বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কর্মধারয় সমাস

মোট প্রশ্ন৬১৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কর্মধারয় সমাস

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৬১৭

৫০১.
কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) শ্রমলব্ধ
  2. খ) শতবার্ষিকী
  3. গ) রাঙামাটি
  4. ঘ) তালতমাল
ব্যাখ্যা
রাঙ্গামাটি - কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ, তালতমাল - দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ, শ্রমলব্ধ - তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ, শতবার্ষিকী - দ্বিগু সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা‌।
৫০২.
'পদ্মআঁখি' কোন সমাস?
  1. ক) উপমান কর্মধারয়
  2. খ) রূপক কর্মধারয়
  3. গ) মধ্যলোপী কর্মধারয়
  4. ঘ) উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'পদ্মআঁখি' উপমিত কর্মধারয় সমাস।

• উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি।
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫০৩.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস?
  1. সিংহপুরুষ
  2. নয়নপদ্ম
  3. কাজলকালো
  4. বীরকেশরী
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র।

অন্যদিকে,
• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- বীর কেশরীর ন্যায় = বীরকেশরী;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৫০৪.
’নীলপদ্ম’ কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• 'খাসমহল' কর্মধারয় সমাস। 

কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে - কর্ম + ধৃ + ণিচ + আ = কর্মধারয়।
- এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে।
- অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন -
- খাস যে মহল = খাসমহল,
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫০৫.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. শশব্যস্ত
  2. কালচক্র
  3. পরাণপাখি
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে;
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত;
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

অন্যদিকে,
• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় নমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা:
- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
- এখানে 'বহু' কিংবা 'ব্রীহি' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫০৬.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস নয়?
  1. প্রাণপ্রিয়
  2. বিষাদসিন্ধু
  3. নয়নপদ্ম
  4. বদ্বীপ
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- ব- এর মতো দ্বীপ = বদ্বীপ,
- প্রাণের মতো প্রিয় = প্রাণপ্রিয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু' উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫০৭.
'গণ্যমান্য' শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. অব্যয়ীভাব
  4. দ্বিগু
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধরা সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
- সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে সাধারণ কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ নিচে দেয়া হলো:

বিশেষণ + বিশেষ্য: 
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- দুঃ যে অবস্থা =  দুরবস্থা ইত্যাদি।

বিশেষণ + বিশেষণ:
- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
- যিনি সুস্থ তিনিই সবল = সুস্থসবল, 
- যিনি গণ্য তিনি মান্য = গণ্যমান্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
জায়া ও পতি = দম্পতি।

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
• বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- সব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০৮.
'আজাদ বিয়ের পর ঘরজামাই হিসেবে আছে।’- এ বাক্যে 'ঘরজামাই' কোন ধরনের কর্মধারয় সমাস?
  1. মধ্যপদলোপী
  2. রূপক
  3. উপমান
  4. উপমিত
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৯.
'জ্যোৎস্নারাত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
- জ্যোৎস্না শোভিত যে রাত = জ্যোৎস্নারাত;
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া;
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা;
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ।
৫১০.
কোনটি নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. বেহায়া
  2. নির্ভুল
  3. অনাদর
  4. অবুঝ
ব্যাখ্যা

• নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।
- ণ আদর = অনাদর।

এরূপ- অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

• নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের ক্ষেত্রে খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমন:
ন কাল = অকাল বা আকাল।
তদ্রূপ- আধোয়া, নামঞ্জুর, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক। 

অন্যদিকে,
• নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস:
নঞর্থক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস বলে। অথবা, বিশেষ্য পদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস বলে। নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।

যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = অজানা,
- অ (নেই) বুঝ যার = অবুঝ,
- বে (নেই) হায়া যার = বেহায়া।

এ-রকম: অজ্ঞান, অসাড়, অতন্দ্র, অরাজক, অথই, অসীম, অনাচার, অহিংস, অনাদি, অনীহ, অপুত্রক, আনাড়ি, নির্বিঘ্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)

৫১১.
'পদ্মআঁখি' কোন সমাস?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ; 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫১২.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. কুসুমকোমল
  2. পলান্ন
  3. শোকানল
  4. ফুলকুমারী
ব্যাখ্যা
• ফুলকুমারী (কুমারী ফুলের ন্যায়)- উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

• উপমিত কর্মধারয়:
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে। যেমন- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ। পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

অন্যদিকে,
- কুসুমকোমল - কুসুমের ন্যায় কোমল (উপমান কর্মধারয় সমাস)।
- পলান্ন - পল মিশ্রিত অন্ন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)। 
- শোকানল - শোক রূপ অনল (রূপক কর্মধারয় সমাস)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫১৩.
'দুঃশাসন' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস 
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে ‘কর্মধারয়’ সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।
যেমন:
ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী, 
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে কিছু উদাহরণ:

• (বিশেষণ+ বিশেষ্য): 
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

• (বিশেষণ+ বিশেষণ):
- যিনি সুস্থ তিনিই সবল = সুস্থসবল,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা (কাঁচামিঠে)। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫১৪.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) সিংহপুরুষ
  2. খ) ভ্রমরকৃষ্ণ
  3. গ) তুষারশুভ্র
  4. ঘ) অরুনরাঙা
ব্যাখ্যা
সিংহপুরুষ - পুরুষ সিংহের ন্যায়। চন্দ্রমুখ - মুখ চন্দ্রের ন্যায়। এদুটি উপমিত কর্মধারয় সমাস। ভ্রমরকৃষ্ণ, তুষারশুভ্র, অরুনরাঙা এগুলো উপমান কর্মধারয় সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫১৫.
'রাজর্ষি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাসের কয়েকটি বিশেষ নিয়ম-
১) দুইটি বিশেষণ একই বিশেষ্য বোঝালে সেটি কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর। এখানে পরবর্তী বিশেষ্যটি অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে এটি দ্বন্দ্ব সমাস হবে না।
২) দুইটি বিশেষ্য একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে সেটিও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব। যিনি রাজা তিনিই ঋষি = রাজর্ষি
৩) কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ বা ক্রিয়াবাচক বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা। এখানে ‘মোছা’ কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪) পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে তা পুরুষবাচক হয়ে যাবে। যেমন, সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা
৫) বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে মহা হয়। মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান
৬) পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’, ‘কৎ’ হয়। যেমন, কু যে অর্থ = কদর্থ।
৭) পরপদে ‘রাজা’ থাকলে ‘রাজ’ হয়। যেমন, মহান যে রাজা = মহারাজ
৮) বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষ্য আগে এসে বিশেষণ পরে চলে যায়। যেমন, সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১৬.
কোনটি 'পরপদ' প্রধান সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) অব্যয়ীভাব
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- কর্মধারয় সমাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাসবাক্যের মাঝে 'যে' আসে।
যেমন:
- লাল যে জামা = লালজামা,
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

আবার,
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান্য পায়।
যেমন - দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত; মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৫১৭.
'চালকুমড়া' শব্দটি কোন সমাস?
  1. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  3. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫১৮.
’সাহিত্যসভা’ কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• সাহিত্যসভা - কর্মধারয় সমাস। 
- এটি মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস। 

কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে - কর্ম + ধৃ + ণিচ + আ = কর্মধারয়।
- এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে।
- অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন -
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন -
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৯.
‘মুজিববর্ষ' কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) দ্বিগু সমাস
  3. গ) কর্ম ধারয় সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।
 
কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লােপ পায়।
- এগুলাে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন –
ঘি মাখানাে ভাত = ঘিভাত
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি
ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা
 
তেমনি ভাবে, মুজিব স্মরণে যে বর্ষ = মুজিববর্ষ 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫২০.
শশব্যস্ত - কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

উপমান এবং উপমিত কর্মধারয় সমাস হতে হলে বাধ্যতামূলক তুলনা বুঝাবে। যদি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ বস্তুর সাধারণ ধর্ম, গুণ, মিল থাকে বা বাস্তবসম্মত মনে হয় তাহলে তো উপমান আর তা মনে না হলে উপমিত কর্মধারয় সমাস।
কর পল্লবের ন্যায় =করপল্লব – উপমিত কর্মধারয় সমাস। শশকের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত, হরিণের ন্যায় চপল =হরিণচপল, ইস্পাতের ন্যায় কঠিন= ইস্পাতকঠিন (উপমান কর্মধারয় সমাস)।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা-হায়াৎ মামুদ।

৫২১.
'স্মৃতিসৌধ' শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. স্মৃতি রূপ সৌধ
  2. স্মৃতি ও সৌধ
  3. স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ
  4. স্মৃতির ন্যায় সৌধ
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি, 
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়, 
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ, 
- উর্ণ নির্মিত জাল = উর্ণাজাল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫২২.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. চন্দ্ৰমুখ
  2. কাজলকালো
  3. সিংহপুরুষ
  4. মনমাঝি
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।

 যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

• অন্যদিকে: 
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্ৰমুখ
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

৫২৩.
উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে বলে -
  1. ক) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. গ) রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- অন্যভাবে বলা যায়, সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলা হয়।

যেমন:
- চাঁদের মতো মুখ = চাঁদমুখ,
- কর কমলের ন্যায় = করকমল,
- সোনার মতো মুখ = সোনামুখ।

উপমিত কর্মধারয় সমাসের বৈশিষ্ট্য:
- এ সমাসের ব্যাসবাক্যের দুটি পদই বিশেষ্য হয়।
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে সমাস হয়।
- উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
- এ সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উল্লেখ থাকে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫২৪.
কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. বউভাত
  2. অজমূর্খ
  3. তালমাতাল
  4. ভাইবোন
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত, 
- অজের ন্যায় মূর্খ = অজমূর্খ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
 যেমন: 
- ভাইবোন,
- তালমাতাল ইত্যাদি।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫২৫.
'জজ সাহেব' কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যাক্তি বা বস্তুকে বোঝালে কর্মধারয় সমাস হয়। জজ সাহেব = যিনি জজ তিনিই সাহেব।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী।
৫২৬.
নিম্নের কোনটি উপমান কর্মধারয় এর উদাহরণ ?
  1. ক) বিষাদসিন্ধু
  2. খ) চন্দ্রমুখ
  3. গ) ঘরজামাই
  4. ঘ) কাজলকালাে
ব্যাখ্যা
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন –
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
- শশকের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫২৭.
‘খাসমহল’ (খাস যে মহল) কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস  হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়  তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন, 
- ক্ষুধিত-পাষাণ =ক্ষুধিত যে পাষাণ।
- অক্ষয়কীর্তি = অক্ষয় যে কীর্তি। 
- অর্ধপথ = অর্ধ যে পথ।
- খাসমহল = খাস যে মহল। 
- নবান্ন = নব যে অন্ন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ। 
৫২৮.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাস ?
  1. গাছপাকা
  2. সোনারতরী
  3. গুরুভক্তি
  4. চিনিকল
ব্যাখ্যা

 - চিনিকল হলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। ‘চিনিকল’ এর ব্যাসবাক্য ‘চিনি নির্মাণের কল’
- যে কর্মধারয় সমাসে মধ্য পদ লোপ পায় ,তাকে মধ্য পদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। 
মধ্য পদলোপী কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- বৌ ভাত = বৌ পরিবেশন করা ভাত 
- একাদশ = এক অধিক দশ 
- ভিক্ষান্ন = ভিক্ষা লব্ধ অন্ন 
- প্রাণভয় = প্রাণ যাওয়ার তরে ভয়।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম- দশম শ্রেণি] 

৫২৯.
'প্রস্তরকঠিন' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  2. উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয়:
উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।

যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
[এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়।কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।]

যথা:
- প্রস্তরের ন্যায় কঠিন = প্রস্তরকঠিন;
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র;
- অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩০.
'বিড়ালতপস্বী' শব্দটি কোন সমাস?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  4. রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সঙ্গে বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদের মিলন ঘটে ও পরপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
- সুন্দর যে পুরুষ = সুপুরুষ।

উপমান কর্মধারয় সমাস:
সাধারণ ধর্মবাচক পদের সঙ্গে উপমা বাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- যার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর তুলনা করা হয় তাকে উপমান বলে।
যেমন -
→ কুন্দশুভ্র = কুন্দের মতো শুভ্র।
→ ফুটিফাটা = ফুটির মতো ফাটা।
বিড়ালতপস্বী = বিড়ালের ন্যায় তপস্বী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩১.
'ঝালমুড়ি' - কোন সমাস?
  1. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

এরূপ, সাহিত্যসভা, গোবর গণেশ, সংবাদপত্র ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩২.
উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. কাজলকালো
  2. পদ্মআঁখি
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. মনমাঝি
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ- পদ্মআঁখি।
-----------------------------------------
উপমিত কর্মধারয়:
 - যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন
• পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
• মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ

অন্যদিকে,
উপমান কর্মধারয়:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন
কাজলের মতো কালো= কাজলকালো
• শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত

রূপক কর্মধারয়:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন
• বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
• মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৫৩৩.
“ফুলকুমারী” কোন ধরণের সমাস
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) দ্বিগু সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
⇒ বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে ‘কর্মধারয়’ সমাস বলে।
কর্মধারয় সমাসে প্রথম পদটি দ্বিতীয় সমাসের বিশেষণরূপে অবস্থান করে ( এমনকি বিশেষণ পদ না হয়েও) এবং সমস্তপদে দ্বিতীয় বা পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। ব্যাসবাক্যের মাঝে ‘যে’ থাকবে।

যেমন:
ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম
যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা
যা মিঠা তা-ই কড়া = মিঠাকড়া

[ যে, সে, যেই, সেই, যিনি, তিনি, যা, তা, ইত্যাদি ব্যাসবাক্য কর্মধারয় সমাসে ব্যবহৃত হয়]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৫৩৪.
বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান তাকে বলা হয়-
  1. ক) অব্যয়ীভাব সমাস
  2. খ) কর্মধারয় সমাস
  3. গ) দ্বন্দ্ব সমাস
  4. ঘ) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট। কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়। যেমন:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা কতুকে বোঝালে। যেমন – যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৫.
’প্রীতিউপহার’ কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• 'প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার' কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। 

কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে - কর্ম + ধৃ + ণিচ + আ = কর্মধারয়।
- এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে।
- অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন -
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন -
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৬.
'রাজর্ষি' - এর ব্যাসব্যাক্য কোনটি?
  1. যিনি ঋষি তিনি রাজা
  2. যিনি রাজা তিনি ঋষি
  3. যিনি রাজা তিনিই ঋষি
  4. যিনি ঋষি তিনিই রাজা
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস  হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন:
• খাস যে মহল = খাসমহল;
• ক্ষুধিত যে পাষাণ = ক্ষুধিত-পাষাণ;
• অক্ষয় যে কীর্তি  = অক্ষয়কীর্তি;
• অর্ধ যে পথ = অর্ধপথ;
• নব যে অন্ন = নবান্ন;
• যিনিই মৌলভি তিনিই সাহেব = মৌলভিসাহেব;
• যিনি রাজা তিনিই ঋষি = রাজর্ষি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৩৭.
’গোলাপফুল’ কোন সমাসের উদহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয়
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস :
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- গোলাপ নামের ফুল - গোলাপফুল।
- যা কাঁচা তাই মিঠা - কাচাঁ-মিঠা।

• দ্বন্দ্ব সমাস :
- যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
 যেমন - 
- ভালো ও মন্দ =ভালো-মন্দ।
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরে-সুস্থে।
- চলনে ও বলনে = চলনে-বলনে।

• তৎপুরুষ সমাস :
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ:
 যেমন -
- পথের রাজা = রাজপথ।
- গাছে পাকা = গাছপাকা।
- অকালে মৃত্যু = অকালমুত্যু।
- সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- রান্নার জন্যে ঘর = রান্নাঘর।
- বিয়ের জন্যে পাগল =  বিয়েপাগল।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
৫৩৮.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস?
  1. মনমাঝি
  2. তুষারশুভ্র
  3. চন্দ্রমুখ
  4. সিংহপুরুষ
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।

যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র,
অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় - মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ, পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।
রূপক কর্মধারয় - মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৩৯.
'মহাকীর্তি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারায়
ব্যাখ্যা

• যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমনঃ
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি,
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৪০.
কোন সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান থাকে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
গোলাপ নামের ফুল= গোলাপফুল।

অন্যদিকে,
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন-
'সোনা-রূপা' সমস্ত পদের ব্যাসবাক্য সোনা ও রূপা। 

• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
আমিষের অভাব = নিরামিষ।
 মিলের অভাব = গরমিল।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৪১.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. মুখচন্দ্র
  2. ক্রোধানল
  3. তুষারশুভ্র
  4. মনমাঝি
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো,
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র,
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।

রূপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় নমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৪২.
'মহারাজ' কোন সমাসের উদাহরণ?'
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাসের কয়েকটি বিশেষ নিয়ম-
১) দুইটি বিশেষণ একই বিশেষ্য বোঝালে সেটি কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর। এখানে পরবর্তী বিশেষ্যটি অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে এটি দ্বন্দ্ব সমাস হবে না।
২) দুইটি বিশেষ্য একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে সেটিও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব। যিনি রাজা তিনিই ঋষি = রাজর্ষি।
৩) কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ বা ক্রিয়াবাচক বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা। এখানে ‘মোছা’ কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪) পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে তা পুরুষবাচক হয়ে যাবে। যেমন, সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা
৫) বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে মহা হয়। মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান
৬) পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’, ‘কৎ’ হয়। যেমন, কু যে অর্থ = কদর্থ।
৭) পরপদে ‘রাজা’ থাকলে ‘রাজ’ হয়। যেমন, মহান যে রাজা = মহারাজ
৮) বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষ্য আগে এসে বিশেষণ পরে চলে যায়। যেমন, সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৪৩.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. রণকমল
  2. দিলদরিয়া
  3. কাজলকালো
  4. ঘিভাত
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- জীবন রূপ বারি = জীবনবারি,
- জীবন রূপ নদী = জীবননদী,
- দিল্ রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

অন্যদিকে,
• চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল; উপমিত কর্মধারয় সমাস।
• কাজলের মতো কালো = কাজলকালো; উপমান কর্মধারয় সমাস।
• ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৫৪৪.
কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি?
  1. কাঁচকলা
  2. মামাবাড়ি
  3. দুঃশাসন
  4. মহাত্মা
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা

অন্যদিকে,
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি - তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৪৫.
'হৃষ্টপুষ্ট' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• যিনি হৃষ্ট তিনিই পুষ্ট = 'হৃষ্টপুষ্ট'; কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সঙ্গে বিশেষ্য বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের মিলন ঘটে ও পরপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
----------------------
অন্য অপশনে, 
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন: ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

• তৎপুরুষ সমাস: 
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন,
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত।

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৪৬.
‘চাঁদ মুখ’ কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. রূপক
  3. উপমিত
  4. উপমান
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদমুখ' এর ব্যাসবাক্য হলো = চাঁদের ন্যায় মুখ।
- এটি একটি কর্মধারয় সমাস। 

• যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি।
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৪৭.
'ত্রিফলা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলােকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে।
যেমন – তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা
            চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৪৮.
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. কুসুমকোমল
  2. পদ্মাসন 
  3. ভক্তিসুধা 
  4. তুষার ধবল
ব্যাখ্যা
রূপক কর্মধারয় সমাস: উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করে উপমান ও উপেময় পদের যে সমাস হয় তাকে রূপল কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমনঃ
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
- মন রূপ মাঝি= মনমাঝি
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি
- দিল রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া
- শোক রূপ অনল= শোকানল
- ক্ষুধা রূপ অনল  = ক্ষুধানল 
- ভক্তি রূপ সুধা = ভক্তিসুধা 
- ভব রূপ নদী = ভবনদী 

উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে। 
যেমনঃ
- কুসুমের ন্যায় কোমল= কুসুমকোমল
- রক্তের ন্যায় লাল= রক্তলাল
- শশের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- মিশির মতো কালো= মিশকালো
- তুষারের ন্যায় ধবল =তুষার ধবল

যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসের দুটো পদই বিশেষ্য হয়। যেমনঃ 
- পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ 
- আঁখি পদ্মের ন্যায়= পদ্মআঁখি
- মুখ চন্দ্রের ন্যায়= চন্দ্রমুখ
- আসন পদ্মের ন্যায় = পদ্মাসন 


[উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
 
৫৪৯.
দ্বিগু কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ত্রিফলা
  2. খ) ঘিভাত
  3. গ) চৌরাস্তা
  4. ঘ) ক+গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলােকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে।
যেমন:
তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা,
চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

অপরদিকে,
ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৫৫০.
কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. কুশীলব
  2. দুঃশাসন
  3. বাগবিতণ্ডা
  4. মনগড়া
ব্যাখ্যা
• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
(বিশেষণ+ বিশেষ্য)
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

অন্যদিকে,
- কুশ ও লব = কুশীলব; (দ্বন্দ্ব সমাস)।
- বাক্ দ্বারা বিতণ্ডা = বাগবিতণ্ডা; মন দ্বারা গড়া = মনগড়া (তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫১.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসে নিষ্পন্ন?
  1. সংবাদপত্র
  2. পলান্ন
  3. শশব্যস্ত
  4. দেহলতা
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাসে নিষ্পন্ন = শশব্যস্ত।
’শশব্যস্ত’ ব্যাসবাক্য হচ্ছে শশকের মতো ব্যস্ত।

• উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
 সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র,
অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

অন্যদিকে,
’সংবাদপত্র’ পলান্ন, মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
’দেহলতা’ রূপক কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫,২০১৯ সালের সংস্কারণ।
৫৫২.
‘নীলাকাশ’ কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব 
  2. তৎপুরুষ 
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস: 
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
- নীল যে অম্বর = নীলাম্বর।
- নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- রক্ত যে কমল = রক্তকমল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন।  
৫৫৩.
'নয়নপদ্ম' শব্দটি কোন কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ? 
  1. রূপক
  2. উপমিত
  3. মধ্যপদলোপী
  4. উপমান
ব্যাখ্যা

উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৫৪.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) ধোয়ামোছা
  2. খ) বিদ্যাহীন
  3. গ) বিয়েপাগলা
  4. ঘ) বিলাতফেরত
ব্যাখ্যা

কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ পদে কর্মধারয় সমাস হয়৷
যেমন - আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।
বিদ্যাহীন, বিয়েপাগলা, বিলাতফেরত হলো তৎপুরুষ সমাস৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি

৫৫৫.
‘মমতারস’ কোন সমাস?
  1. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  2. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
  4. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
- জ্যোৎস্না শোভিত যে রাত = জ্যোৎস্নারাত;
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া;
- মমতা মিশ্রিত রস = মমতারস;
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা;
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ।
৫৫৬.
'প্রীতি সূচক উপহার' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  4. সাধারণ কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতি সূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৭.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. মনগড়া
  2. জলদ
  3. স্মৃতিসৌধ
  4. আশীবিষ
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
-গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দিয়ে গড়া = মনগড়া, তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- জল দেয় যে = জলদ, উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ, ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫৮.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস নির্দেশ করে?
  1. সিংহাসন
  2. সিংহপুরুষ
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. ক্রোধানল
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয়:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

অন্যদিকে,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল; বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;রূপক কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৫৯.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. বাহুলতা
  2. করপল্লব
  3. যৌবনবন
  4. নয়নপদ্ম
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- যৌবন রূপ বন = যৌবনবন;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
---------------
• উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম। 
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি। 
- কর পল্লবের ন্যায় = করপল্লব। 
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ। 
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা। 
- ব- এর মতো দ্বীপ = বদ্বীপ। 
- প্রাণের মতো প্রিয় = প্রাণপ্রিয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৬০.
'নীলপদ্ম' কোন সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: 
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন - 
• নীল যে অম্বর = নীলাম্বর। 
• নীল যে আকাশ = নীলাকাশ। 
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। 
• রক্ত যে কমল = রক্তকমল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)। 
৫৬১.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. গায়ে হলুদ
  2. চালকুমড়া
  3. ছয়ানি
  4. ছায়াছবি
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা= সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চাল কুমড়া।

অন্যদিকে:
- গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়েহলুদ - এটি অলুক বহুব্রীহি সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৬২.
'গোলাপফুল' সমাসবদ্ধ পদটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. গোলাপি রঙের ফুল
  2. গোলাপের ফুল
  3. গোলাপি ফুল
  4. গোলাপ নামের ফুল
ব্যাখ্যা
• সমাস:
সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়। বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম সমাস। 
সমাস মূলত চার প্রকার। যথা:
১. দ্বন্দ্ব,
২. কর্মধারয়,
৩. তৎপুরুষ ও
৪. বহুব্রীহি।
 
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।
 
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল।
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।
 
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
 
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৫৬৩.
'মহাকীর্তি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. নিত্য সমাস
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'মহাকীর্তি' শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য হলো - মহতী যে কীর্তি।
- এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয়
এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম= নীলপদ্ম।

• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়।
যেমন:
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬৪.
‘গণতন্ত্র’ শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  3. রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

‘গণতন্ত্র’ শব্দটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত। 
---------------------------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়।
- অর্থাৎ, সাধারণ বাক্যে যে মধ্যপদটি থাকে—যেমন: 'নিয়ন্ত্রিত' 'চিহ্নিত', 'বিষয়ক', 'রক্ষার্থে', 'আশ্রিত', 'মিশ্রিত', 'শোভিত' ইত্যাদি—সেই মধ্যপদটি সমাস গঠনের সময় উধাও হয়ে যায়। 
- উদাহরণস্বরূপ- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র; এখানে ‘নিয়ন্ত্রিত’ মধ্যপদটি লোপ পেয়েছে। 

- কিছু মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ- 
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা → ‘সাহিত্যসভা,
- শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী = শিক্ষামন্ত্রী, 
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত, 
 - স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- পল মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন, 
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।
----------------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
উপমান কর্মধারয় সমাস-
- উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ ধর্মবাচক পদকে উপমাবাচক পদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
- এই সমাসে উপমাবাচক পদটি সেই পদকে প্রকাশ করে যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
- উদাহরণ: তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস-
- উপমিত কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ গুণ স্পষ্টভাবে বলা হয় না।
- কিন্তু উপমেয় পদকে উপমানের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং উপমেয় পদটি আগে আসে।
- উদাহরণ: চন্দ্রমুখ = মুখ চন্দ্রের ন্যায়।

রূপক কর্মধারয় সমাস-
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণ: বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু, মনমাঝি = মন রূপ মাঝি। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ),
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।।

৫৬৫.
'বাংলাদেশ' শব্দটি কোন ধরনের সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) কর্মধারয়। 

ব্যাখ্যা: "বাংলাদেশ" শব্দটির ব্যাসবাক্য হলো- যে দেশ বাংলা (ভাষা/জনগোষ্ঠীর) সেই দেশ বা বাংলা নামক দেশ বা যা বাংলা তা-ই দেশ।
এখানে ‘বাংলা’ শব্দটি ‘দেশ’-কে বিশেষণ হিসেবে নির্দিষ্ট করছে। তাই এটি কর্মধারয় সমাস।

এখানে:
"বাংলা" = বিশেষণ বা উপমান/বিশেষণভাবাপন্ন পদ। 
"দেশ" = বিশেষ্য বা পরপদ। 
এটি কর্মধারয় সমাস (বিশেষ করে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস), কারণ বিশেষণ-বিশেষ্যের সম্পর্কে "নামক", "যে", "যা...তা-ই" ইত্যাদি মধ্যপদ লোপ পেয়ে একপদ হয়েছে এবং পরপদের ("দেশ") অর্থই প্রধান।

অন্য অপশনগুলো কেন সঠিক নয়?
ক) দ্বন্দ্ব: দুই পদের সমান প্রাধান্য (যেমন: মা-বাবা, হাত-পা)। এখানে "বাংলা" ও "দেশ" সমান নয়।
গ) তৎপুরুষ: বিভক্তি লোপে পরপদ প্রধান (যেমন: রাজপুত্র = রাজার পুত্র; ষষ্ঠী তৎপুরুষ)। এখানে "বাংলা" বিভক্তিযুক্ত নয়, বরং বিশেষণ।
ঘ) বহুব্রীহি: সমস্ত পদের অর্থ প্রধান নয়, বরং অন্য কোনো অর্থ প্রধান (যেমন: পীতাম্বর = যার পীত বস্ত্র)। "বাংলাদেশ" নিজের অর্থই বোঝায় (বাংলা নামের দেশ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫৬৬.
'চালাক-চতুর' - কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
  5. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধরা সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- দুঃ যে অবস্থা =  দুরবস্থা,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৬৭.
'নরাধম' শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বিগু
  2. তৎপুরুষ
  3. দ্বন্দ্ব
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
- বিশেষণ পদ পূর্বে এবং বিশেষ্য পদ পরে হলে হয় সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- কু যে আচার - কদাচার,
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- অধম যে নর = নরাধম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫৬৮.
'কাঁচকলা' কোন সমাসভুক্ত?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) উপপদ তৎপুরুষ দ্বন্দ্ব
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) বহুব্রীহি
  5. ঙ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে যে সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
• নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
• কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬৯.
‘নীল যে অম্বর = নীলাম্বর' কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন-
- নীল যে অম্বর = নীলাম্বর।
- নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- রক্ত যে কমল = রক্তকমল।

অন্যদিকে,
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- নীল অম্বর যার = নীলাম্বর।
- দশ আনন যার = দশানন।
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭০.
রূপক কর্মধারায় সমাস নয় কোনটি?
  1. মোহনিদ্রা
  2. দিলদরিয়া
  3. কবিগুরু
  4. জীবনবারি
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারায় সমাস নয়- কবিগুরু।
- কবির গুরু = কবিগুরু; ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

---------------------
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- দিল রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি;
- মোহ রূপ নিদ্রা = মোহনিদ্রা;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- জীবন রূপ বারি = জীবনবারি;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৭১.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. কাজলকালো
  2. মুখচন্দ্র
  3. শশব্যস্ত
  4. তুষারপুত্র
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মুখচন্দ্র

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
- যেমন সোনার মতো মুখ সোনামুখ, বাস্তু লতার ন্যায় বাতুলতা। 
- এ সমাসে উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
যেমন
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় মুখচন্দ্র।

এরূপ-
করকমল, করপল্লব, অধরপল্লব, চরণকমল, চরণণয়, চাঁদবদন, চাঁদমুখ, নয়নপল্প, মুখগল্প, হাঁড়িমুখ ইত্যাদি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন-
ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।

- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- তুষারের ন্যায় পুত্র = তুষারপুত্র,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

এরূপ-
অগ্নিশর্মা, অরুণরাঙা, কচুকাটা, কদমহাট, কাচভঙ্গুর, কুসুমকোমল, কাজলকালো, গোবেচারা, শৈলোন্নত, দুখখবল, ধনুকবাঁকা, নিমতেতো, প্রস্তরকঠিন, ফুটিফাটা, রক্তিমূর্থ, বকধার্মিক, বিড়ালভপমী, বরফসাদা, বজ্রকঠিন, লৌহকঠিন, শিশির-রিপ, সিদুররাঙা ইত্যাদি উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৭২.
‘তুষার শুভ্র’- এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) তুষার শুভ্রের ন্যায়
  2. খ) শুভ্র যে তুষার
  3. গ) তুষার রূপ শুভ্র
  4. ঘ) তুষারের ন্যায় শুভ্র
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ক্ষেত্রে-
উপমান কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝে যে আসে। তুলনাটি বিশেষ্য + বিশেষণ এবং পূর্বপদ ও পরপদের সম্পর্ক সত্য হয়। যেমন: তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র।
উপমিত কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের শেষে যে আসে। তুলনাটি বিশেষ্য + বিশেষ্য এবং পূর্বপদ ও পরপদের সম্পর্ক মিথ্যা হয়। যেমন: পুরুষসিংহ = পুরুষ সিংহের ন্যায়।
রূপক কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝে রূপ আসে। তুলনাটি কাল্পনিক, বিশেষ্য + বিশেষ্য এবং পূর্বপদটি অদৃশ্যমান ও পরপদটি দৃশ্যমান হবে। যেমন: মনমাঝি = মন রূপ মাঝি।
৫৭৩.
‘তুষারধবল’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ কর্মধারয়
  2. খ) উপমান কর্মধারয়
  3. গ) উপমিত কর্মধারয়
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
- উপমান কর্মধারয় সমাসে একটি বিশেষণ পদ থাকে এবং কোনো উপমেয় পদের উল্লেখ থাকে না। যেমন:
শশকের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত, কাজলের মতো কালো = কাজলকালো, কুসুমের মতো কোমল = কুসুমকোমল ।
তেমনই গোবেচারা, তুষারধবল, রক্তলাল, হস্তিমূর্খ, বজ্রকণ্ঠ, বকধার্মিক প্রভৃতি।

উপমান কর্মধারয় সমাসের বৈশিষ্ট্য:
- উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের সমাস হয়। যেমন- রক্তের ন্যায় লাল = রক্তলাল। এখানে 'লাল' সাধারণ ধর্ম ।
- উপমান কর্মধারয় সমাসে একটি বিশেষণ পদ থাকে। যেমন: তুষারের ন্যায় ধবল = তুষারধবল। এখানে ‘ধবল' হচ্ছে বিশেষণ ৷
- উপমান কর্মধারয় সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উপস্থিতি আবশ্যক। যেমন— মিশির মতো কালো। এখানে 'কালো' হলো সাধারণ ধর্ম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫৭৪.
'সাম্যবাদ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস 
  2. বহুব্রীহি সমাস 
  3. অব্যয়ীভাব সমাস 
  4. কর্মধারয় সমাস 
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয়:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে। বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৭৫.
'তুষারশুভ্র' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. রূপক কর্মধারয় সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধার‍য় সমাস
  4. উপমান কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৫৭৬.
'মহাকীর্তি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি
  2. দ্বন্দ্ব
  3. কর্মধারয়
  4. তৎসম
ব্যাখ্যা

• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমনঃ
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা,
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭৭.
উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ঘরে আশ্রিত জামাই
  2. খ) বিষাদ রূপ সিন্ধু
  3. গ) পুরুষ সিংহের ন্যায়
  4. ঘ) কাজলের মতো কালো
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: 
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন- 
• গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল, 
• যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা ইত্যাদি। 

ক. কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে ‘যে' যোজক থাকে। 
যেমন- 
- খাস যে জমি = খাসজমি, 
- কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা, 
- ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা, 
- যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর ইত্যাদি। 

খ. কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে। 
যেমন- 
- তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা, 
- চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা। 

গ. কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত। 
যেমন- 
- ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত, 
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি, 
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই, 
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা। 

ঘ. যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে। 
যেমন- 
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো, 
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত, 
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 

ঙ. যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন- 
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি, 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ। 
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়। 

চ. কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন- 
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, 
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৭৮.
উপমান কর্মধারয় সমাসে পরপদ কী হয়?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৭৯.
'মশা মারতে কামান দাগা' বাক্যে 'মশা' কোন কারক?
  1. কর্মে শূন্য
  2. কর্তায় সপ্তমী
  3. করণে শূন্য
  4. কর্তায় শূন্য
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বল হয় কর্মকারক। যেমন-সেলিম বই পড়ে- এ বাক্যের কর্ম হলো বই। কারণ বইকে আশ্রয় করে কর্তা এখানে কাজ সম্পাদন করেছে।

কর্ম প্রধানত দুই প্রকার- মুখ্য কর্ম এবং গৌণ কর্ম-
১. মুখ্য কর্ম: কোনো কোনো বাক্যে দুটি কর্ম থাকে। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার অপ্রাণিবাচক বা বস্তুবাচক কর্মটিকে বলা হয় মুখ্য কর্ম। যেমন- সুমি রিপনকে একটি কলম দিয়েছে। এ বাক্যে দুটি কর্ম রয়েছে- রিপন এবং কলম। কলম হলো বস্তুবাচক কর্ম; অতএব কলম হলো মুখ্য কর্ম।

২. গৌণ কর্ম: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মকে বলা হয় গৌণ কর্ম। যেমন- জয়নাল, ফারুককে একটি বই দিয়েছিল। এ বাক্যের ব্যক্তিবাচক কর্ম হলো জয়নাল। অতএব ফারুক হলো গৌণ কর্ম।

যেমন:
- মশা মারতে কামান দাগা। 
[ বাক্যে মারার ক্রিয়া মশাকে অবলম্বন করে সম্পাদন হয়েছে। সুতরাং, 'মশা' কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি।] 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮০.
'মিশকালো' শব্দটি কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- অজের ন্যায় মূর্খ = অজমূর্খ,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৮১.
কোন সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
– গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

অন্যদিকে,
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন – ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা। 

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বা অর্থ বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: আশীতে বিষ যার = আশীবিষ। 

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
যেমন -
• বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতি দিন,

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮২.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি?
  1. সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
  2. প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়
  3. ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী
  4. স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ
ব্যাখ্যা

ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী; দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

​----------------------
​• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৮৩.
‘পদ্মানদী’ শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  3. রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মানদী' শব্দটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত। 
---------------------------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়।
- অর্থাৎ, সাধারণ বাক্যে যে মধ্যপদটি থাকে—যেমন: 'নিয়ন্ত্রিত' 'চিহ্নিত', 'বিষয়ক', 'রক্ষার্থে', 'আশ্রিত', 'মিশ্রিত', 'শোভিত' 'নাম্নী' ইত্যাদি—সেই মধ্যপদটি সমাস গঠনের সময় উধাও হয়ে যায়। 
- উদাহরণস্বরূপ- পদ্মা নাম্নী নদী = পদ্মানদী; এখানে ‘নাম্নী’ মধ্যপদটি লোপ পেয়েছে। 

- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ:
- সাহিত্য বিষয়ক সভা → ‘সাহিত্যসভা,
- শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী = শিক্ষামন্ত্রী, 
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত, 
 - স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- পল মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- বৌ পরিবেশন করা ভাত = বৌভাত,
- রাষ্ট্র সম্পর্কীয় নীতি = রাষ্ট্রনীতি,
- চিনি নির্মাণের কল = চিনিকল,
- চালে জন্মানো কুমড়া = চালকুমড়া,
- গো (ক্ষুরের) পরিমিত পদ বা স্থান = গোষ্পদ,
- প্রাণ যাওয়ার তরে ভয় = প্রাণভয়,
- ধর্মবিহিত ধার্য = ধর্মধার্য,
- এক অধিক বিংশতি = একবিংশতি,
- রেলের ওপর চলে যে গাড়ি = রেলগাড়ি,
- আয়ের ওপর কর = আয়কর,
- হস্ত দ্বারা চালিত শিল্প = হস্তশিল্প,
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।
----------------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
• উপমান কর্মধারয় সমাস-
- উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ ধর্মবাচক পদকে উপমাবাচক পদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
- এই সমাসে উপমাবাচক পদটি সেই পদকে প্রকাশ করে যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
- উদাহরণ:
- তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র। 

• উপমিত কর্মধারয় সমাস-
- উপমিত কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ গুণ স্পষ্টভাবে বলা হয় না।
- কিন্তু উপমেয় পদকে উপমানের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং উপমেয় পদটি আগে আসে।
- উদাহরণ:
- চন্দ্রমুখ = মুখ চন্দ্রের ন্যায়।

• রূপক কর্মধারয় সমাস-
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণ:
- বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু,
- মনমাঝি = মন রূপ মাঝি। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ),
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।।

৫৮৪.
‘খাসমহল’- কোন সমাস সাধিত পদ?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বন্দ্ব 
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস  হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
• খাস যে মহল = খাসমহল;
• ক্ষুধিত যে পাষাণ = ক্ষুধিত-পাষাণ;
• অক্ষয় যে কীর্তি  = অক্ষয়কীর্তি;
• অর্ধ যে পথ = অর্ধপথ;
• নব যে অন্ন = নবান্ন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৮৫.
'শশব্যস্ত' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫৮৬.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সিংহপুরুষ
  2. খ) বিষাদসিন্ধু
  3. গ) শশব্যস্ত
  4. ঘ) চিরুনদাঁতি
ব্যাখ্যা
• যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।

 যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

• অন্যদিকে: 
• যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন - পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্ৰমুখ।
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

• কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি। 

• যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন – চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি,
হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫৮৭.
নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
  2. উপমিত কর্মধারয় সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।
  3. যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
  4. উপমান কর্মধারয় সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।
৫৮৮.
কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. মহাত্মা
  2. বাগবিতণ্ডা
  3. চর্ব্যচূষ্য
  4. নদীনালা
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
(বিশেষণ+ বিশেষ্য)
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

অন্যদিকে,
- নদী ও নালা = নদীনালা; চর্ব্য ও চূষ্য = চর্ব্যচূষ্য; (দ্বন্দ্ব সমাস)। 
- বাক্ দ্বারা বিতণ্ডা = বাগবিতণ্ডা; তৃতীয়া (তৎপুরুষ সমাস)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৮৯.
উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয় - 
  1. সিংহপুরুষ
  2. পদ্মআঁখি
  3. চন্দ্রমুখ
  4. কাজলকালাে
ব্যাখ্যা

উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

যেমন:
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ

উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

৫৯০.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. কুসুমকোমল
  2. শশব্যস্ত
  3. ঘরজামাই
  4. পদ্মআঁখি
ব্যাখ্যা

কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক না একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস নামে পরিচিত।
যেমনঃ
ঘি মাখানো ভাত= ঘিভাত
ঘরে আশ্রিত জামাই= ঘরজামাই
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা

উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে। 
যেমনঃ
- কুসুমের ন্যায় কোমল= কুসুমকোমল
- রক্তের ন্যায় লাল= রক্তলাল
- শশের ন্যায় ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- মিশির মতো কালো= মিশকালো

যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসের দুটো পদই বিশেষ্য হয়। যেমনঃ 
- পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ 
- আঁখি পদ্মের ন্যায়= পদ্মআঁখি
- মুখ চন্দ্রের ন্যায়= চন্দ্রমুখ

[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০২১]
৫৯১.
‘জ্যোৎস্না রাত’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: যে কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদগুলো লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন, জ্যোৎস্না শোভিত যে রাত = জ্যোৎস্নারাত, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
Source: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
৫৯২.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. চন্দ্রমুখ
  2. কুসুমকোমল
  3. পদ্মআঁখি
  4. বিষাদসিন্ধু
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় নমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৩.
রূপক কর্মধারয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. কুসুম কোমল
  2. বিড়াল তপস্বী
  3. সুখসাগর
  4. রাজর্ষি
ব্যাখ্যা

• সুখসাগর = সুখ রূপ সাগর- রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

• রূপক কর্মধারয়:

যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র;
- যৌবন রূপ বন = যৌবনবন।

অন্যদিকে,
- বিড়াল তপস্বী = বিড়ালের ন্যায় তপস্বী ও  কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল। - উপমান র্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
- রাজর্ষি = রাজ + ঋষি সন্ধি যোগ্যা গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৯৪.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) চিকিৎসাশাস্ত্র
  2. খ) কাঁচামিঠা
  3. গ) বকধার্মিক
  4. ঘ) নয়নপদ্ম
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাশাস্ত্র একটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। 

- কাঁচামিঠা হচ্ছে সাধারণ কর্মধারয় সমাস। 
-বকধার্মিক হচ্ছে উপমান কর্মধারয় সমাস। 
- নয়নপদ্ম হচ্ছে উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন= সিংহাসন। 
 
সূত্র- ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।  
৫৯৫.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) টাকমাথা
  2. খ) ঘিভাত
  3. গ) কাজলকালো
  4. ঘ) হাতেখড়ি
ব্যাখ্যা
•  'হাতেখড়ি' এর ব্যাসবাক্য -  খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে।
- এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়। 
- এটি পদলোপী বহুব্রীহির উদাহরণ।

• কর্মধারয় সমাস

- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন - গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে ‘যে' যোজক থাকে,
- যেমন 
- খাস যে জমি = খাসজমি,
- চিত যে সাঁতার = চিতসাঁতার
- ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা,
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা,
- টাক যে মাথা = টাকমাথা,
- যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর, ,
- যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট.

• কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে।
- যেমন - তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা,
- চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা। 

• কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়।
- এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত। যেমন -
- ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত,
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি,
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই,
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা।

• যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন -
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫৯৬.
উপমান ও উপমেয় পদের অভেদ কল্পনা করা হয় কোন সমাসে? 
  1. দ্বিগু কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
 
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।
-------------------- 
অন্যদিকে,
• দ্বিগু কর্মধারয়: 
কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে।
যেমন:
 • তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা,
• চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা। 
 
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে;
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত;
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৫৯৭.
'চালাক-চতুর' - কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধরা সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- দুঃ যে অবস্থা =  দুরবস্থা,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৯৮.
‘বদ্বীপ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  2. ষষ্ঠী তৎপুুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপমিত কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম।
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।
- ব- এর মতো দ্বীপ = বদ্বীপ।
- প্রাণের মতো প্রিয় = প্রাণপ্রিয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৯৯.
‘তুষারের ন্যায় শুভ্র’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমান নির্দেশ করে?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয়: 
সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস তা উপমান কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন:
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র;
- অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা;
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ = ভ্রমরকৃষ্ণ। 

এছাড়াও, অরুণরাঙা, শশব্যস্ত, কাজলকালো, দুগ্ধধবল ইত্যাদি এই ধরনের সমাস নিষ্পন্ন শব্দ।

অন্যদিকে,
• রূপক কর্মধারয় সমাস: 
উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এটির ব্যাসবাক্যে উপমেয় ও উপমান পদের মাঝে 'রূপ' শব্দটি অথবা 'ই' শব্দাংশটি ব্যবহৃত হয়।
যেমন: 'মন রূপ মাঝি = মনমাঝি'। এখানে 'মন' উপমেয় ও 'মাঝি' উপমান।
[কিন্তু এখানে তাদের কোন নির্দিষ্ট গুণের তুলনা করা হয়নি। মনকেই মাঝি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।]

এরূপ কিছু উদাহরণ হলো:
- যৌবন রূপ সূর্য = যৌবনসূর্য;
- ঋতু রূপ চক্র = ঋতুচক্র;
- কাল(মৃত্যু) রূপ সাপ = কালসাপ;
- পরান রূপ পাখি = পরানপাখি।

--------------------
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
এ সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা;
- চন্দ্রের ন্যায় মুখ = চন্দ্রমুখ;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬০০.
'মিশকালো' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বন্দ্ব
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।