বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৫৪ / ১৪০ · ৫,৩০১৫,৪০০ / ১৪,০৮০

৫,৩০১.
বায়ুমন্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য থেকে আসে?
  1. ৯৯.৯৭%
  2. ৯৮%
  3. ৯৪%
  4. ৯০%
ব্যাখ্যা
- বায়ুর তাপের প্রধান উৎস সূর্য। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে। 
- বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে। 
- পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল হয় বিকিরণ পদ্ধতি। 
- ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় পরিবহন প্রক্রিয়া। 
- পানি ও বায়ুমণ্ডলের উত্তাপের বিনিময় হয় পরিচলন প্রক্রিয়ায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩০২.
চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলে যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় তাকে বলা হয়-
  1. ক) অস্থায়ী চুম্বক
  2. খ) স্থায়ী চুম্বক
  3. গ) সংকর চুম্বক
  4. ঘ) সিরামিক চুম্বক
ব্যাখ্যা
অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না, তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩০৩.
বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ বলতে কী বুঝায়?
  1. শরীরের ওজন কম
  2. সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান
  3. অতিরিক্ত ওজন
  4. মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
• বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার) 

বিএমআই মান ⇒ করণীয় 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩০৪.
কোনটিকে কার্বনের বিশেষ রূপভেদ 'বুক্‌মিনস্টার ফুলারিন' বা 'বাকি বল' বলা হয়?
  1. ক) C30
  2. খ) C40
  3. গ) C50
  4. ঘ) C60
ব্যাখ্যা
কার্বনের রূপভেদ
- ক্যাটেনেশনের একটি বিশেষ উদাহরণ হলো ফুলারিন।
- ফুলারিন নামক কার্বনের একটি বিশেষ শ্রেণির রূপভেদ।
- কার্বনের রূপভেদ C60 কে বুক্‌মিনস্টার ফুলারিন বা 'বাকি বল' বলা হয়।
- এর আকৃতি ফুটবলের মতো।
- কার্বনের প্রধান রূপভেদ হলো গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)।
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
- গ্রাফিন হচ্ছে দ্বিমাত্রিক কার্বন ক্রিস্টাল যা খুব ভালো তাপ এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী।
- গ্রাফিনকে গ্রাফাইট থেকে আহরণ করা হয়।
- অর্থাৎ গ্রাফাইট, ডায়মন্ড (হীরক), গ্রাফিন এবং ফুলারিন কার্বনের রূপভেদ।

সূত্র:
১. রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
২. রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫,৩০৫.
স্থিতিস্থাপকতার প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. বিকৃতি স্থায়ী হয়
  2. পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন
  3. ভর বৃদ্ধি পায়
  4. আয়তন অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

• পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন — স্থিতিস্থাপকতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বল অপসারণ করলে বস্তু তার পূর্বের আকার ও অবস্থায় ফিরে আসে।

• স্থিতিস্থাপকতা:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগে বস্তু বিকৃত হয়।
- বল অপসারণ করলে বস্তু পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। এই ধর্মকে স্থিতিস্থাপকতা বলা হয়।
- স্থিতিস্থাপকতা বস্তুর একটি ভৌত ধর্ম।

• স্থিতিস্থাপক সীমা:
- নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বস্তু স্থিতিস্থাপক আচরণ করে। এই সীমাকে স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়।
- সীমা অতিক্রম করলে বস্তু স্থায়ী বিকৃত হয়।

• উদাহরণ:
- স্প্রিং টানলে লম্বা হয়, ছেড়ে দিলে আগের দৈর্ঘ্যে ফিরে আসে।
- রাবার ব্যান্ড প্রসারিত করলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

• অন্যান্য অপশন:
- বিকৃতি স্থায়ী হয় → স্থিতিস্থাপক সীমা অতিক্রম করলে ঘটে।
- ভর বৃদ্ধি পায় → স্থিতিস্থাপকতার সাথে সম্পর্ক নেই।
- আয়তন অপরিবর্তিত থাকে → সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৫,৩০৬.
p-n  জংশনে বহিস্থ ভোল্টেজ কয় ভাবে হতে পারে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
p-n  জংশনে বহিস্থ ভোল্টেজ দুই  ভাবে হতে পারে । 
সম্মুখী বায়াস - ভোল্টেজ যদি এমনভাবে প্রয়োগ  করা হয় যে কোষের ধনাত্মক প্রান্ত p  টাইপ বস্তুর সাথে এবং ঋণাত্মক প্রান্ত n টাইপ বস্তুর সাথে যুক্ত থাকে। 
বিমুখী বায়াস - ভোল্টেজ যদি বিপরীত অভিমুখে প্রয়োগ করা হয় , কোষের ধনাত্মক প্রান্ত n টাইপ এবং ঋণাত্মক প্রান্ত p টাইপ বস্তুর সাথে সংযুক্ত থাকে। 

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই


৫,৩০৭.
গত তিন দশকে বাংলাদেশের কোন অংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে?
  1. পূর্বাংশে
  2. পশ্চিমাঞ্চলে
  3. মধ্যাঞ্চলে
  4. উত্তরাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩০৮.
নিচের কোনটিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন
  3. সুনামি
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা
• "সুনামিকে" পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

• সুনামি:

- সুনামি শব্দটি একটি জাপানি শব্দ, যেখানে "সু" অর্থ বন্দর এবং "নামি" অর্থ ঢেউ।
- তাই সুনামির অর্থ হলো "বন্দরের ঢেউ"।
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদির কারণে সৃষ্টি হয়।
- এই প্রাকৃতিক দুর্যোগটি সাধারণত সাগরে সংঘটিত হয় এবং সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প হলে এটি তৈরি হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর একটি ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়, যা স্বরণকালের অন্যতম।
- এই দুর্যোগটি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে একটি ট্রাক্টনিক ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয়।
- সুনামি সাধারণত অগভীর পানিতে প্রবেশের সময় তার শক্তি হারায়।
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩০৯.
HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. পানি যোজন বিক্রিয়া 
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. বিয়োজন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• এই বিক্রিয়ায় একটি অ্যাসিড (HCl) এবং একটি ক্ষার (NaOH) পরস্পর বিক্রিয়া করে লবণ (NaCl) ও পানি (H2O) উৎপন্ন করেছে। অ্যাসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া বলা হয়।

• প্রশমন বিক্রিয়া: 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। 
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
উদাহরণ: HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) 

• পানি যোজন বিক্রিয়া: 
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে। 
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে। 

• বিয়োজন বিক্রিয়া: 
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়।
উদাহরণ: মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। 

• সংযোজন বিক্রিয়া: 
- যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক মৌল বা যৌগ পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি মাত্র নতুন যৌগ উৎপন্ন করে, তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
- উদাহরণ: Fe + S → FeS.
- এখানে আয়রন (Fe) এবং সালফার (S) দুটি ভিন্ন মৌল যুক্ত হয়ে একটি মাত্র উৎপাদ ফেরাস সালফাইড (FeS) তৈরি করেছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩১০.
T2 ব্যাকটেরিওফাজ ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি হয় কিভাবে?
  1. এমাইটোসিস পদ্ধতিতে
  2. লাইটিক চক্রের মাধ্যমে
  3. লিয়োজেনিক চক্রের মাধ্যমে
  4. খ ও গ উভয় প্রক্রিয়ায়
ব্যাখ্যা

ভাইরাস এক প্রকার অতি আণুবীক্ষণিক অকোষীয় সংখ্যাবৃদ্ধির ক্ষমতা সম্পন্ন যা উপযুক্ত পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
T2 ব্যাকটেরিওফাজ ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি হয় লাইটিক চক্র বা লাইসোজেনিক চক্রের মাধ্যমে।
এমাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এককোষী জীবসমূহ (ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, এমিবা ইত্যাদি) বংশবৃদ্ধি করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৫,৩১১.
কোন শক্তিকে বার বার ব্যবহার করা যায়?
  1. কয়লা
  2. খনিজ তেল
  3. সৌর শক্তি
  4. নিউক্লিয় শক্তি
ব্যাখ্যা
- 'সৌর শক্তি' কে বার বার ব্যবহার করা যায়, কারণ এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি। 

শক্তির উৎস: 

- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 

১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বার বার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩১২.
কোন জলজ জীবটি বাতাসে নিশ্বাস নেয়?
  1. ক) পটকা মাছ
  2. খ) শুশুক
  3. গ) হাঙ্গর
  4. ঘ) জেলী ফিস
ব্যাখ্যা
- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do.
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads.
 
- This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water.
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs.

Source: uk.whales.org

- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি। কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য এগুলো মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে।
- পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই।
৫,৩১৩.
অপুষ্পক উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. ধান
  2. নারিকেল
  3. ছত্রাক
  4. সাইকাস
ব্যাখ্যা
অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল হয় না, তাকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন - ছত্রাক (মাশরুম), নস্টক, ক্লোরেলা ইত্যাদি সবই অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল হয়, তাকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন - ধান, নারকেল, সাইকাস এদের সবারই ফুল হয়। 
- সাইকাসের ফুলে গর্ভাশয় উপস্থিত থাকে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫,৩১৪.
পৃথিবীর বারিমণ্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ জল বায়ুমণ্ডল ধারন করে?
  1. ৯৭.২৫%
  2. ২.০৫%
  3. ০.০১%
  4. ০.০০১%
ব্যাখ্যা
বারিমন্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টন নিম্নরুপ-
সমুদ্র (৯৭.২৫%),
হিমবাহ (২.০৫%),
ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
হৃদ (০.০১%)
মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
নদী(০.০০০১%),
জীবমন্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩১৫.
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে পৃথিবীর অবস্থান কোথায়?
  1. সেগিতারিয়াস বাহু
  2. ওরিয়ন-সিগনাস বাহু
  3. পারসেউস বাহু
  4. কারিনা বাহু
ব্যাখ্যা

• পৃথিবী (Earth):
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি।
- এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি এর ওরিয়ন-সিগনাস বাহুতে অবস্থিত, যা মিল্কিওয়ের চারটি সর্পিল বাহুর মধ্যে একটি , যা গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দূরে অবস্থিত।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমন্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস: NASA, ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৫,৩১৬.
অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে কী বলে?
  1. চুন
  2. ফিটকিরি
  3. কস্টিক সোডা
  4. সোডা অ্যাস
ব্যাখ্যা

- অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা 'ফিটকিরি' বলে যার রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 

পটাশ অ্যালাম: 
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ। 
- পটাশ অ্যালাম সাধারণ মানুষের কাছে ফিটকিরি নামে পরিচিত। 
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩১৭.
মানবদেহের রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত-
  1. ক) ৪০০ : ৫০০
  2. খ) ৫ : ১০০
  3. গ) ১ : ৭০০
  4. ঘ) ২ : ১০০
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত ১ : ৭০০
- শ্বেতকণিকা মানবদেহে রক্তের একটি উপাদান।
- রক্তে বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং তুলনামূলকভাবে স্বল্পসংখ্যক ও বৃহদাকার যে কোষ দেখা যায় এবং যারা দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে তাকে শ্বেতকণিকা বলে।
- মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা গোল, দ্বিঅবতল, নিউক্লিয়াসবিহীন চাকতির মতো ও লাল বর্ণের।
- লোহিত রক্তকণিকার কাজ হিমোগ্লোবিন ফুস্ফুস থেকে দেহ কোষে O₂ এবং সামান্য CO₂ পরিবহন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,৩১৮.
কোনটিকে কৃত্রিম তন্তুর প্রথম ও প্রধান তন্তু বলা হয়ে থাকে?
  1. ক) তুলা
  2. খ) রেশম
  3. গ) রেয়ন
  4. ঘ) পশম
ব্যাখ্যা
রেয়ন
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক উদ্ভিজ সেলুলোজ থেকে রেয়ন প্রস্তুত করা হয়। 
- কৃত্রিম তন্তুর মধ্যে রেয়ন হলো প্রথম ও প্রধান তন্তু। 
- রেয়ন বস্ত্র মোটামুটি টেকসই হলেও বেশ সুন্দর, উজ্জ্বল, অভিজাত ও মনোরম।
- অধিক তাপে রেয়ন গলে যায়। তাই রেয়ন বস্ত্র কম তাপে সতর্কতার সাথে ইস্ত্রি করা উচিত। 
- রেয়ন তৈরির উপজাত পরিবেশের জন্য হুমকি। রেয়ন শিল্পে পরিবেশ বান্ধব প্রস্তুতি নিতে হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩১৯.
কোন পরমাণু মডেলটি সৌর মডেল নামে পরিচিত?
  1. ডাল্টনের পরমাণু মডেল
  2. বোর পরমাণু মডেল
  3. অ্যাভোগেড্রোর পরমাণু মডেল
  4. রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 

- তাঁর প্রস্তাবগুলো হলো- 
(১) পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র বিদ্যমান যা পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। এর নাম নিউক্লিয়াস। এর আয়তন সমগ্র পরমাণুর আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। 
(২) সকল পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। অতএব, নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে আবর্তন করে। 
(৩) সৌরমন্ডলে গ্রহগুলো যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান তেমনি পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস এবং ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনের মধ্যে পারস্পরিক কেন্দ্রমুখী স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
- এর সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ: 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২. ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বানুসারে চার্জযুক্ত ইলেকট্রন কণা বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান থাকলে তা অবিচ্ছিন্নভাবে (Continuous) শক্তি বিকিরণ করার কথা। এভাবে শক্তি হারাতে থাকলে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে ইলেকট্রনের কক্ষপথ সর্পিলাকারে হ্রাস পেয়ে এক সময় ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে পতিত হবে। 
অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলেরই আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। অথচ পরমাণু হতে ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ বা ইলেকট্রনসমূহের নিউক্লিয়াসে পতন কখনই ঘটে না। 
৩. আবর্তনশীল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পাওয়া যায় না। 
৪. একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ এ মডেলে নেই। 
৫. পরমাণুর বর্ণালী সম্বন্ধে কোনো সুষ্ঠু ব্যাখ্যা এ মডেলে নেই। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩২০.
বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক হচ্ছেন -
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  3. কবীর চৌধুরী
  4. আশরাফ সিদ্দীকি
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক হচ্ছেন আবদুল্লাহ আল-মুতী।
- তিনি ১৯৫৩ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে এম.এসসি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা বিষয়ে ১৯৬০ সালে এম.এ ও ১৯৬২ সালে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন।
- বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব আল-মুতী শরফুদ্দিনের কর্মজীবন শুরু হয় সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক হিসেবে।
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান ও মানুষ, এ যুগের বিজ্ঞান, বিপন্ন পরিবেশ, বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা, সাগরের রহস্যপুরী, মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে।
- বিজ্ঞান শিক্ষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, একুশে পদক, শিশু একাডেমী পুরস্কার, ইউনেস্কোর কলিঙ্গ পুরস্কার এবং ড. কুদরত-ই-খুদা স্বর্ণপদকসহ এক ডজনের অধিক পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫,৩২১.
পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন কত?
  1. ক) শূন্য
  2. খ) অসীম
  3. গ) ১০০০ সিসি
  4. ঘ) ২৭৩ সিসি
ব্যাখ্যা

পরম শূন্য তাপমাত্রা: যে তাপমাত্রায় চার্লস বা গে-লুসাকের সূত্রানুসারে কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। এ পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -২৭৩°C ।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 

৫,৩২২.
কোন ব্যান্ডের সকল ইলেকট্রন মুক্তাবস্থায় থাকে?
  1. ক) যোজন ব্যান্ড
  2. খ) পরিবহন ব্যান্ড
  3. গ) নিষিদ্ধ শক্তি ব্যান্ড
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পরিবহন ব্যান্ডের সকল ইলেকট্রন মুক্ত ইলেকট্রন। 

পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ ইলেকট্রন অথবা, আংশিক পূর্ণ অবস্থায় থাকতে পারে। যদি কোন পদার্থের পরিবহন ব্যান্ড সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকে, তাহলে ঐ পদার্থে তড়িৎ পরিবহন সম্ভব হয় না। ঐ সকল জাতীয় পদার্থকে অন্তরক বলে। 

যোজন ব্যান্ড : পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের কক্ষপথে অবস্থিত ইলেকট্রনকে যােজন ইলেকট্রন বলে। যােজন ইলেকট্রনগুলাের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ডকে যােজন ব্যান্ড বলে।

পরিবহন ব্যান্ড : পরমাণুতে অবস্থিত মুক্ত ইলেকট্রন তড়িৎ পরিবহনে অংশগ্রহণ করে বলে, এদেরকে পরিবহন ইলেকট্রন বলে। পরিবহন ইলেকট্রনগুলোর শক্তির পাল্লা বা, ব্যান্ডকে পরিবহন ব্যান্ড বলে।  

নিষিদ্ধ শক্তি ব্যান্ড : সাধারণত যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে ইলেকট্রনের কোন শক্তি স্তর বিদ্যমান থাকে না। এজন্য এ স্থানকে নিষিদ্ধ ব্যান্ড বলে। 

সূত্র- ৩৬২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩২৩.
তাৎক্ষণিক বেগ পেতে হলে- 
  1. সময় ব্যবধান এক হতে হবে 
  2. সময় ব্যবধান শূন্য হতে হবে 
  3. সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হতে হবে 
  4.  সময় ব্যবধান অসীম হতে হবে 
ব্যাখ্যা

বেগ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

গড় বেগ: 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ: 
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- চোখের পাতা বন্ধ বা খুলতে যে সময় ব্যবধান হয় তাকে অত্যন্ত ক্ষুদ্র বা শূন্যের কাছাকাছি ধরা যেতে পারে। গাণিতিকভাবে At→0 দ্বারা সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি বুঝায়। 
অর্থাৎ, সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে। 

তাৎক্ষনিক ত্বরণ: 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে তাৎক্ষণিক ত্বরণ বলে।

সমবেগ: 
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমবেগ বলে। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সমবেগ বলে। 
যেমন- শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

মধ্যবেগ: 
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

অসম বেগ: 
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসমবেগ বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩২৪.
নিচের কোনটির অভাবে সালোকসংশ্লেষনের হার কমে যায়?
  1. ক) হাইড্রোজেন সালফাইড
  2. খ) ম্যাগনেশিয়াম
  3. গ) ক্লোরোফর্ম 
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

ক্লোরোফিলের প্রধান উপাদান হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং ম্যাগনেশিয়াম।

লোহার অনুপস্থিতিতে পাতা ক্লোরোফিল সংশ্লেষণ করতে পারে না, ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়। কাজেই, মাটিতে এসব খনিজের অভাব হলে সালোকসংশ্লেষনের হার কমে যায়।
বাতাসে অক্সিজেনের ঘনত্ব বেড়ে গেলে সালোকসংশ্লেষনের হার কমে যায় আর অক্সিজেনের ঘনত্ব কমে গেলে সালোকসংশ্লেষনের হার বেড়ে যায়। তবে, অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে সালোকসংশ্লেষন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৫,৩২৫.
নিচের কোনটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী?
  1. ক) মাছ
  2. খ) সাপ
  3. গ) টিকটিকি
  4. ঘ) চিংড়ি
ব্যাখ্যা
মশা, মাছি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো এরা অমেরুদণ্ডী প্রানী৷
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫,৩২৬.
নিচের কোনটি লবণ?
  1. ক) হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
  2. খ) পটাশিয়াম অক্সাইড
  3. গ) সিলভার নাইট্রেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

- এসিডের প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু ধাতু বা অপর কোন ধাতুধর্মী মূলক দ্বারা আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে যে যৌগ উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে। যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (MgSO4), জিংক সালফেট (ZnSO4), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), সিলভার নাইট্রেট (AgNO3) ইত্যাদি। 
ধাতু, ক্ষারক বা ক্ষারের সঙ্গে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিক্রিয়ার ফলে হাইড্রোজেন বা জল ছাড়া অপর যে নতুন যৌগটি উৎপন্ন হয় তাকে লবণ বলে। লবণের দুটি অংশে থাকে। ধাতু বা ধাতুধর্মী তড়িৎ ধনাত্মক অংশটিকে ক্ষারকীয় মূলক এবং অধাতু বা এসিডধর্মী তড়িৎ ঋনাত্বক অংশটিকে এসিড মূলক বলে। 
- ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম অক্সাইড ইত্যাদি হলো ক্ষারক। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। এটি একটি অম্ল। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

৫,৩২৭.
কোনটি ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. - ৭° থেকে ১০৫° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে
  2. আকার ০.২-৫.০ মাইক্রোমিটার
  3. এরা এককোষী
  4. বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- এরা মাইনাস ১৭° থেকে ৮০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় বাঁচে। 
- ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫.০ মাইক্রোমিটার।
- এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
- এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে ।
- এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। 
- এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। 
- দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
- এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান।
- ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
- এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
- এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে ।

উৎস: Live MCQ লেকচার শীট।
৫,৩২৮.
রিখটার স্কেলে কত মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি?
  1. ২ মাত্রা
  2. ৩ মাত্রা
  3. ৪ মাত্রা
  4. ৫ মাত্রা
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প: 
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট খানেক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ঘটতে পারে। 
- ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। 
- বড় ধরনের ভূমিকম্প নদীর গতিপথও পরিবর্তন করতে পারে। 
- ভূমিকম্পের ফলে আমাদের অন্যতম প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলে গিয়েছিল। 
- পৃথিবীর মাঝে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।
- ২০১০ সালে হাইতিতে, ২০১১ সালে জাপানে এবং ২০১৫ সালে নেপালের ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।
- জাপানের ভূমিকম্পের পর সেখানে সৃষ্ট সুনামি নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে আঘাত করে একটি নিউক্লিয়ার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল। 
- ভুমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে। 
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি। 
- এই স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ৩০গুন বেড়ে যাওয়া। 
- ১৮৮৪ সালে মানিকগঞ্জ এলাকায় রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার বড় একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩২৯.
কড মাছের তেলে কোন ধরণের ভিটামিন অধিক পরিমাণে রয়েছে?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন বি
  3. গ) ভিটামিন ই
  4. ঘ) ভিটামিন কে
ব্যাখ্যা
কড মাছের তেলে ভিটামিন এ এর পরিমাণ অধিক পরিমাণে রয়েছে।

উৎস : ভিটামিন এ এর ভালো প্রাণিজ উৎসগুলো হলে-ডিম, দুধ, ছানা, মাখন, ঘি, পনির, কলিজা, ও কড় মাছের তেল। গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পাকা আম, গাঢ় সবুজ শাক, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল এবং লাল শাক, কচু শাক, পুঁই শাক, পাট শাক, কলমি শাক, ডাঁটা শাক, পুদিনা পাতা ইত্যাদি ভিটামিন এ এর উদ্ভিজ্জ উৎস।

ভিটামিন এ এর কাজ- 
১। দৃষ্টি শক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে ।
২। দাঁত ও অস্থি গঠনে সহায়তা করে
৩। দেহের বিভিন্ন আবরককলা যেমন- ত্বক, চোখের কর্ণিয়া, বৃক্ক ইত্যাদি স্বাভাবিক ও সজীব রাখে।
৪ । রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে ।

অভাবজনিত অবস্থা : এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। দীর্ঘদিনের অভাবে ব্যক্তি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: ১৫ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৩০.
সবুজ উদ্ভিদের প্রস্তুতকৃত খাবার কোনটি? 
  1. ক) C6H12O6
  2. খ) Na3AlF6
  3. গ) P2O5
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সবুজ উদ্ভিদ সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।
এই খাবার তৈরিতে কার্বন ডাই অক্সাইড অপরিহার্য। 
সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার বিক্রিয়া নিন্ম্রুপ; 

৫,৩৩১.
হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর কোনটি?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. মায়োকার্ডিয়াম
  3. পেরিটোনিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

• হৃদপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

• হৃদপিণ্ডের অন্তর্গঠন (Internal Structure): 
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: 
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। 
যেমন - 
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৩২.
উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয় কোথায়?
  1. ক)  টর্চ লাইটের রিফ্লেক্টরে
  2. খ) রূপচর্চায়
  3. গ) সৌর চুল্লি নির্মাণে
  4. ঘ) শপিংমলে
ব্যাখ্যা
উত্তল দর্পণ
যে দর্পণের প্রতিফলক পৃষ্ঠ উত্তল তাকে উত্তল দর্পণ বলে। এই দর্পণের উত্তল পৃষ্ঠ প্রতিফলকের কাজ করে। 
উত্তল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব সর্বদা ছোট ও সোজা হয়।

উত্তল দর্পণের ব্যবহার:
- বিস্তৃত এলাকা দেখতে দোকান বা শপিংমলে নিরাপত্তার কাজে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়িতে ভিউ মিরর হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়ির পিছনে বিস্তৃত এলাকা ছোট জায়গায় দেখতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- রাস্তার বাতিতে প্রতিফলকরূপে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- প্রতিফলক টেলিস্কোপ তৈরিতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
৫,৩৩৩.
নিচের কোন তরঙ্গটি জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনের ফলে সৃষ্টি হয়? 
  1. গামা রশ্মির তরঙ্গ
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. এক্স-রশ্মির তরঙ্গ
  4. পানির তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়াও তরঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। 
- কিন্তু জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
২. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 
৩. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৪. তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৫. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে। 

তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। 
- আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
যেমন- বেতার তরঙ্গ, এক্স-রশ্মির তরঙ্গ, গামা রশ্মির তরঙ্গ ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৩৪.
'পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করা যায়'- এটি কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) ওয়েরস্টেডে
  2. খ) ম্যাক্সওয়েল
  3. গ) ফ্যারাডে
  4. ঘ) ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা
তাড়িতচৌম্বক আবেশ:

- 'পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করা যায়'- এটি ফ্যারাডে আবিষ্কার করেন।
- তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎপ্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে
-  ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে আবিষ্কার করেন যে, পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করা যায়।
- এ আবিষ্কার এর উপর ভিত্তি করে ডায়নামো, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি বৈদ্যুতিক যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়েছে।
- তাড়িতচৌম্বক আবেশের ফলে সৃষ্ট ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তিকে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি বলে
- ১৮২০ সালে তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কার করেন হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৩৫.
ইথিলিনের পলিমার কী? 
  1. পলিইথিলিন 
  2. পলিস্টার 
  3. নাইলন 
  4. পলিপ্রোপিন 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। এক কথায় বহু সংখ্যক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ পর পর যুক্ত হয়ে পলিমার অণু গঠন করে থাকে।
- পলিমারের প্রত্যেকটি ক্ষুদ্র অংশকে মনোমার বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিনের পলিমার পলিইথিলিন; প্রোপিনের পলিমার পলি প্রোপিন। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৩৬.
ত্বকের এপিডার্মিস কোষে সৃষ্ট কোন পদার্থ অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে?
  1. থায়ামিন
  2. মেলালিন
  3. ক্যারোটিন
  4. গোয়ানিন
ব্যাখ্যা
প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- মানবদেহে 'ত্বক' প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। 
- ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH= 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। 
- কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৩৭.
কিসের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়?
  1. ক) প্রতিফলন
  2. খ) প্রতিধ্বনি
  3. গ) প্রতিসরণ
  4. ঘ) প্রতিসরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়।
- কোন শব্দ উৎস থেকে শব্দ করা হলে তা কোন কঠিন তলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার যদি শব্দের উৎসের নিকট ফিরে আসে, তখন সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, শব্দের এই পুনরাবৃত্তিকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে।
- ফ্যাদোমিটার যন্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয়। 
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা, কূপের গভীরতা ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৩৮.
পিতল হচ্ছে-
  1. তামা ও লোহার সংকর
  2. তামা ও নিকেলের সংকর
  3. টিন ও দস্তার সংকর
  4. তামা ও দস্তার সংকর
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। 
যেমন- 
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু। 
- পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু। 
- সংকর ধাতু পিতলে ৬৫% তামা এবং ৩৫% দস্তা মিশ্রিত থাকে। 
- সংকর ধাতু পিতলের প্রধান উপাদান হলো তামা যা শতকরা ৬৫% থাকে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩৩৯.
ক্লোরোসিস ঘটে কোন খনিজের অভাবে?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) লৌহ
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা


সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫,৩৪০.
কোন গ্যাসটি গ্রিন হাউজ ইফেক্টের জন্য কম দায়ী?
  1. CO2
  2. CFC
  3. N2O
  4. CH4
ব্যাখ্যা
- গ্রিন হাউজ ইফেক্টের জন্য কম দায়ী হচ্ছে- N2O যা বায়ুতে শতকরা ৬ ভাগ।
 
গ্রিন হাউজ গ্যাস: 
- যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রিন হাউজ গ্যাস বলে। 
- CO2 গ্যাসকে প্রধান গ্রিন হাউজ গ্যাস বলা হয়। 
- এছাড়া জলীয় বাষ্প, মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O3) গ্রিন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে। 
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি। তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৫,৩৪১.
নিচের কোনটি যুগপৎ বিক্রিয়া?
  1. ক) প্রশমন
  2. খ) সংযোজন
  3. গ) বিয়োজন
  4. ঘ) জারণ-বিজারণ
ব্যাখ্যা
জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়,
বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na + Cl2 =2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।

জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
এটি বিজারণ বিক্রিয়ার সাথে একইসাথে সংঘটিত হয়।
যেমন উপরের উদাহরণে একইসাথে ক্লোরিনের বিজারণ ঘটেছে।
উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক

Na - e → Na+ (ইলেকট্রন দান বা জারণ)

Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৫,৩৪২.
পানিতে দ্রবীভূত CO2 এর পরিমাণ-
  1. ক) ০.৩%
  2. খ) ০.০২%
  3. গ) ০.০৩%
  4. ঘ) ০.০০৩%
ব্যাখ্যা
জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত CO2 গ্রহণ করে। বায়ুমণ্ডলে ০.০৩% এবং পানিতে দ্রবীভূত ০.৩% CO2 আছে। তাই জলজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদের চেয়ে বেশি। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫,৩৪৩.
সরীসৃপ প্রাণীর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়
  2. খ) দেহত্বক সাধারণত আঁশবিহীন
  3. গ) শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী
  4. ঘ) বায়ুথলি উপস্থিত
ব্যাখ্যা

মেরুদন্ডী প্রাণিদের মধ্যে সরীসৃপই প্রথম পূর্ণ বিকশিত স্থলচর প্রাণি। শুষ্কতা, পানি ধরে রাখা, স্থলে বিচরণ, রক্তসংবহনজনিত সমস্ত বাঁধা অতিক্রম করে সরীসৃপরা পৃথিবীর সব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
এদের প্রজাতির সংখ্যা ৯,৮৩১টি।

বৈশিষ্ট্য-
১। শীতল রক্তবিশিষ্ট স্থলচর প্রাণী, এরা বুকে ভর দিয়ে চলে।
২। সরীসৃপের দেহ শুষ্ক ও এপিডার্মিস উদ্ভূত আঁইশে আবৃত।
৩। হৃদপিন্ড অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
৪। সরীসৃপের ডিম চামড়ার মতো বা চুনময় খোলকে আবৃত থাকে।
৫। নিষেক অভ্যন্তরীণ, লার্ভা দশা নেই।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৪৪.
সালোকসংশ্লেষণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড পানির সাথে বিক্রিয়া করে উৎপন্ন করে-
  1. ক) শুধু গ্লুকোজ
  2. খ) কার্বনিক এসিড
  3. গ) প্রচুর শক্তি
  4. ঘ) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো- ক্লোরোফিল, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, পানি ও আলো।
উৎপাদিত হয়- কার্বোহাইড্রেট বা গ্লুকোজ, পানি এবং অক্সিজেন (উপজাত হিসেবে)। ক্লোরোফিল ও আলো ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন হয় না।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩৪৫.
কোন বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) অ্যামিটার
  2. খ) ভোল্টামিটার
  3. গ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) ক্যালরিমিটার
ব্যাখ্যা

• তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র:
কোনো বস্তুতে চার্জ বা আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হলাে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র। 

• অ্যামিটার:
অ্যামিটার বৈদ্যুতিক বর্তনীর বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা পরিমাপ করে।

• ভোল্টামিটার:
ভোল্টামিটার বৈদ্যুতিক বর্তনীর বিভব পার্থক্য, বিদ্যুৎ প্রবাহমাত্রা ও বৈদ্যুতিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

• ক্যালরিমিটার:
তাপ পরিমাপক যন্ত্র হচ্ছে ক্যালরিমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৩৪৬.
ডিমের সাদা অংশে থাকে -
  1. ক) ভিটামিন সি
  2. খ) অ্যালবুমিন
  3. গ) গ্লুকোজ
  4. ঘ) লিনোলিক এসিড
ব্যাখ্যা
ডিমের সাদা অংশে ‘অ্যালবুমিন’ নামক প্রোটিন থাকে। ডিমের প্রোটিনের পঞ্চাশ শতাংশই অ্যালবুমিন। এছাড়াও ডিমের কুসুমে আয়রন, ভিটামিন বি-২, বি-১২ এবং ডি রয়েছে।
Source: Britannica
৫,৩৪৭.
শব্দের উৎপত্তির কারণ?
  1. ক) শব্দ তরঙ্গ
  2. খ) প্রতিধ্বনি
  3. গ) বস্তুর কম্পন
  4. ঘ) বস্তুর তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারন বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারন এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক ও কম্পনের দিক একই।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৫,৩৪৮.
নিচের কোনটি গ্রিন হাউস গ্যাস?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. ক্লোরোফ্লোরোকার্বন
  3. ওজোন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• গ্রীন হাউস অ্যাফেক্ট:
- শীত প্রধান দেশে গ্রীন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রীন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমন্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট বলে।

• গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো-
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2),
- মিথেন (CH4),
- নাইট্রাস অক্সাইড (N2O),
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC),
- ওজোন (O3)
- জলীয় বাষ্প

উৎস:
১. পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
৫,৩৪৯.
অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড কোনটি?
  1. ক) লাইসিন
  2. খ) লিউসিন
  3. গ) মিথিওনিন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এরা দেহে তৈরি হতে পারে না। বিশেষ বিশেষ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য হতে এসমস্ত অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো মানবদেহে সরবরাহ করতে হয়। এদের অত্যাবশ্যক বা অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে ।

এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো- 
১। লাইসিন
৫। ট্রিপটোফ্যান
২। লিউসিন
৬। ভ্যালিন
৩। আইসোলিউসিন
৭। ফিনাইল অ্যালানিন
৪। মিথিওনিন
৮। থ্রিওনিন

দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, ছানা ইত্যাদিতে প্রায় সবকটি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।

সূত্র: ৫ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৩৫০.
মানবদেহে কোনটির অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়?
  1. নিয়াসিন
  2. থায়ামিন
  3. রিবোফ্লাভিন
  4. অ্যাসকরবিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিডের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
-
এই ভিটামিন কোলাজেন গঠনের জন্য অপরিহার্য এবং এর অভাবে মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁত পড়ে যাওয়া, ত্বকে রক্তক্ষরণ এবং ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

• ভিটামিন সি:
- ভিটামিন সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।
- ভিটামিন সি মানুষকে রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে।
- আমলকি, কমলালেবু, লেবু, আনারস প্রভৃতি ভিটামিন সি এর উৎস।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাসিয়া হয়।
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
- ভিটামিন কে এর অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- থায়ামিন (ভিটামিন বি১): এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
- রিবোফ্লাভিন (ভিটামিন বি২): এর অভাবে "অ্যারিবোফ্ল্যাভিনোসিস" রোগ হয়। এতে ঠোঁট ফাটা, জিহ্বায় ঘা এবং চোখের সমস্যা হয়, কিন্তু স্কার্ভি হয় না।
- নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩/নিকোটিনিক অ্যাসিড): এর অভাবে পেলাগ্রা রোগ হয়। এই রোগে ত্বকে প্রদাহ, ডায়রিয়া, মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

উৎস:
১।বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

৫,৩৫১.
কোনটি লোহিত রক্তকণিকার কাজ নয়?
  1. ক) দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা
  2. খ) কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা
  3. গ) ক্ষতস্থানে রক্তপড়া বন্ধ করা
  4. ঘ) রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা
ব্যাখ্যা

লােহিত কণিকার কাজঃ

১. দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
২. নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা।
৩. হিমােগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৫,৩৫২.
হার্ট থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় যে রক্তনালী-
  1. ভেইন
  2. আর্টারি
  3. ক্যাপিলারি
  4. নার্ভ
ব্যাখ্যা
- যেসব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি বলে।
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিন্ডে বহন করে নিয়ে
আসে, তাদের শিরা (Vein) বলে।
- ক্যাপিলারি হলো ক্ষুদ্র রক্তনালী যা আর্টারি ও ভেইনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
- নার্ভ হলো স্নায়ুতন্ত্রের অংশ, যা রক্তনালী নয় এবং রক্ত বহন করে না।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৫,৩৫৩.
নিচের কোন মৌলকে Noble গ্যাস বলা হয়?
  1. ক্রোমিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. হিলিয়াম
  4. লিথিয়াম
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) ও ওগানেসন (Og) নামক মৌলগুলো অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাস বলে।
- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে।
- হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।

নিস্ক্রিয় গ্যাসের ধর্মসমূহ:
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস।
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই।
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম।
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম।
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৫,৩৫৪.
যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকে তাদেরকে কী বলে?
  1. মাইক্রোকক্কাস
  2. স্ট্যাফাইলোকক্কাস
  3. স্ট্রেপটোকক্কাস
  4. ডিপ্লোকক্কাস
ব্যাখ্যা
কোষের আকারের ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিন্যাস: 
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (ক) কক্কাস, (খ) ব্যাসিলাস, (গ) স্পাইরিলাম এবং (ঘ) কমা আকৃতি। 
(ক) কক্কাস: 
- গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় কক্কাস। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়া আবার পাঁচ রকমের। 
যথা-১। মাইক্রোকক্কাস, ২। ডিপ্লোকক্কাস, ৩। স্ট্যাফাইলোকক্কাস, ৪। স্ট্রেপটোকক্কাস এবং ৫। সারসিনা। 
১। মাইক্রোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া এককভাবে অবস্থান করে তাকে মাইক্রোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Micrococcus denitrificans. 
২। ডিপ্লোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকে তাদেরকে ডিপ্লোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Diplococcus pneumoniae. 
৩। স্ট্যাফাইলোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া অনিয়মিত গুচ্ছাকারে সাজান থাকে তাকে স্ট্যাফাইলোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Staphylococcus aureus. 
৪। স্ট্রেপটোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া চেইনের মত সাজানো থাকে তাকে স্ট্রেপটোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Streptococcus lactis. 
৫। সারসিনা: 
- যে সকল গোলাকার ব্যাকটেরিয়া নিয়মিত দলে অবস্থান করে সমান সমান দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ঘন তলের মত গঠন করে তাদেরকে সারসিনা বলে। 
উদাহরণ- Sarcina lutea. 

খ) ব্যাসিলাস: 
- দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে ব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া বলা হয়। 
উদাহরণ- Bacillus subtilis, B. ulbus, B. anthracis ইত্যাদি। 

(গ) স্পাইরিলাম: 
- কুন্ডলাকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়া বলে। 
উদাহরণ- Spirillum volutans, S. minus ইত্যাদি। 

(ঘ) কমা: 
- কমা আকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে কমা ব্যাকটেরিয়া বলা হয়। 
উদাহরণ- Vibrio cholerae. 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৫৫.
মাধ্যাকর্ষণ বল কোন দিকে কাজ করে? 
  1. উপরের দিকে 
  2. পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে 
  3. অনুভূমিক দিকে 
  4. যে কোনো দিকে 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): 
- মহাবিশ্বের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায়, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, কিংবা পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে ইত্যাদি। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে সেটাকে বলা হয় মাধ্যাকর্ষণ। এই মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই নিজেদের ওজনের অনুভূতি বুঝা যায়। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৩৫৬.
মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয়ে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. মৃদু রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার (Uses of X-ray): 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২. গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 
- এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

৩। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৪। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৫৭.
কোথায় অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সর্বনিম্ন?
  1. ক) এভারেষ্ট শৃঙ্গে
  2. খ) মেরু বিন্দুতে
  3. গ) বিষুব রেখা বরাবর
  4. ঘ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মানঃ 
বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 ms-2
মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2 । এ
এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 ms-2 ও সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত 9.75 ms-2। 
 
ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g -এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। এই মান হচ্ছে 9.80665 ms-1 হিসাবের  সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2
 
পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর কোনো ওজন নাই। 
 
উৎস : পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৩৫৮.
আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত ঘটে কোন তত্ত্বের মাধ্যমে?
  1. ক) স্ট্রিং তত্ত্ব
  2. খ) কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. গ) আপেক্ষিকতা তত্ত্ব
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত ঘটে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর (ডার্ক ম্যাটার) বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন। ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই
৫,৩৫৯.
1 MeV = ?
  1. ক) 1.6×106J
  2. খ) 1.6×10-19J
  3. গ) 1.6×10-13J
  4. ঘ) 1.6×1012J
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫,৩৬০.
শ্রাব্যতার প্রারম্ভিক সীমার তীব্রতা লেভেল কত?
  1. ক) ২০ ডেসিবেল
  2. খ) ২০০০০ ডেসিবেল
  3. গ) ০ ডেসিবেল
  4. ঘ) ১০ ডেসিবেল
ব্যাখ্যা

ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কোনো শব্দের তীব্রতা বোঝার জন্য তীব্রতা লেভেল ব্যবহার করা হয়। কোনো শব্দের তীব্রতা ও প্রমাণ তীব্রতার অনুপাতের লগারিদমকে ঐ শব্দের তীব্রতা লেভেল বলে।
শ্রাব্যতার প্রারম্ভিক সীমার তীব্রতা লেভেল ০ ডেসিবেল। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের তীব্রতা লেভেল ১০ ডেসিবেল।
স্বাভাবিক কথোপকথনের তীব্রতা লেভেল ৬০ ডেসিবেল।
শ্রুতি যন্ত্রণার আরম্ভ হয় ১২০ ডেসিবেল তীব্রতা লেভেলে।
মানুষের শ্রাব্যতার সীমার সূচনা হয় ২০ হার্জ কম্পাংক থেকে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫,৩৬১.
ডিটারজেন্ট সাধারণত কোন পানিতে ভালোভাবে কাজ করে? 
  1. মিষ্টি পানি 
  2. খর পানি 
  3. দুধ মিশ্রিত পানি 
  4. উষ্ণ পানি  
ব্যাখ্যা

পরিষ্কারক উপাদান: 
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৬২.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন মৌল? 
  1. রেডন
  2. সোডিয়াম
  3. আয়োডিন
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 

হ্যালোজেন মৌল: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়।
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩৬৩.
প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উড্ডয়ন করে কোন দেশ?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
৪ অক্টোবর ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক-১ নামে রাশিয়া মহাশূন্যে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায়।
৫,৩৬৪.
কোনটি ফেরো চৌম্বক পদার্থ?
  1. লোহা
  2. পানি
  3.  সোডিয়াম
  4. সোনা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) লোহা

ফেরো চৌম্বকত্ব:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
- যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।

প্যারা চৌম্বকত্ব:
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
- যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি।

ডায়া চৌম্বক:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৬৫.
গ্রিন হাউস গ্যাসের কারণে পৃথিবীতে কী ঘটে? 
  1. সমুদ্রপৃষ্ঠ নিচে নামে
  2. মেরু অঞ্চলে বরফ বৃদ্ধি পায় 
  3. পৃথিবীর তাপমাত্রা হ্রাস পায় 
  4. পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যায় 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব: 
- শক্তির রূপান্তরে পরিবেশের উপর প্রভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ফসিল জ্বালানি বা তেল, গ্যাস এবং কয়লা। 
- এই তিনটিতেই কার্বনের পরিমাণ অনেক বেশি এবং এগুলো পুড়িয়ে যখন তাপশক্তি তৈরি হয়, তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয় যেটি একটি গ্রিন হাউস গ্যাস। 
অর্থাৎ, এই গ্রিন হাউস গ্যাস পৃথিবীতে তাপকে ধরে রাখতে পারে এবং এ কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে, যেটি বৈশ্বিক উষ্ণতা নামে পরিচিত। 
- বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। সে কারণে পৃথিবীর যেসব দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে এবং কৃষিজমি লবণাক্ত হয়ে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে, তার মাঝে বাংলাদেশ একটি। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব দেশ মিলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করছে। 

- নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ হয় না, কিন্তু নিউক্লিয়ার বর্জ্য অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এদের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিরাপদ মাত্রায় পৌঁছানোর জন্য লক্ষ লক্ষ বছর সংরক্ষণ করতে হয় যেটি পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 
- আধুনিক প্রযুক্তির কারণে নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্র অনেক নিরাপদ হলেও মাঝে মাঝে মানুষের ভুল কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানে বড় দুর্ঘটনা ঘটে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। 
যেমন- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল এবং জাপানের ফুকুশিমার দুর্ঘটনা। 
- তুলনামূলকভাবে পরিবেশের উপর নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষতিকর প্রভাব কম, তবে জলবিদ্যুতের জন্য যখন নদীতে বাঁধ দেওয়া হয় তখন একদিকে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয়, অন্যদিকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে বাঁধের পরবর্তী এলাকায় তীব্র খরার সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৩৬৬.
মৃত প্রাণী বা উদ্ভিদের বয়স হিসেব করতে কার্বনের কোন আইসােটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. কার্বন-১৪
  2. কার্বন-১৩
  3. কার্বন-১২
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা:
- ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- প্রকৃতপক্ষে যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর চেয়ে বেশি তাদেরকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলা হয়।
যেমন- ইউরেনিয়াম-৯২, নেপচুনিয়াম-৯৩, প্লুটোনিয়াম-৯৪, পোলোনিয়াম-৮৪ ইত্যাদি।

- কার্বন মৌলের ৬ টি প্রােটন ও তিনটি আইসােটোপ রয়েছে।
যেমন - কার্বন-১২, কার্বন-১৩ ও কার্বন-১৪।
- এই তিনটির মধ্যে কার্বন-১৪ অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। এতে ৬টি প্রােটন ও ৮টি নিউট্রন রয়েছে।
- কার্বন-১৪ (14) ব্যবহৃত হয় মৃত প্রাণী বা উদ্ভিদের বয়স হিসাব করতে

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৩৬৭.
ইউরি গ্যাগারিন মহাশূন্যে যান-
  1. ক) ১৯৫৬ সালে
  2. খ) ১৯৬১ সালে
  3. গ) ১৯৬৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
Yuri Gagarin, Soviet cosmonaut who on April 12, 1961, became the first man to travel into space.Neil Armstrong is the first person to set foot on the Moon during the afternoon of July 20, 1969.
Source: britannica.com
৫,৩৬৮.
কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মি তড়িৎ নিরপেক্ষ এবং কোনো দিকে বিচ্যুত হয় না? 
  1. পজিট্রন রশ্মি 
  2. বিটা রশ্মি 
  3. আলফা রশ্মি 
  4. গামা রশ্মি 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় বিকিরণের বৈশিষ্ট্য: 
- তেজস্ক্রিয়তা আবিস্কারের পর বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। 
- বিখ্যাত বিজ্ঞানী মাদাম কুরী একটি সহজ পরীক্ষা দ্বারা তেজস্ক্রিয় বিকিরণে তিন ধরণের রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- যে রশ্মিটি ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ। আর ঋণাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে বিটা (β) রশ্মি বলে। 
- যে রশ্মিটি ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ধনাত্মক আধান গ্রন্থ। আর ধনাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে আলফা (α) রশ্মি বলে। 
- যে রশ্মিটি কোনো দিকেই বিচ্যুত হয়নি সেটি তড়িৎ নিরপেক্ষ। আর তড়িৎ নিরপেক্ষ রশ্মিকে গামা (γ) রশ্মি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৬৯.
নিচের কোনটি জৈব যৌগ নয়?
  1. কস্টিক সোডা
  2. প্রোপিন
  3. পেন্টাইন
  4. বেনজিন
ব্যাখ্যা
• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয়।
- এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ।
- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি।

• অজৈব যৌগসমূহ:
- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩৭০.
সময়ের সাথে গতিশীল বস্তু কণার বেগের হ্রাসের হারকে কী বলে? 
  1. দ্রুতি
  2. বেগ
  3. মন্দন
  4. সরণ
ব্যাখ্যা
মন্দন: 
- সময়ের সাথে গতিশীল বস্তু কণার বেগের হ্রাসের হারকে মন্দন বলে। 
- অন্য ভাবে একক সময়ে গতিশীল বস্তুকণার বেগের পরিবর্তন কমতে থাকলে যে রাশি পাওয়া যায় তাকে মন্দন বলে। 
- মন্দনের একক ও মাত্রা ত্বরণের অনুরূপ। 

ত্বরণ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলা হয়। 
- ত্বরণ একটি ভেক্টর রাশি। 
- কোনো বস্তুর ত্বরণ জানতে হলে বস্তুটির বেগের পরিবর্তনের হার এবং উক্ত পরিবর্তনের দিক উভয়ই জানতে হয়। 

দ্রুতি: 
- কোনো বস্তু একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে বা দূরত্বের হারকে দ্রুতি বলে। 
- এটি একটি স্কেলার রাশি। 
- বেগের মান দ্বারা দ্রুতি পরিমাপ করা হয়। 

সরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট দিকে সরল পথে কোনো বস্তু যে দূরত্ব বা পথ অতিক্রম করে তাকে সরণ বলে। 
- সরণ একটি ভেক্টর রাশি। 
- কোনো গতিশীল বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন একটি নির্দিষ্ট দিকে হলে সরণ ঘটে। 

বেগ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৭১.
একটি পরমাণুর মৌলিক কণিকা নয় নিচের কোনটি?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. পজিট্রন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৭২.
জুম চাষ হয়-
  1. বরিশালে
  2. ময়মনসিংহে
  3. খাগড়াছড়িতে
  4. দিনাজপুরে
ব্যাখ্যা
• জুম চাষ:
- জুম চাষ (Jhum) বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি।
- এর প্রকৃত অর্থ হলো স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা।
- মূলত পাহাড়ের জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করাই হলো জুম।
- এক্ষেত্রে সাধারণত পাহাড়ের গায়ে কিছু স্থানে চাষ করার পর কয়েক বছর সেই স্থানের উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য রেখে দিয়ে আবার পাহাড়ের অন্য স্থানে গিয়ে চাষ করা হয়।

- জুম চাষিদের জুমিয়া বলা হয়।
- জুম চাষ পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
- বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর ভূমি এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়।
- সাধারণভাবে জন্মানো প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ভুট্টা, কাউন, তিল, শসা, মিষ্টিকুমড়া, তরমুজ, বরবটি, তুলা, কলা, আদা, হলুদ প্রভৃতি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) জুম চাষ হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ৬ এপ্রিল, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৫,৩৭৩.
আলোর প্রতিসরণের সূত্র আবিষ্কার করেন কে?
  1. স্নেল
  2. গিলবার্ট
  3. রবার্ট হুক
  4. হাইগেন
ব্যাখ্যা
• প্রতিসরণ:
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে।
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে।

• প্রতিসরণের সূত্র (Laws of Refraction):
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে।
- ১৬২০ সালে বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন। তাই এ সূত্রগুলোকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়।
- সূত্র দু'টি হলো-
১. দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে।
২. এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব।
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)।

• অপশন আলোচনা:
- রবার্ট হুক পদার্থের স্থিতিস্থাপকতার সূত্র আবিষ্কার করেন।
- বিজ্ঞানী হাইগেনস আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
- ডা. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৭৪.
কোন ধরনের টিস্যু থেকে মধু নিঃসৃত হতে পারে?
  1. ক) তরুক্ষীর টিস্যু
  2. খ) গ্রন্থি টিস্যু
  3. গ) জাইলেম টিস্যু
  4. ঘ) আবরণী টিস্যু
ব্যাখ্যা
গ্রন্থি টিস্যু- এক বা একাধিক কোষের সমন্বয়ে গঠিত টিস্যু থেকে যখন কোন পদার্থ নিঃসৃত হয় তখন তাকে গ্রন্থি টিস্যু বলা হয়। এ টিস্যুর কোষগুলো সজীব। এদের কোষে সাধারণত কোন গহ্বর থাকে না। এসব কোষ থেকে মধু, এনজাইম, রেজিন, ট্যানিন, গঁদ, মিউসিলেজ, তেল, পানি ইত্যাদি নিঃসৃত হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫,৩৭৫.
পর্যায় সারণির বাম থেকে ডানে গেলে মৌলের ধাতব ধর্মের কী পরিবর্তন হয়?
  1. হ্রাস পায়
  2. অল্প বৃদ্ধি পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. অনেক বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম (Metallic Properties): যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহি তাদেরকে বলা হয় ধাতু। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে।
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে।
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি।
- পর্যায় সারণির (Periodic Table) বাম দিক থেকে ডান দিকে অগ্রসর হলে মৌলগুলির ধাতব ধর্ম (metallic character) ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।


পর্যায় সারণিতে ধাতব ও অধাতব ধর্মের প্রবণতা:- 

পর্যায় (Row) বাম থেকে ডানে:
-  ধাতব ধর্ম হ্রাস পায় । (যেমন: Na → Mg → Al → Si → P → S → Cl)।
-  অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়।

গ্রুপ (Column) উপর থেকে নিচে:
- ধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায় (যেমন: Li → Na → K → Rb → Cs)।
- অধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। 

এর কারণ:
ইলেকট্রন বিন্যাস: বাম থেকে ডান দিকে গেলে যোজ্য ইলেকট্রনের সংখ্যা বাড়ে কিন্তু শক্তিস্তরের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না।
 - ফলে, পরমাণুর আকার কমে এবং ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা (ধাতব ধর্ম) কমে।
আয়নীকরণ শক্তি: বাম থেকে ডান দিকে বাড়ে যার ফলে ইলেকট্রন ত্যাগ করা কঠিন হয়।

তথ্যসূত্র:
-  রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৫,৩৭৬.
‘রক্তের’ ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. রক্ত দেহের তাপের সমতা রক্ষা করে।
  2. রক্তের লোহিত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
  3. রক্তের অণুচক্রিকা রক্তপাত বন্ধ করে।
  4. রক্ত অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায়।
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা ।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয় ।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদণ্ডি প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকে যার ফলে রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহণ করে।

রক্তের কাজ:
রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা:
(i) খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায় ৷ এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে।
(ii) রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন-ডাই অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়।
(iii) দেহের মধ্যে সর্বদাই দহন ক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায় ।
(iv) নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে। এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয় ।
(v)  রক্তের শ্বেত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে
(vi) দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়৷
(vii) রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দূষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৫,৩৭৭.
আনারসের সুগন্ধি তৈরিতে কোন এস্টার ব্যবহৃত হয়?
  1. মিথাইল বিউটাইরেট
  2. অকটাইল অ্যাসিটেট
  3. অ্যামাইল বিউটাইরেট
  4. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R. 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
- তেল, চর্বি, আঠা, সেলুলোজ, রঙ, ভার্ণিশ ইত্যাদির দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়। 
- বিউটাইল অ্যাসিটেট 'পেনিসিলিন' -এর দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

- কৃত্রিম মনোরম স্বাদ ও সুগন্ধি তৈরিতে। 
যেমন: 
এস্টার ⇔ সুগন্ধির প্রকৃতি 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇔ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇔ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇔ কমলা, 
মিথাইল বিউটাইরেট ⇔ আনারস
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇔ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇔ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৭৮.
If 25.2 joules of energy is converted, how many calories does it amount to?
  1. 3.0 calories
  2. 4.0 calories
  3. 5.0 calories
  4. 6.0 calories
  5. 2.0 calories
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 

তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
∴ ২৫.২ জুল = ২৫.২/৪.২ = ৬ ক্যালরির সমতুল্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৭৯.
কোন রূপান্তরিত শিলাটি বেলেপাথর থেকে সৃষ্টি হয়?
  1. ক) নিস
  2. খ) ব্যাসল্ট
  3. গ) রায়োলাইট
  4. ঘ) কোয়ার্টজাইট
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত শিলা
ভূ-আন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত , ভূমিকম্পসহ অন্যান্য রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে এক নতুন ধরনের শিলার সৃষ্টি করে, যাকে রূপান্তরিত শিলা বলা হয়। যেমন - কাঁদা রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট
রূপান্তরিত হয়ে নিসে পরিণত হয়।

রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়। 

রূপান্তরিত শিলার প্রকারভেদ
• উৎস ও গঠন প্রণালি অনুসারে রূপান্তরিত শিলা দুই প্রকার। যথা -
ক. আগ্নেয়শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে আগ্নেয়শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়। যেমন: গ্রানাইট থেকে নিস  (Gneiss) তৈরি হয়।
খ. পাললিক শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে, পাললিক শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়। যেমন: বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট (Quartzite) তৈরি হয়।  

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৮০.
ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন কে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. এডওয়ার্ড জেনার
  3. লুই পাস্তুর
  4. রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
- ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন এবং এই যন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়া, হাইড্রা, ভলভক্স ইত্যাদি আবিষ্কার করেন।
- তিনি তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- তিনি এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী, তাই তাকে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়।
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- রবার্ট হুক প্রথম কোষপ্রাচীর আবিষ্কার করেন।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা এবং
২. জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৮১.
কোনটি ‘ঈশ্বর কণা’ নামে পরিচিত?
  1. Higgs Boson
  2. Electron
  3. Neutron
  4. Proton
ব্যাখ্যা
• হিগের কণা:
- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি - (Higgs Boson) ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন।
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫,৩৮২.
আদিকোষে নিচের কোনটি থাকে?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. প্লাস্টিড
  3. রাইবোজোম
  4. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
ব্যাখ্যা
কোষের প্রকারভেদ: 
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। 
- এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য আছে যেমন, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য। 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের। 
যথা - 
১। আদিকোষ এবং 
২। প্রকৃত কোষ। 

আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell): 
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। 
- এজন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়। 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে। 
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে। 
- ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে। 
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়। 

প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell): 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত। 
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। 
- ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। 
- অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩৮৩.
কোন প্রাণীটিতে মেরুদণ্ড অনুপস্থিত?
  1. কুমির
  2. তাঁরামাছ
  3. পাখি
  4. সাপ
ব্যাখ্যা
• তাঁরামাছে মেরুদণ্ড অনুপস্থিত।

• মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যে সকল কর্ডেট প্রাণীদের দেহে মেরুদণ্ড থাকে তাদেরকে মেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। সাধারনত Chordata পর্বের Vertebrata উপ-পর্বের প্রাণীদেরকে মেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। 
- যেমন- কুমির, পাখি, সাপ। 

অন্যদিকে,
• অমেরুদণ্ডী প্রাণী:
- যে সকল প্রাণীদের দেহে মেরুদণ্ড থাকে না তাদেরকে অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়।

 তাঁরামাছ একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী (Invertebrate), যার দেহে কোনো মেরুদণ্ড (Vertebral column) নেই।

• তাঁরামাছের বৈশিষ্ট্য:
- এটি একাইনোডারমেটা (Echinodermata) পর্বের অন্তর্গত।
- সমুদ্র তারার (sea star)  বা তাঁরা মাছের কারনেই Echinodermata পর্ব সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে।
- এরা  ত্রিস্তরী, প্রকৃত-সিলোমেট ও অঙ্গ-তন্ত্র মাত্রার গঠন সম্বলিত প্রজাতি। সকল একাইনোডার্ম সদস্যের ন্যায় এরাও কাঁটাময় ত্বকবিশিষ্ট।
- ত্বকের নিচে শায়িত চুনময় অন্তঃকঙ্কাপিক প্লেট (calcareous endoskeletal plates) থেকে এসব কাঁটা উদগত হয়। কাঁটাগুলো বহিঃকঙ্কাল, আর প্লেটগুলো হচ্ছে অন্তঃকঙ্কাল। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
৫,৩৮৪.
তাপমাত্রা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক কোনটি? 
  1. সেলসিয়াস 
  2. ফারেনহাইট 
  3. ক্যালরি 
  4. কেলভিন 
ব্যাখ্যা

তাপমাত্রা (Temperature): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিতে থাকলে, যত তাপ দেয়া হয় তত বেশি গরম হয়। গরমের মাত্রা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি। 
- দু'টি বস্তুকে পরস্পরের তাপীয় সংস্পর্শে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। 
- এই আদান প্রদান বস্তুর মধ্যে তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর। 
- বস্তু দুটির তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ একটি থেকে অন্যটিতে (গরমটি থেকে ঠান্ডাটিতে) প্রবাহিত হয়, বস্তুর এই তাপীয় অবস্থার নাম উষ্ণতা বা তাপমাত্রা। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের S.I বা আন্তর্জাতিক একক কেলভিন, তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। যেমন- সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৮৫.
পেন্সিলের শিশে প্রধানত থাকে-
  1. ক) কার্বন ব্লেক
  2. খ) লেড
  3. গ) প্লাস্টিক
  4. ঘ) গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা

কার্বনের দু’টি রূপভেদ আছে। যথা- গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)।
গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৮৬.
একটি হোলের চার্জ কত? 
  1. 0 C
  2. 1.6×10-19
  3. - 1.6×10-19 C
  4. 9.1×10-31 C
ব্যাখ্যা

হোল: 
- তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে। ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়, যেটি ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে। 
- একটি হোলের চার্জ 1.6×10-19 C । 
- যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়। 
সুতরাং, তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে। 
- যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়। 
- হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৮৭.
চুম্বকত্ব কী? 
  1. পদার্থের গন্ধের ধর্ম
  2. পদার্থের তাপ ধর্ম
  3. পদার্থের ভৌত ধর্ম
  4. পদার্থের বৈদ্যুতিক ধর্ম
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম। 
- কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৮৮.
যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি পরিমাপ করা হয় তাকে কী বলে?
  1. গ্যালভানোমিটার
  2. তড়িৎ প্রবাহ মিটার
  3. অ্যামমিটার
  4. ভোল্টমিটার
ব্যাখ্যা
অ্যামমিটার (Ammeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে অ্যামমিটার বলে। 
- এর আসল নাম অ্যাম্পিয়ার মিটার, সংক্ষেপে একে অ্যামমিটার বলে। 
- এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- বর্তনীর প্রবাহমাত্রা নির্ণয়ের জন্য অ্যামমিটারকে বর্তনীর সাথে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত করা হয়। 

ভোল্টমিটার (Voltmeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দু'বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- এটিও প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- একে বর্তনীতে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করতে হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৮৯.
মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগ কোনটি?
  1. ক) হার্ট এট্যাক
  2. খ) আলসার
  3. গ) স্ট্রোক
  4. ঘ) ডায়বেটিক
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা ফলে স্ট্রোক হয়। যাতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যা একটি রক্ত সঞ্চালনের জনিত একটি রোগ। 

- হার্ট এট্যাক হলো হৃদপিন্ডে রক্তক্ষরণজনিত রোগ।
- আলসার হলো পাকস্থলিতে তৈরী হওয়া ক্ষত।
- ডায়বেটিক - রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩৯০.
কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়? 
  1. লৌহ 
  2. বোরন 
  3. সালফার 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। 
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। 
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- এই খনিজের অভাবে ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

সালফার (S): 
- সালফার উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই শুধু নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৩৯১.
সামুদ্রিক মাছ আর শৈবালের মধ্যে কোনটির প্রাচুর্য বেশি?
  1. Potassium
  2. Iodine
  3. Magnesium
  4. Iron
ব্যাখ্যা
• সামুদ্রিক মাছ এবং শৈবাল—উভয়েই পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও আয়োডিনের (Iodine) প্রাচুর্য শৈবালে সবচেয়ে বেশি। শৈবাল প্রাকৃতিকভাবে আয়োডিন শোষণ করে এবং সংরক্ষণ করে, যা আমাদের থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে। সামুদ্রিক মাছেও আয়োডিন থাকে, তবে পরিমাণে তা শৈবালের তুলনায় কম। পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং আয়রন উভয় উৎসেই থাকতে পারে, তবে আয়োডিনের আধিক্য তুলনামূলকভাবে শৈবালেই বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই আয়োডিন উপাদানের দিক থেকে শৈবাল বেশি সমৃদ্ধ।
- সঠিক উত্তর: খ) Iodine.

- খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং লবণ, সামুদ্রিক শৈবাল ও সামুদ্রিক মাছে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- এ সমস্ত উপাদান দেহের বৃদ্ধির কাজে সাহাজ্য করে।
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়।
- লৌহের অভাবে রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়।

সূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৩৯২.
এক গ্রাম ফ্যাট হতে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়-
  1. ক) ৯.০ kcal
  2. খ) ৯.8 kcal
  3. গ) ৯.৩ kcal
  4. ঘ) ৯.৬ kcal
ব্যাখ্যা
ক্যালরি:
- কর্মশক্তি পরিমাপের একক হলো ক্যালরি। 
- পুষ্টিবিজ্ঞানে খাদ্য হতে উৎপন্ন তাপ বা শক্তি ক্যালরি দিয়ে পরিমাপ করা হয়। 
- আমরা জানি যে ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি। 
- এ হিসাবে আমাদের দেহের শক্তি চাহিদাও কিলোক্যালরি দিয়ে নির্ণয় করা হয়। 
- খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট হতে উল্লেখযোগ্য ও যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- ১ গ্রাম প্রোটিন হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 
- ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 
- ১ গ্রাম তেল বা চর্বি হতে ৯ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৯৩.
মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা কত?
  1. ৭৫ ডেসিবল
  2. ৯০ ডেসিবল
  3. ১০০ ডেসিবল
  4. ১১০ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
শব্দ দূষণ: 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আওয়াজই শব্দ দূষণ। 
- মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল। 
- কিন্তু ৮৫ ডেসিবল অথবা তার অধিক হলে একজন মানুষ শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। 
- শব্দ দূষণ প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় কারণেই হতে পারে। 
- তবে মানবসৃষ্ট কারণই মুখ্য। 
- শব্দ দূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়। 
- সাধারণত শহরাঞ্চলে পরিবেশগত এই সমস্যা অধিক হয়ে থাকে। 


উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৯৪.
Joule কি?
  1. ক) বলের একক
  2. খ) ক্ষমতার একক
  3. গ) কাজের একক
  4. ঘ) সরনের একক
ব্যাখ্যা
কাজ: কোন বস্তুর পর বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুর সরণ হয় তাহলে বল ও সরণের গুণফলকে কাজ বলে।
W = Fs
এখানে, 
W = কাজ,
F = বল,
s = সরণ।

কাজের একক: 
Fs = Nm = joule 
joule কাজের আন্তর্জাতিক একক।
৫,৩৯৫.
উদ্ভিদ কোষের কোন অংশে সালোক সংশ্লেষণ হয়?
  1. লিউকোপ্লাস্ট
  2. ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. টোনোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
- শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে (১) আলো (২) ক্লোরোফিল (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড। •
- সবুজ উদ্ভিদ সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য যেকোনো তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করতে পারে না, কেবলমাত্র ৩০০nm থেকে ৮১০nm পর্যন্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো উদ্ভিদ ব্যবহার করতে পারে।
- সালোক সংশ্লেষণকারী কেমোসিনথেটিক ব্যাকটেরিয়ার সালোক সংশ্লেষণে পানির প্রয়োজন হয় না।
- ফার্ন, নগ্নবীজী ও গুপ্তবীজী উদ্ভিদসমূহের সালোক সংশ্লেষণের প্রধান স্থান হল পাতার মেসোফিল টিস্যুর কোষে অবস্থিত ক্লোরোপ্লাস্ট।

- লিউকোপ্লাস্ট প্রধানত খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য দায়ী এবং সাধারণত সালোক সংশ্লেষণে অংশগ্রহণ করে না।
- ক্রোমোপ্লাস্ট বিভিন্ন রঙের পিগমেন্ট (যেমন ক্যারোটিনয়েড) উৎপাদন ও সঞ্চয় করে, যা ফল ও ফুলের রঙ তৈরিতে সাহায্য করে। 
- টোনোপ্লাস্ট হলো ভ্যাকুয়োলের ঝিল্লি, যা ভ্যাকুয়োলকে ঘিরে রাখে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৯৬.
মানবদেহের কোন অঙ্গে পিত্তরস উৎপন্ন হয়?
  1. প্যানক্রিয়াস
  2. যকৃত
  3. প্লীহা
  4. কিডনি
ব্যাখ্যা

• যকৃত:
- যকৃত হলো দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- পেটের উপরিভাগে ডানদিকে যকৃত অবস্থিত।
- প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি।
- যকৃত থেকে পিত্তরস নামক এক প্রকার রস নিঃসৃত হয়ে যকৃতনালীর মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এসে পিত্তথলিতে জমা হয়।
- পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে।
- যকৃতকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলে।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনকে চর্বিরূপে জমা রাখে।
- যকৃত অতিরিক্ত এমাইনো এসিডকে ইউরিয়ায় পরিণত করে।
- যকৃত ভিটামিন A, D, E, K ও ফলিক এসিড সঞ্চয় করে।
- যকৃতের হেপাটোসাইট কোষ অনবরত পিত্তরস তৈরি করে পিত্তথলিতে জমা করে।
- যকৃত কোলেস্টেরল উৎপাদন করে।
- যকৃত দেহ থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু অপসারিত করে।
- এছাড়াও যকৃত চর্বি ও কোলেস্টেরল পরিপাক ও শোষণে সহায়তা করে।

উৎস:গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৯৭.
একটি ক্লাস রুমের শব্দের তীব্রতার লেভেল কত? 
  1. 30 dB
  2. 40 dB
  3. 50 dB
  4. 60 dB
ব্যাখ্যা
- ক্লাস রুমের শব্দের তীব্রতার লেভেল- 50 dB .

শব্দের তীব্রতার লেভেল: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। 
- এর মূল একক W/m2 । 
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্ব নিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়। 
- এই সর্ব নিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা। 
- এর মান 10-12 Wm-2 বেছে নেয়া হয়েছে। 
- এটি হচ্ছে 1000 Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা হিসাবেও ধরা হয়। 


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৯৮.
বাংলাদেশে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাসে কত শতাংশ মিথেন রয়েছে?
  1. ৭৫-৮৫ ভাগ
  2. ৯৫-৯৯ ভাগ
  3. ৬৫-৭০ ভাগ
  4. ৬০-৬৫ ভাগ
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাসে প্রধান উপাদান হলো মিথেন। এটি সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৯৫–৯৯ শতাংশের মধ্যে থাকে, যা এটিকে একটি উচ্চমানের জ্বালানি হিসেবে পরিচিত করে। মিথেনের এই উচ্চ অনুপাতের কারণে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাতে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়া, প্রাকৃতিক গ্যাসে ছোট পরিমাণে ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন ও নাইট্রোজেনও থাকে, কিন্তু এগুলোর ভগ্নাংশ মিথেনের তুলনায় নগণ্য। তাই বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত মিথেন সমৃদ্ধ এবং এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

- সঠিক উত্তর: খ) ৯৫-৯৯ ভাগ।

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন। 

- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে- 
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। 
- আমাদের বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৯৯.
অ্যালভিওলাসের প্রতিটি লোবিউলে কত সংখ্যক অ্যালভিওলি থাকে?
  1. ৪০-৫০টি
  2. ৫০-৮০টি
  3. ২০-৩০টি
  4. ৮০-১০০টি
ব্যাখ্যা
অ্যালভিওলাস (Alveolus): 
- ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো অ্যালভিওলাস। 
- অ্যালভিওলাসগুলো ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরী বিশেষ। 
- ডান ফুসফুসে ১০টি ও বাম ফুসফুসে ৮টি লোবিউল থাকে। 
- প্রতিটি লোবিউলে ৫০-৮০টি অ্যালভিওলি থাকে। 
- অ্যালভিওলাসের প্রাচীর চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত। 
- এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তু থাকে। 
- ফলে শ্বসনের সময় সংকোচন ও প্রসারণ সহজ হয়। 
- এছাড়া অ্যালভিওলার বায়ু ও প্রাচীরের কৈশিক জালিকার রক্তের মধ্যে যে গ্যাসীয় বিনিময় সম্পাদিত হয় তার মধ্যবর্তী বিভেদক পর্দাকে শ্বাসপর্দা বলে। 
- শ্বাসপর্দাটি দুটি কোষীয় স্তর ও দুটি ভিত্তিপর্দা নিয়ে গঠিত। 
- এদের মধ্যে একটি এপিথেলিয় আবরণী ও অপরটি এন্ডোথেলিয় আবরণী। 
- বায়ু ও রক্তের মধ্যবর্তী স্থানে এই মিহিপর্দার উপস্থিতি গ্যাসীয় বিনিময়কে সহজ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪০০.
শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) পরভোজী
  2. খ) স্বভোজী
  3. গ) পরাশ্রয়ী
  4. ঘ) মৃতজীবী
ব্যাখ্যা
শৈবাল হচ্ছে স্বভোজী  জাতীয় উদ্ভিদ। 

- শৈবাল (Algae)  ক্লোরোফিলবহনকারী সরল প্রকৃতির স্বভোজী (autotrophic) অতি প্রাচীন এক উদ্ভিদ দল।
- এদের উদ্ভব সমুদ্রের পানিতে, আজ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে।
- সেই আদিমকাল থেকেই শৈবাল prokaryotic থেকে eukaryotic আকৃতিতে রূপ ও বৈচিত্র্য লাভ করেছে।
- প্যালিওজোয়িক যুগের শুরু থেকে অর্থাৎ এখন থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বছর পূর্ব পর্যন্ত এরা সমুদ্রে একক আধিপত্য অটুট রেখেছিল।
- সমুদ্রের প্রধান উদ্ভিদ এই শৈবাল।
- এদের দেহ কাঠামো সরল এবং মূল, কান্ড ও পত্রে পৃথকীভূত নয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।