বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৮৮ / ১৪০ · ৮,৭০১৮,৮০০ / ১৪,০৮০

৮,৭০১.
বিগ ব্যাংগ তত্ত্বের সাথে কোন বিজ্ঞানীর নাম জড়িত? 
  1. জর্জ গ্যামো
  2. নিউটন
  3. মেন্ডেল
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হবে, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 

- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদুর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 
- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। 
- সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুর বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে, একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭০২.
নিচের কোনটি পরিপাকতন্ত্রের অংশ?
  1. ক) রেকটাম
  2. খ) ব্রঙ্কাস
  3. গ) ইউরেটর
  4. ঘ) মস্তিস্ক
ব্যাখ্যা
রেকটাম অথবা, মলাশয় পরিপাকতন্ত্রের অংশ। সাথে মুখছিদ্র, পাকস্থলী, ইলিয়াম, পায়ুছিদ্র ইত্যাদি পরিপাকতন্ত্রের অংশ।

-যে শারীরিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু শোষণের উপযোগী কিংবা হজম হয়ে বা ভেঙে ক্ষুদ্র সাধারণ কণা হয়, তাকে পরিপাক ক্রিয়া বলে।
- পরিপাক সংশ্লিষ্ট যত ধাপ বা অংশ আছে, সব মিলেই পরিপাক্তন্ত্র গঠিত হয়। 

- পরিপাকতন্ত্রের কাজ—
১. খাদ্য গ্রহণ
২. খাদ্য পরিপাক
৩. বিভিন্ন পাচক রস নিঃসরণ
৪. পানি, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পরিপাককৃত
৫. খাদ্যাংশ শোষণ
৬. অপ্রয়োজনীয় খাদ্যাংশ মল হিসাবে ত্যাগ
৭. শরীরের পানি, গ্লুুকোজ, এসিড-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা
৮. পরোক্ষভাবে রক্ত উৎপাদনে সহায়তা করে

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৮,৭০৩.
কোন রোগটি পানিবাহিত নয়?
  1. কলেরা
  2. টাইফয়েড
  3. যক্ষা
  4. হেপাটাইটিস-A
ব্যাখ্যা
পানিবাহিত রোগ: পানিবাহিত রোগ হলো সেইসব রোগ যা দূষিত পানি পান, ব্যবহার বা খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এই রোগগুলো সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া ও অন্যান্য প্যাথোজেনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। 

পানিবাহিত রোগ এর মধ্যে অন্যতম হলো
- কলেরা
- টাইফয়েড
- হেপাটাইটিস A 
- ডায়রিয়া
- আমাশয়

পানিবাহিত রোগের কারন - 
- অপরিষ্কার পানি পান করা।
- দূষিত পানিতে রান্না/ফল ধোয়া।
- সঠিক স্যানিটেশন না থাকা।
- অপরিচ্ছন্ন নালা/ব্রিজের পানি ব্যবহার।

অন্যদিকে, 
যক্ষা (Tuberculosis) পানিবাহিত রোগ নয়।  বরং এটি  হলো একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। এটি মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়, এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- World Health Organization (WHO) – Waterborne Diseases.
৮,৭০৪.
বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের প্রধান ভূমিকা কী? 
  1. অক্সিজেন উৎপাদন করা
  2. জলীয়বাষ্প সংরক্ষণ করা
  3. অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিফলিত করা
  4. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের গঠন উপাদান: 
- জীবন ধারণের জন্য পৃথিবীর জীবকুলের কাছে যেসব জিনিস অপরিহার্য বায়ুমণ্ডল তাদের মধ্যে অন্যতম। 
- যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে বলে বায়ুমণ্ডল। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে বায়ুমণ্ডলও ভূপৃষ্ঠের চারদিকে জড়িয়ে থেকে অনবরত আবর্তন করছে। 
- বায়ুমণ্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই, তাই একে খালি চোখে দেখা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়। 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 
- বায়ুমণ্ডলের ব্যাপ্তি যত বিশাল হোক না কেন, এর প্রায় ৯৭ ভাগ উপাদানই ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। 
- তাই মানুষ, উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর উপর এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। 
- বায়ুমণ্ডল প্রধানত বিভিন্ন প্রকার উপাদান দ্বারা গঠিত। 
যেমন- 
• নাইট্রোজেন (N2) ⇒ ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন (O2) ⇒ ২০.৭১, 
• আর্গন (Ar) ⇒ ০.৮০, 
• কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ⇒ ০.০৩, 
• অন্য গ্যাসসমূহ (নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, ওজোন, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড) ⇒ ০.০২, 
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১, 
• ধূলিকণা ও কণিকা ⇒ ০.০১ । 

- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুটি- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- বায়ুমণ্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকি শতকরা ১.২৭ ভাগ অন্যান্য গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও কণিকাসমূহ জায়গা জুড়ে আছে। 
- জীবজগৎ পরস্পর অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের গ্রহণ ও ত্যাগের মাধ্যমে বেঁচে আছে। 
- ওজোন গ্যাসের স্তর সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭০৫.
মেন্ডেলিফ ও লোথার মেয়ারের পর্যায় সূত্র অনুযায়ী- মৌল সমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলী উহাদের ____________সাথে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
  1. পারমাণবিক সংখ্যার
  2. ইলেক্ট্রন সংখ্যার
  3. পারমাণবিক ভরের
  4. আণবিক ভরের
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণি সম্পর্কিত সূত্রসমূহ:
- আধুনিক পর্যায় সারণি: বিজ্ঞানী বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলে। এ পর্যায় সারণিতে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ বর্তমান।
- ত্রয়ী সূত্র: ত্রয়ী সূত্রগুলোর মাধ্যমে মৌলের পারমাণবিক ভর দলের অপর দুটি মৌলের গড় পারমাণবিক ভরের সমান এবং ত্রয়ী মৌল তিনটির পারমাণবিক ভরের পার্থক্য একটি ধ্রুবক।

- মেন্ডেলিফ ও লোথার মেয়ারের পর্যায় সূত্র: মৌল সমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলী উহাদের পারমাণবিক ভরের সাথে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
- আধুনিক পর্যায় সূত্র: মৌল সমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলী তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭০৬.
শহরের রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ সাধারণত সাদা ছাতা ও সাদা জামা ব্যবহার করে থাকে কারণ-
  1. ক) সরকারি নির্দেশ
  2. খ) দূর থেকে চোখে পড়বে বলে
  3. গ) তাপ বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য
  4. ঘ) দেখতে সুন্দর লাগে
ব্যাখ্যা
কালো রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি।
চায়ের কাপ কালো রঙের হলে তা থেকে অধিক পরিমান তাপ শোষণ করবে এবং এতে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হবে।
সাদা রঙের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। সেজন্য গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক; কারণ সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম।
অন্যদিকে, কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৮,৭০৭.
প্রজেক্টাইলের সর্বাধিক উচ্চতায় বেগ ও ত্বরণের মধ্যবর্তী কোণ কত হবে?
  1. 120° কোণ
  2. 180° কোণ
  3. 90° কোণ
  4. 45° কোণ
ব্যাখ্যা

• প্রজেক্টাইলের সর্বাধিক উচ্চতায়, উল্লম্ব বেগের উপাদান শূন্য হয়ে যায়, কিন্তু অনুভূমিক বেগের উপাদান স্থির থাকে। ফলে, এই বিন্দুতে প্রজেক্টাইলের বেগ শুধুমাত্র অনুভূমিক দিকে ক্রিয়া করে। অন্যদিকে, অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) সর্বদা উল্লম্বভাবে নীচের দিকে ক্রিয়া করে। যেহেতু বেগ ভেক্টরটি অনুভূমিক এবং ত্বরণ ভেক্টরটি উল্লম্বভাবে নিচের দিকে, তাই তাদের মধ্যবর্তী কোণ 90° হয়।
 সুতরাং, প্রদত্ত অপশনের মধ্যে সঠিক উত্তর হলো গ) 90° কোণ।

 
• প্রাস:
- কোনো একটি বস্তুকে অনুভূমিকের সাথে তির্যকভাবে উপরের দিকে নিক্ষেপ করা হলে তাকে প্রাস বলে। আর এই ধরনের গতিকে প্রাসের গতি বলে।
- প্রাসের গতিপথ একটি অধিবৃত্ত।
- প্রাসের গতি দ্বিমাত্রিক গতি।
- প্রাস সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌছালে এর বেগ সর্বনিম্ন হয়।

• সর্বাধিক অনুভূমিক পাল্লা (Maximum Horizontal Range):
- নিক্ষিপ্ত বস্তু সর্বাধিক যে অনুভূমিক দূরত্ব অতিক্রম করে আদি উচ্চতায় ফিরে আসে তাকে সর্বাধিক অনুভূমিক পাল্লা বলে।
- নির্দিষ্ট বেগে নিক্ষিপ্ত একটি বস্তু বা প্রাস সর্বাধিক অনুভূমিক দূরত্ব অতিক্রম করে যখন বস্তুটি অনুভূমিকের সাথে 45° কোণে নিক্ষিপ্ত হয়।

• প্রজেক্টাইলের সর্বাধিক উচ্চতায় বেগ ও ত্বরণের মধ্যবর্তী কোণ:
- প্রজেক্টাইলের ভরের উপর ক্রিয়াশীল একমাত্র ত্বরণ হলো গুরুত্বাকর্ষণ ত্বরণ, যা সর্বদা নিচের দিকে নির্দেশিত থাকে।
- সর্বাধিক উচ্চতায় প্রজেক্টাইলের উল্লম্ব বেগ শূন্য হয়, কারণ এটি ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল হয়ে যায়।
- যেহেতু ত্বরণ নিচের দিকে থাকে এবং উল্লম্ব বেগ শূন্য, তাই বেগ ও ত্বরণের মধ্যে কোণ 90° হবে।
- অর্থাৎ, সর্বাধিক উচ্চতায় প্রজেক্টাইলের ভেক্টর এবং ত্বরণের দিক পরস্পরের লম্ব হয়।
- এটি প্রজেক্টাইল গতির মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং সব ধরনের ভগ্নাংশীয় বা তির্যক প্রক্ষেপণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন।

৮,৭০৮.
চৌম্বকে পরিণত করা সম্ভব কোনটিকে?
  1. ক) তামা
  2. খ) লোহা
  3. গ) রুপা
  4. ঘ) স্বর্ণ
ব্যাখ্যা
লোহা, নিকেল, কোবাল্ট এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না। এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন- এ বিভক্ত থাকে।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
৮,৭০৯.
ফসফরাসের অভাবজনিত উদ্ভিদের সমস্যা নয় নিচের কোনটি? 
  1. উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।
  2. উদ্ভিদের পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
  3. উদ্ভিদের পাতা বেগুনি রং ধারণ করে।
  4. উদ্ভিদের পাতার সবুজ রং হালকা হয়ে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
ব্যাখ্যা
ফসফরাস: 
- ফসফরাসের (P) অভাব হলে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। 
- ফসফরাসের অভাবে পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে দেখে ফসফরাসের ঘাটতি বুঝা যায় না। যত দিনে লক্ষণ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর তেমন কিছু করার থাকে না। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭১০.
একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহীর সমন্বয়ে গঠিত p-n জাংশনকে বলা হয়- 
  1. ট্রান্সফর্মার
  2. ডায়োড
  3. ট্রানজিস্টার
  4. ক্যাপাসিটর
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭১১.
আমিষের অভাবে কোন রোগ হয়?
  1. জেরপথ্যালমিয়া
  2. বেরিবেরি
  3. পেলেগ্রা
  4. কোয়াশিয়রকর
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- আমিষ জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- সালফার, ফসফরাস ও আয়রন সামান্য পরিমাণে থাকে। 

আমিষের অভাবজনিত রোগ: 

- খাদ্যে পরিমিত প্রয়োজনীয় জৈব আমিষ বা মিশ্র আমিষ না থাকলে শিশুর দেহে আমিষের অভাবজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। 
- দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
- শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগলে দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। 
- আমিষের অভাবে শিশুদের কোয়াশিয়রকর ও মেরাসমাস রোগ দেখা দেয়। 

কোয়াশিয়রকর রোগের লক্ষণ:
- শিশুদের খাওয়ায় অরুচি হয়। 
- পেশি শীর্ণ ও দুর্বল হতে থাকে, চামড়া এবং চুলের মসৃণতা ও রং নষ্ট হয়ে যায় ৷ 
- ডায়রিয়া রোগ হয়, শরীরে পানি আসে। 
- পেট বড় হয়। উপযুক্ত চিকিৎসার দ্বারা এ রোগ নিরাময় হলেও দেহে মানসিক স্থবিরতা আসে। 
- কোয়াশিয়রকর রোগ মারাত্মক হলে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। 

মেরাসমাস রোগের লক্ষণ: 
- আমিষ ও ক্যালরি উভয়েরই অভাব ঘটে, ফলে দেহের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। 
- শরীর ক্ষীণ হয়ে অস্থিচর্মসার হয়। 
- চামড়া বা ত্বক খসখসে হয়ে ঝুলে পড়ে। 
- শরীরের ওজন হ্রাস পায়। 

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন A এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে, এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে।
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3) - এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। 
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স থায়ামিন (B1) - দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭১২.
ফোটন কণার নিশ্চল ভর কত? 
  1. ২ 
  2. - ১ 
  3. ০ 
  4. ১ 
ব্যাখ্যা

ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
 
ফোটন কণার ধর্মসমূহ:   
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে(C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়, ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭১৩.
এন্টাসিড জাতীয় ঔষধের রাসায়নিক সংকেত নিচের কোনটি?
  1. ক) H2CO3
  2. খ) NaHCO3
  3. গ) CH3-COOH
  4. ঘ) Na2CO3
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট:

- এন্টাসিড জাতীয় ঔষধের রাসায়নিক সংকেত NaHCO3 বা সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট। 

- আমাদের পাকস্থলির দেয়াল হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) উৎপন্ন করে। এ হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাবারের সাথে বিভিন্ন ক্ষতিকারক অণুজীবকে মেরে ফেলে এবং খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।
- পাকস্থলি থেকে অতিরিক্ত এসিড উৎপন্ন হলে বুক জ্বালা ও গলায় জ্বালাপোড়া অনুভব হয়।
- অতিরিক্ত এসিডকে প্রশমিত করতে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3) অথবা এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ সেবন করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
- লেবুতে, জলপাই, করমচা, আমলকি ও কাঁচা আমড়ায় থাকে সাইট্রিক এসিড। 
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- বিভিন্ন রকমের সফট ড্রিংকস পাওয়া যায় কার্বনিক এসিড (H2CO3)-এর দ্রবন।
- টকদই এর মধ্যে থাকে ল্যাকটিক এসিড

তথ্যসূত্র - রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭১৪.
পানির ফোঁটা গোলাকৃতি ধারণ করার কারণ কী?
  1. স্থিতিস্থাপকতা
  2. প্লবতা
  3. বায়ুচাপ
  4. পৃষ্ঠটান
ব্যাখ্যা
তলটান বা পৃষ্ঠটান: 
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে।

পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘটনা ঘটে তা হলো: 
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা। 
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা। 
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা। 
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া। 

- পানির ছোট ফোঁটা পৃষ্ঠটানের কারণে গোলাকৃতির হয়। 
- পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়। 
- মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭১৫.
নিচের কোন শক্তি উৎপাদনে দূষণের পরিমাণ সবচেয়ে কম হয়?
  1. কয়লা 
  2. সৌর শক্তি
  3. খনিজ তেল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা

- 'সৌর শক্তি' উৎপাদনে দূষণের পরিমাণ সবচেয়ে কম হয়, কারণ এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি উৎস যার দূষণের পরিমাণ কম থাকে। 

শক্তির উৎস ও এর প্রকারভেদ:  
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা- নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

১. নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তি এমন একটি শক্তির উৎস, যা প্রকৃতিতে বারবার পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং কখনো ফুরিয়ে যায় না। 
- এটি সাধারণত পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় গ্রীন শক্তি নামেও পরিচিত। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে দূষণের পরিমাণ কম থাকে। 
- এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই এবং প্রাকৃতিকভাবে পুনরায় উৎপন্ন হয়। 
উদাহরণ: সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, সমুদ্রস্রোত, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

২. অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস প্রকৃতিতে সীমিত এবং একবার ব্যবহার হয়ে গেলে পুনরায় সৃষ্টি হতে দীর্ঘ সময় লাগে বা আর উৎপন্ন হয় না। 
- এটি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না বা খুব ধীরগতিতে পুনরায় গঠিত হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন ব্যয়বহুল এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ দূষণের কারণ হতে পারে। 
উদাহরণ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭১৬.
জোয়ার-ভাঁটার কারণ কিসের প্রভাবে সংঘটিত হয়?
  1. ক) পৃথিবীর সাথে গ্রহ নক্ষত্রের আকর্ষণ
  2. খ) পৃথিবীর সাথে চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
  3. গ) পৃথিবীর সাথে মঙ্গলের আকর্ষণ
  4. ঘ) গ্রহ নক্ষত্রের সাথে চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
ব্যাখ্যা
জোয়ার ভাঁটা:
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা (Ebb or low Tide) বলে। 
- প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার ভাঁটা সংঘঠিত হয়। অর্থাৎ সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু'বার জোয়ার ও দু'বার ভাঁটা হয়।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাঁটা বেশি অনুভূত হয়। 
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে।
- তবে বিভিন্ন নদীপথে দেশের ভিতরে সমুদ্রের পানি যখন প্রবেশ করে এবং নেমে যায় তাকে জোয়ার ভাঁটা বলে না।

জোয়ার ভাটার কারণ:
জোয়ার ভাঁটা সম্পর্কে প্রাচীনকালে মানুষ নানা রকম অবাস্তুব কল্পনা করত।
- কিন্তু বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে জোয়ার ভাঁটা হয়
- জোয়ার ভাঁটা সংঘটনের কারণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব এবং
খ. কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭১৭.
তড়িৎ ক্ষমতা নির্ণয়ের সূত্র কোনটি?
  1. ক) P = V / I
  2. খ) P = V2R
  3. গ) P = VI
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আমরা যখন বিভব বা পটেনশিয়াল আলোচনা করছিলাম তখন দেখেছি পটেনশিয়াল প্রয়োগ করে চার্জকে সরানো হলে কাজ করা হয় বা শক্তি ক্ষয় হয়। তাই যদি একটা সার্কিটে v বিভব প্রয়োগ করে Q চার্জকে সরানো হয় তাহলে কাজের পরিমাণ বা শক্তি প্রয়োগের পরিমাণ,
W = VQ জুল 
ক্ষমতা P হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে কাজ করার ক্ষমতা, কাজেই যদি t সময়ে Q চার্জ সরানো হয়ে থাকে তাহলে,
P
= W/t
= VQ/t
= VI watt 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
৮,৭১৮.
জনসংখ্যার ঘনত্ব পরিমাপের সূত্র কোনটি?
  1. DP = (TR/TP)
  2. DP = (TP/TA)
  3. DP = (TD/TR)
  4. DP = (TD/TA)
ব্যাখ্যা
জনসংখ্যার ঘনত্ব পরিমাপের সবচেয়ে প্রচলিত সূত্রটি হলো:
DP = (TP/TA) × 100 

এখানে,
- DP হলো জনসংখ্যার ঘনত্ব (Population Density)
- TP হলো মোট জনসংখ্যা (Total Population)
- TA হলো এলাকার মোট ক্ষেত্রফল (Total Area)

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৮,৭১৯.
চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে কী বলে?
  1. মুখ্য জোয়ার
  2. গৌণ জোয়ার
  3. তেজ কটাল
  4. মরা কটাল
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাটা:
মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে  ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা -

১. মুখ্য জোয়ার:
চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার:
চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল:
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

৪. মরা কটাল:
চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭২০.
ওজোন স্তর কিসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. জলীয় বাষ্প
  2. CFC গ্যাস
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
• ওজোন স্তর হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত একটি গ্যাসীয় স্তর, যেখানে ওজোন (O₃) গ্যাসের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি।

- এই স্তরটি পৃথিবীর পৃষ্ঠকে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে। UV-B রশ্মি ত্বক ক্যান্সার, চোখের ছানি এবং উদ্ভিদের DNA ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- ওজোন স্তর এই ক্ষতিকর রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।

CFC:
- CFC বা ক্লোরোফ্লুরো-কার্বন  (Chlorofluorocarbon) হলো এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ যা প্রধানত রেফ্রিজারেটর, এসি, স্প্রে ক্যান এবং ফোম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- যখন CFC বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে যায়, তখন সূর্যের UV রশ্মির কারণে তা ভেঙে যায় এবং ক্লোরিন (Cl) মুক্ত হয়।
- এই ক্লোরিন ওজোন অণুর (O₃) সাথে বিক্রিয়া করে তা ভেঙে ফেলে, যার ফলে ওজোন স্তরের ক্ষয় ঘটে।
- একটি CFC অণু প্রায় 1,00,000 ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে।
- এর ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছে ত্বকের ক্যানসার, চোখের সমস্যা ও পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
অর্থাৎ ওজন স্তর CFC গ্যাস এর কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর ভুগোল ও পরিবেশ (NCTB).
- DOE Bangladesh – পরিবেশ অধিদপ্তর।
- UNEP (United Nations Environment Programme)
৮,৭২১.
প্রথম শ্রেণির খাদক কোনটি?
  1. ক) ময়ূর
  2. খ) বাঘ
  3. গ) হরিণ
  4. ঘ) শিয়াল
ব্যাখ্যা
খাদক (Consumer):
- কোনো প্রাণীই পরিবেশের জড় পদার্থ থেকে খাদ্য তৈরি করতে পারে না।
- তারা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।
- তাই এদের বলা হয় পরভোজী জীব।

প্রথম শ্রেণির খাদক
- যেসব প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে, তাদেরকে বলা হয় তৃণভোজী প্রাণী। এদের অপর নাম প্রথম শ্রেণির খাদক।
যেমন- ঘাস ফড়িং, মুরগি, গরু, ছাগল, হরিণ ইত্যাদি প্রথম শ্রেণির খাদক।

দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক:
- যেসব প্রাণী তৃণভোজী প্রাণীদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তাদের বলা হয় গৌণ খাদক বা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।
- এরা এক ধরনের মাংসাশী প্রাণী।
যেমন- শিয়াল, বাঘ ইত্যাদি দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।

তৃতীয় শ্রেণির খাদক:
- যেসব প্রাণী পৌণ খাদকদের খেয়ে বাঁচে তারাও মাংসাশী প্রাণী (carnivorous)।
- এদের বলা যায় তৃতীয় শ্রেণির বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খাদক।
যেমন- সাপ, ময়ূর, ইত্যাদি তৃতীয় শ্রেণির খাদক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭২২.
মানুষের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান কত? 
  1. 3.5
  2. 4.0
  3. 5.5
  4. 7.0
ব্যাখ্যা

প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মানুষের মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭২৩.
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা কত?
  1. ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz
  2. ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz
  3. ২,০০০ Hz ∼ ১১০,০০০ Hz
  4. ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার পাল্লা বা সীমা: উৎসের কম্পাঙ্ক 20Hz থেকে 20,000Hz এর মধ্য থাকলে মানুষ সে শব্দ শুনতে পায়। একে শ্রাব্যতার পাল্লা বলা হয়।

• 20Hz এর কম কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দেতর তরঙ্গ ও,
• 20,000Hz এর বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলা হয়।
• মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা-  ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz;
• কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা- ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz;
• বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা- ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz;
• ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা- ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz;
• বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা- ২,০০০ Hz ∼ ১১০,০০০ Hz.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮,৭২৪.
সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক হচ্ছে?
  1. ক) লোহা
  2. খ) তামা
  3. গ) সীসা
  4. ঘ) ব্রোঞ্জ
ব্যাখ্যা
- পরিবহন এবং পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, এবং এই দুই পদ্ধতিতে মাধ্যমকে উত্তপ্ত করে তাপ সঞ্চালন করতে হয়।
- তামার মধ্যে পরিবহন এবং পরিচলন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি থাকে।লোহা, সীসা ও ব্রোঞ্জের তুলনায়।
- তাই তামা সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক।
-  তামা সহজলভ্য বলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে তামার ব্যবহার বেশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (উন্মুক্ত)।
৮,৭২৫.
কোন ধরনের তরঙ্গ সুস্পন্দ বিন্দু ও নিস্পন্দ বিন্দু সৃষ্টি করে?
  1. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  2. অগ্রগামী তরঙ্গ
  3. স্থির তরঙ্গ
  4. দীঘল তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
 স্থির তরঙ্গ: 
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয়, তাকে স্থির তরঙ্গ বলে। 
- দুই প্রান্তে বাঁধা একটি টান টান করা তারের যেকোনো স্থানে টোকা দিলে বা সামান্য টেনে ছেড়ে দিলে অগ্রগামী তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। তরঙ্গটি তার বেয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। এবং অপর প্রান্ত হতে প্রতিফলিত হয়ে মূল তরঙ্গের উপর আপতিত হয়। মূল তরঙ্গ এবং প্রতি ফলিত তরঙ্গ দুটির বিস্তার এবং কম্পাঙ্ক অভিন্ন। এদের মধ্যে দশার পার্থক্য 180°, এরা সম বেগে বিপরীত দিক থেকে এসে একে অপরের উপর আপতিত হয়ে স্থির তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে। 


সুস্পদ বিন্দু: 
- যে সকল বিন্দুতে আন্দোলন সর্বাধিক সেই সব বিন্দুতে লব্ধি বিস্তার সর্বোচ্চ অর্থাৎ, A = ±2a, সেই সব বিন্দুতে সুস্পন্দ তৈরি হবে। 

নিস্পন্দ বিন্দু:
- যে সকল বিন্দুতে cos kx বা  cos (2πx/λ = 0 সে সকল বিন্দুতে A = 0 হবে, অর্থাৎ সে সকল বিন্দুতে তরঙ্গেও বিস্তার A = 0 বা তরঙ্গের কোন স্পন্দন নাই। ঐ বিন্দুগুলিতে নিস্পন্দ তৈরি হবে। 

স্থির তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের স্থির বিন্দুগুলি ছাড়া অন্য সকল কণাই পর্যাবৃত্ত গতি লাভ করে। স্থির বিন্দুগুলি নিস্পন্দ বিন্দু। 
২. স্থির বিন্দু ছাড়া অন্যান্য বিন্দুর কণাগুলির দোলন কাল বা স্পন্দন সমান হলেও বিস্তার সমান নয়। 
৩. যে বিন্দুতে বিস্তার সর্বাধিক তাদের সুস্পব্দ বিন্দু বলে। স্থির বিন্দুগুলিকে নিস্পন্দ বিন্দু বলে। 
৪. পাশাপাশি দুটি নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী সকল কণা একই দশায় থাকে। 
৫. প্রত্যেক পূর্ণ কম্পনে কণাগুলো দু'বার সাম্য অবস্থানে আসে। 
৬. পরপর তিনটি নিস্পন্দ বিন্দু বা তিনটি সুম্পন্দ বিন্দুর মধ্যের দূরত্বই স্থির তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭২৬.
সূর্যকিরণ নিরক্ষরেখায় সারাবছর কেমনভাবে পড়ে?
  1. কৌণিকভাবে 
  2. তির্যকভাবে 
  3. লম্বভাবে 
  4. কিছু সময় লম্ব ও কিছু সময় তির্যকভাবে 
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা: 
- সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়। 
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। 
- নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। 
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

৮,৭২৭.
কোনটি জারক হিসেবে কাজ করে? 
  1. Cl2
  2. H2
  3. Na
  4. H2S
ব্যাখ্যা

জারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- O2, Cl2, F2, H2SO4, HNO3, H2O2, SO2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

বিজারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, H2S, H2O2, SO2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।

৮,৭২৮.
মানুষের নিঃশ্বাসে শব্দের পরিমাণ কত ডেসিবল হয়ে থাকে?
  1. 50 dB
  2. 10 dB
  3. 30 dB
  4. 40 dB
ব্যাখ্যা
শব্দের দূষণ: 
- শব্দ জীবনের খুব প্রয়োজনীয় একটি বিষয়, কিন্তু এর বাড়াবাড়ি জীবনকে অসহনীয় করে তুলতে পারে।
- যারা শহরে থাকে বিশেষ করে যারা বড় রাস্তার পাশে থাকে তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছে রাস্তায় বাস, গাড়ি, ট্রাকের ইঞ্জিনের শব্দ এবং অনবরত হর্নের শব্দ প্রায়ই সহনশীল সীমার বাইরে চলে যায়।
- দীর্ঘদিন এই শব্দদূষণে থাকতে থাকতে অনেক সময় তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন শব্দদূষণহীন কোনো নিরিবিলি জায়গায় যাওয়ার সৌভাগ্য হলে হঠাৎ করে শব্দদূষণহীন জীবনের গুরুত্ব ধরা যায়।
- বিভিন্ন ধরনের শব্দের পরিমাণ নিচে দেখানো হয়েছে- 
• জেট ইঞ্জিন → 110-140 dB, 
• ট্রাফিক → 80-90 dB, 
• গাড়ি → 60-80 dB, 
• টেলিভিশন → 50-60 dB, 
• কথাবার্তা → 40-60 dB, 
নিঃশ্বাস → 10 dB এবং 
• মশার পাখার শব্দ → 0 dB । 

- শব্দদূষণের কারণে শোনার ক্ষমতা অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
- অনেকে অপ্রয়োজনেও কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শোনে, যাতে সমস্যাটি আরো জটিল হয়ে যায়।
- শব্দদূষণ কমানোর জন্য প্রথম প্রয়োজন দেশে এর বিরুদ্ধে আইন তৈরি করা যেন কেউ শব্দদূষণ সৃষ্টি করতে না পারে এবং করা হলে যেন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
- এরপর প্রয়োজন জনসচেতনতা, যথাসম্ভব কম হর্ন ব্যবহার করে চলাচল, কলকারখানায় শব্দ শোষণের যন্ত্র চালু, মাইকের ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া কিংবা বন্ধ করে দেওয়া, কম শব্দের যানবাহন ব্যবহার ইত্যাদি।
- একই সাথে শহরের ফাঁকা জায়গায় প্রচুর গাছ লাগিয়ে শব্দকে শোষণ করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া উচিত।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭২৯.
অক্সানোমিটার দ্বারা কী নির্ণয় করা যায়?
  1. ক) রক্তচাপ
  2. খ) উদ্ভিদের বৃদ্ধি
  3. গ) পাতার পানি নিঃস্বরণের হার
  4. ঘ) বাতাসের গতিবেগ
ব্যাখ্যা
অক্সানোমিটার (auxanometer) দ্বারা উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ করা যায়।
Auxanometer (Noun):
Meaning: an instrument for determining and measuring the rate of growth in plants consisting essentially of a lever with a long and a short arm which is attached to the plant.

এছাড়া 
- ক্রেস্কোগ্রাফ হলো উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র ।
- এটির আবিষ্কারক জগদীশচন্দ্র বসু।
- তিনি প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে।
 
অপরদিকে, 
- রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হলো স্ফিগমোম্যানোমিটার,
- পোটোমিটার হলো উদ্ভিদের প্রস্বেদন বা উদ্ভিদের পাতার পানি নিঃস্বরণের হার নির্ণায়ক যন্ত্র।
- এনিমোমিটার হলো বাতাসের গতিবেগ ও শক্তি পরিমাপক যন্ত্র

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮,৭৩০.
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে কী বলে?
  1. ক) সোলার প্যানেল
  2. খ) সান সান সিস্টেম মডেল
  3. গ) লুনার প্যানেল
  4. ঘ) সোলার সিস্টেম মডেল
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে একে সোলার সিস্টেম মডেল বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৮,৭৩১.
কৃষ্ণগহবরের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য?
  1. ক) কৃষ্ণগহবরের মহাকর্ষীয় বল দুর্বল প্রকৃতির
  2. খ) কৃষ্ণগহবর হতে আলো বের হয় না
  3. গ) কৃষ্ণগহবর একটি বিশাল কালো আকৃতির গ্রহ
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ব্ল্যাক হোল হল মহাকাশের এমন একটি জায়গা যেখানে মাধ্যাকর্ষণ এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় বলের  টানে আলোও বের হতে পারে না।

মাধ্যাকর্ষণ এত শক্তিশালী কারণ পদার্থ একটি ক্ষুদ্র স্থানের মধ্যে চাপা পড়ে গেছে। একটি তারকা মারা গেলে এটি ঘটতে পারে। মানুষ ব্ল্যাক হোল দেখতে পায় না, কারণ ইহা অদৃশ্য। বিশেষ সরঞ্জাম সহ স্পেস টেলিস্কোপ ব্ল্যাক হোল খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। 

ব্ল্যাক হোল বড় বা ছোট হতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন ক্ষুদ্রতম ব্ল্যাক হোল একটি পরমাণুর মতোই ছোট। এই ব্ল্যাক হোলগুলি খুব ছোট কিন্তু একটি বড় পাহাড়ের ভর রয়েছে। আরেক ধরনের ব্ল্যাক হোলকে বলা হয় ‘স্টেলার’। এর ভর সূর্যের ভরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি হতে পারে।  পৃথিবীর ছায়াপথকে মিল্কিওয়ে বলা হয়। 

সবচেয়ে বড় ব্ল্যাক হোলকে বলা হয় "সুপারম্যাসিভ"। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে প্রতিটি বড় গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল রয়েছে।

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট। 
৮,৭৩২.
নিচের কোনটি বাস্তুতন্ত্রের বিযোজক?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাঙ
  3. কচ্ছপ
  4. সবুজ উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্র: 
- কোনো একটি পরিবেশের অজীব এবং জীব উপাদানসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশে যে তন্ত্র গড়ে উঠে, তাই বাস্তুতন্ত্র নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল উপাদানের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে।  

বাস্তুতন্ত্রের উপাদান: 
- অজীব এবং জীব এই দুটি প্রধান উপাদান নিয়ে বাস্তুতন্ত্র গঠিত। 
১। অজীব উপাদান: 
- বাস্তুতন্ত্রের প্রাণহীন সব উপাদান অজীব উপাদান নামে পরিচিত। 
- এই অজীব উপাদান আবার দুই ধরনের। 
(ক) অজৈব বা ভৌত উপাদান: অজৈব উপাদানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবণ, মাটি, আলো, পানি, বায়ু, তাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদি। 
(খ) জৈব উপাদান: সকল জীবের মৃত ও গলিত দেহাবশেষ জৈব উপাদান নামে পরিচিত। 
- পরিবেশের জীব উপাদানের বেঁচে থাকার জন্য এসব অজৈব ও জৈব উপাদান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

২। জীব উপাদান: 
- পরিবেশের সকল জীবন্ত অংশই বাস্তুতন্ত্রের জীব উপাদান। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল জীব ও অজীব উপাদানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। 
- বাস্তুতন্ত্রকে কার্যকরী রাখার জন্য এ সকল জীব যে ধরনের ভূমিকা রাখে, তার উপর ভিত্তি করে এসব জীব উপাদানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
(ক) উৎপাদক: 
- সবুজ উদ্ভিদ যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে, তারা উৎপাদক নামে পরিচিত। 
- যারা উৎপাদক তারা সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- যার উপর বাস্তুতন্ত্রের অন্যান্য সকল প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 

(খ) খাদক বা ভক্ষক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদ থেকে পাওয়া জৈব পদার্থ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বা অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে, তারাই খাদক বা ভক্ষক নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রে তিন ধরনের খাদক রয়েছে। 
প্রথম স্তরের খাদক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদভোজী তারা প্রথম স্তরের খাদক, এরা তৃণভোজী নামেও পরিচিত। 
- তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ছোট কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে অনেক বড় প্রাণী। 
যেমন- গরু, ছাগল ইত্যাদি। 

দ্বিতীয় স্তরের খাদক: 
- যারা প্রথম স্তরের খাদকদেরকে খেয়ে বাঁচে, তারাই দ্বিতীয় স্তরের খাদক, এরা মাংসাশী বলেও পরিচিত। 
যেমন- পাখি, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 

তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক: 
- যারা দ্বিতীয় স্তরের খাদকদের খায়, তারাই তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক। 
যেমন- কচ্ছপ, বক, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 
- এদের মধ্যে কোনো কোনো প্রাণী আবার একাধিক স্তরের খাবার খায়, এদেরকে বলা হয় সর্বভুক। 

(গ) বিযোজক: 
- এরা পচনকারী নামেও পরিচিত। 
- পরিবেশে কিছু অণুজীব আছে, বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক যারা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের উপর ক্রিয়া করে এবং বিযোজিত হয়। 
- এসময় মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে মৃতদেহ ক্রমশ বিযোজিত হয়ে নানা রকম জৈব ও অজৈব দ্রব্যাদিতে রূপান্তরিত হয়। 
- এসব দ্রব্যের কিছুটা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। 
- মৃতদেহ থেকে তৈরি বাকি খাদ্য পরিবেশের মাটি ও বায়ুতে জমা হয়, যা উদ্ভিদ পুনরায় ব্যবহার করে। 
- এভাবে প্রকৃতিতে অজীব ও জীব উপাদানের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হয়ে বাস্তুসংস্থান সচল থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮,৭৩৩.
শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) পরাশ্রয়ী
  2. খ) মৃতজীবী
  3. গ) স্বভোজী
  4. ঘ) পরভোজী
ব্যাখ্যা

- শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে তাই এরা স্বভোজী উদ্ভিদ।
- এদের দেহে ক্লোরোফিল আছে।
- এরা এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৭৩৪.
কোন পেশি টিস্যু প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়?
  1. ডোরাকাটা পেশি টিস্যু
  2. মসৃণ পেশি টিস্যু
  3. হৃৎপেশি টিস্যু
  4. কার্ডিয়াক পেশি টিস্যু
ব্যাখ্যা
পেশি টিস্যু: 
- ভ্রূণের মেসোডার্ম থেকে তৈরি সংকোচন ও প্রসারণক্ষম বিশেষ ধরনের টিস্যুকে পেশি টিস্যু বলে। 
- এদের মাতৃকা প্রায় অনুপস্থিত। 
- পেশিকোষগুলো সরু, লম্বা এবং তন্তুময়। 
- যেসব তন্তুতে আড়াআড়ি ডোরাকাটা থাকে, তাদের ডোরাকাটা পেশি (Striated muscle) এবং ডোরাবিহীন তন্তুকে মসৃণ পেশি (Smooth muscle) বলে।
- পেশিকোষ সংকোচন এবং প্রসারণের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালন, চলন ও অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটায়।
- অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশি টিস্যু তিন ধরনের। 
যথা- ঐচ্ছিক পেশি, অনৈচ্ছিক পেশি এবং হৃৎপেশি। 

১। ঐচ্ছিক পেশি (Voluntary) বা ডোরাকাটা পেশি: 
- এই ঐচ্ছিক পেশি বা ডোরাকাটা পেশি প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়। 
- ঐচ্ছিক পেশিটিস্যুর কোষগুলো নলাকার, শাখাবিহীন ও আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত হয়। 
- এদের সাধারণত একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে। 
- এই পেশি দ্রুত সংকুচিত এবং প্রসারিত হতে পারে। 
- ঐচ্ছিক পেশি অস্থিতন্ত্রের সংলগ্ন থাকায় একে কঙ্কালপেশিও বলে। 
উদাহরণ: মানুষের হাত এবং পায়ের পেশি। 

২। অনৈচ্ছিক পেশি (Involuntary muscle) বা মসৃণ পেশি: 
- এই পেশি টিস্যুর সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। 
- এ পেশি কোষগুলো মাকু আকৃতির। 
- এদের গায়ে আড়াআড়ি দাগ থাকে না, এজন্য এ পেশিকে মসৃণ পেশি বলে। 
- মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রক্তনালি, পৌষ্টিকনালি ইত্যাদির প্রাচীরে অনৈচ্ছিক পেশি থাকে। 
-অনৈচ্ছিক পেশি প্রধানত দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদির সঞ্চালনে অংশ নেয়। 
যেমন: খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় অন্ত্রের ক্রমসংকোচন। 

৩। কার্ডিয়াক পেশি বা হৃৎপেশি (Cardiac muscle): 
- এই পেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি। 
- এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি (অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো), শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। 
- এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক (Intercalated disc) থাকে। 
- এদের সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। 
অর্থাৎ, কার্ডিয়াক পেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো। তাই একে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশিও বলে। 
- কার্ডিয়াক পেশির কোষগুলো শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডের সব কার্ডিয়াক পেশি সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। 
- মানব ভ্রুণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭৩৫.
ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা রশ্মির উৎস কী? 
  1. কোবাল্ট-৬০ 
  2. প্লুটোনিয়াম-২৩৮
  3. আয়োডিন-১৩১
  4. ফসফরাস-৩২ 
ব্যাখ্যা
• ক্যান্সারের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় রশ্মির ব্যবহার:
- ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলো কোবাল্ট-৬০ (60Co) আইসোটোপ।
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলা হয়।
- ক্যান্সারের চিকিৎসায় সাধারনত কোবাল্ট-৬০ (60Co) আইসোটোপটি ব্যবহৃত হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়।
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭৩৬.
তড়িৎ কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে
  2. খুব দ্রুত চার্জের ভারসাম্য বজায় রাখতে
  3. সাম্যাবস্থা অর্জন করতে
  4. সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
লবণ সেতু
- ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন এর আয়নীয় গতিবেগ সমান এমন একটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের জলীয় দ্রবণে আগর আগর জেলি মিশিয়ে উত্তপ্ত করে পরে ঠান্ডা করে লবণ সেতু বা সল্ট ব্রিজ তৈরি করা হয়। 
- লবণ সেতু ছাড়া যদি কোনও পূর্ণাঙ্গ তড়িৎ রাসায়নিক কোষ তৈরি করা হয়, তবে একটি দ্রবণ দ্রুত ধনাত্বক চার্জ সংগ্রহ করবে এবং অন্যটি নেগেটিভ চার্জ জমা করবে এবং শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন থামিয়ে দেবে।
- লবণ সেতুর উদ্দেশ্য হ'ল বৈদ্যুতিক রাসায়নিক বিক্রিয়াকে খুব দ্রুত ভারসাম্য বজায় রাখা থেকে বিরত রাখা।
- বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে তড়িৎ কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয়। 
- লবণ সেতুর লবণের আয়নগুলো তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষের উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলাচল করে।
- আয়নগুলো দ্রবণের সাথে কোন প্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়া করেনা।
- জারণ অর্ধকোষে উৎপন্ন ধনাত্মক আয়ন বৃদ্ধি পেলে লবণ সেতু হতে ঋনাত্মক আয়ন ব্যপন প্রক্রিয়ায় দ্রবণে প্রবেশ করে চার্জের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একইভাবে বিজারণ অর্ধকোষে ঋনাত্বক আয়ন বৃদ্ধি পেলে লবণ সেতু হতে ধনাত্মক আয়ন ব্যপন প্রক্রিয়ায় দ্রবণে প্রবেশ করে চার্জের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- ফলে উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। 

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন (হাজারী-নাগ)।
৮,৭৩৭.
মা ও নবজাতককে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে কোন টিকা প্রয়োজন?
  1. Tetanus toxoid
  2. Measles vaccine
  3. Zero dose
  4. Bacillus Calmette Guerin
ব্যাখ্যা

• মা ও নবজাতককে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে Tetanus toxoid টিকা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় এই টিকা দেওয়া হলে মা তার শরীরে টিটানাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, যা প্লাসেন্টার মাধ্যমে নবজাতকেও সঞ্চারিত হয়। ফলে শিশুটি জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস ধরে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত থাকে। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ নবজাতক টিটানাস একটি প্রাণঘাতী সংক্রমণ এবং এটি প্রধানত নোংরা বা অপরিষ্কার কেটে বা জন্মকালীন সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ায়। অন্য টিকাগুলি যেমন Measles vaccine, BCG বা Zero dose টিটানাস প্রতিরোধে কার্যকর নয়। তাই মা ও শিশু দুজনকেই সুরক্ষিত রাখতে Tetanus toxoid অপরিহার্য।

• ভ্যাকসিনেশন:
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৩৮.
কোন রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
  1. নীল
  2. লাল
  3. আসমানী
  4. বেগুনি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) লাল

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4 x 10-7 m থেকে 7 × 10-7 m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়।
- লাল রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৩৯.
স্ফুটনের জন্য তাপ-
  1. ক) সরিয়ে নিতে হয়
  2. খ) কমিয়ে দিতে হয়
  3. গ) বাড়িয়ে দিতে হয়
  4. ঘ) কোনোটাই না
ব্যাখ্যা
স্ফুটনের জন্য তাপ দিতে হয় এবং ঘনীভবনের জন্য সরিয়ে নিতে হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৮,৭৪০.
ইউরিয়ার কার্যকারিতায় কোন এনজাইম ভূমিকা রাখে? 
  1. ল্যাকটেজ 
  2. অ্যামিলেজ
  3. ইউরিয়েজ 
  4. প্রোটিনেজ 
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: 
- উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। 
- ইউরিয়ার রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [(NH2)2C=O] । 
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত করে
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয় ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৪১.
মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজমের সংখ্যা -
  1. ক) ৪৪ টি
  2. খ) ৪২ টি
  3. গ) ৪৬ টি
  4. ঘ) ৪৮ টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমসোম থাকে।

- এ  ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম ।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই ।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বিষয়টি নিয়ে যেহেতু অনেকের কনফিউশন আছে তাই আমরা নিচে দুইটি বইয়ের স্ক্রিনশট যুক্ত করে দিচ্ছি -
জীববিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) বই এর স্ক্রিনশট:


বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বইয়ের স্ক্রিনশট:
৮,৭৪২.
"বিশ্বের যাবতীয় বস্তু এটম নামক খুবই ক্ষুদ্র কণিকার সমন্বয়ে গঠিত" – এই ধারণা প্রদান করেন -
  1. ক) রাদারফোর্ড
  2. খ) ডাল্টন
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) ডেমেক্রিটাস
ব্যাখ্যা
খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ সনে গ্রীক দার্শনিক ডেমেক্রিটাস সর্ব প্রথম অভিমত প্রকাশ করেন যে প্রতিটি বস্তুই অতি ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন কণিকার সাহায্যে গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্র কণিকার নাম দিয়েছিলেন ‘এটম'।
৮,৭৪৩.
নিম্নের কোনটি লবণাক্ত পানির উৎস? 
  1. উপসাগর
  2. বৃষ্টি
  3. ভূগর্ভস্থ পানি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উপসাগর হলো সমুদ্র বা মহাসাগরের একটি অংশ যা স্থলভাগের দিকে প্রসারিত থাকে। সাগর বা উপসাগরের পানিতে সোডিয়াম ক্লোরাইড, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইডসহ বিভিন্ন লবণের উপস্থিতির কারণে এটি লবণাক্ত হয়।

• বারিমণ্ডল: 
- 'Hydrosphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমণ্ডল। 
- 'Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে পানি, এ বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। 
- বারিমণ্ডল বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ। 
- পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগর) এবং মাত্র ৩ ভাগ পানি রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে। 
- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- লবণাক্ত ও মিঠা পানি। 
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত এবং নদী, বৃষ্টির পানি, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস। 

- জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ ও শতকরা হার হচ্ছে- 
• সমুদ্র = ৯৭.২৫, 
• হিমবাহ = ২.০৫, 
• ভূগর্ভস্থ পানি = ০.৬৮, 
• হ্রদ = ০.০১, 
• মাটির আর্দ্রতা = ০.০০৫, 
• বায়ুমণ্ডল = ০.০০১, 
• নদী = ০.০০০১ এবং 
• জীবমণ্ডল = ০.০০০০৪ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৭৪৪.
চারটি মৌলিক বল তার বর্তমান রূপ লাভ করে কখন?
  1. ক) কোয়ার্ক কালে
  2. খ) মেসন কাল
  3. গ) ল্যাপটন কাল
  4. ঘ) স্ট্রিং কালে
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং এর পরে

10-12s থেকে 10-6s

সময়কালকে কোয়ার্ক কাল বলে, এই সময়েই চারটি মৌলিক বল তাদের বর্তমান রুপ লাভ করে৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮,৭৪৫.
শ্বাসনালীর ভেতরে আবৃত প্রদাহকে কী বলে?
  1. ক) নিউমোনিয়া
  2. খ) যক্ষ্মা
  3. গ) গলগণ্ড
  4. ঘ) ব্রঙ্কাইটিস
ব্যাখ্যা
শ্বাসনালীর ভেতরে আবৃত প্রদাহকে ব্রঙ্কাইটিস বলে। 

 শ্বসনতন্ত্রের প্রদাহজনিত সমস্যাগুলোর মধ্যে ব্রঙ্কাইটিস অন্যতম। দেখা যায়,শিশু এবং পুরুষদের মধ্যে ব্রঙ্কাইটিস বেশি হয়। শ্বাসনালির ভেতরে আবৃত ঝিল্লিতে এক ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ থেকেই ব্রংকাইটিস হয়। এটি শ্বাসনালির মিউকাস আবরণীর প্রদাহ। তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী— এই দুই ধরনের ব্রংকাইটিস হতে দেখা যায়।

কারণঃ ধূমপান ব্রঙ্কাইটিসের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অামাদের শ্বাসনালীতে চুলের মতো দেখতে কিছু স্ট্রাকচার থাকে, যার নাম সিলিয়া। ধূলাবালি,বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদার্থ যা ফুসফুসে গিয়ে ক্ষতি করতে পারে তাদের ফুসফুসে যেতে বাধা দেয়াই এদের কাজ। ধূমপানের ফলে এসব সিলিয়া তাদের কার্যকারিতা হারায়। যার কারণে খুব সহজেই ব্রঙ্কাইটিস ডেভেলপ করতে পারে। এছাড়া যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ধূলাবালি,বায়ু দূষণ এগুলো ব্রঙ্কাইটিসের কারণ হিসেবে বিবেচিত।

লক্ষণসমূহঃ ব্রঙ্কাইটিসের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো কাশি,শ্বাসকষ্ট, হালকা কাঁপুনিসহ জ্বর,সর্দি, নাসাবদ্ধতা, মাথাব্যথা ইত্যাদি।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৮,৭৪৬.
কোন অবদানের জন্য রজার পেনরোজ নোবেল প্রাইজ পান?
  1. ক) বিগব্যাং থিউরি
  2. খ) স্ট্রিং থিউরি
  3. গ) ব্ল্যাক হোল
  4. ঘ) কোয়ান্টাম থিউরি
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী রজার পেনরোজ আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে প্রমাণ করেছিলেন যে, মুমুর্ষ তারা থেকে ব্ল্যাক হোল গঠন সম্ভব। তার স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি ২০২০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান।
সোর্সঃ nobelprize.org
৮,৭৪৭.
ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের কোন জেলার উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে?
  1. ক) শেরপুর
  2. খ) টাঙ্গাইল
  3. গ) গোপালগঞ্জ
  4. ঘ) মুন্সীগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।

- এছাড়া বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৪৮.
মৌমাছির কলোনিতে কোন প্রজাতির মৌমাছি শুধুমাত্র একটি থাকে? 
  1. কর্মী মৌমাছি 
  2. পুরুষ মৌমাছি 
  3. রাণী মৌমাছি 
  4. সব প্রজাতির মৌমাছি 
ব্যাখ্যা

মৌমাছির জাত: 
- মৌমাছির কলোনি তিন প্রকার মৌমাছি নিয়ে গঠিত।
যেমন- একটি রাণী, কিছু হাজার কর্মী এবং কিছু শত পুরুষ। 
- মৌমাছিদের মধ্যে শ্রমবণ্টন দেখা যায়, যেখানে প্রতিটি মৌমাছি নির্দিষ্ট কাজ করে থাকে। 
- বহুরূপতা দেখা যায় তাদের দৈহিক গঠনেও, যেখানে রাণী, কর্মী এবং পুরুষ মৌমাছির শারীরিক গঠন ভিন্ন। 

রাণী মৌমাছির গঠন: 
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে বড় এবং তার উদর প্রশস্ত হয়। 
- রাণী মৌমাছির ডানাগুলো ছোট এবং উদরের শেষ প্রান্তে সরু, যেখানে বাঁকানো হুল থাকে যা একটি রূপান্তরিত ওভিপজিটর। 
- রাণী মৌমাছির প্রোবোসিস ও রেণুখলি নেই, এবং তাদের ম্যান্ডিবল বা চোয়াল তীক্ষ্ণ হয়। 
- রাণী মৌমাছি মোম ও মধু তৈরি করতে পারে না, তার লালাগ্রন্থি নেই। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৪৯.
কোনটির মধ্যে তেজস্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয় না?
  1. ক) প্লুটোনিয়াম
  2. খ) কার্বন - ১৪
  3. গ) টাইটেনিয়াম
  4. ঘ) ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা 
- ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- প্রকৃতপক্ষে যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর চেয়ে বেশি তাদেরকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলা হয়।
- যেমন- ইউরেনিয়াম-৯২, নেপচুনিয়াম-৯৩, প্লুটোনিয়াম-৯৪, পোলোনিয়াম-৮৪ ইত্যাদি।

- কার্বন মৌলের ৬ টি প্রােটন ও তিনটি আইসােটোপ রয়েছে- কার্বন-১২, কার্বন-১৩ ও কার্বন-১৪।
- এই তিনটির মধ্যে কার্বন-১৪ অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। এতে ৬টি প্রােটন ও ৮টি নিউট্রন রয়েছে।
- কার্বন-১৪ (14) ব্যবহৃত হয় মৃত প্রাণী বা উদ্ভিদের বয়স হিসাব করতে।
- টাইটেনিয়ামে তেজস্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয় না।

সূত্র:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৫০.
Fe(OH)2 একটি -
  1. ক্ষার
  2. ক্ষারক
  3. সবল এসিড
  4. দুর্বল এসিড
ব্যাখ্যা

Fe(OH)2 এ OH- মূলক থাকলে ও পানিতে দ্রবণীয় নয় তাই এটি ক্ষারক কোন যৌগ ক্ষার হবার ২টি শর্ত রয়েছে।
যথা - ১. যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড OH- যৌগমূলক থাকতে হবে।
২. ঐ যৌগটি পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে Fe(OH)2 ক্ষার নয়, ক্ষারক।
[উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই।]

৮,৭৫১.
ফেনা ভাসমান পদ্ধতি কোন ধরনের আকরিকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়? 
  1. ক্লোরাইড আকরিক
  2. হাইড্রোক্সাইড আকরিক
  3. অক্সাইড আকরিক
  4. সালফাইড আকরিক
ব্যাখ্যা
আকরিক ঘনীকরণ: 
- বিচূর্ণকৃত আকরিক থেকে খনিজমল সাধারণত ভৌত পদ্ধতিতে দূর করে আকরিক ঘনীকরণ করা হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়। 
- আকরিকের প্রকৃতি অনুসারে আকরিক ঘনিকরণে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
যেমন- 
অভিকর্ষ বলের সাহায্যে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিকের আপেক্ষিক গুরুত্ব খনিজমল থেকে আপেক্ষিক গুরুত্ব থেকে বেশি হয় তবে এ পদ্ধতিতে ঘনীকরণ করা হয়। 
- বিচূর্ণকৃত আকরিককে প্রবাহমান পানি দ্বারা আলোড়িত বা ধৌত করা হয়। ফলে হালকা খনিজমল প্রবাহমান পানির সাথে চলে যায় এবং ভারি আকরিক সঞ্চিত থাকে। এতে আকরিক ঘনীভূত হয়। 

ফেনা ভাসমান পদ্ধতিতে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক সালফাইড হিসেবে থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- একটি বড় পাত্রে বিচূর্ণকৃত সালফাইড আকরিক নিয়ে তাতে পানি ও অল্প পরিমাণ উপযুক্ত তেল যোগ করা হয়। অতপর পানির মধ্যে বায়ু প্রবাহিত করা হয়, ফলে সালফাইড আকরিকসমূহ তেলে সিক্ত হয়ে পানির উপর ফেনা আকারে ভেসে উঠে। এবার ফেনাসহ আকরিক পৃথক করে নেওয়া হয় এবং পাত্রে খনিজমল পড়ে থাকে। 

চৌম্বক পৃথকীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক অথবা খনিজমল কোন একটির চৌম্বক ধর্ম থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- এই পদ্ধতিতে দুইটি চাকতিতে স্থাপিত একটি চলমান বেল্টে উপর থেকে বিচূর্ণকৃত আকরিক ফেলা হয়। বেল্টটি চলমান হওয়ায় বিচূর্ণকৃত আকরিক বাহিরের দিকের চাকতিটি পার হয়ে ছিটকে পড়তে থাকে। 
- বাহিরের চাকতিটি চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট রাখা হয়। ফলে চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতির কাছে এবং অচৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতি থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। 

রাসায়নিক পদ্ধতি: 
- কিছু কিছু আকরিকের বৈশিষ্ট্য যদি এমন হয় যে, এর সাথে মিশ্রিত খনিজমল কোন দ্রাবকের সাহায্যে দ্রবীভূত করে দূরিভূত করা যায় তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।
- এই পদ্ধতিতে কোন একটি উপযুক্ত দ্রবক দ্বারা দ্রবীভূত করে আকরিকের মধ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত একটি উপাদানকে পৃথক করা হয়।
- পরবর্তিতে দ্রবণ থেকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে আকরিক পৃথক করা হয়।
যেমন- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক থেকে খনিজমল দূর করার জন্য কস্টিক সোডা (NaOH) যোগ করে ১২০০-২০০০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে বক্সাইড দ্রবীভূত হয়ে যায় এবং খনিজমল অদ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। অতপর দ্রবণ ছেঁকে খনিজমল দূর করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৫২.
মানুষের শরীরে লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয় কোথায় থেকে? 
  1. লিভার
  2. অস্থিমজ্জা
  3. ফুসফুস
  4. হার্ট
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকা: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়।
- এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে।
- অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ।
- এ কারণে লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- এ কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।

অন্যদিকে,
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকণিকাগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়।
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কণিকাগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে।
- লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৭৫৩.
কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?
  1. পুকুরের পানি
  2. লেকের পানি
  3. নদীর পানি
  4. সাগরের পানি
ব্যাখ্যা
- নদীর পানিতে সাধারণত অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। কারণ নদীর পানি প্রবাহিত হয় এবং এতে ঢেউ ও স্রোতের কারণে বাতাসের সংস্পর্শে বেশি আসে। ফলে পানি বাতাস থেকে বেশি পরিমাণে অক্সিজেন শোষণ করতে পারে। 
- স্থির জলাশয়ের (যেমন পুকুর বা লেক) তুলনায় প্রবাহমান পানিতে গ্যাসের আদান-প্রদান বেশি কার্যকরভাবে ঘটে। 
- পুকুরের পানি ও লেকের পানি স্থির থাকে, ফলে সেখানে অক্সিজেন কম মিশতে পারে। 
- সাগরের পানি গভীরতা এবং লবণাক্ততার কারণে সাধারণত অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হয়। 

উৎস: [লিঙ্ক]।
৮,৭৫৪.
বায়োমাস শক্তির প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. কার্বন ও হাইড্রোজেন
  2. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
  3. কার্বন ও নাইট্রোজেন
  4. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন 
ব্যাখ্যা

বায়োমাস শক্তি: 
- সৌর শক্তি সবুজ গাছপালার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে বায়োমাসরূপে গাছপালার বিভিন্ন অংশে মজুদ থাকে। এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মানুষসহ অনেক প্রাণী খাদ্য হিসেবে বায়োমাস গ্রহণ করে। এই বায়োমাস শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবনের কর্মকান্ড সচল রাখে। 
- বায়োমাস হচ্ছে শক্তির একটি বহুমুখী উৎস।
- গাছ-গাছালী, জ্বালানি কাঠ, কাঠের বর্জ্য, শস্য ধানের তুষ ও কুড়া, লতা-পাতা, পশু পাখির মল, বর্জ্য ইত্যাদি জৈব পদার্থ হচ্ছে বায়োমাস শক্তির উৎস। 
- বায়োমাসের প্রধান উপাদান হচ্ছে কার্বন ও হাইড্রোজন। 
- বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৫৫.
গ্রীনিচে যখন সময় রবিবার সকাল ৬টা তখন এর ৯০ ডিগ্রী পূর্বদিকে অবস্থিত স্থানের সময় হবে-
  1. ক) শনিবার রাত্রি ১২টা
  2. খ) শনিবার সন্ধ্যা ৬টা
  3. গ) রবিবার সন্ধ্যা ৬টা
  4. ঘ) রবিবার দুপুর ১২টা
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
∴ ৯০ ডিগ্রি = ৯০ X ৪ = ৩৬০ মিনিট = ৬ ঘন্টা।
কোন স্থান থেকে পশ্চিমে গেলে সময় কমবে আর পূর্বে গেলে সময় বাড়বে।
কোন স্থানে সময় যখন রবিবার সকাল ৬টা তখন-
১) ৯০ ডিগ্রি পশ্চিমে সময় হবে রবিবার রাত ১২ টা।
এবং ২) ৯০ ডিগ্রি পূর্বে সময় হবে রবিবার দুপুর ১২ টা।

৮,৭৫৬.
খাদ্য সংগ্রহের সময় বাসায় ফেরার পথে কোন প্রাণী ফেরোমন নিঃসৃত করে? 
  1. পাখি 
  2. মাছি 
  3. পিপঁড়া 
  4. মশা 
ব্যাখ্যা

সমন্বয়: 
- বিভিন্ন অঙ্গ তন্ত্রের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কাজের মাধ্যমে দেহের সকল কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলা হয়। 
- উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে বিভিন্ন আচরণ প্রকাশ করা প্রতিটি প্রাণীর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। 
- হাঁটা চলা, উঠা বসা, কথা বলা, চিন্তা করা, পড়া মুখস্থ করায় বিভিন্ন অঙ্গ অংশ নেয়। এ অঙ্গগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি সমন্বয় ব্যবস্থার প্রয়োজন। 
- প্রাণীর প্রয়োজনীয় সমন্বয় ব্যবস্থা স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়। 

হরমোনাল প্রভাব: 
- হরমোনের কারণে প্রাণী তার কার্যকলাপ অর্থাৎ আচরণের পরিবর্তন করে থাকে। 
- হরমোন দেহের নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। নালিবিহীন গ্রন্থিগুলো একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নালিবিহীন গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ আবার স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। 
- সমন্বয় সাধনে প্রাণী হরমোন ব্যবহার করে। 
যেমন- পিপঁড়া খাদ্যের খোঁজ নেয় এবং খাদ্য উৎস থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে, একে ফেরোমন বলে। এর উপর নির্ভর করে অন্য পিপঁড়াগুলোও খাদ্য উৎসে যায় এবং খাদ্য সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসে। এ ফেরোমন হরমোনের কারণে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়। 
- কোন কোন পতঙ্গ ফেরোমন দিয়ে তার স্বপ্রজাতির সঙ্গীকে খুঁজে নেয়। 
- শস্য ক্ষেতে অনিষ্টকারী পোকা দমনে বা ধ্বংসে ফেরোমন ব্যবহার করা হয়। 
- ফেরোমনের কারণে আকৃষ্ট হয়ে অনিষ্টকারী পোকা ফাঁদে ও পানিতে ডুবে মারা যায়, এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৫৭.
রক্তের রঙ লাল হওয়ার প্রধান কারণ কী? 
  1. প্লাজমা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. লোহিত রক্ত কণিকা
  4. রক্তের অজৈব লবণ
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, রক্তের pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪ । 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬০-৩৮০ সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৫৮.
কোন রক্তকণিকা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. ক) অণুচক্রিকা
  2. খ) লোহিত কণিকা
  3. গ) শ্বেতকণিকা
  4. ঘ) লোহিত ও শ্বেতকণিকা
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন বয়সের মানব দেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা হচ্ছে:
- ভ্রূণ দেহে: ৮০-৯০ লাখ,
- শিশুর দেহে: ৬০-৭০ লাখ,
- পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ দেহে: ৪.৫ - ৫.৫ লাখ এবং
- পূর্ণ বয়স্ক নারীর দেহে: ৪ - ৫ লাখ।

মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন-
১. অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।
২. পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
৩. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০- ৩০,০০০ হয়।
৪. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০ - ১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৮,৭৫৯.
ট্রানজিস্টর তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কন্ডাক্টর
  2. সেমিকন্ডাক্টর
  3. কপার
  4. সিলিকোন
ব্যাখ্যা
- দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়ােডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড তৈরি করা হলে তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- ১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর প্রথম তৈরি করেন উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্ৰাটেইন।
- ট্রানজিস্টর তৈরি করতে প্রয়ােজন সেমিকন্ডাক্টর (সিলিকন, জার্মেনিয়াম)।
- ট্রানজিস্টরের অপর নাম অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড। ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয় বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে।
- ইলেকট্রনিক্সে বিপ্লব শুরু হয় ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের সময় থেকে।
- ট্রানজিস্টর প্রধানত ব্যবহার করা হয় এমপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হিসেবে।

- সিলিকোন হল পলিসিলোক্সেন যা সিলোক্সেন এর পলিমার।
৮,৭৬০.
ডায়বেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যটি সত্য নয় সেটি হলো -
  1. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই রোগ হয়
  2. এই রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
  3. এই রোগ মানবদেহের কিডনি বিনষ্ট করে
  4. ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের অভাবে এই রোগ হয়
ব্যাখ্যা

[অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোনের অভাব হলে প্রোটিন, শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাবারের বিপাক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়, একে ডায়াবেটিস রোগ বলা হয়। চিনি জাতীয় খাবারের সাথে এ রোগের সম্পর্ক নেই। ডায়াবেটিস হলে হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ ইত্যাদি অঙ্গের স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি হয়।] 

ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উল্লেখ্য যে, 
- চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস রোগ হয় এ তথ্যটি সত্য নয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৭৬১.
প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী কোনটি?
  1. ছাগল
  2. গরু
  3. ভেড়া
  4. বিড়াল
ব্যাখ্যা

◉ বিশ্বের প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী হলো ভেড়া "ডলি" (Dolly the sheep). ডলিকে ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের Roslin Institute-এ বিজ্ঞানীরা সফলভাবে ক্লোন করেন।

​ক্লোনিং:
- প্রাকৃতিক ক্লোন হলো একটি জীব অথবা একদল জীব যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ জননের দ্বারা।
- এদের ধরন হয় মাতৃ জীবের ন্যায়।
- একটি কোষ বা কোষগুচ্ছ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপন্ন হয় এবং তাদের প্রকৃতি মাতৃকোষের ন্যায় হয়, তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশিরভাগ প্রোটোজোয়া এবং ঈস্ট, ছত্রাক ক্লোনিং এর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে কোনো বিশেষ জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি করে তার প্রতিলিপি তৈরি করা হয়।
- কোনো কোনো কোষকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আবাদ মাধ্যমে রেখে বিভাজন ঘটিয়ে এতে উৎপন্ন করা হয় একগুচ্ছ একই ধরনের কোষ।
- আবার কোনো অণুজীব উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর অনুরূপ অনেক জীব উৎপাদন করাকে ক্লোনিং বলে। 

​- সম্প্রতি জিন প্রযুক্তির দ্বারা সম্ভব হয়েছে একই প্রাণীর দেহকোষ থেকে সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসকে বের করে সে প্রাণীর নিষেককৃত ডিম্বাণুতে ইনজেকট করে নিউক্লিয়াস স্থাপন করা।
- ডিম্বাণুতে দেহকোষের নিউক্লিয়াস স্থাপন করার পূর্বে নিষেককৃত ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসকে অপসারণ করা হয়। এ ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয় তা হুবহু তার মাতার ন্যায় হয়।
- ডলি নামক ভেড়া হলো পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে।
- এ ক্লোনিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শূকর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে।
- ইঁদুর, ডলি নামক ভেড়া, বানর, প্রভৃতি ক্লোনিংয়ের পর বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি এখন মানুষের উপর।
- এ প্রক্রিয়াটি কিন্তু মোটেই দূরূহ নয়, তাই ইতিমধ্যে বিভিন্ন উন্নত দেশে মানুষের ক্লোন করার প্রক্রিয়া আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮,৭৬২.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়?
  1. চিত্রা হরিণ
  2. রাজ কাঁকড়া
  3. স্ফোনোডন
  4. প্লাটিপাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক  প্রাণীর জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- চিত্রা হরিণ কোনো জীবন্ত জীবাশ্ম নয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
৮,৭৬৩.
টমেটোতে প্রধানত কোন এসিড পাওয়া যায়?
  1. টারটারিক এসিড
  2. অ্যাসিটিক এসিড
  3. ম্যালিক এসিড
  4. স্যালিসাইক্লিক এসিড
ব্যাখ্যা
• টমেটোতে থাকে ম্যালিক এসিড।

• বিভিন্ন জৈব এসিড:
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- টমেটোতে থাকে অক্সালিক এসিড।
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড।
- স্যালিসাইক্লিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৮,৭৬৪.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে-
  1. ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ড
  2. ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  3. ৭ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  4. ৯ মিনিট ৩২ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট 20 সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৮,৭৬৫.
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কতজনকে দুই ডোজ কোভিড -১৯ টিকা দেয়া হয়েছে?
  1. ক) ১১.৫০ কোটি
  2. খ) ১২.৫০ কোটি
  3. গ) ২২.০০ কোটি
  4. ঘ) ১৬.০০ কোটি
ব্যাখ্যা
দুই ডোজ কোভিড -১৯ টিকা:
- প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বুস্টার ডোজ টিকা নিয়েছেন পাঁচ কোটি ৬৮ লাখেরও বেশি মানুষ।
- দেশে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৩ কোটি ২০ লাখ ৮৬ হাজার ১০০ জন।
- এছাড়া দুই ডোজ টিকার আওতায় এসেছেন ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ জন মানুষ।
- আর বুস্টার ডোজ নিয়েছে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৬৪ হাজার ৮১ জন।

উৎস: ৯ অক্টোবর, ২০২২, বাংলা ইনসাইডার। link
৮,৭৬৬.
চোখের কোন অংশে সবচেয়ে ভালো প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
  1. ক) কর্নিয়া
  2. খ) লেন্স
  3. গ) রেটিনা
  4. ঘ) স্ক্লেরা
ব্যাখ্যা
• চোখের রেটিনা অংশে বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
রেটিনা: চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা।
- এ স্তরটি আলোক সংবেদী। এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে।
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত।
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ।
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী।
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৬৭.
নিচের কোন পদার্থটি হাড় ও দাঁত মজবুত করে?
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. জিঙ্ক
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম:

- ক্যালসিয়াম প্রাণীদের হাড় এবং দাতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুইভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। অস্থি এবং দাতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- হাড় ও দাতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতি প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- দেহে পরিমাণের দিক দিয়ে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরপরই ফসফরাসের স্থান।
- ক্যালসিয়ামের মত হাড় এবং দাত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ।
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষয়তা, দন্তক্ষয় এসব রোগ দেখা দেয়।
 
তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮,৭৬৮.
ফোটন কণা শূন্য মাধ্যমে কোন বেগে চলে?
  1. শব্দের বেগে 
  2. আলোর বেগে 
  3. পৃথিবীর কক্ষপথের বেগে 
  4. শূন্য বেগে 
ব্যাখ্যা

ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
 
ফোটন কণার ধর্মসমূহ:   
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। 
- ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৬৯.
নিম্নের কোন রোগ দুটি অসংক্রামক ব্যাধি?
  1. টাইফয়েড ও ডায়াবেটিকস
  2. কলেরা ও স্ট্রোক
  3. আমাশয় ও ডায়াবেটিকস
  4. ক্যান্সার ও স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
- সাধারণত প্যারালাইসিসের এর জন্য স্ট্রোক দায়ী। 
- স্ট্রোক হল মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি রোগ।
- রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া অথবা ব্লক হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের কারণ।
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাই-প্রেসার, হাই-কোলেস্টেরল, ধূমপান, পারিবারিক স্ট্রোকের ইতিহাস, হার্টের অসুখ যেমন- অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, রক্তজমাট বাঁধা - অসুখ, ক্যান্সার ইত্যাদি অনেক কারণ রয়েছে স্ট্রোকের পেছনে। 
- স্ট্রোক তিন ধরনের হয়ে থাকে। মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক।
- প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ততা হচ্ছে মানুষের শরীরের কোনো অংশের মাংসপেশির কর্মক্ষমতা হারানো। 
- এছাড়া স্নায়ু রোগ, সুষুম্নাকাণ্ডের কিংবা কশেরুকার ক্ষয় রোগও পারালাইসিসের কারণ হতে পারে। 
- Oncology হল ক্যান্সার বিষয়ক বিদ্যা। 
- একজন অনকোলজিস্ট হলেন একজন ডাক্তার যিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা করেন এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন ব্যক্তির চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। 
- একজন oncologist কে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞও বলা যেতে পারে।
- বাংলাদেশে ৫৯ ভাগ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগ। এর মধ্যে হৃদ্‌রোগে ১৭ ভাগ, ফুসফুসের রোগে ১১ ভাগ, ক্যান্সারে ১০ ভাগ, ডায়াবেটিসে ৩ ভাগ এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগে মারা যায় ১৮ ভাগ মানুষ।
 - আমাশয়, কলেরা ও টাইফয়েড তিনটিই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়।
 
উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২. Source.cancer.net
৩. প্রথম আলো
৮,৭৭০.
ধানের ফুলে পরাগ সংযোগ ঘটে-
  1. বাতাসের সাহায্যে পরাগ ঝড়ে পড়ে
  2. পাতা দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে
  3. কীটপতঙ্গের সাহায্যে
  4. ফুলে ফুলে সংস্পর্শে
ব্যাখ্যা
- ধানের ফুলে পরাগ সংযোগ ঘটে- বাতাসের সাহায্যে পরাগ ঝরে পড়ে। 

বায়ুর সাহায্যে পরাগায়ন: 
- অনেক উদ্ভিদের ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে হয়ে থাকে। 
- যে ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে তাকে বায়ু পরাগী ফুল বলে এবং এ প্রক্রিয়াকে বায়ু পরাগায়ন বলে। 
- বায়ু পরাগী ফুল সাধারণত আকর্ষণহীন হয়। 
- এ সমস্ত ফুল আকারে ছোট তাই এদের পরাগরেণু ক্ষুদ্র ও হালকা হয়। 
- এদের পরাগরেণু হালকা হওয়ায় সহজেই বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে। 
- বাতাসে ভেসে আসা পরাগরেণু ধরার জন্য এসকল উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুন্ড পাখির পালকের মত রোমশ হয়। 
- পাইনাস, ধান, ভূট্টা, ইক্ষু, গম ইত্যাদি উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটে বাতাসের সাহায্যে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৭১.
একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ বাতাস বা অক্সিজেন ছাড়া কতক্ষণ বাঁচতে পারে?
  1. ক) ৩০-৪০ সেকেন্ড
  2. খ) ৪০-৫০ সেকেন্ড
  3. গ) ১ মিনিট
  4. ঘ) ১.৫ মিনিট
  5. ঙ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ বাতাস বা অক্সিজেন ছাড়া ৪০-৫০ সেকেন্ড বাঁচতে পারে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৮,৭৭২.
Which of the following vitamins plays a key role in blood clotting?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin C
  3. Vitamin D
  4. Vitamin E
  5. Vitamin K
ব্যাখ্যা

• রক্ত জমাট বাঁধার জন্য ভিটামিন K অপরিহার্য। এটি যকৃতে প্রথম্বিন (Prothrombin) নামক প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে যা রক্ত জমাট বাঁধতে মূল ভূমিকা পালন করে।

ভিটামিন কে (Vitamin K): 

- ভিটামিন কে-এর রাসায়নিক নাম ফাইলোকুইনন বা ন্যাপথোকুইনন। 
- এটি তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। 

ভিটামিন কে -এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে ভিটামিন কে পাওয়ার যায়। 

ভিটামিন কে-এর কাজ: 
১. কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
২. পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩. যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

ভিটামিন কে-এর অভাবজনিত অবস্থা: 
- এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়। 
- ফলে, সামান্য কাটা ছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৭৭৩.
শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার/সেকেন্ড হলে, প্রতিফলনের ন্যূনতম কোন দূরত্বে প্রতিধ্বনি শোনা যাবে?
  1. ৩৩ মিটার
  2. ১১ মিটার
  3. ১৭.৫ মিটার
  4. ১৬.৫ মিটার
ব্যাখ্যা
আমরা যখন কোন শব্দ শুনি তার অনুভূতি মস্তিষ্কে ০.১ সেকেন্ড সময় পর্যন্ত থেকে যায়। তাই দুটি শব্দ আলাদাভাবে শুনতে হলে দুটি শব্দের মাঝে কমপক্ষে ০.১ সেকেন্ডের একটি ব্যবধান থাকা দরকার।
শব্দের বেগ ৩৩০ m/s হলে ০.১ সেকেন্ডের ব্যবধান তৈরি করতে শব্দকে কমপক্ষে ৩৩ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে। তাই উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী ন্যূনতম দূরত্ব এর অর্ধেক (১৬.৫ মিটার) হলে, শব্দটি গিয়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড সময় লাগবে এবং আমরা প্রতিধ্বনি শুনতে পাব।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭৭৪.
NaHCO3 -কীসের সংকেত?
  1. ক) বেকিং পাউডার
  2. খ) সোডিয়াম কার্বনেট
  3. গ) সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- বেকিং পাউডারের রাসায়নিক সংকেত হলো NaHCO3  ।
- সোডিয়াম কার্বনেটের রাসায়নিক সংকেত হলো Na2CO3 যা ওয়াশিং সোডা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- সালফিউরিক এসিড রাসায়নিক সংকেত হলো H2SO।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭৭৫.
কোন ধরনের পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে? 
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. বায়বীয়
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৭৬.
গাছের খাদ্যের তালিকায় আছে-
  1. ক) N
  2. খ) P
  3. গ) K
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের সার্বিক বৃদ্ধির প্রয়োজনে খনিজ উপাদান বিশেষ দরকার। খনিজ উপাদান গুলো হচ্ছে- কার্বন (C) , হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K) , ক্যালসিয়াম (Ca), সালফার (S), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), দস্তা বা জিংক (Zn) এবং লোহা (Fe)।

এদের মধ্যে নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K), সালফার (S) এবং দস্তা বা জিংক (Zn) এর ভূমিকা গুলো হলো:
• নাইট্রোজেন (N)- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্পূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
• ফসফরাস (P): উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান।
• পটাশিয়াম (K): উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে।
• সালফার (S): সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাউব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়।
• দস্তা বা জিংক (Zn): অ্যামাইনো আ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা (Zn) প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৭৭.
'ছয় সপ্তাহ' বয়সে নিচের কোন টিকাটির জন্য সুপারিশ করা হয়? 
  1. TT Vaccine
  2. BCG
  3. DT Vaccine
  4. DPT-Ι
ব্যাখ্যা
- 'ছয় সপ্তাহ' বয়সে DPT-Ι টিকা'র জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization - WHO) এর (Expended Programe on Immunization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্ম সূচিতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে- 
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৭৮.
প্রাণীর ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয়-
  1. ICZN
  2. IZCN
  3. ICBN
  4. ICAN
ব্যাখ্যা
• প্রাণীর ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয় 'International code of Zoological Nomenclature', সংক্ষেপে ICZN.

• জীবের নামকরণ (Nomenclature):

- সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম নামকরণের একটি প্রথা প্রবর্তন করেন এটি দ্বিপদ নামকরণ প্রথা (Binomial Nomenclature System) নামে পরিচিত।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature) বর্তমানে ICN (International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code on Zoological Nomenclature)- এর নীতিমালা অনুযায়ী।

• নামকরণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীতিমালা নিম্নরূপ:
১. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
২. প্রতিটি জীব-প্রজাতির নামের দু'টি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ হলো গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ হলো প্রজাতিক পদ।
৩. একই দ্বিপদ নাম কোন দু'টি প্রজাতির জন্য প্রযোজ্য হবে না, একটি দ্বিপদ নাম কেবল মাত্র একটি প্রজাতির জন্যই সুনির্দিষ্ট।
৪. গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতিক পদ ছোট অক্ষরে হবে ।
৫. ছাপানো হলে দ্বিপদ নাম ইটালিক বা মোটা অক্ষরে হবে। হাতে লিখলে দ্বিপদ নামের নিচে দু'অংশে দু'টি টানা দাগ দিতে হবে; যেমন- Homo sapiens বা Homo sapiens.
৬. দ্বিপদ নামের শেষে নাম প্রদানকারীর নাম উল্লেখ করতে হয়, যেমন- Mangifera indica L., L. হলো লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এ নামটি লিনিয়াস দিয়েছিলেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৭৯.
পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকিয়ে পড়ি না-
  1. মহাকর্ষ বলের জন্য
  2. মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
  3. আমরা স্থির থাকার জন্য
  4. পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের আবর্তনের জন্য
ব্যাখ্যা
- মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে আমরা ছিটকে পড়ি না। 
- কোনো বস্তুকে পৃথিবী যে বল দ্বারা নিজের দিকে টানে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- যে বস্তুর ভর যত বেশি, তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও ততই বেশি। 
- চাঁদ পৃথিবীর চেয়ে ছোট ও তার ভর কম হওয়ায় পৃথিবীর চেয়ে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কম। 
- ভূ-পৃষ্ঠের উপরে বা নিচের দিকে যত যেতে থাকব, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও ততটাই কমতে থাকবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭৮০.
ইস্টের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি ?
  1. মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুত করা
  2. এক কোষীয় প্রোটিন তৈরী করা
  3. ভিটামিনসমৃদ্ধ ট্যাবলেট তৈরি করা
  4. ভিটামিন সি উৎপাদন করা
ব্যাখ্যা
ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
- বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়াও এক কোষীয় প্রোটিন তৈরীতে ঈস্ট ব্যবহৃত হয়।
- ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া খাদ্যোপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
- সাইট্রিক এসিড বা  ভিটামিন সি উৎপাদনে ইস্টের ব্যবহার নেই।

 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৮,৭৮১.
পেট্রোলের আগুন পানি দ্বারা নেভানো যায় না, কারণ-
  1. পেট্রোল পানির সাথে মিশে যায়
  2. পেট্রোল পানির সাথে মিশে না
  3. পেট্রোল পানির চেয়ে হালকা
  4. খ ও গ উভয়ই ঠিক
ব্যাখ্যা
- পেট্রোল একধরনের প্রাকৃতিক হাইড্রোকার্বন যা পানির চেয়ে অনেক হালকা। 
- এজন্য পেট্রোলের আগুনে পানি দিলে পানি নিচে চলে যায় এবং তা পেট্রোলের সাথে মিশে না। 
- পেট্রোল উপরে উঠে আগুন জ্বলতেই থাকে। 
- পেট্রোলের আগুনে পানি ঢেলে দিলে পেট্রোলের আগুনের উত্তাপ অনেক বেশি হওয়ায় পানি বিশ্লিষ্ট হয়ে যায়। তাই পানি দ্বারা পেট্রােলের আগুন নেভানো যায় না। 
৮,৭৮২.
একটি ট্রানজিস্টরে কতটি p-n জাংশন থাকে?
  1. ১টি 
  2. ২টি 
  3. ৩টি 
  4. ৪টি 
ব্যাখ্যা
◉ একটি বাইপোলার জাংশন ট্রানজিস্টর (BJT) দুই ধরনের হয় — NPN ও PNP. একটি ট্রানজিস্টর মূলত দুটি p-n জাংশন দ্বারা গঠিত হয়।

ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। 
যথা: ইমিটার, বেস এবং কালেক্টর। 
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়। 
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। 
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৮৩.
নিচের কোনটি প্রবাহী?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) তরল
  3. গ) বায়বীয়
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা


উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৮,৭৮৪.
আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার একটি উদাহরণ কোনটি? 
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. বৈদ্যুতিক পাখা ঘোরা
  3. চিমনির কাচ গরম হওয়া
  4. ট্রান্সফরমারে বিদ্যুৎ রূপান্তর
ব্যাখ্যা
আলোক শক্তির রূপান্তর: 
আলোক শক্তি → রাসায়নিক শক্তি: 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো পড়লে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে চিত্র তৈরি হয়। 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মে সিলভার ব্রোমাইড (AgBr) বা সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) থাকে, যা আলোর সংস্পর্শে এলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে। 
- ফলে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আলোক শক্তি → তাপ শক্তি: 
- হারিকেনের চিমনির কাচ স্পর্শ করলে গরম লাগে, কারণ আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আলোক শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি: 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপন্ন হলে পরে তা গ্রহণকারী প্রাণীর দেহে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৮,৭৮৫.
নিচের কোনটি এমপ্লিফায়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ট্রানজিস্টর
  2. খ) আইসি
  3. গ) ডায়োড
  4. ঘ) মাল্টিপ্লাগ
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor) একটি অর্ধপরিবাহী যন্ত্র,যা সাধারণত অ্যামপ্লিফায়ার এবং বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কম্পিউটার, সেলুলার ফোন এবং অন্য সকল আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের মূল গাঠনিক উপাদান হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়।
দ্রুত সাড়া প্রদানের ক্ষমতা এবং সঠিক সম্পূর্ণ সঠিকভাবে কার্য সাধনের ক্ষমতার কারণে এটি আধুনিক ডিজিটাল বা অ্যানালগ যন্ত্রপাতি তৈরীতে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে।
৮,৭৮৬.
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর সাধারণত কি গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. হিলিয়াম
  3. নিয়ন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
আর্গন: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- তাছাড়া বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর সাধারণত নাইট্রোজেন এবং মাঝে মাঝে আর্গন (Ar) গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৮,৭৮৭.
সাধারণত মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা কত এর বেশি হলে মৌলটি তেজষ্ক্রিয়তার ধর্ম প্রদর্শন করে? 
  1. ৭৮
  2. ৮৫
  3. ৮২
  4. ৮৮
ব্যাখ্যা
তেজষ্ক্রিয়তা: 
- ভারি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে। 
- সাধারণত যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি সেই সকল পরমাণু তেজষ্ক্রিয়তার ধর্ম প্রদর্শন করে। 
- তবে ৮২ থেকে কম পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট কিছু মৌলের আইসোটোপের ক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়- 
১. তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
২. তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
৩. তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
৪. এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৮৮.
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গণনা করা হয় কত ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে?
  1. ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে
  2. ৬০° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে
  3. ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে
  4. ৬০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে
ব্যাখ্যা
• প্রমাণ সময়:
- একটি দেশে একাধিক দ্রাঘিমারেখার অবস্থান থাকতে পারে। এমতাবস্থায় একই দেশে একাধিক স্থানীয় সময় গণনা করা হলে, ঐ দেশের অভ্যন্তরীণ সকল প্রকার কর্মকান্ডে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। আর্ন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঐ দেশের সময় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের সমস্যা দূরীকরণের জন্যে প্রত্যেক দেশের মধ্যবর্তী একটি দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময়কে ঐ দেশের প্রমাণ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গণনা করা হয় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের স্থানীয় সময় অনুসারে।
- এই দ্রাঘিমা রেখাটি (৯০° পূর্ব) ঢাকা বিভাগের অধীনস্থ মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা হারুকান্দি ইউনিয়ন বরাবর কল্পনা করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্রের মোট চারটি প্রমাণ সময় রয়েছে .

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৮৯.
পটাসিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস কোনটি?
  1. স্যুপ ও সরবত
  2. ডাবের পানি
  3. খাবার লবণ
  4. সামুদ্রিক মাছ
ব্যাখ্যা
খনিজ উপাদান: 
- খনিজ উপাদানসমূহ দেহের বৃদ্ধি, শরীরবৃত্তীয় বিভিন্ন ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, সুস্থতা ও সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- দেহ গঠনে এসব অজৈব খনিজ পদার্থের অংশগ্রহণ দেহ ওজনের প্রায় ৪% হয়ে থাকে। 
- বিভিন্ন প্রকারের খনিজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রণ (লৌহ), আয়োডিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক (দস্তা), ক্লোরিন, কপার (তামা) ইত্যাদি। 

পটাসিয়াম (k): 
১। খেজুর, পালং শাক, গাজর, বিট, ডাবের পানি, ফল (আম, কলা) ইত্যাদি পটাসিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস। 
২। পটাসিয়াম দেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। কোষের ভেতরে পানির চাপ, অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে। পেশি ও স্নায়ুর উদ্দীপনা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। হৃৎপিন্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। 
৩। পটাসিয়ামের অভাবে দেহের পানির সমতা বিনষ্ট হয়। হৃদস্পন্দন অনিয়ন্ত্রিত হয়। মাংসপেশির দুর্বলতা দেখা দেয়। 

সোডিয়াম (Na): 
১। খাবার লবণ, পনির, লবণাক্ত খাদ্য, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি সোডিয়ামের ভালো উৎস। 
২। সোডিয়াম পটাসিয়ামের মতোই দেহে পানি, অম্ল ও ক্ষারের ক্ষমতা রক্ষা করে। হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। স্নায়ুর ও পেশির উদ্দীপনা স্বাভাবিক রাখে বা নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩। সোডিয়ামের অভাবে দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, রক্তচাপ কমে যায়, খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট হয়। অরুচি, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা হয়। 

ক্লোরিন (CI): 
১। খাবার লবণ, দুধ, ডিম ও মাংসে ক্লোরিন পাওয়া যায়। 
২। দেহে পানি, অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে। পরিপাক ও হজম প্রভাবিত করে। 
৩। ক্লোরিনের অভাবে বমি ও ক্লান্তি দেখা দেয়। 

জিংক (Zn) বা দস্তা: 
১। ডিম, দুধ, মাংস, সামুদ্রিক মাছ, যকৃত, বাদাম ইত্যাদিতে জিংক (Zink) পাওয়া যায়। 
২। জিংক প্রতিটি প্রাণিকোষে থাকে। এটি প্রজনন ক্ষমতা রক্ষা করে। এনজাইমের কাজে সহায়তা করে। অস্থি ও মস্তিষ্ক গঠনে ভূমিকা রাখে। 
৩। জিংকের অভাবে শিশুর বর্ধন ও মস্তিষ্কের গঠন ব্যাহত হয়। ক্ষুধা কমে যায়। প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৯০.
নিচের কোনটি নীল লিটমাসকে লাল করে?
  1. এসিড
  2. ক্ষার
  3. ক্ষারক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
এসিড:
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে
- এসিডে নীল বর্ণের লিটমাস লাল হয়।
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে।
যেমন- এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড।
- এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়।

এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. এসিড স্বাদে টক।
২. এটি নীল লিটমাসকে লাল করে।
৩. এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
৪. এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই- অক্সাইড উৎপন্ন করে।
৫. প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে।
৬. যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী।

তথ্যসূত্র - রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৭৯১.
নিচের কোনটির ভর অধিক?
  1. লাল বামন
  2. সূর্য
  3. পালসার
  4. কৃষ্ণগহ্বর
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহ্বর (Black hole):
যদিও তত্ত্ব অনুযায়ী সব ভরের ব্ল্যাক হোল থাকা সম্ভব, বাস্তবে আমরা চারটি প্রাথমিক ধরণের ব্ল্যাক হোল দেখতে পাই।

১. মিনি ব্ল্যাক হোল (Mini Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৩ গুণের কম।
- অবস্থান: বিরল বা অনুপস্থিত।
- হকিং বিকিরণের কারণে দ্রুত বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- কোনো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় এদের উৎপত্তি দেখা যায়নি।

২. স্টেলার-মাস ব্ল্যাক হোল (Stellar-Mass Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৩ থেকে ৫০ গুণ।
- গঠন: একক নক্ষত্রের মহাকর্ষীয় পতন বা দুটি নিউট্রন তারার সংঘর্ষ।
- এটি নক্ষত্রের মৃত্যুর একটি স্বাভাবিক ফল।

৩. ইন্টারমিডিয়েট ব্ল্যাক হোল (Intermediate Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৫০ থেকে ৫০,০০০ গুণ।
- এই ভর পরিসরে ব্ল্যাক হোলের জন্য কোনো সাধারণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া নেই।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় সম্ভাব্য অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

৪. সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল (Supermassive Black Hole):
- ভর: সূর্যের ভরের ৫০,০০০ থেকে বিলিয়ন গুণ।
- সাধারণ, প্রতিটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রে বিদ্যমান।
- এটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রের মূল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

- স্টেলার-মাস ব্ল্যাক হোল এবং সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল সবচেয়ে সাধারণ।

পালসার: 
- পালসার এর ভর সূর্যের ১.১৮ থেকে ১.৯৭ গুণের মধ্যে, তবে বেশিরভাগ পালসারের ভর সূর্যের ১.৩৫ গুণ বেশি ।

লালবামন: 
- সূর্যের প্রায় ০.০৮ থেকে ০.৬ গুণ পর্যন্ত ভর রয়েছে। 

উৎস: Science Questions with Surprising Answers
Britannica.
৮,৭৯২.
'ট্রিনিটি টেস্ট' কি?
  1. ক) আটলান্টিক মহাসাগরে ব্রিটিশদের প্রথম বোমা পরীক্ষা
  2. খ) প্রথম অ্যাটোমিক বোমা নিক্ষেপের ছদ্মনাম
  3. গ) প্রথম হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার ছদ্মনাম
  4. ঘ) প্রথম পারমানবিক বোমা এক্সপ্লোশন
ব্যাখ্যা
১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর আলামোগোর্ডোর নামক স্থানে বিশ্বের প্রথম পারমানবিক বোমা ট্রিনিটি এর সফল বিস্ফোরণ ঘটায়।
৮,৭৯৩.
মাইটোকন্ড্রিয়া অনুপস্থিত থাকে নিচের কোন ক্ষেত্রে?
  1. ছত্রাক
  2. শৈবাল
  3. কালাজ্বরের পরজীবী
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গাণু। এজন্য একে কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়।
- মাইটোকন্ড্রিয়ার ৭৩% প্রোটিন ও ২৫%-৩০% লিপিড এবং সামান্য পরিমাণে RNA, DNA, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
- আদি কোষ বা প্রাক কেন্দ্রিক কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া অনুপস্থিত থাকে। ব্যাকটেরিয়া একটি আদিকোষী জীব।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৮,৭৯৪.
নিচের কোনটির অভাবে রক্তশূন্যতা হয়?
  1. লৌহ
  2. ক্যালসিয়াম
  3. ফসফরাস
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
→ লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দেয়।

• লৌহ বা আয়রণ (Fe):

- রক্তের অন্যতম প্রধান উপাদান লৌহ বা আয়রণ।
- প্রতি ১০০ মিলি রক্তের প্রায় ৫০ মিলি গ্রাম লৌহ থাকে।
- এছাড়া যকৃত, প্লিহা, অস্তিমজ্জায় লৌহ সঞ্চিত থাকে।
- পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দেহে বিদ্যমান ৩-৪ গ্রাম লৌহের চার ভাগের তিন ভাগই রক্তে থাকে।

• উৎস:
- কাঁচা কলা, সবুজ শাক, কচু, শুকনো ফল, আপেল, কলা ইত্যাদি লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস।
- ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছ, মাংস ইত্যাদি লৌহের প্রাণিজ উৎস।

• কাজ:
- লৌহ রক্তের লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, রক্তে অক্সিজেন বহন করে।

• অভাবজনিত অবস্থা:
- লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দেয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৯৫.
এক হর্স পাওয়ার সমান কত ওয়াট?
  1. ৭৮৬
  2. ৭৪৬
  3. ৭৪৮
  4. ৭৬৪
ব্যাখ্যা
• ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়।
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 

অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- এক হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (H.P) = 746 W
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৭৯৬.
স্নেহজাতীয় খাবার পরিপাকে সাহয্য করে নিচের কোনটি?
  1. ইনসুলিন
  2. পিত্তরস
  3. বিলিরুবিন
  4. গ্লুকাগন
ব্যাখ্যা
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত।
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত।
- ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা। পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়।
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ। এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে।
- পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে এবং ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে৷
- পিত্তরস স্নেহ জাতীয় খাবার পরিপাক করে থাকে।

সুত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিদ্যা এবং মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
৮,৭৯৭.
জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি হলো-
  1. ক) Zoology ও Mycology
  2. খ) Ecology ও Botany
  3. গ) Mycology ও Zoology
  4. ঘ) Botany ও Zoology
ব্যাখ্যা

• জীবের ধরন অনুযায়ী জীববিজ্ঞানকে প্রধানত দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে।
যথাঃ
১. Botany (উদ্ভিদবিজ্ঞান) ও
২. Zoology (প্রাণিবিজ্ঞান)।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৭৯৮.
MRI তে ব্যবহৃত হয় ____। 
  1. এক্স-রে
  2. ম্যাগনেটিক ফিল্ড
  3. গামা রশ্মি
  4. আলফা কণা
ব্যাখ্যা

• MRI প্রযুক্তিতে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ গঠন দেখা হয়, কোনো বিকিরণ নয়।

MRI কী?
- MRI (Magnetic Resonance Imaging) হলো একটি আধুনিক চিকিৎসা ইমেজিং পদ্ধতি, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও টিস্যুর বিস্তারিত ছবি তৈরি করে।
- এটি আয়নাইজিং বিকিরণ (যেমন এক্স-রে বা গামা রশ্মি) ব্যবহার করে না, তাই নিরাপদ।
 
কাজের মূলনীতি:
- MRI কাজ করে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) এবং রেডিও তরঙ্গ (Radio Waves) এর সাহায্যে।
- মানবদেহের হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াস (প্রোটন) এই চৌম্বক ক্ষেত্রে সারিবদ্ধ হয়।
- রেডিও তরঙ্গ প্রয়োগ করলে এই প্রোটনগুলো শক্তি শোষণ করে এবং ফিরে আসার সময় সংকেত দেয়।
- কম্পিউটার এই সংকেত বিশ্লেষণ করে ছবিতে রূপান্তরিত করে।

ব্যবহার:
- মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, পেশী, ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নির্ভুল ইমেজ তৈরি করতে।
- টিউমার, স্নায়ু সমস্যা ও ইনজুরি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

৮,৭৯৯.
ইভেন্ট হরাইজন নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. শ্বেত বামন
  2. লাল বামন
  3. কৃষ্ণগহ্বর
  4. ধুমকেতু
ব্যাখ্যা
ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon): 
- ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon) — এটি একটি সীমারেখা যা একটি ব্ল্যাক হোলের (কৃষ্ণগহ্বর) সীমানা নির্দেশ করে।
- এই সীমারেখায় পৌঁছালে পালানোর জন্য যেকোনো বস্তুর গতি আলোর গতির সমান হতে হয়।
- সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ (General Relativity) অনুসারে, আলোর চেয়ে দ্রুত কিছুই চলতে পারে না, তাই ইভেন্ট হরাইজনের ভেতর যে-ই ঢোকে না কেন, তা আর বাইরে বের হতে পারে না—এমনকি আলো-ও নয়।
- তাই এই সীমার ভেতরের কিছুই বাহির থেকে দেখা যায় না বা পর্যবেক্ষণ করা যায় না।
- যদি কোনো বস্তু বা বিকিরণ (radiation) ইভেন্ট হরাইজনের ভেতর উৎপন্ন হয়, তবে তা চিরতরে ব্ল্যাক হোলের মধ্যে আটকে যায়।
- একটি অঘূর্ণনশীল (non-rotating) ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজন একটি গোলাকৃতি সীমানা—এটিকে শোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ (Schwarzschild radius) বলা হয়।
- ঘূর্ণনশীল (rotating) ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রে, এই সীমা কিছুটা বিকৃত বা অসমান হতে পারে।
- ইভেন্ট হরাইজন কোনো কঠিন বা দৃশ্যমান পৃষ্ঠ নয়।
- এটি কেবল একটি গাণিতিকভাবে নির্ধারিত সীমা, যার ভিতরে সবকিছু আটকে যায় এবং কিছুই আর ফিরে আসতে পারে না।

উৎস: Britannica.
৮,৮০০.
৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা করে ৩০ দিন জ্বললে কত তড়িৎ শক্তি ব্যয় হবে?
  1. ক) ৬ ইউনিট
  2. খ) ৭ ইউনিট
  3. গ) ৮ ইউনিট
  4. ঘ) ৯ ইউনিট
ব্যাখ্যা

৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব (P = ৬০W) প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা করে ৩০ দিন (t=30 x 5 hour) জ্বললে তড়িৎ শক্তি ব্যয় হবে-
আমরা জানি, ব্যয়িত শক্তি
= (P x t) / ১০০০ ইউনিট
= ৬০x(৩০ x ৫) / ১০০০ ইউনিট
= ৯ ইউনিট.

উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান