বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৬৫ / ১৪০ · ৬,৪০১৬,৫০০ / ১৪,০৮০

৬,৪০১.
কোন ভাইরাসের আক্রমনে AIDS রোগ হয়?
  1. ক) Acquired Immune Deficiency Virus
  2. খ) Human Immune Deficiency Virus
  3. গ) Human Immune Virus
  4. ঘ) Human Deficiency Syndrome
ব্যাখ্যা
- AIDS রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস হলো HIV(  Human  Immune Deficiency  Virus)

- এই রোগে আক্রান্ত রোগীর দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ফলে তারা বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই।
৬,৪০২.
কোনো স্থানের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে কি হয়?
  1. ক) মেঘের সৃষ্টি হয়
  2. খ) নিম্মচাপ হয়
  3. গ) উচ্চচাপ হয়
  4. ঘ) চাপের পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা

বায়ুর চাপ সব জায়গায় একরকম থাকে না। কোনো স্থানে বায়ুর তাপ বেড়ে গেলে বায়ু আয়তনে বেড়ে যায় ও প্রসারিত হয়। ফলে বায়ুহালকা হয় এবং ওজন কমে যায়। তখন সেখানকার বায়ুর চাপ কমে যায়। আবার কোথাও বায়ুর তাপ কমে গেলে সেখানকার বায়ুর ওজন বেড়ে যায়। ফলে বায়ুর চাপও বেড়ে যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বায়ুর তাপ কমলে চাপ বাড়ে এবং বায়ুর তাপ বাড়লে, চাপ কমে।
এছাড়া জলীয়বাষ্প বায়ুর চেয়ে হালকা। এ কারণে বায়ুতে যদি জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হয় তখন সেই বায়ুর ওজন অনেক কমে যায়। ফলে বায়ুর চাপও কম থাকে। বায়ুর চাপ বেশি থাকলে তাকে উচ্চচাপ বলে। আবার বায়ুর চাপ কম থাকলে তাকে নিম্নচাপ বলে।
নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষরেখা থেকে ৫ ডিগ্রি উত্তর ও ৫ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এই নিæচাপ বলয় বিস্তৃত। নিরক্ষরেখার উপর সূর্য বৎসরে দুইবার লম্বভাবে কিরণ দেয়। তাই এ অঞ্চল ভ‚-পৃষ্ঠের উষ্ণতম অঞ্চল। অত্যধিক তাপের জন্য এ অঞ্চলের বায়ুঅত্যন্ত হালকা ও প্রসারিত হয়ে উর্ধ্বমূখী হয়। ফলে বায়ুর ওজন কমে যায় এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। এভাবেই নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্রান্তিয় উচ্চচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উত্তপ্ত বায়ুউর্ধ্বমুখী হয় এবং যতই উপরে ওঠে ততই ধীরে ধীরে শীতল হয়। শীতল বায়ু ভারী হওয়ার ফলে ভ‚-পৃষ্ঠে নেমে আসে এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে (কর্কটক্রান্তী ও মকরক্রান্তীর কাছাকাছি) স্থান করে নেয়। এভাবে ২৫ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে দুইটি উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়। উত্তর গোলার্ধে এর নাম কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় এবং দক্ষিণ গোলার্ধে এর নাম মকরীয় উচ্চচাপ বলয়।
উৎসঃ ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪০৩.
কোন উদ্ভিদে স্বপরাগায়ন ঘটে?
  1. ক) পেঁপে
  2. খ) আম
  3. গ) ধান
  4. ঘ) সরিষা
ব্যাখ্যা

পরাগায়ন দু'প্রকার।
যথা- স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন।
- স্ব-পরাগায়ন : একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়।
- সরিষা, ধুতুরা, শিম, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।
- পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।

৬,৪০৪.
প্রোটিনের গঠন পূর্বানুমানের জন্য তৈরীকৃত আলোড়ন সৃষ্টিকারী এআই মডেলটির নাম কী?
  1. AlphaFold2
  2. BetaFold
  3. GammaFold
  4. DeltaFold
ব্যাখ্যা
প্রোটিন গঠনের পূর্বানুমানের জন্য তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল- 

মডেল নাম: AlphaFold2.
উদ্ভাবক: DeepMind (Alphabet-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান)।
প্রযুক্তির উদ্দেশ্য: প্রোটিন গঠনের ভবিষ্যদ্বাণী করা।
উদ্ভাবন: এ বছর রসায়নে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী জন এম. জাম্পার এবং ডেমিস হ্যাসাবিস  ২০২০ সালে AlphaFold2 নামে  এআই মডেলটি উদ্ভাবন করেন।
ব্যবহারকারী: ১৯০টি দেশের ২০ লাখের বেশি মানুষ ইতিমধ্যেই এই এআই মডেলটি ব্যবহার করেছেন।

সূত্র: প্রথম আলো।
৬,৪০৫.
শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী-
  1. শক্তি নষ্ট হয়ে যায়
  2. শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না
  3. শক্তি সৃষ্টি করা যায়
  4. শক্তি চিরকাল ধ্রুবক থাকে, কিন্তু এটি ব্যবহার করা যায় না
ব্যাখ্যা
• শক্তির সংরক্ষণশীলতার নীতি অনুযায়ী, শক্তির পরিবর্তন হয়, কিন্তু এটি ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায় না।

• শক্তির সংরক্ষণশীলতা সূত্র:
- শক্তির নিত্যতার বিধি অনুসারে শক্তিকে সৃষ্টি বা ধ্বংশ করা যায় না।
- শক্তিকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র।
- পৃথিবীর মোট শক্তির পরিমানগত কোন পরিবর্তন হয় না।
- প্রকৃতপক্ষে আমরা নতুন কোনো শক্তি সৃষ্টি করতে পারি না বা শক্তি ধ্বংসও করতে পারি না।
- বিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্তে যে পরিমাণ শক্তি ছিল মহাবিশ্বে আজও সেই পরিমাণ শক্তি রয়েছে।
- এটাই শক্তির অবিনশ্বরতা বা নিত্যতা বা সংরক্ষণশীলতা।

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪০৬.
কোন ধাতুটি সাধারণত ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ ব্যবহার করা হয় না?
  1. ক্রোমিয়াম
  2. নিকেল 
  3. সোনা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

- 'অ্যালুমিনিয়াম' ধাতুটি সাধারণত ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ ব্যবহার করা হয় না। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 

- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৬,৪০৭.
আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক কী?
  1. সেন্টিগ্রাম
  2. কেজি
  3. কুইন্টাল
  4. গ্রাম
ব্যাখ্যা
সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে- 
• দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার (cm),
• ভরের একক গ্রাম (g) এবং
• সময়ের একক (s). 

এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতি: 
- আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (SI) এম.কে.এস. পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। তাই
• দৈর্ঘ্যের একক মিটার (m), 
ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং
• সময়ের একক (s). 

এফ.পি.এস পদ্ধতি: 
- এই পদ্ধতিতে-
• দৈর্ঘ্যের একক ফুট (ft),
• ভরের একক পাউন্ড (lb)এবং
• সময়ের একক (s). 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং britannica.com।
৬,৪০৮.
ফটোকপি যন্ত্রের কার্যপ্রণালী কোন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
  1. আলোক প্রভাব 
  2. চৌম্বক প্রভাব 
  3. স্থির তড়িৎ প্রভাব 
  4. চল তড়িৎ প্রভাব
ব্যাখ্যা

ফটোকপি যন্ত্র: 
- কোনো কাগজের লেখার অনুরূপ কপি তৈরি করার জন্য ফটোকপি যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। 
- এই ফটোকপি যন্ত্রের কর্ম প্রক্রিয়ায় প্রায় সর্বত্র স্থির তড়িৎ ব্যবহার করা হয়
- একটি চোঙাকৃতি ধাতব ড্রামের উপর আলোক সংবেদনশীল (যেমন-সেলুলয়েড ফিল্ম থাকে) পদার্থের প্রলেপ দেয়া থাকে। ড্রামটি সমদ্রুতিতে এর অক্ষের সাপেক্ষে ঘুরতে থাকে এবং এই প্রলেপকে প্রায় 1.5kV বিভবে ধনাত্মক আধানে সমভাবে আহিত করা হয়। 
- অন্যদিকে যে কাগজের কপি করতে হবে তার উপর আলো ফেলা হয় এবং লেন্সের সাহায্যে এর প্রতিবিম্ব ড্রামের আলোক সংবেদনশীল পদার্থের প্রলেপের উপর ফেলা হয়, এর ফলে ড্রামের যে স্থানে আলো পড়ে সে স্থানের আধানগুলি নিস্তড়িৎ হয়ে যায় আর যেখানে আলো পড়েনা (লেখা অংশ) সেখানে আধান থেকে যায়। 
- এই অবস্থায় ড্রামটি ঘুরে পাউডারের মতো সূক্ষ্ম কালির সংস্পর্শে আসে এবং আগের থেকেই কালিকে ঋণাত্মক আধানে আহিত করা থাকে, ফলে ড্রামটি যে স্থানগুলোতে আধান আছে সেস্থানে কালি লেগে যায়। 
- এই ড্রামটি পরবর্তীতে কাগজের (অনেক ক্ষেত্রে কাগজকে ঋণাত্মক আধানে আহিত করা হয়) উপর চাপ দিয়ে কালি লাগিয়ে দেয়া হয় এবং এই কাগজটিকে চাপ ও তাপ দিয়ে কালিকে ভালোভাবে কাগজের সাথে লাগিয়ে দেয়া হয়। 
- এইভাবেই স্থির তড়িৎ ব্যবহার করে ফটোকপি যন্ত্রের সাহায্যে কোনো কাগজের লেখার অনুরূপ কপি তৈরি করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪০৯.
উদ্ভিদের নিষেক ক্রিয়া কে আবিষ্কার করেন?
  1. মেন্ডেল
  2. ওয়াটসন ও ক্রিক
  3. স্ট্রাসবার্জার
  4. স্ট্যানলি
ব্যাখ্যা
- মাতৃ জীব থেকে নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে প্রজনন বলা হয়।
- প্রতিটি জীবেরই তার নিজের অনুরূপ বংশধর সৃষ্টির প্রাকৃতিক অবস্থা রয়েছে।
- উদ্ভিদ বিভিন্ন উপায়ে প্রজনন সম্পন্ন করে থাকে।
- তবে উদ্ভিদে প্রজনন প্রধানত দু'প্রকার।
যথা- যৌন প্রজনন এবং অযৌন প্রজনন।
- দুটি ভিন্ন প্রকৃতির যথা- পুং ও স্ত্রীগ্যামিট পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে যে প্রজনন সম্পন্ন করে তাকে যৌন প্রজনন বলা হয়।
- আকার, আকৃতি ও প্রকৃতিগত পার্থক্যমন্ডিত একটি পুংগ্যামিট ও স্ত্রীগ্যামিট এর মধ্যকার মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেকক্রিয়া (Fertilization) বলা হয়।
- একে নিষেক বা গর্ভাধানও বলে। 
- বিজ্ঞানী স্ট্রাসবার্জার ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে সপুষ্পক উদ্ভিদে নিষেক ক্রিয়া আবিষ্কার করেন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪১০.
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ১ - ১২.৫%
  2. ২ - ২.৫%
  3. ০.২৫ - ১.৫%
  4. ৫.৫ - ৬.২৫%
ব্যাখ্যা
ইস্পাত বা স্টিল এর গুণাগুণ: 
- কার্বনের পরিমাণ: ০.২৫-১.৫%।
- পান দেয়া: পান দেয়া যায়।
- গঠনাকৃতি : স্ফটিকাকার।
- নমনীয়তা ও ঘাতসহতা উভয় ধর্ম বিদ্যমান তবে পেটা লোহার থেকে কম।
- চুম্বক ধর্ম: চুম্বককে পরিণত করা যায়।
- গলনাংক: ১৩০০-১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস.।
- কাঠিন্য: কঠিন, ভঙ্গুরও নয় আবার নরমও নয়।

ব্যবহার: 
কোনো দেশ কতটা উন্নত তা সে দেশের ইস্পাতের ব্যবহার দেখে আন্দাজ করা যায়। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হলো-
- গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরি করতে।
- শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি নির্মাণে।
- যানবাহন, যেমন- গাড়ি, প্লেন, জাহাজ, রেললাইন, ইত্যাদি নির্মাণে।
- ডাক্তারী ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি তৈরিতে।

উল্লেখ্য, ঢালাই লোহায় কার্বনের পরিমাণ ২.৫% ও পেটা লোহায় কার্বনের পরিমাণ ০.১২-০.২৫%। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৪১১.
যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজেই নষ্ট হয় না, তাকে কী বলে?
  1. ক) স্থায়ী চুম্বক
  2. খ) অস্থায়ী চুম্বক
  3. গ) দণ্ড চুম্বক
  4. ঘ) তড়িৎ চুম্বক
ব্যাখ্যা
যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজেই নষ্ট হয় না, তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 

স্থায়ী চুম্বকের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
- প্রকৃতিতে চুম্বক স্থায়ী হলেও তা অনেক দুর্বল প্রকৃতির। 
- স্থায়ী চুম্বক অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুম্বকীয় গুণাবলি ধরে রাখতে পারে।
- স্থায়ী চুম্বক বিভিন্ন আকারের হতে পারে।
- চুম্বকত্ব প্রদানকারী শক্তি অপসারণ করার পর এর চুম্বকত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- চৌম্বক সহনশীলতা বেশি।
- ফেরাইট একটি বহুল ব্যবহৃত স্থায়ী চুম্বক। এর চুম্বকত্ব তাপমাত্রার উপর খুব বেশি নির্ভরশীল।

সূত্র- ১৭২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪১২.
পাচক রস কোনগুলো?
  1. ক) ট্রিপসিন
  2. খ) লাইপেজ
  3. গ) এমাইলেজ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি পাকস্থলির প্রাচীরে থাকে। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় ট্রিপসিন, লাইপেজ, এমাইলেজ যা গ্যাস্ট্রিক জুস বা পাচক রস নামে পরিচিত।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৬,৪১৩.
পিত্তথলির পাথর মূলত-
  1. খাদ্যকণা
  2. অপাচ্য খাদ্য
  3. খাদ্যের অজৈব অংশ
  4. কোলেস্টেরল
ব্যাখ্যা
• পিত্তথলির পাথর:
- কোলেস্টেরল পিত্তরসের অন্যতম উপাদান হলেও এটি একটি বর্জ্য পদার্থ এবং যকৃতের মাধ্যমে দেহ থেকে অপসারিত হয়।
- পিত্তরসে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা তলানির মতো পিত্তথলিতে জমা হয়।
- কোলেস্টেরলের এ তলানিই শক্ত হয়ে পিত্তথলির পাথর (Gallbladder stone) নামে পরিচিত হয়
- উল্লেখ্য, কোলেস্টেরল ছাড়াও পিত্ত, ফসফেট, ক্যালসিয়াম প্রভৃতি জমেও পিত্তথলির পাথর হতে পারে।

পিত্তরস:
- পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে এবং ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- কেননা আম্লিক পরিবেশে খাদ্য পরিপাক হয় না।
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, যা লাইপেজ সহযোগে পরিপাকে সহায়তা করে।
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিড যকৃতে আসার পর বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও অ্যামোনিয়ারূপে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহজাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।
- রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়।
- এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৬,৪১৪.
নিচের কোনটি ধাতব খনিজ নয়?
  1. ক) ম্যাঙ্গানিজ
  2. খ) টিন
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) জিপসাম
ব্যাখ্যা
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদের ধাতব খনিজ বলে।
বিভিন্ন প্রকার ধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- লোহা
- ম্যাঙ্গানিজ
- নিকেল
- তামা
- টিন
- সোনা
- রূপা প্রভৃতি।


অন্যদিকে,
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে।
অধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- গ্রাফাইট
- জিপসাম
- কয়লা
- সালফার
- অভ্র প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল : দ্বিতীয়পত্র
৬,৪১৫.
ধান উদ্ভিদে কোন ধরনের পরাগায়ন হয়?
  1. বায়ু পরাগী
  2. পানি পরাগী 
  3. পতঙ্গ পরাগী 
  4. প্রাণী পরাগী 
ব্যাখ্যা

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪১৬.
A Chronometer in used to measure-
  1. ক) Time
  2. খ) Velocity
  3. গ) Current
  4. ঘ) Temperature
ব্যাখ্যা
- সময় নির্ণায়ক যন্ত্রটির নাম হচ্ছে ক্রনোমিটার।
- বিশেষ করে সমুদ্রে দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
 
সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৬,৪১৭.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় কত ভাগ লিপিড?
  1. ক) ২৫ - ৩০%
  2. খ) ৪০ - ৫০%
  3. গ) ৬৫ - ৭০%
  4. ঘ) ৯০ - ৯৫%
ব্যাখ্যা
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু।
- শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে ডিএনএ, আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
- শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর ভিতরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়।  

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪১৮.
হৃৎপিণ্ডের কোন স্তর কপাটিকা সৃষ্টি করে?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. মায়োকার্ডিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর: 
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। 
- এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যেমন- 

ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ সৃষ্টি করে তা ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪১৯.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মে শক্তির কোন রূপান্তরটি ঘটে?
  1. তাপশক্তি আলোকশক্তিতে
  2. বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে
  3. আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
♦ শক্তির রূপান্তর
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।
নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

সূত্র: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান।
৬,৪২০.
তামার সাথে কোন ধরনের ধাতুর সংকরায়নে ব্রোঞ্জ উৎপন্ন হয়?
  1. ক) দস্তা
  2. খ) টিন
  3. গ) আয়রন
  4. ঘ) এ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে।
যেমন- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪২১.
টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ নয় কোনটি?
  1. ক) লাল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) নীল
  4. ঘ) বেগুনি
ব্যাখ্যা
টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ তিনটি। যথা- লাল, সবুজ এবং নীল।

- অপরদিকে, বেগুনি রঙ টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ নয়। 
- টেলিভিশন শব্দের বাংলা অর্থ দূরদর্শন। অর্থাৎ দূর থেকে দেখা। 
- টেলিভিশনে দেখা ও শোনা দুটোই ঘটে। শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক স্টেশন। 
- শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য টেলিভিশন প্রেরক স্টেশনে পৃথক পৃথক প্রেরক যন্ত্র থাকে। 
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয়। 
- অন্য একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়। 
- যে দৃশ্য প্রেরণ বা সম্প্রচার করতে হবে তার প্রতিবিম্ব বা ছবি লেন্সের মধ্য দিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার পর্দায় ফেলা হয়। 
- এ ছবিকে টেলিভিশন ক্যামেরা তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে। 
- এ তরঙ্গ বা সংকেতকে মডুলেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গের সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন লোগি বেয়ার্ড ১৯২৬ সালে প্রথম টেলিভিশন আবিষ্কার করেন।
- ডিসপ্লে বা প্রদর্শনীর প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে টেলিভিশনকে সিআরটি, প্লাজমা, এলসিডি, এলইডিসহ বিভিন্ন ভাবে ভাগ করা যায়। 

সূত্র- ৩৭৬ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬,৪২২.
কোন তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয়?
  1. NaCl
  2. H2SO4
  3. CH3COOH
  4. CuSO4
ব্যাখ্যা
- 'ইথানয়িক এসিড (CH3COOH)' তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয়, কারণ এটি একটি মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য। 

তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 

- যেসব পদার্থ কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে না কিন্তু গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের সাথে সাথে ঐ পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায় তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নিত হয় থাকে। 
- এই আয়নের মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 
- আয়নিক যৌগ এবং কিছু পোলার সমযোজী যৌগ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য আবার দুই প্রকার। 
যথা- 
১। তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ইত্যাদি। 

২। মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয় থাকে তাদেরকে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪২৩.
আলোর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
  2. আলো একটি পর্যাবৃত্ত তরঙ্গ।
  3. আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে।
  4. আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ।
ব্যাখ্যা
• আলো হচ্ছে একটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা মাধ্যম ছাড়াও যেমন শূন্যস্থানে (vacuum) চলতে পারে। এটি তরঙ্গ ধর্ম (যেমন প্রতিসরণ, প্রতিফলন, ব্যতিচার, অপবর্তন) এবং কণিকাধর্ম—দুটিই প্রদর্শন করে।
⇒ আলো একদিকে পর্যাবৃত্ত তরঙ্গ এবং এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য নির্দিষ্ট আছে । ( যেমন দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটারের মধ্যে পড়ে।
⇒ পুকুরে ঢিল ছুড়ে যেমন ছোট-বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তরঙ্গ তৈরি করা যায়, তেমনি আলোরও নানা তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকতে পারে। 


"আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ" — এই ধারণাটি আংশিক সত্য হলেও বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণে এটি পূর্ণ সত্য নয়। কারণ, আলো বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন লেজার বা মুক্ত মাধ্যমে সরলরেখায় চললেও বাস্তবে এটি তরঙ্গ ধর্ম অনুযায়ী বাঁকেও যেতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, আলো সরু ফাঁক দিয়ে গেলে অপবর্তন ঘটে, দুটি আলোর রশ্মি একত্রিত হলে ব্যতিচার দেখা যায়, এবং বিভিন্ন মাধ্যমের সংযোগস্থলে প্রতিসরণ ঘটে।।
 তাই আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ  কথাটি পূর্ণ সত্য নয়। 


তথ্যসূত্র: 
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান।
-  পদার্থবিজ্ঞান – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬,৪২৪.
স্টার্চ থেকে অ্যালকোহল কোন প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করা হয়? 
  1. ফার্মেন্টেশন
  2. ডিস্টিলেশন
  3. ক্লোরিনেশন
  4. ক্রিস্টালাইজেশন
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- মিথানল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। 
- মিথানল মূলত অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- রাসায়নিক শিল্পে ইথানয়িক এসিড, বিভিন্ন জৈব এসিডের এস্টার প্রস্তুত করা হয়। 
- ইথানলকে প্রধানত পারফিউম, কসমেটিকস ও ওষুধ শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের ইথানলকে ওষুধ শিল্পে এবং রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলের ৯৬% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (rectified spirit) বলে। 
- পারফিউম শিল্পেও ইথানলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পারফিউমে ইথানল ব্যবহারের পূর্বে তাকে গন্ধমুক্ত করা হয়। 

- ওষুধ ও খাদ্য শিল্প ব্যতীত অন্য শিল্পে রেকটিফাইড স্পিরিট সামান্য মিথানল যোগে বিষাক্ত করে ব্যবহার করা হয়, একে মেথিলেটেড স্পিরিট (methylated spirit) বলে। 
- কাঠ এবং ধাতুর তৈরি আসবাবপত্র বার্নিশ করার জন্য মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়। 
- বর্তমানে ব্রাজিলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভুট্টা) থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ (by-product) চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে, অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪২৫.
কোন দুই রঙের মিশ্রণে বেগুনী রঙ তৈরি হয়? 
  1. সাদা ও নীল
  2. হলুদ ও লাল
  3. লাল ও নীল 
  4. সবুজ ও নীল
ব্যাখ্যা
রং সম্পর্কিত জ্ঞান: 
- লাল, নীল, সবুজ এ তিনটি মূল বর্ণ। 
- মূল তিনটি বর্ণ থেকে যেকোন দুটি মিশালে যে রং হয় তাকে বলা হয় গৌণ বর্ণ। 
যেমন- 
লাল ও নীল রং মিশালে বেগুনী
• হলুদ রং মিশালে সবুজ এবং 
• হলুদ ও লাল রং মিশালে কমলা রং হয়। 
- তাহলে বেগুনী, সবুজ, ও কমলা এ তিনটি গৌণ বর্ণ। 
- মূল ও গৌন বর্ণের নিজ নিজ প্রখরতা কমিয়ে হয় আকাশী, গোলাপী, সবুজ কলা পাতার রং, হালকা বেগুনী ও হাল্কা কমলা রং। 
- কিন্তু একটি মূল বর্ণ ও একটি গৌণ মিশালে সে বর্ণে দুটি বর্ণের সংমিশ্রণের আভা থাকবে। 
যেমন- 
•  লাল ও কমলা মিশালে লালচে কমলা, 
• লাল ও বেগুনী মিশালে লালচে-বেগুনী ও 
• নীল মিশালে নীল-বেগুনী রং হয়। 
- এগুলোকে বলা হয় প্রান্তিক রং। 
- যে রং দৃষ্টিতে প্রখর লাগে এবং গরম অনুভূতি দেয় তাকে বলা হয় উষ্ণ বর্ণ বা গরম রং। 
যেমন- গাঢ় হলুদ ইত্যাদি। 
- আবার যে রং দেখে ঠান্ডা বোধ হয় তাকে শীতল রং বলা হয়। 
যেমন - আকাশী, হালকা বেগুনী ইত্যাদি ঠান্ডা রং। 

উৎস: গার্হস্থ্য অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪২৬.
চিপসের প্যাকেটে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
- প্যাকেটজাত বিভিন্ন খাদ্য পণ্য যেমন চিপসের প্যাকেটে সাধারণত নাইট্রোজেন গ্যাস ভরে বিপণন করা হয়।
- চিপসের প্যাকেটকে নাইট্রোজেন গ্যাস দিয়ে ফুলানো হয়। এই ফুলানো অংশকে slack fill বলা হয় ।
- এই নাইট্রজেন গ্যাস খাবারের গুণগত মান বজায় রাখে যা বিভিন্ন ধরনের চাপ থেকে উপাদানগুলোর গুঁড়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
৬,৪২৭.
৬-১০% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ভিনেগার
  2. ফরমালিন
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. রেকটিফাইড স্পিরিট
ব্যাখ্যা
রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

ভিনেগার: 
- 6-10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথান্যাল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪২৮.
ZnCO3 কোন আকরিকের রাসায়নিক সংকেত?
  1. বক্সাইট
  2. জিংক ব্লেন্ড
  3. ক্যালামাইন
  4. চালকোসাইট
ব্যাখ্যা
বিভুন্ন আকরিকের রাসায়নিক সংকেত: 
• সিন্নাবার -এর রাসায়নিক সংকেত- HgS, 
• জিংক ব্লেন্ড -এর রাসায়নিক সংকেত- ZnS, 
ক্যালামাইন -এর রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
• গ্যালেনা -এর রাসায়নিক সংকেত- PbS, 
• ম্যাগনেটাইট -এর রাসায়নিক সংকেত- Fe3O4
• হেমাটাইট -এর রাসায়নিক সংকেত- Fe2O3
• লিমোনাইট -এর রাসায়নিক সংকেত- Fe2O3.3H2O, 
• কপার পাইরোইট -এর রাসায়নিক সংকেত- CuFeS2
• চালকোসাইট -এর রাসায়নিক সংকেত- Cu2S, 
• বক্সাইট -এর রাসায়নিক সংকেত- Al2O3.2H2O এবং
• চুনাপাথর -এর রাসায়নিক সংকেত- CaCO3 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪২৯.
নিজেদের বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু অম্ল, ক্ষারক না নিরপেক্ষ তা নির্দেশ করে কে?
  1. প্রভাবক
  2. ক্যাটালিস্ট
  3. নির্দেশক
  4. লবণ
ব্যাখ্যা
অম্ল, ক্ষারক ও নির্দেশক: 
- যে সমস্ত পদার্থ পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন করে তারা হলো অম্ল বা এসিড।
- অম্ল নীল লিটমাসকে লাল করে। অম্ল টক স্বাদযুক্ত হয়।
- ধাতব অক্সাইড ও হাইড্রোক্সাইডসমূহ হলো ক্ষারক। ক্ষারক লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষার হলো সেই সমস্ত ক্ষারক যারা পানিতে দ্রবীভূত হয়। ক্ষারকসমূহ কটু স্বাদের হয়।
- নির্দেশকসমূহ নিজেদের বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু অম্ল, ক্ষারক না নিরপেক্ষ তা নির্দেশ করে।
- লবণ হলো অম্ল ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন নিরপেক্ষ পদার্থ।
- এসিডের সাথে ধাতব কার্বনেট বা বাইকার্বনেটের বিক্রিয়ায় লবণ, পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়।
- এসিডের সাথে ধাতুর বিক্রিয়ায় লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৬,৪৩০.
সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লার নাম কী? 
  1. লিগনাইট 
  2. পিট 
  3. অ্যানথ্রাসাইট 
  4. বিটুমিনাস 
ব্যাখ্যা

কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে কয়লায় ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। 
- এ রকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 

- কয়লা কয়েক রকমের হয়ে থাকে। 
যথা - 
১। অ্যানথ্রাসাইট: 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 

২। বিটুমিনাস: 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 

৩। লিগনাইট: 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৬,৪৩১.
উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় উপাদান কোনটি?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকাঃ 
নাইট্রোজেন: উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
ম্যাগনেসিয়াম: ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরােফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
পটাশিয়াম: পত্ররন্ধ্র খেলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শােষণে সাহায্য করে। কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।
ফসফরাস: মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় উপাদান । ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান।

৬,৪৩২.
শুষ্ক বরফ বলা হয়-
  1. ক) হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইউকে
  2. খ) হিমায়িত অক্সিজেনকে
  3. গ) ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে
  4. ঘ) হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইডকে
ব্যাখ্যা
• শুষ্ক বরফ:
- শুষ্ক বরফ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপের সাধারণ নাম।
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়।
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪৩৩.
কচু শাকে কোনটি বেশি থাকে?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. লৌহ
  3. আয়োডিন
  4. ভিটামিন সি
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- দেহ কোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যক। 
- মানব দেহে Ca, Fe, S, Zn, Na, K, I ইত্যাদি খনিজ লবণ থাকে। 
- এগুলো খাদ্য ও মানব দেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব ও অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 

খনিজ পদার্থের উৎস: 
- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ, নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসব্জি, লাল শাক, কঁচু শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। তবে  কঁচু শাকেও কম পরিমাণে লৌহ থাকে। 
- কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, কঁচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, বাদাম, ডাল হতে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল, গাজর ইত্যাদিতে পটাসিয়াম থাকে। 
- সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস ও শ্যাওলায় আয়োডিন থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৩৪.
তুলার অধিক ফলন পেতে হলে হেক্টর প্রতি কী পরিমাণ জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে?
  1. ৫-৬ টন
  2. ২-৩ টন
  3. ৬০০-৭০০ কেজি
  4. ২৫০-৩০০ কেজি
ব্যাখ্যা
তুলা:
- তুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ আঁশ জাতীয় ফসল।
- উন্নতমানের আঁশ পেতে হলে তুলা সংগ্রহ ও তুলা প্রক্রিয়াজাতকরণ খুবই সতর্কতার সাথে সঠিক পদ্ধতিতে করতে হবে।
- সংগৃহীত তুলা সংরক্ষণও যথাযথভাবে করতে হবে।
- আমাদের বস্ত্রশিল্পের অন্যতম কাঁচামাল এই তুলার বহুবিধ ব্যবহারের জন্য এর উৎপাদন বৃদ্ধি করা আবশ্যক।

⇒ সার প্রয়োগ:
- সার প্রয়োগের অধিক ফলন পেতে হলে এবং উন্নত মানের আঁশ এর জন্য সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। 
- জৈব সার/গোবর/জৈবসার: হেক্টর প্রতি ৫-৬ টন।

⇒ সার প্রয়োগ পদ্ধতি:
- জমিতে শেষ চাষ দেয়ার পর এক-চতুর্থাংশ ইউরিয়া অর্ধেক এমপি সার এবং অন্যন্য সারসমূহ সম্পূর্ণ অংশই জমিতে প্রয়োগ করতে হবে; বাকী ইউরিয়া ও এমপি সার সমান তিনভাগে ভাগ করে তুলাগাছের বয়স ২০-২৫ দিন হলে প্রথম বার, ৪০-৫০ দিন হলে দ্বিতীয় বার এবং ৬০-৭০ দিন হলে তৃতীয় বার পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৩৫.
'লবণ উৎপাদনকারী' মৌল কোনটি?
  1. ফ্লোরিন
  2. নিয়ন
  3. নাইট্রোজেন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• হ্যালোজেন/ লবণ উৎপাদনকারী মৌল:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৭ এর ৬ টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) মৌল বলে।
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (CI), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (1), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়।
- যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা CI এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪৩৬.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে-
  1. ১০ কি. মি.
  2. ১০ নিউটন
  3. ২৭ কি. মি
  4. ৫ কি. মি.
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে ১০ নিউটন। 
- গড় সমুদ্রপৃষ্ঠীয় চাপ হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ। 
- পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের শীর্ষ পর্যন্ত গড়ে ১ বর্গ সেন্টিমিটার প্রস্থচ্ছেদের বায়ুর কলামের ভর ১.০৩ কিলোগ্রাম এবং এটি ১০.১ নিউটন ওজন প্রয়োগ করে, যার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠে ১০.১ নিউটন চাপের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট।
৬,৪৩৭.
প্রোটিনের মূল উপাদান কি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রোটিন: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- তাই প্রোটিন বা আমিষের মূল উপাদান হলো নাইট্রোজেন। 
- সালফার, ফসফরাস ও আয়রনও সামান্য পরিমাণে থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬,৪৩৮.
ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ু স্তরকে কী বলা হয়?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. গ) ফটোস্ফিয়ার
  4. ঘ) এক্সস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
- যথা - ট্রপোমন্ডল, স্টার স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমন্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল।
- ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে ট্রপোস্ফিয়ার বা ট্রপোমন্ডল।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে।
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।

উৎস:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪৩৯.
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিমাপ করতে কোন ধরনের স্কেল ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) মিটার স্কেল
  2. খ) সেন্টিমিটার স্কেল
  3. গ) ভার্নিয়ার স্কেল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভার্নিয়ার স্কেল:

- মিটার স্কেলে আমরা সাধারণত মিলিমিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্য মাপতে পারি।
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- মিলিমিটারের ভগ্নাংশ যেমন, ০.২ মিমি, ০.৫ মিমি বা ০.৯ মিমি ইত্যাদি মাপার জন্য আমাদের ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করতে হয়।
- ফরাসী গণিত শাস্ত্রবিদ পিয়েরে ভার্নিয়ার এই স্কেল উদ্ভাবন করেন।
- এজন্য তাঁর নামানুসারে এ স্কেলের নামকরণ করা হয় ভার্নিয়ার স্কেল।
- মূল স্কেলের ক্ষুদ্রতম ভাগের ভগ্নাংশের মান নিখুঁতভাবে নির্ণয় করার জন্য মূল স্কেলের পাশে ছোট আর একটি স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- সেই ছোট স্কেলটির নাম ভার্নিয়ার স্কেল।
- মিটার স্কেলের সাথে ভার্নিয়ার স্কেল সংযুক্ত করে মিলিমিটারের ভগ্নাংশ নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়।
- ভার্নিয়ার স্কেল আকারে মূল স্কেল অপেক্ষা ছোট হয়।
- এই স্কেলটি মূল স্কেল বা প্রধান স্কেলের পাশে সংযুক্ত থাকে, ভার্নিয়ার স্কেলকে প্রধান স্কেলের পাশ দিয়ে সামনে বা পেছনে সরানো যায়।
- প্রধান স্কেলের এক ভাগের দৈর্ঘ্য এবং ভার্নিয়ার স্কেলের এক ভাগের দৈর্ঘ্যের পার্থক্যকে ভার্নিয়ার ধ্রুবক (Vernier constant) V. C বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৪০.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি পর্যায় আছে?
  1. ৭ 
  2. ১০ 
  3. ১৫ 
  4. ১৮ 
ব্যাখ্যা

- আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট ৭টি পর্যায় (অনুভূমিক সারি) এবং ১৮টি গ্রুপ (উল্লম্ব কলাম) রয়েছে। 

পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত। 
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- এই পর্যায় সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪৪১.
করোনারী থ্রম্বসিস অসুখটি-
  1. ক) যকৃতের
  2. খ) হৃৎপিন্ডের
  3. গ) অগ্ন্যাশয়ের
  4. ঘ) কিডনীর
ব্যাখ্যা
রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশংকা বাড়ায়। স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালীর অন্তঃপ্রাচীরের গাত্রে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্ত নালি গহ্বর সংকুচিত হয়। ফলে ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়— এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা Arteriosclerosis বলে ।
 
আর্টারিওস্ক্লেরোসিস এর কারণে ধমনির প্রাচীরে ফাটল দেখা দিতে পারে। ধমনিগাত্রের ফাটল দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়ে জমাট বাঁধার কারণে রক্ত প্রবাহ বাধা প্রাপ্ত হয়।
 
 হৃদপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিকের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে। 

হার্ট ব্লক: হৃদপিন্ডের স্পন্দন প্রবাহ উৎপাদন ত্রুটিপূর্ণ হলে বা উৎপন্ন প্রবাহ সঠিক পথে পরিবাহিত না হলে তাকে হৃদ
অবরোধ বা হার্ট ব্লক বলে ।
হার্ট অ্যাটাক: হৃদপিন্ডের করোনারি ধমনি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে যে রোগ
সৃষ্টি হয় তাকে হার্ট অ্যাটাক বলে ।
হার্ট ফেইলিউর: হৃদপিন্ডের অ্যাট্রিয়াম অথবা ভেন্ট্রিকল অথবা উভয়ের সংকোচন ক্ষমতা লোপ পাওয়াকে হার্ট ফেলিওর
বলে।
 
 
উৎস : হৃদপিণ্ডের যত কথা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৪৪২.
কোনটিকে ব্যাটারি হিসেবে ব্যবহার সম্ভব?
  1. রোধ
  2. রেগুলেটর
  3. ক্যাপাসিটর
  4. ফিউজ
ব্যাখ্যা
• ব্যাটারি: ব্যাটারি হলো এমন একটি উৎস যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে তড়িৎ শক্তি (electrical energy) সরবরাহ করতে পারে।

• ক্যাপাসিটর হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, যা তড়িৎআধান (electric charge) সঞ্চয় করতে পারে।যদিও এটি সত্যিকার অর্থে ব্যাটারি নয়, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাটারির মতো কাজ করতে পারে, বিশেষ করে অস্থায়ী শক্তি সরবরাহে।
- ক্যাপাসিটর বিদ্যুৎ প্রবাহের সময় চার্জ সংরক্ষণ করে রাখে এবং পরে সেটি নির্গত করতে পারে।
-  ক্যাপাসিটরের এই ক্ষমতাকে বলা হয় Capacitive Energy Storage।
-  বিশেষ কিছু সুপারক্যাপাসিটর (Supercapacitor) আছে, যেগুলোকে ছোট আকারের ব্যাটারির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
যেমন: RAM backup, LED flash, Hybrid vehicles ইত্যাদিতে।

অন্যদিকে, 
রোধ (Resistor):  এটি বিদ্যুৎ বাঁধাদান করে, চার্জ সংরক্ষণ করে না। 

রেগুলেটর (Voltage Regulator): এটি নির্দিষ্ট ভোল্টেজ বজায় রাখে, নিজে চার্জ সংরক্ষণ করে না।

ফিউজ (Fuse): এটি বিদ্যুৎ প্রবাহে বেশি কারেন্ট হলে সার্কিট কেটে দেয় — এটি সুরক্ষা যন্ত্র, শক্তি সংরক্ষণ করে না।   


তথ্যসূত্র:
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
- একাদশ-দ্বাদশ – পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র।
৬,৪৪৩.
কোনটি ধনাত্মক আধানযুক্ত?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) কোনটিই না
ব্যাখ্যা

প্রোটন একটি মৌলিক কণিকা। এটি স্থিতিশীল। প্রোটনের আধান ধনাত্মক।
ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু মৌলিক কণা যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে।
নিউট্রন হল একটি অতিপারমাণবিক কণা, এর কোনও বৈদ্যুতিক আধান নেই এবং এর ভর প্রোটন কণার ভরের চেয়ে সামান্য বেশি।
প্রোটন এবং নিউট্রন মিলে পরমাণুর নিউক্লিয়াস গঠন করে।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

৬,৪৪৪.
রিমোট সেন্সিং বা দূর অনুধাবন বলতে কী বুঝায়?
  1. রাডারের সাহায্যে চারদিকের পরিবেশের অবলোকন
  2. রেডিও ট্রান্সমিটার সহযোগে দূর থেকে তথ্য সংগ্রহ
  3. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূমণ্ডলের অবলোকন
  4. কোয়াসার প্রভৃতি মহাজাতিক উৎস থেকে সংকেত অনুধাবন
ব্যাখ্যা
Remote sensing হলো একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে পৃথিবীর পৃষ্ঠ বা অন্য কোনো বস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয় দূরবর্তী অবস্থান থেকে, সাধারণত কোনো সরাসরি সংস্পর্শ ছাড়াই।
- এটি প্রধানত সাটেলাইট(উপগ্রহ) বা বিমানের মাধ্যমে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ (যেমন: আলোক, তাপ, বা রেডিও তরঙ্গ) ব্যবহার করে কাজ করে।

• দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে তিনটি পর্বে বিভক্ত করা যায়:
- কোনো প্লাটফর্মে বসানো সেন্সর থেকে উপাত্ত সংগ্রহ, যেমন: একটি উপগ্রহ,
-  উপাত্ত ব্যবহার এবং
-  উপাত্তের ব্যাখ্যা যা পরীক্ষাকৃত পৃষ্ঠের বিষয়ভিত্তিক মানচিত্র প্রণয়ণে কাজে লাগে।

• তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ ব্যবহারকারী দূর অনুধাবন ব্যবস্থার চারটি উপাদান আছে-
- সূত্র বা উৎস;
- ভূ-পৃষ্ঠের সঙ্গে পারস্পরিক ক্রিয়া;
- বায়ুমন্ডলের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া
- এবং একটি সেন্সর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও নাসা।
৬,৪৪৫.
নিচের কোনটি ধানের ব্লাস্ট রোগের কারন?
  1. ভাইরাস
  2. কৃমি
  3. ছত্রাক
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ব্লাস্ট রোগ:
⇒ কারন:
- ছত্রাক সংক্রমনে হয়।

⇒ লক্ষণ:
১) পাতায় ডিম্বাকৃতির দাগ পড়ে।
২) দাগের চারিদিকে গাঢ় বাদামী এবং মাঝের অংশ সাদা ছাই বর্ণের হয়।
৩) কান্ডের গিঁটে, খোল ও পাতার সংযোগস্থান কালো দাগ সৃষ্টি করে।
৪) শিষের গোড়ায় কালো দাগের সৃষ্টি করে এবং গোড়া পচে যায় এতে চিটা ও অপুষ্ট দানা হয়।

⇒ দমন ব্যবস্থা:
১) জমিতে সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করতে হবে।
২) রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন- বিআর-৩, বিআর-১৪, বিআর-১৫, বিআর-১৬, বিআর-২৪ ইত্যাদি চাষ করা।
৩) রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা ও বীজ শোধন করা।
৪) পটাশ জাতীয় সার উপরি প্রয়োগ করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৪৬.
মোম গলানো কি ধরনের পরিবর্তন?
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন
  2. ভৌত পরিবর্তন
  3. পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন
  4. কোন পরিবর্তন ঘটে না
ব্যাখ্যা
ভৌত পরিবর্তন: যে পরিবর্তনে পদার্থের আণবিক গঠন অপরিবর্তিত থাকে, শুধু ভৌত অবস্থা (যেমন: কঠিন → তরল), আকার বা আয়তন পরিবর্তন হয় তাকে পদার্থের ভৌত পরিবর্তন বলা হয়। ।
উদাহরণ: বরফ গলানো, মোম গলানো, কাগজ কাটা।

মোম গলানো একটি ভৌত পরিবর্তন। 
- এখানে মোমের গলন প্রক্রিয়ায় কেবল তাপের প্রভাবে তার ভৌত অবস্থা (solid → liquid) পরিবর্তিত হচ্ছে।  
- তবে মোমের রাসায়নিক গঠন বা তার মৌলিক উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটছে না।
- তাপ প্রয়োগ করলে মোম গলে আবার তাপ প্রয়োগ বন্ধ করলে মোম পুনরায় কঠিন হয়।  এটি একটি ভৌত পরিবর্তন। 

তথ্যসূত্র: 
- রসায়ন , নবম-দশম শ্রেণী।
৬,৪৪৭.
মানুষের শ্রাব্যতার সীমা কোন কম্পাঙ্কের মধ্যে? 
  1. 10 Hz – 10,000 Hz 
  2. 100 Hz – 30,000 Hz
  3. 50 Hz – 15,000 Hz 
  4. 20 Hz – 20,000 Hz
ব্যাখ্যা

শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ: 
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়। 
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে। 
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে, তাই বলা হয় মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ। 
- অবশ্য সবার শ্রাব্যতার পাল্লা সমান নয়। 
- মানুষ ভেদে এর তারতম্য আছে। 
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো- 


উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪৪৮.
মানুষের প্রধান খাদ্য কী?
  1. আমিষ
  2. চর্বি
  3. শর্করা
  4. ফ্যাটি এসিড
ব্যাখ্যা

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলাে-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, ও অক্সিজেন নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়।
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৬,৪৪৯.
ঘর্ষণের কারণে কোন শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. শব্দ শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. বিদ্যুৎ শক্তি
  4. আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক শক্তি: 
- জেনারেটরে যখন বিদ্যুৎ তৈরি হয় তখন আসলে যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহার করে তারের কুণ্ডলীকে চৌম্বক ক্ষেত্রে ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- ঘর্ষণের কারণে সব সময়ই তাপশক্তি তৈরি হচ্ছে, সেখানে আসলে যান্ত্রিক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

অন্যদিকে, 
- বৈদ্যুতিক ঘন্টায় বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বৈদ্যুতিক মটরে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪৫০.
উদ্ভিদের মূল দ্বারা শোষিত নাইট্রোজেন কোন রূপে শোষিত হয়?
  1. নাইট্রেট
  2. অ্যামোনিয়া
  3. নাইট্রোজেন গ্যাস
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

◉ উদ্ভিদ মাটিতে থাকা নাইট্রোজেন সরাসরি শোষণ করতে পারে না, কারণ বাতাসে উপস্থিত নাইট্রোজেন গ্যাস (N₂) উদ্ভিদের জন্য অপ্রত্যক্ষভাবে ব্যবহারের উপযোগী নয়।
- উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রেট আয়ন (NO₃⁻) এবং কিছু ক্ষেত্রে অ্যামোনিয়াম আয়ন (NH₄⁺) আকারে নাইট্রোজেন শোষণ করে।

উদ্ভিদের মাটি হতে পুষ্টি উপাদান গ্রহণ: 
- ক্যালসিয়াম মাটিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করতে মৌল সাহায্য করে।
- মাটিতে নাইট্রোজেন (N) এর পরিমাণ বৃদ্ধি হয় রাইজোবিয়াম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- মাটিতে নাইটোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড সহ ইত্যাদি বায়ুবীয় পদার্থ উপস্থিত থাকে।
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে নাইট্রোজেন।
- বাতাসের নাইট্রোজেন পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার পরে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
- নাইট্রেট হিসাবে উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ মাটি থেকে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে নাইট্রোজেন।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪৫১.
পারমাণবিক সংখ্যা সমান অথচ ভর সংখ্যা ভিন্ন হলে সেই পরমাণুগুলোর নাম কী?
  1. আইসোটোন
  2. আইসোমার
  3. আইসোবার
  4. আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

• যে পরমাণুগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ বলা হয়। পারমাণবিক সংখ্যা বলতে বোঝায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটনের সংখ্যা, যা পরমাণুর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। অন্যদিকে ভর সংখ্যা হলো প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা। তাই একই পারমাণবিক সংখ্যার পরমাণুতে নিউট্রনের সংখ্যা আলাদা হলে তাদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, কার্বনের দুটি আইসোটোপ—কার্বন-১২ এবং কার্বন-১৪-উভয়েরই প্রোটনের সংখ্যা ৬, কিন্তু কার্বন-১২-এ নিউট্রন সংখ্যা ৬ এবং কার্বন-১৪-এ ৮। ফলে পারমাণবিক বৈশিষ্ট্য একই থাকলেও ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। এই বৈশিষ্ট্য আইসোটোপের মাধ্যমে বোঝা যায়।
 
আইসোবার:
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়।

আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।

আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।

আইসোমার:
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৪৫২.
রেডিও কার্বনের অর্ধায়ু কত বছর?
  1. ক) ৫৫৬৮ বছর
  2. খ) ৪৫৮৬ বছর
  3. গ) ৫৫৭৮ বছর
  4. ঘ) ৫৬৭৮ বছর
ব্যাখ্যা

রেডিও কার্বনের ((carbon-14) অর্ধায়ু 5700 ± 30 বছর।। 

কোনো কোনো পদার্থের স্বাভাবিক পরমাণু তেজষ্ক্রিয় না হলে এদের আইসোটোপসমূহ তেজষ্ক্রিয় পদার্থরূপে আচরণ করতে পারে। এ সকল আইসোটোপকে রেডিও আইসোটোপ বলে।
যে সময়ে কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের মোট পরমাণুর ঠিক অর্ধেক পরিমাণ ভেঙ্গে যায় তাকে ঐ পদার্থের অর্ধায়ু বলে।
অর্থাৎ, যে সময় কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের 'N' সংখ্যক অণু ভেঙ্গে N/2 সংখ্যক হয়, সেই সময় হলো অর্ধায়ু।

The half-life of radiocarbon (14C) is 5700 ± 30 yr, which makes it particularly useful for dating in archaeology.

আবার,
ব্রিটানিকা অনুসারে, অর্ধায়ু 5,730 ± 40 বছর।

উৎস: U.S. Department of Health & Human Services Website and Cambridge ডিকশনারি। 

৬,৪৫৩.
‘বিছা পোকা’র ডিম পাট গাছের কোন অংশে থাকে?
  1. পাতার উপরে
  2. পাতার নিচে
  3. গাছের ডগায়
  4. গাছের কাণ্ডে
ব্যাখ্যা
পাটের বিছা পোকা:
– স্ত্রী মথ পাটের পাতার নিচের/উল্টো দিকে গুচ্ছাকারে ডিম পাড়ে।

⇒ ক্ষতির ধরণ :
ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবার পর থেকে এরা পাতার নিচে থাকে ও পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পর্দার মতো করে ফেলে।
– দলবদ্ধভাবে ৬-৭ দিন থাকার পর এরা গাছের সব পাতায় ছড়িয়ে পড়ে ও সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এ অবস্থায় আক্রান্ত পাতা অনেক দূর থেকে সহজেই চেনা যায়।
– বড় হবার সাথে সাথে এরা সারা মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো পাতা খেয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।
– আক্রমণ বেশি হলে এরা কচি ডগা পর্যন্ত খেয়ে গাছকে পাতাশূন্য বা ডাটাসার করে ফেলে ।ফলে গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও আঁশের ফলন কম হয়।

⇒ দমন পদ্ধতি:
– ফসলের জমির দুই প্রান্ত থেকে কেরোসিন তেলে ভিজানো দড়ি পাট গাছের ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে হবে।
– পাটের বিছা পোকা দমনের জন্য ডায়াজিনন ৬০% ইসি, নূভাক্রন ৪০% ইসি ১.৫ মিলি ঔষধ ১ লিটার পানিতে বা ১৮ মিলি ঔষধ ১২ লিটার পানিতে মিশিয়ে অথবা রিপকর্ড ১০% বা সিমবুশ ১০% ইসি অথবা কারাতে ১.৫ ইসি ৬ মিলি ঔষধ ১২ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
– পাট কাটার পর গভীরভাবে চাষ করলে পুত্তলীগুলো (লার্ভা) উপরে উঠে আসে এবং প্রাকৃতিক শত্রু (যেমন: পাখি) দ্বারা ধ্বংস হয়।

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
৬,৪৫৪.
কোনটির সাহায্যে মানব ভ্রূণ জরায়ুর গাত্রে সংস্থাপিত হয়?
  1. ক) ডিম্বক
  2. খ) ডিম্বাশয়
  3. গ) অমরা
  4. ঘ) ফুস্ফুস
ব্যাখ্যা
- যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃকোষে ভ্রূণ ক্রমবর্ধমান এবং মাতৃ জরায়ুর টিস্যুর সাথে যুক্ত থাকে ও সকল প্রকার পুষ্টি সমগ্রী মায়ের শরীর থেকে ভ্রুণ এ স্থানান্তরিত হয় তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে।

- নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে মাতৃগর্ভে অমরা সৃষ্টি হয় ।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই।
৬,৪৫৫.
বাতাসের চাপ বাড়লে টরিসেলির ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা- 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অর্ধেক হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
টরিসেলির পরীক্ষা: 
- বিজ্ঞানী টরিসেলি 1643 সালে পারদ ব্যবহার করে বাতাসের চাপের পরীক্ষাটি করেছিলেন। 
- তিনি অবশ্য মুখ দিয়ে পারদকে একটি নল বেয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করেননি, তিনি এক মুখ বন্ধ একটা নলের ভেতর পারদ ভরে, নলটি পারদ ভরা একটা পাত্রে উল্টো করে রেখেছিলেন। 

- পারদের উচ্চতা নামতে নামতে ঠিক 76 cm এসে থেমে গেল। 
- চুমুক দিয়ে খাওয়ার সময় মুখের ভেতরে যে শূন্যতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়, কাচের নলের উপরে ঠিক সেই শূন্যতা তৈরি হয়। 
- বাতাস পারদের উপরে চাপ দেয় এবং সেই চাপ তরলের সব জায়গায় সঞ্চালিত হয়ে নলের নিচেও আসে। 
- নলের উপরে কোনো ফুটো নেই, তাই সেদিক দিয়ে বাতাস চাপ দিতে পারছে না। কাজেই সমতা আনার জন্য নলের নিচে এক মাত্র চাপ হচ্ছে 76 cm উচু পারদ স্তম্ভের ওজনের কারণে তৈরি হওয়া চাপ। 
- বাতাসের চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ব্যারোমিটার এবং টরিসেলির এই পদ্ধতি দিয়ে তৈরি ব্যারোমিটারে এখনো বাতাসের চাপ মাপা হয়। বাতাসের চাপ বাড়লে পারদের উচ্চতা 76 cm থেকে বেশি হয়, চাপ কমলে উচ্চতা 76 cm থেকে কমে যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪৫৬.
শব্দের তীব্রতার একক কী?
  1. Hz
  2. N
  3. Wm−2
  4. s−1
ব্যাখ্যা
শব্দের তীব্রতা:
- একটি সুরেলা শব্দ কত জোরে শোনা যাচ্ছে তার পরিমাপ হচ্ছে তীব্রতা । একক ক্ষেত্রফল দিয়ে যে পরিমাণ শব্দ শক্তি যায় তাকে শব্দের তীব্রতা বলে।
-  শব্দের তীব্রতার একক  Wm-2.
- ১ বর্গমিটার ক্ষেত্রফল দিয়ে ১ W পরিমাণ শব্দ শক্তি গেলে তখন শব্দের তীব্রতা ১ Wm-2 হয়।
- জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলহেলম এডুয়ার্ড ওয়েবারের নামানুসারে ওয়েবার (W) বা (Wb) এককের নামকরণ হয়েছে।

অন্যদিকে,
- শব্দের কম্পাঙ্কের একক Hz বা s-1.
- বলের একক N.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি ।
৬,৪৫৭.
মানবদেহের সাধারণ ডায়াস্টোলিক রক্ত চাপ হলো -
  1. ৮০ - ১২০ মি.মি. (পারদ)
  2. ৭০ - ৯০ মি.মি. (পারদ)
  3. ১১০-১৩০ মি.মি. (পারদ)
  4. ৯৮.৪ মি.মি. (পারদ)
ব্যাখ্যা
রক্ত চাপ : রক্ত প্রবাহের সময় ধমনিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রক্তচাপ বলে।

হৃদপিন্ডের সংকোচনশীল অবস্থায় যে সর্বাধিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে সিস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের স্বাভাবিক সিস্টোলিক প্রেসার হলো ১১০-১৩০ মি.মি. Hg গড়ে ১২০ মি.মি।

হৃদপিন্ডের শিথিল অবস্থায় যে সর্বনিম্ন চাপ সৃষ্টি করে তাকে ডায়াস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের ডায়াস্টোলিক প্রেসার হলো ৭০-৯০ মি.মি. (গড়ে ৮০ মি.মি. Hg) রক্ত চাপকে সাধারণতঃ ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৫৮.
রঙিন টেলিভিশনের পর্দায় কোন রঙের ফসফর থাকে?
  1. সবুজ, হলুদ ও সাদা
  2. লাল, হলুদ ও নীল
  3. লাল, কালো ও সাদা
  4. লাল, নীল ও সবুজ
ব্যাখ্যা

• রঙিন টেলিভিশনের পর্দায় লাল, নীল ও সবুজ রঙের ফসফর দানা থাকে।

- রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষুদ্র পরিমাণে রঞ্জন রশ্মি (Radiation) বের হয়।
- পরিমাণ এত ক্ষুদ্র যে উপেক্ষা করা যায়, তবে সচেতন হওয়া ভালো।
- রঙিন টেলিভিশনের মৌলিক যন্ত্রপাতি সাদাকালো টেলিভিশনের সাথে একই, যেমন: ক্যাথোড রে টিউব, ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।
- অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি রঙ প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য ব্যবহার করা হয়
- রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ তিনটি পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে।
- প্রতিটি টিউব শুধুমাত্র তার নির্দিষ্ট রঙের তথ্য ধারণ করে।
- তিনটি রঙের জন্য তিনটি ইলেকট্রন গান (Electron Guns) ব্যবহার করা হয়।
- এগুলি লাল, নীল ও সবুজ ফসফরকে আলোকিত করে।
- টিভির পর্দা তৈরি করা হয় তিন রঙের ফসফর দানা (Red, Green, Blue Phosphor Dots) দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান যখন ফসফরকে আঘাত করে, তখন শুধু নির্দিষ্ট রঙের দানা আলোকিত হয়।
- ইলেকট্রন যখন ফসফরের সাথে আঘাত করে, তখন মৃদু রঞ্জন রশ্মি নির্গত হয়।
- তবে এর পরিমাণ অতি ক্ষুদ্র, তাই সাধারণভাবে নিরাপদ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৬,৪৫৯.
ধনাত্মক কাজ কখন ঘটে? 
  1. যখন বল কাজ করে না
  2. যখন বলের লম্বে সরণ হয়
  3. যখন বল ও সরণ একই দিক নির্দেশ করে
  4. যখন বল ও সরণ বিপরীতমুখী হয়
ব্যাখ্যা
বলের দ্বারা কাজ বা ধনাত্মক কাজ: 
- যদি বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের দিকে সরে যায় বা বলের দিকে সরণের উপাংশ থাকে, তাহলে সেই বল এবং বলের দিকে সরণের উপাংশের গুণফলকে ধনাত্মক কাজ বা বলের দ্বারা কাজ বলে। 
উদাহরণ: 
- একটি বস্তু উপর থেকে মাটিতে ফেলে দিলে বস্তুটি অভিকর্ষ বলের দিকে পড়বে। এক্ষেত্রে প্রযুক্ত বল তথা বস্তুর ওজন mg এবং সরণ s একই দিকে তথা নিচের দিকে হয়; ফলে বস্তুর উপর অভিকর্ষ বল দ্বারা কাজ হয়েছে বা অভিকর্ষ বলের জন্য ধনাত্মক কাজ হয়েছে বোঝায়। 

বলের বিরুদ্ধে কাজ বা ঋণাত্মক কাজ: 
- যদি বল প্রয়োগের ফলে বলের প্রয়োগ বিন্দু বলের বিপরীত দিকে সরে যায় বা বলের বিপরীত দিকে সরণের উপাংশ থাকে তাহলে সেই বল এবং বলের বিপরীত দিকে সরণের উপাংশের গুণফলকে ঋণাত্মক কাজ বা বলের বিরুদ্ধে কাজ বলে। 
উদাহরণ: 
- একখানি বই যদি মেঝে থেকে টেবিলের উপর ওঠানো হয়, তাহলে বস্তুর উপর অভিকর্ষ বল তথা বস্তুর ওজন mg খাড়া নিচের দিকে এবং সরণ s খাড়া উপরের দিকে ক্রিয়া করে। এক্ষেত্রে অভিকর্ষ বল ও সরণ বিপরীতমুখী হওয়ায় অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কাজ করা হবে বা অভিকর্ষ বলের জন্য ঋণাত্মক কাজ হবে। 

শূন্য কাজ: 
- বল প্রয়োগে যদি কোনো বস্তুর সরণ বলের লম্ব বরাবর হয়, তবে ঐ বলের দ্বারা কোনো কাজ হয় না। 
- কেননা, এই ক্ষেত্রে θ = 90° হওয়ায় W = FS cos90° = 0 । 
উদাহরণ: 
- কোনো বস্তুকে বৃত্তাকার পথে ঘোরায় যে কেন্দ্রমুখী বল, তার দ্বারা কোনো কাজ হয় না। কেননা, প্রতি মুহূর্তে বল ব্যাসার্ধ বরাবর কেন্দ্রের দিকে ক্রিয়া করে আর সরণ হয় বৃত্তের স্পর্শক বরাবর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৬,৪৬০.
How many carbon atoms are there in a propane molecule?
  1. 1
  2. 5
  3. 7
  4. 3
  5. 4
ব্যাখ্যা
• প্রোপেনের অণুতে ৩ টি কার্বন পরমাণু থাকে। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:

- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো CnH2n+2 যেখানে n=1,2,3 ইত্যাদি।

• প্রোপেন:
- প্রোপেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। প্রোপেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C3H8
- এটি হলো ৩ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এতে ৩ টি কার্বনের সাথে ৮ টি হাইড্রোজেন পরমাণু একক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৬১.
পারস্পরিক আবেশকে ব্যবহার করা হয়-
  1. ডায়োডে
  2. ট্রানজিস্টারে
  3. অ্যামপ্লিফায়ারে
  4. ট্রান্সফরমারে
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার পারস্পরিক আবেশ নীতিতে কাজ করে। 

পারস্পারিক আবেশ:
- পাশাপাশি স্থাপিত দুটি কুণ্ডলীর মধ্যে একটিতে তড়িৎ প্রবাহ মাত্রার পরিবর্তনের ফলে অপর কুণ্ডলীতে যে তড়িৎচালক বল আবিষ্ট হয় তাকে পারস্পারিক আবেশ বলে।

• পারস্পরিক আবেশের ব্যবহার: 
• রূপান্তরক বা ট্রান্সফরমার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাবৃত্ত বা দিক পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা যায় তাকে রূপান্তরক বা ট্রান্সফরমার বলে।
- তড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা-
১। আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার:
- যে ট্রান্সফরমার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে।
অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার:
- যে ট্রান্সফরমার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।

৬,৪৬২.
আমিষে কোন মৌলের উপস্থিতি নেই?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা

কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এ চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলাে অ্যামাইনাে এসিডে পরিণত হয়। অর্থাৎ বলা যায় একটি নির্দিষ্ট আমিষের পরিচয় হয় কিছু অ্যামাইনাে এসিড দিয়ে।
মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনে এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনাে এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৬,৪৬৩.
পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় শ্রুত শব্দের মূলে তরঙ্গের কোন ধর্ম কাজ করে?
  1. ক) প্রতিসরণ
  2. খ) প্রতিফলন
  3. গ) দোলন
  4. ঘ) প্লবতা
ব্যাখ্যা
তরঙ্গের প্রতিফলন কিংবা প্রতিসরণ হয়। তরঙ্গ এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাবার সময় তরঙ্গের খানিকটা যদি প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে সেটা হচ্ছে প্রতিফলন। তরঙ্গ যখন প্রথম মাধ্যম থেকে দ্বিতীয় মাধ্যমে যায় সেটা হচ্ছে প্রতিসরণ। আমরা যখন শব্দের প্রতিধ্বনি শুনি সেটা হচ্ছে শব্দের প্রতিফলন। পানিতে ডুবে থাকা অবস্থায় যদি বাইরের শব্দ শুনি সেটা হচ্ছে প্রতিসরণ। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৬,৪৬৪.
আসল ও নকল গহনার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) গামা রশ্মি
  2. খ) এক্সরে রশ্মি
  3. গ) আলফা রশ্মি
  4. ঘ) বিটা রশ্মি
ব্যাখ্যা
- আসল ও নকল গহনার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়- এক্সরে রশ্মি

এক্সরে (X-ray)

- নলের যে অংশে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হয় সে অংশ থেকে সবুজাভ হলুদ রং-এর আলোর আভা ছাড়াও এক প্রকার অদৃশ্য রশ্মি বিকিরিত হয়। 
- এই অদৃশ্য রশ্মির প্রকৃত নাম না জানা থাকায় প্রফেসর রঞ্জন এর নামকরণ করেন এক্সরে (X-Rays)।
- একে রঞ্জন রশ্মিও বলে।
- ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনিত হন যে, অধিক গতিসম্পন্ন ইলেকট্রনগুলো কোনো ধাতুর প্রতিবন্ধকে বাধা পেলে গতিশক্তি হারায় এবং এই গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়।
- এক্সরের একক হলো রন্টজেন।
- যে পরিমাণ বিকিরণের জন্য স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় এক মিলিলিটার বায়ুতে এক কুলম্ব আধান উৎপন্ন করতে পারে তাকে এক রন্টজেন বলে।

শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের ব্যবহার
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।
যেমন: 
• আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়
• ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়
• আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়
• ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা
• ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়
• মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়।
• টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৬৫.
একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে কী বলা হয়? 
  1. মৌলের অণু 
  2. মৌলিক কণিকা 
  3. আয়ন 
  4. যৌগের অণু 
ব্যাখ্যা

পরমাণু: 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 
- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়। আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়। 
- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। 
যেমন- O2 । 
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। 
যেমন- CO2 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৪৬৬.
কোন সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সমকোণে অবস্থান করে?
  1. পূর্ণিমার সময়
  2. মুখ্য জোয়ারের সময়
  3. মরা কটালের সময়
  4. ভরা কটালের সময়
ব্যাখ্যা
• চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী যখন সমকোণে অবস্থান করে, তখন তা মরা কটালের সময় ঘটে। এই অবস্থায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে এমন একটি কোণে থাকে, যা সূর্যের সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি কোণ গঠন করে। এর ফলে চাঁদের আকর্ষণ শক্তি সূর্যের আকর্ষণ শক্তির সাথে সরাসরি যোগ হয় না এবং সামুদ্রিক জোয়ার তুলনামূলকভাবে কম থাকে। পূর্ণিমা বা মুখ্য জোয়ার সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সরলরেখায় অবস্থান করে, যা বেশি জোয়ার সৃষ্টি করে। তাই চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর সমকোণ অবস্থানকে মরা কটালের সময় বলা হয়।
- সঠিক উত্তর হলো (গ) মরা কটালের সময়।


জোয়ার-ভাটা:

- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। - সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- জোয়ার-ভাটাকে প্রধান চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
• মুখ্য জোয়ার।
• গৌণ জোয়ার।
• ভরা কটাল।
• মরা কটাল।

মরা কটাল (Neap Tide):
- মরা কটালে চন্দ্র ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়।
- সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না। এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৬৭.
পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত?
  1. ক) ৩,৮৪,০০০ কিমি
  2. খ) ৩,৯৫,০০০ কিমি
  3. গ) ৪,০৫,০০০ কিমি
  4. ঘ) ৪,২০,০০০ কিমি
ব্যাখ্যা

পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আর্বতন করে।
চাঁদের ব্যাস ৩,৪৭৫ কিলোমিটার।
১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (উন্মুক্ত)।

৬,৪৬৮.
ডোপিং করার জন্য কত ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস
: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৬৯.
In human blood plasma, water makes up about what percentage of its volume?
  1. 82%
  2. 65%
  3. 70%
  4. 78%
  5. 92%
ব্যাখ্যা
• রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 

• রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
- লোহিত রক্তকণিকা, 
- শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
- অণুচক্রিকা। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪৭০.
নিচের কোনটি কোষের প্রাণশক্তি হিসাবে পরিচিত?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. রাইবোসোম
  3. নিউক্লিয়াস
  4. প্রোটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা

- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের পাওয়ার হাউজ।
- রাইবোসোম হলো কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
- কোষের মস্তিষ্ক এবং প্রাণশক্তি হলো নিউক্লয়াস।
- জীবনের ভৌত ভিত্তি হলো প্রোটোপ্লাজম।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৬,৪৭১.
বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী কত বছর আগে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ৪.৬ বিলিয়ন
  2. ১০.৫ বিলিয়ন
  3. ১৩.৮ বিলিয়ন
  4. ২০ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে। 

• বিগ ব্যাং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্ব হলো মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য উদ্‌ঘাটনের তত্ত্ব। 

•  অতি সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা গেছে আজ থেকে 13.8 বিলিয়ন বছর বা, 13.8 × 109 বছর  আগে আমাদের এ মহাবিশ্বের উদ্ভব।
- বিগ ব্যাং তত্ত্ব (Big Bang Theory) অনুযায়ী একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র, প্রচণ্ড উত্তপ্ত ও ঘন বিন্দু থেকে মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে।
- তারপর মহাবিশ্ব অবিশ্বাস্য দ্রুতবেগে প্রসারিত হয়েছে এবং ক্রমেই ঠান্ডা হতে হতে বিভিন্ন কণার মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন পদার্থ।
- ক্রমে উপগ্রহ, গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি সবকিছু তৈরি হয়েছে। 

• পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে, অর্থাৎ ৪৫৪ কোটি বছর আগে।
- এই তথ্য ভূতাত্ত্বিক গবেষণার ভিত্তিতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে প্রাচীনতম শিলা ও চন্দ্র এবং উল্কাপিণ্ড থেকে পাওয়া উপাদানের রেডিওঅ্যাকটিভ ডেটিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানা যায়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; ড. শাহজাহান তপন।
৬,৪৭২.
RNA -এর উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) ইউরাসিল
  2. খ) সাইটোসিন
  3. গ) অ্যাডেনিন
  4. ঘ) থায়ামিন
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA):
- RNA এর পুরো নাম Ribo Nucleic Acid।
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়।
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%।
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট।
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত।
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে।
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে। ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে।

ডিএনএ (DNA)
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান। 
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%। এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে।
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে। 
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৭৩.
ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?
  1. ফ্যাদোমিটার
  2. সিসমোগ্রাফ
  3. রিখটার স্কেল
  4. ম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম- সিসমোগ্রাফ।

বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ও তার ব্যবহার:
- বায়ুচাপ মাপার যন্ত্র- ব্যারোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ক যন্ত্র -ফ্যাদোমিটার
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণায়ক যন্ত্র- ল্যাকটোমিটার।
- তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র- থার্মোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণয়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম- সিসমোগ্রাফ।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- রিখটার স্কেল।
- সূক্ষ্ম সময় ও সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় যন্ত্র- ক্রনোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬,৪৭৪.
মানবদেহে আকারে সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘতম হাড়ের নাম কী?
  1. Humerus
  2. Femur
  3. Tibia
  4. Radius
ব্যাখ্যা
◉ ফিমার বা উরুর হাড় মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ হাড়।

ফিমার (Femur):
- এটি মানবদেহের দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম হাড়।
- পায়ের গঠন ও কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ফিমার শরীরের ওজনকে সমর্থন করার জন্য এবং হাঁটা, দৌড়ানো এবং লাফানো সহ বিভিন্ন পায়ের নড়াচড়ার সুবিধার জন্য দায়ী। 
- এর উর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল মস্তক, গ্রীবা ও ছোট-বড় ট্রোকেল্টার অবস্থিত।
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইল বিশিষ্ট।
- ফিমারের মস্তক শ্রোণিচক্রে অ্যাসিটাবুলামের সাথে যুক্ত থাকে।
- এর প্রান্তে প্যাটেল (Patella) নামক চ্যাপ্টা সিগময়েড অস্থি থাকে।
 
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৭৫.
ডিপথেরিয়া রোগে দেহের কোন অংশ আক্রান্ত হয়?
  1. ক) চোখ
  2. খ) ফুসফুস
  3. গ) গলা
  4. ঘ) কিডনি
ব্যাখ্যা
ডিপথেরিয়া রোগে  মানবদেহের গলার অংশ আক্রান্ত হয়। 

- ডিপথেরিয়া হল এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ব্যাধি।
- করিনিব্যাকটিরিয়াম ডিপথেরি নামে ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণ থেকে এই রোগ হয়।
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত এই মারাত্মক রোগ গলা ও নাকের মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- গলার পিছন দিকটা পুরু আস্তরণ দ্বারা ঢেকে যায়, ফলে খাবার খেতে ও গিলতে সমস্যা হয়।
- মাঝে মাঝে শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
-  এই রোগে হৃদপিণ্ড, কিডনি ও মস্তিষ্কের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

লক্ষণ- 
- ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ২-৫ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। অনেকের মাঝে আবার লক্ষণ নাও প্রকাশ পেতে পারে। আবার অনেকের কাছে সাধারণ সর্দির মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- তবে ডিপথেরিয়ার দৃশ্যমান অতি সাধারণ উপসর্গ হচ্ছে গলা ও টনসিলে ধূসর পর্দা পড়া।
- এগুলো ছাড়াও জ্বর, শরীর ঠাণ্ডা হওয়া, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ভীষণ কাশি, গলা ব্যথা, নীলচে ত্বক, লালা ঝরা ইত্যাদি লক্ষণও প্রকাশ পায়।

সূত্র: Centers for Disease Control and Prevention [লিঙ্ক]
৬,৪৭৬.
কোন বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে?
  1. ক) দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমী বায়ু
  2. খ) উত্তর-পূর্ব মহাদেশীয় বায়ু
  3. গ) উত্তর-পশ্চিম অয়ন বায়ু
  4. ঘ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী
ব্যাখ্যা
• বর্ষাকালে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
• সমুদ্র থেকে আগত হওয়ায় এই বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকে। ফলে এই মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
• এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪৭৭.
মেরুদেশীয় ব্যাস ও নিরক্ষীয় ব্যাসের মধ্যে পার্থক্য কত কিলোমিটার?
  1. ২৩ কিমি
  2. ৪৩ কিমি
  3. ৩৩ কিমি
  4. ৫৩ কিমি
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আকার ও আকৃতি (Size and Shape of the Earth):
- ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল, মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথমবারের মতো মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেন।
- তিনি বুঝতে পারেন যে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং কিছুটা চাপা এবং স্ফীত। তার তোলা ছবিতেও পৃথিবীকে গোলাকার দেখা যায়।
- তবে বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি একদম নিখুঁত গোল নয়। বরং এটি কিছুটা চাপা ও স্ফীত হওয়ায় এর প্রকৃত আকৃতি হয় অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)।

•  পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যাস:
- নিরক্ষীয় ব্যাস (পূর্ব-পশ্চিমে) = ১২,৭৫৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় ব্যাস (উত্তর-দক্ষিণে) = ১২,৭১৪ কি.মি.
- মেরুদেশীয় ব্যাস ও নিরক্ষীয় ব্যাসের মধ্যে পার্থক্য = ৪৩ কি.মি.।
- গড় ব্যাস = ১২,৭৩৪.৫ কিমি → প্রায় ১২,৮০০ কিমি (গণনার সুবিধার জন্য)।
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি:
- গড় ব্যাসার্ধ = ৬,৪০০ কি.মি.।
- নিরক্ষীয় পরিধি = ৪০,০৭৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় পরিধি = ৪০,০০৯ কি.মি.।
- গড় পরিধি ≈ ৪০,০০০ কি.মি.।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬,৪৭৮.
ন্যানো উপসর্গ (Prefix)- এর মান কোনটি? 
  1. 10-6
  2. 10-9
  3. 10-12
  4. 10-15
ব্যাখ্যা

- ন্যানো উপসর্গ (Prefix)- এর মান হচ্ছে 10-9 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু SI উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝাতে পারা যায়। 
- কিছু উপসর্গ নিচের টেবিলে দেখানো হয়েছে- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৪৭৯.
p-n জাংশন দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলে-
  1. সম্মুখী ঝোঁকে
  2. মধ্যবর্তী ঝোঁকে
  3. বিপরীতমুখী ঝোঁকে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
p-n জাংশন বা ডায়োড: 
- p-n জাংশন দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলে সম্মুখী ঝোঁকে। 
- একটি p- টাইপ এবং একটি n- টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংযুক্ত করলে সংযোগ পৃষ্ঠকে p-n জাংশন বলে। 
- একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অংশ p- বা n- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য এবং অপর অংশে যথাক্রমে n- বা p- টাইপ সৃষ্টিকারী অপদ্রব্য অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে উচ্চ তাপমাত্রায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- p-n জাংশন মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র একধরনের আধান বাহক অনায়েসে প্রবাহিত হতে পারে কিন্তু বিপরীতধর্মী বাহক প্রবাহিত হতে পারেনা। 
- p-n জাংশনকে জাংশন ডায়োড বলে। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ একমুখীকরণে এবং অনেক ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৮০.
বিভব বৃদ্ধি করলে ট্রান্সফরমারে কী হয়? 
  1. শক্তি হ্রাস পায় 
  2. শক্তি বৃদ্ধি পায় 
  3.  তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় 
  4. তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায় 
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র, এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 
- এই ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 
- স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা বেশি থাকে। অপরদিকে স্টেপ ডাউন ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪৮১.
নিচের কোনটি বায়োম এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. তুন্দ্রা জীবভূমি
  2. মরু জীবভূমি
  3. বন জীবভূমি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বায়োম:- 
- বায়োম বা জীবভূমি হচ্ছে বিস্তৃত পরিসরের প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম বা প্রতিবেশ।
- অর্থাৎ প্রতিবেশের উদ্ভিদের ভিন্নতার জন্য প্রতিটি বৃহৎ বায়োম বা জীবভূমি পৃথক নামে পরিচিত।
- যেমন- বন জীবভূমি, তৃণ জীবভূমি, মরু জীবভূমি, তুন্দ্রা জীবভূমি, স্বাদুপানির বায়োম ও সামুদ্রিক লবণাক্ত পানির জীবভূমি।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু, সূর্যরশ্মির পতন, সমুদ্রের অবস্থান এবং বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানসমূহের ভিন্নতার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক পৃথক বায়োম বা জীবভূমি তৈরি হয়েছে।

উৎস:  পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪৮২.
করোনারি ধমনিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য কোন ওষুধ দেওয়া হয়?
  1. ইনসুলিন
  2. প্যারাসিটামল
  3. নাইট্রোগ্লিসারিন
  4. অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যাখ্যা

করোনারি ধমনিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া হয়।

• হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপেশিতে আঘাত লেগে বুকে ব্যথা ও চাপ সৃষ্টি হয়ে ২০-৪০ মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ ফিরে না আসলে হৃদপেশির মৃত্যু ঘটতে থাকে এবং এরূপ ৬-৮ ঘণ্টা ধরে পেশি মারা যেতে থাকলে তবে হার্ট অ্যাটাক ঘটে থাকে।
- হৃদপেশির আঘাতজনিত কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়।
- যখন হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
-অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিও পালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।


• হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো হলো:
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন,
- রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি,
- উচ্চ রক্ত চাপ,
- তামাক সেবন।

• হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:
- তাৎক্ষণিক ডাক্তারের শরণাপন্য হওয়া ও অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- রক্ত জমাট বাঁধানো প্রতিহত করার জন্য অ্যাসপিরিন দেয়া।
- করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।
- বুকের ব্যথার চিকিৎসা আরম্ভ করা।
- নিয়মিত খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪৮৩.
এক্সরে রশ্মির কোন ধর্মটি সঠিক নয়? 
  1. এক্সরে রশ্মি একটি তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ
  2. এক্সরে রশ্মি সরল পথে গমন করে
  3. এক্সরে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা কম
  4. এক্সরে  রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা

• এক্সরে (X-ray) হলো উচ্চ শক্তিসম্পন্ন এবং ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণ। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অত্যন্ত কম হওয়ায় এর শক্তি ও ভেদন ক্ষমতা (Penetrating Power) অনেক বেশি থাকে।
- এটি কাঠ, মাংসপেশি বা কাগজের মতো অস্বচ্ছ বস্তু খুব সহজেই ভেদ করে চলে যেতে পারে।

• এক্সরে রশ্মির ধর্ম: 
১। এক্সরে রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪ । এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪৮৪.
চাঁদ কত সময়ে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে?
  1. ক) ২৭ দিনে ৪ ঘন্টায়
  2. খ) ২৭ দিন ৮ ঘন্টায়
  3. গ) ২৮ দিন ২ ঘন্টায়
  4. ঘ) ২৯ দিন ৬ ঘন্টায়
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ। চাঁদ ২৭ দিন ৮ ঘন্টায় পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে। এটি পৃথিবীর আয়তনের ৫০ ভাগের একভাগ। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি।
৬,৪৮৫.
বংশগতির দুটি সূত্র দিয়েছেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) ডারউইন
  2. খ) মেন্ডেল
  3. গ) লিনিয়াস
  4. ঘ) হেকেল
ব্যাখ্যা
অস্ট্রিয়ার ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে জেনেটিক্স বা বংশগতির জনক বলা হয়। তিনি দীর্ঘ ৭ বছর ৩৪ প্রকারের মটরশুটি গাছ পরীক্ষা করেন এবং অবশেষে বংশগতির দুটি সূত্র আবিষ্কার করেন।
উৎসঃ উদ্ভিদ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬,৪৮৬.
পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে দূরত্ব কোন এককে মাপা হয়?
  1. নটিক্যাল মাইল
  2. কসমিক ইয়ার
  3. আলোক বর্ষ
  4. আলোক মাইল
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,৪৮৭.
400 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোনো রেডিও স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 1.5m হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?
  1. 450 ms- 1
  2. 580 ms- 1
  3. 600 ms- 1
  4. 700 ms- 1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 400 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোনো রেডিও স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 1.5m হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?

সমাধান:
এখানে,
কম্পাঙ্ক, f = 400 Hz = 400s- 1
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ = 1.5m
তরঙ্গ বেগ, V = ?

আমরা জানি,
V = fλ
= 400s- 1 × 1.5m
= 600 ms- 1
৬,৪৮৮.
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৫ N এবং ৪ N, তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত?
  1. ৩ N
  2. √১১ N
  3. √৪১ N
  4. ১ N
ব্যাখ্যা
দেওয়া আছে,
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৫ N এবং ৪ N
∴ তাদের লব্ধি পরিমাণ = √(৫ + ৪)
= √(২৫ + ১৬)
= √৪১ N
৬,৪৮৯.
কোনটি বায়ু পরাগী ফুল?
  1. কচু
  2. শিমুল
  3. গম
  4. কদম
ব্যাখ্যা
• গম বায়ু পরাগী ফুল।

• পরাগায়ন:

- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর ঐ ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।

• পরাগায়ন দুই প্রকার। যথা:
১. স্ব-পরাগায়ন:
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্বপরাগায়ন বলে।
- উদাহরণ: ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া, শিম, টমেটো, তুলা ইত্যাদি।

২. পর-পরাগায়ন:
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর পরাগায়ন বলে। যথা:

• পতঙ্গ পরাগী ফুল:
পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গিন ও মধু গ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। যথা:
- জবা,
- কুমড়া,
- সরিষা ইত্যাদি।

• বায়ু পরাগী ফুল:
বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। যথা:
- ধান,
- গম,
- ভুট্টা ইত্যাদি।

• পানি পরাগী ফুল:
পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। যথা:
- পাতাশেওলা।

• প্রাণি পরাগী ফুল:
প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। যথা:
- কদম,
- শিমুল,
- কচু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬,৪৯০.
আলোর গতিবেগ সেকেন্ডে:
  1. ১,৮৬,০০০ মাইল
  2. ১,৮৬,০০০ কি.মি
  3. ২,৮৬,০০০ মাইল
  4. ৩,৮৬,০০০ কি.মি
ব্যাখ্যা
আলো: 
- আলো একপ্রকার শক্তি। 
- আলো একধরনের তড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ যা আমাদের চোখে দর্শনের অনুভূতি যোগায়। 
- আলোর কণাকে ফোটন বলে। 
- আলোর বেগ 3×108 ms-1 অর্থাৎ সেকেন্ডে প্রায়  ১,৮৬,০০০ মাইল বা ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড প্রায়। 
- দৃশ্যমান আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি। বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪৯১.
যদি R1 = 4Ω এবং R2 = 2Ω হয়, তাহলে মোট রোধ কত?
  1. 0.75Ω
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: যদি R1 = 4Ω এবং R2 = 2Ω হয়, তাহলে মোট রোধ কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
R1 = 4Ω
R2 = 2Ω

প্রশ্নে উল্লিখিত সার্কিটটি একটি সিরিজ সার্কিট।
তাই, মোট রোধ হবে,

R = R1 + R2
⇒ R = 4Ω + 2Ω
∴ R = 6Ω

সুতরাং, যদি R1 = 4Ω এবং R2 = 6Ω হয়, তাহলে মোট রোধ 6Ω হবে।
৬,৪৯২.
শুক্র গ্রহকে পশ্চিম আকাশে আমরা কীরূপে দেখতে পাই?
  1. শুকতারা
  2. ধ্রুবতারা
  3. সন্ধ্যাতারা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

শুক্র (Venus):
- শুক্র হলো সূর্য থেকে দ্বিতীয় গ্রহ এবং সৌরজগতের ষষ্ঠ বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রহ।
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।
- শুক্রের কোন বলয় নেই।

উল্লেখ্য,
- শুক্র গ্রহকে পৃথিবীর যমজ গ্রহ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- কারণ এটির আকার এবং আকৃতি অনেকটাই পৃথিবীর সাথে মেলে।
- এটির গঠনও অনেকটা একই রকমের।
- শুক্র গ্রহে বিশাল পাহাড়, সমতল ভূমি ও অনেক আগ্নেয়গিরি রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪৯৩.
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য কোনটি?  
  1. গ্লাইকোজেন 
  2. কাইটিন 
  3. শ্বেতসার 
  4. লিপিড 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য: 
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে। 
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না। 
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার। 
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে। 
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে। 

অন্যদিকে, 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪৯৪.
লিটমাস পেপার নীল থেকে লাল হয় কোনটির সংস্পর্শে?
  1.  KOH
  2.  NaCl
  3. NaOH
  4.  HCl
ব্যাখ্যা
• লিট্মাস পেপার:
- লিট্মাস পেপার হলো একধরণের নির্দেশক যা কোন দ্রবণের প্রকৃতি অ্যাসিডিক নাকি ক্ষারকীয় তা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- এসিড নীল লিট্মাস পেপারকে লাল বর্ণে পরিণত করে।
- ক্ষার লাল লিট্মাস পেপার কে নীল বর্ণে পরিণত করে। 

HCl হলো এসিড যা নীল লিট্মাস পেপার কে লাল বর্ণে পরিণত করে।

অন্যদিকে, 
• NaOH ও KOH হলো ক্ষারক যা লাল লিট্মাস পেপারকে নীল বর্ণে পরিণত করে।
• NaCl হলো নিষ্ক্রিয় লবণ যা লিট্মাস পেপারে কোন বর্ণ প্রদর্শন করে না। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৬,৪৯৫.
শিশুদের জন্মের ৯ মাস বয়সে কোন টিকা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়? 
  1. Measles Vaccine
  2. Oral Polio Vaccine
  3. BCG Vaccine
  4. Diphtheria and Tetanus Vaccine
ব্যাখ্যা
- শিশুদের জন্মের ৯ মাস বয়সে 'Measles Vaccine' টিকা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৪৯৬.
ভৌগোলিক অক্ষের সাথে ভূ-চৌম্বক অক্ষ কত ডিগ্রি কোণ করে অবস্থান করে?
  1. ক) ২৫
  2. খ) ২০
  3. গ) ১৫
  4. ঘ) ১৮
ব্যাখ্যা
মুক্তভাবে ঝুলন্ত চৌম্বক শলাকা বা সাধারণ চুম্বকের উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু যথাক্রমে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ এবং উত্তর মেরুর দিকে অবস্থান করে । এজন্য আমরা সাধারণভাবে বলে থাকি যে, ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু ভৌগলিক উত্তর মের−র দিকে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগলিক দক্ষিণ মেরুর দিকে থাকে।

তেমনি ভূ-চুম্বকের উত্তর এবং দক্ষিণ মেরুর সংযোজক রেখাকে ভূ-চৌম্বক অক্ষ বলে। ভৌগোলিক অক্ষের সাথে এই ভূ-চৌম্বক অক্ষ প্রায় ১৮ ডিগ্রি কোণ করে আছে।

যেহেতু মুক্তভাবে ঝুলন্ত সাধারণ চুম্বকের উত্তর ও দক্ষিণ মেরু যথাক্রমে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণ দিক নির্দেশ করে সেজন্য সাধারণ চুম্বকের উত্তর মেরু−কে উত্তর সন্ধানী (North-seeking) মেরু এবং দক্ষিণ মেরু—কে দক্ষিণ সন্ধানী (South-seeking) মেরু বলে। সংক্ষেপে তাদেরকে যথাক্রমে উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরু বলে । অনেকে ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরুকে নীল মেরু (Blue pole) এবং দক্ষিণ মেরুকে লাল মেরু (Red pole) বলে ।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম 
৬,৪৯৭.
ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা কোনটি?
  1. এটির অভাবে রিকেটস রোগ হয়।
  2. এটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়।
  3. এটির অভাবে রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 

- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে।  

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৪৯৮.
প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলতে কী বোঝায়?
  1. পদার্থ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমন
  2. পরমাণু বিভাজনের কৃত্রিম প্রক্রিয়া
  3. নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংযোজনের প্রক্রিয়া
  4. ইলেকট্রনের কক্ষপথ পরিবর্তনের ঘটনা
ব্যাখ্যা

• পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণই প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা।

• তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity):
- আগে ধারণা করা হতো পরমাণু অবিভাজ্য।
- স্যার জে. জে. থমসন (Sir J. J. Thomson) ইলেকট্রন আবিষ্কার করার ফলে বিজ্ঞানীরা পরমাণু সম্পর্কে নতুনভাবে চিন্তা শুরু করেন।
- সর্বপ্রথম স্যার জে. জে. থমসন পরমাণুর একটি মডেল প্রদান করেন।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড (Rutherford) বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নতুন একটি পরমাণু মডেল প্রদান করেন, যা রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল নামে পরিচিত।
- তাঁর মতে, পরমাণুর ধনাত্মক আধানগুলো সর্বত্র ছড়িয়ে না থেকে কেন্দ্রে অতিক্ষুদ্র অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকে।
- এই কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে নিউক্লিয়াস বলে।
- ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে বৃত্তাকার পথে আবর্তিত হয়।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক (Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- নিউট্রনও নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে।

• তেজস্ক্রিয় রশ্মি:
- প্রকৃতিতে কিছু পরমাণু স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদনক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম এ ধরনের পরমাণু।
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এ রশ্মির নাম দেওয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- পরবর্তীতে মাদাম মেরি কুরী (Madame Marie Curie) ও পিয়ারে কুরী (Pierre Curie) তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা করেন।
- বর্তমানে এ রশ্মি তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত।

• তেজস্ক্রিয়তার প্রকারভেদ:
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার—প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা, কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।

• প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা:
- কোনো পদার্থ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা:
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।

• অন্যান্য অপশন:
- পরমাণু বিভাজনের কৃত্রিম প্রক্রিয়া → এটি নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত।
- নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংযোজন → এটি কৃত্রিম রূপান্তরের একটি পদ্ধতি হতে পারে।
- ইলেকট্রনের কক্ষপথ পরিবর্তন → এটি তেজস্ক্রিয়তার সংজ্ঞা নয়, বরং শক্তিস্তর পরিবর্তনের ঘটনা।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৪৯৯.
আলোর কণা তত্ত্ব নিচের কোনটির ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়? 
  1. প্রতিসরণ
  2. প্রতিফলন
  3. বিচ্ছুরণ
  4. সরলরেখায় গমন
ব্যাখ্যা
- আলোর কণা তত্ত্ব প্রতিফলন ও সরলরেখায় গমন সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিতে পারলেও, এটি আলোর প্রতিসরণের ভুল ব্যাখ্যা দেয় এবং বিচ্ছুরণ ও বর্ণালী গঠনের ব্যাখ্যা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়

আলোর প্রকৃতি সম্পর্কীয় বিভিন্ন তত্ত্ব: 

- ষোড়শ শতাব্দী থেকে মূলত আলোর প্রকৃতি সম্পর্কীয় বিজ্ঞানভিত্তিক তত্ত্বসমূহের বিকাশ ঘটে। 
- আলো কিভাবে উৎপত্তি হয়, আলো কিভাবে সঞ্চালিত হয় এবং দীপ্তমান বস্তু থেকে আলো কিভাবে চোখে আসে এ সম্পর্কে এই পর্যন্ত চারটি তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে। 
যথা- ১) কণা তত্ত্ব, ২) তরঙ্গ তত্ত্ব, ৩) তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব এবং ৪) কোয়ান্টাম তত্ত্ব । 

কণা তত্ত্ব: 
- পিয়ের গ্যাসেণ্ডি (Pierre Gassendi) ১৬৬০ সালে আলোর কণা তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- গ্যাসেণ্ডি এবং দেকার্তের গবেষণাসমূহ পর্যালোচনা করে আইজাক নিউটন ১৬৭৫ সালে আলোর কণা তত্ত্ব প্রদান করেন। 
- এই তত্ত্বানুসারে আলো কণা বা Corpuscle (বস্তু কণা) দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয়। 
- আলো কেবল সরল রেখায় গমন করে। 
- নিউটনের তত্ত্ব আলোর প্রতিফলনের ব্যাখ্যা দিতে পারে, কিন্তু প্রতিসরণের ভুল ব্যাখ্যা দেয়। 
- আলোর বিচ্ছুরণ ও বর্ণালী গঠনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 
- অনুমান করা হয় ঘন মাধ্যমে মহাকর্ষ বল বেশি হওয়ায় তার প্রভাবে আলোর কণার ত্বরণ কমে যায়, ফলে গতি পথ বেঁকে যায়। 
- এটি আলোর তরঙ্গ প্রকৃতি প্রদর্শন করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫০০.
বিপাকীয় ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ অপসারণ প্রক্রিয়াকে কি বলে?
  1. রেচন
  2. নিঃসরণ
  3. বিপাক
  4. সংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
- রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়।
- যে সব অঙ্গ রেচন কাজে অংশ গ্রহণ করে তাদেরকে রেচন অঙ্গ বলা হয়। এটি রেচনতন্ত্র নামে পরিচিত।
- রেচনতন্ত্রের মাধ্যমে শতকরা ৮০% রেচন পদার্থ নিষ্কাশিত হয়। বাকি ২০% রেচন পদার্থ বিভিন্ন ক্রিয়াকর্মে উৎপন্ন ও বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়।
- মানবদেহের রেচন অঙ্গের নাম বৃক্ক। আর বৃক্কের একক হলো নেফ্রন।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।