বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৬০ / ১৪০ · ৫,৯০১৬,০০০ / ১৪,০৮০

৫,৯০১.
মানুষকে দুটি শব্দ আলাদাভাবে শুনতে হলে তাদের মধ্যে কমপক্ষে কত সময়ের ব্যবধান থাকা প্রয়োজন? 
  1. 0.01 সেকেন্ড
  2. 0.1 সেকেন্ড
  3. 1 সেকেন্ড
  4. 10 সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

প্রতিধ্বনি: 
- শব্দ একধরনের তরঙ্গ, তাই তার প্রতিফলন হতে পারে। 
- সাধারণত বড় ফাঁকা দালানের ভেতর কথা বললে এক ধরনের গমগম আওয়াজ হয়, যাকে প্রতিধ্বনি বলা হয়। এটি প্রতিফলন ছাড়া আর কিছুই নয়। দালানের ভেতর দূরত্ব বেশি নয় বলে শব্দটা আলাদাভাবে শুনতে পাওয়া যায় না। 
- মানুষ যখন কিছু শুনে তার অনুভূতিটা 0.1s পর্যন্ত থেকে যায়, তাই দুটি শব্দ আলাদাভাবে শুনতে হলে দুটি শব্দের মাঝে কমপক্ষে 0.1s এর একটা ব্যবধান থাকা দরকার। 
- শব্দের বেগ 330 m/s কাজেই 0.1s এর ব্যবধান তৈরি করতে শব্দকে কমপক্ষে 33 m দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। 
- একটি বড় দেয়াল, দালান কিংবা খাড়া পাহাড়ের সামনে কমপক্ষে এই দূরত্বের অর্ধেক দূরত্বে (16.5 m) দাঁড়ালে শব্দটি গিয়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসতে 0.1s সময় লাগবে এবং সেই শব্দের প্রতিধ্বনি মানুষ শুনতে পাবে। 

- বাদুড়ের চোখ আছে, তারপরও তারা ওড়ার সময় শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। বাদুড় ওড়ার সময় তার কণ্ঠ থেকে শব্দ তৈরি করে, সামনে কোনো কিছু থাকলে শব্দটি সেখানে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে, কতক্ষণ পর শব্দটি ফিরে এসেছে সেখান থেকে বাদুড় দূরত্বটা অনুমান করতে পারে। এ জন্য অন্ধকারেও বাদুড় কোথাও ধাক্কা না খেয়ে উড়ে যেতে পারে। 
- বাদুড়ের তৈরি এই শব্দ মানুষ শুনতে পাই না, কারণ শব্দটি আলট্রাসাউন্ড অর্থাৎ আমাদের শ্রুতিসীমার বাইরের কম্পাঙ্কের শব্দ। 
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯০২.
আলফা কণিকার ধর্ম নয় কোনটি?
  1. আয়নিত করার ক্ষমতা কম
  2. ভর 6.6×10-27 kg
  3. ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে
  4. ভেদন ক্ষমতা খুব কম
ব্যাখ্যা
আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:
 
- আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- এর ভর 6.6×10-27 kg.
- ইহা ধণাত্বক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 C.
- এর শক্তি 1MeV বা 1.6x10-13J হতে 9MeV বা 1.44×10-12J পর্যন্ত হয়।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম।
- জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।
 
তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯০৩.
কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. ক) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
  2. খ) আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. গ) মাইকেল ফ্যারাডে
  4. ঘ) ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
কোন কোন ধাতুর উপর আলাে পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয়, একে ফটোতড়িৎ ক্রিয়া বলে।
আলাের তরঙ্গ ধর্মের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা করা যায় না।
১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আলাের কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।
সেজন্য তাঁকে ১৯২১ সালে নােবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯০৪.
নিচের কোনটি আপদ (Hazard)-এর প্রত্যক্ষ প্রভাব?
  1. অর্থনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. পরিবেশগত
  4. অবকাঠামোগত
ব্যাখ্যা
• আপদ (Hazard)-এর প্রত্যক্ষ প্রভাব- অবকাঠামোগত। 

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ অনুসারে,
‘‘আপদ (Hazard) ’’ অর্থ এমন কোন অস্বাভাবিক ঘটনা যাহা প্রাকৃতিক নিয়মে, কারিগরি ত্রুটির কারণে অথবা মানুষের দ্বারা সৃষ্ট হইয়া থাকে এবং ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে এবং জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতিসহ দুঃখ দুর্দশার সৃষ্টি করে।

• আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।

বিভিন্ন ধরনের আপদ:
• প্রাকৃতিক আপদ হল- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি
• মানবসৃষ্ট আপদ হল- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি
• কারিগরি আপদ হল- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি
- মনে রাখতে হবে - ‘আপদ দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের সম্ভাব্য কারণ’। 

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৫,৯০৫.
কোন রশ্মি ধনাত্মক চার্জ বহন করে?
  1. বিটা রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• আলফা রশ্মির বৈশিষ্ট্য:
- আলফা রশ্মি মূলত একটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- আলফা রশ্মি ধনাত্মক চার্জ বহন করে, এর পরিমাণ ৩.২ × ১০- ১৯ কুলম্ব।
- আলফা রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- আলফা রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- আলফা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা কম। সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯০৬.
সূর্য থেকে তাপ পৃথিবীতে কোন প্রক্রিয়ায় আসে? 
  1. প্রতিফলন
  2. পরিচলন
  3. বিকিরণ
  4. পরিবহন
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- সূর্য থেকে তাপ পাওয়া যায়। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কি.মি.। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে। 
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে। 
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে। 
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। 
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গ আকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯০৭.
রাদারফোর্ডের মডেলে পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে কোনটি থাকে? 
  1. ইলেকট্রন ক্লাউড
  2. নিরপেক্ষ কণা
  3. নিউক্লিয়াস, ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র
  4. ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট কণা
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- তাঁর প্রস্তাবগুলো হলো- 
(১) পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র বিদ্যমান যা পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। এর নাম নিউক্লিয়াস। এর আয়তন সমগ্র পরমাণুর আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। 
(২) সকল পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। অতএব, নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে আবর্তন করে। 
(৩) সৌরমন্ডলে গ্রহগুলো যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান তেমনি পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস এবং ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনের মধ্যে পারস্পরিক কেন্দ্রমুখী স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
- এর সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ: 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২. ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বানুসারে চার্জযুক্ত ইলেকট্রন কণা বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান থাকলে তা অবিচ্ছিন্নভাবে (Continuous) শক্তি বিকিরণ করার কথা। এভাবে শক্তি হারাতে থাকলে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে ইলেকট্রনের কক্ষপথ সর্পিলাকারে হ্রাস পেয়ে এক সময় ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে পতিত হবে। 
অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলেরই আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। অথচ পরমাণু হতে ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ বা ইলেকট্রনসমূহের নিউক্লিয়াসে পতন কখনই ঘটে না। 
৩. আবর্তনশীল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পাওয়া যায় না। 
৪. একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ এ মডেলে নেই। 
৫. পরমাণুর বর্ণালী সম্বন্ধে কোনো সুষ্ঠু ব্যাখ্যা এ মডেলে নেই। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯০৮.
নিচের কোন রাশির ধারণা নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র থেকে পাওয়া যায়?
  1. কাজ
  2. শক্তি
  3. জড়তা
  4. ভরবেগ
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটান ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে। 
- এ তিনটি সূত্রকে নিউটনের গতিসূত্র বলা হয়। 

নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র: 
প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 
অর্থাৎ, বাইরে থেকে বল ক্রিয়া না করলে- 
(১) স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং 
(২) গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে চলতে থাকবে। 
- সুতরাং দেখা যায় যে, গতির প্রথম সূত্র বস্তুর জড়তার ধর্ম বিবৃত করে এবং বলের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- স্থির বস্তু সর্বদাই স্থির থাকতে চায় এবং গতিশীল বস্তু সর্বদাই গতিশীল থাকতে চায়, বস্তুর এ প্রবণতাকে জড়তা বলে। এজন্য এই সূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়। 
- সূত্রটিকে অন্যভাবেও বলা যায়, যদি কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করা হয় তাহলে তার গতির পরিবর্তন বা স্থিতি অবস্থার পরিবর্তন হবে না। 
অর্থাৎ, বল প্রয়োগ না করলে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯০৯.
আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ কোনটি?
  1. আলু
  2. ভুট্টা
  3. আফিম
  4. কার্পাস
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯১০.
হাম রোগের জন্য নিচের কোনটি দায়ী?
  1. ক) মোরবিলি ভাইরাস
  2. খ) ভ্যারিওলা ভাইরাস
  3. গ) পলিওমাভাইরাস
  4. ঘ) আলফাভাইরাস
ব্যাখ্যা
হাম রোগের জন্য মোরবিলি ভাইরাস দায়ী।  এই ভাইরাস রক্তকণিকা গলিয়ে দেয় অথবা ভেঙে ফেলে, কোষ নষ্ট করে ইত্যাদি। লক্ষণ প্রকাশের আগে ১০-১৪ দিন পর্যন্ত জীবাণু সুপ্তাবস্থায় থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এ সময় বেশিও হতে পারে।

হাম (Measles)  একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি রোগ। এ রোগের লক্ষণগুলি হচ্ছে জ্বর, শরীরে ব্যথা, হাঁচি, নাক বন্ধ এবং মুখ গহবরের ভিতরে ছোট ছোট দানার উদ্ভব। তৃতীয় বিশ্বে এ রোগ শিশুদের ব্যাপক ভোগান্তি এবং মৃত্যুর কারণ। সপ্তম শতাব্দী থেকে এ রোগের কথা জানা গেছে। অনুন্নত দেশে এ রোগে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ শিশু মারা যায়।

জীবাণুকণিকা বা নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে এ রোগের সংক্রমণ ও বিস্তার ঘটে। শ্বাসনালীর মাধ্যমে এ রোগজীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। তবে চোখের পর্দা বা কনজাংটিভা দিয়েও এ রোগ প্রবেশ করতে পারে। তৃতীয় বিশ্বের শিশুদের মধ্যে এ রোগের হার বেশি এবং অনেক দিন শরীরে জীবাণু বহনের জন্য এ রোগে মৃত্যুর হারও বেশি। একমাত্র টিকার মাধ্যমে মৃত্যুর হার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই ভাইরাস নষ্ট করার কোন ঔষধ নেই। তবে তেমন কোন জটিলতা না থাকলে সম্পূর্ণ বিশ্রামই এ রোগের প্রধান প্রতিষেধক।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৫,৯১১.
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত কয়টি অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত।
যথা -
- প্রােটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও
- নিউক্লিক এসিড।

ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রােটিন আবরণটি হলাে ক্যাপসিড। এ প্রােটিন আবরণটি অসংখ্য প্রােটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রােটিন অণুকে ক্যাপসােমিয়ার (capsomere) বলে।
এ ক্যাপসােমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের।
কোনাে কোনাে প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপােপ্রােটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলােমার (peplomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপপাভাইরাস (lipovirus) বলে।

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড।
নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা DNA (ডি অক্সিরাইবাে নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবাে নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
৫,৯১২.
আয়োডিন পাওয়া যায় কোথায়?
  1. ক) মিউকরে
  2. খ) ছত্রাকে
  3. গ) লাইকেনে
  4. ঘ) শৈবালে
ব্যাখ্যা

- সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- হ্যালোজেন হলো সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক।
- হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন ও আয়োডিন এই ৪ টি মৌলকেই বুঝায়।
- তাই আয়োডিনের প্রধান উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।

৫,৯১৩.
কোন ধাতুর গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম?
  1. লোহা
  2. সোনা
  3. সিসা 
  4. তামা
ব্যাখ্যা

- উল্লিখিত ধাতুগুলোর মধ্যে সিসার গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম। 

গলনাঙ্ক: 

- গলনাঙ্ক হলো সেই তাপমাত্রা যেখানে কোনো কঠিন পদার্থ তরলে রূপান্তরিত হয়।
- ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে এটি নির্ভর করে পরমাণুগুলোর মধ্যে ধাতব বন্ধনের শক্তি এর ওপর।

লোহা (Fe):
- গলনাঙ্ক 1538°C, উচ্চ, শক্তিশালী ধাতব বন্ধন।

সোনা (Au):
- গলনাঙ্ক: 1064°C, মধ্যম মানের গলনাঙ্ক।

সিসা (Pb):
- গলনাঙ্ক: 327°C, সবচেয়ে কম ও সহজে গলে যায়

তামা (Cu):
- গলনাঙ্ক: 1085°C, লোহা এবং সোনার চেয়ে কম, কিন্তু সিসার চেয়ে বেশি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেনি।

৫,৯১৪.
একটি তড়িৎ মোটরের গতি এবং শক্তি বৃদ্ধি করা যায় -
  1. তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে।
  2. কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি কর।
  3. কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মোটর: 
- তড়িৎবাহী তারের উপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ মোটর তৈরি করা হয়। 
- যে তড়িৎ যন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে। 
- ডি. সি মোটর ও এ. সি মোটর নামে দুই ধরনের মোটর তৈরি হয়। 
- একটি ডি.সি. মোটরের বিভিন্ন অংশের নাম নীচে দেয়া হলো - 
১। ক্ষেত্র চুম্বক, 
২। আর্মেচার, 
৩। কম্যুটেটর, 
৪। ব্রাশ এবং 
৫। বহিঃবর্তনী। 

- কুণ্ডলীতে বলরেখার পরিবর্তন হবার কারণে কিছু আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির উদ্ভব হয়। 
- মোটরের গতি এবং শক্তি নিম্নোক্তভাবে বৃদ্ধি করা যায়। 
যথা- 
১। তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে। 
২। কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে। 
৩। শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে। 
৪। কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯১৫.
জলজ শামুক ও ঝিনুকের খোলস কি দিয়ে গঠিত?
  1. ক) সালফেট
  2. খ) কার্বনেট
  3. গ) ফসফেট
  4. ঘ) নাইট্রেট
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকা ৯৮% ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3)।
আগুনের তাপে এই ক্যালসিয়াম কার্বনেট ভেঙ্গে ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুন (CaO) এবং কার্বন-ডাই- অক্সাইড তৈরি হয়।

সূত্রঃ রসায়ন বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৫,৯১৬.
Which specific branch of agriculture is associated with honey production?
  1. Sericulture
  2. Apiculture
  3. Pisciculture
  4. Horticulture
  5. Aquaculture
ব্যাখ্যা

• এপিকালচার বা মৌচাষ হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে মধু এবং মোম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি পালন করা হয়। মৌমাছিরা ফুল থেকে নেক্টার সংগ্রহ করে তা মধুতে রূপান্তর করে, যা এপিকালচারিস্টরা সংগ্রহ করেন।

• এপিকালচার:
- যে পদ্ধতিতে কৃত্রিম ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন করে মৌচাক থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়, তাকে এপিকালচার বলা হয়।

• এটি কৃষির একটি বিশেষায়িত শাখা যেখানে মৌমাছির প্রজনন, পরিচর্যা এবং মধু, মোম, পরাগরেণু, রয়‍্যাল জেলি ও প্রোপোলিসের মতো মূল্যবান পণ্য উৎপাদন সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
- মধু উৎপাদন বা মধু চাষের সাথে সম্পর্কিত শাখা হলো এপিকালচার।
- এটি কৃষি, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মৌমাছি পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।

• এপিকালচারের গুরুত্ব:
→ অর্থনৈতিক উপকারিতা:
- মধু ও মৌমাছির অন্যান্য উপজাত দ্রব্য (যেমন মোম, প্রোপোলিস) বিক্রি করে আয় করা যায়।
- বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের কৃষকদের জন্য এটি একটি লাভজনক পেশা।
→ পরাগায়নে ভূমিকা:
- মৌমাছি ফসলের পরাগায়নে সাহায্য করে, যা কৃষি উৎপাদন ২০-৩০% পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
→ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা:
- মৌমাছি বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
• পিসিকালচার- এটি হলো আধুনিক কৃষির একটি বিশেষ শাখা যেখানে মাছ চাষ, ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ইত্যাদি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• সেরিকালচার- এ শাখায় রেশমকীট পালন ও রেশম উৎপাদন অর্থাৎ রেশম চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• হর্টিকালচার- আধুনিক কৃষির এ শাখায় ফলমূল, শাকসবজি ও ফুলের চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• অ্যাকুয়াকালচার- এ শাখায় মাছ, শেলফিশ, জলজ উদ্ভিদ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- FAO (Food and Agriculture Organization).
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)।

৫,৯১৭.
ফাইজার ও বায়োএনটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ রোগের টিকা কোনটি?
  1. ক) mRNA-1273
  2. খ) Tozinameran
  3. গ) Covishield
  4. ঘ) Vero cells
ব্যাখ্যা
- ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের টিকা হলো Comirnaty (কমিরনাটি) বা Tozinameran. এটির কোডনেম BNT162b2.
- যুক্তরাজ্য প্রথম দেশ হিসেবে এই টিকার অনুমোদন প্রদান ও প্রয়োগ শুরু করে।
অন্যদিকে,
- ভেরোসেল : সিনোফার্মের টিকা
- মডার্নার টিকার নাম : mRNA-1273
- জনসন অ্যান্ড জনসন এর টিকা : Janssen
- গামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের টিকা : Sputnik-V
- সিনোভ্যকের টিকা : করোনাভ্যাক
- ভারত বায়োটেকের টিকা : কোভ্যাক্সিন
- অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা : কোভিশিল্ড।

(তথ্যসূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট)
৫,৯১৮.
নিচের কোন বিক্রিয়াটি ক্যাথোডে সম্পন্ন হয়?
  1. জারণ বিক্রিয়া
  2. বিজারণ বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. সংযোজন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বিজারণ:
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়।
- বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় ক্যাথোডে।

অন্যদিকে,
- জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানোডে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯১৯.
উল্কা ও কসমিক কণার সন্ধান পাওয়া গেছে বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে?
  1. ক) এক্সোমণ্ডলের উর্ধ্বস্তরে
  2. খ) স্ট্রাটোমণ্ডলের উর্ধ্বস্তরে
  3. গ) ট্রপোমণ্ডলের উর্ধ্বস্তরে
  4. ঘ) আয়নোমণ্ডলের উর্ধ্বস্তরে
ব্যাখ্যা
- মেসোবিরতির উপরের অংশ থেকে তাপমণ্ডল শুরু হয়।
- মেসোপজের উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমন্ডল বলে।
- এই মণ্ডলে বায়ুস্তর অত্যন্ত হালকা ও চাপ ক্ষীণ।
- তাপমণ্ডল মেসোমণ্ডল হতে উপরের দিকে যথাক্রমে আয়নোস্ফিয়ার, এক্সোস্ফিয়ার ও ম্যাগনিটোস্ফিয়ার নামক তিনটি স্তরে বিভক্ত।
- তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল বলে।
- বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় আয়নোস্ফিয়ারে।
- বায়ুমণ্ডলের আয়নোমণ্ডলের উর্ধ্বস্তরে উল্কা ও কসমিক কণার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
৫,৯২০.
কার্বন- কার্বন দ্বিবন্ধন দেখা যায় কোন সমগোত্রীয় শ্রেণিতে?
  1. অ্যালকেন
  2. অ্যালকিন
  3. অ্যালকাইন
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
• অ্যালকিন (Alkene):
- এটি এমন একটি হাইড্রোকার্বনের সমগোত্রীয় শ্রেণি, যেখানে অন্তত একটি কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন (C=C) বিদ্যমান থাকে।
- সাধারণ সূত্র: CnH2n
- উদাহরণ:
- ইথিন (C₂H₄) → CH₂=CH₂
- প্রোপিন (C₃H₆) → CH₂=CH–CH₃

অন্যদিকে,
- অ্যালকেন হলো সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন, যেখানে কার্বন-কার্বনের মধ্যে শুধুমাত্র একক বন্ধন (C–C) থাকে।
- অ্যালকাইন শ্রেণির যৌগগুলোতে কার্বন-কার্বনের মধ্যে ত্রিবন্ধন (C≡C) থাকে।
- অ্যালকোহল হলো এমন যৌগ, যেখানে –OH (হাইড্রক্সিল) গ্রুপ যুক্ত থাকে।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৯২১.
রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়-
  1. গামা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. রঞ্জন রশ্মি
  4. কসমিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
• রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রঞ্জন রশ্মি বের হয়।

- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।
- টিভির পর্দায় ফসফর থাকে, ইলেকট্রন যখন এই ফসফরকে আঘাত করে তখন এখান থেকে মৃদু রঞ্জনরশ্মি নির্গত হয়, এটার পরিমাণ এতই ক্ষুদ্রতর যা উপেক্ষা করা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯২২.
মায়ের দুধে কোন ধরনের ইমিউনোগ্লোবিউলিন পাওয়া যায়?
  1. IgG
  2. IgA
  3. IgE
  4. IgM
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবডি: 
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত।
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG), 
২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA), 
৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM), 
৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD) এবং 
৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE) । 

ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA । 
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে। 
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেছে স্থানান্তরিত হয়

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

৫,৯২৩.
মহাজাগতিক রশ্মি কী? 
  1. সূর্যের আলো
  2. পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র
  3. মহাশূন্য থেকে আগত উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণা 
  4. বেতার তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- মহাজগতিক রশ্মি ইংরেজি হলো Cosmic rays. 
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বা Cosmic rays বলা হয়। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হলো মহাজাগতিক। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

৫,৯২৪.
সম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে কোনটি ঘটে?
  1. দ্রবণের ঘনমাত্রা কমে
  2. দ্রবণের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পায়
  3. দ্রাবকের শতকরা পরিমাণ শূন্য হয়
  4. দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না
ব্যাখ্যা
সম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

• দ্রবণ:
- দ্রবণ হলো একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যেখানে দুটি বা ততোধিক পদার্থ সমানভাবে একে অপরের সাথে মিশ্রিত থাকে।

• দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Solution):
ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন-
i. সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution)।
ii. অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution)। 
iii. অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution)। 

• সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়।

• সম্পৃক্ত দ্রবণের বৈশিষ্ট্য:  
- একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে, দ্রাবকে দ্রবীভূত দ্রবের সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যমান থাকে।
- অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
- অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে তা অদ্রবীভূত অবস্থায় থেকে যায় । 
- যদি তাপমাত্রা পরিবর্তন করা হয়, তবে দ্রাবকের দ্রবণ ক্ষমতা পরিবর্তন হতে পারে এবং দ্রবণটি সম্পৃক্ত নাও থাকতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯২৫.
সেমিকন্ডাক্টর কয় প্রকারের হয়ে থাকে ?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
সেমিকন্ডাক্টর ২ প্রকারে হয়ে থাকে । 
১। ইন্ট্রিন্সিক বা অন্তর্জাত সেমিকন্ডাক্টর : এ সকল সেমিকন্ডাক্টর এ কোন অপদ্রব্য মেশানো হয় না।
২। এক্সট্রিন্সিক বা বহির্জাত সেমিকন্ডাক্টর : এ সকল সেমিকন্ডাক্টর অতিসামান্য অপদ্রব্য নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে মেশানো হয় । পর্যায় সারণির ৩য় বা পঞ্চম সারির মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হয়।
৫,৯২৬.
আমরা কোন ছায়াপথে বাস করি?
  1. ক) এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
  2. খ) মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি
  3. গ) ক্যানিস মেজর ডর্ফ গ্যালাক্সি
  4. ঘ) ভার্গো এ গ্যালাক্সি
ব্যাখ্যা
আমাদের সোলার সিস্টেমের অবস্থান Milky Way বা আকাশ গঙ্গা নামক ছায়াপথে। অর্থাৎ, আমরা মানুষরা এই আকাশ গঙ্গা ছায়াপথে বাস করি। এই ছায়াপথে প্রায় 1011 সংখ্যক নক্ষত্র রয়েছে৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫,৯২৭.
দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় কোন খনিজ পদার্থটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে?
  1. ক) সিলিকা বালি
  2. খ) কঠিন শিলা
  3. গ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. ঘ) ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
- রেলপথ, রাস্তাঘাট, গৃহ, সেতু ও বাঁধ নির্মাণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কাজে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়। 
- রংপুর জেলার রানীপুকুর ও শ্যামপুর এবং দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 
 
(রেফারেন্সঃ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিভাগ)
৫,৯২৮.
পেরিস্কোপ তৈরিতে কতটি দর্পণ ব্যবহার করা হয়? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫,৯২৯.
আইনস্টাইনের বিখ্যাত সূত্র E = mc2 এর ‘c’ দ্বারা কি বুঝায়?
  1. আলোর ভর
  2. আলোর বেগ
  3. পদার্থে সঞ্চিত শক্তি
  4. বস্তুর ভর
ব্যাখ্যা
E = mc2 সূত্রের আবিষ্কারক আলবার্ট আইনস্টাইন।
যেখানে, E = শক্তি, m = ভর, c = আলাের বেগ।
১৯০৫ সালে তিনি দেখান যে, পদার্থ এবং শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন। পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়।
একে আইনস্টাইনের 'থিওরি অফ রিলেটিভিটি' বা 'আপেক্ষিকতাবাদ' বলা হয়।
৫,৯৩০.
বিগ ব্যাংগ তত্ত্বের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. ক) একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে
  2. খ) একই সময়ে সকল স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে
  3. গ) বিভিন্ন সময়ে একই স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে
  4. ঘ) বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাংগ তত্ত্বের ক্ষেত্রে একই সময়ে সকল স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে সত্য।
- জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে।
- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, গ্যালাক্সিসমূহ পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদুর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরস্পরের খুব কাছাকাছি ছিল।
- অর্থাৎ কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুর করে।
- এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত বা বিগ ব্যাংগ তন্তু।
- সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়।
- অর্থাৎ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৩১.
‘RADAR’ শব্দটির পূর্ণরূপ কী? 
  1. Radio Data And Response
  2. Radio Direction And Ranging
  3. Radio Detection And Ranging
  4. Radio Detection And Response
ব্যাখ্যা
RADAR: 
- 'RADAR' শব্দটির পূর্ণরূপ হচ্ছে Radio Detection And Ranging
- এটি এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে দূরবর্তী কোনো বস্তুর উপস্থিতি, দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করা যায়। 
- রাডার হলো এমন একটি কৌশল বা ব্যবস্থা যার সাহায্যে রেডিও প্রতিধ্বনির মাধ্যমে কোন বস্তুর উপস্থিতি জানা যায়। 
- যুদ্ধে শত্রু বিমানের উপস্থিতি ও গতিবিধি, বিমানের পথ নির্দেশ, ঝড়ের পূর্বাভাস ইত্যাদি কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- ১৯২২ সালে এ.এইচ. টেলর এবং লিও সি ইয়ং রাডার উদ্ভাবন করেন। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৩২.
কোনো সংরক্ষণশীল বলের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কোনটি সত্য নয়?
  1. বলের কাজ পথ নিরপেক্ষ
  2. বলের কাজ বন্ধ বৃত্তে শূন্য
  3. বলের দ্বারা শক্তি সৃষ্টি হয়
  4. বলের জন্য বিভবশক্তি সংজ্ঞায়িত করা যায়
ব্যাখ্যা

• সংরক্ষণশীল বল (Conservative Force):
- কোনো বস্তু একটি পূর্ণচক্র সম্পন্ন করে আদি অবস্থানে ফিরে আসলে, ঐ বস্তুর উপর প্রযুক্ত বল দ্বারা কাজের পরিমাণ শূণ্য হয় ঐ বলকে সংরক্ষণশীল বলা হয়ে থাকে। 

বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- সংরক্ষণশীল বলের ক্ষেত্রে, বল দ্বারা করা কাজ কেবল শুরু ও শেষ বিন্দুর উপর নির্ভর করে, পথে নয়।
- উদাহরণ: মাধ্যাকর্ষণ বল, স্থিরচাপীয় স্প্রিং বল।
- যদি কোনো কণা সম্পূর্ণ বন্ধ বৃত্তে চলে, তবে কাজ শূন্য হবে।
- সংরক্ষণশীল বল শুধুমাত্র শক্তি স্থানান্তর করে, সৃষ্টি করে না।

উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ- শ্রেণি।

৫,৯৩৩.
কোনটির অভাবে উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে?
  1. ফসফরাস
  2. নাইট্রোজেন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. বোরন
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেনের অভাবে উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 

• উদ্ভিদের পুষ্টি:
- উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য মাটি, বায়ু এবং পানি থেকে কতগুলো উপাদান গ্রহণ করে। এ উপাদানগুলোর অভাবে উদ্ভিদ সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারে না। এ উপাদানগুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলা হয়।

• এ সকল পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশই উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টি বলা হয়।
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
- এদের যেকোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদে তার অভাবজনিত লক্ষণ (deficiency symptoms) দেখা দেয় এবং পুষ্টির অভাবজনিত রোগের সৃষ্টি হয়।
- একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের কাজ অপরটি দিয়ে সম্পন্ন হয় না।

• নাইট্রোজেন (N):
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে।
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

অন্যদিকে,
• ফসফরাসের অভাবে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
• ক্যালসিয়ামের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঞ্চল গুলো শুকিয়ে মরে যায়।
• বোরনের অভাবে পাতার বৃদ্ধি কমে যায়। পাতা বিকৃত হয় ও ফলের কুঁড়ি সৃষ্টি ব্যাহত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
৫,৯৩৪.
দেহের প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে কোনটি? 
  1. আমিষ
  2. হরমোন 
  3. এনজাইম
  4. অ্যান্টিবডি 
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE । 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৩৫.
নিচের কোনটি জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস? 
  1. র‍্যাবিস ভাইরাস 
  2. অ্যাডিনো ভাইরাস 
  3. ফ্ল্যাভি ভাইরাস 
  4. ভেরিওলা ভাইরাস 
ব্যাখ্যা

- জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস হচ্ছে- র‍্যাবিস ভাইরাস। 

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 
- বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম নিম্নের ছকে দেওয়া হলো- 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৩৬.
রক্তে উপস্থিত কোন কণিকা ফুসফুস থেকে শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন বহন করে নিয়ে যায়?
  1. মনোসাইট
  2. লিম্ফোসাইট
  3. ইওসিনোফিল
  4. এরিথ্রোসাইট
ব্যাখ্যা

এরিথ্রোসাইট (লোহিত রক্তকণিকা) এর প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে সারা শরীরে অক্সিজেন পরিবহন করা।

এরিথ্রোসাইট (লোহিত রক্ত কণিকা):
- এরিথ্রোসাইট বা লোহিত রক্তকণিকা হলো মানবদেহের অন্যতম প্রধান রক্তকণিকা, যা রক্তের মোট আয়তনের প্রায় ৪৫% দখল করে।
- এর প্রধান কাজ হলো হিমোগ্লোবিন নামক লৌহযুক্ত প্রোটিনের সাহায্যে ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেওয়া।
- লোহিত রক্ত কণিকার আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

উল্লেখ্য:
- মনোসাইট, লিম্ফোসাইট, ইওসিনোফিল:
- এই তিনটিই হলো শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cell/Leucocyte) এর প্রকারভেদ। এদের প্রধান কাজ হলো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া (যেমন: জীবাণু ভক্ষণ বা অ্যান্টিবডি তৈরি করা)।
- এরা অক্সিজেন পরিবহনে সরাসরি যুক্ত নয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫,৯৩৭.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ কোনটি?
  1. লাইকেন
  2. ফার্ন
  3. জিমনোস্পার্ম
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তুন্দ্রা:
- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা।
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে।
- দীর্ঘ শীতের সময় তুন্দ্রা অঞ্চলে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়।
- এখানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে।
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন।
- এখানে বৃক্ষ প্রজাতি কম।
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৩৮.
এক ঘনমিটার গ্যাসের আয়তন = কত?
  1. 103 cm3
  2. 109 cm3
  3. 107 cm3
  4. 106 cm3
ব্যাখ্যা
গ্যাসের আয়তন (Volume of Gas): 
- গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই নগণ্য হওয়ায় যে পাত্রে গ্যাসকে রাখা হয় সে পাত্রকে গ্যাস পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাস রাখা হয় গ্যাস অণুগুলো কর্তৃক দখলকৃত আয়তনকে ঐ গ্যাসের আয়তন বলা হয়। 
- প্রকৃত পক্ষে গ্যাস রক্ষিত পাত্রের আয়তনকে গ্যাসের আয়তন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- গ্যাসের আয়তনকে SI এককে ঘনমিটার (Cubic metre) বা m3 এ প্রকাশ করা হয়। 
- এছাড়া ঘন ডেসিমিটার (Cubic decimetre) বা dm3 এবং ঘন সেন্টিমিটার (Cubic Centimetre) বা cm3 এ প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- 1 m3 = 1000 L = 103 dm3 = 106 cm3

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৩৯.
ডেঙ্গু হলে শরীরে রক্তের কোন উপাদানটি কমে যায়?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. অণুচক্রিকা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু:
- ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা।
- Aedes Aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়।
- এছাড়াও এডিস এলবোপিকটাস মশার কামড়েও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে।
- ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।

⇒ ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ:
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে রক্ত কণিকার অনুচক্রিকা উপাদানের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে।
- ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।
- জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যাথা এবং চর্মে ফুসকুড়ি।

উৎস: i) বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) BBC.
৫,৯৪০.
নিচের কোনটি স্কেলার রাশি?
  1. দৈর্ঘ্য
  2. সরণ
  3. বল
  4. ত্বরণ
ব্যাখ্যা

• দৈর্ঘ্য একটি স্কেলার রাশি; কারণ এর শুধুমাত্র মান আছে, দিক নেই।

• ভেক্টর রাশি ও স্কেলার রাশি:
- ভৌত রাশি হলো এমন পরিমাপযোগ্য ভৌত বৈশিষ্ট্য যা মান দ্বারা প্রকাশ করা যায়।
- ভৌত রাশিকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে — স্কেলার রাশি ও ভেক্টর রাশি।

• স্কেলার রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়।
- স্কেলার রাশি প্রকাশের জন্য কেবল সংখ্যামান ও একক প্রয়োজন হয়।
- উদাহরণ: দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা।

• ভেক্টর রাশি:
- যেসব ভৌত রাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়।
- ভেক্টর রাশি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে মান ও দিক উভয়ই উল্লেখ করতে হয়।
- উদাহরণ: সরণ, বেগ, ত্বরণ, বল।

• ভেক্টর রাশির ধর্ম:
- ভেক্টর রাশির মান ও দিক আছে।
- সমজাতীয় ভেক্টরসমূহকে যোগ করা যায়।
- ভিন্ন প্রকৃতির ভেক্টর যোগ করা যায় না।
- দুটি ভেক্টর রাশির ভেক্টর গুণফল একটি ভেক্টর রাশি।
- দুটি ভেক্টর রাশির স্কেলার গুণফল একটি স্কেলার রাশি।
- ভেক্টরের যোগ, বিয়োগ, গুণ সাধারণ গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে না।
- ভেক্টর রাশিকে উপাংশে বিভক্ত করা যায়।

• অন্যান্য অপশন:
- সরণ: মান ও দিক উভয়ই আছে।
- বল: মান ও দিক উভয়ই আছে।
- ত্বরণ: মান ও দিক উভয়ই আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৪১.
কোন পদার্থটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়?
  1. কর্পূর
  2. নিশাদল
  3. মোম
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা
- মোম পদার্থটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়। 

গলন: 
- কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে তরল অবস্থায় পরিবর্তিত করার প্রক্রিয়াকে গলন বলা হয়। 
যেমন- কঠিন মোমকে তাপ দেয়ার ফলে তা গলে তরল মোমে পরিণত হয়। 
- কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ হলে এটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলতে আরম্ভ করে এবং গলন যতক্ষণ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে। 
- এরূপ যে স্থির তাপমাত্রায় কোনো বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে তাকে ঐ কঠিন পদার্থের গলনাংক বলে। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে অপদ্রব্য বা ভেজাল মিশ্রিত থাকলে উহা অপেক্ষাকৃত নিম্ন তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে। 

উর্ধ্বপাতন: 
- পদার্থের সাধারণ পরিবর্তনের ধারাক্রম হলো তাপের প্রভাবে কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তর। 
- কিন্তু এমন কিছু পদার্থ আছে যাদেরকে তাপ দিয়ে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- এক্ষেত্রে কঠিন থেকে বাষ্প এবং বাষ্প থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার সময় পদার্থ তার মধ্যবর্তী তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয় না, যাদের উদ্বায়ী পদার্থ বলে। 
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। 
যেমন- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৪২.
বিক্রিয়াগুলোর মধ্যে কোনটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়া?
  1. C(s) + O2(g) → CO2(g)
  2. H2(g) + I2(g) → 2HI(g)
  3. C(s) + 2S(s) → CS2(l)
  4. N2(g) + O2(g) → 2NO(g)
ব্যাখ্যা

C(s) + O2(g) → CO2 (g) বিক্রিয়াটি একটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়া। 

তাপোৎপাদী ও তাপহারী বিক্রিয়া
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ΔH এর মান ঋণাত্মক এবং তাপহারী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ΔH এর মান ধনাত্মক চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

ক) তাপোৎপাদী বিক্রিয়া (Exothermic Reaction)
- এ জাতীয় রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপের উদ্ভব ঘটে।
- বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি তাপ উৎপন্ন হয়।
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় বিধায় বিক্রিয়ার মিশ্রণের তাপমাত্রা ও বিক্রিয়ার পাত্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- এক্ষেত্রে উৎপাদের মোট এনথালপি বিক্রিয়কের মোট এনথালপি অপেক্ষা কম হয়। এ কারণে তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔΗ ঋণাত্মক (negative) হয়।
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান অপেক্ষা উৎপাদের অভ্যন্তরীন শক্তির মান কম হয়।
- অর্থাৎ, বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি > উৎপাদের অভ্যন্তরীন শক্তি।
- উদাহরণ: C(s) + O₂(g) → CO₂(g); ΔH = - 393.50 kJ

খ) তাপহারী বিক্রিয়া (Endothermic Reaction)
- যেসব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপের শোষণ ঘটে, সেগুলোকে তাপহারী বিক্রিয়া বলে।
- পানিতে কঠিন পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO₃) যোগ করলে দ্রবণ ঠান্ডা হয়ে যায়। এ সকল ক্ষেত্রে তাপ শোষণ ঘটে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়াতে শোষিত তাপের পরিমাণ যদি q হয়, তবে সমীকরণের ডানদিকে ধনাত্মক চিহ্ন দিয়ে লেখা হয়।
- উদাহরণসমূহ:
1. H₂(g) + I₂(g) → 2HI(g); ΔH = +53 kJ
2. C(s) + 2S(s) → CS₂(l); ΔH = +89.70 kJ
3. N₂(g) + O₂(g) → 2NO(g); ΔH = +180.50 kJ
- তাপহারী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান অপেক্ষা উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান উচ্চ হয়। অর্থাৎ, উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি > বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৪৩.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত মিউসিন কী কাজ করে?
  1. খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি করে
  2. খাদ্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়
  3. জিহ্বার সংবেদনশীলতা বাড়ায় 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখবিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত 'মিউসিন' খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর 'টায়ালিন ও মল্টেজ' এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৪৪.
রক্তনালীর ভিতরে রক্ত জমাট বাধতে দেয় না -
  1. ক) ভিটামিন কে
  2. খ) হেপারিন
  3. গ) হিমোগ্লোবিন
  4. ঘ) বিলিরুবিন
ব্যাখ্যা

রক্তবাহিকার অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না, কারণ সেখানে হেপারিন নামে এক পদার্থ সংবহিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।

৫,৯৪৫.
পর পর একটি জোয়ার ও একটি ভাটার মধ্যবর্তী সময় ব্যবধান কত?
  1. ক) ১২ ঘন্টা
  2. খ) ৬ ঘন্টা
  3. গ) ২৪ ঘন্টা
  4. ঘ) ৩ ঘন্টা
ব্যাখ্যা

চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি প্রভৃতি কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য জায়গায় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা হয়। উপকূলের কোনো স্থানে পর পর দুইটি জোয়ার কিংবা পর পর দুইটি ভাটার মধ্যবর্তী সময় ব্যবধান ১২ ঘন্টা। জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা পরে হয় ভাটা।

সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৫,৯৪৬.
পানি বরফে পরিণত হলে কি ঘটবে?
  1. ঘনত্ব বেড়ে যাবে
  2. আয়তন বেড়ে যাবে
  3. ভর কমে যাবে
  4. আয়তনের পরিবর্তন ঘটবে না
ব্যাখ্যা
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।

Source: britannica.com
৫,৯৪৭.
আলোর প্রতিফলন কয়টি সূত্র মেনে চলে?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
আলোর প্রতিফিলন দুইটি সূত্র মেনে চলে। 
যথা-
১. আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
২. আপতন কোন এবং প্রতিফলন কোণ পরস্পর সমান হয়।

আলোর প্রতিফলন : আলোক রশ্মি যখন কোন স্বচ্ছ ও সমসত্ব মাধ্যম থেকে এসে অন্য এক মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হয়, তখন ওই আলোক রশ্মির কিছু অংশ দ্বিতীয় মাধ্যমের তল থেকে দিক পরিবর্তন করে আবার প্রথম মাধ্যমের ফিরে আসে, একে আলোর প্রতিফলন বলে।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৪৮.
কোনটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে?
  1. Voltmeter
  2. Ammeter
  3. Diode
  4. Transistor
ব্যাখ্যা
• ডায়োড (গ) মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। রেকটিফায়ার এমন একটি ডিভাইস যা AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current) তে রূপান্তর করে। ডায়োডের একমুখী পরিবাহিতার বৈশিষ্ট্য আছে, অর্থাৎ এটি কেবল এক দিক দিয়ে কারেন্ট প্রবাহিত করতে দেয় এবং অপর দিক থেকে প্রতিরোধ করে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে, ডায়োডকে পূর্ণ তরঙ্গ বা অর্ধ তরঙ্গ রেকটিফায়ার সার্কিটে ব্যবহার করে AC কারেন্টকে DC তে রূপান্তর করা হয়। অন্যদিকে, ভল্টমিটার ও অ্যামিটার বিদ্যুৎ পরিমাপক যন্ত্র এবং ট্রানজিস্টর মূলত অ্যাম্প্লিফায়ার বা সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, রেকটিফায়ার নয়।

ডায়োড:

- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৪৯.
সূর্য যে ছায়াপথে রয়েছে তার নাম কী?
  1. অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
  2. ট্রায়াঙ্গুলাম গ্যালাক্সি
  3. মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি
  4. ক্যানিস মেজর ডোয়ার্ফ গ্যালাক্সি
ব্যাখ্যা
ছায়াপথ:
- অন্ধকার আকাশে এদের উজ্জ্বল দীপ্তি দীর্ঘপথের মতো দেখায়।
- একটি ছায়াপথ লক্ষ কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি।
- শীতকালে রাত্রিবেলা পরিষ্কার আকাশে লক্ষ করলে উত্তর-দক্ষিণে বেশ বড় পরিসরযুক্ত তেজোদ্দীপ্ত স্বচ্ছ দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যায়।
- তারকা খচিত এই আলোর পথই হলো ছায়াপথ।
- বিজ্ঞানীরা একে বিরাট চক্রাকার মন্ডল বলে অনুমান করেন।
- সৌরজগৎ এরকম একটি ছায়াপথের অন্তর্গত।

মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি (Milky Way Galaxy)
- মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি হলো একটি বৃহৎ সর্পিল (spiral) গ্যালাক্সি, যেখানে কয়েকশো বিলিয়ন তারা রয়েছে, যাদের একটি হলো আমাদের সূর্য।
- এর নাম এসেছে আকাশে দেখা একটি অস্পষ্ট আলোকিত রেখা থেকে, যেটি অসংখ্য তারা ও গ্যাস মেঘের সমষ্টি — যেটিকে আমরা পৃথিবী থেকে “মিল্কি ওয়ে” নামে দেখি।
- যদিও পৃথিবী নিজেই এই গ্যালাক্সির ভেতরে অবস্থিত, তবুও এর সম্পূর্ণ গঠন বিজ্ঞানীরা পুরোপুরি জানেন না, কারণ গ্যালাক্সির বিশাল অংশ মহাকাশের ধূলিকণায় ঢাকা থাকে, যা সাধারণ টেলিস্কোপ দিয়ে দেখা কঠিন।
- তবে রেডিও ও ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই গ্যালাক্সির বড় কাঠামো সম্পর্কে জানতে পারেন।
- এই টেলিস্কোপগুলো এমন ধরনের রশ্মি শনাক্ত করতে পারে, যেগুলো ধূলিকণার বাধা পেরিয়ে আমাদের কাছে পৌঁছায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
Britannica.
৫,৯৫০.
সফট ড্রিংক্সে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ডিডিটি
  2. খ) সরবেট
  3. গ) কার্বাইড
  4. ঘ) ফরমালিন
ব্যাখ্যা
সফট ড্রিংক্সে বেনজোয়েট এবং সরবেট ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ বহুল ব্যবহৃত পানীয় কোকাকোলায় পটাশিয়াম সরবেট ব্যবহার করা হয় প্রিজার্ভেটিভ হিসেবে।
৫,৯৫১.
ক্ষমতা (Power) কী নির্ধারণ করে? 
  1. বল ও ভরের মধ্যে সম্পর্ক 
  2. কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক 
  3. কাজ ও ভরের মধ্যে সম্পর্ক 
  4. বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৫২.
জাল পাসপোর্ট শনাক্তকরণে কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. মহাজাগতিক রশ্মি
  3. অবলোহিত রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
জাল পাসপোর্ট/টাকা শনাক্তকরণে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) ব্যবহার: 
- বিগত শতাব্দী ধরে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে টাকা তৈরির নিরাপত্তা অপেক্ষাকৃত সুনিশ্চিত হওয়ার ফলে জাল নোট তৈরিকারকদের জন্য টাকা তৈরি করা ক্রমেই দুরূহ হয়ে পড়ছে। 
- জাল নোট তৈরিতে বাধা প্রদান করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে UV ফ্লুরোসেন্ট বস্তু টাকা প্রস্তুতকারী কাগজে সংযোজন করা। 
- জাল নোট শনাক্তকারী UV মেশিনে সাধারণত টাকার কাগজের বিশেষ কালি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে দৃষ্টিগোচর হয়। 
- একটি জাতির প্রচলিত মুদ্রা UV নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য কৃতকার্যতার সাথে প্রয়োগ একটি দুই স্তরবিশিষ্ট পদ্ধতি। 
- প্রথম ধাপ হচ্ছে কাগজের নোটে অতিবেগুনি (ultraviolet) কালি প্রয়োগ। 
- UV ফ্লুরোসেন্ট ফসফরাসযুক্ত নোট যখন UV রশ্মিতে স্থাপন করা হয় তখন এটি বিক্রিয়া দেখায় যা সাধারণ আলোয় দেখা যায় না। 
- যখন UV রশ্মিতে অনাবৃত করা হয় তখন UV কালির পরিবর্তন সংঘটিত করে এবং বিশেষ নিরাপত্তা চিহ্নগুলো মানুষের চোখে দৃশ্যমান হয়। 
- এর অর্থ হচ্ছে সাধারণ আলোতে UV কালি দ্বারা ছাপাকৃত নিরাপত্তা নকশা প্রতীয়মান হয় না। 
- UV আলো প্রয়োগ করলে এ পরিবর্তন পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হয়, যা ফ্লুরোসেন্ট আলো সৃষ্টি করে। 
- উল্লেখ্য যে, কাগজের মুদ্রা ছাড়া এই UV রশ্মির কালি পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ট্রাভেলারস চেক, সোসাল সিকিউরিটি কার্ড ইত্যাদিতে ব্যবহার করে একইভাবে জাল প্রতিরোধ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৫৩.
পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কোনটি?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম: 
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত। 
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি। 
- তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ। 
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত। 
- এ কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। 
- এমনকি এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৫৪.
চোখের একমাত্র আলোক সংবেদী অংশ কোনটি?
  1. রেটিনা
  2. আইরিশ
  3. পিউপিল
  4. অন্ধবিন্দু
ব্যাখ্যা
রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৫,৯৫৫.
এ্যাজোলা ব্যবহার করলে মাটিতে কোন খনিজের ঘাটতি দূর হয়?
  1. সালফার ও জিংক
  2. ম্যাগনেসিয়াম ও ক্লোরিন
  3. নাইট্রোজেন ও ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

এ্যাজোলা: 
- এ্যাজোলা হচ্ছে ভাসমান জলজ পানা, যা পুকুর, ডোবা, নালা, ধানের জমিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- এ্যাজোলার দৈহিক ওজন প্রতি ৫ দিনে দ্বিগুন হতে পারে। 
- এ্যাজেলা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতি হেক্টর জমিতে ২০০-৫০০ কেজি নাইট্রোজেন যোগ করা যেতে পারে। 
- বোরো ধানের জমিতে অতি সহজ ও সফলভাবে এ্যাজোলা চাষ করা যায়। 
- এ্যাজোলা মাটির উর্বরতা ও গুনাগুনের উন্নয়ন ঘটায়। 
- এ্যাজোলা ব্যবহার করলে সালফার ও জিংকের ঘাটতিও দূর হয়। 
- এ্যাজোলার পাতার গহ্বরে অ্যানাবিনা এ্যাজোলি (Anabaena asollae) নামক নীলাভ সবুজ শেওলার একটি প্রজাতি মিথোজীবীরূপে বাস করে যা বায়ুমণ্ডল থেকে মুক্ত নাইট্রোজেন সংযোজন করে এ্যাজোলার পাতার গহ্বরে জমা করে। 
- এ এ্যাজোলা মাটিতে চাষ দিয়ে মেশালে মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৫৬.
কঠিন সাবান তৈরিতে কোন ক্ষার ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
  2. পটাসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  4. অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড
ব্যাখ্যা

◉ কঠিন সাবান তৈরিতে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি চর্বি বা তেলের সাথে বিক্রিয়া করে শক্ত, দীর্ঘস্থায়ী এবং কার্যকরী সাবান তৈরি করে।

সাবানায়ন: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 এবং n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK. 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৫৭.
বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোন ধরনের ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার
  2. খ) স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার
  3. গ) তড়িত চৌম্বক ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) আধুনিক ট্রান্সফর্মার
ব্যাখ্যা
যে ট্রান্সফর্মারের প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায় তাকে স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার বলে।
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য এই ধরনের ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয়।
- যে ট্রান্সফর্মার মুখ্য কুন্ডলীতে প্রয়োগকৃত নিম্ন বিভবের অধিক পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহকে গৌন কুন্ডলীতে উচ্চ বিভবের অল্প পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তর করে তাকে স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার বলে। 
- যে ট্রান্সফর্মার মুখ্য কুন্ডলীতে প্রয়োগকৃত উচ্চ বিভবের অল্পপরিমাণ তড়িৎ প্রবাহকে গৌন কুন্ডলীতে নিম্ন বিভবের অধিক পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তর করে তাকে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে। 

সূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৫৮.
কোন দুইটি রঙের মিশ্রণে কমলা রঙ তৈরি হয়? 
  1. লাল এবং নীল
  2. সবুজ এবং নীল
  3. লাল এবং হলুদ
  4. সাদা এবং নীল
ব্যাখ্যা

রং সম্পর্কিত তথ্য: 
- লাল, নীল, সবুজ এ তিনটি মূল বর্ণ। 
- মূল তিনটি বর্ণ থেকে যেকোন দুটি মিশালে যে রং হয় তাকে বলা হয় গৌণ বর্ণ। 
যেমন- 
হলুদ ও লাল রং মিশালে কমলা রং হয়। 
• লাল ও নীল রং মিশালে বেগুনী, 
• হলুদ রং মিশালে সবুজ এবং 
- তাহলে বেগুনী, সবুজ, ও কমলা এ তিনটি গৌণ বর্ণ। 
- মূল ও গৌন বর্ণের নিজ নিজ প্রখরতা কমিয়ে হয় আকাশী, গোলাপী, সবুজ কলা পাতার রং, হালকা বেগুনী ও হাল্কা কমলা রং। 
- কিন্তু একটি মূল বর্ণ ও একটি গৌণ মিশালে সে বর্ণে দুটি বর্ণের সংমিশ্রণের আভা থাকবে। 
যেমন- 
•  লাল ও কমলা মিশালে লালচে কমলা, 
• লাল ও বেগুনী মিশালে লালচে-বেগুনী ও 
• নীল মিশালে নীল-বেগুনী রং হয়। 
- এগুলোকে বলা হয় প্রান্তিক রং। 
- যে রং দৃষ্টিতে প্রখর লাগে এবং গরম অনুভূতি দেয় তাকে বলা হয় উষ্ণ বর্ণ বা গরম রং। 
যেমন- গাঢ় হলুদ ইত্যাদি। 
- আবার যে রং দেখে ঠান্ডা বোধ হয় তাকে শীতল রং বলা হয়। 
যেমন - আকাশী, হালকা বেগুনী ইত্যাদি ঠান্ডা রং। 

উৎস: গার্হস্থ্য অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৫৯.
অমরা নিষেকের কত সপ্তাহের মধ্যে গঠিত হয়? 
  1. ২ সপ্তাহ
  2. ৪ সপ্তাহ
  3. ৮ সপ্তাহ
  4. ১২ সপ্তাহ
ব্যাখ্যা
অমরা (Placenta): 
- যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু-টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। 
- ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছানোর 4-5 দিনের মধ্যে সংস্থাপন সম্পন্ন হয়। 
- ক্রমবর্ধমানশীল ভ্রূণের কিছু কোষ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ও রক্তনালিসমৃদ্ধ এই অমরা তৈরি করে। 
- নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয়। 
- এভাবে ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য অস্থায়ী অঙ্গ তৈরি হয়। 
- প্রসবের সময় অমরা দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায়। 

- অমরার সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে সংস্থাপিত হয়। 
- ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের দরকার। শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি এবং খনিজ লবণ ইত্যাদি অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। 
- অমরা অনেকটা ফুসফুসের মতো কাজ করে। 
- অমরার মাধ্যমে ভ্রূণ মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় ঘটে। 
- অমরা একই সাথে বৃক্কের মতো কাজ করে। 
- বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়। 
- অমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে। এ হরমোন ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ ও তার স্বাভাবিক গঠনে সাহায্য করে। 
- অমরাতে প্রচুর রক্তনালি থাকে। 
- অমরা, আম্বিলিকাল কর্ড দ্বারা ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে, একে নাড়িও বলা হয়। 
- এটা মূলত একটি নালি, যার ভিতর দিয়ে মাতৃদেহের সাথে ভ্রূণের বিভিন্ন পদার্থের বিনিময় ঘটে। 
- গর্ভাবস্থায় অমরা থেকে এমন কতগুলো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মাতৃদুগ্ধ উৎপাদন এবং প্রসব সহজ করতে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৬০.
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হয় নিচের কোন ক্ষেত্রে?
  1. ক) উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায়
  2. খ) ক্যান্সার রােগ নিরাময়ে
  3. গ) ঘড়ির কাঁটা ও নম্বর অন্ধকারে জ্বলজ্বল করার কাজে
  4. ঘ) সবগুলাে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা:-
ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- যে সব মৌল হতে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে।
- ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকেরেল রশ্মি।

- পরবর্তীকালে মাদাম কুরি ও তাঁর স্বামী পিয়ের কুরি ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে দেখতে পান যে রেডিয়াম, পােলােনিয়াম, থােরিয়াম, আক্টিনিয়াম প্রভৃতি ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস থেকেও বেকেরেল রশ্মির মত একই ধরনের রশ্মি নির্গত হয়, যা এখন তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত।

ব্যবহার:
১. ক্যান্সার রােগ নিরাময়ের কাজে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার করা হয়।
২. উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায় তেজস্ক্রিয়তা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩. ঘড়ির কাঁটায় তেজস্ক্রিয় থােরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।
৪. তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৫. নির্মাণ বা উৎপাদন শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়।


উৎস-  পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৬১.
যদি কোনো বস্তু পৃথিবীতে ৬০ নিউটন ওজনের হয়, চাঁদে তার ওজন কত হবে? 
  1. ৫ নিউটন 
  2. ৬০ নিউটন
  3. ২০ নিউটন
  4. ১০ নিউটন
ব্যাখ্যা

- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৫,৯৬২.
‘টেস্টিং সল্ট’ হিসেবে কোন লবণ ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড 
  2. সোডিয়াম গ্লুটামেট 
  3. পটাশিয়াম নাইট্রেট 
  4. অ্যামোনিয়াম ফসফেট 
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৬৩.
পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার আধুনিক মতবাদ কোনটি?
  1. বিজ্ঞানী H. Von Mohl এর মতবাদ
  2. স্টর্চ-শ্যুগার মতবাদ
  3. বিজ্ঞানী স্যায়েরি এর মতবাদ
  4. প্রোটন প্রবাহ মতবাদ
ব্যাখ্যা
• আধুনিক মতবাদ বা প্রোটন প্রবাহ মতবাদ (Proton transport theory):
- S. Imamura ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে রক্ষীকোষে পটাসিয়াম আয়ন প্রবেশ প্রমাণ করেন।
- পরবর্তী বহু গবেষণায় রক্ষীকোষে পটাসিয়াম আয়নের প্রবেশকে রক্ষীকোষের স্ফীতির মূল কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়।

• প্রোটন প্রবাহ মতবাদ তথা আধুনিক মতবাদ প্রবর্তনের পূর্বে স্টর্চ-শ্যুগার মতবাদ প্রতিষ্ঠিত ছিলো। 

বিজ্ঞানী H. Von Mohl এর মতবাদ:
- ১৮৫৬ সালে মোট প্রকাশ করেন যে রক্ষীকোষের স্ফীতির পরিবর্তনই পত্ররন্ধ্র খোলা অবন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ। 

• স্টর্চ-শ্যুগার মতবাদ: 
- বিজ্ঞানী F. E. Loyd ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে প্রস্তাব করেন যে রক্ষীকোষের স্ফীতির পরিবর্তন স্টার্চ-শ্যুগারের পারস্পরিক পরিবর্তনের উপর নির্ভরশীল।
-  এই ধারণা পরবর্তীতে স্টর্চ-শ্যুগার মতবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

• বিজ্ঞানী স্যায়েরি এর মতবাদ: 
, শ্বেতসার ও চিনির আন্তঃপরিবর্তনের কারনেই পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৫,৯৬৪.
পিঁয়াজের বৈজ্ঞানিক নাম-
  1. ক) Oryza sativa
  2. খ) Corchorus capsularis
  3. গ) Allium cepa
  4. ঘ) Apis indica
ব্যাখ্যা

Oryza sativa- ধান
Apis indica-মৌমাছি
Corchorus capsularis- পাট।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৬৫.
কোনো বস্তু আমরা দেখতে পাই যখন-
  1. ক) বস্তুটি আলো শোষণ করে
  2. খ) বস্তুটি আলো প্রতিফলিত করে
  3. গ) বস্তুটি আলো প্রতিসরিত করে
  4. ঘ) চোখ থেকে আলো বস্তুতে পড়ে
ব্যাখ্যা

আমরা তখনই কোনো বস্তুকে দেখি, যখন ঐ বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়ে। কোনো আলোর উৎস থেকে আলো গিয়ে কোনো বস্তুতে পড়লে, ঐ বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে এসে পড়ে- তখনই ঐ বস্তুটি আমরা দেখতে পাই।
কোনো কোনো বস্তুতে আলো পড়লে তা প্রতিফলিত হয় না, বস্তুটি সমস্ত আলো শোষণ করে নেয়। এসব বস্তু তাই দেখতে কালো দেখায়। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি 

৫,৯৬৬.
নিচের কোনটি নিউক্লিয়াসবিহীন কোষ?
  1. যকৃত কোষ
  2. স্নায়ু কোষ
  3. স্টেম কোষ
  4. অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা

- ১৮৩১ সালে রবার্ট ব্রাউন নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন।
- নিউক্লিয়াস হলো কোষের মস্তিষ্ক ও প্রাণশক্তি।
- পেশী কোষে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে। লোহিত রক্তকণিকা, অণুচক্রিকা ইত্যাদি কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫,৯৬৭.
মানবদেহে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ কোন প্রক্রিয়ায় বের হয়? 
  1. শ্বাসনালির মাধ্যমে
  2. রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
  3. পরিপাকনালির মাধ্যমে
  4. স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
রেচনতন্ত্র (Excretory system): 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। 
- দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৬৮.
যকৃত মানবদেহের কোন অংশে অবস্থান করে?
  1. বাম পাশ, ফুসফুসের নিচে 
  2. মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে 
  3. পেটে, বৃহদান্ত্রের উপরে
  4. নাভির পাশে, পেরিকর্ডিয়ামের নিচে
ব্যাখ্যা

- যকৃৎ মানবদেহের মধ্যচ্ছদার নিচে, উদরগহ্বরের উপরের ডান পাশে, পাকস্থলীর ডান দিকে এবং ডায়াফ্রামের (মধ্যচ্ছদা) ঠিক নিচে অবস্থিত। এটি শরীরের বৃহত্তম অঙ্গ এবং এর রং গাঢ় লালচে বাদামী, যা বিপাক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহায্য করে। 

যকৃত (Liver): 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। 
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার। যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে। 

যকৃতের কাজ: 
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়। পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়। 
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়। 
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)। 
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৬৯.
আদিকোষে কোনটি উপস্থিত?
  1. ক) রাইবোসোম
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) প্লাস্টিড
  4. ঘ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
ব্যাখ্যা
আদিকোষ:
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না তাই নিউক্লিও বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবোসোম থাকে।
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এধরনের কোষ পাওয়া যায়।

সূত্র: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
৫,৯৭০.
প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক স্বাভাবিকের চেয়ে-
  1. বেশি থাকে
  2. কম থাকে
  3. সমান থাকে
  4. অপরিবর্তনীয় থাকে
ব্যাখ্যা
প্রেসার কুকার: 
- প্রেসার কুকারে পানির স্ফুটনাংক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। 
- সাধারণত, পানির স্ফুটনাংক ১০০°C এ থাকে, কিন্তু প্রেসার কুকারে ভেতরের চাপ বাড়ানোর কারণে পানি ১০০°C এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে। 
- স্থির আয়তনে প্রেসার কুকারে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে পানির স্ফুটনাংক বেড়ে যায়। 
- প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ, কুকারের ভেতরের পানি ফুটন্ত অবস্থায় বাষ্পে পরিণত হয়েই বাইরে আসতে পারে না। 
- প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কারণ উচ্চচাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৭১.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা কত? 
  1. ক) ০.০৫ মিলিগ্রাম/লিটার
  2. খ) ০.০৩ মিলিগ্রাম/লিটার
  3. গ) ০.০২ মিলিগ্রাম/লিটার
  4. ঘ) ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার
ব্যাখ্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার। 

- আর্সেনিক দূষণ  ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক দূষণ ধরা পড়ার পর থেকে বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাসমূহে আর্সেনিক দূষণের আশঙ্কা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ সালে  নবাবগঞ্জ সদর (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
- ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে (School of Environmental Sciences – SOES/ এস.ও.ই.এস) অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারের পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এর পর থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর প্রিভেনটিভ এন্ড সোশাল মেডিসিন (নিপসম), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বি.ডব্লিউ.ডি.বি)-এর গ্রাউন্ড ওয়াটার সার্কেল, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ইত্যাদি সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের ভিতরে আর্সেনিক দূষণের প্রমাণ অনুসন্ধান করা শুরু করে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
৫,৯৭২.
ভূমিকম্পের কম্পকেন্দ্রের লম্ব বরাবর ভূ-পৃষ্ঠে যে বিন্দু থাকে, তাকে কী বলা হয়? 
  1. অগ্নিকেন্দ্র
  2. প্লেটকেন্দ্র
  3. উপকেন্দ্র 
  4. ভূমিকেন্দ্র
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প: 
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়। 
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়। 
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ-পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে, তাকে উপকেন্দ্র বলা হয়। 
- সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে। 
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ-এর মত ছড়িয়ে পড়ে। 
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে। 
- ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার, ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে। 

ভূমিকম্পের কারণসমূহ: 
১. ভূ-ত্বক কতকগুলো প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহ বিভিন্ন দিকে যেমন: একে অপরের বিপরীত দিকে, একে অপরের অভিমুখে এবং পরস্পর সমান্তরালভাবে সঞ্চালিত হয়। এইরূপ সঞ্চালনের ফলে সৃষ্ট চাপ থেকে আকস্মিকভাবে প্রচন্ড কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূ-পৃষ্ঠে এই কম্পন ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে। 
২. ভূ-গর্ভস্থ তাপের ফলে বিপুল পরিমাণ বাষ্প সৃষ্টি হলে, ঐ বাষ্প ভূ-ত্বকের নিচের অংশে প্রবল বেগে ধাক্কা দেয়। ফলে ভূ-পৃষ্ঠে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। 
৩. ভূ-ত্বকের বিভিন্ন অংশে তাপ বিকিরণের ফলে সংকুচিত হলে সংলগ্ন এলাকার ভূ-ত্বকের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে ভূ-অভ্যন্তরে বিভিন্ন শিলারাশির মধ্যে টান সৃষ্টির হয়, ফলে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। 
৪. অনেক ক্ষেত্রে আগ্নেগিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময়ে ঐ এলাকা কেঁপে উঠে ভূমিকম্প হয়। 
- অন্যান্য আরও কতিপয় কারণ যেমন: ভূ-গর্ভস্থ চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি, শিলাচ্যুতি, ভূমিধ্বস, হিমবাহের চলাচল ইত্যাদি কারণে ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৭৩.
কোন প্রাণী জিহ্বার সাহায্যে শোনে?
  1. ক) ঘড়িয়াল
  2. খ) কচ্ছপ
  3. গ) গিরগিটি
  4. ঘ) সাপ
ব্যাখ্যা

- গিরগিটি গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে।
- সাপ জিহ্বার সাহায্যে শোনে। সাপের কান নেই।
- কচ্ছপ দীর্ঘজীবী প্রাণী। কচ্ছপ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
- ঘড়িয়াল বিরল প্রজাতির মিঠা জলের কুমির বর্গের সরীসৃপ প্রাণী।

৫,৯৭৪.
কার্বন-কার্বন একক বন্ধন কোন ধরনের জৈব যৌগে পাওয়া যায়?
  1. অ্যালকেন
  2. অ্যাালকিন
  3. অ্যাালকাইন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন:
- কার্বন-কার্বন একক বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকেন বলা হয়।
- অ্যালকেন শুধুমাত্র হাইড্রোজেন এবং কার্বন পরমাণু দ্বারা গঠিত যারা একক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
- অ্যালকেনের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হলো CnH2n+2

- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়।
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়।

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম:
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর।
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়।
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল।
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন।

অন্যদিকে,
- কার্বন-কার্বন দ্বি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকিন বলা হয়।
- কার্বন-কার্বন ত্রি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকাইন বলা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৭৫.
K2Cr2O এ Cr এর জারণ সংখ্যা কত?
  1. +7
  2. +4
  3. +5
  4. +6
ব্যাখ্যা
K2Cr2Oএ Cr এর জারণ সংখ্যা - +6।
জারণ সংখ্যা: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
K2Cr2O7 এ Cr এর জারণ সংখ্যা নির্ণয়:
মনে করি, 
K2Cr2O7 যৌগে Cr এর জারণ সংখ্যা = x 
আমরা জানি, K এর প্রমাণ জারণ সংখ্যা +1 এবং O এর প্রমাণ জারণ সংখ্যা -2।
যেহেতু, K2Cr2O7 অণুটি আধান নিরপেক্ষ অণু, সুতরাং K2Cr2O7 অণুতে পরমাণুসমূহের মোট জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 
তাহলে, (+1) × 2 + x × 2 + (-2) × 7 = 0 
বা, +2 +2x -14 = 0 
বা, 2x - 12 = 0 
∴ x = +6 
অতএব, K2Cr2O7 যৌগে Mn এর জারণ সংখ্যা +6 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৭৬.
এইডস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কোনটি অধিকতর কার্যকরী?
  1. ক) সচেতনতা সৃষ্টি
  2. খ) শিক্ষার ব্যবস্থা
  3. গ) আক্রান্তদের এড়িয়ে চলা
  4. ঘ) আক্রান্তদের প্রতি যত্নবান হওয়া
ব্যাখ্যা

এইডস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে,
প্রতিরোধে করণীয়-
১. বৈধ যৌন সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে,
২. নিরাপদ রক্ত প্রদান নিশ্চিত করা,
৩. অস্ত্রোপচারে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা,
৪. ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে চলা।
সর্বোপরি, এইডস থেকে নিজেকে এবং সমাজ ও মানবসভ্যতাকে রক্ষা করতে হলে এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প কিছুই নাই।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫,৯৭৭.
থ্যালাসেমিয়া রোগ কোন রক্ত উপাদানের পরিমাণ কমে গেলে হয়? 
  1. রক্তরস 
  2. হিমোগ্লোবিন 
  3. শ্বেত রক্তকোষ 
  4. অণুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা

থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
- এ রোগটি মানুষের অটোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের দ্বারা ঘটে। 
- যখন মাতা ও পিতা উভয়ের অটোজোমে এ জিনটি প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে, তখন তাদের সন্তানদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন জিন দুটি একত্রিত হয়ে এই রোগের প্রকাশ ঘটায়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগীকে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তস্বল্পতার হার কমে যায়। এ রোগে আয়রন বা লৌহযুক্ত খাবার খেয়ে বেশি উপকার হয় না বরং রোগের জটিলতা বাড়তে পারে। 
- নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন ও অন্যান্য চিকিৎসা করালেও অনেক রোগী অল্প বয়সে মারা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৭৮.
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযােগ কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
  1. ক) ইন্টেলসেট 1
  2. খ) আলিবার্ড হল
  3. গ) ওবেরী হল
  4. ঘ) কসমস
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যােগাযােগ কৃত্রিম উপগ্রহ হলো ইন্টেলসেট 1 (Intelsat-I)।
৬ এপ্রিল ১৯৬৫ এটি মহাকাশের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর ডাকনাম ছিল - আর্লিবার্ড।
৫,৯৭৯.
বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন কে? 
  1. জন বেয়ার্ড
  2. ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
  3. জি. মার্কনী
  4. গ্রাহাম বেল
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৮০.
বারিমণ্ডলের কতভাগ মহাসাগর, সাগর এবং উপসাগর ধারণ করছে?
  1. ২৯ ভাগ
  2. ৭১ ভাগ
  3. ৯০ ভাগ
  4. ৯৭ ভাগ
ব্যাখ্যা
• বারিমণ্ডল:
- পৃথিবীর জলভাগই হলো বারিমণ্ডল।
- বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere।
- Hydro অর্থ পানি এবং Sphere অর্থ ক্ষেত্র। অর্থাৎ আভিধানিক অর্থে Hydrosphere এর অর্থ পানির ক্ষেত্র বা আধার।
- অক্সিজেন (O) এবং হাইড্রোজেন (H2) এর সমন্বয়ে পানি (H2o) গঠিত।
- মহাসাগর, সাগর, উপসাগর, হ্রদ, নদীসহ অন্যান্য জলাধার নিয়ে বারিমণ্ডল গঠিত। 
- পৃথিবীর ৭১% জলভাগ এবং ২৯% স্থলভাগ।
- পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগই মহাসাগর, সাগর এবং উপসাগর ধারণ করছে
- অবশিষ্ট ৩ ভাগ অন্যান্য জলাধার ধারণ করছে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৮১.
আধান/তড়িৎ প্রাবল্যের ব্যবহারিক একক হচ্ছে -
  1. ওহম
  2. ওয়াট/ডাইন
  3. নিউটন/কুলম্ব
  4. জুল
ব্যাখ্যা

• আধান বা তড়িৎ প্রাবল্যের (Electric Field) ব্যবহারিক একক হলো নিউটন প্রতি কুলম্ব (N/C)। এটি একটি ভেক্টর পরিমাণ, যা কোনো চার্জের উপর একক চার্জ দ্বারা প্রয়োগকৃত বলের মাত্রা প্রকাশ করে। অর্থাৎ, যদি এক কুলম্ব চার্জ কোনো ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করা হয় এবং সেই চার্জে কোনো বল প্রয়োগ হয়, তা দ্বারা ক্ষেত্রের শক্তি বা প্রাবল্য নির্ধারিত হয়।

- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো নিউটন/কুলম্ব।

তড়িৎ ক্ষেত্র: 
- একটি আহিত বস্তুর চারপাশে যে অঞ্চলব্যাপী তার প্রভাব বজায় থাকে অর্থাৎ অন্য কোনো আহিত বস্তু আনা হলে সেটি আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল লাভ করে সেই অঞ্চলকে ঐ আহিত বস্তুর তড়িৎ ক্ষেত্র বলে।

তড়িৎ প্রাবল্য: 
- তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একটি একক ধনাত্মক আধান স্থাপন করলে সেটি যে বল অনুভব করে তাকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ প্রাবল্য বলে।

তড়িৎ বিভব: 
- অসীম থেকে প্রতি একক ধনাত্মক আধানকে তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে আনতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব বলে।

তড়িৎ দ্বিমেরু: 
- এক জোড়া সমান ও বিপরীত বিন্দু আধান অল্প দূরত্বে অবস্থিত থাকলে তাকে তড়িৎ দ্বিমেরু বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

৫,৯৮২.
HCl(aq) + NaOH(aq) → NaCl(aq) + H2O(l)
কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. দহন বিক্রিয়া
  3. বিয়োজন বিক্রিয়া
  4. পানিযোজন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়া:
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের  হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে।
- উদাহরণ: HCl(aq) + NaOH(aq) → NaCl(aq) + H2O(l)

• পানিযোজন বিক্রিয়া:
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে।
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে।

• বিয়োজন বিক্রিয়া:
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়।
- উদাহরণ: মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়।

• দহন বিক্রিয়া:
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়।
- উদাহরণ: কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৮৩.
বেকিং সোডা তাপ দিলে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয় যা খাবার ফোলাতে সাহায্য করে?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন
  3. সালফার ডাই-অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন এসিডের ব্যবহার: 
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

• বেকিং সোডা: 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 

• এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

• এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদির নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

• ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৯৮৪.
ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মিউচুয়ালিজম
  2. খ) কমেনসেলিজম
  3. গ) শোষণ
  4. ঘ) মিউচুয়ালিজম ও কমেনসেলিজম
ব্যাখ্যা

ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া : যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবের একটি অন্যটিকে সহায়তা করে তাকে ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া বলে।
ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়ায় সহযোগীদ্বয়ের যে কোনো একটি বা উভয়েই উপকৃত হতে পারে। ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়াকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়।
যেমন-

মিউচুয়ালিজম- যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি সহযোগীর উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয় তাকে মিউচুয়ালিজম বলে।
উদাহরণ স্বরূপ মৌমাছি, প্রজাপতি ফুলের মধু আহরণের জন্য ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ায় এবং বিনিময়ে ফুলের পরাগায়ন ঘটে। বাঁদুড় ফল খেয়ে বাঁচে এবং মল ত্যাগের সাথে ফলের বীজও ত্যাগ করে। এভাবে বীজের স্থানান্তর হয় এবং উদ্ভিদের বিস্তার ঘটে।

কমেনসেলিজম- যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি সহযোগীর একজন উপকৃত হয় কিন্তু আরেক জন উপকৃত না হলেও অপকৃত হয় না তাকে কমেনসেলিজম বলা হয়। যেমন- কাষ্ঠল লতা খাদ্যের জন্য আশ্রয় দানকারী উদ্ভিদের উপর নির্ভর করে না এবং এরা আশ্রয়দাতার কোনো ক্ষতিসাধনও করে না। কিছু শৈবাল অন্য উদ্ভিদের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করে কিন্তু আশ্রয়দাতার কোন ক্ষতি করে না। কাঠ বিড়ালী গাছের ডালে ডালে থাকে কিন্তু গাছের কোন ক্ষতি করে না।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৮৫.
জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) প্রোটোজোয়া
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ফানজাই
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। 

ক) কক্কাস: কোনো কোনো ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গোলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে। যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
খ) ব্যাসিলাস: এরা দেখতে লম্বা দণ্ডের ন্যায় । ধনুষ্টংকার, রক্তামাশ ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে।
গ) কমা: এরা বাঁকা দণ্ডের ন্যায় আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের।
ঘ) স্পাইরিলাম: এ ধরণের ব্যাকটোরিয়ার আকৃতি প্যাঁচানো। 

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা
- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে। 
- একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংরক্ষণ করে।
- পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে ৷
- দই তৈরি করতে ও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়।
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।
৫,৯৮৬.
কোন তিনটি জেলা নিয়ে সুন্দরবনের বিস্তৃতি?
  1. ক) বাগেরহাট, খুলনা ও বরগুনা
  2. খ) বরগুনা, বাগেরহাট ও পিরোজপুর
  3. গ) খুলনা, পটুয়াখালী ও সাতক্ষীরা
  4. ঘ) সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট
ব্যাখ্যা
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
- সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ বা ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের অংশে পড়েছে। সুন্দরবনের বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সু্ন্দরবন অবস্থিত।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি এবং বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
৫,৯৮৭.
এটম শব্দের প্রবক্তা কে?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) ডালটন
  3. গ) অ্যারিস্টোটল
  4. ঘ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
গ্রীক দার্শনিক ডেমােক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা নিয়ে মতবাদ পােষণ করেন। তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য (যা আর ভাঙ্গা যায় না) কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রীক শব্দ এটোমােস (AtomoS) থেকে যার অর্থ হলাে অবিভাজ্য। তার সমসাময়িক সময়ের আরও দুজন দার্শনিক প্লেটো (Plato) এবং অ্যারিস্টটল (Aristotle) তার মতবাদের সাথে দ্বিমত পােষণ করেন। অ্যারিস্টটলের মতে পদার্থসমূহনিরবচ্ছিন্ন (Continuous), একে যতই ভাঙ্গা হােক না কেন, পদার্থের কণাগুলাে ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে।
উৎস: অষ্টম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান
৫,৯৮৮.
কৃত্রিম জিন আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  2. খ) হরগোবিন্দ খোরানা
  3. গ) জোহান সেন
  4. ঘ) রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
ভারতীয় বিজ্ঞানী ড. হরগোবিন্দ খোরানা কৃত্রিম জিন সংশ্লেষণ করে ১৯৬৯ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
জেনেটিক কোডের আবিষ্কারকও তিনি।
৫,৯৮৯.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. ভূমিকম্প
  2. মরুকরণ
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. নদীভাঙন
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ:
- যে অবস্থা অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে তাই দুর্যোগ।
- এর ফলে বাহ্যিকভাবে ক্ষতিসাধন, জীবনহানি কিংবা পরিবেশগতভাবে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। 
 
দুর্যোগ বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্রধানত দুর্যোগ দুই ধরনের-
১/ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
২/ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক কারণে যে সকল দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ।
 
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
- যেমন- যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৫,৯৯০.
পানিতে Ca(OH)2 এর সম্পৃক্ত দ্রবণকে কী বলা হয়?
  1. ব্ল্যাক লাইম
  2. লাইম ওয়াটার
  3. নিশাদল
  4. তড়িৎ বিশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
CaO + H2O = Ca(OH)2
ক্যালসিয়াম অক্সাইড (চুন) + পানি → ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড 

- Ca(OH)2 স্ন্যাক লাইম নামেই বেশি পরিচিত।
- এই বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় যার ফলে পানি ফুটতে থাকে।
- স্ন্যাক লাইম বা Ca(OH)2 পানিতে খুব অল্প পরিমাণে দ্রবীভূত হয়। 
আর, পানিতে Ca(OH)2 এর সম্পৃক্ত দ্রবণকেই চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
৫,৯৯১.
চা-পাতার 'রেড রাস্ট' রোগের সৃষ্টি করে-
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. শৈবাল
  4. ভাইরাস
ব্যাখ্যা
সমাঙ্গবর্গের ক্লোরোফিলযুক্ত ও স্বভোজী উদ্ভিদই শৈবাল।
এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মায়।
সবুজ ছাড়াও লাল, বাদামি ইত্যাদি রঙের শৈবাল দেখা যায়।
সামুদ্রিক শৈবাল থেকে এ্যালজিন প্রস্তুত করা হয় যা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
আয়োডিন ও পটাশিয়ামের একটি ভাল উৎস সা্মুদ্রিক শৈবাল।
শৈবাল মানুষ ও উদ্ভিদের নানা রোগের জন্য দায়ী।
এটি চা-পাতায় ‘রেড রাস্ট’ রোগের সৃষ্টি করে।
জলাশয়ে এর আধিক্যে জলজ প্রাণি ও মাছ অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।
৫,৯৯২.
কসমিক-রে এর আবিষ্কারক কে?
  1. ক) উইলিয়াম রাদারফোর্ড
  2. খ) রন্টজেন
  3. গ) ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস
  4. ঘ) জন হুইলার
ব্যাখ্যা
মহাজগতিক রশ্মি ইংরেজি হলো Cosmic rays।
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৫,৯৯৩.
কোন রোগের নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই?
  1. ক) এইডস
  2. খ) গনোরিয়া
  3. গ) গলগণ্ড রোগ
  4. ঘ) গোদ রোগ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরঃ গনোরিয়া।

এইডস, গলগণ্ড এবং গোদ রোগের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে।
গনোরিয়া রোগেরও নির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে; কিন্তু অনেক সময় মহিলাদের কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। প্রায় ৫০ ভাগ মহিলা রোগীর ক্ষেত্রে লক্ষণ অপ্রকাশিত থাকে।
তাই বুঝাই যাচ্ছে, প্রশ্নকর্তা গনোরিয়াকে উত্তর হিসেবে বিবেচনায় নিয়েই প্রশ্নটি করেছেন।

নিচে গনোরিয়া রোগের সাধারণ লক্ষণ গুলো লিঙ্গভেদে আলোচনা করা হলোঃ

পুরুষের ক্ষেত্রে গনোরিয়া রোগের লক্ষণ যা হবে-

১. মূত্রনালিতে সংক্রমণ।
২. মূত্রনালি হতে পুঁজের মতো বের হয়।
৩. প্রস্রাব করতে কষ্ট হয়, জ্বালাপোড়া করে এবং প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৪. হাঁটু বা অন্যান্য গিঁটে ব্যথা করে, ফুলে ওঠে।
৫. প্রস্রাব করতে কষ্ট হয় এবং এমনকি জটিল অবস্থায় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৬. পুরুষত্বহীন হয়ে যেতে পারে।

মহিলাদের ক্ষেত্রে গনোরিয়া রোগের লক্ষণ যা হবে-

১. অনেকসময় মহিলাদের কোনও লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে।
২. যোনিপথ আক্রান্ত হতে পারে।
৩. যোনিপথে এবং মূত্রনালিতে জ্বালা-পোড়া করে।
৪. পুঁজ সদৃশ হলুদ স্রাব বের হয়।
৫. তলপেটে ব্যথা হতে পারে।
৬. ঋতুস্রাব সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৭. বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।

উৎসঃ National Health Portal of India, পত্রিকা রিপোর্ট এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫,৯৯৪.
মাছ অক্সিজেন নেয়-
  1. মাঝে মাঝে পানির উপর নাক তুলে
  2. পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন বিশ্লিষ্ট করে
  3. পটকার মধ্যে জমানো বাতাস হতে
  4. পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
ব্যাখ্যা
- জলাধারে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি থাকে পানির উপরিভাগে, এবং গভীরতার সাথে সাথে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। 
- কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন পানির সকল স্তর তথা উপরিভাগ, মধ্যভাগ এবং তলদেশ সকল স্তরেই থাকে। 
- না হলে মধ্য এবং তলদেশের জলজ প্রাণীদের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না। 
- মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- যারা বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না তাদের বেঁচে থাকার জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গুরুত্বপূর্ণ। 
- মাছ অক্সিজেন নেয় পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে। 
৫,৯৯৫.
বিবর্তনের জনক বলা হয় কাকে?
  1. এপিডোক্লিসকে
  2. চার্লস ডারউইনকে
  3. হারবার্ট স্পেনসার।
  4. ল্যামার্ক
ব্যাখ্যা
-জীব সৃষ্টির মূলে রয়েছে বিবর্তন।
- ইভোলিউশন (বিবর্তন) শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হারবার্ট স্পেনসার।
- বিবর্তন একটি ধীর, অবিরাম ও গতিশীল পরিবর্তন প্রক্রিয়া।
- এপিডোক্লিসকে বিবর্তনের জনক বলে অভিহিত করা হয়।
- জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয় চার্লস ডারউইনকে।
- বায়োলজি শব্দের প্রবর্তক ল্যামার্ক।
৫,৯৯৬.
কোনটির গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. শব্দ
  2. আলো
  3. বুলেট
  4. জেট বিমান
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আলো: 
- আলো একপ্রকার শক্তি। 
- আলো একধরনের তড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ যা আমাদের চোখে দর্শনের অনুভূতি যোগায়। 
- আলোর কণাকে ফোটন বলে। 
- আলোর বেগ 3×108 ms-1 অর্থাৎ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড প্রায়। 
- দৃশ্যমান আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি।
যথা- বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। 
- আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে কোনো বস্তুই আলোর গতির সমান বা অধিক গতিবেগ নিয়ে চলতে পারে না।  
- আলোর গতি শূন্য মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি এবং তা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৯৯৭.
মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজমের সংখ্যা -
  1. ৪৪ টি
  2. ৪২ টি
  3. ৪৬ টি
  4. ৪৮ টি
ব্যাখ্যা
- মানুষের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমসোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই । 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বিষয়টি নিয়ে যেহেতু অনেকের কনফিউশন আছে তাই আমরা নিচে দুইটি বইয়ের স্ক্রিনশট যুক্ত করে দিচ্ছি- 
জীববিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) বই এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বইয়ের স্ক্রিনশট:

৫,৯৯৮.
হৃদপিণ্ডের সংকীর্ণ বা বন্ধ হয়ে যাওয়া রক্তনালীতে বেলুন বা স্টেন্ট ব্যবহার করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. বাইপাস সার্জারি
  2. এনজিওপ্লাস্টি
  3. হার্ট ভালভ রিপ্লেসমেন্ট
  4. পেসমেকার স্থাপন
ব্যাখ্যা

• এনজিওপ্লাস্টি হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে হৃদপিণ্ডের ধমনিতে সরু নালীর মাধ্যমে বেলুন ফুলিয়ে রক্ত চলাচলের পথ প্রশস্ত করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সেখানে ধাতব রিং বা স্টেন্ট বসিয়ে ব্লক দূর করা হয়।

• এনজিওপ্লাস্টি: 

- এনজিওপ্লাস্টি হচ্ছে হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো। 
- এনজিও (Angio) শব্দের অর্থ হল রক্তনালী এবং প্লাস্টি (Plasty) শব্দের অর্থ হল ঢিলা করে দেওয়া। 
- এই পদ্ধতিতে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর মধ্যকার চর্বি জমে সরু হয়ে যাওয়া পথ প্রশস্থ বা ঢিলা করে দেওয়া হয়। 
- যে পথে এনজিওগ্রাম করা হয়েছিল সেই একই পথে ক্যাথেটারের সংগে বেলুন প্রবেশ করানো হয়। 
- তারপর ওই বেলুন ফুলিয়ে করনারী ধমনীর সরু অংশকে প্রশস্থ করা হয়, এতে করে ধমনীর ভেতরের রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়। 
- ধমনীর এই প্রশস্থতা ধরে রাখতে রিং বসানো হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৫,৯৯৯.
নিচের কোনটি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু কোনটি?
  1. টাংস্টেন
  2. লৌহ
  3. প্লাটিনাম
  4. তামা
ব্যাখ্যা
• প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন।

• ধাতু:

- ধাতু দেখতে চকচকে। একে আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়।
- ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। (হীরক ধাতু নয়, এটি কার্বনের একটি রূপভেদ)।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
৬,০০০.
নিচের কোনটি মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অংশ নয়?
  1. ত্বক
  2. অশ্রু ও লালা
  3. পোষ্টিক নালীর এসিড
  4. সবগুলোই প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর
ব্যাখ্যা

মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অংশগুলো হচ্ছে - ত্বক, লোম, অশ্রু ও লালা, সিরুমেন, পোষ্টিক নালীর এসিড এবং রেচন-জননতন্ত্রের এসিড৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই