ব্যাখ্যা
-Cosmic Ray এর বাংলা হলো মহাজাগতিক রশ্মি।
-মহাজাগতিক রশ্মি হলো অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত। বহির্বিশ্ব থেকে ওই সব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে। কণার ওই বারিবর্ষণ এক অবিশ্রান্ত প্রক্রিয়া।
সূত্র: Science Direct Website.
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৭৪ / ১৪০ · ৭,৩০১–৭,৪০০ / ১৪,০৮০
গুটিবসন্ত মানবজাতির ইতিহাসে একমাত্র রোগ যেটা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়েছে।
- WHO ১৯৮০ সালে গুটিবসন্ত নির্মূলের ঘোষণা দেয়।
- গুটিবসন্ত হয় - ভেরিওলা ভাইরাসের কারনে।
- সর্বশেষ ১৯৭৭ সালে সোমালিয়াতে দেখা গিয়েছিল।
ভ্যাক্সিনঃ এডয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে তৈরি করেন।
গণস্বাস্থ্যের ইতিহাসে এটাকেই সবচেয়ে বড় সফলতা বলা যায়।
Smallpox is an acute contagious disease caused by the variola virus, a member of the orthopoxvirus family. It was one of the most devastating diseases known to humanity and caused millions of deaths before it was eradicated. It is believed to have existed for at least 3000 years.
The smallpox vaccine, created by Edward Jenner in 1796, was the first successful vaccine to be developed. He observed that milkmaids who previously had caught cowpox did not catch smallpox and showed that a similar inoculation could be used to prevent smallpox in other people.
The World Health Organization launched an intensified plan to eradicate smallpox in 1967. Widespread immunization and surveillance were conducted around the world for several years. The last known natural case was in Somalia in 1977. In 1980 WHO declared smallpox eradicated – the only infectious disease to achieve this distinction. This remains among the most notable and profound public health successes in history.
Source: WHO
- ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড।
- সাইট্রাস জাতীয় ফল যেমন- লেবু, কমলালেবু, মাল্টা, জাম্বুরায় প্রচুর ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
- টক জাতীয় ফল যেমন- আমলকি, আনারস, আমড়া।
- সবুজ শাক-সবজি ও ফল যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
- সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি।
- ডিম ও দুধে ভিটামিন-সি নেই।
তরঙ্গ:
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়, সে তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ এবং যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, সে তরঙ্গকে তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ বলে।
- মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে যে যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্ট হয় তা দুই ধরনের।
যথা-
(১) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ ও
(২) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ:
- যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।
যেমন- শব্দ তরঙ্গ ও স্প্রিং এর তরঙ্গ ইত্যাদি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ:
- পানির মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে পানির কণাগুলো সাম্য অবস্থান পানির তল থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে। কিন্তু তরঙ্গ পানি পৃষ্ঠ বা পানির তলের উপর দিয়ে সামনে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরণের তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
অর্থাৎ, যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
- এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে।
যেমন- আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ ইত্যাদি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- Like most large galaxies, the Milky Way is glued together by a supermassive black hole at its center, buried deep in the constellation Sagittarius.
- Our galaxy's supermassive black hole, called Sagittarius A∗ (or Sgr A∗), constantly pulls stars, dust and other matter inward, forming a stellar megalopolis 1 billion times denser than our corner of the galaxy.
সূত্র: Encyclopedia Britannica
- Agaricus একটি মৃতজীবী ছত্রাক।
- এর সাধারণ নাম মাশরুম।
- Agaricus মানুষের কাছে 'ব্যাঙের ছাতা' নামেও পরিচিত।
- Agaricus ভেজা মাটিতে, মাঠে-ময়দানে, কাঠের উপরে, খড়ের গাঁদা, গোবর প্রভৃতি পঁচনশীল জৈব পদার্থের উপর জন্মায়।
- বৃষ্টির দিনে এরা অধিক পরিমাণে জন্মায়।
- অনেক সময় সবুজ ঘাসের লনে Agaricus এর কোন কোন প্রজাতি দলবদ্ধভাবে একটি বৃত্তের আকারে অবস্থান করে। এ ধরনের বৃত্তকে পরিচক্র (Fairy ring) বলে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- সঠিক তথ্যটি হচ্ছে- মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক।
- পৃথিবীর আকৃতি এবং ঘূর্ণনের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান বিভিন্ন হয়।
যেমন-
• মেরু অঞ্চল: পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয়, এটি মেরু অঞ্চলে কিছুটা চ্যাপ্টা। এর ফলে মেরু অঞ্চল পৃথিবীর কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত। অভিকর্ষজ বল দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক হওয়ায়, দূরত্ব কম হলে g-এর মান সর্বাধিক হয়।
• বিষুবীয় অঞ্চল: বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবী স্ফীত, তাই এটি কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত। এই কারণে এখানে g-এর মান সবচেয়ে কম হয়।
পৃথিবীর আকৃতির কারণে বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজনের পার্থক্য:
- পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোলক না হওয়ায়, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব সমান নয়।
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g-এর মান ভিন্ন হয়।
- পৃথিবীর বিষুবীয় অঞ্চলে কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানে g-এর মান সর্বনিম্ন (প্রায় ৯.৭৮ মি/সেকেন্ড২), তাই বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়।
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত এগিয়ে যাওয়া হয়, ততই কেন্দ্র থেকে দূরত্ব কমে এবং g-এর মান বৃদ্ধি পায় (প্রায় ৯.৮৩ মি/সেকেন্ড২), ফলে বস্তুর ওজনও বাড়ে।
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব সর্বনিম্ন হওয়ায় g-এর মান সর্বোচ্চ এবং তাই বস্তুর ওজনও সর্বোচ্চ হয়।
- এছাড়াও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যভাগে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য হওয়ায় সেখানে বস্তুর ওজন শূন্য হয়।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন:
- প্রাচীনকালে চীন দেশে একটুকরো লোড স্টোনকে সমজাতীয় অন্য একটি লোড স্টোনের টুকরোকে অদৃশ্য একটা শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করতে দেখা গিয়েছিল, বিশেষ ধরনের এই পদার্থের বিশেষ এই ধর্মটির নাম দেওয়া হয়েছিল চৌম্বকত্ব (Magnetism) ।
- একইভাবে প্রাচীন গ্রিসে আম্বর নামের পদার্থকে পশম দিয়ে ঘষা হলে সেটি এই দুটি পদার্থকে একটি অদৃশ্য শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করত, এই বিশেষ ধর্মের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রিসিটি বা বৈদ্যুতিক শক্তি (Electricity)।
- অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয় এবং বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এটি একই বলের দুটি ভিন্ন রূপ এবং এই বলটির নাম দেওয়া হয় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetism)।
- পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিটা রশ্মি নামে একটা বিশেষ বিকিরণ ব্যাখ্যা করার সময় 'দুর্বল নিউক্লিয় বল' নামে নতুন এক ধরনের বল আবিষ্কৃত হয়।
- পদার্থবিজ্ঞানীরা পরে দেখালেন বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লিয় বল একই বলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, তাদেরকে একত্র করে সেই বলের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রো উইক ফোর্স। পদার্থবিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রকৃতিতে মহাকর্ষ বল এবং নিউক্লিয়ার বল নামে আরও যে দুটি বল রয়েছে ভবিষ্যতে সেগুলোও একই সূত্রের আওতায় আনা যাবে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া:
- বীজ উৎপাদন থেকেই বীজ সংরক্ষণের শুরু এবং জমিতে এর বপন বা রোপণের মাধ্যমে বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ।
- বীজ সংরক্ষণ বলতে বীজের উৎপাদন, শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ, বিপণন যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাকেই বোঝায়।
- বীজ শস্য উৎপাদনের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মনে রাখা দরকার-
১) কেবল বীজের জন্যই ফসলের চাষ করা;
২) নির্বাচিত জমির আশপাশের জমিতে ঐ নির্দিষ্ট বীজ ফসলের অন্য জাতের আবাদ না করা;
৩) বীজ উৎপাদনের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে বীজ সংগ্রহ করা;
৪) বীজের চারা বৃদ্ধিকালে জমি থেকে ভিন্ন জাতের গাছ তুলে ফেলা;
৫) বীজের ক্ষেত ঘন ঘন পরিদর্শন করা যাতে (ক) আগাছা দমন (খ) ভিন্ন জাতের গাছ তোলা ও (গ) রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রব ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়;
৬) ফসলের পরিপক্বতার দিকে দৃষ্টি রাখা;
৭) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ফসল কাটা, মাড়াই করা ও ঝাড়া ইত্যাদি।
উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া বা রেডক্স (Redox) বিক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের স্থানান্তর ঘটে, যা বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি করে।
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে।
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন-
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ:
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ:
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
• IgG (Immunoglobulin G) হলো একমাত্র অ্যান্টিবডি অমরা (placenta) অতিক্রম করে মায়ের শরীর থেকে সরাসরি ভ্রূণের রক্ত সঞ্চালনে প্রবেশ করতে পারে।
• অ্যান্টিবডি:
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে।
প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপেig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু।
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট।
- লিম্ফোসাইট দুধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ।
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত।
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে।
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে।
• অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ:
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-( gamma), α-(alpha), µ-(mu), ε-(epsilon) এবং δ-(delta)।
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। যেমন-
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA .
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে।
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেহে স্থানান্তরিত হয়।
২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে।gD.
- রক্ত, লসিকা ও লিম্ফোসাইট B-কোষে এ Ig পাওয়া যায়।
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে।
৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE.
- এটি দুর্লভ।g.
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়।
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে।
৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG):
দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG.
- রক্ত, লসিকা, অস্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে।
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে।
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে।
৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM):
- দেহের মোট Ig-এর ৫-১০% IgM.
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের।
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়।
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়।
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে।
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
• ডিএনএ (DNA) - জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে।
• ডিএনএ (Deoxyribonucleic Acid):
- DNA - হলো একটি জৈব অণু যা জীবের প্রতিটি কোষে জিনগত তথ্য সংরক্ষণ করে এবং বংশগতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ডিএনএকে কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত একটি দ্বি-হেলিক্স কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা চারটি নিউক্লিওটাইড (অ্যাডেনিন-A, গুয়ানিন-G, সাইটোসিন-C, থাইমিন-T) দিয়ে গঠিত।
- এটি জিন (Gene) এর মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, উচ্চতা) নির্ধারণ করে।
- প্রতিলিপি (replication) ও ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণের নির্দেশনা দেয়।
- জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা করেন।
উল্লেখ্য,
- শক্তি উৎপাদন কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ।
- কোষের আবরণী গঠন করে ফসফোলিপিড বাইলেয়ার।
উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে আসে, যা বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone):
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়।
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
• পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- ভূ-পৃষ্ঠের যেকোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়।
- দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরু বৃত্ত বলা হয়।
- ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরু বৃত্ত বলা হয়।
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
অপটিক্যাল ফাইবার:
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল।
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে।
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত।
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত।
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ।
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়।
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রেরক স্টেশনে থাকে পৃথক পৃথক প্রেরক যন্ত্র, যার সাহায্যে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গরূপে শব্দ ও ছবি প্রেরণ করা হয়।
যে ছবি বা দৃশ্য প্রেরণ করতে হবে তা টেলিভিশন ক্যামেরা তাড়িত সংকেতে রূপান্তরিত করে। এ সংকেতকে মডুলেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গের সাথে মিশ্রিত করা হয়। পরে এন্টেনার সাহায্যে তাড়িতচৌম্বক বেতার তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
• ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন তার 'বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব' (Special Theory of Relativity) প্রদানের সময় দুটি মূল প্রস্তাবনা বা স্বীকার্যের ওপর ভিত্তি করে এটি প্রতিষ্ঠিত করেন।
• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা।
- ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন।
যথা -
১। প্রথম স্বীকার্য:
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
২। দ্বিতীয় স্বীকার্য:
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• শীতকালে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকায় বাতাস দ্রুত পানি শোষণ করতে পারে, ফলে কাপড় দ্রুত শুকায়।
• বাষ্পীভবন ও আর্দ্রতা:
- কাপড় শুকানো একটি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়া।
- বাষ্পীভবনের হার নির্ভর করে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতার উপর।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকলে বাতাসে জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতা বেশি থাকে।
• শীতকাল:
- শীতকালে ঠান্ডা ও শুষ্ক প্রকৃতির কারণে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে।
- এই কারণে শীতকালে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে।
- ফলে বাতাস দ্রুত কাপড় থেকে পানি শোষণ করতে পারে।
- এজন্য কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায়।
উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার:
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন প্রয়োজনে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
যেমন-
• রোগ নির্ণয়ে:
- আইসোটোপ ব্যবহার করে একজন রোগীর রোগাক্রান্ত স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 (99Tc) কে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
- এই আইসোটোপ যখন শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয় তখন ঐ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ গামা রশ্মি বিকিরণ করে, তখন বাইরে থেকে গামা রশ্মি শনাক্তকরণ ক্যামেরা দিয়ে সেই স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 এর লাইফটাইম 6 ঘণ্টা। তাই সামান্য সময়েই এর তেজস্ক্রিয়তা শেষ হয়ে যায় বলে এটি অনেক নিরাপদ।
• রোগ নিরাময়ে:
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (131I) সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়। এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছায় এবং এই আইসোটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং থাইরয়েডের ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।
- ইরিডিয়াম-১৯২ (192Ir) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কোবাল্ট-৬০ (60Co) ব্যবহার করা হয়। কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষ কলাকে ধ্বংস করে।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ফসফরাস-৩২ (32p) এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়।
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
তেজস্ক্রিয়তা:
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু।
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা।
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস।
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়।
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
পরিপাকতন্ত্র নিঃসৃত উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে।
মুখ থেকে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যনালী এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সমবায়ে মানব পরিপাকতন্ত্র গঠিত যার মূল কাজ খাদ্য পরিপাক করা। একে পাচনতন্ত্র (digestive system) বা, পরিপাকতন্ত্রও বলা হয়ে থাকে।
খাদ্য পাচন বা পরিপাক বা হজম একটি শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্যকে প্রথমে ছোট ছোট টুকরো করে তার পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা বিগলিত করে দেহে আত্তীকরণের উপযোগী করা হয়। পাচন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত অঙ্গতন্ত্রকে পরিপাকতন্ত্র বলে।
সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
• মূল মধ্যরেখাঃ
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কল্পিত রেখাকে ০০ দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বই হলো সেই স্থানের দ্রাঘিমাংশ।
- প্রতি ১০ দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময় ব্যবধান হয়।
গ্রিনিচের সময়:
- গ্রিনিচের দ্রাঘিমা শূন্য ডিগ্রি (০০ ) ধরা হয়।
- এখন আমরা যদি গ্রিনিচের সময় এবং অন্য কোনো স্থানের সময় জানতে পারি, তাহলে দুই স্থানের সময়ের পার্থক্য অনুসারে প্রতি ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্যে ১০ দ্রাঘিমার পার্থক্য ধরে ঐ স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করতে পারি।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকের দেশগুলো সময়ের হিসেবে গ্রিনিচের চেয়ে এগিয়ে থাকে এবং গ্রিনিচের পশ্চিমে অবস্থিত দেশগুলোর সময় গ্রিনিচের সময় থেকে পিছিয়ে থাকে।
- বাংলাদেশ গ্রিনিচ থেকে ৯০° পূর্বে অবস্থিত বলে বাংলাদেশের সময় ৬ ঘণ্টা এগিয়ে।
- এভাবে দ্রাঘিমার সাহায্যে সময় এবং সময়ের মাধ্যমে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
• হ্যালোজেন গ্রুপ:
- গ্রুপ-17 এর 6টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলা হয়। এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- হ্যালোজেন মৌলকে 'X' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। যেমন, F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) বা খাদ্যলবণ গঠিত হয়।
- এরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু তৈরি করে, যেমন- Cl2, I2 ইত্যাদি।
• মুদ্রা ধাতু:
- গোল্ড হচ্ছে গ্রুপ-11 মৌল। গ্রুপ-11 এর 4টি মৌল হচ্ছে কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম।
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়, কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম ছাড়া অন্য যে তিনটি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়। মৌলগুলো হলো: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনো যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।
উৎস: রসায়ন- নবম ও দশম শ্রেণি।
• উদ্ভিদের ভেতর দুটি প্রধান পরিবহন টিস্যু আছে:- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। এরা একসাথে উদ্ভিদের পরিবহন তন্ত্র (Vascular system) গঠন করে।
• ফ্লোয়েম (Phloem):
- ফ্লোয়েমের কাজ হলো পাতায় উৎপন্ন খাদ্য (মূলত গ্লুকোজ বা সুক্রোজ) উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে যেমন মূল, কাণ্ড, ফুল, ফল ইত্যাদিতে পৌঁছে দেওয়া।
- এই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সলোকেশন (Translocation)।
- খাদ্য পরিবহন উর্ধ্বমুখী (upward) ও নিম্নমুখী (downward) উভয় দিকেই হতে পারে।
• ফ্লোয়েম গঠিত হয় চারটি প্রধান উপাদান-
- সিভ টিউব (Sieve tube),
- কম্প্যানিয়ন সেল (Companion cell),
- ফ্লোয়েম ফাইবার (Phloem fiber),
- ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা (Phloem parenchyma),
অপরদিকে:
- জাইলেম (Xylem): পানি ও খনিজ পদার্থ মূল থেকে পাতায় পরিবহন করে।
- ক্যাম্বিয়াম (Cambium): নতুন জাইলেম ও ফ্লোয়েম গঠনে সাহায্য করে, অর্থাৎ এটি বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
- কর্টেক্স (Cortex): মূল ও কাণ্ডের ভেতরে থাকা টিস্যু যা খাদ্য ও পানি সংরক্ষণে সাহায্য করে, কিন্তু পরিবহন করে না।
তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই।