বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ১৪০ · ৮০১৯০০ / ১৪,০৮০

৮০১.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় জীবদেহের হরমোনের কার্যকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) ফিজিওলজি
  2. খ) সাইটোলজি
  3. গ) এন্ডোক্রাইনোলজি
  4. ঘ) হিস্টোলজি
ব্যাখ্যা
এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): এ শাখায় জীবদেহের হরমোনের কার্যকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
শরীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচিত হয়৷
কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়৷
হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০২.
দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য কোন মিনারেল অত্যন্ত জরুরী?
  1. জিংক
  2. আয়োডিন
  3. ক্যালিসিয়াম
  4. আয়রন
ব্যাখ্যা
- দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য সবচেয়ে জরুরি মিনারেল হলো ক্যালিসিয়াম। 
- দুগ্ধদানকারী মায়েরা দুধ উৎপাদনের জন্য বেশি পরিমাণে ক্যালিসিয়াম লাগে। 
- ক্যালিসিয়াম শিশু ও দুগ্ধদানকারী মায়ের হাড়, দাঁত ও মাংসপেশির জন্য জরুরি। 
- জিংক, আয়োডিন ও আয়রনও গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল কিন্তু ক্যালিসিয়ামের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। 

ক্যালসিয়াম: 

- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৮০৩.
এক্স-রে হচ্ছে মূলত - 
  1. উচ্চ শক্তির নিউট্রন
  2. উচ্চ শক্তির প্রোটন
  3. উচ্চ শক্তির ইলেকট্রন
  4. উচ্চ শক্তির পজিট্রন
ব্যাখ্যা
এক্স-রে: 
- দ্রুতগতি সম্পন্ন ইলেকট্রন কোন ধাতুতে আঘাত করলে তা থেকে উচ্চভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন যে বিকিরণ উৎপন্ন হয়, তাকে X-Ray বলে। 
- সুতরাং এক্স-রে হচ্ছে মুলত উচ্চ শক্তির ইলেকট্রন প্রবাহ। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। 

- এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
• এক্স-রশ্মির সাহায্যে ফটোগ্রাফিক প্লেটে হাত, পা বা দেহের হাড়ের ছবি পাওয়া যায়। এজন্য শল্য চিকিৎসায় এক্স-রশ্মি অপরিহার্য। 
• এক্স-রশ্মির জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার, টিউমার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় এই রশ্মি ব্যবহৃত হয়। একে এক্স-রে থেরাপি বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০৪.
গ্রিন হাউস ইফেক্ট এর পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কি হবে?
  1. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  2. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  3. উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে
  4. ঝড়ের  প্রবণতা বেড়ে যাবে
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্ছে, ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে। 

গ্রিন হাউস গ্যাস: 
- গ্রিন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রিন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রিন হাউজ গ্যাস হচ্ছে- 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০৫.
যৌগিক রাশি নয় কোনটি?
  1. তড়িৎপ্রবাহ
  2. তাপ
  3. বিভব
  4. ত্বরণ
ব্যাখ্যা
• তড়িৎপ্রবাহ যৌগিক রাশি নয়।

ভৌত রাশি:
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি।

মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন-
• দৈর্ঘ্য,
• ভর,
• সময়,
• তাপমাত্রা,
• তড়িৎপ্রবাহ,
• দীপন তীব্রতা এবং
• পদার্থের পরিমাণ।

যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
যেমন -
• বেগ,
• ত্বরণ,
• কাজ,
• বল,
• তাপ,
• বিভব ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৬.
নিচের কোনটিকে দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান বলা হয়? 
  1. শর্করা
  2. স্নেহ 
  3. আমিষ 
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা

খাদ্য ও পুষ্টি: 
- পুষ্টি হলো পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যবস্তু আহরণ করে তা পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরণ দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পূরণ, রোগ প্রতিরোধ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা। পুষ্টির ইংরেজি শব্দ Nutrition.
- অপরদিকে খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের বেঁচে থাকার জন্য দরকারি শক্তির জোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে পরিপোষক বা নিউট্রিয়েন্টস (Nutrients) বলে। 
যেমন- গ্লুকোজ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ইত্যাদি হচ্ছে নিউট্রিয়েন্টস। 
- খাদ্যের কাজ প্রধানত তিনটি। 
যথা- 
১. খাদ্য দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। 
২. খাদ্য দেহে তাপ উৎপাদন করে, কর্মশক্তি প্রদান করে। 
৩. খাদ্য রোগ প্রতিরোধ করে, দেহকে সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম রাখে। 

খাদ্যের উপাদান: 
- খাদ্যের উপাদান ছয় (৬) টি। 
যেমন- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি। 
- স্নেহ এবং শর্করাকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য এবং আমিষযুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য, যদিও এর বাইরেও এসব উপাদানের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। 
- ভিটামিন, খনিজ লবণ, পানি ও আঁশ দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান, যেগুলো দেহের অন্যান্য কাজে লাগে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০৭.
পৃথিবীতে বিদ্যমান শক্তির প্রধান উৎস কোনটি?
  1. জলবিদ্যুৎ
  2. সূর্য কিরণ
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. ভূ-তাপীয় শক্তি
ব্যাখ্যা

সৌরশক্তি: 
- সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলে সৌরশক্তি।
- সূর্য হচ্ছে সকল শক্তির উৎস। 
- পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার প্রায় সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে। 
- জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) প্রকৃত পক্ষে বহু দিনের সঞ্চিত সৌরশক্তি। 
- প্রাচীনকাল থেকে মানুষ সূর্য কিরণকে সরাসরি ব্যবহার করছে কোনো কিছু শুকানোর কাজে। 

- বর্তমানে সূর্যের শক্তিকে সবসময় ব্যবহারের জন্য মানুষ নানান রকম উপায় অবলম্বন করছে। 
- লেন্স বা দর্পণের সাহায্যে সূর্য রশ্মিকে অভিসারী করে আগুন জ্বালানো যায়। 
- সৌরচুল্লির সাহায্যে সূর্য কিরণকে প্রতিফলিত করে গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার করা যায়। 
- শীত প্রধান দেশে ঘরবাড়ি গরম করার কাজে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করা হয়। 
- সৌর শক্তি ব্যবহার করে হিটার ও কুকার ব্যবহার করা যায়। 
- আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে সৌরকোষ। 
- সৌরকোষের বৈশিষ্ট্য হলো এর উপর সূর্যের আলো পড়লে এ থেকে সরাসরি তড়িৎ পাওয়া যায়। সৌরকোষের নানা রকম ব্যবহার রয়েছে। 
- সৌরশক্তি পরিবেশ বান্ধব, এটির ব্যবহারে পরিবেশ দূষিত হয়না। 
- সৌরশক্তির শেষ হবার কোন সম্ভাবনা নেই, এ শক্তির তাই প্রচলিত শক্তির উৎস জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা খুব বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৮.
লালা রসে কোন এনজাইমটি থাকে?
  1. টায়ালিন
  2. অ্যামাইলেজ
  3. সুক্রেজ
  4. ল্যাকটেজ
ব্যাখ্যা

• এনজাইম: 
- এনজাইম হলো এক ধরনের জৈব অনুঘটক, যা প্রোটিন দিয়ে গঠিত এবং জীবদেহের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতিকে ত্বরান্বিত করে, কিন্তু নিজে বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে অপরিবর্তিত থাকে, ফলে বারবার ব্যবহৃত হতে পারে।
- এটি হজম, শক্তি উৎপাদন, কোষের বৃদ্ধি ও বিপাকসহ প্রায় সমস্ত জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য অপরিহার্য।

• খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
- লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
- পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
- অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
- আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।

টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে যা পাকস্থলীতে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।

মলটেজ: ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৯.
তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কী বলা হয়?
  1. পর্যায়কাল
  2. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  3. বিস্তার
  4. কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা

• কম্পাঙ্ক হলো তরঙ্গ সঞ্চারকারী কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে তার সংখ্যা, যার একক হার্টজ (Hz)।

• তরঙ্গ সম্পর্কিত রাশি:
- পূর্ণ স্পন্দন: কোনো কণা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় সেই বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে একটি পূর্ণ স্পন্দন বলে।
- পর্যায়কাল (T): একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে, একক সেকেন্ড (s)।
- কম্পাঙ্ক (f): এক সেকেন্ডে সম্পন্ন পূর্ণ স্পন্দনের সংখ্যা, একক হার্টজ (Hz)।
- বিস্তার (Amplitude): সাম্যাবস্থা থেকে কণার সর্বাধিক সরণকে বিস্তার বলে।
- দশা (Phase): কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে কণার সরণ, বেগ, ত্বরণ ইত্যাদিসহ গতির অবস্থা হলো তার দশা।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ): পরপর দুটি সমদশা সম্পন্ন বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্বকে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বলে।
- তরঙ্গ বেগ (v): তরঙ্গ একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ বেগ বলে।

• কম্পাঙ্ক ও পর্যায়কালের সম্পর্ক:
- কম্পাঙ্ক ও পর্যায়কাল পরস্পরের ব্যস্তানুপাতিক।
- গাণিতিকভাবে, f = 1/T.

• কম্পাঙ্ক, তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও বেগের সম্পর্ক:
- তরঙ্গ বেগ, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের গুণফল।
- গাণিতিকভাবে, v = fλ.

• অন্যান্য অপশন:
- পর্যায়কাল → একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে সময়, একক সেকেন্ড।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য → পরপর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ বা দুটি তরঙ্গ তলের মধ্যবর্তী দূরত্ব।
- বিস্তার → সাম্যাবস্থা থেকে সর্বাধিক সরণ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১০.
নিচের কোনটি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়? 
  1. দৈর্ঘ্য
  2. ভর 
  3. সময় 
  4. তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

- তাপমাত্রা একটি থার্মোডাইনামিক রাশি এবং এটি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সরাসরি অন্তর্ভুক্ত বিষয় নয়।

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব: 

- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা। 
- ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা -
প্রথম স্বীকার্য: 
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 
দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 

৮১১.
ড্যানিয়েল কোষ এক ধরনের -
  1. সঞ্চয়ী কোষ
  2. সেকেন্ডারি কোষ
  3. প্রাইমারি কোষ
  4. উভমুখী কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮১২.
অ্যালটিমিটার (Altimeter) কী?
  1. উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র
  2. উষ্ণতা পরিমাপক যন্ত্র
  3. তাপ পরিমাপক যন্ত্র
  4. গ্যাসের চাপ পরিমাপক যন্ত্র
ব্যাখ্যা
অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
ক্যালরিমিটার- তাপ পরিমাপক যন্ত্র।
ম্যানোমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।

এছাড়াও
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার।
মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৮১৩.
মানুষের হৃৎপিণ্ডে মোট কয়টি প্রকোষ্ঠ থাকে?
  1. ৪টি 
  2. ৩টি 
  3. ২টি 
  4. ৫টি 
ব্যাখ্যা

- মানুষের হৃৎপিণ্ড একটি পেশীবহুল অঙ্গ যা চার (৪)টি প্রকোষ্ঠ বা কক্ষ নিয়ে গঠিত।

হৃৎপিণ্ড: 

- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium)। নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১৪.
ফোটন কণার মাধ্যমে কোন বল পরিবাহিত হয়?
  1. Electromagnetic force
  2. Strong nuclear force
  3. Weak nuclear force
  4. Gravitational force
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল - (Electromagnetic force) বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

ফোটন কণার ধর্মসমূহ-
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
- শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে(C= 3×108 ms-1) চলাচল করে।
- কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না।

- প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক।
- ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়।
- ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না।
- ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৫.
যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয় -
  1. ক) ফুসসুস
  2. খ) অন্ত্র
  3. গ) হাড়
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

যক্ষ্মা সাধারণত Mycobacterium Tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে হয় যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করলে অতি সহজে দেহে রোগ জীবাণুর বিস্তার ঘটে।
যক্ষ্মা শুধু ফুসফুসের রোগ এই ধারণাটা সঠিক নয়। যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস এরকম দেহের প্রায় যেকোনো জায়গায় হতে পারে।
সংক্রমিত গরুর দুধ খেয়েও যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই

৮১৬.
সালোকসংশ্লেষণের প্রধান উপজাত (by-product) কী? 
  1. পানি
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া: 
- সালোকসংশ্লেষণ হলো একটি জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ সবুজ পাতার ক্লোরোফিল রঞ্জকের সাহায্যে সূর্যালোক ব্যবহার করে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি থেকে খাদ্য তৈরি করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রধান খাদ্য উপাদান হিসেবে শর্করা উৎপন্ন হয়, যা সাধারণত স্টার্চ (মাড়) হিসেবে উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত থাকে। 
- প্রাণিদেহে অতিরিক্ত শর্করা গ্লাইকোজেন আকারে যকৃত ও পেশিতে জমা থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজাত (by-product) হলো অক্সিজেন, যা পরিবেশে নিঃসরণ হয়ে প্রাণীর জীবনধারণে সহায়ক হয়। 
• 6CO2 ​+ 6H2​O + আলো → C6​H12​O6 ​+ 6O2

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮১৭.
নিচের কোনটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) হিমোগ্লোবিন
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা:

- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে৷ যথা-
১. লোহিত রক্তকণিকা,
২. শ্বেত রক্তকণিকা ও
৩. অনুচক্রিকা।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০দিন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১৮.
অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে কী উৎপন্ন করে? 
  1. লবণ ও পানি
  2. পানি ও ক্ষার
  3. লবণ ও ক্ষারক
  4. অক্সিজেন ও লবণ
ব্যাখ্যা
লবণ (Salt): 
- অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- কোনো অ্যাসিডের হাইড্রোজেন কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি লবণ। 
- HCI অ্যাসিডের H পরমাণুকে সোডিয়াম (Na) ধাতুর প্রতিস্থাপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক লবণ উৎপন্ন হয়েছে। 


- এ ছাড়াও K2SO4, KNO3, CaCO3, NaHCO3, Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লবণ। 
- এই লবণগুলোর মধ্যে কোনোটি অম্লীয়, আবার কোনো ক্ষারীয়ও হতে পারে। 
i) পূর্ণ সরল লবণ (Simple salt): NaCl, KNO3, CaCO3
(ii) অম্লীয় বা আংশিক লবণ: Mg(HSO4)2, NaHCO3
(iii) ক্ষারকীয় লবণ: Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৯.
নিচের কোনটির সাহায্যে একটি তড়িৎ মোটরের গতি এবং শক্তি বৃদ্ধি করা যায?
  1. তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে
  2. কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে
  3. কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মোটর: 
- তড়িৎবাহী তারের উপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ মোটর তৈরি করা হয়। 
- যে তড়িৎ যন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে। 
- ডি. সি মোটর ও এ. সি মোটর নামে দুই ধরনের মোটর তৈরি হয়। 
- একটি ডি.সি. মোটরের বিভিন্ন অংশের নাম নীচে দেয়া হলো- 
১। ক্ষেত্র চুম্বক, 
২। আর্মেচার, 
৩। কম্যুটেটর, 
৪। ব্রাশ এবং 
৫। বহিঃবর্তনী। 

- কুণ্ডলীতে বলরেখার পরিবর্তন হবার কারণে কিছু আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির উদ্ভব হয়। 
- মোটরের গতি এবং শক্তি নিম্নোক্তভাবে বৃদ্ধি করা যায়। 
যথা- 
১। তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে। 
২। কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে। 
৩। শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে। 
৪। কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২০.
কার আবিষ্কৃত তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছিলো?
  1. ক) অরস্টেড
  2. খ) কাউন্ট রামফোর্ড
  3. গ) ম্যাক্স প্লাংক
  4. ঘ) মাইকেলসন
ব্যাখ্যা
১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, এই তত্ত্ব ব্যবহার করে পরবর্তীতে পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছিলো।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮২১.
তাপমাত্রার এস.আই একক কী? 
  1. ক্যালরি 
  2. কেলভিন 
  3. সেলসিয়াস 
  4. ফারেনহাইট 
ব্যাখ্যা

তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা এস.আই একক কেলভিন। 
- এ ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক হল সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২২.
১ অ্যাটোসেকেন্ড = কত সেকেন্ড?
  1. ১০-৮০ সেকেন্ড
  2. ১০-৮ সেকেন্ড
  3. ১০-২৮ সেকেন্ড
  4. ১০-১৮ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• ১ অ্যাটোসেকেন্ড = ১০-১৮  সেকেন্ড।
- পদার্থবিদ্যায় ২০২৩ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন পিয়েরে অ্যাগোস্টিনি (যুক্তরাষ্ট্র), ফেরেন্স ক্রাউজ (হাঙ্গেরি) ও অ্যান হুইলেয়ার (ফ্রান্স)।
- ইলেকট্রন ডাইনামিকস নিয়ে গবেষণা করে নোবেল পেয়েছেন তারা।
...................
...................
“এবার নোবেল দেওয়া হয়েছে এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিক্সের উপরে কাজের জন্য। তারা গবেষণা করেছেন লেজার ফিজিক্স নিয়ে সেখানে তারা অ্যাটোসেকেন্ডের লেজার পালস পদ্ধতি বের করেছেন। এটি একটি যুগান্তকারী কাজ কারণ এই পালস বস্তুর মধ্যে ইলেক্ট্রনের গতি প্রকৃতি জানতে সাহায্য করবে।
তাদের কাজের গুরুত্ব বুঝতে হলে ১ অ্যাটোসেকেন্ড কী, সেটা আগে বুঝতে হবে। ১ এর পরে ১৮ টা শূন্য দিলে যে নম্বর সেটা দিয়ে ১ সেকেন্ডকে ভাগ দিলে যে সময় হয় সেটা ১ অ্যাটোসেকেন্ড। ইলেকট্রনের পালস বুঝতে তারা খুবই ক্ষুদ্র সময়ের জন্য ইলেকট্রনের উপর আলোকসম্পাতের পদ্ধতি বের করেছেন।
ইলেকট্রনের আচরণ বুঝতে পারার জন্য ওই অল্প সময়ের পালস গণনা দরকার। তারা দুর্দান্ত একটি গবেষণা করেছেন। পদার্থের আণবিক কণার মধ্যে ইলেকট্রনের গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।”

- জটিল এই গবেষণার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন।

উৎস:
১) ৩ অক্টোবর, ২০২৩, ডেইলি স্টার।
২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন।
৮২৩.
ডিএনএ অণু কর্তনে কোন এনজাইম ব্যবহৃত হয়?
  1. লাইপেজ এনজাইম
  2. লাইগেজ এনজাইম
  3. রেস্ট্রিকশন এনজাইম
  4. লেকটোজেন এনজাইম
ব্যাখ্যা

প্রত্যাশিত ডিএনএ অণুকে ছেদন : এক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যাশিত ডিএনএঅণুকে মূল ডিএনএ থেকে কেটে আলাদা করা হয়।
প্রত্যাশিত ডিএনএ অণুকে কাঁটতে একটি বিশেষ এনজাইম (রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ দ্বারা ডিএনএ ছেদন করা হয়) ব্যবহার করা হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮২৪.
হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মিয়োসিস
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজনও বলা হয়। 

- মিয়োসিস সর্বদা জনন মাতৃকোষ তথা-মায়োসাইটে সম্পন্ন হয় এবং সর্বদাই 2n সংখ্যক ক্রোমোসোমবিশিষ্ট কোষে হয়।
- নিম্ন শ্রেণির উদ্ভিদে (হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে) মিয়োসিস হয় নিষেকের পর জাইগোটে, আর উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদে (ডিপ্লয়েড উদ্ভিদে) মিয়োসিস হয় নিষেকের পূর্বে জনন মাতৃকোষ হতে গ্যামেট সৃষ্টিকালে।
- যেহেতু মিয়োসিস-১ এ ক্রোমোসোমের সংখ্যা হ্রাস পায়, তাই মিয়োসিস কোষ বিভাজনের অপর নাম হ্রাসমূলক বিভাজন।
- মিয়োসিস বিভাজন জনন মাতৃকোষে ঘটে।
- এ বিভাজনের মাধ্যমে একটি কোষ বিভক্ত হয়ে চারটি কোষ উৎপন্ন করে এবং উৎপাদিত ক্রোমোসোমের সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোমের সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়।
- বংশ পরম্পরায় মিওসিস দ্বারা প্রকরণ সৃষ্টির মাধ্যমে জীবের অভিব্যক্তি ঘটে।

সূত্র- ৬৬ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র,  এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৫.
নাসার সবচেয়ে বৃহৎ এবং শক্তিশালী টেলিস্কোপের নাম কি?
  1. ক) Fermi Gamma-ray Space Telescope
  2. খ) James Webb Telescope
  3. গ) SpitzerSpace Telescope
  4. ঘ) HerschelSpace Observatory
ব্যাখ্যা

- জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (ইংরেজি: James Webb Space Telescope বা JWST) মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা, কানাডীয় মহাকাশ সংস্থা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র।
- উৎক্ষেপণের তারিখ: ২৫শে ডিসেম্বর, ২০২১।
- ১০ বিলিয়ন ডলারের জেমস ওয়েব নামধারী স্পেস টেলিস্কোপটি ফ্রেঞ্চ গায়ানা থেকে ইউরোপিয়ান আরিয়ান রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
- হাবল টেলিস্কোপ ছিল মহাকাশে ভাসমান প্রথম কোনো টেলিস্কোপ।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট

৮২৬.
নিচের কোনটি স্কেলার রাশির উদাহরণ?
  1. বল 
  2. বেগ 
  3. দৈর্ঘ্য
  4. ত্বরণ
ব্যাখ্যা

ভেক্টর: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৭.
ত্বকের কোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে?
  1. হাইপোডার্মিস
  2. সাবকিউটেনিয়াস টিস্যু
  3. ডার্মিস
  4. এপিডার্মিস
ব্যাখ্যা

- ত্বকের বাইরের স্তর এপিডার্মিস শরীরকে অতিবেগুনি (UV) বিকিরণ থেকে রক্ষা করে, এই স্তরে থাকা মেলানিন (Melanin) নামক রঞ্জক UV রশ্মি শোষণ করে এবং ত্বকের গভীর স্তরগুলিকে ক্ষতি থেকে বাঁচায়। 

দেহের প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- ত্বক প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন (melanine) জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH = 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। - কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৮.
নিউট্রনের বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. ঋণাত্মক আধানযুক্ত 
  2. ধনাত্মক আধানযুক্ত 
  3. আধানহীন 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।  
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- বিজ্ঞানী চ্যাডউইক ১৯৩২ সালে নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৯.
Full-wave bridge রেক্টিফিকেশনের জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) p-type সেমিকন্ডাক্টর
  2. খ) p-n জাংশন
  3. গ) ট্রানজিস্টর
  4. ঘ) ট্রান্সফর্মার
ব্যাখ্যা
p-n জাংশন:
- এটি রকধরনের সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস।
- p-n জাংশন এর অপর নাম ডায়োড বা রেক্টিফায়ার।
- রেক্টিফায়ার এর কাজ হলো  AC কে DC তে পরিবর্তন করা।
- এই রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণের তিনটি প্রক্রিয়া:
i) half - wave রেক্টিফিকেশন।
ii) full - wave রেক্টিফিকেশন।
iii) full - wave bridge রেক্টিফিকেশন।

ট্রানজিস্টর: 
- এটিও একধরনের সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস।
- p-n-p বা, n-p-n জাংশন নামে পরচিত।
- এটি সাধারণত দুর্বল সিগনালকে শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হয়।

ট্রান্সফর্মার: 
- এটি উচ্চ বিভবকে নিন্ম বিভবে বা, নিন্ম বিভবকে উচ্চ বিভিবে রূপান্তরিত করতে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: একাদশ শ্রেনীর পদার্থবিজ্ঞান বই ।
৮৩০.
বিরল ভূতল খনিজ (Rare-Earth Minerals) সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. এর মধ্যে ১৫টি ধাতু রয়েছে
  2. লিথিয়াম এই খনিজের মধ্যে অন্যতম সদস্য
  3. এর অসাধারণ চৌম্বক ধর্ম রয়েছে
  4. ইউক্রেন এ খনিজ উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে আছে
ব্যাখ্যা

- বিরল ভূতল খনিজ (Rare-Earth Minerals) সম্পর্কিত সঠিক তথ্যটি হচ্ছে- বিরল ভূতল খনিজ পদার্থের অসাধারণ চৌম্বক ধর্ম রয়েছে। 
অন্যদিকে, 
- বিরল ভূতল খনিজ মৌল রয়েছে ১৭ টি। 
- বিরল ভূতল খনিজের মধ্যে কিছু মাত্রায় লিথিয়াম পাওয়া যায় কিন্তু এটি এগুলোর অন্যতম সদস্য নয়। 
- উৎপাদনের দিক থেকে চীন শীর্ষস্থানে রয়েছে। 

বিরল খনিজ: 

- ১৭টি মৌলের একটি গ্রুপ হলো বিরল খনিজ। 
- ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব পিওর অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রির (আইইউপিএসি) নামকরণ অনুযায়ী, পর্যায় সারণির ল্যান্থানাইড সিরিজের ১৫টি মৌলের (ল্যান্থানাম, সিরিয়াম, প্রাসিয়োডিমিয়াম, নিওডিমিয়াম, প্রমিথিয়াম, স্যামারিয়াম, ইউরোপিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টারবিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম, হোলমিয়াম, আরবিয়াম, থুলিয়াম, ইটারবিয়াম ও লুটেশিয়াম) সঙ্গে স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়ামকে একত্রে বিরল খনিজ বলছে যুক্তরাষ্ট্রের জিওসায়েন্স ইনস্টিটিউট। 
- যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খনিজ সংস্থা ভার্জিনিয়া এনার্জির মতে, বিরল খনিজের দুটি ভাগ রয়েছে- হালকা ও ভারী। 
- হালকা বিরল খনিজের মধ্যে আছে ল্যান্থানাম, সিরিয়াম, প্রাসিয়োডিমিয়াম, নিওডিমিয়াম, প্রমিথিয়াম ও স্যামারিয়াম। 
- আর ভারী বিরল খনিজের মধ্যে আছে ইউরোপিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টারবিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম, হোলমিয়াম, আরবিয়াম, থুলিয়াম, ইটারবিয়াম ও লুটেশিয়াম। এছাড়া আছে স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়াম। 

- আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে বিরল খনিজ অপরিহার্য। আধুনিক প্রযুক্তির প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিরল খনিজের ব্যবহার আছে।
যেমন-
• মুঠোফোন, কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড যানবাহন, টেলিভিশনের এলইডি ডিসপ্লে তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
• প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি যেমন- লেজার, রাডার ও সোলার সিস্টেম, জেট ইঞ্জিন, মিসাইল সিস্টেম ও স্যাটেলাইটেও এর ভূমিকা আছে। 
• এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তি, যেমন- বায়ু টারবাইন ও সৌর প্যানেল এবং চিকিৎসা, অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি (যন্ত্র নির্মাণশিল্প) এবং কাচ ও সিরামিক শিল্পও এখন বিরল খনিজনির্ভর। তবে এদের উত্তোলন এবং পৃথকীকরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল। 

- চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল খনিজ মজুতের অধিকারী। দেশটিতে ৪ কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন বিরল খনিজ মজুত আছে। বর্তমানে বিরল খনিজ খননের ৭০ শতাংশ, প্রক্রিয়াজাতকরণের ৯০ শতাংশ আর চুম্বক তৈরির ৯৩ শতাংশই চীনের হাতে। 
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল, দেশটির মজুতের পরিমাণ ২ কোটি ১০ লাখ টন। 
- এছাড়া ভারতে ৬৯ লাখ টন, অস্ট্রেলিয়ায় ৫৭ লাখ টন, রাশিয়ায় ৩৮ লাখ টন, ভিয়েতনামে ৩৫ লাখ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ লাখ টন বিরল খনিজের মজুত আছে। 
- উৎপাদনের দিক থেকেও চীন শীর্ষস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটি ২ লাখ ৭০ হাজার টন বিরল খনিজ উৎপাদন করেছে। 
- একই বছর ব্রাজিল ও ভারত ২ হাজার ৯০০ টন, রাশিয়া ২ হাজার ৫০০ টন এবং যুক্তরাষ্ট্র ৪৫ হাজার টন বিরল খনিজ উৎপাদন করেছে।
- আর ১৩ হাজার টন উৎপাদন নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া। 

- বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল যেমন সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহের পাহাড়ি স্রোতধারা, গাইবান্ধার যমুনা নদী, ধরলা নদীর বালু, এবং দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে তেজস্ক্রিয় মৌল ও বিরল মৃত্তিকা মৌলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। 
- বিশেষ করে মোনাজাইট ও জিরকনের সঙ্গে যুক্ত এসব মৌলের মধ্যে লিথিয়াম, ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, স্যামারিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টারবিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়াম উল্লেখযোগ্য। 
- গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি বালুতে ৬০–১৭৬ মিলিগ্রাম বিরল মৌল থাকতে পারে, যা দেশের জন্য বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা তৈরি করছে। 
 
উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা [লিঙ্ক] [লিঙ্ক] এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৮৩১.
নিচের কোনটি জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে?
  1. প্লাস্টিড
  2. লাইসোজোম
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. গলজি বস্তু
ব্যাখ্যা
• লাইসোজোম জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। এর উৎসেচক আগত জীবাণুগুলোকে হজম করে ফেলে।

• লাইসোজোম:
- একক পর্দা আবৃত পাচক উৎসেচক যুক্ত অতি সূক্ষ্ম থলিবৎ কোষীয় অঙ্গাণু, যা কোষীয় বস্তুর পাচনে এবং জীবাণু ধ্বংসে অংশগ্রহণ করে তাদের লাইসোজোম বলে।

• লাইসোজোমের কাজসমূহ:

১. এরা ফ্যাগোসাইটোসিস পদ্ধতিতে জীবাণু ধ্বংস করে।
২. বিগলনকারী এনজাইমসমূহকে আবদ্ধ করে রেখে এটি কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুকে রক্ষা করে।
৩. কোষ বিভাজনকালে এরা কোষীয় ও নিউক্লীয় আবরণী ভাঙ্গতে সাহায্য করে।
৪. এরা জীবদেহের অকেজো কোষসমূহকে অটোলাইসিস পদ্ধতিতে ধ্বংস করে বলে এদের আত্মঘাতী থলিকা বা স্কোয়াড বলা হয়।
৫. লাইসোসোম অন্তঃকোষীয় পরিপাক কাজে সাহায্য করে।
৬. টিস্যু বিগলনকারী অ্যাসিড ফসফেটেজ এনজাইম থাকে।

মাইটোকন্ড্রিয়া:
- দুটি পর্দা দ্বারা আবৃত যে সকল গোলাকার, ডিম্বাকার, সুতোর মতো অঙ্গাণু ইউক্যারিওটিক কোষের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়িয়ে থাকে তাদেরকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে।
প্লাস্টিড:
- উদ্ভিদ কোষে অবস্থিত দুটি পর্দা পরিবেষ্টিত এবং বিশেষ বিপাকীয় কাজে লিপ্ত ( রঞ্জক যুক্ত বা রঞ্জক বিহীন) অঙ্গাণুকে প্লাস্টিড বলে।
গলজি বস্তু:
- সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার মতো সরু অথবা সূক্ষ্ম সুতার মতো যে থলির মতো যেসব বস্তু দেখা যায় তাকে গলজি বস্তু বলে।

 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩২.
একটি পেন্ডুলাম ঘড়ি বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নিলে ঘড়িটি- 
  1. স্লো হবে
  2. ফাস্ট হবে
  3. ঠিক সময় দেবে
  4. কোনো রকম প্রভাবিত হবে না
ব্যাখ্যা
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে। 
- কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g). 
এখানে, t = দোলনকাল, L = কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g = অভিকর্ষজ ত্বরণ। 

উপরের সূত্র মতে আমরা পাই, 
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না। 
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারণ, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে। 
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে। 
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে। 
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে। 
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৩৩.
বস্তুর ওজন কোথায় শূন্য? 
  1. পৃথিবীর কেন্দ্রে
  2. পাহাড়ের উপরে
  3. মেরু অঞ্চলে
  4. বিষুবীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
- একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। 
- কোন বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি হয়। 
- বস্তুর ওজন মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- আবার পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮৩৪.
মেন্ডেলের বংশগতির দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত-
  1. ৯:৩:২:১
  2. ৯:৩:৩:১
  3. ৯:১:৩:১
  4. ৯:৩:১:৩
ব্যাখ্যা
মেন্ডেলের সূত্র: 

• গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
• জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
• গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
• মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।
• মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
• মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র: 
‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'। 

মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র: 
‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়' । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৩৫.
পারস্পরিক আবেশকে ব্যবহার করা হয় কোনটিতে?
  1. ডায়োেট
  2. ট্রান্সফর্মার
  3. ট্রান্সজিস্টার
  4. অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা
• পারস্পরিক আবেশ ব্যবহৃত হয় ট্রান্সফরমারে।
- এতে দুটি কুণ্ডলী থাকে।
- প্রথম কুন্ডলী কে মুখ্য কুণ্ডলী এবং দ্বিতীয়টিকে অর্থাৎ যার মধ্যে তড়িচ্চালক আবিষ্ট হয় তাকে গৌণ কুলী বলে।
- মুখ্য কুণ্ডলীতে তড়িপ্রবাহিত করলে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চবিত্ত নিম্নবিত্ত ও নিম্ন বিভক্তির ছবি ভাবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে। 
- তড়িৎ চৌম্বক আবেশ এর উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।
- ট্রান্সফর্মার দুই প্রকার: স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ।
- ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হয়।
- ট্রান্সফরমারের গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হয়।

উৎস:  সাধারণ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি; এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৬.
নির্দিষ্ট দূরত্বে যদি দুটি বস্তু কণার ভরের গুণফল দ্বিগুণ হয়, তাহলে আকর্ষণ বল কী হবে? 
  1. দ্বিগুণ হবে
  2. অর্ধেক হবে
  3. চারগুণ হবে
  4. অপরিবর্তিত থাকবে
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র ও মহাকর্ষ বল: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে, এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: "মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে"। 
ধরা যাক, m1 এবং m2 ভরের দুটি বস্তু কণা পরস্পর থেকে d দূরত্বে অবস্থিত। এদের মধ্যকার আকর্ষণ বল F হলে, মহাকর্ষ সূত্রানুসারে, 

F = G(m1m2)/d2
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক, একে সর্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলে। 
অর্থাৎ, দুটি এক কিলোগ্রাম ভরের বস্তু এক মিটার দূরত্বে স্থাপন করলে এরা পরস্পরকে যে বলে আকর্ষণ করে, তার মান সংখ্যাগতভাবে G এর মানের সমান। 
- মহাকর্ষ সূত্রানুসারে দেখা যায়, নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থিত দুটি বস্তু কণাদ্বয়ের বস্তুর ভরের গুণফল দ্বিগুণ হলে বল দ্বিগুণ হবে, ভরের গুণফল তিনগুণ হলে বল তিনগুণ হবে। 
- আর নির্দিষ্ট ভরের দুটি বস্তু কণার মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করলে বল পূর্বের এক-চতুর্থাংশ হবে, দূরত্ব তিনগুণ করলে বল পূর্বের নয় ভাগের এক ভাগ হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮৩৭.
মানবচক্ষুর জন্য “নিকট বিন্দু ” সাধারণত কত দূরত্বে অবস্থিত থাকে?
  1. 10 সেমি.
  2. 15 সেমি.
  3. 25 সেমি.
  4. 30 সেমি.
ব্যাখ্যা

নিকট বিন্দু (Near Point):
- নিকট বিন্দু (Near Point) হলো সেই ন্যূনতম দূরত্ব, যেখানে কোনো বস্তু চোখের জন্য স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হয়। অর্থাৎ রেটিনায় স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি গঠিত হয়।
- সাধারণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য এই দূরত্ব প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার।
- যখন কোনো বস্তু এই দূরত্বের চেয়ে কাছে রাখা হয়, তখন চোখের লেন্সকে অত্যধিক বাঁকতে হয় ফোকাস আনতে, যা চোখের পেশীর সীমার বাইরে, ফলে বস্তু ঝাপসা দেখা যায়।
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে নিকট বিন্দু আরও দূরে সরে যায়; এটি প্রেসবায়োপিয়া (Presbyopia) নামে পরিচিত।

• দূর বিন্দু (Far Point)
- সাধারণ মানুষের জন্য সাধারণত ∞ (অনন্ত) ধরে নেওয়া হয়।
- অপটিক্যাল যন্ত্র যেমন ম্যাগনিফায়িং গ্লাস, মাইক্রোস্কোপ, টেলিস্কোপ ডিজাইনে ২৫ সেমি. নিকট বিন্দু মান ব্যবহার করা হয়।

উৎস: Encyclopaedia Britannica.

৮৩৮.
কোন পরিস্থিতিতে ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়?
  1. বিভব হ্রাস করলে 
  2. বিভব বৃদ্ধি করলে 
  3. শক্তি রূপান্তর না করলে 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলত দুইটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।  
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৯.
দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা
  3. আন্তর্জাতিক তারিখরেখা
  4. কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
• মকরক্রান্তি রেখা:
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

• কর্কটক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।

• আন্তর্জাতিক তারিখরেখা:
- ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে স্থির করা হয়।

• নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে সমভাবে দুইভাগে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটি নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা নামে অভিহিত।
- এটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪০.
আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. দূরত্ব
  2. সময়
  3. ভর
  4. ওজন
ব্যাখ্যা
• আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদূর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

• অন্যান্য অপশনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা:
- ভরের একক গ্রাম।
- ওজনের একক নিউটন।
- সময় এর একক সেকেন্ড।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. NASA ওয়েবসাইট।
৮৪১.
'সেরিকালচার' শব্দটি দ্বারা কী বুঝায়?
  1. সামুদ্রিক মৎস্য চাষ
  2. মৎস্য চাষ
  3. রেশম চাষ
  4. চিংড়ি চাষ
ব্যাখ্যা
আধুনিক কৃষি ও চাষ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি: 
• মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
• উদ্যান পালন (ফল, ফুল ও শাকসবজি চাষ) বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 
• সামুদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
৮৪২.
হার্ট অ্যাটাকের কারণে কোন অঙ্গ প্রধানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়? 
  1. কিডনি
  2. ফুসফুস
  3. পাকস্থলী
  4. হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা
হার্ট অ্যাটাক: 
- যখন কারও হৃদযন্ত্রের কোনো অংশে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা বাধাগ্রস্ত হয়, তখন হৃৎপিণ্ডের কোষ কিংবা হৃৎপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মায়োকারডিয়াল ইনফ্রাকশন, করোনারি থ্রোমবসিস ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হয়, যেগুলোকে একনামে হার্ট অ্যাটাক বলা হয়। 
- বাংলাদেশে হৃদরোগ, বিশেষ করে করোনরি (coronary) হৃদরোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। হৃৎপিণ্ড রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন এবং খাবারের সারবস্তু অর্থাৎ পুষ্টিকর পদার্থ রক্তনালির মধ্য দিয়ে দেহের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়। নিজের কাজ সঠিকভাবে করার জন্য অর্থাৎ তার হৃৎপেশির অক্সিজেন এবং পুষ্টি অর্জনের জন্য হৃৎপিণ্ডের তিনটি প্রধান রক্তনালি আছে। এগুলোর মধ্যে অনেক সময় চর্বি জমে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ফলে প্রাণঘাতী রোগ হার্ট অ্যাটাক হয়। 
- বর্তমান সময়ে হার্ট অ্যাটাকে শুধু 40-60 বছর বয়সি লোকেরাই আক্রান্ত হচ্ছে না, অনেক সময়ে তরুণরাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। 
- এ রোগের সাথে দেহের ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। 
- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যেমন অধিক তেলযুক্ত খাবার (বিরিয়ানি, তেহারি ইত্যাদি), ফাস্টফুড (বার্গার, বিফ বা চিকেন প্যাটিস ইত্যাদি) খাওয়া, অলস জীবনযাপন এবং শারীরিক পরিশ্রম না করার ফলে এই রোগ দেখা যায়। 
- এ ছাড়াও সব সময় হতাশা, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও বিমর্ষ থাকলে যেকোনো বয়সে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

রোগের লক্ষণসমূহ: 
- হার্ট অ্যাটাক হলে বুকে অসহনীয় ব্যথা অনুভূত হয়। বিশেষ করে বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয়, যা প্রাথমিকভাবে অ্যান্টাসিড ঔষধ খেলেও কমে না। ব্যথা বাম দিকে বা সারা বুকে ছড়িয়ে যেতে পারে।
- ব্যথা অনেক সময় গলা এবং বাম হাতে ছড়িয়ে যায়। 
- রোগী প্রচণ্ডভাবে ঘামতে থাকে এবং বুকে ভারি চাপ অনুভব করছে বলে মত প্রকাশ করে। 
- রোগীর যদি আগে থেকে ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে তার বুকে কোনো ব্যথা ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই রোগী কিছু বুঝে ওঠার আগেই সর্বনাশ হয়ে যায়। এজন্য ডায়াবেটিস রোগী কোনো অসুবিধা বোধ না করলেও নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চেক-আপ করাতে হবে। 

প্রতিকার: 
- এমন অবস্থা দেখা দিলে অবহেলা না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইসিজি করিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার। 
- করোনারি হৃদরোগ এক মারাত্মক হৃদরোগ। এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা দরকার, যাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যেমন: ধূমপান না করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা বা হাঁটা, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা, কাঁচা ফল ও শাকসবজি বেশি বেশি খাওয়া। 
- চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়া, ভাজা খাবার, মশলাযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড না খাওয়া ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৩.
RADAR এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Radio Detector and Ranging
  2. Radio Detection and Routing
  3. Radio Detector and Routing
  4. Radio Detection And Ranging
ব্যাখ্যা
- 'RADAR' এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Radio Detection And Ranging.
- এটি এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে দূরবর্তী কোনো বস্তুর উপস্থিতি, দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করা যায়।
- রাডার হলো এমন একটি কৌশল বা ব্যবস্থা যার সাহায্যে রেডিও প্রতিধ্বনির মাধ্যমে কোন বস্তুর উপস্থিতি জানা যায়।
- যুদ্ধে শত্রু বিমানের উপস্থিতি ও গতিবিধি, বিমানের পথ নির্দেশ, ঝড়ের পূর্বাভাস ইত্যাদি কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
- ১৯২২ সালে এ.এইচ. টেলর এবং লিও সি ইয়ং রাডার উদ্ভাবন করেন।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৪.
পারস্পরিক আবেশকে ব্যবহার করা হয়-
  1. ট্রানজিস্টারে
  2. ডায়োডে
  3. রূপান্তরকে
  4. অ্যামপ্লিফায়ারে
ব্যাখ্যা
• পারস্পারিক আবেশ: 
- পাশাপাশি স্থাপিত দুটি কুন্ডলীর মধ্যে একটিতে তড়িৎ প্রবাহ মাত্রার পরিবর্তনের ফলে অপর কুন্ডলীতে যে তড়িৎচালক বল আবিষ্ট হয় তাকে পারস্পারিক আবেশ বলে।

• পারস্পরিক আবেশের ব্যবহার:

• রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাবৃত্ত বা দিক পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা যায় তাকে রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার বলে।
- তড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।
- ট্রান্সফর্মার সাধারণত দু প্রকারের হয়। যথা-

• আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার:
- যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলে।

• অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার:
- যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৪৫.
উদ্ভিদদেহের শতকরা কত ভাগ পানি ?
  1. ক) ৬০-৭০
  2. খ) ৬০-৯০
  3. গ) ৭০-৮০
  4. ঘ) ৭০-৯০
ব্যাখ্যা
সজীব উদ্ভিদদেহ বিশ্লেষণ করলে প্রধান যে উপাদান পাওয়া যায় তা হলো পানি।
 - দেহের প্রায় শতকরা ৬০-৯০ শতাংশ হলো পানি।
- বাকি যে অংশ অবশিষ্ট থাকে তাকে কঠিন বস্তু বলা হয়।
 - ১৬টি মৌলিক পদার্থ যেমন- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাঙ্গানিজ, বোরন, সালফার, কপার ও জিঙ্ক মিলে সৃষ্টি করেছে অসংখ্য জৈব উপাদান। 
- জৈব রাসায়নিক উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বোহাইড্রেট, লিপিড, অ্যামাইনো অ্যাসিড, প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড, অন্যান্য জৈব অ্যাসিড, বিভিন্ন এনজাইম ইত্যাদি প্রধান।
- অজৈব উপাদানের মধ্যে পানি অন্যতম পদার্থ।

সূত্র: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৬.
জোয়ার-ভাটা তৈরিতে সূর্যের ক্ষমতা চন্দ্রের ক্ষমতার তুলনায়-
  1. ক) দ্বিগুণ
  2. খ) সমান
  3. গ) এক-তৃতীয়াংশ
  4. ঘ) অর্ধেক
ব্যাখ্যা
চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত মহাকর্ষীয় শক্তির (প্রধানত চাঁদের কেননা,জোয়ার উৎপাদনে সূর্যের ক্ষমতা চন্দ্রের ৪/৯ ভাগ / প্রায় অর্ধেক। অর্থাৎচন্দ্রের ক্ষমতা সূর্যের ক্ষমতার দ্বিগুণ ) প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি ফুলে ওঠাকে জোয়ার ও নেমে যাওয়ার ঘটনাকে ভাঁটা (একত্রে জোয়ার-ভাটা) বলা হয়।
৮৪৭.
নিম্নলিখিত কোনটি মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকার উদাহরণ?
  1. ধনুষ্টংকার ভ্যাকসিন
  2. কলেরা ভ্যাকসিন 
  3. ডিপথেরিয়া ভ্যাকসিন
  4. হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন
ব্যাখ্যা

টিকা: 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। 
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। 

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা: 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা: 
- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা: 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্ত: 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা: 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৮.
ডায়াবেটিস রোগের প্রধান কারণ কী? 
  1. রক্তে অক্সিজেনের অভাব 
  2. ভিটামিনের ঘাটতি
  3. ইনসুলিনের অভাব 
  4. অতিরিক্ত পানি পান 
ব্যাখ্যা

- ডায়াবেটিস রোগের প্রধান কারণ হচ্ছে- ইনসুলিনের অভাব। 

ডায়াবেটিস রোগ: 

- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন হরমোন নির্গত হয় যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না, যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৪৯.
কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ২ ভাগে
  2. খ) ৩ ভাগে
  3. গ) ৪ ভাগে 
  4. ঘ) ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
- যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন, তাকে সরল টিস্যু বলে।


- কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা। 

- প্যারেনকাইমা: উদ্ভিদদেহের সব অংশে এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়,পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ। এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায়।


- কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ দিয়ে তৈরি হয়। এসব কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, তখন তাকে ক্লোরেনকাইমা (Chlorenchyma) বলে। জলজ উদ্ভিদের বড় বড় বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাকে অ্যারেনকাইমা (Aerenchyma) বলে।


- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ দেহ গঠন করা, খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং খাদ্য দ্রব্য পরিবহন করা


- কোলেনকাইমা: কোলেনকাইমাগুলো বিশেষ ধরনের প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে তৈরি হয়। কোষপ্রাচীরে সেলুলোজ এবং পেকটিন জমা হয়ে পুরু হয়। তবে এদের কোষপ্রাচীর অসমভাবে পুরু এবং কোণাগুলো অধিক পুরু হয়। এ টিস্যুর কোষগুলো লম্বাটে ও সজীব। এরা প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ কোষ দিয়ে তৈরি হয়। এতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকতে পারে। কোষপ্রাচীর চৌকোনাকার, সরু বা তির্যক হতে পারে।


- খাদ্য প্রস্তুত এবং উদ্ভিদদেহকে দৃঢতা প্রদান করা কোলেনকাইমার প্রধান কাজ। পাতার শিরা এবং পত্রবৃন্তে এদের দেখা যায়। এ কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, তখন এরা খাদ্য প্রস্তুত করে।


- স্ক্লেরনকাইমা: এ টিস্যুর কোষগুলো শক্ত, অনেক লম্বা এবং পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট হয়। প্রোটোপ্লাজমবিহীন, লিগিনিনযুক্ত এবং যান্ত্রিক কাজের জন্য নির্দিষ্ট কোষ দিয়ে গঠিত টিস্যুকে স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু বলে।


- প্রাথমিক অবস্থায় কোষগুলোতে প্রোটোপ্লাজম উপস্থিত থাকলেও খুব তাড়াতাড়ি তা নষ্ট হয়ে মৃত কোষে পরিণত হয়। উদ্ভিদদেহে দৃঢতা প্রধান এবং পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করা এর মূল কাজ।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি


৮৫০.
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
  1. আর্লিবার্ড হল
  2. এস্ট্রোলার হল
  3. ওবেরী হল
  4. কসমস
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ হলো ইনটেলসেট-1 যার আরেক নাম আর্লি বার্ড ( Early Bird)। 
- এই কৃত্রিম উপগ্রহটি ৬ এপ্রিল ১৯৬৫ সালে মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয়। 

- On April 6, 1965, NASA launched the world’s first commercial communications satellite Intelsat I (a.k.a. Early Bird) into a geosynchronous orbit above earth. 

উৎস: নাসার ওয়েবসাইট।
৮৫১.
রাসায়নিক প্রশমন বিক্রিয়ার ফলে প্রধানত নতুন কোন যৌগগুলো উৎপন্ন হয়?
  1. ক্ষার ও লবণ
  2. এসিড ও ক্ষার
  3. এসিড ও হাইড্রোজেন
  4. লবণ ও পানি
ব্যাখ্যা

• প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে পরস্পরকে নিষ্ক্রিয় করে এবং ফলস্বরূপ লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

• প্রশমন বিক্রিয়া:
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়।
- যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়।
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫২.
কাজের মাত্রা কোনটি? 
  1.  MLT-2
  2. ML2T-3
  3. ML2T-1
  4. ML2T-2
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) ML2T-2 

কোনো বস্তুর উপর যদি F বল প্রয়োগ করা হয় এবং বল প্রয়োগ করার সময়টুকুতে যদি বস্তুটি বলের দিকে s দূরত্ব অতিক্রম করে (অর্থাৎ সরণ হয়), তাহলে ঐ বল দিয়ে করা কাজের পরিমাণ W হচ্ছে: W = Fs
কাজের একক J (জুল) কাজের মাত্রা [W] = ML2T-2

মাত্রা:
- ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
- সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
- মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- বলের মাত্রা MLT-2,
- শক্তির মাত্রা ML2T-2,
- টর্কের মাত্রা ML2T-2,
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3.

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৩.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের উদাহরণ হিসেবে কোনটি বিবেচিত হয়? 
  1. লিনোলিক এসিড
  2. স্টিয়ারিক এসিড
  3. অক্সালিক এসিড
  4. অলিয়িক এসিড
ব্যাখ্যা

• সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড (Saturated Fatty Acid) হলো সেই ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড যার কার্বন চেইনে দুটি কার্বনের মধ্যে একক বন্ধন (single bond) ছাড়া আর কোনো দ্বৈত বন্ধন (double bond) থাকে না। এর ফলে এগুলো সাধারণত কক্ষে দৃঢ় এবং তাপমাত্রা বাড়ালে ঘন অবস্থায় থাকে। উদাহরণ হিসেবে স্টিয়ারিক এসিড বিবেচিত হয়, যা একটি সাধারণ সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রধানত প্রাণীজ তেল ও মাখনে পাওয়া যায়। অন্যদিকে লিনোলিক এসিড ও অলিয়িক এসিড হলো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, যেখানে এক বা একাধিক দ্বৈত বন্ধন থাকে, আর অক্সালিক এসিড হলো একটি কার্বোক্সিলিক অ্যাসিড যা ফ্যাটি অ্যাসিডের শ্রেণিতে পড়ে না। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) স্টিয়ারিক এসিড।

ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 

• সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড, 
(৩) পামিটিক এসিড। 

• অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড, 
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

৮৫৪.
কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা __________ ।
  1. কম
  2. বেশি
  3. সমান
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 


- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৫.
নিচের কোন রাশি কাজের মাত্রা প্রকাশ করে?
  1. [MLT-2]
  2. [ML2T-2]
  3. [M2L2T-1]
  4. [ML-2T-2]
ব্যাখ্যা
কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বল ও সরণের স্কেলার গুণফল কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কেবল মান আছে, দিক নেই। 
- কাজের মাত্রা, [W] = [ML2T -2]
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)। 
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়। 
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 
∴ 1 J = 1 Nm. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৮৫৬.
তিমির বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি?
  1. Balaenoptera musculus
  2. Bos taurus
  3. Loxodonta cyclotis
  4. Crocodylus palustris
ব্যাখ্যা
• স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
যেমন-
- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।

এখানে,
- তিমির বৈজ্ঞানিক নাম = Balaenoptera musculus.
- গরুর বৈজ্ঞানিক নাম = Bos taurus.
- হাতির বৈজ্ঞানিক নাম = Loxodonta cyclotis.

 • সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
-  এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। 

এখানে,
- কুমিরের বৈজ্ঞানিক নাম = Crocodylus palustris

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৫৭.
ইনসুলিন আবিষ্কার করেন কে?
  1. লুক মন্টাজনিয়ের
  2. হ্যারল্ড ভার্মুস
  3. এডওয়ার্ড জেনার
  4. উইলিয়াম হার্ভে
  5. ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন:
- ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং (Frederick G. Banting)।
- তিনি একজন কানাডিয়ান চিকিৎসক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং ইনসুলিনের আবিষ্কারক।
- তিনি বিজ্ঞানী Charles H. Best এবং রোমানিয়ান ফিজিওলজিস্ট Nicolas C. Paulescu এর সঙ্গে ১৯২১ সালে ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইনসুলিন: ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of Langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৮.
প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে ভৌত জীবিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. ক) হিস্টোলজি
  2. খ) জেনেটিক্স
  3. গ) ইকোলজি
  4. ঘ) ইভোলিউশন
ব্যাখ্যা
বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজিতে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়। বিবর্তন (ইভোলিউশন)- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন ও ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহ এই শাখার আলোচনার বিষয়। বংশগতিবিদ্যা (জেনেটিক্স)- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। হিস্টোলজি- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এই শাখায় আলোচনা করা হয়।
[সূত্র: নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বোর্ড বই]
৮৫৯.
অল্টামিটার কি?
  1. ক) তাপ পরিমাপক যন্ত্ৰ
  2. খ) উষ্ণতা পরিমাপক যন্ত্ৰ
  3. গ) গ্যাসের চাপ পরিমাপক যন্ত্র
  4. ঘ) উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র
ব্যাখ্যা
উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র হলো অলটিমিটার।
- উষ্ণতা পরিমাপক যন্ত্র হলো থার্মোমিটার।
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র হলো ক্যালরিমিটার।
- গ্যাসের চাপ পরিমাপক যন্ত্র হলো ম্যানোমিটার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৬০.
কোন কণাটি নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার সময় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয় এবং চেইন রিয়‍্যাকশন সৃষ্টি করে?
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. ইলেকট্রন
  4. ফোটন
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয়ার ফিশন (Nuclear Fission):
-  নিউক্লিয়ার ফিশন (Nuclear Fission) প্রক্রিয়ায় একটি ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস (যেমন ইউরেনিয়াম-২৩৫ বা প্লুটোনিয়াম-২৩৯) নিউট্রনের আঘাতে বিভক্ত হয়।
-  বিভাজনের ফলে নতুন নিউট্রন নির্গত হয়, যা অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সাথে সংঘর্ষ করে আরও নিউক্লিয়ার ফিশন ঘটায়।
- এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে এবং একে বলে চেইন রিয়্যাকশন (Chain Reaction)।
- নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক বোমা এই চেইন রিয়্যাকশনের উপর নির্ভর করে কাজ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা
৮৬১.
কোন রোগটি এন্ডোসকপি বা বেরিয়াম এক্স-রে র মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়?
  1. ক) গ্যাস্ট্রিক ও পেপটিক আলসার
  2. খ) অজীর্ণতা
  3. গ) কোষ্ঠকাঠিন্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গ্যাস্ট্রিক ও পেপটিক আলসার (Gastric and Peptic ulcer) :
আলসার বলতে যেকোনো এপিথেলিয়াম বা আবরণী টিস্যুর একধরনের ক্ষত বোঝায়।
•পেপটিক আলসার বলতে খাদ্যনালির কোনো অংশের আলসার বোঝায়। 
•চিকিৎসাবিজ্ঞানী রবিন ওয়ারেন (1951-বর্তমান) ও ব্যারি মার্শালের (1937-বর্তমান) গবেষণায় জানা গেছে, খাদ্যে অনিয়ম, ভাজাপোড়া •খাবার খাওয়া, বিষণ্ণতা বা উৎকণ্ঠা ইত্যাদি পেপটিক আলসারের নিয়ামক হলেও অন্যতম প্রধান কারণ Helicobacter pylori (সংক্ষেপে H. pylori) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এজন্য তাঁরা 2005 সালে যৌথভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
এন্ডোসকপি (Endoscopy) বা বেরিয়াম এক্স-রের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
৮৬২.
যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই থাকে, তাদেরকে কী বলা হয়? 
  1. ভেক্টর রাশি 
  2. অদিক রাশি 
  3. ঘূর্ণন রাশি 
  4. স্কেলার রাশি 
ব্যাখ্যা

রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এই জন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

২। ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৩.
Which acid is used in automobile batteries?
  1. Sulfuric acid
  2. Hydrochloric acid
  3. Hydrofluoric acid
  4. Nitric acid
  5. Carbonic acid
ব্যাখ্যা
এসিড:
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ব্যবহার করা হয়।
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস।
- সার হিসেবে আমরা যেগুলো ব্যবহার করি তার মধ্যে অন্যতম হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH₄NO₃), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH₄)₂SO₄] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH₄)₃PO₄]।
- সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO₃), সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) এবং ফসফরিক এসিড (H₃PO₄) ব্যবহার করে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৪.
নিচের কোনটিতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়?
  1. টেপরেকর্ডার
  2. রেডিও
  3. টেলিভিশন
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফর্মার:

• ট্রান্সফরমার একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনি (সার্কিট) থেকে অপর একটি বৈদ্যুতিক বর্তনিতে ফ্রিকুয়েন্সিকে কোন প্রকার পরিবর্তন না করে স্থানান্তর করে।
• ট্রান্সফর্মার প্রধানত ২ প্রকার। যথা: স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

• আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার (Step up Transformer): যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলে।
- উদাহরণ: দূরদূরান্তে তড়িৎ প্রেরণের জন্য আরোহী বা স্টেপআপ ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার (Step down Transformer): যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
- উদাহরণ: অবরোহী বা স্টেপডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয় নিম্ন ভোল্টেজ ব্যবহারকারীর যন্ত্রপাতি যেমন রেডিও, টেলিভিশন, টেপরেকর্ডার, ভিসিআর, ভিসিপি, ইলেকট্রিক ঘড়ি, ওয়াকম্যান ইত্যাদিতে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষণ, বিএড প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৫.
ইন্টারফেরন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. প্রোটিন
  2. শর্করা
  3. চর্বি
  4. গ্লাইকোলিপিড
ব্যাখ্যা

• ইন্টারফেরন হল প্রোটিন ধরনের পদার্থ, যা আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মূলত ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করে। যখন কোনো কোষ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়, তখন সেই কোষ ইন্টারফেরন নিঃসরণ করে। নিঃসৃত ইন্টারফেরন আশেপাশের কোষগুলোকে সতর্ক করে এবং ভাইরাস প্রতিরোধী প্রোটিন উৎপাদন করতে প্ররোচিত করে। এভাবে এটি ভাইরাসের বৃদ্ধি ও সংক্রমণ রোধ করে। ইন্টারফেরন শুধুমাত্র ভাইরাস নয়, কিছু ব্যাকটেরিয়া ও টিউমার কোষের বিরুদ্ধেও কার্যকর। চিকিৎসা ক্ষেত্রেও ইন্টারফেরন বিভিন্ন রোগ যেমন হেপাটাইটিস, ক্যান্সার এবং কিছু অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, ইন্টারফেরন একটি প্রোটিন পদার্থ।

- সঠিক উত্তর: ক) প্রোটিন। 

• ইন্টারফেরন (Interferon):
- ইন্টারফেরন হলো একটি প্রোটিন যা মানুষের এবং প্রাণীর দেহে ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- এটি ভাইরাস সংক্রমণের সময় তৈরি হয় এবং কোষকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
- ইন্টারফেরন মূলত প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune response) বৃদ্ধিতে কাজ করে।
- এটি কোনো শর্করা, চর্বি বা গ্লাইকোলিপিড নয়, বরং প্রোটিন।
- চিকিৎসা ও গবেষণায় ইন্টারফেরন ভাইরাসজনিত রোগ, ক্যান্সার এবং অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

সুতরাং, ইন্টারফেরন হলো - প্রোটিন।  

সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

৮৬৬.
লোহিত রক্তকোষের গড় আয়ু কত দিন? 
  1. ৬০ দিন
  2. ১২০ দিন
  3. ১৮০ দিন
  4. ১৫০ দিন
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকোষ: 
- মানবদেহে তিন ধরনের রক্তকণিকার মধ্যে লোহিত রক্তকোষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্তকোষ তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্তকোষের গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- মানুষের লোহিত রক্তকোষে নিউক্লিয়াস থাকে না এবং দেখতে অনেকটা দ্বি-অবতল বৃত্তের মতো। 
- পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির রক্তে লোহিত রক্তকোষ সংখ্যা প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে প্রায় 50 লক্ষ। 

- লোহিত রক্তকোষ শ্বেত রক্তকোষের চেয়ে প্রায় ৫০০ গুণ বেশি। 
- পুরুষের তুলনায় নারীদের রক্তে লোহিত রক্তকোষ কম থাকে। 
- তুলনামূলকভাবে শিশুদের দেহে লোহিত রক্তকোষের পরিমাণ বেশি থাকে। 
- আমাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তে লোহিত রক্তকোষ ধ্বংস হয়, আবার সমপরিমাণে তৈরিও হয়। 
- লোহিত রক্তকোষের হিমোগ্লোবিন অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে। 

হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। 
- লোহিত রক্তকোষের উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। 
- রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা (anemia) দেখা দেয়। 
- বাংলাদেশের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী এ রোগে আক্রান্ত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৬৭.
ট্রান্সফর্মার তৈরিতে কোন ধরনের চুম্বক ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) স্থায়ী চুম্বক
  2. খ) অস্থায়ী চুম্বক
  3. গ) সংকর চুম্বক
  4. ঘ) সিরামিক চুম্বক
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম চুম্বকঃ কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক

অস্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৮.
চুম্বকত্বের উপর সাধারণত কোন বাহ্যিক প্রভাব থাকতে পারে? 
  1. আয়তন 
  2. তাপমাত্রা 
  3. ভর 
  4. ঘনত্ব 
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এসকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম, কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৯.
পানির কয়টি অবস্থা রয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা: 
- রোদে ফেলে রাখা একখন্ড বরফ লক্ষ্য করেলে দেখা যায় বরফর খন্ড গলতে থাকে এবং এর চারিদিকে পানি গড়িয়ে পড়ে। 
- আর কিছুক্ষণের মধ্যে পানি বাস্প হয়ে উড়ে যেতেও দেখা যায়। 
- এই বরফ, পানি আর পানি বাষ্প তিনটিই আসলে পানির তিনটি অবস্থা যা কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- সকল পদার্থেরই কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিনটি অবস্থা হতে পারে। 
- পদার্থেরই কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিনটি অবস্থা নির্ভর করে তাপ বা তাপমাত্রার উপর। 
- তাপ একটি শক্তি। 
- কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করলে তাপমাত্রা বাড়ে, এবং একসময় তা তরলে রূপান্তরিত হয়, তরল পদার্থের তাপমাত্রা বাড়ালে এক পর্যায়ে তা বায়বীয় অবস্থা প্রাপ্ত হয়। বিপরীতভাবে তাপমাত্রা কমালে বায়বীয় পদার্থ তরল হয়। 
যেমন- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়। 
- তরল পদার্থের তাপমাত্রা কমলে এক সময় কঠিন হয়। 
যেমন- শীত প্রধান এলাকায় পানি জমে বরফ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭০.
কোন শিখা লোহা গলিয়ে জোড়া লাগাতে সাহায্য করে -
  1. অক্সি-হাইড্রোজেন শিখা
  2. অক্সি-নাইট্রোজেন শিখা
  3. অক্সি-অ্যামোনিয়াম শিখা
  4. অক্সি-অ্যাসিটিলিন শিখা
ব্যাখ্যা
- ১৯১৬ সাল নাগাদ অক্সি-অ্যাসিটিলিন শিখা প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে বিকশিত হয়েছিলো। 
- তখনকার এই ঢালাই কৌশল এখনও ব্যবহৃত হয়। 
- অক্সিজেন ও অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাসের মিশ্রণকে অক্সি অ্যাসিটিলিন বলা হয়। 
- এই মিশ্রণকে প্রজ্জ্বলিত করলে, যে অগ্নিশিখার সৃষ্টি হয় তাকেই অক্সি অ্যাসিটিলিন শিখা বলে। 
- এই শিখার তাপমাত্রা ৩০০০-৩৫০০° ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়ে থাকে। 
- এই অক্সি-অ্যাসিটিলিন শিখা লোহা গলিয়ে জোড়া লাগাতে সাহায্য করে। 

উৎস: britannica.com

- By 1916 the oxyacetylene process was well developed, and the welding techniques employed then are still used. 
source: britannica.com
৮৭১.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) অ্যামিটার দিয়ে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ মাপা যায়
  2. খ) গ্যালভানোমিটার দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব মাপা যায়
  3. গ) অ্যামিটার দিয়ে বর্তনীর বিভব পার্থক্য মাপা যায়
  4. ঘ) গ্যালভানোমিটার দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ নির্ণয় করা যায়
ব্যাখ্যা
অ্যামিটার হচ্ছে বৈদ্যুতিক যন্ত্র৷ এর সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়৷ এই যন্ত্রে একটি গ্যালভানোমিটার থাকে।
গ্যালভানোমিটার হচ্ছে সেই যন্ত্র যার সাহায্যে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। গ্যালভানোমিটারের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি
৮৭২.
চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোন শাখায় সবচেয়ে বেশী CT scan ব্যবহার করা হয়ে থাকে?
  1. ডার্মাটোলজি
  2. নিউরোলজি
  3. কার্ডিওলজি
  4. ক্রনোলজি
ব্যাখ্যা
সিটি স্ক্যান (CT scan):
- সিটিস্ক্যান এর সম্প্রসারিত অর্থ হচ্ছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (Computed Tomography Scan).
 - যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে ৷
- সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটি স্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক ।
- সিটিস্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনি, ফুসফুস, ব্রেন ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায়।
- চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিউরোলজি বা স্নায়ুবিজ্ঞান শাখায় সবচেয়ে বেশী CT scan ব্যবহার করা হয়ে থাকে যায়
- যকৃৎ, ফুসফুস এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটিস্ক্যান ব্যবহৃত হয়।
- সিটিস্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পার্শ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কী পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণেও সাহায্য করে।
- মাথার সিটিস্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফুলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়।
- সিটিস্ক্যানের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে কিনা তাও জানা যায়৷
- সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না৷

অন্যদিকে,
- ডার্মাটোলজি (Dermatology) - ত্বক; ত্বকের রোগ ইত্যাদি বিষয়ক চিকিৎসাশাস্ত্রীয় গবেষণা ও আলোচনা; ত্বকবিজ্ঞান।
- কার্ডিওলজি (Cardiology) - হৃদ্‌বিজ্ঞান।
- ক্রনোলজি (Chronology) -  কালনিরূপণ বিজ্ঞান।

উৎস:
১) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) accessibledictionary.gov.bd
৮৭৩.
প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণু কোনটিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা
প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। 
- তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। 
- তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৪.
মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
রক্তের গ্রুপ: 
- বিভিন্ন ব্যক্তির লোহিত রক্ত কণিকায় A এবং B নামক দুই ধরনের অ্যান্টিজেন (antigens) থাকে এবং রক্তরসে a ও b দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (antibody) থাকে। 
- এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায়, একে ব্লাড গ্রুপ বলে। 
- বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 
- সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে। 
- রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে ব্লাড গ্রুপকে এভাবে বর্ণনা করা যায়। 
যেমন- 
• গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে b অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। 
• গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে। 
- O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে, এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor)। 
- AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে, তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient) বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭৫.
ছত্রাক কোন ধরনের উদ্ভিদ? 
  1. জলজ উদ্ভিদ 
  2. সবুজ উদ্ভিদ 
  3. সপুষ্পক উদ্ভিদ
  4. অপুষ্পক উদ্ভিদ 
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক। 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
যেমন- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
- ছত্রাক এক ধরনের অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- এরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
- এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
- এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
- এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
- ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
- এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৬.
পৃথিবীর বারিমণ্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ জল বায়ুমন্ডল ধারণ করে?
  1. ০.০০০০১%
  2. ০.০১%
  3. ০.০০১%
  4. ০.০০০১%
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টনঃ
• সমুদ্র (৯৭.২৫%),
• হিমবাহ (২.০৫%),
• ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
• হৃদ (০.০১%),
• মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
• নদী(০.০০০১%),
• জীবমণ্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭৭.
সুষুম্নাকাণ্ড কোন তন্ত্রের অংশ?
  1. স্নায়ুতন্ত্রের
  2. কঙ্কালতন্ত্রের
  3. পরিপাকতন্ত্রের
  4. শ্বসনতন্ত্রের
ব্যাখ্যা

- স্নায়ুতন্ত্রের দুইটি প্রধান অংশ, কেন্দ্রীয় এবং প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ভিতরে আছে মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকান্ড।
- প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের ভিতরে আছে করোটিক স্নায়ু এবং সুষুম্না স্নায়ু।
- সুষুম্নাকাণ্ড মেরুদণ্ডের অস্থি ও তরুণাস্থি নির্মিত কঙ্কাল আবরণে বেষ্টিত হয়ে অবস্থান করে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮৭৮.
একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে বলে -
  1. ট্রান্সফরমার
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা
রেকটিফিকেশন: 
- যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে।
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেকটিফায়ার বলে
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না।
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৯.
লোড পরিবর্তন হলেও কোন উৎসের টার্মিনাল ভোল্টেজ সর্বদা স্থির থাকে?
  1. বাস্তব ভোল্টেজ উৎস
  2. আদর্শ কারেন্ট উৎস
  3. আদর্শ ভোল্টেজ উৎস
  4. পরিবর্তনশীল উৎস
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- গ) আদর্শ ভোল্টেজ উৎস

• আদর্শ ভোল্টেজ উৎস:

- একটি আদর্শ ভোল্টেজ উৎস হল এমন একটি তাত্ত্বিক উৎস যার টার্মিনাল জুড়ে ভোল্টেজ স্থির থাকে এবং লোডের পরিবর্তন নির্বিশেষে এটি পরিবর্তিত হয় না।
- এটি শুধুমাত্র তখনই সম্ভব যদি উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ (internal resistance) শূন্য হয়। কারণ, যদি অভ্যন্তরীণ রোধ থাকে, তাহলে লোডের পরিবর্তনের সাথে সাথে ভোল্টেজ ড্রপ হবে, যা আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাংঘর্ষিক।
- যদি অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য না হত, তাহলে উৎসের মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার সময় ভোল্টেজ পতন (V = IR) ঘটত এবং ভোল্টেজ পরিবর্তিত হয়ে যেত।
- আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের ক্ষেত্রে, r = 0, তাই, 
Vterminal = Vsource অর্থাৎ, টার্মিনাল ভোল্টেজ সর্বদা উৎসের ভোল্টেজের সমান থাকে।
- সুতরাং, আদর্শ ভোল্টেজ উৎসের অভ্যন্তরীণ রোধ শূন্য (০)।
- এটি অসীম পরিমাণ কারেন্ট সরবরাহ করতে সক্ষম।

উৎস:
১. "Fundamentals of Electric Circuits" – Charles K. Alexander & Matthew N. O. Sadiku.
২. "Basic Engineering Circuit Analysis" – J. David Irwin & R. Mark Nelms.

৮৮০.
তাপ সঞ্চালনের সবচেয়ে দ্রুততম পদ্ধতি কোনটি?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. আবেশ
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন-
- উচ্চ তাপমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন তাপমাত্রার স্থানে তাপের প্রবাহকে তাপ সঞ্চালন বলা হয়।

• তাপ সাধারনত ৩ টি উপায়ে সঞ্চালিত হয়। যথা- 
- পরিবহন
- পরিচলন
-  বিকিরন

• বিকিরন-
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।

• বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলা হয়।
- বিকীর্ণ তাপের শক্তি সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, বা জড় মাধ্যম থাকলেও তাকে উত্তপ্ত করে না।
-  বিকীর্ণ তাপশক্তি আলোর বেগে সঞ্চালিত হয়। শূন্যস্থানে এই তরঙ্গের বেগ 3 × 108  ms-1
অর্থাৎ তাপ সঞ্চালনের জন্য সবচেয়ে দ্রুততম পদ্ধতি হলো বিকিরন। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮১.
ব্যাঙের ছাতা কোন শ্রেণির উদ্ভিদ?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. শৈবাল
  3. ছত্রাক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ছত্রাক: 
- পঁচা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ব্যাঙের ছাতা বা ছত্রাক জন্মাতে দেখা যায়। 
- এই ব্যাঙের ছাতার আরেকটি নাম হলো এগারিকাস। 
- বাসি, পঁচা রুটির উপর তুলার আঁশের মত এক প্রকার বস্তু জন্মাতে দেখা যায়। একে রুটির ছত্রাক বা মিউকর বলে।
- এসব উদ্ভিদ ক্লোরোফিলবিহীন। এ কারণে এদের রঙ সাদা। 

শৈবাল: 
- আবদ্ধ জলাশয়, জমে থাকা বৃষ্টির পানি, নর্দমা, কল পাড়ের স্যাঁতসেতে মাটিতে সবুজ শেওলা জন্মে থাকে। এসব শেওলা জাতীয় উদ্ভিদকে শৈবাল বলা হয়। 
- এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে তাই নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮২.
পিটুইটারি গ্রন্থির কোন হরমোনটি মূত্র নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. অক্সিটোসিন 
  2. ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন
  3. প্রোল্যাকটিন
  4. ভ্যাসোপ্রেসিন
ব্যাখ্যা

ভ্যাসোপ্রেসিন বা অ্যান্টি-ডাইইউরেটিক হরমোন (ADH) শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মূত্র নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

পিটুইটারি গ্রন্থি:
- পিটুইটারি গ্রন্থি হলো মানব মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র, লালচে-ধূসর রঙের মটর-সদৃশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
- এটি অন্তঃক্ষরাতন্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার ওজন মাত্র ০.৫ গ্রাম।
- পিটুইটারি গ্রন্থিকে হরমোন সৃষ্টিকারী প্রধান গ্রন্থি বা নিয়ামক গ্রন্থি (Principal/Master gland) বলে।
- এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে এবং অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল ও প্রজনন গ্রন্থি) কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি হাইপোথ্যালামাসের সাথে সংযুক্ত থাকে।

• প্রধান অংশ ও হরমোনসমূহ:
- পিটুইটারি গ্রন্থিকে প্রধানত দুইটি অংশে ভাগ করা হয়। যথা:
১। অগ্র পিটুইটারি (Anterior Pituitary/Adenohypophysis):
- দেহের বৃদ্ধি, বিপাক এবং অন্যান্য গ্রন্থির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এর প্রধান হরমোনগুলো হলো:
- গ্রোথ হরমোন (GH): দেহের সামগ্রিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
- থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH): থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH): অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH) এবং লিউটিনাইজিং হরমোন (LH): এ দুটি হরমোনকে একত্রে গোনাডোট্রপিক হরমোন (GTH) বলা হয়, যা প্রজনন অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- প্রোল্যাকটিন (Prolactin): দুগ্ধ উৎপাদনে সহায়তা করে।
- মেলানোসাইট স্টিমুলেটিং হরমোন (MSH): ত্বক ও চুলের বর্ণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

২। পশ্চাৎ পিটুইটারি (Posterior Pituitary/Neurohypophysis):
- এই অংশটি নিজে কোনো হরমোন তৈরি করে না, বরং হাইপোথ্যালামাস থেকে আসা দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন সংরক্ষণ করে ও প্রয়োজনে নিঃসরণ করে।
- হরমোন দুটি হলো:
- ভ্যাসোপ্রেসিন (Vasopressin): এটি অ্যান্টিডিউরেটিক হরমোন (ADH) নামেও পরিচিত, যা কিডনির মাধ্যমে মূত্র নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- অক্সিটোসিন (Oxytocin): এটি সন্তান প্রসবকালে জরায়ুর সংকোচন ঘটানো এবং দুগ্ধ নিঃসরণে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল, গাজী আসমত।

৮৮৩.
ডুবোজাহাজ থেকে সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা দেখার জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. দূরবীন
  2. টেলিস্কোপ 
  3. মাইক্রোস্কোপ
  4. পেরিস্কোপ
ব্যাখ্যা

- ডুবোজাহাজ থেকে সমুদ্র পৃষ্ঠে দেখার জন্য পেরিস্কোপ নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা আলো প্রতিফলিত করার জন্য আয়না বা প্রিজম ব্যবহার করে ডুবোজাহাজের নিচ থেকে জলের উপরের বস্তু দেখতে সাহায্য করে

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়াও বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৮৮৪.
কোন জারক রস পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়?
  1. পেপসিন
  2. এমাইলেজ
  3. রেনিন
  4. ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা
• রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে। যা পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়।

- দুধ একটি আদর্শ খাবার।
- এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
- দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৮৫.
মানবদেহের ত্বক ও কোষঝিল্লীর সজীবতা রক্ষা করে কোন ভিটামিন?
  1. ভিটামিন বি
  2. ভিটামিন এ
  3. ভিটামিন ডি
  4. ভিটামিন ই
ব্যাখ্যা

ভিটামিন এ মানবদেহের ত্বক ও কোষঝিল্লীর সজীবতা রক্ষা করে।

ভিটামিন এ :
- ভিটামিন এ এর রাসায়নিক নাম রেটিনল।
- এরা চোখের রেটিনা অর্থাৎ অক্ষিপট ও যকৃতে জমা থাকে।
- প্রাণিজ উৎস হতে প্রাপ্ত ভিটামিন এ রেটিনল এবং উদ্ভিজ্জ উৎস হতে প্রাপ্ত ভিটামিন এ ক্যারোটিনরূপে পাওয়া যায়।
- ভিটামিন এ বর্ণহীন, তাপে স্থিতিশীল, অম্ল ও ক্ষারে অবিকৃত থাকে।
- রান্নার সময় ভিটামিন এ বজায় রাখতে হলে মৃদু তাপে ঢাকনাসহ রাঁধতে হবে।

ভিটামিন এ এর উৎস:
- ভিটামিন এ প্রাণিজ এবং উদ্ভিজ্জ উৎস হতে পাওয়া যায়।
- প্রাণিজ উৎস: ডিমের কুসুম, মাছের তেল। যকৃত বা কলিজা, দুধ, ডিম, ঘি, মাখন ইত্যাদি এর ভালো উৎস। প্রাণিজ উৎসে ভিটামিন এ রেটিনলরূপে পাওয়া যায়।
- উদ্ভিজ্জ উৎস: হলুদ, কমলা ও গাঢ় সবুজ বর্ণের শাকপাতা, ফল ও সবজি ভিটামিন এ এর ভালো উৎস। উদ্ভিদে ভিটামিন এ ক্যারোটিন রূপে থাকে। যেমন- গাজর, মিষ্টি কুমড়া, লালশাক, মিষ্টি আলু, পাকা পেঁপে, আম, কাঁঠাল, ধনে পাতা ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্যারোটিন থাকে।

ভিটামিন এ এর কাজ :
১। ভিটামিন এ দেহের আবরক কলা গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করে।
২। ত্বক ও কোষঝিল্লীর সজীবতা রক্ষা করে।
৩। দৃষ্টি শক্তি প্রখর রাখে।
৪। চোখের নানারকম রোগ হতে চোখকে রক্ষা করে।
৫। চোখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
৬। অল্প আলোতে দেখতে সাহায্য করে।
৭। প্রজনন তন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতা রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
৮। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করে।

ভিটামিন এ এর অভাবজনিত অবস্থা :
১। জরায়ু, মূত্রাশয়, শ্বাসনালী ইত্যাদি স্থানের আবরককলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
২। ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়।
৩। চোখের উজ্জ্বলতা হ্রাস পায়।
৪। অল্প আলোতে দেখার ক্ষমতা কমে যায়।
৫। চোখের প্রদাহ হয়।
৬। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
৭। দীর্ঘ দিনের মারাত্মক অভাবে রাতকানা, জেরোপথ্যালমিয়াসহ চোখের জটিল রোগ সৃষ্টি হয়।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৬.
পরাগায়ন কী? 
  1. পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর
  2. গর্ভমুণ্ড থেকে ডিম্বাণুর গঠন
  3. পরাগরেণু থেকে বীজ উৎপন্ন হওয়া
  4. পরাগরেণুর গর্ভাশয়ে পরিণত হওয়া
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন (pollination): 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন ফুল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই ধরনের। 
যথা- 
১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। 
- সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে থাকে। 
- স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। এর ফলে নতুন যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তাতে বৈশিষ্ট্যেরও কোনো পরিবর্তন আসে না এবং কোনো একটি প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। 
- তবে এতে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে। 
- এই বীজের থেকে জন্ম নেওয়া নতুন গাছের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং অচিরেই প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে। 

২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে, তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়। 
- পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অংকুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। 
- দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এসব গাছে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। 
- তবে এটি বাহকনির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওযার সম্ভাবনা থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮৭.
স্বর্ণের খাদ বের করার জন্য স্বর্ণকারগণ কোন অ্যাসিড ব্যবহার করে থাকেন?
  1. সালফিউরিক অ্যাসিড
  2. নাইট্রিক অ্যাসিড
  3. হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড
  4. ইথানয়িক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
সোনার বিশুদ্ধতা নির্ধারণের জন্য যে অ্যাসিড ব্যবহার করা হয় তা হলো নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃)

কীভাবে কাজ করে:
- নাইট্রিক অ্যাসিড অনেক ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে, কিন্তু খাঁটি সোনার সাথে বিক্রিয়া করে না, কারণ সোনা রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়।
- সোনার একটি ছোট নমুনার উপর নাইট্রিক অ্যাসিড প্রয়োগ করা হলে,
- যদি এতে তামা বা রূপার মতো অমিশ্রণ থাকে, তাহলে এগুলো নাইট্রিক অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে গলে যায় এবং বুদবুদ বা রঙের পরিবর্তন দেখা যায়।
- যদি সোনা খাঁটি হয়, তাহলে কোনো প্রতিক্রিয়া হবে না।

উৎস: www.caratlane.com
৮৮৮.
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।

- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (¹H, ²H, ³H, ⁴H, ⁵H, ⁶H এবং ⁷H) আছে, যার মধ্যে শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ।
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৮৮৯.
করোটিকার (Cranium) কাজ কী? 
  1. পেটের অঙ্গ সুরক্ষা
  2. মস্তিষ্ক আবৃত রাখা
  3. বুকের অঙ্গ সুরক্ষা
  4. হাত-পা সংযুক্ত করা
ব্যাখ্যা

অক্ষীয় কঙ্কাল: 
- কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে। 
- অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানতঃ তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা- (ক) করোটি, (খ) মেরুদণ্ড ও (গ) বক্ষপিঞ্জর। 
• করোটি (skull): 
- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঙ্কালিক গঠনকে করোটি বলে। 
- করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে। 

করোটিকা (Cranium): 
- করোটির যে অংশ মস্তিষ্ক আবৃত করে রাখে তাকে করোটিকা বলে। 
- করোটিকা ছয় প্রকারের মোট আটটি অস্থিপাত নিয়ে গঠিত। 

• মেরুদণ্ড (Vertebral column): 
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত, এ সকল অস্থিখণ্ডককে কশেরুকা (vertebra) বলে। 
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। 

• বক্ষপিঞ্জর (Thoracic cage): 
- বক্ষদেশীয় ১২টি কশেরুকার সঙ্গে ১২ জোড়া পশুকা যুক্ত হয়ে যে খাঁচার মত আকৃতি গঠন করে তাকে বক্ষপিঞ্জর বলে। 
- এই খাঁচার ভেতরের গহ্বরকে বক্ষগহ্বর বলে, এই গহ্বরে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস অবস্থান করে। 
- দু'পাশের পর্যুকাগুলো স্টার্নাম নামক অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। 
- বুকের কেন্দ্রীয় সম্মুখ অংশে অবস্থিত চাপা অস্থিটির নাম স্টার্নাম। 
- এটি ৩টি অংশে বিভক্ত। 
যথা- উপরের ত্রিকোণাকার ম্যানুব্রিয়াম, মাঝের লম্বা দেহ এবং নিচের ক্ষুদ্র জিফয়েড প্রসেস। 
- স্টার্নাম বুকের খাঁচার সামনের অংশ গঠন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯০.
বেগ পরিমাপের যন্ত্র -
  1. ক) স্পিডোমিটার
  2. খ) ফ্যাদোমিটার
  3. গ) ক্রনোমিটার
  4. ঘ) ভেলাটোমিটার
ব্যাখ্যা
- বেগ পরিমাপের যন্ত্র - ভেলাটোমিটার।
- দ্রুতি পরিমাপের যন্ত্র - স্পিডোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপের যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র - সিসমোগ্রাফ।
- সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের যন্ত্র - ক্রনোমিটার।
 -হৃদপিন্ডের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র - কার্ডিওগ্রাফ।
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র - ক্যালোরিমিটার।
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র - থার্মোমিটার।

উৎস: টিচার্স.গভ.বিডি।
৮৯১.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য দায়ী -
  1. ক) উচ্চচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা
  2. খ) উচ্চচাপ এবং নিম্ন তাপমাত্রা
  3. গ) নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা
  4. ঘ) নিম্নচাপ এবং নিম্ন তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে। ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা।

উচ্চ তাপমাত্রার (সাধারণত ২৭ ডিগ্রির অধিক) ফলে সমুদ্রের বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে গেলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে ভারীবায়ু দ্রুত বেগে সৃষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে এবং ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে।
বায়ুর গতিবেগ ৬৩ কিলোমিটারের অধিক হলে তা ঘূর্নিঝড় হিসেবে অভিহিত হয়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯২.
নিচের কোনটি প্রাণিজ আমিষের উৎস? 
  1. ডিম 
  2. ডাল 
  3. বাদাম 
  4. শিমের বিচি 
ব্যাখ্যা

আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৩.
সূর্যের শক্তির উৎস কী?
  1. দহন
  2. নিউক্লিয়ার ফিশন
  3. নিউক্লিয়ার ফিউশন
  4. রেডিওঅ্যাকটিভিটি
ব্যাখ্যা
ফিউশন বিক্রিয়া (Fusion Reaction):
- ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্য শক্তি উৎপন্ন করে।
- ফিউশন বিক্রিয়া হলো নক্ষত্রগুলোর প্রধান শক্তি উৎস এবং হালকা মৌলগুলোর নিউক্লোসিনথেসিসের (নিউক্লিয়ার সংশ্লেষণ) প্রধান প্রক্রিয়া।
- ১৯৩০-এর দশকে হান্স বেতে প্রথম হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াসের ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ডিউটেরিয়াম গঠনের ফলে বিশাল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় বলে চিন্তাধারা উপস্থাপন করেন।
- এই বিক্রিয়ার ক্রমাগত সংঘটনের ফলে হিলিয়াম তৈরি হয়, যা সাধারণ নক্ষত্রগুলোর (যেমন সূর্য) মূল শক্তির উৎস।
- ফিউশন বিক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে নক্ষত্রের কেন্দ্রীয় প্লাজমার তাপমাত্রা ১৫,০০০,০০০ কে (কেলভিন) বা তার কম হতে হয়।
- হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো একত্রে মিশে হিলিয়ামে রূপান্তরিত হয়, যা শক্তি উৎপন্ন করে।
- ফিউশন বিক্রিয়া বিশ্বের শক্তি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

উৎস: Britannica.
৮৯৪.
কোনটি জোয়ার-ভাটার শ্রেণিবিভাগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়? 
  1. ভরা কটাল
  2. বসন্ত কটাল
  3. মুখ্য জোয়ার
  4. গৌণ জোয়ার
ব্যাখ্যা
- জোয়ার-ভাটার শ্রেণিবিভাগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়- বসন্ত কটাল। 

জোয়ার-ভাটা: 

- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। 
- ফুলে ওঠে আবার নেমে যাওয়ার কারণ মূলত দুটি। 
যথা- চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি। 
- সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 

জোয়ার-ভাটার কারণ: 
- জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ হলো- 
(ক) মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব (The Force of Gravitational Attraction) এবং 
(খ) কেন্দ্রাতিগ/বহির্মুখী শক্তি (Centrifugal force) । 

জোয়ার-ভাটার শ্রেণিবিভাগ: 
- জোয়ার-ভাটাকে নিম্নলিখিত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা: 
১. মুখ্য জোয়ার (Primary Tide), 
২. গৌণ জোয়ার (Secondary Tide), 
৩. ভরা কটাল (Spring Tide) এবং 
৪. মরা কটাল (Neap Tide) । 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৫.
মানুষে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক সময় কত মিনিট?
  1. ১-৮ মিনিট
  2. ২-৪ মিনিট
  3. ৩-৬ মিনিট
  4. ৪-৫ মিনিট
ব্যাখ্যা
রক্ত জমাট বাঁধা বা রক্ত তঞ্চন (Blood Clotting): 
- যে প্রক্রিয়ায় ক্ষতস্থান থেকে নির্গত হওয়া রক্তের প্লাজমা থেকে ফাইব্রিনোজেন আলাদা হয়ে ক্ষতস্থানে ফাইব্রিন জালক নির্মাণের মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে ফলে রক্তের অবশিষ্টাংশ থকথকে পিণ্ডে পরিণত হয় সে প্রক্রিয়ার নাম রক্ত তঞ্চন বা রক্তের জমাট বাঁধা। 
- রক্তবাহিকার অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না, কারণ সেখানে হেপারিন নামে এক পদার্থ সংবহিত হয়। 
- কিন্তু দেহের কোনও অংশে ক্ষত সৃষ্টি হলে রক্ত যখন দেহের ক্ষত অংশ থেকে বের হতে থাকে তখন ঐ অংশের অণুচক্রিকাগুলো বাতাসের সংস্পর্শে ভেঙ্গে যায় এবং ক্ষতের মুখে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে রক্তপাত বন্ধ করে। 
- রক্তরসে অবস্থিত ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর (clotting factor) রক্ত তঞ্চনে অংশ নেয়। 
- এগুলোর ধারাবাহিক কার্যকারিতার ফলে ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বাঁধে। 

রক্ত জমাট বাঁধার কৌশল: 
- দেহের কোন অংশে ক্ষত সৃষ্টি হলে সেখান থেকে নির্গত রক্তের অনুচক্রিকাগুলো বাতাসের সংস্পর্শে এসে ভেঙ্গে যায় এবং থ্রম্বোপ্লাস্টিন (thromboplastin: ক্লটিং ফ্যাক্টর) নামক প্লাজমা প্রোটিন উৎপন্ন হয়। 
- থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তের হেপারিনকে অকেজো করে দেয় এবং রক্তরসে অবস্থিত ক্যালসিয়াম আয়নের উপস্থিতিতে প্রোথ্রম্বিন (prothrombin) নামক গ্লাইকোপ্রোটিনের সাথে ক্রিয়া করে সক্রিয় থ্রম্বিন (thrombin) এনজাইম (ক্লটিং ফ্যাক্টর IIa) উৎপন্ন করে। 
- থ্রম্বিন রক্তে অবস্থিত ফাইব্রিনোজেন (fibrinogen; ক্লটিং ফ্যাক্টর I) নামক দ্রবণীয় প্লাজমা প্রোটিনের সাথে মিলে ফাইব্রিন (fibrin) নামক অদ্রবণীয় প্রোটিন সূত্রের সৃষ্টি করে। 
- এভাবে সৃষ্ট সূত্রগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে জালকের আকার ধারণ করে। 
-  ফাইব্রিনের জালকে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো আটকে যায়। ফলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয় এবং রক্ত জমাট বেঁধে যায়। 
- মানুষে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক সময় ৪-৫ মিনিট। 
- জমাট বাঁধা রক্ত থেকে যে হালকা হলুদ বর্ণের তরল জলীয় অংশ বেরিয়ে আসে তাকে রক্তের সিরাম (serum) বলে। 
- সিরাম বস্তুতপক্ষে রক্তরস, তবে এতে ফাইব্রিনোজেন থাকে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৮৯৬.
কোন ধরনের লেন্স আলোর রশ্মিকে প্রতিসরণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত করে? 
  1. অবতল লেন্স
  2. উত্তল লেন্স
  3. সমতল দর্পণ
  4. অবতল দর্পণ
ব্যাখ্যা
লেন্স (Lens): 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- সাধারণত লেন্স কাচের তৈরি হয়।  
- তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্লাস্টিক, কোয়ার্টজ এমন কী তরল পদার্থ বা অর্ধতরল পদার্থ দিয়েও লেন্স তৈরি হতে পারে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স (Convex Lens): 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে উত্তল লেন্স বা অভিসারী লেন্স বলে। 
- গঠন অনুসারে এই লেন্সের মধ্য ভাগ উঁচু বা মোটা এবং প্রান্ত ভাগ সরু, তাই একে স্থূল মধ্য বা উত্তল লেন্সও বলে। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স (Concave Lens): 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী বা অবতল লেন্স বলে। 
- গঠন অনুসারে এই লেন্সের মধ্যভাগ সরু বা পাতলা এবং প্রান্ত ভাগ মোটা তাই একে ক্ষীণ মধ্য বা অবতল লেন্সও বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৭.
জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. ক) Embryology
  2. খ) Histology
  3. গ) Taxonomy
  4. ঘ) Morphology
ব্যাখ্যা
Taxonomy শাখায় জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

জীববিজ্ঞানের Morphology শাখায় জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয়।
দেহের বাহ্যিক অংশগুলোর বর্ণনাকে External Morphology এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে Internal Morphology বলে।
জীবদেহের টিস্যুর গঠন, বিন্যাস, এবং কার্যাবলী Histology শাখায় আলোচনা করা হয়।
জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রুনের সৃষ্টি এবং বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যার জনক হলেন সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস। 

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
৮৯৮.
দেশে সবচেয়ে বেশি রাসায়নিক সার উৎপাদিত কোনটি?
  1. ক) টিএসপি
  2. খ) ইউরিয়া
  3. গ) ডিএপি
  4. ঘ) এমওপি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে উৎপাদিত রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়া সার প্রধান।
- এছাড়া অন্যান্য সারের মধ্যে টিএসপি ও ডিএপি উল্লেখযোগ্য।
- বিসিআইসি’র উৎপাদিত পণ্যের ৮০ শতাংশই বিভিন্ন রাসায়নিক সার, যার মধ্যে ৭০ শতাংশ ইউরিয়া সার এবং ১০ শতাংশ 
- কৃষি জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবহৃত সার - ইউরিয়া সার; পরিমাণ - ২,৪৫০ হাজার/২৪.৫০ লক্ষ মেট্রিক টন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবহৃত সার - ডিএপি (DAP); পরিমাণ – ১,৩০০.০০ হাজার/১৩.০০ লক্ষ মেট্রিক টন।

উৎস: বিসিআইসি ওয়েবসাইট ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১)
৮৯৯.
সবচেয়ে হালকা নিষ্ক্রিয় গ্যাস কোনটি?
  1. রেডন
  2. জেনন
  3. হাইড্রোজেন
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন এবং ওগানেসন হলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
- এগুলোর মধ্যে হিলিয়াম হলো সবচেয়ে হালকা গ্যাস। হিলিয়ামের বেলুন উড্ডয়নের ক্ষমতা ৯২%। 

- হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা গ্যাস হলেও তা কোনো নিষ্ক্রিয় গ্যাস নয়। 

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০০.
সমন্বিত বর্তনী প্যাকেজিং-এর মূল উদ্দেশ্য কী? 
  1. চিপের সংযোগের পিন সংখ্যা কমানো
  2. চিপের অভ্যন্তরে তাপ ধরে রাখা
  3. সার্কিট বোর্ডে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা
  4. চিপের উপাদানগুলির মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করা
ব্যাখ্যা

• সমন্বিত বর্তনী বা IC (Integrated Circuit) প্যাকেজিং-এর মূল উদ্দেশ্য হলো এটিকে সুরক্ষা প্রদান করা এবং বাইরের সার্কিট বোর্ডের সাথে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা।

• সমন্বিত বর্তনী বা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Integrated Circuit): 
- ১৯৫২ সালের দিকেই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট সম্পর্কে আলোচনা শুরু হলেও সত্যিকারের ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করা শুরু হয় ষাটের দশকে। 
- পঞ্চাশের দশকে একটি সিলিকনের পাতলা পাতে অসংখ্য ট্রানজিস্টর তৈরি করে সেগুলো কেটে আলাদা করে নেওয়া হতো। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করার সময় এই প্রক্রিয়াটিকে আর একটুখানি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল। 
- তখন শুধু ট্রানজিস্টর তৈরি না করে তার সাথে ডায়োড কিংবা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর বসিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সার্কিট তৈরি করা শুরু হয় যার নাম দেওয়া হয় ইন্টিগ্রেডেট সার্কিট (আইসি, IC) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে অল্প জায়গায় অনেক বেশি ট্রানজিস্টর বসানো শুরু হলো এবং তার নাম দেওয়া হলো প্রথমে লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন (LSI), পরে ভেরি লার্জ স্কেল ইন্ট্রেগ্রেশন (VLSI)।
- এই সার্কিটগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে প্যাকেজ করা হতো যেন সরাসরি সার্কিট বোর্ডে ব্যবহার করা যায়।
- মাইক্রোকম্পিউটার, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, ভিডিও ক্যামেরা এবং যোগাযোগের উপগ্রহ এই ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ছাড়া কোনো দিনই সম্ভব হতো না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।