ব্যাখ্যা
• ‘জয়পতাকা'- শব্দটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত।
---------------------------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়।
- অর্থাৎ, সাধারণ বাক্যে যে মধ্যপদটি থাকে—যেমন: 'নিয়ন্ত্রিত' 'চিহ্নিত', 'বিষয়ক', 'রক্ষার্থে', 'আশ্রিত', 'মিশ্রিত', 'শোভিত' ইত্যাদি—সেই মধ্যপদটি সমাস গঠনের সময় উধাও হয়ে যায়।
• 'জয়পতাকা':
- সমস্তপদ: 'জয়পতাকা';
- ব্যাসবাক্য: জয়সূচক পতাকা / বিজয়ের পতাকা (এখানে 'সূচক' বা 'এর' পদটি লুপ্ত);
- প্রকার: মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
• কিছু মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ-
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা → ‘সাহিত্যসভা,
- শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী = শিক্ষামন্ত্রী,
- জ্যোৎস্না শোভিত রাত = জ্যোৎস্নারাত,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- পল মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।
-----------------------------------------------
অন্যদিকে,
• উপমান কর্মধারয় সমাস-
- উপমান কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ ধর্মবাচক পদকে উপমাবাচক পদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
- এই সমাসে উপমাবাচক পদটি সেই পদকে প্রকাশ করে যার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
- উদাহরণ: তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র।
• উপমিত কর্মধারয় সমাস-
- উপমিত কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে সাধারণ গুণ স্পষ্টভাবে বলা হয় না।
- কিন্তু উপমেয় পদকে উপমানের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং উপমেয় পদটি আগে আসে।
- উদাহরণ: চন্দ্রমুখ = মুখ চন্দ্রের ন্যায়।
• রূপক কর্মধারয় সমাস-
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণ: বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু, মনমাঝি = মন রূপ মাঝি।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ),
ভাষা- শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।।