বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৮২ / ১৪০ · ৮,১০১৮,২০০ / ১৪,০৮০

৮,১০১.
কোনো বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হলো-
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্টামিটার
  3. অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
আধানের অস্তিত্ব সনাক্তকরণ (Detection of Charge): 
- কোনো বস্তুতে আধানের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বস্তুটিকে একটি অনাহিত স্বর্ণপাত তড়িৎ বীক্ষণ যন্ত্রের গোলাকার ধাতব চাকতিতে স্পর্শ করতে হবে। 
- স্পর্শ করলে যদি স্বর্ণপাত দুটি ফাঁক হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে বস্তুটিতে আধান আছে আর যদি পাত দুটি ফাঁক না হয় তাহলে বুঝতে হবে বস্তুটিতে আধান নেই। 
- কোনো বস্তুতে চার্জ বা আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হলাে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র। 
- তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে আধানের প্রকৃতিও নির্ণয় করা যায়। 

অ্যামিটার: 
- অ্যামিটার বৈদ্যুতিক বর্তনীর বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা পরিমাপ করে। 

অণুবীক্ষণ যন্ত্র: 
- অণুবীক্ষণ যন্ত্র অতি ক্ষুদ্র বস্তু পর্যবেক্ষণ করে। 

ভোল্টামিটার: 
- ভোল্টামিটার বৈদ্যুতিক বর্তনীর বিভব পার্থক্য, বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা ও বৈদ্যুতিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১০২.
6Ω, 8Ω ও 9Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ হবে:
  1. 23 Ω
  2. 20 Ω
  3. 0.8 Ω
  4. 1.4 Ω
ব্যাখ্যা

• 6Ω, 8Ω ও 9Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ হবে: 23 Ω

দেওয়া আছে, 
রোধ, R1 = 6Ω, 
রোধ, R2 = 8Ω এবং 
রোধ, R3 = 9Ω 

যেহেতু রোধ তিনটি শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত সুতরাং তুল্য রোধ, R = R1 + R2 + R3 
= 6Ω + 8Ω + 9Ω 
= 23Ω 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,১০৩.
চোখের মধ্যে উত্তল ও স্বচ্ছ অংশের নাম কী?
  1. কর্নিয়া
  2. আইরিশ 
  3. রেটিনা
  4. শ্বেতমন্ডল
ব্যাখ্যা

চোখ: 
- কর্নিয়ার পেছনে অস্বচ্ছ আবরণীকে আইরিশ বলা হয়। 
- একটি শক্ত গোলকের মধ্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থের সমন্বয়ে চক্ষু গঠিত, গোলকটির নাম অক্ষি গোলক। 
- গোলকটির বাইরের অংশ একটি শক্ত সাদারঙের অস্বচ্ছ তন্তু দিয়ে আবৃত, এই আবরণীর নাম শ্বেতমন্ডল। 
- শ্বেত মন্ডলের সামনে খানিকটা অংশ উত্তল ও স্বচ্ছ, এই অংশের নাম কর্নিয়া। 
- শ্বেত মন্ডলের ভেতরের গায়ে কালো রঙের আস্তরণ থাকে এক বলে কৃষ্ণমন্ডল। 
- আইরিশ চোখের উপর পতিত আলো নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন মানুষের আইরিশের রঙ বিভিন্ন হয়। 
- অক্ষিগোলকের ভেতরের পৃষ্ঠে গোলাপী রঙের ঈষদচ্ছ আলোক সংবেদন আবরণকে রেটিনা বলে। 
- এটি রড এবং কোন নামে কতগুলো স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত এবং এগুলো চক্ষু স্নায়ুর সাথে সংযুক্ত থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৮,১০৪.
রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো-
  1. দর্পণের কাজ করে
  2. আতষীকাচের কাজ করে
  3. লেন্সের কাজ করে
  4. প্রিজমের কাজ করে
ব্যাখ্যা
- রংধনু সৃষ্টির বেলায় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করে। 
- প্রিজমে সাদা আলো পতিত হলে তা সাতটি বর্ণে বিশ্লিষ্ট হয়। 
যথা: বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল, একে আলোর বিচ্ছুরণ বলে। 
- বৃষ্টির ফোটায় সূর্যের আলো পড়লে তা প্রিজমের নেয় কাজ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১০৫.
নিচের কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. ক) পিঁপড়া
  2. খ) শুশুক
  3. গ) লিমুলাস
  4. ঘ) উটপাখি
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম:
কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণি, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ।

অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।

প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

সূত্র: নব জীবনের সুচনা, বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১০৬.
Si এর পারমাণবিক সংখ্যা 14, এর ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) 10
  2. খ) 13
  3. গ) 14
  4. ঘ) 15
ব্যাখ্যা
• কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাই ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা।
• আবার কোনো মৌলে প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে।
- তাই মৌলের প্রোটন সংখ্যা তথা পারমাণবিক সংখ্যা হবে ইলেট্রন সংখ্যার সমান।

Si এর পারমাণবিক সংখ্যা 14, তাই এর ইলেকট্রন সংখ্যাও 14.

উৎস: বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি। 
৮,১০৭.
নিচের কোনটি অর্ধ-পরিবাহী নয়?
  1. সিলিকন
  2. জার্মেনিয়াম
  3. গ্যালিয়াম আর্সেনাইড
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

• সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী:
- অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি আপেক্ষিক রোধের কয়েকটি পদার্থ আছে সেগুলোকে বলা হয় সেমিকন্ডাক্টর। যেমন-জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গ্যালিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী।
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের। কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই সেমিকন্ডাক্টর চিহ্নিত করা হয় না।
- কেননা কিছু সংকরও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু সেগুলো সেমিকন্ডাক্টর নয়।

• অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য:

- এর আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের।
- এতে কোনো অপদ্রব্য মিশালে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় (0K, শূন্য কেলভিন) এরা অপরিবাহী।
- একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পাল্লা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
- দু প্রান্তের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বৃদ্ধি করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতাঙ্ক বৃদ্ধি পায়।
- এদের পরিবহণ ও যোজনব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর কম।

• জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গ্যালিয়াম আর্সেনাইড ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী হলেও অ্যালুমিনিয়াম অর্ধপরিবাহী নয়, বরং এটি একটি পরিবাহী পদার্থ।

তথ্যসূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।

৮,১০৮.
১০০ W এর একটি বাতি জ্বালানোর অর্থ- 
  1. ১০০ সেকেন্ডে ১ জুল শক্তি ব্যয় হচ্ছে
  2. মোট ১০০ জুল শক্তি ব্যয় হচ্ছে
  3. প্রতি সেকেন্ডে ১০০ নিউটন বল প্রয়োগ হচ্ছে
  4. প্রতি সেকেন্ডে ১০০ জুল শক্তি ব্যয় হচ্ছে
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা: 
- ক্ষমতা হচ্ছে কাজ করার হার।
অর্থাৎ, t সময়ে W পরিমাণ কাজ করা হলে ক্ষমতা P হবে, P = W/t. 
- কাজ করার অর্থ হচ্ছে শক্তির রূপান্তর। শক্তির যেহেতু ধ্বংস নেই তাই কাজ করার মাঝে দিয়ে শক্তির রূপান্তর করা হয় মাত্র। তাই বলা যায়, ক্ষমতা হচ্ছে শক্তির রূপান্তরের হার। 
- কাজ বা শক্তি যেহেতু স্কেলার তাই ক্ষমতাও স্কেলার। 
- ক্ষমতার একক হচ্ছে- ওয়াট (W)। 
- ক্ষমতার মাত্রা হচ্ছে, [P] = ML2T -3
- যদি প্রতি সেকেন্ডে 1 জুল কাজ করা হয় তাহলে বলা হয় 1 ওয়াট (W) কাজ করা হয়েছে বা শক্তির রূপান্তর হয়েছে।
- 100 W এর একটা বাতি জ্বালানোর অর্থ হচ্ছে বাতিতে প্রতি সেকেন্ডে 100 J শক্তি ব্যয় হচ্ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,১০৯.
২১ শে মার্চ ও ২৩ শে সেপ্টেম্বর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য কেমন হয়? 
  1. দিন বড়, রাত ছোট 
  2. দিন ও রাত সমান 
  3. দিন ছোট, রাত বড় 
  4. দিন সর্বনিম্ন, রাত সর্বোচ্চ 
ব্যাখ্যা

দিবা-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি এবং ঋতু পরিবর্তন: 
- পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করার সময়ে ২১ শে মার্চ নিক্ষরেখার (০°) বরাবর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এরপর ক্রমশ আবর্তন করতে করতে ২১ শে জুন পৃথিবী সূর্যের সাথে এমন এক অবস্থানে আসে, যেখানে ভূ-পৃষ্ঠে ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ অর্থাৎ কর্কটক্রান্তি রেখা বরাবর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এই সময়ে সূর্য উত্তর গোলার্ধের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে থাকে। অতএব, উত্তর গোলার্ধে সূর্য ও পৃথিবীর নিকটতম দূরত্বে থাকায়, ২১ শে জুন তারিখে উত্তর গোলার্ধে সর্বাপেক্ষা বড় দিন (১৪ ঘন্টা) ও সর্বাপেক্ষা ছোট (১০ ঘন্টা) রাত হয়ে থাকে, সূর্যের এই অবস্থানকে সূর্যের উত্তরায়ন বলে। 
- সূর্য উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা পর্যন্ত লম্বভাবে কিরণ দিতে পারে। অতএব ২১ শে জুন ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখায় সূর্যের উত্তরায়ণকে কর্কট সংক্রান্তি বলা হয়। 

- ২১শে জুনের পর পৃথিবীর আবর্তনের অর্থাৎ বার্ষিক আবর্তনের ফলে সূর্যের অবস্থান ক্রমশঃ নিচের দিকে সরে আসতে থাকে। ২৩ শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্যরশ্মি পৃথিবীর ঠিক মধ্যভাগ বরাবর কিরণ দেয় বলে ঐ দুইটি দিন সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান থাকে। 

- ২৩শে সেপ্টেম্বর এর পর থেকে বার্ষিক গতির কারণে সূর্যের অবস্থান ক্রমশ দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে আসতে থাকে। ২২শে ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ অর্থাৎ মকরক্রান্তি রেখা বরাবর লম্বভাবে কিরণ দেয়। দক্ষিণ গোলার্ধে লম্বভাবে সূর্য কিরণ পতিত হবার এই প্রক্রিয়াকে সূর্যের দক্ষিণায়ন বলে, দক্ষিণায়নের প্রক্রিয়াটি মকরসংক্রান্তি নামে অভিহিত। 
- সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩৬৫ দিন বা ১ সৌর বছরে পৃথিবী তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে একবার পরিক্রমণ করে। 
- ডিম্বাকৃতির কক্ষপথে পরিভ্রমনকালে ৪ জুলাই পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার এই দূরত্ব সর্বাপেক্ষা বেশি থাকে (১৫২.১ মিলিয়ন কি.মি.), একে পৃথিবীর 'অপসূর' (Aphelion) বলা হয়। 
- ৩ জানুয়ারি পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার এই দূরত্ব সর্বাপেক্ষা কম থাকে (১৪৭.১ মিলিয়ন কি.মি.) যাকে পৃথিবীর 'অনুসূর' (Perihelion) অবস্থান বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,১১০.
'পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে' ধারণাটি প্রথম কোন বিজ্ঞানী দেন? 
  1. আইজ্যাক নিউটন 
  2. নিকোলাস কোপার্নিকাস 
  3. বিজ্ঞানী গ্যালিলিও 
  4. জোহান কেল্লার 
ব্যাখ্যা

নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- পরবর্তীতে জোহান কেল্লার (১৫৭১-১৬৩০) গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

গ্যালিলিও গ্যালিলি: 
- গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। 
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি। 
- পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 

আইজ্যাক নিউটন: 
- আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭) ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
- তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
- এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,১১১.
এক্সোমণ্ডলের তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থাকে?
  1. ক) ১০০° সেলসিয়াস থেকে ৫০০° সেলসিয়াস
  2. খ) ৫০° সেলসিয়াস থেকে ১৫০০° সেলসিয়াস
  3. গ) ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ৯০০° সেলসিয়াস থেকে ২০০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
এক্সোমণ্ডল (Exosphere):
- তাপমণ্ডলের উপরে প্রায় ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে।
- এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায় ৷

এক্সোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- এক্সোমণ্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
- এটি ক্রমান্বয়ে আন্তগ্রহ স্থান Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে ৷
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন— অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১১২.
উত্তর গোলার্ধে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু প্রবাহিত হয়-
  1. সোজা
  2. ঘড়ির কাটার বিপরীতে
  3. ঘড়ির কাটার দিকে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- একটি অঞ্চলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে একটি কেন্দ্রাভিমুখী ঘূর্ণায়মান প্রচন্ড বায়ুপ্রবাহ থেকেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীতমুখী অর্থাৎ উত্তরাভিমুখী এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণাভিমুখী প্রবাহিত হয়।
- গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় এবং এ অঞ্চলের বাইরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় গ্রীষ্মমন্ডল বহির্ভূত ঘূর্ণিঝড়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৮,১১৩.
চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার সময় শুয়ে পড়লে চাপ কম হয়, কারণ- 
  1. ওজন কমে যায়
  2. ঘর্ষণ বেড়ে যায়
  3. বালির ঘনত্ব বেড়ে যায়
  4. ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
চাপ (Pressure): 
- যখন একটা পাথরকে এক হাতে দিয়ে বা দুই হাতে দিয়ে অথবা সারা শরীর দিয়ে ঠেলা হয়, তখন প্রত্যেকবার সমান পরিমাণ বল প্রয়োগ করলেও চাপ কিন্তু ভিন্ন হয়। 
- প্রথম ক্ষেত্রে যদি প্রয়োগকৃত বল F এবং হাতের তালুর ক্ষেত্রফল A হয়, তাহলে চাপ P হচ্ছে, 
• P = F/A 
- কাজেই দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দুই হাত ব্যবহার করায় বল প্রয়োগকারী ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ বেড়ে যাবে বলে চাপ অর্ধেক হয়ে যাবে, তৃতীয় ক্ষেত্রে সারা শরীর ব্যবহার করে বল প্রয়োগ করায় বল প্রয়োগকারী ক্ষেত্রফল আরো বেড়ে যাবে; তাই চাপ আরো কমে যাবে। 
- চাপের একক হচ্ছে N/m2 । 
- চাপের এককের আরেক নাম প্যাসকেল (Pa), 1 N বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ করলে 1 Pa (1 প্যাসকেল) চাপ প্রয়োগ করা হয়। 
- চাপের মাত্রা হচ্ছে [P] = ML-1T-2  । 
- বল একটি ভেক্টর কিন্তু চাপ একটি স্কেলার রাশি। 
- চাপ স্কেলার হওয়ার কারণে এর কোনো দিক নেই। এটি খুবই প্রয়োজনীয়; কারণ চাপ ধারণাটি কঠিন পদার্থ থেকে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে। তরল বা বায়বীয় পদার্থ যখন চাপ প্রয়োগ করে তখন আসলে সেটি দিকের উপর নির্ভর করে না। 
- একজন ব্যক্তি শুয়ে থাকা অবস্থায় চাপ অনেক কম দেয়। এজন্য মানুষ যখন চোরাবালিতে পড়ে, তখন নিজেকে বাঁচানোর জন্য সবসময় শুয়ে পড়তে হয় যেন সে অনেক কম চাপ দেয় এবং চোরাবালিতে সহজে ডুবে না যায়। 
- আবার, বল প্রয়োগ করার অংশটুকুর ক্ষেত্রফল যদি কম হয়, তাহলে চাপ বেড়ে যায়। 
যেমন- একটি পেরেকের সুচালো মুখের ক্ষেত্রফল খুবই কম, তাই এটি যখন কাঠ বা দেয়ালে স্পর্শ করে পেছনের চওড়া মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়, তখন বলটি সুচালো মাথা দিয়ে কাঠ বা দেয়ালে চাপ দেয়। সুচালো মাথার ক্ষেত্রফল যেহেতু খুবই কম তাই চাপটি খুবই বেশি এবং অনায়াসে পেরেক কাঠ বা দেয়ালে ঢুকে যেতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১১৪.
শব্দ কতটা জোরে হচ্ছে বা আস্তে হচ্ছে সেটি নিচের কোনটি থেকে বুঝা যায়? 
  1. ক) গুণ 
  2. খ) জাতি 
  3. গ) তীব্রতা 
  4. ঘ) তীক্ষ্ণতা 
ব্যাখ্যা
সুরযুক্ত শব্দের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য থাকে । যথা-

১। তীব্রতা বা প্রাবল্য (Intensity)
২। তীক্ষ্ণতা (Pitch)
৩। গুণ বা জাতি (Quality) 

শব্দের প্রাবল্য বা তীব্রতা: প্রাবল্য বা তীব্রতা বলতে শব্দ কতটা জোরে হচ্ছে তা বুঝায়। শব্দ বিস্তারের অভিমুখে লম্বভাবে কল্পিত একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ শব্দ শক্তি প্রবাহিত হয় তাকে শব্দের তীব্রতা বলে। শব্দের প্রাবল্য যত বাড়বে শব্দ তত জোরালো হবে।     
৮,১১৫.
কোনো যন্ত্রের সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক্তিকে সরাসরি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়?
  1. অ্যামপ্লিফায়ার
  2. মাইক্রোফোন
  3. ইলেকট্রিক মোটর
  4. লাউড স্পিকার
ব্যাখ্যা

লাউড স্পিকার বৈদ্যুতিক শক্তি থেকে প্রাপ্ত অডিও সিগনালকে তড়িৎচুম্বকীয় নীতি ব্যবহার করে যান্ত্রিক কম্পনের মাধ্যমে সরাসরি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- লাউডস্পিকারের মূল নীতি হলো তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction)। এটি ফ্লেমিং-এর বাম হস্ত নীতি (Fleming's Left-Hand Rule) অনুসারে কাজ করে।

• বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর:
- মাইক্রোফোন শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,১১৬.
ট্রপোস্ফিয়ারে সাধারণত কোন ঘটনা ঘটে?
  1. তুষারপাত
  2. বৃষ্টিপাত
  3. কুয়াশা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) সবগুলোই। 

ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুমণ্ডলের সব ধরনের আবহাওয়া ঘটনা ঘটে, যেমন বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, কুয়াশা।
 
ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভুপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে। 
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়। 
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)। 
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 

ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। 
- উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। 
- নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে। 
- ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে। 
- যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা - ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,১১৭.
তড়িৎ প্রবাহের একক কোনটি? 
  1. ক্যান্ডেলা 
  2. অ্যাম্পিয়ার 
  3. সিমেন্স
  4. কুলম্ব 
ব্যাখ্যা

তড়িৎ প্রবাহ: 
- তড়িৎ কারেন্ট হলো কোন তড়িৎ পরিবাহকের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহকের যে কোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যদিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 

অন্যদিকে, 
- দীপন ক্ষমতার একক ক্যান্ডেলা। 
- পরিবাহিতার একক সিমেন্স। 
- আধানের একক কুলম্ব। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,১১৮.
নিচের কোনটি ধনাত্মক যৌগমূলক?
  1. কার্বনেট
  2. ফসফেট
  3. ডাইক্রোমেট
  4. অ্যামোনিয়াম
ব্যাখ্যা
• অ্যামোনিয়াম (NH₄⁺) হল একটি ধনাত্মক আয়ন যা অ্যামোনিয়া (NH₃) এর সঙ্গে একটি প্রোটন (H⁺) যুক্ত হয়ে তৈরি হয়।

- ধনাত্মক যৌগমূলক (positive radical বা cationic radical) বলতে এমন আয়ন বা মৌলিক গোষ্ঠীকে বোঝায় যার উপর ধনাত্মক চার্জ থাকে।

অন্যদিকে,
• কার্বনেট (CO₃²⁻):
- এটি একটি ঋণাত্মক যৌগমূলক (anion)।
- চার্জ: -2

• ফসফেট (PO₄³⁻):
- এটিও একটি ঋণাত্মক যৌগমূলক।
- চার্জ: -3

• ডাইক্রোমেট (Cr₂O₇²⁻):
- এটিও ঋণাত্মক যৌগমূলক।
- চার্জ: -2

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৮,১১৯.
কোনটি অর্ধ-পরিবাহী নয়?
  1. গ্যালিয়াম
  2. জার্মেনিয়াম
  3. লোহা
  4. সিলিকন
ব্যাখ্যা
১. পরিবাহী : যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়। যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী। পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায়ঃ ১০-৮ Ωm ক্রমের। রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক। পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।

২. অপরিবাহী : যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অন্তরক বা অপরিবাহী বলে।
যেমন- কাচ, কাঠ, রাবার, প্লাস্টিক ইত্যাদি অপরিবাহী পদার্থ। অপরিবাহী পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা খুব কম এবং আপেক্ষিক রোধের মান অত্যন্ত বেশি।

৩. অর্ধপরিবাহী : যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে।
যেমনঃ জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্তরকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। এদের আপেক্ষিক রোধ ১০-৪ Ωm থেকে ১০-২ Ωm ক্রমের।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
৮,১২০.
নিচের কোনটি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী নয়?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) নিকেল
  3. গ) কপার
  4. ঘ) কপার সালফেট
ব্যাখ্যা
যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয় সেসব পরিবাহীকে ইলেকট্রনীয় পরিবাহী বলে। যেমনঃ লোহা, কপার, নিকেল, গ্রাফাইট ইত্যাদি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী। কপার সালফেট, সালফিউরিক এসিড, পানি, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী অর্থাৎ এরা গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
৮,১২১.
মাঙ্কিপক্স একটি ________ রোগ।
  1. ভাইরাসজনিত
  2. ব্যাকটেরিয়াজনিত
  3. ছত্রাকজনিত
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
Monkeypox:
- মাঙ্কিপক্স একটি ভাইরাসজনিত প্রাণীজাত (জুনোটিক) রোগ।
- মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে অর্থোপক্স ভাইরাস।
- এ জাতির ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে গুটিবসন্ত ও কাউপক্স।
- এ জন্য মাঙ্কিপক্সের সাথে গুটিবসন্ত বা স্মলপক্সের মিল দেখা যায়।
- আবার মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের রয়েছে দু’টো ক্লেড বা উপজাতি।
- দুটি ভিন্ন ক্লেড বিদ্যমান: ক্লেড-১ এবং ক্লেড-২।
- একটি হচ্ছে মধ্য আফ্রিকা ক্লেড-এ উপজাতির মাঙ্কিপক্সে মৃত্যুহার ১০% পর্যন্ত হতে পারে।
- আরেকটি হচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকা ক্লেড-এ উপজাতির মাঙ্কিপক্সে মৃত্যু তেমন হয়নি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৮ সালে ডেনমার্কের একটি বিজ্ঞানাগারে এক বানরের দেহে সর্বপ্রথম এ রোগ শনাক্ত হয় বলে একে মাঙ্কিপক্স বলা হয়।
- এ নামটি বদল করে নতুন বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়ার জন্য বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থা উদ্যোগ নিয়েছে।
- কারণ এ নাম থেকে মনে হতে পারে বানরই এ রোগের জন্য দায়ী, যা সঠিক নয়।
- এ রোগটির প্রাদুর্ভাব ১৯৭০ সাল থেকে প্রধানত মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার ১১টি দেশে দেখা যায়।
- ২০২২-২৩ সালে ক্লেড IIb নামে পরিচিত একটি স্ট্রেন দ্বারা mpox-এর একটি বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল।
- আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে ২০২৪ সালের শুরু থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ এমপক্সে আক্রান্ত হয়েছে আর এতে ৪৫০’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

⇒ লক্ষণ:
- এর সাধারণ লক্ষণগুলি হলো ত্বকের ফুসকুড়ি বা মিউকোসাল ক্ষত যা জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, পিঠে ব্যথা, কম শক্তি এবং ফোলা লিম্ফ নোড সহ ২-৪ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
- Mpox সংক্রামক, দূষিত পদার্থ বা সংক্রামিত প্রাণীর সাথে শারীরিক যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ হতে পারে।

⇒ প্রতিকার:
- গুটিবসন্তের জন্য উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন এবং থেরাপিউটিকস এবং কিছু দেশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কিছু পরিস্থিতিতে mpox- এর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
- Mpox আছে এমন কারো সাথে শারীরিক যোগাযোগ এড়িয়ে Mpox প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
- টিকা ঝুঁকিপূর্ণ লোকেদের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

উৎস: World Health Organization.
৮,১২২.
খাবারের কৌটায় লোহার উপর সাধারণত কোন ধাতুর ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়? 
  1. রূপা 
  2. দস্তা
  3. টিন 
  4. ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৮,১২৩.
মানুষের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা কত? 
  1. ২০ থেকে ২০০০ হার্জ
  2. ২০ থেকে ২০,০০০ হার্জ
  3. ২০ থেকে ৩৫,০০০ হার্জ
  4. ৫০ থেকে ৫০,০০০ হার্জ
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার সীমা: 
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়। 
- সকল কম্পনশীল বস্তুর শব্দ মানুষ শুনতে পাই না। 
- যে শব্দ প্রতি সেকেন্ডে ২০টির কম কম্পন দিয়ে সৃষ্টি হয়, তা মানুষেরা শুনতে পাই না, এরকম শব্দকে শ্রুতিপূর্ব শব্দ বলা হয়। 
- আবার প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০-এর বেশি কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দকেও মানুষ শুনতে পাই না, একে শ্রুতি-উত্তর শব্দ বলা হয়। 
সুতরাং মানুষের জন্য শ্রাব্যতার সীমা হলো প্রতি সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পন দিয়ে সৃষ্ট শব্দ। 
- প্রতি সেকেন্ডে কোনো বস্তু যতটা কম্পন দেয় তাকে বলা হয় ঐ বস্তুর কম্পাঙ্ক। 
- এই কম্পাঙ্ক প্রকাশের একক হলো হার্জ (Hertz)। 
- কোনো বস্তু সেকেন্ডে ২০ বার কাঁপলে তার কম্পাঙ্ক ২০ হার্জ, ২০,০০০ বার কাঁপলে ২০,০০০ হার্জ। 
সুতরাং মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ, এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে। 
- কোনো কোনো প্রাণী ২০,০০০ হার্জ কম্পাঙ্কের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়। 
যেমন- কুকুরের এই ক্ষমতা আছে। পুলিশ অতি উচ্চ কম্পাঙ্কের হুইসেল ব্যবহার করে যা কুকুর শুনতে পায় কিন্তু মানুষ শুনতে পায় না। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক অতিশব্দ (শ্রুতি-উত্তর শব্দ ব্যবহারকারী) যন্ত্রের একটি হলো আল্ট্রাসনোগ্রাম। এ যন্ত্র ২০,০০০ হার্জের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দের সাহায্যে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৮,১২৪.
অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কণা বা বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনাকে কী বলা হয়?
  1. পরমাণুকরণ
  2. তেজস্ক্রিয়তা
  3. আয়নন
  4. নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কণা বা বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনাই তেজস্ক্রিয়তা নামে পরিচিত।

• তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity):
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, যেখানে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
- কিছু পরমাণুর নিউক্লিয়াস স্বাভাবিকভাবে অস্থিতিশীল হয়।
- অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কণা বা বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনাকে তেজস্ক্রিয়তা বলা হয়।
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রনের বিন্যাসের ভারসাম্য নষ্ট হলে তেজস্ক্রিয়তা দেখা দেয়।
- নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ছোট হলেও এতে পরমাণুর প্রায় সমগ্র ভর কেন্দ্রীভূত থাকে।
- নিউক্লিয়াসের স্থায়িত্ব মূলত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাগত সম্পর্কের উপর নির্ভর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮,১২৫.
ফোটন কণিকার বৈশিষ্ট্য কী? 
  1. এর গতি শূন্য
  2. এর কোনো ভর নেই
  3. এর ভর আছে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আলো (Light): 
- আলো এক প্রকার দৃশ্যমান শক্তি, এই শক্তি সূর্য থেকে আসে। 
- আর আলোক শক্তির কারণেই সব কিছু দেখতে পাওয়া যায়। 
অর্থাৎ, আলো এক প্রকার শক্তি বা বাহ্যিক কারণ যা চোখে প্রবেশ করে আমাদের দর্শনের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 

আলোর প্রকৃতি (Nature of Light): 
- বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছেন, গতিশীল চার্জযুক্ত কণিকা দ্বারা আলোর বিকিরণ হয়। 
- আলো কখনো কণিকা আবার কখনো তরঙ্গ। 
- কণিকাগুলোকে বলা হয় ফোটন, কিন্তু বস্তু কণা থেকে এর ভিন্নতা হলো এর কোন ভর নাই এবং সব সময় শূন্য স্থানে আলোর দ্রুতি ৩০০,০০০ কি.মি/সে। 
- যখন আলো কোনো বস্তুর কিনারায় বাঁধাগ্রস্থ হয়ে বেঁকে যায় অর্থাৎ বিচ্ছুরণ ঘটে, তখন তরঙ্গের মতো ধর্ম প্রদর্শন বা আচরণ করে। 

আলোর বৈশিষ্ট্য: 
- আলোর প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
১. আলো হচ্ছে এক প্রকার শক্তি। 
২. আলো সরলরেখায় বা সরলপথে গমন করে। 
৩. আলো কখনও কণিকা আবার কখনও তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয়। 
৪. আলো হলো উচ্চ মাত্রার বেগ সম্পন্ন তেজ কণিকার প্রবাহ। 
৫. আলো অত্যন্ত দ্রুত চলে যা সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার অতিক্রম করে। 
৬. আলো কম ঘন মাধ্যম থেকে বেশি ঘন মাধ্যমে অধিক বেগে চলে। 
৭. আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন এবং বিচ্ছুরণ ঘটে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১২৬.
দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমনের উদাহরণ কোনটি?
  1. বেড়িবাঁধ তৈরি
  2. জনগণকে সচেতন করা
  3. প্রশিক্ষণ দেওয়া
  4. পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 

• প্রতিরোধ (Prevention)
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।

কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

⇒ অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদিকার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,১২৭.
আলফা কণিকা কী দ্বারা গঠিত?
  1. দুটি ইলেকট্রন ও একটি প্রোটন
  2. দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন
  3. একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন
  4. একটি নিউট্রন ও দুটি ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
• আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:
- আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি।
- ইহা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব।
- এর শক্তি 1MeV বা 1.6x10-13J হতে 9MeV বা 1.44 × 10-12J পর্যন্ত হয়।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী। β -কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ -কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশী।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম।
- জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১২৮.
নিউটন মিটারকে আর কী নামে বলা হয়?
  1. ওয়াট 
  2. জুল 
  3. প্যাসকেল 
  4. ক্যালরি
ব্যাখ্যা

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)। 
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়। 
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,১২৯.
নিচের কোনটি গ্রিন এনার্জি?
  1. খনিজ তেল
  2. কয়লা
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রিন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন:
- সমুদ্রস্রোত,
- বায়ুপ্রবাহ,
- সৌর শক্তি,
- ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে, অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন:
- কয়লা,
- খনিজ তেল,
- নিউক্লীয় শক্তি,
- প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৩০.
আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় কাকে?
  1. জোহান কেপলার
  2. ভাস্কর
  3. ইবনে আল হাইয়াম
  4. আল খোয়ারিজমি
ব্যাখ্যা
•  প্রাচীনকাল থেকে শুরু হওয়া পদার্থবিজ্ঞানের চর্চা  শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা এবং গণিতের গুরুত্বপূর্ণ শাখা জ্যামিতির সমন্বয়ে।  এর মাঝে অনেকে নানাবিধ আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত। 

→ জোহান কেপলার সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ ব্যাখ্যা করে তিনটি গানিতিক সূত্র প্রদান করেন।

→ ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার অনেক মূল্যবান কাজ করেছেন

→ মুসলিম গণিতবিদ এবং বিজ্ঞানীদের ভেতর খোয়ারিজমির  নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয় । তার লেখা আল জাবির থেকে বর্তমান অ্যালজেবরা নামটি এসেছে। 

অন্যদিকে,
• ইবনে আল হাইয়াম (Ibn al-Haytham), যিনি পশ্চিমা বিশ্বে Alhazen নামে অধিক পরিচিত।  তাঁকে আধুনিক অপটিক্স বা আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি হিসেবে গণ্য করা হয়
- তিনি ১০ম শতাব্দীর একজন মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিক, যিনি আলো, প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Kitab al-Manazir” (The Book of Optics)-এ তিনি প্রথম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলোর ধর্ম নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। এই গ্রন্থটি পরবর্তীতে ইউরোপে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়ে "De Aspectibus" নামে পরিচিত হয় এবং এটি বহু শতাব্দী ধরে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের জন্য মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ছিল। 


তথ্যসূত্র:
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান, প্রথম পত্র।
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান।
৮,১৩১.
জিনের যে ভিন্ন ভিন্ন রূপ অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যালিল
  2. জেনোটাইপ
  3. ক্রোমোজোম
  4. নিউক্লিওটাইড
ব্যাখ্যা
অভিব্যক্তি (Evolution): 
- জীব সৃষ্টির মূলেই রয়েছে জৈব অভিব্যক্তি বা Evolution. 
- ল্যাটিন শব্দ 'Evolveri' থেকে Evolution শব্দটি এসেছে। 
- ইংরেজ দার্শনিক এবং শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম ইভোলিউশন কথাটি ব্যবহার করেন। 
- এক সময় বলা হতো, যে ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন দিয়ে কোনো সরলতর নিম্নশ্রেণির জীব থেকে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটে, তাকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি বা ইভোলিউশন বলে। 
- তবে জৈব অভিব্যক্তির সব সময় ধীর গতিতে ঘটে না, পরিবেশের কারণে অনেক সময় দ্রুত ঘটতে দেখা গেছে। শুধু তা-ই নয়, জৈব অভিব্যক্তির কারণে জটিল জীব সরলতর রূপ নিয়েছে তারও উদাহরণ আছে। 
- মেক্সিকান কেভ ফিশ পানির উপরের স্তর থেকে সরে গিয়ে গভীর পানিতে অন্ধকার গুহায় বাস করতে শুরু করার কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। কাজেই এখন ইভোলিউশনের সংজ্ঞা জিনের অ্যালিলের মাধ্যমে দেওয়া হয় (একটি নির্দিষ্ট জিন একাধিকভাবে থাকতে পারে, তখন সেই জিনটির ভিন্ন ভিন্ন রূপকে তার অ্যালিল বলা হয়)। 
- কার্টিস-বার্নস (1989) প্রদত্ত আধুনিক সংজ্ঞা অনুসারে, ইভোলিউশন বা জৈব অভিব্যক্তি হলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নির্দিষ্ট এলাকায় এক কিংবা কাছাকাছি প্রজাতির অ্যালিল ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১৩২.
ফস-চেক কী?
  1. ক্ষতিকারক গ্যাস
  2. অগ্নি প্রতিরোধক
  3. সারজাতীয় কীটনাশক
  4. শক্তিবর্ধক রাসায়নিক
ব্যাখ্যা
ফস-চেক: 
- ফস-চেক এক ধরনের অগ্নিপ্রতিরোধক উপাদান যা পেরিমিটার নামের একটি কোম্পানি বিক্রি করে। 
- সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে দাবানল ঠেকাতে শহরটির লাল-গোলাপি এই গুঁড়া ব্যবহার করা হয়েছে। 
- ফস-চেক মূলত আগুনের চারপাশে স্প্রে করা হয়, যাতে এটি আগুনের গতিপ্রবাহ বন্ধ করতে পারে। এর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮০ শতাংশ পানি, ১৪ শতাংশ সারজাতীয় লবণ এবং ৬ শতাংশ রঙিন ও ক্ষয় প্রতিরোধী উপাদান। এটি জ্বালানির তাপমাত্রা হ্রাস করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়। 
- ফস-চেক-এর মূল উপাদান হচ্ছে অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা অ্যামোনিয়াম সালফেট (যা আগুন প্রতিরোধে সাহায্য করে)। 

- আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৯৬৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ফস-চেক ব্যবহার করে আসছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিনিরাপত্তা বিভাগও দীর্ঘদিন ধরে আগুন নেভানোর প্রধান উপাদান হিসেবে এটা ব্যবহার করছে। 
- বিশ্বে আগুন নেভানোর কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদানগুলোর একটি হচ্ছে এই ফস-চেক। 
- ফস-চেকের গুঁড়া যত শুকিয়ে যাবে, পুরোপুরি পরিষ্কার করা তত কঠিন হতে পারে। ছোট কোনো জায়গা থেকে গরম পানি ও অল্প ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে এটা উঠিয়ে ফেলা যাবে। আর পৃষ্ঠটি বড় হলে পানির উচ্চচাপ ব্যবহার করে পরিষ্কার করতে হবে। 
- ফস-চেকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান জলাশয়ের ক্ষতি করে। 
- তাই যুক্তরাষ্ট্রের বন পরিষেবা জলপথ ও বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থলের মতো পরিবেশগত সংবেদনশীল এলাকায় আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত ফস-চেকের ব্যবহার বাধ্যতামূলকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা, (১৪ জানুয়ারি, ২০২৫), ব্রিটানিকা এবং সময় নিউজ।
৮,১৩৩.
নিচের কোন জোড় রাশির মাত্রা একই?
  1. ক) বল ও কাজ
  2. খ) কাজ ও শক্তি
  3. গ) বল ও টর্ক
  4. ঘ) কাজ ও ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
বলের মাত্রা MLT-2
কাজের মাত্রা ML2T-2
শক্তির মাত্রা ML2T-2
টর্কের মাত্রা ML2T-2
ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3

∴ কাজ, শক্তি ও টর্কের মাত্রা একই

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮,১৩৪.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূ-পৃষ্ঠের বিন্দুকে বলা হয়-
  1. এনডোসেন্টার
  2. এপিসেন্টার
  3. পিকপয়েন্ট
  4. মিডপয়েন্ট
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প: 
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়। 
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়। 
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বা Centre বা Focus বলে। 
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে। 
- সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে। 
• কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে। 
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
- ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১৩৫.
মোবাইল ফোনের ব্যাটারি এক প্রকার -
  1. প্রাইমারি কোষ
  2. সেকেন্ডারি কোষ
  3. শুষ্ক কোষ
  4. ড্যানিয়েল কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
- যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিকে রূপান্তরিত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে।

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
- প্রাথমিক কোষের চার্জ একবার শেষ হিয়ে গেলে আর ব্যাবহার করা যায় না। যেমন : পেন্সিল ব্যাটারি।

২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 
- সেকেন্ডারি বা সঞ্চয়ী কোষ চার্জ দিয়ে বারবার ব্যাবহার করা যায়। যেমন : চার্জার লাইট, চার্জার ফ্যান, মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে গ্যালভানিক কোষ। 
- এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল এবং সরল ভোল্টায়িক কোষ। 

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮,১৩৬.
নিচের কোন ইলেকট্রোনিক্স যন্ত্র AC থেকে DC তৈরি করতে পারে?
  1. ক) Diode
  2. খ) Transistor
  3. গ) JET
  4. ঘ) FET
ব্যাখ্যা
- রেকটিফায়ার হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ প্রবাহকে (AC), একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহে (DC) রূপান্তরিত করে, যার দিক হলো একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং এই প্রক্রিয়াকে বলে একমুখীকরন (রেকটিফিকেশন)।

- অ্যামপ্লিফায়ার এর সরল বাংলা অর্থ হতে পারে পরিবর্ধক বা শক্তিবর্ধক। এটি এমন একটি বৈদ্যুতিক ডিভাইস যা কোনও ইনপুট সিগন্যালের কারেন্ট বা শক্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

- ট্রানজিস্টর (Transistor) একটি অর্ধপরিবাহী যন্ত্র, যা সাধারণত অ্যামপ্লিফায়ার এবং বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- ডায়োড মূলত একটি নির্দিষ্ট দিকের তড়িৎ প্রবাহকে সহায়তা করে এবং তার বিপরীত দিকের তড়িৎ প্রবাহকে বাধা প্রদান করে। এই ধরনের একদিকে প্রবাহিত করার প্রবণতাকে রেকটিফিকেশন বলা হয়ে থাকে যা এসি কারেন্ট থেকে ডিসি কারেন্টে তৈরি এবং রেডিও সংকেতের মর্মোদ্ধারের প্রথম ধাপ।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান।
৮,১৩৭.
নিচের কোনটি পৌষ্টিকনালির অংশ নয়?
  1. মুখগহ্বর
  2. গলবিল
  3. পাকস্থলী
  4. প্লিহা
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিকনালি:
- মুখগহ্বর থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত বিস্তৃত এই নালিপথ কোথাও সরু আবার কোথাও প্রশস্ত।
- এর প্রধান অংশগুলো নিম্নরূপ:
• মুখ, 
• মুখগহ্বর, 
• দাঁত, 
• গলবিল, 
• অন্ননালি, 
• পাকস্থলী, 
• অন্ত্র,
• পায়ু। 

অন্যদিকে, 
- প্লিহা হলো রেটিকুলোএন্ডোথেলিয়াল তন্ত্রের অংশ

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১৩৮.
দুইটি বা ততোধিক নিউরন বা স্নায়ুকোষের সংযোগস্থলকে কি বলে?
  1. ক) টেলোডেনড্রিয়া
  2. খ) ডেনড্রাইট
  3. গ) অ্যাক্সন
  4. ঘ) সিন্যাপস
ব্যাখ্যা
দুইটি বা ততোধিক নিউরনের সংযোগস্থলকে বলে সিন্যাপস, যেখানে এদের সংকেত বিনিময় হয়। মূলত একটি নিউরনের অ্যাক্সন এবং অপর একটি নিউরনের ডেনড্রাইটের মিলনস্থলকে সিন্যাপস বলে। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮,১৩৯.
একটি ট্রান্সফরমারের মুখ্য ও গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যার অনুপাত ২০:১। যদি গৌণ কুন্ডলীতে বিভব ১১V হয় তবে মুখ্য কুন্ডলীতে কত বিভব পাওয়া যাবে?
  1. ক) ১১০V
  2. খ) ২২০V
  3. গ) ২৫০V
  4. ঘ) ৩২০V
ব্যাখ্যা

আমরা জানি,
Ep/Es = np/ns
বা, Ep/Es = ২০/১
বা, Ep = ২০×Es
= ২০×১১
= ২২০

৮,১৪০.
কোনো বস্তুকে মেরু থেকে বিষুবীয় অঞ্চলের দিকে আনলে ওজন এর কিরূপ পরিবর্তন হয়?
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) একই থাকে
  4. ঘ) শূন্য হয়
ব্যাখ্যা
- মেরু থেকে বিষবীয় অঞ্চলে ত্বরণের মান কম। বস্তুর ওজন ত্বরণের সমানুপাতিক অর্থাৎ যেখানে ত্বরণ বেশি সেখানে ওজন বেশি হবে।
তাই মেরুতে ওজন বেশি এবং বিষুবীয়তে ওজন কম।
- তাই মেরু থকে বিষুবীয়তে গেলে বস্তুর ওজন কমবে।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বই।
৮,১৪১.
নিচের কোনটিকে 'সোডা অ্যাস' বলা হয়?
  1. ক) সোডিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড
  2. খ) সোডিয়াম বাই কার্বনেট
  3. গ) সোডিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট
ব্যাখ্যা
- সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) কে সোডা অ্যাস বলা হয়।
- সোডা অ্যাসের 1 অণুর সাথে 10 অণু পানি রাসায়নিকভাবে যুক্ত হলে তাকে কাপড় কাঁচা বা ওয়াশিং সোডা বলে। 
- কাপড় কাঁচা সোডার রাসায়নিক নাম সোডীয়াম কার্বনেট ডেকা হাইড্রেট (Na2CO3.10H2O)। 

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১৪২.
আইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু কোথায় দেখা যায়?
  1. হাড়ের ম্যাট্রিক্স
  2. বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল
  3. বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা
  4. অন্ত্রের প্রাচীর
ব্যাখ্যা
বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুলে আইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু দেখা যায়।

• প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ:
- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) আবরণী টিস্যু,
(খ) যোজক টিস্যু,
(গ) পেশি টিস্যু এবং
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু।

• আবরণী টিস্যু:
- আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে।
- এ প্রকার টিস্যুর মাতৃকা থাকে না।

• কাজ
- কোন অঙ্গের বা নালীর ভেতরের এবং বাইরের আবরণ তৈরি করে।
- ত্বকীয় টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে রক্ষণ, ক্ষরণ, শোষণ, ব্যাপন এবং পরিবহন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়।
- এটি রূপান্তরিত হয়ে গ্রন্থি টিস্যু এবং জার্মিনাল টিস্যুতে পরিণত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

• প্রকারভেদ:
কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী আবরণী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-

১. আইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু-
- এ প্রকার টিস্যুর কোষগুলো আঁইশের ন্যায় চ্যাপ্টা এবং নিউক্লিয়াস বড়।
- যেমন- বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর।

• কাজ
- প্রধানত ছাকন এবং আবরণ সৃষ্টি।

২. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু-
- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়।
- যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।

• কাজ-
- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

৩. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু-
- এ টিস্যুর কোষগুলো স্তম্ভের ন্যায় সরু এবং লম্বা।
- যেমন- প্রাণীদের অস্ত্রে অন্তঃপ্রাচীর।

• কাজ-
- প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ।

উৎস: ১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৪৩.
কত দিনে চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসে?
  1. ২১ দিনে
  2. ২৪ দিনে
  3. ২৭ দিনে
  4. ২৯ দিনে
ব্যাখ্যা
চাঁদ (Moon):
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আর্বতন করে।
- চাঁদের ব্যাস ৩,৪৭৫ কিলোমিটার।
- ১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
- চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। চাঁদে বহু সমতলভূমি, পাহাড় পর্বত ও বৃহদাকার গর্তের উপরিভাগ দেখা যায়। চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম ক্লেভিউস।
- চাঁদের আকাশ দিনে-রাতে একই রকম কালো। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই।
- সূর্যের আলোতে চাঁদ আলোকিত হয়।
- চাঁদের যে পৃষ্ঠে সূর্যালোক পড়ে সে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১০০° সেলসিয়াস এর ওপরে এবং অন্ধকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫০° সেলসিয়াসের নীচে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১৪৪.
একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় -
  1. ০.৫-১.০ কেজি
  2. ২.০-৩.০ কেজি
  3. ১.৫-২.০ কেজি
  4. ৪.০-৫.০ কেজি
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। 
- ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা। পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ। 
- পিত্তরসে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 

কাজ: 
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। 
- তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৪৫.
বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে শতকরা কত ভাগ মিথেন থাকে? 
  1. ৬০-৬৫ ভাগ
  2. ৬৫-৭০ ভাগ
  3. ৭৫-৮৫ ভাগ
  4. ৯৫-৯৯ ভাগ
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে- 
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। 
- আমাদের বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৪৬.
‘মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েব বিকিরণ’ (Cosmic Microwave Background Radiation- CMB) - এর অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) এডউইন হাবল
  2. খ) অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক
  3. গ) রবার্ট উইলসন
  4. ঘ) জর্জ গ্যামো
ব্যাখ্যা

মহাজাগতিক- মাইক্রোওয়েভ পশ্চাৎপট বিকিরণ (Cosmic Microwave Background Radiation- CMB):

যেহেতু গ্যালাক্সিগুলো পরষ্পর হতে দূরে সরে যাচ্ছে, সুতরাং অতীতে কোনো একসময় সেগুলো অবশ্যই একসাথে ছিল। প্রাথমিক অবস্থায় মহাবিশ্ব অকল্পনীয় ঘনত্বের বস্তু ও বিকিরণ দ্বারা গঠিত ছিল। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ফলে, এই বস্তু ও বিকিরণ ততোই শীতল হতে থাকল। এর প্রেক্ষিতে বিকিরণের কণা বা ফোটনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকল।
মহাবিশ্বের বিকিরিত শক্তির একটি নির্দিষ্টমাত্রা বা পরিমাণ আছে এবং সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বে ঐ নির্দিষ্ট শক্তিও সম্প্রসারিত অংশে বিকিরিত হচ্ছে। এখনো, ঐ বিকিরিত অবশিষ্ট শক্তির অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়। এই বিকিরণকে মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পশ্চাৎপট বিকিরণ বলে।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি ১৯৬৫ সালে এই জাতীয় বিকিরণের প্রথম সন্ধান পান আর্নো অ্যালান পেনজিয়াস (Arno Allan Penzians) এবং রবার্ট উইলসন (Robert Wilson) নামের দুইজন মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)

৮,১৪৭.
যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে রেখা অতিক্রম করেছে তাকে কী বলে?
  1. মূল মধ্যরেখা
  2. সমাক্ষরেখা
  3. ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা
  4. ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian): 
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে গ্রিনিচ (Greenwich) মানমন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
- এই রেখার মান ০ ডিগ্রি ধরা হয়েছে।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণের সাহায্যে অপরাপর দ্রাঘিমারেখাগুলো অঙ্কন করা যায়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে ৪৫ ডিগ্রি পূর্বে যে মধ্যরেখা বা দ্রাঘিমারেখা তার উপর সকল স্থানের দ্রাঘিমা ৪৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বলা হয়।
- আমরা আরও জানি, গ্রিনিচের দ্রাঘিমা ০ ডিগ্রি।
- পৃথিবীর পরিধি দ্বারা উৎপন্ন কোণ ৩৬০ ডিগ্রি।
- মূল মধ্যরেখা এই ৩৬০ ডিগ্রিকে ১ ডিগ্রি অন্তর অন্তর সমান দুই ভাগে অর্থাৎ ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব ও ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিমে ভাগ করেছে।
- পৃথিবী গোলাকার বলে ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা ও ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই মধ্যরেখায় পড়ে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮,১৪৮.
গ্রহের কোনটি থাকে না?
  1. নিজস্ব ভর
  2. গতিবেগ
  3. নিজস্ব আলো
  4. নিজস্ব উপগ্রহ
ব্যাখ্যা
- গ্রহের নিজস্ব আলো থাকে না। 

গ্রহ (Planet):

- গ্রহ (Planet) গ্রিক শব্দ "প্লানেটেস" (অর্থ: "ভ্রমণকারী") থেকে উদ্ভূত — এমন একটি প্রাকৃতিক বড় আকারের বস্তু, যা সূর্য বা অন্য কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান থাকে এবং যার ভেতর পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ থেকে শক্তি উৎপন্ন হয় না।
- আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU) অনুসারে, আমাদের সৌরজগতের ৮টি গ্রহ হলো (সূর্য থেকে দূরত্ব অনুযায়ী): বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, এবং নেপচুন।
- প্লুটো একসময় নবম গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত ছিল, কিন্তু ২০০৬ সালে IAU এর সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি গ্রহের মর্যাদা হারায় এবং এখন এটি একটি বামন গ্রহ (dwarf planet) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়।
- ২০শ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত কেবল আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোই পরিচিত ছিল।
- পরে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন যে, অন্য নক্ষত্রগুলোকেও কেন্দ্র করে গ্রহ ঘুরছে।

একটি বস্তুকে গ্রহ হিসেবে চিহ্নিত করতে বিজ্ঞানীরা সাধারণত কিছু শর্ত আরোপ করেন:
- এটি যথেষ্ট বড় হতে হবে (সাধারণত ১,০০০ কিমি বা তার বেশি),
- নিজের মাধ্যাকর্ষণের কারণে এটি গোলাকার (আনুমানিক ৭০০ কিমি ব্যাস) আকৃতি ধারণ করতে সক্ষম হতে হবে,
- এর ভর এমন হতে হবে যাতে কেন্দ্রস্থলে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু না হয়।

উৎস: Britannica. 
৮,১৪৯.
উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় মাটি হতে পানি শোষণ করে?
  1. ব্যাপন
  2. অভিস্রবণ
  3. শোষণ
  4. ক ও খ উভয় প্রক্রিয়ায়
ব্যাখ্যা
• অভিস্রবণ:
- দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পাশাপাশি পৃথক থাকলে দ্রাবক অণু কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে পর্দা অতিক্রম করে প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে।
-  প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হবে।
- অভিস্রবণ একটি ভৌত প্রক্রিয়া, কিন্তু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রোটোপ্লাজমের নিয়ন্ত্রণে ঘটে বলে এটি একটি জৈব প্রক্রিয়া।
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মাটি হতে পানি শোষণ করে।

- একই তাপমাত্রা ও বায়ুমন্ডলীয় চাপে কোনো পদার্থের অধিকতর ঘন স্থান হতে কম ঘন স্থানে বিস্তার লাভ প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- উদ্ভিদ মূলের সাহায্যে মাটি থেকে খনিজ লবণ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শোষণ করে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৫০.
হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. এনজিওপ্লাস্টি
  2. রেডিও আইসোটোপ
  3. এমআরআই
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
• হৃদরোগের চিকিৎসায়  "এনজিওপ্লাস্টি" ব্যবহৃত হয়।

• এনজিওপ্লাস্টি:

- এনজিও (Angio) শব্দের অর্থ হল রক্তনালী এবং প্লাস্টি (Plasty) শব্দের অর্থ হল ঢিলা করে দেওয়া।
- এই পদ্ধতিতে হৃৎপিন্ডের রক্তনালীর মধ্যের চর্বি জমে সরু হয়ে যাওয়া পথ প্রশস্থ বা ঢিলা করে দেওয়া হয়।
- যে পথে এনজিওগ্রাম করা হয়েছিল সেই একই পথে ক্যাথেটারের সংগে বেলুন প্রবেশ করানো হয়।
- তারপর ওই বেলুন ফুলিয়ে করনারী ধমনীর সরু অংশকে প্রশস্থ করা হয়।
- এতে করে ধমনীর ভেতরের রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়।
- ধমনীর এই প্রশস্থতা ধরে রাখতে রিং বসানো হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• এমআরআই:
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়।

• রেডিও আইসোটোপ:
- রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
৮,১৫১.
গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর নিম্নচাপ প্রধানত কোথায় সৃষ্টি হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত
  2. আর্কটিক মহাসাগর 
  3. উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার উপর
  4. দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয়
ব্যাখ্যা

- গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর নিম্নচাপ মূলত উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার উপর (ভারতের উত্তর ও মধ্যভাগ) সৃষ্টি হয়। তীব্র সূর্যতাপে স্থলভাগ প্রচণ্ড গরম হওয়ায় সেখানে এই নিম্নচাপ তৈরি হয়, যার ফলে ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্থলভাগের দিকে ছুটে আসে। 

মৌসুমি জলবায়ু: 
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “মওসুম” থেকে যার অর্থ ঋতু। 
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়। 
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু। 

মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য: 
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।  
- দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ুএশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়। 
- এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়, কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,১৫২.
সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে কী বলা হয়?
  1. Pisciculture
  2. Prawn culture
  3. Mariculture
  4. Sericulture
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষবিদ্যা:
- সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে মেরিকালচার বলা হয়।

অন্যদিকে,
- সাধারণ মৎস্য চাষবিদ্যাকে পিসিকালচার বলা হয়।
- রেশম কীট পালন ও রেশম উৎপাদনের বিদ্যাকে সেরিকালচার বলা হয়।
- চিংড়ি ও অন্যান্য শেলফিশ চাষবিদ্যাকে প্রণকালচার বলা হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৮,১৫৩.
ইনসুলিন কি?
  1. ক) এক ধরনের এনজাইম
  2. খ) এক ধরনের হরমোন
  3. গ) এক ধরনের কৃত্রিম অঙ্গ
  4. ঘ) এক ধরনের অস্ত্র
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমায়। কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই৷

৮,১৫৪.
বিশুদ্ধ জলের pH মান কত?
  1. ৮ 
  2. ৫ 
ব্যাখ্যা

pH মান: 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলা হয়। 
- অর্থাৎ, pH = –log[H⁺].
- pH- এর ‘p’ এসেছে জার্মান শব্দ Potenz থেকে যার অর্থ হলো ক্ষমতা;
- এবং ‘H’ দ্বারা হাইড্রোজেন বোঝানো হয়েছে।
- অর্থাৎ pH হলো হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ক্ষমতা।
- ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী সোরেনসেন (Sorensen) pH স্কেল প্রবর্তন করেন।
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয়, ক্ষারীয় বা নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- সাধারণভাবে pH এর মান ০ থেকে ১৪ এর মধ্যে থাকে।
- pH মান ৭-এর সমান হলে তা নিরপেক্ষ হিসেবে গণ্য হয়।
- বিশুদ্ধ জল একটি নিরপেক্ষ দ্রবণ, তাই এর pH মান ৭।

উল্লেখ্য,
- কোনো দ্রবণের pH মান ৭-এর কম হলে তা অ্যাসিডিক; এর অর্থ- দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের (H⁺) ঘনত্ব বেশি থাকে।
- pH মান ৭-এর বেশি হলে  দ্রবণটি ক্ষারীয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,১৫৫.
বহিঃশ্বসন কোথায় ঘটে? 
  1. পাকস্থলীতে
  2. রক্তনালিতে
  3. কোষের অভ্যন্তরে
  4. ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রাণী বিরামহীনভাবে পরিবেশ থেকে অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে, সে অক্সিজেনের সাহায্যে কোষ মধ্যস্থ সরল খাদ্যকে জারিত করে খাদ্যস্থিত স্থিতিশক্তিকে গতিশক্তিতে রূপান্তর করে এবং এতে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে (CO2) দেহ হতে ত্যাগ করে তাকে শ্বসন (Respiration) বলে।
- শ্বসনের দুইটি পর্যায় থাকে। 
যথা- ১। বহিঃশ্বসন (External respiration) ও ২। অন্তঃশ্বসন (Internall respiration) । 
- ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের বায়ুর সাথে ফুসফুসীয় রক্ত জালিকার মধ্যে প্রশ্বাস ও নিশ্বাসের সময় যে গ্যাসীয় আদান প্রদান হয় তাকে বহিঃশ্বসন বলে। 
- অপরদিকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন (O2) দেহের কলাকোষে প্রবেশ করে কোষস্থ খাদ্যের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও পানি উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে অন্তঃশ্বসন বলে। 
- এতে নিম্নের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে- 

- যে সকল অঙ্গ সম্বিলিতভাবে দেহ ও প্রকৃতির মধ্যে শ্বসন গ্যাস (O2 ও CO2) বিনিময় প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের সমষ্টিকে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- শ্বসনতন্ত্র রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকে সৃষ্ট গ্যাসীয় বর্জ্য অপসারণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৫৬.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে আয়নোস্ফিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বিরাজ করে?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্র‍্যাটোস্ফিয়ার
  3. থার্মোস্ফিয়ার
  4. এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
Atmosphere is gaseous envelope that surrounds the Earth. Near the surface it has a well-defined chemical composition. In addition to gases, the atmosphere contains solid and liquid particles in suspension.
Scientists divide the atmosphere into five main layers: in ascending order, the troposphere (surface to 6–8 mi, or 10–13 km); the stratosphere (4–11 mi, or 6–17 km, to about 30 mi, or 50 km); the mesosphere (31–50 mi, or 50–80 km); the thermosphere (50–300 mi, or 80–480 km); and the exosphere (from 300 mi and gradually dissipating).
Most of the atmosphere consists of neutral atoms and molecules, but in the ionosphere a significant fraction is electrically charged.
The ionosphere begins near the top of the stratosphere but is most distinct in the thermosphere.
সূত্র: Encyclopedia Britannica

৮,১৫৭.
বাংলাদেশের চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে-
  1. রানীগঞ্জে
  2. বিজয়পুরে
  3. টেকেরহাটে
  4. বাগালীবাজারে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে — নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুরে। 
----------------- 
• 'চীনামাটি':
- চীনামাটি কেওলিন কর্দম মণিক দ্বারা গঠিত উন্নতমানের কর্দম; প্রধানত সিরামিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে গৃহস্থালি সামগ্রী হিসেবে চীনামাটির তৈরী তৈজসপত্রের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর ও গোপালপুরে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়, চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও ও সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে চীনামাটির মজুত রয়েছে।
- এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলাতে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটে চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালে বর্তমান নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত ভেদিকুরা নামক স্থানে প্রথম চীনামাটির সন্ধান লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,১৫৮.
ভূত্বকের আকস্মিক কম্পনকে কী বলা হয়? 
  1. ভূমিকম্প
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. টর্নেডো
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প (Earthquake): 
- পৃথিবীর কঠিন ভূত্বকের কোনো কোনো অংশ প্রাকৃতিক কোনো কারণে কখনো কখনো অল্প সময়ের জন্য হঠাৎ কেঁপে ওঠে, ভূত্বকের এরূপ আকস্মিক কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। 
- ভূকম্পন সাধারণত কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় আবার কখনো কিছু সময় পর পর অনুভূত হয়। 
- এ কম্পন কখনো অত্যন্ত মৃদু আবার কখনো অত্যন্ত প্রচন্ড হয়। 

ভূমিকম্পের প্রধান কারণ: 
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতকগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত, এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে। 
- অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকম্পন সৃষ্টি হয়। 

ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ: 
১। শিলাচ্যুতি বা শিলাতে ভাঁজের সৃষ্টি: কোনো কারণে ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে বড় ধরনের শিলাচ্যুতি ঘটলে বা শিলাতে ভাঁজের সৃষ্টি হলে ভূমিকম্প হয়। ১৯৩৫ সালে বিহারে এবং ১৯৫০ সালে আসামে এ কারণেই ভূমিকম্প হয়। 
২। তাপ বিকিরণ: ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে ভূমিকম্প হয়। 
৩। ভূগর্ভস্থ বাষ্প: পৃথিবীর অভ্যন্তরে অত্যধিক তাপের কারণে বাষ্পের সৃষ্টি হয়। এই বাষ্প ভূত্বকের নিম্নভাগে ধাক্কা দেওয়ার ফলে প্রচন্ড ভূকম্পন অনুভূত হয়। 
৪। ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস: অনেক সময় ভূগর্ভে হঠাৎ চাপের হ্রাস বা বৃদ্ধি হলে তার প্রভাবে ভূমিকম্প হয়। 
৫। হিমবাহের প্রভাব: হঠাৎ করে হিমবাহ পর্বতগাত্র থেকে নিচে পতিত হলে ভূপৃষ্ঠ কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,১৫৯.
বাংলাদেশের শীতলতম মাস কোনটি?
  1. ক) নভেম্বর
  2. খ) ডিসেম্বর
  3. গ) জানুয়ারি
  4. ঘ) ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে নভেম্বর মাসের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় শীতকাল। এই সময় তাপমাত্রা কমতে থাকে।
- জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে এবং এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।
- শীতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস।
-শুষ্ক শীতকাল এবং উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত এই দেশের শীতকালের বৈশিষ্ট্য।
-দেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হয়।
-এসময় বাতাসের সর্বনিম্ন আর্দ্রতা শতকরা প্রায় ৩৬ ভাগ থাকে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৬০.
নিচের কোনটি টমেটোর রং লাল হবার জন্য দায়ী?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. গ) লিউকোপ্লাস্টিড
  4. ঘ) লাইসোজোম
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন বর্ণবৈচিত্র সৃষ্টি করে৷ ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা ও হলুদ বর্ণের ক্যারোটিনয়েড নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে৷ টমেটোর যে লাল রঙ তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য হয়ে থাকে৷
ক্লোরোপ্লাস্টে সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় সবুজ বর্ণ ধারন করে৷
উদ্ভিদের যেসব অংশে আলো পৌঁছায় না, সেসব অংশের কোষে লিউকোপ্লাস্টিড থাকে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৮,১৬১.
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতলতম স্তর হচ্ছে- 
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমন্ডল
  4. এক্সোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

• বায়ুমন্ডলের স্তরবিন্যাস:
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমণ্ডল। উল্লিখিত স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere) এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

• মেসোমণ্ডল (Mesosphere):
- স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে মেসোমণ্ডল বলে। এই স্তরের উপরে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া থেমে যায়। এই স্তরকে মেসোবিরতি (Mesopause) বলে।
- এই স্তরে ট্রপোমণ্ডলের মতোই উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমতে থাকে। যা - ৮৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা নিচে নেমে যায়। মেসোমণ্ডল বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে
- মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলোর অধিকাংশই এই স্তরের মধ্যে এসে পুড়ে যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ- নবম ও দশম শ্রেণি।

৮,১৬২.
কখন ফেনা ভাসমান পদ্ধতিতে ঘনীকরণ করা হয়?
  1. কপার আকরিকের ক্ষেত্রে
  2. জিংক আকরিকের ক্ষেত্রে
  3. লোহার আকরিকের ক্ষেত্রে
  4. সালফাইড আকরিকের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
আকরিক ঘনীকরণ: 
- বিচূর্ণকৃত আকরিক থেকে খনিজমল সাধারণত ভৌত পদ্ধতিতে দূর করে আকরিক ঘনীকরণ করা হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়। 
- আকরিকের প্রকৃতি অনুসারে আকরিক ঘনিকরণে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
যেমন- 
অভিকর্ষ বলের সাহায্যে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিকের আপেক্ষিক গুরুত্ব খনিজমল থেকে আপেক্ষিক গুরুত্ব থেকে বেশি হয় তবে এ পদ্ধতিতে ঘনীকরণ করা হয়। 
- বিচূর্ণকৃত আকরিককে প্রবাহমান পানি দ্বারা আলোড়িত বা ধৌত করা হয়। ফলে হালকা খনিজমল প্রবাহমান পানির সাথে চলে যায় এবং ভারি আকরিক সঞ্চিত থাকে। এতে আকরিক ঘনীভূত হয়। 

ফেনা ভাসমান পদ্ধতিতে ঘনীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক সালফাইড হিসেবে থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- একটি বড় পাত্রে বিচূর্ণকৃত সালফাইড আকরিক নিয়ে তাতে পানি ও অল্প পরিমাণ উপযুক্ত তেল যোগ করা হয়। অতপর পানির মধ্যে বায়ু প্রবাহিত করা হয়, ফলে সালফাইড আকরিকসমূহ তেলে সিক্ত হয়ে পানির উপর ফেনা আকারে ভেসে উঠে। এবার ফেনাসহ আকরিক পৃথক করে নেওয়া হয় এবং পাত্রে খনিজমল পড়ে থাকে। 

চৌম্বক পৃথকীকরণ: 
- যদি ধাতুর আকরিক অথবা খনিজমল কোন একটির চৌম্বক ধর্ম থাকে তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 
- এই পদ্ধতিতে দুইটি চাকতিতে স্থাপিত একটি চলমান বেল্টে উপর থেকে বিচূর্ণকৃত আকরিক ফেলা হয়। বেল্টটি চলমান হওয়ায় বিচূর্ণকৃত আকরিক বাহিরের দিকের চাকতিটি পার হয়ে ছিটকে পড়তে থাকে। 
- বাহিরের চাকতিটি চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট রাখা হয়। ফলে চৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতির কাছে এবং অচৌম্বক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ চাকতি থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। 

রাসায়নিক পদ্ধতি: 
- কিছু কিছু আকরিকের বৈশিষ্ট্য যদি এমন হয় যে, এর সাথে মিশ্রিত খনিজমল কোন দ্রাবকের সাহায্যে দ্রবীভূত করে দূরিভূত করা যায় তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।
- এই পদ্ধতিতে কোন একটি উপযুক্ত দ্রবক দ্বারা দ্রবীভূত করে আকরিকের মধ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত একটি উপাদানকে পৃথক করা হয়।
- পরবর্তিতে দ্রবণ থেকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে আকরিক পৃথক করা হয়।
যেমন- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক থেকে খনিজমল দূর করার জন্য কস্টিক সোডা (NaOH) যোগ করে ১২০০-২০০০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে বক্সাইড দ্রবীভূত হয়ে যায় এবং খনিজমল অদ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। অতপর দ্রবণ ছেঁকে খনিজমল দূর করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৬৩.
তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে -
  1. ক) ট্রান্সজিস্টর
  2. খ) ডায়নামো
  3. গ) ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) তড়িৎ মোটর
ব্যাখ্যা
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে। তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮,১৬৪.
বিসিজি টিকার আবিষ্কারক কে?
  1. রবার্ট কক
  2. ক্যামিলে গুয়েরিন
  3. জোনাস সাল্ক
  4. এডওয়ার্ড জেনার
ব্যাখ্যা
- ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দ্বারা যক্ষা রোগ হয়। যক্ষ্মা রোগের ব্যাকটেরিয়া মানুষের দেহে প্রবেশ করে শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে।
- যক্ষ্মার রোগের টিকা হলো- বিসিজি
- এই টিকা আবিষ্কারক ফ্রান্সের জীবাণুতত্ববিদ - আলবার্ট ক্যালম্যাট ও ক্যামিলে গুয়েরিন। এই দুজনের নামানুসারেই টিকার নামকরণ করা হয় - Bacillus Calmette-Guérin, or BCG। তারা দীর্ঘ ১৩ বছর (১৯০৮ - ২১) গবেষণা করে এই টিকা উদ্ভাবণ করেন। 
- এই রোগের জীবাণু প্রথম আবিষ্কার করেন জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কক ১৮৮২ সালে।

উল্লেখ্য,
- জোনাস সাল্ক -- পোলিও টিকার আবিষ্কারক।
- এডওয়ার্ড জেনার -- গুটিবসন্তের টিকার আবিষ্কারক।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮,১৬৫.
নিচের কোনটি ব্যাটারির সাধারণ অংশ নয়?
  1. ক) অ্যানােড
  2. খ) ক্যাথােড
  3. গ) সার্কিট
  4. ঘ) ইলেকট্রোলাইট
ব্যাখ্যা
ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। একটি অ্যানােড, একটি ক্যাথােড এবং মাঝখানে ইলেকট্রোলাইট। উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান
৮,১৬৬.
রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে শক্তির রূপান্তর নিচের কোন সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়?
  1. ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র
  2. তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র
  3. তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র
  4. তাপগতিবিদ্যার তৃতীয় সূত্র
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির রূপান্তর: 
- কোনো পদার্থের অণু বা আয়নসমূহ পরস্পর পরস্পরের সাথে বিভিন্ন ধরনের শক্তির প্রভাবে যুক্ত থাকে, এ শক্তি আন্তঃআণবিক শক্তি নামে পরিচিত।
- এ শক্তির প্রভাবেই পদার্থের উপাদানসমূহ পরস্পর পরস্পরের কাছাকাছি থেকে পদার্থের একটি সুনির্দিষ্ট (যেমন-কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) অবস্থার সৃষ্টি করে।
- পদার্থের মধ্যে আন্তঃআণবিক শক্তির পরিমাণ বেশি হলে কঠিন অবস্থা, কম হলে তরল অবস্থা এবং একেবারে কম হলে গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থ অবস্থান করে।
- একই পদার্থের অবস্থা ভেদে আন্তঃআণবিক শক্তি ভিন্ন হয়।
যেমন- কঠিন বরফকে তাপদিলে শক্তি শোষণ করে তরল পানিতে পরিণত হয়। আরো তাপ দিলে তরল পানি শক্তি শোষণ করে জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে জলীয় বাষ্পকে ঠান্ডা করলে শক্তি হারিয়ে তরল পানি এবং তরল পানিকে আরো ঠান্ডা করলে শক্তি হারিয়ে কঠিন বরফে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে পদার্থের অবস্থা পরিবর্তনের সাথে শক্তি জাড়িত।
- আবার রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও শক্তির পরিবর্তন ঘটে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে শক্তির যে পরিবর্তন ঘটে তা তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়
- সূত্রটি হচ্ছে 'শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু একে কোনো অবস্থাতেই সৃষ্টি বা ধ্বংস করা সম্ভব নয়' যা শক্তির নিত্যতা সূত্র নামে পরিচিত।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৬৭.
নিচের কোনটি ধাতব খনিজ পদার্থ?
  1. Quartz
  2. NaCl
  3. Au
  4. Mica
ব্যাখ্যা
ধাতব খনিজ পদার্থ:
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়।
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে পাওয়া গেছে।

• ধাতব খনিজ:
- ধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে অন্যতম হলো: লোহা (Fe), তামা (Cu), সোনা (Au), রূপা (Ag)।

• অধাতব খনিজ:
- অধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica) কিংবা খনিজ লবণ (NaCl) আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১৬৮.
কন্টিনেন্টাল ড্রিফট এর প্রবক্তা কে?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  2. আলফ্রেড ওয়েগেনার
  3. রাদারফোর্ড
  4. টলস্টয়
ব্যাখ্যা
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- টেকটোনিক প্লেট এর উপরে পৃথিবীর সবকিছু অবস্থান করছে।
- ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব বা কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থেকে টেকটোনিক প্লেট ধারণার জন্ম হয়।
- মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব অনুসারে কোনো একসময় সবগুলো মহাদেশ মিলে একটি মহাদেশ ছিল যাকে প্যানজিয়া বলা হয়।
- এই মতবাদ অনুসারে ভূ-ত্বক প্রধানত ৭টি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮,১৬৯.
আখ গাছের জন্য ক্ষতিকর-
  1. বিছাপোকা
  2. লার্ভা
  3. মাজরা পোকা
  4. শুয়াপোকা
ব্যাখ্যা
- আখে বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন- লাল পচা, নেতিয়ে পড়া, ক্লোরোসিস, লাল রেখা ইত্যাদি এবং বিভিন্ন পোকামাকড় যেমন- উইপোকা, ডগার মাজরা পোকা, কান্ডের মাজরা পোকা ইত্যাদির আক্রমণ হয়ে থাকে।
- উচ্চ ফলন পাওয়ার জন্য সময়মত উপযুক্ত পদ্ধতিতে এ সব রোগ এবং পোকা মাকড় দমন করা আবশ্যক। 

উৎস: ব্যাচেলর অব এগ্রিকালচারাল এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮,১৭০.
ঢাকার স্থানীয় সময় থেকে রিয়াদের স্থানীয় সময় ৩ ঘণ্টা কম। ঢাকার দ্রাঘিমারেখা ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা হলে রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা কত?
  1. ১৩৫° পূর্ব দ্রাঘিমা
  2. ৪৫° পশ্চিম দ্রাঘিমা
  3. ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমা
  4. ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।

২। যে কোনো স্থানের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক হলে বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং কম হলে স্থানটি গ্রীনিচের পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রীনিচের দ্রাঘিমাকে ০° ধরে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়। ক্রনোমিটার নামক ঘড়ি গ্রীনিচ সময় অনুসারে চলে। তাই এই ঘড়ি দেখে কোনো স্থানের স্থানীয় সময়ের সাথে গ্রীনিচ সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

সমাধান:
আমরা জানি, ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে ১° ।
৩ ঘণ্টা (১৮০ মিনিট) সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে (১৮০/৪)= ৪৫° ।

অর্থাৎ ঢাকার থেকে রিয়াদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫°।
প্রশ্নে উল্লিখিত ঢাকার থেকে রিয়াদের স্থানীয় সময় ৩ ঘণ্টা কম দেখে আমরা বুঝতে পারি, রিয়াদ ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত। তাই ঢাকার দ্রাঘিমা থেকে ৪৫° দ্রাঘিমা বাদ দিলে রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা পাওয়া যাবে। 
সুতরাং রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা (৯০° - ৪৫°)= ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা।

উত্তর: রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা।

অন্যভাবে,
যে কোনো স্থানের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক হলে বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং কম হলে স্থানটি গ্রীনিচের পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রীনিচের দ্রাঘিমাকে ০° ধরে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
গ্রীনিচের সাথে ঢাকার দ্রাঘিমার পার্থক্য ৯০° এবং সময়ের পার্থক্য ৬ ঘণ্টা বেশি।(GMT+6)

প্রশ্নমতে, ঢাকার স্থানীয় সময় থেকে রিয়াদের স্থানীয় সময় ৩ ঘণ্টা কম, অর্থাৎ রিয়াদের স্থানীয় সময় গ্রীনিচের থেকে ৩ ঘণ্টা বেশি। (GMT+3)
∴ ৩ ঘণ্টা (১৮০ মিনিট) সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে (১৮০/৪)= ৪৫°।
অর্থাৎ ঢাকার থেকে রিয়াদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫° কম আবার গ্রীনিচের থেকে রিয়াদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫° বেশি।

এখানে, আমরা ঢাকার দ্রাঘিমা থেকে ৪৫° বিয়োগ করে বা গ্রীনিচের দ্রাঘিমার সাথে ৪৫° যোগ করে রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা পাব।

সুতরাং রিয়াদের দ্রাঘিমারেখা (৯০° - ৪৫°)= ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা। বা (০° + ৪৫°)=৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা।
( ঢাকার ও রিয়াদের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক তাই বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত বা GMT+)

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৭১.
হাইড্রোজেনের কোন আইসোটোপে নিউট্রন সংখ্যা শূন্য?
  1. ট্রিটিয়াম
  2. হিলিয়াম 
  3. ডিউটেরিয়াম
  4. প্রোটিয়াম
ব্যাখ্যা

আইসোটোপ (Isotope): 
- ডালটনের পারমাণবিক মতবাদ অনুযায়ী একটি মৌলের সব পরমাণু সমান ভর বিশিষ্ট। 
- কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায় যে, একই মৌলের বিভিন্ন পরমাণুর ভিন্ন ভিন্ন ভর হতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে প্রোটন বা ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়। 
- যে সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- আইসোটোপসমূহের মধ্যে রাসায়নিক ধর্মের কোন পার্থক্য দেখা যায় না। 
যেমন- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ আছে যাদের ভর যথাক্রমে 1, 2, 3, 4, 5, 6 ও 7 । 
- এই সাতটি আইসোটোপের মধ্যে হাইড্রোজেন/প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এই স্থায়ী আইসোটোপ তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। - হাইড্রোজেনের আইসোটোপ তিনটিতেই হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা 1, কিন্তু প্রথমটির ভর সংখ্যা 1, দ্বিতীয়টির ভর সংখ্যা 2 এবং তৃতীয়টির ভর সংখ্যা 3। 
- প্রথম আইসোটোপে কোন নিউট্রন নেই, দ্বিতীয়টিতে 1 টি নিউট্রন এবং তৃতীয়টিতে ২ টি নিউট্রন আছে। 
- প্রকৃতিতে সকল আইসোটোপের পরিমাণ সমান থাকে না। 
যেমন- এক লক্ষ হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে হাইড্রোজেনের পরিমাণ 99985 টি, ডিউটেরিয়াম পরমাণুর সংখ্যা 15টি এবং ট্রিটিয়ামের সংখ্যা অতি নগণ্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,১৭২.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই? 
  1. ইট
  2. কেরোসিন
  3. অ্যামোনিয়া
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যথা- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১৭৩.
ফ্লোরিন পরমাণুর যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) 2
  2. খ) 5
  3. গ) 6
  4. ঘ) 7
ব্যাখ্যা
যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা: 
- কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ কক্ষপথে যে ইলেকট্রন বা ইলেকট্রনসমূহ থাকে তার সংখ্যাকে যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা বলা হয়।
যেমন - পটাসিয়াম ও অক্সিজেনের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ কক্ষপথে যথাক্রমে ১টি ও ৬টি করে ইলেকট্রন বিদ্যমান। 
সুতরাং, পটাসিয়ামের যোজ্যতা ইলেকট্রন ১টি এবং অক্সিজেনের যোজ্যতা ইলেকট্রন ৬টি। 

নিচের কিছু মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস হতে যোজ্যতা ইলেকট্রনের সংখ্যা দেখানো হলো - 


এখানে, 
- ফ্লোরিনের (F) K কক্ষপথে 2 টি এবং L কক্ষপথে 7 টি ইলেকট্রন আছে। 
- ফ্লোরিনের ক্ষেত্রে L কক্ষপথই হলো সর্বশেষ কক্ষপথ। 
- যেহেতু সর্বশেষ কক্ষপথে ৭ টি ইলেকট্রন আছে, সুতরাং ফ্লোরিনের যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা 7 টি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
৮,১৭৪.
বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) আইজ্যাক নিউটন
  2. খ) স্টিফেন হকিংস
  3. গ) জেমস্ ওয়াট
  4. ঘ) হেনরিক মার্জ
ব্যাখ্যা
জেমস ওয়াট ১৭৬৯ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন।
৮,১৭৫.
জারন বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়-
  1. অ্যানোডে
  2. ক্যাথোডে
  3. অ্যানোড ও ক্যাথোড উভয়টিতে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানোডে

জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
• জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
• যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
• জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়।
• বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
• বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় ক্যাথোডে। 
• জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানোডে। 

এভাবে মনে রাখতে হবে,
• জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ।
• জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ।
• বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ।
• বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৮,১৭৬.
মঙ্গল গ্রহের নতুন নাম কি?
  1. নিউ আর্থ
  2. নিউ ওয়ার্ল্ড
  3. নিউ টাউন
  4. নিউ ভিশন
ব্যাখ্যা
• মঙ্গল গ্রহের নতুন নাম- নিউ ওয়ার্ল্ড।

মঙ্গল গ্রহ:
- ১৪৯২ সালে অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা মহাদেশে প্রথম পা রাখার পর থেকে আমেরিকাকে নতুন পৃথিবী বা নিউ ওয়ার্ল্ড নামে ডাকা শুরু হয়।
- তারপর কয়েক শতাব্দী ধরে আমেরিকাকে নতুন পৃথিবী নামেই ডাকা হতো।
- এইবার মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক মঙ্গল গ্রহকে নিউ ওয়ার্ল্ড হিসেবে নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছে।
- বিষ্যতে মানুষকে রক্ষার জন্য মঙ্গল গ্রহে স্বয়ংসম্পূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি মানববসতি স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে গ্রহটির নতুন নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন ইলন মাস্ক।
- মঙ্গল গ্রহের গেল ক্রেটার নামের খাদে অবস্থান করছে কিউরিওসিটি রোভার।
- মঙ্গল গ্রহে টেকসই মানববসতি তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন ইলন মাস্ক।
- মানবপ্রজাতির দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার জন্য মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ইলন মাস্ক।
- আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে মানুষের বসতি গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইলন মাস্কের।
- বসতি গড়ার জন্য ১০ লাখ মানুষকে মঙ্গল গ্রহে নিয়ে যেতে চান তিনি, এ জন্য নিজের মালিকানাধীন মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স রকেটের সক্ষমতাও তুলে ধরেছেন।

উৎস: টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং প্রথম আলো পত্রিকা (২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪)।
৮,১৭৭.
বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় কোন ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়? 
  1. চল ঘর্ষণ 
  2. প্রবাহী ঘর্ষণ 
  3. স্থিতি ঘর্ষণ 
  4. আবর্ত ঘর্ষণ 
ব্যাখ্যা

ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল: 
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে। 
- আর যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলে। 
- ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। 
যথা - 
১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static friction), 
২. চল বা পিছলানো ঘর্ষণ (Sliding friction), 
৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling friction) এবং 
৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) । 

প্ৰবাহী ঘর্ষণ: 
- যখন কোনো বস্তু যেকোনো প্রবাহী পদার্থ যেমন- তরল বা বায়বীয় পদার্থের মধ্যে প্রবাহিত হয় বা গতিশীল থাকে বা যখন কোনো তরল বা বায়বীয় পদার্থের গতিপথে কোনো স্থির বস্তু রাখা হয়, তখন উভয়ের মধ্যে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে। 
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আবার পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুতে হয়। আর এ বাঁধাই প্রবাহী ঘর্ষণ। 
- বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় প্রবাহী ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮,১৭৮.
Master gland বলা যা কোনটিকে?
  1. অগ্ন্যাশয়
  2. যকৃত
  3. অ্যাড্রিনাল
  4. পিটুইটারী
ব্যাখ্যা

• Master gland (মাস্টার গ্রন্থি):
- মানবদেহের যে গ্রন্থিটি শরীরের অন্যান্য অন্তঃস্রাবী গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে Master gland বলা হয়।
- এটি বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে অন্যান্য গ্রন্থিকে উদ্দীপিত বা নিয়ন্ত্রিত করে।
- দেহের বৃদ্ধি, বিপাক, প্রজনন ও হরমোনীয় সমন্বয়ে এই গ্রন্থিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
- এজন্য একে অন্তঃস্রাবী তন্ত্রের “নিয়ন্ত্রক গ্রন্থি” বলা হয়।

• অগ্ন্যাশয় (Pancreas):
- অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসরণ করে।
- এটি মূলত রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি Master gland নয়।

• যকৃত (Liver):
- যকৃত দেহের বিপাকীয় কাজ, পিত্তরস উৎপাদন ও বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
- এটি হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান গ্রন্থি নয়।
- তাই একে Master gland বলা হয় না।

• অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (Adrenal gland):
- অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি অ্যাড্রিনালিন, কর্টিসল ইত্যাদি হরমোন নিঃসরণ করে।
- এটি দেহের স্ট্রেস ও জরুরি অবস্থায় কাজ করে।
- কিন্তু এটি অন্য গ্রন্থিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে না।

• পিটুইটারী গ্রন্থি (Pituitary gland):
- পিটুইটারী গ্রন্থি শরীরের প্রায় সব অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল, গনাড ইত্যাদি গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- এই কারণেই একে Master gland বলা হয়।

সঠিক উত্তর: ঘ) পিটুইটারী। 

সূত্র - sciencedirect journal.

৮,১৭৯.
'ইউভাইটিস' রোগে দেহের কোন অঙ্গ আক্রান্ত হয়?
  1. চোখ
  2. মস্তিষ্ক
  3. ত্বক
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা
'ইউভাইটিস' রোগ: 
- চোখের পুষ্টি নিয়ন্ত্রণে রক্তনালিপূর্ণ একটি স্তর আছে, যাকে ইউভিয়া বা ভাসকুলার কোট বলা হয়। 
- এটি চোখের মধ্যস্তর। 
- ইউভিয়া ও এর চারপাশের টিস্যুগুলোর প্রদাহ হলে তাকে বলে ‘ইউভাইটিস’। 
- এই ‘ইউভাইটিস’ রোগে রোগীর একটি বা দুটি চোখই আক্রান্ত হতে পারে। 
- চোখে আঘাত, জীবাণুর সংক্রমণ, কানেকটিভ টিস্যু বা যোজককলার রোগ ইত্যাদি কারণে এই রোগ হতে পারে। 

লক্ষণ: 
- কম দেখা, ঝাপসা দেখা, চোখের সামনে কালো বিন্দু ভেসে বেড়াতে দেখা, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা বা ফটোফোবিয়া। 
- চোখ ব্যথা করা ও লাল হয়ে যাওয়া। 
- মাথায় যন্ত্রণা হওয়া। 
- চোখের তারারন্ধ্র ছোট হয়ে যাওয়া এবং তারার রং পরিবর্তন হওয়া। 
- চোখ দিয়ে পানি পড়া। 
- শিশুদের ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ অনেক দেরিতে বোঝা যায় বলে রোগ জটিল রূপ ধারণ করে, সময়মতো চিকিৎসা না করলে রোগী অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

চিকিৎসা: 
- প্রদাহ কমাতে কর্টিকোস্টেরয়েড ওষুধ এবং তারারন্ধ্র প্রসারণে সাহায্য করতে মাইড্রিয়াটিক চোখের ড্রপ ও সংক্রমণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার। 
- গাঢ় রঙের চশমা আলোর প্রতি সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। 
- এ রোগে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, কারণ এটি বেশ জটিল রোগ। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল, ২০২৪)।
৮,১৮০.
নিচের কোনটি মৌলিক একক নয়?
  1. ক) কেলভিন
  2. খ) ভোল্ট
  3. গ) অ্যাম্পিয়ার
  4. ঘ) ক্যানডেলা
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশিঃ যে সকল রাশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ এবং অন্য রাশির উপর নির্ভর করে না বরং অন্যান্য রাশি এদের ওপর নির্ভর করে সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলে। মৌলিক রাশি সাতটি। যেমনঃ দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎ প্রবাহ, দীপন তীব্রতা (Luminous Intensity) ও পদার্থের পরিমাণ।
মৌলিক এককঃ মৌলিক রাশির একককে মৌলিক একক বলা হয়। যেমনঃ দৈর্ঘ্যের একক- মিটার, ভর- কিলোগ্রাম, সময়- সেকেন্ড, তাপমাত্রা/উষ্ণতা- কেলভিন, তড়িৎ প্রবাহ- অ্যাম্পিয়ার (Ampere), দীপন তীব্রতা- ক্যানডেলা, পদার্থের পরিমাণ- মোল।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১৮১.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কী?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. চুনাপাথর
  3. মিথেন গ্যাস
  4. ইলমেনাইট
ব্যাখ্যা
⇒ প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন। 
- এছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাসে - ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, আইসোবিউটেন, পেন্টেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি উপাদানও উপস্থিত থাকে।



ইউরিয়া উৎপাদনের মূলনীতি:
• বাংলাদেশে ৭টি সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদনে কাঁচামাল (Raw Material) হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।




ইউরিয়া উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল তথা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে প্রাপ্ত মিথেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উভয়ই ব্যবহৃত হয় এবং উভয়ই প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদান।
যেহেতু মিথেন ছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যান্য উপাদানও ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই, কাঁচামাল তথা Raw Material হিসেবে 'প্রাকৃতিক গ্যাস' অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। অপশনে প্রাকৃতিক গ্যাস না থাকলে মিথেন উত্তর হবে।


সূত্র:
১. কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদান: American Energy Information Administration [Link]
২. রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
৮,১৮২.
প্লাজমা তৈরি করার জন্য সাধারণত কী প্রয়োগ করতে হয়?
  1. নিম্ন তাপমাত্রা
  2. প্রচণ্ড তাপ
  3. উচ্চ শব্দ তরঙ্গ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পদার্থের চতুর্থ অবস্থা (প্লাজমা): 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা হতে পারে, এর নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। 
- ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়। 
- ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, আবার নিওন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে। 
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায়, সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে। 
- বর্তমানে ফিশান পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১৮৩.
উদ্ভিদের পুষ্পধারণের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে বলে-
  1. ক) ফসফোরাইলেশন
  2. খ) ফটোপিরিওডিজম
  3. গ) রেস্পিরেশন
  4. ঘ) ফটোলাইসিস
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ফটোপিরিওডিজমের গুরুত্ব অপরিসীম। এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে এক ঋতুর ফসল অন্য ঋতুতে ফলানো সম্ভব। এক ঋতুর ফসল উত্পন্ন ও বাজারজাত করে ভিন্ন মৌসুমের ফসল হিসেবে প্রচুর আয় করা সম্ভব। সূত্রঃ প্রথম আলো।
৮,১৮৪.
ট্রানজিস্টরে কয়টি টার্মিনাল থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে।
- যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর।
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৮৫.
ডায়োডের প্রধান ব্যবহার কোনটি?
  1. ভোল্টেজ বৃদ্ধি করতে 
  2. একমুখীকরণে 
  3. রেজিস্টর হিসেবে 
  4. ট্রানজিস্টরের বিকল্প হিসেবে 
ব্যাখ্যা

p-n জাংশন বা ডায়োড: 
- p-n জাংশন দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলে সম্মুখী ঝোঁকে। 
- একটি p- টাইপ এবং একটি n- টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করলে সংযোগ পৃষ্ঠকে p-n জাংশন বলে। 
- একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অংশ p- বা n- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য এবং অপর অংশে যথাক্রমে n- বা p- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে উচ্চ তাপমাত্রায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- p-n জাংশন মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র একধরনের আধান বাহক অনায়েসে প্রবাহিত হতে পারে কিন্তু বিপরীতধর্মী বাহক প্রবাহিত হতে পারেনা। 
- p-n জাংশনকে জাংশন ডায়োড বলে। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ একমুখীকরণে এবং অনেক ইলেকট্রনিক ডিভাইসে p-n জাংশন বা ডায়োডের বহুল ব্যবহার রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,১৮৬.
নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ?
  1. হাম
  2. জন্ডিস
  3. জলবসন্ত
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

*** টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। 

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- এরা এক কোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে।
- এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে। তাই এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।
- এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর।

• ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, জন্ডিস- হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান. 

৮,১৮৭.
মানুষের রক্তের pH মান সাধারণত কত?
  1. ৭.৩–৭.৪
  2. ৬.৫–৭.০
  3. ৫.৮–৬.০ 
  4. ৮.৫–৮.৯
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪ । 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,১৮৮.
কোনটি ছোঁয়াচে রোগ?
  1. ক) হাঁপানী
  2. খ) বাতজ্বর
  3. গ) রাতকানা
  4. ঘ) পাঁচড়া
ব্যাখ্যা
যে সকল রোগের বিস্তার রোগীর সংস্পর্শে বা ছোঁয়ায় হয়ে থাকে, তাদেরকে ছোঁয়াচে রোগ বলে।

ছোঁয়াচে রোগের উদাহরণ হলো-
- জলবসন্ত,
- হুপিংকাশি,
- কলেরা,
- ধনুষ্টংকার,
- যক্ষ্মা,
- মাম্পস,
- ফাইলেরিয়া,
- পাঁচড়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- হাঁপানি শ্বাসনালি সংক্রান্ত রোগ।
- কোনো একটি বহিঃস্থ পদার্থ ফুসফুসে প্রবেশ করলে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করতে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার যতটুকু প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা, তার চেয়ে অনেক তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখালে অ্যাজমা বা হাঁপানি হতে পারে। এটি ছোঁয়াচে নয়, জীবাণুবাহিত রোগও নয়। 

রাতকানা (Night Blindness) :
- ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জেরোফথ্যালমিয়া (Xerophthalmia) নামক রোগ হয়। 
- জেরোফথ্যালমিয়ার সাত থেকে আটটি মাত্রা রয়েছে, যার সর্বনিম্ন মাত্রা হচ্ছে রাতকানা।
- সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। 

- রিউম্যাটিক ফিভার বা বাতজ্বর হার্টের, জয়েন্ট, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং ত্বকের নিচের টিস্যুর প্রদাহজনিত রোগ, যা একটি বিটা-হেমোলাইটিক স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া গ্রুপের গলার সংক্রমণের পরে বিকাশ লাভ করে।
- এই রোগটি পেনিসিলিন দিয়ে প্রতিরোধ সম্ভব, কিন্তু নির্দিষ্ট চিকিৎসা পাওয়া যায় না।
- রোগটি প্রধানত শিশু এবং অল্প বয়স্কদের মধ্যে ঘটে, যারা ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে হয়ে থাকে।  

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৮,১৮৯.
জন্ডিসে কোন অঙ্গটি আক্রান্ত হয়?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) ফুসফুস
  3. গ) হৃৎপিন্ড
  4. ঘ) চোখ
ব্যাখ্যা
জন্ডিস কোন রোগ নয়, এটি রোগের লক্ষণমাত্র। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়। আমাদের রক্তের লোহিত কণিকাগুলো একটা সময়ে স্বাভাবিক নিয়মেই ভেঙ্গে গিয়ে বিলিরুবিন তৈরি করে যা পরবর্তীতে লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পিত্তরসের সাথে পিত্তনালীর মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে। অন্ত্র থেকে বিলিরুবিন পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিলিরুবিনের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় যে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যায় আর দেখা দেয় জন্ডিস।
Source: LiveMCQ Archive
৮,১৯০.
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষ ব্যবহার করা হয় এ ধরনের কোষে কত ভোল্ট চাপের বিদ্যুৎ পাওয়া যায়?
  1. ০.২ ভোল্ট
  2. ১.৫ ভোল্ট
  3. ৫০-৬০ ভোল্ট
  4. ২২০ - ২৪০ ভোল্ট
ব্যাখ্যা

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক কাজে শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষ ব্যবহার করা হয়। এ কোষে দস্তার তৈরি চোঙ এবং একটি কার্বন দণ্ড ব্যবহার করা হয়।
এ ধরনের কোষে ১.৫ ভোল্ট চাপের বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮,১৯১.
দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় কোন রাসায়নিক উপাদান থাকে?
  1. শ্বেত ফসফরাস
  2. লোহিত ফসফরাস
  3. পটাশিয়াম
  4. জিংক
ব্যাখ্যা
• লোহিত ফসফরাস:
- দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় লোহিত ফসফরাস ব্যবহৃত হয়।
- লোহিত ফসফরাস একটু উষ্ণ অবস্থায় বায়ুর অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে।
- তাই লোহিত ফসফরাস ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ম্যাচের কাঠি।
- ম্যাচের কাঠি বারুদে ঘর্ষণের ফলে যে তাপ তৈরি হয়, তাতে লোহিত ফসফরাস অক্সিজেনর সঙ্গে বিক্রিয়া করে জ্বলে ওঠে।

• ফসফরাস: রূপভেদ ২ টি।
• শ্বেত ফসফরাস ও
• লোহিত ফসফরাস।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই ও ব্রিটানিকা।
৮,১৯২.
আপেক্ষিক তাপের একক কোনটি?
  1. JkgK-1
  2. JK-1
  3. Wm-1K-1
  4. Jkg-1K-1
ব্যাখ্যা

• আপেক্ষিক তাপের একক হলো Jkg-1K-1.

• আপেক্ষিক তাপ (Specific Heat):
- একই পরিমাণ বা ভর ভিন্ন হলে তাপধারণ ক্ষমতাও ভিন্ন হয়।
- যেমন ০.৫ kg পানির তুলনায় ৫ kg পানির তাপধারণ ক্ষমতা বেশি।
- সমান ভরের ভিন্ন পদার্থের তাপধারণ ক্ষমতা তুলনা করতে একক ভর ধরা হয়।
- ১ kg ভরের কোনো বস্তুর তাপমাত্রা ১ K বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপের প্রয়োজন হয় তাকে ঐ বস্তুর আপেক্ষিক তাপ বলে।
- আপেক্ষিক তাপকে ইংরেজি s অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• উদাহরণ:
- সীসার আপেক্ষিক তাপ 130 Jkg-1K-1 অর্থাৎ ১ kg সীসার তাপমাত্রা ১ K বাড়াতে ১৩০ J তাপ প্রয়োজন।

• বিভিন্ন পদার্থের আপেক্ষিক তাপ (Jkg-1K-1):
- পানি → 4200,
- বরফ → 2100,
- জলীয় বাষ্প → 2000,
- তামা → 400,
- রূপা → 230,
- সীসা → 130,
- মাটি → 800 থেকে 1400,
- বায়ু → 700 থেকে 1000.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,১৯৩.
ট্রানজিস্টরের ক্ষেত্রে কোন কথাটি মিথ্যা?
  1. ক) ভ্যাকুয়াম টিউবের মতই কাজ করতে পারে
  2. খ) ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় আকারে ক্ষুদ্র
  3. গ) ব্যবহার করতে কোনো বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র, এজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮,১৯৪.
মানুষের দেহে কয় জোড়া লালাগ্রন্থি আছে?
  1. ক) ২ জোড়া
  2. খ) ৩ জোড়া
  3. গ) ৪ জোড়া
  4. ঘ) ৫ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানুষের দেহে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি রয়েছে।

- এদের মধ্যে দুই কানের সামনে ও নিচে এক জোড়া, চোয়ালের নিচে এবং চিবুকের নিচে এক জোড়া করে মোট দুই জোড়া, এই তিন জোড়া লালাগ্রন্থি রয়েছে। 
- লালা হল এটি আর্দ্র রাখার জন্য মুখের মধ্যে প্রকাশ করা হয় এবং এনজাইম আছে যা খাদ্য ভেঙ্গে শুরু হয় ।
- এছাড়া মুখ ও গলার সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে লালা ।
- জিভের নীচে, মুখের পাশে (গালে এলাকায়) শুধু কানের সামনে, দাঁত ও নরম তালু বরাবর উপরের চোয়ালের এলাকায়, পাশাপাশি জাহাড়ের নীচে থাকা বিভিন্ন ধরনের লালা গ্রন্থির স্তবক রয়েছে ।
- উচ্চ পরিপাক নালীর শ্লেষ্মা (টিস্যু আস্তরণের) এবং শ্বাসনালী অংশ মধ্যে লালা গ্রন্থি ছোট ক্লাস্টার উপস্থিত হয় ।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৮,১৯৫.
'বিগ-ব্যাং' সংঘটিত হয়েছিল -
  1. পৃথিবীতে
  2. সৌরজগতে
  3. ছায়াপথে
  4. সর্বত্র
ব্যাখ্যা
বিগ-ব্যাং:
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রাড় তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুর করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাং তত্ত্ব।
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ আমাদের পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা।
- সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ‘শুরু' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ‍ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না।
- বিগ-ব্যাং সংঘটিত হয়েছিল সর্বত্র। 

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৯৬.
অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে কোন অবস্থা দেখা দেয়? 
  1. থ্রম্বোসাইটোসিস
  2. লিউকোসাইটোসিস
  3. পারপুরা 
  4. পলিসাইথেমিয়া
ব্যাখ্যা

- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে যে অস্বাভাবিক অবস্থা দেখা দেয়, তা হলো থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (Thrombocytopenia), যার একটি উদাহরণ হলো রক্তক্ষরণজনিত রোগ পারপুরা (Purpura)

- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 
যেমন-
- রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা নিম্নে দেওয়া হলো- 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে, একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৩। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৫। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্ত নালিতে রক্ত জমাট বাধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৭। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- এই রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,১৯৭.
কোনটি গঠনমূলক খাদ্য উপাদান?
  1. রাফেজ
  2. ভিটামিন
  3. আমিষ
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে আমিষ (Protein)-কে দেহ গঠনকারী বা গঠনমূলক উপাদান বলা হয়। কারণ এটি শরীরের কোষ গঠন, টিস্যু মেরামত, পেশি তৈরি এবং বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
- অন্যদিকে, ভিটামিন ও খনিজ লবণ মূলত দেহ সংরক্ষক উপাদান (Protective foods)।
- রাফেজ হজমে সহায়তা করে।

• খাদ্য উপাদান:
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে।
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়।
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

যথা:
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পুরণ করে।
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।

এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন।
যেমন:
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়।
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়।
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে।
- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান।
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,১৯৮.
দ্বিপদ নামকরণের ভাষা হবে -
  1. ল্যাটিন
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
দ্বিপদ নামকরণের নীতিমালা: 
- কতগুলো সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে দ্বিপদ নামকরণ করা হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ বর্তমানে ICN - International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants এর নীতিমালা অনুযায়ী এবং প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN - International Code of Zoological Nomenclature এর নীতিমালা অনুযায়ী। 

নামকরণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীতিমালা নিম্নরূপ:
১. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন। 
২. প্রতিটি জীব-প্রজাতির নামের দুইটি অংশ (পদ) থাকবে, প্রথম অংশ হলো গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ হলো প্রজাতির পদ।
৩. একই দ্বিপদ নাম কোন দু'টি প্রজাতির জন্য প্রযোজ্য হবে না, একটি দ্বিপদ নাম কেবল মাত্র একটি প্রজাতির জন্যই সুনির্দিষ্ট।
৪. গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতির পদ ছোট অক্ষরে হবে ।
৫. ছাপানো হলে দ্বিপদ নাম ইটালিক (ডানদিকে একটু বাঁকা) বা মোটা অক্ষরে হবে।
- হাতে লিখলে দ্বিপদ নামের নিচে দুইঅংশে দুইটি টানা দাগ দিতে হবে।
যেমন- Homo sapiens বা Homo sapiens.

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,১৯৯.
HCl কোন প্রকার যৌগ?
  1. অজৈব
  2. জৈব
  3. পলিমার
  4. ধাতব
ব্যাখ্যা

• অজৈব যৌগ: অজৈব যৌগ হলো সেইসব যৌগ যেগুলো সাধারণত কার্বন-হাইড্রোজেন (C-H) বন্ধন ধারণ করে না।

- এগুলো মূলত ধাতু, অধাতু বা অধাতু-ধাতুর যৌগ দ্বারা গঠিত হয়।
- HCl (হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড) একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক যৌগ, যার পূর্ণরূপ Hydrogen Chloride।
- এটি হাইড্রোজেন (H) এবং ক্লোরিন (Cl) এই দুইটি মৌলের সমন্বয়ে গঠিত অজৈব যৌগ।

• HCl কেন অজৈব যৌগ:
- HCl-এ কার্বন (C) নেই, তাই এটি জৈব যৌগ নয়।
- এটি অধাতু হাইড্রোজেন এবং অধাতু ক্লোরিনের সমন্বয়ে তৈরি।
- পানিতে দ্রবীভূত হলে এটি একটি অম্লীয় দ্রবণ (acidic solution) তৈরি করে, যাকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড বলা হয়।
HCl(g) + H2O → H3O+ + Cl
- এই অ্যাসিডটি শিল্পক্ষেত্রে, পরীক্ষাগারে ও জীববিজ্ঞানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

সুতরাং, HCl হলো একটি অজৈব যৌগ (Inorganic Compound)।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মধ্যমিক রসায়ন
- ব্রিটানিকা [লিংক]

৮,২০০.
পরিবেশ ও জীবদেহের সম্পর্ক বিষয়ক বিদ্যাকে কী বলে?
  1. বায়োলজি
  2. সোসিওলজি
  3. এনভায়রনমেন্ট
  4. ইকোলজি
ব্যাখ্যা
- পরিবেশের সাথে জীবদেহের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে ইকোলোজি  বলে। 
- ইকোলজি হলো বাস্তুসংস্থান।
- একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ আদান-প্রদান ও একাত্মতার মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত আন্তঃসম্পর্ককে ইকোলজি বলে।
- ইকোলজি শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ বাড়ি সংক্রান্ত আলোচনা।
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানে উদ্ভিদ ও প্রাণীর সম্মিলিত অবস্থান যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে তাই মূলত ইকোলজি।
- Ernest Haeckel নামক জার্মান বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম ১৮৬৯ সালে Ecology শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- ইকোলজি হল জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। 

তথ্যসূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়