বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৭৪ / ১৪০ · ৭,৩০১৭,৪০০ / ১৪,০৮০

৭,৩০১.
মহাজাগতিক রশ্মিতে শতকরা কত ভাগ প্রোটন থাকে?
  1. ক) ৮৮%
  2. খ) ৮৯%
  3. গ) ৯০%
  4. ঘ) ৯১%
ব্যাখ্যা
-মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে শতকরা ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ বিকিরণ এবং ২ ভাগ থাকে কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারি নিউক্লিয়াস। 
-Cosmic Ray এর বাংলা হলো মহাজাগতিক রশ্মি।
-মহাজাগতিক রশ্মি হলো অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত। বহির্বিশ্ব থেকে ওই সব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে। কণার ওই বারিবর্ষণ এক অবিশ্রান্ত প্রক্রিয়া। 

সূত্র: Science Direct Website.
৭,৩০২.
ইউরেনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা -
  1. ৮২
  2. ৮৮
  3. ৯১
  4. ৯২
ব্যাখ্যা
• ইউরেনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা - ৯২।
- সংকেত- U
- পারমানবিক ভর -২৩৮।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ মৌলের পারমানবিক সংখ্যা:
- সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৪,
- সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১,
- ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২,
- ক্যালসিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ২০,
- জিংকের পারমানবিক সংখ্যা ৩০,
- অ্যালুমিনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ১৩, 
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬,
- আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩,
- নাইট্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৭।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩০৩.
নিচের কোনটিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. ক) বন্যা
  2. খ) খরা
  3. গ) সুনামি
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
সুনামি:
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়।
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে।
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প।
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে  সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। তবে এ সময় বাংলাদেশের কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি।
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়।
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে।
- ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরের আরাকান অঞ্চলে সংঘটিত একটি ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বাংলাদেশে আঘাত এনেছিল। তখন কক্সবাজার এবং পার্শ্ববর্তী দ্বীপসমূহে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৭,৩০৪.
কোন রোগটি মানবজাতির ইতিহাসে একমাত্র রোগ যেটা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল (Eradicated) হয়েছে?
  1. ক) পোলিও
  2. খ) গুটিবসন্ত
  3. গ) কুষ্ঠ
  4. ঘ) প্লেগ
ব্যাখ্যা

গুটিবসন্ত মানবজাতির ইতিহাসে একমাত্র রোগ যেটা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়েছে।
- WHO ১৯৮০ সালে গুটিবসন্ত নির্মূলের ঘোষণা দেয়।
- গুটিবসন্ত হয় - ভেরিওলা ভাইরাসের কারনে।
- সর্বশেষ ১৯৭৭ সালে সোমালিয়াতে দেখা গিয়েছিল।
ভ্যাক্সিনঃ এডয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে তৈরি করেন।

গণস্বাস্থ্যের ইতিহাসে এটাকেই সবচেয়ে বড় সফলতা বলা যায়।

Smallpox is an acute contagious disease caused by the variola virus, a member of the orthopoxvirus family. It was one of the most devastating diseases known to humanity and caused millions of deaths before it was eradicated. It is believed to have existed for at least 3000 years.

The smallpox vaccine, created by Edward Jenner in 1796, was the first successful vaccine to be developed. He observed that milkmaids who previously had caught cowpox did not catch smallpox and showed that a similar inoculation could be used to prevent smallpox in other people.

The World Health Organization launched an intensified plan to eradicate smallpox in 1967. Widespread immunization and surveillance were conducted around the world for several years. The last known natural case was in Somalia in 1977. In 1980 WHO declared smallpox eradicated – the only infectious disease to achieve this distinction. This remains among the most notable and profound public health successes in history.

Source: WHO

৭,৩০৫.
কোন উদ্ভিদের শ্বাসমূল আছে?
  1. পাইনাস
  2. কেয়া
  3. সুন্দরী
  4. বট
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে উদ্ভিদের প্রধান মূল হতে শাখা মাটির উপরে খাড়াভাবে উঠে আসে। এই সকল মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এই ধরনের রূপান্তরিত মূলকে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে। 
যেমন- সুন্দরী, গরান ইত্যাদি। 
- সুন্দরী বা গরান উদ্ভিদের শ্বাসমূল আছে। 
- রাস্নায় পরাশ্রয়ী বায়বীয় মূল দেখা যায়। 
- আদা, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদের কাণ্ড রাইজোম-জাতীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 
৭,৩০৬.
গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ব্যবহার করে মহাবিশ্বের বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে কী বলে?
  1. Astrology
  2. Astronomy
  3. Cosmology
  4. Astrophysics
ব্যাখ্যা
Astronomy vs Astrology:

Astronomy/ জ্যোতিবিদ্যা/ জ্যোতির্বিজ্ঞান - গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ব্যবহার করে মহাবিশ্বের বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন।

Astrology/ জ্যোতিষশাস্ত্র - এর মাধ্যমে বিভিন্ন জ্যোতিস্ক অর্থাৎ গ্রহ-নক্ষত্র ইত্যাদির অবস্থান বিবেচনা করে মানুষের ভাগ্যগণনা তথা ভাগ্য নিরূপণ করা হয়। যারা এই কাজ করে তাদের বলা হয় জ্যোতিষি।

Cosmology: মহাবিশ্বের জন্ম, বিবর্তন ও শেষ পরিণতি নিয়ে বিজ্ঞানের যে শাখায় গবেষণা করা হয়, তাকেই বলে কসমোলজি বা বিশ্বসৃষ্টিতত্ত্ব।

Astrophysics: জ্যোতির্বিজ্ঞানের যে শাখায় নভোমন্ডলে অবস্থিত বস্তুসমূহ; যথা: সূর্য, নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, উল্কা, নীহারিকা ইত্যাদির ভৌত এবং রাসায়নিক গুণাবলি তথা ঔজ্জ্বল্য, আকার, ভর, ঘনত্ব, তাপমাত্রা, রাসায়নিক গঠন, তাদের উৎপত্তি, বিবর্তন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান (Astrophysics)

উৎস: Britannica.
৭,৩০৭.
ভূমিকম্পের কারণ নয় কোনটি?
  1. বৃষ্টিপাত
  2. ভূগর্ভস্থ বাষ্প
  3. হিমাবাহ এর প্রভাব
  4. আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
ব্যাখ্যা
♦ ভূমিকম্প:

• ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে। 
• ভূ-অভ্যন্তরস্থ শিলারাশিতে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক অবমুক্তির কারণে সৃষ্ট এই স্পন্দনের মাত্রা মৃদু কম্পন থেকে প্রচন্ড ঘূর্ণনের মধ্যে হতে পারে। তাই ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো: 
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ: 
- শিলাচ্যুতি,
- তাপ বিকিরণ,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি। 
৭,৩০৮.
কোনটির ক্ষেত্রে ফ্যারাডের প্রথম সূত্রের প্রয়োগ দেখা যায়?
  1. পেইন্টিং
  2. গ্যালভানাইজিং
  3. ভলকানাইজিং
  4. ইলেকট্রোপ্লেটিং
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে তড়িৎ বিশ্লেষ্য জমা হয় অপরদিকে অ্যানোড ক্ষয় প্রাপ্ত হয়ে দ্রবণে আয়ন হিসাবে দ্রবীভুত হয়। 
- বিজ্ঞানী ফ্যারাডে, ব্রিটিশ রসায়ন ও পদার্থবিদ বিভিন্ন তড়িৎবিশ্লেষ্যের মধ্যদিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে, তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে জমাকৃত বা অ্যানোড হতে ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থের পরিমাণের সাথে দ্রবণের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের সম্পর্ক স্থাপন করেন। 
- তার এই সূত্র (১৮৩৪) ফ্যারাডের সূত্র নামে পরিচিত। 

ফ্যারাডের ১ম সূত্র: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ এর সময় ক্যাথোডে জমাকৃত অথবা অ্যানোডে ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থের পরিমাণ তড়িৎবিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ এর সমানুপাতিক। 

ফ্যরাডের প্রথম সূত্রের প্রয়োগ: 
- ফ্যারাডের প্রথম সূত্রের সহায্যে আমরা কোন নির্দিষ্ট পরিমান পদার্থ ক্যাথডে জমা হতে কত সময় লাগবে তা গণনা করা যায়। 
- একই ভাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ে কতটুকু পদার্থ ক্যাথডে জমা হবে তা হিসাব করতে পারি। 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং এর ক্ষেত্রে ফ্যারাডের সূত্রের প্রয়োগ দেখা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,৩০৯.
আমলকিতে কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ক) এ
  2. খ) বি
  3. গ) সি
  4. ঘ) ডি
ব্যাখ্যা

- ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড।
- সাইট্রাস জাতীয় ফল যেমন- লেবু, কমলালেবু, মাল্টা, জাম্বুরায় প্রচুর ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
- টক জাতীয় ফল যেমন- আমলকি, আনারস, আমড়া।
- সবুজ শাক-সবজি ও ফল যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
- সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি।
- ডিম ও দুধে ভিটামিন-সি নেই।

৭,৩১০.
গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কেমন?
  1. মাঝারি
  2. খুব কম
  3. খুব দীর্ঘ
  4. অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- কাজেই গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩১১.
যে তরঙ্গের কণার স্পন্দনের দিক তরঙ্গের সঞ্চারণের দিকের সমান্তরাল, তাকে কী বলে? 
  1. আলোক তরঙ্গ 
  2. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ 
  3. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

তরঙ্গ: 
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়, সে তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ এবং যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, সে তরঙ্গকে তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ বলে। 
- মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে যে যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্ট হয় তা দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ ও 
(২) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: 
- যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। 
যেমন- শব্দ তরঙ্গ ও স্প্রিং এর তরঙ্গ ইত্যাদি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ: 
- পানির মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে পানির কণাগুলো সাম্য অবস্থান পানির তল থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে। কিন্তু তরঙ্গ পানি পৃষ্ঠ বা পানির তলের উপর দিয়ে সামনে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরণের তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 
অর্থাৎ, যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। 
- এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে। 
যেমন- আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ ইত্যাদি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩১২.
আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত কৃষ্ণগহ্বরের নাম কী?
  1. স্যাগিটারিয়াস- এ স্টার
  2. ক্লাপ্টাপেক- থিটা
  3. এন্ড্রোমিডা- জি
  4. গ্যালাওটাগি- II
ব্যাখ্যা

- Like most large galaxies, the Milky Way is glued together by a supermassive black hole at its center, buried deep in the constellation Sagittarius.
- Our galaxy's supermassive black hole, called Sagittarius A∗ (or Sgr A∗), constantly pulls stars, dust and other matter inward, forming a stellar megalopolis 1 billion times denser than our corner of the galaxy.
সূত্র: Encyclopedia Britannica

৭,৩১৩.
Agaricus কোন ধরনের ছত্রাক? 
  1. মৃতজীবী ছত্রাক 
  2. বাতাসজ ছত্রাক 
  3. জলজ ছত্রাক 
  4. জীবন্ত ছত্রাক 
ব্যাখ্যা

- Agaricus একটি মৃতজীবী ছত্রাক। 
- এর সাধারণ নাম মাশরুম। 
- Agaricus মানুষের কাছে 'ব্যাঙের ছাতা' নামেও পরিচিত। 
- Agaricus ভেজা মাটিতে, মাঠে-ময়দানে, কাঠের উপরে, খড়ের গাঁদা, গোবর প্রভৃতি পঁচনশীল জৈব পদার্থের উপর জন্মায়। 
- বৃষ্টির দিনে এরা অধিক পরিমাণে জন্মায়। 
- অনেক সময় সবুজ ঘাসের লনে Agaricus এর কোন কোন প্রজাতি দলবদ্ধভাবে একটি বৃত্তের আকারে অবস্থান করে। এ ধরনের বৃত্তকে পরিচক্র (Fairy ring) বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩১৪.
ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ করার WMO এর আঞ্চলিক সংস্থার অন্তর্ভুক্ত দেশ? 
  1. ক) নয়টি দেশ
  2. খ) পাঁচটি দেশ 
  3. গ) সাতটি দেশ 
  4. ঘ) আটটি দেশ। 
ব্যাখ্যা
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লুএমও) আঞ্চলিক কমিটি একেকটি ঝড়ের নামকরণ করে। ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ করে এই সংস্থার অন্তর্ভুক্ত আটটি দেশ। দেশগুলি হল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, মলদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, তাইল্যান্ড এবং ওমান। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৭,৩১৫.
কোনটি Biological coin নামে পরিচিত? 
  1. FTP
  2. ATP
  3. NADPH
  4. NADH
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। 
- শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। 
- শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে দিন ও রাতের সবসময় ঘটে। 
- কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়। 
- অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে। 
- সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত ATP হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ATP কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয়। 
- সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ATP তে রূপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩১৬.
পরিবেশের সাথে জীবন সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয়-
  1. ক) Ecology
  2. খ) Toxicology
  3. গ) Horticulture
  4. ঘ) Meteorology
ব্যাখ্যা
- আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয় Meteorology।
- বিষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Toxicology। 
- পরিবেশের সাথে জীবন সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলে Ecology
- উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয় Horticulture।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭,৩১৭.
উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদসমূহকে কয়টি শ্রেণি ভাগ করেন?
  1. ক) ৩ ভাগে
  2. খ) ৪ ভাগে
  3. গ) ৫ ভাগে
  4. ঘ) ৬ ভাগে
ব্যাখ্যা
থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক। তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। যথা- ট্রি বা বৃক্ষ, শ্রাব বা গুল্ম, আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং হার্ব বা বীরুৎ।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭,৩১৮.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক 
  2. বিষুবীয় অঞ্চলে ওজন সর্বাধিক 
  3. পৃথিবীর কেন্দ্রে g সর্বাধিক 
  4. সব স্থানে g সমান 
ব্যাখ্যা

- সঠিক তথ্যটি হচ্ছে- মেরু অঞ্চলে g সর্বাধিক। 
- পৃথিবীর আকৃতি এবং ঘূর্ণনের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান বিভিন্ন হয়। 
যেমন-
মেরু অঞ্চল: পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয়, এটি মেরু অঞ্চলে কিছুটা চ্যাপ্টা। এর ফলে মেরু অঞ্চল পৃথিবীর কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত। অভিকর্ষজ বল দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক হওয়ায়, দূরত্ব কম হলে g-এর মান সর্বাধিক হয়।
বিষুবীয় অঞ্চল: বিষুবীয় অঞ্চলে পৃথিবী স্ফীত, তাই এটি কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত। এই কারণে এখানে g-এর মান সবচেয়ে কম হয়।

পৃথিবীর আকৃতির কারণে বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজনের পার্থক্য: 
- পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোলক না হওয়ায়, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব সমান নয়। 
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g-এর মান ভিন্ন হয়। 
- পৃথিবীর বিষুবীয় অঞ্চলে কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানে g-এর মান সর্বনিম্ন (প্রায় ৯.৭৮ মি/সেকেন্ড), তাই বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত এগিয়ে যাওয়া হয়, ততই কেন্দ্র থেকে দূরত্ব কমে এবং g-এর মান বৃদ্ধি পায় (প্রায় ৯.৮৩ মি/সেকেন্ড), ফলে বস্তুর ওজনও বাড়ে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব সর্বনিম্ন হওয়ায় g-এর মান সর্বোচ্চ এবং তাই বস্তুর ওজনও সর্বোচ্চ হয়। 
- এছাড়াও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যভাগে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য হওয়ায় সেখানে বস্তুর ওজন শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৭,৩১৯.
দৈর্ঘ্যের একক-
  1. ক) m
  2. খ) M
  3. গ) L
  4. ঘ) km
ব্যাখ্যা
দৈর্ঘ্যের একক m এবং মাত্রা L
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৭,৩২০.
কোনটির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে?
  1. উপাদান
  2. তাপমাত্রা
  3. আকার আকৃতি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পরিবাহিতা: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে, 
I ∝ V 
বা, I = GV 
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। 
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে। 
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens)। একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 

- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশী তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশী। 
- আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশী। 
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা। 
- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়। 
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়।
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশী। 
- অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩২১.
সার্কিট ব্রেকারের প্রধান কাজ কী?
  1. ব্যাটারির চার্জ সংরক্ষণ করা
  2. বিদ্যুৎ প্রবাহ কমিয়ে দেওয়া
  3. বিদ্যুতের গতি বাড়ানো
  4. অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করা
ব্যাখ্যা
সার্কিট ব্রেকার এবং ফিউজ: 
- বিদ্যুতের বড় বড় দুর্ঘটনা হয় যখন হঠাৎ কোনো একটা ত্রুটির কারণে অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- হঠাৎ করে বিপজ্জনক বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করার জন্য সার্কিট ব্রেকার কিংবা ফিউজ ব্যবহার করা হয়।
- সার্কিট ব্রেকার এমনভাবে তৈরি করা হয় যে এর ভেতর থেকে নিরাপদ সীমার বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলেই সার্কিট ব্রেক (বিচ্ছিন্ন) করে দেয়
- ফিউজ সে তুলনায় খুবই সরল একটা পদ্ধতি, একটি যন্ত্রে যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় সেটি যন্ত্রে ঢোকানোর আগে সরু একটা তারের ভেতর দিয়ে নেওয়া হয়।
- যদি কোনো কারণে বেশি বিদ্যুৎ যাওয়ার চেষ্টা করে ফিউজের সরু তার সেই (রোধ বেশি, কাজেই I2R বেশি অর্থাৎ তাপ বেশি) বিদ্যুতের কারণে উত্তপ্ত হয়ে পুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে ফেলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩২২.
কোনটি শিশুর জন্মগত ত্রুটিজনিত রোগ?
  1. ক) হাম
  2. খ) পোলিও
  3. গ) হেপাটাইটিস
  4. ঘ) রুবেলা
ব্যাখ্যা
- রুবেলা রোগ শিশুর জন্মগত ত্রুটিজনিত রোগ।
- গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসে মা যদি চিকেন পক্স, মাম্পস, যক্ষা, ম্যালেরিয়া, রুবেলা ভাইরাস, এইডস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হন তবে গর্ভস্থ শিশু শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ ও মানসিক প্রতিবন্ধী হতে পারে।
- এছাড়া মায়ের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা প্রভৃতি শারীরিক অবস্থায় গর্ভস্থ শিশু প্রতিবন্ধী হতে পারে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩২৩.
কোনটিতে মরিচা পড়ে না?
  1. ক) ঢালাই লোহা
  2. খ) টুল স্টিল
  3. গ) স্টেইনলেস স্টিল
  4. ঘ) মাইল্ড স্টিল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্টেইনলেস স্টিলের প্রধান উপাদান ক্রোমিয়াম ও নিকেল হওয়ায় এটিতে মরিচা পড়ে না।
৭,৩২৪.
বৈদ্যুতিক শক্তি ও চৌম্বকত্বকে একত্রিত করে বিজ্ঞানীরা যে বল আবিষ্কার করেন, তার নাম কী?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. নিউক্লিয়ার বল
  3. দুর্বল নিউক্লিয় বল 
  4. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
ব্যাখ্যা

প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন:
- প্রাচীনকালে চীন দেশে একটুকরো লোড স্টোনকে সমজাতীয় অন্য একটি লোড স্টোনের টুকরোকে অদৃশ্য একটা শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করতে দেখা গিয়েছিল, বিশেষ ধরনের এই পদার্থের বিশেষ এই ধর্মটির নাম দেওয়া হয়েছিল চৌম্বকত্ব (Magnetism) । 
- একইভাবে প্রাচীন গ্রিসে আম্বর নামের পদার্থকে পশম দিয়ে ঘষা হলে সেটি এই দুটি পদার্থকে একটি অদৃশ্য শক্তি দিয়ে আকর্ষণ করত, এই বিশেষ ধর্মের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রিসিটি বা বৈদ্যুতিক শক্তি (Electricity)। 
- অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয় এবং বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এটি একই বলের দুটি ভিন্ন রূপ এবং এই বলটির নাম দেওয়া হয় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetism)। 
- পরবর্তীতে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কৃত হওয়ার পর বিটা রশ্মি নামে একটা বিশেষ বিকিরণ ব্যাখ্যা করার সময় 'দুর্বল নিউক্লিয় বল' নামে নতুন এক ধরনের বল আবিষ্কৃত হয়। 
- পদার্থবিজ্ঞানীরা পরে দেখালেন বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল এবং দুর্বল নিউক্লিয় বল একই বলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ, তাদেরকে একত্র করে সেই বলের নাম দেওয়া হলো ইলেকট্রো উইক ফোর্স। পদার্থবিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রকৃতিতে মহাকর্ষ বল এবং নিউক্লিয়ার বল নামে আরও যে দুটি বল রয়েছে ভবিষ্যতে সেগুলোও একই সূত্রের আওতায় আনা যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৩২৫.
মানবদেহের লােহিত কণিকার আয়ুষ্কাল কতদিন?
  1. ক) ২১ দিন
  2. খ) ৩০ দিন
  3. গ) ১৮০ দিন
  4. ঘ) কোনােটিই নয়
ব্যাখ্যা
- রক্ত কণিকার মধ্যে লােহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লােহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতাে দ্বি-অবতল।
- এর গড় আয়ু ১২০ দিন বা ৪ মাস
 
অন্যদিকে, 
- শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫-১০ দিন।

সূত্র:- জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭,৩২৬.
ধমনি এবং শিরার মধ্যে কোন পার্থক্যটি সঠিক নয়?
  1. ধমনির প্রাচীর পুরু এবং শিরার প্রাচীর পাতলা
  2. ধমনিতে কপাটিকা থাকে এবং শিরায় থাকে না
  3. ধমনির গহ্বর ছোট, শিরার গহ্বর বড়
  4. ধমনি দিয়ে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয়, শিরা দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত প্রবাহিত হয়
ব্যাখ্যা
ধমনি: 
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artory) বলে। 
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনির স্পন্দন আছে। 
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriol) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। 
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়। 
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে। 

শিরা: 
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে
- ব্যতিক্রম পালমোনারি শিরাটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে এবং Umbilical Vein মাতৃদেহ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ভ্রূণে নিয়ে আসে।
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে।
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে।
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩২৭.
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় ভারতে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেখানকার ডাক্তার তার গায়ের তাপমাত্রা মেপে বলল তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা কত? 
  1. ৯০.৪ ডিগ্রি
  2. ৯৮.৪ ডিগ্রি
  3. ১০০.৪ ডিগ্রি
  4. ১০২.৪ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন খেলোয়াড় ভারতে খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল। সেখানকার ডাক্তার তার গায়ের তাপমাত্রা মেপে বলল তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফারেনহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি
C/5 = (F - 32)/9   [এখানে C = 38]
∴ 38/5 = (F - 32)/9
বা, 5(F - 32) = 9 × 38
বা, F - 32 = 342/5
বা, F = 68.4 + 32
∴ F = 100.4
অর্থাৎ, ফারেহাইট স্কেলে ঐ খেলোয়াড়ের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৭,৩২৮.
সমুদ্রে পানির গভীরতা মাপার একক -
  1. ক) মিটার
  2. খ) ফুট
  3. গ) কিলোমিটার
  4. ঘ) ফ্যাদম
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রে পানির গভীরতা মাপার একক ফ্যাদম।
- এক ফ্যাদম সমান ৬ ফিট (১.৮৩ মিটার)।

==============
- বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র : হাইগ্রোমিটার
- গ্যাসের চাপ মাপার যন্ত্র : ম্যানোমিটার
- বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্র : ব্যারোমিটার
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে যন্ত্র : ফ্যাদোমিটার।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা
৭,৩২৯.
বীজ সংরক্ষণের প্রক্রিয়া কখন শুরু হয়? 
  1. রোপণের সময়
  2. ফসল কাটার পর
  3. চারা রোপণের সময়
  4. বীজ উৎপাদনের সময় থেকে
ব্যাখ্যা

বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া: 
- বীজ উৎপাদন থেকেই বীজ সংরক্ষণের শুরু এবং জমিতে এর বপন বা রোপণের মাধ্যমে বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ। 
- বীজ সংরক্ষণ বলতে বীজের উৎপাদন, শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ, বিপণন যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাকেই বোঝায়। 
- বীজ শস্য উৎপাদনের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মনে রাখা দরকার- 
১) কেবল বীজের জন্যই ফসলের চাষ করা; 
২) নির্বাচিত জমির আশপাশের জমিতে ঐ নির্দিষ্ট বীজ ফসলের অন্য জাতের আবাদ না করা; 
৩) বীজ উৎপাদনের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে বীজ সংগ্রহ করা; 
৪) বীজের চারা বৃদ্ধিকালে জমি থেকে ভিন্ন জাতের গাছ তুলে ফেলা; 
৫) বীজের ক্ষেত ঘন ঘন পরিদর্শন করা যাতে (ক) আগাছা দমন (খ) ভিন্ন জাতের গাছ তোলা ও (গ) রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের উপদ্রব ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়; 
৬) ফসলের পরিপক্বতার দিকে দৃষ্টি রাখা; 
৭) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ফসল কাটা, মাড়াই করা ও ঝাড়া ইত্যাদি। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৩৩০.
কোন বর্তনী পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে? 
  1. ট্রানজিস্টর
  2. ট্রান্সফরমার
  3. রেকটিফায়ার
  4. সমন্বিত বর্তনী
ব্যাখ্যা
একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে। 
- যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)। 
- একমুখীকারক দু'প্রকারের। 
যথা- 
১। অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং 
২। পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৩১.
হৃদযন্ত্রের প্রসারণকে কী বলে?
  1. সিস্টোল
  2. ডায়াস্টোল
  3. ডায়াসিস্টল
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• হৃদপিন্ড:
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দু'ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ।
- এটি হৃদপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
- এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে।
যথা -
১। বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম বহিঃস্তর মূলত যোজক কলা দ্বারা গঠিত। এতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে। এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত থাকে।
২। মধ্যস্তর মায়োকার্ডিয়াম- এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে। এটি দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত।
৩। অন্তঃস্তর এন্ডোকার্ডিয়াম এটি সব থেকে ভেতরের স্তর। হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত থাকে। অন্তঃস্তরটি হৃদপিন্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে।

- হৃদপিন্ডের ভেতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে।
- এমনকি বিশ্রামরত অবস্থায়ও এর সংকোচন ও প্রসারণ চক্রাকারে চলতে থাকে।
- হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে সিস্টোল এবং
- সম্প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৭,৩৩২.
বায়ুশূন্য একটি উঁচু মিনারের ছাদ থেকে একই সাথে একটি ভারী ও একটি হালকা বস্তুকে নিচে ফেলে দিলে কোনটি আগে মাটিতে পড়বে?
  1. হালকা বস্তুটি আগে মাটিতে পড়বে
  2. ভারী বস্তুটি আগে মাটিতে পড়বে
  3. বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়বে
  4. বস্তুদ্বয় কিছু সময়ের ব্যবধানে মাটিতে পড়বে
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে গ্যালিলিওর সূত্র: 
- কোনো বস্তু উপর থেকে নিচে খাড়াভাবে পতনের কারণ অভিকর্ষ বা পৃথিবীর আকর্ষণ বল। 
- ইটালীর বিজ্ঞানী গ্যালিলিও ১৫৮৯ খ্রিষ্টাব্দে পিসা শহরে বায়ুশূন্য ১৮০ ফুট উঁচু মিনারের ছাদ থেকে একই সাথে একটি ভারী ও একটি হালকা বস্তুকে নিচে ফেলে দিয়ে প্রমাণ করেন যে, বস্তুদ্বয় প্রায় একই সময়ে মাটিতে পড়ে। 
- অভিকর্ষজ ত্বরণ ভরের উপর নির্ভরশীল নয়। তাই নিচে পড়ার সময়, ভারী ও হালকা বস্তুর ত্বরণ একই হবে এবং বস্তুদ্বয় একই সময়ে মাটিতে পড়বে। 
- পড়ন্ত বস্তুর সূত্রগুলো স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধার পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে তিনটি সূত্র দেন। 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: 
- বাধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময় পর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t  । 

৩। ততৃীয় সূত্র: 
- বাধাহীন পথে পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্ব সময়ের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৩৩.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে শক্তি রূপান্তরের মূল কারণ কোনটি?
  1. তাপীয় বিক্রিয়া
  2. আলোক বিক্রিয়া
  3. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
  4. নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া বা রেডক্স (Redox) বিক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের স্থানান্তর ঘটে, যা বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি করে। 

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭,৩৩৪.
একটি পূর্ণাঙ্গ স্নায়ুকোষকে বলা হয়-
  1. ক) নেফ্রন
  2. খ) নিউরন
  3. গ) ম্যাক্রোফেস
  4. ঘ) মলিকুলার সেল
ব্যাখ্যা
• একটি পূর্ণাঙ্গ স্নায়ুকোষকে বলা হয় নিউরন।
• নিউরন: স্নায়ুতন্ত্রের গঠনমূলক ও কার্যকরী একককে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বলে। 
- মস্তিষ্ক কোটি কোটি স্নায়ুকোষ (নিউরন) দিয়ে তৈরি। 
- এই একটি মাত্র মানব মগজে রয়েছে ১,০০০ কোটি স্নায়ুকোষ বা নার্ভ সেল। 
- আর এগুলো একটি আরেকটির সাথে সংযুক্ত রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৩৫.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হলো -
  1. এমোনিয়া
  2. ক্রিংকার
  3. মিথেন
  4. অপরিশোধিত তেল
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেন ব্যবহার করা হয় শতকরা ২১ ভাগ।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই ।
৭,৩৩৬.
চা পাতায় কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ক) ভিটামিন ই
  2. খ) ভিটামিন কে
  3. গ) ভিটামিন বি কমপ্লিক্স
  4. ঘ) ভিটামিন এ
ব্যাখ্যা
- চা পাতা, বৃষ্টির পানিতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে।
- শাকসবজি, তৈলবীজ এবং হাঙ্গর মাছের যকৃতের তেলে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।
- সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত দ্রব্য ভিটামিন-কে এর প্রধান উৎস।
- মাছের তেল, দুধ, মলা মাছ, মাছের মাথা এবং গাজরে সর্বাধিক ভিটামিন-এ রয়েছে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩৩৭.
কয়লা একটি -
  1. খনিজ
  2. জ্বালানি
  3. উৎকৃষ্ট জ্বালানি
  4. জীবাশ্ম জ্বালানি
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- ভূ-আন্দোলনের ফলে ভূপ্রকৃতির ও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে।
- এ পরিবর্তনের ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহ জলাভূমি ও কঠিন শিলাস্তর ও বায়ুস্তরের নিচে ছিদ্রবিহীন শিলাখন্ডের দুটি স্তরের মাঝে আটকা পড়ে যায়।
- বায়ুর অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহ হাজার হাজার বছর ধরে উচ্চচাপ ও তাপে পরিবর্তিত ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়।
- উদ্ভিদের দেহ পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় এবং জলাভূমির প্রাণিসত্ত্বা পরিবর্তিত হয়ে পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানে পরিণত হয়। 

♣ সাধারণ তাপমাত্রায় জ্বালানির ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে তাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
ক) কঠিন জ্বালানী: কাঠ কয়লা, পিট কয়লা;
খ) তরল জ্বালানী: কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, গ্যাসোলিন; 
গ) গ্যাসীয় জ্বালানি: কোল গ্যাস, প্রোডিউসার গ্যাস, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG), তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG), সংনমিত প্রাকৃতিক গ্যাস (CNG), বায়োগ্যাস ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৩৮.
পারমানবিক বোমা তৈরী হয় নিচের কোন ধাতু দিয়ে?
  1. ক) রেডিয়াম
  2. খ) ইউরেনিয়াম
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক বোমা:
- পারমাণবিক বোমা তৈরি হয় ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239 ধাতু দিয়ে। 
- বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙ্গে বেরিয়াম এবং ক্রিপ্টনে পরিণত হয়।
- ইউরেনিয়াম রুপালি-ধূসর বর্ণের তেজস্ক্রিয় একটি ধাতু।
- ইউ (U) প্রতীকের এই ধাতুটি পর্যায় সারণির সপ্তম পর্যায়ের তৃতীয় শ্রেণির B উপশ্রেণিতে অবস্থিত এবং এটি সারণির ৯২তম মৌল।
- উচ্চ ঘনত্বের ইউরেনিয়াম মৌলটি লেড থেকে ৭০ শতাংশ বেশি ঘনত্বের। 
- পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর ক্ষেত্রে এই ধাতু একটি অপরিহার্য উপাদান।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান নামের যে দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল, ওই দুটি বোমা তৈরিতেই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং কালের কন্ঠ পত্রিকা (রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১৮ মার্চ, ২০২১)। 
৭,৩৩৯.
হিলিয়াম মৌলের অণুর সংকেত হল —
  1. ক) He
  2. খ) He+2
  3. গ) He2
  4. ঘ) He+
ব্যাখ্যা
• হিলিয়াম মৌলের অণুর সংকেত হল He.

হিলিয়াম:
- হিলিয়াম মৌলের অণুর সংকেত হল He.
 -হিলিয়াম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা 2.
- হিলিয়াম হলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের প্রধান উৎস হলো বাতাস। 
- হিলিয়ামের প্রধান উৎস হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।
- কোন কোন প্রাকৃতিক গ্যাসের কূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় প্রচুর পরিমাণ (আনুমানিক 5% পর্যন্ত) হিলিয়াম পাওয়া যায়।
- কিছু তেজষ্ক্রিয় আকরিক যেমন, পিচব্লেন্ড, মোনাজাইট, থোরিয়ানাইট এবং ক্লিভাইট-এর মধ্যে হিলিয়াম এবং আর্গন আবদ্ধ থাকে।
- এ আকরিকগুলিকে উত্তপ্ত করলে হিলিয়াম এবং আর্গন বের হয়ে আসে। 

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,৩৪০.
কোন অ্যান্টিবডি অমরা (placenta) অতিক্রম করে ভ্রূণে স্থানান্তরিত হয়?
  1. IgG
  2. IgD
  3. IgE
  4. IgM
ব্যাখ্যা

• IgG (Immunoglobulin G) হলো একমাত্র অ্যান্টিবডি অমরা (placenta) অতিক্রম করে মায়ের শরীর থেকে সরাসরি ভ্রূণের রক্ত সঞ্চালনে প্রবেশ করতে পারে।

অ্যান্টিবডি:
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে।
প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপেig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু।
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট।
- লিম্ফোসাইট দুধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ।
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত।
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে।
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে।

• অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ:

- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-( gamma), α-(alpha), µ-(mu), ε-(epsilon) এবং δ-(delta)।
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। যেমন-

১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA):

- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA .
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে।
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেহে স্থানান্তরিত হয়।

২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD):

- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে।gD.
- রক্ত, লসিকা ও লিম্ফোসাইট B-কোষে এ Ig পাওয়া যায়।
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে।

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE.
- এটি দুর্লভ।g.
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়।
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে।

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG):
দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG.
- রক্ত, লসিকা, অস্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে।
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে।
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে।

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM):
- দেহের মোট Ig-এর ৫-১০% IgM.
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের।
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়।
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়।
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

৭,৩৪১.
নিচে কোনটি ডিএনএ (DNA) এর কাজ?
  1. শক্তি উৎপাদন
  2. জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ
  3. কম্পিউটার মেমোরি সংরক্ষণ
  4. কোষের আবরণী গঠন
ব্যাখ্যা

• ডিএনএ (DNA) - জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে।

• ডিএনএ (Deoxyribonucleic Acid):
- DNA - হলো একটি জৈব অণু যা জীবের প্রতিটি কোষে জিনগত তথ্য সংরক্ষণ করে এবং বংশগতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ডিএনএকে কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত একটি দ্বি-হেলিক্স কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা চারটি নিউক্লিওটাইড (অ্যাডেনিন-A, গুয়ানিন-G, সাইটোসিন-C, থাইমিন-T) দিয়ে গঠিত।
- এটি জিন (Gene) এর মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, উচ্চতা) নির্ধারণ করে।
- প্রতিলিপি (replication) ও ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণের নির্দেশনা দেয়।
- জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা করেন।

উল্লেখ্য,
- শক্তি উৎপাদন কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ।
- কোষের আবরণী গঠন করে ফসফোলিপিড বাইলেয়ার।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

৭,৩৪২.
বর্ষাকালে বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড়ের প্রধান কারণ কী?
  1. পাহাড়ি ঢলের স্রোত
  2. সমুদ্রের উচ্চ জোয়ার
  3. উত্তর-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা

- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে আসে, যা বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। 

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৩৪৩.
পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমানভাবে বিভক্তকারী রেখাটির নাম কী?
  1. বিষুবরেখা
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. দ্রাঘিমাংশ
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।

- ভূ-পৃষ্ঠের যেকোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়।
- দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরু বৃত্ত বলা হয়।
- ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরু বৃত্ত বলা হয়।
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৪৪.
পরিচলন বৃষ্টি বেশি হয় কোন অঞ্চলে?
  1. ক) মেরু অঞ্চলে
  2. খ) শীত প্রধান অঞ্চলে
  3. গ) নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
  4. ঘ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
• দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে জল বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ওই জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে। এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারাবছর লম্বভাবে পড়ে। এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমণ্ডলে সারাবছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই বৃষ্টি বেশি হয়। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি (বোর্ড বই)। 
৭,৩৪৫.
ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নিচের কোনটি? 
  1. হুপিংকাশি
  2. সর্দি
  3. জলবসন্ত
  4. হেপাটাইটিস
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। 
যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া,  টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি। 
- আবার ব্যাকটেরিয়া গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- গরু-মহিষের যক্ষ্মা, হাঁস-মুরগির কলেরা, ভেড়ার অ্যানথ্রাক্স, গলাফোলা, ইঁদুরের প্লেগ ইত্যাদি। 

ভাইরাস: 
- সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, নিউমোনিয়া, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগ সবই ভাইরাসজনিত রোগ। 
- মানুষের ন্যায় অন্যান্য প্রাণীসহ গাছপালারও ভাইরাসজনিত রোগ হয়। 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ, আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না।
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- বিজ্ঞানী এন.ডব্লিউ.পিরি (N.W. Piri) এবং এফ.সি.বাওডেন (F.C. Bawden) ১৯৩৭ সালে ভাইরাসের রাসায়নিক প্রকৃতি বর্ণনা করেন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে ভাইরাস দেহ গঠিত এই কথা বলেন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৪৬.
অপটিক্যাল ফাইবার কী? 
  1. এসবেস্টোস ফাইবার নল 
  2. সুপরিবাহী তামার তন্তু নল 
  3. খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৭,৩৪৭.
টেলিভিশন সম্প্রচারে ক্যামেরার কাজ কী?
  1. ক) ছবিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তর করা
  2. খ) ছবিকে শব্দ তরঙ্গে রূপান্তর করা
  3. গ) তড়িৎ সংকেতকে ছবিতে রূপান্তর করা
  4. ঘ) শব্দ তরঙ্গকে ছবিতে রূপান্তর করা
ব্যাখ্যা

টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রেরক স্টেশনে থাকে পৃথক পৃথক প্রেরক যন্ত্র, যার সাহায্যে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গরূপে শব্দ ও ছবি প্রেরণ করা হয়।
যে ছবি বা দৃশ্য প্রেরণ করতে হবে তা টেলিভিশন ক্যামেরা তাড়িত সংকেতে রূপান্তরিত করে। এ সংকেতকে মডুলেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গের সাথে মিশ্রিত করা হয়। পরে এন্টেনার সাহায্যে তাড়িতচৌম্বক বেতার তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়। (উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

৭,৩৪৮.
ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ২ভাগে
  2. খ) ৩ভাগে
  3. গ) ৪ভাগে
  4. ঘ) ৫ভাগে
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের ফুল ধরনের উপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে।
ফটোপিরিওডিজম এর উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-

১. ছোট দিনের উদ্ভিদ:
সয়াবিন, আলু, কসমস, ইক্ষু, শিম, ডালিয়া, তামাক, চন্দ্রমল্লিকা, রোপা আমন, পাট ইত্যাদি।

২. বড় দিনের উদ্ভিদ:
পালংশাক, লেটুস, আফিম, ঝিঙ্গা, যব ইত্যাদি।

৩. দিন নিরপেক্ষ উদ্ভিদ:
সূর্যমুখী, টমেটো, শসা, কার্পাস, আউশ ধান ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭,৩৪৯.
পর্যায় সারণিতে ধাতব মৌলের ক্ষেত্রে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গলনাঙ্কের মানের কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে?
  1. হ্রাস পায়
  2. অল্প বৃদ্ধি পায়
  3. একই থাকে
  4. অনেক বেশী বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণির সাধারণ পর্যায়ভিত্তিক ধর্ম থেকে দেখা যায় যে একই গ্রুপে যত উপর থেকে যত নিচের দিকে যাওয়া যায় মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ততই বৃদ্ধি পায়।
- এর কারণ হলো একই গ্রুপে যত উপর থেকে নিচে যাওয়া যায় মৌলের একটি করে স্তর বৃদ্ধি পায় কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা একই থাকে।
- ফলে পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় বহিঃস্থ স্তরের সাথে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায়। 

• ক্ষার ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কের মানের হ্রাসের কারণ হলো ধাতুগুলোর কেলাস ল্যাটিসের বন্ধন দুর্বল হওয়ায় এরা নরম প্রকৃতির হয়।
- এ ধাতুগুলোর প্রতিটি পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ কক্ষে একটি মাত্র ইলেকট্রন থাকে। 
- এর ফলে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে গ্রুপের উপরের ক্ষার ধাতুর থেকে নিচের ক্ষার ধাতুর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ যথেষ্ট বড় হয় এবং পরমাণুর আকারও বড় হয়। এর ফলে পরমাণুর মধ্যে বন্ধন শক্তি দুর্বল প্রকৃতির হয়। 
- বন্ধন শক্তি দুর্বল হওয়ার কারণে গলনাংকের মানও কম হয়। অর্থাৎ ক্ষার ধাতুর ক্ষেত্রে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে গলনাংকের মান হ্রাস পায়। 


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৫০.
ফসফরাসের প্রোটন সংখ্যা 15 এবং পারমাণবিক ভর 31 হলে নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 13
  2. 14
  3. 15
  4. 16
ব্যাখ্যা
ভর সংখ্যা (Mass Number): 
 - কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়।
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়।
- ভর সংখ্যাকে A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 

ফসফরাসের প্রোটন সংখ্যা 15 এবং নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর 31। অতএব, নিউট্রন সংখ্যা হবে 31 - 15 = 16

সূত্র: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৫১.
আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য কয়টি? 
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা

• ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন তার 'বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব' (Special Theory of Relativity) প্রদানের সময় দুটি মূল প্রস্তাবনা বা স্বীকার্যের ওপর ভিত্তি করে এটি প্রতিষ্ঠিত করেন।

• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সমবেগে গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর কোনো ঘটনা বা কোনো ভৌত রাশির পরিমাপ সংক্রান্ত আলোচনা। 
- ভর, সময়, দৈর্ঘ্য, বেগ ও শক্তির আপেক্ষিকতা ইত্যাদি বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই দুইটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা - 
১। প্রথম স্বীকার্য: 
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 

২। দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৫২.
রক্তশুন্যতা রোগটি কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন কে
  3. গ) ভিটামিন বি৩
  4. ঘ) ভিটামিন বি১২
ব্যাখ্যা
রক্তশূন্যতা (Anemia) :
•রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়াই রক্তাশূন্যতার প্রধান কারণ।
•খাদ্যের প্রধান উপাদান ভিটামিন বি১২ এর অভাবে এ রোগ দেখা যায়।
•বাংলাদেশ সাধারণত লৌহ ঘটিত আমিষের অভাবে এ রোগ দেখা যায়।
•শিশুদের ও গর্ভধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মহিলাদের ক্ষেত্রে এ রোগ বেশি সংঘটিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭,৩৫৩.
বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক কে?
  1. Archimedes
  2. Charles Darwin
  3. Oppenheimer
  4. John Dalton
ব্যাখ্যা
• বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক হলেন চার্লস ডারউইন। তিনি "The Origin of Species" নামক বিখ্যাত গ্রন্থে প্রাকৃতিক নির্বাচন বা "Natural Selection" এর মাধ্যমে প্রজাতির ধাপে ধাপে পরিবর্তন ও অভিযোজন ব্যাখ্যা করেন। ডারউইনের মতে, পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সক্ষম জীবেরা বেঁচে থাকে এবং তাদের বৈশিষ্ট্য উত্তরসূরিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময়ে জীবজগতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। আর্কিমিডিস, ওপেনহেইমার বা জন ডাল্টন বিবর্তন তত্ত্বের সাথে জড়িত নন।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) Charles Darwin.

বিবর্তনবাদ:

- বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক চার্লস ডারউইন।
- এই থিওরি বিজ্ঞানের জগতে বৈপ্লবিক তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত।
- এই তত্ত্বে দেখানো হয়েছে প্রাণীরা সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিক নিয়মে ধীরে ধীরে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
- বিবর্তনবাদের এই তত্ত্বটি আমাদের পৃথিবীর পশুপাখি ও উদ্ভিদ জগৎ সম্পর্কে বুঝতে বড়ো ধরনের ভূমিকা রেখেছে।
- তার এই প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন যার মাধ্যমে একটি প্রাণীর জনগোষ্ঠী থেকে নতুন প্রজাতির উদয় ঘটে।
- অন দ্য অরিজিন অফ স্পেশিস নামে চার্লস ডারউইনের এই বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে।
- তার এই গ্রন্থে তিনি বিবর্তনবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে কোনো প্রাণী ক্রমাগত অভিযোজনের ফলে আপন পরিবেশের জন্যে বিশেষায়িত হতে হতে এক সময় নতুন একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৫৪.
ব্লাড ক্যান্সার হওয়ার জন্য দায়ী হলো-
  1. ক) অণুচক্রিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া
  2. খ) অণুচক্রিকার সংখ্যা হ্রাস পাওয়া
  3. গ) রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া
  4. ঘ) রক্তরসের পরিমাণ কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
• ব্লাড ক্যান্সার হওয়ার জন্য দায়ী হলো রক্তের শ্বেতকণিকার সংখ্যা অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া।
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়।
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৫৫.
শীতকালে কাপড় দ্রুত শুকায়, এর প্রধান কারণ কী? 
  1. আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে
  2. বায়ুর তাপমাত্রা কম থাকে
  3. বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে
  4. সূর্যের আলো তীব্র থাকে
ব্যাখ্যা

শীতকালে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকায় বাতাস দ্রুত পানি শোষণ করতে পারে, ফলে কাপড় দ্রুত শুকায়।

বাষ্পীভবন ও আর্দ্রতা:
- কাপড় শুকানো একটি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়া।
- বাষ্পীভবনের হার নির্ভর করে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতার উপর।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকলে বাতাসে জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতা বেশি থাকে।

• শীতকাল:
- শীতকালে ঠান্ডা ও শুষ্ক প্রকৃতির কারণে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে।
-  এই কারণে শীতকালে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে।
- ফলে বাতাস দ্রুত কাপড় থেকে পানি শোষণ করতে পারে।
- এজন্য কাপড় দ্রুত শুকিয়ে যায়।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৫৬.
টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. আয়োডিন-131
  2. টেকনিশিয়াম-99 
  3. ফসফরাস-32
  4. কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন প্রয়োজনে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
যেমন- 
• রোগ নির্ণয়ে: 
- আইসোটোপ ব্যবহার করে একজন রোগীর রোগাক্রান্ত স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 (99Tc) কে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
- এই আইসোটোপ যখন শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয় তখন ঐ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ গামা রশ্মি বিকিরণ করে, তখন বাইরে থেকে গামা রশ্মি শনাক্তকরণ ক্যামেরা দিয়ে সেই স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 এর লাইফটাইম 6 ঘণ্টা। তাই সামান্য সময়েই এর তেজস্ক্রিয়তা শেষ হয়ে যায় বলে এটি অনেক নিরাপদ। 

• রোগ নিরাময়ে: 
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (131I) সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়। এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছায় এবং এই আইসোটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং থাইরয়েডের ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।
- ইরিডিয়াম-১৯২ (192Ir) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কোবাল্ট-৬০ (60Co) ব্যবহার করা হয়। কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষ কলাকে ধ্বংস করে। 
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ফসফরাস-৩২ (32p) এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৩৫৭.
ভূপৃষ্ঠে কোন ধাতু সবচেয়ে বেশি আছে?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. তামা
  3. দস্তা
  4. সীসা
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)। 

 ভূত্বক: 
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। 
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম। 
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন। 
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%, 
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%, 
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%, 
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%, 
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%, 
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%, 
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং 
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%। 

উৎস:
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৭,৩৫৮.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন কে?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. জন ডাল্টন
  4. ডিমিত্রি ম্যান্ডেলিফ
ব্যাখ্যা
• কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয় ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের মাধ্যমে।
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।
- কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের ফলে ফটোইলেকট্রিক ক্রিয়া, দ্য ব্রগলি তরঙ্গ, কম্পটন প্রভাব ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
- ১৯০৫ সালে আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রবর্তিত হয়।
- আইনষ্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাহায্যে ভর ও শক্তির, E = mc2 বিখ্যাত সম্পর্কটি বের করেন।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা হলো - কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা, আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৭,৩৫৯.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে Ultra Violet Rays শোষিত হয়?
  1. স্ট্রাটোমন্ডল
  2. ওজোন মন্ডল
  3. মেসোমন্ডল
  4. তাপমন্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere): 
বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল। 
যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।

স্ট্রাটোমন্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা। বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 
স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
 
স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন (Ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
 
ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultra Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না। এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি।


উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৬০.
মানবদেহে রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা কত থাকে?
  1. ১৮০-২০০ গ্রাম/ডেসিলিটার
  2. ৮০-১২০ গ্রাম/ডেসিলিটার
  3. ৮০-১২০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার
  4. ২৫০-৩০০ মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা ৮০-১২০ মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার।
- রক্তে গ্লুকোজের এই স্বাভাবিক মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয় ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন নামক হরমোনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায়। 
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৭,৩৬১.
নিচের কোনটিতে আয়োডিন পাওয়া যায় কোথায়?
  1. ক) এগারিকাসে
  2. খ) মিউকরে
  3. গ) লাইকেনের
  4. ঘ) শৈবালে
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন পাওয়া যায়।
হ্যালোজেন হলো সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক।
হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন ও আয়োডিন এই ৪ টি মৌলকেই বুঝায়।
তাই আয়োডিনের প্রধান উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।
৭,৩৬২.
কোন শিল্পে ব্যবহৃত রঞ্জক পদার্থ পানি দূষণের জন্য বেশি দায়ী?
  1. ক) সিমেন্ট
  2. খ) ইউরিয়া শিল্প
  3. গ) টেক্সটাইল
  4. ঘ) চামড়া ও ডায়িং শিল্প
ব্যাখ্যা
টেক্সটাইল শিল্পে ব্যবহৃত রঞ্জক পদার্থ পানি দূষণের জন্য বেশি দায়ী।
- টেক্সটাইল ও ডায়িং শিল্প বিশ্বের অন্যতম পরিবেশ দৃষণকারী একটি শিল্প।
- বাংলাদেশের শিল্প কলকারখানা থেকে নির্গত দূষিত পানির শতকরা ১৭-২০ ভাগই আসে টেক্সটাইল ও ডায়িং শিল্প হতে।
- টেক্সটাইল ও ডায়িং শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার রঞ্জক পদার্থের সাথে লবণ, ক্ষার, ভারী ধাতু, জারক ও বিজারক দ্রব্য, এসিড ইত্যাদি দূষক হিসেবে পরিবেশে যুক্ত হয়।

উৎস: রসায়ন-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৬৩.
উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে বলে____
  1. ক) সমুদ্র
  2. খ) মহাসাগর
  3. গ) সাগর
  4. ঘ) উপসাগর
ব্যাখ্যা
বারিমন্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর বলে। পৃথিবীতে পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
৭,৩৬৪.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করা হয়?
  1. ট্রান্সফর্মার 
  2. ক্যাপাসিটর 
  3. ট্রানজিস্টর
  4. রেক্টিফায়ার 
ব্যাখ্যা
• রেক্টিফায়ার:
- এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করার পদ্ধতিকে বলা হয় রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ।
- যে যান্ত্রিক ব্যবস্থা রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ করে তাকে বলা হয় রেক্টিফায়ার । 

- এটি সাধারণত ডায়োড ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
- রেক্টিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
- রেক্টিফায়ার ছাড়া ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরাসরি এসি প্রবাহ গ্রহণ করতে পারে না।

• ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি ব্যবহার করে রেক্টিফায়ার  তৈরি করা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৭,৩৬৫.
কোনো বিন্দু উৎস বা ক্ষুদ্র ছিদ্র থেকে আলোক তরঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে যে তরঙ্গমুখ অগ্রসর হয় তাকে কী বলে?
  1. গোলীয় তরঙ্গমুখ
  2. চোঙাকৃতি তরঙ্গমুখ
  3. সমতল তরঙ্গমুখ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তরঙ্গমুখ সাধারণত তিন প্রকারের হয়। 
যথা - 

(ক) গোলীয় তরঙ্গমুখ: 
- কোনো বিন্দু উৎস বা ক্ষুদ্র ছিদ্র থেকে আলোক তরঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে যে তরঙ্গমুখ অগ্রসর হয় সেটি গোলাকার তরঙ্গমুখ। 

(খ) চোঙাকৃতি তরঙ্গমুখ: 
- কোনো রেখা থেকে বা চিড় থেকে আলোক তরঙ্গ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে যে তরঙ্গমুখ অগ্রসর হয় সেটি চোঙাকৃতি তরঙ্গমুখ। 
কারণ কোনো রেখা উৎস থেকে সমদূরত্বে অবস্থিত বিন্দুগুলো একটি চোঙের তলে অবস্থান করে। 

(গ) সমতল তরঙ্গমুখ: 
- অসীমে অবস্থিত উৎস থেকে যে রশ্মিগুলো আসে সেগুলো সমান্তরাল হওয়ায় এর তরঙ্গমুখ সমতল হয়। 
- ফলে সমতল তরঙ্গমুখ সৃষ্টি হয়। 

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৬৬.
উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে যে ঘূর্ণিঝড় গঠিত হয়, তাকে __________ নামে অভিহিত করা হয়।
  1. টাইফুন
  2. হারিকেন
  3. সাইক্লোন
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে যে ঘূর্ণিঝড় গঠিত হয়, তাকে টাইফুন নামে অভিহিত করা হয়। টাইফুন মূলত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় যা সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার, বিশেষ করে জাপান, ফিলিপাইন, চীন ও তাইওয়ান অঞ্চলে সৃষ্টি হয়। এই ঘূর্ণিঝড়ের গতি খুব দ্রুত এবং এটি ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে। অন্যদিকে, একই ধরনের ঘূর্ণিঝড়কে আটলান্টিক ও উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে হারিকেন বলা হয়। আবার ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এর নাম সাইক্লোন। তাই, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম দিকে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে টাইফুন বলা হয়।
- সঠিক উত্তর: ক) টাইফুন।

সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়:

• সাইক্লোন, টাইফুন ও হারিকেন সবগুলোই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়।

• হারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

• টাইফুন:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

• সাইক্লোন:
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।

• এ ছাড়াও, দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় সিভিয়ার ট্রপিক্যাল সাইক্লোন।
• আর দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে একে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়।

• যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় হয় না:
- পৃথিবীর বিষুব রেখা বরাবর সাগরে সাধারণত কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।
- বিষুব রেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়।
- অন্যদিকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরেও কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।

উল্লেখ্য, কোনো টাইফুন তার এলাকা থেকে সরে গিয়ে হারিকেন প্রবণ অঞ্চলে প্রবেশ করলে একে তখন একে হারিকেন হিসেবেই ডাকা হয়। একইভাবে কোনো হারিকেন দিক পরিবর্তন করে টাইফুনের এলাকায় চলে এলেও একে তখন টাইফুন বলা হয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড মেটেওরলজিক্যাল অর্গানাইজেনশনের ওয়েবসাইট এবং The Daily Star Bangla.
৭,৩৬৭.
ফলিক এসিডের অন্য নাম কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন বি ৯
  2. খ) ভিটামিন বি ১
  3. গ) ভিটামিন বি ৬
  4. ঘ) ভিটামিন বি ১২
ব্যাখ্যা
- ফলিক এসিড ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অন্তর্গত এক প্রকার বি ভিটামিন। 
- ফলিক এসিডের অন্য নাম ভিটামিন বি ৯। 

• এর কাজ:
- রক্তকণিকা তৈরিতে অংশ নেয়।
- বংশগতির অন্যতম উপাদান ডিএনএ (DNA) গঠনে কাজ করে।
- কোষ গঠন ও বিভাজনে কাজ করে।

 - কলিজা, মাছ, মাংস, বাদাম, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি এর ভালো উৎস।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; https://www.hsph.harvard.edu/
৭,৩৬৮.
মানব শরীরে অটোজোম কতজোড়া?
  1. ক) ২৩ জোড়া
  2. খ) ২০ জোড়া
  3. গ) ২২ জোড়া
  4. ঘ) ২১ জোড়া
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
- বাকি এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম। যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭,৩৬৯.
এক্সরে রশ্মি ব্যবহৃত হয়-
  1. ক্যান্সার চিকিৎসায়
  2. চোরাচালান রোধে
  3. পাকস্থলীতে পাথর শনাক্তকরণে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
এক্সরের ব্যবহার

চিকিৎসা ক্ষেত্রে ঃ রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়।
কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। এজন্য শল্য চিকিৎসায় যুগান্তকারী উন্নতি সাধনের জন্য এক্সরের অবদান অকল্পনীয়।
এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে।
বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়।

গোয়েন্দা বিভাগে ঃ চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

অতিরিক্ত তথ্য :
রঞ্জন রশ্নি বা এক্স-রে ১৮৯৫ সালে আবিষ্কার করেন উইলহেম কনরাড রেন্টজেন। প্লেন এক্স-রে থেকে শুরু করে, কন্ট্রাস্ট এক্স-রে, সিটি স্ক্যান (plain CT, Contrast CT, Spiral CT,3-D CT reconstruction, Ultrafast CT), পিইটি সিটি (PET-CT) সহ আরো অকেন ক্ষেত্রেই এক্স-রের ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবধরনের এঞ্জিওগ্রাম, প্রচলিত (Conventional angiogram), সিটি এঞ্জিওগ্রাম (CT angiogram) এগুলো সবই মূলত এক্স-রে নির্ভর পরীক্ষা। তাই নিশ্চিন্তে বলাই যায় এটার মাধ্যমে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা নাই।

মেডিকেল ইমেজিং ইতিহাসে রঞ্জন-রশ্মি (X-ray) আবিষ্কারের কাহিনী পুরনো একটা ব্যাপার (Wilhelm Conrad Roentgen-১৮৯৫) হলেও এর বহুমাত্রিক প্রয়োগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্লেন এক্স-রে (Plain X-ray) থেকে শুরু করে, কন্ট্রাস্ট এক্স-রে (Single contrast, Double contrast), সিটি স্ক্যান (plain CT, Contrast CT, Spiral CT,3-D CT reconstruction, Ultrafast CT), পিইটি সিটি (PET-CT) ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রেই এক্স-রের ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবধরনের এঞ্জিওগ্রাম, প্রচলিত (Conventional angiogram), সিটি এঞ্জিওগ্রাম (CT angiogram) মূলত এক্স-রে নির্ভর পরীক্ষা।

এক্স-রে এর পরে সবচাইতে যেটি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি হচ্ছে অতি-কম্পাঙ্কের শব্দ (Ultrasound), এটা এখন ঘরে ঘরে পরিচিত একটি পরীক্ষা। আল্ট্রা-সাউন্ড পরীক্ষা শুধু পেটের রোগ নির্ণয় বা রোগ চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নেই, হার্টের পরীক্ষা-Echocardiography (2-D, M-mode, Doppler study, Color Doppler study), রক্ত-নালীর ভিতরকার আল্ট্রাসাউন্ড (IVUS-Intravascular ultrasound), খাদ্যনালী, শ্বাসনালীর আল্ট্রাসাউন্ড (Intraluminal ultrasound), কনট্রাস্ট আল্ট্রাসাউন্ড ইত্যাদি নানাভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এম আর আই (MRI) স্ক্যানের ক্ষেত্রে পরমাণুগুলোর চৌম্বকশক্তিকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত করে ছবি তুলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। গাডোলিনিয়াম জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করে ব্রেন, স্পাইনাল কর্ড, রক্তনালীর ছবি কোন কনট্রাস্ট ছাড়াই তোলা যায়। তেজস্ক্রিয় পরমাণুর তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করে শরীরে ঢোকানোর পর বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ত্রুটিবিচ্যুতি এবং কার্জকারিতা পরীক্ষা করা যায়। এই পরীক্ষাগুলোকে রেডিওসিন্টিগ্রাফী (Radioscintigraphy) বলা হয়ে থাকে।

কোন কোন পরমাণু থেকে পজিট্রন নির্গত হয় যেমন ফ্লুরোডক্সাইগ্লুকোজ (FDG, Flurodeoxyglucose)। শরীরের ভিতর এফডিজি প্রবেশ করানোর পর যেসব টিস্যুতে বিপাক প্রক্রিয়া বেশী সেখানে এফডিজি জমা হয় এবং বেশী মাত্রাই ব্যবহৃত হয়, ফলে সেখান থেকে বেশী মাত্রায় পজিট্রন নির্গত হতে থাকে যা বিশেষ ধরনের ডিটেক্টরের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়।

ক্যান্সার কোষে বিপাক প্রক্রিয়া বেশী থাকায়, পিইটি স্ক্যান (PET- Positron emission tomography) করে লুকিয়ে থাকা টিউমার সনাক্ত করা যায়। পিইটি স্ক্যানের সাথে সিটি যোগ করলে পিইটি-সিটি (PET-CT) হয়, কম্পিউটার সফটওয়্যার এ-দুটোকে একত্রিত করে দিতে পারে, যা দিয়ে অঙ্গের ত্রুটিবিচ্যুতি সনাক্ত করার সাথে সাথে এর কার্যক্ষমতাও নিরূপণ করা যায়।

বর্তমানে ব্যবহৃত মেডিকেল ইমেজিং
শুধুমাত্র রোগ নির্ণয়ে নয়, রোগের চিকিৎসাতেও ইমেজিং গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখে। যেমন, করোনারী এঞ্জিওগ্রাম শুধুমাত্র হার্টের রক্তনালীর রোগ নির্ণয়েই ব্যবহৃত হয়না, স্টেন্ট (Stent) পরিয়ে ব্লক (Block) সারাতেও এটি কাজে লাগে।


৭,৩৭০.
স্মরণশক্তি হ্রাস পায় কোন খনিজের অভাবে?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম, সালফার
  2. খ) কপার, অ্যালুমিনিয়াম
  3. গ) আয়রন, জিংক
  4. ঘ) কার্বনেট, ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
- আয়রন ও জিংক শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় এক খনিজ উপাদান।
- শারীরবৃত্তীয় অনেক কার্যক্রম পরিচালনায় আয়রন ও জিংকের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।
- এগুলো রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করে।
- আয়রন ও জিংক এর অভাবে স্মরণশক্তি হ্রাস পায়।
- শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিতেও রয়েছে জিংকের বিশেষ ভূমিকা।
- জিংককে বলা হয়ে থাকে শরীরের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান।
- শিশুদের ক্ষেত্রে মনোযোগে সমস্যা দেখা দেয়।
- বয়স্কদের মাঝেই অমনোযোগিতার প্রভাব দেখা দেয়।

এছাড়াও,
- শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে দুর্বল ও ক্লান্ত লাগার পাশাপাশি মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
- সাধারণত শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের আয়রনের ঘাটতি জনিত অ্যানেমিয়া হয়ে থাকে। 

উৎস: Association of Zinc Deficiency with Iron Deficiency- NCBI, National Institutes of Health (.gov).
৭,৩৭১.
কোন ধরনের স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দেশকে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয়? 
  1. সংবেদী স্নায়ু 
  2. মিশ্র স্নায়ু 
  3. মোটর স্নায়ু 
  4. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু 
ব্যাখ্যা

করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৭২.
রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?
  1. 8 - 10 mg/dl
  2. 50 - 80 mg/dl
  3. 100 - 200 mg/dl
  4. 200 - 500 mg/dl
ব্যাখ্যা
• রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ 100 - 200 mg/dl.

• কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (HDL)ও  নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (LDL)।
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
- রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী।
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩৭৩.
কোনটির কারণে তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না?
  1. তড়িৎক্ষেত্র
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. চাপ
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু।
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা।
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস।
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়।
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৩৭৪.
নিচের কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ক) শব্দ একটি আড় তরঙ্গ।
  2. খ) শব্দ একটি দীঘল তরঙ্গ।
  3. গ) শব্দ একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
  4. ঘ) শব্দ কোন তরঙ্গ নয়।
ব্যাখ্যা
শব্দ একটি দীঘল  তরঙ্গ।  

- যে তরঙ্গের ক্ষেত্রে মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের দিক তরঙ্গ প্রবাহের অভিমুখের সমান্তরাল হয় তাকে দীঘল তরঙ্গ বলে।
- যেকোনো মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ একটি দীঘল তরঙ্গের উদাহরণ।
- দীঘল তরঙ্গের অপর নাম অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
- সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে এ ধরণের তরঙ্গ সঞ্চালিত হয়। 
- একটি সংকোচন ও একটি প্রসারণ নিয়ে এ তরঙ্গদৈর্ঘ্য গঠিত।

সূত্র: ২৮৮ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৭,৩৭৫.
এসিকে ডিসি করার যন্ত্র-
  1. এমপ্লিফায়ার
  2. রেকটিফায়ার
  3. ডায়েড
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩৭৬.
কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড জাতির মানুষের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়?
  1. জিনগত বৈচিত্র্য
  2. স্বভাবগত বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
• মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড জাতির মানুষের মধ্যে পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো জিনগত বৈচিত্র্য। মানুষের শরীরের গঠন, ত্বকের রঙ, চোখের আকৃতি, চুলের গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে জিন বা বংশগত উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাস করা মানুষের মধ্যে হাজার হাজার বছর ধরে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাবে জিনগত পরিবর্তন ঘটে। এই জিনগত বৈচিত্র্যই মঙ্গোলয়েডদের চ্যাপ্টা মুখমণ্ডল ও সরু চোখ এবং নিগ্রয়েডদের ঘন কোঁকড়ানো চুল ও গাঢ় ত্বকের রঙের মত বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে।
- তাই সঠিক উত্তর: ক) জিনগত বৈচিত্র্য।


জীব-বৈচিত্র্য:

- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়।
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর।
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়।
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়।

প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity):
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে।
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।

যথা-
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity):
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
- আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity):
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity):
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়।
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি ।
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে।
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৭৭.
ড্রাগ শনাক্তকরণে অতিবেগুনি রশ্মির কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মিটি ব্যবহৃত হয়?
  1. 100-380 nm
  2. 170–260 nm
  3. 200-400 nm
  4. 120-320 nm
ব্যাখ্যা
তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
যথা- 
১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল : 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m). 

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৭৮.
কোনো কাজের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একটি বিশেষ পর্যায়ের উপর গুরুত্ব দেয়াকে কী বলে?
  1. মাল্টিম্যান চার্ট
  2. পাথওয়ে চার্ট
  3. অপারেশন চার্ট
  4. প্রসেস চার্ট
ব্যাখ্যা
কাজ সহজকরণে কিছু গবেষণা লব্ধ কলাকৌশলের নাম জানা যায় । এগুলো হলো-
১) প্রসেস চার্ট , ২) অপারেশন চার্ট , ৩) পাথওয়ে চার্ট , ৪) মাইক্রোমোশন ফিল্ম বিশ্লেষণ ইত্যাদি ।

• অপারেশন চার্ট :
কোনো কাজের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একটি বিশেষ পর্যায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলে তাকে অপারেশন চার্ট বলে।

• পাথওয়ে চার্ট :
অল্প চলাচলের মাধ্যমে কাজে সময় ও শক্তির অপচয় রোধ করার জন্য পায়ে চলার পথ অনুসরণ করে যে চার্ট তৈরি করা হয় তাই পাথওয়ে চার্ট।

• মাইক্রোমোশন ফিল্ম বিশ্লেষণ :
বিশেষ কাজের ছবি তুলে তা বিশ্লেষণ করে যে কাজ সহজকরণ পদ্ধতি তৈরি করা হয় তা হলো মাইক্রোমোশন ফিল্ম বিশ্লেষণ পদ্ধতি।

• প্রোসেস চার্ট :
একটি কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনাকে প্রোসেস চার্ট বলে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৭৯.
মেসোফিল টিস্যু কোথায় থাকে?
  1. মূলে
  2. মজ্জায়
  3. পাতায়
  4. বীজে
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের মূল, কান্ডের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেসোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।
কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তাদেরকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়।
পাতার ক্লোরেনকাইমাকে মেসোফিল বলে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৮০.
রোধ কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে না?
  1. উপাদান
  2. তড়িৎ প্রবাহ
  3. দৈর্ঘ্য
  4. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বিঘ্নিত হয় তাকে রোধ বলে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ চারটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।  
যথা- 
১.পরিবাহীর দৈর্ঘ্য,
২.পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
৩.পরিবাহীর উপাদান এবং 
৪.পরিবাহীর তাপমাত্রা। 

- রোধের এস.আই. বা আন্তর্জাতিক একক হচ্ছে ও'ম। 
- কোনো পরিবাহীর রোধ 50 Ω বলতে বোঝায় এর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য 50 V হলে এর মধ্যদিয়ে 1 A তড়িৎ প্রবাহ চলবে। 
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার (A)। 
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে বিভব পার্থক্যের একক হলো ভোল্ট (V)।  

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৭,৩৮১.
কোন গ্রন্থি নিঃসৃত উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে?
  1. ক) শ্বসনতন্ত্র
  2. খ) স্নায়ুতন্ত্র
  3. গ) পরিপাকতন্ত্র
  4. ঘ) রেচনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

পরিপাকতন্ত্র নিঃসৃত উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে।
মুখ থেকে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যনালী এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সমবায়ে মানব পরিপাকতন্ত্র গঠিত যার মূল কাজ খাদ্য পরিপাক করা। একে পাচনতন্ত্র (digestive system) বা, পরিপাকতন্ত্রও বলা হয়ে থাকে।
খাদ্য পাচন বা পরিপাক বা হজম একটি শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্যকে প্রথমে ছোট ছোট টুকরো করে তার পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা বিগলিত করে দেহে আত্তীকরণের উপযোগী করা হয়। পাচন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত অঙ্গতন্ত্রকে পরিপাকতন্ত্র বলে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৭,৩৮২.
জিএম ফসলের প্রধান সুবিধা কী?
  1. পোকামাকড় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
  2. কম পানি প্রয়োজন
  3. স্বাদ বৃদ্ধি
  4. দ্রুত বর্ধনশীলতা
ব্যাখ্যা
• জিএম ফসলের অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো পোকামাকড় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। 

• জিএম ফসল:

- জিএম ফসল (Genetically Modified Crops) হলো এমন ফসল যাদের জিনগত গঠনে পরিবর্তন (Genetic Engineering) করে বিশেষ বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়। এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো পোকামাকড়, রোগ, আগাছা, এবং পরিবেশগত চাপ থেকে ফসলকে রক্ষা করা।

• জিএম ফসলের প্রধান সুবিধাসমূহ:
→ পোকামাকড় প্রতিরোধ:
- উদাহরণ: Bt cotton, Bt brinjal – এতে Bacillus thuringiensis ব্যাকটেরিয়ার জিন ঢুকিয়ে পোকা মারার ক্ষমতা দেওয়া হয়।

→ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা:
- কিছু জিএম ফসলে ভাইরাস/ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে জিন সংযোজন করা হয়।

→ রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমে যায়। 

→ ফসলের উৎপাদন ও লাভ বৃদ্ধি পায়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- ব্রিটানিকা। 
৭,৩৮৩.
দুইটি স্থানের দ্রাঘিমাংশের পার্থক্য কত হলে, সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট হয়?
  1. ৪ ডিগ্রি
  2. ১ ডিগ্রি
  3. ১০ ডিগ্রি
  4. ২ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা

• মূল মধ্যরেখাঃ
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কল্পিত রেখাকে ০ দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বই হলো সেই স্থানের দ্রাঘিমাংশ।
- প্রতি ১দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময় ব্যবধান হয়।

 
গ্রিনিচের সময়:
- গ্রিনিচের দ্রাঘিমা শূন্য ডিগ্রি (০ ) ধরা হয়।
- এখন আমরা যদি গ্রিনিচের সময় এবং অন্য কোনো স্থানের সময় জানতে পারি, তাহলে দুই স্থানের সময়ের পার্থক্য অনুসারে প্রতি ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্যে ১দ্রাঘিমার পার্থক্য ধরে ঐ স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করতে পারি।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকের দেশগুলো সময়ের হিসেবে গ্রিনিচের চেয়ে এগিয়ে থাকে এবং গ্রিনিচের পশ্চিমে অবস্থিত দেশগুলোর সময় গ্রিনিচের সময় থেকে পিছিয়ে থাকে।
- বাংলাদেশ গ্রিনিচ থেকে ৯০° পূর্বে অবস্থিত বলে বাংলাদেশের সময় ৬ ঘণ্টা এগিয়ে।
- এভাবে দ্রাঘিমার সাহায্যে সময় এবং সময়ের মাধ্যমে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৩৮৪.
চোখের হ্রস্বদৃষ্টি বা মাইওপিয়া দূর করার জন্য কোন ধরনের লেন্স ব্যবহার করা হয়?
  1. অভিসারী লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. উত্তল লেন্স
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
হ্রস্ব দৃষ্টি বা নিকট বদ্ধ দৃষ্টি বা মাইওপিয়া (Short sight or Myopia)
এই ত্রুটিগ্রস্থ মানুষ দূরের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে না, তবে কাছের বস্তু ভালভাবে দেখতে পায়। চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যুনতম দূরত্ব বা নিকট দূরত্ব কমে যায়। নিকট বিন্দু চোখের সামনে চলে আসে। চক্ষুগোলকের ব্যাসার্ধ বেড়ে গেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে এই ত্রুটি দেখা দেয়।

এই ত্রুটি দূর করার জন্য চোখে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ত্রুটির পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ফোকাস দৈর্ঘ্যরে বা পাওয়ারের অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়। অবতল লেন্স লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত রশ্মিকে পরিমাণ মতো ছড়িয়ে দেয়, ফলে ফোকাস রেটিনাতে পড়ে এবং বস্তুর সুস্পষ্ট বিম্ব তৈরি হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭,৩৮৫.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন গ্রুপ মৌল?
  1. গোল্ড
  2. রেডন
  3. ক্রিপ্টন
  4. ফ্লোরিন
ব্যাখ্যা

• হ্যালোজেন গ্রুপ: 
- গ্রুপ-17 এর 6টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলা হয়। এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- হ্যালোজেন মৌলকে 'X' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। যেমন, F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) বা খাদ্যলবণ গঠিত হয়।
- এরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু তৈরি করে, যেমন- Cl2, I2 ইত্যাদি।

• মুদ্রা ধাতু: 
- গোল্ড হচ্ছে গ্রুপ-11 মৌল। গ্রুপ-11 এর 4টি মৌল হচ্ছে কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম। 
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়, কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম ছাড়া অন্য যে তিনটি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়। মৌলগুলো হলো: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনো যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

উৎস: রসায়ন- নবম ও দশম শ্রেণি।

৭,৩৮৬.
সাধারণ হাইড্রোজেনের কেন্দ্রে থাকে-
  1. ক) একটি নিউট্রন
  2. খ) একটি প্রোটন
  3. গ) প্রোটন ও নিউট্রন
  4. ঘ) প্রোটন ও ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
নিরপেক্ষ ও বৈদ্যুতিক চার্জহীন পারমাণবিক কণা নিউট্রন, যা সাধারণ হাইড্রোজেন বাদে প্রতিটি পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের উপাদান। সাধারণ হাইড্রোজেনের কেন্দ্রে একটি মাত্র প্রোটন থাকে। তবে বাড়তি একটি কিংবা দুইটি নিউট্রনসহ হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াসও রয়েছে।
[সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৭,৩৮৭.
আলফা রশ্মি হলো মূলত -
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) হিলিয়াম নিউক্লিয়াস
  4. ঘ) নিউট্রন
ব্যাখ্যা
আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি
১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি। 
২। ইহা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব। 
৩। এর শক্তি 1MeV বা 1.6x10-13J হতে 9MeV বা 1.44 x 10-12J পর্যন্ত হয়। 
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী। β -কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ -কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশী। 
৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৮৮.
উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন করে ___।
  1. জাইলেম 
  2. ফ্লোয়েম
  3. ক্যাম্বিয়াম
  4. কর্টেক্স
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদের ভেতর দুটি প্রধান পরিবহন টিস্যু আছে:- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। এরা একসাথে উদ্ভিদের পরিবহন তন্ত্র (Vascular system) গঠন করে।

ফ্লোয়েম (Phloem):
- ফ্লোয়েমের কাজ হলো পাতায় উৎপন্ন খাদ্য (মূলত গ্লুকোজ বা সুক্রোজ) উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে যেমন মূল, কাণ্ড, ফুল, ফল ইত্যাদিতে পৌঁছে দেওয়া।
- এই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সলোকেশন (Translocation)।
- খাদ্য পরিবহন উর্ধ্বমুখী (upward) ও নিম্নমুখী (downward) উভয় দিকেই হতে পারে।

ফ্লোয়েম গঠিত হয় চারটি প্রধান উপাদান-
- সিভ টিউব (Sieve tube), 
- কম্প্যানিয়ন সেল (Companion cell), 
- ফ্লোয়েম ফাইবার (Phloem fiber), 
- ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা (Phloem parenchyma), 

অপরদিকে:
- জাইলেম (Xylem): পানি ও খনিজ পদার্থ মূল থেকে পাতায় পরিবহন করে।
- ক্যাম্বিয়াম (Cambium): নতুন জাইলেম ও ফ্লোয়েম গঠনে সাহায্য করে, অর্থাৎ এটি বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
- কর্টেক্স (Cortex): মূল ও কাণ্ডের ভেতরে থাকা টিস্যু যা খাদ্য ও পানি সংরক্ষণে সাহায্য করে, কিন্তু পরিবহন করে না।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

৭,৩৮৯.
রক্তের উচ্চচাপকে সিস্টোলিক চাপ বলে যার আদর্শ মান-
  1. ক) ১২০ বা এর কিছু উপরে
  2. খ) ১২০ বা এর কিছু নিচে
  3. গ) ১৪০ বা এর কিছু উপরে
  4. ঘ) ৮০ বা এর নিচে
ব্যাখ্যা
রক্ত চাপ:
- রক্ত প্রবাহের সময় ধমনিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে ‘রক্ত চাপ' বলে।
- পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্ত চাপ সাধারণত ১২০/৮০ মানের কাছাকাছি।
- রক্ত চাপকে উচ্চমান ও নিম্নমান সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়।
- রক্তের উচ্চচাপকে সিস্টোলিক চাপ বলে যার আদর্শ মান ১২০ বা এর কিছু নিচে
- অন্যদিকে নিম্নমানকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে যার আদর্শমান ৮০ বা এর নিচে।
- এক জন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সিস্টোলিক চাপ ১২০ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ বা এর নিচের মাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রা হিসেবে ধরা হয়।
- এ রক্ত চাপ যখন মাত্রাতিরিক্ত হয় তখনই আমরা তাকে উচ্চ রক্ত চাপ বলে থাকি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,৩৯০.
মানুষের ইনসুলিন তৈরিতে কোন ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) E-coli
  2. খ) Yeast
  3. গ) HTV
  4. ঘ) E-Bec
ব্যাখ্যা
- মানব ইনসুলিন তৈরিতে বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ব্যকটেরিয়া হলো E-coli.
- মানুষের ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিন E . coli তে অবস্থিত প্লাজমিডে স্থানান্তরিত করা হয়।
- স্থানান্তরিত প্লাজমিডটি পুনরায় ব্যকটেরিয়াতে স্থানান্তরিত করে ব্যাপক হারে ইনসুলিন উৎপাদন করা হচ্ছে। 
- একটি ব্যাক্টেরিয়াম কোষে প্রায় দশ লক্ষ অণু ইনসুলিন তৈরি হয়ে থাকে। 
- ইনসুলিন কৃত্রিমভাবে উৎপাদনের কারণে বর্তমান পৃথিবীর অধিকাংশ জৈবিক সমস্যা সমাধান সম্ভব হয়েছে। 

উৎস: একাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই।
৭,৩৯১.
বিগ ব্যাং এর কতবছর পরে সৌরজগৎ সৃষ্টি হয়েছিলো?
  1. ৪ বিলিয়ন
  2. ৪.৬ বিলিয়ন
  3. ৫ বিলিয়ন
  4. ৯ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাং-এর প্রায় ৯ বিলিয়ন (৯০০ কোটি) বছর পরে সৌরজগৎ সৃষ্টি হয়।

• বিগ ব্যাং (Big Bang) ঘটেছে আনুমানিক ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে। 
- অর্থাৎ আমাদের এই মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। 
- আমাদের সৌরজগৎ (Solar System) গঠিত হয়েছে আজ থেকে আনুমানিক ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর আগে ।
- বিগ ব্যাং এর সময় থেকে এটির (সৌরজগৎ সৃষ্টির) সময়কাল প্রায় ৮.৫ থেকে ৯ বিলিয়ন বছর পর। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৭,৩৯২.
রক্তের লোহিত কণিকার কাজ-
  1. ক) রোগ প্রতিরোধ করা
  2. খ) কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করা
  3. গ) নাইট্রোজেন বহন করা
  4. ঘ) অক্সিজেন বহন করা
ব্যাখ্যা
রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। এর গড় আয়ু ১২০ দিন। লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭,৩৯৩.
কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে ইনসুলিন গঠিত ?
  1. ক) ৫১টি
  2. খ) ৫২টি
  3. গ) ৫৩টি
  4. ঘ) ৫৪টি
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন একটি  হরমোন।
ইহা অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান হয় গ্লোকোজের উচ্চ মাত্রাকে হ্রাস করে ফলে রক্ত স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লোকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।

• ইনসুলিন ৫১টি অ্যামিনাে অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রােটিন ।

অ্যামিনো এসিড (Amino acid) হলো প্রোটিনের মূল গাঠনিক একক। জৈব এসিডের এক বা একাধিক হাইড্রোজেন পরমাণু অ্যামিনো মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হওয়ার ফলে উৎপন্ন জৈব এসিডকে অ্যামিনো এসিড বলে।


SOURCE: জীব বিজ্ঞান  ,এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৭,৩৯৪.
ডায়োডে কোন অংশকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল বলা হয়?
  1. ক্যাথোড
  2. অ্যানোড
  3. ট্রান্সফরমার
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ডায়োড:
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড।
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত।
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড।
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড।
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
৭,৩৯৫.
নিচের কোনটি ডায়াচুম্বকত্ব প্রদর্শন করে?
  1. ক) লৌহ
  2. খ) নিকেল
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) কোবাল্ট
ব্যাখ্যা
সোনা ডায়াচুম্বকত্ব প্রদর্শন করে। 

ডায়া চৌম্বক (Diamagnetism):
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়, অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়, এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি।
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,৩৯৬.
পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে কোনটিকে?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. সুনামি
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। 
- যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ, সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। 
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদি সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 
- ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরের আরাকান অঞ্চলে সংঘটিত একটি ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বাংলাদেশে আঘাত এনেছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩৯৭.
তামা ও দস্তার সংমিশ্রণে কোন সংকর ধাতু তৈরি করা হয়?
  1. ইস্পাত
  2. ডুরালুমিন
  3. পিতল
  4. কাঁসা
ব্যাখ্যা
• সংকর ধাতু:
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে।


- যেমন- পিতল হলো তামা (কপার) ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৩৯৮.
নিউটনের গতির প্রথম সূত্র কোন রাশির ধারণা দেয়?
  1. ভরবেগ
  2. কাজ
  3. শক্তি
  4. জড়তা
ব্যাখ্যা
নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে।
- নিউটনের প্রথম সূত্রটি বস্তুর জড়তা ও বলের গুণগত ধারণা দেয়।

জড়তা:
- জড়তা বস্তুর একটি ধর্ম, যে ধর্মের কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে গতিশীল থাকতে চায়।
- জড়তা দু'প্রকার। যথা-
• স্থিতি জড়তা।
• গতি জড়তা।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৩৯৯.
তাপ সঞ্চালনের কোন প্রক্রিয়ার জন্য কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না?
  1. পরিবহন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. শোষণ
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন: 
- বিভিন্ন কাজে তাপশক্তিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে হয় কিংবা সঞ্চালন করতে হয়।
- তিনটি উপায়ে তাপ সঞ্চালন করা হয়। 
যেমন- পরিবহণ, পরিচলন এবং বিকিরণ। 
১। পরিবহণ (conduction): 
- কঠিন পদার্থের বেলায় তাপ হচ্ছে অণুগুলোর কম্পন তাই যখন কঠিন পদার্থের এক প্রান্ত উত্তপ্ত করা হয়, তখন সেই প্রান্তের অণুগুলো নিজের জায়গা থেকেই কাঁপতে থাকে।
- একটা অণু কাঁপতে থাকলে সেটি তার পাশের অন্য অণুকেও কাঁপাতে শুরু করে।
- সেই অণুটি তখন তার পাশের অণুকে কাঁপায়, এভাবে কম্পনটি কঠিন পদার্থের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পরিবাহিত হয় যা তাপ পরিবহণ নামে পরিচিত। 

২। পরিচলন (Convection): 
- তরল কিংবা গ্যাসকে উত্তপ্ত করা হলে তার ঘনত্ব কমে সেটি হালকা হয়ে যায়, কারণ তখন তাদের অণুগুলোকে বেশি বেগে ছোটাছুটি করতে হয় বলে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। 
- একই পরিমাণ তরল বা গ্যাস একটু বেশি জায়গায় নিয়ে থাকলে তার ঘনত্ব কমে যায় বা সেটি হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়, তখন পাশের শীতল তরল বা গ্যাস সেখানে উপস্থিত হয়, এভাবে তরল বা গ্যাসের ভেতর একটা অভ্যন্তরীণ পরিচলন শুরু হয়। 

৩। বিকিরণ (Radiation): 
- আমরা যখন রোদে দাঁড়াই, তখন যে তাপ অনুভব করি, সেই তাপ যে পদ্ধতিতে আমাদের কাছে পৌঁছায় তার নাম বিকিরণ। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ার জন্য কোনো মাধ্যমের দরকার হয় না, সেজন্য সূর্য আর পৃথিবীর ভেতরে মহাশূন্য থাকার পরেও দৃশ্যমান আলোর সঙ্গে অদৃশ্য অবলোহিত রশ্মি এবং অতিবেগুনি রশ্মি বিকিরণের মাধ্যমে পৃথিবীতে চলে আসতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান (অনুসন্ধানী পাঠ), নবম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৭,৪০০.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?
  1. ক) পেট্রোল
  2. খ) কয়লা
  3. গ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. ঘ) বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা
• জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়।

• বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে রয়েছে:
- খনিজ তেল
- কয়লা
- প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি।

• জীবাশ্ম জ্বালানিসমূহ অনবায়নযোগ্য। অর্থাৎ এসব জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এবং এদের মজুদ সীমিত।
অন্যদিকে,
- পারমাণবিক শক্তি,
- বায়োগ্যাস
- জিও থার্মাল বা ভূ-তাপ শক্তি,
- জলবিদ্যুৎ হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক