বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৮১ / ১৪০ · ৮,০০১৮,১০০ / ১৪,০৮০

৮,০০১.
সাধারণত আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সকল প্রক্রিয়া কোন স্তরে ঘটে?
  1. মেসোস্ফিয়ার 
  2. স্ট্রাটোফিয়ার 
  3. ট্রপোস্ফিয়ার 
  4. থার্মোস্ফিয়ার 
ব্যাখ্যা

ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- বায়ুমণ্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমণ্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার। 
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়। 
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ। ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে। 
- ট্রপোমণ্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না। ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়। 

ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যগুলো এখানে তুলে ধরা হলো- 
ক) ট্রপোমণ্ডল ভূ-পৃষ্ঠ হতে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
খ) ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপজ বলে যার গভীরতা অনেক কম। 
গ) এই স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে। এই উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপ কমে যাওয়ার প্রবনতাকে বলা হয় স্বাভাবিক তাপ হ্রাস। 
ঘ) ট্রপোমণ্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়। 
ঙ) ট্রপোমণ্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় ও নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়। 
চ) এই স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সকল প্রক্রিয়া সাধারণত ঘটে। 
ছ) ট্রপোমণ্ডলে ধূলিকণা থাকে এবং বায়ুমণ্ডলের ওজোনের শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০০২.
শ্বসন ঘটে-
  1. ক) সকালে
  2. খ) দুপুরে
  3. গ) রাতে
  4. ঘ) সবসময়
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ এবং প্রানীর প্রতিটি সজীব কোষে শ্বসন দিন রাত সবসময় ঘটতে থাকে৷
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮,০০৩.
মিথেন কোন ধরণের যৌগ?
  1. মুক্ত শিকল ও অসম্পৃক্ত যৌগ
  2. বদ্ধ শিকল ও সুষমচাক্রিক যৌগ
  3. বদ্ধ শিকল ও বিষমচাক্রিক যৌগ
  4. মুক্ত শিকল ও সম্পৃক্ত যৌগ
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Organic Compounds): 
- কার্বন শিকলের গঠনের উপর ভিত্তি করে জৈব যৌগসমূহকে প্রধান দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
যথা-
১। মুক্ত শিকল যৌগ (Open chain compounds), 
২। বদ্ধ শিকল যৌগ (Closed chain or cyclic compounds)। 

১। মুক্ত শিকল বা অ্যালিফেটিক যৌগ :
- যে সব জৈব যৌগের কার্বন শিকলের দুই প্রান্ত পরস্পর যুক্ত হয় না তাদেরকে মুক্ত শিকল বা অ্যালিফেটিক জৈব যৌগ বলা হয়।
যেমন- প্রোপেন, ইথিন ইত্যাদি। 

- বন্ধন প্রকৃতি অনুযায়ী অ্যালিফেটিক যৌগসমূহকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা- (i) সম্পৃক্ত যৌগ ও (ii) অসম্পৃক্ত যৌগ। 

(i) সম্পৃক্ত যৌগ: যে সব যৌগের কার্বন শিকলের কার্বন পরমাণুসমূহ পরস্পর একক বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে তাদেরকে সম্পৃক্ত যৌগ বলে।
যেমন-  মিথেন, ইথানল ইত্যাদি। 

(ii) অসম্পৃক্ত যৌগ: যে সব যৌগের কার্বন শিকলে অন্তত দুটি কার্বন পরমাণু দ্বি-বন্ধন বা ত্রি-বন্ধন দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে তাদেরকে অসম্পৃক্ত যৌগ বলে । যেমন- ইথিন, প্রোপাইন ইত্যাদি। 

২। বদ্ধ শিকল যৌগ:
- যে সব জৈব যৌগের অণুর কার্বন শিকলের দু'প্রান্তের কার্বন নিজেদের মধ্যে সরাসরি যুক্ত হয়ে অথবা অপর মৌলের পরমাণু যেমন- N, O, S ইত্যাদির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বলয় বা চক্র গঠন করে তাদেরকে বদ্ধ শিকল যৌগ বলে।
যেমন- সাইক্লো প্রোপেন। 
- বদ্ধ শিকল যৌগসমূহকে তাদের বলয় গঠনকারী পরমাণুর প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে দু'টি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- (ক) কার্বোসাইক্লিক বা হোমোসাইক্লিক বা সুষমচাক্রিক যৌগ ও (খ) হেটারোসাইক্লিক বা বিষমচাক্রিক যৌগ।

(ক) কার্বোসাইক্লিক বা হোমোসাইক্লিক যৌগ: যে সব বদ্ধ শিকল যৌগের কাঠামো বলয় কেবলমাত্র কার্বন পরমাণু দ্বারা গঠিত তাদেরকে কার্বোসাইক্লিক যৌগ বলে । যেমন- সাইক্লোপ্রোপেন, বেনজিন ইত্যাদি। 

(খ) হেটারোসাইক্লিক যৌগ: যে সব বদ্ধ শিকল যৌগে কার্বন পরমাণুর সাথে ভিন্ন মৌল যেমন-N, O, S ইত্যাদি যুক্ত হয়ে বলয় গঠন করে তাদেরকে হেটারোসাইক্লিক বা বিষমচাক্রিক যৌগ বলে। 
যেমন- ইথিলিন অক্সাইড, থায়োফিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০০৪.
কোন ধাপে DNA এর প্রতিলিপন সম্পন্ন হয়?
  1. ক) ইন্টারফেজ
  2. খ) টেলোফেজ
  3. গ) প্রোফেজ
  4. ঘ) মেটাফেজ
ব্যাখ্যা
কোষ বিভাজন আরম্ভ হওয়ার পূর্বে ইন্টারফেজ পর্যায়েই DNA প্রতিলিপন সম্পন্ন হয়।

ইন্টারফেজ দশা- ইন্টারফেজ হল কোষ বিভাজনের প্রক্রিয়া পর্যায়ের প্রস্তুতির পর্ব। কোষ বিভাগের সময়, ডিএনএ দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং তারপরে কন্যা কোষগুলিতে বিতরণ করা হয়। তাই কোষ বিভাগের এই প্রথম পর্যায়ে নিউক্লিয়োটাইড এবং সমস্ত প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়।
ইন্টারফেজ এর গুরুত্ব:
-ইন্টারফেজ, কোষ বিভাজনের মধ্যবর্তী সময়কালে, এমন সময় হয় যখন কোষটি বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপে বৃদ্ধি পায় এবং ব্যস্ত থাকে। কোনও কোষ বিভক্ত হওয়া উচিত কিনা তা Interphase সিদ্ধান্ত নেয়।
-ইন্টারফেজের তিন-পর্যায়ের জি 1, এস, জি 2 রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলিতে, ডিএনএ প্রতিরূপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম এবং প্রোটিনগুলি সংশ্লেষিত করা হয়।
-জি ১ পর্যায়ে সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াসের অনুপাত বজায় থাকে। এস পর্যায়ে ডিএনএ এবং ক্রোমোজোমের নকল ঘটে এবং জি 2 পর্বে কোষটি বৃদ্ধি পায় এবং মাইটোসিসের জন্য প্রস্তুত হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০০৫.
মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম?
  1. ক) Mangifera Indica
  2. খ) Nymphaea Nouchali
  3. গ) Apis Indica
  4. ঘ) Panthera Tigris
ব্যাখ্যা
• Apis Indica হল মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম।
• Mangifera Indica হল আমের বৈজ্ঞানিক নাম।
• Nymphaea Nouchali হল শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম।
• Panthera Tigris হল বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০০৬.
অ্যান্টিবডি কোন ধরনের জৈব উপাদান হিসেবে পরিচিত?
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. লিপিড
  4. নিউক্লিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 
- দেহের সব অ্যান্টিবডি গামা-গ্লোবিউলিন (γ-globulin) নামে পরিচিত। আর যেহেতু অ্যান্টিবডিসমূহ দেহের সুরক্ষার কাজ করে তাই এদেরকে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Immunoglobulin, সংক্ষেপে-Ig) বলা হয়। 
- এদের আণবিক ওজন ১,৫০,০০০-৯,০০,০০০/- ডাল্টনের মধ্যে সীমিত। 
- প্লাজমা প্রোটিনের প্রায় ২০% ইমিউনোগ্লোবিউলিন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০০৭.
নিচের কোনটি কাজের এককের সমতুল্য? 
  1. Jm-1
  2. Nm 
  3. Nm-1
  4. mN-1
ব্যাখ্যা

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়।
- বল ও সরণের স্কেলার গুণফল কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কেবল মান আছে, দিক নেই।
- কাজের মাত্রা, [W] = ML2T -2.
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)।
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)।
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়।
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক।
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল।
1 J = 1 Nm.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৮,০০৮.
ক্যালকুলেটরের ডায়ালে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) আয়রণ চিপ
  2. খ) কপার চিপ
  3. গ) কার্কা চিপ
  4. ঘ) সিলিকন চিপ
৮,০০৯.
'Bacillus Calmatte Guerin' কোন রোগের টিকা?
  1. ক) পোলিও
  2. খ) ডিপথেরিয়া
  3. গ) হাম
  4. ঘ) যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা
• Bacillus Calmatte Guerin-BCG হলো যক্ষ্মার টিকা।
- যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় বিসিজি (Bacillus Calmatte Guerin) টিকা।
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine).
- হাম রোগের টিকা এমএমআর।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮,০১০.
পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস কোন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়? 
  1. মিয়োসিস
  2. মাইটোসিস
  3. অ্যামাইটোসিস
  4. মেটামরফোসিস
ব্যাখ্যা

• পরাগরেণু একটি হ্যাপ্লয়েড কোষ। হ্যাপ্লয়েড কোষের নিউক্লিয়াস যখন সংখ্যাবৃদ্ধি করে বা বিভাজিত হয়, তখন তা মাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটে। এই বিভাজনের ফলে পরাগরেণুর ভেতরে জনন নিউক্লিয়াস ও নালী নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়।

- পরাগরেণু হচ্ছে পুংগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ।
-  পরাগরেণুর হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসম নিউক্লিয়াস গঠন করে।
-  এদের বড়টিকে বলা হয় নালিকা পরাগধানীর প্রাচীর ফেঁটে গেলে সাধারণত এ দ্বি-নিউক্লিয়াসযুক্ত পরাগরেণু বাইরে বেরিয়ে আসে।
- এ পরাগরেণু বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে স্ত্রীকেশরের গর্ভমুন্ডে পতিত হয় এবং পরাগায়ন ঘটায়। 

অন্যান্য অপশন:
- মিয়োসিস: পরাগরেণু নিজে হ্যাপ্লয়েড হওয়ায় এতে পুনরায় হ্রাসমূলক বিভাজন ঘটা সম্ভব নয়।
- অ্যামাইটোসিস: এটি মূলত অতি নিম্নশ্রেণির এককোষী জীবের সরাসরি বিভাজন পদ্ধতি যা উন্নত উদ্ভিদে দেখা যায় না।
- মেটামরফোসিস: এটি প্রাণীর দৈহিক রূপান্তর প্রক্রিয়া যা কোষ বিভাজনের কোনো পদ্ধতি নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮,০১১.
অরীয় প্রতিসাম্য প্রাণী কোনটি?
  1. অ্যামিবা
  2. ভলভক্স
  3. সমুদ্র তারা
  4. যকৃত কৃমি
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 

ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০১২.
সৌরজগতের গ্রহগুলোর গতি সংক্রান্ত সূত্র কে প্রদান করেন? 
  1. নিউটন
  2. কেপলার
  3. গ্যালিলিও
  4. কোপারনিকাস
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র: 
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন। 
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। 
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে। 
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে। 
- জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহগুলোর গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র উপস্থাপন করেন, তার নাম অনুসারে এসূত্রগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
যেমন- 
• প্রথম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। 
• দ্বিতীয় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। 
 তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০১৩.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) বিটা রশ্মি ধনাত্মক আধানযুক্ত
  2. খ) আলফা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা বিটার চেয়ে বেশী
  3. গ) গামা রশ্মির ভর নেই
  4. ঘ) জিঙ্ক সালফাইডে আলফা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে না
ব্যাখ্যা
আলফা রশ্মির বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
- আলফা রশ্মি দুইটি প্রোটন ও দুইটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত। যা মূলত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- আলফা রশ্মি ধনাত্মক চার্জ বহন করে। 
- এর শক্তি 1MeV হতে 9MeV পর্যন্ত হয়। 
- এই রশ্মির তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
- আয়নিত করবার ক্ষমতা অনেক বেশি। 
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
- জিঙ্ক সালফাইডে আলফা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে। 

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন।
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

গামা রশ্মির ধর্ম: 
- গামা রশ্মি এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ এবং এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- ফরাসি রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী পল ভিলার্ড ১৯০০ সালে গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন। একে γ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- গামা রশ্মি একটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
- ভারী এবং অস্থিত তেজস্ক্রিয় মৌল গামা রশ্মি নির্গত করে থাকে।
- এটি নির্গমনের সাথে কোনো প্রোটন, নিউট্রন বা ইলেকট্রনের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি বা রূপান্তর ঘটে না।
গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির কোনো ভর নেই।
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক কম।
- মানব দেহে ক্যান্সার আক্রান্ত সেল ধ্বংস করতে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে, বিজ্ঞানগারে গবেষণার কাজে ও ধাতব বস্তুতে ফাটল নির্ণয়ে গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮,০১৪.
ভিনেগার ব্যবহারের ফলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কেমন হয়? 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. প্রথমে বাড়ে পরে কমে 
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। ভিনেগার বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগারকে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায়, তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০১৫.
মানুষের শরীরে মেলানিনের পরিমাণ যত বেশি হয় ত্বক তত -
  1. ক) সাদা হয়
  2. খ) কালো হয়
  3. গ) পুরো হয়
  4. ঘ) পাতলা হয়।
ব্যাখ্যা
মেলানিন নামক এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ, যা মেলানোসাইট নামক কোষ থেকে তৈরী হয়,যার কারণে মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর চামড়া, চুল ও চোখের মণি, পাখির পালক কালো হয়।
মেলানিনের অনুপস্থিতিতে চামড়ায় কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ফলে চামড়া সাদা হয়।
৮,০১৬.
ফটো- ইলেকট্রিক কোষে শক্তির কীরূপ পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) তড়িৎশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. খ) আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. গ) আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

- ফটো- ইলেকট্রিক কোষে আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোকক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮,০১৭.
নিউক্লিয়ার ফিশনে কী ধরনের শক্তি উৎপন্ন হয়?
  1. পারমাণবিক শক্তি 
  2. তড়িৎ শক্তি 
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় ফিশন (Nuclear Fission): 
- কোনো ভারী নিউক্লিয়াসকে (A>230) সঠিক গতির নিউট্রন বা ফোটন দিয়ে আঘাত করে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে প্রায় সমান অংশে বিভক্ত করে প্রচণ্ড পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে নিউক্লীয় বিভাজন বা নিউক্লিয় ফিশান বলে। 
- ইউরেনিয়ামকে তাপীয় নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে এই ভারী নিউক্লিয়াসটি প্রায় সমান ভাবে দুটি নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে যায়। এর সাথে প্রচুর শক্তি নির্গত করে। 
যেমন- 


নিউক্লীয় ফিউশন বা সংযোজন (Nuclear Fusion): 
- একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস একসঙ্গে জুড়ে অপেক্ষাকৃত বড়ো এবং ভারী একটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে নিউক্লীয় সংযোজন বলা হয়। 
- নিউক্লীয় সংযোজনকে নিউক্লীয় বিভাজনের বিপরীত ঘটনা বলা যায়। 
- দুটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস, অর্থাৎ দুটি প্রোটনের মধ্যে সংযোজনের সম্ভাবনা খুবই কম। 
- নিউক্লীয় সংযোজনের সহজতম উদাহরণ হলো দুটি ডিউটেরন (deuteron)-এর সংযোজন। 

- এছাড়া হাইড্রোজেনের আর একটি আইসোটোপ ট্রিটিয়াম এর নিউক্লিয়াস, অর্থাৎ ট্রাইটন (triton) এর সঙ্গে ডিউটেরনের সংযোজনের সম্ভাবনাও খুব বেশি। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০১৮.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস?
  1. ক) জলীয় বাষ্প
  2. খ) ওজোন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলােকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।
কয়েকটি উল্লেখযােগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে -
- জলীয় বাষ্প,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- নাইট্রাস অক্সাইড,
- মিথেন,
- ওজোন,
- ক্লোরােফ্লোরাে কার্বন ইত্যাদি।
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরােক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।
উৎসঃ ভূগােল, নবম-দশম শ্রেণি - বাের্ড বই, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry।

৮,০১৯.
কোনটির কার্যপ্রণালিতে তাড়িত চৌম্বক আবেশকে ব্যবহার করা হয়?
  1. ট্রানজিস্টর
  2. মোটর
  3. ট্রান্সফর্মার
  4. অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফর্মারের - কার্যপ্রণালিতে তাড়িত চৌম্বক আবেশকে ব্যবহার করা হয়। 

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তাড়িতচৌম্বকীয় আবেশ বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার (Transformer):
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাবৃত্ত বা দিক পরিবর্তী উচ্চবিভবকে নিম্নবিভবে এবং নিম্নবিভবকে উচ্চবিভবে রূপান্তরিত করা যায় তাকে রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার বলা হয়।

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বা তাড়িতচৌম্বক আবেশের ওপর ভিত্তি করে ট্রান্সফর্মার তৈরি করা হয়। 

• ট্রান্সফর্মার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।যথা-
- আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

- অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।

৮,০২০.
নিউক্লিয়াসের নামকরণ করেন কে?
  1. ক) Fontana
  2. খ) Bowman
  3. গ) Robert Hooke
  4. ঘ) Carl Benda
ব্যাখ্যা
১৮৪০ সালে নিউক্লিয়াসের নামকরণ করেন- Bowman. 

- ১৭৮১ সালে Fontana, নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। 
- জীব কোষের প্রোটোপ্লাজম এ নির্দিষ্ট পর্দাঘেরা ক্রোমোজোম বহনকারী সুস্পষ্ট যে বস্তুটি দেখা যায় তাকে নিউক্লিয়াস বলে। অর্থাৎ কোষের প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে পর্দা দিয়ে ঘেরা কেন্দ্রীয় গঠনটিকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। এর আকৃতি গোলাকার ,ডিম্বাকার, বা নলাকার।
-নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। 

- একটি সুগঠিত নিউক্লিয়াস সর্বমোট চারটি অংশ নিয়ে গঠিত ।
এগুলো হলো-
নিউক্লিয়ার ঝিল্লি 
নিউক্লিওপ্লাজম
নিউক্লিওলাস
ক্রোমোজোম

নিউক্লিয়াসের কাজসমূহ- 
১. নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয়। কোষের সব ধরনের কাজ নিউক্লিয়াস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. নিউক্লিক এসিডের ভান্ডার হিসেবে কাজ করে।
৩. রাইবোজোম সৃষ্টি করে।
৪. RNA সংশ্লেষণ করে।
৫. আমাদের দেহের প্রোটিন সংশ্লেষণ ও সংরক্ষণ করে।
৬. ক্রোমাটিন জালিকা, নিউক্লিওলাস, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ধারণ করে।
৭. কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
৮. ভবংশগতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ ও বহন করে।
৯. নিউক্লিয়াসের বিভাজনের সময় সময় ব্যবহারযোগ্য খাদ্য সঞ্চয় করে।
১০. নিউক্লিয়াসের বিভিন্ন অংশ সমূহ ধারণ করে ইত্যাদি।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০২১.
রক্তে কোন লাইপোপ্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকা ক্ষতিকর? 
  1. BDL
  2. LDL 
  3. HDL
  4. IDL
ব্যাখ্যা

কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টরল এক ধরনের চর্বিজাতীয়, তৈলাক্ত স্টেরয়েড যা কোষের ঝিল্লি বা (সেল মেমব্রেনে)-এ পাওয়া যায় এবং যা সব প্রাণীর রক্তে পরিবাহিত হয়। 
- কোলেস্টেরল এক ধরনের কঠিন বা অসম্পৃক্ত অ্যালকোহল। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদি রোগের আশংকা বেড়ে যায়। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। 
যথা- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein- HDL) এবং নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein- LDL)। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,০২২.
ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে কোন উক্তিটি সত্য নয়?
  1. ক) নিচের সবগুলো উক্তি সত্য
  2. খ) এর মাধ্যাকর্ষণ বল খুব শক্তিশালী
  3. গ) এর থেকে আলো বিকিরণের মাধ্যমে নির্গত হয়
  4. ঘ) একটি তারকার মৃত্যুর সময় এর সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
A black hole is a place in space where gravity pulls so much that even light can not get out. The gravity is so strong because matter has been squeezed into a tiny space. This can happen when a star is dying.
Source: NASA
৮,০২৩.
পানি পরিশোধনে ব্যবহৃত হয় কোনটি? 
  1. ক) K2SO4AL2(SO4)3.24H2O
  2. খ) CaCO3
  3. গ) CO2
  4. ঘ) Ca(OCl)Cl
ব্যাখ্যা
ফিটকিরি বা পটাশ এলাম: এক প্রকার অর্ধস্বচ্চ কাচ সদৃশ কঠিন পদার্থ। রাসায়নিক নাম আর্দ্র পটাসিয়াম সালফেট অ্যালুমিনিয়াম সালফেট K2SO4AL2(SO4)324H2O
পানি পরিশোধনে এটি ব্যবহৃত হয়। ফিটকিরি এন্টিসেপ্টিক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
৮,০২৪.
Sound waves cannot travel through which medium?
  1. Air 
  2. Water 
  3. Iron 
  4. Vacuum 
  5. Steel
ব্যাখ্যা

- শব্দ তরঙ্গ হলো যান্ত্রিক তরঙ্গ, যার বিস্তারের জন্য একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যম (কঠিন, তরল বা গ্যাস) প্রয়োজন। শব্দ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কণার কম্পনের মাধ্যমে শক্তি স্থানান্তর করে। যেহেতু শূন্য মাধ্যমে (Vacuum) কোনো কণা বা পদার্থ থাকে না, তাই সেখানে কম্পন সৃষ্টির মতো কিছুই থাকে না, ফলে শব্দ চলাচল করতে পারে না। 

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে শোনার অনুভূতি জাগায়। 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ। 
- শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান বা বিন্দু থেকে অন্য স্থান বা বিন্দুতে সঞ্চারিত হয়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
- শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০২৫.
কাঁসা কিসের সংকর ধাতু?  
  1. তামা ও নিকেল
  2. তামা ও দস্তা
  3. তামা ও টিন
  4. তামা ও লোহা
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। 
যেমন- 
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার (তামা) ও টিনের সংকর ধাতু। 
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু। 
- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1%; এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
- আবার কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%; এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
- পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%; এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০২৬.
পড়ন্ত বস্তুর তিনটি সূত্র কোন বিজ্ঞানী প্রদান করেন?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) কেপলার
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies): সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। এ ধরনের পড়ন্ত বস্তু দেখে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র বের করেন। সূত্রগুলাে স্থির অবস্থা থেকে মুক্তভাবে পড়তে থাকা বস্তুর বেলায় ব্যবহার করা যায়। সূত্রগুলাে হচ্ছে:
প্রথম সূত্রঃ স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।
দ্বিতীয় সূত্রঃ স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, v ∞ t
তৃতীয় সূত্রঃ স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, h ∞ t2
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,০২৭.
নিচের কোন হরমোনকে 'Fight or Flight' হরমোন বলা হয়?
  1. কর্টিসল
  2. অক্সিটোসিন
  3. অ্যাড্রেনালিন
  4. ইনসুলিন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) অ্যাড্রেনালিন

'Fight or Flight' হলো শরীরের একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া (emergency response), যা বিপদের সময় (যেমন: হঠাৎ কোনো হুমকি বা ভয়ের মুখোমুখি হলে) শরীরকে তাৎক্ষণিকভাবে লড়াই করার বা পালানোর জন্য প্রস্তুত করে। এই প্রতিক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে দায়ী হরমোন হলো অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline), যাকে ইংরেজিতে Epinephrine-ও বলা হয়।

অ্যাড্রেনালিন যেভাবে কাজ করে-
যখন মস্তিষ্ক বিপদ অনুভব করে, তখন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (কিডনির উপরে থাকা ছোট গ্রন্থি) থেকে অ্যাড্রেনালিন খুব দ্রুত রক্তে ছেড়ে দেয়।
এটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শরীরে নিচের পরিবর্তনগুলো ঘটায়:
⋅ হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায় (heart rate increases)। 
⋅ রক্তচাপ বাড়ে। 
⋅ ফুসফুসে বাতাসের প্রবাহ বাড়ে → শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়। 
⋅ রক্তে শর্করা (গ্লুকোজ) ও চর্বি থেকে দ্রুত শক্তি উৎপন্ন হয়। 
⋅ পেশিতে রক্তপ্রবাহ বাড়ে (যাতে লড়াই বা দৌড়ানোর জন্য শক্তি পাওয়া যায়)। 
⋅ চোখের পিউপিল বড় হয় → দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়। 
⋅ হজম প্রক্রিয়া ও অন্যান্য অ-জরুরি কাজ থেমে যায় (যাতে শক্তি বাঁচে)। 


এই সব পরিবর্তন একসাথে ঘটে বলে আমরা হঠাৎ "এনার্জি বুস্ট" অনুভব করি — যেমন ভয় পেলে হাত-পা কাঁপা, হৃৎপিণ্ড দ্রুত চলা ইত্যাদি। এজন্যই অ্যাড্রেনালিনকে "Fight or Flight" হরমোন বলা হয়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,০২৮.
কোন ক্লোনিং পদ্ধতিতে রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়? 
  1. সেল ক্লোনিং
  2. জীব ক্লোনিং
  3. জিন ক্লোনিং
  4. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০২৯.
পরমাণুর তৃতীয় শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. ১৮
  2. ৩২
ব্যাখ্যা

প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তর বা শেলে সর্বাধিক ২n2
সংখ্যক ইলেকট্রন (n = ১, ২, ৩ ..............) থাকতে পারে।
এই সূত্রানুসারে,
১ম শেলে অর্থাৎ n = ১ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ১
= ২ টি
২য় শেলে অর্থাৎ n = ২ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ২
= ৮ টি
৩য় শেলে অর্থাৎ n = ৩ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ৩
= ১৮ টি
৪র্থ শেলে অর্থাৎ n = ৪ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ৪
= ৩২ টি

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮,০৩০.
নিচের কোন পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে? 
  1. হাইড্রোজেন
  2. কার্বন
  3. সালফার
  4. আয়রন
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের উৎস: 
- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৩১.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত তাপমাত্রা কত? 
  1. ১৮-২৫° সেলসিয়াস 
  2. ২২-৩৫° সেলসিয়াস 
  3. ১৫-২৮° সেলসিয়াস
  4. ৩০-৪০° সেলসিয়াস 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়। 
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ। 
- প্রভাবকের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, পরিমাণের কম-বেশি সালোকসংশ্লেষণের পরিমাণও কম-বেশি করে থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 
- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত। 
- তাপমাত্রা ২২° সেলসিয়াসের কম বা ৩৫° সেলসিয়াসের বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যাবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,০৩২.
What does the word Tsunami mean?
  1. Earthquake
  2. Storm
  3. Cyclone
  4. Harbor wave
ব্যাখ্যা
• “Tsunami” শব্দটি এসেছে জাপানি ভাষা থেকে। এখানে —
- “Tsu” মানে বন্দর (harbor)
- “Nami” মানে ঢেউ (wave)

- এই শব্দের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে “বন্দরের ঢেউ”। যদিও সুনামি সাধারণত সমুদ্রতলের ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্টি হয়, কিন্তু শব্দটির মানে ভূমিকম্প নয়। এটি এমন এক প্রাকৃতিক ঢেউ বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যা গভীর সমুদ্রে ছোট মনে হলেও উপকূলে এসে বিশাল ও ধ্বংসাত্মক রূপ নিতে পারে।
- তাই, "Tsunami" শব্দের অর্থ হলো — বন্দরের ঢেউ।

• সুনামি (Tsunami):
- সুনামি’ জাপানি শব্দ। বাংলায় এর অর্থ পােতাশ্রয় ঢেউ'।
- সাগর বা নদী বা অন্য কোন জলক্ষেত্রে ভূমিকম্পের, ভূমিধ্বসের কিংবা আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলােচ্ছ্বাসকেই বলা হয় সুনামি।
- বিভিন্ন কারণে সুনামির সৃষ্টি হতে পারে।
- কারণগুলাের মধ্যে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অন্নুৎপাত, ভূমিধ্বস অন্যতম।
- তন্মধ্যে দুটি কারণ উলেখযােগ্য হলাে সমুদ্রতলের ২০-৩০ কিলােমিটার গভীরে ভূমিকম্প সংঘটন এবং টেকটোনিক প্লেটের আকষ্মিক উত্থান-পতন।
- ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক সুনামি ছিল ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি । ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি , ব্রিটানিকা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৩৩.
নিউক্লিয়িক অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদনে মূলত কোন খনিজ উপাদান অপরিহার্য? 
  1. নাইট্রোজেন 
  2. ম্যাগনেসিয়াম 
  3. পটাসিয়াম 
  4. ফসফরাস 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 
নাইট্রোজেন (N): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলে নাইট্রোজেন। 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 

পটাসিয়াম (K): 
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- এটি উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

ফসফরাস (P): 
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। 
- উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৩৪.
পিতলের উপাদান হলো-
  1. তামা ও টিন
  2. তামা ও নিকেল
  3. তামা ও সিসা
  4. তামা ও দস্তা
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। 
যেমন- 
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু। 
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু। 
- সংকর ধাতু পিতলে ৬৫% তামা এবং ৩৫% দস্তা মিশ্রিত থাকে। 
- সংকর ধাতু পিতলের প্রধান উপাদান হলো তামা যা শতকরা ৬৫% থাকে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০৩৫.
খুব দূরের কোন কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শোনার জন্য কোন ধরনের ফ্রিকোয়েন্সির সাহায্য নিতে হয়?
  1. UHF
  2. VHF
  3. LF
  4. HF
ব্যাখ্যা
LF (Low Frequency) বা নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো:

⇒এরা ভূপৃষ্ঠের খুব কাছে দিয়ে যেতে পারে (ground wave propagation)।
⇒এই তরঙ্গগুলো দীর্ঘ দূরত্বে ছড়াতে সক্ষম।
⇒ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ: ৩০ কিলোহার্জ (kHz) থেকে ৩০০ কিলোহার্জ (kHz)।
⇒এই জন্য, খুব দূরের কেন্দ্রের রেডিও অনুষ্ঠান শোনার জন্য LF ফ্রিকোয়েন্সি সবচেয়ে কার্যকরী।

অন্যদিকে, 
 UHF (Ultra High Frequency):
⇒ ৩০০ MHz – ৩ গিগাহার্জ। 
⇒ এটির খুব বেশি দূর যেতে পারে না, মূলত টিভি, মোবাইল, Wi-Fi ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

 VHF (Very High Frequency):
⇒ ৩০ MHz – ৩০০ MHz
⇒ মাঝারি দূরত্বে অনেক কার্যকর, কিন্তু অনেক বেশি দূরে তেমন কার্যকর নয়।

 HF (High Frequency):
⇒ ৩ MHz – ৩০ MHz
⇒ এটি আকাশ তরঙ্গ (sky wave) হিসেবে অনেক দূরে যেতে পারে, তবে LF-এর তুলনায় কম স্থির ও কম নির্ভরযোগ্য।

তথ্যসূত্র: 
-  HSC পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, ড. শাহজাহান তপন। 
-  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (NCTB)।
-  NASA: Radio Communication Basics
৮,০৩৬.
পরিবেশের সাথে জীবদেহের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান-
  1. ক) ইকোলোজি
  2. খ) এনাটমি
  3. গ) ইভোলিউশন
  4. ঘ) হিস্টলজি
ব্যাখ্যা
পরিবেশের সাথে জীবদেহের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে ইকোলোজি  বলে। 

- ইকোলজি হলো বাস্তুসংস্থান।
- একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ আদান-প্রদান ও একাত্মতার মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত আন্তঃসম্পর্ককে ইকোলজি বলে।
- ইকোলজি শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ বাড়ি সংক্রান্ত আলোচনা।
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানে উদ্ভিদ ও প্রাণীর সম্মিলিত অবস্থান যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে তাই মূলত ইকোলজি।
- Ernest Haeckel নামক জার্মান বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম ১৮৬৯ সালে Ecology শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- ইকোলজি হল জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। 

সূত্র: ১৯ পৃষ্ঠা, পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৩৭.
অনৈচ্ছিক পেশীর উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) হৃদপিণ্ডের পেশী
  2. খ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তনালী
  3. গ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর পৌষ্টিকনালী
  4. ঘ) মানুষের পায়ের পেশী
ব্যাখ্যা
মানুষের পায়ের পেশী হচ্ছে ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ। 

- যে পেশী অনুপ্রস্থে রেখাযুক্ত ও ব্যক্তির ইছামত নিয়ন্ত্রিত হয়,এবং যা দেহের কঙ্কালের উপর থাকে তাকে ঐচ্ছিক পেশী বা কঙ্কাল পেশী বা সরেখ পেশী বলে।

ঐচ্ছিক পেশীর বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
(i) এ পেশি কলা প্রাণীর ইচ্ছা অনুসারে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
(ii) এ কোষগুলো দেহের বিভিন্ন অঙ্গে গুচ্ছাকারে থাকে এবং প্রতিটি গুচ্ছ যোজক কলার আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে।
(iii) এ কোষগুলো লম্বা সরু, নিরেট ও আনুবীক্ষণিক দণ্ডের মতো।
(iv) এর কোষগুলো সারকোলেনা নামক প্রোটোপ্লাজম নির্মিত একটি পাতলা আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে।
(v) প্রতিটি পেশি কোষের অভ্যন্তরে অতিসূক্ষ্ম কতকগুলো উপতন্তু বা মায়োফাইব্রিল থাকে এবং মায়োফাইব্রিলগুলোতে কতকগুলো সাদা ও কালো বর্ণের অণুপ্রস্থ রেখা একান্তভাবে বিন্যস্ত থাকে।
(vi) প্রতিটি কোষের সারকোলেমার সংলগ্নে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।
(vii) এর সংকোচন প্রসারণ ক্ষমতা দ্রুত ও শক্তিশালী।

কাজ :
(১) ঐচ্ছিক পেশি অস্থিতন্ত্রের গায়ে সংলগ্ন থেকে প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
(২) এ পেশি বিভিন্ন অঙ্গে সঞ্চালন, পেশি নিয়ন্ত্রণ এবং ঐচ্ছিক চলন সম্পাদন করে।
(৩) পেশিগুলোর প্রান্তসমূহ কন্ডনের যা টেন্ডনের সাহায্যে অস্থির সঙ্গে যুক্ত থাকে।

অবস্থান : চোখ, জিহ্বা, হাত ও পায়ে এবং কংকালের গায়ে এ পেশি থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৩৮.
নিচের কোনটি C3 উদ্ভিদ নয়?
  1. টমেটো
  2. ধান
  3. ডাটাশাক
  4. পাট
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের পাথওয়ে:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড হতে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট সৃষ্টির তিনটি স্বীকৃত গতিপথ আবিষ্কৃত হয়েছে।
যথা- (ক) ক্যালভিন চক্র (খ) হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র এবং (গ) CAM পথ। 

ক্যালভিন চক্র: 
- ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়।
- পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
যেমন- ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র: 
- হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড। তাই একে C4 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
যেমন- ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি।

CAM পথ: 
- CAM চক্র C3 ও C4 চক্র হতে ভিন্নতর। 
- এটি প্রথমে ক্রাসিলুসি গোত্রের উদ্ভিদসমূহে পরিলক্ষিত হয়, তাই একে CAM চক্র বলে। 
- CAM উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে। 
- অধিকাংশ মরুজ উদ্ভিদ CAM জাতীয় উদ্ভিদ। 
- শুষ্ক পরিবেশে আনারস গাছে C4 চক্র চলে কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পেলে C3 চক্র চলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৩৯.
DNA এর ডাবল হেলিক্স স্ট্রাকচার কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) মেরি কুরি ও পিয়েরে কুরি
  2. খ) রবার্ট ব্রাউন
  3. গ) ওয়াটসন ও ক্রিক
  4. ঘ) রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
- ডি এন এ এর পূর্ণরূপ হল ডিঅক্সি রাইবো নিউক্লিক এসিড।
- নিউক্লিয়াসের  ক্রোমোজোমে এর অবস্থান।
- ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন এবং ফ্রানসিস ক্রিক ডি এন এ অনুর গঠন বের করতে সক্ষম হয়েছিলো।
- এই আবিস্কারের জন্য তাদেরকে ১৯৬২ সালে নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয়।
- ডি এন এর গঠন ডাবল হেলিক্স ধরনের যার প্রতি প্যাঁচের দৈর্ঘ্য ৩৪ আর্মস্ট্রং এবং ব্যাস হলো ২০ আর্মস্ট্রং।

উৎস: একাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই।
৮,০৪০.
কোন এস্টারটি আনারসে ঘ্রাণ তৈরি করে?
  1. অকটাইল অ্যাসিটেট
  2. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
  3. মিথাইল বিউটাইরেট
  4. অ্যামাইল বিউটাইরেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
যেমন - 
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি: 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৪১.
নিচের কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে নিউটনের তৃতীয় সূত্র ব্যাখ্যা দেওয়া যায়?
  1. একটি বস্তুর ভর 
  2. দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ 
  3. সময়ের সাথে বেগ পরিবর্তন 
  4. শক্তির রূপান্তর 
ব্যাখ্যা

• নিউটনের তৃতীয় সূত্র দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ব্যাখ্যা করা যায় (খ)। এই সূত্র অনুযায়ী, প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান মানের কিন্তু বিপরীত দিকের একটি প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন দ্বিতীয় বস্তুটিও একই সঙ্গে প্রথম বস্তুর ওপর সমান কিন্তু বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে। সংঘর্ষের সময় এই ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেখা যায়। যেমন, দুটি বল পরস্পরের সাথে ধাক্কা খেলে উভয়ই একে অপরের ওপর বল প্রয়োগ করে এবং উভয়ের গতি বা দিক পরিবর্তিত হয়।
 
নিউটনের তৃতীয় সূত্র ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল: 
- নিউটনের প্রথম ও দ্বিতীয় সূত্র একটি বস্তুর গতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে কিন্তু নিউটনের তৃতীয় সূত্র দুটি বস্তুর পারস্পরিক সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনা প্রদান করে। 
- নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে- " প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে"। 
যেমন- 

১। মাটির উপর দাঁড়ানো: 
- মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষটি স্থির থাকে। কারণ, মানুষটির ওজনের সমান একটি বল নীচের দিকে মাটির উপর ক্রিয়া করে। নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে, মাটিও নীচ হতে মানুষটির উপর বল প্রয়োগ করে। এখানে, মানুষটির ওজন ও মাটি দ্বারা প্রযুক্ত প্রতিক্রিয়া বল পরস্পর সমান ও বিপরীত হওয়ায় সাম্যের সৃষ্টি করে। মানুষ দ্বারা মাটির উপর প্রযুক্ত বল ক্রিয়া বল এবং মাটি মানুষটির উপর যে বল প্রয়োগ করে তা প্রতিক্রিয়া বল। 

২। আরোহী নৌকা হতে লাফিয়ে তীরে নামলে যা হয়: 
- আরোহী নৌকা হতে লাফিয়ে তীরে নামলে, নৌকাটি পেছনে চলে যায়। কারণ আরোহী লাফ দেবার সময় নৌকার উপর বল প্রয়োগ করে ফলে নৌকাটি পিছনে সরে যায়। 
- নৌকাটি নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে, আরোহীর উপর একটি সমান ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে যা আরোহীকে সামনের তীরের দিকে লাফিয়ে পড়তে সাহায্য করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৪২.
মানুষের হৃদপিন্ড কয় প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট?
  1. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মানব হৃদপিন্ড:
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে থাকে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা এবং বাম আলিন্দ ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে থাকে ডাইকাসপিড কপাটিকা।
- আর হৃদপিণ্ডের প্রাচীরের স্তর ৩টি।
যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮,০৪৩.
নিচের কোনটি অস্থির বৈশিষ্ট্য?
  1. কোষগুলো গোলাকৃতির
  2. নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে
  3. বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে
  4. স্থিতিস্থাপক
ব্যাখ্যা


অস্থির বৈশিষ্ট্য:
- এক ধরনের অনমনীয়, কঠিন এবং ভঙ্গুর কঙ্কাল যোজক কলা
-  স্থিতিস্থাপক নয়।
- ম্যাট্রিক্স কঠিন। এতে অস্টিওব্লাস্ট ও অষ্টিওক্লাস্ট নামক অস্থিকোষ থাকে।
-  কোষগুলো মাকড়সার জালের মতো।
- বাইরের আবরণকে পেরিঅস্টিয়াম বলে।
- এদের মজ্জাগহ্বর থাকে।
- নিরেট অস্থিতে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে।

তরুণাস্থির বৈশিষ্ট্য:
- অর্ধকঠিন এক ধরনের নমনীয় যোজক কলা।
- স্থিতিস্থাপক।
- ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন বলে। এটা কঠিন নয়। ম্যাট্রিক্সে কনডিওসাইট নামক কোষ থাকে।
- কোষগুলো গোলাকৃতির।
- বাইরের আবরণকে পেরিকনড্রিয়াম বলে।
- এদের কোন ফাঁকা স্থান বা মজ্জাগহ্বর থাকে না।
- কোষে হ্যাভারসিয়ানতন্ত্র থাকে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৪৪.
পানিতে আলোর আপেক্ষিক প্রতিসাংরক কত?
  1. ১.৩৩
  2. ১.৫২
  3. ১.৪৪
ব্যাখ্যা
• পানিতে আলোর আপেক্ষিক প্রতিসাংরক ১.৩৩ (প্রায়)।

ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে আলোর প্রতিসারংক:
- শূন্য মাধ্যমে - ১.০০। 
- পানি - ১.৩৩। 
- সাধারণ কাচ- ১.৫২। 
- হীরা - ২.৫২। 
- কেরোসিন - ১.৪৪। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৮,০৪৫.
নিচের কোন উপায়ে এইডস সংক্রমণ সম্ভব নয়?
  1. সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ
  2. সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু
  3. সেলুনে একই ব্লেড ব্যবহার করা
  4. সংক্রমিত ব্যক্তির ত্বকীয় সংস্পর্শে
ব্যাখ্যা
এইডস:
- AIDS পূর্ণরূপ Acquired Immune Deficiency Syndrome.
- বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 
- Human Immune Deficiency Virus, সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়।
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।
- এতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যায়।
- ২০০০ সালে বিশ্বে HIV আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ, এদের মধ্যে মারা যায় প্রায় ৩০ লক্ষ।
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়।

AIDS এর বিস্তার:
- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যেমন-
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ।
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার।
সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ।
সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু
সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি।

তথ্যসুত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৪৬.
পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন কোনগুলো?
  1. A ও D
  2. B ও C
  3. D ও E
  4. K ও E
ব্যাখ্যা

পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিনগুলো হচ্ছে B ও C

ভিটামিন শোষণ:
• চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন।
- চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন গুলো হচ্ছে A, D, E, K।
- এগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ে শোষিত হয়।
- সাধারণ পিত্তলবণ এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

• পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন:
- পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন C ও কয়েক প্রকার B ভিটামিন।
- ব্যাপন ও সক্রিয় শোষণ প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্রান্ত্রের ইলিয়াম অংশে শোষিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

৮,০৪৭.
কৃষ্ণবিবর হতে আলো বেরিয়ে আসতে না পারার কারণ কোনটি?
  1. এর মহাকর্ষ শক্তি অত্যন্ত বেশি
  2. কৃষ্ণবিবরের উচ্চ তাপমাত্রা
  3. কৃষ্ণবিবরের ঘূর্ণন খুব দ্রুত
  4. এতে ভাসমান ধুলিকণা অত্যন্ত বেশি
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণবিবর হতে আলো বেরিয়ে আসতে না পারার কারণ এর মহাকর্ষ শক্তি অত্যন্ত বেশি।

• কৃষ্ণবিবর (Black hole):

- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অবস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে।
- সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না।
- তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না।
- নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৪৮.
রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে নিচের কোন ঔষধ?
  1. Tranexemic acid
  2. Aspirin
  3. Heparin
  4. Diclofenac
ব্যাখ্যা
ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড:
- ট্র্যানেক্সামিক অ্যাসিড হল একটি ওষুধ যা বিভিন্ন চিকিৎসা পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত রক্তপাত (হেমারেজ) প্রতিরোধ বা কমাতে ব্যবহৃত হয়।
- রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- প্রায়শই সার্জারি, দাঁতের পদ্ধতি বা ভারী মাসিক রক্তপাত পরিচালনার সময় ব্যবহৃত হয়। 

অ্যাসপিরিন:
- এতে প্রদাহ-বিরোধী, ব্যথানাশক (ব্যথা-নাশক) এবং অ্যান্টিপ্লেটলেট (রক্ত-পাতলা) বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- অ্যাসপিরিন সাধারণত ব্যথা উপশম করতে, জ্বর কমাতে এবং প্রদাহজনক অবস্থার চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত হয়।

হেপারিন: হেপারিন একটি অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট ওষুধ যা রক্তের জমাট বাঁধা প্রতিরোধ এবং চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত হয়। 

ডাইক্লোফেনাক:
ডাইক্লোফেনাক হল একটি ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ (NSAID) যা ব্যথা উপশম করতে এবং প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৮,০৪৯.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোনের ঘনত্ব সর্বাধিক?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. ট্রপোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

- বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলোর মধ্যে ওজোনের ঘনত্ব সর্বাধিক থাকে স্ট্রাটোমণ্ডলে। স্ট্রাটোমণ্ডল পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় বিস্তৃত। এই স্তরে সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনী (UV) রশ্মি শোষিত হয় ওজোন দ্বারা, ফলে ওজোন স্তর গরম হয় এবং UV রশ্মি প্রতিরোধ করে পৃথিবীতে আসা ক্ষতিকারক বিকিরণ কমায়। ট্রপোমণ্ডলে ওজোনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম এবং মেসোমণ্ডল ও তাপমণ্ডলে ওজোন খুবই কমমাত্রায় থাকে। স্ট্রাটোমণ্ডলে ওজোনের ঘনত্বের এই বিশেষ বৃদ্ধি পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও আবহাওয়া স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ওজোন স্তর মূলত স্ট্রাটোমণ্ডলেই সর্বাধিক।

• স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

• স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪° সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় ৷
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে ।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমণ্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,০৫০.
পিত্তরস তৈরি করে-
  1. ক) যকৃৎ
  2. খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
  3. গ) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
  4. ঘ) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
যকৃৎ:
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
- এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

যকৃতের কাজ:
- যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে।
- যকৃৎ উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে।
- রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৫১.
কোন খাদ্য উপাদান মানবদেহে অল্প পরিমাণে প্রয়োজন যাদের অণুখাদ্য বলা হয়? 
  1. ফ্যাট 
  2. প্রোটিন 
  3. শর্করা 
  4. ভিটামিন 
ব্যাখ্যা

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়। 
- খাদ্য উপাদান ৬ টি। 
 যথা- 
১। আমিষ বা প্রোটিন, 
২। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, 
৩। স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। খনিজ লবণ বা মিনারেল এবং 
৬। পানি। 

- আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান বা মূল উপাদান (Macro nutrients) বলা হয়। কারণ, এ উপাদানগুলো মানবদেহে অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বা অণুখাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয়। কারণ, এ খাদ্য উপাদানগুলো মানবদেহে অতি অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- যেকোনো খাদ্য উপদানই প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতা দেখা দেয়। 
- খাদ্য উপাদান পানি জীবনধারণের অত্যবশ্যকীয় উপাদান কারণ দেহের ৭০ শতাংশই পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৫২.
দৃশ্যমান আলোর তুলনায় গামা রশ্মির শক্তি প্রায় কত গুণ বেশি? 
  1. ৫০ গুণ 
  2. ৫০০ গুণ
  3. ৫,০০০ গুণ
  4. ৫০,০০০ গুণ
ব্যাখ্যা

এক্স রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে 10-8 m পর্যন্ত তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গসমূহকে বলা হয় X-ray বা এক্স রশ্মি। 
- বিজ্ঞানী উলহেলম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। তার নাম অনুসারে এই রশ্মিকে রঞ্জন রশ্মিও বলা হয়। 
- গামা রশ্মি থেকে এর কম্পাঙ্ক কম বলে এর শক্তিও অপেক্ষাকৃত কম। 
- এই রশ্মি মানুষের দেহের নরম অংশের মধ্য দিয়ে ভেদ করে যেতে পারে, কিন্তু হাড় বা টিউমার জাতীয় শক্ত টিস্যুর মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। তাই এই রশ্মির সাহায্যে ফটো তুলে দেহের ভেতরের হাড় এবং টিউমার সনাক্ত করা হয়। 

গামা রশ্মি: 
- 10-11 m থেকে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সকল বিকিরণ গামা রশ্মি বা γ-ray । 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র হওয়ায় কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি, তাই শক্তিও বেশি। 
- দৃশ্যমান আলোর চেয়ে গামা রশ্মির শক্তি পঞ্চাশ হাজার গুণ বেশি। 
- তেজষ্ক্রিয় মৌলসমূহ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে যে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তার বেশির ভাগই গামা রশ্মি। 
- প্রাণী দেহের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। 

অতিবেগুনি রশ্মি: 
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)। 
- অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি। 
- সূর্য রশ্মি এই রশ্মি বিকিরণের প্রধান উৎস। 
- অতিবেগুনি রশ্মি শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়। 
- চোখের জন্য অতিবেগুনি রশ্মি বেশ ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৫৩.
আমরা যখন কথা বলি তখন শব্দশক্তি রূপান্তরিত হয়-
  1. ক) তড়িৎ শক্তিতে
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তিতে
  3. গ) আলোক শক্তিতে
  4. ঘ) গতি শক্তিতে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল-

- আমরা যখন কথা বলি তখন শব্দশক্তি রূপান্তরিত হয় যান্ত্রিক শক্তিতে।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

সূত্র: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান এবং একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই (দ্বিতীয় পত্র)।
৮,০৫৪.
নিচের কোনটি ধাতু নয়?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) সিলভার
  4. ঘ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
ধাতু: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি।
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যথাঃ ধাতু ও অধাতু।
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু।
- আবার কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ই্যাদি হচ্ছে অধাতু।
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।
- ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়।
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়।
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে।
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহি। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)।
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৮,০৫৫.
নিচের কোনটি মৌলিক পদার্থ উদাহরণ নয়?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) লোহা
  3. গ) পানি
  4. ঘ) কার্বন
ব্যাখ্যা
যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোন পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। অক্সিজেন, লোহা, কার্বন এগুলো মৈলিক পদার্থ। এ পর্যন্ত ১১৮ টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে প্রকৃতিতে পাওয়া যায় ৯৮ টি। পানিকে ভাঙলে ২ মোল হাইড্রোজেন ও ১ মোল অক্সিজেন পাওয়া যায়। তাই পানি যৌগিক পদার্থ। [সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণীর রসায়ন]
৮,০৫৬.
কাকে 'আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার জনক' হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) টলেমি
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) স্টিফেন হকিং
  4. ঘ) গ্যালিলিও গ্যালিলি
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও গ্যালিলিকে 'আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার জনক' হিসেবে অভিহিত করা হয়। 

গ্যালিলিও গ্যালিলি পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পথপ্রদর্শক এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বিদ্যা আবিষ্কার করার জন্য একটি প্রতিসরণকারী টেলিস্কোপ ব্যবহার করেন।
আইনস্টাইন গ্যালিলিও গ্যালিলিকে আধুনিক বিজ্ঞানের জনক হিসেবে অভিহিত করেন। 

গ্যালিলিও গ্যালিলি ১৫ই ফেব্রুয়ারী, ১৫৬৪ সালে ইতালির পিসাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিন্তু শৈশবের বেশিরভাগ সময় তিনি ইতালির ফ্লোরেন্সে বসবাস করেছিলেন। তার পিতা ছিলেন ভিনসেঞ্জো গ্যালিলি, একজন দক্ষ ফ্লোরেনটাইন গণিতবিদ এবং সঙ্গীতজ্ঞ। গ্যালিলিও ১৫৮১ থেকে ১৫৮৫ সাল পর্যন্ত পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন অধ্যয়ন করেছিলেন কিন্তু কোনো ডিগ্রি ছাড়াই ফ্লোরেন্সে গণিতের শিক্ষকে ফিরে আসেন। তিনি ১৫৮৯ সালে পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান তারপর জ্যামিতি, বলবিদ্যা এবং জ্যোতির্বিদ্যা শেখানোর জন্য ১৫৯২ সালে পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। 

সূত্র: New Mexico Museum of Space History Website.
 
 
৮,০৫৭.
সূর্যের আলোতে মোট কতটি রঙ থাকে?
  1. ৫ টি 
  2. ৬ টি
  3. ৭ টি
  4. ৮ টি
ব্যাখ্যা

আলোর বিক্ষেপণ ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যে: 
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাত রঙের (লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, আসমানী ও বেগুনি) আলো আছে। 
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপণ বলে। 
- এ আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। 
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি। 
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়। 
- ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৮,০৫৮.
লবণের দ্রবণে আঙুর রাখলে তা চুপসে যায় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) ব্যাপন
  2. খ) অন্তঃঅভিস্রবণ
  3. গ) বহিঃঅভিস্রবণ
  4. ঘ) ইমবাইবিশন
ব্যাখ্যা

অভিস্রবণ দু'ধরনের

(১) অন্তঅভিস্রবণঃ

দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঅভিস্রবণ ঘটে। অন্তঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরােমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শােষণ করতে পারে। উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে।

(২) বহিঅভিস্রবণঃ দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঅভিস্রবণ ঘটে। টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিম্বা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে।

অন্তঅভিস্রবণ এবং বহিঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ার সম্মিলিত কার্যক্রমের ফলে উদ্ভিদের কোষ থেকে কোষান্তরে পানির চলাচল ঘটে।

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮,০৫৯.
ক্রোমিয়াম এর ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের থেকে ভিন্ন কেন?
  1. s উপ-স্তর অর্ধপূর্ণ থাকা সুবিধাজনক
  2. অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল
  3. সব ইলেকট্রন সমানভাবে স্থিতিশীল হয়
  4. p উপ-স্তর পূর্ণ হওয়া সহজ
ব্যাখ্যা

• ক্রোমিয়াম ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের থেকে ভিন্ন, কারণ অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল, যা তাদের স্থিতিশীলতা বাড়ায়।

- সাধারণ ইলেকট্রন বিন্যাস নিয়ম অনুসারে: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d4 4s2.
- Cr এর ব্যতিক্রম ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d5 4s1.
- সাধারণভাবে, কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে প্রথমে s উপ-স্তর পূর্ণ হয় তারপর d উপ-স্তর পূর্ণ হয়।
- নিয়ম অনুযায়ী হবে 3d4 4s2। 
- তবে 3d উপ-স্তর অর্ধপূর্ণ (5 ইলেকট্রন) হলে এটি অধিক স্থিতিশীল হয়। 
- তাই একটি 4s ইলেকট্রন 3d-তে চলে গিয়ে 3d5 4s1 ভাবে অনস্থান করে। 

একইভাবে Cu এর জন্যও, 
- নিয়ম অনুযায়ী হবে 3d9 4s2
- Cu এর ব্যতিক্রম ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d10 4s1.
- সাধারণভাবে, কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে প্রথমে s উপ-স্তর পূর্ণ হয় তারপর d উপ-স্তর পূর্ণ হয়।
- 3d উপ-স্তর পূর্ণ (10 ইলেকট্রন) হলে এটি সবচেয়ে স্থিতিশীল।
- তাই একটি 4s ইলেকট্রন 3d-তে চলে গিয়ে 3d10 4s1 ভাবে অনস্থান করে। 

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,০৬০.
বৃষ্টির পানিতে কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন ডি
  3. ভিটামিন কে
  4. ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
ব্যাখ্যা
- চা পাতা, বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে। 
- শাকসবজি, তৈলবীজ এবং হাঙ্গর মাছের যকৃতের তেলে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়। 
- সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত দ্রব্য ভিটামিন-কে এর প্রধান উৎস। 
- মাছের তেল, দুধ, মলা মাছ, মাছের মাথা এবং গাজরে সর্বাধিক ভিটামিন-এ রয়েছে। 
- স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন হলো- ভিটামিন A, ভিটামিন D, ভিটামিন E ও ভিটামিন K . 
- পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হলো ভিটামিন B কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন C

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবংবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০৬১.
তরল-গ্যাস দ্রবণ বলতে কী বোঝায়? 
  1. যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে 
  2. যে সমস্ত দ্রবণে গ্যাস দ্রাবকে তরল পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে
  3. যে সমস্ত দ্রবণে কঠিন দ্রাবকে তরল দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে 
  4. যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে তরল পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে 
ব্যাখ্যা

তরল-গ্যাস দ্রবণ: 
- যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে তাকে তরল-গ্যাস দ্রবণ বলে
- দ্রবণে দ্রাবক হলো তরল পদার্থ আর দ্রব হলো গ্যাসীয় পদার্থ। 
যেমন: (কোমল পানীয়- কোকা কোলা, সেভেন আপ)। 
- এ সমস্ত কোমল পানীয়ের বোতল খোলার সাথে সাথে হিস্ শব্দ করে বুদবুদ আকারে যে গ্যাসীয় পদার্থ বের হয় তা হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড যা পানীয়ের মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় ছিল। 
অর্থাৎ, কোমল পানীয়গুলো হলো তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ (যেমন: মাছ) তাদের নিঃশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরাসরি বাতাস থেকে নিতে পারে না। 
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ অক্সিজেন নেয় পানিতে থাকা দ্রবীভূত অক্সিজেন থেকে। তাই নদ-নদী, খাল বিল বা প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানি কিন্তু এক ধরনের তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- আবার বহুল সমালোচিত ফরমালিনও (যা আইনবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ফল ও মাছের সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে) পানিতে ফরমালডিহাইড নামক গ্যাসের দ্রবণ। 
- অপরদিকে লেবুর শরবত, ভিনেগার, স্যালাইন হলো তরল-তরল দ্রবণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৮,০৬২.
মানুষের হৃদপিণ্ডের নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলে?
  1. ক) অলিন্দ
  2. খ) নিলয়
  3. গ) এন্ডোকার্ডিয়াম
  4. ঘ) এপিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- উপরে দুই পাশে দুইটি অলিন্দ এবং নিচে দুই পাশে দুইটি নিলয়।
- হৃদপিণ্ডের স্তর ৩টি। যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০৬৩.
নিউটনের সাথে স্বাধীনভাবে ক্যালকুলাসের উন্নয়নের জন্য কাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়?
  1. আইনস্টাইন
  2. ডেমোক্রিটাস
  3. প্যাসকেল
  4. লিবনিজ
ব্যাখ্যা
• ক্যালকুলাসে নিউটন ও লিবনিজের অবদান: 
- আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭) ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
- তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
- এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 
- লিবনিজ এবং নিউটন উভয়ই ১৭শ শতাব্দীর শেষের দিকে ক্যালকুলাসের মৌলিক ধারণাগুলি বিকাশ করেছিলেন, কিন্তু তাদের পদ্ধতি এবং নোটেশন আলাদা ছিল।
- তাই, নিউটনের সাথে স্বাধীনভাবে ক্যালকুলাসের উন্নয়নের জন্য লিবনিজকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৬৪.
পোলিও ভাইরাসে প্রধানত আক্রান্ত হয় -
  1. ক) প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা
  2. খ) প্রাপ্তবয়স্ক মহিলারা
  3. গ) শিশুরা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- পোলিও বা পোলিওমাইলিটিজ এক ধরনের ভাইরাসবাহিত সংক্রামক রোগ।
- সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের পোলিও হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 
- পোলিও ভাইরাস আন্ত্রিক ভাইরাস দলেরই অন্তর্গত, কারণ এটি শরীরের অন্ত্রপথেই দেহে প্রবেশ করে থাকে।
- দূষিত খাদ্য ও পানির সাথে প্রবেশ করার পর পোলিও ভাইরাস রক্তকোষের মধ্যে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে রক্তে সংক্রমণ ঘটায়।

পোলিও রোগের লক্ষণসমূহ-
১. মাথা ব্যাথা করে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। 
২. জ্বর থাকে। 
৩. শিশুর হাত অথবা পা অবশ হয়ে যায়। 
৪. শিশু দাঁড়াতে চায় না। 
৫. উঁচু করে ধরলে আক্রান্ত পায়ের পাতা ঝুলে পড়ে। 
৬. দাঁড়া করাতে চাইলে শিশু কান্নাকাটি করে এবং নাড়াচড়া করতে পারে না। 
৭.  শিশুর আক্রান্ত অঙ্গ ক্রমশ দুর্বল হয় এবং পরে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৮,০৬৫.
স্পিরলিনা কী?
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) শৈবাল
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- সমাঙ্গ বর্গের প্রধানত ক্লোরােফিলযুক্ত ও স্বভােজী উদ্ভিদরাই শৈবাল।
- এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মাতে পারে।
- এদের দেহ এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে।
- এদের দেহে কোন পরিবহন কলা থাকে না।
- এর সবুজ, লাল, বাদামী ইত্যাদি নানা রঙের হতে পারে।
- ‘স্পাইরােগাইরা’ নামক শৈবাল জলাশয়ে পাওয়া যায়।
- স্পিরলিনা এক ধরনের নীলাভ সবুজ শৈবাল।
- সামুদ্রিক শৈবাল থেকে এ্যালজিন প্রস্তুত করা হয় যা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- আয়ােডিন ও পটাশিয়ামের একটি ভাল উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।
- মৎস্য চাষে ফাইটোপ্লাংক্টন বিশেষ ভূমিকা রাখে এর প্রধান অংশই শৈবাল।
- চা-পাতার রেড রাস্ট শৈবাল জাতীয় মারাত্মক রােগ।
- পুকুরে শৈবাল ওয়াটাররুম সৃষ্টি করে ফলে জলজ প্রাণী ও মাছের অক্সিজেনের অভাব হয়।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৮,০৬৬.
ভ্যাকসিন কীভাবে কাজ করে?
  1. সরাসরি জীবাণু ধ্বংস করে
  2. রক্তে অক্সিজেন পরিমাণ বাড়ায়
  3. শরীরে অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সাহায্য করে
  4. রোগের উপসর্গ কমায়
ব্যাখ্যা

◉ ভ্যাকসিন মূলত শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে এবং অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ভবিষ্যতে সেই নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে।

টিকা (Vaccine):
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিস্রুত সাসপেনশন।
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে।
- অ্যান্টিবডি রোগের জীবাণুর বৃদ্ধি প্রতিহত করে এবং স্থায়ী কার্যক্ষমতা নষ্ট করে।
- সাধারণত কোনো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব দিয়েই ওই রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
- টিকা প্রবেশ করালে প্রাণিদেহে ওই একই জীবাণু বা নিকট সম্পর্কিত রোগ জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধক্ষম হয়ে ওঠে।
- দেহে টিকা দেওয়া মানে হলো ওই রোগের জীবাণু দেহে প্রবেশে করানো। কিন্তু যেহেতু এ জীবাণুগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে নিষ্ক্রিয় থাকে সেহেতু এরা জীবদেহে কোনো রোগ সৃষ্টি না করে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
- আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি প্রয়োগ করে বর্তমানে পোলিও, টিটেনাস, হাম্পস, ডিপথেরিয়া, যক্ষ্মা, হুপিংকাশি, টাইফয়েড, হেপাাইটিস ইত্যাদি রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৬৭.
ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?
  1. রুটি শিল্পে
  2. মদ্য শিল্পে
  3. এক কোষীয় প্রোটিন শিল্পে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইস্ট:
- ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব।
- বেকারি শিল্পে ইস্ট ব্যবহৃত হয়। 
- মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়াও এক কোষীয় প্রোটিন তৈরীতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
- ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৮,০৬৮.
বাংলাদেশ কোন প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. ক) ওরিয়েন্টাল
  2. খ) নিওট্রপিক্যাল
  3. গ) নিআর্কটিক
  4. ঘ) প্যালিআর্কটিক
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গপুর, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি এলাকাসমূহ ওরিয়েন্টাল প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- দক্ষিণ আমেরিকা ও অধিকাংশ মধ্য আমেরিকা এলাকা নিওট্রপিক্যাল প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড নিআর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- সম্পূর্ণ ইউরোপ, আফ্রিকার উত্তরাংশ ইত্যাদি এলাকা প্যালিআর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮,০৬৯.
অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু-
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

• অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু ৩ ধরনের। যথাঃ
- ঐচ্ছিক পেশি,
- অনৈচ্ছিক পেশি এবং
- হৃদপেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,০৭০.
মুক্তা হলো ঝিনুকের-
  1. ক) জমাট হরমোন
  2. খ) খোলসের টুকরা
  3. গ) প্রদাহের ফল
  4. ঘ) চোখের মনি
ব্যাখ্যা
মুক্তা:

- মুক্তা বা মতি এক ধরনের রত্ন বিশেষ, যা শম্বুক জাতীয় প্রাণী ঝিনুকের অভ্যন্তরে তৈরি হয়।
- মাসল শ্রেণির ঝিনুকের পেটে মুক্তা হয়।
- এর রাসায়নিক উপাদান হলো কনকায়োলিন ক্যালসাইট এবং ক্যালসিয়াম কার্বোনেট।
- খাওয়ার সময় ঝিনুক যখন তার খোলস ফাঁক করে তখন যদি বালুর কণা বা অন্য কোনো কঠিন পদার্থের চূর্ণ তার দেহের মধ্যে ঢুকে যায় এবং চেষ্টা সত্ত্বেও সেটি বের করতে না পারে, তখন এই কণাটির জন্য ঝিনুকের দেহে প্রদাহ বা জ্বলনের সৃষ্টি হয়।
- তখন ঝিনুকের অঙ্গ থেকে সাদা ঘন আঠালো রস ক্ষরিত হয়ে বহিরাগত কণাটিকে বেষ্টন করে স্তরে স্তরে জমাট বাঁধতে থাকে।
- এই কঠিন জমাট বস্তুটিই ধীরে ধীরে মুক্তায় রূপান্তরিত হয়।
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaCO3 এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস, শামুক, ডিমের খোসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

তথ্যসূত্র - অষ্টম শ্রেণির বোর্ড বই ও রসায়ন বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮,০৭১.
কত বিলিয়ন বছর ধরে তারকার জন্মমৃত্যু চক্রাকারে চলে আসছে?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৮.৫
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ১৩.৮
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের উৎপত্তি বিগ ব্যাং এর প্রায় ৮.৫ থেকে ৯ বিলিয়ন বছর পরে এবং আজ থেকে ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে৷ গত ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে তারকার জন্মমৃত্যু চক্রাকারে চলে আসছে।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮,০৭২.
ক্ষারক কোনটিকে প্রশমিত করতে পারে? 
  1. লবণ
  2. এসিড
  3. পানি
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
ক্ষারক: 
- ধাতুর অক্সাইডকে ক্ষারক বলে। 
- ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়োনিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, КОН, Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৭৩.
উপকূলে কোন একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় কত সময় পর ভাটা হয়?
  1. ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  2. ৮ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  3. ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট
  4. ১৬ ঘন্টা ২৬ মিনিট
ব্যাখ্যা
• জোয়ার-ভাটা:
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক স্থানে ফুলে ওঠে এবং এক স্থানে নেমে যায়। পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- এক স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।
- উপকূলে কোন একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়।
- উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলো স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাটা অধিক হয়।
- সাধারণত সমুদ্রের মধ্যভাগ অপেক্ষা উপকূলের কাছে অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা অধিক থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৭৪.
বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসটির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি? 
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- জীবন ধারণের জন্য পৃথিবীর জীবকুলের কাছে যেসব জিনিস অপরিহার্য বায়ুমণ্ডল তাদের মধ্যে অন্যতম। 
- যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে বলে বায়ুমণ্ডল। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে বায়ুমণ্ডলও ভূপৃষ্ঠের চারদিকে জড়িয়ে থেকে অনবরত আবর্তন করছে। 
- বায়ুমণ্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই, তাই একে খালি চোখে দেখা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়। 
- বায়ুমণ্ডলের বিশালতা এবং এর ক্রিয়াদি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের গবেষণা নিরন্তর চলছে। 
- বিভিন্ন উপগ্রহ ও গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 
- বায়ুমণ্ডলের ব্যাপ্তি যত বিশাল হোক না কেন, এর প্রায় ৯৭ ভাগ উপাদানই ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই মানুষ, উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর উপর এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। 
- বায়ুমণ্ডল প্রধানত তিন প্রকার উপাদান দ্বারা গঠিত। যেমন- বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা ও কণিকা। 

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদান: 
• নাইট্রোজেন (N2) ⇒ ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন (O2) ⇒ ২০.৭১, 
• আর্গন (Ar) ⇒ ০.৮০, 
• কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ⇒ ০.০৩, 
• অন্য গ্যাসসমূহ (নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, ওজোন, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড) ⇒ ০.০২, 
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১ এবং 
• ধূলিকণা ও কণিকা ⇒ ০.০১ । 
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুটি- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- বায়ুমণ্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকি শতকরা ১.২৭ ভাগ অন্যান্য গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও কণিকাসমূহ জায়গা জুড়ে আছে। 
- জীবজগৎ পরস্পর অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের গ্রহণ ও ত্যাগের মাধ্যমে বেঁচে আছে। 
- ওজোন গ্যাসের স্তর সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,০৭৫.
থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে কোনটি বেড়ে যায়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. অনুচক্রিকা
  3. শ্বেত রক্ত কণিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 

১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬। পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৭। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০৭৬.
কোনটি প্রাণীকোষে অনুপস্থিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) লাইসোজোম
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
  5. ঙ) ক্রোমাটিন তন্তু
ব্যাখ্যা
কোষপ্রাচীর ও প্লাস্টিড উদ্ভিদকোষে থাকে কিন্তু প্রাণীকোষে থাকে না।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৮,০৭৭.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর দিয়ে জেট বিমানগুলো চলাচল করে?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্র্যাটোমণ্ডল
  3. মেসোমন্ডল
  4. তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা
[সাধারণ বিমান/জেট বিমান স্ট্র্যাটোমণ্ডল দিয়ে চলাচল করে। তবে স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী কিছু বিমান ট্রপোমণ্ডল দিয়ে চলাচল করে থাকে। প্রশ্নটি সম্পর্কে কনফিউশন দূর করতে অ্যাাপ থেকে 'তথ্যকল্পদ্রুপ- Post-029' দেখুন।]

• স্ট্রাটোমন্ডল
• বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল। যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি।
• এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
• এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম। স্ট্রাটোমন্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা। বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়।
• স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
• ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি
ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না।
• এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬০ সেলসিয়াস) অনেক বেশি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৭৮.
যেসব এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদের কী বলা হয়? 
  1. দুর্বল এসিড
  2. নিরপেক্ষ এসিড
  3. তীব্র এসিড
  4. জৈব এসিড
ব্যাখ্যা

- যেসব অ্যাসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয়, তাদের তীব্র এসিড (Strong Acid) বলা হয়, যা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)-এর মতো অ্যাসিডগুলির বৈশিষ্ট্য, যেখানে দুর্বল অ্যাসিডগুলি আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 

 এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এটি ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- তীব্র এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- দুর্বল এসিড জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৭৯.
Which of the following acts as a moderator in a nuclear reactor?
  1. Graphite
  2. Ordinary water
  3. Cadmium rod
  4. Liquid sodium
  5. Uranium-235
ব্যাখ্যা

• নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকটরে ফিশন বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিসম্পন্ন নিউট্রনের গতি কমানোর জন্য যে পদার্থ ব্যবহার করা হয় তাকে মডারেটর বলে। ভারী জল (D2O) বা গ্রাফাইট মডারেটর হিসেবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
- নিউট্রনের গতি কমলে তা পরবর্তী ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে একটি নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া (Chain Reaction) বজায় রাখতে সাহায্য করে।

নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর:
- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়।
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।

• মডারেটর:
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন।
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন।
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়।
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর।
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং ২। গ্রাফাইট।

অন্যান্য অপশন:
- ক্যাডমিয়াম দণ্ড: এটি অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে চেইন রিঅ্যাকশন নিয়ন্ত্রণের জন্য 'কন্ট্রোল রড' হিসেবে কাজ করে।
- তরল সোডিয়াম: এটি রিঅ্যাকটরে উৎপন্ন প্রচণ্ড তাপ সরিয়ে নেওয়ার জন্য 'শীতলকারক' বা কুল্যান্ট হিসেবে কাজ করে।
- ইউরেনিয়াম-২৩৫: এটি রিঅ্যাকটরের মূল জ্বালানি (Fuel) যা ফিশন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৮০.
মাইক্রো উপসর্গ বা গুণিতকের মান কোনটি?
  1. 10-12
  2. 10-9
  3. 10-15
  4. 10-6
ব্যাখ্যা
উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারবে। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০৮১.
সমুদ্রের কোথায় জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে?
  1. সমুদ্রের মধ্যভাগে
  2. গভীর সমুদ্রে
  3. উপকূলের অগভীর অংশে
  4. নদীর মোহনায় 
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়। সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়। 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। 
অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু’বার জোয়ার ও দু’বার ভাটা হয়। 
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাটা বেশি অনুভূত হয়। 
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে। 
- তবে বিভিন্ন নদীপথে দেশের ভিতরে সমুদ্রের পানি যখন প্রবেশ করে এবং নেমে যায় তাকে জোয়ার ভাটা বলে না। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,০৮২.
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে বায়ুর -
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে নাইট্রোজেন
- রাইজোবিয়াম একপ্রকার ব্যাকটেরিয়া। শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে এক ধরনের গুটলি দেখা যায়, যার ভিতর রাইজোবিয়াম জাতীয় ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা বাতাসের নাইট্রোজেনকে নাইট্রেট সারে রূপান্তরিত করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০৮৩.
কোনটি থেকে গ্রাফাইট উৎপন্ন হয়?
  1. চুনাপাথর
  2. কয়লা
  3. গ্রানাইট
  4. বেলেপাথর
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক উত্তাপ, চাপ ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে পরিবর্তিত হয়ে নতুন যে শিলায় পরিণত হয় তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
রূপান্তরিত শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন এবং এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না।

বিভিন্ন প্রকার রূপান্তরিত শিলা:
- গ্রাফাইট (কয়লা থেকে উৎপন্ন)
- মার্বেল (চুনাপাথর থেকে উৎপন্ন)
- কোয়ার্টজাইট (বেলেপাথর থেকে উৎপন্ন)
- নিস (গ্রানাইট থেকে উৎপন্ন)
- স্লেট (কাঁদা ও শেল থেকে উৎপন্ন)।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮,০৮৪.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য নয় কোনটি? 
  1. এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক।
  2. এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের।
  3. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে।
  4. এদের মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৮৫.
পটাশ সমৃদ্ধ জৈব সার-
  1. কচুরিপানার ছাই
  2. হাড়ের গুঁড়ো
  3. সরিষার খৈল
  4. মাছের কাঁটা
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার: সরিষার খৈল, তিল-তিসি-বাদামের খৈল, শুকনো রক্ত ইত্যাদি।
• ফসফরাস সমৃদ্ধ সার: হাড়ের গুঁড়ো, মাছের গুঁড়ো ইত্যাদি।
• পটাশ সমৃদ্ধ সার: কচুরিপানার ছাই, কাঠের ছাই ইত্যাদি।

৮,০৮৬.
স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে। সেগুলোকে কী বলা হয়?
  1. ক) ভূতুরে কণা
  2. খ) কম্পজিট কণা
  3. গ) ঈশ্বর কণা
  4. ঘ) দ্বৈত কণা
ব্যাখ্যা
পরমাণূর মূল কণিকা তিন ধরনের, যথা স্থায়ী মূল কণিকা, অস্থায়ী মূল কণিকা এবং কম্পোজিট কণিকা

১.স্থায়ী মূল কণিকাঃ
ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা হাইড্রোজেন পরামাণু ছাড়া সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূলকণিকা বলা হয়। (হাইড্রোজেন-১ পরমাণুতে শুধু ১.০টি ইলেকট্রন ও ১.০টি প্রোটন আছে) এতে কোন নিউট্রন নেই।

২.অস্থায়ী মূল কণিকা:
কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা।।

৩.কম্পোজিট কণিকা (Composite Particles):
স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর রসায়ন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৮,০৮৭.
সাধারণত কত মাসের পূর্বে শিশুর জন্ম হলে তাকে গর্ভপাত বলে?
  1. ক) ৬ মাস
  2. খ) ৭ মাস
  3. গ) ৮ মাস
  4. ঘ) সাড়ে ৫ মাস
ব্যাখ্যা
সাধারণত ৭ মাসের পূর্বে শিশুর জন্ম হলে তাকে বলে গর্ভপাত। উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮,০৮৮.
৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব প্রতিদিন ৫ ঘন্টা করে ৩০ দিন জ্বালানো হয়। প্রতি ইউনিটের মূল্য ১০ টাকা হলে মোট তড়িৎ ব্যয় কত?
  1. ক) ৯০ টাকা
  2. খ) ৮৫ টাকা
  3. গ) ১০৫ টাকা
  4. ঘ) ৭৫ টাকা
ব্যাখ্যা


উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৮,০৮৯.
কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত রশ্মি নিচের কোনটি? 
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. আলফা রশ্মি
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার: 
- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ। 
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 
- রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়। 
- কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী গামা রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। 
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮,০৯০.
কোন প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে?
  1. তেলাপোকা
  2. ব্যাঙ
  3. হাইড্রা
  4. মাছ
ব্যাখ্যা
Arthropoda পর্ব: 
- এরা সন্ধিপদী প্রাণী। 
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১২,৫৭,০৪০। 
- ১৮৪৫ সালে Siebold এ পর্বের নামকরণ করেন। 

Arthropoda পর্বের বৈশিষ্ট্য:  
- এ পর্বের নামকরণ দুটি গ্রিক শব্দ Arthros সন্ধিযুক্ত ও Podos = পদ হতে গৃহীত হয়েছে। 
১। আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহে তিন ততোধিক জোড়া সন্ধিযুক্ত পার্শ্বীয় পা বা উপাঙ্গ থাকে (সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ এ পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য)। 
২। এরা ত্রিস্তরী, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম, দেহ ট্যাগমায় বিভক্ত। 
৩। দেহ পুরু কিউটিকলযুক্ত কাইটিন আবরণ দ্বারা আবৃত ও বাহ্যিকভাবে খণ্ডায়িত। 
৪। মাথায় এন্টেনা ও একজোড়া পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
৫। এই পর্বের প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে, যে সিলোম বক্ত দ্বারা পূর্ণ থাকে তাকে হিমোসিল (hemocoel) বলে। 
৬। রক্তসংবহনতন্ত্র মুক্ত ধরদের। 
৭। মালপিজিয়ান নালিকার মাধ্যমে রেচন ক্রিয়া সম্পন্ন করে। 
উদাহরণ: Oxya chinensis (ঘাস ফড়ি), Periplaneta americana (তেলাপোকা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Papilio xuthus (প্রজাপতি) ইত্যাদি। 


উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৮,০৯১.
গাছ খাদ্য উৎপাদনের সময় বায়ুমন্ডল থেকে কোন পদার্থ গ্রহণ করে?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪ টি।
পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড (এই দুটি প্রধান), সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
- তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৮,০৯২.
সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. অডিওমিটার 
  2. ক্রনোমিটার 
  3. ম্যানোমিটার 
  4. অ্যালটিমিটার 
ব্যাখ্যা

গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৮,০৯৩.
What is the chemical formula for alum, a commonly used compound in various applications?
  1. KAlO2
  2. Al(OH)3
  3. Al2O3
  4. [K2S4.Al2(SO4)3. 24H2O]
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
• ফিটকিরি বা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরি এর রাসায়নিক সংকেত হলো [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O]
- [ অপশন 'ঘ' তে SOসালফেটের অবস্থানে শুধু S, সালফার রয়েছে, তাই None of the above উত্তর হবে]

- ফিটকিরি সাধারণ মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,০৯৪.
কোনটি সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) এটি পর্যাবৃত্ত গতি
  2. খ) এটি সরল রৈখিক গতি
  3. গ) ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্যঃ
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
৩. এটি সরল রৈখিক গতি
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮,০৯৫.
প্রকৃত ফলের বৈশিষ্ট্য হলো-
  1. ক) গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়
  2. খ) গর্ভমুন্ড ফলে পরিণত হয়
  3. গ) পরাগধানী ফলে পরিণত হয়
  4. ঘ) গর্ভদন্ড ফলে পরিণত হয়
ব্যাখ্যা
শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। যেমন- আম, জাম।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৮,০৯৬.
নিচের কোন মৌলটি সবচেয়ে ভারী?
  1. লোহা
  2. সোনা
  3. তামা
  4. দস্তা
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত মৌলগুলোর মধ্যে সোনা সবচেয়ে ভারী। 
- সোনার পারমাণবিক ওজন 196.967; 
- লোহার পারমাণবিক ওজন 55.84।
- তামা (কপার) এর পারমাণবিক ওজন  63.557
- দস্তা (জিঙ্ক) এর পারমাণবিক ওজন  65
 
উৎস: ব্রিটানিকা। 
৮,০৯৭.
নিচের কোনটি বহু মনোমারবিশিষ্ট বা পলিমার শর্করা?
  1. গ্লুকোজ
  2. গ্লাইকোজেন
  3. সুক্রোজ
  4. ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:
শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। শর্করার মৌলিক উপাদান - কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।

শর্করার শ্রেণিবিভাগ:
১. এক শর্করা (Monosaccharide):
- একটি মনোমার বিশিষ্ট শর্করা
উদাহরণ: - গ্লুকোজ
উৎস: - মধু, ফুলের রস ইত্যাদি।

২. দ্বি-শর্করা (Disaccharide):
- দুইটি মনোমার বিশিষ্ট (ডাইমার) শর্করা।
উদাহরণ:- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ
উৎস: - চিনি ও দুধ ইত্যাদি

৩. বহু শর্করা (Polysaccharide):
- বহু মনোমারবিশিষ্ট (পলিমার) শর্করা
উদাহরণ: - শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন
উৎস: -  চাল, আটা, আলু, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি

উৎস: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই (পৃষ্ঠা - ৯২)।
৮,০৯৮.
কোন অধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে?
  1. ক) পারদ
  2. খ) ফ্লোরিন
  3. গ) ব্রোমিন
  4. ঘ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা
- পারদ একটি ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
- ফ্লোরিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে।
- ব্রোমিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে। 
- আয়োডিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন অবস্থায় থাকে।

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০৯৯.
নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসে কেন?
  1. পৃষ্ঠটান
  2. প্লবতা
  3. তলীয়টান
  4. স্থিতিস্থাপকতা
ব্যাখ্যা
• তলটান বা পৃষ্ঠটান কারণে নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।

• তলটান
বা পৃষ্ঠটান:
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে।
- পানির ছোট ফোটা পানির যে গুণের জন্য গোলাকৃতির হয় পৃষ্ঠটানের কারনে।

• পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘর্টনা ঘটে তা হলো:
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা।
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা।
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• স্থিতিস্থাপকতা:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ করে কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তনের চেষ্টা করলে, যে ধর্মের ফলে বস্তুটি এই পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে বাধা দেয় এবং বাহ্যিক বল অপসারিত হলে বস্তু তার পূর্বের আকার ও আয়তন ফিরে পায়, সেই ধর্মকে স্থিতিস্থাপকতা বলা হয়।
- কঠিন, তরল, গ্যাসীয় সব পদার্থের মধ্যেই এই ধর্ম কম বেশী আছে।

• প্লবতা:
- নদীর পানি অপেক্ষা সমুদ্রের পানিতে প্লবতা বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,১০০.
বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করে কিভাবে?
  1. ক) তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন চোখের সাহায্যে
  2. খ) ক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে
  3. গ) সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
  4. ঘ) অলৌকিকভাবে
ব্যাখ্যা
বাদুড় ওড়ার সময় শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। বাদুড়ের তৈরি এই শব্দ আমরা শুনতে পাই না, কারণ শব্দটি আলট্রাসাউন্ড অর্থাৎ আমাদের শােনার বাইরের কম্পাঙ্কের শব্দ।
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে।
- বাদুড় এই শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার মাধ্যমে অন্ধকারে চলাফেরা করে।

উৎসঃ বিজ্ঞান - ৮ম শ্রেণি