বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ১৪০ · ৭০১৮০০ / ১৪,০৮০

৭০১.
প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন-
  1. ক) উইলিয়াম হার্ভে
  2. খ) ল্যামার্ক
  3. গ) চার্লস রবার্ট ডারউইন
  4. ঘ) হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা
 • প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন চার্লস রবার্ট ডারউইন
- ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীববিজ্ঞান তথা সমগ্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন।
- ইংল্যান্ডের স্রাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি এ অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এবং সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনের প্রায় ২০ বছর পরে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' নামে একটি বইয়ে তাঁর প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব বা বিবর্তনের তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- ডারউইনের সাফল্য ছিল, জৈব বিবর্তনের কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার ধারণা প্রতিষ্ঠা করা যা, বিবর্তনের যাবতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবে। 
- জৈব বিবর্তনের কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে উল্লেখ করে আরও একজন সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আলফ্রেড ওয়ারলেস একই সময়ে কিন্তু স্বাধীনভাবে অনুরূপ তত্ব প্রণয়ন করেন। 
- তবে বিভিন্ন এঁতিহাসিক কারণে তাঁর চেয়ে ডারউইনের তত্ত্বটি অধিক প্রচলিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০২.
চোখের নিকট বিন্দুর জন্য বয়স্ক মানুষের দূরত্ব সাধারণত কত?
  1. অসীম
  2. ৫ সেমি
  3. ১০ সেমি
  4. ২৫ সেমি
ব্যাখ্যা

স্পষ্ট দৃষ্টির নিকট বিন্দু: 
- মানুষ তার চোখের লেন্সে ফোকাস দূরত্ব বাড়িয়ে বা কমিয়ে একটা বস্তুকে সবসময় স্পষ্ট দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু লক্ষ্যবস্তু চোখের কাছাকাছি একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে বেশি কাছে এলে আর স্পষ্ট দেখা যায় না। 
- চোখের সবচেয়ে কাছের যে বিন্দু পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে স্পষ্ট দৃষ্টির নিকট বিন্দু বলে এবং চোখ থেকে ঐ বিন্দুর দূরত্বকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব ধরে নেওয়া হয়।
- এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। 
- একজন শিশুর এই দূরত্ব ৫.০ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি এবং একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লোকের এই দূরত্ব ২৫.০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। 
- দূর বিন্দু চোখ থেকে অসীম দূরত্বে অবস্থান করে। এ কারণে বহুদূরের নক্ষত্রও খালি চোখে দেখা যায়। 
- সুস্থ ও স্বাভাবিক চোখ “নিকট বিন্দু” (near point) থেকে শুরু করে অসীম দূরত্বের দূর বিন্দুর মাঝখানে যে স্থানেই কোন বস্তু থাকুক না কেন সেটা স্পষ্ট দেখতে পারে। আর এটাই হচ্ছে চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭০৩.
কোন গ্যাসকে নীরব ঘাতক বলা হয়?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোঅক্সাইড
  3. নাইট্রাস অক্সাইড
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
কার্বন মনোঅক্সাইড:
- কার্বন মনোঅক্সাইডকে নীরব ঘাতক বলা হয়।
- গ্যাসটি বিষাক্ত; কিন্তু রং, গন্ধ ও স্বাদহীন।
- তাই মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন।
- দীর্ঘ সময় গ্যাসটি শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে মৃত্যুও হতে পারে।

উল্লেখ্য,
- জীবাশ্ম জ্বালানির উৎসগুলো পুরোপুরি দহন বিক্রিয়ায় বা পুড়ে উপজাত হিসেবে তৈরি হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস।
- কিন্তু এই দহন বিক্রিয়া অসম্পূর্ণ হলে তৈরি হয় কার্বন মনোঅক্সাইড গ্যাস।
- এর সংকেত CO।
- সাধারণত দহনের সময় পরিবেশে অক্সিজেনের অভাব থাকলে এরকম অসম্পূর্ণ দহন বিক্রিয়া ঘটে।
- মানুষের তৈরি বিভিন্ন উৎস থেকে কার্বন মনোক্সাইড নিঃসৃত হয়।
- যেমন অটোমোবাইল বা গাড়ির ইঞ্জিন, বহনযোগ্য জেনারেটর, ত্রুটিযুক্ত কেরোসিন বা গ্যাস হিটার ও বয়লার, ছিদ্রযুক্ত চিমনি ও ফার্নেস ইত্যাদি।
- সাধারণত এ কারণেই গাড়ি ও বাড়ির ভেতরে এই উদ্বায়ী গ্যাস নিঃসৃত হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৪.
নিচের কোন রশ্মিটি আসলে ইলেকট্রন-
  1. ক) আলফা
  2. খ) বিটা
  3. গ) গামা
  4. ঘ) কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় যা আসলে ইলেকট্রন, কিন্তু আমরা জানি নিউক্লিয়াসে ইলেকট্রন থাকে না। সেজন্য নিউক্লিয়াসের ভেতরের একটি নিউট্রনকে প্রোটনে পরিবর্তিত হতে হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৭০৫.
সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদের কোন অঙ্গে ঘটে? 
  1.  মাইটোকন্ড্রিয়া 
  2. নিউক্লিয়াস 
  3. প্লাস্টিড 
  4. রাইবোজোম 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ। 
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে। 
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়। 
- প্রভাবকগুলোকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবক বলা হয়। 
যেমন- 
বাহ্যিক প্রভাবক: 
- বাহ্যিক প্রভাবকগুলো হলো- আলো, কার্বন ডাই-অক্সাইড, তাপমাত্রা, পানি, অক্সিজেন, খনিজ পদার্থ এবং রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি। 

অভ্যন্তরীণ প্রভাবক: 
- অভ্যন্তরীণ প্রভাবকগুলো হলো- ক্লোরোফিল, পাতার বয়স ও সংখ্যা, শর্করার পরিমাণ, পটাশিয়াম এবং এনজাইম ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭০৬.
নিচের কোনটি পেট্রোলিয়াম নয়?
  1. ক) প্রোপেন
  2. খ) গ্যাসোলিন
  3. গ) বিউটেন
  4. ঘ) অ্যাসিটোন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
পেট্রোলিয়াম হলো খনিজ তেল, অর্থাৎ খনিতে পাওয়া তরল জ্বালানি পদার্থ। সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস এর সাথে খনিতে পেট্রোলিয়ামও থাকে। প্রোপেন ও বিউটেন স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় গ্যাসীয় হলেও উচ্চ চাপে তরল অবস্থায় থাকে বলে এরাও পেট্রোলিয়ামের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া গ্যাসোলিন, কেরোসিন, ডিজেল- এগুলো সবই পেট্রোলিয়াম।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৭০৭.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি?
  1. পারমাণবিক শক্তি
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. জিও থার্মাল
  4. জলবিদ্যু
ব্যাখ্যা
- জীবাশ্ম জ্বালানি হলো এক প্রকার জ্বালানি যা বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়।
- এসব জীবাশ্ম জ্বালানিসমূহ অনবায়নযোগ্য। অর্থাৎ এসব জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এবং এদের মজুদ সীমিত।

বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে রয়েছে:
- প্রাকৃতিক গ্যাস
- খনিজ তেল
- কয়লা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- পারমাণবিক শক্তি, জিও থার্মাল বা ভূ-তাপ শক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়ু, সৌরতাপ প্রভৃতি হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট)
৭০৮.
সবুজ উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণের কতটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
- আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে আলোর প্রত্যক্ষ প্রয়োজন পড়ে না, তবে আলোর উপস্থিতিতেও এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। বায়ুমণ্ডলের CO₂ পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে।


- আলোক পর্যায়ে তৈরি ATP, NADPH এবং H+ এর সাহায্যে আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়ে CO₂ বিজারিত হয়ে কার্বোহাইড্রেটে পরিণত হয়।


- সবুজ উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বিজারণের তিনটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে। যেমন: ক্যালভিন চক্র, হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্রেসুলেসিয়ান এসিড বিপাক।


- ক্যালভিন চক্র বা C₃ গতিপথ: CO₂ আত্তীকরণের এ গতিপথকে আবিষ্কারকদের নামানুসারে ক্যালভিন-বেনসন ও ব্যাশাম চক্র বা সংক্ষেপে ক্যালভিন চক্র বলা হয়। অধিকাংশ উদ্ভিদে এই প্রক্রিয়ায় শর্করা তৈরি হয় এবং প্রথম স্থায়ী পদার্থ 3-কার্বনবিশিষ্ট ফসফোগ্লিসারিক এসিড বলে এই ধরনের উদ্ভিদকে বলে C₃ উদ্ভিদ।


- ক্যালভিন তাঁর এ আবিষ্কারের জন্য ১৯৬১ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।


- হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র বা C₄ গতিপথ: অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী M.D. Hatch ও C.R. Slack (1996 সালে) CO₂ বিজারণের আর একটি গতিপথ আবিষ্কার করেন। এই গতিপথের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো 4-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো এসিটিক এসিড, তাই একে C₄ গতিপথ বলে।


- C₄ উদ্ভিদে একই সাথে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হতে দেখা যায়।


- C₃ উদ্ভিদের তুলনায় C₄ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি এবং উৎপাদন ক্ষমতাও বেশি। সাধারণত ভূট্টা, আখ, অন্যান্য ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, মুথা ঘাস, অ্যামারন্যথাস ইত্যাদি উদ্ভিদে C₄ পরিচালিত হয়।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি 
৭০৯.
ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমাণ কোন সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়?
  1. E = pV
  2. E = mc²
  3. E = hf
  4. E = kT
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে(C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না।
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক।
- ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১০.
বাদুড় অন্ধকারে চলার সময় কীভাবে দিক নির্ণয় করে?
  1. আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে
  2. ঘ্রাণ শক্তির মাধ্যমে
  3. ক ও খ উভয়ই
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাদুড় অন্ধকারে চলার সময় আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে দিক নির্ণয় করে।

- আলট্রাসাউন্ড মূলত আমাদের শোনার বাহিরের শব্দ।
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে।
- আল্টাসনিক শব্দ ২০,০০০ থেকে বেশি কম্পাংকের হয়ে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১১.
কাঁচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল কোনটি?
  1. ক) চুনাপাথর
  2. খ) সিলিকা
  3. গ) জিপসাম
  4. ঘ) শাজিমাটি
ব্যাখ্যা
- কাঁচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো বালি বা সিলিকা
- কাঁচ তৈরির মূল উপকরন কোয়ার্টজ (সিলিকা), সোডা ও চুন।
- যখন এগুলির মিশ্রণকে ১২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে উত্তপ্ত করা হয়, তখন এগুলি গলতে শুরু করে এবং তৎক্ষণাৎ যদি ঠাণ্ডা করা যায় তাহলে কাঁচের জন্ম হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, বিজ্ঞান বোর্ড বই। 
৭১২.
ইউরেনিয়াম ভাঙনের মাধ্যমে পারমাণবিক বিস্ফোরণে কী উৎপন্ন হয়?
  1. ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম
  2. হাইড্রোজেন ও ক্রিপ্টন
  3. হিলিয়াম ও ক্রিপ্টন
  4. হিলিয়াম ও বেরিয়াম
ব্যাখ্যা

• ইউরেনিয়াম ভাঙনের মাধ্যমে পারমাণবিক বিস্ফোরণ বা নিউক্লিয়ার ফিশন ঘটে যখন ভারী ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াস একটি নিউট্রন শোষণ করে অস্থিতিশীল হয়ে ভেঙে যায়। এই ভাঙনের ফলে দুটি মাঝারি ভরের মৌল উৎপন্ন হয়, সঙ্গে বের হয় অতিরিক্ত নিউট্রন ও বিপুল পরিমাণ শক্তি। সাধারণত উৎপন্ন মৌল দুটি হলো ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম। এই অতিরিক্ত নিউট্রন আবার অন্য ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে শৃঙ্খল বিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা পারমাণবিক বিস্ফোরণের মূল কারণ। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর হলো ক) ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম।
 
• পারমাণবিক শক্তি:
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস।
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর হতে শক্তির রূপান্তর আইনস্টাইনের E = mc2 শক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে E = উৎপন্ন শক্তি, m = শক্তি উৎপন্নকারী পদার্থের ভর এবং c = আলোর গতিবেগ (শূণ্য মাধ্যমে)।
- নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজন মত সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে যা বিভিন্ন গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া।
- তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ধাতু পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙে ক্রিপ্টন ও বেরিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়।

উৎস:
১. HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
২. ব্রিটানিকা।

৭১৩.
বাংলাদেশে জন্ম নেয়া প্রথম হিমায়িত ভ্রুণ শিশুর নাম-
  1. ক) হিরা
  2. খ) মনি
  3. গ) মুক্তা
  4. ঘ) অপ্সরা
ব্যাখ্যা
Apsora was born as a result of the first ever successful frozen embryo implant in Bangladesh. Courtesy: Infertility Research and Care Centre. সূত্রঃ The Daily Star.
৭১৪.
অতিবেগুনি রশ্মির প্রধান উৎস কোনটি? 
  1. সূর্য 
  2. তেজস্ক্রিয় মৌল 
  3. চাঁদ 
  4. এক্স-রে টিউব 
ব্যাখ্যা

অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray): 
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)। 
- অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি। 
- সূর্য রশ্মি এই অতিবেগুনি রশ্মি বিকিরণের প্রধান উৎস। 
- অতিবেগুনি রশ্মি শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়। 
- চোখের জন্য অতিবেগুনি রশ্মি বেশ ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১৫.
কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা সম্ভব?
  1. স্বর্ণ
  2. পিতল
  3. তামা
  4. ইস্পাত
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
যেমন- লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি অচৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১৬.
নিচের কোনটি আদিকোষে উপস্থিত থাকে?
  1. ক) মাইটোকনড্রিয়া
  2. খ) রাইবোজোম
  3. গ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. ঘ) প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা
আদি ষকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোন পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না তাই নিউক্লিও বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে। এসব কোষে মাইট্রোকন্ডিয়া, প্লাস্টিক, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গানু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১৭.
রিবোফ্লাভিনের অভাবজনিত সমস্যা কোনটি? 
  1. রক্তশূন্যতা দেখা দেয়
  2. ক্ষতস্থান শুকাতে দেরি হয়
  3. অস্থি ও দাঁতের গঠন দুর্বল হয়
  4. ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হয় 
ব্যাখ্যা
রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি উৎস: 
- কমলা ও হলুদ বর্ণের শাকসবজি যেমন- মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, কুমড়োর ফুল, ডিমের কুসুম, দুধ, বাদাম, যকৃত রিবোফ্লাভিনের ভালো উৎস। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
- রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি এর অভাবে জিহ্বায়, ঠোঁটের কোণায় ও মুখের ভিতরে ঘা দেখা দেয়। 
- ত্বক খসখসে হয়ে যায়। 
- ভিটামিন বি অভাবে মুখে ঘা হতে পারে। 

দৈনিক চাহিদা: 
- প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১.৭ মিলিগ্রাম ও নারীর ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 
- শিশুদের দৈনিক ০.৮ মিলিগ্রাম এবং কিশোর কিশোরীদের যথাক্রমে ২.০ মিলিগ্রাম ও ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৮.
অপটিক্যাল ফাইবার কী?
  1. খুব সূক্ষ্ম সুপরিবাহী তামার তন্তু নল
  2. সূক্ষ্ম প্লাস্টিক নল
  3. খুব সরু এসবেস্টোস ফাইবার নল
  4. খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়।
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭১৯.
উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বৃদ্ধিতে কোন টিস্যু ভূমিকা রাখে?
  1. স্থায়ী টিস্যু
  2. ভাজক টিস্যু
  3. ক্ষরণকারী টিস্যু
  4. জটিল টিস্যু
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ টিস্যু: 
- উদ্ভিদ দেহ বিভিন্ন প্রকার টিস্যু দ্বারা গঠিত। 
- একেক ধরনের টিস্যু একেক ধরনের কাজ সম্পন্ন করে। 
- বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) ভাজক টিস্যু: 
- উদ্ভিদের দেহে যেসব টিস্যুর কোষের বিভাজন ক্ষমতা রয়েছে সেগুলোকে ভাজক টিস্যু বলে।
- ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গে অবস্থান করে, বিশেষত কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগে অবস্থান করে। 
- ভাজক টিস্যুর কাজ হলো- ক্রমাগত বিভাজনের ফলে ভাজক টিস্যু নতুন নতুন কোষ ও টিস্যু সৃষ্টি করে; এটি উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বৃদ্ধি ঘটায় এবং ভাজক টিস্যু টিস্যুর উৎপত্তি ঘটায়। 

খ) স্থায়ী টিস্যু: 
- ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন বিভাজন ক্ষমতাহীন নির্দিষ্ট আকৃতিযুক্ত পরিণত টিস্যুকে স্থায়ী টিস্যু বলে। 
- উদ্ভিদের প্রায় সর্বত্র স্থায়ী টিস্যু দেখা যায়। 
- স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার। 
যথা- সরল টিস্যু (যেমন: প্যারাকাইমা, কোলেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা), জটিল টিস্যু (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) এবং ক্ষরণকারী টিস্যু। 
- স্থায়ী টিস্যুর কাজ হচ্ছে- খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবহন করা এবং দেহ গঠন ও উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৭২০.
বাতজ্বর হয় কিসের সংক্রমণের ফলে?
  1. ক) স্ট্রেপটোকক্কাস
  2. খ) রেট্রোভাইরাস
  3. গ) ফাইলেরিয়া
  4. ঘ) মাইকোব্যাক্টেরিয়াম
ব্যাখ্যা
স্ট্রেপটোকক্কাস অণুজীবের সংক্রমণে সৃষ্ট শ্বাসনালির প্রদাহ, ফুসকুড়িযুক্ত সংক্রামক জ্বর, টনসিলের প্রদাহ অথবা মধ্যকর্ণের সংক্রামক রোগ বাতজ্বরের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ। বিশেষ করে হৃদপিণ্ড এই রোগে আক্রান্ত হয়। হৃদপেশি এবং হৃদপিন্ডের কপাটিকা বা ভাল্ব অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফলে হৃদপিন্ড যথাযথভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২১.
  1. ক) 17
  2. খ) 35
  3. গ) 18
  4. ঘ) 52
ব্যাখ্যা

কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রােটন+নিউট্রন সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেহেতু, ভরসংখ্যা হলাে প্রােটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যােগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রােটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে।

এখানে, Cl- এর ভরসংখ্যা 35 এবং প্রােটন সংখ্যা 17।
সুতরাং, নিউট্রন সংখ্যা = 35 - 17 = 18।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর। রসায়ন বাের্ড বই।

৭২২.
আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন-
  1. ক) ১৯০০ সালে
  2. খ) ১৯০৪ সালে
  3. গ) ১৯০৫ সালে
  4. ঘ) ১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই তত্ত্বের সাহাজ্যে তিনি কালো বস্তুর (ডার্ক ম্যাটার) বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন। ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন। উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।
৭২৩.
ক্যামেরার ফটোগ্রাফিক প্লেটে কোন পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে?
  1. ক) পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) সিলভার হ্যালাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা

ক্যামেরা বা আলোকচিত্রগ্রাহী যন্ত্র হল আলোকচিত্র গ্রহণ ও ধারণের যন্ত্র। দৃশ্যমান স্থির বা গতিশীল ঘটনা ধরে রাখার জন্য এটি ব্যবহার হয়। ক্যামেরা চিত্র রেকর্ড করতে ব্যবহৃত একটি অপটিক্যাল যন্ত্র।
ক্যামেরার ফটোগ্রাফিক প্লেটে সিলভার হ্যালাইড এর প্রলেপের উপস্থিতি রয়েছে।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান। 

৭২৪.
আলোক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় কোন যন্ত্রের মাধ্যমে?
  1. ডায়নামো
  2. ট্রান্সফরমার
  3. সৌরকোষ
  4. জেনারেটর
ব্যাখ্যা

আলোক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর:
- সৌরকোষ (Solar Cell) সূর্যের আলো শোষণ করে তা তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এটি ফটোভোলটাইক প্রক্রিয়া দ্বারা কাজ করে।
- এটি সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor) পদার্থ দ্বারা তৈরি এবং সরাসরি সূর্যের আলো বা অন্য কোনো আলোর ফোটন কণা শোষণ করে ইলেকট্রনকে মুক্ত করে। এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলির প্রবাহের ফলেই তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন হয়।

অন্যদিকে,
- ডায়নামো/জেনারেটর: এই দুটি যন্ত্রই যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- ট্রান্সফরমার (Transformer): এটি শক্তির রূপান্তর করে না। এটি কেবল পরিবর্তী বিদ্যুৎ প্রবাহের (AC) ভোল্টেজ কমায় বা বাড়ায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৭২৫.
একটি আদর্শ তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা -
  1. ক) শুন্য
  2. খ) বেশি
  3. গ) একই
  4. ঘ) কম
ব্যাখ্যা
প্রমাণ বা আদর্শ কোষ: সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ থেকে বেশ কিছু সময় ধরে তড়িৎ প্রবাহ গ্রহণ করলে এদের তড়িচ্চালক বল ক্রমশ কমতে থাকে। 
সুতরাং প্রমিত করার (Standardisation) কাজে অথবা সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে যেখানে প্রায় অপরিবর্তনীয় তড়িচ্চালক বলের প্রয়োজন হয় সে সব ক্ষেত্রে সাধারণ কোষ ব্যবহার করা যায় না। 
যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে প্রমিতকরণ কাজ সম্পন্ন করা যায় তাকে প্রমাণ বা আদর্শ কোষ বলে। 
ওয়েস্টান-ক্যাডমিয়াম ও ল্যাটিমার ক্লার্ক কোষ এ ধরণের কোষ। এগুলোকে পরাবর্ত কোষ (Reversible) বলে।
 
অর্থাৎ, যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বলের মান সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে অন্য তড়িৎ
কোষের বিদ্যুচ্চালক বলের তুলনা করা হয়, তাকে প্রমাণ বা আদর্শ তড়িৎ কোষ বলে। 
 
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭২৬.
In optics, the power of a lens is measured in:
  1. Candela
  2. Mole
  3. Kelvin
  4. Meter
  5. Dioptre
ব্যাখ্যা
লেন্স: 
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলা হয়। 
- লেন্স সাধারণত কাঁচের তৈরি হয়, এছাড়াও কোয়ার্টজ, স্বচ্ছ প্লাস্টিক দ্বারা লেন্স তেরি করা হয়। 

- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। উত্তল লেন্স: 
- এই ধরনের লেন্সের মধ্য ভাগ মোটা ও প্রান্তদ্বয় সরু। 
- আলোক রশ্মি উত্তল লেন্সে আপতিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয়। 

২। অবতল লেন্স: 
- এই ধরনের লেন্সের মধ্যভাগ সরু ও প্রান্তদ্বয় মোটা। 
- আলোক রশ্মি অবতল লেন্সে আপতিত হলে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- লেন্সের ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- লেন্সের একক হচ্ছে ডায়াপ্টার (Dioptre). 
- একগুচ্ছ আলোক রশ্মিকে কোনো লেন্সের অভিসারী বা অপসারী গুচ্ছে পরিণত করার প্রবণতাকে লেন্সের ক্ষমতা বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৭.
কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যার ইংরেজী পতিশব্দ কি?
  1. ক) Embryology
  2. খ) Mycology
  3. গ) Microbiology
  4. ঘ) Entomology
ব্যাখ্যা

- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে।
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় ছত্রাকের উৎস, গঠন, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে মাইকোলজি (Mycology) বলে।
- ভ্রূণবিদ্যা (Embryology) : ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
উৎসঃজীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; প্রাণিবিদ্যা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৭২৮.
কোন ধরনের রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস পাওয়া যায়?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকায়
  2. খ) অনুচক্রিকায়
  3. গ) প্লাটিলেটে
  4. ঘ) শ্বেত রক্তকণিকায়
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট আকারহীন শ্বেত রক্তকণিকা নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী বিজ্ঞান বোর্ড বই
৭২৯.
শব্দ দূষণ পরিমাপের এককের নাম কী?
  1. Hertz
  2. Newton
  3. Decibel
  4. Nanometer
ব্যাখ্যা
• শব্দ দূষণ পরিমাপের এককের নাম হলো ডেসিবেল (Decibel)। ডেসিবেল শব্দের তীব্রতা বা আওয়াজের মাত্রা পরিমাপের একটি ইউনিট। এটি একটি লোগারিদমিক স্কেল যা শব্দের চাপ বা শক্তির তুলনামূলক মাত্রা নির্ধারণ করে। সাধারণভাবে, মানুষের কান ০ ডেসিবেল থেকে শুরু করে প্রায় ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ শুনতে পারে, যেখানে ১২০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ ক্ষতিকর হতে পারে। হার্টজ (Hertz) শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি পরিমাপ করে, নিউটন (Newton) বলের একক এবং ন্যানোমিটার (Nanometer) দৈর্ঘ্যের একক। তাই শব্দ দূষণ পরিমাপের সঠিক একক হলো গ) ডেসিবেল।

শব্দদূষণ:

- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে ডেসিবল।
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডেসিবল শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুর করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।
সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়।

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩০.
৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা করে ১ মাস জ্বললে কত তড়িৎ শক্তি ব্যয় হবে?
  1. ক) ৬ ইউনিট
  2. খ) ৯ ইউনিট
  3. গ) ১২ ইউনিট
  4. ঘ) ১৫ ইউনিট
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৬০ ওয়াটের একটি বাল্ব প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা করে ১ মাস জ্বললে কত তড়িৎ শক্তি ব্যয় হবে?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
P = ৬০ ওয়াট
t = ৩০ × ৫ = ১৫০ ঘণ্টা

আমরা জানি,
ব্যয়িত শক্তি = (P × t)/১০০০ ইউনিট
= (৬০ × ১৫০)/১০০০ ইউনিট
= ৯০০০/১০০০ ইউনিট
= ৯ ইউনিট
৭৩১.
অবতল লেন্সের ব্যবহার হয়-
  1. ক্যামেরায়
  2. আতশী কাঁচ হিসেবে
  3. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে
  4. অণুবীক্ষণ ও দূরবীক্ষণ যন্ত্রে
ব্যাখ্যা
উত্তল লেন্সের ব্যবহারঃ
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

অবতল লেন্সের ব্যবহারঃ
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়।
২. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩২.
নিচের কোন প্রাণী স্তন্যপায়ী? 
  1. বানর
  2. কুমির
  3. সাপ
  4. ব্যাঙ
ব্যাখ্যা
মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- এদের মেরুদণ্ড আছে এবং দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে। 
- পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে এবং চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে, এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 
- মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন-
১। মৎস্য শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- এরা পানিতে বাস করে ও বেশির ভাগ মাছের গায়ে আঁইশ থাকে। যেমন- ইলিশ, রুই, কৈ ইত্যাদি। আবার কতকগুলোর আঁইশ থাকে না। যেমন- মাগুর, শিং, টেংরা, বোয়াল ইত্যাদি। 
- মাছ ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। এদের পাখনা আছে, পাখনার সাহায্যে এরা সাঁতার কাঁটে। 

২। পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- হাঁস, মুরগি, কবুতর, দোয়েল ইত্যাদি পাখি পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এদের দেহ পালক দিয়ে আবৃত থাকে, পালক পাখি চেনার একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য। পাখি ছাড়া আর কোনো প্রাণীর পালক নেই। 
- বেশিরভাগ পাখিই আছে যারা উড়তে পারে। উট পাখি, পেঙ্গুইন এবং আরও কিছু পাখি আছে যারা উড়তে পারে না। পাখি ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা হয়। 

৩। উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- ব্যাঙ উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। এদের জীবনের কিছু সময় ডাঙায় ও কিছু সময় পানিতে বাস করে। 
- এদের ত্বকে লোম, আঁইশ বা পালক কিছুই থাকে না। দুই জোড়া পা থাকে, পায়ের আঙুলে কোনো নখ থাকে না। 
- ব্যাঙাচি অবস্থায় এরা ফুলকা ও পরিণত অবস্থায় ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৪। সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- টিকটিকি, কুমির, সাপ, গিরগিটি ইত্যাদি সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, আঙুলে নখ থাকে, ডিম পাড়ে, ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
- ফুসফসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৫। স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- বানর, ইঁদুর, কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল ইত্যাদি স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। মানুষও এই দলের অন্তর্ভুক্ত। 
- এদের দেহে লোম থাকে, বাচ্চা মায়ের দুধ খেয়ে বড়ো হয়, মায়েরা বাচ্চা প্রসব করে। 
- মস্তিষ্ক ও দেহের গঠন বেশ উন্নত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৭৩৩.
আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন কত সালে?
  1. ১৯০২ সালে
  2. ১৯০৩ সালে
  3. ১৯০৪ সালে
  4. ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন, যথা-
• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব।
• সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৪.
রাইবোসোমের প্রধান কাজ কী? 
  1. কার্বোহাইড্রেট সংশ্লেষণ 
  2. লিপিড সংরক্ষণ 
  3. নিউক্লিক অ্যাসিড সংরক্ষণ 
  4. প্রোটিন সংশ্লেষণ 
ব্যাখ্যা

রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- আবার সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায়ও রাইবোসোম থাকতে পারে। 
- মুক্ত রাইবোসোম আদি কোষের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। 

রাইবোসোমের কাজ: 
- রাইবোসোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করা। 
- রাইবোসোম আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে। 
- প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে। 
- এ ধরনের সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৩৫.
কোনটি অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ?
  1. ভাইরাস ধ্বংস করা
  2. ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা
  3. কোষ বিভাজন বন্ধ করা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবায়োটিক যেভাবে কাজ করে
- অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে
- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে (যেমনঃ Penicillin)
- ব্যাকটেরিয়ার DNA প্রতিলিপি প্রক্রিয়া ব্যাহত করে।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ থামিয়ে দেয় (যেমনঃ Tetracycline)।

আন্টিবায়োটিক গ্রহণে সতর্কতা
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ বিপজ্জনক।
- কোর্স সঠিকভাবে শেষ করতে হবে।
- ভুলভাবে বা বেশি ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (Antibiotic Resistance) দেখা দেয়, যা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উৎস:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- WHO (World Health Organization).

৭৩৬.
বৃষ্টির ফোঁটা গোলাকার হয় নিচের কোন ধর্মের জন্য?
  1. ক) পৃষ্ঠটান
  2. খ) প্লবতা
  3. গ) সান্দ্রতা
  4. ঘ) স্থিতিস্থাপকতা
ব্যাখ্যা
• তলটান বা পৃষ্ঠটান:
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে।
- পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘর্টনা ঘটে তা হলো:
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা। 
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা।
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া।

• পানির ছোট ফোটা পানির যে গুণের জন্য গোলাকৃতির হয় পৃষ্ঠটানের কারনে। 
- পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়। 
- মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩৭.
পরিবাহী পদার্থে বিদ্যুতের প্রবাহ কোন কণার মাধ্যমে ঘটে? 
  1. প্রোটন 
  2. ফোটন 
  3. ইলেকট্রন 
  4. নিউট্রন 
ব্যাখ্যা

পরিবাহী পদার্থ: 
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে। সেজন্য সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম এগুলো সুপরিবাহী পদার্থ। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ এগুলো হচ্ছে অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৩৮.
বিভবশক্তি কিসের উপর নির্ভর করে?
  1. বল
  2. অভিকর্ষজ ত্বরণ
  3. বস্তুর বেগ
  4. উচ্চতা
ব্যাখ্যা
• বিভবশক্তি নির্ভর করে উচ্চতার উপর।

• বিভবশক্তি:

- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়।
- বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি।
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক।
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি।
- যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি।
- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ।
- বস্তু কর্তৃক সম্পন্ন কাজ বা বিভবশক্তি,
Ep = বল × সরণ (উচ্চতা)
⇒ Ep = mgh

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৯.
এডিস মশার মাধ্যমে কোন রোগ বিস্তার লাভ করে?
  1. ক) ডায়রিয়া
  2. খ) যক্ষা
  3. গ) ম্যালেরিয়া
  4. ঘ) ডেঙ্গুজ্বর
ব্যাখ্যা
এডিস মশা দ্বারা ডেঙ্গু জ্বর, জিকা জ্বর, পীত জ্বর এবং চিকনগুনিয়া রোগ ছড়ায়। সূত্রঃ ৩৮তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৭৪০.
প্রাণীর সকল কোষে নিচের কোনটি থাকে?
  1. ক) কোষগহ্বর
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) লাইসোসোম
  4. ঘ) কোষপ্রাচীর
ব্যাখ্যা
প্রাণী কোষের বৈশিষ্ট্য:  
- প্রাণী কোষে কোন কোষ প্রাচীর থাকে না। পাতলা স্থিতিস্থাপক প্লাজমা ঝিল্লী দ্বারা প্রাণী কোষ আবৃত অবস্থায় থাকে।
- প্রাণী কোষে সাধারণত প্লাস্টিড থাকে না। 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।
- প্রাণী কোষে সেন্ট্রোসোম থাকে।
- প্রাণী কোষে সাধারণত কোন কোষ গহ্বর থাকে না। থাকলেও আকারে ক্ষুদ্রাকৃতির হয় এবং ক্ষণস্থায়ী।
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণী কোষের আকার পরিবর্তিত হয়।
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের কেন্দ্রস্থলে থাকে।
- সকল কোষেই লাইসোসোম থাকে
- স্নেহ দ্রব্য অর্ধতরল অবস্থায় থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৪১.
মহাকাশে মানুষ নিয়ে যাওয়া প্রথম মহাকাশযান কোনটি?
  1. ক) ভস্টক-১
  2. খ) ভস্টক-৬
  3. গ) স্পুটনিক-১
  4. ঘ) স্পুটনিক-২
ব্যাখ্যা
Vostok, any of a series of manned Soviet spacecraft, the initial flight of which carried the first human being into space. Launched on April 12, 1961, Vostok 1, carrying cosmonaut Yury A. Gagarin, made a single orbit of Earth before reentry. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৭৪২.
উদ্ভিদ মূলত কত উপায়ে প্রজনন সম্পন্ন করে থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ প্রজননের প্রকারভেদ :
উদ্ভিদ বিভিন্ন উপায়ে প্রজনন সম্পন্ন করে থাকে। তবে উদ্ভিদে প্রজনন প্রধানত দু'প্রকার
যথা-
(ক) যৌন প্রজনন 
(খ) অযৌন প্রজনন

যৌন প্রজনন:
দুটি ভিন্ন প্রকৃতির যথা পুং ও স্ত্রী জনন কোষ বা গ্যামিট পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে যে প্ৰজনন সম্পন্ন করে তাকে যৌন প্রজনন বলা হয়।
এদের একটিকে পুং জনন কোষ (শুক্রাণু) ও অন্যটিকে স্ত্রী জনন কোষ (ডিম্বাণু বলা হয়। এ দু'ধরনের জনন কোষ একই ফুলে বা একই দেহে সৃষ্টি হয়। 

অযৌন জনন (Asexual reproduction) :
দুটি গ্যামিটের মিলন ছাড়া অন্য উপায়েও জনন হতে পারে। পুংগ্যামিট ও স্ত্রী গ্যামিটের মিলন ছাড়া উদ্ভিদে যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন জনন বলে। অযৌন জনন বিভিন্নভাবে হতে পারে। যথা-
১. দ্বিভাজন প্রক্রিয়া 
২. কুঁড়ি বা বাড (Bud) উৎপাদনের মাধ্যমে 
৩. খন্ডায়নের মাধ্যমে 
৪. অযৌন রেণু বা স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৩.
পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার বর্তনীতে কয়টি ডায়োড ব্যবহৃত হয়? 
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা
রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
(খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার: 
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় চারটি ডায়োড ব্যবহার করে। 
- চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়। 
- রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়। 
- অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে সংযোগ দেওয়া হয় লোড রেজিস্টান্স। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৪.
চন্দ্রপৃষ্ঠে কোনো বিষ্ফোরণ ঘটলে সেই বিষ্ফোরণের আলো পৃথিবীতে আমাদের কাছে পৌছাতে কত সময় লাগে?
  1. কখনোই পৌছাবে না
  2. প্রায় ৯ সেকেন্ড
  3. ১.২৫৫ সেকেন্ড
  4. ৩.৫৮ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

- On average, there is about 238,855 miles (384,400 kilometers) of distance between our planet and its large natural satellite.
- This means all moonlight we see is 1.255 seconds old, and a round-trip between the Earth and moon at light speed takes about 2.51 seconds.
- This timing is growing every day, however, as the moon is drifting farther from Earth at a rate of about 1.5 inches (3.8 centimeters) per year. (The moon is constantly sapping Earth's rotational energy via ocean tides, boosting its orbit to a greater and greater distance.)

Source: NASA demonstration and Business Insider.

৭৪৫.
গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা কেমন? 
  1. α-কণিকার চেয়ে বেশি 
  2. β-কণিকার চেয়ে কম 
  3. β-কণিকার চেয়ে বেশি 
  4. আয়নিত করার ক্ষমতা নেই 
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
২। গামা রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল। 
৩। গামা রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর নাই। 
৪। গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 
৫। গামা রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৬। গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৮। গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 

অন্যদিকে,
- আলফা কণিকার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৬.
পৃথিবী আপন কক্ষপথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে আছে?
  1. ৫৩.৫°
  2. ৫৫.৫°
  3. ৪৬.৫°
  4. ৬৬.৫°
ব্যাখ্যা
• পৃথিবী আপন কক্ষপথে ৬৬.৫°কোণে হেলে আছে।

- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে।
- আহ্নিক গতির ফলে দিবা-রাত্রির সংঘটন, বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি এবং তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে।
- বার্ষিক গতির ফলে দিবা-রাত্রির হ্রাস ও ঋতু পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
- ২১শে মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৭.
ঘন পাতাবিশিষ্ট বৃক্ষের নিচে রাতে ঘুমানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ গাছ হতে _____ ।
  1. ক) অধিক পরিমাণে অক্সিজেন নির্গত হয়
  2. খ) অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়
  3. গ) অধিক পরিমাণে কার্বন মনো অক্সাইড নির্গত হয়
  4. ঘ) বিষাক্ত সায়ানাইড নির্গত হয়
ব্যাখ্যা
ঘন পাতাবিশিষ্ট গাছের নিচে রাতে ঘুমানোর স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ এতে শ্বসনের ফলে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়।
৭৪৮.
দেহ সঞ্চালন তথা প্রত্যেক কাজ ও অনুভূতির কেন্দ্র হলাে
  1. ক) সেরিব্রাম
  2. খ) সেরিবেলাম
  3. গ) মেডুলা
  4. ঘ) হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা

সেরিব্রাম হলাে প্রত্যেক অঙ্গ থেকে স্নায়ুতাড়না গ্রহণের এবং প্রত্যেক অঙ্গে স্নায়ুতাড়না প্রেরণের উচ্চতর কেন্দ্র। দেহ সঞ্চালন তথা প্রত্যেক কাজ ও অনুভূতির কেন্দ্র হলাে সেরিব্রাম। এটি আমাদের চিন্তা, চেতনা, জ্ঞান, স্মৃতি, ইচ্ছা, বাকশক্তি ও ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
কোন উদ্দীপকের প্রতি কী ধরনের সাড়া দিবে, সে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। সকল প্রাণীর মধ্যে মানুষের অগ্রমস্তিষ্কের বিবর্তন সর্বাধিক অগ্রগামী এবং সবচেয়ে বিকশিত।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান

৭৪৯.
সূর্যের সাদা আলো কাঁচের প্রিজমে বিচ্ছুরিত হয়ে কয়টি বর্ণে বিভক্ত হয়?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৭ টি
ব্যাখ্যা
- সূর্যের সাদা আলো যদি কোনো কাঁচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে যায় তাহলে তা সাতটি রঙ্গে বিশিষ্ট হয়।
- প্রিজম থেকে নির্গত আলোকরশ্মি যদি কোনো পর্দার উপর ফেলা হয় তাহলে পর্দায় সাতটি রঙের পট্টি দেখা যায়। আলোর এই রঙিন পট্টিকে বর্ণালী বলে।
- কোনো মাধ্যমে প্রতিসরণের ফলে যৌগিক আলো থেকে মূল বর্ণের আলো পাওয়ার পদ্ধতিকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
- বর্ণালীতে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এ সাতটি রঙ পরপর দেখা যায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৫০.
সিএনজি পাম্প থেকে গাড়িতে যে গ্যাস পূর্ণ করা হয় তা মুলত
  1. ক) মিথেন
  2. খ) প্রােপেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) আর্গন
ব্যাখ্যা
- জ্বালানি হিসেবে তেল মানে অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল বহুল পরিচিত। 
- গাড়ি চালানোর খরচ কমাতে দেশে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন। প্রাকৃতিক গ্যাসে এর পরিমাণ প্রায় ৮০%।
- এছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাসে ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, আইসোবিউটেন, পেন্টেন ইত্যাদি উপাদানও উপস্থিত থাকে।
- বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গিয়েছে, তার ৯৯.৯৯% উপাদান হলো মিথেন
 
উৎস: প্রথম আলো, রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 
 
৭৫১.
তেজস্ক্রিয়তার আন্তর্জাতিক একক কী?
  1. ক) রন্টজেন
  2. খ) কুরি
  3. গ) জুল
  4. ঘ) বেকেরেল
ব্যাখ্যা

Radioactivity refers to the amount of ionizing radiation released by a material. Whether it emits alpha or beta particles, gamma rays, x-rays, or neutrons, a quantity of radioactive material is expressed in terms of its radioactivity (or simply its activity).
This represents how many atoms in the material decay in a given time period. The units of measurement for radioactivity are the becquerel (Bq, international unit) and the curie (Ci, U.S. unit).
সূত্র: Encyclopedia Britannica

৭৫২.
নিচের কোনটি খাবার সোডা হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  2. সোডিয়াম কার্বনেট
  3. সোডিয়াম বাই কার্বনেট
  4. সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ
ব্যাখ্যা
- সোডিয়াম বাই কার্বনেট অর্থাৎ সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট হলো খাবার সোডা বা বেকিং সোডা। 
- সোডিয়াম কার্বনেট বা সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো কাপড় কাচার সোডা। 
- সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ হলো বেকিং পাউডার। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
৭৫৩.
নিউমোনিয়া রোগটি কোন ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সংঘটিত হয়?
  1. Streptococcus pneumoniae 
  2. Mycobacterium tuberculosis
  3. Vibrio cholerae
  4. Clostridium tetani
ব্যাখ্যা

নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের সংক্রমণজনিত রোগ, যা শ্বাসপ্রশ্বাসে ব্যাধি সৃষ্টি করে।
- সবচেয়ে সাধারণ ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ার কারণ হলো Streptococcus pneumoniae, যা ফুসফুসের এ্যালভিওলি (Alveoli) তে সংক্রমণ ঘটায়।

এর লক্ষণ: কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকের ব্যথা।

অন্য ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব:
Mycobacterium tuberculosis: ক্ষয় রোগ (Tuberculosis) ঘটায়।
Vibrio cholerae: কলেরা (ডায়রিয়া) সৃষ্টি করে।
Clostridium tetani: টিটানাস বা পেশীর সংকোচন ঘটায়।

তথ্যসূত্র: NCTB জীববিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

৭৫৪.
DNA কাঁটার জন্য বিশেষ কোন এনজাইম ব্যবহার করা হয়? 
  1. লাইগেজ এনজাইম
  2. লাইপেজ এনজাইম
  3. রেস্ট্রিকশন এনজাইম
  4. লেকটেজ এনজাইম
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির ধাপ: 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজির প্রধান ধাপসমূহ হলো- 
(ক) প্রত্যাশিত DNA নির্বাচন ও পৃথকিকরণ, 
(খ) বাহক নির্বাচন, 
(গ) প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন, 
(ঘ) ছেদনকৃত প্রত্যাশিত DNA অণুকে বাহক প্লাজমিডে সংযোজন এবং 
(ঙ) পোষক নির্বাচন ও রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ -কে পোষকে স্থাপন। 

প্রত্যাশিত DNA অণুকে ছেদন: 
- এক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যাশিত DNA অণুকে মূল DNA থেকে কেটে আলাদা করা হয়। 
- প্রত্যাশিত DNA অণুকে কাঁটতে একটি বিশেষ এনজাইম (রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ দ্বারা DNA ছেদন করা হয়) ব্যবহার করা হয়। 
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ টি রেস্ট্রিকশন এনজাইম আবিষ্কৃত হয়েছে। 
যথা- Eco RI, Hind III, Bam III ইত্যাদি। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম DNA অণুর একটি সুনির্দিষ্ট সাজানো অংশকে (Sequence) কেঁটে দেয়। 
- ভিন্ন ভিন্ন রেস্ট্রিকশন এনজাইম ভিন্ন ভিন্ন DNA sequence বিশিষ্ট স্থানে কর্তন করে থাকে। 
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম এমনভাবে DNA অণু কর্তন করে যে DNA অণু দুটি স্ট্রান্ডের একটির প্রান্ত অপরটির থেকে লম্বা থাকে। 
- ফলে প্রত্যাশিত DNA খন্ডটি নতুন DNA অণুর সাথে সহজে যুক্ত হতে পারে। 
- খন্ডিত DNA অণুর প্রান্তদ্বয় আঁঠালো প্রকৃতির হয়, তাই একে আঁঠালো প্রান্ত (Sticky end) বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৫.
'প্রতিপাদ স্থান' বলতে কী বোঝায়?
  1. পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল
  2. মহাকাশ কেন্দ্র
  3. সমুদ্র তলদেশের কেন্দ্র
  4. বিপরীত দিকে অবস্থিত দুই স্থান
ব্যাখ্যা
প্রতিপাদ স্থান (Antipodes):
- পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে একটি কল্পিত রেখা যা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানা হয়, ওই কল্পিত রেখার উভয় বিন্দুই একটি অপরটির প্রতিপাদ স্থান।
- অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত কোন স্থানের ঠিক বিপরীত স্থানকে ঐ স্থানের প্রতিপাদ স্থান বা Antipodes বলে।
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীত দিকে থাকে।
- কোনো বিন্দুর অক্ষাংশ যত ডিগ্রি হবে, তার প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশও তত ডিগ্রি হবে।
- তবে স্থান দুটি নিরক্ষরেখার দুই পাশে অবস্থান করে বিধায় একটি উত্তর অক্ষাংশ হলে অন্যটি দক্ষিণ অক্ষাংশ হবে।
- যেমন: ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার অন্তর্গত চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫৬.
শব্দের বেগ নিচের কোন মাধ্যমে বেশি?
  1. হীরা
  2. বাতাস
  3. লোহা
  4. পানি
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে হীরা'র মাধ্যমে শব্দের বেগ বেশি হয়। 

শব্দের বেগের পার্থক্য: 

- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ √T  
এখানে, তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়, কেলভিন স্কেইলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না। তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। 
- তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ নামক যান্ত্রিক তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। 
- তরলে শব্দের বেগ বাতাসে বেগের থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তার থেকেও বেশি। 
যেমন- বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ দেখানো হয়েছে- 
মাধ্যম ⇒ শব্দের বেগ (m/s) 
• বাতাস ⇒ 330, 
• হাইড্রোজেন ⇒ 1284, 
• পারদ ⇒ 1450, 
• পানি ⇒ 1493, 
• লোহা ⇒ 5130 এবং 
• হীরা ⇒ 12000 ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫৭.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে বলা হয় - 
  1. অণু
  2. নিউট্রন
  3. ইলেকট্রন
  4. পরমাণু
ব্যাখ্যা

• পরমাণু:
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে।

• পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক।
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে।
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি।
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
৪. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না।

• অণু:
- মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে।

• ইলেকট্রন:
ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু মৌলিক কণা যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে।

• নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৫৮.
তড়িচ্চালক শক্তির একক কোনটি?
  1. ক) জুল
  2. খ) ওহম
  3. গ) এম্পিয়ার
  4. ঘ) ভোল্ট
ব্যাখ্যা

তড়িচ্চালক শক্তিঃ কোষ বা উৎসকে এক কুলম্ব পরিমান আধানকে তার নিম্ন বিভব প্রান্ত থেকে উচ্চ বিভব প্রান্তে আনতে যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করতে হয় তাকে কোষ বা উৎসের তড়িচ্চালক শক্তি বলে।
একে E দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
এর একক ভোল্ট (V)। 

খোলা বর্তনীতে কোষের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্যই কোষের তড়িচ্চালক শক্তি।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৫৯.
'Big Bang' তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন কে?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. টলেমি
  4. জি ল্যামেটার
ব্যাখ্যা
• 'Big Bang' তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।

- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল, হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটি বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। জি ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।

• স্টিফেন হকিং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time।
- তাই বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design.

উৎস: ব্রিটানিকা
৭৬০.
প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে কি বোঝায়?
  1. রোগীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া
  2. রোগীকে সুস্থ করে তোলা
  3. রোগীকে পরামর্শ দেওয়া
  4. রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া
ব্যাখ্যা
- কোন দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে বা ডাক্তার আসার পূর্বে রোগীর অবস্থানের উন্নতি ঘটানোর জন্য বা আর যাতে অবনতি না হয় সে জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে।

- অন্য কথায় বলা যায় আকস্মিক কোন দুর্ঘটনায় বা রোগে, দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তি বা রোগীকে মেডিকেল সাহায্য আসার পূর্ব পর্যন্ত যে সব সাহায্য সহযোগিতা দেওয়া হয় তাহাই প্রাথমিক চিকিৎসা।

• আঘাত জনিত কারণে যাতে রোগীর জীবন নাশ না হয় অথবা বড় ধরনের কোন ক্ষতি সাধন না হয় যে জন্যই প্রাথমিক চিকিৎসা দরকার।
- প্রাথমিক চিকিৎসা দ্বারা রোগীর জীবন রক্ষা পায়। যেমন- আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্ত পড়া বন্ধ করা যায়, ক্ষতস্থানকে বাইরের আঘাত বা সংক্রামন থেকে রক্ষা করা যায়। পট্টি লাগিয়ে আহত স্থান ঠিক রাখা যায়। অর্থাৎ আহত স্থানের প্রতিরক্ষা করা যায়।
- কাজেই প্রাত্যহিক জীবনে জরুরী অবস্থার মুখোমুখি দাঁড়াবার আত্মবিশ্বাস লাভের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা অপরিহার্য।

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, ইউনিট -২, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬১.
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে নিচের কোন গুলো মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে?
  1. ক) কার্বন ও অক্সিজেন আয়ন
  2. খ) হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আয়ন
  3. গ) ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান গুলোর মধ্যে কার্বন ও অক্সিজেন বায়ুমন্ডল থেকে গ্রহণ করে। হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পানি থেকে গ্রহণ করে। অন্যসব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬২.
যে পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মধ্যে মাঝামাঝি অবস্থায় থাকে, তাকে কী বলা হয়?
  1. অপরিবাহী পদার্থ
  2. পরিবাহী পদার্থ
  3. সুপরিবাহী পদার্থ
  4. অর্ধপরিবাহী পদার্থ
ব্যাখ্যা
অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ ইত্যাদি। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

পরিবাহী পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থে তার অণু-পরমাণু শক্ত করে নিজের জায়গায় বসে থাকে ফলে তাপমাত্রা বাড়লে তারা নিজের জায়গায় কাঁপাকাঁপি করতে পারে কিন্তু সেখান থেকে সরে অন্য জায়গায় চলে যায় না। 
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬৩.
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র -
  1. ফ্যাদোমিটার
  2. সেক্সট্যান্ট
  3. ক্রনোমিটার
  4. ট্যাকোমিটার
ব্যাখ্যা
- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের উচ্চতা পরিমাপক যন্ত্র হলো সেক্সট্যান্ট। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা নির্ণয়ের যন্ত্র বা সূক্ষ্মভাবে সময় পরিমাপ করার যন্ত্র হচ্ছে ক্রনােমিটার। 
- সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র ট্যাকোমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭৬৪.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় 'প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক' নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. সাইটোলজি
  2. এমব্রায়োলজি
  3. এথনোবায়োলজি
  4. ইকোলজি
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানের বিশেষ শাখা:
- জীবের তথা জীববিজ্ঞানের কোন দিকটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা হয়ে থাকে।
যেমন -
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।

২। শ্রেণিবিন্যাস (Classification): বোঝার সুবিধার জন্য এ বিশাল জীবজগৎকে বিভিন্ন দল-উপদলে ভাগ করা হয়। প্রতিটি জীব প্রজাতি পর্যায়ক্রমে একটি গণ, একটি গোত্র, একটি বর্গ এবং একটি শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হয়। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় এ নিয়ে আলোচনা করা হয় তা হলো শ্রেণিবিন্যাসতত্ত্ব বা শ্রেণিবিন্যাসবিজ্ঞান (Taxonomy)।

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

৪। ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

৬। বংশগতিবিদ্যা (Genetics): মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

৭। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): জীবসমূহ যে পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশ এবং সেই পরিবেশের সাথে ঐ জীবসমূহের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

৮। বিবর্তন (Evolution): আদি কালের অনেক জীবই বর্তমান কালের জীবসমূহ থেকে অন্য রকম ছিল। কালের বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে।
জীবসমূহের সূচনা ও বিবর্তন নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

৯ । এথনোবায়োলজি (Ethnobiology): আদিবাসীগণ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে (বাসস্থান নির্মাণ, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ইত্যাদি) তার চারপাশে বিরাজমান জীবসমূহকে কীভাবে ব্যবহার করে সেই জ্ঞান হলো এথনোবায়োলজি।

১০। রোগনিরূপণবিদ্যা (Pathology): উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে রোগ সৃষ্টির কারণ, রোগ সৃষ্টিকারী জীব শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৫.
এনার্জি সেভিং বাল্বে কি পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় ?
  1. ক) ২০-৮০ %
  2. খ) ২০-৫০%
  3. গ) ৭০-৯০ %
  4. ঘ) ১০০%
ব্যাখ্যা
দুই ধরণের  এনার্জি সেভিং বাল্ব রয়েছে - সি এফ এল ( Compact fluroscent lamp) এবং এল ই ডি (Light emitting diode) । এনার্জি সেভিং বাল্বে ২০-৮০ % পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় । সাধারণ বাল্বের তুলনায় এটি ৩-২৫ গুণ সময় বেশী  টিকে থাকতে পারে। 


উৎস: নবম- দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই
৭৬৬.
জীবকোষে কোন স্থানে প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়?
  1. ক) রাইবোজোম
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) মাইট্রোকন্ড্রিয়া
  4. ঘ) ক্রোমেজোম
ব্যাখ্যা
রাইবোসোম:
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম।
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন।
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার।
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে।
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৭৬৭.
এরিস্টটলের মতানুসারে, সকল বস্তু মূলত কতটি উপাদান দিয়ে তৈরি? 
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
রয়ায়ন পরিচিতি: 
- মানব সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ রসায়নের জ্ঞান প্রয়োগ করে আসছে। 
- প্রাচীন মিশরীয় ও ভারতীয় সভ্যতার যে সকল নিদর্শন পাওয়া গেছে তাতে বিভিন্ন ধাতু যেমন- লোহা, তামা, সোনা ইত্যাদির ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। 
- আবার প্রাচীন যুগের অনেক গুহাচিত্রের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যা থেকে প্রাচীনকালে রং প্রস্তুতি ও তার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। 
- আনুষ্ঠানিক রসায়ন চর্চা বা তত্ত্বের প্রথম প্রমাণ পাওয়া যায় প্রাচীন গ্রীসে। 
- বিখ্যাত গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল খৃষ্টপূর্ব প্রায় ৩০০ অব্দে পদার্থের গঠন ও ধর্ম নিয়ে একটি মতবাদ দেন। এই মতবাদ অনুসারে পৃথিবীর সকল বস্তুই চারটি উপাদান যথা: বায়ু, মাটি, পানি ও আগুন দিয়ে তৈরি এবং সকল বস্তুর মাত্র চারটি ধর্ম আছে যথা- শুকনা, ভেজা, গরম ও ঠাণ্ডা। 

-  প্রাচীন ও মধ্যযুগে 'আল-কেমি'গণ সস্তা বস্তু থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন, স্বর্ণ প্রস্তুতের চেষ্টা করেন। তাছাড়া কিছু 'আল-কেমি' অমরত্বের ঔষধ প্রস্তুতির চেষ্টা চালিয়ে যান, যদিও স্বর্ণ বা অমরত্বের ঔষধ দুটোই 'আল-কেমি'গণ আবিষ্কারে ব্যর্থ হয়। তবুও তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলে নতুন নতুন রাসায়নিক পদার্থের আবিষ্কার ঘটে যা রসায়ন বিদ্যার বিকাশকে বেগবান করে। 
- 'আল-কেমি' শব্দটি আরবি 'আল-কিমিয়া' থেকে উদ্ভূত যা দিয়ে মিশরীয় সভ্যতাকে বুঝানো হতো। 
- পরবর্তীতে রবার্ট বয়েলের (Robert Boyle) রচিত পুস্তক 'The Skeptical Chemist' প্রকাশের মাধ্যমে আধুনিক রসায়নের বিকাশ শুরু হয়, যা বর্তমানে বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। 
- রসায়ন হচ্ছে ভৌত বিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে পদার্থের গঠন, সংযুক্তি, পরিবর্তন, প্রস্তুতি ও ধর্ম নিয়ে চর্চা করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৮.
বাংলাদেশের পাহাড় শ্রেণী ভূতাত্ত্বিক যুগের ভূমিরূপ হচ্ছে-
  1. ক) মায়োসিন যুগের
  2. খ) প্লাইস্টোসিন যুগের
  3. গ) টারশিয়ারী যুগের
  4. ঘ) ডেবোনিয়াস যুগের
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশ পলি মাটি দ্বারা গঠিত। তবে এর পূর্ব দিক (কুমিল্লা, সিলেট, চট্রগ্রাম) বৃহত্তর বেঙ্গল বেসিনে অবস্থিত। বৃহত্তর বেঙ্গল বেসিন টারশিয়ারি যুগের পাহাড় দিয়ে গঠিত।
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানের অন্তর্ভুক্ত মধুপুর ভাওয়ালের গড় এবং বরেন্দ্রভূমি।
উৎসঃ ভূ-প্রকৃতি - বাংলাপিডিয়া এবং ৯ - ১০ম শ্রেণি (ভূগোল ও পরিবেশ)
৭৬৯.
মোমের জ্বলনের সময় কোন গ্যাসের উৎপত্তি হয়?
  1. সালফার ডাই-অক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

মোমের তিন অবস্থা: 
- মোম হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। 
- হাইড্রোজেন এবং কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলো হাইড্রোকার্বন। 
- মোমের প্রজ্বলনে মোমের কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় এই তিনটি অবস্থাই দেখা যায়। 
- মোম বাতিতে মোমের মধ্যে একটি সুতা থাকে। এ সুতাতে আগুন জ্বালালে সুতার চারদিকে হাইড্রোকার্বন অণুগুলো তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। অর্থাৎ, কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় পরিণত হয়। ঐ তরল মোম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়।
- অতপর ঐ বাষ্পীয় মোম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো এবং তাপ উৎপন্ন করে।
- তরল মোমের কিছু অংশ ঠান্ডা হলে আবার কঠিন মোমে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, তাপের প্রভাবে মোমের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৭০.
Apiculture হলো -
  1. ক) রেশম চাষ বিদ্যা
  2. খ) মৌমাছি চাষ বিদ্যা
  3. গ) মৎস্য চাষ বিদ্যা
  4. ঘ) পাখি পালন বিদ্যা
ব্যাখ্যা
• এপিকালচার (Apiculture):
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন এবং মৌমাছির মধু সংগ্রহ করাকে এপিকালচার বলে। বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছি পালনের তথা এপিকালচার ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

• সেরিকালচার (Sericulture):
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার। তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

• পিসিকালচার (Pisciculture):
বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে। মাছ ছাড়াও বিভিন্ন শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রাণীদের চাষ পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

• এভিকালচার (Aviculture):
পাখি পালন বিষয়াদি বিদ্যাকে এভিকালচার বলে। যে বিদ্যায় পাখিদের সমস্ত শ্রেণী ও বাসস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে এভিকালচার বলে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭৭১.
নিচের কোনটি ভূ-গর্ভস্থ কাণ্ড?
  1. ক) শালগম
  2. খ) গাজর
  3. গ) আদা
  4. ঘ) মূলা
ব্যাখ্যা
আদা হলো ভূ-গর্ভস্থ কাণ্ড। 
-  শালগম, গাজর, মূলা মূল এর উদাহরণ।
ভূ-নিম্মস্থ রূপান্তরিত কান্ড: প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা, খাদ্য সঞ্চয় এবং অঙ্গোজ উপায়ে বংশবিস্তার করার জন্য কিছু কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড মাটির নিচে বৃদ্ধি পায়।
- এ ধরনের কাণ্ডকে  ভূ-নিম্মস্থ রূপান্তরিত কান্ড বলে।
- এরা চার প্রকারের। যথা- টিউবার, রাইজোম, কন্দ ও গুড়িকন্দ।
- আলু, পেঁয়াজ, আদা ভূ-গর্ভস্থ কান্ডের উদাহরণ।
রাইজোম: আদা, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদের কাউ রাইজোম-জাতীয়।
- এরা মাটির নিচে খাদ্য সঞ্চয় করে সমান্তরাল বা খাড়াভাবে অবস্থান করে।
- এদের সুস্পষ্ট পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে।

উৎস: সপ্তম শ্রেণি, বিজ্ঞান।
৭৭২.
মানুষের হৃদপিণ্ডের স্পন্দনের স্বভাবিক হার কত?
  1. ক) ৫৫-৬৫
  2. খ) ৬০-৭০
  3. গ) ৭৫-৮৫
  4. ঘ) ৭০-৮০
ব্যাখ্যা

হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে। এমনকি বিশ্রামরত অবস্থায়ও এর সংকোচন ও প্রসারণ চক্রাকারে চলতে থাকে। হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে সিস্টোল এবং সম্প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে। এক বারের সিস্টোল ও ডায়াস্টোলকে একত্রে হৃদস্পন্দন বা হার্টবিট (Heart Beat) বলে।
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে ৭০-৮০ বার, গড়ে ৭৫ বার। হৃদপিন্ডের প্রতি স্পন্দনে হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের যে চক্রাকার প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাকে হৃদচক্র বা কার্ডিয়াক চক্র বলে।

৭৭৩.
মাটির অম্লতা দূর করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. সোডা লেমন
  2. ভিনেগার
  3. চুন
  4. সালফিউরিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
ক্ষারক: 
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে। 
- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• NaOH → Na+ + OH- 
• KOH → K+ + OH- 
- ক্ষারক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মৌমাছি হুল ফুটালে এবং পিঁপড়া কামড় দিলে শরীরে যেহেতু ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, তাই সেগুলি জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে। 
- এসিডের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে ক্ষারক ধর্মীয় মলম, লোশন (যেমন চুন), ক্যালামিন (যা জিংক কার্বোনেট) এবং বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়, যা এই জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। 

মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মাটিতে এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়, যা প্রশমিত করতে ক্ষারক যেমন- চুন (CaO), মিল্ক অব লাইম (Ca(OH)2 এবং চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহৃত হয়। 
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়। 
- টুথপেস্ট ও টুথপাউডার ক্ষারীয় পদার্থ হয়ে মুখে এসিডীয় অবস্থা নিরসন করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। 
- সাবান যেমন- শক্ত সাবান, তরল সাবান এবং কাপড় কাচার সাবান ক্ষারক হিসেবে তৈরি হয়। আবার শেভিং ফোম এবং নরম সাবানও ক্ষারক দিয়ে তৈরি। 
- গ্যাস্ট্রিক ব্যথা বা এসিডিটির জন্য ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭৪.
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) একজন মাঝির নৌকা চালানো।
  2. খ) চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
  3. গ) থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন।
  4. ঘ) বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়।
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।
- উদাহরণঃ চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়োগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।
- উদাহরণঃ কোনো বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়োগ করে।
- উদাহরণঃ বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।

তথ্যসুত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭৫.
সূর্যের পৃষ্ঠের আনুমানিক তাপমাত্রা কত?
  1. ৪৫০০° সেলসিয়াস
  2. ৪৮০০° সেলসিয়াস
  3. ৬০০০° সেলসিয়াস
  4. ৭৫০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮.৩২ মিনিট বা ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৭৭৬.
পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক কে?
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) ওপেনহাইমার
  3. গ) অটোহ্যান
  4. ঘ) রোজেনবার্গ
ব্যাখ্যা
- যুক্তরাজ্যের বৈজ্ঞানিক মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন।
- আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেন ডিনামাইট;
- ওপেনহেইমার আবিষ্কার করেন পারমাণবিক বোমা; এবং
- তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করে হেনরি বেকেরেল।

সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
৭৭৭.
22 ক্যারেট স্বর্ণে কত শতাংশ স্বর্ণ থাকে?
  1. ক) ৯১.৭%
  2. খ) ৮৫%
  3. গ) ৯৯%
  4. ঘ) ৬৭.৫%
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সংকর ধাতু এবং তাদের উপাদান: 


উৎস: মাধ্যমিকের রসায়ন বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।



উৎস: মাধ্যমিকের রসায়ন বই, NCTB.

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বেশি গ্রহনযোগ্য কারন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সাথে তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে। যেমন: 


উৎস: worldgoldcounsil.
৭৭৮.
নিষেকের পর ফুলের কোন অংশ ফলে পরিণত হয়?
  1. ক) গর্ভাশয়
  2. খ) ডিম্বক
  3. গ) ডিম্বাণু
  4. ঘ) ইন্টাইন
ব্যাখ্যা



সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৯.
ওজোন স্তরটি বায়ুমণ্ডলের কোন অংশে অবস্থিত?
  1. মেসোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. ট্রপোমণ্ডল
  4. স্ট্রাটোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

• ওজোন স্তর মূলত স্ট্রাটোমণ্ডল-এ অবস্থিত। এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকে। ওজোন স্তর সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি শোষণ করে, যা পৃথিবীর জীবজগতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এই স্তর না থাকলে মানুষের ত্বকে ক্ষত, চোখে সমস্যা এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ত। স্ট্রাটোমণ্ডলে থাকা ওজোন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধ করে পৃথিবীকে নিরাপদ রাখে। তাই এটি পরিবেশ ও জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

- উত্তর: ঘ) স্ট্রাটোমণ্ডল।

স্ট্রাটোমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল। 
- যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোনমণ্ডল নামে পরিচিত। 
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮০.
জগদীশচন্দ্র বসু কোন বৈদ্যুতিক ডিভাইস ব্যবহার করে রেডিও সংকেত শনাক্ত করেন?
  1. অর্ধপরিবাহি জাংশন
  2. রেজিস্টর
  3. ট্রানজিস্টর 
  4. ক্রেস্কোগ্রাফ
ব্যাখ্যা

জগদীশচন্দ্র বসু: 
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫ মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। 
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 
- উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয় বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'। 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮১.
কোন প্রকোষ্ঠ থেকে ফুসফুসীয় ধমনি উৎপন্ন হয়? 
  1. বাম নিলয়
  2. ডান নিলয়
  3. বাম অলিন্দ
  4. ডান অলিন্দ
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। 
- এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। 
- এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। 
- এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium)। 
- নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। 
- অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮২.
আকাশ মেঘলা থাকলে গরম বেশি লাগে কেন?
  1. মেঘ উত্তম তাপ পরিবাহক
  2. সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মেঘ তাপ উৎপন্ন করে
  3. বজ্রপাতের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় বলে
  4. মেঘ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় বলে
ব্যাখ্যা
- দিনের বেলায় সূর্য থেকে যে আলোকরশ্মি (তাপ ও আলো) বিকিরণ আকারে আসে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য হয় বেশ ছোট, এ কারণে তা খুব সহজেই বর্ষার মেঘ ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে চলে আসতে পারে। 
- এই বিকিরণ ভূপৃষ্ঠে সহজে আসতে পারলেও প্রতিফলিত হয়ে মহাকাশে চলে যেতে পারে না, কারণ প্রতিফলন হবার সময়ে এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশ বড় হয়ে যায় ফলে তখন আর সহজে মেঘ ভেদ করতে পারে না। 
- সেগুলি মেঘের গায়ে ধাক্কা খেয়ে মাটির দিকে ফিরে আসে, এ কারণে মেঘলা দিনে/রাতে ভূপৃষ্ট থেকে বির্কীর্ণ তাপের একটা অংশ মেঘ ও মাটির মধ্যেকার বায়ুমন্ডলে আটকে পড়ার ফলে মাটি এবং তার লাগোয়া বাতাসের স্তর ঠান্ডা তো হয়ই না, বরং বেশ গরম হয়েই থাকে। এতে আবহাওয়ার উষ্ণতা বেড়ে যায় বলেই গরমটা বেশি লাগে। 
- ফলে আকাশ মেঘলা থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি এর অর্থ বাতাসে পানির পরিমাণ বেশি। 
- বাতাস আর্দ্র থাকার কারণে আমাদের গরম লাগে যেটাকে সাধারণ ভ্যাপসা গরম বলা হয়ে থাকে। 
৭৮৩.
বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত কোনটি? 
  1. ZnCO
  2. NaHCO
  3. CaCO
  4. CH3COOH 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক সংকেত: 
- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH. 
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO. 
- চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮৪.
গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে-
  1. ক) ঘড়িয়াল
  2. খ) কচ্ছপ
  3. গ) গিরগিটি
  4. ঘ) সাপ
ব্যাখ্যা

- গিরগিটি গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে।
- সাপ জিহ্বার সাহায্যে শোনে। সাপের কান নেই।
- কচ্ছপ দীর্ঘজীবী প্রাণী। কচ্ছপ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
- ঘড়িয়াল বিরল প্রজাতির মিঠা জলের কুমির বর্গের সরীসৃপ প্রাণী।

৭৮৫.
এইডস (AIDS) রক্তের কোন অংশকে আক্রমণ করে?
  1. ক) B- সেল লিম্ফোসাইট
  2. খ) T- সেল লিম্ফোসাইট
  3. গ) অণুচক্রিকা
  4. ঘ) লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। এটি একটি সংক্রামক রোগ।


- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।


- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে।


- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে।


- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।


- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 


- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে।


- AIDS প্রতরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৭৮৬.
নিচের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. কোয়ার্টজাইট
  2. গ্রানাইট
  3. ব্যাসল্ট
  4. বেলেপাথর
ব্যাখ্যা
ভূত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত। গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার।
যথা:
- আগ্নেয় শিলা
- পাললিক শিলা ও
- রূপান্তরিত শিলা।

পলি সঞ্চিত হয়ে গঠিত শিলা পাললিক শিলা নামে পরিচিত।
পাললিক শিলার মধ্যে রয়েছে:
- বেলেপাথর
- চুনাপাথর
- কাঁদাপাথর
- কয়লা
- কেওলিন
- শেল প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- গ্রানাইট : অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা
- ব্যাসল্ট : বহিঃজ আগ্নেয় শিলা
- কোয়ার্টজাইট : রূপান্তরিত শিলা।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৮৭.
বাতাসের কোন উপাদান মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে-
  1. নাইট্রোজেন
  2. জলীয় বাষ্প
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ক) নাইট্রোজেন। 

• বাতাসের উপাদানগুলোর মধ্যে নাইট্রোজেন মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন সরাসরি উদ্ভিদ গ্রহণ করতে পারে না। তবে বজ্রপাত বা রাইজোবিয়ামের মতো ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে এটি নাইট্রেট হিসেবে মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

- বাংলাদেশের কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার হচ্ছে ইউরিয়া। 
- সার ছাড়া বায়ু থেকে নাইট্রোজেন পাওয়া যায়। 
- বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ - ৭৮.০২%। 
- বায়ু থেকে নাইট্রোজেন মাটিতে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে নাইট্রোজেন চক্র বলে। 
- নাইট্রোজেন চক্র এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নাইট্রোজেন বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত হয়। 
- নাইট্রোজেন উদ্ভিদের প্রোটিন এবং ক্লোরোফিল তৈরির জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান।
- এটি গাছের দ্রুত বৃদ্ধি এবং পাতা সজীব রাখতে সাহায্য করে।
- নাইট্রোজেনের অভাবে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

 উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮৮.
কোনটি নবায়নযোগ্য সম্পদ?
  1. ভূ-তাপীয় শক্তি
  2. খনিজ তেল
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. নিউক্লিয় শক্তি
ব্যাখ্যা
• শক্তির উৎস:
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। যথা:

১. নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়।
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

২. অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না।
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত।
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়।
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৯.
মানচিত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সাধারণত কোন স্কেলটি অনুসরণ করা হয়?
  1. ব্রিটিশ স্কেল
  2. আমেরিকান স্কেল
  3. জাপানি স্কেল
  4. ফরাসি স্কেল
ব্যাখ্যা

মানচিত্র:
- কোনো স্থানের অবস্থান থেকে শুরু করে ঐ স্থানের খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে অবহিত হওয়ার জন্য মানচিত্রের কোনো বিকল্প নেই। খুব কম সময়ে সহজ উপায়ে ঘরে বসে সারা বিশ্বকে জানার জন্যই মানচিত্রের উৎপত্তি। একটি মানচিত্রের মধ্যে কী ধরনের তথ্য থাকবে তা নির্ভর করবে- (ক) স্কেল, (খ) অভিক্ষেপ, (গ) কনভেনশনাল সাইন, (ঘ) মানচিত্র অঙ্কনকারীর দক্ষতা এবং (ঙ) মানচিত্র অঙ্কনের ধরনের উপর। একটি বৃহৎ স্কেলের মানচিত্রের মধ্যে একটি স্থানকে বেশি তথ্য দিয়ে দেখানো যায়।
- বাংলাদেশে সাধারণত ব্রিটিশ স্কেল অনুসরণ করা হয়, যা সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার পুরাতন মানচিত্রকে কমনওয়েলথের ১:৫০,০০০ স্কেলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। 

⇒ ভূসংস্থানিক মানচিত্র (Topographic map):
- ভূসংস্থানিক- এর আরেক নাম হচ্ছে স্থানীয় বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র।
- এই মানচিত্রগুলো প্রকৃত জরিপকার্যের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়।
- সাধারণত এর মধ্যে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক দুই ধরনের উপাদান দেখতে পাওয়া যায়।
- ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে পাহাড়, মালভূমি, সমভূমি, নদী, উপত্যকা, হ্রদ প্রভৃতি দেখানো হয়।
- অন্যদিকে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য হিসেবে রেলপথ, হাটবাজার, পোস্ট অফিস, সরকারি অফিস, খেলার মাঠ, মসজিদ, মন্দির প্রভৃতি নিখুঁতভাবে দেখানো হয়।
- এই মানচিত্রের স্কেল ১:২০,০০০ হলে ভালোভাবে বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়।
- বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন স্কেলে এই মানচিত্র তৈরি করে।
- সবচেয়ে আদর্শ ও জনপ্রিয় হচ্ছে ব্রিটিশদের তৈরি করা মানচিত্র যার স্কেল ছিল ১:২৫,০০০ থেকে ১:১০০,০০০ এবং আমেরিকাতে এই মানচিত্রের স্কেল থাকে সাধারণত ১:৬২,৫০০ এবং ১:১২৫,০০০।
- সাধারণত ব্রিটিশ স্কেলটি অনুসরণ করে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
​ii) বাংলাপিডিয়া।

৭৯০.
ব্যাপন প্রক্রিয়াটি কোন ধরনের প্রক্রিয়া? 
  1. জৈব প্রক্রিয়া
  2. শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া
  3. ভৌত প্রক্রিয়া
  4. রাসায়নিক প্রক্রিয়া 
ব্যাখ্যা
ব্যাপন (Diffusion): 
- ঘরের এক কোণে কিছু সুগন্ধি ঢেলে দিলে তার সুগন্ধ সারা ঘরে ছড়িয়ে যায়, কারণ এর ক্ষুদ্র কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। আবার, এক গ্লাস পানিতে কিছু চিনি ছেড়ে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্লাসের পানি মিষ্টি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে চিনির অণু পানিতে ছড়িয়ে পুরো পানিকে মিষ্টি স্বাদযুক্ত করে তোলে, এই প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ব্যাপন একটি ভৌত প্রক্রিয়া (Physical process)। 
- যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো দ্রব্যের অণু বেশি ঘনত্বের এলাকা থেকে কম ঘনত্বের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তাকে ব্যাপন প্রক্রিয়া বলে। 
- একই তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোনো পদার্থের বেশি ঘনত্ববিশিষ্ট দ্রবণ থেকে কম ঘনত্বের দ্রবণের দিকে দ্রাবকের ব্যাপিত হওয়ার প্রচ্ছন্ন ক্ষমতাকে ব্যাপন চাপ বলে। 
- একই বায়ু চাপে কোনো একটি দ্রবণ ও দ্রাবকের ব্যাপন চাপের পার্থক্যকে ব্যাপন চাপ ঘাটতি (Diffusion pressure deficit) বলে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে এই ব্যাপন চাপ ঘাটতির ফলে পানির ঘাটতি আছে, এমন কোষ পাশের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়। 
- এক কথায় উদ্ভিদের পানি শোষণে ব্যাপনের গুরুত্ব অপরিসীম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯১.
এপিকালচার কী?
  1. রেশমচাষ বিদ্যা
  2. মৌমাছিপালন বিদ্যা
  3. পাখিপালন বিদ্যা
  4. মৎস্যচাষ বিদ্যা
ব্যাখ্যা

আধুনিক চাষ পদ্ধতি:
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার।
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার।
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার।
মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার
• উদ্যান পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৭৯২.
কোনটি অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) পটাসিয়াম
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) খনিজলবণ
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে।
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল।
প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৭৯৩.
তড়িৎ তীব্রতার একক কোনটি?
  1. ক) N
  2. খ) Nm
  3. গ) Nm-1
  4. ঘ) NC-1
ব্যাখ্যা
কোনো স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরণ জানা থাকলে যেমন ঐ স্থানের যে কোনো বস্তুর ওজন (অভিকর্ষ জনিত বল) বের করা সুবিধা হয়, তেমনি তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে তড়িৎ ক্ষেত্রের তীব্রতা জানা থাকলে ঐ বিন্দুতে অবস্থিত যে কোনো আধানের উপর ক্রিয়াশীল বলের মান নির্ণয় করা সম্ভব। তড়িৎ ক্ষেত্রের মধ্যে কোনো বিন্দুতে একক ধনাত্মক আধান রাখলে সেটি যে বল অনুভব করে তাকে ঐ ক্ষেত্রের ঐ বিন্দুতে তড়িৎ ক্ষেত্রের তীব্রতা বলে। একে E দিয়ে প্রকাশ করা হয়। তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে +q আধান রাখলে যদি আধানটি F বল অনুভব করে তাহলে ঐ বিন্দুর তড়িৎ তীব্রতা,

E = F/q

তড়িৎ তীব্রতা একটি দিক রাশি এবং এর দিক হলো ঐ আধানের উপর বল যে দিকে ক্রিয়া করে সেই দিক বরাবর। তড়িৎ তীব্রতার একক হলো NC-1

সূত্র - SSC, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বোর্ড বই
৭৯৪.
জলাতঙ্ক রোগের টিকা কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) জোনাস সালক
  2. খ) লুই পাস্তুর
  3. গ) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  4. ঘ) জেমস ওয়াট
ব্যাখ্যা
জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন লুই পাস্তুর।

১৮৮৫ সালের ৬ই জুলাই এই রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মানবদেহে টিকা প্রয়োগ করা হয়। 
জলাতঙ্ক, যা হাইড্রোফোবিয়া নামেও পরিচিত, একটি তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ যা প্রায় সবসময়ই মারাত্মক। এটি সংক্রামক রোগের বিভাগের অধীনে আসে এবং খামার বা বন্য প্রাণীদের দ্বারা সংক্রামিত হয়; সাধারণত মাংসাশী যেমন কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, রেকুন। এটি বেশিরভাগ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে দেখা যায়। 

জলাতঙ্কের লক্ষণ: সন্দেহজনক প্রাণি কামড়ানোর ৯ থেকে ৯০ দিনের মাঝে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেয়। কারো শরীরে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে উন্মত্ত বা পাগলামো আচরণ এবং মৌন আচরণ—এ দুই ধরনের আচরণ দেখা দিতে পারে।অস্বাভাবিক আচরণে আক্রান্ত ব্যক্তির কথাবার্তা ও ভাবভঙ্গি হবে অস্বাভাবিক। সে উদ্দেশ্য ছাড়াই ছুটে বেড়াবে, ক্ষুধামন্দা হবে, বিকৃত আওয়াজ করবে, বিনা প্ররোচনায় অন্যকে কামড়াতে আসবে ইত্যাদি।

সূত্র: National Library of Medicine Website. 
৭৯৫.
HIV-এর পূর্ণ অর্থ কী?
  1. Human Inactive Virus
  2. Human Immune Virus
  3. Human Immunodeficiency Virus
  4. Human Immunization Virus
ব্যাখ্যা
• HIV-এর পূর্ণ অর্থ Human Immunodeficiency Virus.

• HIV ও AIDS:
- HIV এক ধরনের ভাইরাস।
- HIV, AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে।
- AIDS এর পূর্ণরূপ হলো Acquired Immunodeficiency Syndrome.
- একটি সংক্রামক রোগ।
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।
- আফ্রিকার দেশগুলোতে AIDS এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. WHO ওয়েবসাইট।
৭৯৬.
অ্যান্থ্রাক্স কোন প্রাণীদেহে রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) ইঁদুর
  2. খ) বানর 
  3. গ) গরু
  4. ঘ) বিড়াল 
ব্যাখ্যা
অ্যান্থ্রাক্স রোগ দ্বারা মানুষসহ গবাদিপশু আক্রান্ত হয়। 

অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ একটি তীব্র ও গুরুতর সংক্রামক রোগ, যা ব্যাসিলাস অ্যান্থ্রাসিস (Bacillus anthrasis) নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে।
ব্যাসিলাস গণের অন্যান্য সদস্যের মতো অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু Bacillus anthracis-ও প্রতিকূল পরিবেশে রেণু (স্পোর) হিসাবে সুপ্ত অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে।
মানুষসহ গবাদিপশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। উপযুক্ত চিকিৎসায় মানুষ এ রোগ থেকে রেহাই পেলেও গবাদিপশুর জন্য মৃত্যু অবধারিত।
মানুষের অ্যানথ্রাক্স মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে - একধরণের অ্যানথ্রাক্স হয় পরিপাকতন্ত্রে, আরেক ধরণের অ্যানথ্রাক্স শরীরের বাইরের অংশে সংক্রমণ ঘটায়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান

৭৯৭.
তাপ সঞ্চালনের কোন প্রক্রিয়ায় আগুনের পাশে দাঁড়ালে আমরা উত্তাপ অনুভব করি?
  1. ক) পরিবহণ
  2. খ) পরিচলন
  3. গ) বিকিরণ
  4. ঘ) প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
আমরা জানি তিন উপায়ে তাপ সঞ্চালন ঘটে। আগুনের পাশে দাঁড়ালে আমরা উত্তাপ অনুভব করি। অথবা গ্যাসের চুলা বা উত্তপ্ত বস্তুর খানিকটা নিচে হাত রাখলে গরম অনুভব করি। এ ক্ষেত্রে পরিচলন বা পরিবহন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয় না। কারণ এখানে কোনো কঠিন মাধ্যম নেই তাই পরিবহন হচ্ছে না। বায়ু মাধ্যমে তাপের পরিচলন হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে উত্তপ্ত বায়ু হালকা হবে এবং উপরে উঠবে, নিচে নামবে না। অথচ নিচে আমরা গরম অনুভব করি। এভাবে তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়াটি বিকিরণ। সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।
[সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত]
৭৯৮.
নিচের কোনটি প্রাণিজ শর্করা? 
  1. সেলুলোজ
  2. ল্যাকটোজ
  3. সুক্রোজ
  4. শ্বেতসার
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন: 
উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯৯.
যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয়-
  1. প্যাথজেনিক
  2. ইনফেকশন
  3. টক্সিন
  4. জীবাণু
ব্যাখ্যা
- জীববিজ্ঞানে ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে আদি এবং ব্যাপকতর অর্থে রােগ সংক্রামক জীবাণু হচ্ছে এমন যেকোন কিছু যা রােগ উৎপন্ন করতে পারে, এর পশ্চিমা পরিভাষা প্যাথােজেন। 

Oxford Dictionary অনুসারে, 
Pathogenic = (of a bacterium, virus, or other microorganism) causing disease. 
- ১৮৮০ সালে সাধারণত রােগ সংক্রমণ সংঘটক (এজেন্ট) যেমন : ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রিয়ন, এমনকি অন্য কিছু অণুজীবকে বােঝাতেও এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। 
এক কথায়, 
- যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয় প্যাথজেনিক

অন্যদিকে, 
- ইনফেকশন হলো সংক্রমণ। 
- টক্সিন হলো বিষাক্ত পদার্থ। 
- জীবাণু হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুজীব যারা রোগ সৃষ্টি করতেও পারে, নাও পারে।
৮০০.
নিচের কোনটি কপার ধাতুর আকরিক?
  1. ক) ক্যালামাইন
  2. খ) বক্সাইট
  3. গ) চালকোসাইট
  4. ঘ) হেমাটাইট
ব্যাখ্যা
আকরিক:
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না।
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে।
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে ।
- এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে ।


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।