বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৯২ / ১৪০ · ৯,১০১৯,২০০ / ১৪,০৮০

৯,১০১.
নিচের কোনটিকে গুরুমস্তিস্ক বলা হয়?
  1. ক) সেরিবেলাম
  2. খ) সেরিব্রাম
  3. গ) পনস
  4. ঘ) মেডুলা অবলংগাটা
ব্যাখ্যা
মস্তিস্কের সেরিব্রামকে গুরুমস্তিস্কও বলা হয়। 

- আমাদের সকল চিন্তা-ভাবনা এবং কার্যক্রম পরিচালিত হয় মস্তিষ্ক থেকে।
- অসংখ্য নিউরন এবং হরমোনের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কাজগুলো সম্পন্ন হয়।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে করোটিকা বা খুলির মধ্যে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- করোটিকার ভেতরে মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা মস্তিষ্ক আবৃত থাকে।
- এটি তিনটি অংশে বিভক্ত থাকে।  
যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক(Forebrain or Prosencephalon)
(২) মধ্যমস্তিষ্ক(Midbrain or Mesencephalon)
(৩) পশ্চাৎমস্তিষ্ক(Hindbrain or Rhombencephalon)    

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯,১০২.
Which of the following in not a metal ?
  1. ক) Gold
  2. খ) Diamond
  3. গ) Silver
  4. ঘ) Copper
  5. ঙ) None of these
ব্যাখ্যা
Diamond বা হীরা মূলত কার্বনের একটি রুপভেদ।
কার্বন একটি অধাতু। তাই হীরাও অধাতু।

গ্রাফাইট কার্বনের আরেকটি রুপভেদ।

অন্যদিকে, Gold, Silver, Copper ধাতু।
৯,১০৩.
নিচের কোন ধাতুটি পানির চেয়ে হালকা নয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) পটাসিয়াম
  4. ঘ) হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

অপশনে তিনটি ধাতু এবং একটি গ্যাস আছে।

- ক্যালসিয়াম ধাতুটি পানি চেয়ে ভারি।

- লিথিয়াম, পটাসিয়াম এবং সোডিয়াম এই তিনটি ধাতু পানির চেয়ে হালকা।
অর্থাৎ, অপশনগুলোর মধ্যে খ) সোডিয়াম ও গ) পটাশিয়াম দুটিই পানির চেয়ে হালকা।

- হিলিয়াম একটি নিস্ক্রিয় গ্যাস; ধাতু নয়।

৯,১০৪.
তাপ প্রয়োগে রাবারের কী পরিবর্তন হয়? 
  1. রঙ বদলায়
  2. আয়তন কমে যায়
  3. আয়তন বেড়ে যায়
  4. আয়তন কমে আবার বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার করা হয়, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি সবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল-এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
- যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১০৫.
গর্ভাবস্থায় একমাত্র কোন অ্যান্টিবডি প্ল্যাসেন্টা পেরিয়ে ভ্রূণের দেহে পৌঁছাতে পারে? 
  1. IgA
  2. IgM
  3. IgG
  4. IgE
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি: 
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত। 
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA । 
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে। 
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেছে স্থানান্তরিত হয়। 

২।  ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে IgD । 
- রক্ত, লসিকা ও লিফোসাইট B-কোষে এ lg পাওয়া যায়। 
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে। 

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE): 
- দেহের মোট ।g-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE । 
- এটি দুর্লভ Ig । 
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়। 
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে। 
- বিভিন্ন অ্যালার্জিক সাড়া দানে (যেমন-সন্ধিবাতে) এ অ্যান্টিবডির ভূমিকা বেশ নেতিবাচক প্রমাণিত হয়েছে। 

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG): 
- দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG । 
- রক্ত, লসিকা, অন্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে। 
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমিক সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে। 
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে। 

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM): 
- দেহের মোট IG-এর ৫-১০% IgM । 
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের। 
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়। 
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়। 
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৯,১০৬.
একটি বদ্ধ ঘরে একটি চালু ফ্রিজের দরজা খুলে রাখলে ঘরের তাপমাত্রা -
  1. হ্রাস পাবে
  2. বৃদ্ধি পাবে
  3. একই থাকবে
  4. শীতকাল হলে হ্রাস পাবে
ব্যাখ্যা
ফ্রিজের ভেতর ঠান্ডা করার জন্য যে এনার্জি ব্যবহৃত হয়, তার সবটুকু ব্যবহার হয় না বলে সেটার প্রতিক্রিয়া স্বরুপ তাপ উৎপন্ন হয় যা ফ্রিজের বাইরে বাঁ পেছন দিক দিয়ে বের হয়, অর্থাৎ একটি আবদ্ধ ফ্রিজ আদতে ঘরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।

এখন আসা যাক প্রশ্নের আলোচনায়, একটি বদ্ধ ঘরের ভেতরে ফ্রিজের দরজা খোলা রাখলে এটি আগে যে অল্প আবদ্ধ জায়গা নিয়ে খাবার ঠান্ডা রাখতো, সেই জায়গাটা অনেক বেড়ে যায়, ফলে ফ্রিজকে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। ফলে ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। 

Source: [Link]
৯,১০৭.
উপসর্গ “পিকো (pico)” দ্বারা কী বোঝানো হয়? 
  1. 10-12
  2. 10-9
  3. 10-6
  4. 10-15
ব্যাখ্যা

- উপসর্গ “পিকো (pico)” দ্বারা বোঝানো হয় 10-12 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানান কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়ই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
- দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এগুলো সব সময় ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- দূরত্ব বোঝানোর জন্য এক হাজার মিটার না বলে এক কিলোমিটার বলা হয়, আবার পানির আয়তন বোঝানোর জন্য এক লিটারের এক শতাংশ না বলে 10 মিলিমিটার বলা হয়। 



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,১০৮.
MRI-যন্ত্রে মূলত কোন অণুর প্রোটন ব্যবহৃত হয়?
  1. কার্বন
  2. অক্সিজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

- ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা MRI যন্ত্রে মূলত হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটন ব্যবহৃত হয়। 

এমআরআই (MRI): 
- মানুষের শরীরের প্রায় সত্তরভাগ পানি, যার অর্থ মানুষের শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পানি থাকে। পানির প্রতিটি অণুতে থাকে হাইড্রোজেন এবং হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস হচ্ছে প্রোটন। 
- শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে প্রোটনগুলো চৌম্বকক্ষেত্রের দিক সারিবদ্ধ হয়ে যায়, তখন নির্দিষ্ট একটি কম্পনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ পাঠানো হলে এই প্রোটনগুলো সেই তরঙ্গ থেকে শক্তি গ্রহণ করে তাদের দিক পরিবর্তন করে এবং এই প্রক্রিয়াকে বলে নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স। 
- তার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং বা এমআরআই (MRI: Magnetic Resonance Imaging)। এই যন্ত্রটি দেখতে সিটিস্ক্যান যন্ত্রের মতো কিন্তু এর কার্যপ্রণালী সম্পূর্ণ ভিন্ন। 
- সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্স-রে পাঠিয়ে প্রতিচ্ছবি নেওয়া হয় কিন্তু এমআরআই যন্ত্রে একজন রোগীকে অনেক শক্তিশালী চৌম্বকক্ষত্রের মাধ্যমে তার শরীরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ দেওয়া হয়। 

- শরীরের পানির অণুর ভেতরকার হাইড্রোজেনের প্রোটন থেকে ফিরে আসা সংকেতকে কম্পিউটার দিয়ে বিশ্লেষণ করে শরীরের ভেতরকার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়। 
- সিটিস্ক্যান দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব, এমআরআই দিয়েও সেগুলো করা সম্ভব। তবে এমআরআই দিয়ে শরীরের ভেতরকার কোমল টিস্যুর ভেতরকার পার্থক্যগুলো ভালো করে বুঝা সম্ভব। 
- সিটিস্ক্যান করতে যে সময়ের দরকার হয় তার তুলনায় একটু বেশি সময় লাগে এমআরআই করতে। সিটিস্ক্যানে এক্স-রে ব্যবহার করা হয় বলে যত কমই হোক তেজস্ক্রিয়তার একটু ঝুঁকি থাকে, যা এমআরআইয়ে সেই ঝুঁকি নেই। 
- শরীরের ভেতর কোনো ধাতব কিছু থাকলে (যেমন: পেস মেকার) এমআরআই করা যায় না, কারণ আরএফ (RF) তরঙ্গ ধাতুকে উত্তপ্ত করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,১০৯.
রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন ধরনের শক্তির ভিত্তিতে কার্যকর হয়?
  1. জলবিদ্যুৎ শক্তি
  2. সৌর শক্তি
  3. নিউক্লিয়ার শক্তি
  4. বায়ু শক্তি
ব্যাখ্যা

• রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিউক্লিয়ার শক্তির ভিত্তিতে কার্যকর হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যা দেশের বৈদ্যুতিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের মতো পারমাণবিক ইন্ধনকে নিয়ন্ত্রণকৃত নিউক্লিয়ার বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এই তাপ জলকে বাষ্পে পরিণত করে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। রূপপুরের মতো নিউক্লিয়ার কেন্দ্রের সুবিধা হলো এটি স্থায়ী ও বড় পরিমাণে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম এবং দীর্ঘমেয়াদি শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, যেখানে কার্বন নিঃসরণও কম থাকে। তাই রূপপুর প্রকল্পটি বাংলাদেশের শক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

সঠিক উত্তর: গ) নিউক্লিয়ার শক্তি।

প্রাকৃতিক নিয়ম ব্যবহার করে প্রযুক্তির বিকাশ: 
- আইনস্টাইন তার থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে E = mc2 সূত্রটি বের করে দেখিয়েছিলেন ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- 1938 সালে অটোহান এবং স্ট্রেসম্যান একটি নিউক্লিয়াসকে ভেঙে দেখান যে, নিউক্লিয়াসের ভর যেটুকু কমে গিয়েছে, সেটা শক্তি হিসেবে বের হয়েছে। এই সূত্র ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার বোমা তৈরি করে। শুধু যে এই মারণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব তা নয়, এই শক্তি মানুষের কাজেও লাগানো সম্ভব। এই সূত্র ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার বৈদ্যুতিক কেন্দ্র (Nuclear Power Plant) তৈরি করা হয়। যেমন- রূপপুরে সেরকম একটি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা হচ্ছে কঠিন অবস্থার পদার্থবিজ্ঞান এবং সেখানে অর্ধপরিবাহী নিয়ে কাজ করা হয়। এই অর্ধপরিবাহীর সাথে বিশেষ মৌল মিশিয়ে তাদের যুক্ত করে ট্রানজিস্টার তৈরি করা হয়। এই প্রযুক্তি দিয়ে ইলেকট্রনিকসের একটি অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে এবং বর্তমান সভ্যতায় এই ইলেকট্রনিকসের একটি অনেক বড় অবদান রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,১১০.
কোনটি চার্লসের সূত্রকে সমর্থন করে?
  1. ক) PV = ধ্রুবক
  2. খ) TV = ধ্রুবক
  3. গ) T/V = ধ্রুবক
  4. ঘ) V/T = ধ্রুবক
ব্যাখ্যা
চার্লসের সূত্র:
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায় ।
- গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”।
- গাণিতিকভাবে, V ∝ T বা, V/T = ধ্রুবক।

বয়েলের সূত্র:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক।
- গাণিতিকভাবে, P ∝ 1/V বা, PV = ধ্রুবক।

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র:
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক ।
- গাণিতিকভাবে, P ∝ T বা, P/T = ধ্রুবক।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৯,১১১.
ভিনেগার খাদ্য সংরক্ষণে কিভাবে সাহায্য করে? 
  1. খাদ্যের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে 
  2. খাদ্যের তাপমাত্রা কমায়
  3. খাদ্যের প্রোটিন বৃদ্ধি করে 
  4. pH কমিয়ে অণুজীবের বংশ বিস্তার রোধ করে 
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়।
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। ভিনেগার বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগারকে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায়, তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,১১২.
কোন পদার্থের ভেতর দিয়ে তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না?
  1. সিলিকন
  2. কাচ
  3. রূপা
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- যে ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় যুক্ত অবস্থায় থেকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে সেগুলোকে বলা হয় পরিবাহী পদার্থ। 
যেমন - সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি সুপরিবাহী পদার্থ। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ ইত্যাদি অপরিবাহী পদার্থ। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। 
- এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- সিলিকন, জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১১৩.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. ক) Internal Circuit
  2. খ) Intorvert Circuit
  3. গ) Integrated Circuit
  4. ঘ) Inverted Circuit
ব্যাখ্যা
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের পূর্ণরূপ- Integrated Circuit.

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটকে মাইক্রোইলেক্ট্রনিক সার্কিট, মাইক্রোচিপ নামেও অভিহিত করা হয়। 

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের সুবিধা সমূহ- 
১. এটি আকারে বেশ ছোট্ট। 
২. অনেক জটিল সার্কিট একটি একক চিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তাই এটি একটি জটিল বৈদ্যুতিক সার্কিটের নকশাকে সহজতর করে। এছাড়াও এটি সার্কিটের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩. আইসিগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বেশি।
৪. অধিক উৎপাদনের কারণে এগুলো কম খরচে পাওয়া যায়।
৫. আইসিগুলো খুব অল্প শক্তি গ্রহণ করে।
৬. প্যারাসাইটিক ক্যাপাসিট্যান্স প্রভাব না থাকায় এদের অপারেটিং গতি অনেক উচ্চ হয়।
৭. মূল সার্কিট থেকে খুব সহজেই প্রতিস্থাপন করা যায়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
৯,১১৪.
মানবদেহে অত্যাবশ্যকীয় এমিনো এসিড কোনটি?
  1. ক) মিসটিন
  2. খ) টাইরোসিন
  3. গ) ফিনাইল অ্যালানিন
  4. ঘ) অ্যালানিন
ব্যাখ্যা

অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।
আমিষ পরিপাক হওয়ার পর তা অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
দেহগঠনে আমিষ সহায়তা করে থাকে।
এ পর্যন্ত আমাদের শরীরে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড আবিষ্কৃত হয়েছে।
এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ৮টি।
এগুলো হল লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,১১৫.
ঘরের টিউবলাইটের ভেতর কোন অবস্থা তৈরি হয়? 
  1. তরল
  2. গ্যাসীয়
  3. প্লাজমা
  4. কঠিন
ব্যাখ্যা
পদার্থের চতুর্থ অবস্থা (প্লাজমা): 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা হতে পারে, এর নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। 
- ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়। 
- ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, আবার নিওন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে। 
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায়, সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে। 
- বর্তমানে ফিশান পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১১৬.
তুলা ও শন গাছের তন্তুগুলো হলো-
  1. ক) বাস্ট ফাইবার
  2. খ) ফ্লোয়েম তন্তু
  3. গ) তরুক্ষীর টিস্যু
  4. ঘ) ক এবং খ
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম তন্তু
- ফ্লোয়েমের মধ্যে অবস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা কোষকে ফ্লোয়েম তন্ত্র বলা হয়।
- কোষগুলো মৃত এবং স্থুল প্রাচীরবিশিষ্ট।
- ফ্লোয়েমের আঁশকে বাস্ট ফাইবার বলে।
- পাট, তুলা, শন, তিসি, গাঁজা ইত্যাদি গাছের তন্তুগুলো বাস্ট ফাইবার।

কাজ- উদ্ভিদ দেহকে দৃঢ়তা প্রদান করে এবং কখনও কখনও খাদ্য পরিবহনে সহায়তা করে।


উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১১৭.
নিচের কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব?
  1. মেঘলা আবহাওয়া।
  2. অস্থায়ী বৃষ্টি।
  3. মরুকরণ
  4. নদীতে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি।
ব্যাখ্যা
জলবায়ু:  জলবায়ু (Climate) হলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান আবহাওয়ার গড় অবস্থা। এর মধ্যে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি ও দিক ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত ৩০ বছর বা তারও বেশি সময়ের আবহাওয়ার পরিসংখ্যান থেকে একটি অঞ্চলের জলবায়ু নির্ধারিত হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন হলো পৃথিবীর জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন যা প্রাকৃতিক কারণ অথবা মানুষের কার্যকলাপের কারণে ঘটতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ের জলবায়ু পরিবর্তন মূলত গ্রীনহাউস গ্যাস (যেমন: কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন) বৃদ্ধির কারণে হচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা (Global Warming) সৃষ্টি করছে।

• জলবায় পরিবর্তনের কারনসমুহ- 
-  জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো (কয়লা, গ্যাস, তেল)
-  বনভূমি ধ্বংস (Deforestation)
-  শিল্প ও যানবাহনের নির্গত গ্যাস
-  গবাদিপশু খামারের মিথেন গ্যাস
 
• জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
- মরুকরণ। 
- গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি । 
- হিমবাহ গলে যাওয়া। 
- জৈববৈচিত্র্যের ক্ষতি। 
- কৃষিজ উৎপাদনে বিঘ্ন। 
• মরুকরণ হলো এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যেখানে উর্বর জমি ধীরে ধীরে অনুৎপাদনশীল, শুষ্ক ও অনুর্বর হয়ে পড়ে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব।

অন্যদিকে,
- মেঘলা আবহাওয়া: এটি স্বল্পমেয়াদী জলবায়ুর আচরণ, দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন নয়।

- অস্থায়ী বৃষ্টি: এটি আবহাওয়ার একটি সাময়িক বৈচিত্র্য, জলবায়ুর নয়।

- নদীতে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি: এটি জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাভাবিক বা প্রত্যাশিত প্রভাব নয়। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তথ্যসূত্র: 
- মাধ্যমিক শ্রেনীর ভুগোল ও পরিবেশ (NCTB)। 
- বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর (DOE) প্রকাশনা। 
- Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) Reports
৯,১১৮.
এমপ্লিফায়ারে ভোল্টেজ গেইন প্রকাশ করা-
  1. ক) Ap
  2. খ) Av
  3. গ) AI
  4. ঘ) dB
ব্যাখ্যা
এমপ্লিফায়ার: 
- একটি ট্রানজিস্টর এমপ্লিফায়ার হিসাবে কাজ করে।
- এমপ্লিফায়ার এর কাজ হল ইনপুট সিগনালকে আউটপুটে বিবর্ধিত করে দেয়া।
- এমপ্লিফায়ারে ৩ ধরনের বিবর্ধন হয়।

কারেন্ট এমপ্লিফিকেশন: আউটপুট এবং ইনপুট কারেন্ট এর অনুপাত।

AI =Ioutput/Iinput

ভোল্টেজ এমপ্লিফিকেশন: আউটপুট এবং ইনপুট ভোল্টেজের অনুপাত।

Av = Voutput/Vinput

পাওয়ার এমপ্লিফিকেশন: আউটপুট এবং ইনপুট পাওয়ার এর অনুপাত।

Ap = Poutput/Pinput

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান, ড. শাহজাহান তপন।
৯,১১৯.
DNA এর দুটি স্ট্র্যান্ড কোন রাসায়নিক বন্ধন দ্বারা যুক্ত?
  1. আয়নিক বন্ধন
  2. সমযোজী বন্ধন
  3. হাইড্রোজেন বন্ধন
  4. ভ্যান ডার ওয়ালস বল
ব্যাখ্যা

◉ DNA-তে প্রতিটি নিউক্লিওটাইড শর্করা (deoxyribose) + ফসফেট এর মাধ্যমে সমযোজী বন্ধন (covalent bond) দ্বারা যুক্ত থাকে। কিন্তু দুটি বিপরীতমুখী স্ট্র্যান্ডকে একসাথে ধরে রাখে নাইট্রোজেন বেসের মধ্যে গঠিত হাইড্রোজেন বন্ধন।

DNA: 
- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA. 
- এটি একটি নিউক্লিক অ্যাসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। 
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid. 

DNA-এর ভৌত গঠন: 
১। DNA দ্বিসূত্রক, বিন্যাস ঘুরানো সিড়ির ন্যায়।
২। সিড়ির দু'দিকের ফ্রেম তৈরি হয় স্যুগার ও ফসফেটের পর্যায়ক্রমিক (Alternate) সংযুক্তির মাধ্যমে।
৩। দু'দিকের ফ্রেমের মাঝখানের প্রতিটি ফ্রেম তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজিনাস বেস দিয়ে (A=T, G≡C)।
৪। দুটি বেস হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিড়ির বাইরের দিকে থাকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে থাকে নাইট্রোজিনাস বেস।
৫। সিড়ির দু'পাশের ফ্রেম পরস্পর উল্টোভাবে অবস্থান করে। এ ধরনের বিন্যাসকে অ্যান্টিপ্যারালেল (Antiparallel) বিন্যাস বলে।
৬। এক ফ্রেমের গুয়ানিন অপর পাশের ফ্রেমের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয় (G≡C)। এক ফ্রেমের অ্যাডিনিন অপর পাশের ফ্রেমের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে সংযুক্ত থাকে (A=T)।
৭। সিড়ির (প্রকৃত পক্ষে ডবল হেলিক্স-এর) প্রতিটি ঘূর্ণন ৩৪৪ দূরত্ব বিশিষ্ট এবং এ দূরত্ব ১০টি মনোনিউক্লিয়োটাইড দিয়ে তৈরি হয়। কাজেই প্রতিটি মনোনিউক্লিয়োটাইডের দৈর্ঘ্য ৩.৪৪।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯,১২০.
তুল্য আর্দ্রতার সাথে কীসের সম্পর্ক আছে?
  1. ক) শিশিরাঙ্কের
  2. খ) বায়ুর ঘনত্ব
  3. গ) বায়ুর তাপমাত্রা
  4. ঘ) কুয়াশা
ব্যাখ্যা
তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক আছে।

• তুল্য আর্দ্রতা:
কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।
- তুল্য আর্দ্রতা দুই পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায়। যথা- হাইগ্রোমিটার এবং সাইক্রোমিটার।
-উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২৫০° সে. তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত ১ কিলোগ্রাম বায়ুতে ২০ গ্রাম জলীয়বাষ্প থাকে।
- যদি কোনো সময়ের বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ১০ গ্রাম হয় তবে এ সময়ের তুল্য আর্দ্রতা হবে ১০/২০ অথবা ৫০ শতাংশ।
- তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত। 

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১২১.
চোখের Myopia দূর করার জন্য কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) উত্তল লেন্স
  2. খ) দ্বি-উত্তল লেন্স
  3. গ) অবতল লেন্স
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
হ্রস্ব দৃষ্টি বা নিকট বদ্ধ দৃষ্টি বা মাইওপিয়া (Short sight or Myopia)
এই ত্রুটিগ্রস্থ মানুষ দূরের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে না, তবে কাছের বস্তু ভালভাবে দেখতে পায়। চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব বা নিকট দূরত্ব কমে যায়। নিকট বিন্দু চোখের সামনে চলে আসে। চক্ষুগোলকের ব্যাসার্ধ বেড়ে গেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে এই ত্রুটি দেখা দেয়।

এই ত্রুটি দূর করার জন্য চোখে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ত্রুটির পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ফোকাস দৈর্ঘ্যের বা পাওয়ারের অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়। অবতল লেন্স লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত রশ্মিকে পরিমাণ মতো ছড়িয়ে দেয়, ফলে ফোকাস রেটিনাতে পড়ে এবং বস্তুর সুস্পষ্ট বিম্ব তৈরি হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯,১২২.
নিচের কোনটি আলাদা?
  1. পানি (H20)
  2. চিনি (C12H22O11)
  3. মিথেন (CH4)
  4. সালফিউরিক এসিড (H2SO4)
ব্যাখ্যা
পানি, চিনি ও সালফিউরিক এসিড - প্রত্যেক যৌগে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন থাকলেও মিথেনে নেই।
সকল চিনির রাসায়নিক নাম সুক্রোজ। এবং এর রাসায়নিক সংকেত = C12H22O11
গ্লুকোজ(C6H12O6) ও ফ্রুক্টোজ এর সমন্বয়ে সুক্রোজ গঠিত হয়।
[ ফ্রুক্টোজ হলো ৬ কার্বনবিশিষ্ট মনোস্যাকারাইড। এর আণবিক সংকেত হল C6H12O6 যা গ্লুকোজের মতই।
এটিও একটি রিডিউসিং শ্যুগার।
এর গঠনে কিটো গ্রুপ থাকায় একে কিটোহেক্সোজও বলা হয়। ]
পানির সংকেত = H20
সালফিউরিক এসিড সংকেত = H2SO4
মিথেন এর সংকেত = CH4
৯,১২৩.
পরমশূন্য তাপমাত্রা কত?
  1. ক) 0°C
  2. খ) -100°C
  3. গ) -273°C
  4. ঘ) 273K
ব্যাখ্যা
পরমশূন্য তাপমাত্রা
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে।
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
৯,১২৪.
For normal elderly people, the minimum distance of clear vision typically is:
  1. 45 cm
  2. 35 cm
  3. 25 cm
  4. 15 cm
  5. 5 cm
ব্যাখ্যা
• দৃষ্টিসীমার নিকটতম বিন্দু:
- মানুষ তার চোখের লেন্সে ফোকাস দূরত্ব বাড়িয়ে বা কমিয়ে একটা বস্তুকে সবসময় স্পষ্ট দেখার চেষ্টা করে।
- কিন্তু লক্ষ্যবস্তু চোখের কাছাকাছি একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে বেশি কাছে এলে আর স্পষ্ট দেখা যায় না।
- চোখের সবচেয়ে কাছের যে বিন্দু পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে স্পষ্ট দৃষ্টির নিকট বিন্দু বলে এবং চোখ থেকে ঐ বিন্দুর দূরত্বকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব ধরে নেওয়া হয়।
- এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।

- একজন শিশুর এই দূরত্ব ৫ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি এবং একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লোকের এই দূরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার বা ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- দূর বিন্দু চোখ থেকে অসীম দূরত্বে অবস্থান করে। এ কারণে বহুদূরের নক্ষত্রও খালি চোখে দেখা যায়।
- সুস্থ ও স্বাভাবিক চোখ “নিকট বিন্দু” (near point) থেকে শুরু করে অসীম দূরত্বের দূর বিন্দুর মাঝখানে যে স্থানেই কোন বস্তু থাকুক না কেন সেটা স্পষ্ট দেখতে পারে। আর এটাই হচ্ছে চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি।।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১২৫.
সেলুলোজ উপস্থিত কোন ফলে?
  1. ক) বেল
  2. খ) আখের রস
  3. গ) আঙুর
  4. ঘ) খেজুর
ব্যাখ্যা

শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু বা কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।
সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি এর উৎস।
সেলুলােজঃ বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনাে ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলােজ থাকে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৯,১২৬.
শহর অঞ্চলে জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী কোনটি?
  1. ক) প্লাস্টিক
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) অ্যালুমিনিয়াম
  4. ঘ) কাগজ
ব্যাখ্যা
পানি দূষণ:

- প্লাস্টিকের বর্জ্য শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও নদীর নাব্যতা কমানোর জন্য বহুলাংশে দায়ী।
- দামে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বাস্তবতা হল প্লাস্টিক সামগ্রী পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
- পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয় না বলে অপরিবর্তিত অবস্থায় বছরের পর বছর ধরে মাটিতে থেকে যায়।
- ফলে বর্জ্য প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, নদীর নিচে তলানী হিসেবে জমা হয়ে নদীর নাব্যতা কমিয়ে দেয়, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ও পানি দূষণ ঘটায়।
- তাই বলা যায়, ব্যবহার অনুপোযোগী প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

তথ্যসূত্র - রসায়ন-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১২৭.
বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে কোন বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. ক) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  2. খ) উত্তর-পূর্ব মহাদেশীয় বায়ু
  3. গ) উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু
  4. ঘ) দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমী বায়ু
ব্যাখ্যা
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
- সমুদ্র থেকে আগত হওয়ায় এই বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকে। ফলে এই মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৯,১২৮.
নিচের কোনটি অধাতু? 
  1. সালফার
  2. আয়রন
  3. জিংক
  4. সিলভার
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতু: 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 

অধাতু: 
- অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১২৯.
নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ কোনগুলি?
  1. ক) গ্যাস, কয়লা, তেল
  2. খ) তেল,গ্যাস,পানি
  3. গ) বায়ু, পানি, সূর্যের আলো
  4. ঘ) বায়ু, গ্যাস, কয়লা
ব্যাখ্যা

নবায়নযােগ্য শক্তি (Renewable Energy):
যে শক্তিকে নবায়ন করা যায় অর্থাৎ যা ফুরিয়ে যাবার কোনাে আশঙ্কা নেই। তাকে নবায়নযোগ্য (Renewable Energy) শক্তি বলা হয়। যেমন: সূর্যের আলাে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বাতাস, নদীর বহমান পানি, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

অনবায়নযােগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না। তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান।

৯,১৩০.
Which color of light has the minimum wavelength?
  1. Red
  2. Green
  3. Blue
  4. Violet
  5. Orange
ব্যাখ্যা
• বেগুনি বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। 

• দৃশ্যমান আলো (Visible light):

- তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালির যে অংশ মানুষের চোখে দৃশ্যমান অর্থ্যাৎ প্রায় ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটার (nm) পর্যন্ত তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সীমার তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে দৃশ্যমান আলো বলা হয়।

• তরঙ্গ দৈর্ঘ্য:
- লাল আলোর জন্য প্রায় ৭০০ (৬২০ - ৭৫০nm) ন্যানোমিটার।
- বেগুনি আলোর জন্য প্রায় ৪০০ (৩৮০ - ৪৫০nm) ন্যানোমিটার।
- এই দুটি সীমার মধ্যে অন্য বর্ণের আলোগুলো হলো নীল, সবুজ, হলুদ, এবং কমলা।

• যে বর্ণের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যত কম, তার প্রতিসরণ বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত বেশি হয়। 
যেমন- বেগুনি আলো। 

• যে বর্ণের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ খুব কম হয়। 
যেমন- লাল আলো। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে এর প্রতিসরণ বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলো সবচেয়ে বেশি দুর হতে দেখা যায়। বিপদ সংকেতে লাল আলো ব্যবহার করা হয়।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অধিক বলে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় আমরা সূর্যকে লাল দেখি।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৩১.
রংধনুতে কয়টি রং?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
রংধনু: 
- সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাঁচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙ্গে বিশ্লিষ্ট হয়।
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু। 
- প্রিজম থেকে নির্গত আলোক রশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি দেখা যায়, আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী বলে। 
- বর্ণালীতে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়। 
- কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। 
অর্থাৎ, প্রিজমে আলো প্রতিসরিত হয়। 
- প্রিজম যে দুটি তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে, তাকে প্রিজমের প্রতিসারক তল বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৩২.
পৃথিবীর মোট জলভাগের মধ্যে হিমবাহের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ক) ০.০৩%
  2. খ) ০.৬৮%
  3. গ) ২.০৫%
  4. ঘ) ৫.৫০%
ব্যাখ্যা
জলরাশির অবস্থান ভিত্তিক শতকরা পরিমাণ:


উৎস: ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯,১৩৩.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম কী?
  1. ক) পরমাণু
  2. খ) অণু
  3. গ) প্রোটন
  4. ঘ) ইলেক্ট্রন
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম পরমাণু ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৯,১৩৪.
স্ট্রোক এর লক্ষণসমূহ হলো-
  1. চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা
  2. হঠাৎ দুর্বলতা অনুভব হওয়া বা শরীরের কোন অংশ অবশ হয়ে যাওয়া
  3. হঠাৎ তন্দ্রাচ্ছন্নতা হওয়া বা চলতে ফিরতে সমস্যা অনুভব করা
  4. উপরের সবগুলো বা যে কোন একটি
ব্যাখ্যা
স্ট্রোক:
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়।
- স্ট্রোক একটি স্নায়বিক রোগ।

স্ট্রোকের কারণ:
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে।
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন- উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়।
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে।

লক্ষণ:
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা, কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া, মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া, শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া, মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি।

প্রতিরোধের উপায়:
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা।
- উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৩৫.
স্নেহ পদার্থ কোন ভিটামিনটির শোষণে সাহায্য করে?
  1. থায়ামিন
  2. রেটিনোয়িক এসিড
  3. এসকরবিক এসিড
  4. বায়োটিন
ব্যাখ্যা
ভিটামিন- এ (রেটিনোয়িক এসিড), ভিটামিন- ডি (কোলিক্যালসিফেরল), ভিটামিন- ই (টকোফেরল) এবং ভিটামিন- কে স্নেহজাতীয় পদার্থে দ্রবণীয়।
তাই পরিপাক যন্ত্রে স্নেহ পদার্থ এই চারটি ভিটামিনের শোষনে সাহায্য করে। 
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৯,১৩৬.
কোন বর্ণের রশ্মিকে মধ্যরশ্মি বলা হয়?
  1. ক) সবুজ
  2. খ) নীল
  3. গ) হলুদ
  4. ঘ) আসমানি
ব্যাখ্যা
হলুদ বর্ণের আলােক রশ্মির বিচ্যুতি লাল ও বেগুনি বর্ণের আলােক রশ্মির বিচ্যুতির মাঝামাঝি। এজন্য এর বিচ্যুতিকে গড় বিচ্যুতি (Mean deviation) এবং হলুদ বর্ণের রশ্মিকে মধ্য রশ্মি (Mean ray) বলা হয়। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৯,১৩৭.
পরিবেশ থেকে হঠাৎ কোন প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেলে কি ঘটবে?
  1. ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিবে
  2. খ) বাস্তুতন্ত্র স্থিতিশীল হবে
  3. গ) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে
  4. ঘ) বাস্তুতন্ত্রের কোন পরিবর্তন হবে না
ব্যাখ্যা
মানুষের বসতবাড়িতে বসবাসকারী একজোড়া ইঁদুর বিনা বাঁধায় বংশ বিস্তার করলে বছর শেষে ইঁদুরের সংখ্যা দাড়াবে ৮৮০টিতে।
কিন্তু একটি পেঁচা দিনে কমপক্ষে তিনটি ইঁদুর খেয়ে হজম করতে পারে। চিল, কাক ও শকুন ময়লা পরিস্কারক হিসেবে কাজ করে। আর তা না হলে পৃথিবীতে রোগ জীবাণুর বিস্তার অনেকগুণ বেড়ে যেত।
এ সকল কারণে কোনও জীবকেই অপ্রয়োজনীয় বলা যায় না। পরিবেশ থেকে কোনও প্রজাতি বিলুপ্ত হলে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। তাই বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৩৮.
শব্দেতর তরঙ্গের কম্পাঙ্ক কত?
  1. ক) ২০০০০ Hz এর চেয়ে কম
  2. খ) ২০০০০ Hz এর চেয়ে বেশি
  3. গ) ২০ Hz - ২০০০০ Hz
  4. ঘ) ২০ Hz এর কম
ব্যাখ্যা

উৎসের কম্পাঙ্ক ২০ Hz - ২০০০০ Hz এর মধ্যে থাকলেই কেবল তা শুনতে পায় মানুষ। একে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে।
- যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০০০০ Hz এর চেয়ে বেশি- তাকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলে।
- আর যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর চেয়ে কম-তাকে শব্দেতর তরঙ্গ বলে।
সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৯,১৩৯.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান?
  1. ক্যালসিয়াম (Ca)
  2. লৌহ (Fe)
  3. কার্বন (C)
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান:

• উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের সংখ্যা ১৬ টি।

• উদ্ভিদের পুষ্টির উপাদান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান
২. মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলে। যেমন: নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) ও লৌহ (Fe)।
- মনে রাখার উপায়: MgK CaFe for Nice CHOPS

• মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। যেমন: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

• পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে কার্বন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন উদ্ভিদ বায়ু হতে শোষণ করে। অন্য পুষ্টি উপাদান গুলো মাটি হতে মূলের সাহায্যে শোষিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং উচ্চ-মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান।
৯,১৪০.
কোন গ্রন্থি কঠিন মানসিক ও শারিরীক চাপ থেকে পরিত্রানে সাহায্য করে?
  1. অ্যাডরেনাল গ্রন্থি
  2. থাইরয়েড গ্রন্থি
  3. পিটুইটারি গ্রন্থি
  4. থাইমাস গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
অ্যাডরেনাল বা সুপ্ৰারেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland): অ্যাডরেনাল গ্রন্থি কিডনির উপরে অবস্থিত। অ্যাডরেনাল গ্রন্থি দেহের অত্যাবশ্যকীয় বিপাকীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
এই গ্রন্থি মূলত কঠিন মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে পরিত্রাণে সাহায্য করে। অ্যাডরেনালিন (adrenalin) এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমােনগুলাের একটি।
সোর্স: নৱম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান
৯,১৪১.
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে কোন গ্যাস সবচেয়ে পরিমাণে পাওয়া যায়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হিলিয়াম
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
• বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাস হলো হাইড্রোজেন।
- হাইড্রোজেন গ্যাস মহাবিশ্বের মৌলিক গঠনের প্রায় 75% (ভর) তৈরি করে।
- এটি আমাদের সূর্য সহ নক্ষত্রগুলিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এটি পারমাণবিক ফিউশন প্রতিক্রিয়াগুলির জন্য প্রাথমিক জ্বালানী উৎস।
- হাইড্রোজেন আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশেও প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত থাকে এবং এটি আণবিক মেঘের একটি মূল উপাদান যেখানে নতুন তারকা গঠি হয়।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে নাইট্রোজেন গ্যাস।
- মহাবিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান হচ্ছে হিলিয়াম।
- হাইড্রোজেন ও হিলিমায় যৌথভাবে মহাবিশ্বের ৯৯.৯% উপাদান গঠন করেছে।
- এই সারিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অক্সিজেন।

উৎস: The University of Texas; LiveScience and Nature Journal.
৯,১৪২.
নিচের কোনটি স্থায়ী চুম্বক?
  1. সেমিরিয়াম কোবাল্ট
  2. অ্যালনিকো
  3. নিউডাইমিয়াম আয়রন বোরন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে চৌম্বক পদার্থের মিশ্রণের বিভিন্নতার উপর ভিত্তি করে নিম্নে চার ধরনের স্থায়ী চুম্বক দেখানো হলো:

১। নিওডাইমিয়াম আয়রন বোরন:
নিওডাইমিয়াম আয়রন বোরন এ ধরনের স্থায়ী চুম্বক ল্যান্থানাইড শ্রেণিভুক্ত এবং শক্তিশালী প্রকৃতির।
এদেরকে সহজে বিচুম্বকায়ন করা যায় না।

২। সেমিরিয়াম কোবাল্ট:
এটিও এক প্রকার স্থায়ী চুম্বক।

৩। অ্যালনিকো: এটি অ্যালুমিনিয়াম, নিকেল ও কোবাল্টের সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি। এটি স্থায়ী চুম্বক হলেও
বিচুম্বকায়ন করা যায়। এটি বহুল ব্যবহৃত হয় তবে এর চুম্বকত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল।

৪। ফেরাইট:
এটি বহুল ব্যবহৃত স্থায়ী চুম্বক। এর চুম্বকত্ব তাপমাত্রার উপর খুব বেশি নির্ভরশীল।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯,১৪৩.
গ্যাসীয় পদার্থে কোনটি বিদ্যমান থাকে?
  1. নির্দিষ্ট আয়তন
  2. নির্দিষ্ট ভর
  3. নির্দিষ্ট আকার
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বায়বীয় পদার্থ:
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই।
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে।
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম।

• উদাহরণ:
- অক্সিজেন,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড,
- হাইড্রোজেন,
- নাইট্রোজেন,
- অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।

উৎস:
১. রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১৪৪.
এক্স-রে হলো এক ধরনের- 
  1. কণিকা বিকিরণ
  2. তাপ বিকিরণ
  3. আলোক বিকিরণ
  4. তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ
ব্যাখ্যা
এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি: 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন, তাই এক্সরে রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমণ্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়।
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়।
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়।
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 

- এক্সরের অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ সম্পাত যাতে রোগীর ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। 
- এজন্য এক্সরে নেওয়ার সময় রোগীকে সীসা নির্মিত এপ্রোন দ্বারা যথাসম্ভব আচ্ছাদিত করতে হবে। 
- অতি জরুরী না হলে গর্ভবতী মহিলাদের উদর এবং পেলভিক অঞ্চলের এক্সরে করা উচিত নয়। 
- অন্য কোনো এক্সরে পরীক্ষা প্রয়োজন হলে সীসা নির্মিত এপ্রোন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৪৫.
সরিষার তেলে কোন এসিড বিদ্যমান?
  1. ক) পাইরুভিক এসিড
  2. খ) ইরোসিক এসিড
  3. গ) হাইপোক্লোরাস এসিড
  4. ঘ) হাইড্রোফ্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সর্দি-কাশি হলে অনেকে সরিষার তৈল নাকে-মুখে ব্যবহার করেন।
- কিন্তু এই তৈলের একটি বড় অসুবিধা হলো এতে প্রায় ৪০-৪৫% ইরোসিক এসিড নামক একটি
ক্ষতিকারক ফ্যাটি এসিড আছে যা হৃৎপিন্ডের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- বর্তমানে আমরা যে পরিমান সরিষার তৈল দৈনিক আহার করি তাতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
 
উৎস: School of Agriculture & Rural Development, Bangladesh Open University
৯,১৪৬.
What is an example of a magnetic material?
  1. Aluminum
  2. Copper
  3. Cobalt
  4. Silver
  5. Zinc
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ- লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ- সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১৪৭.
স্বল্পমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
  2. পটাসিয়াম ক্লোরাইড
  3. ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড
  4. পটাসিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute):
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়।
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব।
একইভাবে,
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব।
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব।

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন- 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), 
• সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), 
• সিলভার আয়োডাইড (AgI), 
• সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), 
• ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3), 
ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), 
• ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), 
• ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2
• লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), 
পটাসিয়াম ক্লোরাইড (KCI), 
পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3), 
অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4CI), 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৪৮.
কম্পিউটারের মনিটরে কোন তিনটি রং প্রয়োজনীয় তীব্রতা দিয়ে অন্য সব রং তৈরি করে?
  1. ক) লাল, কমলা এবং সবুজ
  2. খ) লাল, আসমানী এবং হলুদ
  3. গ) লাল, নীল এবং সবুজ
  4. ঘ) লাল, বেগুনী এবং কমলা
ব্যাখ্যা
টেলিভিশন বা কম্পিউটারের মনিটরে কিংবা বইপুস্তকের রঙিন ছবির রংগুলো আসে লাল, নীল এবং সবুজ রংয়ের সূক্ষ্ম বিন্দু দিয়ে অর্থাৎ এই তিনটি রং প্রয়োজনীয় তীব্রতা দিয়ে অন্য সব রং তৈরি করে।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৯,১৪৯.
মৌলিক রাশি কয়টি?
  1. ক) ৫ টি
  2. খ) ৭ টি
  3. গ) ৯ টি
  4. ঘ) অসংখ্য
ব্যাখ্যা
কিছু কিছু মূল রাশি আছে, যেগুলো অন্য রাশির উপর নির্ভরশীল নয়। এসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এগুলো হলো দৈর্ঘ্য, ভর, সময়,তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ।
যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯,১৫০.
এক মাইক্রোফ্যারাড বলতে বুঝায় -
  1. এক ফ্যারাডের এক লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  2. এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ
  3. এক ফ্যারাডের এক কোটি ভাগের এক ভাগ
  4. এক ফ্যারাডের দশ কোটি ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
পরিবাহীর ধারকত্ব: 
- কোনো বিভব একক পরিমাণ বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ আধানের প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ পরিবাহকের ধারকত্ব বলে। 
মনে করি, কোনো পরিবাহকের বিভব V পরিমাণ বৃদ্ধি করতে Q পরিমাণ আধান প্রয়োজন হয়। 
সুতরাং, পরিবাহকের ধারকত্ব, Q ∞ V 
বা, Q/V = ধ্রবক = ধারকত্ব 
∴ C = Q/V. 

একক: 
- এস. আই বা S.I পদ্ধতিতে ধারকত্বের একক ফ্যারাড (F)। 
- উপরের সমীকরণ থেকে দেখা যায় যে, V = 1 ভোল্ট (V) এবং Q = 1 কুলম্ব (C) হলে C = 1 ফ্যারাড (F) হয়। 

ফ্যারাডের সংজ্ঞা: 
- কোনো পরিবাহীর বিভব এক ভোল্ট (IV) বৃদ্ধি করতে যদি এক কুলম্ব (IC) আধানের প্রয়োজন হয়, তাহলে ঐ পরিবাহীর ধারকত্বকে এক ফ্যারাড (IF) বলে। 
∴ 1F= 1C/1V = 1 CV-1 
- এক ফ্যারাড (1F) বেশ বড় একক বিধায়, একে সচরাচর ব্যবহার করা হয় না মাইক্রোফ্যারাড (µF) কেই ধারাকত্বের একক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এক ফ্যারাডের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগকে এক মাইক্রোফ্যারাড বলে। 
অর্থাৎ, 1µF = 10-6F. 
- মাইক্রোফ্যারাড ছাড়াও ন্যানোফ্যারাড (nF), পিকোফ্যারাড বা মাইক্রো মাইক্রোফ্যারাড (µµF) এককও ব্যবহার করা হয়। 
1nF = 10-9F এবং 1pF = 1µµF =10-12F. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৫১.
বিএমআই -এর মতে কোনটি মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তরের মান?
  1. ক) ৩০ - ৩৪.৯
  2. খ) ২৫ - ২৯.৯
  3. গ) ৩৫.০-৩৯.৯
  4. ঘ) ১৮.৫ - ২৪.৯
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index)
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে।
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী।
   বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার)২ 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে।
• ১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন।
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১৫২.
মরিচাবিহীন ইস্পাত তৈরিতে নিচের কোন উপাদানটি ব্যবহৃত হয় না?
  1. লোহা
  2. নিকেল
  3. ক্রোমিয়াম
  4. কপার
ব্যাখ্যা
- মরিচাবিহীন ইস্পাত তৈরিতে 'কপার' উপাদানটি ব্যবহৃত হয় না।

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
- আবার, লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। 
- মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচে কিছু সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হয়েছে- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৫৩.
নিচের কোনটি নির্ণয় করার জন্য একটি Transformer এর No-load টেস্ট করা হয়-
  1. Copper loss
  2. No-load current and no-load loss
  3. Efficiency of the transformer
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- Transformer এ সাধারণর no load test ও short circuit test করা হয়। 

- no load test এর মাধ্যমে No-load current and no-load loss নির্ণয় করা হয়। 

No load test
ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়:
রেটেড ভোল্টেজ ট্রান্সফরমারের প্রাথমিক উইন্ডিংয়ে প্রয়োগ করা হয়।

সেকেন্ডারি উইন্ডিং ওপেন: সেকেন্ডারি উইন্ডিং ওপেন-সার্কিটেড থাকে, মানে এর সাথে কোনো লোড সংযুক্ত থাকে না।

পরিমাপ:
নো-লোড কারেন্ট  পরিমাপ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে কোর চুম্বকীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় কারেন্ট এবং নো লোড লস। 

- অন্যদিকে, short circuit test করা হয় Copper loss নির্ণয়ের জন্য। 
৯,১৫৪.
'ডলফিন' কী ধরণের প্রাণী?
  1. সরীসৃপ
  2. স্তন্যপায়ী
  3. উভচর
  4. ব্লাটোডিয়ানস
ব্যাখ্যা
- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do.
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads.
 
- This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water.
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs.

Source: uk.whales.org

- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী। কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য এগুলো মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে।
- পানিতে এই প্রাণীগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই।
৯,১৫৫.
রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়। এর প্রধান কারণ-
  1. ক) এটি হালকা ও দামে সস্তা
  2. খ) এটি সব দেশেই পাওয়া যায়
  3. গ) এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
  4. ঘ) এটি সহজে ভেঙ্গে যায় না এবং বেশি গরম সহ্য করতে পারে
ব্যাখ্যা
সহজলভ্য ধাতুর মধ্যে অন্যান্য ধাতব পদার্থের তুলনায় এলুমিনিয়ামের তাপ পরিবহন ক্ষমতা বেশি বলে এলুমিনিয়ামের তৈরী হাড়ি পাতিল খাদ্যদ্রব্য দ্রুত সিদ্ধ করতে পারে এবং তাপ শক্তির কম অপচয় হয়।
৯,১৫৬.
ডিজিটাল টেলিফোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য-
  1. ডিজিটাল সিগনালে বার্তা প্রেরণ
  2. বোতাম টিপিয়া ডায়াল করা
  3. অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যবহার
  4. নতুন ধরনের মাইক্রোফোন
ব্যাখ্যা
- টেলিফোনে প্রধানত দুটো প্রধান অংশ থাকে। 
যথা- গ্রাহক যন্ত্র ও প্রেরক যন্ত্র। 
- টেলিফোনে সংবাদ আধানে দুটি পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। 
যথা- এনালগ ও ডিজিটাল। 
- এনালগ পদ্ধতিতে শব্দকে সরাসরি তড়িতে পরিণত করে প্রেরণ করা হয়। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে তড়িৎশক্তিকে ডিজিটাল সংবাদে রূপান্তর করে বার্তা প্রেরণ করে
- এনালগ পদ্ধতিতে শব্দ আদান-প্রদানে অসুবিধা হয় কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতিতে শব্দ আদান প্রদানে সুবিধা হয়। 
- বর্তমানে ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থা বহুলভাবে প্রচলিত। এটির সুবিধা হল কম্পিউটার ব্যবস্থার সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৫৭.
পাকস্থলির প্রাচীরকে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে রক্ষা করে কোনটি? 
  1. ট্রিপসিন
  2. মিউসিন
  3. পেপসিন
  4. টায়ালিন
ব্যাখ্যা
পাকস্থলি: 
- বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে প্রায় ২৫ সে. মি. লম্বা ও ১৫ সে.মি. চওড়া বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলি। 
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। 
যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি। 
- পাকস্থলির প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। 
- এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। 
- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে। 
- 'মিউসিন' পাকস্থলির প্রাচীরকে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে রক্ষা করে। 
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো হাইড্রোক্লোরিক এসিডের উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৫৮.
পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, যদি সময় দ্বিগুণ হয়, বেগ কীভাবে পরিবর্তিত হবে? 
  1. অর্ধেক হবে 
  2. দ্বিগুণ হবে 
  3. অপরিবর্তিত থাকবে 
  4. চারগুণ হবে 
ব্যাখ্যা

- পড়ন্ত বস্তুর দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, যদি সময় দ্বিগুণ হয়, বেগ দ্বিগুণ হারে পরিবর্তিত হবে। 

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র: 
- সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
যেমন- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,১৫৯.
আলো যখন বিভিন্ন মাধ্যমে প্রবেশ করে বা প্রতিফলিত হয়, তখন কোন ঘটনা ঘটে?
  1. প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন
  2. বিচ্ছুরণ, সমবর্তন
  3. উভয়ই (ক ও খ)
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

•  আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, বাতিচার, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ এবং সমবর্তন ঘটে।

• আলো:
• কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব মাধ্যমে আলো সরলপথে চলে।
• কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমে বা মাধ্যম ছাড়া আলো একটি নির্দিষ্ট বেগে চলে।
• শূন্যস্থানে এই বেগের মান c = ৩ × ১০ m/s
• সূর্য থেকে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড বা ৮.৩২ মিনিট সময় লাগে।
•  আলো এক ধরনের তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
• আলোর একমাত্র উপাদান হলো ফোটন, বা কণা ধর্মের প্রকাশ করে।
• আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, বাতিচার, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ এবং সমবর্তন ঘটে।
• আলো কখনো তরঙ্গের ন্যায় আবার কখনো কণার মতো আচরণ করে।
• ১ আলোকবর্ষ ৯.৪৬১ × ১০১২ কি.মি= ৫.৮৭৯ ×  ১০১২ মাইল।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,১৬০.
নিচের কোনটিতে নিউট্রন নেই?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা:
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে।
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g।
- আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৬১.
আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ৩৩
  2. ৩৮
  3. ৩৬
  4. ৪৪
ব্যাখ্যা
- আর্সেনিকের (As) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩। 

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11  । 
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17  । 
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রনের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

অন্যদিকে, 
- স্ট্রনসিয়ামের (Sr) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৮। 
- ক্রিপটনের (Kr) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৬। 
- রুথেনিয়াম (Ru) পারমাণবিক সংখ্যা ৪৪। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৯,১৬২.
সহসা দরজা খুলতে চাইলে দরজার কোথায় বল প্রয়োগ করা উচিত?
  1. ক) কব্জার বিপরীত প্রান্তে
  2. খ) মাঝখানে
  3. গ) কব্জার কাছে
  4. ঘ) উপরের প্রান্তে
ব্যাখ্যা
কব্জার কাছে বল প্রয়োগ করার চেয়ে কব্জার বিপরীত প্রান্তে বল প্রয়োগ করলে সহজে দরজা খুলে যায়। 
কারণ বিপরীত প্রান্তে অল্প বল প্রয়োগ করলে দরজা খুলে যাবে।
৯,১৬৩.
কোন প্রজাতি প্রাকৃতিক ক্লোনিং মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে? 
  1. ব্যাকটেরিয়া 
  2. শৈবাল
  3. প্রোটোজোয়া
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত।
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়।
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,১৬৪.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম? 
  1. পিঁপড়া
  2. লিমুলাস
  3. তেলাপোকা
  4. ম্যানিস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী হচ্ছে জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১৬৫.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মাইক্রো উপাদান?
  1. ক্লোরিন
  2. হাইড্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পুষ্টি:
- উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য মাটি, বায়ু এবং পানি থেকে কতগুলো উপাদান গ্রহণ করে, এই উপাদানগুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদন বলে।
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements) বলা হয়।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ম্যাক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা- নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।

২. মাইক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলে।
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn). মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৬৬.
মৃৎক্ষার ধাতু কোনটি?
  1. K
  2. Ca
  3. Li
  4. Na
ব্যাখ্যা
মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal): 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

ক্ষার ধাতু (alkali metal): 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৬৭.
বাদুড়ের শ্রাব্যতার ঊর্ধসীমা -
  1. ক) 1,000 Hz
  2. খ) 10,000 Hz
  3. গ) 1,00,000 Hz
  4. ঘ) 10,00,000 Hz
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz
বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz
ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz
বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz ∼ ১,০০,০০০ Hz

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৯,১৬৮.
পারমাণবিক চুল্লিতে সাধারণত কোন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়?
  1. নিউক্লিয়ার ফিশন
  2. জারণ বিক্রিয়া
  3. নিউক্লিয়ার ফিউশন
  4. বিস্ফোরণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।

• পারমাণবিক চুল্লি:
- নিউক্লিয়ার রিয়‍্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,১৬৯.
শীতকালে কোন রঙেয়ের কাপড় আরামদায়ক?
  1. ক) সাদা
  2. খ) সবুজ
  3. গ) কাল
  4. ঘ) নীল
ব্যাখ্যা

কালো রং অন্য সকল রংকে শোষণ করতে পারে বলে শীতকালে কালো রঙের কাপড় পরা আরামদায়ক।
অন্যদিকে, সাদা রং অন্য সকল রংকে প্রতিফলিত করে দেয় বলে গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের কাপড় পরা আরামদায়ক।

৯,১৭০.
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কোন ধরনের শক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে?
  1. আলোক শক্তি
  2. স্থিতি শক্তি
  3. গতি শক্তি
  4. যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা

• জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভব শক্তি বা, স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়।

• জলবিদ্যুৎ:

- পানির স্রোতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- পানির স্রোত এবং জোয়ার-ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
- পানির স্রোতে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি বিদ্যমান, যা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দেশের একটি উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।
- এই প্রকল্পে বিভব শক্তি এবং স্থিতি শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টার্বাইন ঘোরানো হয়, যা যান্ত্রিক শক্তি তৈরি করে।
- এই যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,১৭১.
নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস-
  1. ক) মাটি
  2. খ) উদ্ভিদ
  3. গ) বায়ুমণ্ডল
  4. ঘ) প্রাণীদেহ
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডল:
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি।
- যথা: নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

- বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা পরিমাণ,
নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
• অক্সিজেন ২০.৭১%,
• আর্গন ০.৮০%,
• জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
• কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১৭২.
বঙ্গোপসাগরে কত কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে?
  1. ১২০ কিলোমিটার
  2. ১৬০ কিলোমিটার
  3. ১১০ কিলোমিটার
  4. ১৩০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে  সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। তবে এ সময় বাংলাদেশের কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 
- ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরের আরাকান অঞ্চলে সংঘটিত একটি ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বাংলাদেশে আঘাত এনেছিল। তখন কক্সবাজার এবং পার্শ্ববর্তী দ্বীপসমূহে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৯,১৭৩.
ইলেকট্রনের কণা ও তরঙ্গ ধর্ম উভয়ই বিদ্যমান- এই তত্ত্ব প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৪ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা

- বোর পরমাণু মডেলে ইলেকট্রনকে শুধু কণা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
- ১৯২৪ সালে বিজ্ঞানী লুই ডি ব্রগলি মত প্রকাশ করেন যে, ইলেকট্রনের কণা ও তরঙ্গ উভয় ধর্ম আছে।
- লুই ডি ব্রগলির এ বক্তব্যকে ১৯২৬ সালে বিজ্ঞামী ই. স্রোডিঞ্জার আরও সংশোধন ও পরিমার্জন করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৯,১৭৪.
'Adult Cell' ক্লোন করে কোন দেশে একটি ভেড়ার জন্ম হয়েছে -
  1. ক) যুক্তরাজ্যে
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্রে
  3. গ) অস্ট্রোলিয়ায়
  4. ঘ) ফ্রান্সে
ব্যাখ্যা
- কোনো জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ায় হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে।
- ড. ইয়ান উইলমুট প্রথম ক্লোন পদ্ধতিতে একটি ভেড়ার জন্ম দেন।
- সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম দেওয়া হয়েছিল তার নাম ডলি।
- ডব্লিউ.এইচ.ও (WHO) বর্তমানে মানব শিশুর ক্লোন নিষিদ্ধ করেছে।
৯,১৭৫.
মানবদেহে কত জোড়া 'অটোজোম' থাকে?
  1. ১ জোড়া
  2. ২৩ জোড়া
  3. ২২ জোড়া
  4. ৪৬ জোড়া
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : গ) ২২ জোড়া

• ক্রোমোজোম:
 
- ক্রোমোজোম হলো কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ডিএনএ (DNA) ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত সুতার মতো বংশগতির বাহক, যা কোষ বিভাজনের সময় দৃশ্যমান হয়।
- এগুলো জিনের ধারক হিসেবে জীবের সমস্ত বংশগতীয় বৈশিষ্ট্য (যেমন- চোখের রং, উচ্চতা) এক প্রজন্মে থেকে অন্য প্রজন্মে সঞ্চারিত করে, তাই একে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলা হয়। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।  

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,১৭৬.
বিটা রশ্মির আধানের পরিমাণ কত?
  1. - ১.৬ × ১০- ২১ কুলম্ব
  2. - ১.৬ × ১০-১৯ কুলম্ব
  3. - ৯.৮ × ১০-২৩ কুলম্ব
  4. - ৬.০২ × ১০-১৯ কুলম্ব
ব্যাখ্যা
• বিটা (β) রশ্মি:
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- বিটা রশ্মি হচ্ছে অতি উচ্চ দ্রুতি সম্পন্ন ইলেক্ট্রনের প্রবাহ।
- বিটা কণার দ্রুতি আলোর দ্রুতির প্রায় সমান। (শতকরা ৯৮ ভাগ)।
- এটি ঋণাত্বক চার্জযুক্ত। এর আধান - ১.৬ × ১০-১৯ কুলম্ব।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- ভেদন ক্ষমতা আলফা কণা অপেক্ষা বেশী।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান। ৯.১×১০-৩১ কেজি।

উতস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৭৭.
তেলাপোকার হৃৎপিণ্ড কত প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট?
  1. ৩ প্রকোষ্ঠ
  2. ৪ প্রকোষ্ঠ
  3. ৮ প্রকোষ্ঠ
  4. ১৩ প্রকোষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• তেলাপোকার হৃৎপিণ্ড ১৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। এটি একটি নলাকার হৃৎপিণ্ড, যা পিঠের দিকে থাকে এবং প্রতিটি প্রকোষ্ঠে রক্ত প্রবাহিত হয়।

- ক্যাটল ফিস ও অক্টোপাসের হৃৎপিণ্ড আছে ৩টি করে।
- ব্যাঙের হৃৎপিণ্ড ৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। উপরের দিকে দুটি অলিন্দ এবং নিচের দিকে দুটি নিলয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১৭৮.
নিম্নলিখিত কোনটি উদ্ভিদের ম্যাক্রোউপাদান নয়?
  1. ক্যালসিয়াম (Ca)
  2. দস্তা (Zn)
  3. নাইট্রোজেন (N)
  4. ফসফরাস (P)
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের ম্যাক্রোউপাদান নয়- দস্তা (Zn), এটি একটি মাইক্রোউপাদান (micronutrient), অর্থাৎ উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য এটি খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়।

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদান: 

- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে, এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্তপ্রয়োজনীয়।  এই ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়, কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। এদের যে কোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদের অভাবজনিত লক্ষণ (Deficiency symptoms) প্রকাশ পায় এবং পুষ্টি অভাবজনিত রোগ সৃষ্টি হয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুইভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্রোউপাদান (Macronutrient) বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়।
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S)। 

(খ) মাইক্রোউপাদান (Micronutrient) বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,১৭৯.
অর্ধপরিবাহী পদার্থে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে রোধ কীভাবে পরিবর্তিত হয়? 
  1. হ্রাস পায় 
  2. বৃদ্ধি পায় 
  3. এলোমেলোভাবে পরিবর্তিত হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
ব্যাখ্যা

অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। 
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য: 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0 K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,১৮০.
হাইড্রোজেনের তুলনায় কোন মৌল কম সক্রিয়? 
  1. সোডিয়াম 
  2. সিলভার 
  3. লিথিয়াম 
  4. আয়রন 
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেন অপেক্ষা কম সক্রিয় মৌল- সিলভার (Ag)। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকা অনুসারে, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। - মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু + লঘু এসিড → লবণ + হাইড্রোজেন। 
যেমন- অধিক সক্রিয় জিংক ধাতু ও লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা লঘু সালফিউরিক এসিড বা লঘু নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
• Zn(s) + 2HCl(aq) → ZnCl2(aq) + H2(g) 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,১৮১.
নিচের কোনটি একটি বামন গ্রহ?
  1. সেরেস
  2. আলফ সেন্টুরি
  3. প্লুটো
  4. বুধ
ব্যাখ্যা

১৯৩০ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্লাইভ টমবার্গ যখন প্লুটোকে খুঁজে বের করেন তখন একে সৌরজগতের একটি গ্রহের মর্যাদা দেওয়া হলেও ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নের সংজ্ঞানুসারে প্লুটোকে বামন গ্রহ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্লুটো ছাড়াও সৌতজগতে এরিস, ম্যাকিম্যাকি ও সিরেস নামে আরো কয়েকটি বামনগ্রহ রয়েছে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৯,১৮২.
ভুট্টায় কোন ধরনের পরাগায়ন ঘটে?
  1. ক) প্রাণী পরাগায়ন
  2. খ) পানি পরাগায়ন
  3. গ) বায়ু পরাগায়ন
  4. ঘ) পতঙ্গ পরাগায়ন
ব্যাখ্যা

ধান, ভুট্টা, গম, ইক্ষু ইত্যাদিতে বায়ু পরাগায়ন ঘটে।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান-নবম দশম শ্রেণী

৯,১৮৩.
ওয়াটার গ্যাসের উপাদানগুলো কি কি?
  1. হাইড্রোজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন ও কার্বন-মনোঅক্সাইড
  3. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- ওয়াটার গ্যাস হলো একটি গ্যাসীয় মিশ্রণ যা হাইড্রোজেন (H₂) এবং কার্বন-মনোঅক্সাইড (CO) দ্বারা গঠিত।
- এটি সাধারণত কোক বা কোলে স্টিম (বাষ্প) দ্বারা উত্তপ্ত করে প্রস্তুত করা হয়।
- এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কোক বা কাঠের কার্বন গ্যাসের সাথে প্রতিক্রিয়া করে কার্বন-মনোঅক্সাইড এবং হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে, যা ওয়াটার গ্যাস হিসেবে পরিচিত।
- রাসায়নিক সমীকরণ: C + H2O → CO + H2

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯,১৮৪.
আচার সংরক্ষণে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. ল্যাকটিক এসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. এসকরবিক এসিড
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

ভিনেগার বা এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 

বেকিং সোডা: 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১৮৫.
মৌলিক বল নয় কোনটি?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. ঘর্ষণ বল
  3. তাড়িতচৌম্বক বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
বলের বিভিন্নতা সত্ত্বেও সকল প্রকার বলকে মাত্র চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এই চার প্রকার বলকে মৌলিক বল বলে।
“যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বরং অন্যান্য বল এ সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে”।

মৌলিক বলগুলো হল :
১. মহাকর্ষ বল
২. তাড়িতচৌম্বক বল 
৩. সবল নিউক্লিয় বল 
৪. দুর্বল নিউক্লিয় বল

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯,১৮৬.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বলে ________। 
  1. ক) বিস্তার 
  2. খ) দশা 
  3. গ) কম্পাঙ্ক 
  4. ঘ) প্রতিধ্বনি 
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 
৯,১৮৭.
শিলার বৈশিষ্ট্য কোনটি সঠিক?
  1. শক্ত, ভিজলে নরম হয় না এবং গাছ পালা জন্মায় না
  2. শক্ত, ভিজলে নরম হয় না এবং গাছ পালা জন্মায়
  3. নরম, পানিতে ভিজলে নরম হয় এবং গাছ পালা জন্মে
  4. নরম, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে না
ব্যাখ্যা
মাটি: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 

শিলা: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল যৌগিক পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

খনিজ পদার্থ ও খনিজ সম্পদ: 
- ভূপৃষ্টের সকল স্থানেই বিভিন্ন ধাতু বা অধাতুর যৌগ পাওয়া গেলেও তা সব সময় লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় না। যদি ভূপৃষ্টের উপরিতলে বা ভূপৃষ্টের অভ্যন্তরে কোন যৌগ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যা থেকে কোন ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায়, তবে সেই স্থানকে খনি বলে। আর খনি থেকে প্রাপ্ত পদার্থকে খনিজ পদার্থ বলে। 
- আবার যদি এসকল পদার্থ লাভজনক ভাবে আহরণ করা যায় তবে এদের খনিজ সম্পদ বলা হয়। 
- স্বর্ণ, হীরা, কয়লা, সালফার ইত্যাদি খনিতে মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়, তাই এগুলো মৌলিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 
- মৌলিক খনিজ ব্যতিত সকল খনিজই যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায় এবং এগুলো যৌগিক খনিজ হিসেবে পরিচিত। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না, খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৮৮.
সেকেন্ড দোলকের দোলনকালকে কী দ্বারা প্রকাশ করা হয়?
  1. g
  2. L
  3. T
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• সেকেন্ড দোলকের দোলনকালকে 'T' দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• সেকেন্ড দোলক:

- একটি সরল দোলক, যার পূর্ণ দোলনকাল দুই সেকেন্ড। অর্থাৎ, এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এবং আবার ফিরে আসতে মোট দুই সেকেন্ড সময় নেয়, তাকে সেকেন্ড দোলক বলা হয়।
- সেকেন্ড দোলক প্রতি ১ সেকেন্ডে একটি অর্ধদোলন সম্পন্ন করে।

• সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য:
- সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল, T = 2s

আমরা জানি,
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g)
∴ সেকেন্ড দোলকের জন্য, 2s = 2π √(L/g)
⇒ L = gs22

∴ দেখা যায় যে, সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে।
- সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৯,১৮৯.
রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে কী উপাদান যোগ করা হলে এটি পানের অযোগ্য হয়ে যায়? 
  1. গ্লুকোজ
  2. ফসফেট
  3. অ্যামোনিয়া
  4. মিথানল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৯০.
কোন কোষের নিউক্লিয়াস কোনো আবরণী দ্বারা আবদ্ধ নয়?
  1. আদি কোষ
  2. প্রকৃত কোষ
  3. দেহ কোষ
  4. জনন কোষ
ব্যাখ্যা
কোষ: 
- জীবজগতের অধিকাংশ উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় বিভিন্ন কাজে কোষগুলো যুক্ত থাকে। 
- কাজের উপর ভিত্তি করে বহুকোষী জীবে কোষের আকৃতি নানা রকমের হয়ে থাকে। 
- বহুকোষী একটি জীবের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য সব ধরনের কোষেরই সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন এবং সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। 
- কোষ আণুবীক্ষণীক বস্তু। অর্থাৎ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া কোষ দেখা যায় না। 
- ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কোষ প্রত্যক্ষ করেন। 

জীবকোষের প্রকারভেদ: 
- নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে কোষকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- আদি কোষ ও প্রকৃত কোষ। 
- আদি কোষের নিউক্লিয়াস কোনো আবরণী দ্বারা আবদ্ধ নয়। 
যেমন- ব্যাকটেরিয়া। 
- প্রকৃত কোষের নিউক্লিয়াসে আবরণ থাকে। 
- প্রকৃত কোষকে তাদের কাজের ভিত্তিতে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- দেহকোষ ও জননকোষ। 
- দেহকোষ দেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণ করে। এসব কোষ বিভাজনের কারণে জীবদেহ বৃদ্ধি পায়। 
- জননকোষের কাজ হলো জীবের প্রজননে অংশ নেওয়া। 
- জীবের দেহে বিভিন্ন আকার আকৃতির কোষ দেখা যায়। 
যেমন- গোলাকার, ডিম্বাকার, আয়তাকার ইত্যাদি। 
- সাধারণত কোষ এতই ক্ষুদ্র যে খালি চোখে দেখা যায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯,১৯১.
'তাপ ইঞ্জিন একটি যন্ত্র' যা রূপান্তর করে- 
  1. তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে
  2. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে
  3. রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে
  4. যান্ত্রিক শক্তিকে তাপ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
তাপীয় ইঞ্জিন: 
- যে যন্ত্র দ্বারা তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। 
যেমন- বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন, ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি। 
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে। 
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে। 
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে। 
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। 
অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে। 
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৯২.
ফোটন শক্তি 'E' এর সমীকরণটি হল-
  1. hλ/c
  2. hc/λ
  3. cλ/h
  4. chλ
ব্যাখ্যা
◉ ফোটন শক্তি 'E' এর সমীকরণটি হলো- E = hc/λ

ফোটন কণা:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ, আলো তড়িৎ ক্রিয়া, কম্পটন ক্রিয়াগুলোকে ব্যাখ্যা করার জন্য বিকিরণ শক্তিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেটের গুচ্ছ প্রবাহ আকারে বিবেচনা করা হয়। এই শক্তিকে আলোর কোয়ান্টা (quanta) বা ফোটন (photon) বলে।

• প্রতিটি ফোটনের শক্তি মান E = hf, যেখানে কম্পাংক, f = c/λ.
বা, E = hf
বা, E = h × c/λ
∴ E = hc/λ

এখানে, λ হলো বিকিরণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৯৩.
নিচের কোনটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর?
  1. তামা
  2. সিলিকন
  3. রূপা
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

• সিলিকন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর, কারণ এটি সহজলভ্য, স্থিতিশীল এবং তাপমাত্রা ও অমিশ্রণের মাধ্যমে এর তড়িৎ পরিবাহিতা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

• সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor):

- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা পরিবাহী ও অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, সেগুলোকে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী পদার্থ বলা হয়।
- আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির ভিত্তি হলো সেমিকন্ডাক্টর।
- সেমিকন্ডাক্টরের পরিবাহিতা তাপমাত্রা, আলো ও অমিশ্রণ (Impurity) দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- সাধারণ তাপমাত্রায় সেমিকন্ডাক্টরের পরিবাহিতা কম থাকে, কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর হলো সিলিকন (Silicon)।
- সিলিকন পরমাণুর বহিঃকক্ষে চারটি ইলেকট্রন থাকে।
- বিশুদ্ধ সিলিকনে প্রতিটি পরমাণু চারটি প্রতিবেশী পরমাণুর সাথে সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে।
- বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টরে মুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা খুব কম থাকায় তড়িৎ পরিবাহিতা সীমিত হয়।
- সেমিকন্ডাক্টরে উপযুক্ত অমিশ্রণ যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
- ট্রানজিস্টর, ডায়োড ও ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরিতে সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৯,১৯৪.
মহাশূন্য থেকে আগত রশ্মি বা কণাকে বলা হয়-
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. কসমিক রশ্মি
ব্যাখ্যা

- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে, তাদের সমষ্টিকে মহাজগতিক রশ্মি বা কসমিক রশ্মি বলে।
- বিজ্ঞানী ভিক্টর হেস ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৯,১৯৫.
রেচনতন্ত্রের মাধ্যমে শতকরা কত ভাগ রেচন পদার্থ নিষ্কাশিত হয়?
  1. ৫০ ভাগ
  2. ৬০ ভাগ
  3. ৭০ ভাগ
  4. ৮০ ভাগ
ব্যাখ্যা
মানুষের রেচন প্রক্রিয়া: 
- রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়। 
- দেহের এ সকল বর্জ্য পদার্থগুলো শরীরে কোন কারণে জমতে থাকলে নানা রকমের অসুখ দেখা দেয়, পরবর্তীতে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। 
- রেচন প্রক্রিয়ায় দেহের বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশিত হয়ে দেহ থেকে বের করে দিয়ে দেহের শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- শরীরের অতিরিক্ত পানি, লবণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জৈব পদার্থগুলো সাধারণত রেচনের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। 
- রেচন পদার্থ নিষ্কাশনের জন্য মানবদেহে সুনির্দিষ্ট অঙ্গ রয়েছে। 
- যে সব অঙ্গ রেচন কাজে অংশ গ্রহণ করে তাদেরকে রেচন অঙ্গ বলা হয়। এটি রেচনতন্ত্র নামে পরিচিত। 
- রেচনতন্ত্রের মাধ্যমে শতকরা ৮০% রেচন পদার্থ নিষ্কাশিত হয়। বাকি ২০% রেচন পদার্থ বিভিন্ন ক্রিয়াকর্মে উৎপন্ন ও বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। 
- মানবদেহের রেচন অঙ্গের নাম বৃক্ক। 
- আর বৃক্কের একক হলো নেফ্রন। 

রেচন পদার্থ: 

- রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়। 
- রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে। 
যেমন- নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ অ্যামোনিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, পিত্ত রঞ্জক, বিভিন্ন ধরনের লবণ এবং ঘাম ও পানি বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৯৬.
পানির ফোঁটা গোলাকৃতি ধারণ করার কারণ কী? 
  1. প্লবতা
  2. বায়ুচাপ
  3. পৃষ্ঠটান
  4. স্থিতিস্থাপকতা
ব্যাখ্যা
তলটান বা পৃষ্ঠটান: 
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে। 
- পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘটনা ঘটে তা হলো- 
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা। 
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা। 
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা। 
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া। 

- পানির ছোট ফোঁটা পৃষ্ঠটানের কারণে গোলাকৃতির হয়। 
- পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়। 
- মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১৯৭.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে কম?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বায়ু
  4. শূন্য
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ:
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। যেমন- ইস্পাত, লোহা।
- তরল পদার্থে শব্দের বেগ কঠিন পদার্থের চেয়ে কম হয়।
- বায়বীয় পদার্থে সবচেয়ে কম।

উল্লেখ্য,
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। যেহেতু শূন্য মাধ্যমে কোনো মাধ্যম নেই, তাই শব্দ সেখানে চলাচল করতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,১৯৮.
সর্বপ্রথম তড়িৎ চুম্বকের ধারণা দেন কে?
  1. ওয়ারস্টেড
  2. ওয়েবার
  3. গিলবার্ট
  4. কুলম্ব
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বক ক্রিয়া:
- আধুনিক বিজ্ঞান জগতে তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বক ক্রিয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশী অবদান রেখেছে।
- ফ্যান, মোটর, ইত্যাদি ঘূর্ণায়মান সকল যন্ত্রই তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়ার প্রভাবে কাজ করে।
- তড়িৎ প্রবাহ চারিদিকে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি করে।
- এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ঘটনার আবিষ্কারক কোপেনহেগেনের অধ্যাপক বিজ্ঞানী হেন্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড (1820)।
- ওয়েরস্টডের এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তাঁর নাম অনুসারে চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্যের একক ওয়েরস্টেড (Oersted) করা হয়েছিল।
- তড়িৎ প্রবাহ যেহেতু গতিশীল তড়িৎ আধান, অতএব তড়িৎ আধান গতিশীল হলেই চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।
- আধান স্থির থাকলে একে ঘিরে যে তড়িৎ ক্ষেত্র বর্তমান থাকে, আধান গতিশীল হলে তা দূরীভূত হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের উদ্ভব হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,১৯৯.
কোন রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়?
  1. এইডস
  2. কলেরা
  3. বসন্ত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের উপকারিতা:
- বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়
- ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
- ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
- কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
- জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা - ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
- লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,২০০.
খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় অন্ত্রের ক্রমসংকোচন- কোন ধরনের পেশীর উদাহরণ?
  1. ক) হৃদপেশী
  2. খ) অনৈচ্ছিক পেশী
  3. গ) ঐচ্ছিক পেশী
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় অন্ত্রের ক্রমসংকোচন হল অনৈচ্ছিক পেশী
কারণ, এ ধরনের পেশীর সংকোচন এবং প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। এ পেশীর কোষগুলো দেখতে মাকু আকৃতির। এদের গায়ে আড়াআড়ি দাগ থাকে না। মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তনালীতে, পৌষ্টিকনালী ইত্যাদিতে অনৈচ্ছিক পেশী থাকে।
ঐচ্ছিক পেশী- এ ধরনের পেশী প্রাণী নিজেদের ইচ্ছামতো সংকোচন এবং প্রসারণ করতে পারে। যেমন- হাত ও পায়ের পেশী।
হৃদপেশী- এ ধরনের পেশী মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃদপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশী। এ টিস্যুর কোষগুলো দেখতে নলাকৃতি ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। যেমন- হৃদপিণ্ডের পেশী।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান