বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৫৮ / ১৪০ · ৫,৭০১৫,৮০০ / ১৪,০৮০

৫,৭০১.
ডার্ক এনার্জি কাজ করে-
  1. মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র তৈরিতে
  2. মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত করতে
  3. মহাবিশ্বের সংকোচনে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অদৃশ্য বস্তু শক্তিশালী মহাকর্ষ ক্ষেত্র সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। অপরপক্ষে অদৃশ্য শক্তি মহাকর্ষের বিপরীতে কাজ করে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ত্বরিত করে। অর্থাৎ অদৃশ্য বস্তু ও অদৃশ্য শক্তি পরস্পরের বিপরীতে কাজ করে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭০২.
আলফা কণিকা মূলত কী দিয়ে গঠিত? 
  1. একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন
  2. দুটি প্রোটন ও তিনটি নিউট্রন
  3. একটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন
  4. দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরণের রশ্মি নির্গত হয়। 
- যে রশ্মিটি ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ। 
- যে রশ্মিটি ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ধনাত্মক আধান গ্রন্থ। 
- আর যে রশ্মিটি কোনো দিকেই বিচ্যুত হয়নি সেটি তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- ধনাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে আলফা কণিকা (α), ঋণাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে বিটা কণিকা (β) এবং তড়িৎ নিরপেক্ষ রশ্মিকে গামা রশ্মি (γ) বলে। 

আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি। 
২। আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব। 
৩। আলফা কণিকার শক্তি 1 MeV বা 1.6×10-13 J হতে 9 MeV বা 1.44×10-12 J পর্যন্ত হয়। 
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। আলফা কণিকার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 
৬। আলফা কণিকা ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। আলফা কণিকা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭০৩.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়?
  1. কুমির
  2. তিমি
  3. হাতি
  4. বাদুড়
ব্যাখ্যা
স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
যেমন- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি। 

 সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
-  এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৭০৪.
এক ফ্যারাডে সমান কত তড়িৎ চার্জ? 
  1. 89500 C
  2. 69500 C
  3. 96500 C
  4. 98500 C
ব্যাখ্যা
ফ্যারাডে (Faraday): 
- এক মোল পরিমাণ ইলেকট্রনের চার্জকে 96500 কুলম্ব ধরা হয়। 
- মোল পরিমাণ তড়িৎ চার্জকে এক ফ্যারাডে বলা হয়। 
- ফ্যারাডের প্রতীক হলো F. 
- এক ফ্যারাডে = 96500 C তড়িৎ চার্জ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৫,৭০৫.
ডায়োডের মৌলিক ফাংশন কী?
  1. রেকটিফায়ার হিসেবে
  2. রেজিস্টর হিসেবে
  3. ক্যাপাসিটর হিসেবে
  4. ট্রান্সফরমার হিসেবে
ব্যাখ্যা

• ডায়োডের মৌলিক ফাংশন হলো বিদ্যুৎ প্রবাহকে একদিক থেকে অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ করা, যা মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একদিকে সরাসরি প্রবাহকে সহজভাবে সরিয়ে দেয় এবং বিপরীত দিকে প্রবাহকে বাধা দেয়। ডায়োড সাধারণত রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর বা ট্রান্সফরমারের মতো কাজ করে না, কারণ এগুলো ভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য দেখায়।
- তাই ডায়োডের মূল ব্যবহার হচ্ছে এসি সিগনালকে ডিসি-তে রূপান্তর করা, যা শক্তি সরবরাহ ও ইলেকট্রনিক সার্কিটে অপরিহার্য।


ডায়োড:
• ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
• সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
• একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
• ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
• রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৭০৬.
উদ্ভিদের পুরুষ জনন অঙ্গ কোনটি?
  1. গর্ভদণ্ড
  2. পুংকেশর
  3. গর্ভাশয়
  4. পাপড়ি
ব্যাখ্যা

পুংকেশর (Stamen) উদ্ভিদের পুরুষ জনন অঙ্গ। এটি অন্তরা (Anther) ও পুংদণ্ড (Filament) দ্বারা গঠিত। অন্তরায় পরাগধানু (Pollen grain) থাকে, যা পুরুষ গ্যামেট বহন করে।

​ফুল হলো উদ্ভিদের বংশবিস্তারের (প্রজননের) জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপ (shoot)। অর্থাৎ উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ হলো ফুল।
ফুল প্রধানত পাঁচটি মূল অংশে বিভক্ত, যথা: 
​- পুষ্পাক্ষ (Receptacle) - এটি ফুলের দণ্ড বা বোঁটার উপর অবস্থিত একটি অংশ। 
- বৃতি (Calyx) – ফুলকে রক্ষা করে।
- পত্রমন্ডল (Corolla) – পোকামাকড় আকৃষ্ট করে।
- পুংকেশর (Androecium) – পুরুষ প্রজনন অঙ্গ (পরাগ উৎপন্ন করে)।
- স্ত্রীকেশর (Gynoecium) – স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ (ডিম্বাণু বহন করে)।

উৎস:
১।  জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
​২। জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৫,৭০৭.
লোহিত রক্ত কণিকা কোথায় সঞ্চিত থাকে? 
  1. ধমনি
  2. প্লীহা
  3. শিরা
  4. হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার আয়ুষ্কাল ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৭০৮.
পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. মিয়োসিস 
  2. ফ্লোরোসিস 
  3. অ্যামাইটোসিস 
  4. ক্লোরোসিস 
ব্যাখ্যা
• ক্লোরোসিস:
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস (Chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলো ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৭০৯.
একটি আদর্শ ফুলের অংশ কোনটি?
  1. বৃতি
  2. পুংস্তবক
  3. পুষ্পাক্ষ
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের ফুল: 

• একটি সম্পূর্ণ ফুলের ৫ টি অংশ থাকে। যথা: 
- পুষ্পাক্ষ,
- বৃতি,
- দল,
- পুংস্তবক এবং 
- স্ত্রীস্তবক।



উৎস:  উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৭১০.
জন্ডিসের প্রধান কারণ কী? 
  1. প্লীহার ক্ষয়
  2. রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা কমে যাওয়া
  3. রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া
  4. রক্তে লাল কণিকার সংখ্যা বেড়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা
বিলিরুবিন: 
- বিলিরুবিন পুরোপুরি তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায় এবং এটি জমা থাকে প্লীহাতে। 
- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়। 
- বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি গলব্লাডারে থাকে। 
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে। 
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া। 
- যদি কোন কারণের ফলে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কণিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৭১১.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল -
  1. দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণি। 
৫,৭১২.
কোনটি অনৈচ্ছিক পেশি?
  1. ক) হাতের পেশি
  2. খ) পায়ের পেশি
  3. গ) বুকের পেশি
  4. ঘ) হৃৎপিন্ডের পেশি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিন্ডের পেশি দেখতে ঐচ্ছিক পেশির মত হলেও কাজ করে অনৈচ্ছিক পেশির মত৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫,৭১৩.
ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদ নয় কোনটি?
  1. ক) সুন্দরী
  2. খ) গেওয়া
  3. গ) বাইন
  4. ঘ) বাঁশ
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল : নদীপাড়ের কম লবণাক্ত পানিতে গোলপাতা, হিতাল, সুন্দরী, গেওয়া, গরান ইত্যাদি জন্মে।
অধিক লবণাক্ত পরিবেশে কাঁকড়া, বাইন, পশুর, ধুন্দুল ইত্যাদি জন্মে। প্রধান লতা সুন্দরীলতা এবং গুল্ম জাতীয় বোহাল ও হাড়গোজা প্রধান।
সুন্দরবনে টাইগার ফার্ণের ঝোপ রয়েছে। এখানে কোন বাঁশ জন্মে না। তবে নানা রকমের অর্কিড জন্মে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭১৪.
এক্স-রে কী?
  1. দৃশ্যমান আলো
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ
  4. ইনফ্রারেড বিকিরণ
ব্যাখ্যা
এক্স-রে:
- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন।
- এক্স-রে এক ধরনের তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এক্স-রে তৈরীর প্রক্রিয়া হলো কুলীজ নল পদ্ধতি।

এক্স-রের ব্যবহার :
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায় ৷
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়।
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয় ৷
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।

এক্স-রে সাধারনত ২ ধরনের হয়:
১) কোমল এক্স-রে,
২) কঠিন এক্স-রে।

উৎস: একাদশ শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই, শাহজাহান তপন স্যার।
৫,৭১৫.
নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়ায় কোনটি ঘটে?
  1. নিউক্লিয়ার সংযোজন
  2. নিউক্লিয়ার বিভাজন
  3. নিউক্লিয়ার প্রতিস্থাপন
  4. নিউক্লিয়ার অপসারণ
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক শক্তি
- ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন।
- যে প্রক্রিয়ায় পরমাণুর সংযোজন বা বিভাজন ঘটিয়ে ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যায় তাকে পারমাণবিক বিক্রিয়া বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিইয়াসই পারমাণবিক শক্তির উৎস। 
- পারমাণবিক শক্তি মূলত দুই ভাবে পাওয়া যায়, যথা- 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া,
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া।

• ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

• ফিউশন বিক্রিয়া: 
- দুটি নিউক্লিয়াসের সংযোগে একটি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়াকে ফিউশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- যেমন: হাইড্রোজেন → হিলিয়াম 
1H2 + 1H3 →  2He4 + বিপুল শক্তি। 
- নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া হাইড্রোজেন বোমা তৈরির ভিত্তি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৭১৬.
সাবান উৎপাদনের সময় যে উপজাত উৎপন্ন হয় তা হলো- 
  1. ক্লোরিন
  2. গ্লিসারিন
  3. অ্যামোনিয়া
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড 
ব্যাখ্যা
সাবান (Soap): 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণকে সাবান বলে। 
- তেল বা চর্বিকে ক্ষারের সাহায্যে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সাবান ও গ্লিসারিন উৎপন্ন হয়। 
- বর্তমানে সাবান শিল্পে চর্বি বা তেল কিংবা উভয়ের মিশ্রণ কষ্টিক সোডা দ্রবণ সহযোগে ফুটানো হয়। বিভিন্ন ধরণের তেল যেমন নারকেল তেল, তুলা বীজের তেল, পাম তেল, বাদাম তেল, অলিভতেল এবং বিভিন্ন পশুর চর্বি সাবানের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
• চর্বি বা তেল + কস্টিক সোডা → সাবান + গ্লিসারিন 
- চর্বি বা তেল থেকে এভাবে আর্দ্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ অর্থাৎ সাবান প্রস্তুত করাকে সাবানায়ন (saponification, ল্যাটিন শব্দ soap থেকে) বলা হয়। 
- সাবান শিল্পে উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭১৭.
মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূলের পরিবর্তে কী থাকে?
  1. রাইজয়েড 
  2. কাণ্ড 
  3. ক্লোরোফিল 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৫,৭১৮.
ট্রানজিস্টর কী ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি?
  1. কন্ডাক্টর
  2. সেমিকন্ডাক্টর
  3. ইনসুলেটর
  4. সুপারকন্ডাক্টর
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর:
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলে।

• ট্রানজিস্টর সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ দিয়ে তৈরি। 

• ট্রানজিস্টরের উপাদান:
- সিলিকন, 
- জার্মেনিয়াম। 

• গঠন:
- দুই শ্রেণির সেমিকন্ডাক্টর (n-টাইপ ও p-টাইপ) দিয়ে ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়।
- এতে একটি p-টাইপের কেলাসের উভয় পার্শ্বে একটি করে -টাইপ কেলাস বা, n-টাইপের কেলাসের উভয়দিকে একটি করে p-টাইপ কেলাস স্যান্ডউইচ করে যথাক্রমে n-p-n বা, p-n-p জাংশন তৈরি করা হয়।
- এদেরকে যথাক্রমে n-p-n ট্রানজিস্টর ও p-n-p ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- এরকমভাবে সজ্জিত কেলাসের প্রথমটিকে নিঃসারক (emitter), মাঝেরটিকে পীঠ বা ভূমি (base) এবং অন্য পাশেরটিকে সংগ্রাহক (collector) বলা হয়। 

• সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী:
- অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি আপেক্ষিক রোধের কয়েকটি পদার্থ আছে সেগুলোকে বলা হয় সেমিকন্ডাক্টর।
- যেমন—জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm ক্রমের।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৫,৭১৯.
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কিসের নাম?
  1. ক) যুদ্ধ বিমান
  2. খ) কৃত্রিম উপগ্রাহ
  3. গ) নৌ জাহাজ
  4. ঘ) যুদ্ধ জাহাজ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ।
উৎক্ষেপণ সময়ঃ
১১ মে ২০১৮ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৪:১৪ মিনিট
অর্থাৎ ১২ মে ২০১৮ বাংলাদেশ সময় ভোররাত ২:১৪ মিনিট
স্থানঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল-এ অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড LC-39A থেকে Falcon 9 (Block 5) লঞ্চ ভেহিকেল এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট - ১ মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইটের অভিজাত ক্লাবে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম।
মন্ত্রণালয়/বিভাগঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ)
বাস্তবায়নকারী সংস্থাঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন
বাস্তবায়নকালঃ ১ জুলাই, ২০১৪ হতে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ পর্যন্ত
প্রাক্কলিত প্রকল্প ব্যয়ঃ ২৯৬৭.৯৫ কোটি টাকা
সংশোধিত প্রকল্প ব্যয়ঃ ২৭৬৫.৬৬ কোটি টাকা
নির্মাণ সংস্থাঃ বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান Thales Alenia Space France বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে। উৎক্ষেপণ করা হয় SpaceX এর Falcon 9 উৎক্ষেপণযানের মাধ্যমে।
Thales এর চুক্তিমূল্যঃ ১৯০৮.৭৫ কোটি টাকা

সুত্রঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন

৫,৭২০.
'ওলিয়াম' কাকে বলে?
  1. গাঢ় সালফিউরিক এসিড
  2. ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
  3. লঘু সালফিউরিক এসিড
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'ওলিয়াম' (Oleum):
- ওলিয়াম (Oleum) হলো সালফিউরিক এসিডের একটি অত্যন্ত ঘন রূপ, যার মধ্যে সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO₃) গ্যাস দ্রবীভূত থাকে।
- রাসায়নিকভাবে:
• Oleum=H2SO4⋅nSO3

• ব্যবহার:

- উচ্চ ঘনত্বের সালফিউরিক এসিড উৎপাদনে।
- ডিটারজেন্ট, রঞ্জক পদার্থ ও বিস্ফোরকের প্রস্তুতিতে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৫,৭২১.
উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে পানি নির্গমন প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ইমবাইবিশন
  2. অভিস্রবণ
  3. প্রস্বেদন
  4. ব্যাপন
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন:
- প্রস্বেদন উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পানি অপরিহার্য।
- উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে। শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে পরিত্যাগ করে।
- উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির এই নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।
- প্রস্বেদন প্রধানত পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে হয়।
- এছাড়া কান্ড ও পাতার কিউটিক্স এবং কান্ডের ত্বকে অবস্থিত লেন্টিসেল নামক এক বিশেষ ধরনের অঙ্গের মাধ্যমেও অল্প পরিমাণ প্রস্বেদন হয়।
- প্রস্বেদন কোথায় সংঘটিত হচ্ছে তার ভিত্তিতে প্রস্বেদন তিন প্রকার। যথা-
১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২. ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন,
৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণী, বোর্ড বই।
৫,৭২২.
বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ-
  1. বেশি হয়
  2. খুব কম হয়
  3. কম হয়
  4. একই হয়
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক পাখা:
- ইলেকট্রিক ফ্যান হলো এমন একটি যন্ত্র যা ইলেকট্রিক্যাল এনার্জি গ্রহণ করে মেকানিক্যাল এনার্জি প্রদান করে।
- বৈদ্যুতিক পাখা বিদ্যুৎ শক্তি গ্রহণ করে বাতাস প্রদান করে।

বৈদ্যুতিক পাখার গতি:
- একটি পাখায় একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং কয়েকটি ধাতব প্লেট সাধারণত তিনটি সংযুক্ত থাকে।
- যখন একটি পাখার সুইচ অন করা হয় তখন ভোল্টেজের পার্থক্যের জন্য মটরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায় এবং তার ফলে পাকাটি ঘুরতে থাকে।
- নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটর মোটরের ভোল্টেজ এর নিয়ন্ত্রণ করে এবং মটর এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুৎ এর পরিমাণ কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেয়।
- একটু পাখার ভোল্টেজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে তার নিয়ন্ত্রক ভোল্টেজ রেগুলেটর এর উপর নির্ভরশীল।
- একটি পাখার ভোল্টেজের পরিমাণ তার ঘূর্ণন গতির সমানুপাতিক অর্থাৎ ভোল্টের যত বাড়বে পাখার গতি তত বাড়বে।
- বৈদ্যুতিক পাখা ঘোরার জন্য যতটুকু শক্তি সরবরাহ করা হয় ততটুকুই নিবে শুধু বাঁধা দিয়ে ভোল্টেজকে কমিয়ে দিবে রেগুলেটর।
- তাই পাখা ধীরে ঘুরলে বা দ্রুতগতিতে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ একই হবে।

তথ্যসূত্র - সাধারন বিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭২৩.
কাঁসা নিচের কোন দুটির মিশ্রন?
  1. তামা ও কপার
  2. তামা ও দস্তা
  3. তামা ও কার্বন
  4. তামা ও টিন
ব্যাখ্যা
- সংকর ধাতু কাসা/ব্রোঞ্জ হলো তামা ও টিনের মিশ্রণ।
- সংকর ধাতু পিতল বা ব্রাশ হল তামা ও দস্তার মিশ্রণ।
৫,৭২৪.
​সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে কী বলা হয়? 
  1. জিন ক্লোনিং 
  2. সেল ক্লোনিং 
  3. মলিকুলার ক্লোনিং 
  4. রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং 
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত।
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়।
​ যথা-
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়।
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে।
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে।

- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়।
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে।
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৭২৫.
গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কোন দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে?
  1. ভারত
  2. নরওয়ে
  3. আর্জেন্টিনা
  4. দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

মৌসুমি বায়ু:
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়ু।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় "মত্তসুম” শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু। এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধাণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়।
- এছাড়াও কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চল এই বায়ুপ্রবাহের অন্তর্গত।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়।
- এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে।
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু।
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়। ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে।
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৭২৬.
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন কোনটি?
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২১ জুন।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২১ জুন।
• পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান - ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।

৫,৭২৭.
নিচের কোনটির উপর কাজের পরিমাণ নির্ভর করে? 
  1. বল ও দূরত্ব
  2. বল ও সরণ
  3. খাদ্য গ্রহণ
  4. শারীরিক সামর্থ্য
ব্যাখ্যা
- বল প্রয়োগে বস্তু সরণ ঘটলে কাজ সম্পন্ন হয়। 
- বল এবং সরণের গুণফল দ্বারা কাজের পরিমাপ করা হয়। 
- অভিকর্ষের দিকে বস্তুর সরণ হলে বল দ্বারা কাজ সম্পন্ন হয়। 
- অভিকর্ষের বিপরীতে সরণ হলে বলের বিরুদ্ধে কাজ সম্পন্ন হয়। 
- কাজ করার সমার্থ্য হচ্ছে শক্তি। 
- কাজ ও শক্তি পরস্পরের পরিপূরক। এদের উভয়ের একক এক ও অভিন্ন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭২৮.
মানব দেহের দৈনিক শক্তি চাহিদার কত অংশ শর্করা জাতীয় খাদ্য হতে গ্রহণ করা উচিত?
  1. ক) ৪০-৪৫%
  2. খ) ৪৫-৫৫%
  3. গ) ৫৫-৬০%
  4. ঘ) ৩০-৪০%
ব্যাখ্যা
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস।
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা।
- কার্বন (C) হাইড্রোজেন (H2) ও অক্সিজেন (O2) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়।
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন।
শর্করার উৎস:` কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়।
- উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলোচিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি।
- প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা।
- শর্করার প্রকারভেদ: গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার যথা : এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)।
- পুষ্টিবিদগণের মতে মানুষের দৈনিক ক্যালরি চাহিদার ৫৫-৬০% শর্করা কার্বোহাইডেট জাতীয় খাদ্য হতে নেয়া প্রয়োজন।
- পরিশ্রমভেদে এর তারতম্য হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায় যে, প্রতি কিলোগ্রাম দেহওজনের জন্য ৪-৬ গ্রাম শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৭২৯.
মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
  1. ১৯২৬ সাল
  2. ১৯৩৬ সাল
  3. ১৯৪৬ সাল
  4. ১৯৫৬ সাল
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- মহাজাগতিক রশ্মি হচ্ছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত। বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৫,৭৩০.
নিম্নের কোনটি একটি সিস্টেমের বিশৃঙ্খলার পরিমাপক?
  1. চাপ
  2. আয়তন
  3. এন্ট্রপি
  4. তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
এন্ট্রপি: 
- কোনো সিস্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে। 
- কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। 
- অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে, ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এন্ট্রপি। 
- কোনো বস্তুর এন্ট্রপির মান আজো জানা সম্ভব হয়নি। তবে কোনো বস্তু যদি তাপ গ্রহণ বা বর্জন করে, তাহলে বস্তুর এন্ট্রপির পরিবর্তন হয়। 
- কোনো বস্তুর তাপমাত্রার সাপেক্ষে গৃহীত বা বর্জিত তাপ পরিবর্তনের হার দ্বারা এন্ট্রপির পরিবর্তন পরিমাপ করা হয়। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় বস্তুর যে তাপীয় ধর্ম স্থির থাকে, তাকে এন্ট্রপি বলে। এন্ট্রপিরকে s দ্বারা সূচিত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৩১.
কাঁঠাল কোন জাতীয় ফল?
  1. ক) রসালো ফল
  2. খ) সরল ফল
  3. গ) যৌগিক ফল
  4. ঘ) গুচ্ছ ফল
ব্যাখ্যা

• ফলের উৎস ও প্রকৃতি অনুসারে ফলকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে।
যথাঃ
- সরস ফল,
- গুচ্ছ ফল ও
- যৌগিক ফল।

• যৌগিক ফলঃ
- আনারস,
- কাঁঠাল,
- ডুমুর ইত্যাদি।

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫,৭৩২.
মানুষের রক্তরসে পানির পরিমাণ কত?
  1. ৮-৯%
  2. ৪০-৪৫%
  3. ৬০-৬৫%
  4. ৯১-৯২%
ব্যাখ্যা
• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি। যথা-
১. রক্তরস:
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ।
- এর প্রায় ৯১-৯২% অংশ পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 

২. রক্তকণিকা:
- রক্তকণিকা তিন ধরনের। যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।
- লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৫,৭৩৩.
নিচের কোনটি একটি ছত্রাক? 
  1. ক্লোরেলা
  2. ইস্ট
  3. অ্যামিবা
  4. স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিকরণ: 
- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেছেন- 
যেমন-
রাজ্য-১: মনেরা, 
রাজ্য-২: প্রোটিস্টা, 
রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক, 
রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ) এবং 
রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ)। 

ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
- এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়।
- দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- ক্লোরেলা ও স্পাইরোগাইরা শৈবাল (Algae), যা স্বপোষী। 
- অ্যামিবা হলো এককোষী প্রোটিস্ট (অপ্রকৃত প্রাণী)। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫,৭৩৪.
ক্লোরাইড আয়ন শনাক্ত করতে যে দ্রবণ ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) জলীয় AgNO3
  2. খ) অ্যালকোহলীয় KOH
  3. গ) জলীয় BaCI2
  4. ঘ) জলীয় NaCI
ব্যাখ্যা
• ক্লোরাইড আয়ন শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয় জলীয় AgNO3 (সিলভার নাইট্রেট)।
- ক্লোরাইড লবণ (যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড) এর দ্রবণে কয়েক ফোঁটা সিলভার নাইট্রেটের দ্রবণ যোগ করলে সাদা বর্ণের সিলভার ক্লোরাইড এর অধঃক্ষেপ পড়ে।
- এই অধঃক্ষেপের মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইডের দ্রবণ যোগ করলে অধঃক্ষেপ দ্রবীভূত হয়ে ডাই অ্যামিন সিলভার ক্লোরাইডের দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
এই পরীক্ষা দ্বারা ক্লোরাইড আয়ন সনাক্ত করা যায়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৩৫.
এ্যানথ্রাক্স জীবাণুর মূল উৎস কোনটি? 
  1. ক) পানি 
  2. খ) বায়ু
  3. গ) মাটি
  4. ঘ) সবগুলোই 
ব্যাখ্যা
এন্থ্রাক্স জীবাণুর মূল উৎস হচ্ছে মাটি। 

এ্যানথ্রাক্স (Anthrax)  Bacillus Anthracis ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি। 
গ্রীক শব্দ এ্যানথ্রাক্স-এর অর্থ Coal বা কয়লা। এ রোগের কারণে শরীরে কালো রঙের ক্ষত সৃষ্টি হয় বলেই এর এই নামকরণ। 
বাংলায় একে তড়কা রোগ বলা হয়। 
এতে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি গৃহপালিত প্রাণি আক্রান্ত হতে পারে। 
এটি ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু বাহিত রোগ। 
এ জীবাণুর মূল উৎস মাটি। দীর্ঘদিন (অন্তত ৩/৪ দশক) রড আকৃতির এই জীবাণু স্পোর মাটিতে টিকে থাকতে পারে। 
গবাদিপশু বা কোনো তৃণভোজী প্রাণি মাটি থেকে ঘাস খাবার সময় সহজেই এ রোগের জীবাণু (Spore) দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। 
এ রোগের জীবাণু সংক্রমিত পানি পান করলেও গবাদিপশু এ্যানথ্রাক্স দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। প্রাণি থেকে এ রোগ মানুষেও ছড়ায়। 
এটি জোনোটিক (zoonotic) রোগ।  তবে মানুষ থেকে মানুষে এ রোগের বিস্তার ঘটেনা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৫,৭৩৬.
পালমোনারি শিরা কোথায় রক্ত পরিবহন করে?
  1. ক) দেহ থেকে হৃদপিন্ডে
  2. খ) হৃদপিন্ড থেকে দেহে
  3. গ) ফুস্ফুস থেকে হৃদপিন্ডে
  4. ঘ) হৃদপিন্ড থেকে ফুস্ফুসে
ব্যাখ্যা
মানবদেহে রক্ত সংবহন এর জন্য ২ ধরনের রক্তনালী আছে।

১) শিরা = যা কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত দেহ থেকে হৃদপিন্ডে নিয়ে আসে।
২) ধমনী = যা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে সমগ্র দেহে নিয়ে যায় 

ব্যতিক্রম ,
পালমোনারি শিরা= যা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ফুস্ফুস থেকে হৃদপিন্ডে নিয়ে যায় 
পালমোনারি ধমনী = যা কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে ফুস্ফুসে নিয়ে যায় 

উৎস: একাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই ।
৫,৭৩৭.
যে কোনো দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার- 
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্টমিটার
  3. ভেলাটোমিটার
  4. গ্যালভানোমিটার 
ব্যাখ্যা
- বিদ্যুৎ প্রবাহ হলো মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ। 
- এ প্রবাহ আবার দু'রকম। 
যথা- 
১। এসি প্রবাহ এবং 
২। ডিসি প্রবাহ। 

- কোনো বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের জন্য দরকার এর দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য। 
- এই বর্তনীতে তড়িৎযন্ত্র ও উপকরণসমূহকে শ্রেণি ও সমান্তরাল সংযোগ যুক্ত করা যায়। 
- এছাড়া বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ মাপার জন্য দরকার অ্যামিটার। 
- যে কোনো দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার। 
- বেগ পরিমাপক যন্ত্র হলো ভেলাটোমিটার। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫,৭৩৮.
চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা কোথায় বেশি? 
  1. চুম্বকের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে
  2. চুম্বকের উত্তর মেরু অঞ্চলে
  3. চুম্বকের মাঝামাঝি অঞ্চলে
  4. চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে। 
- যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদেরকে চুম্বক বলে। 
- প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক। 
- চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ। 
- যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫,৭৩৯.
Rover Sojourner কত সালে মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করে?
  1. ১৯৯৯
  2. ১৯৯৫
  3. ১৯৯৭
  4. ১৯৯৩
ব্যাখ্যা
- Mars Pathfinder was launched December 4, 1996 and landed on Mars' Ares Vallis on July 4, 1997. 
- It was designed as a technology demonstration of a new way to deliver an instrumented lander and the first-ever robotic rover to the surface of the red planet. 
- Pathfinder not only accomplished this goal but also returned an unprecedented amount of data and outlived its primary design life.
 
- Sojourner is a rover that landed on Mars in 1997 in a location called Ares Vallis where it explored and took many photos.
- In 1997, NASA scientists did something pretty amazing. For the first time, they used a small wheeled robot to study the surface of Mars. This robotic explorer, called a rover, was named Sojourner. It was only about the size of a microwave oven. However, it went on to share lots of important new information with scientists.
 
Source: Nasa Website
৫,৭৪০.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার EPI কার্যক্রমের আওতায় কোন টিকাটি প্রদান করা হয় না?
  1. BCG
  2. HIV
  3. Hepatitis B
  4. HPV
ব্যাখ্যা
• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার EPI কার্যক্রমের আওতায় HIV টিকা প্রদান করা হয় না। 

• টিকা দেওয়া বা ভ্যাকসিনেশন (Vaccination):

- ইমিউনিটি অর্জনের জন্য দেহের মধ্যে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার পদ্ধতিতে ভ্যাকসিনেশন বলে।

• টিকাকরণের নীতি (Priciples of Vaccination)-
- রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের রোগ সৃষ্টির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেহে প্রবেশ করিয়ে ইমিউনিটি গড়ে তোলা হয়।
- এই পদ্ধতিতে সক্রিয় অনাক্রমীকরণের মাধ্যমে ইমিউনোলজিক্যাল মেমোরির (immunological memory) সৃষ্টি হয়।
- পরবর্তীতে রোগ সংক্রামক জীবাণু শরীরে প্রবশে করলে দেহ দ্রুততার সঙ্গে প্রবিষ্ট জীবাণুকে ধ্বংস করে।

• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায়  ১৩ টি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয় ।
সেগুলো হলো -
- যক্ষ্মা (BCG),
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিং কাশি (pertussis),
- টিটেনাস (tetanus),
- Haemophilus influenzae type B (Hib),
- Hepatitis B (HepB),
- পোলিও (Polio),
- হাম (Measles),
- Rubella,
- Pneumococcal disease (PNC),
- Rotavirus (Rota),
- Human papillomavirus (HPV),
- COVID-19 (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
- WHO [লিংক] 
৫,৭৪১.
কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের কান্ড দুর্বল হয়?
  1. আয়রন
  2. সালফার
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• আয়রনের অভাবে উদ্ভিদের কান্ড দুর্বল হয়।

• আয়রন:
- লৌহ বা আয়রনের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়।
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।

• সালফার:
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক বলে।

• ম্যাগনেসিয়াম:
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।

• নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৭৪২.
শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে-
  1. নক্ষত্রমণ্ডলী
  2. শুক্র গ্রহ
  3. বুধ গ্রহ
  4. মঙ্গলগ্রহ
ব্যাখ্যা

শুক্র (Venus):
- শুক্র গ্রহকে ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়।
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়, শুক্র গ্রহ।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি।
- শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার।
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে এক বছর।
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়। (বোর্ড বই)

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৭৪৩.
বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হওয়ার কতক্ষণের মধ্যে ইউপিএস বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারে?
  1. ক) কোনো সময় লাগে না
  2. খ) দশ মিলিসেকেন্ড
  3. গ) এক সেকেন্ড
  4. ঘ) সর্বোচ্চ দুই সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর এক থেকে দুই সেকেন্ড লাগে আইপিএস চালু হতে। বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হওয়ার দশ মিলিসেকেন্ডের ভেতর ইউপিএস বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারে।
উৎস: বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি
৫,৭৪৪.
মোলার দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের আদর্শ পদ্ধতি কী? 
  1. গ্রাম
  2. মোলারিটি
  3. গ্রাম-অণু
  4. গ্রাম-তুল্যভর
ব্যাখ্যা
মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে মোলার দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার হবে। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- মোলার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৪৫.
যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে ________ বলে।
  1. আইসোবার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোটোপ
  4. পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
- যে সকল পরমাণুর ভরসংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোবার বলে। ভরসংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।
- একই মৌলের একাধিক ভরসংখ্যা বিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলোকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৪৬.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে কোন অবস্থা বিরাজ করে? 
  1. উচ্চচাপ
  2. নিম্নচাপ
  3. নিম্ন তাপ
  4. শুষ্ক আবহাওয়া
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। 
- স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৭৪৭.
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) কেলাসের গঠন কীরূপ?
  1. পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
  2. দেহ-কেন্দ্রিক ঘনকাকার
  3. সংঘবদ্ধ-ঘনকাকার
  4. সংঘবদ্ধ ষড়কৌণিক আকার
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ক্লোরাইড গঠন (Sodium Chloride Structure): 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড কেলাসে Na+ আয়ন ও CI- আয়নসমূহ স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ দ্বারা সুবিন্যস্থ থাকে। 
- গোলক আকারের এসব আয়নের ব্যাসার্ধ যথাক্রমে 95 ও 181 pm (পিকোমিটার, 1 x 10-12 m)। 
- এক্ষেত্রে ক্যাটায়ন (Na+) ও অ্যানায়ন (Cl-) এর ব্যাসার্ধ অনুপাত হল (95 ÷ 181) = 0.525, যা ব্যাসার্ধ-অনুপাত নিয়মে 0.4140.72 এর মধ্যে অবস্থিত। 
- সুতরাং ব্যাসার্ধ অনুপাত ও ক্যাটায়নের সন্নিবেশ সংখ্যার সম্পর্ক মতে, Na+ আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা হল 6 ও NaCl এর কেলাস গঠন হবে অষ্টতলকীয়। 
- বাস্তবে দেখা যায় যে, উভয় আয়নের গোলকের ব্যাসার্ধ অনুসারে একই তলে Naআয়নের চারদিকে চারটি CI- আয়ন স্পর্শ করে থাকে, কিন্তু নিজেরা বিকর্ষণের কারণে স্পর্শ করে না। 
- একই তলে এ পাঁচটি আয়ন থাকে এবং ঠিক উপরে ও নিচে আরো দুটি Cl- আয়ন অবস্থান নিতে পারে। 
- এ ছয়টি CI- আয়ন ও একটি Na+ আয়নের কেন্দ্রের অবস্থানকে দেখানো হয়েছে; এতে Na+ আয়নটি একটি অষ্টতলকের কেন্দ্রে এবং ছয়টি CI- আয়ন ঐ অষ্টতলকের ছয়টি শীর্ষবিন্দুতে অবস্থিত। 
- সুতরাং এ গঠনে Naআয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা 6 হয়েছে। 
- স্থূল সংকেত NaCl অনুসারে প্রতিটি CI- আয়নের চারদিকে ছয়টি Na+ আয়ন থাকতে হবে, তাই CI- আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যাও 6 হবে। 
- এ ছয়টি Na+ আয়ন ও একটি সুষম অষ্টতলক সৃষ্টি করে, যার কেন্দ্রে CI- আয়নটি অবস্থিত। 
- এ প্রকার Na+ আয়ন কেন্দ্রিক ও Clআয়ন কেন্দ্রিক অসংখ্য অষ্টতলক কেলাস জালিতে বিন্যস্ত হয়ে পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকীয় NaCl এর কেলাস গঠন করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৫,৭৪৮.
উদ্ভিদে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোন গ্যাস গ্রহণ এবং কোন গ্যাস ত্যাগ করা হয়?
  1. CO2 গ্রহণ, N2 ত্যাগ
  2. N2 গ্রহণ, O2 ত্যাগ
  3. O2 গ্রহণ, CO2 ত্যাগ
  4. CO2 গ্রহণ, O2 ত্যাগ
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে গ্যাসীয় বিনিময়: 
- উদ্ভিদের জীবনে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) এবং শ্বসন (Respiration) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রক্রিয়া। 
- মূলত এই দুটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে থাকে, এই প্রক্রিয়া দুটি ঘটে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। 
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য বায়ু থেকে CO2 গ্রহণ করে এবং O2 ত্যাগ করে, অন্যদিকে শ্বসন প্রক্রিয়ায় জন্য O2 গ্রহণ করে এবং CO2 ত্যাগ করে
- উদ্ভিদে প্রাণীর মতো শ্বাস নেওয়ার জন্য কোনো বিশেষ অঙ্গ নেই, তবে পাতার স্টোমাটা ও পরিণত কাণ্ডের বাকলে অবস্থিত লেন্টিসেলের (Lenticel) মাধ্যমে অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাসের বিনিময় ঘটে। 
- দিনের বেলা বা পর্যাপ্ত আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণের হার অধিক হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত অক্সিজেন গ্যাসের কিছু অংশ শ্বসন প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়। 
- আবার শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের কিছু অংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার হয়, তাই আদান-প্রদানকৃত অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ প্রায় সমান। 

- রাতের বেলা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার আলোক পর্যায় বন্ধ থাকে, তাই অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
- অন্যদিকে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়, ফলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উৎপাদন চলতে থাকে। এ জন্য বড় গাছের নিচে রাত্রিবেলা ঘুমালে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। 
- উদ্ভিদ তার পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহ করে। 
- উদ্ভিদের পাতা যেরকম বাতাস থেকে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস সংগ্রহ করে, তেমনি মূল মাটি থেকে পানি শোষণ করে। 
- শোষিত সেই পানির সাথে CO2 এর বিক্রিয়ার ফলে O2 গ্যাস উৎপাদন হয়, যা বায়ুমণ্ডলে চলে যায়। এভাবে উদ্ভিদদেহে গ্যাস বিনিময় চলতে থাকে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৭৪৯.
ইথার নামক কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলোক সঞ্চালনের প্রস্তাবনা পাওয়া যায়-
  1. ক) কণা তত্ত্বে
  2. খ) তরঙ্গ তত্ত্বে
  3. গ) তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বে
  4. ঘ) কোয়ান্টাম তত্ত্বে
ব্যাখ্যা

তরঙ্গ তত্ত্বঃ 
আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নেই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৭৫০.
কোন তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে?
  1. ক) ট্রান্সফর্মার
  2. খ) ডায়োড
  3. গ) তড়িৎ মোটর
  4. ঘ) ডায়নামো
ব্যাখ্যা

- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে। তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫,৭৫১.
কোন প্লাস্টিড সূর্যের আলো ব্যবহার করে সরল শর্করা উৎপন্ন হয়?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. লিউকোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৭৫২.
একটি বস্তু সমতল তলে স্থাপন করা হলে কেন্দ্রন ভরের উচ্চতা যদি বৃদ্ধি পায়, তাহলে স্থিরতা কেমন হবে?
  1. বৃদ্ধি পাবে
  2. কমবে
  3. অপরিবর্তিত থাকবে
  4. প্রাথমিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে
ব্যাখ্যা

- যদি কেন্দ্রন ভরের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, তবে স্থিরতা কমবে। 

• কেন্দ্রন ভর (Center of Gravity): 
- কেন্দ্রন ভর হলো বস্তুর সেই কাল্পনিক বিন্দু যেখানে পুরো ভরের সমানুপাতিক কেন্দ্র ধরা যায়। অন্য কথায়, বস্তুটি যেন ওই বিন্দুর চারপাশে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
- বস্তু স্থিতিশীল থাকে যখন তাকে সামান্য দোলন বা ত্রুটি দিলে তা আবার মূল অবস্থায় ফিরে আসে।
- স্থিতিশীলতার জন্য দুটি মূল পরিমাপক গুরুত্বপূর্ণ:- কেন্দ্রন ভর (Center of Gravity) এবং ভিত্তি বা সমর্থন ক্ষেত্র (Base Area)
- যদি কেন্দ্রন ভর সমর্থন ক্ষেত্রের কাছে থাকে, বস্তু স্থিতিশীল থাকে।
- সামান্য দোলন হলে কেন্দ্রন ভর সহজে পুনঃব্যালেন্স হয়।
- কেন্দ্রন ভর যত উপরে থাকে, তত সহজে বস্তু ভারসাম্য হারায়।
- ছোট দোলনও বস্তুকে গড়িয়ে বা গুলিয়ে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,৭৫৩.
মুস্তাফিজের করা প্রচণ্ড গতির একটা বল তামিম তার ব্যাট দিয়ে থামিয়ে দিলে এখানে বলের ক্ষেত্রে নিউটনের কোন সূত্র কাজ করেছে?
  1. ক) প্রথম সূত্র
  2. খ) দ্বিতীয় সূত্র
  3. গ) তৃতীয় সূত্র
  4. ঘ) চতুর্থ সূত্র
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• মুস্তাফিজের করা প্রচণ্ড গতির একটা বল তামিম তার ব্যাট দিয়ে থামিয়ে দিলে এখানে বলের ক্ষেত্রে নিউটনের তৃতীয় সূত্র কাজ করেছে। 

নিউটনের প্রথম সূত্র: বল প্রয়ােগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে। উদাহরণঃ চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়ােগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।

নিউটনের তৃতীয় সূত্র: যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।

উদাহরণঃ
বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।
মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৭৫৪.
নিচের কোনটির জলরাশি পৃথিবীর মোট পানির মধ্যে সবচেয়ে কম? 
  1. হ্রদ 
  2. নদী 
  3. হিমবাহ 
  4. ভূগর্ভস্থ পানি 
ব্যাখ্যা

- জলরাশির পৃথিবীর মোট পানির মধ্যে সবচেয়ে কম আছে নদীর মধ্যে যা শতকরা ০.০০০১ ভাগ । 

বারিমণ্ডল: 
- 'Hydrosphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমণ্ডল। 
- 'Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে পানি, এ বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। 
- বারিমণ্ডল বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ। 
- পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগর) এবং মাত্র ৩ ভাগ পানি রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে। 
- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- লবণাক্ত ও মিঠা পানি। 
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস। 

- জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ ও শতকরা হার হচ্ছে- 
• সমুদ্র = ৯৭.২৫, 
• হিমবাহ = ২.০৫, 
• ভূগর্ভস্থ পানি = ০.৬৮, 
• হ্রদ = ০.০১, 
• মাটির আর্দ্রতা = ০.০০৫, 
• বায়ুমণ্ডল = ০.০০১, 
নদী = ০.০০০১ এবং 
• জীবমণ্ডল = ০.০০০০৪ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৭৫৫.
চার্লসের সূত্রটি কী ব্যাখ্যা করে? 
  1. স্থির চাপের মধ্যে, গ্যাসের আয়তন তার তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক থাকে।
  2. স্থির চাপের মধ্যে, গ্যাসের আয়তন তার তাপমাত্রার পরিপন্থী থাকে।
  3. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ তার আয়তনের সাথে সমানুপাতিক থাকে।
  4. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক থাকে।
ব্যাখ্যা
চার্লসের সূত্র
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/273 ; 
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T. 

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৫,৭৫৬.
মৌলিক রাশি নয় কোনটি?
  1. বল
  2. দৈর্ঘ্য
  3. তাপমাত্রা
  4. তড়িৎপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 

যেমন- 
• দৈর্ঘ্য, 
• ভর, 
• সময়, 
• তাপমাত্রা, 
• তড়িৎপ্রবাহ, 
• দীপন তীব্রতা এবং 
• পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 

যেমন- 
• বেগ, 
• ত্বরণ, 
• কাজ, 
• বল, 
• তাপ, 
• বিভব ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৫৭.
পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ কত ডিগ্রী?
  1. ১৮০°
  2. ৯০°
  3. ৩৬০°
  4. ২৭০°
ব্যাখ্যা
• অক্ষাংশ নির্ণয় (Determining latitude)
- একজন ভূগোলবিদের জন্য অক্ষাংশ নির্ণয় করতে জানা খুবই জরুরি।
- আমরা জানি পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ ৩৬০°।
- অক্ষাংশ নির্ণয় করার জন্য গ্লোবটিকে আমরা যদিমাঝখান দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে কেটে নেই, তাহলে এর মধ্যে আমরা পৃথিবীর ঠিক মধ্যকিন্দু পাব। এখন যদি আমরা কোনো একটি স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করতে চাই, তাহলে সেই মধ্যবিন্দুর সঙ্গে নির্ণেয় স্থানটির নিরক্ষরেখার (০°) পরিপ্রেক্ষিতে যে কোণ উৎপন্ন হয় তা নির্ণয় করতে হবে। এই কোণই হলো সেই স্থানের অক্ষাংশ।

অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
সেগুলো হলো –

•  সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে:
যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০০– (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি বিযুবলম্ব)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৫,৭৫৮.
টিউবলাইটে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. আর্গন
  3. সোডিয়াম
  4. ক্রিপ্টন
ব্যাখ্যা
• টিউবলাইটে নিষ্ক্রিয়  গ্যাস হিসেবে আর্গন ব্যবহৃত হয়।
- টিউবলাইটে সাধারণত আর্গন গ্যাস (Argon) এবং সামান্য পরিমাণে পারদ বাষ্প (Mercury vapor) ব্যবহৃত হয়।

আর্গন গ্যাসের অন্যান্য ব্যবহার:
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়।
- এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টিলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
- তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৫৯.
নিচের কোনটি স্নায়বিক বৈকল্যজনিত শারীরিক সমস্যা?
  1. ক) প্যারালাইসিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) পারকিনসন রোগ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
স্নায়বিক বৈকল্যজনিত শারীরিক সমস্যা:

 প্যারালাইসিস (Paralysis ) : 
 •শরীরের কোনো অংশের ঐচ্ছিক মাংসপেশি ইচ্ছামতো নাড়াতে পারার ক্ষমতা নষ্ট হওয়াকে প্যারালাইসিস বলে।
 •সাধারণত মস্তিষ্কের কোনো অংশের ক্ষতির কারণে ঐ অংশের সংবেদন গ্রহণকারী পেশিগুলো কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
•স্নায়ু রোগ, সুষুম্নাকাণ্ডের কিংবা কশেরুকার ক্ষয় রোগও প্যারালাইসিসের কারণ হতে পারে।

এপিলেপসি (Epilepsy ) :
 •এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাঁপুনি দিতে থাকে।
•অনেক ক্ষেত্রে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এই রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়। 

পারকিনসন রোগ (Parkinson's disease):
 •পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৫,৭৬০.
পিত্তরসে কোন উপাদান অনুপস্থিত, যা খাদ্য পরিপাকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? 
  1. পানি
  2. এনজাইম
  3. গ্লুকোজ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা, পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ। এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৬১.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়? 
  1. Embryology
  2. Cytology
  3. Physiology
  4. Morphology
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞানের বিশেষ শাখা: 
- জীবের তথা জীববিজ্ঞানের কোন দিকটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা হয়ে থাকে। 
এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শাখার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেয়া হলো- 

১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাহ্যিক গঠনকে বহিঃঅঙ্গসংস্থান (External morphology) এবং অভ্যন্তরীণ গঠনকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান (Internal morphology) বলে। 

২। শ্রেণিবিন্যাস (Classification): প্রতিটি জীব প্রজাতি পর্যায়ক্রমে একটি গণ, একটি গোত্র, একটি বর্গ এবং একটি শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হয়। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় এ নিয়ে আলোচনা করা হয় তা হলো শ্রেণিবিন্যাসতত্ত্ব বা শ্রেণিবিন্যাসবিজ্ঞান (Taxonomy)। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৪। ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৬। বংশগতিবিদ্যা (Genetics): মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৬২.
ধাতু এবং লঘু এসিড কি উৎপন্ন করে?
  1. ক) লবণ + হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন + নাইট্রোজেন
  3. গ) কার্বন + অক্সিজেন
  4. ঘ) লবণ + পানি
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক সক্রিয়তা সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরের ধাতুসমূহ লঘু এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৫,৭৬৩.
কোন মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালন করতে পারে না?
  1. কঠিন মাধ্যমে
  2. শূন্য মাধ্যমে
  3. বায়বীয় মাধ্যমে
  4. তরল মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যা কণার কম্পনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। এটি কম্পনের শক্তি স্থানান্তর করে মাধ্যমে প্রেরণ করে। কঠিন, তরল এবং বায়বীয় মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে, কারণ এগুলিতে কণা থাকে যা কম্পন প্রেরণ করতে সক্ষম। কিন্তু শূন্য মাধ্যমে কোনো কণা নেই, তাই কোনো কম্পন স্থানান্তর সম্ভব নয়। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালন করতে পারে না।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো খ) শূন্য মাধ্যমে।


শব্দের সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টিকরে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়। আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৫,৭৬৪.
মানুষের রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত কত ?
  1. ক) ১ : ৭০০
  2. খ) ১ : ১০০
  3. গ) ১ : ৫০০
  4. ঘ) ১ : ১২০
ব্যাখ্যা
• মানুষের রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত ১ : ৭০০।
শ্বেতকণিকা: শ্বেতকণিকা মানবদেহে রক্তের একটি উপাদান।
- রক্তে বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং তুলনামূলকভাবে স্বল্পসংখ্যক ও বৃহদাকার যে কোষ দেখা যায় এবং যারা দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে তাকে শ্বেতকণিকা বলে।
• লোহিত রক্তকণিকা: মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা গোল, দ্বিঅবতল, নিউক্লিয়াসবিহীন চাকতির মতো ও লাল বর্ণের।
- লোহিত রক্তকণিকার কাজ হিমোগ্লোবিন ফুস্ফুস থেকে দেহ কোষে O₂ এবং সামান্য CO₂ পরিবহন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান- ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৫,৭৬৫.
নিচের কোনটি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মূল যন্ত্র?
  1. ক) রেস্ট্রিকশন এনজাইম
  2. খ) প্লাজমিড
  3. গ) ডিএনএ
  4. ঘ) rRNA
ব্যাখ্যা
কাঙ্খিত নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টির জন্য কোন জীবের DNA-এর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে।
প্লাজমিড হচ্ছে একখন্ড বৃত্তাকার DNA যা ব্যাকটেরিয়াল কোষের বাইরে অবস্থান করে।
প্লাজমিডই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর আসল যন্ত্র যার দ্বারা নতুন জেনেটিক তত্ত্ব ব্যাকটেরিয়া এবং উদ্ভিদের মধ্যে স্থানান্তর করা হয়।
উৎসঃ উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদ বিজ্ঞান, গাজী আজমল
৫,৭৬৬.
'এল নিনো' (El Nino) একটি-
  1. 'ইতালিক' শব্দ
  2. 'রুশ' শব্দ
  3. 'স্প্যানিশ' শব্দ
  4. 'ইংরেজি' শব্দ
ব্যাখ্যা
এল নিনো:

- এল নিনো এক প্রকার উষ্ণ স্রোত।
- 'এল নিনো' (El Nino) একটি 'স্প্যানিশ' শব্দ।
- এল নিনো প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।
- তা বিরাজমান থাকে প্রায় ১ বছর কখনো কখনো ১৮ মাস পর্যন্ত যখন, সমুদ্র পৃষ্ঠ’র তাপমাত্রা বিস্তর পার্থক্য হয় (প্রায় ০.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস)। 
- এল নিনোর কারণে অস্ট্রেলিয়াতে খড়া দেখা দিতে পারে।
- এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিবর্ষণ ও ভারতে বর্ষাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
- চলমান এল নিনো বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখার লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করে যেতে পারে।
- সাধারণত যে বছর এল নিনো শুরু হয়, তার পরের বছরটিতে তীব্র গরম অনুভূত হয়।
- এর আগে ২০১৫ সালে এল নিনো হয়েছিল বলে ২০১৬ সালে বিশ্বে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল।


Image Source: ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, যুক্তরাষ্ট্র
• অপরদিকে, 'লা নিনো' শব্দটিও ''স্প্যানিশ' যার অর্থ বালিকা। এল নিনো প্রভাবে সাগরে উষ্ণ পানির স্রোত প্রবাহিত হবার পর পরবর্তীতে সাগরের পানির উষ্ণতা কমে আসে। সাগরের পানির এ উষ্ণতা কমে আসাই লা নিনো নামে পরিচিত। লা নিনোর প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়।  

উৎস: National Geographic Society.
৫,৭৬৭.
3517Cl মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) 15
  2. খ) 35
  3. গ) 17
  4. ঘ) 18
ব্যাখ্যা
নিউট্রন সংখ্যা = A - Z
 = 35 - 17
= 18
৫,৭৬৮.
কোন প্রাণীর রেচন অঙ্গ শিখা কোষ?
  1. ক) হাইড্রা
  2. খ) জেলিফিশ
  3. গ) ফিতা কৃমি
  4. ঘ) ঝিনুক
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ
১। দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পৃষ্ঠ- অঙ্কীয় তল বরাবর চ্যাপ্টা ।
২। এরা ট্রিপলোব্লাস্টিক অর্থাৎ তিনটি কোষীয় স্তরে বিন্যস্ত থাকে।
৩। সকল প্রাণী সিলোমবিহীন।
৪। পৌষ্টিকতন্ত্র অসর্ম্পূণ ।
৫। শিখা কোষ নামক প্রোটোনেফ্রিডিয়া সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত।
৬। অধিকাংশ উভলিঙ্গী।

উদাহরণঃ Dugesia tigrini, Taenia solium (ফিতাকৃমি), Fasciola hepatica (যকৃত কৃমি)।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৬৯.
কৃষি জমিতে কিসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) মাটির ক্ষয় রোধ করার জন্য
  2. খ) মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  3. গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. ঘ) জৈব পদার্থের বৃদ্ধির জন্য
ব্যাখ্যা

- এসিড মাটি অনুর্বর।
- জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে।
- ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়।
- এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য সারের চুন ব্যবহার করা হয়।

৫,৭৭০.
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর সাধারণত কি গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. অক্সিজেন
  2. নিয়ন
  3. হিলিয়াম
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
আর্গন:
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বান্ধে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
- তাছাড়া বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর সাধারণত নাইট্রোজেন এবং মাঝে মাঝে আর্গন (Ar) গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মুলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৫,৭৭১.
বিদ্যুৎ শক্তির হিসাবের জন্য ব্যবহৃত একক কী?
  1. জুল
  2. ওয়াট
  3. কিলোওয়াট-ঘণ্টা 
  4. ওয়াট-ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

• বিদ্যুৎ শক্তির হিসাব করার জন্য সাধারণভাবে ব্যবহৃত একক হলো কিলোওয়াট-ঘণ্টা। এটি একটি শক্তি একক যা বোঝায় যে একটি যন্ত্র কত কিলোওয়াট শক্তি ব্যবহার করেছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, সাধারণত ঘণ্টায়। জুল হলো শক্তির মৌলিক একক, ওয়াট হলো শক্তির হার, আর ওয়াট-ঘন্টা শক্তির একটি ছোট একক। 
- সুতরাং, বিদ্যুৎ বিল হিসাব করার জন্য কিলোওয়াট-ঘণ্টা  ব্যবহার করা হয়।

 
 কিলোওয়াট-ঘন্টা:
- বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক একক কিলোওয়াট-ঘন্টা।
- কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রের বা উৎসের কাজ করার হারকে এর ক্ষমতা বলে।
- অর্থাৎ কোনো বৈদ্যুতিক উৎস একক সময়ে যে কাজ করে তাকে তার ক্ষমতা বলে।
- বৈদ্যুতিক ক্ষমতার ব্যবহারিক একক হল ওয়াট (Watt)।
- ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎস ১ ঘণ্টা চলতে থাকলে যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় হয় তাকে ১ ওয়াট-ঘণ্টা বলা হয়।
- ১ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎস ১ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকলে যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় হয় তাকে ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বা ১ ইউনিট বলা হয়।
- ১ ইউনিট= ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৭৭২.
নিচের কোনটি সালফারের অভাবজনিত লক্ষণ নয়? 
  1. কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয়ে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 
  2. পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া। 
  3. মূল, কান্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়া। 
  4. কচি পাতায় ক্লোরোসিস বেশি। 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া। 

কারণ, 
পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া সালফারের অভাবের লক্ষণ নয়, বরং এটি ফসফরাসের (P) অভাবের একটি প্রধান লক্ষণ। ফসফরাসের অভাবে পাতায় অ্যান্থোসায়ানিন নামক বেগুনি রঞ্জক তৈরি হয়। 

অন্যদিকে,
সালফারের অভাবে: 

- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয়ে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 
- মূল, কান্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়া। 
- কচি পাতায় ক্লোরোসিস বেশি। 

পটাশিয়ামের অভাবে:
পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।

নাইট্রোজেনের অভাব:
ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য,
- বয়োবৃদ্ধ পাতা বেশি হলুদ হলে তা নাইট্রোজেনের অভাব।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৫,৭৭৩.
Adult cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে-
  1. ক) নেলী
  2. খ) শেলী
  3. গ) ডলি
  4. ঘ) মলি
ব্যাখ্যা
Adult cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে ডলি

ডলি হলো মানব-ইতিহাসে প্রথম সফল স্তন্যপায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ক্লোন প্রাণী।
ডলির জন্ম হয়  ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই।
ডলির নামকরণ করা হয় আমেরিকার বিখ্যাত শিল্পী ডলি পের্টনের নামে।
২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফুসফুসে জটিলতার কারণে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে মারা যায় ডলি।
ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডে সংরক্ষিত আছে ডলির স্টাফ করা দেহ।

সূত্র: বিবিসি ওয়েবসাইট।
৫,৭৭৪.
হাইড্রার নামকরণ করেছেন কোন বিজ্ঞানী? 
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. ট্রেম্বলে
  3. লিনিয়াস
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
হাইড্রা: 
- Hydra আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে। 
- হাইড্রার নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস। 
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। 
- কর্ষিকার সাহায্যে এরা খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে। 
- মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে। 
- Hydra পুনরুৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত। 
- Hydra মিঠাপানির প্রাণী। 
- এরা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে। 
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৭৫.
বিশ্ববাজারে ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগলের চামড়া কী নামে পরিচিত?
  1. কুষ্টিয়া গ্রেড
  2. চুয়াডাঙ্গা গ্রেড
  3. পাবনা গ্রেড
  4. যশোর গ্রেড
ব্যাখ্যা
কুষ্টিয়া গ্রেড:

- বাংলাদেশে পালিত ছাগলের প্রায় নব্বই ভাগই হলো ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল।
- এই জাতের ছাগলের চামড়া অত্যন্ত উন্নত মানের এবং মাংস অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ব্যতীত ছাগলের অন্যান্য জাতের মধ্যে যমুনাপারি বা রামছাগল, কাশ্মিরী, বারবারি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- দেশের সর্বত্রই এই জাতের ছাগল দেখা যায়। তবে কৃষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলে এই ছাগলের পালন সর্বাধিক হয়।
- যার কারণে বিশ্ববাজারে ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগলের চামড়া কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৫,৭৭৬.
বিগ ব্যাং কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ক) পৃথিবীতে
  2. খ) সূর্যে
  3. গ) মহাকাশে
  4. ঘ) সর্বত্র
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং মহাবিশ্বের সর্বত্রই সংঘটিত হয়েছিল। নির্দিষ্ট কোন জায়গায় সংঘটিত হয়নি। 

একসময় এই মহাবিশ্বের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এক বিরাট কসমিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় সকল প্রকার কণা, প্রতিকণা ও পদার্থ। সৃষ্টি হয় ছায়াপথ, গ্রহ, উপগ্রহ। মহাজগৎ সৃষ্টির এই তত্ত্বকে বলা হয় ‘দ্য বিগ ব্যাং থিওরি’। 

স্টিফেন হকিং বিগ ব্যাং তত্ত্ব এর ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। 

সূত্র- BBC Science Focus Website [লিঙ্ক]
৫,৭৭৭.
চাঁদের পৃষ্ঠে একজন মানুষের ওজন পৃথিবীর তুলনায় কেমন হয়?
  1. পৃথিবীর সমান
  2. পৃথিবীর দ্বিগুণ
  3. পৃথিবীর প্রায় ১/৬ গুণ
  4. পৃথিবীর প্রায় ১/১০ গুণ
ব্যাখ্যা

- চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ, চাঁদে ওজন পৃথিবীর প্রায় ১/৬ গুণ হয়।
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে।
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে।
- চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে এ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। অর্থাৎ পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে এ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে।
- উল্লেখ্য, একজন মানুষের ভর (m) পৃথিবী বা চাঁদ - সর্বত্র একই থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৫,৭৭৮.
পেশিকোষের মায়োফাইব্রিল প্রধানত কোন প্রোটিন দিয়ে গঠিত? 
  1. কেরাটিন ও এলাস্টিন 
  2. অ্যাকটিন ও মায়োসিন 
  3. হিমোগ্লোবিন ও মায়োসিন 
  4. কোলাজেন ও এলাস্টিন 
ব্যাখ্যা

পেশি কলা: 
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত যে কলা অসংখ্য তন্ত্রর মতো কোষের সমন্বয়ে গঠিত এবং সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে প্রাণী দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সঞ্চালন ঘটায় তাকে পেশি কলা বলে। 
যেমন- মসৃণ পেশি, অমসৃণ পেশি, হৃদপেশি। 
- দেহ ওজনের শতকরা প্রায় ৪০-৫০ ভাগ পেশি কলা। 

বিভিন্ন প্রকার পেশির গঠন: 
- অবস্থান, গঠন ও কাজের তারতম্যের ভিত্তিতে পেশি কলাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- ১। ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ পেশি, ২। অনৈচ্ছিক বা অরৈখিক বা মসৃণ পেশি এবং ৩। হৃদপেশি বা কার্ডিয়াক পেশি। 

ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- ঐচ্ছিক পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্ত্রর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 

- পেশিকোষগুলো নলাকার, লম্বা। দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 
- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে। এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। প্রধানত অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৭৭৯.
আপেক্ষিক তত্ত্বের ভিত্তিতে নিচের কোনটি ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়?
  1. মহাকর্ষ
  2. নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি
  3. সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন। 
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন। 
যথা- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা- 
প্রথম স্বীকার্য: 
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 

দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৮০.
একজন সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে কত বার হয়?
  1. ক) ৬০-৮০ বার
  2. খ) ৭০-৯০ বার
  3. গ) ৬০-১০০ বার
  4. ঘ) ১০০-১২০ বার
ব্যাখ্যা
- একটি সিস্টোল ও একটি ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন হয় এবং সময় লাগে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড।
- একজন সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০-১০০ বার হয়
- এটাকে হার্ট-বিট বলা হয়।
- আমাদের হাতের কবজির রেডিয়াল ধমনিতে এই স্পন্দন গোনা যায় আবার বুকের বাম দিকে নির্দিষ্ট স্থানে স্টেথোস্কোপ বসিয়ে শব্দ শোনা যায়।
- হাতের কবজিতে হৃৎস্পন্দন অনুভব করাকে পালস বলে।
- স্টেথোস্কোপের সাহায্যে হৃৎস্পন্দনের যে শব্দ শোনা যায়, তাকে হার্টসাউন্ড বলে।
- হৃৎস্পন্দন বা হার্ট-বিটকে যখন প্রতি মিনিটে হাতের কবজিতে গণনা করা হয়, তখন তাকে পালস রেট বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫,৭৮১.
এককোষী জীবে কোণ ধরনের কোষ বিভাজন ঘটে?
  1. ক) মিয়োসিস
  2. খ) অ্যামাইটোসিস
  3. গ) মাইটোসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- এককোষী জীব যেমন- ইস্ট, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং অ্যামিবাতে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটতে দেখা যায়।
- এককোষী জীবগুলো অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে থাকে।

অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজনের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১) প্রথমে মাতৃ নিউক্লিয়াসটি লম্বাটে ও ডাম্বেল আকৃতি ধারণ করে।
২) এরপর নিউক্লিয়াসটি ক্লিভেজ বা ফায়ারিং পদ্ধতির মাধ্যমে মাঝখানে সংকুচিত হয় এবং দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য
নিউক্লিয়াস গঠন করে।
৩) নিউক্লিয়াস বিভাজন এর সঙ্গে সঙ্গে কোষপর্দা ও সাইটোপ্লাজমীয় অংশ মাঝ বরাবর বিভাজিত হয় এবং নিউক্লিয়াসকে ঘিরে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি ।
৫,৭৮২.
অক্ষাংশ হিসেবে গর্জনশীল চল্লিশের অবস্থান কোনটি?
  1. ৪০° উত্তর থেকে ৪৭°
  2. ৪০° দক্ষিণ থেকে ৪৭°
  3. ৪১° উত্তর থেকে ৪৩°
  4. ৪৩° দক্ষিণ থেকে ৪৯°
ব্যাখ্যা
পশ্চিমা বায়ু: 
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- ৩০° অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেঁষে মেরুর দিকে ৬০° অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। 
- এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়। 
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল। 
- আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ুপ্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু। 
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)। 

- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের মত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়। 
- ৩০° থেকে ৫০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দুটি ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থান রয়েছে। 
- বায়ু নিম্নদিকে প্রবাহিত হয় বলেই এই অঞ্চলে আনুভূমিক বায়ু অনুভব করা যায় না। 
- প্রাচীনকালে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজ প্রবাহিত হবার সময় ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করে নিয়ে যেত। 
- কিন্তু এই অঞ্চলের বায়ু প্রবাহের জন্য বাতাসের গতি যখন মন্থর হয়ে যেতো নাবিকরা তখন খাদ্য ও পানীয় জলের অনেক অভাবে তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতো। এ জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটিতে শীতকালেও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৭৮৩.
সবচেয়ে শক্ত বস্তু কোনটি?
  1. ক) গ্রানাইট পাথর
  2. খ) পিতল
  3. গ) ইস্পাত
  4. ঘ) হীরা
ব্যাখ্যা
• কার্বন একটি অধাতু এবং বিজারক পদার্থ।
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক
- হীরা কাচ কাটতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৭৮৪.
বস্তুর ভরের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. অবস্থানের পরিবর্তনে বস্তুর ভর পরিবর্তিত হয়
  2. বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ বলই ভর
  3. বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমাণই ভর
  4. ভরের একক নিউটন
ব্যাখ্যা
ভর: 
- বস্তুর মধ্যে পদার্থের মোট পরিমাণই হচ্ছে এর ভর।
- ভর হচ্ছে একটি ধ্রুব রাশি যা ভূপৃষ্ঠে বা ভূপৃষ্ঠের উপরে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না।
- ৭৫ কেজি ভরের একজন মহাশূন্যচারীর ভর চাঁদে কিংবা পৃথিবীর কক্ষপথেও ৭৫ কেজিই থাকবে।
- মহাশূন্যচারী বা কোনো বস্তু যতটুকু পদার্থ দিয়ে তৈরি, বস্তু বা মহাশূন্যচারীর স্থান পরিবর্তনের ফলে তাতে কোনো পরিবর্তন হয় না বলে তার ভর সর্বত্র অপরিবর্তিত থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,৭৮৫.
হাইপো- এর রাসায়নিক নাম কি?
  1. ক) সোডিয়াম সালফেট
  2. খ) সোডিয়াম থায়োসালফেট
  3. গ) সিলভার ক্লোরাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম বাইসালফেট
ব্যাখ্যা

Sodium thiosulfate
chemical compound
Alternative Titles: hypo, sodium hyposulfite
It is used by photographers to fix developed negatives and prints; it acts by dissolving the part of the silver salts coated onto film which remain unchanged by exposure to light.
Source: britannica

৫,৭৮৬.
273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি কত?
  1. ক) 332 ms-1
  2. খ) 342 ms-1
  3. গ) 338 ms-1
  4. ঘ) 0 ms-1
ব্যাখ্যা
শব্দ
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৮৭.
কোনো দ্রবণের pH স্কেলের বিস্তৃতির সীমা কোনটি? 
  1. ০-৭
  2. ০-১৪
  3. ১-১৪
  4. ৭-১৪
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৮৮.
পরাগায়নের সময় পুরুষ গ্যামেট কোথায় যায়? 
  1. ফল
  2. বীজ
  3. ডিম্বক
  4. ফুলের বৃন্ত
ব্যাখ্যা

• পরাগায়ন হলো ফুলের পুরুষ অংশের পরাগকণিকা কে স্ত্রী অংশের ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া।

- পরাগায়নের সময় পুরুষ গ্যামেট ডিম্বক এ পৌঁছে যায়, যেখানে এটি ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়।

পুরুষ গ্যামেট:
- এটি পরাগকণিকা আকারে থাকে।
- প্রতিটি পরাগকণিকা দুটি পুরুষ গ্যামেট বহন করে।

স্ত্রী গ্যামেট:
- এটি হলো ডিম্বক এর মধ্যে অবস্থিত ডিম্বাণু।
- ডিম্বাণু এবং পুরুষ গ্যামেট মিলিত হলে ফলন বা বীজ গঠিত হয়।

পরাগায়নের প্রক্রিয়া:
- পরাগকণিকা ফুলের স্ত্রী গ্রীব আসে।
- এরপর এটি পলিন টিউব গঠন করে ডিম্বক পর্যন্ত পৌঁছে।
- পলিন টিউবের মাধ্যমে পুরুষ গ্যামেট ডিম্বক পর্যন্ত পৌঁছে গিয়ে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়।
- এই মিলনের ফলেই বীজ ও ফলের বিকাশ হয়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

৫,৭৮৯.
নিম্নলিখিত কোন পদার্থটি কনভেকশনের মাধ্যমে তাপ স্থানান্তর করতে পারে?
  1. কঠিন ও তরল
  2. বায়বীয় ও কঠিন
  3. তরল ও বায়বীয়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তাপ পরিচলন (convection): 
- তরল ও বায়বীয় পদার্থে পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালিত হয়। 
- একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলার উপরে বসিয়ে তাপ দিলে পুরো পাত্রের পানিই গরম হতে থাকে। 
- এক্ষেত্রে পানির কণাগুলো তাপ গ্রহণ করে শক্তি অর্জন করে। 
- শক্তি অর্জন করে গরম পানিকণা হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। 
- উপরের ঠাণ্ডা পানির কণাগুলো নিচে নেমে এসে তাপ গ্রহণ করে। 
- এভাবে পর্যায়ক্রমে সকল কণা তাপ গ্রহণ করে উত্তপ্ত হয়, তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়। 
- এভাবে কণাদের স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়ার নাম পরিচলন। 
- তরল পদার্থের কণার মতো বায়বীয় পদার্থের কণারাও উত্তপ্ত হয়ে সহজেই স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে তাপ সঞ্চালন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫,৭৯০.
উদ্ভিদে ফ্লোরিজেন কোন অঙ্গ থেকে উৎপন্ন হয়?
  1. ফুল 
  2. মূল 
  3. কাণ্ড 
  4. পাতা 
ব্যাখ্যা

ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
- এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৭৯১.
মায়ের শালদুধ কীভাবে শিশুর জন্য উপকারী?
  1. শিশুকে দ্রুত ঘুম পাড়াতে সহায়তা করে
  2. শিশুর হাড় মজবুত করে
  3. শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  4. শিশুর দাঁত গঠনে সহায়তা করে
ব্যাখ্যা
শিশুকে মায়ের দুধ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা: 
- জন্মের পরপরই সুস্থ নবজাতককে উষ্ণ রাখার জন্য মায়ের পেট ও বুকে রাখা হয়। 
- প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী শিশুর জন্য মায়ের দুধ সর্বোৎকৃষ্ট খাদ্য। 
১। শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ বা কলোস্ট্রাম শিশুর প্রথম টিকা হিসাবে কাজ করে। শালদুধ এন্টিবডি ও প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় শিশুর বহু রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 
২। শিশু জন্মের প্রথম ৩-৫ দিন শালদুধ অল্প মাত্রায় আসে। তবে এ পরিমাণই নবজাতকের শারীরিক সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট। শালদুধ শিশুর পরিপাচক অন্ত্রসমূহকে উদ্দীপিত করে। যার ফলে অন্ত্র থেকে দ্রুত মিকোনিয়াম (শিশুর প্রথম মল) পরিষ্কার হয়। এ অবস্থা জন্ডিস সৃষ্টিকারী জীবাণু শরীর থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। 
৩। শিশু মায়ের স্তন মুখে নেয়া ও চোষার ফলে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নামক হরমোন নির্গত হয়। এতে মা শান্ত, অবসাদমুক্ত বোধ করেন এবং শিশুর সাথে মায়ের ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হয়। 
৪। শিশু জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ এবং ছয় মাস পর থেকে ২ বছর পর্যন্ত বাড়তি খাবারের সাথে মায়ের দুধ দেয়া চলতে থাকে। 
৫। মায়ের দুধে রোগ জীবাণু প্রবেশের ভয় থাকে না, এ দুধের উত্তাপ শরীরের তাপমাত্রা অনুযায়ী থাকে বলে একে ঠান্ডা বা গরম করতে হয় না। 
৬। শিশুকে বুকের দুধ দিতে হলে ধৈর্য ও মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন। কারণ, মানসিক অশান্তি, স্বাস্থ্যহীনতা, রোগাক্রান্ত অবস্থা বা উত্তেজিত পরিস্থিতিতে শিশুকে দুধ দিলে মায়ের দুধ কমে যাবে, শিশুর মধ্যেও অতৃপ্তি আসবে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৯২.
কর্পূর কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. অদাহ্য পদার্থ
  2. উদ্বায়ী পদার্থ
  3. অদ্রব্য পদার্থ
  4. তড়িৎ পরিবাহী পদার্থ
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা: 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্দেশ করে পদার্থের সংযুক্তি অপরিবর্তিত রেখে উহার বিভিন্ন অবস্থার প্রকাশ।  
- পদার্থের ভৌত অবস্থার মধ্যে পড়ে পদার্থের ঘনত্ব, স্থায়ীত্ব, স্ফুটনাঙ্ক, দ্রাব্যতা, চৌম্বক ধর্ম, আলোর সাথে প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি। 
- আবার কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থা এ সবই কিন্তু পদার্থের ভৌত অবস্থা। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটলে পদার্থের ভৌত অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 
- কঠিন বরফকে তাপ দিলে তরল পানি, পানিকে তাপ দিলে গ্যাসীয় অবস্থা বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে জলীয় বাষ্পকে ঠাণ্ডা করলে তরল পানি, তরল পানিকে ঠাণ্ডা করলে কঠিন বরফে পরিণত হয়। 
- আবার কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল এ সব কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সরাসরি কঠিন অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। আবার গ্যাসীয় অবস্থা থেকে শীতল করলে তরল অবস্থায় পরিণত হয়ে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- প্রকৃত পক্ষে কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল প্রভৃতি হলো উদ্বায়ী পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৯৩.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির অত্যাবশ্যকীয় মাইক্রো উপাদান নয় কোনটি?   
  1. দস্তা
  2. লৌহ
  3. ক্লোরিন
  4. বোরন
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে, আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: 
• নাইট্রোজেন (N), 
• পটাশিয়াম (K), 
• ফসফরাস (P), 
• ক্যালসিয়াম (Ca),  
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• কার্বন (C), 
• হাইড্রোজেন (H), 
• অক্সিজেন (O), 
• সালফার (S) এবং 
লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- উদ্ভিদের মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: 
দস্তা বা জিংক (Zn)
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn), 
• মোলিবডেনাম (Mo), 
বোরন (B)
• তামা বা কপার (Cu) এবং 
ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৭৯৪.
নিচের কোনটি বায়ুর উপাদান নয়?
  1. হিলিয়াম
  2. আর্গন
  3. নিয়ন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
• বায়ুর উপাদান নয় - ফসফরাস।

• বায়ুর উপাদান:
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি হলো- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- বায়ুমণ্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকিগুলো শতকরা ১.২৭ ভাগ।

• বায়ুর উপাদানের শতকরা হার:
- নাইট্রোজেন- ৭৮.০২%
- অক্সিজেন- ২০.৭১%
- আর্গন - ০.৮০%
- কার্বন ডাই অক্সাইড- ০.০৩%
- জলীয় বাষ্প- ০.৪১%
- অন্যান্য গ্যাস (যেমন- নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড)- ০.০২%
- ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১%

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৭৯৫.
মানবদেহে লোহিত রক্তকোষের প্রধান উৎপাদন স্থান কোনটি?
  1. অস্থিমজ্জা 
  2. লিভার 
  3. কিডনি 
  4. প্লীহা 
ব্যাখ্যা

• মানবদেহে লোহিত রক্তকোষের (রেড ব্লাড সেল বা রক্তকণিকা) প্রধান উৎপাদন স্থান অস্থিমজ্জা। অস্থিমজ্জা হাড়ের অভ্যন্তরে থাকে এবং এটি বিভিন্ন ধরনের রক্তকোষ উৎপাদনের জন্য একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। নবজাতক শিশুদের জন্য প্রাথমিকভাবে বৃহৎ হাড়ের মধ্যে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে, তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি কেবল দীর্ঘহাড়ের মাথা, পেরুন এবং কিছু বড় হাড়ের মধ্যে সীমিত হয়ে আসে। অস্থিমজ্জায় হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল থাকে, যা বিভাজনের মাধ্যমে লোহিত রক্তকোষ, শ্বেতরক্তকোষ এবং রক্তপ্লেট তৈরি করে। অন্যান্য অঙ্গ যেমন লিভার, কিডনি বা প্লীহা রক্তকোষের উৎপাদন প্রধানত সহায়ক বা সীমিত মাত্রায় কার্যকর।

- উত্তর: ক) অস্থিমজ্জা।

লোহিত রক্তকোষ: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকোষ দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির। 
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়, এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে। 
অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কোষ প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ, এ কারণে লোহিত কোষ অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহণ করতে পারে। 
- পরিণত লোহিত কোষগুলোর বিভাজন হয় না, এ কোষগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে। 
- মানুষের লোহিত কোষের গড় আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকোষগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়। 
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কোষগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- লোহিত কোষ প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কোষ রক্তরসে সরবরাহ হয়। 

- লোহিত কোষের প্রধান কাজ হলো- 
১. দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা। 
২. নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা। 
৩. হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৭৯৬.
কোন পরিবর্তনে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম উভয়ই পরিবর্তিত হয়? 
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন 
  2. ভৌত পরিবর্তন 
  3. ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন উভয়ই
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

ভৌত পরিবর্তন: 
- ভৌত পরিবর্তনের ফলে পদার্থের নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না।
অর্থাৎ, এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন বা উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কেবলমাত্র পদার্থের কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন- ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা ও চৌম্বক অবস্থা ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে। যেমন- চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ, লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া এবং উত্তপ্ত করলে পুনরায় লবণ পাওয়া, কিংবা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের উত্তাপে বাষ্পীভূত হয়ে পুনরায় কঠিন হয়ে জমাট বাঁধা—এসবই ভৌত পরিবর্তন। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণুসমূহের মধ্যবর্তী বন্ধন ভেঙ্গে নতুন বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- অণুস্থিত পরমাণুসূহের বন্ধন ভাঙ্গা ও নতুন বন্ধন সৃষ্টি হওয়ার কারণে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে, এটি একটি স্থায়ী পরিবর্তন। 
- কোনো একটি মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হওয়ার কারণে মূল পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক উভয় প্রকার ধর্মই পরিবর্তিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
উদাহরণস্বরূপ, জ্বালানি দহন, খাবারের পরিপাক প্রক্রিয়া, সালোকসংশ্লেষণ, এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন গ্যাস বা কঠিন পদার্থের উৎপত্তি সবই রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এ পরিবর্তনে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম উভয়ই পরিবর্তিত হয় এবং শক্তির রূপান্তর ঘটে। 
 
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৭৯৭.
পরিবেশ বান্ধব শক্তি কোনটি?
  1. কয়লা
  2. সৌর শক্তি
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. নিউক্লিয় শক্তি
ব্যাখ্যা
- পরিবেশ বান্ধব শক্তি - সৌর শক্তি, কারণ এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি। 

শক্তি: 
- শক্তির উৎস হচ্ছে দুইটি। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে সবুজ শক্তি বলা হয়। 
- এই শক্তি পরিবেশ বান্ধব। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব নয়। 
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম অনবায়নযোগ্য শক্তির উপর নির্ভরশীল। 
- প্রতি বছর জাতীয় রাজস্বের একটি বড় বরাদ্দ শক্তি আমদানীর পিছনে ব্যয় হয়। 
- বাংলাদেশে সীমিত পরিমান অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস আছে। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৯৮.
ফ্লোয়েমের কোন উপাদান খাদ্যরস পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে? 
  1. সঙ্গীকোষ
  2. ফ্লোয়েম তন্তু
  3. সীভনল
  4. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে খাদ্যরস পরিবহন প্রক্রিয়া: 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়, তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। 
যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু।
- এর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। এ তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে। 
- সীভনল এক ধরনের স্ফীত এবং নলাকৃতির কোষ। 
- এটি লম্বালম্বিভাবে কোষপ্রান্তে পরস্পর সজ্জিত থাকে। 
- এদের কোষ প্রাচীর পাতলা ও সেলুলোজ সমৃদ্ধ, এদের প্রান্তে ছিদ্র থাকে। এ সকল ছিদ্রযুক্ত প্রান্তকে সিভপ্লেট বলা হয়। 

- সীভনলে নিউক্লিয়াস থাকে না কিন্তু সজীব প্রোটোপ্লাজম থাকে। 
- এ প্রোটোপ্লাজম সীভপ্লেটের ছিদ্রের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী সীভনলের প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে। 
- খাদ্যরস উপরে, নিচে ও পাশে পরিবাহিত হয়। 
- পাতায় তৈরিকৃত খাদ্য দ্রবণ আকারে নিচের দিকে অর্থাৎ শাখা-প্রশাখা হয়ে কান্ড পথে মূলের অগ্রপ্রান্তে পৌঁছায়। 
- বীজের অঙ্কুরোদগমের সময় বীজের সঞ্চিত খাদ্য দ্রবীভূত হয়ে ঊর্ধ্বপথে বর্ধিত অংশে পৌঁছায়। 
- সুতরাং কান্ডের অগ্রাংশে নতুন কোষ সৃষ্টির সময় তা ঊর্ধ্বগতি সম্পন্ন হয়। কিন্তু কখনও কখনও খাদ্যরস পার্শ্বপথেও বাহিত হয়, তখন মেডুলারী রশ্মি নামক কোষ ব্যবহৃত হয়। 
- তবে শীতের সময় সীভপ্লেটের ছিদ্রগুলোতে ক্যালোজ নামক এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ জমে। ফলে ছিদ্রগুলো আকারে ছোট হয়। তাই খাদ্যরস চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। গ্রীষ্মের আগমনে ক্যালোজ গলে যাওয়ায় খাদ্য চলাচল বেড়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৯৯.
কখন চন্দ্রগ্রহণ ঘটে?
  1. পৃথিবী সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে এলে
  2. চন্দ্র সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে এলে
  3. সূর্য পৃথিবী ও চন্দ্রের মাঝে এলে
  4. পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় এলে
ব্যাখ্যা

চন্দ্ৰগ্ৰহণ:
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।
- এই সময় চাঁদ গাঢ় লাল বা তামাটে রং ধারণ করে, যা সাধারণত 'রক্তচাঁদ' নামে পরিচিত।

⇒ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ: এই চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ার আড়ালে চলে যায়। এ সময় চাঁদ লালচে রং ধারণ করে।

⇒ আংশিক চন্দ্রগ্রহণ: চাঁদের একটি অংশের ওপর যখন পৃথিবীর ছায়া পড়ে, তখন আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হয়। চাঁদের পৃষ্ঠের ওপর পৃথিবীর ছায়া ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং পরে তা কমে যায়। তবে পুরো চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার আড়ালে চলে যায় না।

⇒ উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ: এই চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ সরাসরি পৃথিবীর মূল ছায়ার ভেতরে থাকে না। বরং ছায়ার বাইরের অংশ বা উপচ্ছায়ার ভেতর দিয়ে যায়। এর ফলে চাঁদ স্বাভাবিকের চেয়ে কম উজ্জ্বল দেখায়।

এছাড়াও,
- সূর্যগ্রহণ: যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।

- পূর্ণিমা: পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে।

- অমাবস্যা: চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

উৎস: i) বিবিসি বাংলা।
ii) প্রথম আলো

৫,৮০০.
চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের-
  1. ছয় ভাগের একভাগ
  2. বিশ ভাগের একভাগ
  3. পাঁচ ভাগের একভাগ
  4. দশ ভাগের একভাগ
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ, একই বস্তু চাঁদে পৃথিবীর চেয়ে অনেক কম ওজন অনুভব করে। এর কারণ হলো চাঁদের মহাকর্ষীয় শক্তি পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। মহাকর্ষ শক্তি সরাসরি বস্তুটির ওজন নির্ধারণ করে, কারণ ওজন হচ্ছে মহাকর্ষ শক্তির কারণে বস্তুতে কার্যকরী বল। তাই একই বস্তুর ওজন চাঁদে কম হবে। সাধারণভাবে, চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি পৃথিবীর প্রায় এক ছয় ভাগ হওয়ায়, বস্তুর ওজনও তার ছয় ভাগের এক ভাগ হয়ে যায়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) ছয় ভাগের এক ভাগ।


- চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ।

- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে।
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে।
- চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে এ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়।
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে এ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।