• ব্যাবিলনের রাজা হাম্মুরাবি তার বিখ্যাত লিখিত আইনসংহিতা প্রণয়ন করেন।
------------
• মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয় সভ্যতা মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতা।
- এটি টাইগ্রিস (দজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- গ্রিক শব্দ Mesopotamia-র অর্থই হলো “দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি”।
- বর্তমান সময়ে এই অঞ্চল প্রধানত ইরাকের মধ্যে পড়েছে, তবে তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান ও কুয়েতের কিছু অংশও এর অন্তর্ভুক্ত।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ থেকে এখানে নগরসভ্যতার বিকাশ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতি ও রাষ্ট্রের মাধ্যমে এই সভ্যতা সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতা একক কোনো জাতির সৃষ্টি নয়; বরং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতার ধারাবাহিক বিকাশের ফল।
- প্রথমে সুমেরীয় সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- সুমেরীয়রা কিউনিফর্ম নামের বিশ্বের প্রাচীনতম লিপিগুলোর একটি সৃষ্টি করে।
- তারা চাকা আবিষ্কার, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, চন্দ্রপঞ্জিকা প্রণয়ন এবং বিখ্যাত মহাকাব্য ‘গিলগামেশ’ রচনার জন্য পরিচিত।
- এরপর ব্যাবিলনীয় সভ্যতা শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
- এই সভ্যতার অন্যতম বড় অবদান হলো লিখিত আইনব্যবস্থার বিকাশ।
- রাজা হাম্মুরাবি তার বিখ্যাত হাম্মুরাবির আইনসংহিতা (Code of Hammurabi) প্রণয়ন করেন, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন লিখিত আইন।
- পরবর্তীতে অ্যাসিরীয় সভ্যতা টাইগ্রিস নদীর তীরে আশুর নগরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
- অ্যাসিরীয়রা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক জাতি।
- তারা লোহার অস্ত্র ব্যবহার করে শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে এবং প্রশাসন ও যুদ্ধকৌশলে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করে।
- সবশেষে ক্যালডীয় বা নব্য ব্যাবিলনীয় সভ্যতা বিকশিত হয়।
- এই সময়ের বিখ্যাত শাসক ছিলেন রাজা নেবুচাদনেজার।
- তাঁর আমলেই বিখ্যাত ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান নির্মিত হয়, যা প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি বলে ধরা হয়।
- এছাড়া জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সময় গণনায় উন্নতি করে তারা সপ্তাহকে ৭ দিনে ভাগ করার ধারণাও প্রচলিত করে।
উৎস: Britannica ও ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।