বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৫২ / ১৪০ · ৫,১০১৫,২০০ / ১৪,০৮০

৫,১০১.
ফোটন কণার শক্তি কোন সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়?
  1. E = mc2
  2. P = mv 
  3. F = ma
  4. E = hf
ব্যাখ্যা

- ফোটন কণার শক্তি E = hf সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়। 

ফোটন কণা: 

- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টাম আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C = 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
- প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশি হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশি হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১০২.
সন্তান পুত্র বা কন্যা হওয়ার জন্য দায়ী-
  1. মা 
  2. বাবা
  3. মা-বাবা উভয়ই
  4. কেউ না 
ব্যাখ্যা
• মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে মা বাবার ভূমিকা:
- মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীতে প্রায় একই পদ্ধতিতে লিঙ্গ নির্ধারণ হয়। মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা 46 টি বা 23 জোড়া।
- এর মধ্যে 22 জোড়া বা 44 টিকে অটোজোম (Autosome) এবং 1 জোড়াকে সেক্স-ক্রোমোজোম (Sex chromosome) বলা হয়। অটোজোমগুলো শারীরবৃত্তীয়, ভ্রুণ এবং দেহ গঠন ইত্যাদি কার্যাদিতে অংশগ্রহণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
- সেক্স ক্রোমোজোম দুটি এক্স (X) এবং ওয়াই (Y) নামে পরিচিত।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- নারীদের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই X ক্রোমোসোম অর্থাৎ XX, কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X অপরটি Y ক্রোমোজোম অর্থাৎ XY।
- গর্ভধারণকালে কোন ধরনের শুক্রাণু মাতার X বহনকারী ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হবে তার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ সন্তানের লিঙ্গ।
- যেহে যেহেতু নিষেকে কেবল একটি শুক্রাণুই ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়, তাই পিতার X অথবা Y শুক্রাণুর কোনটি সাফল্যজনকভাবে নিষেক ঘটাবে, তার উপর নির্ভর করে সন্তানের লিঙ্গ।
- যদি X বহনকারী শুক্রাণু নিষেক ঘটায়, তাহলে জাইগোট হবে XX, অর্থাৎ সন্তান হবে কন্যা।
- আর যদি Y বহনকারী শুক্রাণু নিষেকে অংশগ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে জাইগোটে X এবং Y ক্রোমোজোম থাকবে অর্থাৎ ক্রোমোজোম দুটি হবে XY।ফলে সন্তান হবে পুত্র।
- মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে, অর্থাৎ কন্যা বা পুত্রসন্তানের জন্ম হওয়ার ব্যাপারে মায়ের আদৌ কোনো ভূমিকা নেই।
- কারণ মা সব সময় কেবল X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে।
- অন্যদিকে পিতা X এবং Y দুধরনেরই শুক্রাণু উৎপাদন করে লিঙ্গ নির্ধারণে ভূমিকা রেখে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫,১০৩.
ক্রায়োলাইট কোন ধাতুর আকরিক?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধাতুর আকরিক:
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
- সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
- আয়রনের আকরিক: ম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট ইত্যাদি।
- লেড এর আকরিক-গ্যালেনা (PbS)
- পটাসিয়ামের আকরিক হলো সল্টপিটার (KNO₃)

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১০৪.
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা-
১ নং – বেতবুনিয়া (রাঙ্গামাটি),১৯৭৫
২ নং – তালিবাবাদ (গাজীপুর), ১৯৮২
৩ নং – মহাখালী (ঢাকা),১৯৯৫ এবং
৪ নং – সিলেট, ১৯৯৭।

৫,১০৫.
কোনো পরিবাহীর রোধ নির্ভর করে তার-
  1. উপাদানের উপর
  2. তাপমাত্রার উপর
  3. প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১০৬.
মুদ্রা ধাতু নিচের কোনটি?
  1. Cu
  2. Ca
  3. Na
  4. Mg
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। 
- বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১০৭.
কোন লবণটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না? 
  1. অ্যামোনিয়াম ফসফেট
  2. সিলভার ক্লোরাইড
  3. পটাসিয়াম নাইট্রেট
  4. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
• চুনাপাথর (CaCO3) । 

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ((NH4)NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১০৮.
ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়-
  1. কার্বন
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠের গঠন: 
- ভূ-পৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। 
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম। 
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন। 

ভূত্বকে বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ:
→ ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ ৪২.৭%, 
→ সিলিকনের পরিমাণ ২৭.৭%, 
→ অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ ৮.১%, 
→ লোহা বা আয়রনের পরিমাণ ৫.১%, 
→ ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৩.৭%, 
→ সোডিয়ামের পরিমাণ ২.৮%, 
→ পটাসিয়ামের পরিমাণ ২.৬% এবং 
→ ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ ২.১%। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১০৯.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. P ∝ T
  2. V ∝ T
  3. PV = K
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ঘ) উপরের সবগুলো

• চার্লসের সূত্র:

- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”।
গাণিতিকভাবে, V ∝ T.

• বয়েলের সূত্র:
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, PV = K.

• গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র:
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক।
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

৫,১১০.
যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় পরস্পরের -
  1. আইসোমার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

• পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number):
- কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

• আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

• আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

• আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১১১.
কোনো মৌলের ধর্ম মৌলের কোনটির উপর নির্ভর করে? 
  1. ভর সংখ্যা
  2. প্রকৃত ভর সংখ্যা
  3. প্রকৃত আধান সংখ্যা
  4. পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি পরমাণুর স্থায়ী কণিকা। 
- পরমাণুর কণিকাগুলো বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু সৃষ্টি করে। 
- মৌলিক কণিকাগুলোর আধান এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভর খুব সামান্য। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। 
- নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, আর প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। 

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number) বলে। 
- মৌলের ধর্ম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে, পারমাণবিক সংখ্যাই মৌলের মৌলিক ধর্ম (Fundamental property)। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে চারদিকে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনসমূহ নিজস্ব শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান নিয়ে ঘুরতে থাকে। 
- ইহাকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
যেমন- হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 1 টি প্রোটন আছে, কাজেই উহার পারমাণবিক সংখ্যা 1 । আবার, কার্বনের পরমাণুতে 6টি প্রোটন আছে, বিধায় কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6 । কার্বন পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 6 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা 6 টি। 

ভর সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়। 
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ধাতুর পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 11 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা হল 12 টি। তাই সোডিয়ামের ভর সংখ্যা 23 । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১১২.
অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদ প্রদান করেন-
  1. ক) ডারউইন
  2. খ) ল্যামার্ক
  3. গ) মেন্ডেল
  4. ঘ) কেউই না
ব্যাখ্যা
অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদকে ল্যামার্কিজম বলে। এই মতবাদ দেন জ্যা বাপ্টিস্ট ল্যামার্ক৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫,১১৩.
AC কে DC তে রুপান্তরিত করার জন্য কি ব্যবহৃত হয়?
  1. Dynamo
  2. Transformer
  3. Rectifier
  4. Motor
ব্যাখ্যা
রেকটিফায়ার (Rectifier):
যে সার্কিট অলটারনেটিং বা AC কারন্টকে ডাইরেক্ট বা DC কারেন্টে রূপান্তর করে তা রেকটিফায়ার। যে পদ্ধতিতে রেকটিফাই করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বলে।
এটি মূলত AC কারেন্টকে পালসেটিং DC তে রূপান্তর করে। অধিকাংশ ইলেকট্রিক সার্কিট লো- ভোল্টেজ এবং লো-ডি.সি. কারেন্টে চলে। এই বিপুল পরিমাণ পাওয়ারের চাহিদা মেটাতে সেল ব্যবহার সাশ্রয়ী নয়। তাই এ.সি. কে প্রয়োজনীয় মানে কমিয়ে ডি.সি. তে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়।

রেকটিফায়ার সার্কিটের প্রকারভেদঃ
• ১. হাফ ওয়েভ রেকটিফায়ার (Half Wave Rectifier)
• ২. ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Full Wave Rectifier)
২.১ সেন্টার ট্যাপ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Center Tape Full Wave Rectifier)
২.২ ব্রীজ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Bridge Full Wave Rectifier)


উৎস: www.eeebangla.com.
৫,১১৪.
ফোটন কণায় কোন ধরনের বল বিদ্যমান?
  1. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. মহাকর্ষ বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১১৫.
টিয়ার শেলে প্রাথমিকভাবে কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. CS
  2. CO2
  3. O2
  4. NO2
ব্যাখ্যা
• টিয়ারশেল:
- টিয়ারশেলে ব্যবহৃত গ্যাস হলো টিয়ার গ্যাস, যা সাধারণত মানবিক চোখ, নাক, এবং গলার উপর প্রভাব ফেলে।
- এটি সাধারণত ব্যবহৃত হয় প্রতিবাদ বা বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।
- টিয়ার শেলে প্রাথমিকভাবে CS গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

• টিয়ার গ্যাসের প্রধান উপাদানগুলো হলো:
- ক্রোমোয়েকটিক এসিড (CS গ্যাস): এটি সবচেয়ে সাধারণভাবে ব্যবহৃত টিয়ার গ্যাস। এটি চোখে জ্বালাপোড়া, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে।
- রাইসিন (CN গ্যাস): এটি পুরনো ধরনের টিয়ার গ্যাস এবং আধুনিক ব্যবহার কম।
- ব্রোমো আ্যাসেটিক এসিড (CA গ্যাস): এটি কম ব্যবহৃত, কিন্তু এর প্রভাবও তীব্র।

- এগুলোর প্রতিটি গ্যাসের প্রভাব আলাদা হতে পারে, তবে সাধারণভাবে, টিয়ার গ্যাসের উপসর্গগুলো হলো চোখে অস্বস্তি, কাশি, এবং শ্বাসকষ্ট।
- যদিও এটি একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, টিয়ার গ্যাসের ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সূত্র: National Library of Medicine [লিংক]
৫,১১৬.
সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক কোনটি?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. সিদা
  4. ব্রোঞ্জ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত অপশনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক হচ্ছে তামা

পরিবাহী: 

- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
- সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়।
যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের। 
- রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক
- পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
- ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত
৫,১১৭.
উদ্ভিদের সজীব কোষে শ্বসন কার্য কখন ঘটে?
  1. শুধু রাতে
  2. শুধু দিনে
  3. দিন-রাত্রি সব সময়
  4. সূর্যের আলোতে
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ সঞ্চিত খাদ্যবস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ রাসায়নিক শক্তিকে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত করে এবং ফলশ্রুতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয় তাকে শ্বসন বলে। 
- শ্বসন একটি বিপাকীয় ক্রিয়া, এ প্রক্রিয়া চলাকালে প্রতিটি জীব পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। 
- নিম্নশ্রেণির কিছু উদ্ভিদ ও প্রাণী অক্সিজেন ছাড়া শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন করে, তবে সকল ক্ষেত্রে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। 
- উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রতিটি সজীব কোষে দিন-রাত্রি সব সময় শ্বসন কার্য ঘটে। 
- শ্বসন একটি অন্তঃকোষীয় বিপাক প্রক্রিয়া এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের বিভিন্ন সজীব কোষে শ্বসন প্রক্রিয়াটি মুলত একই। 
- কিন্তু বিভিন্ন জীবের অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন পদ্ধতিটি ভিন্নরুপ। 
- উদ্ভিদ দেহে শ্বসন কালে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় অপেক্ষাকৃত সরল। 
- উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট শ্বসন অঙ্গ নাই, পাতার পত্ররন্ধ্র, কান্ডের লেন্টিসেল এবং অন্তঃকোষের মাধ্যমে বায়ু দেহঅভ্যন্তরে প্রবেশ করে। 
- পানিতে নিমজ্জিত উদ্ভিদগুলো সমগ্র দেহতলের সাহায্যে অক্সিজেন শোষণ করে। 

উদ্ভিদের শ্বসন: 
- উদ্ভিদ দেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত শর্করা জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হয়, এই শক্তি উদ্ভিদ দেহে বিপাকীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- উদ্ভিদ দেহে দুই প্রকার শ্বসন দেখা যায়। 
যথা- 
ক) সবাত শ্বসন: অক্সিজেনের উপস্থিতিতে যে শ্বসন সম্পন্ন হয় তাকে সবাত শ্বসন বলে। সকল উন্নত উদ্ভিদে সবাত শ্বসন ঘটে। 
খ) অবাত শ্বসন: অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে যে শ্বসন সম্পন্ন হয় তাকে অবাত শ্বসন বলে। ব্যাকটেরিয়া জাতীয় আদিকোষী জীব দেহে অবাত শ্বসন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫,১১৮.
নিচের কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না? 
  1. খনিজ তেল 
  2. সৌর শক্তি 
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. বায়োগ্যাস 
ব্যাখ্যা

- 'খনিজ তেল'কে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না, কারণ এটি অনবায়নযোগ্য শক্তির একটি উৎস। 

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১১৯.
ফুলের গর্ভপত্রের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) গর্ভাশয়
  2. খ) গর্ভদণ্ড
  3. গ) গর্ভমুণ্ড
  4. ঘ) গর্ভকেশর
ব্যাখ্যা

স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশরের অবস্থান ফুলটির কেন্দ্রে। এটি ফুলের আর একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। স্ত্রীস্তবক এক বা একাধিক গর্ভপত্র (Carpel) নিয়ে গঠিত হতে পারে।
একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ
যথা:
গর্ভাশয় (Ovary),
গর্ভদণ্ড (Style) এবং
গর্ভমুণ্ড (Stigma)।

৫,১২০.
কোনটি ভিনেগারের মূল উপাদান? 
  1. লবণ 
  2. ইথানল 
  3. ইথানয়িক এসিড 
  4. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
ব্যাখ্যা

সিরকা বা ভিনেগার: 
- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার তরল পদার্থ। 
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়। 

ভিনেগারের প্রস্তুতি: 
- 25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়। 
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে। 
• CH3CH2OH + O2 → CH3COOH + H2

খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা: 
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড। 
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন, H+ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১২১.
নক্ষত্র ও সূর্যের পরিমণ্ডলে কোনটির উপস্থিতি জানা যায়?
  1. ক) বায়বীয় পদার্থের
  2. খ) তরল পদার্থের
  3. গ) প্লাজমার
  4. ঘ) কঠিন পদার্থের
ব্যাখ্যা
প্লাজমা (plasma):
- অত্যধিক উচ্চ তাপমাত্রায় যেমন 104 – 105 K (কেলভিন) তাপমাত্রায় কোন কোন পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থার পর তাদের পরমাণু থেকে ইলেকট্রন ত্যাগ করে আয়নিত অবস্থায় থাকে।
- গ্যাসীয় অবস্থার পর ধনাত্মক আয়ন ও ইলেকট্রনের পাশাপাশি সঞ্চরণশীল ও বিদ্যুৎ নিরপেক্ষরূপে থাকার পদার্থের এরূপ অবস্থাকে প্লাজমা অবস্থা বলে।
- নিউক্লিয়ার ফিউশান (fusion) গবেষণার ক্ষেত্রে, বিভিন্ন নক্ষত্র ও সূর্যের পরিমণ্ডলে প্লাজমার উপস্থিতি জানা যায়। 
- সূর্যের তাপমাত্রা প্রায় এক কোটি কেলভিন, 107 K।
- হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ফিউশান প্রক্রিয়ায় এ তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৫,১২২.
কোন রশ্মি ধনাত্মক চার্জ বহন করে?
  1. বিটা রশ্মি
  2. আলফা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• আলফা রশ্মির বৈশিষ্ট্য:
- আলফা রশ্মি মূলত একটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- আলফা রশ্মি ধনাত্মক চার্জ বহন করে, এর পরিমাণ ৩.২ × ১০- ১৯ কুলম্ব।
- আলফা রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- আলফা রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- আলফা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা কম। সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।

অন্যদিকে, 
- বিটা রশ্মি ঋণাত্মক চার্জ বহন করে এবং গামা রশ্মি চার্জ নিরপেক্ষ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১২৩.
Father of Bacteriology বলা হয় কাকে? 
  1. এহরেনবার্গ
  2. লিউয়েন হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. রবার্ট কচ 
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। 
- তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১২৪.
কোনটির মাধ্যমে পেশীগুলো অস্থির সাথে যুক্ত থাকে?
  1. টেনডন
  2. স্নায়ু
  3. লিগামেন্ট
  4. ফিমার
ব্যাখ্যা

• টেনডন (Tendon) হলো শক্ত আঁশযুক্ত টিস্যু, যা পেশীকে অস্থির সাথে যুক্ত করে।

টেনডন:
- টেনডন হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত একটি শক্ত ফিতা বিশেষ যা পেশিকে হাড়ের সাথে যুক্ত রাখে।
- টেনডন পেশির ফাইবার হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের ফাইবারের সাথে পারস্পরিক শক্ত বুনন কাঠামো তৈরি করে, তাই সহজে পেশি থেকে হাড় বা হাড় থেকে পেশি বিচ্ছিন্ন হতে পারে না।
- টেনডন বেশ শক্ত, সহজে ছিঁড়ে বা ভেঙ্গে যায় না।

লিগামেন্ট:
- লিগামেন্ট হলো সংযোগ টিস্যু নির্মিত নমনীয় বন্ধনী যা দুটি হাঁড়কে একত্রে বেঁধে রাখে।
- অস্থিসন্ধির হাড়সমূহকে যার যার অবস্থানে সুদৃঢ়ভাবে ধরে রাখে লিগামেন্ট।
- লিগামেন্টের ফাইবারসমূহ হাড়ের পেরিঅস্টিয়ামের বর্ধিত অংশ। লিগামেন্ট ইলাস্টিক তন্তু দিয়ে গঠিত, আর ইলাস্টিন নামক প্রোটিন দিয়ে ইলাস্টিক তন্তু গঠিত।

উৎস: উচ্চ মধ্যমিকের জীববিজ্ঞান বই, গাজী আজমল স্যার।

৫,১২৫.
কোনটি জারক পদার্থ নয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) ফ্লোরিন
  4. ঘ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা
• জারণ হলো এক প্রকারের বিক্রিয়া যাতে কোনো রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন প্রদান করে।
- জারণ বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যে সত্তা তাকে বিজারক ও যার দ্বারা জারণ সংঘটিত হয় তাকে জারক বলে।
- যে পদার্থটির জারণ ঘটে, তা জারিত হয়েছে বলা হয়।

• জারক মনে রাখার উপায়:-
সকল পারঅক্সাইড,অক্সি এসিড,ক্যাটায়ন,ইক্ লবণ,আক্সিজেন, ওযোন গ্যাস, হ্যালোজেন ও রাজঅম্ল জারক। FeSO4 বাদে অক্সিজেনেরর প্রাচুর্য আছে এমন সকল যৌগ জারক।

• বিজারক মনে রাখার উপায় :-
সকল আস্ লবণ,ধাতু,C ও CO ও হাইড্রোজেন বিজারক।

তাছাড়া H2O2, SO2, O3 তিনটি পদার্থে জারক, বিজারক দুইটা ধর্মই আছে।
৫,১২৬.
মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম সংখ্যা কতটি? 
  1. ২২টি
  2. ০২টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
ব্যাখ্যা
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোসোমের ভূমিকা: 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
অপর এক জোড়া বা দুইটি ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১২৭.
Anti-Scurvy নামে পরিচিত কোন ভিটামিন?
  1. ভিটামিন ডি
  2. ভিটামিন সি
  3. ভিটামিন ই
  4. ভিটামিন কে
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন-সি(C) এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড। 
- এসকরবিক এসিড Anti-Scurvy নামে পরিচিত। 
 
- Also known as ascorbic acid, vitamin C is a small carbohydrate molecule first identified in the 1920s by Albert von Szent Györgyi, who discovered that it was able to prevent and cure scurvy.
- Scurvy is a pathological life-threatening condition suffered by people who do not have access to fruits or vegetables for long periods of time.
- A decade earlier, Kazimierz Funk had prepared a list of nutritional factors, called vitamins, whose deficiencies cause severe diseases in humans.
- In his list, Funk used the letter "C" to designate a factor still unidentified, but known to prevent scurvy.
- Later on, Szent Györgyi and Haworth chemically identified "C" as ascorbic acid, and named it so because ascorbic means "anti-scurvy." Over the next century, what we now know as vitamin C became one of the most popular drugs in human history.

Source: nature.com
৫,১২৮.
সাইনুসাইটিস রোগের জন্য দায়ী কোন ব্যাকটেরিয়া?
  1. ক) Haemophilus influenzae
  2. খ) Neisseria meningitidis 
  3. গ) Listeria monocytogenes 
  4. ঘ) Citrobacter koseri 
ব্যাখ্যা

সাইনুসাইটিস রোগের জন্য দায়ী হচ্ছে Haemophilus influenzae. 
এছাড়াও Streptococcus, Moraxella catarrhalis ও দায়ী। তবে,
Haemophilus influenzae এর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা, ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি করে তাকে সাইনুসাইটিস বলে।

উপসর্গ:
১। মাথা ব্যথা, সামনের অংশে।
২। মুখে ব্যথা, মুখ ভার ভার অনুভব হওয়া।
৩। নাক ভার হয়ে থাকা কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়া অথবা নাক ব্লকেজ মনে হওয়া।
৪। সর্দি, জ্বর, কাশি হওয়া।
৫। গাড়, হলদে রং এর নাসাল ডিসচার্জ।
৬। ঘ্রাণ শক্তি হ্রাস পাওয়া।
৭। নিঃশ্বাসের সময় ব্যতিক্রমী ঘ্রাণ পাওয়া (Bad breath)

চিকিৎসা:
সাইনুসাইটিসের কারণে মাথব্যথা হয়েছে বলে মনে হলে যতদ্রুত সম্ভব একজন নাক, কান, গলারোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
সাইনুসাইটিস থেকে বাঁচতে সতর্কতা হিসেবে ধুলাবালি এড়িয়ে চলা, প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা, নাকের ভিতর ময়লা পানি যাতে না ঢুকে সেদিকে খেয়াল রাখা, দাঁতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া, ঠান্ডা যাতে না লাগে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা, ঘর যাতে ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা যেতে পারে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,১২৯.
অগ্ন্যাশয় রস থেকে নিচের কোন ধরনের উৎসেচক নিঃসৃত হয় না?
  1. টায়ালিন
  2. ট্রিপসিন
  3. লাইপেজ
  4. অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা
- পাকস্থলির পেছনে এবং ডিওডেনামের দু’বাহুর মধ্যে প্রায় আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র গ্রন্থি। 
- অগ্ন্যাশয়ে নালীযুক্ত ও নালিবিহীন উভয় প্রকার গ্রন্থি থাকে বলে একে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়। 
- নালিযুক্ত গ্রন্থির নিঃসৃত রসকে অগ্ন্যাশয় রস। 
- অগ্ন্যাশয় রসে থাকে ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজ নামক উৎসেচক। 
- নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন তৈরি হয়। 
- টায়ালিন লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৩০.
নিচের কোনটি চার্জ নিরপেক্ষ রশ্মি?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ধনাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে আলফা রশ্মি, ঋণাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে বিটা রশ্মি এবং তড়িৎ নিরপেক্ষ রশ্মিকে গামা রশ্মি বলে।

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল।
৩। এর কোন চার্জ ও ভর নাই।
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
৮। গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫,১৩১.
মস্তিষ্কের ধমনী ছিড়ে রক্তপাত হওয়াকে বলে -
  1. কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট
  2. কার্ডিয়াক ফেইলিউর
  3. হার্ট এ্যাটাক
  4. স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
স্ট্রোক: 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়। 
- স্ট্রোক একটি স্নায়বিক রোগ। 

স্ট্রোকের কারণ: 
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে। 
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন- উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়। 
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

লক্ষণ: 
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা, কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া, মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া, শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া, মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি। 

প্রতিরোধের উপায়: 
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা। 
- উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৩২.
উদ্ভিদে কত প্রকার প্রস্বেদন ঘটে? 
  1. তিন প্রকার
  2. দুই প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন ঘটে। 
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৩৩.
ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে-
  1. ক) ট্রপোমন্ডল
  2. খ) তাপমন্ডল
  3. গ) স্ট্রাটোমন্ডল
  4. ঘ) মেসোমন্ডল
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
যথা-
• ট্রপোমন্ডল, 
• স্ট্রাটোমন্ডল,
• মেসোমন্ডল,
• তাপমন্ডল ও
• এক্সোমন্ডল।

ট্রপোমন্ডল
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় ও নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।
- ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে ট্রপোমন্ডল
- আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে।
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,১৩৪.
নিচের কোনটি প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ?
  1. ক) লেকল্যান্স কোষ
  2. খ) নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
  3. গ) লেড সঞ্চয়ী কোষ
  4. ঘ) এসিড স্টোরেজ কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,১৩৫.
মাছ চাষের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন মাত্রা কত? 
  1. ২ পিপিএম
  2. ৫ পিপিএম
  3. ১০ পিপিএম
  4. ১২ পিপিএম
ব্যাখ্যা
মাছ চাষের পুকুরের পানির গুণাগুণ: 
- মাছের বেঁচে থাকা, খাদ্যগ্রহণ ও আশানুরূপ বৃদ্ধির জন্য পুকুরের পানির গুণাগুণ অনুকূল মাত্রায় থাকা দরকার। 
- পুকুরে পানির গুণাগুণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১) ভৌত গুণাগুণ: 
ক) গভীরতা: 
- পুকুর বেশি গভীর হলে সূর্যের আলো পুকুরের অধিক গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। ফলে অধিক গভীর অঞ্চলে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য প্লাংকটন তৈরি হয় না। আবার সেখানে অক্সিজেনের অভাব হতে পারে। অন্যদিকে পুকুর অগভীর হলে গ্রীষ্মকালে পুকুরের পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এসব কারণে মাছের ক্ষতি হতে পারে ও উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। 

খ) তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধির উপর মাছের বৃদ্ধি নির্ভর করে। যেমন- শীতকালে মাছ খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেয় ফলে মাছের বৃদ্ধি কমে যায়। এ কারণে শীতকালে পুকুরে সার ও খাদ্য প্রয়োগের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হয়। রুই জাতীয় মাছের বৃদ্ধি ২৫-৩০° সে. তাপমাত্রা সবচেয়ে ভালো হয়। 

গ) ঘোলাত্ব: 
- কাদা কণার কারণে পুকুরের পানি ঘোলা হলে পানিতে সূর্যালোক প্রবেশে বাধা পায়। এতে করে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। 

ঘ) সূর্যালোক: 
- যে পুকুরে সূর্যালোক বেশি পড়ে সেখানে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। ফলে সেখানে ফাইটোপ্লাংটন বেশি উৎপাদিত হয় ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। 

২। রাসায়নিক গুণাগুণ: 
ক ) দ্রবীভূত অক্সিজেন: 
- পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন মাছ চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানত ফাইটোপ্লাংকটন ও জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন তৈরি করে পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত হয়। বায়ুমণ্ডল হতে সরাসরি পানির উপরিভাগেও কিছু অক্সিজেন মিশ্রিত হয়। পুকুরে বসবাসকারী মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণী এ অক্সিজেন দ্বারা শ্বাসকার্য চালায়। রাতে সূর্যালোকের অভাবে সালোকসংশ্লেষণ হয় না বলে পানিতে কোনো অক্সিজেন তৈরি হয় না। এজন্য সকালে পুকুরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় ও বিকেলে বেশি থাকে। মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমপক্ষে ৫ মিলি গ্রাম/লিটার (৫ পিপিএম বা ১ মিলিয়ন ভাগের পাঁচ ভাগ) থাকা প্রয়োজন। 

খ ) দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড: 
- পুকুরে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ফাইটোপ্লাংকটনের উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকা প্রয়োজন। তবে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড মাছের জন্য ক্ষতিকর। পানিতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ১২ মিলি গ্রাম/লিটারের (১২ পিপিএম) নিচে থাকলে তা মাছ ও চিংড়ির জন্য বিষাক্ত নয়। মাছের ভালো উৎপাদন পাওয়ার জন্য পুকুরের পানিতে ১-২ পিপিএম কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকা প্রয়োজন। 

গ) পিএইচ (pH): 
- পুকুরের পানির pH মান নির্ণয় করে অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের মাত্রা বোঝা যায়। মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানির pH ৬.৫-৮.৫ এর মধ্যে হলে ভালো হয়। pH ৪ এর নিচে বা ১১ এর উপরে হলে মাছ মারা যায়। পানির pH কমে অম্লীয় হয়ে গেলে পুকুরে চুন (১-২ কেজি/শতক) প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরে pH বেড়ে ক্ষারীয় অবস্থা বেশি বেড়ে গেলে অ্যামোনিয়াম সালফেট বা তেঁতুল পানিতে গুলে পুকুরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। 

ঘ) ফসফরাস: 
- প্রাকৃতিক পানিতে অতি অল্প পরিমাণ ফসফরাস থাকে। এই ফসফরাস ফসফেটে রূপান্তরিত হয়। পরিমিত ফসফেটের উপস্থিতিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইটোপ্লাংটন জন্মায়। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৩৬.
মস এর মূলকে কি বলা হয়?
  1. অস্থানিক মূল
  2. রাইজয়েড
  3. গুচ্ছমূল
  4. প্রধান মূল
ব্যাখ্যা
• মসবর্গীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
- মসবর্গীয় উদ্ভিদে কান্ড ও পাতা থাকলেও মূল থাকে না।
- মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে, অর্থাৎ মসের মূলকে রাইজয়েড বলা হয়।
- ফুল ও ফল হয় না।
- পরিবহণ টিস্যু থাকেনা, তবে ভ্রুণ সৃষ্টি হয়।
- দেওয়াল বা পাথরের নরম আস্তরণ। উদাহরণ - রিকশিয়া। 

উৎস: উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৫,১৩৭.
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া একটি-
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. যুগপৎ বিক্রিয়া
  4. প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
-  জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া Cl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

- এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
৫,১৩৮.
সিলিকনের সাথে কোন পদার্থ যোগ করলে তা n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়?
  1. গ্যালিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. বোরন
  4. এলুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
ডোপিং:
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

• P- টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- যেমন: বোরন, এলুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম

• n-টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে তাকে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- যেমন: ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি, বিসমাথ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,১৩৯.
নিচের কোনটি দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয়?
  1. তাপ
  2. তড়িৎ ক্ষেত্র
  3. চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

◉ তেজস্ক্রিয়তা মূলত একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া, যা মৌলিক কণার অবক্ষয়ের মাধ্যমে ঘটে এবং এটি বাইরের পরিবেশগত পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

তেজস্ক্রিয়তা:
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু।
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”।
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা-
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও
২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা: কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে।
২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা: কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়-
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪ । তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৪০.
সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে কী বলা হয়?
  1. সেরিকালচার
  2. প্রণকালচার
  3. মেরিকালচার
  4. পিসিকালচার
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষবিদ্যা: 
- সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে মেরিকালচার বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- সাধারণ মৎস্য চাষবিদ্যাকে পিসিকালচার বলা হয়। 
- রেশম কীট পালন ও রেশম উৎপাদনের বিদ্যাকে সেরিকালচার বলা হয়। 
- চিংড়ি ও অন্যান্য শেলফিশ চাষবিদ্যাকে প্রণকালচার বলা হয়। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৫,১৪১.
গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কী হবে?
  1. ক) বৃষ্টিপাত হবে না
  2. খ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  3. গ) মেঘ-রৌদ্রের লুকোচুরি হবে না
  4. ঘ) সাইক্লোন হবে
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে মেরু অঞ্চলসহ অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করবে। যার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক নিম্নভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হবে।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৫,১৪২.
'রেডিওথেরাপি' কোষের কোনটিকে ধ্বংস করে?
  1. নিউক্লিয়াস
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. কোষগহবর
  4. DNA
ব্যাখ্যা

• রেডিওথেরাপি মূলত ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন রোধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি উচ্চ-শক্তির রেডিয়েশন ব্যবহার করে কোষের মধ্যে জিনগত উপাদানকে লক্ষ্য করে। বিশেষভাবে, রেডিওথেরাপি কোষের DNA কে ধ্বংস করে। DNA হলো কোষের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল যা কোষের বৃদ্ধি, বিভাজন এবং পুনর্নবীকরণের নিয়ন্ত্রণ করে। যখন DNA ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোষ ঠিকমতো বিভাজন করতে পারে না এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়। তাই, রেডিওথেরাপি মূলত ক্যান্সার কোষকে সুনির্দিষ্টভাবে ধ্বংস করার জন্য DNA-কে লক্ষ্য করে, অন্য কোষাংশ যেমন নিউক্লিয়াস বা মাইটোকন্ড্রিয়ার উপর সরাসরি প্রভাব কম থাকে।

সঠিক উত্তর: ঘ) DNA.

কোমোথেরাপি (Camotherapy):
- কেমোথেরাপি হলো এমন এক ধরনের চিকিৎসা যেখানে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনরত কোষ ধ্বংস করা হয়। এটি ক্যান্সার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি।
- ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর শরীরের কিছু কোষ বিভাজনের গতি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। জীবদেহের কোষ বিভাজনের উপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি গঠিত।
- কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ঔষধ কোষ বিভাজনের নির্দিষ্ট ধাপে প্রয়োগ করা হয়। কোষ বিভাজনের কোন ধাপে প্রয়োগ করা হবে তার উপর নির্ভর করে রাসায়নিক ঔষধ ঠিক করা হয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে থাকে।
- যেমন প্রতিদিনে একবার, সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার প্রভৃতি। সাধারণত এভাবে প্রায় ছয়বার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়।

রেডিওথেরাপি (Radio Therapy) :
- রেডিওথেরাপি হলো ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল যার মাধ্যমে শরীরের ক্যান্সার আক্রান্ত অঙ্গের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়।
- রেডিও থেরাপি একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়।
- রেডিও থেরাপি শব্দটি ইংরেজি Radiation Therapy এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যধির চিকিৎসা করা হয়।
- সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। শরীরের যে অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে সে অঙ্গের আক্রান্ত স্থানে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় এর ফলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়।
- এ প্রক্রিয়ায় কিছু সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবুও আমাদের উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে বহু সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজ থেকেই এই ক্ষয়পূরণ করতে পারে।
- দুই ধরনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের DNA ধ্বংস করা হয় একটি হলে ফোটন কণাকে কাজে লাগিয়ে অন্যটি তেজস্ক্রিয় কণার মাধ্যমে।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদায়লয়।

৫,১৪৩.
কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমান বেশি? 
  1. ক) পুকুর 
  2. খ) নদী 
  3. গ) সমুদ্র 
  4. ঘ) লেকের 
ব্যাখ্যা
১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রসায়নবিদ জোসেফ প্রিস্টলে অক্সিজেন (অম্লজান) আবিষ্কার করেন। অক্সিজেন কথাটির অর্থ অম্ল উৎপাদক।

জলজ প্রাণির জীবন ধারণের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় অক্সিজেনের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা এবং লবণাক্ততা বেড়ে গেলে পানিতে অক্সিজেনের কমে যায় । এজন্য সাগরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ স্বাদু পানি ( যেমন- নদী লেকের পানি) অপেক্ষা কম হয়।
প্রবহমান পানিতে (যেমন- ঝর্ণা, নদীতে) আবদ্ধ জলাশ পুকুর, হ্রস) অপেক্ষা অধিক পরিমাণে দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকে।
৫,১৪৪.
শিশু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত LBW এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Less birth weight
  2. Lean birth weight
  3. Level birth weight
  4. Low birth weight
ব্যাখ্যা
LBW:
- পূর্ণরূপ: Low Birth Weight
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, Low Birth Weight (LBW) বা কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশু বলতে বোঝায় যেসব নবজাতকের ওজন জন্মের সময় ২.৫ কিলোগ্রামের (২৫০০ গ্রাম) কম হয়।
- এটি শিশুদের অপুষ্টি, গর্ভকালীন জটিলতা ও মাতৃস্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক।
- WHO ২০২৫ সালের মধ্যে কম জন্ম ওজনের হার ৩০% কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
- এ জন্য বিভিন্ন দেশভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মধ্যে পুষ্টি উন্নয়ন, মাতৃস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও গর্ভকালীন সেবা উন্নতকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উৎস: WHO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৫,১৪৫.
কোন জাতীয় খাদ্যের কারণে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়?
  1. খনিজ লবণ
  2. প্রোটিন
  3. কার্বোহাইড্রেট
  4. ফলের রস
ব্যাখ্যা

• প্রোটিন জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং ফসফরিক এসিডের মতো অম্লীয় উপাদান তৈরি হয়, যা মূত্রের অম্লতা বাড়িয়ে দেয়।

• রেচন পদার্থ:
- রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়।
- মানবদেহের রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে।
- স্বাভাবিক মূত্রের ভর হিসেবে প্রায় 95% হলো পানি।
- অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন ধরনের লবণ।
- ইউরোক্রোম নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়।
- আমিষ-জাতীয় খাদ্য খেলে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়।
- আবার ফলমূল এবং তরিতরকারি খেলে সাধারণত ক্ষারীয় মূত্র তৈরি হয়।

• বৃক্ক (Kidney):
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পিছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবিচির মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ এবং কাজ করার একককে নেফ্রন বলে।

অন্যান্য অপশন:
- খনিজ লবণ দেহের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা করে এবং এটি সরাসরি মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ নয়।
- কার্বোহাইড্রেট বিপাকের ফলে মূলত শক্তি উৎপন্ন হয় এবং এর উপজাতগুলো মূত্রের অম্লতায় বিশেষ প্রভাব ফেলে না।
- ফলের রস বিপাকের পর শরীরে ক্ষারীয় অবশিষ্টাংশ তৈরি করে যা মূত্রকে অম্লীয় করার পরিবর্তে ক্ষারীয় করে তোলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১৪৬.
পৃথিবীর উপর কার  আকর্ষণ বেশি? 
  1. ক) চন্দ্রের
  2. খ) সূর্যের
  3. গ) শনি
  4. ঘ) মঙ্গলের
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী মহাকাশে বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি প্রতিটি পরস্পরকে আকর্ষণ করে। তাই এর প্রভাবে সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। পৃথিবী হতে  সূর্য গড়ে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু পৃথিবীর উপর সূর্য অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি হয়। কারণ সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষগুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে চন্দ্রের গড় দূরত্ব মাত্র ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর সূর্যের আকর্ষণ শক্তি চন্দ্ৰ অপেক্ষা অনেক কম। ফলে জোয়ার-ভাটার ব্যাপারে সূর্য অপেক্ষা চন্দ্রের প্রভাব বেশি। 
জোয়ার উৎপাদনে সূর্যের ক্ষমতা চন্দ্রের ৪/৯ ভাগ। চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থিত হলে চাঁদ ও সূর্য উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম 
৫,১৪৭.
ডেঙ্গু ভাইরাস কোন মশার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়?
  1. এডিস
  2. কিউলেক্স
  3. অ্যানোফিলিস
  4. সব ধরনের মশা
ব্যাখ্যা

- ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা। 
- Aedes Aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। 
- এছাড়াও এডিস এলবোপিকটাস মশার কামড়েও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে। 
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। 
- ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ: জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যাথা এবং চর্মে ফুসকুড়ি। 
- দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। 
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর বলা হয়। 
- এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে। 
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

অন্যদিকে, 
- ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুবাহী মশা হলো- অ্যানোফিলিস। 
- ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণুবাহী মশা- কিউলেক্স। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং WHO ওয়েবসাইট।

৫,১৪৮.
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ কত?
  1. ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)
  2. ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)
  3. ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
  4. ১০০-১৫০ মিলিমিটার (mm Hg)
ব্যাখ্যা
রক্তচাপ:

- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধর্মনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধর্মনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে।
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধর্মনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে।
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)।
- মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপকে ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৪৯.
pH স্কেলে pH এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Preference of hydrogen
  2. Petroleum of hydrogen
  3. Potenz of hydrogen
  4. Permanent of hydrogen
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্বক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+


- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৫০.
নারভাস সিস্টেমের স্ট্রাকচারাল এবং ফাংশনাল ইউনিটকে কি বলে?
  1. নেফ্রোন
  2. নিউরন
  3. থাইমাস
  4. মাস্ট সেল
ব্যাখ্যা
স্নায়ু টিস্যু: 
- স্নায়ুতন্ত্র এক বিশেষ ধরনের টিস্যু দ্বারা গঠিত, এ বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় স্নায়ু টিস্যু। 
- এরা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে দেহের ভেতরে পরিবাহিত করতে পারে এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে। 
- স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে স্নায়ু কোষ বা নিউরন বলা হয়। 
- নিউরন হলো স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক। 
- নিউরন হলো ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম জাত। 
- নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ও স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে।
অর্থাৎ, নারভাস সিস্টেমের স্ট্রাকচারাল এবং ফাংশনাল ইউনিটকে নিউরন বলে। 
- একটা পরিণত নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। 
যথা- কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্রন। 
- নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিয়োল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না। 
- নিউরন কোষ দেহ থেকে একাধিক শাখা কোষ বের হয়, এরা উদ্দীপনা বা স্নায়ু তাড়না নিউরনের (সেনসরি নিউরন) দেহের দিকে পরিবাহিত করে, সাধারণত এরা অ্যাক্ট্রন এর বিপরীত দিকে হয় এবং সংখ্যায় এক বা একাধিক থাকে। 
- নিউরনের কোষ দেহ থেকে একটা লম্বা তন্তু স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের দিকে পরিবহন করে, একটা নিউরনে একমাত্র অ্যাক্রন থাকে। 
- পর পর দু'টো নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্ট্রন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটা স্নায়ু সন্ধি গঠিত হয়, একে সাইন্যাপস বা সিনাপস বলা হয়। 
- সিনাপস এর মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়, স্নায়ু তন্ত্রে এরা অবস্থান করে। 
- প্রাণীর স্নায়ু তন্ত্রে অসংখ্য নিউরন থাকে। 
- স্নায়ু তন্ত্র উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে, উচ্চতর প্রাণীতে স্মৃতি সংরক্ষণ করে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞাব, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৫১.
স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন নামক এন্টিবায়োটিক তৈরি করেন কোনটি থেকে?
  1. ক) Penicillium claviforme
  2. খ) Penicillium crustosum
  3. গ) Penicillium notatum
  4. ঘ) Penicillium commune
ব্যাখ্যা
In 1928 Scottish bacteriologist Alexander Fleming first observed that colonies of the bacterium Staphylococcus aureus failed to grow in those areas of a culture that had been accidentally contaminated by the green mold Penicillium notatum. He isolated the mold, grew it in a fluid medium, and found that it produced a substance capable of killing many of the common bacteria that infect humans. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৫,১৫২.
কোনটি ক্ষার ধাতু?
  1. লিথিয়াম 
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. বেরিলিয়াম 
  4. ক্যালসিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৫৩.
অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  2. সিলভার কার্বনেট
  3. সোডিয়াম নাইট্রেট
  4. ক্যালসিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব। 
একইভাবে, 
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং 
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৫৪.
নিচের কোনটি ইলেকট্রনের সঠিক শক্তির ক্রম? 
  1. 3s < 2p < 4s
  2. 2p < 1s < 3s
  3. 1s < 2s < 2p
  4. 4s < 2p < 3d
ব্যাখ্যা
পরমাণুতে ইলেকট্রন বিন্যাসের নীতি: 
- পরমাণুতে ইলেকট্রন বিন্যাসের তিনটি নীতি আছে। 
যেমন- ১) পাওলির বর্জন নীতি, ২) আউফ-বাউ নীতি এবং ৩) হুন্ডস এর সূত্র। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রন প্রথমে সর্বনিম্ন শক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে এবং পরে ক্রমান্বয়ে উচ্চশক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে। 
অর্থাৎ, যে অরবিটালের শক্তি কম সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে এবং যে অরবিটালের শক্তি বেশি সেই অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
- অরবিটালের মধ্যে কোনোটির শক্তি কম আর কোনোটির শক্তি বেশি তা অরবিটাল দুটির প্রধান শক্তিস্তরের মান (n) এবং উপশক্তিস্তরের মান (l) এর যোগফলের উপর নির্ভর করে। 
- যে অরবিটালের (n + l) এর মান কম সেই অরবিটালের শক্তি কম এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
- অপরদিকে (n + l) এর মান যে অরবিটালের বেশি তার শক্তিও বেশি এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
যেমন- 3d অরবিটালের জন্য n = 3 এবং l = 2, অতএব n + l এর মান 3 + 2 = 5; আবার 4s অরবিটালের জন্য n = 4 এবং l = 0, অতএব n + l এর মান 4 + 0 = 4. কাজেই 3d অরবিটালের চেয়ে 4s অরবিটাল কম শক্তিসম্পন্ন। তাই ইলেকট্রন প্রথমে 4s অরবিটালে এবং পরে 3d অরবিটালে প্রবেশ করবে। 

- আবার, দুটি অরবিটালের (n + l) এর মান যদি সমান হয় তাহলে যে অরবিটালটিতে n এর মান কম সেই অরবিটালের শক্তি কম হবে এবং সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
যেমন- 3d ও 4p এর n + l এর মান যথাক্রমে 3 + 2 = 5 এবং 4 + 1 = 5 কিন্তু যেহেতু 3d অরবিটালে n এর মান কম, তাই এ অরবিটালের শক্তি কম এবং এ অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
- অপরদিকে 4p অরবিটালে n এর মান বেশি হওয়ায় এর শক্তি 3d এর চেয়ে বেশি। তাই এ অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
- এ হিসাব অনুযায়ী পরমাণুর অরবিটালের ক্রমবর্ধমান শক্তি হবে: 1s < 2s < 2p < 3s < 3p < 4s < 3d < 4p < 5s < 4d < 5p < 6s < 4f < 5d < 6p < 7s < 5f < 6d < 7p < 8s. 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৫৫.
কেলাসিত পদার্থ নয় কোনটি? 
  1. তামা
  2. মাইকা
  3. কোয়ার্টজ
  4. সালফার
ব্যাখ্যা
কেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ও নিয়মিত ভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাকে কেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- কেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কোয়ার্টজ, মাইকা, চিনি, তামা, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি। 

কেলাসিত পদার্থর বৈশিষ্ট্য: 
১. কেলাসিত পদার্থতে অণু বা পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সুসজ্জিত থাকে।
২. কেলাসিত পদার্থগুলো সমতল তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে।
৩. কেলাসিত পদার্থ হলো অসমসত্ত্বক। কেলাসিত পদার্থের ভৌত ধর্ম অর্থাৎ‍ তাপীয় পরিবাহিতা, তড়িৎ পরিবাহিতা, সঙ্কোচনশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন।
৪. কেলাসিত পদার্থগুলো সুষম রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত।
৫. কেলাসিত পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ তরলে রূপান্তরিত হয়।

অকেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো অনির্দিষ্ট ও অনিয়মিত ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অকেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- অকেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কাচ, রাবার, সালফার ইত্যাদি।  

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৫৬.
দাঁত ও হাড় গঠনের জন্য নিচের কোন ভিটামিনটি প্রয়োজন?
  1. বি
  2. সি
  3. ডি
ব্যাখ্যা
দাঁত ও হাড় গঠনের জন্য সবধরনের খনিজ এবং ভিটামিনের প্রয়োজন আছে।
তবে ক্যালসিয়াম হাড় এবং দাঁতের প্রধান উপাদান এবং
এটা শোষণে ভিটামিন ডি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৫,১৫৭.
কোন প্রক্রিয়াতে ভারী পরমাণুর বিভাজন ঘটিয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করা যায়?
  1. তাপ বিক্রিয়া
  2. রাসায়নিক বিক্রিয়া
  3.  নিউক্লিয়ার ফিউশন
  4.  নিউক্লিয়ার ফিশন
ব্যাখ্যা

- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুইটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। 
যথা- 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খণ্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে। 

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 
- জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে। 
- প্রকৃতি এই শক্তি ব্যবহার করছে। 
- সূর্যে এই বিক্রিয়াটি স্বচ্ছন্দে ঘটে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৫৮.
দেহের হাড় বৃদ্ধিজনিত চিকিৎসায় কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. Isotope of Plutonium
  2. Isotope of Phosphorus
  3. Isotope of Technetium
  4. Isotope of Iodine
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার : চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে। যেমন,
ক) রোগ নিরাময়ে ও
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়

i. শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
ii. থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131I ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে
iii. শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা(blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
iv. দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 99m Tc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়
v. প্লুটোনিয়াম -২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়।
 
উৎস: রসায়ন ১ম পত্র , এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৫৯.
কোন রক্তধারী ব্যক্তিদের সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা বলা হয়?
  1. ক) গ্রুপ A
  2. খ) গ্রুপ B
  3. গ) গ্রুপ AB
  4. ঘ) গ্রুপ O
ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O— এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 

গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A এন্টিজেন ও b এন্টিবডি থাকে।
গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B এন্টিজেন ও a এন্টিবডি থাকে।
গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B এন্টিজেন থাকে এবং কোনো এন্টিবডি থাকে না।
গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো এন্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b এন্টিবডি থাকে।

 O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে। এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor)।
AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে। তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient) বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৫,১৬০.
ফোটন সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা দেন কে?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) পাউলি
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক সর্বপ্রথম ফোটন সম্পর্কে ধারণা দেন। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রদান করেন। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে আলোকরশ্মি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তিগুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। শক্তির এই সর্ব নিম্নমানের কণিকাকে বলে কোয়ান্টাম বা ফোটন।
৫,১৬১.
এর ইলেকট্রন সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১৩ টি
  2. খ) ১২ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১০ টি
ব্যাখ্যা
পরমাণুর গঠন: 
- পরমানুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস।
- নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে কিছু বৃত্তাকার কক্ষপথ থাকে।

পরমাণুর কণিকা:
- পরমাণুর স্থায়ী কণিকা তিনটি। 
i) ইলেকট্রন
ii) প্রোটন
iii) নিউট্রন
- প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসের ভিতর অবস্থান করে।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরে।

পারমানবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা: 
- পরমাণুতে অবস্থিত প্রোটন সংখ্যাই পারমানবিক সংখ্যা।
- নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টিই ভর সংখ্যা।
- পরমাণুর প্রতীকের বাম পাশে উপরে ভর সংখ্যা এবং নিচে পারমানবিক সংখ্যা লিখে প্রকাশ করা হয়।

মৌল ও আয়ন: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে তাদেরকে মৌল বলে।
- আয়নে প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে না।
- যদি ইলেকট্রন সংখ্যার ঘাটতি ঘটে তাহলে ধনাত্মক আয়নে রূপান্তরিত হয়।
- ইলেকট্রন সংখ্যা বেশি হলে ঋণাত্মক হয়।

প্রদত্ত আয়নের ক্ষেত্রে,
পারমানবিক সংখ্যা = ১১
ভর সংখ্যা = ২৩
আধান = + 
অর্থাৎ আয়নে ইলেকট্রন সংখ্যা ঘাটতি। একটি ধনাত্মক চিহ্ন অর্থাৎ একটি ইলেকট্রন কম।
∴ উক্ত আয়নে ইলেকট্রনের সংখ্যা = ১১ - ১ = ১০ টি।

উৎস: মাধ্যমিকের রসায়ন বই।
৫,১৬২.
বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত শতাংশের বেশি হলে কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না?
  1. ক) ৩%
  2. খ) ১০%
  3. গ) ১২%
  4. ঘ) ২৫%
ব্যাখ্যা
US National Library of Medicine National Institutes of Health এর মতে,
- বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব ৫% এর বেশি হলে শ্বাসযন্ত্রে এসিডোসিস হয়,
- ১০% এর বেশি হলে খিচুনি দেখা দেয় এবং
- ৩০% এর বেশি হলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সংজ্ঞা হারাতে হবে এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হবে।
ব্যাখ্যার তথ্য থেকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা উত্তর হিসেবে ২৫%-কে বিবেচনা করছি।
৫,১৬৩.
আমাশয় রোগের কারণ কোনটি?
  1. ক) Mycobacterium tuberculosis
  2. খ) Bacillus dysenteri
  3. গ) Corynebacterium diptheriae
  4. ঘ) Diplococcus pneumoniae
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Mycobacterium tuberculosis - যক্ষ্মা
Bacillus dysenteri - আমাশয়
Corynebacterium diptheriae - ডিপথেরিয়া
Diplococcus pneumoniae - নিউমোনিয়া
৫,১৬৪.
উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করে?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. শ্বসন
  3. অভিস্রবণ
  4. প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ। 
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে। 
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়। 
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ। 
- প্রভাবকের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, পরিমাণের কম-বেশি সালোকসংশ্লেষণের পরিমাণও কম-বেশি করে থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 

- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত। 
- তাপমাত্রা ২২° সেলসিয়াসের কম বা ৩৫° সেলসিয়াসের বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যাবে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে। 
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ। 
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাই-অক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়। 
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়। 

উৎস: 
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৩. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৬৫.
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে তাকে কী বলে?
  1. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  2. স্টিম বিন্দু
  3. পানির ত্রৈধ বিন্দু
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে।

• পানির ত্রৈধ বিন্দু:
- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৬৬.
ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. ইরিডিয়াম
  2. আয়োডিন
  3. ফসফরাস
  4. বেকেরেল
ব্যাখ্যা
- অস্থিতিশীল পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্নি বিকিরণের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- ১৮৯৬ সালে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল আকস্মিকভাবে এই রশ্নি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারে এই রশ্নির নাম দেয়া হয় বেকেরেল রশ্নি। 
- তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষনার জন্যে তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক হেনরী বেকেরেল এবং ম্যারি কুরী ও তার স্বামী পিয়েরে কুরী যৌথভাবে ১৯০৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। যথা- প্রাকৃতিক ও কৃত্তিম তেজস্ক্রিয়তা।
- কিছু কিছু মৌলের আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে আলফা, বিটা ও গামা রশ্নি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় ফসফরাস -32 তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
- থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৫,১৬৭.
যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, ভরবেগের পরিবর্তনের মান কত হবে?
  1. অসীম
  2. ধ্রুব
  3. শূন্য
  4. উপরের যে কোনোটি হতে পারে 
ব্যাখ্যা

• যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে সিস্টেমটি নিউটনের দ্বিতীয় আইন অনুসারে অভ্যন্তরীণ বলের মাধ্যমে ভরবেগের পরিবর্তন করতে পারে না। ভরবেগের পরিবর্তন একটি বস্তুতে বাহ্যিক বলের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে, এবং বাহ্যিক বল শূন্য হলে ভরবেগের মান অপরিবর্তিত থাকে। তাই কোনো বাহ্যিক বল না থাকলে ভরবেগের পরিবর্তনের মান শূন্য হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: গ) শূন্য। এটি লিনিয়ার মোমেন্টাম সংরক্ষণ নীতির সরাসরি ফল।

• ভরবেগের পরিবর্তন (Change in Momentum):
- ভরবেগ হলো কোনো বস্তুর ভরের সাথে তার গতিবেগের গুণফল।
- ভরবেগের পরিবর্তন ঘটে তখন, যখন কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ করা হয়।
- যদি কোনো বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করা হয়, বস্তুর ভরবেগ অপরিবর্তিত থাকে।
- এর মানে হলো ভরবেগের পরিবর্তনের মান শূন্য হবে।
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ করা হলে ভরবেগ বাড়তে বা কমতে পারে, কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে কোন বাহ্যিক বল প্রয়োগ নেই।  

• ১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন তাঁর অমর গ্রন্থ "ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা" তে বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন। এ তিনটি সূত্র নিউটনের গতি সূত্র নামে পরিচিত। 

নিউটনের সূত্র তিনটি। যথা:

প্রথম সূত্র:
- বাইরে থেকে কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করলে, স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় বা সরল পথে চলতে থাকে।

দ্বিতীয় সূত্র:
- কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে।

তৃতীয় সূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে৷

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান।  

৫,১৬৮.
রক্ত কোন ধরণের টিস্যুর উদাহরণ?
  1. যোজক টিস্যু
  2. পেশি টিস্যু
  3. স্নায়ু টিস্যু
  4. আবরণী টিস্যু
ব্যাখ্যা
প্রাণি টিস্যুর প্রকারভেদ:

• প্রাণি টিস্যু তার গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত পদার্থের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রধানত চার ধরনের হয়। যথা:  
১. আবরণী টিস্যু,
২. যোজক টিস্যু,
৩. পেশি টিস্যু এবং
৪. স্নায়ু টিস্যু।
 
রক্ত:
• রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
• ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
• উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। 

• রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
 
• রক্তরস (Plasma): রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং 8-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।
এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে। 
 
• রক্তকণিকা তিন ধরনের। যথা:
- লোহিত রক্তকণিকা (Erythrocyte বা Red blood corpuscles বা RBC), 
- শ্বেত রক্তকণিকা (Leukocyte বা white blood corpuscles বা WBC) এবং 
- অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)। 
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,১৬৯.
জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ -
  1. মহাকর্ষ শক্তি ও কেন্দ্রাতিগ শক্তি
  2. কেন্দ্রাতিগ শক্তি ও কেন্দ্রমুখী শক্তি
  3. মহাকর্ষ শক্তি ও কেন্দ্রমুখী শক্তি
  4. ঘর্ষণ শক্তি ও মহাকর্ষ শক্তি
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। 
- এর কারণ মূলত দুটি; যথা- চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি। 
- সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ হলো:
     (ক) মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব (The Force of Gravitational Attraction)
     (খ) কেন্দ্রাতিগ/বহির্মুখী শক্তি (Centrifugal force)
 
উৎস: বারিমণ্ডল, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,১৭০.
কিসের পার্থক্যের জন্যে বায়ু প্রবাহ হয়ে থাকে?
  1. ক) বারিপাত
  2. খ) বায়ুর আর্দ্রতা
  3. গ) বায়ুর চাপ
  4. ঘ) বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বায়ু চলাচলকে বায়ু প্রবাহ বলে। বায়ুর চাপ ও তাপের পার্থ্যক্যের কারণে বায়ু প্রবাহ সংঘটিত হয়।
- বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বায়ু হালকা ও শুষ্ক হয়ে উপরের দিকে উঠে যাওয়ার ফলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু ধাবিত হয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,১৭১.
উদ্বায়ী পদার্থ নয় নিম্নের কোনটি?
  1. নিশাদল
  2. অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
  3. আয়োডিন
  4. গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা

- গ্লিসারিন একটি অ-উদ্বায়ী (non-volatile) পদার্থ। এর স্ফুটনাঙ্ক বেশি এবং বাষ্পের চাপ কম, তাই এটি সহজেই গ্যাসের আকারে বাষ্পীভূত হয় না। গ্লিসারিন হচ্ছে সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। 

উদ্বায়ী পদার্থ: 

- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন- নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে এগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই উল্লিখিত পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১৭২.
রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়। এর প্রধান কারণ -
  1. এটি হালকা ও দামে সস্তা
  2. এটি সব দেশেই পাওয়া যায়
  3. এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
  4. এটি সহজে ভেঙ্গে যায় না এবং বেশি গরম সহ্য করতে পারে
ব্যাখ্যা
- রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়।
- এর প্রধান কারণ হলো এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়।
- এলুমিনিয়াম হালকা এবং দামে সস্তা হলেও, এর তাপ পরিবাহিতা খুব ভালো হওয়ায় এটি রান্নার পাত্র হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়।
- এটি তাপকে সমানভাবে ছড়িয়ে দেয় এবং খাদ্য দ্রব্য দ্রুত সিদ্ধ করতে সহায়তা করে।
- এলুমিনিয়াম তাপ সুপরিবাহী পদার্থ।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
৫,১৭৩.
এসিড বৃষ্টি হয় বাতাসে -
  1. ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড এর আধিক্যে
  2. খ) সালফার ডাই-অক্সাইড এর আধিক্যে
  3. গ) নাট্রাস অক্সাইড এর আধিক্যে
  4. ঘ) ক ও খ উভয়েই ঠিক
ব্যাখ্যা
কোন ভাবেই কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনো অক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারন নয়।
যেমন কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) দূর্বল কার্বনিক এসিড (H2CO3) তৈরি করে যা এসিড বৃষ্টি তৈরি করতে পারে না।
এসিড বৃষ্টির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্য থেকে থাকে। আর এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারন মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইড সমূহ (NO, NO2); এবং এই গ্যাস গুলো দ্বারা সৃষ্ট শক্তিশালী সালফিউরিক এসিড (H2SO4 এবং নাইট্রিক এসিড (HNO3)।
আশা করি এসিড বৃষ্টি নিয়ে আর কোন কনফিউশন নেই।
ধন্যবাদ।
তথ্য সূত্রঃ রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, হাজারী এবং নাগ।
৫,১৭৪.
তিনদিকে স্থলভাগ ও একদিকে জলবেষ্টিত জলরাশিকে কী বলা হয়?
  1. মহাসাগর
  2. সাগর
  3. উপসাগর
  4. হ্রদ
ব্যাখ্যা
• উপসাগর:
- যে জলরাশি তিন দিক থেকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত এবং এক দিক সমুদ্র বা মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, তাকে উপসাগর (Bay বা Gulf) বলা হয়।

⇒ উদাহরণ:
- বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal)
- পারস্য উপসাগর (Persian Gulf)
- মেক্সিকো উপসাগর (Gulf of Mexico)

অন্যদিকে,
• মহাসাগর: পৃথিবীর বিশাল জলভাগের প্রতিটি বড় অংশকে মহাসাগর বলা হয়। যেমন- আটলান্টিক, প্রশান্ত মহাসাগর।
• সাগর: মহাসাগর অপেক্ষা তুলনামূলক ছোট, কিন্তু মহাসাগরের অংশবিশেষ এমন জলরাশিকে বলা হয় সাগর। যেমন- আরব সাগর।
• হ্রদ: চারদিকে স্থলবেষ্টিত জলাধারকে হ্রদ বলা হয়। যেমন- ভিক্টোরিয়া হ্রদ, বৈকাল হ্রদ। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫,১৭৫.
রক্তে থাকা রেড ব্লাড সেল (লোহিত কণিকা) কোথা থেকে আসে?
  1. হৃদপিণ্ড
  2. তরুণাস্থি
  3. যকৃত
  4. অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

• রক্তে থাকা রেড ব্লাড সেল বা লোহিত কণিকা মূলত অস্থিমজ্জা থেকে উৎপন্ন হয়। আমাদের শরীরে অস্থিমজ্জা হাড়ের ভেতরে থাকে এবং এটি রক্তকোষ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। অস্থিমজ্জায় হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল থাকে, যা বিভিন্ন ধরণের রক্তকোষে পরিণত হয়, যেমন লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা এবং রক্তের প্লেটলেট। লোহিত কণিকার প্রধান কাজ হলো শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন বহন করা। হৃদপিণ্ড, যকৃত বা তরুণাস্থি রক্তকোষ উৎপাদন করে না; এগুলো বিভিন্ন ভিন্ন ফাংশন সম্পন্ন করে। তাই, রক্তে থাকা লোহিত কণিকা আসে অস্থিমজ্জা থেকে।

- উত্তর: ঘ) অস্থিমজ্জা।

লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১৭৬.
DNA নেই কোনটিতে?
  1. ক) E. coli
  2. খ) TMV
  3. গ) T2 ব্যাকটেরিওফায
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
• DNA নেই TMV-এ।

টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV):
- এটি একটি দন্ডাকৃতির RNA ভাইরাস।
- এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ।
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ nm এবং প্রস্থ ১৫ nm.
- RNA এবং প্রোটিন দিয়ে টোবাকো মোজাইক ভাইরাসটি গঠিত।
- এ ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে সাদা সবুজ মোজাইকের মত সৃষ্টি করে বলে এদের টোবাকো মোজাইক ভাইরাস বলা হয়।
- এর বাইরে একটি পুরু প্রোটিনের আবরণ থাকে।
- কিছু সংখ্যক ভাইরাস ছাড়া (যেমন- TMV) প্রায় সব জীব কোষেই DNA বিদ্যমান। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৭৭.
একটি আদর্শ তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা-
  1. ক) শূন্য
  2. খ) কম
  3. গ) বেশি
  4. ঘ) একই
ব্যাখ্যা
- সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ থেকে বেশ কিছু সময় ধরে তড়িৎ প্রবাহ গ্রহণ করলে এদের তড়িচ্চালক বল ক্রমশ কমতে থাকে। 
- যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে প্রমিতকরণ কাজ সম্পন্ন করা যায় তাকে প্রমাণ বা আদর্শ কোষ বলে। যেমন: ওয়েস্টান-ক্যাডমিয়াম ও ল্যাটিমার ক্লার্ক কোষ এ ধরনের কোষ।
অর্থাৎ যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বলের মান সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে অন্য তড়িৎ কোষের বিদ্যুচ্চালক বলের তুলনা করা হয়, তাকে প্রমাণ বা আদর্শ তড়িৎ কোষ বলে।
- একটি আদর্শ তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,১৭৮.
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ কত?
  1. ক) 0 km/s
  2. খ) 3 × 108 km/s
  3. গ) 3 × 105 km/s
  4. ঘ) 332 km/s
ব্যাখ্যা
আলোক:  
- আলো এক প্রকার বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ।
- এ বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ সৃষ্টি করে স্পন্দন সহকারে উৎস থেকে সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- আলোর গতিবেগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল।
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রায়  3 × 108 m/s বা 3 × 105 km/s.
- বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (Maxwell) প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয়।
- এজন্য সব ধরনের আলোককে একত্রে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়।
- দৃশ্যমান আলো হল বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৫,১৭৯.
কোন সালে প্রথম নভোযান আকাশে পাঠানো হয়?
  1. ১৯৫৭
  2. ১৯৫৯
  3. ১৯৬১
  4. ১৯৬৩
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৭ সালে প্রথম 'স্পুটনিক-১' নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। 
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-১ কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে এই যাত্রার সূচনা করে। 
- স্পুটনিক শব্দের অর্থ হল- ভ্রমণসঙ্গী। 
- একই বছর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-২ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেন।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং নাসা [লিঙ্ক]।
৫,১৮০.
কোন খনিজ লবণের অভাবে গাছের বর্ধনশীল অংশে গজানো কচি পাতাগুলো হলদে রঙের হয়-
  1. ক) লৌহ বা আয়োডিন
  2. খ) ম্যাঙ্গানিজ ও ক্যালসিয়াম
  3. গ) ফসফরাস ও ক্লোরিন
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণ:
- নাইট্রোজেন (N) এর অভাবে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে। তাই পাতা হলুদ হয়। এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে। কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন হ্রাস পায়। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে।
- ম্যাগনেসিয়াম (Mg) এর অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে। পাতার সরুশিরাসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।
- ফসফরাস (P) এর অভাবে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।
- ক্যালসিয়াম (Ca) এর অভাবে কচি পাতায় ক্লোরোসিস হয়, উদ্ভিদের বর্ধনশীল শীর্ষ অঞ্চল মরে যায়। ফুল ফোঁটার সময় উদ্ভিদের কান্ড শুকিয়ে যায় এবং উদ্ভিদ হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে।
- আয়রন (Fe) এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরুশিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৮১.
ইলেকট্রনের ভর কত?
  1. 9.11 × 10-28
  2. 1.67 × 10-24 g
  3. -1.6 × 10-19 C
  4. -9.11 × 10-28
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) 9.11 × 10⁻²⁸ g 

ইলেকট্রন

- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা।
- এটি সব মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান।
- ইলেকট্রনের ভর অত্যন্ত সামান্য।
- ইলেকট্রনের সংকেত হলো e।
- ইলেকট্রনের প্রকৃত ভর ৯.১১০×১০-২৮ গ্রাম এবং প্রকৃত আধান - ১.৬০×১০-১৯ কুলম্ব।
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান হলো - ১।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন হলো একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৮২.
যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার-
  1. প্রতিসরণ তত কম
  2. বিচ্যুতি তত কম
  3. বিক্ষেপণ তত কম
  4. সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- দৃশ্যমান আলোর স্পেকট্রামে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে লাল আলো কম বিক্ষিপ্ত হয় এবং বস্তুর পৃষ্ঠ থেকে সহজে প্রতিফলিত হয়।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৮৩.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম আলোর দ্রুতি নির্ণয় করেন?
  1. ক) রোমার
  2. খ) গ্যালিলীও
  3. গ) কেপলার
  4. ঘ) নিউটন
ব্যাখ্যা
১৬৭৫ সালে ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ রোমার সর্বপ্রথম পরীক্ষার সাহায্যে আলোর দ্রুতি নির্ণয় করেন এবং প্রমাণ করেন যে, আলোর দ্রুতি অসীম নয়। আলোর নির্দিষ্ট দ্রুতি আছে।
পরবর্তীকালে আরো অনেক বিজ্ঞানী আলোর দ্রুতি নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
রোমার নভো পদ্ধতিতে আলোর দ্রুতি নির্ণয় করেন। 

উৎস: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৮৪.
কত সালে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হন?
  1. ক) ১৯৯৮ সালে
  2. খ) ২০০৬ সালে
  3. গ) ২০১৫ সালে
  4. ঘ) ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহ্বর প্রচন্ড শক্তিশালী অভিকর্ষ বলের টানে সবকিছু শোষণ করে নিজের দিকে নেয়‌। এর চরিত্র এতই সর্বগ্রাসী যে কোনো ধরনের তরঙ্গ এমনকি আলোও শোষিত হয়ে যায়। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো একটা কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হন বিজ্ঞানীরা। ছবিটি ধারণ করে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ। ব্যাকহোলটি মেসিয়ার ৮৭ গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত।
৫,১৮৫.
অগ্ন্যাশয় কোন খাদ্য উপাদানের পরিপাকে সহায়তা করে না? 
  1. স্নেহ
  2. শর্করা
  3. খনিজ
  4. আমিষ
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৮৬.
পৃথিবী কোন গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত?
  1. হ্যাবিটেবল গ্যালাক্সি
  2. এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
  3. মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি
  4. ট্রায়াঙ্গুলাম গ্যালাক্সি
ব্যাখ্যা
গ্যালাক্সি:
- গ্যালাক্সি হলো একটি বৃহৎ নক্ষত্রমণ্ডলী, যা লক্ষ-কোটি তারা, গ্যাস, ধুলিকণা এবং অন্যান্য মহাজাগতিক উপাদান দ্বারা গঠিত।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।
- গ্যালাক্সিগুলি মহাকর্ষীয় শক্তির মাধ্যমে একত্রিত থাকে
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর- দক্ষিণে বিস্তৃত।
- এটি ১-২ লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই গ্যালাক্সিতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা তারও বেশি তারা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৫,১৮৭.
ক্যালরিমিতির মূলনীতি কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত?
  1. ভরের সংরক্ষণ
  2. শক্তির সংরক্ষণ
  3. তাপমাত্রার সংরক্ষণ
  4. আয়তনের সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

• ক্যালরিমিতির মূলনীতি শক্তির সংরক্ষণ নীতির উপর ভিত্তি করে, যেখানে তাপ আদান–প্রদানের সময় শক্তি নষ্ট হয় না, কেবল এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে স্থানান্তরিত হয়।

• ক্যালরিমিতির মূলনীতি (Fundamental Principles of Calorimetry):
- শীতকালে গোসলের সময় অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গরম পানির সঙ্গে ঠান্ডা পানি মেশালে কিছু সময় পর উভয় পানি একই তাপমাত্রায় পৌঁছে যায়।
- গরম পানি ঠান্ডা পানিকে তাপ প্রদান করে, ফলে গরম পানির তাপমাত্রা কমে এবং ঠান্ডা পানির তাপমাত্রা বাড়ে।
- এই তাপ আদান–প্রদানের ফলে একটি সমতাবস্থার তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।
- এই ঘটনাই ক্যালোরিমিতির মূল ধারণার ভিত্তি।
 
• ক্যালরিমিতির মূলনীতি:
- তাপ আদান–প্রদানের সময় একটি বন্ধ সিস্টেমে—
- উষ্ণ বস্তুর ত্যাগকৃত তাপ = শীতল বস্তুর গৃহীত তাপ।
 
• মূল শর্তসমূহ:
- বেশি তাপমাত্রার বস্তু কম তাপমাত্রার বস্তুকে তাপ দিতে পারে, কিন্তু উল্টোটি সম্ভব নয়।
- উষ্ণ বস্তু যতটুকু তাপ ত্যাগ করে, শীতল বস্তু ঠিক ততটুকু তাপ গ্রহণ করে।
- এই প্রক্রিয়ায় সিস্টেমের বাইরে কোনো তাপ ক্ষয় বা গ্রহণ হয় না বলে ধরা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

• Other Options:
ক) ভরের সংরক্ষণ
→ এটি ভরের পরিবর্তন সম্পর্কিত।

গ) তাপমাত্রার সংরক্ষণ
→ তাপমাত্রা সংরক্ষিত থাকে না; বরং পরিবর্তিত হয়ে সমতাবস্থায় পৌঁছে।

ঘ) আয়তনের সংরক্ষণ
→ এটি জ্যামিতিক ধারণা।

৫,১৮৮.
'বিগ রিপ' দ্বারা বুঝায় -
  1. ক) মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
  2. খ) মহাবিশ্ব ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।
  3. গ) মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছালে তা আবার সংকুচিত হবে।
  4. ঘ) মহাবিশ্বের সবকিছুই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
ব্যাখ্যা
বিগ রিপ (Big Rip):
মহাবিশ্বে অদৃশ্য শক্তির পরিমাণ যদি খুব বেশি হয়, তখন এর সম্প্রসারণের ত্বরণ আরো বেড়ে যাবে এবং এই ক্রমবর্ধমান ত্বরণ এত বেশি হবে যে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি থেকে শুর করে যত রকম বস্তু রয়েছে তা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর পর্যায়ে ভেঙ্গে গিয়ে মৌলিক কণা ও বিকিরণে বিশ্লিষ্ট হয়ে যাবে এবং এই কণাগুলো পরস্পর থেকে অনেক দূরে সরে যাবে।

এরূপ অবস্থায় অদৃশ্য শক্তি ও সম্প্রসারণ হার অসীম হবে। মহাবিশ্ব তখন অনন্যতা বা সিঙ্গুলারিটিতে পৌছুবে এবং আমাদের এই পরিচিত মহাবিশ্বের সমাপ্তি ঘটবে। এই অনন্যতার সময় যে কোনো ধরনের বল, তা সে যতই প্রবল হোক না কেন, পদার্থের উপর তার কোনো প্রভাবই থাকবে না।
মহাবিশ্বের সবকিছুই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, একে বিগ রিপ (Big Rip) বা মহাবিচ্ছেদ নামে অভিহিত করা হয়।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৮৯.
বাংলাদেশে উৎপাদিত রাসায়নিক সার এর কাঁচামাল-
  1. ক) প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. খ) LNG
  3. গ) বিটুমিনাস কয়লা
  4. ঘ) খনিজ তেল
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেন ব্যবহার করা হয় শতকরা ২১ ভাগ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫,১৯০.
হীরক সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. হীরক কার্বনের একটি রূপ।
  2. আসল হীরকের মধ্য দিয়ে রঞ্জনরশ্মি যেতে পারে না।
  3. হীরকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলন সম্ভব নয়।
  4. হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
ব্যাখ্যা
• হীরক:
- হীরক কার্বনের একটি রূপ।  
- আসল হীরকের মধ্য দিয়ে রঞ্জনরশ্মি যেতে পারে না।  
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য হীরক উজ্জ্বল দেখায়।
- হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।
- হীরক বর্ণহীন, স্বচ্ছ, উজ্জ্বল, স্ফটিকাকার পদার্থ।
- হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৫,১৯১.
ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ যে ধাতুর উপর প্রলেপ দেওয়া হয়, তা যুক্ত থাকে- 
  1. গ্রাউন্ড লাইনে
  2. কেবল ব্যাটারির মধ্যে
  3. ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তে
  4. ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তে
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতু দিয়ে প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৯২.
বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক-
  1. ক) K
  2. খ) C
  3. গ) A
  4. ঘ) S
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক Ampere এবং একক প্রকাশের প্রতীক A
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫,১৯৩.
ক্ষারক এর ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড।
  2. সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয়।
  3. সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।
  4. ক্ষার হলো বিশেষ ধরনে ক্ষারক।
ব্যাখ্যা
ক্ষারক:

- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।
- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, এগুলো ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।
- পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
- সুতরাং সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।

তথ্যসূত্র - সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫,১৯৪.
কোনটির সাহায্যে কোনো যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তির পরিমাপ হিসেব করা যায়? 
  1. কাজ 
  2. চাপ 
  3. ক্ষমতা 
  4. কর্মদক্ষতা 
ব্যাখ্যা

কর্মদক্ষতা: 
- কোনো যন্ত্রের কার্যকর শক্তি এবং মোট প্রদত্ত শক্তি হিসাব করে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা পরিমাপ করা যায়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা হচ্ছে যন্ত্রটির কার্যকর শক্তি ও প্রদত্ত মোট শক্তির অনুপাত। 
- যন্ত্রের কর্মদক্ষতাকে η (ইটা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- কর্মদক্ষতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 
- কোন যন্ত্রের কর্মদক্ষতা 70% বলতে বোঝায় যন্ত্রটিতে 100 একক শক্তি সরবরাহ করলে তার 70 একক শক্তি কার্যকররূপে পাওয়া যায়, বাকী 30 একক শক্তি অপচয় হয়।
সুতরাং, কর্মদক্ষতা, η = কার্যকর শক্তি/ মোট প্রদত্ত শক্তি
= কার্যকর ক্ষমতা/ মোট প্রদত্ত ক্ষমতা
= {(E1 - E2)/E1} ×100% 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৯৫.
সুনামি কোথায় সংঘটিত হয়? 
  1. পাহাড়ে
  2. মরুভূমিতে
  3. নদীতে
  4. সমুদ্রের তলদেশে
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি সংঘটিত হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১৯৬.
"Necessary Evil বা, প্রয়োজনীয় অমঙ্গল" বলতে কোন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়?
  1. ট্রান্সলোকেশন
  2. প্রস্বেদন
  3. সালোকসংশ্লেষণ
  4. ব্যাপন
ব্যাখ্যা

• “Necessary Evil” বা “প্রয়োজনীয় অমঙ্গল” বলতে উদ্ভিদের প্রস্বেদন (খ) প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়। প্রস্বেদনে উদ্ভিদের পাতার রন্ধ্র দিয়ে অতিরিক্ত পানি বাষ্প আকারে বেরিয়ে যায়, যা প্রথম দৃষ্টিতে ক্ষতিকর মনে হতে পারে, কারণ এতে পানি অপচয় হয়। তবে এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রস্বেদন উদ্ভিদদেহে পানি ও খনিজ লবণের ঊর্ধ্বমুখী পরিবহনে সাহায্য করে, উদ্ভিদকে শীতল রাখে এবং কোষে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই ক্ষতির দিক থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য প্রস্বেদন অপরিহার্য, এজন্য একে “Necessary Evil” বলা হয়।
 
• প্রস্বেদন (Transpiration):
- প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ তার বায়বীয় অঙ্গ (যেমন পাতা, কাণ্ড এবং অল্প পরিমাণে লেন্টিসেল) থেকে অতিরিক্ত জল কে বাষ্প বা জলীয় বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে নির্গত করে দেয়।
- বেশিরভাগ প্রস্বেদন ঘটে পাতার পৃষ্ঠে অবস্থিত পত্ররন্ধ্রের (Stomata) মাধ্যমে।
- এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উদ্ভিদ শোষিত মোট জলের প্রায় ৯৭% থেকে ৯৯% পর্যন্ত জলীয় বাষ্প হিসেবে পরিবেশে ত্যাগ করে।
- এই প্রক্রিয়া প্রধানত পত্ররন্ধ্রীয় (Stomatal), কিউটিকুলার (Cuticular) এবং লেন্টিকুলার (Lenticular) পথে ঘটে থাকে।

• প্রস্বেদনকে 'Necessary Evil' বলার কারণ:
 - প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (Necessary Evil) বলা হয় কারণ এর দুটি বিপরীতমুখী ভূমিকা রয়েছে।

১। প্রয়োজনীয়তা (Necessity):
- এটি শিকড় থেকে বহু উপরে অবস্থিত পাতায় জল ও খনিজ লবণ পরিবহনের জন্য একটি টান (Transpiration Pull) সৃষ্টি করে।
- এটি বাষ্পীভবনের মাধ্যমে উদ্ভিদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে (কুলিং ইফেক্ট)।

২। অমঙ্গল (Evil):
- এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প নির্গত হওয়ার কারণে তীব্র শুষ্ক পরিবেশে বা উচ্চ তাপমাত্রায় উদ্ভিদ পানিশূন্যতায় ভোগে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং প্রয়োজনে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
- এই কারণে, প্রক্রিয়াটি না হলেও নয় (Necessary), আবার অতিরিক্ত হলে তা উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকরও (Evil)।
- এই দ্বৈত ভূমিকার (অপরিহার্যতা ও ক্ষতিকরতা) জন্য বিজ্ঞানী ইভান জে. কুর্তিস একে 'Necessary Evil' বলে অভিহিত করেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৫,১৯৭.
কোলেস্টেরলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে কোন অংশে?
  1. যকৃত
  2. মস্তিষ্ক
  3. প্লিহা
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

- যকৃৎ এবং মস্তিষ্কে কোলেস্টেরলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
 

কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম-উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং নিম্ন ঘনত্ববিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)।
- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে মন্দ কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী।
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ২০০ mg/dL এরকম। রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদ্রোগের আশঙ্কা বাড়ায়।
- স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালি অন্তঃপ্রাচীরের গায়ে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্তনালি গহ্বর ছোট হয়ে যায়।
- এ কারণে ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা arteriosclerosis বলে।

উৎস:  বিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণী।

৫,১৯৮.
মানুষের শরীরের রক্তে পটাশিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা কত?
  1. ২.৯-৫ mmoI/L
  2. ৩.৫-৫ mmoI/L
  3. ৭-৮ mmoI/L
  4. ৩.৯-৮ mmoI/L
ব্যাখ্যা
- পটাসিয়াম শরীরের একটি অপরিহার্য ইলেক্ট্রোলাইট, এবং রক্তে পটাসিয়ামের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা স্বাভাবিক শারীরিক ক্রিয়াকলাপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রার স্বাভাবিক পরিসীমা সাধারণত প্রতি লিটার (mEq/L) বা মিলিমোলস প্রতি লিটার (mmol/L) 3.5 থেকে 5.0 মিলি সমতুল্য।

Hypokalemia:
যখন রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার নিচে নেমে যায় (3.5 mEq/L এর কম), তখন তাকে হাইপোক্যালেমিয়া বলা হয়। 

Hyperkalemia:
যখন রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার (5.0 mEq/L-এর বেশি) থেকে বেড়ে যায়, তখন তাকে হাইপারক্যালেমিয়া বলা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৫,১৯৯.
লাউ ও কুমড়া জাতীয় গাছের কাণ্ডে কি ধরনের ভাস্কুলার বাণ্ডল দেখা যায়?
  1. কেন্দ্রিক
  2. অরীয়
  3. সমপার্শ্বীয়
  4. সমদ্বিপার্শ্বীয়
ব্যাখ্যা
ভাস্কুলার বাণ্ডলের প্রকারভেদ:
- পরিবহন টিস্যু বা ভাস্কুলার বাণ্ডলের মধ্যে জাইলেম ও ফ্লোয়েম বিভিন্নভাবে অবস্থান করে।
- এদের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ভাস্কুলার বাণ্ডলকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা- (ক) সংযুক্ত, (খ) অরীয় ও (গ) কেন্দ্রিক।

ক) সংযুক্ত: 
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে অবস্থান করলে সে বাণ্ডলকে সংযুক্ত ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে। 
- সংযুক্ত বাণ্ডল আবার দুই রকম।
যথা- 
১। সমপার্শ্বীয়:
- যে সংযুক্ত ভাস্কুলার বাণ্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে অবস্থান করে তাকে সংযুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে। 

২। সমদ্বিপার্শ্বীয়:
- যখন কোন সংযুক্ত ভাস্কুলার বাণ্ডলের মাঝখানে জাইলেম থাকে এবং তার উভয় দিকে ফ্লোয়েম অবস্থান করে এবং উভয় পাশে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর মাঝে ক্যাম্বিয়াম থাকে তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে। 

- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ এর মধ্যে লাউ ও কুমড়া জাতীয় গাছের কাণ্ডে এ ধরনের ভাস্কুলার বাণ্ডল দেখা যায়।

(খ) অরীয়:
- যে সকল ক্ষেত্রে জাইলেম এবং ফ্লোয়েম পৃথক পৃথকভাবে ভিন্ন ভিন্ন বান্ডল সৃষ্টি করে এবং পাশাপাশি অবস্থান করে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে।
- মূলে এ রকম ভাস্কুলার বাণ্ডল থাকে।

(গ) কেন্দ্রিক: 
- যে ভাস্কুলার বান্ডলের জাইলেম ফ্লোয়েমকে কিংবা ফ্লোয়েম জাইলেমকে ঘিরে থাকে তাকে কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে।
- কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বাণ্ডল আবার দুই রকম।
যথা-
A. জাইলেম কেন্দ্রিক:
- এক্ষেত্রে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে ঘিরে রাখে।
যেমন- Pteris, Lycopodium।
B. ফ্লোয়েম কেন্দ্রিক:
- এক্ষেত্রে ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম ফ্লোয়েমকে ঘিরে রাখে।
যেমন- Dracaena।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২০০.
প্রোটিনে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত শতাংশ?
  1. ১১%
  2. ১৩%
  3. ১৬%
  4. ২১%
ব্যাখ্যা

আমিষ বা প্রোটিন:
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হল- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (০₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়।
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- এদের অত্যাবশ্যক বা অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে। এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিডগুলো হলো-
• লাইসিন,
• ট্রিপটোফ্যান,
• লিউসিন,
• ভ্যালিন,
• আইসোলিউসিন,
• ফিনাইল অ্যালানিন,
• মিথিওনিন,
• থ্রিওনিন।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।