বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৯৩ / ১৪০ · ৯,২০১৯,৩০০ / ১৪,০৮০

৯,২০১.
নিচের কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. এক্সরে
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা

• তেজস্ক্রিয়তা:
- তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (আলফা, বিটা ও গামা) নির্গমনের ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত নিউক্লীয় ও স্বাভাবিক ঘটনা। 
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর বেশি তারাই মূলত তেজস্ক্রিয় পদার্থ।
- যেমন: ইউরোনিয়াম, প্লুটোনিয়াম, নেপচুনিয়াম, রেডিয়াম, রেডন, থোরিয়াম ইত্যাদি।
- ভরের বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে (বেশি হতে কম) আলফা রশ্মি > বিটা রশ্মি > গামা রশ্মি।
- ভেদন ক্ষমতার বিবেচনায় তিনটি কণা বা রশ্মির মাঝে সম্পর্ক হবে: গামা রশ্মি > বিটা রশ্মি> আলফা রশ্মি।

উল্লেখ্য, 
- 1896 খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল (Henry Becquerel) সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য দুটি একক রয়েছে, যথা- 
(১) কুরী (Curie) এবং (২) বেকেরেল (Becquerel)।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 

৯,২০২.
মানবদেহে প্রথ্রোম্বিন নামক প্রোটিন তৈরি করে-
  1. ক) ভিটামিন ‘ই’
  2. খ) ভিটামিন ‘ডি’
  3. গ) ভিটামিন ‘কে’
  4. ঘ) ভিটামিন ‘সি’
ব্যাখ্যা
সবুজ রঙের শাকসবজি, লেটুসপাতা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডিমের কুসুম, সয়াবিন তেল এবং যকৃতে ভিটামিন ‘কে’ পাওয়া যায়। দেহে ভিটামিন ‘কে’ প্রথ্রোম্বিন নামক প্রোটিন তৈরি করে। প্রথ্রোম্বিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। যকৃত থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়। পিত্তরস নিঃসরণে অসুবিধা হলে ভিটামিন কে-এর শোষণ কমে যায়। ভিটামিন ‘কে’- এর অভাবে ত্বকের নিচে ও দেহাভ্যন্তরে যে রক্ত ক্ষরণ হয় তা বন্ধ করার ব্যবস্থা না নিলে রোগী মারা যেতে পারে।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]
৯,২০৩.
কোমল এক্স-রে (Soft X-ray)-এর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. উচ্চ বিভব প্রয়োগে উৎপন্ন
  2.  তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট, ভেদন ক্ষমতা বেশি
  3. তরঙ্গদৈর্ঘ্য বড়, ভেদন ক্ষমতা কম
  4. শুধুমাত্র ধাতব পদার্থ অতিক্রম করতে পারে
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-Rays): 
- জার্মান বিজ্ঞানী প্রফেসর উইলিয়াম রঞ্জন ১৮৯৫ সালে ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় আকস্মিকভাবে এক্স-রে (X-Rays) আবিষ্কার করেন। 
- তিনি 10-3 mmHg চাপে একটি ক্ষরণ নল (Crookes tube) ব্যবহার করছিলেন। পরীক্ষার সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে নলের কাছে রাখা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড আবৃত পাতের ওপর একটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি হচ্ছে। 
- আরও বিশদ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ক্যাথোড রশ্মি যেখানে আপতিত হয়, সেখান থেকে সবুজাভ-হলুদ আলো বিকিরিত হওয়ার পাশাপাশি এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হচ্ছে। যেহেতু সে সময় এই রশ্মির প্রকৃতি জানা ছিল না, তাই প্রফেসর রঞ্জন একে "X-Rays" নামে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে একে "রঞ্জন রশ্মি" নামেও ডাকা হয়। 
- পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত হন যে, উচ্চগতির ইলেকট্রন কোনো ধাতব প্রতিবন্ধকের (Target) সাথে সংঘর্ষে বাঁধাপ্রাপ্ত হলে তার গতিশক্তি এক্স-রেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার। 
যথা- কোমল এক্সরে (Soft X-ray) এবং কঠিন এক্সরে (Hard X-ray)। 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২০৪.
পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস কোন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) মিয়োসিস
  3. গ) অ্যামাইটোসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পরাগরেণু হচ্ছে পুংগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ।
• পরাগরেণুর হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসম নিউক্লিয়াস গঠন করে।
• এদের বড়টিকে বলা হয় নালিকা পরাগধানীর প্রাচীর ফেঁটে গেলে সাধারণত এ দ্বি-নিউক্লিয়াসযুক্ত পরাগরেণু বাইরে বেরিয়ে আসে।
• এ পরাগরেণু বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে স্ত্রীকেশরের গর্ভমুন্ডে পতিত হয় এবং পরাগায়ন ঘটায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯,২০৫.
Polio রোগের Vaccine-
  1. ক) OPV
  2. খ) BCG
  3. গ) Rubella
  4. ঘ) Mumps
ব্যাখ্যা
OPV- Oral Polio Vaccine.
৯,২০৬.
প্রতিষেধক বিদ্যার জনক বলা হয়-
  1. ক) লুইপাস্তুর
  2. খ) এডওয়ার্ড জেনার
  3. গ) জোনাস হক
  4. ঘ) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা
১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড জেনার গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন। এজন্য জানার কে প্রতিষেধক বিদ্যার জনক বলা হয়। ১৯৬৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সারাবিশ্বে গুটিবসন্ত নির্মূলের প্রচারণা চালায় এবং সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়িত করে।
৯,২০৭.
কোন রঙের বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি?
  1. ক) কালো
  2. খ) সাদা
  3. গ) বেগুনি
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
- কালো রংয়ের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি। 
- তাই গ্রীষ্মকালে কালো রংয়ের জামা পরিধান করলে এতে গরম বেশি অনুভূত হয়। 
- গরমের সময় কালো রং ব্যবহার করার ফলে অনেক সময় ঘামাচি বা  র‌্যাশ দেখা দেয়।
-  তাই গ্রীষ্মকালে কালো রং ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
 
অপরদিকে,
- সাদা রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। সেজন্য গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক; কারণ সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম।
 
উৎস: বিডিনিউজ 


৯,২০৮.
পদার্থের এটম নামক অবিভাজ্য একক রয়েছে- উক্তিটি কার?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) পিথাগোরাস
  3. গ) থেলিস
  4. ঘ) লোডস্টোন
ব্যাখ্যা

- পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হিসাবে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে, যার নাম এটম।

- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। 


সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান; বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি। 

৯,২০৯.
তুল্য আর্দ্রতা পরিমাপ পদ্ধতি হলো-
i. হাইক্রোমিটার
ii. হাইগ্রোমিটার
iii. সাইক্রোমিটার
iv. সাইট্রোমিটার
নিচের কোনটি সঠিক ?
  1. ক) i ও ii
  2. খ) ii ও iii
  3. গ) i ও iii
  4. ঘ) i ও iv
ব্যাখ্যা
• তুল্য আর্দ্রতা পরিমাপ পদ্ধতি হলো- ii. হাইগ্রোমিটার ও iii. সাইক্রোমিটার

• কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।
- তুল্য আর্দ্রতা দুই পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায়। যথা- হাইগ্রোমিটার এবং সাইক্রোমিটার।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২৫০° সে. তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত ১ কিলোগাম বায়ুতে ২০ গ্রাম জলীয়বাষ্প থাকে।
- যদি কোনো সময়ের বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ১০ গ্রাম হয় তবে ঐ সময়ের তুল্য আর্দ্রতা হবে ১০/২০ অথবা ৫০ শতাংশ।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২১০.
ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র কোনটি?
  1. ব্যারোমিটার
  2. অলটিমিটার
  3. ক্রনোমিটার
  4. রিখটার স্কেল
ব্যাখ্যা
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিকভাবে সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বলে।
- কেন্দ্র থেকে সুজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তি কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্বির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্পের ভূ-পৃষ্ঠের আন্দোলন পরিমাপ করা হয় এবং উৎস খুঁজে বের করা হয়।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপা হয় রিখটার স্কেল দ্বারা।

• অলটিমিটার - উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র।
• ব্যারোমিটার - বায়ুচাপ পরিমাপক যন্ত্র।
• ক্রনোমিটার - সূক্ষ্ন সময় ও দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা।
৯,২১১.
জণ্ডিস রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম -
  1. ক) হেপাটাইসিস বি/সি
  2. খ) রেবিস ভাইরাস
  3. গ) হার্পিস ভাইরাস
  4. ঘ) ভাক্সিনিয়া ভাইরাস
ব্যাখ্যা

- জণ্ডিস রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম হেপাটাইসিস বি/সি।
- জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম রেবিস ভাইরাস।
- হার্পিস রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম হার্পিস ভাইরাস।
- গো - বসন্ত রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম ভাক্সিনিয়া ভাইরাস।
[তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র - গাজী আজমল , একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ২৫।]

৯,২১২.
1000 Hz কম্পাঙ্কের কোনাে শব্দের শ্রুতির প্রারম্ভ সীমার তীব্রতা কত?
  1. ক) 1012 Wm-2
  2. খ) 1010 Wm-2
  3. গ) 10-12 Wm-2
  4. ঘ) 10-10 Wm-2
ব্যাখ্যা

কোনাে শব্দ শ্রাব্য হতে হলে শব্দের তীব্রতা এবং কম্পাঙ্ক একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হয়। শ্রাব্য শব্দের নিম্নতম তীব্রতাকে শ্রাব্যতার প্রারম্ভ (threshold of audibility) বলে। 1000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দের শ্রাব্যতার প্রারম্ভিক সীমা 10-12 Wm-2 তীব্রতার বা, 10-12 W ক্ষমতার সমান।
প্রমাণ তীব্রতা : 1000 Hz কম্পাঙ্কবিশিষ্ট 10-12 Wm-2 তীব্রতাকে প্রমাণ তীব্রতা বলে।
প্রমাণ ক্ষমতা : 1000 Hz কম্পাঙ্কবিশিষ্ট 10-12 W ক্ষমতাকে প্রমাণ ক্ষমতা বলে।

৯,২১৩.
সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণি কোনটি?
  1. কুকুর
  2. বাবুই পাখি
  3. ব্যাঙ
  4. মৌমাছি
ব্যাখ্যা

• সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হলো এমন প্রাণী যারা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, নিজেদের মধ্যে সংযোগ ও সহযোগিতা করে এবং দলগত কাজ করে। এই ধরনের প্রাণীর মধ্যে একে অপরের সাথে যোগাযোগ, খাদ্য সংগ্রহ, শিকার করা বা শত্রু থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাধারণ। উপরের উদাহরণগুলোতে ব্যাঙ মূলত একা থাকে এবং সামাজিকতা খুব কম দেখায়। বাবুই পাখি কিছুটা দলবদ্ধ হয়, কিন্তু সামাজিক আচরণ সীমিত। কুকুর মানুষের সাথে এবং নিজেদের মধ্যে সামাজিক আচরণ দেখায়, তবে মৌমাছি সম্পূর্ণ সামাজিক প্রাণী হিসেবে পরিচিত। মৌমাছি ছত্রাকের মতো কাঠামো তৈরি, খাদ্য সংগ্রহ, সন্তান পালন এবং রানী মৌমাছির নেতৃত্বের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সামাজিক জীবন পরিচালনা করে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) মৌমাছি।

 
• মৌমাছির সামাজিক আচরণ (Social Behavior of Honey Bee):
- মৌমাছি সামাজিক প্রাণী। একেকটি বড় পরিবার গড়ে বা বসতবদ্ধ হয়ে মৌচাকে বাস করে।
- প্রত্যেকটি কলোনিতে মৌমাছির ৩টি সম্প্রদায়ভুক্ত সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সামাজিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলে।
- একটি মাত্র রাণীর নেতৃত্বে কয়েকশ ড্রোন (পুরুষ মৌমাছি) এবং ৬০-৮০ হাজার কর্মী মৌমাছি (বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি) সুশৃঙ্খলভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করে।
- এই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা মৌমাছি গোষ্ঠীর সকল মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে প্রাণিজগতে অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
- মৌমাছিরা দৃঢ় সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে বাস করে এবং একে সমাজবদ্ধ প্রাণীর আদর্শ উদাহরণ বলা হয়।

সুতরাং, সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হল মৌমাছি।  
সঠিক উত্তর: ঘ) মৌমাছি। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

৯,২১৪.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. আয়োডিন-131
  2. ফসফরাস-32
  3. কার্বন-14 
  4. কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা

- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস-32 (P-32) ব্যবহার করে উদ্ভিদের মূল থেকে বিভিন্ন অংশে খাদ্যবস্তু পৌঁছানোর কৌশল এবং উদ্ভিদের পুষ্টি গ্রহণ ও বৃদ্ধির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যায়। 

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 

- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন- 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২১৫.
একটি ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল কত?
  1. ১২ ঘন্টা
  2. ২৪ ঘন্টা
  3. ০ ঘন্টা
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা

ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল ২৪ ঘন্টা। অর্থাৎ ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল পৃথিবীর আবর্তনকালের সমান। পৃথিবীর আবর্তনকাল ও ভূ-স্থির উপগ্রহের আবর্তনকাল সমান হওয়ায় পৃথিবীর একজন পর্যবেক্ষকের নিকট একে সব সময়ই স্থির মনে হবে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৯,২১৬.
ঈস্ট কোষ থেকে নিঃসৃত এনজাইম নয় কোনটি? 
  1. মলটেস
  2. জাইমেস
  3. ডায়াস্টেস 
  4. ইনভারটেস
ব্যাখ্যা
ঈস্ট (Yeast): 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পঁচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈস্টের কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট (Mould): 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন - ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২১৭.
নিচের কোনটি এককোষী প্রাণী? 
  1. মাছ 
  2. ব্যাঙ 
  3. হাইড্রা 
  4. অ্যান্টামিবা 
ব্যাখ্যা
কোষের ভিত্তিতে: 
- কোষের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। এককোষী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত তাদেরকে এককোষী প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica)। 

২। বহুকোষী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে বহুকোষী প্রাণী বলে। 
যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২১৮.
মনেরা কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী কোনটি?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) এমিবা
  3. গ) ব্যাঙ
  4. ঘ) গরু
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া এবং নীলাভ সবুজ শৈবাল- এগুলো মনেরা কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।

মনেরা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য-
১. এরা একের পর এক কোষ লম্বালম্বিভাবে যুক্ত হয়ে ফিলামেন্ট গঠন করে।
২. কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
৩. এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা নেই; কিন্তু রাইবোসোম আছে।
৪. কোষ বিভাজন দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
৫. এরা সাধারণত শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৯,২১৯.
নিচের কোনটি পতঙ্গ পরাগী ফুল?
  1. ক) ধান
  2. খ) কুমড়া
  3. গ) পাতা শ্যাওলা
  4. ঘ) কদম
ব্যাখ্যা
পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুন্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।

অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
এদের গর্ভমুন্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমন্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে।
ফলে বাতাস থেকে পরাগরেণু সহজেই সংগ্রহ করে নিতে পারে, যেমন- ধান।

পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃন্ত ছোট। পরিণত পুংপুষ্প বৃন্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে এবং স্ত্রী পুষ্পের কাছে পৌঁছালে সেখানেই পরাগায়ন ঘটে, যেমন- পাতা শ্যাওলা।

প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২২০.
ইউরিয়া সার উদ্ভিদে মূলত কোন উপাদান সরবরাহ করে? 
  1. পটাশ
  2. নাইট্রোজেন
  3. ফসফরাস
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যেও ইউরিয়া প্রধান। 
- নাইট্রোজেন জাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। 
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। 
- ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রোজেন লাভ করে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র - রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে। 
- ফলে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২২১.
পেশি সংকোচনে ভূমিকা রাখে কোনটি?
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. আয়রন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
- পটাসিয়াম পেশি সংকোচনে ভূমিকা রাখে। 

খনিজ লবণ: 

- দেহ কোষ ও দেহের তরল উপাদানের জন্য (যেমন- রক্ত, এনজাইম, হরমোন ইত্যাদি) খনিজ লবণ খুবই দরকারি। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন, দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ (যেমন- পেশি সংকোচন, স্নায়ু উত্তেজনা) নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। 
- হাড়, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে সরাসরি খনিজ লবণ শোষণ করে। 
- আমাদের দেহের ওজনের ১% পরিমাণ লবণ থাকে। 
- এ উপাদানগুলো হলো ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সালফার, সোডিয়াম, ক্লোরিন ও ম্যাগনেসিয়াম। 
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। গলগণ্ড রোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া উচিত। 


উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯,২২২.
নিচের কোন Endocrine gland নয়?
  1. Pituitary
  2. Liver
  3. Thyroid
  4. Adrenal
ব্যাখ্যা
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (মানবদেহ)Endocrine gland

মানবদেহে অবস্থিত এক প্রকার গ্রন্থি। এই গ্রন্থি মূলত এক প্রকার আবরণী কলা। এই গ্রন্থিতে কোনো নালী থাকে না। তাই এদেরকে অনালী বা নালীবিহীন (Ductless gland) গ্রন্থিও বলা হয়। এই গ্রন্থিগুলো থেকে ক্ষরিত রস সরাসরি রক্তে মিশ্রিত হয়। এই রসকে সাধারণভাবে হরমোন বলা হয়। হরমোন রক্তের মাধ্যমে সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেহের নানা ধরনের বিপাকীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

মানবদেহে মোট ১৪টি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি আছে। এগুলো হলো

পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland)
থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland)
প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি (Parathyroid gland)
এ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland) বা সুপ্রারিনাল গ্রন্থি
শুক্রাশয়ের অনালী অংশ
ডিম্বাশয়ের অনালী অংশ
অমরা বা গর্ভপুষ্প
অগ্ন্যাশয় (Pancreas) [বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবেও কাজ করে]
পাকস্থলীর অন্তঃপ্রাচীর
ডিওডেনামের অন্তঃপ্রাচীর
বৃক্ক ও রক্ত
পিনিয়াল গ্রন্থি
ক্ষয়প্রাপ্ত কলা

বহিঃক্ষরা গ্রন্থি  (মানবদেহ)Exocrine gland

মানবদেহে অবস্থিত এক প্রকার  গ্রন্থি। এই গ্রন্থিগুলো থেকে উৎপন্ন রাসায়নিক দ্রব্যগুলো বলা হয় রস (Juice)। এই রস উৎপত্তিস্থল থেকে নালির সাহায্যে নিকটস্থ কোনো বিশেষ বিশেষ স্থানে উপস্থিত হয়। এই কারণে এই গ্রন্থিগুলোর সাথে রস পরিবাহী একপ্রকার নালি থাকে। এই গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন রস গ্রন্থির নিকটবর্তী কোনো অংশে গিয়ে শারীরবৃ্ত্তীয় কাজে অংশগ্রহণ করে। সমগ্র দেহে এই সকল গ্রন্থির কোনো প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে না।

বহিঃক্ষরা গ্রন্থিসমূহ :

অগ্ন্যাশয় (Pancreas)
অশ্রু গ্রন্থি (Tear/Lacrimal gland)
গন্ধ গ্রন্থি (Scent gland)
ঘাম গ্রন্থি (Sweat gland)
যকৃত (Liver)
লালা গ্রন্থি (Salivary gland)
স্তনগ্রন্থি (Mammary gland)
স্বেদ গ্রন্থি (Sebaceous gland)
৯,২২৩.
জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হওয়া এসিডকে কী বলা হয়?
  1. তীব্র এসিড
  2. দুর্বল এসিড 
  3. অজৈব এসিড 
  4. জৈব এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এটি নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এটি ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ ভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২২৪.
নিচের কোনটি প্রকৃত কোষের মধ্যে পড়ে? 
  1. ছত্রাক
  2. Mycoplasma
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ। 
১। আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

২। প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২২৫.
কক্ষ তাপমাত্রায় পদার্থ নিচের কোন অবস্থায় থাকে না?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) প্লাজমা
  3. গ) গ্যাসীয়
  4. ঘ) তরল
ব্যাখ্যা
যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, কোনো কোনো পদার্থ তরল এবং কোনো কোনো পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৯,২২৬.
কোনটি ভাইরাস জনিত রোগ?
  1. ক) সিফিলিস
  2. খ) ইবোলা
  3. গ) টাইফয়েড
  4. ঘ) আমাশয়
ব্যাখ্যা

• কয়েকটি ভাইরাস জনিত রোগঃ
- জন্ডিস,
- হার্পিস,
- গুটি বসন্ত,
- জল বসন্ত,
- হাম,
- মাম্পস,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- বার্ড ফ্লু,
- সোয়াইন ফ্লু,
- পোলিও,
- এইডস,
- জলাতঙ্ক,
- নিপাহ,
- ডেঙ্গু জ্বর,
- ইবোলা,
- জিকা জ্বর ইত্যাদি।
• কতিপয় ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগঃ
- যক্ষ্মা,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিংকাশি,
- ধনুষ্টংকার,
- নিউমোনিয়া,
- মেনিনজাইটিস,
- কলেরা,
- গনোরিয়া,
- সিফিলিস,
- টাইফয়েড,
- আমাশয়,
- প্লেগ,
- কুষ্ঠ ইত্যাদি।

৯,২২৭.
বাংলাদেশে তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক (frequency) প্রতি সেকেন্ডে ৫০ সাইকেল-এর তাৎপর্য কী?
  1. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার বন্ধ হয়
  2. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ একক দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে
  3. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়
  4. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার উঠানামা করে
ব্যাখ্যা
• যে প্রবাহ সময়ের সাথে সাথে দিক বা দশা পরিবর্তন করে তাকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ বলে(A.C.)। বাংলাদেশের তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৫০ সাইকেল বলতে- প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০ বার দিক বদলায়।

• তড়িৎ প্রবাহ:
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে।
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ।
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- প্রতি একক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে স্থানান্তর করতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ হলো ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব পার্থক্য।
- দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হবে না। ফলে কোনো আধান প্রবাহিত হবে না এবং কোনো কাজও সম্পন্ন হবে না।
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। যথা-

(ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ:
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়।
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়।

(খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ:
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে।
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ।
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী।
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো।
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়।
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়।
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৯,২২৮.
কোষের রাইবোজোম কোনটি উৎপন্ন করে?
  1. স্টার্চ
  2. প্রোটিন
  3. ফ্যাট
  4. লিপিড
ব্যাখ্যা
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম কিংবা নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এর গায়ে, মাইটোকন্ড্রিয়ার ভিতরে অথবা সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো অঙ্গানুগুলোকে বলা হয় রাইবোজোম।
- ১৯৫৫ সালে প্যালাডে প্রথম রাইবোজোম আবিষ্কার করেন।
- রাইবোজোম এর প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। এজন্য রাইবোজোমকে কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি নামে অভিহিত করা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৯,২২৯.
রঙ্গিন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সালফার
  2. খ) হিলিয়াম
  3. গ) জিঙ্ক
  4. ঘ) নিয়ন
ব্যাখ্যা
রঙ্গিন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন নামক নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

- নিয়ন একটি গ্যাসীয় মৌলিক পদার্থ। এটি একটি নিস্ক্রিয় গ্যাস।
- এর প্রতীক Ne এবং এর পারমাণবিক সংখ্যা ১০।
- নিয়ন পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৮ এবং পর্যায়-২ অবস্থিত।

নিয়ন গ্যাসের ব্যবহার-  
১. নিয়ন বাতি ও নিয়ন চিহ্ন প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়।
২. আলোকসজ্জার জন্য নিয়ন গ্যাস ইলেকট্রিক বাল্বে ব্যবহৃত হয়।
৩. সবুজ ঘরে উদ্ভিদ ও ফুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৪. টেলিভিশন সেট, বেতার চিত্র এবং শব্দ চলচ্চিত্র ইত্যাদি’তে নিয়ন ব্যবহার করা হয়।
৫. বৈদ্যুতিক যন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে নিয়ন ও হিলিয়াম এর মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।

সূত্র- ৬৬ পৃষ্ঠা, রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৩০.
নিচের কোনটিতে আদিকোষ থাকে?
  1. ক) নীলাভ সবুজ শৈবাল
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) অধিকাংশ জীবকোষে
  4. ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা

আদিকোষঃ 
এ ধরনের কোষে কোনাে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। এ জন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবােজোম থাকে।
ক্রোমােজোমে কেবল DNA থাকে।
নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

৯,২৩১.
কোন অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ ‘g‘ এর মান সর্বোচ্চ?
  1. মেরু অঞ্চলে
  2. বিষুব অঞ্চলে
  3. ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে
  4. পৃথিবীর কেন্দ্রে
ব্যাখ্যা
g-এর মান কোনো ধ্রব রাশি নয়। বস্তু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দূরত্ব পরিবর্তনের সাথে সাথে g-এর মান পরিবর্তন হয়।
পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির কারণেও পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে বস্তুর উপর g-এর মানের পরিবর্তন ঘটে। বিষুব রেখা বরাবর
g-এর মান সর্বনিম্ন এবং মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ। পরীক্ষা করে দেখা যায় বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান প্রায় ৯.৭৮ মি/সে
এবং মেরু এলাকায়, ৯.৮৩ মি/সে

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯,২৩২.
'Biology' শব্দের প্রবর্তক হলেন -
  1. অ্যারিস্টটল
  2. থিওফ্রাস্টাস
  3. ল্যামার্ক
  4. উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা

Biology বা জীববিজ্ঞান: 
- জীবজগতের বিজ্ঞানভিত্তিক পঠন-পাঠন, আলোচনা, গবেষণা এবং প্রয়োগই হলো Biology বা জীববিজ্ঞান।
- অন্যভাবে বলা যায় জীব তথা জীবনের বিজ্ঞানই হলো জীববিজ্ঞান।
- ফরাসী বিজ্ঞানী ল্যামার্ক (১৭৪৪-১৮২৯) জীবনের বিজ্ঞান বোঝাতে Biology শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
- দু'টি গ্রীক শব্দ Bios (অর্থ জীবন) এবং Logos (অর্থ জ্ঞান)-এর সমন্বয়ে ইংরেজি Biology শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- Biology শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে জীববিজ্ঞান।
- উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রকৃতি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২), তাই অ্যারিস্টটল (Aristotle)-কে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- কোন ধরনের জীব নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে দুটি প্রধান শাখায় ভাগ করা হয়।
যথা- ১। উদ্ভিদবিজ্ঞান বা উদ্ভিদবিদ্যা এবং
২। প্রাণিবিজ্ঞান বা প্রাণিবিদ্যা।

উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany):
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের উদ্ভিদ, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো উদ্ভিদবিজ্ঞান।
- উদ্ভিদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা ও গবেষণাই উদ্ভিদবিজ্ঞান।
- গ্রীক দার্শনিক থিওফ্রাস্টাসকে (খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০-২৮৫) উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology):
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের প্রাণী, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো প্রাণিবিজ্ঞান।
- প্রাণীর বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা ও গবেষণাই প্রাণিবিজ্ঞান।
- গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে (খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪-৩২২) প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

তথ্যসূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯,২৩৩.
H2SO4 এর আপেক্ষিক আনবিক ভর কত?
  1. 74
  2. 72
  3. 96
  4. 98
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক আণবিক ভর
- কোন অণুর ভর ও কার্বন-১২ পরমাণুর ভরের ১/১২ অংশের অণুপাত কে সেই অণুর আপেক্ষিক আণবিক ভর বলা হয় (যা ডাল্টন নামেও পরিচিত)।
- এটি এককবিহীন হয়। 

আণবিক ভর
- আণবিক ভর (M) হল কোন পদার্থের একটি অণুর ভর।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ পদার্থের আণবিক ভর একটি ভৌত ধর্ম। 
- একাধিক পদার্থের আপেক্ষিক আনবিক ভর সমান হতে পারে কিন্ত আনবিক ভর প্রত্যেক পদার্থের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র।

H2SO4 এর আপেক্ষিক আনবিক ভর : 

- সালফিউরিক এসিড(H2SO4) এর অণুতে 2 পরমাণু হাইড্রোজেন, পরমাণু  সালফার ও 4 পরমাণু অক্সিজেন রয়েছে। 
- হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 1, সালফার এর পারমাণবিক ভর 32 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16. 

সুতরাং, H2SO4 এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = (1×2 + 32×1+ 16 x 4) 
 = 98. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৩৪.
রংধনু কোন দিকে দেখা যায়? 
  1. মেঘের দিকে 
  2. সূর্যের দিকে 
  3. সূর্যের বিপরীত আকাশে 
  4. সরাসরি মাথার উপরে 
ব্যাখ্যা

রংধনু: 
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে। 
- শুধু তা-ই নয় যারা প্রিজমের অভাবে সাদা আলোকে তার রংগুলোতে ভাগ করে দেখতে পারেনি তারাও এই ব্যাপারটি রংধনুতেই ঘটতে দেখে। 
- বৃষ্টি হওয়ার পরপর যদি রোদ ওঠে তাহলে রংধনু দেখা যায়, কারণ তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়। এই আলোর রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (Band) তৈরি হয়। 
- রংধনু সব সময়ই সূর্যের বিপরীত আকাশে দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,২৩৫.
নিচের কোনটি বায়ু পরাগী ফুলের উদাহরণ?
  1. ধান 
  2. জবা 
  3. কদম 
  4. শিমুল 
ব্যাখ্যা

- বায়ু পরাগী ফুলের উদাহরণ হচ্ছে ধান। 

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৩৬.
ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যর শব্দের দ্বারা ইমেজিং হলো -
  1. ক) আলট্রাসনোগ্রাফি
  2. খ) সিটিস্ক্যান
  3. গ) ইসিজি
  4. ঘ) এক্স-রে
ব্যাখ্যা
আল্ট্রাসনোগ্রাফি
আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত একটি বিশেষ ধরণের প্রক্রিয়া যেখানে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। সাধারণত শরীরের অভ্যন্তরের নরম পেশীজনিত সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ড কাজে লাগিয়ে তা সনাক্ত করা হয়। এছাড়াও হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।

সুত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৩৭.
জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. ট্যাক্সোনমি
  2. সাইটোলজি
  3. হিস্টোলজি
  4. মরফোলজি
ব্যাখ্যা

- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। এতে সাধারণত নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়:

 • অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার
আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়।

• শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বা ট্যাক্সোনমি (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়।

•  শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়।

হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

• ভূণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়।

• কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়।

• বংশগতিবিদ্যা (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

• বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়।

• বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৯,২৩৮.
'অ্যাটম' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) অবিভাজ্য
  2. খ) খন্ডিত
  3. গ) বিভক্ত
  4. ঘ) বিস্ফোরক
ব্যাখ্যা
- খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ সনে গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস সর্ব প্রথম অভিমত প্রকাশ করেন যে প্রতিটি বস্তুই অতি ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন পদার্থ কণিকার সাহায্যে গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্র কণিকার নাম দিয়েছিলেন ‘অ্যাটম' । 
- গ্রীক শব্দ ‘অ্যাটমের’ অর্থ হচ্ছে অবিভাজ্য। ডেমোক্রিটাসের ধারণা অনুযায়ী বিশ্বের যাবতীয় বস্তু অ্যাটম নামক খুবই ক্ষুদ্র কণিকার সমন্বয়ে গঠিত এবং এই অ্যাটমকে আর কোনক্রমেই ভাগ করা সম্ভব নয়।

উৎস: রসায়ন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৩৯.
উদ্ভিদের গৌণ পুষ্টি উপাদান কয়টি?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৭
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ৯
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরঃ ৬ টি।
নতুন ব্যাখ্যাঃ
উদ্ভিদের ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রো উপাদান বা গৌণ পুষ্টি উপাদান ৬ টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl) ।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,২৪০.
সূর্যের আয়তন পৃথিবী অপেক্ষা বড়-
  1. ক) ১৩ মিলিয়ন গুণ
  2. খ) ১০ মিলিয়ন গুণ
  3. গ) ১.৩ মিলিয়ন গুণ
  4. ঘ) ১.০ মিলিয়ন গুণ
ব্যাখ্যা
- সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত মাঝারি আয়তনের নক্ষত্র সূর্য।
- পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১৩,০০০ কিলোমিটার এবং সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৪,০০০০০ কিলোমিটার।
- সূর্যের আয়তন পৃথিবী অপেক্ষা প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড়।
- পৃথিরী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- সূর্য তার নিজস্ব গ্যালাক্সির চতুর্দিকে বৃত্তাকার পথে ২০ কোটি বছরে একবার প্রদক্ষিণ করে এবং নিজ কক্ষপথে প্রায় ২৫ দিনে একবার আবর্তন করে।
- সূর্যের কেন্দ্রভাগে তাপমাত্রা ৮ মিলিয়ন থেকে ৪০ মিলিয়ন ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা প্রায় ৫,৭০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। যার দরুণ ভূ-পৃষ্ঠে উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে থাকে ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৪১.
একটি কাগজের পৃষ্ঠা দিয়েই কোন রশ্মির গতি রোধ করা সম্ভব?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মি মূলত একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
এটি পজিটিভ চার্জযুক্ত।
আলফা রশ্মি খুব বেশি আয়নিত করে শক্তি ক্ষয় করতে পারে বলে একটা কাগজের পৃষ্ঠা দিয়ে এটাকে থামানো সম্ভব।

অন্যদিকে
- বিটা রশ্মিকে থামাতে কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়াম ও
- গামা রশ্মির চার্জ না থাকাতে এটিকে থামাতে পুরু সিসার পাতের দরকার হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৯,২৪২.
চৌম্বকীয় কোয়ান্টাম সংখ্যা কী নির্দেশ করে?
  1. ইলেকট্রনের ঘূর্ণন
  2. ইলেকট্রনের শক্তিস্তর
  3. অরবিটালের ত্রিমাত্রিক অবস্থান বিন্যাস
  4. নিউক্লিয়াস থেকে ইলেকট্রনের দূরত্ব
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম সংখ্যা: 
- কোনো পরমাণুতে একটি ইলেকট্রনের অবস্থান অর্থাৎ ইলেকট্রন কক্ষপথের আকার-আকৃতি তথা নিউক্লিয়াস হতে কক্ষপথটির দূরত্ব, কক্ষপথটি বৃত্তাকার না উপবৃত্তাকার, কক্ষপথের ত্রিমাত্রিক দিক বিন্যাস, কক্ষপথে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন ইত্যাদি জানার জন্য যে চারটি রাশি ব্যবহার করা হয়, সেই রাশিগুলোকে কোয়ান্টাম সংখ্যা বলে।
- পরমাণুতে কোনো ইলেকট্রনকে সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করার জন্য যে চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার প্রয়োজন তা হলো- 
১. প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (Principal Quantum Number), 
২. সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা (Subsidiary Quantum Number), 
৩. চৌম্বকীয় কোয়ান্টাম সংখ্যা (Magnetic Quantum Number) এবং 
৪. ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যা (Spin Quantum Number)। 

- পরমাণুতে একটি ইলেকট্রন সম্পর্কে জানতে হলে চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার প্রয়োজন হয়। 
- পরমাণুতে প্রত্যেকটি কোয়ান্টাম সংখ্যা ইলেকট্রন সম্পর্কে যে তথ্য প্রদান করে তা নিম্নরূপ- 
১. প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (n) হতে ইলেকট্রন কক্ষপথের আকার এবং ইলেকট্রনটি নিউক্লিয়াস হতে কত দূরে অবস্থিত তা জানা যায়। 
২. সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা দ্বারা ইলেকট্রনটি যে অরবিটালে অবস্থান করে তার আকৃতি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে। 
৩. চৌম্বক কোয়ান্টাম সংখ্যা দ্বারা ইলেকট্রনটি যে অরবিটালে অবস্থান করে তার ত্রিমাত্রিক অবস্থান জানা যায়। 
৪. ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যা দ্বারা ইলেকট্রনের ঘূর্ণন সম্পর্কে জানা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৪৩.
ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটানোর একমাত্র মাধ্যম-
  1. ক) Aedes
  2. খ) Culex
  3. গ) Anopheles
  4. ঘ) Culiseta
ব্যাখ্যা
ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটানোর একমাত্র মাধ্যম স্ত্রী Anopheles মশকী। Aedes aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া এডিস এলবোপিকটাস মশার কামরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী
৯,২৪৪.
শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান কত?
  1. 5.5
  2. 7.0
  3. 7.5
  4. 8.5
ব্যাখ্যা
প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৪৫.
ট্রান্সফরমার মূলত কিসের উপর নির্ভর করে কাজ করে?
  1. ধাতু
  2. বায়ু মাধ্যম
  3. কয়েলের পাক
  4. আইসি (IC)
ব্যাখ্যা
• ট্রান্সফরমার (Transformer) হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা একটি এসি (AC) ভোল্টেজকে অন্য একটি এসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয় যাতে ভোল্টেজের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে । এটি দুইটি কুণ্ডলী (Primary ও Secondary Coil) এবং একটি লোহানির্মিত কোর নিয়ে তৈরি
-   এটি মূলত তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির উপর কাজ করে এবং এর কার্যক্ষমতা নির্ভর করে কয়েলের পাক সংখ্যা (Number of turns) এর উপর।
-   একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তনশীল তড়িৎপ্রবাহ থাকলে, অন্য কুণ্ডলীতে আবেশিত ভোল্টেজ তৈরি হয়।

Vs / Vp = Ns / Np

যেখানে:
Vp​ = প্রাইমারি ভোল্টেজ
Vs​ = সেকেন্ডারি ভোল্টেজ
Np​ = প্রাইমারি কয়েলের পাক
Ns​ = সেকেন্ডারি কয়েলের পাক
এই সূত্রের মাধ্যমে বোঝা যায়, ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ রূপান্তর সরাসরি কয়েলের পাক সংখ্যার অনুপাতের উপর নির্ভরশীল। 

অন্যদিকে, 
-  ট্রান্সফরমারে ধাতু থাকে কোর হিসেবে, তবে ধাতুর উপর কাজ নির্ভর করে না ।
-  ট্রান্সফরমার বায়ুমাদ্ধমের উপর নির্ভর করে নয়া।
-  ট্রান্সফরমারে আইসি থাকে না, এটি এনালগ যন্ত্র। 

তথ্যসূত্র: 
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
-  Britannica.
৯,২৪৬.
অ্যাভোগাড্রোর সংখ্যা কত?
  1. 6.023 × 1021
  2. 6.023 × 1022
  3. 6.023 × 1023
  4. 6.023 × 1024
ব্যাখ্যা
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা:
- অ্যাভোগাড্রোর সূত্র অনুসারে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের মোলার আয়তন সমান এবং একই তাপমাত্রা ও চাপে সমান আয়তনের সকল গ্যাসে সমান সংখ্যাক অনু থাকে। অর্থাৎ সকল গ্যাসের ১ মোলে সমান সংখ্যক অণু আছে।
- ২ গ্রাম হাইড্রোজেনে যত সংখ্যক অণু আছে, ৩২ গ্রাম অক্সিজেনের একই সংখ্যক অণু আছে।
- তেমনি ৪৪ গ্রাম কার্বন দাই অক্সাইডে যে সংখ্যক অণু আছে, ১৮ গ্রাম পানিতেও একই সংখ্যক অণু আছে। 
- অ্যাভোগাড্রোর এই সংখ্যা কঠিন বা তরলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
- এই সংখ্যাকে অ্যাভোগাড্রোর সংখ্যা বলে যাকে N দ্বারাপ্রকাশ করা হয়।
- N এর মান হলো 6.023 × 1023 .
- কোনো বস্তুতে এই সংখ্যক অণু থাকলে সেটি হবে ১ মোল।
- অর্থাৎ ১ মোল Na অর্থাৎ ২৩ গ্রাম সোডিয়ামে 6.023 × 1023 সংখ্যক অণু আছে।
- যেকোনো মৌলের একতি অণুর ভর বের করতে হলে আনবিক ভরকে অ্যাভোগাড্রোর সংখ্যা দ্বারা ভাগ করতে হবে।



উৎস: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৪৭.
অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয় কোনটি?
  1. লাইসিন
  2. ট্রিপেটোফ্যান
  3. গ্লাইসিন
  4. ভ্যালিন
ব্যাখ্যা
• অ্যামাইনো এসিড:
- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়।
- যেমন- লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন (Valine), লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন।
- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৪৮.
জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস কোনটি?
  1. ক) হার্পিস ভাইরাস
  2. খ) ভাক্সিনিয়া ভাইরাস
  3. গ) হেপাটাইসিস সি
  4. ঘ) রেবিস ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম রেবিস ভাইরাস
- জণ্ডিস রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম হেপাটাইসিস বি/সি।
- হার্পিস রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম হার্পিস ভাইরাস।
- গো-বসন্ত রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম ভাক্সিনিয়া ভাইরাস।

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৯,২৪৯.
নিচের কোনটি চিনি উৎপাদনকারী উদ্ভিদ?
  1. ক) কেনাফ
  2. খ) শন
  3. গ) ম্যাপল
  4. ঘ) পাট
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যে সমস্ত উদ্ভিদ থেকে চিনি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে চিনি উৎপাদনকারী ফসল বলে। চিনি উৎপাদনকারী ফসলগুলো তাদের দেহের বিভিন্ন অংশে সুক্রোজ জমা করে রাখে। যেমন- আখ, খেজুর, সুগার বীট, ম্যাপল, ভুট্টা, সরগম, সাগো প্রভৃতি উদ্ভিদ এদের কান্ডে চিনি জমা করে রাখে। এদের মধ্যে সাগো ব্যাতীত অন্যগুলোর ক্ষেত্রে কান্ডের কোষকলার ভিতর রস হিসেবে চিনি বিদ্যমান থাকে। সাগোর ক্ষেত্রে পূর্নবয়স্ক গাছে পিথের উপরিভাগে কান্ডাংশের মাঝে অসংখ্য ক্ষুদ্রাকৃতি গ্রানিউল আকারে দানাদার সুক্রোজ অবস্থান করে। সুগার বীট ও গাজরের মূলে সুক্রোজ থাকে। নারিকেল ও তাল গাছের ফুল থেকে সুক্রোজ পাওয়া যায়। এছাড়া কিছু কিছু উদ্ভিদ তাদের ফলে সুক্রোজ সঞ্চয় করে রাখে। উল্লিখিত উদ্ভিদগুলোর মধ্যে বিশ্বে চিনি উৎপাদনের বিবেচনায় আখ এবং সুগার বীট হচ্ছে অন্যতম।
পৃথিবীর মোট উৎপাদিত চিনির প্রায় শতকরা ৬৫ ভাগ আখ থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৫ ভাগ সুগার বীট থেকে উৎপন্ন হয়।
সূত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের বোর্ড বই।

৯,২৫০.
ট্রানজিস্টর জনপ্রিয় হওয়ার একটি প্রধান কারণ কী? 
  1. এটি ব্যাটারিতে চলে
  2. এটি শুধু কম্পিউটারেই ব্যবহার হয়
  3. এটি কেবল সেন্সর হিসেবে কাজ করে
  4. এটি অল্প খরচে তৈরি করা যায়
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ১৯৪৭ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র, ওজন খুবই কম। 
- এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। 
- এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিয়েছে এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি করা নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি হাতের নাগালে পাওয়ার ফলে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৫১.
কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ কয় ধরনের?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ ২ ধরনের। যথা- দেহকোষ এবং জননকোষ (যেযন- শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু)।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৫২.
RFID এর পূর্ণরূপ-
  1. Random Frequency Information
  2. Radio Frequency Information
  3. Radio Frequency Identification
  4. Random Frequency Identification
ব্যাখ্যা
• Radio Frequency Identification (RFID):
- RFID এর পূর্ণরূপ Radio Frequency Identification.
- রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা RFID একটি বেতার যোগাযোগ পদ্ধতি।
- এটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ ব্যবহার করে বস্তু, মানুষ বা প্রাণীর সাথে যুক্ত ট্যাগ শনাক্ত ও ট্র্যাক করে।
- এই ট্যাগগুলিকে RFID ট্যাগ বলা হয়।
- RFID ট্যাগে ডিজিটালি সংরক্ষিত তথ্য থাকে, যা RFID রিডার দ্বারা পড়া যায়।
- বারকোড রিডারের মতো সরাসরি দৃষ্টিসীমায় না থাকলেও RFID রিডার কয়েক মিটার দূর থেকে ট্যাগ পড়তে পারে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯,২৫৩.
কোন রক্ত কণিকা অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ?
  1. অণুচক্রিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. ফাইব্রিনোজেন 
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- রক্ত হৃদপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি ও কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ। 
- সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে (Bone marrow) রক্ত কণিকার জন্ম। 

রক্তের উপাদান (Blood Corpuscles): 
- রক্ত এক প্রকার লাল তরল যোজক কলা। 
- ইহা (ক) রক্তরস ও (খ) রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত। 

(ক) রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- রক্তের শতকরা ৫৫ ভাগই রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি, বাকি অংশে কিছু আমিষ, জৈব যৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। এর মধ্যে যে পদার্থগুলো থাকে তা হলো- আমিষ (অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন এবং ফাইব্রিনোজেন), গাড়ুকোজ, চর্বি কণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, অ্যান্টিবডি এবং বর্জ্য পদার্থ (কার্বন ডাইঅক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদি)। 
- এছাড়া সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট ও অ্যামাইনো অ্যাসিড সামান্য পরিমাণে থাকে। 

(খ) রক্ত কণিকা: 
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়। 
যথা- ১। লোহিত রক্ত কণিকা, ২। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং ৩। অণুচক্রিকা। 

লোহিত রক্ত কণিকা (R.B.C): 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- লোহিত রক্ত কণিকা শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দেহে এর সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ কম। তুলনামূলকভাবে শিশুদের দেহে এর পরিমাণ বেশি থাকে। 
- জীবনের প্রতি মুহুর্তে লোহিত রক্ত কণিকা ধ্বংস হয়, আবার সমপরিমাণে উপন্ন হয়। 
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। লোহিত রক্ত কণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। রক্তে উপযুক্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্ত স্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা (Anemia) দেখা দেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৫৪.
'কপিসিং' করা হয় কোন বৃক্ষে?
  1. ক) জারুল
  2. খ) গরান
  3. গ) গর্জন
  4. ঘ) শাল
ব্যাখ্যা
- জারুল একটি বিশাল পত্রঝরা বৃক্ষ।
-  এর বাকল হালকা ছাই রঙের অথবা ফ্যাকাশে বাদামি রঙের। 
- পাতা সরল, শীত মওসুমে জারুলের পাতা লালচে অথবা তামাটে বর্ণ ধারণ করে এবং ক্রমান্বয়ে ঝরে যেতে থাকে।
- সাধারণত বীজের মাধ্যমে জারুল গাছের বংশবিস্তার করা হয়। 
- জারুল গাছের কপিসিং ক্ষমতা খুব ভালো।

সূত্রঃ বনায়ন, অর্থনৈতিক বৃক্ষ পরিচিতি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯,২৫৫.
সর্বপ্রথম ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন কে?
  1. ব্রাউন
  2. বেটসন
  3. বার্নেস
  4. আরহেনিয়াস
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
বার্নেস সর্বপ্রথম ১৮৯৮ সালে ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ- 

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়। 
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু। 
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো। 
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে।
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৫৬.
প্লাজমা অবস্থার জন্য প্রয়োজন কী? 
  1. সাধারণ তাপমাত্রা 
  2. খুব নিম্ন তাপমাত্রা 
  3. প্রায় শূন্য তাপমাত্রা 
  4. অতি উচ্চ তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। 
- তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়, তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রেন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৫৭.
বুধ গ্রহে প্রাণির অস্তিত্ব নেই কারণ- 
  1. পর্যাপ্ত বায়ুমণ্ডল ও পানি থাকার ফলে 
  2. সূর্য থেকে দূরত্ব অনেক বেশি
  3. তাপমাত্রা অত্যন্ত কম
  4. মাধ্যাকর্ষণ কম, তাই বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না
ব্যাখ্যা

বুধ (Mercury): 
- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ। 
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার এবং এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
সুতরাং, বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না। এখানে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি, সুতরাং প্রাণির অস্তিত্ব নেই
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।
- ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা এবং এবড়ো-থেবড়ো। এখানে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি আছে।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,২৫৮.
ঝালাই প্রক্রিয়ায় অক্সিডেশন প্রতিরোধ করতে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. নিয়ন গ্যাস
  2. আর্গন গ্যাস
  3. ক্রিপ্টন গ্যাস
  4. রেডন গ্যাস
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় আর্গন গ্যাসের ব্যবহার: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়।
- সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়
- আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
- তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৫৯.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ক) কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার না থাকলেও দৃঢ়তা এবং আয়তন আছে
  2. খ) তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকার এবং দৃঢ়তা না থাকলেও আয়তন আছে
  3. গ) গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার এবং দৃঢ়তা থাকলেও আয়তন নেই
  4. ঘ) তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকার না থাকলেও দৃঢ়তা এবং আয়তন আছে
ব্যাখ্যা
অবস্থাভেদে পদার্থ তিন প্রকার হয়৷ যথা- কঠিন, তরল ও বায়বীয়৷
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার, আয়তন ও দৃঢ়তা আছে৷
তরল পদার্থে নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার এবং দৃঢ়তা নেই৷
গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার, আয়তন এবং দৃঢ়তা কোনোটিই নেই।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
৯,২৬০.
আলকেমিস্টদের মধ্যে সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের চর্চা কে শুরু করেন? 
  1. জন ডাল্টন 
  2. রবার্ট বয়েল 
  3. জাবির-ইবনে-হাইয়ান 
  4. অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে 
ব্যাখ্যা

Chemistry শব্দের উৎপত্তি: 
- মধ্যযুগে আরবের মুসলিম দার্শনিকগণ বিভিন্ন পদার্থ মিশিয়ে সোনার মতো দেখতে এমন অনেক পদার্থ তৈরি করেছিলেন যেগুলো ছিল মূলত রসায়নের ইতিহাসে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে রসায়নের চর্চা বা রসায়নের গবেষণা। 
- মধ্যযুগীয় আরবের রসায়ন চর্চাকে আলকেমি (Alchemy) বলা হতো আর গবেষকদের বলা হতো আলকেমিস্ট (Alchemist)। 
- আলকেমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ আল-কিমিয়া থেকে। আল-কিমিয়া শব্দটি আবার এসেছে কিমি (Chemi বা Kimi) শব্দ থেকে। এই Chemi শব্দ থেকেই Chemistry শব্দের উৎপত্তি, যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো রসায়ন। 

- আলকেমিস্ট জাবির-ইবনে-হাইয়ান সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের চর্চা করেন, তাই তাঁকে অনেক সময় রসায়নের জনক বলা হয়ে থাকে।
- জাবির-ইবনে-হাইয়ান বিশ্বাস করতেন সকল পদার্থ মাটি, পানি, আগুন আর বাতাস দিয়ে তৈরি। তিনি এসব নিয়ে গবেষণা করলেও রসায়নের প্রকৃত রহস্যগুলো তার কাছে পরিষ্কার ছিল না। 
- তবে রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবনে রসায়ন চর্চা প্রথম শুরু করেন অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, স্যার ফ্রান্সিস বেকন এবং জন ডাল্টনসহ অন্যান্য বিজ্ঞানী। 
- অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়েকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,২৬১.
দুর্বল নিউক্লীয় বলের কারণে কোন ধরনের কণা বা রশ্মির নির্গমন ঘটে? 
  1. ফোটন কণা 
  2. আলফা (α) রশ্মি 
  3. গামা (γ) রশ্মি 
  4. বিটা (β) রশ্মি 
ব্যাখ্যা

দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force): 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিয়ন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বলের মতো এত দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোনো দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই বলটা খুবই অল্প দূরত্বে (10-18 m) কাজ করে। 
- তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে যে বিটা (β) রশ্মি বা ইলেকট্রন বের হয় সেটার কারণ এই দুর্বল নিউক্লীয় বল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,২৬২.
ব্যাটারিতে সাধারণত কোন অংশটি থাকে?
  1. অ্যানোড
  2. ক্যাথোড
  3. ইলেকট্রোলাইট
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• ব্যাটারি:
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। 
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। 
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। 
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যেমন- একটি অ্যানোড, একটি ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট। 
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়। 
- আমাদের বাসায় যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋনাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়। 
- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫V।
- সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০V। 
- আবার ২২০V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
৯,২৬৩.
নিউটন/বর্গমিটার দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়?
  1. শক্তি
  2. চাপ
  3. ভরবেগ
  4. বল
ব্যাখ্যা

• নিউটন প্রতি বর্গমিটার (N/m2) হলো চাপের একক। চাপ হলো কোনো পৃষ্ঠের প্রতি একক ক্ষেত্রফলে লেগে থাকা বলের পরিমাণ। অর্থাৎ, যদি একটি পৃষ্ঠে কোনো বল প্রয়োগ করা হয়, সেই বল যতটা বেশি এবং পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল যত ছোট, চাপ তত বেশি হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি একটি বড় বই টেবিলের ওপর রাখেন, চাপ কম থাকে, কিন্তু যদি সেই বইয়ের কোণ দিয়ে রাখেন, চাপ অনেক বেশি হয়। সুতরাং, N/m2 বা প্যাসকেল (Pa) মূলত চাপের পরিমাপের একক, বল, শক্তি বা ভরবেগের জন্য ব্যবহার করা হয় না। সঠিক উত্তর হলো খ) চাপ।
 
• চাপ (Pressure):
- চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলের প্রতি প্রয়োগ করা বলের পরিমাণ।  
- এটি বলের অভ্যন্তরীণ বিক্রিয়া বা বাহ্যিক প্রভাবকে বোঝায় যা কোনো পৃষ্ঠের উপর লেগে থাকে।  
- SI এককে চাপকে নিউটন/বর্গমিটার (N/m2) বা প্যাসকেল (Pa) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।  
- চাপ গণনার সূত্র: P = F / A, যেখানে F = বল, A = ক্ষেত্রফল।  
- উদাহরণ: বাতাসের চাপ, জলস্তরের চাপ, হাইড্রোলিক সিস্টেমের চাপ ইত্যাদি।  

- অপশন আলোচনা: 
- নিউটন (N) হলো বলের একক, শক্তি নয়।  
- শক্তি (Energy) জুল (J) দ্বারা পরিমাপ করা হয়, N/m2 দ্বারা নয়।  
- ভরবেগ (Momentum) কেজি·মিটার/সেকেন্ড (kg·m/s) দ্বারা পরিমাপ হয়।  
- তাই N/m2 শুধু চাপের জন্য প্রযোজ্য।  

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

৯,২৬৪.
একটি ড্রেসিং টেবিল ও একটি টুলকে একই ত্বরণে সরাতে গেলে দেখা গেল ড্রেসিং টেবিলকে তুলনামূলক বেশি জোরে ধাক্কা দিতে হচ্ছে। এই ঘটনার ব্যাখ্যা কোন সূত্রের সাহায্যে করা যায়?
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র
  3. নিউটনের তৃতীয় সূত্র
  4. মহাকর্ষ সূত্র
ব্যাখ্যা

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র — একই ত্বরণ সৃষ্টি করতে ভর বেশি হলে বেশি বল প্রয়োজন হয়; তাই এ ঘটনাটি নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।

 
• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- কোনো বস্তুর উপর প্রয়োগকৃত বল তার ভর ও ত্বরণের গুণফলের সমান।
- গাণিতিকভাবে, F = ma.
- নির্দিষ্ট ত্বরণ সৃষ্টি করতে ভর যত বেশি হবে, প্রয়োজনীয় বলও তত বেশি হবে।
 
• ঘটনার বিশ্লেষণ:
- ড্রেসিং টেবিলের ভর টুলের তুলনায় বেশি।
- একই ত্বরণে সরাতে হলে ড্রেসিং টেবিলের জন্য বেশি বল প্রয়োগ করতে হয়।
- তাই ড্রেসিং টেবিলকে তুলনামূলক বেশি জোরে ধাক্কা দিতে হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- নিউটনের প্রথম সূত্র: বাহ্যিক বল না থাকলে বস্তু স্থির বা সমবেগে চলমান থাকে।
- নিউটনের তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।
- মহাকর্ষ সূত্র: দুটি বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল নির্ণয়ের সূত্র।
 
উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

৯,২৬৫.
What is called 'Bee Farming'?
  1. ক) Aviculture
  2. খ) Sericulture
  3. গ) Apiculture
  4. ঘ) Pisciculture
ব্যাখ্যা
- বানিজ্যিকভাবে মৌমাছি চাষকে এপিকালচার বলে

অন্যদিকে,
- বানিজ্যিকভাবে পাখি পালন বিদ্যাকে - এভিকালচার বলে।
- বানিজ্যিকভাবে রেশম চাষকে - সেরিকালচার বলে।
- বানিজ্যিকভাবে মৎস চাষকে - পিসিকালচার বলে।
- বানিজ্যিকভাবে চিংড়ি চাষকে -প্রণকালচার  বলে।

উৎস: জাতীয় কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৯,২৬৬.
মানুষের মৃত্যু হয় যদি রক্ত সঞ্চালন—
  1. ক) ৩ মিনিট বন্ধ থাকে
  2. খ) ৪ মিনিট বন্ধ থাকে
  3. গ) ৫ মিনিট বন্ধ থাকে
  4. ঘ) ৬ মিনিট বন্ধ থাকে
ব্যাখ্যা
রক্ত সঞ্চালন:
- মানবদেহে রক্ত সংবহনতন্ত্রের প্রধান অংশগুলো হলো হৃদপিন্ড এবং রক্তনালী।
- ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা এ তিন ধরনের রক্তবাহী নালীগুলো প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে হৃদপিন্ডের সাথে যুক্ত থেকে রক্ত সঞ্চালনে অংশ নেয়। 
- মানুষের হৃদপিন্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত পরিবহন করে।
- হৃদপিন্ডের স্বতঃস্ফুর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (Systole) এবং স্বতঃস্ফুর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (Diastole) বলে। 
- হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিওপালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৬৭.
পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় জীব কোনটি? 
  1. সিংহ
  2. তিমি
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. হাতি
ব্যাখ্যা
পরিবেশের উপাদানের আন্তঃসম্পর্ক এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা: 
- পরিবেশের সকল অজীব বা জড় উপাদানের সাথে জীব উপাদানসমূহের সবসময়ই পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান চলছে। এমনকি জীব পরিবেশে যে উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে, তাদের মধ্যেও চলছে এই ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া। - বেঁচে থাকার জন্য এরা একে অপরের উপর নির্ভরশীল। 
- কোন অঞ্চলের জীব উপাদান ও জড় উপাদানের নির্ভরশীলতার সম্পর্কের নাম বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম। 
- পৃথিবীতে যত প্রকার জীব আছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো তিমি, আর ক্ষুদ্রতম হলো ব্যাকটেরিয়া। 
- বড় থেকে ক্ষুদ্র সকল জীবই কিন্তু পরস্পর পরস্পরের সাথে বিভিন্নভাবে সম্পর্কিত। 
- পরিবেশের উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে সম্পর্ক আছে। এদের সাথে আবার বায়ু, মাটি ও পানির যে সম্পর্ক তা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলছে। 

- জীব জড়ের উপর নির্ভরশীল, আবার একটি জীব অপর একটি জীবের উপর নির্ভরশীল। 
- পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝা যায় যেমন- উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য সৌরশক্তিকে কাজে লাগায়, যা সালোকসংশ্লেষণ নামে পরিচিত। সালোকসংশ্লেষণ (উদ্ভিদ) এবং শ্বসন (উদ্ভিদ এবং প্রাণী) পদ্ধতি পরিবেশের বিভিন্ন অজীব ও জীবের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রধান দুটি উপায়। 
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানি ব্যবহার করে গুকোজ এবং অক্সিজেন উৎপন্ন করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অক্সিজেন উদ্ভিদ এবং প্রাণীর শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদনে কাজে লাগে। প্রাণীর শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। এভাবেই সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবমণ্ডলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সষ্টি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯,২৬৮.
প্রবল জোয়ারের কারণ, এ সময়-
  1. ক) চন্দ্র পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকে
  2. খ) পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে
  3. গ) সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী এক সরলরেখায় থাকে
  4. ঘ) সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণ করে থাকে
ব্যাখ্যা
জোয়ার: চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা (Ebb or low Tide) বলে।
প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার ভাঁটা সংঘঠিত হয়। অর্থাৎ সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু'বার জোয়ার ও দু'বার ভাঁটা হয়।

জোয়ার ভাঁটার কারণ: জোয়ার ভাঁটা সম্পর্কে প্রাচীনকালে মানুষ নানা রকম অবাস্তব কল্পনা করত। কিন্তু বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে জোয়ার ভাঁটা হয়। জোয়ার ভাঁটা সংঘটনের কারণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১) মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব
২) পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি

প্রবল জোয়ার: সূর্য, চন্দ্র, পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় থাকে তখন পৃথিবীর উপর আকর্ষন বল অনেক বেশি হয়। তাই জোয়ারের পানি অনেক ফুলে উঠে।

উৎস: 
উচ্চ মাধ্যমিকের ভূগোল বই, মাধ্যমিকের বিজ্ঞান বই - উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৬৯.
প্রাচীন জীবাস্মের বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) কার্বন - ১২ আইসোটোপ
  2. খ) কার্বন - ১৩ আইসোটোপ
  3. গ) কার্বন - ১৪ আইসোটোপ
  4. ঘ) কার্বন - ১২ স্কেল
ব্যাখ্যা

প্রাচীন জীবাস্মের বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় কার্বন - ১৪ আইসোটোপ।
- আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমানে কার্বন আছে এবং তার ভিতরে নির্দিস্ট পরিমানে কার্বন - ১৪ আছে।
- কোন প্রাণী মারা গেলে নতুন করে কার্বন - ১৪ আইসোটোপ প্রবেশ করতে পারে না। প্রাণী মারা যাওয়ার পর কার্বন - ১৪ আইসোটোপ কমতে থাকে।
[তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৩৬২।]

৯,২৭০.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) বিজ্ঞানী মার্কনী
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৭১.
নবায়নযোগ্য শক্তির একটি বৈশিষ্ট্য কী? 
  1. এটি মজুদ করা যায় না
  2. এটি পরিবেশবান্ধব
  3. এটি কেবল খনিজ থেকে পাওয়া যায়
  4. এটি পুনঃব্যবহারযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

অন্য অপশনগুলো ভুল, কারণ: 
ক) নবায়নযোগ্য শক্তি অনেক সময় মজুদ করা যায় (যথাযথ- প্রযুক্তির মাধ্যমে)। 
গ) এটি খনিজ নয়, প্রাকৃতিক উৎস (যেমন- সূর্য, বায়ু) থেকে আসে। 
ঘ) এটি পুনঃব্যবহারযোগ্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৭২.
নিচের কোনটির একক অন্য তিনটির একক হতে ভিন্ন?
  1. ভরবেগের পরিবর্তনের হার
  2. ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফল
  3. ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ
  4. ঘনত্ব × আয়তন × বেগ
ব্যাখ্যা
• ভরবেগের পরিবর্তনের হার:
- ভরবেগের পরিবর্তনের হার = কোনো বস্তুর উপর প্রযুক্ত বলের সমান
- ভরবেগের পরিবর্তনের হার ও বলের একক একই হবে।
- ভরবেগের পরিবর্তনের হারের একক নিউটন (N).

• ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফল:
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর দৈর্ঘ্য পীড়ন ও দৈর্ঘ্য বিকৃতির অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা । এই ধ্রুব সংখ্যাকে বস্তুর উপাদানের বা ইয়ং গুণাঙ্ক বলে। 
- ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংকের একক Nm−2
- ক্ষেত্রফলের একক m2
-  ইয়ং এর স্থিতিস্থাপক গুণাংক × ক্ষেত্রফলের একক = Nm−2 × m= N (নিউটন)।

• ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ = প্রযুক্ত বল যেহেতু, F = mg.
- বলের এককই ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণের একক।
- ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণের একক N (নিউটন)।

• ঘনত্ব × আয়তন × বেগ:
- ঘনত্বের একক kgm−3
- আয়তনের একক m3
- বেগের একক ms−1
- ঘনত্ব × আয়তন × বেগের একক = kgms−1

• সুতরাং, ঘনত্ব × আয়তন × বেগ - এর একক অন্য তিনটির একক হতে ভিন্ন।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান - ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন , মুহম্মদ আজিজ হাসান , ড. রানা চৌধুরী।
৯,২৭৩.
মানবদেহের সর্বাধিক বৃহৎ গ্রন্থির নাম কী?
  1. থাইরয়েড
  2. ত্বক
  3. যকৃত
  4. নিউরন
ব্যাখ্যা

• মানবদেহের সর্বাধিক বৃহৎ গ্রন্থি হলো যকৃত। যকৃত শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা বিভিন্ন ধরনের রসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এটি রক্তের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, প্রোটিন উৎপাদন করে, এবং পাচনতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পিত্ত প্রস্তুত করে। যকৃত শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং শক্তি সঞ্চয় ও ব্যবহার নিশ্চিত করে। অন্যান্য বিকল্প যেমন থাইরয়েড একটি ছোট গ্রন্থি, ত্বক একটি অঙ্গ, আর নিউরন স্নায়ুতন্ত্রের কোষ, তাই এগুলো বৃহৎ গ্রন্থি হিসেবে বিবেচিত হয় না।

- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) যকৃত।

• যকৃত:
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ।
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে।
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে।
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট।
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে।
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে।
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে।
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে।
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৭৪.
বিবর্তনবিদ্যার আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. ক) প্রাণের বিকাশ
  2. খ) জীবের বিবর্তন
  3. গ) কালের বিবর্তন
  4. ঘ) জীবের ক্রমবিকাশ
ব্যাখ্যা
বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবংক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলােচনা এ শাখার বিষয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৯,২৭৫.
ডায়াস্টোলিক চাপ বলতে কী বুঝায়?
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারন
  3. ফুসফুসের সংকোচন
  4. ফুসফুসের প্রসারন
ব্যাখ্যা
• হৃৎপিণ্ড (Heart):
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত।
- হৃৎপিণ্ড ক্রমাগত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত করে।
- হৃৎপিণ্ড একটি পাম্পের মতো কাজ করে, যা নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকোচন এবং প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হলে একে সিস্টোল (systole) এবং প্রসারিত হলে একে ডায়াস্টোল (diastole) বলে।
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন নিলয় ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৭৬.
রক্তরসে বিদ্যমান জৈব রেচন পদার্থ কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) ইউরিয়া
  3. গ) অ্যালবুমিন
  4. ঘ) অ্যান্টিটক্সিন
ব্যাখ্যা
- রক্তরসে বিদ্যমান জৈব রেচন পদার্থ হচ্ছে- ইউরিয়া। 

রক্তরস
:
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে।
- রক্তরসে প্রায় ১০% জৈব ও অজৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

জৈব পদার্থ:
• খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি)।
• রেচন পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি)। 
• প্রোটিন (ফিব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন ইত্যাদি)।
• প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি (অ্যান্টিটক্সিন)।
এছাড়াও রয়েছে হরমোন, কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন ইত্যাদি।

অজৈব পদার্থ
- সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন, এবং গ্যাসীয় পদার্থ O2, CO2, N2 ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৭৭.
লেড (Pb) আহরণের জন্য কোন আকরিক ব্যবহৃত হয়? 
  1. চুনাপাথর 
  2. ক্যালামাইন 
  3. গ্যালেনা 
  4. কপার পাইরাইট 
ব্যাখ্যা

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে, এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 
ধাতু ⇒ আকরিক: 
• মার্কারি ⇒ সিন্নাবার (HgS), 
লেড ⇒ গ্যালেনা (PbS)
• ক্যালসিয়াম ⇒ চুনাপাথর (CaCO3), 
• অ্যালুমিনিয়াম ⇒ বক্সাইট (Al2O3.2H2O), 
• জিংক ⇒ জিংক ব্লেন্ড (ZnS) ও ক্যালামাইন (ZnCO3), 
• কপার ⇒ কপার পাইরাইট (CuFeS2) ও চালকোসাইট (Cu2S) এবং 
• আয়রন ⇒ ম্যাগনেটাইট (Fe3O4), হেমাটাইট (Fe2O3) ও লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O) । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৭৮.
গ্রীণ হাউজে গাছ লাগানো হয় কেন?
  1. ক) উষ্ণতা থেকে রক্ষার জন্য
  2. খ) ঝড় – বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য
  3. গ) আলো থেকে রক্ষার জন্য
  4. ঘ) অত্যধিক ঠান্ডা থেকে রক্ষার জন্য
ব্যাখ্যা
• গ্রিন হাউজ:
- শীতপ্রধান অঞ্চলের অত্যধিক ঠান্ডা থেকে রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তাপ ধরে রাখার জন্য কাঁচ নির্মিত ঘরের মধ্যে গাছ লাগানো হয়।
- এই কাঁচ নির্মিত ঘরকে গ্রীন হাউজ বলা হয়।
- গাছকে উষ্ণতা প্রদান করার জন্য গ্রিন হাউজে গাছ লাগানো হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,২৭৯.
পানিতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করতে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. ক) কার্বন মনোক্সাইড 
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড 
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা
ক্লোরিন একটি অধাতু এবং হ্যালোজেন গ্রুপভুক্ত মৌল। 
পান করা পানির সাথে ক্লোরিন মিশানো হয় কারণ ক্লোরিন পানিতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে। 
৯,২৮০.
জগদীশচন্দ্র বসু প্রথম কোন ক্ষেত্রে গবেষণা করেছিলেন এবং সফল হন?
  1. কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ
  2. নিউট্রন আবিষ্কার
  3. দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে সংকেত প্রেরণ
  4. প্ল্যানেটের কক্ষপথ নির্ধারণ
ব্যাখ্যা

জগদীশচন্দ্র বসু: 
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫ মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 
- উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয় বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'। 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৮১.
নিচের কোনটি ধাতুর ধর্ম নয়?
  1. ক) উচ্চ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী
  2. খ) এদের দ্যুতি আছে
  3. গ) এরা ঘাতসহ নয়
  4. ঘ) এরা নমনীয় প্রকৃতির
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম (Metalic Properties) :
পর্যায় সারণিতে বিভিন্ন সারিতে এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে অবস্থিত মৌলসমূহকে ধাতু, অধাতু এবং অপধাতুতে ভাগ করা হয়েছে।
মৌলের সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের উল্লিখিত নামে বিভক্ত করা হয়েছে।

ধাতুর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন—
- এরা উচ্চ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী,
- এদের ধাতব দ্যুতি আছে এবং
- এরা নমনীয় প্রকৃতির।
- ঘাতসহ।
- এদের ছুরি বা চাকু দিয়ে সহজেই কাটা যায়। অর্থাৎ এরা নরম প্রকৃতির।

ধাতুর এসব বৈশিষ্ট্যই হলো ধাতব ধর্ম। সাধারণত যেসব মৌলের তড়িৎ ধনাত্মকতা যত বেশি হয় এবং আয়নিকরণ শক্তি যত কম হয় ঐ সব মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি হয়। পর্যায় সারণিতে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যেহেতু বাম থেকে যতই ডানে যাওয়া যায় ততই পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মৌলের আয়নিকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তড়িৎ ধনাত্মকা হ্রাস পায় তাই মৌলের ধাতু ধর্মও হ্রাস পায়। তাই পর্যায় সারণির বামে 1 এবং 2 শ্রেণির মৌলসমূহের ধাতু ধর্ম প্রবল অথচ ডান পার্শ্বের 17 শ্রেণির মৌলের ধাতব ধর্ম নেই বললেই চলে। পর্যায় সারণির মাঝামাঝি পর্যায়ে অবস্থিত জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক, টেলুরিয়াম প্রভৃতি উপধাতু ।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৮২.
প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেন শতকরা কী পরিমাণে থাকে?
  1. ৪০ - ৫০%
  2. ৬০ - ৭০%
  3. ৮০ -৯০%
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক গ্যাস:
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার আছে।
- বিভিন্ন শিল্প কারখানায় এর ব্যবহার রয়েছে। এর ব্যবহার প্রধানত জ্বালানি হিসেবে।
- বাংলাদেশে রান্নার কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এছাড়াও ব্যবহার রয়েছে অনেক সার কারখানায়।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ।
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে এ গ্যাস উত্তোলন করা হয়।
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ।
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়

• প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলো হলো:

- মিথেন - ৮০% - ৯০%,
- ইথেন - ১৩%,
- প্রোপেন - ৩%1
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে।
- আমাদের বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫% - ৯৯%।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা
৯,২৮৩.
জাইগোট কী? 
  1. দেহকোষ 
  2. ব্যাকটেরিয়ার কোষ 
  3. একটি কোষের বিভাজন 
  4. নতুন জীবের প্রথম কোষ 
ব্যাখ্যা

কোষ: 
- জীবকোষ হচ্ছে জীবদেহের একক। 
- বিজ্ঞানী লোয়ি (Loewy) এবং সিকেভিজ (Siekevitz) 1969 সালে বৈষম্য ভেদ্য (selectively permeable) পর্দা দিয়ে আবৃত এবং জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক যা অন্য সজীব মাধ্যম ছাড়াই নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে, এমন সত্তাকে কোষ বলেছেন। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য যেমন আছে, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য। 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের। 
যথা- ১। আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ এবং ২। প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ। 

প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ: 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত। 
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। 
- ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়। 
- কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই ধরনের। 
যথা- 
ক) দেহকোষ: 
- বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে। 
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে। 
- বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়। 

খ) জননকোষ: 
- যৌন প্রজনন ও জনুঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। 
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে। 
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,২৮৪.
অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে - 
  1. খুব সরু এসবেস্টোস ফাইবার নল
  2. খুব সূক্ষ্ম সুপরিবাহী তামার তন্তু নল
  3. সূক্ষ্ম প্লাস্টিক নল
  4. খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৯,২৮৫.
নিচের কোন উদ্ভিদটির মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়?
  1. হলুদ 
  2. আদা 
  3. মিষ্টি আলু
  4. পাথরকুচি
ব্যাখ্যা

- মিষ্টি আলু (Sweet potato) হল একটি মূল জাতীয় উদ্ভিদ, যার মূল থেকেই নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়। 

দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 

- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন। 

স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৮৬.
উদ্ভিদ কোষে খাদ্যের সঞ্চিত রূপ কোনটি?
  1. প্রোটিন
  2. শ্বেতসার
  3. লিপিড
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য: 
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে। 
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না। 
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার। 
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে। 
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে। 

অন্যদিকে, 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন। 

তথ্যসূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৮৭.
এক্স রে টিউবে কিসের ক্যাথোড ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) টিন
  2. খ) এলুমিনিয়াম
  3. গ) টাংস্টেন
  4. ঘ) কপার
ব্যাখ্যা
টাংস্টেনের ক্যাথোডে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং তা থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৯,২৮৮.
কোনটি অকেলাসিত পদার্থ? 
  1. মাইকা
  2. তামা
  3. কাচ
  4. কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
কেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ও নিয়মিত ভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাকে কেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- কেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কোয়ার্টজ, মাইকা, চিনি, তামা, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি। 

কেলাসিত পদার্থর বৈশিষ্ট্য: 
১. কেলাসিত পদার্থতে অণু বা পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সুসজ্জিত থাকে। 
২. কেলাসিত পদার্থগুলো সমতল তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে। 
৩. কেলাসিত পদার্থ হলো অসমসত্ত্বক। কেলাসিত পদার্থের ভৌত ধর্ম অর্থাৎ‍ তাপীয় পরিবাহিতা, তড়িৎ পরিবাহিতা, সঙ্কোচনশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন। 
৪. কেলাসিত পদার্থগুলো সুষম রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত। 
৫. কেলাসিত পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ তরলে রূপান্তরিত হয়। 

অকেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো অনির্দিষ্ট ও অনিয়মিত ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অকেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- অকেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কাচ, রবার, সালফার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৮৯.
দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করার কারণ -
  1. ক) এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
  2. খ) এতে কমে গিয়েও প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ বজায় থাকে
  3. গ) অধিক বিদ্যুৎ প্রবাহ পাওয়া যায়
  4. ঘ) প্রয়োজনমতো ভোল্টেজ কমিয়ে ব্যবহার করা যায়
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক তারের রোধ থাকে। যার ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সবটুকু না গিয়ে কিছু অংশ অপচয় হয়। ফলে দুরত্ব যত বেশি হয় রোধ তত বেশি হয়। এজন্য দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৯,২৯০.
নিচের কোনটি মসবর্গের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) পেঁপে
  2. খ) নারিকেল
  3. গ) Riccia
  4. ঘ) Fungi
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা বা মসবর্গঃ এ বিভাগে কতক উদ্ভিদকে নরম কান্ড ও পাতার মত অংশে বিভক্ত করা যায় এবং কতক উদ্ভিদ থ্যালোয়েড জাতীয়। উদাহরণঃ Riccia, Marchantia ইত্যাদি।
৯,২৯১.
নিচের কোনটি রেক্টিফায়ার হিসাবে কাজ করে?
  1. ক) p-n junction
  2. খ) p-n-p junction
  3. গ) n-p-n junction
  4. ঘ) AND gate
ব্যাখ্যা
- রেক্টিফায়ার এর কাজ হলো  AC কে DC তে পরিবর্তন করা ।

- রেক্টিফায়ার এর অপর নাম হলো ডায়োড / p-n junction 

- p-n-p junction এবং n-p-n junction হলো ট্রানজিস্টর যার কাজ হলো দুর্বল সংকেত কে শক্তিশালী সংকেত এ রুপান্তরিত করা ।

- AND gate  এর কাজ হলো বাইনারি গুণের কাজ করা ।

উৎস: একাদশ শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই, শাহজাহান তপন স্যার।
৯,২৯২.
এক্স-রশ্মি ব্যবহৃত হয় কোন ক্ষেত্রে?
  1. গোয়েন্দা কাজে 
  2. হীরক সনাক্তকরণে 
  3. শরীরের ভিতরের হাড়ে ফাটল শনাক্ত করণে 
  4. উপরোক্ত সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

- এক্স-রশ্মি (X-ray) চিকিৎসাবিজ্ঞান (হাড়ের ফাটল, ফুসফুসের রোগ), শিল্প (যন্ত্রপাতির ত্রুটি পরীক্ষা), এবং ফরেনসিক বা গোয়েন্দা কাজে (যেমন: লুকানো জিনিসপত্র সনাক্তকরণ) ও মূল্যবান পাথর (হীরা) শনাক্তকরণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

এক্স রে (রঞ্জন রশ্মি): 

- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়। এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। 

এক্স রে এর ব্যবহার: 
- হীরক সনাক্তকরণে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করণে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়ে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২৯৩.
Rh ফ্যাক্টর কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৯২০
  2. খ) ১৯৪০
  3. গ) ১৯৩০
  4. ঘ) ১৯৪৫
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালে কাল ল্যান্ডস্টেইনার এবং উইলার এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনে সক্ষম হন। মানুষের লোহিত রক্ত কণিকার ঝিল্লিতে বানরের লোহিত রক্ত কণিকার ঝিল্লির মত এক প্রকার এন্টিজেন থাকে। এ এন্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh ফ্যাক্টর বলে।
৯,২৯৪.
চাক্রিক অ্যালকেনকে পেট্রোলিয়াম শিল্পে কী বলে?
  1. ক) ন্যাপথালিন
  2. খ) কলিচুন
  3. গ) সিরকা
  4. ঘ) নিশাদল
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়াম:
- ল্যাটিন শব্দ ‘পেট্রো’ অর্থ পাথর এবং ‘অলিয়াম’ অর্থ তেল। এ দুটি শব্দ থেকে পেট্রোলিয়াম শব্দের উৎপত্তি।
- পেট্রোলিয়াম শব্দের অর্থ পাথুরে তেল।
- ভূ-অভ্যন্তরের বিভিন্ন গভীরতায় ৫০০০-১৫০০০ ফুট বা তার চেয়েও বেশি গভীরতায় কঠিন শিলাস্তরের মাঝে উচ্চ তাপ ও চাপে পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদান সঞ্চিত থাকে।
- উদ্ভিদ ও সামুদ্রিক প্রাণির দেহাবশেষ হাজার হাজার বছর পরিবর্তিত হয়ে এ জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়েছে।
- পেট্রোলিয়াম হচ্ছে হাইড্রোকার্বনসহ শতাধিক যৌগের একটি জটিল মিশ্রণ।
- এর প্রধান উপাদান হিসেবে অ্যালকেন, চাক্রিক অ্যালকেন ও অ্যারোমেটিক যৌগ।
- এছাড়াও সামান্য পরিমাণে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও সালফার যৌগ পেট্রোলিয়ামে উপস্থিত থাকে।
- চাক্রিক অ্যালকেনকে পেট্রোলিয়াম শিল্পে ন্যাপথালিন বলে।  

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৯৫.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণ করা যায়?
  1. ক্রনোমিটার
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. অ্যাটমোমিটার
  4. অডিওমিটার
ব্যাখ্যা
ক্রনোমিটার (Chronometer):
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে ক্রনোমিটার।
- বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে -
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপার যন্ত্র হাইড্রোমিটার।
- বাষ্পীভবনের হার মাপার যন্ত্র অ্যাটমোমিটার।
- শ্রাব্যতা মাপার যন্ত্র মাপার যন্ত্র অডিওমিটার।
- বায়ুচাপ বলোমিটার(bolometer) - তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ মাপার যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিক্রিয়া তাপ মাপার যন্ত্র ক্যালোরিমিটার।
- দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব বা ঘনত্ব মাপার যন্ত্র ল্যাক্টোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- ধাবমান বস্তুর গতি/বেগ মাপার যন্ত্র স্পিডোমিটার।
- রক্ত চাপ মাপার যন্ত্র স্ফিগোমোম্যানোমিটার।

উৎস: Britannica.
৯,২৯৬.
কোন উদ্ভিদে শ্বাসমূল দেখা যায়?
  1. আদা
  2. হলুদ
  3. গরান
  4. রাস্না
ব্যাখ্যা

- সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে উদ্ভিদের প্রধান মূল হতে শাখা মাটির উপরে খাড়াভাবে উঠে আসে। এই সকল মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এই ধরনের রূপান্তরিত মূলকে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে।
যেমন- সুন্দরী, গরান ইত্যাদি।
- রাস্নায় পরাশ্রয়ী বায়বীয় মূল দেখা যায়।
- আদা, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদের কাণ্ড রাইজোম-জাতীয়।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

৯,২৯৭.
FCDI কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. বন্যা
  3. বজ্রপাত
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
FCDI প্রকল্প:
• FCDI: Flood Control, Drainage and Irrigation Projects 
• বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প হলো বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প। 
• উদ্দেশ্য: বন্যাপ্রবণ এলাকার ২০% ভূমিকে রক্ষা করা। 
• ১৯৬৪ সালে দেশজুড়ে ৫৮টি বন্যা প্রতিরোধ এবং নিষ্কাশন প্রকল্প সম্বলিত একটি মাস্টার প্ল্যান গৃহীত হয়েছিল।

• FCDI এর প্রধান প্রধান কয়েকটি সেচ প্রকল্প হলো:
- গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট);
- ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প ;
- কর্ণফুলি বহুমুখী প্রকল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর। 
৯,২৯৮.
প্রিজমে পতিত আলো সাধারণত-
  1. ক) প্রতিফলিত হয়
  2. খ) বিকরিত হয় না
  3. গ) বিকরিত হয়
  4. ঘ) প্রতিসরিত হয়
ব্যাখ্যা

সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙ্গে বিশ্লিষ্ট হয়। প্রিজম থেকে নির্গত আলোকরশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি দেখা যায়। আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী বলে।
বর্ণালীতে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়।
কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। অর্থাৎ, প্রিজমে আলো প্রতিসরিত হয়।
প্রিজম যে দুটি তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে, তাকে প্রিজমের প্রতিসারক তল বলে। 
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৯,২৯৯.
ভিটামিন B5 কমপ্লেক্স এর অপর নাম কী?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) নিয়াসিন
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) প্যান্টোথেনিক এসিড
ব্যাখ্যা
নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে প্রদত্ত তথ্য অনুসারে -
* পানিতে দ্রবণীয় ১২টি ভিটামিন B রয়েছে। ভিটামিনের এই গুচ্ছকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলা হয়।

* কিন্তু Harvard University এবং  National Institute of Health (US) এর তথ্য অনুসারে ভিটামিন B এর সংখ্যা ৮টি।

B1 - Thiamin (থায়ামিন)
B2 - Riboflavin (রিবোফ্লাভিন)
B3 - Niacin/Nicotinamide/Nicotinic acid (নিয়াসিন)
B5 - Pantothenic acid (প্যান্টোথেনিক এসিড)
B6 - Pyridoxine (পাইরিডক্সিন)
B7 - Biotin (বায়োটিন)
B9 - Folate [folic acid] (ফোলেট, ফলিক এসিড)
B12 - Cobalamin (কোবালামিন)

** প্রথমত,
নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে ১২টি ভিটামিন B এর কথা বলা হয়েছে, যা ভুল।
প্রকৃতপক্ষে ভিটামিন B - ৮টি; এই ৮টি ভিটামিনকে একত্রে ভিটামিন B complex বলা হয়।

** দ্বিতীয়ত,
নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে B5 এর নাম - নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটিও ভুল।
- ভিটামিন B5 এর নাম হচ্ছে -  Pantothenic acid.
৯,৩০০.
কম্পোজিট কণিকা কোনটি? 
  1. ইলেকট্রন 
  2. প্রোটন 
  3. আলফা কণিকা 
  4. পাইওন 
ব্যাখ্যা

পরমাণু: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, সাধারণত যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক রূপে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তাকে পরমাণু বলে। 
- প্রত্যেক মৌলের প্রতীক দ্বারা ঐ মৌলের পরমাণুকে বোঝানো হয়। 
যেমন: H দ্বারা হাইড্রোজেনের পরমাণু বোঝায়। 
- মূল উপাদানরূপে যেসব অতি সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত, তাদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা তিন প্রকার। 
যথা: 
১। স্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। 
- স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

২। অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- যে সব মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে, তাদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। 
যেমন: পাইওন, মিউওন, নিউট্রিনো, মেসন প্রভৃতি। 
- অস্থায়ী মূল কণিকাগুলো সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে অন্য কণিকায় পরিণত হয়। 

৩। কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী মূল কণিকা ও অস্থায়ী মূল কণিকা ব্যতিত আরও এক শ্রেণীর ভারী কণিকা বিভিন্ন পরমাণু থেকে পাওয়া যায়, এদেরকে যৌগিক কণা বা কম্পোজিট কণিকা বলে। 
যেমন: আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণা। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।