বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৬৬ / ১৪০ · ৬,৫০১৬,৬০০ / ১৪,০৮০

৬,৫০১.
কোন গ্রিন হাউস গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে?
  1. নাইট্রাস অক্সাইড 
  2. ক্লোরোফ্লোরোকার্বন 
  3. মিথেন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Green house effect) বলে। 
- গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে নিম্নে গ্রিন হাউস গ্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- 
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2): 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড। জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়। বর্তমানে তরল ও কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে আইসক্রিম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে। 

২। মিথেন (CH4): 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। এছাড়াও জলাভূমিতে পানির নিচে পানা পচনের মাধ্যমে, ধানের বর্জ্য অবশিষ্টাংশের পচন থেকে মিথেন পাওয়া যায়। তাপ ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে মিথেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের চাইতে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে। 

৩। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC): 
- সিএফসি সাধারণত বিষমুক্ত, নিষ্ক্রিয় এবং ফ্লোরিন ও কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। সিএফসি হিমায়নে (ফ্রিজ, এসি) ও স্প্রে-ক্যানে (অ্যারেসোল), মাইক্রো ইলেকট্রিক সার্কিট ও প্লাস্টিক ফোমে ব্যবহৃত হয়। 

৪। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O): 
- অক্সিজেনের সাথে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ তৈরি করে। এটিও বর্ণহীন, সামান্য মিষ্টিগন্ধযুক্ত। এই গ্যাসের উৎসসমূহ হলো মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, কারখানা। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫০২.
জনন কোষ উৎপন্নের সময় কোন কোষ বিভাজন ঘটে?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মিয়ােসিস
  4. ঘ) সমীকরণিক
ব্যাখ্যা

জনন কোষ উৎপন্নের সময় মিয়ােসিস কোষ বিভাজন ঘটে।
এ ধরনের কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমােজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার। ফলে অপত্য কোষে ক্রোমােজোমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়।
এ বিভাজনে ক্রোমােজোমের সংখ্যা অর্ধেক হ্রাস পায় বলে এ ধরনের বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজনও বলা হয়।
জনন মাতৃকোষ থেকে পুং ও স্ত্রী গ্যামেট উৎপন্নের সময় এ ধরনের কোষ বিভাজন হয়।

৬,৫০৩.
শ্বেত রক্তকণিকার আয়ুষ্কাল কতদিন?
  1. ১২০দিন
  2. ৬০-৯০ দিন
  3. ১-১৫ দিন
  4. ৩০-৬০ দিন
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে তিন ধরনের রক্তকনিকা দেখা যায়।
যথা -
- লোহিত রক্তকনিকা: এর গড় আয়ু ১২০ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট: এর গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- অনুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইট: এর গড় আয়ু ৫-১০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।

উৎস: নবম দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
৬,৫০৪.
সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ ও গ্রহরাজ বলা হয়- 
  1. বুধ গ্রহকে
  2. বৃহস্পতি গ্রহকে
  3. শুক্র গ্রহকে
  4. পৃথিবী গ্রহকে
ব্যাখ্যা

বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়। বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৭৯টি। এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

৬,৫০৫.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বায়ুর চাপ অত্যন্ত কম এবং মেঘ ও জলীয় বাষ্পহীন?
  1. ক) ট্রপোস্ফেয়ার
  2. খ) স্ট্রাটোস্ফেয়ার
  3. গ) মেসোস্ফেয়ার
  4. ঘ) থার্মোস্ফেয়ার
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের মেসোস্ফেয়ার স্তরে বায়ুর চাপ অত্যন্ত কম এবং মেঘ ও জলীয় বাষ্পহীন
- বায়ুর তাপমাত্রার বিন্যাসের ভিত্তিতে বায়ুমন্ডলকে প্রধান ছয়টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
- বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ হলো:
১. ট্রপোস্ফেয়ার
২. স্ট্রাটোস্ফেয়ার
৩. মেসোস্ফেয়ার
৪. থার্মোস্ফেয়ার
৫. আয়নোস্ফেয়ার
৬. এক্সোসফেয়ার

মেসোস্ফেয়ার:
মেসো অর্থ মধ্যভাগ। মেসোস্ফেয়ার সাধারণত থার্মোস্ফেয়ার এবং স্ট্রাটোস্ফেয়ার এর মাঝ বরাবর অবস্থান করে।
- এই স্তরে বায়ুর চাপ অত্যন্ত কম এবং মেঘ ও জলীয় বাষ্পহীন।
- ফলে এখানে শ্বাসপ্রশ্বাস সম্ভব নয় এই স্তরের ওপরের অংশকে মোসোপজ বলে।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫০৬.
অধাতু কোনটি-
  1. ক) মার্কারী
  2. খ) কার্বন
  3. গ) পটাশিয়াম
  4. ঘ) কপার
ব্যাখ্যা
• ধাতু ও অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। যথা :ধাতু ও অধাতু।
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু।
- যেসব মৌলিক পদার্থ সাধারণত নরম, অ-চকচকে, স্বচ্ছ এবং ভঙ্গুর হয়, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়, তাদেরকে অধাতু বলে।
- কার্বন, সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি হচ্ছে অধাতু।
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫০৭.
আকুপাংচার হলো-
  1. ক) জাপানের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
  2. খ) গ্রীসের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
  3. গ) চীন দেশীয় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
  4. ঘ) মিসরের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
- আকুপাংচার ব্যথা ও রোগ নিরাময় করার জন্য ব্যবহৃত প্রাচীন চৈনিক চিকিৎসাপদ্ধতি
- শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সরু লম্বা সুই ফুটিয়ে চিকিৎসা করা হয়।
- বহুপুর্বে চীনা চিকিৎসাবিদ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলো আকুপাংচার।
৬,৫০৮.
নিম্নের কোনটি বৈশ্বিক উষ্ণতার সরাসরি প্রভাব নয়? 
  1. বরফ গলে যাওয়া
  2. ভূমিকম্পের হার বৃদ্ধি
  3. লবণাক্ততা বৃদ্ধি
  4. বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত অপশনে বৈশ্বিক উষ্ণতার সরাসরি প্রভাব নয়- ভূমিকম্পের হার বৃদ্ধি। 

মিঠা পানিতে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব: 

১। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি: 
- বৈশ্বিক উষ্ণতা হলো বিশ্বের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, যা বিভিন্ন কারণে দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। 
- বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পানির তাপমাত্রাও বেড়ে যাবে। 
- প্রায় ১০০ বছর আগে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা প্রায় ১০ সেলসিয়াস কম ছিল। 
- কিন্তু ১০০ বছরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা মাত্র ১০ সেলসিয়াস বেড়েছে, কারণ তাপমাত্রা অল্প একটু বেড়ে গেলেই মেরু অঞ্চলসহ নানা জায়গায় সঞ্চিত বরফ গলতে শুরু করে। এ বরফ গলা পানি শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে গিয়েই পড়ে যার ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে। 
- ফলে পৃথিবীর যে সকল দেশ নিচু, সেগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাবে, বাংলাদেশ হচ্ছে সেরকম নিচু এলাকার একটি দেশ। 

২। লবণাক্ততা: 
- সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি নদনদী, খালবিল, পুকুর, ভূগর্ভস্থ পানি আর হ্রদের পানিতে মিশে যাবে যার ফলে পানির সকল উৎসই লবণাক্ত হয়ে পড়বে। 
- পানির সকল উৎস লবণাক্ত হলে প্রথমত মিঠা পানিতে বসবাসকারী জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং এক পর্যায়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কারণ, পানির তাপমাত্রা বাড়লে যেরকম পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায়, ঠিক সেরকম লবণাক্ততা বাড়লেও দ্রবীভূত অক্সিজেন অনেক কমে যাবে, যার ফলে জলজ প্রাণীরা আর বেঁচে থাকতে পারবে না। 
- জলজ উদ্ভিদের বড় একটি অংশ লবণাক্ত পানিতে জন্মাতেও পারে না, বেড়ে উঠতেও পারে না, যে কারণে পানির জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। 

৩। বৃষ্টিপাত: 
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে পারে। এ সংক্রান্ত কম্পিউটার মডেলিং থেকে ধারণা করা যায়, কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে, আবার কোনো কোনো এলাকায়, বিশেষ করে নাতিশীতোষ্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাবে। 
- বৃষ্টিপাত কমে গেলে খরা সৃষ্টি হয়, এমনকি বিস্তীর্ণ এলাকা মরুভূমিতেও পরিণত হতে পারে। 
- বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আর ধরন পরিবর্তন হলে নদনদী, খালবিলে পানির পরিমাণ এবং প্রবাহ পরিবর্তিত হবে, যা অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। 
- কম্পিউটার মডেলিং থেকে এটাও অনুমান করা যায়, কোনো এলাকায় শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে, যা থেকে অসময়ে বন্যা হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৫০৯.
বায়ু প্রবাহের কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়? 
  1. বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে বেঁকে যায়।
  2. বায়ুপ্রবাহ দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়।
  3. উচ্চচাপের স্থান থেকে নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হয়।
  4. নিম্নচাপের স্থান থেকে উচ্চচাপের দিকে প্রবাহিত হয়।
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা - 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু এবং 
• অনিয়মিত বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫১০.
একটি বায়ুশূণ্য স্থানে একটি পালক ও একটি লোহার বল একত্রে ছেড়ে দিলে-
  1. ক) উভয় একত্রে পড়বে
  2. খ) লোহার বলটি আগে পড়বে
  3. গ) পালকটি আগে পড়বে
  4. ঘ) আদৌ পড়বে না
ব্যাখ্যা
মুক্তভাবে এবং বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে।
সুতরাং, একসাথে মাটিতে পড়বে।
৬,৫১১.
নিচের কোন তাপমাত্রায় বরফ গলতে শুরু করে? 
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ৪° সেলসিয়াস
  3. ৩৯° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৫১২.
চোখের একমাত্র আলোক সংবেদী অংশ কোনটি? 
  1. রেটিনা
  2. আইরিশ 
  3. পিউপিল 
  4. অন্ধবিন্দু 
ব্যাখ্যা

রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৬,৫১৩.
অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড কোনটি?
  1. ক) পামিটিক এসিড
  2. খ) স্টিয়ারিক এসিড
  3. গ) অক্সালিক এসিড
  4. ঘ) প্রোপানোয়িক এসিড
ব্যাখ্যা
ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন - 

সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড, 
(৩) পামিটিক এসিড। 

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড
(২) অলিয়িক এসিড, 
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৬,৫১৪.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি কোন ধরনের পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জৈব পরিবর্তন 
  2. কেবল অবস্থার পরিবর্তন 
  3. ভৌত পরিবর্তন 
  4. রাসায়নিক পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

- পরিবেশে সবসময় নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।  
- একটুকরা লোহাকে খোলা অবস্থায় বাতাসে কিছুদিন রেখে দিলে তার উপর এক প্রকার আবরণ পড়ে, এটিকে মরিচা বলে। আবার তাপদিলে বরফ গলে পানি হয় ও পানি এক সময়ে আরো তাপে বাষ্পে পরিণত হয়। 
- পরিবেশে সব সময় পদার্থের দুই প্রকারের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন- একটি হলো রাসায়নিক পরিবর্তন ও অপরটি হলো ভৌত পরিবর্তন। 

রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change): 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণু বা আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয় এবং নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- 
জ্বালানি পুড়ানোর মাধ্যমে রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- কয়লা, কাঠ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন ইত্যাদি পুড়িয়ে তাপ, আলো এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই পরিবর্তনে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O2) একত্রিত হয়ে নতুন পদার্থ CO2 সৃষ্টি করে, এবং এতে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে। 

মিথেনের দহন: 
- মিথেন (CH4) ও অক্সিজেন (O2) জ্বালালে CO2 ও পানি (H2O) সৃষ্টি হয়। এতে মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়, যা রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। 

শরীরের পুষ্টি প্রক্রিয়া: 
- দেহে খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী ও অন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা শক্তি ও পুষ্টি প্রদান করে। 

উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ: 
- উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO2 ও পানি গ্রহণ করে, এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে স্টার্চ বা সেলুলোজ উৎপন্ন করে। সালোকসংশ্লেষণ একটি রাসায়নিক পরিবর্তন, কারণ নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 

ভৌত পরিবর্তন (Physical Change): 
- ভৌত পরিবর্তনে কোনো নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না, বরং পদার্থের অবস্থা (যেমন, ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা বা চৌম্বক অবস্থা) পরিবর্তিত হয়। 
যেমন-
ইস্পাতের চুম্বকত্ব: 
- ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করলে এটি একসময় লোহাকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা পায়, তবে এতে ইস্পাতের গঠন বা উপাদানে কোনো পরিবর্তন হয় না, শুধুমাত্র তার চৌম্বক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 

লবণ দ্রবণ: 
- খাবার লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে দ্রবণ তৈরি হলে এবং পরে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে যায়, এবং শুধু লবণই অবশিষ্ট থাকে। এতে লবণের গঠন বা সংযোগে কোনো পরিবর্তন ঘটছে না, কেবল অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।

অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পরিবর্তন: 
- তাপে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হয়ে শীতল স্থানে জমা হয়, তবে এতে কোনো নতুন উপাদান তৈরি হচ্ছে না, শুধুমাত্র অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫১৫.
C3 চক্রের অপরনাম কী? 
  1. ক্যালভিন চক্র 
  2. হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র 
  3. CAM চক্র
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• ক্যালভিন চক্র:
- ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়।
- যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়।
- পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
যেমন- ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

• হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র:
- হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড। তাই একে C4 চক্রও বলা হয়।
- যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
যেমন- ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি।

• CAM পথ:
- CAM চক্র C3 ও C4 চক্র হতে ভিন্নতর।
- এটি প্রথমে ক্রাসিলুসি গোত্রের উদ্ভিদসমূহে পরিলক্ষিত হয়, তাই একে CAM চক্র বলে।
- CAM উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে।
- অধিকাংশ মরুজ উদ্ভিদ CAM জাতীয় উদ্ভিদ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫১৬.
দূরত্বের এস.আই (S.I) একক কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়? 
  1. নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো দিয়ে
  2. নির্দিষ্ট পদার্থের প্রসারণ দিয়ে
  3. আলো বাতাসশূন্য স্থানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাত্রা করা দূরত্ব দিয়ে
  4. সিজিয়াম পরমাণুর কম্পনের উপর ভিত্তি করে
ব্যাখ্যা
এস.আই (S.I) এর মৌলিক একক সমূহ: 
- মৌলিক রাশির একক সমূহ অন্য কোনো এককের উপর নির্ভর করে না, তাই মৌলিক একক ইচ্ছামত নির্বাচন করা যায়। 
- তবে নির্বাচিত এককগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকতে হবে এবং এই এককগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। 
- এটি হবে অপরিবর্তনীয় অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্র ভেদে কোন কিছুর উপর নির্ভর করবে না। কালের বিবর্তনে বা অন্য কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এর কোন পরিবর্তন হবে না। 
- ১৯৬০ সালে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর সময় মৌলিক এককগুলোর যে আদর্শ বা স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করা হয়েছিল পরবর্তীকালে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের লক্ষ্যে এদের মধ্যে অনেক এককের আদর্শ বদল করা হয়েছে কিন্তু তাতে এককগুলোর মানের কোনরূপ পরিবর্তন হয়নি। 
যেমন- ১৯০০ সালে ট্রপিক্যাল বৎসরের উপর ভিত্তি করে সময়ের একক সেকেন্ড এর সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিজিয়াম পরমাণুর পারমাণবিক পরিবৃত্তির উপর ভিত্তি করে সেকেন্ডের সংজ্ঞা প্রণয়ন করা হয়েছে। 

- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে মৌলিক এককগুলোর জন্য সর্বশেষ গৃহীত আদর্শ নিম্নে বর্ণনা করা হল- 
১। দৈর্ঘ্যের একক: মিটার 
- বায়ুশূন্য স্থানে আলো ১/২৯৯,৭৯২,৪৫৮ সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, সে দূরত্ব কে ১ মিটার (m) বলা হয়। 
২।  ভরের একক: কিলোগ্রাম 
- ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েটস এন্ড মেজারস্ এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি একটি সিলিন্ডারের ভরকে ১ কিলোগ্রাম (kg) বলে। 
- এই সিলিন্ডারটির উচ্চতা ও ব্যাস উভয়েই ৩.৯cm  । 
৩। সময়ের একক: সেকেন্ড 
- একটি সিজিয়াম পরমানুর (১৩৩Cs) ৯,১৯২,৬৩১,৭৭০ টি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময়ের প্রয়োজন হয় তাকে ১ সেকেন্ড (s) বলে। 
৪। তাপমাত্রার একক: কেলভিন 
- ১ পানির ত্রৈধ বিন্দুর (triple point) তাপমাত্রার ১/২৭৩.১৬ ভাগকে ১ কেলভিন (K) বলে। 
৫। তড়িৎ প্রবাহের একক: অ্যাম্পিয়ার 
- শূন্য মাধ্যমে ১মিটার দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষনীয় প্রস্থচ্ছেদের দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎপ্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে ২×১০-৭ N নিউটন বল উৎপন্ন হয় তাকে ১ অ্যাম্পিয়ার (ampere) বলে। 
৬। দীপন তীব্রতার একক: ক্যান্ডেলা 
- ক্যান্ডেলা হচ্ছে সেই পরিমাণ দীপন তীব্রতা যা কোনো আলোক উৎস একটি নির্দিষ্ট দিকে ৫৪০×১০১২ হার্জ কম্পাঙ্কের এক ১ বর্ণী বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিকে তার বিকিরণ তীব্রতা হচ্ছে প্রতি স্টেরোডিয়ান ঘনকোণে ১/৮৬৩ ওয়াট। 
৭। পদার্থের পরিমাণের একক: মোল 
- যে পরিমাণ পদার্থে ০.০১২ কিলোগ্রাম কার্বন-১২ এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট (যেমন পরমাণু, অণু, আয়ন, ইলেকট্রন ইত্যাদি বা এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপ) থাকে তাকে ১ মোল বলে। 



উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫১৭.
জীবসমূহের সূচনা ও বিবর্তন নিয়ে জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. Evolution
  2. Embryology
  3. Morphology
  4. Ecology
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানের বিশেষ শাখা: 
- জীবের তথা জীববিজ্ঞানের কোন দিকটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা হয়ে থাকে। 
- এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শাখার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেয়া হলো - 

অঙ্গসংস্থান (Morphology): 
- এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
- বাহ্যিক গঠনকে বহিঃঅঙ্গসংস্থান (External morphology) এবং অভ্যন্তরীণ গঠনকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান (Internal morphology) বলে। 

শারীরবিদ্যা (Physiology): 
- জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): 
- ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। 
- জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। 
- কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

বংশগতিবিদ্যা (Genetics): 
- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। 
- বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- জীবসমূহ যে পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশ এবং সেই পরিবেশের সাথে ঐ জীবসমূহের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

বিবর্তন (Evolution): 
- আদি কালের অনেক জীবই বর্তমান কালের জীবসমূহ থেকে অন্য রকম ছিল, কালের বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। 
- জীবসমূহের সূচনা ও বিবর্তন নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫১৮.
কোন প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন হিলিয়ামে রুপান্তরিত হয়?
  1. নিউক্লিয়ার ফিশন
  2. নিউক্লিয়ার ফিউশন
  3. সংযোজন বিক্রিয়া
  4. আয়নিক বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ফিউশন বিক্রিয়া: 
- দুটি নিউক্লিয়াসের সংযোগে একটি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়াকে ফিউশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- যেমন: হাইড্রোজেন → হিলিয়াম 
1H2 + 1H3 →  2He4 + বিপুল শক্তি। 
- নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া হাইড্রোজেন বোমা তৈরির ভিত্তি। 

• ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৫১৯.
নিচের কোনটি কৃত্রিম পলিমার নয়? 
  1. পলিস্ট্যারিন 
  2. স্টার্চ 
  3. পলিভিনাইল ক্লোরাইড 
  4. পলিইথিলিন 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। 
- এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫২০.
আইসোটোপ তৈরি হয় কোনটির তারতম্যের কারণে?
  1. ক) প্রোটন
  2. খ) ইলেকট্রন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) অনাবিষ্কৃত
ব্যাখ্যা

- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- সেইজন্য আইসোটোপ তৈরি হয় নিউট্রনের তারতম্যের কারণে।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৫২১.
মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কোন শিলার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি?
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. মিশ্র শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা: 
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে। 
যেমন: চুনাপাথর, বেলেপাথর, পাথুরিয়া কয়লা, সৈন্ধব লবণ, খড়িমাটি প্রভৃতি। 
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে। 
- এ শিলার পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। আর স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে এ শিলাকে স্তরীভূত শিলাও বলা হয়। 
- পাললিক শিলা ভূ-ত্বকের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ। 
- তবে মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উন্মুক্ত অংশের প্রায় ৭৫ ভাগই পাললিক শিলায় গঠিত। 
- পাললিক শিলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্তরীভূত, জীবাশ্ম বিশিষ্ট, অকেলাসিত, তরঙ্গচিহ্ন ও কোমলতা ইত্যাদি। 
- মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পাললিক শিলা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। 

- পাললিক শিলা প্রধানত তিন প্রকার। 
যথা - 
১। যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- বেলেপাথর। 
২। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- চুনাপাথর এবং 
৩। জৈবিক উপায়ে গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- বাংলাদেশের জামালগঞ্জের কয়লা ও গোপালগঞ্জের পিট কয়লা। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫২২.
রক্তে কোন কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. লোহিত কণিকা
  2. শ্বেত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
 শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC এর তুলনায় অনেক কম। 
- রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়।

এছাড়া,
অ্যানিমিয়া:
- লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।

পলিসাইথিমিয়া:
- লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।

লিউকোসাইটোসিস:
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০ - ৩০,০০০ হয়।

লিউকোমিয়া:
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকোমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫২৩.
শ্রেণিবিন্যাসের প্রতিটি একককে বলা হয় -
  1. ক) প্রজাতি
  2. খ) ট্যাক্সন
  3. গ) পর্ব
  4. ঘ) গোত্র
ব্যাখ্যা
Taxon, plural Taxa, any unit used in the science of biological classification, or taxonomy. Taxa are arranged in a hierarchy from kingdom to subspecies, a given taxon ordinarily including several taxa of lower rank.
Source: Britanica.
-------------------------

শ্রেণিবিন্যাসের প্রতিটি একককে বলা হয় - ট্যাক্সন।

বর্তমানে প্রাণি শ্রেণিবিন্যাসে সাতটি ধাপ ব্যবহার করা হয়। যথা-
1. Kingdom (রাজ্য)
2. Phylum (পর্ব)
3. Class (শ্রেণি)
4. Order (বর্গ)
5. Family (গোত্র)
6. Genus (গণ)
7. Species (প্রজাতি)

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫২৪.
স্থির তড়িৎ ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) ক্যামেরায়
  2. খ) ফটোকপি মেশিনে
  3. গ) স্প্রের সাহায্যে কোনো বস্তু রঙ করতে
  4. ঘ) সবগুলোতে
ব্যাখ্যা
স্থির তড়িৎ
- আধান যখন চলাচল করে না, বরং কন বস্তুতে আবদ্ধ থাকে, তখন তাকে স্থির তড়িৎ (Static Electricity) বলে। যেমন: বজ্রপাত। 
- কল-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোয়ার কারণে বায়ুদূষণ মুক্ত করা, ছোট বা অসম আকৃতির বস্তুকে স্প্রের সাহায্যে রঙ করা, উচ্চ বিভব সৃষ্টি করা ইত্যাদির জন্য স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়। 
- বর্তমানে যেসব মুভি ক্যামেরা এবং স্থির ক্যামেরা ব্যবহার করা হয় সেগুলোতেও স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়। 
- ফটোকপি মেশিন, লেজার প্রিন্টার, ইংকজেট প্রিন্টারে স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৫২৫.
পেরিস্কোপ তৈরিতে কোন নীতির উপর নির্ভর করা হয়?
  1. আলোর প্রতিসরণ
  2. আলোর বিচ্ছুরণ
  3. আলোর প্রতিফলন
  4. আলোর বিভাজন
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ:
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়।
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়।
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে।
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই।
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে।
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য।
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৬,৫২৬.
থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে ভাগ করেন-
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা

- থিওফ্রাস্টাস উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক।
- তিনি উদ্ভিদ কাণ্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি ও কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদসমূহকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। যথা- ট্রি বা বৃক্ষ, শ্রাব বা গুল্ম, আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম এবং হার্ব বা বীরুৎ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬,৫২৭.
মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের গাঠনিক উপাদানগুলোর মধ্যে মূলত কোনগুলোর প্রাধান্য থাকে? 
  1. অক্সিজেন ও সিলিকন
  2. অ্যালুমিনিয়াম ও ক্যালসিয়াম
  3. সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
  4. সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

ভূ-ত্বক: 
- সৃষ্টির আদি অবস্থায় পৃথিবী একটি জ্বলন্ত বাষ্পীয় অগ্নিপিণ্ড ছিল। 
- কোটি কোটি বছর যাবৎ ঘূর্ণনরত এই জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড ক্রমশ তাপ বিকিরণ করে শীতল ও সংকুচিত হতে থাকে এবং গ্যাসীয় অবস্থা থেকে তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয়। এ সময়ে পৃথিবীর গঠনকারী ভারী উপাদানসমূহ পৃথিবীর কেন্দ্রভাগে সঞ্চিত হতে থাকে। 
- অপেক্ষাকৃত হালকা উপাদানসমূহ উপরের দিকে স্তরীভূত হয়ে জমাট বাঁধতে থাকে, ক্রমশ পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বাইরের স্তর জমাট বেঁধে কঠিনাকার ধারণ করে যা ভূ-ত্বক হিসেবে পরিচিত। 

ভূ-ত্বক গঠনকারী উপাদানসমূহ: 
- পৃথিবীপৃষ্ঠের সর্বাপেক্ষা বাইরে শিলা দ্বারা গঠিত যে কঠিন বহিরাবরণ রয়েছে, তাকে ভূ-ত্বক বলা হয়। 
- ভূ-ত্বকের গড় পুরুত্ব ২০ কিলোমিটার। 
- মহাদেশের উঁচু পর্বত চূড়া হতে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত পুরুত্ব সবচেয়ে বেশি (গড় পুরুত্ব ৩৫ কিলোমিটার)। অপরদিকে সমুদ্র তলদেশে এর গড় পুরুত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। 
- মহাদেশের তলদেশের ভূ-ত্বক মহাদেশীয় ভূ-ত্বক ও মহাসাগরের তলদেশের ভূ-ত্বক মহাসাগরীয় ভূ-ত্বক নামে পরিচিত। 
- মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের গাঠনিক উপাদানগুলোর মধ্যে সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়ামের (Al) প্রাধান্য থাকায় এই স্তরকে সিয়াল স্তর (Sial) নামে অভিহিত করা হয়। 
- সিয়াল স্তরের নিচের অংশ অপেক্ষকৃত ভারী স্তরটি নাম সিমা (Sima) স্তর, এই স্তরটি সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ স্তর। 
- ভূ-ত্বক গঠনকারী উপাদানসমূহের মধ্যে মোট ১৫ টি উপাদান দ্বারা ভূ-ত্বকের শতকরা ৯৯ ভাগের অধিক অংশ গঠিত। 
- এই উপাদানসমূহের মধ্যে প্রধান ৮ টি হলো- অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। 
- এই পর্যন্ত বিজ্ঞানীগণ ভূ-ত্বক গঠনকারী মোট ১০৫ টি মৌলিক উপাদান আবিষ্কার করেছেন। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫২৮.
তরঙ্গ দ্বারা নিচের কোনটি স্থানান্তরিত হয়?
  1. ক্ষমতা
  2. শক্তি
  3. গতিবেগ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ হচ্ছে একটা মাধ্যমের ভিতর দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় শক্তি পাঠানোর প্রক্রিয়া, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলো তার নিজ অবস্থানে স্পন্দিত হতে পারে কিন্তু সেখান থেকে সম্পূর্ণ সরে যাবেনা। 
যান্ত্রিক তরঙ্গের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
তরঙ্গের ভিতর দিয়ে শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। 
শক্তি যত বেশি হয় তরঙ্গের বিস্তার তত বেশি হয়।

সূত্র - মাধ্যমিক পদার্থ বিজ্ঞান, বোর্ড বই।
৬,৫২৯.
খাদ্যের কোন উপাদানটি মূলত পঁচনের জন্য দায়ী?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) পানি
  3. গ) লিপিড
  4. ঘ) প্রোটিন
ব্যাখ্যা
- খাদ্য সংরক্ষণ বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধ ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্যকে খাদ্যগুণ ও পুষ্টিগুণ অপরিবর্তিত রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় দীর্ঘ সময় রাখার ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রান্না করা অথবা কাঁচা উভয় প্রকার খাদ্য দ্রব্যকে সংরক্ষণ করা হয়। খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রিজারভেটিভস্ ব্যবহার করা হয়। 

- খাদ্যে পানির উপস্থিতি মূলত পঁচনের জন্য দায়ী।
৬,৫৩০.
যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে চাঁদ থাকে, তখন হয়-
  1. চন্দ্রগ্রহণ
  2. সূর্যগ্রহণ
  3. অমাবশ্যা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সূর্যগ্রহণ:
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ।
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে।
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে।
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।
- সূর্যগ্রহণ হয় তিন ধরনের। 
- এই ধরনগুলো নির্ভর করে চাঁদ সূর্যকে কতটা ঢেকে ফেলছে তার ওপর।
 
চন্দ্ৰগ্ৰহণ:
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।
- চন্দ্রগ্রহণও আছে তিন রকম।
 
উৎস: ৪ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা।
৬,৫৩১.
অরীয় প্রতিসামোর উদাহরণ কোনটি?
  1. Hydra
  2. Taenia
  3. Astropecten
  4. Labeo
ব্যাখ্যা

• এই প্রশ্নটি অরীয় প্রতিসাম্য (Radial Symmetry) সম্পর্কিত।
সঠিক উত্তর: গ) Astropecten.
- Hydra এবং Astropecten উভয়ই অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে, তবে Astropecten (তারামাছ) অরীয় প্রতিসাম্যের সবচেয়ে আদর্শ ও সুস্পষ্ট উদাহরণ।

অরীয় প্রতিসাম্য হলো এমন একটি দেহ গঠন যেখানে কেন্দ্রীয় অক্ষের চারদিকে দেহ অংশগুলো সুষমভাবে বিন্যস্ত থাকে। কেন্দ্র দিয়ে যেকোনো উল্লম্ব তলে দেহকে কাটলে সমান দুটি অংশ পাওয়া যায়।

প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ:
ক) Hydra - এটি অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (Cnidaria পর্বের অন্তর্গত)
খ) Taenia - এটি দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (ফিতাকৃমি)
গ) Astropecten - এটি একটি তারামাছ (Starfish/Sea star), যা স্পষ্ট অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (Echinodermata পর্বের অন্তর্গত)
ঘ) Labeo - এটি একটি মাছ যা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে

• প্রতিসাম্য:
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে।
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. গোলীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)।

২. অরীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)।

৩. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য:
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)।

৪. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য:
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)।

৫. অপ্রতিসাম্য:
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে।
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৩২.
ডায়া চুম্বক পদার্থের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) অ্যালুমিনিয়াম
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা
পানি হচ্ছে ডায়া চুম্বক পদার্থ।

- অপরদিকে, অক্সিজেন, সোডিয়াম এবং অ্যালুমিনিয়াম হচ্ছে প্যারা চুম্বক পদার্থ। 
- যেসব চৌম্বক পদার্থ চুম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় তাদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে।  যেমন- তামা, দস্তা, এন্টিমনি ইত্যাদি। 
- ব্যবহারসমূহ- 
১. মাইক্রোফোন ও লাউডস্পিকারে ব্যবহৃত হয়। 
২. দিক নির্ণায়ক কম্পাস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

- যেসব চৌম্বক পদার্থ চুম্বক দ্বারা কম আকর্ষিত হয় বা পদার্থের উপর চুম্বকের আকর্ষণ প্রভাব দুর্বল, তাদেরকে প্যারাচৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- সোডিয়াম , অক্সিজেন, অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি।
ব্যবহারসমূহ- 
১. রাডারে ব্যবহৃত হয়। 
২. ট্রানসফর্মারে ব্যবহৃত হয়। 

সূত্র- ১৬৬ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৩৩.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয় পরমাণুর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল
  2. নিউট্রন ও প্রোটনের অনুপাত সুষম
  3. স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ নির্গত করে
  4. এর পারমাণবিক সংখ্যা সাধারণত 82 -এর বেশি
ব্যাখ্যা

• তেজস্ক্রিয় পরমাণু (Radioactive Atom):
- তেজস্ক্রিয় পরমাণু হলো এমন একটি পরমাণু যার নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল।
- এই অস্থিতিশীলতার কারণে পরমাণুটি নিজে থেকেই বিকিরণ (radiation) নির্গত করে এবং ধীরে ধীরে স্থিতিশীল নিউক্লিয়াসে রূপান্তরিত হয়।

• তেজস্ক্রিয় বিকিরণের প্রকারভেদ:
i) α-বিকিরণ (Alpha Radiation): হেলিয়াম নিউক্লিয়াস (২ প্রোটন + ২ নিউট্রন) নির্গত হয়।
ii) β-বিকিরণ (Beta Radiation): একটি নিউট্রন প্রোটনে রূপান্তরিত হয় এবং ইলেকট্রন বা পজিট্রন নির্গত হয়।
iii) γ-বিকিরণ (Gamma Radiation): উচ্চ শক্তির ফোটন নির্গত হয়, যা পদার্থের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম।

• তেজস্ক্রিয় পরমাণুর বৈশিষ্ট্য:
- নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল থাকা এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ নির্গত করা তেজস্ক্রিয়তার মূল চিহ্ন।
- ভারী মৌলগুলোর (পারমাণবিক সংখ্যা > 82) অস্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যেমন ইউরেনিয়াম (92) ও থোরিয়াম (90)।

উৎস: Encyclopaedia Britannica [link]

৬,৫৩৪.
নিচের কোনটি সিমেন্ট তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কর্পুর
  2. খ) চীনামাটি
  3. গ) চুনাপাথর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
চুনাপাথর সিমেন্ট তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

- চুনাপাথর এক ধরনের পাললিক শিলা, যা প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বনেট দ্বারা গঠিত। 
- ক্যালসিয়াম কার্বনেটে প্রধানত তিনটি উপাদান—কার্বন, অক্সিজেন ও ক্যালসিয়াম থাকে। 
- পাথর বা শিলার মধ্যে এটি একটি সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস, শামুক, ডিমের খোসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান। 
- প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ চুনাপাথর খুবই কম পাওয়া যায়।
- প্রচলিত সিমেন্টের মধ্যে পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট বহুল ব্যবহূত যা চুন ও কাদার মিশ্রণ পুড়িয়ে পাউডারের মতো চূর্ণ করে তৈরি করা হয়।

সূত্র- ৩০২ পৃষ্ঠা, রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৫৩৫.
ভূ-পৃষ্ঠের অক্ষাংশ দ্বারা কোনটি পরিমাপ করা যায়?
  1. ধ্রুবতারার অবস্থান
  2. সূর্যের অবস্থান
  3. ক ও খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ:
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে।
- প্রধানত দুইটি পদ্ধতিতে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। যথা:
১। ধ্রুবতারার অবস্থান:
- উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানে ধ্রুবতারা যত ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে সেই মানই উক্ত স্থানের অক্ষাংশ।

২। সূর্যের অবস্থান:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র ব্যবহার করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৫৩৬.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের স্পোরোফাইট কিসের ওপর নির্ভরশীল? 
  1. নিজস্ব খাদ্য সংগ্রহের উপর 
  2. গ্যামিটোফাইটের উপর 
  3. মৃতজীবী ছত্রাকের উপর 
  4. পরিবেশের আর্দ্রতার উপর 
ব্যাখ্যা

ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
- এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
- গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
- এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
- দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
- এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
- জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
- এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
- জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
- এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৩৭.
এক স্থানে প্রতিদিন কতবার জোয়ার ও ভাটা সংঘটিত হয়?
  1. ক) ২ বার
  2. খ) ৩ বার
  3. গ) ৬ বার
  4. ঘ) ৫ বার
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা
• সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক স্থানে ফুলে ওঠে এবং এক স্থানে নেমে যায়। পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
• এক স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।
• জোয়ার ভাটার মধ্যকার ব্যবধান প্রায় ১২ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।
• জোয়ার—ভাটার স্থিতিকাল ৬ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
• সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলো স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাটা অধিক হয়। সাধারণত সমুদ্রের মধ্যভাগ অপেক্ষা উপকূলের কাছে অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা অধিক থাকে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৩৮.
পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা কোনটি?
  1. ক) ২৭০.২৬ কেলভিন
  2. খ) ২৭২.১৬ কেলভিন
  3. গ) ২৭৩.১৬ কেলভিন
  4. ঘ) ২৭৩.০০ কেলভিন
ব্যাখ্যা
- ৪.৫ মি.মি পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে। 
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা ২৭৩.১৬ কেলভিন। 
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে:- 
- পরম শূন্য তাপমাত্রা ০ কেলভিন,
- বরফ বিন্দু ২৭৩.১৫ কেলভিন এবং
-  স্টিম বিন্দু ৩৭৩.১৫ কেলভিন ধরা হয়।
-তাপমাত্রা পরিমাপের কেলভিন স্কেলে বরফ বিন্দুকে ২৭৩.১৫ কেলভিন এবং স্টিম বিন্দুকে ৩৭৩.১৫ কেলভিন ধরে মৌলিক ব্যবধানকে ১০০ ভাগে ভাগ করা হয়। এক একটি ভাগকে এক কেলভিন (১ কেলভিন) বলা হয়।  

উৎস- এইচ.এস. সি পদার্থ বিজ্ঞান- ২য় পত্র (বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
৬,৫৩৯.
নিচের কোন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. পানি
  2. বাতাস
  3. লোহা
  4. কাঠ
ব্যাখ্যা

• 'লোহা'র মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 

• শব্দের বেগ: 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়। 
- তরল  পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়। 
- বায়োবীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উল্লেখ্য:
- কাঠ: কাঠ একটি কঠিন পদার্থ হলেও এটি লোহার মতো সুসংহত বা স্থিতিস্থাপক নয়, তাই এতে শব্দের বেগ লোহার চেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৫৪০.
দুইটি আধানের মধ্যবর্তী আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে- 
  1. আধান দুইটির পরিমাণের উপর
  2. আধান দুইটির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর
  3. আধান দুইটি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বল: 
- একটি আহিত স্থির বস্তুর নিকট অন্য একটি আহিত বস্তু আনলে বস্তু দু'টির মধ্যে একটি বল কাজ করবে। 
- আহিত বস্তু দু'টি যদি সমধর্মী আধান অর্থাৎ দু'টি বস্তুই ধনাত্মক বা দু'টি বস্তুই ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে বিকর্ষণ বল কাজ করবে। 
আবার, আহিত বস্তু দু'টি বিপরীতধর্মী অর্থাৎ একটি বস্তু ধনাত্মক আধানে এবং অপর বস্তু ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে আকর্ষণ বল কাজ করবে, আর এ বিকর্ষণ বা আকর্ষণ বলকে তড়িৎ বল বলে। 
- দু'টি আধানের মধ্যবর্তী এ আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে - 
১. আধান দু'টির পরিমাণের উপর
২. আধান দু'টির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর এবং 
৩. আধান দু'টি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৪১.
নিচের কোন পদার্থ প্রকৃতিতে কঠিন, তরল ও বায়বীয় তিন অবস্থাতেই পাওয়া যায়?
  1. ক) পারদ
  2. খ) লবণ
  3. গ) পানি
  4. ঘ) কর্পূর
ব্যাখ্যা
- সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সৌরশক্তি।
- সূর্য সকল শক্তির উৎস।
- পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকেই আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে সূর্যের শক্তির উৎস পারমাণবিক শক্তি, কারণ সূর্যে ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- এ শক্তি পৃথিবীতে বিকিরিত হয়।
- সৌরশক্তির সকল উৎস ফিউশন বিক্রিয়া

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৪২.
নিচের কোনটি ঋনাত্মক আধানযুক্ত?
  1. ক) বিটা রশ্মি
  2. খ) আলফা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় বিকিরণ
- একটি সরু ছিদ্রযুক্ত লেড বা সীসার পাত্রে রেডিয়াম রেখে দিলে তা থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় রশ্মি ছিদ্র দিয়ে সরলরেখায় বের হয়।
- এ রশ্মিকে চৌম্বক বা বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত করলে তা তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এদেরকে যথাক্রমে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি বলা হয়।
- এদের মধ্যে আলফা রশ্মি ধনাত্মক চার্জযুক্ত, বিটা রশ্মি ঋনাত্মক চার্জযুক্ত এবং গামা রশ্মি হচ্ছে চার্জবিহীন বা চার্জনিরপেক্ষ।

বিটা রশ্মি বা বিটা কণা
প্রকৃতি: বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে বা চৌম্বক ক্ষেত্রে এদের বেঁকে যাওয়ার দিক থেকে বুঝা যায় যে, এরা ঋনাত্মক আধানযুক্ত। প্রমাণিত হয়েছে যে, এরা প্রকৃতপক্ষে তীব্র গতিসম্পন্ন ইলেকট্রন।
বেগ: এদের গতিবেগ সেকেন্ডে এক হাজার হতে দেড় লক্ষ মাইল পর্যন্ত হতে পারে। 
বায়ুর আয়নিকরণ: বিটা কণা কোন বায়ুর মধ্য দিয়ে চলার সময় এর অণুগুলোর সাথে সংঘর্ষের মাধ্যমে অণুসমূহকে আয়নিত করে। 
ছেদন ক্ষমতা: বিটা রশ্মির ছেদন ক্ষমতা α-কণার চেয়ে 1000 গুণ বেশি। এর আয়নীকরণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৬,৫৪৩.
ডায়ালাইসিস কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. যকৃত
  2. বৃক্ক
  3. হৃদপিণ্ড
  4. স্নায়ু
ব্যাখ্যা

• বৃক্ক: 
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পেছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবীজের মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাস বা হাইলাম বলে। হাইলামের ভিতর থেকে ইউরেটার এবং রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনি বৃক্কে প্রবেশ করে। দুটি বৃক্ক থেকে দুটি ইউরেটার বের হয়ে মূত্রাশয়ে প্রবেশ করে। ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে রেনাল পেলভিস বলে।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তনুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- ক্যাপসুল-সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স এবং ভেতরের অংশকে মেডুলা বলে। উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত। - মেডুলায় সাধারণত ৮-১২ টি রেনাল পিরামিড থাকে। এদের অগ্রভাগকে রেনাল প্যাপিলা বলে। এসব প্যাপিলা সরাসরি পেলভিসে উন্মুক্ত হয়।
- প্রতিটি বৃক্কে বিশেষ এক ধরনের নালিকা থাকে, যাকে ইউরিনিফেরাস নালিকা বলে। প্রতিটি ইউরিনিফেরাস নালিকা নেফ্রন এবং সংগ্রাহক বা সংগ্রাহী নালিকা (Collecting tubule)-এই দু'টি প্রধান অংশে বিভক্ত। নেফ্রন মূত্র তৈরি করে আর সংগ্রাহী নালিকা রেনাল পেলভিসে মূত্র বহন করে।
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক হলো নেফ্রন। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ নেফ্রন থাকে।

• বৃক্ক বিকল:
- নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর ইত্যাদি কারণে কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যায়। আকস্মিক কিডনি অকেজো বা বিকল হওয়ার কারণগুলো হলো কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।
- কিডনি বিকল হলে মূত্রের পরিমাণ কমে যাবে। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পাবে। তখন রক্তের বর্জ্য দ্রব্যাদি অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর রোগীকে ডায়ালাইসিস করা হয়।

• ডায়ালাইসিস:
- বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধন করার নাম ডায়ালাইসিস।
- সাধারণত 'ডায়ালাইসিস মেশিনের' সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। এ মেশিনের ডায়ালাইসিস টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে এবং অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভেতর পুনরায় প্রবেশ করে।
- ডায়ালাইসিস টিউবটি এমন একটি তরলের মধ্যে ডুবানো থাকে, যার গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ) বাইরে নিষ্কাশিত হয়। তবে এটি একটি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

• প্রতিস্থাপন:
- যখন কোনো ব্যক্তির কিডনি বিকল বা অকেজো হয়ে পড়ে তখন কোনো সুস্থ ব্যক্তির কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। এই প্রক্রিয়াকে কিডনি সংযোজন বলে। 
- কিডনি সংযোজন দুভাবে করা যায়: কোনো নিকট আত্মীয়ের কিডনি অথবা কোনো মৃত ব্যক্তির কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৬,৫৪৪.
নিচের কোনটি লসিকার কাজ নয়?
  1. ক) প্রোটিন পরিবহন
  2. খ) দেহ রসের সংবহন
  3. গ) প্রজনন
  4. ঘ) শোষণ
ব্যাখ্যা
লসিকা গ্রন্থি:
- লসিকা নালিতে বেশ কাছাকাছি অবস্থিত গোলাকার বা ডিম্বাকার ফোলা অংশগুলোকে “লসিকা গ্রন্থি” বলে।
- যান্ত্রিক ছাঁকুনি হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন জীবাণু ও ক্ষতিকর কোষের হাত থেকে এগুলো দেহকে রক্ষা করে।
- ঘাড়ে, বগলে ও কুঁচকিতে লসিকা গ্রন্থি থাকে।


লসিকার কাজ,

- প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
- স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 
- পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। 
- শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয় । 
- প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
- প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
- দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়।

- প্রজনন লসিকার কাজ নয়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৪৫.
নিচের কোন ক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তিকে মানবদেহের রোগ শনাক্তকরণে কাজে লাগানো হয়?
  1. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
  2. সিটি স্ক্যান
  3. এমআরআই
  4. ইসিজি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে শব্দশক্তির সাহায্যে মানবদেহের রোগ নির্ণয় করা হয়।
- সিটি স্ক্যানে তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গকে মানবদেহের রোগ শনাক্তকরণে কাজে লাগানো হয়।
- এমঅারঅাই তে চৌম্বক শক্তিকে মানবদেহের রোগ শনাক্তে কাজে লাগানো হয়।
- ইসিজি তে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কর্মকান্ডকে লেখের সাহায্যে উপস্থাপন করা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬,৫৪৬.
হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে কণা পাওয়া যায় তাকে কী বলে?
  1. নিউট্রন
  2. ইলেকট্রন
  3. প্রোটন
  4. পজিট্রন 
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা পাওয়া যায়, সেটিই প্রোটন।

• মৌলিক কণিকা (Fundamental Particles):
- যে সকল অতিক্ষুদ্র কণিকার সমন্বয়ে পরমাণু গঠিত হয়, তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- একটি পরমাণুর মধ্যে মোট তিনটি মৌলিক কণিকা বিদ্যমান। যথা—
- ইলেকট্রন,
- প্রোটন,
- নিউট্রন।
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস অবস্থিত।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
 
• ইলেকট্রন (Electron):
- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর ক্ষুদ্রতম মৌলিক কণিকা।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় প্রায় ১৮৪০ গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন একটি একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
 
• প্রোটন (Proton):
- ইলেকট্রনের মতো প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মৌলিক কণিকা।
- প্রোটন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা পাওয়া যায়, তাকে প্রোটন বলা হয়।
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরের সমান।
 
• নিউট্রন (Neutron):
- নিউট্রন একটি আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী জেমস চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
 
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৪৭.
টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান কোনটি?
  1. ক) Na2CO3
  2. খ) NaOH
  3. গ) NH4OH
  4. ঘ) (NH4)2CO3
ব্যাখ্যা
• টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান NaOH (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড)।

তীব্র ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। যেমন: পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার।

টয়লেট ক্লিনার:
- টয়লেট এর কমোডকে পরিষ্কার করার জন্য, দুর্গন্ধকে দূর করার জন্য এবং ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়াকে নির্মূল করার জন্য কস্টিক সোডা (NaOH) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ভিত্তিক যে ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তাকে টয়লেট ক্লিনার বলা হয়।
- টয়লেট ক্লিনারের মধ্যে প্রায় 20–25% কস্টিক সোডা, 10–12% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট (NaOCl), 3–5% বোরাক্স (Na2B4O7), 5–7% সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3) ছাড়াও কোনো ক্ষেত্রে ভিনেগার এবং সামান্য খাদ্য লবণকে ব্যবহার করা হয়।
- টয়লেটের দুর্গন্ধ দূর করার ক্ষেত্রে ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট এবং জীবাণুনাশক হিসেবে ফেনলকে ব্যবহার করা হয় ।

উৎস: রসায়ন-১ম পত্র ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৪৮.
একটি চুম্বকের কোন মেরুদ্বয় পরস্পরকে আকর্ষণ করে?
  1. দক্ষিণ-দক্ষিণ
  2. উত্তর-উত্তর
  3. উত্তর-দক্ষিণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• একটি চুম্বকের বিপরীত মেরুদ্বয় অর্থাৎ উত্তর-দক্ষিণ মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। 

• চুম্বক:
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়।

• চুম্বকত্ব (Magnetism):
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব।
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম। কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে।

• চুম্বকের (Magnet) বিপরীত মেরুগুলো পরস্পরকে আকর্ষণ করে, অর্থাৎ উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু একে অপরকে আকর্ষণ করে।
- এটি চুম্বকত্বের একটি মৌলিক নীতি।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৪৯.
কোন মাধ্যমের তাপ পরিবহন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) তরল
  3. গ) বায়বীয়
  4. ঘ) শূন্য মাধ্যম
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন হয় তিন প্রক্রিয়ায়-
১) পরিবহন
২) পরিচলন
৩) বিকিরণ

- পরিবহন এবং পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, এবং এই দুই পদ্ধতিতে মাধ্যমকে উত্তপ্ত করে তাপ সঞ্চালন করতে হয়।
- কিন্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।
- সূর্য থেকে বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ পৃথিবীতে আসে।
- তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া হচ্ছে বিকিরণ।

- তাপ সঞ্চালনের তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্যে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালন সবচেয়ে বেশি ঘটে কঠিন মাধ্যমে।
- পরিচলন ঘটে তরল পদার্থে/মাধ্যমে ও বিকিরণ ঘটে বায়বীয় বা শূন্য মাধ্যমে।
৬,৫৫০.
কোনটির সাহায্যে আলট্রাসনোগ্রাম কাজ করে?
  1. ক) শ্রুতিপূর্ব শব্দ
  2. খ) শ্রুতি-উত্তর শব্দ
  3. গ) নয়েজ
  4. ঘ) সুশ্রাব্য শব্দ
ব্যাখ্যা


উৎসঃ ৭ম শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৬,৫৫১.
শ্বেতসার পরিপাকে নিচের কোন এনজাইমটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ট্রিপসিন
  2. খ) অ্যামাইলেজ
  3. গ) লাইপেজ
  4. ঘ) পেপসিন
ব্যাখ্যা

প্রাণীদেহে দ্বারা গৃহীত খাদ্যবস্তু যে সকল রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতিতে জটিল খাদ্য থেকে সরল খাদ্যে পরিণত হয় সে সকল রাসায়নিক পদার্থকে এনজাইম বলে।
যেমন - ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, পেপসিন।
শরীরের শর্করা বা শ্বেতসার জাতীয় খাবার পরিপাকে অ্যামাইলেজ এনজাইমটি ব্যবহৃত হয়।

৬,৫৫২.
দেহে পরিমাণের দিক দিয়ে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরপরই কোনটির অবস্থান?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) জিঙ্ক
ব্যাখ্যা

- ক্যালসিয়াম প্রাণীদের হাড় এবং দাতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুইভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। অস্থি এবং দাতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- হাড় ও দাতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতি প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- দেহে পরিমাণের দিক দিয়ে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরপরই ফসফরাসের স্থান।
- ক্যালসিয়ামের মত হাড় এবং দাত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ।
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষয়তা, দন্তক্ষয় এসব রোগ দেখা দেয়।
 
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি

৬,৫৫৩.
প্রাককেন্দ্রিক কোষের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে
  2. রাইবোজোম থাকে
  3. কেবল RNA থাকে
  4. প্লাস্টিড থাকে
ব্যাখ্যা
এ ধরনের কোষে কোন সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকেনা।
মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড ও এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গানু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে। 
ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে। 

সূত্র - জীব বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৬,৫৫৪.
আমলকিতে কোন এসিড থাকে?
  1. স্যালিসাইলিক এসিড
  2. অ্যাসকরবিক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. ফরমিক এসিড
ব্যাখ্যা
• আমলকিতে থাকে অ্যাসকরবিক এসিড।

• বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জৈব
এসিড:
- পিঁপড়ার কামড়ে ফরমিক এসিড থাকে।
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড।
- স্যালিসাইলিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

উৎস:  বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৬,৫৫৫.
SMOG কি?
  1. ক) সিগারেটের ধোঁয়া
  2. খ) কুয়াশা
  3. গ) দূষিত বাতাস
  4. ঘ) শিশির
ব্যাখ্যা
• SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বাতাস
- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- 'SMOG' শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- এই ধোঁয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি ঘটায় এবং মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করে।
- মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পেলে তাতে উদ্ভিদ সহজে জন্মে না।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যানসার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: National Geographic Society.
৬,৫৫৬.
O2 আণবিক ভর কত?
  1. 8
  2. 16
  3. 32
  4. 20 
ব্যাখ্যা

আণবিক ভর (Molecular mass) হলো একটি অণুর সব পরমাণুর পারমাণবিক ভরের যোগফল। এটি একটি নির্দিষ্ট একক (amu বা g/mol) এ প্রকাশ করা হয়।
- অক্সিজেন পরমাণুর পারমাণবিক ভর: 16 amu (atomic mass unit)।
- O₂ অণুতে দুটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে।

তাহলে O₂ এর আণবিক ভর হবে:
Molecular mass of O2 = 16 + 16 = 32 amu
- অর্থাৎ, O₂ অণুর ভর হলো 32 একক পারমাণবিক ভর।
- O₂ হলো বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

৬,৫৫৭.
প্রস্বেদন পাতার একটি -
  1. ক) বিশেষ কাজ
  2. খ) স্বাভাবিক কাজ
  3. গ) অসম্পূর্ন কাজ
  4. ঘ) আদৌ পাতার কাজ নয়
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয় তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। এছাড়া কান্ড এবং শাখা-প্রশাখা থেকেও প্রস্বেদন হয়ে থাকে। পানি শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে উদ্ভিদ দেহে পানি ও খনিজের ঘাটতি দেখা দেয়। প্রস্বেদন কিছু ক্ষতিসাধন করলেও এই প্রক্রিয়া উদ্ভিদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্যের জন্য বিজ্ঞানী কার্টিস প্রস্বদনকে ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি বা Necessary Evil’ নামে অভিহিত করেছেন।
সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৬,৫৫৮.
জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে বলা হয়- 
  1. এন্ডোফাইটিক শৈবাল
  2. বেনথিক শৈবাল
  3. এপিফাইটিক শৈবাল
  4. লিথোফাইটিক শৈবাল
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
- অর্থাৎ আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৫৯.
দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয়, তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস কী বর্ণ ধারণ করে?
  1. ক) নীল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা।
কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। অর্থাৎ‍pH = - log[H+]
pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। pH মিটারের pH স্কেল থাকে।
দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়।
দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়।


উৎস:  রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৬,৫৬০.
খাদ্যের উপাদান কয়টি?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৬ টি
  4. ৭ টি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের রাসায়নিক প্রকৃতি ও গঠনের বিভিন্নতা অনুসারে খাদ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, এগুলোকে খাদ্য উপাদান বলা হয়। 
- খাদ্য উপাদান ৬ টি। 
যথা:
১। প্রোটিন বা আমিষ, 
২। কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, 
৩। ফ্যাট বা স্নেহ পদার্থ, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। মিনারেল বা খনিজ লবণ এবং 
৬। পানি । 

কাজ অনুযায়ী খাদ্যের ভাগ: 
- দেহে খাদ্যের কাজ অনুযায়ী খাদ্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণকারী খাদ্য: প্রধানত আমিষ জাতীয় খাদ্য। 
২। তাপ ও শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য: প্রধানত স্নেহ ও শর্করা জাতীয় খাদ্য। 
৩। রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য: প্রধানত ভিটামিন ও খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৬১.
আয়নাতে তৈরি হওয়া প্রতিরূপের প্রকৃতি কেমন?
  1. বিবর্ধিত, বাস্তব ও সোজা
  2. খর্বিত, অবাস্তব ও উল্টা
  3. সম-আকারের, অবাস্তব ও সোজা
  4. সম-আকারের, বাস্তব ও সোজা
ব্যাখ্যা

আয়না হলো সমতল দর্পণ।
- সমতল দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্ব সমআকারের, অবাস্তব ও সোজা হয়ে থাকে।
- আয়নাতে তৈরি হওয়া প্রতিবিম্ব আলোকরশ্মির প্রকৃত মিলনের ফলে তৈরি হয় না এবং বিবর্ধনের মান হলো ১।
সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৬,৫৬২.
মূল মধ্যরেখার (০°) প্রতিপাদ স্থান কোন দ্রাঘিমায় অবস্থিত?
  1. ০°
  2. ৯০°
  3. ১৮০°
  4. ৩৬০°
ব্যাখ্যা

প্রতিপাদ স্থান (The Antipodes): 
- ​ভূ-পৃষ্ঠে যে কোনো একটি স্থানের ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থিত স্থানকে প্রতিপাদ স্থান বলা হয়। 
- ​অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠের কোনো বিন্দু কল্পিত ব্যাস ভূ-অভ্যন্তরস্থ কেন্দ্রকে ছেদ করে ঠিক উল্টোপাশে যে বিন্দুটিকে স্পর্শ করবে, সেই বিন্দুটিকে প্রথম বিন্দুটির 'প্রতিপাদ স্থান' বলা হয়। 
​- প্রথম বিন্দুটি যে দ্রাঘিমায় অবস্থিত হয় ঐ বিন্দুটির প্রতিপাদ স্থান ঠিক তার বিপরীতে ১৮০° দূরত্বের দ্রাঘিমায় অবস্থিত হয়। 
​- উদাহরণস্বরূপ, মূল মধ্যরেখার (০°) প্রতিপাদ স্থান হলো ১৮০° দ্রাঘিমারেখা। 
​- অপরদিকে, কোনো স্থানের প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশ একই ডিগ্রিতে অবস্থিত হলেও বিপরীত গোলার্ধে অবস্থিত হয়।
​- উদাহরণস্বরূপ, একটি স্থানের অক্ষাংশ ৪০° উত্তর হলে, এর প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশ ৪০° দক্ষিণ হবে। 
​- ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার চিলির নিকটে প্রশান্ত মহাসাগরের অবস্থিত।

​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৬৩.
উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কোন উপাদানটি বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে?
  1. আয়রন
  2. হাইড্রোজেন
  3. সালফার
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এ ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।এ ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়। কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রোউপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়।
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রোউপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

পুষ্টি উপাদানের উৎস: 
- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৬৪.
২০২৫ সালে হংকং থেকে রওনা দেওয়া ক্যাথে প্যাসিফিকের একটি বিমান ২০২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলসে পৌঁছানোর মূল কারণ কী?
  1. সময় ভ্রমণ
  2. বিমানযাত্রার সময়সূচির ত্রুটি
  3. দিনরাত্রি পরিবর্তন
  4. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
ব্যাখ্যা
• আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার জন্যই - ২০২৫ সালে হংকং থেকে রওনা দেওয়া ক্যাথে প্যাসিফিকের একটি বিমান ২০২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলসে পৌঁছায়।

• আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।
- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘন্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
- আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৬৫.
নিচের কোনটিকে আদর্শ খাদ্য বলে?
  1. ক) ভাত
  2. খ) মাছ
  3. গ) দুধ
  4. ঘ) ফল
ব্যাখ্যা
- শিশুর বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের জন্য দুধ অপরিহার্য। দুধ পুষ্টিকর খাদ্যসমূহের অন্যতম।
- পুষ্টিগুণের বিবেচনায় এটি আদর্শ খাদ্য। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন, অজৈব লবণ (ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ক্লোরিন) ও পানি খাদ্যের সকল উপাদানই দুধে বিদ্যমান।
- দুধের গড় উপাদানে আছে ৮৭.৬% পানি, ৩.৭% চর্বি, ৩.২% প্রোটিন, ৪.২% ল্যাকটোজ ও ০.৭২% খনিজ, ভিটামিন বি-১২ (২৬.১%)। 
- একশ মিলিলিটার দুধ থেকে ৬৫.৩ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।
- এছাড়া দুধে আয়রনের পরিমাণ ০.২৭ মিলিগ্রাম।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট, National Library of Medicine.
৬,৫৬৬.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে প্রস্বেদন হার নির্ণয় করা যায়?
  1. Lysimeter
  2. Evaporimeter
  3. Potometer
  4. Dendrometer
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন (Transpiration): 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ (সাধারণত পাতা) হতে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উন্মুক্ত উদ্ভিদের যে কোনো অংশে প্রস্বেদন সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাই উদ্ভিদের প্রধান প্রস্বেদন অঙ্গ। 
- গড় হিসেবে শোষিত পানির মাত্র ১% দেহে অবস্থান করে ও কাজে লাগে, বাকি ৯৯% পানি দেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- এটি উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া, তবে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকরও হতে পারে। 
- বিজ্ঞানী কার্টিস (Curtis) প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (necessary evil) বলেছেন।
- গ্যানং পটোমিটার এর সাহায্যে প্রস্বেদন হার নির্ণয় করা যায়। 

প্রস্বেদনের প্রকারভেদ: 
- যে পথে পানি বাষ্পাকারে উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর হতে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে সে পথের ভিন্নতার উপর নির্ভর করে প্রস্বেদনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration): পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন; 
(২) ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration): পত্রত্বকের কিউটিকলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন; 
(৩) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration): কাণ্ডের লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন। 

অন্যদিকে, 
- Lysimeter - মাটিতে জলের গতিবিধি পরিমাপ করে।
- Evaporimeter - ভেজা পৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলে জল বাষ্পীভবনের হার পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত একটি যন্ত্র।
- Dendrometer - একটি সেন্সর যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ করতে পারে।

উৎস:
১) জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২) Siencedirect.com
৬,৫৬৭.
কয়লা পোড়ালে কোন শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. বিদ্যুৎ শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর:
- প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। 

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি: বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি: কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি: ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি: বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি: বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি: কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি : কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৬৮.
প্রাকৃতিক ঝড়বৃষ্টি ঘটে বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. আয়নোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুর চাপ বেশি (760 mm Hg) এবং তাপমাত্রা উচ্চতা বাড়ার সাথে দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
- প্রতি কিলোমিটার তাপমাত্রা বাড়ার সাথে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে কমতে থাকে।
- বায়ু ও জলীয় বাষ্পের মিশ্রণে মেঘ তৈরি হয়, যা বৃষ্টি, ঝড়, বজ্রসহ অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিবর্তনের জন্ম দেয়।
- প্রাকৃতিক ঝড়বৃষ্টি, মেঘ ও বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য আবহাওয়াগত ঘটনা ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে ঘটে।
- এটিকে ক্ষুব্ধ মন্ডলও বলা হয়ে থাকে। এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ কিমি উচ্চতায় বিস্তৃত।

অন্য স্তরগুলোর বৈশিষ্ট্য:
• স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার - ওজোন স্তর থাকে, আবহাওয়াগত ঘটনা কম।
• মেসোস্ফিয়ার - উল্কাপাত ঘটে, তাপমাত্রা খুব কম।
• আয়নোস্ফিয়ার - রেডিও তরঙ্গ প্রতিফলিত করে, আবহাওয়াগত ঘটনা নেই।

তথ্যসূত্র:
- NCTB পদার্থবিজ্ঞান ও ভূগোল বই,
- Britannica: [লিংক]। 

৬,৫৬৯.
উদ্ভিদের ফুল, ফল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে কোনটির অভাবে?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) ম্যাগনেশিয়াম
  3. গ) পটাশিয়াম
  4. ঘ) ফসফরাস
ব্যাখ্যা

পটাশিয়াম এর অভাবে উদ্ভিদের ফুল, ফল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

পটাশিয়াম গাছের রোগ প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। শক্ত ও মজবুত কান্ড গঠনে পটাশিয়ামের ভূমিকা রয়েছে। এটি গাছের বিভিন্ন কোষীয় কার্যক্রমের ওপর প্রভাব বিস্তার করায় রোগের ব্যাপকতা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও নেমাটোড প্রতিরোধে পটাশিয়াম কার্যকর ভূমিকা রাখে। মাটিতে অতিরিক্ত চুন ব্যবহারের ফলে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি হলে মাটি থেকে পটাশিয়ামের পরিশোষণ ব্যবহৃত হয়। এতে গাছে রোগ সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। আবার জৈব নাইট্রোজেনকে গাছের গ্রহণযোগ্য করার জন্য ক্যালসিয়াম উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৬,৫৭০.
স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে কোন সম্পর্কটি সঠিক?
  1. বস্তুর সরণ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক
  2. বস্তুর বেগ সময়ের ব্যস্তানুপাতিক
  3. বস্তুর চূড়ান্ত বেগ তার ভরের সমানুপাতিক
  4. বস্তুর ভর বেশি হলে তার পড়তে বেশি সময় লাগবে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) বস্তুর সরণ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক

• পড়ন্ত বস্তুর সূত্র:
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
• সূত্রগুলো হচ্ছে-

• প্রথম সূত্র:

- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।

• দ্বিতীয় সূত্র:

- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, v ∝ t.

• তৃতীয় সূত্র:

- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ, h ∝ t2.

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৭১.
নীলাভ সবুজ শৈবাল কোন রাজ্য এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী?
  1. ক) Monera
  2. খ) Protista
  3. গ) Animalia
  4. ঘ) Fungi
ব্যাখ্যা

নীলাভ সবুজ শৈবাল, ব্যাকটেরিয়া হল Monera কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।

মনেরার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো –
এরা এককোষী, কলোনিয়াল।
এদের কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিয়াস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইট্রোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই।
কোষে রাইবোজোম আছে।
এদের কোষ বিভাজন দ্ব বিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয় ।
এরা শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। তবে অনেকে ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য তৈরি করে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৬,৫৭২.
অভিকর্ষ কী? 
  1. কোনো মহাজাগতিক আকর্ষণ 
  2. পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার আকর্ষণ 
  3. পৃথিবী পৃষ্ঠের বস্তু ও পৃথিবীর মধ্যকার আকর্ষণ 
  4. পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার আকর্ষণ 
ব্যাখ্যা

অভিকর্ষ: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে। 
- মূলত এই বলের প্রভাবে বস্তু পৃথিবীর দিকেই আকৃষ্ট হয়। 
- পৃথিবীর বিশালত্বের কারণে অন্য বস্তুটির বলের প্রভাব অনুভূত বা পরিলক্ষিত হয় না। 
- তাই পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে আকর্ষণ বা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যের আকর্ষণ মহাকর্ষ। 
- কিন্তু পৃথিবীর সঙ্গে এক খন্ড পাথরের বা একটুকরো ইটের বা একটি বইয়ের যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বলে অভিহিত হয়। 
- মূলত অভিকর্ষ এক ধরণের মহাকর্ষ। 
 
উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৭৩.
মানবদেহে মস্তিষ্কে শব্দের স্থায়িত্বকাল-
  1. ০.১ সেকেন্ড
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ৫ সেকেন্ড
  4. ১০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল:

- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- অর্থাৎ এই 0.1 সেকেন্ড সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না।
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে।
- সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৭৪.
বৃক্কের সবচেয়ে ছোট কাঠামোগত ইউনিট কী?
  1. নিউরন
  2. রেনিন
  3. টিউবিউল
  4. নেফ্রন
ব্যাখ্যা

• বৃক্কের সবচেয়ে ছোট কাঠামোগত এবং কার্যকরী ইউনিট হলো নেফ্রন। নেফ্রন মূলত রক্তকে পরিশোধন করে মূত্র উৎপন্ন করে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত জল, লবণ ও বর্জ্য পদার্থ বের করে। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় এক মিলিয়ন নেফ্রন থাকে। নেফ্রন দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত: গ্লোমেরুলাস এবং টিউবিউল। গ্লোমেরুলাস রক্ত ফিল্টার করার কাজ করে, আর টিউবিউল ফিল্টার হওয়া তরল থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান শোষণ করে এবং বর্জ্য পদার্থ মূত্রে পরিণত করে। তাই নেফ্রন বৃক্কের কার্যকারিতা বজায় রাখার মূল একক।

- সঠিক উত্তর: ঘ) নেফ্রন।

নেফ্রন:
- বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ ও কার্যকরী একককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।

• বৃক্ক:
- যে প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলে।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

• বৃক্কের কাজ:
- রক্ত থেকে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।
- দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
- রক্তে বিভিন্ন লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা।
- রক্ত অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
- হরমোন ও এনজাইম নিঃসরণ করা।
- দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভিটামিন ডি ও লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান,একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,গাজী আজমল ও প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৭৫.
ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায় নিচের কোনটির জন্য?  
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) লিউকোপ্লাস্ট
  3. গ) সেন্ট্রোসোম
  4. ঘ) ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড- সাইটোপ্লাজমের মধ্যে যে সকল ক্ষুদ্র, দানাদার বিভিন্ন আকারের বস্তু দেখা যায় তাদেরকে বলা হয় প্লাস্টিড।

এর উপস্থিতির কারণে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফলের বর্ণ বৈচিত্র্য দেখা যায়।
উদ্ভিদ কোষে সাধারণত তিন প্রকার প্লাস্টিড থাকে।
যথাঃ  ক্রোমোপ্লাস্ট, ক্লোরোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।


 ক্রোমোপ্লাস্ট- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়।

ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে। ফুলের পাপড়িতে ও ফলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পাখি

পরাগায়নে এবং বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৭৬.
নিচের কোনটি মাত্র এক কোষবিশিষ্ট?
  1. পোলিও ভাইরাস
  2. গোল কৃমি
  3. অ্যামিবা
  4. মাশরুম
ব্যাখ্যা

- পোলিও ভাইরাস সহ অন্যান্য সকল ভাইরাস হলো অকোষীয়। কারণ এটি শুধু নিউক্লিক এসিড এবং প্রোটিন আবরণী বিশিষ্ট জীব ও জড়ের মাঝে এক সেতু বন্ধন বিশেষ। এদের দেহে আদি কিংবা প্রকৃত কোনো ধরনের কোষই উপস্থিত নয়।
- সকল ব্যাকটেরিয়া হলো এক কোষী। এরা আদি কোষবিশিষ্ট।
- সকল ধরনের কৃমি বহুকোষী।
- প্রায় সকল ছত্রাক বহুকোষী (ব্যতিক্রম- ক্রিপ্টোকক্কাস, ইস্ট ইত্যাদি)।
- অ্যামিবা, ম্যালেরিয়া পরজীবী, কালাজ্বরের পরজীবী ইত্যাদি সকলেই এককোষী এবং সুকেন্দ্রিক।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৬,৫৭৭.
হারিকেনের চিমনিতে আলোকশক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. তাপ শক্তিতে
  2. বিদ্যুৎ শক্তিতে
  3. যান্ত্রিক শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
আলোক শক্তির রূপান্তর: 
• হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়। 
এখানে, আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

• ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়। 
এখানে, আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৭৮.
নিষেক ক্রিয়ার পর গর্ভাশয় কিসে পরিণত হয়?
  1. ভ্রূণ
  2. ফলত্বক
  3. ফল
  4. নষ্ট হয়ে যায়
ব্যাখ্যা
নিষেক ক্রিয়ার পর ,
- গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়।
- গর্ভাশয় ত্বক ফলত্বকে পরিণত হয়।
- ডিম্বক বীজে পরিণত হয়। 
- সাহায্যকারী কোষ, প্রতিপাদ কোষ নষ্ট হয়ে যায়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৭৯.
টাইড (জোয়ার-ভাটা) এর কারণ-
  1. ক) চাঁদ ও সূর্যের অভিকর্ষ শক্তির প্রভাব
  2. খ) পৃথিবীর বার্ষিক গতি
  3. গ) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
টাইড (জোয়ার-ভাটা) এর কারণ প্রধানত ২টি। ১) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং ২) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
৬,৫৮০.
কোন রোগটি মশার কামড়ে হয় না?
  1. ক) ডেঙ্গু
  2. খ) ম্যালেরিয়া
  3. গ) কলেরা
  4. ঘ) এনসেফালাইটিস
ব্যাখ্যা

ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং এনসেফালাইটিস হয় মশার কামড়ের ফলে।
পানিবাহিত রোগ কলেরা হয় ভিব্রিও কলেরা নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে।

উৎসঃ সিডিসি

৬,৫৮১.
বিষুবরেখার মান কত ডিগ্রি?
  1. শূন্য ডিগ্রি
  2. নব্বই ডিগ্রি
  3. সাড়ে তেইশ ডিগ্রি
  4. ১৮০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে থাকা কাল্পনিক রেখা নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বা নিরক্ষবৃত্ত রেখা নামে পরিচিত। এর মান শূন্য ডিগ্রি।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৫৮২.
গ্রীনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে?
  1. নাইট্রাস অক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
  3. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  4. সি এফ সি
ব্যাখ্যা

• গ্রীনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) রয়েছে। এটি প্রধানত জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা, তেল এবং গ্যাস পোড়ানোর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে নিঃসৃত হয়। এছাড়া বন উজাড় এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে CO2 নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলের তাপ ধরে রাখে, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অন্যতম প্রধান কারণ। অন্যান্য গ্রীনহাউস গ্যাস যেমন নাইট্রাস অক্সাইড বা সি এফ সি কম পরিমাণে থাকে, এবং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সাধারণত গ্রীনহাউস গ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয় না। তাই প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় উৎসের কারণে CO2 পৃথিবীর গ্রীনহাউস প্রভাবের প্রধান অবদানকারী।

- উত্তর: গ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড। 

• গ্রীনহাউস গ্যাস:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warning) এর হার বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- আমরা জানি, যে বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এ ক্ষেত্রে বায়ুমন্ডল হলো গ্রীনহাউস বা কাঁচ ঘরের কাঁচের দেয়াল বা ছাদ এবং সূর্যালোক ভূ-পৃষ্ঠ শোষণ করে ও বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে তোলে।
- মানুষ যখন গাছ-পালা কেটে, কাঠ-কয়লা পুড়িয়ে, কারখানার ধোঁয়া ইত্যাদির দ্বারা মিথেন, ওজোন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস তৈরি করছে তখন তাকে বলা হয় গ্রীনহাউস গ্যাস।
- বায়ুমন্ডলে তাই গ্রীনহাউস গ্যাসের পুরু চাদর তৈরি হয়েছে কারণ এই সব গ্যাস আর ফিরে যেতে পারে না।
- এই তাপ শোষণের মাত্রা যত বাড়বে পৃথিবীর উষ্ণতা ততই বাড়বে।
- উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াই হলো গ্রীনহাউস প্রভাব।

• গ্রীনহাউস এফেক্ট: 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। 
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। 
- গ্রীনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রীনহাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে। 

গ্রীনহাউস এফেক্টের কারণে- 
• সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, 
• আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে, 
• বনাঞ্চল ধবংস হবে, 
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে, 
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে, 
• ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে। 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রীনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

উৎস:
- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৮৩.
লোহার কুরী তাপমাত্রা-
  1. ৩৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ৬৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ৭২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ৭৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
 কুরি বিন্দু বা কুরি তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় কোন একটি চুম্বকের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়, তাকে উক্ত চুম্বকের উপাদানের কুরি বিন্দু বলে।
- এই তাপমাত্রার নামকরণ করা হয়েছে ফরাসি পদার্থবিদদের জন্যপিয়েরে কুরি , যিনি ১৮৯৫ সালে এমন সূত্রগুলি আবিষ্কার করেছিলেন যা তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।
- লোহার কুরি বিন্দু বা কুরি তাপমাত্রা ৭৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এছাড়াও, কোবাল্টের জন্য কুরি তাপমাত্রা হলো ১১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস যাসর্বোচ্চ কুরি বিন্দুগুলির মধ্যে একটি।

উৎস: একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান ও ব্রিটানিকা।
৬,৫৮৪.
লোহার সাথে কোন পদার্থ মিশিয়ে মরিচাবিহীন স্টিল তৈরি করা হয়?
  1. তামা ও জিংক
  2. কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম
  3. স্বর্ণ ও রূপা 
  4. লোহা ও সিলভার
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন-
• বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না; স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
• আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়; মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের টেবিলে কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যাবহার উল্লেখ করা হলো- 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৮৫.
নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে কি বলা হয়?
  1. ফিশন
  2. মেসন
  3. ফিউশন
  4. ফিউশন ও মেসন
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ফিশন বলা হয়। 

পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে শক্তি উৎপন্নের প্রক্রিয়া: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। 
যথা: 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে। 

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৮৬.
তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে কী বোঝায়?
  1. তরল পদার্থের তাপমাত্রার বৃদ্ধি
  2.  তরল পদার্থের দৈর্ঘ্যের বৃদ্ধি
  3. তরল পদার্থের ক্ষেত্রফলের বৃদ্ধি
  4. তরল পদার্থের আয়তনের বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

- তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে বোঝায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তরল পদার্থের আয়তনের বৃদ্ধি; কারণ উত্তপ্ত করলে তরল পদার্থের অণুগুলো দ্রুত চলে এবং একে অপরের থেকে দূরে সরে গিয়ে বেশি জায়গা দখল করে, ফলে আয়তন বাড়ে। 

তরল পদার্থের প্রসারণ: 
- তরল পদার্থের দৈর্ঘ্য বা ক্ষেত্রফল কিছুই নেই, শুধু তরল পদার্থের আয়তন আছে। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে তার আয়তন প্রসারণকেই বোঝায়। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ মাপার সময় একটু সতর্ক থাকতে হয় কারণ তরল পদার্থকে সব সময়ই কোনো পাত্রে রাখতে হয়। কাজেই প্রসারণ সহগ মাপতে চাইলে যখন তরলটিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে পাত্রটিও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পাত্রটিরও একটি প্রসারণ হয়। কাজেই পাত্রে তরল যে প্রসারণ দেখা যায় সেটা সত্যিকারের প্রসারণ না, সেটা হচ্ছে আপাত প্রসারণ। 
- কাজেই প্রকৃত প্রসারণ বের করতে হলে পাত্রের প্রসারণের ব্যাপারটা সব সময়ই মনে রাখতে হবে। 
- সাধারণত তরলের প্রসারণ কঠিন পদার্থের প্রসারণ থেকে বেশি হয়। যদি তা না হতো তাহলে আপাত প্রসারণটি হয়তো দেখা যেত না, মনে হতো আপাত সংকোচন। 
- তরল পদার্থের প্রসারণের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হচ্ছে থার্মোমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৫৮৭.
জীববৈচিত্র্যকে কতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে? 
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), 
২। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity) এবং 
৩। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৮৮.
জোয়ার-ভাটার ওপর কোন মহাজাগতিক বস্তুর মহাকর্ষীয় আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে?
  1. সূর্য
  2. পৃথিবী
  3. নক্ষত্র
  4. চন্দ্র
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 
- চন্দ্র অপেক্ষা সূর্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে চন্দ্র গড়ে প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা বেশি। 
- ফলে জোয়ার ভাটায় চন্দ্রের প্রভাব বা চাঁদের আকর্ষণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। 
- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপ সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৮৯.
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ কোনটি?
  1. চন্দ্র
  2.  সূর্য
  3. ফোবস
  4. ডিমোস
ব্যাখ্যা

- চন্দ্র (বা চাঁদ) হলো পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ, এটি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে এবং সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম প্রাকৃতিক উপগ্রহ। 

পৃথিবী (Earth): 
- সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হচ্ছে 'পৃথিবী'। এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যাস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

চন্দ্র (Moon): 
- চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট চন্দ্র মোট ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট বা এক চন্দ্র মাসে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 
- চন্দ্রের নিজস্ব কোনো আলো নাই, সূর্যের আলোকে এটি আলোকিত হয়। এই আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীকে রাতের বেলা আলো দিয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, 
- ডিমোস ও ফোবস মঙ্গল গ্রহের দুটি প্রাকৃতিক উপগ্রহ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৬,৫৯০.
নিচের কোনটির অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. ফসফরাস
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতা হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' বলে।

ফসফরাস:
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

পটাশিয়াম:
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৫৯১.
ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রটিতে পদার্থবিজ্ঞানের কোন নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে?
  1. ক) আলোর প্রতিফলন
  2. খ) শব্দের প্রতিফলন
  3. গ) পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. ঘ) আলোর প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রটিতে পদার্থবিজ্ঞানের শব্দের প্রতিফলন নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে। 

- ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের সাহায্যে হৃত্যন্ত্রের কার্যক্রমের গুণগত ও পরিমাণগত মূল্যায়ন করা যায়।
- শব্দের প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
- শব্দতরঙ্গ হচ্ছে যান্ত্রিক তরঙ্গ যা মাধ্যমের সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রে শব্দের প্রতিধ্বনিকে ব্যবহার করা হয়।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল।
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ হৃৎপিন্ডের যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। এই প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত তরঙ্গের দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব মনিটরে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে 2-10MHz কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
- টিস্যুর মধ্যে শব্দ তরঙ্গ সাধারণত 1540ms এবং রক্তের মধ্যে 1570ms-1 বেগে সঞ্চালিত হয়।
- আপতিত শব্দ তরঙ্গ হৃত্যন্ত্রের টিস্যুর সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে হৃত্যন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে সঞ্চালিত হতে থাকে।
- যত বেশি কমাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, প্রতিফলিত বিম্বের স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা তত বেশি হয়।

সূত্র: ৩৪৫ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৯২.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে-
  1. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন।  এক্ষেত্রে - 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৯৩.
আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তন বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে সংঘটিত হয়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা
• আবহাওয়া এবং জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তন মূলত বায়ুমণ্ডলের ট্রপোমণ্ডল স্তরে সংঘটিত হয়। ট্রপোমণ্ডল হলো বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তর যেখানে আমাদের দৈনন্দিন আবহাওয়া দেখা যায়। এখানে বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ ও বায়ু প্রবাহের পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন আবহাওয়া ঘটনা যেমন বৃষ্টি, ঝড়, মেঘের সৃষ্টি ইত্যাদি ঘটে। স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল ও তাপমণ্ডল অন্যান্য স্তর যেখানে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন পদার্থ ও তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু সেখানকার পরিবর্তনগুলি সাধারণত জলবায়ুর দৈনন্দিন পরিবর্তনের মতো তীব্র নয়। তাই আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তন ট্রপোমণ্ডলে হয়।

বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ:

- মূলত ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে বায়ুমণ্ডলের মোট পাঁচটি স্তর বা পর্যায়ে রয়েছে। বায়ুমণ্ডলের এই ৫ টি স্তর হলো:
১) ট্রপোমণ্ডল (Troposphere),
২) স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere),
৩) মেসোমণ্ডল (Mesosphere),
৪) তাপমণ্ডল (Thermosphere) এবং
৫) এক্সোমণ্ডল (Exosphere)।

ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
• ট্রপোমণ্ডল ভূ-পৃষ্ঠ হতে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরূ অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
• ট্রপোমণ্ডল স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে। এই উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপ কমে যাওয়ার প্রবনতাকে বলা হয় স্বাভাবিক তাপ হ্রাস।
• ট্রপোমণ্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়।
• ট্রপোমণ্ডল স্তরে আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সকল প্রক্রিয়া ঘটে থাকে।
• মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৫৯৪.
বলের মাত্রা কোনটি?
  1. MLT- 1
  2. MLT- 2
  3. ML2T- 2
  4. ML2T- 3
ব্যাখ্যা

• বলের মাত্রা MLT- 2.

• মাত্রা:
-ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
-কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- L কে দৈর্ঘ্যের মাত্রা, M কে ভরের মাত্রা, T কে সময়ের মাত্রা বলে।
- যেমন, বল = ভর × ত্বরণ = m × a। আর ত্বরণের মাত্রা = [LT- 2]
- সুতরাং, বলের মাত্রা [MLT- 2].

- কাজের মাত্রা [ML2T- 2].
- শক্তির মাত্রা [ML2T- 2].
- টর্কের মাত্রা [ML2T- 2].
- ক্ষমতার মাত্রা [ML2T- 3].

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৫৯৫.
মানুষের রক্তের প্রকৃতি কেমন?
  1. ক) নিরপেক্ষ
  2. খ) ঈষৎ ক্ষারধর্মী
  3. গ) ঈষৎ অম্লধর্মী
  4. ঘ) তীব্র ক্ষারধর্মী
ব্যাখ্যা

মানুষের রক্তের pH এর মান 7.35-7.45। অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত ঈষৎ ক্ষারীয় প্রকৃতির।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 7 হলে তা নিরপেক্ষ।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 0-6.9 হলে তা অম্লধর্মী।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 7.1-14 হলে তা ক্ষারধর্মী।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬,৫৯৬.
নিচের কোনটি গাড়ীর গতি পরিমাপক যন্ত্র?
  1. ব্যারোমিটার
  2. ওডোমিটার
  3. অ্যলটিমিটার
  4. ম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা

• ব্যারোমিটার (Barometer):
- ব্যারোমিটার বায়ুচাপ পরিমাপের যন্ত্র।  
- এটি আবহাওয়া পূর্বাভাসে ব্যবহৃত হয়।  

• অ্যলটিমিটার (Altimeter):
- অ্যলটিমিটার উচ্চতা পরিমাপের যন্ত্র।  
- এটি সাধারণত বিমান বা পাহাড়ে আরোহনের সময় ব্যবহৃত হয়।   

• ম্যানোমিটার (Manometer):
- ম্যানোমিটার কোনো তরলের চাপ (pressure) পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।  
- এটি সাধারণত গ্যাস বা তরলের চাপ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।  

• ওডোমিটার (Odometer):
- ওডোমিটার হলো সেই যন্ত্র যা গাড়ি কত দূরত্ব অতিক্রম করেছে তা পরিমাপ করে।  
- এটি মোট মাইল বা কিলোমিটার হিসাব রাখে।    

• পরিমাপক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র হলো - ট্যাকোমিটার। 
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় এর যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার। 
- বায়ুর চাপ নির্ণয় এর যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
- বায়ুর গতিবেগ নির্ণয় এর যন্ত্র - এনিমোমিটার। 
- বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইগ্রোমিটার।
- তরলের ঘনত্ব নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয় - ল্যাক্টোমিটার। 
- বৃষ্টির পরিমাণ হিসেব করতে ব্যবহৃত হয় - রেইনগেজ। 
- মোটর গাড়ির গতি পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয় - ওডোমিটার। 

তথ্যসূত্র:
১) ভূগোল প্রথম পত্র, এইস.এস.সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) ব্রিটানিকা।

৬,৫৯৭.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কোন যন্ত্র তৈরি করা হয়?
  1. জেনারেটর
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ট্রায়োড
  4. অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা
তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি।

ট্রান্সফরমার (Transformer):
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে।

• ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৯৮.
Which would hit the ground first if dropped from the same height in a vacuum?
  1. stone
  2. wood
  3. feather
  4. All of above
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর পরীক্ষা:
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তুর পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে, একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় বা মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তু একই সময়ে মাটিতে এসে পড়ে।

• প্রথম সূত্র:
- স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় বা মুক্তভাবে পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে ।
• দ্বিতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
• তৃতীয় সূত্র:
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ t সময়ে বস্তু h দূরত্ব অতিক্রম করলে, h∝ t.

- তাই শূন্য মাধ্যমে ৩টি বস্তুকে একসাথে ছেড়ে দিলে সবকয়টি একসাথে মাটি স্পর্শ করবে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৯৯.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কি?
  1. ক) নাইট্রোজেন গ্যাস
  2. খ) মিথেন গ্যাস
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) এমোনিয়া
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া সারের কাঁচামাল মিথেন গ্যাস।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেন থেকে ইউরিয়া সার ধাপে উৎপন্ন করা হয়।
- প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে H2 ও CO2 গ্যাস উৎপাদন,
- N2 ও H2 থেকে NH3 উৎপাদন ও
- NH3 ও CO2 হতেই উৎপাদন করা হয়।

৬,৬০০.
পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. অধিক শিকার
  2. অধিক বৃক্ষনিধন
  3. টেকসই উন্নয়ন
  4. রাসায়নিক ব্যবহার বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• পরিবেশ সংরক্ষণ বলতে বোঝায়—প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশকে এমনভাবে রক্ষা করা যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তা ব্যবহার করতে পারে।
- এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন হয় টেকসই উন্নয়ন,
যার মূলনীতি হলো:
“বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানো, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।”  

টেকসই উন্নয়নের মূল দিকগুলো:
- পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা।
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- সামাজিক ন্যায্যতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ। 

এই তিনটি দিক একসঙ্গে সমন্বয় করেই পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সম্ভব।

অন্যদিকে, 
অধিক শিকার:
এটি বন্যপ্রাণীর সংখ্যা হ্রাস করে এবং জৈব বৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট করে। পরিবেশ সংরক্ষণের পরিপন্থী।

অধিক বৃক্ষনিধন:
বৃক্ষ কেটে ফেলার ফলে বায়ু দূষণ বাড়ে, জলবায়ু পরিবর্তন হয় এবং মাটির ক্ষয় ঘটে। এটি পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম কারণ।

রাসায়নিক ব্যবহার বৃদ্ধি:
কীটনাশক ও সার অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটি, পানি ও খাদ্যদূষণ ঘটে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ—দুইয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

তথ্যসূত্র:
- ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। 
- সাধারণ বিজ্ঞান – অষ্টম শ্রেণি, NCTB ।