রাইফেল রোটি আওরাত’ নামটিতেই উর্দুর গন্ধ। যদিও শব্দগুলো বাংলা ভাষায় পরিচিত তবুও লেখক এই তিনটি শব্দে বুঝিয়েছেন পাকিস্থানিদের হীন মানসিকতাকে।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন, আওয়ামী লীগ নেতা জামাল সাহেব, কমিউনিস্টকর্মী বুলা এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে: ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত প্রমুখ।


• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা কবি, কথাসাহিত্যিক, সমালোচক ও শিক্ষাবিদ।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন সিনিয়র লেকচারার ছিলেন।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৪.
'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে
  2. দেশ ভাগের পটভূমিতে
  3. মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে
  4. বঙ্গভঙ্গের পটভূমিতে
ব্যাখ্যা
• 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে উপন্যাসটি উৎসর্গ করা হয়।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ- 
বসন্তের এক নিষ্ঠুর ভোরে মুখ ভেঙে রাশেদ দেখতে পায় ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল জুড়ে নেমে এসেছে অন্ধকার-ঘোষিত হয়েছে সামরিক শাসন; তার পাঁচ বছরের মেয়ে মৃদু ইস্কুলে গিয়েছিল, কিন্তু তাকে যেতে দেয়া হয়নি, মিলিটারিরা রাইফেল উঁচিয়ে তাকে বাধা দেয়, সে এই অদ্ভুত মানুষদের দেখে রাস্তা থেকে চোখ আর বুক ভ’রে দুঃস্বপ্ন নিয়ে ঘরে ফিরে আসে। রাশেদের হৃদয়ের মতো ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল আর মৃদুর কাজলাদিদি লুপ্ত হয়ে যায় কর্কশ অশ্লীল সামরিক অন্ধকারে। তবে এই প্রথম সামরিক গ্রাসে পড়েনি তার নষ্টভ্রষ্ট দেশটি, রাশেদের বাল্যকাল আর যৌবন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানি সামরিক গ্রাসে, এখন তার উত্তরাধিকারীর জীবনও পড়ে সামরিক গ্রাসে। 

---------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না,
- বুকপকেটে জোনাকি পোকা,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫৫.
’১৯৭১’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. জীবনান্দ দাশ
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
’১৯৭১’ হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
-------------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ :
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলায়।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

• হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্র:
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শ্যামল ছায়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫৬.
'কাবিলের বোন' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. মাহমুদুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব- মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কাবিলের বোন' উপন্যাস।
৩৫৭.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' কোন গ্রন্থের বিখ্যাত সংলাপ?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. কবর
  3. স্মৃতির মিনার
  4. আর্তনাদ
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন।
ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা  দ্বিগুণ হবো' - এই উপন্যাসের সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন,
 -আসাদ,
- রসুল,

• জহির রায়হান: 
- তিনি ১৯শে আগস্ট ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান কলকাতায় মিত্র ইনিস্টিউটে এবং পরে আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।
- জহির রায়হান ১৯৬১ সালে প্রথম ছবি হিসেবে ‘কখনো আসে নি’ পরিচালনা করেন।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। 
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ করেন।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি।
- তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো:
- তৃষ্ণা, 
- শেষ বিকেলের মেয়ে, 
- হাজার বছর ধরে, 
- আরেক ফাল্গুন, 
- বরফ গলা নদী, 
- আর কতদিন, 
- কয়েকটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫৮.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অরণ্যবহ্নি
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. কালিন্দী
  4. অভিযান
ব্যাখ্যা
একটি কালো মেয়ের কথা:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত উপন্যাস একটি কালো মেয়ের কথা রচনা করেছিলেন শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
• উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে :
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভালো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।'

• এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। 

অন্যদিকে,
- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'কালিন্দী’ নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- ‘অভিযান’ উপন্যাসে মফস্বল অঞ্চলের ট্যাকসি ড্রাইভারেদের জীবন চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

=========
⇒ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসগ্রন্থ।
৩৫৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  2. আর্তনাদ
  3. স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. দুই ব্রিগেডিয়ার
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ নয়- আর্তনাদ।
- এটি শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। 
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' - শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ।
• 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজ উদ্দিন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক৷
• 'দুই ব্রিগেডিয়ার'- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধের গল্প।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬০.
মুক্তিযুদ্ধ-কেন্দ্রিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) দুই সৈনিক
  3. গ) রাইফেল রোটি আওরাত
  4. ঘ) নীল ময়ূরের যৌবন
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস- দুই সৈনিক (১৯৭৩), নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), জাহান্নাম হইতে বিদায়, জলাঙ্গী ইত্যাদি। রাইফেল রোটি আওরাত - আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস। শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - 'যাত্রা'' যা ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। ‘নীল ময়ূরের যৌবন’ সেলিনা হোসেনের উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩৬১.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. একুশের গল্প
  3. কবর
  4. জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় - জীবন আমার বোন
- এটি মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন।
• জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ছোটগল্প - একুশের গল্প।
• মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক - কবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬২.
‘সুদীপ্ত শাহীন’ কোন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. জলাংগী
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দু'রাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

আনোয়ার পাশা:
- তিনি ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডবকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সমালোচক ছিলেন।
- তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬৩.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে রচিত উপন্যাস?
  1. মায়ের কাছে যাচ্ছি
  2. আমার যত গ্লানি
  3. খোয়াবনামা
  4. প্রসন্ন পাষাণ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস:

• রশীদ করীম রচিত 'আমার যত গ্লানি' উপন্যাস মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। 
• এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
• এটি উত্তম পুরুষে রচিত। 
• এই উপন্যাসের এরফান চৌধুরী নামের এক মধ্যবিত্তের আত্মগ্লানি দেখানো হয়েছে।
• স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিক অস্থিরতাকে আশ্রয় করে তিনি এটি রচনা করেন। 
• এতে ১৯৪৭ সাল থেকে ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালের মধ্যকার কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে।
• উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ঢাকার একটি বহুজাতিক ফার্মের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির এরফান চৌধুরী।
• উল্লেখ্য, 'মায়ের কাছে যাচ্ছি' ও ‘প্রসন্ন পাষান’ উপন্যাসের লেখক- রশীদ করীম।
• রশীদ করীমের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘উত্তম পুরুষ’ (১৯৬১)।
• 'খোয়াবনামা' আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩৬৪.
'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২ - ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১লা জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারী"। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী, 
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬৫.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. খ) পায়ের আওয়াজ পাওয়ার যায়
  3. গ) আগুনের পরশমণি
  4. ঘ) অনিল বাগচির একদিন
ব্যাখ্যা
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

অন্যদিকে,
• কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচির একদিন।
• সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস “হাঙর নদী গ্রেনেড”।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬৬.
"এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি" এর রচয়িতা-
  1. জহির রায়হান
  2. গাফ্ফার চৌধুরী
  3. শামসুর রাহমান
  4. মাহবুব আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ - এই কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট 'ভাষা আন্দোলন'।
------------------ 
• কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা:   
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গুলি চালিয়ে হত্যা করে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিলরত তরুণদের। সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
মাহবুব উল আলম চৌধুরী তখন অসুস্থ; তাঁর শরীরে জলবসন্তের চিহ্ন। রাত জেগে তিনি লিখলেন আগুনঝরা কবিতা: ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।
--------------- 
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী:
- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী  ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জন্ম ৭ নভেম্বর ১৯২৭, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের আসাদ চৌধুরীর বাড়িতে। 

---------------
কবিতার কিছু অংশ:

এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে
রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
যেখানে আগুনের ফুলকির মতো
এখানে-ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ
সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।
আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।
যে শিশু আর কোনোদিন তার
পিতার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার
সুযোগ পাবে না
----------------  
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩৬৭.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চৈতালী ঘূর্ণি
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  4. কালিন্দী
ব্যাখ্যা

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

---------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬৮.
‘একটি কালো মেয়ের কথা’ নিচের কোন ঔপন্যাসিকের রচনা?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ইমদাদুল হক মিলন
  3. শওকত আলী
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

» 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।
 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
 
» তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 
 
» তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা।
 
তথ্যসূত্র:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৬৯.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. যাত্রা
  2. অলাতচক্র
  3. নিষিদ্ধ লোবান
  4. যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস ‘যুদ্ধ’। নারী ঔপন্যাসিক রচিত উপন্যাস হওয়ায় ‘যুদ্ধ’ অপশনে উল্লেখিত অন্য গুলো থেকে ভিন্ন।

⇒ 'যুদ্ধ' উপন্যাস:
• 'যুদ্ধ' ১৯৭১ সালে সংঘটিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
• লেখক এ উপন্যাসে যুদ্ধের বিভিন্ন মাত্রা অনুসন্ধানে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, মনন এবং কল্পনাশক্তির ব্যবহার করছেন। তিনি যুদ্ধের প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছেন ব্যক্তির বেঁচে থাকার সঙ্কট, মূল্যবোধের রূপান্তর, ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুষঙ্গে আঘাত, মৃত্যু, স্বজন হারানোর বেদনার ভেতর দিয়ে।
• তিনি যুদ্ধের দেশীয় প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছেন একটি সেক্টরের সরাসরি যুদ্ধকে চিত্রিত করে এবং অগণিত মানুষের যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও যুদ্ধ সম্পর্কিত দেশজ-ঐতিহ্য সংলগ্ন ভাবনার ভেতর দিয়ে।
• এ উপন্যাসে একটি চরিত্র আছে। যার কোনো নাম নেই। 'লোকটি' অভিধায় যে দেশের সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়। অস্ত্রচালনার ট্রেনিং নেয়- যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধাদের পাশে পাশে থাকে । গ্রামে, গঞ্জে, শহরে, মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। পুরো উপন্যাস জুড়ে সে একটি প্রতীকী চরিত্র।

অন্যদিকে,
⇒ 'যাত্রা' উপন্যাস:
• শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
• ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’। প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
• ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান ।

⇒ 'অলাতচক্র' উপন্যাস: 
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়। 
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।
- এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ। 

⇒ ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; কালের কণ্ঠ রিপোট; ‘যুদ্ধ’ উপন্যাস সেলিনা হোসেন।

৩৭০.
নিচের কোনটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. কবর
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. স্মৃতিস্তম্ভ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় - রাইফেল রোটি আওরাত
- এটি আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন।
• মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক - কবর।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা - স্মৃতিস্তম্ভ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. অলাতচক্র
  2. ওঙ্কার
  3. গাভী বিত্তান্ত
  4. অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
ব্যাখ্যা
• "অলাতচক্র" উপন্যাস:
- আহমেদ ছফা অলাতচক্র উপন্যাসটি প্রথম লিখেছিলেন ১৯৮৫ সালে সাপ্তাহিক 'নিপুণ' পত্রিকার ঈদ সংখ্যায়। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে মুক্তধারা থেকে বই আকারে প্রকাশ করেন পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে।
 
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচনার দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনকারী দেশসমূহের স্বার্থের দিকটি তিনি দেখতে চেয়েছেন।

- অলাতচক্র মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রিত লেখক দানিয়েল ও ক্যান্সারে আক্রান্ত তাইয়্যেবার মধ্যকার অস্ফুট ভালবাসা, মানসিক টানাপোড়েন, যুদ্ধ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখা একটি উপন্যাস। বাংলাদেশের যুদ্ধ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির এত ভিন্নতা খুব সম্ভবত আর কোথাও এভাবে আসে নি।

এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- তায়েবা,
- জাহিদুল,
- দানিয়েল প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ওঙ্কার: ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।
• 'গাভী বিত্তান্ত' বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও লেখক আহমদ ছফা রচিত একটি বাস্তবিক গভীর পর্যবেক্ষণে রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। গাভী বিত্তান্ত উপন্যাসে চিত্রায়িত হয়েছে একজন উপাচার্যের গোলামি আর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির নোংরা কদর্য রূপ। 
• আহমদ ছফা 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাসের প্রথম খণ্ডটি প্রেমজ অঙ্গীকার নিয়েই প্রেমের কথা বলেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭২.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য?
  1. বন্দী শিবির থেকে
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  4. তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়':
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১লা মে থেকে ১৩ই জুন, ১৯৭৫; লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড শহরে, আর প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭৬ সালে। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

অন্যদিকে, 
• "বন্দী শিবির থেকে" হলো বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি শামসুর রাহমান রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এতে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের আবেগ, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। 

• "পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা" একটি নাটক, যা লিখেছেন বিখ্যাত লেখক শওকত ওসমান। নাটকটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়। 
• 'তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা' কবি শামসুর রাহমান রচিত একটি কাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭৩.
'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।
- নাটকটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকটি মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত এবং এতে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।  
 
-------------------
শওকত ওসমান:
- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাঙ্গী। 
- জাহান্নাম হইতে বিদায়। 

• নাটক:
- তস্কর লস্কর, 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা, 
- কাঁকর মণি, 
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটক।
৩৭৪.
শওকত ওসমানের 'আর্তনাদ' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. ভাষা আন্দোলন 
  3. তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ
  4. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আর্তনাদ'।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭৫.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ওঙ্কার
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা

• 'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে। পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে
পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস-  চিলেকোঠার সেপাই।
• আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
• শামসুর রাহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ- বন্দী শিবির থেকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭৬.
নিচের কোনটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য নয়?
  1. ক) স্মৃতিস্তম্ভ
  2. খ) নরকে লাল গোলাপ
  3. গ) কবর
  4. ঘ) আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দুটি বিখ্যাত নাটক  "নিঃশব্দ যাত্রা" ও "নরকে লাল গোলাপ"
- নাটক দুটি দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।

- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা।
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক।
- জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৭৭.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস?
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. একাত্তরের যীশু
  3. খেলাঘর
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
• 'খেলাঘর' উপন্যাস:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মাহমুদুল হক লিখিত উপন্যাস 'খেলাঘর'। 
উপন্যাসটি তিনটি চরিত্রের মধ্যে রেহানা আক্রান্ত, স্কুলমাস্টার মুকুল প্রতিরোধ গড়ছে আর তারই বন্ধু কলেজ-শিক্ষক ইয়াকুব দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

উপন্যাসে মুকুল চরিত্রটি খুব স্পষ্ট। তার চোখ ভরা স্বপ্ন, বুক ভরা সাহস, দেশ স্বাধীন হবেই, গেরিলারা পাক-সেনাদের পরাজিত করবেই। ইয়াকুব চরিত্রটি শুধু দ্বিধাগ্রস্তই নয় অস্পষ্টও। তার দেশপ্রেম আছে অথচ মনে করে- 'এই পরিস্থিতি চুপচাপ বসে থাকা ছাড়া আর কীইবা করার আছে। এক পর্যায়ে তাকে পরিত্যাক্ত এক বাড়ি, আদিনাথের ভিটাকে নির্দেশ করে বেশ দার্শনিকের মতো কথা বলতে শোনা যায়; "কেন যে মানুষ জায়গা-জমি করে, এখন এখানে বাতি জ্বালাবার কেউ নেই, ক'দিনেরই বা সব।"

আর পুরো উপন্যাসজুড়ে রেহানা চরিত্রটি দুর্বোধ্য, তার আচরণ দেখে ইয়াকুবের পাশাপাশি পাঠকও বুঝে উঠতে পারে না, সে মাঝে মাঝেই অযৌক্তিক আচরণ কেন করে। অবশ্য উপন্যাসের একেবারে শেষের দিকে তার কার্যকারণসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়।

--------------
অন্যদিকে,
• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• 'একাত্তরের যীশু' নামের গল্পটি প্রথম ছাপা হয় ১৯৭৩ সালে দৈনিক বাংলা পত্রিকায়। তারপর বাংলা একাডেমির একটা সংকলনে সবশেষ বইয়ে ছাপা হয়েছে ১৯৮৫ সালে। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একটি শান্ত-সুনিবিড় জনপদকে ঘিরে রচিত হয়েছে 'একাত্তরের যিশু'।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ‘নরকে লাল গোলাপ’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং'খেলাঘর' উপন্যাস।
৩৭৮.
মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা কোনটি?
  1. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. ওঙ্কার
  4. জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- বরাবরই মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন এই শিল্পী তাঁর প্রতিটি উপন্যাসে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
- লেখকের অসামান্য উপস্থাপনা, ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ছোট্ট, হৃদয়গ্রাহী উপন্যাসটি যতই পড়া যায় ততই বিষমবেদনায় ভারাক্রান্ত করে।

অন্যদিকে,
- 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস।
- 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমানের উপন্যাস।
- 'ওঙ্কার' আহমদ ছফার উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।
৩৭৯.
'একটি কালো মেয়ের কথা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মাহমুদুল হক
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।

- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
- এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে:
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সবা থেকে ভালো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮০.
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রেক্ষাপটে লেখা ‘শহীদ স্মরণে’ - কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  2. রফিক আজাদ
  3. মোহম্মদ মনিরুজ্জামান
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• মোহম্মদ মনিরুজ্জামান ‘শহীদ স্মরণে’ কবিতাটি লিখেছেন।
---------------------------
• কবিতাটির প্রেক্ষাপট:
- "শহীদ স্মরণে" কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রেক্ষাপটে লেখা।
- এই কবিতায় স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে।
----------------------------- 
কবি পরিচিতি:
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোরের খড়কী পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাহিত্য-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা করেন। পঞ্চাশের দশকের অন্যতম প্রধান কবি মনিরুজ্জামান ১৯৬৯ সালে লন্ডনের International Who’s Who in Poetry থেকে “Certificate of Merit for Distinguished Contribution to Poetry” সম্মাননা লাভ করেন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
--------------------------- 
শহীদ স্মরণে- কবিতার অংশবিশেষ,   

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।
--------------
-------------- 
মা তো কাঁদে না;
মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর
শত্রুহননের আহ্বান।

উৎস:
- ‘শহীদ স্মরণে’ কবিতা, মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।
- বাংলাপিডিয়া।
৩৮১.
'যে অরণ্যে আলো নেই' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গবেষণাগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৮২.
জীবনঢুলী কি?
  1. ক) একটি উপন্যাসের নাম
  2. খ) একটি কাব্যগ্রন্থের নাম
  3. গ) একটি আত্মজীবনীর নাম
  4. ঘ) একটি চলচ্চিত্রের নাম
ব্যাখ্যা
জীবনঢুলী:
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত একটি সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় নিম্নবর্ণের এক ঢাকি জীবনকৃষ্ণ দাস ও তাঁর পরিবারের অভিজ্ঞতার গল্প বলা হয়েছে ‘জীবনঢুলী’ চলচ্চিত্রে।
- বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত ছবিটিতে চুকনগর গণহত্যাকে তুলে ধরা হয়েছে।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'জীবনঢুলী'র পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৩৮৩.
'কী চাহ শঙ্খচিল' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক:

- ‘কি চাহ শঙ্খচিল’ মমতাজ উদ্দীন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক। নাটকে আলোচিত হয়েছে বীরঙ্গনার গল্প।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজ উদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

• মমতাজ উদদীন আহমদ: 
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কি চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

মমতাজ উদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কি চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ‘কি চাহ শঙ্খচিল’ মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৮৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতায় রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছিলেন?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো:
♣ গল্প:
• সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
• আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
• নামহীন গোত্রহীন, 
• পাতালে হাসপাতালে, 
• জীবন ঘষে আগুন। 

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা অপরূপ শিল্পরূপ লাভ করেছে তাঁর ‘নামহীন গোত্রহীন’ গ্রন্থে।

♣ উপন্যাস:
• বৃত্তয়ায়ন,
• আগুনপাখি,
• সাবিত্রী উপাখ্যান,
• শিউলি।

♣ প্রবন্ধ:
• কথাসাহিত্যের কথকতা,
• অপ্রকাশের ভার,
• কথা লেখা কথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮৫.
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ কী ধরনের উপন্যাস?
  1. দেশভাগ নিয়ে রচিত
  2. প্রতিবাদমূলক
  3. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
ব্যাখ্যা

‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
---------------------------------------------
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’:
- সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ জীবনের চিত্র তুলে ধরে।
- উপন্যাসে একটি মায়ের দেশপ্রেম এবং সন্তানের জন্য ত্যাগের গল্প বলা হয়েছে;
- যেখানে মা তার সন্তানকে বাঁচাতে নিজের একমাত্র সন্তানকে উৎসর্গ করেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। 
-------------------------------------------
সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। 
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’,
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’,
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩৮৬.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) নেকড়ে অরণ্য
  2. খ) ফেরারী সূর্য
  3. গ) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  4. ঘ) নীল দংশন
ব্যাখ্যা
• ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ‘নীল দংশন’।
- 'ফেরারী সূর্য' রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা। 

অন্যদিকে,
‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ হচ্ছে সেলিনা হোসেন রচিত ভাষা আন্দোলন বিষয়ক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৮৭.
"জাহিদুল কবির খোকা" - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্র করে রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস -
  1. জীবন আমার বোন
  2. কালো বরফ
  3. খেলাঘর
  4. যাত্রা
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

অন্যান্য চরিত্র:
- মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।

মাহমুদুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৮.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1.  কবর
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. একুশের গল্প
  4. জীবন থেকে নেওয়া
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন,
- আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।

------------------
• 'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

• 'একুশের গল্প' (জহির রায়হান):
- জহির রায়হানের অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম 'একুশের গল্প'। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।
- গল্পের প্রধান চরিত্র তপু, রেণু ও রাহাত। এক উদ্দাম, প্রাণবন্ত তরুণ ভাষা শহিদ হয়; কিন্তু পুলিশ তাঁর লাশ গুম করে ফেলে। পরবর্তীতে তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে। এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি (২য় খণ্ড) থেকে নেওয়া হয়েছে।

• জীবন থেকে নেওয়া:
- 'জীবন থেকে নেওয়া' জহির রায়হান পরিচালিত একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র যা ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তি পায়।
- চলচ্চিত্রটি পারিবারিক আবহে নির্মিত হলেও এর অন্তর্নিহিত পটভূমি ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম।
- ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৮৯.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'আগুনের পরশমণি' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. রোমাঞ্চকর উপন্যাস
  2. সামাজিক উপন্যাস
  3. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৯০.
‘নামহীন গোত্রহীন’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. শওকত ওসমান
  3. রশীদ হায়দার
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থ:
- হাসান আজিজুল হক রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থটির প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৭৫ সালে।
- সাতটি গল্পে সমন্বিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত গ্রন্থটির গল্পগুলিতে মানুষের বিপর্যয়ের চরম দুর্দশার চিত্রটি অঙ্কন করা হয়েছে, দেখানো হয়েছে পশ্চিম পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত আচরণকে।

---------------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থ।
৩৯১.
“জীবন থেকে নেয়া” চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জহির রায়হান
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. আমজাদ হোসেন
ব্যাখ্যা
জীবন থেকে নেয়া: পারিবারিক গল্পের আড়ালে বলা এক রাষ্ট্রের গল্প:
- ১৯৭০ সালে নির্মিত জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেয়া’।
- সিনেমাটিতে মূলত সাধারণ এক পারিবারিক গল্পের আড়ালে এক রাষ্ট্রের গল্পই বলা হয়েছে। বলা হয় পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার এবং সংগ্রামের কথা।
- তাই এ সিমেটিকে সবাই আমাদের মুক্তির আন্দোলনেরই একটা বড় অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।
- এটিই ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও একুশ নিয়ে নির্মাণ হওয়া প্রথম সিনেমা।
- ছবির একটি অনবদ্য দৃশ্য হলো একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরীতে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার দৃশ্য। বাস্তব সেই দৃশ্য ১৯৭০ সালের ২১ ফেব্র‚য়ারি থেকে নেওয়া।
- এ সিনেমাতেই অমর একুশের ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি যেমন ছিল, ঠিক তেমনি নজরুলের কারার এ লৌহ কপাট গানটিও ব্যবহৃত হয়েছিল।
- ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান সরকার হাস্যকরভাবে রেডিও টিভিতে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার নিষিদ্ধ করে দেয়।
- এর মাত্র কয়েক বছর পরই জহির রায়হান তার সিনেমাটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটিকে প্রথমবারের মতো কোনো সিনেমায় ব্যবহার করেন।
- ১৯৫২ থেকে ১৯৭০ এ সময়ের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। একগুঁয়ে স্বৈরচারি শাসকের অত্যাচারের প্রতিবাদে সকলকে এক হবার আহবানে জাতীয়তাবাদ ও দেশাত্মবোধকে একই সাথে তুলে ধরেছেন। 

অপশনে সঠিক উত্তর দুইবার থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক। [লিঙ্ক]
৩৯২.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা?
  1. একগ্লাস অন্ধকার
  2. কালোঘোড়া
  3. বাতাসে লাশের গন্ধ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' রচিত 'বাতাসে লাশের গন্ধ' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।
- ইমদাদুল হক মিলন রচিত 'কালোঘোড়া' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর।
- পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য—উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- গল্প,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ ও
- একগ্লাস অন্ধকার উলে­খযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৩.
"কী চাহ শঙ্খচিল" মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত কী ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ গবেষণা
ব্যাখ্যা
• "কী চাহ শঙ্খচিল" নাটক:
- "কী চাহ শঙ্খচিল" নাটকের রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমেদ।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনা মূর্তি নির্মাণ করেছেন।আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মতাজউদ্দীন আহমেদের ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন। রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ। রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান লালনকে নিয়ে সন্দেহ। 

উৎস: "কী চাহ শঙ্খচিল" নাটক মমতাজউদ্দীন আহমেদ
৩৯৪.
আসাদ গেট কোন স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়?
  1. ক) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. খ) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ১৯৬৯ সালের ২০ ই জানুয়ারি ১১ দফা দাবি আদায়ের প্রেক্ষিতে গণ-আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
গণ-আন্দোলনটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে হওয়ায় ঢাকাবাসী আসাদের স্মৃতি রক্ষার্থে আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে রাখেন আসাদগেট।
প্রতিবছর ২০ জানুয়ারি আসাদ দিবস পালিত হয়।

৩৯৫.
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শওকত ওসমান
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• আমি বীরাঙ্গনা বলছি (প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ):
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

--------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• তাঁর নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৯৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. রেইনকোট
  2. সাড়ে তিন হাত ভূমি
  3. বর্ণচোরা
  4. বকুলপুরের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' উপন্যাস:
- একটি কবরের আয়তন কত? এই প্রশ্নের উত্তর, 'সাড়ে তিন হাত ভূমি'। জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে এটিও উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাস।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৭১ সাল, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে, সময়টা বর্ষাকাল। আগরতলায় ট্রেনিং নিয়ে একদল মুক্তিযোদ্ধা ঢুকেছেন বাংলাদেশে। এই দলে আছেন রবি। ঢাকায় গেরিলা অপারেশন শুরু হওয়ার আগে দুদিনের জন্য এসেছেন এসেছেন নিজেদের গ্রামে। বিকেলবেলা বাড়িতে ঢুকে দেখেন উঠোনে পড়ে আছে বাবার লাশ, বসার ঘরে মায়ের লাশ, বোনের লাশ তার ঘরে, সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীর লাশ পেছন দিককার উঠোনে। এই দেখে অনুভূতিহীন হয়ে যান রবি। এক সময় উঠোনে কবর খুঁড়তে শুরু করেন। যখন যার কবর খুঁড়ছেন, ঢুকে যাচ্ছেন তার স্মৃতির ভেতর। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' একেবারেই অন্য মাত্রার উপন্যাস।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- জিন্দাবাহার,
- নিঝুম নিশিরাতে,
- যাবজ্জীবন,
- কালাকাল,
- কালো ঘোড়া,
- ভূমিপুত্র,
- পরাধীনতা,
- কে,
- তাহারা,
- ভূতের নাম রমাকান্ত কামার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তি নাটক- বর্ণচোরা, বকুলপুরের স্বাধীনতা। 

উৎস: 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩৯৭.
'নরকে লাল গোলাপ'-মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মমতাজউদ্দিন আহমদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক — 'নরকে লাল গোলাপ' ।

• আলাউদ্দিন আল আজাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দুটি বিখ্যাত নাটক:
-  "নিঃশব্দ যাত্রা" ও "নরকে লাল গোলাপ"। 

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
 
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  
 
কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 
 
গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৮.
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ গ্রন্থে মূলত কাদের আগমনের পদধ্বনিকে বোঝানো হয়েছে?
  1. পাক হানাদার বাহিনীর
  2. ব্রিটিশ সেনাদের
  3. মুক্তিবাহিনীর
  4. শান্তিবাহিনীর
ব্যাখ্যা

'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য:
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধবিষয়ক কাব্যনাট্য। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক মূলত একজন লেখক ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৫ সালে ২৭ ডিসেম্বর; কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯৯.
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জলাংগী
  2. আর্তনাদ
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম- আর্তনাদ।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ- এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

- অপেক্ষাকৃত দুর্বল মেরুদণ্ডটির ভাঙন শুরু হলো একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে। যার ফলপ্রসূ সমাপ্তি ঘটল একাত্তরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এ ভূখণ্ডে শহুরে সভ্যতার সূচনালগ্নের তরুণ আলী জাফর এই উপন্যাসের ব্যক্তি চরিত্র। আলী জাফরের মতো তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে শত শত মানুষ, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো-
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী ইত্যাদি।

------------------
শওকত ওসমান রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো- 
• উপন্যাস:
- জননী,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- আর্তনাদ,
- রাজপুরুষ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- মনিব ও তাহার কুকুর,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী। 

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ভাব ভাষা ভাবনা,
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর। 

• নাটক:
- আমলার মামলা,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- মস্কুইটোফোন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট,
- পঞ্চসঙ্গী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'আর্তনাদ' উপন্যাস শওকত ওসমান।
৪০০.
“বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা” কবিতার রচয়িতা-
  1. সুফিয়া কামাল
  2. শামসুর রাহমান
  3. আল মাহমুদ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

- "বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা" ১৯৬৮ সালে অভিন্ন রোমান হরফে পাকিস্তানের সব ভাষার বর্ণমালা লেখার প্রস্তাব করার প্রেক্ষিতে শামসুর রাহমান রচনা করেন।

• শামসুর রাহমান: 

- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে'-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। 
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে। 
- 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' নামে বিখ্যাত কবিতা লিখেন তিনি।
- "বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা" ১৯৬৮ সালে অভিন্ন রোমান হরফে পাকিস্তানের সব ভাষার বর্ণমালা লেখার প্রস্তাব করার প্রেক্ষিতে লেখা।

•  শামসুর রাহমান রচিত বিখ্যাত কিছু কবিতা: 
- "হাতির শুড়" স্বৈরশাসক আয়ুব খানকে বিদ্রূপ করে লেখা। 
- "টেলেমেকাস" ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কারাবন্দী হলে তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা। 
- "আসাদের শার্ট" গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গুলিতে আসাদ নিহত হলে তার রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল দেখে লেখা। 
- "স্বাধীনতা তুমি", "তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা" ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ: 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- অন্ধকার থেকে আলোয়, 
- হরিণের হাড়, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

তথ্যসূত্র: শামসুর রাহমান এর কবিতা সংকলন; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।