বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৭৭ / ১৪০ · ৭,৬০১৭,৭০০ / ১৪,০৮০

৭,৬০১.
পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস কত কিলোমিটার?
  1. ১২,৭১৫ কি.মি.
  2. ১২,৭৫৭ কি.মি.
  3. ৬,৪০০ কি.মি.
  4. ১২,৮০০ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আকার ও আকৃতি (Size and Shape of the Earth):
- ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল, মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথমবারের মতো মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেন।
- তিনি বুঝতে পারেন যে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং কিছুটা চাপা এবং স্ফীত। তার তোলা ছবিতেও পৃথিবীকে গোলাকার দেখা যায়।
- তবে বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি একদম নিখুঁত গোল নয়। বরং এটি কিছুটা চাপা ও স্ফীত হওয়ায় এর প্রকৃত আকৃতি হয় অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)।

•  পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যাস:
- নিরক্ষীয় ব্যাস (পূর্ব-পশ্চিমে) = ১২,৭৫৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় ব্যাস (উত্তর-দক্ষিণে) = ১২,৭১৪ কি.মি.
- পার্থক্য = ৪৩ কি.মি.।
- গড় ব্যাস = ১২,৭৩৪.৫ কিমি → প্রায় ১২,৮০০ কিমি (গণনার সুবিধার জন্য)।
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি:
- গড় ব্যাসার্ধ = ৬,৪০০ কি.মি.।
- নিরক্ষীয় পরিধি = ৪০,০৭৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় পরিধি = ৪০,০০৯ কি.মি.।
- গড় পরিধি ≈ ৪০,০০০ কি.মি.।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭,৬০২.
পেরিস্কোপ কোন নীতির কারণে কাজ করে?
  1. আলোর ব্যতিচার
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. আলোর বিচ্ছুরণ
  4. আলোর প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৭,৬০৩.
রেডিও ও ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. মাইকা 
  2. ম্যাগনেটাইট
  3. কোয়ার্টজ
  4. চুনাপাথর
ব্যাখ্যা

- রেডিও এবং ঘড়ি তৈরিতে কোয়ার্টজ (Quartz) ব্যবহৃত হয়। কারণ, এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাকে পাইজোইলেকট্রিক এফেক্ট বলা হয়। যখন কোয়ার্টজ স্ফটিকের ওপর যান্ত্রিক চাপ বা বিদ্যুৎ প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কম্পিত হয়। ঘড়িতে এই কম্পন ব্যবহার করে নির্ভুল সময় নির্ধারণ করা হয় এবং রেডিওতে নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি বা তরঙ্গ বজায় রাখতে এটি ব্যবহৃত হয়। 

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব ও অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট লোহা বা আয়রন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মাটি এসিডিক হলে এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৭,৬০৪.
কোন নীতির উপর ভিত্তি করে মিটার ব্রিজ তৈরি করা হয়?
  1. শক্তির সংরক্ষণ নীতি
  2. আধানের সংরক্ষণ নীতি
  3. হুইটস্টোন ব্রিজ নীতি
  4. ভরবেগের সংরক্ষণ নীতি
ব্যাখ্যা
মিটার ব্রিজ: 
- যে যন্ত্রে এক মিটার লম্বা সুষম প্রস্থচ্ছেদের একটি তারকে কাজে লাগিয়ে হুইটস্টোন ব্রিজের নীতি ব্যবহার করে কোনো অজানা রোধ নির্ণয় করা হয় তাকে মিটার ব্রিজ বলে। 
- মিটার ব্রিজ হুইটস্টোন ব্রিজের একটি ব্যবহারিক রূপ। 
- মিটার ব্রিজের সাহায্যে কোনো পরিবাহীর রোধ নির্ণয় করা হয় এবং তা থেকে পরিবাহীর উপাদানের আপেক্ষিক রোধ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৭,৬০৫.
ফলের সুগন্ধি মূলত কোন যৌগের কারণে হয়? 
  1. কার্বনেট 
  2. এস্টার 
  3. অ্যামাইনো এসিড 
  4. অ্যালকোহল 
ব্যাখ্যা

এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭,৬০৬.
গলনাঙ্কের মাধ্যমে কোনটি নির্ণয় করা যায়?
  1. পদার্থের চাপ
  2. পদার্থের ঘনত্ব
  3. পদার্থের বিশুদ্ধতা
  4. পদার্থের আয়তন
ব্যাখ্যা

- গলনাঙ্ক হলো যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে। একটি পদার্থ বিশুদ্ধ কিনা তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। বিশুদ্ধ পদার্থ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে, কিন্তু অবিশুদ্ধ পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায় বা বিস্তৃত হয়

গলনাঙ্ক: 
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না। 

অপরদিকে, 
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৬০৭.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কতটি ক্রোমোজোম থাকে?
  1. ২টি
  2. ২৩টি
  3. ৪২টি
  4. ৪৬টি
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- ক্রোমোজোম হচ্ছে বংশগতির প্রধান উপাদান। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন Strasburger (১৮৭৫) কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন Weldeyer ১৮৮৮ সালে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম।
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া বা ২ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬০৮.
চা-পাতার রেড রাস্ট রোগের সৃষ্টি করে-
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) শৈবাল
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) সায়ানো ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
সমাঙ্গ বর্গের প্রধানত ক্লোরোফিলযুক্ত ও স্বভোজী উদ্ভিদরাই শৈবাল। এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মাতে পারে। এদের দেহ এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে। এদের দেহে কোন পরিবহন কলা থাকে না। এর সবুজ, লাল, বাদামী ইত্যাদি নানা রঙের হতে পারে। ‘স্পাইরোগাইরা’ নামক শৈবাল জলাশয়ে পাওয়া যায়। সামদ্রিক শৈবাল থেকে এ্যালজিন প্রস্তুত করা হয় যা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আয়োডিন ও পটাশিয়ামের একটি ভাল উৎস সামদ্রিক শৈবাল। মৎস্য চাষে ফাইটোপ্ল্যাংক্টন বিশেষ ভূমিকা রাখে। এর প্রধান অংশই শৈবাল। চা-পাতার রেড রাস্ট শৈবাল জাতীয় মারাত্মক রোগ। পুকুরে শৈবাল ওয়াটারব্লুম সৃষ্টি করে। ফলে জলজ প্রাণী ও মাছের অক্সিজেনের অভাব হয়।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]
৭,৬০৯.
ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা-  
  1. 0
  2. + 2
  3. - 1
  4. + 1
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা নির্ণয়: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 1
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা + 1. 
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 2. 
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 2. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬১০.
পর্যায় সারণিতে রয়েছে -
  1. ক) ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ
  2. খ) ১৮টি পর্যায় ও ৭টি গ্রুপ
  3. গ) ৭টি পর্যায় ও ১৭টি গ্রুপ
  4. ঘ) ১৮টি পর্যায় ও ৬টি গ্রুপ
ব্যাখ্যা
আধুনিক পর্যায় সারণী সাতটি পর্যায় নিয়ে গঠিত। 

পর্যায় সারণী হচ্ছে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থকে একত্রে উপস্থাপনের একটি আন্তর্জাতিক গৃহীত ছক।
এই ছকের মাধ্যমে বিভিন্ন মৌলের মধ্যে ভৌত ও রাসয়নিক ধর্মের মিল এবং এসব ধর্মের ক্রমপরিবর্তন দেখানো হয়।
ল্যাভয়সিয়ে (Antoine Lavoisier) সর্বপ্রথম ১৭৮৯ সালে ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে মৌলসমূহকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করেন।

 আধুনিক পর্যায় সারণির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ-
- পর্যায় সারণিতে 7 টি পর্যায় বা আনুভূমিক সারি (row) ও 18 টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ (column) রয়েছে।
- প্রতিটি পর্যায় বাম দিক থেকে গ্রুপ–1 হিসেবে শুরু করে গ্রুপ–18 পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মূল পর্যায় সারণির নিচে 2 টি আনুভূমিক সারি এবং 14 টি খাড়া স্তম্ভবিশিষ্ট একটি ছোট ছক প্রদর্শিত হয়েছে। এটিও মূল পর্যায় সারণির পর্যায়–6 ও পর্যায়–7 এর অংশবিশেষ।
- পর্যায়-1 এ শুধু দুটি মৌল রয়েছে, যারা গ্রুপ-1 ও গ্রুপ–18 তে অবস্থিত। একইভাবে পর্যায়–2 ও পর্যায়-3 এ আটটি করে মৌল আছে যারা গ্রুপ–1 থেকে গ্রুপ–2 এবং গ্রুপ–13 থেকে গ্রুপ–18 এর মধ্যে অবস্থিত।
- পর্যায়–4 থেকে পর্যায়–7 পর্যন্ত সবগুলো পর্যায়ের প্রতিটি গ্রুপই মৌল দ্বারা পূর্ণ।
- পর্যায়–4 ও পর্যায়–5 এই পর্যায় দুটির ক্ষেত্রে 18টি গ্রুপে 18টি মৌল রয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক গ্রুপে একটি করে মৌল জায়গা দখল করে নিয়েছে।
- সাধারণভাবে মৌলের ধর্ম তার গ্রুপের উপর নির্ভরশীল। একই গ্রুপের সকল মৌলের ভৌত ও রাসয়নিক ধর্ম প্রায় একই রকমের হয়। 
- পর্যায় তালিকায় কোন মৌলের পর্যায় নির্ধারণ করা হয় ঐ মৌলের পরমাণু তার ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সর্বমোট কতটি কক্ষপথ ব্যবহার করেছে তার সংখ্যার উপর।  

সূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬১১.
শয়তানের নিশ্বাস (ডেভিলস ব্রেথ) কোন উদ্ভিদের ফুল থেকে উৎপন্ন হয়?
  1. পাতা শ্যাওলা
  2. কাকডুমুর 
  3. আফিম 
  4. ধুতুরা
ব্যাখ্যা

শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- শয়তানের নিশ্বাস বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতুরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়। 
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে। 
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়। 
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। 
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি। 
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।

৭,৬১২.
ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Labeo ilisha
  2. Tenualosa ilisha
  3. Cirrhinus ilisha
  4. Saccharum officinarum
ব্যাখ্যা
ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Tenualosa ilisha

• দ্বিপদ নামকরণ:
- দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature) - এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens,
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis,
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল)-এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris,
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica,
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis,
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus,
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha,
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa এবং
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali ইত্যাদি।

উৎস: ১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৭,৬১৩.
Where are red blood cells primarily stored in the human body?
  1. Heart
  2. Liver
  3. Kidneys
  4. Spleen
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্তকণিকা: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি- অবতল এবং চাকতি আকৃতির। 
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে। 
- অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ। এ কারণে লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহণ করতে পারে। 
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না। এ কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে। 

- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকণিকাগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়। 
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কণিকাগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬১৪.
সমান আয়তনের লোহা ও কাঠের মধ্যে লোহার ভর বেশি হওয়ার কারণ কী?
  1. লোহার ঘনত্ব কম
  2. লোহার ঘনত্ব বেশি
  3. লোহার আয়তন বেশি
  4. লোহার বেগ বেশি
ব্যাখ্যা

• লোহার ঘনত্ব বেশি — লোহার কণাগুলো কাঠের তুলনায় অধিক সন্নিবিষ্ট থাকায় সমান আয়তনে লোহার ভর বেশি হয়।

• ঘনত্ব:
- কোনো বস্তুর একক আয়তনের ভরকে ঘনত্ব বলা হয়।
- গাণিতিকভাবে, ρ = m/V.
- এখানে ρ → ঘনত্ব, m → ভর, V → আয়তন।
- SI একক → kg·m-3

• ঘনত্বের ধারণা:
- সমান আয়তনের ভিন্ন বস্তুর ভর ভিন্ন হতে পারে।
- যে বস্তুর কণাগুলো অধিক সন্নিবিষ্ট থাকে তার ঘনত্ব বেশি।
- লোহার কণাগুলো কাঠের তুলনায় অধিক সন্নিবিষ্ট।
- তাই সমান আয়তনে লোহার ভর বেশি হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৭,৬১৫.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম?
  1. ম্যানিস
  2. ভেড়া
  3. তেলাপোকা
  4. লিমুলাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬১৬.
সূর্যের কয়টি গ্রহ আছে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
ব্যাখ্যা
পূর্বে সৌরজগতের গ্রহের সংখ্যা ৯টি থাকলেও পরবর্তীতে প্লুটো গ্রহ তার গ্রহ হওয়ার যোগ্যতা হারায় যার ফলে বর্তমানে গ্রহের সংখ্যা ৮টি। 

- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি। 
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই। 
- পৃথিবীর উপগ্রহ ১টি (চাঁদ)। 
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের। 
- শনি গ্রহের উপগ্রহের্ সংখ্যা  ৮৩টি। 
- অপরদিকে বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮০টি। 

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।
৭,৬১৭.
তাপ প্রয়োগ করলে চুম্বকের চুম্বকত্ব-
  1. ক) হ্রাস পায়
  2. খ) বৃদ্ধি পায়
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকে
  4. ঘ) কখনো বৃদ্ধি পায় কখনো হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
Heat

Heat will reduce the magnetic force of a magnet. Heat speeds up the rate at which the particles within the magnet move. When they move faster, they move more sporadically and misalign. In order for a magnetic to be a magnetic most of the magnetic molecules must be facing the same direction, so that each end of the magnet has opposite charges. When the particles begin moving faster the polar molecules move around as well and not as many of them will end up facing the same direction. This results in a decrease in the magnetism of the magnet
source:usmagnetix.com

৭,৬১৮.
কোনটিকে জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়?
  1. NAD
  2. NADP
  3. GTP
  4. ATP
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস হিসেবে এটিপি এর ভূমিকা: 
- জীব কর্তৃক তার দেহে শক্তির উৎপাদন এবং ব্যবহারের মৌলিক কৌশলই হলো জীবনীশক্তি। 
- শক্তির মূল উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এ প্রক্রিয়ার প্রথমে আলোক পর্যায়ে ATP এবং NADPH নামক জৈব যৌগের সৃষ্টি হয়। এগুলোই হলো জীবনীশক্তি (Bioenergy)। 
- পরবর্তীতে সালোকসংশ্লেষণের কার্বন বিজারণ পর্যায়ে এ শক্তি শর্করা এবং অন্যান্য জৈব যৌগের অণুর রাসায়নিক বন্ধনীতে সঞ্চিত এবং আবদ্ধ হয়। 
- জীবন পরিচালনার জন্য জীবকোষে প্রতিনিয়ত হাজারো ধরনের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- এ সকল বিক্রিয়া জীবনীশক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। 

- কিছু শক্তিসমৃদ্ধ যৌগ উচ্চশক্তি ধারণ করে। 
- প্রয়োজনে উচ্চ শক্তিসমৃদ্ধ যৌগগুলো অন্যান্য বিক্রিয়ায় শক্তি যোগায়। 
- উচ্চ শক্তি সম্পন্ন যৌগের মধ্যে রয়েছে ATP, GTP, NAD, NADP, FADH, ইত্যাদি। 
- ATP শক্তি জমা রাখে এবং দরকার হলে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে। 
- এজন্য এটিপিকে (ATP) জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণের সময় ADP সৌর শক্তি গ্রহণ করে ATP এ পরিণত হয়। 
- আলোর উপস্থিতিতে ATP তৈরির এ প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলা হয়। 

- এ প্রক্রিয়ায় এটিপি এর তৃতীয় ফসফেট বন্ধনীতে প্রায় ৭৩০০ ক্যালরি সৌর শক্তি আবদ্ধ হয়। 
- এটিপি হলো মুক্ত শক্তির বাহক, এর ফসফেট বন্ধনীর মধ্যে শক্তি আবদ্ধ থাকে। 
- জৈব সংশ্লেষণ, পরিবহন এবং অন্যান্য বিপাকীয় কাজে শক্তির দরকার হলে ATP ভেঙ্গে ADP ও AMP তৈরি হয় এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্যবিদ্যালয়।
৭,৬১৯.
নিচের কোনটি বল পরিমাপের একক নয়?
  1. ডাইন
  2. পাউন্ডাল
  3. পাউন্ড-ওজন
  4. মোল
ব্যাখ্যা

- বল পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো নিউটন
এছাড়া আরো কিছু অপ্রচলিত একক রয়েছে, যেমন- ডাইন, পাউন্ডাল, পাউন্ড-ওজন, গ্রাম-ওজন, কিলোগ্রাম-ওজন।
- পদার্থের পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো মোল।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৭,৬২০.
কম্পটন ক্রিয়ায় আলোর কোন ধর্ম প্রকাশ পায়?
  1. ক) তরঙ্গ ধর্ম
  2. খ) কণা ধর্ম
  3. গ) তরঙ্গ ও কণা ধর্ম
  4. ঘ) উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ষোড়শ শতাব্দী থেকে মূলত আলোর প্রকৃতি সম্পৰ্কীয় বিজ্ঞান ভিত্তিক তত্ত্বসমূহের বিকাশ ঘটে। কিভাবে আলো উৎপত্তি হয়, কিভাবে আলো সঞ্চালিত হয় এবং দীপ্তমান বস্তু থেকে কিভাবে আমাদের চোখে আসে সে সম্পর্কে এ পর্যন্ত মোট চারটি তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে। এগুলো হলো :
১) কণা তত্ত্ব (Corpuscular Theory)
২) তরঙ্গ তত্ত্ব (Wave Theory)
৩) তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব (Electromagnatic Theory)
৪) কোয়ান্টাম তত্ত্ব (Quantum Theory)

আলোর দ্বৈত প্রকৃতি:
আধুনিক তত্ত্ব অনুসারে, আলোর তরঙ্গ এবং কণিকা উভয় ধর্মই বিদ্যমান। আরও ব্যাপকভাবে বলা যায় সব বস্তুরই কণা এবং তরঙ্গ ধর্ম বিদ্যমান। বিভিন্ন পরীক্ষণ থেকে দেখা যায় আলো ও বস্তু এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত করা যায়। বস্তুর ভর বেশি হলে সহজেই তার কণা ধর্ম প্রকাশ পায়।

-কম্পটন প্রভাব কে যাকে কম্পটন স্ক্যাটারিংও বলা হয়।
-এক্স-রে এবং অন্যান্য শক্তিশালী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বৃদ্ধি যা ইলেক্ট্রন দ্বারা স্থিতিস্থাপকভাবে বিক্ষিপ্ত হয়েছে; এ উপায়ে দীপ্তিময় শক্তি পদার্থে শোষিত হয়।
-প্রভাবটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অন্যতম ভিত্তি হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে।
- যা বিকিরণের পাশাপাশি পদার্থের তরঙ্গ এবং কণা উভয় বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৭,৬২১.
কোনটি মৌলিক পদার্থ?
  1. ক) চিনি
  2. খ) নিয়ন
  3. গ) পানি
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
যে সব পদার্থকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করলে ওই পদার্থ ছাড়া অন্য কোন পদার্থ পাওয়া যায়না তাদেরকে মৌল বা মৌলিক পদার্থ বলা হয়। এ পর্যন্ত মোট ১১৮টি মৌল চিহ্নিত হয়েছে যার মধ্যে ৯৪টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, বাকী ২৪টি কৃত্রিম উপায়ে তৈরী করা হয়। যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন। উৎসঃ বিজ্ঞান, বোর্ড বই।
৭,৬২২.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায়?
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. কয়লা
  3. খনিজ তেল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
- 'সমুদ্রস্রোত' একটি নবায়নযোগ্য শক্তি যা পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তি বলা হয়। 
- এই 'সমুদ্রস্রোত' নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬২৩.
নিচের কোনটি অপধাতু-
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) বোরন
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) লিথিয়াম
ব্যাখ্যা
যে মৌলের মধ্যে ধাতু ও অধাতু উভয়েরই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তাকে উপধাতু বা অপধাতু বলে। যেমন-বোরন (B), সিলিকন (Si), আর্সেনিক(As), টেলুরিয়াম(Te) ইত্যাদি। সূত্রঃ রসায়ন বিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭,৬২৪.
নিচের কোন রাশিটি শুধু মান দ্বারাই সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায়?
  1. ক) মন্দন
  2. খ) দ্রুতি
  3. গ) সরণ
  4. ঘ) বেগ
ব্যাখ্যা
- যে সকল ভৌত রাশিকে সম্পূর্ন রুপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাকে ভেক্টর রাশি বলে।
যেমন : সরণ, বেগ, ওজন, ত্বরণ, মন্দন ইত্যাদি।
শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তনে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়। 

- যে সকল ভৌত রাশিকে শুধু মান দিয়ে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে।
যেমন : দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর ইত্যাদি।
শুধু মানের পরিবর্তনে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৭,৬২৫.
লোহিত রক্ত কণিকা সৃষ্টি হয় -
  1. ক) প্লীহাতে
  2. খ) যকৃতে
  3. গ) অস্থিমজ্জায়
  4. ঘ) হৃৎপিণ্ডে
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকার আয়ু ১২০ দিন।
লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

[উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।]
৭,৬২৬.
হৃদপিণ্ডের বাইরে আচ্ছাদিত করা পাতলা ঝিল্লিটিকে কী নামে চিহ্নিত করা হয়?
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

• হৃদপিণ্ডের বাইরে থাকা পাতলা ঝিল্লিটিকে পেরিকার্ডিয়াম বলা হয়। এটি একটি দোতলা ঝিল্লি যা হৃদপিণ্ডকে ঘিরে রাখে এবং রক্ষা করে। পেরিকার্ডিয়ামের বাইরের স্তরটি শক্ত এবং ফাইব্রাস দিয়ে গঠিত, যা হৃদপিণ্ডকে শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা করে, আর ভিতরের স্তরটি সেরোস ঝিল্লি, যা হৃদপিণ্ডের পৃষ্ঠের সাথে সংযুক্ত। এই ঝিল্লি হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক গতিশীলতা নিশ্চিত করে এবং তার চারপাশে ছোট পরিমাণের তরল রাখে, যা ঘর্ষণ কমায়। তাই হৃদপিণ্ডের বাইরের এই ঝিল্লিটিকে পেরিকার্ডিয়াম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

- সঠিক উত্তর: গ) পেরিকার্ডিয়াম।

হৃদপিণ্ডের আবরণ:
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত।
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে।
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াম হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

হৃদপিণ্ডের প্রাচীর:
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট।
যেমন -
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬২৭.
বলবৃদ্ধিকরণ নীতি কোন সূত্রের সাহায্যে প্রতিপাদন করা হয়েছে?
  1. প্যাসকেলের সূত্র
  2. নিউটনের সূত্র
  3. ওহমের সূত্র
  4. কুলম্বের সূত্র
ব্যাখ্যা

- বলবৃদ্ধিকরণ নীতি প্যাসকেলের সূত্র থেকে এসেছে।

• প্যাসকেলের সূত্র:
- একটা আবদ্ধ পাত্রে তরল বা বায়বীয় পদার্থে বাইরে থেকে চাপ দেওয়া হলে সেই চাপ চারদিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয়ে পাত্রের সংলগ্ন গায়ে লম্বভাবে কাজ করবে।

- তরলে সৃষ্ট চাপ সবদিকে সমানভাবে বিস্তার লাভ করে।
এই নীতি ব্যবহার করে:
- হাইড্রোলিক প্রেস,
- হাইড্রোলিক ব্রেক,
- লিফট,
- কার জ্যাক,
ইত্যাদিতে কম বল প্রয়োগ করে বড় বল উৎপন্ন করা সম্ভব হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৬২৮.
কোনটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান অঙ্গ?
  1. পাতার কোলেনকাইমা টিস্যু
  2. এরেনকাইমা
  3. পাতার মেসোফিল টিস্যু
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান অঙ্গ।
 
• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়।
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাই-অক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।
- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬২৯.
SARS রোগটি প্রথম দেখা দেয়
  1. ক) ২০০৩ সালে
  2. খ) ২০০৪ সালে
  3. গ) ২০০৫ সালে
  4. ঘ) ২০০৬ সালে
ব্যাখ্যা
SARS(Severe acute respiratory syndrome) একটি ভাইরাল শ্বাসযন্ত্রের রোগ। ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে এটি প্রথম চীনে দেখা দেয় এবং ৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
Source: www.who.int/
৭,৬৩০.
PH এর মান দ্বারা পানিতে কিসের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) লিথিয়াম
ব্যাখ্যা
PH স্কেল:
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন PH স্কেল ব্যবহার করেন।
- PH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়।
- PH এর মান দ্বারা পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) -এর পরিমাণ পরিমাপ করা হয়।  
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) -এর ঘনমাত্রার ঋনাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের PH বলে। অর্থাৎ PH= -log[H+
- PH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের PH মাপা হয়।
- PH মিটারে PH স্কেল থাকে।
- দ্রবণের PH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- দ্রবণের PH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি নিরপেক্ষ হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৩১.
ডায়নামোতে বৈদ্যুতিক শক্তি কোন শক্তি থেকে রূপান্তরিত হয়?
  1. তাপ শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. চৌম্বকীয় শক্তি
ব্যাখ্যা
• ডায়নামোতে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তি থেকে রূপান্তরিত হয়। 

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• ডায়নামো:
- ডায়নামো হলো একটি যন্ত্র যা যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এটি তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) এর নীতিতে কাজ করে।

• কার্যপ্রণালী:
→ যান্ত্রিক শক্তির প্রয়োগ:
- ডায়নামোর একটি কয়েল (তামার তারের পেঁচানো অংশ) চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে ঘুরানো হয়।
- এই ঘূর্ণন সাধারণত বাইরে থেকে যান্ত্রিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে করা হয় (যেমন: সাইকেলের প্যাডেল, হাইড্রো টারবাইন বা বায়ু টারবাইন, ডিজেল বা পেট্রোল ইঞ্জিন)।
→ তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- ফ্যারাডের সূত্র অনুসারে, চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে কয়েল ঘুরালে তাতে বিদ্যুৎপ্রবাহ (তড়িৎ শক্তি) উৎপন্ন হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় যান্ত্রিক শক্তি → বৈদ্যুতিক শক্তি রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
- Faraday's Law of Electromagnetic Induction – Britannica. 
৭,৬৩২.
টলেন বিকারক কোন শ্রেণির জৈব যৌগকে শনাক্ত করে?
  1. অ্যালকোহল
  2. অ্যালডিহাইড
  3. কিটোন
  4. কার্বোক্সিলিক এসিড
ব্যাখ্যা

◉ টলেন বিকারক (Tollens' reagent) মূলত অ্যালডিহাইড শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

টলেন বিকারক:
- অতিরিক্ত NH4OH দ্রবণে AgNO3 যোগ করলে যে বর্ণহীন দ্রবণ উৎপন্ন হয় তাকে টলেন বিকারক বলা হয়। এতে [Ag(NH3)2]+ আয়ন থাকে। এটি একটি মৃদু জারক।
AgNO3 + NH4OH→ [Ag(NH3)2]OH + NH4NO3 + H2O

টলেন বিকারকসহ অ্যালডিহাইডকে একটি কাঁচের টেস্টটিউবে উত্তপ্ত করলে টেস্টটিউবের গায়ে কাঁচের মত ধাতব সিলভারের প্রলেপ পড়ে দর্পণের মত দেখায়। ইহাকে সিলভার দর্পন বলে। কিটোন এ বিক্রিয়া প্রদর্শন করে না। এ বিক্রিয়াটি তাই অ্যালডিহাইড শনাক্তকরণের বিক্রিয়া।
CH3CHO (অ্যালডিহাইড) + 2[Ag(NH3)2] OH→ H3C-COONH4 + 2Ag↓ + 3NH3↑ + H2O

এছাড়াও, অ্যালডিহাইড শনাক্তকরণে ফেহলিং দ্রবণ ব্যাবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) অ্যালকোহল - অ্যাসিটাইল ক্লোরাইড পরীক্ষা অথবা লুকাস বিকারক দ্বারা অ্যালকোহল শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়। 
গ) কিটোন - আইডোফর্ম টেস্ট অথবা 2,4-ডাইনাইট্রোফিনাইলহাইড্রাজিন (2,4-DNPH) টেস্ট দ্বারা কিটোন শনাক্ত করা হয়। 
ঘ) কার্বোক্সিলিক এসিড - সোডিয়াম বাইকার্বোনেট টেস্ট দ্বারা শনাক্ত করা হয়। 

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭,৬৩৩.
নিচের কোনটি ছোট দিনের উদ্ভিদ?
  1. ক) পাট
  2. খ) মূলা
  3. গ) গম
  4. ঘ) যব
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের ফুল ধরনের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে।
- ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. ছোট দিনের উদ্ভিদ:
সয়াবিন, আলু, কসমস, ইক্ষু, শিম, ডালিয়া, তামাক, চন্দ্রমল্লিকা, রোপা আমন, পাট ইত্যাদি।

২. বড় দিনের উদ্ভিদ:
পালংশাক, লেটুস, আফিম, ঝিঙ্গা, যব, মূলা ইত্যাদি।

৩. দিন নিরপেক্ষ উদ্ভিদ:
সূর্যমুখী, টমেটো, শসা, কার্পাস, আউশ ধান ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭,৬৩৪.
কোন বিক্রিয়াটি ইলেকট্রন স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়?
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সকল জারন বিজারন বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে-
১। সংযোজন বিক্রিয়া 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া 
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
৪। দহন বিক্রিয়া 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৩৫.
নিচের কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন চক্রের শুরু হয়?
  1. নাইট্রিফিকেশন
  2. ডিনাইট্রিফিকেশন
  3. ফিক্সেশান
  4. এসিমিলেশন
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন চক্র: 
- নাইট্রোজেন চক্র পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 
- নাইট্রোজেন জীবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি কিন্তু বায়ুমণ্ডলে এটি বিপুল পরিমাণে থাকলেও কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ এটি সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। 
- নাইট্রোজেন চক্র এমন একটি জৈবভূরাসায়নিক প্রক্রিয়া যেটি প্রায় নিষ্ক্রিয় নাইট্রোজেন গ্যাসকে জীবের ব্যবহারের উপযোগী করে রূপান্তরিত করে তুলে। 
- এই চক্রের মাধ্যমে নাইট্রোজেন গ্যাস বায়ুমণ্ডল থেকে মাটিতে আসে এবং চক্র শেষে আবার বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়। 
- নাইট্রোজেন চক্রের কয়েকটি সক্রিয় প্রক্রিয়া নিচে আলোচনা করা হলো- 

নাইট্রোজেন ফিক্সেশান (Fixation): 
- নাইট্রোজেন চক্র শুরু হয় নাইট্রোজেন ফিক্সেশান দিয়ে যেখানে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া দিয়ে বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন অ্যামোনিয়াতে রূপান্তরিত হয়। 
- এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মাটিতেই থাকে এবং এটি হচ্ছে উদ্ভিদের সঙ্গে এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর একধরনের সিম্বিওটিক সম্পর্ক। 

নাইট্রিফিকেশন (Nitrification): 
- এই প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া প্রথমে নাইট্রাইট পরে নাইট্রেট আয়নে রূপান্তরিত হয়। 
- একবার নাইট্রেটে পরিণত হলে উদ্ভিদ খুব সহজে সেটি পুষ্টির অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

এসিমিলেশন (Assimilation): 
- এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রেট গ্রহণ করে সেগুলো ব্যবহার করে নাইট্রোজেন গঠিত অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য অণু গঠন করে যেগুলো হচ্ছে ডিএনএ এবং প্রোটিন তৈরি করার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- প্রাণী তাদের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন উদ্ভিদ থেকে পেয়ে থাকে। 

এমোনিফিকেশন (Armonification): 
- যখন উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর মৃত্যু ঘটে তখন ব্যাকটেরিয়া এবং ফানজাই তাদের দেহাবশেষ পচিয়ে আবার অ্যামোনিয়াতে রূপান্তরিত করে দেয়। 
- নাইট্রোজেন ফিক্সেশানে প্রস্তুত অ্যামোনিয়া যেভাবে নাইট্রেটে পরিণত হয়, ঠিক একইভাবে অ্যামোনোফিকেশানে প্রস্তুত অ্যামোনিয়াও নাইট্রেটে পরিণত হয়। 

ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification): 
- অক্সিজেনের ঘাটতি আছে এরকম এলাকায় এই প্রক্রিয়ায় ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া নাইট্রেটকে ভেঙে আবার নাইট্রোজেনে পরিণত করে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেয়। 

উল্লেখ্য যে, 
- অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করার কারণে মাটিতে নাইট্রেটের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে সেটি একধরনের পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি করেছে। 
- কাজেই নাইট্রোজেন চক্রটির সঠিক নিয়ন্ত্রণ মানুষের জন্য একটি জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান (অনুসন্ধানী পাঠ), নবম শ্রেণি।
৭,৬৩৬.
'সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে'- সূত্রটি কে প্রদান করেন?
  1. কোপারনিকাস
  2. গ্যালিলিও
  3. কেপলার
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা
• কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- তিনি সৌর জগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত

• প্রথম সূত্র - সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র - প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র - সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৩৭.
রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রতীকি প্রকাশকে কী বলা হয়?
  1. ক) আণবিক সংকেত
  2. খ) প্রতীক
  3. গ) রাসায়নিক সমীকরণ
  4. ঘ) এখানে সঠিক উত্তর দেয়া নেই
ব্যাখ্যা
- প্রতীক, সংকেত বা চিহ্নের সাহায্যে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে প্রকাশ করার পদ্ধতিকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়।
- অন্যভাবে, রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রতীকি প্রকাশকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে। 
- অর্থাৎ একটি বিক্রিয়ার বিক্রিয়ক ও উৎপাদের মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশের সহজতম উপায় হলো রাসায়নিক সমীকরণ।
- সঠিক রাসায়নিক সমীকরণ লিখে বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থের সাথে বিক্রিয়ক পদার্থের মাত্রিক সম্পর্ক বের করা যায়।
 
উৎস: রসায়ন , এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,৬৩৮.
জীবাশ্মগত বিদ্যাকে বলা হয়-
  1. ক) Parasitology
  2. খ) Ophthalmology
  3. গ) Palaeontology
  4. ঘ) Helminthology
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি ।
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা।
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো।
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়।
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,৬৩৯.
ভালো কোলেস্টরল নিচের কোনটিকে বলা হয়?
  1. ক) এলডিএল
  2. খ) এইচডিএল
  3. গ) এমডিএল
  4. ঘ) টিডিএল
ব্যাখ্যা
- HDL-কে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- আর ট্রাই-গ্লিসারাইড চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে।
- ট্রাই-গ্লিসারাইড মানুষের খাদ্যের প্রাণিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে।
 
- মানবদেহের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
- LDL-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়, কারণ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- সাধারণত মানুষের রক্তে শতকরা ৭০ ভাগ LDL থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৭,৬৪০.
TT টিকা এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Tetanus Toxin
  2. Tuberculosis Toxin
  3. Tetanus Toxoid
  4. Typhoid Toxoid
ব্যাখ্যা
• TT  টিকা এর পূর্ণরূপ Tetanus Toxoid.
- সাধারণত ধনুষ্টকার রোগ প্রতিরোধে এই টিকা দেওয়া হয়ে থাকে।

• বিভিন্ন রোগের টিকা:
- যক্ষার টিকা: বিসিজি B.C.G(Bacillus Calmette-Guérin)। 
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকারের টিকা: ডিপিটি (D.P.T)। 
- পোলিও টিকা: ওপিভি OPV( Oral Polio Vaccine)। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭,৬৪১.
নিম্নের কোনটি অজৈব এসিড?
  1. ল্যাকটিক এসিড
  2. সাইট্রিক এসিড
  3. অ্যাসিটিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- অজৈব এসিড বা খনিজ এসিড হলো সেই সকল এসিড যা সাধারণত খনিজ পদার্থ থেকে তৈরি হয় এবং এদের অণুতে কার্বন পরমাণুর উপস্থিতি থাকে না (ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে)। সালফিউরিক এসিড (H2SO4) একটি শক্তিশালী অজৈব এসিড যা শিল্পকারখানায় বহুল ব্যবহৃত হয়। 

জৈব এসিড: 
- জলপাই, করমচা, আমলকি ও কাঁচা আমড়া ও লেবুতে সাইট্রিক এসিড থাকে। 
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে। 
- টকদই এর মধ্যে থাকে ল্যাকটিক এসিড। 
- বাজারে কাঁচের বোতলে যে ভিনেগার পাওয়া যায় তা মূলত ইথানোয়িক এসিড (CH3-COOH)-এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণ। 
- বাজারে বিভিন্ন রকমের সফট ড্রিংকস পাওয়া যায় যেগুলো প্রকৃত অর্থে কার্বনিক এসিডের দ্রবন। 
- পাকস্থলির দেয়াল হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) উৎপন্ন করে। এ হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাবারের সাথে বিভিন্ন ক্ষতিকারক অণুজীবকে মেরে ফেলে এবং খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। আবার পাকস্থলি থেকে অতিরিক্ত এসিড উৎপন্ন হলে বুক জ্বালা ও গলায় জ্বালাপোড়া অনুভব করে থাকি। তখন আবার অতিরিক্ত এসিডকে প্রশমিত করতে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3) অথবা এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ সেবন করে থাকি। 

অজৈব এসিড: 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), নাইট্রিক এসিড (HNO3) ও সালফিউরিক এসিড (H2SO4) হলো অজৈব এসিড।
- পানিতে বিভিন্ন অনুপাতে যোগ করে তাদের দ্রবণ প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- জলীয় দ্রবণে থেকেই এরা তাদের এসিড ধর্ম প্রদর্শন করে। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাসের কোনো এসিড ধর্ম থাকে না। হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন করে থাকে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৪২.
উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে কোনটি?
  1. ক) কোষগহবর
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) প্লাস্টিড
  4. ঘ) লাইসোজম
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে থাকে।

উদ্ভিদ কোষে অবস্থিত দুটি পর্দা পরিবেষ্টিত এবং বিশেষ বিপাকীয় কাজে লিপ্ত (রঞ্জক যুক্ত বা রঞ্জক বিহীন) অঙ্গাণুকে প্লাস্টিড বলে।
প্লাস্টিডের কাজ (Function of Plastid)-
১. খাদ্য প্রস্তুত করা
২. খাদ্য সঞ্চয় করা এবং
৩. উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৭,৬৪৩.
অ্যাসিটিক এসিড কি কাজে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে
  2. খ) চামড়া সংরক্ষণে
  3. গ) আইপিএস এর ব্যাটারিতে
  4. ঘ) ফল পাকানোতে
ব্যাখ্যা
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয় । - ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) এর 6 -10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 
- এর আরেক নাম সিরকা। 
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতিসহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
তা ছাড়াও এর তেমন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
 
এটি যেভাবে কাজ করে তা হলো খাদ্যদ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়।  এ মান 5 থেকে 4 এর মধ্যে নেমে আসে। 
তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন, অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6-5-7-5 এর মধ্যে। তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না এবং এটি বহুল প্রচলিত।
 
উৎস : রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,৬৪৪.
চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যে আকর্ষণ বিকর্ষণ বল সম্পর্কে সূত্র আবিস্কার করেন-
  1. মাইকেল ফ্যারাডে
  2. উইলিয়াম গিলবার্ট
  3. চার্লস অগাস্টিন কুলম্ব
  4. উইলহেলম এডুয়ার্ড ওয়েবার
ব্যাখ্যা
• কূলম্বের সূত্র:
১৭৮৫ খৃষ্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী কুলম্ব চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যে আকর্ষণ বিকর্ষণ বল সম্পর্কে একটি সূত্র আবিস্কার করেন।
তাঁর নামানুসারে এই সূত্রটিকে কূলম্বের সূত্র বলে।
সূত্র: নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি পৃথক চুম্বকের মেরুর মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বা বলের মান মেরুদ্বয়ের শক্তির গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যকার দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক এবং এই বল মেরুদ্বয়ের সংযোগ সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
ধরা যাক, মেরুদ্বয়ের শক্তি যথাক্রমে m1 ও m2 এবং এদের মধ্যবর্তী দূরত্ব d । মেরুদ্বয়ের মধ্যকার ক্রিয়াশীল বল F হলে,



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৪৫.
কৃত্রিম উপায়ে তৈরি মৌলিক পদার্থের সংখ্যা কত?
  1. 15
  2. 18
  3. 20
  4. 22
ব্যাখ্যা

• মৌলিক পদার্থ (Elements):
- মৌলিক পদার্থ হলো সেই পদার্থ যা একধরনের পরমাণু দ্বারা গঠিত, এবং সাধারণ রাসায়নিকভাবে ভাঙা যায় না।
- যেমন: হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), কার্বন (C) ইত্যাদি।

• প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম মৌলিক পদার্থ:
- পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া মৌলিক পদার্থের সংখ্যা প্রায় ৯৮টি।
- যেসব মৌলিক পদার্থ প্রাকৃতিকভাবে নেই, সেগুলো বিজ্ঞানীরা ল্যাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি করেছেন।
- উদাহরণ: টেকনেশিয়াম (Tc), প্লুটোনিয়াম (Pu), অস্টেটিন (At) ইত্যাদি।

• কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থের সংখ্যা:
- বর্তমান পর্যন্ত ২০টি মৌলিক পদার্থ কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে।
- এই মৌলিক পদার্থগুলো সাধারণত পরমাণু সংখ্যার দিক থেকে 93 বা তার বেশি (যেমন: Neptunium, Californium, Fermium, Oganesson)।
- এদের অধিকাংশ সংক্ষিপ্ত জীবনকালযুক্ত এবং দ্রুত বিঘ্নিত হয়।

উৎস: NCTB, সাধারণ বিজ্ঞান।

৭,৬৪৬.
পর্যায় সারণির কোন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে? 
  1. ক্ষারধাতু
  2. মৃৎক্ষার
  3. হ্যালোজেন
  4. নিষ্ক্রিয় ধাতু
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে- 
• ফ্লোরিন (F), 
• ক্লোরিন (Cl), 
• ব্রোমিন (Br), 
• আয়োডিন (I), 
• অ্যাস্টাটিন (At) এবং 
• টেনেসিন (Ts)। 

- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবন উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৪৭.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি?
  1. ক) ক্রনোমিটার
  2. খ) ট্যাকোমিটার
  3. গ) হাইগ্রোমিটার
  4. ঘ) ক্রেসকোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা প্রিমাপক যন্ত্র: ক্রনোমিটার 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র: ট্যাকোমিটার 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র: ক্রেসকোগ্রাফ 
- বায়ুর আদ্রর্তা পরিমাপক যন্ত্র: হাইগ্রোমিটার 
 
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭,৬৪৮.
পর্যায়বৃত্ত গতির গতিপথ কোন ধরনের হতে পারে?
  1. বৃত্তাকার
  2. উপবৃত্তাকার
  3. সরলরৈখিক
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পর্যায়বৃত্ত গতি (Periodic Motion): 
- একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর যদি গতির পুনরাবৃত্তি হয়, তবে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলা হয়। 
- যে সময়কাল পরপর এই পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাকে বলে এই গতির পর্যায়কাল। 
- পর্যায়বৃত্ত গতিতে চলনশীল একটি বস্তুকণা তার গতিপথের প্রতিটি বিন্দুকে এক পর্যায়কাল পরপর একই বেগে অতিক্রম করে। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন পর্যায়বৃত্ত কারণ হৃৎপিণ্ডটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একইভাবে স্পন্দিত হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত গতি বৃত্তাকার (ফ্যানের পাখা) উপবৃত্তাকার (সূর্যকে ঘিরে হ্যালির ধূমকেতুর কক্ষপথ), সরলরৈখিক (স্প্রিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা দুলতে থাকা বস্তু) কিংবা অন্য যেকোনো আকৃতির পথে হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৪৯.
BCG টিকা কোন রোগ প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার করা হয়?
  1. যক্ষ্মা
  2. হাম
  3. হেপাটাইটিস
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

• BCG টিকা প্রধানত যক্ষ্মা (Tuberculosis) প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এটি Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। সাধারণত শিশুরা জন্মের পর এই টিকা গ্রহণ করে, যা শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে যক্ষ্মার সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে। BCG টিকা কাশির মাধ্যমে ছড়ানো সংক্রমণকে কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অন্যান্য রোগ যেমন হাম, হেপাটাইটিস বা টাইফয়েড প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত হয় না।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ক) যক্ষ্মা।

• যক্ষ্মা:
- যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। যেকোনো লোক যেকোনো সময় এ রোগ দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।
- যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস ইত্যাদি অঙ্গে হতে পারে। 

• দেহে এ রোগের আক্রমণ ঘটলে সহজে এর লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
-  যখন জীবাণুগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধক শ্বেত রক্তকণিকাকে পরাস্ত করে দেহকে দুর্বল করে, তখনই এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- এ মারাত্মক রোগের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে হলে যক্ষ্মা প্রতিষেধক বিসিজি টিকা দিতে হবে।
- সাধারণত শিশুর জন্মের পর থেকে এক বছর বয়সের মধ্যে এ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৭,৬৫০.
প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত কোনটি?
  1. অ্যালকিন
  2. অ্যালকেন
  3. অ্যালকাইন
  4. প্রোপাইন
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150° - 180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম: 
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত। 
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি। 
- তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ। 
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত। 
- এ কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। 
- এমনকি এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৫১.
বর্তমানে কোন অ্যালকোহলকে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. প্রোপান 
  2. গ্যাসোলিন 
  3. মিথানল 
  4. ইথানল 
ব্যাখ্যা

অ্যালকোহল: 
- মিথানল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। 
- মিথানল মূলত অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- রাসায়নিক শিল্পে ইথানয়িক এসিড, বিভিন্ন জৈব এসিডের এস্টার প্রস্তুত করা হয়। 
- ইথানলকে প্রধানত পারফিউম, কসমেটিকস ও ওষুধ শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

- ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের ইথানলকে ওষুধ শিল্পে এবং রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলের 96% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (rectified spirit) বলে। 
- পারফিউম শিল্পেও ইথানলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পারফিউমে ইথানল ব্যবহারের পূর্বে তাকে গন্ধমুক্ত করা হয়। 
- ওষুধ ও খাদ্য শিল্প ব্যতীত অন্য শিল্পে রেকটিফাইড স্পিরিট সামান্য মিথানল যোগে বিষাক্ত করে ব্যবহার করা হয়। একে মেথিলেটেড স্পিরিট (methylated spirit) বলে। কাঠ এবং ধাতুর তৈরি আসবাবপত্র বার্নিশ করার জন্য মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়। 

- বর্তমানে ব্রাজিলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভুট্টা) থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ (by-product) চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে, অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৬৫২.
আল-কিমিয়া কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) স্প্যানিশ
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
আল-কেমি শব্দটি আরবি 'আল-কেমিয়া' থেকে উদ্ভুত, যা দিয়ে মিশরীয় সভ্যতাকে বুঝানো হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৭,৬৫৩.
তাপমাত্রা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক কোনটি?
  1. কেলভিন
  2. ফারেনহাইট
  3. সেলসিয়াস
  4. ডিগ্রী সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
তাপ (Heat): 
- তাপ এক প্রকার শক্তি যার অভাবে ঠান্ডা এবং যার প্রভাবে বস্তু গরম হয়। 
- এক সময় বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল তাপ ক্যালরিক নামে এক প্রকার সূক্ষ্ম তরল বা বায়বীয় পদার্থ, কোনো বস্তুতে ক্যালরিক কম হলে বস্তু ঠান্ডা এবং বেশি হলে বস্তু গরম হয়। 
- ১৭৭৮ খ্রি: বিজ্ঞানী কাউন্ট রামফোর্ড আবিষ্কার করেন, পদার্থের মধ্যে অণুসমূহের গতির ফলই তাপ। 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তি দ্বারা কাজ সম্পাদন হয়, এই শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায় আবার অন্য শক্তিও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
যেমন- বৈদ্যুতিক বাতিতে বিদ্যুৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে এবং তাপ শক্তিকে আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- তাপের S.I একক জুল (J), এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো, 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
- তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

তাপমাত্রা (Temparature): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিতে থাকলে, যত তাপ দেয়া হয় তত বেশি গরম হয়। গরমের মাত্রা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি। 
- দু'টি বস্তুকে পরস্পরের তাপীয় সংস্পর্শে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। 
- এই আদান প্রদান বস্তুর মধ্যে তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর। 
- বস্তু দুটির তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ একটি থেকে অন্যটিতে (গরমটি থেকে ঠান্ডাটিতে) প্রবাহিত হয়, বস্তুর এই তাপীয় অবস্থার নাম উষ্ণতা বা তাপমাত্রা। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের S.I বা আন্তর্জাতিক একক কেলভিন, তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। যেমন- সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট । 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৫৪.
পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া কোনটির উপর নির্ভরশীল? 
  1. রক্ষীকোষদ্বয়ের অবস্থানের উপর
  2. রক্ষীকোষদ্বয়ের গঠন ও স্ফীতির উপর
  3. রক্ষীকোষদ্বয়ের নিউক্লিয়াসের অবস্থান ও গঠনের উপর
  4. রক্ষীকোষদ্বয়ের ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা ও গঠনের উপর
ব্যাখ্যা
পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার কৌশল: 
- রক্ষীকোষদ্বয়ের স্ফীতি অথবা শিথিল অবস্থা পত্ররন্ধ্রের খোলা বা বন্ধ হতে সহায়তা করে। 
- আমরা জানি, পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষদ্বয়ের রন্ধ্র সংলগ্ন প্রাচীর বেশ পুরু কিন্তু বহির্ভাগের অর্থাৎ বহিঃত্বক কোষ সংলগ্ন প্রাচীর বেশ পাতলা হয়। 
- পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কারণে রক্ষী কোষে অন্তঃঅভিস্রবণ ও বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- রক্ষীকোষদ্বয় পার্শ্বস্থ বহিঃত্বক কোষ থেকে অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে স্ফীত হয়। 
- স্ফীতি হওয়ার ফলে রক্ষী কোষের বাইরের পাতলা প্রাচীরের দিকে অতিরিক্ত চাপের টানে ভেতরের পুরু প্রাচীরটি কিছুটা বেঁকে যায় এবং রন্ধ্র খুলে যায়। 
- অপরপক্ষে বহিঃঅভিস্রবণের ফলে রক্ষীকোষদ্বয় স্ফীতি হারিয়ে শিথিল হয়, ফলে রন্ধ্র বন্ধ হয়। 
- কাজেই পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া রক্ষীকোষদ্বয়ের গঠন ও স্ফীতির উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৫৫.
কোনটি Fat Soluble Vitamin নহে-
  1. ক) Vitamin A
  2. খ) Vitamin C
  3. গ) Vitamin D
  4. ঘ) Vitamin E
ব্যাখ্যা
Fat-Soluble Vitamins: A, D, E, and K.
৭,৬৫৬.
কোন রক্ত গ্রুপকে সার্বজনীন দাতা বলা হয়?
  1. বি
  2. এ বি
ব্যাখ্যা
'ও' গ্রুপের রক্তে কোন অ্যান্টিজেন থাকে না যার কারণে যেকোন গ্রুপের রক্তকেই ‘ও’ গ্রুপের রক্ত দেওয়া যায়।
এজন্যে ‘ও’ গ্রুপকে সার্বজনীন দাতা গ্রুপ বলে।
এবি গ্রুপের রক্তের সিরামে কোন অ্যান্টিবডি না থাকায় সকল গ্রুপের রক্তই এবি গ্রুপ নিতে পারে
বিধায় এবি গ্রুপকে বলা হয় সার্বজনীন গ্রহীতা গ্রুপ।

সূত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৭,৬৫৭.
অনিশ্চয়তা নীতি প্রবর্তন করেন কে?
  1. আর্থার কম্পটন
  2. লুই দ্য ব্রগলি
  3. নিলস বোর
  4. ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ
ব্যাখ্যা

• অনিশ্চয়তা নীতি (Uncertainty Principle):
- প্রবর্তন করেন Werner Heisenberg.
- এটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি।
- ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার (যেমন ইলেকট্রন) অবস্থান ও ভরবেগ একই সাথে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায় না।
- কোনো কণার অবস্থান যত বেশি নির্ভুলভাবে জানা যাবে, তার ভরবেগ তত কম নির্ভুলভাবে জানা যাবে—এবং বিপরীতটিও সত্য।

• গুরুত্ব:
- এটি প্রমাণ করে যে ক্ষুদ্র জগতে (Quantum world) নির্ধারিত (deterministic) ধারণা প্রযোজ্য নয়।
- কণার আচরণ সম্ভাবনাভিত্তিক।
- শাস্ত্রীয় পদার্থবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এখানেই স্পষ্ট হয়।

• সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা (আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিকাশে অবদান):
- Max Planck — কোয়ান্টাম তত্ত্ব,
- Albert Einstein — আপেক্ষিকতা তত্ত্ব,
- Niels Bohr — পরমাণু মডেল,
- Louis de Broglie — বস্তু তরঙ্গ তত্ত্ব,
- Arthur Compton — কম্পটন প্রভাব।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৫৮.
আইভরি ব্ল্যাক কি?
  1. ক) রক্ত কয়লা
  2. খ) সক্রিয় কয়লা
  3. গ) কালো রঙ
  4. ঘ) অস্থিজ কয়লা
ব্যাখ্যা

'আইভরি ব্ল্যাক' হলো অস্থিজ কয়লা।

প্রাণিদেহের চর্বিমুক্ত হাড়ের বিধ্বংসী পাতনের ফলে উৎপন্ন হয় প্রাণীজ বা অস্থিজ কয়লা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কয়লার কার্বনের অনুপাত বাড়তে থাকে এবং কয়লার গুণগত মানও বৃদ্ধি পায়। এজন্য খনিজ কয়লার মধ্যেও শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে।
যেমন: পীট কয়লা, লিগনাইট, বিটুমিনাস এবং অ্যানথ্রাসাইট।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন পাঠ্যবই।

৭,৬৫৯.
এপিলেপসি মূলত শরীরের কোন অঙ্গের ব্যাধি?
  1. হৃদপিণ্ড
  2. ফুসফুস
  3. মস্তিষ্ক
  4. যকৃৎ
ব্যাখ্যা

• এপিলেপসি মূলত মস্তিষ্কের একটি রোগ।

এপিলেপসি:
- এটি মস্তিষ্কের একটি রোগ।
- এ রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়।
- আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর খিঁচুনী বা কাঁপুনি দিতে থাকে।
- অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়।
- অনেক সময় রোগী হঠাৎ সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং শরীরে কাঁপুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
- কোন কারণে রোগী পানিতে পড়লে নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। ফলে ডুবে মারা যায়।
- এ রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে।
- তবে ৫-২০ বছর বয়সে ব্যাপকতা বেশি দেখা যায়।

কারণ:
- এপিলেপসির মূল কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি।
- তবে প্রধান কারণ হলো- মস্তিষ্কের অবস্থাগত কারণ, ইসকেমিক' স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে, মাথায় আঘাতজনিত কারণ, যেমন মেনিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, এইডস, মস্তিষ্কের বিকৃতি, টিউমার ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৬০.
The study of light and vision is known as-
  1. ক) Astronomy
  2. খ) Acoustics
  3. গ) Neurology
  4. ঘ) Optics
ব্যাখ্যা
Optics - the scientific study of sight and the behaviour of light, or the properties of transmission and deflection of other forms of radiation.

source: oxford dictionary
৭,৬৬১.
আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক কোথায় শুরু হয়? 
  1. মুখবিবর 
  2. পাকস্থলী 
  3. ক্ষুদ্রান্ত্র 
  4. বৃহদান্ত্র 
ব্যাখ্যা

পরিপাকতন্ত্রে খাদ্য দ্রব্যের পরিপাক ও পরিশোষণ: 
- দৈনন্দিন জীবনে মানুষ যে সব আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তন্মধ্যে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য।
- এ সকল খাদ্য পরিপাকে যে সকল সাহায্যকারী এনজাইম ভূমিকা রাখে তা হলো- 
১. পাচক রস: পেপসিনোজেন ও জিলেটিনেজ। 
২. অগ্ন্যাশয় রস: ট্রিপসিনোজেন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ- এ. বি ইলাস্টেজ, কোলাজিনেজ প্রভৃতি। 
৩. আন্ত্রিক রস: অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ ও প্রোলিডেজ। 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়। 
- মুখবিবরের লালা রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষের কোনো পরিপাক হয় না। 
- কেবলমাত্র খাদ্য চিবানোর ফলে লালারস মিলে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৬২.
মানবদেহের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা কত?
  1. ৬০-১০০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
  2. ৮০-১২০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
  3. ১২০-১৪০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
  4. ১৪০-১৬০ মি.গ্রা/ডেসি.লি
ব্যাখ্যা
• ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ:
- ডায়াবেটিস এক প্রকার বিপাকজনিত রোগ।
- মানবদেহের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৮০-১২০ মি.গ্রা/ডেসি.লি।
- রক্তে যদি এ মাত্রা বেড়ে যায় তাহলে তাকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে।
- এ রোগে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেড়ে যায়।
- ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের, যেমন হৃদপিন্ড, বৃক্ক, চোখ, ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে।
- ডায়োবেটিস রোগীদের কারোনারি হৃদরোগ হওয়ায় প্রবণতা বেশি থাকে। যা হৃদপিন্ডকে অচল করে দেয় এবং রোগী স্ট্রোক হয়ে মারা যায়।
- এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্ত চাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্ত চাপ বা হাইপারটেনশন হয়।
- উচ্চ রক্ত চাপ করোনারি হৃদরোগের পূর্ব লক্ষন।
- ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে করোনারি হৃদরোগে আক্রান্তহওয়ার সম্বাবনা খুবই বেশি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৬৩.
কোনটির প্রভাবে ফলের রং লাল হয়ে থাকে?
  1. ইথিলিন
  2. ফরমালিন
  3. লাইকোপেন
  4. জ্যান্থোফিল
ব্যাখ্যা
• লাইকোপেনের প্রভাবে ফলের রং লাল হয়ে থাকে।

• লাইকোপেন:
- লাইকোপেনের কারণে ফলের রং লাল হয়।
- টমেটোর দেহের টকটকে লাল বর্ণ দেখা যায় লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• ইথিলিন:

- ফল নিজেই ইথিলিন তৈরি করে এবং পাকতে সাহায্য করে।
- ফল সৃষ্ট ইথিলিনকে ফলের হরমোন বলা হয়।
- কিন্তু একসঙ্গে ফল পাকাতে সারা বিশ্বে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তখন ইথিলিনকে Ripeing agent বলা হয়।

• ফরমালিন:
- ফরমালিন খাদ্য সংরক্ষণের রাসায়নিক যৌগ নয়।
- ফরমালিন একটি বিষাক্ত এবং ক্যান্সার উৎপাদক রাসায়নিক পদার্থ।
- দুধ, ফল, মাছ, মাংসকে পচন থেকে রক্ষা করার জন্য অতি লোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা না বুঝে ব্যবহার করে থাকেন।
- এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়া, ক্যান্সার, বদহজম, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, পেটের পীড়াসহ নানরকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।

• জ্যান্থোফিল:
- হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৬৪.
জিকা ( Zika) একটি _____ এর নাম।
  1. ক) মুল্যবান পাথর
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) পার্ক
  4. ঘ) নদী
ব্যাখ্যা
জিকা ভাইরাস প্রথম ১৯৪৭ সালে উগান্ডায় রেসাস ম্যাকাক বানরের দেহে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে উগান্ডা ও তানজানিয়াতে মানবদেহে প্রথমবারের মত শনাক্ত করা হয়। Aedes aegypti ও Aedes albopictus এই ২ ধরণের এডিস মশা দিয়ে এই ভাইরাস ছড়ায়।
সূত্রঃ britannica
৭,৬৬৫.
কোন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না?
  1. পরিবহন
  2. বিকিরণ
  3. পরিচলন
  4. বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা

• বিকিরণ প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য কোনো জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, যেমন সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসা।

• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে, তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
তাপ সঞ্চালন তিনভাবে হয়।
- যথা—পরিবহন, পরিচলন, বিকিরণ।

• তাপ বিকিরণ:
- পৃথিবীতে সূর্যই তাপের মূল উৎস।
- সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে প্রায় সবটুকুই ফাঁকা, কোনো বায়বীয় পদার্থও নেই।
- সূর্য থেকে তাপ আসে বিকিরণের মাধ্যমে, যেখানে কোনো জড় মাধ্যম নেই, সেখানে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।
- আলো এক রকমের তরঙ্গ, যা কোনো মাধ্যম ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে।
- বিকিরণের সময় তাপ আলো বা বিদ্যুৎচুম্বকীয় তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয়।
- মাধ্যম থাকুক বা না থাকুক, উত্তপ্ত বস্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ নির্গত করে।

• বিকিরক ও শোষক:
- কোনো পদার্থ তাপ বিকিরণ করলে তাকে বিকিরক বলে।
- কোনো পদার্থ তাপ শোষণ করলে তাকে শোষক বলে।
- কোনো পদার্থ তার তাপমাত্রার জন্য তাপ বিকিরণ বা শোষণ করলে তাকে তাপীয় বিকিরণ (Thermal radiation) বা তাপীয় শোষণ বলে।
- বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কোনো পদার্থ ভালো তাপ বিকিরক হলে সেটি ভালো তাপ শোষকও হয়।
- তা না হলে একটি বিকিরক ক্রমাগত বেশি পরিমাণ তাপ বিকিরণ করে ক্রমশ শীতল হবে এবং একটি শোষক ক্রমাগত বেশি তাপ শোষণ করে ক্রমশ উত্তপ্ত হবে।

• অন্যান্য অপশন:
- পরিবহন → কঠিন পদার্থে অণুর কম্পনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালন হয়।
- পরিচলন → তরল বা বায়বীয় মাধ্যমে কণার সঞ্চালনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালিত হয়।
- বাষ্পীভবন → তরল থেকে গ্যাসে রূপান্তরের প্রক্রিয়া, এটি তাপ সঞ্চালনের পদ্ধতি নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৭,৬৬৬.
ডেনিয়েল সেলে রাসায়নিক শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. শব্দ শক্তিতে
  2. তাপ শক্তিতে
  3. আলোক শক্তিতে
  4. বিদ্যুৎ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
ডেনিয়েল সেল: 
- বাস ও ট্রাকে যে ব্যাটারি দেখা যায় তা মূলত ডেনিয়েল সেল। 
- জিংক সালফেট লবণের দ্রবণের মধ্যে জিংক ধাতুর দণ্ড এবং কপার সালফেট লবণের দ্রবণের মধ্যে কপার ধাতুর দণ্ড ব্যবহার করে ডেনিয়েল সেল তৈরি করা হয়। 
- ডেনিয়েল সেলে নিচের বিক্রিয়া ঘটে- 
• Zn(s) + CuSO4(aq) → ZnSO4 (aq) + Cu(s) 
- এ বিক্রিয়ার মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৬৭.
অধিকাংশ ফটোকপি মেশিন কাজ করে-
  1. অফসেট মুদ্রণ পদ্ধতিতে
  2. পোলারয়েড ফটোগ্রাফি পদ্ধতিতে
  3. ডিজিটাল ইমেজিং পদ্ধতিতে
  4. স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে
ব্যাখ্যা
ফটোকপি মেশিন কাজ করে বিপরীত আকর্ষণ নীতিতে। যা তৈরি হয় স্ট্যাটিক ইলেক্ট্রিসিটি অর্থাৎ স্থির বৈদ্যুতিক ইমেজিং পদ্ধতিতে। 
৭,৬৬৮.
উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির জন্য কোনটি আবশ্যক নয়?
  1. সূর্যালোক
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. পানি
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

◉ সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) হলো একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেখানে উদ্ভিদ, শৈবাল ও কিছু ব্যাকটেরিয়া সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি (H2O) ও কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ব্যবহার করে গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) এবং অক্সিজেন (O2) উৎপন্ন করে। অক্সিজেন খাদ্য তৈরির জন্য আবশ্যক নয়, বরং এটি সালোকসংশ্লেষণের উপজাত (by-product)।

সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়।
- তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭,৬৬৯.
‘অলিয়াম’ বলতে বুঝায়-
  1. ক) লঘু সালফিউরিক এসিড
  2. খ) কনসেনট্রেটেড নাইট্রিক এসিড
  3. গ) ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) গাঢ় সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
১০০% সালফিউরিক এসিড (SO3) গ্যাস শোষণ করে ধূমায়িত সালফিউরিক এসিড বা অলিয়াম [H2S2O7] উৎপন্ন করে। উৎপন্ন অলিয়ামকে প্রয়োজনমত পানির সাথে মিশ্রিত করে লঘু এসিডে পরিণত করা হয়।
[সূত্রঃ রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রম, উন্মুক্ত]
৭,৬৭০.
RFID-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Radio Frequency Identification
  2. Radio Frequency Interconnection
  3. Radio Frequency Information
  4. Radio Frequency Indication
ব্যাখ্যা
Radio Frequency Identification (RFID):
- RFID-এর পূর্ণরূপ: Radio Frequency Identification.

⇒ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) হল একটি বেতার প্রযুক্তি যা রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে বস্তু বা ব্যক্তিকে সনাক্ত করে।
- এটি একটি ট্যাগ বা লেবেল এবং একটি রিডার/স্ক্যানার নিয়ে গঠিত।
- ট্যাগটিতে একটি ছোট চিপ এবং অ্যান্টেনা থাকে, যা ডেটা ধারণ করে।
- রিডার/স্ক্যানার রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে ট্যাগের ডেটা পড়ে।
- RFID ‘র কাজ অনেকটা বারকোডের মতই। শপিংমল কিংবা যেখানে কোনও জিনিস কে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কম্পিউটার দ্বারা সনাক্ত করা লাগে, সেখানে অনেক সময় আরএফআইডি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

উৎস: Britannica.
৭,৬৭১.
স্টেইনলেস স্টীলে সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে -
  1. কার্বন
  2. লোহা
  3. নিকেল
  4. ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা
- স্টেইনলেস স্টীলে সর্বোচ্চ পরিমাণে থাকে - লোহা (৭৪%)। 

সংকর ধাতু: 

- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
যেমন- 
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৭২.
  1. ১৭
  2. ২৫
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ:
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- তবে ভারী আইসোটোপের স্ফুটনাংক ও গলনাঙ্ক একটু বেশি হবে, যা অনেকক্ষেত্রে উপেক্ষা করা যায়।
- বর্তমানে সর্বমোট আইসোটোপের সংখ্যা প্রায় ১৩০০।

• কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রোটন (Z) + নিউট্রন (n) সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেহেতু, ভরসংখ্যা হলো, প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভর সংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে।

এখানে,
O এর ভরসংখ্যা ১৭ এবং প্রোটন সংখ্যা ৮
∴ নিউট্রন সংখ্যা= ১৭ - ৮ = ৯

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৭৩.
ইউরিয়া সার জমিতে একবারে প্রয়োগ না করে কয়েক বারে প্রয়োগ করা হয় কেন?
  1. গাছ দ্রুত গ্রহন করতে পারে না বলে
  2. মাটিতে সংযোজন হয়ে যায় বলে
  3. চুয়ানির মাধ্যমে নষ্ট হয় বলে
  4. গ্রহনোপযোগী হতে দেরী হয় বলে
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া:
- নাইট্রোজেনজাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে।
- ইউরিয়া এক ধরণের সাদা দানাদার পদার্থ।
- এর উল্লেখযোগ্য ধর্ম হচেছ এটি পানি গ্রাহী পদার্থ।
- যদিও এ সার সহজেই পানিতে দ্রবণীয় কিন্তু সাধারণ অবস্থায় এটি জলীয় বাষ্প শোষণ করে না তবে স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় দানা গলে যেতে পারে।

⇒ বাজারে সচরাচর প্রাপ্ত ইউরিয়ায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪০-৪৫%, তবে রাসায়নিকভাবে বিশুদ্ধ ইউরিয়ায় নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬-৪৭%।
- কৃত্রিম উপায়ে কল- কারখানায় উৎপাদিত সার ছাড়াও ইউরিয়া জৈব রাসায়নিক যৌগ হিসেবে মাটিতে অবস্থান করে।
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়।

⇒ এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে।
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে।
- ইউরিয়া সার মাটিতে প্রয়োগ করার পর পানির সাথে যুক্ত হয়ে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়াম প্রস্তুত হয়।
- উদ্ভিদ সাধারণত নাইট্রেট ও অ্যামোনিয়াম আকারে ইউরিয়া সার গ্রহণ করে।
- অ্যামোনিয়াম পরিণত হওয়ার সময় কিছু পরিমাণ ইউরিয়ার বায়বীয় অপচয় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- এতে ইউরিয়ার শুধু অপচয়ই হয় না উদ্বায়নের সময় বীজের অঙ্কুরোদগম বা চারা গাছের ক্ষতি করে।
- চুনযুক্ত ক্ষারীয় মাটিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- চুয়ানির মাধ্যমেও ইউরিয়া নষ্ট হয়, ফলে জমিতে ইউরিয়া একবারে ব্যবহার না করে কয়েকবার ব্যবহার করা হয়।
- ইউরিয়া সারের কার্যকারিতা দ্রুত এবং স্থায়ীত্বও কম।
- প্রয়োগের এক সপ্তাহের মধ্যেই গাছ পরিশোষণ শুরু করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৭৪.
রাইবোসোমের প্রধান কাজ কোনটি? 
  1. প্রোটিন সংশ্লেষণ করা
  2. শর্করা তৈরি করা
  3. রোগ প্রতিরোধ করা
  4. ভিটামিন তৈরি করা
ব্যাখ্যা
রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- আবার সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায়ও রাইবোসোম থাকতে পারে। 
- মুক্ত রাইবোসোম আদি কোষের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। 

রাইবোসোমের কাজ: 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন
- রাইবোসোম আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, 
- প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং 
- এ ধরনের সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭,৬৭৫.
কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্কতা বিলম্বিত হয়?
  1. দস্তা
  2. সালফার
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
• সাধারণত সালফারের অভাবে ফসলের পরিপক্কতা বিলম্বিত হয়।

• সালফার:

- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে।
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।

• অন্য উপাদানগুলির ভূমিকা:

- দস্তা (Zinc): এনজাইম ও হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে।
- নাইট্রোজেনের (N): নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পটাশিয়াম (Potassium): পানি ও পুষ্টি পরিবহনে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৭৬.
মানবদেহের বৃদ্ধি হরমোন কোনটি?
  1. ক) থাইরক্সিন
  2. খ) প্রোল্যাকটিন
  3. গ) এড্রিনালিন
  4. ঘ) সোমাটোট্রফিন
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের বৃদ্ধি হরমোন সোমাটোট্রফিন নামে পরিচিত।
- এটি একধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০টি অ্যামিনো এসিড নিয়ে গঠিত।
- মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়।
- মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে এটি উৎপন্ন হয়।
- বিশেষজ্ঞদের মতে ৩০ বছর বয়সের পরে বৃদ্ধি হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। পরবর্তী প্রতি ১০ বছরে ক্ষরণ প্রায় ১৪% হারে হ্রাস পায়।
- বৃদ্ধি হরমোন যত কমবে শরীরে ততই বয়সের ছাপ বাড়বে।
- এ সময় দেহে বৃদ্ধি হরমোন প্রয়োগ করলে বয়সের ছাপ মিলিয়ে যাবে কিংবা ছাপ পড়ার গতি কমে যাবে। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৭৭.
কোন প্রকার সতর্কতা ছাড়াই কোন ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়?
  1. খরা
  2. ভূমিকম্প 
  3. সুনামি
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প (Earthquake):
- ভূ-ত্বক সাতটি বৃহৎ এবং কতকগুলো ছোট প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহ একে অপরের দিকে, একে অপরের বিপরীতে অথবা পরস্পর সমান্তরালভাবে সঞ্চালিত হয়।
- এইরূপ সঞ্চালনের ফলে সৃষ্ট চাপ থেকে আকস্মিকভাবে প্রচণ্ড কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূ-পৃষ্ঠে এই কম্পন ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।
- কোন প্রকার সতর্কতা ছাড়াই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
 
উল্লেখ্য,
- ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-গাঠনিক কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। 
- ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- দেশের কোন অঞ্চল কোন মাত্রার ভূমিকম্প ঝুঁকির অন্তর্ভুক্ত তা নিম্নে দেখানো হলো:
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: দেশের মধ্যাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল: দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
 
উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৬৭৮.
নিচের কোন পদার্থটি একটি লবণ?
  1. সালফিউরাস এসিড
  2. পটাশিয়াম অক্সাইড
  3. অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. সোডিয়াম টারটারেট
ব্যাখ্যা

- সালফিউরাস এসিড, সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, নাইট্রাস এসিড, ফসফরিক এসিড ইত্যাদি হলো অম্ল।
- সোডিয়াম অক্সাইড, পটাশিয়াম অক্সাইড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড, অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ইত্যাদি হলো ক্ষারক।
- সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম নাইট্রেট, পটাশিয়াম কার্বনেট, সোডিয়াম টারটারেট ইত্যাদি সবই হলো লবণ।
টারটারিক এসিড এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর প্রশমন বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হয় সোডিয়াম টারটারেট লবণ।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৭,৬৭৯.
হাইড্রা কোন অঙ্গের সাহায্যে খাদ্য গ্রহণ ও চলাচল করে? 
  1. কর্ষিকা
  2. সিলেন্টরন
  3. ত্বক
  4. অ্যান্টেনা
ব্যাখ্যা
হাইড্রা: 
- হাইড্রা (Hydra) আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে। 
- হাইড্রার নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস। 
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। 
- হাইড্রা কর্ষিকার সাহায্যে খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে। 
- হাইড্রা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে। 
- হাইড্রা মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে। 
- হাইড্রা পুনরুৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত। 
- হাইড্রা মিঠাপানির প্রাণী। 
- হাইড্রা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে। 
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৮০.
পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোন গ্যাস সবচেয়ে বেশি দায়ী?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. কার্বন মনো অক্সাইড
  4. ওজোন
ব্যাখ্যা
• পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) গ্যাস সবচেয়ে বেশি দায়ী।
- এটি গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কাজ করে, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ ধারণ করে।

• কার্বন ডাইঅক্সাইড পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর কারণ এটি:
- দীর্ঘস্থায়ী: CO₂ বায়ুমণ্ডলে দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যায়, প্রায় ১০০ বছর বা তার বেশি।
- প্রধান উষ্ণায়নকারী গ্যাস: অন্যান্য গ্রীনহাউস গ্যাস যেমন মিথেন (CH₄) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) এর তুলনায় CO₂ বেশি পরিমাণে বায়ুমণ্ডলে থাকে এবং এটি উষ্ণায়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।
- নির্গমন বৃদ্ধি: শিল্পায়ন, যানবাহন, এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে CO₂ নির্গমন বৃদ্ধি পায়, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও U.S. Environmental Protection Agency।
৭,৬৮১.
পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH -




ব্যাখ্যা

pH:
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- মানব দেহের বিভিন্ন তরল উপাদানের pH নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45.
- মানুষের জিহ্বার লালার pH = 6.6.
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH = 2.
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH = 5.5.
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে পারে।
- নবজাতক শিশুর ত্বকের pH = 7.

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৮২.
সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো—
  1. R3NH+
  2. SO3-Na+
  3. R2NH2+
  4. COO-Na+
ব্যাখ্যা
সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলাে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সােডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK). 
- সাবানের রাসায়নিক নাম হলাে সােডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa). 
- সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো COO-Na+
- সাবান তৈরি করা হয় চর্বি এবং ক্ষার থেকে। 
- সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭,৬৮৩.
প্রাণী কোষে সর্বদা বিদ্যমান থাকে-
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. প্লাস্টিড
  3. সেন্ট্রোসোম
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রাণী কোষে সর্বদা বিদ্যমান থাকে "সেন্ট্রোসোম"।

• কোষ:
- জীব দেহের গঠন এবং কাজের একককে কোষ বলে।
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান। তিনি প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন "Cell"। Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ।

• প্রাণী কোষের বৈশিষ্ট্য:
- প্রাণী কোষে কোনো কোষ প্রাচীর থাকে না, পাতলা স্থিতিস্থাপক প্লাজমা ঝিল্লী দ্বারা প্রাণী কোষ আবৃত অবস্থায় থাকে।
- প্রাণী কোষে সাধারণত প্লাস্টিড থাকে না।
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।
- প্রাণী কোষে সাধারণত কোন কোষ গহ্বর থাকে না, থাকলেও আকারে ক্ষুদ্রাকৃতির হয় এবং ক্ষণস্থায়ী।
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণী কোষের আকার পরিবর্তিত হয়।
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে।
- প্রাণী কোষে সেন্ট্রোসোম সর্বদা বিদ্যমান থাকে।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের কেন্দ্রস্থলে থাকে।
- সকল কোষেই লাইসোসোম থাকে।
- স্নেহ দ্রব্য অর্ধতরল অবস্থায় থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৮৪.
কোন প্রকার শিলাতে জীবাশ্ম দেখা যায়?
  1. পাললিক শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা 
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

পাললিক শিলা:
- পাললিক শিলা কথাটি এসেছে 'পলি' বা 'পলল' থেকে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ। 

⇒ পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
- এই শিলায় স্তরায়ন এবং কাদার চির খাওয়া দাগ লক্ষ্য করা যায়।
- একমাত্র এই শিলাতেই জীবাশ্ম দেখা যায়।
- এই শিলায় সচ্ছিদ্রতা ও ভঙ্গুরতা দেখা যায়।
- এই শিলার প্রবেশ্যতা খুব বেশি।
- ক্ষয় প্রতিরোধের ক্ষমতা বিভিন্ন রকম হয়।
- কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার এই শিলা।
- কাঠিন্য আগ্নেয় শিলার থেকে কম।
- দারণ, ফাটল বা কেলাসের গঠন থাকে না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৮৫.
নিম্নে উল্লেখিত ভূমিরূপসমূহের মধ্যে কোনটি হিমবাহের ক্ষয় কার্যের দ্বারা গঠিত?
  1. পার্শ্ব গ্রাবরেখা
  2. শৈলশিরা
  3. ভি-আকৃতির উপত্যকা
  4. ইউ-আকৃতির উপত্যকা
ব্যাখ্যা
ইউ-আকৃতির উপত্যকা- হিমবাহের ক্ষয় কার্যের দ্বারা গঠিত হয়। 
-------------------- 
হিমবাহের ক্ষয় সাধনের ফলে অনেক নতুন নতুন ভূমির সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন প্রকার হিমবাহের বিভিন্ন ধরনের ক্ষয় সাধনের ফলে নিম্নোক্ত ক্ষয়জাত ভূমিরূপের সৃস্টি করে :
১) হৈমবাহিক উপত্যকা (ইউক আকৃতির উপত্যকা - Glaciated Valley), 
২) ঝুৃলন্ত উপত্যকা, 
৩) সার্ক বা কোরি, 
৪) এরিটি ও পিরামিডীয় শৃঙ্গ, 
৫) নুনাট্যাক, 
৬) রসে মতানো, 
৭) হিমসিড়ি ও প্যাটার্নস্টার হ্রদ, 
৮) শৈলময় পর্বত ও অনিয়মিত প্রস্তরখন্ড, 
৯) ক্রিভাসেস, 
১০) ঢিবি ও পুচ্ছ, 
১১) দানবীর সিঁড়ি, 
১২) ফিয়র্ড, 
১৩) কর্তিত স্পার। 

সুত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যবই।
৭,৬৮৬.
গ্রিন হাউস প্রভাবের ফলে পৃথিবীতে কোন পরিবর্তন ঘটে?
  1. বায়ুমণ্ডলের চাপ বৃদ্ধি পায়
  2. রোদ কমে যায়
  3. মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায় 
  4. সমুদ্রের রঙ পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্চে, ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে। 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে- 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৬৮৭.
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীর নিঃসরণ অঙ্গ কোনটি? 
  1. নেফ্রিডিয়া
  2. সিলোম
  3. স্পিরাকল
  4. মালপিজিয়ান নালিকা
ব্যাখ্যা
আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্ব: 
- আর্থ্রোপোডা সন্ধিপদী প্রাণী। 
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১২,৫৭,০৪০। 
- ১৮৪৫ সালে Siebold এ পর্বের নামকরণ করেন। 

আর্থ্রোপোডা পর্বের বৈশিষ্ট্য:  
- আর্থ্রোপোডা পর্বের নামকরণ দুটি গ্রিক শব্দ Arthros সন্ধিযুক্ত ও Podos = পদ হতে গৃহীত হয়েছে। 
১। আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহে তিন ততোধিক জোড়া সন্ধিযুক্ত পার্শ্বীয় পা বা উপাঙ্গ থাকে (সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ এ পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য)। 
২। এরা ত্রিস্তরী, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম, দেহ ট্যাগমায় বিভক্ত। 
৩। এদের দেহ পুরু কিউটিকলযুক্ত কাইটিন আবরণ দ্বারা আবৃত ও বাহ্যিকভাবে খণ্ডায়িত। 
৪। এদের মাথায় এন্টেনা ও একজোড়া পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
৫। এই পর্বের প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে, যে সিলোম বক্ত দ্বারা পূর্ণ থাকে তাকে হিমোসিল (hemocoel) বলে। 
৬। এদের রক্তসংবহনতন্ত্র মুক্ত ধরদের। 
৭। এদের মালপিজিয়ান নালিকার মাধ্যমে রেচন ক্রিয়া সম্পন্ন করে। 
উদাহরণ: Oxya chinensis (ঘাস ফড়ি), Periplaneta americana (তেলাপোকা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Papilio xuthus (প্রজাপতি) ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৭,৬৮৮.
চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক কোনটি? 
  1. লুমেন
  2. ওয়াট
  3. টেসলা
  4. ওয়েবার
ব্যাখ্যা

চৌম্বক ক্ষেত্র: 
- কোনো তড়িৎবাহী তারের চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চৌম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ তড়িৎবাহী তারের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- লম্বা সোজা পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করা হলে এর চারদিকে যে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, তা চুম্বক শলাকার সাহায্যে চৌম্বক ক্ষেত্র রেখা (বা চৌম্বক আবেশ রেখা) অঙ্কিত করে দেখানো যায়। রেখাগুলিকে চৌম্বক বলরেখাও বলা হয়ে থাকে। 
- লম্বা সোজা পরিবাহীর জন্য কোনো বিন্দুতে চৌম্বক ক্ষেত্রের মান (ক) পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহের সমানুপাতিক এবং (খ) বিন্দু থেকে পরিবাহীর দূরত্বের ব্যস্তানুপাতিক। 
- ক্রোয়েশিয়ার বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা এর নামানুসারে একে টেসলা (T) বলে। 
- টেসলা হচ্ছে চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক। 
- এক চৌম্বকক্ষেত্র 1 কুলম্ব (C) আধান ক্ষেত্রের দিকের সাথে সমকোণে 1 ms-1 গতিশীল হলে 1 N বল অনুভব করে সেই চৌম্বকক্ষেত্রের মানকে 1 টেসলা বলে। 
- কোনো চুম্বক অথবা একটি গতিশীল চার্জের, চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চুম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ চুম্বক বা গতিশীল চার্জের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- একটি একক চার্জ একক বেগে চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে সমকোণে গতিশীল হলে যে বল লাভ করে তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের মান। 
- একটি চুম্বক শলাকাকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করলে তার উত্তর মেরু যে দিক নির্দেশ করে, তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক। তড়িৎবাহী তারের জন্য চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক ফ্লেমিঙের দক্ষিণ হস্ত নিয়ম দ্বারা নির্ণয় করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৮৯.
কোন পদার্থের বর্জ্য শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পেছনে দায়ী?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) প্লাস্টিক
  4. ঘ) পেপার
ব্যাখ্যা
- প্লাস্টিক সামগ্রী পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
- পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয় না বলে অপরিবর্তিত অবস্থায় বছরের পর বছর ধরে মাটিতে থেকে যায়।
- বর্জ্য প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, নদীর নিচে তলানী হিসেবে জমা হয়ে নদীর নাব্যতা কমিয়ে দেয়, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ও পানি দূষণ ঘটায়।
- ব্যবহার অনুপোযোগী প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
- প্লাস্টিক রিসাইকেল করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ করা সম্ভব।

সূত্র: Plastics NZ Website [লিঙ্ক]
৭,৬৯০.
কিসের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়? 
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিধ্বনি
  3. প্রতিসরণ
  4. প্রতিসরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়: 
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- কোন শব্দ উৎস থেকে শব্দ করা হলে তা কোন কঠিন তলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার যদি শব্দের উৎসের নিকট ফিরে আসে, তখন সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, শব্দের এই পুনরাবৃত্তিকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে। 
- ফ্যাদোমিটার যন্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয়। 
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা, কূপের গভীরতা ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৯১.
ফোটন কণা সম্পর্কিত যে তথ্যটি ভুল-
  1. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
  2. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ।
  3. ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ নেই।
  4. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৯২.
'স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক।' এটি-
  1. চার্লসের সূত্র
  2. বয়েলের সূত্র
  3. গে-লুস্যাকের সূত্র
  4. নিউটনের সূত্র
ব্যাখ্যা
• চার্লসের সূত্র:
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273 ;
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”।
গাণিতিকভাবে, V ∝ T.

• বয়েলের সূত্র:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, PV = K.

• গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র:
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, P ∝ T.

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৭,৬৯৩.
মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যার নাম কী?
  1. পিসিকালচার
  2. মেরিকালচার
  3. এভিকালচার
  4. এপিকালচার
ব্যাখ্যা

মৌমাছির জাত: 
- মৌমাছির কলোনি তিন প্রকার মৌমাছি নিয়ে গঠিত। 
যেমন- একটি রাণী, কিছু হাজার কর্মী এবং কিছু শত পুরুষ। 
- মৌমাছিদের মধ্যে শ্রমবণ্টন দেখা যায়, যেখানে প্রতিটি মৌমাছি নির্দিষ্ট কাজ করে থাকে। 
- বহুরূপতা দেখা যায় তাদের দৈহিক গঠনেও, যেখানে রাণী, কর্মী এবং পুরুষ মৌমাছির শারীরিক গঠন ভিন্ন। 
- মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে এপিকালচার বলা হয়। 

রাণী মৌমাছির জীবনমান: 
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে বড় এবং তার উদর প্রশস্ত হয়। 
- রাণী মৌমাছির ডানাগুলো ছোট এবং উদরের শেষ প্রান্তে সরু, যেখানে বাঁকানো হুল থাকে যা একটি রূপান্তরিত ওভিপজিটর। 
- রাণী মৌমাছির প্রোবোসিস ও রেণুখলি নেই, এবং তাদের ম্যান্ডিবল বা চোয়াল তীক্ষ্ণ হয়। 
- রাণী মৌমাছি মোম ও মধু তৈরি করতে পারে না, তার লালাগ্রন্থি নেই। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৭,৬৯৪.
সমুদ্রস্রোত সংঘটিত হতে নিচের কোনটির প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না?  
  1. লবণাক্ততার তারতম্য
  2. মহীসোপানের অবস্থান
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. সমুদ্রের গভীরতা
ব্যাখ্যা
- 'মহীসোপানের অবস্থান' সমুদ্রস্রোত সংঘটিত হতে কোনো প্রভাব ফেলে না। 

সমুদ্রস্রোত: 

- একস্থান থেকে অন্যস্থানে মহাসাগর ও সাগরের পানির নির্দিষ্ট ও নিয়মিত প্রবাহকে মহাসাগরীয় স্রোত বা সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে। 
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে এবং সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। 
- উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী সমুদ্রস্রোতকে প্রধান দুইভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: (ক) উষ্ণ স্রোত ও (খ) শীতল স্রোত।

সমুদ্রস্রোতের কারণ: 
- পানির স্বাভাবিক নিয়ম হচ্ছে তার উপরিভাগের সমতা রক্ষা করা। তাই সমুদ্রের একস্থানের পানি অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- নিম্নলিখিত কারণে সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি হয়- 
১. বায়ুপ্রবাহ (Wind Movement) যা সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ,
২. পৃথিবীর আবর্তন (Rotation of Earth),
৩. তাপমাত্রার তারতম্য (Variation in Temperature),
৪. লবণাক্ততার তারতম্য (Variation in Salinity),
৫. স্থলভাগের অবস্থান (Presence of Landmasses),
৬. অসম বাষ্পীভবন (Unequal Evaporation) এবং
৭. সমুদ্রের গভীরতা (Depth of the Ocean) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৬৯৫.
নিচের কোনটি জীবাণু ভক্ষণ করে?
  1. ক) লাইসোজোম
  2. খ) কোষগহ্বর
  3. গ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. ঘ) রাইবোজোম
ব্যাখ্যা
লাইসোজোম জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।
-  এর উৎসেচক আগত জীবাণুগুলোকে হজম করে ফেলে।
- এর পরিপাক করা উৎসেচকগুলো একটি পর্দা দিয়ে আলাদা করা থাকে, তাই অন্যান্য অঙ্গাণু এর সংস্পর্শে এলেও হজম হয় না।
- সাইটোপ্লাজমে কোষের মধ্যে যে আপাত ফাঁকা স্থান দেখা যায়, সেগুলোই হচ্ছে কোষগহ্বর। 
- বৃহৎ কোষগহ্বর উদ্ভিদ কোষের বৈশিষ্ট্য। এর প্রধান কাজ কোষরস ধারণ করা। 
- প্রাণিকোষে কোষগহ্বর সাধারণত অনুপস্থিত থাকে, তবে যদি কখনো থাকে তবে সেগুলো আকারে ছোট হয়।
- এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম এর আবরণীর গায়ে প্রায়ই রাইবোজোম লেগে থাকে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এইসব স্থানে প্রোটিন সংশ্লেষণের ঘটনা ঘটে। উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই এরা উপস্থিত থাকে।
- এন্ডোপ্লাজমিক মেমব্রেন এর উভয় দিকে অথবা নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এর গায়ে, মাইটোকন্ড্রিয়ার অভ্যন্তরে অথবা সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত গোলাকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানার মত অঙ্গাণুকে রাইবোজোম বলে। 
- রাইবোজমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ। স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন।

 সূত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৬৯৬.
অণুজীব বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. রবার্ট হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
- ডাচ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ভন লিউয়েনহুক ১৬৭৫ সালে তার উদ্ভাবিত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন।
- তিনি এদের "Animalcule" বা ক্ষুদ্র প্রাণী বলে অভিহিত করেন।
- এজন্য তাকে "Father of Bacteriology" বা ব্যাকটেরিওলজির জনক হিসেবে পরিচিতি দেওয়া হয়, যা তাকে অনুজীব বিজ্ঞানের জনক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- পরবর্তীতে, ১৮২৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ এই প্রাণীদের "ব্যাকটেরিয়া" নাম দেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

অন্যদিকে,
- বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন।
- বিজ্ঞানী রবার্ট হুক কোষ আবিষ্কার করেন।
- বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্ভে  শরীরবিদ্যার জনক।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৭,৬৯৭.
পর্যায় সারণির কত নম্বর গ্রুপে নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোর অবস্থান?
  1. ক) ১৮
  2. খ) ১৬
  3. গ) ১৫
  4. ঘ) ১৪
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
মৌলগুলাে হলাে:
হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)এবং ওগানেসন (og)।
এই মৌলগুলাের সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়ােজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনাে যৌগ গঠন করতে চায় না।
রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।

৭,৬৯৮.
দেহে যথেষ্ট স্নেহ না থাকলে মূলত কী সমস্যা বা রোগ হতে পারে?
  1. রাতকানা
  2. অ্যানিমিয়া
  3. একজিমা
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা

• দেহে যথেষ্ট স্নেহ (চর্বি বা ফ্যাট) না থাকলে শরীরের ত্বক এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর সুরক্ষা কমে যায়। স্নেহ ত্বককে নমনীয় রাখে, আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ক্ষতিকর জৈবিক ও রাসায়নিক পদার্থ থেকে রক্ষা করে। স্নেহের অভাবে ত্বক শুষ্ক, চামড়া ফেটে যাওয়া এবং খসখসে হয়ে যায়, যা একজিমা বা অন্যান্য ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। এছাড়া, স্নেহ শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন যেমন A, D, E, K শোষণে সাহায্য করে। তাই স্নেহের অভাব সরাসরি ত্বকের রোগ যেমন একজিমা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত স্নেহ দেহের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

- উত্তর: গ) একজিমা। 

স্নেহ পদার্থের গঠন: 
- তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদানকে স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট বলা হয়। 
- ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে স্নেহ পদার্থে গঠিত। 
- ফ্যাটি অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্যের উপর স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- খাদ্যে প্রায় ২০ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন স্নেহ পদার্থগুলোকে চর্বি বলে। 
যেমন- মাছ ও মাংসের চর্বি। 
- চর্বি হলো সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল স্নেহ পদার্থকে তেল বলে। 
যেমন- সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি। 
- তেলগুলো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 

স্নেহ পদার্থের কাজ: 
১। স্নেহ পদর্থের প্রধান কাজ দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করা। 
২। স্নেহ পদার্থ দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে। 
৩। দেহে সঞ্চিত হয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 
৪। ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। 
৫। চর্মরোগ প্রতিরোধ করে। 
৬। শেহে দ্রবণীয় ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে শোষণে ফ্যাট সাহায্য করে। 

স্নেহ পদার্থের অভাবজনিত অবস্থা: 
- দেহে স্নেহ পদার্থের অভাবে চর্মরোগ, ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হওয়া, একজিমা ইত্যাদি হতে পারে। 
- দীর্ঘদিন স্নেহ পদার্থের ঘাটতি হলে দেহে সঞ্চিত প্রোটিনের ক্ষয় হয়। 
- এতে ওজন হ্রাস হয় ও স্বাস্থ্যহানি ঘটে। 

অধিক ফ্যাট গ্রহণের কুফল: 
- অতিরিক্ত স্নেহ জাতীয় পদার্থ গ্রহণ করলে স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ইত্যাদি অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৬৯৯.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় কত লাগে? 
  1. ৬ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড 
  2. ১০ মিনিট ৩০ সেকেন্ড 
  3. ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড 
  4. ১২ মিনিট ৫ সেকেন্ড 
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে।
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে, খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৭০০.
কোন গ্যাসটি “ড্রাই আইস” তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) কার্ব ডাই-অক্সাইড
  3. গ) সালফার ডাই-অক্সাই
  4. ঘ) নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শুষ্ক বরফ বা ‘ড্রাই আইস’ জমাট কার্বন-ডাই-অক্সাইড।
এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড -78.5℃ উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়।
তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।