বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৬৮ / ১৪০ · ৬,৭০১৬,৮০০ / ১৪,০৮০

৬,৭০১.
কোনটি পদার্থ নয়?
  1. ক) আলো
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা
- আলো কোন পদার্থ নয়, ইহা হলো এক প্রকার শক্তি। 
অপরদিকে,
- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন হলো মৌলিক পদার্থ। 
- পানি হলো যৌগিক পদার্থ। 
৬,৭০২.
নিউরনের প্রধান অংশ -
  1. এক্সন
  2. ডেনড্রন
  3. কোষদেহ
  4. সিন্যাপস
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
নিউরন দুইটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত।
যথাঃ ১) কোষদেহ ও ২) প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ নিউরনের প্রধান অংশ।

প্রলম্বিত অংশ দুই প্রকার।
যথাঃ ১)এক্সন এবং ২) ডেনড্রন

একটি স্নায়ুকোষের এক্সন অন্য একটি স্নায়ুকোষের ডেনড্রাইটের মিলিত হওয়ার স্থানকে সিন্যাপস বলে। সিন্যাপসের মাধ্যমেই স্নায়ুতাড়না এক কোষ থেকে অন্য স্নায়ুকোষে পরিবাহিত হয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

৬,৭০৩.
প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের জন্য স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিংকে কত সালে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ১৯২৮ সালে
  2. খ) ১৯৪৫ সালে
  3. গ) ১৯৪০ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯২৮ সালে স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং প্রথম পেনিসিলিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।
- ১৯৪০ সালে বিজ্ঞানী চেইন ও ফ্লোরি এবং তাঁদের সহকর্মীরা ১৯৪০ সালের শুরুতেই বিশুদ্ধ পেনিসিলিন উৎপাদনে সক্ষম হন এবং পেনিসিলিনের বানিজ্যিক উৎপাদনেও অবদান রাখেন।
- বিজ্ঞানী ফ্লেমিং, চেইন ও ফ্লোরিকে এজন্য ১৯৪৫ সালে শারীরিবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়।
সূত্র: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

৬,৭০৪.
HAARP এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) High-frequency Active Astronomical Research Program
  2. খ) High-frequency Active Astronomical Research Project
  3. গ) High-frequency Active Auroral Research Program
  4. ঘ) High-frequency Active Auroral Research Project
ব্যাখ্যা
হার্প (HAARP)
- HAARP এর পূর্ণরূপ হচ্ছে High-frequency Active Auroral Research Program.
- হার্প আয়নোস্ফিয়ার বা আয়নমন্ডলের বৈশিষ্ট্য এবং আচরণ নিয়ে গবেষণা করে।
- আয়নোস্ফিয়ার হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ মাইল থেকে ৪০০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমন্ডলীয় এলাকা।
- আয়নোস্ফিয়ারে উচ্চ কম্পাঙ্কের রেডিও তরঙ্গ পাঠানো হয় এবং এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- হার্প এর অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায়।
- এটি ইউএস এয়ার ফোর্স, নেভি, ইউনিভার্সিটি অফ আলাস্কা ফেয়ারব্যাংকস এবং ডিফেন্স এডভান্সড রিসার্চ প্রোজেক্টস এজেন্সির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলে।
- ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট স্থান পরিবর্তন করে এটিকে ইউনিভার্সিটি অফ আলাস্কা ফেয়ারব্যাংকসে নিয়ে আসা হয়।

সূত্র: https://haarp.gi.alaska.edu
৬,৭০৫.
আদর্শ খাদ্য পিরামিডে কোন খাদ্য উপাদান সবচেয়ে নিচে অবস্থান করে?
  1. আমিষ
  2. ফলমূল
  3. স্নেহ ও চর্বি
  4. শর্করা
ব্যাখ্যা
আদর্শ খাদ্য পিরামিড: 
- যেকোনো একটি সুষম খাদ্যতালিকায় শর্করা, ভিটামিন ও খনিজ, আমিষ ও স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য এবং ফাইবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। 
- একজন কিশোর বা কিশোরী, প্রাপ্তবয়স্ক একজন পুরুষ বা মহিলার সুষম খাদ্যতালিকা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- শর্করাকে নিচে রেখে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ এবং স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয়, তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। 

- চিত্রে এই পিরামিডের সবচেয়ে উপরে রয়েছে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য আর সবচেয়ে নিচে রয়েছে শর্করা। 
- মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাবার তালিকায় যেসব খাবার থাকে, তা এই চিত্রে পিরামিডের আকারে দেখানো হয়েছে। 
- পিরামিডের অংশগুলো তার আকার অনুযায়ী নিচের দিকে চওড়া এবং উপরের দিকে সরু। 
- সবচেয়ে চওড়া অংশে ভাত, আলু, রুটি এসব, এগুলো বেশি করে খেতে হবে। 
- তার পরের অংশে আছে শাকসবজি এবং ফলমূল, এসব ভাত, রুটির চেয়ে কম খেতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, পনির, ছানা, দই আরও কম পরিমাণে খেতে হবে। 
- তেল, চর্বি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার সবচেয়ে কম খাওয়া উচিত। 
- মানুষের প্রতিদিনের খাবার এই খাদ্য পিরামিড অনুযায়ী বেছে নিতে হবে, তবেই মানুষ সহজে সুষম খাদ্য নির্বাচন করতে পারবে। 
- কোনো কিছু খেতে ভালো লাগলে অনেক সময় বেশি খেয়ে নেই যা সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই সবারই পরিমিত পরিমাণ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, সেই সঙ্গে খাদ্য গ্রহণের নিয়মনীতি এবং সময় মেনে চলতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭০৬.
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে শতকরা কতভাগ 238U আইসোটোপ থাকে?
  1. 50%
  2. 99.3%
  3. 0%
  4. 69.3%
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে শতকরা 99.3 ভাগ 238U আইসোটোপ থাকে।

আইসোটোপ: 
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- বর্তমানে সর্বমোট আইসোটোপের সংখ্যা প্রায় ১৩০০। 

ইউরেনিয়াম: 
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় মৌল।
- ইউরেনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ৯২ এবং পারমাণবিক ভর ২৩৮। 
- ইউরেনিয়ামের তিনটি প্রধান আইসোটোপ হলো- 

238U আইসোটোপ: 
• প্রোটনের সংখ্যা: 92, 
• নিউট্রনের সংখ্যা: 146, 
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 99.3% এবং 
• অর্ধায়ু: 4.47 বিলিয়ন বছর। 
 
235U আইসোটোপ: 
• প্রোটনের সংখ্যা: 92, 
• নিউট্রনের সংখ্যা: 143, 
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 0.7% এবং 
• অর্ধায়ু: 703.8 মিলিয়ন বছর। 
 
234U আইসোটোপ: 
• প্রোটনের সংখ্যা: 92, 
• নিউট্রনের সংখ্যা: 142, 
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 0.0057% এবং 
• অর্ধায়ু: 245,500 বছর। 
 
- 238U প্রাকৃতিকভাবে অবস্থিতিশীল এবং অতি দীর্ঘজীবী। 
- অন্যদিকে, 235U আইসোটোপটি বিভক্ত হতে পারে এবং পারমাণবিক বিস্ফোরণের জন্য দায়ী, এটিই পারমাণবিক চুল্লী ও বোমায় ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
United States Nuclear Regolatory Commission [লিঙ্ক] এবং ব্রিটানিকা।
৬,৭০৭.
যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো __________।
  1. বেশি সক্রিয়
  2. কম সক্রিয়
  3. কিছুটা কম সক্রিয়
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭০৮.
ডিমে কোন উপাদানটি রয়েছে?
  1. ক) ভিটামিন বি ফাইভ
  2. খ) অ্যামাইনো অ্যাসিড
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
অন্য যেকোনো প্রাণিজ প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের চেয়ে ডিম দামে সস্তা।
অথচ পুষ্টিগুণের দিক থেকে অত্যন্ত উন্নতমানের প্রোটিন সরবরাহ করে আমাদের  দৈনিক চাহিদার পুরোটাই ডিম পূরণ করতে পারে। প্রোটিনের রাসায়নিক রূপ, অ্যামাইনো অ্যাসিডের প্রায় সব ক’টিই এই এক ডিমের ভেতরেই আছে।

প্রোটিন ছাড়াও অন্যান্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদানের ভালো উৎস ডিম।
এতে আছে মানবদেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ, বি ফাইভ, বি টুয়েলভ, ফসফরাস, সেলেনিয়ামসহ আরো অনেক খাদ্য উপাদান। এ জন্যই  ডিমকে আদর্শ খাদ্য বলা হয়।

ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই ও ভিটামিন কে যে গুটিকয়েক খাদ্যের মধ্যে উপস্থিত, ডিম তাদের মধ্যে অন্যতম।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, রক্তের ভালো কোলেস্টেরল এই ডিমে উপস্থিত থাকে। ডিমের উপকারী চর্বি মস্তিষ্কের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালাতে সাহায্য করে, ফ্যাট সলিউবল ভিটামিনকে মানবদেহে শোষিত হতে সাহায্য করে।
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি দুই-ই থাকায় ডিম হাড় ও দাঁতের বৃদ্ধি এবং গঠনের জন্য খুবই উপকারী।


উৎস : কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) ওয়েবসাইট
৬,৭০৯.
পরিবেশের সাথে জীব দেহের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিদ্যাকে বলে-
  1. ক) ইভোলিউশন
  2. খ) ইকোলজি
  3. গ) সাইটোলজি
  4. ঘ) আর্কিওলজি
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানের বিশেষ শাখা
- জীবের তথা জীববিজ্ঞানের কোন দিকটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা হয়ে থাকে। এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শাখার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেয়া হলো-
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাহ্যিক গঠনকে বহিঃঅঙ্গসংস্থান (External morphology) এবং অভ্যন্তরীণ গঠনকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান (Internal morphology) বলে। মানুষের দু'টি পা, দু'টি হাত, দু'টি চোখ, একটি মাথা, একটি মুখ, একটি নাক, গড়ন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা হলো বহিঃঅঙ্গসংস্থান। দেহাভ্যন্তরে হাড়, সন্ধি, পেশির বিন্যাস, বিভিন্ন তন্ত্র ইত্যাদি হলো অন্তঃঅঙ্গসংস্থান। 
২। শ্রেণিবিন্যাস (Classification): বোঝার সুবিধার জন্য এ বিশাল জীবজগৎকে বিভিন্ন দল-উপদলে ভাগ করা হয়। প্রতিটি জীব প্রজাতি পর্যায়ক্রমে একটি গণ, একটি গোত্র, একটি বর্গ এবং একটি শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হয়। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় এ নিয়ে আলোচনা করা হয় তা হলো শ্রেণিবিন্যাসতত্ত্ব বা শ্রেণিবিন্যাসবিজ্ঞান (Taxonomy)।
৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
৪। ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
৫। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
৬। বংশগতিবিদ্যা (Genetics): মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
৭। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): জীবসমূহ যে পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশ এবং সেই পরিবেশের সাথে ঐ জীবসমূহের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়
৮। বিবর্তন (Evolution): আদি কালের অনেক জীবই বর্তমান কালের জীবসমূহ থেকে অন্য রকম ছিল। কালের বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। জীবসমূহের সূচনা ও বিবর্তন নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
৯ । এথনোবায়োলজি (Ethnobiology): আদিবাসীগণ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে (বাসস্থান নির্মাণ, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ইত্যাদি) তার চারপাশে বিরাজমান জীবসমূহকে কীভাবে ব্যবহার করে সেই জ্ঞান হলো এথনোবায়োলজি। 
১০। রোগনিরূপণবিদ্যা (Pathology): উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে রোগ সৃষ্টির কারণ, রোগ সৃষ্টিকারী জীব শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।  
১১। জীবপ্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল (Biotechnology and Genetic Engineering): মানব কল্যাণের উদ্দেশ্যে জীবজ প্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার হলো জীবপ্রযুক্তি, যেমন- অণুজীব থেকে টিকা, অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ, দুধ থেকে দৈ, পনির তৈরি ইত্যাদি। জীবের DNA-তে পরিবর্তন ঘটিয়ে উত্তম কিছু করা হলো জিন প্রকৌশল, যেমন- মানুষের ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিন অণুজীবের DNA-তে প্রবেশ ঘটিয়ে মানব ইনসুলিন তৈরি করা।
১২। টিস্যু কালচার (Tissue Culture): জীবের ছোট একটি টিস্যু থেকে চাষের (আবাদের) মাধ্যমে অল্প সময়ে গবেষণাগারে ক্লোন এবং উন্নতমানের জীব উৎপাদন প্রক্রিয়া হলো টিস্যু কালচার।
- কৃষিবিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান, বনবিজ্ঞান, প্রাণরসায়ন, চিকিৎসা বিজ্ঞান ইত্যাদি জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা। বর্তমানে এগুলো জীববিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭১০.
মানবদেহে কোন খনিজ পদার্থের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ফসফরাস
  2. পটাসিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি রয়েছে। 

ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: 
- ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 

ক্যালসিয়ামের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: 
- দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 

- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭১১.
রাবার বাতাসে দীর্ঘদিন রেখে দিলে প্রধানত কোন পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়?
  1. পানি
  2. নাইট্রোজেন
  3. অ্যামোনিয়া 
  4. ওজোন
ব্যাখ্যা

রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার কর, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবকে (যেমন-এসিটোন, মিথানল) অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী, তবে আজকাল বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে। কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়, কারণ রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭১২.
ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম কী?
  1. ক) Wuchereria bancrofti
  2. খ) Plasmodium vivax
  3. গ) Escherichia coli
  4. ঘ) Clostridium tetani
ব্যাখ্যা
ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম হচ্ছে Plasmodium vivax. 

- ম্যালেরিয়া মশা বাহিত এক প্রকার সংক্রমিত রোগ যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
- এটি একটি পরাশ্রয়ী রোগ যা বিভিন্ন পরজীবী যেমন- প্লাসমডিয়াম ভাইভ্যাক্স (পি. ভাইভ্যাক্স), প্লাসমডিয়াম ফ্যালসিপেরাম (পি. ফ্যালসিপেরাম), প্লাসমডিয়াম ম্যালেরি (পি. ম্যালেরি) এবং প্লাসমডিয়াম ওভেল (পি. ওভেল) দ্বারা ঘটে থাকে।

সূত্র- World Health Organization Website [লিঙ্ক]
৬,৭১৩.
দেশের প্রথম সেচ প্রকল্প কোনটি?
  1. গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প
  2. ডিএনডি প্রকল্প
  3. তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প
  4. কর্ণফুলী বহুমুখী প্রকল্প
ব্যাখ্যা
গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প: 
- দেশের প্রথম সেচ প্রকল্প গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প। 
- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প অবস্থিত।
- দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ জি কে সেচ প্রকল্প।
- ১৯৫৪ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পদ্মা নদীর তীরে গঙ্গা কপোতাক্ষ (জি কে) নামের দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়।
- ১৯৬৯ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৭১৪.
টিউমার সংক্রান্ত চর্চাকে কি বলে?
  1. ক) ইকোলজি
  2. খ) অঙ্কোলজি
  3. গ) সাইটোলজি
  4. ঘ) টিউমারোলজি
ব্যাখ্যা
ইকোলজি - বাস্তুসংস্থান সম্পর্কিত যে চর্চা।
অঙ্কোলজি - টিউমার, ক্যান্সার সংক্রান্ত চর্চা।
সাইটোলজি - কোষবিদ্যা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬,৭১৫.
গ্যালিলিওর দ্বিতীয় সূত্র অনুসারে, পড়ন্ত বস্তুর প্রাপ্ত বেগ (v) কোনটির সাথে সমানুপাতিক? 
  1. উচ্চতার
  2. ভরের
  3. সময়ের
  4. বেগের বর্গ
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্র: 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- সূত্রগুলাে হচ্ছে- 
প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭১৬.
ডায়োট এর ব্যবহার কোনটি?
  1. AC থেকে DC তৈরি করা
  2. DC থেকে AC তৈরি করা
  3. AC সিগন্যালের পজিটিভ অংশ অপসারণ করা
  4. উপরের সবগুলো
৬,৭১৭.
পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. ক) Si
  2. খ) U
  3. গ) Ca
  4. ঘ) Mg
ব্যাখ্যা
পরমানু অস্ত্র তৈরিতে ইউরেনিয়াম (U) ব্যবহৃত হয়।
ইউরেনিয়াম (U) – প্রকৃতিতে  প্রাপ্ত সবচেয়ে বেশি ভারী মৌল, তেজস্ক্রিয় গবেষণা এবং নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় এটি।
৬,৭১৮.
জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে কোনটি?
  1. লাইসোজোম
  2. রাইবোজোম
  3. সেন্ট্রোসোম
  4. কোষ গহ্বর
ব্যাখ্যা
• লাইসোজোম:
- লাইসোজোম জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে
- দেহে অক্সিজেনের অভাব হলে বা বিভিন্ন কারণে লাইসোজোমের পর্দা ক্ষতিগ্রস্থ হলে এর আশেপাশের অঙ্গগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কোষটি মারা যায়না।

• রাইবোজোম:
- প্রাণী এবং উদ্ভিদ উভয় ধরণের কোষেই এদের পাওয়া যায়।
- রাইবোজোম প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে।

• সেন্ট্রোসোম:
- প্রাণীকোষে পাওয়া যায়।
- প্রাণীকোষের নিউক্লিয়াসের কাছে দুটি ফাঁপা নলাকার বা দণ্ডাকার অঙ্গাণু দেখা যায়, তাদের সেন্ট্রিওল বলে।

• কোষগহ্বর:
- সাইটোপ্লাজমে কোষের মধ্যে যে আপাত ফাঁকা স্থান দেখা যায়, সেগুলোই চচ্ছে কোষগহ্বর।
- কোষগহ্বর এর প্রধান কাজ কোষরস ধারণ করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৬,৭১৯.
প্রোটিন ও নিউট্রন কি দ্বারা গঠিত?
  1. বোসন
  2. কোয়ার্ক
  3. হেড্রন
  4. কোয়াসার
ব্যাখ্যা
- কোয়ার্ক পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণিকা। 
- সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত।
- আর এই প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত হয় কোয়ার্ক দিয়ে।  
- দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন এবং  দুটি ডাউন এবং একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত।
- কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। এগুলো হলো:
          - আপ (u) ও ডাউন (d), 
          - চার্ম (p) ও  স্ট্রেঞ্জ (s) এবং 
          - টপ (t) ও বটম (b)
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৭২০.
আলােক বর্ণালির কোন অংশটুকুতে সালােকসংশ্লেষণ ভালাে হয়?
  1. ক) লাল
  2. খ) নীল
  3. গ) বেগুনি
  4. ঘ) সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা

আলােক বর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালােকসংশ্লেষণ ভালাে হয়।
আলাের পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরােফিল উৎপাদন কম হয়।
ফলে সালােকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm (ন্যানােমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলােতে সালােকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালাে হয়।

৬,৭২১.
নিচের কোনটি সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে অবস্থান করলে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম?
  1. সিলভার (Ag)
  2. তামা (Cu)
  3. সোনা (Au)
  4. জিংক (Zn)
ব্যাখ্যা

- জিংক (Zn) সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে অবস্থান করলে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকা অনুসারে, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু + লঘু এসিড → লবণ + হাইড্রোজেন। 
যেমন- অধিক সক্রিয় জিংক ধাতু ও লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা লঘু সালফিউরিক এসিড বা লঘু নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
• Zn(s) + 2HCl(aq) → ZnCl2(aq) + H2(g) 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭২২.
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে প্রলয়ংকরী সাইক্লোন কোন বছর ঘটে ছিল? 
  1. ১৯৬১ সালে 
  2. ১৯৭০ সালে 
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- সাইক্লোন শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ "Kyklos" থেকে, যার অর্থ হলো Coil of Snakes বা সাপের কুণ্ডলী। 
অর্থাৎ, নিম্নচাপের কারণে যখন বাতাস প্রচণ্ড গতিবেগে ঘুরতে থাকে, তখন সেটাকে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বলে। 
- দক্ষিণ এশিয়াতে যা সাইক্লোন, আমেরিকাতে সেটা হ্যারিকেন (Hurricane) এবং দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে টাইফুন (Typhoon) নামে পরিচিত। 
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং মাঝখানে ফানেল আকৃতির উপকূলীয় এলাকা বিদ্যমান। 
- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। 
- ১৯৬০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অসংখ্য সাইক্লোন বাংলাদেশে আঘাত এনেছে যার মধ্যে ১৯৬০, ১৯৬১, ১৯৬৩, ১৯৬৫, ১৯৭০, ১৯৮৫, ১৯৯১, ২০০৭ ও ২০০৯ সালের সাইক্লোন ছিল প্রলয়ংকরী। তবে ১৯৭০ সালের সাইক্লোনটি সর্বকালের সবচেয়ে প্রলয়ংকরী সাইক্লোন হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে চিহ্নিত হয়েছে। 

সাইক্লোন সৃষ্টির কারণ ও করণীয়: 
- সাইক্লোন সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে, তাই এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সহজসাধ্য নয়। 
- তবে যে দুটি কারণ মূলত সাইক্লোন সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা হলো নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণত সাইক্লোন তৈরি হতে সাগরের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হতে হয়, দুর্ভাগ্যবশত বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এই তাপমাত্রা বিদ্যমান থাকে। 
- সমুদ্রের উত্তপ্ত পানি বাষ্পীভবনের ফলে উপরে উঠে যখন জল কণায় পরিণত হয় তখন বাষ্পীভবনের সুপ্ত তাপটি বাতাসে ছেড়ে দেয়। সে কারণে বাতাস উত্তপ্ত হয় এবং বাষ্পীভবন আরো বেড়ে যায়, ফলে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে আশপাশের বাতাস সেখানে ছুটে আসে, যা বাড়তি তাপমাত্রার কারণে ঘুরতে ঘুরতে উপরে উঠতে থাকে এবং সাইক্লোন সৃষ্টি করে। 
- এই প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের বেগ অনেক বেশি হয়। তবে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার চাইতে বেশি হলে সেটাকে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন হয়েছিল ১৯৯১ সালে, তখন বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার। 

- সাইক্লোন অত্যন্ত শক্তিশালী, একটি দুর্বল সাইক্লোনও শক্তিতে মেগাটন শক্তির কয়েক হাজার পারমাণবিক বোমার সমান। 
- তাছাড়া যেহেতু সাইক্লোন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাই এটি প্রতিরোধ করা প্রায় অসাধ্য। 
- সম্প্রতি আমেরিকাতে ঝড়ের সময় সিলভার আয়োডাইড (AgI) নামক রাসায়নিক দ্রব্য বাতাসে ছড়িয়ে পানিকে শীতল করে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ কমানোর চেষ্টা করা হলেও নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি ঠিকভাবে কাজ করেনি। 
- এছাড়া সাগরে তেল বা অন্যান্য  রাসায়নিক দ্রব্য ছিটিয়ে বাষ্পীভবন কমিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার চিন্তাভাবনা করা হয়। তবে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করা কখনোই বাস্তবভিত্তিক নয়। 
- ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস প্রক্রিয়া জোরদার করে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 
- সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ের আরেকটি মারাত্মক দিক হলো জলোচ্ছ্বাস। তাই ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় উঁচু করে মজবুত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। 
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় নিচু এলাকায় বসবাস করা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 
- জলোচ্ছ্বাস ঠেকানোর জন্য উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ তৈরি করা যেতে পারে, সাথে সাথে সেখানে প্রচুর গাছপালা লাগিয়েও ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭২৩.
বিস্ফোরক বা নিষিদ্ধ বস্তু খুঁজে বের করার জন্য কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়? 
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. মৃদু রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার: 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 

১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২. গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহার করা হয়
- এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

৩। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৪। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭২৪.
নন-রেডক্স বিক্রিয়া কোনটি?
  1. দহন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
  4. অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
রেডক্স বিক্রিয়া: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- 
১। সংযোজন বিক্রিয়া, 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং 
৪। দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি। 

নন-রেডক্স বিক্রিয়া: 
- নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ার সময় মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না। 
- এক বা একাধিক বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার সময় বিক্রিয়ক অণুতে বর্তমান মৌল সমূহের মধ্যে কোনো মৌলের পরমাণুতেই যদি ইলেকট্রন দান বা গ্রহণ না ঘটে তবে তাকে নন-রেডক্স বিক্রিয়া বলে। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ না ঘটার কারণে বিক্রিয়া শেষে কোনো বিক্রিয়ক বা উৎপাদ মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না। 
- ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না এরূপ বিক্রিয়াকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। প্রশমন বিক্রিয়া, 
২। অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭২৫.
সাধারণ বিদ্যুৎকোষে কি পাত ব্যবহার করা হয়?
  1. তামা ও রূপার পাত
  2. তামা ও দস্তার পাত
  3. দস্তা ও লোহার পাত
  4. দস্তা ও রূপার পাত
ব্যাখ্যা

সাধারণ বিদ্যুৎকোষ হিসেবে পরিচিত হচ্ছে ভোল্টার সরলকোষ। ইটালির বিজ্ঞানী আলেসান্দ্রো ভোল্টার নামানুসারে একে ভোল্টার বিদ্যুৎ কোষ বলে।
সাধারণ বিদ্যুৎ কোষে দস্তার পাত এবং তামার পাত ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ বিদ্যুৎ কোষে বিদ্যুৎ প্রবাহ অধিকক্ষণ স্থায়ী হয় না।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৬,৭২৬.
মাছ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়-
  1. ক) Herpetology
  2. খ) Ornithology
  3. গ) Ichthyology
  4. ঘ) Entomology
ব্যাখ্যা

- মাছ সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ichthyology বলে।
- পাখি সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ornithology বলে।
- উভচর ও সরীসৃপ বিষয়ক বিদ্যাকে Herpetology বলে।
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে।

উৎসঃ প্রাণিবিদ্যা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭২৭.
'অভিব্যক্তি' বলতে কী বোঝায়? 
  1. জীবের অপরিবর্তিত থাকা 
  2. ধারাবাহিক পরিবর্তন ছাড়া হঠাৎ রূপান্তর 
  3. পরিবেশের প্রভাবে অস্থায়ী পরিবর্তন 
  4. জীবের ধীর ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ ধারণ করা 
ব্যাখ্যা

বিবর্তন: 
- বিবর্তন একটি জৈবিক পদ্ধতি, এর প্রকৃত অর্থ হলো ক্রমবিকাশ।
- পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে, আবার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী সময়ের আবর্তে বিলুপ্ত হয়েছে। যেমন- ডাইনোসর আজ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে, আবার কোন কোন জীব ধীর গতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। 
- কয়েক লক্ষ বা হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া তাকে জৈব বিবর্তন বলা হয়। 

- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফেন জে. গোল্ড (১৯৯১) এর মতে 'Evolution' পরিপদটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জার্মান জীববিদ Albrecht von Haller (১৭৭৪ সালে)। 
- তিনি বলেন ধীর অথচ ক্রমাগত ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোন সত্ত্বা সরল থেকে জটিল হওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তনই বিবর্তন। 
- কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ ধীরে ধীরে ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাণী বা উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়াকে অভিব্যক্তি বলা হয়। 
- অভিব্যক্তির মূল কথা হলো প্রজাতিগুলো পরিবর্তনযোগ্য অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জীবের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭২৮.
ভালো কোলেস্টেরল বলা হয় কোনটিকে?
  1. HDL
  2. LDL
  3. Tryglyceride
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- ভালো কোলেস্টেরল বলা হয় HDL কে।

কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন উচ্চশ্রেণীর প্রানিজ কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। রক্তে তিন ধরণের লিপোপ্রোটিন দেখা যায়।

 LDL(LOW DENSITY LIPOPROTEIN):
- একে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়। কারণ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত আমাদের রক্তে 70% LDL থাকে। ব্যক্তিবিশেষে এই পরিমাপের পার্থক্য দেখা যায়।

HDL(HIGH DENSITY LIPOPROTEIN):
- একে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ট্রাইগ্লিসারাইড(Tryglyceride):
- এটি চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে। ট্রাইগ্লিসারাইড আমাদের খাদ্যের প্রানিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

৬,৭২৯.
তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয় কোনটি? 
  1. সালফিউরিক এসিড
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. ইথানয়িক এসিড
  4. কপার সালফেট 
ব্যাখ্যা

তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যেসব পদার্থ কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে না কিন্তু গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের সাথে সাথে ঐ পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায় তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নিত হয় থাকে। 
- এই আয়নের মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 
- আয়নিক যৌগ এবং কিছু পোলার সমযোজী যৌগ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 

- তড়িৎ বিশ্লেষ্য আবার দুই প্রকার। 
যথা- 
১। তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ইত্যাদি। 

২। মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয় থাকে তাদেরকে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড, ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭৩০.
কোন প্রাণী স্তন্যপায়ী হওয়া সত্ত্বেও ডিম দেয়?
  1. বাদুড়
  2. প্লাটিপাস
  3. গণ্ডার
  4. হাঙ্গর
ব্যাখ্যা
• সংযোগকারী জীব:
- জীবজগতে এমন কিছু জীবের অস্তিত্ব দেখা যায়, যাদের মধ্যে দুটি জীবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে।
- এ ধরনের জীবকে সংযোগকারী জীব বা কানেকটিং লিংক (Connecting link) বলে.
- উদাহরণ: প্লাটিপাস।
- প্লাটিপাসের মধ্যে সরীসৃপ এবং স্তন্যপায়ী উভয় ধরনের প্রাণীরই বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- প্লাটিপাস সরীসৃপের মতো ডিম পাড়ে।
- অন্যদিকে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মতো এদের বুকে রয়েছে দুগ্ধগ্রন্থি।
- এদের ডিম ফুটে শাবক জন্মালে এরা শাবককে স্তন্য পান করায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৩১.
গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা শ্বাসকার্যের জন্য অক্সিজেনের সাথে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করে? 
  1. হিলিয়াম
  2. নিয়ন
  3. ক্রিপটন
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়নের ব্যবহার: 
১। রঙ্গীন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। নিম্ন চাপে নিয়ন গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালালে গ্যাসটি জ্বলে ওঠে এবং উজ্জ্বল লাল আলো দেয়। এ আলো ঘন কুয়াশার মধ্যেও দেখা যায়। এ জন্য উড়োজাহাজকে উঁচু পর্বত থেকে সতর্ক করার জন্য গিরিচূড়ায় নিয়ন আলোর সংকেত দেখানো হয়। আবার আকাশে উড়ন্ত একটি উজোজাহাজকে দূর থেকে অন্য আর একটি উড়োজাহাজ যাতে দেখতে পায় সেজন্য উড়োজাহাজেও নিয়ন আলোর সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
২। নিয়ন গ্যাসের সাথে আর্গন এবং পারদ বাষ্প মিশিয়ে নিয়ন আলোর রং পরিবর্তন করা যায়। এজন্য বিভিন্ন রং এর বাতি এবং ফ্লোরোসেন্ট টিউবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। আজকাল বিজ্ঞাপনের কাজে এরূপ আলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
৩। টেলিভিশন সেট এবং রেডিও ফটোগ্রাফীতে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গনের ব্যবহার: 
১। বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
২। রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস ক্রিপটনের ব্যবহার: 
১। বৈদ্যুতিক আলোর টিউবে নিয়নের সাথে ক্রিপটন গ্যাস মিশ্রিত করে নীল আলো সৃষ্টি করা হয়। 
২। সিনেমাটোগ্রাফীতে অতি উজ্জ্বল আলো সৃষ্টি করার জন্য ক্রিপটন ফ্লাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। মহাজাগতিক রশ্মি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত আয়নীকরণ চেম্বার যন্ত্রে ক্রিপটন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৩২.
সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পৃথিবী গ্রহের অবস্থান কত? 
  1. তৃতীয়
  2. প্রথম 
  3. দ্বিতীয় 
  4. চতুর্থ 
ব্যাখ্যা

গ্রহ: 
- গ্রহসমূহ সাধারণত গোলাকৃতির, গ্রহগুলোতে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ রয়েছে। 
- কিন্তু গ্রহগুলো নিজেরা শক্তি উৎপাদন করে না, তাই কোনো গ্রহ নিজে আলো বা তাপ নিঃসরণ করে না। 
- পৃথিবী থেকে সূর্যের অন্যান্য গ্রহকে উজ্জ্বল দেখালেও এগুলো আসলে সূর্যের আলোতে আলোকিত। 
- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ। 
যেমন- 
বুধ: 
- বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। 
- বুধ গ্রহে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। 

শুক্র: 
- পৃথিবী থেকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা এবং ভোরবেলায় শুকতারা রূপে যে তারাটি দেখা যায়, সেটি কোনো নক্ষত্র নয়। এটি আসলে সূর্যের একটি গ্রহ, যার নাম শুক্র। 
- সূর্যের আলো এ গ্রহের উপরে পড়ে, তাই একে আলোকিত দেখা যায়। 

পৃথিবী: 
- কেবল পৃথিবীতেই জীবনের জন্য উপযোগী উপকরণ ও পরিবেশ রয়েছে। 
- পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে তৃতীয় গ্রহ। 

মঙ্গল: 
- মঙ্গলকে কখনো কখনো লাল গ্রহ বলা হয় কারণ এর পৃষ্ঠ লাল রঙের। এর পৃষ্ঠ ধূলিময় এবং খুবই পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে। 
- মঙ্গলের মাটির নিচে পানি থাকার সম্ভাবনা আছে বলে বিজ্ঞানীরা এখন মনে করেন। 

বৃহস্পতি: 
- বৃহস্পতি সূর্যের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ। 
- এটিতে শুধু গ্যাসই রয়েছে, কোনো কঠিন পৃষ্ঠ নেই। 

শনি: 
- শনি গ্রহটিও কেবল গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটিকে ঘিরে কতগুলো রিং বা আংটা রয়েছে। 

ইউরেনাস: 
- ইউরেনাস গ্যাস ও বরফ দিয়ে গঠিত। 

নেপচুন: 
- নেপচুনও অনেকটা ইউরেনাসের মতো একটি গ্রহ। 
- এছাড়া প্লুটো নামক একটি জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলা হতো। কিন্তু ২০০৬ সালে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন যে, এটি একটি ক্ষুদ্র অসম্পূর্ণ গ্রহাণু।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৬,৭৩৩.
মাংসাশী মাছ কোনটি? 
  1. Channa
  2. Catla
  3. Labeo
  4. Cirhina
ব্যাখ্যা

মাংসাশী মাছ (Carnivorous Fish):

- মাংসাশী মাছ হলো সেই সকল মাছ যারা প্রধানত অন্যান্য ছোট মাছ, পোকামাকড় বা জলজ প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে।
- এদের দাঁত ও মুখের গঠন শিকার ধরার উপযোগী হয়।
- এরা সাধারণত শিকারি স্বভাবের হয় এবং দ্রুত আক্রমণ করতে পারে।

• Channa:
- Channa সাধারণভাবে শোল বা টাকি মাছ নামে পরিচিত।
- এটি একটি সুপরিচিত মাংসাশী মাছ।
- ছোট মাছ, ব্যাঙ, পোকামাকড় ইত্যাদি খেয়ে থাকে।
- এদের শিকারি স্বভাব খুব স্পষ্ট।

• Catla:
- Catla একটি নিরামিষভোজী/অর্ধ-নিরামিষভোজী মাছ।
- এটি মূলত প্ল্যাঙ্কটন ও জলজ উদ্ভিদ খায়।
- মাংসাশী মাছ নয়।

• Labeo:
- Labeo জাতের মাছ (যেমন: রুই) সাধারণত উদ্ভিদভোজী।
- শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদ এদের প্রধান খাদ্য।
- এরা মাংসাশী নয়।

• Cirhina:
- Cirhina (মৃগেল) মাছও মূলত উদ্ভিদভোজী।
- কাদা ও জলজ উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে।
- মাংসাশী বৈশিষ্ট্য নেই।

সুতরাং, প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে একমাত্র মাংসাশী মাছ হলো Channa.
সঠিক উত্তর: ক) Channa.

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৩৪.
মস জাতীয় উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে কী থাকে? 
  1. শিকড় 
  2. রাইজয়েড 
  3. স্টোলন 
  4. রাইজোম 
ব্যাখ্যা

মস: 
- মস জাতীয় উদ্ভিদে কাণ্ড ও পাতা রয়েছে। 
- তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই। 
- মস জাতীয় উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। 
- এরা সবুজ ও স্বভোজী। 
- স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়। 
উদাহারণ- Riccia, Antheceros, Semibarbula ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং পরিবেশ শিক্ষা বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৩৫.
অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ কোনটি?
  1. মিথেন
  2. টলুইন
  3. ইথেন
  4. সাইক্লোহেক্সেন
ব্যাখ্যা

◉ টলুইন (C6H5CH3) একটি অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন, যা বেনজিন বলয়-এর সাথে একটি মিথাইল (-CH3) গ্রুপ যুক্ত থাকে।

অ্যারোমেটিক যৌগ:
- পিরিডিন অ্যারোমেটিক যৌগের উদাহরণ।
- বলয়াকার যৌগ বেনজিন, বেনজিন জাতক এবং বেনজিনের সমধর্মী যৌগসমূহকে অ্যারোমেটিক যৌগ বলে।
- অ্যারোমেটিক সকল যৌগই চাক্রিক গঠন সম্পন্ন।
- অ্যারোমেটিক চক্রে অন্ততপক্ষে তিনটি কার্বন পরমাণু উপস্থিত থাকে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছয় কার্বন বিশিষ্ট বেনজিন চক্র বিদ্যমান।
- সকল অ্যারোমেটিক যৌগ অসম্পৃক্ত।
- সাইক্লোপ্রোপিন, বেনজিন, টলুইন, ফিউরান, পিরিডিন অ্যারোমেটিক যৌগের উদাহরণ।

উল্লেখ্য, অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন (Aromatic Hydrocarbon) হলো এমন যৌগ, যার আণবিক কাঠামোতে এক বা একাধিক বেনজিন (Benzene) বলয় থাকে।
- এদের গঠন সাধারণত চক্রাকার (Cyclic) এবং ইলেকট্রন গুলোর ডেলোকালাইজেশন (Delocalization) থাকার কারণে এটি বিশেষ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
মিথেন ও ইথেন অ্যালিফ্যাটিক হাইড্রোকার্বন (Alkane),
সাইক্লোহেক্সেন একটি সাইক্লিক (Cyclic) হাইড্রোকার্বন, তবে অ্যারোমেটিক নয়, কারণ এতে ডেলোকালাইজড π-ইলেকট্রন নেই।

তথ্যসূত্র - রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৩৬.
মনেরা কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী কোনটি?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) এমিবা
  3. গ) ইস্ট
  4. ঘ) গরু
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া এবং নীলাভ সবুজ শৈবাল- এগুলো মনেরা কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।
মনেরা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য-
১. এরা একের পর এক কোষ লম্বালম্বিভাবে যুক্ত হয়ে ফিলামেন্ট গঠন করে।
২. কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
৩. এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা নেই; কিন্তু রাইবোসোম আছে।
৪. কোষ বিভাজন দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
৫. এরা সাধারণত শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭৩৭.
কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল কোনটি ?
  1. ক) সাদামাটি
  2. খ) চুনা পাথর
  3. গ) জিপসাম
  4. ঘ) বালি
ব্যাখ্যা
• কাঁচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো বালি বা সিলিকা
• কাঁচ তৈরির মূল উপকরন কোয়ার্টজ (সিলিকা), সোডা ও চুন।
• যখন এগুলির মিশ্রণকে ১২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে উত্তপ্ত করা হয়, তখন এগুলি গলতে শুরু করে এবং তৎক্ষণাৎ যদি ঠাণ্ডা করা যায় তাহলে কাঁচের জন্ম হয়।

অন্যদিকে, জিপসাম সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৬,৭৩৮.
পৃথিবীর আহ্নিক গতি বলতে কী বোঝায়?
  1. পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন
  2. চাঁদের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তন
  3. পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন
  4. সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তন
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন। এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি।
- এই গতিবেগ মেরুদ্বয়ের দিকে ক্রমশ কমে আসতে থাকে এবং ৯০° উত্তর ও ৯০° দক্ষিণ মেরুবিন্দু দ্বয়ে প্রায় স্তিমিত হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৩৯.
উদ্বায়ী পদার্থ কোনটি? 
  1. আয়রন 
  2. নিকোটিন 
  3. আয়োডিন
  4. গ্লিসারিন 
ব্যাখ্যা

পদার্থের অবস্থা: 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্দেশ করে পদার্থের সংযুক্তি অপরিবর্তিত রেখে উহার বিভিন্ন অবস্থার প্রকাশ।  
- পদার্থের ভৌত অবস্থার মধ্যে পড়ে পদার্থের ঘনত্ব, স্থায়ীত্ব, স্ফুটনাঙ্ক, দ্রাব্যতা, চৌম্বক ধর্ম ও আলোর সাথে প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি। 
- কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থা সবই কিন্তু পদার্থের ভৌত অবস্থা। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটলে পদার্থের ভৌত অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 
- কঠিন বরফকে তাপ দিলে তরল পানি, পানিকে তাপ দিলে গ্যাসীয় অবস্থা বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে জলীয় বাষ্পকে ঠাণ্ডা করলে তরল পানি, তরল পানিকে ঠাণ্ডা করলে কঠিন বরফে পরিণত হয়। 
- আবার কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল এসব কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সরাসরি কঠিন অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। আবার গ্যাসীয় অবস্থা থেকে শীতল করলে তরল অবস্থায় পরিণত হয়ে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- প্রকৃতপক্ষে কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল প্রভৃতি হলো উদ্বায়ী পদার্থ। 

অন্যদিকে, 
- আয়রন → ধাতু, উদ্বায়ী পদার্থ নয়। 
- নিকোটিন → জৈব যৌগ, উদ্বায়ী পদার্থ নয়। 
- গ্লিসারিন → তরল পদার্থ, উদ্বায়ী নয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৪০.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কী বলে?
  1. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  2. তরঙ্গ বেগ
  3. বিস্তার
  4. কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা

কম্পাঙ্ক (Frequency):
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে।
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

তরঙ্গ বেগ (Wave velocity):
- তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বা সংক্ষেপে তরঙ্গ বেগ বলে।

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (Wave length):
- একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে।

বিস্তার (Amplitude):
- তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যেকোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে।

উৎস:  পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৪১.
নিচের কোনটি পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্যে দায়ী নয়?
  1. জলীয় বাষ্প
  2. ওজোন
  3. মিথেন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- বায়ুমন্ডলে বিদ্যমান নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন ব্যতীত অন্যান্য গৌণ গ্যাসসমূহ ‘গ্রিনহাউজ গ্যাস’ নামে পরিচিত।
- এসব গ্যাস পৃথিবী থেকে বিকিরিত সূর্যের তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি করছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন প্রভৃতির কারণে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে এসব গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে যা ‘গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়া বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ নামে পরিচিত।
গ্রিনহাউজ গ্যাসসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- কার্বন ডাই-অক্সাইড
- মিথেন
- জলীয় বাষ্প
- নাইট্রাস অক্সাইড
- ওজোন
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন
- হাইড্রো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ ন্যাশনালজিওগ্রাফিক এবং মার্কিন পরিবেশ এজেন্সি)
৬,৭৪২.
কোন কোন স্থানে সলিড ফিনাইল ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) পায়খানা, প্রস্রাবখানায়
  2. খ) গোসলখানায়
  3. গ) পুকুরে
  4. ঘ) নালায়
ব্যাখ্যা
পায়খানা ও প্রস্রাবখানায় - সলিড ফিনাইল ব্যবহৃত হয় যাতে দুর্গন্ধ উৎপন্ন না হতে পারে।
৬,৭৪৩.
ব্লাড গ্রুপ-A তে কোন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি থাকে? 
  1. A অ্যান্টিজেন, অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি 
  2. B অ্যান্টিজেন, অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি 
  3. A ও B অ্যান্টিজেন, কোনো অ্যান্টিবডি নেই 
  4. কোনো অ্যান্টিজেন নেই, A ও B অ্যান্টিবডি থাকে 
ব্যাখ্যা

রক্তের গ্রুপ: 
- বিভিন্ন ব্যক্তির লোহিত রক্ত কণিকায় A এবং B নামক দুই ধরনের অ্যান্টিজেন (antigens) থাকে এবং রক্তরসে a ও b দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (antibody) থাকে।
- এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায়, একে ব্লাড গ্রুপ বলে। 
- বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 
- সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে। 
- রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে ব্লাড গ্রুপকে এভাবে বর্ণনা করা যায়। 
যেমন- 
গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে b অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। 
• গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে। 
• O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে, এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor)। 
• AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে, তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient) বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭৪৪.
পারকিনসন রোগের লক্ষণ নয় কোনটি?
  1. নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া
  2. সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা
  3. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া
  4. মাংসপেশির কার্যকারিতা হ্রাস
ব্যাখ্যা

• রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া মূলত বিপাকীয় বা হরমোনজনিত (যেমন ইনসুলিন) সমস্যা, যা পারকিনসন রোগের কোনো লক্ষণ নয়।

• পারকিনসন:
- পারকিনসন রোগটি স্নায়ুর ক্ষয়জনিত রোগ।পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়।

- এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক-যুবতীদেরও হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রোগটি তার বংশে রয়েছে বলে ধরা হয়।
- স্নায়ু কোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে, যার একটি হলো ডোপামিন।
- ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলো পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।

• পারকিনসন রোগের লক্ষণ:
- রোগীর হাত-পা কাঁপতে থাকে। ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়।
- চোখের পাতার কাঁপুনি।
- কোষ্ঠকাঠিন্য।
- খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া।
- সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা।
- কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া।
- নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৬,৭৪৫.
খাদ্যকে মুখবিবর থেকে অন্ননালিতে পৌঁছে দেয় কোনটি?
  1. ক) মুখ
  2. খ) গলবিল
  3. গ) মুখবিবর
  4. ঘ) ক্ষুদ্রান্ত্র
ব্যাখ্যা
গলবিল:
- মুখবিবরের ঠিক পেছনে প্রায় ১০ সে.মি. দীর্ঘ চওড়া অংশকে গলবিল বলে। 
- গলবিল খাদ্যকে মুখবিবর থেকে অন্ননালিতে পৌঁছে দেয়

অন্ননালি
- গলবিলের ঠিক পেছনে প্রায় ২৫ সে.মি. লম্বা নলাকার অংশই অন্ননালি যা, শ্বাসনালির পেছন ও বক্ষ গহ্বরের মধ্যে দিয়ে উদরে অবস্থিত পাকস্থলিতে শেষ হয়।
- অন্ননালির পেশির সংকোচনে খাদ্যদ্রব্য নালি পথে পাকস্থলিতে প্রবেশ করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৪৬.
ট্রপোমণ্ডলে নিচের কোনটি ঘটে? 
  1. কুয়াশা
  2. বৃষ্টিপাত
  3. তুষারপাত
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভুপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে। 
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়। 
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)। 
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 

ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। 
- উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। 
- নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে। 
- ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে। 
- যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা - ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৪৭.
MRI স্ক্যানারে চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতা পরিমাপে নিচের কোন এককটি প্রধানত ব্যবহার করা হয়?
  1. টেসলা (T)
  2. জুল (J)
  3. নিউটন (N)
  4. ওয়াট (W)
ব্যাখ্যা
MRI:
- MRI এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)।
- MRI যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয় ।
- নিউক্লীয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। এই নীতি ব্যবহার করে কোনো অণুর প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য জানা যায় ৷
- MRI একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি।
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না।
- শরীরের যে অংশের MRI স্ক্যান করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত সংকেতকে একটি কম্পিউটারের সাহায্যে পরিবর্তিত করে সেই অংশের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা হয় ।
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে।
- এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে।
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়।
- ব্রেন এবং মেরুরজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
- MRI স্ক্যানারে চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতা পরিমাপে টেসলা এককটি প্রধানত ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে, 
- কাজ ও শক্তির একক জুল (J).
- বলের একক নিউটন (N).
- ক্ষমতার একক ওয়াট (W).

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৬,৭৪৮.
Oryza sativa কোন উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম?
  1. গম
  2. ধান
  3. পাট
  4. ভুট্টা
ব্যাখ্যা
কয়েকটি জীবের দ্বিপদ নাম: 
• সাধারণ নাম ⇔ বৈজ্ঞানিক নাম: 
- পাট ⇔ Corchorus capsularis
- আম ⇔ Mangifera indica
- কাঁঠাল ⇔ Artocarpus heterophyllus
- শাপলা ⇔ Nymphaea nouchali
- ধান ⇔ Oryza sativa
- জবা ⇔ Hibiscus rosa-sinensis
- কলেরা জীবাণু ⇔ Vibrio cholerae
- ম্যালেরিয়া জীবাণু ⇔ Plasmodium vivax
- আরশোলা ⇔ Periplaneta americana
- মৌমাছি ⇔ Apis indica
- ইলিশ ⇔ Tenualosa ilisha
- দোয়েল ⇔ Copsychus saularis
- রয়েল বেঙ্গল টাইগার ⇔ Panthera tigris,
- মানুষ ⇔ Homo sapiens এবং 
- কুনো ব্যাঙ ⇔ Duttaphrynus melanostictus (Bufo melanostictus)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৪৯.
রক্তের pH মাত্রা সাধারণত গড়ে কত?
  1. ৬.৫–৬.৮
  2. ৮.৫–৯.০
  3. ৭.৩–৭.৪
  4. ৭.৮–৮.০
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৫০.
তড়িৎ কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. ঋণাত্নক পাত থেকে ধনাত্নক পাতে
  2. নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবে
  3. উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বভবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ প্রবাহ:
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে।
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ।
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়।
-অর্থাৎ ইলেকট্রন নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে প্রবাহিত হয় কিন্তু তড়িৎ প্রবাহিত হয় উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে।
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬,৭৫১.
ভাইরাস একটি -
  1. কোষহীন জীব
  2. এককোষী জীব
  3. দ্বিকোষী জীব
  4. বহুকোষী জীব
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য :
ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে।
তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে।

ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

উৎস:  জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৭৫২.
একজন কিশোরী পার্কের দোলনায় দুলছে - এটি কোন ধরনের গতির উদাহরণ?
  1. ক) রৈখিক গতি
  2. খ) পর্যাবৃত্ত গতি
  3. গ) ঘূর্ণন গতি
  4. ঘ) অর্ধবৃত্তাকার গতি
ব্যাখ্যা
দোলন গতি
- একটি সরু সুতার এক প্রান্তের সাথে একটি ছোট পাথরের টুকরো বেঁধে সুতার অন্য প্রান্ত একটি টেবিলের প্রান্তের সাথে বেঁধে ঝুলিয়ে পাথরটির এক প্রান্ত সামান্য পরিমাণ টেনে ছেড়ে দিলে পাথরটি দুলতে থাকবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর পাথরটির গতির দিক পরিবর্তিত হবে। 
- পাথরটির এ ধরনের গতি দোলন গতি। 
যেমন- ঘড়ির দোলকের গতি, দোলনার গতি ইত্যাদি দোলন গতি। 
- অর্থাৎ কোন গতিশীল বস্তু গতির অর্ধেক সময় এক দিকে এবং বাকী অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে যায় এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর তার গতি পথের কোন বিন্দুকে একই দিক দিয়ে অতিক্রম করলে যে গতি হয় তাকে দোলন গতি বলে। 

- দোলন গতি বিশেষ ধরনের পর্যাবৃত্ত গতি। 
- দোলন গতিকে স্পন্দন গতিও বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৫৩.
কোন আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির হয়?
  1. স্কোয়ামাস
  2. কলামনার
  3. কিউবয়ডাল
  4. স্ট্র্যাটিফাইড
ব্যাখ্যা
আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যু বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ হিসেবে কাজ করে। 
- তবে অঙ্গকে আবৃত রাখাই আবরণী টিস্যুর একমাত্র কাজ নয়। 
- এই টিস্যুর কাজ হলো অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা, প্রোটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা, বিভিন্ন পদার্থ শোষণ করা এবং কোষীয় স্তর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহণ করা। 
- আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তিপর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে।
- কোষের আকৃতি, প্রাণিদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে এ টিস্যু তিন ধরনের হয়।
যেমন- 
(i) স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপটা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়। 
উদাহরণ: বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর। 
- এই টিস্যু প্রধানত আবরণ ছাড়াও ছাঁকনির কাজ করে থাকে। 

(ii) কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। 
উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা। 
- এই টিস্যু প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ কাজে লিপ্ত থাকে। 

(iii) কলামনার আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষসমূহ স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা। 
উদাহরণ: প্রাণীর অস্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরের কোষগুলো প্রাধনত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণের কাজ করে থাকে। 

- প্রাণিদেহে ভিত্তিপর্দার উপর সজ্জিত কোষগুলোর সংখ্যার ভিত্তিতে এপিথেলিয়াল বা আবরণী টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- ১। সাধারণ আবরণী টিস্যু, ২। স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু এবং ৩। সিউডো-স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৫৪.
কাকে জীনতত্ত্বের জনক বলা হয়?
  1. ডারউইন
  2. ল্যামার্ক
  3. লিনিয়াস
  4. মেন্ডেল
ব্যাখ্যা
বংশগতি সম্বন্ধে মানুষের ধারণা একসময় ছিল কাল্পনিক। পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন কিভাবে মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তান সন্ততিতে সঞ্চারিত হয়।
বর্তমানে বংশগতি সম্বন্ধে আধুনিক যে তত্ত্ব প্রচলিত আছে তা মেন্ডেলের আবিষ্কার তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য মেন্ডেলকে জিনতত্ত্বের জনক বলা হয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি
৬,৭৫৫.
কোনটি আবিষ্কারের ফলে ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব এসেছে? 
  1. কম্পিউটার
  2. অসিলেটর
  3. ট্রানজিস্টর
  4. টেলিভিশন
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের ফলে ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব এসেছে। 
- ১৯৪৮ সালে বেল ল্যাবরেটরির উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন পৃথিবীর প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করতে সক্ষম হন। 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যেদিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং n-p-n ট্রানজিস্টরের যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়, যেটাকে বলা হয় অ্যামপ্লিফায়ার। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৫৬.
বৈদ্যুতিক মোটর কী রূপান্তর ঘটায়? 
  1. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে
  2. তড়িৎ শক্তিকে তাপ শক্তিতে
  3. শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে
  4. তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
⇒ মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৫৭.
দুর্ঘটনা রোধের জন্য রাস্তার বাঁকে কোন ধরনের দর্পণ ব্যবহৃত হয়?
  1. সমতল দর্পণ
  2. উত্তল দর্পণ
  3. অবতল দর্পণ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
পাহাড়ী রাস্তায় বাঁক থাকলে গাড়ীর চালক বাঁক পর্যন্ত না এলে তা দেখতে বা বুঝতে পারেন না ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। এধরনের রাস্তার বাঁকে বিশাল আকার একটি সমতল দর্পণ ৪৫ ডিগ্রি কোণ করে বসিয়ে রাখা হয় এতে দর্পণের মধ্যে উল্টো দিক থেকে আসা যানবাহন দৃষ্টি গোচর হয়। ফলে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

অনেক যায়গায় রাস্তার বাঁকে বিশাল সাইজের ধাতব উত্তল দর্পণ বসান হয়। এতে বাকের কারণে দূর থেকে থেকে আগত যেসব গাড়ি, যা বরাবর তাকিয়ে দৃষ্টি গোচর হওয়া সম্ভব নয় তা দেখা যায়। ফলে মারাত্মক সংঘর্ষ এড়ানো যায়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৫৮.
কোনটি ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়?
  1. ক) এনোফিলিস
  2. খ) কিউলেক্স
  3. গ) পুরুষ এডিস
  4. ঘ) স্ত্রী এডিস
ব্যাখ্যা
স্ত্রী এডিস   মশা ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়। 

- ডেঙ্গুজ্বর (Dengue)  প্রধানত এশিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকার একটি ভাইরাসঘটিত সংক্রামক ব্যাধি।
- ডেঙ্গু ভাইরাস Flaviviridae গোত্রভুক্ত, যার প্রায় ৭০ ধরনের ভাইরাসের মধ্যে আছে ইয়োলো ফিভার (yellow fever) ও কয়েক প্রকার এনসেফালাইটিসের ভাইরাস।
- ডেঙ্গুজ্বরের অনুরূপ একটি রোগের মহামারীর প্রথম তথ্য পাওয়া যায় ১৭৭৯ ও ১৭৮০ সালে চিকিৎসা সংক্রান্ত বইপুস্তকে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কলকাতায় প্রথম ডেঙ্গুজ্বর শনাক্ত হয়।
- ১৮৭১-৭২ সালে এ রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয়।
- মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বিশেষ করে গরম এবং বর্ষার সময়টাতেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে।
- শীতকালে এই জ্বর হয় না বললেই চলে।
- শীতে লার্ভা অবস্থায় ডেঙ্গু মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে।
- বর্ষার শুরুতেই সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত মশা বিস্তার লাভ করে।

সূত্র: WHO Website [লিঙ্ক]
৬,৭৫৯.
কোন যন্ত্রটি তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে?
  1. জেনারেটর
  2. মাইক্রোফোন
  3. বৈদ্যুতিক মোটর
  4. লাউডস্পিকার
ব্যাখ্যা

বৈদ্যুতিক মোটর (Electric Motor) তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- মোটরের কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে এটি ঘুরতে শুরু করে, যার ফলে যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন হয়।
- এই যান্ত্রিক শক্তি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়, যেমন পাখা ঘোরানো, পাম্প চালানো বা গাড়ি চালানো।

শক্তির রূপান্তর:
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৬০.
ভারী পানির রাসায়নিক নাম কী?
  1. হাইড্রক্সিড
  2. হাইড্রোজেন অক্সাইড
  3. ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
  4. ট্রিটিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা

পানি: 
- সাধারণ পানির সংকেত হলো H2O. 
- এই পানিতে উপস্থিত থাকে প্রোটিয়াম এবং অক্সিজেন। 
- ভারী পানির সংকেত হলো D2O. 
- এই ভারী পানির রাসায়নিক নাম হচ্ছে ডিউটেরিয়াম অক্সাইড। 
- ভারী পানিতে উপস্থিত থাকে ডিউটেরিয়াম এবং অক্সিজেন। 
- প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম হলো হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ। 
- সাধারণভাবে হাইড্রোজেন বলতে প্রোটিয়ামকেই বোঝায়। 

উল্লেখ্য, 
- সাধারণ পানিতে (H2O) হাইড্রোজেন আইসোটোপ প্রোটিয়াম থাকে, কিন্তু ভারী পানিতে হাইড্রোজেনের একটি ভারী আইসোটোপ, ডিউটেরিয়াম (D) থাকে, যার নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটন এবং একটি নিউট্রন উভয়ই থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৬,৭৬১.
মহাকাশে মানুষ বহনকারী প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটির নাম কি?
  1. ক) স্পুটনিক-১
  2. খ) ভস্টক-১
  3. গ) ইনটেলসেট-১
  4. ঘ) ল্যান্ডসেট-১
ব্যাখ্যা

Vostok, any of a series of manned Soviet spacecraft, the initial flight of which carried the first human being into space. Launched on April 12, 1961, Vostok 1, carrying cosmonaut Yury A. Gagarin, made a single orbit of Earth before reentry.
সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৬,৭৬২.
কোণটির স্বাধীন স্বত্তা আছে?
  1. ক) পরমাণু
  2. খ) অণু
  3. গ) দুইটিই
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে । যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠন করে । আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠন করে।

অণুর বৈশিষ্ট:
- স্বাধীন অস্তিত্ব আছে।
- বস্তুর বৈশিষ্ট বজায় রাখে। 
- সব চেয়ে ছোট অণু হাইড্রোজেন অণু। 
- খালি চোখে দেখা যায় না। 
- কোন চার্জ নাই।
৬,৭৬৩.
পারমাণবিক বোমার জনক বলা হয় কাকে?
  1. ওপেনহেইমার
  2. আলফ্রেড বার্নাড নোবেল
  3. আইনস্টাইন
  4. মাদাম কুরী
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক বোমার জনক:
- পারমাণবিক বোমা ওপেন হেইমার আবিষ্কার করেন।
- তিনি মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ।
- মার্কিন সরকারের গবেষণা প্রকল্প ম্যানহাটন প্রকল্প যা প্রথম পারমাণবিক বোমা আবিষ্কার করে।
- এই প্রকল্প বিজ্ঞানীরা প্রথম  পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় দক্ষিণ নিউ মেক্সিকোতে।

আপরদিকে,
- পিয়েরে কুরির সাথে কাজ করে, মেরি কুরি 1898 সালে পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম আবিষ্কার করেছিলেন।
- আইনস্টাইন- থিওরি অব রিলেটিভিটির প্রবক্তা।
- আলফ্রেড বার্নাড নোবেল- ডিনামাইট আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৬৪.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর কণিকার নাম কী? 
  1. প্রোটন
  2. ফোটন
  3. নিউট্রন
  4. কোয়ার্ক
ব্যাখ্যা

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়। 
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৬৫.
আইনস্টইনের ভর-শক্তির সমীকরণ কোনটি? 
  1. F = ma 
  2. E = m2c
  3. E = mc2
  4. W = mg
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সমীকরণ: 
- আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ E = mc2
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে আমরা যে শক্তি পেয়ে থাকি তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৬৬.
কোন বিজ্ঞানী তাপ গতিবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন?
  1. ক) কোপার্নিকাস
  2. খ) লর্ড কেলভিন
  3. গ) ইরাতোস্থিনিস
  4. ঘ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
১৭৯৮ সালে কাউন্ট রামফোর্ড দেখান, তাপ এক ধরনের শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর করা যায়। আরও অনেক বিজ্ঞানীর গবেষনার উপর ভিত্তি করে লর্ড কেলভিন ১৮৫০ সালে তাপ গতিবিজ্ঞানের (থার্মোডিনামিক্সের) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৬,৭৬৭.
সূর্য কী?
  1. ধূমকেতু
  2. নক্ষত্র 
  3. গ্রহ
  4. উপগ্রহ
ব্যাখ্যা

সূর্য: 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- এটি একটি জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড। 
- এটি হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭৬৮.
নিচের কোনটি বায়োমের উদাহরণ?
  1. ক) সুন্দরবন
  2. খ) তৃণভূমি
  3. গ) মেরু অঞ্চল
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর কোনো একটি বিশেষ অঞ্চলের জীবগোষ্ঠীর জীবগুলি যখন ক্রম পরিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে থেকেও সহনশীলভাবে ও শৃঙ্খলা বদ্ধভাবে বসবাস করে তখন সে জীবগোষ্ঠীকে বায়োম বলে।
অন্যভাবে বলা যায়, জলবায়ু প্রভাবিত এক একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জীব-সম্প্রদায়কে বায়োম বলে। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে একটি বায়োমের জীবগোষ্ঠী অন্য একটি বায়োমের জীবগোষ্ঠী থেকে আলাদা এবং প্রত্যেকেরই ভিন্ন ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে- সুন্দরবন অঞ্চলের আবহাওয়া ও পরিবেশ ভিন্ন ধরনের, সে কারণে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি স্বতন্ত্র বায়োম। এমনিভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ু ও মাটির প্রভাবে গড়ে উঠেছে ভিন্ন ভিন্ন বায়োম । যেমন-অরণ্য, মরুভূমি, তৃণভূমি, মেরুঅঞ্চল ইত্যাদি ।

 উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৬৯.
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত 'GPS' এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. Great Positioning System
  2. Global Positioning System
  3. Global Pointing System
  4. Global Publication System
ব্যাখ্যা
GPS: 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত GPS এর পূর্ণরূপ 'Global Positioning System'
- GPS হলো এমন একটি স্যাটেলাইটনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের অবস্থান নিঁখুতভাবে নির্ণয় করা যায়। 
- সময়ের সাথ সাথে জিপিএস প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি সাধনের কারণে এখন মোবাইলের মাধ্যমেই যেকোনো বস্তু বা ব্যক্তির অবস্থান যথাযথভাবে নির্ণয়, ট্র্যাকিং সহ আরও অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়। 
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম। 
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে। 
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। 

উৎস: Britannica.com
৬,৭৭০.
হিমোগ্লোবিনের অভাবে নিচের কোনটি দেখা যায়?
  1. ক) অ্যানিমিয়া
  2. খ) ফ্যাগোসাইটোসিস
  3. গ) লিউকোমিয়া
  4. ঘ) অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। রক্তে উপযুক্ত পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্তাল্পতা বা রক্তশূণ্যতা (Anemia) দেখা যায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৭১.
নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ কত প্রকার?
ব্যাখ্যা

• কোষকে নিউক্লিয়াস (নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি) অনুযায়ী দুটি প্রকারে ভাগ করা হয়:

• ইউক্যারিয়টিক কোষ (Eukaryotic Cell):

- নিউক্লিয়াস উপস্থিত থাকে।
- উদাহরণ: মানব কোষ, উদ্ভিদ কোষ।

• প্রোক্যারিয়টিক কোষ (Prokaryotic Cell):

- নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত, DNA সেল-এর নিউক্লিয়াস অঞ্চলের বাইরে থাকে।
- উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, আরকিয়া।

তথ্যসূত্র: NCTB জীববিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

৬,৭৭২.
নিচের কোনটি অন্তরক পদার্থ?
  1. ক্যাডমিয়াম সালফাইড
  2. কাঁচ
  3. পানি
  4. লোহা
ব্যাখ্যা

- যে সব বস্তুর মধ্য দিয়ে তড়িৎ আধান চলাচল করতে বা পরিবাহিত হতে পারে না, তাদেরকে অন্তরক বা অপরিবাহক বলা হয়।
কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতু, প্লাস্টিক, কাঠ, কাঁচ, রাবার, চীনামাটি, রেশম ইত্যাদি হলো অন্তরক পদার্থ।
- সকল ধাতু, মাটি, পানি প্রভৃতি হলো তড়িৎ পরিবাহক।
- সিলিকন, জার্মেনিয়াম, গ্যালিয়াম আর্সেনাইড, ক্যাডমিয়াম সালফাইড প্রভৃতি হলো অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
সূত্র: মাধমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৬,৭৭৩.
কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যুর প্রধান কাজ কী? 
  1. সংকোচন
  2. ছাঁকনি কাজ
  3. শোষণ ও পরিশোষণ
  4. রক্ষা ও আবরণ
ব্যাখ্যা

- কিউবয়ডাল (Cuboidal) বা ঘনক্ষেত্রাকার আবরণী টিস্যুর কোষগুলো দেখতে ঘনকের মতো এবং এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা প্রায় সমান। এই টিস্যুর প্রধান কাজগুলো হলো শোষণ ও পরিশোষণ এবং ক্ষরণ (Secretion)। 

আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যু বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ হিসেবে কাজ করে। তবে অঙ্গকে আবৃত রাখাই আবরণী টিস্যুর একমাত্র কাজ নয়। 
- এই টিস্যুর কাজ হলো অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা, প্রোটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা, বিভিন্ন পদার্থ শোষণ করা এবং কোষীয় স্তর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহণ করা। 
- আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তিপর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে।
- কোষের আকৃতি, প্রাণিদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে এ টিস্যু তিন ধরনের হয়।
যেমন- 
(১) স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপটা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়। 
উদাহরণ: বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর। 
- এই টিস্যু প্রধানত আবরণ ছাড়াও ছাঁকনির কাজ করে থাকে। 

(২) কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। 
উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা। 
- এই টিস্যু প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ কাজে লিপ্ত থাকে। 

(৩) কলামনার আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষসমূহ স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা। 
উদাহরণ: প্রাণীর অস্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরের কোষগুলো প্রাধনত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণের কাজ করে থাকে। 

- প্রাণিদেহে ভিত্তিপর্দার উপর সজ্জিত কোষগুলোর সংখ্যার ভিত্তিতে এপিথেলিয়াল বা আবরণী টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- ১। সাধারণ আবরণী টিস্যু, ২। স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু এবং ৩। সিউডো-স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭৭৪.
'Microbiology' কোন ধরণের বিদ্যা?
  1. ক) শৈবাল বিষয়ক বিদ্যা
  2. খ) অণুজীববিদ্যা
  3. গ) ভ্রূণ সম্পর্কিত বিদ্যা
  4. ঘ) বিববর্তনবিদ্যা
ব্যাখ্যা
Microbiology - অণুজীব বিষয়ক বিদ্যা
Embryology - ভ্রণ সম্পর্কিত বিদ্যা
Evolution - বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যা
Mycology - ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যা।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি
৬,৭৭৫.
ত্বকে কাঁটা পাওয়া যায় কোন পর্বের প্রাণীতে?
  1. ক) একাইনোডার্মাটা
  2. খ) মোলাস্কা
  3. গ) নেমাটোডা
  4. ঘ) পেরিফেরা
ব্যাখ্যা
একাইনোডার্মাটা শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত (গ্রিক, echino = spin, কণ্টকাবৃত এবং derma = skin,ত্বক)। এ পর্বভুক্ত প্রায় সমস্ত প্রাণীদের দেহত্বক কর্কশ, কণ্টক দ্বারা আচ্ছাদিত এবং দেহ ত্বকের নিচে অবস্থিত চূর্ণময় পাত থেকে অসংখ্য কন্টকাকার অভিক্ষেপ সৃষ্টি হয়।

- মোলাস্কা পর্বের অধিকাংশ সদস্য সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহ নরম, মাংসল, অখন্ডিত সাধারণত শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত। ফুলকা বা ফুসফুস দিয়ে শ্বসনকার্য চালায়।

- নেমাটোডা পর্বের প্রাণীদের দেহ নলাকার, উভয় প্রান্ত ক্রমাগত সরু। এরা গোলকৃমি নামে পরিচিত। দেহ গহ্বর অপ্রকৃত বা স্যুডোসিল। দেহ প্রাচীরে শুধু অনুদৈর্ঘ্য পেশীতন্তু থাকে, গোলাকার পেশী থাকে না। নেমাটোডা দ্বারা মানুষ আক্রান্ত হয়, অনেক সময় এদের দ্বারা গৃহপালিত পশু-পাখি আক্রান্ত হয়।

- পরিফেরা পর্বের অনেক সদস্য পরজীবী হিসেবে অন্য কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহে বসবাস করে।দেহ পৃষ্ঠে অষ্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্র বিদ্যমান। স্পিকিউল নামক অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণ্টক বিশেষ অথবা স্পন্জিল নামক এক প্রকার জৈবতন্তু দ্বারা দেহের কাঠামো গঠিত।

 সূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৭৬.
নিচের কোনটিকে তাপ দিলে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হবে?
  1. ক) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) নিশাদল
  3. গ) নিয়ন
  4. ঘ) নিকেল
ব্যাখ্যা
উর্ধ্বপাতন (Sublimation):
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়।
- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন, কার্বন, কার্বন ডাই অক্সাইড প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

সূত্র: রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬,৭৭৭.
সজীব রক্তের গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ২৮°–৩০° সেলসিয়াস
  2. ৩৬°–৩৮° সেলসিয়াস
  3. ৩০°–৩২° সেলসিয়াস
  4. ৪০°–৪২° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৯৮.৬° ফারেনহাইট (F) বা ৩৭° সেলসিয়াস (C) ধরা হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৬° থেকে ৩৮° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে

রক্ত: 

- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৭৮.
কোন পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে শক্তিশালী চুম্বকায়ন ঘটে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে অভিমুখী হয়?
  1. প্যারাচৌম্বক পদার্থ
  2. ফেরোচৌম্বক পদার্থ
  3. অর্ধচৌম্বক পদার্থ
  4. ডায়াচৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা

ফেরোচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে, কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না। 
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন- এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে। 

প্যারাচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। 
- কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে। 
- ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না। 

ডায়াচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। 
- এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। 
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৭৯.
নিচের কোন প্রক্রিয়াটির জন্য তাপ বর্জন বা সরিয়ে নিতে হয়?
  1. স্ফুটন
  2. ঘনীভবন
  3. বাষ্পীভবন 
  4. গলন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- খ) ঘনীভবন

• স্ফুটনাঙ্ক:

- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে।
- 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রদানের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উক্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে।
- যেমন 1 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
- স্ফুটনের জন্যে তাপ দিতে হয়, ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়

• ঘনীভবন: 
- তাপমাত্রা কমিয়ে কোনো বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থকে তার তরল অবস্থায় রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ঘনীভবন।
- কোনো বায়বীয় পদার্থের তাপ হ্রাস করে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এলে ঐ পদার্থের ঘনীভবন শুরু হয়। ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রাটি মূলত ঐ পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক।
- তাপ হ্রাস করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে অপরিবর্তিত থেকে ঘনীভবন চলতে থাকে। ঘনীভবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তরলের বা বায়বীয় পদার্থের তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে স্থির থাকে।

• গলন ও গলনাঙ্ক: 
- কোনো বস্তুর কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে গলন বলে। নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলে তরলে রূপান্তরিত হয় তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।
- এক বায়ু মন্ডলীয় চাপে বরফের গলনাংক 0°C। সমস্ত পদার্থ না গলা পর্যন্ত তাপমাত্র অপরিবর্তিত থাকে।

• বাস্পীভবন: 
- কোনো বস্তুর তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে।
- বাষ্পীভবন দু ভাবে সংঘটিত হয়। (১) স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন এবং (২) স্ফুটন।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৭৮০.
'লোহায় মরিচা পড়া' কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন
  2. ভৌত পরিবর্তন
  3. সাময়িক পরিবর্তন
  4. নিউক্লিয়ার পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
যেমন: 
লোহায় মরিচা পড়া
• দুধ থেকে দই হওয়া, 
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া, 
• উদ্ভিদ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বৃদ্ধি, 
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া ইত্যাদি। 

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। 
যেমন: 
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা, 
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া, 
• বরফ গলে পানি হওয়া, 
• তাপ দ্বারা মোম গলানো ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৮১.
গমে কিভাবে পরাগায়ন ঘটে?
  1. ক) মৌমাছির সাহায্যে
  2. খ) বাতাসের সাহায্যে
  3. গ) কীটপতঙ্গের সাহায্যে
  4. ঘ) বৃষ্টির সাহায্যে
ব্যাখ্যা

• যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। যেমনঃ
- ধান,
- গম,
- ভুট্টা,
- ইক্ষু ইত্যাদি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৭৮২.
টেকটোনিক প্লেট তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. আলফ্রেড ওয়েগেনার
  2. চার্লস ডারউইন
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. নিকোলাস কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
◉ আলফ্রেড ওয়েগেনার ১৯১২ সালে মহাদেশীয় সঞ্চালন তত্ত্ব (Continental Drift Theory) প্রস্তাব করেন, যা পরবর্তীতে টেকটোনিক প্লেট তত্ত্বের ভিত্তি তৈরি করে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠ বিশাল প্লেটে বিভক্ত, যা ধীরে ধীরে সরে যায় এবং ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি ও পাহাড় গঠনের জন্য দায়ী।

টেকটোনিক প্লেট:
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- টেকটোনিক প্লেট এর উপরে পৃথিবীর সবকিছু অবস্থান করছে।
- ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব বা কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থেকে টেকটোনিক প্লেট ধারণার জন্ম হয়।
- মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব অনুসারে কোনো একসময় সবগুলো মহাদেশ মিলে একটি মহাদেশ ছিল যাকে প্যানজিয়া বলা হয়।

- এই মতবাদ অনুসারে ভূ-ত্বক প্রধানত ৭টি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো হলো:
• ইউরেশীয় প্লেট (Eurasian Plate),
• উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate),
• দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate),
• আফ্রিকান প্লেট (African Plate),
• অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate),
• ভারত-অস্ট্রেলীয় প্লেট (Indo-Australian Plate) ও
• প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate)

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬,৭৮৩.
শস্য স্যালাইনের উপকরণ -
  1. ক) ১ লিটার পানি
  2. খ) ৫০ গ্রাম চালের গূঁড়া
  3. গ) ১ চিমটি লবণ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

সম্প্রতি শস্য স্যালাইন নামে আর একটি স্যালাইন উদ্ভাবিত হয়েছে। এক লিটার পানি, 50 গ্রাম চালের গুঁড়া, এক চিমটি লবণ মিশিয়ে বাড়িতে এ স্যালাইন তৈরি করা যায়।
স্যালাইন ব্যবহারের সময় যে বিষয়গুলাে মনে রাখা দরকার তা হলাে: পাতলা পায়খানা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রােগীকে স্যালাইন খাওয়াতে হবে, রােগীর বমি হলেও স্যালাইন খাওয়া বন্ধ করা যাবে না, শিশু রােগীকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। রােগীকে নিয়মিত অন্যান্য খাবারও খেতে হবে। ডায়রিয়া সেরে যাওয়ার পরও অন্তত এক সপ্তাহ রােগীকে বাড়তি খাবার দিতে হবে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।

৬,৭৮৪.
মস্তিষ্কের কোন অংশ দেহের ভারসাম্য ও দেহভঙ্গি বজায় রাখতে সহায়তা করে?
  1. ক) সেরেব্রাম
  2. খ) থ্যালামাস
  3. গ) হাইপোথ্যালামাস
  4. ঘ) সেরেবেলাম
ব্যাখ্যা
সেরেব্রাম (অগ্রমস্তিষ্ক)
-  সংবেদী অঙ্গ থেকে আসা অনুভূতি গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে।
- চিন্তা, বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি, উদ্ভাবনীশক্তি প্রভৃতি উন্নত মানসিক বোধের নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন সহজাত প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- বাকশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের সব ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

থ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- এটি সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর রিলে স্টেশন হিসেবে কাজ করে।
- চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা প্রভৃতি স্থূল অনুভূতির কেন্দ্র, আবেগের কেন্দ্র ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র হিসেবে কাজ কর
- মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায়।
- ঘুমন্ত মানুষকে হঠাৎ জাগিয়ে তোলা ও পরিবেশ সম্বন্ধে সতর্ক করে তোলে। 

হাইপোথ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুকেন্দ্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘাম, ঘুম, রাগ, পীড়ন, ভালোলাগা, ঘৃণা, উদ্বেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে

মেসেনসেফানল (মধ্যমস্তিষ্ক)
- অগ্র ও পশ্চাৎমস্তিষ্কের যোগসূত্র রচনা করে।
- দর্শন ও শ্রবণ তথ্যের সমন্বয় ঘটায় এবং প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।

সেরেবেলাম (পশ্চাৎমস্তিষ্ক)
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ণ করে।
- ঐচ্ছিক পেশির পেশিটান নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের ভারসাম্য ও দেহভঙ্গি বজায় রাখে।
- চলাফেরার দিক নির্ধারণ করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য়  পত্র(একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি) - গাজী আজমল ও গাজী আসমত।
৬,৭৮৫.
লেড এসিড ব্যাটারিতে অ্যানোড হিসেবে কোনটি থাকে?
  1. Pb2+
  2. PbO2
  3. Pb
  4. Pt
ব্যাখ্যা
- লেড এসিড ব্যাটারিতে অ্যানোড হিসেবে থাকে সীসা (Pb) এবং 
- ক্যাথোড হিসাবে থাকে লেড অক্সাইড (PbO2)।
- সালফিউরিক অ্যাসিড {H2SO4} ইলেক্ট্রোলাইট হিসাবে কাজ করে। 
৬,৭৮৬.
ইলেকট্রন বিন্যাস অনুসারে পর্যায় সারণিতে ব্যতিক্রম অবস্থান কোন মৌলের?
  1. Ca
  2. Na
  3. He
  4. Ar
ব্যাখ্যা

• হিলিয়ামের 1s2 ইলেকট্রন বিন্যাস থাকায় এটি গ্রুপ-২ এ থাকতে পারতো, কিন্তু রাসায়নিক স্থিতিশীলতা ও নিষ্ক্রিয় গ্যাস বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি গ্রুপ-১৮ তে স্থান পায়।
- হিলিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2.
- এটি শুধুমাত্র একটি কক্ষপথ পূর্ণ (K-শেল)।

• গ্রুপ অনুযায়ী যুক্তি:
- গ্রুপ ২: এখানে সাধারণত অ্যালকালিন আর্থ ধাতু থাকে, যাদের শেষ কক্ষপথে 1s2 থাকে।
- ইলেকট্রন বিন্যাস অনুযায়ী হিলিয়ামও 1s2 শেল আছে, তাই এটি গ্রুপ-২ তে থাকতে পারতো।
- হিলিয়াম অত্যন্ত অ-প্রতিক্রিয়াশীল।
- রাসায়নিকভাবে হিলিয়াম অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস/নোবেল গ্যাসের মতো আচরণ করে।
- কোনও যৌগ সহজে গঠন করে না, তাই এটিকে গ্রুপ-১৮ (নিষ্ক্রিয় গ্যাস) এ রাখা হয়।
- রাসায়নিক ধর্ম অনুযায়ী: গ্রুপ-১৮ এ রাখা হয়।
- আধুনিক পর্যায় সারণিতে রাসায়নিক ধর্মই প্রাধান্য পায়, তাই হিলিয়াম গ্রুপ-১৮ এ।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

৬,৭৮৭.
মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোম কতটি? 
  1. ০২টি
  2. ২২টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণকারী সেক্স-ক্রোমোজোম- ০২টি। 

ক্রোমোজোম: 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই। 
- বাকি এক জোড়া বা ২টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৮৮.
ক্রিস্টি পাওয়া যায়-
  1. ক) সাইটোপ্লাজমে
  2. খ) কোষগহ্বরে
  3. গ) নিউক্লিয়াসে
  4. ঘ) মাইটোকনড্রিয়ায়
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের দিকের স্তর ভেতরের দিকে ভাজ হয়ে থাকে যাকে ক্রিস্টি বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৬,৭৮৯.
কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?
  1. বরফ গলানো 
  2. লোহা মরিচা ধরা
  3. পানি বাষ্পীভবন
  4. কাগজ ছিঁড়া
ব্যাখ্যা

- লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও পানির সাথে বিক্রিয়া করে Iron Oxide (Fe2O3) তৈরি করে। যা মরিচা হিসেবে পরিচিত। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াটি: 4Fe + 3O2 ​→ 2Fe2​O3
- এই প্রক্রিয়ায় লোহা (Fe) থেকে লোহা অক্সাইড (Fe2O3) তৈরি হয়।
- লোহা এর অভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন।​

পরিবর্তন দুই প্রকার:
- ভৌত পরিবর্তন (Physical Change), 
- রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change)। 

• ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনে পদার্থের কেবল আকার, অবস্থা বা রূপ পরিবর্তিত হয়।
- অণুর গঠন বা রাসায়নিক ধর্ম অপরিবর্তিত থাকে। 

• রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনে পদার্থের অভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তিত হয়।
- নতুন পদার্থ তৈরি হয়, যা নতুন ধর্ম প্রদর্শণ করে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন

৬,৭৯০.
গ্যাসের ঘনত্ব কম হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. অণুগুলোর ভর অত্যন্ত বেশি
  2. অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি
  3. অণুগুলো স্থির অবস্থায় থাকে
  4. অণুগুলো ঘনভাবে সজ্জিত থাকে
ব্যাখ্যা

• গ্যাসের ঘনত্ব কম হওয়ার প্রধান কারণ হলো অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি থাকা।

• পদার্থের গ্যাসীয় ধর্ম:
- গ্যাসের অণুগুলো খুব দ্রুত ও স্বাধীনভাবে গতিশীল।
- অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুব দুর্বল।
- অণুগুলোর মধ্যে ফাঁকা স্থান বেশি থাকে।
- ফলে গ্যাসের ঘনত্ব কঠিন ও তরল অবস্থার তুলনায় অনেক কম।
- গ্যাস নির্দিষ্ট আকৃতি বা আয়তন রাখে না।
- পাত্রে রাখলে গ্যাস পাত্রের সম্পূর্ণ আয়তন দখল করে।
- গ্যাস সহজে সংকুচিত করা যায়।
- গ্যাসের আয়তন তাপমাত্রা ও চাপের উপর নির্ভরশীল।

• গ্যাসের সংকোচনীয়তা:
- অণুগুলোর মধ্যে ফাঁকা স্থান বেশি থাকায় চাপ প্রয়োগ করলে আয়তন কমে যায়।
- এই বৈশিষ্ট্যকে সংকোচনীয়তা বলা হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- অণুগুলোর ভর অত্যন্ত বেশি → গ্যাসের ঘনত্ব ভরের জন্য নয়, দূরত্বের কারণে কম।
- অণুগুলো স্থির অবস্থায় থাকে → গ্যাসে অণুগুলো সদা গতিশীল।
- অণুগুলো ঘনভাবে সজ্জিত থাকে → এটি কঠিন পদার্থের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৬,৭৯১.
সাইক্লোন গঠনের পেছনে কী দায়ী?
  1. উচ্চচাপ
  2. নিম্নচাপ
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. নিম্ন তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
• সাইক্লোন: 
- সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়। 
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৯২.
নিচের কোন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়?
  1. লিউকেমিয়া
  2. লিউকোসাইটোসিস
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. পারপুরা
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত হচ্ছে প্রাণিদেহের এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন- 

(i) পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

(ii) অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

(iii) লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

(iv)লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

(v) থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

(vi) পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- পারপুরা অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

(vii) থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৭৯৩.
মনেরা রাজ্যের জীবদের কোষ বিভাজন কোন প্রক্রিয়ায় হয়? 
  1. ক্লোনিং
  2. মাইটোসিস
  3. মিয়োসিস
  4. দ্বিবিভাজন
ব্যাখ্যা
রাজ্য ১: মনেরা (Monera): 
এই মনেরা রাজ্যের কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নে দেওয়া হলো- 
- এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস (একটির পর একটি কোষ লম্বালম্বিভাবে যুক্ত হয়ে ফিলামেন্ট গঠন করে), কলোনিয়াল। 
- কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। 
- এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে। 
- কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। 
- প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে। তবে কেউ কেউ ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। 
উদাহরণ: নীলাভ সবুজ শৈবাল, ব্যাকটেরিয়া। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।
৬,৭৯৪.
বিষাক্ত নিকোটিন দেহে কোন রোগ সৃষ্টি করে? 
  1. ক্যান্সার
  2. ওটিটিস
  3. জ্বর
  4. সাইনুসাইটিস
ব্যাখ্যা
ধুমপান: 
- ধুমপান হচ্ছে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণ প্রক্রিয়া।
- ধুমপায়ী যে অবস্থায় জলন্ত সিগারেট বা বিড়ি থেকে উদ্ভূত ধোঁয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করায় তাকে সক্রিয় ধুমপান বলে।
- অপরদিকে ধুমপানের সময় ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনৈচ্ছিকভাবে মানুষের দেহে নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাকে নিষ্ক্রিয় ধুমপান বলে।
- ধুমপানে সৃষ্ট ধোয়াতে প্রায় ৫০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তাদের মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলো হলো— নিকোটিন, টার ও কার্বন মনোঅক্সাইড।

ধুমপানের প্রভাব: 
১। সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়ায় বিদ্যমান বিষাক্ত নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে; কার্বন মনোক্সাইড শ্বাসনালীতে ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে
২। ধুমপানের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আয়তন বেড়ে যায়। 
৩। ধোয়ার প্রভাবে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে ফলে শ্বসনতল কমে গিয়ে গ্যাস বিনিময়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে এ অবস্থাকে এমফাইসিমা বলে। 
৪। কার্বন মনোক্সাইড এর বৃদ্ধি ঘটে এবং রক্তের O2 পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে। ধমনি গাত্রে কোলেস্টেরল জমতে সাহায্য করে। এতে উচ্চ রক্তচাপ হয়। 
৫। ধুমপান এর ফলে গলবিল ও অন্ননালীতে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। মুখ, গলা ও খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ধুমপায়ীদের অধুমপায়ীর চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি। 
৬। ধুমপায়ী মহিলাদের বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 
৭। ধুমপান পরিবেশ দূষণ ঘটায় এবং অধুমপায়ীদের শ্বাস গ্রহণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৯৫.
কিসের সমন্বয়ে আইসি (IC) তৈরি হয়?
  1. ক) ট্রানজিস্টর
  2. খ) ক্যাপাসিটর
  3. গ) ডায়োড
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, ডায়োড বা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। সাথে সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৬,৭৯৬.
পৃথিবী থেকে উপরে উঠলে মাধ্যাকর্ষণ বল-
  1. ক) অপরিবর্তিত থাকে
  2. খ) কমে যায়
  3. গ) বেশি হয়
  4. ঘ) প্রথমে কমে, পরে বাড়ে
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বল।
= পৃথিবী থেকে উপরে উঠলে মাধ্যাকর্ষণ বল কমে যায়। 

উৎসঃ ব্রিটানিকা, নাসা, স্পেস ওয়েবসাইট 
৬,৭৯৭.
তেজস্ক্রিয়তা সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয় কত সালে?
  1. ১৮৯৬ সালে
  2. ১৯৯৬ সালে
  3. ১৯২৬ সালে
  4. ১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত স্বীয় বিচ্ছিন্নকারী প্রক্রিয়া। ১৮৯৬ খিস্টাব্দে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হেনরী বেকরেল সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে, ইউরেনিয়াম এবং তাদের যৌগ হতে আপনা আপনি এক প্রকার রহস্যজনক কণা এবং রশ্মি নির্গত হতে থাকে। এর পরে পিয়েরে কুরী এবং তাঁর স্ত্রী মাদাম কুরী থোরিয়ামের মধ্যে একই গুণ আবিষ্কার করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬,৭৯৮.
আপেক্ষিকতার তত্ত্বের ভিত্তিতে কোনটির ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়?
  1. মহাকর্ষ
  2. নাক্ষত্রিক গতি প্রকৃতি
  3. সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিকতার নীতি (Principle of Relativity): 
- যখন কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ পরিমাপ করা হয় তখন কোনো স্থির বিন্দুকে প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- ঐ প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দূরত্বকে তার অবস্থান বলা হয় এবং প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দ্রতিকে বেগ বলা হয়।
- কিন্তু এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই স্থির নয়।
- সুতরাং পরম স্থির বলে কোনো অবস্থান পাওয়া সম্ভব নয় যাকে স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা যায়।
- তাই প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে যা পরিমাপ করা হয় তা পরম নয়।
অর্থাৎ, সব সময় অবস্থান বা বেগকে আপেক্ষিকভাবে পরিমাপ করি।
- চিরায়ত বল বিদ্যার মতে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি।
- কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটান।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ।
- উচ্চ গতিশীল (আলোর কাছাকাছি বেগে) বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধ মানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টাইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক বলা হয়। - পরমাণবিক ও নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে এই তত্ত্বের গুরত্ব অপরিসীম।
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বে বলেন প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর গাণিতিক সূত্রসমূহ সকল জড় কাঠামোতে অভিন্ন। এটাই আপেক্ষিকতার নীতি।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৭৯৯.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে কোনটি বেশি থাকে?
  1. ধনাত্মক আয়ন 
  2. ঋণাত্মক আয়ন 
  3. হোল 
  4. মুক্ত ইলেকট্রন 
ব্যাখ্যা

অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড: 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে। দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না। বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে; একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে। 

- p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়। 
- অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে। যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়। আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে। 
- p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়। এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮০০.
তরল ও বায়বীয় পদার্থে কোন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয়?
  1. ক) তাপ পরিবহণ
  2. খ) তাপ পরিচলন
  3. গ) তাপ বিকিরণ 
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

তরল ও বায়বীয় পদার্থে তাপ পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয়ে থাকে।
যে প্রণালীতে পদার্থের উত্তপ্ত অণুগুলি নিজেরাই উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে গিয়ে তাপ সঞ্চালন করে তাকে পরিচলন বলা হয়।
যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলো তাদের নিজস্ব স্থান পরিবর্তন না করে শুধু স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু তার পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশে তাপ সঞ্চালিত করে সেই পদ্ধতিকে পরিবহন বলে।
তাপ পরিবহনের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন।
যে পদ্ধতিতে তাপ কোন জড় মাধ্যমের সাহায্য ছাড়াই অথবা জড় মাধ্যম থাকলেও সেই মাধ্যমকে উত্তপ্ত না করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়, তাকে বিকিরণ বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি