বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৯৫ / ১৪০ · ৯,৪০১৯,৫০০ / ১৪,০৮০

৯,৪০১.
কোন প্রাণীর তিনটি হৃদপিণ্ড?
  1. ক) ক্যাটল ফিস
  2. খ) সিল মাছ
  3. গ) কচ্ছপ
  4. ঘ) হাঙ্গর
ব্যাখ্যা
• ক্যাটল ফিসের তিনটি হৃদপিণ্ড আছে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- উপরের দিকে দুটি অলিন্দ এবং নিচের দিকে দুটি নিলয়।
- তেলাপোকার হৃৎপিণ্ড ১৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- ব্যাঙের হৃৎপিণ্ড ৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- ক্যাটল ফিস এবং অক্টোপাসের হৃৎপিণ্ড আছে ৩টি করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪০২.
টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়?
  1. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে না।
  2. এরা অবীজী উদ্ভিদ।
  3. এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক।
  4. এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা:  
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- Pteris, Psilotum, Lycopodium, Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।  
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪০৩.
ত্বরণ কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়? 
  1. বস্তুর ভর 
  2. বস্তুর বেগের মান 
  3. সময়ের সাথে বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হার 
  4. বস্তুর অবস্থার পরিবর্তনের হার 
ব্যাখ্যা

ত্বরণ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলা হয়। 
- ত্বরণ একটি ভেক্টর রাশি। 
- কোনো বস্তুর ত্বরণ জানতে হলে বস্তুটির বেগের পরিবর্তনের হার এবং উক্ত পরিবর্তনের দিক উভয়ই জানতে হয়। 

গড় ত্বরণ: 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে বেগের যে পরিবর্তন হয় তাকে বস্তুটির গড় ত্বরণ বলে। 
- কোনো নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে, বস্তুর বেগের যে পরিবর্তন হয় তাকে উক্ত সময় ব্যবধান দিয়ে ভাগ করলে গড় ত্বরণ পাওয়া যায়। 

তাৎক্ষনিক ত্বরণ: 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে তাৎক্ষণিক ত্বরণ বলে।

সমত্বরণ: 
- কোনো গতিশীল বস্তুর ত্বরণ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমত্বরণ বলে। 
- এক্ষেত্রে ত্বরণের মান ও দিক উভয়ই ধ্রুব থাকতে হবে। 
- মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ সমত্বরণের একটি বাস্তব উদাহরণ। 

অসম ত্বরণ: 
- কোনো গতিশীল বস্তুর সময়ের সাথে যখন ত্বরণ ভিন্ন হয় তখন তাকে অসম ত্বরণ বলে। 
- ত্বরণের মান বা দিক কিংবা মান এবং দিক উভয়ের পরিবর্তনের জন্য অসম ত্বরণ সৃষ্টি হতে পারে। 
যেমন- বাস, ট্রেন, মোটগাতি ইত্যাদির ত্বরণ অসম ত্বরণের উদাহরণ। 
অর্থাৎ, গতিশীল প্রায় বস্তুর ত্বরণই অসম ত্বরণ। 

মন্দন: 
- সময়ে সাথে গতিশীল বস্তু কণার বেগের হ্রাসের হারকে মন্দন বলে। 
অর্থাৎ, একক সময়ে গতিশীল বস্তুকণার বেগের পরিবর্তন কমতে থাকলে যে রাশি পাওয়া যায় তাকে মন্দন বলে। 
- মন্দনের একক ও মাত্রা ত্বরণের অনুরূপ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪০৪.
সকল অধাতব পদার্থ মূলত-
  1. ক) পরিবাহী
  2. খ) অপরিবাহী
  3. গ) অর্ধপরিবাহী
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অপরিবাহী পদার্থ
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে, যেমন-কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি।
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী
- অপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 1012Ωm ক্রমের। 
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না।
- তাই অপরিবাহীর দুই প্রান্তে অনেক বিভব পার্থক্য ঘটালেও তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয় না।
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪০৫.
নিচের কোনটি উৎপাদক?
  1. সবুজ উদ্ভিদ
  2. মাটি 
  3. শিকারি পোকা 
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

- সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যালোক, জল এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে, এই কারণে বাস্তুতন্ত্রে এদেরকে উৎপাদক বা প্রাথমিক উৎপাদক বলা হয়। খাদ্য শৃঙ্খল সবসময় একটি উৎপাদক দিয়েই শুরু হয়। 

ইকোলজি: 

- ইকোলজি হলো এমনই এক বিজ্ঞান যা জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক মিথস্ত্রিয়া ব্যাখ্যা করে। 
- জীব ও জড় পরিবেশের এই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ককেই বলা হয় বাস্তুসংস্থান। 
- পরিবেশ ও জীবের এই সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং মানুষ, জীব ও পরিবেশ একে অন্যের জীবনধারণের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪০৬.
'The Theory of Relativity' এর প্রণেতা-
  1. ক) চার্লস ডারউইন
  2. খ) কেরোলাস লিনিয়াস
  3. গ) আইজ্যাক নিউটন
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দেখান যে, পদার্থ এবং শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন। E=mc^2, একে আইনস্টাইনের পদার্থ ও শক্তির অভিন্নতা বিষয়ক সূত্র বলা হয়। পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়। থিওরি অফ রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিকতাবাদের প্রণেতা আলবার্ট আইনস্টাইন। নিউটনীয় বলবিদ্যায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় ধ্রুব - গতি নির্ভর নয়। কিন্তু আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় আপেক্ষিক, যা বস্তু বা প্রসঙ্গ কাঠামোর উপর নির্ভরশীল একে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা বলে। আপেক্ষিকতা অর্থ কোন কিছুর সাপেক্ষে। যেমন- আপেক্ষিক ভর বলতে কোন প্রসঙ্গ কাঠামো থেকে কোন স্থির পর্যবেক্ষক কোন বস্তুর ভর পরিমাপ করেন তা বোঝায়। উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯,৪০৭.
6-10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ফরমালিন
  2. রেকটিফাইড স্পিরিট
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. ভিনেগার
ব্যাখ্যা
রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

ভিনেগার: 
- 6-10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়।
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথানল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪০৮.
নবজাতকের ওজন কত কেজির কম হলে সেটাকে কম ওজন বিশিষ্ট শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ক) ২ কেজি
  2. খ) ২.৫ কেজি
  3. গ) ৩ কেজি
  4. ঘ) ৩.৫ কেজি
ব্যাখ্যা
সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর ওজন ২.৫ কেজির কম হলে তাকে কম ওজন বিশিষ্ট শিশু বলা হয়।
মায়ের অপুষ্টি, মা ও গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন রোগের কারণে শিশু কম ওজন নিয়ে ভূমিষ্ঠ হতে পারে।
উৎসঃ প্রথম আলো স্বাস্থ্য প্রতিবেদন আর্কাইভ।
৯,৪০৯.
পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ কোনটি?
  1. ক) এশিয়া
  2. খ) আফ্রিকা
  3. গ) উত্তর আমেরিকা
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
এশিয়া মহাদেশ:

- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ এশিয়া।
- এ মহাদেশের আয়তন ৪ কোটি ৫০ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৯২ বর্গকিলোমিটার।
- পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক তৃতীয়াংশের কাছাকাছি এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
- এ মহাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।
- এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান মাউন্ট এভারেষ্ট (৮,৮৫০ মিটার)।
- মহাদেশটির উত্তরে উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিমে লোহিত সাগর ও আফ্রিকা মহাদেশ এবং পশ্চিমে ভ, -মধ্যসাগর ও ইউরোপ মহাদেশ অবস্থিত।
- এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মাঝ বরাবর ইউরাল পর্বতমালা অবস্থিত।
- এশিয়া মহাদেশে বিভিন্ন আয়তনের ৫০টি দেশ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪১০.
মানুষের শরীরে কত ধরনের অ্যাামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে? 
  1. ১২ ধরনের
  2. ১৫ ধরনের
  3. ১৮ ধরনের
  4. ২০ ধরনের
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪১১.
পৃথিবীর বৃহত্তম ও সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরক 'Large Hadron Collider' এর সাথে কোন সংস্থার নাম জড়িয়ে আছে?
  1. ROSCOSMOS
  2. NASA
  3. CERN
  4. ISRO
ব্যাখ্যা
The European Organization for Nuclear Research, known as CERN, is a European research organization that operates the largest particle physics laboratory in the world. Established in 1954, the organization is based in a northwest suburb of Geneva, Switzerland.

CERN এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের উল্লেখ করা যেতে পারেঃ

- The Higgs Boson
হিগস-বোসন কণার অস্তিত্বের ঘোষণা এই CERN এর The Large Hadron Collider এ করা ২টি পরীক্ষা থেকেই আসে।
The Nobel Prize in Physics 2013 was awarded jointly to François Englert and Peter W. Higgs "for the theoretical discovery of a mechanism that contributes to our understanding of the origin of mass of subatomic particles, and which recently was confirmed through the discovery of the predicted fundamental particle, by the ATLAS and CMS experiments at CERN's Large Hadron Collider."

- The Large Hadron Collider
The Large Hadron Collider (LHC) is the world’s largest and most powerful particle accelerator. It first started up on 10 September 2008, and remains the latest addition to CERN’s accelerator complex. The LHC consists of a 27-kilometre ring of superconducting magnets with a number of accelerating structures to boost the energy of the particles along the way.

- The Birth of the web (WWW এর সৃষ্টি)
The World Wide Web was invented by British scientist Tim Berners-Lee in 1989 while working at CERN.

- CERN এর অফিশিয়াল সাইটের তথ্যানুসারে।
৯,৪১২.
কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়?
  1. দস্তা
  2. সালফার
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
• সাধারণত সালফারের অভাবে ফসলের পরিপক্কতা বিলম্বিত হয়।

• সালফার:
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে।
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।

• অন্য উপাদানগুলির ভূমিকা:
- দস্তা (Zinc): এনজাইম ও হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে।
- নাইট্রোজেনের (N): নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পটাশিয়াম (Potassium): পানি ও পুষ্টি পরিবহনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪১৩.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনটি সরাসরি উৎপন্ন হয়? 
  1. সালফার ও কার্বন 
  2. গ্লুকোজ ও অক্সিজেন 
  3. নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন
  4. পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। 
কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 
- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৯,৪১৪.
নিচের কোনটি থেকে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়? 
  1. ছত্রাক
  2. শৈবাল
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা - 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। 
যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪১৫.
Which nuclei have the same number of neutrons but different mass numbers?
  1. Isobar
  2. Isotone
  3. Isomer
  4. Isotope
ব্যাখ্যা
আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪১৬.
এসিড সম্পর্কে কোন উক্তিটি সত্য?
  1. pH মান 7-এর বেশি
  2. স্বাদ তিক্ত
  3. ধাতুর সাথে বিক্রিয়ায় CO2 উৎপন্ন করে
  4. নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে
ব্যাখ্যা

◉ এসিড সাধারণত নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে। 

এসিড: 
এসিড হলো সেই পদার্থ, যা জলে দ্রবীভূত হয়ে H+ (প্রোটন বা হাইড্রোজেন আয়ন) উৎপন্ন করে।

এসিডের ধর্ম: 
১। প্রায় সকল এসিড টক স্বাদযুক্ত। 
২। এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে। 
৩। এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে। 
৪। এসিড ধাতব অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
৫। ধাতব কার্বনেট বা হাইড্রোজেন কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে থাকে। 
৬। pH মান 7-এর কম হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯,৪১৭.
তড়িৎ কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয় কেন? 
  1. বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে
  2. খুব দ্রুত চার্জের ভারসাম্য বজায় রাখতে
  3. আয়নগুলো দ্রবণের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করতে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
লবণ সেতু: 
- ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন এর আয়নীয় গতিবেগ সমান এমন একটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের জলীয় দ্রবণে আগর আগর জেলি মিশিয়ে উত্তপ্ত করে পরে ঠান্ডা করে লবণ সেতু বা সল্ট ব্রিজ তৈরি করা হয়। 
- লবণ সেতু ছাড়া যদি কোনও পূর্ণাঙ্গ তড়িৎ রাসায়নিক কোষ তৈরি করা হয়, তবে একটি দ্রবণ দ্রুত ধনাত্মক চার্জ সংগ্রহ করবে এবং অন্যটি নেগেটিভ চার্জ জমা করবে এবং শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন থামিয়ে দেবে। 
- লবণ সেতুর উদ্দেশ্য হলো বৈদ্যুতিক রাসায়নিক বিক্রিয়াকে খুব দ্রুত ভারসাম্য বজায় রাখা থেকে বিরত রাখা। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে তড়িৎ কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয়। 
- লবণ সেতুর লবণের আয়নগুলো তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষের উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলাচল করে। 
- আয়নগুলো দ্রবণের সাথে কোন প্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। 
- জারণ অর্ধকোষে উৎপন্ন ধনাত্মক আয়ন বৃদ্ধি পেলে লবণ সেতু হতে ঋণাত্মক আয়ন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রবণে প্রবেশ করে চার্জের ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- একইভাবে বিজারণ অর্ধকোষে ঋণাত্মক আয়ন বৃদ্ধি পেলে লবণ সেতু হতে ধনাত্মক আয়ন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রবণে প্রবেশ করে চার্জের ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- ফলে উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৯,৪১৮.
গোল কৃমি কোন পর্বের প্রাণী?
  1. অ্যানেলিডা
  2. নেমাটোডা
  3. মলাস্কা
  4. প্লাটিহেলমিনথেস
ব্যাখ্যা
প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস:
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত।

নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- নলাকার দেহ, পুরু ত্বক দ্বারা আবৃত।
- পৌষ্টিকনালী সম্পূর্ণ, শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত।
- দেহ গহ্বর অপ্রকৃত বা স্যুডোসিল । বেশির ভাগ একলিঙ্গী।
উদাহরণ- চোখ কৃমি, গোল কৃমি, ফাইলেরিয়া কৃমি ইত্যাদি।

অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ নলাকার ও খন্ডায়িত।
- প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে (জোক ব্যতীত)।
- নেফ্রেডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে।
উদাহরণ- কেঁচো, জোক ইত্যাদি। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ চ্যাপ্টা। 
- শিখা কোষ (flame cell) নামক রেচন অঙ্গ থাকে। 
উদাহরণ - যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি ইত্যাদি।

মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- প্রায় সকল প্রাণী সামুদ্রিক।
- দেহ নরম কিন্তু বাইরের দিকে শক্ত খোলসে আবৃত থাকে।
উদাহরণ - শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
৯,৪১৯.
নিচের কোনটি অভিকর্ষজ ত্বরণ g-কে সঠিকভাবে প্রকাশ করে?
  1. পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বস্তুতে অনুভূত বেগ বৃদ্ধির হার
  2. পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়াশীল ত্বরণ, যা মুক্তভাবে পড়া বস্তুর বেগ বৃদ্ধি করে
  3. সূর্যের চারপাশে গ্রহের কক্ষপথে বেগ বৃদ্ধির হার
  4. বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ বা প্রতিরোধের কারণে বেগ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।

• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- প্রত্যেকটি বস্তুকে পৃথিবী পৃষ্ঠের উপরের যেকোনো উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে অভিকর্ষ বলের প্রভাবে তা নিচের দিকে পড়তে থাকে বা গতিশীল হয়।
- যতই নিচে নামে বলের প্রভাবে বস্তুর গতি তত বৃদ্ধি পেতে থাকে বা ত্বরণ হয়।
- নিউটনের সূত্র থেকে আমরা জানি বস্তুর উপর বল প্রয়োগে বস্তুর ত্বরণ হয়।
- তাই অভিকর্ষ বলের প্রভাবে বস্তুর ত্বরণ হয়।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
- একে g অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ বেগ বৃদ্ধির হার সুতরাং এর একক ms- 2 এবং এর মাত্রা LT-2

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪২০.
কোন বস্তুর রং কালো দেখায় কারণ-
  1. ক) মেলানিনের উপস্থিতির কারণে
  2. খ) আলোর বেগুনি রশ্মি শোষণ করে
  3. গ) আলোর লাল ও হলুদ রশ্মি শোষণ করে
  4. ঘ) আলোর সব রশ্মিই শোষণ করে
ব্যাখ্যা

কোন বস্তুর রং সাদা দেখায় কারণ ঔ বস্তুটি সবগুলো আলোর সব রশ্মিই প্রতিফলন করে।
একই কারণে বরফকেও সাদা দেখায়।

আবার কোন বস্তুর রং লাল দেখায় কারণ বস্তুটি লাল ছাড়া সব আলোর রশ্মিই শোষণ করে নেয়, শুধু লাল আলোর রশ্মিই প্রতিফলন করে।
কোন বস্তুর রং কালো দেখায় কারণ বস্তুটি সবগুলো আলোর সব রশ্মিই শোষণ করে নেয়, আলোর কোন রশ্মিই প্রতিফলন করে না।

৯,৪২১.
ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ -
  1. ক) ৪৩.৯৮%
  2. খ) ৪২.৭%
  3. গ) ৪৪.৭৬%
  4. ঘ) ৪৯.০৭%
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪২২.
গামা রশ্মি বিকিরণে নিচের কোনটি পরিবর্তিত হয়?
  1. প্রোটন সংখ্যা
  2. নিউট্রন সংখ্যা
  3. ইলেকট্রন সংখ্যা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- গামা রশ্মি এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এবং এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- ফরাসি রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী পল ভিলার্ড ১৯০০ সালে গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন। একে γ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- গামা রশ্মি একটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
- ভারী এবং অস্থিত তেজস্ক্রিয় মৌল গামা রশ্মি নির্গত করে থাকে।
- এটি নির্গমনের সাথে কোনো প্রোটন, নিউট্রন বা ইলেকট্রনের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি বা রূপান্তর ঘটে না।
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির কোনো ভর নেই।
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক কম।
- মানব দেহে ক্যান্সার আক্রান্ত সেল ধ্বংস করতে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে, বিজ্ঞানগারে গবেষণার কাজে ও ধাতব বস্তুতে ফাটল নির্ণয়ে গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১. নাসা ওয়েবসাইট।
২. পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪২৩.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়? 
  1. মশা
  2. পিঁপড়া
  3. প্লাটিপাস
  4. তেলাপোকা
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪২৪.
'নিউরন' মানবদেহের কোন তন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একক?
  1. ক) রেচনতন্ত্র
  2. খ) পরিপাকতন্ত্র
  3. গ) স্নায়ুতন্ত্র
  4. ঘ) হৃদযন্ত্র
ব্যাখ্যা
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।
- মস্তিস্ক হলো স্নায়ুতন্ত্র অঙ্গ।
- মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন ১৫০০ ঘন সেমি
- মস্তিষ্কে নিউরন থাকে ১০ বিলিয়ন।
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
- মস্তিষ্ক আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস।

----------------
- রেচনতন্ত্রের কার্যকরী একক নেফ্রন।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪২৫.
বায়ুতে অক্সিজেন গ্যাসের পরিমাণ কত?
  1. ক) 19.75
  2. খ) 19.09
  3. গ) 20.95
  4. ঘ) 21.95
ব্যাখ্যা

বায়ুতে অক্সিজেন গ্যাসের পরিমাণ ২০.৯৫ শতাংশ। 

কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩৩ শতাংশ। 
পৃথিবীতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং জীবনযাপনের জন্য বায়ুতে এ দুইটি গ্যাসের পরিমাণ স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান 

৯,৪২৬.
স্টিফেন হকিং তাঁর কোন বইতে বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন?
  1. ক) The Grand Design
  2. খ) The Universe in a Nutshell
  3. গ) A Brief History of Time
  4. ঘ) The Explosion of Universe
ব্যাখ্যা
স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
তাঁর রচিত বইসমূহ-
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell
- The Grand Design, ইত্যাদি। 

- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time.

সূত্র: ব্রিটানিকা
৯,৪২৭.
শিশুর জন্য "ভিটামিন এ" ক্যাপসুল বছরে কতবার দিতে হয়?
  1. বছরে দুইবার
  2. বছরে তিনবার
  3. বছরে একবার
  4. বছরে চারবার
ব্যাখ্যা
- শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিন পূর্ণ হলেই পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব) ও ওপিভি টিকার প্রথম ডােজ দিতে হবে জন্মের প্রথম বছরেই সবগুলাে টিকা দেয়ার জন্য কমপক্ষে ৪ বার টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে ।
- শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হয়ে ১০ মাসে পড়লেই হামের টিকা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিতে হবে। 
- ১৫ বছর বয়স হলেই সকল মহিলাদের ধনুষ্টংকারের প্রতিষেধক টিটি টিকা দেয়া শুরু করতে হবে এবং সময়সূচি অনুযায়ী ৫ ডােজ টিটি টিকা নেয়া শেষ করতে হবে। 
- ১ - ৫ বছর বয়সী শিশুকে ৬ মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।
- অর্থাৎ বছরে দুইবার শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হয়। 

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
৯,৪২৮.
কোন খাদ্য উপাদানটি আমাদের শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?
  1. ক) চর্বি
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রােটিন-জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত।
আমিষে শতকরা 16 ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।
আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রনও থকে।
নাইট্রোজেন এবং শেষােক্ত উপাদানগুলাের উপস্থিতির কারণে আমিষের গুরুত্ব শর্করা ও স্নেহ পদার্থ থেকে আলাদা।
শুধু আমিষজাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
৯,৪২৯.
কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে-
  1. ক) করোনারি ধমনী
  2. খ) পালমোনারি ধমনী
  3. গ) পালমোনারি শিরা
  4. ঘ) ইনমিনেট ধমনী
ব্যাখ্যা
করোনারি ধমনি : অ্যাওর্টা অ্যাওর্টিক আর্চ গঠনের পূর্বেই ডান ও বাম করোনারি ধমনি উৎপন্ন করে। এরা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপেশীতে সরবরাহ করে।
ইনমিনেট ধমনি : এটি একটি খাটো ও মোটা ধমনি। এটি অভিন্ন ক্যারোটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।
পালমোনারী ধমনি: দেহ থেকে গৃহীত CO2 সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।
পালমোনারি শিরা: ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবরাহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৩০.
ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

◉ ওজোন স্তর (Ozone Layer) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোমণ্ডলে (Stratosphere) অবস্থিত। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি শোষণ করে। এর ফলে পৃথিবীতে জীবজগত রক্ষা পায়।

​স্ট্রাটোমণ্ডল(Stratosphere):
- স্ট্রাটোমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল, যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)।
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।
- স্ট্রাটোমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে।
- এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা । বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়।

- স্ট্রাটোমণ্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে।
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোনমণ্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultra Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না।
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪৩১.
ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা-
  1. -1
  2. 0
  3. +1
  4. +2
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা নির্ণয়:

- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল।
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +1.
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1.
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2.
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +2. 

তথ্যসূত্র - রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৩২.
Nebula এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ-
  1. ক) নক্ষত্র
  2. খ) গ্রহ
  3. গ) নীহারিকা
  4. ঘ) তারা
ব্যাখ্যা
Nebula এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ নীহারিকা। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪৩৩.
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ নয় কোনটি?
  1. ক) তেজস্ক্রিয় পদার্থ
  2. খ) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) দাবানল
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
- বায়ু দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
প্রাকৃতিক কারণ ও
মানব-সৃষ্ট কারণ। 

প্রাকৃতিক কারণ (Natural Causes):
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস প্রভৃতি বায়ুর সাথে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।
জৈব ও অজৈব পদার্থ: বিভিন্ন প্রকার জৈব ও অজৈব পদার্থের স্বাভাবিক পচনের ফলে যে গ্যাস সৃষ্টি হয় তা বায়ুকে দূষিত করে ।
দাবানল ও ধূলিঝড়: বিস্তৃত বনাঞ্চলে দাবানল হলে তা ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বায়ুকে দূষিত করে। এছাড়া মরু এলাকায় ধূলিঝড়ও বায়ু দূষণ ঘটায়
গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ: গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে যে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে তা বায়ুকে দূষিত করে।

মানব-সৃষ্ট কারণ (Man-Made Causes)
তেজস্ক্রিয় পদার্থ: যুদ্ধক্ষেত্র অথবা পারমানবিক চুল্লিতে দুর্ঘটনার ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণ হলে বায়ু দূষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণ।
- এছাড়াও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, শিল্প-কারখানার নির্গত ধোঁইয়া, পরিত্যক্ত বর্জ্য পদার্থের দহন, বন উজার, ইটভাটা, কীটনাশক ইত্যাদি মানব-সৃষ্ট কারণসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৩৪.
কোন পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে পরিচিত?
  1. ক) আর্থোপোডা
  2. খ) নিডারিয়া
  3. গ) পরিফেরা
  4. ঘ) একাইনোডার্মাটা
ব্যাখ্যা

পরিফেরা পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে পরিচিত। এদের অধিকাংশ প্রজাতি সামুদ্রিক। এরা সাধারণত দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে।
সরলতম বহুকোষী প্রাণী। দেহপ্রাচীর অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত। এই ছিদ্রপথে পানির সাথে অক্সিজেন ও খাদ্যবস্তু প্রবেশ করে।
কোনাে পৃথক সুগঠিত কলা, অঙ্গ ও তন্ত্র থাকে না।
উদাহরণ: Spongilla, Scypha

৯,৪৩৫.
ফুল উৎপাদনের বিজ্ঞানকে কী বলা হয়? 
  1. অর্গানিক ফার্মিং 
  2. মাইকোলজি 
  3. ফ্লোরিকালচার 
  4. হর্টিকালচার 
ব্যাখ্যা

ফুল: 
- ফুল বা সুদৃশ্য গাছপালা উৎপাদনের জ্ঞান ফ্লোরিকালচার বা পুষ্পোদ্যান বিদ্যা নামে পরিচিত। 
- ফুল মানসিক আনন্দ দানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- কতগুলো ফুলের সৌন্দর্য মানুষ আকৃষ্ট করে। আবার কতগুলো ফুলের গন্ধ খুবই মনোমুগ্ধকর। 
- ফুল গৃহ, স্কুল কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শোভা বর্ধনের জন্য খুবই প্রয়োজন। 
- ফুল শুধু মানুষের মনতুষ্টির জন্যও নয় এর অর্থনৈতিক অবদান অপরিসীম। 
- বর্তমানে বাংলাদেশে ফুল ও সুদৃশ্য গাছ বাণিজ্যিক উৎপাদন বিশেষ ভাবে গোলাপ চোখে পড়ছে। 
- এছাড়াও বিভিন্ন সুগন্ধি প্রস্তুতি ফুলের নির্যাস ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 
- গোলাপ ফুলকে ফুলের রাণী বলা হয়ে থাকে। এর কোমলতা, বর্ণ, সুগন্ধ এমন কেউ নেই যাকে আকৃষ্ট করে না। সাজ সজ্জায় কাটা ফুল হিসেবে কদর রয়েছে। এছাড়া সুগন্ধি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
- সামদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
- মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
- পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
- উদ্যান পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৯,৪৩৬.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ কোনটি?
  1. লেড সঞ্চয়ী কোষ
  2. ড্যানিয়েল কোষ
  3. এসিড স্টোরেজ কোষ
  4. নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৯,৪৩৭.
ENIAC একটি -
  1. ক) রোগ
  2. খ) উদ্ভিদ
  3. গ) কম্পিউটার
  4. ঘ) দেশ
ব্যাখ্যা
1946 সালে 1800 ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করে ENIAC নামে প্রথম কম্পিউটার তৈরী হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৯,৪৩৮.
কচুশাক বিশেষভাবে মূল্যবান যে উপাদানের জন্য তা হল-
  1. ক) ভিটামিন-এ
  2. খ) ভিটামিন-সি
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎসের তালিকায় কচু শাক দেয়া আছে। তবে, কচু শাক লৌহেরও ভাল উৎস। সম্ভবত প্রচলিত উত্তর লৌহ।
কিন্তু, লৌহ এবং ক্যালসিয়াম একসাথে দেয়া হলে সঠিক উত্তর নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

যেহেতু, প্রধান উৎস হিসেবে জীববিজ্ঞান বইতে সরাসরি বলা আছে তাই এটাকেই উত্তর হিসেবে নেয়া হল। পাশপাশি সকল তথ্য দেয়া হল।
--------------------------------
• লৌহ/আয়রনের উদ্ভিজ উৎস: ফুলকপির পাতা, নটোশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম ইত্যাদি৷
• ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ উৎস: ডাল, তিল, গাজর, ফুলকপি, পালংশাক, কচুশাক, লাল শাক, বাধাকপি ইত্যাদি৷

উৎসঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি
--------------------------------
নিচে নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বইয়ের (পৃষ্ঠা নং - ৯৪) অংশটি সংযুক্ত করা হল:


যদিও, এখানে লিস্টে নাম দেয়া হয়নি। তবে, কচু শাক লৌহের ভাল উৎস কোন সন্দেহ নেই। যাইহোক, দুইটা রেফারেন্সেরই দিক থেকে চিন্তা করলে ক্যালসিয়ামকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না।
৯,৪৩৯.
জাল টাকার নোট শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয় কোন রশ্মি?
  1. IR-Ray
  2. X-Ray
  3. y-Ray
  4. UV-Ray
ব্যাখ্যা
অতিবেগুনী রশ্মি: 
- দৃশ্যমান বেগুনি রশ্মির চেয়ে শক্তিশালী বিকিরিত রশ্মিকে অতিবেগুনী রশ্মি (UV রশ্মি) বলে। 
- অতিবেগুনী রশ্মি এক ধরনের তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে ছোটো এবং রঞ্জন রশ্মির চেয়ে বড়। 
- এই রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১০ ন্যানোমিটার থেকে ৪০০ ন্যানোমিটার এবং শক্তি ৩ ইলেকট্রন-ভোল্ট থেকে ১২৪ ইলেকট্রন-ভোল্ট। 
- প্রকৃত ব্যাংক নোট ও পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, নকশা লুকায়িত থাকে, যা জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে থাকে না। 
 - প্রকৃত নোট বা পাসপোর্টে UV রশ্মি আপতিত করলে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি শোষিত হয় এবং বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দৃশ্যমান আলো বিকিরিত হয়; কিন্তু জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা তৈরি কোনো নকশা বা জলছাপ না থাকায় এটি কোনো দৃশ্যমান আলোকরশ্মি বিকিরণ করতে পারে না। এভাবে UV রশ্মি দিয়ে জাল টাকা বা জাল পাসপোর্ট শনাক্ত করা যায়। 
- আসল পাসপোর্ট বা নোটে UV সংবেদনশিল কালির দ্বারা নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা চিহ্ন ছাপা থাকে, যা স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ আলোয় দৃশ্যমান নয়, কিন্তু UV আলোর নিচে ওইসব নিরাপত্তা চিহ্ন দৃশ্যমান হয়, ফলে সহজেই UV দ্বারা আমরা জাল পাসপোর্ট এবং আসল পাসপোর্ট ও জাল নোট এবং আসল নোট শনাক্ত করতে পারি। 
 
উৎস: দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকা এবং ব্রিটানিকা।
৯,৪৪০.
জাল টাকা শনাক্তকরণে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. এক্সরে
  2. আলফা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. অতিবেগুনী রশ্মি
ব্যাখ্যা
অতিবেগুনী রশ্মি:
- দৃশ্যমান বেগুনি রশ্মির চেয়ে শক্তিশালী বিকিরিত রশ্মিকে অতিবেগুনী রশ্মি (UV রশ্মি) বলে।
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)।
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি।
- সূর্য রশ্মি এই বিকিরণের প্রধান উৎস।
- এই রশ্মি আমাদের শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে।
- তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়।
- চোখের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর। 

উল্লেখ্য,
- প্রকৃত ব্যাংক নোট ও পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, নকশা লুকায়িত থাকে, যা জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে থাকে না।
- প্রকৃত নোট বা পাসপোর্টে UV রশ্মি আপতিত করলে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি শোষিত হয় এবং বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দৃশ্যমান আলো বিকিরিত হয়; কিন্তু জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা তৈরি কোনো নকশা বা জলছাপ না থাকায় এটি কোনো দৃশ্যমান আলোকরশ্মি বিকিরণ করতে পারে না।
- এভাবে UV রশ্মি দিয়ে জাল টাকা বা জাল পাসপোর্ট শনাক্ত করা যায়।
- আসল পাসপোর্ট বা নোটে UV সংবেদনশিল কালির দ্বারা নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা চিহ্ন ছাপা থাকে, যা স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ আলোয় দৃশ্যমান নয়, কিন্তু UV আলোর নিচে ওইসব নিরাপত্তা চিহ্ন দৃশ্যমান হয়, ফলে সহজেই UV দ্বারা আমরা জাল পাসপোর্ট এবং আসল পাসপোর্ট ও জাল নোট এবং আসল নোট শনাক্ত করতে পারি।

উৎস: i) Britannica.
ii) উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৪১.
সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব কত?
  1. ১.৫ কোটি কিলোমিটার
  2. ১৫ কোটি কিলোমিটার
  3. ২.৩ কোটি কিলোমিটার
  4. ২৩ কোটি কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

• পৃথিবী (Earth):
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি।
- এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমন্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি।

৯,৪৪২.
কাকে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়?
  1. লুই পাস্তুর
  2. রবার্ট হুক
  3. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  4. অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক
ব্যাখ্যা
• অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুককে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়

• অণুজীববিজ্ঞান:

- অণুজীববিজ্ঞান হলো জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যা অণুজীব নিয়ে আলোচনা করে।
- অণুজীব বলতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল, এবং প্রোটোজোয়া-র মতো অতি ক্ষুদ্র জীবকে বোঝায়, যা খালি চোখে দেখা যায় না।
- এই শাখার মূল আলোচ্য বিষয় হল অণুজীবের গঠন, কার্যাবলী, বাস্তুসংস্থান, এবং রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষমতা। 

• অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক-ই প্রথম অণুজীব আবিষ্কার করেন, তাই তাঁকে অণুজীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

• অণুজীববিজ্ঞান এর গুরুত্ব:
- রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা: অণুজীববিজ্ঞান রোগের কারণ নির্ণয় এবং উপযুক্ত প্রতিষেধক ও ঔষধ তৈরিতে সহায়তা করে।  
- খাদ্য সুরক্ষা: খাদ্য উৎপাদনে অণুজীবের ভূমিকা এবং খাদ্য সংরক্ষণে অণুজীবের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে।  
- পরিবেশ সুরক্ষা: পরিবেশের দূষণ নিয়ন্ত্রণে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অণুজীবের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে।  
- কৃষি: অণুজীব সার তৈরিতে এবং ফসলের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।  
- শিল্প: বিভিন্ন শিল্প কারখানায় যেমন - ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বায়োটেকনোলজিতে অণুজীব ব্যবহার করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- ব্রিটানিকা।
৯,৪৪৩.
মানুষের প্রতিটি কোষে কতটি ক্রোমোজোম থাকে? 
  1. 46
  2. 23
  3. 44
  4. 22
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪৪৪.
ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. আদি কোষবিশিষ্ট
  2. বাধ্যতামূলক পরজীবী
  3. অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা
  4. DNA অথবা RNA উপস্থিত
ব্যাখ্যা
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হলো বিষ। এটি প্রোটিন আবরণ এবং অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিক এসিড (DNA অথবা RNA) এই দু'টি অংশ নিয়ে গঠিত।
- ভাইরাস অকোষীয় (আদি কোষীয় নয়), অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা, বাধ্যতামূলক পরজীবী জৈবকণা যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয়ে রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে।
- সত্যিকার অর্থে এরা অণুজীব নয়, অণুজীবের মতো।
- ভাইরাস দেহে কোষীয় বৈশিষ্ট্য তথা কোষ প্রাচীর, কোষঝিল্লি ও সাইটোপ্লাজম নেই- তাই ভাইরাসকে অকোষীয় বলা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৯,৪৪৫.
পৃথিবীকে উত্তর দক্ষিণে বিভক্ত করেছে-
  1. অক্ষরেখা
  2. নিরক্ষ রেখা
  3. পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা
  4. পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা
ব্যাখ্যা
দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে যে রেখা কল্পনা করা হয়েছে, তাকে নিরক্ষরেখা বলে। পৃথিবী গোলাকৃতির হওয়ায় এ রেখাও বৃত্তাকার।
নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই ভাবে ভাগ করেছে।
এ রেখার উত্তরে পৃথিবীর অর্ধাংশকে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণের অর্ধাংশকে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয়।
এই রেখাটির মান ০ ডিগ্রি। এখানে দিন রাত সর্বত্র সমান।
নিরক্ষরেখার সাহায্যে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্ব স্থির করা হয়।
উৎসঃ ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৪৬.
কোনো স্থানে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে?
  1. ৯ গুণ বাড়বে
  2. ৯ গুণ কমবে
  3. ৩ গুণ বাড়বে
  4. ৩ গুণ কমবে
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
- দোলনকাল মধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
সুতরাং, মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ৩ গুণ কমবে। 
৯,৪৪৭.
ক্রোমোপ্লাস্টে নিচের কোন রঞ্জকটি থাকে না? 
  1. জ্যান্থফিল 
  2. ক্যারোটিন 
  3. ক্লোরোফিল 
  4. ফাইকোএরিথ্রিন 
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল রঞ্জকটি থাকে না। 

প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৪৪৮.
বিটা কণিকার ভর হচ্ছে:
  1. 9.9 × 1031 kg
  2. 9.1 × 10-19 kg
  3. 9.1 × 10-31 kg
  4. 9.4 × 10-28 kg
ব্যাখ্যা

• বিটা কণিকা মূলত একটি ইলেকট্রনের সমতুল্য পারমাণবিক কণিকা। ইলেকট্রনের ভর খুবই ছোট, যা প্রায় 9.1 × 10-31 kg কিলোগ্রাম। এটি এটমের ভরের তুলনায় প্রায় অতি ক্ষুদ্র। 

বিটা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:

- বিটা কণিকা খুব হালকা।
- এর ভর 9.1×10-31 kg।
- এরা ঋণাত্নক চার্জ বহন করে। এই চার্জের মান 1.6×10-19 কুলম্ব ।
- তেজস্ক্রিয় বস্তু থেকে বিটা কণিকা প্রচন্ড বেগে নির্গত হয়।
- এই কণিকা তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে, তবে আলফা কণিকা অপেক্ষা কম ।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা কণিকা অপেক্ষা বেশী ।
- জিংক সালফাইডে বিটা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্যদিয়ে যাবার সময় বিটা কণিকাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।
- আলফা কণিকা অপেক্ষা অনেক বেশী বিক্ষিপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪৪৯.
মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোনটি?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. কপার সালফেট
  3. ইথানয়িক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Electrolyte): 
- যেসব পদার্থ কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে না কিন্তু গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের সাথে সাথে ঐ পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায় তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নিত হয় থাকে। 
- এই আয়নের মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 
- আয়নিক যৌগ এবং কিছু পোলার সমযোজী যৌগ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 

তড়িৎ বিশ্লেষ্য আবার দুই প্রকার। 
যথা- 
১। তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Strong Electrolyte): 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ইত্যাদি। 

২। মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Weak Electrolyte): 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয় থাকে তাদেরকে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড, ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪৫০.
দূর অনুধাবন পদ্ধতি চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৬০ সালে
  2. ১৯৬৪ সালে
  3. ১৯৭০ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা

দূর অনুধাবনের ধারণা: 
- দূর অনুধাবন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Remote Sensing, যার অর্থ হলো দূর থেকে কোনো কিছু দেখার চেষ্টা করা।
- এটি এক ধরনের বিজ্ঞান যা ভূ-পৃষ্ঠে কোনো দৃশ্যমান বস্তু বা প্রপঞ্চ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। 
- দূর অনুধাবন এমন একটি যান্ত্রিক কৌশল (Device) যার মাধ্যমে কোনো লক্ষ্য বস্তু বা প্রপঞ্চের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। 
অর্থাৎ, দূর অনুধাবন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু বা প্রপঞ্চকে স্পর্শ না করে দূর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। 
- ১৯৪৬-১৯৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে দূর অনুধাবনের কাজ শুরু হয়। এ সময় V-2 রকেটে (Rocket) মহাশূন্যে যাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ছোট ক্যামেরার সাহায্যে রকেট, ব্যালিস্টিক মিসাইল, উপগ্রহ ও মানব বহনকারী মহাশূন্যযান থেকে প্রচুর আলোকচিত্র গ্রহণ করা হয়। 
- সে সময়কার আলোকচিত্র নিম্নমানের হলেও দূর অনুধাবন পদ্ধতির সম্ভাবনার সূচনা তৈরি করেছিল। 
- ১৯৬০ সালে দূর অনুধাবন পদ্ধতি চালু হয়। সত্তরের দশকে তা উন্নতি লাভ করে এবং পরবর্তীতে তা আরও বিকশিত হতে থাকে। 
- দূর অনুধাবনের কতকগুলো উপাদান রয়েছে। নিম্নে এগুলো উল্লেখ করা হলো- 
১. শক্তির উৎস, 
২. রেডিয়েশন এবং বায়ুমণ্ডল, 
৩. লক্ষ্যবস্তুর সাথে মিথষ্ক্রিয়া, 
৪. সেন্সর দ্বারা শক্তির রেকর্ড, 
৫. ট্রান্সমিশন, রিসিপসন এবং প্রসেসিং, 
৬. ইন্টার প্রিটেশন এবং বিশ্লেষণ এবং 
৭. এপ্লিকেশন। 

দূর অনুধাবনের সুবিধা-অসুবিধা: 
- দূর অনুধাবনের সুবিধা-অসুবিধাগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো- 
সুবিধা: 
১. দূর অনুধাবনের ব্যবহারিক দিক খুব বিস্তৃত। 
২. এর সাহায্যে সংগৃহীত তথ্যাবলী দ্বারা সহজেই মানচিত্র অঙ্কন করা যায়। 
৩. এটি প্রযুক্তিভিত্তিক পদ্ধতি হওয়ায় নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। 
৪. এটি একটি একক ইমেজ (Image) যা থেকে অনেকগুলো তথ্য সংগ্রহ করা যায়। 
৫. দূরবর্তী বস্তু বা প্রপঞ্চ থেকে সহজেই তথ্য পাওয়া যায়। 
৬. দূর অনুধাবন চিত্র স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগঠিত হয় বলে তা দিন-রাত্রি সবসময় সংগ্রহ করা যায়। 
৭. দূর অনুধাবন কৌশলের মাধ্যমে পৃথিবী পৃষ্ঠের পদার্থ যত সূক্ষ্ম হোক না কেন তা স্বতন্ত্রভাবে দেখা যায়। 

অসুবিধা: 
১. দূর অনুধাবনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ খুব ব্যয়বহুল। 
২. তথ্য বিশ্লেষণের জন্য এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। 
৩. যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পারস্পরিক ক্রিয়ার সঠিক ফলাফল নাও দিতে পারে। 
৪. শুধুমাত্র ভূ-পৃষ্ঠের তথ্যাদি পাওয়া যায়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪৫১.
পেট্রোলিয়ামে শতকরা কত ভাগ কেরোসিন থাকে? 
  1. ৬ ভাগ
  2. ৫ ভাগ
  3. ১৮ ভাগ
  4. ১৩ ভাগ
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়াম: 
- পেট্রোলিয়াম সাধারণত 5000 ফুট বা তার চেয়েও গভীরে শিলা স্তরের মধ্যে পাওয়া যায়। 
- পেট্রোলিয়ামের সাথে অনেক সময় প্রাকৃতিক গ্যাস থাকে, যা পেট্রোলিয়ামের উপরিভাগে চাপ প্রয়োগ করে। 
- কূপ খনন করা হলে এই প্রাকৃতিক গ্যাস পেট্রোলিয়ামকে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে উঠে আসতে সাহায্য করে। 
- যে পেট্রোলিয়াম খনি থেকে সরাসরি পাওয়া যায় তাকে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) বা পেট্রোলিয়াম বলে। 
- এই অপরিশোধিত তেল অস্বচ্ছ, এতে কখনো কখনো সালফারের কিছু কিছু যৌগ থাকার কারণে দুর্গন্ধযুক্ত হয়। 
- পেট্রোলিয়াম বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, এদের স্ফুটনাঙ্কও বিভিন্ন। 
- এই পেট্রোলিয়াম মূলত বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ এবং সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়। এই অপরিশোধিত তেল আংশিক পাতন পদ্ধতিতে স্ফুটনাঙ্কের উপর ভিত্তি করে পৃথক করা হয়। 
- অপরিশোধিত তেল ব্যবহারের উপযুক্ত নয়, কিন্তু একে যদি আংশিক পাতনের সাহায্যে পৃথক করা হয় তবে এ অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম, ন্যাপথা, কেরোসিন, ডিজেল, প্যারাফিন মোম এবং পিচ প্রভৃতি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়, যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। 

কেরোসিন: 
- এ অংশের স্ফুটনাঙ্ক 121°C থেকে 170°C পর্যন্ত। 
- এ অংশে যে সকল হাইড্রোকার্বন থাকে তাদের অণুতে কার্বন সংখ্যা 11 থেকে 16 পর্যন্ত। 
- পেট্রোলিয়ামে শতকরা ১৩ ভাগ কেরোসিন থাকে। 
- পেট্রোলিয়ামের এই অংশকে জেট ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪৫২.
দুটি ভিন্ন বিভবে আহিত বস্তুকে একই সাথে স্পর্শ করলে শরীরের ভিতর দিয়ে কোনটি ঘটবে?
  1. ক) শুধু নিম্ন বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
  2. খ) নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
  3. গ) উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
  4. ঘ) শুধু উচ্চ বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে
ব্যাখ্যা
স্থির তড়িতের বিপদ থেকে রক্ষার কৌশল:  
- উচ্চ বা ধনাত্মক আধানে আহিত কোনো বস্তুর বিভব পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভব থেকে বেশী (কারণ পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভবকে শূন্য ধরেই উচ্চ বা নিম্ন বিভব বিবেচনা করা হয়)।
- আবার নিম্ন বা ঋণাত্মক আধানে আহিত কোনো বস্তুর বিভব পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভব থেকে কম। বিভব কম বা বেশী যাই হোক না কেন ভূ-সংযোগ করলে আধান প্রবাহিত হবে। 
- সুতরাং যে কোনো আহিত বস্তুকে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে শরীরের মধ্য দিয়ে ভূমিতে আধান প্রবাহিত হবে (মানব দেহ তড়িৎ পরিবাহী) একে আমরা শক্ লাগা বলি। আধান প্রবাহ অর্থাৎ তড়িৎ প্রবাহ বেশী হলে মানব দেহের জন্য বিপদজ্জনক এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
- ভেজা শরীর আরো বেশী তড়িৎ পরিবাহী। সেজন্য ভেজা শরীরে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করলে আরো দ্রুত তড়িৎ প্রবাহ হয় বলে প্রবাহের মাত্রা আরো বেড়ে যায়, ফলে আরো বেশী বিপদজ্জনক।
- দুটি ভিন্ন বিভবে আহিত বস্তুকে একই সাথে স্পর্শ করলে শরীরের ভিতর দিয়ে উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে তড়িৎ প্রবাহ ঘটবে। সে ক্ষেত্রেও শক্ লাগতে পারে।
- সুতরাং স্থির তড়িৎ নিয়ে কাজ করার সময় কতকগুলি সতর্কতা বা কৌশল অবলম্বন করা উচিৎ যেন আমাদের শরীরের ভিতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ না হয়। শুকনো কাঠ, শুকনো রবার, চীনামাটি, প্লাস্টিক, শুকনো কাপড় (যেমন, লেপ, তোষক, বালিশ, কম্বল ইত্যাদি) তড়িৎ অপরিবাহী।
- সুতরাং এর উপরে দাঁড়িয়ে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করলে বস্তুর বিভব এবং শরীরের বিভব সমান হয়ে যায় কিন্তু ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে শরীরের মধ্য দিয়ে কোনো তড়িৎ প্রবাহ হয় না।
- রবার সোলের জুতা (সোলে যেন কোনো কাঁটা লাগানো না থাকে) পরেও নিরাপদে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করা যায়।
- হাতে রবারের হাত মোজা অর্থাৎ রবারের গ্লাভস পরে আহিত বস্তুকে স্পর্শ করলে শরীর থেকে আহিত বস্তু বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং শরীরের ভিতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ হবে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৫৩.
মৌলিক পদার্থ সনাক্তকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কোনটি? 
  1. IUPC
  2. IUPAC
  3. NASA
  4. UN
ব্যাখ্যা

• মৌলের নাম, সংকেত এবং সনাক্তকরণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সর্বাধিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো IUPAC।

• পূর্ণরূপ ও পরিচয়:
- IUPAC এর পূর্ণরূপ International Union of Pure and Applied Chemistry।
- এটি বিশ্বব্যাপী রসায়ন বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও মান নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- রসায়ন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গবেষক সবার জন্য মৌল, রাসায়নিক যৌগ, প্রতিক্রিয়া ও পরিমাপের মানক রূপ স্থির করে IUPAC।

• IUPAC এর কাজ:
- নতুন কোনো মৌল আবিষ্কৃত হলে সেটি বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য কিনা তা যাচাই করে IUPAC।
- গবেষণা, প্রমাণ, বিকিরণ বৈশিষ্ট্য, স্থিতিশীলতা এবং নিউক্লিয়ার বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করে মৌলটি সনাক্ত করা হয়।
- IUPAC মৌলের নাম, প্রতীক (Symbol), পারমাণবিক সংখ্যা ইত্যাদি আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদন করে। যেমন: Og → Oganesson (নতুন মৌল)
- নতুন মৌল যুক্ত হলে IUPAC Periodic Table আপডেট করে এবং বিশ্বব্যাপী একীকরণ নিশ্চিত করে।
- বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা একই পরিভাষা ব্যবহার করে যেন গবেষণায় বিভ্রান্তি না ঘটে, সে জন্য শব্দভাণ্ডার ও নিয়ম তৈরি করে।

• IUPAC এর গুরুত্ব:
- একই মৌল বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- IUPAC এই বিশৃঙ্খলা দূর করে একক আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে।
- নতুন মৌলের পরমাণু গঠন, ভর সংখ্যা, ব্যবহারযোগ্যতা ও প্রয়োগক্ষেত্র নির্ধারিত নিয়মে সারা বিশ্বে পরিচিত হয়।
- গবেষণা ও শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় থাকে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

৯,৪৫৪.
নিচের কোনটি তাপমাত্রার একক?
  1. ক) সেলসিয়াস
  2. খ) কেলভিন
  3. গ) ডিগ্রী 
  4. ঘ) ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
SI এককে তাপমাত্রার একক হল কেলভিন। ইহার সংকেত হল K.
তাপমাত্রা হচ্ছে কোনো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তুটিকে অন্য বস্তুর সংস্পর্শে আনলে বস্তুটি তাপ গ্রহণ করবে না বর্জন করবে তা নির্ধারণ করে।
তাপমাত্রাকে তরলের মুক্ত তলের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
তরল যেমন তার পরিমাণের উপর নির্ভরশীল না হয়ে উঁচু স্থান থেকে নিচু স্থানে প্রবাহিত হয়, তাপও তার পরিমাণের উপর নির্ভরশীল না হয়ে উঁচু তাপমাত্রা থেকে নিচু তাপমাত্রার দিকে প্রবাহিত হয়।

সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
৯,৪৫৫.
হার্জ (hertz) দিয়ে প্রকাশ করা হয়-
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  2. দোলনকাল
  3. বিস্তার
  4. কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা
কম্পাঙ্ক:
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা বা কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
- কোনাে কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক, f = N/t
- কম্পাঙ্কের একক s-1। 
- একে Hz দিয়ে ও প্রকাশ করা হয়।
- কোনাে কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।

অন্যদিকে, 
- বিস্তার, তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একক মিটার। 
- দোলনকালের একক সেকেন্ড। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
৯,৪৫৬.
ফোটনের সর্বোচ্চ শক্তি বিদ্যমান নিম্নের কোন বর্ণালীতে?
  1. ক) ইনফ্রারেড
  2. খ) বেগুনি
  3. গ) লাল
  4. ঘ) নীল
ব্যাখ্যা

সমীকরণ অনুযায়ী: E = hc/λ
শক্তি হলো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ব্যাস্তানুপাতিক। যেহেতু বেগুনি বর্ণালীতে ফোটনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সর্বনিম্ন, সেহেতু তার ফোটনের শক্তি হবে সর্বোচ্চ।

৯,৪৫৭.
(Cl) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 18
  2. 17
  3. 35
  4. 52
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

ক্লোরিন (Cl) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 

- ক্লোরিনের নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর = 35 এবং 
- ক্লোরিনের প্রোটন সংখ্যা = 17 
অতএব, নিউট্রন সংখ্যা হবে = (35 - 17) = 18  ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৫৮.
নিউমােনিয়া রােগ সৃষ্টি করে কোন ব্যাকটেরিয়া?
  1. ক) স্পাইরিলাম
  2. খ) ব্যাসিলাস
  3. গ) কক্কাস
  4. ঘ) কমা
ব্যাখ্যা
কোনাে কোনাে ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গােলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে।
যেমন - নিউমােনিয়া রােগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
সূত্র: সপ্তম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান
৯,৪৫৯.
রেশম তন্তু কোন প্রোটিন দিয়ে গঠিত? 
  1. এলাস্টিন 
  2. ফাইব্রেয়ন 
  3. কলাজেন 
  4. কেরাটিন 
ব্যাখ্যা

রেশম: 
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়। 

- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে। 
- রেশম তন্তু 'ফাইব্রেয়ন' নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি। 
- প্রাকৃতিক প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশমই সবচেয়ে হালকা, শক্ত ও দীর্ঘ। 
- সিল্কের শক্তিমাত্রা, দৃড়তা, মসৃণতা এবং কোমল অনুভবতা বৈশিষ্ট্য দীর্ঘকাল ধরে সুপরিচিত। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪৬০.
Xerophytes বলা হয় কোন উদ্ভিদকে?
  1. জলজ উদ্ভিদকে
  2. মরুজ উদ্ভিদকে
  3. উভচর উদ্ভিদকে
  4. মিষ্টি পানির উদ্ভিদকে
ব্যাখ্যা
• Xerophytes শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ "xero" (শুষ্ক) এবং "phyte" (উদ্ভিদ) থেকে, যার অর্থ শুষ্ক পরিবেশে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ।অর্থাৎ মরুজ উদ্ভিদ।
এই উদ্ভিদগুলো শুষ্ক আবহাওয়ায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন অভিযোজন গড়ে তোলে।

অন্যদিকে,
ক) জলজ উদ্ভিদ: যে উদ্ভিদ পানিতে বা জলীয় পরিবেশে জন্মায়, যেমন শাপলা, পদ্ম।

গ) উভচর উদ্ভিদ: যে উদ্ভিদ জল ও স্থল উভয় পরিবেশে বাঁচতে পারে, যেমন হাইড্রিলা, এলোডিয়া।

ঘ) মিষ্টি পানির উদ্ভিদ: যে উদ্ভিদ শুধু স্বাদুপানির জলাশয়ে জন্মায়, যেমন শালুক, কলমি লতা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯,৪৬১.
বায়ুদূষণের ফলে বায়ুতে কোন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত সমস্যা দেখা যায়?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

• কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে রক্তে অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত করে, ফলে শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসজনিত জটিলতা দেখা দেয়।
 
• বায়ুদূষণের প্রভাব:
- বায়ু দূষিত হলে সেই বায়ুতে ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
- বায়ুতে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।
- এছাড়া শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুতে মিশে গিয়ে অম্লীয় বৃষ্টি সৃষ্টি করতে পারে।
- এই অম্লীয় বৃষ্টি শুধু মানুষকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, জলজ প্রাণীকেও ক্ষতি করে।
- এর ফলে বনভূমি ধ্বংস হয়।

• বায়ুদূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা:
- বায়ুদূষণের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বিজ্ঞানীদের মতে, এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বেড়ে যাবে।
- এর ফলে পৃথিবীর সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাবে।
- আবার কোনো কোনো অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে।
- এর ফলে স্থানীয় জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটবে।
- এতে শুধু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
- পরিশেষে সার্বিকভাবে পৃথিবী ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।

৯,৪৬২.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সমস্ত প্রক্রিয়া ঘটে? 
  1. তাপমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল 
  3. ট্রপোমণ্ডল 
  4. স্ট্রাটোমণ্ডল 
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। 
যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল। 

ট্রপোমণ্ডল: 
- ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে ট্রপোমণ্ডল বলে। 
- আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই সৃষ্টি হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৪৬৩.
ঠোঁটের কোণ ও মুখের চারদিকে ফেটে যায় -
  1. ভিটামিন সি-এর অভাবে
  2. ভিটামিন বি -এর অভাবে
  3. ভিটামিন বি-এর অভাবে
  4. ভিটামিন বি১২-এর অভাবে
ব্যাখ্যা
রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি উৎস: 
- কমলা ও হলুদ বর্ণের শাকসবজি যেমন- মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, কুমড়োর ফুল, ডিমের কুসুম, দুধ, বাদাম, যকৃত রিবোফ্লাভিনের ভালো উৎস। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
- রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি এর অভাবে জিহ্বায়, ঠোঁটের কোণায় ও মুখের ভিতরে ঘা দেখা দেয়। 
- ত্বক খসখসে হয়ে যায়। 
- ভিটামিন বি অভাবে মুখে ঘা হতে পারে। 

দৈনিক চাহিদা: 
- প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১.৭ মিলিগ্রাম ও নারীর ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 
- শিশুদের দৈনিক ০.৮ মিলিগ্রাম এবং কিশোর কিশোরীদের যথাক্রমে ২.০ মিলিগ্রাম ও ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন-সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন বি এর অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। 
- ভিটামিন বি এর অভাবে পেলেগ্রা হয়। 
- ভিটামিন বি১২ এর অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ন এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪৬৪.
এইডস রোগের ক্ষতিকারক দিক হচ্ছে AIDS রোগে-
  1. ক) দেহের যকৃত নষ্ট হয়
  2. খ) মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়
  3. গ) দেহের কিডনী নষ্ট হয়
  4. ঘ) দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়
ব্যাখ্যা
• এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস যেটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় এবং জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানবদেহকে প্রতিরোধহীন করে নিরাময়হীন অবস্থায় নিয়ে যায়, যা এইডস নামে পরিচিত।
- এইডস এক ধরনের ভাইরাস জনিত রোগ। এই রোগের ভাইরাসটির নাম এইচআইভি। 
- এই ভাইরাস মানব দেহে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেয়। 
- বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা এখনও খুব বেশি নয়, মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ। তবে নতুন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার বাড়ছে।

উৎস: unicef.org
৯,৪৬৫.
টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রং নয় কোনটি?
  1. লাল
  2. হলুদ
  3. নীল
  4. সবুজ
ব্যাখ্যা
টেলিভিশন: 
- টেলিভিশন এমন একটি যন্ত্র, যেখানে দূরবর্তী কোনো টেলিভিশন সম্প্রচার স্টেশন থেকে শব্দের সাথে সাথে ভিডিও বা চলমান ছবিও দেখা যায়। 
- ১৯২৬ সালে জন লজি বেয়ার্ড প্রথম টেলিভিশনের মাধ্যমে ভিডিও বা চলমান ছবি পাঠিয়েছিলেন। 
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি আলাদা সিগন্যাল হিসেবে পাঠানো হয়। 
- চলমান ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয় এবং আমাদের চোখে তখন সেগুলোকে আলাদা আলাদা স্থিরচিত্র মনে না হয়ে একটি চলমান ছবি বলে মনে হয়। 
- টেলভিশনে রঙিন ছবি পাঠানোর জন্য টেলিভিশন ক্যামেরা প্রতিটি ছবিকে লাল, সবুজ ও নীল (RGB) এই তিনটি মৌলিক রং এ ভাগ করে তিনটি আলাদা ছবি তুলে দেয়। 
- টেলিভিশন ক্যামেরার ভেতরে আলো CCD ( Charge Coupled Device) ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তরিত করা হয়। এই বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গ ব্যবহার করে এন্টেনার ভেতর দিয়ে পাঠানো হয়। 
- বর্তমানে ইলেকট্রন গান দিয়ে স্ক্রিনে ছবি তৈরি না করে লাল, সবুজ ও নীল রংয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলইডি ( Light Emitting Diode) -তে বিদ্যুৎ প্রবাহ করে ছবি তৈরি করা হয়। এলইডি টেলিভিশনের ছবির ঔজ্জ্বল্য অনেক বেশি এবং গুণগত মানও অনেক ভালো। 
- এন্টেনার সাহায্যে টেলিভিশনের সিগন্যাল পাঠানো ছাড়াও কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দিয়েও সিগন্যাল পাঠানো যায়। এই ধরনের সম্প্রচার ক্যাবল টিভি নামে পরিচিত। 
- এ ছাড়াও স্যাটেলাইট টিভি নামে এক ধরনের টিভি অনুষ্ঠানের সম্প্রচার করা হয়, এটি মহাকাশে পাঠানো উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি পৃথিবীতে পাঠানো হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪৬৬.
রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম কী?
  1. এক্স-রে
  2. আলোক তরঙ্গ
  3. ইনফ্রারেড
  4. মাইক্রোওয়েভ
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোওয়েভ:
- রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম মাইক্রোওয়েভ।
- রাডার যন্ত্রে, নৌ ও বিমান চালনায়, রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায়, শিল্প কারখানায় মাইক্রোওয়েভ ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া খাবার গরম করা ও রান্নার কাজে মাইক্রোওভেন ব্যবহৃত হয়।
- মাইক্রোওয়েভ এর ফ্রিকুয়েন্সী রেঞ্জ হচ্ছে ৩০০MHz থেকে ৩০০GHz.
- মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমে মূলত দুটো ট্রান্সসিভার (Transceiver) থাকে।
- এর একটি সিগন্যাল ট্রান্সমিট (Transmit) করে এবং অন্যটি রিসিভ (Receive) করে।

• মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগ দু' ধরনের হতে পারে। যথা:
১. টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ (Terrestrial Microwave) ও
২. স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ (Satellite Microwave)।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা
২. পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৬৭.
মৌমাছি পালন বিষয়ক বিজ্ঞানকে কী বলা হয়? 
  1. এপিকালচার 
  2. সেরিকালচার 
  3. এভিকালচার
  4. অ্যাকোয়া কালচার 
ব্যাখ্যা

মৌমাছি: 
- মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
- মৌমাছির কলোনি তিন প্রকার মৌমাছি নিয়ে গঠিত। 
যেমন- একটি রাণী, কিছু হাজার কর্মী এবং কিছু শত পুরুষ। 
- মৌমাছিদের মধ্যে শ্রমবণ্টন দেখা যায়, যেখানে প্রতিটি মৌমাছি নির্দিষ্ট কাজ করে থাকে। 
- বহুরূপতা দেখা যায় তাদের দৈহিক গঠনেও, যেখানে রাণী, কর্মী এবং পুরুষ মৌমাছির শারীরিক গঠন ভিন্ন। 

- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে বড় এবং তার উদর প্রশস্ত হয়। 
- রাণী মৌমাছির ডানাগুলো ছোট এবং উদরের শেষ প্রান্তে সরু, যেখানে বাঁকানো হুল থাকে যা একটি রূপান্তরিত ওভিপজিটর। 
- রাণী মৌমাছির প্রোবোসিস ও রেণুখলি নেই, এবং তাদের ম্যান্ডিবল বা চোয়াল তীক্ষ্ণ হয়। 
- রাণী মৌমাছি মোম ও মধু তৈরি করতে পারে না, তার লালাগ্রন্থি নেই। 

কিছু গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
- সামদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
- পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৯,৪৬৮.
গামা রশ্মির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য -
  1. ক) ধনাত্মক চার্জযুক্ত
  2. খ) ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  3. গ) এর ভর ইলেক্ট্রনের ভরের সমান
  4. ঘ) এর বেগ আলোর বেগের সমান
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:

১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর ন্যায় বেগে গতিশীল
৩। এর কোনো চার্জ ও ভর নাই।
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে।
৮। গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯,৪৬৯.
মঙ্গলের উপগ্রহ কোনটি?
  1. ইউরোপা
  2. ক্যালিস্টো
  3. হাইপেরিয়ন
  4. ফোবোস
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):
- সূর্য থেকে মঙ্গলের গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার।
- সূর্যের চতুদিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে মঙ্গলের সময় লাগে প্রায় ৬৮৭ দিন।
- ডিমোস এবং ফোবোস নামক মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
- বৃত্তাকার কক্ষপথে ডিমোস প্রতি ৩০ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড এবং ফোবস ৭ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে মঙ্গলকে একবার আবর্তন করে।
- মঙ্গলে রয়েছে সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি নিকস অলিম্পিকা।
- মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, আর্গন প্রভৃতি গ্যাস রয়েছে। মঙ্গলের আকাশ নীল, মাটি লাল ও শুষ্ক । মঙ্গলের তাপমাত্রা ২০" সেলসিয়াস এর অধিক হয় না। তাপমাত্রা রাতে হিমাছের বহু নিচে নেমে যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৭০.
Optical Fiber কী?
  1. সরু তার
  2. ধাতব তার
  3. সরু ধাতব তার
  4. সরু কাঁচ তন্তু
ব্যাখ্যা
- অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে খুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তু।
- আলো বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
- আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্মকে কাজে লাগিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার তৈরি করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪৭১.
চালে বিদ্যমান শর্করা কোনটি?
  1. ক) সুক্রোজ
  2. খ) শ্বেতসার
  3. গ) গ্যালাকটোজ
  4. ঘ) ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা
শর্করার শ্রেণীবিভাগঃ
১. এক অণু বিশিষ্ট শর্করা -- গ্লুকোজ
উৎসঃ ফলের রস, মধু ইত্যাদি
২. দুই অণু বিশিষ্ট শর্করা -- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ
উৎসঃ চিনি ও দুধ
৩. বহু অণু বিশিষ্ট শর্করা -- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন
উৎসঃ চাল, আটা, আলু, সবুজ পাতা, শাকসবজি
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ জীব বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
৯,৪৭২.
GIS এর ব্যবহার সর্বপ্রথম কোথায় শুরু হয়?
  1. জাপানে
  2. কানাডায়
  3. যুক্তরাষ্ট্রে
  4. যুক্তরাজ্যে
ব্যাখ্যা

জিআইএস (Geographical Information System):
- ভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকে সংক্ষেপে জিআইএস বলে।
- এটি একটি কম্পিউটার হিসাবে সফ্টওয়ারের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা যার মধ্য দিয়ে ভৌগোলিক তথ্যগুলোর সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানিক ও পারস্পরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, মানচিত্রায়ণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করে থাকে।
- ১৯৬৪ সালে কানাডায় সর্বপ্রথম এই কৌশলের ব্যবহার আরম্ভ হয়।
- ১৯৮০ সালের দিক থেকে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে।
- বর্তমানে ভূমি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়ন, পানি গবেষণা, আঞ্চলিক গবেষণা, নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা, জনসংখ্যা বিশ্লেষণ, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিশ্লেষণ প্রভৃতি বহুবিধ কাজে জিআইএস ব্যবহার হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৪৭৩.
বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে কোনটি?
  1. ক) প্রোটনের প্রবাহ
  2. খ) নিউট্রনের প্রবাহ
  3. গ) ইলেকট্রনের প্রবাহ
  4. ঘ) তাপের প্রবাহ
ব্যাখ্যা
- তড়িৎ প্রবাহ প্রকৃতপক্ষে ইলেকট্রনের প্রবাহ।
- ধাতুর শেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন দুর্বলভাবে নিউক্লিয়াসের সাথে যুক্ত থাকে, সামান্য বিভব পার্থক (voltage) প্রয়োগ করলে ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে বর্তনীতে প্রবাহিত হয়। ইলেকট্রনের প্রবাহই তড়িৎ প্রবাহের কারণ। 
- অন্যদিকে, প্রোটন ও নিউট্রন অপেক্ষাকৃত ভারী কণা এবং এরা শক্তিশালী Strong Nuclear Force এর জন্য নিউক্লিয়াসে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে।

কিন্তু ইলেকট্রন আবিষ্কারের পূর্বে মানুষের ধারণা ছিল যে ধনাত্মক আধানের প্রবাহের জন্য তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। যেহেতু ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত, সেহেতু কনভেনশনাল নিয়ম অনুযায়ী ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিককে তড়িৎ প্রবাহের দিক ধরা হয় ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন। 
৯,৪৭৪.
দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম কি?
  1. ক) হিউমেরাস
  2. খ) ফিমার
  3. গ) এনামেল
  4. ঘ) রেডিও আলনা
ব্যাখ্যা
• দেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম এনামেল। মানব শরীরের কঠিনতম কলা।
- যা হাইড্রোক্সিপাটাইট স্ফটিক (ক্যালসিয়াম এবং ফসফেট আয়ন) দ্বারা গঠিত।
- হিউমেরাস লম্বা দেহ, নিকটবর্তী ও দূরবর্তী প্রান্ত নিয়ে গঠিত। এটির উপর দিকে গোলাকার মস্তক বিদ্যমান।
- ফিমার পশ্চাৎপদের প্রথম বড় অস্থি। ইহা দেহের সবচেয়ে লম্বা ও ভারী অস্থি।
- রেডিও আলনা অস্থিটি রেডিয়াস ও আলনা নামক পৃথক অথচ পরস্পরের সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ দুটি অস্থি নিয়ে গঠিত। রেডিয়াস লম্বা এবং মস্তক বর্তমান। অন্যদিকে আলনা লম্বা ও নলাকার।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৭৫.
রেক্টিফাইড স্পিরিট হলো-
  1. ৮০% ইথাইল এলকোহল + ২০% পানি
  2. ৯০% ইথাইল এলকোহল + ১০% পানি
  3. ৯২% ইথাইল এলকোহল + ৮% পানি
  4. ৯৫% ইথাইল এলকোহল + ৫% পানি
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৭৬.
সমন্বিত বর্তনী (IC)–এর একটি মূল সুবিধা কী? 
  1. আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে হয়
  2. কেবল ট্রানজিস্টার দিয়েই তৈরি হয়
  3. এতে বিদ্যুৎ সঞ্চয় হয় না
  4. সকল প্রয়োজনীয় উপাদান একত্রে তৈরি হয়
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী বা আইসি: 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়।এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন-
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০ টি উপাদান থাকে। 

২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০ টি উপাদান থাকে। 

৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): 
- এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০ টির অধিক উপাদান থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৭৭.
এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে কোনটি?
  1. ট্রান্সফরমার
  2. রেজিস্টর
  3. ট্রানজিস্টর
  4. রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা

রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- অর্থাৎ, এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে- রেকটিফায়ার। 
- একমুখীকারক দুই প্রকার। 
যথা- (ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং (খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 
 
ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 
 
উৎস: 
১। পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন। 
৩। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪৭৮.
ট্রানজিস্টরে কয়টি টার্মিনাল থাকে? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। 
যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর। 
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়। 
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। 
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে। 
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৭৯.
মহাবিশ্বের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বল কোনটি?
  1. তড়িৎচুম্বকীয় বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. সবল নিউক্লীয় বল
  4. দুর্বল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের মৌলিক বলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বলটি হলো মহাকর্ষ বল (Gravitational Force)।

• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৪৮০.
শেভিং ফোমে থাকে নিচের কোনটি?
  1. ক) সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  2. খ) পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  3. গ) সোডিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) পটাশ অ্যালাম
ব্যাখ্যা

- আমরা কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করি তা হলো মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট।
- শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট।
- কাপড় কাচার সোডা হিসাবে সোডিয়াম কার্বনেট ব্যবহার করা হয়।
- পটাশ অ্যালাম হলো ফিটকিরি যা পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহৃত হয়।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৯,৪৮১.
তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট ঋণাত্মক ইলেকট্রনের স্রোত কোনটি?
  1. আলফা রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
ব্যাখ্যা
- তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ফলে যে বিটা রশ্মি নির্গত হয়, তা আসলে ঋণাত্মক ইলেকট্রনের স্রোত। 
অন্যদিকে,
- তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ফলে যে আলফা রশ্মি নির্গত হয়, তা আসলে দ্বি-ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট হিলিয়াম নিউক্লিয়াস এবং নির্গত গামা রশ্মি হলো তড়িৎ নিরপেক্ষ তরঙ্গ। 
- এক্স-রে একটি তড়িৎ নিরপেক্ষ তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গ। 

সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 
৯,৪৮২.
জিওফোন (Geophone) ব্যবহৃত হয়- 
  1. যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে
  2. শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি করতে
  3. গর্ভের শিশুর নড়াচড়া ধরতে
  4. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন গ্রহণ করতে
ব্যাখ্যা
শব্দের ব্যবহার (Usages of Sound): 
- শব্দের প্রচলিত ব্যবহারের কথা নিশ্চয়ই কাউকে আলাদা করে বলতে হবে না। 
যেমন- কথা বলা, গান শুনা, হৃৎস্পন্দন শোনা, যন্ত্রপাতির শব্দ শোনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহার হয়। 
- শব্দের আরো কিছু ব্যবহার আছে যেমন- সন্তানসম্ভবা মায়ের গর্ভে যে নবজাতকটি বড় হয় বাইরে থেকে তাকে দেখার কোনো উপায় ছিল না, এখন আলট্রাসনোগ্রাফি নামে একটি প্রক্রিয়ায় সেটি দেখা সম্ভব হয়।

১। ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে (3D Seismic Survey): 
- মাটির নিচে গ্যাস বা তেল আছে কি না দেখার জন্য সিসমিক সার্ভে করা হয়। 
- এটি করার জন্য মাটির খানিকটা নিচে ছোট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, বিস্ফোরণের শব্দ মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে উপরে ফিরে আসে। 
- জিওফোন (Geophone) নামে বিশেষ এক ধরনের রিসিভারে সেই প্রতিফলিত তরঙ্গকে ধারণ (Detect) করা হয়। 
- সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাটির নিচের নিখুঁত ত্রিমাত্রিক ছবি বের করে, কোথায় গ্যাস বা কোথায় তেল আছে তা বের করা যায়। 
- শব্দের উৎসটি কোথায় আছে এবং জিওফোনগুলো কোথায় আছে দুটিই জানা থাকার কারণে উৎস থেকে জিওফোনে শব্দ আসতে কতটুকু সময় লেগেছে জানতে পারলেই বিভিন্ন স্তরের দূরত্ব নিখুঁতভাবে বের করা যায়। 

২। আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার: 
- ল্যাবরেটরিতে যখন ছোটখাটো যন্ত্রপাতি নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করতে হয়, তখন আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার ব্যবহার করা হয়। এখানে কোনো একটি তরলে ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ডুবিয়ে রেখে তার ভেতর আলট্রাসাউন্ড প্রবাহিত করা হয়, এবং তার কম্পনে যন্ত্রপাতির সব ময়লা বের হয়ে আসে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪৮৩.
কোন উপাদান উদ্ভিদের বিপাক ক্রিয়ার নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে? 
  1. বোরন 
  2. লৌহ 
  3. সালফার 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণ: 
- উদ্ভিদের কোনো পুষ্টি উপাদানের অভাব হলে বিশেষ লক্ষণের মাধ্যমে উদ্ভিদ তা প্রকাশ করে। এ লক্ষণগুলোকে বলা হয় অভাবজনিত লক্ষণ (deficiency symptoms)। 
- এ লক্ষণ দেখে বুঝা যায়, কোন উদ্ভিদ বা ফসলে কোন পুষ্টি উপাদানের অভাব রয়েছে। 
- নিচে কিছু উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণ উল্লেখ করা হলো- 
১। ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

২। লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

৩। সালফার (S): 
- সালফার উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই শুধু নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

৪। বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৪৮৪.
পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্রের নাম কী?
  1. প্রক্সিমা সেন্টারাই
  2. সূর্য 
  3. চাঁদ
  4. আলফা সেন্টারাই
ব্যাখ্যা

সূর্য:
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

এছাড়া,
- প্রক্সিমা সেন্টারাই: এটি সূর্যের পর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি নক্ষত্র, যা ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- চাঁদ: এটি নক্ষত্র নয়। এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক উপগ্রহ। 
- আলফা সেন্টারাই, ট্রিপল স্টার সিস্টেম, যার সবচেয়ে ক্ষীণ উপাদান।
- সবচেয়ে উজ্জ্বল উপাদান নক্ষত্র, আলফা সেন্টারাই A,
- দ্বিতীয় উজ্জ্বল উপাদান, আলফা সেন্টারাই B, 
- তৃতীয় উপাদান প্রক্সিমা সেন্টারাই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৯,৪৮৫.
নিচের কোনটি ফরমালিন?
  1. ক) মিথানলের ৪০% জলীয় দ্রবণ
  2. খ) ফরমিক এসিডের ৪% জলীয় দ্রবণ
  3. গ) মিথান্যাল এর ৪০% জলীয় দ্রবণ
  4. ঘ) মিথেনের ০.৪% অ্যালকোহলীয় দ্রবণ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ফরমালডিহাইড অর্থাৎ মিথান্যাল এর ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। ফরমালিনে ৪০ ভাগ মিথন্যাল আর ৬০ ভাগ পানি থাকে। বিভিন্ন মৃত প্রাণীদেহ সংরক্ষণ করার জন্য ফরমালিন ব্যবহার করা হয়।
সূত্র: মাধমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৯,৪৮৬.
'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব'  এ মতবাদ প্রদান করেন কে? 
  1. গ্রেগর মেন্ডেল
  2. জর্জ কুভিয়ে
  3. চার্লস ডারউইন
  4. জিন ব্যাপটিস্ট ল্যামার্ক
ব্যাখ্যা

বিবর্তনবাদ: 
- ব্রিটিশ প্রকৃতিবিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন বিবর্তনবাদের  একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন।
- বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন ইংল্যান্ডের সাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন।
-  ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' (Origin of species by means of natural selection) নামে একটি বইয়ে তাঁর মতবাদটি প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে,
• মেন্ডেলকে জিনতত্ত্বের জনক বলা হয় তার কারণ তিনিই প্রথম বিজ্ঞানসম্মতভাবে জিন ও বংশগতি সম্পর্কে গবেষণা করেছিলেন।
- ল্যামার্ক 'বায়োলজি' শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন বা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
- এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলোসোফিক জুওলজিক' (Philosophic Zoologique) নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৪৮৭.
কখন চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করে?
  1. অমাবস্যা তিথি
  2. পূর্ণিমা তিথি
  3. অষ্টমী তিথি
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করার ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে এ সময়ে চাঁদের দিকে জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণের জন্য এ জোয়ারের বেগ তত প্রবল হয় না। এ রূপ জোয়ারকে মরা কটাল বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।

৯,৪৮৮.
জাতিসংঘের কোন সংস্থাটি করােনা ভাইরাসকে 'pandemic' ঘােষণা করেছে?
  1. ECOSOC
  2. FAO
  3. WHO
  4. HRC
ব্যাখ্যা
WHO:
- WHO-এর পূর্ণরূপ: World Health Organization.
- WHO জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৭ এপ্রিল, ১৯৪৮।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক: টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৪টি।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ৬১টি দেশ।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: জাতিসংঘের উদ্যোগে International Health Conference।
- বিশ্বব্যাপী উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এই সংস্থার প্রধান কাজ।
- এটি জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহের জনস্বাস্থের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং এটি জাতিসংঘ উন্নয়ন গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে জাতিসংঘ পরিবারের সাথে যুক্ত হয়।

⤇ ২২ জুলাই, ১৯৪৬ সালে অনুষ্ঠিত International Health Conference -তে ৬১টি দেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সনদ স্বাক্ষর করে।
- এর ২ বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে WHO এর যাত্রা শুরু হয়।

⤇ বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য সংস্থাটি সদস্য দেশ সমূহের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য বিষয়ক সরকারি অন্যান্য সংস্থা ও বিভাগ, এনজিও এবং জনসাধারনের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
- যে কোন রোগ-বালাই, নতুন রোগের সংক্রমণ বা জরুরি স্বাস্থ্যগত যেকোন ইস্যুকে কেন্দ্র করে উদ্ভাবিত যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় এই সংস্থা সর্বদা নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে

উল্লেখ্য,
- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ে চীনা সরকার প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে।
- ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ইস্যুতে বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগের নামকরণ করে COVID-19।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ COVID-19 কে মহামারি (Pandemic) হিসেবে চিহ্নিত করে।
- বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ এবং প্রথম রোগী মারা যায় ১৮ মার্চ।

উৎস: WHO ওয়েবসাইট।
৯,৪৮৯.
বন্যার জন্য দায়ী মানব সৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব
  2. অপরিকল্পিত নগরায়ন
  3. মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া
  4. হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
• বন্যার জন্য দায়ী মানব সৃষ্ট কারণ - অপরিকল্পিত নগরায়ন।

• বন্যা:
- নদীমাতৃক ও বৃষ্টিবহুল বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বর্ষা মৌসুমে সংঘটিত বন্যা অন্যতম।
- ব্যাপকতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে সাধারণ ও ভয়াবহ-এই দুই ধরনের বন্যা হয়ে থাকে।
- বন্যায় প্লাবিত এলাকার জন-জীবন ও সম্পদের বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়।

• বন্যার কারণসমূহ:
• প্রাকৃতিক কারণ:
- বর্ষাকালে উত্তরাঞ্চলে নদীর উজানে প্রচুর বৃষ্টি।
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
- মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া।
- শাখা নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া।
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ।
- বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার।

• মানব সৃষ্ট কারণ:
- গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ও তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
- বালু ভরাট করে নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দান।
- অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাধার ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্ন করা।
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৯০.
বাতাসের আদ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কী?
  1. মাইক্রোমিটার
  2. হাইগ্রোমিটার
  3. ব্যারোমিটার
  4. গ্রাভিমিটার
ব্যাখ্যা

• বাতাসের আদ্রতা মাপার যন্ত্র (Hygrometer):
- হাইগ্রোমিটার হলো একটি যন্ত্র যার মাধ্যমে বাতাসের আদ্রতার মাত্রা (humidity) পরিমাপ করা হয়।
- এটি পরিবেশগত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি, গৃহস্থালি, এবং গবেষণায় ব্যবহার হয়।
- হাইগ্রোমিটার বিভিন্ন প্রকার হতে পারে, যেমন- ক্যাপাসিটিভ, রেজিস্টিভ, বা সায়োকোমেট্রিক টাইপ।
- মাইক্রোমিটার, ব্যারোমিটার বা গ্রাভিমিটার বাতাসের আদ্রতা মাপার জন্য ব্যবহার হয় না। 
- সুতরাং, বাতাসের আদ্রতা মাপার জন্য হাইগ্রোমিটার ব্যবহার করা হয়।

অপশন আলোচনা -

ক) মাইক্রোমিটার – ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্য বা বস্তুর মাত্রা মাপার যন্ত্র।
খ) হাইগ্রোমিটার – বাতাসের আদ্রতা (humidity) মাপার যন্ত্র।
গ) ব্যারোমিটার – বায়ুর চাপ (atmospheric pressure) মাপার যন্ত্র।
ঘ) গ্রাভিমিটার – পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মাপার যন্ত্র।

সঠিক উত্তর: খ) হাইগ্রোমিটার। 

সূত্র - ব্রিটানিকা। 

৯,৪৯১.
শিশুর খাদ্যে নিচের কোনটির ঘাটতির জন্য রক্তাল্পতা বা এ্যানিমিয়া দেখা যায়?
  1. লৌহ
  2. ক্যালসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. গন্ধক
ব্যাখ্যা
রক্তাল্পতা বা এ্যানিমিয়া: 
- আয়রন বা লৌহ, লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের গঠন উপাদান।
- শিশু ও সন্তান সম্ভবা মায়ের খাদ্যে লৌহের ঘাটতির জন্য রক্তাল্পতা দেখা যায়।
- সাধারণত শিশুদের পেটে কৃমি হলে রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে।
এর লক্ষণগুলো হলো-
• দুর্বলতাবোধ, মাথা, গা ঝিমঝিম করা।
• বুক ধড়ফড় করা।
• মাথা ঘোরানো, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে উঠা।
• ওজন হ্রাস ও খাওয়ায় অরুচি দেখা দেয়।

প্রতিকার: 
- লৌহ সমৃদ্ধ শাকসবজি, ফল, মাংস, ডিমের কুসুম, যকৃৎ ও বৃক্ক ইত্যাদি বেশি করে খাওয়া।
- প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা।
- রোগ কঠিন আকার ধারণ করলে হৃৎপিন্ডের দ্রুত রক্ত সঞ্চালন ও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৯,৪৯২.
সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ কোনটি?
  1. ক) পৃথিবী
  2. খ) বুধ
  3. গ) মঙ্গল
  4. ঘ) শুক্র
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাই অক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।
- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
- সৌরজগতে পৃথিবীর পরেই মঙ্গল গ্রহের অবস্থান।
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ।
৯,৪৯৩.
তরল পদার্থের প্রসারণ মূলত কোন আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘটে?
  1. আকার
  2. দৈর্ঘ্য
  3. ক্ষেত্রফল
  4. আয়তন
ব্যাখ্যা

তরল পদার্থের প্রসারণ:
- তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের মতো তরল পদার্থেরও প্রসারণ ঘটে।
- কঠিন পদার্থের সুনির্দিষ্ট আকার থাকায় এর বিভিন্ন প্রসারণ স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। কঠিন পদার্থের দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল এবং আয়তনের প্রসারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সহজ হয়।
- কিন্তু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার বা দৈর্ঘ্য নেই, যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে
- তাপের প্রভাবে তরল পদার্থের আয়তনের পরিবর্তনই কেবল প্রতীয়মান হয়, তাই তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে এর আয়তনের প্রসারণকেই বুঝায়।
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, একই পরিমাণ তাপ প্রয়োগে সম আয়তনের কঠিন পদার্থের তুলনায় তরল পদার্থের আয়তনের প্রসারণ বেশি হয়।
- আবার একই পরিমাণ তাপে বিভিন্ন প্রকার তরলের প্রসারণের পরিমাণও সমান হয় না। তাপে পদার্থের প্রসারণ পর্যবেক্ষণের জন্য ঐ পদার্থকে তাপ দিতে হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪৯৪.
বয়েলের সূত্রে ধ্রুব রাশি কোনটি?
  1. চাপ
  2. আয়তন
  3. তাপমাত্রা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বয়েলের সূত্র: 
- ১৬৬২ সালে রবার্ট বয়েল এই সূত্রটি উপস্থাপন করেন। তাই এটি বয়েলের সূত্র বলে পরিচিত। 
- সূত্রটি হলো- "তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার চাপের ব্যস্তানুপাতিক"। 

ব্যাখ্যা: 
- এই সূত্রানুসারে, তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের তার আয়তন চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে তাপমাত্রা T, আয়তন V এবং চাপ p হলে; 
V ∞ 1/p  [যখন T স্থির থাকে] 
বা, pV = K  [এখানে K একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক] 
- K এর মান গ্যাসের ভর এবং তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
সুতরাং, যদি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন যথাক্রমে V1, V2, V3, V4......... Vn ইত্যাদি এবং চাপ যথাক্রমে P1, P2, P3, P4........ Pn ইত্যাদি হয় তাহলে, 
P1V1 = P2V2 = P3V3 = P4V4 .......= PnVn = ধ্রুবক (K) । 
- অতএব, চাপ দ্বিগুণ হলে আয়তন অর্ধেক হবে। চাপ তিনগুণ হলে আয়তন এক তৃতীয়াংশ হবে। বা চাপ অর্ধেক হলে আয়তন দ্বিগুণ হবে। এভাবে একটি বাড়লে অন্যটি কমবে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৯৫.
নিচের কোনটিতে ফ্রুকটোজ পাওয়া যায়?
  1. ক) আম
  2. খ) পেঁপে
  3. গ) কলা
  4. ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
শর্করা আমাদের শরীরে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। বেশ কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। যেমনঃ ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি শ্বেতসার এর উৎস। গ্লুকোজের উৎস হলো আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদি৷ আম, পেঁপে, কলা ইত্যাদিতে থাকে ফ্রুকটোজ৷ আবার বেল, কলা, আম, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৪৯৬.
বায়ু পরাগায়ণ ঘটে কোনটিতে?
  1. ক) সূর্যমুখী
  2. খ) ধান 
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) সরিষা
ব্যাখ্যা
যে সকল ফুলের পরাগায়ণ বাতাসের মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদেরকে বায়ু পরাগায়ণ বলে। যেমন: ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু, ইত্যাদি।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৯,৪৯৭.
নিচের কোন বৈশিষ্ট্য ধাতুর নয়?
  1. ঘাতসহনীয়তা 
  2. নমনীয়তা
  3. অম্লতার প্রতিরোধ ক্ষমতা
  4. উচ্চ ঘনত্ব 
ব্যাখ্যা

- ধাতুর সাধারণ ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ঘাতসহনীয়তা, নমনীয়তা এবং উচ্চ ঘনত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অম্লতার প্রতিরোধ ক্ষমতা ধাতুর সাধারণ কোনো বৈশিষ্ট্য নয়। 

ধাতু-অধাতু: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে।আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৪৯৮.
কোনটি জৈব যৌগ?
  1. CO2
  2. CO
  3. Na2CO3
  4. CH4
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ:
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।
যেমন: মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৯৯.
দূর্বাঘাস সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. এসব হার্ব সাধারণত দুই-বছরকাল জীবিত থাকে
  2. সাধারণত এরা একবার ফল দিয়ে মারা যায়
  3. প্রথম বছরে দৈহিক বৃদ্ধি সম্পন্ন হয় ও দ্বিতীয় বছরে ফল ও ফুল হয়
  4. ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড হতে প্রতি বছর বায়বীয় কাণ্ড বের হয়
ব্যাখ্যা
• দূর্বাঘাসের ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড হতে প্রতি বছর বায়বীয় কাণ্ড বের হয়। 

• বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ:
- বহুবর্ষজীবী (Perennial) উদ্ভিদ বলতে এমন উদ্ভিদকে বোঝায়, যা দুই বছরের বেশি সময় ধরে জীবিত থাকে এবং বারবার ফুল, ফল, পাতা ও কান্ড গজায়।
উদাহরণ- দূর্বাঘাস, আদা, হলুদ ইত্যাদি। 

• বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
- এরা বছরে এক বা একাধিকবার ফুল ও ফল ধারণ করতে পারে।
- ভূ-নিম্নস্থ রাইজোম (Rhizome) ও স্টোলন (Stolon) থেকে প্রতিবছর নতুন বায়বীয় কাণ্ড উৎপন্ন হয়। 
- এরা সারা বছরই বৃদ্ধি পায়।

• দূর্বাঘাস "বারমুডা গ্রাস" একটি বহুবর্ষজীবী (perennial) ঘাস। 

• দূর্বাঘাস:

- এটি ঘাসজাতীয় একটি উদ্ভিদ, যা সারাবিশ্বে বহুল পরিচিত। 
- এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Cynodon dactylon. 
- এটির শিকড় মাটি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষয় রোধ করে।
- এর ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ড (রাইজোম) থেকে প্রতি বছর নতুন বায়বীয় কাণ্ড উৎপন্ন হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- FAO.
৯,৫০০.
‘টিওআই ১৮৪৬ বি (TOI-1846 b)’ কী? [জুলাই, ২০২৫]
  1. যুদ্ধ জাহাজ
  2. ব্যালিস্টিক মিসাইল
  3. আবিষ্কৃত নতুন গ্রহ
  4. আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
টিওআই ১৮৪৬ বি:
- ‘টিওআই ১৮৪৬ বি’ নামে পৃথিবীর মতো বড় আকারে গ্রহ (সুপার আর্থ) আবিষ্কার করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।
- পৃথিবী থেকে ১৫৪ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত গ্রহটি থেকে রহস্যময় আলোর সংকেতও শনাক্ত করেছেন তাঁরা।
- বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নাসার টেস স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গ্রহটি শনাক্ত করা হয়েছে।
- আকার ও গ্রহের বৈশিষ্ট্যের কারণে গ্রহটিকে পৃথিবী ও নেপচুনের মতো বৃহত্তর গ্যাসসমৃদ্ধ গ্রহের মধ্যবর্তী স্থানে রাখা হয়েছে।
- বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ‘টিওআই ১৮৪৬ বি’ গ্রহের হোস্ট নক্ষত্র একটি লাল বামনকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
- বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন তথ্য জানা যাবে।
- ফলে গ্রহটিতে থাকা জলীয় বাষ্প, মিথেন, কার্বন ডাই–অক্সাইড বা অন্যান্য গ্যাসের লক্ষণ বা পরিমাণ শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [Link]