বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৭০ / ১৪০ · ৬,৯০১৭,০০০ / ১৪,০৮০

৬,৯০১.
কোনটি দ্বারা মাছ চাষ বোঝায়?
  1. এপিকালচার
  2. সেরিকালচার
  3. পিসিকালচার
  4. হর্টিকালচার
ব্যাখ্যা

◉ পিসিকালচার (Pisciculture) — মাছের চাষ বা উৎপাদনকে বোঝায়। এটি মৎস্যচাষের বৈজ্ঞানিক নাম।

পিসিকালচার (Pisciculture):
- বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।
- মাছ ছাড়াও বিভিন্ন শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রাণীদের চাষ পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

অন্যান্য অপসনসমূহ, 
এপিকালচার (Apiculture) — মৌমাছি পালন।
সেরিকালচার (Sericulture) — রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট পালন।
হর্টিকালচার (Horticulture) — ফল, ফুল, শাকসবজির চাষ।

উৎস:
১. কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

৬,৯০২.
নিচের কোনটি অভিজাত গ্যাস নয়?  
  1. রেডন
  2. ক্রিপ্টন
  3. জেনন
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস:

• যে সকল অন্য কোনো গ্যাসের সাথে বিক্রিয়া করে না তাদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসকে অভিজাত গ্যাস ও বলা হয়।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস সাধারণত ৬টি, যথা: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন ও রেডন।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসমূহের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ৮টি ইলেকট্রন থাকে। ব্যতিক্রম হিলিয়াম। হিলিয়ামের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ২টি ইলেকট্রন থাকে।
• সূর্যে মৌলিক পদার্থের মধ্যে হিলিয়াম (He) এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• রেডন তেজষ্ক্রিয় মৌল। বিজ্ঞানী ডর্ন ১৯০০ সালে রেডিয়ামের তেজষ্ক্রিয় বিভাজন হতে রেডন আবিষ্কার করেন।
• ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস নয়। 
 
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
৬,৯০৩.
ফুলের পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে কী বলা হয়?
  1. কার্পেল
  2. স্টিগমা
  3. স্ট্যামেন
  4. গর্ভপত্র
ব্যাখ্যা
• ফুলের পুংস্তবকের প্রতিটি অংশকে স্ট্যামেন (stamen) বা পুংকেশর বলা হয়। 

• পুস্পপত্রবিন্যাস:
- মুকুলাবস্থায় ফুলের বৃত্তাংশগুলো পরস্পরের সাথে যেভাবে বিন্যস্ত থাকে তাকে বলা হয় এস্টিভেশন বা পুস্পপত্রবিন্যাস।

• সাধারণত ৪ টি স্তবক নিয়ে একটি ফুল গঠিত হয়।
যথা:
- ক্যালিক্স,
- করোলা,
- পুং স্তবক,
- স্ত্রী স্তবক। 

• অ্যানড্রিসিয়াম (Androecium) বা পুংস্তবক:
- দলমণ্ডলের ভেতরে অবস্থিত ফুলের তৃতীয় স্তবক হলো অ্যানড্রিসিয়াম বা পুংস্তবক।
- এর প্রতিটি সদস্যকে বলা হয় স্ট্যামেন (stamen) বা পুংকেশর।
- পুংকেশরের দণ্ডকে বলা হয় ফিলামেন্ট (filament) বা পুংদণ্ড এবং মাথার স্ফীত অংশকে বলা হয় অ্যান্থার (anther) বা পরাগধানী, পরাগধানীর ভেতরে থাকে পোলেন গ্রেন (pollen grain) বা পরাগরেণু।

• সাধারণত ছয়টি পুংকেশরের মাঝে চারটি লম্বা এবং দুটি খাটো হলে তাকে টেট্রাডিনেমাস (tetradynamous) বলে। 
- চারটি পুংকেশরের মাঝে দুটি লম্বা এবং দুটি খাটো হলে তাকে ডাইডিনেমাস (didynamous) বলে।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৬,৯০৪.
বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. অক্সিজেন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ। 
- বায়ুমণ্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে। 
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার। 

- বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট। 
- প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে। 
- নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়। 
- গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে। 
- যেহেতু ইহা ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়। 

Lightening is a potent fertilizing agent. Every time it strikes, nitrogen in the atmosphere is combined with hydrogen or oxygen to form ammonium and nitrate, two forms of nitrogen. The nitrogen then goes into solution in atmospheric moisture and is washed to the ground in rainfall. Plants then absorb nitrogen from the ground and utilize it for growth. Since it is a key constituent in chlorophyll, the green pigment of plants, nitrogen causes a greening of the plant.

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং cals.arizona.edu
৬,৯০৫.
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্তপ্রবাহে বাধা পাওয়ার ঘটনা কী নামে পরিচিত? 
  1. ডিমেনশিয়া
  2. স্ট্রোক
  3. হার্ট অ্যাটাক
  4. প্যারালাইসিস
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯০৬.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর কয় স্তর বিশিষ্ট?
  1. তিন স্তর
  2. চার স্তর
  3. পাঁচ স্তর
  4. ছয় স্তর
ব্যাখ্যা
• মানুষের হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর তিন স্তর বিশিষ্ট।

• হৃৎপিণ্ডের আবরণ:

- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত।
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে।
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

• হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর:
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যেমন -

১. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium):
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।

২. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium):
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর।
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

৩. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium):
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯০৭.
মরুভূমির জাহাজ বলা হয়-
  1. ক) ঘোড়া
  2. খ) উট
  3. গ) গ্যাজেল হরিণ
  4. ঘ) দুম্বা
ব্যাখ্যা
• উটকে মরুভূমির জাহাজ বলে।
- উট মরুজীবনের জন্য চমৎকারভাবে অভিযোজিত। এদের প্রশস্ত পদ বালির উপর চলাচলের জন্য যেমন উপযুক্ত, তেমনি নাসারন্ধ্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ক্ষমতা এবং সংবদ্ধ করার উপযোগী। 
- দুই সারি চোখের পাপড়ি মরুভূমিতে বসবাসের জন্য খুবই সহায়ক। আর এসব উপযোগিতার কারণে উট মরুভূমিতে সহজেই মালামাল বহন করতে পারে।
৬,৯০৮.
‘পদার্থ এবং শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন’ এই বিষয়টি কে পরীক্ষা করে দেখান?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) স্টিফেন হকিং
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দেখান যে, পদার্থ এবং শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন। E = mc2, একে আইনস্টাইনের পদার্থ ও শক্তির অভিন্নতা বিষয়ক সূত্র বলা হয়।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৬,৯০৯.
মানবদেহের দেহকোষে অটোজোম সংখ্যা কয়টি?
  1. ১০ টি
  2. ২২ টি
  3. ২৩ টি
  4. ৪৪ টি
ব্যাখ্যা
- মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীতে প্রায় একই পদ্ধতিতে লিঙ্গ নির্ধারণ হয়।
- মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা 46 টি বা 23 জোড়া।
- এর মধ্যে 22 জোড়া বা 44টিকে অটোজোম (Autosome) এবং 1 জোড়াকে  সেক্স- ক্রোমোজোম (Sex chromosome) বলা হয়।

- অটোজোমগুলো শারীরবৃত্তীয়, ভ্রূণ এবং দেহ গঠন ইত্যাদি কার্যাদিতে অংশগ্রহণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
- সেক্স ক্রোমোজোম দুটি এক্স (X) এবং ওয়াই (Y) নামে পরিচিত। লিঙ্গ নির্ধারণে এরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯১০.
কার্বনের কয়টি রূপভেদ আছে?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৪ টি
  4. ১০০০ এর বেশি
ব্যাখ্যা

কার্বনের দু'টি রূপভেদ আছে যথা গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)। বিভিন্ন রূপভেদে কার্বনের ব্যবহারও বিভিন্ন।

গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন (lubrication) করার জন্য এবং কাদা সহযােগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
ডায়মন্ড বা হীরক ভংগুর হলেও প্রকৃতিতে প্রাপ্ত পদার্থসমূহের মধ্যে অন্যতম কঠিনতম। ডায়মন্ড উত্তম তাপ-পরিবাহী হলেও বিদ্যুৎ-অপরিবাহী।

উৎসঃ রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৬,৯১১.
মৃৎক্ষার ধাতু নিচের কোনটি?
  1. বেরিয়াম 
  2. সিজিয়াম 
  3. রুবিডিয়াম 
  4. সোডিয়াম 
ব্যাখ্যা

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপের মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
যেমন- 
• বেরিলিয়াম (Be), 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• ক্যালসিয়াম (Ca), 
• স্ট্রনসিয়াম (Sr), 
বেরিয়াম (Ba) এবং 
• রেডিয়াম (Ra)। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। 
- এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপের মৌলগুলোর মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি মৌলগুলোকে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই মৌলগুলোর প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 
যেমন- 
• লিথিয়াম (Li), 
• সোডিয়াম (Na), 
• পটাসিয়াম (K), 
• রুবিডিয়াম (Rb), 
• সিজিয়াম (Cs) এবং 
• ফ্রান্সিয়াম (Fr)। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৯১২.
কম্পোজিট কণিকা হলো -
  1. আলফা কণিকা
  2. নিউট্রিনো
  3. পজিট্রন
  4. অ্যান্টি নিউট্রিনো
ব্যাখ্যা

পরমাণুর মূল কণিকাসমূহ: 
পরমাণুর মূল কণিকা তিন ধরনের, যথা স্থায়ী মূল কণিকা, অস্থায়ী মূল কণিকা এবং কম্পোজিট কণিকা।

(১) স্থায়ী মূল কণিকা:
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা হাইড্রোজেন পরামাণু ছাড়া সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূলকণিকা বলা হয়।
- হাইড্রোজেন-। পরমাণুতে শুধু ১টি ইলেকট্রন ও ১টি প্রোটন আছে। এতে কোন নিউট্রন নেই। 

(২) অস্থায়ী মূল কণিকা:
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে।
- এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়।
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০।
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা।

(৩) কম্পোজিট কণিকা (Composite particles):
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়।
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬,৯১৩.
স্টার্চ থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি উৎপাদন করা হয়? 
  1. ইথানল
  2. বেনজিন
  3. ফ্যাটি এসিড
  4. অ্যালডিহাইড
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 

- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্যে শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। 
- এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯১৪.
অন্ধদের জন্য লিখনরীতির উদ্ভাবন করেন-
  1. ক) ব্রেইল
  2. খ) কপার্নিকাস
  3. গ) ডেভিটবোর
  4. ঘ) টমাস আলভা এডিসন
ব্যাখ্যা
- Braille, universally accepted system of writing used by and for blind persons and consisting of a code of 63 characters, each made up of one to six raised dots arranged in a six-position matrix or cell.
- These Braille characters are embossed in lines on paper and read by passing the fingers lightly over the manuscript.
- Louis Braille, who was blinded at the age of three, invented the system in 1824 while a student at the Institution Nationale des Jeunes Aveugles (National Institute for Blind Children), Paris.

Source: Britannica
৬,৯১৫.
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভিডিও কনফারেন্সিং একটি ___ প্রক্রিয়া।
  1. একমুখী
  2. উভমুখী
  3. বহুমুখী
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা: 
- ভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে কিছু ব্যক্তি অবস্থান করে টেলিযোগাযোগ সিস্টেমের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে কোন সভা অথবা সেমিনার অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়াকে বলা হয় টেলিকনফারেন্সিং। 
- বিভিন্ন ধরনের টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থা রয়েছে। 
যেমন- পাবলিক কনফারেন্স, ক্লোজড কনফারেন্স এবং অনলি কনফারেন্স। 
- টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই বা ততোধিক ভৌগোলিক অবস্থানে অডিও এবং ভিডিও এর যুগপৎ উভমুখী স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াকে ভিডিও কনফারেন্সিং বলে। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান)।
৬,৯১৬.
বিভাজন ক্ষমতা নেই কোন কোষের?
  1. ক) স্নায়ু কোষের
  2. খ) পেশি কোষের
  3. গ) আবরণী কোষের
  4. ঘ) জনন কোষের
ব্যাখ্যা
নিউরন বা স্নায়ুকোষ বহুভাজাকৃতি এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত। কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবডি, রাইবোজোম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি থাকে, তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল থাকে না বলে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বিভাজিত হয় না। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬,৯১৭.
অসংক্রামক ব্যাধি-
  1. ক) যক্ষ্মা
  2. খ) নিউমোনিয়া
  3. গ) অ্যাজমা
  4. ঘ) আমাশয়
ব্যাখ্যা
এইডস, যক্ষ্মা, পোলিও, ধনুষ্টংকার, হাম, হার্পিস, কোভিড-১৯, দাদ, নিউমোনিয়া, আমাশয় ইত্যাদি হল সংক্রামক রোগ। অন্যদিকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা, কিডনি রোগ ইত্যাদি হল অসংক্রামক রোগ।
৬,৯১৮.
নিচের কোনটি প্রাণিজ আমিষ?
  1. ডাল
  2. বাদাম
  3. মটরশুঁটি
  4. দুধ
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা - 
প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণি দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯১৯.
Cycas উদ্ভিদে পরাগায়ন ঘটে কোন মাধ্যমে? 
  1. পানি 
  2. পোকা 
  3. বাতাস 
  4. পাখি 
ব্যাখ্যা

নগ্নবীজী উদ্ভিদ বা জিমনোস্পার্ম (Gymnosperms): 
- বীজ উৎপাদনকারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে বলা হয় সবীজ উদ্ভিদ বা স্পার্মাটোফাইটা (Spermatophyta)। এ গোষ্ঠীটি দুটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। যথা-ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms) এবং গুপ্তবীজী বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms)। 
- Gymnosperm উদ্ভিদের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে নগ্নবীজী উদ্ভিদ।
- জিমনোস্পার্ম শব্দের অর্থ হলো naked seed বা নগ্নবীজী। 
- উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক থিওফ্রাস্টাস তাঁর Enquiry into Plants নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম Gymnosperm শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- যেসব সবীজী উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় জন্মে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন- Cycas pectinata একটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ যা চট্টগ্রামের বাড়িয়াডালা পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়। 

Cycas (সাইকাস): 
- Cycas উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য- 
১। Cycas উদ্ভিদ স্পোরোফাইট। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
২। উদ্ভিদ খাড়া পাম জাতীয়। 
৩। পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক, কাণ্ডের মাথার দিকে সর্পিলাকারে সজ্জিত। 
৪। কচি পাতার ভার্নেশন সারসিনেট (কুগুলিত)। 
৫। পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু বিদ্যমান। 
৬। গৌন অস্থানিক কোরালয়েড মূল বিদ্যমান। 
৭। গর্ভাশয় না থাকায় এদের ফল সৃষ্টি হয় না, বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
৮। পুংরেণুপত্রগুলো একত্রিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে কিন্তু স্ত্রীরেণুপত্র সত্যিকার স্ট্রোবিলাস গঠন করে না। 
১। হেটারোস্পোরিক অর্থাৎ যৌন জননে মেগা ও মাইক্রোস্পোর সৃষ্টি হয়। 
১০। Cycas উদ্ভিদে বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে। 
১১। Cycas-এর শুক্রাণু উদ্ভিদকূলে সর্ববৃহৎ, লাটিমের মতো, সচল ও বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৬,৯২০.
'তামা ও টিন' এর সমন্বয়ে কোন ধাতু গঠিত হয়?
  1. ক) ব্রাস
  2. খ) ইনভার
  3. গ) কাঁসা
  4. ঘ) গান মেটাল
ব্যাখ্যা
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। যেমন-
• কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
• পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।

উৎস- রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯২১.
কোন পুষ্টি উপাদানের অভাব হলে উদ্ভিদে ক্লোরোসিস ঘটে?
  1. বোরন
  2. নাইট্রোজেন
  3. ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের বিভিন্ন খনিজ বা পুষ্টি উপাদানের ভূমিকা এবং অভাবজনিত লক্ষণ:

• নাইট্রোজেনের অভাব হলে উদ্ভিদের ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে ফলে উদ্ভিদের পাতা হলুদ (পীত বর্ণ) হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে। 
• বায়ুর নাইট্রোজেন মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
• ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়। এছাড়া ফসফরাসের অভাবে পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যায়।
• টাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
• বোরনের অভাবে কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং উচ্চ-মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান।
৬,৯২২.
কোনটি অনবায়নযােগ্য সম্পদ?
  1. সূর্যের আলাে
  2. সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা
  3. সমুদ্রের ঢেউ
  4. গ্যাস
ব্যাখ্যা

নবায়নযােগ্য শক্তি (Renewable Energy):
- যে জ্বালানি পুন: পুন ব্যবহার করলে সাধারণত ফুরােয় না এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে না, তাকে নবায়নযােগ্য জ্বালানি বলা হয়।
যেমন: সূর্যের আলাে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বায়ু, নদীর বহমান পানি, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

অনবায়নযােগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
- অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না।
যেমন - তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯২৩.
কোনটি জেনেটিক ডিসঅর্ডার নয়?
  1. ডাউন সিন্ড্রোম
  2. থ্যালাসেমিয়া
  3. হ্যানসেনস্‌ ডিজিজ
  4. বর্ণান্ধতা
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ডিসঅর্ডার:
-  বংশগতির অনিয়মের কারণে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে। বংশগতির এ অনিয়মকে বলা হয় জেনেটিক ডিসঅর্ডার। এটি এক প্রকার অস্বাভাবিকতা। 
- এর ফলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়।
যেমন- বর্ণান্ধতা, থ্যালাসেমিয়া, ডাউন সিন্ড্রোম, পাটাও সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ড সিন্ড্রোম, ক্লাইনফেল্টার ও ডাবল ওয়াই সিন্ড্রোম, ট্রিপলো-X সিন্ড্রোম, টার্নার সিন্ড্রোম, হানটিংটনস সিন্ড্রোম, সিকিল সেল (রক্তশূন্যতা) ইত্যাদি।

- এছাড়া, হ্যানসেনস্‌ ডিজিজ হলো লেপ্রসি বা কুষ্ঠ রোগ।
- হ্যানসেনস্‌ ডিজিজ কোনো জেনেটিক  ডিসঅর্ডার নয়
- শত সহস্র বছর ধরে এ রোগকে কেন্দ্র করে নানাবিধ অলীক ধারণা ও কুসংস্কার চলে আসছে, কোথাও এটাকে মনে করা হয়েছে বিধাতার অভিশাপ, কোথাও বা পাপাচারের ফসল। 
- ১৮৭৩ সালে নরওয়ের বিজ্ঞানী গেরহার্ড হ্যানসেন প্রমাণ করেন, কুষ্ঠ আসলে একটি জীবাণুঘটিত রোগ, যা একটি ধীরলয়ে বংশ বিস্তার করা ব্যাকটেরিয়ার কারণে ঘটে। 
- এই ব্যাকটেরিয়াটি Mycobacterium leprae নামে পরিচিত। 
- সেই থেকে এ রোগটি হ্যানসেনস্‌ ডিজিজ নামেও পরিচিতি লাভ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দি ডেইলি স্টার বাংলা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১। [লিঙ্ক]
৬,৯২৪.
নিচের কোনটি এককবিহীন?
  1. ক) চৌম্বক প্রাবল্য
  2. খ) চৌম্বক প্রবেশ্যতা
  3. গ) চৌম্বক গ্রাহিতা
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
♦ চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা (Magnetic susceptibiliby):
- কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকায়ন তীব্রতা (I) এবং চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুপাতকে চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা বলে । 
- এটি একটি এককবিহীন রাশি।

♦ চৌম্বক প্রাবল্য (Magnetic Intensity):

- চৌম্বকক্ষেত্রের কোনো চৌম্বক আবেশ এবং চৌম্বক প্রবেশ্যতার অনুপাতকে চৌম্বক প্রাবল্য বা তীব্রতা বলে । একে H দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
এর একক Am-1

♦ চৌম্বক প্রবেশ্যতা (Magnetic permeability):
- চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ (B) ও চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুাতকে ঐ পদার্থের চৌম্বক প্রবশ্যেতা বলে । একে μ (মিউ) দ্বারা প্রকাশ করা হয় 
এর একক TmA-1

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯২৫.
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. ক) এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
  2. খ) এরা অকোষীয়।
  3. গ) এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক।
  4. ঘ) এরা সাধারণত বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য
ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে।
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে।
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ।
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না।
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬,৯২৬.
অতিবেগুনি রশ্মি কোথা হতে আসে?
  1. ক) চন্দ্র
  2. খ) সূর্য
  3. গ) বৃহস্পতি
  4. ঘ) পেট্রোলিয়াম
ব্যাখ্যা
 -জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলাে গামা রশ্মি।
 -গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা, অন্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি।
- গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে।
- আলট্রাভায়ােলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে, যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- বিটা ও আলফা রশ্মি গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর।
৬,৯২৭.
সোলার প্যানেলে বিদ্যুৎ তৈরি হয় কোন প্রভাবে?
  1. ফটোভোলটাইক
  2. ইলেক্ট্রোলাইটিক
  3. নিউক্লিয়ার
  4. মেকানিক্যাল
ব্যাখ্যা

• সোলার প্যানেলে সূর্যের আলোকে সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে ফটোভোলটাইক প্রভাব বলা হয়।

- সোলার প্যানেল হলো একটি ডিভাইস যা সূর্যের আলোকে সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এটি সোলার সেল বা photovoltaic cell দ্বারা গঠিত।

ফটোভোলটাইক (Photovoltaic):
- Photovoltaic effect হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কিছু উপাদান (যেমন সেমিকন্ডাক্টর) আলো শোষণ করলে ইলেকট্রন মুক্ত হয় এবং বৈদ্যুতিক কারেন্ট তৈরি হয়।
- সাধারণত সোলার সেলে সিলিকন (Silicon) ব্যবহার করা হয়।
- সূর্যের আলো পড়লে সিলিকনের ইলেকট্রন উত্তেজিত হয়ে চলাচল শুরু করে, যা DC কারেন্ট উৎপন্ন করে।

ব্যবহার ও সুবিধা:
- বাড়ি ও অফিসে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ।
- দূরবর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ।
- পরিবেশবান্ধব ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি।

তথ্যসূত্র: 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

৬,৯২৮.
কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম কী?
  1. ক্লোরোপিক্রিন
  2. মিথেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. ইথেন
ব্যাখ্যা
- কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম ক্লোরোপিকরিন।
- অশ্রু উৎপাদক বলে একে কাঁদুনে গ্যাস বলা হয়।
- এর রাসায়নিক নাম হলো নাইট্রোক্লোরোফরম।
- কাঁদুনে গ্যাসের রাসায়নিক সংকেত CCl3NO2.

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬,৯২৯.
মহাবিশ্বের গঠনে অদৃশ্য বস্তুর অবদান প্রায়-
  1. 70%
  2. 27%
  3. 5%
  4. 35%
ব্যাখ্যা
By fitting a theoretical model of the composition of the universe to the combined set of cosmological observations, scientists have come up with the composition:
~68% dark energy, ~27% dark matter, ~5% normal matter. 

Source: science.nasa.gov
৬,৯৩০.
অপটিক্যাল ফাইবার কোন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. বিচ্ছুরণ
ব্যাখ্যা
• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- যখন আলো ঘন মাধ্যম (যেমন: কাচ) থেকে হালকা মাধ্যমের দিকে যায় এবং আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে বেশি হয়, তখন সমস্ত আলো প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় ঘন মাধ্যমে ফিরে আসে। এটিই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।

• অপটিক্যাল ফাইবার:
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তন্তু। এটি আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের নীতিতে কাজ করে।
- অপটিক্যাল ফাইবারের ভিতরের দেয়ালে আলো এভাবেই বারবার প্রতিফলিত হয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে।
- এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core), বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)।
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়।
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম।
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৬,৯৩১.
Who is the proponent of the theory of Inheritance of Acquired Characters?
  1. Charles Darwin
  2. Gregor Johann Mendel
  3. Jean-Baptiste Lamarck
  4. Alfred Russel Wallace
  5. Isaac Newton
ব্যাখ্যা
• ফরাসী বিজ্ঞানী জা ব্যাপ্টিস্ট ল্যামার্ক অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদের প্রবক্তা। 

• ল্যামার্কিজম:
- ল্যামার্কের মতবাদ (Lamarckism) অনুযায়ী, জীব তার জীবদ্দশায় যে বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জন করে, সেগুলো তার বংশধরদের মধ্যে সঞ্চারিত হতে পারে। 
- একে "অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার" বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, জিরাফের লম্বা গলা বিবর্তনের মাধ্যমে এসেছে এই মতবাদ অনুসারে, কারণ তারা গাছের উপরের পাতা খাবার জন্য তাদের ঘাড়কে প্রসারিত করতে করতে লম্বা করেছে, এবং এই লম্বা ঘাড় তাদের সন্তানদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে।  
- ফরাসী বিজ্ঞানী জা ব্যাপ্টিস্ট ল্যামার্ক অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদ প্রদান করেন, যা ল্যামার্কিজম নামে পরিচিত। 

• ল্যামার্কিজমের মূল ধারণা হলো:
- জীব তার পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন করার জন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার বা অপব্যবহার করে।
- ব্যবহৃত অঙ্গগুলো শক্তিশালী হয় এবং অব্যবহৃত অঙ্গগুলো দুর্বল হয়ে যায়।
- এই অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলো বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়।

• ডডসন ১৯০৬০ খ্রিস্টাব্দে বিবর্তন সম্বন্ধে-এর বিস্তৃত ধারণাকে ৪টি সূত্রের অধীন করে ব্যাখ্যার সুবিধা করে দেন। 
- প্রথম সূত্র- বৃদ্ধি: প্রত্যেক জীব তার জীবনকালে অন্তঃজীবনী শক্তির প্রভাবে দেহের আকার এবং অঙ্গ-প্রতঙ্গের বৃদ্ধি ঘটাতে চায়।
- দ্বিতীয় সূত্র- পরিবেশের প্রভাব এবং জীবের সক্রিয় প্রচেষ্টা ও আঙ্গিক পরিবর্তন: সদা পরিবর্তনশীল পরিবেশে অভিযোজনের জন্য সৃষ্ট অভাবরোধের উদ্দীপনা এবং নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলে দেহের আঙ্গিক পরিবর্তন ঘটে। 
- তৃতীয় সুত্র- ব্যবহার ও অব্যবহার: ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে দেহের একটি বিশেষ অঙ্গ সুগঠিত, কার্যক্ষম ও বড় হতে পারে, আবার অব্যবহার অঙ্গটি ক্রমশ ক্ষুদ্র হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়। 
- চতুর্থ সূত্র- অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার: প্রতিটি জীবরে জীবদ্দশায় অর্জিত সকল বৈশিষ্ট ভবিষ্যৎ বংশধরে সঞ্চারিত হয়।

• তবে, আধুনিক জিনতত্ত্ব এই মতবাদকে ভুল প্রমাণ করেছে। জিনতত্ত্ব অনুসারে, জীবের অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলো তার জিনগত গঠনকে প্রভাবিত করে না এবং তাই বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয় না। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৬,৯৩২.
সৌর প্যানেলে সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. ফসফরিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
এসিডের ব্যবহার: 
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌর বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহার করা হয়। 
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H2SO4)। 
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH4)2SO4] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4]। 
- আর সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) ব্যবহার করে। 
- শক্তিশালী এসিডগুলো ( যেমন সালফিউরিক এসিড (H2SO4), নাইট্রিক এসিড (HNO3), হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) মানবদেহের জন্য যেমন মারাত্মক ক্ষতিকর, তেমনি আমাদের অনেক প্রয়োজনীয় এবং নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রেরও অনেক ক্ষতি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৩৩.
ভূমিকম্পের কেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ-পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি থাকে, তাকে কী বলা হয়?
  1. সমকেন্দ্র
  2. উপকেন্দ্র
  3. অনুকেন্দ্র
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ-পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি থাকে, তাকে উপকেন্দ্র বলা হয়।
- সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ-এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে। ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৩৪.
নিচের কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ?
  1. কলেরা 
  2. পোলিও 
  3. সিফিলিস
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

- ভাইরাসজনিত রোগ হচ্ছে পোলিও। 

ভাইরাসজনিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে। 
- নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাসজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো- 
• জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। 

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে। 
- নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো- 
• যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য যে, 
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৩৫.
কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধের ক্রম কত?
  1. 10-4 Ωm
  2. 10-8 Ωm
  3. 1012 Ωm
  4. শূন্য
ব্যাখ্যা

• পরিবাহী:
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে, যেমন-রুপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10-8 Ωm ক্রমের।
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটালেই ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে এর তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

• অপরিবাহী:
যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে, যেমন-কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী।
- অপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 1012 Ωm ক্রমের।
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। তাই অপরিবাহীর দুই প্রান্তে অনেক বিভব পার্থক্য ঘটালেও তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয় না। অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে।

• অর্ধপরিবাহী:
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি যার তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি অর্থাৎ যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- পরিবাহী এবং অর্ধপরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের।

উৎস:
পদার্থ বিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৩৬.
নিচের কোনটি টুথপেস্টের উপাদান নয়?
  1. ক) পাউডার
  2. খ) সাবান
  3. গ) মেনথল
  4. ঘ) তারপিনল
ব্যাখ্যা


- এখানে সোডিয়াম লরেল সালফেট হচ্ছে সাবান যা দাত ব্রাশ করার সময় ফেনা তৈরি করে।
৬,৯৩৭.
উদ্ভিদের পাতায় অবস্থিত ক্লোরোপ্লাস্টের প্রধান কাজ কী?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. শ্বসন
  3. পরাগায়ন
  4. বীজ উৎপাদন
ব্যাখ্যা

◉ ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast) হলো একটি কোষীয় অঙ্গাণু, যা উদ্ভিদের পাতায় এবং সবুজ অংশে পাওয়া যায়।
- এতে ক্লোরোফিল (Chlorophyll) নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে, যা সূর্যের আলো শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।

ক্লোরোফিল ও সালোকসংশ্লেষণ:
- ক্লোরোফিলের প্রধান উপকরণ হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং ম্যাগনেসিয়াম।
- লোহার অনুপস্থিতিতে পাতা ক্লোরোফিল সংশ্লেষণ করতে পারে না, ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়।
- পাতার ক্লোরোফিলের পরিমাণের সাথে সালোকসংশ্লেষণের হারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, কারণ একমাত্র ক্লোরোফিলই আলোকশক্তি গ্রহণ করতে পারে।
- পুরাতন ক্লোরোপ্লাস্ট নষ্ট হয়ে যায় এবং তখন নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট সংশ্লেষিত হয়।
- নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট এবং ক্লোরোপ্লস্টের উপাদান সৃষ্টির হারের উপর সালোকসংশ্লেষণের হার নিভর্রশীল।
- সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতা রক্ষা করার জন্য ক্লোরোপ্লাস্টের বিভিন্ন উপাদান দ্রুত এবং প্রচুর পরিমাণে পুনর্গঠিত হওয়া প্রয়োজন।
- তবে কোষে খুব বেশি পরিমাণ ক্লোরোফিল থাকলে এনজাইমের অভাব দেখা দেয় এবং সালোকসংশ্লেষণ কমে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৯৩৮.
কোন লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. উত্তল 
  2. অবতল 
  3. অপসারী 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

লেন্স: 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 

উত্তল লেন্সের ব্যবহার: 
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। 
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে। 

অবতল লেন্সের ব্যবহার: 
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়। 
৩. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৯৩৯.
নিচের কোনটি অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীর উদাহরণ?
  1. প্রজাপতি
  2. কেঁচো
  3. চিংড়ি
  4. আরশোলা
ব্যাখ্যা
প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস: 
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত।

অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- দেহ নলাকার ও খন্ডায়িত।
- প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে (জোক ব্যতীত)।
- নেফ্রেডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে।
উদাহরণ- কেঁচো, জোক ইত্যাদি। 

মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- প্রায় সকল প্রাণী সামুদ্রিক।
- দেহ নরম কিন্তু বাইরের দিকে শক্ত খোলসে আবৃত থাকে।
উদাহরণ - শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
৬,৯৪০.
'শিমের বিচি' কোন ধরনের খাদ্য?
  1. ক) আমিষ
  2. খ) শ্বেতসার
  3. গ) স্নেহ জাতীয়
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা

উৎস দিয়ে বিবেচনা করলে আমিষ দুই ধরনের- প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ আমিষ।
প্রাণিজ আমিষের উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।
উদ্ভিজ্জ আমিষের উৎস হলো ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৯৪১.
ডুবোজাহাজ থেকে সমুদ্র পৃষ্টে কোনো বস্তু দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) ক্যালাইডোস্কোপ
  2. খ) টেলিস্কোপ
  3. গ) পেরিস্কোপ
  4. ঘ) মাইক্রোস্কোপ
ব্যাখ্যা
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়।
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে।
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই।
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে।
- দর্পণের প্রতিফলন ‘তল’ এমনভাবে স্থাপিত যাতে নলটির অঙের সঙ্গে তা ৪৫ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করতে পারে।
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য।
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
[সুত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি]
৬,৯৪২.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী?
  1. ডলফিন
  2. হাঙ্গর
  3. ব্যাঙ
  4. ঈগল
ব্যাখ্যা
♦ Chordata পর্বের Mammalia শ্রেণির স্তন্যপায়ী প্রাণী:
- নীল তিমি, 
- বাদুড়, 
- ডলফিন, 
- মানুষ, 
- বানর 

♦ Chordata পর্বের Reptalia শ্রেণির সরীসৃপ প্রাণী:
- ঘড়িয়াল, 
- কুমির, 
- কচ্ছপ, 
- সাপ, 
- টিকটিকি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৬,৯৪৩.
গামা রশ্মি সম্পর্কিত কোন তথ্যটি ভুল? 
  1. গামা রশ্মির বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান 
  2. গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন একটি কণা 
  3. গামা রশ্মিকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না 
  4. গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব বেশি 
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি হচ্ছে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান।
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়।
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন কণা, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না।
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়।
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৪৪.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কয়টি ম্যাক্রো উপাদান দরকার?
  1. ক) ১০
  2. খ) ৬
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ১২
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলো কে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
ম্যাক্রো উপাদান দশটি; যথা:
- নাইট্রোজেন,
- পটাশিয়াম,
- ফসফরাস,
- ক্যালসিয়াম,
- ম্যাগনেশিয়াম,
- কার্বন,
- হাইড্রোজেন,
- অক্সিজেন,
- সালফার এবং
- লৌহ।
উৎস: নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।

৬,৯৪৫.
কোনটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম নয়?
  1. পরমাণুর ব্যাসার্ধ
  2. প্রথম আয়নিকরণ শক্তি
  3. রাসায়নিক বন্ধন 
  4. ইলেকট্রন আসক্তি
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বন্ধন পর্যায়বৃত্ত ধর্ম নয়। 

মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- যে কোনো মৌলের রাসায়নিক ধর্ম ও অনেক ভৌত ধর্ম নির্ভর করে ঐ মৌলের সর্ববহিঃস্থ ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর।
- মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস পারমাণবিক সংখ্যার বৃদ্ধির সাথে পরিবর্তিত হয়ে থাকে।
- তাই পর্যায় সারণিতে মৌলে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নির্দিষ্ট ব্যবধানে মৌলের ধর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
- মৌলের ধর্মের এ জাতীয় পুনরাবৃত্তিকে মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে।
- পর্যায় সারণির কোনো একটি পর্যায়ের ক্ষেত্রে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসে ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটে। এ কারণে মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটে।
- প্রকৃতপক্ষে মৌলমূহের ধর্মাবলি ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয় এবং ধর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
- পর্যায় সারণির কোনো পর্যায়ের বাম দিক হতে ডান দিকে এবং কোনো গ্রুপের উপর থেকে নিচের দিকে অগ্রসর হলে এ সব ধর্মাবলি একটি নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। 

পর্যায় সারণিতে অবস্থিত মৌলগুলোর কিছু ধর্ম আছে,
যেমন-
- ধাতব ধর্ম,
- অধাতব ধর্ম,
- পরমাণুর আকার,
- আয়নিকরণ শক্তি,
- তড়িৎ ঋণাত্মকতা,
- ইলেকট্রন আসক্তি, ইত্যাদি। এসব ধর্মকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৪৬.
সূর্য থেকে আমাদের পৃথিবীতে আলো আসে কোন তরঙ্গের মাধ্যমে?
  1. ক) যান্ত্রিক তরঙ্গ
  2. খ) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  3. গ) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  4. ঘ) তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

আমরা সূর্য থেকে আলো এবং তাপ পাই। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। বেতার তরঙ্গ, এক্সরশ্মি, গামারশ্মি, তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গের উদাহরণ।
আলো একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। ১৮৬২ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল প্রমাণ করেন তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে ধ্রুব দ্রুতিতে গমন করতে পারে। ১৮৬৪ সালে তিনি আলোর তাড়িতচৌম্বক তত্ত্বের অবতারণা করেন।
সুত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি।

৬,৯৪৭.
স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতা লেভেল কত? 
  1. ৮০ ডেসিবল
  2. ৬০ ডেসিবল
  3. ৭০ ডেসিবল
  4. ৯০ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
- স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতা লেভেল- ৬০ ডেসিবল। 

শব্দের তীব্রতা: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ।
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়।
- শব্দের তীব্রতার মূল একক Wm-2
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্ব নিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়।
- এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা। এর মান 10-12 Wm-2 কে বেছে নেয়া হয়েছে।
- এটি হচ্ছে 1000Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা (threshold of audibility) হিসাবেও ধরা হয়। 


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৪৮.
মহাকাশযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল কত সালে?
  1. ১৯৬১ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫১ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
  5. ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
- মহাকাশযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর।
- এই যাত্রার সূচনা করে তৎকালীন সোভিয়েট ইউনিয়ন।
- তারা স্পুটনিক-১ নামক - কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে।
- স্পুটনিক শব্দের অর্থ হলো ভ্রমণসঙ্গী বা সহযাত্রী।
- একই বছর ২রা নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামক আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ তারা মহাকাশে পাঠান।

উল্লেখ্য,
- প্রথম মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহের নাম এক্সপ্লোরার-১।
- এই উপগ্রহ ১৯৫৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি মহাকাশে পাঠানো হয়।
- ভস্টক-১ নামক সোভিয়েট কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ নিয়ে প্রথম পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
- প্রথম মহাকাশে গিয়েছিলেন সোভিয়েট ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন।
- তিনি ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল ভস্টক-১ কৃত্রিম উপগ্রহে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬,৯৪৯.
শব্দের তীব্রতার SI একক কোনটি?
  1. নিউটন
  2. জুল
  3. হার্টজ
  4. ওয়াট প্রতি বর্গমিটার
ব্যাখ্যা

• শব্দের তীব্রতার SI একক হলো ওয়াট প্রতি বর্গমিটার।

• শব্দের তীব্রতা (Intensity):
- শব্দের তীব্রতা হলো একক ক্ষেত্রফল দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত শব্দশক্তির পরিমাণ।
- এটি নির্দেশ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলে কত দ্রুত শক্তি সঞ্চালিত হচ্ছে।
- শব্দের তীব্রতা শক্তির সাথে সম্পর্কিত একটি ভৌত রাশি।
- তীব্রতা যত বেশি, শব্দ তত বেশি জোরালো অনুভূত হয়।
- শব্দের উৎস থেকে দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তীব্রতা ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিকভাবে পরিবর্তিত হয়।

• শব্দের তীব্রতার একক:
- শব্দের তীব্রতার SI একক ওয়াট প্রতি বর্গমিটার (Wm-2)।
- এখানে ওয়াট শক্তির একক এবং বর্গমিটার ক্ষেত্রফলের একক।
- একক ক্ষেত্রফলে প্রতি সেকেন্ডে যত ওয়াট শক্তি প্রবাহিত হয় সেটিই তীব্রতা।
- তীব্রতার মান পরিমাপ করে শব্দের শক্তির বিস্তার নির্ণয় করা হয়।

• অন্যান্য একক:
- নিউটন → বলের একক,
- জুল → শক্তির একক,
- হার্টজ → কম্পাঙ্কের একক,
- শব্দের তীব্রতা স্তর (Intensity Level): ডেসিবেল (dB).

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

৬,৯৫০.
ডায়াবেটিস রােগী নিচের কোনটি খেতে পারবেন না?
  1. ক) কাঁচাকলা
  2. খ) খেজুরের রস
  3. গ) কচুরমুখি
  4. ঘ) মিষ্টি কুমড়া
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস রােগী খেতে পারবেন না:
- চিনি/গুড়
- মধু
- খেজুরের রস।

ডায়াবেটিস রােগী ইচ্ছামতাে খেতে পারবেন:
-  শাকসবজি
- টক ফল।

ডায়াবেটিস রােগী পরিমাণমতাে খেতে পারবেন:
- আটার রুটি/ভাত/মুড়ি
- মাছ
- ডিম/ডাল।
- সবজি: আলু, কাঁচাকলা, মিষ্টি কুমড়া, কচুরমুখি, শিমের বিচি, গাজর।


সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট
৬,৯৫১.
গেজ বোসন কণার স্পিন সংখ্যা কত?
  1. -1
  2. 0
  3. 1
  4. 2
ব্যাখ্যা
বোসন (Boson):
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন।
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি।
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না।
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই । এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা।
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দু'ধরনের।
(i) গেজ বোসন (Gauge Boson).
(ii) হিগস বোসন (Higgs Boson ).

• গেজ বোসন:
- এদের স্পিন হলো 1। এই কণাগুলো হলো- গণ্ডুওন (g), ফোটন (y) এবং w ও Z বোসন।
- গণ্ডুওন: কণা হলো সবল নিউক্লিয় বলবাহী কণা। এর নিশ্চল ভর শূন্য।
- ফোটন: এই কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। এর নিশ্চল ভর শূন্য।
- W ও Z বোসন : w+, w- এবং z° এই তিনটি বোসন কণা দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক। এ কণাগুলোর ভর আছে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৫২.
স্থির তাপমাত্রায় কোন বিষয়গুলো রোধের ওপর নির্ভর করে? 
  1. দৈর্ঘ্য এবং তাপমাত্রা
  2. উপাদান এবং তাপমাত্রা
  3. দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
  4. উপাদান এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।  
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৫৩.
কোন মাধ্যমে আলোর গতি সর্বাধিক থাকে?
  1. পানি
  2. কাচ
  3. বায়ু
  4. শূন্যস্থান
ব্যাখ্যা
◉ আলো সবচেয়ে দ্রুত চলে শূন্যস্থানে (Vacuum)। শূন্যস্থানে আলোর গতি প্রায় 3×108 মিটার/সেকেন্ড (299,792 কিমি/সেকেন্ড)।

আলো: 
- আলো একপ্রকার শক্তি। 
- আলো একধরনের তড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ যা আমাদের চোখে দর্শনের অনুভূতি যোগায়। 
- আলোর কণাকে ফোটন বলে। 
- আলোর বেগ 3×108 ms-1 অর্থাৎ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড প্রায়।
- দৃশ্যমান আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি। বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল।

উৎস: 
১। পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২। Evident Scientific ওয়েবসাইট। [লিংক] 
৬,৯৫৪.
জ্যোতিষ্ক কত প্রকার?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৭
ব্যাখ্যা

মহাশূন্যে অবস্থিত বস্তুসমূহকে জ্যোতিষ্ক বলা হয়ে থাকে।
জ্যোতিষ্ক ৭ প্রকার।
যথা-নক্ষত্র, নীহারিকা, গ্রহ, উপগ্রহ, ছায়াপথ, ধূমকেতু এবং উল্কা।
উৎস: ভূগােল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৯৫৫.
জোয়ার-ভাটা সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়
  2. খ) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবে জোয়ার-ভাটা হয়
  3. গ) দৈনিক একবার জোয়ার-ভাটা হয়
  4. ঘ) জোয়ার-ভাটার ফলে সৃষ্ট স্রোতের সাহায্যে নদীখাত গভীর হয়
ব্যাখ্যা
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়। এগুলাে হলাে-
(১) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব
(২) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি।
জোয়ার-ভাটার প্রভাব (Effects of Tides): মানব-জীবনের উপর জোয়ার-ভাটার যথেষ্ট প্রভাব আছে। বিশ্বের সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশসমূহে জোয়ার-ভাটার নিম্নের প্রভাবসমূহ লক্ষ করা যায়।
১। জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে ভূখন্ড থেকে আবর্জনাসমূহ নদীর মধ্য দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়।
২। দৈনিক দুবার জোয়ার-ভাটা হওয়ার ফলে ভাটার টানে নদীর মােহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না।
৩। জোয়ার-ভাটার ফলে সৃষ্ট স্রোতের সাহায্যে নদীখাত গভীর হয়।
৪। বহু নদীতে ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ (Hydroelectricity) উৎপাদন করা হয়।
উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৫৬.
উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে শ্রেণীবিন্যাস করেন-
  1. ক) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  2. খ) থিওফ্রাস্টাস
  3. গ) বেনথাম ও হুকার
  4. ঘ) ক্রোনকুইস্ট
ব্যাখ্যা

- থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক।
- তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। যথা- ট্রি বা বৃক্ষ, শ্রাব বা গুল্ম, আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং হার্ব বা বীরুৎ।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬,৯৫৭.
মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজোম থাকে -
  1. ২২টি
  2. ২৩টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম:
- মানুষের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।

উল্লেখ্য,
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৫৮.
বাংলাদেশে পাওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ -
  1. ৮০%
  2. ৯৭%
  3. ৬৫.৪২%
  4. ৯৯.৯৯%
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন। প্রাকৃতিক গ্যাসে এর পরিমাণ প্রায় ৮০%।
এছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাসে ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, আইসোবিউটেন, পেন্টেন ইত্যাদি উপাদানও উপস্থিত থাকে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গিয়েছে, তার ৯৯.৯৯% উপাদান হলো মিথেন।

সূত্র: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৬,৯৫৯.
মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ও প্রধান তত্ত্ব কোনটি?
  1. ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব
  2. বিগব্যাং তত্ত্ব
  3. আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. নিউটনের গতি সূত্রীয় তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ও প্রধান তত্ত্ব হলো বিগব্যাং তত্ত্ব (খ)। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব একটি অত্যন্ত ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দু থেকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রসারিত হতে শুরু করে। সেই বিস্ফোরণের ফলেই স্থান, সময়, পদার্থ ও শক্তির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে গ্যালাক্সি, নক্ষত্র, গ্রহ ও অন্যান্য জাগতিক বস্তুর গঠন ঘটে। ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব জীবজগতের বিকাশ ব্যাখ্যা করে, আপেক্ষিক তত্ত্ব মহাকর্ষ ও স্থান-সময়ের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে এবং নিউটনের গতি সূত্র বস্তুগত গতি বোঝায়, কিন্তু মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে না।

মহাবিশ্ব: 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৬,৯৬০.
নিচের কোন প্রাণীটি পরস্পরের সাথে যোগাযোগের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে থাকে?
  1. মানুষ
  2. তিমি
  3. ইঁদুর
  4. কুকুর
ব্যাখ্যা

- মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীরাও শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে।
- বাদুর পথ চলতে এবং খাদ্য বস্তুর অনুসন্ধানের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে।
- তিমি পরস্পরের সাথে যোগাযোগ এবং মনোভাব আদান-প্রদানের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে
- বলা হয়, শব্দোত্তর তরঙ্গই তিমির ভাষা।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৬১.
চন্দ্রে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হলে ঐ বিষ্ফোরণের শব্দ কতক্ষণ পর পৃথিবীতে শোনা যাবে?
  1. ১.৩০ মিনিট
  2. ২.০০ মিনিট
  3. ২.৩০ মিনিট
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
শব্দ সঞ্চার [Propagation of Sound]:
- শব্দ বিস্তারের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের উৎস এবং আমাদের কানের মধ্যবর্তী স্থানে যদি কোনো স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম না থাকে, তাহলে শব্দ আমাদের কানে পৌঁছাতে পারে না।
- চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, তাই চন্দ্রে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটলে তা পৃথিবীতে শোনা যাবে না।
- কারণ শব্দ সঞ্চারনের জন্য মাধ্যম নেই এবং ভ্যাকুয়াম বা শূন্যের মধ্য দিয়ে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬,৯৬২.
স্বরগ্রামের যেকোন একটি সুরের দ্বিগুণ কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট সুরটিকে কী বলে?
  1. ক) টোনিক
  2. খ) উপসুর
  3. গ) সম সুর
  4. ঘ) অষ্টক
ব্যাখ্যা
একটি সুরের কম্পাঙ্ক অন্য একটি সুরের কম্পাঙ্কের দ্বিগুণ হলে প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির অষ্টক বলে। 
যেমন-   100 কম্পাঙ্কের সুরটি 50 কম্পাঙ্কের সুরের অষ্টক।

যে সুরের কম্পাঙ্ক মূল সুরের চেয়ে বেশি সেগুলিকে উপসুর বলে।

সুর : একটিমাত্র কম্পাঙ্কবিশিষ্ট শব্দকে সুর বলে। কোন সুর শলাকা থেকে উৎপন্ন শব্দকে সুর বলা হয়।

স্বর : একাধিক কম্পাঙ্কবিশিষ্ট শব্দকে স্বর বলা হয়। বাদ্যযন্ত্র থেকে যে শব্দ নিঃসৃত হয় তা স্বর। অর্থাৎ স্বর হলো একাধিক সুরের সমষ্টি । যে কথা বলি তা হচ্ছে স্বর।

শব্দ স্বরের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
যথা :
১. প্রাবল্য বা তীব্রতা
২. তীক্ষ্মতা
৩. গুণ বা জাতি।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৬৩.
দুইটি বস্তুর মধ্যকার দূরত্ব দ্বিগুন করা হলে তাদের মহাকর্ষ বল পূর্বের কতগুণ হবে?
  1. ক) ৪ গুণ
  2. খ) ৮ গুণ
  3. গ) ১/৪ গুণ
  4. ঘ) ১/৮ গুণ
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বল বস্তু দুইটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
- মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।

অতএব, দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে, মহাকর্ষ বল ১/৪ গুণ হবে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৬৪.
সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ কোনটি?
  1. Mercury
  2. Venus
  3. Mars
  4. Uranus
ব্যাখ্যা

• বুধ (Mercury): 
- বুধ গ্রহ সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ এবং সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার; এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না।
- বুধ হল সবচেয়ে দ্রুততম গ্রহ, প্রতি ৮৮দিনে (পৃথিবীর) সূর্যের চারপাশে ঘুরে আসে।
- এটি প্রতি ৮৮ দিনে সূর্যের চারপাশে দ্রুত গতিতে ঘুরে আসে, মহাকাশে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৯ মাইল (৪৭ কিলোমিটার) গতিতে ভ্রমণ করে, যা অন্য যেকোনো গ্রহের চেয়ে দ্রুত।
- সুতরাং বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমন্ডল ধরে রাখতে পারে না।
-  এখানে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি। সুতরাং প্রাণির অস্তিত্ব নেই।
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।
- ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা এবং এবড়ো-থেবড়ো। এখানে আছে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই।

উৎস: NASA.

৬,৯৬৫.
সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল কত সেকেন্ড? 
  1. ০.৫ সেকেন্ড
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ২ সেকেন্ড
  4. ৪ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে একটি ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উল্লম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে। 

সেকেন্ড দোলক: 
যে দোলকের দোলনকাল দুই সেকেন্ড অর্থাৎ, দোলকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এক সেকেন্ড সময় লাগে তাকে সেকেন্ড দোলক বলে। 

কার্যকরী দৈর্ঘ্য: 
- ঝুলন বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বলে। 

সরল দোলন গতি: 
- যদি কোনো বস্তুর ত্বরণ একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে এর সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদা ঐ বিন্দু অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তুর ঐ গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
৬,৯৬৬.
In which organ system does pneumonia lead to inflammation and fluid accumulation?
  1. Nervous system
  2. Cardiovascular system
  3. Respiratory system
  4. Digestive system
  5. Urinary system
ব্যাখ্যা
• নিউমোনিয়া (Pneumonia): 
- নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় মানবদেহের ফুসফুস। 
- এ দ্বারা শ্বসণতন্ত্র বা, Respiratory system আক্রান্ত হয় এবং ফুসফুসে প্রদাহ হয় এবং পানি জমতে থাকে।
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। 
- হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়। 
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। 

কারণ: 
- নিউমোকক্কাস ( Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। 
- এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। 
- এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে। 

লক্ষণ: 
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়। 
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। 
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বেশি জ্বর হয়। 
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৬৭.
কোনটি পরমাণুর গঠনের মৌলিক কণার অংশ নয়?
  1. ইলেকট্রন
  2. নিউট্রন
  3. ফোটন
  4. প্রোটন
ব্যাখ্যা

• পরমাণুর মৌলিক কণা: পরমাণু মূলত তিনটি মৌলিক কণার সমন্বয়ে গঠিত: প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন।

- প্রোটন (Proton): ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা, যা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে।
- নিউট্রন (Neutron): নিরপেক্ষ চার্জযুক্ত কণা, নিউক্লিয়াসে থাকে এবং পরমাণুর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
- ইলেকট্রন (Electron): ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা, নিউক্লিয়াসের চারপাশে কক্ষপথে ঘোরে।

• ফোটন (Photon):
- এটি আলোর কণা বা কণা-প্রকৃতির তরঙ্গ যা শক্তি বহন করে, কিন্তু পরমাণুর কাঠামোর অংশ নয়। 
- ফোটন কোনো ভর রাখে না।
- এটি নিউক্লিয়াস বা ইলেকট্রনের অংশ নয়।

সুতরাং, পরমাণুর মৌলিক কণার মধ্যে নেই ফোটন।

তথ্যসূত্র: NCTB মাধ্যমিক রসায়ন। 

৬,৯৬৮.
হৃদপিন্ডের পেশীজনিত কাজকর্ম পর্যবেক্ষন করার ক্ষেত্রে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) MRI
  2. খ) ETT
  3. গ) ECG
  4. ঘ) Endoscopy
ব্যাখ্যা
ইসিজি (ECG) হলো ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (Electrocardiogram)।
- ইসিজি করে মানুষের হৃদপিন্ডের বৈদ্যুতিক ও পেশীজনিত কাজকর্মগুলো পর্যবেক্ষন করা যায়।
- ইসিজি সংকেত হৃৎপিন্ডের মধ্যে রক্তপ্রবাহের একটি পরোক্ষ প্রমাণ দেয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই।
৬,৯৬৯.
কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
  1. তামা
  2. ইস্পাত
  3. পিতল
  4. সোনা
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশির ভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থও বলা হয়। 
- ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৭০.
বাংলাদেশের সুন্দরবনে কতো প্রজাতির হরিণ দেখা যায়?
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন: 
- বাংলাদেশের অংশ ৬,০১৭ বর্গ কি.মি.আয়তনের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ, দীর্ঘতম লবণাক্ত জলাভূমি এবং জীব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম। 
- এখানে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিদ্যমান যার মধ্যে আছে ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং বিশ্ব বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
- প্রধান সরীসৃপ জাতিগুলোর মধ্যে আছে নোনা পানির কুমির, অজগর, গোখরা, গুইসাপ, সামুদ্রিক সাপ, গিরগিটি, কচ্ছপ এবং অন্যান্য। 
- বাংলাদেশের সুন্দরবনে চিত্রা হরিণ ও মায়া হরিণ নামক দুই প্রজাতির হরিণ দেখা যায়। 
- এই দুই প্রজাতির মধ্যে চিত্রা হরিণের সংখ্যা একটু বেশি হলেও মায়া হরিণের সংখ্যা খুবই কম। 
উল্লেখ্য যে, 
- বাংলাদেশ এই প্রজাতি ছাড়াও সাম্বার হরিণ, বারোশিঙা (Swamp) হরিণ ও হগ হরিণ নামে তিনটি প্রজাতির হরিণ রয়েছে যা প্রায় বিলুপ্তির পথে। 
- ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
৬,৯৭১.
কোন রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরে খিঁচুনি দিতে থাকে?
  1. ক) প্যারালাইসিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) পারকিনসন ডিজিজ
  4. ঘ) গয়টার
ব্যাখ্যা
এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাঁপুনি দিতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। একে মৃগী রোগও বলা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৬,৯৭২.
তড়িৎ চুম্বক তৈরিতে নিচের কোন পদার্থ সবচেয়ে বেশি উপযোগী? 
  1. ইস্পাত
  2. নিকেল
  3. কাঁচা লোহা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম 
ব্যাখ্যা

স্থায়ী চুম্বক: 
- যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত চুম্বক স্থায়ী হলেও তা অত্যন্ত দুর্বল প্রকৃতির হয়। তাই চৌম্বক পদার্থের সাথে অন্য পদার্থের মিশ্রণে অথবা বিশেষ প্রক্রিয়ায় (স্পর্শ-ঘর্ষণ পদ্ধতি) স্থায়ী শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করা হয়। 

অস্থায়ী চুম্বক: 
- যদি কোনো চৌম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে চৌম্বক ধর্ম প্রদর্শন করে এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতিতে যদি তা চুম্বকত্ব হারায় তবে তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।  

তড়িৎ চুম্বক: 
- একটি বৃত্তাকার কুন্ডলী বা সলিনয়েডে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর মধ্যে চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় এবং এটি একটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের ফলে এ চুম্বক সৃষ্টি হয় বলে একে তড়িৎ চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বকের জন্য ইস্পাত এবং বৈদ্যুতিক চুম্বকের জন্য কাঁচা লোহা উপযোগী হওয়ার কারণ:
• ইস্পাতের তুলনায় কাঁচা লোহার রিমেনেন্স বা ধারণশীলতা কিছু বেশি কিন্তু নিগ্রাহিতা অনেক কম। স্থায়ী চুম্বকের জন্য ধারণশীলতা ও নিগ্রাহিতা উচ্চমানের হওয়া প্রয়োজন। এজন্য স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে ইস্পাত ব্যবহার করা হয়। 
বৈদ্যুতিক চুম্বকের জন্য ক্ষণস্থায়ী ও শক্তিশালী চুম্বকের প্রয়োজন। কাঁচা লোহার রিমেনেন্স বা ধারণশীলতা বেশি এবং নিগ্রাহিতা কম বলে এর চুম্বকত্ব শক্তিশালী ও ক্ষণস্থায়ী হয়। এজন্য বৈদ্যুতিক চুম্বকের ক্ষেত্রে কাঁচা লোহা ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৭৩.
ইস্টে কোন ধরনের শ্বসন সংঘটিত হয়?
  1. ক) সবাত
  2. খ) অবাত
  3. গ) উভয়টি ঘটে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ইস্টে অবাত শ্বসনের ফলে অ্যালকোহল এবং কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়।
এই কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের চাপে রুটি ফুলে গিয়ে ভেতরে ফাঁপা হয়।
যে শ্বসন প্রক্রিয়া অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংগঠিত হয় তাকে অবাত শ্বসন বলে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৬,৯৭৪.
পিতা ও মাতা দুই জনই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে, সন্তান থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?
  1. ক) ২৫%
  2. খ) ৫০%
  3. গ) ৭৫%
  4. ঘ) ১০০%
ব্যাখ্যা
- থ্যালাসেমিয়া বংশগত রক্তস্বল্পতাজনিত রোগ।
- মা ও বাবা দুজনই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে সন্তান থ্যালাসেমিয়ার রোগী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 
- এটি যেমন কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, তেমনি রক্তের ক্যানসারও নয়।
- জিনগত ত্রুটির কারণে এই রোগে অস্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় বলে লোহিত রক্তকণিকা সময়ের আগেই ভেঙে যায়। ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 

• পিতা ও মাতা দুই জনই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে -
- সুস্থ সন্তান জন্ম নেয়ার সম্ভাব্যতা - ২৫%
- সুস্থ কিন্তু বাহক শিশু জন্মের সম্ভাব্যতা - ৫০%
- থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়ার সম্ভাব্যতা - ২৫%।


সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৭৫.
Platyhelminthes-এর দেহে কী থাকে না? 
  1. শিখা অঙ্গ 
  2. পুরু কিউটিকল 
  3. চোষক ও আংটা 
  4. সম্পূর্ণ পৌষ্টিকতন্ত্র 
ব্যাখ্যা

প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes): 
- Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminthes শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে। 
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। 
- এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে। 
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। 
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। 
যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
• দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ। 
• বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী। 
• দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
• দেহে চোষক ও আংটা থাকে। 
• দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। 
পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত। 
উদাহরণ: Fasciola (যকৃৎ কৃমি) Taenia (ফিতা কৃমি)। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৬,৯৭৬.
কোন বিজ্ঞানী রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন?
  1. লুই পাস্তুর
  2. প্রিস্টলি
  3. ডারউইন
  4. ল্যাভয়সিয়ে
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানী 'লুই পাস্তুর' রোগজীবাণু তত্ত্ব উদ্ভাবন করেন। 
- তিনি ছিলেন ফ্রেঞ্চ রসায়নবিদ এবং অণুজীববিজ্ঞানী। 
- ১৮৮৫ সালে লুই পাস্তুর জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেন এবং টিকাজগতে বিপ্লব ঘটান। 
- এছাড়াও তিনি মুরগির কলেরা, গবাদি পশুর অ্যানথ্রাক্স, পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতি প্রভৃতি উদ্ভাবন করেন। 

উৎস: ব্রিটনিকা।
৬,৯৭৭.
পেরিস্কোপের প্রধান কার্যপদ্ধতি কোন নীতির উপর ভিত্তি করে?
  1. আলোর প্রতিসরণ
  2. আলোর বিচ্ছুরণ
  3. আলোর ব্যতিচার
  4. আলোর প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

• পেরিস্কোপ আলোর প্রতিফলন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে।

• পেরিস্কোপ (Periscope):
- পেরিস্কোপ একটি অপটিক্যাল যন্ত্র।
- এটি সরাসরি দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা বস্তু দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- সাধারণত সাবমেরিনে পানির নিচ থেকে উপরের বস্তু পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়।

• কার্যপদ্ধতি:
- পেরিস্কোপে সাধারণত দুটি আয়না বা প্রিজম ব্যবহৃত হয়।
- আয়নাগুলো এমনভাবে স্থাপন করা হয় যাতে আলো প্রথম আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় আয়নায় পৌঁছায়।
- দ্বিতীয় আয়না থেকে প্রতিফলিত হয়ে আলো পর্যবেক্ষকের চোখে পৌঁছে।
- এই পুরো প্রক্রিয়া আলোর প্রতিফলন নীতির উপর নির্ভরশীল।

• ব্যবহার:
- সাবমেরিনে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ কাজে।
- ট্যাঙ্ক ও নজরদারি টাওয়ারে।

• অন্যান্য অপশন:
- আলোর প্রতিসরণ → প্রিজমে আলো বেঁকে যাওয়ার প্রক্রিয়া।
- আলোর বিচ্ছুরণ → মাধ্যমের মধ্যে আলো ছড়িয়ে পড়া।
- আলোর ব্যতিচার → তরঙ্গের উপর তরঙ্গের প্রভাবজনিত প্যাটার্ন।

উৎস: ব্রিটানিকা [লিংক]।

৬,৯৭৮.
pH স্কেলের বিস্তৃতি কত?
  1. ক) ০-১৪
  2. খ) ১-১৪
  3. গ) ১-৭
  4. ঘ) ৭-১৪
ব্যাখ্যা
- pH এর মান ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়।
- নিরপেক্ষ কোনো দ্রবণের pH এর মান ৭।
- এসিড দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে কম হয় এবং ক্ষারের দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে বেশি হয়।
- pH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান ০ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষারের pH এর মান ১৪।

সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি
৬,৯৭৯.
কোনটিকে শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা বলা হয়?
  1. রাইবোজোম
  2. নিউক্লিয়াস
  3. মাইট্রোকন্ডিয়া
  4. ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট।
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলে। এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গানু।

- রাইবোজোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। তাই একে বলা হয় প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
- নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে কোষের মস্তিষ্ক, কোষের প্রাণ বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
- কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা 'শক্তিঘর' বলা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬,৯৮০.
এক ফ্যারাডে সমান কত তড়িৎ চার্জ?
  1. 69500 C
  2. 96500 C
  3. 89500 C
  4. 98500 C
ব্যাখ্যা
ফ্যারাডে (Faraday): 
- এক মোল পরিমাণ ইলেকট্রনের চার্জকে 96500 কুলম্ব ধরা হয়। 
- মোল পরিমাণ তড়িৎ চার্জকে এক ফ্যারাডে বলা হয়। 
- ফ্যারাডের প্রতীক হলো F. 
- এক ফ্যারাডে = 96500 C তড়িৎ চার্জ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৬,৯৮১.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম?
  1. ক) প্লাটিপাস
  2. খ) লিমুলাস
  3. গ) ইকুইজিটাম
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম:
কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
যেমন - লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ।
অন্যদিকে,
- ইকুইজিটাম, নিটামপিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।

প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

সুত্র: নব জীবনের সুচনা, বিজ্ঞান, নবম-দশম।
৬,৯৮২.
সবুজ তেলের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ফেনল
  2. ক্রিসল
  3. পিরিডিন
  4. অ্যানথ্রাসিন
ব্যাখ্যা

আলকাতরার আংশিক পাতন করলে লঘু তেল, মধ্যম তেল, ভারি তেল, সবুজ তেল, পিচ ইত্যাদি পাওয়া যায়।
- লঘু তেলের প্রধান উপাদান বেনজিন, টলুইন, জাইলিন, পিরিডিন, থায়োফিন, অ্যানিলিন, ফেনল।
- মধ্যম তেলের প্রধান উপাদান হলো ফেনল, ক্রিসল, ন্যাপথালিন।
- ভারি তেলের প্রধান উপাদান হলো ক্রিসল, ন্যাপথালিন, কুইনোলিন।
- সবুজ তেলের উপাদান হলো অ্যানথ্রাসিন, ফিনানথ্রিন ইত্যাদি।
- অবশিষ্ট পিচ এর প্রধান উপাদান কোক-কার্বন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬,৯৮৩.
জেনেটিক ডিজঅর্ডার- এর ফলে মানব দেহে কোন ধরনের রোগ দেখা দেয়?
  1. ক) বর্ণান্ধতা
  2. খ) থ্যালাসেমিয়া
  3. গ) ডাউন সিনড্রোম
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ডিসওর্ডার : বংশগতির অনিয়মের কারণে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে যা উদ্বেগের বিষয়। বংশগতির এ অনিয়মকে বলা হয় জেনেটিক ডিসওর্ডার।
ইহা এক প্রকার অস্বাভাবিকতা। এর ফলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়।
যেমন- বর্ণান্ধতা, থ্যালাসেমিয়া, ডাউন সিন্ড্রোম, পাটাও সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ড সিন্ড্রোম, ক্লাইনফেল্টার ও ডাবল ওয়াই সিন্ড্রোম, ট্রিপলো-এক্স সিন্ড্রোম, টার্নার সিন্ড্রোম, হানটিংটন’স সিন্ড্রোম, সিকিল সেল (রক্তশূন্যতা) ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৮৪.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 15
  2. 18
  3. 16
  4. 31
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

ফসফরাস (P) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 
এখানে, 

- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর = 31 এবং
- ফসফরাসের প্রোটন সংখ্যা = 15 
অতএব, নিউট্রন সংখ্যা হবে = (31 - 15) = 16 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৮৫.
সিস্টোলিক চাপ বলতে কোনটি বুঝায়? 
  1. ধমনির প্রসারণের চাপ 
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ 
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ 
  4. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ উভয় চাপ 
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা। 
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- সিস্টোল (Systole) হল হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়। 
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়। 
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৯৮৬.
বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি ----
  1. ক) যুক্ত অবস্থার চাইতে কম
  2. খ) যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক
  3. গ) যুক্ত অবস্থার সমান
  4. ঘ) কোনোটিই সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি যুক্ত অবস্থায় পরমাণুর যে শক্তি থাকে তার চাইতে অধিক হয়।
৬,৯৮৭.
চোখের হ্রস্ব দৃষ্টি ত্রুটি দূর করতে ব্যবহার হয় কোনটি?
  1. উত্তল লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. দ্বি-উত্তল লেন্স
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

চোখের হ্রস্ব দৃষ্টি ত্রুটি দূর করতে অবতল লেন্স ব্যবহার হয়।

হ্রস্ব দৃষ্টি/মায়োপিয়া:
১. দূরের জিনিস ভালোভাবে দেখতে পায় না কিন্তু কাছের জিনিস দেখতে পায়।
২. এই চোখের নিকট বিন্দু ২৫ সেন্টিমিটার এরও কম হতে পারে।
৩. চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতায় বেড়ে যাওয়ার জন্য এই ত্রুটি দেখা দেয়।
৪. অভিসারী ক্ষমতা কমানোর জন্য সহায়ক লেন্স বা চশমা হিসেবে অবতল লেন্স ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৯৮৮.
বাতাসের চাপ কমলে স্ফুটনাঙ্ক- 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তীত থাকবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চাপ ও স্ফুটনাঙ্কের সম্পর্ক:
- চাপের কারণে স্ফুটনাঙ্কের পরিবর্তন হয়।
- চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়।
- এজন্য যারা পর্বতারোহণ করে অনেক উচ্চতায় যায় তাদের রান্না করতে সময় বেশি নেয়।
- বাতাসের চাপ কম বলে সেখানে পানি তুলনামূলকভাবে কম তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে, তাই তাপমাত্রা বাড়ানো যায় না, সেজন্য রান্না করতে সময় বেশি লাগে।
- একই কারণে প্রেশার কুকার তৈরি হয়েছে, এটি আসলে একটি নিশ্ছিদ্র পাত্র, তাই রান্না করার সময় বাষ্প আবদ্ধ হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং সে কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় বলে বেশি তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে।
- তাপমাত্রা বেশি বলে রান্নাও করা যায় তাড়াতাড়ি। -

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৮৯.
প্রতি 1K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি বাড়ে প্রায় - 
  1. 1.0 ms-1
  2. 0.9 ms-1
  3. 0.6 ms-1
  4. 1.2 ms-1
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 

- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 
যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220ms-1। 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৯০.
স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য মূলত কী কাজ করে? 
  1. মল নিষ্কাশনে সহায়তা করে 
  2. দেহে শক্তি ও তাপ উৎপাদন করে 
  3. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে 
  4. কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে 
ব্যাখ্যা

খাদ্য ও পুষ্টি উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে থাকে। 
শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
• স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে থাকে। 

- এছাড়া আরোও তিন ধরনের উপাদান দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
• পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরেও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো ধরনের পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত। 
• রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৯৯১.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় উপাদান কতটি?
  1. ক) ১২
  2. খ) ১৬
  3. গ) ২২
  4. ঘ) ৩৬
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে মাত্র ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এ ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
উৎসঃজীব বিজ্ঞানঃনবম-দশম শ্রেণী

৬,৯৯২.
1 বায়মন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?
  1. 0° C
  2. 50° C
  3. 100° C
  4. 75° C
ব্যাখ্যা
স্ফুটনাঙ্ক: 
- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে।
- 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রদানের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উত্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে।
- যেমন 1 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
- স্ফুটনের জন্যে তাপ দিতে হয়, ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৯৩.
On July_____, man walked on the Moon for the first time.
  1. ক) 19th
  2. খ) 20th
  3. গ) 18th
  4. ঘ) 21th
ব্যাখ্যা
মানুষ প্রথম চাঁদে পা রাখে ২০ জুলাই, ১৯৬৯ সালে।
- যুক্তরাষ্ট্র চন্দ্রবিজয়ী বিশ্বের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ।
- এপোলো-১১ নামক চন্দ্রযানে করে নীল আর্মস্ট্রং ও এডউইন অলড্রিন চাঁদে অবতরণ করেন।

উৎসঃ ব্রিটানিকা.কম
৬,৯৯৪.
আলোক রশ্মি গমন পথে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. ব্যতিচার
  2. প্রতিফলন
  3. অপবর্তন
  4. অপসরণ
ব্যাখ্যা
প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাঁধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
অর্থাৎ, আলোক রশ্মি গমন পথে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে। 
- আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
যেমন- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতির উপর এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণের উপর। 
- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়। 
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয়। কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাঁচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম। এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। 
- আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- ১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং ২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

আলোর প্রতিফলনের সূত্র: 
- আলোর প্রতিফলন দু'টি সূত্র মেনে চলে, এদের প্রতিফলনের সূত্র বলে। 
- সূত্র দু'টি হলো - 
১. আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অংকিত অভিলম্ব এবং প্রতিফলিত রশ্মি একই সমতলে থাকে। 
২. আপতন কোণ এবং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। 
অর্থাৎ, আপতন কোণ i এবং প্রতিফলন কোণ r হলে, ∠i = ∠r. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৯৫.
পটাস অ্যালামে কত অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে?
  1. ৫ অণু
  2. ১০ অণু
  3. ১৮ অণু
  4. ২৪ অণু
ব্যাখ্যা
ফিটকিরি অথবা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O]  । 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৯৬.
তাপ ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক? 
  1. উৎসের তাপমাত্রা গ্রাহকের চেয়ে কম হয়
  2. উৎসের তাপমাত্রা গ্রাহকের চেয়ে বেশি হয়
  3. সবটুকু তাপ কাজে রূপান্তরিত হয়
  4. কোনো তাপ বর্জিত হয় না
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- খ) উৎসের তাপমাত্রা গ্রাহকের চেয়ে বেশি হয়

• তাপীয় ইঞ্জিন:

- যে যন্ত্র দ্বারা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। যথা:
১. বাষ্পীয় ইঞ্জিন,
২. পেট্রোল ইঞ্জিন,
৩. ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি।
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে।
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে।
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে।
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে
- অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে। ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে।
- বাসাবাড়ির রেফ্রিজারেটর তাপীয় পাম্পের একটি উদাহরণ যা আসলে একটি তাপ ইঞ্জিনের ঠিক বিপরীত।
- তাপ ইঞ্জিনের কর্মদক্ষতা হলো ইঞ্জিন দ্বারা কৃত কার্যকর কাজ এবং উৎস থেকে শোষিত তাপশক্তির অনুপাত। এটি শতাংশে প্রকাশ করা হয় এবং নির্দেশ করে যে ইনপুট তাপের কত অংশ কাজের রূপান্তর হয়েছে।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৯৭.
কোন রশ্মি আধান নিরপেক্ষ?
  1. আলফা
  2. বিটা
  3. গামা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (β)
- গামা রশ্মি, স্বল্পতম তরঙ্গদৈর্ঘ্য এবং সর্বোচ্চ শক্তির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ।
- ফরাসি রসায়নবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী পল ভিলার্ড ১৯০০ সালে গামা রশ্মি আবিষ্কার করেন। একে γ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- গামা রশ্মি এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
- এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 

- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনায় অনেক কম।
- তবে গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 
- মানব দেহে ক্যান্সার আক্রান্ত সেল ধ্বংস করতে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে, বিজ্ঞানগারে গবেষণার কাজে ও ধাতব বস্তুতে ফাটল নির্ণয়ে গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়।
- কিন্ত মানবদেহের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর এই গামা রশ্মি।

- গামা রশ্মি একটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি।
- ভারী এবং অস্থিত তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে গামা রশ্মি নির্গত হয়।
- এটি নির্গমনের সাথে কোনো প্রোটন, নিউট্রন বা ইলেকট্রনের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি বা রূপান্তর ঘটে না।
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এই রশ্মির কোনো ভর নেই।
- আয়নিত করার ক্ষমতা সর্বনিম্ন ও ভেদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ।

তথ্যসূত্র:  পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৯৮.
পটাশিয়াম সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় কোন ফলে?
  1. পাকা কলায়
  2. পেয়ারায়
  3. জামে
  4. ডাবে
ব্যাখ্যা
পটাশিয়াম (k): 
- খেজুর, পালং শাক, গাজর, বিট, ডাবের পানি ইত্যাদি পটাশিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস। 
- পটাশিয়াম দেহে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- কোষের ভেতরে পানির চাপ, অম্ল ও ক্ষারের সমতা রক্ষা করে। 
- পেশি ও স্নায়ুর উদ্দীপনা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। 
- হৃৎপিন্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। 
- পটাশিয়ামের অভাবে দেহের পানির সমতা বিনষ্ট হয়। 
- হৃদস্পন্দন অনিয়ন্ত্রিত হয়। 
- মাংসপেশির দুর্বলতা দেখা দেয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৯৯.
সাইক্লোন সৃষ্টির জন্য কমপক্ষে কত তাপমাত্রার প্রয়োজন?
  1. ২৩° সেলসিয়াস 
  2. ২১° সেলসিয়াস 
  3. ২৪° সেলসিয়াস 
  4. ২৭° সেলসিয়াস 
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ।
- ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস কুণ্ডলি পাকানো সাপের আকার ধারণ করে বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
- এটি উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে।  

তথ্যসূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭,০০০.
নিচের কোনটি হাইড্রোকার্বন?
  1. ক) C2H4
  2. খ) C6H6
  3. গ) C4H6
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। যেমন: মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), সাইক্লোহেক্সেন (C6H12), বেনজিন (CH) ইত্যাদি৷  যৌগগুলোতে কার্বন আর হাইড্রোজেন ছাড়া আর কোনো মৌল নেই।
হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার:
(i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন ও
(ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।