বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য

মোট প্রশ্ন৭৪৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৭৪৮

১০১.
'অধ্যাপক রায়হান' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. আগুনের পরশমণি
  4. যাত্রা
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'যাত্রা' উপন্যাস।
১০২.
‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’— ভাষা আন্দোলনভিত্তিক এই কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. শামসুর রাহমান 
  2. হেলাল হাফিজ 
  3. হাসান হাফিজুর রহমান 
  4. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী:
- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী  ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জন্ম ৭ নভেম্বর ১৯২৭, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের আসাদ চৌধুরীর বাড়িতে। 
--------------- 
• কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা:   
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি ১৭ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় কবিতাটি ছাপা হয়।
- বইটির দাম রাখা হয় দুই আনা।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।

---------------
কবিতাটির কিছু অংশ:

এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে
রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
যেখানে আগুনের ফুলকির মতো
এখানে-ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ
সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।
আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।
যে শিশু আর কোনোদিন তার
পিতার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার
সুযোগ পাবে না। (সংক্ষেপিত)

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতা।

১০৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' গল্পে রেইনকোট বহন করছে-
  1. মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
  2. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
  3. মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা
  4. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' গল্পে রেইনকোট বহন করছে- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। 

'রেইনকোট' ছোটগল্প:

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প: 
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।
তাঁর রচিত উপন্যাস-
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
১০৪.
আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা 
  2. জীবন আমার বোন 
  3. কালো ঘোড়া
  4. কাবিলের বোন
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস "কাবিলের বোন"। পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচেয়ে দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস।

- এই উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।

- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন, নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।

- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান, আন্দালিব -মোমেনা, রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

অন্যদিকে, 
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।

• 'কালো ঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত একটি উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৫.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন 
  2. একুশে ফেব্রুয়ারী
  3. একুশের গল্প
  4. আর্তনাদ
ব্যাখ্যা

• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- 'একুশে ফেব্রুয়ারী' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন। 
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন। এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি। প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

অন্যদিকে, 
• বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
• জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে 'একুশের গল্প' অন্যতম। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০৬.
‘আমার যত গ্লানি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. আনোয়ার পাশা
  3. রশীদ করীম
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
‘আমার যত গ্লানি’ উপন্যাস:
- রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।
- উপন্যাসে এরফান চরিত্রের প্রেক্ষণবিন্দু দিয়ে পাকিস্তান কায়েম থেকে শাসক গোষ্ঠীর শোষণ নিপীড়ন এবং সত্তরের নির্বাচন-উত্তরকালে ভূমিধস বিজয়ী আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে ইয়াহিয়া-ভুট্টোর অনীহা, আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ এবং ঘুমন্ত বাঙালির ওপর বর্বর আক্রমণের চিত্র শহর ও গ্রাম জীবনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

রশীদ করীম:
- রশীদ করীম (১৯২৫-২০১১) বাংলাদেশের প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক। তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস ‘উত্তম পুরুষ’।
- রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।

রশীদ করীম রচিত উপন্যাস:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রষন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ ইত্যাদি।

প্ৰবন্ধ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৭.
"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" গ্রন্থের প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. নীল বিদ্রোহ
  4. গ্রামীণ জীবনে দুঃখ দুর্দশা
ব্যাখ্যা

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:
- এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধের কাব্যনাটক। বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, 
- নুরুলদীনের সারাজীবন, 
- এখানে এখন, 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস, 
- শীত বিকেল, 
- আনন্দের মৃত্যু, 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান, 
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি। 

সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৮.
মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত গান ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ - এর রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আবদুল লতিফ
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার ।
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
- তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন।
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী,
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৯.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো।' -বিখ্যাত সংলাপের স্রষ্টা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো: 
- মুমিন,  
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।
 
তাঁর উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১০.
The Blood Telegram গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. মার্কাস গ্রান্ডা
  2. গ্যারি জে ব্যাস
  3. পল ওয়ালেচ
  4. রিচার্ড সেশন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা বিষয়ে মার্কিন সাংবাদিক ও অধ্যাপক গ্যারি জে ব্যাস রচিত বিখ্যাত বই হলো 'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন-কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগেটেবল জেনোসাইট'।
- এটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়৷
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি গণহত্যা বিষয়ে ঢাকায় কর্মরত তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিকট যে টেলিগ্রাম প্রেরণ করেন তা ব্লাড টেলিগ্রাম নামে পরিচিত।
- এই বিষয়ের আর্চার কে ব্লাড 'দ্য ক্রোয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ' নামে একটি বই লিখেন।

সূত্র: আমাজন এবং বিডিনিউজ২৪।
১১১.
ভাষা আন্দোলকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস-
  1. একুশের গল্প
  2. আর্তনাদ
  3. স্মৃতির মিনার
  4. কবর
ব্যাখ্যা
•  ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত একটি উপন্যাস ’আর্তনাদ’ ।
• এটি ঔপন্যাসিক শওকত ওসমান রচিত।
• আর্তনাদ উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ছোটগল্প ’একুশের গল্প’।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা, ’স্মৃতির মিনার’।
- মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক- ’কবর’।
-----------------------------------------------------------
উল্লেখ্য,

• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী;
- জাহান্নাম হইতে বিদায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১২.
মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে আনোয়ার পাশা রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) খোয়াবনামা
  2. খ) রাইফেল রোটি আওরাত
  3. গ) নিষিদ্ধ লোবান
  4. ঘ) রেইনকোট
ব্যাখ্যা
- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৷
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা প্রথম কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।


অন্যদিকে,
- ‘খোয়াবনাম’ মানবজীবনের সংগ্রাম নিয়ে পেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান উলিয়াস রচিত উপন্যাস।
- ‘নিষিদ্ধ লোবান‘ মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।
- ‘রেইনকোর্ট‘ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি গল্প।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৩.
'একাত্তরের দিনগুলি' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে
  2. খ) ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
  3. গ) ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ঘ) ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। 
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
-১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে। ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্ত্তত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১৪.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপাদান নিয়ে রচিত উপন্যাস?
  1. বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
  2. নীল রং রক্ত
  3. অনেক সূর্যের আশা
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
সরদার জয়েনউদ্দীন রচিত উপন্যাস:
- বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ - বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপাদানে রচিত তাঁর একটি বৃহৎ উপন্যাস।
- 'অনেক সূর্যের আশা' উপন্যাসের পটভূমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত।
- 'নীল রং রক্ত' নীল বিদ্রোহের ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাস।

'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' - সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কাব্য নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া ও Live MCQ লেকচার।
১১৫.
পাকিস্তানি শাসনপর্বে বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন -
  1. ক) মহান মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ছয় দফা দাবি আন্দোলন
  3. গ) যুক্তফ্রন্ট আন্দোলন
  4. ঘ) রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপ লাভ করে।
- ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পূর্ব বাংলার বাঙালি এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠী মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস ও আত্মপ্রত্যয় খুঁজে পায়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর পঞ্চাশের দশকব্যাপী ছিল বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিকাল।
- ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
- এ আন্দোলন এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
- বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তোলে।
- পাকিস্তানি শাসনপর্বে এটি বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৮ম শ্রেণি।
১১৬.
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. জহির রায়হান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর পনেরো খণ্ডে রচিত একটি দালিলিক প্রকাশনা।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১৫ খণ্ডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রকাশনা।
- হাসান হাফিজুর রহমান এর সম্পাদনায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র” প্রকাশিত হয়।
- “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র” মোট ১৫টি খণ্ডে ১৯৮২-৮৩ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়।
- এ খণ্ডগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ও তথ্য-উপাত্ত, স্মৃতিচারণা যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি রয়েছে ১৯০৫-৭১ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের বিশাল পটভূমিও।

----------------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারী”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১৭.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাসে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।

• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- নেকড়ে অরণ্য,
- দুই সৈনিক,
- জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
- জলাংগী।

• শওকত ওসমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক:
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১৮.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস রচনা করেন কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. আনোয়ার পাশা
  3. শওকত আলী
  4. মাহমুদুল হাসান
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৯.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক?
  1. বিধ্বস্ত রোঁদের ঢেউ
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. কি চাহ শঙ্খচিল
  4. কালো ঘোড়া
ব্যাখ্যা

• 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কি চাহ শঙ্খচিল' মমতাজ উদ্দীন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক। নাটকে আলোচিত হয়েছে বীরঙ্গনার গল্প।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজ উদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।

- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন। যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি। যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক। নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

অন্যদিকে,
- 'বিধ্বস্ত রোঁদের ঢেউ' সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
- 'রাইফেল রোটি আওরাত' আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
- 'কালো ঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২০.
‘শহীদ স্মরণে’ - কবিতাটি কার লেখা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  3. মোহম্মদ মনিরুজ্জামান
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• মোহম্মদ মনিরুজ্জামান ‘শহীদ স্মরণে’ কবিতাটি লিখেছেন।
---------------------------
কবিতাটির প্রেক্ষাপট:
- "শহীদ স্মরণে" কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রেক্ষাপটে লেখা।
- এই কবিতায় স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে।
----------------------------- 
কবি পরিচিতি:
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোরের খড়কী পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাহিত্য-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা করেন। পঞ্চাশের দশকের অন্যতম প্রধান কবি মনিরুজ্জামান ১৯৬৯ সালে লন্ডনের International Who’s Who in Poetry থেকে “Certificate of Merit for Distinguished Contribution to Poetry” সম্মাননা লাভ করেন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যসমূহ:
• দুর্লভ দিন, 
• শঙ্কিত আলোকে, 
• বিপন্ন বিষাদ, 
• ভালবাসার হাতে, 
• ভূমিহীন কৃষিজীবী ইচ্ছে তার, 
• মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান কাব্য সংগ্রহ, 
• Selected Poems (Honolulu, 1979)।

গানের সঙ্কলন:
• অনির্বাণ, 
• নির্বাচিত গান।
--------------------------- 
শহীদ স্মরণে- কবিতার অংশবিশেষ,   

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।
--------------
-------------- 
মা তো কাঁদে না;
মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর
শত্রুহননের আহ্বান।

উৎস:
- ‘শহীদ স্মরণে’ কবিতা, মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।
- বাংলাপিডিয়া।
১২১.
জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' কী ধরনের উপন্যাস?
  1. ক) প্রেমমূলক
  2. খ) ভাষা আন্দোলনভিত্তিক
  3. গ) মনস্তত্ত্ব ধর্মী
  4. ঘ) গ্রামীণ প্রকৃতি নির্ভর
ব্যাখ্যা

• জহির রায়হান একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
• তাঁর আসল নাম ছিল মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের রচয়িতা জহির রায়হান।
• এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
• এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
• এই উপন্যাসের পটভূমি বায়ান্নর রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলন।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- শেষ বিকেলের মেয়ে (প্রথম উপন্যাস),
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- কয়েকটি মৃত,
- তৃষ্ণা,
- একুশে ফেব্রুয়ারি।

• সূর্যগ্রহণ তাঁর রচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ।

• তাঁর বিখ্যাত চলচ্চিত্রঃ
- কখনো আসেনি (প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র),
- সঙ্গম (বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র),
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেওয়া (বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র; এতে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো - গানটি চিত্রিত করা হয়।),
- বেহুলা,
- সোনার কাজল,
- আনোয়ারা,
- বাহানা ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২২.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ?
  1. কি চাহ শঙ্খচিল
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
- ১৯৯৫ সালে এই গবেষণাগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি যুদ্ধাহত ও নির্যাতিত কয়েকজন বীরাঙ্গনার সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা জীবন ইতিহাস।
- তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা ও মীনার দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে এই গ্রন্থে।
- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।

অন্যদিকে, 
- 'কি চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- 'নেকড়ে অরণ্য' হলো শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১২৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) চিলকোঠার সেপাই
  2. খ) উপমহাদেশ
  3. গ) মৃত্যুক্ষুধা
  4. ঘ) ওল্কার
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতায় রচনা করে গেছেন কালজয়ী দুটি উপন্যাস ‘কাবিলের বোন’ ও ‘উপমহাদেশ’।
নিষিদ্ধ লোবান ও নীল দংশন সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স।

১২৪.
'যাপিত জীবন' উপন্যাসটি কোন ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত?
  1. ভাষা-আন্দোলনের
  2. ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ।
- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।

১২৫.
'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট -
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. দেশভাগ
  4. সমাজের কুসংস্কার
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'অনিল বাগচীর একদিন'।

অনিল বাগচীর একদিন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা।
- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।
- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১২৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামান্য চলচ্চিত্র 'Stop Genocide' এর পরিচালক কে?
  1. আলমগীর কবির
  2. জহির রায়হান
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
Stop Genocide:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide. নির্মাতা জহির রায়হান।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্টক ফুটেজ ও নিউজ রিলের ছবির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় স্টপ জেনোসাইড।
- একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে জহির রায়হান দুনিয়ার মানুষকে বাংলাদেশে চলতে থাকা গণহত্যার খবর জানান দেওয়ার এক বড় দায়িত্ব কাঁধে নেন।
- বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে লেনিনের একটি বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় ছবিটি।
- ২০ মিনিটের এই ছবিতে বাংলাদেশের মানুষ আছে, এর প্রকৃতি আছে, আছে পাকিস্তানিদের অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগের দৃশ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো।
১২৭.
কোনটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. বিবাহ
  2. কি চাহ শঙ্খচিল
  3. ঘর মন জানালা
  4. দূর্যোগ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক সাহিত্যমালা:
- ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ এসেছে বেশ কিছু উপন্যাসে।
- এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য আতহার আহমেদের 'উন্মোচন' ও 'পিপাসা'।
- দিলারা হাশেমের 'ঘর মন জানালা', বাঙ্গাল আবু সাঈদের 'ব্যতিক্রম', আবু রুশদের 'নোঙর', আনিস সিদ্দিকীর 'মন না মতি', রাবেয়া খাতুনের 'রাজাবাগ শালিমার বাগ' ও আবদার রশীদের 'লঘুমেঘ'। 
- ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে এবং এ আন্দোলনকে বিষয় করে লেখা প্রথম গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস ১৯৬৯ সালে জহির রায়হানের প্রকাশিত 'আরেক ফাল্গুন'।
- এই উপন্যাসকে একুশের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ১৯৮১ সালে প্রকাশিত সেলিনা হোসেনের 'যাপিত জীবন' একুশের ঘটনাভিত্তিক উল্লেখযোগ্য আরেকটি উপন্যাস।

- ভাষা আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠার সময়েই এ বিষয়ে নাটক লেখা হয়েছে। ১৯৫১ সালে লেখা আসকার ইবনে শাইখের নাটকটির নাম 'দুর্যোগ'।
- আসকার ইবনে শাইখ ভাষা আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের নিয়ে লিখেছেন আরেকটি নাটক। নাটকটির নাম যাত্রী।
- ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে মুনীর চৌধুরীর লেখা বিখ্যাত 'কবর' নাটকের প্রথম অভিনয় হয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে- মমতাজ উদদীনের 'বিবাহ', মিলন চৌধুরীর পথনাটক 'যায় দিন ফাগুনের দিনে' শোভাময় ভট্টাচার্যের 'একুশের ইতিবৃত্ত'।
এছাড়া,
- 'কি চাহ শঙ্খচিল' মমতাজ উদদীনের রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- 'দুর্যোগ' হলো আসকার ইবনে শাইখের রচিত নাটক।

উৎস: দৈনিক সমকাল। [লিঙ্ক]
১২৮.
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. যাপিত জীবন
  2. যাত্রা 
  3. কবর 
  4. একুশের গল্প
ব্যাখ্যা

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের আলেচিত উপন্যাস 'যাপিত জীবন'। এই উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন।
- নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। কাহিনির পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র। এই উপন্যাস মূলত প্রতীকী ভাবনায় বাংলা ও বাঙালির শেকড় ও অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে। জাফর হয়ে ওঠে বাঙালির বলিষ্ঠ কণ্ঠের উৎসারণ।

অন্যদিকে, 
• শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস যাত্রা। এই উপন্যাসে যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
• 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
• জহির রায়হানের অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম 'একুশের গল্প'। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।

-------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন। তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাস।

১২৯.
‘একাত্তরের দিনগুলি’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
• একাত্তরের দিনগুলি:
- 'একাত্তরের দিনগুলি' বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। 
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।
- ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্ত্তত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৩০.
সেলিনা হোসেন রচিত ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. স্মৃতিস্তম্ভ
  2. আর্তনাদ
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা - স্মৃতিস্তম্ভ।

উৎস: 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩১.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. জলাঙ্গী - শওকত ওসমান
  2. উপমহাদেশ - আল মাহমুদ
  3. নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী
  4. রাইফেল রোটি আওরাত - আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
উত্তর: খ) নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী।

ব্যাখ্যা:
ক) জলাঙ্গী - শওকত ওসমান:এটি সঠিক।
কারণ, শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।

খ) উপমহাদেশ - আল মাহমুদ: এটি সঠিক। 
• আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - উপমহাদেশ।

গ) নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী: এটি ভুল।
নেকড়ে অরণ্য শওকত ওসমান রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

ঘ) রাইফেল রোটি আওরাত - আনোয়ার পাশা: এটি সঠিক।
রাইফেল রোটি আওরাত আনোয়ার পাশার রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৭১ সালে লেখা হয়।

সুতরাং গ) নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী; এটি ভুল তথ্য। "নেকড়ে অরণ্য" উপন্যাসটি শওকত আলীর নয়, বরং শওকত ওসমানের লেখা।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
- বাংলাপিডিয়া, জাতীয় বিশ্বকোষ। 
১৩২.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গ্রন্থ "বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন" এর রচয়িতা কে?
  1. আহমদ রফিক
  2. এম. আর আখতার মুকুল
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গ্রন্থ "বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন" এর রচয়িতা - এম. আর আখতার মুকুল।
- ১৯৮৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়।

এম. আর আখতার মুকুল:

- এম আর আখতার মুকুল সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।
- পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- পল্লী এক্সপ্রেস (অনুবাদ,
- রূপালী বাতাস,
- রূপালী বাতাস সোনালী আকাশ,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩৩.
'রাইফেল রোটি আওরাত' রচনাটির প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. শিক্ষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস এটি।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে, ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩৪.
শওকত আলীর প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. যাত্রা
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
• 'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচিত উপন্যাস- 'জাহান্নম হইতে বিদায়'।
• ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
• শওকত ওসমানের জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।

------------------
• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।
১৩৫.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো চারকোটি পরিবার"-পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. রফিক আজাদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি।

স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে

​------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ। 

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: 'স্মৃতিস্তম্ভ' আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩৬.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র নয়?
  1. গেরিলা
  2. আবার তোরা মানুষ হ
  3. ওরা ১১ জন
  4. ঘেটুপত্র কমলা
ব্যাখ্যা
• ঘেটুপত্র কমলা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র নয়।
- হুমায়ূন আহমেদের সর্বশেষ নির্মিত চলচ্চিত্র 'ঘেটুপুত্র কমলা' যা ২০১২ সালে নির্মিত হয়েছিল। 
-------------
- হুমায়ূন আহমেদের নির্মিত চলচ্চিত্র:
 • 'শ্রাবণ মেঘের দিন'। 
• আগুনের পরশমনি।
• দুই দুয়ারী।
• শ্যামল ছায়া।
• আমার আছে জল।
• ঘেটুপুত্র কমলা। 

- তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এরকম কিছু চলচ্চিত্র:
• শঙ্খনীল কারাগার।
• দারুচিনি দ্বীপ।
• নন্দিত নরকে।
-----------------------
আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩):
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- এ চলচ্চিত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
- বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ববিতা, রোজী আফসারী, রওশন জামিলসহ অনেকে।
- এখানে আছে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও তরুণদের কার্যকলাপ এবং একজন আদর্শবাদী অধ্যক্ষের দৃঢ়তা।
----------------
ওরা ১১ জন:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা ১১ জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত ‘ও আমার দেশের মাটি’ দিয়ে।

 • নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত সৈয়দ শামসুল হক'র নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত গেরিলা চলচ্চিত্র।

উৎস: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।
১৩৭.
মুক্তিযুদ্ধে হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন চিত্রায়িত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. জীবন আমার বোন
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. যাত্রা
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড:
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

উৎস: কালের কণ্ঠ
১৩৮.
'জীবন আমার বোন' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ইমদাদুল হক মিলন
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক আপাত নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম থোকা প্রমুখ।

------------------
• মাহমুদুল হক:
- মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি লেখক। তাকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩৯.
‘সাড়ে তিন হাত ভূমি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. আল মাহমুদ
  2. ইমদাদুল হক মিলন
  3. রশীদ হায়দার
  4. রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা
• ‘সাড়ে তিন হাত ভূমি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা 'ইমদাদুল হক মিলন'।

• সাড়ে তিন হাত ভূমি:

- একটি কবরের আয়তন কত? এই প্রশ্নের উত্তর, 'সাড়ে তিন হাত ভূমি'।
- জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে এটিও উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাস।

কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৭১ সাল, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে। সময়টা বর্ষাকাল। আগরতলায় ট্রেনিং নিয়ে একদল মুক্তিযোদ্ধা ঢুকেছেন বাংলাদেশে। এই দলে আছেন রবি। ঢাকায় গেরিলা অপারেশন শুরু হওয়ার আগে দুদিনের জন্য এসেছেন এসেছেন নিজেদের গ্রামে। বিকেলবেলা বাড়িতে ঢুকে দেখেন উঠোনে পড়ে আছে বাবার লাশ, বসার ঘরে মায়ের লাশ, বোনের লাশ তার ঘরে, সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীর লাশ পেছন দিককার উঠোনে । এই দেখে অনুভূতিহীন হয়ে যান রবি । এক সময় উঠোনে কবর খুঁড়তে শুরু করেন। যখন যার কবর খুঁড়ছেন, ঢুকে যাচ্ছেন তার স্মৃতির ভেতর। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' একেবারেই অন্য মাত্রার উপন্যাস।

• ইমদাদুল হক মিলন:
- জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ বিক্রমপুরে জন্ম।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘বন্ধু’ ১৯৭৩ । প্রথম উপন্যাস ‘যাবজ্জীবন' ১৯৭৬। বাংলাদেশে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
- তাঁর রচিত তিন পর্বের দীর্ঘ উপন্যাস 'নূরজাহান' কালজয়ী সাহিত্য হিসেবে গণ্য।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দুঃখ কষ্ট,
- ও রাধা ও কৃষ্ণ,
- এক দেশ,
- প্রিয় নারী জাতি,
- ভূমিপুত্র,
- পরবাস,
- নায়ক,
- সারাবেলা,
- রূপনগর,
- কালো ঘোড়া,
- নূরজাহান,
- তখন ছিলাম আমি,
- কথা ছিলো,
- আশায় আশায় থাকি,
- কোন কাননের ফুল ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. সাড়ে তিন হাত ভূমি’ উপন্যাস।
১৪০.
কোনটি মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  3. জীবন আমার বোন
  4. ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- বরাবরই মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন এই শিল্পী তাঁর প্রতিটি উপন্যাসে। 
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
- লেখকের অসামান্য উপস্থাপনা, ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ছোট্ট, হৃদয়গ্রাহী উপন্যাসটি যতই পড়া যায় ততই বিষমবেদনায় ভারাক্রান্ত করে।

অন্যদিকে, 
- 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস।
- 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমানের উপন্যাস।
- 'ওঙ্কার' আহমদ ছফার উপন্যাস।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪১.
‘একাত্তরের বর্ণমালা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. এম. আর. আখতার মুকুল
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. শামসুল হুদা 
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• ‘একাত্তরের বর্ণমালা’ গ্রন্থের রচয়িতা- এম. আর. আখতার মুকুল। 
- এটি মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা, যা সময় ও ইতিহাস সচেতনতার প্রতিফলন।

• এম. আর. আখতার মুকুল:
- এম. আর. আখতার মুকুল (১৯২৯-২০০৪) একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি বগুড়া জেলার চিংগাসপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান চরমপত্র-এর কথক।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্মৃতি ও ইতিহাসকে কেন্দ্র করে তিনি একাত্তরের বর্ণমালা নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- এছাড়া তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• রূপালী বাতাস,
• আমরাই বাঙ্গালী,
• আমাকে কথা বলতে দিন,
• খালেদা থেকে খন্দকার,
• আমি বিজয় দেখেছি, ইত্যাদি।
- দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০০৪ সালে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য,
- একাত্তরের রণাঙ্গন গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে- শামসুল হুদা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৪২.
“ফেরারী সূর্য” উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

- “ফেরারী সূর্য” মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা- রাবেয়া খাতুন। 
--------------
• “ফেরারী সূর্য” উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- রাবেয়া খাতুন রচিত “ফেরারী সূর্য” বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যতম প্রথমদিকের গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। এতে ১৯৭১ সালের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলো, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা ও সংগ্রামের চিত্র সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার জীবন, যুদ্ধের আতঙ্ক, অবরুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম এই উপন্যাসে বাস্তবধর্মীভাবে ফুটে উঠেছে। “ফেরারী সূর্য” শুধু একটি যুদ্ধভিত্তিক কাহিনী নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানুষের জীবন, অনুভূতি ও ত্যাগের এক বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
----------------  
• রাবেয়া খাতুন:
রাবেয়া খাতুন ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার। 
সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ৫০টিরও বেশি উপন্যাস এবং ৪০০টিরও বেশি ছোটগল্প রচনা করেছেন।
- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৩ সালে একুশে পদক এবং ২০১৭ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন। 
- এছাড়াও তিনি ‘একাত্তরের নয় মাসে’ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
- তিনি ৩ জানুয়ারি ২০২১ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- 
- মধুমতী,
- সাহেব বাজার, 
- ফেরারী সূর্য (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- ঘাতক রাত্রি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- প্রথম বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), 
- বাগানের নাম মালনিছড়া,
- হানিফের ঘোড়া, 
-  মন এক শ্বেত কপোতী,
- অনন্ত অন্বেষা,
- রাজাবাগ, 
- অনেক জনের একজন,
- জীবনের আর এক নাম দিবস রজনী,
- বায়ান্ন গলির এক গলি,
- এই বিরহকাল,
- প্রিয় গুলশানা।

উৎস:
কালি ও কলম; 
দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা পত্রিকা [ লিঙ্ক]। 

১৪৩.
মুক্তিযুদ্ধের উপর রচিত প্রথম উপন্যাস রচনা করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আনোয়ার পাশা
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৪৪.
মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র নিয়ে রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. রশীদ হায়দার
  2. আনিসুল হক
  3. জহির রায়হান
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• 'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে বুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখকের হৃদয়ে উদয় হয়েছিল।
- শান্তি ও ভালোবাসার জন্য মানুষের চিরন্তন অন্বেষা উপন্যাসটির মূল উপজীব্য। আর উপন্যাসটির চরিত্র ইভা ও তপু শাশ্বত শান্তি ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।

--------------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৫.
কোনটি  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস?
  1. ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
  2. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  3. জ্বলো চিতাবাঘ
  4. সব কিছু ভেঙে পড়ে
ব্যাখ্যা

• 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে উপন্যাসটি উৎসর্গ করা হয়।

----------------
• হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস:
- আব্বুকে মনে পড়ে,
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে [হুমায়ুন আজাদের 'সব কিছু ভেঙ্গে পড়ে'র বিষয় নারীপুরুষের শারীরিক ও হৃদয়সম্পর্কের কাঠামোটি।]
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দণ্ডিত পুরুষ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)।

• হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস।

১৪৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক "রেইনকোট" ছোটগল্পটি কোন গল্পগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে?
  1. জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল
  2. খোঁয়ারি
  3. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা
• "রেইনকোট" ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।
- এই গল্পটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৭.
শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৮ সালে
  4. ১৯৭০ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৮.
‘জীবন আমার বোন’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটি লিখেছেন কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. মাহমুদুল হক
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।

মাহমুদুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৯.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
  2. শামসুর রাহমান
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. আলাউদ্দীন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। মহান একুশে নিয়ে এটি তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।

স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত আবদুল মান্নান সৈয়দ এর উপন্যাস কোনটি?
  1. স্মৃতির নোটবুক
  2. ক্ষুধা প্রেম আগুন
  3. মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা
  4. নেকড়ে হায়েনা
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন 'আবদুল মান্নান সৈয়দ'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত তাঁর একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসের পটভূমিস্থান ঢাকা শহর।
------------- 
আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন, 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর লিখিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. জাহান্নম হতে বিদায়
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
ব্যাখ্যা

'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
- এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।
-  উপন্যাসটির প্রকাশকাল ১৯৭৩ সাল

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জাহান্নম হইতে বিদায়'(১৯৭১)-এর রচয়িতা হলেন- শওকত ওসমান।
- সেলিনা হোসেন এর মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে রচিত উপন্যাস - হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬)।
- ' 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'(১৯৭৫) সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১৫২.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. একাত্তরের দিনগুলি
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. অনীল বাগচীর একদিন
  4. যে অরণ্যে আলো নেই
ব্যাখ্যা
• 'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে, তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
গল্পের মূল চরিত্র হচ্ছে অনিল বাগচী। পিতা সুরেশ বাগচী ও বোন অতশীকে ছেড়ে সে চাকরিজীবী হিসেবে ঢাকার এক মেচে থাকে। ২৪ বছরের একজন যুবক হওয়া সত্ত্বেও সে অসম্ভব ভীতু ধরনের একটি ছেলে। ভয় পাওয়ার বেশিরভাগ ঘটনাই অহেতুক। যেমন, ঘরে একা থাকা অবস্থায় দরজায় সাধারণ টোকা পড়লেও তার ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। মেচের এক প্রতিবেশী গফুর সাহেবের নিকট হঠাৎ একদিন রুপেশ্বর থেকে একটি খোলা চিঠি আসে। সেই চিঠিতে অনিল বাগচীর জন্যে অপেক্ষা করছিল ভয়াবহ একটি দুঃসংবাদ। গফুর সাহেব পরদিন অনিল বাগচীকে সেই দুঃসংবাদ জানালে হঠাৎ করেই অনিল সাহসী হয়ে উঠে। পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে। পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে। অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

অন্যদিকে, 
• জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• “যে অরণ্যে আলো নেই” ড. নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি নাটক (১৯৭৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৩.
'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহীম
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন 
  3. মমতাজউদ্দীন আহমদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমদ।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনার মূর্তি নির্মাণ করেছেন। আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।
-মুক্তিযুদ্ধকালীন নারী নির্যাতনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র "রৌশনারা"।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মতাজউদ্দীন আহমেদের 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন। রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ।
রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান 'লালন' কে নিয়ে সন্দেহ। ৬ বছরের শিশু সন্তান লালনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রৌশনারার স্বামী। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য রৌশনারাকে মানসিক হাসপাতালে পাগল চিহ্নিত করে ভর্তি করিয়ে দেন তার শ্বশুর জনাব আলী সাহেব (৬০)।

উৎস: 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫৪.
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।" গানটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯৫২
  2. খ) ১৯৫৩
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫৫
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরনে রচিত গান:
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।"
- গানটির রচয়িতা - আবদুল গাফ্ফা‌র চৌধুরী  
- গানটির প্রথম সুরকার - আবদুল লতিফ 
- গানটির পরিবর্তিত সুরকার - আলতাফ মাহমুদ।

- গানটি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' (১৯৫৩) সংকলনে প্রথম প্রকাশিত হয়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৫.
নিম্নোক্ত কোন উপন্যাসে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধোত্তর সময়ের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. দেবেশ রায়ের 'তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত'
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'পূর্ব-পশ্চিম'
  3. শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'যাও পাখি'
  4. অভিজিৎ সেনের 'রহুচণ্ডালের হাড়'
ব্যাখ্যা
'পূর্ব-পশ্চিম' উপন্যাস:
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বিশিষ্ট, ব্যতিক্রমী ও বড়ো মাপের এই উপন্যাস, 'পূর্ব-পশ্চিম'।
• ধারাবাহিকভাবে 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত সেই সুদীর্ঘ উপন্যাসের প্রথম দুটি পর্ব-সূচনাপর্ব ও যৌবন-নিয়েই 'পূর্ব-পশ্চিম'-এর এই প্রথম খণ্ড।
• বিশাল ক্যানভাসে চিত্রিত এই উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ একইসঙ্গে ছুঁয়ে আছে এপার এবং ওপার বাংলা। শুরু সেই পঞ্চাশের মধ্যভাগে। দু-বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের পালাবদলের স্রোত কীভাবে এসে মিশেছে এই আশির দশকের মোহনায়, এ-উপন্যাস তার এক জীবন্ত দলিল।

• একদিকে নেহরুর মৃত্যু, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, লালবাহাদুরের অকালপ্রয়াণ, ইন্দিরার অভ্যুত্থান, অর্থনৈতিক ক্রমাবনতি, তরুন সমাজের মধ্যে জেগে-ওঠা বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা-উম্মাদনা, উগ্রপন্থী রাজনীতি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-যুদ্ধ; অন্যদিকে ভাষা-আন্দোলনের অব্যবহিত পরবর্তী সময়, গনতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন, বাংলাদেশ মুক্তি-আন্দোলন, স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে যুবসমাজের হতাশা, মুজিব-হত্যা-এ-সমস্ত কিছুকে ছুঁয়ে প্রবাহিত 'পূর্ব-পশ্চিম'-এর ঘটনাস্রোত।

• দুই বাংলার দুই পরিবারকে কেন্দ্র করে রচিত এই উপন্যাস বিশেষ কোন চরিত্রকে মূল চরিত্র বলা যাবে না। একই সঙ্গে অনেকগুলি
প্রধান চরিত্র। এইসব চরিত্রের কেউ-কেউ আবার পূর্ব বা পশ্চিম বাংলার গণ্ডিতেই আবর্তিত নয়, ইউরোপ-আমেরিকাতেও গেছে।

উৎস: 'পূর্ব-পশ্চিম' উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
১৫৬.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অনিল বাগচীর একদিন
  2. শ্যামল ছায়া
  3. সূর্যের দিন
  4. জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা
• ‘সূর্যের দিন' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস সূর্যের দিন। 
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসে ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় অর্জন থেকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বাঙালির মানসিক অবস্থার ভাষারূপ অংকিত হয়েছে।

---------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনিল বাগচীর একদিন ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৭.
'সুদীপ্ত শাহীন’ - মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. যাত্রা
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
• 'রাইফেল রােটি আওরাত' উপন্যাস:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩) আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৫৮.
'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. সেলিনা হোসেন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা - রাবেয়া খাতুন। 
 
রাবেয়া খাতুন:
- রাবেয়া খাতুনের জন্ম ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। ২৭শে ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে মামাবাড়ি পাউসার গ্রামে।
- খাতুনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন শহর ও পুরোন ঢাকায়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প 'প্রশ্ন'। পুস্তকাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'মধুমতী'।
- প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশ। মূলত ঔপন্যাসিক হলেও সাহিত্যের সব শাখায় রয়েছে তাঁর স্বাচ্ছন্দ বিচরণ। লিখেছেন অসংখ্য ছোট গল্প, নাটক, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, ছড়া, কিশোর সাহিত্য।
 
রাবেয়া খাতুন রচিত গ্রন্থ:
- শুধু তোমার জন্য,
- বসন্তভীলা,
- কুয়াশার ভোর,
- মেঘের পরে মেঘ,
- চাঁদের ফোটা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫৯.
কোনটি উপন্যাস?
  1. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
  4. মনিব ও তাহার কুকুর
ব্যাখ্যা
‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাস: 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন পলায়ন-পর মধ্যবিত্তের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে - ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাসে ।
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: 
» জননী,
» ক্রীতদাসের হাসি,
» সমাগম,
» চৌরসন্ধি,
» রাজা উপাখ্যান,
» জাহান্নম হইতে বিদায়,
» দুই সৈনিক,
» নেকড়ে অরণ্য,
» পতঙ্গ পিঞ্জর,
» আর্তনাদ,
» রাজপুরুষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬০.
‘নিষিদ্ধ লোবান’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি কোনটি?
  1. মুক্তির গান
  2. গেরিলা
  3. মাটির ময়না
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
• নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
-------------------
‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ: 
এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে বিলকিস নামের এক নারীকে নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি হারায়। তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপকুমার তথা সিরাজের। পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তাদের গুলিতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন রাতের অন্ধকারে লাশগুলো দাফন করতে গিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বিলকিস প্রতিবাদে অবিচল থাকে।

উৎস: ‘নিষিদ্ধ লোবান’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
১৬১.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো বরফ
  2. জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
  3. আর্তনাদ
  4. খেলাঘর
ব্যাখ্যা

'খেলাঘর' উপন্যাস:
- 'খেলাঘর' (১৯৮৮) মাহমুদুল হক রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
-  ‘খেলাঘর’ অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলাম ২০০৬ সালে  একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।
 চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'কালো বরফ' (১৯৭৭): এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত। উপন্যাসটিতে হিন্দু- মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে। চরিত্র: আব্দুল খালেক।

• জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোট গল্পগ্রন্থ।

• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস- আর্তনাদ।

উৎস: 'খেলাঘর' উপন্যাস এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬২.
'কাবিলের বোন' উপন্যাসে ঐতিহাসিক কোন ঘটনাটি বড় ক্যানভাসে উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. আগরতলা মামলা
ব্যাখ্যা

• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।

- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব-মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।

- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'কাবিলের বোন' উপন্যাস।

১৬৩.
'ফেরারী ডায়েরী' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. আল মাহমুদ
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'ফেরারী ডায়েরী' গ্রন্থের রচয়িতা- আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- এটি তাঁর স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই।

-------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৪.
‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
• ‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থটির রচয়িতা - বদরুদ্দীন উমর। 

বদরুদ্দীন উমর:

- ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত পান।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৫.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. জলাংগী
ব্যাখ্যা
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

- বাগদাদের বাদশা 'হারুন অর রশিদ' অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে। তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।


শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৬.
'কি চাহ শঙ্খচিল' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস 
  4. চলচ্চিত্র
ব্যাখ্যা

'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কি চাহ শঙ্খচিল' মমতাজ উদ্দীন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক। নাটকে আলোচিত হয়েছে বীরঙ্গনার গল্প।

- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজ উদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।

- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি। যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।

- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।
​​
​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক 'বর্ণচোরা' এর রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. আমজাদ হোসেন
  3. মমতাজ উদ্দীন আহমেদ
  4. নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা
মমতাজউদদীন আহমদ:
- স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তিনি পথিকৃৎ। 
- এক অঙ্কের নাটক রচনায় তিনি ছিলেন পথিকৃৎ।
- পূর্ব পাকিস্তানের নাট্য আন্দোলন থেকে শুরু যার সূচনা, তারপর একাধারে ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধ, গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সমস্ত আন্দোলনে যিনি ছিলেন প্রথম সারির মানুষ।
- যিনি বাংলাদেশে নাটককে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।
- নাটক থেকে গণতান্ত্রিক সব আন্দোলনে যিনি ছিলেন অনবদ্য অংশ।
- বিশ্বব্যাপী বাংলা ও বাংলাদেশের নাটককে সর্বমহলে যিনি তুলে ধরেছেন জীবনব্যাপী একাগ্র চিত্তে, তিনি কিংবদন্তী নাট্যকার মমতাজউদদীন আহমদ।
- মমতাজউদদীন আহমদের নাটক লেখার যাত্রা শুরু হয় আরো কিছুদিন পরে, ১৯৬০ সালে।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার লেখা প্রথম নাটক বিবাহ।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি লিখেছিলেন “স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা” নাটকটি।
- স্বাধীনতার এক যুগ পরে এসে তিনি রচনা করলেন তার বিখ্যাত নাটক "সাতঘাটের কানাকড়ি"।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা। 
- তার হাতে জন্ম নিলো "ক্ষত বিক্ষত", "রঙ্গপঞ্চাদশ", "প্রেম বিবাহ সুটকেশ", "জমিদার দর্পণ", "হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার" এর মতো অসাধারণ সব নাটক।
- টেলিভিশনে নাট্যকার হিসেবে মমতাজউদদীন আহমদের যাত্রা শুরু হয় ‘দখিনের জানালা’ নাটকটি দিয়ে। 
-  চার্লি চ্যাপলিন-ভাঁড় নয় ভবঘুরে নয়, আমার ভিতরে আমি, জগতের যত মহাকাব্য, লাল সালু ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, মহানামা কাব্যের গদ্যরূপ, সাহসী অথচ সাহস্য, নেকাবী এবং অন্যগণ, জন্তুর ভিতর মানুষ' এর মতো বিশাল গদ্য ভাণ্ডার ছিল অসামান্য।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তিনি লিখেছিলেন 'একুশ আমার বাংলা আমার', লিখেছিলেন শিশু সাহিত্য ও কিশোর রচনা, সরস রচনা।
-  তার স্বাধীনতার সংগ্রাম নাটক 'বর্ণচোরা'।

উৎস: ১০ জানুয়ারি ২০২১, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
১৬৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'অলাতচক্র' কে রচনা করেন?
  1. ইমদাদুল হক মিলন
  2. শওকত আলী
  3. মাহমুদুল হক
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

অলাতচক্র:
- আহমদ ছফা রচিত 'অলাতচক্র' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।

• এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- তায়েবা,
- জাহিদুল,
- দানিয়েল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'নীল দংশন' রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শওকত ওসমান
  3. শওকত আলী
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'নীল দংশন' রচনা করেন - সৈয়দ শামসুল হক

সৈয়দ শামসুল হক: 
- ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাসটি পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশে অবস্থানরত তাদের বংশধর বিহারী দের কর্তৃক নির্যাতিত ও হত্যাকৃত হাজারো মুক্তিকামী জনতার প্রতিচ্ছবি।
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (১২ আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৭০.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের মূল্য উপজীব্য কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. প্রেম
  4. গ্রামীণ জীবন
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭১.
আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. খাঁচায়
  2. উপমহাদেশ
  3. ফেরারী সূর্য
  4. জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা

 - কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- উপমহাদেশ। 

আল মাহমুদ: 
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল-মাহমুদ। 
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন। 
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্যখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• কাব্যগ্রন্থ: 
- লোক লোকান্তর, 
- কালের কলস, 
- সোনালী কাবিন, 
- বখতিয়ারের ঘোড়া ইত্যাদি। 

 • উপন্যাস: 
- ডাহুকী, 
- উপমহাদেশ ( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক), 
- আগুনের মেয়ে, 
- চেহারার চতুরঙ্গ, 
- কাবিলের বোন। 

গল্পগ্রন্থ: 
- পানকৌডির রক্ত, 
- সৌরভের কাছে পরাজিত, 
- ময়ূরীর মুখ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বােন'।
- রশীদ হায়দারের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- খাঁচায়।
- রাবেয়া খাতুন ফেরারী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - ’ফেরারী সূর্য’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭২.
“একুশে ফেব্রুয়ারি” সংকলন গ্রন্থটি প্রথম সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) মুহাম্মদ সুলতান
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এর সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান। এতে ৬টি বিভাগে ২২ জন লেখকের লেখা আছে।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
১৭৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী' রচনা করেছেন?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), দুই সৈনিক (১৯৭৩), জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭২) এবং জলাঙ্গী।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
১৭৪.
“সোনায় মোড়ানো বাংলাকে আমার শ্মশান বানালো কে? ইয়াহিয়া তোমার আসামির মতো জবাব দিতে হবে।”- গানটি কোন উপন্যাসে উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. দুই সৈনিক
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. নিষিদ্ধ লোবান
  4. জননী
ব্যাখ্যা
• জাহান্নম হইতে বিদায়:
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
- প্রচলিত ধারার উপন্যাসের মতো এই উপন্যাসের নায়ক কোন ব্যক্তি নয়, নায়ক হলো সময় বা যুদ্ধকাল।
- যে সময় সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছিল পাকিস্তানিরা, সে সময় শিল্পীর কণ্ঠে ভেসে ওঠে এমন গান:সোনায় মোড়ানো বাংলাকে আমার শ্মশান বানালো কে? ইয়াহিয়া তোমার আসামির মতো জবাব দিতে হবে।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- এই উপন্যাসে যুদ্ধকালে পলায়নপর মধ্যবিত্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গাজী রহমান,
- এডভোকেট রেজা আলী,
- বামপন্থী নেতা কিরণ রায় প্রমুখ কয়েকটি চরিত্র আছে এই উপন্যাসে।

অন্যদিকে,
-----------------------
‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান। উপন্যাসটি প্রকাশ হয় ১৯৭৩ সালে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ্ব পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।

- জননী (১৯৫৮) শওকত ওসমান প্রথম উপন্যাস এবং প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের জননী উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭৫.
'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী 
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. আনোয়ার পাশা
  4. ইমদাদুল হক মিলন 
ব্যাখ্যা

• 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'দুধেভাতে উৎপাত' গল্প গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ-
মিলির হাতে স্টেনগান গল্পটির প্রেক্ষাপট বাহাত্তর বা তিয়াত্তর সালের ঢাকা শহর। মা, বাবা, দুই ভাই ও এক বোন নিয়ে মিলিদের পরিবার। বড় ছেলে রানা একজন মুক্তিযোদ্ধা। অস্ত্র জমা দেয়নি সে, নিজের কাছেই লুকিয়ে রেখেছে তার স্টেনগানটি।

না, দীর্ঘ নয় মাসের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দোদুল্যমান প্রতিটি মুহূর্তের বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে অস্ত্রটির প্রতি একান্ত ভালবাসা থেকে স্টেনগানটি রেখে দেয়নি রানা, বরং এই অস্ত্রটিকেই বর্তমানে টিকে থাকার অবলম্বন হিসেবে এখনো সযত্নে আগলে রেখেছে সে।

অবশ্য শুধু টিকে থাকার ব্যাপারে সাহায্য করাই যে স্টেনগানটির মূল লক্ষ্য, তা কিন্তু নয়। বরং মাঝেমধ্যে আনকোরা নতুন টিভি সেট বা অন্য কোনো গৃহসজ্জার উপকরণ হস্তগত করার কাজেও যে অস্ত্রটি এখনো সফল পার্শ্বচর হিসেবে রানার সাথে সাথে অবস্থান করে, গল্পটি পড়ে তা বুঝতে বেগ পেতে হয় না।

কিন্তু যত সমস্যা বাঁধাচ্ছে আব্বাস পাগলা। এই ‘থরোব্রেড বাস্টার্ড’টা নির্লজ্জের মতো রানার কাছে তার সাধের স্টেনগানটা চেয়ে বসে। আব্বাস পাগলার ভাষ্যমতে, চাঁদের মধ্যে নাকি দখলদার বাহিনী ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। সেই হানাদারদের গুষ্টির পিণ্ডি চটকানোর জন্য রানার স্টেনগানটাই যথেষ্ট আব্বাস পাগলার জন্য।

--------------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি, 
- দুধভাতে উৎপাত,
-দোজখের ওম।

উৎস: 'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্প; 'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থ। 

১৭৬.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- কোন উপন্যাসের সংলাপ?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. সময়ের প্রয়োজনে
  3. যাত্রা
  4. আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।

- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হব'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন, 
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৭৭.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. যাত্রা
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  4. জলাংগী
ব্যাখ্যা
• ‘জলাংগী’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

কাহিনি সংক্ষেপ:
একাত্তরের যুদ্ধের ঢেউ শহর ছাপিয়ে বাঁকাজোল নাম গ্রামে পৌঁছেছে। জামিরালি শহর থেকে গ্রামে এলো; স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি – এখন সব বন্ধ। শেখ মুজিবের হুকুমে সবকিছুই বন্ধ। ছয় দফা জনতার দাবি। দেশ যখন উত্তাল জামিরালি ছুটে যায় যুদ্ধে, পেছনে ফেলে যায় পিতা মাতা ও প্রেয়সী হাজেরাকে। 

অন্যদিকে,
• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে। এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।
• ‘যাত্রা’ শওকত আলীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

---------------------
• শওকত ওসমান:  

- শওকত ওসমান ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭৮.
আলাউদ্দীন আল আজাদের 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ
  2. খ) স্মৃতিস্তম্ভ
  3. গ) মানচিত্র
  4. ঘ) স্মৃতির মিনার
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন আল আজাদের 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'।
• এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
• পাকিস্তান সরকার প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলার প্রতিবাদে এ কবিতাটি তিনি লিখেছিলেন।
 
স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; স্মৃতিস্তম্ভ কবিতা, আলাউদ্দিন আল আজাদ।
১৭৯.
শওকত আলীর 'যাত্রা' উপন্যাসের কাহিনী হলো -
  1. যুদ্ধবিজয়ের উল্লাস
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. গণ-অভ্যুত্থান
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৫।
১৮০.
‘আমার যত গ্লানি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শওকত আলী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. রশীদ করীম
ব্যাখ্যা
⇒ ‘আমার যত গ্লানি’ উপন্যাস:
• রশীদ করীম (১৯২৫-২০১১) বাংলাদেশের প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক। তাঁর প্রথম উপন্যাস উত্তম পুরুষ।
• রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।
• উপন্যাসে এরফান চরিত্রের প্রেক্ষণবিন্দু দিয়ে পাকিস্তান কায়েম থেকে শাসক গোষ্ঠীর শোষণ নিপীড়ন এবং সত্তরের নির্বাচন-উত্তরকালে ভূমিধস বিজয়ী আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে ইয়াহিয়া-ভুট্টোর অনীহা, আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ এবং ঘুমন্ত বাঙালির ওপর বর্বর আক্রমণের চিত্র শহর ও গ্রাম জীবনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস: যুগান্তর সংবাদপত্র প্রতিবেদন; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৮১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটা?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. মাটি আর অশ্রু
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. সারেং বউ 
ব্যাখ্যা

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।
---------------
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

• ‘মাটি আর অশ্রু’ সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

'সারেং বউ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বউ। তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮২.
২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় কখন?
  1. ক) ২০০০
  2. খ) ১৯৯৭
  3. গ) ২০০২
  4. ঘ) ১৯৯৯
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করেন (২৩ ফেব্রুয়ারি)।
- ড. সাঈদ হায়দার নকশার পরিকল্পনা করেন।
- শহীদ শফিউরের পিতা ২৪ তারিখে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সেই মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে।
-  ভাষা আন্দোলনের অনুপ্রেরণা আমাদের মুক্তিসংগ্রামের অনুপ্রেরণা।
- ভাষা আন্দোলন থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে।
- একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ:- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১  ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
- এই স্বীকৃতি ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা বেড়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প -
  1. মহাযুদ্ধ
  2. কালো ঘোড়া
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. ঘেরাও
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প - জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- এটি শওকত ওসমান রচিত 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- ঘেরাও, মহাযুদ্ধ, কালো ঘোড়া।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৮৪.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয়-
  1. ক) দেয়াল
  2. খ) নীল দংশন
  3. গ) একটি কালো মেয়ের কথা
  4. ঘ) অহিংসা
ব্যাখ্যা

''অহিংসা'' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- চতুষ্কোণ,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- সোনার চেয়ে দামী,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- চিহ্ন,
- জীয়ন্ত,
- মাশুল,
- হরফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 'দেয়াল' হুমায়ুন আহমেদ, 'একটি কালো মেয়ের কথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং 'নীল দংশন'  সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

 
১৮৫.
'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস 
  2. নাটক
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম- আর্তনাদ।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ- এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

- অপেক্ষাকৃত দুর্বল মেরুদণ্ডটির ভাঙন শুরু হলো একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে। যার ফলপ্রসূ সমাপ্তি ঘটল একাত্তরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এ ভূখণ্ডে শহুরে সভ্যতার সূচনালগ্নের তরুণ আলী জাফর এই উপন্যাসের ব্যক্তি চরিত্র। আলী জাফরের মতো তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে শত শত মানুষ, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

------------------
শওকত ওসমান রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো- 
• উপন্যাস:
- জননী,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- আর্তনাদ,
- রাজপুরুষ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- মনিব ও তাহার কুকুর,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী। 

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ভাব ভাষা ভাবনা,
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর। 

• নাটক:
- আমলার মামলা,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- মস্কুইটোফোন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট,
- পঞ্চসঙ্গী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'আর্তনাদ' উপন্যাস শওকত ওসমান।

১৮৬.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ?
  1. ক) আর্তনাদে বিবর্ণ
  2. খ) উচ্চারণগুলি শোকের
  3. গ) একাত্তরের ঢাকা
  4. ঘ) একাত্তরের ডায়েরি
ব্যাখ্যা
- 'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রবন্ধের নাম।
- 'সেলিনা হোসেন' কর্তৃক এই প্রবন্ধটি রচিত হয়।

একাত্তরের ঢাকা
- সেলিনা হোসেন রচিত একাত্তরের ঢাকা একটি সংকলন গ্রন্থ। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ লা মার্চ থেকে। 
-  শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।
- এ বইয়ে ২২টি শিরোনামে তিনি বিভিন্ন বিষয় এনেছেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৭.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'একাত্তরের রণাঙ্গন' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুল হুদা চৌধুরী
  2. খ) এম এ আখতার মুকুল
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) মেজর রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ একাত্তরের রণাঙ্গন এর রচয়িতা - শামসুল হুদা চৌধুরী

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- 
- ঐশ্বর্যের চাবিকাঠি
- বরেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ
- একাত্তরের বিজয় 

• অন্যদিকে, 
এম এ আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ = 'আমি বিজয় দেখেছি' 
সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ = 'একাত্তরের ঢাকা'
মেজর রফিকুল ইসলাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ = 'একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে'। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১৮৮.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
  2. খ) এই দেশে এই বেশে।
  3. গ) ঘুম নেই।
  4. ঘ) নূরুলদীনের সারাজীবন।
ব্যাখ্যা
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- এসএম সোলায়মান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক ‘এই দেশে এই বেশে’। এ নাটকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন আর প্রাপ্তির বিষয়টা উঠে এসেছে।  
-  নাসির উদ্দীন ইউসুফ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক ‘ঘুম নেই’। 

'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্যটি সৈয়দ শামসুল হক রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিতে রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৯.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ। 

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়', 'দুই সৈনিক' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

শওকত ওসমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি, ইত্যাদি।

শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

- শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প
- প্রস্তর ফলক
- উভসৃঙ্গ
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯০.
অমর একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন' একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পাদনা করেন কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (জুন ১৪, ১৯৩২ – এপ্রিল ১, ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
- অমর একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন' একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পাদনা করেন তিনি
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯১.
'রাইফেল রোটি আওরাত' - উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. শওকত ওসমান
  2. আনোয়ার পাশা
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আলাউদ্দীন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা:
- তিনি বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তাঁর সাহিত্যকর্ম:

উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৯২.
শহীদুল জহির রচিত ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা

- ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ শহীদুল জহির রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

» ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস:
- ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসের রচয়িতা শহীদুল জহির।
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
-  দর্শনের প্রয়োগ এবং কর্মের নতুনত্বের সাথে টানাগদ্যে রচিত ভিন্নমাত্রার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটিকে অনেকে প্রবন্ধ ভেবে ভুল করেন।

• শহীদুল জহির:
- শহীদুল জহিরের জন্ম ১৯৫৩ সালে ঢাকায় নারিন্দার ভূতের গলিতে।
- গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। 
- অ্যামেরিকান ইউনিভার্সিটি এবং কিছুদিন বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেছেন।
- পেশায় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
• গল্পগ্রন্থ:
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য,
- আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু,
- পারাপার।

• উপন্যাস:
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,
- মুখের দিকে দেখি,
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস।

১৯৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা 'রাইফেল রোটি আওরাত' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আহমদ ছফা
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• "রাইফেল রোটি আওরাত" উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওরাত' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সর্বপ্রথম উপন্যাস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘটে যাওয়া গণহত্যা এবং তার পরবর্তী দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কাহিনি উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে।

- সেকালে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা প্রবাহের মধ্যে বসে লেখা, আমাদের সমগ্র ইতিহাসে একটি মাত্র উপন্যাসই পাওয়া যায়-এ উপন্যাসই হচ্ছে "রাইফেল রোটি আওরাত"।

- ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস এর রচনাকাল। লেখক শহীদ আনোয়ার পাশা নিহত হলেন ১৯৭১ সালেরই ১৪ই ডিসেম্বর। স্বাধীনতা লাভের মাত্র দু'দিন আগে তিনি যে অমর কাহিনি উপন্যাসে বিধৃত করেছেন নিজেই হয়ে গেলেন তারই অঙ্গ চিরকালের জন্য।উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।

অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- ড. খালেক,
- ড. মালেক,
- ছাবেদ আলী,
- জামাল সাহেব প্রমুখ।

উৎস: "রাইফেল রোটি আওরাত" উপন্যাস।
১৯৪.
‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসে প্রধান চরিত্র কে?
  1. মুনতাসির রশীদ
  2. কাশেম ভাই
  3. তাহমিনা
  4. সুদীপ্ত শাহীন
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৫.
কোন রচনার জন্য শওকত ওসমান আদমজি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) জননী
  2. খ) জাহান্নাম হতে বিদায়
  3. গ) ক্রীতদাসের হাসি
  4. ঘ) দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
• 'ক্রীতদাসের হাসি ' উপন্যাসের জন্য শওকত ওসমান  আদমজি পুরষ্কার লাভ করেন।

- এই উপন্যাসটি প্রকাশের সময়কাল ১৯৬২, যেখানে তিনি প্রতীকাশ্রয়ে পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করেছেন।
- এই উপন্যাসটিকে তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বিবেচনা করা  হয়।

- জননী - শওকত ওসমান প্রকাশিত প্রথম পুস্তক।
- জাহান্নম হতে বিদায়  এবং দুই সৈনিক তাঁর মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯৬.
১১ নং সেক্টরের সম্মুখ যুদ্ধ' চিত্রিত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  2. খ) নেকড়ে অরণ্য
  3. গ) যুদ্ধ
  4. ঘ) ঘাতক রাত্রি
ব্যাখ্যা
• সেলিনা হোসেন জনযুদ্ধকে বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে দেখার বাসনা থেকে রচনা করেছেন -
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- যুদ্ধ,
- কাঠকয়লার ছবি,
- মাটি ও শস্যের বুনন,
- ঘুমকাতরে ঈশ্বর,
- দিনের রশিতে গিটটু,
- বীরাঙ্গনা, ইত্যাদি উপন্যাস।

• তিনি তার ‘যুদ্ধ’ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছেন ১১ নম্বর সেক্টরে সরাসরি যুদ্ধকে চিত্রিত করে। অগণিত মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং এ যুদ্ধ সম্পর্কে দেশীয় ঐতিহ্যস্পর্শী ভাবনার ভেতর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উচ্চকিত করার প্রয়াস পেয়েছেন তিনি ৩২৬ পৃষ্ঠার বৃহৎ এ উপন্যাসে।

- ঘাতক রাত্রি - রাবেয়া খাতুন রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং যুগান্তর পত্রিকা- স্বাধীনতা দিবস সংখ্যা;২৬ মার্চ ২০২২।
১৯৭.
'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. মেজর রফিকুল ইসলাম
  4. রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা - রাবেয়া খাতুন।

রাবেয়া খাতুন:
- রাবেয়া খাতুনের জন্ম ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। ২৭শে ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে মামাবাড়ি পাউসার গ্রামে।
- খাতুনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন শহর ও পুরোন ঢাকায়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প 'প্রশ্ন'।
- পুস্তকাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'মধুমতী'।
- প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশ। মূলত ঔপন্যাসিক হলেও সাহিত্যের সব শাখায় রয়েছে তাঁর স্বাচ্ছন্দ বিচরণ। লিখেছেন অসংখ্য ছোট গল্প, নাটক, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, ছড়া, কিশোর সাহিত্য।

রাবেয়া খাতুন রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- শুধু তোমার জন্য,
- বসন্তভীলা,
- কুয়াশার ভোর,
- মেঘের পরে মেঘ,
- চাঁদের ফোটা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৯৮.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ 
  3. সামাজিক কুসংস্কার 
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৯৯.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নাটক কোনটি?
  1. যুদ্ধ
  2. কবর
  3. বর্ণচোর
  4. বিবাহ
ব্যাখ্যা
• মমতাজউদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর, 
- বকুলপুরের স্বাধীনতা, 
- কী চাহ শঙ্খচিল, 
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক-
• নরকের লাল গোলাপ - আলাউদ্দিন আল আজাদ.
• যে অরণ্যে আলো নেই - নীলিমা ইব্রাহীম,
• পঙ্কজ বিভাস - জিয়া হায়দার,
• কিংশুক যে ম্রুতে - মোহাম্মদ এহসানুল্লাহ,
• কি চাহ শঙ্খচিল - মমতাজউদ্দীন আহমেদ,
• প্রতিদিন একদিন - সাঈদ আহমদ,
• ফেরী আসছে - রনেশ দাশগুপ্ত।
-------------------
• মমতাজউদদীন আহমদ: 
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।
 
• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০০.
‘আয়নায় বন্ধুর মুখ’- এই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটি কার রচনা?
  1. আবুল হাসান
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবুল হোসেন
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা

• "আয়নায় বন্ধুর মুখ" নাটক:
- "আয়নায় বন্ধুর মুখ" আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- এটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পথ হারানো তারুণ্য, ঘরের বাইরে বাঙালি মেয়েদের সীমাবদ্ধতা- এসবই ছিল আয়নায় বন্ধুর মুখ-এর উপজীব্য।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।